Sunday, September 20, 2015

আমাদের শিক্ষার সংকট by এ. কে. এম. মহীউদ্দীন

শিক্ষা নিয়ে কথা বলতে গেলে কষ্ট লাগে। তেতাল্লিশ বছর শিক্ষকতা করেছি। প্রথম পনের মাস দেশের একটা পুরানো ও বড় কলেজে। এরপর দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে। অবশ্য পড়ানোর কাজটা ছাত্র থাকতেও করেছি ছোটবেলা থেকেই। এই এতোগুলো বছরে যা দেখেছি তা হচ্ছে আমাদের হাতে অব্যাহতভাবে শিক্ষার ক্রমান্বয়ে অধঃপতন। অনেক কিছুই ঘটেছে অজ্ঞতা ও অসাবধানতার কারনে, আবার অনেক কিছুই হয়েছে সজ্ঞানে এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও আনাড়ি পরিকল্পনার ফলে।
প্রথম যে ক্ষতিটা সবচেয়ে মারাত্মক হয়েছে তা হচ্ছে শিক্ষকতা আর দশটা চাকরির মতো হয়ে গেছে। যারা নিয়োগ দেয় আর যারা নিয়োগ পায় সবার মনের ধারণাই এমন। আসলে শিক্ষকতা সবার কাজ নয়। কাজটা মানুষের জীবন গড়ার। এটা কোন সাধারণ বা সহজ কাজ নয়। এ কাজে লেখাপড়া যেমন জানা  লাগে তেমনি বা তার চেয়ে বেশি লাগে শিক্ষকতার উপযুক্ত মানসিক গঠন। শিক্ষকতার জন্য যে মাত্রার সংবেদনশীলতা, সতর্কতা, ধৈর্য, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতা লাগে তা কোন সমাজেই খুব বেশি মানুষের মধ্যে মেলে না। শিক্ষকের কাজে সবসময় রাতারাতি সফলতা চোখেও পড়ে না। ধীরেধীরে, তিলেতিলে, ধৈর্য, মনোযোগ ও যতেœর সাথে যারা গড়ে তুলতে জানে তারাই কেবল শিক্ষক হবার উপযুক্ত। নিষ্ঠা, ত্যাগ ও ভালবাসার কাজ শিক্ষকতা। মানুষের জীবন ধ্বংস করে দেওয়া খুবই সহজ। শিক্ষক যদি সত্যিকার ভাবে উপযুক্ত না হয় এবং তার ভুমিকা না বোঝে তবে প্রতিমুহূর্তেই সে তার অজান্তে তার দায়িত্বে থাকা ছেলেমেয়েদের জীবন ধ্বংস করার কাজই করে যায়। এর অন্যথা হবার উপায় নেই। অতএব যতেœর সাথে অনেক কিছু বিবেচনা করে কাউকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া উচিৎ। এ ক্ষেত্রে আমাদের উদাসীনতা ও অবহেলা সীমাহীন ও অমার্জনীয়।
শিক্ষকতা সম্মন্ধে আরেকটি ভুল ধারনা আমাদের সর্বনাশ ঘটাচ্ছে। আমরা ভাবি নিচের দিকের শিক্ষক হওয়া কোন ব্যপার নয়। জিনিষটি আসলে ঠিক এর উল্টো। নিচের দিকে শিক্ষকতাই সবচেয়ে জটিল ও কঠিন। এখানেই প্রয়োজন একান্ত সংবেদনশীল, ধৈর্যশীল, বিবেচক ও বিচক্ষণ মানুষ। লেখাপড়াই হোক, আর স্বভাব-চরিত্র ও অভ্যাস গঠনই হোক আসল শিক্ষা ঘটে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে। এখানে যদি একজন ছাত্রের লেখাপড়ার ও স্বভাবের ঠিকমতো বুনিয়াদ গঠন করে দেওয়া যায় তবে উপর দিকে গিয়ে তাকে শেখানো এবং তার নিজের চেষ্টায় শেখা একেবারেই সহজ হয়ে যায়। অতএব শিক্ষাজীবনের সুচনা ও বিকাশের এই বুনিয়াদী স্তরেই প্রয়োজন হয় সবদিক দিয়ে সবচেয়ে যোগ্য ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকের। কিন্তু আমাদের এখানে এখন যা অবস্থা হয়েছে তাতে আর কোথাও কোন কাজ জুটাতে না পারা মানুষদের একটা সহজ আস্তানা হয়েছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি।   
দ্বিতীয় যে ক্ষতিটা হয়েছে তা হচ্ছে অনেক বইয়ের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বাচ্চাদের উপর। ছোট ছোট বাচ্চা বই ও খাতার ভারে ভেঙ্গে পড়ছে একেবারে। যারা এই কাণ্ডটা করেছে তারাও বলতে পারবে না হরেক রকম এতো বইখাতা চাপিয়ে দিয়ে তারা কি অর্জন করতে চায়। প্রথম জীবনে কি এতো কিছু শেখা প্রয়োজন বা তা সম্ভব? শিক্ষা জীবনের প্রথম চার বা পাচ বছরে যদি কেউ শুদ্ধ করে পড়তে পারে, তার একান্ত পরিচিত জিনিষ সম্মন্ধে দুচার কথা সহজ ভাষায় গুছিয়ে লিখতে পারে, যোগ, বিয়োগ, গুন, ভাগ ঠিকমতো করতে শেখে, কিছু ভূগোলের জ্ঞান পায়, নিয়ম ও শৃঙ্খলা মানতে ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে ও শিষ্টাচার শেখে সেটাই কি যথেষ্ট নয়? শিশুর বুদ্ধিবৃত্তিক গঠনে মুল জিনিষ অনেক কিছু মুখস্ত করা নয়। মুল জিনিষ হচ্ছে পড়তে আগ্রহী হয়ে উঠা, পড়ে বুঝতে শেখা, যা পড়া হয় তা নিজের ভাষায় প্রকাশ করতে শেখা এবং ক্রমান্বয়ে সহজ থেকে জটিল চিন্তা ও বিশ্লেষণ করার শক্তি ও অভ্যাস তৈরি হওয়া। বই সামনে নিয়ে পড়ে যাওয়া আর পড়ে বুঝতে শেখা এক জিনিষ নয়। বুঝতে শেখা ও গুছিয়ে গাছিয়ে পরিচ্ছন্ন ভাবে প্রাসঙ্গিক কথা লিখতে শেখা মোটেই সহজ কাজ নয়। পড়া মানে শুধু বানান দেখে পড়ে যাওয়াই নয়, লেখা মানে সাদা কাগজের উপর কালির কিছু আঁচড়ই নয়। আরো অনেক কিছু। সত্যিকার পড়া ও লেখার জন্য একটা সক্ষম ও সজাগ মন লাগে। শিক্ষার কাজ এই মনটাকে গড়ে তোলা। প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করতে শেখাও একটা মুল্যবান শিক্ষা।
আরো একটি অত্যন্ত মুল্যবান জিনিষ একেবারেই অনুপস্থিত আমাদের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার মধ্যে। ছেলেমেয়েদের কখনো শেখানো হয় না কি ভাবে কিছু পড়ে ও শুনে তা থেকে নোট নিতে হয় এবং লেখার মধ্যে দলিল ও প্রমাণ সংযোজিত করতে হয় এবং সেসবের উৎস উল্লেখ করতে হয়। পড়ে বা শুনে তা কাজে লাগাবার জন্য নোট নেবার কোন বিকল্প নেই। কারন কারো পক্ষেই সব জিনিষ মনে রাখা সম্ভব নয়। দলিল ও প্রমাণ এবং তাদের উৎস উল্লেখ ছাড়া লেখা দুর্বল থেকে যায়। শিক্ষার জগতে এসব দুর্বল লেখা মুল্যহীন। ভালভাবে নোট নিতে পারা এবং দলিল ও প্রমাণ সম্বলিত করে লিখতে পারা মানসম্পন্ন লেখাপড়ার জন্য একেবারেই অপরিহার্য। আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা উচ্চশিক্ষা করতে গিয়ে এক্ষেত্রে বিষম বিপদে পড়ে যায়। পাশাপাশি দেখতে পায় স্থানীয় অনেক কচি ছেলেমেয়েও খুব স্বচ্ছন্দে নোট নিয়ে যাচ্ছে এবং তাদের লেখায় চমৎকার ভাবে দলিল ও প্রমাণ সম্বলিত করছে। ভালভাবে নোট নেয়ার এবং লেখার মধ্যে দলিল ও প্রমান সম্বলিত করার কিছু কায়দাকানুন আছে। এগুলি অল্প বয়সেই শিখতে হয় এবং ক্রমাগত অভ্যাস করতে হয়।
আমাদের দেশের লেখাপড়ায় এই চারটি জিনিষের দিকে কখনো মনোযোগ দেওয়া হয়নি। এসব লক্ষ্য অর্জন করার জন্য গাদাগাদা বইখাতার কোন প্রয়োজন হয় না। বরং তাতে আসল উদ্দেশ্যই ব্যহত হয়।
এরপর আসে পরীক্ষার প্রসঙ্গ। লেখাপড়াকে আমরা করে ফেলেছি সম্পূর্ণ পরীক্ষা কেন্দ্রীক একেবারে  ছোটবেলা থেকেই। সবার মনে একটাই কথা। তা হচ্ছে পরীক্ষার ফলাফল। অতএব চলছে পরীক্ষাকে সামনে রেখেই যতো আয়োজন ও প্রস্তুতি। আর তা হচ্ছে সীমিত কিছু জিনিষ পড়ানো ও পড়া। মুখস্ত করাই হচ্ছে লেখাপড়া শেখার একমাত্র উপায়। ফলে শিক্ষার বুনিয়াদ ভয়ানক দুর্বল থেকে যাচ্ছে। শেখানো ও শেখার চিন্তা একেবারেই বাদ পড়েছে। খুবই অদ্ভুত ব্যপার হচ্ছে প্রথম শ্রেণি থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত হুবুহু একই ধরনের প্রশ্ন এবং একই ধরনের উত্তর। তাহলে শিক্ষার মাধ্যমে মানসিক শক্তির ক্রমান্বয়ে বিকাশ হোল কি ভাবে? এভাবে শিক্ষিত মানুষ পড়া জিনিষও বোঝে না। আর পড়া জিনিষের বাইরে সাধারন সহজ জিনিষের সামনেও নিতান্তই অসহায়। অথচ শিক্ষার একটা বড়ো উদ্দেশ্যই হোল শেখা জিনিষের উপর ভিত্তি করে না শেখা জিনিষকে আয়ত্বে আনার যোগ্যতা অর্জন করা।    
প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থায় আনুষ্ঠানিক পরীক্ষা থাকবেই এটা ঠিক। কিন্তু আমরা এর সীমাবদ্ধতার কথাটা একেবারে ভুলে বসে আছি। মানুষের মেধা ও যোগ্যতা একরকম নয়। আনুষ্ঠানিক পরীক্ষায় সব ধরনের মেধা ও যোগ্যতার যাচাই করা সম্ভব হয় না। যতেœর সাথে মানুষের মেধা ও মননশীলতা যাচাই করার কোন ব্যবস্থা আমরা অবলম্বন করতে একেবারেই ব্যর্থ হয়েছি। ছোটবেলা থেকে এতো পরীক্ষা উপকার তো করেই না, বরং মারাত্মক ক্ষতি করে। প্রথাগত পরীক্ষায় ভাল করতে মনটাকে একটি বিশেষ ছকের মধ্যে আটকে দিতে হয়। মনটা ও চিন্তা একেবারে ছোটবেলায় এভাবে বন্দি হয়ে গেলে সেই মনের স্বাভাবিক ও বহুমুখী বিকাশ হতে পারে না। এই মনের তখন একমাত্র কাজ হয় কিছু নির্দিষ্ট জিনিষ না বুঝে মুখস্ত করা। এধরনের শিক্ষায় চিন্তা ও বিশ্লেষণ করার, তথ্যকে ব্যবহার করে তত্বে উপনীত হবার, তত্বের পিছনের তথ্যগুলিকেও দেখতে পাবার এবং পুরাতন জ্ঞান দিয়ে নতুন সমস্যার সমাধান করার ক্ষমতা অর্জন হয় না। অনেক কিছু মুখস্ত করা ও এটা সেটা অনেক তথ্য জানার নাম লেখা পড়া নয়। এর চেয়ে অনেক মুল্যবান লেখাপড়ার কলাকৌশল জানা, তা ব্যবহার করতে শেখা ও ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলা। মানুষ আর সব ভুলে গেলেও এগুলি সারা জীবন স্থায়ী হয়ে যায়। শিক্ষার্থীর মেধা ও মননশীলতার নির্ণয় ও উদঘাটন ঠিকমতো হয় না এবং শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য অর্জন হয় না বলেই দেখা যায় পরীক্ষায় প্রথম দশ, পনেরো বা বিশজনের অনেকেই পরবর্তীতে একেবারে হারিয়ে যায়। নিজেকে নিজে ধার দিয়ে শাণিত রাখবার ক্ষমতা নিজের ভিতরে অর্জিত হয়নি বলে পরবর্তী জীবনে তারা দিনদিন কেবল ভোতাই হতে থাকে এবং তাদের চিন্তা ও মননে শুধু মরিচাই জমতে থাকে।
শিক্ষায় এতোসব দুর্বলতার কারনেই দেখা যায় আমাদের অনেক উচ্চশিক্ষিত মানুষও একটা কথা জানতে চাইলে আসল কথা ফেলে রেখে অপ্রাসঙ্গিক অনেক কথা বলতে থাকে। প্রতিষ্ঠিত সাংবাদিকও কোন সাক্ষাতকার গ্রহন করার সময় কাজের প্রশ্ন করতে পারে না এবং সংক্ষেপে সুশৃঙ্খল ভাবে আসল কথা বলতে পারে না এবং তাদের অনেক লম্বা প্রতিবেদনেও গুরুত্বপূর্ণ অনেক কথা বাদ থেকে যায়। আমাদের দেশের লেখাপড়ার দুর্বলতার কারনেই এদেশে কাজ করা অনেক বিদেশি প্রতিষ্ঠান লোক নেবার সময় সনদের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় প্রার্থীর প্রকৃত যোগ্যতার উপর। কারন তারা দেখতে পেয়েছে আমাদের এখানকার সনদ আর প্রকৃত যোগ্যতার মধ্যে পার্থক্য অনেক।
আমাদের লেখাপড়ার কি নিদারুন দৈন্য তা বুঝবার জন্য কেবলমাত্র দু’টি জিনিষই যথেষ্ট। এক, প্রথম শ্রেণি থেকে শুরু করে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত বারো বছরেও আমাদের ছেলেমেয়েরা ইংরেজি ভাষাটা কোনরকম চলনসই ভাবেও রপ্ত করতে পারে না। অথচ দুনিয়ার কোন ভাষা আয়ত্ব করতেই এতোগুলি বছর লাগার কথা নয়। শেখানোটা ঠিকমতো হলে পাচ বা ছয় বছরের বেশি লাগার কথা নয় কোন ভাষা শেখার জন্য। তার মধ্যে আবার ইংরেজি ভাষাটা একটা খুবই সহজ ভাষা। এর তুলনায় আরবি বা ফরাসি অনেক, অনেক কঠিন। কিন্তু আমাদের এখানে যা ঘটে তা হচ্ছে বছর খানেকের মধ্যেই ছাত্রের মনে ধারনা জন্মে যে ইংরেজি খুবই কঠিন। আর এক বছরের মধ্যে সে ভাবতে শুরু করে ইংরেজি শেখা একটা অসম্ভব ব্যপার। তৃতীয় বছর আসার আগেই ইংরেজি একটা দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠে তার কাছে এবং বাকি বছরগুলি সে এই দুঃস্বপ্নের বোঝা বয়ে চলে। শিক্ষা জীবনের প্রথম বারোটা বছরের এ এক অবর্ণনীয় অপচয়। 
দুই, আমাদের এম এ, এম এসসি বা এম কম পাশ করা মানুষগুলির দিকে একটু তাকালে কি দেখতে পাই? একবার পরীক্ষায় পাশ হয়ে যাবার পর তাদের ক’জন সারা জীবনেও একটি বই পড়ে? অনেকে তো খবরের কাগজটাও পড়ে না। আমি নিজে বহু এমন মানুষ দেখেছি। আমার নিজের একান্ত আপনজনদের মধ্যেই দেখেছি। বহু বছর শিক্ষক ছিলাম বলে আমাকে অনেক দেখতে হয়েছে হতভাগা এসব শিক্ষিত মানুষদের। আমি দেখেছি এম এ পাশ করা এবং পেশায় শিক্ষক এমন মানুষেরাও একশটি বই একটা নিয়ম মতো সুশৃঙ্খল ভাবে গুছিয়ে রাখতে পারছে না। এমন হয় কেন আমরা কি কেউ কখনো ভেবে দেখেছি? মাস্টার্স পাশ তো চাট্টিখানি কথা নয়। মাস্টার্স পর্যন্ত লেখাপড়া করবে অথচ তাদের মধ্যে লেখাপড়ার প্রতি আর কোন আগ্রহ থাকবে না এটা কেমন করে হতে পারল? মাস্টার্স পাশ করবে আর কোন বইটার কোথায় জায়গা হওয়া উচিৎ তা বুঝতে পারবে না এ কি কথা? ব্যর্থতা কোথায়? সমস্যা কি এই সব মানুষদের মধ্যে, না শিক্ষা সম্মন্ধে আমাদের ধারনায় এবং আমাদের আমাদের সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রমে? বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা আমাদের এসব লোকজনদের মন ও মগজের মধ্যে কেবল একটি জিনিষই প্রবল ভাবে সক্রিয় মনে হয়। তা হচ্ছে কে কার ‘সিনিয়র’ আর কে কার ‘জুনিয়র’ সেই হিসাব বের করা।      
শিক্ষা যদি মানসম্মত হয় তবে কেবলমাত্র উচ্চতর বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞ তৈরি ছাড়া অন্য কোন কিছুর জন্য মাধ্যমিক পর্যন্ত লেখাপড়াই একজনের জন্য যথেষ্ট। মানসম্মত শিক্ষায় মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যে মজবুত বুনিয়াদ তৈরি করা হয় তার উপর দাঁড়িয়ে যেকেউ ইচ্ছা করলে তার নিজের চেষ্টায় সামনে এগিয়ে যেতে পারে। কিন্তু এজন্য প্রয়োজন শিক্ষা সম্মন্ধে স্পষ্ট ধারনা, উপযুক্ত শিক্ষা কাঠামো, শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ এবং সর্বোপরি শিক্ষায় ও স্বভাবে যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক। দুর্ভাগ্য যে এমন শিক্ষকেরই আমাদের নিদারুন অভাব।
আমাদের দেশে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে, প্রকৌশল কলেজে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ও মেডিক্যাল কলেজে পড়তে আসে তাদের অধিকাংশই এই পর্যায়ে লেখাপড়া করবার জন্য উপযুক্ত হয়ে গড়ে উঠে না। অনেক বেছেবুছে যাদের ভর্তি করা হয় তাদেরও কম করে হলে অর্ধেকও চিন্তাভাবনায়, বিশ্লেষণ ও প্রকাশ ক্ষমতায় একেবারে পঙ্গু। জীবনের প্রথম বারো বা চৌদ্দ বছরের শিক্ষা তাদের বস্তুত তেমন কিছু দান করতে পারেনি। বরং মহা ক্ষতি করেছে তাদের। এদের শেখানো প্রায় অসম্ভবই বলতে হবে। শিক্ষা গ্রহণ করবার সব ক্ষমতা এদের দুমড়ে মুচড়ে এমনভাবে বিকৃত হয়ে গেছে যে তা আর সোজা করা সম্ভব নয়। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে নির্দ্বিধায় বলতে পারি এভাবে নামেমাত্র লেখাপড়া করে আসা সনদপত্র সর্বস্ব মানুষদের চেয়ে যারা একেবারে কোন লেখাপড়াই করেনি তাদের শেখানো অনেক সহজ। (বিশেষ করে আলজিরিয়াতে দুবছর একদম কোন ইংরেজি না জানা প্রাপ্তবয়স্ক মানুষদের ইংরেজি শেখাতে গিয়ে হাড়েহাড়ে এই উপলদ্ধি হয়েছে আমার।)
আরো একটা ভয়ংকর জিনিষ অবশ্যই উল্লেখ করা দরকার। উচু থেকে নিচু সব স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেভাবে রাজনীতি ঢুকে পড়েছে তাতে সবচেয়ে সর্বোত্তম কোন শিক্ষাব্যবস্থাও আমাদের এখানে ব্যর্থ হয়ে যেতে বাধ্য। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনীতি শিক্ষাকে একেবারে ঝাঁঝরা করে দিচ্ছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় শিক্ষক বা কর্মচারী নিয়োগ এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোন সিধান্ত গ্রহন এর চেয়ে ধংসাত্বক আর কিছু নেই শিক্ষার জন্য।
আমরা যদি শিক্ষা ব্যবস্থার কোন মৌলিক সংশোধন করতে চাই ও এর সত্যিকার উন্নতি ঘটাতে চাই তবে আমাদের প্রথমেই মন দিতে হবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার দিকে। আমাদের  কারন মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষাই আসল বুনিয়াদ। এই বুনিয়াদ মজবুত না হলে সবই ব্যর্থ হতে বাধ্য। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরকে ঠিক না করেই নতুন, নতুন বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান করে আমাদের শিক্ষার সংকট বাড়বে ছাড়া কমবে না। বুনিয়াদি শিক্ষা যদি উপরে না উঠে আসে উচ্চশিক্ষাকেই সেক্ষেত্রে নিচে নেমে আসতে হবে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের বুনিয়াদি শিক্ষাকে মজবুত করতে হলে আমাদের বুঝতে হবে কি মুল্যবান, আর কি তা নয়, শিক্ষা সম্মন্ধে আমাদের অনেক অলীক ধারনা ঝেড়ে ফেলতে হবে।  আমাদের বাস্তবাদী হতে হবে। অনেক কিছু যেনতেন করে না শিখিয়ে বুনিয়াদী কিছু জিনিষ ভাল করে শেখাতে হবে। শিক্ষার মধ্যে শৃঙ্খলা ও সদাচার আনতে হবে। সব রকম রাজনৈতিক প্রভাব থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে মুক্ত রাখতে হবে। অন্যথায় সবই বৃথা যেতে বাধ্য। আর বিশেষ ভাবে শিক্ষক নির্বাচনে সতর্ক হতে হবে। তা না হলে অন্য সব আয়োজনই ব্যর্থ হয়ে যেতে বাধ্য।
তবে সবচেয়ে বড়ো হতাশার কথা হোল চারিদিকে সর্বক্ষেত্রে আমাদের যে অকল্পনীয় অনাচার ও নৈরাজ্য তার মধ্যে ঠাণ্ডা মাথায় ও স্থির মনোযোগে কোন শিক্ষাই হতে পারে না। ঠাণ্ডা মাথায় ও স্থির মনোযোগে আমাদের এখানে এখন কেবল খুনখারাবি এবং যতো রকম অন্যায় ও অপকর্ম আছে সেসবই করা সম্ভব। শিক্ষার উপযোগী কোন পরিবেশই আজ আর অবশিষ্ট নেই আমাদের এই হতচ্ছাড়া রাষ্ট্রে ও সমাজে।

কাবা শরিফের গিলাফ : এক মহান ঐতিহ্য by আসিফ হাসান

গিলাফে কাবা হলো আল্লাহর ঘরের প্রতি আন্তরিক সম্মান প্রদর্শনের একটি উজ্জ্বল নিদর্শন। আল্লাহর বান্দারা তাঁর ঘরকে সাজানোর ব্যাপারে আপ্রাণ চেষ্টা করবে, এটাই স্বাভাবিক।
আরবিতে এই গিলাফকে বলা হয় কিসওয়া। প্রতিবছর জিলহজ মাসের ৯ তারিখে নতুন গিলাফ পরানো হয়। এটাও একটা বড় ধরনের অনুষ্ঠান।
কাবা শরিফের গিলাফের ইতিহাস খোদ কাবা শরিফের ইতিহাস থেকেই শুরু। অনেক আলেমের মতে, স্বয়ং হজরত ইসমাইল (আ.) নিজেই কাবা শরিফের গিলাফ পরিয়েছেন। কারো মতে, মহানবি হজরত মোহাম্মদের (সা.) পূর্বপুরুষ আদনানা বিন উদ প্রথম কাবা শরিফের গায়ে গিলাফ পরান। আবার অনেকে দাবি করেন, প্রাক-ইসলামি যুগে ইয়েমেনের শাসক তৃতীয় তুব্বা এই ঐতিহ্যের সূচনা করেন।
বেশির ভাগ ইতিহাসবিদ তৃতীয় তুব্বাকেই এই সম্মান দেন। তিনি কেন এ কাজ করলেন? এটাও একটা দারুণ মজার ঘটনা।
কাবাঘরকে ধ্বংস করে এর ধন-সম্পদ আত্মসাৎ করার চেষ্টা অনেক ইয়েমেনি শাসকই করেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় তুব্বারাও পিছিয়ে ছিলেন না। প্রথম তুব্বা সৈন্যসামন্ত নিয়ে কাবাঘর ধ্বংস করতে গিয়ে নিজেই শেষ হয়ে গিয়েছিলেন। এরপর দ্বিতীয় তুব্বাও একই পরিণতির মুখে পড়েন।
তাদের পর আসেন তৃতীয় তুব্বা। তাকে তুব্বা আসআদ আবু কারাব আল হোমায়রিও বলা হয়। তিনি কাবাঘরকে ধ্বংস করতে গিয়ে প্রচ- ঝড়ের মুখে পড়েন। তারপরও অভিযান অব্যাহত রাখতে চান। কিন্তু তখনই মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হন। তার সাথে থাকা যাজক এবং অন্যরা এটাকে আল্লাহর গজব হিসেবে অভিহিত করে। তারা অভিযান থেকে সরে যাওয়া এবং কাবাঘরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে তাদের শাসকের প্রতি আবেদন জানান। তুব্বাও তা মেনে নেন। তিনিও সুস্থ হন। এতে কাবাঘরের প্রতি তার শ্রদ্ধাবোধ বেড়ে যায়। তিনি কাবাঘর সম্মানের সাথে তাওয়াফ এবং ঐতিহ্য মেনে মাথা পর্যন্ত মু-ন করেন। ওই সময় তিনি সবচেয়ে উন্নতমানের ও মূল্যবান কাপড় সংগ্রহ করে কাবাঘরের গিলাফ তৈরি করেন।
এর মাধ্যমেই কাবাঘরের গিলাফ তৈরির সূচনা হয় বলে বেশির ভাগ গবেষক মনে করেন। অবশ্য গিলাফ তৈরি ও পরানোর কাজটি নানা বিবর্তনের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে। বর্তমানে এ জন্য আলাদা একটা বিভাগও প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র
মক্কা শরীফের ইতিকথা : এন এম সিরাজুল ইসলাম
উইকিপিডিয়া।
ওয়েবসাইটস।

জ্যানেট জ্যাকসন এখন মুসলিম!

মার্কিন গায়িকা জ্যানেট জ্যাকসন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে। দক্ষিণ আফ্রিকার সংবাদমাধ্যম টাইমস লাইভে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে মুসলমান ধনকুবেরর এ স্ত্রী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। ২০১২ সালে কাতারের মুসলমান শিল্পপতি ওয়াসাম আল মানাকে বিয়ে করেন তিনি। গুঞ্জন উঠেছে, ৪০ বছর বয়সী মানাকে বিয়ের পরই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন জ্যানেট।
আর এরপর থেকেই কনসার্টে খোলামেলা পোশাক পরিধান এবং যৌন আবেদনময় ভঙ্গিতে নাচাও কমিয়ে দিয়েছেন তিনি। এক সূত্র বলছে, নতুন ধর্মের মধ্যে জ্যানেট যেন আপনঘর খুঁজে পেয়েছেন। তিনি এরই মধ্যে তার পরিবার ও বন্ধুদের জানিয়েছেন, তারা সবাই জ্যানেটের সিদ্ধান্তকে সম্মান করেছেন। সূত্রটি আরও বলছে, জ্যানেট অনেকটা সময় ধরে ইসলাম এবং অনুসারীদের নিয়ে পড়াশোনায় ব্যয় করেছেন।

মায়েরা খোলামেলা পোশাক পরলে সন্তান বহিষ্কার!

লন্ডনের একটি ইহুদি স্কুলে মায়েরা খোলামেলা পোশাক পরলে সন্তানদের বহিষ্কারের হুমকি দেয়া হয়েছে। উত্তর লন্ডনে অর্থডক্স ইহুদিদের ইয়েসদি হাতোরাহ মাধ্যমিক স্কুল কর্তৃপক্ষ সন্তানকে ভর্তির আগে এ সংক্রান্ত একটি কাগজে অভিভাবকদের বাধ্যতামূলক স্বাক্ষর নিয়েছে বলে ব্রিটিশ দৈনিক ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানিয়েছেন, স্কুলটিতে চার থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের ভর্তি নেয়া শুরু হয়। ভর্তি আবেদনের সঙ্গে অভিভাবকদের কাছে আরেকটি আবেদপত্র সংযুক্ত করে পাঠানো হয়েছে। এতে সন্তানদের স্কুল থেকে আনা-নেয়ার সময় মায়েরা কোন ধরনের পোশাক পরতে পারবেন এবং কোনগুলো পরতে পারবেন না,
সে সংক্রান্ত বিবরণ দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মায়েরা যেসব ব্লাউজ, সুয়েটার অথবা অন্য জামা পরবেন সেগুলো অবশ্য গলার কাছাকাছি পর্যন্ত ঢেকে রাখে এমন হতে হবে। কাঁধ, মেরুদণ্ড ও দেহের নিুাংশ অবশ্যই ঢেকে রাখতে হবে। সন্তানদের পোশাকের ক্ষেত্রেও একই ধরনের বিধি-নিষেধ জারি করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। ওই আবেদন অভিভাবকদের বাধ্যতামূলকভাবে স্বাক্ষর দিতে বলা হয়েছে। যদি কোনো অভিভাবক এই পোশাকবিধি অমান্য করেন, তাহলে তার সন্তানকে ওই স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই অভিভাবক বলেন, ‘তারা স্কুলের বাইরে সন্তানদের নিতে আসা লোকজনের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করছে। যদি কোনো মাকে রাস্তায় খোলা চুলে হাঁটতে দেখা যায়, তাহলে সে ও তার সন্তান একদিনও টিকতে পারবে না।’ তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। স্কুলটির মুখপাত্র জানিয়েছেন, যদিও তাদের স্কুলে কঠোর পোশাকবিধি রয়েছে, তারপরও এ বিধি অমান্য করলে কাউকে বহিষ্কার করা হবে- এ ধরনের কোনো কিছু কখনোই বলা হয়নি।

ইউরোপের সব পথ বন্ধ

একে একে বন্ধ হয়ে গেল ইউরোপের সব পথ। কোনো দেশই আর শরণার্থীদের ঢুকতে দিচ্ছে না। সীমান্ত থেকে সীমান্তে ছুটে বেড়াচ্ছে দেশান্তরী মানুষ। ঠাঁই মিলছে না কোথাও। ইতালি-গ্রিস-মেসিডোনিয়া-সার্বিয়া-হাঙ্গেরি-ক্রোয়েশিয়া-জার্মানি-ফ্রান্স- কেউই আর শরণার্থী নিতে রাজি নয়। ফলে আশ্রয়ের আশায় ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টারত হাজার হাজার দেশান্তরী মানুষ এখন এক দেশের সীমান্ত থেকে অন্য দেশের সীমান্তে ছুটে বেড়াচ্ছে। ক্রোয়েশিয়া এখন হাজার হাজার শরণার্থীকে স্লোভেনিয়া আর হাঙ্গেরির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অন্যদিকে হাঙ্গেরি তাদের ঠেলে দিচ্ছে অস্ট্রিয়ার দিকে। ক্রোয়েশিয়া তাদের দেশে প্রবেশ করা শরণার্থীদের বাস ও ট্রেনে করে হাঙ্গেরির উদ্দেশে পাঠিয়ে দেয়া শুরু করেছে। কোনো ধরনের রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই এসব শরণার্থীদের পাঠাচ্ছে ক্রোয়েশিয়া। এ নিয়ে হাঙ্গেরি ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে হাঙ্গেরির পুলিশ ও সৈন্যরা শরণার্থীদের নামিয়ে অন্য বাসে উঠিয়ে দিচ্ছে বলেও জানা গেছে। ক্রোয়েশিয়া জানায়, বুধবার থেকে প্রায় ১৭ হাজারেরও বেশি শরণার্থী প্রবেশের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় তারা এমনটা করতে বাধ্য হচ্ছে। হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার সিজারতো বলেছেন, ক্রোয়েশিয়া আন্তর্জাতিক আইন লংঘন করছে। তিনি বলেছেন, ক্রোয়েশিয়া অভিবাসনপ্রত্যাশী এসব মানুষের উপকার করার বদলে তাদের দলে দলে অন্য দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে, যা কোনোভাবে মেনে নেয়া যায় না। এদের কোনো রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে না। এক দেশ থেকে অন্য দেশে চলে যাচ্ছে। তাদের তো আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে মিল রেখে সীমান্ত প্রক্রিয়া চালানো উচিত। বাসে করে শরণার্থীদের তারা আরেক জায়গায় পাঠাচ্ছে এটা তো নীতিমালার বিরোধী। একই সময় ক্রোয়েশিয়ার এক পুলিশ বলে যে হাঙ্গেরির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে একটি চুক্তি রয়েছে। যেটি সত্য নয় বলে জানাচ্ছে হাঙ্গেরি। ক্রোয়েশিয়া সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ ৪১ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতার বসিয়েছে হাঙ্গেরি।
ইউরোপের উত্তরাঞ্চলে ঢোকার চেষ্টা শরণার্থীদের : ক্রোয়েশিয়ায় আটকেপড়া শরণার্থীরা নতুন করে ইউরোপের উত্তরাঞ্চলের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছে। স্লোভেনিয়া ও হাঙ্গেরি তাদের ফিরিয়ে দেয়ার পদক্ষেপ নেয়া সত্ত্বেও তারা এ চেষ্টা চালাচ্ছে। ক্রোয়েশিয়া থেকে সীমান্ত পাড়ি দেয়ার চেষ্টাকারী একদল শরণার্থীকে ছত্রভঙ্গ করতে শুক্রবার রাতে পেপার স্প্রে ব্যবহার করে স্লোভেনিয়া পুলিশ। এদিকে নিবন্ধন ছাড়াই শরণার্থীদের সীমান্তের দিকে ঠেলে দেয়ার পর ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লংঘনের অভিযোগ করেছে হাঙ্গেরি। শরণার্থী সংকট নিয়ে বিভক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) আগামী সপ্তাহে এ নিয়ে জরুরি বৈঠক করবে। বলকান হয়ে ইউরোপের উত্তরাঞ্চলের দেশগুলোতে যাওয়ার চেষ্টাকারী হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী রেলস্টেশন ও রাস্তার পাশে ঘুমিয়ে রাত কাটিয়েছে। অন্যদিকে, কয়েকশ’ লোক তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের এদিরনের কাছে একটি বড় সড়কে রাত কাটিয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় তুরস্কের পুলিশ তাদের সীমান্ত পাড়ি দিয়ে গ্রিসে ঢুকতে বাধা দেয়। পুলিশি নিয়ন্ত্রণ কঠোর হওয়ার কারণে অনেক শরণার্থী মূল সড়ক ছেড়ে শস্য ক্ষেতের মধ্য দিয়ে হেঁটে সীমান্তে পৌঁছাচ্ছে। শরণার্থী সংকটকে কেন্দ্র করে ইইউভুক্ত ২৮টি দেশের মধ্যে ইতিমধ্যে মতভেদ ঘটেছে এবং শরণার্থীদের স্বেচ্ছা ভিত্তিতে ভাগাভাগি করে নেয়ার ইইউ’র প্রস্তাবে সাড়া দেয়ার বিষয়টি ঝুলে আছে। চলতি বছরে এ পর্যন্ত রেকর্ডসংখ্যক চার লাখ ৭৩ হাজার ৮৮৭ জন শরণার্থী ভূমধ্যসাগর পার হয়ে ইউরোপে প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা। নিরাপদ ও উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপে আসা এসব শরণার্থীদের অধিকাংশই গৃহযুদ্ধকবলিত সিরিয়ার নাগরিক। পশ্চিম ও উত্তর ইউরোপের ধনী দেশগুলো, বিশেষভাবে জার্মানিতে পৌঁছানোর জন্য এসব শরণার্থী ইউরোপের বলকান উপদ্বীপের ভেতর দিয়ে হেঁটে রওনা হয়। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে পশ্চিম ইউরোপের পথে ধেয়ে আসা শরণার্থীদের সবচেয়ে বড় এ সে াতকে কীভাবে সামলানো হবে তার কোনো একক নীতি নির্ধারণ করতে পারেনি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
সীমান্ত থেকে সীমান্তে ছুটছে দেশান্তরীরা হ শরণার্থীদের পাশের দেশে ঠেলছে ক্রোয়েশিয়া
১৩০০০
সার্বিয়া-হাঙ্গেরি সীমান্তে দু’দিনে ১৩ হাজার শরণার্থী ঢুকেছে ক্রোয়েশিয়ায়
১,০৬,০০০
ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ১ লাখ ৬ হাজার শরণার্থী ইতালি পৌঁছেছে
১,৬০,০০০
১ লাখ ৬০ হাজার শরণার্থীকে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে কোটা বণ্টন প্রস্তাব
২,১৩,২০০
চলতি বছরের এপ্রিল-জুন ইউরোপে ২ লাখ ১৩ হাজার জন আশ্রয় প্রার্থনা করেছে
৫,০০,০০০
অন্তত ৫ লাখ শরণার্থী চলতি বছর ইউরোপীয় সীমান্ত পাড়ি দিয়েছে
১০,০০,০০০
জার্মানিতেই চলতি বছর ১০ লাখ শরণার্থী প্রবেশ করবে।
ঢুকেছে ৮ লাখ

ক্রিমিয়ার মদ ছোঁয়ায় পুতিন বার্লুসকোনির বিরুদ্ধে মামলা

ক্রিমিয়ার ২৪০ বছরের পুরনো মদের বোতল খোলায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিন ও ইতালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ধনকুবের সিলভিও বার্লুসিকোনির বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউক্রেন। গত সপ্তাহে ক্রিমিয়া সফরে গিয়ে সেখানকার সরকারি ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে সংরক্ষিত ম্যাসান্দ্রা মদের বোতল খোলেন তারা। ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া রাশিয়ার অধিভুক্ত হওয়ার আগে ম্যাসান্দ্রা ইউক্রেন সরকারের সম্পত্তি ছিল।
বিবিসি জানায়, ম্যাসান্দ্রার রুশপন্থী পরিচালক ইয়েলিনা পাভলেনকো তার অতিথিদ্বয়ের জন্য ‘১৭৭৫ জেরেজ দেলা ফ্রন্টেরা’ নামের মদের বোতল খুলে স্বাদ আস্বাদন করতে দেন। পরিচালকের বিরুদ্ধে আÍসাতের অভিযোগ আনবে কিয়েভ। ইউক্রেনের সরকারি কৌশলীর মুখপাত্র নাজার খোলোদনিতস্কি বলছেন, ওই মদের বোতলের দাম কমপক্ষে ৯০ হাজার ডলার। এই মদ কেবল ম্যাসেন্দ্রা কিংবা ক্রিমিয়ার সম্পত্তি নয়, ইউক্রেনের সমগ্র জনগণের ঐতিহ্যগত সম্পদ। সম্প্রতি রুশ টেলিভিশনের এক ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ক্রিমিয়া সফরে গিয়ে পুতিন-বার্লুসকোনি ম্যাসেন্দ্রা বোতল হাতে নিয়েছেন। বার্লুসকোনি বলছেন, ‘এটা কি পান করা সম্ভব?’ ম্যাসেন্দ্রার পরিচালক বলছেন ‘হ্যাঁ’। বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্রিমিয়া এখন সম্পূর্ণ রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকায় ইউক্রেনের এ কাজে কোনো লাভ হবে না।

কাতার বিশ্বের ধনীতম দেশ...

বাংলাদেশী মুদ্রায় দিনে ২০ হাজার টাকার বেশি রোজগার করেন একজন কাতারবাসী। সারা মাসে যে আয় বেশিরভাগ বাংলাদেশী করে উঠতে পারেন না, একদিনে সেই টাকা রোজগার করেন কাতারের মানুষ। ফোর্বস পত্রিকার হিসেবে বিশ্বের ধনী দেশের তালিকায় এখন এক নম্বরে কাতার। মাথা পিছু আয়কে সূচক ধরে এই হিসেব করা হয়েছে। সাধারণভাবে মনে করা হয়, যে দেশের মাথা পিছু আয় যত বেশি, সে দেশের স্বচ্ছ্বলতাও তত বেশি। জনসংখ্যা ও দেশের আয়-ব্যয়ের পরিমাণ হিসেব করে বিশ্বের ১০টি ধনী দেশের তালিকা তৈরি করেছে ফোর্বস।
বর্তমানে বিশ্বের প্রথম ১০টি ধনী দেশ হল -
১. কাতার: জনসংখ্যা ২০ লক্ষের সামান্য বেশি। এই দেশটিই বর্তমানে পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে ধনী। জিডিপি ২০০ বিলিয়ন ডলার। মধ্যপ্রাচ্যের উপদ্বীপ কাতারের অর্থনীতি জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীল। দেশটির রপ্তানি থেকে আয়ের ৮৫ শতাংশই আসে পেট্রোলিয়াম রপ্তানি করে।
২ লুক্সেমবুর্গ: ইউরোপের সবচেয়ে উন্নত দেশগুলোর অন্যতম লুক্সেমবুর্গকে বলা হয় 'tax heaven' বা 'করের স্বর্গ'। বিশ্বের অন্যান্য দেশের ধনকুবের ব্যবসায়ীরা নিজে দেশের উচ্চ কর হার এড়াতে তাই বসবাসের জন্য বেছে নেন লুক্সেমবুর্গকে। দেশটির বর্তমান মাথাপিছু আয় ৫৩,৬৬,২০২ টাকা।
৩ সিঙ্গাপুর: ৬৩টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত দ্বীপরাষ্ট্র সিঙ্গাপুরের জনসংখ্যা মাত্র ৫৫ লাখ আর মাথাপিছু আয় ৩৭,৩৪,৪৫৯ টাকা। এশিয়ার দেশগুলোর পারস্পরিক ব্যবসা-বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে সিঙ্গাপুর। তেমন কোনও প্রাকৃতিক সম্পদ না থাকলেও ব্যবসা-বাণিজ্য করেই বর্তমানে এই অবস্থানে এসেছে দেশটি।
৪ নরওয়ে: মাত্র ৫০ লাখ জনসংখ্যার নরওয়ের আয়ের অন্যতম উৎস প্রাকৃতিক গ্যাস ও বিশাল তেল ভাণ্ডার। বিশ্বব্যাপী টেলিযোগাযোগ ব্যবসাতেও নরওয়ে বেশ সফল। বিপুল প্রাচুর্যের পাশাপাশি বসবাসের জন্য সারা বিশ্বে সবচেয়ে নিরাপদ দেশ হিসেবে পরিচিত নরওয়ে। দেশটির মাথাপিছু আয় ৩৪,২২,৫৬২ টাকা।
৫. ব্রুনেই: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম ধনী দেশ ব্রুনেই দার এস সালামের মাথাপিছু বার্ষিক আয় ৩১,৮৩,৭১৬ টাকা। অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস দেশটির আয়ের প্রধান উৎস। দেশটির জিডিপি-র ৯০ শতাংশের জোগান দেয় পেট্রোলিয়াম রপ্তানি করে আয়। পাঁচ লাখের কম জনসংখ্যার দেশটি বিশ্বে সবচেয়ে কম জনবহুল দেশগুলোর একটি।
৬. সংযুক্ত আরব আমিরশাহী: সাতটি স্বাধীন প্রদেশের সমন্বয়ে গঠিত বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। দেশটির বার্ষিক মাথাপিছু আয় ৩১,২৪,৮২৮ টাকা। প্রাকৃতিক গ্যাস, জ্বালানি তেল ও খেজুরের মতো প্রচলিত পণ্য রপ্তানির পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণেও ভালো অবস্থানে আছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী।
৭. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র: প্রাকৃতিক ও রাজনৈতিক নানা কারণে অর্থনীতি এখন কিছুটা বিপর্যস্ত বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটির আয়ের সিংহভাগ আসে উচ্চ প্রযুক্তি, অস্ত্র রপ্তানি থেকে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় উৎপাদক রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাথাপিছু আয় ৩০,৮৬,৬৮৯ টাকা।
৮. হংকং: জিডিপির হিসাবে বিশ্বের পঞ্চম ধনী দেশের তালিকায় স্থান পেয়েছে হংকং। এশিয়া সহ সারা বিশ্বের বিনিয়োগকারীদের কাছেই পছন্দের দেশ হংকং। এশিয়ার অন্যতম ব্যয়বহুল দেশ হংকংয়ের মাথাপিছু আয় ৩০,২৬,৩৫১ টাকা।
৯. সুইজারল্যান্ড: ইউরোপের অন্যতম ধনী দেশ সুইজারল্যান্ডের আয়ের উৎস বৈচিত্র্যপূর্ণ। দেশটির বর্তমান মাথাপিছু আয় ২৭,৬৩,২৬৫ টাকা। কৃষি, পর্যটন, ব্যাংকিং, ঘড়ি, চকলেট—আয়ের উৎসের অভাব নেই সুইজারল্যান্ডের। সারা বিশ্বের ধনীদের টাকা জমানোর জন্য সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত দেশ হলো সুইজারল্যান্ড।
১০. নেদারল্যান্ড: প্রাকৃতিক গ্যাসে সমৃদ্ধ এই দেশটি প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি করে তার আয়ের সিংহভাগ উপার্জন করে। নেদারল্যান্ডের মাথাপিছু আয় ২৬,৯৮,৯০৯ টাকা।

লোমহর্ষক যত খুন

বাড়ছে খুন। পাল্টাচ্ছে খুনের ধরনও। প্রতিটি খুনের ঘটনাই নির্মম। একটি নির্মম ঘটনা ছাড়িয়ে যাচ্ছে অন্যটিকে। এক কথায় লোমহর্ষক। শুনলেই গা শিউরে ওঠে। হত্যার পর পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে লাশ। উপড়ে ফেলা হচ্ছে চোখ। কেটে দেয়া হচ্ছে হাত-পায়ের রগও। শ্বাসরোধ থেকে শুরু করে জনসম্মুখে পিটিয়ে হত্যা বা ছুরিকাঘাতে খুন এখন সাধারণ বিষয়। জীবন্ত মানুষকে হাত-পা বেঁধে ফেলে দেয়া হচ্ছে পানিতে। যেখানে-সেখানে মিলছে লাশ, ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ। হত্যার পর টুকরা টুকরা করা হচ্ছে লাশ। পাওয়া যাচ্ছে লাশের খণ্ডিত অংশ। গলা কেটে হত্যার ঘটনা বাড়ছে দিনকে দিন। নৃশংস এসব ঘটনার শিকার হচ্ছে শিশুরাও। হত্যার পর সুটকেসবন্দি করে রাখা হচ্ছে লাশ। লাশ পাওয়া যাচ্ছে ট্রাভেল ব্যাগেও। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের মানবিক অনুভূতি দিন দিন লোপ পাচ্ছে। মানুষের মনে দানা বাঁধছে হিংস্রতা। তাই হত্যার পরও জিঘাংসা মেটাতে লাশ কেটে টুকরা টুকরা করা হচ্ছে। নৈতিক অবক্ষয়ের চূড়ান্ত একটি পর্যায়ে পৌঁছে গেছে মানুষ। সামান্য ঘটনাতেই একে-অপরকে খুন করতে দ্বিধা করছে না। দীর্ঘদিনের প্রিয় স্বজনই হয়ে উঠছে ঘাতক। স্বামী খুন করছেন স্ত্রীকে, স্ত্রী স্বামীকে, বাবা-মা খুন করছেন নিজের সন্তানকে, সন্তানের হাতেও খুন হতে হচ্ছে বাবা-মাকে। ভাইয়ের হাতে খুন হচ্ছে ভাই, আত্মীয়ের হাতে খুন হচ্ছেন আত্মীয়। পারিবারিক ও তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করেও বাড়ছে নৃশংস খুনের ঘটনা। এছাড়া শত্রুতা বা চুরি-ডাকাতি-ছিনতাইয়ের ঘটনাতেও খুন করা হচ্ছে। সমাজ বিজ্ঞানাীরা বলছেন, সামাজিক অস্থিরতা, পারিবারিক বন্ধন ছিন্ন হওয়া ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের কারণে এসব ঘটনা ঘটছে। কমে যাচ্ছে মানুষের নৈতিক মূল্যবোধ। চিড় ধরেছে সামাজিক বন্ধনেও। ভোগবাদী হয়ে উঠছে মানুষ। কমছে মানুষের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধাবোধ। এ কারণে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে একে-অপরকে নৃশংস খুন করতে দ্বিধা করছে না। একই সঙ্গে বিচারহীনতার সংস্কৃতিও এ ধরনের হত্যাকাণ্ড বাড়ার নেপথ্যে কাজ করছে। বেশির ভাগ ঘটনাই ঘটছে যৌতুক, পরকীয়া, দাম্পত্য সমস্যা, পারিবারিক কলহ, জমিজমা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে।
পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী সাম্প্রতিক সময়ে সারাদশে রাজনৈতিক কারণে খুনোখুনির ঘটনা কমলেও সামাজিক অস্থিরতার কারণে খুনের ঘটনা বাড়ছে। গত ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এ পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার ৯৭৫ জন খুন হয়েছেন। শুধু চলতি বছরেই আগস্ট পর্যন্ত ৮ মাসে সারা দেশে ২ হাজার ৭৭৭টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ সদর দপ্তরে এই পরিসংখ্যা পর্যালোনা করলেও খুন বাড়ছে বলে প্রতীয়মান হয়। ২০১০ সালে যেখানে বছরে খুনের সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৯৮৮টি। আর ২০১৪ সালে সেই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৫১৪টিতে। এই হিসাব অনুযায়ী প্রতিদিন গড়ে ১২-১৩ জন খুন হচ্ছে। তবে প্রকৃত খুনের ঘটনা আরও বেশি। অজ্ঞাত লাশ হিসেবে উদ্ধার হওয়া অনেক ঘটনা বা পারিবারিক কলহের জের ধরে খুনের ঘটনাগুলি আত্মহত্যা বলে চালানো হয়। একারণে এসব ঘটনা খুনের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হয় না। এছাড়া প্রায় প্রতিদিনই সারা দেশের রেলপথ থেকে একাধিক লাশ উদ্ধার করা হয়। আপাতদৃষ্টিতে এসব ঘটনাকে দুর্ঘটনা হিসেবে বলা হলেও খুনিরা অনেক সময় হত্যার পর লাশ রেললাইনে ফেলে রাখে। পরে সেগুলোকে দুর্ঘটনা হিসেবে চালানো হয়। পুলিশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সামাজিক ও পারিবারিক অস্থিরতার কারণে খুনের ঘটনা বাড়ছে। তবে সন্ত্রাসী ও দুর্বৃত্তদের আগে থেকেই ঠেকানো গেলেও সামাজিক ও পারিবারিক কলহের জের ধরে খুন বন্ধ করা সম্ভব নয়। এজন্য সামগ্রিকভাবে সচেতনতা বাড়াতে হবে। এজন্য পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশজুড়ে নৃশংস খুনের সংখ্যা বাড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ছে। আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমেই এসব ঠেকানো সম্ভব। এজন্য আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে হবে। খুন করে কেউ যেন পার পেয়ে যেতে না পারে এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। তবে ঢাকার আদালতের হত্যা মামলার রায় পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ১৯৯৯ সাল থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ২৬৯টি হত্যা মামলার রায় হয়েছে। এর মধ্যে ৫১টি মামলার আসামিদের সাজা দেয়া হয়েছে। বাকি ২১৮ টি হত্যা মামলার আসামিরা খালাস পেয়ে গেছে। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খুন করে কেউ পার পেয়ে গেলে তা সমাজে অপরাধ করতে উৎসাহ দেয়। অনেক সময় দেখা যায় খুনের ঘটনার পর দায়ি ব্যক্তিরা রাজনৈতিক প্রভাব, ক্ষমতা আর অর্থ দিয়ে ‘ম্যানেজে’র মাধ্যমে পার পেয়ে যাচ্ছে। এতে অন্যরা উৎসাহিত হয়। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে জোর দিয়েছেন। মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ ও পুলিশ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, মানুষের মানবিক মূল্যবোধ কমে গেছে। সমাজ অস্থির হওয়ার কারণে মানুষের মনেও অস্থিরতা বিরাজ করে। একারণে সমাজে অপরাধ বেড়ে যায়। মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নেয়। তিনি বলেন, একমাত্র আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমেই অপরাধ কমানো সম্ভব। শুধু অপরাধ করলে পার পাওয়া যায় না এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেই অপরাধ অনেকাংশে কমে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
২৪ ঘণ্টায় ৫টি নৃশংস ঘটনা: গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানী ঢাকা, দিনাজপুর, খুলনা, কসবা ও জয়পুরহাটে পৃথক ৫টি নৃশংস খুনের ঘটনা ঘটেছে। রাজধানীর কদমতলী এলাকায় সোহেল নামে এক যুবককে কুপিয়ে ও মাথায় গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। দিনাজপুরে এক যুবককে হত্যার পর পেট্রোল ঢেলে লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। জয়পুরহাটে এক ওষুধ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। কসবায় ছেলেকে বেঁধে রেখে মায়ের গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। খুলনায় ডাকাতিতে বাধা দেয়ায় এক ব্যাংক কর্মকর্তা ও তার বৃদ্ধ পিতাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
দিনাজপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, শহরের রামনগর এলাকায় মোখলেসুর রহমান ধলা (২৭) নামে এক যুবককে হত্যার পর পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এলাকাবাসীর তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল সকাল ১১টায় রামনগর মাঠের এক পাশে জঙ্গলের পরিত্যক্ত এলাকা থেকে ওই যুবকের লাশটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম খালেকুজ্জামান জানান, নিহত যুবক রামনগর এলাকার মোহাম্মদ দুলু মিয়ার ছেলে। মোখলেসুর রামনগর মোড়ে পান-সিগারেটের দোকান করতো। কে বা কারা শুক্রবার রাতের কোন এক সময় তাকে হত্যার পর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে পেট্রোল ঢেলে লাশটি পোড়ানোর চেষ্টা করে। এতে লাশের মুখ ও হাতের কিছু অংশ ঝলসে গেছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।
জয়পুরহাট প্রতিনিধি জানান, শহরের সবুজনগরে তরিকুল ইসলাম (২৮) নামের এক ওষুধ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তার বাসার অদুরে শহরের পাঁচুরচক সড়কের পাশের একটি জমি থেকে আজ সকালে পুলিশ তার মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। তরিকুল ইসলাম  সবুজ নগর এলাকার আবদুল কুদ্দুসের ছেলে। জয়পুরহাট সদর থানার ওসি তদন্ত সিরাজুল ইসলাম জানান, শহরের পদ্মা ক্লিনিক সংলগ্ন ফার্মেসির মালিক তরিকুল ইসলামকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যার পর মৃতদেহ পাঁচুর চক সড়কের একটি পরিত্যক্ত নার্সারীর পাশে ফেলে যায়। সকালে স্থানীয়রা দেখে খবর দিলে পুলিশ তার মৃতদেহ উদ্ধার করে। পরে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠায়। এ ব্যাপারে জয়পুরহাট সদর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি জানান, উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর আমতলী গ্রামে গত শুক্রবার গভীর রাতে ছেলেকে বেঁধে রেখে তার সামনেই মাকে হাত-পা বেঁধে জবাই করে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় ওই নারীর কান থেকে স্বর্ণের দুল ও নগদ টাকা লুট করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল সকালে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্বার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আবুল খায়ের বাদী হয়ে এজহারে দুইজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো চারজনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। নিহত গৃহবধূও নাম রেজিয়া বেগম (৪০)। তিনি গোপীনাথপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর আমতলী গ্রামের শাহ্‌ আলম ভূঁইয়ার স্ত্রী। রেজিয়া বেগমের দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জননী ছিলেন। তাঁর দুই মেয়ে স্বামীর বাড়িতে থাকেন। বড় ছেলে ঢাকায় এবং স্বামী সিলেটে একটি বেকারিতে কাজ করেন। ছোট ছেলে মাসুক মিয়াকে নিয়ে বাড়িতে থাকেন রেজিয়া বেগম। পুলিশ ও নিহতে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো গত শুক্রবার রাতে রেজিয়া বেগম ও তার ছোট ছেলে মাসুক মিয়া (১২)কে নিয়ে ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে ছয়-সাতজনের একটি দুর্বৃত্ত দল মাটির দেয়ালের কাঠের দরজার নিচ দিয়ে মাটি খুঁড়ে ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় ছেলেকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে দুর্বৃত্তরা। তার সামনেই তার মাকেও হাত-পা বেঁধে ফেলে। এক পর্যায়ে তার মাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় ঘরে থাকা আলমারী ও আসবাবপত্র তছনছ করে ফেলে। দুর্বৃত্তরা রেজিয়া বেগমের কান থেকে স্বর্ণের দুল ও গরু বিক্রির ২৫ হাজার টাকা লুট করে নেয়। একপর্যায়ে মাসুক বাঁধন খুলে দৌড়ে ঘর থেকে বের হয়ে যায়। সে দৌড়ে তার নানা বাড়িতে গিয়ে চিৎকার করে তার মাকে খুন করার কথা বলতে থাকেন। এ সময় তার নানার বাড়ির ও আশে-পাশের লোকজন দৌড়ে এসে রেজিয়া বেগমকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় গলায় জবাই করা দেখতে পায়।  খবর পেয়ে রাতেই কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের লাশ উদ্ধার করেন। কসবা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মজিবুর রহমান বলেন; গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে রেখে জবাই করে খুন করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে- এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে জানান, ডাকাতিতে বাধা দেয়ায় এক্সিম ব্যাংকের খুলনা শাখার ক্যাশ কর্মকর্তা পারভীন সুলতানাকে (২৫)  ও  তার বৃদ্ধ পিতা ইলিয়াস হোসেন (৭০)কে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে পুলিশ খুলনার লবণচরা থানার বুড়ো মৌলভীর দরগার পেছনে ৩নং রোডের একটি টিনশেড বাড়ির সেপটি ট্যাঙ্ক থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করেছে। পুলিশের ধারণা, ডাকাতি ও মেয়েকে ধর্ষণের পর দু’জনকেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মালামাল লুট করেছে ডাকাতরা। লাশের ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত ব্যাংক কর্মকর্তার ভাই রেজাউল আলম চৌধুরী বলেন, ঢাকা থেকে বড় বোন মোবাইলে জানান, পারভীন এবং বাবার মোবাইল ফোন দীর্ঘক্ষণ ধরে বন্ধ। তিনি দ্রুত বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিতে বলেন। পরে তিনি দ্রুত বাড়িতে গিয়ে দরজায় তালা মারা দেখেন। রেজাউল বলেন. আমি এবং আবু সাইদ নামে একজন তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করি। এ সময় ঘরের সব আসবাবপত্র এলোমেলো এবং ব্যাংকের চেকবই ছড়ানো ছিটানো অবস্থায় দেখতে পাই। পওে সেপটিক ট্যাঙ্কে বাবা ও বোনের লাশ পড়ে থাকতে দেখি। তাদেরকে সেখান থেকে উদ্ধার করে বুঝতে পারি, দুজনই মৃত। তিনি জানান, তার বোন পারভীন সুলতানার একবছর আগে বিয়ে হয়েছে। তার স্বামীও একই ব্যাংকে ঢাকায় কর্মরত। তার বাবা এখানে তিন বছর আগে টিনশেডের বাড়ি তৈরি করেছেন। তবে তিনি (রেজাউল) শহরে ইজিবাইক চালান বলে অন্যত্র থাকেন। লবণচরা থানার ওসি মোশাররফ হোসেন জানান, রাত সাড়ে ১২টায় একদল সংঘবদ্ধ ডাকাত বৃদ্ধ ইলিয়াস হোসেনের বাড়িতে ডাকাতির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করে। এ সময় বাড়ির সদস্যরা টের পেয়ে চিৎকার করলে তারা প্রথমে তাকে এবং তার মেয়ে পারভীনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এ সময় ডাকাতরা ঘরের মালামাল লুট ও আসবাবপত্র তছনছ করে। তিনি বলেন, লাশ দু’টির গলায় শ্বাসরোধের চিহ্ন রয়েছে। ঘাতকরা নিহতদের পরিচিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডাকাতি করার সময় চিনে ফেলায় তাদের হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তিনি আরও জানান, বাসার বাইরে থেকে রক্তমাখা একটি রামদা উদ্ধার করা হয়েছে। ঘরের ভেতরে সিগারেটের টুকরো ও একটি কনডম পাওয়া গেছে, যা আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তা পারভীন সুলতানার লাশ বিবস্ত্র অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। লবণচরা থানার এসআই রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ ও আলামত সংগ্রহ করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনাটি শুধু ডাকাতি, না-কি এর পেছনে অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল-তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে, ডাকাতদের হাতে জোড়া হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশ এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে পারভীনের মৃত্যুর খবর শুনে ঢাকায় কর্মরত স্বামী আশিকুর রহমান খুলনায় আসেন। আশিকুর রহমান জানান, তিনি ঢাকার একটি ট্রাভেলস এজেন্সিতে কাজ করেন।  সেখানেই থাকেন তিনি। ইচ্ছা ছিল পারভীনকে বদলি করে সেখানে নিয়ে যাবেন। এজন্য তিনি ঢাকায় বাসাও দেখছিলেন। তিনি আরও জানান, অক্টোবরের ৭ তারিখ তাদের প্রথম বিবাহ বার্ষিকী। এজন্য তাদের দু’জনের অনেক পরিকল্পনাও ছিল। শুক্রবার বিকালে পারভীনের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছে। পরে আর তার ফোন খোলা পাননি বলে কেঁদে  ফেলেন আশিকুর রহমান। নিহত ইলিয়াস হোসেন চৌধুরীর বড়  মেয়ে নার্গিস আহমেদ সাথী বলেন, বুড়ো মৌলভীর দরগার পেছনে ৩নং রোডের এ টিনশেড বাড়িটি আমার। এখানে বাবা ও পারভীন তিন বছর ধরে থাকতো।
সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা: গত শুক্রবার বণিক বার্তা নামে একটি জাতীয় পত্রিকার সহকারী ব্যবস্থাপকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে স্যুটকেসের ভেতর থেকে। ঘটনার দুই দিন আগে জাহাঙ্গীর আলম নামে এই বিজ্ঞাপন কর্মকর্তাকে অপহরণ করা হয়। পরে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ গুমের জন্য স্যুটকেসে রাখা হয়। একদিন আগে বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জের জামতলায় ধোপাপট্টিতে বাসায় ঢুকে সোনালী দাস নামে দশ বছরের এক শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ১৪ই সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে সুমাইয়া নামে এক তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ১০ই সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জ সদরের যশোদল ইউনিয়নের আমটি শিবপুর এলাকায় শামীম মিয়া নামে এক অটোরিকশা চালককে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। মাদক সেবনে বাধা দেয়া দুর্বৃত্তরা তার হাত-পা ও মুখ বেধে গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। একই দিনে মানিকগঞ্জের মনির নামে এক  কলেজছাত্রকে অপহরণের পর হাত-পা বেধে জীবন্ত অবস্থায় পানিতে ফেলে হত্যা করা হয়। এর কয়েকদিন আগে একই কায়দায় সাভারের মুন্না নামে অপর এক কলেজছাত্রকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ৪ঠা সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে মাজারের ভেতর রহমত উল্লাহ ও আবদুল কাদের নামে দু’জনকে জবাই করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ১৩ই আগস্ট মাদারীপুরে হ্যাপী ও সুমাইয়া নামে দুই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়।

সড়ক মেরামতের ৩৫০ কোটি টাকা গেল কোথায়? by আহমেদ জামাল

মেগাসিটি ঢাকার রূপ যেন বদলে গেছে। যেন খানাখন্দ আর গর্তের শহর। ঘর থেকে পা বাড়ালেই গর্ত। দক্ষিণের যাত্রাবাড়ী থেকে উত্তরে উত্তরা, পূর্বে বাসাবো থেকে পশ্চিমে গাবতলী সর্বত্রই একই অবস্থা। অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়ি তার ওপর মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে রাস্তার কার্পেটিং, পাথরকুচি, ইট উঠে গিয়ে নাজুক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যানবাহন চলতে গিয়ে রাস্তার মাঝখানে বিকল হয়ে পড়ছে। যখন তখন ঘটছে দুর্ঘটনা। সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। অথচ গত অর্থ বছরে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার রাস্তা মেরামতের জন্য বরাদ্দ ছিল প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা। এবারও দুই অংশ মিলে বরাদ্দ দেয়া আছে ৩৬৬ কোটি টাকা। বছর বছর বিপুল পরিমাণ টাকা ব্যয়ের পর রাজধানীর রাস্তাঘাটের তেমন কোন উন্নতি দৃশ্যমান নয়। প্রশ্ন উঠেছে রাজধানীর রাস্তাঘাটের উন্নয়নের এত টাকা গেল কোথায়। ভুক্তভোগীদের মতে, নগরবাসীকে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি, বিড়ম্বনা ও কষ্টকে সঙ্গী করেই রাস্তায় নামতে হচ্ছে। নাগরিকের এই ভোগান্তির শেষ কোথায়? গত কয়েকদিনে রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান, বনানী, বারিধারা, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, কুড়িল, বাড্ডা, রামপুরা, মালিবাগ, মগবাজার, খিলগাঁও, বাসাবো, মুগদাপাড়া, মানিকনগর, যাত্রাবাড়ী, পুরান ঢাকার বিভিন্ন রাস্তা, মতিঝিল, শাহজাহানপুর, শাহবাগ, এলিফ্যান্ট রোড, হাতিরপুল, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও মিরপুরের বিভিন্ন রাস্তাঘাট সরজমিনে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভাঙাচুরা রাস্তাঘাট মেরামতের জন্য গত অর্থ বছরে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। এই টাকার মধ্যে উত্তরের জন্য প্রায় ১৫০ কোটি আর দক্ষিণের জন্য প্রায় ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। উত্তর সিটি তাদের বরাদ্দকৃত টাকার প্রায় ১২৫  কোটি আর দক্ষিণ সিটি তাদের বরাদ্দকৃত টাকার চেয়েও বেশি টাকা খরচ করেছে। তবুও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের রাস্তা এখন স্মরণকালের ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন ভুক্তভোগীরা। এ প্রসঙ্গে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান বলেন, বৃষ্টির পানি জমার কারণে রাস্তাঘাটের ক্ষতি হয়েছে বেশি। আমরা জরুরি ভিত্তিতে গর্ত মেরামত করার চেষ্টা করছি। প্রতিদিন আমাদের কর্মীরা বিটুমিন আর পাথর মিশিয়ে রাজধানীর রাস্তাঘাটের গর্ত ভরাট করে চলাচলের উপযোগী রাখার চেষ্টা করছে। তবে স্থায়ীভাবে মেরামতের ব্যাপারে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে সে ব্যাপারে মেয়র ভাল বলতে পারবেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আর্থিক সংকট প্রকট। মেয়র এই সংকট কাটিয়ে উঠার আপ্রাণ চেষ্টা করে চলেছেন। ওদিকে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী নুরুল আমিন বলেন, এ সিটি করপোরেশনের রাস্তাঘাটের উন্নয়নে আড়াই শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যথা শিগগির কাজ শুরুর চেষ্টা চলছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে আশাকরি অল্প সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করা যাবে। ওদিকে এই সিটির প্রথম সারির ঠিকাদার আলতাফ হোসেন দুলাল বলেন, রাস্তাঘাট উন্নয়নে ইতিপূর্বে ঠিকাদারদের কমপক্ষে ২০০ কোটি টাকা বকেয়া পড়ে আছে। বকেয়া টাকা না পেলে ঠিকাদাররা কাজ করবেন কি দিয়ে। তিনি বলেন, ব্যাংক লোন নিয়ে আমরা কাজ করেছি। কিন্তু এখন  ব্যাংকের দেনা শোধ করতে পারছি না। দেনার দায়ে সিটি করপোরেশন হিমশিম খাচ্ছে। প্রসঙ্গত, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিদায়ী দুই প্রশাসকের বিরুদ্ধে ২০০ কোটি টাকা অনিয়মের অভিযোগ উঠে।  এতে বলা হয় কাজ না করে বিল নেয়া, রাস্তা ঠিক থাকলেও খারাপ দেখিয়ে প্রকল্প নেয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। এতে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ঠিকাদারদের বিল প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা বকেয়া পড়ে থাকে। প্রশাসক ও প্রকৌশলীদের অনেকেই আগাম প্রকল্প নিয়ে দরপত্র আহ্বান এবং কার্যাদেশ দিয়ে অগ্রিম কমিশন নিয়েছেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির গত ১৬ই জুনের বৈঠকে এসব অনিয়ম নিয়ে আলোচনা হয়। কমিটি অনিয়ম তদন্তের জন্য মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করে। ১৬ই জুনের বৈঠকে সভাপত্বি করেন কমিটির সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ। 
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে রাস্তা রয়েছে প্রায় ২১১৯.৭৪৯ কিলোমিটার। এর মধ্যে উত্তরে আছে ১৩৩৭.৯১৩ কিলোমিটার এবং দক্ষিণে ৭৮১.৮৩৬ কিলোমিটার। ঢাকায় বড় বড় যানবাহন চলাচল করতে পারে এমন প্রধান সড়ক (প্রাইমারি, সেকেন্ডারি ও সংযোগ) রয়েছে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণের বড় সড়ক ১৫৮ কিলোমিটার। বাকি প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার রাস্তা সরু-সংকীর্ণ। ঢাকার ২১১৯ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে কমপক্ষে ১০০০ কিলোমিটার রাস্তার অবস্থা খুবই শোচনীয়। এই খারাপ রাস্তাগুলোর বেশির ভাগই ঢাকা দক্ষিণে পড়েছে। তবে প্রধান সড়কগুলোর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের পথ গণভবন থেকে সংসদ ভবন হয়ে ফার্মগেট, কাওরান বাজার, শাহবাগ হাইকোর্ট হয়ে আবদুল গনি রোডের অবস্থা ভাল রয়েছে।
সূত্র জানায়, ঢাকা সিটি করপোরেশন দক্ষিণের ‘মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের’ নিচের রাস্তা সংস্কার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নের নামে ইতিমধ্যে ৭৯ কোটি টাকা খরচ হয়ে গেছে। সংস্কার করা হয়েছে কেবল কাগজে-কলমে। বর্তমান রাস্তার অবস্থা খুবই শোচনীয়। আবার এই রাস্তা সংস্কারের নামে চাওয়া হয়েছে ২০ কোটি টাকা। গত বর্ষা মওসুমে হানিফ ফ্লাইওভারের নিচের ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা সংস্কারের নামে ৭২ কোটি টাকা খরচ করা হয়। রাস্তার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য খরচ করা হয় ৭ কোটি টাকা। এই উন্নয়ন খরচ ঠিকাদারকে সম্পূর্ণ পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু রাস্তার যে ভয়ঙ্কর দশা ছিল তা-ই আছে। বৃষ্টিতে পানি জমে রাস্তার বিভিন্ন অংশে গর্ত সৃষ্টি করে রাস্তাকে বিপজ্জনক করে তুলেছে। রাস্তার এমন বিপজ্জনক অবস্থা যে ফ্লাইওভারের নিচের রাস্তা দিয়ে কোন প্রাইভেটকার চলাচল করতে পারে না। বড় বড় যানবাহন বিশেষ করে বাস ও ট্রাক চলাচল করলেও আচমকা গর্তের মুখে পড়তে হয়। গাড়িগুলো রাস্তার ডিভাইডারের সঙ্গে ধাক্কা খায়। কখনও কখনও রাস্তার মাঝেই গাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি এ রাস্তার অবস্থা দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। সরজমিনে দেখা গেছে, শান্তিনগর-মালিবাগ মোড়ের সড়কের পূর্ব পাশের অংশটিতে বেশ কয়েকটি বড়বড় গর্ত রয়েছে। বৃষ্টি হলেই গর্তসহ পুরো সড়কটি তলিয়ে যায়। পানি জমে থাকলে অনেকেই গর্তের গভীরতা বুঝে উঠতে পারেন না। ফলে হরহামেশাই এসব গর্তে পড়ে নাস্তানাবুদ হতে হচ্ছে পথচারীসহ গাড়ি চালকদের। যদিও গাড়িগুলো যাতে খাদে না পড়ে সে জন্য বেশ কিছু গর্তে গাছের ডাল কিংবা বাঁশ দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। শুধু শান্তিনগরের এই সড়কটিই নয়, রাজধানীর মহাখালী, নাবিস্কো, সাতরাস্তা, এফডিসি মোড়, মগবাজার, মৌচাক, মালিবাগ ও কাকরাইল সড়কের অধিকাংশ স্থানের একই অবস্থা। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব রাস্তায় তৈরি হয়েছে ছোট বড় বহু গর্ত। বর্ষার পানি আর গাড়ির চাকার ঘর্ষণে এসব গর্ত সৃষ্টি হচ্ছে। তা ছাড়া ওয়াসা, বিদ্যুৎ, তিতাস গ্যাস ও টেলিফোন বিভাগসহ নানা উন্নয়ন সংস্থার অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়ির কারণেই এ দুর্ভোগ চরমে ওঠে। মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ চলায় এ এলাকার সড়কগুলোর অবস্থা খুবই বেহাল। বিশেষ করে মগবাজার, ইস্কাটন, এফডিসির সামনের সড়ক, সাতরাস্তার মোড় ও এর আশপাশের রাস্তার অবস্থা খুবই করুণ। রাস্তার বেহালদশার কারণে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হচ্ছে যানবাহনগুলোকে। রাস্তার ওপর যখন-তখন বিকল হয়ে পড়ছে গাড়ি। মগবাজার থেকে সাতরাস্তার মোড়ের দিকে ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ চলায় এখানকার রাস্তায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে বৃষ্টি না হলেও নির্মাণ কাজের  পানি জমে কাদামাটিতে একাকার হয়ে পড়ে পুরো এলাকা। সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পরও গাড়ির চাকা ঘুরানো সম্ভব হয় না। তা ছাড়া একটু গতিতে গাড়ি ছাড়লেই রাস্তার ময়লা-কাদাপানি গিয়ে পড়ে পথচারীদের গায়ে। এ বিষয়ে ডিএসসিসির মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, ওয়াসার উদাসীনতার কারণেই সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যাচ্ছে। মূলত জলাবদ্ধতার কারণে সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা এরই মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো মেরামত করার জন্য তালিকা তৈরি করেছি। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অধিক ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো মেরামত করা হবে। এর আগে একাধিকবার মগবাজার মৌচাক-মালিবাগ সড়কটি পরিদর্শন করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি সড়ক মেরামতের জন্য একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এখনও বিদ্যমান পুরনো সেই দুর্ভোগ। ওদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নতুন অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কামরাঙ্গীরচর এলাকা। প্রায় এক বছর হয়ে গেলেও এখনও কামরাঙ্গীরচরের রাস্তা সংস্কারে হাত দেয়নি সিটি করপোরেশন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পূর্ব আগারগাঁওয়ের রাস্তায় বড় বড় গর্ত হয়ে আছে। মিরপুর-১০ থেকে ১৪ নম্বর সেকশন পর্যন্ত সড়কটি সম্প্রতি প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে মেরামত করা হলেও সড়কটির দুই পাশে পাইপলাইন বসাতে বড় বড় গর্ত করে ঢাকা ওয়াসা। এসব গর্তের কারণে সড়কটির আশপাশে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীরা মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক বলেন, নগরীতে ২ লাখ যান চলাচলের সক্ষমতা রয়েছে। অথচ চলাচল করছে ১০ থেকে ১১ লাখ গাড়ি। এতে স্বাভাবিক কারণে রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মেরামত কাজও টেকসই হচ্ছে না। এর বাইরে আছে বিভিন্ন সংস্থার উন্নয়ন কাজের সমন্বয়হীনতা। তিনি বলেন, রাজধানীর বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে রাস্তার সক্ষমতা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সমন্বয়, পানি নিষ্কাশনের বিষয়গুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় আনতে হবে।

টাঙ্গাইলে হত্যাকান্ড: সাত পুলিশকে প্রত্যাহার, দুটি তদন্ত কমিটি

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে পুলিশের গুলিতে তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনায় গতকাল শনিবার পুলিশের সাত সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনা তদন্তে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।
গত শুক্রবারের ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা দেওয়ায় এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়েছে। গতকাল কালিহাতী থানায় মামলা করেছেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোশারফ হোসেন। এতে আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাতনামা ২০০-৩০০ লোককে। আর ঘাটাইল থানায় অজ্ঞাত ৫০০-৬০০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন এসআই মোনসেফ আলী।
টাঙ্গাইলের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার সঞ্জয় সরকার গত সন্ধ্যায় জানান, বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি ছোড়ার অভিযোগে পুলিশের সাত সদস্যকে জেলা পুলিশ লাইনসে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এঁরা হলেন কালিহাতী থানার এসআই আবুল বাশার ও সলিমউদ্দিন, কনস্টেবল জিয়াউল হক ও আমিরুল ইসলাম এবং ঘাটাইল থানার এসআই মোনসেফ আলী, কনস্টেবল হারুন অর রশিদ ও লিয়াকত আলী।
গতকাল কালিহাতীতে গিয়ে সকালের দিকে দোকানপাট কিছু বন্ধ থাকতে দেখা গেলেও দুপুরের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহন চলাচলও ছিল স্বাভাবিক। উপজেলা সদরের উপজেলা পরিষদ, হামিদপুর সেতু, বাসস্ট্যান্ড, সাতুটিয়া মোড়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন ছিল। র্যাবের টহলও চোখে পড়ে।
টাঙ্গাইলে ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল দুপুরে ফারুক হোসেন, শামীম হোসেন ও শ্যামলচন্দ্র দাসের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ময়নাতদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, গুলিবিদ্ধ হওয়ার কারণেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। লাশগুলো বিকেলে তাঁদের নিজ নিজ গ্রামে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারি শুরু হয়। উত্তর সালেঙ্কা গ্রামে নিহত শামীমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছেলের লাশ দেখে বৃদ্ধ মা মূর্ছা যাচ্ছেন। শামীমের শিশুছেলে বাঁধনের কান্না দেখে এলাকার মানুষও চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি। শামীমের মামা বেলাল হোসেন বলেন, ‘পুলিশ পাখির মতো গুলি করে হত্যা করেছে। আমরা এ হত্যার বিচার চাই।’
গতকাল বিকেলে পুলিশের ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার জিল্লার রহমান, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি এস এম মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান, অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আলী, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. মাহবুব হোসেন, ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার সঞ্জয় সরকার কালিহাতীতে যান। তাঁরা স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠক শেষে জিল্লার রহমান সাংবাদিকদের বলেন, গুলি চালানো কতটা যৌক্তিক ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিআইজি মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান বলেন, কালিহাতীর এ ঘটনা কেন ঘটল, কারা ঘটিয়েছে, পুলিশের ওপর আক্রমণ হয়েছিল কি না, পুলিশ কেন গুলি চালিয়েছে ইত্যাদি বিষয় তদন্তের জন্য ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজিকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. মাহবুব হোসেন জানান, ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সরোয়ার হোসেনকে। নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।
পুলিশের গুলিতে তিনজন নিহত হওয়ার প্রতিবাদে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের পক্ষ থেকে গতকাল বিকেলে কালিহাতীর বেতডোবা স্কুল মাঠে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘যেভাবে গুলি করে মানুষ হত্যা করা হয়েছে, তাতে পুলিশের নয়, সরকারের অপসারণ চাই। সরকার ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়ে ফেলেছে।’
কালিহাতী উপজেলার সাতুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ওরফে রোমার স্ত্রীর সঙ্গে পার্শ্ববর্তী ঘাটাইল উপজেলার আঠারদানা গ্রামের এক তরুণের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কয়েক মাস আগে ওই তরুণের সঙ্গে চলে যান রফিকুলের স্ত্রী। পরে পারিবারিক বৈঠকের মাধ্যমে স্ত্রীকে রফিকুলের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। গত সপ্তাহে রফিকুলের স্ত্রী আবারও ওই তরুণের কাছে চলে যান। পরে গত মঙ্গলবার রফিকুল ওই ছেলে ও তাঁর মাকে সাতুটিয়ায় ডেকে আনেন এবং বিবস্ত্র করে তাঁদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। এ ঘটনার পর ছেলেটির মা কালিহাতী থানায় মামলা করেন। পুলিশ রফিকুল ও তাঁর ভগ্নিপতি হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। মা-ছেলেকে নির্যাতনের ঘটনার প্রতিবাদে কালিহাতী ও ঘাটাইলের মানুষ গত শুক্রবার কালিহাতী উপজেলা সদরে বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশ গুলি চালায়। এতে তিনজন নিহত হন।

২২ লাখ টাকার ষাঁড় দেখতে তারা মিয়ার বাড়িতে প্রচণ্ড ভিড় by মোহাম্মদ হাসান ফয়জী

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার তারা মিয়ার ২২ লাখ টাকার ষাঁড় দেখতে ভিড় বাড়ছেই। প্রতিদিন উৎসুক মানুষ সাটুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে তারা মিয়ার বাড়িতে আসছে ষাঁড় দেখতে। আর দেখে বলছেন, এর আগে এত বড় ষাঁড় সাটুরিয়ার কোনো গ্রামে দেখা যায়নি। জানা যায়, উপজেলার বালিয়াটী গ্রামের তারা মিয়া পেশায় মুরগি ব্যবসায়ী, শখের বশে ষাঁড় বাছুর পালেন। গেল কোরবানির ঈদেই তার ষাঁড় বাছুরটির ৩ লাখ টাকা দাম উঠে, কাঙ্ক্ষিত দাম না উঠাতে রাগ করে সেটি আবার পালতে থাকেন, তখন থেকেই গড়ে প্রতিদিন ৩০০ টাকার খাবার খাওয়াতে থাকেন, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে, সাধারণ খাবার, কুড়া, ভুষি, ছোলা ও খড় এবং ঘাস খাইয়ে পালেন। এছাড়া প্রতিদিন বিকালে  ষাঁড়টিকে ৩০ মিনিট হাঁটাতেন। তখনই মানুষ জড় হয়ে যেত একনজরে ষাঁড়টি দেখতে।
শনিবার তারা মিয়ার বাড়িতে গেলে দেখা যায়, শতাধিক নারী-পুরুষ ও বাচ্চার ভিড়। কথা হয় তারা মিয়ার সাথে। তিনি জানান, এ ষাঁড়টি ৩ বছর ৬ মাস ধরে পেলেছেন, ষাঁড়টি ৯ ফুট লম্বা, বেড়ে ৮ ফুট, গোশত হবে ২২ মন। তারা মিয়া ও তার স্ত্রী আলেয়া বেগম এর লালনপালন করেছেন।
তারা মিয়া আরো জানান, গত বছর ৩ লাখ টাকা দাম উঠেছিল, তাই রাগ করে বিক্রি করিনি, এ বছর শুক্রবার পর্যন্ত ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাম বলেছেন স্থানীয় গরু ব্যবসায়ীরা। এবারও তিনি বলেন, কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলে এ বছরও বিক্রি করবেন না, এখন ওজন আছে ২২ মন, প্রয়োজনে ৩৫ মন ওজন করব। তিনি বলেন, ২২ লাখ টাকা দাম চাচ্ছি, তবে বাড়ি থেকে বিক্রি করতে পারলে দাম কিছু কমাতে পারেন। স্থানীয় গরু ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের বাকি আছে মাত্র কয়েক দিন, উপজেলার বালিয়াটীর তারা মিয়ার ষাঁড়টির আনুমানিক দাম ১৫ লাখ টাকার বেশি যাবে না, তবে ঢাকার কোনো হাটে নিয়ে গেলে এর বেশি যেতে পারে, কেননা ষাঁড়টি কোনো প্রকার ওষুধ ছাড়াই সম্পূর্ণ ঐতিহ্যবাহী ও প্রাকৃতিকভাবে লালনপালন করা হয়েছে। যে সব গরুকে মোটাতাজাকরণ ওষুধ দেয়া হয়, সে গরুকে কিছুক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখলে হাঁপিয়ে উঠে, হা করে দম নিতে থাকে, কিন্তু তারা মিয়ার গরুকে কয়েক ঘন্টা দাঁড়া করিয়ে রাখলেও হাঁপিয়ে উঠে না।

হাঙ্গেরি–ক্রোয়েশিয়া তীব্র বাদানুবাদ

রাস্তা বন্ধ করে দাঁড়িয়ে গেছে পুলিশ। তাদের সামনে
অসহায় ছোট্ট শরণার্থী শিশুটি। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে
শত শত সিরীয় শরণার্থী পৌঁছেছে গ্রিসের সীমান্তবর্তী
তুরস্কের এডির্নে শহরের কাছে। সেখানে মহাসড়ক
বন্ধ করে তাদের পথ আটকে দিয়েছে
তুরস্কের পুলিশ। গতকালের ছবি l রয়টার্স
হাজারো শরণার্থীকে জায়গা দেওয়ার প্রশ্নে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোর মধ্যে মতভেদ ও পারস্পরিক অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে। প্রতিবেশী দুই দেশ হাঙ্গেরি ও ক্রোয়েশিয়া এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছে। আর আশ্রয়ের খোঁজে ইউরোপমুখী জনস্রোত থামেনি এখনো। খবর বিবিসির।
সীমান্তে শরণার্থীদের পাঠানো অব্যাহত রেখে তাদের জায়গা দিতে হাঙ্গেরিকে বাধ্য করা হবে বলে গতকাল শনিবার মন্তব্য করেছেন ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী জোরান মিলানোভিচ। তাঁর এ বক্তব্যকে ‘দুঃখজনক’ আখ্যা দিয়েছে হাঙ্গেরি। দেশটির ‘সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন’ করেছে ক্রোয়েশিয়া—এমন অভিযোগ করেছেন হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেতার সিয়েইয়ার্তো। তিনি আরও বলেন, ‘ক্রোয়েশিয়ার সরকার নিজ জনগণ ও হাঙ্গেরীয় নাগরিক এবং ইইউর প্রতি অনবরত মিথ্যাচার করে চলেছে। এটা কী ধরনের ইউরোপীয় সংহতি?’
ক্রোয়েশিয়ায় গত বুধবার থেকে এ পর্যন্ত ২০ হাজারের বেশি শরণার্থী প্রবেশ করেছে বলে দেশটির সরকার জানিয়েছে। আর হাঙ্গেরি বলছে, গত শুক্রবার দেশটিতে প্রায় আট হাজার শরণার্থী প্রবেশ করেছে। ক্রোয়েশিয়া থেকে একের পর এক বাসভর্তি হয়ে এসব শরণার্থী হাঙ্গেরির সীমান্তে পৌঁছায়। ক্রোয়েশিয়ার উদ্যোগে কয়েকটি বাস এসব শরণার্থীকে হাঙ্গেরির ভেতরে নিয়ে যায়। গতকালও এ জনস্রোত অব্যাহত ছিল। বুদাপেস্টের অভিযোগ, শরণার্থীদের নিবন্ধন না করে আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করেছে ক্রোয়েশিয়া। দেশটির আচরণে স্লোভেনিয়াও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
হাঙ্গেরির মারমুখী আচরণের পর শরণার্থীদের দায় এড়াতে ক্রোয়েশিয়া যে অবস্থান নিয়েছে, তাতে চলমান সংকট মোকাবিলার কৌশল নির্ধারণের ব্যাপারে ইইউর নীতিনির্ধারকেরা আবারও বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছেন। ক্রোয়েশিয়া প্রথমে সীমান্ত খুলে দিয়ে শরণার্থীদের তাদের ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে যাওয়ার জন্য স্বাগত জানিয়েছিল। কিন্তু একপর্যায়ে দেশটি সীমান্ত বন্ধ করে দিয়ে যুক্তি দেখায়, এত বেশি মানুষকে ঢুকতে দেওয়ার সুযোগ নেই।
হাঙ্গেরির পুলিশ শরণার্থীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস, মরিচের গুঁড়া ও পানি ছুড়ে তাদের তাড়িয়ে দিয়েছে। স্লোভেনিয়ার পুলিশও একদল শরণার্থীকে লক্ষ্য করে মরিচের গুঁড়া নিক্ষেপ করেছে। ইতিমধ্যে হাঙ্গেরিতে প্রবেশকারী শরণার্থীরা দলে দলে অস্ট্রিয়ার দিকে যাচ্ছে। এপির খবরে বলা হয়, গতকাল কয়েক হাজার শরণার্থী অস্ট্রিয়ায় প্রবেশ করেছে। দেশটিও এখন সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে। অস্ট্রিয়ার পুলিশ জানায়, শুক্রবার থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার ৭০০ মানুষ দেশটিতে ঢুকেছে।
মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে পালিয়ে ইউরোপে প্রবেশকারী শরণার্থীদের অনেকে জার্মানি বা সুইডেনে যেতে চায়। কিন্তু তুলনামূলক সমৃদ্ধ অর্থনীতির এ দুই দেশ চায়, ইইউর সদস্য রাষ্ট্রগুলো ‘সংহতি’ দেখিয়ে শরণার্থীদের জায়গা দেওয়ার দায় ভাগ করে নিক।
প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার শরণার্থীকে কীভাবে বিভিন্ন দেশে নির্দিষ্ট সংখ্যায় ভাগ করে জায়গা দেওয়া যায়—তা নির্ধারণের লক্ষ্যে ইইউর নেতারা আগামী বুধবার ব্রাসেলসে আলোচনায় বসবেন। তার আগের দিন দেশগুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক হবে।
এএফপি জানায়, সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীরা ইউরোপে যাওয়ার পরিবর্তে প্রতিবেশী দেশগুলোতে যেতে পারে। এ ব্যাপারে তাদের উৎসাহিত করার পরিকল্পনার কথা গতকাল জানিয়েছেন ইইউর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জোহানেস হানস।
এদিকে ইতালির কোস্টগার্ড জানায়, লিবিয়া উপকূলের কাছে আটটি উদ্ধার অভিযান চালিয়ে কমপক্ষে ২ হাজার ২০০ জনকে সাগর থেকে তুলে আনা হয়েছে। আরও ১০টি নৌযানের খোঁজে ভূমধ্যসাগরে গতকাল তল্লাশি করা হয়।

‘ইনশাআল্লাহ্’ বলে ইতি টানলেন জ্যানেট জ্যাকসন

মার্কিন গায়িকা জ্যানেট জ্যাকসন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন বলে শোনা যাচ্ছে। ২০১২ সালে কাতারের মুসলমান শিল্পপতি ওয়াসাম আল মানাকে (৪০) বিয়ের পরই তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। আর এরপর থেকেই কনসার্টে খোলামেলা পোশাক পরিধান এবং যৌন আবেদনময় ভঙ্গিতে নাচাও কমিয়ে দিয়েছেন তিনি। এক সূত্র বলছে, নতুন ধর্মের মধ্যে জ্যানেট যেন আপন ঘর খুঁজে পেয়েছেন। তিনি এরই মধ্যে তার পরিবার ও বন্ধুদের জানিয়েছেন, তারা সবাই জ্যানেটের সিদ্ধান্তকে সম্মান করেছেন। এর আগে অবশ্য জ্যানেটও জানান, আমি গান ছাড়তে চাই যাতে আমি আমার স্বামীর সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনযাপন করতে পারি এবং মিডিয়া থেকে দূরে থাকতে পারি। জ্যানেট অনেকটা সময় ধরে ইসলাম এবং অনুসারীদের নিয়ে পড়াশোনায় ব্যয় করেছেন। অশালীন ভঙ্গীতে নাচ ও যৌনাবেদনময় গানের কথা এখন তার জন্য অতীতের বিষয়। বৃটিশ ট্যাবলয়েড দ্য সান বলছে, জ্যানেট তার সর্বশেষ ট্যুরের ইতি টানার সময় বলেন ‘ইনশাআল্লাহ্’। ২০০৮ সালে জ্যানেটের ভাই মাইকেল জ্যাকসন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন বলে দাবী করেছিল ট্যাবলয়েডটি।

দাবি আদায়ের জন্য ‘যৌথ মঞ্চে’ পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমরা

মমতা ব্যানার্জীর সরকারের ওপর খুশি নন
পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের অনেকেই
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অন্তত ২০টি মুসলিম সংগঠন আজ এক যৌথ মঞ্চ গড়ে তুলে মুসলমানদের দাবি আদায়ের প্রচেষ্টা শুরু করেছে।
মমতা ব্যানার্জীর নেতৃত্বাধীন সরকার মুসলমানদের দেয়া প্রতিশ্রুতির একাংশও পূর্ণ করতে পারেন নি - এই অভিযোগ তোলা হয়েছে ওই সংগঠনগুলোর এক সম্মেলন থেকে।
পরের বছরের বিধানসভা নির্বাচনে মুসলমানদের অর্থনৈতিক, শিক্ষা ও চাকরির সুবিধাসহ সামাজিক উন্নয়নের দাবিগুলো যে দল মেনে নেবে, তাদের পক্ষেই মুসলমানরা রায় দেবেন বলেও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে সম্মেলনে।
কলকাতায় যে ২০টি মুসলিম সংগঠন যৌথ মঞ্চ গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় অংশ নিয়েছিল, তারা বলছে যে রাজ্যের মুসলমানরা বহু সম্প্রদায়, রাজনৈতিক দল আর ছোট ছোট সংগঠনে বিভক্ত হয়ে থাকার ফলে সবসময়েই ক্ষমতাসীন দলগুলো সেই সুযোগ নিয়েছে। কোনো সরকারই মুসলমানদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বা শিক্ষা ও চাকরির সুবিধার দিকে নজর দেয়নি।
এই যৌথ মঞ্চের প্রধান হিসেবে সবাই মেনে নিয়েছেন রাজ্যের সবথেকে বড় ঈদের জমায়েত পরিচালনা করেন যে বর্ষীয়ান ইমাম, সেই ক্বারী ফজলুর রহমানকে।
ফজলুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, ‘বিভিন্ন ছোট সংগঠনে বিভক্ত হয়ে থাকার ফলে সরকারের কাছে আমাদের দাবিগুলো ঠিকমতো পৌঁছাচ্ছে না। সেজন্যই একজোট হয়ে যদি একটা বড় মঞ্চ আমরা গড়ে তুলতে পারি, তাহলে আমাদের দাবিগুলো নিয়ে আমরা সোচ্চার হতে পারব, সরকারের কাছে পৌঁছতে পারব।’
আজকের সম্মেলনে যারা যোগ দিতে এসেছিলেন, তাদের মধ্যে কোনো পরিচিত মুসলমান রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না। মুসলমানদের এলাকাভিত্তিক সংগঠন, ইমাম-মোয়াজ্জিনদের সংগঠন বা মাদরাসা সংগঠনগুলো যেমন আজকের সম্মেলনে এসেছিল, তেমনই ছিলেন অনেক মুসলমান অধ্যাপক, চিকিৎসক ও বুদ্ধিজীবিও।
এরকমই একটা সংগঠন, হাজি মুহম্মদ মহসীন মুসলিম উন্নয়ন সমিতির প্রধান বজলে রহমান বলছিলেন, মুসলমানদের জন্য একটা প্রেসার গ্রুপ তৈরি করাই তাদের উদ্দেশ্য।
‘আমরা সবাই মিলে একটা রাজনৈতিক সংগঠন গড়ব, এটা অবাস্তব ভাবনা। কিন্তু একটা অরাজনৈতিক প্রেশার গ্রুপ যদি আমরা তৈরি করতে পারি, যেটা বিশেষ কোনো দলের লেজুড়বৃত্তি করবে না তবে আমাদের দাবিগুলো তুলে ধরে জোরের সাথে বলতে পারবে যে, যারা আমাদের দাবি মানবেন, ভোট তাকেই দেব,’ বলছিলেন বজলে রহমান।
এই সম্মেলনের অন্যতম উদ্যোক্তা – অল বেঙ্গল মাইনরিটি ইয়ুথ ফেডারেশনের প্রধান, মুহম্মদ কামরুজ্জামানের কথায়, ‘যে দল আমাদের সাহায্য করবে, তাদেরকেই সমর্থন করব। কোনো সরকার যদি সংখ্যলঘু উন্নয়নের ক্ষেত্রে অনীহা দেখায়, অবজ্ঞা করে, তাদের উচিত শিক্ষা দেব গণতান্ত্রিক রায়ের মাধ্যমেই।’
এই সম্মেলনের যে দাবি সনদ তৈরি হয়েছে, তার জন্য রাজ্যের মুসলমানদের সমস্যাগুলো একটি সমীক্ষার মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে।
মুসলমানদের সার্বিক উন্নয়নের জন্য একটি সংখ্যালঘু উন্নয়ন পর্ষদ তৈরি করা, শিক্ষা আর চাকরির ক্ষেত্রে মুসলমানদের জন্য অন্যান্য পশ্চাদপদ জাতিগোষ্ঠীর অধীনে সংরক্ষণ, ওয়াকফ সম্পত্তির নয়ছয় বন্ধ, বেসরকারি মাদরাসাগুলোকে সহায়তার মতো দাবিগুলো রয়েছে। সূত্র : বিবিসি বাংলা

কালিহাতীতে চলছে শোকের মাতম, গুলির ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

নিহত শামীমের স্বজনদের আহাজারি
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে পুলিশের গুলিতে নিহত তিনজনের বাড়িতেই চলছে শোকের মাতম। ভারি হয়ে উঠেছে গোটা এলাকার পরিবেশ। সবার কথা একটাই- পুলিশ কেন গুলি করে নিরপরাধ মানুষগুলোকে মারল। এ ঘটনায় পুলিশের প্রতি তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাস্থল কালিহাতী ও হামিদপুরে পুলিশের টহল চলছে। থমথমে অবস্থায় বিরাজ করছে পুরো এলাকায়। পুলিশের খামখেয়ালীতেই এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। গুলির ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম রোমা ও তার ভগ্নিপতি হাফিজুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা এলাকায় ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত।
মা ও ছেলেকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেলে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ গুলি করলে তিনজন নিহত হন। নিহতরা হলেন- কালিহাতী পৌরএলাকার কুষ্টিয়া গ্রামের মৃত সানু শেখের ছেলে ফারুক হোসেন (৩০), কালিহাতী কামারপাড়ার রবি চন্দ্র দাসের ছেলে শ্যামল চন্দ্র দাস (১৮) ও ঘাটাইলের শালাঙ্কা গ্রামের শামীম (৩২)। শুক্রবার সন্ধ্যায় কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে ফারুক ও টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর শামীম এবং রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকায় নেয়ার পথে শ্যামল দাস মারা যান। নিহতদের লাশ টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
আজ বিকেলে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি এসএম মাহফুজুল হক নূরুজ্জামান ও অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আলীসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ডিআইজি সাংবাদিকদের জানান, ঘটনা তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, এই গুলির ঘটনায় যেসব পুলিশ সদস্যের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো মামলা করা হয়নি। নিহত ফারুক হোসেনের বোন শাহিনা আক্তার বলেন, যাদের কাছে মামলা করব তারাইতো গুলি কইরা আমার ভাইকে মারছে! তাইলে মামলা করবকার কাছে? নিহত অন্যদের স্বজনদের বক্তব্যও একই।
নিহতদের পারিবারিক সূত্র জানায়, ফারুক একটি রাইস মিলে কাজ করতেন। আগে অটো চালাতেন। শুক্রবার বিকেলে সে কালিহাতীতে চাউল কিনতে গিয়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। আর শ্যামল দাস কালিহাতী বাসস্ট্যান্ডে একটি স্যালুনের কর্মচারি ছিলেন। জনতা-পুলিশ সংঘর্ষের সময় তিনি দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হন। তারও মাথায় গুলি লাগে। অন্যদিকে শামীমের পেটে গুলি লেগে পেছন দিয়ে বেরিয়ে যায়। কিছুদিনের মধ্যে তার সৌদি আরব যাওয়ার কথা ছিল।

সামনে শীতকাল, তাই ফিরে আসছে মানবপাচারকারীরা

বাংলাদেশের মানবপাচারকারীরা আত্মগোপন অবস্থা থেকে আবারো ফিরে আসতে শুরু করেছে৷ সামনে শীতকাল, সাগর শান্ত থাকবে৷ আর এই অবস্থাতে ছোট ছোট নৌকায় মানবপাচার সুবিধাজনক৷ কক্সবাজারের টেকনাফ এলাকায় একেই বলা হয় ‘মানব পাচার মৌসুম৷
গত মে মাসে মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে পাচার হয়ে যাওয়াদের গণকবর আবিষ্কার হওয়ার পর, বাংলাদেশের পুলিশ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে গেছে৷ তারপর থেকে চারজন মানবপাচারকারী পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন৷ ওদিকে আটক করা হয়েছে কম-বেশি ৮০ জনকে৷ বাকিরাও দেশের অভ্যন্তরে বা দেশের বাইরে আত্মগোপন করেছে৷
পুলিশ জানায়, বাংলাদেশের শীর্ষ ১১ মানবপাচারকারীর একজন হলেন টেকনাফের দিল মোহাম্মদ৷ তিনিও মালয়েশিয়ায় পালিয়ে গিয়েছিলেন৷ তবে পাচার মৌসুমকে সামনে রেখে তিনি আবার টেকনাফে ফিরে এলে পুলিশ ১২ই সেপ্টেম্বর তাকে এবং তার এক সহযোগীকে টেকনাফ-এর শাহপরীর দ্বীপ থেকে আটক করে৷
দিল মোহাম্মদ আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী দলের সদস্য৷ তিনি মালয়েশিয়াও ‘ওয়ানটেড৷
টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত (ওসি) কবির হোসেন ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘পাচার মৌসুমকে সামনে রেখে আত্মগোপনকারী আরো পাচারকারী ফিরে আসছে বলে আমাদের কাছে খবর আছে৷ তাদের আটক করা জন্য আমরা অভিযান অব্যাহত রেখেছি৷
তাঁর কথায়, ‘‘শীতকালে শান্ত সাগরের সুবিধা নিয়ে যাতে আবার পাচারকারীরা সক্রিয় হতে না পারে, তার জন্য পুলিশ বিশেষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে৷
পাচার মৌসুমের ব্যখ্যাও দেন তিনি৷ বলেন, ‘‘সাধারণত গ্রীষ্ম এবং বর্ষাকালে সাগর উত্তাল থাকে৷ আর মানবপাচার করা হয় ছোট ছোট দেশি নৌকায়৷ ঝুঁকির কারণে তাই তখন নৌকায় মানবপাচার একরকম বন্ধ থাকে৷ হেমন্ত এবং শীতকালে সাগর শান্ত থাকে৷ তাই এই সময়ে সাগর পথে ছোট নৌকায় মানবপাচার বেড়ে যায়৷
প্রসঙ্গত, চাকরির কথা বলে পাচারকারীরা প্রধানত বাংলাদেশের টেকনাফ এবং শাহপরীর দ্বীপ এলাকা থেকে সাগর পথে মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে মানবপাচার করে৷ পরে তাদের আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায় করে পাচারকারীরা৷ এভাবে অনেকেই মৃত্যুর মুখে পতিত হন৷
জাতিসংঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর তথ্য মতে, ২০১৪ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে ৯৪ হাজার মানুষকে সমুদ্রপথে পাচার করা হয়৷ এছাড়া চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত এই সংখ্যা ৩১ হাজার৷
সূত্রঃ ডয়েচে ভেলে