Tuesday, May 10, 2016

সাত রাজ্যে জরুরি অবস্থা ২০ লাখ লোককে সরে যাওয়ার নির্দেশ

যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের দিকে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় আইরিনের কারণে দেশটির সাত অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। চার অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন স্থান ও নিউইয়র্ক সিটির নিম্নাঞ্চলের ২০ লাখ লোককে বাধ্যতামূলকভাবে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে দেশটির প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, আইরিন হতে পারে ‘নজিরবিহীন’ এক ঝড়।
ঘূর্ণিঝড় আইরিন এরই মধ্যে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালিয়েছে। গতকাল শনিবার নর্থ ক্যারোলাইনার উপকূলে আইরিনের আঘাত হানার কথা। এরপর ঝড়টি ওয়াশিংটন ও নিউইয়র্ক সিটির দিকে অগ্রসর হবে। ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানার কারণে দুই ক্যাটাগরির আইরিন কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও এই ঝড় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০০ মাইলবেগে স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওয়াশিংটন ও নিউইয়র্ক সিটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার থেকে ওয়াশিংটন ও বোস্টনের মধ্যকার রেল-যোগাযোগ স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রেল নেটওয়ার্ক আমটার্ক।
মার্কিন গণমাধ্যমে বলা হয়, ঝড়ের প্রভাবে নর্থ ক্যারোলাইনার উপকূলীয় শহরগুলোতে বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ওবামা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনি যদি এই ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য গমনপথের মধ্যে থাকেন, তাহলে আপনাকে এখনই পূর্বসতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘অপেক্ষা করবেন না, দেরি করবেন না। আমরা সবাই সবচেয়ে ভালোর আশা করি, কিন্তু আমাদের সবচেয়ে খারাপের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। সবাইকে এই ঝড়কে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।’ ওবামা বলেন, ‘সব লক্ষণ দেখে মনে হচ্ছে, এটি হবে “ঐতিহাসিক ঝড়”।’
ম্যাসাচুসেটস উপকূলের একটি দ্বীপে ছুটি কাটাচ্ছিলেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। ঝড়ের ব্যাপারে সরকারি পদক্ষেপের নেতৃত্ব দিতে এক দিন আগেই তিনি ওয়াশিংটনে ফিরে আসেন। এদিকে ঝড়ের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন ঝড়ের সম্ভাব্য গমনপথের বাসিন্দার। ভার্জিনিয়া বিচ শহরের এক বাসিন্দা বলেন, শহরের দোকানে দোকানে ক্রেতাদের প্রচণ্ড ভিড়। পেট্রলস্টেশনগুলোর মজুদ ফুরিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করে তিনি প্রস্তুতি সেরে ফেলেছেন।
ঘূর্ণিঝড় আইরিনের কারণে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির প্রধান ক্রেইগ ফুগেট বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ক্ষয়ক্ষতি হতে যাচ্ছে।
রেডক্রস জানায়, তারা পূর্ব উপকূলে অনেকগুলো জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করছে।
নর্থ ক্যারোলাইনা, মেরিল্যান্ড, ভার্জিনিয়া, ডেলাওয়ার, নিউজার্সি, নিউইয়র্ক ও কানেকটিকাটে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
ডেলাওয়ার, মেরিল্যান্ড, নিউজার্সি, নর্থ ক্যারোলাইনা ও নিউইয়র্কের কিছু কিছু এলাকা থেকে লোকজনকে বাধ্যতামূলকভাবে সরে যেতে বলা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় আইরিনের কারণে নিউইয়র্ক অঞ্চলের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে গতকাল দুপুর থেকে বিমান অবতরণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নিউজার্সি ও নিউইয়র্কের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এ কথা জানিয়েছে।

‘চীনা সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়ন অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে’

চীন ২০২০ সালের মধ্যে একটি আধুনিক সামরিক বাহিনী গড়ে তুলতে যাচ্ছে। চীনা সামরিক বাহিনীর এই আধুনিকায়ন এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে। পেন্টাগনের এক বার্ষিক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়; তবে এ প্রতিবেদনের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে চীন।
বেইজিংয়ের সশস্ত্র বাহিনীর বার্ষিক মূল্যায়নবিষয়ক ওই প্রতিবেদনটি গত বুধবার প্রকাশ করে পেন্টাগন। এতে বলা হয়, চীন ক্রমেই সামরিক ক্ষেত্রে তার কারিগরি ঘাটতি কমিয়ে আনছে। প্রতিবেদনটিতে তাইওয়ানের ওপর চীনের আধিপত্য বিস্তারের হুমকি রয়েছে বলেও মন্তব্য করা হয়।
চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের ওই প্রতিবেদনটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অতিরঞ্জিত বলে উল্লেখ করেছে। স্বশাসিত তাইওয়ান দ্বীপটিকে নিজেদের একটি বিচ্ছিন্ন প্রদেশ বলে মনে করে চীন।
চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে চীনের সেনাবাহিনীর জন্য কিছু অস্ত্রশস্ত্র ও সামরিক উপকরণের আধুনিকায়ন অত্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাপার।
পেন্টাগনের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালের মধ্যে বেইজিং একটি আধুনিক সামরিক বাহিনী গড়ে তুলতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে পেশ করা ওই প্রতিবেদনে চীনের জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি, বিমানবাহী রণতরী নির্মাণের উদ্যোগ এবং রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম চীনের প্রথম যুদ্ধবিমানের নমুনা তৈরি প্রভৃতি সামরিক আধুনিকীকরণ উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে ২০১০ সালের সাইবার হামলার কথাও উল্লেখ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারি কম্পিউটারসহ পুরো সাইবার জগৎ ওই হামলার শিকার হয়েছিল। চীনকে ওই হামলার উৎস বলে ধারণা করা হয়। তবে এ ধারণা চীনের ইন্টারনেট নিরাপত্তানীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিত্তিহীন সন্দেহ বলে উল্লেখ করেছে চীন।
পেন্টাগনের প্রতিবেদনটিকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করে চীন আরও বলেছে, প্রতিবেদনটিতে সত্যকে দুঃখজনকভাবে বিকৃত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় পারস্পরিক বিবাদের লাগাম টেনে ধরার চেষ্টা করছে বেইজিং ও ওয়াশিংটন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সম্প্রতি চীন সফর করেন। এ সময় দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহায়তা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার অঙ্গীকার করা হয়। তবে সামরিক সতর্কতার বিষয়ে এ দুই শক্তিশালী দেশের মধ্যে এখনো উত্তেজনা রয়েছে। পেন্টাগনের প্রতিবেদনের যে কড়া জবাব দিয়েছে চীন, তাতে এই উত্তেজনার বিষয়টি আবারও স্পষ্ট হয়েছে।

খালেদার রাজনীতি by সাজেদুল হক

জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর অনেকটা বাধ্য হয়েই রাজনীতিতে এসেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। তার ভাষায়- ‘রাজনীতি আমি বুঝতাম না।’ ৩রা জানুয়ারি ১৯৮২। রাজনীতিতে অভিষেক হয় বেগম জিয়ার। এরই মধ্যে বিএনপির ভেতরে ষড়যন্ত্রের ডালপালা মেলতে থাকে। বাইরে থেকে কলকাঠি নাড়তে থাকেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। প্রথম বিএনপি ভাঙেন জিয়া সরকারের সাবেক মন্ত্রী শামসুল হুদা চৌধুরী ও এম এ মতিন। বিএনপি ভাঙার আরও কয়েকটি প্রচেষ্টাও দেখা যায়। তবে বিচারপতি সাত্তার বেগম জিয়াকে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান করতে সমর্থ হওয়ায় সাত্তারের নেতৃত্বাধীন কমিটি মূলধারার বিএনপি হিসেবে পরিচিতি পায়। ১৯৮৪ সালের ১লা এপ্রিল বেগম খালেদা জিয়া দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। ১০ই মে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। শুরু হয় বিএনপি এবং বেগম জিয়ার নতুন অধ্যায়।
এই নতুন পথচলায় বেগম জিয়ার ওপর বারবার ঝড়-ঝাপটা এসেছে। কঠোর অনমনীয়তায় তিনি তা মোকাবিলা করেছেন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে থেকে বিএনপিকে ক্রমশ তিনি একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলে পরিণত করেন। দলের ভেতর ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে নেন কঠোর পদক্ষেপ। আর এরশাদের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে থাকেন অনড়। এই ভূমিকা তার জন্য নিয়ে আসে আপসহীন নেত্রীর অভিধা। এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচন ছিল খালেদা জিয়া এবং বিএনপির জন্য টার্নিং পয়েন্ট। ওই নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিস্ময়ের জন্ম দেয় বিএনপি। যদিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের শক্ত অবস্থানের কারণে কেউ কেউ আগেই বিএনপির জয়ের সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন। ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার প্রথম মেয়াদের শাসনামলকে অনেকেই বাংলাদেশের গণতন্ত্রের উজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করেন। সংসদও কার্যকর ছিল তখন। দিনের পর দিন প্রাণবন্ত বিতর্ক হয়েছে। শেষদিকে অবশ্য পরিস্থিতি বদলে যায়। অকার্যকর হয়ে পড়ে সংসদ। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে রাজপথে বিরোধীরা। ১৫ই ফেব্রুয়ারির গায়েবি ভোটের কলঙ্ক গায়ে মাখেন খালেদা জিয়া। অবশ্য পদত্যাগ করে নতুন নির্বাচন দেন সহসাই। ক্ষমতায় যেতে না পারলেও ওই নির্বাচনেও বিএনপি ভালো করেছিল। একশ’র উপরে আসনে জয়ী হয়। ২০০১ সালে এলো আবারও ভূমিধস বিজয়। শুরুটা ভালোই হয়েছিল। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান। কিন্তু পরে সরকারের বিরুদ্ধে উঠতে থাকে দুর্নীতির নানা অভিযোগ। মানুষও তার অনেক কিছু বিশ্বাস করতে শুরু করে। পুরো আন্তর্জাতিক শক্তি দূরে সরে যেতে থাকে বিএনপি থেকে। বিচারপতিদের বয়স বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ছিল ভুল। ওয়ান-ইলেভেন সবকিছু উলটপালট করে দেয়। খালেদা জিয়ার কাছের মানুষরা করেন বিশ্বাসঘাতকতা। সেই ধাক্কা বিএনপি আজও কাটিয়ে উঠতে পারেনি। বিএনপিরও অনেকে মনে করেন, এখনও বাংলাদেশ চলছে ওয়ান-ইলেভেনের এক্সটেনশনে। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনে অংশ নেয়ার ইচ্ছা ছিল না খালেদা জিয়ার। নানামুখী চাপে ওই নির্বাচনে অংশ নিতে বাধ্য হন তিনি। জামায়াতও চাপ প্রয়োগ করে বিএনপির ওপর। ভোটে যা হওয়ার তাই হয়েছে।
বিপর্যয় আর কাটাতে পারেনি বিএনপি। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত জীবনের দুর্দশাও কাটেনি আজও। ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো মারা যান নির্বাসিত অবস্থাতেই। বড় ছেলে তারেক রহমান এখনও দেশের বাইরে। ৫ই জানুয়ারি নির্বাচনে বিএনপির না যাওয়া সঠিক না ভুল ছিল তা নিয়ে এখনও নানা আলোচনা। কেউ বলেন ভুল। কেউ বলেন সঠিক। অনেক পর্যবেক্ষকই বলে আসছিলেন, কংগ্রেস জমানায় খালেদা জিয়ার ভারত সফরের পর দেশটি তার বাংলাদেশ নীতিতে পরিবর্তন আনছিল। কিন্তু ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির বাংলাদেশ সফরের সময় খালেদা জিয়া তার সঙ্গে দেখা না করায় বিএনপিকে পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে। এ যুক্তির বিরুদ্ধে বিএনপিতেও তেমন কোনো শক্ত মত ছিল না। কিন্তু কংগ্রেস জমানার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ দিচ্ছেন ভিন্ন সাক্ষ্য। তিনি তার আত্মজীবনী ‘দ্য আদার সাইড অব মাউন্টেইন’-এ লিখেছেন, এ বৈঠক বাতিলের আগেই বাংলাদেশ নীতি প্রশ্নে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ভারত। সালমান খুরশিদ লিখেছেন, বিএনপি এবং বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে ভারতের খুবই উষ্ণতাপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। খালেদা জিয়া ভারত সফরের সময় প্রণব মুখার্জির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছিল। সবকিছু চমৎকারভাবেই এগুচ্ছিল। কিন্তু পুরো বিষয়টিই ভেস্তে যায় শাহবাগ আন্দোলনের ফলে। সালমান খুরশিদ শাহবাগ আন্দোলন কথাটি ব্যবহার করেননি। তবে তার বয়ানে বুঝা যায়, তিনি শাহবাগ আন্দোলনের কথাই বুঝিয়েছেন। তার ভাষায়, সরকার সমর্থক যুব শক্তি এবং জামায়াতের কট্টরপন্থিরা রাজপথে মুখোমুখি অবস্থানে চলে যায়। আর তখনই ভারতকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
তবে পর্যবেক্ষকরা এক বাক্যেই স্বীকার করেন, আওয়ামী লীগ শিবির যেসব রাজনৈতিক চাল দিয়েছে তার শক্ত কোনো জবাব বিএনপি জোট দিতে পারেনি। ঢাকার রাজপথে কোনো আন্দোলনই গড়ে তুলতে পারেনি বিএনপি। সরকারের কঠোর অবস্থান, নেতাদের অনেকের বিক্রি হয়ে যাওয়া এক্ষেত্রে নিয়ামক শক্তির ভূমিকা পালন করেছে। এমনও চাউর আছে, খালেদা জিয়ার গুলশান অফিসে কী আলোচনা হয় তা মুহূর্তের মধ্যেই নির্ধারিত স্থানে চলে যায়। যে কারণে বিএনপির কোনো অ্যাকশন প্ল্যানই শেষ পর্যন্ত কাজে লাগেনি। প্রতিদ্বন্দ্বী শিবির আগেভাগে পরিকল্পনা জেনে যাওয়ায় আন্দোলন ক্ষেত্রে বিএনপিকে বারবারই ব্যর্থতার পরিচয় দিতে হয়েছে।  অনেকের বিরুদ্ধেই খালেদা জিয়া ব্যবস্থা নিতে চেয়েছেন। সিদ্ধান্তও হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি আর তা কার্যকর করতে পারেননি। দুর্বল সংগঠন, সিদ্ধান্তহীনতা আর সিদ্ধান্তে স্থির থাকতে না পারা ভুগিয়েছে খালেদা জিয়াকে। তার চেয়েও বেশি ভোগাচ্ছে জাতীয়তাবাদী শিবিরকে। সর্বশেষ কমিটি গঠন নিয়েও অনিশ্চয়তার দোলাচলে ভুগছেন খালেদা জিয়া। কাউন্সিলের দেড় মাস পরও স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করতে পারেনি বিএনপি। দীর্ঘ সময় ভারপ্রাপ্ত থাকার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির মহাসচিব হয়েছেন। কিন্তু তার মহাসচিব হওয়ার খবর ঘোষণা করেছেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ। যা বিএনপির ভেতর অনেকের মধ্যেই হতাশার জন্ম দিয়েছে। সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এখন অনেকটা মহাসচিবের প্যারালাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলেও কোনো কোনো রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মনে করেন। দল যখন বিপর্যয়ে, হাজার হাজার নেতাকর্মী যখন হামলা-মামলার শিকার তখন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির এক শ্রেণির নেতার বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। বেশকিছু ক্ষেত্রে এর সত্যতাও মিলেছে। কিন্তু বিএনপির হাইকমান্ড এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। ব্যবস্থা নিবে বলেও কেউ আশা করেন না। আওয়ামী লীগের ফুলটাইম রাজনীতির বিপরীতে বিএনপির পার্ট-টাইম রাজনীতির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। চলমান বিপর্যয় থেকে খালেদা জিয়া বের হতে পারেন কি-না তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে।

ঘটনা আগরতলার, মদের টাকা জোগাড় করতে দেহ বিক্রিতে মেডিক্যাল ছাত্রী

মা-বাবা টাকা পাঠান। কিন্তু তা তো শুধু পড়াশোনার খরচের জন্য। রাতে দেদার পার্টি, মদের টাকা জোগাড় করতে তাই দেহব্যবসা। প্রত্যেকেই মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রী। ডাক্তারির ছাত্রী ছাড়াও রয়েছে অন্যান্য নামী প্রতিষ্ঠানের পডুয়ারা। পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২০ জন ছাত্রী-সহ মোট ৩৪ জনকে।
ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় দিনের পর দিন রমরমিয়ে চলছিল দেহব্যবসা। পুলিশের কাছে প্রচুর অভিযোগ জমা পড়লেও, প্রমাণের অভাবে বারবারই ফস্কে যাচ্ছিল তারা। এবার একেবারে হাতেনাতে ধরা পড়ল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আগরতলায় তিনটি আবাসিকে রবিবার রাতে হানা দিয়ে খোঁজ মিলল একাধিক মধুচক্রের। দেহব্যবসায় লিপ্ত তরুণীরা প্রত্যেকেই মেডিক্যাল কলেজ-সহ বিভিন্ন নামী প্রতিষ্ঠানের ছাত্রী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গোয়েন্দাদের হাতে ধরা পড়ে, ওই ছাত্রীরা দাবি করে, তারা খুবই গরিব। পড়াশোনার খরচ চালাতেই রোজগারের এই পন্থা নিয়েছে। কিন্তু সেই দাবি যে ডাহা মিথ্যে, তার প্রমাণ মিলেছে ধৃত ছাত্রীদের পরিবার সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার পর। জানা গিয়েছে, ধৃতদের প্রত্যেকের পরিবারই স্বচ্ছল। স্রেফ দেদার পার্টি, মদের টাকা জোগাড় করতেই ওই ছাত্রীরা দেহব্যবসায় লিপ্ত হয়েছে।
সূত্র: এই সময়

চিয়ারলিডার হতে গেলে উতরাতে হয় অগ্নিপরীক্ষা

মনে দুঃখের মেঘ জমে থাকলেও মুখে সবসময় ওদের হাসি খেলা করে। ওই হাসিই ভুবন জিতে নেয়। নিজের দলকে চিয়ার করার সময় মোহময়ী দেখায় ওদের। বাইশ গজে খেলছেন গৌতম গম্ভীর। ডিজে তারস্বরে বাজাচ্ছেন ‘করব, লড়ব, জিতব রে’। আর দূরে কলকাতা নাইট রাইডার্সের জন্য ক্রমাগত চিয়ার করে চলেছেন ওঁরা। ওঁরাই তো চিয়ারলিডার।
গোটা বিশ্বেই কিন্তু এখন চিয়ারলিডারদের দারুণ জনপ্রিয়তা। চিয়ারলিডার হিসেবে অনেকেই এখন পেশা গড়তে চান। তাই তৈরি হয়েছে প্রতিযোগিতাও। প্রতিযোগিতা মানেই তো পরীক্ষা। পাশ করলে চাকরি। পাশ করতে না-পারলেই ‘চাকরি নট’। ফলে পরীক্ষায় বসতে হয় চিয়ারলিডারদের।  পরীক্ষা যথেষ্ট কঠিন। চিয়ারলিডারদের আই কিউ টেস্ট নেওয়া হয়। চিয়ারলিডারদের হতে হবে সপ্রতিভ। এটাই যেন অলিখিত শর্ত। সুন্দরী তো হতে হবেই। জানতে হবে নাচ। কঠিন কঠিন প্রশ্নের জবাব হাসিমুখে দিয়ে, কঠিন থেকে কঠিনতম ধাপ উতরোতে পারলে তবেই বেছে নেওয়া হয় চিয়ারলিডারদের। সেই সব চিয়ারলিডাররা তখন নেমে পড়েন নিজেদের কাজের জগতে।

শরীরযাপন: নিউ ইয়র্ক...মন নয়, শরীর যেখানে শেষ কথা বলে: পর্ব ১

পিছন ফিরে ব্রেসিয়ার খুলছেন এক শ্বেতাঙ্গী। কালো ব্রেসিয়ার। নিম্নাঙ্গে যেটি পরে রয়েছেন, তেমন খোলামেলা অন্তর্বাস আমি কলকাতায় কোনও মহিলার কোমরে দেখিনি। চাকরিসূত্রে বেশ কয়েকবার বিদেশযাত্রা করতে হয়েছে, তা লেখার একেবারে গোড়াতেই জানিয়েছিলাম। আজ থেকে আগামী কয়েক পর্বে বলব আমার প্রথম বিদেশযাত্রার গল্প। শিরোনাম থেকে নিশ্চয়ই এতক্ষণে বুঝে গিয়েছেন চাকরিসূত্রে প্রথমে কোথায় গিয়েছিলাম। বাবা বলেছিলেন, ‘‘যাও। ওখানে সকলকে আমি বলে দিয়েছি। কোনও সমস্যা হবে না।’’ এ প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি, আমেরিকা ছিল বাবার দ্বিতীয় ‘দেশ’। নিউ ইয়র্ক ছিল প্রায় পাড়ার মতো। সেখানে মিত্তির, দস্তিদার, ব্যান্‌জি (বাবার মুখে ‘ব্যানার্জি’টা ওরকমই শোনাতো), মুকেজি (মুখার্জি) আর খাসনবিশরা যে আমার দেখভালের জন্য হাতা-খুন্তি বাগিয়ে বসে রয়েছেন, সেটি বিলক্ষণ টের পেয়েছিলুম।
কারণ হিসেবে একটি জিনিস কানে এসেছিল। এঁদের সকলেরই একটি করে ল্যাংবোট রয়েছে। কারও পরিবারে মেয়ে, কারও পরিবারে শালী, কারও পরিবারে মাসতুতো বোনের চেহারায়। বাবাও ঝোপ বুঝে আমাকে গুঁজে দেওয়ার বন্দোবস্ত পাকা করেছিলেন। কোনও একটা খোপে আমাকে গুঁজে দিতে পারলেই যেন কেল্লাফতে। আমি এতে খুব একটা বিরক্ত হয়েছিলাম, এমনটা মোটেই নয়। তবে এটুকু বুঝেছিলাম, এদের কাউকে নিয়েই মৌজ করা যাবে না। যাকে নিয়ে ফুর্তি করতে যাব, তার গোয়ালেই আমাকে বাঁধা পড়তে হবে। কতকটা ধরি মাছ না-ছুঁই পানি করে কাটিয়ে দিতে হবে। তাতেও আমি বেশ পাকা খিলাড়ি ছিলাম।
যা-ই হোক, এয়ারপোর্ট থেকেই আমাকে বগলদাবা করেছিলেন ‘বোস’। বেঁটেখাটো, সিড়িঙ্গে-মার্কা চেহারা। চোখে বেশ একটা চতুর-চতুর ভাব। এ ব্যাটা এলআইসি অফিসের কেরানি হলে ভাল মানাত। কিন্তু কী আর করা যাবে। এঁর ‘ট্যাগ’ হলেন ছোট শালী। দেশ থেকে শ্বশুর-শাশুড়ি জামাইয়ের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন। অর্শযন্ত্রণা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে বেচারা। কার গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া যায় গাঁদাফুলের মালা। আমাকে দেখে নিশ্চয়ই মনে হয়েছিল, ‘‘এই তো পেয়েচি বোকা পাঁটা!’’ (বোস নামক বস্তুটি এভাবেই কথা বলতেন)।
আমাকে বোস তুললেন চেম্বার্স স্ট্রিটের একটা ছোট্ট ফ্ল্যাটে। রাস্তাটা ঠিক ব্রুকলিন ব্রিজ পেরিয়েই, ডান হাতে বেঁকে গিয়ে গোঁত্তা খেয়ে ঢুকেছে। বাড়িটা চারতলা, আমার ঘরটা তিনতলায়। একটা জানালা ছিল পুব দিকে। গিয়েই খটাস করে খুললাম। আর সেই শুরু হয়ে গেল আমেরিকায় আমার যৌনজীবনের পার্বণ। বোস তখন খ্যাক-খ্যাক করে বলে চলেছেন, ‘‘তোমার জন্য এই ছোট ঘরটাই ঠিক আছে। ও পাশে ড্রয়িং রুম। সেটাই ডাইনিং করে নিও। এ-এ-এ এইটা কিচেন। রান্নাবান্না করতে হবে না। তোমার কাকিমা সব ব্যবস্থা করে দেবেন।’’
‘‘কে কাকিমা?’’, জানলা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে জানতে চাইলাম। খেয়ালই নেই, নিজেকে উৎকৃষ্ট মানের উজবুক প্রমাণ করলাম। কিন্তু উপায় নেই। আমার কানে কথা ঢুকছে, কিন্তু মাথায় ঢুকছে না। উনি বলে চলেছেন,  
‘‘হেঁ-হেঁ-হেঁ, বুয়েচি, বুয়েচি...’’
‘‘কী বুঝলেন?’’
‘‘বাপ-মাকে ছেড়ে এসে মন খারাপ...উদাস...’’
‘‘হুম...’’
উনি একমনে বিদেশ, একাকীত্ব, চাকরি, চাপ, প্রফেশনালিজম, কেরিয়ার নিয়ে লেকচার শুরু করেছেন। আমি ‘‘হুঁ-হুঁ’’ করে যেতে লাগলাম। কিচ্ছু করার নেই কাকু। আমার সামনে তখন রচিত হচ্ছে দৃশ্য। রাস্তার উল্টো দিকের জানালা গলে আমার চোখ দৌড়েছে। পিছন ফিরে ব্রেসিয়ার খুলছেন এক শ্বেতাঙ্গী। কালো ব্রেসিয়ার। নিম্নাঙ্গে যেটি পরে রয়েছেন, তেমন খোলামেলা অন্তর্বাস আমি কলকাতায় কোনও মহিলার কোমরে দেখিনি।
(ক্রমশ...)
সুত্রঃ এবেলা

জাতিসংঘের সদস্য পদের জন্য আবেদন করবে ফিলিস্তিন

ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ জাতিসংঘের সদস্য পদের জন্য আবেদন জানাবে। জাতিসংঘের সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদ আল-মালকি বার্তা সংস্থা এএফপিকে গত শনিবার এ কথা জানান।
রিয়াদ আল-মালকি বলেন, আগামী ২০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৬৬তম অধিবেশনের শুরুতে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের কাছে ব্যক্তিগতভাবে এই আবেদন তুলে ধরবেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।

ব্রাজিলে বন্দুকধারীদের গুলিতে বিচারক নিহত

ব্রাজিলে বন্দুকধারীদের গুলিতে এক বিচারক নিহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো রাজ্যের নিটেরো শহরে নিজ বাড়ির সামনে মুখোশ পরিহিত বন্দুকধারীরা তাঁর ওপর গুলি চালায়।
অপরাধচক্রের সদস্য ও দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তাদের দোষী সাব্যস্ত করার মধ্য দিয়ে প্যাট্রিসিয়া ল্যুরিভাল অ্যাসিওলি নামে ওই বিচারক আলোচিত ও খ্যাতিমান হয়ে ওঠেন।
ল্যুরিভালের পরিবার জানায়, বেশ কয়েকবার প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার পরও তিনি পুলিশি প্রহরা গ্রহণ করেননি।
তিন সন্তানের জননী ৪৭ বছর বয়সী ওই বিচারকের শরীরে ১৬টি গুলি করা হয় বলে জানানো হয়। শুক্রবার নিটোরোতে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।