Wednesday, June 15, 2011

জয়ের খোঁজে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট

মাত্র কয়েক দিন আগেও যে দলটার মাঠে নামা মানেই জয় একরকম নিশ্চিতই ছিল, সেই প্রবল পরাক্রমশালী অস্ট্রেলিয়া এখন যেন জয়ের স্বাদ-গন্ধও ভুলতে বসেছে। আজ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে হারলে টানা ছযটি ম্যাচ হারার লজ্জাজনক নতুন রেকর্ড গড়ে ফেলবে অসিরা। অ্যাশেজ সিরিজের ভয়াবহ ব্যর্থতার পর এখন নিশ্চিতভাবেই সেই রেকর্ডের হাতছানি এড়াতে মরিয়া হয়েই মাঠে নামবে তারা। অন্যদিকে অ্যাশেজ সিরিজ ও প্রথম টি-টোয়েন্টিটা জেতার পর ইংল্যান্ড অনেকখানিই এগিয়ে থাকবে মানসিকভাবে।
অ্যাশেজ সিরিজের পর অনেকগুলো পরিবর্তন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট। মাইকেল ক্লার্ক আকস্মিকভাবে ক্রিকেটের এই সংক্ষিপ্ত সংস্করণটিকে বিদায় জানানোর পর অধিনায়কত্বের দায়িত্ব নিয়েছেন ক্যামেরন হোয়াইট। সহ-অধিনায়ক নির্বাচিত হয়েছেন টিম পেইন। দুটি নতুন মুখও দেখা গেছে অস্ট্রেলিয়া দলে। ডানহাতি মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান অ্যারোন ফিঞ্চ ও বাঁহাতি স্পিনার স্টিভ ওকেফি। দীর্ঘদিন পর দলে ফিরেছেন অসি স্পিডস্টার ব্রেট লি। কিন্তু এই পরিবর্তনগুলোও অস্ট্রেলিয়াকে এনে দিকে পারেনি কাঙ্ক্ষিত জয়টা।
সফরকারী ইংল্যান্ড অবশ্য এ বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী দল। কিন্তু সেই দলের অনেকেই নেই এই অস্ট্রেলিয়া সফরে। তাতেও অবশ্য খুব বেশি অসুবিধায় পড়তে হয়নি ইংলিশদের। আজমল শাহজাদ আর মাইকেল ইয়ার্ডি বল হাতে প্রত্যাশার চেয়েও কিছুটা ভালো পারফরমেনস দেখিয়েছেন। মিডল অর্ডারে ইংল্যান্ডের একটা ভালো ভরসার জায়গা তৈরি করেছেন ইয়ন মরগান। প্রথম ম্যাচে তিনি খেলেছেন ৩৩ বলে ৪৩ রানের অসাধারণ এক ইনিংস। অভিষিক্ত ক্রিস ওয়াকেস বল হাতে ভালো পারফরমেনসের পর ব্যাট হাতেও খেলেছেন অপরাজিত ১৯ রানের ম্যাচ জয়ী ইনিংস। সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে এ মুহূর্তে কিছুটা ভালো অবস্থানেই আছে ইংল্যান্ড।
বিশ্বকাপের আগে শেষ প্রস্তুতিতে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া দুই দলই চাইবে নিজেদের প্রস্তুতি ও মনোবল বৃদ্ধির কাজটা ভালোভাবে সেরে ফেলতে। বেশ কিছুদিনের লাগাতার সাফল্যের পর অনেকখানিই সুবিধাজনক অবস্থানে আছে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে নিজেদের হারানো গৌরব ফিরে পেতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে অসিরা। ইংল্যান্ডের জয়ের ধারা অব্যাহত রাখা আর অস্ট্রেলিয়ার আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে কে জয়ী হয়—সেটাই এখন দেখার বিষয়।

ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান থেকে সরে গেলেও মার্কিন বাহিনী থাকবে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, ন্যাটো বাহিনী ২০১৪ সালের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সরে এলেও মার্কিন বাহিনী আফগান সরকারের সহযোগিতায় নিয়োজিত থাকবে। সেখানে তারা আফগান সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেবে। ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে গতকাল শুক্রবার পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে একটি সংবাদমাধ্যমকে ওবামা এ কথা বলেন। আফগান সরকারের হাতে ২০১৪ সালের মধ্যে নিরাপত্তার দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়াসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে গতকাল লিসবনে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ন্যাটো সম্মেলন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাসহ ন্যাটোভুক্ত ২৮টি দেশের নেতারা এসে পৌঁছেছেন। ন্যাটোর সদস্যদেশের বাইরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেবসহ ২০টি দেশের প্রতিনিধিরাও এতে যোগ দিচ্ছেন।ন্যাটো গঠনের পর গত ৬১ বছরের মধ্যে এ সম্মেলনকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।কর্মকর্তারা বলেছেন, ২০১৪ সালের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে ন্যাটো সব সেনা সরিয়ে নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সম্মেলন শুরুর আগে গতকাল বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ন্যাটোর মহাসচিব আন্দ্রেস ফো রাসমুসেন বলেন, ২০১৪ সালের মধ্যে আফগানিস্তানের হাতে ন্যাটোর নিরাপত্তার দায়িত্ব হস্তান্তর করাকে তিনি বাস্তবমুখী বলে মনে করেন। তবে এ সময়ের মধ্যে তাঁরা যে আফগানিস্তান থেকে সরে আসবেনই, ব্যাপারটি এমন নয়। তিনি বলেন, যত দিন পর্যন্ত তাঁরা মনে করবেন সেখানে ন্যাটোর উপস্থিতি জরুরি, তত দিন তাঁরা সেখানে থাকতে অঙ্গীকারবদ্ধ। আফগান যুদ্ধে এ পর্যন্ত দুই হাজার দুই শর বেশি ন্যাটো সেনা গেরিলা হামলায় নিহত হয়েছে। গতকালও আফগানিস্তানে রাস্তার পাশে পেতে রাখা বোমার বিস্ফোরণে ন্যাটোর একজন সেনা নিহত হন। সব মিলিয়ে এ বছর সেখানে নিহত ন্যাটো সেনার সংখ্যা ৬৫৪ জনে পৌঁছেছে।আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই অভিযোগ করেন, ন্যাটো বাহিনীর সদস্যরা বেসামরিক আফগান নাগরিকদের বাড়িতে ঢুকে হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছেন বলে তাঁদের কাছে তথ্য রয়েছে। তিনি এসব তৎপরতা থেকে তাঁদের বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। সম্মেলনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, লিসবন সম্মেলনে আফগান পরিস্থিতিকেই মূলত প্রাধান্য দেওয়া হবে। সম্মেলনে আরও যেসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে, সেগুলো হলো—ইউরোপের আকাশকে ন্যাটো বাহিনীর জন্য নিরাপদ করতে সেখানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, ন্যাটোর প্রশাসন ব্যবস্থায় সংস্কার আনা ইত্যাদি। ইউরোপে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক ব্যবস্থা জোরদার করার বিষয়ে রাশিয়া শুরু থেকে বিরোধিতা করে আসছিল। তাদের অভিযোগ, এর মাধ্যমে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো রাশিয়ার পরমাণু স্থাপনাগুলোকে হুমকির মুখে নিয়ে যাবে। রাশিয়াকে এ বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা দিতে ন্যাটো তার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ কার্যক্রমে দেশটিকে অন্তর্ভুক্ত করতে রাজি হয়েছে। এ কারণে প্রেসিডেন্ট মেদভেদেভকে সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ গুল লিসবনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের বলেন, ন্যাটোর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কার্যক্রম শুধু ইরানকে উদ্দেশ্য করে পরিচালনা করা ঠিক হবে না। তিনি বলেন, শুধু একটি দেশকে কোণঠাসা করার লক্ষ্য নিয়ে এ ধরনের কার্যক্রম শুরু হলে তাতে তাঁদের সমর্থন থাকবে না।

পুঁজিবাজারে উল্লম্ফনের পর আবার দরপতন

দেশের পুঁজিবাজারে আজ মঙ্গলবার উল্টো চিত্র দেখা গেছে। উল্লম্ফনের এক দিন পর আজ আবার দরপতন হয়েছে। দিনের লেনদেন শেষে দুই স্টক এক্সচেঞ্জে বেশির ভাগ শেয়ারের দাম কমায় সূচক কমেছে। তবে ডিএসইতে গতকালের চেয়ে লেনদেন বাড়লেও সিএসইতে কমেছে। আজ ব্যাংক, বিমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় সব খাতেই দরপতন হয়েছে।
এ ব্যাপারে বাজার বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে বাজারে আস্থার সংকট বিরাজ করছে। এর ফলে বড় বড় বিনিয়োগকারী বাজার থেকে দূরে রয়েছেন। ফলে বাজারে অর্থপ্রবাহ অনেক কমে গেছে। এ ছাড়া অর্থবাজারে সুদের হার বেশি হওয়ায় অনেকে সেদিকে ঝুঁকছেন। তিনি বলেন, অর্থবাজার ও পুঁজিবাজার পরস্পর প্রতিযোগিতামূলক বাজার। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
আবু আহমেদ আরও বলেন, প্রস্তাবিত ২০১১-১২ অর্থবছরের বাজেটে শেয়ারবাজার বিষয়ে পলিসি সাপোর্ট দরকার ছিল। কিন্তু বাজেটে এটা করা হয়নি। এ অবস্থায় ঠেক দিয়ে বাজার ভালো রাখার চেষ্টা করা হলেও বাস্তবে এর ভালো ফল দেখা যাচ্ছে না।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, আজ দিন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক ৮৭.৪৩ পয়েন্ট কমে ৫,৮১৭.২৯ পয়েন্টে দাঁড়ায়। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৫১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ২৪টির, কমেছে ২১৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে আটটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে ৬০৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ৩৯ কোটি টাকা বেশি।
ডিএসইতে আজ সূচক বাড়ার মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হয়। লেনদেনের পাঁচ মিনিটের দিকে সূচক ৭০ পয়েন্ট বেড়ে যায়। তবে দুপুর সাড়ে ১২টার পর থেকে সূচক কমতে শুরু করে। বেলা দুইটায় সূচক কমে যায় ৬১ পয়েন্ট। সূচক কমার এ ধারা লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।
খাত অনুযায়ী বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ডিএসইতে তালিকাভুক্ত অব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সিমেন্ট ও সিরামিক খাতের সব প্রতিষ্ঠানের দরপতন হয়। এ ছাড়া ব্যাংকিং খাতের ৩০টির মধ্যে ২৪টির, প্রকৌশল খাতের ২৩টির মধ্যে ২০টির, খাদ্য খাতের ১৫টির মধ্যে ১২টির, জ্বালানি খাতের ১২টির মধ্যে ১১টির, বিমা খাতের ৪৪টির মধ্যে ৪২টির, ওষুধ খাতের ২০টির মধ্যে ১৮টির, বস্ত্র খাতের ২৫টির মধ্যে ২১টির ও টেলিযোগাযোগ খাতের একমাত্র প্রতিষ্ঠান জিপির দরপতন হয়।
ডিএসইতে আজ লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো ইউসিবিএল, ইস্টার্ন ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, এনবিএল, বিএসআরএম স্টিল, আফতাব অটো ও এবি ব্যাংক।
আজ চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ২২০.৪৮ পয়েন্ট কমে ১৬১৫৪.১২ পয়েন্টে দাঁড়ায়। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৮৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ২৮টির, কমেছে ১৫৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আজ ৮৮ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ছয় কোটি টাকা কম।

বড় দরপতনের পরদিনই বাজারে উল্লম্ফন

বড় দরপতনের পরদিনই ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের পুঁজিবাজার। এভাবে ২০১১-১২ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার পরবর্তী দুই কার্যদিবসে বাজার বিপরীতমুখী আচরণ করল। প্রথম কার্যদিবসে বাজারে বড় ধরনের দরপতন ঘটে। আর দ্বিতীয় কার্যদিবসে তার উল্টো চিত্র ছিল দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জে।
হরতালের কারণে গতকালও ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে কম। তবে হরতালের প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনেও লেনদেন শুরুর নির্ধারিত সময়ের আগেই দুই বাজারে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর কোরাম পূর্ণ হয়। গতকাল লেনদেন চলাকালে ঢাকার বাজারে কিছু গুজব ছড়িয়ে পড়ে। তবে দিনশেষে কোনোটিরই সত্যতা পাওয়া যায়নি।
প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল সোমবার দিনশেষে শেয়ারের সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ২২৮ পয়েন্ট বা প্রায় ৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৯০৫ পয়েন্টে। গত রোববার সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক কমেছিল ৩১৩ পয়েন্ট। রোববার ঢাকার বাজারে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে মাত্র পাঁচটি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছিল। আর গতকাল ছিল ঠিক এর উল্টো চিত্র। এদিন লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম কমার তালিকায় ছিল মাত্র সাতটি কোম্পানি।
বাজারের এই উল্টো চিত্রের কারণে ডিএসইর দাম কমার শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকা পূর্ণ হয়নি। একইভাবে আগের দিন অপূর্ণাঙ্গ ছিল দাম বাড়ার শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকাটি।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) গতকাল শেয়ার লেনদেনে অভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ায় সার্বিক মূল্যসূচকও বেড়েছে। এদিন সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক ৫৬৬ পয়েন্ট বেড়ে হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার ৩৭৫ পয়েন্ট। আগের দিন সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক কমেছিল ৭৬৫ পয়েন্ট।
পর পর দুই দিনে বাজারের বিপরীত চিত্রের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে সিএসইর সভাপতি ফখরউদ্দিন আলী আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাজেট ঘোষণার আগেই বিনিয়োগকারীদের বড় একটি অংশ শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছিল। আরেকটি অংশ বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য নতুন প্রণোদনা থাকবে—এমন আশায় শেয়ার কিনেছিল। যারা বাজেটে ভালো কিছু থাকবে, এই আশায় বাজারে বিনিয়োগ করেছিল, বাজেট ঘোষণার পর তারা হতাশ হয়। সেই হতাশারই নেতিবাচক প্রভাব আমরা গত রোববারের বাজারে দেখেছি। আরেকটি অংশ যারা আগেই বাজার থেকে বিনিয়োগ তুলে নিয়েছিল, বড় পতন তাদের সামনে বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরি করে দেয়। নতুন করে তারা আবার বাজারে বিনিয়োগ শুরু করে। এরই প্রতিফলন দেখা গেছে গতকালের বাজারে।’
মূল্যসূচকের পতন দিয়েই ডিএসইতে গতকাল লেনদেন শুরু হয়। প্রথম পাঁচ মিনিটের মধ্যেই সূচক আগের দিনের চেয়ে প্রায় ৬৮ পয়েন্ট কমে যায়। এর পরই ঘুরে দাঁড়ায় বাজার। বাড়তে থাকে ডিএসইর সাধারণ সূচক, যা দিনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। তবে সোমবার ঢাকার বাজারে সাধারণ মূল্যসূচকের সর্বোচ্চ আর সর্বনিম্ন অবস্থানের মধ্যকার ব্যবধান ছিল ৩১৬ পয়েন্ট। এদিন ডিএসইতে ২৫৪ কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে ২৪৭টিরই দাম বেড়েছে, আর কমেছে মাত্র সাতটির।
শেয়ারের দাম ও সূচক বাড়লেও লেনদেন কমেছে। সোমবার দিনশেষে ডিএসইতে প্রায় ৫৬৮ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়, যা আগের দিনের চেয়ে ২৯ কোটি টাকা কম।
ঢাকার বাজারে কমলেও চট্টগ্রামের বাজারে লেনদেন সামান্য বেড়েছে। দিনশেষে সিএসইতে প্রায় ৯৫ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়, আগের দিনের চেয়ে যা ৬ কোটি টাকা বেশি। সিএসইতে এদিন মোট ১৮৭ কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে ১৭৫টিরই দাম বেড়েছে। কমেছে ১১টির আর অপরিবর্তিত ছিল একটির দাম।

বিদেশি বৃক্ষ বনাম আমাদের দেশপ্রেম by মোকারম হোসেন

বন বিভাগের কর্তাব্যক্তিদের বলছি, বিদেশি বৃক্ষের প্রতি কেন আপনাদের এত পক্ষপাত? কেন সারা দেশে বিদেশি গাছের এত ছড়াছড়ি? আমরা বরাবর বলতে চেয়েছি, এখানকার বন-পাহাড়ে ইউক্যালিপটাস, একাশিয়া কিংবা মেহগনির চেয়ে অনেক মূল্যবান বৃক্ষ পাওয়া যায়। সেগুলোর বীজ ও চারা কেন সহজলভ্য নয়? অথচ আমাদের এই গাছগুলো এখানে প্রাকৃতিকভাবেই জন্মে, তা ছাড়া এসব গাছের চারা তৈরি করাও সহজ। কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গাছ হচ্ছে—চাপালিশ (চম্বল), গামারি, বিভিন্ন জাতের কড়ই, জাম, স্বর্ণচাঁপা, গর্জন, তেলশুর ইত্যাদি। কিন্তু নার্সারিগুলোতে এসব গাছের চারা সহজলভ্য নয়—সহজে পাওয়া যায় ইউক্যালিপটাস, একাশিয়া, মেহগনির চারা। বন বিভাগ বা বন গবেষণাকেন্দ্র কি এ প্রসঙ্গে কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে পারবে? কেন বিদেশি গাছের প্রতি এত আসক্তি? কেন দেশি গাছগুলো উপেক্ষিত। মহানগর থেকে শুরু করে একটি প্রান্তিক নার্সারি পর্যন্ত সর্বত্রই বিদেশি গাছের চারা সহজলভ্য। আমরা যতই গলা ফাটিয়ে চিৎকার করছি, বিদেশি গাছ নয়, দেশি গাছগুলো নিয়ে গবেষণা করুন, উন্নত জাতের গাছ তৈরি করুন, দেশের উদ্ভিদ প্রজাতি বাঁচিয়ে রাখুন। কিন্তু সেসব শোনার যেন কেউ নেই। একটি খবর বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে যে একটি বেসরকারি বাণিজ্যিক সংস্থা সাধারণ মানুষদের সম্পৃক্ত করে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদে গাছের জন্য বিনিয়োগে আকৃষ্ট করছে। আর সেই গাছ বা বীজ নাকি সরাসরি আফ্রিকা থেকে আমদানি করা হচ্ছে। আরও দুঃসংবাদ হচ্ছে, আমদানি করা গাছগুলো রোপণ করা হবে বন্দোবস্ত নেওয়া পাহাড়ি জমিতে। এমনিতেই পাহাড়গুলো ন্যাড়া হয়ে পড়েছে। কে এই আগ্রাসন ঠেকাবে!
যেখানে দীর্ঘ ৩০ থেকে ৪০ বছরে আমদানি করা জঞ্জালগুলো সরানোর কোনো উপায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, সেখানে আবার নতুন উৎপাত শুরু হয়েছে। দেশে অনুমতি ব্যতিরেকে এক টুকরো ঘাসও আমদানি নিষিদ্ধ। তাহলে এত দিন ধরে এসব আগ্রাসী প্রজাতি দেশে এল কীভাবে? যাঁরা এনেছেন, তাঁরা নিশ্চয় অপরাধ করেছেন। এসব আত্মঘাতী ও হঠকারী কর্মকাণ্ডের কারণেই সারা দেশের জীববৈচিত্র্য আজ হুমকির সম্মুখীন। কোনো অবস্থায়ই চাষাবাদ বা বৃক্ষ রোপণের জন্য আর কোনো নতুন জাতের গাছ আমদানি করা যাবে না। প্রয়োজনে স্থানীয় গাছগুলোকে উচ্চতর গবেষণার মাধ্যমে আরও উন্নত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
শুরু হয়েছে জাতীয় বৃক্ষমেলা। দেখতে ভালোই লাগে, মানুষ নিত্যদিনের সওদাপাতির মতো দু-একটি গাছও কিনে নিয়ে যাচ্ছে। শহর ও গ্রাম সর্বত্রই এমন দৃশ্য দেখা যায়। আজকাল মানুষ বৃক্ষ-দরদিও হয়ে উঠছে। অনেকেই ছাদ কিংবা বাড়ির এক টুকরো স্থানে বাগান করার কথা ভাবছে। বৃক্ষ নিধন কিংবা বন উজাড়ের খবর পেলে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করছে। কিন্তু শহর কিংবা গ্রামের একজন অনভিজ্ঞ সাধারণ মানুষ কি জানেন, তিনি শখ করে বৃক্ষমেলা থেকে যে চারাটি কিনেছেন, তা কীভাবে রোপণ করতে হয় বা তার জন্য কতটুকু জায়গা প্রয়োজন? গাছটি জলসহিষ্ণু কি না, কীভাবে এর পরিচর্যা করতে হবে? সব জায়গায় সব ধরনের গাছ রোপণ করা যায় না। স্থানভেদে গাছের প্রকারভেদও বদলে যেতে পারে। তা ছাড়া ভবিষ্যতের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
এ ক্ষেত্রে বন বিভাগ দেশের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সঙ্গে কিছু যৌথ কর্মসূচি পালন করতে পারে। উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে অন্তত ইউনিয়ন পর্যায়ের স্থানীয় মানুষকে কিছু ‘কমন’ গাছ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেওয়া যেতে পারে। কাজটি দ্রুত করে ফেলা সম্ভব, তা-ও নয়। কিন্তু এ কথাও সত্যি যে একবার শুরু করতে পারলে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো অসম্ভব কিছু নয়। তাহলে প্রত্যেকটি মানুষ যেমন উপকৃত হবে, আমাদের বৃক্ষায়নের কাজটিও একটি নান্দনিক ও বৈষয়িক রূপ পাবে। আজকাল বন বিভাগের মাধ্যমে অনেক দেশি-বিদেশি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এমন একটি দরকারি প্রকল্প হাতে নিলে ক্ষতি কী?

প্রধানমন্ত্রী সমীপে
বিগত দিনগুলোতে বিদেশি প্রজাতির আগ্রাসন এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংস নিয়ে অসংখ্যবার লেখালেখি করে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারণা চালিয়েও কোনো ফল হয়নি। সুতরাং নিচের বিষয়গুলোতে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। আশা করি, আমাদের ভালোভাবে বেঁচে থাকার স্বার্থে আলোচ্য বিষয়েও তিনি যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে দেশের প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন। যেসব বিষয়ে সরাসরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি তা হচ্ছে—কোনো নার্সারিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করার উদ্দেশ্যে যেন বিদেশি গাছ উৎপাদন ও বিপণন করা না হয়। সামাজিক বনায়নের নামে কোনো বিদেশি গাছ চাষ করা যাবে না। বন-পাহাড়ের নিজস্ব গাছ ধ্বংস করে কোনো আগ্রাসী প্রজাতির গাছ লাগানো যাবে না। পাহাড়গুলো অপ্রয়োজনে ভূমিদস্যুদের কাছে বন্দোবস্ত দেওয়া যাবে না। বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদের উদ্দেশ্যে আর কোনো বিদেশি গাছ আমদানি করা যাবে না। এ ব্যাপারে আইন অমান্যকারীদের কঠোর শাস্তির আওতায় নিয়ে আনতে হবে।
আমরা দেশে একটি পুষ্পোৎসব করতে চাই, আর তা অবশ্যই গ্রীষ্মকালে। কারণ এই মৌসুমে সবচেয়ে উঁচু গাছের দীর্ঘস্থায়ী বর্ণিল ফুলগুলো ফোটে। উৎসবের প্রধান অনুষঙ্গ জারুল, সোনালু আর কৃষ্ণচূড়া। কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ একটি পথের বিন্যাসটা এমন হবে যে প্রথমে একটি কৃষ্ণচূড়া, তারপর সোনালু, সোনালুর পর জারুল—এভাবেই তৈরি করা যায় তিন রঙের সুসজ্জিত বীথি। জারুলের রং উজ্জ্বল বেগুনি, সোনালুর রং হলুদ সোনালি আর কৃষ্ণচূড়ার প্রধান রং টকটকে লাল। জাপানে শুধু চেরি ফুল ফোটার মৌসুমে ওরা প্রতিবছর মস্ত বড় উৎসব করে। তাহলে কেন আমরা বঞ্চিত হচ্ছি এমন একটি নান্দনিক উৎসব থেকে? সরকারিভাবে ঢাকার অদূরে কোনো একটি সড়ক কি পুষ্পোৎসবের জন্য বরাদ্দ করা যায় না? সড়কের মালিকানা কর্তৃপক্ষেরই থাকবে, আমরা শুধু সেখানে পথের দুই পাশে উল্লিখিত গাছগুলো রোপণ করব। আশা করি, আমাদের এই প্রত্যাশা একদিন অবশ্যই পূরণ হবে।
মোকারম হোসেন: প্রকৃতি ও পরিবেশবিষয়ক লেখক।
tarupallab@gmail.com

তুরস্কে আশ্রয় নিতে সীমান্তে মানুষের ভিড়

জিসর আল-শুগুর দখলের পর সিরিয়ার সেনাবাহিনী আরেকটি শহরে অভিযান চালাতে পারে—এ আশঙ্কায় তুরস্কের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিতে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তে শত শত মানুষ জড়ো হচ্ছে।
সিরিয়ার সামরিক বাহিনীর সূত্রগুলো বিবিসিকে বলেছে, সেনাবাহিনী জিসর আল-শুগুরের নিকটবর্তী মারাত আল-নুমান শহরেও অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে। সূত্র জানায়, গত সপ্তাহে নিরাপত্তা বাহিনীর ১২০ সদস্যকে হত্যার পর পালিয়ে যাওয়া সশস্ত্র লোকদের ধরতে এ অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করছেন, বিদ্রোহের পর নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে লড়াইয়ে ওই নিরাপত্তা কর্মকর্তারা নিহত হন।
এদিকে তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাতোলিয়া জানায়, গতকাল নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের দমনাভিযানের মুখে সিরিয়া থেকে তুরস্কের হাতায় প্রদেশের দুটি শিবিরে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ৮১৭ জনে। গত রোববার সেখানে আশ্রয় নিয়েছিল পাঁচ হাজার ৫১ জন।
আনাতোলিয়া জানায়, হাতায় প্রদেশে টার্কিশ রেড ক্রিসেন্টের দুটি আশ্রয়শিবিরে ওই শরণার্থীরা আশ্রয় নিয়েছে। সেখানে আরও দুটি শিবির নির্মাণ করা হচ্ছে। এই শিবিরগুলোতে আরও নয় হাজার সিরীয় শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়া সম্ভব।

ঝাড়খন্ডে মাওবাদীদের গণকবরের সন্ধান

ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যে একটি গণকবরের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। মাওবাদী-অধ্যুষিত রাঁচি ও খুনতি জেলার সীমান্ত এলাকার জঙ্গলে খুঁজে পাওয়া এ গণকবরে ১৪ জন মাওবাদীর লাশ মিলেছে। সে দেশের পুলিশের বরাত দিয়ে গতকাল সোমবার বিবিসি এ তথ্য জানায়।
ঝাড়খন্ডের পুলিশের ধারণা, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত মাওবাদী বিদ্রোহীদের লাশ এগুলো। সহযোদ্ধা বিদ্রোহীরা পরে লাশগুলোর গণকবর দেয়। তবে ঠিক কবে তারা নিহত হয়েছে, এ ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। মাওবাদীরা সাধারণত তাদের সহযোদ্ধাদের লাশ সংঘর্ষস্থলে ফেলে আসে না।
রাজ্য পুলিশের প্রধান গৌরী শঙ্কর রাথ বিবিসিকে বলেছেন, পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্যরা ওই এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালানোর সময় স্থানীয় জনগণ ওই গণকবর সম্পর্কে তাঁদের অবহিত করে। পরে মাটি খুঁড়ে ওই লাশগুলো উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় লোকজন জানিয়েছে, লাশগুলোর গায়ে বুলেটের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অনেকের গায়ে ইউনিফর্ম পরা ছিল।
ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় ও মধ্যাঞ্চলের বেশ কয়েকটি রাজ্যে মাওবাদী বিদ্রোহীরা বেশ সক্রিয়। বিদ্রোহীদের দাবি, তারা আদিবাসী ও গরিব মানুষের অধিকার আদায়ে লড়াই চালিয়ে আসছে।

ভিয়েতনামের নৌ-মহড়া, চীন সাগরে উত্তেজনা

বিতর্কিত জলসীমা নিয়ে চীনের সঙ্গে তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই ভিয়েতনাম গতকাল সোমবার দক্ষিণ চীন সাগরে নৌ-মহড়া চালিয়েছে। চীন এটিকে সামরিক মহড়া উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছে।
ভিয়েতনামের নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তা এটিকে নিয়মিত মহড়ার অংশ বলে উল্লেখ করে বলেন, বিতকির্ত জলসীমার বাইরে কুয়াং নাম প্রদেশ থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে এ মহড়া হয়। তবে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিরা বলছেন, এ মহড়ার ফলে প্রতিবেশী রাষ্ট্র দুটির মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়বে।
দক্ষিণ চীন সাগরের প্যারাসেলস ও স্প্রাটলিস দ্বীপের মালিকানা নিয়ে চীন ও ভিয়েতনামের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ দুটি দ্বীপে তেল থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গতকাল প্যারাসেলস থেকে ২৫০ কিলোমিটার দূরে এবং স্প্রাটলিস থেকে এক হাজার কিলোমিটার দূরে ভিয়েতনাম নৌ-মহড়া চালায়।
ভিয়েতনামের একজন নৌ কর্মকর্তা বলেছেন, দক্ষিণ চীন সাগরে সকালে হন অং দ্বীপের কাছে প্রায় চার ঘণ্টা স্থায়ী মহড়া অসংখ্য গোলাবর্ষণ করে। সন্ধ্যায় দ্বিতীয় দফা মহড়া হয়। এতে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক ইনস্টিটিউট অব সাউথইস্ট এশিয়ান স্টাডিজের ভিয়েতনামবিষয়ক বিশ্লেষক ডেভিড কোহ বলেন, ‘এই মহড়াকে ভিয়েতনাম নিয়মিত মহড়া আখ্যা দিলেও দক্ষিণ চীন সাগরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় হাজার হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে

চিলির পুয়েহুয়ে আগ্নেয়গিরি থেকে উদ্গীরিত ছাইয়ের কারণে অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিমানের ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় আটকে পড়া হাজার হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছে।
প্রবল বাতাসের কারণে উদ্গীরিত ছাই আটলান্টিক ও ভারত মহাসাগরের দক্ষিণাঞ্চল থেকে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড পর্যন্ত আকাশে ছড়িয়ে পড়েছে। এক সপ্তাহের বেশি সময় আগে পুয়েহুয়ে আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়।
অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বিমান সংস্থা কান্টাস জানিয়েছে, গত সোমবার তাসমানিয়া দ্বীপের দক্ষিণাঞ্চল ও নিউজিল্যান্ডগামী সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। সংস্থাটি জানায়, আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এইরেস এবং যুক্তরাষ্ট্রে লস অ্যাঞ্জেলেসগামী তিনটি ফ্লাইটও বাতিল করা হয়ছে। তবে মেলবোর্ন থেকে চলাচলকারী ফ্লাইটগুলো পুনরায় চালু করা হয়েছে।
গত দুই দিনে কান্টাসের মোট ১১০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে কান্টাসের ২০ হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে পড়ে। এ ছাড়া কান্টাসের শাখা জেস্টারের আরও ১২ হাজার যাত্রী দুর্ভোগ পোহায়।
কান্টাসের মুখপাত্র অলিভিয়া উয়িরথ জানান, ‘আমাদের মানদণ্ড অনুযায়ী নিরাপত্তা কমে গেছে। আমাদের নিয়ম হচ্ছে, আকাশে যদি কোনো ছাই মেঘের অস্তিত্ব পাওয়া যায়, তা হলে আমরা ফ্লাইট পরিচালনা করি না।’
অস্ট্রেলিয়ার বিমান সংস্থাগুলো ছাই মেঘ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ভার্জিন অস্ট্রেলিয়া বলেছে, মেলবোর্ন, তাসমানিয়া ও নিউজিল্যান্ডে ফ্লাইট পরিচালনা করা নিরাপদ বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের বিমানগুলো ছাই মেঘের পাশ দিয়ে কিংবা নিচ দিয়ে চলাচল করতে পারে।
ভার্জিন অস্ট্রেলিয়ার এক মুখপাত্র জানান, ‘আমরা আবহাওয়া ব্যুরো ও আগ্নেয়গিরিবিষয়ক কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ফ্লাইট চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
এদিকে এয়ার নিউজিল্যান্ড সতর্কতা জারি করে বলেছে, ছাই উদ্গীরণের কারণে পরিস্থিতি খারাপ হলে তারা কিছু ফ্লাইট বাতিল করতে পারে।
কোপা ও আমেরিকান বিমান সংস্থাগুলো উরুগুয়ের রাজধানী মন্টেভিডিওর ফ্লাইটগুলো বাতিল করেছে। এর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলেছে, উরুগুয়ের আকাশে অগ্ন্যুৎপাতের ছাই ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ ছাড়া বুয়েনস এইরেসসহ আর্জেন্টিনার অন্যান্য শহরের ফ্লাইটগুলোও বাতিল করা হয়েছে।

ক্রাইস্টচার্চে আবারও ভূমিকম্প

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরে গতকাল সোমবার আবারও শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় বেলা দুইটা ২০ মিনিটে পরপর কয়েকটি কম্পনে কেঁপে ওঠে শহরটি। এতে ৫০টিরও বেশি ভবন ভেঙ্গে পড়ে। তবে এতে কেউ নিহত হননি। আহত হয়েছে ১০ জন ।
নিউজিল্যান্ডের বেসরকারি প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, আঘাত হানা ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়টির মাত্রা ছিল ৬। নিউজিল্যান্ডের জিএনএস ইনস্টিটিউট জানায়, এ ছাড়া ৪ দশমিক ৩ মাত্রার বেশি আরও চার দফা ভূমিকম্প হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ৪ থেকে ৫ মাত্রার আরও কয়েকটি ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক কেভিন বেরিম্যান জানান।
শহরের মেয়র বব পার্কার বলেন, আমরা খুব ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছি। ভূমিকম্পের ফলে শহরের ৫৪ হাজার বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পানি সরবরাহও বিঘ্নিত হচ্ছে।
মাত্র চার মাস আগে ক্রাইস্টচার্চে ৬ দশমিক ৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে ১৮১ জন নিহত হয়। এ ছাড়া ওই ঘটনায় ক্রাইস্টচার্চ শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

নির্বাচনে জয়ের পর ঐক্যের প্রতিশ্রুতি তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীর

তুরস্কের সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একেপি) টানা তৃতীয়বারের মতো জয়লাভ করেছে। নির্বাচনে জেতার পর বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে মতৈক্য গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী এরদোয়ান।
গত রোববার পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হয়। নির্বাচনে একেপি প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট বা ৩২৫টি আসনে জয়লাভ করে। ২০০৭ সালে একেপি ৩৩১টি আসনে জিতেছিল।
ইতিমধ্যে ভোট গণনা শেষ হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, পার্লামেন্টের ৫৫০টি আসনের মধ্যে ৩২৫টি আসনে জয়লাভ করেছে একেপি। তবে এককভাবে সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসন পেতে ব্যর্থ হয়েছে দলটি। সংবিধান সংশোধনের জন্য অন্তত ৩৬৭টি আসন প্রয়োজন।
৩৩০ আসন পেলে কোনো দল সংবিধান সংশোধনের জন্য তাদের প্রস্তাব সরাসরি গণভোটের জন্য পাঠাতে পারবে। আর ৩৩০ আসনের কম পেলে সংবিধান সংশোধনের জন্য বিজয়ী দলকে অন্য কোনো দলের সমর্থন নিতে হবে ।
নির্বাচনে জেতার পর প্রধানমন্ত্রী এরদোয়ান বলেন, ‘মতৈক্য ও আলোচনার মাধ্যমে নতুন সংবিধান প্রণয়নের জন্য জনগণ আমাদের কাছে একটি বার্তা পাঠিয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘আমরা প্রধান বিরোধী দল, অন্যান্য বিরোধী দল, পার্লামেন্টের বাইরের রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম, এনজিও, সুশীল সমাজসহ যাদেরই কিছু বলার আছে তাদের সবার সঙ্গেই মতৈক্য চাই।’
তুরস্কে ভোটারের সংখ্যা পাঁচ কোটির বেশি। এনটিভি টেলিভিশন জানায়, নির্বাচনে ৮৪ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর একেপির সমর্থকেরা রোববার রাতে রাজধানী আংকারার রাস্তায় রাস্তায় আনন্দ-উল্লাস করেন। উল্লসিত এক সমর্থক বলেন, ‘আমি সত্যিই আনন্দিত। আশা করছি, এই ফল দেশ ও জাতির পক্ষে যাবে। আনন্দ প্রকাশের জন্য আমি কোনো ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না।’
নির্বাচনে ধর্মনিরপেক্ষ রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি) ১৩৫টি আসনে জয়লাভ করেছে। গত নির্বাচনের চেয়ে দলটি ২৩টি আসন বেশি পেয়েছে। কট্টর ডানপন্থী ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট পার্টি পেয়েছে (এমএইচপি) ৫৪টি আসন। গত নির্বাচনের চেয়ে দলটি ১৭টি আসন কম পেয়েছে।

পাকিস্তানে ব্যাংকে আত্মঘাতী হামলা, দুজন নিহত

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি ব্যাংকে গতকাল সোমবার একজন আত্মঘাতী হামলাকারী বোমা হামলা চালিয়েছেন। এতে হামলাকারী ও একজন প্রহরী নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন। গত দুই বছরে দেশটির রাজধানীতে এই প্রথম কোনো আত্মঘাতী হামলা চালানো হলো।
নগরের পুলিশপ্রধান ওয়াজিদ দুরানি জানিয়েছেন, হামলাকারী রাজধানীর আই-৮ সেক্টরের সিল্ক ব্যাংকের একটি শাখায় ঢোকার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রহরী বাধা দিলে প্রবেশপথেই তিনি বিস্ফোরণ ঘটান। বিস্ফোরণের পর হামলাকারীর ছিন্ন মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পাওয়া গেছে। তাঁর বয়স ২৪ থেকে ২৫ বছরে মধ্যে বলেও পুলিশপ্রধান জানান।
পুলিশ কর্মকর্তা বিস্ফোরণে হামলাকারী ও একজন প্রহরী নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন। সেই সঙ্গে আরও দুজন প্রহরী আহত হয়েছেন বলেও জানান।
পার্শ্ববর্তী একটি ব্যাংকে কর্মরত চৌধুরী ইয়াসির বলেন, ‘আমি দুপুরের খাবার খেয়ে ফেরার পথে বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শুনি। বিস্ফোরণে ওই ব্যাংকের সামনের অংশ বিধ্বস্ত হয়েছে। মানুষের ছিন্নবিচ্ছিন্ন দেহ এখানে-সেখানে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ব্যাংকের বাইরে দাঁড় করানো কয়েকটি গাড়িও বিধ্বস্ত হয়। বিস্ফোরণে আহত প্রহরীকে আমি দেখেছি। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু বোঝা যাচ্ছিল কোনো আশা নেই।’
ওই ব্যাংক ভবনের মাটির নিচের তলায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠান করার হল ছিল। তবে সেদিন কোনো বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল না।
পাকিস্তানে সবচেয়ে সুরক্ষিত শহর হচ্ছে ইসলামাবাদ। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে সর্বশেষ এখানে একটি আত্মঘাতী হামলা হয়। নৌবাহিনীর সদর দপ্তরে চালানো ওই হামলায় একজন নিহত হয়। তবে কয়েক সপ্তাহ আগে রাজধানীটি থেকে মাত্র দুই ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত অ্যাবোটাবাদ শহরে মার্কিন হামলায় আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেন নিহত হন। এর পর থেকে জঙ্গি হামলার ঝুঁকি বেড়ে গেছে। গত রোববার রাজধানীর একেবারে বাইরেই অবস্থিত মালপুর গ্রামে রাস্তার পাশে পেতে রাখা একটি বোমার বিস্ফোরণে তিনজন আহত হয়।

সালেহ শিগগিরই দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দেবেন

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে চিকিৎসাধীন ইয়েমেনের আহত প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহ ক্রমশ সেরে উঠছেন। শিগগিরই তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। ইয়েমেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে গতকাল সোমবার এ কথা জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আবদুল করিম রাসেই গত শনিবার রিয়াদে প্রেসিডেন্ট সালেহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি জানান, আহত প্রেসিডেন্ট শিগগিরই প্রচারমাধ্যমের সাহায্যে ইয়েমেনি জনগণের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন। মন্ত্রী রাসেইর বরাত দিয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এ কথা জানিয়েছে।
ওয়েবসাইটটি জানায়, স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি হচ্ছে বলেই মনে হয়েছে মন্ত্রীর কাছে। ওয়েবসাইটটি আরও জানায়, প্রেসিডেন্ট সালেহর সঙ্গে রিয়াদে চিকিৎসাধীন অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বর্তমানে বিপদমুক্ত।
প্রেসিডেন্ট সালেহ ৩ জুন সানায় নিজ প্রাসাদের ভেতর বোমা বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন। তারপর তাঁকে চিকিৎসার জন্য সৌদি আরবে নেওয়া হয়।
দুই সপ্তাহে ১৪০ জন নিহত: এদিকে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় জিঞ্জিবার শহরে সন্দেহভাজন আল-কায়েদা জঙ্গি ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সংঘর্ষে গত দুই সপ্তাহে ১৪০ জন নিহত হয়েছে। সামরিক বাহিনীর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা গতকাল সোমবার এ কথা জানান। তিনি আরও জানান, আল-কায়েদার নিয়ন্ত্রণাধীন জিঞ্জিবার শহরে সংঘর্ষে সেনা সদস্যসহ নিরাপত্তা বাহিনীর কমপক্ষে ৮০ জন সদস্য নিহত ও দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়। এ ছাড়া আল-কায়েদার ৬০ জনেরও বেশি সদস্য নিহত ও কমপক্ষে ৯০ জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে আল-কায়েদার স্থানীয় নেতারাও আছেন বলে ওই সেনা কর্মকর্তা জানান।

লড়ছে সৈন্যসামন্ত চাল দিচ্ছেন গাদ্দাফি

লিবিয়ায় সরকারি বাহিনী এবং বিদ্রোহীদের মধ্যে লড়াই চলছে সমানে। মরছে মানুষ, জ্বলছে বাড়িঘর। দেশটির নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি কি আর এই সময়ে বসে থাকতে পারেন! তিনিও লড়ছেন সৈন্যসামন্ত, সেনাপতি আর হাতি-ঘোড়া নিয়ে।
লিবিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে গত রোববার গাদ্দাফির একটি ভিডিওচিত্র প্রচার করেছে। এতে দেখা যায়, তিনি সৈন্যসামন্ত জায়গামতো পাঠানো নিয়ে চিন্তায় মগ্ন। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, দাবার বোর্ডে। তাঁর প্রতিপক্ষ বিশ্ব দাবা ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট কিরসান ইলুমঝিনভ। পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের লড়াই দেখছেন গাদ্দাফির বড় ছেলে মুহাম্মদ।
তবে গাদ্দাফি কোথায় ও কবে দাবা খেলতে বসেছিলেন তা জানায়নি টেলিভিশন। কিন্তু কিরসান ইলুমঝিনভ রাশিয়ার বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সকে বলেছেন, গত রোববার ত্রিপোলিতেই তিনি গাদ্দাফির সঙ্গে দাবা খেলেছেন। এ সময় তিনি গাদ্দাফির ছেলে মুহাম্মদের সঙ্গেও খেলেন। বিশ্ব দাবা ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট হিসেবেই তিনি ত্রিপোলি সফরে গিয়েছিলেন।
ইলুমঝিনভ বলেন, গাদ্দাফি জানিয়েছেন তিনি লিবিয়া ছাড়বেন না। এটা তাঁর জন্মভূমি। তাঁর সন্তান ও নাতি-নাতনিরা সেখানেই মারা গেছে। তিনি বুঝেই পান না তাঁকে কোন পদ থেকে সরে যেতে হবে।
গাদ্দাফি ইলুমঝিনভকে বলেছেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্ট, এমনকি রাজা নই। লিবিয়ায় আমার এমন কোনো পদ নেই যা থেকে আমি পদত্যাগ করতে পারি।’
লিবিয়ায় যখন সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে তুমুল লড়াই চলছে, তখন সেখানে গিয়ে গাদ্দাফির সঙ্গে খেলতে বসায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ইলুমঝিনভ। তবে এসব সমালোচনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমি রাজনীতিবিদ নই। আমি সেখানে গিয়েছিলাম একজন খেলোয়াড় হিসেবেই।’
ইলুমঝিনভ বলেন, গাদ্দাফি তাঁর কাছে হেরে নাস্তানাবুদ হতে বসেছিলেন। তাই ইচ্ছে করেই তিনি লড়াইয়ে ঢিল দেন। ফলে ড্রয়ের মাধ্যমে খেলা শেষ হয়।

২৩০ কোটি ডলার দেবে যুক্তরাজ্য ও বিল গেটস

দরিদ্র দেশগুলোর শিশুদের জীবন রক্ষায় টিকাদান কর্মসূচির জন্য তহবিল গঠনে ২৩০ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য ও শীর্ষ সফ্টওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফেটর প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। গতকাল সোমবার লন্ডনে দাতা দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর এক সম্মেলনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ও বিল গেটস এ প্রতিশ্রুতি দেন। ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া প্রতিরোধে দাতব্য গোষ্ঠী গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (জিএভিআই) এই তহবিল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে ২০১৫ সালের মধ্যে লাখো শিশুর জীবন রক্ষা সম্ভব হবে।
এর আগে গত রোববার অস্ট্রেলিয়া এ তহবিলে ২১ কোটি ডলার সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। আগামী তিন বছরে এ সহায়তা দেবে অস্ট্রেলিয়া।
ডেভিড ক্যামেরন বলেন, জিএভিআই তহবিলে আরও অন্তত ১৩০ কোটি ডলার সহায়তা দেবে তাঁর দেশ। এ তহবিল অন্তত আট কোটি শিশুর ডায়ারিয়া ও নিউমোনিয়ার প্রতিরোধে কাজে লাগবে।
বিল গেটস বলেন, একই তহবিলে তাঁর দাতব্য সংস্থার পক্ষ থেকে আগামী পাঁচ বছরে অতিরিক্ত ১০০ কোটি ডলার সহায়তা দেওয়া হবে।
ডেভিড ক্যামেরন বলেন, ‘আজ আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। কারণ আগামী চার বছরের মধ্যে অন্তত ৪০ লাখ শিশুর জীবন বাঁচানোর সুযোগ এসেছে আমাদের হাতে।’ তিনি বলেন, ২০১১ সালে এসে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে শিশুর মৃত্যুর ঘটনা একেবারে কল্পনা করা যায় না।
জিএভিআই ইতিমধ্যে ১৯টি দেশের ২৮ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দিয়েছে। আরও অন্তত ২৬টি দেশে এ টিকাদান কর্মসূচির প্রসার ঘটানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। জিএভিআই ২০১৫ সালের মধ্যে আরও অন্তত ২৮ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে ডায়ারিয়া ও নিউমোনিয়ার টিকা দিতে এক প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এ প্রকল্পের জন্য তারা ৩৭০ কোটি ডলার তহবিল গঠন করতে চায়। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এ সময়ের মধ্যে অন্তত ৪০ লাখ শিশুর জীবন বাঁচানো সম্ভব হবে।

সোয়ানকে দুই গ্রেটের বাহবা

গ্রায়েম সোয়ানের কাছে এখনো ব্যাপারটা স্বপ্ন। ৩১ টেস্ট আর ৫১ ওয়ানডে খেলে ফেলার পরও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তাঁর কাছে সেই প্রথম দিনের মতোই রোমাঞ্চকর। বৃষ্টির দিনে লর্ডসের ড্রেসিংরুমে বসে বসে ভাবেন, ‘ক্রিকেট না খেললে হয়তো এখন ঘরে বসে ময়লার পাত্র পরিষ্কার করতাম, কিংবা বাচ্চার ন্যাপি পরিষ্কার করতাম...। কিন্তু না, আমি বিশ্বের সেরা একটা কাজ করি।’
সোয়ান নিজেকে যা-ই ভাবুন, বিশ্বসেরা দুই স্পিনারের বিশ্বাস, ইংল্যান্ডের হয়ে এখন পর্যন্ত টেস্টে সবচেয়ে বেশি উইকেট স্যার ইয়ান বোথামের (৩৮৩)। সোয়ানই নাকি পারবেন তাঁকে টপকে যেতে!
বোলিংয়ে সোয়ানের জাতের মধ্যে বিশ্বসেরা মুত্তিয়া মুরালিধরনের দৃঢ়বিশ্বাস, ‘সোয়ান ফিট থাকলে ইংল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে বেশি উইকেট সে-ই নেবে। ৪০০ উইকেট পাবে সে।’ আরেকজন লেগ স্পিনার হলেও স্পিনার হিসেবেই জীবন্ত কিংবদন্তি, শেন ওয়ার্ন। ‘ব্যাটসম্যানদের আউট করতে অফ স্পিনারদের হাতে খুব কম অস্ত্র থাকে। কিন্তু সোয়ানের হাতে একটু বেশিই আছে সেসব। কীভাবে উইকেট পেতে হবে, সেই চেষ্টাটা নিয়তই করে’—বলেছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক লেগ স্পিনার।
৩১ টেস্টে ১৩৮ উইকেট, মানে প্রতি টেস্টে সোয়ানের গড় উইকেট ৪.৫টি। ১৯৪৫ সালের পর ইংল্যান্ডের কোনো স্পিনারের জন্য এটাই সেরা পারফরম্যান্স এবং এই ধারা ধরে রেখে আরও সাড়ে চার বছর ক্রিকেট খেলে যেতে পারলে সোয়ান টপকে যাবেন স্যার বোথামকে। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পরই ৮ বছরের জন্য বিশ্রামে চলে যাওয়া সোয়ান ব্যাপারটাকে অত সহজ মনে করছেন না, ‘ভাবতে ভালোই লাগে, আমি তত দিন ভালো খেলে যেতে পারব। কিন্তু আমি অনুমান পছন্দ করি না। মানুষের ভাগ্য কতটা পরিবর্তনশীল, সেটা আমি জানি।’

পালের্মোর বিদায়ী উৎসব

পরশু রাতে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই জমিয়ে উৎসব করল আর্জেন্টিনার দুটি ক্লাব। হুরাকানের মাঠে হুরাকানের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় দিয়ে নিশ্চিত হয়েছে আর্জেন্টাইন চ্যাম্পিয়নশিপ ‘ক্লাচুরা’ শিরোপা। ভেলেজ সার্সফিল্ডের উৎসবটা তাই বাঁধভাঙাই হওয়ার কথা।
কিন্তু বিস্ময়কর ব্যাপার, সার্সফিল্ডের শিরোপা উৎসবের চেয়েও কয়েক ঘণ্টা আগের বোকা জুনিয়র্স শিবিরের উৎসবটা আলো ছড়ালো বেশি! শিরোপা দূরে থাক, এদিন জয়ের মুখও দেখতে পারেনি ডিয়েগো ম্যারাডোনার সাবেক ক্লাব। ব্যানফিল্ডের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে বোকা। তার পরও ক্লাবটির ওই বাঁধভাঙা উৎসবে মেতে উঠার কারণ, পূর্ব ঘোষণামতো এটাই ছিল বোমবোনেরাতে (বোকার মাঠ) মার্টিন পালের্মোর শেষ ম্যাচ।
বিদায়ী ম্যাচে নিজে কোনো গোল পাননি পালের্মো। সতীর্থ নিকোলোস কোলাজোর গোলে প্রথমে এগিয়ে গিয়েও জয়োৎসব করতে পারেনি বোকা খেলা শেষের ৬ মিনিট আগে গোল খেয়ে। সমতা ফেরানো গোলটি করেছেন ব্যানফিল্ডের ফ্যাকুন্দো ফেরেইরা। তবে ড্র কিংবা পালের্মোর গোল না পাওয়ায় বোকার সমর্থকেরা প্রভাবিত হয়নি। দলের দীর্ঘ লড়াইয়ের সেনানীর বিদায়-উৎসবটা তারা করেছে জমিয়ে।
ম্যারাডোনাসহ আর্জেন্টিনার শীর্ষ ফুটবল কিংবদন্তিদের নামের সঙ্গেই বোকা জুনিয়র্সের নাম জড়িয়ে। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে পালের্মো খুব বড় নন, তবে ৩৭ বছর বয়সী পালের্মোও বোকার এক কিংবদন্তি। ১৯৯৯ সালে অভিষেকের পর আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন মাত্র ১৫টি ম্যাচ। এই পালের্মোকে ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের আর্জেন্টাইন দলে রেখে হইচই ফেলে দেন ম্যারাডোনা। গ্রুপ পর্বে গ্রিসের বিপক্ষে বদলি হিসেবে তাঁকে মাঠেও নামান। মাঠে নামার পর পরই একটা গোল করেন পালের্মো, যেটি তাঁর ক্যারিয়ারে হীরক খণ্ডের মতো এক অর্জন। বিশ্বকাপে তাঁর প্রথম ও শেষ গোল! জাতীয় দলে যেমনই হোক, ক্লাব ফুটবলে পালের্মোর পারফরম্যান্স অসাধারণ। বিশেষ করে বোকা জুনিয়র্সে পালের্মো মানেই গোল।
১৯৯২ সালে এস্তুদিয়ান্তেসের হয়ে পেশাদার ফুটবলে অভিষেক। ১৯৯৭ সালে যোগ দেন বোকা জুনিয়র্সে। দুই মেয়াদে এই স্ট্রাইকার বোকাতে কাটিয়েছেন ১০ বছর (১৯৯৭-২০০০ ও ২০০৪-২০১১)। এখানে ৩১৫ (১০২+২১৩) ম্যাচে গোল করেছেন ১৯২টি (৮১+১১১)। বিদায়ী ম্যাচে গোল না পেলেও ক্লাব কর্তৃপক্ষ পালের্মোকে উপহার দিয়েছে অন্য রকম উপহার। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই দুই শুঁড়ওয়ালা ট্র্যাক দিয়ে পুরো গোলপোস্টটাই তুলে তাঁর সামনে দেওয়া হয় উপহার হিসেবে। অনেকের সঙ্গে গ্যালারিতে তখন উপস্থিত ছিলেন আর্জেন্টাইন ফুটবলের শ্রেষ্ঠ সন্তান ডিয়েগো ম্যারাডোনাও।
পালের্মো এমন সম্মান পেয়ে অভিভূত, ‘এ গোলটি ছিল আমার জন্য বিশেষ কিছু। এর জালে লক্ষ্যভেদ করা আমার প্রতিটি মুহূর্তই ছিল আবেগময়।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন পালের্মো, ‘এই মাঠে কত স্মৃতি আমার! আমি কখনোই ভাবিনি, সমর্থকেরা আমাকে এমন ভালোবাসায় ভরিয়ে দেবে...অসাধারণ এই মুহূর্তটি আমি উপভোগ করছি।’

সান্ত্বনা খুঁজে পেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ

ঘরের মাঠে সিরিজ। প্রতিপক্ষ ভারতের দলটা বলতে গেলে দ্বিতীয় সারির। বেশ কয়েকজন সিনিয়র তারকা দলে নেই। এর পরেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম তিন ওয়ানডের তিনটিতেই হেরে সিরিজ খুইয়ে বসেছে। ভারতের স্বপ্ন যখন ক্যারিবীয়দের হোয়াইটওয়াশ করার, তখন বড় একটা জয় তুলে নিয়ে সান্ত্বনা খুঁজে পেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। স্বপ্ন-ভঙ্গ করল ভারতীয় দলের।
হ্যাঁ, সত্যিই স্বপ্ন-ভঙ্গ হয়েছে ভারতের। প্রথম দিন ম্যাচেই সিরিজ নিশ্চিত করা দলটি যে গতকাল সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত চতুর্থ ম্যাচে দাঁড়াতেই পারল না! প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ২৪৯ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে ৩৯ ওভারে ১৪৬ রান তুলতেই ভারতের ইনিংস শেষ! সিরিজে ধুঁকতে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় ১০৩ রানে। এই ম্যাচের ‘তিক্ত’ অভিজ্ঞতার আলোকে আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় সিরিজের শেষ ম্যাচে ভারত বাড়তি সতর্কতা নেবে সন্দেহ নেই।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৪৯/৮ (৫০ ওভার)
পোলার্ড ৭০, সিমন্স ৬৭
প্রাভিন ৩৭/৩, অমিত ৫৬/২
ভারত ১৪৬/১০ (৩৯ ওভার)
রোহিত ৩৯, পার্থিব ২৬
মার্টিন ৩৬/৪, রাসেল ১৬/৩
ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১০৩ রানে জয়ী

অ্যাটলেটিকোতেই থাকছেন ফোরলান

উরুগুয়ের বিশ্বকাপ মাতানো তারকা ডিয়েগো ফোরলান জানিয়ে দিয়েছেন, এ মুহূর্তে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ছেড়ে দেওয়ার কোনো ইচ্ছে বা পরিকল্পনা তাঁর নেই। তিনি আরও বলেছেন, বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী বাকি থাকা আরও দুই বছর তিনি আনন্দের সঙ্গেই কাটিয়ে দিতে চান।
সম্প্রতি, এই উরুগুইয়ান তারকাকে নিয়ে দলবদলের যথেষ্ট গুজব বাজারে চাউর। কেউ কেউ বলছে, অ্যাটলেটিকোর চুক্তি বাতিল করে তিনি ইংলিশ ক্লাব টটেনহ্যাম হটসপারে যোগ দিচ্ছেন। অনেকে বলছেন, তিনি সিরি এ’র জুভেন্টাসে আস্তানা গাড়ছেন। তবে ফোরলান নিজেই ইতি টেনে দিয়েছেন সব জল্পনা-কল্পনার।
তবে কিছু ব্যাপারে যে তিনি অ্যাটলেটিকোর ওপর বেজায় খেপা। গত বছরটা তাঁর একেবারেই ভালো যায়নি। তিনি নিজেই বলেছেন, ‘অ্যাটলেটিকোর কিছু আচরণ তাঁকে ক্লাব ছাড়তে ভাবিয়েছিল।’ তবে এ মৌসুমটা তাঁর ভালোই কেটেছে। তাই তিনি অতীতের ব্যাপারগুলো ভুলে যেতেই চাচ্ছেন।
৩২ বছর বয়স্ক ফোরলান গত মৌসুমে মাত্র ১০টি গোল পেয়েছিলেন। এর আগের মৌসুমে তাঁর গোল ছিল ২৮টি। বিশ্বকাপে অতীতের ধূসর স্মৃতিতে হারিয়ে যাওয়া উরুগুয়ে দলকে প্রায় একক প্রচেষ্টায় তুলে দিয়েছিলেন সেমিফাইনালে। সেই স্বীকৃতিও তিনি পেয়েছেন গোল্ডেন বল জিতে।

ভারতের সমালোচনায় ট্রেমলেট

প্রথম থেকেই রেফারেল পদ্ধতিতে আপত্তি ভারতের। তার পরেও আইসিসি কিন্তু এর প্রয়োগ আনুষ্ঠানিকভাবেই ঘটিয়েছে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় সিরিজে। বিশ্বকাপ ক্রিকেটে এ পদ্ধতি ছিল অনেক বিতর্কেরই মূলে। গ্রুপ পর্বে ভারত-ইংল্যান্ড ম্যাচে এর একটি সিদ্ধান্ত ভারতের বিপক্ষেও গিয়েছিল। তবে বিভিন্ন সুবিধা থাকায় ক্রিকেট বিশ্ব কিন্তু এই রেফারেল পদ্ধতি বা ইউডিআরএসকে বেশ খুশি মনেই মেনে নিয়েছিলে। এ পদ্ধতির সবচেয়ে সুবিধা হলো এতে ধরা পড়ে যান অনেক বিতর্কিত আম্পায়াররা। শ্রীলঙ্কার অশোকা ডি সিলভা যে কি ধরনের আম্পায়র সেটা কিন্তু প্রকাশিত হয়ে পড়েছে এই রেফারেল পদ্ধতির মাধ্যমেই। তাঁর বেশির ভাগ সিদ্ধান্ত রেফারেলে ভুল প্রমাণিত হওয়ায় আইসিসি কিন্তু বিশ্বকাপ থেকে অশোকাকে একপ্রকার প্রত্যাহারই করে নিয়েছিল।
এত কিছুর পরেও এই রেফারেল পদ্ধতি থাকছে না আসন্ন ইংল্যান্ড-ভারত টেস্ট সিরিজে। ব্যাপারটি ঘটতে চলেছে অনেকটা ভারতের আপত্তির মুখেই। তবে ব্যাপারটি মেনে নিতে পারছেন না অনেকেই। এ যেমন ইংলিশ বোলার ক্রিস ট্রেমলেট রেফারেল পদ্ধতির বিরোধী হওয়ায় কড়া সমালোচনা করেছেন ভারতের।
ট্রেমলেট বলেছেন, ‘আমি এ পদ্ধতির খুব একটা ভক্ত নই। কিন্তু একটি পদ্ধতির প্রয়োগ যখন শুরু হয়েছে, তখন আপনি এটিকে ঠেকাতে যাবেন কেন।’
তিনি ভারতের সমালোচনা করে বলেন, ‘তারা এ পদ্ধতিটির বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছে। সবাই জানে, তাদের উদ্দেশ্যটা কী? কেন তারা এর বিরোধিতা করছে।’
তিনি বলেন, এ পদ্ধতি কিন্তু বোলারদেরই বেশি ভোগায়। অনেক সময় বোলারদের আবেদনে আম্পায়াররা সারা দিয়ে দেন। কিন্তু, রেফারেলে এমন অনেক সিদ্ধান্তই বোলারদের বিপক্ষে গেছে।
ট্রেমলেট মনে করেন এই রেফারেল পদ্ধতির কিছু সুফলও রয়েছে। মোট কথা একটি পদ্ধতির প্রয়োগ যখন শুরু হয়েছে তখন এটিকে বন্ধ না করে এর উন্নয়ন ঘটানো উচিত।
ট্রেমলেটের মতে, ‘টেস্ট ম্যাচে রেফারেলের প্রয়োগ প্রয়োজন। অনেক সময় অনেক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অনেক কিছুই আম্পায়ারের দৃষ্টি বা শ্রুতি এড়িয়ে যেতে পারে। রেফারেল এ ভুলগুলোকে শুধরে দিতে পারে।’
সবশেষে ট্রেমলেট বলেন, ‘যেটা শেষ ছয় মাসে সাফল্যজনকভাবে প্রয়োগ হয়েছে সেটার বিরোধিতা করে তাকে বন্ধ করে দেওয়া বোধ হয় উচিত নয়।’

আফ্রিদি ইস্যুতে ‘নরম’ সুর পিসিবির

মনে হচ্ছিল, এবার বোধহয় শহীদ আফ্রিদির শেষটা দেখেই ছাড়বে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)! তবে সুর ‘নরম’ হয়েছে তাদের। এত দিন অনেক হম্বিতম্বি করলেও বোর্ড এখন বলছে, ২৪ জুন থেকে ফয়সালাবাদে শুরু হতে যাওয়া জাতীয় টি-টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে আফ্রিদি অংশ নিতে চাইলে তাঁকে বাধা দেওয়া হবে না।
পিসিবির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা পিটিআইকে বলেন, আফ্রিদির বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাবিরোধী অভিযোগ থাকলেও তাঁকে করাচি ডলফিনসের নেতৃত্ব দেওয়ার অনুমতি দেবে বোর্ড। এটা একটা ঘরোয়া প্রতিযোগিতা। তা ছাড়া বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় এখানে আফ্রিদিকে খেলতে অনুমতি দেওয়াটাই শ্রেয় মনে করছে পিসিবি।
জানা গেছে, প্রতিযোগিতায় আফ্রিদিকে অধিনায়ক হিসেবে খেলানোর অনুমতি চেয়ে বোর্ডের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছে করাচি সিটি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন। কিন্তু ‘সবুজ সংকেত’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও এখনো সেই আবেদনের জবাব দেয়নি পিসিবি।