Friday, October 18, 2024

অন্তঃসত্ত্বা মায়ের থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিক চলে যেতে পারে গর্ভস্থ শিশুর শরীরেও

খাবার রাখার ব্যাগ, কন্টেইনার থেকে পানির বোতল, সবকিছুতেই আছে প্লাস্টিক। খাবার গরম করার পাত্র থেকে বাচ্চার খেলনা, সবখানেই প্লাস্টিকের ব্যবহার। কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে খাবারেও প্লাস্টিকের অস্তিত্ব। সায়েন্স অফ দ্য টোটাল এনভায়রনমেন্ট’ জার্নালে প্রকাশিত হেলথ স্টাডিতে দেখা গিয়েছে, প্লাস্টিক সহজে নষ্ট হয় না। ফলে মাইক্রো এবং ন্যানো-প্লাস্টিক পার্টিকেলস নিঃশ্বাসের সঙ্গে খুব সহজে মানবশরীরে ঢোকে। এমনকি প্লাস্টিক প্যাকেট-বন্দি খাবার থেকেও মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে ঢুকতে পারে। আর সেই সব প্লাস্টিকের কণা প্লাসেন্টার প্রাচীর ভেদ করে গর্ভস্থ ভ্রূণের কোষের মধ্যে ঢুকে যায়। বিষয়টি  জানতে ইঁদুরের উপরে গবেষণা করেছিল আমেরিকার রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়।

পরীক্ষামূলকভাবে শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে সন্তানসম্ভবা ইঁদুর মায়েদের শরীরে পলিঅ্যামাইড-১২ প্রবেশ করানো হয়েছিল। সন্তান জন্মের পরে তাদের শরীর পরীক্ষা করতেই ধরা পড়ে বিষয়টি। বিজ্ঞানীদের দাবি, এই গবেষণা থেকে স্পষ্ট, মানুষের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা সম্ভব। গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীর থেকে প্লাসেন্টার মাধ্যমে ভ্রূণেও প্রবেশ করতে পারে মাইক্রোপ্লাস্টিক। ইঁদুরের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, শাবক জন্মের দীর্ঘসময় পর পর্যন্ত তাদের কোষের মধ্যে সেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি থাকে। মানবসন্তানের ক্ষেত্রে মাইক্রোপ্লাস্টিকের স্থায়িত্বের বিষয়টি স্পষ্ট নয়।

তবে বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, গর্ভস্থ মানবশিশুও আর নিরাপদ নয়। সদ্যোজাতকের মস্তিষ্ক, হৃদপিণ্ডর মতো অর্গানে যদি এমন ক্ষতিকারক প্লাস্টিক জড়ো হয়, তাহলে কিন্তু শরীর রোগের ডিপো হতে পারে। ভবিষ্যতে বাসা বাঁধতে পারে মারণ রোগও। ছ’টি গর্ভবতী ইঁদুরকে ১০ দিন অ্যারোসোলাইজড ফুড-গ্রেড প্লাস্টিক পাউডারের ধারে-কাছে রাখা হয়েছিল। তার পরই তাদের উপর করা হয় পরীক্ষা। তবে একটা জিনিস তখনও ভাবাচ্ছিল বিজ্ঞানীদের, সন্তান জন্ম হয়ে যাওয়ার বহু পরেও কি এই প্লাস্টিকের কণাগুলো এভাবেই বহাল তবিয়তে থেকে যায় শরীরে? তবে দীর্ঘদিন ধরে তারা নজর রেখে দেখেছেন, অন্তত ইঁদুরের ক্ষেত্রে তো এসব ক্ষতিকর জিনিস পাকাপাকি ভাবে শরীরেই থেকে যায়। জন্মের দুই সপ্তাহ পর, দুটি নবজাতক ইঁদুরের শরীরে মাইক্রো এবং ন্যানোপ্লাস্টিক পাওয়া গিয়েছিল।

সূত্র : সায়েন্স এলার্ট

mzamin

সিনওয়ারের মৃত্যু হামাসের জন্য মারাত্মক আঘাত, তবে যুদ্ধের শেষ নয়! -বিবিসির পর্যবেক্ষণ

মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বে এখন সবচেয়ে আলোচিত হচ্ছে হামাসের শীর্ষ নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারের নিহত হওয়ার বিষয়টি। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠনটির শীর্ষ নেতাকে বুধবার দক্ষিণ গাজায় এক অভিযান চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরাইলি বাহিনী। হামাসের সাবেক শীর্ষ নেতা ইসমাইল হানিয়াকে হত্যার পর এবার সিনওয়ারকে হত্যা গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে ইসরাইলের সবচেয়ে বড় বিজয় বলে মনে করা হচ্ছে। সিনওয়ারের মৃত্যু হামাসের জন্য একটি গুরুতর আঘাত, কেননা সিনওয়ার সংগঠনটিকে একটি যোদ্ধা শক্তিতে পরিণত করেছিলেন যা ইসরাইল রাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘটনার জন্ম দিয়েছিল।

তবে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষ বাহিনীর পরিকল্পিত কোনো অভিযানে নিহত হননি সিনওয়ার। দক্ষিণ গাজার রাফা অঞ্চলে ইসরাইলি বাহিনীর সঙ্গে একটি সম্মুখ সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে তোলা কয়েকটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, যুদ্ধের পোশাক পরিহিত সিনওয়ার, ট্যাঙ্কের গোলায় আঘাতপ্রাপ্ত একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপে মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার সেনাদের প্রশংসা করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, সিনওয়ারকে হত্যা করা যত বড় বিজয়ই হোক না কেন, তা যুদ্ধের শেষ নয়।

নেতানিয়াহু বলেছেন, আজ আমরা স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই যারা আমাদের ক্ষতি করে তাদের পরিণতি কী হয়। আমরা বিশ্বকে মিথ্যার উপর সত্যের বিজয় দেখিয়ে দিয়েছি।

ভাষণে নেতানিয়াহু তার সেনাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, বন্ধুরা আমাদের যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি। যদিও এ বিষয়টি কঠিন কেননা এর জন্য আমাদের অনেক মূল্য দিতে হচ্ছে। সামনে আরও কঠিন বাধা রয়েছে। এক্ষেত্রে নেতানিয়াহু তার সেনাদের ধৈর্য, ঐক্য, সাহস নিয়ে অবিচল থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, সৃষ্টিকর্তার সাহায্যে আমরা একসঙ্গে লড়াই করব এবং একইসঙ্গে বিজয় অর্জন করব।

নেতানিয়াহু এবং গাজা যুদ্ধ সমর্থনকারী ইসরাইলিরা সিনওয়ারের হত্যাকে একটি অপ্রতিরোধ্য বিজয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কেননা নেতানিয়াহু বার বার বলেছেন তিনি হামাসকে রাজনৈতিক এবং সামরিকভাবে ধ্বংস করে জিম্মিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে চান। যার দরুণ তিনি গাজা উপত্যকায় ভয়াবহ আগ্রাসন চালিয়েছেন।

উপত্যকাটিতে গত এক বছরে ৪২ হাজারের বেশি নিরীহ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যাদের বেশির ভাগ নারী এবং শিশু। পুরো গাজাকে প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে নেতানিয়াহুর বাহিনী। এর মাধ্যমে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর কোনো লক্ষ্যই অর্জিত হয়নি।
না হামাস ধ্বংস হয়েছে না জিম্মিদের মুক্তি হয়েছে। সংগঠনটি এখনও যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। জিম্মিরাও এখনও বন্দী রয়েছে। হামাসের সঙ্গে যুদ্ধে প্রায়ই ইসরাইলি সেনাদের মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে।

সিনাওয়ারকে হত্যা করা ইসরাইলের জন্য বিজয় ততক্ষণ, যতক্ষণ পর্যন্ত না নেতানিয়াহু দাবি করছেন যে যুদ্ধের অন্যান্য লক্ষ্যগুলোও সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু নেতানিয়াহু বলেছেন যুদ্ধ চলবে।

কে এই সিনওয়ার
ইয়াহিয়া সিনওয়ার ১৯৬২ সালে গাজা উপত্যকার খান ইউনিসের একটি শরণার্থী শিবিরে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৭ সালে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে মিশর-ইসরাইলের সংঘাতের সময় তার বয়স ছিল পাঁচ বছর। ১৯৪৮ সালে ইসরাইল যখন ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডের একটি অংশ জয় করে তখন সেখান থেকে প্রায় ৭ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে সিনওয়ারের পরিবারও ছিল। তার পরিবার আসকালান নামক শহর থেকে পালিয়ে গাজার উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী এলাকায় বসতি স্থাপন করে।

২০০০ সালের দিকে ইসরাইলের ফিলিস্তিনি এক এজেন্টকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন সিনওয়ার। এর পর তিনি জেলে যান। জীবনের ২২টি বছর তিনি জেলে কাটান। জেলে বন্দী থাকা অবস্থায় তিনি হিব্রু ভাষা আয়ত্ত করেছিলেন। জেলে থেকেই সিনওয়ার ইসরাইলি বাহিনী সম্পর্কে অধ্যয়ন করেন। কীভাবে তাদের সঙ্গে লড়াই করবেন তা নিয়ে কাজ করেছিলেন। ইসরাইলের জেলে বন্দী থাকার অর্থই হচ্ছে সিনওয়ারের দাঁতের নমুনা এবং তার ডিএনএ-এর একটি নমুনা তাদের কাছে ছিল। মূলত এর মাধ্যমেই ইসরাইল লাশ শনাক্ত করেছে বলে দাবি করেছে।

২০১১ সালে সিনওয়ারকে মুক্তি দেয়া হয়। সেসময় তার সাথে আরও প্রায় হাজার খানেক ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তি দেয়া হয়েছিল। ধারণা করা হয় গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরাইলের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিল সিনওয়ার। ওই দিন তারা ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তে ফেলে দিয়েছিল ইসরাইলকে। গত এক বছরেও হামাসের সেই হামলার রেশ কাটিয়ে উঠতে পারেনি ইসরাইল।

mzamin

চাকরিতে থেকে ওসব করার সুযোগ নেই by বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, বীরউত্তম

একজন নিম্নস্তরের সরকারি কর্মকর্তা সরকারি কর্মে বহাল থেকে কোনোমতেই একজন স্বাধীন নাগরিকের মতো মতামত ব্যক্ত করতে পারে না। ভদ্র মহিলা তাপসী তাবাসসুম ঊর্মি তাই করেছেন। চাকরির শর্ত অনুসারে তিনি বিরোধিতা তো নয়ই, তার সমর্থনেরও কোনো সুযোগ নেই। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পতনের কাউন্টডাউন শুরু করেছেন। একেবারে নিম্ন পদে প্রথম শ্রেণির একজন কর্মকর্তার যদি এ মনোভাব হয় তাহলে তিনি যখন বড় হবেন, উচ্চ পদে যাবেন তখন তো সবকিছু গ্রাস করে ফেলবেন। তিনি পতনের কাউন্টডাউন বলে যেমন ভালো করেননি, ঠিক তেমনি শতকণ্ঠে অধ্যাপক ইউনূসের প্রশংসা করলেও সেটা ভালো হতো না। চাকরিতে থেকে তার ওসব করার কোনো সুযোগ নেই।

নির্বিঘ্নে নিরাপদে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচাইতে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হওয়ায় পরম প্রভু আল্লাহ রাব্বুল আল আমিনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রায় আড়াই মাস পার হতে চলেছে। এখনো রাষ্ট্রযন্ত্রের অনেক জায়গায় তেমন মেরামত হয়নি। আবার কোনো কোনো জায়গায় অতি পণ্ডিতিও চলছে। এটা পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য হবে কিনা ঠিক নিশ্চিত হয়ে বলতে পারছি না। তবে জিনিসটা খুবই খারাপ এবং গর্হিতকর। একজন নিম্নস্তরের সরকারি কর্মকর্তা সরকারি কর্মে বহাল থেকে কোনোমতেই একজন স্বাধীন নাগরিকের মতো মতামত ব্যক্ত করতে পারে না। ভদ্র মহিলা তাপসী তাবাসসুম উর্মি তাই করেছেন। চাকরির শর্ত অনুসারে তিনি বিরোধিতা তো নয়ই, তার সমর্থনেরও কোনো সুযোগ নেই। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পতনের কাউন্টডাউন শুরু করেছেন। একেবারে নিম্ন পদে প্রথম শ্রেণির একজন কর্মকর্তার যদি এ মনোভাব হয় তাহলে তিনি যখন বড় হবেন উচ্চ পদে যাবেন তখন তো সবকিছু গ্রাস করে ফেলবেন। তিনি পতনের কাউন্টডাউন বলে যেমন ভালো করেননি, ঠিক তেমনি শতকণ্ঠে অধ্যাপক ইউনূসের প্রশংসা করলেও সেটা ভালো হতো না। চাকরিতে থেকে তার ওসব করার কোনো সুযোগ নেই। এই মহিলাই আন্দোলন চলার সময় বর্তমান সময়ের সবচাইতে আলোচিত ব্যক্তি আবু সাঈদকে রাষ্ট্রদ্রোহী বলেছেন। আবু সাঈদের যে কর্মকাণ্ড সেটাকে কোনোক্রমেই সমাজদ্রোহী, রাষ্ট্রদ্রোহী এসব ভাবার উপায় নেই। তার কর্মই তাকে মহান করে তুলেছে।

আমরা কতো জায়গায় কতো সময় শিনা টান করে দাঁড়াই। কিন্তু ওইরকম অবস্থায় তার শিনা টান করে দাঁড়ানো বাঙালিকে, বাঙালি জাতিকে, বাংলাদেশকে কতোটা মর্যাদার আসন দিয়েছে তা এই ধরনের ক্ষয়িষ্ণু মনোবৃত্তির কারও পক্ষে অনুধাবন করা সম্ভব না। তাই তিনি বিষয়টা অনুভব করতে পারেননি। হ্যাঁ, সত্যিই কিছুটা অক্ষর জ্ঞান অর্জন করেছেন। কালো অক্ষর হৃদয়ে ধারণ করেছেন। কিন্তু শিক্ষার মর্মবাণী তাকে স্পর্শ করেনি। তাই অমনটা করেছেন। তার সবলতা সাহসিকতার জন্যে ইতিমধ্যেই কেউ কেউ সাবাসী দিয়েছেন। সাবাসী দেয়া সহজ। ন্যায় ও সত্য বিচার করে বের করা সাবাসীর মতো সহজ নয়। এর আগেও বলেছি, গোলাম মওলা রনি একজন পাঠক সমাদ্রিত লেখক, শ্রোতাদের আকুল করা একজন বক্তা বা আলোচক। তিনি খুব সহজেই উর্মিকে সমর্থন করেছেন, সাবাসী দিয়েছেন। বহু বছর আগে তিনি একবার লিখেছিলেন, দিল্লিতে শেখ হাসিনা মোটা চালের ভাত খেয়ে পয়সা বাঁচিয়ে আওয়ামী লীগ সংগঠনের জন্যে আমাদের নেতা আব্দুর রাজ্জাক ভাইয়ের হাতে তুলে দিতেন। সেই লেখা পড়ে লিখেছিলাম, তখন আমিও ইল্লি-দিল্লি করতাম। মাসে অন্তত এক-দু’বার যেতাম। দিল্লি থাকলে দিনে একবেলা ডি/১৬ পান্ডারা রোডের বাড়িতে অবশ্য অবশ্যই খাওয়া হতো। বোনের বাড়িতে সব মিলিয়ে মাসে চাল লাগতো ২০-২৫ কেজি। তখন চালের দাম ছিল ৩- সাড়ে ৩ টাকা। আর দিল্লিতে চালের তেমন মোটা চিকন ছিল না। সাড়ে ৩ টাকা চিকন চাল হলে মোটা চালের দাম হতো ৩ টাকা। শুধু যদি মাননীয় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মোটা চালের ভাত খেয়ে টাকা বাঁচাতেন তাহলে ৬-৭ কেজি চালের ৩-৪ টাকা বাঁচতো। সঙ্গে এও লিখেছিলেন, পুরান শাড়ি সেলাই করে নেত্রী শেখ হাসিনা তখন পড়েছেন। এর একটি কথাও বাস্তবচিত ছিল না। তিনি একদিনের জন্যেও কোনো ছেড়া শাড়ি সেলাই করে পড়েননি। পশ্চিমবঙ্গের ফুলিয়া এবং সমুদ্রগড় বলে দু’টি জায়গায় টাঙ্গাইলের প্রায় ৪০-৫০ হাজার তাঁতী বাস করে। তারা সারা ভারতে তাদের উৎপাদিত শাড়ি টাঙ্গাইল শাড়ি বলে চালিয়ে থাকে। টাঙ্গাইলের জগদীশ বলে এক বসাক হঠাৎই সমুদ্রগড় গিয়েছিল। ব্যবসা-বাণিজ্যতে ভালো উন্নতি করেছে। ফুলিয়া ও সমুদ্রগড়ের যত রকমের শাড়ি আছে সে আমার কাছে নিয়ে আসতো। এখন হয়তো অতটা মান-মর্যাদা আছে কিনা বলতে পারবো না। কিন্তু তখন টাঙ্গাইলের যে কেউ আমাকে তাদের গুরুজন মুরুব্বি বলে মনে করতো। তাই জগদীশের দেয়া যে শাড়ি আমি মাননীয় নেত্রীর জন্যে নিয়ে গেছি সেগুলোই হয়তো তার দুইবার পড়তে হয়নি। আশেপাশের বাড়িতে যেসব বউরা থাকতেন তাদের একজন মহিলাও ছিলেন না যাকে শেখ হাসিনা কোনো না কোনো সময় শাড়ি দেননি। যেখানে থাকতেন সেই পান্ডারা রোডের আশেপাশে উপসচিব থেকে যুগ্ম সচিব মর্যাদার অফিসাররা থাকতেন। আমি যে কাকা নগরে থাকতাম তার আশেপাশে সচিবরা থাকতেন। নেত্রীর বাড়ির এক-দেড় কিলোমিটারের মধ্যে এমন কোনো কর্মকর্তার স্ত্রী ছিলেন না যে শেখ হাসিনার কাছ থেকে ২-৪টা শাড়ি পাননি। তা যাইহোক গোলাম মওলা রনিকে আমি অত্যন্ত সম্মানের চোখে দেখি। তিনি কেন কোন উদ্দেশ্যে উর্মির রাষ্ট্র বিরোধী, সমাজ বিরোধী, মানবতা বিরোধী কর্মকাণ্ডের মধ্যে ভালো কিছু খুঁজে পেয়েছেন তা তিনিই জানেন।

অন্যদিকে আমার হৃদয় স্পর্শ করা ব্যক্তিত্ব জেড আই খান পান্না, তিনিও উর্মিকে খুব সাবাসী দিয়েছেন, তার সাহসী পরিচয় খুঁজেছেন। খুঁজতে পারেন। কিন্তু এই বিষয়ে আমি তার কোনো সাহসিকতার, নৈতিকতার স্পর্শও খুঁজে পাচ্ছি না। হ্যাঁ, তিনি পদত্যাগ করে এই বক্তব্য দিলে হয়তো আমিও তার পাশে দাঁড়াতাম। কিন্তু অধ্যাপক ইউনুসের পতন, অধ্যাপক ইউনুস বৈধ, না অবৈধ এই প্রশ্ন করার সুযোগ একজন একেবারে নিম্ন পদস্থ সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তার অধিকারে পড়ে না। ঘুরাফেরা না করে এক কথায় বিচার করলে বলতেই হবে সাধারণ মানুষের সম্মতিতে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চাইতে বৈধ কোনো প্রশাসন হতে পারে না। এ রকম বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের পর বিপ্লব যা নির্দেশ করে সেটাই বৈধ। সেই অর্থে বরং গত ৩ বার জালিয়াতি করে হাসিনা লীগ নেত্রী যে ক্ষমতায় বসেছিলেন তার ক্ষমতাই ছিল অবৈধ। তাই এটা বলতেই হবে তাপসী তাবাসসুম উর্মিকে এ ঔদ্ধতের জন্যে যথাযথ আইনের সামনে দাঁড় করা না হলে জাতির জন্যে দেশের জন্যে মারাত্মক অশুভ হবে। এ ব্যাপারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি বিশেষ করে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ, বিষয়টি একেবারে নিরাসক্তভাবে দেখে যথাযথ বিচার করা। অন্যদিকে জেড আই খান পান্নার প্রতিও অনুরোধ থাকবে বিষয়টা আরেকটু ভালো করে দেখবেন, বিবেচনা করবেন।

জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে ঢাকার যাত্রীদের জন্যে সবচাইতে আরাধ্য পরিবহন মেট্রোরেলের যে ক্ষতি হয়েছিল ধ্বংসাবশেষ দেখতে গিয়ে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জারজার হয়ে কেঁদেছিলেন। আন্দোলনে নিহত একজনকেও তিনি দেখতে যাননি। যেহেতু দেখতে যাননি সেইহেতু কান্নাকাটিরও কোনো প্রশ্ন আসে না। কিন্তু মেট্রোরেলের ধ্বংসাবশেষ দেখে তিনি আকুল হয়ে কেঁদেছিলেন। তার কান্না সঠিক হলে নোবেল পুরস্কার দেয়া যেতে পারতো। কিন্তু কুমিরের কান্না হলে সেসব করার সুযোগ কোথায়? মেট্রোরেলের ক্ষয়-ক্ষতি নিয়ে হাসিনা সরকার বেশ কয়েকটি কথা বলেছিল। এক. স্টেশন দুটো চালু করতে বছরের উপর সময় লাগবে। তাদের সেই ভবিষ্যত বাণী ব্যর্থ করে দিয়ে ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচে ২০ দিনের মধ্যে প্রথম স্টেশনটি চালু করা হয়েছিল। দ্বিতীয়টি ৮০-৯০ দিনের মধ্যে এক কোটি পঁচিশ লাখ টাকা খরচ করে চালু করা হলো। বিগত সরকারের ৫০০-৭০০ কোটির জায়গায় যদি এই সামান্য টাকায় এখান ওখান থেকে এটা ওটা এনে স্টেশন চালু করা হয়েছে। যেখানে মেট্রোরেল চালু করতে শেখ হাসিনা সরকার ৫শ’-৭শ’ কোটি টাকা খরচের কথা বলেছিল সেখানে ২-৪ কোটিতে কাজটি হলো। তাহলে এতগুলো বছর এই যে উন্নয়নের নামে অতিরিক্ত টাকা খরচ করা হয়েছে এ টাকা কার? আমাদের যে ঋণের বোঝায় জর্জরিত করা হয়েছে এর জবাব কে দেবে? এইতো ২-৩ মাস আগে আমার এলাকায় একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার ছেলে ব্যাংক থেকে কয়েক লাখ টাকা নিয়েছিল, সময়মতো দিতে পারেনি ব্যাংক তার নামে ডিক্রী করে তাকে জেলে পুরেছিল। রাষ্ট্রের এই যে বেসুমার অর্থ লোপাট হলো এসবের কি কোনো বিচার হবে না? অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিন্তু এসব ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেননি।

বিগত সরকারের সমর্থক শত শত নেতাকর্মী এমপি মন্ত্রী গ্রেপ্তার হয়েছে, এখনো হচ্ছে। তারা কিন্তু কেউ তহবিল তসরূপ অথবা সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত হননি। সব অভিযোগ দাঙ্গা-হাঙ্গামা, খুন-খারাবি, খুনের সঙ্গে জড়িত থাকা বা দাঙ্গায় হুকুম দেয়া। সেদিন প্রাক্তন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এবং বিমানমন্ত্রী ফারুক খান গ্রেপ্তার হয়েছেন। ফারুক খান কেমন রাজা-বাদশার সন্তান ছিলেন জানি না। কিন্তু ড. আব্দুর রাজ্জাক মুক্তিযুদ্ধে কাদেরিয়া বাহিনীর খুবই সাধারণ একজন যোদ্ধা ছিলেন। বাবা মরে যাওয়ায় নানার বাড়ি মানুষ। নাইন-টেনে পড়ার সময় কোনো এক সভায় লতিফ ভাইয়ের সঙ্গে তার পরিচয়। আমরা আমাদের কর্মীদের সব সময় টেনে তোলার চেষ্টা করতাম। লতিফ ভাই সেই থেকে তার পড়ার জন্যে একজন পিতা, একজন সন্তানের জন্যে যা করে তিনি তা করেছেন। স্বাধীনতার পর রাজ্জাক যতবার টাঙ্গাইল গেছে আমি ইনভেলাপে ভরে যা দিয়েছি প্রতিবার টাঙ্গাইল শহরে রাজ্জাক ইচ্ছে করলে একটা করে বাড়ি কিনতে পারতো। কারণ ’৪৮ সালে আমাদের টাঙ্গাইলে আকুরটাকুর পাড়ার প্রথম বাড়ি ৮০১ টাকা দিয়ে কিনেছিলেন। তারপর পুব-পশ্চিমে, উত্তর-দক্ষিণে আরও ৭০-৮০ ডিসিমেল জায়গা কিনেছিলেন। আমার জানামতে বাবা মরে যাওয়ায় দুইজন নানার বাড়িতে মানুষ। তার একজন ড. আব্দুর রাজ্জাক মধুপুর-ধনবাড়ি, অন্যজন এইচটি ইমাম বাসাইলের সুন্না। বাবা মারা গেলে মা চলে গিয়েছিলেন উল্লাপাড়া বাবার বাড়ি। সেখানে এইচটি ইমাম নানার বাড়িতে মানুষ। আমি যা দেখেছি দু’জনের চাল-চলন আচার-ব্যাবহার প্রায় একই রকম।

mzamin
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, বীরউত্তম
তাবাসসুম ঊর্মি

 

ভারত-কানাডা বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা কে এই লরেন্স বিষ্ণোই?

ভারতের আহমেদাবাদের সবরমতি সেন্ট্রাল জেলে বন্দী দুর্ধর্ষ গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই ভারত-কানাডা কূটনৈতিক দ্বন্দ্বে একটি নতুন কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। কানাডায় অপরাধমূলক কার্যক্রম চালানোর জন্য তার গ্যাংয়ের সঙ্গে ভারত সরকারের যোগসাজশের অভিযোগ তুলেছে রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি)। যদিও তারা কোনও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সরবরাহ করেনি। সালমান খানকে খুনের হুমকি, সিধু মুসেওয়ালার নৃশংস হত্যাকাণ্ড, দক্ষিণ দিল্লির জিম মালিককে গুলি করে খুন এবং এনসিপি নেতা বাবা সিদ্দিকি হত্যা, এই সবকটা ঘটনা এক সুতোয় গাঁথা। আর সেই সুতোর নাম লরেন্স বিষ্ণোই। জেল বন্দী হলেও লরেন্স বিষ্ণোইকে কিছুতেই আটকানো যাচ্ছে না। শুধু একটা মোবাইল ফোন আর ভিপিএন কানেকশনই তার হাতিয়ার। জেল থেকেই চালাচ্ছেন পুরো গ্যাং। পুলিশ ও প্রশাসনের ঘুম ছুটিয়ে দিয়েছে জেলবন্দী এই আসামি।

পাঞ্জাবের ফেরজোপুর জেলার ধাতারানওয়ালি গ্রামের এক ধনী কৃষক পরিবারের সন্তান লরেন্স বিষ্ণোই। বর্তমানে পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও রাজস্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের অধিবাসীরা। বর্তমানে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের বয়স ৩১ বছর। ২০১০ সালে তিনি চণ্ডীগড় কলেজে ভর্তি হন। কিছুদিনের মধ্যেই যোগ দেন ছাত্র রাজনীতিতে। ২০১১ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি পাঞ্জাব ইউনিভার্সিটির ছাত্র সংগঠনের সভাপতি ছিলেন। ২০১০ সালের এপ্রিলে খুনের চেষ্টার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে প্রথম ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়। একই সঙ্গে বেআইনি অনুপ্রবেশের অভিযোগে দায়ের হয় এফআইআর। দুটি মামলাই ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ২০১২ সালে জেল হয় বিষ্ণোইয়ের। মহারাষ্ট্র কন্ট্রোল অব অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যাক্টে তাকে তিহাড়ে স্থানান্তর করা হয়।

২০১৩ সালে তিনি সরকারি কলেজ নির্বাচনের জয়ী প্রার্থী এবং লুধিয়ানা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে গুলি করে খুন করেন। বিষ্ণোইয়ের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নেতাদের খুন, চাঁদাবাজিসহ এক ডজনের বেশি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। তার গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে মদ ও অস্ত্র চোরাচালানের কারবার চালানোর অভিযোগও রয়েছে। সীমান্ত চোরাচালানের একটি মামলায় তাকে গুজরাটে নিয়ে যায় এটিএস। এনআইএ-এর বক্তব্য অনুযায়ী, বিষ্ণোইয়ের গ্যাংয়ে ৫টি রাজ্যে ৭০০-এর বেশি শুটার রয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ শুটার পাঞ্জাবের।

২০২২ সালের ২৯ মে পাঞ্জাবি র‌্যাপার সিধু মুজ ওয়ালার হত্যাকাণ্ডে যুক্ত হয়ে প্রথম আলোচনায় আসে বিষ্ণোই। মুজওয়ালা ভারতের বিরোধী কংগ্রেস দলের সদস্যও ছিলেন। বিষ্ণোইয়ের সহযোগীরা হত্যার দায় স্বীকার করে। গত সপ্তাহে মুম্বাইয়ের অভিজাত বান্দ্রা এলাকায় ৬৬ বছর বয়সী মুসলিম রাজনীতিবিদ বাবা সিদ্দিককে হত্যার দায় স্বীকার করেছে বিষ্ণোইয়ের দল। সিদ্দিক মহারাষ্ট্র রাজ্য সরকারের তিনবারের বিধায়ক এবং প্রাক্তন মন্ত্রী ছিলেন। তিনি বলিউড সেলিব্রিটিদের সাথে ঘনিষ্ঠতার জন্য ব্যাপকভাবে পরিচিত ছিলেন। বিশেষ করে অভিনেতা সালমান খানের সাথে।

সিদ্দিকের হত্যার দায় স্বীকার করে বিষ্ণোইয়ের একজন সহযোগী এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, আমাদের কারো সঙ্গে কোনো শত্রুতা নেই। কিন্তু যে কেউ সালমান খানকে সাহায্য করেন ... তারা সাবধানে থাকুন। ১৯৯৮ সালে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য রাজস্থানে একটি চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের সময় সালমান খান দু’টি হরিণ হত্যা করেছিলেন। সেই থেকে বিষ্ণোইয়ের সঙ্গে তার বিরোধ, সেটি প্রায় ২৬ বছর আগের। বিষ্ণোই ধর্মীয় সম্প্রদায় হরিণকে পবিত্র বলে মনে করে।

ওয়াশিংটন পোস্টের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) অজিত ডোভাল সিঙ্গাপুরে তার কানাডিয়ান প্রতিপক্ষের সঙ্গে একটি গোপন বৈঠক করেছেন। যেখানে তারা কানাডায় খালিস্তানপন্থী হরদীপ সিং নিজ্জার হত্যায় বিষ্ণোই গ্যাংয়ের কথিত জড়িত থাকার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। ভারত দৃঢ়ভাবে এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। নিজ্জার হত্যায় নয়াদিল্লির জড়িত থাকার অটোয়ার দাবিকে ‘রাজনৈতিক লাভের জন্য ভারতকে বদনাম করার একটি ইচ্ছাকৃত কৌশল’ হিসেবে খারিজ করে দিয়েছে তারা। কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন, ভারত একটি বড় ভুল করেছে। আমরা কানাডার মাটিতে কানাডিয়ান নাগরিকদের হুমকি এবং হত্যা করার পেছনে বিদেশি সরকারের জড়িত থাকার বিষয়টি কখনই বরদাস্ত করব না। তবে ভারত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। একই সঙ্গে দাবির স্বআঃপক্ষে প্রমাণ চেয়ে অটোয়াকে চ্যালেঞ্জ করেছে।  

শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদ বা তথাকথিত খালিস্তান আন্দোলনের ইস্যুটি কয়েক দশক ধরে ভারত-কানাডার সম্পর্কের কাঁটা হয়ে আছে। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো জানাচ্ছে, ১৯৮০-এর দশকে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো দমন-পীড়ন পাঞ্জাবে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বেসামরিক শিখদের বিচারবহির্ভূত হত্যার দিকে পরিচালিত করেছিল। অনেক শিখ পরিবার সেইসময় কানাডায় চলে যায়। ১৯৮৫ সালে কট্টরপন্থী শিখ বিদ্রোহীরা কানাডার মন্ট্রিল থেকে লন্ডন এবং নয়াদিল্লি হয়ে ভারতের মুম্বাইগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানকে উড়িয়ে দেয়। আটলান্টিক মহাসাগরের উপর মধ্য আকাশে বিমান বিস্ফোরণে ৩২৯ জনের সবাই নিহত হয়েছিলেন। যাদের বেশিরভাগই ছিলেন কানাডিয়ান নাগরিক। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খালিস্তান আন্দোলন কানাডাসহ কয়েকটি প্রবাসী শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে মাথাচাড়া দিয়েছে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে ভারতের তদন্ত সংস্থা একজন বিচ্ছিন্নতাবাদী সুখদুল সিংকে ওয়ান্টেড তালিকাভুক্ত করে। তালিকভুক্ত করার একদিনেরও কম সময়ের মধ্যে কানাডার উইনিপেগ শহরে বন্দুকের গুলিতে তিনি নিহত হন।

এরপর বিষ্ণোইয়ের দল এই হত্যার দায় স্বীকার করে তাকে ‘মাদক আসক্ত’ বলে উল্লেখ করে। তারা বলে, ‘আমরা আমাদের শত্রুদের খুঁজে বের করব, তারা যেখানেই থাকুক না কেন।’

এদিকে কানাডা সরকার বিষ্ণোইকে তাদের দেশের হত্যাকাণ্ড চালানোর জন্য ভারত সরকারের সঙ্গে যোগসাজশ রাখার দায়ে অভিযুক্ত করেছে। নয়াদিল্লি এই সপ্তাহে ‘দৃঢ়ভাবে’ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

সূত্র: আলজাজিরা

mzamin

পিটার হাস্‌কে নিয়ে অস্বস্তির কথা বাইডেন প্রশাসনকে জানিয়েছিল হাসিনা সরকার by মিজানুর রহমান

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শেখ হাসিনা সরকারের সম্পর্ক ‘টানাপড়েন’, ‘তিক্ততা’র পর্যায় পার হয়ে প্রায় তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল! উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক শিষ্টাচারের বাইরে গিয়ে দলবদ্ধভাবে ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস্‌কে টার্গেট করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের ধারণা ছিল আগের মার্কিন রাষ্ট্রদূতের নানাভাবে হেনস্তার ধারাবাহিকতায় পিটার হাস্‌কেও ঘায়েল করতে পারলে বাইডেন প্রশাসনকে বাগে আনা যাবে। অবশ্য দিল্লিকে দিয়ে ওয়াশিংটনকে ম্যানেজ করার চেষ্টা আগে থেকেই চলছিল। ঢাকা ও ওয়াশিংটনের দায়িত্বশীল কূটনৈতিক সূত্র বলছে, পিটার হাস্‌-এর সঙ্গে কাজ করতে সরকারের অস্বস্তির বিষয়টি ২০২৩ সালের অক্টোবরেই বাইডেন প্রশাসনকে জানানো হয়। সেই সময়ে দেশের রাজনীতি ছিল উত্তাল। বিরোধীরা ২৮শে অক্টোবরের কর্মসূচি বাস্তবায়নে ছিল তৎপর। ওই কর্মসূচি ঠেকাতে সরকার ছিল মরিয়া। ওই সময়ে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ বাড়াতে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে পেট্রোবাংলার গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সইয়ের প্রস্তুতি চলছিল। রাষ্ট্রদূত পিটার হাস্‌ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো প্রতিনিধিকে ওই চুক্তি সই অনুষ্ঠানে স্বাগত জানানো হবে এমন গোঁ ধরেছিল শেখ হাসিনা সরকার। কূটনৈতিক চ্যানেলে সেই বার্তা পাঠানো হয়েছিল ওয়াশিংটনে। কিন্তু না, বাইডেন প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, রাষ্ট্রদূত পিটার হাস্‌কে ছাড়া ওই চুক্তিই হবে না। অবশেষে সরকার কৌশলগত কারণে অর্থাৎ চুক্তির স্বার্থে ৮ই নভেম্বর ঢাকার চুক্তি সই অনুষ্ঠানে পিটার হাস্‌কে বিশেষ অতিথি করতে বাধ্য হয়। মার্কিন কোম্পানির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি (এসপিএ) ছাড়াও মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পায়রা বন্দর এলাকায় আরেকটি ভাসমান টার্মিনাল নির্মাণ বিষয়ে টার্ম শিট সই হয় সেই অনুষ্ঠানে। এতে সেই সময়ের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, হাসিনা সরকারের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ ছাড়াও এক্সিলারেট এনার্জি, জ্বালানি বিভাগ, পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, গত ২৩শে জুলাই ঢাকা মিশন শেষ করেছেন পিটার হাস্‌। অক্টোবরে ওয়াশিংটনে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির উপদেষ্টার দায়িত্ব নিয়েছেন, এরইমধ্যে ঢাকাও ঘুরে গেছেন। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, নির্বাচনের পূর্বের ৩ মাস অর্থাৎ অক্টোবর টু ডিসেম্বর পিটার হাস্‌ এবং তার টিম নিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের অস্বস্তি চরমে উঠেছিল। তাকে বহিষ্কারের সুপারিশ আসছিল দলের বিভিন্ন ফোরাম থেকে। এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আওয়ামী বুদ্ধিজীবীদের সভা থেকেও রাষ্ট্রদূতকে অবাঞ্ছিত করার দাবি উঠেছিল। ফরেন সার্ভিস একাডেমির ওই সভায় সভাপতিত্ব করছিলেন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন। সে সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে দলের ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা আমেরিকা এবং তার রাষ্ট্রদূতের সমালোচনায় মুখর ছিলেন। উদ্দেশ্য প্রথমত: বাইডেন প্রশাসন যেন সমালোচনা থামাতে পিটার হাস্‌কে নিজে থেকে প্রত্যাহার করে নেয়। জনগণের অর্থে নিয়োগ করা লবিস্টরা ওয়াশিংটনে সেই লবিং করছিলেন। দ্বিতীয় টার্গেট ছিল নির্বাচন পর্যন্ত পিটার হাস্‌ যেন ঢাকায় তেমন তৎপরতা না দেখান। সে বিষয়ে বিভিন্ন মারফত দফায় দফায় অনুরোধ যাচ্ছিলো বাইডেন প্রশাসনের কাছে। এ নিয়ে যে ওয়াশিংটনে ‘পিটার হাস্‌-এর মুরুব্বিদের সঙ্গে সরকারের কথা হয়েছে’ তা প্রথম প্রকাশ্যে আনেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। রাজধানীতে সভা করে মিস্টার কাদের বলেন, তিনি (ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত) কী করবেন? ভিসা নীতি দেবেন, নিষেধাজ্ঞা দেবেন? তার মুরুব্বিদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়ে গেছে। আমেরিকার মুরুব্বি যারা, তাদের সঙ্গে কথাবার্তা শেষ। উচ্চপর্যায়েও কথাবার্তা হয়েছে। তলে তলে সব (সমঝোতা) হয়ে গেছে।’ মার্কিন দূতের ঢাকার তৎপরতা নিয়ে কাদের সেদিন আরও বলেন, ‘তারা দৌড়ায় পিটার হাস্‌-এর কাছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে যায়, দুপুরে লাঞ্চ করতে যায়, সন্ধ্যার পর নাশতা করতে যায়। আমি জানি না, হাস্‌ সাহেব ফখরুলকে কী স্বপ্ন দেখিয়েছেন? তবে ক্ষমতার স্বপ্ন দেখে লাভ নেই। ফখরুল সাহেব, দিল্লি বহুদূর।’ রাষ্ট্রদূতকে নিবৃত্ত করতে আওয়ামী লীগ সরকারের বহুমুখী তৎপরতার সঙ্গে অনেকে নভেম্বরে পিটার হাস্‌-এর আচমকা ছুটিতে যাওয়ার বিষয়টি মেলানোর চেষ্টা করেন। সরকারকে জানিয়ে ১৬ই নভেম্বর ছুটি কাটাতে শ্রীলঙ্কার উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়েন পিটার হাস্‌। বিষয়টি সেদিনই গণমাধ্যমে আসে। যদিও সরকার আগে থেকেই জানতো। বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কয়েক মাসের নজিরবিহীন তৎপরতার মধ্যে পিটার হাসের বিদেশ সফর নিয়ে তখন আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। ১০দিন ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফিরেন পিটার হাস্‌, তখনো তাকে নিয়ে সরকারের অস্বস্তি কিংবা বিরোধীদের সমালোচনা কোনোটাই থামেনি। দিন যত গড়াতে থাকে শেখ হাসিনা সরকারের প্রতি দিল্লির সমর্থন ততই প্রকাশ্য হতে থাকে। একপর্যায়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করে ওয়াশিংটন ঘোষিত ভিসানীতি এবং মার্কিন দূতের অব্যাহত আহ্বান অগ্রাহ্য করে একতরফা নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যায় শেখ হাসিনা সরকার। তারা লবিস্ট নিয়োগ করে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা দুনিয়া থেকে ‘নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে মর্মে সার্টিফিকেট যোগাড়ে’ পর্যবেক্ষক ভাড়া করেন। তবে উদ্দেশ্য সফল হয়নি। দুনিয়া এটা বুঝতেছিল যে, বাংলাদেশে একতরফা একটি নির্বাচন হতে যাচ্ছে। ভোটের দু’দিন আগে ঢাকায় থাকা বিদেশি মিশনের কূটনীতিক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রস্তুতির সর্বশেষ অবস্থা জানাতে ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন। সেখানে রাশিয়া, চীন, জাপান, বৃটেন, জার্মানিসহ অনেক দেশের রাষ্ট্রদূত উপস্থিত থাকলেও মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস্‌ সেগুনবাগিচায় আগাম বার্তা পাঠিয়ে তাতে অংশগ্রহণে অপারগতা জানান। অবশ্য ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাও সেই অনুষ্ঠানে ছিলেন না। উভয় দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন তাদের জুনিয়র সহকর্মীরা। ৭ই জানুয়ারির আলোচিত নির্বাচনের পর পুনঃনির্বাচিত হাসিনা সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে নেয়ার বার্তা দেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এটাও ফলাও করে আত্মতৃপ্তি নেয়ার চেষ্টা করে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদের নেতৃত্বাধীন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তথা শেখ হাসিনার সরকার। নির্বাচনের পর তখনো রাষ্ট্রদূত নীরব। দু’মাসের মাথায় রাষ্ট্রদূত পিটার হাস্‌ নির্বাচন নিয়ে নিজের এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। বলেন, ২০২৪ সালের ৭ই জানুয়ারির সংসদীয় নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পক্ষে কথা বলেছিল, যা বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করবে। কিন্তু তা ঘটেনি। কিন্তু তারপরও আমরা বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের যেসব অভিন্ন লক্ষ্য রয়েছে সেই ক্ষেত্রগুলো খুঁজে বের করবো। আমি এরই মধ্যে নতুন সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক শুরু করেছি। সেখানে তিনি এটাও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বত্র গণতন্ত্রের বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে। তিনি বলেন, “সহজ করে বলতে গেলে, আমরা বিশ্বাস করি, দেশের মানুষের কল্যাণে গণতন্ত্র হলো স্থায়ী অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের সর্বোত্তম উপায়। আমরা সাহসী নাগরিক সমাজ এবং মানবাধিকারকর্মীদের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবো। যেসব গণমাধ্যমকর্মী দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিয়মতান্ত্রিক দমন ও হয়রানির শিকার হন, তা অবসানের আহ্বান আমরা অব্যাহত রাখবো। বাক্‌ ও সমাবেশের স্বাধীনতা যাতে বজায় থাকে, সে ব্যাপারে আমরা চাপ অব্যাহত রাখবো। আমরা আরও উন্মুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক সমাজের পথকে সুগম করতে অর্থপূর্ণ রাজনৈতিক সংলাপের আহ্বান জানানো অব্যাহত রাখবো।” তার সেই বক্তব্যকেও ভালোভাবে নেয়নি সরকার। তাছাড়া মার্চে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিএনপি নেতাদের সঙ্গে পৃথক নৈশভোজে মিলিত হন পিটার হাস্‌। এটা প্রকাশ্যে আসার পর তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠে সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব। তার প্রেক্ষিতেই  চটজলদি ব্যবস্থা নেয়া হয়। সে সময় কেবলমাত্র মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে টার্গেট করেই সব রাষ্ট্রদূতের পুলিশ প্রটেকশন প্রত্যাহার করার নির্দয় সিদ্ধান্ত আসে। ভারত সহ বিভিন্ন দেশের প্রতি এমন আচরণে কূটনৈতিক পল্লীতে সরকার ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়লেও সেগুনবাগিচার সংশ্লিষ্টরা একধরনের তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলেন। যদিও নিরাপত্তাহীনতায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিজের ফ্ল্যাগটি গোপন করতে বাধ্য হয়েছিলেন। বাইডেন প্রশাসন গত মে মাসে ঢাকায় নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগের ঘোষণা দেয়। সেটাকেও আগের রাষ্ট্রদূতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে তৎকালীন হাসিনা প্রশাসন। বলা হয়, ২০২৫ সালে আমেরিকায় নতুন সরকার আসার আগে নতুন রাষ্ট্রদূত যোগদান করতে পারবেন না। এটা জেনেও বছরের ৭ মাস বাকি থাকতে নতুৃন দূত পাঠানোর ঘোষণা নাকি শেখ হাসিনা সরকারের অনুরোধেই হয়েছে! বিদায়ী মার্কিন দূতকে নিয়ে সরকারের অস্বস্তি আরও বাড়ে যখন তিনি বিদায়ী সাক্ষাৎ চাননি। জুলাই আন্দোলন নিয়ে (২১শে জুলাই) সরকারের ব্রিফিংয়ের দু’দিনের মাথায় প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী কারও সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ ছাড়াই পিটার হাস্‌ ঢাকা ছেড়ে যান।
mzamin

ইসরায়েলি হামলা দমাতে পারেনি ফিলিস্তিনি তরুণীর স্বপ্ন

স্বপ্ন ছিল তার আকাশ ছোঁয়ার। ডানা মেলে পাখির মতো দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়াবার। কিন্তু সেই স্বপ্নকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে ইহুদিবাদী ইসরায়েলি সেনাদের বর্বর হামলা।

লোকগানের ভাষায় বলা হয়, আমার হাত বান্ধিবি, পা বান্ধিবি-মন বান্ধিবি কেমনে? আমার চোখ বান্ধিবি, মুখ বান্ধিবি-পরান বান্ধিবি কেমনে? বাস্তবে এই গানের জীবন্ত উদাহরণ হয়ে আছেন গাজার এক তরুণী। ইসরায়েলি সেনাদের বর্বরতায় বিশ্ব ভ্রমণের সম্ভাবনা থেমে গেলেও থেমে নেই তার মন।

২০ বছর বয়সী নুর আল রামলাওয়ি। গাজা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থাপত্যবিদ্যায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করা এই তরুণী স্বপ্ন দেখতেন বিশ্ব ভ্রমণের। সম্প্রতি তুরস্কে উচ্চশিক্ষার জন্য বৃত্তি অর্জন করেন তিনি। কিন্তু ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তার স্বপ্ন ভেঙ্গে যায়। তারপর মেয়াদ শেষ হওয়া পাসপোর্টে আঁকতে থাকেন বিশ্বের বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্যের ছবি। যুদ্ধের দামামার মধ্যেই এভাবে বাঁচিয়ে রেখেছেন তার বিশ্বভ্রমণের স্বপ্ন।

এ বিষয়ে নুর আল রামলাওয়ি বলেন, আমি যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার অপেক্ষা করছি, কিন্তু এটা শেষ হচ্ছে না। আমি তুরস্কে যাওয়ার সুযোগ হারিয়েছি। কয়েক মাস পর আমি সীমান্ত পারি দেয়ার আবেদন করি, যখন সময় আসে তখন সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়, ফলে আমি আর যেতে পারি না।

রামলাওয়ি তার পাসপোর্টের খালি পৃষ্ঠাগুলোতে মস্কোর রেড স্কয়ারে অবস্থিত সেইন্ট বাসিল’স ক্যাথেড্যালের ছবি এঁকেছেন। এঁকেছেন প্যারিসের বিখ্যাত আইফেল টাওয়ারের ছবিও। তার আঁকা ছবির মধ্যে রয়েছে মিসরের বিখ্যাত পিরামিড ও বহুল জনপ্রিয় উসমানীয় সাম্রাজ্যের রাজধানী ইস্তাম্বুলের দৃশ্য।

নুর আল রামলাওয়ি আরও বলেন, ব্যবহার করার আগেই আমার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তারপর আমি সিদ্ধান্ত নিলাম এটিকে এমন কোনো কাজে ব্যবহার করব, যা আমি ভালোবাসি। আমি এটিকে একটি স্মারকগ্রন্থ হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিলাম, যাতে আমি যখনই এর দিকে তাকাবো তখন আমার হারানো স্বপ্নগুলো মনে করতে পারি।

গাজার এ তরুণী আশা করেন একদিন এ যুদ্ধের সমাপ্তি হবে। তারা তাদের জীবন ফিরে পাবেন, যাতে তারা প্রিয় শহরকে আবারও তৈরি করতে পারেন এবং হারিয়ে যাওয়া স্বপ্ন ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারেন। তিনি বিশ্বভ্রমণ করতে চান এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চান বলেও জানান। 

নুর আল রামলাওয়ি। ছবি : সংগৃহীত
নুর আল রামলাওয়ি। ছবি : সংগৃহীত

ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা, রাশিয়ার হুঁশিয়ারি

ইসরায়েলে ১৮০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা করে ইরান। এরপর থেকে পাল্টা হামলার ঝুঁকিতে তেহরান। ধারণা করা হচ্ছে, ইসরায়েলের যে কোনো প্রতিশোধমূলক হামলা হবে অত্যান্ত ভয়ংকর। এমন আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন রাশিয়াও।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসের বরাতে আলজাজিরার বৃহস্পতিবারের (১৭ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় কোনো হামলা হলে তা মানবে না রাশিয়া। এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকতে ইসরায়েলকে সতর্ক করেছে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ বলেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েলের যে কোনো হামলার বিরুদ্ধে রাশিয়া সতর্ক বার্তা দিচ্ছে। যদি তা করা হয় তবে এটি হবে বিপর্যয়কর। হামলার কল্পনা চলছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

রিয়াবকভ আরও বলেন, আমরা বারবার সতর্ক করেছি। এখনো সতর্ক করছি। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা এবং পারমাণবিক অবকাঠামোর ওপর হামলার আশঙ্কাকে অনুমানমূলকভাবে বিবেচনা করার বিরুদ্ধেও রাশিয়া। আমরা ইসরায়েলকে সতর্ক করে যাচ্ছি। কারণ, এটি একটি বিপর্যয়মূলক পদক্ষেপ হবে। পারমাণবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিদ্যমান যে প্রচেষ্টা তা ইসরায়েলের কাজকে কোনোভাবেই সমর্থন করবে না। তারা প্রত্যাখ্যাত হবে।

এদিকে সময় গড়াচ্ছে ইরানে হামলার আশঙ্কা প্রবল হচ্ছে। তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এখনো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে দ্বিধান্বিত। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো ইসরায়েলকে শান্ত রাখতে চাইছে।

এদিকে লেবাননে হামলা জারি রেখেছে নেতানিয়াহুর বাহিনী। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের লাবোউনে নিজেদের পতাকা উত্তোলন করেছে ইহুদি সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইসরায়েলের সেনারা। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, একটি স্মৃতিস্তম্ভে এই ঘটনা ঘটনানো হয়, যেটি ২০০৬ সালে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধের সমাপ্তির স্মারক হিসেবে স্থাপন করা হয়েছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়— লাবোউনে গ্রামটি ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তের কাছে অবস্থিত। যেখানে বহু বছর ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে হিজবুল্লাহর প্রভাব বিদ্যমান এবং ২০০৬ সালের যুদ্ধের পরও এখানে মাঝেমধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এমন একটি এলাকায় ইসরায়েলি পতাকা উত্তোলন করার ঘটনা নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

ভিডিওতে পতাকা উত্তোলনের সময় ইসরায়েলি সেনাদের উল্লাস ও উদযাপন করতে দেখা গেছে। ওই ফুটেজে এক সেনা হাত মুঠো করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং পতাকা উত্তোলনকে উদযাপন করেন। এর মাধ্যমে ইসরায়েলি সেনারা হয়তো প্রতীকীভাবে তাদের উপস্থিতি এবং শক্তির জানান দিতে চেয়েছে। 

ইরানের পতাকা। ছবি : সংগৃহীত

হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির মধ্যদিয়ে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রম। গতকাল ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে রাষ্ট্রপক্ষের পৃথক দু’টি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন, বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

সকাল ১১টা ২০ মিনিটের দিকে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর এডভোকেট তাজুল ইসলাম শুনানি শুরু করেন। শুনানির শুরুতে ছাত্র আন্দোলনের তোপের মুখে দেশ ত্যাগকারী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন। একইসঙ্গে অপর একটি অভিযোগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন। এ সময় চিফ প্রসিকিউটর ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা নেয়ার পর থেকে গুম, খুন, তথ্য প্রযুক্তি আইনে হওয়া মামলার পরিসংখ্যান, শাপলা চত্বরে হেফাজত কর্মীদের হত্যা, আয়নাঘর, কানাডার বেগমপাড়াসহ অর্থ পাচারের পরিসংখ্যান এবং সর্বশেষ ছাত্র আন্দোলনে বল প্রয়োগের তথ্য তুলে ধরেন। চিফ প্রসিকিউটর আদালতকে বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্তে গণহত্যার প্রাথমিক অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। আসামিগণ প্রভাবশালী। এখনো দেশের বিভিন্নস্থানে আসামির লোকজন বিভিন্ন পজিশনে আছে। তাই আলামত নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া মামলার তদন্ত কাজ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করছি।

একপর্যায়ে আদালত তার কাছে জানতে চান, রাষ্ট্রীয়ভাবে আসামির অবস্থান জানেন কিনা? জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, না। তারপর আদালত চিফ প্রসিকিউটরের আবেদন মঞ্জুর করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। একইসঙ্গে ১৮ই নভেম্বর মামলার পরবর্তী তারিখ রেখে এই সময়ের মধ্যে আসামিদের আদালতে হাজির করতে বলেন।

পরে তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আমরা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছিলাম। আদালত আমাদের আবেদন মঞ্জুর করেছেন। আদালত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দিয়েছেন। ১৮ই নভেম্বরের মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করে এই আদালতে উপস্থিত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ বলেন, আমরা দু’টি পিটিশন দাখিল করেছি। প্রথমটিতে শুধু শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন এবং অপরটিতে ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধে। ট্রাইব্যুনাল আমাদের আবেদন মঞ্জুর করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং ১৮ই নভেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন।

শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। কোন প্রক্রিয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার ব্যাপারে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও আন্তর্জাতিক আইনে যেসব ব্যবস্থা আছে সেই সব প্রক্রিয়া এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করেই এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।  

এদিকে ওবায়দুল কাদের ছাড়াও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম. মোজাম্মেল হক, শেখ হাসিনার ছেলে ও সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল। তবে তদন্তের স্বার্থে এবং তাদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করার স্বার্থে নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছেন।  অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক তথ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত,  সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইনমন্ত্রী  আনিসুল হক, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, মক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক, তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা ও শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ঢাকা দক্ষিণের মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল মামুন, সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশিদ, পুলিশের সাবেক কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার সরকার, প্রলয় কুমার জোয়ার্দার, ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক র‌্যাব ডিজি হারুন অর রশিদ, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান, শেখ হাসিনার সাবেক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলামের নাম গ্রেপ্তারি পরোয়ানার তালিকায় রয়েছে।

আদালতের আদেশের পর চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, আজকে জুলাই-আগস্টে পরিচালিত ম্যাসাকার, হত্যা, গণতহ্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ যারা করেছিলেন, তাদের প্রধান যিনি ছিলেন, সাবেক প্রধান শেখ হাসিনা, তার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আমরা আজকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছিলাম। সেই আবেদনে আমরা জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা, এই সব কিছুর বিস্তারিত বর্ণনা আমরা ট্রাইব্যুনালের সামনে উপস্থাপন করেছি। একইসঙ্গে এই যে একটি সরকার কীভাবে দানবীয় সরকারে পরিণত হলো। কীভাবে নিরস্ত্র সাধারণ ছাত্রদের গুলি করে মারলো। তার প্রেক্ষাপটও এই আদালতের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি বলেন, আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছিলাম এই অপরাধগুলো এত বিস্তৃীত মাত্রায় সারা বাংলাদেশে সংঘটিত হয়েছে। এই অপরাধের আসামি যারা, তারা অসম্ভব রকমের প্রভাবশালী, তাদের গ্রেপ্তার করা না হলে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করাটা কঠিন। কারণ তাদের ভয়ে সাধারণ মানুষ, এমনকি শহীদ পরিবারের সদস্যরা কথা বলতে সাহসী হচ্ছেন না। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আমরা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানিয়েছিলাম। ট্রাইব্যুনাল আবেদন মঞ্জুর করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। ১৮ই নভেম্বরের মধ্যে শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করে এই ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় আরেকটি আবেদনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং মন্ত্রিপরিষদের সদস্যসহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানানো হয়েছে। সেটিও মঞ্জুর করেছেন ট্রাইব্যুনাল। তাজুল ইসলাম বলেন, আপনারা জানেন এই অপরাধীরা এখনো রাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছেন। সে কারণে তাদের নাম প্রকাশ করছি না। আমাদের তদন্তের স্বার্থে এবং তাদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করার স্বার্থে আমরা তাদের নাম প্রকাশ করছি না।

তিনি বলেন, ১৮ই নভেম্বর ট্রাইব্যুনালের ধার্য তারিখ। তবে গ্রেপ্তার করা মাত্রই আসামিদের ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা যাবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখানে সবার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। প্রথম আবেদনে শেখ হাসিনা এবং দ্বিতীয় আবেদনে ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সবার নাম এখানে উল্লেখ করা হয়নি। আমরা ধীরে ধীরে আরও তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করে বাকিদের ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। আজকে আমরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছি তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছি। তথ্য প্রমাণ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

আসহাবুল ইয়ামিন হত্যাকাণ্ড: সাভারে এমআইএসটি’র শিক্ষার্থী শাইখ আসহাবুল ইয়ামিনকে হত্যার ঘটনা ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরা হয়। ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে পুলিশের সাঁজোয়া যান থেকে গুলিবিদ্ধ ইয়ামিনের নিথর দেহ টেনে নিচে ফেলার ঘটনা আদালতে বর্ণনা করেন তাজুল ইসলাম। গাড়ি টান দেয়ার সময় চাকার নিচে পড়বে বলে দেহটি টেনে দূরে সরানো হয়। তখনো সেই দেহটি নড়তে দেখা যায়। এমন একটি লোমহর্ষক ভিডিও ভাইরাল হয় নেট দুনিয়ায়। তাজুল ইসলাম বলেন, ছাত্র আন্দোলনে শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলনে উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখেন। কয়েকজন সাংবাদিকও উস্কানি দেন। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের রাজাকার বলা হয়। ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দিয়ে গণহত্যার তথ্য আড়াল করা হয়, সঠিক তথ্য জানতে বাধা দেয়া হয়।      

উল্লেখ্য, গণহত্যার অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে শেখ হাসিনা, তার মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলের নেতা, পুলিশের তৎকালীন আইজিসহ বেশ কয়েকজন সদস্য, র‌্যাবের তৎকালীন ডিজি, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে। 

mzamin

আর বাকি ১৮ দিন: ট্রাম্পের হুমকি ভাবিয়ে তুলছে

আজকের দিন নিয়ে আর মাত্র ১৮ দিন বাকি। এরপরই ৫ই নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এবারের নির্বাচন তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে আভাস দিচ্ছে বিভিন্ন জনমত জরিপ। বলা হচ্ছে, সামান্য ভোটের হেরফের হতে পারে। কিন্তু রিপাবলিকান দলের প্রার্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যেভাবে প্রতিপক্ষকে হুমকি দিচ্ছেন তাতে ভাবিয়ে তুলেছে সচেতন ব্যক্তিদের। বিশেষ করে ২০২১ সালের ৬ই জানুয়ারির কথা স্মরণে চলে আসছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে তিনি প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছেন। তাদেরকে দেশের শত্রু হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। বলছেন, যারা তার প্রেসিডেন্সির বিরোধিতা করবে তাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীকে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ নিয়ে অনলাইন নিউ ইয়র্ক টাইমসে দীর্ঘ একটি বিশ্লেষণ প্রকাশ হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর তিন সপ্তাহেরও কম সময় বাকি থাকতেই ডনাল্ড ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণাকে ভয়ঙ্কর এক রাজনৈতিক হুমকির দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। বলছেন, তার সঙ্গে যারা একমত হবেন না তাদেরকে চূর্ণ-বিচূর্ণ (ক্র্যাশ) করে দিতে তিনি শক্তি ব্যবহার করবেন।

রোববার এক সাক্ষাৎকারে তিনি ডেমোক্রেটদেরকে  ভেতরকার শত্রু হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বলেছেন, তারা নির্বাচনের দিনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে। তার অনুমান এটা মোকাবিলা করতে ন্যাশনাল গার্ডকে ব্যবহার করতে হবে।  একদিন পরে পেনসিলভ্যানিয়াতে জনতার উদ্দেশ্যে সমাপনী বক্তব্য দেন। তাতেও রাজনৈতিক বিরোধীদেরকে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। ট্রাম্প বলেছেন, তারা (বিরোধী ডেমোক্রেট) খুব খারাপ। খোলামেলা বলছি তারা অশুভ। তারা শয়তান। তারা যা করেছে তা হলো অস্ত্র দিয়েছে। আমাদের নির্বাচনে অস্ত্রের ব্যবহার করেছে। তারা এমন সব কাজ করেছে যা সম্ভব এমনটা কেউ ভাবতেও পারে না। মঙ্গলবার তাকে শিকাগোতে একটি অর্থনৈতিক ফোরামে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন। তার জবাবে ট্রাম্প আরও একবার শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর অস্বীকার করেন।
ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটলগ্রাউন্ডগুলোতে আগাম ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। হোয়াইট হাউসের দৌড় এখন নির্বাচনের দিনের কাছাকাছি। তখনো ট্রাম্প তার সেই পুরনো ধারায় চলছেন। তিনি ২০২০ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। আশ্রয় নিয়েছিলেন বড় মাত্রায় ভোট জালিয়াতি তত্ত্বের। অভিযোগ করেছিলেন যে, বিচার ব্যবস্থাকে তার বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। পক্ষান্তরে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান শক্তিধর কর্তৃত্ববাদী হওয়া সত্ত্বেও তাদের প্রশংসা করেছেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল নমিনি বা প্রার্থী এর আগে কখনো প্রকাশ্যে তার বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী ব্যবহারের হুমকি দেননি। ট্রাম্প রাজনৈতিক প্রতিশোধের হুমকি বাড়াতে গিয়ে মার্কিন ভোটারদেরকে খুব ভিন্ন পছন্দের সুযোগ দিচ্ছেন, যা খুবই কম গণতান্ত্রিক। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অধীনে হোয়াইট হাউসের সহযোগী ছিলেন ইয়ান বাসিন। তিনি বর্তমানে প্রোটেক্ট ডেমোক্রেসি নামের একটি এডভোকেসি গ্রুপের নেতৃত্বে আছেন। তিনি বলেন, কোনো প্রার্থীকে জনগণ সমর্থন না করার কারণে তাদের বিরুদ্ধে যথার্থ প্রতিশোধ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন- এমন নজির নেই।

ডনাল্ড ট্রাম্প এবং কমালা হ্যারিস যখন তাদের ক্লোজিং বক্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন তখন তাদের সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের শীর্ষ অগ্রাধিকারগুলোতে। তার মধ্যে আছে- অর্থনীতি, গর্ভপাতের অধিকার, গৃহায়ন খরচ, ইউক্রেন এবং মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুক্ত থাকার বিষয়। দুই প্রার্থীর মধ্যে এখনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে টাইট। পেনসিলভ্যানিয়ার ইরি এলাকায় র‌্যালিতে কয়েক হাজার সমর্থকের উদ্দেশ্যে কমালা হ্যারিস তার প্রতিপক্ষ ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, তিনি যে বা যারা তার বিরুদ্ধে ভোট দেবেন, তাদেরকে তিনি শত্রু হিসেবে মনে করেন। তাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীকে ব্যবহারের কথা বলছেন তিনি। কমালার সহযোগীরা বিশ্বাস করেন, ট্রাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন ভোটাররা। 

mzamin

সালমান খানকে হত্যায় ২৫ লাখ রুপির চুক্তি, ভাড়া করা হয় ৫ জনকে

বলিউডের হার্টথ্রব নায়ক সালমান খানকে হত্যা করতে ২৫ লাখ রুপির চুক্তি হয়েছিল। এ জন্য ভাড়া করা হয়েছিল ৫জনকে। তারা একে-৪৭, একে ৯২ এবং এম-১৬ কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে এ বছর এপ্রিলের মধ্যে হত্যার পরিকল্পনা সাজানো হয়েছিল। নাভি মুম্বই পুলিশ বৃহস্পতিবার জমা দেয়া চার্জশিটে এসব কথা বলেছে। তাতে বলা হয়েছে, মহারাষ্ট্রের পানভেলে খামারবাড়ির কাছে সালমান খানকে হত্যা করতে চেয়েছিল তারা। এতে অভিযুক্ত হিসেবে ৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এখানেও উঠে এসেছে জেলবন্দি লরেন্স বিষ্ণোইয়ের নাম। তার নেতৃত্বে তার গ্যাং এই চুক্তি করেছিল। চার্জশিটে বলা হয়, অভিযুক্তরা পাকিস্তান থেকে একে ৪৭, একে ৯২ এবং এম ১৬, তুরস্কে তৈরি জিগানা অস্ত্র কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তুরস্কে তৈরি জিগানা দিয়ে এর আগে পাঞ্জাবের গায়ক সিধু মুসেওয়ালাকে হত্যা করা হয়েছে। মিশন সম্পন্ন করতে ১৮ বছরের কম বয়সী বালকদের ভাড়া করা হয়। তারা সবাই পুনে, রাইগাদ, নাভি মুম্বই, থানে ও গুজরাটে আত্মগোপনে থাকে। সালমান খানকে হত্যা করতে হলে তার গতিবিধি নজর রাখতে দায়িত্ব দেয়া হয় ৬০ থেকে ৭০ জনকে। এসব স্থানের মধ্যে আছে বান্দ্রার বাড়ি, পানভেলের খামারবাড়ি এবং গোরেগাঁও ফিল্ম সিটি।

তদন্তে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার এই মামলায় হরিয়ানার পানিপাত থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সুখাকে। তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল শুটার অজয় কাশ্যপ ওরফে একে এবং অন্য চারজনকে এই ষড়যন্ত্রে দেখভালের জন্য। কাশ্যপ ও তার টিমের নেতৃত্বে নতুন করে পরিকল্পনা হয়। তারা এই অভিনেতার কঠোর নিরাপত্তা ও বুলেটপ্রুফ গাড়ির বিষয়টি আমলে নেয়। সিদ্ধান্ত নেয়, তাকে হত্যা করতে হলে উচ্চ মানসম্পন্ন অস্ত্রের প্রয়োজন হবে। এ জন্য পাকিস্তানভিত্তিক অস্ত্রের ডিলার ডোগার-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে সুখা। এ সময় একটি শালের ভিতর পেঁচানো অবস্থায় একে-৪৭ এবং অন্য অত্যাধুনিক অস্ত্র দেখান তিনি। চলতে থাকে দরদাম। এক পর্যায়ে অস্ত্রগুলো সরবরাহ দিতে রাজি হন ডোগার। শতকরা ৫০ ভাগ দাম আগাম দিতে রাজি হন সুখা। বাকি অর্ধেক দেবেন অস্ত্র ভারতে পৌঁছে দেয়ার পর। পুলিশ আরও জানতে পেরেছে যে, সব প্রস্তুতির পর কানাডাভিত্তিক গ্যাংস্টার গোল্ডি ব্রার এবং লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ভাই আনমোল বিষ্ণোইয়ের নির্দেশের অপেক্ষায় ছিল পুরো টিম। ৫৮ বছর বয়সী সালমান খানকে হত্যার পর তাদের পরিকল্পনা ছিল কন্যাকুমারীতে সমবেত হওয়ার। সেখান থেকে বোটে করে চলে যাওয়ার কথা ছিল শ্রীলঙ্কায়। তারপর এমন কোনো দেশে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল, যেখানে তদন্তের জন্য যেতে পারবে না ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। বান্দ্রায় সালমান খানের বাড়ির বাইরে এক গুলির ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ এই ষড়যন্ত্রের সন্ধান পায়। এরই মধ্যে সাবেক মন্ত্রী ও এনসিপি নেতা বাবা সিদ্দিককে হত্যার পর সালমান খানের বান্দ্রার বাসভবনের বাইরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

mzamin

৪৩তম বিসিএস’র নিয়োগ প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবি বিএনপি’র

সম্প্রতি পদত্যাগকারী পাবলিক সার্ভিস কমিশন কর্তৃক সুপারিশকৃত ৪৩তম বিসিএস’র নিয়োগকৃত ২ হাজার ৬৪ কর্মকর্তার প্রজ্ঞাপন এবং ৪৪, ৪৫ ও ৪৬তম বিসিএস পরীক্ষার সকল প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি করেছে বিএনপি। গতকাল দলের চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি’র পক্ষ থেকে এই দাবি জানান স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, পতিত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের দোসর হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী এবং ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর সম্প্রতি পদত্যাগকারী দলকানা পাবলিক সার্ভিস কমিশন কর্তৃক সম্পূর্ণ দলীয় বিবেচনায় বিসিএস ৪৩তম ব্যাচের সুপারিশকৃত ২০৬৪ জন প্রার্থীকে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বিসিএস’র বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। অসংখ্য প্রাণের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের এই সিদ্ধান্ত ও নিয়োগ প্রক্রিয়া দেশের মানুষকে চরমভাবে হতভম্ব ও হতাশ করেছে এবং জনমনে প্রচণ্ড ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা মনে করি, যাচাই-বাছাই ছাড়াই ঢালাওভাবে সুপারিশকৃত শাসকদলীয় প্রার্থীদের রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে নিয়োগ দান করা হলে তা হবে চরম আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। দেশের হাজার হাজার যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীদের বঞ্চিত করে দলীয় ভিত্তিতে বিবেচিত ও সুপারিশকৃত ৪৩তম বিসিএস বাতিল করার জন্য আমরা দেশ ও জাতির পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। একইসঙ্গে ৪৪, ৪৫ ও ৪৬তম বিসিএস পরীক্ষার সকল প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা জানতে পেরেছি হাসিনা সরকারের সময় ইতিমধ্যে আবেদনকৃত ৪৪তম বিসিএসের যে ৯০০০ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়েছিল তার মধ্যে ৩০০০ জনের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। ৪৫তম বিসিএস’র লিখিত উত্তরপত্রের মূল্যায়ন প্রায় শেষ পর্যায়ে। ৪৬ বিসিএস’র প্রিলিমিনারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে তিন মাস পূর্বে।

সালাহউদ্দিন বলেন, আমরা দাবি করছি রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে প্রবেশে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী গোষ্ঠীর এবং সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের ক্যাডার বাহিনীকে নিবৃত্ত করার লক্ষ্যে এই ৩টি বিসিএস’র নিয়োগ প্রক্রিয়াসমূহ পুরোপুরি বাতিল করা হোক। জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে দ্বিতীয় স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তুলতে হলে ফ্যাসিবাদের দোসরদের যেকোনো মূল্যে রুখে দিতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে এ বিষয়ে আপস করার বিন্দুমাত্র কোনো সুযোগ নেই। দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পক্ষ থেকে যেখানে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করার জোর দাবি জানানো হচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে ৪৩তম বিসিএস’র ঢালাও নিয়োগ দানের মাধ্যমে সেই সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্যদের সরকারি প্রশাসনের উচ্চতর পদসমূহে পুনর্বাসন করার এই অন্তর্ঘাতমূলক সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তার পরিপন্থি এবং কিছুতেই গ্রহণযোগ্য নয়।
৪৩তম বিসিএস প্রার্থীদের চূড়ান্ত কীভাবে হতে পারে- তার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এখানে আমরা বলেছি, অতীতে ২৭তম বিসিএস একটা নজির রয়েছে। সেটা ২০০৭ সালে যে ২৭তম বিসিএস’র এর চূড়ান্ত ফলাফল বাতিল করা হয়েছিল। পরে পুনরায় মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। আমরা ওই একই প্রক্রিয়া অনুসরণের জন্য যাতে জাস্টিস এনসিউর হয় সেটা প্রেসক্রাইভ করেছি। একই সঙ্গে ৪৪, ৪৫ ও ৪৬তম বিসিএস পরীক্ষা বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষা নেয়ার কথা বলেছি। আমরা আবেদনকারীদের আবেদন করতে বলছি না।

বিএনপি’র এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের মাত্র ২ মাসের মধ্যে কীভাবে কোনো বাছবিচার ছাড়াই পতিত আওয়ামী দলীয় অনুগতদের নিয়োগ দানের মাধ্যমে প্রশাসনে আওয়ামী প্রেতাত্মার আধিপত্য আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি করে দেয়া হলো সেটাই এখন বিরাট প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা মনে করি, এই নিয়োগ ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার অবিস্মরণীয় আত্মত্যাগের সঙ্গে বেঈমানি ও বিশ্বাসঘাতকতার সামিল।
তিনি বলেন, এক সময় যে পাবলিক সার্ভিস কমিশন ছিল প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগের সেরা প্রতিষ্ঠান এবং যা ছিল জাতীয় গৌরবের বিষয়- ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ শাসনামলে সেই পিএসসিকে এক আজ্ঞাবহ দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছিল। একদিন যে প্রতিষ্ঠান দেশের জ্ঞানী-গুণী এবং আদর্শস্থানীয় বিদগ্ধজনেরা নেতৃত্ব দিতেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সেই প্রতিষ্ঠান দলীয় ক্যাডারদের আস্তানায় পরিণত হয়েছিল। দলীয়করণ এতই নগ্নরূপ ধারণ করেছিল যে পুরস্কারস্বরূপ পিএসসির একজন সাবেক চেয়ারম্যানকে ডামি নির্বাচনের এমপি নির্বাচিত করা হয়েছিল। তিনি এখন পলাতক রয়েছেন। জাতির জন্য এর চেয়ে লজ্জার আর কি হতে পারে। এইসব দলবাজ কর্মকর্তাদের দ্বারা ঢালাওভাবে সুপারিশকৃত শাসকদলীয় প্রার্থীদের রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে নিয়োগ দান করা হলে তা হবে চরম আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বলে আমরা মনে করি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, চাকরি প্রার্থীসহ সর্বমহল থেকে পিএসসি সংস্কারের দাবি উঠেছে। এই দাবির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমাও বৃদ্ধি করা হচ্ছে বলে জানা যায়। আমরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। এর ফলে বঞ্চিত মেধাবীদের অন্তত একটি অংশ হলেও বিভিন্ন চাকরিতে নতুন করে আবেদনের সুযোগ পাবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি। পিএসসি সংস্কার দাবির প্রেক্ষিতে পিএসসি’র নতুন একজন চেয়ারম্যান ও কয়েকজন সদস্যকে ইতিমধ্যে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আমরা মনে করি পিএসসি’র সংস্কার কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন করে সকল নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা উচিত যেন চাকরি প্রার্থীরা পরিবর্তিত পিএসসি’র সুফল পায় এবং সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জাতির আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সরকারি, আধাসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিসহ ১ম শ্রেণির বিভিন্ন নন-ক্যাডার পদে নতুন চাকরি প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। আমরা মনে করি এসব পদে যারা ইতিমধ্যে আবেদন করেছেন তাদের পাশাপাশি আবেদনের সময়সীমা বাড়িয়ে নতুন করে আবেদনের সুযোগ দেয়া হোক। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স বৃদ্ধি করার কারণে এ সুযোগ চাকরি প্রার্থীদের প্রতিযোগিতাকে আরও উন্মুক্ত করবে এবং যোগ্য ও মেধাবীদের নিয়োগের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। এতে সরকার যোগ্য ও মেধাবীদের সেবা পাবে, দেশ ও জাতি উপকৃত হবে। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

mzamin

দেশে ফিরছেন না নিপুণ

৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অনেক তারকাই আত্মগোপনে কিংবা লুকিয়ে আছেন। তাদের একজন হলেন গত সরকারের আমলে চলচ্চিত্রাঙ্গনে প্রভাব বিস্তার করা চিত্রনায়িকা নিপুণ আক্তার। বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে জুলাইয়ের শেষ দিকেই যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান বিতর্কিত এ নায়িকা। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ সেলিমের ছত্রছায়াতেই তিনি প্রভাব বিস্তার করেন চলচ্চিত্রাঙ্গনে। চেয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হতেও। দলটির বিভিন্ন প্রচারণামূলক কাজে নিয়মিত পাওয়া যেতো নিপুণকে। শুধু তাই নয়, শেখ সেলিম ও আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিতে নিজের প্রভাব বিস্তার করেন তিনি। এমনকি সেই জোরেই শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের চেয়ার দখল করেন। কাউকে তোয়াক্কা না করে তার একক সিদ্ধান্তেই চলতো সমিতি। চলচ্চিত্রের মানুষজন বিরক্ত ও ভেতরে ভেতরে ফুঁসে উঠলেও নিপুণের বিরুদ্ধে কিছু বলার কিংবা করার সাহস করেননি কেউ। ২০০৬ সালে চলচ্চিত্রে আসেন নিপুণ। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বদলে যায় তার জীবন। শেখ সেলিমের ছত্রছায়ায় একের পর এক সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে কাজ করেন। বাগিয়ে নেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও। সিনেমার পর ২০১২ সালে তিনি বনানীর মতো অভিজাত এলাকায় শুরু করেন নিজস্ব পার্লার। সেই প্রতিষ্ঠানেও অনৈতিক কাজ হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, শেখ সেলিমের গল্পে সিনেমা নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন নিপুণ। যদিও পরবর্তীতে সেটা হয়নি। এদিকে নিপুণ সামাজিক মাধ্যমেও এখন খুব একটা সরব না। গত স্বৈরাচার সরকারের পক্ষে বেশ কয়েকটি পোস্ট অবশ্য ৫ই আগস্টের পর করেছেন তিনি। নিপুণের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র মানবজমিনকে জানায়, নিপুণের সহসা দেশে ফেরার কোনো পরিকল্পনা নেই এখন। কারণ দেশে ফিরলে তোপের মুখে পড়তে পারেন তিনি। তিনি এও জানান, নিপুণ এখন আমেরিকায় অবস্থান করছেন তার মেয়ের সঙ্গে। তবে সেখানেও খুব একটা বের হচ্ছেন না তিনি। সেখানকার বাঙালি কমিউনিটির

ক্ষোভের মুখেও রয়েছেন তিনি। প্রসঙ্গত, ১৯৯৯ সালে উচ্চ মাধ্যমিকের পর নিপুণ রাশিয়া চলে যান। মস্কোতে ২০০৪ পর্যন্ত পড়ালেখা করেন। এরপর পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে থাকা অবস্থাতেই বিয়ে করেন নিপুণ। যদিও সেই বিয়ে টেকেনি বেশিদিন। তবে সেই ঘরে তানিশা হোসেন নামে এক কন্যাসন্তান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ২১ বছর বয়সী মেয়ে তানিশার সঙ্গেই এখন থাকছেন নিপুণ।

mzamin

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফেরাতে বিএনপি’র রিভিউ আবেদনে ১০ যুক্তি

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল সংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) চেয়ে বিএনপি মহাসচিবের আবেদনে ১০টি যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে মোট ৮০৭ পৃষ্ঠার রিভিউ আবেদন রোববার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে উপস্থাপন করা হবে বলে জানান জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে তিনি সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন।

এডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের পর ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে নজিরবিহীন কারচুপির মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়। ফলে গণতন্ত্র মুখ থুবড়ে পড়ে। একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। জাতির কাঁধে ফ্যাসিবাদ জেঁকে বসে। এডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ৫ই আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটে। পদত্যাগ করে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সুপ্রিম কোর্টের মতামতের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। মানুষ মুক্তি পায়। দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জিত হয়। তিনি আরও বলেন, ১৯৯১, ১৯৯৬ ২০০১ এবং ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছিল। ২০০৮ সালের ২৯শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংক্রান্ত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পূর্বেই সংবিধান সংশোধন করে তৎকালীন আওয়ামী সরকার। নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংসদে বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। আদালতে ঘোষিত রায়ের সঙ্গে প্রকাশিত রায় ভিন্ন ছিল। যা বিচার বিভাগীয় প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয় বলে মনে করেন এডভোকেট জয়নুল আবেদীন। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি’র আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, দেশের ৯৫ ভাগ লোক মনে করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। মা, মাটি ও মানুষের দল বিএনপি জনগণের এই প্রত্যাশা পূরণে উদ্যোগ নিয়েছে।

এডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, ৪১ পৃষ্ঠার রিভিউ আবেদনে ১০টি যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে। যুক্তির মধ্যে রয়েছে-আদালতে প্রকাশ্যে ঘোষিত সংক্ষিপ্ত আদেশ সংবিধান সংশোধনের পর পূর্ণাঙ্গ রায় থেকে বাদ দেয়া এবং তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের অবসরের ১৮ মাস পর রায় প্রকাশ করা একটি বিচার বিভাগীয় প্রতারণা। বিষয়টি নিয়ে একটি ফৌজদারি মামলাও চলমান রয়েছে বলে যুক্তিতে উল্লেখ করা হয়।

গণতন্ত্র এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন যমজ সন্তানের মতো একটি ছাড়া আরেকটি অর্থহীন। সুষ্ঠু নির্বাচন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একমাত্র গ্রহণযোগ্য বাহন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল রায়ের মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক স্তম্ভ ধ্বংস করা হয়েছে। একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে যুক্তিতে বলা হয়। যুক্তিতে আরও বলা হয়, সংবিধান একটি জীবন্ত রাজনৈতিক দলিল। সময়ের প্রয়োজন মেটাতে না পারলে এর কার্যকারিতা থাকে না। সুপ্রিম কোর্টের দায়িত্ব সংবিধানকে প্রাসঙ্গিকভাবে ব্যাখ্যা করা যান্ত্রিকভাবে নয়। তাই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিতে এ রায় পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন।
বিএনপি’র যুক্তিতে বলা হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ফলশ্রুতিতে ত্রয়োদশ সংশোধনী সংশ্লিষ্ট মৌলিক মর্যাদা অর্জন করে। সুপ্রিম কোর্ট এই মৌলিক স্তম্ভ অসাংবিধানিক ঘোষণা করতে পারে না।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে এডভোকেট জয়নুল আবেদীন বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এ বিষয়টি ব্রিফ করেন। এসময় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, আইনজীবি ফোরামের যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, এ মামলায় বিএনপির পক্ষে বিশেষভাবে নিযুক্ত আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সহ-সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী আলাল, এডভোকেট তৌহিদুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
২০১১ সালের ১০ই মে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনে করা সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে তা বাতিল করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সে রায় রিভিউ চেয়ে আবেদনটি করা হয়েছে।

mzamin

নিরাপত্তা সংকট সাকিব ঢাকায় আসলেন না by ইশতিয়াক পারভেজ

অবশেষে শঙ্কাই সত্যি হলো। বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা সংকটের কারণে দেশে ফিরলেন না সাকিব আল হাসান। অথচ তাকে রেখেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্টের জন্য দল ঘোষণা করা হয়। তখন মনে হয়েছিল, সাকিবের দেশে আসতে আর বাধা নেই। কিন্তু বুধবার রাত ১১টায় একটি সূত্রে জানা যায় সরকারের পক্ষ থেকে তাকে দেশে ফিরতে বারণ করা হয়েছে। লস অ্যানজেলেস থেকে দুবাই এসেই তিনি এই বার্তা পান। তাকে জানানো হয় তিনি এলে তাকে নিরাপত্তা দেয়া হবে না। গতকাল সকালে তিনি কয়েকটি গণমাধ্যমে তা স্বীকারও করে নেন যে তার হয়তো দেশে আসা হচ্ছে না। দুপুরে সরকারি একটি সূত্র থেকে জানা যায় শঙ্কা কেটে গেছে। দেশে ফিরবেন সাকিব। তবে সন্ধ্যার আগেই জানা যায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তাকে দেশে না ফেরার পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ, দেশে সাকিবের নিরাপত্তা নিয়ে রয়েছে যথেষ্ট শঙ্কা। এরপর ক্রিকেট ভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোকে সাকিব বলেন, ‘কোথায় (দুবাই) যাবো জানি না। তবে দেশে ফিরছি না।’ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে সাকিব আল হাসানকে নিয়ে চলছে নানা-আলোচনা সমালোচনা। পতিত সরকারের সংসদ সদস্য ছিলেন তিনি। গণআন্দোলনের সময় যখন গুলিতে নিহত হচ্ছিলেন ছাত্র-জনতা- তখন তিনি ছিলেন নীরব। এ কারণেই ক্ষুব্ধ দেশের মানুষ। গতকালও তার দেশে  আসার বিরোধিতা করে ছাত্র-জনতা মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের সামনে স্লোগান দেন- ‘আমার ভাই কবরে সাকিব কেন বাহিরে।’ বলার অপেক্ষা রাখে না আন্দোলনকারীদের অবস্থানের কারণেই শেষ পর্যন্ত সরকার সাকিবকে দেশে আসতে বারণ করে দেন।

গতকাল দুপুর থেকে মিরপুর শেরেবাংলা মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার অনুশীলনকে কেন্দ্র করে নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কিন্তু সেখানে হাজির হয় অন্দোলনকারীরা। অবস্থান নেন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের প্রধান ফটকের সামনে। তাদের দাবি সাকিবকে বাদ দেয়া হোক জাতীয় দল থেকে, তার বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে দেশে ফিরলে যেন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিসিবি বলছে- তারা মাঠের বাইরে নিরাপত্তা দিতে পারবে না। সরকার বলছে- সাকিব দেশে এলে তাদের কোনো আপত্তি নেই। একজন ক্রিকেটার হিসেবে নিরাপত্তা দেয়া হবে। সাকিব বলছেন- নিরাপত্তার ইস্যুতে তিনি দেশে ফিরবেন না। আর ছাত্র-জনতা তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছেন। সব মিলিয়ে সাকিবকে নিয়ে গতকাল সারাদিন চলে জমজমাট নাটক। বলাবলি হচ্ছিল দেশে তার বিরুদ্ধে মানুষের যে ক্ষোভ তাতে মাঠে খেলার সময় এমনকি বাইরে চলাচলের সময় সাকিব হতে পারেন আক্রমণের শিকার। এমনকি শুরুতে সরকারকে গোয়েন্দারাও যে রিপোর্ট দিয়েছিল তাতে উল্লেখ ছিল সাকিব দেশে এলে তাকে ঘিরে করা হতে পারে ষড়যন্ত্র। সুবিধাবাদী পক্ষ হামলা করে তার দায় চাপাতে পারে সরকারের ওপর।

সরকার পতনের পর সাকিবের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় হত্যা মামলা। সেই সময় সাকিব দেশে না ফিরলেও খেলেন পাকিস্তান ও ভারতের মাটিতে টেস্ট সিরিজ। সবশেষ কানপুরে সিরিজের শেষ ম্যাচের আগে তিনি টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। তবে তিনি সেখানে ইচ্ছা প্রকাশ করেন, তার ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি দেশের মাটিতে খেলে অবসরে যেতে চান। ২১শে অক্টোবর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্ট ম্যাচ শুরু হচ্ছে মিরপুরে। সেখানেই তিনি অবসরে যাওয়ার ঘোষণা দেন। তবে দেশে ফিরতে তিনি বিসিবি’র কাছে নিরাপত্তা চান। শুরুতেই বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ জানিয়ে দেন তাকে নিরাপত্তা দেয়া হবে না। এরপর ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদও জানান, সাকিবকে ক্রিকেটার হিসেবে নিরাপত্তা সরকার দিলেও জনরোষ তিনি ঠেকাতে পারবেন না। শুধু তাই নয়, সাকিব যে দেশে ফিরে এলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে না- সেটিরও নিশ্চয়তা দেয়নি সরকার। তবে সাকিব আল হাসানের গুরু নাজমুল আবেদিন ফাহিম হাল ছাড়েননি। বিসিবি’র নয়া পরিচালক তিনি, তাই প্রিয় শিষ্য ও দেশের অন্যতম ক্রিকেটারের জন্য শুরু করেন দৌড়ঝাঁপ। শেষ পর্যন্ত দুবাইয়ে নারী বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে গিয়ে ক্রীড়া উপদেষ্টা সাকিব দেশে ফিরলে কোনো সমস্যা হবে না বলেই ঘোষণা দেন। তিনি বলেছিলেন, ‘একজন ক্রিকেটার (দেশে এসে) খেলবেন এবং তিনি বাংলাদেশের নাগরিক। দেশে আসার ক্ষেত্রে আমি কোনো বাধা দেখি না। তবে যে দেয়াল লিখন হয়েছে, এটা আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেছি। এটা ইমোশনের ব্যাপার, গণতান্ত্রিক দেশে তাদের যেকোনো ধরনের মুভমেন্ট (আন্দোলন ও দাবি) করার অধিকার আছে।’ তবে প্রশ্ন ছিল সাকিব দেশে ফিরলেও তার ফিরে যাওয়া নিয়ে। মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হবেন কিনা তা নিয়ে ছিল আলোচনা। যদি তাকে আটক করা না হয় তাহলে সেটিও অন্যপক্ষ আদালতে রেফারেন্স হিসেবে নিতে পারে বলেই অনুমান করা হয়।
অন্যদিকে সাকিব নিজের ফেসবুকে ক্ষমা চেয়ে বিদায় বেলা দেশের জনগণকে পাশে থাকার আহ্বান জানান। কিন্তু তাতে আন্দোলনকারীদের মন ভেজাতে পারেননি। যদিও বিসিবি এক প্রকার নিশ্চিত ছিল সাকিব দেশে ফিরবেন। যেকারণে তাকে রাখা হয় বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের (বিপিএল) প্লেয়ার্স ড্রাফটের তালিকায়। সেখান থেকে ১৪ই অক্টোবর নিলাম অনুষ্ঠানের আগেই সাকিবকে সরাসরি দলে ভেড়ায় বিপিএলের ১১তম আসরের নয়া দল চট্টগ্রাম কিংস। এরপর বুধবার তাকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে রেখে দল ঘোষণা করে বিসিবি। গতকাল রাতেই সাকিবের দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার আর ফেরা হচ্ছে না। কেউ বলছেন দুবাই থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের কাছে চলে যাবেন। আর সাকিব বলেছেন, যেখানেই যাই না কেন দেশে ফিরছি না। তিনি বুঝতে পেরেছেন দেশে তার জন্য রয়েছে প্রচণ্ড নিরাপত্তার হুমকি!

mzamin