Sunday, March 21, 2010

থেকে গেলেন গেরহার্ড

আজই তাঁর চলে যাওয়ার কথা ছিল। দুই দিন আগে বলেছিলেন, ফেডারেশন তাঁর সঙ্গে কথা বলছে না। সিঙ্গাপুরে চাকরির প্রস্তাব থাকায় তাঁর পক্ষে আর বাংলাদেশে থাকা সম্ভব নয়। কিন্তু নিজের কথা ফিরিয়ে নিলেন পিটার গেরহার্ড। বাংলাদেশ হকি দলের জার্মান কোচ কাল জানিয়েছেন, ‘আপাতত যাচ্ছি না। যেতে মন চায় না। আরও কিছুদিন বাংলাদেশেই থাকছি।’
আগামী ৭ মে ঢাকায় শুরু এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্ব পর্যন্ত গেরহার্ডকে রাখার ব্যাপারে একটা ব্যবস্থা হয়েছে। হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার জামিলউদ্দিন জানিয়েছেন, ‘একজন সহকারী নিয়ে তিনি মাসে ১০ হাজার ডলার চেয়েছেন। ৭ হাজার ডলারে রাজি করিয়েছি। এশিয়ান গেমসের বাছাই পর্যন্ত কোচ থাকছেন, এটা নিশ্চিত। তারপর দেখা যাবে।’
গেরহার্ডের সঙ্গে লিখিত কোনো চুক্তি নেই হকি ফেডারেশনের। চুক্তি করলে মাসে মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের বেতন দিতে হবে। বেতন দেওয়ার সামর্থ্য নেই ফেডারেশনের। গেরহার্ড তা মেনে নিয়েছেন। তবে একেবারেই বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করেছেন, তাও নয়। ফেডারেশন যখন যা সম্ভব হয়েছে তাঁকে দিয়েছে।
এভাবে আর কত দিন? এই প্রশ্ন তুলে চলে যেতে চেয়েছেন গেরহার্ড। শেষ পর্যন্ত লিখিত কোনো চুক্তি না হলেও ফেডারেশন সম্পাদকের সঙ্গে একটা সমঝোতায় পৌঁছেছেন। আজই আনুষ্ঠানিকভাবে ফেডারেশন সম্পাদকের সঙ্গে বসার সুযোগ পাচ্ছেন গেরহার্ড।
হকিতে পৃষ্ঠপোষণা একটা বড় সমস্যা। গেরহার্ডকে রাখার ব্যাপারে সর্বশেষ যে উপায়টা বের করা হয়েছে সেটাও সেই ‘ব্যক্তি উদ্যোগ’। ফেডারেশন সম্পাদক জানিয়েছেন, ‘এখনো পৃষ্ঠপোষক পাওয়া যায়নি। এত দিন ব্যক্তিগতভাবে যা সম্ভব দিয়েছি। এখন ৭ হাজার ডলারও ব্যক্তিগতভাবে আমি দেব।’

আবারও হারল কলকাতা

পরাজয়ের পালা বুঝি শুরু হয়ে গেল কলকাতা নাইট রাইডার্সের। গত মৌসুমে পয়েন্ট তালিকার সবচেয়ে নিচের দলটি এবার শুরু করেছিল জয় দিয়ে। কিন্তু দুই ম্যাচ জিতেই ঢুকে গেল পরাজয়ের বৃত্তে। কাল রাজস্থান রয়্যালসের কাছে ৩৪ রানে হেরেছে কলকাতা। এটা তাদের টানা দ্বিতীয় পরাজয়। রাজস্থানের প্রথম জয়। ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৬৮ রান তোলে শেন ওয়ার্নের রাজস্থান। কলকাতা ২০ ওভারে ৫ উইকেটে তুলতে পারে মাত্র ১৩৪।
কাল আরেক ম্যাচে রাহুল দ্রাবিড়ের রয়্যাল চালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ৭ উইকেটে হারিয়েছে শচীন টেন্ডুলকারের মুম্বাই ইন্ডিয়ানসকে। ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৫১ রান তুলেছিল মুম্বাই। ক্যালিসের অপরাজিত ৬৬ (৫৫ বল) রানের কল্যাণে ৫ বল হাতে রেখে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বেঙ্গালুরু।

মোহামেডানের কাঠগড়ায় বুকোলা-এমেকা

বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ খেলোয়াড়েরা ক্লাবে চলে এলেন। একটু আগে অধিনায়ক আরমান আজিজ জানিয়ে গেলেন, আগের সন্ধ্যায় আবাহনীর বিপক্ষে ‘ভালো খেলেও’ কেন জয় এল না সেই বিশ্লেষণ হবে ভিডিও সেশনে। কোচ মারুফুল হক ক্লাবে এসেই ব্যস্ত হয়ে পড়লেন খেলোয়াড়দের নিয়ে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ড্র করার পরদিন মোহামেডানের সার্বিক ছবিটা বলে দিচ্ছিল, গোলশূন্য ওই ড্র মেনে নিতে পারেনি সাদা-কালোরা।
সাবেক মোহামেডান অধিনায়ক জাকারিয়া পিন্টু তো দুই নাইজেরিয়ান বুকোলা ও এমেকার ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বসলেন, ‘গতবার ওরা খুব ভালো খেলেছে। এবার খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আবাহনী ম্যাচে বুকোলার অবিশ্বাস্য সব মিস মেনে নেওয়া যায় না। এমেকার অবস্থা আরও খারাপ। ক্লাবের বাইরে ওরা বাসা নিয়ে থাকে। কী করে কে জানে। ক্লাবের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।’
স্বদেশি ডিফেন্ডার ইনামুয়েলকে নিয়ে নয়াপল্টনে একটা ভাড়া বাসায় থাকেন বুকোলা-এমেকা (ক্লাবই দিয়েছে)। তাঁদের এই বাইরে থাকাই নাকি সমস্যার যত কারণ। আরমান আজিজ জানালেন, ‘ওদের ক্লাবে আসতে প্রায়ই দেরি হয়। যানজটের দোহাই দেয়। আবাহনী ম্যাচের আগে ১০ মিনিট দেরি করে ক্লাবে এসেছে। ক্লাব ম্যানেজমেন্টকে এসব জানিয়েছি আমি।’
বাংলাদেশ লিগে মোহামেডানের এ পর্যন্ত ১৮ গোলের মাত্র চারটি করেছেন বুকোলা-এমেকা। স্ট্রাইকাদের ব্যর্থতায় এক ম্যাচ কম খেলে আবাহনীর চেয়ে ৭ পয়েন্টে পিছিয়ে মোহামেডান।
গতবার পেশাদার লিগে সর্বোচ্চ (১৮) গোলদাতা বুকোলা এবার এখন পর্যন্ত করেছেন মাত্র দুই গোল (অসুস্থতার কারণে বুকোলা ২-৩ ম্যাচ খেলেননি)। বুকোলার কথা, ‘কেন গোল পাচ্ছি না, জানি না। চেষ্টা করছি।’ ক্লাবের কারও কারও সন্দেহ-অবিশ্বাসের ব্যাপারে বললেন, ‘শারীরিক অসুস্থতা থাকায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। শৃঙ্খলা বা ইচ্ছাকৃত ভালো না খেলার অভিযোগ ঠিক নয়। আমার ক্যারিয়ার আছে। অন্য জায়গায় আমাকে খেলতে হবে।’ ক্লাবের বাইরে থাকার ব্যাপারে যুক্তি, ‘ক্লাবে বিদেশিদের থাকার মতো পরিবেশ নেই।’
এমেকা গত লিগে ১৬ গোল করে আবাহনীকে চ্যাম্পিয়ন করতে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। এবার তাঁর গোলও মাত্র দুটি (মুক্তিযোদ্ধার বিপক্ষে লিগের তৃতীয় ম্যাচে ওই দুই গোল)। গোল করা ভুলে গেলেন? এমেকার জবাব, ‘আপনিই বলুন...গোল কেউ ইচ্ছাকৃত মিস করে!’
মোহামেডান কোচ বলেছেন, ‘স্ট্রাইকারদের মনঃসংযোগ নেই। তাই গোল আসছে না।’ এর অর্থ, বুকেলা-এমেকা মন দিয়ে খেলছেন না! অভিযোগ গুরুতর। এটা হঠাত্ করে হয়নি। অনুশীলনে সিরিয়াস না থাকার কারণ দেখিয়ে শেখ রাসেলের বিপক্ষে এ দুজনকে কোচ প্রথম একাদশেই রাখা হয়নি। কোচই যখন বলেন, ‘ওদের মনোযোগ নেই’, তখন ভেতরে কিছু না থেকে কি পারে?
শোনা যায়, বুকেলা-এমেকাদের বেতন বাকি। তবে দলের ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বলছেন, ‘এসব ফালতু কথা। গত ১০ মার্চ পর্যন্ত এক মাসের টাকা পাবে ওরা।’ জানালেন, ‘ওদের এখন ক্লাবে রাখার চিন্তাভাবনা চলছে। প্রথম পর্ব শেষেই সিদ্ধান্ত হবে।’
আবাহনীর বিপক্ষে খেলতে পারেননি এমিলি। তার আগে টানা তিন ম্যাচে গোল পাননি (লিগে ৭ গোল)। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে টানা ১০ ম্যাচে গোল নেই। ফর্মহীন এমিলি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে। সব মিলিয়ে মোহামেডানের আক্রমণভাগ বেহাল। তাই গতবার খেলে যাওয়া মিসরীয় মিডফিল্ডার হাজেমকে আনার চেষ্টা করছে মোহামেডান।

যা হতে পারত

‘র‌্যাকুয়েল ওয়েলস ও টেস্ট সেঞ্চুরির মধ্যে একটা বেছে নিতে বললে আমি সবসময়ই টেস্ট সেঞ্চুরি নেব।’
বক্তার নাম জিওফ বয়কট। খেলোয়াড়ি জীবনে ইংরেজ ভদ্রলোক রান করাটাকেই এই পৃথিবীতে আগমনের একমাত্র উদ্দেশ্য বলে মানতেন। তাঁর তাই অমনই বলার কথা। তবে এটাও তো সত্যি, প্রশ্নটা যদি হয়, ‘নিজের জন্মদিনে সবচেয়ে ভালো উপহার বলবেন কোনটিকে’, বেশির ভাগ ব্যাটসম্যানেরই উত্তর হবে—‘টেস্ট সেঞ্চুরি’।
সেই ‘উপহার’ কাল পেতে পেতে হারিয়ে ফেললেন তামিম ইকবাল। আর মাত্র ১৫টি রান...তা হয়ে গেলে শুধু সেঞ্চুরিই নয়, ইতিহাসেও নাম লেখা হয়ে যেত তামিমের। ইতিহাসের কোন পাতাটায়? যেখানে আছে ভিক্টর ট্রাম্পার, চার্লস ম্যাকার্টনি, ডন ব্র্যাডম্যানের মতো কিংবদন্তির নাম। মাজিদ খানও আছেন। তাঁকে কিংবদন্তি বলাটা হয়তো একটু বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে। যদিও এই পাকিস্তানির ব্যাটিং সম্পর্কে মহা-উচ্ছ্বসিত এমন অনেকের সঙ্গেই পরিচয় হয়েছে, কোনো বিশেষণকেই যাঁরা বাড়াবাড়ি বলে মনে করেন না। এঁদের অন্তত একজনকে আপনার চেনার কথা। ডেভ হোয়াটমোর।
তা কী করেছেন এই চারজন? টেস্ট ম্যাচের প্রথম দিন লাঞ্চের আগে সেঞ্চুরি। কীর্তিটা কত বিরল—তা কি বুঝিয়ে বলব? ১৯৫৬তম টেস্ট হচ্ছে ঢাকায়। এর আগের ১৯৫৫ টেস্টের মাত্র ৪টি দেখেছে এই কীর্তি। যার প্রথম তিনটিই গত শতাব্দীর প্রথম ত্রিশ বছরে।
রোমান্টিক ব্যাটসম্যানশিপের প্রতিশব্দ ভিক্টর ট্রাম্পার প্রথম, ১৯০২ সালে। উইকেটে দাপুটে উপস্থিতির কারণে যাঁকে ‘গভর্নর জেনারেল’ নামে ডাকা হতো, সেই ম্যাকার্টনি ১৯২৬-এ। যাঁর নামের আগে কোনো বিশেষণ প্রয়োজন হয় না, সেই ডন ব্র্যাডম্যান ১৯৩০ সালে। তিনজনই অস্ট্রেলিয়ান এবং তিনজনের কীর্তিই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। আরেকটা মিল—তিনটিই ইংল্যান্ডে। ট্রাম্পারের ওই সেঞ্চুরি ম্যানচেস্টারে। ম্যাকার্টনি ও ব্র্যাডম্যানের লিডসে।
১৯৭৬-৭৭ মৌসুমে করাচিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাজিদ খানও করে না ফেললে এই রেকর্ডটাকে নিশ্চিন্তে প্রাগৈতিহাসিক কালের বলে ফেলা যেত। সেই রেকর্ড নিয়ে কাল যথেষ্টই নাড়াচাড়া করালেন তামিম। শেষ পর্যন্ত তো পারেননি, তাহলে এ নিয়ে এত কথা বলছি কেন? বলছি—কারণ শুধু কী হয়েছে নয়, কী হতে পারত—এই আলোচনাও কি ক্রিকেটের অনেক মজার একটি নয়?
তামিম ৮৫ রানে ফিরে যাওয়ার পর আরও প্রায় ৯ ওভার খেলা হয়েছে লাঞ্চের আগে। আউট না হলে সেঞ্চুরি তো হতোই। হয়ে যেত টেস্টের প্রথম দিন লাঞ্চের আগে কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডও। ম্যাকার্টনির ১১২-কে পেছনে ফেলা কোনো ব্যাপারই হতো না তামিমের জন্য। জন্মদিনের জন্য কী দারুণ উপহারটাই না হতো!
একদিক থেকে এটা ভালোই হয়েছে যে, তামিম এই রেকর্ড সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। যে কারণে তাঁর দুঃখটা শুধুই একটা সেঞ্চুরি হারানোর দুঃখ হয়েই থেকেছে। ক্রিকেট ইতিহাসে নাম লিখিয়ে ফেলার দুঃখ তাঁকে ছুঁতে পারেনি।
যা হয়নি, তা নিয়েই অনেক কথা বলা হয়ে গেল। বিরক্ত হয়ে থাকলে এবার যা হয়েছে, তা নিয়ে কথা বলি। টেস্টের প্রথম দিনে ৩৩০ রান—দারুণ ব্যাপার! তা আরও দারুণ হতো, যদি উইকেটের ঘরে ‘৮’ না থেকে ‘৫’ বা ‘৬’ থাকত। কিন্তু সব কি আর হয় নাকি! চার-ছয়ের ফুলঝুড়ি ছুটবে, আবার উইকেটও পড়বে না—এটা একটু বেশি চাওয়াই হয়ে যায়। টেস্টের প্রথম দিনে বাংলাদেশ এর চেয়ে বেশি রান করেছিল আর একবারই—২০০৬ সালে ফতুল্লায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩৫৫। সেবার অবশ্য পূর্ণ তৃপ্তিই মিলেছিল। উইকেটের ঘরে ‘৫’ ছিল বলে পরদিন প্রথম ইনিংসটা ৪২৭-ও ছুঁতে পেরেছিল।
একটা জায়গায় অবশ্য ফতুল্লাকে পেছনে ফেলে দিয়েছে মিরপুর। ফতুল্লায় প্রথম দিনের ৩৫৫ রানে চার ছিল ৪৬টি। মিরপুরে ৩৩০ রানে ৪৯টি চার, সঙ্গে আবার দুটি ছক্কাও।
এক দিনে ৪৯টি চার, ২টি ছক্কা। আবার উইকেটও পড়েছে ৮টি। ক্রিকেটকে যদি বিনোদন বলেন, তাহলে ডালা উপচিয়েই দিয়েছে বাংলাদেশ। হ্যাঁ, টেস্ট ক্রিকেটটা এভাবে খেলা উচিত কি না, এই প্রশ্ন অবশ্যই উঠবে। এই ৩৩০ রানই দেড় দিনে করলে ম্যাচের প্রেক্ষাপটে তা আরও ভালো হতো—এটাও খুবই যৌক্তিক কথা হবে। তবে সাহসী-উদ্ভাবনপ্রিয়-রোমাঞ্চপিয়াসী হিসেবে একটা নাম কিন্তু আস্তে আস্তে ছড়িয়ে পড়ছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। সেটি আরও বেশি টের পেলাম গত নিউজিল্যান্ড সফরে। বাংলাদেশ খুব ভালো করেনি। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের এমন অনেকের সঙ্গে পরিচয় হলো, যাঁরা দেখলাম বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের খুব ভক্ত। অবাক হয়ে কারণও জানতে চেয়েছি। কী উত্তর পেয়েছি, জানেন? বাংলাদেশের ব্যাটিং মানে ‘নেভার আ ডাল মোমেন্ট’, হয় চার-ছয় নয়তো উইকেট!
দলের সব ব্যাটসম্যানই এভাবে খেললে বিপদ। তবে তামিম ইকবালকে তাঁর সহজাত খেলাটাই খেলার লাইসেন্স দিয়ে দেওয়াই ভালো। যেটি দিতে বলেছিলেন কলিন ক্রফটও। বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ওই ইনিংস খেলার পরদিন দেখা হতেই সাবেক ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ফাস্ট বোলার প্রায় মিনতির সুরে বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশের মিডিয়ার কাছে একটা অনুরোধ—ডোন্ট কিল হিম!’
এই ‘হিম’টা তামিম। ‘ডোন্ট কিল’ সতর্কবাণী, কারণ চালিয়ে খেলতে গিয়ে ব্যর্থ হলেই যদি মিডিয়া সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠে, তাহলে তামিম হয়তো আর তামিম থাকবে না। আর দশজন ব্যাটসম্যানের মতোই হয়ে যাবে।
বয়সের তুলনায় তামিমের চিন্তাভাবনা অবশ্য খুব পরিষ্কার। অনেকে ভেবেচিন্তে নিজের মতোই খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটি জানিয়েও দিলেন কাল। তাতে কী হতে পারে, সে ব্যাপারেও ধারণাটা পরিষ্কার—‘কখনো হয়তো খুব দর্শনীয় হবে, কখনো কুিসত।’
আপনি নিজের খেলাই খেলুন, তামিম! দুঃসময়ে সাহস জোগাতে সনাত্ জয়াসুরিয়া-বীরেন্দর শেবাগরা তো আছেনই!

ভরে যাবে ফিফার কোষাগার

উন্মুখ হয়ে আছেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা, ২৪ বছর পর তাঁরই হাত ধরে যদি আরেকটি বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা! ষষ্ঠ শিরোপার সন্ধানে ব্রাজিল। ফেবারিটের তকমা না নিয়েও বিশ্বকাপ স্বপ্ন দেখছে গত ছয় আসরের তিনটিরই ফাইনালে খেলা জার্মানি। প্রথম শিরোপার সন্ধানে টপ ফেবারিট স্পেন। ১৯৬৬ সালের পর আরেকটি ট্রফি চায় ফুটবলের জনকের দাবিদার ইংল্যান্ড। গতবারের চ্যাম্পিয়ন ইতালি, রানার্সআপ ফ্রান্স...বড় দলগুলো তো বটেই, চমকে দিতে চায় হন্ডুরাস, ঘানা, স্লোভেনিয়ার মতো ছোট দলগুলো।
বিশ্বকাপের দিকে কি ফিফাও তাকিয়ে নেই উন্মুখ হয়ে? এই ২০১০ বিশ্বকাপই যে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফিফার আয়ের অঙ্কটাকে নিয়ে গেল বিলিয়ন ডলারের ঘরে। বিলিয়ন ডলার! ১-এর পর ৯টি শূন্য! গত বছর ফিফার বার্ষিক আয় গিয়ে পৌঁছেছে ১.০৬ বিলিয়ন ডলারে। টাকার অঙ্কে যেটি প্রায় ৭৩৪৬ কোটি! একই বছর ফিফার ব্যয় ছিল প্রায় ৮৬৩ মিলিয়ন ডলার। যার ফলে ২০০৯ সালে তাদের হাতে উদ্বৃত্ত থেকে গেছে ১৯৬ মিলিয়ন ডলার।
‘প্রথমবারের মতো আমাদের বার্ষিক আয়ের পরিমাণ এক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বোঝাই যাচ্ছে, বাজার দক্ষিণ আফ্রিকার (বিশ্বকাপের) ওপর আস্থা রেখেছে’—জুরিখে ফিফা সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন সভাপতি সেপ ব্ল্যাটার। দুই দিনের ফিফা নির্বাহী কমিটির সভা শেষে হাসিমুখে সংবাদ সম্মেলনে হাজির ব্ল্যাটার আগামী বিশ্বকাপকে একটা ধন্যবাদই দিয়ে দিলেন, ‘আমরা খুবই আত্মবিশ্বাসী, শুধু আত্মবিশ্বাসী নই, গর্বিতও যে বিশ্বকাপ আফ্রিকাকে কিছু দেবে, আফ্রিকাও বিশ্বকাপকে কিছু দেবে।’
বিশ্বের অর্থনীতির ভিত কাঁপিয়ে দেওয়া মন্দার পরও এবারের বিশ্বকাপ অর্থনৈতিকভাবে বেশ সফলই হবে। এর মূল কারণ প্রচারস্বত্ব আর বিপণন থেকে আসা বিশাল অঙ্কের টাকা।
অবশ্যই এমন সুখবর শোনানোর পরও ফিফার আরেক দফা সমালোচনা হলো টিকিট বিক্রির মন্থর গতি নিয়ে। সাম্প্রতিক বিশ্বকাপগুলোতে এই সময়ের মধ্যে একটি টিকিটের জন্য হাহাকার পড়ে গেছে। অথচ ফিফাকে এখনো ভাবতে হচ্ছে বিক্রি না হওয়া ২৫ শতাংশ টিকিট নিয়ে। টিকিট বিক্রির নিয়ম সহজ করার পাশাপাশি ১৫ এপ্রিল থেকে কম দামের টিকিটও ছাড়া হবে।
ফিফার বিলিয়নিয়ার হয়ে যাওয়াটা বাংলাদেশের জন্যও সুখবর! কারণ ফিফা তাদের আয়ের ৭৪ শতাংশই ব্যয় করে ফুটবলের উন্নয়নে। এবারও ফিফা তাদের লাভের অংশটা ২০৮ সদস্যের মধ্যে ভাগ করে দেবে।

পিসিএল নিয়ে নানা প্রশ্নের জবাব

প্রথমবারের সাফল্য নিয়ে দ্বিতীয় পিসিএল (পোর্ট সিটি ক্রিকেট লিগ) জন্মস্থান বন্দরনগর চট্টগ্রাম পেরিয়ে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে।
আগামী ২৬ মার্চ চট্টগ্রাম মোহামেডান ও টপ স্পোটর্স ক্লাবের ম্যাচ দিয়ে দ্বিতীয় টুর্নামেন্ট শুরু হবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায়। আগামীকাল ঢাকায় উন্মোচিত হবে পিসিএলের ট্রফি। আর ২৬ মার্চের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি হবে স্বাধীনতা দিবসের কথা মাথায় রেখেই।
পিসিএল কেন শারজায়? প্রশ্নের আগেই উত্তরটা সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে দিয়ে দিয়েছেন পিসিএল টি-টোয়েন্টি বসুন্ধরা কাপের কো-চেয়ারম্যান আলী আব্বাস, ‘চট্টগ্রামকে বিশ্বকাপের ভেন্যু হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিসিবি প্রস্তুতির জন্য মাঠ চেয়েছে। তাই দ্বিতীয় আসর শারজায়।’
তা না হয় হলো, কিন্তু দ্বিতীয় আসরে এসে পিসিএলের আয়োজক কারা এ নিয়ে আছে দ্বিধাদ্বন্দ্ব। প্রথম টুর্নামেন্টের আয়োজক চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার বদলে সর্বত্র উচ্চারিত হচ্ছে পিসিএল ফাউন্ডেশন নামের নতুন সংস্থার নাম, এর বৈধতাই বা কী?
আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান আ জ ম নাসিরউদ্দিন বলেছেন, ‘আয়োজক এখনো বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা। তবে আমরা পিসিএল ফাউন্ডেশন গঠন করেছি ক্রিকেটার তৈরির জন্য। পিসিএল টুর্নামেন্ট থেকে উদীয়মান ক্রিকেটারদের নিয়ে আমরা স্বল্প, দীর্ঘ ও মধ্যমেয়াদি প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে চাই।’
তবে প্রথম আসরের অনেক পাওনা এখনো বকেয়া এটি স্বীকার করেছেন আ জ ম নাসির, ‘আমরা এবার তা পরিশোধ করব।’ পিসিএল নিয়ে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করছেন তাঁরা। পিসিএলের বৈধতা, টাকা পাচার, দলাদলি-বিভাজন ইত্যাদি একটি মহলের অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন আয়োজকেরা।

এবার জাতীয় টি-টোয়েন্টি লিগ

আইপিএলের আগের দুই আসরও মাতিয়েছিল ক্রিকেট-বিশ্ব, মাতাচ্ছে এবারও। কিছুদিন আগে মাতিয়েছে চ্যাম্পিয়নস লিগ টি-টোয়েন্টিও। ৩০ এপ্রিল ওয়েস্ট ইন্ডিজে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ তিন বছরের মধ্যে তৃতীয়। টি-টোয়েন্টির মহোত্সবে বাংলাদেশই শুধু একটু অনুজ্জ্বল। জাতীয় দলের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি আরেকটা কারণ জাতীয় পর্যায়ে কোনো টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টই নেই। তবে সেই অভাব দূর হতে যাচ্ছে শিগগিরই, ১১ এপ্রিল মাঠে গড়াচ্ছে জাতীয় লিগ টি-টোয়েন্টির প্রথম আসর।
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে টি-টোয়েন্টি চালু হয়েছে আগেই, হয়েছে করপোরেট লিগও, চট্টগ্রামে হয়েছে পিসিএলও। তবে জাতীয় পর্যায়ে টি-টোয়েন্টি এই প্রথম, সেটাও আবার হতে যাচ্ছে দারুণ এক সময়ে। ১১ এপ্রিল শুরু লিগ শেষ হবে ২০ এপ্রিল, কদিন পরই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাবে বাংলাদেশ দল। জাতীয় দলের জন্য তাই প্রস্তুতিটাও চমত্কার হবে বলে মনে করছেন আয়োজকেরা।
টি-টোয়েন্টি বলতে এখন যা বোঝায় থাকবে এর সব উপাদানই। জাতীয় লিগের বড় দৈর্ঘ্যের মতো ছয়টি বিভাগীয় দলই খেলবে, তবে নামগুলো একটু পাল্টে যাবে। মূল নাম ঠিকই থাকবে, সঙ্গে যুক্ত হবে আর একটি-দুটি শব্দ। খেলাও হবে ফ্যাঞ্চাইজি ভিত্তিতে, বিভাগীয় ভিত্তিতে নয়। থাকবে জমজমাট উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠান, যাতে পারফর্ম করবে দেশি-বিদেশি শিল্পীরা। থাকছে বর্তমানে টি-টোয়েন্টির অন্যতম অনুষঙ্গ চিয়ার লিডার্সও। টুর্নামেন্টের ইভেন্ট পার্টনার হিসেবে থাকছে এটিএন রেকর্ডস, টাইটেল স্পনসর, সহযোগী স্পনসর খোঁজা, বাজারজাতকরণ থেকে শুরু করে পুরো আয়োজনের খুঁটিনাটিও দেখার দায়িত্বও তাদের। মিডিয়া পার্টনার হিসেবে থাকছে এটিএন বাংলা এবং রেডিও টুডে। টুর্নামেন্টের ১৫টি ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করবে এটিএন। বেশির ভাগ ম্যাচই হবে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে, দু-তিনটি হতে পারে ফতুল্লা কিংবা বিকেএসপিতে।
টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ, বিশাল অঙ্কের প্রাইজমানি। চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ১ লাখ ডলার, ৫০ হাজার রানার্সআপ দল। এ ছাড়া থাকছে আর অনেক চমক, জানালেন আয়োজকেরা। দলগুলোর স্বত্ব কাদের হাতে থাকছে, সেটা জানানো হতে পারে ২৯ মার্চ। জাতীয় লিগের খেলোয়াড় তালিকা দিয়ে নয়, টি-টোয়েন্টি লিগের খেলোয়াড় নির্বাচন হবে আলাদা। এর সম্ভাব্য তারিখ ৪ এপ্রিল। প্রতিটি দলে চারজন করে আইকন ক্রিকেটার ঠিক করে দেওয়া হবে, অন্যদের বিভিন্ন শ্রেণীতে ভাগ করে দেওয়া হবে। তবে সবাই যাতে ন্যূনতম অর্থ পান নিশ্চিত করা হবে সেটাও। গতকাল বিসিবি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় এসব তথ্য। বক্তব্য রাখেন বিসিবির সিনিয়র সহসভাপতি মাহবুবুল আনাম, পরিচালক গাজী আশরাফ হোসেন, এটিএন রেকর্ডসের উপদেষ্টা রুবাবা দৌলা এবং অন্যরা।
গত চ্যাম্পিয়নস লিগে অন্য সব টেস্ট খেলুড়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব থাকলেও বাংলাদেশ অংশ নিতে পারেনি। যুক্তিটা ছিল, বাংলাদেশের জাতীয় কোনো টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা নেই। এবার আর সেই যুক্তি খাটবে না।

অংশ নিন ‘বাংলা ম্যারাথনে by সজল খালেদ

প্রায় সবার ধারণা যে একটানা ৪০ কিলোমিটার না দৌড়ালে বুঝি তা ম্যারাথন হয় না। ধারণাটি ঠিক নয়। অলিম্পিকের নিয়ম অনুযায়ী আয়োজনে কেউ ৪২ দশমিক ১৯৫ কিলোমিটার পথ সর্বোচ্চ ৮-১০ ঘণ্টায় কোনো অতিরিক্ত সাহায্য না নিয়ে দৌড়ে, লাফিয়ে, হেঁটে, হামাগুড়ি দিয়ে অথবা গড়িয়ে, একভাবে গেলেই তাকে ম্যারাথন সম্পন্নকারী বলে মেনে নেওয়া হয়। আর ম্যারাথনের অর্ধেক পথ ২১ দশমিক এক কিলোমিটার দূরত্বকে বলা হয় আধা ম্যারাথন (যদিও আধা ম্যারাথন কোনো অলিম্পিক ইভেন্ট নয়)। কাজেই কখনোই ভাববেন না যে আপনাকে দিয়ে ম্যারাথন হবে না। তবে হ্যাঁ, যদি বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চান, তাহলে আপনাকে তার জন্য নিয়মিত চর্চা করতে হবে।
বেশ কয়েক শ বছর আগে ফেডিফেডাস নামের একজন গ্রিক সৈনিক যুদ্ধজয়ের সংবাদ জানাতে ম্যারাথন শহর থেকে এথেন্স শহরে দৌড়ে এসে ক্লান্তিতে মৃত্যুবরণ করেন। ম্যারাথন থেকে এথেন্সের দূরত্ব হিসাব করে ১৮৯৬ সাল থেকেই অলিম্পিক গেমসের অন্যতম ইভেন্ট হিসেবে স্থান করে নেয় ম্যারাথন। এখন বিশ্বের প্রায় প্রতিটি বড় শহরেই আন্তর্জাতিকমানের বার্ষিক ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হয়।
পৃথিবীর প্রায় সব দেশের বড় বড় শহরের নামে নিয়মিত ম্যারাথন আয়োজন করা হয়। এমনকি ম্যারাথন আয়োজন করা হয় পাহাড়, জঙ্গল, বরফ, বৃষ্টি, কাদামাটি, গরমসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যে। সব দেশেই কিছু ক্ষ্যাপাটে মানুষ আছেন, যাঁরা পৃথিবী ঘুরে ঘুরে নিয়মিত এসব ম্যারাথনে অংশ নেন। এমন দিন খুব বেশি দূরে নয়, যখন ঢাকা ম্যারাথনসহ আমাদের সব ম্যারাথনে কয়েক হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করবেন এবং বিদেশ থেকে অনেক মানুষ আসবেন শুধু আমাদের দেশের ম্যারাথনে অংশগ্রহণ করতে। বিশ্বাস হয় না? তাকিয়ে দেখুন দিল্লি আর কাঠমান্ডু ম্যারাথনের দিকে!
২০০৭ সাল থেকে ‘বাংলা ম্যারাথন’ নামে বাংলাদেশে নিয়মিত ম্যারাথন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে ‘প্রশিক্ষণকেন্দ্র এক্সট্রিমিস্ট’। এ বছর স্বাধীনতা দিবসে কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ রোডে আবার আয়োজিত হতে যাচ্ছে ‘বাংলা ম্যারাথন ২০১০’।
পৃথিবীর দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন সমুদ্র সৈকতের পাড় দিয়ে কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ রোডের সমকক্ষ কোনো জায়গা এ দেশে পাওয়াই যায় না। পিচঢালা মেরিন ড্রাইভ রোডে ম্যারাথন পরিবেশের বিন্দুমাত্র ক্ষতি করে না। একপাশের জীবন্ত সবুজ পাহাড়, অন্যদিকে দুহাত বাড়ানো শান্তিময় নীল সমুদ্র ম্যারাথনের প্রচণ্ড চাপকে সহনীয় করে দেয়। দীর্ঘ পরিশ্রমে সবাই কোনো না কোনো জায়গায় ভেঙে পড়ে। এই হাল ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারটি কিন্তু পুরোটাই মানসিক। চৈত্রের গরম যদি আপনাকে কাবু করতে চায়, পাশের সমুদ্রে একটু গা-মাথা ভিজিয়ে এলে কেউ আপনাকে কথা শোনাবে না। প্রতি তিন কিলোমিটার পর পর আমাদের স্বেচ্ছাসেবকেরা আপনার জন্য পানি আর হাল্কা নাশতা নিয়ে অপেক্ষা করবে। অভিজ্ঞতা থেকে আমরা জানি, সাত থেকে সত্তর, বয়স কাউকে দমিয়ে রাখতে পারে না।
ভোর ছয়টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানের উপস্থিতিতে শুরু হওয়া বাংলা ম্যারাথন শেষ হবে বিকেল চারটায়। ম্যারাথন শেষে নিয়ম মেনে সমাপ্তকারী প্রতিযোগীদের বিশেষ বাংলা ম্যারাথন পদক এবং সনদপত্র দেওয়া হবে যা একটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি চ্যানেল সরাসরি সম্প্র্রচার করবে। নারী-পুরুষ উভয় বিভাগের স্থান অর্জনকারীর জন্য থাকবে আকর্ষণীয় পুরস্কার। আর ম্যারাথনে প্রথম স্থান অর্জনকারী নারী-পুরুষ প্রত্যেকে পাবেন নগদ ৫০ হাজার করে টাকা। আধা ম্যারাথনে প্রথম স্থান অর্জনকারী নারী-পুরুষের জন্যও রয়েছে নগদ অর্থ পুরস্কার। ম্যারাথন শেষে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীদের অংশগ্রহণে চমত্কার একটি কনসার্ট এবং জমকালো আতশবাজি অবশ্যই আপনার ম্যারাথন ক্লান্তি দূর করে দেবে।
বাংলা ম্যারাথনে অথবা আধা ম্যারাথনে যতজন ইচ্ছা নারী-পুরুষ প্রতিযোগী রেজিস্ট্রেশন করে নিজ দায়িত্বে অংশ নিতে পারবেন। তবে প্রথম আগ্রহী ১০০ জন প্রতিযোগী ২৫ ও ২৬ মার্চ কক্সবাজারে আমাদের সঙ্গে হইচই করে থাকতে পারবেন। রেজিস্ট্রেশন করতে হবে ২৩ মার্চের মধ্যে অথবা তাত্ক্ষণিকভাবে ২৫ মার্চ কক্সবাজারের মোটেল লাবণীতে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ছয়টা পর্যন্ত। রেজিস্ট্রেশন ফি ৫০০ টাকা (নিজ দায়িত্বে থাকা খাওয়া) এবং ২৫০০ টাকা (ম্যারাথনসহ দুদিন থাকা-খাওয়া), কক্সবাজারে পৌঁছানোর দায়িত্ব কিন্তু আপনার। সব প্রতিযোগীকে ২৫ মার্চ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে রিপোর্ট করতে হবে কক্সবাজারের মোটেল লাবণীতে। রেজিস্ট্রেশন ফরম নেওয়া ও জমা দেওয়া যাবে বেইলি রোডের সুইস বেকারি এবং দেশব্যাপী আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের ঢাকা, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, খুলনা, যশোর, বগুড়া ও রাজশাহীর বিভিন্ন শাখায়।
দৌড়ে ম্যারাথনের প্রস্তুতির জন্য সপ্তাহে তিন দিন ২০ কিলোমিটার করে দৌড় চর্চা করে ধীরে ধীরে সময় কমিয়ে আনুন এবং ম্যারাথনের এক সপ্তাহ আগে সব রকম দৌড় চর্চা বন্ধ করে দিন। আর হেঁটে ম্যারাথন করতে চাইলে সপ্তাহে দুদিন একটানা আট ঘণ্টা করে দ্রুত হাঁটা চর্চা করুন। নিয়মিত ম্যারাথন এবং অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের প্রস্তুতির জন্য যোগাযোগ করে নির্দ্বিধায় চলে আসতে পারেন রমনা পার্কের শিমুল ছাউনিতে, প্রশিক্ষণকেন্দ্র এক্সট্রিমিস্টে।

একজন চার্লস দ্য গলের অপেক্ষায় -রাজনৈতিক সংস্কৃতি by সৈয়দ বদরুল আহ্সান

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কথা। ইদানীং লক্ষ করেছি যে এ দেশে এমন মানুষ রয়েছেন এবং বিদেশেও এমন কিছু বাঙালি আছেন, যাঁরা সর্বদা প্রস্তুত থাকেন আপনাকে, আমাকে এই উপদেশ দেওয়ার জন্য যে আমরা যেন জাতির পিতাকে নিয়ে এত বেশি না লিখি। এই সেদিন দেখলাম, কিছুসংখ্যক পাঠক, যাঁদের ইতিহাসবোধ খুবই সীমিত বেশ হতাশায় রয়েছেন আমি কেন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বারবার লিখে যাই। এঁদেরই একজন আমাকে বলেই দিলেন যে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে না লিখে দেশের আরও যে কত বড় বড় সমস্যা রয়েছে, সেগুলোর দিকে দৃষ্টি দিই না কেন। তাঁর উপদেশ ভালো। তবে মনে হয় তাঁর মতো অনেকেই আছেন, যাঁরা হয় ইতিহাস এখনো আয়ত্তে আনতে পারেননি অথবা শেখ মুজিবুর রহমান যে কত বড় মনের ও মাপের মানুষ ছিলেন, সেই সত্যটি উপলব্ধি করতে এখনো পারেননি। আবার এঁদেরই মধ্যে এমন অনেক ব্যক্তি রয়েছেন, যাঁরা স্বাধীন বাংলাদেশের কথা, মুক্তিযুদ্ধের কথা বারবার বলে যাবেন। তবে বঙ্গবন্ধুর অবদানের বিষয়টি নিয়ে বিরক্তি বোধ করেন। এই শ্রেণীর মানুষ ভুলে যান যে আজ আমরা বাঙালিরা যে স্বাধীন জাতি হিসেবে গর্ববোধ করি, বিদেশে যাই এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাঙালি হয়ে কথা বলতে পারি—এ সবকিছুর পেছনেই রয়েছে শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনীতি।
এই বাস্তব সত্যটি অবশ্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সেই মহিলা সাংসদ বুঝে উঠতে পারেননি, যিনি এই কিছুদিন আগে জাতীয় সংসদে বঙ্গবন্ধুর জানাজা নিয়ে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর উক্তিতে আমরা গোটা জাতি হিসেবে লজ্জা বোধ করেছি, আমাদের মাথা নিচু হয়েছে। একইভাবে যখন বঙ্গবন্ধুকে তাঁর চেয়ে ছোট আকারের ব্যক্তিত্বের কাতারে যোগ দেওয়ানো হয়, তখন আমাদের ওই একই প্রশ্ন জেগে ওঠে—যাঁরা এই কাজটি করেন, তাঁদের ইতিহাসজ্ঞান কী এতই সীমিত? তাঁরা কি মুক্তিযুদ্ধ দেখেননি, নাকি দেখেও স্বেচ্ছায় ভুলে গেছেন সেই ইতিহাস? যে বাঙালি, যে এ দেশের স্বাধিকার ও স্বাধীনতা আন্দোলন সম্পর্কে ওয়াকিবহাল, তিনি তো ইতিহাসবিমুখ হবেন না। বাংলাদেশের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু, মুজিবনগর সরকার, মুক্তিযুদ্ধ—এ সবই অম্লান হয়ে থাকবে। বলতে পারেন যে যদি ইতিহাস সত্যকেই সমুন্নত রাখবে, তাহলে আমরা এত চিন্তিত কেন? চিন্তিত এই জন্য যে যাঁরা দেশের ইতিহাস বিকৃতিতে এত বছর ধরে ব্যস্ত রয়েছেন, তাঁরা এমন একটি শ্রেণী তৈরি করে যাচ্ছেন, যাঁরা একদিন হয়তো নিজ দেশ সম্বন্ধে কিছুই জানবেন না ও বুঝবেন না। যেমন ওই সব ব্যক্তি, যাঁরা প্রশ্ন করেন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এত বলার ও লেখার কী আছে। অন্য সবার মতো তাঁদের অবশ্যই রাজনৈতিক মতামত ব্যক্ত করার অধিকার রয়েছে। তবে নিজের অতীত, নিজ দেশের ইতিহাস না জানাটা উন্নত মানসিকতার লক্ষণ হতে পারে না।
ইতিহাস-বিষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আরও অনেক কথা চলে আসে। এ মুহূর্তে যেমন ইতিহাসকে সমুন্নত রাখা আমাদের সবারই একটি গুরুদায়িত্ব, তেমনি এটাও লক্ষ রাখা প্রয়োজন যে আমরা এমন কোনো কথা না-বলি বা এমন কাজ না-করি, যার কারণে আমাদেরকে লজ্জিত ও অপ্রস্তুত হতে হয়। জাতীয় সংসদে সরকারি দলের কী প্রয়োজন ছিল জেনারেল জিয়াউর রহমানের কবর নিয়ে প্রশ্ন তোলা? চন্দ্রিমা উদ্যানে তাঁকে শায়িত করা হয়েছে, নাকি অন্য কাউকে, নাকি সেখানে কোনো মরদেহই নেই—এসব প্রশ্ন তো গণতান্ত্রিক রাজনীতির উপাত্ত হতে পারে না। এরপর রয়েছে আমাদের সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিনীতি। সেই শৈশব থেকে আমরা জেনে এসেছি যে মৃত ব্যক্তিকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করা ভালো নয়। হ্যাঁ, যদি সেই ব্যক্তির রাজনীতি নিয়ে কথা উঠে, আমরা তাঁর সমালোচনা করব। তবে সেটা এমন ভাষায় করব, যাতে করে সেটা কোনোক্রমেই ব্যক্তিগত আক্রমণে পরিণত না হয়। এখন যদি কোনো সাবেক মন্ত্রী বলে ফেলেন যে ডিএনএ (DNA) পরীক্ষা করে যাচাই করা দরকার, ওই চন্দ্রিমা উদ্যানের কবরে জিয়াউর রহমানের লাশ রয়েছে কি না, তখন আমাদের দুঃখ হয়। প্রশ্ন করি একে অন্যজনকে, গণতন্ত্র কি আমাদের এই শিক্ষা দিয়েছে? দেশের বৃহত্তর আদালত তো আমাদের জানিয়েই দিয়েছেন যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা স্বয়ং বঙ্গবন্ধুই করেছেন। এটাও বলা হয়ে গেছে যে ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সাল থেকে এপ্রিল ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত যেসব সরকারের এ দেশে উত্থান হয়েছিল, সেসব সরকার ছিল অবৈধ এবং যথার্থ কারণেই। জাতিগতভাবে এসব রায়ের ব্যাপারে আমরা সন্তুষ্ট। এ নিয়ে তো রাজনীতি করার কিছু নেই। হ্যাঁ, সংসদে বিরোধী দল ভালো ভূমিকা রাখছে না, হয়তো রাখতে চায় না। ক্ষমতা হারিয়ে বিরোধীদলীয় সদস্যরা নতুন পরিস্থিতিটা মেনে নিতে পারছেন না। এটা তাঁদেরই ব্যর্থতা; কিন্তু তাই বলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ কেন এমন কাজ করবে, যা নাকি রীতিমতো উসকানির পর্যায়ে চলে যায়?
বিগত তিন মাস দেশের বাইরে অবস্থান করেছি। দেশে কী হচ্ছে এবং কী হওয়া উচিত—সেই বিষয় অন্য যেকোনো বাঙালির মতো ভেবেছি। সবসময় একটি কথাই মনে হয়েছে যে বাংলাদেশের মানুষ এত ভালো, এত দরিদ্র, এত সহজ-সরল কিন্তু এদের ভাগ্যে ভালো উদারমনা নেতৃত্ব আসে না কেন? সংসদের সভায় বিভিন্ন এলাকার সাংসদ বেশি সময় কাটান ঝগড়া করে। সময় ব্যয় করেন অতীত নিয়ে। বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার সাংসদ ১৪ মাসে তাঁদের অঞ্চলের জন্য কী কাজ করেছেন, কী উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছেন সেই বিষয়ে আমরা জানি না। পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসীদের বাড়িঘর কারা পুড়িয়ে দিয়েছে এবং তাদের কেন আজ পর্যন্ত ধরা হয়নি, সে বিষয়ে অন্যদের মতো ভেবেছি। যখন বিরোধী দল বলে যে পার্বত্য অঞ্চলে সেনাবাহিনী স্থায়ীভাবে থাকলে সেখানে শান্তি বজায় থাকবে, তখন অবাক হতে হয়। আমরা বাঙালি হয়ে আদিবাসীদের ওপর যা নিপীড়ন চালিয়েছি, সে তো অস্বীকার করা যায় না। এই যে বাঙালিরা আদিবাসীদের এলাকায় বসতি স্থাপন করে আসছে সেই ১৯৮০-এর দশক থেকে, সেটার কি এত প্রয়োজন ছিল? অতি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে অনেকে বলতে পারি, বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিক দেশের যেকোনো অঞ্চলে বসবাস করতে পারে, তার অধিকার হিসেবে। কিন্তু তার চেয়ে বড় কথা হলো যে আদিবাসীদের অধিকার রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। এটা আমাদেরই চরম ব্যর্থতা যে ১৯৭২-এর সংবিধানে আমরা আদিবাসীদের ঐতিহ্য, তাদের ভাষা-সংস্কৃতি রক্ষা করার বিষয়টি তুলে ধরিনি। সবাইকে অভিহিত করেছি বাঙালি বলে। এতে যা হয়েছে, তা আমাদের সবারই জানা। এখন সময় এসেছে, এই পার্বত্য চট্টগ্রাম ও দেশের অন্যান্য জায়গার আদিবাসীদের সাংবিধানিক অধিকার ও অবস্থান নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা করার। যখন শুনি কাউকে বলতে যে পার্বত্য অঞ্চলে স্থায়ীভাবে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা দরকার, তখন তাকে বলে দেওয়া প্রয়োজন যে একটি সভ্য জাতি অন্য একটি সভ্য সংস্কৃতিকে এভাবে দাবিয়ে রাখতে পারে না। আমরা ফিলিস্তিনিদের কথা বলি, কুর্দিদের কথা বলি, দারফুর নিয়ে চিন্তিত, তিব্বত নিয়ে উদ্বিগ্ন অথচ আমাদের নিজ দেশে আদিবাসীদের জীবন নিয়ে ভাবতে চাই না। আবার সেই ইতিহাসকে উপেক্ষা করা?
দেশকে নিয়ে আমাদের অনেক বলার আছে। স্থানীয় সরকার, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার ইত্যাদি বিষয়ে অনেক কথা বলার আছে। মাঝেমধ্যে গভীর রাতে আনমনেই নিজেকে প্রশ্ন করি—আমাদের এই সমস্যাজর্জরিত বাংলাদেশে কি জেনারেল চার্লস দ্য গলের মতো বড় মাপের রাষ্ট্র এবং সরকারপ্রধানের উদ্ভব কোনোদিন হবে না?
সৈয়দ বদরুল আহ্সান: সাংবাদিক।

চার হাজার গাছের জীবন বাঁচাতে -সিলেটের নাহার পুঞ্জি by পাভেল পার্থ

২১ মার্চ বিশ্ব বন দিবস পালনের মাত্র এক মাস আগে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার নাহার চা-বাগানের কাইলিন (নাহার-২) ও আসলম (নাহার-১) খাসিয়া পানপুঞ্জির জীবনদায়িনী চার হাজার গাছের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ হাইকোর্ট। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার হাজার গাছের ভেতর অধিকাংশই চাম, গামার, গর্জন, জাম, কড়ই, বনাক, রঙ্গি, শিমুল, আওয়াল, খামি, লুদ, বেলপই, ডুমুরের মতো প্রাকৃতিক বনভূমি বাস্তুসংস্থানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সব বিপন্নপ্রায় বৃক্ষপ্রজাতি।
দেশের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ বর্ষারণ্য লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের কাছাকাছি অবস্থিত নাহার চাগান-কাইলিন-আসলম খাসিয়া পানপুঞ্জি এলাকাটি এককালে প্রাকৃতিক বর্ষারণ্যের অংশ থাকলেও করপোরেট চা-বাণিজ্য প্রসারের জন্য এখানকার বনভূমি সমূলে উপড়ে ফেলা হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই চার হাজার গাছ নিজের শরীরে ধরে রেখেছে স্থানীয় খাসিয়া ও চা-বাগানের আদিবাসীদের বেঁচেবর্তে থাকার জীবন রসদের অনেক কিছু। পানচাষি খাসিয়াদের গাছপান চাষের জন্য এই গাছগুলো ছাড়া কোনো উপায় নেই। কারণ লতানো খাসিয়া গাছপান এসব দেশীয় বৃক্ষপ্রজাতিকে আশ্রয় করেই বেড়ে ওঠে। খাসিয়া পানজুম এবং যাপিত জীবনের কোনো ধরনের বিবেচনা ছাড়া এভাবে হাজার হাজার গাছ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত যেন ফসল রেখে ফসলের জমি কেড়ে নেওয়ার মতো ঘটনা।
যদি চার হাজার গাছ কেটে ফেলা হয় তবে তা কেবল খাসিয়া-মান্দি বা চা-বাগানের আদিবাসী ও দরিদ্র বাঙালিদের জন্যই হুমকি হবে না, একই সঙ্গে তা বিপন্ন করে তুলবে স্থানীয় এলাকার এসব পাখি-পতঙ্গসহ অপরাপর বন্য প্রাণীকেও। যারা প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে এই চার হাজার গাছ ও বৃক্ষবেষ্টনীর বাস্তুসংস্থানের ওপর নির্ভরশীল। ১৪ মার্চ ২০১০ তারিখে ডেইলি স্টার, ১৭ মার্চ ২০১০ তারিখে প্রথম আলো পত্রিকার প্রথম পাতায় নাহার চা-বাগানের খাসিয়া পানপুঞ্জি এলাকার গাছ হত্যার এসব নির্মম ছবি ছাপা হয়েছে। হাইকোর্টের বিচারক মো. মমতাজউদ্দীন আহমেদ এবং নাঈমা হায়দার প্রতিবেশ-বাস্তুসংস্থান-আদিবাসীদের বননির্ভরশীলতাকে কোনো ধরনের বিবেচনায় না এনেই ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১০ তারিখে চার হাজার গাছের এই মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন।
২০০৮ সালের ৩০ জুন পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় নাহার চা-বাগানের খাসিয়া পানপুঞ্জি এলাকার গাছ কাটার রাষ্ট্রীয় অনুমোদন দেয়। ৭ আগস্ট ২০০৮ তারিখে ৪৭ লাখ ৫১ হাজার ৩৯১ টাকা রাজস্ব নির্ধারণ করে নাহার চা-বাগানের বিভিন্ন প্রজাতির চার হাজার গাছ কাটার অনাপত্তি দেয় বাংলাদেশ বন বিভাগ। রাষ্ট্রের অনুমোদন পেয়ে নাহার চা-বাগান কর্তৃপক্ষ দেড় কোটি টাকায় গাছগুলো বিক্রি করে দেয়। ২০ সেপ্টেম্বর ২০০৮ থেকে গাছ কাটা শুরু হলে বিষয়টি দেশব্যাপী মনোযোগ তৈরি করে। পরবর্তী সময়ে ১৯ অক্টোবর ২০০৮ তারিখে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় গাছ কাটার অনুমোদন বন্ধ করে। সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন ২ ফেব্রুয়ারি ২০১০ তারিখে আবারও খাসিয়াপুঞ্জির ৪৫০টি গাছ বাদে দুই হাজার ৩৫০টি গাছ কাটার প্রশ্নহীন অনুমতি দেন মেসার্স সালিম ট্রেডার্সকে। ২২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টও গাছ কাটার পক্ষে সাম্প্রতিক রায় ঘোষণা করেন।
ইতিমধ্যে চার শতাধিক গাছ চলে গেছে করাতকলে। ১৯৭৩ সালে গৃহীত বিপন্ন বন্য প্রাণী এবং উদ্ভিদ প্রজাতির বাণিজ্য-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সনদ (Convention on International Trade in Endangered Species of wild fauna and flora/CITES) অনুযায়ী যেসব প্রাণবৈচিত্র্য এই সনদের অন্তর্ভুক্ত সেসবের কোনো ধরনের রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা আজও বাংলাদেশে নিশ্চিত করা হয়নি। নাহার চা-বাগান এলাকায় বিরল ও বিপন্নপ্রায় বৃক্ষপ্রজাতিকে কেবল বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নির্মমভাবে হত্যার জন্য রাষ্ট্র যে অনুমোদন দিয়েছে তা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিবেশ-প্রতিবেশ-প্রাণবৈচিত্র্য সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতিকে লঙ্ঘন করেছে। বন বিভাগ কেবল চার হাজার গাছের কাঠ ও জ্বালানি মূল্য হিসাব করে এর মোট মূল্য নির্ধারণ করেছে দেড় কোটি টাকা। কিন্তু এই গাছগুলো খাসিয়াদের পান চাষে যে সহায়তা করে তার সরাসরি একটা কৃষি অর্থনৈতিক ভিত আছে, যা বন বিভাগ হিসাবে আনেনি। এই গাছগুলো স্থানীয় এলাকার বর্ষারণ্য প্রতিবেশ তৈরি করেছে। এখানেই জন্মে স-পলেংসিয়া, ক্রা-বনহের, ক্রা-লেহিড, ক্রা-উমর, ক্রা-দে, সহ-লেতেরা, ক্রা-পেদে, স-লারহু, ড-পেনচুং, ক্রা-সিয়াংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ লতাগুল্ম। একটি বাস্তুসংস্থানের কোনো প্রজাতিকে নিশ্চিহ্ন বা রক্তাক্ত করলে সেই বাস্তুসংস্থানের খাদ্যশৃঙ্খল থেকে শুরু করে পারস্পরিক জটিল প্রতিবেশীয় সম্পর্ক সবকিছুই তছনছ হয়ে পড়ে। এ কথা রাষ্ট্রকে কে বোঝাবে? যেখানে চার হাজার গাছের জীবনের দাম মাত্র দেড় কোটি কাগুজে টাকায় হিসাবনিকাশ করা হয়।
বন বিভাগ যখন চার হাজার গাছের বাজারমূল্য হিসাব করেছে তখন এই চার হাজার গাছকে ঘিরে পুরো এক বাস্তুসংস্থানের জটিল সম্পর্ককে বিবেচনা করেনি। এটি হচ্ছে দৃষ্টিভঙ্গিগত মনোজাগতিক সমস্যা। বন বিভাগ, কাঠব্যবসায়ী ও রাষ্ট্রকে এই দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। বনভূমি, প্রতিবেশ রক্ষায় স্থানীয় জনগণের দর্শন ও জীবনযাপনের ঐতিহাসিক সম্পর্ক থেকে শিক্ষা নিয়ে হাইকোর্টকেও প্রাণসম্পদের যাপিত জীবনের পক্ষে আইনগতভাবে দাঁড়াতে হবে। জলবায়ু বিপন্ন এ সময়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এ চার হাজার গাছও আমাদের বেঁচেবর্তে থাকাকে নিশ্চিত করছে দিনরাত নিজেকে রক্তাক্ত করেই। ২০০৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত নিহত প্রায় এক হাজার ৬০০ গাছের স্মৃতির প্রতি নতজানু হয়ে এখনই আমাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত। আশা করি, গাছ কাটার সব ধরনের অনুমোদন বাতিল করে নাহার চা-বাগান এলাকার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার হাজার গাছকে বাঁচাতে রাষ্ট্র সত্যিকারের ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। আজই, এখনই।
পাভেল পার্থ: প্রতিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্য-বিষয়ক গবেষক।
animistbangla@yahoo.com

আমি ক্রুদ্ধ কিন্তু হতাশ নই by মালালাই জয়া

গত জানুয়ারিতে লন্ডনে তালেবানদের সঙ্গে সমঝোতার জন্য সম্মেলন হয়ে গেল। সেখানে কারজাই সরকারকে লাখ লাখ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হলো। কেন? কারণ, ওই টাকা দিয়ে তিনি বিদ্রোহীদের অস্ত্র ত্যাগ করতে রাজি করাবেন। আর সেই সময়ই লাখ লাখ আফগান দারিদ্র্যের কারণে মারা যাচ্ছে। ওই অর্থ দিয়ে তালেবানদের পুনর্বাসন করা হবে। তারা আফগান পার্লামেন্ট লয়া জিরগার নিয়ন্ত্রণ নেবে। দেশের মুরব্বিদের সঙ্গে এ লক্ষ্যে গোত্রীয় পরিষদের বৈঠকও শিগগিরই হতে যাচ্ছে। এসব প্রতিক্রিয়াশীলের হাত দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কোনো আশা কি আসলেই আমরা করতে পারি?
তালেবানরাই একমাত্র মৌলবাদী নয়। যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের শিষ্য-সাগরেদরা মোল্লা ওমরের শাসনকে উচ্ছেদ করে নর্দার্ন অ্যালায়েন্সসহ অন্যান্য যুদ্ধবাজের হাতে দেশের ভার তুলে দিয়েছে। এদের চিন্তাধারা তালেবানদের থেকে খুব একটা আলাদা নয়। গত কয়েক বছরে এদের হাতে কেলেঙ্কারিজনক আইন ও বিচার বিভাগীয় সিদ্ধান্ত পাস হয়েছে। জাতীয় সমঝোতার নাম করে যুদ্ধবাজ ও যুদ্ধাপরাধীদের সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। আজ তাদের অনেকেই সংসদে বসছে। সবগুলো উঁচু পদ তাদের দখলে: তারা সংসদে আছে, তারা মন্ত্রী হয়েছে, তারা বিচার বিভাগে রয়েছে এবং এদের সবাইই মহাদুর্নীতিবাজ। আর এখন জাতিসংঘ তাদের কালো তালিকা থেকে সাবেক তালেবান নেতাদের নামও বাদ দিচ্ছে। এভাবে কি জনগণের ভবিষ্যত্ নিরাপদ হয়? প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই কিছুদিন আগে কাবুলের কাছে কোকা-কোলা কারখানা উদ্বোধন করেছেন। একদিকে যুদ্ধাপরাধী, দুর্নীতিবাজ ও ধর্মীয় রক্ষণশীলতা; অন্যদিকে কোকা-কোলা—এই হলো পশ্চিমাদের আফগানিস্তানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নমুনা।
এসব কিছুর বিরোধিতা করার জন্যই আমি আফগান পার্লামেন্ট থেকে বহিষ্কৃত হই। পার্লামেন্ট অধিবেশনের উদ্বোধনী দিনে আমি ‘আফগান জনগণের প্রতি আমার শোক’ জ্ঞাপন করি। অনেক সদস্যই এতে আমার ওপর রুষ্ট হন। তাঁরা অভিযোগ করেন, এতে নাকি তাঁরা আক্রান্ত বোধ করেছেন। আসলে যুদ্ধবাজ নেতারা চেয়েছিল, আমি যাতে পার্লামেন্টে না থাকি। আমি মনে করিয়ে দিতে চাই, ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সালজুড়ে চলা গৃহযুদ্ধের সময় এরাই কাবুল শহর লুণ্ঠন করেছে, হাজার হাজার নিরীহ মানুষের রক্ত লেগে আছে এদের হাতে। আমি পার্লামেন্টে এটাও বলি যে আন্তর্জাতিক আদালতে এদের বিচার হওয়া উচিত। আমি দুর্নীতির বিরুদ্ধেও বলি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তরফ থেকে আফগানিস্তান পুনর্গঠনের নামে কোটি কোটি ডলার দেওয়া হয়। সব চলে যায় এসব যুদ্ধাপরাধীর হাতে। স্বাভাবিকভাবেই এসব কিছুর বিরোধিতা করায় আমি টিকতে পারলাম না। আমি পার্লামেন্টে কথা বলতে শুরু করা মাত্রই তারা আমার মাইক্রোফোন বন্ধ করে দিতে থাকল। এতে গলার সমস্ত জোর দিয়ে আমাকে চিত্কার করতে হলো। অপমান আর হুমকির মুখেও আমি সোচ্চার থাকলাম। সদস্যদের কয়েকজন আমার পক্ষে দাঁড়ালেন। কিন্তু তাঁরা ছিলেন খুবই অল্প। আমাকে বলা হলো নাস্তিক, বলা হলো কমিউনিস্ট। সম্ভব সব রকম অপমান আমাকে করা হলো। টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে আমি পার্লামেন্টকে চিড়িয়াখানার সঙ্গে তুলনা করি। আসলেই আফগান পার্লামেন্ট আস্তাবলের থেকেও খারাপ, কারণ পশুদেরও কিছু দেওয়ার থাকে।
গণতন্ত্র বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা কিংবা সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে নির্মূলের উদ্দেশ্যে আফগানিস্তানে যুদ্ধ পরিচালিত হয়নি। এর আসল উদ্দেশ্য হলো স্থায়ী দখলদারিত্ব কায়েম রাখা, সেনা ঘাঁটি স্থাপন করা এবং প্রাকৃতিক সম্পদ সমৃদ্ধ একটি অঞ্চলকে অধিকার করে রাখা। ওবামা বুশের থেকে মন্দ না হলেও ভাল কেউ নন। তিনি বুশের আমলের থেকে যুদ্ধকে আরও প্রসারিত করছেন এবং পাকিস্তানকেও আক্রমণের নিশানায় ফেলেছেন। মার্কিন সরকার ইচ্ছা করে এ অঞ্চলে বিপজ্জনক পরিস্থিতি টিকিয়ে রাখছে, যাতে তাদের উপস্থিতির অসিলা তৈরি থাকে। এর মাধ্যমে আফগানিস্তানে বসে তারা প্রতিবেশী ইরান, পাকিস্তান, রাশিয়া ও উজবেকিস্তানের ওপর নজরদারি চালাতে পারছে। ওবামা যদি তাঁর সেনাবাহিনী সরিয়ে না নেন, তাহলে আরও রক্তপাত, আরও বিপর্যয় হবে।
জাতিসংঘের বোমাবর্ষণের দিকে খেয়াল করুন। ২০০৯ সালের মে মাসে আমার প্রদেশেই ১৫০ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে। এই গণহত্যা বিশ্ববাসীকে একটা জানালা খুলে দিয়েছে দেখার জন্য যে আফগানিস্তানে কী ঘটছে। কিন্তু আসলেই কি বিশ্ববাসী দেখতে চায়? আমি একটি সংবাদ সম্মেলন করেছিলাম। জেরানির এক গ্রামবাসী সেখানে বলেছিল, কীভাবে তার পরিবারের ২০ জন গণহত্যার শিকার হয়েছে। এখন এ ধরনের তরুণেরা কি প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তালেবানদের দলে যোগ দেবে না? যতই হোক না কেন তারা মৌলবাদী?
পশ্চিমারা আফগান নারীদের মুক্তি দেবে বলে যুদ্ধ শুরু করেছিল। কিন্তু এ ক্ষেত্রেও বাস্তবতা ভিন্ন। আফগান সংবিধানে নারীর অধিকার নিয়ে কিছু কথা আছে। কিন্তু মৌলবাদীদের শক্তিমত্তার চাপে এগুলোর কিছুই বাস্তবায়িত হয়নি। আজ কারজাই সরকার আর পশ্চিমা শক্তি এদের সঙ্গেই গাটছড়া বেঁধে আছে। আজও দেশ চলে শরিয়া আইনে। সংবিধানে গণতন্ত্রের যা কিছু কথা বলা আছে, তা শুধু পাশ্চাত্য দেশগুলো থেকে সাহায্য পাওয়া এবং তা লুটেপুটে খাওয়ার জন্য। আজ আফগানিস্তান এমন এক দেশ, যেখানে ১৪-১৫ বছরের যেসব মেয়ে শ্বশুরবাড়ির চরম সহিংসতা থেকে বাঁচতে পালিয়ে আসছে, তাদের বলা হচ্ছে অপরাধী। বিচারে তাদের শাস্তি হচ্ছে। হ্যাঁ, আগের চেয়ে বেশি হারে মেয়েরা বিদ্যালয়ে পড়তে আসছে, কিন্তু পরিসংখ্যান বলে, বেশি হারে মেয়েরা বিদ্যালয় ছেড়েও যাচ্ছে। কেননা, তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং পরিবার থেকে তাদের জোর করে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মরিয়া হয়ে অনেক তরুণী আত্মহত্যা করছে। এসব মেয়ে জানে যে জীবন আরও অন্যরকম হতে পারে। কিন্তু সেই সুযোগ তাদের সামনে খোলা নেই।
আজ আফগানিস্তানের জন্য একমাত্র পথ হলো সমস্ত বিদেশি সেনা প্রত্যাহার এবং স্থানীয় যুদ্ধবাজদের অপসারণ। দখলদারদের হাতে কখনো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হতে পারে না। তারা আমার দেশের তালেবানীকরণ বরং আরও বাড়িয়েছে। এসবের খেসারত দিতে হচ্ছে আমার জনগণকে।
যৌক্তিক সময়ের মধ্যে জাতিসংঘের সেনারা আফগানিস্তান ছেড়ে চলে না গেলে তারা আফগানদের পক্ষ থেকে আরও শক্ত প্রতিরোধের মুখে পড়বে। পশ্চিমা সরকারগুলো ক্রমাগত অস্বীকার করে আসছে যে মানুষ তাদের দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার জন্য লড়াই করতে মরিয়া। আর তারা তা করতে চায় সব নারী ও পুরুষের প্রতি সম্মানজনক শর্তে। আজ আফগানিস্তানের সংবিধান অনুসারে ধর্মভিত্তিক দল ছাড়া আর কারও রাজনীতি করার অধিকার নেই। অথচ গত কয়েক মাসে বোমাবর্ষণের বিরুদ্ধে কাবুলে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও নারী মিছিল করেছে। এসব মিছিলই দুনিয়াকে আফগানিস্তানে সত্যিকার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ দেখাচ্ছে। আমাদের জনগণের মধ্যে অনেক বীর নারী ও পুরুষ রয়েছেন। তাঁরা তাঁদের গ্রাম ও শহরে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
কী কারণে কোনো পশ্চিমা নেতা আফগানিস্তানের এই প্রগতিশীল শক্তিকে স্বীকার করেন না? কেন কোনো রকম সহযোগিতা তাঁরা পান না? আমি এখনো আশা হারাইনি। আমাদের পশ্চিমা জনমতের সমর্থন দরকার। আমার সফরগুলোতে ধীরে ধীরে সেই সমর্থন জাগতে দেখছি। আফগানিস্তানে নতুন করে সেনা মোতায়েনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে। পশ্চিমের অনেক মানুষ আর ‘ন্যায়ের যুদ্ধ’ নামক তত্ত্বে বিশ্বাস করে না। কিন্তু যুদ্ধের নেশায় মাতোয়ারা সরকারগুলোকে থামাতে হলে আরও বেশি প্রতিবাদ হওয়া প্রয়োজন।

লা হিউমানাইট থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে ভাষান্তর ফারুক ওয়াসিফ
মালালাই জয়া: আফগান পার্লামেন্ট থেকে বহিষ্কৃত জনপ্রতিনিধি।

কতদূর এগোল নারী -যুক্তি তর্ক গল্প by আবুল মোমেন

আল মাহমুদ একটি কবিতায় প্রশ্ন তুলেছিলেন—কতদূর এগোল মানুষ?
বিশ্ব নারী দিবসের শতবর্ষের এই সময়ে প্রশ্নটা ঘুরিয়ে তোলা যায়—কতদূর এগোল নারী?
আয়, আয়ু, শিক্ষা, প্রসূতি মৃত্যুর হার, কর্ম ও শ্রমজীবনে অংশীদারি বিচার করলে বেশ ইতিবাচক পরিসংখ্যান পাওয়া যাবে। যে দেশে দুই দশক ধরে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলের নেত্রী নারী সে দেশে নারীর অবস্থা কি ভালো নয়? আরও দুই দশক নারী নেতৃত্ব অব্যাহত থাকলে বিস্ময়ের কিছু নেই। এবারে পররাষ্ট্র-স্বরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন নারী। এসবই অগ্রগতি সন্দেহ নেই।
কিন্তু নারীর অগ্রগতিকে পুরুষের সঙ্গে সমতার মানদণ্ডে বিচার করার প্রশ্ন কি উঠবে না? আমরা অবশ্যই মানব, শারীরিকভাবে নারী ও পুরুষ স্বতন্ত্র, তবে তারা পরিপূরকও বটে। প্রজননক্ষেত্রে জৈবিক ভূমিকা পৃথক হলেও পরিপূরক বলে সমতার প্রশ্নটা ন্যায্যত ওঠার কথা।
কিন্তু মাতৃত্ব দেখা যাচ্ছে নারীকে বন্দিত্ব এনে দিয়েছে। এ সময়ে জীবনসঙ্গিনীর যে যত্ন ও সাহচর্য দরকার সে বিষয়ে জীবনসঙ্গী আশানুরূপ সচেতন ও দায়িত্বশীল নন। ফলে মাতৃত্ব ও নারীত্ব এ দেশে (প্রায় সব দেশে) ত্যাগ করা আর বঞ্চনা সয়ে যাওয়ার কাহিনি হয়ে ওঠে। সমাজ নারীকে একটা ট্র্যাজিক চরিত্র বানিয়ে রেখেছে। কান পাতলে ঘরে ঘরে দীর্ঘশ্বাস ও হাহাকারের অবরুদ্ধ ধ্বনি শুনতে পাওয়া যাবে।
কৃষি আর পশুপালনের পত্তন করে নারীই মানবের সংসারজীবনের কান্ডারি, হাজার বছরে সে হয়ে উঠেছে মধ্যমণি। আর পুরুষ বাইরের বিচরণক্ষেত্রে আধিপত্য গড়ে ঘরে-বাইরে কর্তা হয়ে উঠেছে। নারী হয়ে উঠল সংসারের সেবিকা, পুরুষ কর্তা, প্রভু।
জার্মান দার্শনিক স্পেংলার বলেছেন, পুরুষ হচ্ছে শিকারি প্রাণী—নারীও তার শিকার বৈকি। আজকাল দেশে যে হারে ধর্ষণ, এসিড-সন্ত্রাস, অপহরণ, জবরদস্তি বিয়ে/তালাকসহ পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা বাড়ছে তাতে শিকারি পুরুষেরা কেমন তত্পর তা বোঝা যায়।
এদিক থেকে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে এবং নারীর মুক্তির প্রশ্নে নারীর নিজের সচেতনতা-সংগ্রামের পাশাপাশি পুরুষের মানসিকতা ও ভূমিকা পরিবর্তন কি জরুরি নয়? কখনো মনে হয়, পুরুষের নারীবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি ও মানস গড়ে তোলার কাজটাই বেশি জরুরি। সেটা ছাড়া শিকারি পুরুষের কাছ থেকে নারীর রেহাই নেই।
এ পথে ধর্মব্যবসায়ীদের দিক থেকে বাধাটাই বেশি। তাঁরা নারীকে ঘরে, গৃহকর্মে বন্দী করে রাখতে চান, নানা রকম বিধান দিয়ে পুরুষ ও নারীকে পৃথক করে রাখতে চান। দূরত্ব ও পৃথক অবস্থানে থেকে মানবসমাজ ও মানব সংস্কৃতি গড়ে তোলা সম্ভব নয়। ফলে যা গড়ে উঠছে তা আদতে পুরুষ সমাজ, পুরুষ সংস্কৃতি, তাতে নারী ক্বচিত্ সম্মানের সঙ্গে এবং প্রায়ই অবমাননাকর অধস্তনতা-বাধ্যবাধকতায় ব্যবহূত হয়। কেবল আইনের দোহাই দিয়ে, বেইজিং ঘোষণার শান্তিজল ছিটিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি তেমন পাল্টানো যাবে না। এসবের গুরুত্ব অস্বীকার করব না, না-করেও বলব, ছেলেমেয়ে, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী, নারী-পুরুষ মিলেমিশে চলতে শিখলেই কেবল এই পুরুষতান্ত্রিক পুরুষশাসিত সমাজে প্রকৃত পরিবর্তন আসবে।
১৯২৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন শুরু হয়েছিল তাতে তত্কালীন তরুণ লেখক আবুল ফজল পাঠ করেছিলেন তাঁর প্রথম প্রবন্ধ—পর্দাপ্রথার সাহিত্যিক অসুবিধা। মোদ্দা কথাটা ছিল মানবজাতির এক অংশকে না জেনে বা জানার সুযোগবঞ্চিত থেকে কীভাবে জীবনকে ফুটিয়ে তুলবেন সাহিত্যে। ওই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে উঠেছিল অ্যান্টি পর্দা লিগ। তার কিছু আগে মহীয়সী বেগম রোকেয়া তীব্র ভাষায় লিখেছেন পর্দা ও অবরোধের অন্তরালে নারী জীবনের করুণ ও হাস্যকর পরিণতি।
এ ক্ষেত্রে আমরা পরিষ্কারভাবে বলব, শালীনতা রক্ষার ব্যাপারে কোনো আপস নেই। বাঙালি সংস্কৃতি এদিক থেকে খুবই সহায়ক। তবে শালীনতার দায় এককভাবে নারীর ওপর চাপানো যাবে না। এ অভ্যাসটা ছেড়ে পুরুষকে তার দায়টুকু বুঝে নিতে হবে।
অর্থাত্ জগত্ ও জীবনকে যদি নারী ও পুরুষে ভাগ করে রাখা হয় তাহলে ব্যাপারটা হয় এ রকম—পুরুষ ভাবে সংসারে তার মূল দায়িত্ব অর্থোপার্জন ও সম্পত্তি বৃদ্ধি ও রক্ষা আর নারীর দায়িত্ব হলো সন্তান পালন ও সংসার চালনা। এটা পুরুষের ভাবনা, যার ফলে নারী পুরুষের অধস্তনতায় থাকতে বাধ্য হয়। তার ওপর পুরুষ যখন ভাবে তার ভোগলিপ্সা যৌনপ্রবৃত্তি জাগা-না-জাগার দায়িত্ব নারীর, তার নয়, তাহলে নারীর জন্য কামুক পুরুষের দৃষ্টি ও আক্রমণ সামলানোর জন্য নিরাপদ আশ্রয় প্রয়োজন হবে বৈকি। আর সে ক্ষেত্রে অর্থাত্ নারীর বিপরীতে বিচার্য পুরুষে পশুতে ভেদ ঘুচে যাবে। পুরুষ-রচিত নীতিসাহিত্যে, অনেক সময় নারীকেই কার্যত সব অপরাধ অন্যায়ের উৎস হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। সমস্যা হলো, জগত্টা এখনো পুরুষশাসিতই রয়ে গেছে। ফলে নিজের অপরাধের দায় নারীর ওপর চাপাতে তার লজ্জাও লাগে না। এতে যে নিজেকে নির্লজ্জ দায়িত্বহীনের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সে খেয়াল করে না পুরুষ।
মানুষের রুচি, অভ্যাসসহ সংস্কৃতি তো গড়ে ওঠে শৈশব থেকে। শৈশবে স্কুলে এবং পাড়ায় ছেলেমেয়ে একসঙ্গে বড় হতে থাকলে এবং বড়রা যদি শিশুদের দায়িত্ব গ্রহণ, সুযোগপ্রাপ্তিতে লিঙ্গনিরপেক্ষভাবে নিজ নিজ প্রবণতা ও গুণের বিকাশের ক্ষেত্রে নিজেদের পছন্দ-প্রবণতা না চাপান, তাদের স্বাধীনতা দেন, তাহলে ছেলেমেয়েরা জৈবিক স্বাতন্ত্র্যকে ছাপিয়ে মানবিক ঐক্যের জায়গায় স্বচ্ছন্দে বড় হবে। আর এরা বড় হতে হতে নারী-অন্তর্ভূত (girl-inclusive) মানবিক পরিবেশ গড়ে তুলবে। বর্তমানে যে নারীবহির্ভূত (girl-excluded) পুরুষতন্ত্রের দাপট চলছে তার বিকার কী রকম তা নারী অনেক খেসারত দিয়ে টের পায়, আর সংবেদনশীল পুরুষ হয়তোবা বেদনার সঙ্গে উপলব্ধি করছে।
নারীবহির্ভূত পুরুষতন্ত্রের একচ্ছত্র দাপটের কারণেই কিন্তু ছাত্ররাজনীতির নামে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি আর দখলদারি চলছে। একচ্ছত্র পুরুষতন্ত্র যে ব্যবহারিক ভাষা ও সংস্কৃতি গড়ে তোলে তাতে নিষ্ঠুরতা ও অবিবেচনার উপাদান বাড়ছে, নারী সংশ্লিষ্ট থাকলে এমনটা হতো না। সম্প্রতি বিভিন্ন পত্রিকায় ইডেন কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের পক্ষ থেকে যেসব ন্যক্কারজনক ঘটনা নিয়ে একে অপরের প্রতি দোষারোপ প্রকাশ পেয়েছে তাতে মেয়েরাই জড়িত বটে কিন্তু আবার মেয়েরাই ঘটনার শিকার হয়েছে এবং এসব কিছুর পেছনে ইন্ধনদাতা ও ভোক্তা এবং মূল কুশীলব অনাচারী পুরুষ। সুস্থ ও স্বাভাবিক যৌনজীবনের পূর্বশর্ত হচ্ছে নারী-পুরুষ মিলে স্বচ্ছন্দ সামাজিক জীবন নির্মাণ। কিন্তু আমাদের সমাজে একটা অসুস্থ অবস্থা বিরাজ করছে।
এ প্রসঙ্গে বলা দরকার পশ্চিমের সমাজজীবন ও সংস্কৃতিতে শরীর, যৌনতা, সম্পর্ক, পরিবার ইত্যাদি নিয়ে যে ভাবনা, রুচি ও অভ্যাস গড়ে উঠেছে তা অনেকাংশে আমাদের সংস্কৃতি-সংস্কারের সঙ্গে মেলে না। আমরা আমাদের সাংস্কৃতিক ধারা অনুসরণ করে চলতে চাই। এর মধ্যেই গ্রহণ-বর্জনের ভেতর দিয়ে আমরা এগোতে চাই।
একই সূত্রে আমাদের মনে রাখতে হবে ইসলাম আরব থেকেই এসেছে, কিন্তু আরবি যেমন আমার মাতৃভাষা নয়, তেমনি আরবি সংস্কৃতিও আমার সংস্কৃতি নয়। আমরা ভাষা ও সাংস্কৃতিক স্বাধিকারের লড়াই করেই এ দেশ স্বাধীন করেছি। এ দেশে হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান মিলেমিশেই বসবাস করেছে যুগ যুগ ধরে। এ অঞ্চলে ইসলাম প্রচারিত হয়েছে হাজার বছর আগে মূলত বিশিষ্ট আলেম ও সাধকদের মাধ্যমে। নদীমাতৃক, কৃষিপ্রধান, গ্রামপ্রধান, আর্দ্র-উষ্ণ আবহাওয়ার এই দেশের সাধারণ মানুষ তার সহজাত সারল্য, বিশ্বাসপ্রবণতা ও ভক্তির জোরে ভালো মুসলমান হয়েছে। কিন্তু আধুনিক কালে এক দল মানুষ রাজনৈতিক প্ররোচনায় ইসলামকে বাঙালি সংস্কৃতির বিপরীতে দাঁড় করাতে চায়। তারা শান্তির ধর্ম ইসলামের একটা জঙ্গি আক্রমণাত্মক রূপ দাঁড় করানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। এ নিয়ে ইচ্ছামতো প্রচারণা, ভীতি প্রদর্শন ও জবরদস্তি চলে, যার বেশির ভাগের ভুক্তভোগী নারী।
ফতোয়া দেওয়া সহজ কাজ, কিন্তু ধর্মের মূল ভাব ও বাণী, মানুষ ও তার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও বিবর্তনের ধারা বোঝা অনেক বিচার-বিবেচনার বিষয়। আমরা দেখি অধিকাংশ ওয়াজ মাহফিলে বা ধর্মীয় দলের সভা-সমিতিতে বেপরোয়া আক্রমণাত্মক কথা, ক্রুদ্ধ সমালোচনা এবং ঢালাওভাবে আধুনিকতা ও প্রগতির বিরুদ্ধতার সময় নারীবিদ্বেষী মনোভাবের প্রকাশ ঘটে। শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া, আল্পনা আঁকা বা কপালে টিপ দেওয়ার সঙ্গে ধর্মের কোনো সংঘাত নেই। ধর্ম কোনো পোশাকি বিষয় নয়, এ হলো অন্তরের বিশ্বাসের বিষয়। আজকের বিশ্বের সংকটের মূলে তো কাজ করছে বিশ্বাসের সংকট। মানুষ পরস্পরের ওপর আস্থা হারিয়েছে, এমনকি তার নিজের ওপর প্রকৃত আস্থার তথা আত্মবিশ্বাসের অভাব ঘটেছে। এর ফলে হানাহানি, বিবাদ-বিভেদ বাড়ছে, আর ধর্মের জিগির তুলে ধর্মহীন সমাজ তৈরি করছি আমরা। যে কারণে এত অমানবিক নিষ্ঠুরতা, পাশবিকতা বাড়ছে।
একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলি। কিছুদিন আগে লক্ষ্মীপুরের এক গ্রামে শিক্ষয়িত্রীদের সমাবেশে বক্তৃতার পর জিজ্ঞেস করেছিলাম—আচ্ছা, যদি জিজ্ঞেস করি উপমহাদেশের নারী রাজনীতিবিদ শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া ও সোনিয়া গান্ধী এই তিনজনের মধ্যে কাকে অধিকতর ব্যক্তিত্বময়ী মনে হয়। সবাই বলল—সোনিয়া গান্ধী। বললাম কেন এমন মনে হয়? বলল, তাঁর কথাবার্তা স্পষ্ট, তিনি চলাফেরায় বলিষ্ঠ, তাঁর চলনে-বলনে আত্মবিশ্বাস ফুটে ওঠে। তারপর প্রশ্ন করলাম, নারী হিসেবে কাকে বেশি নিরাপদ মনে হয়? আমাকে অবাক করে দিয়ে এবারও ওরা একই নাম বলল। আমি বললাম কিন্তু পর্দার দিক থেকে উনি তো সবচেয়ে কম পর্দা করছেন। ওরা বলল, ওই যে কথাবার্তা, চলাফেরায় ওর ব্যক্তিত্বের বলিষ্ঠতা ও চরিত্রের স্পষ্টতা ফুটে ওঠে।
আমি বললাম—এটা এল কোত্থেকে? ওরা একটু এদিক-ওদিক চাইল, কিন্তু একজন চট করে বলল—ওটা এসেছে শিক্ষা থেকে। তখন আমি বললাম, তাহলে নিরাপত্তার জন্য নারীর প্রধান অস্ত্র তো হবে শিক্ষা, যে শিক্ষা তাকে ব্যক্তিত্ব দেবে। ওরা কথাটা মানল।
শালীন সুন্দর শোভন পোশাক এবং আত্মবিশ্বাস আর নিজের কাজে দক্ষতা—এসবই একজন নারীকে সবচেয়ে বেশি শক্তি দেবে, তার সামাজিক অবস্থান দৃঢ় করবে এবং ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। সুতরাং নারীশিক্ষার গুরুত্ব কতখানি তা আমরা বুঝতে পারি। এই সঙ্গে বলব, নারীকে পৃথক করা ও বন্দী করার দিকে মনোযোগ দেওয়ার চেয়ে পুরুষকে নারী আগ্রাসী থেকে নারীবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার কাজটাই বেশি জরুরি। আমার ধারণা, সেটা শৈশব থেকেই শুরু করতে হবে। আমার এও ধারণা, বাঙালির চিরায়ত গ্রামীণ সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্য কেবল অসাম্প্রদায়িক মানবিক ছিল না, ছিল না নারীবিদ্বেষীও, ছিল মানবিক, নারী অনুকূল। অনেক পরে অন্যান্য সূত্র থেকে নারীবিরোধী প্রবণতাগুলো তৈরি হচ্ছে। আর একদল নারীবিদ্বেষী ধর্মের অপব্যবহার করে নারীদের প্রতি সহিংসতার পক্ষে ফতোয়াবাজি চালিয়ে যাচ্ছে।
আমাদের কাজ হবে ধর্মের মূল বাণী উপলব্ধি করা আর নিজের সংস্কৃতি চর্চার পথ সুগম করে দেওয়া। তাহলেই নারী-অনুকূল নারী-পুরুষ সমন্বিত সমাজ ও সংস্কৃতির বিকাশ সহজ হবে।
আবুল মোমেন: কবি, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক।

কমে যাচ্ছে দেশের রপ্তানি আয় -গ্যাস-বিদ্যুৎসহ নীতি-সহায়তা অপরিহার্য

দেশের রপ্তানি আয়ের সার্বিক চিত্রটি এখন সুখকর নয়। বিশেষ করে প্রধান রপ্তানিমুখী পণ্য তৈরি পোশাকের। সরকারি পরিসংখ্যান থেকেই দেখা যাচ্ছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে সামগ্রিক রপ্তানি যেখানে আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে সাড়ে ৪ শতাংশ কমে গেছে, এর মধ্যে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি কমেছে গড়ে ৭ শতাংশ। আবার প্রথম আলোর আরেক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, তৈরি পোশাকের অন্যতম প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্রেও রপ্তানি কমতে শুরু করেছে। এটাকে গুরুত্বপূর্ণ এই বাজার হাতছাড়া হওয়ার আলামত হিসেবে বিবেচনা করার যৌক্তিক কারণ রয়েছে। সব মিলিয়ে রপ্তানি আয়ের প্রবণতা এখন একটি আশঙ্কাজনক দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে মনে করা যায়। আর তাই এদিকে বিশেষভাবে এখনই নজর দেওয়া প্রয়োজন।
বস্তুত বিশ্বমন্দার ধাক্কা রপ্তানিমুখী বিভিন্ন পণ্যের ওপর যে পড়েছে, তা অনেক দিন আগেই স্পষ্ট হয়ে গেছে। তবে এই মন্দা মোকাবিলার জন্য দেশের রপ্তানিকারক ও শিল্পোদ্যোক্তারা বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকেও কিছু সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তা প্রয়োজনীয় হলেও পর্যাপ্ত ছিল না। ফলে রপ্তানির নিম্নমুখী প্রবণতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। আর এখন প্রকট হয়ে উঠেছে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট। গ্যাসের চাপ কম থাকায় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, সাভার ও চট্টগ্রামের শিল্পাঞ্চলে পোশাক ও বস্ত্র কারখানাগুলো পূর্ণমাত্রায় উত্পাদন করতে পারছে না। ঘন ঘন বিদু্যুত্-বিভ্রাটে এসব কারখানায় যন্ত্রপাতি ঠিকমতো চালানো যাচ্ছে না। এভাবে নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টা। বাড়ছে অপচয়। পিছিয়ে যাচ্ছে উত্পাদন। এই বিপদ সামাল দিতে কোনো কোনো রপ্তানিকারক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য পাঠিয়ে বাজার ধরে রাখার জন্য বিমান ভাড়া করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা সার্বিক ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সুতরাং, বাইরে থেকে মন্দার ধাক্কা তৈরি পোশাকশিল্পে যতটা না নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, তার চেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে অভ্যন্তরীণ সমস্যা। রপ্তানিকারকদের নানা তত্পরতায় গত বছরের শেষভাগ থেকে নতুন নতুন বিদেশি ক্রেতা বাংলাদেশমুখী হচ্ছে। আসছে নতুন নতুন কাজ। যেমন: বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ) জাপান ও দক্ষিণ আফ্রিকায় বাজার ধরার চেষ্টা চালিয়েছে। এই চেষ্টা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এসব বাজার থেকেও কার্যাদেশ পাওয়া যাবে, যা সনাতন বাজার-নির্ভরতার ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেবে। কিন্তু দেশে যদি গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট থাকে, উত্পাদকদের যদি অনেক বেশি ব্যয় করে রপ্তানি বজায় রাখতে হয়, তাহলে তা বেশি দিন ধরে রাখা যাবে না। বরং অনেক প্রতিষ্ঠানই বসে যেতে পারে। এর আর্থসামাজিক ফলাফল হবে ভয়াবহ। সরকারকে এই কঠিন সত্য উপলব্ধি করতে হবে। গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট নিরসনে অর্থবহ ব্যবস্থা নিতে হবে। তৈরি পোশাক খাতকে দিতে হবে যথাযথ সহযোগিতা।

কর্তৃত্বহীন উপজেলা পরিষদ নয় -কার্যবিধি সংশোধন করা হোক

শক্তিশালী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠা আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হলেও গত ১৩ মাসে সরকার এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, যাতে জনগণ আশ্বস্ত হতে পারে। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের কার্যবিধি (দায়িত্ব, কর্তব্য ও আর্থিক সুবিধা) নির্ধারিত না হওয়ায় তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ থাকাও অস্বাভাবিক নয়। ইতিমধ্যে তাঁরা আন্দোলনের কর্মসূচিও ঘোষণা করেছেন। এই প্রেক্ষাপটে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের জন্য সরকার যে কার্যবিধি প্রণয়ন করতে যাচ্ছে, তাতে কতটা ক্ষোভের অবসান ঘটবে, সে ব্যাপারে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।
প্রস্তাবিত কার্যবিধিতে ইউএনওসহ উপজেলা পর্যায়ের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কেন্দ্র তথা মন্ত্রণালয়কে। এতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের ক্ষমতাই হ্রাস পাবে না, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর আমলাতন্ত্রের কর্তৃত্বও বাড়বে। কার্যবিধিতে উপজেলা চেয়ারম্যানদের যেসব দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তা গতানুগতিক। যেমন, দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা, পরিষদের সভায় সভাপতিত্ব করা, পরিষদের পক্ষে কার‌্যাবলি-সংক্রান্ত প্রস্তাব ও প্রকল্প গ্রহণে পদক্ষেপ নেওয়া, ব্যবসা, বৃত্তি ও পেশাদারদের লাইসেন্স পারমিট ইস্যু, পরিষদের কাজের বাস্তবায়ন ও তত্ত্বাবধান। ভাইস চেয়ারম্যানদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে, একাধিক স্থায়ী কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করা, মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও শিক্ষার উন্নয়নে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা, আন্ত-ইউনিয়ন রাস্তা নির্মাণ, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ।
এর আগে গত বছর ৮ এপ্রিল জারি করা পরিপত্রে ১০টি মন্ত্রণালয়ের ১৩টি বিভাগ উপজেলা পরিষদে ন্যস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু উপজেলা চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যানরা এতে সন্তুষ্ট হননি। সাংসদদের উপজেলা পরিষদের উপদেষ্টা করার বিরোধিতা করেছেন তাঁরা। এর পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি আছে। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক কাঠামোয় স্থানীয় উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সাংসদদের কোনো ভূমিকা থাকবে না, তা বাস্তবসম্মত নয়। আবার এর অর্থ এই নয় যে স্থানীয় সরকার তাঁদের ওপর নির্ভরশীল থাকবে। এ ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন। স্থানীয় সরকার সংস্থাকে দুর্বল করে দেশের সার্বিক উন্নয়ন কিংবা জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব নয়। প্রকৃতপক্ষে যে যে অবস্থানেই থাকুন না কেন, জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সাংসদেরা যেমন জনপ্রতিনিধি, তেমনি উপজেলা চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যানরাও।
স্থানীয় সরকার সংস্থার প্রতিনিধিদের কার্যবিধি এমনভাবে নির্ধারণ করতে হবে, যাতে আমলাতন্ত্র তাঁদের ওপর কর্তৃত্ব করার সুযোগ না পায়। প্রশ্ন হলো, সরকারি কর্মকর্তারা কার কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন? অবশ্যই নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে। সে ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন তথা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর তাঁদের কর্তৃত্ব থাকা আবশ্যক। উপজেলা চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যানদের বেতন-ভাতা স্থানীয় আয় থেকে সংগ্রহের যে বিধান কার্যবিধিতে রাখা হয়েছে, তা ন্যায়সংগত। স্থানীয় সরকার সংস্থার ওপর কেন্দ্রীয় সরকারের কর্তৃত্ব কমাতে হলে পর্যায়ক্রমে তাকে আর্থিকভাবেও স্বনির্ভর হতে হবে। তবে কেন্দ্রের আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তাও অনস্বীকার্য। সর্বোপরি উপজেলা পরিষদের কার্যবিধিতে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিছু থাকলে তা সংশোধন করে অবিলম্বে যাতে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাজ শুরু করার ব্যবস্থা করতে হবে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান কাম্য নয়।

অনাস্থা ভোটে সহজেই পার পেলেন জ্যাকব জুমা

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা এক অনাস্থা ভোটে জিতে গেছেন। গত বৃহস্পতিবার সে দেশের পার্লামেন্টে এই ভোটাভুটি হয়। বিরোধী দল কংগ্রেস অব দ্য পিপল (সিওপিই) এই অনাস্থা প্রস্তাব আনে। ১৯৯৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (এএনসি) দলের ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো কোনো প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হলো। খবর বিবিসির।
অনাস্থা প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন ২৪১ জন। পক্ষে ভোট দেন মাত্র ৮৪ জন। ভোটদানে বিরত থাকেন আটজন। পার্লামেন্টে জ্যাকব জুমার দল এএনসির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। সে কারণে জুমা অনাস্থা ভোটে খুব সহজেই জিতে গেছেন।
এ বছরের শুরুতে জ্যাকব জুমা বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ফলে একটি সন্তান থাকার কথা স্বীকার করেন। এতে তিনি ব্যাপক সমালোচনার সম্মুখীন হন। জুমার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তিনি আর্থিক বিবরণী ঘোষণা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এসব অভিযোগ এনে সিওপিই দলের নেতা এমভুমে দানদালা গত বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট জুমার বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমার বর্তমানে তিন স্ত্রী ও একজন বাগদত্তা রয়েছেন।
অনাস্থা প্রস্তাব এনে সিওপিই দলের নেতা এমভুমে দানদালা ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিকে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট আমাদের হতাশ করেছেন। তিনি হতাশ করেছেন আফ্রিকা ও বিশ্বকে।’ তিনি বলেন, এটা সবাই জানে যে প্রেসিডেন্ট কীভাবে বারবার তাঁর ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণ দিয়ে দেশকে ব্যর্থ করেছেন। তাঁর এসব আচরণের ফলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এইচআইভি/এইডসের বিরুদ্ধে চলা অভিযান দুর্বল হয়ে পড়েছে।

মুম্বাই হামলায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলেন হেডলি

পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ডেভিড কোলম্যান হেডলি মুম্বাইয়ের হামলা ও ডেনমার্কের একজন কার্টুনিস্টের ওপর হামলার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। বৃহস্পতিবার মার্কিন আদালতে এসব অভিযোগ স্বীকার করেন তিনি।
পাকিস্তানি কূটনীতিক ও মার্কিন এক নারীর সন্তান হেডলিকে গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রথমে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। তবে মৃত্যুদণ্ড না দেওয়া এবং বিচারের জন্য পাকিস্তান, ভারত বা ডেনমার্কের হাতে তুলে না দেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হলে তিনি তদন্তকাজে সহায়তা শুরু করেন। ৪৯ বছর বয়সী হেডলির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে ১২টি অভিযোগ আনা হয়েছে।
মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল এরিক হোল্ডার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘হেডলির স্বীকারোক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি মুম্বাই হামলার ন্যায়বিচারের জন্য আমাদের প্রচেষ্টাকে এগিয়ে দেবে। হেডলি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন তথ্য দেবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘মুম্বাই হামলা ও ডেনমার্কের কার্টুনিস্টের ওপর হামলার জন্য দায়ীদের আমরা খুঁজে বের করব।’
মুম্বাই হামলার আগে প্রায় দুই বছর শহরের বিভিন্ন দিক ঘুরে দেখেন হেডলি। কোথায় নেমে এবং কোন দিক থেকে হামলা চালানো আক্রমণকারীদের জন্য সহজ হবে, তা পর্যবেক্ষণ করতেই মুম্বাইয়ের চারপাশে নৌকায় ভ্রমণ করেন তিনি।
মুম্বাই হামলার জন্য পাকিস্তানের নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবাকে দায়ী করে আসছে ভারত। হেডলি ২০০২ সালে লস্কর-ই-তাইয়েবায় যোগ দেন। ২০০৫ সালের শেষের দিক থেকে তিনি মুম্বাই হামলার পরিকল্পনা শুরু করেন। ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে ভয়াবহ ওই হামলায় কমপক্ষে ১৬০ জন নিহত হয়।
মহানবী হজরত মোহাম্মদ (স.)-এর ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন ছাপার জন্য ডেনিস পত্রিকা জিল্যান্ডস-পোস্টেন এবং ওই কার্টুনিস্টের ওপর হামলা চালানোর পরিকল্পনাও করেন হেডলি।

ওবামা এবার মেক্সিকোর প্রেসিডেন্টের সম্মানে নৈশভোজ দেবেন

আরও একটি রাষ্ট্রীয় ভোজসভার আয়োজন করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এবার মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ফিলিপ ক্যালডেরনের সম্মানে হোয়াইট হাউসে আয়োজন করা হচ্ছে এই নৈশভোজের। দুই দেশের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের স্বীকৃতি হিসেবে এ আয়োজন করা হচ্ছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র রবার্ট গিবস এ তথ্য দিয়েছেন।
গিবস জানান, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ফিলিপ ক্যালডেরনের সম্মানে আগামী ১৯ মে হোয়াইট হাউসে নৈজভোজের আয়োজন করা হবে। এতে তাঁর স্ত্রী মেক্সিকোর ফার্স্ট লেডি মার্গারিটা জাভালা ডি ক্যালডেরনও যোগ দেবেন।
গিবস জানান, মার্কিন ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা ১৩ থেকে ১৫ এপ্রিল মেক্সিকো সফর করবেন। মেক্সিকোর ফার্স্ট লেডি গত মাসে ওয়াশিংটন সফরকালে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ওবামা প্রথমবারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সম্মানে গত ২৪ নভেম্বর হোয়াইট হাউসে নৈশভোজের আয়োজন করেন।

তান্ত্রিকের উপদেশে পাঁচ শিশু বলি

ভারতের মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলি জেলার দিগ্রাস গ্রামের বন্দনা মোকলে ছিলেন নিঃসন্তান। একটি সন্তানের আশায় বন্দনা শরণাপন্ন হয়েছিলেন স্থানীয় এক তান্ত্রিকের। সেই তান্ত্রিক বন্দনাকে উপদেশ দেন, ১১টি শিশু বলি দিতে পারলেই তিনি সন্তানের মা হতে পারবেন। এ আশায় বন্দনা তাঁর আত্মীয়স্বজন নিয়ে শিশু বলির উদ্যোগ নেন।
গত ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় শিশু বলির অভিযান। চলতি মার্চ মাস পর্যন্ত এই গ্রামেরই এক পরিবারের পাঁচটি শিশুকে অপহরণ করে বন্দনা তান্ত্রিকের উপদেশমতো বলি দেন। কিন্তু ষষ্ঠ শিশু ঋষিকেশ দলভিকে অপহরণ করতে গিয়ে ধরা পড়ে যান বন্দনা।
পুলিশ বন্দনাকে গ্রেপ্তার করতেই বেরিয়ে পড়ে শিশু বলির কাহিনি। পুলিশ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে বন্দনাসহ আরও দুই নারী ও একজন পুরুষকে গ্রেপ্তার করেছে।

লিবিয়া থেকে নাইজেরীয় দূত প্রত্যাহার

লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট মোয়াম্মার আল গাদ্দাফির একটি মন্তব্যের বিরোধিতা করে সে দেশ থেকে জরুরি ভিত্তিতে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে এনেছে নাইজেরিয়া। চলতি সপ্তাহে গাদ্দাফি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এড়াতে মুসলমান ও খ্রিষ্টানদের মধ্যে নাইজেরিয়াকে ভাগ করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এ কারণে ত্রিপোলি থেকে আবুজা তাদের দূত সরিয়ে আনে। খবর এএফপির।
নাইজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ মন্তব্যকে ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন প্রলাপ’ বলে আখ্যায়িত করে। এতে বলা হয়, আফ্রিকান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গাদ্দাফির এ মন্তব্য তাঁর নিজের ঘোষিত আফ্রিকার ঐক্য ও সংহতি প্রচেষ্টার সঙ্গে তামাশার শামিল। এর আগে সে দেশের সিনেট সভাপতি ডেভিড মার্ক ওই মন্তব্যের জন্য গাদ্দাফিকে সরাসরি ‘পাগল’ বলে বিদ্রূপ করেন।
গত সপ্তাহে নাইজেরিয়ায় মুসলমান ও খ্রিষ্টানদের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় কয়েক শ লোক নিহত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গাদ্দাফি দেশটিকে এই দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার কথা বলেন।
চলতি সপ্তাহে আফ্রিকার ছাত্রনেতাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে গাদ্দাফি বলেন, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের নেতা মোহাম্মাদ আলী জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্ব অনুসারে হিন্দু ও মুসলমানদের জন্য পাকিস্তান ও ভারত নামে আলাদা দুটি রাষ্ট্র গঠন করা হয়েছিল। ঠিক একইভাবে নাইজেরিয়াকে মুসলমান ও খ্রিষ্টানদের মধ্যে দুই ভাগ করে দেওয়া যেতে পারে। গাদ্দাফি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকা খ্রিষ্টান-অধ্যুষিত। তাদের জন্য সেখানে আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে লাগোসকে সে রাষ্ট্রের রাজধানী করা যেতে পারে। অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলীয় এলাকা মুসলমান-অধ্যুষিত। সেখানে মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে আবুজাকে রাজধানী করা যেতে পারে। এতে সাম্প্রদায়িক হানাহানি থেকে এ অঞ্চলের মানুষ মুক্তি পাবে।
গাদ্দাফির এ মন্তব্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নাইজেরিয়া সরকার। সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওজো নবু বলেছেন, গাদ্দাফি আফ্রিকার অখণ্ডতা রক্ষার কথা বলেন, অথচ তিনিই নাইজেরিয়াকে ভেঙে দেওয়ার মতো উসকানিমূলক বক্তব্য রেখেছেন। এর প্রতিবাদে তাঁরা তাঁদের রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে এনেছেন। তবে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে নাইজেরিয়া যে চরম ক্ষুব্ধ হয়েছে, তা বোঝানোর জন্যই রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে গাদ্দাফি তাঁর গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছেন।
এদিকে নাইজেরিয়ার পার্লামেন্ট থেকে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের প্রতি গাদ্দাফিকে ঐক্যবিরোধী বক্তব্য দেওয়া থেকে নিবৃত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে গাদ্দাফির ‘আসল উদ্দেশ্য’ অনুসন্ধানের জন্য আফ্রিকান ইউনিয়নকে তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছে নাইজেরিয়া।

ফিলিস্তিনের দুটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র

হামাসের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগে ফিলিস্তিনের দুটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন বলেছে, গাজাভিত্তিক ইসলামি ন্যাশনাল ব্যাংক এবং আল-আকসা টেলিভিশন চ্যানেলের সব সম্পদ জব্দ করা হবে। কেননা, এ দুটি প্রতিষ্ঠান হামাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, হামাসের সামরিক শাখার সঙ্গে ইসলামি ন্যাশনাল ব্যাংকের লেনদেন রয়েছে এবং আল-আকসা টেলিভিশন চ্যানেলটি হামাসের অর্থায়নে চলছে।
মার্কিন অর্থ দপ্তরের মতে, হামাসের অর্থ বিভাগ থেকে ২০০৯ সালের মে মাসে ইসলামি ন্যাশনাল ব্যাংকে ১৫ লাখ মার্কিন ডলার জমা হয়েছে। এ অর্থ হামাসের সামরিক শাখার সদস্যদের বেতন হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ইসলামি ন্যাশনাল ব্যাংক ফিলিস্তিনি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নিয়ম মানছে না। অপরদিকে আল-আকসা টেলিভিশন এমন সব অনুষ্ঠান প্রচার করছে, যা শিশুদের সশস্ত্র যোদ্ধা এবং আত্মঘাতী হামলাকারী বানাতে মন্ত্র জোগায়।

৬০ হাজার কর্মসংস্থানের অঙ্গীকার চিলির প্রেসিডেন্টের

ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত চিলির পুনর্গঠন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৬০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টির অঙ্গীকার করেছেন সে দেশের নতুন প্রেসিডেন্ট সেবাস্তিয়ান পিনেরা। গত মাসে ৮ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পের আঘাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। দেশটিতে এখন পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চলছে।
ক্ষমতা গ্রহণের পর গত বৃহস্পতিবার জাতীয় টেলিভিশনে দেওয়া প্রথম ভাষণে পিনেরা উত্পাদন খাত ঢেলে সাজানোসহ নতুন কর্মসংস্থানের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

পরিবহন ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে ইসলামাবাদে বিক্ষোভ

সরকারি পরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে পাকিস্তানে গতকাল শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ হয়েছে। রাজধানী ইসলামাবাদে এ বিক্ষোভ হয়। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর হত্যাকাণ্ড তদন্তে আসা জাতিসংঘের একটি দলের গাড়িও বিক্ষোভকারীদের বাধার মুখে পড়ে।
বিক্ষোভের কারণে রাজধানীর মুররে সড়কে যান চলাচলে সমস্যার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ চলে। ফাইজাবাদ এলাকায় যান চলাচলে বাধা দেয় বিক্ষোভকারীরা। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
বেনজির ভুট্টোর হত্যাকাণ্ড তদন্ত করতে আসা জাতিসংঘের একটি দলের গাড়িও বিক্ষোভকারীদের বাধার মুখে পড়ে ইসলামাবাদ বিমানবন্দরে ফিরে যায়। নিরাপত্তার জন্য মার্কিন দূতাবাসের সহায়তাও কামনা করে জাতিসংঘের তদন্ত দলটি। গত বৃহস্পতিবার ভারা ও কাহু এলাকা থেকে এই বিক্ষোভ শুরু হয়ে রাওয়ালপিন্ডিতে ছড়িয়ে পড়ে। এই বিক্ষোভে ৪০ জন আহত হন।

ছয় সন্তানকে হত্যার দায়ে ১৫ বছর জেল

নিজের সদ্যোজাত ছয় সন্তানকে শ্বাস রোধ করে হত্যার দায়ে ফরাসি এক নারীকে গত বৃহস্পতিবার ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত।
সেলিন লিসেজ (৩৮) নামে ওই নারী গত সোমবার কাউটান্সেসের চ্যানেল শহরের একটি আদালতে ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে নিজের ছয় শিশুসন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। শুনানিকালে তিনি বলেন, ‘আমি সন্তানদের হত্যার বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারি। সন্তানগুলো আমার দুজন প্রেমিকের।’
২০০৭ সালের অক্টোবরে লিসেজকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই বছর তাঁর এক প্রেমিক, যিনি শিশুটির বাবা, লিসেজের বাড়ির বেজমেন্টে ময়লার স্তূপে ওই শিশুর লাশ দেখতে পান।
তদন্তকারীরা বলেন, সেলিন লিসেজ লাজুক প্রকৃতির নারী। তাঁর কোনো মানসিক সমস্যা আছে বলেও মনে হয়নি। তবে লিসেজের অভিযোগ, অন্য প্রেমিক, যিনি খুন হওয়া পাঁচ সন্তানের বাবা, তাঁর ভয়ে তিনি ভীত থাকতেন। কিন্তু আদালতে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণে কোথাও ওই প্রেমিকের আচরণে কোনো অসংগতি পাননি তদন্তকারীরা।
সন্তানদের কেন খুন করেছেন, এর সঠিক কোনো জবাব অবশ্য আদালতে দিতে পারেননি সেলিন লিসেজ।

থাই প্রধানমন্ত্রীর আলোচনার প্রস্তাব নাকচ করল বিক্ষোভকারীরা

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অভিজিত্ ভেজ্জাজিভা আলোচনায় বসার যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, গতকাল শুক্রবার তা নাকচ করে দিয়েছেন সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার আন্দোলনরত লাল শার্ট সমর্থকেরা জানিয়েছেন, আগে পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে হবে, তারপর আলোচনা। সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তাঁরা। খবর এএফপির।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী অভিজিত্ ভেজ্জাজিভা আইনের মধ্যে থেকে বিক্ষোভকারীদের আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেন।
সেনাবাহিনী পরিচালিত জাতীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে প্রধানমন্ত্রী অভিজিত্ ভেজ্জাজিভা বলেন, ‘আমি আলোচনা করতে চাই কিন্তু ভীতিকর পরিবেশে এটা করা ঠিক হবে না।’
কিন্তু লাল শার্টের নেতারা বলেন, দাবি না মানা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী অভিজিতের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ না করলে ‘শ্রেণীযুদ্ধ’ শুরু হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তাঁরা।
লাল শার্টের নেতা জাতুপর্ন প্রমপান সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, লাল শার্ট আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছে না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীকে প্রথমে পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে হবে। এরপর দেশ যাতে এগিয়ে যায়, সে জন্য নির্বাচনের ফল যা-ই হোক না কেন, মেনে নেবে—এই মর্মে সব দলকে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মিছিলে লাল শার্ট পরা প্রায় ১৮ হাজার সমর্থক উপস্থিত ছিল। এই সংখ্যা প্রায় এক সপ্তাহ আগে জমায়েত হওয়া লাল শার্ট সমর্থকদের এক-পঞ্চমাংশের কম।
ব্যাংককে লাল শার্ট সমর্থকদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ উপলক্ষে ব্যাংকক ও এর আশপাশের প্রদেশে এখনো কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা বজায় আছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশের ৫০ হাজার শক্তিশালী সদস্য টহল দিচ্ছে রাস্তায়।
জাতুপর্ন বলেন, আন্দোলনের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে আজ শনিবার থেকে তাঁরা ব্যাংককের চারপাশে যাবেন, যাতে সরকারবিরোধী বার্তা প্রচার করে আরও বেশি লোকের সমর্থন আদায় করতে পারেন।
বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, অভিজিতের সরকার অবৈধ। কারণ, তারা সেনাবাহিনীর সমর্থন নিয়ে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের পার্লামেন্টারি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে। সে সময় বিতর্কিত রায় দিয়ে নির্বাচন থেকে থাকসিনের জোটকে বাদ দেন আদালত। ২০১১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে আগামী নির্বাচন হতে হবে।
বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, তাঁরা থাইল্যান্ডের আমলাতন্ত্র, সামরিক বাহিনী ও রাজপ্রাসাদে থাকা সুবিধাবাদী অভিজাত শ্রেণীর বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা নির্বাচিত সরকারকে উচ্ছেদ করেছে এবং সামাজিক বৈষম্যের সমর্থনে কথা বলেন।
দুবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত থাকসিন ২০০৬ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন। দুর্নীতির অভিযোগে দুই বছরের সাজা হয়েছে তাঁর। সাজা এড়াতে বিদেশে নির্বাসনে থেকে ভিডিও লিংক ও ইন্টারনেটে বার্তা প্রচারের মাধ্যমে সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন তিনি।
এদিকে গুজব রটানো হয়, থাকসিনকে তাঁর প্রধান আশ্রয়স্থল দুবাই যেতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু লাল শার্ট সমর্থকদের উৎসাহিত করতে গতকাল সামাজিক নেটওয়ার্কিং ওয়েবসাইট টুইটারে থাকসিন লেখেন, বলকান রাষ্ট্র মন্টিনেগ্রো সফর শেষে দুবাই ফিরে গেছেন তিনি। সম্প্রতি দেশটির সর্বোচ্চ আদালত থাকসিন সিনাওয়াত্রার ১৪০ কোটি ডলারের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর সমর্থকেরা সরকারের পদত্যাগ ও নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন।

যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবা বিল পাস হতে পারে কাল by ইব্রাহীম চৌধুরী

যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসেবা বিল পাস নিয়ে ওয়াশিংটনে বিরাজ করছে চরম উত্তেজনা। এ কারণে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দ্বিতীয় দফা তাঁর বিদেশ সফর বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন। সব মতবিরোধ সামাল দিয়ে রোববারই স্বাস্থ্যসেবা আইন প্রণয়নে মরিয়া হয়ে উঠেছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। উদ্যোগটিকে শেষ মুহূর্তে বাধাগ্রস্ত করার লক্ষ্যে রিপাবলিকান দলের পক্ষ থেকেও পূর্ণ প্রস্তুতি চলছে।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের পরই বারাক ওবামা সব নাগরিকের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য আইন প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য-ব্যবস্থাকে পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যয়বহুল বলে মনে করা হয়। এ স্বাস্থ্য-ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ। দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন স্বাস্থ্য-ব্যবস্থা সংস্কারের উদ্যোগ বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনও এ খাতের সংস্কার করতে ব্যর্থ হন।
প্রেসিডেন্ট ওবামার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির একটি ছিল স্বাস্থ্য-ব্যবস্থার সংস্কার এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশে সব নাগরিকের জন্য স্বাস্থ্য-ব্যবস্থা নিশ্চিত করে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া।
স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার নিয়ে মার্কিন সমাজের বিভক্তি গত এক বছরে আরও প্রকাশ্য হয়ে উঠেছে। ব্যয়বহুল এ জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে শুধু ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে নয়, সব নাগরিকের মধ্যে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে। তারা বলছে, স্বাস্থ্যবিমার নামে ভর্তুকি দিতে গিয়ে জনগণের করের বোঝা বাড়বে, স্বাস্থ্যসেবার মান নেমে যাবে এবং একটি বিশেষ জনগোষ্ঠীর মধ্যে কর্মবিমুখতা বাড়বে। এসবের মধ্যে সরকারি অর্থে গর্ভপাতের পক্ষে-বিপক্ষেও বিতর্ক শুরু হয়। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নিজ দল ডেমোক্রেটিক দলও সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়ে। টি-পার্টি নামে রক্ষণশীলদের একটি নাগরিক আন্দোলন শুরু হয় দেশজুড়ে। করের বোঝা বৃদ্ধি এবং সরকারি ব্যয় বাহুল্যের বিরুদ্ধে জমজমাট প্রচারণা চলে গত এক বছর। এর মধ্যে বছরের শেষ প্রান্তে মার্কিন কংগ্রেসে দুই দফা স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার প্রস্তাব গৃহীত হয়। ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে প্রথম দফা একটি সংস্কার প্রস্তাব গৃহীত হয়। প্রথম দফার এ সংস্কার প্রস্তাবে উদারনৈতিক মহলের ধারণাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল। গত বড়দিনের প্রাক্কালে সব রিপাবলিকান আইনপ্রণেতার বিরোধিতার মুখে সিনেটে দ্বিতীয় দফা সংস্কার প্রস্তাব গৃহীত হয়। এ সংস্কার প্রস্তাবটির সঙ্গে পূর্ববর্তী প্রস্তাবের সমন্বয়ের চেষ্টা করা হয় হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে। এর মধ্যে ম্যাসাচুসেটস উপনির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দল সিনেটে আসন হারালে দলে উত্কণ্ঠা দেখা দেয়। নিউজার্সি ও ভার্জিনিয়ায় রাজ্য গভর্নর পদেও ডেমোক্রেটিক প্রার্থীর ভরাডুবি ঘটে। এর মধ্যে প্রচণ্ড রাজনৈতিক চাপের মুখে প্রেসিডেন্ট ওবামা ব্যক্তিগতভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠেন স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত আইনের বাস্তবায়ন নিয়ে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ সামনে নিয়ে ডেমোক্রেটিক দলের অনেক আইনপ্রণেতাও এখন আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন।
কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলে, কংগ্রেসের রোববারের অধিবেশনে স্বাস্থ্যসেবা আইন প্রণয়নের জন্য প্রয়োজনীয় ২১৬ ভোট পক্ষে আনা সম্ভব হবে। হোয়াইট হাউস থেকেও এ ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা আইন প্রণয়নের কারণে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা গত বৃহস্পতিবার আকস্মিকভাবে তাঁর ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া সফর জুন পর্যন্ত স্থগিত করার ঘোষণা দেন। আগামীকাল তাঁর ইন্দোনেশিয়ায় যাওয়ার কথা ছিল। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি রবার্ট গিবস বলেন, ‘সফর স্থগিত করার জন্য আমরা গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। কিন্তু এখন বিদেশ সফরের চেয়ে আমরা স্বাস্থ্যবিমা বিল পাস হওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছি।’ তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ওবামা এ যুদ্ধের অবসান দেখতে চান। ওবামা এক বিবৃতিতে ইন্দোনেশিয়ার জনগণের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি এ বছরই ইন্দোনেশিয়া সফর করব।’
১৯৬৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মেডিকেয়ার আইন প্রণীত হয়েছিল। এ আইনের ফলে অতিদরিদ্র, শিশু ও অক্ষমদের জন্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সীমিত চিকিৎসা-সুবিধা নিশ্চিত রয়েছে। নতুন স্বাস্থ্য-সংস্কার আইন প্রণীত হলে যুক্তরাষ্ট্রের সব নাগরিককে বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্যবিমার আওতায় নিয়ে আসা হবে। কর্মক্ষেত্র থেকে স্বাস্থ্যবিমা প্রদান করা হবে। বিমা গ্রহণ না করলে নাগরিকদের বছরে ৬৯৫ ডলারের জরিমানা দিতে হবে। কর্মহীন ও নিম্ন আয়ের লোকজন স্বাস্থ্যবিমা গ্রহণের জন্য সরকারি ভর্তুকি পাবে।
মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকান দলের নেতা জন বয়েনার বলেছেন, দেশের জনগণ স্বাস্থ্যসেবা বিল পাস নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের উদ্যোগ বন্ধের দাবি জানাচ্ছে। তিনি বলেন, ব্যয়বহুল এ প্রস্তাব যাতে কোনোভাবেই কংগ্রেসে পাস না হয়, তার জন্য রিপাবলিকান দলের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কমলগঞ্জে টেনিস

বিটিএ প্ল্যান্টার্স টেনিস টুর্নামেন্টে দলগত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ডানকান ব্রাদার্স মনু ভ্যালি। পুরুষ এককে চ্যাম্পিয়ন মনু ভ্যালির মকবুল হায়দার ও পুরুষ দ্বৈতে চ্যাম্পিয়ন একই ক্লাবের রিজভি ও ফাহমিদ জুটি। খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বিটিএর চেয়ারম্যান মির্জা সালমান ইস্পাহানী।

জামালপুরে ক্রিকেট

ডিএসএ কাপ ক্রিকেটে কাল কাছারিপাড়া ক্রিকেট ক্লাব কেসিসি (১৮১) ১৪৭ রানে হারিয়েছে মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবকে (৩৪)। জয়ী দলের তুহিন করেছেন সর্বোচ্চ ৫২ রান।

সানিডেল মিনি হ্যান্ডবল

উদ্বোধনী ম্যাচেই জয় পেয়েছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন বিআইএস। পল্টন হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে কাল তারা ৩-২ গোলে হারিয়েছে অপরাজেয় বাংলাদেশকে। অন্য ম্যাচে গ্রিন হেরাল্ড ৬-৪ গোলে সেন্ট গ্রেগরিজ হাইস্কুলকে, স্কলাস্টিকা ৭-৬ গোলে এসওএস শিশু পল্লীকে এবং ধানমন্ডি টিউটোরিয়াল ১২-৩ গোলে সেন্ট গ্রেগরিজ হাইস্কুলকে হারিয়েছে।

অস্ত্রোপচার লাগবে না স্মিথের

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে পারবেন বলেই মনে করছেন দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথ। আইপিএলে খেলতে গিয়ে ডান হাতের মধ্যমা আঙুল ভেঙে গেছে তাঁর। তবে এক্স-রে রিপোর্ট বলছে, অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন নেই। চার সপ্তাহের মধ্যে তিনি ফিট হয়ে উঠবেন বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকা দলের ম্যানেজার মোহাম্মেদ মোসাজে। এর আগে শোনা গিয়েছিল, এবার আইপিএল তো বটেই, আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও খেলতে পারবেন না স্মিথ।

বার্সা পেল গানার্সকে বায়ার্নকে ম্যানইউ

প্রতিপক্ষ আর্সেনাল। সহজ বলা যাবে না কিছুতেই। এর পরও হয়তো চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ড্রয়ে বার্সেলোনা খুশিই। ড্রয়ের আগে বার্সেলোনার স্পোর্টিং ডিরেক্টর টিক্সি বেগিরিস্তেইন বলেছিলেন—অন্য যে দল তাদের সামনে পড়ে পড়ুক, শুধু ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড না পড়লেই হয়!
খুশি-টুশি কিছু নয়, তবে এই ড্র আর্সেনাল শিবিরে একটা উত্তেজনা না ছড়িয়ে পারে না। বার্সেলোনাকে সামনে পেয়ে যে পাওয়া গেছে প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ। ২০০৬ সালে ফাইনালে এই বার্সার কাছে হেরেই চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রথম শিরোপা-স্বপ্ন বিসর্জন দিতে হয়েছিল ‘গানার’দের। আর্সেনাল সচিব ডেভিড মাইলস তো ড্রর পর পরই বলে দিয়েছেন, ‘বার্সেলোনাকে আমাদের কিছু ফিরিয়ে দেওয়ার আছে। কথাটা আসলে এ রকমই হয়।’
লেনাদেনার হিসাব আছে আরেকটি লড়াইতেও। সেটা বার্সার ‘ভয়’ ম্যানইউ আর জার্মান পরাশক্তি বায়ার্ন মিউনিখের। ১৯৯৯ সালের ফাইনালে ইনজুরি সময়ে দুই গোল করে বায়ার্নকে হারিয়েছিল ম্যানইউ। দুই বছর পরই ম্যানইউকে কোয়ার্টার ফাইনালে পেয়ে এর প্রতিশোধ নিয়েছিল বায়ার্ন। এবারের লড়াইটা তাই দুদলের জন্যই এগিয়ে যাওয়ার। সব মিলিয়ে বায়ার্ন সভাপতি কার্ল-হেইঞ্জ রুমেনিগে বললেন একটি মহারণের অপেক্ষা করতে, ‘খুব কঠিন হবে, তবে রোমাঞ্চকর একটি লড়াই-ই হতে যাচ্ছে।’
এই ড্র ফ্রান্সকেও আনন্দ করার মতো একটা উপলক্ষ এনে দিয়েছে। ২০০৪ সালের পর আবার কোনো ফরাসি ক্লাব খেলবে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে। কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে দুই ফরাসি ক্লাব বোর্দো আর লিওঁ, যার অর্থ সেমিফাইনালেও থাকছে ফরাসি প্রতিনিধিত্ব। অন্য কোয়ার্টার ফাইনালটিতে হোসে মরিনহোর ইন্টার মিলান পেয়েছে সবার কাঙ্ক্ষিত প্রতিপক্ষ—রাশিয়ার সিএসকেএ মস্কোকে। এএফপি।
কোয়ার্টার ফাইনাল লাইনআপ
আর্সেনাল : বার্সেলোনা
বায়ার্ন মিউনিখ : ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড
ইন্টার মিলান : সিএসকেএ মস্কো
লিওঁ : বোর্দো
প্রথম লেগ: ৩০ ও ৩১ মার্চ
দ্বিতীয় লেগ: ৬ ও ৭ এপ্রিল
 প্রথম লেগের স্বাগতিক দল প্রথমে

কেন্দ্রীয় চুক্তিতে নেই ইউসুফ-ইউনুস

মোহাম্মদ ইউসুফ আর ইউনুস খানের ক্যারিয়ার কি তাহলে শেষই? প্রশ্নটা আরও জোরাল হয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ঘোষিত কেন্দ্রীয় চুক্তির ১৮ জন ক্রিকেটারের মধ্যে তাঁদের নাম না থাকায়। আরেক সাবেক অধিনায়ক শোয়েব মালিকের সঙ্গেও চুক্তি নবায়ন করছে না পিসিবি। নাম নেই রানা নাভেদেরও।
শাস্তি পাওয়া বাকি তিন ক্রিকেটার অবশ্য চুক্তিতে আছেন। শহীদ আফ্রিদি আর কামরান আকমল ‘এ’ শ্রেণীতেই ঠাঁই পেয়েছেন। উমর আকমল আছেন ‘বি’ শ্রেণীতে। ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর ধরে নিয়ে এক বছরের জন্য এই ১৮ ক্রিকেটারের সঙ্গে চুক্তি করা হচ্ছে। তিন শ্রেণীর মাসিক বেতন এ রকম—‘এ’: আড়াই লাখ রুপি, ‘বি’: ১ লাখ ৭৫ হাজার রুপি, ‘সি’: ১ লাখ রুপি। এই ১৮ জন ছাড়াও ১৯ জন উদীয়মান ক্রিকেটার বৃত্তি হিসেবে প্রতি মাসে ৫০ হাজার রুপি করে পাবেন।
এদিকে পাকিস্তানি দৈনিক দ্য নিউজ জানিয়েছে, শাস্তি পাওয়া সাত ক্রিকেটার পিসিবির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যাবেন। অন্তত মালিক যে মামলা করতে যাচ্ছেন, এটা নিশ্চিত বলেই জানিয়েছে তাঁর কাছের এক সূত্র। মালিকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে দলে অন্তর্দ্বন্দ্ব সৃষ্টির পাশাপাশি আছে মিথ্যা ইনজুরির কথা বলে প্রস্তুতি ম্যাচে না খেলা। উমর আকমলের বিরুদ্ধেও মিথ্যা ইনজুরির অভিযোগ আছে বলে জানা গিয়েছিল। যদিও তাঁর ম্যানেজার মার্ক রেইজব্যাক জানিয়েছেন, উমর আসলেই ইনজুরিতে পড়েছিলেন। এর জন্য চিকিত্সাও নিতে হয়েছে তাঁকে।
ওই টুর্নামেন্টের জন্য এখনো অধিনায়কের নাম ঘোষণা করেনি পিসিবি। প্রধান নির্বাচক মহসিন খান পিসিবি চেয়ারম্যান ইজাজ বাটের কোর্টে বল ঠেলে দিয়ে বলেছেন, অধিনায়ক বেছে নেওয়ার দায়িত্ব চেয়ারম্যানেরই।

মালিক সিডর্ফ

তিনটি ভিন্ন ভিন্ন ক্লাবের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার একমাত্র কীর্তি তাঁর। এসি মিলানের মিডফিল্ডার ক্লারেন্স সিডর্ফের আরও একটি পরিচয় আছে। ইতালির তৃতীয় বিভাগের দল মনজার মালিকও তিনি।