Showing posts with label ফরিদপুর. Show all posts
Showing posts with label ফরিদপুর. Show all posts

Monday, July 20, 2026

ফরিদপুর থেকে বম্বে, গীতা দত্ত মানে ‘তুমি যে আমার’ by মাসুম অপু

প্রকাশ ২৩ নভেম্বর ২০২৩ঃ ‘তুমি যে আমার’, ‘এই সুন্দর স্বর্ণালি সন্ধ্যায়’, ‘নিশি রাত বাঁকা চাঁদ আকাশ’, ‘মেরা নাম চিনচিন চু’ ও ‘বাবুজি ধীরে চল না’র মতো অনেক জনপ্রিয় গানের কালজয়ী শিল্পী তিনি। তবে তিনি যে বাংলাদেশেরই মাটির কন্যা, তা হয়তো অনেকেরই অজানা। মুম্বাই চলচ্চিত্রজগতের প্রবাদপ্রতিম গায়িকা গীতা দত্ত। নায়ক, পরিচালক গুরু দত্তের জীবনসঙ্গী। ২৩ নভেম্বর তার জন্মদিন।

শিরোনাম আর শুরুর তথ্যের পর তাঁকে নিয়ে লেখার কোনো ভূমিকা দরকার হয় না। এই বাংলার কন্যা গীতা দত্তের নামের আগে জুতসই বিশেষণ পাওয়াও মুশকিল। যেমন মুশকিলে পড়েছিলেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। ‘হারানো সুর’ সিনেমার গান করছেন। ‘তুমি যে আমার’ গানটি রেকর্ড হবে। সুচিত্রা মানেই তো সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠ। সবাই সে কথা বলেছিলেন, কিন্তু সুরকার হেমন্ত ঠিক আস্থা রাখতে পারছিলেন না। অন্য রকম ভাবছেন, এই গান গীতা ছাড়া আর কেউ গাইতে পারবে না! হেমন্তের কথামতোই ঠিক হলো, গীতা দত্তই গাইবেন। মুম্বাই (তৎকালীন বম্বে) গিয়ে গানের রেকর্ডিং করা হলো। এরপর যা হওয়ার তাই হলো। আজও সুচিত্রা সেনকে নিয়ে প্রতিবেদন বা গল্প তৈরি করতে গেলে শুরুতে এই গানের উল্লেখ এসেই পড়ে। যেন সুচিত্রাই গাইছেন, গভীর থেকে। কী অদ্ভুত টান, কী দারুণ গায়কি! এই গানের মতোই উজ্জ্বল ছিলেন গীতা দত্ত, আর এমনই ছিল তাঁর গান। ভারতের সংগীতজগতে একটা কথা খুব প্রচলিত ছিল—লতাকণ্ঠী, আশাকণ্ঠী হওয়া যায়, কিন্তু গীতাকণ্ঠী হওয়া যায় না।

ফরিদপুরের কন্যা
১৯৩০ সালের ২৩ নভেম্বর তাঁর জীবনের উন্মেষ বাংলাদেশের ফরিদপুরে। বাবা দেবেন্দ্রনাথ ঘোষ রায়চৌধুরী ছিলেন জমিদার। তাঁর ১০ সন্তানের মধ্যে গীতা ছিলেন পঞ্চম৷ তখন তিনি গীতা ঘোষ রায়চৌধুরী। ছোট থেকেই গানের প্রতি কন্যার আগ্রহ আর সুরেলা কণ্ঠ মা-বাবার নজরে আসে। স্থানীয় গুরু হরেন্দ্রনাথ নন্দীর কাছে তালিমের ব্যবস্থা করেছিলেন তাঁরা। এর মধ্যে কলকাতায় পাড়ি দেয় চৌধুরী পরিবার। কিছুদিন আসাম এবং কলকাতা থাকেন ঘোষ রায়চৌধুরীরা।

পরে ১৯৪২ সালে মুম্বাই পাড়ি দেন তাঁরা। ফরিদপুরের জমিদারি হারানোর পর আসাম, কলকাতা ঘুরে মুম্বাইয়ে থিতু হওয়া অত সহজ ছিল না। আর্থিক টানাপোড়েন পড়ে পরিবার। সেখানে আর কিশোরী গীতার জন্য সংগীতের তালিমের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি মা-বাবার। তাতে থেমে যান গীতা। সংগীত তো তাঁর আত্মায়, নিজের মতো করে চর্চা করে যেতেন। পাশাপাশি গানের টিউশনিও করাতেন। এবাড়ি–ওবাড়ি ছুটতেন টিউশনি করতে। বাসের ভাড়ার পয়সা বাঁচাতে হাঁটতেন মাইলের পর মাইল। যে বাড়িতে গান শেখাতেন, সেখানে গরিব বলে তাঁকে মাটিতে বসতে দেওয়া হতো। সংগীতের প্রতি দরদ ছিল বলেই হয়তো নিয়তি তাঁকে কাকতালীয়ভাবে সেদিকেই নিয়ে যায়। একদিন হঠাৎ পণ্ডিত হনুমান প্রসাদের নজরে পড়ে যান। শোনা যায়, মুম্বাইয়ে তাঁদের বাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন পণ্ডিতজি। বারান্দায় বসে চর্চা করছিলেন কিশোরী গীতা। তাঁর কিন্নর কণ্ঠ ভেসে আসে পণ্ডিত হনুমান প্রসাদের কানে। দাঁড়ালেন, খোঁজ নিলেন। জহুরির মতো চিনে ফেললেন খাঁটি হীরা। ১৯৪৬ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে পেশাদার কণ্ঠশিল্পী হিসেবে গীতার যাত্রা শুরু হয় হনুমান প্রসাদের হাত ধরে ‘ভক্ত প্রহ্লাদ’ ছবিতে। এই ছবিতে গীতা কোরাসে মাত্র দুই লাইন গান গাওয়ার সুযোগ পান।

শুরু হলো পথচলা

হাসনাহেনা জঙ্গলে ফুটলেও ঘ্রাণ ছড়ায় চারপাশ। একটি গানের কোরাসে অংশগ্রহণই গীতার পথচলার রাস্তা তৈরি করে। ‘ভক্ত প্রহ্লাদ’ ছবিতে গীতার কণ্ঠে মুগ্ধ হয়ে শচীন দেববর্মন তাঁর পরের ছবি ‘দো ভাই’তে গীতাকে মূল শিল্পী হিসেবে গাওয়ার দায়িত্ব দেন। ঠিক দেশ ভাগের বছরে; সে সময় নাকি অনেকে বারণ করেছিলেন শচীন দেববর্মনকে, এমন নতুন ‘অপরিপক্ব’ শিল্পীকে এত বড় দায়িত্ব না দিতে।

কিন্তু তিনি পরের পরামর্শে কান না দিয়ে নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। হয়তো বাঙালি বলে কিংবা এপারের মানুষ বলে বাড়তি স্নেহ দিয়েছিলেন গীতাকে। শচীন দেবের আস্থার প্রতি ষোলো আনা সম্মান দেখিয়েছিলেন গীতা, ‘মেরা সুন্দর স্বপ্না বিত গ্যায়া’র গানের সুর নাড়া দিয়েছিল শ্রোতাদের। মধ্যরাতে ঘুম থেকে উঠে বুকভরা যন্ত্রণা নিয়ে নায়িকার হাহাকারের পুরোটাই ছিল গীতার গায়কিতে। এ সিনেমার ৯টি গানের ৬টিতে কণ্ঠ দিয়েছিলেন ১৬ বছরের সেই নবীন গায়িকা। আর কি চেনাতে হয়? শুধু মুম্বাই না, সারা ভারতের বিনোদন দুনিয়ায় তোলপাড় ঘটে যায়। কে এই গায়িকা? দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বাঙালি সেই গায়িকার নাম। ১৯৪৭ থেকে ১৯৪৯—তিন বছরের মধ্যে শুধু প্রতিষ্ঠা না, গায়িকা হিসেবে শীর্ষে পৌঁছে যান গীতা। শীর্ষ তিনজনের তিনি একজন। জোহরাবাই অম্বালেওয়ালি বা নুরজাহান থেকে গীতার আলাদা গায়কির কদর বাড়তে থাকে।সেই সময়ে ভক্তিগীতির খুব চল ছিল। আর ভক্তিগীতিতে গীতা ছিলেন অনন্য। করুণ গলায় সমর্পণ, আকুতিতে সেই গানগুলো একদম বুকের গভীরে নাড়া দিত। আবার আধুনিক রোমান্টিক গানে তাঁর কণ্ঠ এবং গায়কিতে আস্থা রাখতেন নির্মাতারা। গরিব বলে গান শেখাতে গিয়ে তাঁকে যেসব বাড়িতে একসময় মাটিতে বসতে বলা হতো, তাঁকে নামডাক হতেই সেসব বাড়ি থেকেই নিমন্ত্রণ আসত। তিনি প্রত্যাখ্যান করতেন না।  সেখানে গিয়ে জোর করে মাটিতেই বসতেন। হয়তো সেই অভিমানই সমকালীন ফর্মুলা গল্পের নায়িকার নেপথ্য কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হয়ে পর্দায় দারুণ ফুটে উঠত।শচীন দেববর্মনের সংগীত পরিচালনায় ১৯৫১ সালের ‘বাজি’ সিনেমা নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয় গীতাকে।

পরপর বেশ কিছু গানে যেন শ্রোতারা নতুন আরেক শিল্পী খুঁজে পান। কে জানত পদ্মাপারের সেই কিন্নরী কণ্ঠে পাশ্চাত্য সুর এভাবে মানিয়ে যাবে। সহজে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতার জন্য ১৯৫০–এর দশকে লাস্যময়ী এবং ডান্স ক্লাবের গানে তিনি প্রথম পছন্দরূপে গণ্য হতে শুরু করেন। গীতার তীক্ষ্ণ বাঙালি টানকে কাজে লাগিয়ে ‘দেবদাস’ (১৯৫৫) এবং ‘পেয়াসা’ (১৯৫৭) ছবিতে তাঁর লোকসংগীতের ধার বাড়িয়েছিলেন শচীন দেববর্মন। ‘পেয়াসা’ ছবিতে ‘আজ সাজন মুঝে অঙ্গ লাগা লে’ বাংলা কীর্তন গানকে গীতা সফলভাবে হিন্দিতে গেয়েছিলেন। এরপর ও পি নাইয়ারের সুরে সব ধরনের গানেই তিনি সাবলীলতার ছাপ রেখে গেছেন।

গীতা ঘোষ থেকে দত্ত

‘তাদবির সে বিগরি হুই তাকদির বানা লে’ দেব আনন্দ আর নায়িকা গীতা বালি অভিনীত ‘বাজি’ সিনেমা গানটি হয়তো অনেকে শোনা। ১৯৫১ সালে এস ডি বর্মনের সংগীত পরিচালনায় এই গানটি রেকর্ড হয় মুম্বাইয়ের বিখ্যাত মহালক্ষ্মী স্টুডিওতে। সেদিন স্টুডিওতে এসেছিলেন ছবির পরিচালক গুরু দত্ত। গানে, গল্পে প্রেমে পড়ে যান গুরু দত্ত। টানা তিন বছরের প্রেমপর্বের পর বিয়ে করেন তাঁরা। সালটা ১৯৫৩। বাড়ির অমতে ২৬ মে বিয়েও করেন তাঁরা। গীতা ঘোষ হয়ে যান গীতা দত্ত। গীতা-গুরুর বিয়ের ছবি পাওয়া যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিয়ের দিন বাংলার শিকড়ের কথা ভোলেননি গায়িকা। নিজে লাল বেনারসি ও গয়নায় সেজেছিলেন। আর ধুতি-সিল্কের পাঞ্জাবি পরেছিলেন গুরু দত্ত।গুরু দত্তের ছবিতে গান সব সময় প্রাধান্য পেত। যেন গানটাও ছবির অন্য আরেকটা গল্প, একটা চরিত্র। গীতার বিয়ের কিছুদিন পরেই গুরু দত্ত নিজের প্রযোজনা ছাড়া স্ত্রীর অন্যত্র গাওয়া নিয়ে আপত্তি করতে থাকেন।

যার ফলে গীতার গান গাওয়ার সীমানা কিছুটা সংকীর্ণ হয়ে যায়। অবশ্য এর মধ্যেও ‘পেয়াসা’ সিনেমার ‘আজ সাজান মুঝে আঙ্গ লাগালো’, ‘সিআইডি’র  ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল জিনা ইহা, ‘আর পার’–এর ‘বাবুজি ধীরে চল না’, ‘মিস্টার অ্যান্ড মিসেস ফিফটি ফাইভ’–এর  ‘থান্ডি হাওয়া কালি ঘটা’, ‘সাহেব বিবি গুলাম’–এর ‘না যাও সাইয়া ছুড়াকে বাইয়া’–এর মতো তুমুল জনপ্রিয় গান উপহার দেন তিনি।

গুজরাটি ও বাংলা গানের গীতা

পঞ্চাশের দশকের শেষ দিকে গুরু দত্তের শর্ত মেনেও সুরকারেরা গীতার জন্য একটা গান তুলে রেখেছিলেন তাঁদের ছবির জন্য। এ পাশাপাশি গুজরাটি ছবিতেও দাপটের সঙ্গে গেয়েছিলেন তিনি। শুধু তা–ই নয়, গুজরাটি ছবিতেও প্রধান নেপথ্য গায়িকা ছিলেন তিনি। গুজরাটি ভাষায় বিখ্যাত সুরকার অবিনাশ ব্যাসের সুরে বেশ কিছু গান গেয়েছিলেন। বাংলা সিনেমার স্বর্ণযুগে গীতা বেশ কিছু বিখ্যাত বাংলা গান গেয়েছেন।

তাঁর বেশির ভাগ বাংলা গানেরই সুরকার ছিলেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। গেয়েছিলেন নচিকেতা ঘোষ এবং সুধীন দাশগুপ্তের সুরেও।

জীবনে নেমে এল ঝড়

অমিতাভ-জয়ার ‘অভিমান’ ছবিটির কথা হয়তো অনেকের মনে আছে। অনেকেই এ ছবির গল্প বলতে গিয়ে গীতা-গুরু জুটির কথা তোলেন। বিয়ের তিন বছর কাটতে না কাটতেই জীবন ঘুরে যায় তাঁদের। দুজনই ছিলেন স্বাধীনচেতা, জেদি। এমনিতে গীতার খ্যাতি শিখরে, সে তুলনায় গুরু দত্ত তখনো যশপ্রার্থী বললে বাড়াবাড়ি হবে না। হয়তো এখানে কোথাও ব্যক্তিত্বের টানাপোড়েন তৈরি করে। শুরু থেকে গুরু দত্ত চাইতেন তাঁর ব্যানার ছাড়া অন্য কোনো ব্যানারের জন্য গান করবেন না গীতা।

এটা মেনে নিয়েও যেন ঠিক মেনে নিতে পারেননি গীতা। শোনা যায়, লুকিয়ে টুকটাক গাইতেন তিনি। তবে ‘সিআইডি’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় থেকে সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও জটিল হয়। এ সময় ওয়াহিদা রহমানকে সামনে এনেছিলেন গুরু দত্ত। গুরু দত্তের ‘সিআইডি’ ছবিতে খলনায়িকা ওয়াহিদা; পরপর গুরু দত্তের ছবিতে অভিনয় করে চলেছেন ওয়াহিদা।

‘পিয়াসা’ ছবিতে নায়িকা। ‘চৌধভি কা চাঁদ’ ছবিতে ওয়াহিদা রহমানের বিপরীতে গুরু দত্তের অভিনয় সাড়া ফেলে। পর্দার প্রেম জীবনে ঢুকে পড়ছে, এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে। গুরু দত্ত-ওয়াহিদা রহমান হয়ে ওঠেন ‘টক অব দ্য টাউন’। তবে শুধু কথার কথাই নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও ওয়াহিদার প্রেমে পড়েন গুরু দত্ত। ওয়াহিদা রহমানকে কেন্দ্র করে নাকি মাঝেমধ্যে ঝগড়াও হতো। এর মধ্যে ‘কাগজ কা ফুল’ ছবিটি  ফ্লপ হয়। গুরু–গীতার বিবাহবিচ্ছেদ না হলেও তাঁরা আলাদা থাকতে শুরু করেন। অবসাদে ভুগতে থাকা গুরু দত্ত  দুবার আত্মঘাতীও হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ১৯৬৩ সালে আলাদা হয়ে যান পরিচালক, নায়ক-গায়িকা। গীতা থাকতে শুরু করেন মুম্বাইয়ের সান্তাক্রুজে। গুরু দত্ত ছিলেন পেডার রোডের ফ্ল্যাটে। বছরখানেক পর সেই ফ্ল্যাট থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হলো। মারা যাওয়ার আগের দিনও স্ত্রী গীতা দত্তের কাছেও যান গুরু দত্ত। দুই ছেলের সঙ্গে থাকতে চাইলে গীতা দত্ত রাজি হননি। গুরু দত্তের অপমৃত্যুর পর গীতা দত্তের জীবনেও সেই সময়ে নেমে আসে আরও বিপর্যয়। শোনা যায়, ঘোর পানাসক্ত হয়ে ওঠেন তিনিও।

আর্থিকভাবেও সংকটে পড়েন। অনেক চেষ্টা করছিলেন। সামলে উঠতে এমনকি বাংলা ছবি ‘বধূবরণ’-এ অভিনয়ও করেন। ওদিকে লতা মঙ্গেশকর ও আশা ভোসলে গানের বাজার দখল করে নেন। যদিও ‘অনুভব’ ছবিতে গীতার কণ্ঠে গাওয়া সব কটি গান হিট। কিন্তু ততক্ষণে নিয়তিই যেন সঙ্গ ছেড়ে দিয়েছে তাঁর। ফিরবেন ফিরবেন করছেন, তখনই ধরা পড়ে যকৃতের জটিল রোগ, সিরোসিস।

অর্থের অনটন দূর করতে সেই সময়ে কলকাতার মঞ্চে গীতা অনেক অনুষ্ঠান করেছেন। গীতা পুরোদমে গানের তথা চলচ্চিত্রজগতে ফিরতে চাইলেও বম্বের ফিল্মি দুনিয়ার রাজনীতির সমীকরণ তাঁকে আর সেই সুযোগ দেয়নি। শেষের দিকে হাসপাতালে প্রচণ্ড যন্ত্রণাদায়ক চিকিৎসার ফাঁকেই সিনেমার চটুল গানে যথাযথ আবেদন ফুটিয়ে তুলেছেন দারুণভাবে, নিজ প্রতিভার গুণে। সকালে হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণাদায়ক চিকিৎসা নিয়ে বিকেলে স্টুডিওতে গিয়েছেন ‘মুঝে জান না কাহো মেরি জান’! প্রচণ্ড যন্ত্রণা নিয়েও রেকর্ডিংয়ে তিনি কীভাবে একের পর এক গান গেয়ে গেছেন, তা নিয়ে সমালোচকেরা এখনো আলোচনা করেন। গীতা দত্তের শেষের দিনগুলো শারীরিক যন্ত্রণায় কেটেছে। নাকেমুখে নল গোঁজা। কখনো কান বা নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ হতো। বেশির ভাগ সময়ই অজ্ঞান থাকতেন গায়িকা ও অভিনেত্রী। সালটা ১৯৭২ সালের ২০ জুলাই, কোনো চিকিৎসাই গীতাকে আর সুরের জগতে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারেনি। শেষ হয় গীতার জীবনযাত্রা। অবসান হয় সব যন্ত্রণার।

শোনা যায়, শচীন দেববর্মন তাঁর পছন্দের গীতার জন্য আলাদা করে রেখেছিলেন ‘বাঁশি শুনে আর কাজ নাই, সে যে ডাকাতিয়া বাঁশি’ গানটি! শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি। শচীন কর্তা নিজেই গানটি গেয়েছেন বটে, তবে এই গানটি আমাদের পদ্মাপারের মেয়ের কণ্ঠে শুনতে না পাওয়ার আফসোস থেকে যাবে সংগীতানুরাগী শ্রোতাদের।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2023-11%2F95f69d07-fa40-4017-aabe-cbae3f4a0a71%2FWhatsApp_Image_2023_11_23_at_7_19_25_PM.jpeg?rect=146%2C0%2C1080%2C720&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
১৯৩০ সালের ২৩ নভেম্বর তাঁর জীবনের উন্মেষ বাংলাদেশের ফরিদপুরে। ফেসবুক থেকে

Saturday, February 7, 2026

পরিবারতান্ত্রিক সরকার চাই না, চাই জনগণের সরকার: জামায়াতের আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘একটা ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আগামী ১২ তারিখ আমাদের মুক্তির হাতছানি দিচ্ছে। ৫৪ বছরে যাঁরা রাজনীতি করেছেন, অনেকেই চেষ্টা করেছেন। আমরা কারও আন্তরিকতার ওপর কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করতে চাই না। তাঁরা তাঁদের যোগ্যতা ও আন্তরিকতা দিয়ে যেটুকু পেরেছেন, বাংলাদেশ এবং তার জনগণকে দিয়েছেন। কী দিয়েছেন, কী দিতে পারেননি—তার সবকিছুর সাক্ষী এ দেশের ১৮ কোটি মানুষ।’

শুক্রবার সন্ধ্যায় ফরিদপুরের বোয়ালমারী স্টেডিয়ামে ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা-মধুখালী) আসনে জামায়াত ও ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী ইলিয়াস মোল্লার সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। পরে তিনি ইলিয়াস মোল্লার হাতে প্রতীক তুলে দিয়ে সবার কাছে ভোট চান।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা আর চাই না, দেশের মাটিতে শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হওয়ার কারণে দমন-পীড়নের শিকার হয়ে তাকে খুন করা হোক, গুম করা হোক, আয়নাঘরে পাঠানো হোক, মিথ্যা মামলা দিয়ে কাউকে নাজেহাল করা হোক। এই বাংলাদেশ আমরা আর চাই না।’

জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমি কোনো দলের সরকার চাই না, কোনো পরিবারতান্ত্রিক সরকার চাই না, কোনো গোষ্ঠীতান্ত্রিক সরকার আমি চাই না, আমি চাই জনগণের সরকার। আমি চাই ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ। আর ধর্মে-বর্ণে-জাতিতে বিভক্ত করার সুযোগ আমরা কাউকে দেব না, ইনশা আল্লাহ। এই বাংলাদেশকে সব ধর্মের, বর্ণের মানুষকে ফুলের বাগানের মতো আমরা সাজাব।’

শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘ওই বাংলাদেশটা চাই না, যেখানে বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভাইবোনদের ওপর নির্যাতন করা হয়। আমরা ওই বাংলাদেশটাও চাই না, যেখানে হাজার হাজার লাখ লাখ শিক্ষিত বেকার যুবকের মিছিল হয়। ওই বাংলাদেশ আমরা চাই না, যে বাংলাদেশে বিচার অর্থের বিনিময়ে বিক্রি হয়। ওই বাংলাদেশ আমরা চাই না, যার পকেটের জোর নেই, যার বাহুতে বল নেই, যার গোষ্ঠীর জোর নেই অথবা দলীয় শক্তি নেই, তার কোনো বিচার নেই। ওই বাংলাদেশ চাই না।’

জামায়াতের আমির আরও বলেন, ‘শিশু জন্ম নেওয়ার পর শুধু গরিবের ঘরে জন্ম নিয়েছে এ কারণে তার শিক্ষার কোনো ব্যবস্থা হবে না, সেই বাংলাদেশ চাই না। আমরা বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো একটা বাংলাদেশ চাই। ওই বাংলাদেশটা চাই, যে বাংলাদেশে আমার মায়ের সম্পদ, ইজ্জত এবং জীবনের ওপর আর কেউ কোনো হামলা করার দুঃসাহস দেখাবে না।’

‘পুরোনো রাজনীতিতে ফিরে যেতে চাই না’

এর আগে বিকেলে নড়াইল সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির। পরে তিনি নড়াইলের দুটি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে দলীয় প্রতীক তুলে দেন।

জনসভায় চব্বিশের আন্দোলনে রক্ত ও জীবন দেওয়া বীরদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই বাংলাদেশে এখন স্বস্তির নিশ্বাস চাই। আর পুরোনো রাজনীতিতে ফিরে যেতে চাই না। এই পুরোনো রাজনীতি বাংলাদেশকে আগায় যেতে দেয় নাই। পায়ে গিঁট দিয়ে আটকে রেখেছে, সামনে আগাইতে দেয় নাই। আমরা সেই বাংলাদেশকে আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে পাল্টে দিতে চাই। সেই সুযোগ আগামী ১২ তারিখ।’

জামায়াতের আমির বলেন, ‘বলতে গেলে সমাজে কেউ ভালো নেই। এই ভালো থাকাটা কে তৈরি করবে? এই ভালোর জায়গাটা সে–ই তৈরি করবে, যার সমাজের প্রতি দরদ, দায় এবং ভালোবাসা আছে। যে সমাজের ওপর জুলুম করে, সে এটা পারবে না।’

নেতা-কর্মীদের ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘যোদ্ধারা তৈরি থাকুন। কোনো কালো চিল এবং শকুন আসমান থেকে জমিনে নেমে কোনো একটা মানুষের ভোটও যেন ছোঁ মেরে নিয়ে যেতে না পারে। যদি এ রকম আসে, দুই ডানা খুলে ফেলবেন।’ তিনি বলেন, ‘যদি কোনো দুর্বৃত্ত অন্য কোনো নাগরিকের ভোটের দিকে হাত বাড়ায় অথবা কেউ যদি ইঞ্জিনিয়ারিং করতে চাই, মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে বলছি, কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলব না।’

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। শুক্রবার সন্ধ্যায় বোয়ালমারী স্টেডিয়ামে
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান। শুক্রবার সন্ধ্যায় বোয়ালমারী স্টেডিয়ামে। ছবি: প্রথম আলো

Friday, June 13, 2025

শেখ হাসিনার বাবুর্চি মোশারফের সম্পদের পাহাড়

দিন-মজুর বাবার ছেলে মো. মোশারফ শেখ (৪৭)। পড়ালেখা না করায় নিজের নামটা পর্যন্ত লিখতে পারেন না। বাবার সম্পত্তির ভাগ পেয়েছেন মাত্র ৫ শতাংশ জমি। ৩০ বছর আগে বাবুর্চি হিসেবে কাজ করতেন একটি হোটেলে। তবে হোটেলে চাকরির মাত্র দুই বছর পর তার ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসার বাবুর্চির চাকরি পান। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। মোশারফ এখন কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক। গ্রাম থেকে শহরে সব জায়গায় রয়েছে তার বাড়ি-গাড়ি। শুধু তাই নয়, অভিযোগ আছে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিজ গ্রামের বাড়ির প্রতিবেশী কৃষকের জমি দখলসহ সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হয়রানি করার। মোশারফ শেখ ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের বড় কামদিয়া গ্রামের কৃষক রহমান শেখের ছেলে।

তিনি ২৭ বছর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসার বাবুর্চি ছিলেন। তবে ৫ই আগস্ট হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর গা ঢাকা দেন মোশারফ। সমপ্রতি তার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ দিয়েছেন বড় কামদিয়া গ্রামের কৃষক মো. চাঁনমিয়া ফকিরের ছেলে মো. সাগর মিয়া। এরপর থেকে বেরিয়ে আসছে তার নানা অপকর্ম, নিরীহ মানুষের ওপর অত্যাচার-জুলুম ও সম্পদের তথ্য। লিখিত অভিযোগে বলা হয়, বাবুর্চি মোশারফ বড় কামদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় কৃষক চাঁনমিয়া ফকিরের বড় কামদিয়া ৮১ নম্বর মৌজার ৬১৮ নম্বর দাগের ৪৩ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখল করে বাড়ি নির্মাণ করে। বিভিন্ন সময় ওই জমি ছেড়ে দিতে বললে মোশারফ হুকমি-ধমকি ও মারপিট করে কৃষক চাঁনমিয়া ফকির ও তার পরিবারকে এলাকাছাড়া করে রাখেন। আওয়ামী সরকারের পতনের পর গত ১লা জুন কৃষক চাঁনমিয়ার পরিবারের দখল করা জমি উদ্ধার করতে গেলে মোশারফ তার লোকজন নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে।

ভুক্তভোগী কৃষক চাঁনমিয়া ফকিরের ভাতিজা সেন্টু ফকির বলেন, আমার চাচা একজন গরিব কৃষক। স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে হাসিনার বাবুর্চি মোশারফ তার ৪২ শতাংশ জমি দখল করে পাকাঘর নির্মাণ করে এবং ওই ঘরের চালের ওপর একটি নৌকা তৈরি করে টানিয়ে রাখেন। তখন আমরা পুলিশ-প্রশাসনের কাছে গিয়েও কোনো সমাধান পাইনি। বরং জমি দখল নিয়ে মুখ খুললেই আমাদেরকে মারধর করে ও মামলা দিয়ে এলাকাছাড়া করে রাখতেন মোশারফ। শুধু আমাদের পরিবার নয়, মোশারফ হাসিনার বাবুর্চি হওয়ায় পুরো বড় কামদিয়া গ্রামের সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছেন।

মোশারফের প্রতিবেশী মো. জামাল শেখ বলেন, মোশারফের বাবা অন্যের জমিতে শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালাতেন। অভাবের সংসার হওয়ায় মোশারফ পড়ালেখাও করতে পারেনি। ছোট সময় থেকেই তিনি পাবনা শহরের একটি হোটেলের বাবুর্চির কাজ করতেন। তখন তিনি বাবার সম্পত্তির ভাগ পান মাত্র ৫ শতাংশ জমি। কিন্তু ১৯৯৬ সালে তিনি হাসিনার বাসার বাবুর্চির চাকরি পাওয়ার পর থেকে যেন আলাউদ্দীনের চেরাগ পেয়েছেন। বর্তমানে কামদিয়া গ্রামে ২ বিঘা জমির ওপর করেছেন বাড়ি। মাঠেও ৩ বিঘা জমি রয়েছে তার। তিনি আরও বলেন, ফরিদপুরের শহরের হাড়োকান্দি এলাকায় ১২ শতাংশ জমির ওপর একটি বাড়ি ও রাজবাড়ি রাস্তা মোড় এলাকায় ৮ শতাংশ জমির ওপর একটি বাড়ি রয়েছে তার। এ ছাড়া ঢাকা ও ফরিদপুর শহরে একাধিক ফ্ল্যাট-প্লট ও গাড়ি রয়েছে বলে আমাদের কাছে মোশারফ নিজেই বলেছেন। বর্তমান সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা যদি অনুসন্ধান করে তাহলে মোশারফের অনেক অজানা তথ্য ও সম্পদের হিসাব বেরিয়ে আসবে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শেখ হাসিনার বাবুর্চি হওয়ার সুবাদে সম্পদ গড়ার পাশাপাশি মোশারফ তার নিজ গ্রামের ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চেয়েছিলেন। সাধারণ মানুষের ওপর হামলা-মামলা ও তাদেরকে জিম্মি করে জমি দখল ও শালিস বাণিজ্য করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে ওই গ্রামের যুবলীগ নেতা নুর ইসলাম তার প্রতিপক্ষ হওয়ায় তেমন সুবিধা করতে পারেননি তিনি। ২০১৫ সালে যুবলীগ নেতা নুর ইসলামের সমর্থকরা তাকে ধাওয়া দিয়ে এলাকাছাড়া করে দেন। এরপর তিনি নুর ইসলামের সঙ্গে মিলে ফের এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেন। বড় কামদিয়া গ্রামের বাসিন্দারা জানান, আওয়ামী লীগের ক্ষমতার বলে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন মোশারফ। শুধু গ্রামবাসীর ওপর অত্যাচার করে ক্ষ্যান্ত হননি তিনি, নিজের পরিবারও রেহাই পায়নি তার কাছ থেকে। গত চার বছর আগে দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে আটকিয়ে রেখে নিজের স্ত্রীকে জোর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এখনো তার বাড়িতে স্ত্রী আসার আর সুযোগ পায়নি। এসব বিষয় বক্তব্য নেয়ার জন্য মোশারফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। এমনকি তার গ্রামের বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। ফরিদপুর জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাসানউজ্জামান মানবজমিনকে বলেন, ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার বাসার একজন বাবুর্চি কতো টাকা বেতন পেয়েছেন? বেতন অনুযায়ী তার তো এত সম্পদের মালিক হবার কথা না। নিশ্চয় তিনি দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন। এখন তার সম্পদের বিষয়টি যেহেতু সামনে এসেছে, তাই তার সম্পদের বিষয়টি অবশ্যই সরকারের খতিয়ে দেখা উচিত বলে আমি মনে করি।
সালথা থানার ওসি মো. আতাউর রহমান মানবজমিনকে বলেন, জমি দখলের বিষয় নিয়ে তার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

mzamin

Tuesday, December 10, 2024

হানি ট্র্যাপে ফেলে মুক্তিপণ আদায়, নারীসহ গ্রেপ্তার ৫

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নারীকে দিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বহু বিত্তবান ব্যক্তিকে জিম্মি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি হানি ট্র্যাপ চক্র। সদরপুরে দীর্ঘদিন যাবৎ এই চক্রটি একাধিক ব্যক্তিকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে নিঃস্ব করেছে।

গত ৪ঠা নভেম্বর এই চক্রটির খপ্পরে পরে সদরপুরের মুজাহিদ মৃধা নামক এক ব্যক্তি। পরবর্তীতে ৭ই নভেম্বর এ ব্যাপারে তিনি বাদী হয়ে সদরপুর থানায় ৯ জনসহ অজ্ঞাতনামা কয়েক জনের বিরুদ্ধে একটি  মামলা দায়ের করেন।
থানা সূত্রে জানা যায়, হঠাৎ করে মোবাইল ফোনে রং নম্বরে অজ্ঞাতনামা এক মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় মুজাহিদের। তাদের মধ্যে কয়েকদিন মোবাইল ফোনে কথাবার্তা চলতে থাকে। একপর্যায়ে অজ্ঞাতনামা মেয়েটি তাকে ফোন দিয়ে বাইশরশি জমিদার বাড়িতে আসতে বলে। তিনি সরল বিশ্বাসে উক্ত স্থানে যাওয়ার পর তাকে ওই মেয়েটি অটোবাইকে উঠতে বলে। অটোযোগে ঘোরাফেরার এক পর্যায়ে ওই মেয়েটি কৌশলে পূর্ব শৌলডুবী এলাকার সাবেক মেম্বার শেখ ফারুকের বাড়িতে একটি টিনের ঘরে নিয়ে মুজাহিদকে আটক করে যেখানে আগে থেকে চক্রের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিল। এরপর তাকে মারধর করে এবং প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে মুক্তিপণ বাবদ ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা পূর্বক ৪টি সাদা নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে তার স্বাক্ষর নেয়। বিষয়টি তার চাচা জানতে পেরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় রাতের বেলা ফারুক মেম্বারের বাড়িতে গিয়ে উক্ত চক্রের সোহরাব খালাসী নামে এক সদস্যকে আটক করে এবং মুজাহিদকে উদ্ধার করে। ওই সময় ওই চক্রের অন্যান্যরা পালিয়ে যায়।
পরে সোহরাব খালাসীকে জিজ্ঞাসাবাদে কয়েকজনের নাম- ঠিকানা জানা যায়। বিষয়টি সদরপুর থানা পুলিশকে জানালে তারা সোহরাবকে গ্রেপ্তার করে।
পরে এ মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি শেখ ফারুক মেম্বারকে গ্রেপ্তার করা না গেলেও তার স্ত্রী রেণু বেগমসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২জন লিমা আক্তার এবং রবিন নামের এক যুবকসহ মোট ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে ফরিদপুর জেলহাজতে পাঠানো হয়।
মুক্তিপণের এমন ঘটনা নিয়ে সমপ্রতি সদরপুর থানায় আরও একটি অভিযোগ দায়ের করেন সদরপুর সদর ইউনিয়নের মৌসুমী আক্তার নামে এক ভুক্তভোগী। তিনি তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, তার স্বামী ইসাহাক বেপারী দীর্ঘদিন ধরে সদরপুর বাজারে কাপড়ের ব্যবসা করে আসছেন। গত ২রা নভেম্বর তার স্বামী চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ঢাকা রওনা দিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। রাতে তার স্বামী তাকে ফোন দিলে বলে ডাক্তারের সিরিয়াল দেয়া হলে ডাক্তার দেখিয়ে ঢাকার এক হোটেলে অবস্থান করবেন। এর পর তার স্বামীর ফোনে একাধিকবার ফোন দিয়েও নম্বর বন্ধ পাওয়ায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি পরিবার।
পরে ৩রা নভেম্বর সকালে তার স্বামী তার মোবাইল নম্বর থেকে তাদের দোকানের কর্মচারী রনিকে ফোন দিয়ে বলে যে তাকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা জিম্মি করেছে। তাদের দেয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বরে ১০ লাখ টাকা পাঠালে তাকে ছেড়ে দিবে। পরে সেই অ্যাকাউন্টে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ পাঠিয়ে ইসাহাককে মুক্ত করা হয়।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগীরা উল্লিখিত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর তদন্ত করে জানতে পারে যে, উক্ত অ্যাকাউন্টটি ঢেউখালী ইউনিয়নের মৌসুমী নামের এক মেয়ের। পরে মৌসুমীর বিরুদ্ধে সদরপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন ইসহাকের স্ত্রী। এরপর বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুঁজি করেও মৌসুমীর সন্ধান পাওয়া যায়নি। একপর্যায় গত ৫ই ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) পুলিশের হাতে আটক হন মৌসুমী। পরে জানা যায় মৌসুমী হানি ট্র্যাপ চক্রের অন্যতম সদস্য। এই নিয়ে চক্রের মোট ৩ জন নারী ও ২ জন পুরুষ সদস্যকে আটক করে জেলহাজতে পাঠালো সদরপুর থানা পুলিশ।
এই চক্রের বিষয়ে এলাকাবাসী বলেন, এই চক্রের বাকি সদস্যদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় না আনা হয় তবে আরও বহু ব্যক্তি এই চক্রের খপ্পরে পড়ে নিজের সর্বস্ব হারাবেন।
এ ব্যাপারে ওই মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা এসআই তানভীর বলেন, আগের মতো কেউ সোর্স হয়ে আসামিদের খোঁজখবর দিতে চায় না। তাই বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করতে একটু সময় লাগছে।
সদরপুর থানার ওসি মো. আব্দুল মোতালেব হোসেন বলেন, আমরা ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছি। শিগগিরই চক্রের সকল সদস্যদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবো।

mzamin

Sunday, September 15, 2019

পাটচাষীদের স্বপ্ন- হারানো দিন আবার ফিরে আসবে

পাটচাষীদের বঞ্চনার শেষ নেই। উন্নত বীজ আর পাটের ন্যায্যমূল্য দুটো থেকেই বঞ্চিত তারা। একসময়কার সোনালী আঁশ থেকে বেশিরভাগ কৃষকই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন অনেক দিন হলো। এতসব বঞ্চনার পরও পাটচাষীরা স্বপ্ন দেখেন হারানো দিন আবার ফিরে আসবে। ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার এই কৃষকের মতো হাসি ফিরবে তাদের। ছবি: জীবন আহমেদ

Wednesday, June 12, 2019

গর্ভের সন্তানের পিতৃত্বের দাবিতে দুই স্বামীর লড়াই

সন্তান সম্ভবা এক নারীর গর্ভের অনাগত সন্তানের দাবিতে তার সাবেক ও বর্তমান দুই স্বামীর মধ্যে সৃষ্ট বিরোধ গ্রাম্য সালিশ পর্যন্ত গড়ানোর পরেও কোন সুরাহা হয়নি। এখন মামলা-পাল্টা মামলায় আদালত পর্যন্ত গড়াচ্ছে এ লড়াই। ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার পুরাপাড়া ইউনিয়নের গোয়ালদী গ্রামের এ ঘটনা এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
গোয়ালদি গ্রামের জনৈক লাল মোল্যার ছেলে হেলাল মোল্যা জানান, গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর তার সাথে একই গ্রামের আলমগীর কাজির মেয়ে নাজমা বেগমের শরিয়ত সম্মতভাবে বিয়ে হয়। বর্তমানে তার স্ত্রী গর্ভবতী। অবশ্য হেলাল অভিযোগ করেন, বিয়ের কিছুদিন পর আমার অনুপস্থিতিতে আমার স্ত্রী তার বাবা ও মাকে সাথে নিয়ে আমার বাড়ী থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান মালামাল নিয়ে চলে যায়।
এদিকে গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানি উপজেলার জুনাসুর গ্রামের জনৈক বাদশা লস্করের ছেলে সাবু লস্কর দাবি করেন, নাজমার সাথে তার দশ বছর পূর্বেই বিয়ে হয়। তবে মাঝখানে তাদের মাঝে মনোমালিন্য হওয়ায় গত বছরের ৩০ আগষ্ট নাজমা তাকে তালাক দিয়ে হেলালকে বিয়ে করে। এরপর গত ১ মার্চ হেলালকে তালাক দেয়ার পর এখন নাজমা ও সে আবার দাম্পত্য জীবন শুরু করেছে নতুন করে।
এদিকে, বর্তমানে নাজমা বেগম গর্ভবতী। হেলাল মোল্যার দাবি, নাজমা বেগমের গর্ভে ৪ মাসের শিশু সন্তান রয়েছে যার পিতা আইনত সে-ই।
অপরদিকে, সাবু লস্কর জানান, তার স্ত্রীর গর্ভে ৩ মাসের শিশু সন্তান রয়েছে এবং সেই এই সন্তানের পিতা।
পারিবারিক আদালতে মিমাংসাযোগ্য এমন অপরাধ বা অভিযোগকে কেন্দ্রে করে মামলা জট বাড়ছে। সাবেক স্বামী হেলাল মোল্যা মালামাল চুরির অভিযোগে নাজমা বেগম ও তার সাবেক শ্বশুর-শ্বাশুরিকে আসামী করে গত ২১ এপ্রিল ফরিদপুরের সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনি একটি মামলা দায়ের করেছেন।
অন্যদিকে, সাবেক স্বামী হেলাল মোল্যার বিরুদ্ধে নাজমা বেগমও নারী নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন সাবু লস্কর। তবে এসব ব্যাপারে নাজমা বেগম সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে চাননি।
এব্যাপারে পুরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সোবহান মিয়া বলেন, উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সব মহলই বিব্রত। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আপোস মিমাংসার চেষ্টা চলছে। দ্রুতই বিষয়টি মিমাংসা করতে পারবো বলে আশাবাদি।

Friday, January 18, 2019

ধর্ষিতার কান্না বললেন, আমি বিচার চাই

প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী বয়স তার ১৯। চেহারায় কিশোরী বয়সের ছাপ স্পষ্ট। দাঁড়িয়ে আছেন স্বামী ও শ্বশুর শাশুড়ির সঙ্গে। মুখে নীল মাস্ক। দুঃখের প্রতীক নীল রংটি দিয়েই ঢেকে রেখেছেন মুখ। চোখে ভয় স্পষ্ট। দাঁড়িয়ে থাকতে পারছেন না বেশি সময়। খানিক বাদে বসে পড়লেন মেঝেতে।
১৯ বছরের মেয়েটির বাড়ি ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গায়। বিয়ে হয়েছে সাভারের কাউন্দিয়া ইউনিয়নে। তার স্বামীর রয়েছে একটি সেলুন। এই সেলুনই তাদের আয়ের একমাত্র উৎস। তার স্বামী স্থানীয় বাসিন্দা রায়হানের কাছ থেকে টাকা ধার করে একটি মোবাইল ফোন কিনেছিলেন।
সেই টাকা সময়মতো পরিশোধ করতে না পারায় ক্ষিপ্ত হয় রায়হান। গত ১১ই জানুয়ারি বাড়ি ফিরছিলেন তারা। এই সময় রাত ৮টার দিকে পথ রোধ করে রায়হান ও আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আলামিন। নিয়ে যায় নির্জন স্থানে। এরপর মেয়েটির জীবনে নেমে আসে দুঃস্বপ্ন। তার স্বামীকে আটকে রেখে পাঁচজন ধর্ষণ করে মেয়েটিকে। সে রাতেই পরিবারটি বিচারের আশায় ছুটে যায় স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে। সেদিনই সাভার থানায় একটি মামলা করেন। মামলা নং ৪৪। পরদিন চিকিৎসার জন্য আসেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি)। ১২ই জানুয়ারি থেকে ১৫ই জানুয়ারি পর্যন্ত চিকিৎসা নেন এখানে। একদিন পরেই গতকাল শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে ফের আসেন হাসপাতালে।
কিন্তুশুধুমাত্র চিকিৎসাপত্র দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয় তাদের। হাসপাতালে পুনরায় ভর্তির কথা বলা হলে ওসিসি ও থানা থেকে কাগজ আনতে বলা হয়। এই অবস্থায় গতকাল তারা ফের বাড়ি ফিরতে বাধ্য হন। নির্যাতিতা মেয়েটির কথা বলতে বেশ কষ্ট হচ্ছিল। তার পরেও কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, চিকিৎসা শেষে একদিনের জন্য বাড়িতে ফিরে যেন অন্যায় করে ফেলেছেন। তাকে এলাকাবাসী সব সময় আড় চোখে দেখছে। আবার নানা জনের প্রশ্নের জবাব দিতে দিতে যেন ক্লান্ত। অনেকে নির্মম ঘটনা নিয়ে হাসি তামাশাও করেছে। এই কথা বলতে যেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। জানান, পুলিশের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেয়াটা ছিল আরো বিব্রতকর। নির্যাতিতা মেয়েটি উচ্চস্বরে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমি বিচার চাই। আমি বিচার চাই।
বর্তমানে মামলার দুই আসামি রায়হান ও আলামিন গ্রেপ্তার রয়েছে। বাকি তিনজন পলাতক। তার স্বামী জানান, মামলাটি মিটিয়ে নেবার জন্য তাগাদা দেয়া হচ্ছে তাকে। শুধু তাই নয় মামলা উঠিয়ে নেবার জন্য টাকার প্রস্তাব দেয়া হয়। তার কাছে এসেছে নামে বেনামে বেশ কিছু ফোন। আবার গ্রেপ্তার দু’জন থানাতে আটক থাকা অবস্থাতেও তাকে হুমকি দেয় বলে জানান তিনি। সাভার থানার এসআই কৃষ্ণ রায় মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আটক দুইজন দুই দিনের রিমান্ডে রয়েছে।

Friday, June 15, 2018

সাইকেল চালিয়ে পদ্মা পাড়ি দিলেন সাইফুল

সাইকেল নিয়ে পদ্মা নদী পাড়ি দেয়ার স্বপ্ন সাইফুলের বহু দিনের। দীর্ঘ প্রচেষ্টায় অবশেষে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। নিজের তৈরি সাইকেল চালিয়ে পদ্ম নদী পাড়ি দিলেন সাইফুল।
সাইফুলের বাড়ি ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সৌর শক্তি আলোর সালথা উপজেলা শাখার ব্যবস্থাপক তিনি।

সদর উপজেলার ধলা মোড় এলাকায় পদ্মা নদীর একটি ক্যানেলে গত ২৮ মে বেলা ১১টার দিকে সাইফুল ইসলামকে সাইকেলটি চালাতে দেখা যায়। সেখানে ঘণ্টাখানেক তিনি সাইকেল চালান। ২০০ মিটার ক্যানেল অতিক্রম করেন তিনি। এ সময় তাকে দেখতে নদীর পাড়ে অনেক মানুষ ভিড় করেন। সাইকেল চালিয়ে পদ্মা পাড়ি দিয়ে স্থলপথে বাড়ি ফিরেন সাইফুল।
দীর্ঘ ছয় মাস চেষ্টা চালিয়ে সৌরবিদ্যুৎ চালিত এ সাইকেলটি তৈরি করেন সাইফুল ইসলাম। এটি জল-স্থলে চলতে পারে। বলা যায়, উভচরে চলে সাইফুলের সৌরবিদ্যুৎ চালিত সাইকেল।

তবে তার কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন পুরোপুরি পূরণ করতে আরও আধুনিকায়ন করতে চান সাইকেলটি। স্বপ্ন দেখেন এমন একটি সাইকেল তৈরি করবেন, যা দিয়ে আকাশে ওড়া যাবে।
কিন্তু স্বপ্ন পূরণের পথে বাধা অনেক। এই কাজ করতে গেলে যে টাকার প্রয়োজন তার সামর্থ্য নেই সাইফুলের। এর জন্য সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন বলে জানান সাইফুল।

সাইফুলের তৈরি সাইকেলের হ্যান্ডেল ও ক্যারিয়ারে সৌর বিদ্যুতের প্যানেল। দুই চাকার দুই পাশে চারটি গোলাকার টিউব। টিউবের সাহায্যে সাইকেলটি পানিতে ভেসে থাকে। সাইকেল চালাতে প্যাডেল ব্যবহার করতে হয় না। কারণ, এটি সৌরবিদ্যুতে চলে। শুধু পানিতে নয়, স্থলপথেও সাইকেলটি চালানো যায়। তখন টিউব চারটি চাকার দুই পাশে আটকে রাখা হয়।
এমন সাইকেল আবিষ্কারের বিষয়ে কথা হয় সাইফুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ২০১৪ সালে বিশ্ব জাকের মঞ্জিল আলিয়া মাদরাসা থেকে কামিল পাস করেন। পরের বছর ‘শক্তি সৌর আলো’তে যোগ দেন। ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন যন্ত্রের প্রতি তার আগ্রহ ছিল। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় পাটখড়ি, কাচ, কাগজ দিয়ে তিন হাত লম্বা ও এক হাত চওড়া একটি বাস তৈরি করেছিলাম।

সাইফুল ইসলাম বলেন, সাইকেলটি তৈরি করতে খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকার মতো। সময় লেগেছে ছয় মাস। বর্তমানে সৌরবিদ্যুৎ চালিত ধান কাটার যন্ত্র ও রিকশা চালানোর যন্ত্র আবিষ্কারের চেষ্টা করছি। পাশাপাশি ১৫ জন ধারণক্ষমতার সৌরচালিত স্পিডবোট বানানোর চেষ্টা করছি। যা জলের পাশাপাশি ডাঙায়ও চলবে। এমন একটি সাইকেল বানাতে চাই, যা দিয়ে আকাশে ওড়া যাবে। এছাড়া এমন এক জোড়া জুতা তৈরি করতে চাই, যা দিয়ে অনায়াসে পানির ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়া যাবে।

সাইফুল বলেন, স্বপ্নপূরণের পথে বাধাও অনেক। এই কাজে অনেক টাকার প্রয়োজন। আমার সামর্থ্য তেমন নেই। এর জন্য সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন। তবে আমার স্বপ্ন পূরণ হবে কি না, জানি না।
স্থানীয় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হাসিবুল হাসান বলেন, সাইফুলের উদ্ভাবনটি বেশ সাড়া ফেলেছে। তবে বাহনটিকে আরও জনপ্রিয় করতে এটির ওজন আরও কমিয়ে আনতে হবে। নির্মাণব্যয় সাধারণের নাগালের মধ্যে রাখার চেষ্টা করতে হবে। চরাঞ্চলের মানুষের জন্য এ সাইকেল বেশ কাজে লাগবে।

Sunday, December 17, 2017

গরু চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

ফরিদপুরে গরু চোর সন্দেহে রাসেল শেখ (৪২) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় একটি ট্রাক পুড়িয়ে দেয় স্থানীয় জনতা। রোববার ভোর ৪টার দিকে সদর উপজেলার আলীয়াবাদ ইউনিয়নের সাদীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাসেল শেখ একই ইউনিয়নের বিলমামুদপুর গ্রামের ইউনুস শেখের ছেলে। গ্রামবাসী জানায়, চার থেকে ৫ জন একটি ট্রাকে করে সাদীপুর গ্রামে আসে। তারা আশপাশের বাড়িতে থাকা গরুগুলোর দড়ি খুলতে শুরু করলে এলাকাবাসীরা টের পেয়ে তাদের ঘিরে ফেলে।
এক পর্যায়ে জনতার হাতে ধরা পড়ে রাসেল শেখ। অন্যরা পালিয়ে যায়। এর এক পর্যায়ে  উত্তেজিত গ্রামবাসী চোরদের আনা ট্রাকটি পুড়িয়ে দেয়। আলিয়াবাদ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ওমর ফারুক ডাবলু যুগান্তরকে বলেন, গণপিটুনিতে আহত রাসেলকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ফরিদপুর কোতয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম জানান, লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয়রা ট্রাকটি পুড়িয়ে দেন পরে খবর পেয়ে ফরিদপুর শহর থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম জানান, নিহতের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে বল জানান এসআই।

Sunday, July 9, 2017

ভাঙ্গায় বেড়াতে এসে তরুণী গণধর্ষণের শিকার, আটক ১

ফরিপুরের ভাঙ্গায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসে এক তরুণী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার কাউলীবেড়া ইউনিয়নের জঙ্গলকান্দা গ্রামে। তরুণীর বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার চর আলশী গ্রামে। তার বাবার নাম কামাল মাঝি। ওই তরণী ঢাকার একটি গার্মেন্ট কারখানার কর্মী। বৃহস্পতিবার সকালে ভাঙ্গা থানায় এসে মেয়েটি নিজেই ধর্ষকদের শনাক্ত করে জবানবন্দি দেয়। এ ঘটনায় তরণীর বোনজামাই হাসমত শেখ বাদী হয়ে ৩ জন অজ্ঞাত নামাসহ মোট ৫ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। এতে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কহিনুর নামে একজনকে শনিবার ভাঙ্গা থানা পুলিশ আটক করেছে। শনিবার দুপুরে তরুণীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ফরিদপুরে প্রেরণ করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও তরুণীর বোনজামাই হাসমত মাতুব্বর জানান, ঈদের ৭ দিন আগে ধর্ষণের শিকার তরুণী তার ছোট ভাই শাকিলকে নিয়ে বোনের বাড়ি উপজেলার খাটরা গ্রামে লক্ষ্মীপুর থেকে বেড়াতে আসে। বোনজামাই হাসমত মাতুব্বর বর্তমানে জঙ্গলকান্দা গ্রামে বাস করার সুবাদে ওই বাড়িতে তরুণী অবস্থান করে। একপর্যায়ে তরুণীটি পাশের বাড়ির বখাটে যুবক রাজিব ও সবুজের কুদৃষ্টিতে পড়ে। তারা বিভিন্ন সময় তরুণীকে প্রথমে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হয়। এতে ব্যর্থ হয়ে আফরিন নামে এক মহিলাকে দিয়ে রাতে ওই তরুণীকে ডেকে নেয়। এসময় বখাটে সবুজ, রাজিব মিলে আরো ২-৩ জনের সহযোগিতায় মেয়েটিকে মুখ চেপে ধরে স্থানীয় শামীম মাতুব্বরের বাড়ির পেছনে পাটক্ষেতে নিয়ে আনুমানিক রাত ১০টার দিকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এতে মেয়েটি ডাক-চিৎকার দিলে আত্মীয়ের পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয় লোকজন অসুস্থ ও আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে চিকিৎসা শেষে ভাঙ্গা থানায় নিয়ে যায়। ভাঙ্গা থানায় পুলিশি হেফাজতে থাকার পর শনিবার দুপুরে তাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ফরিদপুরে প্রেরণ করে। এ ব্যাপারে ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মিরাজ হোসেন (তদন্ত)  ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন ভাঙ্গা থানায় তরুণীর বোনজামাই হাসমত মাতুব্ব বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৩ জনসহ ৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। ধর্ষিতাকে শনিবার দুপুর পুলিশি হেফাজত থেকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ফরিদপুর প্রেরণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই সন্দেহভাজন এক আসামিকে আটক করা হয়েছে। শিগগিরই অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আয়তায় আনা হবে।

Saturday, July 8, 2017

নিপীড়ন, অপবাদ স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

ফরিদপুরের ভাঙ্গা মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকের যৌন হয়রানি সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে ১০ম শ্রেণীর এক ছাত্রী। ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার রাতে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী লম্পট শিক্ষকের বিচার চেয়ে লাশ নিয়ে ভাঙ্গা থানার সামনে বিক্ষোভ মিছিল করে।
জেলার ভাঙ্গা উপজেলার আলগি ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মনিরুজ্জামানের দুই মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে হিরামনি ইতিশা। ভাঙ্গা মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী। প্রতিটি ক্লাসেই প্রথম হয়ে আসছিল। মেধাবী ছাত্রীটিকে নিয়ে পিতামাতার স্বপ্ন ছিল ডাক্তার বানানোর। কিন্তু ওই বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ ক্লাস চলাকালে তাকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিতো। ক্লাসে ফেল করিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করতো। শিক্ষকের বাসায় প্রাইভেট পড়তে গেলে প্রায়ই তাকে যৌন হয়রানি করতো। ইতিমধ্যে শিক্ষকের নিপীড়নের বিষয়টি সহপাঠীদের মাধ্যমে এলাকায় জানাজানি হয়ে যায়। বিষয়টি চলে আসে ওই শিক্ষকের স্ত্রীর কানে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই ছাত্রী প্রাইভেট পড়তে শিক্ষকের বাসায় গেলে স্ত্রী মাহামুদা বেগম তাকে বকাঝকা করেন। একদিকে  শিক্ষকের নিপীড়ন আর স্ত্রীর অপমান সইতে না পেরে ইতিশা বাসায় ফিরে ফ্যানের সঙ্গে গলায় উড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। গতকাল সকালে ভাঙ্গা থানার সামনে ঘটনার বিচার চেয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী। ওদিকে মেয়েটির সহপাঠীরা জানায়, আমরা শিক্ষকের কাছে যাই শিক্ষা নিতে। আর শিক্ষকরা যদি আমাদেরকে যৌন হয়রানি করেন তবে আমরা কোথায় যাবো। এ ধরনের শিক্ষকের আমরা উপযুক্ত বিচার চাই যা দেখে দেশের অন্য কোন স্কুলে এমন ঘটনা না ঘটে। মেয়েটির পিতা মনিরুজ্জামান বলেন, আমি আমার মেয়ের আত্মহত্যার জন্য দায়ী ব্যক্তির বিচার চাই। এখন আমার জীবনের সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। আমার মেয়ে প্রতি ক্লাসেই প্রথম স্থান অধিকার করতো। এমন একটি মেয়ের যারা সর্বনাশ করলো তাদের উপযুক্ত বিচার দাবি করছি। আলগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাউসার আলী বলেন, এমন একটি মেধাবী ছাত্রীর জীবনাটা এমন হয়ে গেল। আমি ইউনিয়নবাসী পক্ষ হতে এ লম্পট শিক্ষকের বিচার দাবি করছি।
ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবদুল্লাহ্‌ বলেন, আমরা লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠাচ্ছি। মামলার প্রস্তুতি চলছে। মামলা হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Tuesday, May 9, 2017

ফরিদপুরে দু'দল ডাকাতের সংঘর্ষে নিহত ২

ফরিদপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু'দল ডাকাতের মধ্যে গোলাগুলিতে দু'জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে শহরতলীর কৈজুরী ইউনিয়নের বাসপাশ সড়কের পিয়ারপুর নামক স্থানে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। নিহত দুই ডাকাতের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তারা হলেন- ফরিদপুর শহরের শোভারামপুর এলাকার পাভেল ও কমলাপুর এলাকার সবুজ।
আন্তঃজেলা ডাকাত হিসাবে তাদের বিরুদ্ধে কোতয়ালি থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। ফরিদপুর কোতয়ালি থানার সেকেন্ড অফিসার বেলাল হোসেন জানান, দু'দল ডাকাতের মধ্যে গোলাগুলি হচ্ছে এমন খবর পেয়ে টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে ডাকাত দল পালিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে গুলিবিদ্ধ দুই ডাকাতের লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশ দু'টি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুইজনের লাশ পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে আসে।

Wednesday, April 5, 2017

মধুখালীতে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বিপাকে আওয়ামী লীগ

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ৭নং মেগচামী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আগামী ১৬ এপ্রিল। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। প্রার্থীরা এখন মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। নির্বাচন যতো ঘনিয়ে আসছে ততোই বাড়ছে প্রার্থী ও কর্মীদের প্রচারণা। মধুখালী উপজেলা সদরের বাজার থেকে সামান্য দূরত্বে কৃষি প্রধান মেগচামী ইউনিয়নে যাতায়াতে ‘জাইকা’র ঋণে প্রশস্ত সড়ক নির্মিত হয়েছে সম্প্রতি। তবে এখনো অধিকাংশ হাটবাজার-রাস্তাঘাটে উন্নয়নের বিশেষ ছোঁয়া লাগেনি। ৬টি সরকারী প্রাইমারী স্কুল, একটি এমপিওভুক্ত ও একটি নন এমপিওভুক্ত হাইস্কুল এবং একটি এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা ও একটি ননএমপিওভুক্ত মাদ্রাসা রয়েছে। একটি নন এমপিওভুক্ত কলেজও গড়ে উঠেছে। এলাকায় শিক্ষার হার মোটামুটি। শিল্পকারখানা গড়ে না ওঠায় চাকরি ও বিদেশগমনের প্রবণতা রয়েছে অধিবাসীদের মধ্যে। যুবসমাজের মধ্যে মাদকাসক্তির সমস্যা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এছাড়া পাশ্ববর্তী এলাকা হতে আসা দুর্ধর্ষ অপরাধীদের বিচরণও রয়েছে এখানে। এজন্য এবারের নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করা অধিবাসীদের নিকট খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে ভোটাররা জানান। স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, মেগচামী ইউনিয়নের এবারের নির্বাচনে ৯টি ওয়ার্ডে চেয়ারম্যান পদে ৬ জন, মেম্বার পদে ২১ জন এবং সংরক্ষিত নারী আসনে ৭ জন প্রার্থী রয়েছেন। মোট ভোটার রয়েছেন ১০ হাজার ১৪৭ জন। এ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপিতে একাধিক প্রার্থী না থাকলেও আওয়ামী লীগের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। বিএনপি থেকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তরুণ উদীয়মান সমাজসেবক শেখ সবুজ। তার বিপরীতে আওয়ামী লীগের ‘নৌকা’ প্রতীকে রয়েছেন হাসান আলী খান। এছাড়া মধুখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সাব্বির উদ্দিন শেখ ‘চশমা’ প্রতীকে এবং ‘মোটর সাইকেল’ প্রতীকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদুজ্জামান সুইট রয়েছেন। বিদ্রোহী প্রার্থী সাব্বির শেখের আপন ভাই মনিরুজ্জামান পলাশও চেয়ারম্যান প্রার্থী। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ‘রজনীগন্ধা’ প্রতীকে। এছাড়া ‘আনারস’ প্রতিকে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী নাজমুল হাসান মুকুল। সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকায় এখানে বিএনপি প্রার্থী শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। এছাড়া দলীয় ভোটারের সংখ্যা বেশি সাথে ব্যক্তি ইমেজ ইতিমধ্যে ভোটারদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন। গত মঙ্গলবার বিকেলে নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের জন্য স্থানীয় বিলআড়লিয়া বাজারে গেলে সেখানে কথা হয় চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী তিন প্রার্থীর সাথে।
তারা সকলেই সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রশাসন ও র‌্যাব-পুলিশের যথাযথ হস্তক্ষেপ কামনা করেন। বিএনপি দলীয় প্রার্থী শেখ সবুজ অভিযোগ করেন, নির্বাচন যতো ঘনিয়ে আসছে প্রতিপক্ষ হতে হুমকি-ধামকিও বাড়ছে। বিশেষ করে নৌকায় ভোট না দিলে হিন্দু ভোটারদের গায়ের চামড়া তুলে নেয়ার জন্য প্রকাশ্য সভায় হুমকি দেয়া হচ্ছে। আমাকেও নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। ভোটারেরা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারলে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শহিদুজ্জামান সুইট একইরকম অভিযোগ করে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রশাসনের পক্ষ হতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী সাব্বির আলী বলেন, ২৫/২৬ লাখ টাকায় মনোনয়ন বাণিজ্য হয়েছে। এজন্য দলীয় মনোনয়ন পাইনি। এখন ভোটারেরা যাতে সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারে সেটিই দাবি করছি। নওশের আলী মন্ডল নামে এক ভোটার জানান, নির্বাচনের দিন বিশেষ কোনো কেন্দ্র টার্গেট করে ভোট কাটার চেষ্টা চলতে পারে। সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এ ইউনিয়নে স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বয়স্কভাতা, বিধবা ভাতাসহ বিভিন্ন সুবিধা প্রদানে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি। স্থানীয় একটি কলেজের প্রভাষক রকিবুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের দিন যতো ঘনিয়ে আসবে পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা নিতে হবে। ভোটারদের নিরাপত্তা দিতে হবে। তার যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে কেন্দ্রে যেতে পারে সেব্যবস্থা নিতে হবে। এব্যাপারে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী হাসান আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নির্বাচনের পরিবেশ ভালো দাবি করেন। ভোটারদের হুমকি-ধামকির ব্যাপারে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি এব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি।

Monday, March 27, 2017

বুধবার ফরিদপুর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী বুধবার ফরিদপুরে যাচ্ছেন। তিনি হেলিকপ্টারে করে ফরিদপুরে আসবেন। বিকাল পৌনে ৩টায় প্রধানমন্ত্রী রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে ২০টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ১২টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এরপর শহরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। জনসভা শেষে বিকাল সাড়ে ৪টায় প্রধানমন্ত্রী ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন। এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে ফরিদপুর শহরে সাজসাজ অবস্থা বিরাজ করছে। রাস্তা ও রাস্তার দুপাশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে সড়কে তোরণ নির্মাণ, ব্যানার, ফেস্টুন, তোরণগুলোতে নৌকা প্রতীক শোভা পাচ্ছে। সড়ক বিভাজকসহ আশপাশের স্থাপনা ও ভবন রং করা হয়েছে। এছাড়া সড়কের দু’পাশ ও অনেক ভবনে করা হয়েছে আলোকসজ্জা। আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য ও ফরিদপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মৃধা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সফল করতে আমরা সব প্রস্তুতি নিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফরিদপুর জেলাবাসীর অনেক প্রত্যাশা। তিনি জেলাবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করবেন বলে আমরা আশাবাদী। পুলিশ সুপার সুভাষ চন্দ্র সাহা জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ জেলার সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বুধবার প্রধানমন্ত্রী যে ২০টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করবেন সেগুলো হচ্ছে, ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ভবন, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নবনির্মিত ভবন, কবি জসীম উদ্‌দীন সংগ্রহশালা, ইন্সটিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি, শিশু একাডেমি ভবন, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের উপমহাপরিদর্শকের কার্যালয়, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, ফরিদপুর ৫০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্লান্ট, সরকারি রাজেন্দ্র একাডেমিক কাম পরীক্ষা হল, কুমার নদের ওপর সেতু, ভাঙ্গা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস, বিএসআইটি ভবন, ভাঙ্গা থানা ভবন, মধুখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, সদর উপজেলায় বাখুন্ডা রসুলপুর ভায়া নিখুরদী সড়ক, সদরের ডিক্রিরচর ইউনিয়নের মুন্সীডাঙ্গি কমিউনিটি ক্লিনিক ও ৩৩/১১ কেভি হাড়োকান্দি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র। এছাড়া যে ১২টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে সেগুলো হচ্ছে, কুমার নদ পুনঃখনন, আলফাডাঙ্গা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র্র, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পুলিশ অফিসার্স মেস, পুলিশ হাসপাতাল, সালথা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাডেমিক ভবন, সদরপুরের চন্দ্রপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্র, সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের ছাত্রীনিবাস, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, এক হাজার ৫০০ আসনের মাল্টিপারপাস হল, সদরপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ও সালথা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন প্রকল্প।

Saturday, March 25, 2017

'জঙ্গি ও মাদকের বিরুদ্ধে গণসচেতনতা তৈরি করতে হবে'

ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বলেছেন, এ সময়ে জঙ্গিবাদ ও মাদক বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই সমস্যার সমাধানে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নয়, সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। দেশব্যাপি গণসচেতনতা তৈরি করতে হবে। শুক্রবার ফরিদপুর সরকারি মেডিকেল কলেজ অডিটোরিয়ামে ছাত্রলীগের প্রতিনিধি সভায় তিনি এসব কথা বলেন।   ২৯ মার্চ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফরিদপুরের জনসভা সফল করতে এই প্রতিনিধি সভার আয়োজন করে জেলা ছাত্রলীগ। সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতাকর্মীকে নিজ নিজ এলাকায় জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে হবে।
যারা এসব করছে তারা সংখ্যায় খুবই কম। জনগণ প্রতিরোধ শুরু করলে এরা কোণঠাসা হয়ে পড়বে। ধীরে ধীরে নির্মূল হবে। তিনি বলেন, ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতাকর্মীর দায়িত্ব হচ্ছে দেশবাসীকে জঙ্গিবাদের কুফল সর্ম্পকে সচেতন করা। মাদকের বিরুদ্ধে ছাত্র ও যুব সমাজকে সচেতন করা। ছাত্রসমাজ মাদক থেকে দূরে থাকলে দেশ এগিয়ে যাবে। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম এবং আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গড়া সম্ভব হবে। এসময় আগামী ২৯ মার্চের জনসভা জনস্রোতে রুপান্তর করতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন সাইফুর রহমান সোহাগ। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিশান মাহমুদ শামীমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামের পরিচালনায় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন- ফরিদপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার মোহতেশাম বাবর, ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন আনু, আরেফিন সিদ্দিক সুজন, আসিফ উল্লাহ মিঠুন, সাংগঠনিক সম্পাদক সজীব বিশ্বাস, তানজিল ভূঁইয়া তানভির, সাহিত্য সম্পাদক খালেদা হোসেন মুন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক ইমরান, সাংস্কৃতিক সাইফুল ইসলাম জনি প্রমুখ।

Sunday, March 19, 2017

আশকোনায় নিহত 'জঙ্গি' জুয়েলের বাড়ি ফরিদপুরে

ঢাকা আশকোনায় নিহত 'জঙ্গি' জুয়েল রানার বাড়ি ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদা ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামে। শুক্রবার বিকালে ঢাকার আশকোনায় আত্মঘাতী জঙ্গি হামলায় নিহত হয় জুয়েল রানা। সে ফরিদপুরের ভাঙ্গার আদুমপুর গ্রামের আলমগীর হোসেন ও মা জহুরা পারভীনের পুত্র। তিন ভাইয়ের মধ্যে জুয়েল রানা সবার বড় । বাবা আলমগীর একজন গাড়ি চালক। এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনরা জানায়, জুয়েল রানা ওরফে আলিফ প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স দেয়ার পর প্রায় ১০ বছর পুর্বে জুয়েল রানা ঢাকা দোহারের জয়পাড়া এলাকায় দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সে দোহার জয়পাড়া এলাকায় ডেন্টাল চিকিৎক হিসাবে একটি চেম্বার দিয়েছিলেন। আশকোনার ঘটনায় তার পরিচয় প্রকাশের পর শনিবার ও রোববার জুয়েলের গ্রামের বাড়িতে এলাকাবাসী ভিড় জমাতে দেখা যায়। বাবা ও মায়ের দাবি, জুয়েলের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ ছিল না।
সে বাড়িতে আসতো না। এদিকে জুয়েলের চাচা শেখ মুরাদ জানান, শুক্রবার রাতে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে তাদের জুয়েলের বাবা-মাসহ পরিবারের ৮ সদস্যকে ধরে নিয়ে যায়। পরদিন শনিবার তাদের বাড়িতে ফেরত দিয়ে যায় পুলিশ। তিনি জানান, জুয়েলের ব্যাপারে পুলিশ যেসব তথ্য তাদের কাছে জানতে চেয়েছে সব সত্য আইনশৃংখলা বাহিনীকে তারা বলেছে। ভাঙ্গা থানার এসআই মজিবর জানান, আমি রোববার বেলা ২টার সময়ে নিহত জঙ্গি জুয়েল রানার বাড়ি আদমপুর গ্রামে যাই। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পাই বাড়িতে কোনো লোকজন নাই। তাদের সব ঘর তালাবদ্ধ । তবে পরিচয় সঠিক আছে।

Saturday, February 6, 2016

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের করুণ মৃত্যু

হাফিজুর মোল্লা
এক মাস আগে ভর্তি হয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাবা অটোরিকশাচালক। বাসা ভাড়া করে থাকার সামর্থ্য ছিল না। তাই ছাত্রলীগের ‘বড় ভাইদের’ মাধ্যমে উঠেছিলেন সলিমুল্লাহ মুসলিম (এস এম) হলে। থাকতে হতো বারান্দায়, যেতে হতো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে।
মার্কেটিং বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী হাফিজুর মোল্লা (১৯) শীতের রাতের এত ধকল সইতে পারেননি। আক্রান্ত হন নিউমোনিয়া ও টাইফয়েডে। চলে যান গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের পূর্ব শ্যামপুরে। শারীরিক অবস্থা বেশি খারাপ হলে ভালো চিকিৎসার জন্য রওনা দেন ঢাকায়। গত মঙ্গলবার রাতে পথেই তিনি মারা যান।
হাফিজুর বিশ্ব জাকের মঞ্জিল উচ্চবিদ্যালয় থেকে ২০১৩ সালে জিপিএ-৫ পেয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। গত বছর সদরপুর কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। গত মাসের প্রথম দিকে তিনি হলে ওঠেন। থাকতেন দোতলার দক্ষিণ পাশের বারান্দায়।
হাফিজুরের সহপাঠী ও পরিবারের অভিযোগ, শীতের মধ্যে বারান্দায় থাকা এবং রাতের বেলায় ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে যাওয়ার কারণে হাফিজ ঠান্ডায় আক্রান্ত হন। অসুস্থ অবস্থায় তীব্র শীতের মধ্যেও হাফিজকে গত ২৬ জানুয়ারি রাতে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা বাইরে থাকতে হয়। তাঁকে প্রায়ই অন্য কর্মীদের সঙ্গে হলের মাঠে ‘গেস্টরুম’ করতে হতো। তবে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হাফিজ আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন।
গেস্টরুম হচ্ছে ছাত্রলীগের একটি দলীয় রীতি। একটি নির্দিষ্ট সময়ে ছাত্রলীগের কনিষ্ঠ কর্মীদের সঙ্গে জ্যেষ্ঠরা বসে আলাপ-আলোচনা করেন। এ সময় তাঁদের ছাত্রলীগ করতে বা হলে থাকতে হলে কী করতে হবে, সে সম্পর্কে নির্দেশনা দেওয়া হয়। মূলত এটি ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার একটি প্রয়াস। বিভিন্ন সময় সাধারণ ছাত্রদের এ কর্মসূচিতে যোগ দিতে চাপ দেওয়ারও অভিযোগ আছে।
হাফিজুরের বাবা ইসহাক মোল্লা প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত সপ্তাহের বুধবার হাফিজ ঢাকা থেকে বাড়ি এসেছিল। প্রচণ্ড জ্বর নিয়ে এসেছিল। কাঁদতে কাঁদতে বলছিল, “আমি আর বাঁচব না।” জিজ্ঞেস করেছিলাম, কী হয়েছে। ও জানায়, শীতের মধ্যে বাইরে ‘‘ডিউটি’’ করতে হয়। ওই দিন নাকি সে ওদের বলেছে, তার শরীরটা ভালো না। ডিউটিতে যেতে পারবে না। কিন্তু তারপরও মাঠে নিয়ে গিয়ে রাত সাড়ে নয়টা থেকে একটা পর্যন্ত দাঁড় করিয়ে রেখেছে।’
হাফিজুর হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক দিদার মুহাম্মদ নিজামুল ইসলামের পক্ষের কর্মী ছিলেন। দিদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা ছাত্রলীগের কর্মীদের নিয়ে সপ্তাহে দুই দিন গেস্টরুম করি। কিন্তু প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের গেস্টরুম করানো একেবারেই নিষেধ। তারা সিনিয়রদের সর্বোচ্চ সালাম দিয়ে চলে যায়।’ পরে তিনি খোঁজ নিয়ে জানান, গত ২৬ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) রাতে কিছুক্ষণের জন্য প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে জ্যেষ্ঠরা মাঠে কথা বলেছিলেন। তবে জোর করে হাফিজুরকে কর্মসূচিতে নেওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমি নিজে ওকে হলে তুলেছি। বলেছি কোনো ধরনের সমস্যা হলে আমাকে বলতে। কিন্তু সে এ নিয়ে আমাকে কখনোই কিছু বলেনি।’
হাফিজুরের বাবা আরও বলেন, ‘হাফিজ ঢাকায় চিকিৎসক দেখিয়েছিল। তাকে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়েছিলেন চিকিৎসক। কিন্তু বাড়িতে আসার পর আবার চিকিৎসক দেখালে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে নিউমোনিয়া ও টাইফয়েড ধরা পড়ে। স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করার পর অবস্থার অবনতি দেখে তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য রওনা হই। পথে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে রাত ১১টা ২০ মিনিটে মারা যায় ছেলেটা।’
ফরিদপুরে হাফিজুরের চিকিৎসক আবু আহমেদ আবদুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, হাফিজের নিউমোনিয়া ও টাইফয়েড হয়েছিল। ঠান্ডার কারণে বা ইনফেকশন থেকে এ রোগ হয়।
মুঠোফোনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ইসহাক মোল্লা বলতে থাকেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। আমার সম্পদ ছিল একটাই। সেই পোলাডাই কষ্ট পাইয়া মইরা গেল।’
হাফিজুরের চাচা আবদুল জব্বার বলেন, গত বুধবার হাফিজের লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। কিস্তিতে একটি অটোরিকশা কিনে জীবিকা নির্বাহ করেন তাঁর বাবা ইসহাক মোল্লা। সেই কিস্তির টাকা আজও শোধ করতে পারেননি। পূর্ব শ্যামপুর গ্রামে আড়াই শতক জমির ওপর তাঁদের একটি টিনের ঘর রয়েছে। একটিই ছেলে ছিল। হাফিজুর বাবাকে বলতেন, ‘আর কয়েকটা বছর কষ্ট করো, বাবা। পড়াশোনা করে আমি একটা চাকরি তো পাব। আমাদের আর কষ্ট থাকবে না।’
জানতে চাইলে এস এম হলের প্রাধ্যক্ষ গোলাম মোহাম্মদ ভূঁইয়া বলেন, ছাত্রলীগের গেস্টরুমের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। হাফিজুরের বারান্দায় থাকার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘নিউমোনিয়া বারান্দায় থাকলেও হতে পারে, রুমে থাকলেও হতে পারে। আর বারান্দায় তো অনেকেই থাকে। তাদের তো কিছু হয়নি। হতে পারে সে অসুস্থ হয়ে গিয়েছিল। বাড়ি চলে গেছে এবং সেখানে মারা গেছে

Tuesday, September 15, 2015

ফরিদপুরে মহাসড়কের ভোগান্তি এবারের ঈদুল আজহায়ও by হারুন আনসারী

ফরিদপুর-খুলনা মহাসড়কের বেহাল দশা। ছবিটি
সদর উপজেলার কানাইপুর থেকে তোলা : নয়া দিগন্ত
ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ফরিদপুর অংশে দীর্ঘ দিন সংস্কার না করায় দু’টি মহাসড়কেরই পরিস্থিতি নাজুক আকার ধারণ করেছে। সড়কগুলোর বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে ছোট, বড় ও মাঝারি আকারের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের বেশির ভাগ স্থানে ওপরের বিটুমিন প্রলেপ উঠে গেছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বাখুণ্ডা, জোড়া সেতু, মহিলা রোড, তালমার মোড়, শংকরপাশা, কাজী কুড়িয়াল, ভুবুক দিয়া, সদরদী, নওপাড়া ও টেকেরহাট গোলচক্কর এলাকায় খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলাচলে সমস্যা পোহাতে হচ্ছে। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে খুলনার দিকে গঙ্গাবর্দী, কানাইপুর বাজার, পরীতিপুর, মধুখালী রেলগেট ও বাজারসংলগ্ন এলাকা, বাগাট বাজার এলাকার পরিস্থিতি নাজুক। এই মহাসড়কের ঢাকার দিকে বাহিরদিয়া, ধুলদী রেলগেট এলাকা ও বসন্তপুরের অবস্থাও নাজুক।
ফরিদপুর সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে মাগুরার ওয়াপদা থেকে রাজবাড়ীর বসন্তপুর পর্যন্ত ফরিদপুর সড়ক বিভাগের মধ্যে পড়েছে ৪৯ কিলোমিটার অংশ। অন্য দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে শহরের রাজবাড়ী রাস্তার মোড় এলাকা পর্যন্ত ৩৭ কিলোমিটার পড়েছে এ সড়ক বিভাগের অধীনে।
ওই সব জায়গায়, পুরো সড়কজুড়ে মহাসড়কের মধ্যে হাজার হাজার ছোটবড় ও মাঝারি আকারের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলে এ দু’টি পথে চলাচল করা দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। এর ফলে বাসের চাকা ফেটে গিয়ে বাস উল্টে পড়ে মাঝে মধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, ঢাকা- বরিশাল মহাসড়কের প্রায় সর্বত্র ছোটবড় খানখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনই কাদামাটিতে আটকে যায় গাড়ি। সৃষ্টি হয় যানজটের। প্রতিদিনই গাড়ির ইঞ্জিন ফেসে যাচ্ছে। জনগণের দুর্ভোগের শেষ নেই। সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের মধ্যে প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে। রাস্তা খারাপ থাকায় গাড়িতে নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে বেশি সময় লাগছে। ফরিদপুর-বরিশাল পথে চলাচলকারী বিকাশ পরিবহনের চালক ফরিদপুর শহরের গৌরাঙ্গ সিকদার বলেন, মহা সড়কটির পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে। গাড়ি চালানোর সময় শরীরের কিছু থাকে না। আবার যাত্রীদের গালাগাল, সব মিলিয়ে মহা বিপদে আছি।
ঢাকা-মাদারীপুর পথে চলাচলকারী সার্বিব পরিবহনের চালক মাদারীপুরের আবুল হোসেন জানান, সাধুর সেতুর কাজের ধীরগতির কারণে আমাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। দীর্ঘ দিন ধরে বিকল্প সড়কটি সংস্কার না করায় প্রায়ই গাড়ি দেবে যায়। তিনি বলেন, এ রাস্তার কারণে প্রায় প্রতিদিনই গাড়ির পাতি ও বেয়ারিং ভেঙে যাচ্ছে, খসে পড়ছে সাইড গ্লাস। দেরী হওয়ায় ডাউন ট্রিপ ধরতে পারছি না।
যশোর থেকে ঢাকাগামী কাভার্ডভ্যান চালক যশোরের চুড়িপট্টি এলাকার বাসিন্দা মো: শাহাবুদ্দিন বলেন, যশোর থেকে মাগুরা পর্যন্ত সড়কটি তত খারাপ নয়। কিন্তু কামারখালী সেতু পার হলেই আর জান থাকে না। রাস্তা বুড়া মাইনসের দাঁতের মতো হয়ে গেছে। খালি নড়বড় করে। সড়ক বিভাগ ঠিক মতো সংস্কার কাজ করে না। পিচ কম দেয়। ফলে দু’দিনের মধ্যেই রাস্তা নষ্ট হয়ে যায়।
ওই পথে চলাচলকারী ট্রাক চালক ইকবাল হোসেন বলেন, আগে খুলনা থেকে ঢাকা যেতে ১২ ঘণ্টা লাগত। এখন দেড় দিনেও পৌঁছাতে পারি না রাস্তা খারাপের কারণে।
ফরিদপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি গত বৃহস্পতিবার কাজে যোগ দেয়ার পর দু’দিন সরেজমিন মহাসড়ক দু’টি পরিদর্শন করেছি। তিনি বলেন, এরই মধ্যে আমরা খানাখন্দ ভরাট করাসহ সড়ক দু’টি চলাচলের উপযোগী করে তোলার কাজ শুরু করেছি। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ঈদুল আজহার আগেই এ কাজ শেষ করা হবে। মাদারীপুর সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভুরঘাটা থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ৪৫ কিলোমিটার।
মাদারীপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, সড়কটির বেশির ভাগ জায়গা ভালো তবে দু’টি জায়গার কিছু রাস্তার অবস্থা খারাপ। আমরা সড়কটি চলাচলের উপযুক্ত করতে গত দুই মাস ধরে কাজ করছি। বৃষ্টির জন্য সমস্যা হলেও আমরা আশাবাদী ঈদের আগে কাজ শেষ করা যাবে। তিনি বলেন, সাধুর সেতু নির্মাণে দীর্ঘসূত্রতা হচ্ছে না। শিডিউল অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই এটি শেষ হওয়ার কথা।

Wednesday, August 19, 2015

মুক্তি পেলেন সাংবাদিক প্রবীর সিকদার

ফরিদপুর জেলা কারাগারে তিন দিন আটক থাকার পর অবশেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন সাংবাদিক প্রবীর সিকদার। আজ বুধবার দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে তিনি জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বের হয়ে আসেন। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুরের ১নং আমলী আদালতের বিচারক হামিুল ইসলাম পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্র জানায়, ফরিদপুরের ১নং আমলী আদালতে সাংবাদিক প্রবীর সিকদারের জামিন আবেদনের উপর শুনানি হয় আজ। এসময় প্রবীর সিকদারকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। প্রবীর সিকদারের পক্ষে তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আলী আশরাফ নান্নু জামিন আবেদন করেন। তার সাথে আরো ছিলেন অ্যাডভোকেট জসিমউদ্দিন মৃধা ও অ্যাডভোকেট মাসুদ রানা।
অ্যাডভোকেট আলী আশরাফ নান্নু প্রবীর সিকদারকে যুদ্ধাহত শহীদ পরিবারের সন্তান হিসেবে উল্লেখ করে আদালতকে বলেন, প্রবীর সিকদারের একটি পা নেই। তিনি একজন পঙ্গু সাংবাদিক। তার গ্রেফতারে দেশের সাংবাদিক সমাজ উদ্বিগ্ন। তাকে জামিন দিলে তিনি পালাবেন না।
অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে নিযুক্ত আইনজীবী এপিপি অ্যাডভোকেট জাহিদ বেপারীসহ অন্যরা জামিনের বিরোধীতা করেন।
আদালত উভয়পক্ষের শুনানি শেষে মঙ্গলবার দেয়া রিমান্ড আদেশ বাতিল করে পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় মামলার তদন্ত চলাকালীন পর্যন্ত প্রবীর সিকদারের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। গত মঙ্গলবার একই আদালত প্রবীর সিকদারের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিল।
ফরিদপুর জেলা কারাগার থেকে বের হয়ে প্রবীর সিকদার সাংবাদিকদের ‘ভি’ চিহ্ন দেখান। এসময় তিনি তার খবর পরিবেশন ও মুক্তির জন্য যারা সহায়তা করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
প্রবীর সিকদার বলেন, সরকারের ভেতরেও অনেকে আমার মুক্তির জন্য চেষ্টা করেছেন। তাদের প্রতি আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
প্রবীর সিকদারের জামিনের খবর পেয়ে তার স্ত্রী, সন্তান ও পরিবারের সদস্যগণসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকগণ, জেলা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সেক্রেটারি অলোক সেন, দেবোত্তর সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ কমিটির জেলা সেক্রেটারি ভবতোষ বোস, জেলা যুবদলের সেক্রেটারি একেএম কিবরিয়া স্বপন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান বেনজির আহমেদ তাবরীজ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে প্রবীর সিকদার তার পৈত্রিক বাড়ি কানাইপুরে যান। সেখান থেকে তার ঢাকায় যাওয়ার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর ইন্দিরা রোডের কার্যালয় থেকে প্রবীর সিকদারকে আটক করে ডিবি পুলিশ। এরপর ভোররাত ৫টার দিকে তাকে ফরিদপুরের কোতয়ালি থানায় নেয়া হয়। রোববার বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। ফেসবুকে এলজিআরডি মন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্ট্যাটাস দেয়ায় সংক্ষুব্ধ হয়ে তার বিরুদ্ধে কোতয়ালি থানায় মামলা করেন এপিপি অ্যাডভোকেট স্বপন পাল।

‘আমার চোখ বেঁধে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ’ -সাংবাদিক প্রবীর সিকদার

একাত্তরের শহীদ পরিবারের সন্তান সাংবাদিক প্রবীর সিকদার আদালতে বলেছেন, ‘কোতোয়ালি থানায় পুলিশ আমার চোখ বেঁধে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। অপ্রয়োজনীয় কিছু বিষয়ে অযথা প্রশ্ন করে মানসিক নির্যাতন করেছে।’ মঙ্গলবার ফরিদপুরের ১ নম্বর আমলি আদালতে পুলিশ ও বাদীপক্ষের আইনজীবীদের রিমান্ড আবেদনের বিরোধিতা করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তবে প্রবীর সিকদারের বিরোধিতা আমলে না নিয়ে বিচারক তাঁর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আজ বেলা ১১টা ২৬ মিনিটে প্রবীর সিকদারকে প্রিজন ভ্যানে করে ফরিদপুর জেলা কারাগার থেকে আদালত প্রাঙ্গণে আনা হয়। আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে প্রথমে তাঁর রিমান্ডের যৌক্তিকতা তুলে ধরে পুলিশের বক্তব্য উপস্থাপন করেন জিআরও সুবীর দে। তাঁর বক্তব্য উপস্থাপনের পর প্রবীর সিকদারের রিমান্ডের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন বাদী স্বপন পালের পক্ষের আইনজীবী জাহিদ ব্যাপারী, অনিমেষ রায়, বদিউজ্জামান বাবুল, গোলাম রব্বানী বাবু মৃধা ও শফিউজ্জামান উজ্জ্বল। তাঁরা বলেন, ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে প্রবীর সিকদার মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনসহ দেশ ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন। এ ঘটনার পেছনে কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জড়িত, তা খুঁজে বের করতে এ রিমান্ড প্রয়োজন।
সাংবাদিক প্রবীর সিকদারের পক্ষের আইনজীবী আলী আশরাফ নান্নু ও মাসুদ রানা এই যুক্তির বিরোধিতা করে বলেন, প্রবীর সিকদার ফেসবুকে যে স্ট্যাটাস দিয়েছেন, তা প্রকাশিত। এই মামলায় তাঁকে ছাড়া অন্য কাউকে বা অজ্ঞাতনামা কাউকে আসামি করা হয়নি। তাই এই রিমান্ডের কোনো যুক্তি নেই। তাঁরা প্রবীর সিকদারের জামিন দাবি করেন।
একপর্যায়ে কাঠগড়ায় উপস্থিত প্রবীর সিকদার হাত তুলে কিছু বলার জন্য অনুমতি চাইলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। তখন তিনি বলেন, ‘আমাকে ঢাকায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে আগে, কিন্তু ফরিদপুরে মামলা হয়েছে পরে।’ তিনি বলেন, তিনি শেরেবাংলা নগর থানায় হুমকির ব্যাপারে জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু থানা তা গ্রহণ করেনি।
প্রবীর সিকদার বলেন, ‘থানায় আমার সাথে কারও দেখা করতে দেওয়া হয়নি।’ নিজে পঙ্গু এবং হৃদ্‌রোগী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঢাকা থেকে ফরিদপুরে আনার পর চোখ বেঁধে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁকে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। রিমান্ডে দিলে তাঁর প্রতি পুলিশি নির্যাতন বাড়বে-এই আশঙ্কা থেকে তিনি বিচারকের কাছে অনুরোধ করেন, তাঁকে যেন কারা ফটকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু এই অনুরোধ নাকচ করে তাঁর তিন দিনের পুলিশি রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারিক হাকিম মো. হামিদুল ইসলাম। আদালত মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন আগামী ২২ সেপ্টেম্বর। দুপুর ১২টা ২ মিনিটের দিকে প্রবীর সিকদারকে আদালত কক্ষ থেকে বের করে প্রিজন ভ্যানে তুলে সরাসরি ফরিদপুর জেলহাজতে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রবীর সিকদারের আইনজীবী আলী আশরাফ নান্নু বলেন, ‘এই অভিযোগে রিমান্ডের প্রয়োজন ছিল না। কেননা, এটি একটি কমপ্লিট এজাহার। এই মামলার একমাত্র আসামি প্রবীর সিকদার।’
সাংবাদিক প্রবীর সিকদারকে গত রোববার ঢাকায় আটক করা হয়। ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় তাঁর নামে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে একটি মামলা হয়। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ (২) ধারায় গ্রেপ্তার করে সোমবার ভোরে তাঁকে ফরিদপুরে নিয়ে আসা হয়। সোমবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাঁকে জেলার মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে সোপর্দ করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার পুলিশ।