Tuesday, March 14, 2017

আকবর আলি খানের আয়নায় বাংলাদেশের রাজনীতি

মুক্তিযোদ্ধা। ডাকসাইটে আমলা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা। শিক্ষক ও গবেষক। আকবর আলি খান পরিচিতি পেয়েছেন বিবেকের কণ্ঠস্বর হিসেবেও। বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, রাষ্ট্র আর সমাজ ব্যবস্থা নিয়ে প্রায়শই সরব হয়েছেন তিনি। কখনো মুখে বলে, কখনো লিখে। লেখক-গবেষক আকবর আলি খান তার সাম্প্রতিক প্রকাশিত বই ‘অবাক বাংলাদেশ বিচিত্র ছলনাজালে রাজনীতি’ নির্মোহ দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ করেছেন বাংলাদেশের রাজনীতির নানা সংকট আর সম্ভাবনাকে। শুধু সংকটের কথা বলেই থেমে থাকেননি তিনি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাতলে দিয়েছেন সমাধানের পথও।
বইয়ের ফ্ল্যাপেই লেখা হয়েছে- রাজনৈতিক দিক থেকে জন্মলগ্নে বাংলাদেশ ছিল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে দুর্বার, উচ্ছল ও প্রাণবন্ত একটি দেশ। আর অর্থনৈতিক দিক থেকে ছিল একটি দারিদ্র্যপীড়িত ও সমস্যা জর্জরিত রাষ্ট্র। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আজ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা লাভ করেছে। অথচ আন্তর্জাতিক মানে দেশটিতে সুশাসনের প্রকট ঘাটতি রয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিমাপে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিপন্ন।
বইয়ের ভূমিকায় আকবর আলি খান লিখেছেন, উইনস্টন চার্চিলের ভাষায় বলতে গেলে বাংলাদেশ একটি রহস্যঘেরা প্রহেলিকাচ্ছন্ন হেঁয়ালি। একদিকে এখানে প্রাকৃতিক সম্পদের প্রকট অপ্রতুলতা সত্ত্বেও উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জিত হয়েছে; অন্যদিকে সুশাসনে নিশ্চিত অবক্ষয় ঘটেছে। বাংলাদেশের অনেক অর্জনের জন্য আমি গর্বিত। তবু রাজনৈতিক অবক্ষয় ও সুশাসনের ক্রমাগত অধোগতি আমার প্রজন্মের যারা আমার মতো গণতান্ত্রিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল, তাদের জন্য দৈহিক যন্ত্রণার চেয়েও মর্মান্তিক মানসিক যন্ত্রণার সৃষ্টি করেছে। এই গ্রন্থের জন্ম এই যন্ত্রণাবোধ থেকেই।
গণতন্ত্রের বয়ান লিখতে গিয়ে আকবর আলি খান বলেছেন, এ কথা সত্য যে, গণতন্ত্র হলেই সব রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান হবে না। তবে গণতন্ত্রের যেসব বিকল্প রয়েছে, সেসব ব্যবস্থায় গণতন্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি ত্রুটি রয়েছে। পৃথিবীর অধিকাংশ উন্নয়নশীল দেশেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পাশ্চাত্য জগৎ থেকে আমদানি করা হয়। কিন্তু পৃথিবীর কোনো কোনো দেশে প্রাচীনকাল থেকেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু ছিল। বাংলাদেশ এ ব্যতিক্রমধর্মী রাষ্ট্রের মধ্যে একটি। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে ভারতের পূর্বাঞ্চলে শাসকদের নির্বাচিত করা হতো। আনুমানিক ৭৫৬ খ্রিষ্টাব্দে পাল বংশের রাজা গোপাল সিংহাসনে বসেন। কিন্তু গোপাল গায়ের জোরে রাজা হননি, দেশের জনগণ তাকে রাজা করেছে।
গত চার দশকে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করলে নিম্নলিখিত দুর্বলতাসমূহ সহজেই ধরা পড়ে। ক. অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে ব্যর্থতা। অনেক নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে নির্বাচন শাসক দলের পাতানো খেলায় পর্যবসিত হয়। শুধু যেসব নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়, সেসব নির্বাচন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য বলে স্বীকৃত হয়। খ. সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে নির্বাচিত নয় এমন সরকার কর্তৃক দেশ শাসন। বাংলাদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সাংসদেরা নির্বাচিত হন। আনুপাতিক ভিত্তিতে নির্বাচন না হওয়ার ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশ ভোটে নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করে। এরফলে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের রাষ্ট্রপরিচালনায় অংশগ্রহণ সম্ভব হয় না। গ. প্রতিনিধিত্বশীল সরকারে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। সব গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সমাধানের দায়িত্ব সাংসদদের। গণভোট বা ৎবভবৎবহফঁস-এর ব্যবস্থা না থাকাতে (শুধু সামরিক শাসকেরা তাদের শাসনকে বৈধ করার জন্য পাতানো গণভোটের ব্যবস্থা করেন) কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে জনমত যাচাই করা হয় না। রাজনীতিবিদেরা সাধারণত দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সিদ্ধান্ত নেন। এর ফলে বিরোধী দলের বক্তব্য কোনো কাজে লাগে না। বিরোধী দলের পক্ষে হরতাল দেয়া ছাড়া কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেই। গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হলে হরতালের রাজনীতির প্রকোপ কমতে পারে। ঘ. জনমত অগ্রাহ্য করার অনুদার মূল্যবোধ। একদিনের নির্বাচনে জয়লাভ করলে পুরো মেয়াদে দেশ শাসন করা। এই ব্যবস্থার ফলে সরকার একবার নির্বাচনে জিতলে জনমতকে অগ্রাহ্য করে দেশ শাসন করতে পারে। ঙ. বাংলাদেশে অনুদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সংঘাতের রাজনীতিতে বিরোধী বক্তব্যের কোনো স্থান নেই। উদার গণতন্ত্র যেসব মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত, তার বেশির ভাগই বাংলাদেশে অনুপস্থিত। এখানে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত, নির্বাহী, বিচার ও সংসদের ক্ষমতার সুস্পষ্ট বিভাজন নেই।
ভোটের খেল: সংখ্যালঘু নির্বাচিত সরকার ও একদিনের বাদশা’ শীর্ষক অধ্যায়ে আকবর আলি খান লিখেছেন, বৃটিশ নাট্যকার টম স্টপার সুন্দরভাবে বলেছেন, ‘শুধু ভোটের ব্যবস্থা থাকলেই গণতন্ত্র হয় না। ভোট কিভাবে হিসাব করা হবে, তার ওপরই নির্ভর করে ভোটের ফলাফল।’ গণতন্ত্রের ধারাটি অত্যন্ত সহজ কিন্তু অনেক সময় এর বাস্তবায়ন সহজ নয়। তত্ত্ব অনুসারে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটারদের মতামতের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। কিন্তু সব ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকে না। আনুপাতিক হারে নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে আকবর আলি খান লিখেছেন, এটি প্রবর্তন করা হলে অনেকগুলো সুফল পাওয়া যাবে। প্রথমত, জাল-জালিয়াতির প্রবণতা দূর না হলেও অনেকাংশে হ্রাস পাবে। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক সংঘর্ষের তীব্রতা কমে আসবে। তবে এর একটি বড় অসুবিধা হলো, ভোটাররা আনুপাতিক হারে নির্বাচনকে গ্রহণ করতে রাজি নাও হতে পারেন। বর্তমান ব্যবস্থায় সব প্রার্থীকেই তার নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের সন্তুষ্ট করতে হয়। এরফলে ভোটার এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে একটা সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ভোটারদের সমস্যা সমাধানে এ সম্পর্ক অনেকটা কাজে লাগে। কাজেই নির্বাচনী এলাকা তুলে দেয়ার পক্ষে অধিকাংশ ভোটারই হয়তো মত দেবেন না।
আকবর আলি খান আরো লিখেছেন, সুষ্ঠু, অবাধ ও স্বাধীন নির্বাচন শুধু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়; মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এটি অত্যাবশ্যক। জাতিসংঘের মানবাধিকার সনদে তাই সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘শুধু বিধি অনুসারে নির্বাচন অনুষ্ঠান করে ফল ঘোষণা করলেই তাকে সুষ্ঠু নির্বাচন বলা যাবে না। সুষ্ঠু নির্বাচন হলো সে নির্বাচন, যে নির্বাচনে হেরে যাওয়া দল এবং প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণে উৎসাহী থাকে।’ বাংলাদেশে দুর্ভাগ্যবশত এই সংজ্ঞা অনুসারে অনেক নির্বাচনই সুষ্ঠু হয়নি।  
আকবর আলি খানের জন্ম ১৯৪৪ সালে। ইতিহাসে অনার্স ও এমএ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। কানাডার কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএ ও পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। অংশ নেন মুক্তিযুদ্ধে। পাকিস্তানি জান্তা সরকার তার অনুপস্থিতিতে তাকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে। বাংলাদেশ সরকারের অর্থসচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক ছিলেন আকবর আলি খান। ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা। বর্তমানে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন। তার লেখা একাধিক গ্রন্থ বিপুল পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে।

নেদারল্যান্ডের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থগিত করেছে তুরস্ক

নেদারল্যান্ডের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থগিত করেছে তুরস্ক। আঙ্কারায় নিয়োজিত নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতকে তুরস্কে ফিরতে দেবে না তুর্কি সরকার। ফলে দেশ দুটির মধ্যে এখন বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন। এতে বলা হয়েছে তুরস্কের উপপ্রধানমন্ত্রী নুমান কুরতুলমাস সোমবার আঙ্কারায় দু’দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থগিত (সাসপেন্ড) করার ঘোষণা দিয়েছেন।  তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলুকে নেদারল্যান্ডসে রাজনৈতিক র‌্যালিতে যোগ দিতে অবতরণ করতে দেয় নি নেদারল্যান্ডস। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কে বিরাজ করছে এক উত্তেজনাকর অবস্থা। তা প্রসারিত হয়েছে জার্মানি সহ ইউরোপের আরো কয়েকটি দেশে। আগামী ১৬ই এপ্রিল তুরস্কে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের ক্ষমতা অসীম পর্যায়ে বর্ধিত করা নিয়ে গণভোট। এর পক্ষে ভোট চাইতে তুরস্ক সরকারের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রচারণা চালানোর টার্গেট ঠিক করেন। তারই অংশ হিসেবে নেদারল্যান্ডসে এক এক রাজনৈতিক র‌্যালিতে যোগ দেয়ার কথা ছিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুতের। কিন্তু তাকে বহনকারী বিমান অবতরণ করার অনুমতি দেয় নি ওই দেশ। এতে ভীষণ ক্ষুব্ধ তুরস্ক। সোমবার সিএনএনের ‘কানেক্ট দ্য ওয়ার্ল্ড’ অনুষ্ঠানে দেয়া এক সাক্ষাতকারে মেভলুত কাভাসোগলু প্রশ্ন রাখেনÑ কেন এ সময়ে আমি একজন সন্ত্রাসী? এই দেশে বসবাসকারী তুর্কিরা কি সন্ত্রাসী?
এ ছাড়া তুরস্কের পরিবার বিষয়ক মন্ত্রী ফাতমা বেতুল সায়ান কায়াফ্রমকে নেদারল্যান্ড কর্তৃপক্ষ একই রকম র‌্যালি করার অনুমতি দেয় নি। তিনি নেদারল্যান্ডে অবস্থিত তুর্কি কনসুলেটে প্রবেশ করতে পারেন নি। তাকে ঘেরাও করে দেশের বাইরে বের করে দেয়া হয়। এসব ঘটনায় নেদারল্যান্ডসের রটারড্যামে সহিংস বিক্ষোভ করেন তুর্কি নাগরিকরা। মেভলুত কাভাসোগলু বলেছেন, তাকে অবতরণ করতে দেয়া হয় নি নিরাপত্তার অজুহাতে। কিন্তু জন শৃংখলা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে ডাচ কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যাখ্যা দেয় নি। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাভাসোগলু বলেন, তুরস্কের একজনও তুর্কি কি জঙ্গি আছে? জবাবে তারা বলে, না। তাহলে নিরাপত্তা নিয়ে কি সমস্যা? তারা আমাকে বিস্তারিত কিছু জানায় নি। আমি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আমি কোনো সন্ত্রাসী নই। তারা আসল সত্যকে লুকানোর জন্য নিরাপত্তাকে শুধু অজুহাত হিসেবে দেখিয়েছে। বরং নেদারল্যান্ডস ও ইউরোপীয় অন্যান্য দেশে বর্ণবাদ, ইসলাম বিরোধিতা ও অতিশয় বিদেশী ভীতি এ জন্য দায়ী। তিনি বলেন, তুরস্কের গণভোটে যাতে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হতে না পারে সে জন্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে নেদারল্যান্ডস ও ইউরোপীয় অন্য দেশগুলো। তাই তিনি এসবের প্রতিবাদে ডাচ সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ করেছেন। তবে কি সেই সুপারিশ তা বিস্তারিত বলতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।

মৃত্যুর সরণিতে তুরস্ক by অ্যান্ড্রু ওয়াচটেল

আগামী মাসে নতুন সংবিধানের ওপর তুরস্কের জনগণ ভোট দেবেন। কিন্তু গত এক বছরে দেশটিতে যত সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে তাতে দেশটি মৃত্যুর সরণিতে ঢুকে গেছে। অথচ দেশটি একসময় মধ্যপ্রাচ্যের গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ মডেল হিসেবে বিবেচিত হতো। একসময় তুরস্কের মোট দেশজ উৎপাদনের ১০ শতাংশই আসত পর্যটন থেকে। এখন সেখানকার পর্যটন খাত সংকুচিত হচ্ছে। অন্যদিকে দেশটির প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগও উল্লেখযোগ্য হারে কমল বলে। এর একটি আরেকটিকে প্রভাবিত করবে, ফলে যে দুষ্টচক্র তৈরি হবে, তা থামানো কঠিন হবে।
তুরস্কের সরকার-নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম ও জনগণের বিপুল অংশ মনে করে, দেশটির এ রকম ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পেছনে পশ্চিমের দুরভিসন্ধি আছে। পর্যবেক্ষকেরা প্রায়ই বলে থাকেন, তুরস্কের এই দুর্গতির কারণ হচ্ছে, দেশটি ইসলামি প্রথা ও আধুনিক পশ্চিমা ধাঁচের মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে পারেনি। একই সঙ্গে, তাঁরা সিরিয়া যুদ্ধের মতো বাহ্যিক কারণের ওপরও দোষ চাপান। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সিদ্ধান্তের কারণেও তুরস্ক সন্ত্রাসবাদের কাছে আরও অসহায় হয়ে পড়ছে।
এরদোয়ানের প্রথম সিদ্ধান্তটি ছিল এ রকম: সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতন দেখার অভিপ্রায়ে তিনি আইএসসহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর যোদ্ধাদের তুরস্কের দক্ষিণ সীমান্ত অতিক্রম করে তুলনামূলকভাবে বিনা বাধায় সিরিয়ায় ঢুকতে দিয়েছেন। এই যোদ্ধারা তুরস্কের নিরাপত্তার জন্য যে বিপজ্জনক হতে পারে, তিনি সেটা বুঝতে পারেননি, কারণ বিশেষ করে, তাদের অনেকেই এমন সব ইসলামি গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগ দিয়েছে, যারা তুরস্ক ও আসাদ উভয়ের প্রতিই বৈরী।
এরদোয়ানের দ্বিতীয় চরম সিদ্ধান্তটি ছিল তুরস্কের কুর্দি জনগণের সঙ্গে নতুন করে গৃহযুদ্ধ শুরু করে, যে যুদ্ধটা তাদের মধ্যে অনেক দিন ধরেই সময়-সময় চলে আসছিল। অথচ এরদোয়ান তাঁর জমানার শুরুর দিকে কুর্দিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই বৈরিতা একভাবে থামাতে পেরেছিলেন।
কিন্তু ২০১৫ সালের জুন মাসে এরদোয়ানের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একেপি) সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়। এতে এরদোয়ান কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) বিদ্রোহীদের সঙ্গে নতুন করে বৈরিতা শুরু করেন। এই চাল দিয়ে এরদোয়ান গত নভেম্বরের আগাম নির্বাচনে আবারও সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেন। কিন্তু তার বিনিময়ে গৃহযুদ্ধের প্যান্ডোরার বাক্স খুলে দেন।
এই দুটি সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও তুর্কি নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষে হয়তো ইসলামি ও কুর্দি সন্ত্রাসবাদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করা সম্ভব হতো। কিন্তু তৃতীয় সিদ্ধান্তটির কারণে সেটা নাকচ হয়ে যায়। সেটা হলো, এরদোয়ান প্রবাসী ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করেন। অথচ এই গুলেনের প্রভাবশালী শিষ্যরা অর্থাৎ হিজমত আন্দোলন বহু দিন ধরেই এরদোয়ানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। এই গুলেনপন্থীরা এরদোয়ানকে ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রতি অনুগত সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তাদের হটাতে সহায়তা করেছে। কিন্তু এরদোয়ান ২০১৩ সালে সন্দেহ করতে শুরু করেন যে গুলেনবাদীরা তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। এরপর তিনি গুলেনবাদীদের ওপর চড়াও হন।
গত বছর জুলাই মাসে এরদোয়ানের বিরুদ্ধে যে ক্ষণস্থায়ী অভ্যুত্থানচেষ্টা হলো তাতে খেপে গিয়ে তিনি প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠেন। এর প্রতিক্রিয়ায় তিনি সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক মানুষকে চাকরিচ্যুত করেন। সরকার উৎখাতের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নেবে, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু এরদোয়ান ব্যাপারটা অনেক দূর টেনে নিয়ে যান। যাদের সঙ্গে গুলেনবাদীদের ন্যূনতম সম্পর্কও আছে, তিনি তাদের ছাড় দেননি। এই প্রক্রিয়ায় তিনি তুরস্কের সামরিক বাহিনী ও পুলিশকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে দিয়েছেন।
যখন ইসলামি ও কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর হুমকি তীব্র হচ্ছিল, তখন তুরস্কের এটা করা মোটেও উচিত হয়নি। ১৯৩০-এর দশকে জোসেফ স্তালিন লাল বাহিনী থেকে কর্মকর্তাদের যেভাবে বিতাড়ন করেছিলেন, এরদোয়ানের সেটা স্মরণ রাখা উচিত। এতে কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়ন অনেকটা প্রতিরক্ষাহীন হয়ে পড়ে। ফলে অ্যাডলফ হিটলার ১৯৪১ সালে আক্রমণ করার সুযোগ পেয়ে যান।
এখন তুরস্ক সম্পূর্ণরূপে একজন ব্যক্তির রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সে যে বহুমুখী সংকটের মুখে রয়েছে, তা মোকাবিলায় সে অক্ষম। এমনকি সবচেয়ে ভালো কিছু হলেও তুরস্ক মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে। এক শতাব্দীকাল ধরে যে সে আঞ্চলিক নেতৃত্ব দিয়ে আসছিল, তাও সে ধরে রাখতে পারবে না। খারাপের মধ্যে তুরস্কের অর্থনীতি ধসে পড়বে। এতে সিরীয়সহ তুরস্কে অবস্থানরত অন্য শরণার্থীরা পশ্চিম ইউরোপের দিকে হাঁটা শুরু করবে।
তুরস্কের দুর্ভাগ্যে সবাই যন্ত্রণাকাতর হয় না। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তুরস্কের এই রূপান্তরে যারপরনাই খুশি হয়েছেন। পুতিনের বিশ্ব দৃষ্টিভঙ্গিতে পশ্চিমাদের সঙ্গে সম্পর্কিত সফল গণতান্ত্রিক দেশগুলোই সবচেয়ে বিপজ্জনক। তুরস্ক সে রকমই একটি দেশ ছিল, যারা ছিল গণতান্ত্রিক ও যথেষ্ট সমৃদ্ধিশালী। তারা দীর্ঘদিন ন্যাটোর সদস্য ছিল, যারা বেশ মসৃণভাবে পশ্চিমের সঙ্গে সম্পর্ক গভীরতর করার চেষ্টা করছিল।
এখন তুরস্ক অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল একনায়কতন্ত্রে পরিণত হচ্ছে। তারা একদিকে সন্ত্রাসবাদে জর্জরিত, অন্যদিকে নিজেকে রক্ষা করার মতো সামর্থ্যও তার নেই। ফলে ন্যাটোকে সহায়তা করার মতো অবস্থা তার নেই। এটা পুতিনের কাছে স্বপ্ন পূরণের মতো ব্যাপার। এখন যদি তুরস্কের অধোগতি নতুন করে ইউরোপমুখী শরণার্থীর স্রোত তৈরি করে, তাহলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন অধিকতর অস্থিতিশীল হবে। এটা পুতিনের জন্য আরও ভালো হবে।
এটা বলছি না, তুরস্কের এই পতনের কারিগর হচ্ছেন পুতিন। তাঁকে সে রকম কিছু করতে হয়নি। ব্যাপারটা হচ্ছে, এরদোয়ানের মতো নেতারা সহজেই পুতিনের আধুনিক ব্র্যান্ডের একনায়কত্বের খপ্পরে পড়েন, যে একনায়কত্ব গড়ে ওঠে ভুল তথ্য ছড়ানো ও গণতন্ত্রকে শাসকের ব্যক্তিগত ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অলংকার হিসেবে ব্যবহার করার মধ্য দিয়ে। পুতিনের কাজ হচ্ছে স্রেফ অনুপ্রেরণা এবং সময়-সময় কিছু উপদেশ দেওয়া।
তুরস্কের বাইরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমভাবে পুতিনের ভক্ত। আমাদের দেখতে হবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার অর্থনৈতিক শক্তি, আপেক্ষিক ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান নিয়ে পুতিনের মারাত্মক প্রভাব থেকে অধিকতর সুরক্ষিত কি না।
অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন, স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট।
অ্যান্ড্রু ওয়াচটেল: আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল এশিয়ার প্রেসিডেন্ট।

উন্নয়নের শহীদ বনাম ‘আমিই রাষ্ট্র’ হওয়ার বিপদ by ফারুক ওয়াসিফ

এক টুকরা উন্নয়ন ভেঙে পড়েছে, তাতে এক চিলতে এক মানুষ মারা গেছেন। বড় কেউ নন। একজন মামুলি কাঠমিস্ত্রি। বাড়তি টাকার জন্য রাতে উড়ালসড়কের কাজ করছিলেন। নির্মাণাধীন সেই সড়কের একটা গার্ডার ক্রেন দিয়ে তুলতে গেলে পড়ে যায়। আর পড়বি তো পড় দুর্ভাগা ওই কাঠমিস্ত্রিসহ আরও দুজনের ঘাড়ে। ২০১২ সালে চট্টগ্রামে উন্নয়নের আরও বড় টুকরা ভেঙে পড়েছিল। উড়ালসড়কের ধসে সেবার মারা যান ১২ জন। গত বছরের মার্চ মাসে এই মগবাজারেই মারা যান এক শ্রমিক। এ ধরনের মৃত্যু ঘটছেই। তাঁদের আমরা কী বলব, উন্নয়নের শহীদ?
অবহেলাজনিত এ অপমৃত্যুর জন্য দায়ী নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি চাওয়া উচিত। ৯৮ টন ওজনের এই জিনিস যদি দিনের বেলার জনাকীর্ণ রাস্তায় পড়ত! এই অঘটন তদন্তে একটা কমিটি করা হয়েছে। আমরা আশা করব, কমিটি একজনের মৃত্যু এবং দুজনের একটি করে পা হারানোর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করবে। নিহত ব্যক্তিদের পরিবার এবং আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসাসহ আইন মোতাবেক ক্ষতিপূরণ আদায়ের সুপারিশ করবে। কিন্তু তদন্তকাজের আওতাটা কি আরেকটু বাড়াবেন তাঁরা? ভুক্তভোগী মানুষ হিসেবে আমাদের কিছু কথা তাঁদের শুনতে হবে।
এ সড়ক বানানোর চুক্তিতে মেয়াদ ধরা হয়েছিল ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর। ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭৬০ কোটি টাকা। কিন্তু এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০০ কোটি টাকার বেশি। আর সময়ের হিসাব? এখন ২০১৭ সালের মার্চ মাস গেলেও আগামী জুনেও কাজ শেষ হবে বলা যাচ্ছে না। এ সময়ে ওই এলাকা দিয়ে চলাচল করা লাখো মানুষ প্রতিদিন চলাচলে যে অমানুষিক কষ্ট ভোগ করেছে, তার আর্থিক মূল্য কে ধরবে? কারও প্রাণ গেল, আর কত কত লোক কত কষ্ট ভোগ করল, তার বিচার কী হবে? কেউ কি ব্যাখ্যা করবে, কেন এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশেই উড়ালসড়ক নির্মাণের ব্যয় সবচেয়ে বেশি?
জনগণের জীবন, শান্তি, প্রাণ আর করের টাকার এত বড় নয়ছয় কেন মেনে নিতে হবে?
ঘটনা অন্য রকমও আছে। বাংলাদেশে ব্যয় দফায় দফায় বাড়ে। আর দিল্লিতে ব্যয় কমে। পার্থক্যটা ঘটান একজন ব্যক্তি। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের তত্ত্বাবধানে আট লেনের একটি উড়ালসড়ক নির্মাণ শেষ হওয়ার পর দেখা গেল খরচ বেঁচে গেছে ২০ কোটি রুপি। আর কাজটি তাঁরা শেষ করেছেন মাত্র আট মাসে!
দুই.
বাংলাদেশের উন্নয়ন এক সরকার বা এক দশকের অবদান নয়। ১৯৭২ সাল থেকেই ভালোমন্দের দোলায় দুলতে দুলতে আমরা এত দূর এসেছি। আমার বিশ্বাস, এ দেশে সচেতনভাবে কেউ উন্নয়নবিরোধী নয়। উন্নয়নবিরোধী কিছু যদি থেকে থাকে, তা হলো দুর্নীতিতন্ত্র ও সংঘাতের রাজনীতি। শুধু একটি উড়ালসড়ক নির্মাণে যে অপচয় ঘটল, তা কি দুর্নীতি ছাড়া হতে পারত? দুর্নীতির চেয়েও বড় বিপদ আছে। দুর্নীতিতে ক্ষতি হয় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ। কিন্তু ভুল নীতির জন্য গচ্চা যায় পুরোটাই। উড়ালসড়কের উদাহরণটাই দেখা যাক। ঢাকায় অনেক উড়ালসড়ক হলো। কিন্তু যানজট কি কিছুমাত্র কমেছে?
তাহলে হাজার হাজার কোটি টাকায় নির্মিত উড়ালসড়ক কত শতাংশ মানুষের জন্য বানানো হচ্ছে? ঢাকার মোট চলাচলের মাত্র সাড়ে ৩ শতাংশের হয় প্রাইভেট গাড়ি দিয়ে, যদিও তা দখল করে রাখে সড়কের ৪০ শতাংশ জায়গা। বাস আর রিকশা যথাক্রমে ৭ ও ৪১ শতাংশ জায়গা নিয়ে ঘটায় ২৮ ও ৫৩ শতাংশ চলাচল (ডিইউটিপি ২০০৫)। উড়ালসড়কের সম্পূর্ণ সুবিধা পাবে এসব ব্যক্তিগত গাড়ি, যা আসলে ঢাকার যানজটের জন্য দায়ী। রিকশা ও লোকাল বাসযাত্রীদের বড় অংশকে বহন করলেও তাদের অবস্থা হবে আরও করুণ। উড়ালসড়কের থামগুলোর জন্য জায়গা দিতে, ওঠানামার জায়গা ছেড়ে দিতে নিচের রাস্তাগুলো হয়ে পড়ছে আরও সরু, বাধাযুক্ত। ঢাকার সিংহভাগ মানুষেরই ব্যক্তিগত গাড়ি নেই। ভগ্নাংশের চলাচল সমস্যার সমাধানকে সবার সমাধান হিসেবে গিলিয়ে দেওয়াই কি উন্নয়ন? যে সুবিধা প্রায় ৯০ ভাগ মানুষের মাথার ওপরের সড়ক দিয়ে চলে যাবে, তা কেমন উন্নয়ন, কার উন্নয়ন?
এর উত্তরও দুর্নীতির বিশ্লেষণের মধ্যে পাওয়া যাবে। ঢাকার যানজট সমস্যার সমাধান হিসেবে ‘স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান ফর ঢাকা’ প্রণয়ন করা হয়। এই পরিকল্পনা উড়ালসড়ক সমর্থন করে না (ডেইলি স্টার, ১৪-১১-০৯)। মগবাজার উড়ালসড়ক বানানো হচ্ছে প্রাক্কলিত ব্যয়ের চেয়ে তিন গুণ বেশি দিয়ে। এককথায়, এ ধরনের প্রকল্প হলো রাষ্ট্রীয় তহবিলকে কায়েমি গোষ্ঠীর হাতে পাচারের নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতি। এভাবে অবিশ্বাস্য বেশি ব্যয় ধরার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় তহবিল ক্ষমতা ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীর কাছে চালান দেওয়ার বন্দোবস্ত হলো আমাদের উন্নয়নের কাফ্ফারা। এমন দুর্নীতিভরা, অদক্ষতা ও গাফিলতির শিকার হয়ে মানুষের মৃত্যু হলে তাকে কি আর দুর্ঘটনা ভেবে সান্ত্বনা পাওয়া যায়?
তিন.
জাটকা ধরার জাল ধ্বংসে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৯০০ কোটি টাকা! এটাও উন্নয়নের মডেল। অথচ যারা অভাবের তাড়নায় নিষিদ্ধ মৌসুমে জাটকা ধরে, এ পরিমাণ টাকা দিয়ে তাদের বিকল্প জীবিকা দিলে কিছু পোড়াতেও হয় না, নিম্নমধ্যবিত্ত রাষ্ট্রের এতগুলো টাকা আগুন জ্বালাতেও খরচ হয় না। উন্নয়ন মানে গ্যাসের দাম বাড়ার চেয়ে মানুষের দাম বাড়া, ৯০ ভাগ জনগোষ্ঠীর আয় বাড়া। উন্নয়ন হলো কর্মক্ষম চার কোটি বেকার, যাঁদের উল্লেখযোগ্য অংশই শিক্ষিত, তাঁদের কাজ দেওয়ার বন্দোবস্ত করা। উন্নয়নের প্রতীক সাবমেরিন নয়, উন্নয়নের প্রতীক সুশিক্ষিত, স্বাস্থ্যবান ও মর্যাদার অধিকার পাওয়া এক মানবসমাজ।
চার.
বলা হয়, ফরাসি সম্রাট ষোড়শ লুই বলেছিলেন, ‘আমিই রাষ্ট্র’ (Im the State)। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে শীর্ষ নেতা-নেত্রীরা যা কিছু ভালো অর্জন, তা তাঁদেরই অবদান হিসেবে তুলে ধরতে চান। তাঁরা না থাকলে কোনো ভালোই নাকি হতো না। রাষ্ট্র তাঁদের হাতে অপার ক্ষমতা দিয়েছে। সব ক্ষমতা হাতে নিয়ে, সবার জীবন-মরণের মালিক হয়ে, সব জবাবদিহির বাইরে থেকে কার্যত তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে ‘রাষ্ট্র’ হয়ে ওঠেন। মুখে না বললেও প্রচারে-ব্যবহারে, পোস্টারে-স্লোগানে, কাজে ও আচরণে তাঁরা সেটা হাড়ে-হাড়ে বুঝিয়েও দেন। জবাবে আমাদের এটুকুই বলার থাকে, আসুন, দেখে যান, ‘রাষ্ট্র’ কেমন রেখেছে আমাদের!
কিন্তু যত ভালো ও দক্ষই একজন হন, রাষ্ট্র কয়েকজনের বিষয় না। রাজনীতি ও প্রশাসনের স্তরে স্তরে দক্ষতা ও সততা না থাকলে পুরোটাই নৈরাজ্যে নিপতিত হবে। যত বড় প্রকল্প আমরা নিচ্ছি, ততটা দক্ষতা ও নিষ্ঠা আমাদের আছে কি? দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি আর অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস থেকে সবাইকে দূরে ঠেলার পরিণতি ভালো হয় না।
সেই খারাপটা আপাতত জনগণই আগে টের পাচ্ছে। ‘আই অ্যাম দ্য স্টেট’-এর বিপরীতে তাদের দেখাবার বিষয়: ‘দ্য স্টেট উই আর ইন’,৥অর্থাৎ যে অবস্থায় আমরা বেঁচে আছি!
এই যেমন উড়ালসড়কের নিচে ঘন যানজটে বসে বসে ঘামছি আর ভাবছি, ভেঙে পড়বে না তো? রডের বদলে বাঁশ দিইনি তো?

ইয়াবা বাণিজ্যে সুন্দরী নারীরা by সরওয়ার আলম শাহীন



সুন্দরী, স্মার্ট, চোখে কালো চমশা, পরনে ঝলমলে পোশাক। প্রাইভেট গাড়ি নিয়ে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এমন দু’শতাধিক নারী। পর্যটক বেশে এসব নারী প্রতিনিয়ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে ইয়াবা বাণিজ্য। নামিদামি পর্যটক মনে করে অনেক সময় এসব প্রাইভেট গাড়ি তল্লাশি করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে ইয়াবা পাচার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হার্ডলাইন অবস্থানের কারণে ইয়াবা গডফাদার সিন্ডিকেট ভিন্ন কৌশলে মাঠে নেমেছে। আর কৌশলের অংশ হিসাবেই সম্প্রতি ঢাকা-চট্টগ্রামের হাইফাই সোসাইটির মেয়েদের কন্ট্রাকের মাধ্যমে ইয়াবা পাচারে নিয়োগ করেছে এ সিন্ডিকেট। গত ১০ই মে ঢাকায় স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের  হাতে ১ লাখ পিস ইয়াবা নিয়ে আটক কক্সবাজার জেলা যুবদলের সহসভাপতি নেজাম উদ্দিন গ্রেপ্তার হওয়ার পর ঢাকার অভিজাত পাড়ার শীতল নামের এক নারীর নাম এখন আলোচনায়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শীতল নামের সুন্দরী এ নারী নেজাম উদ্দিনের ইয়াবা সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত। ওই নারীকে নিয়ে প্রায় সময় প্রাইভেট গাড়ি নিয়ে ইয়াবা পাচার করতো নেজাম উদ্দিন। মূলত শীতলের মাধ্যমেই ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ইয়াবা  ডেলিভারি দিত নেজাম উদ্দিন সিন্ডিকেট। এ সিন্ডিকেট উখিয়া ও টেকনাফ থেকে ইয়াবা কিনে ঢাকায় সরবরাহ করতো। গত ১১ই মার্চ টেকনাফ নয়াপাড়া এলাকায় বিজিবি সদস্যরা টহলরত অবস্থায় সন্দেহজনকভাবে কক্সবাজারমুখী একটি সিএনজি তল্লাশি চালিয়ে ভ্যানেটি ব্যাগে কৌশলে লুকিয়ে ১০ হাজার ৮০ পিস ইয়াবাসহ ইসমত আরা (১৯) নামের এক সুন্দরী মহিলাকে আটক করেছে। আটক ইসমত আরা টেকনাফ নয়াপাড়া এলাকার মো. আবদুল্লার স্ত্রী। বিজিবি জানিয়েছে, আটক মহিলা টেকনাফে থেকে ইয়াবা নিয়ে চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ বিভিন্ন পাইকারি মাদক ব্যবসায়ীকে সরবরাহ করতো। শুধু, শীতল বা ইসমত নয়, এরকম প্রায় ২ শতাধিক নারী কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে ইয়াবা পাচারে নিয়োজিত। ঢাকা চট্টগামের হাইফাই সোসাইটির নারীরা ছাড়াও এলাকার সুন্দরী স্মার্ট মেয়েদের ইয়াবা পাচার কাজে নিয়োজিত করেছে সিন্ডিকেটগুলো। বিশেষ করে পর্যটক বেসে প্রাইভেট গাড়ি নিয়ে সিন্ডিকেটের হয়ে পাচার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে তারা। চেকপোস্টগুলোতে পর্যটক মনে করে প্রাইভেট গাড়িগুলো অনেক সময় তল্লাশির বাইরে রাখা হয়। তাছাড়া প্রাইভেট গাড়িতে থাকা সুন্দরী নারীদের তল্লাশি চালাতেও অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিব্রতবোধ করে। যে কারণে সিন্ডিকেট সদস্যরা হাইফাই সোসাইটির নারীদের নিরাপদ মনে করে ইয়াবা পাচারে নিয়োজিত করেছে। এসব  সুন্দরী নারী উখিয়ার বেশকিছু সিন্ডিকেটের হয়ে কাজ করছে বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে উখিয়া টেকনাফের সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) ছাইলাউ মারমা বলেন, শুধু নারী নয়, পুলিশ সমসময় তৎপর রয়েছে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারে। কিন্তু সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া ইয়াবা আটক করা কঠিন। তবুও পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পার্ককে তলব করবে প্রসিকিউটররা

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রসিকিউটররা অপরাধমূলক কাজে জড়িত থাকার ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট পার্ক গিউন-হাইকে ডেকে পাঠাবেন। গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার উচ্চ আদালত তার অবিশংসন নিশ্চিত করে। মঙ্গলবার প্রসিকিউশন দফতরের এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপকে বলেন, তারা বুধবার সিদ্ধান্ত নেবে যে, কখন সাবেক প্রেসিডেন্ট পার্ককে ডেকে পাঠানো হবে।

ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে : মেনন

বেসামরিক বিমান পরিহন ও পর্যটন মন্ত্রী এবং ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনেই আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর এ সরকারের প্রধান থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ‘বিএনপি কেয়ামত পর্যন্ত অপেক্ষা করবে তবুও বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না’ বিএনপি’র এক নেতার এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, কিন্তু তারা কেয়ামত পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও নির্বাচন তাদের জন্য থেমে থাকবে না। আজ সকালে রাজধানীর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ভবনে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। রাশেদ খান মেনন বলেন, বিএনপি একইসাথে আগামী নির্বাচনে অংশ গ্রহণ এবং নির্বাচনকে বিতর্কিত করার প্রস্তুতি নিয়েছে। বিএনপি নির্বাচনী ইস্তেহার, প্রার্থী বাছাই,
বের হয়ে যাওয়াদের দলে নিয়ে আসাসহ সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। মেনন বলেন, ‘বিএনপি যেমন নির্বাচনের যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করছে আবার তেমনি নির্বাচনকে বিতর্কিত করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে।’ নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়ে বিএনপির ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠনে বিএনপি মতামত দিয়েছে এবং সার্চ কমিটিতে নাম পাঠিয়েছে। আবার এখন বলছে এ কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। সরকার ও সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে যে নির্বাচন হবে তা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে হবে। আগামী নির্বাচনে স্বাধীনতার পক্ষের দলগুলো জয়লাভ করলে জঙ্গীবাদকে মোকাবেলা করে অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা পরিবর্তন রোধ করা সম্ভব হবে।
সূত্র : বাসস

'প্রাথমিক শিক্ষার ভিত মজবুত না করলে উচ্চশিক্ষার মান দুর্বল হবে'

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেছেন, প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষা হচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থার ভিত। এই ভিত মজবুত করতে না পারলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার মান দুর্বল হবে। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষাকে মানসম্মত করতে না পারলে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে উঁচুমানের গ্র্যাজুয়েট তৈরি সম্ভব নয়।’ আজ মঙ্গলবার শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে ‘ইফেক্টিভ ইমপ্লিমেনটেশন অব ডিপিইডি প্রোগ্রাম’ শীর্ষক পাঁচ দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন। প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘সব শিক্ষকের মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতা সমান হবে- এমনটি আশা করা যায় না। তবে সবার মাঝে নিষ্ঠা, নৈতিক মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধ থাকতে হবে।
প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের সৎ, দেশ-প্রেমিক ও সুনাগরিক হিসাবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়েই শিশুদের নৈতিক শিক্ষা প্রদান করতে হবে।’ শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক হোসনে আরা বেগমের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক সুলতান মাহমুদ, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির মহাপরিচালক ফজলুর রহমান এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) বিজয় ভূষণ পাল বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কর্মশালা সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. শারমিন হক। বাংলাদেশের বিভিন্ন পিটিআই থেকে অর্ধশতাধিক প্রশিক্ষক এই কর্মশালায় অংশগ্রহণ করছেন।

আন্দামান ও নিকোবরে শক্তিশালী ভূমিকম্প

আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে মঙ্গলবার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল পাঁচ দশমিক নয়। বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগরের সংযোগস্থলে দ্বীপপুঞ্জ দুটি অবস্থিত। জাতীয় ভূকম্পন কেন্দ্র জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ২১ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।
এটির উৎপত্তিস্থল ছিল নিকোবার দ্বীপপুঞ্জ অঞ্চলে ভূ-পৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। এতে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির কোন খবর পাওয়া যায়নি। উত্তর ভারতের জন্মু ও কাশ্মীর প্রদেশের কথউয়ায় সকাল পৌনে ৬টায় ৩.৬ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প হয়েছে।

রাবি ভিসিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে হাই কোর্টের রুল

জমি কেনাসহ আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভিসি, প্রোভিসি, রেজিস্ট্রার ও কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুদককে কেন তদন্তের নির্দেশ দেয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে বিবাদিদের ব্যর্থতা কেন অবৈধ হবে না তা-ও জানতে চেয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি আবু তাহের সাইফুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ রাবির সাবেক শিক্ষার্থীর করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে এ রুল জারি করেন। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, দুদক চেয়ারম্যান, আইজিপি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভিসি, প্রোভিসি, রেজিস্ট্রার ও কোষাধক্ষ্যকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মোখলেছুর রহমান। ‘জমি কেনা নিয়ে নয়ছয়’ শীর্ষক শিরোনামে দৈনিক পত্রিকায় গত ৫ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে সাবেক শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান ১২ মার্চ রিট করেন। সেই রিটের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) আদালত এই আদেশ দেন। পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘অতিথি নিবাস বানানোর জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রাজধানীর হাতিরপুল এলাকায় সাড়ে তিন কাঠা জমি কিনেছে। দলিলে এই জমির দাম দেখানো হয়েছে সাড়ে ৩ কোটি টাকা। কিন্তু সিন্ডিকেটে চুক্তিপত্র অনুমোদন করানো হয়েছে ১১ কোটি টাকা, অর্থাৎ প্রতি কাঠা ৩ কোটি ১৪ লাখ টাকার কিছু বেশি।তবে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাতিরপুল পুকুরপাড় এলাকায় ছোট জমির দাম প্রতি কাঠা ৪০ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা। বড় আয়তনের ও বাণিজ্যিক জমির দাম অবশ্য এর চেয়ে অনেক বেশি। তারা বলেন, এই জমি যেহেতু বাণিজ্যিক নয়, তাই সাড়ে ৩ কাঠা জমির দাম ১১ কোটি টাকা হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’

দুই মন্ত্রীর স্ত্রীসহ তিনজনকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে করা মামলায় প্রাক্তন ও বর্তমান মন্ত্রীর স্ত্রীসহ তিনজনকে নিম্ন আদালতে আত্নসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আজ মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
এই তিনজন হলেন- বর্তমান পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর স্ত্রী তাসমিমা হোসেন, প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খানের স্ত্রী নাসরিন খান, তার পুত্র ফয়সাল মোরশেদ খানের স্ত্রী শ্যামা সেহজিন খান। একই সঙ্গে তাদের তিনজনের পক্ষে করা খালাসের আবেদন হাইকোর্টকে বিবেচনা করতে বলেছেন আদালত। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদারের স্ত্রী শাহিদা কামাল, বিএনপি নেতা রুহুল কুদ্দুস দুলুর স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন, নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টুর স্ত্রী নাসিমা আকতার কল্পনা, এমএ কাইয়ুমের স্ত্রী শামীম আরা বেগম ও যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুলের ছেলে শামীম ইসলামের বিরুদ্ধে করা মামলা নিন্ম আদালতে চলবে বলে আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো ছয় মাসের মধ্যে বিচারিক আদালতকে নিষ্পত্তি করতে বলেছেন। আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশিদ আলম খান। আসামিদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আহসানুল করিম ও আমিনুল হক হেলাল। আহসানুল করিম জানান, বিগত সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে জ্ঞাত আয়বহির্ভুত সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপনের অভিযোগে এসব মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন।

'বিচার বিভাগকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে' : সুপ্রিম কোর্ট

বিচার বিভাগকে 'জিম্মি' করে রাখা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। নিম্ন (অধস্তন) আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি প্রণয়ন-সংক্রান্ত আপিল বিভাগের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের শুনানিকালে আজ আদালত এই মন্তব্য করেন। বিচারকদের চাকুরীর শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালার গেজেট জারি না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত বলেছেন, ব্যক্তির চেয়ে প্রতিষ্ঠান বড়, প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করতে হবে। বিধিমালার গেজেট জারি না করে বিচার বিভাগকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার আবারও দুই সপ্তাহ সময় আবেদন করেন রাষ্ট্রপক্ষ। অ্যাটর্নি জেনারেলের সময় আবেদনের পর আদালত বলেন, দেশে কি কোন সরকার আছে? বিধিমালার গেজেট জারি করতে আর কতদিন সময় প্রয়োজন? রাষ্ট্রের তো একটি ‘ফেয়ার প্লে’র বিষয় রয়েছে। একটা যৌক্তিক কারণ থাকবে তো। এসব কথা বলে ফের দুই সপ্তাহ সময় মঞ্জুর করেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বে আট সদস্যের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ। এর আগে শৃঙ্খলাবিধি নিয়ে গেজেট প্রণয়নের জন্য রাষ্ট্রপক্ষ সময় চেয়েছেন দফায় দফায়। সবশেষ ২৭ ফেব্রুয়ারি শৃঙ্খলাবিধি প্রণয়নে ১৪ মার্চ পর্যন্ত সময় মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ।
সে অনুযায়ী মঙ্গলবার মামলাটি কার্যতালিকায় আসলে আদালত নতুন করে সময় মঞ্জুর করে এই মন্তব্য করেন। অধস্তন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধি চূড়ান্ত করে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করতে আপিল বিভাগ এর আগে কয়েক দফায় সেময় দেন। সেই নির্দেশ বাস্তবায়ন না করায় ৮ ডিসেম্বর আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে তলব করে। তবে ১১ ডিসেম্বর রাতে আইন মন্ত্রণালয় এক পরিপত্রের মাধ্যমে জানায়, নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির গেজেট প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা নেই বলে রাষ্ট্রপতি সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তবে রাষ্ট্রপতির এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে ১২ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ দ্বিমত পোষণ করেন। আদালত বলেছেন, রাষ্ট্রপতিকে ভুল বোঝানো হচ্ছে। বিধি প্রণয়ন সম্পর্কে আপিল বিভাগ বলেন, এটা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রশ্ন। এখানে কোনো কম্প্রোমাইজ নেই। উল্লেখ্য, মাসদার হোসেন মামলার রায়ের ৭ নম্বর নির্দেশনায় জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের জন্য পৃথক শৃঙ্খলাবিধি প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে।

খালেদা জিয়া অসুস্থ : আজ আদালতে যাচ্ছেন না

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে পড়ায় আজ আদালতে যেতে পারছেন না। খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার ১০ মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি, এক মামলায় অভিযোগপত্র আমলে নেয়া এবং অপর এক মামলায় তার হাজিরার দিন ধার্য ছিল।
মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লার আদালতে দারুসসালাম থানার ৮ মামলা, রাষ্ট্রদ্রোহের এক মামলা ও যাত্রাবাড়ীর এক মামলাসহ মোট ১০ মামলার শুনানি এবং যাত্রাবাড়ীর অপর এক মামলা আমলে নেয়ার দিন ধার্য ছিল। অপরদিকে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক এম আমিনুল ইসলামের আদালতে নাইকো মামলার হাজিরার দিন ধার্য ছিল।

বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি প্রণয়নে ফের সময় পেল সরকার

বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির গেজেট জারিতে সরকারকে আবারও দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আজ মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ এ সময় মঞ্জুর করেন। এর আগে সময় চেয়ে আবেদন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবু্বে আলম। আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৩ ফেব্রুয়ারি শৃঙ্খলাবিধি প্রণয়নে দুই সপ্তাহ সময় মঞ্জুর করেন আপিল বেঞ্চ। কিন্তু দুই সপ্তাহ পার হওয়ার পরও শৃঙ্খলাবিধি প্রণয়ন না হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ আবারও সময়ের আবেদন জানায়। এ প্রেক্ষিতে আরও দুই সপ্তাহ সময় দেন আদালত।
অধস্তন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধি চূড়ান্ত করে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করতে আপিল বিভাগ এর আগে কয়েক দফায় সময় দেন। সেই নির্দেশ বাস্তবায়ন না করায় ৮ ডিসেম্বর আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে তলব করে। তবে ১১ ডিসেম্বর রাতে আইন মন্ত্রণালয় এক পরিপত্রের মাধ্যমে জানায়, নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির গেজেট প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা নেই বলে রাষ্ট্রপতি সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তবে রাষ্ট্রপতির এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে ১২ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ দ্বিমত পোষণ করেন। আদালত বলেছেন, রাষ্ট্রপতিকে ভুল বোঝানো হচ্ছে। এটা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রশ্ন। এখানে কোনো কম্প্রমাইজ নেই। উল্লেখ্য, মাসদার হোসেন মামলার রায়ের ৭ নম্বর নির্দেশনায় জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের জন্য পৃথক শৃঙ্খলাবিধি প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে।

গ্রামীণ ১ ভাগ মাটির রাস্তা টেকসই করতে ইটের সয়েলিং

গ্রামীণ ২ লাখ ৯৫ হাজার কিলোমিটার মাটির কাঁচা রাস্তার মধ্যে এক শতাংশ বা তিন হাজার ১৪৫.৫০ কিলোমিটার রাস্তাকে ইটের সয়েলিং বা এইচবিবি করা হচ্ছে। বৃষ্টির মওসুমে বা বর্ষাকালে রাস্তাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। আর এ জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ২৩৮ কোটি ২৭ লাখ টাকা। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আজ মঙ্গলবার শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় বাংলাদেশ টেলিভিশনের ৫টি কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পটিসহ ৭টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রকল্প অনুমোদনের বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান।
অনুমোদিত ৭ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৫ হাজার ২৩৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। যার মধ্যে সরকারি ৩ হাজার ৪৫৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সহায়তা ১ হাজার ৭২৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা। জানা গেছে, স্বাধীনতার পরে বিভিন্ন দাতাসংস্থার সহায়তায় প্রায় তিন লাখ কিলোমিটার মাটির রাস্তা নির্মাণ করা হয়। এখন বর্ষাকালে এসব রাস্তা কর্দমাক্ত হয়ে চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে যায়। এই রাস্তা সংস্কারে প্রতিবছর অনেক অর্থ ব্যয় হচ্ছে। তাই এখন রাস্তাগুলো টেকসই করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আগামী ২০১৯ সালের মধ্যে এসব রাস্তা সংস্কার করা হবে। এছাড়া চীন সরকারের ঋণ সহায়তায় বাংলাদেশ টিভির ৫টি নতুন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। ১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে চীন দেবে ৯৮৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। আগামী ২০২০ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা। রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও বরিশাল বিভাগে প্রথম পর্যায়ে করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আরো একটি বাড়ানো হলো।

মেহেরপুরে পুলিশের সাথে 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত ৪



মেহেরপুরে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে চারজন নিহত হয়েছেন। সোমবার গভীর রাতে সদর উপজেলার নুরপুর মোড়ে এ ঘটনা ঘটেছে। নিহতরা হলেন উপজেলার সোনাপুর গ্রামের সাদ্দাম হোসেন (২৫), রমেশ (২৪), সোহাগ (২৭) ও কানন (২৫)।  এরা সোনাপুর গ্রামের জোড়া খুন মামলার আসাসি বলে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় সহকারি পুলিশ সুপার আহসান হাবীব সহ সাত পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, রাত আড়াইটার দিকে কিছু সন্ত্রাসীকে ধাওয়া করে পুলিশের একটি দল। নুরপুর মোড়ে পৌঁছালে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে সন্ত্রাসীরা। এ সময় উভয়ের মধ্যে গুলি বিনিময় হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় চার সন্ত্রাসী। এ সময় সহকারি পুলিশ সুপার আহসান হাবীব, এস আই তারিক আজিজ, এস আই রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সদস্য আব্দুল হান্নান, আব্দুল ওহাব, মিথান সরকার ও শহিদুল ইসলাম আহত হন।
তাদের মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। নিহতরা সোনাপুর গ্রামের মজিদ ও আসাদুল হত্যার সাথে জড়িত বলে ধারণা করছেন তিনি। লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আবু এহসান রাজু জানান, রাত পৌনে ৪টার দিকে গুলিবিদ্ধ চারজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসে পুলিশ। হাসপাতালে আসার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। লাশের ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। উল্লেখ্য, গত ৫ মার্চ রাতে সদর উপজেলার সোনাপুর গ্রামের দুই ব্যবসায়ী আব্দুল মজিদ (৫৫) এবং আাসাদুল ইসলামকে (৫০) অপহরণ করে গলাকেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ১০/১২ জনের অস্ত্রধারী একটি দল গ্রামের একটি চায়ের দোকান থেকে রাত পৌনে ১১টার দিকে তাদের অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যায়। এরপর রাতেই তাদের গলাকেটে হত্যা করা হয়। বন্দুকযুদ্ধে নিহতরা এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত বলে ধারণা পুলিশ ও এলাকাবাসীর।

ঠিকাদারের গাফিলতিতে এক বছর ধরে দুর্ভোগে ৩ গ্রামের মানুষ

প্রায় এক বছর আগে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় সড়ক সংস্কারের নামে নয়াকান্দি সড়কের মাটি কেটে প্রায় দেড় ফুট গভীরে গর্ত করা হয়। সেই গর্তে জমছে বৃষ্টির পানি, ভাঙ্গছে সড়ক, সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সড়কটি ব্যবহারকারী তিন গ্রামের প্রায় পনেরো হাজার মানুষকে। জানা যায়, কেবল ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে আটকে আছে সড়কটির সংস্কার কাজ। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক লাগোয়া মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার নয়াকান্দি গ্রামটি। মহাসড়ক থেকে গ্রামে প্রবেশের একমাত্র রাস্তাটির ছিল বেহাল দশা। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল সড়কটি। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি সড়কটি সংস্কারে প্রতিশ্রুতি দিলেও তা কেবল আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ ছিল। অবশেষে জনগণের দাবির মুখে সড়কটি দ্রুত সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক ও মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. মৃণাল কান্তি দাস। এমপির আশ্বাসের পর হয়েছিল টেন্ডার, সড়কটির ১৫২০ মিটার অংশ সংস্কারে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল ৮১ লাখ টাকা। তবে দীর্ঘদিনেও শুরু হয়নি সংস্কার কাজ। জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে সংস্কারের নামে সড়ক কেটে এক ফুট পরিমাণ গর্ত করা হয়।
গত বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয় বিশাল বিশাল গর্তের, সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু পরিমাণ পানি জমতো রাস্তায়। সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে রোগী, স্কুলগামী শিক্ষার্থীসহ সড়কটি ব্যবহারকারী তিন গ্রামের প্রায় পনেরো হাজার মানুষকে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমেও যাতে সেই ভোগান্তিতে আবার পড়তে না হয় তাই রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের দাবী ভুক্তভোগীদের। এলজিইডির গজারিয়া উপজেলার দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রকৌশলী মো: আরজুরুল হক জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নেকী এন্টারপ্রাইজ সঠিক সময়ে কাজ শুরু না করায় তাদের ইতিমধ্যে দুই বার নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। তবে নেকী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো: আতাউর রহমান নেকী খোকন জানান, কাজটি সাব-কন্ট্রাক্টে উপজেলা চেয়ারম্যানের ছোট ভাই আজিম খানের করার কথা ছিল। তবে তিনি কেন দেরি করছেন তা তিনি জানেন না। সড়কটির সংস্কার কাজ দ্রুত শুরু হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। এব্যাপারে জানতে আজিম খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসী কর্তৃক চাঁদা দাবির কারণে কাজটি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। তবে তার এই দাবি অযৌক্তিক বলে মনে করেন স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। সড়কটি দ্রুত সংস্কারে সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাসের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

লৌহজংয়ে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও পলিথিন জব্দ

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ১নং ও ২নং ঘাটে পদ্মা নদীর পাড় থেকে ৩ লাখ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ও ৫ হাজার ৮০০ কেজি পলিথিন জব্দ করেছে কোস্টগার্ড। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে কোস্টগার্ড কন্টিনজেন্ট কমান্ডার (মাওয়া) মো: ইব্রাহিম খলিলের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে এগুলো জব্দ করা হয়।
কোস্টগার্ড কন্টিনজেন্ট কমান্ডার (মাওয়া) মো: ইব্রাহিম খলিল জানান, সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিষিদ্ধ এসব কারেন্ট জাল ও ৫ হাজার ৮০০ কেজি পলিথিন শিমুলিয়া ১নং ও ২নং ফেরী ঘাট থেকে ফেরীতে পদ্মা পারাপারের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্টগার্ড সদস্যরা মাওয়া পদ্মানদীর পাড়ে অভিযান চালিয়ে এগুলো জব্দ করে। তবে উপস্থিতি টের পেয়ে কারেন্ট জাল ও নিষিদ্ধ পলিথিন ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অবৈধ ব্যবসায়ীরা। এ সময় কাউকে আটক করা যায়নি। পরে আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলা মৎস্য অফিসার মো: ইদ্রিশ তালুকদারের উপস্থিতিতে মাওয়া এলাকা সংলগ্ন পদ্মা নদীর পাড়ে জব্দকৃত কারেন্ট জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। অন্যদিকে নিষিদ্ধ পলিথিনগুলো মুন্সীগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে হ¯তান্তর করা হয় বলে কোস্টগাড কর্মকর্তারা জানান।

মিয়ানমারে ভূমিকম্পে ২৪ জন আহত

মিয়ানমারের ইয়াংগুন অঞ্চলের তাইকিতে সোমবার রাতে মাঝারি মাত্রার একটি ভূমিকম্পের আঘাতে কমপক্ষে ২৪ জন আহত এবং অনেক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ১৭ নারী রয়েছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৮। মঙ্গলবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ একথা জানায়। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, এতে তাইকির কেন্দ্রস্থলে একটি প্যাগোডা, শহর এলাকার থানার কিছু আবাসিক ভবন এবং অনেক বেসামরিক ঘরবাড়ি ধসে পড়ে।
তাইকিতে ভূমিকম্পের ঘটনায় লোকজন বিভিন্ন বহুতল ভবন থেকে লোকজন বাইরে বেরিয়ে আসে এবং খোলা আকাশের নিচে তারা রাত কাটায়। এসময় তারা মোমবাতি জ্বালিয়ে নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনা করে। স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৪৯ মিনিটে এ ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ইয়াংগুনের প্রায় ৩৬ কিলোমিটার উত্তরপশ্চিম এবং তাইকি শহরের প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে।

বেতন দান করে দিবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

হোয়াইট হাউজের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সরকারি বেতন দান করে দেবার পরিকল্পনা করছেন। প্রেস সচিব শন স্পাইসার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এ বছরের তার বেতন দান করে দেবেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় মি. ট্রাম্প বলেছিলেন প্রেসিডেন্ট হলে সরকারি চার লাখ ডলার বেতন নেবেন না তিনি।
তবে প্রেসিডেন্টের বেতন কোথায় দান করা হবে সেটি এখনো ঠিক হয়নি। মি. স্পাইসার সাংবাদিকদের বলেছেন, মি. ট্রাম্প তার সরকারি বেতন কোথায় দান করবেন সে বিষয়ে সাংবাদিকদের পরামর্শ বা সাহায্য পেলে খুশি হবেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বার্ষিক বেতন চার লাখ ডলার। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণায় বলেছিলেন, আইন মেনে তাকে হয়তো এক ডলার নিতে হবে।
সূত্র: বিবিসি

কাশি হলে এই খাবারগুলো খাবেন না

ঋতু পরিবর্তনের সময় কাশির সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। কখনও শুকনো খুসখুসে কাশি, কখনও হয়তো ঠাণ্ডা লেগে একেবারে কফ-কাশি। কাশির জন্য অনেকসময়ই বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। তবে কয়েকটা জিনিস মেনে চললে, কাশির প্রকোপ একটু কমে। যেমন, কাশি হলে বেশ কিছু খাবার আমাদের এড়িয়ে চলা উচিত। জেনে নিন-
১) ক্যাফিনযুক্ত পানীয় : কাশি হলে চা, কফি যাতে ক্যাফিন থাকে তা এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ এতে গলা আরো শুকিয়ে যায়।
২) ভাজা খাবার : ভাজা খাবারে থাকে তেল। তেলে কফ বাড়ে। তাই কফ-কাশি হলে ভাজা খাবার একদম খাবেন না। কড়া করে ভাজা খাবার অনেকসময় অ্যালার্জেন হিসেবে কাজ করে। যার ফলে গলায় খুসখুস বাড়ে।
৩) প্রসেসড ফুড : প্রসেসড ফুড দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই কফ-কাশির মধ্যে প্রসেসড ফুড খেলে সংক্রমণের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এমনকী এই সময় পাঁউরুটি, চিপস বা প্যাকেটজাত স্ন্যাকসও খাওয়া উচিত নয়।
৪) অ্যালকোহল : অ্যালকোহল শরীরকে ডিহাইড্রেট করে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমায়। ফলে আরো ঠাণ্ডা লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
৫) ঠাণ্ডা খাবার : আইসক্রিম, কোল্ড ড্রিংকস কাশির মধ্যে একদমই খাওয়া উচিত নয়। কারণ কফ-কাশির মধ্যে ঠাণ্ডা খেলে সংক্রমণ আরো বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
সূত্র : ইন্টারনেট

হার্টের রোগীর পা কেটে বাদ, ‍মৃত্যু

হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীর চিকিত্‍সা করতে গিয়ে তার পা কেটে বাদ দেওয়া হয়েছে। আর সে জেরেই শেষ পর্যন্ত রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ ভারতের বেসরকারি হাসপাতাল মেডিকার বিরুদ্ধে আমরি, অ্যাপোলোর পরে এবার বেসরকারি হাসপাতাল মেডিকার বিরুদ্ধে চিকিত্‍সায় গাফিলতিতে এ রোগীমৃত্যুর অভিযোগ উঠল। গত ৬ মার্চ বুকে ব্যথা নিয়ে মেডিকা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে ভর্তি হন সুনীলকুমার পান্ডে নামে ৪২ বছর বয়সী এক রোগী। পরীক্ষার পরে তার হৃদযন্ত্রে রক্ত বহনকারী ধমনীতে ব্লকেজ ধরা পড়ে। হৃদযন্ত্রে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করতে চিকিত্‍সকরা তার অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি করার সিদ্ধান্ত নেন। চিকিত্‍সার অংশ হিসেবে তার পায়ের শিরায় অস্ত্রোপচার করা হয়। কিন্তু পরে সেই ক্ষত থেকে গ্যাংগ্রিন সৃষ্টি হয়েছে বলে সুনীলের পরিবারকে জানানো হয়।
এর ফলে তার প্রাণ সংশয় দেখা দিতে পারে বলেও জানানো হয়। সেই কারণে পরিবারের সম্মতি নিয়ে গত ১১ মার্চ অস্ত্রোপচার করে সুনীলবাবুর বাঁ-পায়ের গোড়ালির উপর থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত কেটে বাদ দেওয়া হয়। সোমবার সকাল ৫-০৫ মিনিটে সুনীল পান্ডের মৃত্যু হয়। এর জেরে এদিন পূর্ব যাদবপুর থানায় মেডিকা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিত্‍সকদের বিরুদ্ধে চিকিত্‍সায় গাফিলতির অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃতের স্ত্রী সুজাতা পান্ডে। তার দাবি, চিকিত্‍সার বিষয়ে প্রতিদিন ভিন্ন তথ্য দিয়ে রোগীর পরিজনদের বিভ্রান্ত করা হয়েছে। গাফিলতির কারণেই শেষ পর্যন্ত তার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য দেহটি কাঁটাপুকুর মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এদিকে সমস্ত রোগীর পরিজনদের যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেডিকা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সুনীলকে যে সঙ্কটজনক অবস্থায় এ হাসপাতালে আনা হয়, তাতে তার বাঁচার আশা অত্যন্ত ক্ষীণ ছিল। হাসপাতালের সর্বাধুনিক চিকিত্‍সা ব্যবস্থার কারণেই সেই সময় তার প্রাণরক্ষা করা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু পরে তার শারীরিক পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠার পরে চিকিত্‍সকদের সব রকম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
সূত্র: এই সময়

মিয়ানমার থেকে সব রোহিঙ্গাকে বের করে দিতে চাচ্ছে সরকার : জাতিসঙ্ঘ

জাতিসঙ্ঘের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত ইয়াংহি লি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, দেশটির সরকার নিজ ভূখণ্ড থেকে সব রোহিঙ্গা মুসলমানকে হয়ত বের করে দিতে চাচ্ছে। জেনেভায় জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার পরিষদের বৈঠকে দেয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। ইয়াংহি লি বলেন, মিয়ানমার থেকে সব রোহিঙ্গাকে বের করে দেয়ার লক্ষ্যেই হয়ত তাদের বিরুদ্ধে সঙ্ঘবদ্ধ নির্যাতন এবং ভয়াবহ সহিংসতা চলছে।
লি দুই দফা মিয়ানমার সফর করেছেন। তিনি বলেন, ঘরে ঘরে তল্লাশির নামে দেশটিতে রোহিঙ্গাদের জীবন বিষিয়ে তোলা হয়েছে। এ ছাড়া, গোলযোগপূর্ণ রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি ভাঙ্গার তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
সূত্র : ওয়েবসাইট

ড্রোন হামলার নতুন অনুমোদন দিলেন ট্রাম্প

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’কে সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ড্রোন হামলা চালানোর অনুমতি দিয়েছেন। ওয়াশিংটনের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে 'যুদ্ধের' অংশ হিসেবে এ অনুমতি দেয়া হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। আধা সামরিক তৎপরতায় জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সিআইএ’র সক্ষমতা সীমিত করার নীতি মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নিয়েছিলেন। কিন্তু ড্রোন হামলা চালানোর অনুমতি দেয়ার মধ্য দিয়ে তার থেকে সরে আসা হলো।
এ ছাড়া, এ অনুমোদনকে কেন্দ্র করে পেন্টাগন এবং সিআইএ’র মধ্যে টানাপড়েন বাড়বে। ইয়েমেন এবং পাকিস্তানসহ অনেক দেশের বিরুদ্ধেই গত কয়েক বছর যাবৎ ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ২০০৪ সালে ড্রোন হামলার সূচনা করেন। আর ওবামার আমলে এ জাতীয় হামলার মাত্রা কয়েকগুণ বেড়েছিল।
সূত্র : ওয়েবসাইট

দ. কোরিয়ায় ড্রোন মোতায়েন করছে আমেরিকা

দক্ষিণ কোরিয়ায় হামলায় ব্যবহারের উপযোগী ড্রোন মোতায়েন শুরু করেছে আমেরিকা। মার্কিন সামরিক মুখপাত্র সোমবার এ কথা জানিয়েছেন। অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ব্যবস্থা ‘থাড’ মোতায়েনের কয়েক দিনের মধ্যেই এ ঘোষণা দেয়া হলো। গ্রে ইগল আনম্যানড অ্যারিয়াল সিস্টেম নামের এ ড্রোন সীমান্ত পরিকল্পনার আওতায় দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন করা হচ্ছে। বৃহত্তর এ পরিকল্পনা আওতায় মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রতি ডিভিশনের সাথে এক কোম্পানি করে হামলায় ব্যবহারের উপযোগী ড্রোন মোতায়েন করা হবে।
কোরিয়ায় অবস্থিত মার্কিন বাহিনীর গোয়েন্দা, নজরদারি এবং টহল সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়াচ্ছে আমেরিকা। কোরিয়া উপদ্বীপে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর মুখপাত্র এ কথা জানান। অবশ্য এ সব ড্রোন কবে দক্ষিণ কোরিয়ায় পৌঁছাবে সে বিষয়ে কিছু বলেননি এ মুখপাত্র। দূর নিয়ন্ত্রিত ড্রোন গ্রে ইগলকে তৈরি করেছে মার্কিনভিত্তিক কোম্পানি জেনারেল অ্যাটোমিক্স। প্রিডেটর ড্রোনের উন্নত সংস্করণ গ্রে ইগল চারটি আকাশ থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে পারে।

দ. চীন সাগরে বৃহত্তম রণতরী পাঠাচ্ছে জাপান

বিরোধপূর্ণ দক্ষিণ চীন সাগরে তিন মাসের জন্য বৃহত্তম রণতরী পাঠানোর পরিকল্পনা করছে জাপান। চলতি বছর মে মাসের শুরুতে ইজুমু নামে এই রণতরী মোতায়েন করা হতে পারে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র জানিয়েছে। এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই এলাকায় জাপানি নৌবাহিনীর সবচেয়ে বড় রণতরী মোতায়েনের ঘটনা হবে। হেলিকপ্টারবাহী রণতরী ইজুমু মাত্র দুই বছর আগে কমিশনড হয়। দক্ষিণ চীন সাগরে যাত্রাপথে রণতরীটি সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কায় বিরতি নেবে। জুলাই মাসে মালাবর-এ ভারত মহাসাগরে রণতরীটি ভারত ও মার্কিন নৌবাহিনীর সঙ্গে যৌথ মহড়ায় অংশ নেবে। আগস্টে রণতরীটি জাপানে ফিরবে। এ বিষয়ে কথা বলার এখতিয়ার না থাকায় জাপানের প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এর লক্ষ্য মূলত ইজুমুর সক্ষমতা যাচাই করা। এটি দক্ষিণ চীন সাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর সঙ্গে প্রশিক্ষণে অংশ নেবে।
তবে জাপানের মেরিটাইম সেলফ ডিফেন্স ফোর্স এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। দক্ষিণ চীন সাগরের মালিকানা নিয়ে চীনের সঙ্গে বেশ কয়েকটি দেশের বিরোধ চলে আসছে। মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি নিয়েও মাঝে মধ্যেই চীন-মার্কিন সম্পর্কে উত্তেজনা বিরাজ করে। চীনের পাশাপাশি দক্ষিণ চীন সাগরে সমুদ্রসীমার মালিকানা দাবি করে আসছে তাইওয়ান, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন ও ব্রুনেই। এ অঞ্চলটি মৎস্য আহরণের অন্যতম ক্ষেত্র। এ ছাড়া তেল-গ্যাসসহ বেশ কিছু খনিজসম্পদ রয়েছে। প্রতি বছর এ অঞ্চলে ৫০০ কোটি ডলার মূল্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য হয়। দক্ষিণ চীন সাগরে নৌসীমা নিয়ে চীনের সঙ্গে জাপানের কোনো বিরোধ নেই। তবে পূর্ব চীন সাগরে উভয় দেশের বিরোধ রয়েছে।

ব্রেক্সিট বিল সংসদের উচ্চকক্ষে পাশ

ইইউ-এর সাথে যুক্তরাজ্যের থাকা না থাকা নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ব্রেক্সিট বিলটি পাশ করেছে ব্রিটেনের সংসদ। সংসদের উচ্চ কক্ষ, হাউস অফ লর্ডস, আর্টিকেল-৫০ সংসদে পাশ করার পর ইইউ ছাড়তে যুক্তরাজ্যের এখন আর কোনো বাধা রইলো না। রয়্যাল এসেন্ট বা রানীর সম্মতি পেলে এই বিলটি আজ মঙ্গলবারই আইনে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ইইউ নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করবার বিষয়টি নিয়ে সরকারের উপরে কিছুটা চাপ রয়েছে। যুক্তরাজ্যে প্রায় ৩০ বছর ধরে বাস করছেন ফরাসী নাগরিক এন-লর ডন্সকি। যুক্তরাজ্যে ইইউ-এর যে প্রায় ৩০ লাখ নাগরিক বসবাস করছে তাদের সংগঠন 'দি থ্রি মিলিয়ন' এর সহকারী চেয়ারপার্সন-ও তিনি। এই বিল পাশ হবার তিনি হতাশা প্রকাশ করেন। এন-লর ডন্সকি বলছেন, ভোটের কথা শুনে আমার মন বিষাদে ছেয়ে গেছে। এর অর্থ হলো, আমরা যারা এখন যুক্তরাজ্যে বাস করছি,
রাজনৈতিক আলোচনার টেবিলে দরকষাকষির জন্য তাদেরকেই আসলে ব্যাবহার করা হবে এবং এই ক্ষেত্রে আমাদের নিজেদের আর কিছুই বলারও থাকবে না। তবে, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ইইউ নাগরিক যারা যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন তাদের অধিকার নিশ্চিত করার ব্যাপারে সরকার আন্তরিক। এদিকে স্কটল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নিকোলা স্টার্জন এক ঘোষণায় জানিয়েছেন, স্কটিশদের স্বাধীনতার লক্ষ্যে দেশটিতে নতুন করে আরেকটি গণভোটের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চাইবেন তিনি। ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই গণভোট প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি। কারণ স্কটল্যান্ডের স্কটল্যান্ড বহু মানুষ ই-ইউ-তে থেকে যাওয়ার পক্ষে রায় দিয়েছিল। নিকোলা স্টার্জন বলেছেন, স্কটিশরা যদি সত্যিই এমনটি চায় তাহলে যুক্তরাজ্য থেকে বের হওয়ার লক্ষ্যে ২০১৯ সালের আগেই এই গণভোট অনুষ্ঠিত হতে হবে। অন্যদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেজা মে বলেছেন, স্বাধীনতার জন্য স্কটল্যান্ডে আবারো গণভোট হলে বিভেদ সৃষ্টি হবে এবং অনিশ্চিত পরিস্থিতির তৈরিরও আশঙ্কা আছে।
সূত্র : বিবিসি

রাজধানীতে মোটর প্রদর্শনী শুরু ২৩ মার্চ

রাজধানী ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি, বসুন্ধরায় ২৩ মার্চ শুরু হচ্ছে ৩ দিনব্যাপী মোটর প্রদর্শনী। এবারের মেলায় বাংলাদেশ ছাড়াও ৮টি দেশের গাড়ি নির্মাতা কোম্পানির এ দেশের এজেন্ট, মোটরসাইকেল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ও গাড়ির যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। জাতীয় প্রেস ক্লাবে সোমবার মেলা উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সেমস গ্লোবালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেহেরুন এন ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন সেমস গ্লোবালের নির্বাহী পরিচালক তানভীর কামরুল ইসলাম, সেমস বাংলাদেশের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা নাঈম শরীফ প্রমুখ। সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশের দ্রুত প্রসারমান অটোমেটিভ ও অটো-কম্পোনেন্ট খাতকে বেগবান করতে মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। এবার ৪টি প্রদর্শনী একসঙ্গে আয়োজন করা হচ্ছে।
এক ছাদের নিচে দর্শনার্থীরা ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল, গাড়ির যন্ত্রাংশ ও বাণিজ্যিক যানবাহন সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবেন। বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের ৮টি দেশের ১৮০টি প্রতিষ্ঠান ৩৬০টি স্টলে তাদের পণ্য প্রদর্শন করবে। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হয়ে মেলা চলবে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত। সব শ্রেণী-পেশার মানুষের জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে। সেমস গ্লোবালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেহেরুন এন ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ গাড়ি আমদানির ওপর নির্ভরশীল। প্রগতি সংযোজন করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ক্রেতা-দর্শনার্থীদের সর্বশেষ মডেলের গাড়ির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে প্রতিবছর সেমস মেলার আয়োজন করে থাকে।

বাংলাদেশ কোন পথে?

সংসদীয় রাজনৈতিক দলগুলো যেভাবে নিজেরাই নিজেদের চরিত্র উন্মোচন করতে থাকে এটা এক কৌতুকেরও ব্যাপার। গত ১১ মার্চ শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকার খামারবাড়ীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউটে যুব মহিলা লীগের সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তৃতা দেন। তার যে কোনো বক্তৃতার একটি প্রিয় বিষয় হল, বিএনপি এবং খালেদা জিয়া সম্পর্কে সমালোচনামূলক কিছু না কিছু বলা। তার এই বক্তৃতাও এদিক দিয়ে ব্যতিক্রম নয়। এতে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদের জন্য ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এবং আমেরিকা জোট বেঁধে ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে হারিয়েছিল। ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে আমেরিকান কোম্পানি আমাদের গ্যাস বিক্রি করতে চাইল ভারতের কাছে। ভারতের কাছে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়েছিল খালেদা জিয়া। দিয়েই তো সে ক্ষমতায় এসেছিল। আমি তা দেইনি।
আমি চেয়েছিলাম আগে আমার দেশের মানুষের কাজে লাগবে, ৫০ বছরের রিজার্ভ থাকবে। তারপর আমরা ভেবে দেখব, বিক্রি করব কী করব না’ (যুগান্তর ১২.০৩.২০১৭)। বিএনপি যে সে সময় বাংলাদেশের গ্যাস রফতানি করতে আগ্রহী ছিল এটা ঠিক। কারণ নির্বাচনে জেতার পর বিএনপির অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান প্রথম চোটেই মাত্র দুই দিনের মাথায় বলেছিলেন, ইলিশ মাছ যদি রফতানি করা যায়, তাহলে গ্যাস রফতানি করা যাবে না কেন? সে সময় ‘তেল গ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটি’সহ অনেক রাজনৈতিক দল ও বুদ্ধিজীবী গ্যাস রফতানির বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ায় ও বিরোধিতার কারণে ২০০৩ সালে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গ্যাস রফতানি করা যাবে কিনা এ বিষয়ে পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি করেন যাতে ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইঞ্জিনিয়ার, দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য প্রমুখ। তারা মত দিয়েছিলেন, গ্যাসের রিজার্ভের অবস্থা এবং বাংলাদেশে গ্যাসের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে গ্যাস রফতানি করা সমীচীন হবে না। এরপর গ্যাস রফতানির বিষয়ে বিএনপি সরকার আর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এখানে শেখ হাসিনার বক্তব্য থেকে এ বিষয়টি বেশ পরিষ্কার যে, বাংলাদেশে নির্বাচনের মাধ্যমে বা অন্যভাবে কোন্ দল বা কারা ক্ষমতায় বসবে, এ ক্ষেত্রে নানা ধরনের নির্বাচনী কারচুপি ও কারসাজির আগে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন হল খুব গুরুত্বপূর্ণ, এমনকি এক নির্ধারক ব্যাপার। এটা বিএনপির ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, তেমনি প্রযোজ্য আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রেও।
২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ও কারসাজির মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছিল এটা সবারই জানা। নির্বাচন জয়ের পর ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার কিছুদিন পর ড. ইউনূসকে নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে শেখ হাসিনা সরকারের সম্পর্কের কিছুটা অবনতির সময় এক টেলিফোন কথাবার্তায় তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন শেখ হাসিনাকে বলেছিলেন, তিনি যেন ভুলে না যান যে, আমেরিকার সমর্থনের কারণেই নির্বাচনে তার জয় হয়েছিল! এই কথাবার্তার কথা সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকার হিলারি ক্লিনটনের এই বক্তব্যের কোনো প্রতিবাদ করেনি। কাজেই এ নিয়ে দ্বিমত হওয়ার কিছু নেই। ভারত যে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নির্বাচন জয়ের ক্ষেত্রে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল এটা নিয়েও কোনো বিতর্কের অবকাশ নেই। তাছাড়া নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে ২০০৯ সাল থেকে আজ পর্যন্ত শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার ভারতকে গ্যাস না দিলেও তার থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা যে তাদেরকে একতরফাভাবে দিয়ে আসছে এটা সবারই জানা। এমনকি অনেক ভারতীয় পত্রপত্রিকাতেও এ নিয়ে লেখালেখি হয়েছে। বাংলাদেশের সমুদ্র ও নৌবন্দর ব্যবহারের সুবিধা তারা ভারতকে দিয়েছেন উদারভাবে, ভারতকে শেষ পর্যন্ত করিডোর তারা দিয়েছেন, যার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে অনেক আন্দোলন হয়েছে। বাংলাদেশের প্রশাসনে ভারতের হস্তক্ষেপের সুযোগ-সুবিধাও তারা দিয়েছেন।
বাংলাদেশের জনগণের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও তারা রামপালের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ভারতের সঙ্গে চুক্তি করেছেন। তারপর তিস্তার পানির বিষয়টি তো আছেই। শেখ হাসিনা সরকার ভারতকে একতরফাভাবে অনেক কিছু দেয়া সত্ত্বেও ভারত তিস্তার পানিসহ বাংলাদেশকে কিছুই দেয়নি। ভারতকে বাংলাদেশের মহান বন্ধু হিসেবে ঢেঁড়ি পেটানো সত্ত্বেও তিস্তার পানি থেকে নিয়ে সব বিষয়ে বাংলাদেশকে ভারত সরকার যেভাবে বঞ্চিত করে রেখেছে সেটা এ দেশের জনগণের প্রতি শত্রুতা ছাড়া আর কী? তিস্তার পানি নিয়ে দুই সরকারের মধ্যে অসংখ্য বৈঠক সত্ত্বেও ভারত সরকারের কাছ থেকে আশ্বাস ছাড়া এ পর্যন্ত বাংলাদেশ কিছুই পায়নি! বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের কথা শোনা যাচ্ছে আগামী এপ্রিল মাসে। সেখানেও তিস্তার পানি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। কিন্তু এবার তিস্তার পানির সঙ্গে সম্পর্কিতভাবে এক ভয়াবহ চুক্তির সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে। কোনো কোনো সংবাদপত্রের রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে যে, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের এক সামরিক চুক্তির প্রস্তাবও তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা বাংলাদেশকে দেয়ার শর্ত হিসেবে থাকবে। এর থেকে সর্বনাশা ব্যাপার আর কী হতে পারে? গ্যাস রফতানির তুলনায় এসব কথাবার্তা ও সম্ভাব্য চুক্তি যে বাংলাদেশের জন্য কত বেশি বিপজ্জনক, এটা কাউকে বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন হয় না। এর দ্বারা যে কোনো লোকেরই বোঝার অসুবিধে নেই যে, বাংলাদেশের ওপর ভারত সরকারের যে প্রবল প্রভাব আছে তাকে নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়াই হল ভারতের দিক থেকে এই চুক্তির লক্ষ্য। এর ফলে বাংলাদেশ পুরোপুরিভাবেই ভারতের কব্জায় চলে যাবে। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের কথা আগে থাকলেও একাধিকবার তার তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। মনে হয়, এ নিয়ে দুই সরকারের মধ্যে কোনো বিষয়ে টানাপোড়েনের কারণেই এটা হয়েছে। এখন যেভাবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সামরিক চুক্তির কথা শোনা যাচ্ছে তাতে মনে হয় এটা নিয়েই টানাপোড়েন চলছিল। এখন শেখ হাসিনার ভারত সফরের তারিখ এপ্রিল মাসে নির্ধারিত হওয়ার কারণ হতে পারে, এ নিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সহমত। এই সহমতের অর্থ কী?
তিস্তার পানি বাংলাদেশের জন্য অবশ্যই দরকার। কিন্তু তার বিনিময়ে বাংলাদেশকে যদি ভারতের সঙ্গে সামরিক চুক্তিতে আবদ্ধ হতে হয়, তাহলে এ দেশের স্বাধীনতা বলে প্রকৃতপক্ষে আর কিছু থাকবে না। পূর্ব বাংলা ১৯৪৭ সাল থেকে পাকিস্তান সরকারের (কার্যত পশ্চিম পাকিস্তানের) দ্বারা শোষিত, নির্যাতিত হতো, তাদেরই অধীনে ছিল। একই রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে থেকেই পূর্ব বাংলা বা পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ অধীনতার জীবনযাপন করতেন, শোষিত-নির্যাতিত হতেন। এখন বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত সরকারের সম্পর্ক যা দাঁড়িয়েছে এবং আরও বেশি করে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, তাতে বাংলাদেশের জনগণকে একই বিপদের মধ্যে বসবাস করতে হবে। তফাৎ এই যে, আগে এ অবস্থা ছিল একই রাষ্ট্রকাঠামোর মধ্যে থেকে। এখন রাষ্ট্রীয় কাঠামো আলাদা হলেও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক দাঁড়াবে একই রকম। পাকিস্তানি আমলে শোষণ-শাসনবিরোধী জনগণের সংগ্রাম, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এখানে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর বাংলাদেশের জনগণকে যদি এই বিপদের মধ্যে ফেলা হয় তাহলে এর থেকে বড় ট্র্যাজেডি এ দেশের জনগণের জন্য আর কী হতে পারে?
১২.০৩.২০১৭
বদরুদ্দীন উমর : সভাপতি, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল

প্রশ্নপত্র ফাঁস নয়, চাই মূল্যবোধ সম্পন্ন শিক্ষক

গত কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশে পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে চলছে। কখনও পরীক্ষার কয়েক দিন আগে, আবার কখনও পরীক্ষার দিনে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। সরকারের পক্ষ থেকে প্রায়ই প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়। অর্থাৎ সরকার এ ব্যাপারে এক ধরনের অস্বীকার করার মনোবৃত্তিতে জড়িয়ে আছে। কিন্তু সমস্যাটি এতই ভয়াবহ যে, অস্বীকৃতি সমস্যার কোনো সমাধান এনে দেয় না। কথায় বলে, ‘অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ হয়?’ সবকিছু দেখে মনে হচ্ছে সরকার দেখেও না দেখার ভান করছে। পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস দেশের গলায় ফাঁস হিসেবে জড়িয়ে গেছে।
এ ফাঁসের পরিণতি দীর্ঘমেয়াদি বিচারে এতই আশংকাজনক যে, ফাঁসরুদ্ধ হয়ে দেশটিরই দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। গত ১১ মার্চ ২০১৭ একটি বহুল প্রচারিত দৈনিক পত্রিকার শিরোনাম ছিল, প্রশ্নপত্র ফাঁসে ৭ শিক্ষকসহ ১৯ জনের নাম এসেছে। দৈনিকটিতে পরিবেশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, রাজধানীর মতিঝিল এলাকার ৪টি স্কুলের ৭ শিক্ষকসহ মোট ১৯ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাধ্যমিক পরীক্ষার (এসএসসি) প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জ্ঞানকোষ একাডেমি নামে একটি কোচিং সেন্টারের আড়ালে অসাধু শিক্ষকসহ অন্যরা মিলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের এ শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। আদালত ও পুলিশ সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। কয়েক বছর ধরে নানা উপায়ে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিকসহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে আসছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে। চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার গণিতের প্রশ্নপত্র পরীক্ষার দিন সকালেই ছড়িয়ে পড়ে। তখন ঢকা বোর্ডের পক্ষ থেকে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়, পরীক্ষা শুরুর আগেভাগে শিক্ষকের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস হতে পারে। সমালোচনার মুখে ওই পরীক্ষা বাতিল করা না হলেও মন্ত্রণালয় পুলিশ ও গোয়েন্দাদের আন্তরিক সহায়তা চায়। ইতিমধ্যে পুলিশ প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতিঝিলকেন্দ্রিক একটি সিন্ডিকেটের প্রায় সবাইকে চিহ্নিত করেছে। গ্রেফতার হয়েছে ৯ আসামি। তাদের জবানবন্দি ও জিজ্ঞাসাবাদে আরও দশজনের নাম এসেছে এবং তাদের গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে বলে তদন্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে। গত ক’বছর ধরে সন্দেহ করা হচ্ছিল কোনো কোনো কোচিং সেন্টার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত। গত দুই তিন দশকে বাংলাদেশে কোচিং সেন্টার শিক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। আমাদের মতো বয়সের মানুষ যারা ৫০ বছর আগে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ত তাদের কাছে কোচিং সেন্টারের ধারণাটি সম্পূর্ণ অজানা ছিল। কিছু কিছু অভিভাবক যারা আর্থিক দিক থেকে সচ্ছল ছিলেন তারা স্কুলের ভালো ভালো শিক্ষকদের কাছে তাদের সন্তানদের পরীক্ষার তিন-চার মাস আগে প্রাইভেট পড়ায় নিয়োগ করতেন।
সবাই সব বিষয় পড়ত এমন নয়। যারা যে বিষয়ে দুর্বল ছিল তারা সে বিষয়ে দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রাইভেট টিউটরের শরণাপন্ন হতো। প্রাইভেট টিউটরের কাছে পড়েছে এমন ছাত্রের সংখ্যাও ছিল অতি নগণ্য। এসব প্রাইভেট টিউটর ২০-২৫ টাকা মাসোয়ারার ভিত্তিতে ছাত্র পড়াতেন। ক্ষেত্র বিশেষে এ টিউটররা ছাত্রদের আদর্শ প্রশ্নোত্তর লেখার কৌশলও শিখিয়ে দিতেন। বিশেষ করে অংক ও ইংরেজি এ দুটি বিষয়ে প্রাইভেট টিউশন হতো। তবে স্কুলের রেজাল্ট যাতে ভালো হয় সে জন্য স্কুলের উদ্যোগেই পরীক্ষার আগে কোচিং ক্লাসের ব্যবস্থা করত কোনো কোনো স্কুল। এর জন্য ছাত্রদের কাছ থেকে কোনোরকম টাকা-কড়ি নেয়া হতো না। শিক্ষকরা ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ। ছাত্রের সাফল্যে তারা স্বর্গ সুখ লাভ করতেন। ছাত্ররাও আজীবন এমন শিক্ষকদের শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করত এবং এখনও করে। সমসাময়িক বন্ধু-বান্ধবরা একত্র হলে অবশ্যই কোনো কোনো শিক্ষকের নাম বারবার উচ্চারিত হয়েছে। এটাই ছিল শিক্ষকতা জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমাদের সময়ে সরকারি স্কুলগুলো ছাড়া বেসরকারি স্কুলের জন্য সরকারের কোনোরকম বরাদ্দ ছিল না বললেই চলে। এ কারণে শিক্ষকরা যে বেতন পেতেন তাতে বহু কষ্টে জীবনযাপন করতে হতো। বিলাস-ব্যসনের কোনো সুযোগই ছিল না। যেসব শিক্ষকের শিক্ষকতার বাইরে জমিজমা থেকে কিছু আয় হতো তারা তুলনামূলকভাবে সচ্ছল ছিলেন। এক কথায় বলা যায় তারা ভোগের নয়, ত্যাগের পেশাটিকেই বেছে নিয়েছিলেন। হয়তো তাদের জন্য বিকল্প কোনো সুযোগ-সুবিধাও ছিল না। আজকের দিনে দেশের অর্থনীতিতে অতীতের তুলনায় অনেক বেশি সমৃদ্ধি এসেছে। নতুন নতুন পেশা ও কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সে কারণে ব্যক্তির জন্য বিকল্প আয়ের অনেক সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে। যাদের মেধা ও যোগ্যতা আছে তারা অধিক আয়ের পেশায় নিয়োজিত হয়। এখন শিক্ষকরাও অতীত দিনের মতো দরিদ্র জীবনযাপন করেন না। স্কুল-কলেজে পড়াশোনা কম হয় বলে ঘাটতি পুষিয়ে নিতে প্রায় প্রতিটি ছাত্র প্রাইভেট টিউটরের শরণাপন্ন হয়। বছরবিশেক আগে শহর ও নগরে এক দল পেশাদার প্রাইভেট টিউটরের উদ্ভব হয়েছিল, যারা প্রতিদিন পাঁচ-ছয়টি ব্যাচে ছাত্র পড়াতেন। এ জন্য তারা অনেক সময় টেপরেকর্ডারও ব্যবহার করতেন। এখন কোচিংয়ের ব্যাপারটি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে প্রসার লাভ করেছে। রাজধানী ঢাকায় এলাকা বিশেষে ডজন ডজন কোচিং সেন্টারের সাইনবোর্ড দেখতে পাওয়া যায়। এসব কোচিং সেন্টার উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করে। ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসেরও অভিযোগ শোনা যায়। এছাড়া পাবলিক পরীক্ষার জন্য ছাত্রছাত্রীদের প্রস্তুত করাও কোচিং সেন্টারগুলোর কাজ। কোচিং সেন্টারের বিজ্ঞাপন থেকে দেখেছি তাদের সেন্টারে যারা কোচিং করেছে তাদের মধ্যে কতজন গোল্ডেন এ পেয়েছে অথবা জিপিএ ৫ পেয়েছে। এসব বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্য হল কোচিংয়ের জন্য ছাত্রছাত্রী বা তাদের অভিভাবকদের আকৃষ্ট করা।
আবার কোনো কোনো কোচিং সেন্টার দাবি করে তাদের সেন্টারের শতকরা কতজন ছাত্রছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। এক কথায় বলা যায় কোচিং সেন্টারগুলো কোচিং বাণিজ্যের রমরমা কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের একটি বৈশিষ্ট্য আছে। এ বৈশিষ্ট্য হল সৎ বাণিজ্য করা কিংবা অসৎ বাণিজ্য করা। দেশে বাজার অর্থনীতির বিকাশের ফলে যেনতেন ধরনের মুনাফা করাই অনেক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। এ কারণেই খাদ্যে ভেজাল দেয়া হয়, মানহীন ওষুধ বিক্রি করা হয়। বাণিজ্যের প্রসার ও বিকাশ অকাম্য হতে পারে না। তবে বাণিজ্য যখন নৈতিকতা বর্জিত হয়ে পড়ে তখনই দেখা দেয় বিভ্রাট। এ জন্য আধুনিক পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় রেগুলেটরি মেকানিজম বলে একটি কথা চালু হয়েছে। অর্থাৎ রাষ্ট্রের দায়িত্ব হল অসৎ ও নৈতিকতাবর্জিত ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করা এবং এগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কথায় বলে, শর্ষের ভেতরেই যদি ভূত থাকে তাহলে ভূত তাড়াবে কে? সরকার যেসব কর্তৃপক্ষ তৈরি করে নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব অর্পণ করেছে তারা যে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন না করে উৎসাহ-দানকারী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে সে তো আমরা বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার ভূমিকায় লক্ষ্য করছি। ব্যবসায়ী শ্রেণীর একটি লক্ষ্য হল, নিয়ন্ত্রকদের কিনে ফেলা অথবা নিজস্ব কব্জার মধ্যে নিয়ে আসা। এ জন্য তারা রাজনীতিতেও বিনিয়োগ করে। অর্থাৎ নিয়ন্ত্রক সংস্থা যাদের নিয়ন্ত্রণ করবে তাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই চলে যায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা। রাজনৈতিক অর্থনীতির ভাষায় একে বলা হয় রেগুলেটরি ক্যাপচার। অধিক দৃষ্টান্ত দেয়ার প্রয়োজন নেই। রাজধানী ঢাকার উন্নয়নের বিষয়টি যে সংস্থা দেখভাল করছে, সেই রাজউক নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। এটি চরম হতাশার বিষয়। দেশে যে পরিমাণ কোচিং সেন্টারের উদ্ভব ঘটেছে সে সম্পর্কে কোনো নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। তবে নিঃসন্দেহে বলা যায়, কোচিং সেন্টারকেন্দ্রিক বাণিজ্যের আয়ও আমাদের জিডিপির হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়।
এভাবে জিডিপি স্ফীত হওয়া উন্নতি না অবনতির লক্ষণ তা এক বিরাট প্রশ্ন। কোচিং সেন্টারের ফলে শিক্ষার মান যদি উন্নত হয়ে থাকে তাহলে এটাকে Social goods হিসেবে গণ্য করা যায়। অন্যদিকে এগুলোর নেতিবাচক প্রভাবের ফলে শিক্ষার মানে যে ধস নেমেছে তাকে ঝড়পরধষ নধফং হিসেবে গণ্য করা যায়। বাংলাদেশে পাল্লাটা কোন দিকে ভারি তা নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যানের অভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে আঁচ-অনুমান করে বলা যায়, প্রশ্নপত্র ফাঁসে কোচিং সেন্টারগুলোর এক ধরনের অসৎ বুদ্ধি কাজ করে। প্রশ্নপত্র ফাঁস করার পেছনে এদের একটা ইনসেন্টিভ থাকতে পারে। প্রাথমিকভাবে ইনসেন্টিভ হল ফাঁস করা প্রশ্ন বিক্রি করে লাভ করা। এর চেয়েও ভয়াবহ ও পরোক্ষ ইনসেন্টিভ হল এদের ছাত্ররা যদি প্রশ্ন ফাঁসের বদৌলতে পরীক্ষায় ভালো ফল করে তাহলে কোচিং সেন্টারের ব্র্যান্ড ভ্যালু বৃদ্ধি পায়। তাই তদন্তকারী সংস্থা প্রশ্নপত্র ফাঁসের পেছনে কোচিং সেন্টার ও কতিপয় শিক্ষকের যে যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে তা প্রাথমিকভাবে অবিশ্বাস্য নয়। কবি বলেছেন, ‘মানুষের ওপর বিশ্বাস হারানো পাপ। মানুষ একদিকে যেমন স্বার্থপর হতে পারে অন্যদিকে তেমনি হতে পারে পরার্থপর। এডাম স্মিথ তার The Theory of moral sentiments গ্রন্থে মানুষের পরার্থপরতার প্রবণতাকে চিহ্নিত করেছেন Empathy হিসেবে। মানব সমাজে Empathy-র দৃষ্টান্ত Selfishness-এর চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। মানুষ সম্পর্কে নীতিশাস্ত্রের ধারণাকে ভিত্তি করে বলতে চাই, সমাজ সংস্থাকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যাতে মানুষ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পরার্থপরতার চর্চা করে। মানুষের কাছ থেকে এ প্রত্যাশা অমূলক নয়। তবে আধুনিক প্রযুক্তির কিছু কিছু বৈশিষ্ট্য, বিশেষ করে যোগাযোগ প্রযুক্তির কিছু বৈশিষ্ট্য মানুষকে অনৈতিকতার পথে পা বাড়াতে সুড়সুড়ি দিচ্ছে।
প্রযুক্তিবিদ এবং সমাজ সংস্কারদের এ অশুভ সুড়সুড়ি থেকে মুক্ত থাকার জন্য অবিরাম চেষ্টা চালাতে হবে। বিদ্যাসাগর মহাশয় শিক্ষকদের সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘ধন চাহত তাহা হইলে এই পথে আসিও না, মান চাহত তাহা হইলে এই পথে আসিও। তিন্তিড়ি বৃক্ষের পত্র ভক্ষণ করত জীবন ধারণ করিতে চাহ, তাহা হইলে এই পথে আসিও।’ জানি অনেকে বলবেন বিদ্যাসাগর মহাশয়ের এ হিতোপদেশ খুবই বেমানান। তবুও বলব যারা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলেন তারা কি এ আদর্শের কথা তুলে ধরতে পারেন না? শিক্ষকদের বলা হয় ‘গুরু’। মনুসংহিতায় ‘গুরু’ শব্দের অর্থ বলা হয়েছে অন্ধকার এবং ‘রু’-এর অর্থ বলা হয়েছে ‘ধ্বংসকারী’। অর্থাৎ ‘গুরু’ হবেন অন্ধকার ধ্বংসকারী। কিন্তু ‘গুরু’ নামধারী ব্যক্তিরা যদি দেশটাকে অন্ধকারে ঢেকে দেয়ার প্রয়াস পান তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ কী? শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ যিনি আমার সঙ্গে প্রগতিশীল ছাত্র আন্দোলনে জড়িত ছিলেন তিনি বলেছেন, ‘আমরা এমন একটি পরিবেশের মধ্যে আছি যা আমরা সব খুলে বলতেও পারি না, সহ্যও করতে পারি না। কিন্তু আমরা আর সহ্য করব না। সত্যিকার অর্থে আমাদের মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষক বেশি দরকার।’ নুরুল ইসলাম নাহিদ সাহেবরা কেন সব খুলে বলতে পারেন না তা বোধগম্য নয়। সময় এসেছে সবার মুখ খোলার। মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষক যে অনেক অনেক বেশি দরকার, সে ব্যাপারে তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করব না। ১৯৬৮-৬৯-এ যে নুরুল ইসলাম নাহিদকে দেখেছি তার নবোত্থান হোক।
ড. মাহবুব উল্লাহ : অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ

বিপদগ্রস্ত নারীদের সহায়তায় ই-মেইল চালু করল ক্রাফ

ক্রাইম রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস ফাউন্ডেশন (ক্রাফ) নারীদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে হয়রানি, ইভটিজিং এবং ব্ল্যাকমেইলিংকে প্রতিহত করতে শিটিম নামে একটি ইমেইল আইডি (sheteam@crafbd.com) চালু করেছে। দেশে নারীদের একটা বড় অংশ ঘরে-বাইরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে হয়রানি, ইভটিজিং এবং ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার হচ্ছে। ক্রাফ সদস্য এসব ক্ষেত্রে নারীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে।
এরই ধারাবাহিকতায় নারী ভুক্তভোগীদের সব ধরনের কাউন্সেলিং এবং আইনি পরামর্শ প্রদানের লক্ষ্যে ক্রাইম রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস ফাউন্ডেশন শিটিম ইমেইল সুবিধা চালু করেছে। এ ব্যাপারে ক্রাইম রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস ফাউন্ডেশনের (ক্রাফ) প্রেসিডেন্ট জেনিফার আলম বলেন, এখানে ভুক্তভোগীরা ইমেইলের মাধ্যমে তাদের অভিযোগ প্রমাণসহ এই মেইলে জানাতে পারবেন। ক্রাফ সদস্য যতটা দ্রুত সম্ভব ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বিশেষ ক্ষেত্রগুলোতে অভিযোগকারী অথবা ভুক্তভোগীর পরিচয় গোপন করা হবে। ক্রাফের আইনজীবী প্যানেল বিনামূল্যে সব ধরনের আইনি পরামর্শ প্রদান করবে এবং ক্রাফের সদস্য পুলিশের কাছে জিডি বা কেস ফাইল করার ব্যাপারে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।

‘আমি রোবট নই’ থেকে মুক্তি দিচ্ছে গুগল সার্চ

সার্চ জায়ান্ট গুগলের ওয়েবসাইট সিকিউরিটি চেকে নিজেকে মানুষ প্রমাণ করার জন্য বিরক্তিকর এক ধাপ পার হতে হয়। তবে সে ঝামেলা এবার মিটতে যাচ্ছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি নতুন সিস্টেম ডেভেলপের কথা জানিয়েছে। যেখানে অদৃশ্যভাবেই সিকিউরিটি চেকের কাজ করবে ওয়েবসাইট।
গুগল সার্চে সিকিউরিটির জন্য একটি ক্যাপচার দেয়া হয়, যেখানে ব্যবহারকারীকে কঠিন কিছু প্রশ্নের উত্তর লিখে ওয়েবসাইটে ঢুকতে হয়। তবে এই প্রক্রিয়া বদলে নতুন প্রক্রিয়া কার্যকর করছে গুগল। যেখানে আর ক্যাপচার প্রয়োজন হবে না। নতুন প্রক্রিয়ায় ওয়েবসাইটে একজন ব্যবহারকারী কিভাবে ইন্টারেক্ট করে তা ট্যাক করে সিস্টেমটি নিজেই ঠিক করে নেবে আসল ও নকল। ফলে গুগলের এই নতুন সিস্টেম চালু হলে ব্যবহারকারীর ক্যাপচার পূরণে অতিরিক্ত সময় ব্যয় কমবে বলে আশা করা যায়।

মানসিক চাপে শিশুর জটিল রোগের আশংকা

অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা তর্জন কোমল মনের শিশুরদের স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করে। শুধু তাই নয়, এতে তাদের দীর্ঘস্থায়ী অবসাদ, বিষাদগ্রস্ত, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগেরও ঝুঁকি বাড়ে। একটি নতুন গবেষণায় বিশেষজ্ঞরা এমনটাই দাবি করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, শরীর সবসময় নিয়মের মধ্যে চলে। বর্তমান সমাজে মানসিক নিপীড়ন বা তর্জনের শিকার হয় শিশুরা। অতিরিক্ত মানসিক চাপ শিশুর শরীরের ওপর ক্রিয়া করে একসময় স্ট্রেইন ইনজুরিতে আক্রান্ত হয় সে। পরে শরীরেও এর প্রভাব পড়ে। এমনটা বারংবার হলে বায়োলজিক্যাল প্রতিক্রিয়া হয় এবং শিশুর জটিল অসুখে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। খবর জি নিউজের।  যেকোনো মানুষ অল্পসময়ের জন্য মানসিক চাপ সহ্য করতে পারে। এতে শরীরেরও কোনো ক্ষতি হয় না।
তবে দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেসে এই পুনরুদ্ধারের সুযোগ থাকে না এবং ওলোস্টেটিক (allostatic) সঞ্চালনের মাধ্যমে শরীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া স্বাস্থ্য এবং নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মায়ো ক্লিনিক স্বাস্থ্যসেবা গবেষণা সংস্থার সুজানা জে টাই বলেন, ওলোস্টেটিকের (allostatic) বেড়ে গেলেই দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেস, প্রদাহজনিত সমস্যা, হরমোনের পরিবর্তন, এবং বিপাকীয় প্রতিক্রিয়ায় সমস্যা হতে পারে। পরে এক সময় মানসিক চাপে শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন, বিষণ্নতা, ডায়াবেটিস, এবং হৃদরোগের মতো ঘাতক রোগ হওয়ার আশংকা বেড়ে যায়। দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেস এছাড়াও শিশুর মানসিক ও শারিরীক বিকাশে বাধার সৃষ্টি হয়। নিপীড়ন বা তর্জন পরিবেশ শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই শিশুটির মানসিক চিকিৎসা করা জরুরি। এসময় ক্লিনিকাল যত্নই শিশুটিকে সুস্থ রাখতে পারে। নইলে ধ্বংসের মুখে পড়বে নির্দোষ শিশুর ভবিষ্যৎ।

চাঁদা না দেয়ায় ব্যবসায়ীকে গুলি

চাঁদা না পেয়ে সাভারের আশুলিয়ায় আব্দুর রহিম নামের (৩০) এক মাছ ব্যবসায়ীকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। গুলিবিদ্ধ ওই মাছ ব্যবসায়ীকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবির পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউতে) রাখা হয়েছে। আব্দুর রহিম  আশুলিয়ার ভাদাইল এলাকায় আমিনুলের বাড়িতে একটি কক্ষ নিয়ে ভাড়া থাকতেন। আহত ব্যবসায়ীর স্ত্রী বিলকিস বেগম জানান, স্বামী আব্দুর রহিমসহ  দুইজনকে চাঁদার দাবিতে প্রায় তিন দিন ধরে একটি বাড়িতে আটকে রেখেছিলেন সন্ত্রাসীরা। মঙ্গলবার ভোর রাতে বাড়ি থেকে পালিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করলে আশুলিয়ার জামগড়া ছয়তলা এলাকার এনভয় গার্মেন্টস এর পাশে  তাদের ওপর গুলিব করা হয়। এসময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। এবিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহসিনুল কাদির জানান,
ওই মাছ ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাটি আমরা তদন্ত করে দেখছি। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে জানা যায়,  দীর্ঘ দিন ধরে বাগেরহাট জেলার মোড়লগঞ্জ থানার জিওধরন গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে আব্দুর রহিম আশুলিয়ার বাইপাইল আড়তের মাছ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রানার সঙ্গে মাছ ব্যবসা করে আসছিলেন। গত কয়েকদিন ধরে জামগড়া এলাকার সন্ত্রাসীরা রানার কাছে দশ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এসময় চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করলে সন্ত্রাসীরা মাছ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রানা ও আব্দুর রহিমকে গত তিন দিন আগে কৌশলে জামগড়া ছয়তলা এলাকার একটি বাড়িতে ডেকে নিয়ে একটি রুমে আটকে রাখে।

সিরীয় শিশুদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর ২০১৬

২০১৬ সালকে সিরিয়ার শিশুদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর বলে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। দেশটিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত গত বছরই সর্বোচ্চ সংখ্যক শিশুর জীবনহানি ঘটেছে। সংস্থাটির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর বিবিসি ও আল-জাজিরার। সোমবার সিরিয়ার শিশুদের পরিস্থিতি নিয়ে নতুন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইউনিসেফ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধকবলিত সিরিয়ায় বিভিন্ন হামলার মুখে গত বছর অন্তত ৬৫২ জন শিশু নিহত হয়েছে। এ সংখ্যা ২০১৫ সালের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি। এমনকি শিশুদের জন্য দেশটির স্কুলগুলোও এখন আর নিরাপদ নেই। নিহত শিশুদের মধ্যে ২৫৫ জনেরই মৃত্যু হয়েছে স্কুলের ভেতর কিংবা তার আশপাশের এলাকায়। প্রকৃত হিসাবে এ সংখ্যা আরও বেশি বলে মনে করছে ইউনিসেফ। কেননা নিহতের সব তথ্য সবসময় জানা যায় না। লিপিবদ্ধ করাও সম্ভব হয় না। সংস্থাটির মতে, সিরিয়ায় ২০১৬ সালে ৮৫০ জনের বেশি শিশুকে যুদ্ধ করার জন্য নিয়োগ দেয়া হয়। এ সংখ্যা ২০১৫ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
যুদ্ধে নিয়োজিত এসব শিশুর অনেককেই সম্মুখযুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়াও তাদের শির-েদকারী, আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী এবং কারারক্ষী হিসেবেও কাজে লাগানো হয়েছে। ইউনিসেফের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাবিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক গ্রিট ক্যাপেলায়ের বলেন, ‘সিরিয়ার শিশুদের ভোগান্তির মাত্রা ছাড়িয়েছে। প্রতিদিনই দেশটিতে অসংখ্য শিশু হামলার শিকার হচ্ছে। তাদের জীবন ওলটপালট হয়ে গেছে।’ তিনি জানান, টানা ৬ বছর ধরে যুদ্ধকবলিত সিরিয়ার অন্তত ৬০ লাখ শিশু মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছে। ২৩ লাখ শিশু ইতিমধ্যে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার শিশু দেশটির যুদ্ধকবলিত বিভিন্ন শহরে অবরুদ্ধ জীবন কাটাচ্ছে। তাদের উদ্ধার করে আনার প্রক্রিয়াটি বেশ কষ্টসাধ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ। এর আগে দাতব্য সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন সিরিয়ার শিশুদের দুর্ভোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, দীর্ঘদিনের যুদ্ধাবস্থার কারণে ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে দেশটির শিশুরা, বদলে যাচ্ছে তাদের আচরণ।

প্রগতিশীল লেখকের মুখে কট্টর হিন্দুদের কালিমা লেপন

এবার হিন্দু দেবতাদের নিয়ে লেখালেখি করায় ভারতের এক প্রগতিশীল লেখকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির কট্টর ডানপন্থী সংগঠনের কর্মীরা ওই লেখকের মুখে কালি লেপে দিয়েছেন। পাশাপাশি ওই লেখককে প্রাণনাশেরও হুমকি দেয়া হয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। খবর এনডিটিভি'র। দেবনগরের পুলিশ সুপারিন্টেডেন্ট ভিমশঙ্কর গুলেদ জানান, শনিবার দেবনগরের একটি দোকানে বসে চা পানের সময় লেখক যোগেশ মাস্টারের ওপর নয়জন ব্যক্তি হামলা চালায়। হামলকারীরা তার মুখে কালি লেপে দেন এবং ভবিষ্যতে হিন্দুদের দেব-দেবীদের নিয়ে কিছু লিখলে চরম মূল্য দিতে হবে বলে হুমকি দেন।
এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান গুলেদ। যোগেশ মাস্টার বিতর্কিত কন্নর ভাষার উপন্যাস 'দুন্ধি'র রচয়িতা। ঘটনার দিন একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তিনি দেবনগরে আসেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লেখকের ওপর হামলা চালানোর পর কট্টর ডানপন্থী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জয় শ্রী রাম বলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এদিকে হামলাকারীদের দ্রুত আটক করে আইনের আওতায় আনার দাবিতে প্রতিবাদ র‌্যালি করেছে বই উন্মোচনের আয়োজকরা। ২০১৩ সালে যোগেশ মাস্টার তার দুন্ধি উপন্যাসে হিন্দুদের গনেশ দেবতাকে ছোট করে উপস্থাপনের অভিযোগে আটক হয়েছিলেন।

তুষার ঝড়ে নিউ ইয়র্কে জরুরি অবস্থা

প্রবল তুষার ঝড়ের কারণে সোমবার মধ্যরাত থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস জানিয়েছে নিউ ইয়র্কে ১৭ ইঞ্চি পরিমাণ তুষারপাত হওয়ার আশংকা রয়েছে। এ অবস্থায় গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমু নিউ ইয়র্কের ৬২টি কাউন্টির জন্য জরুরি অবস্থা জারি করেন।
জরুরি অবস্থার সময় অপেক্ষাকৃত কম প্রয়োজনীয় সরকারি কর্মচারীদের বাড়িতে অবস্থানের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া খারাপ আবহাওয়ার কারণে নিউ ইয়র্কের স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দ্রুতগামী পাতাল রেল সেবাও বন্ধ রাখা হয়েছে। এদিকে শেষ শীতের তুষারপাত মোকাবেলার জন্য উত্তর-পূর্ব রাজ্যের মানুষ প্রস্তুতি নিয়েছে।

স্বাধীনতা প্রশ্নে ফের গণভোট চায় স্কটল্যান্ড

স্বাধীনতার দাবিতে আবারও গণভোটের দাবি জানাচ্ছে স্কটল্যান্ড। ২০১৮ সালের গ্রীষ্মের আগেই এ গণভোটের আয়োজন করতে অনুমতি চাওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছেন স্কটিশ ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টারজিওন। তিনি বলেছেন, ব্রিটেনের ইইউ ছাড়ার প্রক্রিয়ায় স্কটল্যান্ডের স্বার্থ সংরক্ষণে এ গণভোট প্রয়োজন। খবর বিবিসির। যুক্তরাজ্য থেকে বের হয়ে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা ঘোষণা করার পক্ষে-বিপক্ষে গণভোট করা হয়েছিল ২০১৪ সালে। ৫১-৪৯ শতাংশ ভোটে তখন যুক্তরাজ্যের অখণ্ডতার পক্ষ নিয়েছিল স্কটিশ জনগণ। নিকোলা স্টারজিওন মনে করেন, ২০১৪ সালের অবস্থা এখন আর নেই। পুরো বিষয়টির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে। সোমবার স্টারজিওন বলেন, আগামী সপ্তাহে পার্লামেন্টে এ বিষয়ে প্রস্তাব তোলা হবে এবং গণভোট প্রশ্নে সেকশন-৩০ এর ভিত্তিতে আদেশ প্রার্থনা করা হবে। ওই আদেশে স্বাধীনতার দাবিতে আইনগতভাবে বাধ্যবাধকতামূলক গণভোটের অনুমতির কথা বলা হয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে নতুন গণভোটের অনুমতি দেবেন কিনা- সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। শনিবার বিরোধী লেবার দলের নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার প্রশ্নে দ্বিতীয় গণভোট সমর্থন করেন। তিনি মনে করেন, যদি স্কটিশরা চায় তাহলে এমন গণভোট হবে চমৎকার বিষয়।
জেরেমি বলেন, স্কটিশ ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টারজিওন যদি দ্বিতীয় গণভোটকে সামনে নিয়ে আসেন, তাহলে সে উদ্যোগে ওয়েস্ট মিনস্টারের বাধা দেয়া উচিত হবে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্রেক্সিট গণভোটের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যে ভাঙন শুরু হয়েছে, তার ঢেউ গিয়ে আছড়ে পড়তে যাচ্ছে খোদ যুক্তরাজ্যের মানচিত্রে। স্কটল্যান্ডের ৬২ শতাংশ মানুষ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে থাকার পক্ষে রায় দিয়েছিল। আর বিপক্ষে ভোট দিয়েছিল ৩৮ শতাংশ। উত্তর আয়ারল্যান্ডে ৬০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছিল ইইউ’র পক্ষে। কিন্তু ইংল্যান্ডের বাকি অংশ এবং ওয়েলস চেয়েছিল বিচ্ছেদ। ভোটের হিসাবে জিতে যায় ব্রেক্সিট পক্ষ। আর তাতেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনকে বের করে নিতে প্রক্রিয়া শুরু করতে হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মেকে।

বাংলাদেশী ও রোহিঙ্গাদের উচ্ছেদের হুমকি কাশ্মীরের উগ্র হিন্দুদের

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের ভাতিন্দা এলাকায় একটি ছোট্ট দোকান পরিচালনা করেন আবদুল করিম ও জাহিদা বেগম দম্পতি। ২০১২ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সহিংসতা থেকে পালিয়ে এসেছিলেন তারা। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এ এলাকায় একটি ছোট দোকান দিয়েছিলেন। ৩ ছেলে নিয়ে থাকেন দোকানসংলগ্ন একটি ছোট্ট ঝুপড়িতে। দুই, ছয় ও আট বছর বয়সী সন্তানদের কেউ স্কুলে যায় না। তবে চলতি বছর বড় ছেলেকে স্কুলে পাঠাবেন বলে জানিয়েছেন এ রোহিঙ্গা দম্পতি। ২০০৮ সাল থেকে ভারত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের গ্রহণ করছে। করিম ও জাহিদা ২০১২ সালে মিয়ানমার সেনাদের রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযান থেকে বেঁচে পালিয়ে এখানে আসেন। জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) সঙ্গে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড জাস্টিস ইনিশিয়েটিভের (ডিএজেআই) তথ্যমতে, ভারতে অন্তত ১০ হাজার রোহিঙ্গার বাস।
এর মধ্যে প্রায় ৫ হাজার ৭০০ রোহিঙ্গা জম্মু কাশ্মীরে বসবাস করেন। তবে সম্প্রতি বিশেষ করে ফেব্রুয়ারি মাসে কাশ্মীরজুড়ে রোহিঙ্গাবিরোধী বিলবোর্ড টানানো হয়েছে। সেখানে বলা হচ্ছে, রোহিঙ্গা, বাংলাদেশী জম্মু ছাড়ো। এ ছাড়া তারা সেখানের অধিবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, ‘জেগে ওঠো, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ডোগরাদের স্বপরিচিতি রক্ষা করো।’ জম্মুর হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়কে ‘ডোগরা’ বলা হয়ে থাকে। জম্মু-কাশ্মীরের প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল প্যান্থার্স পার্টি এমন বিলবোর্ড লাগিয়েছে। হিন্দু উগ্রপন্থী এ রাজনৈতিক দলের নেতা হার্শ দেব সিংয়ের ছবিও ওই বিলবোর্ডে জুড়ে দেয়া রয়েছে। আল জাজিরাকে হার্শ বলেন, ‘মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীর উপত্যকা ও দক্ষিণাঞ্চলীয় জম্ম এলাকায় দুই-তৃতীয়াংশ হিন্দু জনগোষ্ঠীর মধ্যে একটি সাধারণ অবিশ্বাস বিদ্যমান রয়েছে, যেটি সাধারণ জনগণের জন্য হুমকি।’

‘মসুলে অবরুদ্ধ সব আইএস সদস্য মরবে’

ইরাকের মসুলে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গিরা ‘পুরোপুরি’ আটকা পড়েছে। তারা মারা পড়বে বলে জানিয়েছেন আইএসবিরোধী জোটের অভিযানের সমন্বয়কারী মার্কিন দূত ব্রেট ম্যাকগার্ক। মসুল থেকে বাইরে যাওয়ার শেষ পথটি ইরাকি বাহিনী বিচ্ছিন্ন করে দেয়ায় আইএস যোদ্ধারা ভেতরে আটকা পড়েছে বলে জানান তিনি। খবর বিবিসির।
ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম মসুল শহরটি ২০১৪ সাল থেকে আইএসের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দেশটিতে আইএসের শেষ এ বড় ঘাঁটি মসুলের দখল ফিরে পেতে ইরাকি বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় কয়েক মাস ধরে অভিযান চালিয়ে এরই মধ্যে একটি বড় অংশ পুনর্দখল করেছে। মসুলের পূর্বাঞ্চল এখন ইরাকি বাহিনীর দখলে।