Monday, May 21, 2018

ব্রিটেনের রাজপরিবারের ব্যতিক্রমী কয়েকটি বিয়ে

কুইন ভিক্টোরিয়া সাদা সিল্ক সাটিনের পোশাক পরেন।
ব্রিটেনের রাজপরিবারের যেসব বিয়ে হয়েছে এ পর্যন্ত তার সব গুলোই যে যথার্থ বা পারফেক্ট দম্পতি ছিল এমনটা বলা যায় না।
নানা কারণে বেশ কয়েকটি বিয়ে ইতিহাসে ব্যতিক্রমী বিয়ে হিসেবেই চিহ্নিত হয়েছে।
রাজপরিবারের বিয়ের যে লম্বা তালিকা রয়েছে তার সর্বশেষ নাম যোগ হতে যাচ্ছে প্রিন্স হ্যারি এবং মেগান মার্কেলের।
তবে লম্বা এই তালিকায় রয়েছে বিয়েকে কেন্দ্র করে শিরশ্ছেদের মত ঘটনা। রয়েছে শিশু কনের গল্প, কোটি কোটি দর্শক টিভির সামনে বসে বিয়ে দেখা ইত্যাদি নানা ঘটনা। দ্যা হোয়াইট ওয়েডিং
কুইন ভিক্টোরিয়া শুধু ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের সুপরিচিত শাসকদের একজন ছিলেন না, তিনি লক্ষ লক্ষ মানুষ যেভাবে বিয়ে করে সেটা পরিবর্তন করতেও সাহায্য করেছিলেন।
তিনি ১৮৪০ সালে প্রিন্স আলবার্টকে বিয়ে করেন। বিয়ের অনুষ্ঠান স্বাভাবিকভাবেই জাঁকজমকপূর্ণ হয়েছিল।
কিন্তু ব্যতিক্রমী ছিল কুইন ভিক্টোরিয়ার বিয়ের পোশাক। তিনি সাদা রঙের সিল্ক সাটিনের একটা পোশাক পরেন।
সেই সময়ে এটা ছিল খুব অস্বাভাবিক একটা বিষয়। সেই সময়কার বিয়েতে কনেরা সাধারণত পরতেন বিভিন্ন রঙের গাউন এবং তার ওপরে সোনা অথবা রুপার কাজ করা থাকতো।
যদিও রানী ভিক্টোরিয়া প্রথম নারী ছিলেন না যিনি তাঁর বিয়েতে সাদা পোশাক পরেছিলেন কিন্তু তার বিয়ের খবর সারা বিশ্বে ছড়িয়েছিল।
এবং কনেদের মধ্যে সাদা রঙের গাউন পরা একটা ট্রেন্ড বা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছিল। বিশ্বব্যাপী দর্শক যে বিয়ের
প্রিন্স উইলিয়াম এবং ক্যাথরিন মিডলটনের বিয়ের অনুষ্ঠান এত মানুষ দেখেছিল যে এমনকি তাদের মেইড অব অনার এবং কনের বোন পিপ্পাও রীতিমত আন্তর্জাতিক খ্যাতি পেয়ে যান।
কয়েকটি পত্রিকা এবং ওয়েবসাইটের খবরে বলা হয় দুই বিলিয়ন মানুষ বিশ্বব্যাপী ২০১১ সালের সেই বিয়ের অনুষ্ঠান দেখেছেন।
কিন্তু একটা সরাসরি অনুষ্ঠান আসলেই কত মানুষ দেখছে তার সঠিক গণনা করাএটা প্রায় অসম্ভব।
তাই এটা একটা ভুল খবর হতে পারে। ব্রিটিশ সরকারের কালচার, মিডিয়া এবং স্পোর্টস বিভাগ প্রথম ধারণা করেছিল কত দর্শক হতে পারে এই বিয়ের অনুষ্ঠান দেখার জন্য।
পরে সেই সংখ্যাটাই বারবার খবরে বিভিন্ন স্থানে উল্লেখ করা হয়। তবে সংখ্যাটা যতই হোক না কেন সেটা অবশ্যই প্রিন্স চার্লস এবং লেডি ডায়ানার বিয়ের দর্শকের চেয়ে বেশি। রোমান্টিকতার ছোয়া কম এমন বিয়ে
এখনকার দিনে রাজ পরিবারের বিয়ে হচ্ছে একে অপরের প্রেমে পড়ে, অনেক দিন প্রেমে হাবুডুবু খেয়ে তারপরে পরিণয়।
কিন্তু একটা সময় ছিল যখন বিয়ে হত একটা রাজনীতির হিসাব-নিকাশ বা বন্ধুত্ব তৈরি করার মাধ্যম হিসেবে।
তেমনি এক বিয়ে ছিল কুইন প্রথম মেরি এবং স্পেনের দ্বিতীয় ফিলিপের মধ্যেকার বিয়েটা।
দুই দেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক প্রভাব বিস্তার এবং ইউরোপে রোমান ক্যাথলিজমকে আরো শক্তিশালী করা ছিল ১৫৫৪ সালের ঐ বিয়ের মূল উদ্দেশ্য।
বিয়ের চার বছর পর মেরি মারা যান, খবর আছে এক বছরের বেশি সময় ফিলিপের সাথে তার দেখা হয়নি।
পরে ফিলিপ তার বোনকে পাঠানো একটা চিঠিতে লিখেছিলেন তার মৃত্যুতে আমি যৌক্তিকভাব অনুতপ্ত। তবে সেই চিঠিতে স্ত্রী বিয়োগের কষ্টের কথার চেয়ে ফ্রান্সের সাথে কূটনৈতিক সমঝোতার বিষয়েই বেশি কথা ছিল।
বহুবিবাহ
ইংল্যান্ডের হেনরি অষ্টম ছিলেন সবচেয়ে বেশি বার বিয়ে করা রাজা। তিনি প্রথম বিয়ে করেন ১৫০৯ সালে। কনে ছিলেন তার মৃত ভাইয়ের স্ত্রী ক্যাথরিন অব অ্যারাগন।
তিনি একটা কন্যা সন্তান জন্ম দেয়ার পর তাকে তালাক দেন হেনরি।
এরপর বিয়ে করেন অ্যানি বোলিনকে, তিনিও একটা কন্যা সন্তান জন্ম দেন। এদিকে রাজা তখন একটা পুত্র সন্তানের জন্য পাগল প্রায়।
তিনি আবারো বিয়ে করলেন জেন সেইম্যুরকে। এই নারী একটা পুত্র সন্তানের জন্ম দেয়ার কিছুকাল পরেই মারা যান।
হেনরি এরপর বিয়ে করেন অ্যানি অব ক্লিভসকে। এই বিয়েটা ছিল জার্মান প্রোটেস্টান্টদের সমর্থন পাওয়ার আশায়।
কিন্তু ছয় মাস পরেই তালাক দেন তাকে।
যখন তিনি ৫০ বছরের কাছাকাছি তখন বিয়ে করেন কিশোরী ক্যাথরিন হাওয়ার্ডকে।
দুই বছর পর তাকে শিরশ্ছেদ করে হত্যা করেন। তার সর্বশেষ বিয়ে ছিল ক্যাথরিন মার এর সাথে।
এই নারীর সাথে তিনি মৃত্যু অবধি ছিলেন। হেনরি মৃত্যুবরণ করনে ১৫৪৭ সালে। নারীবাদী বিয়ে
প্রিন্স চার্লস এর সাথে লেডি ডায়ানা স্পেনসারের বিয়ে নানা কারণে উল্লেখযোগ্য।
১৯৮১ সালের এই বিয়েতে ডায়ানা যে পোশাক পরেছিলেন সেইটি ছিল দৈর্ঘ্যে সবচেয়ে বেশি। বলা হয় এটা সবচেয়ে দামি পোশাকগুলোর মধ্যে একটি ছিল।
একই সাথে এই বিয়েকে প্রথম নারীবাদী বিয়ে হিসেবে দেখা হয়। কারণ কনে বিয়ের সময় তার স্বামীর 'বাধ্য থাকবে' এমন যে প্রতিজ্ঞা করতে হয় সেটা তিনি করেন নি।
ডায়ানা প্রিন্স চার্লসের থেকে ১৯৯২ সালে আলাদা হয়ে যান।
পরে তিনি জনসম্মুখে প্রিন্স চার্লসকে নিয়ে সমালোচনা করেন।
তিনি অন্য পুরুষের সাথে প্রেম করেছেন এটাও স্বীকার করেন।
তারা ১৯৯৬ সালে বিবাহ বিচ্ছেদ করেন। ১৯৯৭ সালে ডায়ানা এক গাড়ী দুর্ঘটনায় মারা যান।
সূত্রঃ বিবিসি

যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপে আগ্নেয়গিরিতে প্রকৃতির খেলা

মে মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপের সক্রিয় আগ্নেয়গিরি কিলাওয়েয়া হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়ে ওঠে।জ্বালামুখ থেকে উদগীরন হতে থাকে টগবগ করে ফুটতে থাকা লাভা, ছাই, ধোয়ার কুণ্ডলী আর গ্যাস।দু সপ্তাহ পর এখনো অগ্ন্যূৎপাত। এই আগ্নেয়গিরির নাটকীয় কিছু ছবি এর পর থেকে বিস্ময় তৈরি করেছে অনেকের মধ্যে।আগ্নেয়গিরি বিশেষজ্ঞ তামসিন মাথার ও ডেভিড পাইল আগ্নেয়গিরির নাটকীয় এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করেন। চলুন যেনে নেয়া যাক।
সৃষ্টি আর ধ্বংস
হাওয়াই দ্বীপের সবচাইতে শক্তিশালী আগ্নেয়গিরি হল এই কিলাওয়েয়া।১৯৮৩ সাল থেকে এর পূর্ব অংশ থেকে সারাক্ষণই লাভা বের হয়।সেই লাভার ঝরনা আর তার স্রোতে ১৪৪ স্কয়ার কিলোমিটার এলাকা চাপা পড়ে গেছে।প্রায় সাড়ে ১৪ কিলোমিটার রাস্তা ধ্বংস হয়ে গেছে। কিন্তু আগ্নেয়গিরিটির কারণে দ্বীপের সাথে নতুন জমিও তৈরি হয়েছে।
জ্বালামুখ ও লাভা লেক
২০০৮ সালে গ্যাস বের হওয়ার নতুন মুখ তৈরি হতে থাকে।কয়েক বছর ধরে আস্তে আস্তে আগ্নেয়গিরিটির জ্বালামুখে রীতিমতো লাভার লেক তৈরি হয়ে গেছে।এ বছরের মার্চ ও এপ্রিলে বন্যার পানির মতো গনগনে সেই লাভার উচ্চতা বাড়তে থাকে।আবার কয়েক সপ্তাহ পর আবার তা নেমে যায়।
লাভার স্রোত
কিলাওয়েয়ার লাভাকে বলা হয় বিশ্বের সবচাইতে গরম। জ্বালামুখের আশপাশে রয়েছে নালার মতো।সেগুলো থেকে ধীরে ধীরে যখন লাভার স্রোত নামতে থাকে তার উপরের অংশে আস্তরণ তৈরি হয়।কিন্তু নিচের দিকে ঠিকই চলে লাল গনগনে লাভার স্রোত।একই সাথে আস্তে আস্তে স্তর পরে যাওয়া কালো শুকনো লাভা সামনে এগুতে থাকে।মনে হয় যেন সিমেন্টের ব্লক কিন্তু অনেক বেশি কালো তার রঙ।তার নিচে ধ্বংস হতে থাকে জমি। কখনো স্তর ভেঙে বেরিয়ে আসে নতুন সরু ধারা।
আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ
ভূতাত্ত্বিকরা ১৯৯২ সাল থেকে কিলাওয়েয়া আগ্নেয়গিরির উপর নজর রাখছেন।কিভাবে পৃথিবীর মাটির আবরণের নিচে এর কার্যক্রম চলে সে সম্পর্কে তাদের বেশ ধারনা হয়েছে।তাদের মতে উদগীরনের ধাপে ধাপে ভূপৃষ্ঠে নতুন ফাটল দেখা দেয়।এর কোনটা দিয়ে গরম গ্যাস বের হয়। আবার কোথাও থেকে জ্বলন্ত লাভা।আস্তে আস্তে লাভা লেকে লাভার উচ্চতা কমতে থাকে এবং তা ভূপৃষ্ঠের পানির স্তরে নেমে যায়।এসময় বিস্ফোরণের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। ভূপৃষ্ঠের পানির সাথে মিশে গেলে ধোয়ার বিস্ফোরণ ঘটে।এতে তৈরি হওয়া গ্যাসে থাকে সালফার ডাই-অক্সাইড।যা বাতাসের মান নষ্ট করে দেয়। তার ফলে শ্বাসকষ্ট ও অ্যাজমার প্রকোপ বাড়ে।আগ্নেয়গিরি নিয়ে বহু গবেষণা হলেও এর অনেক আচরণ এখনো সঠিকভাবে পূর্বাভাস দেয়া যায়না।
সূত্র  -- বিবিসি

ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে এত মৃত্যু! ৮ বছরে শুধু ঢাকা অঞ্চলেই নিহত ১৩২ by শুভ্র দেব

ট্রেনের ছাদে বিপজ্জনক ভ্রমণে ঘটছে একের পর এক ঘটনা। ঝরছে অনেক তাজা প্রাণ। শূন্য হচ্ছে মা বাবার কোল। বিপজ্জনক, ভয়ংকর জেনেও অনেকেই ভ্রমণ করছে ট্রেনের ছাদে । আবার ছাদে ভ্রমণ করে সর্বস্ব হারিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন অনেক। তবুও থেমে নেই ছাদে ভ্রমণ। ঢাকা রেলওয়ে থানার পরিসংখ্যান অনুযায়ী ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে গত ৮ বছরে শুধুমাত্র ঢাকা অঞ্চলে মারা গেছেন ১৩২ জন। এরমধ্যে ২০১০ সালে ১০ জন, ২০১১ সালে ১২ জন, ২০১২ সালে ১৯ জন, ২০১৩ সালে ৬ জন, ২০১৪ সালে ৩ জন, ২০১৫ সালে ২ জন, ২০১৬ সালে ১৪ জন, ২০১৭ সালে ৫৮ জন ও ২০১৮ সালের মে পর্যন্ত ৮ জন। যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে শিক্ষার্থী, কর্মজীবী, চাকরি, শ্রমিক, রিকশাচালক, দিনমজুরসহ নানা পেশার মানুষ রয়েছে। ঢাকা রেলওয়ে থানার পরিসংখ্যান থেকে জানা যারা নিহত হয়েছেন তাদের বেশির ভাগের বয়স  ১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে।
২১শে ফেব্রুয়ারির ঘটনা। ঢাকার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন চার বন্ধু। সাপ্তাহিক ছুটির বাইরে সরকারি বাড়তি ছুটি পেয়ে একসঙ্গে বাড়ি ফিরছিলেন। ঢাকা থেকে দিনাজপুরগামী দ্রুতযান ট্রেনের ছাদে বসে গল্প করতে করতে যাচ্ছিলেন তারা। একপর্যায়ে নওগার রাণীনগরের একটি ওভার ব্রিজের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ছিটকে পড়েন সবাই। খবর পেয়ে সান্তাহার জিআরপি পুলিশ তাদের গিয়ে উদ্ধার করেন। ততক্ষণে তাদের মরদেহটাই সেখানে পড়ে ছিল। জিআরপি সূত্রে জানা গেছে নিহতরা হলেন, দিনাজপুর চিরিবন্দর উপজেলার জাহাঙ্গীর আলম, নওগাঁর সাপাহার উপজেলার আমিনুল ইসলাম, পঞ্চগড় বোদা উপজেলার আপেল মাহমুদ ও পার্বতীপুর উপজেলার মো. মনির। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে তাদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। শুধু তাই নয় গত ৭ই মে নেত্রকোনার পূর্বধলা থেকে ঢাকাগামী বলাকা কমিউটার ট্রেনের ছাদে উঠেছিল ১৩ বছর বয়সী কিশোর ইমরান হোসেন। পূর্বধলার থেকে শ্যামগঞ্জ যাওয়ার পথে চলন্ত ট্রেনেই সে এক বগি থেকে আরেক বগিতে লাফ দেয়। কিন্তু সে পড়ে যায় দুই বগির ফাঁকে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ইমরান ময়মনসিংহের ঈশ্বরদী উপজেলার ফানুর গ্রামের মোস্তফার ছেলে।
অসচেতনতা ও অসাবধানতাবশত যে শুধু ট্রেনের ছাদ থেকে মৃত্যুবরণ করছে এমন না। এর বাইরে ট্রেনের ছাদ থেকে ফেলে হত্যার অভিযোগ রয়েছে অহরহ। ২৩শে মার্চ গফরগাঁওয়ে ঘটেছে এমনই এক ঘটনা। চারিপাড়া রেল ক্রসিংয়ে অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর দেয়া হয় পুলিশে। পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। ততক্ষণে খবর চলে যায় ওই যুবকের বাড়িতে। স্বজনরা এসে তার মরদেহ শনাক্ত করে। ৩৯ বছর বয়সী ওই যুবকের নাম খোকন মিয়া। সে পাগলা থানার দিঘারপাড় গ্রামের বাসিন্দা। একটি সিগারেট কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে সে কাজ করতো। কিন্তু পরিবারের অভিযোগ খোকনকে ট্রেনের ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। তার স্বজনরা জানিয়েছেন, পারিবারিক কাজে সে টঙ্গী গিয়েছিল। রাতেই তার বাড়ি ফেরার কথা রয়েছে। কিন্তু গভীর রাতে খোকনের মোবাইল ফোন থেকে অজ্ঞাত কেউ ফোন দিয়ে জানায় খোকন অসুস্থ। সে জামালপুরের দেওগঞ্জে আছে। জরুরি চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। তাই ৫ হাজার টাকার প্রয়োজন। টাকা পাঠানোর পর আর খোকনের মোবাইলে তারা যোগাযোগ করতে পারেননি। তাদের অভিযোগ ছিনতাইকারীরা খোকনকে ট্রেনের ছাদ থেকে ফেলে দিয়েছে।
ঢাকা রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইয়াসিন ফারুক মানবজমিনকে বলেন, আমরা ট্রেনের ছাদে ভ্রমণের পক্ষে না। কারণ ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে অনেকেই মারা গেছেন। তাই আমরা যাত্রীদের ট্রেনের ছাদে উঠতে মানা করি। কোনো যাত্রীকে ট্রেনের ছাদে দেখলে সঙ্গে সঙ্গে নামানো হয়। তারপরও অনেক যাত্রী আছে যারা টিকিট কেটে ছাদে উঠে বসে থাকে। বিশেষ করে গরমের দিনে বাতাসের জন্য অনেকে ছাদে উঠে। ওসি বলেন, কিছু বিশেষ দিনে ট্রেনে যাত্রীদের চাপ থাকে অনেক। তখন পুলিশ বাধা দিলেও কোনো কোনো কাজ হয় না। কারণ রেলওয়ে পুলিশের জনবল কম। একটি ট্রেনে দায়িত্ব পালন করে ২-৩ জন পুলিশ। যখন একসঙ্গে শতাধিক যাত্রী ছাদে উঠে তখন আর সম্ভবপর হয় না। অনেক যাত্রী এক সঙ্গে উঠলে তখন আর কিছু করার থাকে না। তবে আমরা জনসচেতনার জন্য কাজ করছি। লিফলেট বিতরণ, জনসচেতনতামূলক সভা, মাইকিং করে থাকি।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, শখের বশে, সিট সংকট অথবা প্রচণ্ড গরমে বাতাসের জন্য অনেকেই ট্রেনের ছাদে উঠেন। এর বাইরে অপকর্ম করতে অনেকেই ছাদে উঠে। বিশেষ করে মাদকসেবীরা নির্বিঘ্নে সেখানে মাদক সেবন করে। ছিনতাইকারীরা ছিনতাই করে। আবার পূর্ব শত্রুতার জের ধরে অনেকেই ধাক্কা মেরে ফেলে দিচ্ছে। আবার অন্যত্র হত্যা করে ট্রেনের উপর থেকে ফেলে দেয়া। অপরাধ ঢাকতে এমন পথ অবলম্বন করে অপরাধীরা। কারণ ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যুতে সাধারণত আসামিকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগে অনেক সময় থানায় মামলা হয়। তবে মামলার তেমন কোনো অগ্রগতি থাকে না। দিন পার হলে ঘটনাটিকে শুধুই অসাবধানতাবশত মৃত্যু হিসাবে ধরে নেয়া হয়। সূত্র বলছে, ট্রেনের ছাদে অপরাধ হলে প্রত্যক্ষদর্শী বা সাক্ষী খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। চলতি বছরের ২৪শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্য বাড়ি থেকে বের হয় নরসিংদীর ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী সাকিব খান। সে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল। পরে ওই দিনই রেলওয়ে পুলিশ ঢাকার বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা কর্ণফুলি এক্সপ্রেসের ছাদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। সাকিব নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের হোমিও চিকিৎসক মো. শরফুউদ্দিনের ছেলে। মা পারুল বেগম ফুলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। সাকিবের বাবার অভিযোগ ছিল স্থানীয় এক ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে তার ছেলেকে খুন করা হয়েছে। ফেসবুকে নরসিংদীর স্থানীয় এমপির ছবির নিচে খারাপ কমেন্টস করার জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে। 
বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. শামসুউদ্দিন মানবজমিনকে বলেন, ট্রেনে ছাদে ভ্রমণে আমরা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছি। এরপরও যারা ছাদে ভ্রমণ করে মাঝে মধ্যে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়। তবে ঈদ আসলে তাই নিয়ন্ত্রণ করা অনেকটা কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি ট্রেনের ছাদে ভ্রমণে যাত্রীদের নিরুৎসাহিত করার জন্য। জনসচেতনতার জন্য লিফলেট, মাইকিং, পোস্টারিং, সভা করা হয়।

প্রিন্সেস ডায়ানার আশীর্বাদ যেন...

প্রয়াত প্রিন্সেস ডায়ানা ও শাশুড়ি প্রিন্সেস ডায়ানার প্রতি বিশেষভাবে শ্রদ্ধা প্রকাশ করলেন সদ্য বৃটিশ রাজবধু মেগান মার্কেল, ডাচেস অব সাসেক্স। এখন থেকে অনেক দিন আগে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন তার শাশুড়ি ডায়ানা। তখন প্রিন্স হ্যারি অনেক ছোট। আজ তিনি পরিণত। জীবনের সঙ্গে গেঁথেছেন মার্কিন অভিনেত্রী মেগান মার্কেলকে। শনিবার বৃটেনে দু’জনে গাঁটছড়া বাঁধলেন আনুষ্ঠানিকভাবে। সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ তা প্রত্যক্ষ করেছে। টেলিভিশনের নিয়মিত সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। সরাসরি ও বিশেষ পর্ব প্রচার করতে থাকে দিনভর। পুরো বৃটিশ জাতি যেন এদিন মেতে ছিল এই বিয়ে নিয়ে। একুশ শতাব্দীতে এসে এটিই বৃটিশ রাজপরিবারের সবচেয়ে আলোচিত বিয়ে। এ দিন ‘লিলি হোয়াইট’ রঙের সান্ধ্যকালীন সিল্কের পোশাক পড়ে সন্ধ্যার দিকে বের হয়ে আসেন নতুন ডাচেস অব সাসেক্স মেগান মার্কেল (৩৬)। তার এ পোশাকটির ডিজাইনার স্টেলা ম্যাককার্টনি। তারা উইন্ডসোর ক্যাসেলে সেইন্ট চ্যাপেলে একজন আরেকজনের হাতে আংটি পরিয়ে দেন। তবে এ সময় অর্থাৎ সন্ধ্যার আয়োজনে মেগানের হাতে ছিল নতুন একটি অলঙ্কার। সেটি কি? যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত পিপল ম্যাগাজিন নিশ্চিত করছে, সেই অলঙ্কারটি ছিল তার শাশুড়ি প্রিন্সেস ডায়ানার হাতের আংটি। সেটি মেগান মার্কেল পরেছিলেন তার ডান হাতে। যখন তিনি সান্ধ্যকালীন অনুষ্ঠানে ফটোসাংবাদিকদের উদ্দেশে হাত নেড়েছেন তখন তা দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আংটিটিকে বলা হয় একুয়ামেরিন রিং। ১৯৯৭ সালে নিলামকারী প্রতিষ্ঠান ক্রিস্টিতে ডায়ানা তার পোশাক নিলামে তুলেছিলেন। সেখানে তার হাতে ছিল ওই একুয়ামেরিন রিং। এটা খুবই বিখ্যাত একটি আংটি। এই আংটিটিই সব নয়। এটি একটি সেটের অংশ। এর অন্য অংশ হলো একটি একুয়ামেরিন ব্রেসলেট। ওই আংটিটির সঙ্গে তা ৫টি হিরা দিয়ে যুক্ত ছিল। ১৯৯৬ সালে অস্ট্রেলিয়ায় এক গালা নৈশভোজে তিনি এ দুটিই পরেছিলেন। বহু বছর পর সেই আংটি উঠে এলো মেগান মার্কেলের হাতে। তিনি প্রমাণ করে দিলেন সময় অতীতের গর্ভে চলে গিয়েছে। কিন্তু তিনি তার প্রয়াত শাশুড়ি, অপরূপা প্রিন্সেস ডায়ানাকে অবজ্ঞা করেন নি। তাকে তিনি ভুলে যান নি। তার জন্য বিশেষ সম্মান তার বুকের কোণে রয়েছে। তার আংটি হাতে পরে তিনি তার স্পর্শ পাওয়ার চেষ্টা করেছেন। এই আংটিই যেন তার কাছে ডায়ানার আশীর্বাদ হয়ে বর্ষিত হচ্ছিল।

ভুয়া বিয়ে, বাসরের পর পালিয়েছে প্রেমিক

দশ বছরের জানাশোনা। একে অপরকে ভালোবেসে মন দেয়া-নেয়াও হয়ে যায়। মেয়ের টাকায় পড়াশুনার খরচ চালায় ছেলে। টাকার প্রয়োজন হলেই প্রেমিকার দ্বারস্থ হতো প্রেমিক। হাতের কাছে যা থাকতো সবই তুলে দিতো ভালোবাসার মানুষের কাছে। এভাবেই গত দশ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছে তাপসী আক্তার (২২) ও হাফেজ নাঈমুর রহমান নাইমের (২৫) সাথে। সবই ঠিকঠাক। পড়াশোনা শেষ হলে পারিবারিকভাবে বিয়ে করে সংসারের স্বপ্ন দেখছে তাপসী। সেই স্বপ্নে কুঠারাঘাত করে প্রেমিক নাঈম। মাঝে মধ্যেই প্রেমিকাকে একান্তই কাছে পেতে প্রস্তাব দিতে থাকে নাঈম। তার প্রস্তাবে ধরা দেয় না প্রেমিকা। শেষ পর্যন্ত ফন্দি আঁটে ভুয়া বিয়ের। প্রেমিকাকে রাজি করায় সেই বিয়েতে। গোপনে সেরে ফেলে বিয়ের কাজ। ভুয়া কাজি, ভুয়া কাবিন, বাসর হয়। ভোর হতে না হতেই চলে যায় নাঈমুর। তারপর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় প্রেমিক। বিষয়টা শেষ পর্যন্ত আদালতে গড়ায়। নাঈম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ও সোনাতলা উপজেলার চালালকান্দি মসজিদের ইমাম। ঘটনাটি বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার রাধাকান্তপুরে ঘটেছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার পাকুল্যা পশ্চিমপাড়ার আনিছার রহমান আকন্দের ছেলে নাঈমুর রহমান নাঈম একই উপজেলার রাধাকান্তপুর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের মেয়ে তাপসী আক্তারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ায়। দীর্ঘ দিন প্রেমের সম্পর্কের পর নাঈম তাকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিয়ে আসে। তার সেই কুপ্রস্তাবে তাপসী রাজি না হওয়ায় নাঈম ভুয়া বিয়ের ফন্দি আঁটে। বিয়ের কথা বলে ১৭ই মার্চ তাপসীকে বাড়ি থেকে ডেকে আনে নাঈম। বিয়েতে রাজি হয় তাপসী। নাঈমের ঠিক করা ভুয়া কাজি শালিখা গ্রামের আবদুস সবুর বিয়ের সব কার্যক্রম শেষ করে। ভুয়া কাবিননামায় তাদের বিয়ে হয়। বিয়েতে ১০ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করা হয়। নগদ ৫০০ টাকা তুলে দেয়া হয় নতুন বউয়ের হাতে। আত্মীয়ের বাসায় রাতে বাসর হয়। ওই দিন ভোরেই বউকে রেখে নাঈম চলে যায় কুষ্টিয়ায়। তারপর থেকে আর যোগযোগ করে না।
তাপসী জানায়, মোবাইলে নাঈমের সঙ্গে অনেক দিন যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। কিন্তু সে মোবাইল রিসিভ করেই খারাপ ব্যবহার করে। অকথ্য ভাষায় গালি দেয়। সে বিয়ের কথা অস্বীকার করে তাপসীকে বলে, তোমার সাথে যে বিয়ে হয়েছে সেটা ভুয়া। কাবিননামাও ভুয়া। বিষয়টি নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে বিপদ হবে বলে হুমকি দেয়।
তাপসী বিষয়গুলো পরিবারের লোকজনকে জানায়। তারা নাঈমের পরিবারকে বিষয়টি অবহিত করে। নাঈমের পরিবার সেই বিষয়ে কোন গুরুত্ব দেয়নি। উল্টো তাপসীর পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমেও বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছে তাপসীর পরিবার। তাতেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। নাঈম একটি প্রভাবশালী মহলের আশ্রয় নিলে সোনাতলা থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি।
পরে ১৮ই এপ্রিল তাপসী বাদী হয়ে বগুড়া জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ একটি মামলা করে। মামলায় নাঈমকে প্রধান আসামি করা হয়। তাপসী জানায়, নাঈমকে সে সরল বিশ্বাসে ভালোবাসতো। তার মনে এতো খারাপ বুঝতে পারিনি। তাপসী জানায়, নাঈমের পড়ালেখার খরচের সিংহভাগ সে দিতো। তার পরেও নাঈম তার সাথে বেঈমানী করবে ধারনা করতে পারিনি। সে প্রতারক নাঈমের বিচার চায়।
মামলার বিষয়টি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিকেশন (পিবিআই) বগুড়ায় আছে। তদন্ত করছেন পুলিশের সাব-ইন্সপেক্ট আরশাদুল। তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছে, বিষয়টি নিয়ে বিষদভাবে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

ঢাকা মেডিকেল থেকে বকুল যখন ভারতের হাসপাতালে

মাসের পর মাস অজ্ঞাত এক বুকব্যথা রোগে ভুগছিলেন বাংলাদেশি ৩৭ বছরের নারী বকুল আক্তার। বাংলাদেশে তার রোগ ধরা পড়েনি। আর সেটাই কিনা মাত্র ১৫ মিনিটে তিনি আরোগ্য হলেন ভারতের লক্ষ্ণৌতে। গতকাল এ খবর দিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া। সঞ্জয় গান্ধী পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (এসজিপিজিআই)-এ গত ১৯শে এপ্রিল চিকিৎসা হয় তার। এশিয়ার সাধারণ একটি রোগের নাম হলো হৃদরোগ। শনাক্ত হলো যে, বকুল এমন এক ধরনের হৃদরোগে ভুগছিলেন, তা বিরল। ডাক্তারি পরিভাষায় তিনি করোনারি আর্টারি ডিজিজ (ক্যাড)-এর খুবই অপ্রচলিত ঘরানার এক রোগের শিকার হয়েছেন। এর ফলে তার প্রধান ধমনীর মুখ আক্রান্ত হয়। ক্যাড  রোগীদের মধ্যে মাত্র ৫ ভাগ রোগীর  দেহে এটা শনাক্ত হয়। বকুল বলেন, এতদিন চিকিৎসকরা তার গ্যাস্ট্রিক হয়েছে বলে সন্দেহ করে আসছিলেন। যদিও তিনি অসহ্য ব্যথায় মরে যাওয়ার মতো অনুভূতি বহন করে চলছিলেন।
বকুলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ এসজিপিজিআই-এর গ্যাস্ট্রোঅ্যান্টারোলজি বিভাগে রেফার করেছিল। কিন্তু ওই বিভাগের প্রফেসর উদয় ঘোষাল বকুলকে তার বুকের পরীক্ষার জন্য কার্ডিওলজি বিভাগে  প্রেরণ করেন। কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান প্রফেসর পিকে গোয়েল বলেন, বকুল হেঁটে আসার সময় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন। তার ব্যথাতুর মুখে স্পষ্টতই অ্যাঞ্জাইনায় আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ ফুটে উঠেছিল। অ্যাঞ্জাইনা  রোগীরা একধরনের যন্ত্রণা সহ্য করেন, যখন রোগের কারণে তাদের বুকের  পেশি পর্যাপ্ত অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত লাভ করে না। বকুলকে দ্রুত অ্যানজিওপ্লাস্টি করানো হয়। আর তার রিপোর্টেই এ ক্যাড শনাক্ত হয়।
বাংলাদেশে কেন বকুলের রোগ শনাক্ত হয়নি, সেই বিষয়ে প্রফেসর গোয়েল সাংবাদিকদের বলেন, তার শরীরের প্রধান ধমনীর আগার সরু প্রান্ত আক্রান্ত হয়েছিল। এটা সচরাচর দেখা যায় না। আর রোগ শনাক্ত করার বিষয়টি বিশেষজ্ঞ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার বিষয়, যা আমাদের রয়েছে।’ তিনি আরো বলেন,  রোগীকে নিরাময় করতে তারা একটি অপ্রচলিত উপায় অবলম্বন করেন। বকুলকে তারা কোনো কার্ডিয়াক সার্জেন্টের কাছে প্রেরণ করেননি। কারণ সেখানে তাকে লম্বা লাইনে থাকতে হবে। সে কারণে আমরা তার অ্যানজিওপ্লাস্টি করাই এবং ১৫ মিনিট সময় ন্যূনতম ব্যথা পেতে পারেন, এমন একটি প্রক্রিয়া অবলম্বন করে আমরা তার উপশম নিশ্চিত করতে সক্ষম হই।
বকুল সমাজের একটি অনগ্রসর অংশ  থেকে উঠে এসেছেন। তার কথায়, আমি ধরেই নিয়েছিলাম, এই ব্যথা সহ্য করাই হবে আমার নিয়তি। আমি ভাবতাম এই ব্যথা নিয়েই আমাকে মরতে হবে। কিন্তু এই চিকিৎসকরা আমার জন্য একধরনের ম্যাজিকই  দেখালেন। এই চিকিৎসা আমার জীবনে আরো কয়েকটি বছর যুক্ত করেছে। প্রতি নিঃশ্বাসে আমি তাদের জন্য দোয়া করবো।

এশিয়ায় সবচেয়ে প্রবীণ মাহাথির শেখ হাসিনা চতুর্থ নেতা

এশিয়ায় সবচেয়ে প্রবীণ বা মুরব্বি নেতা এখন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ। এ তালিকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রয়েছেন চতুর্থ অবস্থানে। উল্লেখ্য, সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয় ড. মাহাথিরের জোট। এর ফলে ৯২ বছর বয়সে তিনি আবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। তার সমান বয়সী আর কোনো
রাষ্ট্রপ্রধান এখন বিশ্বে আর নেই। ফলে তিনিই সবচেয়ে প্রবীণ রাষ্ট্রপ্রধান। অন্যদিকে বয়সের হিসাবে চতুর্থ সিনিয়র রাষ্ট্রপ্রধান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তার বয়স এখন ৭০ বছর। ফলে তিনি এ তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছেন। বিরোধী রাজনীতিকরা এবারে মালয়েশিয়ার নির্বাচনে মাহাথিরের বয়স বিবেচনায় তার বিরোধিতা করেছিলেন। তারা বলেছিলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে যুৎসই নন। তবু মালয়েশিয়ানরা তাকেই বেছে নিয়েছেন। ৯২ বছর বয়সে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বয়সী রাষ্ট্রপ্রধান হলেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে তিনি ২১ বছরের বড়। আর কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর বয়সের দ্বিগুণ বয়সী। ডাটা লিডস’কে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে অনলাইন দ্য ডেইলি স্টার। এতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা। তিনি বর্তমানে তার পিতার রাজনৈতিক উত্তরসূরি। তিনি দুটি সামরিক শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করে এখনো টিকে আছেন। টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির অন্যতম ছিলেন তিনি। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঠাঁই দেয়ার জন্য তিনি যেমন প্রশংসিত হয়েছেন, তেমনি ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে দমনপীড়ন করার কারণে দেশের ভেতরে সমালোচিত হয়েছেন।
ওদিকে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রড্রিগো দুতের্তের বয়স ৭৩ বছর। তার দেশে তিনি সবচেয়ে সমালোচিত। অকূটনৈতিক সুলভ বক্তব্য ও মাদকের বিরুদ্ধে তিনি যে লড়াই করছেন সে কারণে তীব্র সমালোচিত হয়েছেন। লাওসে প্রধানমন্ত্রী থেংলোন সিসোলিথের বয়স ৭২ বছর। ২০১৬ সাল থেকে তিনি ক্ষমতায় আছেন। লাওসের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে তিনি রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। শ্রীলঙ্কায় সবচেয়ে কম বয়সী মন্ত্রী ছিলেন রনিল বিক্রমেসিংহে। ৬৯ বছর বয়সে এসে তিনি দেশটির দশম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। অন্যদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিশ্বজুড়ে দৃষ্টি আকৃষ্ট করেছেন। সেখানে এ পর্যন্ত যত রাজনৈতিক নেতা বিখ্যাত হয়েছেন তার মধ্যে তাকে অন্যতম হিসেবে ধরা হয়। যদিও সেখানে তার অধীনে সংখ্যালঘুদের অধিকার লঙ্ঘন বাড়ছে।
তার জনপ্রিয়তা দৃশ্যত যা-ই হোক কিন্তু কমছে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া, মিয়ানমার, নেপাল, সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রপ্রধানদের সবার বয়স ৬৬ বছর করে। কম্বোডিয়ার হুন সেন ক্ষমতায় আসেন ১৯৮৫ সালে। তার বয়স এখন ৬৫ বছর। তাকে বিশ্বের সবচেয়ে বেশিদিন ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখা হয়। তিনি খেমাররুজ ঘটনায় বিপর্যস্ত অবস্থা থেকে দেশকে টেনে তুলেছেন। তবে তাকে দেখা হয় অত্যন্ত স্বৈরশাসক হিসেবে। তার দেশে রয়েছে অত্যন্ত নাজুক মানবাধিকারের রেকর্ড। চাইনিজ কমিউনিস্ট পার্টির নেতা শি জিনপিংয়ের বয়স ৬৪ বছর। সংবিধান তাকে দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালীদের অন্যতম হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এমন সম্মান মাও সেতুংয়ের পর আর কাউকে দেয়া হয় নি।

অনিক হত্যার নেপথ্যে- by রুদ্র মিজান

চাঞ্চল্যকর জিয়াউল হক অনিক হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছিল কিশোর গ্যাং। হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা ওমর ফারুককে গ্রেপ্তারের পর জানা গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুটি গ্রুপের মধ্যে চলছিল দ্বন্দ্ব। পুরো উত্তরা নিয়ন্ত্রণ করতে মরিয়া ছিল দুটি গ্রুপ। তুচ্ছ ঘটনাতেই  পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটতো তাদের মধ্যে। মোবাইলে সেলফি ধারণ করে ফিল্মি স্টাইলে সশস্ত্র হামলা চালাতো। এই ভয়ঙ্কর প্রতিযোগিতায় প্রাণ দিতে হয়েছে মা-বাবার একমাত্র ছেলে অনিককে। এই হত্যাকাণ্ডে ২০ থেকে ২৫ জন জড়িত রয়েছে বলে তথ্য পেয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি। এরমধ্যে একজন পাড়ি দিয়েছে বিদেশে। এ পর্যন্ত এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছে পাঁচজন। ২০১৫ সালের ২৭শে মে উত্তরার সাত নম্বর সেক্টরে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় অনিককে।
গ্রেপ্তারের পর ডিবি পুলিশের কাছে অনিক হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়েছে ওমর ফারুক। উত্তরায় তখন দুটি গ্রুপ সক্রিয়। উত্তরা পাওয়ার গ্রুপ ও উত্তরা পাওয়ার বয়েজ গ্রুপ। দিনে-রাতে চলতো আড্ডা। খেলার মাঠ, ফুটপাথ, বাসার ছাদ, মেয়েদের স্কুল ও কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা। মেয়েদের টিজ করা। নিজেদের গ্রুপের বাইরে অন্য কাউকে খবরদারি করতে না দেয়াই ছিল তাদের কাজ। দুটি গ্রুপে ছিল মূলত স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া ছেলেরা। এক গ্রুপ অন্য গ্রুপকে মেনে নিতে পারতো না কিছুতেই। মূলত পাওয়ার গ্রুপের সঙ্গে ঝগড়া বাধাতেই ওই গ্রুপের মাহিনের কাছে দুইশ’ টাকা চাঁদা দাবি করে পাওয়ার বয়েজ গ্রুপের শিবলু রহমান অপু। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এ ঘটনার পর উত্তরার সাত নম্বর সেক্টরে পাওয়ার বয়েজ গ্রুপের অপুকে মারধর করে পাওয়ার গ্রুপের সদস্যরা। মারধর করে অপুকে আহত করে তিন নম্বর সেক্টরে অবস্থান নেয় তারা। খবর পেয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পাওয়ার বয়েজ গ্রুপের মধ্যে।
তারা তখন নয় নম্বর সেক্টরে আইডিয়াল কলেজের পাশে। সজীব, আকাশ, মারুফ হোসেন, ওমর ফারুকসহ এই গ্রুপের কিশোররা সশস্ত্র অবস্থায় সাত নম্বর সেক্টরের উদ্দেশে যাত্রা করে। তিন নম্বর সেক্টরে যেতেই ইমরান হোসেন নামে তাদের গ্রুপের এক সদস্য জানায়, শিবলুকে মারধর করার সময় সেখানে ছিল জিয়াউল হক অনিক। তার পরই ঘটে ঘটনা। সশস্ত্র কিশোর গ্রুপটি ফিল্মি স্টাইলে খুঁজতে থাকে অনিককে। কিছুক্ষণের মধ্যে ২৫ নম্বর রোডে দেখা মেলে অনিকের। তারপরই রক্তের ভয়ঙ্কর খেলায় মেতে উঠে তারা। ঝাপটে ধরে তাকে। অনিক তখন ‘আমাকে মেরো না, আমাকে মেরো না, বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিৎকার করছিল। কিল, ঘুষির একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাত করা হয় তাকে।
সুইচ গিয়ার ছুরি দিয়ে অনিকের বুকের ডান পাশে ও পাঁজরে দুটি আঘাত করা হয়। ওমর ফারুকের স্বীকারোক্তি অনুসারে মারুফের কাছে ছিল ছুরি। সুইচ গিয়ার ছুরি দিয়ে আঘাত করে মারুফ। রক্তে ভেসে যায় পিচঢালা পথ। রাস্তায় পড়ে থাকে অনিক।
অনিকের বাবা একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মচারী জসিম উদ্দিন জানান, সেদিন বেলা সাড়ে তিনটায় বাসা থেকে প্রাইভেট পড়তে গিয়েছিল আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র অনিক। পাঁচটার দিকে বাসার গেট দিয়ে ঢুকার সময় সান নামে অনিকের এক বন্ধু তাকে ডেকে নেয়। এ সময় ইমতিজার নামে একটি ছেলে সানের সঙ্গে ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা দিয়ে জসিম উদ্দিন বলেন, অনিকের ওপর হামলা হলে সান ও ইমতিজার পালিয়ে যায়। হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার পর আশপাশের লোকজন অনিককে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। অনিক হত্যাকাণ্ডে এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে উত্তরার ওয়াইড ভিশন কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ওমর ফারুককে। সে ময়মনসিংহের ধোপাউড়া থানার বেদিকুড়া গ্রামের মৃত আবদুল হাশেমের পুত্র। তার আগে গত ১৬ই এপ্রিল কিলিং মিশনে অংশগ্রহণকারী মারুফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। গ্রেপ্তারকৃত অন্যরা হচ্ছে, ফয়েজ আবদুল্লাহ, ইমরান হোসেন ও মাহিন। নিহত অনিক বাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়ার আইরল গ্রামের জসিম উদ্দিনের সন্তান। তার পিতা জসিম উদ্দিন বলেন, আমার দুই সন্তানের মধ্যে একমাত্র পুত্র অনিক। তাকে হারিয়ে আমার পৃথিবী অন্ধকার হয়ে গেছে। এভাবে যেন কোনো বাবা তার ছেলেকে না হারান। এজন্য গ্যাং কালচারের সম্পর্কে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অনিক হত্যায় জড়িতরা প্রভাবশালী। তারা যেন রেহাই না পায়। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন অনিকের পিতা জসিম উদ্দিন।
এ বিষয়ে ডিবির সিনিয় সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. কায়সার রিজভী কোরায়েশী বলেন, দুটি কিশোর গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই অনিককে হত্যা করা হয়েছিল। ইতিমধ্যে অনিক হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা মারুফ ও ওমর ফারুককে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। মারুফ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে বলে জানান তিনি।

বেসরকারি শিক্ষকদের রাজনীতির লাগাম টানার উদ্যোগ by নূর মোহাম্মদ

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পথ বন্ধ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে নীতিমালা করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মন্ত্রী পরিষদের এমন উদ্যোগে সায় মিলেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। বিষয়টি নিয়ে এখন কাজ করছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক প্রতিবেদন ও শিক্ষকদের অধিক মাত্রায় রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আলোকে এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে সরকারের এমন উদ্যোগকে সংবিধান ও নাগরিকবিরোধী বলে আখ্যা দিয়েছেন শিক্ষক নেতারা। আগামী নির্বাচনে শিক্ষকদের নির্বাচনের বাইরে রাখার জন্য কিছু দুর্নীতিবাজ আমলা এমন অপতৎপরতা শুরু করেছে বলে অভিযোগ তাদের। শিক্ষক নেতারা জানান, ২০১১ সালে স্থানীয় নির্বাচনে শিক্ষকদের অংশগ্রহণ গ্রহণ ঠেকাতে প্রজ্ঞাপন হয়েছিল। কিন্তু হাইকোর্টে গিয়ে এটি টিকেনি। এছাড়া আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার নীতিমালাতেও শিক্ষকদের পেশার বাইরে রাজনীতিসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড করার অধিকার স্বীকৃত।
চলতি বছরের শুরুর দিকে রাজধানীর প্রেস ক্লাবে শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করেন কয়েকটি শিক্ষক সংগঠন। এরমধ্যে একটির নেতৃত্ব দেন বিএনপিপন্থি শিক্ষক নেতা নজরুল ইসলাম রনি। তিনি রাজধানী মিরপুরের সিদ্ধার্থ স্কুলে প্রধান শিক্ষক। স্থানীয় এমপিকে ম্যানেজ করে প্রায় ১৫ দিনব্যাপী আন্দোলন চলাকালীন সময় তিনি স্কুলে এক মিনিট সময় দেয়নি। শুধু নজরুল ইসলাম রনি নন, সারা দেশে বেসরকারি শিক্ষকরা রাজনীতি, ব্যবসাসহ বিভিন্ন লাভজনক কাজে সম্পৃক্ত। তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেয়ে ব্যক্তিগত কাজে বেশি সময় দেন। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য বেসরকারি শিক্ষকদের রাজনীতি সীমিত বা নিষিদ্ধ করার পক্ষে মত এসেছে সরকারের পক্ষ থেকে। গত ২৯শে মার্চ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের চাকরি নিয়ন্ত্রণের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো বিধি-বিধান না থাকায় তারা অনেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হওয়ায় সার্বক্ষণিক রাজনীতি করেন। ফলে তারা শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় ততটা আগ্রহী হন না।
এ কারণে মাঠ পর্যায়ে এসব শিক্ষকের চাকরি নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সময় দুরূহ হয়ে পড়ে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসের পাক্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুমোদন মিলেছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। চিঠিটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আসার পর গত ৩০শে এপ্রিল বেসরকারি শিক্ষকদের নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সরকারি এমন উদ্যোগের ব্যাপক প্রক্রিয়া দেখিয়েছে বেসরকারি শিক্ষক ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা। তাদের অভিযোগ, নির্বাচনে আগের সরকারের ভিতরে থাকার একটি পক্ষ শিক্ষকদের উস্কানোর চেষ্টা করছে। কোনো এ ধরনের আইন করতে পারবে না। কারণ ইউনেষ্কো ও আইএলও ৪৬টি ধারায় শিক্ষক রাজনীতি করতে পারবে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট বলা আছে। শিক্ষক রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হলে আগে ইউনেস্কো ও আইএলও সঙ্গে চুক্তি বাতিল করতে হবে বলে জানান তারা।
গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে অর্ধশতাধিক শিক্ষক মনোনয়নের দৌড়ে নেমেছেন। জনমত গড়ে তুলতে স্কুল-কলেজে পড়ানো বাদ দিয়ে তারা নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করেছেন। মনোনয়ন নিশ্চিত করতে রাজধানীতে ছুটে যাচ্ছেন দলের শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের কাছে। এছাড়া এমপিওভুক্তসহ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অসংখ্য শিক্ষক সরাসরি রাজনীতিক দলের পদে রয়েছেন। শিক্ষকতা মহান পেশা হলেও পাঠদানে তাদের মনোযোগ নেই। অনেক শিক্ষক রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে সে দলের শিক্ষক নেতারা এলাকার সালিশ মীমাংসা নিয়ন্ত্রণ করেন। বাজার কমিটি, অটোরিকশা সমিতিসহ বিভিন্ন ধরনের বিতর্কিত সংগঠনে তারা যুক্ত হয়ে সুবিধা নেন।
স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান আলম সাজু নির্বাচন করতে চান ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (আশুগঞ্জ-সরাইল) আসন থেকে। সাবেক ছাত্র লীগনেতা শাহজাহান আলম সাজু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টে’র সদস্য সচিব। বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির (বাকবিশিস) কার্যকরী সভাপতি অধ্যক্ষ মো. আবদুর রশীদ নির্বাচন করতে চান জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসন থেকে। তিনি রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের অধ্যক্ষ এবং তেজগাঁও থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি, জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং সরিষাবাড়ী আওয়ামী লীগের সভাপতি। কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসন থেকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করতে চান আওয়ামী লীগ সমর্থিত শিক্ষক সংগঠনের বৃহত্তম মোর্চা ‘জাতীয় শিক্ষক-কর্মচারী ফ্রন্টে’র নেতা ও বাংলাদেশ কলেজে শিক্ষক সমিতির (বাকশিস) সভাপতি অধ্যক্ষ আসাদুল হক। তিনি শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ও রাজধানীর তেজগাঁও মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ।
আসাদুল হক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণসহ ১১ দফা দাবিতে শিক্ষকদের নিয়ে আন্দোলন করছেন। তার বিরুদ্ধে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয়করণের আন্দোলনের নামে সারা দেশে শিক্ষকদের বার বার মাঠে নামানো হচ্ছে। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ভীষণ বিঘ্নিত হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রণালয়কে দাবি পূরণের কোনো ধরনের আশ্বাস না দিতে পরামর্শ দিয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে মাউশি সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চিঠি দিয়ে শিক্ষকদের সতর্ক করেছে। যাত্রাবাড়ী-ডেমরা থেকে নির্বাচন করতে চান বিএনপির গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া। মেহেরপুর-১ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে চান শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের অতিরিক্ত মহাসচিব এবং বাংলাদেশ প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. জাকির হোসেন।
শিক্ষকদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা বন্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে কিনা এ প্রশ্নে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর মাহাবুবুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা আমরা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, বাস্তবতার আলোকে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় মতামত তৈরির জন্য অধিদপ্তরের কলেজ ও প্রশাসনের পরিচালককে বলে দিয়েছি। এ ব্যাপারে কলেজ ও প্রশাসনের পরিচালক প্রফেসর শামসুল হুদা মানবজমিনকে বলেন, তারা নামে বেসরকারি শিক্ষক। কিন্তু শতভাগ সরকারি বেতনভুক্ত। কিন্তু সারা দেশে লাখ লাখ শিক্ষকদের ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তাদের বার্ষিক পারফরমেন্স রিপোর্ট (এসিআর) পর্যন্ত নেই। এ বিষয়টি আমরাও উদ্বিগ্ন। গুরুত্ব দিয়ে আমরা এটি নিয়ে কাজ করছি। সরকারি চাকরিজীবী যেমন চাকরিরত অবস্থায় রাজনীতি ও ব্যবসা করতে পারেন না, বেসরকারি শিক্ষকদের তেমননি রাজনীতি ও ব্যবসা বন্ধ করার পক্ষে আমি।
এ ব্যাপারে রাজধানীর তেজগাঁও মহিলা কলেজে অধ্যক্ষ ও জাতীয় শিক্ষক-কর্মচারী ফ্রন্ট’ ও বাংলাদেশ কলেজে শিক্ষক সমিতির (বাকশিস) সভাপতি অধ্যক্ষ আসাদুল হক মানবজমিনকে বলেন, কোনো দিন এটা করা সম্ভব হবে না। কারণ ইউনেস্কো ও আইএলওতে স্পষ্ট বলা আছে শিক্ষকরা রাজনীতি করতে পারবে এবং স্বপদে বহাল থাকতে পারবে। তিনি বলেন, সরকারের ভিতরে থাকা একটা মহল নির্বাচনের আগে শিক্ষকদের উস্কে দিতে এসব অপতৎপরতা শুরু করেছে। তেজগাঁও কলেজের অধ্যক্ষ ও বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির (বাকবিশিস) কার্যকরী সভাপতি অধ্যক্ষ আবদুর রশীদ মানবজমিনকে বলেন, শিক্ষকদের রাজনীতি নিষিদ্ধ নয়, আমাদের দাবি জাতীয় সংসদের ১০ ভাগ আসন শিক্ষকদের জন্য বরাদ্দ রাখতে হবে। তিনি বলেন, ব্যাংক লুটপাট, মাদক চোরাকারবারী, দুর্নীতিবাজ, দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীরা শিক্ষকদের আগামী নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য এসব তৎপরতা শুরু করেছে। তিনি বলেন, আমি রাজধানী, জেলা ও উপজেলা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আমরা কলেজ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মডেল কলেজ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। অনার্সসহ ৩১টি কোর্সে পড়াশোনা হয়। আমি রাজনীতি করার কারণে কোনো সমস্যা হয়নি। অথচ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নয়, অনেক শিক্ষক কলেজে গিয়ে ঘুমায়। রাজনীতি করলেই যে প্রতিষ্ঠান মুখ থুবড়ে পড়বে তা কিন্তু না। বরং রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় ভালো ভূমিকা রাখতে পারে। সরকারের এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে তিনি একমত না বলে জানান।
জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির সদস্য ও প্রবীণ শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদ বলেন, শিক্ষকরা রাজনীতি করতে পারবে না এটা ঠিক না। আর বিধি বিধান নেই বিষয়টি সঠিক না। কারণ শিক্ষকদের নৈতিক স্খলন অন্যান্য অপরাধের জন্য তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুনির্দিষ্ট আইন আছে।
শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া মানবজমিনকে বলেন, এটি হবে কালো আইন। সরকার ইচ্ছে করলেও এটি করতে পারবে না। কারণ আইনে কাভার করবে না। একটি সরকার যখন স্বৈরাচার হয়ে যায় তখন এ ধরনের কালো আইন করতে চায়। তিনি বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে শিক্ষকরা অংশ নিতে পারবে না সরকারের এ প্রজ্ঞাপন হাইকোর্ট কর্তৃক বাতিল হয়েছিল। তার প্রশ্ন, শিক্ষকরা রাজনীতি করবে না তো আমলা, দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীরা রাজনীতি করবে?

হলিউড থেকে রাজবধু

বিচ্ছেদপ্রাপ্ত মেগান মার্কেল। হলিউড থেকে সরাসরি বৃটিশ রাজবধু। বিশ্ব চমকানো এক কাহিনীর জন্ম দিয়ে নতুন এক রেকর্ড গড়লেন তিনি। এর আগে তার মতো কেউ হলিউডের খোলামেলা দুনিয়া ছেড়ে গণ্ডিবদ্ধ রাজকীয় জীবন বেছে নিয়েছেন কিনা তা অজানা। শুধু যে হলিউড ছেড়ে তিনি রাজপরিবারে এসে পা ফেলেছেন তাই নয়। তিনি মার্কিন অভিনেত্রী। সুদূর যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যানজেলেসে তার জন্ম। সেখানেই বেড়ে উঠেছেন। পড়াশোনা করেছেন। তারপর হলিউড মাত করেছেন। বিশ্বজুড়ে তার অনেক ভক্ত। তিনি বেড়াতে বের হলেই সেখানে ভক্তের ঢল নামতো। এখন তিনি সেই পরিচয় থেকে বেরিয়ে এসে শুধুই বৃটিশ রাজপরিবারের একজন সদস্য। প্রিন্সেস ডায়ানা ও প্রিন্স চার্লসের ছোট ছেলে প্রিন্স হ্যারির সঙ্গে ১৯ শে মে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। মেগান মার্কেলের পুরো নাম র‌্যাচেল মেগান মার্কেল। ১৯৮১ সালের ৪ঠা আগস্ট তার জন্ম ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যানজেলেসে। তার মা ডোরিয়া র‌্যাগল্যান্ড একজন সমাজকর্মী ও যোগব্যায়ামের পরিদর্শক। তিনি বসবাস করেন ক্যালিফোর্নিয়ার ভিউ পার্ক-উইন্সর হিলসে। অন্যদিকে মেগান মার্কেলের পিতা থমাস মার্কেল সিনিয়র। তিনি বসবাস করেন মেক্সিকোর রোসারিটোতে। তিনি একজন এমি এওয়ার্ড বিজয়ী অবসরপ্রাপ্ত আলোকসজ্জা বিষয়ক পরিচালক। মেগান মার্কেলের বয়স যখন ৬ বছর তখন তাদের বিচ্ছেদ হয়। মেগান মার্কেলের আছে পিতার দিক থেকে আরো দুটি সৎভাই। তারা হলেন থমাস মার্কেল জুনিয়র ও সামান্থা গ্রান্ট। নিজের পূর্বসূরি সম্পর্কে মেগান মার্কেল বলেন, আমার পিতা একজন ককেসিয়ান এবং মা আফ্রিকান বংশোদ্ভুত মার্কিনি। আমি হাফ ব্লাক ও হাফ হোয়াইট। আমি কে সে কথা বলতে আমি গর্ব বোধ করি। আমি শেয়ার করতে চাই আমি কে। কেথা থেকে এসেছি। মেগান মার্কেল বড় হয়ে ওঠেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার হলিউডে। পড়াশোনা করেছেন একটি বেসরকারি স্কুলে। শুরু করেছেন হলিউড লিটল রেড স্কুল হাউসে। মাত্র ১১ বছর বয়সে তিনি সফলতার সঙ্গে একটি একটি জাতীয় টেলিভিশনের বাণিজ্যিক পরিবর্তন বিষয়ে কাজ পান। এ সময় নিক নিউজের লিন্ডা এলারবি তাকে ওই সময়ের সবচেয়ে আবেদনময়ী হিসেবে আখ্যায়িত করেন। মেগান মার্কেল লস অ্যানজেলেসে ক্যাথোলিক মেয়েদের জন্য বেসরকরি স্কুল ইমাকুলেট হার্ট হাই স্কুলে যোগ দেন। তবে তিনি নিজে ছিলেন প্রটেস্ট্যান্ট। এরপর তিনি পড়শোনা করেন নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে। এরই এক পর্যায়ে যোগ দেন কাপ্পা কাপ্পা গামা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে। উপরন্তু তিনি আফ্রিকান-আমেরিকান নাট্যসংলাপ নিয়ে পড়াশোন করতে থাকেন। এ নিয়ে মাঝে মাঝেই তিনি তার প্রফেসরের সঙ্গে কথা বলতেন। মেগান মার্কেল ২০০৩ সালে নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। অর্জন করেন ব্যাচেলরস ডিগ্রি। একটি ডিগ্রি অর্জন করেন থিয়েটারের ওপর। পড়াশোনা করেছেন আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির ওপর। আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এয়ারসে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে তিনি করেছেন ইন্টার্নশিপ। স্পেনের মাদ্রিদে একটি সেমিস্টারে পড়াশোনা করেছেন। প্রথম দিকে তিনি যখন অভিনয় শুরু করেন তখন তাকে টিকে থাকার জন্য ফ্রিল্যান্ড ক্যালিগ্রাফার হিসেবে কাজ করতে হয়। ‘জেনারেল হসপিটাল’ নামে একটি দিনের বেলার একটি সোপ অপেরায় নার্সের ভূমিকায় তিনি অভিনয় করেন। এটি ছিল একটি ছোট্ট চরিত্র। এটাই তার প্রথম পর্দায় আসা। ক্যারিয়ারের শুরুতে মেগান মার্কেল টেলিভিশন শো ‘সেঞ্চুরি সিটি (২০০৪)’ ‘দ্য ওয়ার এট হোম (২০০৬) এবং ‘সিএসআই: এনওয়াই (২০০৬)’ -এ অভিনয় করেন অতিথি তারকা হিসেবে। এ ছাড়া তিনি অভিনয় ও মডেলিং হিসেবে বেশ কিছু চুক্তি স্বাক্ষর করেন। ২০১১ সালের জুলাইতে তিনি ইউএসএ নেটওয়ার্কের শো ‘স্যুট’-এ অন্তর্ভুক্ত হন। এ ছাড়া ২০১০ সালে তিনি দুটি ছবিতে কাজ করেন। এর একটি হলো ‘গেট হিম টু দ্য গ্রিক’। অন্যটি ‘রিমেমবার মি’। এমনিভাবে তিনি একের পর এক ছবিতে কাজ করে গেছেন। রিমেমবার মি ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি পেয়েছিলেন এক লাখ ৮৭ হাজার ডলার। অন্যদিকে একটি শর্টফিল্ম ‘দ্য ক্যান্ডিডেট’-এ অভিনয়ের জন্য আয় করেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৪২৯ ডলার। ‘স্যুটে’ অভিনয়ের জন্য তাকে প্রতিটি পর্বের জন্য দেয়া হয়েছে ৫০ হাজার ডলার করে। এ হিসাব ফরচুন ম্যাগাজিনের। এ হিসেবে তার ওই এক ক্যারিয়ারে অভিনয় করে বছরে আয় হয়েছে ৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এ ছাড়া লাইফস্টাইল ব্লগার হিসেবে তিনি বছরে উপার্জন করেছেন ৮০ হাজার ডলার। সব মিলিয়ে তার মোট আয়ের পরিমাণ ৫০ লাখ ডলার। চারদিকে যখন তার সুনাম তখন অভিনেতা ও প্রয়োজক ট্রেভর এঙ্গেলসনের সঙ্গে ২০০৪ সালে একটি সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাদের। এর চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে জ্যামাইকার ওকো রিওসে ২০১১ সালের ১০ই সেপ্টেম্বর। এদিন তারা বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে সেই বিয়ে মাত্র দু’বছর টিকে ছিল। ২০১৩ সালের আগস্টে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। তারপর কেটে গেছে আরো তিন বছরের মতো। ২০১৬ সালের জুনে তার দিকে দৃষ্টি পড়ে প্রিন্স হ্যারির। গড়ে ওঠে এক প্রেমের সম্পর্ক। একজন ঘনিষ্ঠ বন।ধু একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। সেখানেই সাক্ষাত হয় প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেলের। এ ঘটর মিডিয়া প্রকাশ করেন ২০১৬ সালের অক্টোবরে। ২০১৬ সালের ৮ই নভেম্বর রাজপরিবারের যোগাযোগ বিষয়ক সচিব একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন। তাতে মেগান মার্কেলের প্রতি সমালোচনা করা হয়। এতে মেগান মার্কেলকে ‘সেক্সিজম, রেসিজম’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন তিনি। তার অবমাননা হয় এমন কথা তুলে ধরেন। এ খবরগুলো জাতীয় সংবাদপত্রগুলোর প্রথম পৃষ্ঠায় উঠে আসে। তবে এ নিয়ে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম মুখ খোলেন মেগান মার্কেল। তিনি কথা বলেন ভ্যানিটি ফেয়ার ম্যাগাজিনের কাছে। প্রথমবারের মতো তিনি প্রকাশ্যে স্বীকার করেন। বলেন, প্রিন্স হ্যারির সঙ্গে তিনি প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। পরের মাসেই কানাডার টরোন্টোতে ইনভিকটাস গেমসে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে দেখা যায় প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেলকে। ২০১৮ সালের জানুয়ারি। এ মাসে সব রকম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে একাউন্ট ডিলিট করে দেন মেগান মার্কেল। প্রিন্স হ্যারির সঙ্গে তার এনগেজমেন্ট ঘোষণা দেয়া হয় ২০১৭ সালের ২৭ শে নভেম্বর। তারপর মার্কেল বেশ কয়েকবার সাক্ষাত করেছেন দ্বিতীয় রাণী এলিজাবেথের সঙ্গে। অবশেষে এর পরিসমাপ্তি ঘটে ১৯ শে মে। পর্দার রানী নেমে আসেন বৃটেনের রাজপরিবারে।

মালয়েশিয়ার রাজনীতি যেন শেক্সপিয়ারের নাটক

মাহাথির মোহাম্মদ ও আনোয়ার ইব্রাহীম
মালয়েশিয়ায় ৯ই মে’র সাধারণ নির্বাচনে বড় ধরনের বিজয়ের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দলকে ক্ষমতাচ্যুত করেছেন মাহাথির মোহাম্মদ। এর পরপরই আনোয়ার ইব্রাহীমের কারামুক্তির ঘটনাকে দেশটির নতুন সূচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কেননা এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে আনুগত্যের পরীক্ষার লড়াইটা ছিল স্পষ্ট। কেননা তাদের একজন একসময় আরেকজনকে কারাগারে পাঠিয়েছিলেন। মালয়েশিয়ার বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে এভাবেই ব্যাখ্যা করেছেন রোমের জন ক্যাবট বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ব্রিজেট ওয়েলশ।
সদ্য নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ ও আনোয়ার ইব্রাহীমের মধ্যে এই সম্পর্কের গল্পটি এতটাই নাটকীয় যে একে শেক্সপিয়ারের নাটকের সঙ্গে তুলনা করা যায়, যেখানে কাহিনীর মধ্যে আনুগত্য, বেঈমানী, ট্রাজেডি এবং বিদ্রূপ একের অপরের সঙ্গে মিশে আছে। ডা. মাহাথিরের বয়স এখন ৯২। ১৯৯৯ সালে দেশটির অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনি আনোয়ার ইব্রাহীমকে দুর্নীতি এবং সমকামিতার অভিযোগে জেলে পাঠিয়েছিলেন। জেলে বসে আনোয়ার শেক্সপিয়ারের প্রতিটি গ্রন্থ পড়ে শেষ করেন। কিন্তু তিনি ভাবতেও পারেননি এই নাটকের আবির্ভাব হবে তার রাজনৈতিক জীবনে। ডা. মাহাথির জয়লাভের পর তিনি আনোয়ারের মুক্তি ও ক্ষমা নিশ্চিত করলে দুই জনের সমপর্ক একই বৃত্তে আসে। শত্রু হয়ে পড়েন বন্ধু, ঠিক শেক্সপিয়ারের নাটকের মতই যেখানে গল্পের এক পর্যায়ে খলনায়ক, নায়ক হয়ে ওঠেন।
স্রোতে গা ভাসানো:
এই দুই জনের সমপর্ক উন্নয়নের মূলে রয়েছে রাজনৈতিক ক্ষমতা এবং একে অপরের ঢাল হওয়া। ডা. মাহাথির ১৯৮২ সালে সর্বপ্রথম মি. আনোয়ারকে তার প্রশাসনে জায়গা দেন। আনোয়ার একজন দৃঢ়চেতা, উদ্যমী ছাত্র নেতা ছিলেন। যিনি সত্তরের দশকে তৎকালীন প্রভাবশালী দল ইউনাইটেড মালায়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন-ইউএনএমও এর বিরুদ্ধে একটি দল গঠন করতে পেরেছিলেন। হয়ে উঠেছিলেন দেশটির স্থানীয় প্রবক্তা, যিনি ওই শক্তিশালী দলটির বিরোধিতা করতে পেরেছেন। রাজনীতিতে ইসলামের ব্যবহারের সময়কালে আনোয়ারও একই স্রোতে গা ভাসিয়েছিলেন। ১৯৮৯ সালে ইরানে বিপ্লবের পর বহু দেশে মুসলিম ক্ষমতায়নের যে জোয়ার উঠেছিল সে সময় মালয়েশিয়ার ধর্মকেন্দ্রিক রাজনীতির শূন্যস্থান দখল করে নেন আনোয়ার। মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে যে কয়েকটি পালাবদল হয়েছে তার একটি ছিল মি. আনোয়ারকে ইউএনএমও জোটে অন্তর্ভুক্ত করা। তারপর আনোয়ার খুব দ্রুত উপরে উঠতে থাকেন। তার ব্যক্তিত্ব ও দক্ষতার কারণে তার সমর্থকরা এমনভাবে কাজ করেছে যেন বিরোধীরা একটি নিরপেক্ষ অবস্থানে চলে আসে। আশির দশক এবং নব্বইয়ের শুরুটা ছিল মালয়েশিয়ায় জন্য সুবর্ণ সময়, যখন দেশটিতে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন ঘটে। বিশ্বে যখন এশিয়ার প্রভাব বাড়ছিল ঠিক তখনই ডা. মাহাথির তার নেতৃত্বে মালয়েশিয়াকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে আসেন।
এদিকে, ১৯৯৩ সালে ইউএনএমও এর অধীনে বড় ধরনের জয়লাভের মধ্য দিয়ে আনোয়ার, ডা. মাহাথিরের বিরুদ্ধে একজন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী রূপে আবির্ভূত হন। সে সময় আনোয়ার ‘এশিয়ার রেনেসাঁ’ শীর্ষক একটি বই লেখেন। এভাবে তিনি মালয়েশিয়ার প্রেরণা ও আকাঙ্ক্ষার ওপর জোর দিয়ে নিজেকে এশিয়ার একজন বুদ্ধিজীবী হিসেবে আলাদা পরিচিতি দেন। তিনি রাজনৈতিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে খোলাখুলিভাবে আলোচনা শুরু করেন, দুটি পক্ষের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরেন, যেখানে এক পক্ষ শুধুই ক্ষমতা ধরে রাখতে চায় এবং অপরদিকে যারা সংস্কারের মাধ্যমে জয় অর্জন করতে চায়।
ভঙ্গুর সময়:
১৯৯৭ সালে এশিয়ার আর্থিক সংকটের পরে মালয়েশিয়ার পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর পরের বছরই আনোয়ার দলের নিয়ন্ত্রণ নিতে ডা. মাহাথিরকে চ্যালেঞ্জ করেন। ওই চ্যালেঞ্জ জুড়ে রাজনৈতিক বিভেদ বা মতাদর্শের লড়াইয়ের চেয়ে বেশি ছিল ব্যক্তিগত আক্রমণ। তবে, ক্ষমতার সিঁড়িতে ডা. মাহাথির তার দক্ষতা প্রমাণ করায় আনোয়ার সেই চ্যালেঞ্জ জয়ে ব্যর্থ হন। এরপর আনোয়ারকে মারধর করা হয় এবং এমন ঘটনার অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় যা মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নাড়িয়ে দেয়। যেকোনো মূল্যে ক্ষমতা ধরে রাখতে বিদ্রোহকে কঠোরভাবে দমন করেন মাহাথির। ১৯৯৯ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর তিনি রাজনৈতিক সংস্কারের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেন। ১৯৯৮-৯৯ সালে এমন একটি প্যাটার্ন তৈরি করা হয় যা দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে একটি আকৃতি দেয়।
এরপর আবদুল্লাহ বাদাউই ২০০৪ সালে এবং পরবর্তীতে রাজাক ২০১৩ সালে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন সেগুলো তাদেরকে সংস্কারপন্থি হিসেবেই পরিচিতি দিয়েছে। ২০০৩ সালে ডা. মাহাথির পদত্যাগের পর আবদুল্লাহ বাদাউই ক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং তিনি আনোয়ারকে মুক্তি দেন। প্রথম দিকে আবদুল্লাহ জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও তিনি তার পার্টির অংশীদার এবং জনসাধারণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হন এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে হেরে যান। আব্দুল্লাহর পতনকে কাজে লাগিয়ে পুনরায় রাজনৈতিক জীবনে ফিরে এসেছেন ডা. মাহাথির। যিনি আনোয়ারকে মুক্তি দিয়েছিলেন পরবর্তীতে তিনিও ডা. মাহাথিরের রাজনৈতিক ক্রোধের শিকার হন। মাহাথিরের আরেকটি সফল পদক্ষেপ ছিল ২০০৯ সালে নাজিবকে ক্ষমতায় নিয়ে আসা। আনোয়ার তখন বিরোধী দলের নেতা ছিলেন। যিনি সফলভাবে বিভিন্ন দলকে ২০০৮ সালে একই ছাতার নিচে নিয়ে আসেন। নাজিব রাজাক সে সময় ডা. মাহাথিরের ভূমিকার পুনরাবৃত্তি করেন। আনোয়ারের বিরুদ্ধে সমকামিতার অভিযোগ এনে তাকে একটি বিতর্কিত বিচারের মুখোমুখি করেন। তবে, শেষপর্যন্ত আবদুল্লাহর মতো একই ভুল করেন নাজিব রাজাক। ব্যর্থ হন জাতীয় নেতৃত্ব ধরে রাখতে।
পরিবর্তনের দিকগুলো:
২০১৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে গৃহায়ন খাতে দুর্নীতির ওয়ান এমডিবি কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠে এবং তার এমন কিছু সমপদের তথ্য পাওয়া যায় যেগুলো দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জন করা হয়েছে বলে মনে করা হতো। এ অবস্থায় খোলাখুলিভাবে নাজিব রাজাকের নেতৃত্বের কড়া সমালোচনা করেছেন ডা. মাহাথির। পরে নাজিব রাজাক ডা. মাহাথিরের সঙ্গে ব্যক্তিগত আক্রমণে জড়িয়ে যান। তাকে দল থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি মামলা দায়েরের হুমকি দেন। আনোয়ারের মতো ডা. মাহাথিরকেও একই ফাঁদে ফেলতে চান নাজিব রাজাক। এ অবস্থায় ২০১২ সালের ডিসেম্বরে ডা. মাহাথির বিরোধী দলের সঙ্গে কাজ করতে শুরু করেন এবং নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। এই সমপর্কের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ জুড়ে ছিল আনোয়ারকে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরানো এবং তার মুক্তি এবং ক্ষমা সুরক্ষিত করা। নাজিবের পতন, আইনের শাসন পুনর্বহাল এবং রাজনৈতিক সংস্কারের ডাক দেয়ার মাধ্যমে চলতি মাসে ৯২ বছর বয়সি মাহাথির বিরোধীদের জয় ছিনিয়ে নেন। ১৯৯০ সালে আনোয়ারের যে এজেন্ডাগুলো এক সময় সমালোচনার শিকার হয়েছিল সেগুলোই এখন গ্রহণ করা হচ্ছে সেই ব্যক্তির দ্বারা যিনি একসময় তাকে প্রত্যাখ্যান ও শাস্তি দিয়েছিলেন।
এবার আনোয়ারের মুক্তির মাধ্যমে দুই জন পুনরায় জোট বেঁধেছেন এবং তারা একইসঙ্গে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন রাজনৈতিক সংস্কারের। অবশ্য পুরনো ক্ষত এখনো রয়ে গেছে। তবে, সেটি একই লক্ষ্য অর্জনের পথে কিভাবে দূর হবে তা পরিষ্কার নয়। ক্ষমতার পালাবদল এবং রাজনৈতিক সংস্কারের কথা উঠলেও দুজনের মধ্যে মত-ভিন্নতাও রয়েছে যথেষ্ট। তারপরও অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন মালয়েশিয়ানরা আশা করছেন যে এই দুই নেতা ব্যক্তিগত বিষয় ভুলে দেশের উন্নয়নে একত্রে কাজ করবেন।

ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ইউরোপেও -ইকোনোমিস্টের বিশ্লেষণ

গেল সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরান পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়েছেন। ওই চুক্তি অনুযায়ী, ইরান নিজের পারমাণবিক প্রকল্প সীমিত করার বিনিময়ে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পায়। ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ফ্রান্স, বৃটেন, রাশিয়ার পাশাপাশি জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই চুক্তিতে উপনীত হয়। চুক্তি থেকে আমেরিকার প্রস্থানের সিদ্ধান্ত একে দুর্বল করে দিয়েছে। এমনও হতে পারে যে চুক্তি অকার্যকর হয়ে যেতে পারে।
আমেরিকা চুক্তি থেকে প্রস্থান করায় ইরানের ওপর দেশটির অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পুনরায় আরোপিত হবে। ইরানের সঙ্গে আমেরিকান কোম্পানিগুলোর লেনদেন বন্ধ হয়ে যাবে তো বটেই। পাশাপাশি ইউরোপিয়ান ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর কপালেও চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। লন্ডন-ভিত্তিক ম্যাগাজিন দ্য ইকোনমিস্টের এক বিশ্লেষণীতে এসব বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়, সর্বপ্রথম ২০০৫ সালে ইরানের পারমাণবিক প্রকল্পকে টার্গেট করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এই প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবিশেষের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ। দুই বছর পর ইউরোপিয়ান ইউনিয়নও এই ধরণের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তবে শেষ অবদি ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনা ও পারমাণবিক চুক্তি সইয়ে রাজি করানোর মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞার কার্যকরিতা প্রমাণ হয়েছে বলা যেতে পারে। ২০১৬ সালে চুক্তির মাধ্যমে ওই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। তবে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদে ইরানের সমর্থন দেওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা বহাল ছিল।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হওয়ায় অনেক ইউরোপিয়ান ও কিছু আমেরিকান কোম্পানি ইরানে বাণিজ্য শুরু করে। তবে এসব কোম্পানি ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে সতর্ক ছিল। কারণ, ইরানের সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ শাখা ইসলামিক রিভুলেশনারি গার্ড কর্পসের সঙ্গে লেনদেনের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল ছিল। আর এই বিশেষ বাহিনী ইরানের অর্থনীতির বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। এ কারণে পশ্চিমের সঙ্গে ব্যবসা শুরু হলেও, ইরানে দীর্ঘমেয়াদী বড় বিনিয়োগ তেমন একটা করেনি পশ্চিমারা।
আমেরিকার আরোপিত নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ইউরোপিয়ান কোম্পানিগুলোর উদ্বেগের কারণ হলো, এই নিষেধাজ্ঞা শুধু আমেরিকান কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন যখন কোনো অবরোধ আরোপ করে, তখন এই অবরোধ মেনে চলা ইউরোপের কোম্পানি ও নাগরিকদের জন্য বাধ্যতামূলক। তবে আমেরিকান নিষেধাজ্ঞা একটু ভিন্ন। আমেরিকান নিষেধাজ্ঞার প্রাথমিক স্তর আমেরিকান নাগরিক ও কোম্পানির জন্য প্রযোজ্য। এক্ষেত্রে কোনো আমেরিকান কোম্পানি ও নাগরিক যেই দেশের ওপর অবরোধ আরোপিত হয়েছে সেই দেশের সঙ্গে বাণিজ্য করতে পারেন না। পাশাপাশি ওই দেশের নাগরিকদের বা বিশেষ কোনো ব্যক্তির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হয়ে যায়। এসব নিষেধাজ্ঞায় প্রায়ই দ্বিতীয় একটি স্তর থাকে। এই স্তরের আওতায় পড়ে অ-আমেরিকান ব্যক্তিবিশেষ বা কোম্পানি। এই দ্বিতীয় স্তরের নিষেধাজ্ঞার মানে হলো, কোনো অ-আমেরিকান কোম্পানি যদি লেনদেনের জন্য ডলার ব্যবহার করে থাকে, বা আমেরিকায় ওই কোম্পানির যদি কোনো অঙ্গপ্রতিষ্ঠান থেকে থাকে, বা ওই প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে যদি আমেরিকানরা থাকেন, তাহলে ওই কোম্পানিকেও আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে হবে।
ইরানের ক্ষেত্রে আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় এই দুইটি স্তরই রয়েছে। ইউরোপিয়ান যেসব কোম্পানির ইরানে কার্যক্রম রয়েছে, সেগুলোর বেশিরভাগেরই আমেরিকায়ও কার্যক্রম রয়েছে। ফলে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা তাদের ওপরও প্রযোজ্য। এ কারণে বেশ কিছু ইউরোপিয়ান কোম্পানি এই নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় পেতে আমেরিকায় আবেদন করবে। যেমন, ইরানে একটি বিশাল গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়নে জড়িত ফরাসি কোম্পানি টোটালও নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় পাওয়ার আবেদন করছে।
কিছু কোম্পানি আবার ডলারের বদলে ইরানের সঙ্গে ইউরোতে লেনদেন করার মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা থেকে রেহাই পাবে। তবে বেশিরভাগ কোম্পানির সামনেই একটাই পথ খোলা থাকবে: হয় আমেরিকায় ব্যবসা চালাও, নয়তো ইরানে চালাও, যেকোনো একটা। স্বাভাবিকভাবেই বেশিরভাগ ইউরোপিয়ান কোম্পানির ব্যবসায়িক স্বার্থ আমেরিকায় বেশি। তাই তারা আমেরিকাকেই বেছে নিতে চাইবে। কিন্তু কোনো কোম্পানি যদি ইরানকেই বেছে নেয়, সেক্ষেত্রেও ব্যংকিং লেনদেনে সমস্যা পোহাতে হবে। কারণ, বৈধ হলেও অনেক লেনদেন ছাড় দিতে পশ্চিমা ব্যাংকগুলো অস্বস্তিতে থাকবে।
আমেরিকার অবরোধের বিপরীতে কিছু করার সুযোগ ইউরোপের কম। একটি উপায় হলো, ২২ বছর পুরোনো একটি প্রবিধান পুনর্জ্জীবিত করা। ওই প্রবিধান চালু হলে, ইউরোপিয়ান কোম্পানিগুলোর জন্য আমেরিকার দ্বিতীয় স্তরের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলাকে অবৈধ ঘোষণা করা হবে। সেক্ষেত্রে ইউরোপিয়ান কোম্পানিগুলোর সামনে দুইটি পথ খোলা থাকবে। এক. এই প্রবিধান অগ্রাহ্য করে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা। দুই. এই প্রবিধান মেনে চলার মাধ্যমে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘণ করা।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, ইউরোপ জুড়ে এই প্রবিধান প্রয়োগ করার জন্য প্রত্যেক সদস্য রাষ্ট্রকে নিজ নিজ দেশে একটি আইন পাশ করাতে হবে। কিন্তু খুব কম দেশই ওই আইন পাশ করেছে। ফলে আদৌ এই প্রবিধান প্রয়োগ করা যাবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ আছে।
আবার এই প্রবিধান মেনে না চলে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা মেনে চললে কোনো কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নজির ইউরোপে তেমন একটা নেই। শুধুমাত্র অস্ট্রিয়া একবার ২০০৭ সালে একটি কোম্পানির বিরুদ্ধে এই প্রবিধান মেনে না চলায় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু তা নিয়ে আদালতে আর লড়াই হয়নি।

কাশ্মির সমস্যার একমাত্র সমাধান উন্নয়ন: মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
ভারত শাসিত কাশ্মীরের সব সমস্যার ‘একমাত্র সমাধান’ হিসেবে আবারও উন্নয়নের কথা বলেছেন দেশটির  প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগর সফরকালে তিনি এই কথা বলেন। মোদি বলেন, জম্ম ও কাশ্মীরের উন্নয়নের জন্য আমি সবাইকে শুধু বিদ্যুৎখাতে বিনিয়োগ করতে বলছি। তিনি আরও বলেন, ‘সব সমস্যা, সব বৈষম্যের একটিই সমাধান আছে, আর তা হলো উন্নয়ন, উন্নয়ন আর উন্নয়ন’। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
মুসলিমদের ধর্মীয় নেতা  উমর ফারুক সে দেশের সংবাদমাধ্যম ওয়ান ইন্ডিয়ার কাছে অভিযোগ করেছেন, প্রধানমন্ত্রী কাশ্মিরীদের আসল সমস্যাগুলো না দেখে, উন্নয়ন দিয়ে মানুষ কে ভোলাতে চাইছেন। তিনি বলেন, 'রাস্তা, টানেল, বিদ্যুৎ প্রকল্প বা কর্মসংস্থান কাশ্মিরের সমস্যা নয়। এখানকার বিতর্কটা জম্মু ও কাশ্মিরের লাখ লাখ নাগরিকের রাজনৈতিক ভবিষ্যত নিয়ে। এই মানুষদের ইচ্ছে-আকাঙ্ক্ষাকে মর্যাদা দিয়ে তার সমাধান করা প্রয়োজন।' তিনি আরও বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী মোদির পূর্বসূরিরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কাশ্মীরের জনগণ চায় তা পূরণ করা হোক।'
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের দিনে উপত্যকায় বনধের ডাক দিয়েছে স্বাধীনতাকামী দলগুলো। তাই প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ঘিরে রাজ্য জুড়ে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়। সিল করে দেওয়া হয় এসকেআইসিসি চত্ত্বর। সেখানে ত্রি-স্তরের নিরাপত্তা বলয়ের ব্যবস্থা করা হয়। শনিবার শ্রীনগরে ব্যাপক নিরাপত্তার মধ্যে কর্মকর্তা, রাজনীতিক ও সাংবাদিকদের উদ্দেশে ভাষণ দেন মোদি। আর সেখানেই কাশ্মিরের জনগণের স্বাধীনতার দাবিকে উপেক্ষা মোদি উন্নয়নের প্রচারণা করেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতবিরোধী বিক্ষোভে তরুণদের অংশগ্রহণ অনেক বেড়েছে। এমনকি মুক্তিকামী যোদ্ধাদের সঙ্গে ভারতের যৌথ বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাও অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে অঞ্চলটির দক্ষিণ দিকে সম্প্রতি বেশ কয়েকবার এমন ঘটনা ঘটেছে।
‘শান্তি ও স্থিতিশীলতা’র আর কোনও বিকল্প নেই জানিয়ে মোদি তরুণদের ‘মূলধারা’য় ফিরে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘মূলধারা তাদের বাবা-মা ও পরিবার, মূলধারা জম্মু ও কাশ্মীরের উন্নয়নের তাদের অবদান। বিপথগামী তরুণদের ছোড়া প্রতিটি পাথর কাশ্মিরকে অস্থিতিশীল করে তোলে’।
মোদির সফরের আগের দিনে কাশ্মির সীমান্তে ভারত-পাকিস্তান গোলাগুলিতে ৯ জন নিহত হয়েছেন। তিন শিশুসহ এদের মধ্যে ৮ জনই বেসামরিক। ইতিহাসবিদ আর রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে  কাশ্মির ক্রমেই ভারত-পাকিস্তানের সমরাস্ত্র প্রদর্শনের ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। মানবাধিকারকর্মীদের দাবি অনুযায়ী, ’৪৭-এর পর থেকে অন্তত পাঁচ লাখ কাশ্মিরি নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন আরও ১০ লাখের মতো। খোদ সরকারি তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রভাবশালী ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ১৯৯০ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে কেবল ২১ বছরেই ৪৩ হাজার ৪৬০ জন কাশ্মিরি নিহত হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক। আর মানবাধিকার কর্মীদের দাবি অনুযায়ী, ওই ২১ বছরে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা এক লাখেরও বেশি। তবে দুই দিন আগে রমজান মাস উপলক্ষে কাশ্মিরে অভিযান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সরকার।
এই বিরতিকে সমর্থন করে এর আগে স্বাধীনতা দিবসের বক্তব্যে মোদি বলেছিলেন, বুলেট আর নির্যাতনের মাধ্যমে এই অঞ্চলের সমাধান করা সম্ভব হবে না। বরং তা আরও বাড়বে।
তবে মোদির এমন বক্তব্যে বিশ্লেষকরা তেমন কোনও আশা দেখছেন না। কাশ্মিরভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক নূর আহমেদ বাবা বলেন, ‘জনগণ আগেও এসব বক্তব্য শুনেছে’। উন্নয়নকে গৌণ উল্লেখ করে বাবা বলেন, মোদি সমস্যাটির রাজনৈতিক দিকটি অবহেলা করেছেন। তিনি আরও বলেন, সমস্যা সমাধানে আরও বেশি কিছু করা প্রয়োজন। 
উল্লেখ্য, কাশ্মিরে সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠনগুলোর কেউ কেউ সরাসরি স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলনরত। কেউ কেউ আবার কাশ্মিরকে পাকিস্তানের অঙ্গীভূত করার পক্ষে। ইতিহাস পরিক্রমায় ক্রমেই সেখানকার স্বাধীনতা আন্দোলনের ইসলামিকরণ হয়েছে। এখন সেখানকার বিদ্রোহী সংগঠনগুলোর মধ্যে হিজবুল মুজাহিদিন সবচেয়ে সক্রিয়। তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কাশ্মিরের জাতিমুক্তি আন্দোলনকে বিভিন্ন জঙ্গিবাদী তৎপরতার থেকে আলাদা করে শনাক্ত করে না। সন্দেহভাজন জঙ্গি নাম দিয়ে বহু বিদ্রোহীর পাশাপাশি বেসামরিকদের হত্যার অভিযোগ রয়েছে ভারতীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে।

নগরীতে বেপরোয়া মোটরসাইকেল by মারুফ কিবরিয়া

রাজধানীতে বেড়েছে যানবাহন। বাস, প্রাইভেট কার এসবের সঙ্গে বেড়েছে মোটরসাইকেলের সংখ্যাও। ট্রাফিক আইন উপেক্ষা করে শহরের সড়কগুলো নিজেদের দখলে নিয়ে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন মোটরসাইকেল চালকরা। আইন অমান্য করায় মামলা দেয়া হলেও কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না তাদের। সিগন্যাল না মানা, বিকট হর্ন বাজানো ও যত্রতত্র ফুটপাথে মোটরসাইকেল উঠিয়ে দেয়াসহ নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছেন চালকরা।
গত কয়েকদিনে রাজধানীর বিজয় সরণি, শাহবাগ, ফার্মগেট, কাওরান বাজার, নয়া পল্টন, প্রেস ক্লাব, মিরপুর, শ্যামলী, মোহাম্মদপুর, গুলশান, উত্তরা, বাড্ডা, রামপুরা. পুরান ঢাকাসহ বেশকিছু জায়গা ঘুরে দেখা গেছে চালকরা বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তোয়াক্কা না করেই তারা দ্রুত গতিতে চলে যান। কখনো কখনো ফুটপাথে উঠিয়ে দেন। এতে অনেক পথচারী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। মাঝে মাঝে কারো কারো সঙ্গে মোটরসাইকেল আরোহীদের সংঘর্ষও হয়। মোটরসাইকেল যাতে ফুটপাথে না চলাচল করতে পারে সেজন্য অনেক জায়গায় লোহার খুঁটি পুঁতে দেয়া আছে। তারপরও আটকানো যাচ্ছে না মোটরসাইকেল চালকদের। তীব্র হর্ন দিয়ে দ্রুত গতিতে ফুটপাথের ওপর দিয়ে মোটরসাইকেল চলার দৃশ্য রাজধানীতে যেন স্বাভাবিক হয়ে গেছে। পথচারীদের মতে, যেকোনো সভ্য দেশেই ফুটপাথ পথচারীদের হাঁটার জন্য। কিন্তু আমাদের দেশে ফুটপাথ পথচারীদের জন্য নয়। ফুটপাথে হকাররা ব্যবসা করে। যেখানে হকার নেই সেখানে আছে মোটরসাইকেলের দৌরাত্ম্য। পথচারীরা ফুটপাথ ব্যবহারের সুযোগই পায় না। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে সড়ক দুর্ঘটনায় যত মানুষ মারা যায়, তার ৫৮ শতাংশই পথচারী। আর মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে চালক ও আরোহীর মারা যাওয়ার বা পঙ্গু হওয়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি।
ফুটপাথে মোটরসাইকেল চালানো নিয়ে নানা আলোচনার একপর্যায়ে কয়েক বছর আগে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছিল। আদালত রায় দেন, কোনো অবস্থায়ই পায়ে হাঁটার পথে মোটরবাইক চলবে না। এ আদেশের পরে নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। প্রথমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম। পরে অ্যাকশন-মামলা। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। রাস্তায় জ্যাম হলেই ফুটপাথে মোটরসাইকেল চলতে দেখা যায়। সেক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসনও পিছিয়ে নেই। তাদের অনেককেও দেখা যায় ফুটপাথে মোটরসাইকেল উঠিয়ে দিয়েছেন।
এদিকে রাজধানীতে চলাচল করা একাধিক মোটরসাইকেল চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুধুই সময় বাঁচাতে নয়, কোথাও এক দুই মিনিটের জন্য বসে থাকা তাদের জন্য অস্থিরতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যে কারণে ফুটপাথে উঠিয়ে দ্রুতবেগে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলে যান। শাহজাদা নামের এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, ফুটপাথে চালানো অন্যায়। এতে আইন ভঙ্গ করা হয়। কিন্তু সময় বাঁচাতে মাঝে মাঝে ফুটপাথে উঠিয়ে দিই। আর কিছু সময় এত জরুরি কাজ থাকে যার কারণে আইন ভঙ না করে পারা যায় না। আমি একা করি না তো। আপনি দেখবেন মাঝে মাঝে পুলিশের সদস্যরাও ফুটপাথে মোটরসাইকেল উঠিয়ে দেয়। আইনের লোকজন যদি আইন ভাঙে তখন আমরা কি করবো?
সুমন নামের আরেক মোটরসাইকেল আরোহী জানান, জ্যাম থাকলে মাঝে মাঝে ফুটপাথ দিয়ে চলাচল করি। এতে সময় বাঁচে। কিন্তু আরেকটা কারণ আছে, যখন বাইক চালাই এক জায়গায় বসে থাকতে পারি না। সিগন্যাল পড়লে তো ৫-১০ মিনিট বসে থাকতে হয়। কিন্তু এতক্ষণ বসে থাকে কে?
ফুটপাথে মোটরসাইকেল চালানোয় বিরক্ত পথচারীরাও। সাইফ নামের এক কলেজছাত্র বলেন, প্রায়ই রামপুরা টিভি সেন্টার থেকে বাজার পর্যন্ত হেঁটে কোচিংয়ে যাই। আর এ রাস্তাটি সবসময় যানজট লেগে থাকে। আমরা সাধারণ মানুষ হাঁটতে পারি না। আর জ্যামের সময় ফুটপাথে বাইকওয়ালারা বাইক উঠিয়ে দেয়। বাইক তো উঠায় আবার হর্নও বাজায়। মেজাজ কি তখন ঠিক থাকে? একদিন একজনের সঙ্গে ঝগড়া লাগে। আমাকে মারতে এসেছে। পরে অন্য পথচারীরা প্রতিবাদ করলে রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়। বাংলামোটর থেকে শাহবাগে অফিসে যেতে হেঁটেই চলাচল করেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সুমি। তিনি জানান, এই বাইকওয়ালাদের জন্য রাস্তায় চলাচল করতে পারি না। খুবই বিরক্ত করে। পেছন থেকে এসে হর্ন বাজায়। তাও সেটা ফুটপাথে। কতটা যন্ত্রণাদায়ক। পুলিশও কিছু করতে পারে না। তারা ব্যারিকেড দিয়েছে। কিন্তু তার মধ্য দিয়েই তারা মোটরসাইকেল চালিয়ে যায়।
মোটরসাইকেল চালকদের এই বেপরোয়াভাব নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না কেন? জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ট্রাফিক-উত্তর) জয়েন্ট কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ মানবজমিনকে বলেন, আমরা প্রতিদিনই মামলা করছি। শাস্তি দিচ্ছি। কিন্তু নিয়ন্ত্রণে আসছে না। এদের সঙ্গে পুরো নগরবাসী জিম্মি হয়ে আছে। সিগন্যাল মানে না, ফুটপাথে উঠিয়ে দেয়, বিকট হর্ন বাজায়। কোনো আইন মানে না। তারপরও যারা ধরা পড়ছে তাদের শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে।

‘পাহাড়ে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে’

রাঙামাটি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ঊষাতন তালুকদার বলেছেন,‘ পার্বত্য এলাকায় শান্তি প্রক্রিয়া ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা হচ্ছে। এটা দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়। এখানে দেশি-বেদেশি ষড়যন্ত্র চলছে।’ রবিবার (২০ মে) সকালে ‘জুম্ম স্বার্থ পরিপন্থী প্রতিক্রিয়াশীল ও চুক্তিবিরোধী সব কার্যক্রম প্রতিহত করুন’ এই স্লোগানে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাঙামাটিতে ছাত্র জনসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
পাহাড়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছে না অভিযোগ করে ঊষাতন তালুকদার বলেন, ‘পাহাড় থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হোক, চাঁদাবাজি বন্ধ হোক, তা আমরাও চাই, তবে তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে হতে হবে। কিন্তু আমি স্থানীয় একজন সংসদ সদস্য হয়েও আমাকে যৌথবাহিনীর অভিযানের বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি। এমনকি আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদকেও এ বিষয়ে কোনও কিছু বলা হচ্ছে না।’
ঊষাতন তালুকদার আরও বলেন, গত ৩মে নানিয়ারচরে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা হয়েছে। এটার পক্ষে আমরা নই এবং পরের দিনের ঘটনা সেটার জন্যও আমি নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা বরাবরই বলে আসছি, আমরা সন্ত্রাস, অস্ত্রবাজি চাই না। আমাদের নেতা সন্তু লারমা অত্র এলাকায় সবসময় শান্তি চায়। কিন্তু হঠাৎ করে কীভাবে শক্তিমান, বর্মা মারা গেলো, ঘটনা কী? আলামত কি? এটা আসলে একটা খেলা। এই খেলাতে আমরা মরে যাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনুন। সাধারণ মানুষ কেন আতঙ্কে থাকবে। আজ পাহাড়ে শুধু পাহাড়িরা নয়, বাঙালিরাও আতঙ্কিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের নেতা সন্তু লারমাসহ আমরা যখন চুক্তি করেছিলাম সব অস্ত্র, গোলাবারুদ জমা দেব তখন তিনি অত্যন্ত উদ্ধিগ্ন ছিলেন। এই গোলবারুদ, অস্ত্র নিয়ে মানুষ সবাই যাবে কিনা না নাকি কেউ থেকে যাবে। সব ধরনের অস্ত্র, গোলা বারুদ আমরা নিয়ে এসেছিলাম। একটিও লুকিয়ে রাখিনি। কেউ কেউ আমাদের দোষারপ করে কিন্তু আমরা কোনও কিছু রেখে আসিনি তখন। উনি (সন্তু লারমা) খুব আন্তরিকভাবে সদিচ্ছা নিয়ে, এখানে স্বাভাবিক জীবনযাপন করার জন্য এসেছেন। নতুন করে অস্ত্র ধরার জন্য আসেননি।’
পিসিপি’র সভাপতি জুয়েল চাকমার সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙামাটির সংসদ সদস্য ও জনসংহতি সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি ঊষাতন তালুকদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মহিউদ্দীন মাহিম, সাংবাদিক ও সাবেক ছাত্রনেতা নজরুল কবীর, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক বাপ্পাদীপ্ত বসু, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি ফারুক আহমেদ রুবেলসহ অনেকে।

যানজটে বছরে ক্ষতি ৩৭ হাজার কোটি টাকা

যানজটে বছরে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৩৭ হাজার কোটি টাকা বলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণায় উঠে এসেছে। ঢাকা মহানগরীতে যানজটে প্রতিদিন ৩৮ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হয় বলে ২০১৭ সালে বিশ্বব্যাংক হিসাব দেখিয়েছিল; এক বছর পর বুয়েটের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, এই অঙ্কটি ৫০ লাখ কর্ম ঘণ্টা। এই হিসাবে যানজটে বছরে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৩৭ হাজার কোটি টাকা। যা জাতীয় বাজেটের ১১ ভাগের এক ভাগ। ইনস্টিটিউটির পরিচালক অধ্যাপক ড. মোয়াজ্জেম হোসেন বলছেন, নগরের যানজট যদি ৬০ শতাংশ কমানো যায় তবে ২২ হাজার কোটি টাকা বাঁচানো সম্ভব। গতকাল বুয়েটে এক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউট ও রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। অনুষ্ঠানে অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন গবেষণা প্রতিবেদনে যানজটের কারণে সময় নষ্ট এবং আর্থিক ক্ষতির হিসাব দেখিয়েছেন। ‘গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং যানজট নিরসনের পরিকল্পনা রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্তি ও বাস্তবায়নে অঙ্গীকার’ শীর্ষক এই গোলটেবিলে তিনি আরো বলেন, ঢাকায় যানজটের কারণে পিক আওয়ারে গণপরিবহনগুলোর গতিবেগ ঘণ্টায় ৫ কিলোমিটারে নেমে এসেছে, যেখানে পায়ে হেঁটে চলার গড় গতিও ৫ কিলোমিটার। ফলে প্রতিদিন ৫০ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। যানজটে প্রতি বছর ৩৭ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। ঢাকা শহরে গণপরিবহনগুলা প্রতিদিন ৩৬ লাখ ট্রিপে ৩৫ শতাংশ যাত্রীকে কর্মক্ষেত্রে নিয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। যানজটের প্রভাবের কথা বলতে গিয়ে ড. মোয়াজ্জেম বলেন, যানজটের কারণে মানব চরিত্রের নয়টি দিক নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নাগরিকদের সামাজিক যোগাযোগে প্রভাব পড়ছে। গণপরিবহনে নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের নানাভাবে নিগৃহীত হওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে তার প্রতিবেদনে। নগরের যানবাহন পরিচালনায় শৃঙ্খলা আনতে প্রাইভেট কোম্পানিগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনার পরামর্শ দেন অধ্যাপক মোয়াজ্জেম।
এখন ঢাকায় দেড়শ থেকে দুইশ বাস সার্ভিস চলছে। এটাকে প্রতিটি রুটে একটি করে কোম্পানিকে দায়িত্ব দিলে ভালো হয়। এতে করে সড়কে প্রতিযোগিতা কমবে। আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালগুলো সম্পূর্ণভাবে সরকারি নিয়ন্ত্রণে আনার পরামর্শও দেন তিনি। তিনি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ডিটিসিএ, সিসিএস, রাজউক, আরএইডি, এলজিইডি, বিআরটিএর মধ্যে একটি সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণ করার পরামর্শ দেন। পরিবহন খাতে ভর্তুকি দেয়ার পরামর্শ দিয়ে অধ্যাপক মোয়াজ্জেম বলেন, বছরে ১ হাজার কোটি টাকা সাবসিডিয়ারি দিয়ে বছরে যদি ৫ হাজার কোটি টাকা লাভ করতে পারি, তবে সেখানে সাবসিডিয়ারি দিলে ক্ষতি কোথায়? সড়কে ব্যর্থতার দায় নিয়ে সমপ্রতি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী, নৌপরিবহনমন্ত্রীসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের মন্তব্যের সমালোচনাও করেন বুয়েটের এই অধ্যাপক।
ঢাকা শহরের মোট দুর্ঘটনার ৭৪ শতাংশ পথচারী পারাপারের সময় ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স দিতে আরো বেশি সতর্ক হওয়া, নগরে অবৈধ পার্কিং বন্ধ করা, বাইসাইকেল লেইন ও হাঁটার পথ তৈরি করার পরামর্শ দেয়া হয়। এলিভেটেড টাওয়ার পার্কিং বিষয়ে আলোচনা করতে এসে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা)-এর সাবেক সভাপতি ও রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি আবদুল হামিদ শরীফ বলেন, একটি মোটামুটি উন্নত শহরের জন্য ২৫ শতাংশ ভালো সড়ক প্রয়োজন। বাংলাদেশে রয়েছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। তিনি বলেন, এক কাঠা জমিতে এলিভেটেড টাওয়ার পার্কিং নির্মাণ করতে পারলে সেখানে ৫০টি গাড়ি পার্কিং করা যায়। অনুষ্ঠানে বিআরটিসির পরিচালক (টেকনিক্যাল) মাহবুবুর রহমান জানান, দেশের মোট যানবাহনে মাত্র শূন্য দশমিক ১ শতাংশ বিআরটিসি পরিচালনা করে। এতে বাসের সংখ্যা ১ হাজার, ট্রাকের সংখ্যা ১৫০।
অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও তাদের না আসার সমালোচনা করে কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী বলেন, বড় দুটি দল আসেনি। হতাশার কিছু নেই। আজকে যারা বড় আছে, কালকে তারা নাও থাকতে পারে। তারা আসেনি বলে এমনটি ভাবার কারণ নেই যে সড়কে মৃত্যু নিয়ে তারা ভাবছে না। নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সড়কে এত মৃত্যুর মিছিল, কিন্তু সরকারদলীয় নেতারা দেখুন কত হৃদয়হীন আচরণ করছেন। বাসের চাপায় মানুষ মারা যাচ্ছে, সরকারে নেতারা বলছে ‘আমরা কি বাস চালাই’? ‘সড়কে উন্নয়নের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে’ সরকার এমন দাবি কেমন করে করে? সড়কে মানুষের মৃত্যুর দায় সরকারকেই নিতে হবে। নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন নগরে অপরিকল্পিত ফ্লাইওভার নির্মাণের সমালোচনা করেন। ফুটপাথ থেকে হকার উচ্ছেদে রাজনীতিবিদদের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের সভাপতি এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্ব অনুষ্ঠিত সভায় আরো বক্তব্যে রাখেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, গণফোরামের নেতা সুব্রত চৌধুরী, জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য নাদের চৌধুরী, ঐক্য ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ তারেক, বিকল্প ধারার সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক প্রমুখ।

রাজধানীজুড়ে শতাধিক অবৈধ বাসস্ট্যান্ড by হাফিজ মুহাম্মদ

নিউ মার্কেট থেকে গাবতলী, ফকিরাপুল থেকে যাত্রাবাড়ী কাউন্টারে ঠাসা।
দিন-রাত যানজট। সীমাহীন দুর্ভোগ, যন্ত্রণা। রাজধানী ঢাকা শহরের প্রতিদিনের চিত্র এটি। কোনোভাবেই মুক্তি মিলছে না যানজট থেকে। এ যানজটের অন্যতম কারণ অবৈধ বাস টার্মিনাল ও কাউন্টার। কর্তৃপক্ষের নাগালের মধ্যেই সড়কগুলো দূরপাল্লার বাস টার্মিনালে পরিণত হয়েছে। নির্দিষ্ট স্থান রেখে তা ছড়িয়ে পড়েছে শহরের আনাচে-কানাচে। দিনের বেলায় এসব বাস কম প্রবেশ করলেও রাতে তাদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়। মাঝে মধ্যে আবার কোস্টার পরিবহন দিয়ে মূল টার্মিনালে নিয়ে যায়। পণ্য পরিবহনগুলোও এসময় প্রবেশ করতে শুরু করে। রমজান ও ঈদে শহর কি আকার ধারণ করে সে দুশ্চিন্তায় সাধারণ মানুষ। সরজমিন দেখা যায় নিউমার্কেট থেকে গাবতলী, ফকিরাপুল থেকে সায়েদাবাদ পুরোটাই যেন বাসস্ট্যান্ড।
আকতার হোসেন। মতিঝিলে একটি প্রাইভেট ফার্মের কর্মকর্তা। প্রতিদিন অফিস শেষে বাসায় ফিরেন রাত আটটার পরে। আর মিরপুর রোডে যখন আসেন তখন ঘড়ির কাঁটায় সাড়ে আটটা থেকে নয়টা। শুধু এখান থেকে তার মিরপুরের বাসায় পৌঁছতে লেগে যায় এক/দেড় ঘণ্টা। এর কারণ আসাদগেট থেকেই আকতারকে জ্যামে থাকতে হয়। তখন গাড়ির গতি পিঁপড়ার গতি ধারণ করে। আকতার বলেন, আসাদগেট থেকে রাস্তার পাশে পরিবহনগুলো থামানো থাকে। কোথাও তা ঘুরানো হয়। এ কারণেই মূলত যানজট বাদে। শ্যামলী থেকে কল্যাণপুর-দারুসসালাম পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশেই এক দুই লেন ধরে থামানো থাকে পরিবহন। এ কারণেই যানজটের সৃষ্টি হয় বলে তিনি মনে করেন।
শুধু আকতার হোসেন নয়। এ রোড দিয়ে গণপরিবহনে চলাচলকারী সাধারণ মানুষের সবার অবস্থাই বেগতিক। তাদের প্রতিনিয়ত সড়কে ব্যয় করতে হয় কয়েক ঘণ্টা। নির্দিষ্ট গন্তব্যে যেতে তাদের কখনো গভীর রাতও হয়ে যায়। এ থেকে পরিত্রাণের কোনো উপায় দেখছেন না তারা। সাধারণ নাগরিকরা এ সমস্যার কারণ হিসেবে দুষছে শহরের সড়কগুলোয় অব্যবস্থাপনা, পরিবহন কোম্পানিগুলোর দৌরাত্ম্য, যত্রতত্র অবৈধ টার্মিনাল তৈরি করা। অন্যদিকে বাস টার্মিনালের রাজস্ব আদায়কারী কর্তৃপক্ষ ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন বলছে তিনটি দূরপাল্লার বাস টার্মিনাল ছাড়া তাদের আর কোনো বৈধ টার্মিনাল নেই। তারা গাবতলী, মহাখালী এবং সায়েদাবাদ টার্মিনাল থেকেই কেবল রাজস্ব পান। এর বাইরের টার্মিনাল ও কাউন্টারগুলো অবৈধ। এদিকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নেতাদের একই দাবি রাজধানীতে তিনটি মাত্র বৈধ বাস টার্মিনাল রয়েছে। এর বাইরে যেসব টার্মিনাল রয়েছে সেগুলো বিভিন্ন উপায়ে ম্যানেজ করে চলেন কিছু বাস মালিক। প্রশাসন এবং প্রভাবশালী মহলই এর সঙ্গে জড়িত। রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে বাস থামিয়ে রেখে যানজট তৈরি করে বলে তারাও স্বীকার করেছেন।
সরজমিন দেখা যায়, ঢাকার বাস টার্মিনাল এখন আর নির্দিষ্ট স্থানে আটকে নেই। যেমন গাবতলী বাস টার্মিনাল এখন টেকনিক্যাল, দারুসসালাম, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজগেট, আসাদগেট, ফার্মগেট, পান্থপথ ও কলাবাগান ও নিউমার্কেট পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে। এসব জায়গায় গড়ে উঠেছে বাস কোম্পানির শত শত টিকিট কাউন্টার। গাবতলীর পার্শ্ববর্তী মিরপুরের মাজার রোড, এক নম্বর, রাইনখোলা ও দুই নম্বরেও রয়েছে এগুলোর স্টেশন এবং কাউন্টার। রাস্তার দুই পাশে দুুই লেন পর্যন্ত থাকে বাস থামানো। আর অভ্যন্তরীণ রোডের গণপরিবহনগুলো চলাচলে ফাঁকা থাকে এক কিংবা দুই লেন সড়ক। একারণে যানজট প্রতিদিনই মহামারি আকার ধারণ করেছে। এ রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী যাত্রীদের এখন আর হাতে সময় গুণে বের হলে চলে না।
অন্যদিকে সায়েদাবাদ টার্মিনালের চিত্রও একইরকম। মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের নিচের সড়ক যেন পুরোটাই বাস টার্মিনাল। আর তার বিস্তৃতি এখন পৌঁছে গেছে ফকিরাপুল, মতিঝিল, পলাশী মোড়, মালিবাগ, কমলাপুর, শাহজাহানপুর, মানিকনগর, বাসাবো, খিলগাঁও, রামপুরা, বাড্ডা ও নর্দা পর্যন্ত। অন্যদিকে মিরপুর ১০, ১৪ নম্বর, কচুক্ষেত ও পান্থপথেও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের ওপর থেকে চলাচলকারী বাসকে থামিয়ে রাখতে দেখা যায়। এসব স্থানেও প্রায় সব বাস কোম্পানির রয়েছে কাউন্টার। সায়েদাবাদ থেকে বের হওয়ার রাস্তায় এসব পরিবহনের যাত্রাবাড়ী, পোস্তাগোলা, জুরাইন, সাইনবোর্ডসহ আরো একাধিক স্থানে কাউন্টার রয়েছে। সেসব স্থানেও সড়কের উপরেই বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানো হয়। এসব অবৈধ বাসস্টেশনের বিরুদ্ধে কখনো পুলিশকে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না।
তবে ভিন্ন চিত্র মহাখালী বাস টার্মিনালের। এ বাস টার্মিনালে বাইরে খুব একটা স্ট্যান্ড নেই। এখান থেকে ছেড়ে যাওয়া বাসগুলো শুধুমাত্র এয়ারপোর্ট এবং উত্তরা থেকে যাত্রী উঠা-নামা করে। এসব স্থানে কিছু কাউন্টার রয়েছে। এ রুটের আবদুল্লাহপুরে দিন-রাত বেশিরভাগ সময় সড়কের উপর বাস থামানো দেখা যায়। এ কারণে আবদুল্লাহপুরে প্রায় সময় যানজট লেগে থাকে।
এ তিনটি টার্মিনালের পার্শ্ববর্তী এলাকায় অরাজকতা ঘটছে ট্রাফিক পুলিশের সামনেই। সড়কে ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করলেও অরাজকতা রোধে তাদের কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায় না। সোমবার রাতে কল্যাণপুর বাস টার্মিনালের (অবৈধ) সামনের সড়কে প্রচুর যানজট দেখা যায়। এ যানজটে দাঁড়িয়েই বাসগুলো যাত্রী ওঠানামা করে। সামনে ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও তারা কিছুই বলছে না। কল্যাণপুর ব্রিজের নিচে দায়িত্ব পালনরত এক ট্রাফিক পুলিশ সদস্য বলেন, অনেক পরিবহন কোম্পানি তাদের যাত্রীদের সুবিধার্থে এখানে কাউন্টার করেছেন। আমরা কি বলবো, আমাদের স্যারেরাই তো কিছু বলছেন না।
সাধারণ বাস মালিকরা বলেছেন, মূলত প্রভাবশালী মালিকদের কারণেই মূল টার্মিনালের ভেতর থেকে বাস চলাচল নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। প্রভাবশালী মালিকরা পুলিশকে ম্যানেজ করে নিজেদের ইচ্ছামতো কাউন্টার বসিয়ে রমরমা ব্যবসা করছেন। যানজটে পড়ে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হলেও তাদের কিছু যায় আসে না। বিভিন্ন বাস কোম্পানির কাউন্টার মাস্টারদেরও কথা- টার্মিনালের বাইরে যেসব স্থানে কাউন্টার রয়েছে সেসব স্থান বাস টার্মিনাল স্থাপন করা হয়নি। শুধু বাস থামিয়েই যাত্রী উঠানো-নামানো হয়। এসব কাউন্টারের বৈধতা কিংবা কোনো অনুমোদন আছে কিনা জানতে চাইলে তারা বলেন- এটা কোম্পানির ম্যানেজার জানে। তারা এটা জানেন না।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বলছে মহাখালী এবং গাবতলী বাস টার্মিনালের উপর দিয়ে চলাচলকারী পরিবহনগুলো উত্তর সিটি করপোরেশনকে রাজস্ব দেয় এবং সায়েদাবাদের উপর থেকে চলাচলকারী বাসগুলো রাজস্ব দেয় দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে। কিন্তু তারা যে মূল টার্মিনালের বাইরে আরো একাধিক টার্মিনাল, বাস কাউন্টার গড়ে তুলেছে সেটা সম্পর্কে দায়সারা।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সদ্য বিদায়ী পরিবহন বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক লে. কর্নেল সাবের সুলতান বলেন, উত্তর সিটি করপোরেশন দুটি দূরপাল্লার বাস টার্মিনাল থেকে (গাবতলী, মহাখালী) শুধু রাজস্ব আদায় করে। এর বাইরে বিভিন্ন স্থানে বাস কোম্পানিগুলো যে জায়গায় ভাড়া নিয়ে কাউন্টার গড়ে তুলেছে সেগুলো মালিক পক্ষর অনুমতি নেয়া আছে কিনা সেটা আমি জানি না। সিটি করপোরেশন এগুলো থেকে রাজস্ব পায় না। তবে টার্মিনালের উপর থেকে চলাচলকারী বাসগুলো থেকে টার্মিনাল ফি অনুসারে রাজস্ব আদায় করা হয়। আর পরিবহন বিভাগের নতুন জেনারেল ম্যানেজার লতিফ খান বলেন, তিনি এখনো কাগজপত্র দেখেননি, তবে এগুলো যদি অবৈধ হয়ে থাকে তাহলে সিটি করপোরেশন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিবহন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক নিতাই চন্দ্র সেন জানান, আমাদের দূরপাল্লার একমাত্র বাস টার্মিনাল হচ্ছে সায়েদাবাদ। এর বাইরে আর কোনো বাস টার্মিনাল নেই। এখান থেকে শুধু রাজস্ব আদায় করা হয়। তবে বাইরে থেকে যেসব বাস ছেড়ে যায় সেগুলোও টার্মিনালের ফি পরিশোধ করে এর উপর দিয়ে চলাচল করে। শহরের অভ্যন্তরে বাসস্টেশন কিংবা কাউন্টার থাকলে অথবা রাস্তার উপরে বাসস্ট্যান্ড করে রাখলে তা অবৈধ।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ও বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আহম্মেদ মজুমদার বলেন, ঢাকায় সায়েদাবাদ, গাবতলী ও মহাখালী এই তিনটি টার্মিনাল দূরপাল্লার বাসের জন্য সরকার অনুমোদিত। এর বাইরে বিভিন্ন সরকারি জায়গা দখল করে অনেক বাস মালিক কাউন্টার নির্মাণ করে টার্মিনাল বানিয়ে ফেলছে। মানিকনগর, কমলাপুর ও কল্যাণপুরে প্রায় দেখা যায় রাস্তার দুই পাশে দিনের পর দিন গাড়ি থামিয়ে রাখার পরেও সেগুলো দেখার কেউ নেই। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের একটা গাড়ি রাস্তার উপর রাখলে কিছুক্ষণ পরেই পুলিশ রেকার নিয়ে চলে আসে। অথচ পরিবহন মালিক পক্ষ প্রশাসনকে বিভিন্নভাবে ম্যানেজ করে চলে। পুলিশ আমাদের অভ্যন্তরীণ রুটের গাড়িগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেও দূরপাল্লার এ অবৈধ বাসস্টেশন-কাউন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না। অন্যদিকে পণ্য পরিবহনের গাড়িগুলো রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত শহরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করার কথা থাকলেও তারা দায়িত্বরত ট্রাফিকদের টাকা দিয়ে বিকাল থেকেই প্রবেশ করতে শুরু করে।
ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মীর রেজাউল করিম বলেন, মূল টার্মিনালের বাইরে যেসব স্থানে দূরপাল্লার পরিবহনের কাউন্টার রয়েছে সেটাকে টার্মিনাল বলা যায় না। এগুলো টার্মিনালের উপর দিয়েই যায়। তবে কিছু কিছু বাস শহরের ভেতরে প্রবেশ করে কাউন্টার থেকে যাত্রী তুলে। এগুলো রাতেই কেবল ভেতরে প্রবেশ করে।
দিনের বেলায় কোনো গাড়ি টার্মিনাল থেকে ভেতরে প্রবেশ করে না। এগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি আরো বলেন, পূর্বে আরো বেশি কাউন্টার ছিল। সেগুলো পর্যায়ক্রমে কমিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। এসব কাউন্টারের কারণে যানজট বৃদ্ধি পেলে সেগুলো কমিয়ে আনা হবে।
সায়েদাবাদের সড়কে যেন কোনো বাস না দাঁড়ায়, সে জন্য ২০১৬ সালে একবার নির্দেশনা জারি করেছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। তখন নগর ভবনে পরিবহন মালিক ও পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত এক যৌথসভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল টার্মিনালের বাইরে কোনো বাস দাঁড়াবে না। শুধু টার্মিনালের ভেতর থেকে বাস ছেড়ে যাবে। টিকিট বিক্রি হবে টার্মিনালের ভেতর থেকে। কিন্তু এ সিদ্ধান্তের পর আড়াই বছর কেটে গেলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।
রাস্তার উপরে কোনো বাস দাঁড় করে রাখা হলে সেটা দেখা এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব ট্রাফিক পুলিশের। টার্মিনালের ভেতরে কোনো বাস রাখার বিধান নেই বলে জানান সিটি করপোরেশনের এক টার্মিনাল ব্যবস্থাপক। মালিকরা তাদের বাসগুলো রাখবেন নিজস্ব ডিপোতে। ওই ডিপো থেকে টার্মিনালে এসে যাত্রী নিয়ে বাস গন্তব্যে চলে যাবে। কিন্তু এ নিয়ম কেউ মানছে না। সবাই তাদের বাসগুলো টার্মিনালের ভেতরই রাখছেন।

টেক্সাসের গ্রান্দি নদী পাড়ি দিতে গিয়ে ২৩০ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

স্বপ্নের দেশ আমেরিকায় যেতে বাংলাদেশিরা বেছে নিয়েছেন বিপদসঙ্কুল মেক্সিকো-টেক্সাস সীমান্ত। অবৈধভাবে প্রবেশ করতে গিয়ে ২৩০ জন বাংলাদেশি ২০১৮ সালেই লাতিন আমেরিকান কুখ্যাত ড্রাগ কার্টেলদের হাতে অন্তত ৫০ কোটি টাকা তুলে দিয়েছে। তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মার্কিন সীমান্তের রিও গ্রান্দি নদী পাড়ি দেয়ার সময় প্রত্যেকে ধরা পড়েছেন। সর্বশেষ ১৭ই মে টেক্সাসের লারেদোর সীমান্তরক্ষী বাহিনী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, দক্ষিণ লারেদোর রিও গ্রান্দি নদী পাড়ি দেওয়ার সময় ইউএস বর্ডার পেট্রল এজেন্টস আরো আট জন বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা অবৈধভাবে নদী পাড়ি দিয়েছিল। এই আট জনকে নিয়ে শুধু এই একটি সীমান্তেই ধরা পড়া বাংলাদেশিদের সংখ্যা ২৩০-এ পৌঁছেছে।
লারেদো সেক্টর অ্যাসিস্ট্যান্ট চিফ পেট্রল এজেন্ট গ্যাব্রিয়েল অ্যাকোস্তা বলেছেন, অন্যান্য সীমান্তের তুলনায় বাংলাদেশিরাই এই সীমান্তে সর্বাধিক সংখ্যক অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেছেন। মি. অ্যাকোস্তা বলেন, এটা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আমাদের এজেন্টরা প্রায় দৈনিক ভিত্তিতে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করছেন। আর অবৈধভাবে তারা কেন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করছে, সেটা কেবল তাদের গ্রেপ্তারের পরেই নির্ধারণ করা সম্ভব।’
অনুসন্ধানে দেখা যায়, রিও গ্রান্দি নদীটি যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-মধ্য কোলোরোডো থেকে উৎসারিত হয়ে গালফ অব মেক্সিকোতে প্রবাহিত হয়েছে। নিউ মেক্সিকো এবং টেক্সাসের যে সীমান্ত নদী দ্বারা বিভক্ত সেখান থেকেই বিদেশি অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করছেন। গত ১৮ই এপ্রিল এ বিষয়ে মার্কিন ডিজটাল ম্যাগাজিন ওয়াশিংটন এক্সামিনারের সাংবাদিক অ্যানা গিয়ারিটেল্লি একটি অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশ করেন। এর শিরোনাম ছিল, ‘বাংলাদেশিজ পেয়িং ড্রাগ কার্টেল আপ টু ২৭০০০ ডলার টু বি স্মাগলড ইনটু দি ইউএস।’ এতে বলা হয়, প্রত্যেক বাংলাদেশি মাথাপিছু ২৭ হাজার ডলার পাচারকারীদের পরিশোধ করেছে। ২৩০ জনের খরচ পড়ে ৫০ কোটি ৯২ লাখ টাকা।
এক্সামিনার রিপোর্ট বলেছে, চলতি আর্থিক বছরে লারেদোর এজেন্টরা ১৮৩ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে। এ থেকে বোঝা যায়, গত মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ৪৭ বাংলাদেশি অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় দেড় জন বাংলাদেশি অবৈধভাবে এই সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন। একজন মার্কিন মুখপাত্র এক্সামিনারকে বলেছেন, এশিয়া থেকে সাড়ে আট হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে ২০১৭ সালে যত অবৈধ অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার চেষ্টা করেছে তাদের ৬০ ভাগই লারেদোকে ব্যবহারের চেষ্টা করেছে। মি. গ্যাব্রিয়েল অ্যাকোস্টা এক্সামিনারকে বলেছেন, বাংলাদেশিরা শুধু একক চেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার চেষ্টা চালায় তা নয়, তাতের পেছনে আছে ড্রাগ কার্টেল। এশিয়া থেকে তারাই ঘাটে ঘাটে থাকে এবং তাদের এ পর্যন্ত নিয়ে আসে। এশিয়া থেকে তাদের প্রথমে আনা হয় দক্ষিণ আমেরিকায়। এরপর সেখানে থেকে বিভিন্ন পরিবহনে তাদের মধ্য আমেরিকার নানা স্থান ঘুরি?য়ে আনা হয় মেক্সিকোতে। মানবপাচারকারী চক্রই তাদেরকে নিয়ে আসে। এই ব্যক্তিরা (বাংলাদেশি) নিজেরা কিন্তু জানে না যুক্তরাষ্ট্র নামের দেশে কোন সীমান্ত দিয়ে তারা ঢুকবে। ২০১৭ সালে লারেদো থেকে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ২৫ হাজার ৪৬০ ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তির কথাই বলেছি: বাংলা ট্রিবিউনকে বি. চৌধুরী by সালমান তারেক শাকিল

শনিবার বিএনপির ইফতার মাহফিলে বক্তব্য রাখছেন বদরুদ্দোজা চৌধুরী
বিএনপির উদ্যোগে শনিবার (১৯ মে) লেডিস ক্লাবে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে ‘শক্তি’ প্রসঙ্গে দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্প ধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আমি যেটা বলেছি, সেটা হচ্ছে, তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি। পরিষ্কারভাবে লিখে দিন, তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি। আমরা চাই, আমাদের উত্থান। আমরা চাই, যুক্তফ্রন্ট আসুক। আমরা চাই, সারা বাংলাদেশ দুর্বার হয়ে গেলে, আমাদের আসন থাকলে উই ক্যান বার্গেনিং উইথ বোথ দ্য পার্টি। তাদের ওয়াদা করিয়ে নেবো, একজন কর্মীর গায়ে হাত দিতে পারবা না।’ রবিবার (২০ মে) দুপুরে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রসঙ্গত, শনিবার সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বিএনপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বলেছেন, ‘এমন একটা শক্তি দরকার, যে শক্তি এদিকে কন্ট্রোল করতে পারে, ওইদিকেও পারে। তারা যদি উঠে আসতে পারে, তারা যেন বলে দেয়, তোমরা যদি একটা মানুষের গায়ে হাত দাও, তাহলে সমর্থন উইথড্র করবো, গোল্লায় যাও, বিরোধী দলে যাও।’ তার এমন বক্তব্যের পরই আলোচনা শুরু হয়। সন্ধ্যা থেকেই রাজনৈতিক মহলে নানামুখী জল্পনা-কল্পনার ডালপালা মেলতে থাকে—‘কোন শক্তির কথা বলেছেন বি চৌধুরী’?  নিজের ওই বক্তব্যের বিষয়টি বি. চৌধুরী ব্যাখ্যা করেন বাংলা ট্রিবিউনের কাছে। সাবেক এই রাষ্ট্রপতি জানান, কৌশলগত কারণেই খালেদা জিয়ার বিষয়ে ইফতার মাহফিলে মুখ খোলেননি।তবে আগামী সভায় তিনি এ প্রসঙ্গে বলবেন। তৃতীয় শক্তির বিষয়টি আবারও তুলবেন।
তৃতীয় শক্তি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এটা বোঝার মতো শক্তি নাই, ঘিলুহীন। এরকম বাজে লোক উল্টাপাল্টা কথা বলতে পারে। আমরা যা বলেছি, পরিষ্কার করেই বলেছি রাজনৈতিক শক্তির কথা। অন্য কোনও শক্তির কথা বলি নাই, বলবোও না।’
শনিবার বিএনপির ইফতারে অংশ নিয়ে বি. চৌধুরী বলেছেন, ‘এটা কি খুব ভালো কথা? এটা কী রাজনীতির জন্য শুভ? এটা কী দেশের ভবিষ্যতের জন্য শুভ? এটা কী ইঙ্গিত নয় যে, দেশ এমন একটা পর্যায়ে যেতে পারে, যেখানে মানুষ মানুষকে হত্যা করবে, নিগৃহীত করবে, জেলে দেবে, আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেবে। কিন্তু থামাবে কে?’ আমি চিন্তার খোরাক দিয়ে গেলাম।’ এমন আলোচনার সঙ্গে-সঙ্গেই ইফতারে উপস্থিত বিএনপি-জোটের নেতারা সমালোচনায় মুখর হন। কোনও কোনও নেতা গণমাধ্যমে ফোন করে নিজেদের ক্ষোভের কথা প্রচারের অনুরোধ করেন। ওই নেতাদের অভিযোগ, বিএনপির ইফতারে এসে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে কোনও কথাই বললেন না বি. চৌধুরী।
জোট নেতাদের এমন সমালোচনা প্রসঙ্গে বি চৌধুরীর ভাষ্য, ‘সো ভেরি ইম্পর্টেন্ট যে লোকে বুঝতে পারে। এ জন্যই খালেদা জিয়ার কথা বলি নাই। ইচ্ছে করেই। বললে, আপনি ওইটারে হেডলাইন দিয়ে দিতেন, এইটা (চিন্তার খোরাক) গায়েব হয়ে যেতো। কথা বুঝছেন? সে জন্যই কালকে (শনিবার) চালাকি করেছি, খালেদা জিয়ার সম্বন্ধে কিছু বলি নাই। নিশ্চয়ই আমরা নেক্সট মিটিংয়ে খালেদা জিয়ার কথা বলবো। এটাও বলবো। আবার বলবো। যারা নির্বোধ, তারা বুঝতে পারে নাই। তাদের জ্ঞাতার্থে আরও ভেঙে বলবো। অবশ্যই, আমরা এটাও বলি, যেকোনও রাজনৈতিক নেতাকে জেলবন্দি করে সত্যিকার অর্থে নির্বাচন হয় না। এটা বলবো।’
বদরুদ্দোজা চৌধুরী আরও বলেন, ‘আমাদের জোটে সমর্থন দিয়েছেন ড. কামাল হোসেন। আমরা বলেছি, এগুলো (সমর্থন) আরও বাড়তে থাকুক। দেশে সমর্থন বাড়ার পরে আমরা একটা আবহাওয়া সৃষ্টি করতে পারি, সবাই মিলে আমাদের শক্তিশালী করলে উই বিকাম অ্যা ব্যালেন্সিং ফ্যাক্টর। ব্যালেন্সিং ফ্যাক্টর হলে আমরা দুই দলের যে দলকেই সমর্থন দেবো, যাদের কথা আমাদের সঠিক বলে মনে হবে, তারা ওয়াদা করতে হবে, একটি কর্মীর গায়ে হাত দিতে পারবে না। একটি বাড়িতে আগুন দিতে পারবে না। একটি লোককে হত্যা করতে পারবে না। এই শর্তে যারা রাজি তাদের সমর্থন দেবো।’ তিনি যোগ করেন, ‘যে মুহূর্তে তারা শর্ত ভঙ্গ করবে, সে মুহূর্তে সমর্থন উইথড্র করে নেবো। সে কারণেই বলবো, তোমরা যদি রাজি থাকো, আল্লাহর নামে শপথ করো। তাহলে আমরা তোমাদের সাপোর্ট দেবো। তাহলেই বাংলাদেশের রাজনীতি পরিষ্কার হবে। তাহলে বাংলাদেশের সেইফ হবে। রাজনৈতিক কর্মীরা নিরাপদ হবে।’
বি চৌধুরী এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘এই হলো ব্যাপারটা। বুঝতে পারছেন? ক্লিয়ার?’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আমি তো বলেছি, চিন্তার খোরাক দিলাম, এবার বুঝুন। চিন্তা করুন। সিনিয়র রাজনীতিবিদরা তো সব বলেন না। আপনি এখন ‘ভাঙাইয়া’ নিলেন সব কথা’’—বলেই হেসে উঠলেন এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ।

বর্ষায় রোহিঙ্গাদের রক্ষায় সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি মহড়া

উখিয়া-টেকনাফের শরণার্থী শিবিরে বসবাস করছে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা। আর এদের মাঝে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে ভূমিধস ও বন্যার ঝুঁকিতে। যার কারণে বর্ষা মৌসুমে এ জনগোষ্ঠীকে প্রাকৃতিক যে কোনো দুর্যোগ ও দুর্ঘটনার হাত থেকে সুরক্ষা করতে সরকার ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে উখিয়ার বালুখালী-২ ব্লকে চলছে প্রস্তুতি মহড়া। ১৫ই মে শুরু হওয়া এ মহড়ায় যৌথভাবে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাবসহ বিভিন্ন-বেসরকারি সংস্থাগুলোও।
সরজমিন উখিয়া কুতুপালং, বালুখালী, মধুরছড়া, লম্বাশিয়া, ময়নারঘোনা, তাজনিমারখোলা, শফিউল্লাহকাটা ও জামতলীসহ অন্যান্য রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে দেখা যায়, ক্যাম্প এলাকার আশ্রিত রোহিঙ্গাদের বেশিরভাগ পরিবার পাহাড়ের উপর, ঢালুতে ও নিচু এলাকায় যত্রতত্র মাটি কেটে শ্রেণি পরির্বতন করে ঝুপড়ি বেঁধে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। বর্ষা মৌসুমে এসব ন্যাড়া পাহাড় ভারী বর্ষণে ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন পরিবেশবাদী ও সচেতন মহল। আর এমনটা হওয়ার আগেই নেয়া হচ্ছে প্রস্তুতি।
কুতুপালং পিপি জোনের মাঝি রাকিব হাসান জানান, মিয়ানমার থেকে সর্বস্বান্ত হয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দুই/তৃতীয়াংশ পরিবার পাহাড়ের উঁচু-নিচু ঢালু ও থলিতে ঝুপড়ি বেঁধে বসবাস করছে। এরা বর্ষা মৌসুমে কোনো চিন্তা-ভাবনা করার সুযোগ পায়নি, কারণ যেভাবে রোহিঙ্গা আসার ঢল নেমেছিল, সে অবস্থায় যে যেখানে পারে সেখানে আশ্রয় খুঁজে নিয়েছিল। এনিয়ে তারা এখন খুবই চিন্তিত। একই বক্তব্য ঝুঁকিতে থাকা অন্যান্য রোহিঙ্গাদেরও।
এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স উখিয়ার স্টেশন অফিসার মো: জহিরুল ইসলাম জানান, প্রাকৃতিক যে কোনো দুর্যোগ ও দুর্ঘটনার হাত থেকে তাদের সুরক্ষা করার জন্য চলছে নানা প্রস্তুতি মহড়া। বন্যা ও পাহাড় ধস কিভাবে মোকাবিলা করতে হবে, সেজন্য রোহিঙ্গাদের মাঝে ৫শ’ লোকের মাঝে দেয়া হচ্ছে সচেতনামূলক ট্রেনিং । এছাড়াও দ্রুত উদ্ধারকাজ চালানোর জন্য শরণার্থী ক্যাম্পের অভ্যন্তরে করা হয়েছে সাব-ফায়ার সার্ভিস স্টেশন। পাশাপাশি তাদের অতিরিক্ত জনবলও বৃদ্ধি করেছে।
এ বিষয়ে ৯৭ পদাতিক ব্রিগেড এর ব্রি. জেনারেল মো: ইকবাল আখতার মিঞা জনান, যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এছাড়া দুর্যোগ মোকাবিলা করার জন্য সেনা সদর দপ্তর থেকে যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রস্তুত রয়েছে সেনানিবাসের মেডিকেল টিমও। পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও ক্যাম্পগুলোতে বসবাসরত মিয়ানমারের নাগরিকদের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে উদ্ধারকারী দল। চলছে নানা রকম অনুশীলনও। এ বিষয়ে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইএনও) জানান, বিভিন্ন ক্যাম্পে পাহাড়ের ঢালুতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারি প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার শরণার্থীকে সরানোর কাজ চলছে। এছাড়া আষাঢ়ি ঢলে পানি যেন, ক্যাম্পেগুলোতে জমে না থাকে তার জন্য অভ্যন্তরীণ প্রায় ২০ কিলোমিটার খাল খননের কাজ চলছে। পাশাপাশি দুর্যোগকালীন সময়ে যেন তাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া যায়, তার জন্য সাইক্লোনশেল্টার ও অভ্যন্তরীণ যে মসজিদগুলো রয়েছেন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা মিলে এগুলো সংস্কার করা হচ্ছে। এছাড়াও দুর্যোগ মোকাবিলা কিভাবে করবে এ বিষয়েও দিচ্ছে রোহিঙ্গাদের মাঝে ট্রেনিং।