Friday, November 26, 2010

আন্তর্জাতিক- 'কোরিয়া সীমান্তে তুলকালাম' by দাউদ ইসলাম

সীমান্তে প্রচণ্ড গোলাবিনিময়ের পর আরেক দফা উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে কোরীয় উপদ্বীপে। উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া পরস্পরকে দোষারোপ করেছে উত্তেজনার জন্য দায়ী বলে। উত্তর-দক্ষিণে এ ধরনের ঠোকাঠুকি লেগেই আছে। কিন্তু এবারের ঘটনাটি বেশ বড় ধরনের বলেই বিশ্বনেতারা শশব্যস্ত হয়ে সংযমের আহ্বান জানিয়েছেন। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা ভয়ে ভয়ে আছেন, পাছে পুরোদমে যুদ্ধ বেধে যায়।
১৯৫৩ সালে কোরীয় যুদ্ধের অবসান হয়েছিল অস্ত্রবিরতির মধ্য দিয়ে। অর্থাৎ আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কাগজে-কলমে তাই উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া এখনো যুদ্ধে লিপ্ত।

আন্তর্জাতিক- 'চেচনিয়ার ‘যুদ্ধবাজ ইমাম’ by মিজান মল্লিক

চেচেন রাজধানী গ্রোজনির ঝলমলে দোকানে ভরা নতুন সরণি ‘পুতিন প্রসপেক্ট’ দিয়ে ধীরগতিতে চলছিল কালো লাদা গাড়িটি। পেছনের জানালা দিয়ে বেরিয়ে ছিল একটি বন্দুকের নল। ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাওয়া দুই নারীকে লক্ষ্য করে গুলি করল গাড়ির বন্দুকধারী। দুই নারী আর্তনাদ করে উঠলেন। তাঁদের গায়ের কাপড় লাল রঙে ভরে গেল। কিন্তু কেউই পড়ে গেলেন না। ব্যাপার হলো, তাঁদের গুলি করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু বুলেটের জায়গায় ছিল রঙের গোলা। (ছবিঃ নিজের প্রাসাদে রমজান কাদিরভ)

আন্তর্জাতিক- আমি স্বাধীনতা চাই না: রমজান কাদিরভ

সাবেক চেচেন প্রেসিডেন্ট আকমদ কাদিরভ ২০০৪ সালে গুপ্তহত্যার শিকার হলে ক্ষমতায় আসেন তাঁর ছেলে রমজান কাদিরভ। সমালোচকেরা বলেন, অপশাসনে তিনি বাবাকেও ছাড়িয়ে গেছেন। সম্প্রতি রমজান কাদিরভ নিউজউইককে এ সাক্ষাৎকারটি দেন:
চেচনিয়ায় ইসলামের পুনরুজ্জীবনে কারা অর্থায়ন করছেন?
আমি, আমার বন্ধুরা, আমাদের পরিচিত লোকজন—আমরা সবাই মিলে টাকা দিই। ব্যবসায়ীরা সাহায্য করেন। মুফতিদের বেতন হিসেবে মস্কো আমাদের কিছু অর্থ দেয়।

সাহিত্যালোচনা- 'মৃত্যুশতবার্ষিকীর তলস্তয়' by আন্দালিব রাশদী

ঊনিশ শতকের সাহিত্যের প্রবাদপুরুষ কাউন্ট লেভ নিকোলাইভিচ তলস্তয়, তাঁর ওয়ার অ্যান্ড পিস আর আনা কারেনিনার মতো কালজয়ী উপন্যাস দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন বিশ্বসাহিত্যকে, সমাজের সীমাহীন দারিদ্র্য আর অসমতা দেখে ব্যথিত হয়েছেন, অভিজাত ঘরে জন্ম (১৮২৮) নিয়েও তাই কলমকে ব্যবহার করেছেন অহিংস ও দরিদ্র-সেবার দর্শনে—যা অনুপ্রাণিত করেছে গান্ধী ও মার্টিন লুথার কিংকে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ এই সাহিত্যিকের মৃত্যুবার্ষিকী ছিল ২২ নভেম্বর ২০১০। মৃত্যুশতবর্ষে তলস্তয়ের জন্য শ্রদ্ধাঞ্জলি।

গল্পসল্প- 'দুঃখটাকে ভাগাভাগি করি' by মুহম্মদ জাফর ইকবাল

কদিন থেকে খবরের কাগজ পড়ার ইচ্ছে করছে না। পৃথিবীতে কত রকম খবর থাকে, সবকিছু ছেড়েছুড়ে শুধু খালেদা জিয়ার বাড়ির খবর। এক জিনিস আর কত পড়া যায়? আমাদের দেশে কিছু একটা হলেই কিছু সাংবাদিক ফোন করে আমার মতামত জানতে চান। আমি তাঁদের কিছুতেই বোঝাতে পারি না যে আমি পৃথিবীর সব বিষয় জানি না এবং সব বিষয়েই মতামত দিতে পারি না।

গল্প- 'দাদার দোকানে শূন্য দশক' by সালাহউদ্দিন

দাদার দোকানে আমাদের যাওয়ার সময়টা নির্দিষ্ট নয়। অথচ আমরা প্রতিদিন প্রায় একই সময় সেই দোকানে গিয়ে উপস্থিত হই। আমাদের হাতে কোনো ঘড়ি থাকে না। কারণ আমাদের জন্য কেবল দিন আর রাত আছে। চব্বিশ ঘণ্টায় এক দিনের শিক্ষা আমাদের জন্য পুরোনো হয়ে পড়ে আছে বাল্যের কোনো এক বইয়ের পাতায়। দাদার দোকানে আমাদের কথা বলার বিষয়বস্তুও আমরা ঠিক করে রাখি না। অথচ মাস শেষে হাতের করে গুণে আমরা কিছুতেই দশ-বারোটার বেশি বিষয় খুঁজে পাই না। আমাদের মাস অবশ্য ৩০ দিনে বাড়ে না।

শিল্পি- 'সফিউদ্দিন আহমেদের সৃষ্টিসমগ্র-অশেষ আলোর আধার' by সৈয়দ আজিজুল হক

বাংলাদেশের শিল্পানুরাগীদের জন্য এ এক গভীর আনন্দের খবর যে, এ দেশের আধুনিক ছাপচিত্রের জনক ও এ দেশের পথিকৃৎ শিল্পীদের অন্যতম শিল্পগুরু সফিউদ্দিন আহমেদের (জন্ম ১৯২২) সমগ্র শিল্পকর্মের এক প্রদর্শনীর দ্বারোদ্ঘাটন করা হবে আজ। ঢাকার বেঙ্গল শিল্পালয়ে দুই পর্বে অনুষ্ঠেয় এ প্রদর্শনীর প্রথম ভাগে (২৬ নভেম্বর-৯ডিসেম্বর) থাকবে তাঁর ছাপচিত্রসমূহ এবং দ্বিতীয় ভাগে (৯-২৩ ডিসেম্বর) থাকবে রেখাচিত্র ও তেলচিত্রসমূহ। ১৯৩৬ সালে কলকাতা আর্ট স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর যিনি তাঁর জীবনকে সম্পূর্ণভাবে উৎসর্গ করেন শিল্পের জন্য এবং শিল্পচর্চাকে গ্রহণ করেন গভীরতর সাধনা হিসেবে এবং ৮৬ বছর বয়স পর্যন্ত (অসুস্থ থাকার কারণে গত দুই বছর ধরে কাজ করতে অপারগ)

নিবন্ধ- 'সব শিল্পই যাবে প্রকৃতির কাছে। by খান মিজান

যত বৈশ্বিক হোক, শিল্পকলার ভাষা_সব শিল্পের আলাদা মা-মাটির পরিচয় নিশ্চয়ই থাকে। শিল্প রচিত হয় যে প্রকৃতির সাহচর্যে, মাটি তার জন্মদাত্রী। বাংলার মাটি এক নন্দী নিসর্গগর্ভা। অপরূপ সে নিসর্গে অনাবিল প্রাণের স্পন্দন। বাংলার নদীজল, আকাশ, ফুল, পাখি, তরুলতা, বৃক্ষ_সব মায়াবী প্রাণ একেকটি। নন্দনবৈচিত্র্য তাদের অভিব্যক্তিতে। শিল্প শিক্ষার্থীদের নবিশি পর্বে এসব প্রাণস্পন্দনকে ধারণ করতে হয়। দীক্ষা নিতে হয় প্রকৃতি-গুরুর কাছে।

চতুর্থ দিনের খেলা কেড়ে নিয়েছে বৃষ্টি

শ্রীলঙ্কা বা ওয়েস্ট ইন্ডিজ নয়, কলম্বো টেস্টে জয়ী হতে চলেছে বৃষ্টি। বৃষ্টির হানা দিয়ে শুরু হয়েছিল প্রথম দিনের খেলা। পরের দিনগুলোতেও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রকৃতি। আর আজ শুক্রবার চতুর্থ দিনে বৃষ্টির কারণে একটি বলও মাঠে গড়ানো সম্ভব হয়নি।
কাল শনিবার কলম্বো টেস্টের শেষ দিন। অথচ এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করার সুযোগ পায়নি কোনো দল। তাই ম্যাচটি যে নিষ্প্রাণ ড্র হচ্ছে, এটি চোখ বন্ধ করে বলে দেওয়া যায়। ৯ উইকেটে ৩৮৭ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে শ্রীলঙ্কা। জবাবে চতুর্থ দিন পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ১৬৫ রান।

গল্পসল্প- 'কাউন্ট লিও তলস্তয়' by আন্দালিব রাশদী

লিসার মা বললেন, বয়সও বেশি, চেহারাটাও বাজে। আবার নাকি সময় সময় তার বেশ্যাসক্তিও দেখা দেয়। হোক না জমিদারের সন্তান, জেনেশুনে লিসাকে তার দিকে ঝুঁকতে দেওয়া কি ঠিক হবে? ডাক্তার আঁদ্রে বের্স বললেন, দেখো লিউবোফ, আমি তোমার কথা উড়িয়ে দিচ্ছি না। তোমার যখন ব্রেইন ফিভার হলো, তোমাদের জ্ঞাতি ডাক্তার বাদ দিয়ে আমার মতো বুড়ো একজন হাতুড়ে ডাক্তারকে ধরে নিয়ে এল তোমার বাবা।
তুমি তখন বুড়ো ছিলে না। হাতুড়েও না।

আলোচনা- 'সেই আমি এই আমি' by আতিকুল হক চৌঁধুরী

মনে আছে, ব্রিটিশ আমলে সেই ত্রিশের সময় আমার বাল্যজীবন শুরু হয়েছিল সেই ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন থানায়, যেখানে আমার মরহুম আব্বা সেরাজুল হক চৌধুরী সাবরেজিস্ট্রার ছিলেন। আব্বার রংটা চাপা হলেও চেহারাটা সুন্দর ছিল। লম্বা মতন। মুখে ছোট্ট একটু গোঁফ ছিল। ছোটবেলার স্মৃতির দিকে তাকালে যে ছবিটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে তা হলো, আমি যেন এখনো দেখতে পাচ্ছি, সেই আমি ছোট্ট হুমায়ুনটি আম্মার কোলে কাত হয়ে বসে আছি, আর লাল-হলুদে রঙের ফর্সা আমার সুন্দরী আম্মা রওশন আরা বেগম চামচ দিয়ে আমাকে দুধ খাওয়াচ্ছেন। আমি খেতে চাচ্ছি না।

ডিএসই: আজ সাধারণ সূচক বেড়েছে ৪৮ পয়েন্ট

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজও চাঙাভাব অব্যাহত রয়েছে। আজ সাধারণ সূচক ও আর্থিক লেনদেন উভয়ই বেড়েছে। তবে কমেছে বেশির ভাগ শেয়ারের দাম।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, চাঙাভাবের মধ্য দিয়ে আজ ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয়। দিন শেষে সাধারণ মূল্যসূচক গতকালের চেয়ে ৪৮ দশমিক ১৭ পয়েন্ট বেড়ে ৮৭২১ দশমিক ০৮ পয়েন্টে দাঁড়ায়। আজ লেনদেন হওয়া মোট ২২৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দর বেড়েছে ১১২টির আর কমেছে ১১৬টির।
আজ ডিএসইতে মোট দুই হাজার ৮৭০ কোটি টাকার কিছু বেশি লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ১৭৭ কোটি টাকা বেশি।
আজ লেনদেনের শীর্ষ ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো: সাউথইস্ট ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, তিতাস গ্যাস, পূবালী ব্যাংক, প্রিমিয়াম ব্যাংক, বেক্সিমকো, উত্তরা ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, ইউসিবিএল ও এবি ব্যাংক।
আজ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের দর। এ ছাড়া ডিবিএই প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড, প্যারামাউন্ট ইনস্যুরেন্স, প্রাইম ফিন্যান্স প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড, দ্বিতীয় আইসিবি, তৃতীয় আইসিবি, আইসিবি এমপ্লয়িজ প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড, এশিয়া ইনস্যুরেন্স, পঞ্চম আইসিবি ও ফিনিক্স ফিন্যান্স প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড দর বৃদ্ধি পাওয়া শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে।
এদিকে আজ সবচেয়ে বেশি কমেছে চিটাগং ভেজিটেবলের শেয়ারের দর। এ ছাড়া জুট স্পিনার্স, মুন্নু স্টাফলার, ফুওয়াং ফুড, এইচ আর টেক্সটাইল, ইমাম বাটন, রংপুর ফাউন্ড্রি, রূপালী ব্যাংক, গোল্ডেন সন ও ডেল্টা লাইফ ইনস্যুরেন্স দাম কমে যাওয়া শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে।
আজ ডিএসইর বাজারমূলধন দাঁড়িয়েছে ৩,৬৩,৫৪২ কোটি টাকা।

তিন মাসে হাইতিতে কলেরার রোগী দুই লাখে দাঁড়াতে পারে

আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসংগঠন প্যান আমেরিকান হেলথ অরগানাইজেশন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তিন মাসের মধ্যে হাইতিতে কলেরায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দুই লাখে পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে জাতিসংঘ বলেছে, প্রথম দিকে যে হারে কলেরা ছড়ানোর আশঙ্কা করা হয়েছিল, বর্তমানে তা দ্বিগুণ হারে সংক্রমিত হচ্ছে।
প্যান আমেরিকান হেলথ অরগানাইজেশনের উপপরিচালক জন কিম অ্যান্ড্রুস গত মঙ্গলবার বলেছেন, পুরো হাইতিতে কলেরার সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, আগামী ১২ মাসের কথা মাথায় রেখে প্রায় চার লাখ রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার মতো প্রস্তুতি দরকার। তিনি বলেন, যে গতিতে এ মহামারি বিস্তার লাভ করছে, তাতে তিন মাসের মধ্যে দুই লাখ রোগীকে সেবা দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে।
হাইতির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কলেরায় আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত সেখানে এক হাজার ৪১৫ জন মারা গেছে। চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে ৫৬ হাজার ৯০১ জনকে।
হাইতিতে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের সমন্বয়ক নাইজেল ফিশার বলেন, সাহায্য সংস্থাগুলোকে আরও বেশি তৎপর হতে হবে এবং সেখানে আরও অনেক বেশি চিকিৎসাকর্মী পাঠাতে হবে।

ভারতে পার্লামেন্ট অচল ৬৩ কোটি রুপি ক্ষতি

টেলিযোগাযোগ খাতে দুর্নীতিকে কেন্দ্র করে ভারতের পার্লামেন্টে গতকাল বুধবারও অচলাবস্থা ছিল। গত আট কার্যদিবস ধরে চলা এই অচলাবস্থায় ৬৩ কোটি রুপি ক্ষতি হয়েছে। সে দেশের পার্লামেন্ট প্রশাসন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এদিকে গতকাল এই দুর্নীতির প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের পক্ষে দৃঢ় সমর্থন জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন কংগ্রেস পার্টির সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। গতকাল ভারতের সুপ্রিম কোর্টও এই দুর্নীতির প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে জারি করা একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ বাতিল করেছেন।
রাজধানী নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সোনিয়া বলেন, ‘টেলিযোগাযোগ খাত নিয়ে চলমান বিতর্কে মনমোহন সিংকে কোনোভাবে দোষারোপ করা চলে না। প্রধানমন্ত্রী পদে থাকা এ ধরনের সততাসম্পন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে এভাবে আঙুল তোলা লজ্জাজনক।’ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিরোধী দলের দোষারোপের জবাবে এ কথা বলেন সোনিয়া।
টেলিযোগাযোগ খাতের দুর্নীতি তদন্তের ব্যাপারে মনমোহন সিংয়ের ভূমিকাসংক্রান্ত এক মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট মত বদলেছেন। গত সপ্তাহে আদালত মনমোহনের সমালোচনা করেন এবং কেন তিনি এই তদন্ত শুরু করতে ১৬ মাস দেরি করেছেন তার কারণ দর্শাতে বলেন। কিন্তু গতকাল ওই কারণ দর্শানোর নোটিশ বাতিল করা হয়। বিরোধীদলীয় এক পার্লামেন্ট সদস্য (এমপি) তদন্তের ওই অনুরোধ করেছিলেন।
গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে ভারতের অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতে বলেন, মনমোহন কোনো ভুল করেননি। আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই এবং কোনো অপরাধের ঘটনায়ও তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়নি। বরং আদালত জানতে চাইছেন, ওই তদন্তের অনুরোধ রক্ষায় তাঁর ভূমিকা কী ছিল।
ভারতে ২০০৮ সালে দ্বিতীয় প্রজন্মের মোবাইল ফোন লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্নীতি সম্প্রতি প্রমাণিত হয়েছে। দেশটির মহা হিসাব নিরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ (সিএজি) বিভাগ গত সপ্তাহে জানায়, যথাযথ প্রক্রিয়ায় ওই লাইসেন্স না দেওয়ায় সরকার চার হাজার কোটি ডলারের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ইচ্ছাকৃত ও অস্বচ্ছ পন্থায় নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ওই লাইসেন্স দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে পদত্যাগ করেছেন টেলিযোগাযোগমন্ত্রী এ রাজা।
টেলিযোগাযোগ খাতের বিশাল এই দুর্নীতি যৌথ সংসদীয় কমিটির (জেপিসি) মাধ্যমে তদন্ত করার দাবি করছে বিরোধী দল। গত ৯ নভেম্বর শীতকালীন অধিবেশন শুরুর পর থেকেই এই দাবিতে তারা পার্লামেন্ট অচল করে রেখেছে। এতে করে বন্ধ হয়ে গেছে পার্লামেন্টের স্বাভাবিক কার্যক্রম। আটকে গেছে অনেক আর্থিক বিল। অধিবেশন শুরুর প্রথম দিনের পর এ পর্যন্ত এক দিনও পূর্ণদিবসের কার্যক্রম সম্পূর্ণ হয়নি। কিন্তু যৌথ কমিটি গঠন না করার বিষয়ে অনড় কংগ্রেস। তারা বলছে, পৃথক সংস্থার মাধ্যমে ইতিমধ্যে অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ভারতীয় পার্লামেন্টের দুই কক্ষ লোকসভা ও রাজ্যসভা এবং পার্লামেন্ট-বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য ২০১০-১১ অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ রয়েছে ৫৩৫ কোটি রুপি। বছরে তিনবার পার্লামেন্ট অধিবেশন বসে। গত পাঁচ বছরে গড়ে বার্ষিক ৬৮ দিন পার্লামেন্টের কার্যক্রম চলেছে। এই হিসাবে পার্লামেন্টে একটি অধিবেশনের দৈনিক গড় ব্যয় প্রায় সাত কোটি ৮০ লাখ রুপি।
দেশের করদাতাদের এই অর্থের অপচয় ও কালক্ষেপণের জন্য ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল পরস্পরকে দোষারোপ করছে। রাজ্যসভার কংগ্রেসের সদস্য অশ্বিনী কুমার অভিযোগ করেন, আলোচনায় অংশ না নিয়ে বিরোধী দল পার্লামেন্টকে অচল করে রেখেছে। সরকার সব বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু বিরোধী দল পার্লামেন্টকে কার্যকর হতে দিচ্ছে না। তিনি বলেন, জেপিসির মাধ্যমে তদন্ত করার দাবি অযৌক্তিক।
বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) এমপি রাজীব প্রতাপ রুডি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী একজন অর্থনীতিবিদ। জেপিসির দাবি মেনে না নেওয়ায় পার্লামেন্টের যে ক্ষতি হচ্ছে, তা তাঁর বোঝা উচিত। কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার (সিপিআই) নেতা গুরুদাস দাসগুপ্ত বলেন, তাঁর দল চায় একটি কার্যকর পার্লামেন্ট দেখতে। কিন্তু সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বিরোধীদের দাবি তাদের কনে পৌঁছাচ্ছে না।

টিউশন ফি বাড়ানোর প্রতিবাদে যুক্তরাজ্যে ছাত্র বিক্ষোভ, সংঘর্ষ

বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি বাড়ানোর প্রতিবাদে যুক্তরাজ্যে দ্বিতীয় দফায় ছাত্রদের বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। লন্ডনে সরকারের প্রধান দপ্তরগুলো যে এলাকায়, সেই হোয়াইট হলের কাছে গতকাল বুধবার পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের একটি গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। সরকার টিউশন ফি তিন গুণ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে।
মধ্য লন্ডনজুড়ে দিনব্যাপী প্রতিবাদ বিক্ষোভের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্কুলশিক্ষার্থীরাও যোগ দেয়। উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টারেও প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তাঁদের অনেকে দেয়ালে নানা স্লোগান লিখে প্রতিবাদ জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেছেন, ‘আমরা সরকারকে দেখাতে চাই যে আমরা কতটা বিক্ষুব্ধ হতে পারি।’
রেকর্ড পরিমাণ ঘাটতি মেটানোর লক্ষ্যে সরকারি খরচ কাটছাঁট করতে প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের জোট সরকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর টিউশন ফি তিন গুণ বাড়ানোর পরিকল্পনা করে। এর প্রতিবাদে দুই সপ্তাহ আগে প্রথমবার বিক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। গতকাল দ্বিতীয় দফায় তাঁরা ম্যানচেস্টার, লিডস, শেফিল্ড, বার্মিংহাম ও ব্রিস্টলে বিক্ষোভ করেন।

উইলিয়াম ও কেটের বিয়ে হবে ওয়েস্ট মিনস্টার অ্যাবেতে

ব্রিটেনের প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটনের বিয়ে আগামী ২৯ এপ্রিল ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল বুধবার রাজপরিবারের কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের দিনক্ষণ ঘোষণা করেন। তাঁরা জানিয়েছেন, উইলিয়ামের মা প্রিন্সেস ডায়ানার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া যেখানে সম্পন্ন হয়েছিল, সেই ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে বিয়ের অনুষ্ঠান হবে।
১৯৮১ সালে উইলিয়ামের বাবা প্রিন্স চার্লস ও মা ডায়ানার বিয়ের অনুষ্ঠানের পর এ অনুষ্ঠানকেই রাজপরিবারের সবচেয়ে বড় উৎসবমুখর ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে নবদম্পতির মধুচন্দ্রিমার খরচ বরপক্ষ, কনেপক্ষ ও ব্রিটেন সরকার ভাগ করে নিয়েছে। গির্জার সার্ভিস চার্জ, গান-বাজনা, সাজসজ্জা, অভ্যর্থনা ও মধুচন্দ্রিমার খরচ রাজপরিবার এবং কনেপক্ষ দেবে। নিরাপত্তা ও পরিবহন খরচ দেওয়া হবে সরকারের পক্ষ থেকে। ব্রিটেনে অর্থনৈতিক মন্দার কারণে অনুষ্ঠানের বেশির ভাগ খরচ বরপক্ষ দিতে সম্মত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
কেটের মা-বাবা কনের পোশাক ও বিয়ের কেক বাবদ সর্বোচ্চ এক কোটি ২০ লাখ পাউন্ড দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাকি খরচ রানি ও প্রিন্স চার্লস দেবেন।

জান্তার সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্কের সমালোচনা করেছেন সু চি

মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেত্রী অং সান সু চি সামরিক জান্তার সঙ্গে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সুসম্পর্কের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘ভারতের ভূমিকায় আমি নাখোশ। আমি আশা করছি, ভারত ভবিষ্যতে আমাদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পাশে দাঁড়াবে। অতীতে যেমনটা করেছিলেন মহাত্মা গান্ধী ও জওহরলাল নেহরু।’
ভারতীয় পত্রিকা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সু চি এসব কথা বলেছেন। গতকাল বুধবার দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি জেনারেলদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের বিরোধী নই। তবে আশা করছি, ভারত সরকার আমাদের সঙ্গেও আলোচনা করবে।’
সু চির গণতান্ত্রিক আন্দোলনের একসময় ঘোর সমর্থক ছিল ভারত। ১৯৮০-এর দশকে বেশ কিছু সময় ভারতে অবস্থানও করেন তিনি। কিন্তু নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে নয়াদিল্লি সুর পাল্টাতে থাকে এবং জান্তা সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। বিশেষ করে নিরাপত্তা ও জ্বালানি ইস্যুতে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন মেরুকরণ হয়। মিয়ানমারের তেল ও গ্যাস-সম্পদের দিকে নজর দেয় নয়াদিল্লি।
মিয়ানমারের সামরিক জান্তা থান শুয়েকে গত জুলাই মাসে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানায় নয়াদিল্লি। এ ঘটনায় মানবাধিকার সংস্থাগুলো তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে। তারা বলে, বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষা এবং চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ভারত তার গণতান্ত্রিক নীতি বিসর্জন দিচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এ মাসের শুরুতে ভারত সফরকালে নয়াদিল্লির সমালোচনা করে বলেন, মিয়ানমারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় নিন্দা জানাতে ব্যর্থ হয়েছে ভারত সরকার। ভারতীয় পার্লামেন্টে ভাষণ দানকালে তিনি বলেন, মিয়ানমারে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সরকারের দমন-পীড়নের সময় বিশ্বের গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো চুপ করে বসে থাকতে পারে না।
সু চি বলেছেন, মুক্তির পর ইন্টারনেট সংযোগের অনুমতি চেয়ে তিনি সরকারের কাছে আবেদন করেছেন। সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেসবুক ও টুইটারের মাধ্যমে সমর্থকদের সঙ্গে যাতে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারেন, সে জন্যই তিনি এ আবেদন করেছেন।
উল্লেখ্য, ১৩ নভেম্বর বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়েছেন সু চি। গত ২১ বছরের মধ্যে ১৫ বছরই গৃহবন্দী অবস্থায় কাটান তিনি।
ছেলের সঙ্গে প্যাগোডায় প্রার্থনা: সু চি ও তাঁর ছোট ছেলে অ্যারিস গতকাল মিয়ানমারের সবচেয়ে পবিত্র স্থান শয়েডাগোন প্যাগোডায় প্রার্থনা করেছেন। মুক্তির পর এই প্রথম কোনো প্যাগোডায় গেলেন তিনি। এই প্যাগোডা থেকেই ১৯৮৮ সালে প্রথম গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ডাক দেন সু চি। ঐতিহাসিক সেই ভাষণের মধ্য দিয়েই রাজনৈতিক মঞ্চে প্রবেশ করেছিলেন তিনি।
প্রথা অনুযায়ী মা-ছেলে মিয়ানমারের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে প্যাগোডায় যান। এরপর প্রার্থনা শেষে তাঁরা বুদ্ধমূর্তিতে ফুল ও পানি ছিটিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
সৃষ্টিকর্তার কাছে কী প্রার্থনা করেছেন, জানতে চাইলে সু চি হাসিমুখে বলেন, ‘এটা বলা যাবে না। কেননা, এতে আমার ইচ্ছাপূরণ নাও হতে পারে।’

দ. কোরিয়ার ‘কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে’ পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা ওবামার

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ‘কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে’ দক্ষিণ কোরিয়ার পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়। গত মঙ্গলবার দুই কোরিয়ার মধ্যে গোলাবিনিময়ের পর প্রেসিডেন্ট ওবামা এ ঘোষণা দেন। তিনি উত্তর কোরিয়ার মিত্র বলে পরিচিত চীনকে পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে যোগাযোগেরও আহ্বান জানান।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি মিয়ুং বাকের একজন মুখপাত্র জানান, প্রেসিডেন্ট লি সীমান্তসংলগ্ন পাঁচটি দ্বীপে সামরিক শক্তি বাড়ানো ও যেকোনো উসকানির পাল্টা জবাব দিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ দিয়েছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার পুলিশ গতকাল বুধবার উত্তর কোরিয়ার সীমান্তসংলগ্ন ইয়নপিয়ং দ্বীপ থেকে দুজন বেসামরিক নাগরিকের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে বলে পুলিশ দাবি করেছে।
গোলাবিনিময়ের ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়াকে দায়ী করেছে উত্তর কোরিয়া। গতকাল দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থায় বলা হয়, দক্ষিণ কোরিয়া উসকানিমূলকভাবে উত্তর কোরিয়াকে লক্ষ্য করে গোলা ছোড়ে। উত্তর কোরিয়া এর পাল্টা জবাব দিয়েছে।
এদিকে আগামী রোববার শুরু হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার নৌমহড়ায় অংশ নিতে মার্কিন বিমানবাহী জাহাজ ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন পীত সাগরের দিকে যাত্রা করেছে।
গত মঙ্গলবার দুই কোরিয়ার মধ্যে ব্যাপক গোলাবিনিময় হয়। এতে দক্ষিণ কোরিয়ার দুজন মেরিন সেনা নিহত হয়। দুই সেনাসহ আহত হন অন্তত ১৫ জন বেসামরিক ব্যক্তি। দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি, উত্তর কোরিয়া উসকানিমূলকভাবে পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী ইয়নপিয়ং দ্বীপে গোলা ছোড়ে। তারাও গোলা ছুড়ে এর জবাব দেয়।
হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ওবামা দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। ওবামা ঘোষণা দেন, দক্ষিণ কোরিয়ার মিত্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশটির পাশে দাঁড়াবে। বিবৃতিতে বলা হয়, দুই নেতা আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের মধ্যে সামরিক মহড়া ও প্রশিক্ষণ বাড়ানোর ব্যাপারে একমত হয়েছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ায় গোলা নিক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে প্রেসিডেন্ট ওবামা এবিসি নিউজকে বলেন, উত্তর কোরিয়া বিশ্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠছে। এর মোকাবিলা করা উচিত। তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মিত্র এবং ওই এলাকায় ওয়াশিংটনের নিরাপত্তার মূল ভিত্তি। ওবামা দক্ষিণ কোরিয়ার পাশে দাঁড়ানোর ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি উত্তর কোরিয়ার মিত্র বলে পরিচিত চীনকে পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে যোগাযোগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, পিয়ংইয়ংকে বোঝানো উচিত যে সবাইকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে হবে।
দক্ষিণ কোরিয়া জানায়, ইয়নপিয়ং দ্বীপে আরও কামান মোতায়েন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা ইয়নপিয়ং দ্বীপ পরিদর্শন করেছেন। পরে তাঁরা গোলার আঘাতে ধ্বংস হওয়া ঘরবাড়ির ছবি প্রকাশ করেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লির উদ্ধৃতি দিয়ে তাঁর এক মুখপাত্র বলেন, ‘আমাদের ভূমি ও বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্য করে গোলা নিক্ষেপ করা হয়েছে। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম হলেও এর অর্থ অনেক বড়। প্রেসিডেন্ট লি সীমান্তসংলগ্ন পাঁচটি দ্বীপে সামরিক শক্তি বাড়ানো ও যেকোনো উসকানির জবাব দিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ দিয়েছেন।’
ইয়নপিয়ং দ্বীপ থেকে গতকাল প্রায় ৬০ বছর বয়সের দুই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার পুলিশ। পুলিশের একজন মুখপাত্র দাবি করেন, গত মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার গোলার আঘাতেই ওই দুজন নিহত হন।
আগামী রোববার শুরু হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার চার দিনব্যাপী যৌথ নৌমহড়ায় যোগ দিতে জাপান থেকে পীত সাগরের উদ্দেশে রওনা হয়েছে পারমাণবিক শক্তিসমৃদ্ধ বিমানবাহী জাহাজ ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন। সিউলে মার্কিন কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ওই জাহাজে ৭৫টি যুদ্ধজাহাজ ও ছয় হাজারেরও বেশি ক্রু রয়েছেন।
জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন দুই কোরিয়ার মধ্যে গোলাবিনিময়ের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

চিরকাল ম্যানইউর রুনি!

চিরদিনই আমি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের’—ওয়েইন রুনির কণ্ঠে এমন বাক্য আগেও শুনেছেন। এটা বলতে বলতেই অবশ্য মাঝে বিগড়ে গিয়েছিলেন। আবার ধাতস্থ হয়ে তিনি চালু করে দিলেন রেকর্ডার। আরেকবার বললেন, ‘আমার ভবিষ্যৎ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডেই। এই ক্লাবেই ক্যারিয়ার শেষ করতে চাই।’
রুনি এ কথা বলেছেন পরশু। চ্যাম্পিয়নস লিগে তাঁর দল রেঞ্জার্সের বিপক্ষে মাঠে নামার এক দিন আগে। সবকিছু ঠিক থাকলে প্রায় দুই মাস পর গতকালই প্রথম আবার ম্যানইউর শুরুর একাদশে খেলে ফেলেছেন। এর আগে রুনিকে এমন কথা বলতে হয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে ছাপা হওয়া কিছু প্রতিবেদনের জবাব দিতে গিয়ে।
কিছুদিন ধরেই ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বলে যাচ্ছে, রুনি চুক্তি সই করে ফেলেছেন। ম্যানইউ এখন তাঁকে অন্য বড় ক্লাবের কাছে চড়া দামে বিক্রি করতে পারবে। খুব ঠান্ডা মাথায় ইংলিশ স্ট্রাইকার এর জবাব দিয়েছেন, ‘আমি পড়েছি। এগুলো বাজে কথা। আমি নতুন চুক্তি সই করেছি ম্যানইউতে থেকে যাওয়ার জন্যই। ম্যানইউ যদি অন্যকিছু না ভাবে...।’ রুনি থেকে যেতে চাইলেই তো আর হবে না। ম্যানইউরও তো তাঁকে রাখতে হবে। রুনির শেষ বাক্যটা হয়তো ওটা ইঙ্গিত করেই!

গর্বের কাবাডিতে কলঙ্কের দাগ

নাসারা জিমনেসিয়ামে তখন সন্ধ্যা। একই সঙ্গে সন্ধ্যা নেমেছে বাংলাদেশের কাবাডির আকাশেও। এশিয়ান গেমসে এই প্রথম পদকশূন্য বাংলাদেশ পুরুষ কাবাডি।
পাকিস্তানের কাছে শেষ ম্যাচে পরাজয় ধরেই নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাই বলে ৩৬-১১ পয়েন্টে! জাপানের কাছে অপ্রত্যাশিত হার (১৫-১৪) দিয়ে বাংলাদেশের কাবাডির দৈন্যদশা প্রদর্শনের শুরু। মালয়েশিয়াকে হারানোয় অন্তত ব্রোঞ্জ পাওয়ার জন্য পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প ছিল না। জয় দূরে থাক, বাংলাদেশ দাঁড়াতেই পারেনি।
বাংলাদেশ দল আগে ৩০-৩৫ পয়েন্ট সব সময় পেত কাছাকাছি মানের প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে। কিন্তু এই দল কতটা দুর্বল হলে দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র পাঁচ পয়েন্টের বেশি তুলতে পারে না! একজন ভালো রেইডার নেই, নেই ক্যাচার। কিছুই নেই এই দলের। ফিটনেস, মানসিক শক্তির অভাব ফুটে উঠেছে খেলায়।
পাকিস্তানের কোচ পর্যন্ত মহা বিস্মিত, ‘বাংলাদেশের এই দলটি কোনো মানেরই না! স্কিল-টেকনিক-ট্যাকটিকস বলে কিছু নেই। বাংলাদেশের সঙ্গে অতীতে বহু ম্যাচ খেলেছি, কিন্তু এমন দুর্বল দল কখনো পাইনি।’
দল তো দুর্বল হবেই। দল গঠন নিয়ে ফেডারেশন করেছে স্বেচ্ছাচারিতা। অনেকে যাঁকে বিশ্বসেরা রেইডার মনে করেন, সেই জিয়াউর রহমানকে ফিটনেসের অজুহাতে দলে নেওয়া হয়নি। নিজেদের পছন্দের খেলোয়াড় বেছে নিয়ে এটিকে এমনই দুর্বল করে ফেলেছে ফেডারেশন যে, দলটি পাকিস্তানের বিপক্ষে চারবার অলআউট হয়ে ৮ পয়েন্টের লোনা দিয়েছে!
পছন্দের লোককে কোচ বানানো, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব—কাবাডি ফেডারেশন চলছে অদ্ভুত উটের পিঠে! দলের প্রয়োজনে নয়, অমুককে বিদেশে পাঠাতে হবে তাই একজনকে ধরে নিয়ে দলের সঙ্গে যোগ করে দেওয়া হয়।
কর্তাদের কোনো অনুশোচনা নেই। দল গঠন বিতর্ক, জিয়াকে না আনা, জাপানের কাছে হার প্রভৃতি বিষয়ে প্রশ্ন করলে দলের ম্যানেজার মুকিদুর রহমান উল্টো সাংবাদিকদের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন! ‘আপনারা বিদেশে এসে কাকে দলে নেওয়া হলো-কাকে নয়, এসব নিয়ে কথা বলছেন কেন? আপনাদের তো দেশপ্রেমই নেই’—বলে বসলেন তিনি। দল নির্বাচন ও ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন করলে দেশপ্রেম চলে যায়! হায়, ইনিই আবার কাবাডি ফেডারেশনের সহসভাপতি! ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মুনীর হোসেন জিমনেসিয়ামেই ছিলেন। কিন্তু সাংবাদিকেরা কথা বলতে চাইলেও তিনি আসেননি। বিচারকের আসনে বসে ছিলেন। দেশের কাবাডিকে ধ্বংসের প্রান্তে নিয়ে কর্তারা বিচারকের আসনে বসে মর্যাদা লাভ করেন। কাবাডি তাতে কোন উন্নতির সিঁড়ি দেখে?
১৯৯০ এশিয়ান গেমসে অভিষেকে রুপাজয়ী বাংলাদেশ ’৯৪-এ রুপা, ’৯৮ সালে ব্রোঞ্জ, ২০০২ সালে রুপা ও গতবার ব্রোঞ্জ পেয়েছে। এবার শূন্য হাত। মেয়েদের দল একটি ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করলেও ছেলেদের ব্যর্থতা বড় হয়ে উঠেছে এর চেয়েও।
দুঃসংবাদ, ২০১৪ ইনচন এশিয়াডে কাবাডি নেই। জাতীয় খেলার পতাকা নিয়ে এত দিন এশিয়াড থেকে কিছু নিয়ে ফেরা যেত। সেটি আর হবে না। অবশ্য পরের গেমসে থাকলেও কিছু নিয়ে কি ফেরা যেত? কাবাডি তো হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে চলে গেছে!
তবে এমন ব্যর্থতাও বাংলাদেশ পুরুষ দলকে খুব স্পর্শ করেছে বলে মনে হলো না। অধিনায়ক মোশাররফ হোসেন নির্বিকার ভঙ্গিতে বললেন, ‘আমাদের একজন প্লেয়ার ইনজুরিতে। আমরা ভালো খেলতে পারিনি। পাকিস্তান খুব ভালো দল আমাদের চেয়ে।’
পুরুষ কাবাডির ব্যর্থতার দিনে অন্য খেলাতেও বাংলাদেশ ছিল যাচ্ছেতাই। নাজমুন নাহার বিউটি ২০০ মিটার স্প্রিন্টের হিটে ছয়জনে ষষ্ঠ, আর্চারিতে ইমদাদুল হক মিলন ও শেখ সজীব শেষ ষোলোয় প্রতিপক্ষের কাছে হেরেছেন সবচেয়ে বাজেভাবে। কারাতেতে জ প্রু ও হোসেন খানও ৫-০ পয়েন্টে হেরেছেন, শুধু শামীম ওসমান একটা পয়েন্ট তুলতে পেরেছেন।

মানবতাবাদী রোনালদো-জিদান

আবার একসঙ্গে মাঠে নামছেন রোনালদো ও জিনেদিন জিদান। মাঠে নামছেন তাঁরা হাইতি আর পাকিস্তানের জন্য। কাল এক বিবৃতির মাধ্যমে এটা জানিয়েছেন জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) দুই শুভেচ্ছাদূত।
ইউএনডিপির কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিবছরই একটি ফুটবল ম্যাচ আয়োজন করা হয়। এবার এই প্রদর্শনী ম্যাচটি হবে গ্রিসের কারাইসকাকিস স্টেডিয়ামে। এ ম্যাচ থেকে পাওয়া টাকার সবটাই খরচ হবে গত জানুয়ারিতে হাইতিতে ভয়াবহ ভূমিকম্প এবং জুলাই মাসে পাকিস্তানের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সাহায্যে।
রোনালদো-জিদানদের অলস্টার দলের প্রতিপক্ষ এবার গ্রিসের অলিম্পিয়াকস। ইউএনডিপির কর্মকর্তা হেলেন ক্লার্ক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অলিম্পিয়াকস ক্লাবের প্রতি। কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন জিদান ও রোনালদোকেও।
ফ্রান্স ও রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক তারকা জিদান দারিদ্র্য দূর করার লক্ষ্যে বলেছেন তাঁর আশার কথা, ‘আমি আশা করছি, দারিদ্র্য দূরীকরণের উদ্দেশ্যে আয়োজন করা অষ্টম বাৎসরিক ম্যাচটি সবাইকে এই ধারণা দেবে, দারিদ্র্য দূর করতে আমাদের দ্রুতই এক হতে হবে।’

বৃষ্টিভেজা দিনটি সাঙ্গাকারার

বৃষ্টিস্নাত মেঘলা দিনে টস জিতেও ব্যাটিং নেওয়ায় প্রথম দিন কুমার সাঙ্গাকারার একটু হলেও সমালোচনা হয়েছিল। সিদ্ধান্তটি যে ভুল নেননি, সেটি প্রমাণের ভার লঙ্কান অধিনায়ক বইছেন যেন নিজের কাঁধেই। কলম্বো টেস্টের দ্বিতীয় দিনেও বৃষ্টির হানায় মাত্র ৫৩ ওভারের মতো খেলা হয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে শ্রীলঙ্কাকে প্রথম ইনিংসে একটা ভালো পুঁজি এনে দেওয়ার দিকেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ২৪তম টেস্ট সেঞ্চুরি করে ১৩৫ রানে অপরাজিত সাঙ্গাকারা। দিন শেষে শ্রীলঙ্কার স্কোর ২৯৪/৫।
প্রথম দিনের ৩৭ ওভারে বেশ ভুগিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান পেসাররা। ৩৪ রানে ৩ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর থিলান সামারাবীরাকে নিয়ে প্রতিরোধের কাজটা সাঙ্গাকারা আগের দিনই শুরু করেছিলেন। কাল সকাল থেকে শুরু হলো পাল্টা আক্রমণ। লাঞ্চ পর্যন্ত নির্বিঘ্নে ব্যাটিং করে গেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার নতুন রেকর্ড জুটি গড়ার পর (১৭০ রান) লাঞ্চের তৃতীয় ওভারে আউট হন সামারাবীরা। ত্রয়োদশ সেঞ্চুরিটা পাননি ২০ রানের জন্য। তেরোর গেরোতেই হয়তো পড়েছেন এই ডানহাতি। গত আগস্টেও আউট হয়েছিলেন আশির ঘরে। এই তো আগের গল টেস্টেও ফিফটি ছিল তাঁর।
ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপ দেওয়ায় সুনাম আছে সাঙ্গাকারার। সেই সুনাম অক্ষুণ্ন রেখেছেন। লাঞ্চের আগে অপরাজিত ছিলেন ৮৪ রানে। সেঞ্চুরি নিকটবর্তী বলে সামারাবীরার আউট তাঁকে নিশ্চিতই সাবধানী করে তুলেছিল। লাঞ্চের পরের পাঁচ ওভারে কোনো রানই নেননি। অবশেষে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসে শিলিংফোর্ডকে পর পর দুই বলে ছয়-চার মেরে পৌঁছে যান আরও কাছাকাছি। পরের ওভারে তুলে নেন সেঞ্চুরি। বন্ধু জয়াবর্ধনের শ্রীলঙ্কান রেকর্ডের (২৮টি সেঞ্চুরি) সঙ্গে ব্যবধানটিও কমিয়েছেন। এখন ডাবল সেঞ্চুরি করার সুনামটি ধরে রাখতে পারলে হয়। ১১৮ রানে একবার সুযোগ পাওয়া সাঙ্গাকারা মনে হচ্ছে সেই লক্ষ্যে অবিচল।
ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান বোলাররা দুই সেশনে মাত্র দুটি উইকেট নিয়েছেন। সামারাবীরার পর আউট হয়েছেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। সাঙ্গাকারার সঙ্গী প্রসন্ন জয়াবর্ধনের পর আর কোনো স্বীকৃত ব্যাটসম্যানও নেই। তবে সাঙ্গাকারা যতক্ষণ আছেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্বস্তি নেই।

লড়াইটা পন্টিং-স্ট্রাউসেরও

ব্রিসবেনে অ্যাশেজ লড়াই শুরু হয়ে যাওয়ার কথা এরই মধ্যে। তার মানে শুরু হয়ে গেছে রিকি পন্টিং বনাম অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস লড়াইও! দুজন দুই দলের অধিনায়ক, লড়াই তো একটা তাঁদের আছেই। অ্যাশেজ ধরে রাখা আর পুনরুদ্ধারের সেই লড়াইয়ের বাইরেও কিন্তু এবার মুখোমুখি হয়ে যাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড অধিনায়ক।
স্ট্রাউস তিনটি অ্যাশেজ খেলে দুটিতেই পেয়েছেন সিরিজ জয়ের স্বাদ। ইংল্যান্ডের গত অ্যাশেজ জয়ে তো নেতৃত্বই দিয়েছেন। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার ‘অপরাজেয়’ যুগে দলে এসে পন্টিং এবার খেলছেন অষ্টম অ্যাশেজ সিরিজ। কিন্তু পালাবদলের সময়ে এসে কী পাচ্ছেন তিনি? সর্বশেষ তিন অ্যাশেজের দুটিতেই তো হেরেছেন!
মিচেল জনসনের পর্যবেক্ষণ—বাউন্সারটা ঠিকমতো করতে পারলে স্ট্রাউসকে হকচকিয়ে দেওয়া সম্ভব। বুকের ওপর ওঠা বলে নাকি ঠিকভাবে পুল শট খেলতে পারেন না ইংল্যান্ডের অধিনায়ক। এবার এই অস্ত্রেই তাঁকে ঘায়েল করার পরিকল্পনা অস্ট্রেলিয়ার। স্ট্রাউস অবশ্য ব্যাপারটাকে পাত্তাই দিচ্ছেন না। উল্টো জনসনকে দিয়েছেন একটা খোঁচা, ‘শর্ট বল অনেক খেলেছি। শর্ট বলে নিজের টেকনিক নিয়েও আমি সন্তুষ্ট। তবে মিচেল যদি টেস্টের এক দিন আগে তাদের বোলিং পরিকল্পনাটা আমাদের জানাতে চেয়ে থাকে, এটা তার দয়া।’ পন্টিংয়ের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা উল্টো। ইংল্যান্ড শিবির থেকে কোনো চোখরাঙানি না থাকলেও সাম্প্রতিক কিছু বিব্রতকর অভিজ্ঞতা প্রিয় শট পুল নিয়ে তাঁকে ভাবাচ্ছে। কোন বলটা খেলবেন, কোনটা ছাড়বেন—পন্টিং এখন এই নিয়েই পড়ে আছেন।
অ্যাশেজের আয়নায় নিজেকে দেখার লড়াই, সঙ্গে ব্যক্তিগত ক্রিকেটীয় সামর্থ্যের পরীক্ষা মিলিয়ে এবারের অ্যাশেজের আরেক রূপ তো স্ট্রাউস বনাম পন্টিং প্রতিদ্বন্দ্বিতাই! আর এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার ‘ম্যাচ রিপোর্টে’ লোগো হিসেবে পাশাপাশি সেঁটে দেওয়া যেতে পারে লর্ডস ও গ্যাবার ছোট দুটি ছবি।
১৯৮৮ সালে ভিভ রিচার্ডসের ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারার পর গত ২১ বছরে গ্যাবায় কোনো টেস্ট হারেনি অস্ট্রেলিয়া। ১৯৮৬-৮৭-এর পর যে ইংল্যান্ডও এ মাঠে কখনো অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারেনি, সেটা বলাই বাহুল্য। এ মাঠে ১৮ টেস্ট খেলে ইংল্যান্ডের জয় মাত্র ৪টি। তবে স্ট্রাউস প্রেরণা খুঁজছেন লর্ডস থেকে। এই ক্রিকেট-তীর্থে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৭৫ বছর অপরাজেয় হয়ে ছিল অস্ট্রেলিয়া। গত বছর জুলাইয়ে সে ‘কলঙ্কের’ অবসান ঘটিয়েছে স্ট্রাউসের দল। ৭৫ বছরের ইতিহাস বদলানো গেলে ২১ বছরেরটা নয় কেন?
পাঁচ টেস্টের সিরিজের প্রথম ম্যাচের আগে সেটা ভেবেই বেশি রোমাঞ্চিত স্ট্রাউস, ‘অস্ট্রেলিয়ার জন্য এটা পয়মন্ত হোম গ্রাউন্ড। তবে ইতিহাস বদলে দেওয়ার হাতছানি আমাদের আশাবাদী করছে। গত বছর লর্ডসেও এমন একটা রেকর্ড উল্টে দিতে পেরেছি আমরা।’ সঙ্গে গত জুলাই থেকে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট জয়ের বন্ধ্যাত্ব মিলিয়ে ব্রিসবেনে জয়ের স্বপ্নই দেখছেন সফররত অধিনায়ক। তবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়া কী জিনিস, গত সফরের অভিজ্ঞতা থেকে তা জানেন বলেই সাবধানী স্ট্রাউস, ‘সন্দেহ নেই, খুব ভালো একটা সুযোগ পেয়েছি আমরা। সফরটা ভালোভাবে শুরু হয়েছে, দল হিসেবেও ভালো একটা অবস্থায় আছি। তবে এটাও মানতে হবে, কাজটা কঠিন। খুব বেশি দল এখানে এসে জিততে পারে না।’
পুরো সিরিজের দিকে না তাকিয়ে ইংল্যান্ড আপাতত ব্রিসবেন জয়ের পরিকল্পনাই আঁটছে। তবে রিকি পন্টিংয়ের চিন্তাভাবনা আরও ছোট পরিসরের করে নিয়েছেন, ‘সিরিজের প্রথম ইনিংসটাতে যাতে ভালো খেলতে পারি, এটার ওপরই সব সময় জোর দিই আমি। আগের সিরিজটার দিকে তাকান, এখানে ১৯৬ রানের একটা ইনিংস দিয়ে শুরু করেছিলাম। অ্যাডিলেডে পরের টেস্টে করলাম ১৪২ রান।’
ব্রিসবেন সুখস্মৃতি হয়ে আছে। সিরিজ শুরুর আগের দিন পন্টিংয়ের সুখানুভূতির আরেকটা কারণ, চোটজনিত অনিশ্চয়তা কাটিয়ে সহ-অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক প্রথম টেস্টে খেলার মতো ফিট। অ্যাশেজের বৃহত্তর লড়াইয়ের মধ্যে একটি খণ্ডযুদ্ধের দিকেও চোখ থাকবে সবার। কেভিন পিটারসেন বনাম জেভিয়ার ডোহার্টি। এই ডোহার্টিটা আবার কে? অস্ট্রেলিয়া দলে সর্বশেষ স্পিনার। বাঁহাতি স্পিনের বিপক্ষে কেভিন পিটারসেনের কাঁপাকাঁপির ইতিহাস মনে রেখে নাকি তাঁকে নামিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত একরকম হয়েই গেছে।

শেষ ষোলোয় মিলান-মার্শেই

অঙ্কটা সহজ ছিল। সেটা মিলেও গেছে সহজে। রিয়াল মাদ্রিদ আয়াক্সকে (৪-০) গুঁড়িয়ে দেওয়ায় অজেরিকে হারিয়েই (২-০) শেষ ষোলোয় পৌঁছে গেছে এসি মিলান। স্পার্তাক মস্কোকে ৩-০ গোলে হারিয়ে পরশু শেষ ষোলোয় উত্তরণ ঘটেছে ফরাসি ক্লাব মার্শেইয়েরও।
তবে বায়ার্নকে ৩-২ গোলে হারিয়েও নকআউট পর্বে ওঠার জন্য গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে এএস রোমাকে। অপেক্ষা বেড়েছে আর্সেনালেরও। স্পোর্টিং ব্রাগার কাছে ২-০ গোলে হেরে গেছে ইংল্যান্ডের বড় দলটি। আর্সেনাল কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গার এই অঘটনের পর শুধু বলতে পারলেন, ‘ভীষণ হতাশাজনক ফল এটা।’
রোমার কাছে পরাজয়ে বায়ার্নের এমন বড় কোনো ক্ষতি হয়নি। প্রথম ৪ ম্যাচ থেকে ১২ পয়েন্ট নিয়ে আগেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে ফেলেছে লুইস ফন গলের দল। তবে ৬ মিনিটের ব্যবধানে করা মারিও গোমেজের জোড়া গোলে প্রথমার্ধেই ২-০-তে এগিয়ে গিয়েও হেরে যাওয়ার কষ্টটা ভুলতে পারছেন না বায়ার্ন কোচ, ‘প্রথমার্ধে আমরা দারুণ খেললাম, ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করলাম আর এগিয়ে গেলাম। এরপর রোমাকে এ রকম ম্যাচে ফিরিয়ে আনাটা অবিশ্বাস্য।’
রোমা কোচ ক্লদিও রানিয়েরির তৃপ্তিটাও এই জায়গায়। ম্যাচ শেষে নিজের খেলোয়াড়দের প্রশংসায় ভাসিয়েছেন তিনি, ‘পয়েন্ট পাওয়াটাই জরুরি। ইউরোপের রানার্সআপ দলের বিপক্ষে ৩ পয়েন্ট পেয়েছি আমরা। এটা সহজ ছিল না, বিশেষ করে প্রথমার্ধটা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের পারফরম্যান্স ছিল দারুণ।’
জয়ের কৃতিত্ব সবাইকে ভাগ করে দিলেও রানিয়েরি বিশেষভাবে বলেছেন বরিয়েল্লো, ডি রসি ও টট্টির কথা। বরিয়েল্লো ও রসির গোল ম্যাচে ফিরিয়েছে রোমাকে। আর ৮৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে অধিনায়ক টট্টি করেছেন জয়সূচক গোল।
মিলানের জয়ের নায়ক জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ ও রোনালদিনহো। নিজেদের মাঠে ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় ভালো খেলার ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ৬৩ মিনিট পর্যন্ত মিলানকে গোলশূন্য রেখেছিল অজেরি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে মরিয়া মিলানের আক্রমণের তোড়ে রক্ষণকে আর জমাট রাখতে পারেনি তারা। ৬৪ মিনিটে ইব্রাহিমোভিচ মিলানকে এগিয়ে দেন। জয়টাকে সংহত করা গোলটি বদলি হিসেবে মাঠে নামা রোনালদিনহো করেছেন ইনজুরি সময়ে। মিলান কোচ মাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রির কাছে জয়টা স্বস্তির, ‘ম্যাচের শুরুতে খুব চাপে ছিলাম আমরা। শেষ পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাকভাবে হয়েছে।’
আগেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় রিয়ালের কাছে ম্যাচটা ছিল আসলে উপভোগের। তবে ম্যাচ শেষে তৃপ্তিটা বেড়েছে আয়াক্সকে হারিয়ে গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত হওয়ায়। দারুণ গতিময় ফুটবলে রিয়ালের জয়ের নায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (২ গোল), করিম বেনজেমা ও আরবেলোয়া। বেনজেমা (৩৬ মিনিট) ও আরবেলোয়ার (৪৪ মিনিট) গোল বলতে গেলে প্রথমার্ধেই নিশ্চিত করে দিয়েছিল ম্যাচের গতিপথ। দলীয় তৃপ্তির সঙ্গে মিশেছে রোনালদোর একটা ব্যক্তিগত প্রাপ্তি, ক্লাব মৌসুমে নিজের গোলসংখ্যা নিয়ে গেছেন ১৮-তে।
তবে জয়ের আনন্দে একটা কাঁটার আঘাতও সইতে হয়েছে রিয়ালকে। জুটেছে দুটি লাল কার্ড। সময় নষ্ট করার অপরাধে ৮৭ মিনিটে জাভি আলোনসো এবং ইনজুরি সময়ে সার্জিও রামোসকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে থাকছেন না সেরেনা উইলিয়ামস

পায়ের ইনজুরি থেকে এখনো মুক্তি পাননি সেরেনা উইলিয়ামস। এই মৌসুমের জুলাইয়ে উইলম্বডন শিরোপা জয়ের পর থেকে আর নামতে পারেননি কোর্টে। এই মৌসুমে আর কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে না পারলেও আগামী মৌসুমেই আবার কোর্টে ফিরবেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই আশা পূর্ণ হয়নি সেরেনার। আগামী জানুয়ারীতে মৌসুমের প্রথম গ্রান্ড স্ল্যাম অস্ট্রেলিয়ান ওপেনেও অংশ নিতে পারছেন না সাবেক এই এক নম্বর টেনিস তারকা।
গত জুলাইয়ে একটি রেস্টুরেন্টে কাঁচের গ্লাসের ভাঙা টুকরা পায়ে ঢুকে গিয়েছিল সেরেনার। তারপর পায়ে দুই দফা অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে তাঁকে। এখনো আবার অনুশীলন করতে গেলে আরও বড় ধরনের ইনজুরির আশঙ্কা আছে বলে জানিয়েছেন এই আমেরিকান টেনিস তারকা। তবে তিনি আবার যত দ্রুত সম্ভব কোর্টে ফেরার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ভক্তদের।
এর আগের দুই মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে শিরোপা উঠেছিল সেরেনা উইলিয়ামসের হাতে। এবার তিনি অংশ নিতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করে আয়োজক কমিটির সভাপতি ক্রেইগ টিলে বলেছেন, ‘আমি বুঝতে পারছি এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে না পারাটা সেরেনার জন্য কতটা দুঃখজনক। সে এখানে খেলতে খুব পছন্দ করে। আমরা তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।’

ইতিহাস- 'কাউন্ট লিও তলস্তয়ের হৃদয়সংবেদী ডায়েরি' by দেবেশ রায়

বাংলায় তলস্তয়-চর্চা খুব কম। সাধারণ নভেল পাঠকদের কথা ধরছি না, যাঁরা নভেল লেখেন তাঁদের পক্ষে তলস্তয় যেন তত অবশ্যপাঠ্য নয়, পুনর্পাঠ্য তো নয়ই। হয়তো একটু বাড়িয়ে ভাবছি, কারণ গৌরীশঙ্কর মিত্র কর্তৃক সংক্ষেপিত অনুবাদ বইটি একসময় তো পড়া হতো। গৌরীশঙ্করের বইটি তাঁকে দিয়ে সম্পূর্ণ করিয়ে একবার প্রকাশের চেষ্টা করেছিলাম। তিনি অসুস্থ শরীরে করেও দিলেন এই কঠিন কাজ। আমি গৌরীদার বইটি পড়িনি। তখন প্রকাশের আগে মিলিয়ে দেখতে গিয়ে চোখে পড়ল_ওটা এভরিম্যান ক্লাসিকসের লাল মলাটের বই, কনস্টান্স গারনেট-এর অনুবাদ। এর মধ্যে 'ওয়ার অ্যান্ড পিস'-এর আরো নতুন অনুবাদ বেরিয়েছে। পরে তথ্য মিলিয়ে দেখা গেল, ওই এভরিম্যান-সংস্করণটিই সংক্ষেপিত।

স্মরণ- 'কাউন্ট লিও তলস্তয়ের মৃত্যু-শতবর্ষের শ্রদ্ধাঞ্জলি' by বেলাল চৌধুরী

কাউন্ট লিও তলস্তয়ের জন্ম এক মহাদশয় রুশ পরিবারে ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দের ৯ সেপ্টেম্বর ইয়াসনায়া পলিনায়ায়। মাত্র ৯ বছর বয়সে পিতৃ-মাতৃহীন হলে তিনি তাঁর খুড়োখুড়িমা আর গৃহশিক্ষকদের কাছে প্রতিপালিত হন। কোনো ডিগ্রি ছাড়াই তিনি খুব অল্প বয়সে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়লেও শিক্ষার প্রতি ছিল তাঁর গভীর অনুরাগ, যার জন্য তিনি তাঁর পিতামাতার তালুক ইয়াসনায়া পলিনায়ায় ফিরে আসেন। এখানে তিনি তাঁর কর্মচারীদের শিক্ষিত করে তুলতে নিষ্ফল উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ায় হতোদ্যম হয়ে পড়েন।
এ সময় তিনি ভাইবেরাদরদের সঙ্গে করে প্রায়ই মস্কো আর সেন্ট পিটার্সবার্গ আসা-যাওয়া করার পথে প্রত্যাশিত রুশ অভিজাত শ্রেণীর দায়িত্বজ্ঞানহীন সুখপরায়ণতা জীবনচর্যায় অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু একসময় তাঁর বোধোদয় ঘটে।

ইতিহাস- 'বাংলায় সিপাহি বিদ্রোহ' by রিদওয়ান আক্রাম

ঢাকার বিদ্রোহ। ভারতবর্ষে সিপাহি বিদ্রোহ শুরু হয় ২৯ মার্চ। ঢাকায়ও বিদ্রোহের উত্তেজনা ছড়ায় মার্চ থেকেই। ঢাকাবাসী সিপাহিদের নিজেদের মুক্তিদাতা হিসেবে গ্রহণ করেনি যেমনটা দিলি্লর লোকেরা করেছিল। এ জন্য দিলি্লবাসীকে মূল্যও দিতে হয়েছিল। প্রতিশোধ হিসেবে হাজার হাজার দিলি্লবাসীকে হত্যা করেছিল ইংরেজরা। হয়তো তাদের এই পরিণতির কথা জেনে পূর্ববঙ্গসহ ঢাকাবাসী একপ্রকার নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছিল। তবে ইংরেজরা স্থানীয় হিন্দু ও মুসলমানদের বিশ্বাস করতে পারছিল না কোনো মতেই। তারা চাইছিল স্বদেশি সৈন্যরা এসে ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করুক।

শিল্প-অর্থনীতি 'এখন প্রয়োজন ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের' by সৈয়দ মাহবুবুর রশিদ

শেয়ারবাজারে তেজিভাব বললে খুব কম বলা হবে। দেশব্যাপী এটি একটি আন্দোলনে রূপ নিয়েছে, যার ঢেউ সর্বত্র আঘাত হেনেছে। কোনো কিছুই একে থামাতে পারছে না বা গতি কমাতে পারছে না। কী ঈদে, কী হরতালে_এর গতি অপ্রতিরোধ্য। হরতালের কথা যখন এল, তখন কিছু বক্তব্য এসে যায়। বিএনপি ৩০ নভেম্বর হরতাল ডেকেছে সকাল-সন্ধ্যা। তাদের কথায় মনে হচ্ছে, মাঝেমধ্যে এ-রকম হরতাল দেবে। কেননা তারা মনে করে, এটি সরকার পতনের একটি পথ। অবশ্য বিএনপি কেন, আওয়ামী লীগও তা-ই মনে করে। দুই যুগ ধরে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসছে। কিন্তু যে সংস্কৃতিটি গড়ে ওঠেনি, তা হলো গণতান্ত্রিকব্যবস্থায় বিরোধী দলের যে ভূমিকা থাকার কথা সেই সংস্কৃতি।

রাজনৈতিক আলোচনা- 'গণতন্ত্র : চাইলেই ধরা দেয় না' by এমাজউদ্দীন আহমদ

পাশ্চাত্যের পর্যালোচকরা, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বাংলাদেশকে একটি মডারেট মুসলিম দেশ হিসেবে চিহ্নিত করে খুশি হন। খুশি হন এ কারণে যে পশ্চিম এশিয়া, উত্তর আফ্রিকা ও মধ্য এশিয়ার মুসলমানপ্রধান রাষ্ট্রগুলোর বেশির ভাগে যে ধরনের শাসনব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে, কোথাও রাজতন্ত্রের মোড়কে, কোথাও একনায়ক বা শেখদের আধিপত্যে, কোথাও নির্বাচিত আধিপত্যবাদীদের নিয়ন্ত্রণে জনজীবন বাধা পড়েছে, সে তুলনায় বাংলাদেশে চালু রয়েছে একধরনের মধ্যপন্থার শাসন। এখনো বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুষ্ট হয়নি বটে; কিন্তু যে পথে চললে গণতন্ত্র পরিপূর্ণ অবয়বে অন্যত্র পরিস্ফুট হয়েছে_বাংলাদেশের অনুসৃত পথ অনেকটা তেমনি। এ অর্থে বিদেশি পর্যালোচকরা মডারেট মুসলিম দেশরূপে বাংলাদেশকে চিহ্নিত করলে দোষের কিছু নেই।

আন্তর্জাতিক- 'কোরীয় অঞ্চলে নতুন উত্তেজনা কত দূর যেতে পারে?' by জগলুল আহমেদ চৌধূরী

কোরীয় অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে এবং যেভাবে এই পরিস্থিতির উদ্রেক হয়েছে, অনেকেই মনে করছেন, বর্তমানের উত্তাপ অনেক দূর গড়াতে পারে। অনেকে এটাও মনে করছেন, কোরীয় যুদ্ধের পর থেকে দুই কোরিয়ার মধ্যে যতবারই গভীর উত্তেজনার সঞ্চার হয়েছে, বর্তমানের ঘটনাপ্রবাহ সেই তুলনায় অনেকটাই বেশি উত্তপ্ত। সে কারণে বিশ্বব্যাপী এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা পরিলক্ষিত হচ্ছে এবং কোরীয় অঞ্চলে ভয়াবহ যুদ্ধের আশঙ্কাও বিরাজ করছে। যদি সত্যি শেষ পর্যন্ত বর্তমান উত্তেজনার ব্যাপকতা বৃদ্ধি পায় এবং সংঘর্ষ পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়, সে ক্ষেত্রে সংঘর্ষ কী রূপ নিতে পারে_সেটা অনুধাবন করা খুব কঠিন নয়।

আলোচনা- 'মানসিক নির্যাতনের প্রতিকার কোথায়' by আশরাফ-উল-আলম

নারীর ওপর শারীরিক নির্যাতন রোধে বিভিন্ন আইন প্রচলিত থাকলেও মানসিক নির্যাতনের শিকার নারীদের প্রতিকারের পাওয়ার জন্য কোনো আইন এত দিন দেশে ছিল না। সম্প্রতি জাতীয় সংসদ পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০ নামে নতুন একটি আইন প্রণয়ন করেছে, যাতে মানসিক নির্যাতনের শিকার নারীদের প্রতিকার পাওয়ার ব্যবস্থা আছে। তবে এ আইন কার্যকর করার বিধিমালা এখনো প্রণয়ন করা হয়নি। তা ছাড়া এতে আইনি প্রক্রিয়াও বেশ কঠিন করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নারীরা কতজন এ আইনে সুবিধা নিতে আসবেন, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।

আসুন, ওদের দিকে মমতার হাত বাড়িয়ে দিইঃ গোলটেবিল বৈঠক। এইচআইভি ও এইডস : প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সেবা ও মানবাধিকার

এইচআইভি/এইডস ঝুঁকিপূর্ণ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি তাদের সার্বিক মানবাধিকার নিশ্চিত করাও জরুরি। তাদের দূরে ঠেলে দিয়ে বা বঞ্চিত রেখে নয়; বরং মমতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে কাছে টেনে নিয়েই অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এ ব্যাপারে সামাজিক দায়বদ্ধতা বাড়াতে হবে। গতকাল বুধবার রাজধানীতে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে আলোচকরা এ অভিমত ব্যক্ত করেন। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও ইউনেস্কোর সহযোগিতায় দৈনিক কালের কণ্ঠ, বন্ধু সোস্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ও হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট জার্নালিস্ট ফোরাম_বাংলাদেশ (এইচইজেএফবি) যৌথভাবে এ বৈঠকের আয়োজন করে।

আলোচনা- 'আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস' by সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম

'মিছে তর্ক_থাক্ তবে থাক্/কেন কাঁদি বুঝিতে পার না? তর্কেতে বুঝিবে তা কি? এই মুছিলাম আঁখি/এ শুধু চোখের জল, এ নহে ভর্ৎসনা।' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'নারীর উক্তি' কবিতায় নারীর অভিমানের কথা বর্ণনা করে বলেছিলেন, নারী তার প্রাণের কথা প্রকাশ করতে জানে না। শত বর্ষ বাদেও সে অবস্থার যে উন্নতি না হয়ে আরো অবনতি হয়েছে তা প্রমাণিত। তবে এখন প্রাণ অবদমনের সঙ্গে প্রহারও যুক্ত হয়েছে। আর প্রহার-নির্যাতন তো শুধু যে শারীরিক তা নয় এর চেয়ে অধিক মানবিক ও মানসিকও।