Thursday, August 14, 2014

ক্ষমতা ছাড়বেন না মালিকি

নুরি আল–মালিকি
ইরাকের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকি বলেছেন, তিনি আদালতের নির্দেশ ছাড়া ক্ষমতা ছাড়বেন না। নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে হায়দার আল-ইবাদিকে মনোনীত করায় ক্ষুব্ধ মালিকি এক টেলিভিশন ভাষণে গতকাল বুধবার এ কথা বলেন। প্রেসিডেন্ট ফুয়াদ মাসুমের কাছ থেকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ পাওয়া ইবাদি এখনো বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে সমর্থন পাচ্ছেন। এদিকে উত্তর ইরাকে আটকা পড়া লোকজন এখনো গণহত্যার হুমকিতে রয়েছে বলে জাতিসংঘ সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে সে দেশে আরও ১৩০ জন সামরিক উপদেষ্টা পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। খবর এএফপি, রয়টার্স ও বিবিসির। ইরাকে গত মে মাসে নির্বাচন হওয়ার পর থেকেই নতুন সরকার গঠন নিয়ে টানাপোড়েন চলে আসছে। মূলত এর সুযোগ নিয়েই সুন্নিপন্থী জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) দেশটির বিরাট এলাকা থেকে সরকারি বাহিনীকে হটিয়ে দেয়। এমন প্রেক্ষাপটে গত সোমবার পার্লামেন্টের শিয়াপন্থী সদস্যরা ইবাদিকে প্রধানমন্ত্রী পদে মনোনয়ন দেন। প্রধানমন্ত্রী মালিকি বলেছেন, ইবাদিকে প্রধানমন্ত্রী পদে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করার ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট মাসুমের সিদ্ধান্ত সংবিধানের ‘লঙ্ঘন’এবং এর ‘কোনো মূল্য নেই’।
গতকাল টেলিভিশন ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত করে বলছি, সরকার শাসনকাজ অব্যাহত রাখবে। কেন্দ্রীয় আদালতের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সরকার বদল হবে না।’ মালিকির বক্তব্য এমন সময়ে এল যখন ইরাকে আইএস জঙ্গিদের রুখতে এবং উদ্বাস্তু হয়ে পড়া ইরাকিদের রক্ষায় বিশ্বকে আরও অনেক কিছু করতে হবে বলে সতর্ক করে দিয়েছে জাতিসংঘ। বিশ্ব সংস্থাটির উদ্বাস্তুবিষয়ক কমিশনের মুখপাত্র আদ্রিয়ান এডওয়ার্ডস বলেন, ইরাকের সিনজার পাহাড়ে এখনো ২০ থেকে ৩০ হাজারের মতো ইয়াজিদি ও খ্রিষ্টানসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য এখনো আটকা রয়েছে। তারা আইএসের আক্রমণের মুখে সেখানে আশ্রয় নেয়। জাতিসংঘের সংখ্যালঘুদের অধিকারবিষয়ক বিশেষজ্ঞ রিটা ইজাক বলেন, আটকে পড়া ওই মানুষগুলো এখনো গণহত্যার শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। জিহাদিরা আগামী কয়েক দিন বা ঘণ্টার মধ্যেই সেখানে গণহত্যা চালাতে পারে বলে সতর্ক করে দেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরাক সরকারের সহায়তায় সিনজার পাহাড়ে মঙ্গলবার ষষ্ঠবারের মতো বিমান থেকে পানি ও খাবারসামগ্রী ফেলা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেছেন, সিনজার পাহাড়ে আটকা পড়া মানুষগুলোকে দ্রুত উদ্ধার করে আনার উপায় খুঁজছেন তাঁরা। ওই এলাকায় আইএস জঙ্গিদের রুখতে সামরিক সহায়তাও বাড়ানো হচ্ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী চাক হেগেল বলেন, যুক্তরাষ্ট্র উত্তর ইরাকে মানবিক সংকট পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে আরও ১৩০ জন সামরিক উপদেষ্টা পাঠিয়েছে। এঁদের মধ্যে রয়েছেন মেরিন ও বিশেষ অভিযান পরিচালনাকারী বাহিনীর সদস্যরা। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবোট বলেছেন, তাঁরাও সেখানে ত্রাণ তৎপরতায় শিগগিরই যোগ দেবেন।
অধিকতর সামরিক সম্পৃক্ততার সম্ভাবনাও তিনি উড়িয়ে দেননি। ইবাদির পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন: ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইবাদিকে মালিকির স্থলাভিষিক্ত করার উদ্যোগকে এরই মধ্যে সমর্থন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, ফ্রান্স, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অনেকেই। তবে মালিকির জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা এসেছে ইরানের পক্ষ থেকে। দেশটি এক বার্তায় ইবাদিকে অভিনন্দন জানিয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সচিব ও প্রতিনিধি আলি শামখানি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে হায়দার আল-ইবাদি মনোনীত হওয়ায় আমরা তাঁকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।’ শিয়াপ্রাধান্যপুষ্ট ইরান দীর্ঘদিন ধরেই মালিকিকে সমর্থন দিয়ে আসছিল। তবে মঙ্গলবারের ওই বার্তার মধ্য দিয়ে তার অবসান ঘটল বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে মঙ্গলবার নুতন মনোনীত প্রধানমন্ত্রী ইবাদির বাসভবনের কাছের চেকপোস্টে এক আত্মঘাতী হামলাকারী নিজেকে বোমায় উড়িয়ে দিয়েছে। আর কেউ হতাহত হয়েছে কি না, পুলিশ তা জানায়নি। কুর্দিদের অস্ত্র দেওয়ার ঘোষণা: যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স ঘোষণা দিয়েছে, তারা ইরাকের কুর্দি যোদ্ধাদের অস্ত্র দেবে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ গতকাল বলেন, ফ্রান্স শিগগিরই কুর্দি যোদ্ধাদের অস্ত্র সরবরাহ করবে। এর আগে যুক্তরাজ্য জানায়, তারা কুর্দি বাহিনীর জন্য সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

চলে গেলেন হলিউড কিংবদন্তি লরেন বাকাল

লরেন বাকাল
চলে গেলেন যুক্তরাষ্ট্রের হলিউডের স্বর্ণযুগের অভিনেত্রী লরেন বাকাল (৮৯)। গত মঙ্গলবার গুরুতর স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে নিউইয়র্কের বাড়িতে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের। লরেন বাকালের দীর্ঘ ৭০ বছরের অভিনয়জীবনের সূচনা হয় ১৯৪৪ সালে টু হ্যাভ অ্যান্ড হ্যাভ নট চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। গভীর কালো চোখের পাতা, আবেদনময় খসখসে কণ্ঠস্বর আর বুদ্ধিদীপ্ত চাহনির লরেন বাকাল প্রথম চলচ্চিত্রেই নায়ক হিসেবে পান খ্যাতিমান অভিনেতা হামফ্রে বোগার্টকে।
পরের বছরই তাঁরা বিয়ে করেন। এরপর তাঁরা জুটি বেঁধে দ্য বিগ স্লিপ (১৯৪৬), ডার্ক প্যাসেজ (১৯৪৭), কি লারগো (১৯৪৮) চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। সব মিলিয়ে ৩০টির বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন লরেন। গোল্ডেন গ্লোবসহ অন্য বহু পুরস্কার পাওয়া এই অভিনেত্রী ১৯৯৬ সালে অস্কারের জন্য মনোনয়ন পেলেও তা তাঁর অধরাই থেকে যায়। তবে চলচ্চিত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৯ সালে তাঁকে ‘সম্মানজনক অস্কার’ পুরস্কার দেওয়া হয়।

ভারতে আলোচিত বিচারপতি নিয়োগ কমিশন বিল পাস

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির আপত্তি উপেক্ষা করে নরেন্দ্র মোদি সরকার গতকাল বুধবার লোকসভায় বিচারপতি নিয়োগ কমিশন বিল পাস করল। মূল বিলে সামান্য সংশোধন এনে কংগ্রেসসহ সব দলের সহায়তায় এটি পাস করানো হয়। বিলটি এবার রাজ্যসভায় পেশ করা হবে। এ বিল আইনে পরিণত হলে সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের বিচারপতি নিয়োগের দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ সদস্যের ‘কলেজিয়াম’-এর হাতে থাকবে না। ছয় সদস্যের এক কমিশন তা পালন করবে। এ বিলের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগের ক্ষমতা খর্ব করে আইনসভার অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হলো। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি আর এম লোধা এ উদ্যোগের বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এর মাধ্যমে বিচার বিভাগের প্রতি দেশের মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস নষ্ট করার চেষ্টা হচ্ছে। তাঁর মতে, প্রচলিত ব্যবস্থায় ভুলত্রুটি থাকতে পারে। কিন্তু সেই ব্যবস্থা তুলে অন্য ব্যবস্থা আনা ঠিক নয়। কলেজিয়াম ব্যবস্থা অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিসহ আরও চার জ্যেষ্ঠ বিচারপতিকে নিয়ে গঠিত কমিটিই বিচারপতি নিয়োগ করতেন। নতুন বিল অনুযায়ী, সেই দায়িত্বে থাকবেন মোট ছয়জন। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি, আরও দুজন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি, কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী এবং দুজন বিশিষ্ট আইনজ্ঞ। দুই আইনজ্ঞকে বেছে নেবেন প্রধান বিচারপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং লোকসভার বিরোধী নেতা অথবা প্রধান বিরোধী দলের নেতা। এই ছয়জন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগের সুপারিশ দেওয়ার পর সই করবেন রাষ্ট্রপতি। কোনো নাম নিয়ে রাষ্ট্রপতির আপত্তি থাকলে দ্বিতীয়বার তা বিবেচনা করা হবে।
মূল বিলে সে ক্ষেত্রে ‘মতৈক্যের’ কথা বলা হলেও বিরোধীদের আপত্তির মুখে তা প্রত্যাহার করা হয়। মূল বিলে বিরোধের ক্ষেত্রে আইনমন্ত্রীর ‘ভেটো’দানের অধিকার থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা বাদ দেওয়া হয়। এ বিলের মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও অধিকার খর্ব করা হলো কি না, তা নিয়ে কয়েক দিন ধরেই বিতর্ক চলছে। আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ অবশ্য দাবি করে আসছেন, বিচার বিভাগের অধিকার হরণ বা স্বাধীনতা খর্ব করার কোনো প্রশ্ন নেই। পাশাপাশি আইনমন্ত্রী গতকাল লোকসভায় বলেন, ‘সংসদের পবিত্রতা ও প্রাধান্য প্রতিষ্ঠাও গুরুত্বপূর্ণ।’ বিচার বিভাগীয় কমিশন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রথম সচেষ্ট হয়েছিল কংগ্রেস। এ-সংক্রান্ত বিল রাজ্যসভায় তারা পেশও করেছিল। তাই এ বিলের বিরোধিতা কংগ্রেস তেমনভাবে করতে পারেনি। অন্য বিরোধী দলগুলোও বিলকে সমর্থন জানায়। ডেপুটি স্পিকার এম থাম্বিদুরাই: কংগ্রেসকে বঞ্চিত করে তৃতীয় বৃহত্তম দল এআইএডিএমকের এম থাম্বিদুরাইকে লোকসভার ডেপুটি স্পিকার করা হয়েছে। গতকাল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সর্বসম্মতিক্রমে তিনি নির্বাচিত হন। তিনি এর আগেও ডেপুটি স্পিকার হয়েছিলেন। তাঁকে এ পদে বসানোর মধ্য দিয়ে বিজেপি-এআইএডিএমকে সমঝোতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হলো। এখন দেখার বিষয়, মোদি সরকার কংগ্রেসকে লোকসভায় বিরোধী দলের মর্যাদা দেয় কি না।

ঢাবির সাবেক ভিসি অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মিঞাকে নিয়ে নানা রহস্য

ভাল নেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মিঞা। বনানীর বাসায় কার্যত ‘গৃহবন্দি’ অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন তিনি। ভুগছেন অর্থকষ্টে। তার স্বজনদের দাবি বয়সজনিত কারণে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে কিছুটা ‘অসুস্থ’। স্মৃতিভ্রষ্টতায় ভুগছেন প্রবীণ এই শিক্ষাবিদ। রাস্তায় বেরুলে কখন কি হয়, কোন দুর্ঘটনায় পড়েন, এ কারণে তাকে বেরুতে দেয়া হয় না। তিনি যাতে কারও সঙ্গে কথা বলতে ও যোগাযোগ না করতে পারেন এজন্য বিগত ছ’মাসের বেশি সময় ধরে তার মুঠো ফোন বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এমনকি তিনি যাতে বাইরে বেরুতে না পারেন সেজন্য তার ব্যাক্তিগত গাড়ির চাবিও তার কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হয়েছে। পরিচিত কারও সঙ্গে তেমন দেখা-সাক্ষাৎও করতে দেয়া হয় না তাকে। বনানীস্থ তার নিজ ফ্ল্যাটেই তাকে রাখা হয় কড়া নজরদারিতে। গতকাল অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মিয়ার বনানীর ২/এ ‘জামান ভিলা’র তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, আমি শারীরিকভাবে ভাল আছি। সুস্থ আছি। কিছুটা সমস্যা হলেও বয়স আমাকে কাবু করতে পারেনি। কিন্তু আমার মন ভাল নেই। আমি রাস্তায় বেরুতে পারি না। পরিচিত কারও সঙ্গে দেখা করতে যেতে পারি না। এছাড়া অর্থকষ্ট আমাকে ভোগাচ্ছে। তিনি বলেন, আগে প্রেসক্লাব, ডিআরইউ (ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি)’র বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেতাম। নিজের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা জীবনের নানান বিষয় অনেকের সঙ্গে শেয়ার করতাম। চলমান রাজনীতি নিয়েও কথা বলতাম। কিন্তু এখন তা পারি না। আমার ব্যাক্তিগত গাড়ির চাবি কেড়ে নেয়া হয়েছে। তবে কেন এমন হচ্ছে, তা বলতে ভয় তার। পাছে কারও বিরাগভাজন হন এই ভয়ে তিনি কারও কাছে মুখ খোলেন না। তার পরিবারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে অধ্যাপক মনিরুজ্জমান মিয়ার ব্যক্তিগত সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যেই তার অতি ‘নিকটজনরা’ ষড়যন্ত্র করছেন। ছলচাতুরির আশ্রয় নিয়েছেন। এজন্য তাকে সবার কাছ থেকে আড়াল করে মানসিক চাপ প্রয়োগ করে তার সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা করছেন।
সমপ্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তার এক সাবেক সহকর্মী শিক্ষক মনিরুজ্জামান মিঞার সঙ্গে বনানীর বাসায় দেখা করতে যান। এ সময় বাসায় উপস্থিত স্বজনদের পক্ষ থেকে বলা হয়, তিনি মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ। তাই তার সঙ্গে দেখা করা যাবে না। কিন্তু ওই সহকর্মী শিক্ষক জানতে পারেন, তিনি সুস্থ আছেন, ভাল আছেন। পরে ওই সহকর্মী বিষয়টি আরও কয়েকজনকে জানান। অধ্যাপক মনিরুজ্জমান মিয়া বলেন, আমি শিক্ষক মানুষ। সারাজীবন ছাত্র-ছাত্রীদের পড়িয়েছি। এখনও পড়াতে মন চায়। এজন্য দু’জন ঘনিষ্ঠজনকে চিঠি দিয়েছিলাম। তারা আমাকে কথা দিয়েছিলেন সরকারি  বেসরকারি কোন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাকে অধ্যাপনার সুযোগ করে দেবেন। কিন্তু বাসা থেকে বেরুতে পারি না। তাই অধ্যাপনাও করতে পারছি না। তিনি বলেন, অন্য কোন সমস্যা নেই। শুধু আর্থিক সমস্যা ভোগাচ্ছে সবচেয়ে বেশি। প্রতি মাসে আমারও তো খাওয়া-পরা লাগে। মনিরুজ্জমান মিয়া বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর নিয়ে কয়েক বছর আগে বেসরকারি ইবাইস ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা করতাম। তখন মাসে প্রায় লাখ টাকা আসতো। এখন অধ্যাপনা করতে পারছি না। তাই অর্থকষ্টে ভুগছি। আমি জমিদার পরিবারের সন্তান। আমাদের জমিজমার কোন অভাব নেই। তারপরও আমি অর্থকষ্টে ভুগছি। তিনি বলেন, আমাকে বাসা থেকে বের হতে দেয়া হচ্ছে না। বের হতে চাইলে মনির নামে একটি ছেলে বলে, নিষেধ আছে। কেউ আমার সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও অনুমতি দেয়া হয় না। সবাইকে বলা হচ্ছে, আমি মানসিকভাবে অসুস্থ। কিন্তু আমি পুরোপুরি সুস্থ রয়েছি। গাড়িচালককেও নিষেধ করে রাখা হয়েছে, এ কারণে আমি কোথাও যেতে চাইলে সে নিয়ে  যেতে রাজি হয় না। ছ’মাসের বেশি সময় ধরে মুঠোফোন ব্যবহার করতে পারছি না। তবে কারা এমন করছে এমন প্রশ্নে নিরুত্তর থাকেন তিনি। পরক্ষণেই বলেন তার কাছের জনরাই এরকম করছে। তারা কারা এমন প্রশ্নেও নিশ্চুপ থাকেন তিনি।
বনানীতে তার মালিকানাধীন জামান ভিলার তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে একজন গৃহকর্মী ও একজন গাড়িচালক রয়েছেন। তার দেখাশোনা করেন ছোট ভাই বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের গবেষণা পরিচালক ড. এম আসাদুজ্জামান ও তার স্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি আমলা ড. মেহেরুন্নেসা জামান। তাদের বাসা গুলশান। তবে আপাতত তাদের তত্ত্বাবধানেই রয়েছেন অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মিয়া, গৃহকর্মী ও গাড়িচালক। তাদের দাবি তারাই বর্তমানে তার দেখাশোনা করেন। তারা এ-ও দাবি করেন মনিরুজ্জামান মিঞা মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ। তাছাড়া তার বয়স হয়েছে। বার্ধক্যজনিত সমস্যার কারণে তাকে বাসায় সময় কাটাতে হয়। তারা বলেন, গত জানুয়ারিতে আমাদের পারিবারিক একটি বিষয় নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। মার্চে তার কিছুটা মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। যেটাকে চিকিৎসকরা আলজেইমার ডিজিস (স্মৃতিশক্তি জনিত সমস্যা) বলে চিহ্নিত করেন। কিছুই মনে রাখতে পারতেন না তিনি। এজন্য তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসার ব্যবস্থা করি। কিন্তু তিনি কিছুতেই হাসপাতালে থাকতে চাইলেন না। এরপর থেকেই তার মানসিক সমস্যা বেড়েছে। কখন খান, কি করেন, কাকে কি বলেন তার কিছুই মনে রাখতে পারেন না। তিনি অর্থকষ্টে ভুগছেন কেন? এমন প্রশ্নে অধ্যাপক মনিরুজ্জামানের ছোট ভাই ড. এম আসাদুজ্জামান বলেন, ব্যাংকের এফডিআর (ফিক্সড ডিপোজিট রিসিট) থেকে ও নিজেরা প্রতি মাসে তার ওষুধ, খাওয়া ও হাত খরচের জন্য একটি নির্দ্দিষ্ট অঙ্কের টাকা আমরা দিচ্ছি। কিন্তু টাকা তিনি কি করেন তা তিনিই ভাল জানেন। অসুস্থতার বিষয়ে তিনি বলেন, যদি দাদা অসুস্থ নাই হতেন তাহলে প্রতিদিন তাকে এক গাদা ওষুধ খেতে হয় কেন? বাসার বাইরে বেরুতে না দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বয়স হয়েছে। স্মৃতিভ্রষ্টতার কারণে রাস্তায় বেরুলে হয়তো দেখা যাবে পথ ভুলে বাসার ঠিকানাই ভুলে গেছে। তাছাড়া দুর্ঘটনাজনিত সমস্যা তো আছেই। এজন্য তাকে বাসা থেকে বেরুতে দিই না।

এইচএসসির ফলাফলে মেয়েরাই সেরা

গত বছরের এইচএসসির ফলাফলে ছন্দপতন হলেও এবার ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। এবার গত বছরের তুলনায় গড় পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। গত কয়েক বছর পিছিয়ে থাকলেও এবার ঢাকা শিক্ষা বোর্ড পাসের হার ও জিপিএ-৫ দু’টোতেই শীর্ষ স্থান দখল করেছে। গত বছর পাসের হার ও জিপিএ-৫ দু’টোতেই ছেলেরা এগিয়ে থাকলেও এবার পাসের হারে মেয়েরা আর জিপিএ-৫ ছেলেরা এগিয়েছে। শতভাগ পাস করার প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে কমেছে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও। এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১০ শিক্ষা বোর্ডে এবার গড় পাসের হার ৭৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। গত বছর গড় পাশের হার ছিল ৭৪ দশমিক ৩০ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার বেড়েছে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। একইভাবে এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যাও বেড়েছে ১২ হাজার ৪০৫। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭০ হাজার ৬০২ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৫৮ হাজার ১৯৭। সাধারণ ৮টি বোর্ডের চেয়ে মাদরাসা এবং কারিগরি বোর্ডের ফল ভাল হয়েছে।  এবার শতভাগ পাস করেছে ১ হাজার ১৪৭ টি প্রতিষ্ঠান। গত বছর ছিল ৮৪৯টি। শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৪টি। গত বছর ছিল ২৫টি। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় ভাল ফলের অন্যতম সহায়ক হিসেবে কাজ করেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে করে এ বছর ফলের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুনসহ সব বোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকাল ১০টায় শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে শিক্ষা বোর্ডের  চেয়ারম্যানরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফল হস্তান্তর করেন। 
এবার এইচএসসিতে আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের গড় পাসের হার বেড়ে হয়েছে ৭৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৭১ দশমিক ১৩ শতাংশ। গত বছরের মতো এবারও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের পাসের হার সর্বোচ্চ। এ বোর্ডে পাসের হার ৯৪ দশমিক ০৮ শতাংশ। গত বছর ছিল ৯১ দশমিক ৪৬। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬০২৫ জন যা গত বছর ছিল ৬০০৯ জন। কারিগরি বোর্ডের পাশের হার ৮৫ দশমিক ০২ শতাংশ। গত বছর ছিল ৮৫ দশমিক ০৩। গত বছরের চেয়ে এবার দশমিক ১ শতাংশ পাশের হার কমেছে। তবে জিপিএ-৫ বেড়েছে ১৭৩৫ জন। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৩৯৩ জন। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৪৬৫৮ জন। ঢাকা বোর্ডের অধীন ডিআইবিএস-এ (ডিপ্লোমা ইন বিজনেস স্টাডিজ) পাশের হার ৭৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ। আটটি সাধারণ বোর্ডের অধীনে এবার এইচএসসিতে ৭৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ, মাদরাসা বোর্ডে ৯৪ দশমিক ০৮ শতাংশ এবং কারিগরি বোর্ডে ৮৫ দশমিক ০২ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। আট সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে পাসের হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বোর্ডে ৮৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ। আর সবচেয়ে কম পাসের হার যশোর বোর্ডে ৬০ দশমিক ৫৮ শতাংশ। এছাড়া সিলেট বোর্ডে ৭৯ দশমিক ১৬ শতাংশ, রাজশাহী বোর্ডে ৭৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ, দিনাজপুর বোর্ডে ৭৪ দশমিক ১৪ শতাংশ, বরিশাল বোর্ডে ৭১ দশমিক ৭৫ শতাংশ, কুমিল্লা বোর্ডে ৭০ দশমিক ১৪ শতাংশ ও চট্টগ্রাম বোর্ডে ৭০ দশমিক ০৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪ লাখ ৬৭ হাজার ২১৪ জন ছাত্র এবং ৪ লাখ ১৭ হাজার ৮৫৬ জন ছাত্রী। ছাত্রীদের পাসের হার ৭৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ, ছাত্রদের ৭৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ ছাত্রীদের চেয়ে ছাত্ররা এগিয়ে। ৩৮ হাজার ৭৮৭ জন ছাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছে। ছাত্রীরা পেয়েছে ৩১ হাজার ৮১৫ জন। গত কয়েক বছরের মতো এবারও ঢাকা বোর্ডসহ সারাদেশের মধ্যে সেরা হয়েছে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে নরসিংদীর আব্দুল কাদের  মোল্লা সিটি কলেজ ও তৃতীয় হয়েছে রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে আট সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ৫৭ হাজার ৭৮৯ জন, মাদরাসা বোর্ডে ৬ হাজার ২৫ জন ও কারিগরি বোর্ডে ৬৩৯৩ জন।
গত ৩ এপ্রিল দেশব্যাপী একযোগে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। এবার মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১১ লাখ ৪১ হাজার ৩৭৪ জন। মোট ২৩৫২টি কেন্দ্রে পরীক্ষা হয়। ১০টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবারের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৮ জুন।
পাসের হারে এগিয়ে ঢাকা পিছিয়ে যশোর:  সাধারণ ৮টি শিক্ষাবোর্ডে পাস ও জিপিএ-৫ শীর্ষে ঢাকা বোর্ড। এবার সর্বমোট ২ লাখ ৯৭ হাজার ৮১৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ২ লাখ ৫১ হাজার ৭৭২ জন। পাসের হার ৮৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩১ হাজার ২০৯ জন। যশোর শিক্ষা বোর্ডে মোট ১ লাখ ১৪ হাজার ৮১৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৬৯ হাজার ৫৫০ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে। পাসের হার ৬০ দশমিক ৫৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪২৩১ জন। 
বিদেশ কেন্দ্র: বিদেশে ৫ টি কেন্দ্রে মোট ২১১ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ১৫৩ জন পাস করেছে। পাসের হার ৭২ দশমিক ৫১। 
ফল পুনঃনিরীক্ষা: রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক থেকে আগামী ১৪ থেকে ২০শে আগস্ট পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করা যাবে বলে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান মন্ত্রী। ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে জঝঈ লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে বিষয় কোড লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফি বাবদ কত টাকা কেটে নেয়া হবে তা জানিয়ে একটি পিন নম্বর দেয়া হবে। আবেদনে সম্মত থাকলে জঝঈ লিখে স্পেস দিয়ে ণঊঝ লিখে স্পেস দিয়ে পিন নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে যোগাযোগের জন্য একটি  মোবাইল নম্বর লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। প্রতিটি বিষয় ও প্রতি পত্রের জন্য ১৫০ টাকা হারে চার্জ কাটা হবে। যে সব বিষয়ের দুটি পত্র (প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র) রয়েছে যে সকল বিষয়ের ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করলে দু’টি পত্রের জন্য  মোট ৩০০ টাকা ফি কাটা হবে। একই এসএমএসে একাধিক বিষয়ের আবেদন করা যাবে, এক্ষেত্রে বিষয়  কোড পর্যায়ক্রমে ‘কমা’ দিয়ে লিখতে হবে।
দেশকে আলোর দিকে নিয়ে যাচ্ছি: প্রধানমন্ত্রী
শিক্ষার মান নিয়ে সংশয়বাদীদের সমালোচনার জবাব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ এ কথা চিন্তা করলে কোন কাজই সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে না। তিনি বলেন, সমালোচনা ছাড়া কেউ কোন ভাল কাজ করতে পারবে না এবং এজন্য আমি শিক্ষামন্ত্রীকে বলতে চাই যে ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ এ কথা পরিহার করে এগিয়ে যান। তিনি গতকাল সকালে গণভবনে চলতি বছরের এইচ এস সি ও সমমানের পরীক্ষার ফল গ্রহণকালে একথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ ও ১০ শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানগণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর হাতে ফল তুলে দেন। শিক্ষা সচিব ড. মোহাম্মাদ সাদিক এ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আব্দুস সোবহান সিকদার ও প্রেস সচিব এ কে এম শামিম চৌধুরী। শেখ হাসিনা বলেন, সমাজে এমন কিছু মানুষ আছে ‘ভাল হোক মন্দ হোক’ সব কাজেই তারা পরশ্রীকাতর। তিনি বলেন, কে কি বললো এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই। আমাদের প্রধান কাজ হচ্ছে শিক্ষার আলো সর্বত্র পৌঁছে দেয়া। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা অন্ধকার যুগ থেকে দেশকে আলোর দিকে নিচ্ছি এবং এই আলো হচ্ছে শিক্ষার আলো। কোন জাতিই শিক্ষা ছাড়া উন্নতি করতে পারে না। আমরা দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই- এ লক্ষ্য অর্জনের মূল চাবিকাঠি হচ্ছে শিক্ষা। 
সব সূচককে ইতিবাচক বললেন শিক্ষামন্ত্রী: এবার ফলে সব সূচককে ইতিবাচক বললেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছরের ফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫ এর দিকে থাকালে সব সূচক ইতিবাচক। তিনি বলেন, এবার পাসের হার বেড়েছে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। জিপিএ-৫  বৃদ্ধি পেয়েছে ১২ হাজার ৪০৫ জন। মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি অনুত্তীর্ণ হওয়ার সংখ্যা কমেছে। শতভাগ পাসের প্রতিষ্ঠান বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শতভাগ ফেলের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও কমেছে। 
বেড়েছে শতভাগ পাস, কমেছে শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার শতভাগ পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ২৯৮টি। অপরদিকে গত বছরের তুলনায় শূন্য পাস শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা একটি কমেছে। এবার ২৪ প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি। এক হাজার ১৪৭ প্রতিষ্ঠানের সবাই পাস করেছে। গত বছর ২৫ প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করতে পারেনি এবং ৮৪৯ প্রতিষ্ঠানের সবাই পাস করেছিল। এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এদিকে গতবারের মতো এবারও শতভাগ পাস প্রতিষ্ঠানে এগিয়ে মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড। গতবারের চেয়েও বেড়েছে ১৮১টি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ পাসের হার। এ বছর মাদরাসা বোর্ডের ৮৫৯টি প্রতিষ্ঠান শতভাগ পাস করেছে। যা গতবছর ছিল ৬৭৮টি। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ গতকাল সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ ফলাফল প্রকাশ করেন। ১০  বোর্ডে গড় পাসের হার ৭৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ৮ সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ২১টি শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঢাকায় একটি ও রাজশাহী বোর্ডে দুটি। এছাড়া যশোর বোর্ডে ৮, চট্টগ্রাম বোর্ডে ১, বরিশাল  বোর্ডে ২ ও দিনাজপুর বোর্ডে ৭ প্রতিষ্ঠানের সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। কুমিল্লা ও সিলেট বোর্ডে কোন শূন্য পাস প্রতিষ্ঠান নেই। এছাড়া মাদরাসা বোর্ডে তিনটি শূন্য পাস প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
শতভাগ পাস প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে ঢাকা বোর্ড। এ বোর্ডে ৫১ প্রতিষ্ঠানের সবাই পাস করেছে। এছাড়া রাজশাহী বোর্ডে ১৫, কুমিল্লা বোর্ডে ৮, যশোর বোর্ডে ৫, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৩, বরিশাল বোর্ডে ১, সিলেট বোর্ডে ১০ ও দিনাজপুর বোর্ডে ১৭টি শতভাগ পাস প্রতিষ্ঠান রয়েছে। মাদরাসা বোর্ডে ৮৫৯ ও কারিগরি বোর্ডে ১৭৮ প্রতিষ্ঠানের সবাই পাস করেছে।

‘নাটক অনেক হয়েছে’ -জাকিয়া বারী মম

লাক্স-চ্যানেল আই-এর উদ্যোগে ‘দারুচিনি দ্বীপে’র নায়িকা প্রতিযোগিতা দিয়ে রাতারাতি তারকা বনে যান জাকিয়া বারী মম। পরবর্তীতে এই চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে নিয়মিত অভিনয় শুরু করেন। এই যাবৎ নাটক, টেলিফিল্মে অভিনয়ের পাশাপাশি বিজ্ঞাপনের মডেল হয়ে পর্দায় উপস্থিত হন শতভাগ সফলতার সঙ্গে। তবে ক্যারিয়ারের অর্ধযুগেরও বেশি সময় অতিক্রম করলেও চলচ্চিত্রে সে অর্থে অভিনয় করা হয়ে উঠেনি তার। এ নিয়ে নাকও সিঁটকেছেন অনেকবার। এই প্রসঙ্গে মম বলেন, টিভি নাটকের দীর্ঘ পথে একাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছি। কিন্তু সেরূপ গল্প ও চরিত্র পাচ্ছিলাম না তাই অভিনয় করা হয়ে ওঠেনি। তবে এরই মধ্যে চলচ্চিত্রের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। চলচ্চিত্র নির্মাণ ভাবনায় বেশ পরিবর্তন এসেছে। তাইতো চলতি বছরে এসে আমি নাটকের চেয়ে চলচ্চিত্রে বেশি মন বসিয়েছি। চলতি বছরে চলচ্চিত্রে পুরদস্তুর অভিনয় শুরু করেন মম। তাও আবার চরিত্রাভিনেত্রী হিসেবে নয়। পুরো দস্তুর চিত্র নায়িকা হয়েই পর্দায় হাজির হচ্ছেন তিনি। তার ভাষায়, এখন থেকে চলচ্চিত্রে নিয়মিত কাজ করবো। নাটক অনেক হয়েছে। মম আরও বলেন, চলচ্চিত্র আমার কাছে কোন এক্সপেরিমেন্ট নয়। এটা আমার কাছে গোল। আমি তো আমার গোল নিয়ে মাঠে এক্সপেরিমেন্ট করবো না। আমি এখানে সিওর শটে যেতে চাই। অতি আত্মবিশ্বাসী মম’র কাছে প্রশ্ন ছিল, যারা টিভি থেকে চলচ্চিত্রে আসেন তাদের মধ্যে প্রতিষ্ঠা না পাওয়ার একটা ভয় থাকে। এই যাবৎ সুবর্ণা মোস্তফা, বিপাশা হায়াত, শমী কায়সার, তানিয়া আহমেদ, মুক্তি, বন্যা মির্জা, বাঁধন, বিন্দু, তিন্নী, শখ এদের কেউই সে অর্থে চলচ্চিত্রে সফল হননি। কিন্তু মম জানালেন, তার ভেতর এই ভয় নেই। তিনি বলেন, আমি আমার দর্শকদের বিশ্বাস করি। দর্শকদের ভালবাসা, চাহিদা, চাওয়া থেকেই আমি দ্বিতীয়বার চলচ্চিত্রে ব্যাক করেছি। বর্তমানে আমার অভিনীত চলচ্চিত্র দুটি তাই প্রমাণ করছে। মম বর্তমানে দু’টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন। একটি রকিবুল আলম রাকিব পরিচালিত ‘প্রেম করবো তোমার সাথে’ ও শিহাব শাহীন পরিচালিত ‘ছুঁয়ে দিলে মন’। দুটোই বাণিজ্যিক ঘরানার চলচ্চিত্র হিসেবে নির্মিত হচ্ছে। যেখানে মম নিজেকে শতভাগ বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের নায়িকা হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছেন। দু-একটি গানে বৃষ্টিভেজা খুল্লামখুল্লা দৃশ্যেও পাওয়া যাবে নাটকের পরিশীলিত মমকে। দুটিতেই মম’র নায়ক হিসেবে অভিনয় করছেন আনিসুর রহমান মিলন, জায়েদ খান এবং আরেফিন শুভ। মম বলেন, আমি বিকল্পধারা কিংবা কমার্শিয়াল ফিল্ম বিশ্বাস করি না। আমি বিশ্বাস করি চলচ্চিত্রটি ভাল নাকি খারাপ। যেখানে টাকা দিয়ে দর্শক সিনেমা হলে আসবে সেখানে তো কমার্শিয়াল বিষয়টি থাকবেই। আমি কখনই শুধু নিজে বসে দেখার জন্য চলচ্চিত্র করবো না। যে কাজ দর্শকের জন্য, আমি সেই কাজ করতেই ইচ্ছুক।

ইতিহাস কথা কয় গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচনে অধ্যক্ষ সানাউল্লাহ

ইতিহাস কথা কয় গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচনে রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধীজিবীদের সাথে অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ 

জলিল জিয়াকে প্রশ্ন করে বসলেন ‘হোয়াই ডিড ইউ হ্যাং তাহের’

মেজর জলিল কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েন। ঢাকার পিজি হাসপাতালে তার চিকিৎসা হচ্ছিল। তার দেখাশোনা করতেন করপোরাল আবদুল মজিদ। তিনি একই মামলায় সাজা পেয়েছিলেন। তিনি পুরো মেয়াদ জেল খেটে ইতিমধ্যে মুক্তি পেয়েছেন। একদিন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পিজি হাসপাতালে এলেন চিকিৎসাধীন স্পিকার মির্জা গোলাম হাফিজকে দেখতে। সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমান। তিনি শাহ আজিজকে নিয়ে জলিলের কেবিনে গেলেন। তাদের দেখে মজিদ পেছনে ব্যালকনির দিকে সরে গেলেন। জিয়া জলিলকে বললেন, ‘ঘর এত অন্ধকার কেন?’ তিনি নিজেই সুইচ অন করে বাতি জ্বালালেন। জলিল শুয়েছিলেন। বললেন, সারা জীবন তো অন্ধকারেই থাকতে হবে। তিনি তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিষয়ে ইঙ্গিত করেছিলেন। জিয়া শাহ আজিজকে লক্ষ্য করে বললেন, ‘ দেখেন দেখেন ও এখনও কেমন রাগী। সব সময় ও এ রকমই ছিল। জলিল হঠাৎ জিয়াকে প্রশ্ন করে বসলেন, ‘হোয়াই ডিড ইউ হ্যাং তাহের?’ জিয়া কিছুক্ষণ চুপচাপ থেকে বললেন, ‘আমার ওপর প্রেশার ছিল। আমার কোন চয়েস ছিল না, সবাই এটা চেয়েছিল।’
১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদের প্রকাশিতব্য গ্রন্থে এসব কথা বলা হয়েছে। দৈনিক প্রথম আলোর ঈদ সংখ্যায় ‘৭ নভেম্বরের সাত-সতেরো’ শিরোনামে বইটির নির্বাচিত অংশ প্রকাশিত হয়েছে। ৭ই নভেম্বরের পরবর্তী সময়ের ঘটনা প্রসঙ্গে এতে আরও বলা হয়েছে, জাসদের নেতা-কর্মীদের পুলিশ খুঁজে বেড়াচ্ছে। গ্রেপ্তার এড়ানোর জন্য সবাই গা ঢাকা দেন। তবু গ্রেপ্তার এড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে। একে একে আখলাকুর রহমান, মোহাম্মদ শাজাহান, আ ফ ম মাহবুবুল হক, মাহমুদুর রহমান মান্না এবং বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার অনেক সংগঠক গ্রেপ্তার হন। পুলিশের একটি দল বাগেরহাট ও পিরোজপুরের মাঝামাঝি একটি অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে মেজর জিয়াউদ্দিনকে ধরে নিয়ে আসে। প্রথমে তাকে খুলনায় নিয়ে যাওয়া হয়। খুলনা শহরে তখন একটা মেলা চলছিল। মেলা প্রাঙ্গণে তাকে বেঁধে রাখা হয়েছিল, যাতে সবাই দেখতে পান।
১০ই মে রাজশাহী জেল থেকে প্রেসিডেন্ট সায়েমকে লেখা এক চিঠিতে তাহের ৭ই নভেম্বরের সকালে গৃহীত নীতিমালা মেনে চলার আহবান জানান। তিনি সব রাজনৈতিক বন্দির মুক্তি এবং ১৯৭৬ সালের অক্টোবরের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানান। জাসদ ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। এই দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ‘দেশদ্রোহিতা’ ও ‘অরাজকতা’ সৃষ্টির অভিযোগ এনে নির্যাতনের মাত্রা ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছিল। গ্রেপ্তারকৃত ও পলাতক নেতাদের ‘প্রহসনের’ বিচার ও দলকে বেআইনি ঘোষণার আশঙ্কা করা হচ্ছিল।
২১শে জুন সামরিক সরকার জাসদ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ, গণবাহিনী ও বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার ৩৩ জনের বিরুদ্ধে একটি গোপন বিচার-প্রক্রিয়া শুরু করে। এদের মধ্যে ১৬ জন ছিলেন সশস্র বাহিনীতে চাকরিরত। রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে তাদের অভিযুক্ত করা হয়। মামলার শিরোনাম ছিল ‘রাষ্ট্র বনাম মেজর জলিল ও অন্যান্য’। অভিযুক্তরা ছিলেন মেজর এম এ জলিল, আ স ম আবদুর রব, লে. কর্নেল আবু তাহের, হাসানুল হক ইনু, আনোয়ার হোসেন, আবু ইউসুফ খান, রবিউল আলম সরদার, সালেহা বেগম, মোহাম্মদ শাজাহান, মাহমুদুর রহমান মান্না, আখলাকুর রহমান, কে বি এম মাহমুদ, ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল, আনোয়ার সিদ্দিক, মেজর জিয়াউদ্দিন, নায়েক সুবেদার বজলুর রহমান, হাবিলদার মেজর সুলতান আহমদ, নায়েক সুবেদার আবদুল লতিফ আখন্দ, নায়েক সিদ্দিকুর রহমান, ফ্লাইট সার্জেন্ট কাজী রোকন উদ্দিন, সার্জেন্ট কাজী আবদুল কাদের, সার্জেন্ট সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, করপোরাল শামসুল হক, করপোরাল আবদুল মজিদ, হাবিলদার আবদুল হাই মজুমদার, হাবিলদার শামসুদ্দিন, সিরাজুল আলম খান, শরীফ নুরুল আম্বিয়া, মহিউদ্দিন, হাবিলদার বারেক, নায়েক সুবেদার জালাল এবং করপোরাল আলতাফ হোসেন। অভিযুক্তদের মধ্যে সাতজন ছিলেন ‘পলাতক’। নায়েক আবদুল বারী রাজসাক্ষী হয়েছিলেন। সালেহা বেগম ছিলেন অভিযুক্তদের মধ্যে একমাত্র নারী। তিনি যশোর জেলা ছাত্রলীগের সভানেত্রী ছিলেন। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আলাদা আলাদা অভিযোগ আনা হয়েছিল। 
কর্নেল ডি এস ইউসুফ হায়দারকে চেয়ারম্যান করে পাঁচ সদস্যের একটি সামরিক আদালত গঠন করা হয়। অন্যান্য সদস্যের মধ্যে ছিলেন কমান্ডার সিদ্দিক আহমদ, উইং কমান্ডার মোহাম্মদ আবদুর রশীদ, ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবদুল আলী এবং ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান মোরশেদ। সরকারপক্ষে কৌঁসুলি ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল এ টি এম আফজাল, ডেপুটি এটর্নি জেনারেল আবদুল ওহাব এবং পিপি আবদুর রাজ্জাক। অভিযুক্তদের পক্ষে ১৬ জন আইনজীবী ছিলেন। তারা হলেন আতাউর রহমান খান, জুলমত আলী খান, কে জেড আলম, আমিনুল হক, মো. জিনাত আলী, এ কে মুজিবুর রহমান, সিরাজুল হক, মহিউদ্দিন আহমেদ, আবদুর রউফ, কাজী শাহাদাত হোসেন, শরফুদ্দিন চাকলাদার, খাদেমুল ইসলাম, আবদুল হাকিম. শামসুর রহমান, শরফুদ্দিন ভূঁইয়া ও এ টি এম কামরুল ইসলাম।
আদালত বসে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। প্রথম দিন রোল কল করা হয়। দু’বার নাম ডাকা সত্ত্বেও সার্জেন্ট রফিকুল ইসলাম সাড়া দেননি। তখন একজন তাকে চিনিয়ে দিলে তিনি বলেন, ‘আমার নাম ঠিকভাবে ডাকা হয়নি বলে আমি জবাব দিইনি।’ চেয়ারম্যান বললেন, আপনার নাম তো সৈয়দ রফিকুল ইসলাম। রফিক জবাবে বলেন, না আমার নাম সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বীর প্রতীক। পুরো নাম না বললে আমি জবাব দেবো না। আদালত তার দাবি মেনে নেন। দ্বিতীয় দিনেও গোলমাল হলো। সার্জেন্ট রফিক এফআইআর দেখতে চাইলেন। যখন আদালত থেকে বলা হলো এটা এখন সরবরাহ করা যাবে না তখন সার্জেন্ট রফিক বললেন, তাহলে আমাকে যেতে দিন, আমি আমার সেলে গিয়ে বিশ্রাম নেবো। চেয়ারম্যান রেগে গিয়ে বললেন, শাট আপ অ্যান্ড সিট ডাউন। সার্জেন্ট রফিক চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্য করে জুতা ছুড়ে মারলেন। দেখাদেখি আরও কয়েকজন জুতা ছুড়লেন। রব দৌড়ে দরজার কাছে গিয়ে শ্লোগান দিতে শুরু করলেন। আদালতের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা দৌড়ে পালালেন। ওই দিনের মতো আদালত পণ্ড হয়ে গেল। পরদিন থেকে তাদের আদালত কক্ষে খালি পায়ে হাতকড়া পরিয়ে আনা হলো। এভাবেই চলতে থাকলো আদালতে আসা-যাওয়া। আদালত চলার সময় অভিযুক্তরা এমন ভাব করতেন, যেন তারা কোন জায়গায় বসে আড্ডা দিচ্ছেন। এই ‘অবৈধ আদালতের’ ওপর তাদের কোন ভ্রুক্ষেপ ছিল না। হয়তো কেউ কারও কোলের ওপর মাথা রেখে শুয়ে থাকেন, কেউ-বা আপন মনে গলা ছেড়ে গান ধরেন: ‘ মা, আমরা তোমার শান্তিপ্রিয় শান্ত ছেলে/ তবু শত্রু এলে অস্ত্র হাতে লড়তে জানি।’ ১৫ই জুলাই রায় ঘোষণার কথা ছিল। রায় দেয়া হলো ১৭ই জুলাই। রায় ঘোষণার সময় অভিযুক্তরা সবাই হইচই, চিৎকার করছিলেন। রায়ে তাহের, জলিল ও আবু ইউসুফের ফাঁসির আদেশ হয়। পরে রায় সংশোধন করে জলিল ও ইউসুফকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। আখলাকুর রহমান, মাহমুদুর রহমান মান্না, শরীফ নুরুল আম্বিয়া, মো. শাজাহান ও কে বি এম মাহমুদসহ ১৫ জনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়। অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়। ২১শে জুলাই ভোর চারটায় তাহেরের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। তাহের ছিলেন অত্যন্ত সাহসী, প্রাণবন্ত ও আশাবাদী। রায় ঘোষণার পর থেকে তাকে কখনও মন খারাপ করতে দেখা যায়নি। তিনি যখন ফাঁসির মঞ্চের দিকে হেঁটে যান, তখনও তিনি ছিলেন দৃপ্ত, অবিচল। তাহেরের ফাঁসি নিয়ে বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক দল বা বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায় মাথা ঘামায়নি। দলের তরুণদের কাছে এটা ছিল একটা ভীষণ দুঃখজনক ঘটনা। রায়হান ফেরদৌস মধুর উদ্যোগে একটা কবিতা সংকলন বের হলো। তাহেরকে নিয়ে লিখলেন অনেকেই। তাদের মধ্যে ছিলেন মাশুক চৌধুরী, অসীম সাহা, আবু করিম, মোহন রায়হান প্রমুখ। অসীম সাহার একটা কবিতার কয়েকটা লাইন ছিল এরকম: তাহের তাহের বলে ডাক দিই/ফিরে আসে মৃত্যুহীন লাশ/কার কণ্ঠে বলে ওঠে আকাশ-বাতাস/বিপ্লব বেঁচে থাক তাহের সাবাশ।

কেন এই আশঙ্কা? by অমিত রহমান

সম্প্রচার নীতিমালা নিয়ে বিতর্ক নেই। বিতর্ক হচ্ছে এর কতিপয় ধারা নিয়ে। এক বাক্যে কেউই প্রশংসা করছেন না। সবাই বলছেন, এমন কিছু ধারা সংযুক্ত করা হয়েছে যাতে সন্দেহের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। সন্দেহটা কি? কেউ বলছেন, এতে করে গণমাধ্যমের কণ্ঠ স্তব্ধ করা হবে। আবার অনেকে বলছেন, বাংলাদেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কেড়ে নেয়ার একটি অস্ত্র। কালো আইন হিসেবেও কেউ কেউ মত দিচ্ছেন। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বিপরীতটাই বলছেন। তার মতে, বাংলাদেশের গণমাধ্যম নাকি এতে করে জবাবদিহি আর শৃঙ্খলার মধ্যে আসবে। এতে গণমাধ্যম ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। নিপীড়নের আশঙ্কা অমূলক তা-ও বলছেন। কিন্তু কেউই আশ্বস্ত হতে পারছেন না। বলাবলি হচ্ছে, নীতিমালার মাধ্যমে সরকার গণমাধ্যমকে কব্জা করতে চায়। অতীত অভিজ্ঞতা যেহেতু সুখকর নয়, সেজন্য এই আশঙ্কা থেকে কেউ মুক্ত হতে পারছেন না। প্রতিক্রিয়া শুধু দেশে নয়। বিদেশেও হয়েছে। পাঠকরা ইতিমধ্যেই জেনে গেছেন বিশ্ববিখ্যাত সার্চ ইঞ্জিন গুগল ঢাকায় অফিস স্থাপনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে দিয়েছে। তাদেরও আশঙ্কা, সম্প্রচার ও অনলাইন নীতিমালা চালু হয়ে গেলে বাংলাদেশের গণমাধ্যম তার স্বাধীনতা হারাবে। ১৬ সদস্যের সম্প্রচার কমিটির ভূমিকা নিয়ে তথ্যমন্ত্রী নানা যুক্তি হাজির করেছেন। তিনি বলছেন, তারা কোন পর্যায়েই বিরোধিতা করেননি। কেউ কেউ যদিও ঘরোয়া আলোচনায় বলছেন তাদের কোন মতামত গ্রহণ করা হয়নি। এর সত্য-মিথ্যা যাচাই করা এই মুহূর্তে খুব কঠিন। মতামত যদি গ্রাহ্যই হয়নি তাহলে তারা কমিটি থেকে কেন পদত্যাগ করেননি। এই প্রশ্ন ইতিমধ্যেই উঠেছে। টকশোগুলোতে কেউ কেউ তাদের ইন্টিগ্রিটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। যা-ই হোক, এটা আলোচ্য বিষয় নয়। বিষয় হচ্ছে কেন সম্প্রচার নীতিমালার বিরোধিতা করা হচ্ছে। ধরা যাক, উদ্দেশ্য লক্ষ্য বয়ান করতে গিয়ে বলা হয়েছে- সকল সম্প্রচার মাধ্যমকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থায় এনে এ সেক্টরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা। প্রশ্ন উঠেছে সমন্বিত না নিয়ন্ত্রিত। শৃঙ্খলা না শৃঙ্খলিত করা- এর কোন ব্যাখ্যা নেই নীতিমালায়। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আদর্শ ও চেতনা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। এতে দ্বিমতের কিছু নেই। তবে ইতিহাস চর্চা একটি চলমান অনুসন্ধানী গবেষণা। রাজনীতি নিরপেক্ষ গবেষকরা এ কাজ করে চলেছেন। এটা তারা করে যাবেন। গবেষকদের গবেষণায় নতুন নতুন তথ্য উদঘাটন ও পুনরাবিষ্কার ঘটে। এর ঐতিহাসিক মূল্য থাকা সত্ত্বেও কোন কোন তথ্য বা বিষয় বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। প্রতিষ্ঠিত তথ্যের স্থলে নতুন প্রামাণিক সত্যও আলোর মুখ দেখতে পারে। তখন কি হবে? তাই ইতিহাসকে ‘বাক্সবন্দি’ করে রাখার সুযোগ খুব কম। নীতিমালায় বলা হয়েছে সম্প্রচারিত তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা, পেশাগত নৈতিকতা ও নিরপেক্ষতা, সমপ্রচারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা মানদণ্ডে উল্লেখ থাকবে। প্রশ্ন হচ্ছে বস্তুনিষ্ঠ সত্য নিরপেক্ষ হয় না। কোন না কোন পক্ষে যায়। তাছাড়া আপনার কাছে যেটা বস্তুনিষ্ঠ অন্যের কাছে না-ও হতে পারে। সংবাদ ও তথ্যমূলক অনুষ্ঠান নিয়ে যে ধারা সংযোজন করা হয়েছে তা নিয়ে আপত্তি এবং আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। টকশো সরাসরি বলা না হলেও আলোচনামূলক অনুষ্ঠানে কোন প্রকার বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য বা উপাত্ত দেয়া পরিহার করতে হবে। সকল পক্ষের যুক্তিসমূহ যথাযথভাবে উপস্থাপনের সুযোগ থাকতে হবে। কিন্তু কে না জানে আলোচনামূলক অনুষ্ঠানে তাৎক্ষণিক মতামতেরই প্রাধান্য থাকে। এখানে গবেষণা বা ইতিহাস চর্চার সুযোগ নেই বললেই চলে। পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি প্রদর্শনই সার কথা। ‘বিভ্রান্তিকর ও যথাযথভাবে’ কথাটির অপব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে অনুষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা হতে পারে। এই আশঙ্কা অমূলক নয়। বরং এটাই বাস্তবতা। অতীত ইতিহাস হচ্ছে একটি দরখাস্তের ভিত্তিতে ইটিভি বন্ধ করে দিয়েছিল বিএনপি সরকার। আর বর্তমান সরকার কোন যুক্তিসঙ্গত কারণ না দেখিয়ে চ্যানেল ওয়ান, দিগন্ত ও ইসলামিক টিভি বন্ধ করে দিয়েছে। সেনা জমানায় সিএসবি বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। এখানে কোন নীতিমালার প্রয়োজন হয়নি। তাই অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, সরকার যেখানে নীতিমালা ছাড়াই এ রকম সিদ্ধান্ত নিতে পারে, সেখানে নীতিমালায় এই ধারাগুলো থাকলে কেউ সাহস করে কিছু বলবে না। কোন টিভি সেটা প্রচারও করবে না। এমনিতেই কোন অতিথিকে আনা যাবে, কোন অতিথিকে আনা যাবে না- তার একটি অলিখিত নির্দেশনা জারি রয়েছে। তথ্য মন্ত্রণালয় এক্ষেত্রে বড় অসহায়। তাদের অজান্তেই অতিথি বর্জনের কালচার চালু রয়েছে দীর্ঘদিন থেকে। টকশো এই মুহূর্তে তৃতীয় শক্তির ভূমিকা পালন করছে। এটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে জনগণ অনেক কিছু জানা থেকে বঞ্চিত হবে। মনে রাখতে হবে, এতে সরকারের বা দেশের কোন লাভ হবে না। বরং গুজবের ফ্যাক্টরি চালু হবে। এতে গোটা সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ঢাকায় আমার হাত বেঁধে দিতে পারেন, বাইরে তো আমার হাত খোলা থাকবে। পৃথিবীর নানা প্রান্তে বসে এমন গুজবই রটবে যা সামাল দেয়া কঠিন হবে। এই বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়া দরকার। ক্ষমতায় থাকার জন্য আমাদের শাসকেরা এই বিষয়টির দিকে নজর দেন না। এক পর্যায়ে আমলানির্ভর হয়ে যান। চমৎকার একটি নীতিমালা তৈরি করতে গিয়ে এমন কিছু ধারার জন্ম দেয়া হয়েছে যা অন্য দেশগুলোর নীতিমালা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে গেছে। অনেকেই বলছেন, ভবিষ্যতে মোবাইল কোর্ট দিয়ে হরতাল, পিকেটিং, মিছিল-মিটিং ঠেকাতে উদ্যোগী হবে সরকার। সে কারণে মোবাইল কোর্টকে দু’বছর পর্যন্ত শাস্তি প্রদানের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। অথচ প্রথমে যখন মোবাইল কোর্ট আইন তৈরি হয়, তখন তাদের ক্ষমতা ছিল কেবল অর্থদণ্ড দেয়ার। 
নীতিমালার অনেক বিষয় নিয়েই কথা তোলা যায়। ধরুন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত কর্মকর্তাদের প্রতি কটাক্ষ বা বিদ্রূপ কিংবা তাদের পেশাগত ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতে পারে এমন কোন দৃশ্য প্রদর্শন বা বক্তব্য প্রচার করা যাবে না। কি ভয়ঙ্কর সংযোজন? এই ধারা যদি মানা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে কি হবে? নারায়ণগঞ্জে ৭ খুনের ঘটনা চাপাই থেকে যেতো। দশ ট্রাক অস্ত্র নিয়ে যে হইচই হচ্ছে তা-ও করা যেতো না। বর্তমানকে চিন্তা না করে ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে নীতিমালা করলে তা দেশের কাজে আসতে পারে। নীতিমালা করছেন দেশের টিভি স্টেশনগুলোকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনার জন্য। ভারতীয় টেলিভিশনগুলো যে বাংলাদেশের বাজার দখল করে বসে আছে সে ব্যাপারে নীতিমালায় কিছু নেই কেন? শুধু দর্শক নয়, ভারতীয় টিভিতে বাংলাদেশের পণ্যের বিজ্ঞাপনও চলে গেছে। নীতিমালা কি তাহলে দু’টো হবে! স্বাধীন কমিশন গঠনের কথা বলা হচ্ছে? কাদের নিয়ে এই কমিশন গঠন করা হবে? মানবাধিকার কমিশনের মতো কোন কমিশন গঠন করা হলে ফল কি হবে তা এখনই বলে দেয়া যায় অনায়াসে। নির্বাচন কমিশনের কথা না-ই বা বললাম। মার্কিন প্রেসিডেন্ট কিংবা বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে যে হাস্যরস বা ব্যঙ্গ করা হয় তার কোন সুযোগ কি আছে এই দেশে? একজন অধ্যাপক অস্ট্রেলিয়ায় বসে কি যেন লিখেছিলেন প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে। এতে তার শাস্তি হয়ে গেল। যে কেউ আদালতে গেলেই শাস্তি হয়ে যাচ্ছে। দুনিয়া বদলাচ্ছে- বাংলাদেশ পেছনে যাচ্ছে বা যাবে- তা কি মেনে নেয়া ঠিক হবে। আসলে বাংলাদেশের বিপদ হচ্ছে টু-থার্ডের। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেলে আমাদের সরকারগুলোর চেহারা পাল্টে যায়। ইন্দিরা গান্ধী থেকে শুরু করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পর্যন্ত। বঙ্গবন্ধু ’৭৩ সালের নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন না পেলে হয় তো বা বাংলাদেশের ইতিহাস অন্য   হতে পারতো। বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম শাসন ছিল চমৎকার। দ্বিতীয়বার যখন দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে ক্ষমতায় এলেন তখন একের পর এক ভুল করতে থাকলেন। দুর্নীতি আর অপশাসনে কাবু হয়ে পড়লো দেশ। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার বিকৃত মানসিকতাও কাজ করতে থাকলো। পরিণতিতে ওয়ান-ইলেভেন। এর পরের ইতিহাস সবার জানা। শেখ হাসিনার প্রথম শাসন ছিল অনুকরণীয়। কিছু গডফাদারের তাণ্ডব না থাকলে হয়তো দ্বিতীয় দফায়ও ক্ষমতায় আসতেন। ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনা একের পর এক সিদ্ধান্ত নিলেন- যা তার চরিত্রের সঙ্গে মানায় না। ভোটের জন্য লড়াই করলেন দশকের পর দশক। অথচ তিনিই ভোটকে বিদায় দিলেন। জনগণ ভোটের বাক্স কি জিনিস তা ভুলে গেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য রক্ত দিলো এ দেশের মানুষ। খালেদা চাপের মুখে রাজি হলেন। ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনা বাতিল করে দিলেন নিজের স্বার্থে। ক্ষমতা চিরস্থায়ী হয় না- এই বাস্তবতা মানলে হয় তো এই আত্মঘাতী পথে পা বাড়াতেন না। পৃথিবীর নানা অঞ্চলে নৈরাজ্য থেকেই জন্ম হয় একনায়কতন্ত্রের। আখেরে একনায়কতন্ত্র হেরে যায়। জয়ী হয় মানুষ। জয়ী হয় মানব সভ্যতা। গণতন্ত্রের জয় তো হয়-ই। পৃথিবীব্যাপী যেখানেই গণতন্ত্র শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, সেখানেই মানুষ স্বৈরাচারী ও উদ্ধত শাসককে প্রত্যাখ্যান করে। কে না জানে সুশাসনের প্রতিশ্রুতি যখন কুশাসনে পরিণত হয়, বিনয়ের মুখ যখন বদলে যায় ঔদ্ধত্যের রক্তচক্ষুতে- তখনই জনপ্রিয় শাসকেরা মানুষের আস্থা হারায়।

ড. মোহাম্মদ ইউনুসের সাথে সপরিবারে অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ

ড. মোহাম্মদ ইউনুসের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতকালে অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ ও তার পরিবারের সদস্যরা

ড. মোহাম্মদ ইউনুসের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতকালে অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ

ড. মোহাম্মদ ইউনুসের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতকালে অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সানাউল্লাহ

এবার ইয়াবা তালিকায় এমপি বদির স্ত্রী by রাসেল চৌধুরী

ইয়াবার রাজা হিসাবে এতোদিন আলোচনায় ছিলেন কক্সবাজারের সরকারদলীয় এমপি আবদুর রহমান বদি। তার ছত্রচ্ছায়ায় ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত রয়েছে অসংখ্য লোক। এমপি বদির আপন চার ভাই ও দুই সৎভাই এ তালিকায় রয়েছেন। রয়েছেন তার অনেক অনুসারীও। তবে কোনবারই তার স্ত্রীর কথা  শোনা যায়নি। এবার এ তালিকায় যুক্ত হলো স্ত্রী সাকীও। মঙ্গলবার জেলার চকরিয়ায় ইয়াবা পাচারকারী সন্দেহে আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি আবদুর রহমান বদির স্ত্রী শাহিনা আক্তার সাকী ও অপর এক মহিলাকে আটক করেছে পুলিশ। আটকের পর তাদের নিয়ে যাওয়া হয় থানায়। মহিলা কনস্টেবল দ্বারা দেহও তল্লাশি করা হয় দু’জনের। দীর্ঘ ৫ ঘন্টা ধরে থানায় আটক থাকার পর ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে রাত দশটায় থানা থেকে ছাড়া পায় তারা। এদিকে এমপি বদির স্ত্রী সিএনজি চালিত অটোরিকশায় করে চকরিয়ায় আসা, সিএনজি থেকে নেমে হাইয়েজে ওঠা, ইয়াবা পাচারকারী সন্দেহে জনতা কর্তৃক আটক ও তাদের জিম্মিদশা থেকে পুলিশ গিয়ে উদ্ধারের ঘটনাটি নানা রহস্যের জন্ম দিয়েছে। অপরদিকে এমপি বদির স্ত্রী চকরিয়ায় আটক হয়েছেন এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো জেলায় তোলপাড় শুরু হয়। টক অব দ্য ডিস্ট্রিকে পরিণত হয় খবরটি।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কক্সবাজার শহর থেকে সিএনজি চালিত একটি অটোরিকশায় করে সাকেরুন্নেছা সাকী ও তার অপর এক বান্ধবী বিকাল ৫টার দিকে চকরিয়া পৌর শহর চিরিঙ্গাস্থ পুরাতন বাসস্টেশন এলাকায় নামেন। এরপরই তারা অপর একটি হাইয়েজে (মাইক্রোবাস) ওঠে পড়লে উৎসুক মানুষ ইয়াবা পাচারকারী সন্দেহে তাদের ঘিরে ধরে। পরে থানার টহল পুলিশের দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন মহিলা কনস্টেবলসহ পুলিশ জনতার জিম্মিদশা থেকে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ সময় তাদের দেহ তল্লাশি করা হয়। তবে অপর একটি সূত্র জানায়, পুলিশ তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসার পর এমপি বদির স্ত্রী পরিচয় পেয়ে মহিলা কনস্টেবলদের জন্য সংরক্ষিত রুমে তাদের বসতে দেয়া হয়। সেখানে তারা দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা অবস্থান করে। এই সময়ের মধ্যে চারদিকে প্রচার পায় এমপি বদির স্ত্রী ইয়াবা সহ চকরিয়া থানা পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। আরেকটি সূত্র জানায়, সাকেরুন্নেসা সাকীর কাছ থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করতে না পারলেও তার অপর বান্ধবীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে পুলিশ। কিন্তু এমপি বদির স্ত্রীর বান্ধবী হওয়ায় পুলিশ তা রহস্যজনক কারণে সাংবাদিকদের কাছে গোপন করেছেন। সূত্রটি আরও দাবি করেছেন, এমপি বদির স্ত্রী ঠিকই ইয়াবার বড় চালান পাচারের উদ্দেশ্যে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় করে চকরিয়ার ওপর দিয়ে যাচ্ছিলেন। জনতা কর্তৃক আটকের সময় ইয়াবার চালানটি তার নেটওয়ার্কে থাকা অপরাপর সদস্যরা (পুরুষ) কৌশলে সরিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়েছেন। তাই তারা ধরা পড়লেও ইয়াবা ঠিকই হাতবদল হয়ে গেছে। এমপি বদির স্ত্রী সিএনজি চালিত অটোরিকশায় করে চকরিয়ায় আসা, সিএনজি থেকে নেমে হাইয়েজে ওঠার সময় ইয়াবা পাচারকারী সন্দেহে জনতা কর্তৃক আটক ও তাদের জিম্মিদশা থেকে পুলিশ গিয়ে উদ্ধারের ঘটনাটি নানা রহস্যের জন্ম দিয়েছে। সচেতন অনেক ব্যক্তি বলেছেন, এমপি বদির স্ত্রী সিএনজি নিয়ে কেন চকরিয়ায় এলেন। আবার গোপন সংবাদ পেয়ে পুলিশ কেন তাদের আটক করলেন এমন অনেক রহস্যঘেরা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বমহলে। বিভিন্ন সূত্র জানায়, সমপ্রতি (ঈদের সময়) দ্বিতীয় স্ত্রী সাকেরুন্নেসা সাকীকে নিয়ে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও মিয়ানমার ঘুরে আসেন এমপি বদি। গত দুইদিন আগে তারা দেশে আসেন। দেশে আসার পর সাকী সিএনজি চালিত অটোরিকশায় করে চকরিয়ায় এসে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন।
নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানায়, দ্বিতীয় স্ত্রী সাকী চকরিয়া থানা পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন এমন খবর শোনার পর এমপি বদি নড়েচড়ে বসেন। তিনি জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তার স্ত্রীর ছবি যাতে কোন সাংবাদিক তুলতে না পারেন। এ কারণে রাত দশটার দিকে চকরিয়া থানা পুলিশ বিশেষ ব্যবস্থায় তাদের একটি নোয়া গাড়িতে তুলে দিয়ে পুলিশ পাহারায় কক্সবাজারের উদ্দেশ্য কিছু দূর এগিয়ে দেন। জনতার জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহাদাত হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এমনকি উদ্ধারকৃতদের কোন নাম-ঠিকানা পর্যন্ত টুকে নেয়া হয়নি বলেও জানান। এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার ওসি প্রভাষ চন্দ্র ধর বলেন, যে সময় তাদের জনতার জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার করা হয় তখন আমি চকরিয়ার বাইরে ছিলাম। রাত দশটার দিকে আমি থানায় আসি। 
এরপর জানতে পারি বিষয়টি। তবে এমপি বদির স্ত্রী ও তার বান্ধবীর কাছ থেকে কোন ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়নি বলে তিনি দাবি করেন। কক্সবাজার সদর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, পুলিশ তাদের আটক করেনি। জনতার জিম্মিদশা থেকে পুলিশ তাদের উদ্ধার করেছে। তবে তাদের কাছে কোন ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। প্রসঙ্গত, আবদুর রহমান বদির আপন ভাই মো. আবদুল শুক্কর ও মৌলভী মুজিবুর রহমান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী। এমপির আরও দুই সৎভাই আবদুল আমিন ও ফয়সাল রহমানও ইয়াবা ব্যবসা করেন। আর এ চার ভাইকে দিয়ে এক অপ্রতিরোধ্য ইয়াবা সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন আবদুর রহমান বদি। চার ভাই ছাড়াও ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন এমপি বদির বেয়াই আখতার কামাল, শাহেদ কামাল, মামা হায়দার আলী ও মামাতো ভাই কামরুল ইসলাম রাসেল। এছাড়া পারিবারিক এই মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত করেছেন বোনের ছেলে নীপুকে। কিন্তু এই প্রথমবারের মতো ইয়াবা ব্যবসায়ী সন্দেহে আটক হয়ে এ তালিকায় যুক্ত হলো স্ত্রী সাবেকুন্নাহার সাকী।