Thursday, October 7, 2010

নিয়ন্ত্রণ আইন কতটুকু কার্যকর by ফেরদৌস ফয়সাল

এসিড নিয়ন্ত্রণ আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় এসিডের অপব্যবহার কমছে না। প্রতি মাসে কেউ না কেউ এসিড-সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছেন। আক্রান্ত ব্যক্তিরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। সারা দেশে হাজারখানেক প্রতিষ্ঠান এসিড ব্যবহার করলেও অনুমতিপত্র সবার নেই। তারা অবৈধ উপায়ে এসিড সংগ্রহ করছে। জেলায় জেলায় জাতীয় এসিড নিয়ন্ত্রণ কাউন্সিল থাকলেও বিক্রয় ও ব্যবহারের ওপর কোনো তদারকি নেই। আইন থাকলেও যথাযথ প্রয়োগ নেই, এসিডের অপব্যবহার কমছে না।
এসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে দেখা যায়, গত জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত এসিড-আক্রান্তের শিকার হয়েছেন ৮৩ জন (এর মধ্যে ৪৪ জন নারীর পাশাপশি ২৩ জন পুরুষ ও ১৬টি শিশু)।
এই সাত মাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, জুলাই মাসে ঘটনা ঘটেছে বেশি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এর কারণ হিসেবে মনে করছেন, অসহ্য গরমে গ্রামের অনেকেই জানালা খুলে ঘুমান, দুর্বৃত্তরা এই সুযোগে এসিড নিক্ষেপ করে।
জাতীয় এসিড নিয়ন্ত্রণ কাউন্সিল থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, ২০০২ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সারা দেশে এক হাজার ৪৯৬টি মামলা হয়েছে। অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে ৮৯১টির আর চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে ৫৭৫টির। এসব মামলায় মাত্র ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৯৫ জনের যাবজ্জীবন আর অন্যান্য শাস্তি পেয়েছে ১৬৫ জন। অর্থাৎ ২৭৩ জনের সাজা হয়েছে। মামলায় এক হাজার ৪৮৮ জন আসামি খালাস পেয়েছে। যদিও এসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, এসিড অপরাধ দমন আইন, ২০০২ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ১৯৯৫ মামলায় মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা ৩২।
আইনে আছে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। কিন্তু এখন পর্যন্ত একটি মৃত্যুদণ্ডও কার্যকর হয়েছে কি না এমন তথ্য কারও জানা নেই। এরশাদ সিকদার বা বাংলাভাইয়ের মৃত্যুদণ্ডের কথা দেশবাসী জানে। তাদের মৃত্যুর খবর পত্রিকা, টিভি চ্যানেলে প্রচার হয়েছে, দেশবাসী দেখেছে। কিন্তু এসিড নিক্ষেপকারীর মৃত্যুদণ্ডের কথা সেভাবে কেউ জানে না। সারা দেশে একইভাবে প্রচার করা হলে শাস্তির ভয়াবহতা দেখে এর প্রবণতা অনেকটাই কমে আসবে। দেশবাসী জানতে পারবে। এসিড নিক্ষেপের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। অনেকেই এখনো জানে না যে এসিড নিক্ষেপ করা এক ধরনের অপরাধ। আর এই অপরাধ করলে, এমনকি সহযোগিতা করলেও পেতে হয় শাস্তি।
সম্প্রতি এসিড অপরাধ-সংক্রান্ত মিথ্যা মামলার জন্য শাস্তির মেয়াদ বাড়িয়ে এসিড নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল, ২০১০ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এ আইনে এসিড অপরাধ-সংক্রান্ত মিথ্যা মামলার জন্য শাস্তির মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ সাত বছর করা হয়েছে। বিলে ২৫ সদস্যের জাতীয় এসিড নিয়ন্ত্রণ কাউন্সিল পুনর্গঠনেরও প্রস্তাব করা হয়। এসিড নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০২ সংশোধন করে নতুন বিলটি উত্থাপন করা হয়। এ আইন অনুসারে জাতীয় এসিড নিয়ন্ত্রণ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কাউন্সিলের জেলা কমিটিতে উপদেষ্টা থাকবেন একজন সাংসদ। সংশ্লিষ্ট পিপি, জেলা মহিলা সংস্থার সভানেত্রী, স্থানীয় প্রেসক্লাবের প্রতিনিধি, জেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা ও নির্বাচিত মহিলা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানদের একজনকে সদস্য রাখা হবে।
এসিডের আমদানি, উৎপাদন, পরিবহন, মজুদ, বিক্রয় ও ব্যবহার-নিয়ন্ত্রণ, ক্ষয়কারী দাহ্য পদার্থ হিসেবে এসিডের অপব্যবহার রোধ এবং এসিড দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও আইনগত সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে এসিড নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০২ প্রণীত হয়। এতে ১৬ সদস্যের জাতীয় এসিড নিয়ন্ত্রণ কাউন্সিল গঠন করা হয়। এ কাউন্সিলে আইনসচিব, সমাজকল্যাণসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকায় এবং নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর লক্ষ্যে সদস্যসংখ্যা ২২ করে কাউন্সিল পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়েছে। এসিড অপরাধ-সংক্রান্ত মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় তা রোধকল্পে মিথ্যা মামলা দায়েরের শাস্তিও বাড়ানো যুক্তিসংগত।
২০০২ সালের ১৭ মার্চ প্রকাশিত গেজেটের ১ নম্বর আইনের সপ্তম অধ্যায়ে উল্লেখ আছে, ‘লাইসেন্স ব্যতীত এসিডের উৎপাদন, আমদানি, পরিবহন, মজুদ, বিক্রি ও ব্যবহার করা দণ্ডণীয় অপরাধ। যারা লাইসেন্স করবে না এবং লাইসেন্সের শর্তগুলো পালন করবে না, তাদের জন্য অনূর্ধ্ব ১০ বছর ও অন্যূন তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।’
এসিড অপরাধ কঠোরভাবে দমনের উদ্দেশ্যে ‘এসিড অপরাধ দমন আইন, ২০০২’ থাকলেও সাজা হয়েছে কম। আইনে আছে দহনকারী, ক্ষয়কারী ও বিষাক্ত যেকোনো পদার্থ এসিড। এসিড অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল: ট্রাইব্যুনালের বিচারক হবেন জেলা ও দায়রা জজ অথবা সমপদমর্যাদাসম্পন্ন, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজও এ অর্থে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। এসিডে মৃত্যু হলে শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড। জরিমানা: অনূর্ধ্ব এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড। এসিডে আহত করা হলে ক. দৃষ্টিশক্তি বা শ্রবণশক্তি সম্পূর্ণ বা আংশিক নষ্ট হলে, মুখমণ্ডল, স্তন বা যৌনাঙ্গ বিকৃত বা নষ্ট হলে শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড। জরিমানা অনূর্ধ্ব এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড। খ. শরীরের অন্য কোনো অঙ্গ, গ্রন্থি বা অংশ বিকৃত বা নষ্ট হলে বা শরীরের কোনো স্থান আঘাতপ্রাপ্ত হলে এর শাস্তি অনধিক ১৪ বছর; কিন্তু অন্যূন সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড। জরিমানা অনূর্ধ্ব ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড। এসিড নিক্ষেপ করা বা নিক্ষেপের চেষ্টা করলে (ক্ষতি না হলেও) শাস্তি অনধিক সাত বছর; কিন্তু অন্যূন তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড। জরিমানা অনূর্ধ্ব ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড। অপরাধে সহায়তা করলে এর শাস্তি মূল অপরাধীর সঙ্গে একই দণ্ডে দণ্ডণীয়। মিথ্যা মামলা বা অভিযোগ করলে এর শাস্তি অনধিক সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা, অতিরিক্ত অর্থদণ্ড। জরিমানার অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি পাবেন। মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সরাসরি ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ করতে হবে। এসিড-সহিংসতার অপরাধ অ-আপসযোগ্য ও অজামিনযোগ্য। তবে জামিন দেওয়ার বিষয়টি আইনের বিধান অনুযায়ী আদালতের যুক্তিসংগত সন্তুষ্টির ওপর নির্ভর করে।
ফেরদৌস ফয়সাল: সমন্বয়ক, সহায়ক তহবিল, প্রথম আলো ট্রাস্ট।
afef78@yahoo.com

ডাচ্ উদ্যোক্তারা জাহাজ নির্মাণে বিনিয়োগ করবেন

বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ খাতে বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন নেদারল্যান্ডের উদ্যোক্তা-বিনিয়োগকারীরা। তাঁরা বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণশিল্পকে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত হিসেবে অভিহিত করে জাহাজ রপ্তানির পরিমাণ বাড়াতে দেশে আরও শিপইয়ার্ড নির্মাণের পরামর্শ দিয়েছেন।
গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সঙ্গে এক বৈঠকে বাংলাদেশ সফররত ডাচ্ মেরিটাইম ট্রেড মিশনের প্রতিনিধিরা এই পরামর্শ দেন।
অন্যদিকে একই দিনে শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়ার সঙ্গে আরেক বৈঠকে নেদারল্যান্ডের জাহাজ রিসাইক্লিং কোম্পানি গ্রিনডক বিভির প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব গ্রিন ডকইয়ার্ড নির্মাণে বিনিয়োগ করার আগ্রহ প্রকাশ করে।
বৈঠকে গ্রিনডক বিভি নেদারল্যান্ডের চেয়ারম্যান ডবরেন মুলার, পরিচালক মেরিয়াস ভেন দাস স্টুয়েল, বাংলাদেশ কার্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অম্লান দেওয়ান এবং আনন্দ শিপইয়ার্ড লিমিটেডের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহেল বারী উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে প্রতিনিধিরা জানান, ইতিমধ্যে বাংলাদেশে এ খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাইয়ের জন্য প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে একটি প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষা চালানো হয়েছে। শতভাগ পরিবেশদূষণ ও দুর্ঘটনামুক্ত সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব এ ডকইয়ার্ডে একই সঙ্গে জাহাজ নির্মাণ, জাহাজ ভাঙা এবং জাহাজ মেরামত করা যাবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে গ্রিন ডকইয়ার্ড এবং শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড নির্মাণের জন্য গতকাল গ্রিনডকের সঙ্গে বাংলাদেশের আনন্দ শিপইয়ার্ড কোম্পানির এক সমঝোতা চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে।
ঢাকা চেম্বারে বৈঠক: রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিসিসিআইয়ের সভাপতি আবুল কাসেম খান। সফররত ডাচ্ মেরিটাইম ট্রেড মিশনের ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদলটির নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ-ডাচ্ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ফ্রেডরিক ওল্ডেনহেইজিং।
বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন বিনিয়োগ বোর্ডের পরিচালক এম তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, ইউরোপিয়ান-বাংলাদেশ ফেডারেশন অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ওয়ালি তাসের উদ্দিনসহ ডিসিসিআইয়ের নেতারা। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি এম শাহজাহান খান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ডিসিসিআইয়ের পরিচালক রফিকুল ইসলাম খান, এম বশির উল্লাহ ভূঁইয়া, টি আই এম নূরুল কবীর, এম আনওয়ারুল হক ও কে জি করিম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বিমা করপোরেশন আইন সংশোধনের উদ্যোগ

বিমা আইন এবং বিমা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইন প্রণয়নের পর এবার বিমা করপোরেশন আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যমান বিমা করপোরেশন আইন, ১৯৭৩-কে সংশোধন করে করা হবে বিমা করপোরেশন (সংশোধন) আইন, ২০১০।
এ ব্যাপারে ১০ অক্টোবর সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ একটি বৈঠক ডেকেছে।
গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিমা করপোরেশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০০৮ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অনুমোদিত হয়েছিল। এর ভেটিংও সম্পন্ন করেছিল আইন মন্ত্রণালয়।
সূত্র জানায়, বিমা আইন এবং বিমা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইন পাস হওয়ার বছর হতে চললেও আইনের কোনো বিধি এখনো প্রণীত হয়নি। ফলে পুরোনো আইনের মাধ্যমেই চলছে দেশের বিমা খাত।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নতুন বিমা আইনে অনেক কিছুরই পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা বিমা করপোরেশনের বিদ্যমান কার্যপ্রণালি বিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সুতরাং সময় এসেছে বিমা করপোরেশন আইনেও সংশোধনী আনা।
যোগাযোগ করলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শফিকুর রহমান পাটোয়ারী প্রথম আলোকে বলেন, বিমা করপোরেশন আইনের সংশোধন নিয়ে আগামী সপ্তাহে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে। বৈঠকে আইনটি যুগোপযোগী করা নিয়ে আলোচনা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় অনুমোদিত বিমা করপোরেশন আইনে কোম্পানিগুলোর অনুমোদিত মূলধনের ব্যাপারে সংশোধনী আনা হয়েছিল। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের কিছু অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দিলেও অনেক অধ্যাদেশকেই রাখা হয় এর বাইরে। বিমা করপোরেশন (সংশোধন) আইনটিও সেগুলোরই একটি।
সূত্র জানায়, বিদ্যমান বিমা করপোরেশন আইনের পাঁচ নম্বর ধারায় কোম্পানিগুলোর অনুমোদিত মূলধনের আকার সম্পর্কে বলা হয়েছে। গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে উপদেষ্টারা বিমা করপোরেশন এবং বিমা কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন।
প্রসঙ্গত, দেশে সাধারণ বীমা করপোরেশন এবং জীবন বীমা করপোরেশন নামে দুটি রাষ্ট্রায়ত্ত বিমা করপোরেশন রয়েছে।

ডিএসই: আজও সাধারণ সূচক বেড়েছে ৮৫.২৯ পয়েন্ট

ঢাকার শেয়ারবাজারে (ডিএসই) আজ বুধবারও লেনদেনে চাঙাভাব অব্যাহত রয়েছে। আজ সাধারণ সূচক ও আর্থিক লেনদেন দুইই বেড়েছে। বেড়েছে বেশির ভাগ শেয়ারের দাম। সাধারণ মূল্যসূচক ৮৫ দশমিক ২৯ পয়েন্ট বেড়ে ৭৪১২ দশমিক ৬০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
আজ শেয়ারবাজারে মোট দুই হাজার ৪৩৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ২৩৯ কোটি টাকা বেশি।
আজ লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেড়েছে। মোট ২৪২টি প্রতিষ্ঠানের লেনদেন হওয়া শেয়ারের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৬৬টির, কমেছে ৭৫টির ও দাম অপরিবর্তিত আছে একটির।
লেনদেনে শীর্ষ পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো—পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স সর্ভিসেস, প্রাইম ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, স্কয়ার টেক্সটাইল, বেক্সিমকো ও বিএসআরএম স্টিল।
আজ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে এইমস ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ারের দাম। এ ছাড়া মেঘনা পিইটি ইন্ডাস্ট্রিজ, আম্বি ফার্মা, তাল্লু স্পিনিং ও দেশ গার্মেন্টস দাম বাড়ার শীর্ষ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে।
আর দাম কমে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষ পাঁচটি প্রতিষ্ঠান হলো— অ্যাপেক্স ওয়েভিং, মুন্নু ফেব্রিক্স, ঢাকা ফিশারিজ, অষ্টম আইসিবি মিউচুয়াল ফান্ড ও প্রথম বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা।
আজ ডিএসইর বাজারমূলধন ৩,২২,৮১৯ কোটি টাকা হয়েছে, যা ডিএসইতে সর্বোচ্চ।

নেপালে নির্বাসিত তিব্বতিদের নির্বাচন বানচাল

নেপালে নির্বাসিত তিব্বতিদের নির্বাচন অনুষ্ঠান বানচাল করে দিয়েছে সে দেশের পুলিশ। নতুন প্রবাসী সরকার গঠনের লক্ষ্যে তারা এ নির্বাচনের আয়োজন করে। এ সময় তিব্বতিদের ব্যালট বাক্সও কেড়ে নেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত রোববার রাজধানী কাঠমান্ডুর তিনটি ভোটকেন্দ্রে ঢুকে ব্যালট বাক্স কেড়ে নেয় পুলিশ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন তিব্বতি অভিযোগ করেন, ‘এটা আমাদের মানবাধিকারের পুরোপুরি লঙ্ঘন। প্রত্যেককে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি।’
প্রবাসী পার্লামেন্ট ও সরকার গঠনের জন্য ভারত, ভুটান, নেপাল, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত ও বসবাসরত কয়েক হাজার তিব্বতি রোববারের ওই নির্বাচনে অংশ নেন।
ব্যালট বাক্স জব্দ করার কথা স্বীকার করে কাঠমান্ডুর পুলিশপ্রধান রমেশ খারেল বলেন, অবৈধ ভোট প্রতিরোধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘তিব্বতিরা নেপালে নির্বাসিত জীবন যাপন করছে। এখানে তাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়াটা অবৈধ। তাই আমরা ব্যালট বাক্স জব্দ করেছি।’
নেপালের সঙ্গে তিব্বতের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। ১৯৫৯ সাল থেকে তিব্বতিরা নেপালে আশ্রয় নিতে শুরু করে। নেপালে প্রায় ২০ হাজার তিব্বতি নির্বাসিত রয়েছে।

প্রথমবারের মতো সামরিক মহড়ায় কিম জং-উন

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-ইলের ছোট ছেলে কিম জং-উন এক সামরিক মহড়ায় উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএর খবরে গতকাল মঙ্গলবার এ কথা বলা হয়। গত সপ্তাহে এক সম্মেলনে কিম জং-উনকে সে দেশের ক্ষমতাসীন দল ওয়ার্কার্স পার্টির প্রভাবশালী শাখা সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচন করা হয়। এরপর প্রথমবারের মতো তাঁকে জনসমক্ষে দেখা গেল।
কেসিএনএ জানায়, সামরিক মহড়া পরিদর্শনকালে সে দেশে শীর্ষস্থানীয় কিছু নেতা উনের সঙ্গে ছিলেন। তবে কোথায় বা কখন কিম জং-উন সামরিক মহড়ায় উপস্থিত ছিলেন, সে সম্পর্কে কেসিএনএ কিছুই জানায়নি।
উনের সঙ্গে কিম জং-ইলের বোন কিম কিয়ং হুই, তাঁর স্বামী জং সং-থায়েক পরিবারের ধারা বজায় রেখে দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত আছেন। রয়টার্স।

উত্তর আয়ারল্যান্ডে বিপণিবিতানের কাছে গাড়িবোমা বিস্ফোরণ

উত্তর আয়ারল্যান্ডে গতকাল মঙ্গলবার একটি বিপণিবিতানের কেন্দ্রের বাইরে গাড়িবোমা হামলা হয়েছে। এতে বিপণিবিতানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে কেউ হতাহত হয়নি। পুলিশের ভাষ্য, উত্তর আয়ারল্যান্ডে সহিংসতা উসকে দেওয়ার জন্যই ওই হামলা চালানো হয়েছে।
হামলার দায়িত্ব এখনো কেউ স্বীকার করেনি। ধারণা করা হচ্ছে, ব্রিটিশ শাসনের বিরোধী কোনো ভিন্নমতাবলম্বী সংগঠনের হামলার পেছনে মদদ থাকতে পারে।
পুলিশের একজন মুখপাত্র জানান, লন্ডনডেরি শহরের দ্য ভিঞ্চি বিপণিবিতান কেন্দ্রের কাছে মধ্যরাতে হামলাটি চালানো হয়।

জরিপে এগিয়ে রিপাবলিকানরা

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিরোধী রিপাবলিকান পার্টির পক্ষে জনসমর্থন বেশি রয়েছে। তবে ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টির পক্ষেও সমর্থন বাড়ছে। গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত মার্কিন পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্ট ও সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ পরিচালিত জরিপ থেকে এ কথা জানা গেছে।
জরিপে দেখা গেছে, রিপাবলিকান দলের পক্ষে জনসমর্থন ৪৯ শতাংশ। ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে সমর্থন ৪৩ শতাংশ। গত মাসের জরিপে রিপাবলিকানদের পক্ষে ছিল ৫৩ শতাংশ সমর্থন। এর বিপরীতে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে সমর্থন ছিল ৪০ শতাংশ। গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত এক হাজার মানুষের মধ্যে এই জরিপ চালানো হয়।
জরিপে সাম্প্রতিক সময়ে ডেমোক্র্যাট দলের প্রতি জনসমর্থন বাড়লেও বেশির ভাগ স্থানে রিপাবলিকানদের প্রতিই সমর্থন বেশি দেখা গেছে। আগামী ২ নভেম্বরের নির্বাচনে কোন দলকে ভোট দেবেন—এই প্রশ্নের জবাবে দেশবাসী মোটামুটি দুই ভাগে ভাগ হয়ে পড়েছেন এবং অর্ধেক নাগরিক তাঁদের সমর্থন রিপাবলিকানদের প্রতি জানিয়েছেন। তবে কোন দলের প্রতি আস্থা বেশি—এমন প্রশ্নের জবাবে ডেমোক্র্যাটদের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে।
জরিপে অংশ নেওয়া ৪১ শতাংশ বলেন, তাঁদের মতে যুক্তরাষ্ট্রের সমস্যা মোকাবিলায় ডেমোক্র্যাটরাই ভালো কাজ করবে। এ ব্যাপারে রিপাবলিকানদের প্রতি আস্থা রেখেছেন ৩৯ শতাংশ মার্কিন। তবে ১৫ শতাংশ বলেছেন, এ ব্যাপারে দুই দলের কারও প্রতিই আস্থা রাখতে পারছেন না। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় চার ভাগের তিন ভাগ ভোটারই বলেছেন, আসন্ন নভেম্বরের এই নির্বাচন তাঁদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন।

জাপান ও চীন সম্পর্ক উন্নয়নে রাজি

জাপানের প্রধানমন্ত্রী নাওতো কান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাও গত সোমবার বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে এশিয়া- ইউরোপ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি এক সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেছেন। এ বৈঠকে তাঁরা দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নে রাজি হয়েছেন। জাপানের মন্ত্রিপরিষদের জনসংযোগ-বিষয়ক উপসচিব নোরিইয়োকি শিকাতা বলেন, তাঁরা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়নে রাজি হয়েছেন।
সম্প্রতি জাপান এক চীনা নাবিককে আটক করে। সেই থেকে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। জাপান পরে চীনা নাবিককে মুক্তি দিয়েছে।
জাপানের কিওডো সংবাদ সংস্থা জানায়, নাওতো কান ও জিয়াবাও নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় আলোচনার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। তবে নতুন কোনো বৈঠকের তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি।
গত মাসে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সম্মেলনের পাশাপাশি ওয়েন জিয়াবাও নাওতো কানের সঙ্গে বৈঠক করতে রাজি হননি।
এদিকে চীনা নাবিককে মুক্তি দেওয়ার কারণে জাপানের প্রধানমন্ত্রী নাওতো কান সে দেশে প্রচণ্ড সমালোচনার মুখে পড়েছেন। জাপানিরা মনে করছেন, চীনের চাপের কাছে তিনি নতি স্বীকার করেছেন।

এডওয়ার্ডসকে নোবেল দেওয়ার সমালোচনা করেছে ভ্যাটিকান

ব্রিটিশ অধ্যাপক রবার্ট জি এডওয়ার্ডসকে এবার চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার দেওয়ায় সমালোচনা করেছে ভ্যাটিকান। ভ্যাটিকানের পনটিফিক্যাল একাডেমি ফর লাইফের প্রধান, ইগনাসিও কারাসকো ডি পাওলা বলেছেন, এডওয়ার্ডসকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করার এ ঘটনা কোনো নিয়মনীতির মধ্যেই পড়ে না। গত সোমবার এএনএসএ সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ইগনাসিও বলেন, ইন-ভিটরো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য এডওয়ার্ডসকে এবারের চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। গত সোমবার সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে সংবাদ সম্মেলন করে সুইডিশ ক্যারলিনস্কা ইনস্টিটিউট এই পুরস্কারের জন্য তাঁর নাম ঘোষণা করে। এর পরই ভ্যাটিকান সমালোচনা করে।
আইভিএফ প্রযুক্তিতে কৃত্রিম পদ্ধতিতে ডিম্বাণু নিষিক্তকরণ প্রক্রিয়ায় টেস্ট টিউব শিশুর জন্ম দেওয়া হয়। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে ১৯৭৮ সালের ২৫ জুলাই এডওয়ার্ডস প্রথম টেস্ট টিউব শিশুর জন্ম দিতে সক্ষম হন। এরপর বিশ্বের লাখ লাখ বন্ধ্যা দম্পতি আইভিএফ প্রযুক্তির মাধ্যমে সন্তান লাভ করছেন। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৪০ লাখ টেস্ট টিউব শিশু রয়েছে।
কিন্তু ভ্যাটিকান এ প্রযুক্তিকে অনৈতিক মনে করে। কারণ তাদের ভাষ্যমতে, এ প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভ্রূণ নষ্ট করা হয়। ভ্যাটিকানের মুখপাত্র ইগনাসিও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে আইভিএফ প্রযুক্তির মাধ্যমে ভ্রূণকে জরায়ুতে রূপান্তর করা হবে। কিন্তু শেষমেশ হয়তো সেগুলো পরিত্যক্ত কিংবা মৃত বলে গণ্য করা হবে।

পাকিস্তানে মার্কিন বিমান হামলায় পাঁচ জার্মানসহ আটজন নিহত

পাকিস্তানে মানববিহীন মার্কিন গোয়েন্দা বিমান হামলায় পাঁচ জার্মানসহ আল কায়েদার আট জঙ্গি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কয়েকজন। গত সোমবার আদিবাসী-অধ্যুষিত উত্তর ওয়াজিরিস্তানের প্রধান শহর মিরানশাহর ২০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত মির আলী বাজারের কাছে একটি গ্রামে ওই হামলা চালানো হয়।
পাকিস্তানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, তালেবান ও আল-কায়েদার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে, এমন একজন আদিবাসী নেতার বাড়িতে ওই হামলা চালানো হয়। এ সময় মার্কিন বিমান থেকে পরপর দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হলে হতাহতের ওই ঘটনা ঘটে। হামলার পর তালেবান জঙ্গিরা পুরো এলাকা বন্ধ করে দেয়। লাশগুলো তারা দ্রুত সরিয়ে নেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাকিস্তানের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, নিহত ব্যক্তিদের পাঁচজন তুর্কি বংশোদ্ভূত জার্মান নাগরিক, অন্যরা স্থানীয় জঙ্গি। এ হামলায় বেশ কয়েকজন জঙ্গি আহত হয় বলে তিনি জানান।
জাপান ও সুইডেন আল-কায়েদার হুমকির কারণে তাদের নাগরিকদের ইউরোপ সফরের ব্যাপারে সতর্ক করে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় ওই হামলা চালানো হলো। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য একই সতর্কতা জারি করে।
মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল ফক্স নিউজ গোয়েন্দা সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, ফ্রান্স ও জার্মানিসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে আল-কায়েদা বড় ধরনের হামলার ছক কষছে। তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে প্যারিসের আইফেল টাওয়ার, নটরডেম গির্জা, বার্লিনের ব্রান্ডেনবার্গ গেট, বিভিন্ন রেলস্টেশনসহ আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
জার্মানির বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালে হামবুর্গ থেকে বেশ কয়েকজন মুসলিম জঙ্গি তাদের বাড়িঘর থেকে উধাও হয়ে যায়। তারা তখন পাকিস্তানের ওয়াজিরিস্তানে চলে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আফগান যুদ্ধকৌশল বদলাবে না যুক্তরাষ্ট্র: ওবামা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বগৃহীত যুদ্ধকৌশল পাল্টানো দরকার আছে বলে তাঁর সরকার মনে করছে না। ওই দুটি দেশের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র যে কৌশল গ্রহণ করেছে, সেটাই আপাতত বহাল থাকবে। আফগানিস্তান-পাকিস্তান বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ব্যাখ্যা করে গত ৩০ সেপ্টেম্বর সিনেট এবং প্রতিনিধি পরিষদে পাঠানো এক চিঠিতে ওবামা এ কথা বলেন। গত সোমবার হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ওই চিঠি গণমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করা হয়।
চিঠিতে ওবামা বলেন, ‘গত ডিসেম্বরে যে কৌশল নীতি নেওয়া হয়েছিল, আমরা সেটাই অনুসরণ করছি। আমরা মনে করি, আপাতত সে নীতি পরিবর্তন বা পরিবর্ধনের দরকার নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের ব্যাপারে কংগ্রেস যে নীতি অনুসরণ করে এগোচ্ছে, আমি চাই আমাদের দেশের স্বার্থে ওই নীতির সফল বাস্তবায়ন হোক।’
গত ডিসেম্বরে ওবামা প্রশাসন আফগানিস্তানে অতিরিক্ত ৩০ হাজার সেনা পাঠানোর এবং ২০১১ সালের জুলাইয়ে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়। আগামী ডিসেম্বর মাসে হোয়াইট হাউসের ওই যুদ্ধকৌশল-সংক্রান্ত একটি পর্যালোচনা প্রতিবেদন মার্কিন কংগ্রেসে উপস্থাপন করার কথা।
সংবাদমাধ্যমগুলোতে বলা হচ্ছে, ওবামার আফগানিস্তান ও পাকিস্তানবিষয়ক যুদ্ধকৌশল নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ও সরকারের অভ্যন্তরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্ট-এর সাংবাদিক বব উডওয়ার্ড তাঁর সর্বশেষ বইয়ে দাবি করেছেন, এ নীতি নিয়ে ওবামা প্রশাসন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
বারাক ওবামা বলেছেন, ডেভিড পেট্রাউসের নিয়োগের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তান নীতিতে ইতিমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের সাবেক প্রধান পেট্রাউসকে গত জুলাই মাসে আফগানিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ করা হয়।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস সম্প্রতি ওবামার নীতি সমর্থন করে বলেছেন, তাঁর বিশ্বাস, আফগানিস্তানবিষয়ক নীতি যথেষ্ট কার্যকর এবং ব্যক্তিগতভাবে এ বিষয়ে তিনি ওবামার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন না। একই সঙ্গে ওই নীতি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনে কোনো বিভেদ থাকার কথাও তিনি অস্বীকার করেন।
ওবামার ওই যুদ্ধকৌশলের আওতায় ন্যাটো বাহিনীর আফগানিস্তানের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলীয় শহরগুলো থেকে তালেবান জঙ্গিদের হটিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে আফগান সেনাদের এমনভাবে প্রশিক্ষিত করে তোলার চেষ্টা করা হবে, যাতে ২০১১ সালের জুলাইয়ে সেখান থেকে নির্বিঘ্নে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার সম্ভব হয়।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস ও শীর্ষস্থানীয় কমান্ডাররা বলেছেন, আফগানিস্তানে তাঁরা শান্তিশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নয়ন ঘটাতে সক্ষম হয়েছেন। সেখানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীতে দেড় লাখ বিদেশি সেনা মোতায়েন রয়েছে।
জাপানি-আমেরিকান সেনাদের সম্মাননা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি বংশোদ্ভূত যেসব আমেরিকান সেনা যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে ইউরোপ ও এশিয়ায় লড়াই করেছে, তাদের যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা কংগ্রেশনাল স্বর্ণপদক দেওয়ার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার গতকাল মঙ্গলবার একটি আইনে সই করার কথা। এ আইনের মাধ্যমে ‘নিসেই সেনা’ নামে পরিচিত জাপানি বংশোদ্ভূত আমেরিকান সেনাদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। নিসেই সেনাদের নামে যৌথভাবে ওই পদক দেওয়া হবে। পদকটি ওয়াশিংটনের ক্যাটো ইনস্টিটিউটে প্রদর্শনের জন্য রাখা হবে।

আবার মাঠের বাইরে মাশরাফি

আবারও ইনজুরি, আবারও মাঠের বাইরে চলে যাওয়ার শঙ্কায় মাশরাফি বিন মুর্তজা। এবার অন্তত তিন-চার সপ্তাহের জন্য। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চলতি সিরিজের বাকি চার ম্যাচে হয়তো আর খেলা হচ্ছে না বাংলাদেশ অধিনায়কের। এ ম্যাচেই হাতের আঙুলে ব্যথা পাওয়া আরেক পেসার নাজমুল হোসেনও মাঠের বাইরে চলে গেছেন অন্তত ১০ দিনের জন্য।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে কাল নিউজিল্যান্ড ইনিংসের তৃতীয় আর নিজের দ্বিতীয় ওভার বল করতে এসেই ডান পায়ের অ্যাঙ্কেলে চোট পান মাশরাফি। প্রথম বলটা ডেলিভারি দেওয়ার ঠিক আগে পা পিছলে একরকম উল্টেই পিচের ওপর পড়ে যান। ফিজিও আর সতীর্থদের কাঁধে চড়ে ছাড়েন মাঠ। প্রাথমিকভাবে ফিজিও মাইকেল হেনরি জানিয়েছেন, তাঁর ডান অ্যাঙ্কেলের লিগামেন্টে টান লেগেছে। ৪৮ ঘণ্টা পরই বোঝা যাবে ইনজুরির প্রকৃত অবস্থা।
তবে মাশরাফি নিজেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই ইনজুরিতে অন্তত তিন-চার সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে। একই জায়গায় এর আগে তিনবার ইনজুরিতে পড়ার অভিজ্ঞতা থেকে কাল সন্ধ্যায় মাশরাফি বলছিলেন, ‘অলৌকিক কিছু না হলে তিন-চার সপ্তাহের আগে মাঠে ফিরতে পারব না। আগেও এক মাস লেগেছিল। তবে ব্যথা একটু কমে এসেছে।’ বিসিবির চিকিৎসক দেবাশিস চৌধুরীর কথায়ও একই আভাস, ‘এ ধরনের ইনজুরি সারতে একটু সময় লাগে। আহত স্থানটা ফুলে গেছে, ব্যথাও আছে। তবে আপাতত স্ক্যান করানোর প্রয়োজন দেখছি না।’ এর আগে ২০০৩ এর দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ, ২০০৫ এর শ্রীলঙ্কা সফর এবং ২০০৬-এ ভারতে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও এই একই ইনজুরিতে পড়েছিলেন মাশরাফি।
ওদিকে টিম সাউদির ক্যাচ নিতে গিয়ে বলের আঘাতে ডান হাতের অনামিকা ফেটে গেছে নাজমুলের। তিনটি সেলাই পড়েছে আঙুলে। এক সপ্তাহ পর খোলা হবে সেলাই, তবে খেলার মতো অবস্থায় ফিরতে অন্তত ১০ দিন। সে ক্ষেত্রে নাজমুল এই সিরিজে খেললেও হয়তো শেষ ওয়ানডেটাই খেলতে পারবেন।

ওয়ানডে সিরিজে পন্টিং বিশ্রামে

পরের টেস্টটা খেলেই দেশে ফিরে যাচ্ছেন রিকি পন্টিং। ফিরতি বিমানে তাঁর সঙ্গী হবেন শেন ওয়াটসন আর মিচেল জনসন। এই তিন ক্রিকেটারকে বিশ্রামে রেখে ভারতের বিপক্ষে তিন ওয়ানডে সিরিজের দল ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া। এক বছর পর দলে ফিরেছেন হাঁটুর চোটের কারণে ছিটকে যাওয়া কালাম ফার্গুসন। ১৭ অক্টোবর শুরু ওয়ানডে সিরিজে অনভিজ্ঞ বোলিং আক্রমণই ভরসা অস্ট্রেলিয়ার। বলিঞ্জারের সঙ্গে থাকছেন ১২ ম্যাচ খেলা ক্লিন্ট ম্যাকে। মিচেল স্টার্ক ও জেমস প্যাটিনসনের অভিষেক হয়নি।
অস্ট্রেলিয়া দল: মাইকেল ক্লার্ক (অধি.), হোয়াইট, বলিঞ্জার, ফার্গুসন, হরিজ, হোপস, মাইক হাসি, শন মার্শ, ক্লিন্ট ম্যাকে, পেইন, প্যাটিনসন, স্টিভ স্মিথ, স্টার্ক, ডেভিড ওয়ার্নার।

আরও পদক মেসির ঝুলিতে

ফুটবল ক্যারিয়ারটা খুব লম্বা নয়। তবে এরই মধ্যে পদকে পদকে ড্রয়িংরুমের শেলফটা নিশ্চয়ই ভরে ফেলেছেন লিওনেল মেসি। এই তো সেদিন পেলেন ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার। সোনার ওই বুটটি শেলফে তুলে রাখতে না রাখতেই আরও দুটি ব্যক্তিগত পদকের মালিক হয়ে গেলেন। এবার পেলেন পিচিচি ট্রফি আর ডি স্টেফানো অ্যাওয়ার্ড। ওয়েবসাইট।
স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক মার্কা প্রতিবছর আগের মৌসুমে স্প্যানিশ লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা আর সেরা খেলোয়াড়কে দেয় এই পুরস্কার। এর মধ্যে ডি স্টেফানো ট্রফিটা মেসি জিতলেন টানা দ্বিতীয়বার।
গতবার লা লিগায় গোল করেছিলেন ৩৪টি। এর মধ্যে একটি সেরা গোল বেছে নিতে বলেছিল মার্কা। ‘সব গোলই ছিল স্পেশাল’ জানিয়েও মেসি বেছে নিয়েছেন জারাগোজার বিপক্ষে করা দ্বিতীয় গোলটি।
মার্কার পুরস্কার রজনীতে হাতে ট্রফি উঠেছে বার্সেলোনার গোলরক্ষক ভিক্টর ভালদেস এবং ডেভিড ভিয়ার হাতেও। গত মৌসুমে লিগে সবচেয়ে কম গোল খেয়েছেন ভালদেস। আর ভিয়া জিতেছেন স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের মধ্যে লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার।
পদকের অনুষ্ঠানে পদকের প্রসঙ্গ আসাটাই স্বাভাবিক। আগের মৌসুমে ফিফা বর্ষসেরা, ব্যালন ডি’ওর বড় দুটো পদকই জেতা মেসি এবারের সম্ভাব্য বর্ষসেরা হিসেবে বলেছেন জাভি আর ইনিয়েস্তার নাম।

দুই সেঞ্চুরির দ্বিতীয় দিন

আগের দিন সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। সুবাস পাচ্ছিলেন শুভাগত হোম ও আনামুল হক। মৌসুমের প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরির দেখা পেয়ে গেলেন ঢাকার এই দুই ব্যাটসম্যানও। শুভাগতের ১০৫ ও আনামুলের ১৩৩ রানের সুবাদে রাজশাহীতে ঢাকা প্রথম ইনিংসে গড়ল রানের পাহাড়। খুলনার বিপক্ষে দিন শেষে অলআউট হওয়ার আগে তারা তুলেছে ৪৯৬ রান। জবাবে খুলনার শুরুটা বাজেই হয়েছে, ৬ উইকেট হারিয়ে তুলেছে ১৯১ রান। ইনিংস পরাজয় এড়াতেই প্রয়োজন আরও ১৫৬ রান।
আগের দিন ৮১ রানে ব্যাট করছিলেন শুভাগত, কাল আরও ২৪ রান যোগ করে মুরাদের বলে বোল্ড হন। ২০৩ বলে ১৫টি চারে সাজানো ছিল তাঁর ইনিংস। আনামুল ব্যাট করছিলেন ৮২ রান নিয়ে, আর ৫১ রান করে তুষার ইমরানের বলে ক্যাচ তুলে দেন সগীর হোসেনের হাতে। ১৮১ বলে ১৬ চারে ১৩৩ রান করেন এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান।
যশোরে বৃষ্টির জন্য খেলা হয়নি ৯০ ওভার। ঝোড়ো বাতাস ও প্রচণ্ড বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায় বেলা তিনটায়। তবে এর আগে ১ম ইনিংসে রাজশাহীকে ১৬০ রানে গুটিয়ে ফেলে সিলেট। এনামুল ৪টি, সাকের, আবুল হোসেন ও সৈকত নিয়েছেন ২টি করে উইকেট।
বৃষ্টি হানা দিয়েছে বগুড়ায়ও। সেখানে প্রথম দিন চট্টগ্রামকে ২০২ রানে বেঁধে ফেলেও খুব বেশি ভালো অবস্থায় নেই বরিশাল। বেলা সোয়া তিনটায় খেলা বন্ধ হওয়ার আগে ১১৯ রান তুলতেই তারা হারিয়ে ফেলে ৬ উইকেট। কামরুল ইসলাম ও নাজমুল নিয়েছেন ৩টি করে উইকেট। বরিশালের নাসিরউদ্দিন করেছেন সর্বোচ্চ ৩৬ রান।

আগেই বুঝতে পেরেছিলেন পন্টিং!

গ্রেট ব্যাটসম্যানের অন্যতম ‘প্রাথমিক শর্ত’ ৫০ টেস্ট গড় তাঁর নেই। ১১৪ টেস্টে ১৬ সেঞ্চুরিও আহামরি কিছু নয়। কিন্তু ভিভিএস লক্ষ্মণের ক্যারিয়ারে গ্রেট ইনিংস যতগুলো আছে, অনেক গ্রেট ব্যাটসম্যানেরও তা নেই। কলকাতার ২৮১ ও ১৫৪, সিডনির ১৭৮ ও ১৬৭, নেপিয়ারের ১২৪, কলম্বোর ১০৩...। তালিকায় ঢুকে গেল মোহালির ৭৯ বলে অপরাজিত ৭৩ রানের ইনিংসটাও। আকারে ছোট, কিন্তু ইনিংসটা যে গুরুত্বে বিশাল!
লক্ষ্মণ তো আর কম ভোগাননি অস্ট্রেলীয়দের। রিকি পন্টিংও নাকি আগেই বুঝতে পেরেছিলেন এবারও ঝামেলা পাকাতে পারেন ‘পুরোনো শত্রু’। কাল ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলীয় অধিনায়কের মনে পড়ল আগের রাতের কথা, ‘কাল রাতে আরও কয়েকজনের সঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার সময় আমার মনে হচ্ছিল, ব্যাটিং অর্ডারের নিচে নেমে আহত লক্ষ্মণ বড় অবদান রাখতে পারে। পিঠের ব্যথা নিয়েও এমন একটা ইনিংস খেলে বুঝিয়ে দিয়েছে, ও কী মাপের ব্যাটসম্যান। কোনো সন্দেহ নেই, আমাদের দলের জন্য লক্ষ্মণ বড় একটা বাধা। ও এবং টেন্ডুলকার আমাদের বিপক্ষে অনেক খেলেছে, বছরের পর বছর আমাদের বিপক্ষে ভালো করে আসছে। আশা করি, ওর পিঠের ব্যথা পরের সপ্তাহ পর্যন্ত থাকবে, যেন পরের টেস্টটা খেলতে না পারে।’
পন্টিংয়ের এই রসিকতাও বুঝিয়ে দিল লক্ষ্মণকে কতটা সমীহ করেন তাঁরা। হঠাৎ বলিঞ্জারকে হারানোর দুঃখটাও ফুটে উঠেছে অস্ট্রেলিয়া অধিনায়কের কণ্ঠে। মহেন্দ্র সিং ধোনির কণ্ঠে শুধু লক্ষ্মণ নয়, ছিল ইশান্তের জন্যও স্তুতি। ভারত অধিনায়ক জানিয়েছেন, ম্যাচের শেষ মুহূর্তগুলোয় তাঁর মানসিক অবস্থা, ‘হূৎস্পন্দন অনেক বেড়ে গিয়েছিল। ম্যাচ শুরুর সময় কে-ই বা ভাবতে পেরেছিল, সাড়ে চার দিন পর এমন নাটকীয় সমাপ্তি হবে!

টেলরের উইকেট

সিরিজের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের ক্ষেত্রে ম্যাচে অন্তত তিনটি ‘টার্নিং পয়েন্ট’ আছে। প্রথমত, আমাদের ব্যাটিংয়ের শেষ ৫ ওভার। আমাদের ব্যাটিংটা এর আগপর্যন্ত যেভাবে এগোচ্ছিল, তাতে লড়াকু স্কোর করা কঠিন হতো। শেষ ৫ ওভারে ৪৪ রান তুলে একটা মাঝারি মানের স্কোর দাঁড় করিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরিয়েছে সাকিব ও মাশরাফি।
এরপর বলতে হবে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের আউটের কথা। ৪৫ বলে ৬১ রান করে এই ওপেনার একাই ম্যাচ বের করে নিয়ে যাচ্ছিল। ওকে বোল্ড করে সাকিব আবার ম্যাচে ফেরাল বাংলাদেশকে। তবে বাংলাদেশ ম্যাচ জিতে গেল আসলে রস টেলরকে আউট করে। বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে বা বোলিংয়ে এর আগপর্যন্ত কী করেছে, সব ভুলে যান; এক রস টেলর উইকেটে থাকলে নিউজিল্যান্ড ম্যাচ বের করে নিত নির্ঘাত।
টেলর স্বভাবমতো ৪২ রান করে ইনিংসটা এগিয়েও নেওয়া শুরু করেছিল। ওর সম্পর্কে যতটুকু জানি, যতটুকু দেখেছি, তাতে এ রকম সময়েই ওর আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠার কথা। কিন্তু আসল সময়ে ওকে এলবিডব্লু করে বাংলাদেশের জয় অনেকটাই নিশ্চিত করে ফেলেছে নাঈম।
নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিংয়ে টেলরের অবদান কতটা, সেটা নতুন করে বলার কিছু নেই। ২০০৭ সালে ওর বিপক্ষে আমার খেলার অভিজ্ঞতা হয়েছে। এরপর গত সিরিজে দেখেছি ও কীভাবে আমাদের হাত থেকে ম্যাচ বের করে নিয়ে গেছে।
শেষ ওভারগুলোতে নিউজিল্যান্ডের যদি ওভারপ্রতি ১০ রান করেও দরকার হতো, তাও টেলর ম্যাচ বের করে নিত। ওর মতো বিপজ্জনক ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে দিয়ে নাঈম আমাদের ম্যাচ হাতে পুরেছে—এটা বলা অত্যুক্তি হবে না।

মোহালিতে ক্রিকেটের জয়

উসাইন বোল্টের গতিতে মাঠে ছুটে গেলেন মুরালি বিজয়, পাওয়েল-গে হয়ে পেছনে ছুটছেন আরও কজন। কোচ গ্যারি কারস্টেন গিয়ে জড়িয়ে ধরলেন ইশান্ত শর্মাকে। কজন আবার ড্রেসিংরুমে পাগলের মতো লাফাচ্ছেন, যেন বুঝতে পারছিলেন না কী করবেন! প্রজ্ঞান ওঝা কি কখনো ভাবতে পেরেছিলেন দলকে জিতিয়ে এভাবে ব্যাট উঁচিয়ে ধরবেন? আর ভিভিএস লক্ষ্মণ?
চতুর্থ ইনিংসে ম্যাচ জেতানো ইনিংস বা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একা দাঁড়িয়ে যাওয়া—লক্ষ্মণের জন্য এ আর নতুন কি! কিন্তু পিঠের চোটে যাঁর ব্যাটিং করাই অনিশ্চিত, সেই তিনিই ম্যাচ জেতাবেন রানার নিয়ে খেলে, কে ভেবেছিল? এর চেয়েও ভাবনার ঊর্ধ্বে বোধ হয় লক্ষ্মণের আবেগ আর উত্তেজনায় ফেটে পড়া। নিরীহ লোকটিই রান নিতে ভুল বোঝাবুঝি হওয়ায় কী রাগটাই না ঝাড়লেন ওঝার ওপর! ভাবলেশহীন ভাবমূর্তির ক্রিকেটারটিই বাঁধনহারা উল্লাসে মাতলেন দলের জয়ের পর।
মুঠো থেকে জয় ফসকে যাওয়ায় অস্ট্রেলীয়রা তখন হতাশ, বিহ্বল। রিকি পন্টিংয়ের মনোজগতে কী চলছিল, কে জানে! ভারতের মাটিতে একটা জয় অধরাই থেকে রইল ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি টেস্টজয়ী (৪৭) অধিনায়কের।
টেন্ডুলকারই প্রধান বাধা জেনে পঞ্চম দিন শুরু করেছিল অস্ট্রেলিয়া। ‘নৈশপ্রহরী’ জহির খানের সঙ্গে সেই টেন্ডুলকার ফিরে গেলেন ঘণ্টাখানেকের মধ্যে। চতুর্থ ইনিংসে দুর্দান্ত একটা ইনিংস খেলে দলকে জেতানোর সুযোগটা আরও একবার কাজে লাগাতে ব্যর্থ ‘লিটল মাস্টার’। মিনিট দশেক পর যখন একই ওভারে ফিরে গেলেন ধোনি ও হরভজন, জয় তখন আক্ষরিক অর্থেই অস্ট্রেলিয়ার নাগালে। ২ উইকেট হাতে নিয়ে ভারতের প্রয়োজন ৯২ রান। লক্ষ্মণকে না হয় বধ করা না-ই গেল, ওপাশে তো বাকি ইশান্ত ও ওঝা। উইকেটও ব্যাটসম্যানদের সঙ্গে করছে বৈরী আচরণ। লাঞ্চ পর্যন্ত ম্যাচ যাবে কি না, সন্দেহ তখন তা নিয়েই।
কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার দুর্ভাগ্য আর ভারতের অবিশ্বাস্য ঘুরে দাঁড়ানোর সূচনা এখান থেকেই। দুর্দান্ত বোলিং করতে থাকা (৮ ওভারে ৩ উইকেট) বলিঞ্জার মাঠ ছাড়লেন চোট নিয়ে। আউট হচ্ছি-হব করতে করতে টিকে রইলেন ইশান্ত। বরাবরের মতোই চোখধাঁধানো সব শট খেলতে থাকলেন লক্ষ্মণ। সাহস পেয়ে দু-একটি দারুণ শট খেললেন ইশান্তও। একসময় ম্যাচ চলে এল ভারতের নাগালে। তখনই আরেক নাটক!
অমূল্য ৩১ রান করে, ৮১ রানের অসাধারণ জুটি গড়ে ইশান্ত এলবিডব্লু হলেন জয় থেকে মাত্র ১১ রান দূরে। যদিও টিভি রিপ্লে দেখিয়েছে, লেগ স্টাম্প মিস করত ডেলিভারিটি। নাটকের চূড়ান্ত হলো জয় আসার ঠিক আগেও। ভারতের রান ৯ উইকেটে ২১০, জনসনের বল ওঝার পায়ে লেগে চলে গেল পয়েন্টে। এগিয়ে আসা ওঝাকে রান আউট করতে নর্থের থ্রো, স্টাম্পে না লেগে ওভার থ্রো চার। টিভি রিপ্লে এবার দেখাচ্ছিল, পরিষ্কার এলবিডব্লু ছিলেন ওঝা। এক বল পরই দুটি লেগবাইয়ে জয় ভারতের।
টেস্ট শুরু হওয়ার আগের দিন পন্টিং বলেছিলেন, এই সিরিজটা দুটো টেস্ট ম্যাচের চেয়েও আরও বেশি কিছু। ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ফেরানোর সিরিজ। নাটক, রোমাঞ্চ, উত্তেজনা, আবেগময় শেষ দুটো দিনের পর লোকের দৃষ্টি ক্রিকেটে ফিরতে বাধ্য। ম্যাচ শেষে দুই অধিনায়কের কণ্ঠেই একই সুর, ‘ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ম্যাচ।’
আসলে তা-ই। মোহালিতে জয়ী হলো ক্রিকেটই।

প্রাপ্তির আনন্দ হারানোর বিষাদ

ড্রেসিংরুমে বাংলাদেশ দলের জয়োৎসব কেমন হয়, সেটা এখন আর কাউকে জিজ্ঞেস করে জানতে হয় না। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সবাই কোরাস ধরে ‘আমরা করব জয়, আমরা করব জয় একদিন...।’ কালও তাই হলো, কিন্তু জয়োৎসবের আবহে কি বেজে উঠল একটা বেদনার সুরও?
ম্যাচ জিতলে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে পুরো বাংলাদেশ দলকেই দেখা যায় সব সময়। কাল অনাড়ম্বর সেই আনুষ্ঠানিকতায় কেবল ম্যান অব দ্য ম্যাচ সাকিব আল হাসান ও জুনায়েদ সিদ্দিকের উপস্থিতি। বাকিরা নিশ্চয়ই ড্রেসিংরুমে থেকে গেছেন বিজয়ানন্দে ভাসতে! কথাটা বলতেই মুশফিকুর রহিম সংশোধনী আনলেন, ‘শুধু যে জয় উদ্যাপনই করেছি, তা নয়। মাশরাফি ভাই ওই সময় পায়ে বরফ দিচ্ছিলেন। নাজমুল ভাইয়ের হাতেও তো সেলাই দিতে হলো। সব মিলিয়েই আসলে আমরা আর পুরস্কার বিতরণীতে যাইনি।’
নিউজিল্যান্ড ইনিংসের তৃতীয় আর শেষ ওভারের ইনজুরি সিরিজ থেকেই কেড়ে নিল বাংলাদেশের দুই পেসার মাশরাফি বিন মুর্তজা ও নাজমুল হোসেনকে। জয়ের আনন্দ হয়তো তাই মনের আনন্দে উপভোগ করা যাচ্ছে না। তবে বাংলাদেশ দল চাইলে অধিনায়ককে অনুসরণ করতে পারে। সিরিজ থেকে ছিটকে পড়া মাশরাফিই যখন বলছেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা, আমরা ম্যাচ জিতেছি। জেতার পর ব্যথা ভুলে গেছি...নাইস বার্থ ডে গিফট’, তখন আর অন্যদের মন খারাপ করে থাকা কেন?
ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফির বেদনার সুরে আনন্দের রিনিঝিনি শোনা গেল তাঁর পাশেই বসা সাকিবের হাসিতেও। জয় কত কিছুই না ভুলিয়ে দেয়! ইনজুরিতে পড়া কোনো খেলোয়াড়কে পাশে বসিয়ে তাঁরই ইনজুরি সম্পর্কে হাসতে হাসতে প্রতিক্রিয়া জানানোর ঘটনাও সম্ভবত এই প্রথম। মাশরাফির ইনজুরির ‘সৌজন্যে’ কাঁধে অধিনায়কত্ব তুলে নেওয়ার ঘটনা গত ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের সেন্ট ভিনসেন্ট টেস্টটাকে মনে করিয়ে দিয়েছে কি না জানতে চাইলে সহাস্য সাকিব বললেন, ‘একটু তো মিল আছেই। মাশরাফি ভাই যখন পড়লেন, তখনই মনে হয়েছে আজ (গতকাল) আবার অধিনায়কত্ব করতে হবে। মিডঅনে দাঁড়িয়ে ছিলাম...দেখলাম খুব বাজেভাবে পড়েছেন। ওটা দেখেই মনে হয়েছে আজকের মতো উনি শেষ...।’
মাশরাফির বেদনার দিনে সাকিব সাফল্যের হাসি হাসবেন, এটা যেন নিয়তিই হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তবে হাসিটা নিশ্চিত করতে সাকিবকেও তো কিছু করতে হয়! ব্যাট হাতে ৫৮ রান আর বল হাতে ৪ উইকেট নিয়ে সেটাই করলেন কাল বাংলাদেশ সহ-অধিনায়ক। সঙ্গে নিউজিল্যান্ড ইনিংসের তৃতীয় ওভার থেকেই অপ্রত্যাশিতভাবে পেয়ে যাওয়া নেতৃত্বভারও সামলে গেলেন নিপুণভাবে। মাশরাফির অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে গিয়ে একটা চিন্তাই করেছেন সাকিব, ‘শুধু ভেবেছি, ওদের আটকে রাখতে হবে। সেটা করতে পেরে ভালো লাগছে। দল জিতলে সব সময়ই ভালো লাগে।’
ইনজুরি থাকে, ব্যথা-বেদনা থাকে, তার পরও জয়ের মোড়ক উৎসবের রং মাখানোই হয়। বহুদিন পর নস্টালজিক কেউ হয়তো মনে করার চেষ্টা করবেন, ‘নিউজিল্যান্ডকে ৯ রানে হারানো ওই ম্যাচেই তো মাশরাফি আর নাজমুল ইনজুরিতে পড়ল, তাই না?’ জয়ের রেণু ভেসে বেড়ানো সন্ধ্যায় কালও একসময় হারানোর হাহাকার হারিয়ে গেল জয়ধ্বনির আড়ালে।
অতৃপ্তিও ছিল, তবে সেটা আরও ভালো কিছু না হওয়ায়। ‘আমার কাছে মনে হয়েছিল আমরা ১২ রানের মতো কম করেছি। পরিকল্পনা ছিল ২৪০-২৫০ রান করার। তার পরও সবাই খুব ভালো বোলিং-ফিল্ডিং করেছে। একজন বোলার কম থাকার পরও জিততে পেরে ভালো লাগছে’—বলছিলেন মাশরাফি নিজেই। ২২৮ রান করেও জেতা সম্ভব, সেই বিশ্বাসও নাকি ছিল তাঁর মনে, ‘আমার মনে হয়েছিল, শুরুতে ৩-৪ উইকেট নিতে পারলেই জেতা সম্ভব। কারণ সাকিব-রাজকে এই উইকেটে খেলা কঠিন। রিয়াদ, নাঈমও ভালো সাপোর্ট দিয়েছে।’
কে একজন জানতে চাইলেন, বৃষ্টিতে খেলা ৫৫ মিনিট বন্ধ থাকাটাও বাংলাদেশের পক্ষে গেল কি না। এমন দিনে আবহাওয়াকে কৃতিত্ব দিতে কে চায়? মাশরাফির কণ্ঠে একরকম প্রতিবাদের সুর, ‘এটা খেলার অংশ। আবহাওয়ায় তো কারও হাত নেই। আমরাও হারতে পারতাম। আর বৃষ্টি হওয়ায় আমরা খুব যে সুবিধা পেয়েছি, তা নয়।’
সিরিজ শুরুর আগে মাশরাফি সবার আগে চেয়েছিলেন, একটা ভালো শুরু। সেটা পেয়ে যাওয়ার পর এখন বড় স্বপ্ন ভর করেছে তাঁর চোখে, ‘খুব ভালো সুযোগ আছে সামনে। তবে প্রথম ম্যাচের চেয়ে আরও অনেক ভালো খেলতে হবে। আজ (গতকাল) অনেক ব্যাটসম্যান সেট হয়ে আউট হয়ে গেছে। এই জায়গাগুলোতে, সঙ্গে বোলিং-ফিল্ডিংয়েও উন্নতি আনতে হবে। প্রথম ম্যাচ জিতে থাকলে সব সময়ই সুবিধা পাওয়া যায়।’
মাশরাফি-নাজমুলকে হারানোর দিনে এটাই তো সান্ত্বনা।