Sunday, May 19, 2019

আমরা প্রতিশোধ নেব: সৌদিকে হুথি নেতার হুমকি

ইয়েমেনের জনপ্রিয় হুথি আনসারুল্লাহ আন্দোলনের নেতা আবদুল মালেক বদরুদ্দিন আল-হুথি বলেছেন, সৌদি আরবের বিমান হামলায় দেশের জনগণের দৃঢ় প্রত্যয় দুর্বল হবে না বরং সৌদি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তারা প্রতিশোধমূলক হামলা চালাবে। ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি আরবের সাম্প্রতিক বিমান হামলার নিন্দাও জানান তিনি।
আবদুল মালেক আল-হুথি বলেন, “শত্রুদের ঘৃণ্য অপরাধ ইয়েমেনের ইচ্ছাকে দুর্বল করতে পারবে না বরং তারা প্রকৃতপক্ষে শত্রুর আগ্রাসন মোকাবেলায় দৃঢ় প্রত্যয়ী রয়েছে।” তিনি বলেন, সানায় সৌদি আরবের সাম্প্রতিক হামলা হচ্ছে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদি সরকারের অপরাধের আরেকটি দৃষ্টান্ত। তাদের হামলার প্রধান শিকার হচ্ছে নারী, শিশু ও অসহায় বৃদ্ধ মানুষ। তাদের এই হামলা সারা বিশ্বের কাছে এখন পরিচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।”
গত বৃহস্পতিবার সৌদি নেতৃত্বাধীন কথিত আরব জোট ইয়েমেনের রাজধানী সানায় বিমান হামলা চালায়। এতে কমপক্ষে সাতজন মারা গেছে যার মধ্যে কয়েকটি শিশু রয়েছে।  নিহতদের চারজন একই পরিবারের। হামলায় কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছে।

‘দ্বিতীয় ইনিংস’ শুরু করলেন কাদের: বললেন, ‘নতুন জীবন পেয়ে ভালো লাগছে’

দীর্ঘদিনের চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে কাজে ফিরে আসাকে জীবনের ‘দ্বিতীয় ইনিংস’ বলে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
আজ (রোববার) সকালে সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমি তো মরেই যেতাম। বেঁচে আছি। প্রথম ইনিংস শেষ করেছি। ইনশাআল্লাহ, এবার দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করব। দ্বিতীয় ইনিংসে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মেট্রো রেল, কর্ণফুলী টানেল, ঢাকা উড়াল সড়ক, ঢাকার যানজট নিরসন ও গণপরিবহনে শৃঙ্খলা।’
গত ৩ মার্চ সকালে ওবায়দুল কাদের বুকে প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি হন। এনজিওগ্রাম করার পর তাঁর হার্টে তিনটি ব্লক ধরা পড়ে। ভারতের বিখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দেবী শেঠির পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য ৪ মার্চ ওবায়দুল কাদেরকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে বাইপাস সার্জারির পর তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন। ৫ এপ্রিল হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পান তিনি। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে তিনি সিঙ্গাপুরেই একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন।
সিঙ্গাপুরে দুই মাস ১০ দিন চিকিৎসা শেষে গত বুধবার দেশে ফিরেন ওবায়দুল কাদের। বিমান থেকে নেমেই তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি দেশবাসীর কাছে দোয়া চান।
আজকের সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সেতুমন্ত্রী। এ সময় তিনি নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে বলেন, ‘মানসিকভাবে আমি সবল আছি। আরো কিছুদিন ধীরেসুস্থে কাজ করতে হবে। ১৬ জুলাই চেকআপ করাতে যাব। ভারি কাজ করতে চিকিৎসকেরা নিষেধ করেছেন। দুইমাস পরপর চেকআপ করাতে হবে। আগের মতো রাস্তায় রাস্তায় রোদ-বৃষ্টি একাকার করে কাজ করতে পারব না। তবে ধীরে ধীরে ২/৪ মাস পর আগের মতো সুস্থ হয়ে উঠবো, ইনশাআল্লাহ।’
আগামীকাল সোমবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যাবেন জানিয়ে দলটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘যানজটমুক্ত দেশ ও নগর গড়া এখন আমার মূল কাজ হবে। নতুন জীবন পেয়ে সরকারে ও দলে সক্রিয় হতে পেরে ভালো লাগছে।’
এবারের ঈদে সড়কে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি হবে না বলেও মন্তব্য করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধান সমস্যা ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। তবে এবার ঈদে মানুষ ভোগান্তিতে পড়বে না এটা বলতে পারি। এবার ঈদ যাত্রীদের জন্য স্বস্তিদায়ক হবে। আগামী ২৫ মে গাজীপুর কোনাবাড়ী ও চন্দ্রায় দুটি উড়ালসড়ক ও চারটি আন্ডারপাস উদ্বোধন করা হবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম পথে দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় গোমতি সেতু উদ্বোধন হবে। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তা উদ্বোধন করবেন। আশা করা যায়, এবারের ঈদে আর যানজট হবে না।’
আওয়ামী লীগের আগামী জাতীয় সম্মেলন নির্ধারিত সময়েই হবে বলেও জানান ওবায়দুল কাদের।

খালেদা জিয়া এখন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে- বিএনপি

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার। বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন কয়েকদিন ধরে স্বাভাবিক খাওয়া-দাওয়া করতে  পারছেন না। শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে তাকে এক শোচনীয় পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। তিনি বন্দী হওয়ার অনেক আগে থেকেই নানা রোগব্যাধিতে আক্রান্ত ছিলেন। একজন বর্ষিয়ান নারীর এই নির্জন মানবেতর কারাবাস স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য কতটা ক্ষতিকারক হতে পারে তা খালেদা জিয়ার বর্তমান গুরুতর শারীরিক অসুস্থতায় উপলব্ধি করা যায়।
খালেদা জিয়া এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। গতকাল নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। প্রবীণ এই রাজনীতিক বলেন, দেশনেত্রীর সর্বশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষায় জানা গেছে- ইনসুলিন ব্যবহারের পরও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ তো হচ্ছেই না, বরং তা বিপজ্জনক মাত্রায় অবস্থান করছে। ইতোমধ্যে তার মুখে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। এই ক্ষতের জন্য মুখে প্রচণ্ড ব্যথার সৃষ্টি হয়েছে। যার কারণে তিনি স্বাভাবিক খাওয়া-দাওয়া করতে পারছেন না। কোনো রকমে জাউ খেয়ে জীবনধারণ করছেন। অথচ সরকার প্রধান থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী ও নেতারা বেগম জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করে যাচ্ছেন। যা শুধু অমানবিকই নয়, নিষ্ঠুর মনুষ্যত্বহীন মনেরও বহিঃপ্রকাশ।
ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার বলেন, কারাগারে অবস্থানকালে খালেদা জিয়া কক্ষের বাথরুমে পড়ে গিয়ে প্রচণ্ড ব্যথা পেয়েছেন। নির্জন, নিঃসঙ্গ, নিরাপত্তাহীন পরিবেশের কারণে নিদ্রাহীনতা, উদ্বেগ, বিষন্নতাসহ মানসিক রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়। বিরূপ, নিপীড়নমূলক পরিবেশ ও অস্বাভাবিক মানসিক চাপের ফলে তার আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়েছে। মারাত্মক জীবন-বিনাশী জীবাণুর মাধ্যমে ফুসফুসের সংক্রমণ বা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও প্রবল হয়ে উঠেছে। জাতীয় সংসদের সাবেক এই স্পিকার বলেন, ধারণা করা হয় যে- কারাগারে থাকার সময় সেখানকার পরিবেশের জন্য ভয়ংকর মাত্রার ভিটামিন-ডি ও ক্যালসিয়ামের শূন্যতা দেখা দিয়েছে খালেদা জিয়ার। যা তার হাড়ের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এমনিতে অনেক আগে থেকেই তিনি বাম কাঁধ ও হাতের ব্যথায় ভুগতেন।
এখন সেই ব্যথা ডান কাঁধ ও হাতেও ছড়িয়ে পড়ে মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। তিনি এখন দুই হাতেই নিদারুণ যন্ত্রণা ভোগ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে সাবেক এই স্পিকার বলেন, ‘তিনি (বেগম জিয়া) আয়েশ করে পায়েস খাচ্ছেন। তিনি অসুস্থতার নামে নাটক করছেন।’ দেশের একজন বর্ষীয়ান ও জনপ্রিয় রাজনীতিবিদের অসুস্থতা নিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী যে ধরনের বিদ্রুপ ও রসিকতা করে আসছেন তা নজিরবিহীন। এ ধরনের দৃষ্টান্ত সভ্য দেশ ও সমাজে একেবারেই বিরল। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন- বেগম জিয়ার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য একজন বন্দীর মানবাধিকারকে অবজ্ঞা করার শামিল। কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রীকে খুশী করার জন্যই তিনি এই বক্তব্য দিয়েছেন। খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিষ্ঠুর রসিকতায় একটি স্বৈরাচারী সরকারের ভয়াবহ রূপটিই ফুটে ওঠে। প্রবীণ এ নেতা বলেন, সরকারের লোকজন শুরু থেকেই খালেদা জিয়ার যথাযথ সুচিকিৎসার বন্দোবস্ত করছে বলে দেশ ও বিশ্ববাসীকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করে আসছেন, কিন্তু কারাগারে থাকার সময় বন্দী দেশনেত্রীর সুচিকিৎসার উদ্যোগ নেয়ার কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ আজও দিতে পারেনি সরকার।
খালেদা জিয়ার দীর্ঘকালীন অসুস্থতা কেবলমাত্র দীর্ঘকাল চিকিৎসায় অভিজ্ঞ ও নিয়োজিত ব্যক্তিগত চিকিৎসকদেরই ভালোভাবে জানা আছে। নতুন কোন চিকিৎসক দলের পক্ষে তাঁর সম্পূর্ণ শারীরিক অবস্থা এক নজরে ও এক নিমেষে অনুধাবন ও নির্ণয় করা একেবারেই অসম্ভব। খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ডের বিষয়ে জমিরউদ্দিন সরকার বলেন, সরকারের সুচিকিৎসার দাবীকে সামপ্রতিক মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্ট বিন্দুমাত্র সমর্থন করছে না। এই মেডিকেল বোর্ডের লিখিত প্রতিবেদনে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য বিষয়ে শংকা ও পূর্বানুমিত ক্রমাবনতির ধারণা এখন প্রতিনিয়ত মারাত্মক অবনতির চিত্রই ক্রমাগত ফুটে উঠছে। ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার বলেন, খালেদা জিয়ার অসুস্থতার যাতে চরম অবনতি না ঘটে সেজন্য তাঁকে অবশ্যই বিশেষায়িত হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা করানো অত্যন্ত জরুরী। তাই আমরা অবিলম্বে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও তাঁর পছন্দনীয় হাসপাতালে সুচিকিৎসার জোর দাবি জানাচ্ছি। ব্যারিস্টার জমির বলেন, প্রায় এক বছর তিন মাসের অধিক সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের একটি সাজানো মামলায় নিম্ন আদালতে সাজা দিয়ে ৮ই ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সালে নির্জন কারাগারে বন্দী করে রাখা হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে যে সমস্ত মামলা দায়ের করা হয়েছে, তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, প্রতিহিংসামূলক। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা ও সাজা প্রদানে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। এর পেছনে প্রতিহিংসা কাজ করেছে। এখন দেশে-বিদেশে বিভিন্ন অধিকার গ্রুপ, মানবাধিকার সংস্থা, এমনকি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সরকারগুলোর পক্ষ থেকেও বেগম জিয়ার মামলাকে সাক্ষ্য-প্রমানহীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করা হয়েছে। ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে নিজ দলের উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখার এক পর্যায়ে বলেছিলেন- বেগম জিয়া কোনদিনই কারাগার থেকে বের হবেন না। তিনি দেশে ফিরে সেটির পুঙ্খানুপুঙ্খ বাস্তবায়ন করছেন। ইতোমধ্যে কেরানীগঞ্জে আদালত স্থানান্তরের এসআরও জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশ কিসের জন্য এবং কার জন্য করা হচ্ছে তা জনগণের বুঝতে বাকি নেই। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার কোন সাজাই চূড়ান্তভাবে নিস্পত্তি হয়নি। এমতাবস্থায় জামিন না দিয়ে তাকে কারাগারে রাখা সম্পূণরূপে সংবিধান ও মানবাধিকার পরিপন্থী। দেশ কর্তৃত্ববাদী শাসনে এক মহাশৃঙ্খলের মধ্যে আবদ্ধ হয়েছে বলেই ন্যায়বিচার নিরুদ্দেশ হয়েছে।
আর সেই কারণে অন্যায় ও অবিচারের এক চরম বহি:প্রকাশের ফলশ্রুতি হচ্ছে খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দেয়া। অশুভ উদ্দেশ্যেই কারাগারে আদালত বসানো হচ্ছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, সরকারের একটা অংশ ষড়যন্ত্র করছে। তাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জ নেয়া হচ্ছে! অপর এক প্রশ্নের জবাবে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগকে কীভাবে কথা শোনাতে হয় সে ব্যবস্থা আমরা এক সময় করবো। এতো চিন্তা করে লাভ নেই। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা প্যারোল চাইবো না। তিনি অসুস্থ তার চিকিৎসা দরকার। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, শিক্ষা সম্পাদক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল উপস্থিত ছিলেন।

ভারতের লোকসভা নির্বাচন: বিজেপিবিরোধী জোট গঠনে বিরোধীদের মহাঐক্যের প্রচেষ্টা

শেষ দফার নির্বাচনকে সামনে রেখে ভারতে বিজেপিবিরোধী মহাজোট সরকার গঠনের উদ্যোগ জোরালো হয়েছে। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তেলেগু দেশম পার্টির (টিডিপি) প্রধান চন্দ্রবাবু নাইডু, বহুজন সমাজবাদী পার্টির মায়াবতীসহ বেশকিছু বিরোধীদল ঐক্য প্রক্রিয়ায় বিজেপিবিরোধী জোট গঠনকে সর্বাগ্রে স্থান দেওয়ার কথা জানিয়েছে। ২৩ মে নির্বাচনি ফল ঘোষণার আগে ২১ মে’র সম্ভাব্য বৈঠক সামনে রেখে বিজেপি বিরোধী দলগুলোকে কাছে আনার চেষ্টা জোরালো করেছেন নাইডু।  বৃহত্তর জোট গঠনের লক্ষ্যে কমিউনিস্ট পার্টি, আম আদমি পার্টিসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক দলগুলোও থাকছে সেই ঐক্য প্রক্রিয়ায়। তবে বিজেপির পাশাপাশি কংগ্রেসকেও বিরোধী জোট গঠন প্রক্রিয়ার বাইরে রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে কেউ কেউ।
২৩ মে নির্বাচনি ফল ঘোষণার আগে বিরোধী দলগুলোকে কাছে আনার চেষ্টা জোরালো করেছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী নাইডু। এ লক্ষ্যে  শুক্রবার  মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি ও আম আদমি পার্টির (এএপি) আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সাথে বৈঠক করেছেন তিনি। বৈঠকে নির্বাচন পরবর্তী সম্ভাব্য জোট গঠন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এদিকে সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এনডিটিভি জনিয়েছে, নাইডু  ৮ মে কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধীর সাথে বৈঠক করেন আর ২১ মে বিরোধী দলগুলোর বৈঠক ডাকায় একমত পোষণ করেন বলে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ডেইলি হান্ট জানিয়েছে, ১৮ মে শনিবার নাইডু সম্ভবত দিল্লিতে কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধী ও বহুজন সমাজবাদী পার্টির প্রধান মায়াবতীর সাথে লক্ষ্মৌতে বৈঠক করতে পারেন। 
দক্ষিণ ভারতে সক্রিয় তেলেগু দেশম পার্টির (টিডিপি) প্রধান নাইডু বলেছেন, গেরুয়া (বিজেপির পতাকার রং) দল  বিরোধী যেকোনও দলকেই বৃহত্তর জোটে স্বাগত জানানো হবে। শুক্রবার তিনি ইঙ্গিত দেন প্রয়োজনে নিজেদের আঞ্চলিক রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতির (টিআরএস) সাথেও জোট গঠন করবেন। 
শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের সাথে এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তরফে নাইডুর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, আঞ্চলিক দলগুলোকে নিয়ে কংগ্রেস ও বিজেপি বিরোধী জোট গঠনে সক্রিয় টিআরএস যদি কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেয় তাহলে কী হবে? জবাবে নাইডু বলেন, ‘আমরা কেবল টিআরএস-কে নয় বিজেপি বিরোধী যেকোনও দলকেই স্বাগত জানাবো। এধরণের সব দলকেই আমাদের বৃহত্তর জোটের অংশ হতে স্বাগত জানাবো। তিনি বলেন, আমি সবার সাথেই বৈঠক করছি। সব নেতার সাথে বৈঠকের পর একটি পরিকল্পনা সাজিয়ে ফেলবো।’
নির্বাচন কমিশনের সাথে বৈঠকে টিডিপি প্রেসিডেন্ট নাইডু নির্বাচন কমিশনকে ইভিএম মেশিন নিয়ে ওঠা সমালোচনা গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান। সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আনেন তিনি। নাইডু বলেন, ‘আমি গত ২৫ বছর ধরে দলের প্রেসিডেন্ট। কিন্তু  এধরনের কমিশন কখনোই দেখিনি’। ‘নির্বাচনের পুরো সময় জুড়ে তারা সরকারকে সমর্থন করে গেছে এটা দুঃখজনক, বলেন তিনি।
মহাঐক্যের এই পরিকল্পনায় শরিক হবে না বলে জানিয়েছে তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতি (টিআরএস)। প্রেসিডেন্ট চন্দ্রশেখর রাও এর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত আইন প্রণেতা বিনোদ কুমার জানিয়েছেন, নির্বাচনের ফল পরবর্তী পরিকল্পনা ঠিক করতে আগামী ২১‌ মে বিরোধী দলগুলোর সাথে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকের অংশ হবে না টিআরএস। বিনোদ কুমার বলেন, চন্দ্রবাবু নাইডুর সাথে কোনও বৈঠকের অংশ হতে পারবো না আমরা। এটা খুবই পরিষ্কার। বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ বিরোধী জোট গড়ার চেষ্টায় মূল ভূমিকা পালন করছেন নাইডু। তবে তার এই ভূমিকাকে ‘স্বঘোষিত’ বলে দাবি করেন বিনোদ কুমার।
কংগ্রেস আর বিজেপি-কে বাদ দিয়ে আঞ্চলিক দলগুলোকে নিয়ে জোট গঠনের চেষ্টায় আছেন চন্দ্রশেখর রাও। টিডিপি এই জোটের অংশ হতে যাচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বিনোদ কুমার বলেন, অন্ধ্র প্রদেশের বিধান সভা ও লোক সভা নির্বাচনে জিতবে না সে (নাইডু)। ২৩ মে’র পর তার ভূমিকা গৌন হয়ে যাবে।
আনন্দবাজার পত্রিকায় লেখা নিবন্ধে দেবাশিস ভট্টাচার্য বলেছেন, রাজনৈতিক বাস্তবতা অনুযায়ী কংগ্রেসকে বাদ রেখে শুধু আঞ্চলিক দলগুলির পক্ষে জোট বেঁধেও অন্তত ২৭২ আসন নিয়ে সরকার গঠন যেমন কঠিন, তেমনই কংগ্রেস এবং তার ইউপিএ শরিকরা মিলে ২৭২ আসন জিতে সরকার গড়তে পারবে— তেমনটাও এখনই জোর দিয়ে বলা যায় না। তাই মোদিকে হারিয়ে বিকল্প একটি সরকার গড়তে হলে কংগ্রেসের সঙ্গে অন্য বিজেপি-বিরোধী আঞ্চলিক দলগুলির ‘মহাগঠবন্ধন’ই যে একমাত্র পথ, অচিরেই সেই উপলব্ধি হল সকলের।
দেবাশিসের মতে, ‘নীতিগত ভাবে’ এ বারের নির্বাচনী লড়াই হয়তো সেই পথ ধরেই এগোতে চেয়েছে। হয়তো তাই কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি বার বার একত্রে বৈঠক করেছে। মমতার ডাকে ব্রিগেডে ২৩টি বিরোধী দলের সভায় যোগ দিয়েছে কংগ্রেস। তবু বলতেই হবে, যে সব রাজ্যে বিজেপির মোকাবিলায় কংগ্রেস প্রধান শক্তি, সেখানে তাদের এগিয়ে দিয়ে অন্যান্য রাজ্যে বিরোধী আঞ্চলিক দলগুলিকে প্রাধান্য দেওয়ার তাত্ত্বিক ফর্মুলা সর্বত্র মসৃণ ভাবে কাজ করেনি। পশ্চিমবঙ্গে তো নয়ই, সবচেয়ে বেশি আসন যেখানে, সেই উত্তরপ্রদেশেও মায়াবতী-অখিলেশদের জোটের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের লড়াই এড়ানো যায়নি।

ইরান ইস্যুতে ভুলের পরিণতির বিষয়ে ইসরাইলকে পাক জেনারেলের হুঁশিয়ারি

পাকিস্তানের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মির্জা আসলাম বেগ ইরান ইস্যুতে যেকোনো ভুল পদক্ষেপের পরিণতির বিষয়ে ইহুদিবাদী ইসরাইল ও আমেরিকাকে সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, কঠিন ও অকল্পনীয় জবাব দেওয়ার সামর্থ্য ইরানের রয়েছে। আসলাম বেগ শনিবার পাকিস্তানের দ্য নেশন পত্রিকায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
পাকিস্তানের এই সাবেক জেনারেল আরও বলেছেন, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি থেকে ইসরাইল ও আমেরিকা শিক্ষা নেয় নি। তারা এখন মধ্যপ্রাচ্যে যেসব যুদ্ধ চালাচ্ছে সেগুলো থেকেও তাদের শিক্ষা নেয়া উচিত।
তিনি বলেন, আমেরিকার সহযোগিতা নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিলে ইসরাইল বিপদে পড়বে। কারণ ইরান জবাব দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
ইরান আতঙ্ক তৈরি করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পারস্য উপসাগরে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে বলে আসলাম বেগ মন্তব্য করেছেন।

হাসপাতালের মর্গে লাশ, স্ত্রীর দাবি জীবিত, কর্মচারিদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি

রাজধানীর মিরপুরে প্রাইভেটকারে ধাক্কায় আমিন (৩০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। তবে নিহতের স্ত্রী দাবি করছেন, তার স্বামী জীবিত থাকার অবস্থায়-ই মর্গে রাখা হয়েছে। তিনি গিয়ে স্বামীর হাত-পা নড়াচড়া করতে দেখেছেন। এমনকি তার শ্বাস-প্রশ্বাসও চলছিলো। পরে তাকে নিয়ে আসতে চাইলে মর্গের কর্মচারির সঙ্গে স্বজনদের ধস্তাধস্তি হয়েছে।
জানা যায়, আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। পল্লবী থানার পুলিশের  উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শাহিন দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার  স্ত্রী কল্পনা জানান,  মিরপুরের বাউনিয়া বাঁধ এলাকায় থাকে আবদুল খালেকের  সন্তান। তিনি পুলিশের গাড়ি চালাতেন। ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ বক্সের পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া জানান ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।
তবে আমিনের স্ত্রীর দাবি তিনি মর্গে গিয়ে তার স্বামীকে জীবিত দেখতে পেয়েছেন। তিনি বলেন, ১১ টা ৩৬ মিনিটে ঢামেকের মর্গে আসছে। প্রথমে তাকে বলছে আইসিইউতে আছে। কিন্তু সেখানে নেয়নি। পরে দেখেন মর্গে। তিনি বলেন, ২ টার দিকে মর্গে গিয়ে দেখেন তার হাত-পা নাড়ছে। কান পেতে দেখেন শ্বাস-প্রশ্বাস চলছে। তখন চিকিৎসা দিতে বলেন, কিন্তু তারা চিকিৎসা দিতে অস্বীকৃতি জানান। বলে, মারা গেছে। ওই নারী বলেন, সেরকম কোন ডাক্তারও নেই। পরে আমিনকে বের করে নিয়ে আসেন, কিন্তু মারধর করে আবার মর্গে নিয়ে গেছে।

দুর্নীতি: অস্ট্রিয়ায় আগাম নির্বাচন

দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে ভাইস চ্যান্সেলর হেইঞ্জ ক্রিশ্চিয়ান স্ট্রাচে পদত্যাগ করার পর আগাম নির্বাচন ঘোষণা করেছেন অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর সেবাস্তিয়ান কুর্জ। স্ট্রাচের উগ্র ডানপন্থি ফ্রিডম পার্টির সঙ্গে সেখানে সরকার গঠন করেছে সেবাস্তিয়ান কুর্জের মধ্য-ডানপন্থি পিপলস পার্টি। কিন্তু এই সরকারে ছন্দপতন ঘটে, যখন স্ট্রাচের একটি গোপন ভিডিও প্রকাশ পায়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
ওই ভিডিওতে তাকে দেখা যায়, রাশিয়ান একজন বিনিয়োগকারীর সঙ্গে তার সরকারের চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছেন স্ট্রাচে। এর মাধ্যমে তাকে প্রচারণায় সুবিধা দেয়ার কথা বলা হয় রাশিয়াকে। ফলে তার এমন কর্মকা-কে ‘টিনেজার’সুলভ বলে আখ্যায়িত করছেন অনেকে। কেউ কেউ তার আচরণকে ‘স্টুপিড’ ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলেও আখ্যায়িত করছেন। এসব কারণে স্ট্রাচে সরকারের বড় ধরণের ক্ষতি করে ফেলেছেন বলে তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছে।
এ নিয়ে সেবাস্তিয়ান কুর্জ বলেছেন, প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্টকে আমি সুপারিশ করেছি নতুন নির্বাচন দিতে। তা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। যে ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে তাতে সততার সঙ্গে আমাকে বলতেই হবে- যথেষ্ট হয়েছে। ওই ভিডিওর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ক্ষমতার অপব্যবহার, আয়করদাতাদের অর্থের অপব্যবহার, দেশের মিডিয়ার অপব্যবহার। তার এমন সুপারিশের জবাবে অস্ট্রিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্দার ভ্যানডার বেলেন বলেছেন, স্ট্রাচে পদত্যাগ করার পর আগাম নির্বাচন জরুরি হয়ে পড়েছে।

সারারাত পরে গুহা থেকে বেরিয়ে এলেন মোদি

রাতভর ধ্যান করলেন। অবশেষে রোববার সকালে কেদারনাথ গুহা থেকে বেরিয়ে এলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। উত্তরাখন্ডে মন্দিরের শহর বলে পরিচিত ওই শহরে ওই গুহায় পুরো রাত কাটিয়ে দেন তিনি ধ্যানে। লোকসভা নির্বাচন যখন শেষের পথে তখন তিনি কি উদ্দেশে এই ধ্যানে গিয়েছেন তা জানা যায় নি। তবে গুহা থেকে বেরিয়ে তিনি মিডিয়াকে বলেছেন, ভারতীয়দের উচিত নিজেদের দেশের বিভিন্ন অংশ অন্বেষণ করা। দেখা উচিত দেশের বৈচিত্র। এ খবর দিয়েছে অনলাইন দ্য স্টেটসম্যান।
গুহা থেকে বেরিয়ে মোদি বললেন, আমি চাই আমার দেশের মানুষ দেশটাকে দেখুক। তারা বিদেশ সফরে যাবেন, তাতে আমার কোনোই আপত্তি নেই। কিন্তু তাদের উচিত নিজের দেশের বিভিন্ন অংশও সফর করা।
কেদারনাথ গুহার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এটা আমার সৌভাগ্য যে, মাঝে মাঝে আমি এখানে আসার সুযোগ পাই। এখানকার প্রকৃতি, পরিবেশ এবং পর্যটন আমাকে এই মিশনে আকৃষ্ট করে। মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার আগে তিনি কেদারনাথের উপাসকদের প্রশংসা করেন।
স্টেটসম্যান লিখেছে, লোকসভা নির্বাচনের সপ্তম ও শেষ দফা ভোটের একদিন আগে প্রধানমন্ত্রী মোদি গারোয়াল পাহাড়ে অবস্থিত কেদারনাথ মন্দির পরিদর্শন করেন। সেখানে প্রার্থনা করেন। এরপর গুহার ভিতর ধ্যানমগ্ন হয়ে পড়েন। পুরো রাত ধ্যানমগ্ন অবস্থায়ই কাটিয়ে দেন। গুহাটি একটি প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত বলে খুব বেশি মানুষ তা পরিদর্শন করে না। উত্তরাখন্ড রাজ্য সরকার এই গুহার ভিতরে গত বছর কিছু উন্নয়নমুলক কাজ করেছে। এতে আকর্ষণীয় রূপ নিয়েছে ওই গুহা। গুহাটি ছোট্ট, যার আয়তন ১৮ ফুট লম্বা ও ৭ ফুট চওড়া, তাতে স্বাচ্ছন্দে অবস্থান করা যায় তিনজন মানুষ।
এর নবায়ন কাজে ব্যবহার করা হয়েছে পাহাড় বিষয়ক আর্কিটেকচারদের। গুহার বাইরে সিমেন্ট ও পাথর ব্যবহার করা হয়েছিল। কিন্তু তা সরিয়ে সেখানে বসানো হয়েছে পাথর। আর ছাদ বানানো হয়েছে স্লেট পাথরে। সঙ্গে রয়েছে একটি এটাচড টয়লেট। এতে ওই গুহার বিলাসিতা বেড়ে গেছে। একই রকম চেম্বার আরো উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে উত্তরাখন্ড সরকারের।

বিরোধীদের ইফতার: পাকিস্তানে আজ সবার চোখ থাকবে বিলাওয়াল, মরিয়মের দিকে

ঈদের পর সরকার বিরোধী আলাদা আলাদা আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে পাকিস্তানের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। তার আগে আজ রোববার সব বিরোধী দলের প্রধানরা জারদারি হাউসে ‘অনানুষ্ঠানিক এক জমায়েতে’ মিলিত হচ্ছেন। এর উদ্দেশ্য, ক্ষমতাসীন ইমরান খান সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর একটি বিরোধী জোট গঠন করা। এর আগেও এমন জোট গঠনের চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু কার্যত তা ব্যর্থ হয়। তারপর আজ ইফতার আয়োজন করা হয়েছে জারদারি হাউসে। এখানেই পাকিস্তানের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করা পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) এবং পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএলএন)-এর রাজনৈতিক উত্তরসূরিরা মুখোমুখি বসছেন। তারা হলেন পিপিপির চেয়ারম্যান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর ছেলে বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের মেয়ে মরিয়ম নওয়াজ। এ ছাড়া অন্য রাজনৈতিক দলের নেতারা তো উপস্থিত থাকবেনই। তবে সবার চোখ থাকবে বিলাওয়াল ও মরিয়মের ওপর। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডন।
আজকের এই ইফতার ও ডিনার পার্টির আয়োজন করেছেন বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি। কিন্তু বিশ্লেষকরা ও মিডিয়া সংশ্লিষ্টরা একে শুধু একটি ইফতার পার্টি হিসেবে দেখছেন না। তারা এটাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন। মনে করা হচ্ছে, ইফতার উপলক্ষে এ পার্টির আয়োজন করা হলেও বিরোধীরা এখান থেকে আবার সম্মিলিতভাবে একটি জোট গঠনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
পিপিপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাতুল্লাহ বাবর বলেছেন, কোনো আনুষ্ঠানিক এজেন্ডা নেই। এটা কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠকও নয়। এটা হলো বিরোধী দলীয় নেতাদের শুধুই একটি গেট-টুগেদার। দলীয় চেয়ারম্যান বিলাওল ভুট্টো জারদারি এসব নেতার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে চান। তবে রাজনীতিকরা যখন একসঙ্গে বসেন তখন সেখানে আলোচনায় উঠে আসে রাজনীতি। তিনি বলেন, আপনি এটাকে বিরোধী দলগুলোর একটি বড় বৈঠক হিসেবে দেখতে পারেন। এ ছাড়া আপনি অদূর ভবিষ্যতে এটাকে একটি আনুষ্ঠানিক গেট টুগেদারের পথে একধাপ এগিয়ে যাওয়া হিসেবেও দেখতে পারেন।
ডন লিখেছে, ফরহাতুল্লাহ বাবর বলেছেন, বিরোধী সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন পিপিপি চেয়ারমান। আশা করা হচ্ছে, এতে যোগ দেবেন জমিয়ত উলেমায়ে ইসলাম (জেইউআই-এফ), আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টি, ন্যাশনাল পার্টি ও ছোট ছোট কিছু দল।  এ জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর প্রধান সিরাজুল হককে। কিন্তু জবাবে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, রোববার করাচিতে তার পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকবেন। আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বেলুচিস্তান ন্যাশনাল পার্টি-মেঙ্গালের (বিএনপি-এম) নেতাদের। তারা ক্ষমতাসীন জোটের শরীক।
তবে আজকের এই ইফতারে সবচেয়ে বেশি চোখ থাকবে একজন নেত্রীর ওপর। তিনি পিএমএলএনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে সদ্য নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি পিএমএলএনের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের মেয়ে মরিয়ম নওয়াজ। আজকের বৈঠকে যোগ দিতে পারেন তিনিও। যদি তিনি যোগ দেন তাহলে সাবেক দু’জন প্রধানমন্ত্রী ও ঘোর প্রতিপক্ষ নওয়াজ শরীফ ও বেনজির ভুট্টোর উত্তরসূরিদের মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক কথোপকথন।
এই ইফতার বা বৈঠক এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন পিএমএলএন প্রধান নওয়াজ শরীফ জেলে। তার ছোটভাই ও দলের প্রেসিডেন্ট শাহবাজ শরীফ অবস্থান করছেন লন্ডনে। পাকিস্তানে বর্তমানে অর্থনীতির অবস্থা খুবই শোচনীয়। তেলের দাম বেড়ে গেছে। ডলারের বিপরীতে পাকিস্তানি রুপির অবমূল্যায়ন বা দাম পড়ে গেছে অপ্রত্যাশিতভাবে। এমন এক প্রেক্ষাপটে বিরোধী দলের নেতারা ঈদের পরে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছেন। এই বৈঠক থেকে সেই আন্দোলন ঐক্যবদ্ধভাবে করার সিদ্ধান্ত আসতে পারে। দলীয় বিভিন্ন সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে এ বিষয়ে এরই মধ্যে দলগুলোর ভিতরে ভিতরে আলোচনা চলছে।
ধর্মীয় দলগুলো ঘোষণা দিয়েছে, তারা ঈদের পর পরই সরকার বিরোধী আন্দোলন শুরু করবে। তবে প্রধান দুই বিরোধী দল পিপিপি এবং পিএমএলএন এখনও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় নি। পিপিপির কিছু সূত্র ডন’কে বলেছেন, সরকার বিরোধী আন্দোলন শুরুর বিষয়ে দলের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। শুক্রবার দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়েছে রাজধানী ইসলামাবাদে। সেখানে এ বিষয়ে কথাবার্তা হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রিত্বের ফয়সালা পশ্চিমবঙ্গে! by রঞ্জন বসু

ভারতে প্রায় দেড় মাসব্যাপী নির্বাচনি প্রক্রিয়া একেবারে শেষ ধাপে। এখন গোটা দেশের মনোযোগ পশ্চিমবঙ্গের ওপর। কারণ রাজ্যের ক্ষমতাসীন তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত চরমে পৌঁছেছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মুখ্যমন্ত্রীর মমতা বন্দোপাধ্যায়ের মধ্যে বাগযুদ্ধ চলছে। এছাড়া বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা নিয়ে তুলকালাম চলছে রাজ্যে। এজন্যই পশ্চিমবঙ্গ এখন ভারতীয় সব সংবাদ মাধ্যমের মনোযোগের শীর্ষে।
এখানেই শেষ নয়, বুধবার (১৫ মে) রাতে ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনি প্রচারের মেয়াদ একদিন কমিয়ে দেয়। এ পদক্ষেপ ছিল নজিরবিহীন। সেই সঙ্গেই ‘নির্বাচনি প্রক্রিয়াতে হস্তক্ষেপে’র অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ এনে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব অত্রি ভট্টাচার্যকে। ভোটের সময় একটা রাজ্যের প্রশাসনের বিরুদ্ধে কমিশনের এত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা সত্যিই বিরল।
নির্বাচন কমিশনের এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বলেন,  ‘নির্বাচন কমিশনটা এখন বিজেপি আর আরএসএসের দালালে ভরে গেছে।’ বিজেপিও কম যায় না, দলীয় সভাপতি অমিত শাহ দিল্লিতে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘কই, গোটা ভারতে আর কোনও রাজ্যে তো এ পরিমাণ সহিংসতা হচ্ছে না। কারণটা আপনারা মমতাকেই জিজ্ঞেস করে নিন।’
ভারতের জাতীয় নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ আচমকা বিজেপি ও তৃণমূলের সংঘাতের ‘ফ্ল্যাশ পয়েন্টে’ পরিণত হওয়া প্রসঙ্গে দিল্লির রাজনৈতিক বিশ্লেষক কল্যাণ গোস্বামী বলেন, ‘কারণ এবার ভারতে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, সেই উত্তরটা সম্ভবত পশ্চিমবঙ্গ থেকেই আসবে। কথাটা একটু অদ্ভুত শোনাতে পারে, কিন্তু রাজনৈতিক বাস্তবতা সে কথাই বলছে। সেজন্যই পশ্চিমবঙ্গে এত রাজনৈতিক উত্তাপ।’
হিন্দি বলয়ের ক্ষতি পোষাতে বিজেপির ভরসা বাংলাই। বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হিন্দি ভাষাভাষী রাজ্যগুলোতে ২০১৪ সালের চমকপ্রদ ফলাফলের পুনরাবৃত্তি করা বস্তুত অসম্ভব। পাঁচ বছর আগে বিজেপি উত্তরপ্রদেশে ৮০-র মধ্যে ৭৩, রাজস্থানে ২৫, মধ্যপ্রদেশে ২৯ এর মধ্যে ২৭, ছত্তিশগড়ে ১১ এর মধ্যে ১০, হরিয়ানায় ১০টি এবং  দিল্লির সাতটি আসনই পেয়েছিল। যা বিজেপিকে একার শক্তিতেই লোকসভায় গরিষ্ঠতা পেতে সাহায্য করেছিল। কিন্তু এবার এই ফলাফল পুনরাবৃত্তির কোনও সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
প্রথম কারণ হলো, উত্তরপ্রদেশে এবার পুরনো শত্রুতা ভুলে হাত মিলিয়েছে অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টি (এসপি) ও মায়াবতীর নেতৃত্বাধীন বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি)। ফলে রাজ্যে বিজেপিবিরোধী ভোট ভাগ হওয়া অনেকটাই ঠেকানো যাবে। পর্যবেক্ষকরা ধারণা করছেন, উত্তরপ্রদেশে বিজেপি গতবারের তুলনায় কম করেও ৩০ আসন হারাবে। কারও কারও মতে, সংখ্যাটা আরও বেশি হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
অন্য দিকে, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও ছত্তিশগড় এই তিন রাজ্যেও মাত্র চার-পাঁচমাস হলো বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে হটিয়ে সরকার গড়েছে কংগ্রেস। ফলে এই তিন রাজ্যেও বিরোধীদের মনোবল তুঙ্গে, বিজেপির আসন এখানেও কমবে বই বাড়বে না।
এই ক্ষতির হিসাবটা বিজেপিও করেছে, আর সেই হারানো আসনগুলো পুষিয়ে নেওয়ার জন্য তারা বহুদিন ধরেই ‘পাখির চোখ’ করেছে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতকে। এই অঞ্চলে ৯০টির মতো লোকসভা আসন আছে। বিজেপির নীতি-নির্ধারকরা বিশ্বাস করেন, এখানেই তাদের শক্তি বাড়ানোর সুযোগ সবচেয়ে বেশি। এই রাজ্যগুলোর মধ্যে ভোট বাকি আছে শুধু পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি আসনেই। আর গত কয়েকদিন ধরে সেই পশ্চিমবঙ্গই তাই যাবতীয় রাজনৈতিক তৎপরতার কেন্দ্রে।
গত নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের ৪২আসনের মধ্যে মাত্র দু’টি পেয়েছিল বিজেপি। কিন্তু বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ নিয়ম করে রাজ্যের প্রতিটি জনসভায় বলে চলেছেন, তারা এবার রাজ্যে অন্তত ২৩টি আসনে জিতবেন। প্রধানমন্ত্রী মোদিও দু-একদিন বাদে বাদেই পশ্চিমবঙ্গে এসে জনসভা করে যাচ্ছেন। এবারে তিনি ১০ দিন পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন। আর ১৭টির মতো সমাবেশে ভাষণ দিয়েছেন। কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দলটি টাকাও খরচ করছে জলের মতো।
ভারতের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেরই বিশ্বাস, বিজেপি জোট এবার পার্লামেন্টে গরিষ্ঠতা পাবে কিনা বা তার কাছাকাছি পৌঁছতে পারবে কিনা, তা এখন অনেকটাই নির্ভর করছে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতে তাদের এই ‘মরিয়া ক্যাম্পেন’ কতটা সাফল্য পায় তার ওপর।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক জীবনের প্রথম দিকে ধ্যান-জ্ঞান ছিল রাজ্যের ক্ষমতা থেকে বামফ্রন্টকে হঠানো। আট বছরেরও বেশি হলো সেই লক্ষ্য তিনি হাসিল করে ফেলেছেন। আর এখন যে রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় পর্বে তিনি যে প্রধানমন্ত্রী হতে চান সেকথাও একেবারেই গোপন নয়।
মমতার ঘনিষ্ঠরা  বলছেন, তিনি গভীরভাবে বিশ্বাস করেন ২০১৯ সালের নির্বাচন তার সামনে দেশের প্রধানমন্ত্রিত্বের চমৎকার সুযোগ এনে দিয়েছে। বিজেপি কোনোভোবেই একশো থেকে সোয়াশ’র গণ্ডি পেরোবে না। আর কংগ্রেসও একশোর নিচেই থাকবে। সেক্ষেত্রে নন-কংগ্রেস, নন-বিজেপি একটি তৃতীয় বা ফেডারেল ফ্রন্টের সরকার গড়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হতে পারে। যার প্রধান হিসেবে মমতা ব্যানার্জি আত্মপ্রকাশ করতেই পারেন।
কলকাতায় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক অধ্যাপক শিবাজী বসুরায় বলেন, ‘গত নির্বাচনে তৃণমূল ৩৪টি আসনে জিতেছিল। এবার তাদের তার চেয়ে একটিও কম পেলে চলবে না। বরং নেত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর আসনে দেখতে চাইলে সংখ্যাটা বাড়িয়ে চল্লিশের কাছাকাছি নিয়ে যেতে হবে।’
এ কারণেই মমতা রাজ্যের জনসভায় বারবার বলছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে আমাদের বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশটাই চাই।’
এরই মধ্যে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কলকাতা অমিত শাহ’র রোড শো উত্তাল হয়ে উঠেছিল। বিজেপি সমর্থকরা সেখানে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দেওয়ার পর তৃণমূলের কর্মীরা বিজেপি সভাপতিকে ‘গো ব্যাক’ আর ‘মুর্দাবাদে’ বরণ করেছেন। সেই সংঘাতের জেরেই যেখানে ভাঙা হয়েছে বিদ্যাসাগরের মূর্তি। বিদ্যাসাগরের মূর্তি কে বা কারা ভেঙেছে কোনওটা থেকেই তা এখনও প্রমাণিত নয়। তৃণমূল ও বিজেপি অবশ্য পরস্পরকে দোষারোপ করেই চলেছে।
মমতা বলছেন, ‘হিন্দুধর্মের সংস্কারের প্রবর্তক বিদ্যাসাগরকে বিজেপি যে সইতে পারবে না সেটাই তো স্বাভাবিক।’
আর প্রধানমন্ত্রী মোদী মূর্তি ভাঙার জন্য তৃণমূলকে দায়ী করেছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন,  ‘ক্ষমতায় এলে তারা আরও বড়, আরও দামী বিদ্যাসাগরের মূর্তি নির্মাণ করবেন।’
ভারতের কোনও জাতীয় নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ বা এই রাজ্যের ৪২টি আসনের এত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা কোনও দিনই ছিল না। কিন্তু ২০১৯ সালের নির্বাচন এই রাজ্যকে একটা আলাদা মাত্রা দিয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বিশ্বাস করতে শুরু করছেন হয়তো দেখা যাবে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রিত্বের ফয়সালা করে দেবে পশ্চিমবঙ্গই।

আড়াই লাখ রোহিঙ্গার নিবন্ধন করে পরিচয়পত্র দেয়া হয়েছে -ইউএনএইচসিআর

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া কমপক্ষে আড়াই লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে নিবন্ধিত করা হয়েছে বলে শুক্রবার জানিয়েছে জাতিসংঘ। এই নিবন্ধনের মাধ্যমে তাদেরকে প্রথমবারের মতো দেয়া হয়েছে পরিচয়পত্র। এটা হলো ভবিষ্যতে মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ায় তাদের যে অধিকার, তার প্রমাণ। বার্তা  সংস্থা এএফপি’কে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে অনলাইন এসবিএস নিউজ।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক এজেন্সি ইউএনএইচসিআর বলছে, নিবন্ধন প্রক্রিয়া মানব পাচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইন প্রয়োগকারীদের কাছে একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। জেনেভায় ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র আন্দ্রেজ মাহিসিচ সাংবাদিকদের বলেছেন, মিয়ানমার থেকে আসা ১০ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর এক চতুর্থাংশের বেশিকে নিবন্ধিত করেছে এবং পরিচয়পত্র দিয়েছে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও ইউএনএইচসিআর।
২০১৭ সালের আগস্টে সেনাবাহিনীর ভয়াবহ নির্যাতন শুরুর পর থেকে কমপক্ষে ৭ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। এর আগে এসব শিবিরে অবস্থান করছিলেন তিন লাখের মতো মুসলিম রোহিঙ্গা শরণার্থী। ফলে মোট রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় কমপক্ষে ১০ লাখ। যারা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে এখানে আশ্রয় নিয়েছেন তাদের অভিযোগ, গণধর্ষণ করা হয়েছে মিয়ানমারে। গ্রামের পর গ্রামে গণহত্যা চালানো হয়েছে। জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে বাড়িঘর। গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানো হয়েছে এর পক্ষে যৌক্তিক প্রমাণ রয়েছে। ইউএনএইচসিআর এখন কক্সবাজারের গাদাগাদি করে অবস্থান করা শিবিরগুলোতে প্রায় ৯ লাখ রোহিঙ্গা আছেন বলে মনে করছে। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য ত্রাণ বিষয়ক সংগঠনের দাবির চেয়ে এই সংখ্যা কম।
আন্দ্রেজ মাহিসিচ বলেন,  রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ২০১৮ সালের জুনে। তারা যাতে তাদের দেশ মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারেন সেই অধিকারের পক্ষে এই নিবন্ধন একটি সেফগার্ড হিসেবে কাজ করবে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন নিয়ে একটি সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। কিন্তু এখনও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। নাগরিকত্বের ইস্যুতে রোহিঙ্গারা ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এমন অবস্থায় যেসব শরণার্থীর বয়স ১২ বছরের ওপরে তাদেরকে দেয়া হয়েছে নতুন ওই পরিচয়পত্র। এতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। যেমন এতে রয়েছে তাদের নাম, পারিবারিক সম্পর্ক, আঙ্গুলের ছাপ ও চোখের আইরিসের স্ক্যান। আর শরণার্থীদের মূল দেশ মিয়ানমার হিসেবে তাতে নিবন্ধিত হয়েছে। আন্দেজ মাহিসিচ বলেন, প্রায় ৬০ হাজার পরিবারের মোট ২ লাখ ৭০ হাজার ৩৪৮ জন শরণার্থীর নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। দিনে নিবন্ধিত হয়েছেন প্রায় ৪ হাজার মানুষ।

প্রবাসীর স্ত্রীকে প্রকাশ্যে লাঠিপেটার ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় প্রকাশ্যে এক ওমান প্রবাসীর স্ত্রী (৩৫) তিন সন্তানের জননীকে অর্ধনগ্ন করে লাঠিপেটা ও নির্যাতনের ভিডিও এখন সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। ওই ভিডিও দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে স্থানীয় জনতা। এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িত ব্যক্তির কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। তবে কুলাউড়া থানা পুলিশ  অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তিকে গতকাল গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। জানা যায়, উপজেলার বরমচাল ইউনিয়ন এলাকায় প্রবাসীর স্ত্রীকে লাঠিপেটাকারী ওই ব্যক্তি একই ইউনিয়নের উজানপাড়া গ্রামের মৃত সরল খানের পুত্র মোলাইম খান। স্থানীয় বাসিন্দা ও থানায় দায়েরকৃত মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নির্যাতনের শিকার ওই প্রবাসীর স্ত্রী তিন কন্যার জননী।
বড় মেয়ের কিছুদিন আগে বিয়ে দেয়া হয়। বাড়িতে ওই নারী তার দুই মেয়েকে নিয়ে থাকতেন। মোলায়েম খান এবং ওই প্রবাসীর বাড়ি পাশাপাশি গ্রামে। গত সোমবার দুপুরে প্রবাসীর স্ত্রী স্থানীয় ফুলেরতল বাজার থেকে মোবাইল ব্যাংকিকের ‘বিকাশ’ এজেন্ট থেকে নগদ টাকা উত্তোলন করে বাড়িতে আসেন। এসময় ওই নারীর পিছু ধরে মোলাইম খাঁ ওই প্রবাসীর  বাড়িতে যান। এসময় প্রবাসীর স্ত্রীকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করেন। এতে ব্যর্থ হলে মারধর করে ঘর থেকে বের করে আনেন। পরে ওই মহিলার দুই মেয়ের সামনে অর্ধনগ্ন করে প্রকাশ্যে বেধড়ক লাঠিপেটা শুরু করেন। এসময় ওই মহিলার মেজো ও ছোট মেয়ে মাকে রক্ষায় এগিয়ে আসলে তারও আঘাত পান। পরে তাদের আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে মোলাইম খান ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।
মারধরকারী অভিযুক্ত মোলাইম খান ওই  মহিলাকে নিজের বিবাহিত স্ত্রী দাবি করে স্ত্রীর আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে তাকে মারধর করেছেন বলে দাবি করেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাসহ উপজেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। নির্যাতনের শিকার ওই মহিলা মোলাইম খান তার স্বামী নয় বরং তার শ্লীলতাহরণের চেষ্টাকারী উল্লেখ করে বলেন, ‘আমার শ্বশুর-শাশুড়ি মারা গেছেন। ভাশুর (স্বামীর বড় ভাই) অন্যত্র থাকেন। আমার স্বামী ওমান প্রবাসী এবং আমার তিন মেয়ে। বড় মেয়ে বিয়ে দিয়েছি। আমি আমার দুই মেয়েকে নিয়ে একা বাড়িতে থাকি। তিনি বলেন, আমার চাচা শ্বশুরের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিষয়ে কোর্টে মামলা রয়েছে। মোলাইম খান আমার  দূরসম্পর্কের আত্মীয়। আমি মহিলা তাই চাচা শ্বশুরের সঙ্গে জমিসংক্রান্ত মামলা পরিচালনার দায়িত্ব তাকে দিই। এজন্য মাঝেমধ্যে আমার বাড়িতে আসতেন। মামলা পরিচালনার জন্য ২০১৫ সালের ২৩শে  মার্চ একই তারিখের কয়েকটি সাদা (লেখাবিহীন) স্ট্যাম্প কাগজে স্বাক্ষর নিতে আসেন মোলাইম। আমি জানতে চাইলে তিনি বলেন মামলা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজে দস্তখত দিতে হবে। আমি সরল বিশ্বাসে সেই সাদা স্ট্যাম্প কাগজে দস্তখত দেই।
কিছুদিন পর মোলাইম আমার স্বামীর কাছে মোবাইলের হোয়াটস্‌অ্যাপে স্বামীকে তালাকের হলফনামার এবং ‘কোর্টম্যারেজের’ কাগজের ছবি পাঠান। আমার স্বামী বিদেশ থেকে ওই হলফনামা কাগজের কথা আমাকে জানান। বিষয়টি আমি মোলাইমকে জিজ্ঞেস করি। পরে  ২০১৫ সালের ২৩শে  মার্চ একই তারিখের দুটি স্ট্যাম্প কাগজে সে প্রতারণার মাধ্যমে আমার দস্তখত নিয়ে (রেজিনং ৭৫৭) কাগজে ‘তালাকনামা’ এবং (রেজিনং ৭৫৮) কাগজে ‘কোর্ট ম্যারেজ’ হলফনামা দেখিয়ে আমাকে তাঁর স্ত্রী দাবি করে। তখন সে স্বামী হিসেবে মেনে নিতে আমাকে বিভিন্ন সময় শ্লীলতাহানীর চেষ্টা, হয়রানি ও আমাকে মারধরও করে। পরবর্তীকালে ২০শে ডিসেম্বর ২০১৭ সালে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে কোর্ট ম্যারেজ এবং তালাকনামা বাতিলের জন্য এফিডেভিটের (রেজি নং-৪৮২৪) মাধ্যমে আদালতে আবেদন করি। এরপর থেকে প্রায়ই সে আমাকে উত্ত্যক্ত করত। ওই মহিলা বলেন, ঘটনার দিন সোমবার দুপুরের দিকে আমি ফুলতালা বাজারে যাই এবং সেখান থেকে বিকাশে ক্যাশ আউট করে বাড়িতে ফিরে আসি।
মোলাইম আমার পিছু নিয়ে বাড়িতে আসে এবং ঘরে ঢুকে আমার গলায় শ্বাসরোধ করে রাখে। পরে আমার শাড়ি জোরপূর্বক খুলে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে এবং টেনেহিচড়ে ঘরের বাহিরে নিয়ে আমাকে কাঠের লাটি দিয়ে ব্যাপক মারধর করতে থাকে। এসময় আমার মেয়েরা এগিয়ে এলে তাদের ওপর চড়াও হয় এবং মারধর করে। এসময় সে আমার গলায় থাকা এক ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার চেইনও নিয়ে যায়। পরে আমার আত্মীয়স্বজন এসে আমাকে উদ্ধার করে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। আমার সমস্ত শরীরে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন  রয়েছে। থানায় আমি মোলাইম খানকে আসামি করে অভিযোগ করেছি। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোলাইম খান বলেন, আমার দুই স্ত্রী আছে এবং ওই নারীও আমার স্ত্রী। আমি তাকে কোর্ট ম্যারেজ করেছি। আগের স্বামীর সঙ্গে তার তালাক হয়ে গেছে। ঘটনার দিন তার বাড়িতে গেলে প্রথমে সে আমার ওপরে হামলা চালায়। একপর্যায়ে আমি আত্মরক্ষার্থে তাকে মারধর করি।
এ ব্যাপারে কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইয়ারদৌস হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন মহিলার ওপর এমন অমানবিক নির্যাতন কোনোভাবেই কাম্য নয়। মোলাইম খান ওই নারীকে পাশবিকভাবে লাঠিপেটা ও নির্যাতন করেছেন। ধর্ষণচেষ্টা ও মারধরের ঘটনায় প্রবাসীর স্ত্রী বাদী হয়ে মামলার পর অভিযুক্ত মোলায়েম খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে ওই নির্যাতনের বিষয়টি শিকার করেছে। বিষয়টি অধিকতর তদন্তের জন্য বিজ্ঞ আদালতের কাছে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।

মিমি কি চমক দেখাতে পারবেন?

পশ্চিমবঙ্গের যাদবপুর। লোকসভা নির্বাচনে এটি একটি অভিজাত আসন। এই আসনে কখনোই টানা তৃতীয়বারের মতো কোনো রাজনৈতিক দল বিজয়ী হয়নি। এখন প্রশ্ন- এই প্রবণতা কি ভাঙতে পারবেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী, এ প্রজন্মের আকর্ষণীয় অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী?
এমন প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের একজন প্রবীণ কর্মীর মনে। তার স্মৃতিপটে উঠে এসেছে ১৯৮৪ সাল। ওই সময় একজন যুবতী পরাজিত করেছিলেন পাণ্ডিত্যপূর্ণ আইনজীবী ও কমিউনিস্ট এক নেতাকে। এবার ২০১৯ সালে এসে যেন ঘটনা অনেকটা তেমনই। এবার এ মাত্রায় যুক্ত হয়েছেন একজন নতুন ‘অ্যাক্টর’। এক্ষেত্রে তৃণমূল কংগ্রেস তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করছে ৩০ বছর বয়সী বাংলা ছবির নায়িকা মিমি চক্রবর্তীকে। তাকে ব্যবহার করে টানা তৃতীয়বার এ আসনটি ধরে রাখার চেষ্টা করছে দলটি। ১৯৮৪ সালে এই আসনে তখনকার তুখোড় কংগ্রেস নেত্রী, বয়সে যিনি ছিলেন যুবতী, সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাজিমাৎ করেছিলেন। তিনি ধরাশায়ী করেছিলেন সিপিআই (এম)-এর বর্ষীয়ান নেতা ও সুপরিচিত আইনজীবী সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে।
আর এবার? এবার তৃণমূলের যুবতী অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী তীব্র চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি আরেক আইনজীবী, কলকাতার সাবেক মেয়র, সিপিআই(এম)-এর প্রার্থী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য্যের। এবার নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে পলটি খেয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন তৃণমূলের বিদায়ী লোকসভার সদস্য অনুপম হাজরা। জনপ্রিয়তার জোয়ারে তাই এই আসনটি লুফে নেয়ার জন্য বিজেপি মনোনয়ন দিয়েছে তাকে। এবার এ আসনে সুগতা বোসের পরিবর্তে তৃণমূল বেছে নিয়েছে মিমিকে। সুগতা বোস হার্ভার্ডের একজন প্রফেসর। তিনি ২০১৪ সালে তৃণমূলের হয়ে জিতেছিলেন এই আসন। তবে তিনি বলেছেন, তার বিশ্ববিদ্যালয় তাকে এবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অনুমতি দিচ্ছে না।
এই ফাঁকে মিমিকে তুরুপের তাস হিসেবে ছুড়ে দিয়েছেন মমতা। তারপর থেকেই যুবতী অভিনেত্রী থেকে রাজনীতিতে পরিণত হয়ে একের পর এক রোডশো, জনসভা করে যাচ্ছিলেন মিমি। প্রতিটি জনসভায়, রোডশোতে সমাগম ঘটে বিপুল সংখ্যক মানুষের। তৃণমূল কংগ্রেস বলছে, প্রার্থীর জনপ্রিয়তা যাচাই হবে নির্বাচনের ফলে। তারা বলছেন, মিমি বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হবেন। তার আগে এ আসনে বিজয়ী সুগতা বোস ভারতের বিখ্যাত নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোসের পরিবারের উত্তরসূরি। তিনি যে ব্যবধানে জিতেছিলেন, তার চেয়ে অনেক বেশি ভোটের ব্যবধানে মিমি জিতবেন বলে দাবি তৃণমূল কংগ্রেসের। সুগতা বোস জিতেছিলেন এক লাখ ২৫ হাজার ভোটের সামান্য কিছু বেশি ব্যবধানে।
২০০৯ সালেও এই আসনে বিজয়ী হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তখন তাদের প্রার্থী ছিলেন গায়ক, কবি কবির সুমন। ভারতে লোকসভা নির্বাচনের সপ্তম দফার ভোটে আজ রোববার ভোট হচ্ছে এই আসনে।
এ আসনে সিপিআই (এম)-এর প্রার্থী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য্য সারদা ও নারদা মামলার শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী। এ দুটি মামলায় যথাক্রমে সিবিআইয়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট ও কলকাতা হাইকোর্ট।

বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের বাণিজ্য উদ্বৃত্তি শতকরা ১৮.৬৮ ভাগ -দ্য নেশনের খবর

বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের বাণিজ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে শতকরা ১৮.৬৮ ভাগ বাণিজ্য উদ্বৃত্তি প্রত্যক্ষ করেছে পাকিস্তান। আগের অর্থবছরের সঙ্গে তুলনা করে এ কথা বলা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে পাকিস্তানের অনলাইন দ্য নেশন।
এতে বলা হয়, স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের (এসবিপি) হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সার্বিকভাবে বাংলাদেশে ৫১ কোটি ৮ লাখ ১২ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে পাকিস্তান। আগের অর্থাৎ ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের একই সময়ে তা ছিল ৪৪ কোটি ৮৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার। এর ফলে বর্তমান অর্থবছরে শতকরা ১৩.৭৯ ভাগ ইতিবাচক বাণিজ্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান আমদানি করেছে ৫ কোটি ৬৬ লাখ ৫১ হাজার ডলারে পণ্য। আগের বছরে এর পরিমাণ ছিল ৪ কোটি ৫৩ লাখ ৩ হাজার ডলার। ফলে বর্তমান অর্থ বছরের প্রথম আট মাসে বাংলাদেশী পণ্য আমদানি কমেছে শতকরা ২০ ভাগ।
রিপোর্টকালীন সময়ে বাণিজ্য উদ্বৃত্তির হিসাব করা হয়েছে। এ সময়ে ৪৬ কোটি ৫ লাখ ৭২ হাজার ডলারের বিপরীতে ৩৯ কোটি ২২ লাখ ১৯ হাজার ডলার হিসাব করা হয়েছে। এর ফলে গত বছরের একই সময়ে তুলনায় শতকরা ১৮.৬৮ ভাগ বাণিজ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বড় অবদান রেখেছে কটন ইয়ার্ন বা কটনের সুতা। আগের বছর এই সুতা পাকিস্তান রপ্তানি করেছে ৫ কোটি ৩৯ লাখ ৭২ হাজার ডলারের। আর বর্তমান অর্থবছরে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৯০ লাখ ৫ হাজার ডলার। ফলে এ খাতে শতকরা ৩.৩২ ভাগ রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
ওই রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, একই সময়ে আগের বছরে ‘ওভেন কটন ফ্যাব্রিক্স’ পাকিস্তান রপ্তানি করেছে ২৪ কোটি ১২ লাখ ৯৩ হাজার ডলারের। তা এই অর্থবছরে শতকরা ১.৪৬ ভাগ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ কোটি ৭৮ লাখ ১৮ হাজার ডলার। অন্যদিকে সিনথেটিক অর্গানিক কালারিং ম্যাটার রপ্তানি ২০ লাখ ১৩ হাজার ডলার থেকে শতকরা ৬.৮০ ভাগ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২১ লাখ ৫০ হাজার ডলার।
ডাটা অনুযায়ী, পাকিস্তানের পশুর চামড়া রপ্তানি কমেছে শতকরা ৪৮.৫৬ ভাগ। একই সময়ে আগের বছর বাংলাদেশে চামড়া রপ্তানি করেছে তারা এক কোটি ১০ লাখ ৮১ হাজার ডলারের। বর্তমান অর্থবছরে একই সময়ে তা দাঁড়িয়েছে ৫৬ লাখ ৯৯ হাজার ডলার।
ওই রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে, অন্যান্য দেশে পাকিস্তানের সার্বিক রপ্তানি এই অর্থ বছরের প্রথম আট মাসে বৃদ্ধি পেয়েছে শতকরা ০.১৬ ভাগ।

ব্রেক্সিট: চুক্তি ছাড়াই শেষ হলো লেবার-টরি আলোচনা

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের প্রত্যাহার বা বেক্সিট ইস্যুতে ছয় সপ্তাহব্যাপী আলোচনা শেষেও কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ ও বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতারা। চলতি বছর বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে প্রস্তাবিত একটি চুক্তি টানা তিনবার পার্লামেন্টে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর দুই পক্ষের মধ্যে নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
লেবার নেতা করবিন এই ব্যর্থ আলোচনার জন্য সরকারের ‘দুর্বলতা ও অস্থিতিশীলতা’কে দায়ী করেছেন। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে বলেছেন, আলোচনাটি বেশ ‘চ্যালেঞ্জিং’ ছিল। 
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, দুই পক্ষের আলোচনায় যে সিদ্ধান্তই আসুক না কেন, জুন মাসে ব্রেক্সিট কার্যকর ইস্যুতে ভোট হবে বৃটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অব কমন্সে। এর মধ্যে ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে তৈরি হতাশার জের ধরে মে’র পদত্যাগের দাবি জোরদার হয়েছে। তার নিজ দলের সাংসদরাই তার পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মে জানিয়েছেন, আগামী মাসের ভোটের পর পরই নিজের পদত্যাগের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেবেন তিনি। তবে এর আগে আগামী মাসের ভোটে নিজের প্রস্তাবিত চুক্তির পক্ষে এমপিদের সমর্থন জোগানোর শেষ চেষ্টা চালাবেন তিনি।
উল্লেখ্য, প্রাথমিকভাবে চলতি বছরের ২৯শে মার্চ থেকেই ব্রেক্সিট কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পার্লামেন্টে টানা তিনবার প্রত্যাখ্যান হয় মে প্রস্তাবিত চুক্তি। পরবর্তীতে ইইউ নেতারা ব্রেক্সিট কার্যকরের সময়সীমা চলতি বছরের ৩১শে অক্টোবর পর্যন্ত পেছায়।
এরপরই শুরু হয় টরি ও লেবারের মধ্যকার আলোচনা। এই আলোচনার উদ্দেশ্য ছিল দুই পক্ষ মিলে যৌথভাবে কোনো চুক্তি তৈরি করা যেটি পার্লামেন্টে পাস হবে। এক্ষেত্রে লেবার পার্টির প্রধান শর্ত ছিল, ইইউ’র সঙ্গে একটি একক কাস্টমস ইউনিয়নে যোগ দেয়া ও ব্রেক্সিট ইস্যুতে ফের একটি গণভোটের আয়োজন। কিন্তু ব্রেক্সিটপন্থি টরি সদস্যরা তা মানতে নারাজ ছিলেন। তাদের দাবি, যুক্তরাজ্য যদি ইইউ’র সঙ্গে কাস্টমস ইউনিয়নে যোগ দেয় তাহলে অন্যান্য দেশের সঙ্গে তারা নিজেদের ইচ্ছামতো বাণিজ্য করতে পারবে না। এ ছাড়া, দ্বিতীয় গণভোটের দাবি সম্পূর্ণভাবে অযৌক্তিক ও অগণতান্ত্রিক।
আলোচনার প্রসঙ্গে মে’কে পাঠানো এক চিঠিতে লেবার নেতা করবিন বলেন, যেহেতু আপনার জায়গায় নতুন প্রধানমন্ত্রীকে বসানোর আলোচনা চলছে, তার মানে বর্তমান সরকার অস্থিতিশীল।
পরবর্তীতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, নতুন চুক্তির জন্য করণীয় হিসেবে, তিনি বেশকিছু বিস্তৃত যুক্তি উপস্থাপন করেছিলেন। কিন্তু সরকারপক্ষ তাদের মূল ভিত্তি থেকে সরতে ইচ্ছুক নয়। এ ছাড়া, কনজারভেটিভদের মধ্যে সৃষ্ট মতভেদ এটা প্রমাণ করে যে, এই সরকারের আলোচনা করার কোনো ক্ষমতা ও অধিকার নেই। তারা ব্রেক্সিট সম্পন্ন করতে পারবে না।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক মুখপাত্র জানিয়েছেন, আমরা আলোচনায় শ্রমিকদের অধিকার ও পরিবেশ রক্ষাসহ বেশকিছু বিষয়ে বেশ অগ্রগতি করেছিলাম। তবে এটা এখন পরিষ্কার যে, আমাদের পক্ষে লেবার পার্টির সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব নয়। বিশেষ করে কাস্টমস ও দ্বিতীয় গণভোটের ইস্যুতে উভয় পক্ষের অবস্থান খুবই আলাদা। এদিকে, লেবার পার্টির সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য নিজ দল থেকে ব্যাপক সমালোচনার শিকার হতে হয়েছে মে’কে। কিন্তু মে জানিয়েছেন, পার্লামেন্টে চুক্তি পাস করতে হলে তার পক্ষে আর কোনো উপায় ছিল না।
আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার খবরে টরি ব্যাকবেঞ্চার সাইমন ক্লার্ক এক টুইটে লিখেন, ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। এই আলোচনা কখনো হওয়াই উচিত ছিল না।

ভারতে শেষ দফার ভোট নজরে পশ্চিমবঙ্গ by পরিতোষ পাল

ভারতের ১৭তম লোকসভা নির্বাচনের সপ্তম তথা শেষ দফায় আজ রোববার ৮টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ৫৯টি কেন্দ্রে ভোট নেয়া হবে। শেষ দফার এই ভোটে সবচেয়ে বেশি নজরে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। আজ ভোট নেয়া হচ্ছে বিহারের ৮টি, চণ্ডীগড়ের ১টি, হিমাচল প্রদেশের ৪টি, ঝাড়খণ্ডের ৩টি, মধ্য প্রদেশের ৮টি, পাঞ্জাবের ১৩টি, উত্তরপ্রদেশের ১৩টি ও পশ্চিমবঙ্গের ৯টি আসনে। ভারতে এবার সাতদফায় লোকসভার ভোট নেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ৬ দফায় লোকসভার ৫৪৩টি আসনের মধ্যে ৪৮৩টি আসনে ভোট নেয়া হয়ে গেছে। আজকের ভোটের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে এক মাসব্যাপী ভারতের লোকসভা নির্বাচন। শেষ দফার ভোটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সহ ১০ জন বিজেপি নেতার ভাগ্য নির্ধারিত হচ্ছে। শুক্রবার ভোট প্রচারের শেষ বেলায় এক সংবাদ সম্মেলন করে বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ ঘোষণা করেছেন, এনডিএ জোট ৩০০’র বেশি আসন পাবে।
এবং তারাই সরকার গঠন করবে। অন্যদিকে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী বলেছেন, আমাদের কৌশল ছিল বিজেপির সবক’টি দরজা বন্ধ করে দেয়া। আমরা সেটাই করেছি। আজকের নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তবে শেষ দফায় পশ্চিমবঙ্গের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অন্য ছয় দফার চেয়ে আরো কঠোর করা হয়েছে। অন্য দফাগুলোতে পশ্চিমবঙ্গে বেশকিছু সংঘর্ষ ও ভোট লুঠের ঘটনা ঘটেছে। আজ পশ্চিমবঙ্গে ভোট নেয়া হচ্ছে কলকাতা ও দুই ২৪ পরগণার উত্তর কলকাতা, দক্ষিণ কলকাতা, যাদবপুর, দমদম, বসিরহাট, বারাসাত, ডায়মন্ড হারবার, মথুরাপুর ও জয়নগর  লোকসভা কেন্দ্রে। এদিনের ভোটের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নির্বাচন কমিশন বেশকিছু নির্দেশ আগেভাগেই জারি করেছেন। বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে সংঘর্ষ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্বাচন কমিশন নজিরবিহীনভাবে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই নির্বাচনী প্রচার বন্ধ করে দিয়েছিলেন।
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আগের ছয় দফায় যেসব জায়গায়  ভোট হয়েছে, সেখানকার দুষ্কৃতকারীদের তাদের এলাকায় আটক করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে রাজ্যের নির্বাচনী আধিকারিকদের স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে আজকের ভোটে কোনো অশান্তির ছবি দেখতে চায় না কমিশন। আজকের ভোটে ৯টি কেন্দ্রের ১৭ হাজার ৭৮টি বুথে ৭১০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়োগ করা হয়েছে। কমিশনের মতে, পশ্চিমবঙ্গ থেকে অনেক অভিযোগ এসেছে। তাই অন্য রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে অনেক  বেশি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সবক’টি বুথেই কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে বলে জানা গেছে।  ৪৬১টি  কিউআরটি (কুইক  রেসপন্স টিম) রাখা হয়েছে। বলা হয়েছে গণ্ডগোলের খবর পাওয়ার ৫-৭ মিনিটের মধ্যে এই টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছাবে। পশ্চিমবঙ্গে আজকে যে সব আসনে ভোট হচ্ছে তার মধ্যে কলকাতার উত্তর ও দক্ষিণ, যাদবপুর ও দমদমের দিকে সকলের আগ্রহ রয়েছে। এই কেন্দ্রগুলো তৃণমূল কংগ্রেসের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে বিজেপি যেমন তৎপর, তেমনি জোরদার প্রচার চালিয়েছে সিপিআইএম। যাদবপুর কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছে অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। অন্যদিকে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন অধ্যাপক অনুপম হাজরা। আর সিপিআইএম প্রার্থী হয়েছেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। উত্তর কলকাতা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারাতে বিজেপি প্রার্থী রাহুল সিনহা উঠেপড়ে লেগেছেন। দক্ষিণ কলকাতা কেন্দ্রে সিপিআইএমের নন্দিনী মুখোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের মালা রায়কে হারানোর ব্যাপারে আশাবাদী।
এই কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন নেতাজি পরিবারের সদস্য চন্দ্র কুমার বসু। কলকাতা শহরতলির দমদম কেন্দ্রে জয় ছিনিয়ে আনতে বিজেপির প্রার্থী শমিক ভট্টাচার্য জোরদার প্রচার চালিয়েছেন। অবশ্য এই কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী একাধিকবারের সাংসদ সৌগত রায় জয়ের ব্যাপারে খুবই আশাবাদী। এই কেন্দ্রে সিপিআইএমের প্রার্থী নেপাল দেব ভট্টাচার্য। সীমান্তবর্তী বসিরহাট কেন্দ্র ঘিরে এবার প্রবল উৎসাহ দেখেছে রাজ্যের মানুষ। এই কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী করেছে অভিনেত্রী নুসরাত জাহানকে। আর নুসরাতের বিরুদ্ধে বিজেপির প্রার্থী সায়ন্তন বসু অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। সিপিআইএম এবং কংগ্রেসের প্রার্থী থাকলেও যত আলোচনা বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী নিয়ে। ডায়মন্ডহারবার কেন্দ্রের প্রার্থী তৃণমূল কংগ্রেসের যুব নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পুনরায় জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। এ ছাড়া বারাসাত, জয়নগর ও মথুরাপুরেও তৃণমূল প্রার্থীরা জয় নিয়ে বেশ প্রত্যয়ী। তবে ভোট কতটা সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশে হবে সেদিকে তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের মানুষ। পশ্চিমবঙ্গের জন্য নিযুক্ত নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক অজয় নায়েক দাবি করেছেন, আজকের ভোট অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হবে।

তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

চলতি মাসের শেষের দিকে একসঙ্গে ৩ দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৮-৯ দিনের প্রস্তাবিত ওই সফর শুরু হবে জাপান দিয়ে। মধ্যখানে সৌদি আরব আর সমাপ্তি ঘটবে ফিনল্যান্ড দিয়ে। কূটনৈতিক সূত্র প্রধানমন্ত্রীর টোকিও এবং জেদ্দা সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে সরকার প্রধানের হেলসিঙ্কি সফরের বিষয়ের কর্মসূচি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। একান্ত সরকারি সফরটিতে দ্বিপক্ষীয় উপাদান যুক্ত করতে কাজ করছে ঢাকা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন অবশ্য মানবজমিনকে বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর ফিনল্যান্ড সফরে দ্বিপক্ষীয় কর্মসূচি মুখ্য নয়।
রাষ্ট্র বা সরকার প্রধান যে কোনো দেশ সফরে গেলে হোস্ট কান্ট্রির বিভিন্ন পর্যায়ে দেখা-সাক্ষাৎ তথা ভাবের আদান-প্রদান হয়। হেলসিঙ্কিতেও সেটি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্রমতে, সব কিছু  ঠিক থাকলে প্রধানমন্ত্রী আগামী ২৮ শে মে টোকিও’র উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বেন। ২৯ শে মে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে সরকার প্রধানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এ বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অংশ হিসাবে বাংলাদেশকে জাপানের অতিরিক্ত ২২০ কোটি ডলার দেয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতা সই হওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। দ্বিপক্ষীয় ওই বৈঠক ছাড়াও টোকিওতে ৩০শে মে অনুষ্ঠেয় দু’দিনব্যাপী ‘ফিউচার অব এশিয়া’ সম্মেলনের সমাপনীতে অংশ নেবেন শেখ হাসিনা। ওই সেশনে রোহিঙ্গা সংকটসহ দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ সংশ্লিস্ট বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন তিনি। তাছাড়া সরকার প্রধান পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক বৈঠকেও রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাপানের আরও সক্রিয় সহযোগিতা চাইবে বাংলাদেশ।
সৌদি সফর: জাপান সফর শেষে ৩০ মে টোকিও থেকে সরাসরি সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৩১ মে মক্কায় অনুষ্ঠেয় ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনে (ওআইসির) অংশ নিবেন তিনি। ওই সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরবেন। ওআইসি সম্মেলনে অংশ নেয়া ছাড়াও সরকার প্রধানের ওমরাহ পালনের পরিকল্পনা রয়েছে। সৌদি আরব থেকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর ফিনল্যান্ড সফরে যাওয়ার আলোচনা চলছে। সে ক্ষেত্রে ঈদের পর তিনি দেশে ফিরবেন। এই মুহূর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক) কামরুল আহসানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রতিনিধি দল ফিনল্যান্ড সফরে রয়েছে। গতকাল দুই দেশের মধ্যকার নিয়মিত আলোচনার ফোরাম পলিটিক্যাল কনসালটেশন বা রাজনৈতিক পরামর্শ বৈঠক হয়েছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর হেলসিঙ্কি সফর নিয়ে আলোচনা হয়েছে, কিন্তু অনেক কিছুই চূড়ান্ত হয়নি। ঢাকার দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলছেন প্রধানমন্ত্রীর তৃতীয় দেশ সফরের সূচীতে শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত সংযোজন-বিয়োজন বা পরিবর্তন আসতে পারে।
ওআইসি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি বাদশাহ’র আমন্ত্রণ: এদিকে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ রমজানের শেষ নাগাদ মক্কায় অনুষ্ঠেয় ১৪তম ওআইসি (অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন) সম্মেলনে যোগদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ঢাকায় নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আমের ওমর সালেম বৃহস্পতিবার সকালে গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাদশাহর আমন্ত্রণপত্রটি তার কাছে হস্তান্তর করেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রণ প্রহণ করেছেন এবং সম্মেলনে তার উপস্থিতির বিষয়ে রাষ্ট্রদূতকে আশ্বস্ত করেছেন। সৌদি দূত প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, সৌদি বাদশাহ তাকে আনন্তরিকতার সঙ্গে ওআইসি সম্মেলনে যোগদানের আমন্ত্রণ, সেই সঙ্গে মাহে রমজানের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এ সময় আমন্ত্রণ জানানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী সৌদি বাদশাহ’র প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। বৈঠকে বাংলাদেশ এবং সৌদি আরবের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রিয়াদের সঙ্গে ঢাকার একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশ বিশেষ মূল্য দিয়ে থাকে।
জবাবে ভারপ্রাপ্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত বলেন, তার দেশও বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে মূল্যায়ন করে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন এবং প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান এ সময় উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, আসন্ন ওআইসি সম্মেলনে সদস্যপদ স্থগিত করার কারণে সিরিয়া ছাড়া বাকী সব সদস্যরাষ্ট্রগুলো শীর্ষ নেতারা অংশ নেবেন। সম্মেলনে ফিলিস্তিন সংকটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হবে। সম্মেলনের মক্কা ঘোষণায় ইসলামিক রাষ্ট্রগুলোর জন্য প্রযোজ্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত এবং ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ঐক্য এবং সংহতি বজায় রাখার অঙ্গীকার অব্যাহত রাখার বিষয়েও তাগিদ থাকবে। পবিত্র নগরী মক্কার দিকে তাক করে থাকা ব্যালেস্টিক মিসাইলের বিষয়ে ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠকের তিন বছর পর এবারের ১৪তম ওআইসি শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০১৬ সালের এপ্রিলে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সর্বশেষ সম্মেলনটি হয়েছিল। এতে প্রায় সব সদস্য রাষ্ট্রের অংশগ্রহণ ছিল।

জলবায়ু পরিবর্তনে হারিয়ে যাবে সুন্দরবনের বাঘ

বিশ্বে বাঘের যে কয়টি বৃহৎ আবাসস্থল এখনও টিকে আছে, তার মধ্যে সুন্দরবন একটি। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রসীমার উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সেটিও ধ্বংসের সম্মুখীন। নতুন এক গবেষণায় এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এ খবর দিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।
সোমবার জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক আবাসস্থল ঝুঁকিতে পড়ায় বিশ্বের স্থলভাগের ৫ লাখ প্রজাতির প্রাণির অস্তিত্ব হুমকির মুখে। এদের মধ্যে বাঘ অন্যতম। বাংলাদেশ ও ভারতে ৪ হাজার বর্গমাইলের সুন্দরবনে রয়েছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন। বনের সমৃদ্ধ বাস্তুতন্ত্রে টিকে আছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার সহ কয়েকশ’ প্রজাতির প্রাণি। কিন্তু বনের ৭০ শতাংশ ভূমিই সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র কয়েক ফুট উঁচুতে। ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে অনায়াসেই প্লাবিত হবে এই বনের বেশিরভাগ। সায়েন্স অব দ্য টোট্যাল এনভারনমেন্ট জার্নালে অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের গবেষকরা এই তথ্য দিয়েছেন। এতে বলা হয়, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে যে পরিবর্তন আসবে পৃথিবীতে তা সুন্দরবনে থাকা কয়েকশ’ বাঘকে নির্মূল করতে যথেষ্ট। ১০ গবেষকের করা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৭০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের সুন্দরবনে বাঘের উপযোগী কোনো আবাসস্থল থাকবে না।
খবরে বলা হয়, সুন্দরবনের প্রাণিজগতের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের সম্ভাব্য নির্মম প্রভাব পড়ার আশঙ্কা অন্যান্য আরও গবেষণায়ও উঠে এসেছে। ২০১০ সালে ওয়ার্ল্ডওয়াইড ফান্ড ফর ন্যাচার-এর নেতৃত্বে এক গবেষণায় দেখা যায়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১১ ইঞ্চি বৃদ্ধি পেলে সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা আগামী কয়েক দশকে ৯৬ শতাংশ হ্রাস পাবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইতিমধ্যেই বিশ্বের বিপন্ন স্তন্যপায়ী প্রাণিদের অর্ধেক আক্রান্ত হয়েছে।
সুন্দরবন নিয়ে হওয়া নতুন গবেষণার প্রধান লেখক শরিফ এ. মুকুল। মুকুল ও তার সহকর্মীরা সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির বাইরেও বাঘের ওপর অন্যান্য ঝুঁকির বিষয়টি খতিয়ে দেখেছেন। জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়াও অন্যান্য আরও বিষয়ও বাঘের অস্তিত্বের জন্য হুমকি বলে খুঁজে পেয়েছেন তারা। ১৯ শতকের শুরুর দিক থেকে শিকার ও বন্যপ্রাণীর অবৈধ পাচারের ফলে বাঘের সংখ্যা ১ লাখ থেকে কমে ৪ হাজারে নেমে এসেছে। বাংলাদেশের ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণি ব্যবস্থাপনার সহকারী অধ্যাপক ড. মুকুল বলেন, ‘অনেক কিছু ঘটতে পারে। সাইক্লোন বা ওই এলাকায় কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটলে বা খাদ্য ঘাটতি দেখা দিলে পরিস্থিতি আরও করুণ হতে পারে।’
গত অক্টোবরে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিজ্ঞান প্যানেল একটি দীর্ঘ প্রতিবেদন দাখিল করে। এতে বলা হয়, যদি গ্রিনহাউজ গ্যাসের নির্গমন বর্তমান হারে অব্যাহত থাকে, তাহলে ২০৪০ সাল নাগাদ বায়ুমন্ডল প্রাক-শিল্প যুগের চেয়ে ২.৭ ডিগ্রি বেশি উষ্ণ হয়ে উঠবে। এই উষ্ণতা বৃদ্ধি খাদ্যশৃঙ্খল, কোরাল রিফ ও বন্যাপ্রবণ অঞ্চলে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। বাংলাদেশের মতো দরিদ্র ও ঘনবসতির দেশগুলোতে এর প্রভাব থাকবে আরও বেশি।

দ্রুতই ভারতীয়দের চেয়ে ধনী হবেন বাংলাদেশীরা, বলছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড

আসছে ২০২০-এর দশক হবে এশিয়ান দশক। ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখবে যেসব দেশ, তাদের মধ্যে এই মহাদেশেরই আধিপত্য। এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ, ভারত, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার ও ফিলিপাইন এই ধারা ধরে রাখবে। বৈশ্বিক ব্যাংক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের থিমেটিক রিসার্চের প্রধান মাধুর ঝা ও বৈশ্বিক প্রধান অর্থনীতিবিদ ডেভিড ম্যান-এর গবেষণা প্রতিবেদনের বরাতে এ খবর দিয়েছে ব্লুমবার্গ। খবরে বলা হয়, এশিয়ার এই দেশগুলো ছাড়া আফ্রিকার ইথিওপিয়া ও আইভরিকোস্ট ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির ধারায় পৌঁছাতে পারে বলে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের প্রতিবেদনে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির অর্থ প্রতি ১০ বছরে জিডিপির আকার দ্বিগুণ হওয়া। ফলে মাথাপিছু আয়ও বৃদ্ধি পাবে। আর এই দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে আছে ভিয়েতনাম। স্ট্যান্ডার্ড চ্যার্টার্ড ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ভিয়েতনামের মাথাপিছু আয় ২৫০০ ডলার। ২০৩০ সালে তা গিয়ে দাঁড়াবে ১০৪০০ ডলারে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকবে ফিলিপাইন। বর্তমানে ৩১০০ ডলার দেশটির মাথাপিছু আয়। ২০৩০ সালে এই আয় ৬৯০০ ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। আর ভারতকে টপকে দ্বিতীয় অবস্থানেই রয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমানে মাথাপিছু আয়ের দিক থেকে ভারতের চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও, ২০৩০ সাল নাগাদ ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ। বর্তমানে ভারতের মাথাপিছু আয় ১৯০০ ডলার, আর বাংলাদেশের ১৬০০। তবে ১০ বছর পর বাংলাদেশের হবে ৫৭০০ ডলার, আর ভারতের ৫৪০০।
আগামী ১০ বছর পর গোটা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশের বসবাসই হবে দক্ষিণ এশিয়ায়। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বলছে, জনতাত্ত্বিক মুনাফা বা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড (জনসংখ্যায় তরুণদের আধিক্য)-এর কারণে লাভবান হবে ভারত। অপরদিকে বাংলাদেশ যদি স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ বাড়ায়, তাহলে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
২০১০ সালে যখন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড প্রথমবারের মতো ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির দেশগুলোর তালিকা করা শুরু করে, তখন সেখানে আফ্রিকা ও এশিয়ার দেশগুলোর সংখ্যা ছিল প্রায় সমান। তালিকায় ছিল চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, নাইজেরিয়া, ইথিওপিয়া, তাঞ্জানিয়া, উগান্ডা ও মোজাম্বিক। তবে প্রায় ৪ দশক ধরে এই তালিকায় ধারাবাহিকভাবে থাকলেও, এখন বাদ পড়েছে চীন। এই তালিকায় এখন চীনের অনুপস্থিতি দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিতে মন্দার দিকটি ফুটিয়ে তুলছে। এছাড়া ক্রমেই উচ্চ মাথাপিছু আয়ের দেশ হওয়ায় চীনের পক্ষে আগের সেই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা বেশি কঠিন। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের অনুমান, আসছে দশকে ৫.৫ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখবে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীন। সাব-সাহারান দেশগুলোর সম্ভাবনাও মিইয়ে গেছে। বিশ্লেষকরা এজন্য দেশগুলোর সংস্কার কার্যক্রমে ধীরগতিকে দায়ী করছে। ঝা ও ম্যান লিখেছেন, দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সর্বরোগের ওষুধ নয়। এর ফলে আয় বৈষম্য, অপরাধ ও দূষণ বৃদ্ধি পেতে পারে। কিন্তু তা সত্ত্বেও, এর ইতিবাচক দিকই বেশি।