Thursday, February 23, 2017

উল্টো মালয়েশিয়াকেই দোষারোপ

উত্তর কোরিয়া তাদের নাগরিক কিম জং-নামের মৃত্যুর জন্য মালয়েশিয়াকে দোষারোপ করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। ১৩ ফেব্রুয়ারি মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের বিমানবন্দরে রহস্যজনকভাবে অসুস্থ হওয়ার পর জং-নাম মারা যান। তিনি উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সৎভাই। কুয়ালালামপুরের বিমানবন্দরে জং-নামকে উত্তর কোরিয়ার গুপ্তঘাতকেরা বিষপ্রয়োগে হত্যা করে বলে সন্দেহ মালয়েশীয় পুলিশের। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম বলছে, উত্তর কোরিয়ার দুই নারী গুপ্তচর বিষপ্রয়োগে জং-নামকে হত্যা করেন। জং-নাম হত্যার ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে মালয়েশিয়ার সম্পর্কের তিক্ততা বাড়ছে। উত্তর কোরিয়ার অনুরোধ সত্ত্বেও জং-নামের লাশ ফেরত দেয়নি মালয়েশিয়া। তারা বলছে, নিহত ব্যক্তির পরিবারের কেউ ডিএনএ নমুনা দিয়ে শনাক্ত করার পরই লাশ নিতে পারবেন। এ ছাড়া মৃত্যুর কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ বলছে, প্রাথমিকভাবে মালয়েশিয়া পিয়ংইয়ংকে জানায় যে কূটনৈতিক পাসপোর্টধারী এক উত্তর কোরীয় কুয়ালালামপুরের বিমানবন্দরে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর মারা গেছেন।
পরে মালয়েশিয়া দ্রুত তাদের পূর্বের অবস্থান বদলে ফেলে। তারা বিষয়টিকে জটিল করে তোলে। তারা দক্ষিণ কোরিয়ার সুরে উত্তর কোরিয়াবিরোধী কথাবার্তা বলতে থাকে। জং-নাম হত্যার বিষয়ে এই প্রথম কেসিএনএ কোনো খবর প্রকাশ করল। তবে খবরে নিহত ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়নি। নিহত ব্যক্তি যে উত্তর কোরিয়ার নেতার সৎভাই, সে কথাও প্রতিবেদনে স্বীকার করা হয়নি। প্রতিবেদনে নিহত ব্যক্তিকে উত্তর কোরিয়ার একজন নাগরিক উল্লেখ করা হয়েছে। কেসিএনএর খবরে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার নাগরিকের (জং-নাম) মৃত্যুর জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী মালয়েশিয়া সরকার। কারণ, মালয়েশিয়ার মাটিতে উত্তর কোরিয়ার একজন নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। কেসিএনএর অভিযোগ, কূটনৈতিক পাসপোর্টধারী এক উত্তর কোরীয় নাগরিকের ময়নাতদন্ত করে মালয়েশিয়া আন্তর্জাতিক আইন ভেঙেছে। জং-নাম হত্যার ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার এক কূটনীতিককে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় মালয়েশিয়ার পুলিশ। হন কাওয়াং সং নামের ওই কূটনীতিক কুয়ালালামপুরে থাকা উত্তর কোরীয় দূতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারি হিসেবে কর্মরত। ওই কূটনীতিকের পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ার বিমান সংস্থার এক কর্মীকেও খোঁজ করছে মালয়েশীয় পুলিশ। এই দুজনই বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন।

আমেথির ভোট যুদ্ধে মুখোমুখি দুই রানি

সঞ্জয় লীলা বনসালি চাইলে টান টান একটা সিনেমা তৈরি করতে পারেন। আমেথির রাজপ্রাসাদে হিট সিনেমার উপাদান এতটাই। বাজি ধরে বলতে পারি, গোটা দেশের মানুষ চোখের পলক না ফেলে সেই সিনেমা গিলবে, যেমন গিলেছিল সঞ্জয়ের তৈরি দেবদাস, বাজিরাও মাস্তানি কিংবা হাম দিল দে চুকে সনম। আমেথি ও রাহুল গান্ধী প্রায় সমার্থক হয়ে গেলেও কংগ্রেসের সহসভাপতি সরাসরি এই সিনেমার কাহিনির সঙ্গে জড়িত নন। আবার তাঁকে যে একেবারেই চরিত্র লিপির বাইরে রাখা যাবে, তা-ও নয়। কারণ, আমেথির রাজা সঞ্জয় সিংয়ের বর্তমান স্ত্রী অমিতাকে ওই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের টিকিট দিয়েছেন তিনিই। আবার রাজ্যে সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে জোট বাঁধার পেছনেও রয়েছে তাঁর হাত। সিনেমা তৈরির জন্য আমেথির রাজপ্রাসাদের অলিন্দে পরতে পরতে যে উপাদানগুলো রয়েছে, সঞ্জয় লীলা বনসালিকে তা বরং জানানো যাক। লক্ষ্ণৌর প্রায় দেড় শ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে আমেথি। রাহুল গান্ধীর লোকসভা কেন্দ্র আমেথির মধ্যেই রয়েছে আমেথি বিধানসভা, যেখানকার শেষ রাজা রনঞ্জয় সিং দত্তক নিয়েছিলেন আজকের ‘রাজা’ সঞ্জয় সিংকে। স্বাধীন ভারতে রাজাদের রাজত্ব যাওয়ার পরই সঞ্জয়ের জন্ম। তবু অামেথির আবালবৃদ্ধবনিতার কাছে সঞ্জয় অাজও ‘মহারাজ’। এখনো আমেথির রাস্তায় তাঁর গাড়ি বেরোলে অন্য সব গাড়ি থেমে যায়। কাহিনির শুরু আশির দশকের মাঝামাঝি। ব্যাডমিন্টনে তখন দেশ কাঁপাচ্ছেন সৈয়দ মোদি। আটবারের ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন। মেয়েদের মধ্যে সেরা অমিতা সিং। দুজনের বাধাহীন প্রেম তখন ‘টক অব দ্য টাউন’।
রক্ষণশীল লক্ষ্ণৌয়ে হিন্দু-মুসলমানের সেই প্রেম বিয়ে পর্যন্ত গড়াল। তারপর শুরু হলো জটিলতা। আসরে হাজির সঞ্জয় সিং। অমিতার মধ্যে সঞ্জয় কী দেখেছিলেন তিনিই জানেন। শুরু হয়ে গেল আর এক উদ্দাম প্রেমকাহিনি। লক্ষ্ণৌর রাস্তায় আচমকাই মারা যান সৈয়দ মোদি। ১৯৮৮ সালে। কানাকানি শুরু হয়ে গেল, সৈয়দকে খুন করা হয়েছে। খুনের ষড়যন্ত্র করেছেন সঞ্জয় ও অমিতা! রসাল গল্পের শাখা-প্রশাখা অতঃপর পল্লবিত হতে থাকল। সিবিআইয়ের চার্জশিটে সঞ্জয় ও অমিতার নাম উঠে গেল। শেষমেশ অবশ্য প্রমাণের অভাবে দুজনেই খালাস, যা এ দেশের ধনী ও প্রভাবশালীরা যে সুবিধা অাজন্ম উপভোগ করে অাসছেন। অমিতার সঙ্গে প্রেমপর্ব শুরুর অনেক অাগেই সঞ্জয়ের বিয়ে হয়েছিল। স্ত্রী গরিমা সিং, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনাথ প্রতাপ সিংয়ের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় ১৯৮৯ সালে পুত্র অনন্ত বিক্রম ও দুই কন্যা মহিমা এবং শৈব্যাকে নিয়ে গরিমা আমেথির প্রাসাদ ত্যাগ করে লক্ষ্ণৌবাসী হন। ১৯৯৫ সালে সঞ্জয় বিয়ে করে রাজপ্রাসাদে নিয়ে এলেন অমিতাকে। বহু বছর পর রাজপ্রাসাদ পেল দ্বিতীয় রানিকে। গরিমাও দ্বারস্থ হলেন আদালতের। অভিযোগ, সঞ্জয় তাঁকে বিবাহবিচ্ছেদ না করেই অমিতাকে বিয়ে করেছেন। বিবাহবিচ্ছেদের জন্য আদালতে গরিমা সিং বলে যাঁকে হাজির করা হয়েছিল, সেই নারী নাকি তিনি নন। সঞ্জয় সেই অভিযোগ উড়িয়ে বললেন, আইনত বিচ্ছেদ ঘটিয়েই তাঁর এই দ্বিতীয় দারপরিগ্রহণ। গরিমা আদালতকে জানালেন, সঞ্জয়ের দাখিল করা তথ্য-প্রমাণও জাল। তিনি এখনো স্ত্রী। সঞ্জয় এখনো তাঁর বৈধ বিবাহিত স্বামী। মামলার নিষ্পত্তি আজও হয়নি। কিন্তু ঘটনার জাল ছড়িয়েছে বিস্তর। নরেন্দ্র মোদি যে বছর ভোটে জিতে প্রধানমন্ত্রী হলেন, সেই ২০১৪ সালেই একদিন আচমকা পুত্র অনন্ত বিক্রম, পুত্রবধূ সম্ভাবীর সঙ্গে দুই কন্যাকে নিয়ে গরিমা রাজপ্রাসাদের একটা অংশে এসে উঠলেন। রানিমাকে তাঁর ন্যায্য পাওনা পাইয়ে দিতে সেদিন হাজির ছিলেন আমেথির কয়েক হাজার প্রজা। জনতা সেদিনই ঘোষণা করে, বড় রানিমা গরিমাই আমেথির প্রকৃত রানি। তাঁর ন্যায়বিচারের সঙ্গী তাঁরাও। অনেক চেষ্টা করেও সঞ্জয় সিং গরিমাকে প্রাসাদ থেকে সরাতে পারলেন না। একই প্রাসাদের দুই কোনায় দুই রানির সংসার। অন্য একটা ঘটনাও ঘটে গেল। আমেথির পরমহংস অাশ্রমের পূজনীয় স্বামী দিনেশানন্দজি মহারাজ গরিমার পাশে এসে দাঁড়ালেন। রাজ্যবাসীকে জানালেন, গরিমার সংগ্রামে তাঁর আশীর্বাদ রয়েছে। তিনি রয়েছেন গরিমার পক্ষে। রাহুলকে ভোটে হারাতে স্মৃতি ইরানি তখন আমেথি চষে বেড়াচ্ছেন। বিজেপি নেতাদের বোধোদয় তখনই। গরিমার মধ্যে তাঁরা এক ‘ফাইটার’-এর সন্ধান পেয়ে যান। গরিমার রাজনীতিকরণের সেই শুরু। বিজেপি ঠিক করে নেয়, আমেথি বিধানসভায় গরিমাই হবেন তাদের তুরুপের তাস। গরিমার মধ্যে অনেক ‘কিন্তু কিন্তু’ ছিল। ডামি প্রার্থী হিসেবে বিজেপি সে জন্য দাঁড় করিয়ে দেয় রাজপুত্র অনন্ত বিক্রমকে, যাতে মা রাজি না হলে ছেলেকে সমর্থন দিতে পারে। শেষ বেলায় গরিমা রাজি হন, অথচ অনন্ত বিক্রমও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করলেন না। খাতা-কলমে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী। কাহিনিটা তা হলে দাঁড়াচ্ছে এ রকম, ছোট রানি কংগ্রেসের অমিতা সিংয়ের বিরুদ্ধে বিজেপির প্রার্থী বড় রানি গরিমা। স্বতন্ত্র প্রার্থী বড় রানির একমাত্র পুত্র অনন্ত বিক্রম। দুই প্রার্থীর স্বামী এক ও অদ্বিতীয় রাজা সঞ্জয় সিং, যিনি আসাম থেকে রাজ্যসভায় নির্বাচিত কংগ্রেস সদস্য হিসেবে এবং বেশ কিছু বছর যিনি বিজেপির ঘরও করেছেন। এই মূল কাহিনির পাশে একটা পার্শ্ব প্লটও আছে। সেটা যাঁকে কেন্দ্র করে, তিনি আমেথির বর্তমান বিধায়ক গায়ত্রী প্রসাদ প্রজাপতি। গত ভোটে কংগ্রেসের অমিতা সিংকে হারিয়ে তিনি মুলায়ম মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছিলেন। পরে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির ভূরি ভূরি অভিযোগের পাশাপাশি এসে যায় ধর্ষণের এক মারাত্মক অভিযোগও।
জোটে কংগ্রেসকে আসনটি ছাড়া হলেও মুলায়ম সিং ঘনিষ্ঠ গায়ত্রী প্রসাদ আমেথিতে সমাজবাদী পার্টির প্রার্থী। গায়ত্রী প্রসাদ নাছোড়বান্দা। ভোটের লড়াই তিনি লড়বেনই। অখিলেশ কিংকর্তব্যবিমূঢ়। এই পরিস্থিতিতে অখিলেশের হাত শক্ত করে দেন খোদ সুপ্রিম কোর্ট। সর্বোচ্চ অাদালতের নির্দেশ, অবিলম্বে গায়ত্রী প্রসাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা শুরু করতে হবে। সোমবারের ছবিটা একটু বলি। অখিলেশ প্রচারে এসেছেন আমেথিতে। সমাজবাদী-কংগ্রেসের যৌথ মঞ্চ। জনসভায় আসার আগেই তাঁর নির্দেশে মঞ্চ থেকে নেমে যেতে হলো গায়ত্রী প্রসাদ প্রজাপতিকে। অখিলেশ একটিবারের জন্যও গায়ত্রী প্রসাদকে ভোট দিতে বললেন না। মঞ্চের নিচে কাঁদতেই থাকলেন সমাজবাদী পার্টির আমেথির সরকারি প্রার্থী! আমেথি লোকসভা কেন্দ্রের পাঁচটি আসনই এবার কংগ্রেস-সমাজবাদী জোট ছেঁকে নেবে কি না, সেই আগ্রহ ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠছে দুই রানির লড়াই। বড় রানি মাথায় ঘোমটা টেনে দুই হাতে আঁচল ছড়িয়ে প্রজাদের ভোটভিক্ষা করছেন, ‘আমার সম্মানটুকু শুধু ফেরত দিন। আমার ন্যায্য লড়াইয়ে সঙ্গ দিন।’ একই কথা গরিমার দুই কন্যার মুখেও। ‘২৪ বছর ধরে বাবাকে বাবা ডাকতে পারি না। অথচ শৈশব-কৈশোরে বাবাই ছিলেন আমাদের ধ্যান-জ্ঞান!’ বসে নেই অমিতা সিংও। এই আমেথি থেকে ২০০২ সালে বিজেপির হয়ে ও ২০০৭ সালে কংগ্রেসের টিকিটে জিতেছিলেন। ২০১২ সালে গায়ত্রী প্রসাদ প্রজাপতির কাছে হার। এবার ফের জিততে চান। তিনি প্রচার করছেন, ‘বিজেপির চক্রান্তে রাজপরিবারের সম্মান আজ ধুলোয় মিশেছে। আমেথির মানুষ এর জবাব দিক।’ কী জবাব দেবেন ‘প্রজারা’? রাজপ্রাসাদের ঠিক বাইরে সারি সারি ঘোড়ানিমের তলায় প্রজাদের জটলা। সুরেন্দ্রনাথ উপাধ্যায়, হাবিব ঠিকাদার, ঘনশ্যাম তিওয়ারি, পালানিরাম, মনোজ শর্মা, পালঙ্ক গুপ্তা, গোপীনাথ সিংরা বিভ্রান্ত। কী করবেন তাঁরা? বড় রানিমার কান্না ঘোচাতে পদ্মফুলে ছাপ দেবেন, নাকি বংশানুক্রমে রাজ অনুগ্রহ পেয়ে আসার দরুন মহারাজ সঞ্জয় সিংয়ের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিয়ে হাতে মোহর লাগাবেন? সঞ্জয় লীলা বনসালিকে চুপি চুপি বলি, দীর্ঘ আলোচনা শেষে আমেথির প্রজারা একমত হয়ে বললেন, ‘আমাদের কাছে এ এক গভীর ধর্মসংকট’।

ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয়ে বাংলা চান মমতা

ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলক করা উচিত বলে মত দিয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত মঙ্গলবার দক্ষিণ কলকাতার দেশপ্রিয় পার্কে আয়োজিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এ মত দেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা বাংলায় কথা বলতে ভুলে গেছি। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে আজই আমার কথা হয়েছে। ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে প্রথম ভাষা ইংরেজি থাকুক। কিন্তু সেখানে বাংলাও পড়ানো হোক। বাঙালির সন্তানকে বাংলা ভাষা তো শিখতে হবে।
হিন্দি, নেপালি বা অন্য কোনো ভাষাভাষী পড়ুয়ার ক্ষেত্রেও এই নীতি হওয়া উচিত।’ বাংলা ভাষা আন্দোলনের এই মহান দিনটিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছে কলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মানুষ। এ দিনটিতে কলকাতার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন আয়োজন করে নানা অনুষ্ঠান। এদিকে পশ্চিমবঙ্গ-ভারত সীমান্তের বেনাপোল-বনগাঁ সীমান্তে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসটি পালিত হয় মহাসমারোহে।

উ. কোরিয়ার কূটনীতিককে জিজ্ঞাসা করতে চায় মালয়েশিয়া

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সৎভাই কিম জং-নামের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশটির এক কূটনীতিককে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় মালয়েশিয়ার পুলিশ। হন কাওয়াঙ সঙ নামের ওই কূটনীতিবিদ কুয়ালালামপুরে থাকা উত্তর কোরীয় দূতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারি হিসেবে কর্মরত। ওই কূটনীতিবিদের পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ার বিমান সংস্থার এক কর্মীকেও খোঁজা হচ্ছে। ওই দুজনই বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। গতকাল বুধবার সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ-প্রধান খালিদ আবু বকর বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার দূতাবাসকে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। যদি তারা সহায়তা না করে, তবে আমাদের কাছে আসার জন্য তাদের বাধ্য করা হবে।’ পুলিশ জানিয়েছে, জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার হওয়া দুই নারী জানতেন যে তাঁরা বিষপ্রয়োগে অংশ নিচ্ছেন। পুলিশ-প্রধান বলেন, তাঁদের আশঙ্কা, উত্তর কোরিয়ার পাঁচজন নাগরিক ‘ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত’ ছিলেন ওই ঘটনায়। এর মধ্যে ওই কূটনীতিকও ছিলেন। বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুই নারীর মধ্যে একজন একটি কাপড় কিম জং-নামের মুখে লাগিয়ে দিচ্ছেন। এর পরপরই তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরে পড়েন। গতকালের সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিক পুলিশ-প্রধানের কাছে জানতে চান, ওই দুই নারী যখন কিম জং-নামের কাছাকাছি এসেছিলেন, তখন কি তাঁদের হাতে বিষাক্ত পদার্থ ছিল?
জবাবে খালিদ আবু বকর বলেন, হ্যাঁ, অবশ্যই তাঁরা জানতেন। তিনি বলেন, ‘আপনি নিশ্চয়ই ভিডিওটি দেখেছেন। একজন নারী তাঁর হাত যেন শরীরে না লাগে, এমনভাবে দূরে রেখে প্রসাধনকক্ষে যান। হাঁটার সময় তিনি খুব সচেতন ছিলেন। কারণ, তিনি জানতেন এটি বিষ এবং তাঁর হাত ধুতে হবে।’ কুয়ালালামপুরের বিমানবন্দরে ১৩ ফেব্রুয়ারি জং-নাম নিহত হন। এ ঘটনার পর বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার পাসপোর্টধারী দুই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম বলছে, উত্তর কোরিয়ার দুই নারী গুপ্তচর বিষপ্রয়োগে জং-নামকে হত্যা করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার টিভি চ্যানেল চোসান দাবি করেছে, দুজন নারী কিমকে সুচ দিয়ে বিষ প্রয়োগ করে ট্যাক্সিতে করে পালিয়ে যান। চ্যানেলটির প্রতিবেদনে ওই দুই নারীকে উত্তর কোরিয়ার গোয়েন্দা বলে দাবি করা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন সরকারি সূত্রও এ দাবিকে সমর্থন করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি সরকারি সূত্র বলেছে, তারা মনে করে উত্তর কোরিয়ার গোয়েন্দারাই এ ‘হত্যাকাণ্ড’ ঘটিয়েছে। উত্তর কোরিয়ার অনুরোধ সত্ত্বেও মালয়েশিয়া জং-নামের লাশ ফেরত দেয়নি। তারা বলছে, নিহত ব্যক্তির পরিবারের কেউ ডিএনএ নমুনা দিয়ে শনাক্ত করার পরই লাশ নিতে পারবেন। মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।

বাংলাদেশি শান্তিসেনার চোখে কম্বোডিয়া

বাংলাদেশের মতো কম্বোডিয়াও একসময় বিদেশি শাসনে পীড়িত ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে দেশটি জাপান দখল করে নেয়। তার আগে ও পরে দীর্ঘদিন ফরাসিরা কম্বোডিয়া শাসন করে। ১৯৫৩ সালে নরোদম সিহানুকের নেতৃত্বে স্বাধীনতা লাভ করলেও নব্বইয়ের দশকের আগ পর্যন্ত দেশটি বারবার গৃহযুদ্ধ ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের শিকার হয়; বিশেষ করে ১৯৭৫ সালে লননল সরকারকে হটিয়ে পলপটের নেতৃত্বে কট্টরপন্থীরা ক্ষমতা দখল করলে জনগণের ওপর ভয়াবহ আজাব নেমে আসে। সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে তারা সাধারণ মানুষের ওপর যে অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছে, ইতিহাসে তার নজির কম। ১৯৭৯ সালে পলপট সরকার ক্ষমতাচ্যুত হলেও কম্বোডিয়ায় ক্ষমতার লড়াই চলতে থাকে।
এর সঙ্গে বিভিন্ন সশস্ত্র গ্রুপের পাশাপাশি প্রতিবেশী ও ক্ষমতাধর রাষ্ট্রও জড়িয়ে পড়ে। জাতিসংঘের উদ্যোগে দীর্ঘ আলোচনার পর গৃহযুদ্ধে লিপ্ত পক্ষগুলো রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতায় উপনীত হয়, যা প্যারিস শান্তিচুক্তি নামে অভিহিত। পরে সেই চুক্তি কার্যকর করতে গঠন করা হয় কম্বোডিয়ায় জাতিসংঘ অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষ বা (ইউএনটিএসি) আনটাক। কম্বোডিয়ায় আনটাকের একজন পর্যবেক্ষক ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সেই সময়ের তরুণ কর্মকর্তা মো. বায়েজিদ সরোয়ার (বর্তমানে তিনি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে আসীন)। এর আগে গঠিত ইউনাইটেড নেশন অ্যাডভান্স মিশন ইন কম্বোডিয়া (ইউএনএএমআইসি) নামে যে অগ্রবর্তী মিশন গঠন করা হয়েছিল, তার নেতৃত্বে ছিলেন বাংলাদেশি কূটনীতিক এ এইচ এস আতাউল করিম। এটি নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য গর্বের। ইতিহাস ও নিসর্গপ্রেমী বায়েজিদ সরোয়ার তাঁর কম্বোডিয়া: শান্তিসেনার জার্নাল শুরু করেছেন ১৯৯২ সালের ২৪ এপ্রিল থেকে, শেষ হয়েছে ১৯৯৩ সালের ৩০ মার্চ। এ সময়ে প্রায় প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা, অনুভূতি ও পর্যবেক্ষণ ডায়েরিতে লিখে রাখতেন।
তাঁর দায়িত্ব চুক্তি সইকারী পক্ষগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণপূর্বক প্রতিবেদন তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করা। শান্তিসেনার সদস্য হলেও তাঁর কাজটি ছিল অনেকটা বেসামরিক। ফলে স্থানীয় সব শ্রেণি ও পেশার মানুষের সঙ্গে মেশার সুযোগ পেয়েছেন। বায়েজিদ বিবদমান পক্ষগুলোর সঙ্গে কথা বলে যেমন তাদের মনোভাব জানতে চেষ্টা করেছেন। সেটি ছিল তাঁর পেশাগত দায়িত্ব। কিন্তু এর বাইরে তিনি যে সাধারণ মানুষের ভাষা, সংস্কৃতি ও মন বোঝার চেষ্টা করেছেন তার সরল অথচ সরস বর্ণনা আছে প্রতিটি পাতায়। অধ্যায়গুলো তিনি এমনভাবে বিন্যস্ত করেছেন, যাতে পাঠক সহজেই দেশটির ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড় সখ্য অনুভব করেন। আমরা তাঁর লেখা থেকে জানতে পারি, ভারতের প্রাচীন ইতিহাস-সংস্কৃতির সঙ্গে কম্বোডিয়ার ইতিহাস-সংস্কৃতির অনেক মিল আছে। বারবার তাঁকে টেনে নিয়েছে কম্বোডিয়ার প্রাচীনকালের স্থাপত্যসমূহের সৌন্দর্য, যার সঙ্গে ভারতীয় স্থাপত্যকলার আশ্চর্য মিল রয়েছে। অ্যাংকর সভ্যতার কথা বলতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘এই সভ্যতার মূলে যেমন ছিল পাথর, তেমনি ছিল জল। তাদের চমৎকার জল ব্যবস্থাপনার জন্য প্রচুর শস্য উৎপাদন সম্ভব হয়েছিল।...অন্যদিকে ধর্ম-দর্শন ও রাজনৈতিক বিশ্বাসের ক্ষেত্রে ভারতীয় প্রভাব এই ভূভাগের সাংস্কৃতিক কাঠামো প্রদান করেছিল।...অ্যাংকর ওয়াট মনুমেন্ট কেবল কম্বোডিয়ার নয়, সারা পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থাপত্য। প্রতিবছর লাখ লাখ বিদেশি পর্যটক আসেন এই মন্দির দেখতে। বায়েজিদ কম্বোডিয়ার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে নিজেই প্রশ্ন রেখেছেন, ‘এমন শান্তিপ্রিয় জাতি কেন যুদ্ধে লিপ্ত হলো, খেমাররুজেরাই বা কেন বিপ্লবের নামে ধ্বংসযজ্ঞ চালাল?’ জবাবে সাবেক সরকারি কর্মকর্তা সো নিম তাঁকে বলেছেন, ‘ভিয়েতনাম ও লাওসে যখন যুদ্ধ চলেছে, কম্বোডিয়া তখন শান্ত। তবে কিছুটা ভাঙনের শব্দ পাচ্ছিলাম। সিহানুক যদি তাঁর স্বেচ্ছাচারিতা ও একনায়কসুলভ নীতি বাদ দিয়ে গণতান্ত্রিক শাসন চালু করতেন, তাহলে এই গৃহযুদ্ধ ও অমানবিক খেমাররুজ বিপ্লব এড়ানো যেত।’ সো নিমই তাঁকে জানান, ১৯৭০ সালে এক পাকিস্তানি নারী চিত্রশিল্পী তাঁর ফরাসি বন্ধুকে নিয়ে এসেছিলেন সয়ামরিপ ও অ্যাংকর ওয়াট মন্দির পরিদর্শন করতে। তিনি তাঁদের সহায়তা করেছিলেন। নানা তথ্য-উপাত্ত ঘেঁটে বায়েজিদ নিশ্চিত হয়েছেন, ওই নারী চিত্রশিল্পীই ছিলেন নভেরা আহমেদ। তিনি থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে ভিয়েতনামের যুদ্ধবিধ্বস্ত বিমানের টুকরো টুকরো অংশ নিয়ে একটি প্রদর্শনীও করেছিলেন। কম্বোডিয়ার অধিকাংশ মানুষ জাতিতে খেমার। তাদের অধিকাংশ মানুষের এক ধর্ম, এক ভাষা, একই সংস্কৃতি। তারপরও তারা বছরের পর বছর যুদ্ধে জড়িয়েছে। বাংলাদেশেও অধিকাংশ মানুষের ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতি অভিন্ন। আমরাও বিবাদ ও বিভেদের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারিনি। বায়েজিদ অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি কম্বোডিয়ার শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী ও বেসামরিক কর্মীদের উজ্জ্বল ভূমিকার কথা বলেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আনটাক শুধু শান্তিরক্ষা নয়, কম্বোডিয়ার পুনর্নির্মাণের জন্যও ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত। গৃহযুদ্ধে ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো উন্নয়ন ও পুনর্নির্মাণের এই বিশাল কাজ চলছে; বিধ্বস্ত এয়ারফিল্ড, এয়ার স্ট্রিপ, সড়ক-আবাসন, সেতু মেরামত, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও পুনর্বাসন। মেজর শহিদুল্লাহ বর্তমানে ফিল্ড সাপোর্ট গ্রুপে কাজ করছেন।’ বাংলাদেশের শান্তি মিশনে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা ও লেখক উম্মে মুসলিমাসহ অনেকে ছিলেন। বায়েজিদের মতে, ‘কমিউনিস্ট পার্টি অব কম্পুচিয়ার নেতৃত্বে বিপ্লবের দাবানল সমগ্র কম্বোডিয়াকে জ্বালিয়েছিল (এপ্রিল ১৯৭৫, জানুয়ারি ১৯৭৯), তা ছিল বিপ্লবের ইতিহাসে নৃশংসতম ও প্রাণঘাতী।
মনে করা হয়, খেমাররুজ শাসনামলে ১০ লাখ লোক যুদ্ধ, অনাহার, অতিরিক্ত খাটুনি, বিনা চিকিৎসা ও হত্যার শিকার হয়েছে।’ পলপট সরকার বিপ্লবের নামে জোর করে শহরের মানুষকে গ্রামে পাঠিয়েছিল। এমনকি স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে থাকাও তারা বিপ্লববিরোধী কাজ বলে মনে করত। কম্বোডিয়ায় গণহত্যা নিয়ে যেসব বিদেশি সাংবাদিক লিখেছেন, তাঁদের অনেকের কথা এসেছে বায়েজিদের বইয়ে। নিউইয়র্ক টাইমস-এর সাংবাদিক সিডনি শনবার্গ তাঁর কম্বোডীয় আলোকচিত্রী ডিথ প্রানের সহযোগিতায় পলপট বাহিনীর অত্যাচার ও সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা নিয়ে নিয়মিত প্রতিবেদন পাঠাতেন। একাধিকবার তিনি পলপট বাহিনীর হাতে ধরা পড়েও বেঁচে যান ডিথ প্রানের কারণে। পরে তিনি ডিথ প্রানকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে চাকরিও দিয়েছিলেন। ডিথ প্রানের কাহিনি নিয়ে নির্মিত হয় একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র কিলিং ফিল্ড। ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এলিজাবেথ বেকার ও ফরাসি সাংবাদিক রোনাল্ড নেভুও পলপট সরকারের গণহত্যার মর্মস্পর্শী বিবরণ তুলে ধরেছেন। উল্লেখ্য, সিডনি একাত্তরে বাংলাদেশে পাকিস্তানিদের গণহত্যা নিয়েও নিউইয়র্ক টাইমস–এ ধারাবাহিক প্রতিবেদন করেছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের জনপ্রিয় সাপ্তাহিক বিচিত্রা ক্ষমতাচ্যুত খেমার গেরিলাদের ‘বীরত্বকাহিনি’ ছেপেছে ‘হটাও ভিয়েতনাম’ শিরোনামে। কিন্তু ভিয়েতনাম কম্বোডিয়া দখল করেনি, স্বৈরাচারী পলপট সরকার উৎখাতে সহায়তা করেছিল মাত্র। কম্বোডিয়ার জাতিসংঘ মিশন ১৯৯৪ সালের মে পর্যন্ত পরিচালিত হয়েছিল। ব্যাপক আশঙ্কা, হুমকি ও চ্যালেঞ্জের মুখে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে ১৯৯৩ সালের মে মাসে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়। বায়েজিদের শেষ মন্তব্য, ‘একজন শান্তিরক্ষী হিসেবে গভীর সন্তুষ্টির বিষয় হলো ধীরগতিতে হলেও কম্বোডিয়া গৃহযুদ্ধ থেকে বেরিয়ে এসে মোটামুটি স্থিতিশীল একটি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। সেখানে এখন গণতন্ত্রের চর্চা হচ্ছে। দেশটি অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির পথে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। কম্বোডিয়া এখন সরকারি বিদেশি বিনিয়োগের আকর্ষণীয় লক্ষ্যস্থল।’ বাংলাদেশের অনেক উদ্যোক্তাও সেখানে বিনিয়োগ করেছেন। গণহত্যার দায়ে সেখানে পলপটের কয়েকজন সহযোগীর বিচার হয়েছে। বাংলাদেশেও একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের দায়ে কয়েকজন যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। পার্থক্য হলো, কম্বোডিয়ার বিচারটি হয়েছে জাতিসংঘের সহায়তায়, বাংলাদেশ কারও সহায়তা ছাড়াই বিচার করছে। বায়েজিদ বইয়ের শেষে একটি ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন, যা আমাদের সবার চোখ খুলে দিতে পারে।
নরওয়ের অধ্যাপক ডুয়ার হেইজ, যিনি কম্বোডিয়ার যুদ্ধের কারণ অনুসন্ধানে সেখানে গিয়েছিলেন। ডুয়ার হেইজ সাংবাদিক রবার্ট ফিস্কের বন্ধু। তাঁরা দুজন যখন বিমানে দামেস্ক থেকে দক্ষিণ সুদানের জুবা যাচ্ছিলেন, তখন ফিস্ক তাঁকে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার একটি মানচিত্র দেখিয়ে বলেছিলেন, ‘গোটা অঞ্চলে ভয়ংকর আগুনে জ্বলছে। আরব দুনিয়ার একেকটি দেশ কবরস্থানে পরিণত হচ্ছে। এসব দেশ থেকে হাজারো শরণার্থী ছোটে ইউরোপের দিকে।’ এরপর ডুয়ার হেইজ ফিস্কের কথা টেনে যা বলেছেন, তার সারমর্ম হলো এসব দেশের কুশীলবেরা যেমন এই গৃহযুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছেন না, তেমনি ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোও একে অপরের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে দেদার ফায়দা লুটছে। প্রায় আট শ পৃষ্ঠার বৃহৎ আকারের বইয়ে কম্বোডিয়ার ইতিহাস-ঐতিহ্যের পাশাপাশি দেশটির হালনাগাদ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতি জানতে সাহায্য করবে। জার্নাল আকারে হলেও বায়েজিদের লেখায় আছে গভীর অনুসন্ধিৎসা ও প্রচুর তথ্য–উপাত্ত। দেশে দেশে শান্তি প্রয়াস নিয়ে যাঁরা জানতে আগ্রহী, তাঁদের জন্য বইটি অবশ্যপাঠ্য বলে মনে করি।
কম্বোডিয়া: শান্তিসেনার জার্নাল। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. বায়েজিদ সরোয়ার। প্রকৃতি, ১ এম্পোরিয়াম, কাঁটাবন, ঢাকা, ১২১৫ প্রচ্ছদ: দেওয়ান আতিকুর রহমান, দাম: ৮৫০ টাকা।
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrabhassan55@gmail.com

ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন

নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স ও জার্মানিতে যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে, তর্কযোগ্যভাবে বলা যায়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন গঠনের পর সবচেয়ে উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তা অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তরকালে যে উদার গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে উঠেছিল, সেটা এখন সব জায়গায় হুমকির মুখে রয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপের ক্ষেত্রে এ কথা প্রযোজ্য, যেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নানা চ্যালেঞ্জের মুখে আছে, যার মধ্যে আছে ক্রমশ আগ্রাসী অবস্থানে যাওয়া রাশিয়া, সন্ত্রাসবাদের সার্বক্ষণিক হুমকি, গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ ও অসম অর্থনৈতিক বিকাশ। যুক্তরাজ্যের ব্রেক্সিট গণভোট আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচিত হওয়ার পর ইউরোপ এক সাদাসিধা প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে: লোকরঞ্জনবাদী ও জাতীয়তাবাদীরা কি ইউরোপীয় ইউনিয়নের মূল দেশগুলোতেও একই প্রভাব বিস্তার করতে পারবে? নেদারল্যান্ডসে দেখা যাচ্ছে, গার্ট ওয়াইল্ডার্সের অতি ডানপন্থী ফ্রিডম পার্টি আগামী মাসের নির্বাচনের আগে জরিপে ভালো করছে।
ট্রাম্প যে সাতটি দেশের মুসলমানদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছেন, ওয়াইল্ডার্স তা অনুমোদন করেছেন। ট্রাম্পের প্রধান কৌশলবিদ স্টিফেন ব্যাননের মতো ওয়াইল্ডার্স পৃথিবীকে বর্ণবাদী কাচের ভেতর দিয়ে দেখে থাকেন। তিনি বিশ্বাস করেন, পশ্চিমা বিশ্বকে ইসলামের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য তিনি এক যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন। তবে নেদারল্যান্ডসের আর কোনো সংসদীয় দল তেমন মত পোষণ করে না, ফলে ওয়াইল্ডার্সের দলই যে ক্ষমতায় আসবে, তার নিশ্চয়তা তেমন একটা নেই। ডাচ প্রধানমন্ত্রী মার্ক রাট এখনো নিজের জায়গা ধরে রেখেছেন, ফলে শেষমেশ ক্ষমতা হয়তো তাঁর হাতে আসবে না। ওদিকে ফ্রান্সের নির্বাচন-পূর্ব জরিপে অতি ডানপন্থী ন্যাশনাল ফ্রন্টের নেতা মেরিন লা পেন এগিয়ে আছেন। নির্বাচন হবে এপ্রিল ও মে মাস, অর্থাৎ দুই পর্বে। ইউরোজোনে ফ্রান্স থাকবে কি থাকবে না, তা নিয়ে লা পেন গণভোট করার অঙ্গীকার করেছেন। যদিও ব্যাংক অব ফ্রান্স সতর্ক করে দিয়েছে, এই ইউনিয়ন ছেড়ে গেলে ফ্রান্সের জাতীয় ঋণ বার্ষিক ৩২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার হারে বেড়ে যাবে। লা পেন এমন আকাঙ্ক্ষাও পোষণ করেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের মৌলিক উপাদান, যেমন ইউরোপীয় নাগরিকদের অবাধ চলাচল বন্ধ করে দিতে চান। যুক্তরাজ্যের ব্রেক্সিট ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দেখা গেছে, বড় বড় শহরের ভোটাররা যথাক্রমে ইউনিয়নে থেকে যাওয়া ও হিলারি ক্লিনটনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। ফ্রান্সের নির্বাচনেও আমরা হয়তো সে রকম একটা ধরন দেখব। কিন্তু যেখানে বয়স্ক ভোটাররা ব্রিটিশ ও মার্কিন জাতীয়তাবাদ উসকে দিয়েছেন, সেখানে লা পেনের বেশির ভাগ সমর্থকই তরুণ।
কথা হচ্ছে, লা পেন যদি ফ্রান্সে জিতে যান, তাহলে ইউরোপ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে। ইউরোপের অতীতকালের বিপজ্জনক জাতীয়তাবাদী দানবেরা যখন বোতল ভেঙে বেরিয়ে আসবে, আমরা জানি তখন ইউরোপ সহজেই ভেঙে যেতে পারে। কিন্তু যাঁরা উদার গণতন্ত্র ও আইনের শাসনে বিশ্বাস করেন, তাঁদের কাছে ইউরোপীয় একতা ধরে রাখার বিকল্প প্রার্থী আছেন, যিনি অতিপ্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন করবেন এবং ইউরোপে ফ্রান্সের সক্রিয় ভূমিকা ধরে রাখবেন। জার্মানির নির্বাচন হবে বছরের শেষ নাগাদ। তবে সেই নির্বাচনে অতি ডানপন্থী দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানি চ্যান্সেলর পদের জন্য প্রতিযোগিতায় আসতে পারবে বলে মনে হয় না, যদিও তারা রাশিয়ার কাছ থেকে সমর্থন পাচ্ছে। কিন্তু ম্যার্কেল পুনর্নির্বাচিত হোন বা সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট দলের মারটিন শুলজ নির্বাচিত হোন না কেন, তাঁকে সেই দেশগুলোর জোটের নেতৃত্ব দিতে হবে, যারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তরকালের ব্যবস্থার যে কিয়দংশ টিকে আছে, তা টিকিয়ে রাখতে চায়। এই প্রচেষ্টায় কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও এশিয়ার পশ্চিমা মিত্ররাও থাকতে পারে, কিন্তু এই জোটের প্রথম কাজ হবে ইউরোপের ঘর ঠিক করা। সম্প্রতি ইউরোপীয়রা মাসট্রিখট চুক্তির ২৫তম বার্ষিকী উদ্‌যাপন করেছে, যেটা ছিল ইউরোপের একতাবদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। মধ্যবর্তী বছরগুলোতে আমরা শিখেছি, ইউরোপের সামনে আজ যেসব চ্যালেঞ্জ আছে, তা মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের শক্তি যথেষ্ট নয়। এই পরিস্থিতি শোধরাতে জার্মানির আরও আত্মবিশ্বাসী ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী ইউরোপ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া উচিত; যে ইউরোপ অভ্যন্তরীণ বিভাজন কাটিয়ে নিজের নিরাপত্তা ও অভিবাসনব্যবস্থা টেকসইভাবে ব্যবস্থাপনা করতে পারে। জাতীয়তাবাদ ও লোকরঞ্জনবাদ ঠেকানোর জন্য যদি পাল্টা শক্তি দাঁড়ায়, তাহলে এটা খুব দূরবর্তী ব্যাপার হবে না। অন্যদিকে ইউকে ইনডিপেনডেন্স পার্টির সাবেক নেতা নাইজেল ফারাজ, ওয়াইল্ডার্স, লা পেন ও তাঁদের সমকক্ষরা ক্ষমতাকাঠামোর বিরুদ্ধে এমন সাহসী অবস্থান নিতে থাকলে এই আত্মগর্ব গ্রহণযোগ্যতা হারাতে থাকবে, মূলত তাঁদের নিজেদের সফলতার জন্য।
আর ইউকে ইনডিপেনডেন্স পার্টির ক্ষেত্রে তা হবে আর্থিক কেলেঙ্কারির জন্য। তবে অতি ডানপন্থীরা ইউরোপের বড় কয়েকটি দেশে ক্ষমতায় এলেও তারা শিগগিরই আবিষ্কার করবে, প্রতিশ্রুতি দেওয়ার চেয়ে রক্ষা করা কঠিন। ট্রাম্প যেমন এখন টের পাচ্ছেন। ট্রাম্প, ব্রেক্সিটবাদী তাঁদের সমকক্ষদের এখনো এটা প্রমাণ করতে হবে যে তাঁরা সিংহভাগ মানুষের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করতে পারেন। বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে তাঁরা যোগ্যতা ও সফলতার সঙ্গে শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করতে পারবেন, সেই প্রমাণও তাঁদের দিতে হবে। এটা পরিষ্কার হয়ে যাওয়া উচিত, আজকের বিশ্বায়িত পৃথিবীতে যেখানে একক জাতিরাষ্ট্রগুলো নখ–দন্তহীন হয়ে যাচ্ছে, সেখানে এই লোকরঞ্জনবাদী জাতীয়তাবাদীরা মানুষের কাঙ্ক্ষিত দাবি পূরণ করতে পারবে। সৌভাগ্যবশত, উদার গণতন্ত্র এখনো প্রগতিশীল বিকল্পের সন্ধান দেয়। ফলে জার্মানিতে ম্যার্কেল বা শুলজের বিদায় বা ফ্রান্সে লা পেনের পরাজয় হলে বৈশ্বিক পর্যায়ে এক পাল্টা আঘাতের সূচনা হতে পারে। অন্যদিকে নতুন ঘরানার এক ইউরোপবাদী মধ্যপন্থী আন্দোলন ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায় গড়ে উঠেছে। এই দলগুলো মিথ্যার বেসাতি করে না। তারা রুশ স্টাইলে প্রচারণার ওপরও নির্ভর করে না। হ্যাঁ, কয়েক জায়গায় লোকরঞ্জনবাদীরা ক্ষমতায় এসেছে। উদারপন্থীদের কাজ হচ্ছে এদের জবাবদিহি চাওয়া এবং বিকল্প পেশ করা। যাঁরা ট্রাম্প ও ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে লড়াই করাটা কাজের কথা নয়। পৃথিবীর এই নতুন বক্তৃতাবাগীশদের কাজ দিয়ে মূল্যায়ন করতে হবে। সত্য, যুক্তি ও গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা দিয়ে তাঁদের পরাজিত করতে হবে।
অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন, স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট।
গাই ভারহোফস্টাড: বেলজিয়ামের সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

কাদের খানের বাড়ির আঙিনার মাটি খুঁড়ে পিস্তল উদ্ধার

সাংসদ মনজুরুল ইসলাম লিটন হত্যায় সন্দেহভাজন মূল পরিকল্পনাকারী আবদুল কাদের খানের গাইবান্ধার গ্রামের বাড়ি থেকে পিস্তল ও ছয়টি গুলিসহ ম্যাগাজিন উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের সন্দেহ, ওই পিস্তলটিই মনজুরুল হত্যায় ব্যবহার করা হয়েছিল। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত একটার দিকে সুন্দরগঞ্জের ছাপারহাটিতে জাতীয় পার্টির (জাপা) কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক সাংসদ আবদুল কাদের খানের গ্রামের বাড়ির আঙিনার মাটি খুঁড়ে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার সকালে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিয়ার রহমান এ তথ্য জানান। পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক গতকাল চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বলেন, সাংসদ মনজুরুল হত্যার ‘পরিকল্পনাকারী’ আবদুল কাদের খান। তাঁর ইচ্ছা ছিল, মনজুরুলকে সরিয়ে পথ পরিষ্কার করে পরবর্তী সময়ে সাংসদ হবেন। মঙ্গলবার বগুড়া শহরের রহমান নগরের বাড়ি থেকে কাদের খানকে গ্রেপ্তারের পর গতকাল গাইবান্ধার আদালতে তাঁকে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। কাদের খান ওই আসনের সাবেক সাংসদ। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

থেমে গেছে ‘সওগাত প্রেস’

১৯৩৩ সালে নাসিরউদ্দীন কলকাতায় ‘সওগাত কালার প্রিন্টিং প্রেস’ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৪৭ সালে এই প্রেস থেকেই সুফিয়া কামালের সম্পাদনায় মহিলাদের প্রথম বাংলা সাপ্তাহিক বেগম ছাপা হয়। পরে মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের মেয়ে নূরজাহান বেগম এর সম্পাদনার দায়িত্ব পান মুশফেকা ইসলাম বুকসমান উঁচু তাকের খোঁপে খোঁপে রাখা সিসার টাইপে কয়েক বছরের ধুলা। মূল প্রেস ঘরের মেঝেতেও ধুলার স্তর। হেলে পড়েছে এক পাশের দেয়াল। টিনের ছাদও ভাঙাচোরা। ছাপা, বাঁধাই আর কাটিংয়ের যন্ত্রগুলো অলস পড়ে আছে। সাহিত্য পত্রিকা সওগাত এবং প্রথম মহিলা সাপ্তাহিক বেগম-এর ছাপাখানা ‘সওগাত প্রেস’ এখন ধুলায় মলিন, জীর্ণ।
বছরখানেক ধরে এখানে ছাপার কাজও বন্ধ আছে। ১৯১৮ সালে সাংবাদিক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের হাত ধরে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়েছিল সওগাত। প্রগতিশীল এই সাহিত্য পত্রিকার প্রধান লেখকদের মধ্যে ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, বেগম রোকেয়া, সুফিয়া কামাল, আবুল কালাম শামসুদ্দীন, আবুল মনসুর আহমদ প্রমুখ। রবীন্দ্রনাথ, অবনীন্দ্রনাথ, সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরও এতে লিখেছেন। ১৯৩৩ সালে নাসিরউদ্দীন কলকাতায় ‘সওগাত কালার প্রিন্টিং প্রেস’ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৪৭ সালে এই প্রেস থেকেই সুফিয়া কামালের সম্পাদনায় মহিলাদের প্রথম বাংলা সাপ্তাহিক বেগম ছাপা হয়। পরে মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের মেয়ে নূরজাহান বেগম এর সম্পাদনার দায়িত্ব পান। দেশভাগের পর নাসিরউদ্দীন সপরিবারে ঢাকায় স্থায়ী হন। পঞ্চাশের দশকের শুরুতে পাটুয়াটুলীতে নতুন ঠিকানায় আবার চালু হয় সওগাত প্রেস। এখান থেকেই ছাপা হতে থাকে সওগাত আর বেগম। ৬৬ নম্বর পাটুয়াটুলীর ঠিকানায় তালাবদ্ধ প্রেসের বাইরে গতকাল কথা হয় মো. হেলালের সঙ্গে। ষাটোর্ধ্ব হেলাল ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে প্রেসের দেখভালের কাজ করছেন। তালা খুলে তিনিই ঘুরিয়ে দেখান সব। ‘এইটা ছিল চায়ের ঘর। সাহেবের কাছে অনবরত লোক আসতেন। সারা দিনই চায়ের কেতলি ফুটত।’ এখন সেখানে ধুলায় ঢাকা পুরোনো হাঁড়ি-পাতিল, হিটার। তাঁর কাছেই জানা যায়, জরাজীর্ণ প্রেস ঘরটির আকার আরও বড় ছিল। পাশের জমিটি বিক্রি হয়ে গেলে প্রেস ঘর ছোট হয়ে আসে। প্রেস ঘরের পাশের ঘরটি পুরোই ধ্বংসস্তূপ।
ছাদ নেই। দরজা-জানালার কপাট ভেঙে গেছে। পুরোনো টিন, ভাঙা আসবাব আর আগাছার রাজত্ব সেখানে। জানা গেল, এটা ছিল ‘বেগম ক্লাব’। বেগমের লেখক, পাঠক, কর্মীদের কাজ আর আড্ডার জায়গা। এখন শুধু কয়েকটি দেয়াল টিকে আছে। হেলাল বলেন, ‘এই প্রেস অনেক জমজমাট ছিল। সত্তর-আশি-নব্বই জন লোক ডেইলি কাজ করত। কত মানুষ আসত। এখন কেউ খবরও নেয় না।’ সত্তরের দশকের শুরুতে সওগাত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বেগম ছিল সবটা জুড়ে। কিন্তু গত বছর নূরজাহান বেগম মারা যাওয়ার কিছুদিন পর সওগাত প্রেসের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এখন সাপ্তাহিকের বদলে মাসিক ভিত্তিতে বাইরের ছাপাখানা থেকে প্রকাশিত হচ্ছে বেগম। নূরজাহান বেগমের বড় মেয়ে ফ্লোরা নাসরিন এখন বেগম প্রকাশের দায়িত্বে আছেন। তিনি বলেন, মূলত ব্যয় সংকোচনের জন্যই সওগাত প্রেস এখন বন্ধ আছে। বেগমকে আর একটু গুছিয়ে এনে আবার আগের ঠিকানায় ফেরত যেতে চান তাঁরা। ফ্লোরা বলেন, ‘আমরা কোনো কিছু ধ্বংস হতে দিতে চাই না। সব আবার শুরু হবে।’

আইনানুযায়ী না চললে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ আবারও বলেছেন, যেসব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সফল হতে পারেনি, যারা মুনাফার লক্ষ্য নিয়ে চলতে চায়, যারা নিজস্ব ক্যাম্পাসে যায়নি, তারা আইনানুযায়ী না চললে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধসহ অন্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকাল বুধবার ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) ষষ্ঠ সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের প্রতিনিধি হিসেবে সভাপতির বক্তৃতায় শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন। সাভারের আশুলিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়টির নিজস্ব ক্যাম্পাসে এই সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবর্তনে ৩ হাজার ৪৭৩ জন ডিগ্রিধারীকে সনদ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৪ জনকে আচার্যের স্বর্ণপদক দেওয়া হয়। এ ছাড়াও আরও ১৩ জনকে কৃতিত্বপূর্ণ ফলের জন্য স্বর্ণপদক দেওয়া হয়। সমাবর্তন বক্তা ছিলেন ভারতের ভিআইটি ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও চ্যান্সেলর এবং এডুকেশন প্রমোশন সোসাইটি ফর ইন্ডিয়ার সভাপতি জি বিশ্বনাথন।

মায়াকানন-সবুজকানন পানিতে ময়লা-দুর্গন্ধ

এক মাসেরও বেশি সময় ধরে রাজধানীর পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা মায়াকানন, সবুজকানন, মুগদা ও আশপাশের এলাকায় ঢাকা ওয়াসার সরবরাহ করা পানিতে কিছুটা গন্ধ। কিন্তু প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বাসাবাড়িতে কল (ট্যাপ) খুললেই আসছে ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি। সবুজকানন এলাকার বাসিন্দারা বলেছেন, এই পানি পান করা দূরে থাক, ব্যবহারেরও অযোগ্য। বিশুদ্ধ পানির জন্য ওয়াসার পানির পাম্পে ভিড় করছে এলাকাবাসী। গতকাল বুধবার এলাকায় গিয়ে এ অবস্থার কথা জানা যায়। সবুজকাননের বাসিন্দা আবদুর রহমান বলেন, বাসায় ওয়াসার লাইনে আসা পানিতে গোসল পর্যন্ত করা যাচ্ছে না। তিনি মতিঝিলে একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করেন, অফিসে গিয়েই গোসল করেন। কিন্তু তাঁর স্ত্রী-কন্যাকে বাসাতেই থাকতে হচ্ছে। মুগদায় ওয়াসার পাম্প থেকে পানি আনেন বড় জারে (পানির পাত্র) করে। তা দিয়ে কোনো রকমে চলছে। কিন্তু এভাবে আর কত দিন সম্ভব? গতকাল সকালে মুগদায় ওয়াসার ১ নম্বর পানির পাম্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পানি নিতে এসেছে চারপাশের লোকালয়ের বাসিন্দারা। কমলাপুর বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকা মায়াকাননের বাসিন্দা সাইফুল হক ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, গরম পড়তে শুরু করেছে, কিন্তু পানির সমস্যার জন্য গোসল পর্যন্ত করা যাচ্ছে না। ওই পানিতে গোসল করে তাঁদের একান্নবর্তী পরিবারে ছোটদের গায়ে চুলকানি হয়েছে। কল খুললেই ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি আসছে। সবুজকানন এলাকায় বসবাস করেন মরিয়ম বেগম। তিনি কাজের বুয়াকে নিয়ে এসেছেন। পানির পাত্র নিয়ে পাম্পের কলপাড়ে বুয়া।
দূরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে করতে বিরক্ত মরিয়ম বেগম বলেন, গত বছরও এই সময়ে এলাকার পানির এমন অবস্থা হয়েছিল। গত কয়েক দিন পানির অবস্থা দেখে মনে হতে পারে, ওয়াসা যেন ময়লা আর দুর্গন্ধ মিশিয়ে পানি সরবরাহ করছে। বাসাবো-কদমতলার পানির পাম্পেও ভিড়। সেখানে বৌদ্ধমন্দিরের কল থেকেও পানি সংগ্রহ করে মানুষ। কদমতলার পাম্পে স্থানীয় বাসিন্দারা ছাড়াও আশপাশ এলাকার ছোট-বড় সব বয়সের নারী-পুরুষ পানি সংগ্রহে ব্যস্ত। হাঁড়ি-কলস, বিভিন্ন ধরনের জারিকেনের লাইন। গভীর নলকূপ থেকে উত্তোলিত পানি পাইপের লাইনে ঢোকার আগে মোটামুটি বিশুদ্ধ থাকে। তাই ওয়াসার পাম্প থেকে পানি নিলে তুলনামূলক বিশুদ্ধ পানি পাওয়া যায় বলে বাসিন্দারা জানান। বৌদ্ধমন্দির পানির পাম্পেও প্রচুর মানুষের ভিড়। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, এলাকায় এমন কোনো পরিবার পাওয়া যাবে না, যারা ওয়াসার সরবরাহ করা পানির ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতে পারে। বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহে প্রতি পরিবারে একজন না একজনকে ছুটতেই হয়। বাসার পানি ফুটিয়ে পান করলেও লাভ নেই। এসব এলাকা ঢাকা ওয়াসার ১ নম্বর আঞ্চলিক কার্যালয়ের অধীন। যোগাযোগ করা হলে নির্বাহী প্রকৌশলী রিয়াজ উদ্দিন বলেন, অভিযুক্ত এলাকাগুলোয় সায়েদাবাদ শোনাগারের পানি সরবরাহ করা হয়। শুকনা মৌসুম বলে এই সময়ে শীতলক্ষ্যা নদীর পানি খারাপ থাকে। শোধন করতে সমস্যা হয়। স্বাভাবিকভাবেই পানিতে ওষুধের গন্ধ হতে পারে। এ ছাড়া পানিতে ময়লা হতে পারে বিশেষত পানির পাইপলাইনে ফুটোর কারণে। অবৈধ সংযোগ নেওয়ার কারণে পাইপ ফুটো হয়ে যায়। সেই পথে ময়লা পানি ঢুকে পড়ে। পানির প্রকৃত অবস্থা জানতে শিগগিরই তিনি এলাকায় লোক পাঠাবেন বলে জানান।

সদরঘাটে হয়রানির শেষ নেই

যাত্রীদের বিশ্রামাগার, পন্টুন, গ্যাংওয়ে সবখানেই ভবঘুরেদের দৌরাত্ম্য। মালামাল বহনের জন্য বেশি টাকা আদায়ের অভিযোগ। নেই পর্যাপ্ত টয়লেট। যা আছে তাতেও দুর্গন্ধ, নোংরা। সদরঘাট টার্মিনালে যাত্রীদের নানা অভিযোগ। রাজধানীতে প্রবেশের অন্যতম বড় পথ সদরঘাট। পুরান ঢাকার বাকল্যান্ড বাঁধের এই টার্মিনালে গতকাল দেখা যায়, নিজেদের ইচ্ছেমতো ভবঘুরেরা আসা-যাওয়া করছে। যাত্রীদের বিশ্রামের জন্য নির্দিষ্ট স্থানে তারা শুয়ে থাকে। আমিনা খাতুন মেঝেতে চারটি ব্যাগ নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এক ভবঘুরের মাথার কাছে জায়গা পেলেও বসেননি। তিনি বলেন, ‘আগেও একবার ব্যাগ হারাইছে। ওগো কাছে বইতে ভয় লাগে।’ পন্টুনে ঢোকার গ্যাংওয়েতে শুয়ে আছে ভবঘুরেরা। পন্টুনেও তারা ঘোরাঘুরি করছে। কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করলেন, ভিড় বা সন্ধ্যার পরে এরা ব্যাগ ধরে টান দেয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে টার্মিনালে কাজ করা এক নারী বলেন, সন্ধ্যার পর মাদকের আড্ডা বেড়ে যায়। আশপাশের এলাকা গাঁজার গন্ধে ভরে যায়। গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অনুসন্ধানকেন্দ্রটি ফাঁকা ছিল। বেলা দেড়টার সময় সেখানে একজনকে দেখা যায়। মালামাল পরিবহনের জন্য কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট ফির তালিকা টানিয়েছে। কিন্তু গতকাল এক ব্যক্তির কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়। কুলিদের সঙ্গে তিনি বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং অতিরিক্ত টাকা দিয়েই মালামাল ছাড়ান। বেশির ভাগ মানুষের অভিযোগ, কুলিদের সঙ্গে তর্ক করে কোনো লাভ হয় না। তাঁরা যা দাবি করেন, সেটাই করতে হয়। অন্যথায় তাঁরা মালামাল ধরে টানাটানি করেন। এর আগে কুলিদের সঙ্গে যাত্রীদের মারামারির ঘটনাও ঘটেছে টার্মিনালে। একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ,
টার্মিনালের কর্তাদের প্রশ্রয়ের কারণেই কুলিরা এ ধরনের আচরণ করে থাকেন। সদরঘাটে পর্যাপ্ত টয়লেট নেই। ভিআইপি গেটের কাছে পুরুষ ও নারীদের একটি করে টয়লেট আছে। মহিলাদের টয়লেটে পানির ট্যাপ ভাঙা, অনবরত পানি পড়ছে। এ ছাড়া দুটি টয়লেটই কাদা-পানিতে একাকার। পা ফেলার জায়গা নেই। মাঝের গেটেও দুটি টয়লেট আছে। সবগুলোতেই দুর্গন্ধ। খুব বিপদে না পড়লে কেউ এসব মাড়ান না। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহনের ঢাকা বন্দরের যুগ্ম সচিব মো. গুলজার আলী বলেন, বিভিন্ন সমস্যার কারণে ইজারাদার বাতিল করা হয়েছে। গত বছরের অক্টোবর থেকে কর্তৃপক্ষ নিজেরাই পরিচালনা করে। এ সময়ের মধ্যে তাঁরা কোনো অভিযোগ পাননি। তিনি আরও বলেন, ‘হান্ড্রেড পার্সেন্ট তো ঠিক করা সম্ভব না। কিছু সমস্যা হয়তো এখনো আছে। আমরা চেষ্টা করছি।’ জানালেন, নতুন টয়লেট নির্মাণ হচ্ছে। সদরঘাটে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৬৫টি লঞ্চ চলাচল করে। দিনে যাত্রী হয় ১৫ থেকে ২০ হাজার। বিভিন্ন উপলক্ষে এর সংখ্যা আরও বাড়ে। বিশেষ করে বড় ছুটির সময় টার্মিনালে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পটুয়াখালীর নাসিম মোল্লা এ পথের একজন নিয়মিত যাত্রী। তিনি বলেন, সদরঘাটে ঝামেলার শেষ নেই। মানুষের কাছে এটা একটা বিশৃঙ্খল জায়গা হিসেবেই পরিচিত। কর্তৃপক্ষ একটু নজর দিলে এটা দর্শনীয় জায়গাও হতে পারে। কিন্তু সবাই আশ্বাস দেন, কেউ সেটা করেন না।

নাবিক কলোনি মাঠে একুশে মেলা শুরু

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঢাকা নৌ অঞ্চলের আয়োজনে শুরু হয়েছে একুশে মেলা-২০১৭। গতকাল বুধবার রাজধানীর মিরপুরে নাবিক কলোনি মাঠে নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ চার দিনব্যাপী এই মেলার উদ্বোধন করেন। মেলার উদ্বোধনী পর্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন নৌবাহিনী পরিবার কল্যাণ সংঘের প্রেসিডেন্ট বেগম নাজমুন নিজাম।
মেলা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত এই মেলায় নৌবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মোট ৫৪টি স্টল স্থান পেয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে হস্তশিল্প, তৈরি পোশাক, মনিহারি ও নিত্যপণ্যের স্টলসহ বেশ কিছু খাবারের দোকান। এর সঙ্গে নাগরদোলা, চরকা ও পুতুলনাচের আয়োজন মেলাটিকে দিয়েছে লোকজ মাত্রা। এর মধ্যে নরসিংদীর বিখ্যাত পুতুলনাচের আয়োজনটি করা হয়েছে প্রথম আলোর সৌজন্যে। এই আয়োজনে প্রত্যেক দর্শনার্থী টিকিটের সঙ্গে বিনা মূল্যে পাবেন এক কপি প্রথম আলো। মেলা চলবে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য মেলাটি উন্মুক্ত থাকবে।

হলুদের দাম বাড়ায় ঘুরে দাঁড়ানোর আশা চাষিদের

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রতি মণ হলুদের দাম ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। কয়েক বছর ধরে উপজেলার হলুদচাষিরা ন্যায্য দাম পাননি। লোকসানের কারণে এ বছর হলুদ চাষও কম হয়েছে। তবে দাম বাড়ার এই প্রবণতা বজায় থাকলে ক্ষতি পুষিয়ে উঠবেন বলে মনে করছেন চাষিরা। উপজেলার প্রধান হলুদ উৎপাদনকারী এলাকা উথলী গ্রামে ১৬ ফেব্রুয়ারি গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা গ্রামে ঘুরে ঘুরে কাঁচা হলুদ কিনে চাতালে শুকাচ্ছেন। এরপর তা সরবরাহ করছেন ঢাকায়। গত বছর প্রতি মণ কাঁচা হলুদ গড়ে ৯০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। এ বছর প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকায়। উথলী গ্রামের চার-পাঁচজন হলুদচাষি জানান, পাঁচ বছর আগেও প্রতি মণ কাঁচা হলুদ বিক্রি হয়েছিল ২ হাজার ২০০ টাকায়। বাড়তি লাভের আশায় অনেক চাষি তখন হলুদ চাষে ঝুঁকেছিলেন। কিন্তু পরের বছরই হলুদের দাম কমে প্রতি মণ ৫০০ টাকায় নেমে আসে। শেষ পর্যন্ত গত বছর প্রতি মণ হলুদ ৯০০ টাকায় বিক্রি হয়। দাম বাড়তে থাকায় আগামী বছর হলুদ চাষ আবারও বাড়বে বলে তাঁরা মনে করছেন। বকুল সাহা (৪০) নামের এক কৃষক হলুদ শুকানোর কাজ করছিলেন। তিনি বলেন, এ বছর তাঁর ৪০ শতাংশ জমিতে হলুদের আবাদ করেছিলেন।
সার, বীজ, কীটনাশক মিলে খরচ হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা। এখান থেকে তিনি হলুদের ফলন পেয়েছেন ৮০ মণ। প্রতি মণ কাঁচা হলুদ বিক্রি করেছেন ১ হাজার ২০০ টাকায়। হলুদচাষি এনামুল হক (৪৫) বলেন, ‘গত বছরের চেয়ে এ বছর প্রতি মণ হলুদের দাম গড়ে ৩০০ টাকা করে বেড়েছে। এ বছর হলুদের ফলন ভালো হয়েছে। দামও বেড়েছে। এমন দাম পেলে আমরা আবার হলুদ চাষে উৎসাহ পাব।’ ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন (৪২) বলেন, ‘উথলীর হলুদের মান খুবই ভালো। আমরা এখান থেকে হলুদ সংগ্রহ করে বিভিন্ন কোম্পানির কাছে বিক্রি করি।’ উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উথলী এবং এর আশপাশের আরও ছয় গ্রামে হলুদের চাষ হয়ে থাকে। এবার এলাকায় ৩৭০ হেক্টর জমিতে কুকুরমণি জাতের হলুদ চাষ হয়েছে। হলুদের আবাদ বেশ সময়সাপেক্ষ। ফলন উঠতে বছর লেগে যায়। সাড়ে চার মণ কাঁচা হলুদ সেদ্ধ করে শুকানোর পর পাওয়া যায় এক মণ। বাজারে প্রতি মণ শুকনো হলুদ বর্তমানে ৫ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এজাজ কামাল জানান, উথলী এলাকার মাটি হলুদ চাষের জন্য খুব উপযোগী। আর এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন হয়েছে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। এবার ফলন ভালো হওয়ায় এবং দাম বেশি পাওয়ায় হলুদচাষিরা খুব খুশি।

পোশাক পরেছে নাটোরের কলা

নাটোর সদর উপজেলার রামপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের কলাবাগান। কলার কাঁদি বিশেষ ধরনের কাগজের ব্যাগে মোড়ানো। গতকাল বুধবার মাঠ দিবসে তিনি কলা সংরক্ষণের ফ্রুট ব্যাগ প্রযুক্তির বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে তুলে ধরেন। তিনি মজা করে বলেন, জামা পরেছে তাঁর বাগানের কলা। এ সময় বেশ কয়েকজন উদ্যান গবেষক ও কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
গতকাল সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিটি গাছের কলার কাঁদি সাদা ও বাদামি রঙের কাগজের ব্যাগ দিয়ে মোড়ানো রয়েছে। রফিকুল এক-একটা ব্যাগ খুলে দেখান। সতেজ সবুজ ও পরিষ্কার কলা। কলার গায়ে দাগ নেই। ধুলা ও পোকামাকড় নেই। নেই রোগবালাই। বাগানে দাঁড়িয়ে কলা সংরক্ষণ ব্যাগের বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণাকেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. শরফ উদ্দিন কথা বলেন। তিনি বলেন, আম ও বেগুনের ফ্রুট ব্যাগ ব্যবহারের সাফল্যের পর কলা সংরক্ষণে এ প্রযুক্তি বেছে নেওয়া হয়েছে। দেশে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে নাটোরের এই বাগানে প্রযুক্তিটি ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে বালাইনাশক ব্যবহার ছাড়াই পরিষ্কার ও রোগমুক্ত কলা উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। কলার রং সুন্দর। পাকা কলা পাঁচ থেকে সাত দিন ভালো রাখা সম্ভব হচ্ছে। বাজারের অন্য কলার চেয়ে এই কলার চাহিদা বেশি। এ ছাড়া এই প্রক্রিয়ায় কারণে এ কলা রপ্তানি করা সহজ হবে। কলার সব গুণাগুণ অটুট থাকায় বিদেশিদের কাছেও এ দেশের কলার চাহিদা থাকবে। কলার ব্যাগগুলো পরিবেশবান্ধব কাগজ দিয়ে তৈরি। এটা ছিঁড়ে না যাওয়া পর্যন্ত বহুবার ব্যবহার করা যাবে। কৃষকের খরচ কম পড়বে। ঢাকার কল্যাণপুরের উদ্যান প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, প্রচলিত পদ্ধতিতে চাষিরা কলা সংগ্রহের তিন মাস আগে থেকে নিয়মিত কীটনাশক ও বালাইনাশক ব্যবহার করে আসছেন। এমনকি কলা বাজারে নিয়ে যাওয়ার দিনও তাঁরা কীটনাশক ছিটান।
এতে খাদ্যনিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। কল্যাণপুর হর্টিকালচার সেন্টারের কৃষিবিদ আবু মো. মনিরুজ্জামান বলেন, রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে ব্যাগিং করতে হবে। কাগজের হলেও এ ব্যাগ বৃষ্টির পানিতে ভেজে না। কলার কাঁদি পড়ার পরপরই ব্যাগিং শুরু করা যেতে পারে। ব্যাগে মোড়ানোর তারিখ প্রতিটি গাছের পাশে লিখে রাখলে কলার পরিপক্বতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। পরে ব্যাগ খুলে কলা সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। কলাচাষি রফিকুল ইসলামের বাড়ির আঙিনায় ফ্রুট ব্যাগিং কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় উদ্যোক্তা মো. হানিফ মিয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন মল্লিকা সিড কোম্পানির স্বত্বাধিকারী এফ আর মালিক। সভায় উপস্থিত উদ্যান বিশেষজ্ঞরা কলাচাষিদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন। সভায় রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও মেহেরপুরে আম ও বেগুন সংরক্ষণে ফ্রুট ব্যাগিং সম্পর্কে ধারণা অর্জন করেন। চার মাস আগে কৃষি বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় তাঁর এক বিঘা জমির কলাগাছে ব্যাগিং কার্যক্রম শুরু করেন।

২৩ সম্পাদককে সম্মাননা দিল ডেইলি স্টার

ফরিদপুরের রিকশাচালক আব্দুস সামাদ শেখ। ৪৮ বছর ধরে তিনি প্রতিদিন অন্তত একটি করে গাছ লাগান। ইংরেজি পত্রিকা ডেইলি স্টার-এর ভাষায়, আব্দুস সামাদ একজন ‘চেঞ্জ মেকার’। নিজেদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এই অসামান্য কাজের জন্য আব্দুস সামাদকে সম্মাননা দিয়েছে ডেইলি স্টার। গতকাল বুধবার রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে নিজেদের ২৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ডেইলি স্টার। অনুষ্ঠানে সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রকাশিত ২৩টি মফস্বল পত্রিকার সম্পাদককেও সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে ট্রান্সকমের চেয়ারম্যান ও মিডিয়া ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের পরিচালক লতিফুর রহমানের নাতি গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় নিহত ফারাজ আইয়াজ হোসেনের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এর আগে বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাস ও এগিয়ে যাওয়ার নানা দিক নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। মিডিয়া ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের চেয়ারম্যান রোকেয়া আফজাল রহমান উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, ডেইলি স্টার অনেক চাপের মধ্যেও উদ্যম ও সাহসিকতার সঙ্গে বন্ধুর পথ অতিক্রম করে এগিয়ে যাচ্ছে। কঠিন সময়েও ডেইলি স্টার সাহসিকতা ও নৈতিকতা ধরে রেখেছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় পত্রিকাটির সম্পাদক মাহ্ফুজ আনামের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এসডিজি অর্জন, বিশেষ করে লিঙ্গ সমতা, নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য দূর করা, শিক্ষার উন্নয়ন, শান্তিপূর্ণ সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় ডেইলি স্টার কাজ করে যাবে। আর দেশের অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণে ডেইলি স্টার কাজ অব্যাহত রাখবে। সততার সঙ্গে সাহসী সাংবাদিকতার জন্য চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক, বগুড়ার দৈনিক করতোয়ার সম্পাদক মোজাম্মেল হক, হিল বিডি ২৪ ডটকমের সম্পাদক দিশারি চাকমা, দৈনিক কুড়িগ্রামের খবর-এর সম্পাদক এস এম সেনলাল বকশী, রাজশাহীর দৈনিক সোনালী সংবাদ-এর সম্পাদক লিয়াকত আলীসহ ২৩ জন সম্পাদককে সম্মাননা দেওয়া হয়। রোকেয়া আফজাল রহমান তাঁদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন। সম্পাদকদের পক্ষ থেকে দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক ডেইলি স্টারকে এই উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানান। তাঁর আশা,
ডেইলি স্টার ধ্রুবতারা হয়ে থাকবে। এ ছাড়া বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য কয়েকজন তরুণকে ‘চেঞ্জ মেকার’ আখ্যা দিয়ে তাঁদেরও সম্মান জানানো হয়। তরুণ এই চেঞ্জ মেকাররা বয়োজ্যেষ্ঠ ‘চেঞ্জ মেকার’ আব্দুস সামাদের হাতে ডেইলি স্টার-এর পক্ষ থেকে ১ লাখ টাকার চেক তুলে দেন। ডেইলি স্টার-এর সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে বিচার বিভাগ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সংবিধান স্বীকৃত। বাংলাদেশেও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার বিষয়টি সংবিধানে আছে। স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত শুধু সাংবাদিকদের বিষয় নয়। এটি নাগরিক অধিকারের ওপর আক্রমণ। তিনি বলেন, এখনকার সাংবাদিকতা দুটি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। একটি হলো প্রযুক্তিগত, অন্যটি আদর্শিক। আর প্রধানত দুটি কারণে সংবাদমাধ্যম আক্রমণের শিকার হয়; নিজেদের ভুল আর সফলতা। হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলায় নিহত ফারাজের স্মরণে মাহ্ফুজ আনাম বলেন, ফারাজ দেখিয়েছে মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা আর সাহস কেমন হতে পারে। অনুষ্ঠানে অধ্যাপক রেহমান সোবহান, ড. কামাল হোসেন, হামিদা হোসেন, ট্রান্সকমের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ টি এম শামসুল হুদা, সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহীম, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হাসান ইমাম, জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

খালেদা জিয়া শহীদ দিবসের মর্যাদা নষ্ট করেছেন

শহীদ মিনারে ফুল দিতে গিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সদলবলে মূল বেদিতে উঠে পড়ার ঘটনার সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে গতকাল বুধবার আওয়ামী লীগ আয়োজিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, বেগম জিয়া শহীদ দিবসের মর্যাদা নষ্ট করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়া এবার যে অপকর্মটা করে আসলেন, আমাদের অমর একুশে ফেব্রুয়ারি, শহীদ দিবসের মর্যাদাটাই নষ্ট করে দিয়ে আসলেন।... যেখানে রাষ্ট্রপতি, স্পিকারসহ অনেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন, বিএনপির নেত্রী সদলবলে ঠিক ওই জায়গাটায় উঠে দাঁড়িয়ে গেছেন ফুল দিতে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকেরা আগে ওই জায়গায় (মূল বেদিতে) ছবি তোলার জন্য উঠে দাঁড়াতেন। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে এবং নিজ উদ্যোগে সেই জায়গার পেছনে একটি মাচা তৈরির ব্যবস্থা করা হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘যদিও তাঁরা বলছেন এ অভিযোগ ঠিক নয়, কিন্তু এখন ক্যামেরায় সবকিছু ধরা পড়ে।...এটা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরো দেখা যাচ্ছে।...খালেদা জিয়ার ভুল হলেও দলের নেতা-কর্মীদের এ বিষয়টি তাঁর নজরে আনার প্রয়োজন ছিল।’ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এবার একুশের আয়োজনে সারা দেশে জনস্রোত নেমেছিল।...সব সময়ই চিন্তা ¯ছিল কোথায় কী হয়, না হয়।’ দলের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, ‘খালেদা জিয়া হয়তো অতি উৎফুল্ল হয়ে বেদীতে উঠে গিয়ে থাকতে পারেন। কারণ আজকে কানাডার একটি কোর্ট সার্টিফিকেট দিয়েছে, বিএনপি সন্ত্রাসী-বোমাবাজদের সংগঠন।’ আলোচনা সভায় কবিতা পাঠ করেন কবি নির্মলেন্দু গুণ। বক্তব্য দেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরী প্রমুখ।

এ রায় যেন যোগাযোগ ব্যবস্থাকে উন্নত করে

‘ব্যক্তিমানুষ হিসেবে মৃত্যুকে সংবেদনশীল হিসেবে দেখতে চাই। মৃত্যুর বদলে মৃত্যু প্রত্যাশা করি না। যে রায়টি পেয়েছি, সেটি আমাদের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষার পরিপূরক হবে তখনই, যখন এটি একটি প্রণিধান হিসেবে সামগ্রিক যোগাযোগব্যবস্থাকে উন্নততর করার জন্য ভূমিকা পালন করবে’—সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও সাংবাদিক মিশুক মুনীরের নিহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলার রায়ের প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষক ঢালী আল মামুন। ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট মানিকগঞ্জে ওই সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন ঢালী আল মামুন। দীর্ঘ চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হন। এ দুর্ঘটনায় তাঁর স্ত্রী শিল্পী দিলারা বেগম জলি এবং তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদও আহত হয়েছিলেন। মানিকগঞ্জের আদালতের রায় ঘোষণার পর গতকাল বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটে কথা হয় ঢালী আল মামুনের সঙ্গে। তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ যোগাযোগ অব্যবস্থাপনা। শুধু চালক এককভাবে দায়ী নন। তিনি বলেন,
‘যার ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই, সে (চালক) কীভাবে রাস্তায় গাড়ি নামায়? যে গাড়ির ফিটনেস নেই, সেই গাড়িটি কীভাবে রাস্তায় চলাচল করে? সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় কোথায় কী ত্রুটি আছে, তা ভেবে দেখা দরকার। শুধুমাত্র দ্রুতগতির রাস্তা করে দিলে হবে না, সেখানে সঠিক নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে। যাঁরা ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে আছেন, তাঁদেরই প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে।’ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক বলেন, দুর্ঘটনা একটি পরিবারকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। এই যে খামখেয়ালিপনায় তারেক ও মিশুকের মতো দুটি মেধাবী প্রাণ চলে গেল, তাতে গোটা জাতিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে একটি শৃঙ্খলা তৈরি করেছিলেন। তাঁদের মতো করে কেউ তো আর কাজ করতে পারছেন না। ওই দুর্ঘটনায় আরও তিনটি পরিবার প্রিয়জন হারিয়েছে। এ রকম দুর্ঘটনা যেন আর না ঘটে, সেভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে।

মানিকগঞ্জে নির্মিত হয়নি তারেক মিশুক স্মৃতিস্তম্ভ

সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ, সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহত হওয়ার ছয় বছর পার হয়ে গেছে। মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জোকায় দুর্ঘটনাস্থলে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। কিন্তু এত দিনেও সরকারের পক্ষ থেকে এ দাবি পূরণ করা হয়নি। ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স পরিবহনের একটি বেপরোয়া গতির বাস ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের জোকা এলাকায় তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরদের বহনকারী মাইক্রোবাসকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে দুর্ঘটনাস্থলেই পাঁচজন নিহত হন। দুর্ঘটনার পর তারেক মাসুদ মেমোরিয়াল ট্রাস্ট, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাব এবং প্রথম আলো মানিকগঞ্জ বন্ধুসভাসহ স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন দুর্ঘটনাস্থলে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি তোলে। এরপর ছয় বছর পার হয়ে গেল। কিন্তু স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়নি। তারেক মাসুদ মেমোরিয়াল ট্রাস্ট ২০১২ সালের আগস্ট মাসে ইটের গাঁথুনি দিয়ে নিহত পাঁচজনের একটি নামফলক স্থাপন করে।
ফলকটি অযত্ন আর অবহেলা পড়ে আছে। তারেক মাসুদ মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সদস্য ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আজ পর্যন্ত স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত হয়নি, এটা আমাদের জন্য চরম দুর্ভাগ্যের।’ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীর কোনো সাধারণ মানুষ নন। চলচ্চিত্র ও সাংবাদিকতার অঙ্গনে তাঁরা বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরেছেন। তাঁদের সম্মানে দুর্ঘটনাস্থলে স্মৃতিস্তম্ভ না হওয়াটা আমাদের জন্য লজ্জাজনকই নয়, কষ্টকরও।’ জেলা প্রশাসক রাশিদা ফেরদৌস বলেন, ‘তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরের মতো গুণী ব্যক্তিরা বেঁচে থাকলে দেশের জন্য আরও ভালো কিছু উপহার দিতে পারতেন। এসব ব্যক্তির স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ হতে পারত। কিন্তু কোনো পক্ষ থেকে এ বিষয়ে লিখিত আবেদন করা হয়নি। এ কারণে ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। কেউ আবেদন করলে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ চাওয়া হবে। বরাদ্দ পাওয়ার পর স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সেনবাগে সাংসদের অনুসারী নেতা–কর্মীদের সড়ক অবরোধ

সেনবাগ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি বাতিলের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় সাংসদ মোরশেদ আলমের অনুসারী নেতা-কর্মীরা। গতকাল বুধবার বেলা আড়াইটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত উপজেলার রাস্তারমাথা এলাকায় ফেনী-নোয়াখালী সড়ক অবরোধ করেন নেতা-কর্মীরা। সাংসদের অনুসারী নেতা-কর্মীরা সড়কের ওপর বাস আড়াআড়ি করে ফেলে রাখেন। এ সময় তাঁরা সড়কের ওপর টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। অবরোধের কারণে সড়কের দুদিকে যানবাহন আটকা পড়ে। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হন যাত্রীরা। পরে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহজাহান শেখের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে সাংসদ মোরশেদ আলমের অনুসারী হিসেবে পরিচিত উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েক শ নেতা-কর্মী ফেনী-নোয়াখালী মহাসড়কের সেনবাগ রাস্তারমাথা এলাকায় অবস্থান নেন। এ সময় সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন তাঁরা। বক্তারা নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভায় গঠিত সেনবাগ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিকে অবৈধ ও দলের গঠনতন্ত্রবিরোধী উল্লেখ করেন।
২৪ ঘণ্টার মধ্যে কমিটি বাতিলের আলটিমেটাম দেন তাঁরা। তা না হলে সেনবাগে সর্বাত্মক হরতালের ডাক দেওয়া হবে বলে জানান তাঁরা। উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক আলী আক্কাস, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি গোলাম কবিরসহ সাংসদের অনুসারী আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। সভা চলাকালে দলীয় নেতা-কর্মীরা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাংসদ মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। সেনবাগ উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি বছরখানেক আগে ভেঙে দেওয়া হয়। ১৮ ফেব্রুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীমের উপস্থিতিতে সেনবাগ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা শওকত হোসেনকে আহ্বায়ক ও সেনবাগ পৌরসভার মেয়র আবু জাফরকে সদস্যসচিব করে ১৪ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয় বলে জানান উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক আলী আক্কাস। তিনি বলেন, এ কমিটি নিয়ে নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

মহেশখালীতে ৯৫ বিদেশি পর্যটক

কক্সবাজারের মহেশখালী ভ্রমণ করেছেন ১৪ দেশের ৯৫ জন পর্যটক। উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, গতকাল বুধবার সকালে বিদেশি পর্যটকদের বহনকারী জাহাজ এমভি ডিসকভার উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের সোনাদিয়ার পশ্চিমে নোঙর করে। পরে পর্যটকেরা স্পিডবোট নিয়ে প্রথমে সোনাদিয়া দ্বীপে যান। সোনাদিয়া দ্বীপ ঘুরে দেখার পর তাঁরা আসেন মহেশখালী সদরে।
এরপর তাঁরা আদিনাথ মন্দির ও রাখাইন পল্লিসহ মহেশখালীর বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখেন। এ সময় বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আবুল কালাম, সহকারী পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) বাবুল চন্দ্র বণিক ও মহেশখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নাজমুল হক কামাল। পর্যটকদের মধ্যে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড, স্পেন, রাশিয়া, নিউজিল্যান্ড, ইতালি, জার্মানি, ভারত, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। বাবুল চন্দ্র বণিক জানান, বেলা সাড়ে তিনটার দিকে বিদেশি পর্যটকদের বহনকারী জাহাজটি সোনাদিয়া ছেড়ে যায়।

সড়কের পাশে ফেলে যাওয়া ছাইয়ে আগুন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের আরআর টেক্সটাইল গেট এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে উত্তপ্ত ছাই ফেলে গেছেন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা। গতকাল বুধবার রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আবদুল্লাহ পাশা হারুন প্রথম আলোকে বলেন, বুধবার রাতে চট্টগ্রামমুখী একটি ট্রাক থেকে কিছু ছাই রাস্তার পাশে ফেলে চলে যান অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা। ছাইগুলো ছিল প্রচণ্ড উত্তপ্ত।
তিনি বলেন, স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পানি ছিটিয়ে ছাইয়ের উত্তাপ কমানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রথমে পানি দেওয়ার পর ছাইয়ে আগুন ধরে যায়। এ সময় আগুনের শিখা ৪০ ফুট উঁচুতে উঠে যায়। পরে আগুন নেভানো হয়।

স্বেচ্ছাশ্রমে কলেজের অবকাঠামো নির্মাণ শুরু

রাঙামাটি সদর উপজেলার কুতুকছড়ি ইউনিয়নের হেডম্যানপাড়া গ্রামে কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন এলাকাবাসী। গতকাল বুধবার কলেজের অবকাঠামো নির্মাণ শুরু হয়েছে। গতকাল সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, দুই শতাধিক লোকজন কলেজের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ করছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,
রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার ঘিলাছড়ি, নানিয়ারচর, বুড়িঘাট, কুতুকছড়ি ও সাবেক্ষ্যং এবং রাঙামাটি সদরের সাপছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দারা কলেজটি প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নিয়েছেন। নাম দেওয়া হয়েছে মাউরুম কলেজ। ওই সব এলাকায় অর্ধশতাধিক সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। উচ্চবিদ্যালয় ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় আছে আটটি। এসব এলাকার শিক্ষার্থীদের এসএসসি পাসের পর রাঙামাটি শহরে গিয়ে পড়াশোনা করতে হয়। চেগেয়াছড়ি গ্রামের কার্বারি দয়াল চাকমা বলেন, রাঙামাটির মানিকছড়ি থেকে খাগড়াছড়ির মহালছড়ি পর্যন্ত কোনো কলেজ নেই। দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরা দূরের কলেজে গিয়ে পড়াশোনা করতে পারে না। এতে তাদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। তাই এলাকায় একটি কলেজ প্রয়োজন। কুতুকছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান প্রভারঞ্জন চাকমা বলেন, এই বছর থেকে কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পাঠদান করা হবে।
স্থানীয় ভূমিদাতা নয়ন জীবন চাকমা বলেন, এলাকার ছেলেমেয়েদের উচ্চশিক্ষার কথা ভেবে তিনি ৮০ শতক জমি কলেজের নামে দান করেছেন। বুড়িঘাট ইউপি চেয়ারম্যান প্রমোদ খীসা বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ১৬০ ফুট দীর্ঘ ও ২১ ফুট প্রস্থের টিনের ঘর নির্মাণ করা হবে। এতে কক্ষ থাকবে ৮টি। কুতুকছড়ির একটি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী জয়া চাকমা বলল, এখানে কলেজ হলে তাদের আর দূরে যেতে হবে না। মাউরুম কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি অমর জীবন চাকমা বলেন, আসন্ন শিক্ষাবর্ষ সামনে রেখে তাঁরা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। কলেজের অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি তাঁরা কলেজের একাডেমিক স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা বলেন, উদ্যোগটি খুবই ভালো। তবে কলেজ পরিচালনা বেশ ব্যয়বহুল। জনগণের প্রচেষ্টায় যদি শুরু করা যায় তাহলে অবশ্যই সফলতা আসবে।