Thursday, April 4, 2019

টাকা না দিতে পারলে টিকিট বিক্রি বন্ধ রাখবেন: হাইকোর্ট

দুর্ঘটনায় পা হারানো রাসেল সরকারকে ৫০ লাখ টাকা দেয়নি গ্রিনলাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষ। আদালতের তলবে হাজির হয়ে গ্রিনলাইন পরিবহনের জেনারেল ম্যানেজার আবদুস সাত্তার জানিয়েছেন, পরিবহনটির স্বত্বাধিকারী চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে আছেন। তিনি দেশে ফিরবেন ৯ এপ্রিল। এই দিক বিবেচনায় নিয়ে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে আদেশের তারিখ পিছিয়ে ১০ এপ্রিল ধার্য করেছেন।
আবদুস সাত্তারের উদ্দেশে আদালত বলেন, ১০ এপ্রিল অগ্রগতি বাস্তবায়নের প্রতিবেদন দেবেন। যদি টাকা না দিতে পারেন, তাহলে ১১ তারিখের জন্য কোনো টিকিট বিক্রি করবেন না। জনগণকে ভোগান্তির মুখে ফেলবেন না।
পা হারানো রাসেল সরকারকে ৫০ লাখ টাকা দিতে হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়নের বিষয়ে আজ গ্রিনলাইন কর্তৃপক্ষের আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে গ্রিনলাইন কর্তৃপক্ষ কোনো প্রতিবেদন দাখিল করেনি। সকালে বিষয়টি উঠলে গ্রিনলাইন পরিবহনের আইনজীবী মো. ওজি উল্লাহ বলেন, পরিবহনের মালিক চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে আছেন। আদালত তখন জানতে চান, ‘পরিচালক কয়জন?’ জবাবে আইনজীবী বলেন, ‘একজনই মালিক, মো. আলাউদ্দিন।’ আদালত বলেন, ‘কোথায় আছেন, কবে গেছেন?’ তখন আইনজীবী বলেন, তিনি জেনে জানাবেন।
আদালত এ সময় আইনজীবীর উদ্দেশে বলেন, ‘উনি (গ্রিনলাইনের মালিক) দেশের বাইরে থাকলেও ওনার ব্যবসা তো বন্ধ হয়নি। তাঁর ম্যানেজারকে ডাকবেন। না হলে অ্যারেস্ট করার ব্যবস্থা করব। ইতিবাচক পদক্ষেপ না থাকলে গ্রিনলাইনের গাড়ি জব্দ করা হবে। গাড়ি নিলামে বিক্রির পর অর্থ পরিশোধ করবেন।’ জবাবে আইনজীবী বলেন, তিনি জেনে জানাবেন। আদালত তখন বলেন, ‘সবকিছুর একটা সীমা থাকা উচিত। যত বড় ব্যবসায়ীই হোন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন।’ এরপর আদালত গ্রিনলাইন পরিবহনের ম্যানেজারকে আজ বেলা দুইটায় আসতে বলার জন্য বলেন।
আদালতের আদেশ অনুসারে বেলা দুইটার দিকে আদালতে হাজির হন গ্রিনলাইনের জেনারেল ম্যানেজার আবদুস সাত্তার। পরে আদালত তাঁর বক্তব্য শুনে ওই দিন ধার্য করেন।
বেপরোয়া বাসের চাপায় পা হারানো রাসেলকে দুই সপ্তাহের মধ্যে ৫০ লাখ টাকা দিতে গত ১২ মার্চ গ্রিনলাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি রাসেলের অন্য পায়ে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলে এবং তাঁর কাটা পড়া পায়ে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির কৃত্রিম পা লাগানোর খরচও গ্রিনলাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষকে বহন করতে বলা হয়।
রাসেল একটি প্রতিষ্ঠানের ভাড়া গাড়ি চালাতেন। গত বছরের ২৮ এপ্রিল কেরানীগঞ্জ থেকে ঢাকায় ফেরার পথে যাত্রাবাড়ীর হানিফ উড়ালসড়কে গ্রিনলাইন পরিবহনের বাসের চাপায় পা হারান তিনি। এ ঘটনায় রাসেলের বড় ভাই আরিফ সরকার বাসচালক কবির মিয়ার বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় গত বছরের ২৮ এপ্রিল মামলা করেন।

পোশাকপল্লির জমি: ৫০০–এর মধ্যে ৪৪১ একরই শেষ by রাজীব আহমেদ ও শুভংকর কর্মকার

পোশাকপল্লির জমি: ৭৬টি কোম্পানি সেখানে জমি নিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী পোশাকপল্লিসহ ১৩টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন বুধবার: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরের পোশাকপল্লিতে জমি নেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ আগ্রহ দেখাচ্ছেন তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকেরা। সেখানে পোশাকপল্লির জন্য রাখা ৫০০ একর জমির ৪৪১ একর ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। জমি ইজারা নিতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষকে (বেজা) ১০০ কোটি টাকা দিয়েছে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ।
এর মাধ্যমে দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানিমুখী শিল্প খাতের জন্য পরিকল্পিত শিল্পনগর প্রতিষ্ঠা হতে যাচ্ছে। এর আগে মুন্সিগঞ্জের বাউসিয়ায় গার্মেন্টস শিল্পপার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ মাঝপথে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়েছিল।
বঙ্গবন্ধু শিল্পপার্কে জমি বরাদ্দের বিষয়ে বিজিএমইএর সঙ্গে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) চুক্তি হয় ২০১৮ সালের ২১ মার্চ। এরপর বিজিএমইএ সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে জমি বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। ইতিমধ্যে ৭০টি কোম্পানি সেখানে জমি নেওয়ার জন্য টাকা জমা দিয়েছে। আরও ৬টি কোম্পানি জমি নেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করলেও টাকা এখনো জমা দেয়নি। আগামী বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৩টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়নকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার কথা রয়েছে, যার মধ্যে একটি বিজিএমইএর পোশাকপল্লি।
বিজিএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ নাছির প্রথম আলোকে বলেন, ‘জমি বুঝিয়ে দিলেই আমরা কারখানার নির্মাণকাজ শুরু করব। সেখানে মূলত বড় ও মাঝারি উদ্যোক্তারা জমি নিয়েছে। তারা ওই জমিতে বৈচিত্র্যপূর্ণ পোশাক পণ্য উৎপাদনের চিন্তা করছে।’
বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর চট্টগ্রামের মিরসরাই, ফেনী ও সীতাকুণ্ড ঘিরে গঠিত হচ্ছে। এর প্রস্তাবিত আকার ৩০ হাজার একর। এটি হবে দেশের সবচেয়ে বড় শিল্প এলাকা। এতে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা) ১ হাজার ১৫০ একর, শিকদার গ্রুপ, বসুন্ধরা ও গ্যাসমিন মিলে এসবিজি ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে ৫০০ একর, বসুন্ধরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠার জন্য বসুন্ধরা গ্রুপ ৫০০ একর এবং পিএইচপি গ্রুপ পিএইচপি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক প্রতিষ্ঠার জন্য ৫০০ একর জমি নিয়েছে। অনেক দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান সেখানে কারখানা করার জন্য জমি নিয়েছে।
সব মিলিয়ে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে ৫৫টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অনুকূলে এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৭৭ একর জমি বরাদ্দ দিয়েছে বেজা। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ২৫৯ কোটি মার্কিন ডলার। এতে প্রায় সাত লাখ মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন উদ্যোক্তারা।
বেজা জানিয়েছে, মিরসরাইয়ে ইতিমধ্যে ২০ একর জমিতে এশিয়ান পেইন্টস, ১০ একর জমিতে আরমান হক ডেনিম, ১০ একর জমিতে মডার্ন সিনটেক্স এবং ১০ একর জমিতে জুজু জিনইউয়ান কেমিক্যাল কারখানা তৈরির কাজ শুরু করেছে।
বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, বিজিএমইএর জমিতে মাটি ভরাটের কাজ শুরু হবে আগামী মাসে। এরপর রাস্তাঘাট
ও অন্যান্য অবকাঠামোর কাজ শুরু হবে। আগামী বছরের মাঝামাঝিতে কারখানা করা যাবে বলে আশা করা যায়।
বিজিএমইএর যারা জমি নিয়েছে
পোশাকপল্লিতে ইতিমধ্যে জমি নিয়েছে স্টারলিং ডেনিমস, বান্দু ডিজাইন, স্টারলিং স্টাইলস, দ্যাটস ইট স্পোর্টসওয়্যার, অ্যাপারেল গ্যালারি, আরটিস্টিক ডিজাইন, ইপিলিয়ন স্টাইল, গ্লোবাল শার্ট, মেনস ফ্যাশন, ইউনিগিয়ার লিমিটেড, এসকিউ সেলসিয়াস, মার্স স্পোর্টসওয়্যার, গ্রাফিকস টেক্সটাইল, জেনেসিস ফ্যাশনস্, কলম্বিয়া গার্মেন্টস, কলম্বিয়া অ্যাপারেলস, আরডিএম অ্যাপারেলস, ডব্লিউ অ্যাপারেলস, ব্যাবিলন গার্মেন্টস, ব্যাবিলন ক্যাজুয়ালওয়্যার, ক্লিফটন কন, ক্লিফটন অ্যাপারেলস, ফোর এইচ ফ্যাশন, চার্ম ফ্যাশন, ভ্যানকট লিমিটেড, করিম টেক্সটাইল, এসএফ ডেনিম অ্যাপারেলস, মজুমদার গার্মেন্টস, তুসুকা ট্রাউজারস, ভিজ্যুয়াল নিটওয়্যার, এনার্জিপ্যাক ফ্যাশন ও ইভা সোয়েটারস।
আরও রয়েছে অ্যালপস্ অ্যাপারেলস, আরও টেক্সটাইল মিলস, ফাউন্টেন গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং, পশ গার্মেন্টস, মেসার্স এআরএল অ্যাপারেলস, স্যামস অ্যাটায়ার লিমিটেড, ফারসিয়িং নিট কম্পোজিট, ডেনিম ফ্যাশনস, ইএইচ ফেব্রিকস, প্যাসিফিক কটন, কটনলাইন বিডি, কটন ডাইং অ্যান্ড ফিনিশিং মিলস, তুসুকা জিনস, উরানাস অ্যাপারেলস, আফরাহ ড্রেসেস, ওয়েল ফ্যাশন, তাফফ অ্যাপারেলস, ইমেজ গার্মেন্টস, শামসের রাজিয়া ফ্যাশন ও শামসের অ্যাপারেলস।
এ ছাড়া শানশিন কোম্পানি (বিডি) লিমিডেট, মাস্ক ট্রাউজারস, আরআর ফ্যাশন, টাওয়েল টেক্স লিমিটেড, টিবিএইচ ফ্যাশনটেক্স, আদিলা অ্যাপারেলস, এস-সিক্স ফ্যাশনস, অ্যাডভান্স ওয়ার্ল্ড, আল-ইত্তেফাক টেক্সটাইল, বিএলপি ওয়ার্ম ফ্যাশন, গার্মেন্টস হোম (প্রা.) লিমিটেড, প্রোগ্রেসিভ অ্যাপারেলস ইন্ডাস্ট্রিজ, মিলো ফ্যাশনস, কে গার্মেন্টস, চৌধুরী ফ্যাশন ওয়্যার, মদিনা গার্মেন্টস ও আরএনএসসিও সোয়েটারস লিমিটেড বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে জমি নিয়েছে।
বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরের সুবিধা
বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর হবে পূর্ণাঙ্গ শিল্পশহর। এতে কারখানার পাশাপাশি আবাসন, বিনোদন ও অন্যান্য সুযোগ–সুবিধা থাকবে। মিরসরাইয়ে এখন ভূমি উন্নয়নের পাশাপাশি গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে। এখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি দেবে সরকার। এ অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য আলাদা একটি বন্দর থাকবে, যেটি দিয়ে সহজেই চট্টগ্রাম ও অন্যান্য বন্দরে পণ্য আনা-নেওয়া করা যাবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরণি নামে চার লেনের একটি সড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত হবে, যেটি পরে আট লেন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলটিতে এককালীন ৫০ বছরের ভাড়া পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গমিটার অনুন্নত জমির ইজারামূল্য ধরা হয়েছে শূন্য দশমিক ৩০ ডলার এবং উন্নত জমির মূল্য ধরা হয়েছে দশমিক ৬০ ডলার। বেজা জানিয়েছে, বিজিএমইএর ৫০০ একর জমির ৫০ বছরের ইজারামূল্য ৫০০ কোটি টাকা। তারা তিন কিস্তিতে ১০০ কোটি টাকা দিয়েছে বেজাকে।
মিরসরাইয়ে জমি বরাদ্দের জন্য ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে আবেদন নেওয়া শুরু করে বেজা।

ঝড় ও শিলাবৃষ্টি, কৃষকের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার

টাঙ্গাইলে দুই দফা ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ফসল,বাড়িঘর এবং গাছপালার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলার মধুপুর, ঘাটাইল এবং ধনবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বোরো ধান বিনষ্ট, টিনের চালা ফুটো এবং গাছপালা উপড়ে পড়েছে। মধুপুরের মহিষমারা ইউনিয়নের শালিকা, জয়নাতলী, মহিষমারা, নেদুরবাজার, কুড়ালিয়া ইউনিয়নের কদিমহাতীল, দড়িহাতীল. ধামাবাধুরী, টিকরী, মলকা গ্রামে বেশি ক্ষতি হয়েছে। বুধবার বিকালে উপজেলা চেয়ারম্যান সরোয়ার আলম খান আবু,মহিষমারা ইউ.পি চেয়ারম্যান কাজী আব্দুল মোতালেব,কুড়ালিয়া ইউ.পি চেয়ারম্যান আহম্মদ আলী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শণ করেছেন।
মধুপুরের অন্যতম লেবু চাষি মধ্যম আয়ের আব্দুল কদ্দুস মিয়ার ৮ বিঘার তিনটি লেবু বাগান একেবারে বিনষ্ট হয়েছে। এতে তিনি সর্বস্বান্ত হয়ে দেউলিয়া হওয়ার যোগাড়। একাধিক ব্যাংক লোন, সার, ঔষধের দোকান বাকি, অগ্রিম মহাজনের দেয়া অর্থ পরিশোধের কোন পথ না থাকায় চোখে অন্ধকার দেখছেন আলোকদিয়া ইউনিয়নের উত্তর লাউফুলা গ্রামের মৃত বাহাজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল কদ্দুস। সরেজমিনে গত বুধবার গিয়ে দেখা যায়, আব্দুল কদ্দুসের তিনটি বাগানের লেবুর ফলনের ৮০ শতাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। এ থেকে লাভের মুখ তো দূরের কথা আসল উঠে আসাই কঠিন। তবুও অবশিষ্টাংশের যত্ন করছেন তিনি।
চাষি আব্দুল কদ্দুস জানান, বিগত ১৯ বছর ধরে তিনি লেবু চাষ করে সন্তানদের লেখাপড়াসহ সংসারের যাবতীয়য় ব্যয় চালান। এক মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন। গত বছর তিনি ৬ মাসে চার লাখ টাকার লেবু বিক্রি করেন। লাভ ভালোই ছিল। এবার দুই লাখ টাকা ব্যয় করে ৮ বিঘা জমিতে লেবুর চাষ করেছিলেন। ফলন অনেকটা ভালোই হয়েছিল। কিন্তু গত ৩১ মার্চ প্রথম দফায় ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে লেবুর ফুল ও কচি ছোট লেবুর ব্যাপক ক্ষতি হয়। এর পর বাকি ফলনের যত্ন নেয়া শুরু করার একদিন না যেতেই আবার মঙ্গলবার বিকেলের ব্যাপক শিলাবৃষ্টিতে লেবুর অবশিষ্ট ফলন পুরোটাই নষ্ট হয়ে যায়।
এ ঘটনায় কদ্দুস দিগবিদিগ হারিয়ে ফেলেছেন। দুশ্চিন্তায় খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। তার চিন্তা- এখন কিভাবে সংসার চলবে। একাধিক ব্যাংক থেকে লোন, মহাজনের কাছ থেকে অগ্রিম লেবুর জন্য নেয়া টাকা, লিজ নেয়া জমির টাকা কিভাবে শোধ করবেন। এবার তিনি ৮ বিঘা জমিতে দেশি কাগুজি লেবু ও এলাচি লেবু চাষ করেছেলিন। এ পর্য়ন্ত তার দুই লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। উৎপাদনে আসা পর্যন্ত আরও ৪০/৫০ হাজার টাকা ব্যয় হতো। কদ্দুসের ধারণা ছিল- ৫ লাখ টাকার লেবু বিক্রি হতো। ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ লাভ আসতো।
এ থেকে লোন পরিশোধের পাশাপাশি ৫ সদস্যের সংসারের খরচ যোগাড় হতো। টাঙ্গাইলের কুমুদিনি কলেজ পড়ুয়া ও মধুপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ের খরচ যোগান হতো। কিন্তু এসব যেন বন্ধ হয়ে গেল দুই দফা শিলাবৃষ্টিতে। এখন তিনি কি করবেন ভেবে পাচ্ছেন না।
অপরদিকে ঘাটাইলের সন্ধানপুর ইউনিয়নের বগা, কামারচালা বোয়ালীহাটবাড়ি,সংগ্রামপুর, খুপিবাড়ি,চাপড়ী প্রভৃতি এলাকায় মঙ্গলবার বিকেল ও রাতে বয়ে যাওয়া শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
বুধবার সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ঝড় ও শিলাবৃষ্টির লন্ডভন্ড চিত্র। বগা গ্রামের কলা চাষী মনিরুজ্জামান মিন্টু বলেন, আমি ব্র্যাক এনজিও থেকে লোন করে ৭ বিঘা জমিতে ২০০০ হাজার সবরি কলার চাষ করি। এতে প্রতি গাছে কলার থোড় ধরেছিল। ফলন ভালো হয়েছিল। কিন্তু ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে আমার সকল স্বপ্ন নষ্ট হয়ে গেলো।
একই ভাবে সংগ্রামপুর গ্রামের কলাচাষী আ. মালেক খানেরও ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে একইভাবে ৫ বিঘা জমির কমপক্ষে ১৮০০টি কলা গাছ ভেঙ্গে গেছে। এ ছাড়াও কামার চালা গ্রামের কৃষক নয়ান খান জানান, তার গাছ পালা ভেঙ্গে গেছে। ফসলী জমির ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সংগ্রামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আ: রহিম মিয়া বলেন,গত দুই দফা নজিরবিহীন ঝড় আর শিলাবৃষ্টিতে বিস্তৃর্ন এলাকার ঘর-বাড়ি, গাছ পালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে তাৎখনিক ক্ষতির পরিমান জানাতে পারেননি তিনি।

খালেদার প্যারোল নিয়ে গুঞ্জন

প্যারোলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারামুক্তি নিয়ে গুঞ্জন চলছে রাজনৈতিক মহলে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণার পর থেকে দীর্ঘ ১৪ মাস ধরে কারাভোগ করছেন তিনি। কারাগারে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার প্রেক্ষিতে সম্প্রতি তাকে স্থানান্তর করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের কেবিন ব্লকের ৬২১ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
২০১৮ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি কারাগারে পাঠানোর দুই সপ্তাহ পর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন খালেদা জিয়া। বিএনপি নেতাদের অব্যাহত দাবির মুখে দুইমাস পর ৮ই ফেব্রুয়ারি তাকে একবার বিএসএমএমইউতে এনে কিছু শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ফের ফিরিয়ে নেয়া হয় কারাগারে। সেখানে তার শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হলে তাকে একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের মতামত নিয়ে সুচিকিৎসার দাবি জানায় বিএনপি। সরকার তার চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ড করলেও তাকে বিএসএমএমইউতে চিকিৎসার প্রস্তাব দেয়া হয়।
কিন্তু বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার দাবিতে অটল থাকেন খালেদা জিয়া। অন্যদিকে সরকারও অটল থাকে নিজেদের অবস্থানে। শেষে তার শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হলে আদালতের নির্দেশে তাকে সেপ্টেম্বর মাসে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করে দুইমাস চিকিৎসা দেয়া হয়। সে সময় বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন এমন একটি গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল রাজনৈতিক মহলে। ২০১৮ সালের ৪ঠা নভেম্বর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ‘বিএনপি চাইলে বিদেশে চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’
কিন্তু প্যারোলে মুক্তির ব্যাপারে খালেদা জিয়া ও তার দল বিএনপি ন্যূনতম আগ্রহ প্রকাশ না করায় সে গুঞ্জন একপর্যায়ে স্তিমিত হয়ে যায়। এদিকে জাতীয় নির্বাচনের হতাশাজনক পরিস্থিতির পর তার প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি ফের আলোচনায় আসে। বিশেষ করে খালেদা জিয়া কারাগারে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাকে বিএসএমএমইউতে স্থানান্তর করা হলে আবারও জোরালো হাওয়া পেয়েছে সে গুঞ্জন। রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হচ্ছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে খালেদা জিয়ার রাজি হওয়ার বিষয়টি মূলত উন্নত চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি নিয়ে তার বিদেশে যাওয়ার প্রথম পদক্ষেপ। তবে বিষয়টিকে উড়িয়ে দিয়েছে বিএনপি। উল্টো খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর ট্রানজিট হিসাবে সরকার বিএসএমএমইউকে ব্যবহার করছে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দলটির নেতারা। বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন কারাগারে থেকে অসুস্থ হয়ে পড়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য প্যারোলের প্রস্তাব কেউ দেয়নি।
চেয়ারপারসন নিজে কিংবা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ এ ধরনের প্রস্তাব দেননি।’ গতকাল বুধবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ সফিউর রহমান মিলনায়তনে সুপ্রিম কোর্ট বারের বর্তমান কমিটির বিদায়ী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি পত্রপত্রিকা থেকে আমরা জেনেছি। সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে প্রস্তাব দেয়া হয়নি।’ খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে সরকারের সদিচ্ছা নেই অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন কারাগারে থেকে অসুস্থ হয়ে পড়া বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তিতে সরকারের সদিচ্ছা নেই। রাজনৈতিক মামলা দিয়ে তাকে দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে। দিন দিন মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।’ এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেলের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন বলেন, ‘খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে দৃষ্টি ভিন্ন দিকে নিতে প্যারোলে মুক্তির ইস্যুটি একটা কৌশল হতে পারে। এ সময় সরকারের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে নেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈরী পরিস্থিতি মোকাবিলা, হতাশাজনক ফলাফল, ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা ও কারাগারে খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতির প্রেক্ষিতে তার প্যারোলে মুক্তির গুঞ্জনটি উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাজনৈতিক মহল। তারা এ ব্যাপারে নানারকম যুক্তিও দাঁড় করাচ্ছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক মাঠে চলছে নানা তৎপরতা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এ নিয়ে পর্দার আড়ালে সরকার ও বিএনপি’র মধ্যে সমঝোতার চেষ্টাও চলছে। খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করলেই বিষয়টি যত দ্রুত সম্ভব চূড়ান্ত হবে। মুক্তি পেলে সৌদি আরব ও যুক্ত্যরাজ্যে চিকিৎসা নিতে পারেন খালেদা জিয়া। কারণ এর আগেও কয়েক দফা দেশ দু’টিতে চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন চলছে, সরকারের দিক থেকেই প্যারোলের বিষয়টি আনা হচ্ছে আলোচনায়। নানারকম যুক্তি দেখিয়ে এ ব্যাপারে একটি ভিত্তি দাঁড় ও প্রচারণা চালানো হচ্ছে কৌশলে।
অন্যদিকে স্বাভাবিকভাবে আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার জামিন ও কারামুক্তির দাবি বিএনপি’র। খালেদা জিয়া নিজেই স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়ায় জামিনে মুক্তি চান। কিন্তু এ ব্যাপারে সরকারের তরফে ন্যূনতম ইতিবাচক সাড়া নেই। এমন পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়টির পাশাপাশি বিএনপি দলীয় ৬ এমপি’র শপথগ্রহণ নিয়েও গুঞ্জন চলছে। যদিও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিষয়টি দলের গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা হিসেবে বিবেচিত হলেও তারা সেটা জামিনে মুক্তির মাধ্যমেই চাইছেন। বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি একবার খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির কথাটা তুলেছিলেন।
তখন বিএনপি হাইকমান্ড সেটাকে সহজভাবে নেয়নি। তারা মনে করেছিলেন এটা বিএনপি’র রাজনীতিতে পরাজয় হবে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে খালেদা জিয়াকে আইনি প্রক্রিয়ায় জামিনে মুক্তি দেয়া হলে বিএনপি দলীয় ৬ এমপি শপথ নিতে পারেন। এ রকমই একটি সমঝোতার পথেই হাঁটছে সরকার ও বিএনপি। দলটির নেতারা মনে করেন, আইনি প্রক্রিয়ায় চেয়ারপারসনের মুক্তি আরও বিলম্ব হতে পারে। আইনি প্রক্রিয়ায় তার মুক্তির অনিশ্চয়তা নিয়ে দলটির সিনিয়র নেতারাই বক্তব্য দিয়ে আসছেন কয়েকমাস ধরে। এছাড়া বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় আইনি প্রক্রিয়া ও রাজপথের কঠোর কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারকে চাপে ফেলে চেয়ারপারসনকে মুক্ত করা কঠিন। এমন বিলম্বে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। তাই যে কোনো মূল্যে চেয়ারপারসনের সুচিকিৎসার পথ বের করতে চান তারা।
এর অংশ হিসেবে নেপথ্যে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। বিএনপি’র ছোট একটি প্রতিনিধি দল এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা ও সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর সঙ্গেও কয়েকদফা অনানুষ্ঠানিক বৈঠকও করেছেন। সেখানে সরকারের তরফে পূর্বশর্ত হিসেবে সামনে এসেছে বিএনপি’র নির্বাচিত এমপিদের সংসদে যেতে হবে। তবে এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বিএনপি। সংসদে যাওয়াসহ সমঝোতার পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে চেয়ারপারসনের সিদ্ধান্তের ওপর। বিএনপি নেতারা জানান, প্যারোলের ব্যাপারে খালেদা জিয়া এখন পর্যন্ত ন্যূনতম আগ্রহ প্রকাশ করেননি। বরং এ বিষয়ে তিনি বিরক্তিও প্রকাশ করেছেন। ওয়ান- ইলেভেন সরকারের আমলে কারাগারে তার কাছে বিদেশে যাওয়ার শর্তে প্যারোলে মুক্তির প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেটা গ্রহণ করেননি। কেবল মায়ের মৃত্যুর পর শেষ দেখা দেখতে কয়েক ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি নিয়েছিলেন তিনি। এবারও প্যারোলের ব্যাপারে আগ্রহ নেই তার। কিন্তু রাজনৈতিক মহলের মতে, এবার খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা গুরুতর। পরিস্থিতিই পাল্টে দিতে পারে বিএনপি’র অবস্থান।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন জামিনে মুক্তি পেতে হলে খালেদা জিয়াকে অন্তত চারটি মামলায় জামিন নিতে হবে। এর মধ্যে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা ছাড়া বাকি মামলা দু’টি ধর্মীয় উসকানি ও মানহানির। প্রথম দুই মামলায় সাজা হয়েছে তার। পরের দুই মামলায় সমপ্রতি তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। এছাড়া খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সব মিলিয়ে মামলা রয়েছে ৩৬টি। ফলে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া আইনি প্রক্রিয়ায় তার মুক্তির বিষয়টি কঠিন। আর প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার। ফলে এখানে আইনের চেয়ে সরকারের ইচ্ছা-অনিচ্ছার বিষয়টিই প্রধান। সরকার ইচ্ছা করলে কাউকে অনির্দিষ্টকালের জন্য প্যারোলে মুক্তি দিতে পারে।
এদিকে নির্বাচনী পরিবেশ ও ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে জোটের ৮ এমপি’র শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। কিন্তু সে সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করে প্রথমেই শপথ নেন গণফোরাম মনোনীত প্রার্থী সুলতান  মোহাম্মদ মনসুর। এ বিষয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় বিএনপি’র তৃণমূলে। বিষয়টি গণফোরামও দৃশ্যত ভালোভাবে নেয়নি। সুলতান মনসুরকে বহিষ্কার করে গণফোরাম। তখন তিনি বলেছিলেন, আগামীতে অন্যরাও শপথ নেবেন। তিন মাস সময় নিয়ে সম্প্রতি স্থানীয় পর্যায়ে ভোটারদের একটি সভার সিদ্ধান্তের দোহাই দিয়ে শপথ নেন গণফোরাম মনোনীত আরেক প্রার্থী মোকাব্বির খান। তার শপথ নিয়েও ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে বিএনপি’র তৃণমূলে। বিএনপি ও গণফোরামের নেতৃত্ব পর্যায়েও কিছুটা অবকাশ তৈরি হয়েছে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের। কারণ সুলতান মনসুরকে বহিষ্কার করার পাশাপাশি তার সদস্যপদ বাতিলের অনুরোধ জানিয়ে স্পিকার ও সিইসিকে চিঠি দেয়ার কথা ছিল গণফোরামের। কিন্তু দিচ্ছি, দেবো করে সে চিঠি এখনও দেয়া হয়নি।
তার উপর দলটির আরেক নেতা মোকাব্বির খান শপথ নিয়েছেন। গণফোরাম মনোনীত দুই এমপি’র শপথ শেষে এখন গুঞ্জন তৈরি হয়েছে বিএনপি’র ৬ নেতার শপথ নিয়ে। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন চলছে, বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন বলেই সুলমান মনসুরের সদস্যপদ বাতিল চেয়ে চিঠি দেয়া হয়নি। মূলত রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে ‘ধীরে চলো নীতি’ অবলম্বন করছেন বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এ কারণে কোনো কঠোর রাজনৈতিক কর্মসূচিও নেই তাদের। যদিও প্রকাশ্যে এ ব্যাপারে পরিষ্কার নেতিবাচক অবস্থান রয়েছে বিএনপি’র। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সরকার ও বিএনপি’র মধ্যে এক ধরনের ছাড় দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সেটা ইতিবাচক পথে এগোলে এমপি হিসেবে শপথ নেবেন বিএনপি নেতারা। অন্যদিকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য জামিনে মুক্তি পাবেন খালেদা জিয়া। এদিকে দলীয় চেয়ারপারসনের মুক্তি ও চিকিৎসার ব্যাপারে তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাপ রয়েছে নীতি-নির্ধারকদের ওপর। ফলে খালেদা জিয়ার জীবন বাঁচানোর যুক্তিতে বড় করে দেখিয়ে সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে বিএনপি। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ওপর।

যুদ্ধ করব না, তবে প্রস্তুতি থাকতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কারও সঙ্গে যুদ্ধ করব না, যুদ্ধ করতে চাই না। সবার সঙ্গে একটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চাই। তবে কেউ যদি আমাদের আক্রমণ করে তাহলে তার যেন যথাযথ জবাব আমরা দিতে পারি, সেই প্রস্তুতি থাকতে হবে। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরে বাংলানগরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে গিয়ে মিয়ানমারের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, যেহেতু মিয়ানমার আমাদের একেবারেই প্রতিবেশী, তাদের সঙ্গে কখনও সংঘাতে যাব না। বরং আলোচনার মাধ্যমে তাদের নাগরিকদের  (রোহিঙ্গা) যেন তারা ফিরিয়ে নিয়ে যায় সেই প্রচেষ্টাই আমাদের অব্যাহত থাকতে হবে এবং সেভাবে সবাই দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি বলেন, মানবিক কারণেই আমরা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি। মিয়ানমারের সঙ্গে আমরা ঝগড়া বাধাতে যাইনি। আমরা আলোচনা করেছি, চুক্তি সম্পন্ন করেছি। তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এদের (রোহিঙ্গা) দেশে ফেরত পাঠানোই আমাদের লক্ষ্য।
সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা এখনও কাজ করে যাচ্ছি।
১৯৭১ সালে পাক হানাদারদের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ভারতে আশ্রয় নেয়া বাংলাদেশের শরণার্থীদের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের নিজেদের অভিজ্ঞতা আছে। ১৯৭১ সালে আমাদের ১ কোটি মানুষ শরণার্থী ছিল। কাজেই তাদের নিয়ে এসে পুর্নবাসন করতে হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা আমাদের আছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা যে নীতিমালাটা দিয়ে গিয়েছিলেন সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব কারও সঙ্গে  বৈরিতা নয়। আমরা সেই নীতিতে বিশ্বাস করি। সেই নীতিমালা মেনেই কিন্তু আমরা চলছি।
তিনি বলেন, কারও সঙ্গে কোনো সমস্যা থাকলে সেটাও সমাধান করছি আলোচনার মাধ্যমে। কিন্তু আমরা শান্তি চাই, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চাই। কিন্তু কেউ যদি আমাদের আক্রমণ করে তাহলে তার যেন যথাযথ জবাব আমরা দিতে পারি, আর আমাদের দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব যেন রক্ষা করতে পারি সেই প্রস্তুতিটা সবসময় আমাদের থাকতে হবে। যুদ্ধের জন্য নয়, শান্তির জন্য আমাদের প্রস্তুতি দরকার। এ সময় তিনি শান্তিপূর্ণভাবে ভারতের সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা এবং ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা সমস্যা সমাধানের কথাও উল্লেখ করেন।
বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, স্বাধীন দেশে হিসেবে প্রতিটি ক্ষেত্রে যেন বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারি সেই ব্যবস্থাটা আমাদের থাকা উচিত। বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আমরা যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলা করতে পারি। সেটা আমরা প্রমাণ করেছি। সেটা প্রাকৃতিক দুর্যোগ হোক আর মানুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ হোক যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলা করার শক্তি আমাদের আছে।
এ সময় ভারপ্রাপ্ত সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. সামছুল হক, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল আবু মোজাফফর মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আওরঙ্গজেব চৌধুরী, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, প্রতিরক্ষা সচিব আখতার হোসেন ভূঁইয়াসহ সামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উত্তর কলকাতায় জোর লড়াই হবে by অমর সাহা

ভারতের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি আসনের মধ্যে ২টি আসন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি কলকাতা উত্তর, অন্যটি কলকাতা দক্ষিণ। এই দুই আসনের মধ্যে উত্তর কলকাতায় জোর লড়াইয়ের আভাস মিলছে।
তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাস দক্ষিণ কলকাতায়। রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতি সোমেন মিত্র ও বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসুর বাস উত্তর কলকাতায়।
কংগ্রেস, বিজেপি, সিপিএম, সিপিআই, ফরোয়ার্ড ব্লক, আরএসপি, এসইউসিআইসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের দপ্তর উত্তর কলকাতায়।
গুরুত্বপূর্ণ শিয়ালদহ, বড় বাজার, ধর্মতলার অবস্থান উত্তর কলকাতায়। কবিগুরুর জন্মভিটে জোড়াসাঁকো উত্তর কলকাতায়। এখানে রয়েছে অধিকাংশ হাসপাতাল, বাজারঘাট। ফলে দক্ষিণ কলকাতার চেয়ে এখনো গুরুত্ব বেশি উত্তর কলকাতার।
উত্তর কলকাতা আসনে ভোট হচ্ছে একবারে শেষ বা সপ্তম দফায় ১৯ মে। লোকসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখানে জোর লড়াই শুরু হয়েছে। প্রার্থীও রয়েছেন ওজনদাররা।
আসনটিতে তৃণমূলের প্রার্থী সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি তৃণমূলের একনিষ্ঠ নেতা। আগে কংগ্রেস করতেন। তৃণমূলের জন্মের পর তৃণমূল করেন। তিনি তিনবার সাংসদ হয়েছেন। চারবার বিধায়ক হয়েছেন। এবার চতুর্থবারের জন্য নির্বাচন করছেন।
স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতা হলেও সুদীপ আটকে গেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের চাঞ্চল্যকর ১৭ হাজার কোটি রুপির রোজভ্যালি আর্থিক দুর্নীতি মামলায়। এই মামলার জেরে ২০১৭ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই তাঁকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় ওডিশার রাজধানী ভূবনেশ্বরে। সেখানের তাঁকে কারাগারে থাকতে হয় বেশ কিছুদিন। একই বছরের মে মাসে ওডিশা হাইকোর্ট সুদীপের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তাঁকে জমিনে মুক্তি দেন। সুদীপের স্ত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ও তৃণমূলের বিধায়ক। তিনি একসময় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ছিলেন।
কলকাতা উত্তরে তৃণমূলের সুদীপের বিরুদ্ধে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন বিজেপির রাহুল সিনহা। তিনিও বড় মাপের যোদ্ধা। রাহুল সিনহা ছয় বছর ছিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি। ২০১৫ সালে হয়েছেন বিজেপির জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক।
২০১৪ সালের নির্বাচনে রাহুল সিনহা একই আসনে লড়ে যথেষ্ট বেগ দিয়েছিলেন তৃণমূলের সুদীপকে। সুদীপ সেদিন বুঝেছিলেন, রাহুল সিনহার শক্তি উত্তর কলকাতায় একবারেই কম নয়। গত নির্বাচনে সুদীপ পেয়েছিলেন ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৬৮৭ ভোট। আর রাহুল সিনহা পেয়েছিলেন ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৬১ ভোট। সিপিএম প্রার্থী রূপা বাগচি পেয়েছিলেন ১ লাখ ৯৬ হাজার ৫৩টি ভোট। কংগ্রেসের প্রার্থী বর্তমান রাজ্য সভাপতি সোমেন মিত্র পেয়েছিলেন ১ লাখ ৩০ হাজার ৭৮৩ ভোট।
এবার অবশ্য এই আসনে বামফ্রন্ট প্রার্থী করেছে সিপিএমের নারী নেত্রী কনীনিকা ঘোষকে। পেশায় স্কুলশিক্ষিকা এই নারী নেত্রী ইতিমধ্যে ভোটের মাঠে নেমে পড়েছেন। তিনি মনে করেন, এবার আর মানুষ অতটা ঝুঁকবেন না বিজেপি বা তৃণমূলের দিকে। ফলে ত্রিমুখী লড়াইয়ে তাঁর জয়ের পথ খুলে যেতে পারে।
তবে এই যুক্তি মানছেন না বিজেপির প্রার্থী রাহুল সিনহা। তিনি এবার দারুণ আশাবাদী। বলেছেন, মানুষ ভোট দিতে পারলে এবার তাঁর জয় আর আটকে রাখা যাবে না। মানুষ দেখেছে তৃণমূলের শাসন, দুর্নীতি। দুর্নীতির মামলায় জড়ানোর ঘটনা। সুতরাং অবাধ নির্বাচন হলে তিনিই এবার জিতবেন।
উত্তর কলকাতায় প্রচুর অবাঙালি মানুষের বাস। তাঁরা সাধারণত বিজেপির দিকে ঝুঁকে থাকে। ভোটের বাজারে তাই বাড়তি সুযোগ পেতে পারে বিজেপি।
সুদীপ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, রাজ্যে নেতা বলতে এখনো মমতাই। তাঁর উন্নয়নের জোয়ারে ভেসে গেছে রাজ্য। তাই কলকাতাবাসী এবারও তাঁকে বিপুল ভোটে জয়ী করবেন।
উত্তর কলকাতার এই আসন নিয়ে জোর লড়াই শুরু হয়েছে। কংগ্রেস এখনো এই আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। ঘোষণা করলে এবার এই আসনে চতুর্মুখী লড়াই হবে। কারণ, এখনো কলকাতায় বহু কংগ্রেস সমর্থক রয়েছেন। তাঁরা নিশ্চয়ই কংগ্রেসকে বিমুখ করবে না।
সব মিলিয়ে বলতে হয়, উত্তর কলকাতায় ভোটের মহারণ শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু কে জিতবে, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ২৩ মে পর্যন্ত। ওই দিনই বের হবে ফলাফল।

সব বহুতল ভবনেই ত্রুটি

বনানীর এফ আর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের পর রাজধানীর বহুতল ভবন পরিদর্শন শুরু করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। আটটি জোনে ভাগ করে ১৬টি টিমের মাধ্যমে এ পরিদর্শন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ১০ তলার উপরে সব ভবনের অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা, নকশা ও অন্যান্য নিরাপত্তার দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গত দুই দিন ধরে এ কার্যক্রমে যেসব ভবন পরীক্ষা করা হয়েছে তার কোনটিই ত্রুটিমুক্ত পাওয়া যায়নি। পরিদর্শনে যাওয়া কর্মকর্তারা বলছেন কোন ভবনই ত্রুটিমুক্ত নয়। কোন না কোন সমস্যা আছে। এছাড়া এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকান্ডের পর অভিযান পরিচালনার কথা বলা হলেও রাজউক মুলত ভবনগুলো পরীক্ষা করছে। বলা হচ্ছে সমস্যা চিহ্নিত করে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পরিদর্শনে যাওয়া কর্মকর্তারা বলছেন, মাত্র কয়েক তলার অনুমোদন নিয়ে তৈরি করা হয়েছে বহুতলা। নকশায় রয়েছে গড়মিল। এমনকি জাল নকশারও সন্ধান পেয়েছে কর্তৃপক্ষ। ভবন আবাসিকের অনুমোদন নিয়ে চালানো হচ্ছে বাণিজ্যক। নেই অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, জরুরি নির্গমন পথ ও অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আবার বেজমেন্টে জেনারেটরসহ রাখা হয়েছে বিভিন্ন সরঞ্জাম। নিয়ম বহির্ভূত এমন ত্রটিপূর্ণ অসংখ্য ভবনের হদিস মিলছে রাজধানীতে। বনানীর এফ আর টাওয়ারে কয়েক তলা আগুনে পোড়ার পরই নড়েচড়ে বসে ভবন নির্মাণে অনুমোদনকারী প্রতিষ্ঠান রাজউক। সোমবার থেকে রাজউক রাজধানীতে বহুতল ভবন পরিদর্শনে নামে। প্রথম দিনেই ত্রুটিপূর্ণ অনেক বহুতল ভবন খুঁজে পায় তারা।
ঢাকা ও নারায়নগঞ্জে মোট ৭৭টি ভবন পরিদর্শন করেছে রাজউকের ২৪টি টিম। এ সময় তারা ভবনগুলোর বিভিন্ন ডকুমেন্ট সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে এগুলো অনুসন্ধান এবং পর্যালোচনা করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেয়া হবে বলে জানান অভিযানের সঙ্গে যুক্ত থাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তরা। এসব ভবনে ত্রুটির বিষয়গুলো সুনির্দিষ্ট করে সময় বেঁধে তাৎক্ষনিক নোটিশ দেয় রাজউক। গতকাল ছিল বহুতল ভবন পরিদর্শনের দ্বিতীয় দিন। প্রথম দিন যেখান থেকে শেষ করা হয় সেখান থেকেই শুরু করে ভবন পরিদর্শন। বনানীর আলোচিত এফ আর টাওয়ারের পার্শ্ববর্তী বহুতল ভবনগুলো পরিদর্শনে নামে রাজউকের জোন-৪ এর একটি টিম। এ এলাকায় বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন থেকে ১৮০ ফিট ভবন তৈরির অনুমতি রয়েছে। সেক্ষেত্রে এ এলাকায় সর্বোচ্চ ১৮ থেকে ১৯ তলা ভবন তৈরি করার নিয়ম রয়েছে। রাজউক এর বেশি কোন ভবনের নকশার অনুমোদন দেয়নি বলে জানায়। সেক্ষেত্রে বনানীতে এর বেশি তলা বিশিষ্ট সব ভবনই ত্রুটিযুক্ত। রাজউক শুরুতে ‘বাংলাদেশ ইরেকটরস টাওয়ার’ নামে বহুতল ভবনটি পরিদর্শন করে। এ ভবনটি ১৫ তলা। ভবনটিতে নানা অনিয়ম পেয়েছে রাজউক। রয়েছে একটি মাত্র সিঁড়ি। অগ্নিনিরাপত্তা সিঁড়ি নেই।
তাছাড়া অনুমোদিত নকশার সঙ্গে সামাঞ্জস্যতা খুঁজে পায়নি রাজউক টিম। ভবন কর্তৃপক্ষ যে নকশাটি পরিদর্শন করছে তা নিয়ে রাজউক কর্তৃপক্ষের সন্দেহ রয়েছে। তারা নিজেদের নকশা দেখেই সঠিক কি-না তা বলতে পারবেন বলে জানানো হয়। এর পরেই রয়েছে ২০নং হোল্ডিংয়ের সফুরা টাওয়ার। ১৬ তলা বিশিষ্ট ভবনটিতে কোনো অগ্নিনিরাপত্তা সিঁড়ি নেই। একটি মাত্র সিঁড়ি রয়েছে। তাছাড়াও গ্রাউন্ড ফ্লোর যেভাবে প্রশস্থ থাকার কথা নকশায় রয়েছে সরেজমিনে সেভাবে নেই। তবে তাদের বেইজমেন্টগুলো ঠিকঠাক রয়েছে। ২২নং হোল্ডিংয়ের আতাতুর্ক ভবন। ১৫ তলার অনুমোদন নেয়া হলেও ভবনটি এখন পর্যন্ত ১৩ তলা তৈরি করা হয়েছে। বাকি দুই তলার নির্মাণ কাজ চলমান। ভবনটিতে সিঁড়ি রয়েছে ১টি। তবে ভবনটির ৩ থেকে ১৫ তলা পর্যন্ত আবাসিক অনুমোদন রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সেখানে বাণিজ্যিক পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবন কর্তৃপক্ষ বলছে রাজউক কখনো তাদের ভবন দেখতে আসেনি। তাই এমনটা হয়েছে। তারা ঠিকভাবে জানেনও না। ২৪নং হোল্ডিংয়ে রয়েছে এ আর টাওয়ার। এটি ১৫ তলা। ভবনের নকশা অনুযায়ী কিছুই ঠিক নেই। প্রথম তলায় খোলামেলা থাকার কথা থাকলেও সেখানে একটি বেসরকারি ব্যাংক পরিচালনা করা হচ্ছে। একপাশ দিয়ে অন্যপাশে বের হওয়ার কোনো সুযোগ রাখেনি।
এর বাইরে রয়েছে একটি মাত্র সিঁড়ি। এছাড়া নকশায় যেখানে সিঁড়ি ও লিফট তৈরির অনুমোদন দেয়া হয়েছে সেখানে তা না করে অন্যপাশে তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া এর পাশেই জেনারেটর কক্ষ ব্যবহার করা হচ্ছে। ২৬নং হোল্ডিংয়ের ভবনটির নাম হক প্লাজা। এটি নকশায় অনুযায়ী ঠিকভাবে তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে ১৭ তলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে। ভবন কর্তৃপক্ষ বলছে ২০ তলা পর্যন্ত নির্মাণের অনুমোদন রয়েছে। তবে রাজউক বলছে তাদের নকশা যাচাই-বাছাই করেই সঠিকটা বলতে পারবে।
এরপরে ২৮ ও ৩০ নং প্লটে তৈরি করা হয়েছে বহুতল ভবন আহমেদ টাওয়ার। এটি শুধুই অননুমোদিত তা নয়। ভবনটি ২৭ তলা পর্যন্ত তৈরি করা হয়েছে। যেটা সম্পূর্ণ অবৈধ বলে জানায় রাজউক। রাজউকের টিমটি আহমেদ টাওয়ারে গেলে ভবনের কর্মকর্তারা নকশা আনার কথা বলে আর ফেরেননি। প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পরে তারা ভবনে নির্মানাধীন অংশের কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়ে অন্য ভবন পরিদর্শনে যান। এরপরেই পুড়ে যাওয়া এফ আর টাওয়ার। বর্তমানে এটি পুলিশি নিরাপত্তায় রয়েছে। পাশের ৩৪নং হোল্ডিংয়ের ভবনটি আউয়াল সেন্টার। ভবনটি ২৩ তলা। ভবনটির মালিক ঢাকার বাইরে রয়েছে বলে জানান এস্টেট ম্যানেজার। তারা নকশা প্রদর্শন করতে পারেনি। এছাড়া ভবনটিতে একটি মাত্র সিঁড়ি রয়েছে। জেনারেটর চললেও রাজউকের টিমকে বিদ্যুৎ নেই বলে ভবনের উপরে উঠতে দেয়া হয়নি। ৩৬ নং হোল্ডিংয়ের ডেল্টা ডালিহা টাওয়ার পরিদর্শন করে রাজউকের টিমটি। তাদের আধা ঘণ্টা বসিয়ে রেখেও নকশা দেখাতে ব্যর্থ হয় ভবন কর্তৃপক্ষ। রাজউকের ভবন পরিদর্শনকারী টিমটি গতকাল যেসব বিল্ডিংয়ে নকশা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে সেগুলো আজ যাচাই-বাছাই করবে। তারপরে আবার নতুন ভবন পরিদর্শন শুরু করবে।
সাভার ও মিরপুর এলাকায় অভিযানের দায়িত্বে থাকা অথরাইজড অফিসার মোবারক হোসেন মানবজমিনকে বলেন, মঙ্গলবার সাভার, মিরপুর ও মোহম্মদপুর এলাকায় অভিযানের অংশ হিসেবে ২৫টি ভবন পরিদর্শন করেছি আমরা। এই সময় ভবনগুলোর বিভিন্ন ডকুমেন্ট সংগ্রহ করেছি। এখন আমরা শুধু এই কাজই করব। পরে ডকুমেন্টগুলো পর্যালোচনা এবং তদন্ত করে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দেব। পরিদর্শন শেষ হলেই মন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন অভিযান শুরুর।
গতকালের মত তার আগের দিন সকালে রাজধানীর বনানীর বহুতল ভবন পরিদর্শন শুরু হয় কাকলী মোড় থেকে। রাজউকের জোন-৪ এর পরিচালক মামুন মিয়ার নেতৃত্বে একটি টিম প্রথমে কাকলী মোড়ের নির্মানাধীন কনকর্ড টাওয়ার পরিদর্শন করে। এরপরে পাশের প্রসাদ ট্রেড সেন্টার পরিদর্শন করেন। এ ভবনে নানা অসঙ্গতি খুঁজে পায় রাজউক টিমটি। এ সময় ভবনের লোকজন নকশা দেখাতে ব্যর্থ হয়। ভবনের প্রবেশ পথেই রয়েছে রেস্টুরেন্ট। যা সেখানে থাকার কথা নয়। রেস্টুরেন্টটি তাৎক্ষণিক বন্ধ করে দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরানোর নির্দেশ দেয়া হয়। এরপরেই রাজউকের এ টিমটি পাশের এবিসি টাওয়ারে অভিযান চালায়। এসময় ভবনের ছাদে একটি অনুমোদনহীন রেস্টুরেন্ট পাওয়া যায়। এটা বন্ধের জন্য নোটিশ দেয় রাজউক টিম। এবিসির পাশের ১৬ তলা বিশিষ্ট স্টার টাওয়ার পরির্দশন করে। এ ভবনটির মালিক ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। সম্পূর্ণ ভবনটি প্রাইম এশিয়া নামে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ভাড়ায় নিয়ে পরিচালনা করছে। যেটা সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূত বলে জানায় রাজউক। এসময় রাজউক চেয়ারম্যান সেখানে উপস্থিত হন। ভবনটির কর্তৃপক্ষ যারা রয়েছে তারা কেউ ভবনের নকশা দেখাতে পারেনি। তবে রাজউকের দলটি ভবন ঠিকভাবে পরিদর্শন না করেই নেমে পরে। পরবর্তীতে দুপুরের পর দলটি টাওয়ার হেমলেট ভবনটি পরিদর্শন করে। এসময় ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা সিঁড়ি খুঁজে পায়নি। তবে ভবন কর্তৃপক্ষ বলছে অগ্নিনিরাপত্তা সিঁড়ি রয়েছে সেটা অকেজো। সোমবার রাজউক চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বনানীতে টিমের কাজ তদারকিতে আসেন।
এসময় তিনি বলেন, আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে, এখন আমাদের কঠিন পদক্ষেপ নিতে হবে। তথ্য সংগ্রহ করছি এরপরেই আমরা কার্যকর অভিযানে নামবো। রাজউক তদারকি করলে কিভাবে অননুমোদনভাবে বহুতল ভবন গড়ে তোলে এর দায়ভার রাজউকের কিনা সাংবাদিকরা জানতে চাইলে রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, এর দায়ভার কিছু না কিছু তো আমাদের নিতেই হবে। এটা কয়েক তলার অনুমোদন নিয়ে তার থেকে বেশি করে এটা আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। আমরা প্রত্যেকেই সচেতন নাগরিক। যারা এই বহুতল ভবন বানায় তারা প্রত্যেকে অনেক বড় মাপের। তারা যদি এই একটু বিষয় লক্ষ্য রাখে তাহলে এটা আমাদের দেশের জন্য ভালো।

রাতভর অবস্থানের পর আলটিমেটাম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের বিচার চাইতে গিয়ে ছাত্রলীগের হামলা ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরসহ প্রতিবাদী শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনার বিচার চেয়ে ভিসি বাস ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছিল শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার রাত পৌনে ৮টায় শুরু হওয়া  এ অবস্থান কর্মসূচি চলে গতকাল সকাল ৯টা পর্যন্ত। সকালে ভিসি ঘটনাস্থলে এসে কর্মসূচি পালনরত শিক্ষার্থীদের নিজ কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখানে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভিসির ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে নিজেদের কর্মসূচি স্থগিত করেছে আন্দোলনকারীরা। দাবি আদায়ে প্রশাসনকে আগামী সোমবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে।
এ সময়ের মধ্যে হামলার বিচার না হলে ফের কর্মসূচি দেয়া হবে বলে ঘোষণা করেছেন ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর।
ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হল প্রশাসন। এদিকে এসএম হলে ভিপি নুরসহ প্রতিবাদী ছাত্রীদের লাঞ্ছনার ঘটনাকে নাটক বলে মন্তব্য করেছেন ডাকসুর এজিএস ও ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। জানা গেছে, গত ১১ই মার্চ অনুষ্ঠিত সলিমুল্লাহ মুসলিম হল সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্রভাবে জিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাওয়ার ক্ষোভ থেকে সোমবার রাতে হলটির আবাসিক শিক্ষার্থী ও উর্দু বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র ফরিদ হাসানকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে ছাত্রলীগ ও হল সংসদের নেতারা। মারধরের মাত্রা বেশি হওয়ায় তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখম হয়। জখম স্থানে সেলাই পড়ে ৩২টি। গুরুতর আহত ফরিদ হাসান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনার বিচার চেয়ে গত মঙ্গলবার বিকালে এসএম হলের প্রাধ্যক্ষকে স্মারকলিপি দিতে হলটিতে যান ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরের নেতৃত্বে সমাজসেবা সম্পাদক আকতার হোসেন, শামসুন্নাহার হলের ভিপি শেখ তাসনীম আফরোজ ইমি, ছাত্র ফেডারেশনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির, অরণি সেমন্তি খানসহ প্রায় ৫০-৬০ জন শিক্ষার্থী।
এ সময় তাদের ওপর দুই দফা হামলা চালায় হল শাখা ছাত্রলীগ ও হল সংসদের নেতারা। বৃষ্টির মতো ছুড়ে মারা হয় ডিম। মারধর করা হয় কয়েকজনকে। লাঞ্ছিত করা হয় ছাত্রীদের। ভিপি নুরসহ কয়েকজনকে হলের অভ্যন্তরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় প্রায় দেড় ঘণ্টা। এতে নেতৃত্ব দেন হল সংসদের ভিপি এমএম কামাল হোসেন ও জিএস জুলিয়াস সিজার তালুকদার। ঘটনার প্রতিবাদ ও হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে ভিসি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে ভিপি নুরুল হক নুরসহ বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। রাত পৌনে ৮টায় শুরু হওয়া এ অবস্থান কর্মসূচি চলে গতকাল সকাল ৯টা পর্যন্ত। আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে ছিল এসএম হলের স্বতন্ত্র জিএস প্রার্থী মো. ফরিদ হাসানের ওপর হামলার বিচার দাবি, বিচার চাইতে গিয়ে ভিপি নুরসহ অন্যদের অবরুদ্ধ করে ডিম হামলা এবং মারধরকারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিচার, একই সঙ্গে নারী লাঞ্ছনাকারী এসএম হল শাখার সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেল, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তাপস, হলের ভিপি কামাল হোসেন, জিএস জুলিয়াস সিজার তালুকদার, সাহিত্য সম্পাদক আকিব মোহাম্মদ ফুয়াদসহ অন্যদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা।
এদিকে ভিপি নুরসহ শিক্ষার্থীরা যখন অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ঠিক তখন পাশে দাঁড়িয়ে উল্টো নুরকে হামলাকারী আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভ করেন এসএম হলের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতেও নেতৃত্ব দেন হল সংসদের ভিপি কামাল ও জিএস জুলিয়াস সিজার। তারা বিভিন্ন ধরনের কটূক্তি করে ভিপি নুরসহ অবস্থান কর্মসূচি পালনকারী শিক্ষার্থীদের উত্তেজিত করার চেষ্টা করে। অন্যদিকে রাত সাড়ে ১২টার পর সেখানকার সব লাইট নিভিয়ে দেয়া হয়।
একপর্যায়ে রাত পৌনে ১টার দিকে ঘটনাস্থলে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী। এ সময় ভিপি নুর বলেন, ‘লাইট নিভিয়ে আমাদের অত্যাচার-নির্যাতন করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’ জবাবে প্রক্টর গোলাম রব্বানী বলেন, ‘এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার হবে, এজন্য সবার সহযোগিতা দরকার।’ প্রক্টর অবস্থান কর্মসূচি শেষ করে শিক্ষার্থীদের চলে যেতে অনুরোধ করেন। কিন্তু তার কথায় আশ্বস্ত হতে পারেনি আন্দোলনকারীরা। তারা ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানকে ঘটনাস্থলে আসার দাবি করেন। কিন্তু প্রক্টর তাতে রাজি হননি। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সাড়া না পেয়ে রাত ২টার দিকে চলে যান প্রক্টর রব্বানী। এরপর সারারাত অবস্থান নেয় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। সকালে শামসুন্নাহার হলের ভিপি আফরোজ ইমি বলেন, রাতে আলো নেভানো হয়। এরপর প্রক্টর আসেন।
তখন আমাদের পাশে থাকা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের চলে যেতে বলি। কিন্তু তিনি তাদের চলে যাওয়ার কোনো নির্দেশ দেননি। প্রক্টর চলে যাওয়ার পর গভীর রাতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আবারো আমাদের ওপর ডিম ছুড়ে মারে। সকাল ৯টার দিকে ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান ঘটনাস্থলে এসে ভিপি নুরসহ বিক্ষুব্ধদের একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে নিজ কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখানে প্রায় সোয়া ১ ঘণ্টা ধরে চলে আলোচনা। আলোচনা শেষে পূর্ব ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত করে আন্দোলনকারীরা। সকাল সোয়া ১১টায় সন্ত্রাসবিরোধী রাজু স্মারক ভাস্কর্যের সামনে ভিপি নুরুল হক নুর নিজেদের কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি আগামী সোমবার পর্যন্ত প্রশাসন হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয় তা দেখার কথা জানান। বেঁধে দেয়া সময়ে হামলাকারীদের বিচার না হলে ফের কর্মসূচি দেয়ার ঘোষণা দেন।
নুর বলেন, ‘আমাদের সর্বোচ্চ অভিভাবক ডাকসুর সভাপতি (ভিসি)। তার পরেই ভিপির অবস্থান। সে জায়গা থেকে ভিসির সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি আমাদের অভিযোগ শুনেছেন। আমরা বলেছি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হামলায় ছাত্রলীগ জড়িত থাকা সত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। মঙ্গলবারের ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আগামী সোমবারের মধ্যেই আমরা দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে দেখতে চায়। যদি প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয় তাহলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দেবো।’ এ সময় তিনি কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো- লাঞ্ছনাকারীদের বিচার করা, এবং হল থেকে সব বহিরাগত, অছাত্র এবং অবৈধদের বের করে দিতে হবে। ভিসি আমাদের এসব বিষয়ে সুষ্ঠু সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমরাও তার কথার ওপর আস্থা রেখেছি।’ এ সময় সমাজসেবা সম্পাদক আক্তার হোসেন, শামসুন্নাহার হলের ভিপি শেখ তাসনীম আফরোজ ইমি, ছাত্র ফেডারেশনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির, ডাকসুর ভিপি পদের স্বতন্ত্র প্রার্থী অরণি সেমন্তি খান, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক ফারুক হোসেন ও রাশেদ খান প্রমুখ।
তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস ভিসির: শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ডাকসুর ভিপিসহ অন্যদের ওপর হামলা এবং ছাত্রী লাঞ্ছনার ঘটনার তদন্তপূর্বক বিচার করা হবে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় হল প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়ে কেউ যাতে অস্থিতিশীল পরিবেশ ঘটাতে না পারে সেজন্য সবার সহযোগিতা কামনা করছি। কেউ অন্যায় করে যাতে পার না পায় সে বিষয়টাও আমরা নিশ্চিত করবো। সবাই যেন নিজেদের দায়িত্বশীল জায়গাগুলো ভুলে না যায়। তিনি বলেন, এখন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ আছে।
যেকোনো দাবি দাওয়া আদায়ে একটি দায়িত্বশীল জায়গা তৈরি হয়েছে। আন্দোলনকারীদের আমি বুঝিয়েছি, এখন যেকোনো আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর ডাকসু নির্বাচন হওয়াতে অনেকে তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে জানেন না। হল সংসদের নেতারাও বুঝেন না, তাদের কি করণীয়, কীভাবে করতে হবে। তাই ভাবছি যে একটি ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামের আয়োজন করবো। যারা ডাকসুর সাবেক তাদের নিয়ে এসে একটা প্রোগ্রাম করবো। আর যেকোনো অন্যায়-অপরাধ ক্যাম্পাসে ঘটলে আমাদের একটি প্রক্রিয়া অবলম্বন করে তারপর সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হয়। এসএম হলের ঘটনার ক্ষেত্রেও তাই হবে।
ছাত্রীদের ওপর হামলার ঘটনাকে নাটক বললেন এজিএস সাদ্দাম: এদিকে মেয়েদের ওপর হামলার ঘটনাকে ‘নাটক’ ও ‘গুজব’ বলে মন্তব্য করেছেন ডাকসুর এজিএস ও ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। গতকাল দুপুরে মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন তিনি। সাদ্দাম বলেন, ছাত্রীদের ওপর হামলার প্রশ্নই আসে না। হামলার নাটক সাজিয়ে ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা করা হচ্ছে। গুজব পারদর্শীদাতার ওপর ভিত্তি করে তথাকথিত ভুঁইফোড় সংগঠনের উদ্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, এগুলো আকাশ কুসুম অভিযোগ।
গত মঙ্গলবার আপনারা দেখেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু ভিডিও সয়লাব হয়েছে। সেখানে দেখবেন প্রভোস্টের সঙ্গে কথোপকথনে সে স্বীকার করেছে তার ভুল ছিল, তাদের প্রক্রিয়া ভুল ছিল। সাদ্দাম আরো বলেন, বাইরে এসে সে (নুর) সাংবাদিকদের বলেছে কোনো নারী শিক্ষার্থী সেখানে যায়নি। ভেতরে আমরা ছবি দেখেছি। আবার প্রভোস্ট অফিসে যখন যায় তখন ছাত্রী নিয়ে যায়। পরে সে বলে তার সঙ্গে ছাত্রী ছিল না। তার বক্তব্যে দোদুল্যমানতা রয়েছে। আমরা কোনো অবস্থাতেই এটা প্রত্যাশা করি না। ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর তার জনপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্য এসএম হলে গিয়েছিলেন বলেও মন্তব্য করেন সাদ্দাম। এ সময় তিনি নুরকে আরো দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান।

বিজিএমইএ ভবন ও উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

আসন্ন রমজানে চিনি ও ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের  দাম না বাড়াতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৬৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। এ ছাড়া পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ এর নব নির্মিত ভবনেরও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
দেশব্যাপী ১১টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের উদ্বোধন এবং ১৩টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কতৃর্পক্ষ’র (বেজা) আওতাধীন বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১৬টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু, ২০টি নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং ৫টি চলমান কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। ভিডিও কনফারেন্সে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামালের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আপনাদের অনুরোধ করবো যাতে আসন্ন রমজানে চিনি ও ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের সংকট না হয়।
আপনাদের সবার প্রতি এটা আমার অনুরোধ। মোস্তফা কামাল মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যানের পাশাপাশি সোনারগাঁওয়ের মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোনের কর্ণধার। পরে মুন্সীগঞ্জে আব্দুল মোনেম ইকোনমিক জোনের কর্ণধারের সঙ্গে মতবিনিময়কালেও প্রধানমন্ত্রী একই অনুরোধ জানান। বেপজা আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মূখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন এবং বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী স্বাগত বক্তব্য দেন। প্রধানমন্ত্রী পরে ভিডিও কনফারেন্সে বঙ্গবন্ধু শিল্প নগরী মিরসরাই,মেঘনা ইন্ডাষ্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোন, সোনারগাঁও নারায়ণগঞ্জ, মৌলভীবাজার শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল, সিটি ইকোনমিক জোন, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ ইকোনমিক জোন এবং মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় আব্দুল মোনেম অর্থনৈতিক অঞ্চল এর সঙ্গে সংযুক্ত থেকে স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন শ্রেণী পেশার জনগণ, উপকারভোগী এবং বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে মত বিনিময় করেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল রাজধানীর উত্তরায় তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)-র নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভবনটির উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম, বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি সালাম মুর্শেদী এবং আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী পারভেজ গণভবন প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন এবং বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানসহ বিজিএমইএ সদস্যবৃন্দ নির্মাণাধীন বিজিএমইএ ভবন প্রান্ত থেকে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে নির্মাণাধীন বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের ওপর একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়। বিজিএমইএ সূত্র জানায়, হাতিরঝিল থেকে বিজিএমইএ’র ভবন স্থানান্তর করতে উত্তরার দুটি টাওয়ার বিশিষ্ট ১৩ তলা ভবনটির কাজ দ্রুতগতিতে চলছে।
এরই মধ্যে বেইসমেন্টসহ ভবনের পাঁচতলার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ৪০ হাজার বর্গফুটের প্রদর্শনী হলসহ ভবনটি তৈরি হচ্ছে রাজধানীর উত্তরার ১৭ নম্বর সেক্টরে লেকসাইট ভিউয়ের সাড়ে পাঁচ বিঘা জমির ওপর। এখানে বিদ্যুতের জন্য অত্যাধুনিক সোলার প্যানেল, জেনারেটর, বৃষ্টির পানি ধরে রাখার জন্য রেইন ওয়াটার হার্ভেস্ট সিস্টেম, গভীর নলকূপ, আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম সমৃদ্ধ প্রতিটি ফ্লোর, ৩টি অডিটরিয়াম, সুইমিং পুল, হেলথ ক্লাব, কফি শপ, ক্যাফেটরিয়া-রেষ্টুরেন্ট কার পার্কিংসহ অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। জমির স্বত্ব না থাকা এবং জলাধার আইন লঙ্ঘন করায় হাতিরঝিল প্রকল্প এলাকায় বিজিএমইএ ভবনটি ২০১১ সালের ৩রা এপ্রিল ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। দুই বছর পর ২০১৩ সালের ১৯শে মার্চ হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে বিজিএমইএ। শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ২ জুন আপিল বিভাগ ওই আবেদন খারিজ করে রায় দেয়। এরপর একাধিকবার সময় বাড়িয়ে সর্বশেষ ১২ই এপ্রিলের মধ্যে ভবনটি স্থানান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজিএমইএ।

আইসিস বধু শামীমার দুঃখ প্রকাশ

আইসিস বধু শামীমা বেগম তার সর্বশেষ সন্তানের মৃত্যুর পর দেয়া প্রথম সাক্ষাৎকারে বৃটেনের ইভিনিং স্ট্যান্ডার্ডকে ২রা এপ্রিল বলেছেন, সিরিয়ার  উদ্দেশ্যে তার লন্ডন ছেড়ে যাওয়া এবং খিলাফতের মধ্যে একটি সন্ত্রাসী আস্তানায় সন্তান ধারণের ঘটনায় তিনি অনুশোচনা করছেন। শামীমা আরো বলেছেন, অনলাইন জিহাদিরা তাকে যা বলেছে, তাই তিনি বিশ্বাস করেছিলেন। ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা সম্পর্কে তিনি খুব কমই জানতেন।
গতকাল পত্রিকাটি বলেছে, তিনি এই অনুশোচনার কথা প্রকাশ করলেন এমন এক সময়ে যখন তিনি বৃটেনে ফেরার জন্য দ্বিতীয়বারের মতো সুযোগ চাইছেন। শামীমা বৃটেনে ফিরতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেছেন, তিনি অনলাইনের ‘বধূ এবং জঙ্গিদের’ দ্বারা ব্রেইন ওয়াশড হয়েছিলেন। তার ব্রেইন ওয়াশ করা হয়েছিল। বৃটেনে তার ফিরে আসা নিয়ে এক তুমুল জাতীয় বিতর্ক চলছে।
১৯ বছর বয়স্ক এই বৃটিশ নারীর বৃটিশ নাগরিকত্ব সম্প্রতি বাতিল করা হয়েছে। তিনি পালানোর সময় এক স্কুল বালিকা ছিলেন।
তার বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর। তখন তিনি ইসলামিক স্টেটে যোগ দিতে বৃটেন ছেড়ে পালিয়ে যান।
সম্প্রতি তৃতীয় সন্তানের মৃত্যুর আগে তিনি আরো দুটি সন্তানকে হারান। তিনি ইভিনিং স্ট্যান্ডার্ডকে বলেছেন, লন্ডন ত্যাগ করার পর থেকে যা ঘটেছে, তার সব কিছুর জন্যই তিনি গভীর অনুশোচনা বোধ করছেন । তার ভাষায়, আমি আমার জীবন দ্বিতীয়বার শুরু করার সুযোগ চাই।
শামীমা বলেছেন, আমি  সিরিয়া আসার আগে আমাকে তারা যা বলেছিল, আমি তাই বিশ্বাস করেছিলাম । অথচ আমি আমার ধর্ম সম্পর্কে  প্রকৃত সত্য কী তার খুব সামান্যই জানতাম ।
সিরিয়ায় সন্তানধারণ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে, শামীমা গভীর অনুশোচনা ব্যক্ত করে বলেন, আমি খিলাফতের মধ্যে সন্তান ধারণ করার জন্য আজ অনুশোচনা করছি । আমি ভেবেছিলাম, এই খিলাফতই হবে আমার সবকিছু । আমার অস্তিত্ব  হবে এটা। আর সেখানে আমি আমার পরিবারকে নিরাপদে গড়ে তুলতে পারব । কিন্তু পরে বুঝলাম এই খিলাফত সন্তান লালন পালনের জায়গা নয়।
পত্রিকাটি লিখেছে, অন্য জঙ্গীদের কাছ থেকে নিরাপদে থাকার জন্য এই কিশোরীকে সিরিয়ার বাঘোজ ক্যাম্প থেকে পালিয়ে নিকটবর্তী  আর একটি উদ্বাস্তু ক্যাম্পে আসতে হয়েছে। কারণ তিনি সেখানে ঝুঁকিতে ছিলেন। এখন তিনি যেখানে আছেন সেটা আল রোজ, একটা অপেক্ষাকৃত ছোট ক্যাম্প ।  সেখানে প্রায় ৬০০ মানুষ বসবাস করেন। কর্মকর্তারা বলেছেন, শামীমা এখন  তার উগ্রপন্থি  মনের অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে সরে এসেছেন।
এর আগের সাক্ষাৎকারগুলোতে তিনি যেসব বক্তব্য দিয়েছিলেন তার জন্য তিনি বৃটেনেও সমালোচিত হয়েছিলেন। ২০১৭ সালে ম্যানচেস্টারে সন্ত্রাসী হামলার পরে তিনি তাতে সমর্থন দিয়েছিলেন। আর বলেছিলেন ‘বহু মানুষের উচিত হবে আমার জন্য সহানুভূতি ব্যক্ত করা।’
কিন্তু তিনি তার সর্বশেষ সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ওই সময়ও আমি ‘ব্রেইন ওয়াশড’ অবস্থায় ছিলাম। আমার মন মানসিকতা ছিলো জিহাদী চিন্তা-চেতনায় আচ্ছন্ন । আমি সে কারণেই ওইসব কথা বলেছিলাম । তখনো পর্যন্ত আমি সেসব কিছুই বিশ্বাস করতাম। কারণ তারা আমাকে সেটাই শিক্ষা দিয়েছিল।এই সাক্ষাৎকারে শামীমা ব্যাখ্যা করেছেন যে, লন্ডনে তাদের বাড়ি থেকে পালানোর আগে তিনি কিভাবে গভীর হতাশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলেন। এই হতাশাই তাকে ভ্রান্ত জীবনের পথে ঠেলে নিয়ে গিয়েছিল। তিনি স্বীকার করেন যে, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার সম্পর্কে টানাপড়েন চলছিল।
তবে তিনি আশাবাদী, বৃটেনে ফিরে নতুন করে জীবন যাপনের যে সুযোগ তিনি আশা করছেন সেটা তিনি পাবেন এবং নিজেকে শুধরে নিতে পারবেন।
২০১৫ সালে বৃটেন থেকে সিরিয়ায় পালিয়ে যাওয়া তিন তরুণীর  অন্যতম  শামীমা। যখন বৃটেনে ফিরতে চেয়েছেন তার পরপরই বৃটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ তার নাগরিকত্ব খর্ব করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। মনে করা হয় যে, তিনি বাংলাদেশী নাগরিকত্ব লাভ করতে পারেন। কিন্তু বাংলাদেশ বলেছে, তাকে ঢুকতে দেয়া হবে না।
শামিমা বলেছেন, তিনি এই ভবিতব্য মেনে নিয়েছেন যে, তাকে আরো কিছুদিন সিরিয় উদ্বাস্তু ক্যাম্পে কাটাতে হবে। তবে তার দ্বিতীয়বারের মতো লন্ডনে ফেরার চেষ্টায় হাল ছাড়বেন না।
শামীমার আইনজীবী অবশ্য বলেছেন, তার দ্বৈত নাগরিকত্ব ছিল না। বৃটিশ সরকার এই মর্মে সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে যে, শামীমার সন্তান যেভাবে মারা গিয়েছে সেটা বৃটেনের জন্য মর্যাদা বয়ে আনে নি। একজন বৃটিশ নাগরিকের সন্তান জন্মসূত্রে বৃটিশ। তাই তার সুরক্ষার দায়িত্ব আরো ভালোভাবে বৃটেনের পালন করা উচিত ছিল।
কিন্তু বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট এর জবাবে বলেছেন, ওই শিশুকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার জন্য কর্মকর্তাদের পাঠানো এবং তাকে উদ্ধার করে আনার অভিযানটা তাদের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়েছিল।

গণতন্ত্র, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ও রোহিঙ্গা ইস্যু হবে মুখ্য আলোচ্য: বৃটিশ প্রতিমন্ত্রী আসছেন শুক্রবার by মিজানুর রহমান

ফের ঢাকা আসছেন বৃটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড এমপি। এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চল  দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মার্ক ফিল্ড শুক্রবার বাংলাদেশে পৌঁছাবেন। এবারে তার সফরটি হবে ৪ দিনব্যাপী। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বৃটিশমন্ত্রীর আসন্ন সফরটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। ক’মাস আগেও তিনি বাংলাদেশ সফর করে গেছেন। সেই সময়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনসহ বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের সমস্যা নিয়ে আলোচনাই ছিল সফরের মূখ্য উদ্দেশ্য। কিন্তু এবারে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি তার সফরের আলোচ্যসূচী বা এজেন্ডায় আরও দু’টি বিষয় যুক্ত রয়েছে। তা হল দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ও গণতন্ত্র।
কূটনৈতিক সূত্র এ-ও বলছে, গত ২৭শে মার্চ লন্ডনে মার্ক ফিল্ড ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপির মধ্যে এক বৈঠক হয়।
সেখানে উল্লেখিত ৩টি বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় আসে। সেই ধারাবাহিকতায় ঢাকার বৈঠকেও বিষয়গুলো আসতে পারে জানিয়ে সেগুনবাগিচার ইউরোপ ডেস্কের এক কর্মকর্তা বলেন, বৃটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড তার সরকারের ইচ্ছাতেই ঢাকা সফর করছেন। বাংলাদেশ সরকার তার সফরের আগ্রহকে স্বাগত জানিয়েছে। সঙ্গত কারণেই মন্ত্রী ঢাকায় এসে বৃটেনের আশা-আকাঙ্খার কথাই বলবেন। তিনি হয়ত কিছু বিষয় আরও ঘনিষ্ঠভাবে জানা-বুঝার চেষ্টা করবেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে গত সপ্তাহে লন্ডন বৈঠকের পর মার্ক ফিল্ড যে টুইট করেছে তাতে তিনি লিখেন- বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হওয়ায় আমি আনন্দিত, আমাদের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা, গণতন্ত্র এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৃটিশ প্রতিমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মিস্টার আলম দেশে থাকছেন না। কারণ তিনি সরকারী সফরে লন্ডন থেকে এখন নিউইয়র্কে রয়েছেন। আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝিতে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। ওই সময়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনের দ্বিপক্ষীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সূচী রয়েছে।
বৃটিশ প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড অবশ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রীর ওয়াশিংটনের পথে রওনা হওয়ার আগে অল্প সময়ের জন্য হলেও একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট চেয়েছেন। সেগুনবাগিচার তরফেও ওই সাক্ষাৎ-সূচী ঠিক করার চেষ্টা চলছে জানিয়ে সংশ্লিষ্ট ডেস্কের কর্মকর্তারা বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ছাড়াও অর্থ, বাণিজ্য ও শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর বৈঠক চেয়েছে ঢাকাস্থ বৃটিশ হাই কমিশন। সব ক’টি অ্যাপয়েন্টমেন্ট চূড়ান্তকরণে কর্মকর্তারা চেষ্টা করছেন বলে জানানো হয়েছে। ওদিকে ব্রেক্সিট নিয়ে বৃটেনের রাজনীতিতে যে উত্তাপ তৈরি হয়েছে তার আশু নিরসন কামনা করে ঢাকা। কর্মকর্তারা বলেন, ব্রেক্সিট পরবর্তী বৃটেনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বিশেষত বাণিজ্য সহযোগিতার বিষয়ে বৃটিশ প্রতিমন্ত্রীর সফরে আলোচনা হবে। ঢাকার ফোকাস থাকবে আরো বেশি বৃটিশ বিনিয়োগ আকর্ষণের।

দুধের সঙ্গে বিষ খাইয়ে অচেতন করে খুন করেছি -ঘাতক ছাত্রীর স্বীকারোক্তি by ওয়েছ খছরু

‘৩ বছর রাতের বেলা আমি তার সঙ্গে বিছানায় সময় কাটাই। স্বামী-স্ত্রীর মতো আমরা বসবাস করি। বিয়ের কথা বলে সে একটি ভুয়া কাবিন করে। অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ছবি  মোবাইলফোনে ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করে। এরপর আমার ছোট বোনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রথমে দুধের সঙ্গে বিষ এবং পরে হোটেল মেহেরপুরের ২০৬ নম্বর কক্ষে নিয়ে গলায় রশি পেঁচিয়ে হত্যা করি।’ সিলেটের মদন মোহন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক সাইফুর রহমানের লোমহর্ষক খুনের ঘটনার বিবরণ এভাবেই দিয়েছে ঘাতক ছাত্রী নিশাত তাসনিম রুপা। গতকাল প্রথমে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এবং বিকালে সিলেটের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তৃতীয় আদালতের বিচারক সাইফুর রহমানের আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এই তথ্য জানায়। এ সময় গ্রেপ্তার হওয়া রুপার প্রেমিক মোজাম্মেল হোসেনও আদালতে একই তথ্য জানায়।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে টিলাগড়ের জমিদার বাড়ির মেস থেকে নিজ বাড়ি গোয়াইনঘাটে যাওয়ার জন্য বের হন কলেজ শিক্ষক সাইফুর রহমান।
এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। রোববার দুপুরে পুলিশ নগরীর সুনামগঞ্জ বাইপাস এলাকার রেনেটা কোম্পানির সামনে রাস্তার পাশ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয় সিলেটে। সিলেট মহানগর পুলিশও ঘটনার আদি-অন্ত খুঁজে বের করতে অনুসন্ধান শুরু করে। প্রথমেই তারা সন্ধান পায় সিলেট শহরতলীর শাহপরান এলাকার খিদিরপুর গ্রামের শফিকুর রহমানের মেয়ে নিশাত তাসনিম রুপার। লাশ উদ্ধারের দিন রাতেই পুলিশ নিজ বাড়ি থেকেই রুপাকে গ্রেপ্তার করে। পরে নগরীর টিলাগড় এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে রুপার প্রেমিক ছাতকের আলমপুরের মোজাম্মেল হোসেনকে। দু’জনকে গ্রেপ্তারের পরপরই পুলিশের কাছে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে উঠে।
রোববার রাতে নিহত কলেজ শিক্ষক সাইফুরের মা রনিফা বেগম বাদী হয়ে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানায় মামলা করেন। এদিকে রাতে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ রুপা ও তার প্রেমিককে আলাদা আলাদা ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুলিশকে জানায় খুনের ঘটনাবলী। পরে গতকাল বিকালে তাদের আদালতে হাজির করলে আদালতেও তারা একই ধরনের স্বীকারোক্তি দেয়। জিজ্ঞাসাবাদে নিশাত তাসনিম রুপা জানায়, কলেজ শিক্ষক সাইফুর রহমান প্রায় ৫ বছর ধরে তাদের বাড়িতে লজিং মাস্টার হিসেবে বসবাস করছেন। তার কাছে সে ও তার ছোট বোন পড়ালেখা করে। প্রায় ৪ বছর আগে থেকেই সাইফুরের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এক বছর তাদের মধ্যে প্রেম চলার পর হঠাৎ একদিন সাইফুরের ডাকে বিছানায় যায়  সে। তাদের মধ্যে দৈহিক সম্পর্ক হয়। প্রায় তিন বছর ধরে প্রতি রাতেই সাইফুরের সঙ্গে তার ঘরেই ঘুমাতো সে। তারা স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাস করতো। রাত একটা হলেই সে ছুটে যেতো সাইফুরের কাছে।
বিষয়টি বাড়ির লোকজন প্রথমে জানতে পারেনি। প্রায় ৬ মাস ধরে বাড়ির লোকজন বিষয়টি একটু একটু শুনতে পান। এ নিয়ে রুপা তার প্রেমিক কলেজ শিক্ষক সাইফুরকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। সাইফুর প্রেমিকার চাপে পড়ে একটি ভুয়া কাবিননামাও করে। এদিকে তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি প্রায় সময়ই সাইফুর নিজের মোবাইলফোনে ক্যামেরাবন্দি করে রাখে। এসব ছবি দিয়ে তাকে প্রায়ই ব্ল্যাকমেইল করা হতো বলে জিজ্ঞাসাবাদে রুপা স্বীকারোক্তি দেয়। এই ফাঁকে রুপার ছোট বোনের সঙ্গেও সম্পর্ক গড়ে তোলে সাইফুর রহমান। বিষয়টি রুপার চোখে ধরা পড়ে। সে এ নিয়ে প্রতিবাদ করে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। বিষয়টি তাদের পরিবার পর্যন্ত গড়ায়। সবার মধ্যে জানাজানি হয়। এ নিয়ে চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে রুপার ভাই সহ আত্মীয়স্বজনরা সাইফুরকে তাদের বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। সাইফুর এসে উঠে টিলাগড়ের একটি মেসে। কিন্তু ওখানে থাকলেও সে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করে। এসব ছবি রুপার ভাইয়ের কাছেও পাঠিয়ে দেয়।
এতে সাইফুরের ওপর চরম ক্ষুব্ধ হয় রুপা। শনিবার সকালেই সাইফুরকে ফোন করে রুপা দেখা করতে চায়। ডেকে নিয়ে যায় সিলেটের এমসি কলেজের নির্জন টিলার উপর। সেখানে সাইফুরকে রুপা বিষ মাখানো সেমাই ও দুধ খাওয়ায়। এরপর সাইফুর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নিয়ে চলে আসে নগরীর সুবহানীঘাটের হোটেল মেহেরপুরে। হোটেলের ম্যানেজারকে রুপা কাবিন দেখিয়ে বলে তারা স্বামী-স্ত্রী। ডাক্তার দেখাতে এসেছেন। একটি রুম দেয়ার জন্য বলেন। কথামতো ম্যানেজার কাবিন রেখে রুপা ও সাইফুরকে ২০৬ নম্বর কক্ষ দেন। সাইফুরকে ওই কক্ষে নিয়ে যান রুপা। সেখানে যাওয়ার পর সাইফুর অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এরপর রুপা তার ভ্যানেটি ব্যাগের ভেতরে রাখা দড়ি বের করে। আর ওই দড়ি দিয়ে সে সাইফুরের গলা পেঁচিয়ে ধরে। এক সময় সাইফুরের দেহ নিথর হয়ে পড়লে রুপা ফোন দেয় তার প্রেমিক মোজাম্মিলকে। একটি সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে আসার জন্য বলে। মোজাম্মিল তখন নগরীর মদিনা মার্কেট থেকে একটি সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে মেহেরপুর হোটেলের ২০৬ নম্বর কক্ষে যায়। ওখান থেকে তারা ‘গুরুতর অসুস্থ’ বলে সাইফুরকে কোলে করে নিয়ে এসে গাড়িতে তোলে।
এ সময় তারা হোটেলে ম্যানেজারকে জানায়, তার স্বামীকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে। সিএনজি চালককেও বলে তার স্বামী অসুস্থ। একটু পর রুপা আবার সিএনজি চালককে বলে তার স্বামী মারা গেছে। এখন লাশ কী করবে? পরে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েই শনিবার বেলা ১টার দিকে সাইফুরের লাশ সুনামগঞ্জ বাইপাসের রেনেটা কোম্পানির ওখানে রাস্তার পাশে ফেলে আসে। সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি খায়রুল ফজল মানবজমিনকে জানিয়েছেন, শনিবার দুপুর ১টার থেকে কলেজ শিক্ষক সাইফুরের লাশ ওখানে পড়েছিল। কেউ খেয়াল করেনি। রাতেও একই স্থানে ছিল। পরের দিন সকাল ১১টার দিকে তাদের কাছে খবর আসে। এরপর তারা গিয়ে লাশ উদ্ধার করেন। তিনি বলেন, রাতে থানায় রুপা ও তার প্রেমিক মোজাম্মিলকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারাও খুনের ঘটনা স্বীকার করে। এবং পুরো ঘটনাবলী পুলিশকে জানায়। সিলেট মহানগর পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) জেদান আল মুছা মানবজমিনকে জানিয়েছেন, রুপার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তারা দৈহিক মিলন করে। আর এই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করে রেখে রুপাকে ব্ল্যাকমেইল করা হয়। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে রুপা তার প্রেমিক কলেজ শিক্ষক সাইফুরকে খুন করেছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে। তিনি বলেন, আদালতে স্বীকারোক্তি দেয়ার পর রুপা ও তার প্রেমিকা সাইফুরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ এখন তদন্ত করে আদালতে চার্জশিট দেবে।

বন্ধ হয়ে গেল গুগল প্লাস

বন্ধ হয়ে গেল গুগলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গুগল প্লাস। গত মঙ্গলবার থেকে গুগল প্লাসের ব্যবহারকারীরা আর এটি ব্যবহার করতে পারছেন না।
ফেসবুক ও টুইটারকে টেক্কা দিতে আট বছর আগে সামাজিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গুগল প্লাস চালু করেছিল গুগল। সাইটটি জনপ্রিয় করার নানা প্রচেষ্টায় ব্যর্থতা এবং গত বছরের শেষ নাগাদ নিরাপত্তা ত্রুটি ধরা পড়ার পর এটি বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়। দ্য ভার্জ ও বিবিসির খবরে এ কথা বলা হয়েছে।
গুগল প্লাস তার ব্যবহারকারীদের তথ্যে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে না পারায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে জানিয়ে এক বিবৃতিতে গুগল বলেছে, গুগলের কোনো সেবায় তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। কিন্তু অ্যাপ ডেভেলপারদের ত্রুটির কারণে গুগল প্লাস ব্যবহারকারীদের তথ্যের সুরক্ষায় অনিশ্চয়তা ধরা পড়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো ব্যবহারকারীর তথ্যের অপব্যবহার হয়েছে বলে কোনো প্রমাণ পায়নি গুগল। কিন্তু প্রায় ৫ কোটি ২৫ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল।
২০১১ সালে চালু হয় গুগল প্লাস। চালুর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কয়েক লাখ ব্যবহারকারী এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইনআপ করে। কিন্তু সাইনআপ করা অল্পসংখ্যক মানুষই এটি ব্যবহার করত। সে সময়ই অনেক বিশ্লেষক মাধ্যমটির অন্তিমযাত্রা নিয়ে লিখতে শুরু করেছিলেন। যদিও তখন আশা ছাড়েনি গুগল। নানা পরিবর্তন ও সংযোজন করে এসেছে নিয়মিত। কিন্তু ২০১৮ সালে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের পর হতাশ হয়ে পড়ে গুগল কর্তৃপক্ষ। প্ল্যাটফর্মটি বন্ধ করে দেওয়া সিদ্ধান্ত নেয়। গত সেপ্টেম্বর–অক্টোবর মাসের দিকে গুগল প্লাস বন্ধ করে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে গুগল। সে সময় বলা হয়, ২ এপ্রিল থেকে ব্যবহারকারীদের তথ্য মুছে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
তবে গুগল প্লাসের সব তথ্য স্থায়ীভাবে মুছে ফেলা হবে না। গুগলের ইন্টারনেট অ্যান্ড আর্কাইভ টিম জানিয়েছে, গুগল প্লাস ব্যবহারকারীর পাবলিক পোস্টগুলো মুছে ফেলার আগে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করছে তারা।
অবশ্য গুগল প্লাসের সব কনটেন্ট আর্কাইভ করা হবে না। প্রাইভেট করে রাখা এবং ব্যবহারকারী মুছে ফেলেছেন, এমন কনটেন্ট সংরক্ষণের আওতায় থাকছে না। এ ছাড়া কোনো পোস্টের কমেন্ট থ্রেডে ৫০০-এর বেশি কমেন্টও সংরক্ষিত হচ্ছে না। তবে ফটো ও ভিডিও কনটেন্টের রেজল্যুশন কমিয়ে তা সংরক্ষণ করা হবে।
গত বছরে ফেসবুকের নিরাপত্তাত্রুটি কাজে লাগিয়ে তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার খবর জানা যায়। এরপর অ্যালফাবেটের অধীনে থাকা আরেক সামাজিক যোগাযোগের সাইট গুগল প্লাসের তথ্য বেহাত হওয়ার বিষয়টিও নজরে আসে। তখন রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, গুগল প্লাস থেকে পাঁচ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য বেহাত হয়েছে। এর জের ধরে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট তাদের গুগল প্লাস সেবা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়।
গুগল প্লাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাইরের শত শত ডেভেলপারের কাছে পাঁচ লাখের বেশি গুগল প্লাস ব্যবহারকারীর তথ্য চলে গেছে। তাই গুগল প্লাসের গ্রাহক সংস্করণ (কনজিউমার ভার্সন) বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। গুগল প্লাস থেকে তথ্য বিনিময়বিষয়ক নীতিমালা আরও কঠিন করা হচ্ছে।
গুগল প্লাস বন্ধ করার ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিল অ্যালফাবেট কর্তৃপক্ষ। গত বছরের আগস্ট মাসে গুগল ফ্রান্সের অফিশিয়াল গুগল প্লাস পেজ বন্ধ করে দেয়।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা বলছেন, গুগল প্লাসকে জনপ্রিয় করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিল গুগল। জি–মেইল অ্যাকাউন্ট খুললে গুগল প্লাসে অ্যাকাউন্ট খোলা বাধ্যতামূলক করেছিল, কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি। চালু হওয়ার সাত বছরের মাথায় গুগল প্লাসের বিদায়ঘণ্টা বাজার ইঙ্গিত মেলে ২০১৮ সালের শেষের দিকে। গুগল ফ্রান্সের অফিশিয়াল গুগল প্লাস পেজ বন্ধ করার বিষয়টি থেকেই এ অনুমান করেন বিশ্লেষকেরা।
গুগলের আরও একটি সামাজিক যোগাযোগের সাইট জনপ্রিয় করার চেষ্টা ব্যর্থ হতে যাচ্ছে। ফেসবুকের সঙ্গে টক্কর দিতে বেশ কয়েকবার নতুন সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট চালু করে গুগল। কিন্তু গুগলের এ সাইটও জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারেনি।
সাম্প্রতিক তথ্য বেহাত হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে গুগল এক ব্লগ পোস্টে লিখেছে, গত মার্চ মাসে গুগল প্লাসের ওই সমস্যা শনাক্ত করা হয় এবং তা সফটওয়্যার প্যাচের মাধ্যমে ঠিক করা হয়। তবে তা ঠিক করার আগে ডেভেলপারদের সে তথ্য নেওয়ার সুযোগ ছিল। পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কোনো ডেভেলপার ওই ত্রুটির অপব্যবহার করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রাইভেসি সুরক্ষার আরেক ব্যর্থতার বিষয় প্রযুক্তি বিশ্বে আলোচনায় এল। এ ঘটনার পর অ্যালফাবেটের শেয়ারের দাম ১ শতাংশ কমে যায়।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে বলেছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে আসা চাপের ভয়ে অ্যালফাবেট কর্তৃপক্ষ আগে এ নিরাপত্তাত্রুটির বিষয়টি জানায়নি। ওই সময় ফেসবুকের কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারি নিয়ে হইচই হচ্ছিল। গুগল প্লাসের নিরাপত্তাত্রুটির বিষয়টি কেমব্রিজ অ্যানালিটিকার সঙ্গে তুলনা হতে পারে—এটা ভেবেই তা চেপে যায় অ্যালফাবেট। এ বিষয়ে গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাই অবগত ছিলেন। এ বিষয়ে গুগল কর্তৃপক্ষ অবশ্য কোনো মন্তব্য করেনি।
যুক্তরাজ্যের নির্বাচনী পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কেমব্রিজ অ্যানালিটিকার বিরুদ্ধে ফেসবুক থেকে অনৈতিক উপায়ে তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ওই তথ্য কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা ২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে কাজে লাগানো হয়। এ ঘটনা জানাজানি হলে তা কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারি হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে।
নিরাপত্তাত্রুটির কথা চেপে যাওয়ার বিষয়টি ভালোভাবে নেননি নিরাপত্তা ও প্রাইভেসি বিশেষজ্ঞরা। আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ফ্রায়েডম্যান ককাজেনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জ্যাকব লেম্যান বলেছেন, কারও অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে কি না, তা জানার অধিকার ব্যবহারকারীর রয়েছে। কেমব্রিজ অ্যানালিটিকার মতো যে কেলেঙ্কারির মুখোমুখি ফেসবুককে হতে হয়েছে, এটা তার মতোই ফল বহন করবে।
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট এনগ্যাজেট বলছে, শেষ পর্যন্ত অ্যালফাবেট স্বীকার করে নিয়েছে তাদের গুগল প্লাসের ব্যর্থতার বিষয়টি। এটি কখনোই ব্যবহারকারীদের কাছে জনপ্রিয় হয়নি এবং খুব বেশি ব্যবহার করাও হয়নি। ৯০ শতাংশ গুগল প্লাস ব্যবহারকারী এতে একবার ঢুকলে পাঁচ সেকেন্ডের বেশি থাকেন না। গুগল প্লাসের এপিআই নিয়ে নিরাপত্তাত্রুটির বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় এটি বন্ধ করে দেওয়ার পথেই হাঁটছে তারা।

হিন্দু ধর্ম পরিবর্তন করে ইসলাম গ্রহণ করলেন উর্মিলা!

ভারতের আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে মুম্বাই উত্তর কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী হয়েছেন দর্শক নন্দিত অভিনেত্রী উর্মিলা। জয়ী হবার লক্ষে জোর প্রচারণা চালাতেও দেখা যাচ্ছে অভিনেত্রীকে। শুধু তাই নয়, ইতোমধ্যে অভিনেত্রী নিজের ধর্মই পরিবর্তন করেছেন। তাহলে কি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য উর্মিলা নিজের হিন্দু ধর্ম পরিবর্তন করে ইসলাম গ্রহণ করলেন? এমন প্রশ্নতো করায় যায়। যাইহোক এমন তথ্য পাওয়া গিয়েছে অভিনেত্রীর ইউকিপিডিয়ার মাধ্যমে। তবে অনেকেই ধারণা করছেন উর্মিলা সত্যি সত্যি এমন কোনো কাজ করেনিনি। কেউ হয়তো শত্রুতা করে এমন কাজ করে থাকতে পারেন। তবে এর আগে পরিবার ও পরিচয় নিয়ে নানা তির্যক মন্তব্যের মুখে পড়তে হয়েছে এই অভিনেত্রীকে।
উর্মিলার স্বামী কাশ্মীরি মডেল ও ব্যবসায়ী মোহসিন আখতর মীর। স্বামীর পরিচয়ের জন্য এর আগে একাধিক বার কটাক্ষের মুখের পড়েছেন উর্মিলা। সমালোচকরা নিন্দার ভাষায় সমালোচনা করেছেন অভিনেত্রীর। এবার উইকিপিডায়ায় উর্মিলার নাম বদলে কে বা কারা মরিয়ম আখতার মীর করে দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, মোহসিনের সঙ্গে বিবাহের পর ধর্ম বদলে মুসলিম হয়েছেন তিনি। বদলেছেন নিজের নামও। উর্মিলা থেকে হয়েছেন মরিয়ম।
এই কান্ডে ভীষণ চটেছে উর্মিলার পরিবার। মহৎ উদ্দেশ্যে রাজনীতিতে নামা উর্মিকে নিয়ে কেন এতো নোংরামি করা হচ্ছে? এমন প্রশ্ন তুলেছে নায়িকার পরিবারের সদস্যরা। তাদের অভিযোগের আঙুল বিরোধী দল বিজেপির দিকে। উর্মিলার পরিবারের দাবি, নির্বাচনে উর্মিলাকে হারাতে পারবে না বলেই তাদের এমন আচরণ। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে উর্মিলাকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে নিন্দিুকদের উদ্দেশ্যে পরিষ্কার জানানো হয়েছে এমন বাজে কাজ করে বা অন্য কিছু করেও নির্বাচন থেকে দুরে সরানো যাবে না উর্মিলাকে।
এদিকে এই ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে নিন্দা জানিয়েছে উর্মিলার দল কংগ্রেসও। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উর্মিলার জনপ্রিয়তায় ভয় পেয়েছে বিজেপি। যে কারণে এইসব অপপ্রচার চালাচ্ছে তারা। শুধু এবারই নয়, বিজেপি সবসময়ই সাম্প্রদায়িকতায় উস্কানি দেয়।
তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো মুখ খোলেননি অভিনেত্রী। তিনি নিজের মতো করেই চালিয়ে যাচ্ছেন নির্বাচনি প্রচার।