Friday, August 13, 2010

আহ্লান সাহ্লান মাহে রমজান by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

আহ্লান সাহ্লান মোবারক হো মাহে রমজান। মাহে রমজান উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি ও তাঁর প্রতিশ্রুত বেহেশত লাভের সওগাত। ‘রামাদান’ শব্দটি আরবি ‘রাম্দ’ ধাতু থেকে উদ্ভূত। এর আভিধানিক অর্থ হচ্ছে দহন, প্রজ্বলন, জ্বালানো বা পুড়িয়ে ভস্ম করে ফেলা। রমজান মাসে সিয়াম সাধনা তথা রোজাব্রত পালনের মাধ্যমে মানুষ নিজের সমুদয় জাগতিক কামনা-বাসনা পরিহার করে আত্মসংযম ও কৃচ্ছ্রপূর্ণ জীবন যাপন করে এবং ষড়রিপুকে দমন করে মহান আল্লাহর একনিষ্ঠ অনুগত বান্দা হওয়ার সামর্থ্য অর্জন করে। মাহে রমজান মানুষের অভ্যন্তরীণ যাবতীয় অহংকার, কুপ্রবৃত্তি, নফসের দাসত্ব জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দেয় বলে এ মহিমান্বিত মাসের নাম রমজান। অসাধারণ ফজিলত ও তাৎপর্যপূর্ণ মাহে রমজানে সমগ্র বিশ্বে মুসলমানদের ঈমানি চেতনা সুদৃঢ় হয়, তাকওয়া বা আল্লাহভীতির নিদর্শন প্রকাশ পায় এবং অত্যন্ত গভীরভাবে ধর্মীয় আবেগ-অনুভূতি সঞ্চারিত হয়। রমজান মাসে রোজা পালন করে খোদাভীরুতা অর্জনের মাধ্যমে সংযত আচরণ এবং আল্লাহর হুকুম পালনের যোগ্যতা অর্জনের সুবর্ণ সুযোগ পাওয়া যায়।
ইসলামধর্মের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম হচ্ছে রোজা। নামাজের পরেই মুসলমানদের প্রতি আল্লাহ তাআলা যে ইবাদত ফরজ করেছেন তা হচ্ছে মাহে রমজানের রোজা। দ্বিতীয় হিজরি সালে উম্মতে মুহাম্মদীর ওপর রমজান মাসের রোজা ফরজ করা হয়। তবে এই রোজা অন্যান্য জাতির ওপরও ফরজ ছিল। আল্লাহর তরফ থেকে যত শরিয়ত দুনিয়ায় নাজিল হয়েছে, এর প্রতিটিতেই রোজা পালনের বিধি-ব্যবস্থা ছিল। এতে কেবল সংখ্যা, নিয়মকানুন ও সময়ের ব্যবধান ছিল। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের জন্য রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল, যেন তোমরা মুত্তাকি হতে পারো।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত-১৮৩)
ইসলামের অন্যান্য বহু আদেশ-নির্দেশের মতো রোজাও ক্রমিক নিয়মে ফরজ হয়েছে। আল্লাহ তাআলা কেবল মাহে রমজানে রোজা নির্দিষ্ট ও এতেই সীমাবদ্ধ করে দেননি, বরং শরিয়তসম্মত কোনো অনিবার্য কারণবশত কেউ রমজান মাসে রোজা পালন করতে না পারলে এরপর অন্য যেকোনো সময় রোজার কাজা আদায় করার পথও উন্মুক্ত রেখেছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘রমজান মাসে মানুষের দিশারী এবং সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এই মাস পাবে, তারা যেন এই মাসে রোজা পালন করে। আর কেউ অসুস্থ থাকলে কিংবা সফরে থাকলে অন্য সময় এ সংখ্যা পূরণ করতে হবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য যা সহজ তা চান এবং যা তোমাদের জন্য কষ্টকর তা চান না, এ জন্য যে তোমরা (রোজার) সংখ্যা পূর্ণ করবে এবং তোমাদের সৎপথে পরিচালিত করার কারণে তোমরা আল্লাহর মহিমা কীর্তন করবে, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারো।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত-১৮৫)
মুমিনের জীবনে বছরের মধ্যে রমজান মাসটিই এক দুর্লভ সুযোগ এনে দেয়, তাই এ পুণ্যময় মাসের গুরুত্ব এত বেশি। এ কারণেই বলা হয়, রমজান মাস হচ্ছে ইবাদত, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, জিকর, শোকর ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক বিশেষ মৌসুম। একদা নবী করিম (সা.) মাহে রমজানের প্রাক্কালে বলেন, ‘রমজান মাস আগত প্রায়, এ মাস বড়ই বরকতের মাস, আল্লাহ তাআলা বিশেষ দৃষ্টি প্রদান করেন এবং খাছ রহমত বর্ষণ করেন, গুনাহ মাফ করেন এবং দোয়া কবুল করেন।’ তাই রমজান মাস ইসলামের অনুসারীদের জন্য আল্লাহ তাআলার বিরাট নিয়ামত। এর কদর করা না হলে মাহে রমজানের কোনো মূল্য বা মর্যাদা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায় না। এ মাসে পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছে, তাই মাহে রমজানের গুরুত্ব, তাৎপর্য ও ফজিলত অপরিসীম। রমজান মাসের সম্মানজনক মর্যাদা সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘যখন রমজান মাস আগত হয় তখন আকাশ বা বেহেশতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, সারা রমজান মাসে তা বন্ধ করা হয় না, আর দোজখের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়, সারা রমজান মাসে তা খোলা হয় না, আর শয়তানকে জিঞ্জিরে বন্দী করা হয়।’ (তিরমিজি, নাসাঈ, ইবনে মাজা)
ইসলামে শাবান মাসকে রমজান মাসের প্রস্তুতিমূলক মাস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শাবান মাসের সমাপনান্তে মাহে রমজানের এক ফালি রুপালি চাঁদ পশ্চিম আকাশে উদিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যখন একজন মুমিন মুসলমান মনে ইস্পাত-কঠিন ঈমান ও ব্যাপক উৎসাহ-আগ্রহভরে মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার উদ্দেশ্যে নিয়ত করে ফেলেন ও রোজা আদায়ে মশগুল হয়ে যান, তখনই তিনি মহান আল্লাহর বিশেষ রহমতের চাদর দ্বারা আবৃত হয়ে পড়েন। ফলে ইহকালীন শান্তি, পারলৌকিক কল্যাণ ও মুক্তির সনদ তার জন্য ঘোষণা করা হয়। মাহে রমজান এমনই এক বরকতময় মাস, যার আগমনে পুলকিত হয়ে স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবায়ে কিরামদের মোবারকবাদ পেশ করতেন। নবী করিম (সা.) সাহাবিদের এই মর্মে সুসংবাদ প্রদান করেছেন, ‘তোমাদের সামনে রমজানের পবিত্র মাস এসেছে, যে মাসে আল্লাহ তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করেছেন।’ (মুসলিম) অন্য এক হাদিসে নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘রজব আল্লাহর মাস, শাবান আমার মাস এবং রমজান আমার উম্মতের মাস।’
প্রকৃতপক্ষে পবিত্র মাহে রমজান মুসলমানদের জন্য একটি বার্ষিক প্রশিক্ষণ কোর্স, যার মাধ্যমে রোজাদারদের জীবন প্রভাবিত হয়। নবী করিম (সা.) সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, ‘যে ব্যক্তি পবিত্র রমজান মাস ভালোভাবে যাপন করবে, তার সমগ্র বৎসর ভালোভাবে যাপিত হবে।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘আমার উম্মত যদি মাহে রমজানের গুরুত্ব বুঝত, তাহলে সারা বছর রমজান কামনা করত।’
অতএব, মাহে রমজানের পবিত্রতা রক্ষার্থে, ইবাদত-বন্দেগি তথা সেহির, ইফতার, তারাবি, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, ইতিকাফ, তাহাজ্জুদ, দান-সাদকা প্রভৃতি আদায়ের সামগ্রিক প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে মাহে রমজানের গুরুত্ব, তাৎপর্য ও ফজিলত সঠিকভাবে উপলব্ধির মাধ্যমে এ পবিত্র মাসে সিয়াম সাধনার দ্বারা যাবতীয় কল্যাণ, অসীম রহমত, বরকত, মাগফিরাত ও নাজাত লাভের তাওফিক দান করুন।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়। পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (সা.)।
dr.munimkhan@yahoo.com

শ্রীলঙ্কা সরকারের গঠিত তদন্ত কমিশন কাজ শুরু করেছে

শ্রীলঙ্কা সরকারের গঠিত আট সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিশন গতকাল বুধবার থেকে কাজ শুরু করেছে। কমিশন প্রথম তিন দিন কলম্বোয় এবং শেষ দুদিন সাবেক যুদ্ধক্ষেত্রের কাছেই ভাবুনিয়া এলাকায় সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ করবে। গতকাল সরকারি এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এই কমিশন তামিল টাইগার ও শ্রীলঙ্কার সরকারের মধ্যে ২০০২ সালে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে যাওয়ার কারণও খতিয়ে দেখবে বলে জানা গেছে। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শ্রীলঙ্কা আর আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে চায় না। এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে কিছু সুপারিশ প্রণয়ন করতে তদন্ত কমিশনকে বলে দেওয়া হয়েছে।

অনলাইনে কার্ল মার্ক্সের উইল

এটা হয়তো খুব অবাক করার মতো বিষয় ছিল না যে পুঁজিবাদবিরোধী দার্শনিক কার্ল মার্ক্স দরিদ্র অবস্থায় মারা গেছেন।
কিন্তু সাত সন্তানের জনক এই জার্মান দার্শনিক ২৫০ পাউন্ডের সম্পদ নিজের সবচেয়ে ছোট মেয়ের জন্য উইল করে গিয়েছিলেন। অন্যদের না দিয়ে কেন ছোট মেয়েকে দিয়েছেন—এ বিষয়টি হয়তো মানুষকে অবাক করেছিল। ১৮৮৩ সালে উত্তর লন্ডনে মারা যান কার্ল মার্ক্স।
সম্প্রতি অনলাইনে ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীর বিখ্যাত ব্যক্তিদের উইল-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
১৮৬১ থেকে ১৯৪১ সাল পর্যন্ত ৬০ লাখেরও বেশি উইলের দাপ্তরিক সারাংশ প্রথমবারের মতো অনলাইনে প্রকাশ করা হলো।

মরক্কোয় ঝুঁকিপূর্ণ ১২৫০ মসজিদ ভেঙে ফেলা হচ্ছে

মরক্কোয় দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এক হাজার ২৫০টি মসজিদ ভেঙে ফেলা হবে। গতকাল বুধবার সরকারের এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে একটি মসজিদের মিনার ভেঙে সেখানে ৪১ জন মারা গিয়েছিল।
মরক্কোর ধর্ম মন্ত্রণালয় জানায়, পাঁচ শতাধিক মসজিদ সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হবে। এসব স্থানে নতুন মসজিদ নির্মাণ করা হবে। ওই সব স্থানে অস্থায়ী কক্ষ বা তাঁবু টাঙিয়ে দেওয়া হবে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের জন্য।
গত ফেব্রুয়ারিতে মেকনেসে জুমার নামাজের সময় শতাব্দীপ্রাচীন একটি মসজিদের মিনার ভেঙে পড়ার পর দেশের সব মসজিদ পরীক্ষার নির্দেশ দেয় সরকার। ওই দুর্ঘটনার পর দেশের ধর্মীয় স্থাপনাগুলো রক্ষণাবেক্ষণে কর্তৃপক্ষের অবহেলা নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়।
ধর্ম মন্ত্রণালয় জানায়, দেশের প্রায় ৪৮ হাজার মসজিদের মধ্যে ১৯ হাজার ২০৫টি মসজিদ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে সাড়ে ৬ শতাংশ সম্পূর্ণ এবং ৪১৬টির অংশবিশেষ ভেঙে ফেলা হবে। ইউনেসকো-ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ মেকনেসের ওই মসজিদটিও দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার পর নতুন করে তৈরি করা হবে।

রাশিয়ায় দাবানলে তেজস্ক্রিয়তা ছড়ানোর আশঙ্কা

রাশিয়ার দাবানল নিয়ন্ত্রণে চলে আসছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় অর্ধেক এলাকার আগুন নিভিয়ে ফেলা সম্ভব হয়েছে। বিশাল এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ধোঁয়ার দুর্ভোগ ধীরে ধীরে কমে আসছে বলে কর্তৃপক্ষের দাবি। তবে দাবানলের প্রচণ্ড তাপে চেরনোবিল পরমাণু দুর্ঘটনার বিষাক্ত উপাদান নতুন করে জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দাবানলকবলিত এলাকার আশপাশে জারি করা সতর্কাবস্থা এখনো বহাল আছে।
রাশিয়ার জরুরি মন্ত্রণালয় (ইমার্জেন্সি মিনিস্ট্রি) বলেছে, এ পর্যন্ত সেখানে এক লাখ ৭৪ হাজার হেক্টর এলাকা আগুনে পুড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিশাল এলাকার আগুন তারা নিভিয়ে ফেলেছে। তবে এখনো ৯২ হাজার ৭০০ একর এলাকায় আগুন জ্বলছে। পশ্চিম ব্রিয়ানস্ক এলাকার দাবানল মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে এলেও দাবানলের তাপপ্রবাহ চেরনোবিল পরমাণু দুর্ঘটনার বিষাক্ত উপাদানকে নতুন করে উসকে দিতে পারে। সাবেক সোভিয়েত-শাসিত ইউক্রেনের চেরনোবিল পরমাণু স্থাপনায় ১৯৮৬ সালে দুর্ঘটনা ঘটলে তেজস্ত্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় চেরনোবিলসহ পশ্চিম ব্রিয়ানস্ক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তেজস্ক্রিয় ছাইমেঘ। সে ছাই সেখানকার মাটিতে মিশে আছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, আগুনের তাপে মাটিতে সুপ্ত থাকা ওই তেজস্ক্রিয় উপাদান সক্রিয় হয়ে স্থানীয়দের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দেখা দিতে পারে।
অর্থনীতিবিদেরা আশঙ্কা করছেন, এই দাবানল ও তাপপ্রবাহের কারণে রাশিয়ার জাতীয় আয় দেড় হাজার কোটি ডলার কমে যাবে। কর্মকর্তারা বলেন, এখনো পাঁচ শতাধিক শহর ও গ্রামে জরুরি অবস্থা বহাল রাখা হয়েছে।
জরুরি মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, আগুন নেভাতে এক লাখ ৬৫ হাজার ৭০০ কর্মী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁরা ৩৯টি হেলিকপ্টারসহ মোট সাড়ে ২৬ হাজার অগ্নিনির্বাপণের যন্ত্র ব্যবহার করছেন। তাঁদের সাহায্য করতে ৫৫০ বিদেশি বিশেষজ্ঞ কাজ করছেন।
কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, পরবর্তী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাঁরা একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে পৌঁছাতে পারবেন।

থাকসিনের সম্পদ বাজেয়াপ্ত মামলার আপিল নাকচ

থাইল্যান্ডের শীর্ষ আদালত গতকাল বুধবার ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার সম্পদ বাজেয়াপ্তবিষয়ক মামলার আপিল আবেদন নাকচ করেছেন। ২০০৬ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আদালতের নির্দেশে থাকসিনের প্রায় ১৫০ কোটি ডলার মূল্যের সম্পদ জব্দ করা হয়।
থাকসিনকে যে কয়টি আইনি লড়াইয়ের মোকাবিলা করতে হচ্ছে, এটি তার প্রথম ধাপ। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাংককে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।

আদালতে তথ্যপ্রমাণ দাখিলের নির্দেশ

লেবাননের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রফিক হারিরি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে গঠিত জাতিসংঘের বিশেষ আদালত প্রয়োজনীয় সব তথ্যপ্রমাণ আদালতে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। গেরিলা সংগঠন হিজবুল্লাহ এ ঘটনায় ইসরায়েলকে দোষারোপ করার পর গতকাল বুধবার বিশেষ আদালত এই নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালতের মুখপাত্র ফাতিমা ইসাউয়ি বলেন, রফিক হারিরির ওপর হামলাসংক্রান্ত তথ্য যে কেউ আদালতে দাখিল করতে পারবেন।
হিজবুল্লাহ-প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ এক বিবৃতিতে বলেন, ২০০৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বৈরুতে বোমা হামলায় রফিক হারিরিসহ ২২ জনের নিহতের ঘটনায় ইসরায়েলের হাত রয়েছে।

কাশ্মীরে স্বায়ত্তশাসনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান

ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারা। বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টিও (বিজেপি) এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে।
এদিকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার আগেই ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে মুসলিম জঙ্গিদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে চারজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আটজন। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা গতকাল বুধবার এ তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং গত মঙ্গলবার কাশ্মীরি মুসলমানদের উদ্দেশে বলেন, কাশ্মীরে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যেকোনো মতৈক্যের প্রস্তাব সরকার বিবেচনা করবে। বিচ্ছিন্নতাবাদীদের রাজনৈতিক নেতা জাভেদ মীর এ প্রস্তাব নাকচ করেছেন। এই সাবেক জঙ্গি নেতা বলেন, ‘আমাদের সংগ্রাম স্বাধীনতার জন্য, স্বায়ত্তশাসনের জন্য নয়।’
বিজেপি বলেছে, প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং জম্মু ও কাশ্মীরে স্বায়ত্তশাসনের যে প্রস্তাব করেছেন তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এ প্রস্তাবকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে অভিহিত করেছে বিজেপি।
পুলিশ জানায়, সেনাবাহিনী ও মুসলিম জঙ্গিদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের সময় ক্রসফায়ারে এক নারী বাসযাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া এ ঘটনায় আরও আটজন আহত হয়েছে। ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগরের ৫০ কিলোমিটার উত্তরে অপর এক ঘটনায় পুলিশের তিনজন সদস্য নিহত হয়েছেন।
পুলিশের ছোড়া কাঁদানে গ্যাসের শেলের আঘাতে গত ১১ জুন এক স্কুলছাত্র নিহত হওয়ার পর কাশ্মীরের রাজধানী ও অন্যান্য শহরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। গত দুই মাসে চলমান সহিংসতায় এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক লোকের প্রাণহানি ঘটেছে। বেশির ভাগ লোক নিহত হয় পুলিশের গুলিতে। নিহত ব্যক্তিদের অধিকাংশ কিশোর ও যুবক।
১৯৮৯ সাল থেকে ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে জঙ্গি তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি হিসাবে, সেই থেকে এখন পর্যন্ত ৪৭ হাজার লোক মারা গেছে

ইমামকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো নিয়ে তোপের মুখে ওবামা প্রশাসন

এক ইমামকে মধ্যপ্রাচ্য সফরে পাঠানো নিয়ে রক্ষণশীল আইনপ্রণেতাদের তোপের মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ওবামা প্রশাসন। নিউইয়র্কে বিমান হামলায় বিধ্বস্ত টুইন টাওয়ারের কাছে গ্রাউন্ড জিরোতে মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার নির্মাণের অন্যতম পরিকল্পনাকারী ওই ইমাম। ওই স্থানে মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্ক চলছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ফিলিপ ক্রাউলি বলেন, ইমাম ফয়সাল (আবদুল রউফ) সরকারি সফরের অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের কাতার, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ভ্রমণ করবেন। যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের অবস্থান এবং ধর্মীয় সহিষ্ণুতা বিষয়ে তিনি আলোচনা করবেন।
কিন্তু ইমাম আবদুল রউফের এই সফরের কঠোর সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটির সদস্য টেলেনা রস-লেহটিহেন এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিষয়ক কমিটির সদস্য পিটার কিং।
তাঁরা দুজন এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, মার্কিন করদাতাদের অর্থে আবদুল রউফ মধ্যপ্রাচ্য সফর করবেন—এটা মেনে নেওয়া যায় না।
রিপাবলিকান দুই নেতা আরও বলেন, আবদুল রউফ নাইন ইলেভেনের হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন। এবং তিনি হামাসকেও সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে মানতে রাজি নন।
তাঁরা আরও বলেন, মার্কিন নাগরিকদের পক্ষে কথা বলার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাঁকে বেছে নেওয়াকে আবারও প্রশাসনের নীতি এবং অর্থ খরচের গুরুত্ব নির্ধারণ নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রাত্যহিক ব্রিফিংয়ে আবদুল রউফের সফরের ঘোষণা দেওয়ার সময় মুখপাত্র ক্রাউলি তাঁকে একজন উদারপন্থী হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, রউফ ইতিমধ্যে আরব ও মুসলিম দেশগুলোতে এ ধরনের দুটি সফর করেছেন। ২০০৭ সালে তিনি বাহরাইন, মরক্কো, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে মিসর সফর করেছেন।
ক্রাউলি বলেন, ‘আবদুল রউফের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও বিচিত্রতার বিষয়ে তাঁর কর্মকাণ্ড সুপরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের অবস্থান সম্পর্কে একটি উদারপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি তিনি বিদেশি দর্শকদের কাছে উপস্থাপন করেন।’
ক্রাউলি আরও বলেন, ‘গ্রাউন্ড জিরোতে মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার তৈরি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ার আগেই সফর নিয়ে আবদুল রউফের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে।’

চেহারা-সুরতই সবকিছু নয়

কথায় বলে, সুন্দর মুখের জয় সবখানে। কিন্তু এই প্রবাদ অনেক সুন্দরী নারীর বেলায় না-ও খাটতে পারে। বিশেষ করে কিছু কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে, যেসব কাজে চেহারাসুরত গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষার ফলাফলে এ তথ্য জানা গেছে। ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো ডেনভার বিজনেস স্কুল এই সমীক্ষা চালায়। জার্নাল অব সোশ্যাল সাইকোলজি সাময়িকীতে এই সমীক্ষাবিষয়ক নিবন্ধ প্রকাশিত হয়।
বিভিন্ন পেশায় চাকরির জন্য আবেদন করা প্রার্থীদের ছবি ও সাক্ষাৎকার থেকে এই তথ্য পাওয়া যায়। সমীক্ষার জন্য ৫৫ জন নারী ও ৫৫ জন পুরুষের ছবি বেছে নেওয়া হয়।
সমীক্ষায় দেখা গেছে, গবেষণা ও উন্নয়নবিষয়ক ব্যবস্থাপক, অর্থবিষয়ক পরিচালক, যন্ত্র প্রকৌশলী ও নির্মাণকাজের তত্ত্বাবধানকারীর মতো পদে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে নারীর সুন্দর মুখ সেভাবে বিবেচনায় আনা হয় না। নিরাপত্তা পরিচালক, হার্ডওয়্যার সেলসম্যান, কারারক্ষী, ট্রাকচালক—এসব পদেও সুন্দর চেহারা তেমন কাজে আসে না।
এ ব্যাপারে গবেষক স্টেফানি জনসন বলেন, এসব পেশার ক্ষেত্রে সুন্দরী হওয়াটা নারীর জন্য ক্ষতিকর। তিনি বলেন, সুন্দরী নারীদের রিসেপশনিস্ট বা সচিব পদে চাকরি পাওয়ার ব্যাপারে ঝোঁক বেশি।
গবেষকেরা জানান, উল্লিখিত পেশা ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে সুন্দরী নারীদের কাজ পেতে সুবিধা হয়। সুন্দরী নারীরা যেসব চাকরির ক্ষেত্রে প্রতিকূলতার মধ্যে পড়েন, পুরুষদের ক্ষেত্রে আবার তা নয়। বরং সুদর্শন পুরুষের জন্য তার সৌন্দর্য বাড়তি যোগ্যতা হিসেবে কাজ করে

সাহায্য না পেলে পাকিস্তানে অনেক লোক মারা যাবে

বিপুল পরিমাণ আন্তর্জাতিক সাহায্য না এলে পাকিস্তানের আরও অনেক বন্যাদুর্গত লোক মারা যেতে পারে বলে হুঁশিয়ার করে দিয়েছে বিভিন্ন সাহায্য সংস্থা। তারা বলেছে, বন্যার কারণে পাকিস্তানে এখন মহাদুর্যোগ চলছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত বড় ধরনের সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসা। জাতিসংঘ গতকাল বুধবার নতুন করে পাকিস্তানের বন্যাদুর্গত এক কোটি ৪০ লাখ লোকের জন্য সাহায্য চেয়েছে।
আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় সিন্ধু ও পাঞ্জাব প্রদেশের কয়েকটি এলাকায় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি দেশে ভয়াবহ বন্যার সময় তাঁর ইউরোপ সফরের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। তিনি বলেছেন, বন্যার সময় বিদেশে অবস্থান করলেও বন্যাদুর্গতদের কল্যাণেই তিনি কাজ করেছেন। এদিকে পাকিস্তানি তালেবান পশ্চিমা সাহায্য প্রত্যাখ্যানের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
পাকিস্তানের বিগত ৮০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যায় ইতিমধ্যেই এক হাজার ৬০০ জনের বেশি লোক মারা গেছে। ব্রিটিশ সাহায্য সংস্থা অক্সফামসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো বলেছে, বিশ্ব সম্প্রদায় বিপুল পরিমাণ সাহায্য না নিয়ে এগিয়ে এলে পাকিস্তানে আরও অনেক বন্যাদুর্গত লোক মারা যাবে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, পাকিস্তানে যত বড় দুর্যোগ দেখা দিয়েছে তাতে সহায়তার পরিমাণটা তেমনই হওয়া উচিত। অক্সফামের পক্ষ থেকে বলা হয়, সাম্প্রতিক বিভিন প্রাকৃতিক দুর্যোগে যেমন সাড়া পাওয়া গেছে, পাকিস্তানের ক্ষেত্রে তেমনটা পাওয়া যাচ্ছে না। পাকিস্তানে এ পর্যন্ত দুর্গতদের মাথাপ্রতি মাত্র তিন ডলার সাহায্যের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। অথচ ২০০৫ সালে পাকিস্তানে যে ভূমিকম্প হয় তাতে মাথাপ্রতি সাহায্য এসেছিল ৭০ ডলার। এ বছর হাইতিতে ভূমিকস্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জনপ্রতি সাহায্য পাওয়া যায় ৪৯৫ মার্কিন ডলার।
জাতিসংঘের জরুরি ত্রাণ সমন্বয়ক জন হোমস বলেছেন, পাকিস্তানের বন্যাদুর্গতদের জন্য তাঁরা প্রাথমিকভাবে ৫০ কোটি ডলার সংগ্রহ করতে পারবেন বলে আশা করছেন। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি গতকাল জানিয়েছে, তারা ১৫ কোটি ডলার ব্যয়ে পাকিস্তানের ৬০ লাখ লোককে খাদ্যসহায়তা দেবে।
প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলে ত্রাণকাজে সাহায্য করতে পাকিস্তানকে দুটি সামরিক বিমান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, বন্যার সময় তিনি ইউরোপ সফর করলেও আসলে তিনি বন্যাদুর্গতদের কল্যাণেই কাজ করেছেন। তাঁর সঙ্গে বৈঠকের পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তানকে দুই কোটি ৪০ লাখ ডলার সাহয্যের প্রতিশ্রুতি দেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও তিনি ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখেছেন।

ভালোই করছেন সাকিব

মাঝে একটা ম্যাচে বলার মতো কিছু করতে পারেননি। গ্ল্যামরগনের বিপক্ষে ম্যাচে আবার নিজেকে মোটামুটি ফিরে পেয়েছেন সাকিব আল হাসান। বল হাতে প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতে করেছিলেন ৪৭ রান। দ্বিতীয় ইনিংসেও বোলিংয়ে ভালো করছেন বাংলাদেশের সদ্য সাবেক অধিনায়ক।
‘কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ ডিভিশন টু’-এর খেলায় গ্ল্যামরগনের মাঠেই স্বাগতিকদের সঙ্গে চার দিনের ম্যাচ খেলছে সাকিবের দল উস্টারশায়ার। ৬ উইকেটে ২৮১ রান নিয়ে কাল তৃতীয় দিন শুরু করেছিল উস্টার। গ্ল্যামরগনের প্রথম ইনিংসের চেয়ে ১৯ রান পেছনে থেকে ৩৫০ রানে অলআউট হয় তারা।
কালকের খেলা শেষ হওয়ার সময় পর্যন্ত ৬ উইকেটে ৩৫৫ রান তুলেছে গ্ল্যামরগন। এর মধ্যে ম্যাট ম্যাসন নিয়েছেন ৩ উইকেট এবং ২৮ ওভার বল করে ১২৯ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন সাকিব।

কাবাডি কোচ জলিল বাদ

তাঁর হাতে গড়া বাংলাদেশের বর্তমান দলের বেশির ভাগ কাবাডি খেলোয়াড়। গত দক্ষিণ এশীয় গেমসের সময়ও কাবাডি দলের কোচ ছিলেন আবদুল জলিল। কিন্তু আগামী নভেম্বরে চীনের গুয়াংজুতে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান গেমসের কাবাডি দলের জন্য বাদ দেওয়া হয়েছে জলিলকে। ছেলেদের দলের দায়িত্ব পেয়েছেন আবদুল হক, মেয়েদের কোচ হয়েছেন আবদুল হাকিম।
কদিন আগে ঘোষিত দলে জায়গা হয়নি আবদুল জলিলের ছোট ভাই জিয়াউর রহমানেরও। ফেডারেশনের দাবি, জিয়াউর এখনো পুরো সুস্থ হয়ে ওঠেননি। দেশসেরা এই রেইডার এখন তাকিয়ে আছেন আগামী জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের দিকে। কিন্তু সেই আশাও পূরণ হবে কি না, কে জানে। তাঁর দীর্ঘ ১৫ বছরের ক্যারিয়ার কি এখানেই শেষ হয়ে যাবে সেটা নিয়েও চিন্তুিত জিয়া, ‘খেলতে পারছি না বলে খুব খারাপ লাগছে। এভাবে ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাবে, সেটা ভাবতেও পারছি না।

দুই অলিম্পিয়ানের চিরবিদায়

আজকের শচীন টেন্ডুলকার, সানিয়া মির্জাদের কাছে তাঁর নামটা নিতান্তই অচেনা মনে হতে পারে। কিন্তু টেন্ডুলকার-সানিয়াদের বান্দ্রা শহরতলি থেকে উঠে আসা একসময়ের সবচেয়ে বড় তারকা ছিলেন লিও পিন্টো। ১৯৪৮ অলিম্পিকে সোনাজয়ী ভারতীয় হকি দলের সদস্য এবং ভারতের প্রবীণতম অলিম্পিয়ান পিন্টো গত পরশু ৯৬ বছর বয়সে এই জগৎ ছেড়ে চলে গেলেন। পরশু মারা গেছেন আরও এক অলিম্পিক ‘সোনাজয়ী’ আন্তোনিও পেট্টিগ্রিউ

নতুন ওয়ানডের আবির্ভাব

টি-টোয়েন্টির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় ওয়ানডে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেকেই শঙ্কিত। এক দিনের ম্যাচে কীভাবে দর্শক ধরে রাখা যায়, এ নিয়ে আইসিসি যখন চিন্তাভাবনা করছে, তখন এক ধাপ এগিয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) মাঠে একটা পরীক্ষাই করে ফেলল। ওয়েবসাইট।
চার ইনিংসের এক দিনের ম্যাচ আয়োজন করে ফেলেছে সিএ। সাউথ অস্ট্রেলিয়ান রেডব্যাকস ও তাসমানিয়ান টাইগার্সের মধ্যকার সীমিত ওভারের প্রস্তুতি ম্যাচটি হলো ‘চার ইনিংস’ ফরম্যাটে। ডারউইনের মারারা ওভালে হওয়া এই ম্যাচে ৬ উইকেটে জিতেছে টাইগার্স, ৮.৩ ওভার হাতে রেখে।
ওয়ানডেতে চার-ইনিংস তত্ত্বের প্রয়োগে সিএ ‘প্রথম’ হলেও এই তত্ত্ব সম্পর্কে অনেক আগেই ধারণা দিয়েছেন শচীন টেন্ডুলকার। এতে ওয়ানডে ক্রিকেট আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠবে বলেও মতামত দিয়েছিলেন ভারতীয় ব্যাটসম্যান।
সেই ধারণাটাকেই মাঠে প্রয়োগ করেছে সিএ। নতুন এই এক দিনের ম্যাচে প্রতিটি দল খেলছে দুই ইনিংস করে, ইনিংসের দৈর্ঘ্য ২০ ওভার। এতে ম্যাচে খানিকটা টি-টোয়েন্টি, খানিকটা টেস্টের স্বাদ এসে যাচ্ছে। নতুন এই ফরম্যাটটাকে দর্শক কীভাবে নেবে, সেটা সময় বলবে।
তবে তাসমানিয়ার কোচ টিম কুলি বলছেন, ‘অনেক দিন ধরে যারা খেলাটার সঙ্গে জড়িত, তারা একটু সংশয়ে ছিলেন। কিন্তু তরুণ খেলোয়াড়েরা খুব রোমাঞ্চিত ছিল। ভালো দলগুলো খুব দ্রুত এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে।’
এদিকে এই ম্যাচের সাফল্যে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তাদের ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন ফরম্যাট ব্যবহারের জন্য সবুজ সংকেত দিয়ে দিয়েছে। এই ফরম্যাটে প্রতিটি ইনিংসের দৈর্ঘ্য কত হবে, সিএ সেটা ঠিক করতে না পারলেও এটুকু নিশ্চিত করেছে, আগামী এফআর কাপের শেষ ছয় রাউন্ড নতুন এই পদ্ধতিতে খেলা হবে।

বরদুলই ট্রফিতে খেলছে আবাহনী

আসামের বরদুলই ট্রফি দিয়ে নতুন মৌসুম শুরু করতে যাচ্ছে আবাহনী। পেশাদার লিগের হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়নদের আমন্ত্রণ জানিয়ে এরই মধ্যে ঢাকা ঘুরে গেছেন আয়োজক সংস্থার কর্মকর্তারা। ওই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে অনুশীলনে নামার পরিকল্পনা করছে আকাশি-নীলরা।
বরদুলই টুর্নামেন্টের ব্যাপ্তি ২-১৫ সেপ্টেম্বর। স্থানীয় বেশ কয়েকটি দল নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু হবে নকআউট পদ্ধতিতে। এরপর ছয় দল নিয়ে গ্রুপ পর্ব। এই পর্বে আবাহনীর সঙ্গে নেপাল, থাইল্যান্ডের একটি করে দল নেওয়ার চেষ্টা করছে আয়োজকেরা। কলকতার ইস্টবেঙ্গল ক্লাবও এই টুর্নামেন্টে খেলতে পারে। আবাহনীর প্রথম খেলা ৮-৯ সেপ্টেম্বর হওয়ার সম্ভাবনা।
দলবদলের আনুষ্ঠানিকতা সেরেই বরদুলইয়ে খেলবে আবাহনী। তার আগে ভালো মানের বিদেশি ফুটবলার এবং বিদেশি কোচ আনার চেষ্টা চালাচ্ছে দলটি। অধিনায়ক বিপ্লবসহ বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় দল ছেড়ে যাওয়া নিশ্চিত করায় ঘাটতি পূরণে সেটি ছাড়া ভালো বিকল্পও নেই।
বরদুলইয়ে সর্বশেষ ২০০৭ সালে খেলে সেমিফাইনালে টাইব্রেকারে হেরে সেবার বিদায় নেয় আবাহনী। এবার এই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি আবাহনীর লক্ষ্য, ঘরোয়া মৌসুম শুরুর আগে ভালোভাবে নিজেদের প্রস্তুতিটা সেরে নেওয়া। ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস সেটাই বললেন, ‘বরদুলইয়ে যতটা সম্ভব ভালো প্রস্তুতি নিয়ে যেতে চাই আমরা। এই টুর্নামেন্টে আমরা বুঝতে পারব নতুন দল কতটা কী করতে পারবে। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব পরে। তবে আপাতত আমরা বরদলুইয়ে ভালো কিছু করতে চাই।’
দিল্লি থেকে আমন্ত্রণ: দিল্লির সুব্রত মুখার্জি কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ থেকে অনূর্ধ্ব-১৪ ও অনূর্ধ্ব-১৭ দল চাওয়া হয়েছে। মৌখিক আমন্ত্রণটা এসেছে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে। ১০ নভেম্বর থেকে ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই টুর্নামেন্টের আয়োজক ভারতীয় বিমানবাহনী। বাংলাদেশ থেকে দল পাঠানোর সম্ভাবনা আছে।

ম্যারাডোনার পাশে স্পষ্টবাদী তেভেজ

লিওনেল মেসি, সার্জিও আগুয়েরো কিংবা অধিনায়ক হাভিয়ের মাচেরানো বলছেন, ডিয়েগো ম্যারাডোনা থাকলে ভালো হতো। কিন্তু ফেডারেশনের সঙ্গে ম্যারাডোনার মতানৈক্য নিয়ে সবাই কূটনৈতিক। কে আর ফেডারেশনকে চটাতে চায়!
একজন আছেন—কার্লোস তেভেজ। হ্যাঁ, তেভেজ কোনো কূটনীতির ধার ধারেননি। একেবারে ম্যারাডোনার ভঙ্গিতেই বলেছেন, প্রতারণা করা হয়েছে তাঁদের কোচের সঙ্গে। ‘প্রতারণা’ শব্দটা উল্লেখ না করলেও সোজাসাপ্টা বলেছেন, আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট হুলিও গ্রন্দোনা ম্যারাডোনার সঙ্গে মিথ্যাচার করেছেন। কথাটা শুধু বলার জন্য বলা নয়, তেভেজ বলেছেন, সাক্ষাৎ পাওয়ামাত্র গ্রন্দোনার মুখের ওপর এই কথা বলে দেবেন।
বিশ্বকাপে জার্মানির বিপক্ষে হারের পর গ্রন্দোনা বলেছিলেন, ম্যারাডোনার ভবিষ্যৎ তাঁর হাতে। কারণ আর্জেন্টিনায় একমাত্র ম্যারাডোনার ‘যা ইচ্ছা তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আছে।’ ‘এল অ্যাপাচি’ নামের স্পষ্টবক্তা এই ফরোয়ার্ড বলছেন, এই গ্রন্দোনাই জার্মানি ম্যাচের পর ড্রেসিংরুমে ঢুকে বলেছিলেন, ম্যারাডোনা কোচ হিসেবে যেন থেকে যান।
গ্রন্দোনার মতো অমিতক্ষমতাধর সংগঠকের বিরুদ্ধে কথা না রাখার অভিযোগ এনেও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটুও উদ্বিগ্ন নন তেভেজ, ‘মিস্টার গ্রন্দোনাই বলেছিলেন, ম্যারাডোনার যা ইচ্ছে করতে পারেন। ড্রেসিংরুমে ঢুকে এই ডন হুলিওই ডিয়েগোকে বলেছিলেন, তিনি যেন কোচ হিসেবে থেকে যান। আমি ওনার (গ্রন্দোনার) সাক্ষাৎ পেলে মুখের ওপর এসব কথা বলতাম। দেখুন, এএফএ কথা রাখেনি। আমি যা মনে করি, তাই বলছি। পরের ম্যাচেই আমি থাকব কি না, তা নিয়ে আমার কিছু যায়-আসে না।’
এসব বলায় তেভেজের ভবিষ্যৎ কী হবে, সেটা সময় বলবে। তবে সম্ভবত, গত কালকের ম্যাচে মাঠে নামেননি তিনি। এই লেখা পড়ার সময় জেনে যাওয়ার কথা গতকাল ডাবলিনে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচের ফল। পত্রিকার খবর ছিল, গলাব্যথার কথা বলে এই ম্যাচ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন ‘কার্তিলোজ’।
গতকালকের ম্যাচে খেলার সম্ভাবনা কম ছিল সার্জিও আগুয়েরোরও। তবে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ সার্জিও বাতিস্তার সৌভাগ্য, লিওনেল মেসিকে তিনি পেয়েছেন। বার্সেলোনার হয়ে এশিয়া সফর শেষ করেই ফিফার বর্তমান বর্ষসেরা খেলোয়াড় দ্রুত স্পেন থেকে আয়ারল্যান্ডে পৌঁছে গেছেন।
ম্যাচে কী করেছেন, সেটা পরের কথা। তবে মেসিকে দেখেই খুব খুশি বাতিস্তা, ‘আমি খুব খুশি, ও ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে এখানে পৌঁছেছে। বেইজিং থেকে বার্সেলোনা হয়ে পুরো পৃথিবী অর্ধেক চক্কর দিয়ে এখানে এসেছে, কিন্তু মুখে দুর্দান্ত একটা হাসি বুলিয়ে রেখেছে। এরপর ওর পক্ষেই শুধু বলা সম্ভব, ‘‘এ আর এমন কী!’’ এতেও লিওনেলের চরিত্রটা বোঝা যায়।’
লিওনেল নিয়ে বাতিস্তা যতই প্রশংসা করুন, ম্যারাডোনা প্রসঙ্গে টুঁ শব্দটি করেননি। ’৮৬ বিশ্বকাপজয়ী দলের সতীর্থ ম্যারাডোনার ছেড়ে যাওয়া চেয়ারে বসে আর পেছন ফিরতে চান না বাতিস্তা, ‘আমি পেছনে ফিরতে চাই না। আমার দৃষ্টি সামনে। আমরা একেবারেই নতুন একটা যুগ শুরু করতে যাচ্ছি। এখন ছেলেদের ওপর নির্ভর করে ওরা আমার জন্য কাজটা কতটা সহজ করে দেবে।’
কিন্তু ‘ছেলেরা’ যে তাদের ‘পুরোনো অভিভাবক’কে ভুলতেই পারছে না!

আইসিসিকে কেবল টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতে মনোযোগ দিতে হবে: মার্টিন ক্রো

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বাণিজ্যিক ঝনঝনানি টেস্ট ক্রিকেটের জনপ্রিয়তাকে অনেকটাই ম্লান করে দেওয়ায় নতুন করে একে যুগোপযোগী করে তোলার তাগিদ অনুভব করছে আইসিসি। ক্রিকেটের ব্যাকরণ নামে পরিচিত এই টেস্ট ক্রিকেটকে দর্শকদের জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য আইসিসির প্রতি অনুরোধও জানিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের সাবেক তারকা খেলোয়াড়েরা। অনেকেই টেস্ট ক্রিকেটকে বাঁচাতে দরকার হলে ৫০ ওভারের ক্রিকেটকে নির্বাসনে পাঠিয়ে দেওয়ারও পক্ষপাতি। এ দলে রয়েছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ও কিউই ক্রিকেটের সর্বকালের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার মার্টিন ক্রোও। তিনি বলেছেন, ক্রিকেটের স্বার্থেই এ মুহূর্তে আইসিসিকে নির্দিষ্ট দুটি ফরম্যাটে ক্রিকেটকে নিয়ে আসতে হবে। আর টেস্টের পাশাপাশি তাঁর মতে ছোট ফরম্যাট হিসেবে থাকতে পারে কেবল টি-টোয়েন্টিই। মার্টিন ক্রো মনে করেন, টেস্ট ও টি-টোয়েন্টির পাশাপাশি আইসিসি যদি ওয়ানডে ক্রিকেটও চালাতে চায়, তাতে ক্রিকেটেরই ক্ষতি হবে। তিন স্পষ্ট ভাষাতেই বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, তিন ধরনের ক্রিকেট চললে তা হবে দর্শক ও সংশ্লিষ্ট সবার জন্য অত্যন্ত বিভ্রান্তির।’
ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর এক কথিকায় মার্টির ক্রো আরও বলেন, ‘বর্তমানে ওয়ানডে ক্রিকেটে চার ইনিংসের একটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কিন্তু আমার মনে হয়, এমন কিছু করলে তা ক্রিকেটকে হাসি-তামাশার বস্তুতে পরিণত করবে। স্পন্সরশিপ বাজারকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে।’
মার্টিন ক্রো বলেন, এই সেদিন পর্যন্ত ক্রিকেটে দুটি ফরম্যাটে খেলা হয়েছে। টেস্ট ও ওয়ানডে। বর্তমানের পরিবর্তিত বিশ্বে ওয়ানডের জায়গায় টি-টোয়েন্টিকে টেস্ট ক্রিকেটের পাশাপাশি চালানো যেতে পারে। ওয়ানডে ক্রিকেটকে বিলুপ্ত করে দিলে টেস্ট ক্রিকেট টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের পাশাপাশি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারবে।
এমসিসির ক্রিকেট কমিটির অন্যতম সদস্য মার্টিন ক্রো গত বছর আইসিসির কাছে টেস্ট ক্রিকেটকে জনপ্রিয় করে তোলার লক্ষ্যে কিছু প্রস্তাবনা পেশ করেছিলেন। সেখানে ক্রো টেস্ট ক্রিকেটকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তোলার জন্য প্রতিবছর টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

দলে ফিরলেন মুনাফ প্যাটেল

শ্রীলঙ্কায় ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০০ রানের বিশাল ব্যবধানে হারের পর বোলিং আক্রমণ শক্তিশালী করার জন্য মুনাফ প্যাটেলকে দলে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পরবর্তী ওয়ানডে ম্যাচেই মাঠে নামবেন এই ডানহাতি মিডিয়াম পেস বোলার।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের জন্য ঘোষিত ভারতীয় দলে মুনাফ প্যাটেলের নাম ছিল। কিন্তু অভিমন্যু মিথুন দলে ডাক পাওয়ায় টেস্ট সিরিজটিতে মাঠে নামা হয়নি প্যাটেলের। সম্প্রতি ভারতীয় বোলারদের ইনজুরি সমস্যার কারণে আবার মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছেন প্যাটেল।
ভারতের প্রধান পেস বোলার জহির খান কাঁধের ইনজুরিতে পড়ে অংশ নিতে পারেননি শ্রীলঙ্কা সফরে। হাঁটুর ইনজুরির কারণে কোনো ম্যাচ না খেলেই দেশে ফিরতে হয়েছে শ্রীশান্তকে। গোড়ালির ইনজুরির কারণে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচটা মিস করেছেন ইশান্ত শর্মাও। এখন ইশান্ত শর্মার বদলি হিসেবে দীর্ঘদিন পর আবার মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছেন মুনাফ প্যাটেল। গত বছর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেটি খেলেছিলেন তিনি।

দল নেই পিটারসেনের

কোনো কাউন্টির সঙ্গেই আর চুক্তি নেই পিটারসেনের
২০০৯ সালের মে মাসে পোর্ট অব স্পেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট সেঞ্চুরি করেছেন কেভিন পিটারসেন। তার পর থেকে ব্যাটে এমন কিছু রান নেই তাঁর। খুব খারাপ পারফরম্যান্স না হলেও বলা যায়, সময়টা পিটারসেনের হয়ে কথা বলছে না।
সময়টা পিটারসেনের নয়, তার আরও প্রমাণ, দক্ষিণ আফ্রিকান বংশোদ্ভূত এই ক্রিকেটারের সঙ্গে চুক্তি বাড়াল না হ্যাম্পশায়ার। পিটারসেন যদি দ্রুত কোনো কাউন্টি দল খুঁজে না পান, তবে তিনি হয়ে যেতে পারেন ইংল্যান্ডের প্রথম ‘ফ্রিল্যান্স টেস্ট ক্রিকেটার’।
রেকর্ডপ্রেমীদের জন্য ব্যাপারটা মজার। কিন্তু ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) ব্যাপারটাকে ভালোভাবে দেখছে না। তারা পিটারসেনকে জানিয়ে দিয়েছে, দ্রুত নতুন দল খুঁজে না পেলে ইসিবির সঙ্গে তাঁর চুক্তি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যেতে পারে। পিটারসেনের দল পাওয়া, না পাওয়া নিয়ে অবশ্য খুব একটা ভাবিত নন ইংল্যান্ড কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার।
হ্যাম্পশায়ারের সঙ্গে ঝামেলাটা পিটারসেনই শুরু করেছিলেন। এই কাউন্টি ছেড়ে বাড়ির কাছে মিডলসেক্স বা সারেতে যোগ দিতে চেয়েছিলেন তিনি। সেটা হয়নি। পরে পিটারসেন আবার হ্যাম্পশায়ারে খেলার আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। এবার আগ্রহ দেখায়নি হ্যাম্পশায়ারই।
পিটারসেন কাউন্টিহীন হয়ে পড়ায় ইসিবি চিন্তিত। কিন্তু ইংল্যান্ডের জিম্বাবুইয়ান কোচ ফ্লাওয়ার বলছেন, ‘অ্যাশেজ খেলতে অস্ট্রেলিয়া রওনা হওয়ার আগে ওর (পিটারসেনের) কাউন্টি পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে কি না, তা নিয়ে আমি খুব চিন্তিত নই। তবে ইসিবির নীতিমালার কারণেই তারা হয়তো চায় আমাদের সব আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় কোনো না কোনো কাউন্টির সঙ্গে যুক্ত থাক।’
ফ্লাওয়ার বরং পাকিস্তানের বিপক্ষে এজবাস্টন টেস্টে পিটারসেনের ৮০ রানের ইনিংসটা নিয়েই আলোচনা করতে বেশি আগ্রহী। যদিও খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে করা পিটারসেনের এই ইনিংস নিয়ে ইংলিশ সংবাদমাধ্যম খুব সমালোচনা করেছে। কিন্তু ফ্লাওয়ার ইনিংসটা দেখে মজা পেয়েছেন, ‘পরিস্থিতিটা প্রথম ইনিংসে ব্যাট করার জন্য খুব ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। পিটারসেন যেভাবে রানের জন্য লড়ল এবং ৮০ রানের ছোট্ট একটা ইনিংস খেলল, সেটা আমি খুব উপভোগ করেছি।