Sunday, April 21, 2019
ছবিতে শ্রীলঙ্কায় সিরিজ বোমা বিস্ফোরণ
তারা হত্যা করেছে অনেক নিরাপরাধ মানুষকে। আরেকজন মন্ত্রী হর্ষ ডি সিলভা সেইন্ট অ্যান্থনি গির্জার দৃশ্যকে ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছেন। বলেছেন, সর্বত্র নিহতদের মৃতদেহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে।
ছবিতে শ্রীলঙ্কায় সিরিজ বোমা বিস্ফোরণ...
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শ্রীলঙ্কায় গির্জা, হোটেলে সিরিজ বোমায় নিহত ১৫৬, সেনা মোতায়েন: সেনা মোতায়েন, ১০ দিন আগে সতর্ক করেছিলেন লঙ্কান পুলিশ প্রধান

কোচকিকাদে, কাতুয়াপিটিয়া ও বাট্টিকালোয়া নামক স্থানে অবস্থিত গির্জায় এই হামলা চালানো হয়। এসব গির্জায় ইস্টার সানডে উপলক্ষে অনুষ্ঠান চলছিল। তাছাড়া রাজধানীর সাংগ্রি লা, দ্য কিন্নামোন এবং কিংসবারি নামক আরও তিনটি হোটেলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। হোটেল তিনটি রাজধানী কলম্বোর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। কাতুয়াপিটিয়াতে অবস্থিত সেন্ট সেবাস্তিয়ান নামক গির্জার ছাদ ধসে পড়েছে এবং গির্জার মূল স্থানে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ লেগে আছে।
শ্রীলঙ্কা মূলত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদেরই দেশ।
দেশটিতে খ্রিস্টান ধর্মালম্বীদের সংখ্যা মাত্র ছয় শতাংশ। ইস্টার সানডের প্রার্থনার কারণে গির্জাগুলোতে বেশ ভিড় ছিল। পুলিশ বলছে, হামলার জন্য এমন সময়কেই বেছে নিয়েছেন জঙ্গিরা।
রাজধানী কলম্বোর ন্যাশনাল হসপিটালের পরিচালকের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১শ’ ৫৬ জন নিহত হওয়ার খবর মিলেছে। নিহতদের মধ্যে বিদেশী পর্যটকও আছেন। আহত প্রায় ৫শ’ জন। আহতদের রাজধানীর ওই হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
উল্লেখ্য, খ্রিষ্টধর্মে বিশ্বাসীদের জন্য খুবই আনন্দের ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন ইস্টার সানডে। এই দিনে খ্রিষ্টধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিষ্ট মৃত্যু থেকে পুনরুত্থান করেছিলেন।

ভয়াবহ এই বোমা হামলার পর প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা এক বিবৃতির মাধ্যমে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী এই বোমা হামলার তদন্ত শুরু করেছে। এছাড়াও জরুরি বৈঠকে বসেছেন প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিংহে।
কোচকিকাদে, কাতুয়াপিটিয়া ও বাট্টিকালোয়া নামক স্থানে অবস্থিত গির্জায় এই হামলা চালানো হয়। এসব গির্জায় ইস্টার সানডে উপলক্ষে অনুষ্ঠান চলছিল। তাছাড়া রাজধানীর সাংগ্রি লা, দ্য কিন্নামোন এবং কিংসবারি নামক আরও তিনটি হোটেলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
হোটেল তিনটি রাজধানী কলম্বোর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। কাতুয়াপিটিয়াতে অবস্থিত সেন্ট সেবাস্তিয়ান নামক গির্জার ছাদ ধসে পড়েছে এবং গির্জার মূল স্থানে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ লেগে আছে।

শ্রীলঙ্কায় ধারাবাহিক সিরিজ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোয় গির্জায় ইস্টারের প্রার্থনার সময় এই হামলা চলানো হয়। আজ সকালে রাজধানী কলম্বোর কয়েকটি হোটেল ও তিনটি গির্জায় ৬টি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ধারাবাহিক এই বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে লঙ্কা।
কোচকিকাদে, কাতুয়াপিটিয়া ও বাট্টিকালোয়া নামক স্থানে অবস্থিত গির্জায় এই হামলা চালানো হয়। এসব গির্জায় ইস্টার সানডে উপলক্ষে অনুষ্ঠান চলছিল। তাছাড়া রাজধানীর সাংগ্রি লা, দ্য কিন্নামোন এবং কিংসবারি নামক আরও তিনটি হোটেলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
হোটেল তিনটি রাজধানী কলম্বোর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। কাতুয়াপিটিয়াতে অবস্থিত সেন্ট সেবাস্তিয়ান নামক গির্জার ছাদ ধসে পড়েছে এবং গির্জার মূল স্থানে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ লেগে আছে।
শ্রীলঙ্কা মূলত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদেরই দেশ। দেশটিতে খ্রিস্টান ধর্মালম্বীদের সংখ্যা মাত্র ছয় শতাংশ। ইস্টার সানডের প্রার্থনার কারণে গির্জাগুলোতে বেশ ভিড় ছিল। পুলিশ বলছে, হামলার জন্য এমন সময়কেই বেছে নিয়েছেন জঙ্গিরা।
রাজধানী কলম্বোর ন্যাশনাল হসপিটালের পরিচালকের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১শ’ ৫৬ জন নিহত হওয়ার খবর মিলেছে। নিহতদের মধ্যে বিদেশী পর্যটকও আছেন। আহত প্রায় ৫শ’ জন। আহতদের রাজধানীর ওই হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
লিবিয়ায় কেন এতো নৈরাজ্য, এখন কার নিয়ন্ত্রণে?

কিন্তু যে রাজনৈতিক এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা ওই ঐশ্বর্য নিশ্চিত করেছিল, সেটি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায় ২০১১ সালে যখন পশ্চিমা সমর্থিত বিদ্রোহীদের হাতে কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতন হয়। তারপর থেকে লিবিয়ায় চলছে সীমাহীন নৈরাজ্য এবং অরাজকতা।
এমনকি রাজধানী ত্রিপোলির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এখন নতুন করে শুরু হয়েছে লড়াই। ফলে লিবিয়া পুনর্গঠনের জন্য এমাসে একটি জাতীয় সংলাপের উদ্যোগ ভেস্তে যেতে বসেছে।
লিবিয়ায় কারো কি নিয়ন্ত্রণ রয়েছে?
লিবিয়ায় এখন নানা মত ও পথের অসংখ্য সশস্ত্র মিলিশিয়া বাহিনী তৎপর। দেশের পূর্বে এবং পশ্চিমে রয়েছে দুটো ভিন্ন রাজনৈতিক শাসন কেন্দ্র । কিছু মিলিশিয়া দল পূর্বের রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনুগত, কিছু আবার সমর্থন করে পশ্চিমের অর্থাৎ ত্রিপোলি নিয়ন্ত্রণকারী প্রশাসনকে।
ত্রিপোলির সরকার
রাজধানী ত্রিপোলি নিয়ন্ত্রণ করছে যে সরকার সেটি জাতীয় ঐক্যমত্যের সরকার (জিএনএ) নামে পরিচিত। জাতিসঙ্ঘ এই সরকারকে লিবিয়ার বৈধ সরকার হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ফায়েজ সারাজ নামে একজন প্রকৌশলী এই সরকারের প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় ঐক্যমত্যের সরকার গঠনে জাতিসঙ্ঘের উদ্যোগে একটি চুক্তির চার মাস পর ২০১৬ সালের মার্চে তিনি ত্রিপোলিতে আসেন।
গত তিন বছর ধরে সারাজ বিভিন্ন মিলিশিয়া এবং রাজনীতিকদের সমর্থন আদায়ে চেষ্টা করে যাচ্ছেন, কিন্তু পুরো দেশের ওপর তার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। এমনকি তার প্রশাসনের যে সেনাবাহিনী রয়েছে, তার ওপরও তার পূর্ণ কর্তৃত্ব নেই।
তবরুক সরকার
২০১৪ সালে বিতর্কিত নির্বাচনের পর যে পার্লামেন্ট গঠিত হয় তাদের নিয়ে শুরু হয় এই সরকার। কিন্তু সেসময় যারা রাজধানী ত্রিপোলি নিয়ন্ত্রণ করছিল তারা ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানায়। ঐ এমপিরা তখন ১০০০ কিলোমিটার দূরে বন্দর শহর তবরুকে চলে যান।
২০১৫ সালে এই এমপিদের কেউ কেউ জাতিসঙ্ঘের উদ্যোগে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের চুক্তি সমর্থন করেন। কিন্তু ২০১৪ সালের পার্লামেন্ট এখন পর্যন্ত ওই সরকারকে সমর্থন দেয়নি।
এই সংসদ নতুন একটি নির্বাচনের প্রস্তাবও মানতে চাইছে না, কারণ তারা নিশ্চয়তা চাইছে যে ভবিষ্যতের যে কোনো সরকারে লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি বা এনএলএ নামের মিলিশিয়া বাহিনীর প্রধান জেনারেল খালিফা হাফতারকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দিতে হবে।
ওই সংসদের এমপিদের অনেকেই খোলাখুলি বলেন যে, জেনারেল হাফতারকেই ক্ষমতা দিতে হবে।
লিবিয়াতে এখন যার হাতে যত বেশি অস্ত্র , তার শক্তি এবং প্রভাবও তত বেশি। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের অনেকে মনে করেন লিবিয়া এখন অস্ত্রের বাজারে পরিণত হয়েছে। গাদ্দাফি সরকারের অস্ত্রভাণ্ডার থেকে লুট হওয়া অস্ত্রে ছেয়ে গেছে লিবিয়া। আশপাশের একেকটি দেশ একেকটি মিলিশিয়া গোষ্ঠীকে সমর্থন করছে, অস্ত্র যোগাচ্ছে।
এসব মিলিশিয়ারা নিজেদের সুবিধামত সময়ে সময়ে আনুগত্য পরিবর্তন করছে।
একসময় এরা সবাই কি মিত্র ছিল না?
গাদ্দাফির বিরোধিতার প্রশ্নে এই মিলিশিয়াদের সবাই ঐক্যবদ্ধ ছিল। কিন্তু আর কোনো কিছুতেই তাদের মধ্যে মতের মিল ছিল না। গাদ্দাফিকে হঠানোর লড়াইও কোনো একটি গোষ্ঠীর নেতৃত্বে হয়নি। একেকটি শহরে ছিল একেক মিলিশিয়া বাহিনী। তারা তাদের নিজের নিজের স্বার্থ রক্ষায় লড়াই করছিলো।
স্বার্থ ছাড়াও আদর্শগতভাবেও তারা বিভক্ত ছিল - কেউ কেউ ছিল কট্টর ইসলামপন্থী, কেউ বিচ্ছিন্নতাবাদী, কেউ ছিল রাজতন্ত্রের পক্ষে, আবার কেউ ছিল রাজনৈতিকভাবে উদারপন্থী।
এসব মিলিশিয়াদের কোনো কোনোটির কাছে আবার নেহাতই আঞ্চলিক এবং জাতি ও গোষ্ঠীগত স্বার্থ রক্ষাই ছিল মূল উদ্দেশ্য।
সব মিলিয়ে জটিল এক জালে জড়িয়ে গেছে লিবিয়া।
দীর্ঘ স্বৈরাচারী শাসনের পতন হলেও গত আট বছরে গণতন্ত্রের মুখ দেখেনি লিবিয়ার মানুষ। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সম্পর্কে ধারণাও খুবই কম সেখানে।
২০১৬ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছিলেন - গাদ্দাফির পতনের পর লিবিয়ায় কী হবে তা ধারণা করে তার জন্য প্রস্তুতি না নিতে পারাটাই ছিল তার সরকারের ‘সবচেয়ে বড় ভুল’।
লিবিয়ায় এই সঙ্কটের জন্য মি. ওবামা সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনকে অংশত দায়ী করেন।
কে এই জেনারেল হাফতার?
১৯৬৯ সালে সেনা অভ্যুত্থানে কর্নেল গাদ্দাফিকে সমর্থন করেছিলেন জেনারেল খালিফা হাফতার। কিন্তু ১৯৮০র দশকে এসে তার সাথে গাদ্দাফির সম্পর্ক চটে গেলে তিনি স্বেচ্ছানির্বাসনে চলে যান। এরপর গাদ্দাফিকে উৎখাতের জন্য লড়াই শুরু হওয়ার পর তিনি দেশে এসে বিদ্রোহে যোগ দেন।
পরের তিন বছর ধরে তিনি বেনগাজিতে আল কায়দার সাথে সংশ্লিষ্ট কট্টর ইসলামপন্থী মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়েছেন।
তবে জেনারেল হাফতারের সমালোচকরা বলেন, যারাই তার কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করে তাদেরকেই তিনি নির্বিচারে ‘সন্ত্রাসীর’ কাতারে ফেলে দেন।
বেনগাজি দখলের পর তিনি লিবিয়ার সর্বেসর্বা হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। কিন্তু বিরোধ তৈরি হয় জাতিসঙ্ঘের মধ্যস্থতায় হওয়া চুক্তির একটি শর্ত নিয়ে, যাতে বলা হয়েছে কোনো সামরিক ব্যক্তিত্বকে সরকারের উঁচু পদে নিয়োগ করা যাবে না।
তবে জাতীয় ঐক্যের ওই চুক্তির বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা করেন না জেনারেল হাফতার। জানুয়ারিতে তার অনুগত বাহিনী দক্ষিণাঞ্চলের দুটো তেলক্ষেত্র দখল করে নেয়। বলা হয়, লিবিয়ার তেলের খনিগুলোর সিংহভাগই এখন নিয়ন্ত্রণ করছেন জেনারেল হাফতার।
আন্তর্জাতিক সমর্থন কি তার রয়েছে?
মিসর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত অনেকদিন ধরেই জেনারেল হাফতারকে সমর্থন করছে। এ মাসে ত্রিপোলি দখলের অভিযান শুরুর এক সপ্তাহ আগে তিনি সৌদি আরব সফর করে এসেছেন।
এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি কয়েকবার রাশিয়ায় গেছেন। লিবিয়ার উপকূলের কাছে একটি রুশ বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজে তাকে আমন্ত্রণ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এ মাসেই ত্রিপোলিতে অভিযানের নিন্দা করে নিরাপত্তা পরিষদে এক প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে রাশিয়া।
ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ প্রথম কোনো পশ্চিমা নেতা যিনি জেনারেল হাফতারকে লিবিয়ায় শান্তি প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানান। ফেব্রুয়ারিতে তার বাহিনীর সমর্থনে লিবিয়ায় বিমান হামরা চালায় ফ্রান্স।
তবে অধিকাংশ পশ্চিমা দেশ সমর্থন করছে ত্রিপোলির জাতীয় ঐক্যের সরকারকে।
অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, নতুন একটি নির্বাচনের প্রস্তাব নিয়ে জাতিসঙ্ঘ গাদামেস শহরে ১৪ এপ্রিল থেকে তিন দিনের যে জাতীয় সংলাপের আয়োজন করে, তার আগে নিজের শক্তি প্রমাণের জন্য জেনারেল হাফতার ত্রিপোলি দখলের এই অভিযান শুরু করেন। তিনি মনে করছেন, যত বেশি অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ তার হাতে থাকবে, ভবিষ্যতের মীমাংসা আলোচনায় তার তত সুবিধা হবে।
তার জনপ্রিয়তা কতটা?
লিবিয়ায় তার গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু- বলা মুশকিল, কিন্তু তার ত্রিপোলি অভিযানের আগে লিবিয়ায় পশ্চিমাঞ্চলেও অনেকেই তার পক্ষে কথা বলতে শুরু করেন।
দুর্বল শাসন ব্যবস্থা, নিরাপত্তার অভাব এবং রাজধানীর নিয়ন্ত্রণে থাকা মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে দুর্নীতির কারণে বহু মানুষ ক্ষুব্ধ। তারা আশা করছে, জেনারেল হাফতারের মতো শক্ত কোনো নেতা এলে পরিস্থিতি হয়তো কিছুটা ভালো হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে জেনারেল হাফতার দক্ষিণের এবং পশ্চিমের বেশ কিছু মিলিশিয়া গোষ্ঠী এবং উপজাতীয় কিছু নেতার আনুগত্য অর্জন করতে সমর্থন হয়েছেন।
ইসলামিক স্টেট কতটা প্রভাবশালী?
গাদ্দাফির পতনের পর ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠী প্রথমবারের মতো লিবিয়াতে তৎপর হওয়ার সুযোগ পায়।
গাদ্দাফির জন্মস্থান সির্তের নিয়ন্ত্রণই নিয়ে নেয় আইএস।
কিন্তু ২০১৬ সালের অগাস্টে মার্কিন বিমান হামলার সহায়তায় মিসরাতাসহ মধ্যাঞ্চলের কিছু মিলিশিয়া গোষ্ঠী সির্ত থেকে আইএসকে উৎখাত করে।
আইএস, যাদের মধ্যে বিদেশী বেশ কিছু যোদ্ধা রয়েছে, এখন আর লিবিয়ার কোনো শহর নিয়ন্ত্রণ করে না। তবে মরুভূমির প্রত্যন্ত কিছু এলাকায় এখনো তারা গোপনে ঘাঁটি গেড়ে রয়েছে।
লিবিয়ায় আইএস এখন ক্ষয়িষ্ণু একটি শক্তি, তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী ত্রিপোলিতে বেশ কিছু চোরাগোপ্তা হামলার পেছনের তাদের হাত ছিল।
প্রধান প্রধান মিলিশিয়া গোষ্ঠী
জেনারেল হাফতারের স্বঘোষিত লিবিয়া ন্যাশনাল আর্মি (এনএলএ) বর্তমানে লিবিয়ার সবচেয়ে ক্ষমতাধর মিলিশিয়া গোষ্ঠী। লিবিয়ার সাবেক সেনাবাহিনীর বেশ কিছু ইউনিট রয়েছে এই বাহিনীতে। তবরুক-ভিত্তিক সরকার এনএলএ-কে সমর্থন করে। এই বাহিনীর প্রধান ঘাঁটি পূর্বাঞ্চলীয় শহর বেনগাজিতে। দক্ষিণের বিভিন্ন উপজাতীয় গোষ্ঠী এবং রক্ষণশীল সালাফি মিলিশিয়াদের সমর্থন পাচ্ছে তারা।
ত্রিপোলি নিয়ন্ত্রণকারী মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সহাবস্থান এবং সহযোগিতার সম্পর্ক থাকলেও বিভিন্ন সময়ে তাদের মধ্যে অর্ন্তকলহ তীব্র লড়াইয়ের রূপ নিয়েছে।
জাতিসঙ্ঘ সবসময় এই অন্তর্কলহ দূর করতে মধ্যস্থতা করে।
ত্রিপোলিতে তৎপর মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়টির নাম ত্রিপোলি প্রটেকশন ফোর্স। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে এটি আত্মপ্রকাশ করে। প্রধানত চারটি মিলিশিয়া গোষ্ঠী মিলে এটি তৈরি হয়েছে : ত্রিপলি রেভল্যুশনারি, আবু সালিম সেন্ট্রাল সিকিউরিটি ফোর্সেস, নাওয়াসি ব্যাটালিয়ন এবং স্পেশাল ডেটারেন্স ফোর্সেস।
ত্রিপোলিভিত্তিক সব গোষ্ঠীই সেখানকার বর্তমান সরকারকে সমর্থন করে না। তাদের একটি সালাহ আল-বুরকি ব্রিগেড। তবে তারা জেনারেল হাফতারের ঘোরতর বিরোধী।
মিসরাতাকেন্দ্রিক ৩১০তম ব্রিগেড- যারা কর্নেল গাদ্দাফি এবং পরবর্তীতে আইএসকে উৎখাতের লড়াইতে বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছিল- তারা জেনারেল হাফতারের এলএনএ-কে ঠেকানোর জন্য ত্রিপোলিতে যোদ্ধা পাঠিয়েছে।
ত্রিপলির আশপাশের শহরগুলোর প্রায় প্রতিটিতেই ভিন্ন ভিন্ন মিলিশিয়া দল রয়েছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিধর হচ্ছে তারহুনা সেভেনথ ব্রিগেড। তারাই এলএনএ-র হাতে ত্রিপোলির পতন ঠেকাতে মুখ্য ভূমিকা রাখছে, এলএনএ বিরোধী মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সমন্বয় করছে।
জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে কীভাবে?
নতুন করে শুরু হওয়া লড়াইতে লিবিয়ায় তেলের উৎপাদন এবং সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
লিবিয়াতে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মুদ্রাস্ফীতি কিছুটা আয়ত্তে এসেছে। কালোবাজারি অনেকটা বাগে এসেছে।
তবে হাসপাতালগুলোতে ওষুধপত্রের অভাব প্রকট। মানুষ সর্বক্ষণ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। বিশেষ করে মেয়েরা বাইরে যেতে ভয় পায়। অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা অহরহ ঘটে।
এক অঞ্চলের মানুষের পক্ষে অন্য অঞ্চলে যাওয়া খুবই বিপজ্জনক। ফলে, জাতিসঙ্ঘের হিসাবে এখনো লিবিয়ায় কমপক্ষে ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করতে হচ্ছে।
বর্তমানে ত্রিপোলিতে যে লড়াই শুরু হয়েছে তাতে এখন পর্যন্ত কম-বেশি তিন হাজার লোক তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে।
সূত্র : বিবিসি
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘আমাদের কাজে মানুষ হাসতো’ -দুই সফল তরুণের কথা by পিয়াস সরকার

তারা প্রশ্ন করতেন মোবাইলে ইন্টারনেট চালায় কয়জন? এতো বাইক পাওয়া যাবে কোথায়? এতো প্রশ্নের মাঝে দৃঢ়তা নিয়ে এগিয়ে যান তরুণ উদ্যোক্তা হুসেইন ইলিয়াস। তার গড়া ‘পাঠাও’ এখন ১০ কোটি ডলারের আর্থিক মূল্যের প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের ৫টি শহরসহ নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে সেবা দিয়ে আসছে। বর্তমানে তারা ৫০ লাখ গ্রাহককে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। চার ধাপে ১ কোটি ২৮ লাখ ডলার পেয়েছে বিনিয়োগ।
মানবজমিন এর সঙ্গে আলাপচারিতায় হুসেইন ইলিয়াস বলেন, পাঠাও যাত্রা শুরু করে ২০১৫ সালে। মাত্র ৩টি বাইক নিয়ে। তিনি বলেন, পাঠাও এমন একটি প্লাটফর্ম যেখানে কয়েক হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে। আর সেবা নিচ্ছে কয়েক লাখ লোক। এই পাঠাও’র জন্য আমাদের করতে হয়েছে টাইম জোন, পেমেন্ট সিস্টেম, টাইম জোন ও ম্যাপ।
তিনি বলেন, আমরা প্রতিদিন জীবনযাত্রায় যেসব সমস্যার মুখোমুখি হয়ে থাকি সেসব সমস্যা দূর করতেই পাঠাও’র মতো একটা সেবা চালু করার প্রয়োজনবোধ করি। ঢাকায় বড় হয়েছি, দেখে আসছি যানজট শুরু থেকেই এক বড় সমস্যা। যেকোনো স্থানে যেতে লেগে যায় অনেক সময়। সবসময় চিন্তা করতাম এই সমস্যার সমাধান কিভাবে বের করা যায়। বর্তমানে মোটর বাইকও প্রাইভেট কারের মাধ্যমে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তারা। পাশাপাশি গড়েছেন ই-কমার্স ডেলিভারি প্লাটফর্ম ও খাবার সরবরাহ সেবা।
হুসেইন ইলিয়াসের জন্ম ১৯৮৯ সালে। এই অর্জনের পাশে সবসময় তার ছায়া সঙ্গি হয়ে আছে পরিবার। বাবা ব্যবসায়ী সেলিম রেজা ও মা রেজিনা সেলিম। তিনি বলেন, বাবা-মা এবং পরিবারের সবাই অনেক আনন্দিত এবং গর্বিত। বাবা-মাকেও অনেকেই ফোন দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। খুব খুশি সবাই।
ভবিষ্যৎ স্বপ্ন সম্পর্কে বলেন, পাঠাও’র সঙ্গে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। এজন্যই আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। ভবিষ্যতে ইচ্ছা পাঠাও এর সেবা শুধু শহরেই নয়, দেশের সবখানেই পৌঁছে যাবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষ না করা ছেলেটি
বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করতে পারেননি মোরশেদ মিশু। তাই হাতে মিলেনি সনদ। কিন্তু নিজের দক্ষতা ও নিজ উদ্যমে জুটিয়েছেন অনেক সম্মাননা। সর্বশেষ বিশ্বখ্যাত ম্যাগাজিন ফোর্বস এর বিশ্ব তরুণদের তালিকায় নাম উঠেছে তার। ‘গ্লোবাল হ্যাপিনেজ চ্যালেঞ্জ’ দিয়ে করেছেন নাম। তার আঁকা ছবিগুলো ছড়িয়ে যায় সারা বিশ্বে। এনে দেয় তারকা খ্যাতি। নাড়া দিয়েছেন বিশ্বের সংবেদনশীল মানুষদের মন। তার নাম মোরশেদ আব্দুল্লাহ আল। পরিচিত মোরশেদ মিশু নামে। তিনি স্বপ্ন দেখেন সংঘাত মুক্ত বিশ্বের। তিনি স্বপ্ন দেখেন শান্তিময় বাসস্থানের। তিনি বলেন, অবচেতন মনেই আমি দৃশ্যগুলোকে অনুধাবন করেছি। যুদ্ধের আদলে শান্তিপূর্ণ বিশ্ব কেমন হতো। তিনি আরো বলেন, ফেসবুকে বারবার ভেসে উঠে যুদ্ধ বিগ্রহের চিত্র। সেই চিত্র নাড়া দেয়। যুদ্ধ বিগ্রহ চলছে বিশ্বজুড়ে। যে ছবিগুলো দেখে খুব খারাপ লাগতো। একদিন রাতে আমি ঘুমাতে পারছিলাম না। ছবিগুলো বারবার ভাবিয়ে তুলছিলো। এরপর অবচেতন মনেই একে ফেলি প্রথম ছবিটি। প্রথম ছবির পর থেমে থাকেননি তিনি। কাজ করে গেছেন। দিয়ে গেছেন শান্তির বার্তা। তার এই কাজগুলোকে স্বীকৃতি দিয়েছে ফোবর্স।
এনে দিয়েছে ‘থার্টি আন্ডার থার্টি’ তালিকায় ‘মিডিয়া, মার্কেটিং অ্যান্ড অ্যাডভার্টাইজিং’ ক্যাটাগরিতে স্থান। শিল্প পাগল মোরশেদ মিশুর জন্ম ঢাকাতেই ১৯৯১ সালে। রাজনৈতিক কারণে তার বাবা এম এ রাজ্জাককে জেলে যেতে হয়েছে। সেই সময় মায়ের অদম্য মানসিকতায় মুগ্ধ তিনি। সংসার সামলিয়েছেন শক্ত হাতে। মায়ের নাম নিলুফার আক্তার। তিন ভাই এক বোনের সংসারে মিশু সবার ছোট। সবার আদরের। ইচ্ছা ছিলো সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দেয়ার। দু’বার পরীক্ষা দিয়েও সুযোগ মেলেনি। ভীষণ হতাশায় কাটছিলো তার দিন। তিনি এলেন ভিন্ন এক মঞ্চে। হাতে তুলে নেন রং তুলি। কিস্তিতে কিনলেন ক্যামেরা। টাকা পরিশোধ হবার আগেই চুরি হয়ে যায় সে ক্যামেরা। এছাড়াও তিনি সিনেমাটোগ্রাফি, গল্প-কবিতাও লিখে থাকেন। একদিন তার আঁকা একটি কার্টুন নিয়ে হাজির হলেন ‘উন্মাদ’ ম্যাগাজিনের অফিসে। ম্যাগাজিনটির সম্পাদক আহসান হাবীব কার্টুনটি দেখেন। আর বলেন, ছেপে দিব। সেই ছেপে দেবোর কথা বলে চলে যায় তিনটি মাস। তিনমাস পর যখন ছাপা হলো আনন্দে আত্মহারা ছিলেন তিনি। এরপর আহসান হাবিব বললেন, সামনে প্রদর্শনী। তোমার আঁকা কার্টুন দিও।
তখন থেকেই মিশুর আগ্রহ জন্মাতে থাকে। এক ছবি বারবার আঁকতেন মিশু। এমনকি একই ছবি ৫বার করে একে জমা দিতেন অফিসে। তখন ২০১২ সাল। সেই থেকেই যুক্ত ম্যাগাজিনটির সঙ্গে। বর্তমানে তিনি সহ সম্পাদক। ফোর্বসের আগে ‘গ্লোবাল হ্যাপিনেস চ্যালেঞ্জ’ এর জন্য পুরস্কার পেয়েছিলেন উন্মাদের ৪০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানেও। পেয়েছিলেন প্রথম পুরষ্কার। ফোর্বসের সম্মাননা পাবার আগে সিএনএন, আল জাজিরাসহ প্রায় শতাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে লেখা ও সাক্ষাৎকার প্রকাশ হয়। তিনি কার্টুন আঁকার পাশাপাশি বিভিন্ন রেঁস্তোরা, অফিস, প্রতিষ্ঠান সাজানোর কাজও করে থাকেন। তবে সময়মতো পারিশ্রমিক না পাবার কারণে ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন আকাঁর কাজ। দিয়েছিলেন ঘোষণাও। তার ঘোষণাটি ছিলো মার্চের পর থেকে আর আঁকবেন না তিনি।
মিরপুর ইউনিভার্সাল কিন্ডারগার্টেনে শিক্ষাজীবন শুরু।
এরপর ভর্তি হন শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজে। ২০০৮ সালে মাধ্যমিক পাশ করে, ২০১০ সালে ঢাকা বিএন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। এরপর কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশে ভর্তি হন। তৃতীয় বছরেই পাঠ চুুকিয়ে ডুব দেন নিজের জগতে। শিশু এখন পর্যন্ত ৯টি জাতীয় ও ২টি আন্তর্জাতিক কার্টুন প্রতিযোগীতায় অংশ নেন। তার আঁকা কার্টুন লন্ডন ও বার্নিলেও প্রদর্শিত হয়েছে। এছাড়াও তিনি অসংখ্য বইয়ের প্রচ্ছদের কাজ করেছেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ওমর আল-বশিরের উত্থান-পতন

তিনি আরো জানিয়েছেন, ওমর আল-বশিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং একটি নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে। কয়েক দশকের যুদ্ধআল-বশিরের রাজনৈতিক জীবনকে যুদ্ধ দিয়েই সবচেয়ে ভালোভাবে বর্ণনা করা যায়। ১৯৮৯ সালে তিনি ক্ষমতায় আসেন এবং শক্ত হাতে দেশ পরিচালনা করেছেন। ২০১১ সালে বিভক্ত হয়ে দক্ষিণ সুদানের জন্ম না হওয়া পর্যন্ত এই দেশটি ছিল আফ্রিকার সবচেয়ে বড় দেশ। যখন তিনি ক্ষমতা দখল করেন, সুদান তখন উত্তর আর দক্ষিণের মধ্যে ২১ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধের মধ্যে রয়েছে।
মি. বশির শক্ত হাতে জবাব দিতে শুরু করেন।
তার বিরুদ্ধে দমন পীড়ন এবং যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ আনে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। তার বিরুদ্ধে ২০০৯ ও ২০১০ সালে দুটি আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারের পরোয়ানা জারি করা হয়। যদিও তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও তিনি ২০১০ ও ২০১৫ সালের দুটি নির্বাচনে বিজয়ী হন। তার সর্বশেষ নির্বাচন বিরোধীরা বর্জন করে। এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কারণে তার ওপর আন্তর্জাতিক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা তৈরি হয়। তারপরেও মি. বশির মিশর, সৌদি আরব আর দক্ষিণ আফ্রিকায় ভ্রমণ করেন। ২০১৫ সালের জুনে তিনি অনেকটা বিব্রতকর ভাবে দক্ষিণ আফ্রিকা ত্যাগ করতে বাধ্য হন, কারণ দেশটির একটি আদালত বিবেচনা করছিল যে, তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাটি কার্যকর করা হবে কিনা।
একীভূত সুদান
ক্ষমতা গ্রহণের আগে সেনাবাহিনীর একজন কমান্ডার ছিলেন মি. বশির। তিনি বিদ্রোহী নেতা জন গ্যারাঙ্গের বিরুদ্ধে বেশিরভাগ অভিযান পরিচালনা করেন। যখন তিনি সুদানিজ পিপলস লিবারেশন মুভমেন্টের পক্ষে গ্যারাঙ্গের সঙ্গে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করেন, তখন তিনি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছিলেন যাতে চুক্তিটি পরাজয় বলে মনে না হয়। তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা অসহায় হয়ে ওই চুক্তিতে স্বাক্ষর করিনি, বরং আমরা যখন বিজয়ের শীর্ষে ছিলাম, তখনি তাতে স্বাক্ষর করেছি।’ তার সব সময়েই লক্ষ্য ছিল একটি একীভূত সুদান রক্ষা করা, কিন্তু শান্তি চুক্তির অংশ হিসাবে দক্ষিণ সুদানের বিষয়ে একটি গণভোট আয়োজন করতে বাধ্য হন।
২০১১ সালের জানুয়ারির গণভোটে ৯৯ শতাংশ দক্ষিণ সুদানিজ ভোটার আলাদা হয়ে যাওয়ার পক্ষে ভোট দেন। ছয় মাস পরে স্বাধীন দক্ষিণ সুদান ঘোষিত হয়। যখন তিনি দক্ষিণ সুদানের স্বাধীনতার পক্ষে সম্মত হন, তখনো দারফুরের প্রতি তার মনোভাব ছিল আগ্রাসী। কিন্তু কৃষ্ণাজ্ঞদের ওপর নির্যাতনের কারণে যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত আরব জানহাওয়েড মিলিশিয়াদের তিনি সমর্থন করেছেন বলে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায় যেসব অভিযোগ করেছে, তা তিনি বরাবরই অস্বীকার করে গেছেন। ওমর আল-বশিরের বিরুদ্ধে আইসিসির যেসব অভিযোগ রয়েছে, তার মধ্যে আছে গণহত্যা, হত্যা, জোর করে বাস্তুচ্যুত করা, ধর্ষণ, নির্যাতন, দারফুরে বেসামরিক লোকজনের ওপর হামলা, গ্রাম ও শহরে লুটতরাজ করা।
সামরিক মনোভাব
মি. বশিরের জন্ম হয় ১৯৪৪ সালে উত্তর সুদানের একটি খামারি পরিবারে। সে সময় সেই এলাকাটি ছিল মিশরীয় রাজত্বের অংশ। তিনি একটি বেদুইন গোত্রের সদস্য ছিলেন। তরুণ বয়সে তিনি মিশরীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ১৯৭৩ সালে ইসরায়েলে বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পর কর্মকর্তা পদে উন্নীত হন। তার ব্যক্তিগত জীবন সমপর্কে কমই জানা যায়। তার কোনো সন্তান নেই এবং ৫০ বছর বয়সের দিকে তিনি দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন। তিনি সুদানের উত্তরের যুদ্ধ বীর হিসাবে পরিচিত ইব্রাহিম শামস আল-দ্বীনের বিধবা স্ত্রীকে বিয়ে করেন।
সংকট ও বিক্ষোভ
সমপ্রতি দেশটিতে রাজনৈতিক বিক্ষোভ জোরালো হয়ে ওঠে। সরকার তেল ও রুটির দাম বাড়ানোর পর তার ৩০ বছরব্যাপী শাসনামলের মধ্যে গত ডিসেম্বরে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ শুরু হয়। গত কয়েক বছর ধরে অর্থনৈতিকভাবে সংকটে ভুগছে সুদান, বিশেষ করে দক্ষিণ সুদান আলাদা হয়ে যাওয়ার পর। কারণ দেশের মোট উত্তোলিত তেলের চারভাগের তিনভাগই রয়েছে দক্ষিণ সুদানে। মুদ্রামান করে যাওয়া ও জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় সংকটে পড়েছে দেশের মানুষজন।মি. বশিরের শাসনামলে দেশটি ২০১৮ সালের ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতির তালিকায় ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৭২ নম্বরে রয়েছে। সর্বশেষ প্রতিরোধ ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি এক বছর মেয়াদি জরুরি অবস্থা জারি করেন মি. বশির। তার মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনেন এবং দেশের সব স্টেট সরকারের গভর্নরদের সরিয়ে দিয়ে সেখানে সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বসিয়ে দেন। কোন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দাবিও নাকচ করে দেন। তার দাবি, বিক্ষোভকারীরা ২০২০ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে তাকে সরিয়ে দিতে পারবে। বিক্ষোভকারীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ ওঠে সরকারের বিরুদ্ধে।
কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, গত ডিসেম্বরে শুরু হওয়া বিক্ষোভে ৩৮ জন মানুষ নিহত হয়েছে, যদিও মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, বাস্তবে এই সংখ্যা অনেক বেশি। জাতীয় গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, তারা সকল রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দিতে যাচ্ছে। কিন্তু এটা এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয় যে, সামরিক বাহিনী সুদানে স্থায়ীভাবে থেকে যেতে চাইবে কিনা। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, তারা চান না, একজন কর্তৃত্ববাদী শাসকের বদলে আরেকজন সেইরকম শাসক ক্ষমতায় আসুক। সুতরাং যখন মি. বশিরের পতনে আনন্দ করছে সুদানের লোকজন, তখন ভবিষ্যতে কোন শাসক আসছে, তা নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগও রয়েছে।
সূত্র : বিবিসি
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গোলানে ইসরাইলি দখলদারিত্ব: আমেরিকাকে যে বার্তা দিল ইউরোপ
ইসরাইলি খাহেশ পূরণের জন্য ট্রাম্প গত ২৫ মার্চ গোলান মালভূমির ওপর ইসরাইলের কথিত সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তার ওই স্বীকৃতির কয়েকদিন পর ইসরাইলের সাম্প্রতিক পার্লামেন্ট নির্বাচনের আগে ইহুদিবাদী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা করেন তিনি নির্বাচিত হলে পশ্চিম তীরের অবৈধ ইহুদি বসতিগুলোকে ইসরাইলি সীমান্তের অন্তর্ভূক্ত করে নেবেন।
তার ওই ঘোষণার পর এখন যে কানাঘুষা শোনা যাচ্ছে সেটি হলো, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পশ্চিম তীরের এই বসতিগুলোর ওপরও ইসরাইলি মালিকানাকে স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছেন।
কিন্তু আন্তর্জাতিক সমাজ এমনকি আমেরিকার মিত্র ইউরোপীয় দেশগুলি পর্যন্ত ট্রাম্পের এ পদক্ষেপ মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা ফেডেরিকা মোগেরিনি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের অধিবেশনে দেয়া ভাষণে বলেছেন, অধিকৃত গোলান মালভূমির ওপর ইসরাইলের মালিকানা স্বীকৃতি দেয়ার মার্কিন পদক্ষেপ ইউরোপ কখনোই মেনে নেবে না।
ইউরোপের এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ১৯৬৭ সালে অনুমোদিত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৪২ নম্বর প্রস্তাব এবং ১৯৮১ সালে অনুমোদিত ৪৯৭ নম্বর প্রস্তাবে গোলান মালভূমিকে সিরিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। ইউরোপ এই আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলবে বলে সুস্পষ্টভাবে জানান মোগেরিনি। একইসঙ্গে জর্দান নদীর পশ্চিম তীরে যেকোনো ধরনের নির্মাণ কাজকে আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ উল্লেখ করে মোগেরিনি তা না করার জন্য ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইহুদিবাদী ইসরাইলের সমর্থনে যেকোনো অন্যায় ও বেআইনি পদক্ষেপ গ্রহণকে ন্যায় ও আইনসম্মত বলে মনে করে বিশ্বের স্বঘোষিত মোড়ল আমেরিকা। কিন্তু গোলান মালভূমির ওপর ইসরাইলি দখলদারিত্বকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ইউরোপ ওয়াশিংটনকে সুস্পষ্টভাবে এই বার্তা দিয়েছে যে, গোটা বিশ্ব এখন আমেরিকার একমেরুকেন্দ্রীক বিশ্বব্যবস্থার বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে। সেইসঙ্গে মোগেরিনির ঘোষণা একথাও প্রমাণ করেছে যে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে ইউরোপ ও আমেরিকার সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইউরোপ-ইরান সহযোগিতা

এদিকে আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ইরান সব সময় দেশটিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা চেয়ে এসেছে। এ ছাড়া, বাইরের হস্তক্ষেপ ছাড়াই আফগান পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সেদেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করার আহ্বান জানিয়ে এসেছে তেহরান।
ঠিক এ কারণেই আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় জড়িত প্রায় সব আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংগঠনের সঙ্গে আফগান শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনায় বসেছে তেহরান। ইইউ’র আফগানিস্তান বিষয়ক বিশেষ দূতের তেহরান সফর একথাই প্রমাণ করে যে, ইরান একমাত্র আলোচনার মাধ্যমে আফগানিস্তানে শান্তি চায়। এ ছাড়া, আফগানিস্তানের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘ সীমান্ত থাকার পাশাপাশি এ অঞ্চলে ইরান একটি শক্তিশালী দেশ হওয়ার কারণে ইউরোপ সঠিকভাবে ধরে নিয়েছে যে, ইরানকে বাদ দিয়ে আফগান সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। সেজন্যই ইইউ’র বিশেষ প্রতিনিধি তেহরান সফরে এসে আফগান সংকট নিয়ে আলাপ করেছেন।
আফগান সংকট সমাধানের ক্ষেত্রে ইরান সেদেশের জনগণ ও সরকারের স্বার্থ রক্ষাকে অগ্রাধিকার দেয়। এ কারণে কাবুল সরকার আফগান শান্তি প্রক্রিয়ায় ইরানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। এ সম্পর্কে আফগানিস্তানের প্রধান নির্বাহী আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ বলেছেন, আফগান শান্তি প্রক্রিয়ায় ইরানের নীতি হচ্ছে এদেশের সরকার, জনগণ ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থন জানানো।”
আফগানিস্তান বিষয়ক রাজনৈতিক ভাষ্যকার ওয়াহিদ মোজদা এ সম্পর্কে বলেছেন, আফগানিস্তান সংকট সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক ভূমিকা রেখে চলেছে ইরান।
এদিকে আফগানিস্তানের সরকার, জনগণ ও সকল রাজনৈতিক দলের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি বজায় থাকা দেশটিতে শান্তি অর্জনের জন্য অতি জরুরি একটি বিষয়। ইরান সব সময় আফগানিস্তানে এই ঐক্য ও সংহতি চেয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে পশ্চিমা দেশগুলো বিশেষ করে আমেরিকা দ্বৈত নীতি গ্রহণ করেছে। নব্য উপনিবেশবাদী আমেরিকা ‘বিভক্ত করে শাসন করো’ নীতিতে বিশ্বাসী হয়ে আফগানিস্তানের সরকার ও জনগণের সম্পর্কে সব সময় অবিশ্বাস তৈরির চেষ্টা করেছে। এ সম্পর্কে আফগানিস্তানের শান্তি বিষয়ক সর্বোচ্চ পরিষদের প্রধান মোহাম্মাদ কারিম খালিলি বলেন, যদি আফগানিস্তানের সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো আলাদা আলাদাভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে তাহলে সেদেশে কোনোদিনও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে না।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাঙামাটিতে হাত বাড়ালেই ইয়াবা by আলমগীর মানিক

জেলার অন্যতম কাপ্তাই হ্রদের মধ্যদিয়ে সীমান্তের ওপার থেকে বিভিন্ন পণ্যের সঙ্গে নিয়ে আসা হচ্ছে ইয়াবা ট্যাবলেট। এ অবস্থায় ইয়াবার ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ ও পুলিশ সুপার আলমগীর কবীর। মঙ্গলবার রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত জেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই দুই কর্মকর্তা রাঙামাটিতে মাদকের ব্যবহার বেড়েছে মন্তব্য করেন। এই পরিস্থিতিতে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগের ব্যাপারেও একমত হন তারা।
সভায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর রাঙামাটি কার্যালয়ে নতুনভাবে যোগদান করা সহকারী পরিচালক আবদুল হানিফের পরিচয় তুলে ধরার সময় তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার উভয়েই দৃঢ় কন্ঠে বলেছেন, এতদিন রাঙামাটিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যক্রম তেমন একটা দৃশ্যমান ছিলো না। এ অবস্থায় রাঙামাটিতে মাদকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আনতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে সাড়াশি অভিযান পরিচালনার আহবান জানিয়ে ডিসি-এসপি জানান, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর কিছু সদস্যকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হবে, যাতে করে তাদের সঙ্গে নিয়ে অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা করতে পারে।
এক্ষেত্রে কারও কোনো প্রকার তদবিরে কান না দিয়ে নিজেদের অস্থিত্বের জানান দিতে রাঙামাটির মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নবনিযুক্ত সহকারী পরিচালক আবদুল হানিফের প্রতি আহবান জানিয়েছেন প্রশাসনের এই উর্ধতন দুই কর্মকর্তা।
এদিকে, সরজমিনে শহর ঘুরে এবং জেলার বিভিন্ন সংস্থা ও পুলিশের বিশেষ সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, দোর্দন্ড প্রতাপের সঙ্গে চালিয়ে যাওয়া এই মাদক সিন্ডিকেটকে নানাভাবে ব্যাকআপ দিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও কিছু প্রশাসনিক কর্মকর্তা। এই ব্যাকআপের জ্বালানী হিসেবে কাজ করছে নেতাদের বাড়তি পাওনা।
মাদকের খুচরা বাজার মধ্যম বয়সী কিছু ‘বড় ভাই’ এতদিন নিয়ন্ত্রণ করলেও বর্তমানে তারা ব্যবহার করছে অল্প বয়সী কিশোরদের। আড়াল থেকে তাদের হাতে যারা মাদক পৌঁছে দিচ্ছে, তারা মূলতঃ বড় দু’টি রাজনৈতিক দলের সহযোগী সংগঠনের খোলস পড়ে নিজেদের নেতৃত্বের আড়ালে নেতাদের বিভ্রান্ত করছে।
মধ্যমসারীর এই নেতাদের রাজনৈতিক কোন উচ্চাভিলাস বা আদর্শ নেই। তাদের একটাই চাহিদা- দলের ছত্রছায়ায় থেকে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া। ইতিমধ্যে সরকারদলের ছাত্রসংগঠনসহ কয়েকটি সংগঠনের কয়েকজন নেতা দামি দামি গাড়ি, সিএনজি অটোরিক্সা-মোটর সাইকেলসহ বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়েছেন। যেগুলো পরিচালিত হচ্ছে ভিন্নভাবে। এই সকল নেতার বেশি সংখ্যকই শহরের রিজার্ভ বাজার এবং বাকি কয়েকজন তবলছড়ি, বনরূপা ও ভেদভেদী এলাকার বাসিন্দা।
প্রাপ্ত তালিকানুসারে শহরে অন্তত: ৮০ জন ইয়াবা ব্যবসায়ী খুচরা পর্যায়ে প্রত্যক্ষভাবে ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করছে। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ইয়াবা বিক্রির ক্ষেত্রে রাঙামাটি শহরের অন্যতম প্রধান হাট হলো রিজার্ভ বাজার এলাকা। আবাসিক হোটেল ব্যবসায়ী, ডেকোরেশন ব্যবসায়ী, সিএনজি মালিক-চালক, আপেলের দোকানদার, তেলের দোকানদার, ট্রাক ড্রাইভার থেকে কসাই পরিবারের সদস্যও রিজার্ভ বাজার এলাকায় ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িত রয়েছে।
রিজার্ভ বাজার, পৌর ট্রাক টার্মিনাল, উন্নয়ন বোর্ড, পার্ক এলাকা, আবদুল আলী এলাকা, হোটেল সৈকতের পেছনে, চেঙ্গী মুখ, নীচের রাস্তা ও পুলিশ লাইন স্কুল এলাকায় ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে অন্যতম হলো- বেলাল, রোমান, ডেঞ্জু, ইউছুপ, দিদারুল আলম, বাদশা, হুমায়ুন, সোহাগ, সজিব, রাজু, রুবেল ওরফে কবির, পারভেজ, আক্তার, হাবিব, কাদের, মোকতার, কাশেম, রতন, আনোয়ার, নাছির, সাবু, রুবেল, আরজু, ফোরকান, জুয়েল, বাবু ড্রাইভার, সোহেল, রাজু মারমা।
অপরদিকে, শহরের তবলছড়িতে ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িত রয়েছে ছোট নুরুন্নবী, নুরুল আমিন, মোতালেব ভান্তে, দিপু, সারোয়ার, আনিছ, দোকানদার সম্ভু, উৎপল, রনি, সাদ্দাম, মানিক, মিন্টু, শহিদুল ইসলাম ধনি, রেজা, সুমন, নুনু, সাগর, জনি চাকমা, রুবেল ড্রাইভার, পান্না, নাঈম, ফার্মেসী বাবু, সিএনজি দিদার, পারভেজ, খোকন চাকমা, দুলু, কাউছার, লিটন, বাবা সেলিম, আলমগীর ও আলাউদ্দিন।
এসব ব্যক্তিরা তবলছড়ির পর্যটন এলাকা, কেরানী পাহাড়, সিলেটি পাড়া, বিডিআর রোড, ব্রাক্ষ্মন টিলা, নারিকেল বাগান, মালিপাড়া, মাশরুম এলাকা ও আসামবস্তি এলাকায় সার্বক্ষণিক বিচরণ করে ইয়াবা বিক্রি করছে অবাধে।
এদিকে শহরের বাসটার্মিনাল, কাঁঠালতলী, আলম ডকইয়ার্ড থেকে শুরু করে বনরূপা, কোর্ট বিল্ডিং, পাবলিক হেলথ ও সদর হাসপাতাল এলাকা, কলেজ গেট ও ভেদভেদী পর্যন্ত ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িতরা হলো- আজিজ, সুমন, ছোটন, সজল, মনসুর (সস্ত্রীক), হাশেম (সস্ত্রীক), নুর নাহার, মেজবাহ, বাপ্পী, বাবু, জসিম, রুবেল, সোহেল, রুহুল আমিন, সুজন, আলিফ, শিমূল, আরিফ, জনৈক কালামের ছেলে, সুমন দাশ, ডোম সুজন, শাহীন আলম, বেলাল ও সিওঅফিসের জনৈক ফার্নিচার ব্যবসায়ী।
একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রতিনিয়ত ইয়াবা বিক্রির অভিনব কৌশল ব্যবহার করছে সরবরাহকারীরা। তাদেরই একজন ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করে হাতে নগদ টাকা গ্রহণ করে মুঠোফোনের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়, ‘নারিকেল বাগান এলাকায় নির্দিষ্ট নাম্বারের গাছের গোড়ায় ইয়াবা রাখা আছে, সেগুলো নিয়ে নিন।’
অপরদিকে পুলিশের কয়েকজন অফিসারের তৎপরতার মুখে ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িতরা এখন শহরের রাজপথ ছেড়ে নদীকেই বেছে নিয়েছে নিরাপদ রুট হিসেবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নদীতে আনাঘোনা কম থাকাসহ অভিযানের সময় নদীর পানিতে ফেলে দিয়ে ধোকা দেয়া যায়। এছাড়াও পানিতে ঝাপ দিয়ে নিজেকে রক্ষা করা যায়। এ কারণেই কাপ্তাই হ্রদকেই বর্তমানে ইয়াবা বিক্রির অন্যতম হাট বানিয়েছে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা। সম্প্রতি বেশ কয়েকজন ইয়াবা ব্যবসায়ী আকস্মিকভাবেই বোটের মালিক বনে গেছে। আধুনিক সুযোগ সুবিধা নির্ভর বোট বানিয়ে নদীতে চালাচ্ছে। এ সকল বোটের মাধ্যমে একমাত্র ইয়াবা বিক্রির কাজটিই করে থাকে ব্যবসায়ীরা। প্রতিটি ট্যাবলেট ২০০-৫০০ টাকা পর্যন্ত মূল্য নিয়ে ক্রেতার হাতে পৌঁছে দেয়া হয়।
এদিকে রাঙামাটি কোতয়ালী থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আমরা অনেক সময় রাজনৈতিক তদবিরে অসহায়বোধ করি। কিছু কিছু জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতার অতিমাত্রার তদবিরে অতিষ্ট হয়ে উঠে আমাদের অফিসাররা। তাই অনেক সময় আমাদের সদিচ্ছা থাকলেও অফিসাররা মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে পারছেন না।
এদিকে, কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মীর জাহেদুল হক রনি জানিয়েছেন, গত দেড়মাসে কোতয়ালী থানায় ২৩টি মাদকের মামলা রুজু হয়েছে। এতে ২৫ জন আসামী গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়াও তালিকাভুক্ত অনেকেই বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে প্রতিদিনই আমরা অভিযান পরিচালনা করছি।
কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মাঠ পর্যায়ের সদস্যরা জানিয়েছেন, রাঙামাটি শহরে কর্মরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকজন সদস্যও নিয়মিত ইয়াবা সেবনসহ ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে জড়িত হয়ে ব্যবসায় লিপ্ত রয়েছে। এদের কারণেই যেকোনো সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে পড়তে পারে তাদের স্ব-স্ব বাহিনীর উর্ধতন কর্তৃপক্ষ। তাই শর্ষের মধ্যে ভূতগুলো তাড়াতে না পারলে সরকার ঘোষিত ‘চল যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’ শ্লোগানটি কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সুবর্ণচরে কেন এত ধর্ষণ? by জিয়া চৌধুরী

গত কয়েক বছরে ফেনী জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সুবর্ণচর এলাকা থেকে ফৌজদারী মামলাও দায়ের হচ্ছে তুলনামূলক বেশি। এক সময়ের শান্ত-নিরিবিলি জনপদ কেন হঠাৎ করে অস্থির হয়ে উঠলো? গত দুই দিন ধরে সুবর্ণচরের কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় নেপথ্যে কাহিনী।
স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মহলের দাপটে কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন গ্রামের মানুষজন। নির্যাতন, হয়রানি ও লুটপাটের শিকার হয়েও মুখ খুলছেন না অনেকে। স্থানীয়দের নিজেদের নিয়মে করা শালিস ও বিচারেই সীমাবদ্ধ থাকতে হচ্ছে বেশিরভাগ মানুষকে। থানা-পুলিশ ও আদালতে যাওয়ার ব্যাপারেও ভীতি আছে নির্যাতন-হয়রানির শিকার পরিবারগুলোতে।
গত বুধবার সুবর্ণচরের চর জুবলী ইউনিয়নের অন্তত বিশটি পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এমন তথ্য। গত ৩০শে ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন রাতে এক নারীকে তার স্বামী ও ছয় সন্তানের সামনে গণধর্ষণ করে স্থানীয় কয়েকজন। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করলেও বাকি পাঁচ অভিযুক্ত আসামি হানিফ, চৌধুরী, মোশাররফ হোসেন, মিন্টু ও সোহেলকে এখনো ধরতে পারেনি পুলিশ। স্থানীয় চর জব্বার থানা পুলিশ ও ক্ষমতাসীন প্রভাবশালীদের সহায়তায় আসামিরা অধরা বলে অভিযোগ ধর্ষণের শিকার নারীর পরিবারের।
পাঁচ আসামির মধ্যে হানিফ স্থানীয় চার নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ও গ্রেপ্তার রুহুল আমিনের আত্মীয়। তার দোকানে বসেই এমন সংঘদ্ধ অপরাধের চক্রান্ত হয় বলে ভাষ্য আশেপাশের মানুষদের। এছাড়া আরেক আসামি চৌধুরী বিভিন্ন সময়ে বনদস্যু ও জলদস্যু ছিল এমন কয়েকজনকে নিয়ে গড়ে তুলেছে নিজস্ব ক্যাডার গ্রুপ চৌধুরী বাহিনী। মামলার বাকি তিন আসামি মোশাররফ হোসেন, মিন্টু ও সোহেল চৌধুরী এই বিশেষ বাহিনীতে কাজ করে বলে জানান নির্যাতনের শিকার ওই নারী। মোটরসাইকেল ও দেশীয় নানা অস্ত্র দিয়ে মহড়া দেয় এই বাহিনী। তাদের দাপটে প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকতে হয় স্থানীয় মানুষদের। আর ৩০শে ডিসেম্বর গণধর্ষণের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ও সাবেক ইউপি সদস্য রুহুল আমিন এই বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ করেন বলেও মানবজমিনকে জানান অন্তত দশটি পরিবারের সদস্যরা।
গণধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার থাকলেও জামিনে বেরিয়ে এসে আবারো তার ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করবে বলেও স্থানীয়দের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে রুহুল আমিনের পরিবার এবং তার সাঙ্গপাঙ্গরা। নিজেদের ভিটেমাটিতে থাকতে এখন ভয় পাচ্ছেন অনেকে। গণধর্ষণের শিকার ওই নারী ও স্বামী গতকাল চট্টগ্রাম থেকে মুঠোফোনে মানবজমিনকে জানান, মামলার পর থেকে আমাদের নানা রকমের হুমকি দেয়া হচ্ছে। মামলায় শেষ পর্যন্ত কিছুই হবে না বলেও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
রুহুল আমিন জামিনে বেরিয়ে এসে আবারো দেখে নেবে বলে হুমকি দিয়েছে তার পরিবারের সদস্যরা। নির্যাতনের শিকার নারীর বাড়ির আশেপাশের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, হেন কোন অপকর্ম নেই রুহুল আমিন ও তার নিয়ন্ত্রণে থাকা চৌধুরী বাহিনীর সদস্যরা করে না। রুহুল আমিন মাঝি নামে স্থানীয় একজন জানান, এই বাহিনীর ভয়ে সন্ত্রস্ত থাকতে হয় আমাদের। আমি নিজেও কয়েকবার তাদের নির্যাতন-হয়রানির শিকার হয়েছি। এখন কথা বলতেও ভয় পাই।
স্থানীয় একজন নারী জানান ৩০ ডিসেম্বর গণর্ধষণের ঘটনার পরদিনও ইসমাইল নামে এক যুবককে বেদম নির্যাতন করে রুহুল আমিন ও তার বাহিনীর সদস্যরা। ইসমাইলকে উদোম করে রুহুল আমিনের আত্মীয় ও মামলার আসামি হানিফের দোকানে নিয়ে প্রকাশ্যে বেঁধে রাখা হয়। ইসমাইলকে মারধরের পর স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিলেও তারা এ বিষয়ে কারো কাছে মুখ খোলেনি। ধর্ষণের শিকার নারী ওই যুবককে হাসপাতালে দেখেছেন বলেও মানবজমিনকে জানান।
স্থানীয় এনজিও কর্মী মুন্নি জানান, ৩০শে ডিসেম্বরের গণধর্ষণ শুধু নয় রুহুল আমিনের হাতে এমন অন্তত আরো অর্ধশত নারী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে। তবে অনেকেই ভয়ে মুখ খুলছে না। নিজে নির্যাতিত হলেও অনেকে কখনো থানা-পুলিশের দ্বারস্থ হয়নি। স্থানীয় নারীরা রুহুল আমিনের কুনজরের শিকার হলে তাদের বিশাল বাগানবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হতো বলেও জানান মুন্নি। তিনি মানবজমিনকে বলেন, ২০১০ সালের দিকেও এমন ছিলো না রুহুল আমিন। এর আগে কোর্ট মোহরার ও ব্রিকফিল্ডে কাজ করলেও ২০১১ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে চর জুবলী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ইউপি সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তার দাপট বেড়ে যায়। চর জুবলীতে শুরু হয় রুহুল আমিনের রাজত্ব। মানুষের জমি দখল, শালিসের নামে টাকা নেয়া, সকালে বিয়ে বিকালে ডিভোর্সের আদেশ, গাছ কেটে নেয়া, জমির ফসল জোর করে কেড়ে নেয়ার মতো নানা অপকর্ম করতো তার সাঙ্গপাঙ্গরা। এলাকায় রুহুল আমিনই ছিলো বিচারক। তার আদেশই ছিলো শিরোধার্য। অনেক পরিবারের জমিজমার মীমাংসা করে দেবে বলে তাদের থেকে হাতিয়ে নেয় লাখ লাখ টাকা।
এসব ভুক্তভোগী পরিবার এখন ধীরে ধীরে এসব বিষয় সামনে আনতে শুরু করেছে। ২০১৭ সালে এরকম এক সালিসে ছোট্ট একটি বাছুর চুরির অভিযোগে স্থানীয় চারজনের দশ লাখ টাকা জরিমানা করে রুহুল আমিন। ঘটনার সময় ওমানে থাকলেও ফাঁসানো হয় নূরনবী নামে এক প্রবাসীকে। জহির, রাশেদ ও মনি ঘটনায় জড়িত না থাকলেও দিতে হয় জরিমানা। চার জনে মিলে সেই সালিশে প্রায় ৯ লাখ ৯৬ হাজার টাকা জরিমানা দেন। যার সিংহভাগই নিজের পকেটে ভরে নেন রুহুল আমিন। নানা সময় রুহুলের অপকর্মের প্রতিবাদ করলে মুন্নি নামে ওই এনজিওকর্মীকে মাদকের মামলায় ফাঁসানোরও হুমকি দেয় সে। জাতীয় নির্বাচনের পর মুন্নিকে জবাই করে হত্যার হুমকি দেয় বলেও মানবজমিনকে অভিযোগ করেন এই নারী। এছাড়া নির্বাচনের পর ১১টি পরিবারকে দেখে নেয়ার জন্য পরিকল্পনাও করা হয় বলে অভিযোগ করেন ষাটোর্ধ্ব মীনা বেগম। স্বামী ও ছেলে সন্তান না থাকায় চার মেয়েকে নিয়ে প্রতিনিয়ত ভয়ের মধ্যে থাকতে হয় তাকে।
তিনি বলেন, ‘কোনখানে যাওনের জায়গা নাই। থাকলে কবেই চইল্যা যাইতাম। মাঝে মাঝে মনে লয় আমরা মনে হয় রোহিঙ্গা, বার্মার মতো এখানে আমাদের নির্যাতন করা হচ্ছে।’ প্রায় আট বছর ধরে চর জুবলী ইউনিয়নে থাকছেন বাবুল চৌধুরী নামের একজন। ৩০শে ডিসেম্বর গণধর্ষণের ঘটনার পর প্রথম ওই নারীকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন তিনি। মানবজমিনকে বলেন, সুবর্ণচর ও চর জুবলী ইউনিয়নজুড়েই প্রতিহিংসার রাজনীতি। এখানে শিক্ষার হারও কম।
বেশিরভাগ পুরুষ বছরের প্রায় ছয় মাস কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে ইট ভাটায় কাজ করে। আর যারা সুবর্ণচরে থাকে তারাও শ্রমিক না হয় কৃষিকাজ করে। পুরুষরা ছয় মাস বাড়িতে না থাকার সুযোগ নেয় রুহুল আমিন ও তার চৌধুরী বাহিনীর সদস্যরা। দুর্বল শ্রেণির এসব মানুষকে দিন দিন শুষে খাচ্ছে এখানকার চক্রটি। আমরা মাঝে মাঝে কেউ প্রতিবাদ করলেও ভয়ে পিছিয়ে যাই। সন্ত্রাসীদের কাছে আধুনিক অস্ত্র না থাকলেও লাঠিসোটা, কিরিচ ও বল্লমের ভয়ে সব সময় তটস্থ থাকতে হয়। কারও উপর নির্যাতন করলেও অন্য কেউ এগিয়ে আসে না। কেউ ভয়ে ঘর থেকে বের হয় না। কোন পরিবারই চায় না তার নিজের ক্ষতি হোক। কিন্তু দিনশেষে প্রত্যেকেই কোন না কোনভাবে হয়রানি-নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে।
চর জব্বর ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী মো. মানিক রতন বলেন, এখানকার প্রতিনিধিরা একেবারে নিম্ন পর্যায় থেকে উঠে আসেন। রাজনীতিতে কোন ভালো মানুষের জায়গা নেই। শ্রমিকরা এখন মানুষের বিচার আচার করছেন। ব্রিকফিল্ডে কাজ করেন সাদ্দাম হোসেন, এমডি বেলাল হোসেন, কবির ও ইসমাইল। তারাও অভিযোগ করেন বাড়িতে না থাকায় তাদের পরিবার ও স্বজনদের নানা সময়ে হয়রানি নির্যাতন করেছে চক্রটি।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবর্ণচর শিক্ষার্থী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জামশেদ উদ্দিন বলেন, এখানকার বাসিন্দা হিসেবে আমাদের জন্য এটা অন্তত দুঃখের। তবে, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নব্য রাজনীতিবিদদের দাপটে সুবর্ণচর আবারো অশান্ত হয়ে উঠছে। জামশেদ উদ্দিনের সঙ্গে সুর মিলিয়ে প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও চর জুবলী ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য সিদ্দিক উল্ল্যাহ বলেন, আমরাও এক সময় রাজনীতি করেছি। অথচ আমার একখান ঘরও নাই। অথচ রুহুল আমিন এক মেয়াদে ইউপি সদস্য হয়েই কোটিপতি বনে গেছে। এসব মানুষের নির্যাতন আর হয়রানি আর কামানো টাকা। আল্লাহর কাছে বিচার দেয়া ছাড়া আমগো আর কিছুই করনের নাই।
রুহুল আমিনের কথিত বাগানবাড়িতে গিয়ে সাবেক ইউপি সদস্য সিদ্দিক উল্লাহর কথার সত্যতা পাওয়া যায়। স্থানীয় চির খালের পাড়ে কয়েক একর জায়গায় বিশাল বাড়ি, সামনে পুকুর। খালের ওপরে সরকারি তহবিলের টাকায় বানানো হয়েছে বিশাল সেতু। বাড়ির সামনে দিয়ে চওড়া রাস্তা ও ভেতরের দালান গাজীপুরের বিভিন্ন বাগানবাড়ির কথাই মনে করিয়ে দেয়। পথে দেখা হওয়া একজন বাসিন্দা বলেন, ক্ষমতার দাপটে কাউকে পরোয়া করতো না রুহুল আমিন। তার দীর্ঘশ্বাস বলে দেয় বাগানবাড়িকে ঘিরে আছে সুবর্ণচর ও চরজুবলীর হাজারো মানুষের দুঃখ।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1426)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
-
▼
2019
(6282)
-
▼
April
(369)
-
▼
Apr 21
(9)
- ছবিতে শ্রীলঙ্কায় সিরিজ বোমা বিস্ফোরণ
- শ্রীলঙ্কায় গির্জা, হোটেলে সিরিজ বোমায় নিহত ১৫৬, সে...
- লিবিয়ায় কেন এতো নৈরাজ্য, এখন কার নিয়ন্ত্রণে?
- ‘আমাদের কাজে মানুষ হাসতো’ -দুই সফল তরুণের কথা by প...
- ওমর আল-বশিরের উত্থান-পতন
- গোলানে ইসরাইলি দখলদারিত্ব: আমেরিকাকে যে বার্তা দিল...
- আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইউরোপ-ইরান সহযোগিতা
- রাঙামাটিতে হাত বাড়ালেই ইয়াবা by আলমগীর মানিক
- সুবর্ণচরে কেন এত ধর্ষণ? by জিয়া চৌধুরী
-
▼
Apr 21
(9)
-
▼
April
(369)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...