Tuesday, April 12, 2011

আগামী সপ্তাহে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে: অর্থমন্ত্রী

আগামী সপ্তাহে শেয়ারবাজার কারসাজির তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তাদের যথাযথ বিচারেরও ব্যবস্থা করা হবে।
গতকাল রোববার পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
অর্থমন্ত্রী এ সময় আরও জানান, শেয়ারবাজার কারসাজি ঘটনার তদন্তের প্রতিবেদন সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য সঠিকভাবে গণমাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘আমি কখনো বলিনি যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে না। আমি শুধু বলেছি, এটি প্রকাশ করা হবে, তবে সম্পাদনা করে।’
অর্থমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে তাঁর মন্তব্য করা সাজে না, বিশেষ করে যখন প্রতিবেদনটিই চূড়ান্ত করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে ব্যস্ততা থাকলেও আগামী সপ্তাহের মধ্যে এ প্রতিবেদন সবার সামনে প্রকাশ করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
শেয়ারবাজারের প্রভাবশালীরা রাষ্ট্রের চেয়ে শক্তিশালী—এ ধরনের কোনো মন্তব্য তিনি করেননি বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।
প্রাক-বাজেট আলোচনার সময় শেয়ারবাজারসংক্রান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবাদপত্র সাংবাদিকদের সরবরাহ করা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (ব্যাংকিং প্রশাসন) গকুল চাঁদ দাস স্বাক্ষরিত এক প্রতিবাদপত্রে বলা হয়, শেয়ারবাজারের অনিয়ম তদন্তের জন্য গঠিত কমিটির প্রতিবেদন অর্থ মন্ত্রণালয়ে পর্যালোচনা করে কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী অধিকতর তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেসব বিষয়ে অধিকতর তদন্ত করা হবে, সে সম্পর্কে আংশিক তথ্য প্রয়োজনে সম্পাদনা করে উপস্থাপন করা হবে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলেও সময়ের আগেই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। মন্ত্রণালয় অহেতুক চরিত্র হননে অবদান রাখতে চায় না বলে সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি খতিয়ে দেখার দায়িত্ব নিয়েছে।

পুঁজিবাজারে বড় ধরনের দরপতন

দেশের পুঁজিবাজারে আজ সোমবার বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। ফলে দুই এক্সচেঞ্জেই সূচকের সঙ্গে কমেছে লেনদেন।
বাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পুঁজিবাজারের কারসাজির ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করলেও তা এখনো প্রকাশ না হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রতিবেদন নিয়ে আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়েছে। আবার অনেকে বলছেন, তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলে বাজারে আবার বড় ধরনের দরপতন হয় কি না, তা নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। কেননা, বড় বড় বিনিয়োগকারী ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বাজারে সক্রিয় না থাকলে বাজার পড়ে যাওয়া আশঙ্কা রয়েছে। আর এ বিষয়টি আজকের দরপতনের অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করছেন বাজার-সংশ্লিষ্টরা। তবে একটি জাতীয় দৈনিকে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আজ সোমবার প্রকাশিত হয়েছে।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মিজান-উর-রশিদ চৌধুরী বলেন, ‘উঠানামা শেয়ারবাজারের নিয়ম। তবে আজ বাজার একটু বেশি নেমে গিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে তদন্ত প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশিত হওয়া দরকার।
নাসিরুজ্জামান নামের এক বিনিয়োগকারী বলেন, এ মুহূর্তে বিনিয়োগকারীরা কী করবেন, তা নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে রয়েছেন। শেয়ারবাজারে কারসাজির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শাস্তি দিলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে।
আবদুর রাজ্জাক নামের আরেক বিনিয়োগকারী বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করলে বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়ে কি না, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। আর এ কারণে অনেক বড় বিনিয়োগকারী বাজার থেকে দূরে রয়েছেন। আবার অনেকের নাম তদন্ত প্রতিবেদন থাকায় তাঁরা বাজারে সক্রিয় হচ্ছেন না। আর এ কারণে বাজারে যথেষ্ট ক্রেতা না থাকায় আজ দরপতন হয়েছে।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, আজ ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ২৯৩.৮২ পয়েন্ট কমে ৬,২৬২.৬৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেনের শুরুতে সূচক কিছুটা কমলেও প্রথম আধ ঘণ্টা শেষে সূচক ৭ পয়েন্ট বাড়ে। এর পর থেকে সূচক দ্রুত কমতে থাকে, যা দিনভর অব্যাহত ছিল।
আজ লেনদেন হওয়া ২৬১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে মাত্র ২৭টির, কমেছে ২৩০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে চারটি প্রতিষ্ঠানের। ডিএসইতে আজ মোট লেনদেনের পরিমাণ এক হাজার ২২৪ কোটি টাকা, যা গতকালের চেয়ে ৬৫ কোটি টাকা কম।
আজ ডিএসইতে শীর্ষ ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে বেক্সিমকো, তিতাস গ্যাস, আফতাব অটো, বেক্সটেক্স, বিএসআরএম স্টিল, ডেসকো, স্কয়ার ফার্মা, বে লিজিং, অলিম্পিক ও ফু-ওয়াং সিরামিকস।
এদিকে আজ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে চতুর্থ আইসিবি মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দাম। এ ছাড়া আইসিবি ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড, প্রথম বিএসআরএস মিউচুয়াল ফান্ড, এইমস ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, গ্রামীণ ১ স্কিম ২ মিউচুয়াল ফান্ড, ইস্টার্ন ইনস্যুরেন্স, দেশ গার্মেন্টস, পঞ্চম আইসিবি মিউচুয়াল ফান্ড, কোহিনুর কেমিক্যাল ও বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষ ১০ এর তালিকায় রয়েছে।
আজ সবচেয়ে বেশি কমেছে এক্সিম ব্যাংকের শেয়ারের দাম। এ ছাড়া সামিট পাওয়ার, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, সিএমসি কামাল, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, লিগেসি ফুটওয়্যার, নর্দান জুট মিলস, আনলিমা ইয়ার্ন ও রংপুর ফাউন্ড্রি দাম কমে যাওয়া শীর্ষ ১০ এর তালিকায় রয়েছে।
অন্যদিকে আজ সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক ৬৫৩.৬৩ পয়েন্ট কমে ১৭,৫৭২.০৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২০৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ২৯টির, কমেছে ১৭৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আজ মোট লেনদেন হয়েছে ১২৩ কোটি টাকার।

ডিএসইর সামনে কাল বিনিয়োগকারীদের প্রতিবাদ সভা

পুঁজিবাজারে কারসাজির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ এবং কারসাজির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ। এ জন্য সংগঠনটি কাল মঙ্গলবার বেলা আড়াইটায় ডিএসইর কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ সভা করবে। আজ সোমবার সংগঠনটির আহ্বায়ক মিজান-উর-রশিদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রচারপত্রে এ দাবি জানানো হয়।
এতে আরও জানানো হয়, সম্প্রতি পুঁজিবাজারে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিপর্যয়ে নিঃস্ব ও অসহায় লাখ লাখ বিনিয়োগকারীর অব্যাহত বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের মুখে সরকার বাজার বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে বাজারের কারসাজির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামও স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি এখন লাখ লাখ বিনিয়োগকারীর প্রাণের দাবি। কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়ে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

পুঁজিবাজারকে সঠিক ধারায় নিতে হলে by সালেহউদ্দিন আহমেদ

শিল্পে বা অন্যান্য ক্ষেত্রে কোনো বিনিয়োগ, বিশেষত, বৃহৎ ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য পুঁজিবাজারের গুরুত্ব অপরিসীম। ব্যাংক ফাইন্যান্স অর্থাৎ ঋণ নিয়ে শিল্প বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ব্যাংকের কিছু সীমাবদ্ধতা থাকার পরিপ্রেক্ষিতে কোনো দেশে শিল্পায়ন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নে পুঁজি সরবরাহের বিষয়টি অনেকটা পুঁজিবাজারের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু বাংলাদেশের পুঁজিবাজার অত্যন্ত ছোট এবং ব্যাংক ও পুঁজিবাজারের অর্থায়নের তুলনা করলে দেখা যাবে, ব্যাংক থেকে অর্থায়ন হয় অনেক বেশি। তাই বলা যায়, আমাদের পুঁজিবাজার এখনো পুরোপুরি বিকশিত হয়নি, বিকাশমান আছে। এর মধ্যে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে, যা থেকে পুঁজিবাজারের দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে এবং পুঁজিবাজার উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমরা হোঁচট খাচ্ছি। একটা বিষয় মনে রাখা দরকার, পুঁজিবাজারের দুটি দিক আছে। এটাকে আমরা বলি বন্ড মার্কেট ও ইক্যুইটি মার্কেট। ইক্যুইটি বা শেয়ারবাজার নিয়ে আমাদের বিস্তর আলোচনা হয়, কিন্তু সেই তুলনায় বন্ড মার্কেট নিয়ে একেবারেই আলোচনা হয় না। শেয়ারবাজারে বেশির ভাগ বিনিয়োগ প্রাতিষ্ঠানিক। আর আছেন ব্যক্তিগত পর্যায়ে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী। আমাদের দেশে গত কয়েক বছরে এই সংখ্যা প্রায় ৩৫ লাখে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিত পুঁজিবাজারের কার্যকারিতা, উত্থান-পতন প্রভাব ফেলে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারী— সবার ওপর।
ইক্যুইটি মার্কেটে ও প্রাইমারি মার্কেটের ক্ষেত্রে আমাদের কতগুলো সমস্যা আছে। প্রথমত, ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং (আইপিও) ইস্যু করার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল—সেখানে অস্বচ্ছতা আছে, অনেক সময় লাগে। এতে ভালো ভালো কোম্পানির শেয়ার সময়মতো আসে না। আবার কিছু কিছু কোম্পানি শেয়ার ম্যানিপুলেশন করে আইপিওতে ছাড়ে। অন্যদিকে আইপিওতে ইনিশিয়াল শেয়ার প্রাইসিংয়ের ক্ষেত্রেও যোগসাজশ করে অভিহিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি মূল্য নির্ধারণ করা হয়। এসব জায়গায় কিছু গলদ আছে। আমি মনে করি, যেসব কোম্পানি আইপিও ইস্যু করে এবং ইস্যু ব্যবস্থাপনা করে, তাদের বিশেষ ভূমিকা আছে। তারা ইচ্ছা করেই ইস্যুমূল্যটা অনেক বাড়িয়ে দেয়। আমরা দেখেছি, ১০ টাকার একটা শেয়ারের ইস্যুমূল্য ৩০০ টাকা হয়েছে। এটা একটা অস্বাভাবিক ব্যাপার। পৃথিবীর কোনো বাজারে ইস্যুমূল্যের এত ভিন্নতা দেখা যায় না। আইপিওর এই জায়গায়ও একটা গলদ আছে।
দ্বিতীয়ত, ইনফরমেশন অ্যাসিমেট্রি বা তথ্যের অসামঞ্জস্যতা। যে কোম্পানি বা ব্রোকার বা যে মার্চেন্ট ব্যাংক আইপিও বিক্রির মাধ্যমে শেয়ার প্রাইসের লেনদেন করে আর যারা কেনে, তাদের মধ্যে তথ্যের বিস্তর ফারাক আছে। এই অসামঞ্জস্যতার জন্য যারা তথ্য কম পায়, বিশেষত, ক্রেতা ও বিক্রেতা একটা বেকায়দা অবস্থায় পড়ে। কোম্পানি সম্পর্কে, কোম্পানির অর্থনৈতিক অবস্থা, অডিট রিপোর্টে উপস্থাপিত তথ্য ঠিকমতো আসে না। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। তারা এসব তথ্য পায় না, কিন্তু পায় স্টক এক্সচেঞ্জ, এসইসি, ডিএসই, মার্চেন্ট ব্যাংকের লোক। ফলে তারা ইনসাইডার ট্রেডিং করতে পারে। তারা জানে, কার শেয়ার বাড়বে, কারটা কমবে। ইনসাইডার ট্রেডিং আমাদের দেশে হয়েছে এবং এখনো হয়। এটা রোধ করার জন্য তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তৃতীয়ত, ভালো ভালো অনেক কোম্পানির শেয়ার সময়মতো আসছে না আইপিও প্রক্রিয়াটি জটিল হওয়ার কারণে। এই সমস্যাটি অবিলম্বে সমাধান করতে হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো ডিমিউচুয়ালাইজেশন। এখন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের যে ট্রেডিং হাউসগুলো আছে, এগুলো চালায় নির্বাচিত ও অনির্বাচিত সদস্যরা। তাদের বেশির ভাগই হলো মার্চেন্ট ব্যাংকার্স, ব্রোকারস। তারাই যদি গভর্নেন্সে থাকে, আবার ব্যবসায়ও থাকে, তার মানে হলো জবাবদিহির ঘাটতি থাকবে। ডিমিউচুয়ালাইজেশনের মানে হলো যারা গভর্নেন্সে থাকবে, তারা ব্যবস্থাপনায় থাকবে না, স্টেকহোল্ডার হবে না। দুটোকে আলাদা করতে হবে। অন্যান্য দেশে এটা করা হয়েছে। এ কাজটি করতে যত দেরি হবে, ততই ট্রেডিং হাউসগুলো স্টেকহোল্ডারদের দ্বারা ম্যানিপুলেশনের শিকার হবে। তদন্ত প্রতিবেদনেও এ ব্যাপারে অচিরেই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আমরা অনেক দিন ধরে এ ব্যাপারে কথাই বলছি, গতকাল রোববারও পত্রিকায় দেখলাম, এ জন্য আরও অনেক সময় লাগবে, অনেক সভা করা হচ্ছে। আমার মনে হয়, এতে অযথা বিলম্ব ঘটবে। ইতিমধ্যে বহু দেশের দৃষ্টান্ত আমাদের সামনে আছে। অবিলম্বে সেই প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
শেয়ারবাজারে সম্প্রতি যা চলছে তা নিয়ে বলব, এসব বিষয়ে অনেক আগেই আমাদের দৃষ্টি দেওয়া দরকার ছিল। কিন্তু রেগুলেটররা (স্টক এক্সচেঞ্জ, সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ) তা করেনি। আমাদের স্টক মার্কেটের বর্তমান সমস্যার পেছনে একটা অশুভ আঁতাত ছিল। কিছু এক্সচেঞ্জ হাউস, এসইসির লোকজন, মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকাররা মিলে লোকজনকে ধোঁকা দিয়ে নানাভাবে পুঁজি হাতিয়ে নিয়েছে। এ কাজে তারা বিভিন্ন মাধ্যম বা প্রক্রিয়া ব্যবহার করেছে। ডাইরেক্ট লিস্টিং, প্রাইভেট প্লেসমেন্ট, বুক বিল্ডিং মেথড ইত্যাদি ম্যানিপুলেট করেছে। যেমন বুক বিল্ডিং মেথডের কথাই ধরা যাক। বুক বিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে ঘোষণা দিয়ে একটা বাজারমূল্য ঠিক করা হয়। কিন্তু যদি আগেই প্রচার করে কিছু লোক দিয়ে সেই কোম্পানির শেয়ারটির মূল্য বাড়িয়ে দিয়ে থাকেন তাহলে বুক বিল্ডিংয়ে একটি অন্যায্য মূল্য আসবে। বুক বিল্ডিং প্রক্রিয়াটি আদতে খারাপ নয়, কিন্তু এর অপপ্রয়োগ করা হয়েছে। এটা বন্ধ করতে হবে। প্রাইভেট প্লেসমেন্ট, ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের ক্ষেত্রেও একই রকম অবস্থা। এসবের ম্যানিপুলেট করার মাধ্যমে যারা শেয়ার ইস্যু করে, তাদের পকেটেই টাকা চলে যায়। পুঁজিবাজারে অর্থ উত্তোলনের উদ্দেশ্য থাকে কোম্পানির মূলধন বাড়িয়ে নিজের বিস্তৃতি ঘটানো, কাজের সুযোগ তৈরি হবে, তারপর যারা শেয়ারের মালিক তাদের রিটার্ন দেওয়া হবে। কিন্তু এই অর্থ ব্যক্তির পকেটে চলে যাওয়ার অর্থ তা আর বিনিয়োগ হলো না। এসব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেই অর্থ ব্যক্তিগত লাভে চলে যায়—ব্যবসা না করেও পুঁজিবাজারে গিয়ে ব্যবসার লাভটা পাওয়া হয়ে যায়। এটা হলো অর্থ লাভের চোরা পথ।
এবার প্রাইমারি মার্কেটে বেশির ভাগ ম্যানিপুলেশন হয়েছে। প্রাইমারি মার্কেটেই টাকা যারা বানানোর বানিয়ে চলে গেছে। সেকেন্ডারি মার্কেটেও হয়েছে, তবে তুলনামূলকভাবে কম।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশ ব্যাংক ও এসইসির মধ্যে সমন্বয়ের অভাব। আমি গভর্নর থাকাকালে মনে আছে, প্রতি মাসে একবার করে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সঙ্গে সভা হতো। তাদের ও আমাদের ইস্যুগুলোর সমাধানের চেষ্টা করা হতো। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি সম্পর্কিত নয়, তবু সেই সভার মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারতাম কী ঘটছে। কিন্তু এবার দেখলাম, যখন ঝামেলা শুরু হলো, তখন এসইসির চেয়ারম্যান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে গেলেন। এটা মূলত এসইসির দায়িত্ব ছিল। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত ছিল আরেকটু এগিয়ে আসা। ব্যাংকিং খাতের বিনিয়োগ তদারকি করা উচিত ছিল। পুরো ডিপোটিজের ১০ ভাগ অর্থ কিন্তু কম নয়। ডিপোজিটরদের অর্থ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা সাধারণভাবে ঠিক নয়। এই অর্থ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করার বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক আগে থেকে মনিটর করতে পারত। হুট করে বাংলাদেশ ব্যাংক এসে বলেছে, যারা ১০ শতাংশের বেশি করেছেন, তারা তাড়াতাড়ি অর্থ সমন্বয় করেন বা বিনিয়োগ কমিয়ে আনেন। তখন ব্যাংকগুলো ভয়ে শেয়ারগুলো বিক্রি করে সরে আসতে চাইল। তখন একধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। ব্যাংকের বিনিয়োগের পরিমাণ পুঁজিবাজারে কম হলেও তা সবার কাছে একটা সংকেত দেয়। ব্যাংকাররা কিছু করলে তারা সেই সংকেত খুব বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে নেয়। ব্যাংকাররা চলে যাচ্ছে তার মানে খারাপ কিছু ঘটতে যাচ্ছে। চটচট করে সূচক উঠছে কেন, এটা বাংলাদেশ ব্যাংক মনিটর করেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তগুলো সময়োপযোগী হয়নি। সিদ্ধান্তগুলো হয়তো ঠিক ছিল। আর মনিটরিংটাও সময়মতো করেনি। এখানেই ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রসঙ্গ আসে। এখন পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্পষ্ট নির্দেশনা আছে, পাশাপাশি লিজিং কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের ব্যাপারেও বিধিনিষেধ আরোপ করা জরুরি।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এসইসির ভূমিকা। এসইসি কোনো রেগুলেটরের মতো কাজ করেনি। আসলে অনেকটা ট্রেডিং হাউসের মতো কাজ করেছে, তাদের শরিক হিসেবে কাজ করেছে। ঘন ঘন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ভেবেচিন্তে, তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে হয় এবং তা বাস্তবায়ন করতে হয়। দু-একজনের ক্ষতি হলেই পরিবর্তন করবে কেন? কিন্তু চাপে পড়ে বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের মানে এসইসিতে যাঁরা কাজ করছিলেন, তাঁরা নিজের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন না, বাইরের লোক অথবা বাইরের স্বার্থ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন। তা তো দেখাই যাচ্ছে—তদন্ত প্রতিবেদনে বেরিয়েছে। এসইসিকে শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে, এটা ভালো কথা। তবে শুধু নতুন নিয়োগ দিলেই হবে না, এসইসিকে একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করতে দিতে হবে—সঙ্গে সঙ্গে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। এসইসিতে যত সৎ ও দক্ষ লোকই আসুন না কেন, তাঁর কাজে হস্তক্ষেপ করা হলে তিনি নিজের মতো কাজ করতে পারবেন না।
আমি মনে করি, সাম্প্রতিক তদন্ত প্রতিবেদনে প্রধান বিষয়গুলো ঠিকভাবেই চিহ্নিত করা হয়েছে। তদন্ত দল সুনির্দিষ্টভাবে বলেছে, কারা কারা জড়িত, আর এসইসির কী কী দুর্বলতা। তাদের সুপারিশগুলোর কিছু কিছু এখনই বাস্তবায়নযোগ্য।
এখনই কিছু সুপারিশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটা বার্তা দিতে হবে। তদন্তে যাদের নাম এসেছে, সেগুলো প্রকাশ করা হবে না বলে সরকার যে বার্তাটি দিতে চেয়েছে, তা সঠিক নয়। এটা আমি একদমই সমর্থন করি না। কেন নাম প্রকাশ করা হবে না? তাদের তো এখনো অভিযুক্ত বলা হচ্ছে না। এই নামগুলো আড়াল করলে হবে কি, পরবর্তীকালে যারা এ ধরনের কাজ করবে তারা একটা ইনটেনসিভ পাবে—ভাববে, আমি করলেও তো আমার নাম আসবে না, পর্দার আড়ালে লাভ করে নিয়ে সবকিছু ঠিকঠাক করে ফেলতে পারব। মনে রাখা দরকার, শেয়ারবাজার সংকট তো নিছক গবেষণার বিষয়বস্তু নয়। পুঁজিবাজার চলে মানুষের আস্থার ওপর দাঁড়িয়ে। মানুষের আস্থা তৈরি করতে হলে সুস্পষ্ট ব্যবস্থা নিতে হবে তো।
পরিশেষে আমার আশঙ্কার কথা বলি। পুঁজিবাজারের বর্তমান সমস্যা শুধু পুঁজিবাজারের সমস্যা নয়, আর্থিক খাতের জন্যই এক অশনিসংকেত। পুঁজিবাজারে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক জড়িত। তা ছাড়া, পুঁজিবাজার থেকে যে তহবিল আর্থিক খাতে আসার কথা তা সরে যাচ্ছে। ১৯৯৬ সালে একবার তদন্ত হলো, সেটার কোনো সুরাহা হলো না। এবারও যদি কোনো সুরাহা না হয়, পুঁজিবাজারের উন্নতি হবে না, শৃঙ্খলা আসবে না। কিছুদিন পর আরেকটা বিপর্যয়ের পথ খোলা রয়ে যাবে। আরেকটি ব্যাপার হলো, কিছুসংখ্যক মানুষকে ব্যবসা না করে ধন-সম্পদ অর্জনের একটা সহজ পথ করে দেওয়া হয়েছে ব্যবসার নামে, অন্যদিকে বঞ্চিত হলেন কতগুলো নিরীহ মানুষ।
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ: সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক।

উৎসাহ-উদ্দীপনায়গ্যাগারিনকে স্মরণ করছে রাশিয়া

ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে রুশ নভোচারী ইউরি গ্যাগারিনের মহাকাশ অভিযানের ৫০তম বার্ষিকী উদ্যাপন করছে রাশিয়া। ১৯৬১ সালের ১২ এপ্রিল প্রথম মানুষ হিসেবে মহাকাশে গিয়ে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করেছিলেন গ্যাগারিন। মহাকাশবিজ্ঞানের এই অবিস্মরণীয় ঘটনাকে গর্বের সঙ্গে আরও একবার বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে রাশিয়ায় নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি। রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন এ আয়োজনকে ‘বিশ্ব বদলে দেওয়া এক মহামানবের পদতলে রাখা বিনম্র শ্রদ্ধা’ বলে উল্লেখ করেছেন।
ক্রেমলিন থেকে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ আগামীকাল মঙ্গলবার সেখানকার স্পেস মিশন কন্ট্রোল সেন্টার যাবেন। তিনি সেখান থেকে ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে মহাশূন্যে প্রতিস্থাপিত ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে (আইএসএস) অবস্থানরত বিজ্ঞানীদের সঙ্গে কথা বলবেন। ওই দিন রাতে গ্র্যান্ড ক্রেমলিন প্যালেসে তিনি নভোচারী ও সাবেক মহাকাশের অভিযাত্রীদের সম্মাননা দেবেন।
অন্যদিকে, ইউক্রেন সফররত রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন গতকাল রোববার রুশ ও ইউক্রেনীয় নভোচারীদের সঙ্গে দেখা করেছেন।
দিনটি উদ্যাপন করতে মস্কোভিত্তিক মহাকাশবিষয়ক জাদুঘর মেমোরিয়াল মিউজিয়াম অব কসমোনটিকসে আজ সোমবার যোগ দিতে রাশিয়ার মহাকাশ সংস্থা রোসকোসমোস বিশ্বের ৪০টি দেশের মহাকাশ সংস্থার প্রধান, প্রতিনিধি এবং রাশিয়া ও সোভিয়েত আমলের মহাকাশ অভিযাত্রীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
রোসকোসমোসের মুখপাত্র আলেকজান্দার বরোবায়েভ বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের যেসব নভোযাত্রী সয়ুজ নভোযানে মহাকাশ ভ্রমণ করেছেন, তাঁদের সবাইকে ওই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
ইউরি গ্যাগারিনের প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে সম্প্রতি রাশিয়া তাঁর নামে একটি নভোযানের নামকরণ করেছে। গ্যাগারিন নামের ওই নভোযানটি গত বৃহস্পতিবার নভোযাত্রীদের একটি নতুন দল নিয়ে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) পৌঁছায়।
প্রসঙ্গত, গ্যাগারিনের অভিযাত্রাকে স্নায়ুযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রচারণামূলক বিজয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সাগরে তেজষ্ক্রিয়পানি ফেলা নিয়েনাওতো কানের উদ্বেগ

জাপানের প্রধানমন্ত্রী নাওতো কান সব সময় সুনামিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন। ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে তেজস্ক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, তেজস্ক্রিয় পানি সাগরে ফেলার বিষয়টি প্রতিবেশী দেশগুলোকে জানানো উচিত। গতকাল রোববার সুনামিবিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও পরিদর্শন করেন।
এদিকে সুনামিতে নিহত ব্যক্তিদের লাশ খুঁজে বের করতে গতকাল থেকে সামরিকবাহিনীর প্রায় ২২ হাজার সদস্য দুর্গত এলাকায় কাজ শুরু করেছেন।
গত ১১ মার্চ ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর জাপানে সুনামি আঘাত হানে। এরপর দ্বিতীয়বারের মতো ওই অঞ্চল পরিদর্শনে গেলেন প্রধানমন্ত্রী কান। সেখানে তিনি বলেন, সরকার সব সময় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকবে। গৃহহারা দেড় লাখ মানুষের জন্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাড়ি নির্মাণ করা হবে। সুনামির পর থেকে তারা জরুরি আশ্রয়ে অবস্থান করছে। কান বলেন, সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে একসঙ্গে কাজ করবে। মৎস্যজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, মাছ ধরার স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কাজ করবে সরকার।
তেজস্ক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী কান উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে প্রতিবেশী দেশগুলোকে আমাদের আরও ভালো ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত। কারণ, আমরা তেজস্ক্রিয় পানি সাগরে ফেলছি।
তেজস্ক্রিয় পানি সাগরে ফেলা নিয়ে জাপানের প্রতিবেশী চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া উদ্বেগ প্রকাশ করার পর এই মন্তব্য করলেন কান। এরই মধ্যে জাপানের ১২টি এলাকা থেকে পণ্য আমদানি বন্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করছে চীন।
সুনামিতে নিহত ব্যক্তিদের লাশ খুঁজে বের করতে গতকাল ২২ হাজার সেনাসদস্য কাজ শুরু করেছেন। ৯০টি হেলিকপ্টার, ৫০টি বড় নৌযান ও ১০০ জন ডুবুরির সমন্বয়ে সাগরে লাশ খোঁজা হচ্ছে। স্থলে লাশ খোঁজার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন ১৪ হাজার সেনাসদস্য। সুনামির পর এখনো ১৫ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছে।

নিমন্ত্রিত হয়েও যাঁরা খুশি হতে পারছেন না

প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটনের বিয়েতে নিমন্ত্রণ না পেয়ে হতাশা বা দুঃখে আক্ষেপ করেছেন বহু মানুষ। কিন্তু আমন্ত্রিত হয়েও মাথা চাপড়ানো লোকের সংখ্যা নিতান্ত কম হবে না। এর কারণ একটাই, শত শত নিমন্ত্রিতকে বলা হয়েছে নিজে আসতে—স্বামী বা স্ত্রীরা সঙ্গী হতে পারবেন না। এ ছাড়া নিজে না গিয়ে কার্ড স্বামী বা স্ত্রীকে হস্তান্তরও করা যাবে না।
দ্য সানডে টেলিগ্রাফ আমন্ত্রিত একজন অতিথির বন্ধুকে উদ্ধৃত করে লিখেছে, ‘আমার বন্ধুর স্ত্রীর কাছে এটা দুঃস্বপ্নের মতো। পাপোশের ওপর বিয়ের আমন্ত্রণপত্র পেয়ে তিনি খুবই রোমাঞ্চিত হন। কিন্তু আমন্ত্রণপত্র পড়ে তাঁর বিশ্বাসই হচ্ছিল না যে তাঁকে দাওয়াত করা হয়নি। তিনি ধরেই নিয়েছিলেন, বিয়েতে যোগ দিতে যাচ্ছেন। এ জন্য অনুষ্ঠানে পরার হ্যাটও কিনেছিলেন।’ এই অতিথি হলেন দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা রানির অন্যতম ব্যক্তিগত প্রতিনিধি—একজন লর্ড লেফটেন্যান্ট।
সেন্ট জেমস প্যালেস থেকে এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করা হয়। ২৯ এপ্রিল ব্রিটিশ রাজসিংহাসনের দ্বিতীয় উত্তরাধিকারী প্রিন্স উইলিয়াম ও কেট মিডলটনের বিয়ে হবে।
এদিকে দেশ-বিদেশে ব্যাপক আগ্রহ জাগানো এই বিয়ের অনুষ্ঠান কাভার করতে বিবিসির সাড়ে ৮০০ কর্মী কাজ করবেন বলে জানা গেছে। আইটিভির ৩০০ ও স্কাই-এর ১৬০ জন কর্মী ওই অনুষ্ঠান কাভার করবেন। বিবিসির একজন মুখপাত্র বলেন, ‘এ পর্যন্ত যা বোঝা যাচ্ছে, তাতে রাজপরিবারের এই বিয়ের অনুষ্ঠান টিভিতে চলতি শতাব্দীর সবচেয়ে বেশি দেখা অনুষ্ঠান হতে পারে। বিবিসি এমন অনুষ্ঠানের প্রধান সম্প্রচারকারীর দায়িত্ব পেয়ে গর্বিত।’

এবার সেনাপ্রধানের পদত্যাগের দাবি মিসরের বিক্ষোভকারীদের

এবার সেনাপ্রধানের পদত্যাগের দাবিতে মিসরে বিক্ষোভ হয়েছে। গতকাল রোববার রাজধানী কায়রোর তাহরির স্কয়ারে বিক্ষোভকারীরা সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল হুসেন তানতাবির পদত্যাগ দাবি করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্ল্লোগান দেয়।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে মিসরের সশস্ত্র বাহিনীর সুপ্রিম কাউন্সিল দেশটি পরিচালনা করেছে। আর এই কাউন্সিলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সেনাপ্রধান হুসেন তানতাবি।
এদিকে দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোবারকের নিয়োগ দেওয়া কয়েকটি প্রদেশের গভর্নরকে সরিয়ে দেওয়া হবে।
হোসনি মোবারক ও উচ্চপদস্থ কয়েকজন কর্মকর্তার বিচারের দাবিতে গত শুক্রবার রাতভর তাহরির স্কয়ারে বিক্ষোভ করে জনতা। গত শনিবার সকালে সেনাসদস্যরা তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ হয়। এ সময় গুলি চালানো হলে দুই বিক্ষোভকারী নিহত হয়। এরপর তারা সেনাপ্রধানের পদত্যাগের দাবি জানায়।
গত শনিবার সংঘর্ষের সময় বিক্ষোভকারীরা সেনাসদস্যদের একটি ট্রাক পুড়িয়ে দেয়। গতকাল বিক্ষোভকারীরা সেই ট্রাক ও কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে তাহরির স্কয়ারের চারপাশে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। স্কয়ারের ভেতরে অবস্থান নিয়ে তারা সেনাপ্রধানের পদত্যাগ দাবি করে স্লোগান দেয়, ‘জনতার দাবি একটাই, সেনাপ্রধান হুসেন তানতাবির পদত্যাগ।’ গত শনিবার সংঘর্ষের পর সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, ওই স্কয়ার থেকে সবাইকে সরিয়ে দেওয়া হবে। এ জন্য তিন ঘণ্টার কারফিউ জারি করা হয়। তারপর রাতভর সেখানে অবস্থান করে বিক্ষোভকারীরা। তবে এ সময় সেনাবাহিনী কোনো তৎপরতা চালায়নি।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বিক্ষোভকারীদের অপরাধী বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। জেনারেল আদেল উমরা বলেন, গত শনিবার তাহরির স্কয়ার থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার পর সেনাসদস্যরা ওই এলাকা ছেড়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা সেনাদের তিনটি গাড়ির ওপর হামলা চালায়।
এদিকে দেশটির কয়েকটি প্রদেশ থেকে মোবারকের নিয়োগ দেওয়া গভর্নরদের সরিয়ে দিতে সেনাবাহিনীর ঘোষণাকে বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার কৌশল হিসেবে মনে করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, সেনাপ্রধান ও সুপ্রিম কাউন্সিলের প্রধান ফিল্ড মার্শাল হুসেন তানতাবি ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোবারকের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন।

কুয়েতের কয়েকজন কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে ইরান

ইরান সে দেশে নিযুক্ত বেশ কয়েকজন কুয়েতি কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে। গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ এনে কুয়েত ইরানের কয়েকজন কূটনীতিককে বহিষ্কারের পর তেহরান এ পদক্ষেপ নিল। তেহরানের আরবি ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল আল-আলম গতকাল রোববার এ খবর প্রচার করেছে।
একটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে খবরে বলা হয়, কুয়েতের বহিষ্কারের জবাবে ইরান এ ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে কতজন কূটনীতিককে দেশ ছাড়তে বলা হয়েছে, খবরে তা উল্লেখ করা হয়নি।
সূত্র জানায়, ইরানে কুয়েতের দূতাবাসকে বলা হয়েছে তারা যেন কূটনীতিকদের অবিলম্বে ইরান ছাড়ার নির্দেশ দেয়।
গত ৩১ মার্চ কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-সাবাহ ঘোষণা দেন, তেহরানের পক্ষে কাজ করছে এমন একটি গুপ্তচরচক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ইরানের কয়েকজন কূটনীতিককে বহিষ্কার করা হবে।
কুয়েতের এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ বলেন, বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী দেশের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করার কোনো প্রয়োজন আমাদের নেই। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে আহমাদিনেজাদ বলেন, ‘এটি স্পষ্ট যে এই অভিযোগের কোনো মানে নেই।’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলী আকবর সালেহিও কুয়েতের অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন।

বিক্ষোভ সফল হওয়ার ব্যাপারে সংশয় ছিল আন্না হাজারের

ভারতে কঠোর দুর্নীতিবিরোধী আইনের দাবিতে ৯৮ ঘণ্টা অনশন করা প্রখ্যাত সমাজকর্মী আন্না হাজারে বলেছেন, তাঁর প্রচারণা জাতীয় সমর্থন পাবে, এ বিষয়ে তাঁর কোনো ধারণা ছিল না। অনশন ভাঙার এক দিন পর গতকাল রোববার তিনি এ কথা বলেন।
হাজারে বলেন, ‘বিক্ষোভ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে, তা আমার জানা ছিল না।’ তিনি বলেন, ‘আমি অনেক দুর্বল। তবু ২৫ বছর ধরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করছি।’ তবে দুর্নীতিবিরোধী প্রচারণাকে সফলভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য তিনি প্রযুক্তি ও গণমাধ্যমের প্রশংসা করেন।
হাজারে বলেন, ‘আজকাল দুর্নীতি এতই বেড়ে গেছে যে প্রতিদিনই কোটি কোটি রুপি ক্ষতি হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ২৮ জন নিহত

সিরিয়ার মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলেছে, গত শনিবার সিরিয়ায় শান্তিপূর্ণ সমাবেশে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ২৮ ব্যক্তি নিহত হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা দ্য ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটসের বিবৃতিতে বলা হয়, গত শনিবার সিরিয়ার বেশ কয়েকটি প্রদেশে শক্তি প্রয়োগ করে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ভণ্ডুল করে দিয়েছে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে দেওয়া বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সমবেত ব্যক্তিদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ গুলি চালায়। দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর দেরায় ২৬ জন নিহত হয়েছে। হোমস শহরে নিহত হয়েছে দুজন।
অন্যদিকে সিরিয়ার ছয়টি মানবাধিকার সংস্থার এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, শনিবার পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালিয়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ভণ্ডুল করে দিয়েছে। এতে নিহত হয়েছে ২৮ জন।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ‘অযৌক্তিকভাবে গ্রেপ্তার’ করছে কর্তৃপক্ষ। সংস্থাগুলো জানায়, লাতাকিয়া ও জাবলা থেকে ১৩ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিহত বিক্ষোভকারীদের দাফন অনুষ্ঠান শেষে দেরার একটি মসজিদের কাছে সমবেত জনতার ওপর নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায়। তাঁরা বলেন, শহরের পুরোনো অংশে ওমারি মসজিদের কাছে জড়ো হওয়া কয়েক হাজার মানুষকে ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও গুলি চালাতে দেখা যায়।
দ্য ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস জানায়, শুক্রবার দেশজুড়ে বিক্ষোভের সময় ৩৭ জন নিহত হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী দেরায় যা করেছে, সেটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।

মানবাধিকার বিষয়ে উপদেশ দেওয়া বন্ধ করুন

যুক্তরাষ্ট্রকে মানবাধিকার বিষয়ে উপদেশ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে চীন। মানবাধিকার প্রসঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বার্ষিক প্রতিবেদনে চীনের কড়া সমালোচনার জবাবে বেইজিং এ মন্তব্য করেছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হং লেই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত, নিজেদের মানবাধিকারের বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া এবং অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বন্ধ করা। তিনি বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের নিজেদের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করা এবং নিজেদের মানবাধিকারের প্রচারক হিসেবে জাহির না করার পরামর্শ দিচ্ছি।’ হং আরও বলেন, চীন মানবাধিকার বিষয়ে কথা বলতে উৎসাহী। তবে তা হতে হবে সাম্য ও পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে। তিনি বলেন, বেইজিং অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে। যুক্তরাষ্ট্রের উচিত, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের উদ্দেশ্যে মানবাধিকার প্রতিবেদন ব্যবহার না করা।
সম্প্রতি চীনা কর্তৃপক্ষ দেশটির ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। চীন সরকার ইতিমধ্যে অনেক শিল্পী ও রাজনৈতিক কর্মীকে আটক করে।
মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সদ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে চীন সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

সাগরে তেজষ্ক্রিয়পানি ফেলা নিয়েনাওতো কানের উদ্বেগ

জাপানের প্রধানমন্ত্রী নাওতো কান সব সময় সুনামিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন। ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে তেজস্ক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, তেজস্ক্রিয় পানি সাগরে ফেলার বিষয়টি প্রতিবেশী দেশগুলোকে জানানো উচিত। গতকাল রোববার সুনামিবিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও পরিদর্শন করেন।
এদিকে সুনামিতে নিহত ব্যক্তিদের লাশ খুঁজে বের করতে গতকাল থেকে সামরিকবাহিনীর প্রায় ২২ হাজার সদস্য দুর্গত এলাকায় কাজ শুরু করেছেন।
গত ১১ মার্চ ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর জাপানে সুনামি আঘাত হানে। এরপর দ্বিতীয়বারের মতো ওই অঞ্চল পরিদর্শনে গেলেন প্রধানমন্ত্রী কান। সেখানে তিনি বলেন, সরকার সব সময় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকবে। গৃহহারা দেড় লাখ মানুষের জন্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাড়ি নির্মাণ করা হবে। সুনামির পর থেকে তারা জরুরি আশ্রয়ে অবস্থান করছে। কান বলেন, সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে একসঙ্গে কাজ করবে। মৎস্যজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, মাছ ধরার স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কাজ করবে সরকার।
তেজস্ক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী কান উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে প্রতিবেশী দেশগুলোকে আমাদের আরও ভালো ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত। কারণ, আমরা তেজস্ক্রিয় পানি সাগরে ফেলছি।
তেজস্ক্রিয় পানি সাগরে ফেলা নিয়ে জাপানের প্রতিবেশী চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া উদ্বেগ প্রকাশ করার পর এই মন্তব্য করলেন কান। এরই মধ্যে জাপানের ১২টি এলাকা থেকে পণ্য আমদানি বন্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করছে চীন।
সুনামিতে নিহত ব্যক্তিদের লাশ খুঁজে বের করতে গতকাল ২২ হাজার সেনাসদস্য কাজ শুরু করেছেন। ৯০টি হেলিকপ্টার, ৫০টি বড় নৌযান ও ১০০ জন ডুবুরির সমন্বয়ে সাগরে লাশ খোঁজা হচ্ছে। স্থলে লাশ খোঁজার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন ১৪ হাজার সেনাসদস্য। সুনামির পর এখনো ১৫ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছে।

আসামে দ্বিতীয় পর্বের ভোট আজ

ভারতের পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন ৪ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে। ওই দিন আসাম বিধানসভার ১২৬টি আসনের মধ্যে প্রথম পর্বে ভোট নেওয়া হয় ৬২টি আসনে। আজ সোমবার রাজ্যের ১৪টি জেলার বাকি ৬৪টি আসনে ভোট নেওয়া হবে। অন্য চারটি রাজ্যের মধ্যে তামিলনাড়ু, কেরালা ও পুদুচেরিতে ভোট নেওয়া হবে ১৩ এপ্রিল। পশ্চিমবঙ্গে ভোট নেওয়া হবে ছয় পর্বে ১৮, ২৩ ও ২৭ এপ্রিল এবং ৩, ৭ ও ১০ মে।
আসামে ভোটারসংখ্যা ৯৬ লাখ ৭৭ হাজার ১১৩। ভোট নেওয়া হবে ১২ হাজার ৫৮৯টি ভোটকেন্দ্রে। প্রার্থী রয়েছেন ৫৯৬ জন। এর মধ্যে নারী প্রার্থী ৪৭ জন। প্রথম দফা নির্বাচনে ৪৮৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
আজকের নির্বাচনে যাঁদের ভাগ্য নির্ধারিত হবে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আসামের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও অসম গণপরিষদের নেতা প্রফুল্ল কুমার মহন্ত এবং আসাম বিধানসভার ছয় মন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মা, রফিকুল হোসেন, আকন বোরা, প্রমিলারানী ব্রহ্ম, চন্দন ব্রহ্ম ও ভূমিধর বর্মণ।
এদিকে উলফার ভাইস চেয়ারম্যান প্রদীপ গগৈ বলেছেন, তাঁরা ভোট বর্জন করলেও ভোট দিতে কোথাও বাধা সৃষ্টি করেননি। অন্যদিকে কার্বিআলংয়ের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন কেএলএনএলএফ বা কার্বিআলং ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট এই প্রথম দীর্ঘ ১৫ বছর পর বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিচ্ছে।

যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে ইসরায়েল ও হামাস

ইসরায়েল বলেছে, ফিলিস্তিনিরা রকেট ও মর্টার নিক্ষেপ বন্ধ করলে তারা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে রাজি আছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী এহুদ বারাক গতকাল রোববার এ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিনিরা আমাদের ওপর হামলা বন্ধ করলে আমরাও হামলা বন্ধ করব।’
এর আগেই অবশ্য হামাসের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব এসেছে বলে ইসরায়েলের একজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেছেন, হামাসের রাজনৈতিক শাখা বার্তা পাঠিয়ে ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তিনি বলেন, ইসরায়েল যতক্ষণ না মনে করবে তার জনগণ স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারছে, ততক্ষণ সেনা অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ইসরায়েলের সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে হামাস নেতারা গাজা ভূখণ্ডে জরুরি অবস্থা ঘোষণা দেওয়ার পরই ইসরায়েলের তরফ থেকে যুদ্ধবিরতির এ ঘোষণা এল। গত বৃহস্পতিবার থেকে এ পর্যন্ত সহিংসতায় ১৮ জন ফিলিস্তিনি মারা গেছে।
এহুদ বারাক বলেছেন, ‘ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধ করতে রাজি। তবে তার আগে হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে গোলা নিক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। তারা গোলা নিক্ষেপ বন্ধ করলে আমরাও গোলা নিক্ষেপ বন্ধ করব।’
ইসরায়েলের একটি স্কুলবাসে বৃহস্পতিবার হামাসের সদস্যরা ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এতে গাড়িটির চালকসহ দুজন আহত হন। এ ঘটনার পরই নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন ‘যারাই হামলা চালিয়ে শিশুদের হত্যার চেষ্টা করেছে, তাদের রক্তে নিজেদের মাথাই ভিজবে। নেতানিয়াহুর এ হুমকির পরই ইসরায়েলি সেনারা গাজা ভূখণ্ডে যুদ্ধবিমান নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এহুদ বারাক তাঁর পূর্বনির্ধারিত ওয়াশিংটন সফর বাতিল করেছেন। দুই পক্ষের মধ্যে ফের সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর এটাই ছিল কোনো ইসরায়েলি মন্ত্রীর প্রথম যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব।
এদিকে হামাসের মুখপাত্র সামি আবু জুহরি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ইসরায়েল হামলা বন্ধ করলে আপনাআপনি স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।
ইসরায়েলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হামাসের এই যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের রাতে পরিস্থিতি ছিল কিছুটা শান্ত। কিন্তু গতকাল সকালে গাজা থেকে ইসরায়েলের মাটিতে তিনটি রকেট ছোড়া হয়। তবে এতে কোনো ক্ষতি হয়নি।
এর আগে শনিবার হামাস জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে অভিযান জোরেশোরে শুরু করায় সংগঠনটি এ ঘোষণা দেয়।
২০০৮ সালের ডিসেম্বরের পর এটাই দুই পক্ষের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংঘর্ষের ঘটনা। ওই সময় ২২ দিনব্যাপী ইসরায়েলি অভিযানে এক হাজার ৪০০ লোক মারা যায়। নিহত ব্যক্তিদের প্রায় সবাই ছিল ফিলিস্তিনি। ইসরায়েলের ছিল মাত্র ১৩ জন।

ওয়েলিংটনের প্রেমে নেপোলিয়ন

শুরুতেই খোলাসা করা যাক ওয়েলিংটন বুট কী। এটা হাঁটু পর্যন্ত পানি-নিরোধক একধরনের বুট জুতা। এই ওয়েলিংটন বুটের প্রেমে পড়েছে ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্টের নামে নাম রাখা একটি পেঙ্গুইন। সাদা ও কালো রঙের এই জুতা জোড়া নেপোলিয়নের জার্মান মালিক ডেনিস কুয়েবলারের।
ডেনিস জানান, ওয়াটারলুর যুদ্ধে সম্রাট নেপোলিয়ন হেরে গিয়েছিলেন ব্রিটিশ জেনারেল ডিউক অব ওয়েলিংটনের কাছে। ‘কিন্তু এবারের বিষয়টা সম্পূর্ণ ভালোবাসার। নেপোলিয়ন আমার ওয়েলিংটন জোড়া দেখামাত্র উত্তেজিত হয়ে পড়ে। চারদিকে লাফালাফি শুরু করে দেয়। নাক দিয়ে জুতাগুলো ঘষে। পরম আনন্দে বুকে জড়িয়ে নেয় রবারের জুতা জোড়া। এমনকি জুতা সরিয়ে নেওয়ার পরও তার উত্তেজনা শেষ হয় না।’ বলেন ডেনিস।
জার্মানির কনসট্যান্সে সি লাইফ সেন্টারের একটি খাঁচায় অন্যান্য পেঙ্গুইনের সঙ্গে রাখা হয়েছে নেপোলিয়নকে। ডেনিস জানান, তিনি আশা করেন, আগামী বছর পেঙ্গুইনের অনেক ছানা জন্ম নেবে। এ কারণে পুরুষ ও নারী পেঙ্গুইন একসঙ্গে রাখা হচ্ছে। কিন্তু নারী সঙ্গীর চেয়ে বুট জুতার প্রতিই বেশি আকর্ষণ নেপোলিয়নের। জুতা জোড়ার প্রতি তার এতটাই ভালোবাসা যে অন্য পেঙ্গুইনগুলো জুতার ধারেকাছেও ঘেঁষতে পারে না।
ডেনিস জানান, বাচ্চা পেতে হলে এখন বুট জুতার কাছ থেকে দূরে রাখতে হবে পেঙ্গুইনটিকে, যাতে সে জুতার পরিবর্তে তার নারী সঙ্গীর প্রতি বেশি মনোযোগী হয়। এখন বাধ্য হয়ে আরেক জোড়া রঙিন জুতা কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

ওয়াতারার দপ্তরে বাগবোর অনুগত বাহিনীর হামলা

আইভরি কোস্টের ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা প্রেসিডেন্ট লরা বাগবোর অনুগত বাহিনী শনিবার আবিদজানে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট আলাসেন ওয়াতারার প্রধান দপ্তর গালফ হোটেলে হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল রোববার হোটেলের আশপাশের বহু লোক এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। তবে বাগবোর সরকার ওয়াতারার কার্যালয়ে হামলা চালানোর কথা অস্বীকার করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও জাতিসংঘের একজন মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, গালফ হোটেলে মর্টার ও অস্ত্র থেকে গুলি ছোড়া হয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর এ হোটেলেই ওয়াতারা সরকারের প্রধান কার্যালয় স্থাপন করা হয়। হোটেলটিতে এ ধরনের হামলা এটাই প্রথম।
ওয়াতারার অনুগত বাহিনী জানায়, ‘বাগবোর প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বাহিনী (এফডিএস) আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং আমরা তাদের পিছু হটানোর চেষ্টা করছি।’
গালফ হোটেলের একজন বাসিন্দা জানান, ‘বাগবোর বাহিনী হোটেলের চারদিক থেকে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ সময় খুবই কাছ থেকে কালাশনিকভ রাইফেল থেকে গুলি ছোড়া হয়েছে।’
তবে বাগবোর মুখপাত্র আহুয়া দন মেলো বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, ‘গালফ হোটেলে হামলার কোনো ঘটনাই ঘটেনি। আমাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ ডাহা মিথ্যা।’
আইভরি কোস্টে জাতিসংঘ মিশনের (ইউএনওসিআই) এক মুখপাত্র জানান, আবিদজানের দক্ষিণাঞ্চলে ছোট একটি হ্রদ ও বাগবোর বাসভবন থেকে ওই হামলা চালানো হয়। ওই মুখপাত্র আরও জানান, প্রেসিডেন্ট ওয়াতারা ও তাঁর সরকারকে সুরক্ষা দেওয়ার অংশ হিসেবে শান্তিরক্ষীরা হামলার উৎসস্থল ওই হ্রদে পাল্টা হামলা চালায়। তবে ইচ্ছাকৃতভাবেই আমরা বাগবোর বাসভবনে কোনো হামলা করিনি। তবে বাগবোর মুখপাত্র মেলো জানান, জাতিসংঘের অভিযোগই প্রমাণ করে তারা ওয়াতারার পক্ষ নিচ্ছে এবং ফ্রান্সের বাহিনীর সঙ্গে তারাও বাগবোর অবস্থানে হামলা চালানোর জন্য নিশ্চিতভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এদিকে আবিদজানের স্থানীয় এক বাসিন্দা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, নিরাপত্তার ভয়ে গালফ হোটেলের আশপাশের ২০০ থেকে ৩০০ লোক এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে।
এ ছাড়া ব্রিটিশ দূতাবাস ভবনে গুলিবর্ষণ ও বাগানে মর্টারের একটি গোলা পড়ার পর দূতাবাস থেকে লোকজনদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাগবোর প্রেসিডেন্ট বাসভবনের কাছেই ব্রিটিশ দূতাবাস অবস্থিত।
অন্যদিকে গালফ হোটেলে হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মার্ক টোনার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘এটা স্পষ্ট, এ সপ্তাহে বাগবোর আলোচনার পদক্ষেপ ধোঁকাবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়।’
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর প্রধান লি রয় জানান, বাগবোর বাহিনীর কাছে এখনো সাঁজোয়া যান ও ভারী অস্ত্র রয়েছে এবং তারা শহরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

টট্টিই প্রেরণা হতে পারেন ইন্টারের

এত দিন শুধু মুখ বুজে সয়েছেন। কিছু বলেননি। নিন্দুকদের কথার জবাব কথা দিয়ে দেওয়া বৃথা। যা করার মাঠেই করে দেখাতে হয়। ‘টট্টি বুড়িয়ে গেছে, আর চলে না’—জাতীয় কথাবার্তার সেই পাল্টা জবাবটাই যেন দিলেন রোমার ৩৪ বছর বয়সী স্ট্রাইকার। সর্বশেষ ছয় ম্যাচে আট গোল! এর মধ্যে গত চার ম্যাচেই করেছেন তিনটি জোড়া গোল।
ফ্রান্সেসকো টট্টির নামের পাশে জোড়া গোল লেখা হলো পরশুও। এবং এবারও রোমার ত্রাতা হয়েই দেখা দিলেন। শেষ বাঁশি বাজার কয়েক সেকেন্ড আগে করা তাঁর দ্বিতীয় গোলে ২-১-এ উদিনেসেকে হারাল রোমা। শিরোপার দৌড় থেকে তারা ছিটকে গেছে আগেই। তবে পয়েন্ট টেবিলের চারে থাকা উদিনেসেকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলার আশাটা অন্তত বাঁচিয়ে রাখল টট্টির দল। উদিনেসের সঙ্গে তাদের পয়েন্ট ব্যবধান এখন ৩।
নাপোলিকে তিনে ঠেলে পরশু দুইয়ে উঠে এসেছে ইন্টার মিলান। দুঃস্বপ্নের একটা সপ্তাহ শেষে স্বস্তির সুবাতাস এনে দেওয়া একটা জয় পেয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের মেলবন্ধনে ২-০ গোলে হারিয়েছে শিয়েভোকে। ক্যাম্বিয়াসোর পর গোল করেছেন মাইকন। শীর্ষে থাকা এসি মিলানের (৬৫ পয়েন্ট) সঙ্গে ব্যবধানটাও ২ পয়েন্টে নিয়ে এসেছিল লিওনার্দোর দল। যদিও কাল ফিওরেন্টিনার বিপক্ষে আবারও ব্যবধানটি পাঁচে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল মিলানের।
গতকালই লিগের ৩২তম পর্ব শেষ হয়ে গেছে। হাতে থাকছে আর ৬টি ম্যাচ। মিলানের কাছে লিগে ৩-০ গোলে হেরে যাওয়ার পর নিজেদের মাঠেই চ্যাম্পিয়নস লিগে শালকের কাছে ৫-২ গোলে হেরে যাওয়া ইন্টার গতবার জেতা তিনটি শিরোপাই (লিগ-চ্যাম্পিয়নস লিগ-কাপ) হাতছাড়া করার শঙ্কায় ভুগছে। যদিও আশাবাদী লিওনার্দো বলছেন, ‘আমাদের ভাবনায় এখনো সবগুলো ট্রফিই আছে। এমন নয় যে আমি শুধু ভাবছি জেতা সম্ভব, বরং মনের ভেতর থেকেই এই বিশ্বাসটা পাচ্ছি, জেতা সম্ভব।’ এমনকি চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে যাওয়ার কার্যত অলীক এক স্বপ্নও দেখছেন সাবেক ব্রাজিলিয়ান তারকা।
লিওনার্দোর মতো টট্টিও আশাবাদী মানুষ। ভস্ম থেকেই যেন জেগে উঠছে তাঁর আশার পাখি। গত ছয় ম্যাচে আট গোল করেছেন ঠিকই, কিন্তু এর আগে ২৬ ম্যাচে করেছেন মাত্র ৫ গোল। তাঁকে দ্রুতই মাঠ থেকে কোচ তুলে আনছেন—এমন অভিযোগও করেছিলেন। একসময় ক্লাবও ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন ক্যারিয়ারের আদ্যন্ত রোমাতেই কাটানো টট্টি।
সেসব যে পেছনে ফেলে এসেছেন, সেটা টট্টির কথাতেই পরিষ্কার, ‘আমি সবাইকে দেখিয়ে দিতে চেয়েছি, আমি ফুরিয়ে যাইনি। আমি এখনো সবকিছুই করতে পারি। এমনকি এখন যতটা ভালো বোধ করছি, ২০ বছর বয়সেও ততটা বোধ করিনি।’
ইন্টার যখন প্রেরণাই খুঁজছে, রোমার টট্টির কাছেই তো হাত পাততে পারে।

চাকরি হারালেন ফন গল

কোচদের নিয়তিই বুঝি এটাই। গত মৌসুম শেষে যে লুই ফন গলকে মাথায় তুলে নিয়ে নাচছিল বায়ার্ন মিউনিখ, এবার মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই তিনি ছাঁটাইয়ের শিকার। বায়ার্নকে গতবার লিগ-কাপ দুই শিরোপা জেতানোর পর এই ডাচ কোচ নিয়ে গিয়েছিলেন চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে। গতবারের সাফল্যের পেছনে যে পারফরম্যান্স ছিল, তার ছিটেফোটাও এবার বায়ার্নের খেলায় দেখা যায়নি। কাপ থেকে বিদায় সেমিফাইনালে, চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বিদায় নিয়েছে শেষ ষোলোতেই; লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আশাও আর নেই। এখন একটাই লক্ষ্য—পরবর্তী চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা পাওয়া।
সেই লক্ষ্যের বলি হয়ে একটু আগেভাগেই চাকরি হারাতে হলো ফন গলকে। কারণ ক্লাব কর্তৃপক্ষ মনে করছে, কোচ পাল্টালে দল নতুন প্রেরণা পাবে। পয়েন্ট টেবিলের চার থেকে দুই নয়তো তিনে উঠবে বায়ার্ন। চ্যাম্পিয়নস লিগে জার্মান লিগ থেকে দুটি দল সরাসরি খেলে, তৃতীয় দলটিকে খেলতে হয় প্লে-অফ। তিনে থাকা হ্যানোভারের (৫৩ পয়েন্ট) সঙ্গে অবশ্য মাত্র ১ পয়েন্টের ব্যবধান বায়ার্নের। ২৯ ম্যাচ শেষে ৬৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বুরুসিয়া ডর্টমুন্ড। ২৮ ম্যাচ শেষে ৫৮ পয়েন্ট বায়ার লেভারকুসেনের।
এই মৌসুমের শেষে এমনিতেই চলে যেতেন ফন গল। সে রকমই রফা হয়েছিল ক্লাব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। পরবর্তী মৌসুমের কোচের নামও ঠিক হয়ে গেছে। কিন্তু পরশু বুন্দেসলিগায় নুরেমবার্গের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করার পরই ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায় তাঁর। নুরেমবার্গ থেকে মিউনিখে ফিরেই ফন গল শোনেন, চাকরি নেই! ভারপ্রাপ্ত কোচ হিসেবে মৌসুমের শেষ পর্যন্ত চালিয়ে নেবেন ফন গলেরই সহকারী আন্দ্রিয়েস ইয়ঙ্কার। গত চার বছরে বায়ার্নের ষষ্ঠ কোচ হিসেবে আগামী মৌসুমে দায়িত্ব নেবেন ইয়াপ হেইনেকস।

মেসিতে উদ্ধার বার্সেলোনার

কখনো মুণ্ডিত মস্তকে হাত বোলাচ্ছেন অধৈর্যের মতো। কখনো হতাশায় মুখ ঢাকছেন। কখনো বা একে ওকে ডেকে গরম কথা বলছেন। সাইড লাইনে পেপ গার্দিওলাকে এতটা তৎপর খুব একটা দেখা যায় না। পরশু গেল। বার্সেলোনার রাতটা যে কেটেছে চরম স্নায়বিক উত্তেজনায়।
না, লিগে তাদের প্রতিপক্ষ হাতি-ঘোড়া কেউ ছিল না। ছিল পয়েন্ট টেবিলের সবার নিচের দল আলমেরিয়া। যে দলকে প্রথম লেগে বার্সেলোনা ৮-০ গোলে হারিয়েছিল। পরশু স্প্যানিশ লিগের ফিরতি ম্যাচেও বার্সাই জিতল। ব্যবধান ৩-১, যথেষ্টই বড়। কিন্তু শুধু ফলাফল দেখে বোঝার উপায় নেই, নিজেদের মাঠে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কীভাবে পয়েন্ট হারানোর শঙ্কায় ভুগেছে চ্যাম্পিয়নরা।
বিশ্লেষকদের অনুমান ভুল প্রমাণিত করে প্রথমার্ধ গোলশূন্য ড্র। ৫০ মিনিটে উল্টো আলমেরিয়ারই এগিয়ে যাওয়া! বিস্ময়ের ধাক্কা সামলে বার্সা সমতায় ফেরে মেসির পেনাল্টি গোলে, ৫৩ মিনিটে। ১১ মিনিট পর তরুণ স্ট্রাইকার থিয়াগোর হেডে করা গোলের উৎসও মেসির কর্নার। পাল্টা আক্রমণ থেকে যেকোনো মুহূর্তে আলমেরিয়ার সমতা ফেরানোর হুমকি ছিল। একেবারেই অন্তিম মুহূর্তে স্বস্তি ফেরায় মেসির দ্বিতীয় গোল।
বার্সেলোনা আসলে অস্বস্তিতে ছিল পরশু প্রথম ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ অ্যাথলেটিক বিলবাওকে ৩-০ গোলে হারানোয়। দুটি পেনাল্টি থেকে জোড়া গোল করেন কাকা, বদলি হিসেবে নামার পর ৭০ মিনিটে গোল করেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এই গোল দিয়ে লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় মেসিকে টপকে যান পর্তুগিজ উইঙ্গার (২৮ গোল)। রিয়ালও পয়েন্ট ব্যবধান পাঁচে নামিয়ে আনে। জোড়া গোল করে মেসি (২৯ গোল) রোনালদোকে টপকে যান দুই ঘণ্টা পরের ম্যাচেই, বার্সাও ব্যবধান নিয়ে যায় আটে। ১৬ এপ্রিলের এল ক্লাসিকোর আগে মানসিকভাবেও এগিয়ে থাকল বার্সা। এক মৌসুমে ৫০ গোলের অর্জন থেকে মাত্র তিন গোল দূরে মেসি।
স্প্যানিশ লিগে যেমন বড় ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটলে বার্সার টানা তৃতীয় শিরোপা জেতা নিশ্চিত, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে একই সমীকরণ তৈরি করে রেখেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। পরশু বারবেতভ ও ভ্যালেন্সিয়া ফুলহামের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় এনে দেন ম্যানইউকে। ৬৭ মিনিটে করা মালুদার গোলে উইগানকে ১-০ গোলে হারিয়েছে চেলসি। চ্যাম্পিয়নস লিগে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়া পিটার ক্রাউচের জোড়া গোলে স্টোক সিটিকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে টটেনহাম। কাল ব্ল্যাকপুলকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে আর্সেনাল। দিয়াবি, এবু ও ফন পার্সি গোল করেছেন।
৩২ ম্যাচে ৬৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ম্যানইউ। এর পর আছে আর্সেনাল (৬২), চেলসি (৫৮), ম্যান সিটি (৫৬) ও টটেনহাম (৫৩)। এই চার দল অবশ্য খেলেছে ৩১টি ম্যাচ।