Tuesday, November 18, 2014

৫ বছরে ১০৯৩ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ১৫২

রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক জানিয়েছেন, ২০০৯ সাল থেকে জুন ২০১৪ পর্যন্ত  মোট এক হাজার ৯৩টি রেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় আর্থিক তির পরিমাণ প্রায় ১৬ কোটি ৫৫ লাখ ৪৮ হাজার ৮৬৪ টাকা। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৫২জন। সংসদে  প্রশ্নোত্তর পর্বে  মঙ্গলবার এম আবদুল লতিফের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সংসদকে এ তথ্য জানান।
রেলপথ মন্ত্রী জানান, সমগ্র বাংলাদেশে রেলওয়েতে লাইনচ্যুতিসহ মেইন লাইন ও শাখা লাইনে ২০০৯-১০ সালে ৩০৮টি, ২০১০-১১ সালে ২২৪টি, ২০১১-১২ সালে ১৮২টি, ২০১২-১৩ সালে ১৭৬টি এবং ২০১৩-১৪ সালে মোট ২০৩টি দুর্ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৫২ জন এবং আহত হয়েছেন ৩৮৬ জন। এসব দুর্ঘটনায় আর্থিক তির পরিমাণ প্রায় ১৬ কোটি ৫৫ লাখ ৪৮ হাজার ৮৬৪ টাকা।
মো. ফরিদুল হক খানের এক প্রশ্নের জবাবে রেলপথ মন্ত্রী বলেন, রেললাইনের ভারবাহী ক্ষমতা আন্তর্জাতিক মানদন্ডে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ব্রডগেজ এবং ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ বা পুনর্বাসন কাজে ৬০ কেজি রেল ব্যবহার করার জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে সম্প্রতি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই সিদ্ধান্ত  বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
নিজাম উদ্দিন হাজারীর এক প্রশ্নের জবাবে মুজিবুল হক বলেন, ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে কমিউটার ট্রেন সার্ভিস চালু করার জন্য বর্তমান সরকারের গত মেয়াদে অর্থ্যাৎ ২০১৩ সালে সম্পূর্ণ সরকারি (জিওবি) অর্থায়নে চীন হতে বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২০ সেট এমজি ডিজেল ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিজ (ডেমু) সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় রুটে ডেমু ট্রেন চালু করা হয়েছে। এতে রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য জনবহুল শহরগুলোর যনজট অনেকাংশ হ্রাস পেয়েছে। ২০ সেট ডেমু সংগ্রহের জন্য মোট ৬৮৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।

শিক্ষক খুন কোনোভাবেই কাম্য নয় : রাষ্ট্রপতি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক একেএম শফিউল ইসলামের হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টন্তমূলক শাস্তি আহবান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, একজন জ্ঞানতাপস শিক্ষক এভাবে খুন হবেন তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। মঙ্গলবার দুপুর তিনটায় রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) চতুর্থ সমাবর্তনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, এই হত্যাকান্ডে গোটা জাতির সাথে আমিও গভীরভাবে ব্যথিত ও দুঃখিত। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একজন জ্ঞানতাপস শিক্ষক এভাবে খুন হবে তা কারোরই কাম্য নয়। আমি এ ঘটনার সাথে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টন্তমূলক সাজা দেওয়ার আহ্বান জানাই।’
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সভাপতিত্বে সমাবর্তনে সমাবর্তন বক্তা ছিলেন এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বাংলাদেশের বিশিষ্ট প্রকৌশলী ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী। সমাবতর্নে স্বাগত বক্তব্য দেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহা. রফিকুল আলম বেগ।
সভাপতির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, ‘উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্য হল জ্ঞান সঞ্চালন ও নতুন জ্ঞানের উদ্ধাবন এবং সেইসঙ্গে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিক্ষার পাশাপাশি সৃজনশীল কর্মকা-, মুক্ত বুদ্ধিচর্চা ও চিন্তার স্বাধীনতা বিকাশে অবদান রাখতে হবে। তাহলে শিক্ষার্থীরা নেতৃত্বের গুনাবলী অর্জনসহ বিজ্ঞানমনস্ক, অসাম্প্রদায়িক ও দুরদৃষ্টি সম্পন্ন নাগরিক হয়ে উঠতে পারবে।’
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্ব তথ্য প্রযুক্তির। এ বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ প্রকৌশলী সৃষ্টির কোনো বিকল্প নাই। আমাদের রয়েছে বিপুল মানবসম্পদ। এদের তথ্য-প্রযুক্তি জ্ঞানে দক্ষ করে তুলতে পারলেই তারা জাতির উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবে।
তিনি বলেন, ‘সরকার দেশের বিভিন্ন জেলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে যুগোপযোগী তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের লক্ষ্যে আইসিটি ইন অ্যাডুকেশন মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন করেছে। ফলে মাধ্যমিক স্তর থেকে শিক্ষার্থীরা তথ্য-পযুক্তি জ্ঞানে সমৃদ্ধ হচ্ছে।
সমাবর্তনের গ্রাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি বলেন, তোমরা আজ গ্রাজুয়েট, দেশের উচ্চতর মানবসম্পদ। আজকের এই সমাবর্তন একদিকে যেমন তোমাদের অর্জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিচ্ছে, তেমনি দায়িত্বও অর্পণ করছে। সে দায়িত্ব নিজের পরিবারের প্রতি, সমাজের প্রতি, সর্বোপরি দেশ ও জাতির প্রতি। তোমরা তোমাদের অর্জিত জ্ঞান, মেধা ও মনন দিয়ে দেশ মাতৃকার কল্যাণ করতে পারলে সে ঋণ কিছুটা হলেও শোধ হবে।
এর আগে দুপুর আড়াইটাই রাষ্ট্রপতি ও রুয়েটের আচার্য সমাবর্তন শোভাযাত্রা নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রবেশ করেন। রুয়েটের রেজিস্টার ড. মোশাররাফ হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অনুষদের ডিনবৃন্দ গ্রাজুয়েটদের উপস্থাপন করেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও আচার্য গ্রাজুয়েটদের ডিগ্রি প্রদান করেন।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অন্যারে‌্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, রাজশাহী ২ আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা, রাজশাহী ৩ আসনের সাংসদ আয়েনউদ্দিন, রাজশাহী ৫ আসনের সাংসদ আবদুল ওয়াদুদ দারা, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল খালেক, বর্তমান উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান প্রমুখ।
মানববন্ধন
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. এ কে এম শফিউল ইসলামকে নির্মমভাবে হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা ও হত্যা কারীদের দৃষ্টন্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও র‌্যালী করেছে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্যারিস রোডে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এদিকে শিক্ষক সমিতির অহ্বানে তৃতীয় দিনের মত কাস-পরীক্ষা বর্জন অব্যাহত ছিল।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি ওয়ারদাতুল আকমাম এর সভাপতিত্বে ও প্রফেসর জুলফিকার আলী ইসলামের পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর চৌধুরী সারওয়ার জাহান। তিনি বলেন, প্রফেসর শফিউলকে নির্মমভাবে  হত্যা করা হয়েছে। এর আগেও আরো দুইজন শিক্ষকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা আর এই ক্যাম্পাসে হত্যা দেখতে চাইনা। আমরা ক্যাম্পাসের ঘটিত সকল হত্যার সুষ্ঠ বিচার চাই। এসময় তিনি প্রফেসর শফিউলের বিদেহী আত্মার মাগফিরা কামনা ও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
মানববন্ধনে একত্তত্বা ঘোষণা করে বক্তব্য রাখেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর কামরুল হাসান মজুমদার। এছাড়া মানববন্ধনে বন্ধনে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোটের নেতৃবৃন্দ।
মানববন্ধন শেষে তারা একটি র‌্যালী নিয়ে ক্যম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে বিভাগের সামনে গিয়ে শেষ করে। এসময় বিভাগের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্তিত ছিলেন।
পরে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে বেলা ১২ টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল করেছে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

তোর চিকিৎসা হবে না, মামলা করতে পারিস by সোহেল রানা

হাসপাতালে তোর কোন চিকিৎসা হবে না, একবার মেয়ে নিয়ে চিকিৎসা দিতে এসে আমাদের লোকদের নামে মামলা করেছিস। এখন আবার তুই চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয়েছিস, আবার আমাদের নামে মামলা করতে পারিস। তাই তোকে আর চিকিৎসা দেয়া হবে না। এসব কথা বলে একজন ভর্তিকৃত রোগী শাহিদা খাতুন (৫২) নাম কেটে তাড়িয়ে দিয়েছে কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার বলে অভিযোগ করেন।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার সকালে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সোমবার রাতে বালিয়াকান্দি হাসপাতালে ভর্তি হন বালিয়াকান্দি ইউনিয়নের শালমারা গ্রামের ওয়াজেদ শেখের স্ত্রী শাহিদা খাতুন (৫২)।
হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় বেডে বসে আছে শাহিদা খাতুন (৫২)। জিজ্ঞাসা করতেই তিনি জানান, কন্যার ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য আদালতে মামলা দায়ের করে আমার স্বামী। সোমবার রাত ৮টার দিকে মামলার আসামীসহ লুৎফর, জয়নুদ্দিন, জাহাঙ্গীর, সামেলা, নাসিম, চুন্নু, মুন্নু বাড়ীতে এসে তার স্বামী মামলার বাদী ওয়াজেদ শেখকে খুজতে থাকে। তাকে না পেয়ে আগামী ৩দিনের মধ্যে দুটি মামলা তুলে আনতে ও ভিটে-বাড়ী থেকে পালিয়ে যেতে হুমকি প্রদান করে। প্রতিবাদ করায় তাকে মারপিট শুরু করে। শোর-চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। তাকে রাতেই বালিয়াকান্দি হাসপাতালে ভর্তি করে। মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালে কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডিউটিতে আসলে বিভিন্ন রকম কথা বলে নাম কেটে দিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করতে বলে।
শাহিদার স্বামী ওয়াজেদ শেখ জানান, ডাক্তার ও নার্সরা পরিকল্পিত ভাবে আমার কন্যার সন্তান হত্যা করে। বিষয়টি আদালতে মামলা দায়ের করলে ডাক্তার ক্ষিপ্ত হয়ে চিকিৎসা না দিয়ে হাসপাতাল থেকে নাম কেটে দিয়ে চলে যেতে বলে।
হাসপাতালের আরএমও ডাঃ জিয়াউল ইসলাম জানান, হাসপাতাল ছেড়ে চলে যেতে চাওয়ার কারণে শাহিদার নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। তবে বিভিন্ন কটু কথার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

রাবি শিক্ষক হত্যার মোটিভ নিয়ে ধোঁয়াশা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. একেএম শফিউল ইসলাম হত্যাকান্ডের মোটিভ নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। হত্যাকান্ডের ৭২ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও তা নিয়ে নির্দিষ্ট একটি ধারনায় দাঁড়াতে পারেনি পুলিশ। এদিকে হত্যাকান্ডের পর ওই শিক্ষকের বাসা থেকে এক ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ছাত্রী নিয়ে অনেকটা নিরব পুলিশ। আর ওই ছাত্রী নিয়ে খোদ বিশ্ববিদ্যালয়সহ নগরজুড়ে নতুন করে শুরু হয়ে কানাঘুসা। ওই ছাত্রীর কারণেও শিক্ষক হত্যা হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্র ধারণা করছে।
নিহত ওই শিক্ষকের প্রতিবেশী ও একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য মতে, শিক্ষক হত্যাকান্ডের আগের দিন শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই ছাত্রী শফিউল ইসলামের সঙ্গে দেখা করতে তার বাসায় আসেন। এ সময় ওই বাসায় শিক্ষক ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। এরপর শনিবার সকালে ওই ছাত্রীকে ঘরে রেখেই বাসায় তালা দিয়ে শফিউল ইসলাম বিভাগে যান। বিভাগের প্রয়োজনীয় কাজ শেষে দুপুর আড়াইটার দিকে মোটরসাইকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপকন্ঠে বাড়ির ১০০ গজ দূরে হামলার শিকার হন। পরে তাকে মেডিকেলে নেয়া হলে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, হত্যাকান্ডের পরপরই ডিবি পুলিশের সদস্যরা বাড়িটি ঘিরে ফেলে। বেশ কিছুক্ষণ পর তারা ওই বাড়িতে তালা ভেঙে তল্লাশি চালিয়ে বাড়ির একটি কক্ষ থেকে ওই ছাত্রীকে আটক করে।
এদিকে ওই ছাত্রী আটকের পর বিষয়টি একেবারেই গোপন করে পুলিশ। ওই ছাত্রীর বিষয় নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ সংশিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা। বর্তমানে এখনো ওই ছাত্রী নগর পুলিশের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারেই রয়েছেন। ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের ইনচার্জ এসআই মাসুমা মুস্তারী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   
তবে ওই ছাত্রীকে পরিবারের নিকট হস্তান্তর বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান। এর আগে রোববার তাকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নেয়া হয়। সেখান থেকে মঙ্গলবার তাকে পরিবারের নিকট হন্তান্তরের কথা ছিলো।
এদিকে পুলিশের একটি সূত্র বলছে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া রক্তমাখা চাপাতিতে হাতের ছাপ এবং ওই শিক্ষকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তবে এখনো তাদের কাছে এ নিয়ে কোন তথ্য নেই। এর আগে রোববার রাতে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকান্ড নিয়ে মহানগর পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা গেলো জরুরি বৈঠকও করেছেন। বৈঠকে হত্যাকান্ডের মোটিভ উদ্ধার ও সম্পৃক্তদের চিহ্নিত করতে বিভিন্ন দিক মাথায় নিয়ে তদন্তে নামার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরপরও মোটিভ না পাওয়ায় পুলিশের গড়িমসিকেই দুষছেন কেউ কেউ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বলেন, স্যারের বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া বিভাগীয় ওই ছাত্রী, স্যারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি হতে পারে হত্যাকান্তের রহস্য উদঘাটনের বড় প্রমান। হামলার পর থেকে জ্ঞান হারানোর আগ পর্যন্ত স্যার তার মোবাইল ফোনটি হাতছাড়া করেননি। তিনি মনে করেন, পুলিশ যখন কোনো প্রমান উদ্ধারে ব্যর্থ তখন ওই মোবাইল ফোনটিই হতে পারে বড় প্রমান। এছাড়া হত্যাকান্ডের দিন শনিবার বিকেলে ওই শিকের তালাবন্ধ বাসা থেকে উদ্ধার ওই ছাত্রীকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকান্ড এমনটিই দাবি করেছেন তারা।
মঙ্গলবার মামলার তেমন অগ্রগতি নেই বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও নগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতির রাজশাহী সফরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকায় এ নিয়ে তারা মুভ করতে পরেননি। রাত থেকেই আবারো তারা অভিযানে নামবেন।
আটক ওই ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি নিছক ব্যক্তিগত। আর তাই এটি এখন তদন্তে আসছেনা। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওই ছাত্রীকে নগর পুলিশের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। তার স্বজনরা আসলেই তাকে তাদের নিকট হস্তান্তর করা হবে।
তবে ওই ছাত্রীর মায়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তারা (ওই ছাত্রীর মা, বাবা ও মামা) গত শনিবার দুপুরে তার মেয়েকে নিতে রাজশাহী আসেন। তারা নগরীতে তার এক আতœীয়র বাসায় আছেন। তার মেয়ে কোথায় আছেন এমন প্রশ্নের জবাবে কোন উত্তর দেননি তিনি।
উল্লেখ্য, গত ১৫ নভেম্বর দুপুরে নগরীর চৌদ্দপাই বিহাস এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হন অধ্যাপক ড. শফিউল ইসলাম। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. এন্তাজুল হক বাদি হয়ে অজ্ঞাতদের আসামী করে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় প্রথম দফায় ইসলামিয়া কলেজের অধ্য হুমায়ন আহমেদসহ ১১ জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে সোমবার বিকেলে আদালতে পাঠায় পুলিশ। বুধবার তাদের রিমান্ড শুনানী অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে।

মহা ধুমধামে বানরের বিয়ে

ভারতের বিহার রাজ্যে সোমবার মহা ধুমধামে বানরের বিয়ে হয়েছে। জনৈক উদেশ মাহতু বানর দুটি পুষতেন। রামদুলারি ও রামু নামের ওই বানর দুটির বিয়েতে স্থানীয় এক হিন্দু পুরোহিত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। বরযাত্রী ব্যান্ড বাজিয়ে বিশাল সমারোহে অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিল। বরের জন্য বিশেষ গাড়িরও আয়োজন করা হয়। শত শত গ্রামবাসী তাতে অংশ নেয়। এ উপলক্ষে বেশ বড় ধরনের একটি ভোজসভারও আয়োজন করা হয়। বর-কণের জন্য বিয়ে উপলক্ষে নতুন পোশাকও বানানো হয়েছিল।

বানর দুটির মালিক মাহতু পরে স্থানীয় মিডিয়াকে বলেন, ‘রামু আমার পালিত ছেলের মতো। সে রামদুলারিকে পছন্দ করার পর আমি তার সাথে তার বিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেই।’ রামুর বয়স ১৩ বছর। তিনি নেপাল থেকে এই বানরটিকে সংগ্রহ করেছিলেন। আর স্থানীয় একটি মেলা থেকে তিনি রামদুলারিকে কিনেছিলেন।

জিম্মি মার্কিনিদের উদ্ধারে নীতি পুনর্বিবেচনার নির্দেশ ওবামার

বিদেশের মাটিতে দায়িত্ব পালনকালে জঙ্গি সংগঠনগুলোর হাতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জিম্মি হওয়া এবং প্রাণ হারানোর ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে মার্কিন প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এ ইস্যুতে সমন্বিত ও বিশদভাবে মার্কিন নীতি পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও সংস্থাসমূহকে। জিম্মি মার্কিনিদের মুক্ত করে তাদের স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গতকাল হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। প্রেসিডেন্ট ওবামা সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও সংস্থাসমূহকে মার্কিন নীতি সমন্বিতভাবে পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশপ্রাপ্ত বিভাগ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, এফবিআই, ইন্টেলিজেন্স কমিউনিটি। মার্কিন সরকার জিম্মি ইস্যুতে কিভাবে কাজ করবে, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে সংস্থাগুলো। সম্প্রতি গত কয়েক মাসে কট্টরপন্থী সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) ৩ মার্কিনিকে শিরোচ্ছেদ করে হত্যা করেছে। সর্বশেষ, ২৬ বছর বয়সী তরুণ ত্রাণকর্মী আবদুল রহমান কাসিগকে হত্যা করা হয়। কট্টরপন্থী সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গিরা কাসিগকে হত্যার ভিডিও প্রকাশ করে। ভিডিওটিতে মুখোশ পরা এক আইএস সদস্যকে একটি কাটা মাথার ওপর দাঁড়াতে দেখা গেছে। কাটা মাথাটি কাসিগের বলে নিশ্চিত করা হয় হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে। কাসিগকে শিরñেদ করে হত্যার ঘটনাকে ‘সম্পূর্ণ অনৈতিক কর্মকা-’ বলে তীব্র নিন্দাও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। একটি শরণার্থী সংগঠনের হয়ে কাজ করার সময় তাকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল আইএস সদস্যরা। সন্তানের মৃত্যুতে তার পিতামাতা ভীষণভাবে মুষড়ে পড়েন। কাসিগসহ এ পর্যন্ত জিম্মি ৫ পশ্চিমা নাগরিককে হত্যা করা হলো।

পানিতে ডুবে বছরে ৩,৭২০০০ মানুষের মৃত্যু

সারা বিশ্বে প্রতি বছর পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণ করেন ৩ লাখ ৭২ হাজার মানুষ। প্রতি ঘণ্টায় সলিলসমাধি হয় ৪০ জনের। বিশ্বের প্রতিটি অঞ্চলে শিশু ও তরুণ-তরুণীদের প্রাণহানির শীর্ষ ১০ প্রধান কারণের মধ্যে পানিতে ডুবে মারা যাওয়া অন্যতম। গতকাল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) উদ্বেগজনক এ পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে। জাতিসংঘের ডেপুটি মুখপাত্র ফারহান হক গতকাল এ তথ্য দেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা পিটিআই। পানিতে ডুবে প্রাণহানি প্রতিরোধে এখনই নানামুখী উদ্যোগ নেয়া অপরিহার্য। এ জন্য জাতীয় পর্যায়ের নীতি-নির্ধারক ও স্থানীয় সম্প্রদায়গুলোকে এগিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেন ফারহান হক। সম্প্রতি জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে আয়োজিত সম্মেলনগুলোতে সমন্বিত বেশ কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একইভাবে পানিতে ডুবে মৃত্যু ঠেকাতে এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া অপরিহার্য বলে মনে করেন তিনি।

ইশান্ত শর্মা ক্যাচ ফেললেই...

বেচারা ইশান্ত শর্মা! ক্যাচও ফেলতে পারবেন না তিনি! ক্রিকেটে ‘খেলারই অংশ’ এই ক্যাচ ফেলা তাঁর ক্যারিয়ারে এমন দুর্বিষহ পরিসংখ্যানের জন্ম দিয়েছে, যা তাঁকে পীড়া দিয়ে যাবে নিরন্তর। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তাঁর ফেলে দেওয়া ক্যাচগুলো হয়ে থাকবে দুঃস্বপ্নের অপর নাম।
ক্যাচ মিস তো ম্যাচ মিস—এমন আপ্তবাক্য ক্রিকেট ব্যাকরণের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়েই আছে। কিন্তু সাম্প্রতিক কালে এই ভারতীয় পেসারের ফেলে দেওয়া ক্যাচ ম্যাচ মিসের চেয়েও বড় কিছু হয়ে আছে। গত তিন বছরে তাঁর ফেলে দেওয়া অন্তত তিনটি ক্যাচ টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাটসম্যানদের করে দিয়েছে বিরাট ব্যক্তিগত ইনিংসের মালিক। ইশান্তের ক্যাচের হাত থেকে বেঁচে যাওয়া ওই ব্যাটসম্যানরাও নিশ্চয়ই ইশান্তকে মনে রাখেন নিজেদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গেই। ইশান্তের কাছে তাঁদের কৃতজ্ঞতার যে শেষ নেই।
২০১১ সালে ইংল্যান্ড সফরে এজবাস্টন টেস্টে ইশান্ত ক্যাচ ফেলেছিলেন ইংলিশ অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুকের। আউটের হাত থেকে বেঁচে গিয়ে কুক খেলেছিলেন ২৯৪ রানের ইনিংস। ২০১২ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে ইশান্তের ক্যাচের হাত থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক। তিনি খেলেছিলেন ৩২৯ রানের ক্যারিয়ার-সেরা ইনিংস। নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালামও এ বছরই ইশান্তের ক্যাচ হতে গিয়েও পরিত্রাণ পেয়ে খেলেছিলেন আরও একটি ট্রিপল সেঞ্চুরির ইনিংস (৩০২)।
এই তিন ক্রিকেটার যেহেতু ইশান্ত শর্মাকে ‘সৌভাগ্য’ হিসেবে পেয়েছিলেন, তাই এই মুহূর্তে বিশ্ব ক্রিকেটের অনেক ব্যাটসম্যানই হয়তো চান ইশান্ত তাঁদের ক্যাচ ফেলে দিন। মাঠে প্রতিপক্ষ হিসেবে ভারতীয় দলে ইশান্তকে না দেখলে তাঁদের মন নিশ্চয়ই খারাপ হয়। ক্রিকেট মাঠে এমন ‘সৌভাগ্যের বরপুত্র’ আর আছেন নাকি!
>>ইশান্ত ক্যাচ ফেললেই বড় ইনিংস খেলেন ব্যাটসম্যানরা! ছবি: এএফপি।

আগাম নির্বাচন হতে যাচ্ছে জাপানে

জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে আগামী শুক্রবার পার্লামেন্ট ভেঙে দেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। ফলে দেশিটতে নির্ধারিত সময়ের দুই বছর আগেই নতুন নির্বাচন হতে যাচ্ছে। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, আজ এক সংবাদ সম্মেলনে আবে বলেন, ‘আমি ২১ নভেম্বর শুক্রবার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ভেঙে দেব।’
শিনজো আবে দুই বছর আগে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি দেশটির অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা দিলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেননি। উল্টো মন্দার কবলে পড়েছে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এই দেশ। এই করণে তাঁর জনপ্রিয়তায়ও ধস নামে। এরই অংশ হিসেবে নির্ধারিত সময়ের আগেই পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দিলেন শিনজো আবে।
>>টোকিওতে এক সংবাদ সম্মেলনে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেন শিনজো আবে। ছবি: এএফপি

অল্পের জন্য রক্ষা পেলো চোখ

অল্পের জন্য রক্ষা পেলো চোখ। এয়ার গানের গুলিটা এসে বিঁধলো বাম চোখের একটু ওপরে। শনিবার ইংল্যান্ডের দুরহামে ফুটবল মাঠে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানায় ডেইলি মেইল। এ ঘটনায় ১৪ বছর বয়সি তিন কিশোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
অনূর্ধ্ব ১৪ দলের একটি খেলায় বিকল্প খেলোয়াড় হিসাবে সাইড লাইনে দাঁড়িয়েছিলো ১১ বছর বয়সি স্কুলছাত্র কোনোর মিন্টু।  এ সময় হঠাৎ তার কপালে এসে গুলি লাগে। এতে সারা শরীর রক্তে ভিজে যায়। প্রথমদিকে পাথরের ঢিল লেগেছে বলে ধারণা করেছিলো কোনোর। এতে সারা শরীর রক্তে ভিজে যায়।
পরে রক্তমাখা শরীর নিয়েই সে ছুটে যায় বাবার কাছে। তার কপালে এয়ার গানের গুলি (পেলেট) লেগেছে নিশ্চিত হয়ে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান বাবা। সেখানে গুলিটি তুলে কপাল সেলাই করে দেয়া হয়।
তার মা কেরি মিন্টু বলেন, কোনোর ভেবেছিলো সে বুঝি মারা যাচ্ছে। কিন্তু ওর বাবা দেখেন কপালে এয়ারগানের পেলেট লেগেছে। ঠিক বাম চোখটার একটু ওপরেই। শরীরে রক্ত দেখে আতঙ্কিত ছেলে চিৎকার করতে করতে আমাদের কাছে আসে। এর আগে বন্ধুর কাছে জিজ্ঞেস করেছিলো কি হয়েছে। বন্ধু জানালো মাথায় গুলি লেগেছে। তাই চিৎকার করতে করতে আমাদেরকে জানালো সে মারা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, কোনোর এখন শারীরিকভাবে সুস্থ হয়ে উঠলেও মানসিকভাবে আতঙ্কিত। ভয়ে সারাক্ষণ আমাদের আশপাশেই থাকে। ও নিশ্চিত, তাকে টার্গেট করেই গুলিটি চালানো হয়েছিলো। ও জানে ছেলেদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবুও কোনারের ভয় কমছে না। ভাবছে আবারো আক্রমণ হতে পারে।
পুলিশের ডিটেকটিভ কনস্টেবল এন্ডি ফ্রগেট বলেন, কোনো ঠিক জালের পাশটায় দাঁড়িয়ে খেলছিলো। পাশেই অন্য একটি যায়গায় হচ্ছিলো রাগবি খেলা। পাশ থেকেই তার কপালে এসে গুলিটি লাগে।
তিনি বলেন, এটি মারাত্মক ঘটনা। এমন কিছু যেন আবারো না ঘটে, সে কারণে আমরা জনগণকে সতর্ক করছি এয়ার গানের মতো বিপজ্জনক কিছু নিয়ে যেন পাবলিক প্লেসে যাওয়া না হয়।

বেশি সাবানে বাড়ে ক্যান্সারের শঙ্কা!

পরিচ্ছন্নতার ঝোঁকে খুব বেশি সাবানের ব্যবহার শরীরের জন্য ডেকে আনতে পারে ভয়ঙ্কর বিপদ। সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্টের মধ্যে উপস্থিত যৌগ ট্রাইকোস্যান লিভার ফাইব্রোসিস ও লিভার ক্যান্সারের অন্যতম কারণ রূপে কাজ করে। সম্প্রতি এক গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছে চমকে দেয়া এই তথ্য।
দীর্ঘদিন ধরে বেশি পরিমাণে সাবান, শ্যাম্পু ব্যবহার করলে এই বস্তুগুলোর অন্যতম সাধারণ অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান ট্রাইকোস্যান উপকারের বদলে অপকার করতে শুরু করে। লিভারের টক্সিসিটি বাড়িয়ে তোলে।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যান দিয়েগো স্কুল অফ মেডিসিনের অধ্যাপক রবার্ট টার্কি জানিয়েছেন ট্রাইকোস্যান যখন একই কার্যক্ষমতা সম্পন্ন অনান্য যৌগের সঙ্গে মিশে থাকে তখন ক্ষতির আশঙ্কা আরো বেড়ে যায়।
গবেষকরা ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করে দেখেছেন ট্রাইকোস্যান লিভারের কার্যক্ষমতা বহুলাংশে কমিয়ে ফেলে।
ছয় মাস ধরে কিছু ইঁদুরকে ট্রাইকোস্যানের সংস্পর্শে রাখার পর দেখা গেছে তাদের লিভার ক্যান্সারের আশঙ্কা ভীষণভাবে বেড়ে গেছে। লিভারজুড়ে বিশাল বড় বড় টিউমার জন্ম নিয়েছে।
এই গবেষণা অনুযায়ী ট্রাইকোস্যান লিভারের মধ্যে অবস্থিত অ্যান্ড্রোস্টেন রিসেপটরগুলোকে নষ্ট করে ফেলে। এই রিসেপটরগুলো আসলে এক ধরণের প্রোটিন যা শরীরে ফরেন পার্টিকাল তাড়াতে সাহায্য করে।
এর ফলে লিভারকোষলোর অনিয়মিত বিভাজন শুরু হয়। কোষগুলো ফাইব্রোটিক হয়ে পড়ে। লিভারে লাগাতার ফাইব্রোসিস টিউমার তৈরি করে।
শ্যাম্পু, সাবান, টুথপেস্টের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীতে ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী হিসাবে ট্রাইকোস্যানের ব্যবহার সর্বাধিক।

ভ্যান গগকে হত্যা করা হয়েছিলো

আত্মহত্যা করেননি ভ্যান গগ। সম্প্রতি এমন দাবিই করলেন ফরেনসিক গবেষক ড. ভিনসেন ডি মাইয়ো। সংবাদ ডেইলি মেইল। ইতিহাসবিদদের দাবি অনুযায়ী প্যারিসের কাছাকাছি আউভার সুই উইসে গ্রামের একটি গম ক্ষেতে তিনি নিজের বুকে গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন ১৮৯০ সালে। তবে গগের ক্ষতচিহ্নর বিষয়ে বিশ্লেষণ করে ড. ভিনসেন ডি মাইয়ো এ তথ্যকে নাকচ করে দিয়ে বলেন, প্রমাণ বলছে তাকে কেউ হত্যা করেছে। ভ্যান গগের চিকিৎসক পল গ্যাচেটের ছেলে পল জে বলেন, তার ক্ষততে একটি বাদামি এবং একটি রক্তবর্ণ গোল চিহ্ন ছিলো।
ইতিহাসবিদদের ব্যখ্যা অনুযায়ী গুলির আঘাতে তার বুকে রক্তবর্ণের দাগ বসে যায়। আর বারুদ শরীরকে পুড়িয়ে দেয়ায় বাদামি গোলকের তৈরি হয়। তবে ড. ডি মাইয়ো বলেন, এর সবই স্বাভাবিক। গুলির আঘাতে চিঁড়ে যাওয়া শরীর থেকে রক্তপাত হয়ে সেটা চমড়ার ভেতরই আটকে থাকে। তাই যায়গাটা রক্তবর্ণ হয়ে উঠে। এর অস্তিত্ব থাকা বা না থাকা কোনোটাই আত্মহত্যার পক্ষের যুক্তি নয়। তাছাড়া বাদামি গোলকটি স্রেফ ভেতরের ক্ষতগুলোর বাহ্যিক প্রকাশ। এটা কেবল বুকের ভেতর গুলি প্রবেশ করার প্রমাণ।
তিনি আরো প্রশ্ন উত্থাপন করে বলেন, ভ্যান গগ কি করে নিজের বুকে গুলি চালালেন? কোনো হাত দিয়েই কাছ থেকে নিজের বুকে গুলি চালানো সহজ নয়। যদি বাম হাত দিয়ে গুলি করতে হয়, সেটা অসম্ভব। কেউ নিজের বাম হাতটিকে টেনে বুকের কাছে নিয়ে দেখতে পারেন। দেখা যাবে আঙ্গুলগুলো হাতের পেছনের দিকে চলে যাবে। কেবল বুড়ো আঙ্গুলই ট্রিগার চাপার জন্য একমাত্র অবলম্বন হিসাবে থাকবে। আর এ অবস্থায় বুড়ো আঙ্গুলে গুলি চালানোর মতো শক্তি পাওয়া যাবে না। পাশাপাশি ডান হাতে গুলি চালানোর বিষয়টাও অযৌক্তিক। কেউ যদি বুকের কাছে ডান হাতটি আনেন, সেটার অবস্থাও একই হবে। বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে গুলি চালানোর কোনো যৌক্তিকতাই নেই।
ড. ডি মাইয়োস বলেন, যদি সত্যি সত্যিই তিনি কাছ থেকে নিজের বুকে গুলি চালাতেন, তাহলে বুড়ো আঙ্গুলে ট্রিগারের দাগ বসে যেতো। এটা আমার মত। ডাক্তাররাও বিচার করে দেখতে পারেন, তার ক্ষতস্থানটি আত্মহত্যার সাক্ষি দেয় না। তাই এক কথায় বলা যায়, ভ্যান গগ আত্মহত্যা করেননি। তাকে কেউ গুলি চালিয়েছে।
তাহলে এ রহস হত্যার পেছনের ঘাতক কারা?
এ প্রশ্নের জবাবে তিনি জন বেওয়াল্ডের কথা তুলে ধরেন। ১৯৩০ সালে ভ্যান গগের মৃত্যুগ্রাম অওভার্সে ঘুরতে যান। গ্রামের কয়েকজন লোক তাকে জানান, ভ্যান গগ আত্মহত্যা করেননি। তিনি দুর্ঘটনাবশত এলাকার কিছু ছেলেদের খপ্পড়ে পড়েন। তারাই তাকে গুলি করে মেরে ফেলে। পরে নিজেরা বাঁচার জন্য এটিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়।
পুলিশি তদন্তেও এটিকে আত্মহত্যাই বলা হয়। তবে এর পক্ষে কোনো প্রমান উপস্থাপন করতে পারেনি।

আমার দেশ ও দিগন্ত টিভির লাইসেন্স বাতিল করিনি এটা তাদের ভাগ্য : হাসানুল হক ইনু

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন বন্ধ থাকা আমার দেশ ও দিগন্ত টেলিভিশনের লাইসেন্স বাতিল করিনি এটা তাদের ভাগ্য। এজন্য তাদের উচিত আমাকে ধন্যবাদ দেয়া। কিন্তু তারা যে অপরাধ করেছে তার পরও প্রতিদিনই তাদের জন্য বিবৃতি দেয়া হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে আয়োজিত তথ্য অধিকার আইন নিয়ে এক কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
এ সময় ডিআরইউ সভাপতি সাহেদ চৌধুরীর পক্ষ থেকে বন্ধ সকল মিডিয়া খুলে দেয়ার জন্য দাবি জানানো হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বৈশাখী টিভির সিইও মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, প্রধান তথ্য কমিশনার মোহাম্মদ ফারুক, তথ্য কমিশনার নেপাল চন্দ্র সরকার, ডি আর ইউ প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সম্পাদক সাজ্জাদ হোসন প্রমুখ।
বেগম জিয়াকে উদ্দেশ্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনের কোনো সংজ্ঞায় খালেদা জিয়ার আন্দোলন পড়ে না । আন্দেলনের নামে নিছক সন্ত্রাস করছেন তিনি। ১৯৭১ সালে তরবারি নিয়ে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। ’৭১ সালের তরবারি আর খালদা জিয়ার আন্দোলনের তরবারির কোন পার্থক্য নেই। ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে যা ঘটেছে তা গণ আন্দোলনের সংজ্ঞায় পড়ে না। আন্দোলনের নামে নিছক সন্ত্রাসবাদ হয়েছে। আন্দোলন আর নাশকতা,সমালোচনা আর মিথ্যাচার, ইতিহাস বিকৃতি আর খণ্ডিত ইহিহাস এক নয়। ’৭১ সালের রাজাকারদের বিচারের সময় যারা চুপ থাকে তাদের কী বলবেন।

জেরুসালেমে সিনাগগে হামলা- ইসরাইলি-ফিলিস্তিনি নিহত ৬

জেরুসালেমে সিনাগগ বা ইহুদিদের উপাসনালয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে হামলাকারী দুই ফিলিস্তিনিসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার নগরীর দক্ষিণ পশ্চিমে হার নফে সকালের প্রার্থনা করার সময়ে সিনাগগে এ হামলা চালানো হয়। এক বিবৃতিতে পুলিশের মহিলা মুখপাত্র লুবা সামরি বলেন, হামলায় চার ইসরাইলি নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন। এ সময় হামলাকারী দুজনও গুলিতে প্রাণ হারান। সম্ভবত পূর্ব জেরুসালেম থেকে তারা হারনফে প্রবেশ করে।

ভারতে পতিতাবৃত্তি আইনসিদ্ধ করার দাবিতে বিতর্ক

গণিকাবৃত্তিকে আইনি বৈধতা দেবার দাবিতে জোর বিতর্ক দেখা দিয়েছে ভারতে৷ সুপ্রিম কোর্টের এক কমিটি দেহব্যবসাকে আইনি স্বীকৃতি দেবার সুপারিশ করতে চলেছেন৷ এ নিয়ে চলছে জোরালো তর্ক-বিতর্ক৷ সুপ্রিম কোর্টের কমিটির মতে, সুপারিশ কার্যকর হলে যৌনকর্মীদের পেশায় শ্রমআইন প্রযোজ্য হবে, তাঁদের পুনর্বাসনে সুবিধা হবে এবং পুলিশের হয়রানি এবং তোলাবাজি বন্ধে সহায়ক হবে৷ সে জন্য ১৯৫৬ সালের ইমমরাল ট্রাফিক প্রিভেনশন আইন সংশোধন করা দরকার৷
নারীবাদী এনজিও, আইনজীবী এবং যৌনকর্মী সংগঠনগুলি মনে করে, এই আদিম পেশাকে আইনি বৈধতা দেয়া উচিত৷ কারণ তাদের মতে, এতে ধর্ষণ বা যৌন অপরাধ কমবে, যৌনকর্মীদের স্বাস্থ্যরক্ষার সুবিধা হবে৷ কারণ তাঁদের ওপর তখন স্বাস্থ্যবিধি প্রযোজ্য হবে, ফলে যৌনবাহিত রোগ প্রতিরোধ করা যাবে, সেক্স-ট্রেড লাইসেন্সের জন্য নিয়মবিধি বলবত করা যাবে ও ধার্য করের টাকা পুরসভা বা স্থানীয় প্রশাসনকে খরচ করতে হবে যৌনকর্মীদের কাজের পরিবেশ উন্নত করতে৷ এদের সঙ্গে আমার প্রশ্ন – গর্ভপাত যদি বৈধ হয়, তাহলে গণিকাবৃত্তি নয় কেন৷ শুধু তাই নয়, নারী পাচার রোধ করতে সহায়ক হবে৷
ভারতের জাতীয় মহিলা কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারপার্সন একটা উদাহরণ তুলে বলেছেন মুম্বই মহানগরিতে রেড লাইট বা যৌনপল্লি বেশি থাকায় রুজি রোজগারের তাগিদে ঘর পরিবার ছেড়ে ঐ শহরে লক্ষ লক্ষ বহিরাগতদের থাকতে হয়, তাঁদের দৈহিক খিদে মেটানোর সুযোগ থাকায় মুম্বই শহরে ধর্ষণের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম৷
দেখা গেছে, ১৯৫৯ সালে অস্ট্রেলিয়ায় পতিতাবৃত্তি বেআইনি ঘোষিত হবার পর ধর্ষণের সংখ্যা বেড়েছিল দেড়শো শতাংশের মত৷ জার্মানিসহ অনেক দেশে গণিকাবৃত্তিকে আইনসিদ্ধ করা হয়েছে৷ দ্বিতীয়ত, যৌনকর্মীরা সাধারণত সমাজের প্রান্তিক সদস্য৷ আইনি সুরক্ষা পেলে গণিকালয়ের দালাল ও বেশ্যাবাড়ির মালকিনরা যৌনকর্মীদের ওপর অন্যায় অত্যাচার হলে তার জন্য দায়বদ্ধ থাকবে৷ আমি অবশ্য মনে করি, এই পেশায় নাবালিকারা যাতে আসতে না পারে, তার জন্য রক্ষাকবচ সুনিশ্চিত করা জরুরি৷ গ্রামগঞ্জের নাবালিকা মেয়েদের ফুসলিয়ে আনলে দোষী ব্যক্তির কঠোর সাজার সংস্থান থাকা দরকার৷
অন্যদিকে সমাজের একাংশ মনে করেন, সেটা করা হলে সমাজ সংসার জাহান্নামে যাবে৷ তখন আর ঢাকঢাক গুড়গুড়ের বালাই থাকবে না৷ যে-কোনো পুরুষ বুক চিতিয়ে নিয়মিত বেশ্যাবাড়ি যাবে৷ ঘরে বৈধ পতিœর প্রতি আনুগত্য বলে আর কিছু থাকবে না৷ পুরুষের বহুগামিতা প্রশ্রয় পাবে৷ টাকা পয়সার দরকার হলে যে-কোনো মেয়ের এই পেশা বেছে নেবার অধিকার থাকবে৷
এটা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না৷ সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে আমার মতো অনেকেই একমত যে, বর্তমানে গণিকাবৃত্তি বেআইনি হওয়া সত্ত্বেও গণিকালয় কি উঠে গেছে? না, বরং দ্রুত বাড়ছে৷ ভারতের ছোটবড় শহরগুলিতে রমরম করে চলছে এই দেহ ব্যবসা৷ এই প্রাচীন ব্যবসা বন্ধ করার হিম্মত হয়নি কোনো সরকার বা সমাজ নেতাদের৷ কারণটা বোধগম্য৷ ভোগ্যপণ্যের বাজারে ৫০ হাজার কোটি টাকার দেহ-ব্যবসার ইন্ডাস্ট্রি আটকায় কার সাধ্য৷ এর চাহিদা কোনোদিন কমেনি এবং কমবেও না৷ বন্ধ করতে গেলে ভালোর চেয়ে খারাপ হবে বেশি৷ রাস্তাঘাটে ধর্ষণের সংখ্যা বাড়বে৷ তাহলে এই ব্যবসাকে আইনি বৈধতা দিয়ে এই পেশাকে অপরাধমুক্ত করলে ক্ষতি কী! নিশিআলয় বা নাইটক্লাব ও পানশালা বৈধ হলে গণিকালয় নয় কেন৷ তাই শীর্ষ আদালতের সঙ্গে আমার মত অনেকেই সহমত পোষণ করবেন বলে আমার বিশ্বাস৷

সাবধান চুম্বনে ব্যাকটেরিয়া!

যখন তখন পরস্পরের ঠোঁটে ঠোঁট ঠেকিয়ে ভালবাসার চুম্বন। কিন্তু জানেন কি? সেই চুম্বনে রয়েছে ব্যাকটেরিয়া! একটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, ১০ সেকেন্ডের চুম্বনে শরীরে ঢুকছে ৮ কোটি ব্যাকটেরিয়া। গবেষণায় আরও জানা গেছে, দিনে অন্তত ৯ বার চুম্বন করলে, শরীরে প্রবেশ করে সমপরিমান ব্যাকটেরিয়া। ২১ জোড়া দম্পতির চুম্বন সংক্রান্ত এক সমীক্ষা চালিয়েছে মাইক্রোপিয়া মিউজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসের অর্গানাইজেশন ফর অ্যাপ্লায়েড সায়েন্টিফিক রিসার্চ সংস্থা। তাতেই এই তথ্য উঠে এসেছে। সমীক্ষকরা জানাচ্ছেন, আমাদের মুখে বাসা বাঁধে ৭০০-র বেশি রকমের ব্যাকটেকরিয়া, যা চুম্বনের মাধ্যমে সংক্রামিত হয়। সমীক্ষায় দম্পতিদের চুম্বনের সময়কার আচরণ, দিনে গড়ে কতবার উষ্ণ চুম্বন করেন, সেই সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর লিখতে বলা হয়। তারপর সমীক্ষকরা ওই দম্পতিদের মুখের লালা সংগ্রহ করেন। তাদের জিভের রসে, লালায় লেগে থাকা জীবানুর গঠন পরীক্ষা করতেই লালা নেয়া হয়। তাতে দেখা যায়, প্রেমিক-প্রেমিকারা যখন ঘনিষ্ঠ হয়ে ঠোঁটে ঠোঁট চেপে বেশি চুম্বন করেন, তাদের লালা থেকে উৎসারিত হয় একই রকমের জীবানু। গড়ে দিনে অন্তত ৯ বার চুম্বন হলে দম্পতিদের লালারস থেকে ব্যাকটেরিয়া সংক্রামিত হয় পরস্পরের শরীরে। এ ব্যাপারে নেদারল্যান্ডসের গবেষণা দলটির প্রধান রেমকো কোর্ট বলেছেন, পুরো জিভে জিভ ঘষে গভীর চুম্বন ও তা থেকে বেরনো লালারসের আদানপ্রদান মানুষের একটা অভিনব ভালবাসার কায়দা। আমরা দেখতে চেয়েছিলাম  প্রেমিকযুগল কতটা মুখে মুখে ব্যাকটেরিয়া দেয়া নেয়া করে। দেখা যাচ্ছে, যত বেশি চুম্বন, তত ব্যাকটেরিয়া আদান প্রদান হয়। এরপর ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ নির্ধারণে নিয়ন্ত্রিত চুম্বনের মাধ্যমে পরীক্ষা চালানো হয়। চুম্বনের আগে প্রত্যেক দম্পতির একজনকে নির্দিষ্ট কয়েকটি ধরনের ব্যাকটেরিয়া ভর্তি প্রোবায়োটিক পানীয় খেতে বলা হয়। সেটি পান করার পর ঘনিষ্ঠ চুম্বনে দেখা যায়, যিনি চুম্বনটি গ্রহণ করেছেন, তার লালারসে প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ তিনগুণ বেড়ে গিয়েছে। হিসাব কষে দেখা যায়, ১০ সেকেন্ড স্থায়ী একটি চুম্বনে ৮ কোটি ব্যাকটেরিয়া আদানপ্রদান হয়েছে। কোর্ট বলেন, পরীক্ষায় দেখা গেল, যখন তুলনামূলকভাবে বেশি চুম্বন হচ্ছে, তাদের লালারস থেকে বেরচ্ছে একই রকমের ব্যাকটেরিয়া।

যা বলেছিলেন এইচটি ইমাম

ছাত্রলীগের আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম নির্বাচন ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রসঙ্গে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন তা খণ্ডিতভাবে প্রকাশ হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। গত বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের অনুষ্ঠানে তিনি এ প্রসঙ্গে যে কথা বলেছিলেন তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন গতকাল। তবে মানবজমিনের কাছে থাকা অডিও রেকর্ডে শোনা যায় ওইদিনের অনুষ্ঠানে তিনি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে যখনই কারও বায়োডাটা নিয়ে যাই তখন তিনি জিজ্ঞেস করেন, এরা কি ছাত্রলীগ করে? কোথায় ছিল? কোন পদ ছিল? তোমরা অনেকে বলেছিলে ছাত্রলীগের চাকরির কথা। তোমরা কি মনে কর, আমার ও আমার নেত্রীর চেয়ে অন্য কারও দরদ বেশি আছে? আমরা তো জান পরান দিয়ে চেষ্টা করি। নেত্রী যেভাবে বলছেন, যেভাবে হোক তাদের ব্যবস্থা করতে হবে। তোমাদের মধ্যে শৃঙ্খলা দেখে আমি গর্ববোধ করি। তোমাদের মধ্যে যারা সিনিয়র হয়ে গেছে বা যারা বের হয়ে গেছে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য যেভাবেই হোক প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তোমাদের মধ্যে যারা পরীক্ষা দিতে চাও। আমি বারবার বলবো। তোমরা রাজি থাকলে, আমি কোচিং ক্লাস নিতে রাজি আছি। কিন্তু তোমরা পড়াশোনা কর। পরীক্ষায় এক-দুই নম্বর বেশি পাও। লিখিত পরীক্ষাটা ভালো কর। তারপর আমরা ভাইভাটা দেখবো। এসময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হাততালি দিয়ে এইচটি ইমামের বক্তব্যে উল্লাস প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের অনেক কিছুতেই ব্যস্ত থাকতে হয়। এজন্য লিখিত পরীক্ষায় একটু ভাল করলেই ছাত্রলীগের ছেলেদের চাকরি পাওয়ার ব্যাপারে বিবেচনা করা হবে। তিনি বলেন, যেহেতু তোমাদের পড়ার সময় কম তাই রাত জেগে হলেও একটু পড়াশোনা কর। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন হিসেবে তোমাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের উচিত। তোমাদের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকবো।
নির্বাচন ও প্রশাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশ পুলিশের, বাংলাদেশ প্রশাসনের যে ভূমিকা, এই নির্বাচনের সময় আমি তো প্রত্যকটা উপজেলায় কথা বলেছি। কল করে সব বলেছি। সব জায়গায় আমাদের যারা রিক্রুটেড। তাদের সঙ্গে কথা বলে, তাদের দিয়ে মোবাইল কোর্ট করিয়ে আমরা নির্বাচন করেছি। তারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। বুক পেতে দিয়েছে। আমাদের যে পুলিশ ভাইরা, ১৯ জন প্রাণ দিয়েছে এই জামায়াত-শিবিরের আক্রমণে। কি নির্মমভাবে তাদের হত্যা করা হয়েছিলো। তোমাদের মনে আছে? এরা কারা? সব আমাদের নিজস্ব মানুষ। বিড়িআর হত্যার কথা বলে। যারা হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছিলেন সেই ৫৩ জনের মধ্যে ৩৩ জনই ছিল আওয়ামী লীগের সমর্থক বা আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য।

‘পিতৃভিটায় নচিকেতা’

দুই বাংলার প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী নচিকেতা চক্রবর্তী। জন্ম কলকাতায়। দেশ ভাগের আগেই ১৯৪৫-৪৬ সালের দিকে তার পুরো পরিবার চলে যায় ভারতে। সেখানেই দাদু ললিত মোহন গাংগুলি, বাবা সখা রঞ্জন চক্রবর্তী ও মা লতিকা চক্রবর্তী স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। এরপর আর বাপ-দাদার জন্মভিটায় ফেরা হয়নি দুই বাংলার প্রখ্যাত এ শিল্পীর। কয়েক দিন আগে ঢাকায় এসেছিলেন একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। এর পর থেকেই মূলত বাপ-দাদার জন্মভিটার মায়ায় পড়ে যান। প্রাণের টানে, নাড়ির টানে ভান্ডারিয়া জন্মভিটায় ঘুরতে এসেছিলেন তিনি। সোমবার দুপুরে হেলিকপ্টারযোগে ভান্ডারিয়া উপজেলা সদরে ক্ষণিকের জন্য পা রাখেন পিতৃভিটায়। এসময় তিনি বলেন, এইখানে আমার জন্মভিটা। আমি বাঙালি। এখানেই আমার শেকড়। কেবল প্রাণের টানে, বড় মায়ার টানে জন্মভিটায় ঘুরতে এসেছি। মানুষ যেমন পুণ্যের আশায় তীর্থে আসে। ভান্ডারিয়া শহরের বিহারী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে হেলিকপ্টার থেকে নামার পরই এলাকাবাসীর আন্তরিক অভ্যর্থনা পান এ শিল্পী। এ সময় সঙ্গে তার দুই ভারতীয় বন্ধুও ছিলেন। স্থানীয় থানা প্রশাসন ও স্কুল কর্তৃপক্ষ এই কৃতী  শিল্পীকে স্বাগত জানায়। সবার পক্ষ থেকে স্কুলের প্রধান শিক্ষক শংকর চন্দ্র দাস তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এ সময় নচিকেতা চোখের জলে তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এরপর তিনি ভা-ারিয়া বিহারী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ঘুরে দেখেন। একসময় এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন তার দাদু ললিত মোহন গাংগুলী। এরপর যান বাপ-দাদার ভিটা ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার চেঁচরীরামপুর গ্রামে। নচিকেতাকে একনজর দেখতে কয়েক হাজার মানুষ ভিড় করেন গাংগুলিবাড়িতে। এ সময় তিনি সবার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। কথা বলতে গিয়ে বারবার আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন। তিনি গাংগুলিবাড়ির ঐতিহ্যবাহী বিশাল দিঘি ও বহমান খালের পাড়ে বসে কিছু সময় কাটান। তিনি দিঘি ও খালের পানি বোতলে ভরে সঙ্গে নিয়ে যান। আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘কলকাতায় গিয়ে আমি শ্রদ্ধাভরে পান করব এই জল।’ ঘরের দাওয়ায় এসে ধুলো মাখা দাওয়ায় বসে পড়েন নচিকেতা। হয়ে পড়েন আবেগতাড়িত। ওই অবস্থায়ই উদাস নচিকেতা কাটিয়ে দেন দীর্ঘ সময়। প্রায় ঘণ্টাখানেক অবস্থান করার পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকায় ফিরেন।

মায়ের লাশ নিয়ে একই বিছানায় পাঁচ বছর

মায়ের মমি করা লাশ নিয়ে জার্মানির এক নারী পাঁচ বছরের বেশি সময় বাস করেছেন। এমনকি ওই নারী তাঁর মায়ের লাশ নিয়ে একই বিছানায় ঘুমাতেন। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে জানানো হয়, গত সপ্তাহে জার্মানির দক্ষিণাঞ্চলীয় মিউনিখ শহর থেকে ওই মায়ের মমি করা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার পর ৫৫ বছর বয়সী ওই মেয়েকে একটি মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি মানসিক রোগের চিকিৎসকের কাছে মায়ের লাশ নিয়ে বাস করার কথা স্বীকার করেছেন। গত বৃহস্পতিবার একজন সমাজকর্মী ওই মায়ের সঙ্গে দেখা করতে চান। কিন্তু ওই মেয়ে তাঁকে ঘরে প্রবেশ করতে দিতে অসম্মতি জানান। এরপর ওই সমাজকর্মী বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন এবং ওই ফ্ল্যাটের দরজা খোলার জন্য তিনি দমকলকর্মীদের খবর দেন। তদন্ত কর্মকর্তারা ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাঠিয়েছেন। কর্মকর্তাদের হিসাবে ২০০৯ সালের মার্চ মাসে ৭৭ বছর বয়সে ওই মায়ের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছিল।

ছাত্রলীগের রাজনীতি : অতীত ও বর্তমান by মোয়াজ্জেম হোসেন

স্বাধীনতাপূর্ব বাংলাদেশের ছাত্র ও যুবসমাজের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা আজও চোখের সামনে ভেসে ওঠে। ষাটের দশকের ছাত্র রাজনীতিতে প্রকৃতপক্ষে ছাত্রদের মূল দাবি নিয়েই আন্দোলন হতো। তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ এবং বাঙালিদের ন্যায্য হিস্যা দিতে অনীহা প্রকাশ করায় জাগ্রত ছাত্র সমাজের মধ্যে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ পাকিস্তানি শাসকদের এহেন বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে আন্দোলন গড়ে তোলে।
পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে ছাত্র-জনতার ঐক্যের সোপান গড়ে তুলেছিল। ষাটের দশকে অনেক ছাত্র সংগঠন ছিল, যার বেশিরভাগই সাধারণ মানুষের মনমানসিকতার কথা চিন্তা না করে বিদেশী ভাবধারার রাজনীতি এদেশে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিল। তখন রাজপথে ছাত্রলীগের স্লোগান ছিল ‘জাগো জাগো বাঙালি জাগো’, ‘তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা মেঘনা যমুনা’, ‘তুমি কে? আমি কে? বাঙালি বাঙালি’, ‘পিন্ডি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’।
ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে অন্য ছাত্র সংগঠনের রাজনীতির গুণগত পার্থক্য ছিল। ছাত্রলীগের রাজনীতি বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত হতো। আর অন্য ছাত্র সংগঠনের রাজনীতির মধ্যে আন্তর্জাতিক ভাবধারা পরিলক্ষিত হতো। বিশেষ করে ছাত্র ইউনিয়ন ত্রিধাবিভক্ত হয়ে মস্কো, পিকিংপন্থীসহ বিদেশী ভাবধারায় রাজনীতি করেছে। তারা সমাজতন্ত্রের এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছে মাত্র।
পাকিস্তানি শাসকচক্র সে সময়ে ছাত্রদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে তাদের নীলনকশা হাসিল করতে চেয়েছিল। ছাত্রলীগের নেতৃত্ব জাতির কাছে ওয়াদাবদ্ধ ছিল বিধায় তারা পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর লোভ-লালসার কাছে মাথানত করেননি। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ সুসংহতভাবে চেইন অব কমান্ডের মাধ্যমে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের দ্বারা পরিচালিত হতো। কোনো প্রলোভন ছাত্রলীগ নেতৃত্বকে ভুল পথে পরিচালিত করতে পারেনি। আইয়ুব-মোনায়েম শাসন যুগে টাকার বিনিময়ে ছাত্রলীগ নেতৃত্বকে ভুল পথে পরিচালিত করার অনেক চেষ্টা চালিয়েও সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু ৬ দফা পেশ করার পর আওয়ামী লীগে মতবিরোধ দেখা দেয়। অনেক নেতা দলত্যাগ করে ৬ দফার বিরুদ্ধাচরণ করেন। ছাত্রলীগই একমাত্র সংগঠন যারা সর্বপ্রথম ৬ দফার প্রতি সমর্থন দিয়ে কাজ শুরু করে। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ইস্পাত কঠিন শপথ নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সারা দেশে সভা-সমাবেশের মাধ্যমে ৬ দফার প্রচার শুরু করেছিল। বাঙালির স্বার্থে আপসহীন মনোভাব নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা প্রচারে তৎকালীন প্রতিটি জেলায় উল্কার মতো ছুটে বেড়িয়েছেন। বঙ্গবন্ধু সেদিন বলেছিলেন, আমার হাতেগড়া ছাত্রলীগ যখন বাঙালির ৬ দফার পক্ষে, নির্যাতন উপেক্ষা করে প্রচার অভিযানের অগ্রযাত্রী, তখন আমার আর কোনো ভয় নেই।
বঙ্গবন্ধু বাংলার প্রতিটি জায়গায় ছাত্রলীগের মাধ্যমে স্বাধীনতার বীজ বপন করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর আস্থা ও ভরসার জায়গা ছিল ছাত্রলীগ। তাই তিনি ধাপে ধাপে স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে ছাত্রলীগকে বেছে নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মধ্য থেকে ‘স্বাধীনতা নিউক্লিয়াস’ নামে একটি গোপন সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। স্বাধীনতা সংগ্রামে ছাত্রলীগের অনন্য ভূমিকার মূলে ছিল তাদের সততা, একাগ্রতা, সর্বোপরি লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে থাকা। সত্যের মাপকাঠিতে স্বাধীনতাপূর্ব ছাত্রলীগ ছিল এক অনন্য দৃষ্টান্ত। ছাত্রলীগের এ ভূমিকা চির উজ্জ্বল ও চির ভাস্বর হয়ে থাকবে।
ষাটের দশকে ছাত্রলীগের কর্মীদের মেধার যোগ্যতায় নেতৃত্বের সঠিক আসনে বসানো হতো। সে সময় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যারা কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে সংগঠনকে সুসংগঠিত করেছিলেন, তাদের মধ্যে পর্যায়ক্রমে যারা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন তারা হলেন- রফিকুল্লাহ চৌধুরী সভাপতি ও শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন সাধারণ সম্পাদক, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন সভাপতি ও শেখ ফজলুল হক মনি সাধারণ সম্পাদক, কেএম ওবায়দুর রহমান সভাপতি ও সিরাজুল আলম খান সাধারণ সম্পাদক, ফেরদৌস আহম্মেদ কোরেশী সভাপতি ও আবদুর রাজ্জাক সাধারণ সম্পাদক, সৈয়দ মোযহারুল হক বাকী সভাপতি ও আবদুর রাজ্জাক সাধারণ সম্পাদক, আবদুর রউফ সভাপতি ও খালেক মোহাম্মদ আলী সাধারণ সম্পাদক, তোফায়েল আহমেদ সভাপতি ও আসম আবদুর রব সাধারণ সম্পাদক, নূর-ই-আলম সিদ্দিকী সভাপতি ও মো. শাহজাহান সিরাজ সাধারণ সম্পাদক।
বর্তমান ছাত্রলীগ যেন ক্ষয়িষ্ণু এক ছাত্র সংগঠন। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব ও যোগ্যতার পারদ রাজনীতির ব্যারোমিটারে নিুগামী হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা থেকে ছাত্রলীগের নেতৃত্বের উত্তরণ ঘটাতে হবে। প্রায় একযুগ ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, ছাত্রলীগের কর্মীরা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আসীন হওয়ার পর তাদের মধ্যে টাকা, বাড়ি, গাড়ি ইত্যাদি করার প্রবণতা বাড়ছে। ছাত্রদের ন্যায্য দাবি-দাওয়াসহ জাতীয় ইস্যুতে সোচ্চার হওয়ার চেয়ে নিজেদের আখের গোছাতেই যেন তারা বেশি ব্যস্ত।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের একজন নেত্রী হিসেবে পাকিস্তান আমলে ‘ইডেন মহাবিদ্যালয় ছাত্রী সংসদে’ ভিপি পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর মেয়ে হিসেবে নয়, শেখ হাসিনা মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সাধারণ ছাত্রীদের মন জয় করে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
স্বাধীনতাপূর্ব কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতৃত্বের মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ হাতেগোনা নেতার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর আলাপচারিতা হতো এবং প্রয়োজনবোধে তিনি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দিকনির্দেশনা দিতেন। বঙ্গবন্ধুর এ নির্দেশনা সংগঠনের প্রতিটি স্তরে পৌঁছে যেত। বর্তমানে নিু পর্যায়ের একজন ছাত্রনেতা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করে নিজেকে এমনভাবে উপস্থাপন করেন, যাতে তাদের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের প্রতি অবজ্ঞাই প্রকাশ পায়। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সংঠনের কাজ থেকে দূরে থেকে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থেকে নিজেদের আখের গোছানোর কাজে লিপ্ত। ছাত্রলীগ একটি আদর্শভিত্তিক সংগঠন। এ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল থেকে কাজ করে যাবেন, ধাপে ধাপে পর্যায়ক্রমে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে একদিন মূল সংগঠন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দেবেন এটাই কাম্য। কিন্তু বর্তমানে দেখা যায়, ছাত্রলীগ ছাড়ার পর অনেকে এক ধাপে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত হন। ফলে রাজনীতিতে মেধা ও যোগ্যতা যাচাই করা যায় না।
স্বাধীনতার আগে ছাত্র নেতৃত্ব শেষে যারা ধাপে ধাপে পর্যায়ক্রমে আওয়ামী লীগ সংগঠনে মহুকুমা ও জেলা পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের মধ্য থেকে বঙ্গবন্ধু যোগ্যতার ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আসীন করেছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে যেসব নেতাকে দেখা যায়, তাদের মধ্যে অনেক নেতার নিজ জেলা বা থানায় গ্রহণযোগ্যতা খুব কম। কারণ তারা কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে নিজ জেলা বা থানার নেতৃত্বকে বাঁকা চোখে দেখেন এবং তাদের ওপর খবরদারি করার চেষ্টা করেন। ফলে নেতৃত্বের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি হয়। আজও জেলা পর্যায়ে আওয়ামী লীগের অনেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আছেন, যারা বঙ্গবন্ধুর কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন। এখনও বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার কর্মী হিসেবে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। আওয়ামী লীগের কিছু কেন্দ্রীয় নেতা জেলা ও থানা পর্যায়ের সাংগঠনিক কাজকর্ম মনিটর করা থেকে বিরত থেকে তদবির ও চাঁদাবাজিতে ব্যস্ত। প্রতি স্তরে আওয়ামী লীগসহ এর অঙ্গসংগঠনগুলোর আজ মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এ অন্ধকারের কবল থেকে সংগঠনগুলোকে বাঁচাতে হবে নেত্রীকেই।
আওয়ামী লীগের মূল সংগঠনের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন একান্ত প্রয়োজন। যে দল ক্ষমতায় থাকে, ওই দলের নাম ভাঙিয়ে অনেক ভূইফোঁড় সংগঠন জন্ম নেয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ওই ভূইফোঁড় সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে যাদের দেখা যায়, তারা বসন্তের কোকিল। ওরা আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার আশায় এসব সংগঠন গড়ে তোলেন। তাদের আদর্শগত কোনো চিন্তা নেই। সরকার পতনের সঙ্গে সঙ্গে ওদের খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। ওদের কারণে সরকারের ভাবমূর্তি সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়। ভূইফোঁড় সংগঠন সম্পর্কে সংগঠনের সুস্পষ্ট ঘোষণা থাকা দরকার।
ঢালী মোয়াজ্জেম হোসেন : আইনজীবী

দলবাজ নয়, চাই দায়িত্ববান পুলিশ by ড. মাহবুব উল্লাহ্

১৭৯২ সালে এতদঞ্চলের জন্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দারোগা আইনের প্রবর্তন করেন। ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিশ ভূমি ব্যবস্থাপনার জন্য চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু করেন। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে এ দেশে জমিদার শ্রেণীর উদ্ভব হয়। মুঘল শাসনে জমিদার শ্রেণীর অস্তিত্ব ছিল না। মুঘল সম্রাটরা মনসবদারি প্রথা চালু করেছিলেন। মনসবদাররা সবাই সমান ক্ষমতাসম্পন্ন ছিলেন না। একটি নির্দিষ্ট এলাকার জন্য একজন মনসবদার থাকতেন এবং তার অধীনে বিভিন্ন সংখ্যায় ও মাত্রায় পাইক থাকত। যে মনসবদারের পাইকের সংখ্যা বেশি থাকত, সে-ই ছিলেন অধিকতর ক্ষমতাশালী। পাইকরা এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, বিদ্রোহাত্মক কার্যকলাপ দমন, সম্রাটের জন্য কর, খাজনা আদায় এবং সম্রাটের প্রয়োজনে যুদ্ধাভিযানে অংশগ্রহণ করত। স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত খাজনা পাইকদের বেতন-ভাতা নির্বাহ করা, মনসবদারের প্রাপ্য পূরণ করা এবং সম্রাটের প্রাপ্য পরিশোধে ব্যবহার করা হতো। তবে ক্ষেত্রবিশেষে খোদ মনসবদাররা সম্রাটের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে উঠতেন। ১৭৯২ সালের দারোগা আইন স্থানীয় আইনশৃংখলা রক্ষার ক্ষেত্রে মুঘল ব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। কোম্পানি শাসকরা দারোগাদের জন্য খুবই সামান্য মাসমাহিনার ব্যবস্থা করেছিল। কিন্তু তাদের দেয়া হয়েছিল বল প্রয়োগের প্রচুর ক্ষমতা। ধরে নেয়া হয়েছিল মাসমাহিনার ঘাটতি দারোগারা তাদের বল প্রয়োগের ক্ষমতা দিয়ে স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে আদায় করে নেবেন। আইন লংঘনকারীরা এভাবে দারোগাদের ঘুষ দিয়ে অনেক সময় রেহাই পেত। এক অর্থে বলা যায়, দারোগাদের প্রদেয় ঘুষই ছিল আইন লংঘনের জন্য এক ধরনের জরিমানা।
দারোগা আইনের ওপর ভিত্তি করে গত দুই শতাধিক বছরে এ দেশে পুলিশ প্রশাসন গড়ে ওঠে। ব্রিটিশ শাসনামল, পাকিস্তানি আমল এবং বাংলাদেশ আমলেও এর চরিত্রগত কোনো পরিবর্তন হয়নি। অনেক আইন-কানুন রচিত হয়েছে। পুলিশি ক্ষমতাও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশে গণতন্ত্র চালু আছে বলেও দাবি করা হয়। এসব সত্ত্বেও একটি প্রবাদ মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হয়। প্রবাদটি হল, বাঘে ছুঁলে ১৮ ঘা, পুলিশে ছুঁলে বাহাত্তর ঘা। অস্বীকার করার উপায় নেই, সেই ১৭৯২ সাল থেকে পুলিশ বেতন-ভাতা হিসেবে যা পায় তা অতি নগণ্যই। তাদের ক্ষমতার শাখা-প্রশাখা এতই বিস্তৃত যে, রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের সব ক্ষেত্রের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ অবশ্যম্ভাবী। পুলিশকে বিচিত্র ধরনের দায়িত্ব পালন করতে হয়। ভিআইপিদের প্রটোকল দেয়া থেকে শুরু করে ছোটখাটো চুরি-চামারি পর্যন্ত সব কিছুতেই পুলিশের ভূমিকা আমরা লক্ষ্য করি। দেশের পরিস্থিতি এতটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে যে, কোথায় কখন দাঙ্গা-হাঙ্গামা হবে, সড়ক অবরোধ হবে, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শত-সহস মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠবে, অকল্পনীয় রাজনৈতিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে সংঘাত-সংঘর্ষের সৃষ্টি হবে- এর সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে পুলিশকে। কখনও কখনও পুলিশও খুন-জখমের শিকার হন। জনসংখ্যার অনুপাতে পুলিশের সংখ্যা অপ্রতুল। হাল আমলে পুলিশকে অতিরিক্ত অস্ত্রশস্ত্র দেয়া হয়েছে। দেয়া হয়েছে সাঁজোয়া গাড়ি, জল কামান এবং সাউন্ড গ্রেনেড। এত কিছু করেও মাঝে মাঝে পুলিশকে অসহায় মনে হয়। আবার একথাও সত্য যে, পুলিশের বাড়াবাড়ি এখন নিত্যনৈমত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মুহুর্মুহু গুলি ছুড়তে পুলিশ পরোয়া করে বলে মনে হয় না। অনেক সময় নিরীহ মানুষকে আসামি সাজিয়ে ধরে নিয়ে আসা হয়। এমনকি ধৃতাবস্থায় তাদের পায়ে গুলি করা হয়। আইন যদিও বলছে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাকিমের কাছে উপস্থিত করতে হবে, এখন তার ব্যত্যয়ই সাধারণ নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ধরে নিয়ে যাওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। অনেক সময় হারিয়ে যাওয়া মানুষটিকে আর পাওয়া যায় না। কখনও কখনও খালে-বিলে, রেললাইনের ধারে ভাগ্যাহত ব্যক্তির গলিত লাশটি উদ্ধার হয়। এসব কিছু আমরা জানতে পারি সংবাদপত্রের প্রতিবেদন থেকে। অনেক সময় প্রতিবেদকও পুলিশের হাতে হেনস্থা হওয়া থেকে রেহাই পান না। এর সবকিছুই অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও দুঃখজনক। পুলিশের কাজ হল দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে ঘটনা এমনভাবে ঘটে, মনে হয়, দুষ্টরাই পুলিশের কাছে আদৃত এবং শিষ্টরাই পুলিশের চক্ষুশূল। কারণ কোনো নীতিবান মানুষই পুলিশকে বেআইনিভাবে উপরি দিতে রাজি হয় না।
সামাজিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ভাষাও শব্দসম্ভারে সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে। আমরা এখন নতুন সব শব্দ শিখছি। যেমন ঘুষ বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য, গ্রেফতার বাণিজ্য ইত্যাদি। অর্থনীতি শাস্ত্রে বাণিজ্য শব্দটি যে দ্যোতনা প্রকাশ করে এসব বাণিজ্য সেই একই দ্যোতনা প্রকাশ করে কিনা সে ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করা যথার্থ। এক সময় বলা হতো, In India from Vice Roy to Chowkidar every body is corrupt. যেখানেই ইচ্ছামাফিক ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ থাকে, সেখানেই দুর্নীতি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা আজ পর্যন্ত এতটা নিখুঁত হয়নি যে, ইচ্ছামাফিক ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ অবলুপ্ত হয়ে যাবে। বাংলাদেশে পদে পদে ইচ্ছামাফিক ক্ষমতা প্রয়োগের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এ সুযোগটি আরও সম্প্রসারিত হয়েছে এ কারণে, প্রশাসনে রিক্রুটমেন্ট দলীয় বিবেচনার দ্বারা অনেকাংশেই ত্রুটিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যারা দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ পান, তারা তাদের পছন্দের দল এলে অনেকাংশেই দুর্বিনীত হয়ে ওঠেন। কুচপরোয়া নেই এমন একটি মনোভাব তাদের আচ্ছন্ন করে ফেলে। নিজেদের রিক্রুটদের দিয়ে টেলিফোন নির্দেশের মাধ্যমে কীভাবে পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচনটি সম্পন্ন করা হয়েছিল, সে সম্পর্কে খোলামেলা কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম খুবই বেকায়দায় পড়ে গেছেন। নিজ দলের সমর্থক ছাত্রদের মৌখিক পরীক্ষার সময় বিবেচনায় নেবেন বলে আশ্বস্ত করায় এ বিব্রতকর পরিস্থিতি আরও প্রকট হয়েছে। ম্যাক্স ওয়েবারের লেখায় পড়েছি- আমলারা হল Legal rational entity. আমলারা আইন অনুযায়ী নির্মোহভাবে কর্তব্য সম্পাদন করবেন, এটাই কাম্য। এক্ষেত্রে তারা যত নিষ্ঠাবান হবেন, দেশের আমলাতন্ত্র ততই দক্ষ ও যোগ্য হবে। দেশ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশে সৎ, নিষ্ঠাবান, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও বিবেচক আমলা বা পুলিশ কর্মকর্তা নেই এমনটি বলা যাবে না। কিন্তু তারা দুর্জনদের ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত থাকেন। থাকেন শাস্তিমূলক বদলি বা পদোন্নতিবঞ্চিত হওয়ার আশংকায়। এ কারণে দেশ তাদের সেবা থেকে বঞ্চিত হয়। আজ হোক কাল হোক, এই পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে হবে। আমলা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সৎভাবে কাজ করার সুযোগ না দিলে দেশে কখনও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে না। আর সুশাসন না থাকলে দেশ বিশৃংখল অবস্থায় নিপতিত হবে। রাজনৈতিক নেতাদেরও এ সত্যটি উপলব্ধি করতে হবে। পুলিশ ও প্রশাসনকে বেআইনি কাজে প্রণোদিত করলে রাজনীতিকদের সাময়িক সুবিধা হয়, তবে দীর্ঘমেয়াদি কোনো লাভ হয় না।
দৈনিক যুগান্তর গত ১৪ ও ১৫ নভেম্বর দুটি প্রতিবেদন ছেপেছে। ১৪ নভেম্বরের প্রতিবেদনের শিরোনাম হল, সোনার খনি দোহার থানা! ঘাটে ঘাটে ওসির মাসোয়ারা। ১৫ নভেম্বরের শিরোনাম হল, ভয়াবহ মাদকের ছোবল দোহারে-চালকের আসনে ওসি। একজন ওসি সম্পর্কে এসব প্রতিবেদনে যা লেখা হয়েছে তা রীতিমতো ভয়াবহ। প্রতিবেদনের কথাগুলো সত্য না হলেই ভালো লাগত। প্রতিবেদনের এক জায়গায় লেখা হয়েছে, তিনি নিজেকে আওয়ামী লীগের প্রয়াত একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার আত্মীয় বলে পরিচয় দেন। শিক্ষা জীবনে ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন বলে গর্ব করে অনেকের কাছে বলে বেড়ান। এছাড়া ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিশেষ সখ্য ছাড়াও আরও উপরের মহলে রয়েছে হট কানেকশন। আর জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতার সঙ্গে দহরম মহরম সম্পর্ক তো আছেই। ফলে তিনি ধরাকে সরাজ্ঞান করেন প্রতিনিয়ত। এর খেসারত দিতে হচ্ছে দোহারবাসীকে। আমরা বিশ্বাস করতে চাই যুগান্তরের এই প্রতিবেদনগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়। যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয় তাহলেও এটি নিন্দনীয়। ধরে নিচ্ছি সাংবাদিকতার নীতিমালা মেনেই এসব প্রতিবেদন রচিত হয়েছে। উদ্ধৃতি চিহ্নের মধ্যে ব্যবহৃত অংশ থেকে এটাই মনে হচ্ছে, ক্ষমতার নেটওয়ার্কই একজন সরকারি কর্মকর্তাকে বিপথগামী করে তুলতে পারে। কবে কখন এ ধরনের নেটওয়ার্ক ছিন্ন করে কোনো এক দেবদূতসম রাষ্ট্রনায়ক দেশবাসীকে একটি নিরপেক্ষ ন্যায়পরায়ণ প্রশাসন উপহার দেবে, সেটার জন্যই আমরা অপেক্ষায় থাকব।
পুলিশ জনগণের বন্ধু এমন কথাই বারবার শুনেছি। পুলিশকে জনগণের বন্ধু হিসেবেই আমরা দেখতে চাই। যে ওসির বিরুদ্ধে প্রতিবেদনগুলো যুগান্তরে ছাপা হয়েছে, আত্মপক্ষ সমর্থন করে যদি তার কোনো বক্তব্য থাকে, সেটাও যুগান্তর ভবিষ্যতে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে ছাপবে বলে আশা করি।
পুলিশ ছাড়া রাষ্ট্র কল্পনা করা যায় না। Tomlins লিখেছেন, আমেরিকান রাষ্ট্রের ইতিহাস লিখতে গিয়ে পুলিশের বংশ লতিকা উল্লেখ না করা হবে পুঁজিবাদের আলোচনা না করে আমেরিকান অর্থনীতির ইতিহাস লেখার চেষ্টা করা। ষোড়শ শতাব্দী থেকে উনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত ইউরোপে পুলিশ বলতে বোঝাত একটি সুশৃংখল পরিবেশের স্রষ্টা, যে পরিবেশ হবে বাণিজ্যের জন্য সহায়ক। পুলিশ একটি প্রতিষ্ঠানও বটে। পুলিশ শব্দটির মূল খুঁজতে গেলে আমাদের চলে যেতে হবে ফ্রান্স থেকে জার্মানিতে এবং সেখান থেকে গ্রিসে। গ্রিসে এরিস্টটলের লেখায় পলিসি অথবা পলিটিক্সের উল্লেখ পাওয়া যায়। এতে বোঝানো হতো, দেশের সমুদয় প্রতিষ্ঠান ও প্রক্রিয়াকে বোঝানো হতো, যেগুলোর মাধ্যমে সমাজে শৃংখলা আসে এবং শৃংখলা থেকে আসে সমৃদ্ধি, প্রগতি এবং সুখ, বিশেষ করে যার ফলে বাজার ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। বস্তুত এটাই হল শাসন ব্যবস্থার একটি অংশ, যার মাধ্যমে সমাজে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। পুলিশের কাজ হল- চুরি, ডাকাতি, সহিংসতা প্রতিরোধ করা। সমাজে এমন একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলা উচিত, যার মাধ্যমে নিরাপত্তা বিধান, শ্রমের নিয়ন্ত্রণ, ভিক্ষাবৃত্তি রোধ, ব্যবসায়ে ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা। পুলিশের কাজের মধ্যে রয়েছে মাদকের লাইসেন্স দেয়া, স্বাস্থ্য নিরাপত্তা, গৃহনির্মাণ নিরাপত্তা, অগ্নিনিরাপত্তা, সড়ক ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ। তবে পরবর্তীকালে পুলিশি কার্যক্রমের একটি অংশ বেসরকারিকরণ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে ব্যক্তির ওপর ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণ, গোষ্ঠীর ওপর গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণই মুখ্য বিষয়। সবকিছু নিয়ন্ত্রণের ভার পুলিশের হাতে ছেড়ে দিলে সমাজে বিপর্যয় ঘটবে। সেই শাসনই প্রকৃষ্ট শাসন যার ফলে ব্যক্তি ষড়রিপু তাড়না থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার জন্য সদাসর্বদা সজাগ থাকে। লোভ-প্রলোভন মানুষকে বিপথগামী করে। কিন্তু লোভ-প্রলোভন থেকে মুক্ত থাকলেই প্রকৃত মানুষ হওয়া সম্ভব। সেজন্য এমন এক শিক্ষাব্যবস্থা চাই, যে ব্যবস্থা মানুষকে মানবিক হতে প্রতিনিয়ত উদ্বুদ্ধ করে। বৈষয়িক শিক্ষার সঙ্গে নৈতিক শিক্ষার সংযোগ ঘটাতে না পারলে অর্থনৈতিক ব্যবস্থারও নিদারুণ ক্ষতি ঘটবে। সুতরাং একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জন্য চাই উন্নতমানের নৈতিক শিক্ষা। এর ফলে পুলিশকে আমাদের যখন-তখন নিন্দা করতে হবে না এবং পুলিশ নিজেও অনৈতিক কার্যকলাপ থেকে অনেকটাই দূরে থাকবে। আমরা সে রকম একটি দিনের অপেক্ষায় আছি।
ড. মাহবুব উল্লাহ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক

জিএসপি সুবিধা এবং বাংলাদেশের শিল্প খাত by ড. হারুন রশীদ

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের জিএসপি সুবিধাপ্রাপ্তি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনার এ সংক্রান্ত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এই বিতর্কের সূত্রপাত। ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) অনুষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেছিলেন, বাংলাদেশ পোশাক রফতানিতে এক পয়সাও শুল্ক দেয় না। ওই শুল্ক তাদের দেশের (যুক্তরাষ্ট্রের) ক্রেতা পক্ষান্তরে ভোক্তারাই পরিশোধ করেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এ বক্তব্য সঠিক নয় বলে তা নাকচ করে দিয়েছেন। বুধবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইনডেনটিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত আইএসও সনদপ্রাপ্তি এবং মেডিয়েশন সেন্টার স্থাপন সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় শুল্ক প্রদান করেই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ করে। এজন্য বাংলাদেশ পণ্যের মূল্য কম পাচ্ছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অনেক উন্নত দেশ বাংলাদেশকে ডিউটি ফ্রি ও কোটা ফ্রি প্রবেশাধিকার দিলেও যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে তা দিচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ওই অনুষ্ঠানে জিএসপি সুবিধা পুনর্বহালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া ১৬ শর্ত পূরণ করা হয়েছে এমন দাবি করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, শর্তের কিছু বিষয় বাস্তবায়ন একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, সেক্ষেত্রে সঠিকভাবে কাজ চলছে।
আশির দশকে বাসাবাড়িতে ছোট পরিসরে যে পোশাকশিল্পের সূচনা হয়েছিল, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সেটিই এখন সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রার জোগান দিচ্ছে। তৈরি পোশাক রফতানিতে চীনের পর বাংলাদেশই হচ্ছে বৃহত্তম দেশ। পাঁচ হাজারেরও বেশি কারখানায় প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করে এখানে। একথা ঠিক, বাংলাদেশে পোশাকশিল্পের উন্নতি হলেও সে তুলনায় বাড়েনি শ্রমিকের জীবনমান ও নিরাপত্তা। একের পর এক দুর্ঘটনায় শ্রমিকের জীবন যাচ্ছে অকাতরে। এর ফলে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প নিয়ে বিশ্বে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি (অগ্রাধিকারমূলক বাজার ব্যবস্থা) স্থগিত হয়েছে। নানা শর্ত দিচ্ছে ইউরোপের দেশগুলোও।
১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, অধিকাংশ শিল্প ও সার্ভিস প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা হয়। জাতীয়করণের পর এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় নানা অসুবিধা দেখা দেয়। এসব সমস্যা নিরসনে সে সময়ের শ্রমমন্ত্রী জহুর আহমেদ চৌধুরী দেশে প্রথম শ্রমনীতি ঘোষণা করেন। দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি ও প্রগতির লক্ষ্যে শিল্পে শান্তি বজায় রাখাই ছিল এ নীতির মূল উদ্দেশ্য। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের শিল্প খাতের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। বর্তমানে দেশে শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ। এর মধ্যে গার্মেন্ট খাতেই শ্রমিক রয়েছে প্রায় ৪০ লাখ। কিন্তু বিদ্যমান শ্রমনীতিতে শ্রমিকদের এসব ব্যাপারে সুষ্ঠু দিকনির্দেশনা না থাকায় তাদের পরিচালনায় নানা সমস্যা পোহাতে হচ্ছে। একটা কথা সবাইকে স্মরণ রাখতে হবে, শ্রমিক স্বার্থ সংরক্ষণ ছাড়া শিল্পের বিকাশ সম্ভব নয়। এজন্য শ্রমনীতির যথাযথ বাস্তবায়ন জরুরি। একবিংশ শতাব্দীতে শিল্পের চরম উৎকর্ষের যুগে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত হবে এটাই স্বাভাবিক।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলছেন, জিএসপি সুবিধাপ্রাপ্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে শর্তের বেড়াজালে আটকাতে চাচ্ছে। এ কথা ঠিক, জনসংখ্যাধিক্যের এ দেশে সস্তা শ্রমের কারণেই বিদেশী বায়াররা আমাদের পোশাকশিল্পের দিকে ঝুঁকেছেন। এ কারণেই চীনের পর বাংলাদেশ সবচেয়ে বড় পোশাক রফতানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে। এই সাফল্য ধরে রাখতে হলে সব পক্ষকেই দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। যার যে দায়িত্ব সেটি পালন করতে হবে নিষ্ঠার সঙ্গে। শ্রমিকের জীবনমান উন্নয়নের ব্যাপারে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে। এক্ষেত্রে শ্রমিকদের দায়িত্বও রয়েছে। যখন-তখন কারখানায় ভাংচুর ও ধর্মঘট করার মতো হঠকারী সিদ্ধান্ত থেকে বেরিয়ে আসতে হবে তাদের। কোনো সমস্যা থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, সংঘাত-সহিংসতাও পোশাকশিল্পের ভবিষ্যৎকে কণ্টকাকীর্ণ করছে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল হতে হবে।
আর একটি কথা। যে কোনো কোটা বা বিশেষ সুবিধা চিরকালীন কোনো ব্যবস্থা নয়। এজন্য একটি সুষ্ঠু প্রতিযোগিতামূলক বাজার ব্যবস্থায় যাতে টিকে থাকা যায় সেদিকে নজর দিতে হবে। সরকার যে বলছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি সুবিধা স্থগিতের সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক, সেটিও তাদের কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, সামাজিক নিরাপত্তা, দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও কাজের নিশ্চয়তা প্রদানের বিধান রেখে জাতীয় শ্রমনীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। শ্রমনীতিতে শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার দেয়ার কথা বলা হয়েছে। ন্যূনতম ১০০ শ্রমিক থাকলেই সেখানে ইউনিয়ন করা যাবে। এছাড়াও বলা হচ্ছে, নয়া নীতি অনুযায়ী পুরুষ ও নারী শ্রমিকদের বেতনবৈষম্য দূর করা হবে। একই সঙ্গে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি/পুনঃনির্ধারণ এবং গঠনে স্থায়ী মজুরি কমিশন করা হবে বলেও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি খাতের সব শ্রমিককে প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্রাচ্যুইটি ও অবসর ভাতা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো মালিক শ্রমিকদের এই সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করলে তারও ব্যবসায়িক সনদ বাতিলের বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে। শ্রমনীতিতে শ্রমিকের ন্যায্য মজুরির বিষয়ে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। এই নীতি অনুযায়ী সরকার শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ন্যায্য মজুরিপ্রাপ্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। এ লক্ষ্যে নিুতম মজুরির মানদণ্ড নির্ধারণ, দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে নিয়মিত পর্যালোচনা, শ্রমিকের দক্ষতা ও কাজের সঙ্গে সস্পর্কিত করে বিভিন্ন স্তরের মজুরি নির্ধারণ, নারী-পুরুষ ও দেশের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে মজুরির সমতা নিশ্চিত করবে সরকার। এগুলো কেবল কাগজে-কলমে কিংবা শ্রমনীতিতে থাকলেই হবে না, বাস্তবেও এর প্রতিফলন ঘটাতে হবে।
অন্যদিকে আমদানিকারক দেশগুলোরও অযাচিত শর্তারোপ কাম্য নয়। শুধু অভিযোগ না করে বাংলাদেশের শ্রমিকের জীবনমান উন্নয়নের জন্য একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এজন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি সুবিধা আবার চালু করা উচিত। ইউরোপের বাজারেও শুল্কমুক্ত সুবিধা থাকা জরুরি। কোনো পক্ষের অনভিপ্রেত আচরণের কারণে বাংলাদেশের শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হোক এটা কাম্য নয়।
ড. হারুন রশীদ : সাংবাদিক, কলামিস্ট

নতুন সামাজিক ব্যবস্থা রচনায় অর্থনৈতিক চিন্তার পুনর্বিন্যাস by মুহাম্মদ ইউনূস

বর্তমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থা কি নৈতিক, সামাজিক এবং বস্তুগত ক্ষেত্রে সামগ্রিকভাবে কাক্সিক্ষত ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করার দিকে আমাদের এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে?
আমার দৃঢ় বিশ্বাস, পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক তত্ত্ব এবং তার প্রয়োগ যে চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে তার মাধ্যমে এই ভারসাম্য কিছুতেই সম্ভব হবে না। বরং এর মধ্যকার দ্বন্দ্বগুলো আরও প্রকট হয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে জটিল এবং অসহনীয় পর্যায়ে নিয়ে যাবে। বর্তমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থার দিকে মনোযোগ দিয়ে তাকালেই পরিষ্কার হয়ে উঠবে যে এটা আসলে নৈর্ব্যক্তিক একটা শোষণ যন্ত্র। এর কাজ হল নিচ থেকে রস শুষে অনবরত উপরের দিকে পাঠাতে থাকা। বহু স্তরে বিন্যস্ত এই যন্ত্র ধাপে ধাপে নিচের স্তরের রস তার উপরের স্তরে পাঠায়। এর সর্বনিু স্তরটি সবচেয়ে বিশাল। সেখানে অসংখ্য কর্মী নিরলসভাবে বিন্দু বিন্দু করে রস তৈরি করে। তার উপরের স্তরটিতে তুলনামূলকভাবে অনেক কম মানুষ, কিন্তু যন্ত্রে তাদের অবস্থানের কারণে শক্তিতে তারা অনেক বলবান। তাই তারা নিচের সংগ্রহ করা রস অনায়াসে নিজের কাছে টেনে নেয়। উপরে যারা আছে তারা খারাপ মানুষ হওয়ার কারণ এটা হচ্ছে তা নয়। যন্ত্রের কারণেই মূলত এটা হচ্ছে। যন্ত্রটাই এভাবে বানানো হয়েছে। স্তরে স্তরে সাজানো মানুষগুলো নিচের স্তরের রস উপরে টেনে নিয়ে নিচ্ছে তাদের শক্তির কারণে। এতে কেউ দোষের কিছু দেখে না। বরং ধরে নেয় যে এটাই জগতের নিয়ম। অথচ বিষয়টা জগতের নিয়ম না। কিছু পণ্ডিত বসে এ রকম একটা শাস্ত্র তৈরি করে সবাইকে বিশ্বাস করিয়ে দিয়েছে যে, এটাই জগতের নিয়ম; এ নিয়ম মেনে চললে সবার জন্য মঙ্গল।
প্রত্যেক স্তরে মানুষের সংখ্যা তার ইমিডিয়েট পরের স্তরের মানুষের সংখ্যা থেকে অনেক কম। কিন্তু প্রত্যেক মানুষের আয়ত্তে রসের পরিমাণ হতে থাকবে নিচের স্তরের চেয়ে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ স্তরে থাকবে হাতেগোনা কয়েকজন মানুষ মাত্র। কিন্তু তাদের আয়ত্তে এত রস সংগৃহীত থাকবে যে, নিচের দিকের অর্ধেক স্তরে জমানো সব রস একত্র করলেও সমপরিমাণ হবে না। এর জন্য কাউকে আমরা দোষী বলতে পারছি না, কারণ শাস্ত্রে বলে দেয়া আছে এমনটিই হওয়ার কথা। এতেই সবার মঙ্গল। বলাবাহুল্য, কোনো নৈতিক বা সামাজিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য এ যন্ত্র তৈরি হয়নি। এ যন্ত্র মূলত তৈরি হয়েছে অর্থনীতির চাকাকে সব সময় সচল রাখার জন্য। সব সময় চোখ রাখা হয়েছে কখনও যেন অর্থনীতির চাকা কোনো চোরাবালিতে আটকে না যায়। শাস্ত্রে নৈতিক ও সামাজিক বিষয়ের নানা অবতারণা থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রয়োগ নেই। বাস্তবে তার নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ববোধের বিষয়টি অপ্রাসঙ্গিক হিসেবে পরিণত হয়েছে। সমাজ নিয়ে যারা চিন্তা করে তারা মাঝে মাঝে এটা স্মরণ করিয়ে দিলে এটা নিয়ে কিছু উদ্যোগ আয়োজনের কথা বলাবলি হয়, কিন্তু দ্রুত সবাই এসব কথা ভুলে যায়। যেহেতু যন্ত্রের গাঁথুনিতে এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়নি, কাজেই এসব কখনও যন্ত্রের কার্যক্রমের সঙ্গে একীভূত হতে পারেনি।
যেমন ধরুন শেয়ারবাজারের কথা। বর্তমান জগতের ব্যবসার সাফল্যের মাত্রা নির্ধারণে শেয়ারবাজারের মূল্যায়নই চূড়ান্ত। কারা ব্যবসা ভালো করছে, কারা ব্যবসাকে সাফল্যের শিখরে নিয়ে গিয়ে পৌঁছাতে পারছে, সব বিষয়ে রায় দিচ্ছে শেয়ারবাজার। এ মূল্যায়নে কোথাও কোনো নৈতিক কিংবা সামাজিক বিচারের মাপকাঠি ব্যবহৃত হয় না। কাজেই ব্যবসার প্রধান নির্বাহীর দৃষ্টিতে এসব বিষয় পুরোপুরি অপ্রাসঙ্গিক এবং বাড়তি ঝামেলা। উপায়ান্তর না দেখে সরকার এগিয়ে আসে নিচের মানুষকে কিছু স্বস্তি দেয়ার জন্য। সরকার উপরের স্তর থেকে রস সংগ্রহ করে নিচের স্তরে বিলি করে তাদের করুণ অবস্থা থেকে রেহাই দেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু যন্ত্রের কার্যক্রম অব্যাহতভাবে চলতে থাকে।
এ যন্ত্রকে বিনা প্রশ্নে গ্রহণ করেছি বলে যন্ত্রটা সবচেয়ে বড় যে ক্ষতিটা আমাদের করেছে সেটা হল, আমরা সবাই আমাদের অজান্তে অর্থলোভী কলের পুতুলে পরিণত হয়ে গেছি।
জীবনে অর্থ জমিয়ে নিচের স্তর থেকে উপরের স্তরে যাওয়ার সাধনা ছাড়া আমাদের আর কিছু করার আছে বলে আর মনে থাকে না। আমরা এটা জেনেই চমৎকৃত যে, যে যত উপরের স্তরে যেতে পারবে, যন্ত্রের গঠনের কারণে সে তত অল্প আয়াসে, অনেক বেশি রস সংগ্রহ করার ক্ষমতা অর্জন
করবে। এমনকি সে বসে থাকলেও যন্ত্র তাকে ক্রমাগত রস জুগিয়ে দিতে থাকবে।
সামাজিক ব্যবসা বর্তমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থার যেটি মৌলিক গলদ বলে আমি মনে করি সেটি হল, এমন একটি কাল্পনিক মানুষকে কেন্দ্র করে সমস্ত শাস্ত্রটিকে সাজানো হয়েছে যার সঙ্গে রক্ত-মাংসের মানুষের মধ্যে বড় রকমের পার্থক্য রয়ে গেছে। শাস্ত্রবিদরা হয়তো নির্দোষ সরলীকরণ করেছেন। কিন্তু সেটা শাস্ত্রকে এবং এই শাস্ত্র অনুসরণকারী পুরো বিশ্বকে মহাবিপদের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। শাস্ত্রবিদরা ধরে নিয়েছেন অর্থনৈতিক জগতে যে মানুষ বিচরণ করে, সে হল শতভাগ স্বার্থপর জীব। স্বার্থপরতা ছাড়া সে আর কিছুই বোঝে না। আমি মনে করি, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যেসব মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি আমরা করেছি তার মূলে রয়েছে মানুষের এই খণ্ডিত রূপকে কেন্দ্র করে শাস্ত্র রচনা।
অর্থনৈতিক শাস্ত্রে স্বার্থপর মানুষের জায়গায় আমি এমন একটি মানুষকে প্রতিস্থাপন করতে চাচ্ছি, যিনি একই সঙ্গে স্বার্থপর এবং স্বার্থহীন। কারণ প্রকৃত মানুষ এই দুয়ের সংমিশ্রণ। কে কত স্বার্থপরভাবে এবং কত স্বার্থহীনভাবে কাজ করবে তা নির্ভর করবে ওই ব্যক্তির বেড়ে ওঠার ওপর, তার সমাজ সচেতনতার ওপর, তার শিক্ষার ওপর, তার নৈতিক বিচার-বিবেচনার ওপর। একই মানুষ স্থায়ীভাবে, কিংবা সাময়িকভাবে কিংবা ক্ষেত্রবিশেষে প্রচণ্ড স্বার্থপর হতে পারে, অথবা দিলদরিয়া স্বার্থহীন হতে পারে, অথবা একইসঙ্গে দুয়ের সংমিশ্রণ হতে পারে। এ ধরনের মানুষকে কেন্দ্র করে শাস্ত্র রচনা করতে হলে আমাদের দুধরনের ব্যবসার ব্যবস্থা রাখতে হবে। যখন মানুষ তার স্বার্থপরতাকে প্রকাশ করতে চায় এবং প্রয়োগ করতে চায় তখন সে সর্বোচ্চ মুনাফাকারী হিসেবে তার কার্যক্রম পরিচালনা করবে। যখন স্বার্থহীন হতে চায়, তখন সে এমন ব্যবসা করবে যাতে ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জন করার কোনো ইচ্ছাই তার মধ্যে কাজ করবে না; তার একমাত্র লক্ষ্য হবে ব্যবসায়িক পদ্ধতি প্রয়োগ করে সমাজের সমস্যার সমাধান করা। আমি এ ব্যবসার নাম দিয়েছি সামাজিক ব্যবসা। এ ধরনের ব্যবসা থেকে মালিক তার বিনিয়োগকৃত মূলধন ফেরত নেয়া ছাড়া আর কোনো অর্থ মুনাফা হিসেবে নিতে পারবে না। এ ধরনের এই নতুন মানুষকে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক শাস্ত্র রচনা করলে সে শাস্ত্রে দুধরনের ব্যবসার ব্যবস্থা রাখতেই হবে। একটা হবে ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জনকারী ব্যবসা, আরেকটি হবে সামাজিক ব্যবসা। তার ফলে সব পরিস্থিতিতে সব মানুষের কাছে দুটি বিকল্প থাকবে। এ বিকল্প না থাকার কারণেই আমরা অর্থনৈতিকক্ষেত্রে ভুল পথে ধাবিত হচ্ছি এবং প্রচণ্ড সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি।
প্রচলিত অর্থনৈতিক শাস্ত্রে ব্যক্তিগত মুনাফাভিত্তিক ব্যবসার বাইরে ব্যবসার কোনো ক্ষেত্র নেই। অর্থাৎ স্বার্থপর হওয়া ছাড়া ব্যবসা করার কোনো সুযোগ নেই। স্বার্থহীনভাবে কিছু করতে চাইলে দান খয়রাতের জগতে প্রবেশ করতে হয়। দাতব্য কর্মকাণ্ডে সমাজের অবহেলিত মানুষের অনেক উপকার হয়। কিন্তু এসব কর্মকাণ্ড বরাবর পরমুখাপেক্ষী থেকে যায়। আত্মনির্ভর হওয়ার কোনো সুযোগ এদের থাকে না। কারণ সব সময় নতুন নতুন অর্থ সংগ্রহ করে দাতব্য কর্মকাণ্ডকে বাঁচিয়ে রাখতে হয়। একবার কাজে লাগালে দানের টাকা খরচ হয়ে যায়। দানের টাকা ফেরত আসে না। সামাজিক ব্যবসা যেহেতু ব্যবসা, সে কারণে টাকাটা ফিরে আসে। একই টাকাকে বারবার ব্যবহার করে ব্যবসা সম্প্রসারণ করা যায়। সামাজিক ব্যবসাকে নিজস্ব ক্ষমতায় স্থায়ীভাবে টিকিয়ে রাখা যায়। সমাজের যত সমস্যা আছে, সেগুলোর সমাধান সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে অর্জন করা যায়।
ব্যক্তিগত মুনাফাভিত্তিক ব্যবসা পরিচালনার জন্য জনশক্তি গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে বিশেষ শিক্ষার ব্যবস্থা আছে। এগুলোকে বলা হয় বিজনেস স্কুল। এই শিক্ষায়তন থেকে শিক্ষা নিয়ে তরুণ ব্যবসা-যোদ্ধারা বের হয়ে আসে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন বাজার জয় করার জন্য আর কোম্পানির মালিকদের জন্য বেশি মুনাফা অর্জনের লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য। সামাজিক ব্যবসা পরিচালনার জন্য বিজনেস স্কুলে পৃথক বিশেষায়িত শিক্ষার প্রয়োজন হবে। এ শিক্ষা নিয়ে তরুণরা সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে সামাজিক সমস্যা সমাধানের লড়াইয়ে নামবে। দুই ব্যবসার দুই রকমের দক্ষতার প্রয়োজন। এক ক্ষেত্রে লাগবে মালিকদের মুনাফা বাড়ানোর জন্য সব কলাকৌশল আয়ত্ত করা, অন্যক্ষেত্রে লাগবে ব্যবসায়িক পদ্ধতিতে সামাজিক সমস্যা দ্রুত সমাধানের দক্ষতা অর্জন করা।
আয়-বৈষম্য বাড়ানোর প্রক্রিয়া পুঁজিবাদী কাঠামোতে অবিচ্ছেদ্যভাবে গ্রথিত আছে। তার ওপর যে প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজন গড়ে উঠেছে তা এই আয়-বৈষম্য বৃদ্ধি আরও জোরদার করে দিয়েছে। পুঁজি, ঋণ, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, শিক্ষা- সবকিছুর প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজন ভাগ্যবানদের পক্ষে। ভাগ্যহীনদের জন্য সব দরজা বন্ধ। তাদের পক্ষে এসব দরজা খোলা প্রায় অসম্ভব। কাজেই মানুষে মানুষে আয়-বৈষম্য বেড়েই চলবে। যে যন্ত্র ক্রমাগতভাবে নিচ থেকে রস সংগ্রহ করে উপরে চালান দেয়ার কাজে নিয়োজিত, সে যন্ত্র কখনও উপর-নিচের আয়ের ব্যবধান ঘোচাতে পারবে না। আয়-বৈষম্য আমাদের এখন কোথায় নিয়ে এসেছে সেটা দেখলেই পরিস্থিতি বোঝা যাবে। পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ৮৫ জন মানুষের কাছে যে সম্পদ আছে, তার পরিমাণ আয়ের দিক থেকে নিচে আছে পৃথিবীর এমন অর্ধেক মানুষ, অর্থাৎ ৩৫০ কোটি মানুষের মোট সম্পদের যোগফলের চেয়ে বেশি। অন্যভাবে তাকালেও একই দৃশ্য দেখা যাবে। আয়ের দিক থেকে উপরে আছে পৃথিবীতে এমন অর্ধেক মানুষের কাছে আছে পৃথিবীর মোট সম্পদের ৯৯ শতাংশ। অর্থাৎ নিচের অর্ধেকাংশ মানুষের কাছে আছে পৃথিবীর মোট সম্পদের মাত্র এক শতাংশ। বর্তমান পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় কি এ অবস্থার উন্নতি হবে? না, হবে না। কারণ অর্থনৈতিক যন্ত্রটিকে কাজ দেয়া হয়েছে উপরওয়ালাকে আরও রস জোগান দেয়ার। নিচের রস উপরের দিকে যেতেই থাকবে। আয়-বৈষম্য বাড়তেই থাকবে। নিচের তলার মানুষের মাথাপিছু যে প্রবৃদ্ধি হবে, উপরতলার মানুষের মাথাপিছু আয়ের প্রবৃদ্ধি যে তার থেকে বহুগুণ বেশি হবে এটা বুঝতে কারও কষ্ট হওয়ার কথা নয়। সামাজিক ব্যবসা নিচ থেকে উপরে রস চালান দেয়ার গতিটা কমাবে। পুঁজি, ঋণ, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও শিক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজনকে সামাজিক ব্যবসা একেবারে নিচের তলার লোকের কাছে সহজলভ্য করে দিতে পারে। তার ফলে তাদের সম্পদ ও আয় বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হবে। উপরের তলার অফুরন্ত সম্পদের অংশ সামাজিক ব্যবসায় নিয়োজিত হলে তাদের আরও সম্পদশালী হওয়ার প্রবণতা কমবে। সামাজিক ব্যবসার পরিমাণ যদি ব্যক্তিগত মুনাফাকেন্দ্রিক ব্যবসার চেয়ে বেশি হতে আরম্ভ করে, তাহলে যত না নিচের রস উপরে যাবে তার চেয়ে বেশি উপরের রস নিচে আসতে শুরু করবে।
সামাজিক ব্যবসা তাত্ত্বিক কাঠামোতে একটা উল্টো যন্ত্র স্থাপন করছে। উপরের রস নিচে আনার যন্ত্র। ব্যবসায়িক ভিত্তিতেই একই মার্কেটে দুযন্ত্র কাজ করবে। কোন যন্ত্রটির জোর বেশি হবে সেটা নির্ভর করবে আমরা কী চাই তার ওপর। সিদ্ধান্ত আমাদের হাতে, যন্ত্রের হাতে নয়। আমরা আমাদের পছন্দের যন্ত্রটা নিয়ে কাজ করব। বর্তমানে যন্ত্র একটাই। কাজেই এখানে আমাদের কোনো সিদ্ধান্ত কাজে লাগে না। যন্ত্রই সিদ্ধান্ত স্থির করে দিয়েছে। আমাদের বলা হচ্ছে যে এটাই একমাত্র এবং সর্বোত্তম যন্ত্র। আমরা সে কথা বিশ্বাস করে কলের পুতুলের মতো এ যন্ত্র ব্যবহার করে তথাকথিত সাফল্যের পেছনে যথাসাধ্য দৌড়াচ্ছি। আমাদের একটু থেমে নিজেদের জিজ্ঞেস করতে হবে- আমরা কি নিজের ইচ্ছাসম্পন্ন সৃজনশীল মানুষ হব, নাকি কলের পুতুল হব? মানুষের প্রতি মানুষের ঔদাসীন্য জয়ী হবে, নাকি মানুষের প্রতি মানুষের সহমর্মিতা জয়ী হবে? যন্ত্র জয়ী হবে, নাকি মানুষ জয়ী হবে?
বর্তমান যন্ত্র মানুষের প্রতি মানুষের ঔদাসীন্য এবং অবজ্ঞাকে সামাজিক স্বীকৃতি ও সমর্থন দিয়ে তাকে প্রশ্নাতীত করে রেখেছে। স্বার্থপরতাকে একমাত্র গুণ ধরে নিয়ে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনকে অর্থনৈতিক সাফল্যের মূলমন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে দিয়েছে। ব্যক্তিস্বার্থ বা স্বার্থপরতার একচ্ছত্রবাদ থেকে বের হয়ে আসতে না পারলে দারিদ্র্য, আয়-বৈষম্য, বেকারত্ব, স্বাস্থ্যহীনতা, পরিবেশ দূষণ কিছু থেকেই বের হওয়া যাবে না। অর্থনীতিকে আবিষ্কার করতে হবে যে পৃথিবীতে আমি ছাড়া আরও মানুষ আছে, আরও প্রাণী আছে। সবার সমবেত ভবিষ্যৎই আমার ভবিষ্যৎ। আমাদের ভবিষ্যৎই আমার ভবিষ্যৎ।
জিডিপি কার কথা বলে?
স্বার্থপর পৃথিবীতে আমরা ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত সাফল্যের মাপকাঠি বানাই স্বার্থপরতার একচ্ছত্রবাদকে উঁচিয়ে ধরার জন্য। যেমন যে যত বেশি ধনী, সে তত বেশি সফল ব্যক্তি। যে ব্যবসায় যত বেশি লাভ করে, সে তত বেশি সফল। যে দেশের মাথাপিছু জিডিপি যত বেশি, যে দেশ তত বেশি উন্নত। জিডিপি দিয়ে আমরা কী জানলাম? আমাদের মাথাপিছু দেশজ উৎপাদন কত হয়েছে তা জানলাম। কিন্তু তাতে দেশের এবং মানুষের পরিস্থিতির কতটুকু জানা হল? এর মাধ্যমে কি আমরা জানতে পারলাম দেশের দারিদ্র্যের পরিস্থিতি কী? হয়তো দেশে বাঘা বাঘা কিছু ধনী লোক আছে যারা জিডিপির ৯৯ শতাংশের মালিক। তাতে সাধারণ মানুষের তো ভয় পাওয়ার কথা। আনন্দিত হওয়ার তো কোনো কারণই নেই। মানুষের প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে হলে এমন একটা পরিমাপ বের করতে হবে যেটা আসবে জিডিপির সঙ্গে দেশের দারিদ্র্য, বেকারত্ব, স্বার্থহীনতা, আয়-বৈষম্য, পরিবেশ দূষণ, সবার কাছে শিক্ষা ও প্রযুক্তির প্রাপ্যতা, মহিলাদের ক্ষমতায়ন, মানবিক অধিকার, সুশাসন ইত্যাদির পরিমাপ যুক্ত করে।
স্বার্থপর পৃথিবীতে বিশ্বায়নের যে চমৎকার সুযোগটা এসেছে সেটাও চলছে উল্টা দিকে। পরস্পরের প্রতি বন্ধুত্ব সৃষ্টির সুযোগ না হয়ে এটা হয়ে পড়ছে বাজার দখলের লড়াই। এক রাষ্ট্রের শোষণযন্ত্র থাবা বিস্তার করার সুযোগ পাচ্ছে আরেক রাষ্ট্রের মানুষের ওপর। বিশ্বপরিবার গড়ার জায়গায় বিশ্ব পরিণত হতে যাচ্ছে অর্থনৈতিক রণক্ষেত্রে।
প্রযুক্তি
যে মন ধাঁধানো, চোখ ধাঁধানো প্রযুক্তি একটার পর একটা আমাদের জীবনের সর্বক্ষেত্রে দ্রুত বিস্তার লাভ করছে এবং তার চেয়ে দ্রুততর গতিতে আমাদের জীবনকে সার্বিকভাবে প্রভাবিত করছে, তার ফল আমাদের ওপর কেমন হবে? প্রতিদিন মনে হচ্ছে দৈনন্দিন জীবনের অতি পরিচিত পথে একটা অজানা চমক আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। সেই চমক আমাদের জীবনকে আরও উপভোগ্য করবে, সহজ করবে, নাকি কারও জন্য সহজ, কারও জন্য কঠিন করবে।
আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে এটা ভালো হচ্ছে। কিন্তু যদি অর্থনীতির মূল যন্ত্রটিকে ঘিরে প্রযুক্তি এগোতে থাকে তাহলে এই নতুন প্রযুক্তি স্বার্থপরতার শক্তিকে আরও জোরদার করবে। যেহেতু স্বার্থপর পৃথিবীতে আর কিছু করণীয় দেখা যাবে না। অনেকে এ নিয়ে আপত্তি তুলবেন। সমাধান হিসেবে এদিকে-ওদিকে কিছু স্বার্থহীনতার প্রলেপ লাগানোর চেষ্টা হবে। নিয়ম-নীতি ভেঙে কেউ কেউ প্রযুক্তির শক্তি দিয়ে চাপা দেয়া স্বার্থহীনতার শক্তিকে প্রকাশ করার উদ্যোগ নেবেন। কিন্তু মূল যন্ত্র তার কাজ নির্দিষ্ট নিয়মে করে যাবে।
প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে পাল্টে দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। কিন্তু এই পরিবর্তন আসছে বিচ্ছিন্নভাবে, মূলত খণ্ড খণ্ড স্বার্থপর লক্ষ্যকে সামনে রেখে। এটা নির্দ্বিধায় বলা যায়, কোনো বৈশ্বিক স্বপ্নকে সামনে রেখে এই পরিবর্তন আসছে না। নতুন একটা প্রযুক্তি এলে আমরা উচ্ছ্বসিত হই, ইস এটাকে যদি সব মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় পরিবর্তন আনার কাজে লাগানো যেত, যদি দারিদ্র্য মোচনের কাজে লাগানো যেত, যদি পরিবেশ রক্ষার কাজে লাগানো যেত। কিছু চেষ্টাও হয় এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে। কিন্তু বেশিদূর এগোনো যায় না। সবার চোখে স্বার্থপরতার চশমা লাগানো। এ চশমা ভেদ করে স্বার্থহীন উদ্দেশ্য সাধনে বেশিদূর যাওয়া যায় না, কারণ এ চশমা দিয়ে স্বার্থহীনতার রাস্তায় বেশিদূর দেখা যায় না। নব-আবিষ্কৃত প্রযুক্তির বাণিজ্যিক ব্যবহার নিয়ে সবাই এত ব্যস্ত থাকে যে অন্য ব্যবহারের কথা মনেই আসে না। স্বার্থহীন লক্ষ্যকে সামনে রেখে তার জন্য আনকোরা নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করার জন্য কাউকে পাওয়া যায় না। সৃজনশীলতা আর্থিক সাফল্যের রাজপথ ধরে চলতে থাকে। এ পথে এমন কোনো পথনির্দেশ দেয়া থাকে না যা থেকে জানা যাবে প্রযুক্তিকে কোন পথে নিয়ে গেলে সব সমস্যামুক্ত নতুন এক পৃথিবী গড়া যাবে। তার চেয়ে বড় কথা পথনির্দেশ স্থাপন করবে কে? কারা ঠিক করছে আমাদের গন্তব্য কোথায়?
মানুষ হিসেবে আমাদের সম্মিলিত গন্তব্য কোথায় এটা কি আমরা স্থির করে রেখেছি? যদি সেটা স্থির করা না থাকে, তবে আমরা আমাদের ব্যক্তিগত স্বার্থে যার যার পথে এগোবো, এটাই তো স্বাভাবিক। এবং তাই হচ্ছে। তাই বিপদ আমাদের পিছু ছাড়ছে না। জাতিসংঘ প্রণীত শতাব্দীর উন্নয়ন লক্ষ্য ছিল একটা সুনির্দিষ্ট গন্তব্য। তাই এটা সবার মনে আশার সঞ্চার করেছে। ২০০০ সাল থেকে পরবর্তী ১৫ বছরের মধ্যে মানবসমাজ হিসেবে আমরা কোথায় পৌঁছাতে চাই এটা ছিল তার একটা চমৎকার দিকনির্দেশনা। এর কারণে আমরা অনেক সাফল্য অর্জনও করেছি। কিন্তু প্রযুক্তি এর পেছনে এসে দাঁড়ায়নি। জানা প্রযুক্তিকে আমরা এর জন্য মাঝে মাঝে ব্যবহার করেছি, কিন্তু এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমরা সুনির্দিষ্ট প্রযুক্তি সৃষ্টি করার কথা ভাবতে পারিনি। কারণ প্রযুক্তির জগৎ চলছে স্বার্থপর অর্থনীতির কড়া শাসনে।
(বাকি অংশ আগামীকাল)
মুহাম্মদ ইউনূস : নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ী অর্থনীতিবিদ

ছোট খবর

নয়াদিল্লি
সবচেয়ে উঁচু মন্দির
সুউচ্চ মন্দির। তিনটি কুতুব মিনারের সমান উঁচু। কাজও শুরু হয়ে গেছে জোরশোরে। বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু কৃষ্ণমন্দির তৈরি হতে চলেছে ভারতের প্রাচীন শহর বৃন্দাবনে। আগামী ৫ বছরের মধ্যেই এই মন্দির তৈরি হয়ে যাবে বলে জানা গেছে। মন্দিরটি নির্মাণের দায়িত্বে থাকা ইসকনের তরফে জানানো হয়েছে, বৃন্দাবন চন্দ্রোদয়া মন্দিরটির উচ্চতা হবে ৭০০ ফুট। দিল্লির সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেকের তৈরি কুতুব মিনারের উচ্চতার থেকেও তিনগুণ বেশি। চলতি বছরের ১৬ মার্চ বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু এই কৃষ্ণমন্দিরটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। মন্দিরটি নির্মাণে খরচ হচ্ছে ৩০০ কোটি টাকা। এনডিটিভি
মস্কো
কূটনীতিক বহিষ্কার
ইউক্রেন ইস্যু নিয়ে ক্রমেই রাশিয়া-পশ্চিমা বিশ্ব সম্পর্ক জটিল হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় রাশিয়ায় নিযুক্ত জার্মানির একজন কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে মস্কো। জার্মানি থেকে রাশিয়ার একজন কূটনীতিককে বহিষ্কারের পর মস্কো প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এ পদক্ষেপ নিয়েছে। মার্কিন ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, রুশ সরকারের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেয়ার কারণে মস্কোয় নিযুক্ত জার্মান ওই কূটনীতিক দেশে ফিরে গেছেন। জার্মানির এ কর্মকর্তা রাশিয়ার পদক্ষেপকে অন্যায় বলে অভিহিত করেছেন এবং এ বিষয়ে রুশ সরকারের কাছে জার্মানির হতাশার কথা জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। এএফপি
ইসলামাবাদ
ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা
পরমাণু ও টর্পেডো বহনে সক্ষম মধ্যম পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হাতফ-৪ (শাহীন ১-এ)-এর সফল পরীক্ষা চালিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সোমবার ৯০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পরমাণু ও টর্পেডো বহনে সক্ষম এ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালানো হয়েছে। শাহীন ১-এ ক্ষেপণাস্ত্র শাহীন-১-এর উন্নত সংস্করণ। এর আগে ১৩ নভেম্বর পাকিস্তান মধ্যম মাত্রার ক্ষেপণাস্ত্র শাহীন-২ (হাতফ-৬)-এর সফল পরীক্ষা চালায়। ডন
মনরোভিয়া
১৬০ স্বাস্থ্যকর্মী
মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়া ইবোলা ভাইরাসের মোকাবেলায় প্রচেষ্টা জোরদার করতে চীনের স্বাস্থ্যকর্মীদের একটি বড় টিম লাইবেরিয়া পৌঁছেছে। সোমবার এএফপি এ খবর দিয়েছে।
এদিকে সিয়েরা লিওনে ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একজন চিকিৎসক গুরুতর অসুস্থ বলে জানানো হয়েছে।
ইবোলা মোকাবেলায় চীনা স্বাস্থ্যকর্মীদের ১৬০ জনের একটি শক্তিশালী টিম পাঠানো হয়েছে। এপি
নয়াদিল্লি
আন্নার গুমর ফাঁস
ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সালমান খুরশিদের বইবোমায় আক্রান্ত হতে যাচ্ছেন ব্যতিক্রমী রাজনীতিক হিসেবে আলোচিত আন্না হাজারে।
কিছু দিনের মধ্যেই বাজারে আসতে চলেছে সালমান খুরশিদের লেখা এ বই। মনে করা হচ্ছে, বইটি বাজারে আসার পর জাতীয় রাজনীতির আঙিনা উত্তপ্ত হয়ে উঠবে। ইতিমধ্যেই গুঞ্জন ছড়িয়েছে, বইটিতে রয়েছে আন্না হাজারের সঙ্গে কেজরিওয়ালের বিচ্ছেদের কারণ নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বইয়ে নাকি খুরশিদ লিখেছেন, কেজরির সঙ্গে আন্নার মতবিরোধের মূল কারণ আন্না তলে তলে কংগ্রেসের সঙ্গে আঁতাতের চেষ্টায় ছিলেন। এএপপি

ভারতের গাড়িতে চড়বেন না নওয়াজ

আসন্ন সার্ক (দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা) শীর্ষ সম্মেলনে ভারতের সরবরাহ করা বুলেটপ্র“ফ গাড়ি ব্যবহার করবেন না পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সোমবার এ কথা জানানো হয়েছে। নওয়াজ শরিফ নিজের গাড়িই ব্যবহার করবেন বলে জানানো হয়েছে। আগামী ২৬ ও ২৭ নভেম্বর নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সার্ক সম্মেলনে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, আফগানিস্তান, শ্রীলংকা ও মালদ্বীপের সরকারপ্রধানদের উপস্থিত থাকার কথা। সম্মেলনে উল্লিখিত দেশগুলোর প্রতিনিধিদের জন্য বুলেটপ্র“ফ গাড়ি সরবরাহ করবে ভারত। ডন।
নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র খাগানাথ অধিকারী জানান, নওয়াজ শরিফ নিজের গাড়িই নিয়ে আসবেন। অন্যদের গাড়ি আসবে ভারত থেকে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তারা (পাকিস্তান) ভারতীয় গাড়ি ব্যবহারে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভ্রমণের সময়ও নওয়াজ শরিফ নিজের গাড়ি ব্যবহার করেছেন। তাই এটি কোনো ব্যাপার নয়।’
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি কাশ্মীর সীমান্তে পাক-ভারত সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। কয়েকদিন ধরে চলা ওই গোলাগুলিতে ২০ জনের বেশি বেসামরিক লোক নিহত হয়।

ফার্ক বিদ্রোহীদের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত

কলম্বিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চোকো প্রদেশে রোববার সেনাবাহিনীর এক জেনারেল নিখোঁজ হওয়ার পর বামপন্থী ফার্ক বিদ্রোহীদের সঙ্গে শান্তি আলোচনা স্থগিত করেছে সরকার। সোমবার এএফফি এ খবর দিয়েছে। সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, উত্তরাঞ্চলের চোকো প্রদেশে বিদ্রোহীরা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রুবেন দারিও আলজেট মোরাকে অপহরণ করেছে।
প্রেসিডেন্ট জুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোষ তার টুইটার বার্তায় বলেছেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রুবেন আলজেটকে অপহরণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী জুয়ান কার্লোস পিনজনকে ঘটনা তদন্তে চোকো শহরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা অপহরণকারীদের (লক্ষণ দেখে মনে হচ্ছে ফার্ক বিদ্রোহীরা জড়িত) যত দ্রুত সম্ভব তাকে নিরাপদে ও সুস্থ অবস্থায় মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। গত পাঁচ দশকের সংঘাত বন্ধে ফার্ক ও সরকার গত দুই বছর ধরে শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে কোনো অস্ত্রবিরতির ঘোষণা এখন পর্যন্ত আসেনি। প্রেসিডেন্ট সান্তোষ বলেন, আরেক দফা বৈঠকের জন্য আলোচকদের আগামীকাল হাভানায় যাওয়ার কথা ছিল। তবে আমি তাদের সেখানে যেতে নিষেধ করব এবং অপহৃতদের মুক্তি দেয়া না পর্যন্ত আলোচনা স্থগিত থাকবে।
কলম্বিয়ায় ১৯৬৪ সালে গেরিলা সংগঠনটি গঠিত হয়। সংগঠনটির এখন প্রায় ৮ হাজার যোদ্ধা রয়েছে। দেশটিতে সশস্ত্র সংঘাতে গত পাঁচ দশকে কমপক্ষে দুই লাখ ২০ হাজার লোক নিহত হয়েছে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলজেট উত্তরাঞ্চলের চোকো প্রদেশে আতরাতো নদীতে নৌকায় ভ্রমণ করছিলেন। তিনি প্রদেশের রাজধানী কুইদোর ১৫ কিলোমিটার দূরে লাস মার্সিডিজ নামক একটি গ্রামে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলার জন্য থামেন। তিনি সেখানে ফার্ক বিদ্রোহীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই বিদ্রোহীরা ফার্কের ৩৪তম ডিভিশনের সদস্য বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেনাবাহিনী জানায়, বিদ্রোহীরা তার শরীর তল্লাশি করে এবং তাকেসহ আরও দুই ব্যক্তি আইনজীবী গ্লোরিয়া উরেগো ও ক্যাপ্টেন জর্গ রডরিগেজ কন্টেরাসকে অপহরণ করে।

কাসিগকে হত্যা শয়তানের কাজ : ওবামা

যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্যকর্মী আবদুল রহমান কাসিগের হত্যাকে নিছক শয়তানের কাজ বলে এর নিন্দা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
সম্প্রতি ইসলামিক স্টেট (আইএস) প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মুখোশ পরা এক ব্যক্তির পায়ের কাছে একটি কাটা মাথা পড়ে আছে। পরে ওই মাথাটি কাসিগের বলে নিশ্চিত করে হোয়াইট হাউস।
তার বাবা-মা বলেছেন, সিরীয় জনগণের প্রতি ভালোবাসার জন্য তাকে প্রাণ দিতে হল। সোমবার কাসিগের প্রশংসা করে ওবামা বলেন, তিনি মানবাধিকারের জন্য নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। অমানবিক একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তাকে আমাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে, এটি নিছক শয়তানের কাজ।
তিনি বলেন, আজ আমরা সবাই শোকাভিভূত, তা সত্ত্বেও যে অদম্য মনোবল ও শুভশক্তি আবদুল রহমান কাসিগকে উজ্জীবিত করেছে আমরা তা স্মরণ করছি। অস্ট্রেলিয়ায় জি২০ সম্মেলন শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পর ওবামা এ প্রতিক্রিয়া জানান। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা রাজ্যের বাসিন্দা কাসিগের বাবা এড ও মা পলা এক বিবৃতিতে বলেছেন, ছেলের মৃত্যুতে তাদের মন ভেঙে গেছে। তারা বলেন, আমাদের ছেলে মানবিকতার জন্য তার সারা জীবন উৎসর্গ করেছে। এজন্য আমরা গর্বিত। সিরিয়ায় সাহায্যকর্মীদের একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করার সময় ২০১৩ সালের অক্টোবরে ২৬ বছর বয়সী কাসিগকে অপহরণ করে আইএস জঙ্গিরা। তিনি যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর রেঞ্জার হিসেবে ২০০৭ সালে ইরাকে কর্মরত ছিলেন। কাসিগকে নিয়ে এ পর্যন্ত পাঁচ পশ্চিমা নাগরিককে হত্যা করল আইএস। এর আগে ব্রিটিশ নাগরিক অ্যালান হেনিং ও ডেভিড হেইন্স এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিক জেমস ফোলি ও স্টিভেন সটলফের শিরশ্ছেদ করে হত্যা করেছিল গোষ্ঠীটি।

চিরশত্রু সিপিএমের সঙ্গে ঘর বাঁধার ইঙ্গিত মমতার

বিজেপিকে আটকাতে চিরশত্রু সিপিএমের সঙ্গে নির্বাচনী জোট হতে পারে বলে সোমবার দিল্লিতে কার্যত বোমা ফাটালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। জওহরলাল নেহেরুর ১২৫তম জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে সোনিয়া গান্ধীর আমন্ত্রণে দিল্লিতে পৌঁছে মমতা বলেছেন, রাজনীতিতে কেউই অচ্ছুৎ নয়, চিরস্থায়ী শত্রু কেউ হয় না। সবার আগে দরকার দেশের অখণ্ডতা, ঐক্য ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী লড়াই। ভবিষ্যতে প্রয়োজন পড়লে সিপিএমের সঙ্গে বোঝাপড়া হতেই পারে।
এভাবেই সিপিএমের সঙ্গে ঘর বাঁধার ইঙ্গিত দিলেন তিনি। কবে এই জোট হবে প্রশ্নের উত্তরে মমতা বলেছেন, সময়ই সে কথা বলবে। আদৌ হবে কিনা তা তো দুপক্ষের বোঝাপড়ায় ঠিক হবে। যার বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করে, মাঠে-ময়দানে বক্তৃতা করে মমতা রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন সেই কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার (মার্কসবাদী) সঙ্গে নির্বাচনী জোট গড়ার ইঙ্গিত দিতেই পশ্চিমবঙ্গসহ গোটা ভারতে হইচই পড়ে গেছে। কলকাতার সিপিএম রাজ্য সম্পাদক ও পলিটব্যুরোর সদস্য বিমান বসু অবশ্য মমতার এই প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছেন। বিজেপির রাজ্য সভাপতি রাহুল সিং বলেছেন, বিজেপি যে প্রতিদিনই মানুষের আরও সমর্থন পাচ্ছে তার প্রমাণ সিপিএম, কংগ্রেস এবং মমতা ব্যানার্জি সবাই এক হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে জোট করছে। তবে এদিন দিল্লি পৌঁছে এক ফাঁকে বিজেপির প্রবীণ নেতা লালকৃষ্ণ আদভানির বাড়ি গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করে বেশ কিছুক্ষণ একান্তে কথা বলে আসেন মমতা। আসলে নরেন্দ্র মোদি দিল্লি না থাকার সুযোগে রাজধানীতে এসে নানা রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে আলোচনা করে সংবাদমাধ্যমের যাবতীয় কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন মমতা।
সোমবার বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে ১১টায় বিজ্ঞান ভবনে কংগ্রেস আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পৌঁছান মমতা। অনুষ্ঠানের শুরুতেই তিনি বলেন, নেহেরু আধুনিক ভারতের রূপকার। এটা কোনো দলীয় অনুষ্ঠান নয়। নেহেরুর জন্মজয়ন্তী পালনের এটা উচিত সময়। কংগ্রেসের এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছেন ১৯ দেশের ৫৫ জন নেতা।
অনুষ্ঠানের ফাঁকে সীতারাম ইয়েচুরিকে মমতা বলেন, কী করছেন? বিজেপিকে আটকাতে হবে। মমতাকে সমর্থন করে ইয়েচুরিও বললেন, ঠিক। মমতা-ইয়েচুরির এই কথোপকথনেই স্পষ্ট সাম্প্রদায়িক শক্তিকে দমন করতে এবং বিজেপিকে রুখতে নেহেরুর জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানেই সূচনা হতে পারে ধর্মনিরপেক্ষ জোটের।
কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর আমন্ত্রণে রোববার সন্ধ্যাতেই দিল্লিতে পৌঁছেছেন মমতা। রয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সাম্পাদক মুকুল রায়ও। কংগ্রেসের এই শীর্ষ সম্মেলন শেষে তিনি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করবেন। জানুয়ারীতে বিশ্ববাংলা সম্মেলনে হাজির থাকার জন্য রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়কে আমন্ত্রণ জানাবেন তিনি। সোম-মঙ্গল দুদিনব্যাপী দিল্লির এই সম্মেলনে দেশ-বিদেশের প্রাক্তণ রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে আমন্ত্রণ পেয়েছে তৃণমূল, সপা, আরজেডি, জেডিইউ, সিপিএম, ফরওয়ার্ড ব্লক ও আরএসপির মতো বাম দল। আমন্ত্রণ করা হয়নি বিজেপিকে। তবে এদিন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে একমাত্র মমতা ব্যানার্জিই উপস্থিত ছিলেন। কংগ্রেস সভানেত্রীর সঙ্গে তার কুশল বিনিময়ও হয়। বিজেপির বিরুদ্ধে জোট বেঁধে নামতে সোনিয়া মমতাকেই পাশে চাইছেন। অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পেয়েও ঝাড়খণ্ডে প্রচারের জন্য আসতে পারেননি আরজেডির লালুপ্রসাদ যাদব। বিহারে বিশেষ কাজের অজুহাতে কারণে আসেননি বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার।

মার্কিনবিরোধী গভর্নর নির্বাচিত

জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপের স্থানীয় নির্বাচনে মার্কিন ঘাঁটিবিরোধী গভর্নর প্রার্থী তাকেশি ওনাগা বিজয়ী হয়েছেন। এতে দ্বীপটিতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থানান্তরের বিষয়ে আমেরিকা ও জাপান সরকার যে পরিকল্পনা করেছিল তা বাধাগ্রস্ত হবে। খবর বিবিসির। ওনাগার এ বিজয়কে মার্কিন সরকার ও জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের জন্য বিপর্যয় বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ নতুন গভর্নর ওকিনাওয়া দ্বীপের কোথাও মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রাখতে চান না। তিনি নির্বাচনের আগে ঘাঁটি স্থানান্তরের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিয়েছিলেন। অন্যদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ও বর্তমান গভর্নর হিরোকাজু নাকাইমার অবস্থান ছিল ঘাঁট স্থানান্তরের পক্ষে। সোমবার প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, ওনাগা পেয়েছেন তিন লাখ ৬০ হাজার ৮২০ ভোট। অন্যদিকে হিরোকাজু পেয়েছেন দুই লাখ ৬১ হাজার ৭৬ ভোট। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর তাকেশি ওনাগা পরিষ্কার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তিনি ওকিনাওয়া দ্বীপের কোথাও মার্কিন ঘাঁটি স্থানান্তরের পক্ষে মত দেবেন না।

ইউক্রেনের সংঘাত জোরদার হবে?

ভ্লাদিমির পুতিন
জি-২০ সম্মেলন শেষ হওয়ার আগেই অস্ট্রেলিয়া ছেড়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইউক্রেন সংকটের জন্য পুতিনকে দায়ী করা বিশ্বনেতাদের কাছ থেকে তেমন সাড়া না পেয়েই রুশ প্রেসিডেন্ট আগাম অস্ট্রেলিয়া ছাড়েন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। সম্মেলন থেকে পুতিনের এভাবে চলে যাওয়া ইউক্রেনে দুই পক্ষের লড়াইয়ের আগুনে ঘি ঢালবে বলে আশঙ্কা করেছেন কোনো কোনো বিশ্লেষক। পুতিন আগেভাগে সম্মেলনস্থল ছেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে বলেছেন, তাঁর ‘ঘুমানো প্রয়োজন’। কিন্তু এ কথা বিশ্বাস করার লোক খুব কমই পাওয়া যাবে। নিজের পরিশ্রম করার ক্ষমতা নিয়ে গর্ববোধ করে থাকেন লৌহমানব হিসেবে পরিচিত পুতিন। ক্রেমলিনপন্থী সাময়িকী এক্সপার্ট অনলাইনে লেখা হয়েছে, ‘জি-২০ সম্মেলনের আয়োজক অস্ট্রেলিয়া সম্ভব সব উপায়ে প্রেসিডেন্ট পুতিনকে অপমান করেছে।’ নিরপেক্ষ বিশ্লেষক বলে পরিচিত স্তানিস্লাভ বেলকোভস্কি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন বিরক্ত হয়ে সম্মেলনস্থল ত্যাগ করে থাকলে ইউক্রেনে রুশপন্থী বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর লড়াই আরও তীব্র হবে।’ জি-২০ সম্মেলনে যোগদান যে রুশ প্রেসিডেন্টের জন্য কঠিন হবে, সেটা আগেই বোঝা গিয়েছিল। বিশ্বনেতাদের চাপের আশঙ্কায়ই সম্ভবত পুতিন কয়েক দিন আগে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোর জোটের (অ্যাপেক) সম্মেলনে যোগ দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন।
জি-২০ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ইউক্রেন নিয়ে রাশিয়ার অবস্থানকে ‘বিশ্বের প্রতি হুমকি’ বলে উল্লেখ করেন। ইউক্রেনে মালয়েশিয়ার যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ গুলি করে ভূপাতিত করার জন্যও রাশিয়াকে দায়ী করেছিলেন ওবামা। সম্মেলনেও ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার সমালোচনা করা অব্যাহত রাখেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ব্রিসবেনে কানাডার প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হার্পারও রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে হাত মেলানোর সময় বলেন, ‘আমি আপনাকে একটি কথাই বলতে চাই, তা হলো ইউক্রেন থেকে বেরিয়ে যান।’ সম্মেলনে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনও রুশ প্রেসিডেন্টের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, পুতিন রাশিয়ার স্বার্থের কথাও বিবেচনা করছেন না। রুশ নেতার উদ্দেশে ক্যামেরন বলেন, ‘দিনের শেষে যদি অর্থনীতি গতিশীল না থাকে, ব্যাংকে অর্থ না থাকে, শেয়ারবাজার গতি হারায়, তাহলে আপনি দেশ চালাতে পারবেন না।’ ক্রেমলিনের সঙ্গে যুক্ত সংস্থা প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি পরিষদের চেয়ারম্যান ফিওদোর লুকাইয়ানোভ সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ইউক্রেন প্রশ্নে রাশিয়াকে নিয়ে পশ্চিমাদের সমালোচনা পুতিনকে কঠোর অবস্থান নিতে বাধ্য করতে পারে। রুশ বেতারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লুকাইয়ানোভ বলেন, ‘আমরা দেখছি কিছু পশ্চিমা দেশ, বিশেষ করে উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া কট্টর অবস্থান নিয়েছে। নরম হওয়ার কোনো ইঙ্গিতই তারা দেখাচ্ছে না...এমনটা হলে রাশিয়াও কঠোর অবস্থান নেবে।’

প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি

ব্রিসবেনে জি-২০ সম্মেলনের পাশাপাশি গতকাল বহুপক্ষীয় এক
বৈঠকে (ডান থেকে) ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন,
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট
ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী মাত্তিও রেনজি
ও স্পেনের প্রেসিডেন্ট মারিয়ানো রাহয়। এএফপি
আগামী চার বছরে লাখ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি আর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশের বেশি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেন জি-২০ দেশগুলোর নেতারা। অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেন শহরে গতকাল রোববার শক্তিশালী অর্থনীতির দেশগুলোর জোট জি-২০-এর দুই দিনব্যাপী সম্মেলন শেষ হয়। সম্মেলনের ইশতেহারে ওই প্রতিশ্রুতি দেন নেতারা। খবর এএফপি, রয়টার্স ও এবিসি নিউজের।ইশতেহারে বৈশ্বিক অর্থনীতি এগিয়ে নেওয়ার এই প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ, বাণিজ্য উদারীকরণ, কর ও আর্থিক বিধি, লৈঙ্গিক সমতা, জ্বালানি, ইবোলা নির্মূল, জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়গুলো উঠে আসে। ইশতেহারের বাইরে সম্মেলনে অন্যতম ইস্যু ছিল রাশিয়ার ইউক্রেনে কথিত হস্তক্ষেপ প্রসঙ্গ। স্বাগতিক দেশ অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবট গতকাল সম্মেলনের সমাপনী আয়োজনে বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে এখানে নেতারা যে অঙ্গীকার করলেন, সদস্যরাষ্ট্রগুলোর নেতারাই তার বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করবেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জি-২০-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো, সম্মেলনে প্রতিশ্রুতি বা অঙ্গীকার করা হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয় না।
তবে এবার বলা হচ্ছে, জি-২০-এর সদস্যরাষ্ট্রগুলো ছাড়াও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন (ওইসিডি) সংস্থা উন্নয়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে ভূমিকা পালন করবে। ইশতেহারে বলা হয়, দুই লাখ কোটি মার্কিন ডলারের যে উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে ২০১৮ সালের মধ্যে বৈশ্বিক জিডিপির প্রত্যাশিত সীমা ছাড়িয়ে ২ দশমিক ১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো করা সম্ভব। একই সঙ্গে সম্ভব হবে লাখ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। ইশতেহারে কাজের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের অংশগ্রহণের ব্যবধান ২০২৫ সালের মধ্যে ২৫ শতাংশ কমিয়ে আনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তার মানে, এই সময়ের মধ্যে ১০ কোটি নারীর কাজে যোগ দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। ইশতেহারে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ‘শক্তিশালী ও কার্যকর’ পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন জি-২০ নেতারা। পাশাপাশি জাতিসংঘের জলবায়ু তহবিলের প্রতি সমর্থন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় দরিদ্র দেশগুলোকে সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়। ২০১৬ সালে চীনে জি-২০ সম্মেলন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবারের জি-২০ সম্মেলনে স্পষ্টতই ইউক্রেন সংকটের ছায়া ছিল। ইউক্রেনের বিদ্রোহীদের রাশিয়া ‘মদদ’ দেওয়ায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে কঠোর সমালোচনায় পড়তে হয় সম্মেলনে। ইউক্রেনে রাশিয়ার ‘হস্তক্ষেপের’ নিন্দা জানিয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনসহ অনেক নেতাই ইউক্রেন সংকট নিয়ে রাশিয়াকে অভিযুক্ত করে সরাসরি কথা বলেছেন।
প্রেসিডেন্ট ওবামা গতকাল ব্রিসবেনে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ইউক্রেনে হস্তক্ষেপ করতে থাকলে রাশিয়াকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একঘরে হয়ে থাকতেই হবে। বলা হচ্ছে, ইউক্রেন সংকট নিয়ে ওবামা এর আগে এত কঠোর ভাষায় কথা বলেননি। ওবামা বলেছেন, তিনি রাশিয়াকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, ইউক্রেনের বিদ্রোহীদের সহায়তা দিতে থাকলে মস্কোর একঘরে হয়ে থাকা ছাড়া উপায় নেই। ইউক্রেন সংকটকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার ইঙ্গিতও দিয়েছেন ওবামা। তিনি বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। প্রয়োজনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।’ সংবাদ সম্মেলনে ওবামা সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গিদের দমনে দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সঙ্গে কোনো ধরনের জোট করার কথা নাকচ করে দেন। ওবামা বলেন, বাশার সিরিয়ায় শত শত মানুষকে হত্যা করে প্রেসিডেন্ট পদে থাকার বৈধতা হারিয়েছেন। বিশ্বের বেশির ভাগ দেশের কাছেই বাশার আর বৈধ প্রেসিডেন্ট নন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, বাশারের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা করলে আমাদের আইএসবিরোধী জোট দুর্বল হয়ে যাবে। ব্রিসবেনে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে রাশিয়াকে স্পষ্ট বার্তা পাঠানো হয়েছে যে সামনের দিনগুলোতে মস্কোর প্রতি আমাদের কী মনোভাব হবে।’

জাপানের অর্থনীতিতে আবার মন্দা

চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে অপ্রত্যাশিতভাবে ফের সংকোচনের মুখে পড়েছে জাপানের অর্থনীতি। ফলে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে আবারও দেখা দিয়েছে মন্দা।
জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে গেছে। যদিও ওই সময়ে জিডিপি ২ দশমিক ১ শতাংশ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছিল।
এ নিয়ে বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ সংকোচনের মুখে পড়েছে দেশটির অর্থনীতি। দেশটিতে ২০১১ সালে ভূমিকম্প ?ও সুনামির পর এবারই সবচেয়ে বেশি মন্দা দেখা দিয়েছে।
এদিকে, দুর্বল অর্থনীতির কারণে জাপান সরকারের বিক্রয় কর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আরও বিলম্বিত হতে পারে বলে ধারণা করছেন অর্থনীতিবিদরা। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্র“তি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে জাপানের ক্ষমতায় ফেরার প্রায় দুবছরের মাথায়ই এ মন্দা দেখা দিল।
অর্থনীতিবিদরা আশা করছিলেন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ১ শতাংশ বাড়বে। কিন্তু বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে এসে অর্থনীতি আগের তুলনায় আরও ০ দশমিক ৪ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। ব্যক্তিগত ভোগপণ্য ক্রয় এবং রফতানি কমে যাওয়ায় অর্থনীতি সংকুচিত হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ঋণের বোঝা কমানোর লক্ষ্যে বিক্রয় কর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত পেছাতে প্রধানমন্ত্রী আবে মধ্যবর্তী নির্বাচন ডাকবেন বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী বছর অক্টোবরে দ্বিতীয় দফায় বিক্রয় কর বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর আগে গত এপ্রিলে প্রথম দফায় বিক্রয় বাড়িয়ে ৫ শতাংশ থেকে ৮ শতাংশ করেছিল সরকার। এতে করে বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যায়। অর্থনীতিতে এর বিরূপ প্রভাব এখনও কাটেনি।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আগের চেয়ে আরও কমে যাওয়ায় এখন কর আবার বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জাপানের অর্থনীতি মন্দার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং বছরের শেষ দিকে এসে তা আরো সংকুচিত হওয়ায় এখন কর বাড়ানো দেরি করার বিষয়টিতে ভোটারদের রায় নেয়ার সময় এসেছে। ডিসেম্বরে মধ্যবর্তী একটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তা করা যেতে পারে।

তুমুল ঠাণ্ডায় উষ্ণতা ছড়ালেন ইয়ামি

তামিল ছবি থেকে বলিউডে পা রেখে ভালই আলোচনায় এসেছেন ইয়ামি গৌতম। বিশেষ করে ‘বিকি ডোনর’ ছবিতে দুর্দান্ত অভিনয়-পারফরমেন্স করে সবার নজরে আসেন তিনি। এ ছবির পর এখন একাধিক ছবির কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন সেক্সসিম্বল এই অভিনেত্রী। তবে তার মধ্যে সবচেয়ে বড় ছবি হলো প্রভুদেবা পরিচালিত ‘অ্যাকশন জ্যাকসন’। এখানে অজয় দেবগানের মতো বড় তারকার বিপরীতে অভিনয় করছেন তিনি। রয়েছেন সোনাক্ষি সিনহাও। বড় বাজেটের এ ছবিটির শুটিং হচ্ছে ভারত, অস্ট্রিয়াসহ বিভিন্ন দেশে। অ্যাকশন কমেডি-নির্ভর শুটিং চলবে আর দু’দিন। সম্প্রতি এ ছবির একটি গানের শুটিং ইয়ামি গৌতম করেছেন অস্ট্রিয়ায়। তাও আবার মাইনাস ১০ ডিগ্রি তাপমাত্রায়। বিষয়টি অবাক করার মতো হলেও সত্যি। এখানেই শেষ নয়, এমন বরফ পড়া আবহাওয়ায় আবেদনময়ীরূপেই ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন তিনি। একাধিক খোলামেলা পোশাকে এখানে তাকে দেখা যাবে। এর মধ্যে একটি শাড়ি ও সিøভলেস ব্লাউজে এমন ঠান্ডায় অজয় দেবগানের সঙ্গে একটি চুমুদৃশ্যেও কাজ করেছেন ইয়ামি। এর বাইরে মিনিস্কাট ও ছোট গাউনেও গানটিতে আবেনদময়ীরূপে হাজির করা হয়েছে ইয়ামিকে। সব মিলিয়ে মাইনাস ১০ ডিগ্রি তাপমাত্রার তুমুল ঠা-ার মধ্যে শুটিং করা গানটির মাধ্যমে ভালই উষ্ণতা ছড়িয়েছেন ইয়ামি। এরকম অভিজ্ঞাতাও তার ক্যারিয়ারে এই প্রথম। বিষয়টি নিয়ে দারুণ উত্তেজিত ও আনন্দিত তিনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অ্যাকশন জ্যাকসন’ আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ছবি। এখানে আমার নায়ক অজয় দেবগান। তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছে, জেনেছি। অনেক কোঅপারেটিভ তিনি। তবে সম্প্রতি যে গানটির শুটিং করলাম এটা আমার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। মাইনাস ১০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় শুটিং করতে গিয়ে অনেকটাই জমে যাচ্ছিলাম। ভাগ্যিস কিছু উষ্ণতার দৃশ্য ছিল। নয়তো জমেই গিয়েছিলাম। অবশেষে ভালভাবে গানটির শুটিং শেষ করছি। আশা করছি গানটিসহ পুরো ছবিটি ভাল লাগবে দর্শকদের।