Thursday, April 24, 2014

স্বামীকে ফিরে পাওয়া কি অপরাধ? by এ কে এম জাকারিয়া

শুরুতে যা অপহরণ, পরে অনেক ক্ষেত্রেই তা এখন ‘গুম’। কেউ অপহরণ হয়েছেন শুনলেই এখন আতঙ্ক চেপে বসে; শেষ পর্যন্ত গুম হয়ে যাবেন না তো? আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য বলছে, ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মার্চ পর্যন্ত অপহূত হয়েছেন ২৬৮ জন। এঁদের মধ্যে ফিরে আসার সংখ্যা সবচেয়ে কম, মাত্র ২৪ জন। লাশ উদ্ধার হয়েছে ৪৩ জনের আর এখনো নিখোঁজ আছেন ১৮৭ জন। যাঁরা ফিরে এসেছেন, তাঁরা ও তাঁদের পরিবারের লোকজন সৌভাগ্যবান। দুর্ভাগা পরিবারগুলো ফেরত পেয়েছে লাশ। আর যাঁরা এখনো নিখোঁজ তাঁদের পরিবারগুলোর অবস্থা? তাঁরা কি আশা ছেড়ে দিয়েছেন? নাকি এখনো অসময়ে দরজায় টোকা পড়লে চমকে ওঠেন, অপরিচিত নম্বরের ফোন রিসিভ করেন কোনো অবাস্তব ও অসম্ভব আশা নিয়ে! সবচেয়ে হতভাগা এঁরাই।

সরকার ও মালিকপক্ষ কেউ কথা রাখেনি by আনু মুহাম্মদ

এক বছর আগে রানা প্লাজার ভয়াবহ ধস ও হত্যাকাণ্ডের পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত আমাদের মধ্যে ছিল তাজরীনের ক্ষত। পুড়ে মৃত-অর্ধমৃত মানুষেরা অমানবিক জগতের চিহ্ন হিসেবে তখন তাড়া করছিল সবাইকে। দায়ী মালিকসহ কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেই, ক্ষতিপূরণ সবার হাতে পৌঁছায়নি, অনেকের আর্তচিৎকার তখনো শুনতে হয়।

আরও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে by ড্যান মজীনা

এক বছর আগে এই দিনে এ জাতি এবং বিশ্বের ওপর এক ভয়ংকর আঘাত এসেছিল। এক বছর আগে এ দিনে, রানা প্লাজা ভেঙে পড়েছিল এবং সে সঙ্গে হাজারেরও বেশি সুন্দর জীবন ও পরিবার ধ্বংস হয়ে যায়। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের সুনাম এতে অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; বিশ্ব দেখেছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো যখন শ্রমিকদের জীবন ও নিরাপত্তা-ঝুঁকির বিনিময়ে শুধু মুনাফা অর্জন করে তখন কী ঘটে।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কতটা ঝুঁকিমুক্ত? by মো. আসাদ উল্লাহ খান

বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে রাশিয়ার আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ভিত্তিতে পাবনার অদূরে রূপপুরে একেকটি ১০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট বসানোর জন্য ২০১৩ সালে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু দেশের খুব কম মানুষই জানে যে পারমাণবিক চুল্লিতে দুর্ঘটনা ঘটলে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার কারণে কী মারাত্মক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে! সহজ কথায় তেজস্ক্রিয়তা দীপ্তিহীন এবং দ্যুতিহীন এক ধরনের বিকিরণ, যা স্বাস্থ্য, খাদ্যপণ্য ও জীবনযাপন প্রণালির ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে জীবনহানি, বিকলাঙ্গ সন্তান জন্মসহ দুরারোগ্য ক্যানসার ব্যাধি সৃষ্টি করে।

মনে হয় মেয়ে ঘরে আসতেছেঃ শাহিদা আক্তার by ফারুক ওয়াসিফ

যেদিন রানা প্লাজায় যাবে, তার আগের দিন দেখি মেয়ে বিকেলবেলায় বইসা আছে। বলে, ‘আম্মু আমার ভালো লাগে না।’
আমি বলছি কী, ভালো লাগে না, তাহলে তুমি যাইয়ো না।
‘ভালো লাগে না, যামু না, তাহলে বেতন আটকাই দিব।’
তাইলে তুমি জানের ঝুঁকি নিয়া যাইবা! যদি একটা দুর্ঘটনা ঘটে, আমি কী করব। তোমার বাবাও নাই। আমি মহিলা মানুষ, কী করব।
সে বলে কী, ‘তুমি পাগল। তুমি চিন্তা করো ক্যান। আমি কি রানা প্লাজায় একলা চাকরি করি? হাজার হাজার মানুষ চাকরি করে। সবার মরণ হলে আমারও হবে।’
২৪ তারিখ সকালে উইঠা গোসল করল। জামাকাপড় পরল। আমি ভাত বাইড়া দিছি। সে ভাত খাইল। খেয়ে বলে কী, ‘আম্মু, আমি যাই। তুমি চিন্তা করবা না। আজকে আমাদের পুরো ফ্লোর খোলা আছে। পুরা ডিউটি করব। তুমি ভাত দিয়া দাও।’
বাটিতে ভাত বাইড়া দিলাম। ভাজি রান্না করছিলাম। স্টিলের বাটিতে ভাত দিয়া দিলাম।
আগের রাতে সে ঘুমায় না। আমি শুইয়া পড়ছি, ওরা দুই ভাইবোন অনেকক্ষণ কথা বলছে। টিভি দেখছে। শান্তা বলছে, ‘ভাই, তুই ভালো কইরা পড়াশোনা করবি। আম্মুর মনের আশা পূরণ করবি। সুন্দর কইরা পড়ালেখা কইরা মানুষের মতো মানুষ হবি।’
ওর ভাই বলে কী, ‘শান্তা আপু, তুমি এমন কইরা কথা বলতেছ ক্যান?’ মেয়ে কয়, ‘তোরে সুন্দর কইরা ভালো হয়া থাকতে বলতেছি। তুই আম্মুর কথা শোনছ না। দুষ্টুমি করিস।’
>>আমি তার কবরও পাইলাম না
মেয়েটার খুবই আশা ছিল যে আমার এই ছেলেটারে মানুষের মতো মানুষ করব। যখন ওরে স্কুলে ভর্তি করায়া দেয়, তখন কয়, ‘ভাই, তোরে আমি ভালো স্কুলে ভর্তি করায়া দিমু। আমাগো বাবা নাই তো কী হইছে। আমি পড়ালেখা করতে পারিনি, কিন্তু তোরে পড়ালেখা আমি করামু, আমার যত কষ্ট হয়।’
বাইরে থাইক্যা একটা সেন্টার ফ্রুট আনলেও ওরে কইত, ‘ভাই, সেন্টার ফ্রুট আনছি, খাবি? আমার ব্যাগে আছে, নে।’
ওভারটাইম পাইলে ওর জন্য টাকা রাখত। ওর জন্য নাশতা আনত। আমার কিছু হইলে—আমার এই মেয়েটায় মনে করেন বাসায় ঢুকার সাথে সাথে যদি আমারে না দেখত, তাইলে ছেলেরে জিজ্ঞাসা করত, ‘কইরে স্বপন, আম্মু কই।’ যদি কইত, আম্মু রান্না করে, তাইলে শান্ত হইত। যদি শুনত আম্মু অসুস্থ বা আম্মুর জ্বর আইছে, ও যে কী করব, দিশা পাইত না। মেয়েটা নিজের জানের ঝুঁকি নিয়া কাজকাম করছে। আমারে কষ্ট বুঝতে দেয় নাই।
আমার হার্টের সমস্যা, আমি একবার স্ট্রোক করছিলাম দেইখা মেয়ে আমারে কাজ করতে দেয় না। আমিও পাঁচ বছর গার্মেন্টসে কাজ করছি। আমি বুঝি, গার্মেন্টসে চাকরি করলে কত কষ্ট। দিনেরে রাত, রাতেরে দিন কইরা চাকরি করছি। এক মিনিট লেট হইলে হাজিরা কাইট্যা দেয়। তিন দিন লেট হইলে এক দিন অ্যাবসেন্ট কইরা দেয়। আমি নিজে চাকরি করছি। আমি বুঝি, চাকরি কত কষ্ট। চাকরি না করলে আমরা চলব কীভাবে। খাইতে হয়, ঘর ভাড়া দিতে হয়। ছেলেটারে মানুষ করতে হইব—এই চিন্তা কইরা মেয়েটারে অল্প বয়সে চাকরিতে দিয়া আমি মেয়ে হারাইছি। আমি যদি নিজে মইরা যাইতাম, তাহলেও মনটারে সান্ত্বনা দিতাম। কিন্তু আমি আমার মেয়েটারে হারাইলাম।

আমি সব লাশের মুখ খুইলা দেখছি, যত দিন লাশ উদ্ধার করছে, তত দিন সকালে গেছি, রাতে আইসি। প্যাকেট খুইলা খুইল্যা লাশ দেখছি, পোকা উইঠ্যা গেছে সেই লাশ দেখছি। আমার মেয়েরে আমি পাই নাই। আজকে আমি মেয়ের কবরও পাইনি। এমনই আমার দুর্ভাগ্য, যে মেয়েটা আমারে এত ভালোবাসছে, সে মেয়ের কবরও আমি দেখতে পারলাম না। আমার এই কষ্ট আমি কোনো দিনও শেষ করতে পারব না।
যেখানেই যাই, উঠতে-বসতে শুধু আমার মেয়ের কথা মনে পড়ে। আমি নামাজ পড়ি, নামাজে সালাম ফেরাই। মনে হয়, আমার মেয়ে ঘরে আসতেছে। আমার এ রকম লাগে। আমি একলা একলা সারাটা রাত উঠি-বসি উঠি-বসি। দাঁড়ায়া থাকলে আমার শরীর কাঁপে। মেয়ে যখন বাসা থাইক্যা বেরোইছে, তখনই আমার মনটার ভিতরে খুব খারাপ লাগছে। আমি মানুষের বাসায় পলায়া পলায়া কাজ করতাম। মেয়ে কাজ করতে দিত না। আমি যখন সেই বাসায় কাপড়ে সাবান মাখছি, তখন আমার হাত চলে না। মনে হয়, কেউ যেন আমার হাত ধইরা রাখছে। আমার মনটা কেমন করে। এখন সবাই কয়, আহারে, শান্তারে পাইল না ওর মা।

অনুলিখন: ফারুক ওয়াসিফ
শাহিদা আক্তার: রানা প্লাজায় নিখোঁজ শ্রমিক শান্তা আক্তারের মা। শাহিদা আক্তার সরকারি ক্ষতিপূরণ না পাওয়া নিহত শ্রমিকের মায়েদের একজন।

সরকার ও মালিকপক্ষ কেউ কথা রাখেনি

স্বজনের ফিরে আসার অপেক্ষায়
এক বছর আগে রানা প্লাজার ভয়াবহ ধস ও হত্যাকাণ্ডের পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত আমাদের মধ্যে ছিল তাজরীনের ক্ষত। পুড়ে মৃত-অর্ধমৃত মানুষেরা অমানবিক জগতের চিহ্ন হিসেবে তখন তাড়া করছিল সবাইকে। দায়ী মালিকসহ কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেই, ক্ষতিপূরণ সবার হাতে পৌঁছায়নি, অনেকের আর্তচিৎকার তখনো শুনতে হয়। এ অবস্থার মধ্যেই রানা প্লাজা ধসে আমাদের সবাইকে ধসিয়ে দিল। বিশ্বরেকর্ড করল বাংলাদেশ! কারণ, শিল্প-কারখানার কয়েক শ বছরের ইতিহাসে কোনো কারখানাধসে এত মানুষের জীবনহানি কোথাও ঘটেনি। এখন পর্যন্ত জানামতে এই জীবন্ত কবরস্থ মানুষের সংখ্যা এক হাজার ১৩৫। এটা তো শুধু সংখ্যা নয়, শুধু এই মানুষেরাও নন; তাঁরা এতগুলো পরিবারের মানুষ। যে পরিবারগুলোর হাহাকার এখনো চলছেই। আরও আছেন নিখোঁজ ও জখম মানুষ। কারখানাগুলোয় যে হাজার পাঁচেক শ্রমিক কাজ করতেন, তাঁদের মধ্যে বেঁচে থাকা সবাই কাজ হারিয়েছেন। তাঁদের অনেকেই এখনো বেকার। বিজিএমইএ সবার কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা তারা যথারীতি এখনো বাস্তবায়ন করেনি। এ বিষয়ে তাদের আর কোনো কথাও এখন শোনা যায় না। তাজরীনের পর তো নয়ই, রানা প্লাজার যে বিপর্যয় সারা বিশ্বকেও কাঁপিয়ে দিয়েছে, তা কি আমাদের দেশের সরকার ও মালিকপক্ষের বোধোদয় ঘটাতে পেরেছে? তারা কি তাদের চিন্তা ও কাজের ধরনে কোনো পরিবর্তন এনেছে? গত এক বছরের ঘটনাবলি তা বলে না। সরকার ও বিজিএমইএর বাইরে তাজরীন ও রানা প্লাজার ঘটনা এবং আহত-নিহত শ্রমিকদের নিয়ে একাধিক গবেষণা হয়েছে। নিহত, নিখোঁজ, জীবিত ব্যক্তিদের তালিকা করতে, তাঁদের অবস্থা তদারক করতে অনেক ব্যক্তি, শ্রমিক সংগঠন ও গবেষণা সংগঠন নিজ উদ্যোগে কাজ করেছে। সরকারের বা বিজিএমইএর কোনো সংগঠিত উদ্যোগ দেখা যায়নি।
অ্যাকটিভিস্ট অ্যানথ্রোফলজিস্ট নামের নৃবিজ্ঞানীদের ছোট একটি দল দুটি ছোট গার্মেন্টস শ্রমিক সংগঠনের সহায়তা নিয়ে তাজরীন ও রানা প্লাজার জীবিত শ্রমিক ও স্বজনদের পাশে থেকে তালিকা প্রস্তুত করেছে। আহতদের পাশে থেকেছে। আদালতের মাধ্যমে তাজরীনের মালিককে গ্রেপ্তার করতে সরকারকে বাধ্য করেছে তারা। ঘটনার এক বছর পর্যন্ত সরকার নিজে থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ‘২৪ এপ্রিল’ নামে একটি গ্রুপ রানা প্লাজার সব তথ্য জনগণের অবগতির জন্য প্রস্তুত করেছে। ‘গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতি’ নিখোঁজ শ্রমিকদের অসম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করেছে কিছুদিন আগে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি দল রানা প্লাজায় উদ্ধারকাজের পাশাপাশি নিহত ও আহতদের তালিকা প্রস্তুত করেছে, যা এখনো অনেক হিসাব-নিকাশে গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে। এই ছোট ছোট গোষ্ঠীর আন্তরিক ও পরিশ্রমী কাজ দেখে এটা স্পষ্ট বোঝা যায় যে এসব গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য অর্থবল বা জনবল জরুরি নয়। অর্থবল আর জনবল যাদের আছে, সেই সরকার বা বিজিএমইএ এই কাজগুলো করেনি।এখনো রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে হাড়গোড়-খুলি পাওয়া যাচ্ছে প্রায়ই। ঘেরাও করা ধ্বংসস্তূপের সামনে এখনো নীরবে অনেক স্বজন দাঁড়িয়ে থাকে। এটাই তাদের কাছে প্রিয়জনের শেষ ঠিকানা। অদৃশ্য হয়ে এখন সেই প্রিয়জন সর্বত্র ঘুরে বেড়ায়। নিখোঁজ শ্রমিকদের শনাক্তকরণ এক বছরেও পুরোপুরি শেষ হয়নি। ডিএনএ টেস্ট করেও অনেকের স্বজনের মীমাংসা হয়নি। ডিএনএ টেস্ট নিয়ে একটা প্রশ্নের উত্তর আমি এখনো পাইনি। সাগর-রুনিকে হত্যার পর তদন্তের অংশ হিসেবে ডিএনএ টেস্ট করতে নমুনা পাঠানো হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে। তখন যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে বাংলাদেশে ডিএনএ টেস্ট নির্ভরযোগ্য নয়। এখন হাজার হাজার শ্রমিকের খোঁজে এখানেই টেস্ট করা হচ্ছে। তাহলে কোনটা সত্যি? ২০১৩ সালের মে মাসে প্রধানত ইউরোপীয় ব্র্যান্ড কোম্পানিগুলো, শ্রমিক সংগঠন ও সংস্থা মিলে অ্যাকর্ড নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে। এর কিছুদিন পর উত্তর আমেরিকাকেন্দ্রিক অ্যালায়েন্স নামে আরেকটি সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারা তাদের পদ্ধতিতে ক্ষতিপূরণের কথা বলছে। বিভিন্ন কারখানার নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে তদন্ত করছে, সিদ্ধান্ত জানাচ্ছে। তাদের দেওয়া শর্ত পূরণ করতে গিয়ে সরকার কারখানা পরিদর্শক নিয়োগ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।
মালিকেরা ভবনের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এসব কাজ তো তাঁদের অনেক আগেই করার কথা। প্রশ্ন হলো, আন্তর্জাতিক চাপ ছাড়া কেন সরকার বা মালিকদের ঘুম ভাঙে না? কেন রানা প্লাজার ঘটনার দুই মাস পর ঘোষিত বাজেটে কারখানা পরিদর্শকদের নিয়োগ এবং উদ্ধার তৎপরতার সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বাজেট দেওয়া হয়নি? ক্ষতিপূরণের নীতিমালা কেন এখনো ঘোষিত হয়নি? কেন রানা প্লাজার নিহত শ্রমিকদের পরিবার এখনো ক্ষতিপূরণের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছে? কেন আহত শ্রমিকসহ বেকার শ্রমিকদের কাজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি এখনো পূরণ হয়নি? শ্রমিকদের নামে দেশ-বিদেশ থেকে বিপুল অর্থ জমা হয়েছে সরকার ও বিজিএমইএর কাছে, তারও কোনো স্বচ্ছ হিসাব নেই। প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে দেশ ও বিদেশ থেকে যে অর্থ জমেছে, সংসদে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, তার পরিমাণ প্রায় ১২৮ কোটি টাকা। নিহত শ্রমিকদের পরিবারগুলোকে শুধু এই অর্থ ভাগ করে দিলেও মাথাপিছু ১০ লাখ টাকা করে দেওয়া সম্ভব। এর সঙ্গে ব্র্যান্ড, মালিক ও বিজিএমইএর অর্থ যোগ হলে সম্মানজনক ক্ষতিপূরণ দেওয়া সম্ভব। অথচ এখনো ক্ষতিপূরণের নীতিমালা বা এ-সংক্রান্ত কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। এই প্রশ্ন তো তাই খুব সংগত যে সীমাহীন লোভ আর অবহেলার শিকার হয়ে যে শ্রমিকদের জীবন নাশ হলো অকালে, তাঁদের নামে তোলা টাকা কাদের পকেটে যাচ্ছে? তদারকি ও অন্য যেসব গাফিলতির জন্য এই ভবনধস ঘটেছে, তারও সুরাহা করা হয়নি। কারখানা যদি ভুল স্থান ও ভুল ভবনে স্থাপিত হয়, যদি সেখানে মুনাফার সীমাহীন লোভে ব্যক্তি মালিক শ্রমিক নিরাপত্তার ন্যূনতম ব্যবস্থা না রাখে, তাহলে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব সরকারেরই। এই কাজ না করলে শিল্প মন্ত্রণালয়, শ্রম মন্ত্রণালয় আছে কেন? দুর্যোগ মোকাবিলায় দমকল বাহিনীকে শক্তিশালী করার বড় পরিকল্পনা খুবই স্বাভাবিক ছিল, চলতি বাজেটে তারও প্রতিফলন নেই। সেখানেও অর্থের অভাবের যুক্তিই দেওয়া হয়। অথচ পোশাক মালিকদের জন্য বাড়তি সুবিধা দিতে কোনো বিলম্ব কিংবা কার্পণ্য করেনি সরকার। বাণিজ্যমন্ত্রী কয়েক দিন আগে মালিকদের জন্য অনেকগুলো ‘ইনসেনটিভ প্যাকেজ’ ঘোষণা করেছেন। শুধু উৎসে কর বাবদ যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, তাতেই জাতীয় রাজস্ব আয়

স্বামীকে ফিরে পাওয়া কি অপরাধ?

শুরুতে যা অপহরণ, পরে অনেক ক্ষেত্রেই তা এখন ‘গুম’। কেউ অপহরণ হয়েছেন শুনলেই এখন আতঙ্ক চেপে বসে; শেষ পর্যন্ত গুম হয়ে যাবেন না তো? আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য বলছে, ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মার্চ পর্যন্ত অপহূত হয়েছেন ২৬৮ জন। এঁদের মধ্যে ফিরে আসার সংখ্যা সবচেয়ে কম, মাত্র ২৪ জন। লাশ উদ্ধার হয়েছে ৪৩ জনের আর এখনো নিখোঁজ আছেন ১৮৭ জন। যাঁরা ফিরে এসেছেন, তাঁরা ও তাঁদের পরিবারের লোকজন সৌভাগ্যবান। দুর্ভাগা পরিবারগুলো ফেরত পেয়েছে লাশ। আর যাঁরা এখনো নিখোঁজ তাঁদের পরিবারগুলোর অবস্থা? তাঁরা কি আশা ছেড়ে দিয়েছেন? নাকি এখনো অসময়ে দরজায় টোকা পড়লে চমকে ওঠেন, অপরিচিত নম্বরের ফোন রিসিভ করেন কোনো অবাস্তব ও অসম্ভব আশা নিয়ে! সবচেয়ে হতভাগা এঁরাই। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের স্বামী এ বি সিদ্দিক যখন অপহরণ হলেন তখন একই আতঙ্ক-উদ্বেগ আমাদের সবার পেয়ে বসেছিল; তাঁকে ফিরে পাওয়া যাবে তো? রিজওয়ানা হাসান একজন পরিচিত ব্যক্তিত্ব, তাঁর স্বামীর অপহরণের খবরটি তাই স্বাভাবিকভাবেই গণমাধ্যমে যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি ৩৫ ঘণ্টা নিখোঁজ ছিলেন, এই সময়টি রিজওয়ানা ও তাঁর তিন সন্তানের কীভাবে কেটেছে, তা অনুমান করাও আমাদের জন্য কঠিন। গভীর রাতে যখন বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে ব্রেকিং নিউজ হিসেবে তাঁর খোঁজ পাওয়ার খবর প্রচারিত হলো তখন আমরা স্বস্তি নিয়েই ঘুমাতে গিয়েছিলাম। কিন্তু এই স্বস্তি যে কারও কারও জন্য এত ‘অস্বস্তি’ নিয়ে আসবে বা আসতে পারে তা বিশ্বাস করা সত্যিই কঠিন! স্বামীকে উদ্ধারের জন্য রিজওয়ানা তাঁর চেষ্টার শেষটুকু করবেন, সেটাই স্বাভাবিক। তিনি নিশ্চয়ই তা করেছেন। স্বামীকে পাওয়ার পর তিনি সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, রাষ্ট্রীয় সমর্থন ছাড়া এত দ্রুত উদ্ধার সম্ভব ছিল না। তিনি গণমাধ্যমের কর্মীদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এটা আমরা অনুমান করতে পারি যে যারাই অপহরণ করে থাকুক না কেন বিষয়টি গণমাধ্যমসহ সরকারের বিভিন্ন মহলে গুরুত্ব পাওয়ায় একটি চাপ তৈরি হয়েছে এবং সেটা তাঁর ছাড়া পাওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করে থাকতে পারে। কিন্তু বিষয়টি এখন এমন দাঁড়িয়েছে যে স্বামীকে ফেরত পাওয়াটাই যেন রিজওয়ানার জন্য বড় পাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে! অনেক হতভাগ্য পরিবার তাদের অপহূত বা গুম হওয়া স্বজনদের ফিরে আসার আশায় বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষা করছে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা সাধারণ শত্রুতা—যে কারণেই তাঁরা অপহরণের শিকার বা গুম হয়ে থাকুক না কেন বা যারাই এর সঙ্গে জড়িত থাকুক, সবাই তাঁদের পরিবারের কাছে ফিরে আসুক, সেটাই তো আমাদের সবার চাওয়া। রিজওয়ানার স্বামীর ক্ষেত্রে আমাদের সেই চাওয়াটি পূরণ হয়েছে। স্বামীকে ফিরে পেয়ে তিনি নিজেও বলেছেন, এটাই যেন অপহরণের শেষ ঘটনা হয়। কিন্তু পরে এসব কী প্রতিক্রিয়া দেখছি? অনেকের আক্ষেপটা অনেকটা এ রকম যে এত লোক অপহরণের পর নিখোঁজ বা গুম হয়ে যান সেখানে রিজওয়ানা তাঁর স্বামীকে ফেরত পেলেন কেন বা কীভাবে? এ ধরনের নির্মম প্রশ্ন যদি কারও মনে উঠেও থাকে তাঁর ব্যাখ্যা দেওয়ার দায়িত্ব সরকার বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। আমরা কারও কারও মুখে এমন দাবিও শুনছি যে রিজওয়ানাকেই নাকি প্রমাণ করতে হবে যে তাঁর স্বামী কোথায় ছিলেন, কারা তাঁকে অপহরণ করেছেন, ইত্যাদি ইত্যদি। কী নিষ্ঠুর চাওয়া! যেকোনো অপরাধের ঘটনা যখন ঘটে তখন এর তদন্তের জন্য কিছু মোটিভ ধরে এগোতে হয়। রিজওয়ানা পরিবেশ নিয়ে আন্দোলন করেন, ভূমি-জলাভূমি উদ্ধারে মাঠে নামেন, দখলকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন, ফলে তাঁর শত্রু থাকা অস্বাভাবিক নয়। কেন তাঁর স্বামী অপহরণের শিকার হয়ে থাকতে পারেন, সে প্রসঙ্গে তিনি খুব স্বাভাবিকভাবেই এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। এ ধরনের আশঙ্কার মানে নিশ্চয়ই এটা নয় যে এ কারণেই অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। রিজওয়ানার স্বামীকে কারা অপহরণ করেছিল, কেনই বা তাঁকে ছেড়ে দিল সেই রহস্যভেদ এবং অপহরণকারীদের আইনের আওতায় আনার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর, তাদের কাছে সেই দাবি আমরা করতে পারি।
কিন্তু রিজওয়ানার কাছে কি এমন দাবি করা যায়? রিজওয়ানার স্বামী অপহরণ ও ৩৫ ঘণ্টা পর তাঁকে উদ্ধার বা ফিরে পাওয়ার পর কিছু গণমাধ্যমে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর প্রতিষ্ঠান পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে ও হচ্ছে। বেলা কী কাজ করে, সে ব্যাপারে দেশের সচেতন নাগরিকেরা নিশ্চয়ই সচেতন আছেন। এর পরও প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে কিছু তথ্য তুলে ধরছি। ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত অলাভজনক এই লিগ্যাল প্রতিষ্ঠানটি ২০০৩ সালে জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) ‘গ্লোবাল ৫০০ রোল অব অনারে’ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ২০০৭ সালে বেলা পেয়েছে সরকারের ‘পরিবেশ পুরস্কার’। রিজওয়ানা হাসান নিজে তাঁর কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৯ সালে ‘গোল্ডম্যান এনভার্নোমেন্টাল প্রাইজ’ ও ২০১২ সালে ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেয়েছেন। তবে প্রতিষ্ঠান হিসেবে বেলা বা একজন ব্যক্তিত্ব হিসেবে রিজওয়ানা যত স্বনামধন্যই হোন না কেন বেলার কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদন হতেই পারে। সেখানে কোনো অস্বচ্ছতা বা প্রতিষ্ঠানের কোনো ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তা অবশ্যই তোলা যেতে পারে। কিন্তু আমরা দেখছি রিজওয়ানার স্বামী অপহরণের পর অনেকেই উঠেপড়ে লেগেছেন প্রতিষ্ঠান হিসেবে বেলা কতটা খারাপ, এমনকি কতটা ‘পরিবেশবিরোধী’ তা প্রমাণে! অনেকে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন রিজওয়ানার বাবা-চাচার রাজনৈতিক অতীত তুলে ধরতে। যাঁরা এসব করছেন তাঁদের উদ্দেশ্য আসলে কী? প্রতিষ্ঠান হিসেবে বেলার কোনো ত্রুটি বা সমস্যা প্রমাণিত হলে বা রিজওয়ানার বাবা-চাচাদের রাজনৈতিক অতীত কারও পছন্দ না হলে কি তাঁর স্বামীর অপহরণের বিষয়টি জায়েজ হয়ে যাবে? রাজনৈতিক বা সামাজিক, সব ক্ষেত্রেই বিভেদ ও বিদ্বেষের মনোভাব আমাদের সবার মধ্যেই দিন দিন জোরালো হয়ে উঠেছে। এটা এমন চরমে গিয়ে ঠেকেছে যে আমাদের মানবিক বোধ ও বিচার-বিবেচনার জায়গাগুলোও সম্ভবত আর কাজ করছে না। স্বামী অপহরণ হওয়ার পর রিজওয়ানা পার করেছেন দুঃসহ ৩৫ ঘণ্টা, সেই ধাক্কা সহজে কাটিয়ে ওঠার নয়। স্বামীকে ফিরে পাওয়ার পর তাঁকে সামান্য স্বস্তি দিতেও আমরা অপারগ হয়ে গেছি! রিজওয়ানা, আমাদের ক্ষমা করবেন।
এ কে এম জাকারিয়া: সাংবাদিক।
akmzakaria@gmail.com

মনে হয় মেয়ে ঘরে আসতেছে

আমি তার কবরও পাইলাম না
যেদিন রানা প্লাজায় যাবে, তার আগের দিন দেখি মেয়ে বিকেলবেলায় বইসা আছে। বলে, ‘আম্মু আমার ভালো লাগে না।’ আমি বলছি কী, ভালো লাগে না, তাহলে তুমি যাইয়ো না। ‘ভালো লাগে না, যামু না, তাহলে বেতন আটকাই দিব।’ তাইলে তুমি জানের ঝুঁকি নিয়া যাইবা! যদি একটা দুর্ঘটনা ঘটে, আমি কী করব। তোমার বাবাও নাই। আমি মহিলা মানুষ, কী করব। সে বলে কী, ‘তুমি পাগল। তুমি চিন্তা করো ক্যান। আমি কি রানা প্লাজায় একলা চাকরি করি? হাজার হাজার মানুষ চাকরি করে। সবার মরণ হলে আমারও হবে।’ ২৪ তারিখ সকালে উইঠা গোসল করল। জামাকাপড় পরল। আমি ভাত বাইড়া দিছি। সে ভাত খাইল। খেয়ে বলে কী, ‘আম্মু, আমি যাই। তুমি চিন্তা করবা না। আজকে আমাদের পুরো ফ্লোর খোলা আছে। পুরা ডিউটি করব। তুমি ভাত দিয়া দাও।’ বাটিতে ভাত বাইড়া দিলাম। ভাজি রান্না করছিলাম। স্টিলের বাটিতে ভাত দিয়া দিলাম। আগের রাতে সে ঘুমায় না। আমি শুইয়া পড়ছি, ওরা দুই ভাইবোন অনেকক্ষণ কথা বলছে। টিভি দেখছে। শান্তা বলছে, ‘ভাই, তুই ভালো কইরা পড়াশোনা করবি। আম্মুর মনের আশা পূরণ করবি। সুন্দর কইরা পড়ালেখা কইরা মানুষের মতো মানুষ হবি।’ ওর ভাই বলে কী, ‘শান্তা আপু, তুমি এমন কইরা কথা বলতেছ ক্যান?’
মেয়ে কয়, ‘তোরে সুন্দর কইরা ভালো হয়া থাকতে বলতেছি। তুই আম্মুর কথা শোনছ না। দুষ্টুমি করিস।’ মেয়েটার খুবই আশা ছিল যে আমার এই ছেলেটারে মানুষের মতো মানুষ করব। যখন ওরে স্কুলে ভর্তি করায়া দেয়, তখন কয়, ‘ভাই, তোরে আমি ভালো স্কুলে ভর্তি করায়া দিমু। আমাগো বাবা নাই তো কী হইছে। আমি পড়ালেখা করতে পারিনি, কিন্তু তোরে পড়ালেখা আমি করামু, আমার যত কষ্ট হয়।’ বাইরে থাইক্যা একটা সেন্টার ফ্রুট আনলেও ওরে কইত, ‘ভাই, সেন্টার ফ্রুট আনছি, খাবি? আমার ব্যাগে আছে, নে।’ ওভারটাইম পাইলে ওর জন্য টাকা রাখত। ওর জন্য নাশতা আনত। আমার কিছু হইলে—আমার এই মেয়েটায় মনে করেন বাসায় ঢুকার সাথে সাথে যদি আমারে না দেখত, তাইলে ছেলেরে জিজ্ঞাসা করত, ‘কইরে স্বপন, আম্মু কই।’ যদি কইত, আম্মু রান্না করে, তাইলে শান্ত হইত। যদি শুনত আম্মু অসুস্থ বা আম্মুর জ্বর আইছে, ও যে কী করব, দিশা পাইত না। মেয়েটা নিজের জানের ঝুঁকি নিয়া কাজকাম করছে। আমারে কষ্ট বুঝতে দেয় নাই। আমার হার্টের সমস্যা, আমি একবার স্ট্রোক করছিলাম দেইখা মেয়ে আমারে কাজ করতে দেয় না। আমিও পাঁচ বছর গার্মেন্টসে কাজ করছি। আমি বুঝি, গার্মেন্টসে চাকরি করলে কত কষ্ট। দিনেরে রাত, রাতেরে দিন কইরা চাকরি করছি। এক মিনিট লেট হইলে হাজিরা কাইট্যা দেয়। তিন দিন লেট হইলে এক দিন অ্যাবসেন্ট

কুতুবদিয়া দ্বীপ থেকে ৩১ হাজার ইয়াবা উদ্ধার

কুতুবদিয়া দ্বীপের মোহনা থেকে ৩১ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড চট্টগ্রাম পূর্ব জোনের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে এ অভিযান চালানো হয়। এসময় ১ টি ট্রলার, কারেন্ট জাল কিছু ষন্ত্রপাতি জব্দ করা হলেও কাউকে আটক করা হয়নি।

কোস্ট গার্ড চট্টগ্রাম পূর্ব জোনের জনসংযোগ কর্মকর্তার মোঃ মনোয়ার হোসেন এর পক্ষে জোনাল কমান্ডার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কোস্টগার্ড পূর্ব জোনের একটি অপারেশন দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কুতুবদিয়া উপজেলার নদীর মোহনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩১ হাজার ৬৮ টি ইয়াবা উদ্ধার করে। এসময় একটি ট্রলার, ২ হাজার মিটার কারেন্ট জাল, ৬৫ লিটার ডিজেল, ১ সেট ষন্ত্রপাতি পরিত্যাক্ত অবস্থায় জব্দ করা হয়।

বড়ঘোপ দক্ষিণ মগডেইলে দূর্বৃত্ত’র হাতে মা-ছেলে খুন!

কুতুবদিয়ায় দূর্বৃত্তের হাতে এক শিশুসহ তিন সন্তানের জননী খুন হয়েছেন।বুধবার ২৩ এপ্রিল সকালে কুতুবদিয়া দ্বীপের বড়ঘোপ ইউনিয়নের দক্ষিণ মগডেইল গ্রামের একটি ছোট পুকুর থেকে কবির হোসেনের স্ত্রী ও নুরুজ্জামানের কন্যা জান্নাতুল ফেরদৌস (৩৫) তার পুত্র মোঃ বাপ্পি (২) কে মৃত অবস্থায় এলাকাবাসি উদ্ধার করে। ঘটনাটি স্থানীয় ইউপির সদস্য আবুল কালাম কুতুবদিয়া থানাকে খবর দিলে পুলিশ লাশ দুইটি উদ্ধার পূর্বক সুরতহাল রির্পোট তৈরী করে ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।

এলাকাবাসি ও পুলিশ সূত্রে প্রকাশ, গতকাল বুধবার সকালে ঐ এলাকার সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী নুর খাতুন ধান ক্ষেতের মধ্যে মৃত জান্নাতুল ফেরদৌসের বাড়ির পাশে মরিচ ক্ষেতে গেলে ছোট একটি পুকুরে জান্নাতুল ফেরদৌস ও তার পুত্র বাপ্পিকে মৃত অবস্থায় পানিতে ভাসতে দেখে। এ খবর এলাকাবাসীকে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে মা ও পুত্রকে উদ্ধার করে। স্থানীয় ইউপির সদস্য আবুল কালাম জানান, দূর্বৃত্তরা জান্নাতুল ফেরদৌস ও তার সন্তান বাপ্পিকে হত্যা করতে পারে এমন ধারণা করছে। এদিকে জান্নাতুল ফেরদৌসের গলা টিপে শ্বাসরুদ্ধ করে এবং শরীরে আচড়ের দাগ রয়েছে। জান্নাতুল ফেরদৌস আর স্বামীর সাথে বিবাহের পর থেকে পারিবারিক কলহে দাম্পত্য জীবনে চরম অসান্তি লেগে থাকতো। স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেয়ে গত তিন বছর পূর্বে স্বামী কবির হোসেনের বিরুদ্ধে কুতুবদিয়া আদালতে নারী নির্যাতন মামলা রুজ করলে আদালত তার স্বামী কবির হোসেনকে দুই বছরের সাজা দেয়। এ মামলায় কবির হোসেন গত ১৪ জানুয়ারী থানা পুলিশ কর্তৃক আটক হয়ে বর্তমানে জেল হাজতে আছে। অবশ্য জান্নাতুল ফেরদৌসের প্রথম সন্তান মাহামুদুল ইসলাম (১০) আকিব (৭) দাদার বাড়ি আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের হায়দর বাপের পাড়ার মোঃ পেঠানের বাড়িতে থাকেন। জান্নাতুল ফেরদৌস তৃতীয় সন্তান বাপ্পিকে নিয়ে দক্ষিণ মগডেইল এলাকার ঐ ঘরে বসবাস করত।
এ ব্যাপারে জান্নাতুল ফেরদৌসের বাবা নুরুজ্জামান বাদি হয়ে অজ্ঞাত আসামী করে গতকাল বুধবার কুতুবদিয়া থানায় হত্যা মামলা রুজু করেন। কুতুবদিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহিরুল ইসলাম খান জানান, ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার পূর্বক হত্যা মামলা রুজু করে ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য এখন পর্যন্ত ব্যয় ২২ কোটি টাকা-শ্রমিকদের বিমা হবে

রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে এ পর্যন্ত ২২ কোটি ১৩ লাখ ৫৫ হাজার ৭২০ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। সাভারের রানা প্লাজার মর্মান্তিক দুর্ঘটনার বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য দেওয়া হয়। তবে রানা প্লাজার ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে কত অর্থ জমা পড়েছে তার কোনো তথ্য গতকাল দেওয়া হয়নি। অবশ্য গত বছরের ১৪ জুলাই জাতীয় সংসদে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী জানিয়েছিলেন, রানা প্লাজার ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা পড়েছে ১২৭ কোটি ৬৭ লাখ ৩৩ হাজার ৩৪৯ টাকা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি এ অর্থ দেন।

দুর্দিনের মৌসুমি সাদিকের জীবনসঙ্গী by কমল জোহা খান

পায়ের নিচে ভিত নড়ে উঠেছিল তাঁদের। ধসে পড়েছিল ছাদ। একটা খুঁটির পাশে আশ্রয় নিয়ে রক্ষা পান তাঁরা। দুই মানব-মানবীর দুর্দিন কাছে আসার সেই টান এখন মজবুত বিয়ের বন্ধনে। একছাদের নিচে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বাস করছেন তাঁরা।

রানা প্লাজা নিয়ে সিপিডির সংলাপ: পুনর্বাসন তদারকিতে কমিশন গঠনের প্রস্তাব- পুনর্বাসনে পিছিয়ে সব পক্ষ

রানা প্লাজা ধসের পর সবাই মিলে প্রাথমিক ব্যবস্থাপনা ভালোই করেছে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে পুনর্বাসনের প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি কম। এ ক্ষেত্রে সব পক্ষই পিছিয়ে যাচ্ছে। অথচ এ কাজটিই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষতিপূরণের অর্থও বুঝে পায়নি হতাহতের পরিবার। আহত ব্যক্তিরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না।

শোকের দহনে স্বজনেরা-রানা প্লাজা ধস: ১১৩৫ প্রাণহানির এক বছর by আশীষ-উর-রহমান

তপ্ত দুপুর শরীরের সব পানি নিংড়ে নিচ্ছে। দোকানের সামনে মোটা কাপড় দিয়ে রোদ ঠেকানোর ব্যবস্থা। ভেতরে লেনদেনে ব্যস্ত কামাল হোসেন। ভিড় একটু কমতেই প্রশ্নটি করলাম। শুনেই ভরদুপুরে সন্ধ্যার মলিন ছায়া নেমে এল তাঁর মুখে।

একটি ট্যাক্সিক্যাব ভ্রমণের গল্প by আনোয়ার হোসেন

২৩ এপ্রিল, ২০১৪। বিকেল তিনটা ৫০ মিনিট। ০১৭৫৫৬৬৭০৭০ নম্বরে ফোন দিতেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কল রিসিভ হয়। নির্দেশনা আসে, বাংলায় শুনতে চাইলে ১ চাপুন। আনুষ্ঠানিকতা শেষে অপর প্রান্তে তমা ট্যাক্সি সার্ভিস থেকে শুভেচ্ছা জানিয়ে উদ্দেশ্য জানতে চাওয়া হয়।