Sunday, January 23, 2011

পোশাক শিল্পে অস্থিরতার উৎস-সন্ধান সূত্র by দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণু

বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পে অস্থিরতা, বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনা নতুন নয়। বিগত কয়েক বছরে উপর্যুপরি এসব ঘটনা এ শিল্পকে ইতিমধ্যে হুমকি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে বহুবার। এ জন্য মালিকপক্ষ কম দায়ী নন। তবে এ শিল্পে অস্থিরতা, অস্থিতিশীলতা কিংবা দ্বন্দ্ব-সংঘাতের কারণ শুধুই যে বেতন-ভাতার নয়, এর একটি উৎস-সন্ধান সূত্র মিলেছে ১৩ ডিসেম্বর ২০১০ কালের কণ্ঠে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে।

শপথ নিলেন লুকাশেনকো

বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেনকো গতকাল শুক্রবার এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে চতুর্থ মেয়াদে দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। বিতর্কিত নির্বাচনে জয়লাভ এবং নির্বাচনের পর বিরোধী দলের ওপর নিপীড়ন চালানোয় পশ্চিমা বিশ্ব এ শপথ অনুষ্ঠান বর্জন করেছে। টানা ১৬ বছর ধরে লুকাশেনকো বেলারুশ শাসন করছেন।

মহাশূন্য থেকে প্রাণের উৎপত্তির নতুন প্রমাণ

মহাশূন্য থেকে পৃথিবীতে জীবনের উৎপত্তি হয়েছে, এ কথা আগেও বলেছেন বিজ্ঞানীরা। এবার নাসার নতুন এক গবেষণায় এর সমর্থনে পাওয়া গেছে আরও তথ্য। মহাশূন্য থেকে পৃথিবীতে ছিটকে আসা উল্কাপিণ্ডের গবেষণা থেকে এ ইঙ্গিত মিলেছে।
নাসার এ গবেষণার ফল আভাস দিচ্ছে যে বেশ কয়েক ধরনের গ্রহাণুতে এমন অ্যামিনো এসিড থাকা সম্ভব, যা পৃথিবীতে বিদ্যমান প্রাণের সৃষ্টিতে ব্যবহূত হতে পারে। অ্যামিনো এসিডের অণু প্রায় অবিকল দুই ধরনের হয়ে থাকে। এগুলো ‘ডান’ ও ‘বাঁ-হাতি’ হিসেবে পরিচিত। তবে পৃথিবীর প্রকৃতিতে শুধু ‘বাঁ-হাতি’ অ্যামিনো এসিড মেলে।
২০০৯ সালে নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের গবেষকেরা কার্বনসমৃদ্ধ গ্রহাণু থেকে পৃথিবীতে ছুটে আসা উল্কাপিণ্ডের কিছু নমুনা বিশ্লেষণ করে তাতে উচ্চমাত্রার বাঁ-হাতি অ্যামিনো এসিডের সন্ধান পান। ওই আবিষ্কারের ফলে ধারণা করা হচ্ছে, মহাশূন্যে ‘বাঁ-ধর্মী’ প্রাণসত্তার সূত্রপাত হয়েছিল। সেখানে গ্রহাণুর পরিবেশ-পরিস্থিতি বাঁ-হাতি অ্যামিনো এসিড সৃষ্টির জন্য অনুকূল ছিল। পৃথিবীতে পড়া উল্কাপিণ্ডের মাধ্যমে তা থেকে প্রাণসত্তার উদ্ভব ঘটে থাকতে পারে।
নাসার গবেষক ড. ড্যানিয়েল গ্ল্যাভিন বলেন, নতুন এ গবেষণার ফল প্রমাণ করেছে, আমাদের প্রাথমিক আবিষ্কার কাকতালীয় ছিল না। ওই সব উল্কাপিণ্ডের উৎস যেসব গ্রহাণু, তাতে অবশ্যই এমন কিছু আছে, যা বাঁ-হাতি অ্যামিনো এসিড উৎপত্তিতে সহায়ক।
প্রাপ্ত তথ্যপ্রমাণ বলছে, গ্রহাণুতে পানির উপস্থিতি বাঁ-হাতি অ্যামিনো এসিডের মাত্রা বাড়িয়ে তোলে। ডান ও বাঁ-ধর্মিতার বিষয়টি সৃষ্টির আদিকালের তেজস্ক্রিয়তার কারণে হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যভাবে সৃষ্টি হওয়া পৃথক নক্ষত্রপুঞ্জের সম্ভাব্য প্রাণ ডান-হাতি অ্যামিনো এসিডভিত্তিক হয়ে থাকতে পারে।

কংগ্রেস ১১৫টি আসন দাবি করতে যাচ্ছে

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত না হলেও আগামী মে মাসেই তা অনুষ্ঠিত হবে। এতে ২৯৪টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন প্রার্থীরা। নয়টি বাম দলের সমন্বয়ে গড়া বামফ্রন্ট এবং তৃণমূল কংগ্রেস ও জাতীয় কংগ্রেস জোটের মধ্যে মূল লড়াই হবে। নির্বাচনে জাতীয় কংগ্রেস ১১৫টি আসন দাবি করতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।বৃহস্পতিবার কলকাতায় প্রদেশ কংগ্রেসের রাজ্য দপ্তরে রাজ্যের ১৭টি জেলার কংগ্রেস সভাপতিদের এক বৈঠক হয়। এতে অবশ্য রাজ্যে কংগ্রেসের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘাঁটি বলে পরিচিত মালদহ ও মুর্শিদাবাদের সভাপতিরা উপস্থিত ছিলেন না। সাংগঠনিক কাজে ব্যস্ত থাকাতেই নাকি এতে যোগ দেওয়া তাঁদের সম্ভব হয়নি বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়।
বৈঠকে বিভিন্ন জেলার সভাপতিরা নিজ নিজ জেলার আসন দাবি করেন। এর মধ্যে কোচবিহারে-৪, দার্জিলিং-৩, জলপাইগুড়ি-৭, মালদহ-১২, উত্তর দিনাজপুর-৮, কলকাতা-১, দক্ষিণ ২৪ পরগনা-১, বর্ধমান-৮, পূর্বমেদিনীপুর-৩, পশ্চিম মেদিনীপুর-৮, হুগলি-৪, বাঁকুরা-৫, পুরুলিয়া-৬, নদীয়া-৬, হাওড়া-৬ এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ১১টি আসন রয়েছে। মালদহের ১২টি এবং মুর্শিদাবাদের ২২টি আসন অবশ্য আগেই দাবি করেছেন কংগ্রেসের জেলা সভাপতিরা। সব মিলিয়ে তাঁদের দাবি ১১৫টি আসন। তৃণমূল কংগ্রেস এই দাবি মানবে কি না তা নিয়ে অবশ্য রাজনৈতিক মহলে সংশয় রয়েছে।

ইন্টারনেট সংযোগ পেলেন সু চি

অবশেষে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছেন মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেত্রী অং সান সু চি। তাঁর নিরাপত্তাপ্রধান গতকাল শুক্রবার এ কথা জানিয়েছেন।
মাস দুই আগে মুক্তি পাওয়ার আগ পর্যন্ত টানা সাত বছর বন্দী জীবন কাটিয়েছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী সু চি। ওই সময় তিনি ইন্টারনেট বা টেলিফোন ব্যবহারের কোনো সুযোগ পাননি।
গত নভেম্বরে মুক্তি পাওয়ার পর ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন সু চি। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইয়াঙ্গুনের লেক সাইডে তাঁর বাড়িতে সংযোগ দেওয়ার অনুমতি দেয় জান্তা সরকার।
সু চির নিরাপত্তাপ্রধান উইন হেতেইন বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, ইন্টারনেটের সংযোগ পেয়ে সু চি খুশি। নিজের লোকজন ও সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তিনি এ প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চান। তবে শারীরিকভাবে সুস্থ না থাকায় তিনি এখনো ইন্টারনেটের ব্যবহার শুরু করেননি।
ধারণা করা হয়, এখন পর্যন্ত ইন্টারনেট ব্যবহারের অভিজ্ঞতা সু চির নেই।

প্রয়োজনে এশিয়ায় সেনা চান ওবামা অস্ত্র প্রতিযোগিতা চান না জিনতাও

চীনকে সতর্ক করে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, চীন যদি তার মিত্র উত্তর কোরিয়াকে সংযত করতে না পারে, তাহলে এশিয়ায় নতুন করে সেনা-সমাবেশ করবে ওয়াশিংটন। তবে, যুক্তরাষ্ট্র সফররত চীনা প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও বলেছেন, অস্ত্র প্রতিযোগিতা বা অন্য রাষ্ট্রের ওপর সামরিক কর্তৃত্ব প্রয়োগের কোনো আগ্রহ তাদের নেই।
মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস গতকাল শুক্রবার জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার ব্যাপারে চীন যাতে কঠোর হয় এবং দুই কোরিয়ার আলোচনা পুনরায় শুরুর ব্যাপারে পিয়ংইয়ংকে বাধ্য করে, সে জন্য চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
পত্রিকাটি জানায়, ওবামা চীনা প্রেসিডেন্ট জিনতাওকে সতর্ক করে দিয়েছেন যে বেইজিং যদি উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে জোরালো কোনো পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য হামলা থেকে নিজেদের রক্ষার স্বার্থে এশিয়া অঞ্চলে নতুন করে সেনা সমাবেশ করবে ওয়াশিংটন।
বিষয়টি নিয়ে গত মাসে জিনতাওকে ফোন করে প্রথম সতর্ক করে দেন ওবামা। এরপর গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে জিনতাওয়ের সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজে বিষয়টি আবারও তাঁকে স্মরণ করিয়ে দেন ওবামা। তবে, এ ব্যাপারে কিছু বলতে চায়নি হোয়াইট হাউস।
উত্তর কোরিয়ার দিক থেকে দেওয়া উচ্চপর্যায়ের সামরিক আলোচনার প্রস্তাবে গত বৃহস্পতিবার রাজি হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। কোরিয়ীয় সংকট মোকাবিলায় এটি একটি বড় অগ্রগতি। এর ফলে দীর্ঘদিন অচল হয়ে থাকা উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে নিরস্ত্রীকরণের বিনিময়ে সাহায্যবিষয়ক আলোচনার শুরুর পথ আবার উন্মুক্ত হবে।
তবে, ওয়াশিংটনে মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে চীনের প্রেসিডেন্ট জিনতাও বলেছেন, কোনো দেশের সঙ্গে অস্ত্র প্রতিযোগিতার কোনো আগ্রহ তার দেশের নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা অস্ত্র প্রতিযোগিতায় জড়াতে চাই না। কোনো দেশের জন্য আমরা সামরিক হুমকিও নই। চীন কোনো দেশের ওপর কর্তৃত্ব করতে চায় না এবং সম্প্রসারণবাদী কোনো নীতিও চীনের নেই।’
জিনতাও বলেন, চীন-যুক্তরাষ্ট্র অতীতে যখন নিজেদের পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এগিয়েছে, তখনই দুই দেশের সম্পর্ক খুবই নির্ঝঞ্ঝাট ও আস্থাশীল ছিল।
দুই দেশের সম্পর্কে ধীরে ধীরে চিড় ধরার কারণগুলো ধারবাহিকভাবে ব্যাখ্যা করে চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, উভয়পক্ষকে অবশ্যই পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সম-অধিকারের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে কাজ করতে হবে। এরপর এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলের ওপর চীনের প্রভাব বৃদ্ধি নিয়ে মার্কিন নেতাদের উদ্বেগের বিষয়ে জিনতাও বলেন, ‘তাইওয়ান ও তিব্বতের বিষয়টি চীনের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার সঙ্গে জড়িত।’
চার দিনের সফরের শেষ দিনে শিকাগোর উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে মার্কিন কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ওই ভোজে যোগ দেন জিনতাও।
শিকাগোতে জিনতাওয়ের জন্য নৈশভোজের আয়োজন করেন শহরের মেয়র রিচার্ড দালে। সেখানেও উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী নেতারা।
নৈশভোজে বক্তৃতায় জিনতাও বলেন, ‘চীন ও শিকাগোর মধ্যে দূরত্বের বিস্তর ব্যবধান সত্ত্বেও আমাদের হূদয় বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ।’
এ সময় তিনি চীনে উচ্চ প্রযুক্তিপণ্য রপ্তানির ওপর থেকে বাধানিষেধ তুলে নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান। জিনতাও বলেন, ‘আর্থিক, বাণিজ্যিক, জ্বালানি, পরিবেশগত, অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করার প্রত্যাশা করে চীন।’

নিষিদ্ধ সব দলকে স্বীকৃতি দেবে তিউনিসিয়ার অন্তর্বর্তী সরকার

তিউনিসিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিষিদ্ধঘোষিত ইসলামপন্থী দলসহ সে দেশের সব রাজনৈতিক দলকে স্বীকৃতি দেবে। সরকারের এ ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে নিষিদ্ধঘোষিত ইসলামপন্থী এন্নাহদা মুভমেন্টও নতুন করে রাজনীতিতে আসার সুযোগ পাবে। দেশটির যুবমন্ত্রী মোহাম্মদ আলুলু বলেছেন, ‘আমরা সব রাজনৈতিক দলকে স্বীকৃতি দেব।’
এদিকে তিউনিসিয়ায় গত কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে গতকাল শুক্রবার থেকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন শুরু হয়েছে। সরকারবিরোধী ওই বিক্ষোভের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান প্রেসিডেন্ট জয়নুল আবেদিন বেন আলী। বিক্ষোভে কমপক্ষে ৭৮ জন নিহত হয়।
নতুন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোকে স্বীকৃতি ও রাজনৈতিক বন্দীদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হবে। মন্ত্রীরা বলেছেন, ইতিমধ্যেই সব রাজনৈতিক বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সরকারের ওই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধঘোষিত ইসলামপন্থী দল এন্নাহদার সঙ্গে সম্পৃক্ত বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক বন্দীকে এখনো মুক্তি দেওয়া হয়নি।
দেশটির নতুন মন্ত্রিসভা আগামী ছয় মাসের মধ্যে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত নির্বাচনের কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। সংবিধান অনুযায়ী দেশটিতে ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন হতে হবে।
গত বৃহস্পতিবার বোরজ লামরে কারাগারের সামনে রাজবন্দীদের পরিবারের সদস্যদের অপেক্ষা করতে দেখা যায়। তাঁদের অভিযোগ, এখন পর্যন্ত মাত্র কয়েক শ রাজনৈতিক বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তাঁরা প্রেসিডেন্ট বেন আলীর ২৩ বছরের শাসনামলে রাজনৈতিক কারণে আটক সব বন্দীর মুক্তি দাবি করেন।
কারাগারের সামনে অপেক্ষারত মোহাম্মদ খালেদ খমেইরা বলেন, ‘আমরা আমাদের সন্তানের মুক্তির জন্য অপেক্ষা করছি। রাজনৈতিক বন্দীদের ক্ষমা করে দেওয়ার কথা শোনার পর থেকে গত তিন দিন থেকে আমরা এখানে অপেক্ষা করছি।’
এদিকে বেন আলীর বিরুদ্ধে রাজধানী তিউনিসসহ বিভিন্ন এলাকায় এখনো বিক্ষোভ চলছে। বেন আলীর আরসিডি দলের কার্যালয়ের সামনে গতকালও ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে সেনারা ফাঁকা গুলি ছুড়েছে। এ ছাড়া গাফসা ও কেফ শহর থেকেও আরসিডিবিরোধী বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, ভবিষ্যতের যেকোনো সরকার থেকে আরসিডি দলের সব সদস্যকে বাদ দিতে হবে।

জয়ের দেখা পাবে নিউজিল্যান্ড?

একদল সিরিজ শুরু করছে টানা ১১ ওয়ানডে হেরে। বিশ্বকাপের আগে নিজেদের কিছুটা ফিরে পাওয়ার শেষ সুযোগ এটাই। আরেক দল দীর্ঘদিন পর পেয়েছে বিদেশের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয়ের স্বাদ। ওয়ানডে সিরিজটা শুরু করছে তারা ফেবারিট হিসেবেই। কিন্তু সেটা উপভোগ করার সুযোগ কোথায়? সিরিজ শুরু করছে তারা বড় একটা অস্বস্তি নিয়ে। ওয়েলিংটনের ম্যাচ দিয়ে আজ শুরু নিউজিল্যান্ড-পাকিস্তান ছয় ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজটাকে তাই বলা যায় অনেক হিসাব-নিকাশ আর পরীক্ষা-নিরীক্ষার সিরিজ।
শ্রীলঙ্কায় ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে নিউজিল্যান্ডের পরাজয়ের ধারা শুরু। এরপর হোয়াইটওয়াশ হয়েছে তারা বাংলাদেশ ও ভারতে। সিরিজ জয়ের আগে কিউইদের তাই প্রথম লক্ষ্য অন্তত একটা ম্যাচ জেতা। টেস্ট সিরিজের পারফরম্যান্স ও নিউজিল্যান্ডের সাম্প্রতিক ওয়ানডে পারফরম্যান্স মিলিয়ে এই সিরিজে পরিষ্কার ফেবারিট পাকিস্তান। কিন্তু পরিস্থিতিটা ঘোলাটে করে ফেলেছে তাদের দেশেরই ক্রিকেট বোর্ড। বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করলেও অধিনায়কের নাম ঘোষণা করেনি পিসিবি। উল্টো এই সিরিজে শহীদ আফ্রিদির ডেপুটি করা হয়ছে টেস্ট অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হককে। ইঙ্গিতটা পরিষ্কার, ভালো করতে না পারলে বিকল্প প্রস্তুত। অধিনায়কত্ব নিয়ে দলের সিনিয়র দুই ক্রিকেটারকে এমন প্রতিযোগিতায় ঠেলে দেওয়ায় দলের মনোযোগও নড়ে যাওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। সিরিজে ফেবারিট হওয়াটাও বিপক্ষে যেতে পারে পাকিস্তানের। ধ্বংসস্তূপ থেকে জেগে সবাইকে চমকে দিতেই বেশি ভালোবাসে তারা, যেমনটা দিয়েছে টেস্ট সিরিজে। প্রত্যাশা বেশি থাকলেই বরং তারা নুয়ে পড়ে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে রেকর্ড অবশ্য তাদের ভালো, ৪৮টি জিতে হেরেছে ৩২টিতে।
কাগজে-কলমে দলটাকে যতটা বিপজ্জনক মনে হয়, পারফরম্যান্সে তার প্রকাশ নেই। হয়তো নিউজিল্যান্ডের প্রয়োজন একটা অনুপ্রেরণা। আরেকটা চোট কাটিয়ে দীর্ঘদিন পর ফেরা অলরাউন্ডার জ্যাকব ওরাম হতে পারেন সেই অনুপ্রেরণা। হতে পারেন অ্যালান ডোনাল্ডও। বর্ণবাদের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ক্রিকেটে ফেরার পর দক্ষিণ আফ্রিকার সেরা ফাস্ট বোলার এখন কিউইদের বোলিং কোচ। কিংবা হতে পারেন জন রাইট, ভারতের আজকের অবস্থায় আসার শুরুটা হয়েছিল যাঁর হাত ধরে। রাইট অবশ্য ছাপ রাখতে শুরু করেছেন। ব্যাটিং পাওয়ার প্লের সুবিধা কাজে লাগাতে ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে ওপেনিং থেকে সরিয়ে নিয়ে আসছেন ছয়ে। গত চার বছরে একবারই শুধু ওয়ানডেতে ওপেন করেননি ম্যাককালাম, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেই ম্যাচটিও দুই বছর আগে। ওই ম্যাচে যিনি ওপেন করেছিলেন, সেই মার্টিন গাপটিল আজ ইনিংস শুরু করবেন জেসি রাইডারের সঙ্গে।
এই বদলের ছাপ কি পড়বে কিউইদের পারফরম্যান্সে? শহীদ আফ্রিদি পারবেন চ্যালেঞ্জে জয়ী হতে?

সিরিজে সমতা আনল দক্ষিণ আফ্রিকা

গতকালের ম্যাচটা জিতে আগেভাগেই সিরিজ জয়টা নিশ্চিত করে ফেলতে চেয়েছিলেন ভারতীয় অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর হয়ে উঠল না। সিরিজে ২-১-এ এগিয়ে থাকার পর গতকাল বৃষ্টিবিঘ্নিত চতুর্থ ম্যাচে ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে ৪৮ রানে হেরে গেছে ভারত। অন্যদিকে এই ম্যাচটা জিতে সিরিজে ২-২-এ সমতা এনে আরও একবার অজেয় দুর্গ সুরক্ষিত রাখার সুযোগ পেয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা।
টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে জেপি ডুমিনির ৭১, হাশিম আমলার ৬৪ ও ইনিংসের শেষ দিকে জোহান বোথার ৪৪ ও রবিন পিটারসনে ৩১ রানের সুবাদে নির্ধারিত ৫০ ওভারে দক্ষিণ আফিকার সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৬৫ রান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই মাত্র ৪৯ রানের মধ্যেই রোহিত শর্মা, পার্থিব প্যাটেল ও যুবরাজ সিংকে হারিয়ে বিপদে পড়ে ভারত। চতুর্থ উইকেটে বিরাট কোহলি ও সুরেশ রায়না ৬৩ রানের পার্টনারশিপ গড়লেও খুব বেশি সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করতে পারেননি ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। অল্প সময়ের মধ্যেই ফিরে যান রায়না, ধোনি ও ইউসুফ পাঠান। ৩২.৫ ওভার শেষে বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ছয় উইকেটে ১৪২ রান। বৃষ্টি হানা না দিলে শেষ পর্যন্ত কী হতো তা নিয়ে অবশ্য তর্ক-বিতর্ক চলতেই পারে। জয়ের জন্য ভারতের তখনো দরকার ছিল ১২৪ রান। উইকেটে ছিলেন ৯২ বলে ৮৭ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলা বিরাট কোহলি ও ‘অলরাউন্ডার’ হরভজন সিং। জয়ের জন্য ১০৩ বলে ১২৪ রান হয়তো খুব বেশি দুরূহ বলে মানতে চাইবে না ভারতের সমর্থকেরা। তবে মরকেল, ডেল স্টেইন, পিটারসনদের দুর্ধর্ষ বোলিংয়ের সামনে শেষ পর্যন্ত কী হতো তা বলা মুশকিল।
এখন সবারই দৃষ্টি রাখতে হবে ২৩ জানুয়ারি সেঞ্চুরিয়নে সিরিজ নির্ধারণী শেষ ম্যাচের দিকেই।

মিডল অর্ডার নিয়ে চিন্তিত ধোনি

দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পথে বেশ খানিকটাই এগিয়ে গিয়েছিল ভারত। গতকালের ম্যাচটাতে বৃষ্টি হানা না দিলে কী হতে পারত, তা নিয়ে বিতর্ক বা জল্পনা-কল্পনা করা যেতে পারে। তবে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে শেষ পর্যন্ত যে ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে ভারতকে ৪৮ রানের পরাজয়বরণ করতে হলো তার জন্য অনেকাংশেই দায়ী ভারতের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানরা। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনিও এ নিয়ে তাঁর অসন্তোষটা আড়াল করতে পারেননি।
গতকাল বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত ভারতের ব্যাটিং নিয়ে বলার মতো শুধু একটা বিষয়ই আছে। সেটা হলো বিরাট কোহলির ৯২ বলে ৮৭ রানের হার না মানা ইনিংসটা। স্টেইন, মরকেল, পিটারসনের দুর্ধর্ষ পেস আক্রমণের সামনে ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান যেভাবে খেলে গেছেন তা এককথায় অসাধারণ। ধোনিও ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তরুণ এই ব্যাটসম্যানের। কিন্তু সেই সঙ্গে মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের আরেকটু দায়িত্বশীল হয়ে খেলা উচিত ছিল বলে মনে করেন ভারতীয় অধিনায়ক। তিনি বলেছেন, ‘কোহলির ব্যাটিংটা আমাদের জন্য খুবই ইতিবাচক একটা দিক। তিন নম্বরে তার পারফরমেন্সটা আমাদের জন্য খুবই আশাব্যঞ্জক। কিন্তু অন্য ব্যাটসম্যানদেরও ভালো খেলা উচিত ছিল। ব্যাটিং লাইনআপে মিডল অর্ডারটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর এ জায়গায় আমরা পুরোপুরিই ব্যর্থ হয়েছি।’
টস ভাগ্যটা ধোনির বরাবরই খারাপ। গতকালও টসে জেতা হয়নি তাঁর। আবহাওয়া পূর্বাভাসটা মাথায় রেখে টস জিতে যদি ব্যাট করার সুযোগ পেতেন তাহলে হয়তো ফলাফলটা অন্য রকমও হতে পারত বলে মন্তব্য করেছেন ধোনি। তিনি বলেছেন, ‘আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টাটা করেছি। অনেকগুলো সুযোগই আমরা তৈরি করেছিলাম। কিন্তু পরে ব্যাট করে ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে জয় পাওয়াটা আসলেই খুব কঠিন ব্যাপার।’
দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথম সিরিজ জয়ের স্বাদ পেতে এখন শেষ ওয়ানডেটার দিকেই মনোযোগ দিতে হচ্ছে ধোনিকে। কাল সেঞ্চুরিয়নে এই সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ নিয়ে ধোনি বলেছেন, ‘যে দল ভালোমতো চাপ সামলিয়ে খেলতে পারবে, তারাই জিতবে।’

অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ দলে ঢুকতে পারেন ডোহার্টি

অস্ট্রেলীয় নির্বাচকেরা বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ডোহার্টিকে না রেখে নাথান হরিজকেই রেখেছিলেন। কিন্তু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শুক্রবারের ওয়ানডেটি বোধ হয় সৌভাগ্যের বার্তাই বয়ে নিয়ে আসছে তাসমানিয়ার বাঁহাতি স্পিনার হাভিয়ের ডোহার্টির জন্য। হরিজের হঠাত্ ইনজুরি তাঁর জন্য খুলে দিতে পারে বিশ্বকাপের দরজা। হোবার্টে কাঁধে মারাত্মক চোট পেয়েছেন হরিজ। এ জন্য প্রয়োজন পড়তে পারে অস্ত্রোপচারের। এ কারণে শেষ মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ দলে ঢুকে যেতে পারেন ডোহার্টি।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে অবশ্য ডোহার্টি খেলেছিলেন। সেটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে তাঁর তৃতীয় ওয়ানডে। সে ম্যাচে অবশ্য কোনো উইকেট পাননি তিনি। এর পরেই দ্বিতীয় ওয়ানডের পাশাপাশি বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকেও নির্বাচকেরা বাদ দিয়ে দেন ডোহার্টিকে। হোবার্টে হরিজ ব্যথা পাওয়ায়, তৃতীয় ওয়ানডের জন্য ডোহার্টিকে আবার দলে ডেকেছেন অস্ট্রেলীয় নির্বাচকেরা।
অস্ট্রেলীয় দলের ফিজিও অ্যালেক্স কন্টুরিস জানিয়েছেন, হরিজের কাঁধের চোটটা মারত্মকই। এ জন্য অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। তাই তাঁর বিশ্বকাপ খেলাটা সংশয়ের মধ্যেই পড়ে গিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘ম্যাচ শেষে হরিজের কাঁধে স্ক্যান করার পর সেখানে চিড় ধরার ব্যাপারটি ধরা পড়েছে।’ তবে এ ব্যাপারে চিকিত্সকের পরামর্শটাকেই শিরোধার্য মনে করছেন ফিজিও। এর পাশাপাশি আগামী সপ্তাহেই হরিজের বিশ্বকাপ ভাগ্য নির্ণয় করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এদিকে ডোহার্টি অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে বাদ পড়ার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তাসমানিয়ার অধিনায়ক জর্জ বেইলি। তিনি ডোহার্টিকে এ মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটের সেরা স্পিনার হিসেবে অভিহিত করে বলেন, বিশ্বকাপ দলে তাঁকে না নিয়ে তাঁর প্রতি অন্যায় আচরণ করা হয়েছে।
হরিজের পাশাপাশি পেসার শন টেইটের ফিটনেস নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। হোবার্টে গতকালকের ম্যাচে তিনি ঊরুর মাংসপেশিতে টান খান। এ জন্য রোববার সিডনিতে তৃতীয় ওয়ানডেতে তাঁর খেলা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। রোববার ঠান্ডাজনিত সমস্যার কারণে মিচেল জনসনের খেলায় দুলছে অনিশ্চয়তার দোলাচলে।

গল্প- বাতাসের শব্দ by গাজী তানজিয়া

রাত তখন ৯টা। মনিপুরিপাড়া ক্রিশ্চিয়ানা হসপিটালের মধ্যম আকৃতির ভিজিটিং রুমের সারি সারি সবুজ চেয়ারগুলো অলস বসে আছে। রাতের বেলা এই হসপিটালে সাধারণত রোগী থাকে না। কারণ এটা মূলত গরীব রোগীদের জন্য একটা সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। গরীবের রোগ থেকে থেকে ক্রনিক না হলেতো আর ডাক্তারমুখো হয় না কেউ।

গল্প- গোলাপি গল্প by আজাদুর রহমান

ন্য দিনে কমপক্ষে ন'টার আগে জাকির বিছানা ছাড়ে না। কিন্তু প্রাইভেটের দিনগুলোর কথা আলাদা। সকাল আটটায় রহমতুলস্নাহ্ স্যারের বাসায় প্রাইভেট। ফিজিক্স সাবজেক্টটা এমনিতেই জাকিরের ভালো লাগে না। কিছু সূত্র মুখস্থ করা গেলেও গাণিতিক প্রমাণে এসে জটিলতা শুরু হয়। সাংকেতিক বর্ণ ব্যবহার করে বিটকেল ধরণের সমীকরনের সমাহার কোনমতেই জাকির মনে রাখতে পারে না।

ভয়াবহ দরপতনে পুঁজিবাজার বন্ধ, চলছে বিক্ষোভ ,আটক ৫

লেনদেনের শুরুতেই ভয়াবহ দরপতনে আজ বৃহস্পতিবার বন্ধ হয়ে গেছে দেশের দুই পুিঁজবাজার। লেনদেন শুরুর ছয় মিনিটেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং ১১ মিনিটে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সাধারণ সূচকের পতন সার্কিট ব্রেকার অতিক্রম করায় লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনার পর রাজধানী এবং চট্টগ্রামে বিনিয়োগকারীরা বিক্ষোভ শুরু করেছে। পুলিশ মতিঝিল এলাকা থেকে এ পর্যন্ত পাঁচজনকে আটক করেছে।
মতিঝিল এলাকায় পুলিশ ও বিনিয়োগকারীরা মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। পুলিশ লাঠিচার্জ করছে আর ক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারীরা ইট পাটকেল ছুড়ছে। মতিঝিল এলাকায় এখন যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। আটককৃতরা হলেন আনিসুল ইসলাম, রেজাউল করিম, হারুন-উর রশীদ, হোসেন ও সালাউদ্দিন।

চট্টগ্রামে সিএসই কার্যালয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সিএসই কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়েছে।
আজ ডিএসইতে লেনদেনের ছয় মিনিটেই সাধারণ সূচক ৫৯৯ পয়েন্ট পড়ে যায়। ফলে সার্কিট ব্রেকারের ২২৫ পয়েন্টের সীমা অতিক্রম করলে লেনদেন বন্ধ হয়ে যায় ।
এ সময়ে মোট ১৮২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়। এর মধ্যে দাম কমে ১৭২টির, বাড়ে ৮টির এবং অপরিবর্তিত থাকে দুটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
মোট ৬৮ কোটি টাকার লেনদেন হয় ।
সিএসইতে লেনদেন শুরুর ১১ মিনিটে সূচক ৭৯৫ পয়েন্ট কমে এবং সার্কিট ব্রেকার অতিক্রম করায় লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়। লেনদেন বন্ধ হওয়ার পরে বিভিন্ন ব্রোকরেজ হাউজ থেকে বিনিয়োগকারীরা বেরিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। সিএসইর সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চলতে থাকে। এসময় তারা অর্থমন্ত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভণর এবং ডিএসইর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতে থাকে। তখন প্রায় দশ মিনিট সেখানে যানচলাচল বন্ধ ছিল। পরে পুলিশ এসে তাদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বিনিয়োগকারীরা বিক্ষোভের এক পর্যায়ে সিএসই কার্যালয়ে প্রবেশ করতে চায়। পুলিশ ১০ জন বিনিয়োগকারীকে প্রবেশের অনুমতি দেয়। এখন বিনিয়োগকারীদের এই ১০ প্রতিনিধির সঙ্গে সিএসই কর্মকর্তাদের আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিক্ষোভ সমাবেশে এক বিনিয়োগকারী শরত্ চৌধুরী বলেন, আমরা মরে গেছি। আমাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। সমাধান না হলে আমরা আগামী রোববার থেকে লাগাতার হরতাল দেব।

সামাজিক ব্যবসা বিষয়ে গ্রামীণ-ফরাসি গ্রুপের সমঝোতা স্মারক

সামাজিক ব্যবসায় সৃষ্টির লক্ষ্যে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও ফ্রান্সের খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান আইডি গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিন-ল্যাক সৌফলেট গতকাল বৃহস্পতিবার সমঝোতা স্মারকে সই করেছেন।
এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, বাচ্চাদের কাপড় সরবরাহ, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র স্থাপন এবং গ্রাম্য গরিব মানুষের কাছে কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান করা।
জিন-ল্যাক সৌফলেট পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে গ্রামীণে যান এবং মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় জিন-ল্যাক সৌফলেট ভবিষ্যতে গ্রামীণের সঙ্গে তাঁর প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
ছয় দিনের সফরে আসা ফরাসি খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান আইডি গ্রুপের কর্মকর্তারা বর্তমানে বাংলাদেশে পরিচালিত সামাজিক ব্যবসার উন্নয়ন ও অগ্রগতির বিষয়ে জোর দেন।
আইডি গ্রুপের চারটি আলাদা ব্র্যান্ড রয়েছে। ব্র্যান্ডগুলো হচ্ছে—ওকাইদি, ওবাইদি, জ্যাকাইদি ও ভেরোনিক দেলাচক্স। শিশুদের কাপড় প্রস্তুতকারী এসব ব্র্যান্ডের বিশ্বজুড়ে ৫৫টি দেশে ৮৬০টি আউটলেট রয়েছে।
সফররত প্রতিনিধিদলটি আইডি গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ওকেওয়ার্ল্ডের অর্থায়নে মানিকগঞ্জ জেলায় পরিচালিত গ্রামীণ শিক্ষা-ওকেওয়ার্ল্ড প্রি-স্কুল প্রজেক্ট পরিদর্শন করেন। এই প্রকল্পে শিশুদের আনন্দমুখর পরিবেশে খেলাচ্ছলে শেখানো হয়। এ ছাড়া প্রতিনিধিদলটি বগুড়ায় গ্রামীণের অন্যান্য সামাজিক ব্যবসায় প্রকল্প পরিদর্শনে যায়।
ইউনূস সেন্টার দুটি সামাজিক ব্যবসায় চালুর লক্ষ্যে আইডি গ্রুপের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছে। এর মধ্যে একটি ব্যবসার আওতায় পাঁচ বছর পর্যন্ত বয়সের শিশুদের জন্য কাপড় তৈরি করা হবে। এটি গ্রাম্য গরিব মানুষদের কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানেরও সুযোগ করে দেবে। আর অন্য ব্যবসার আওতায় শিশুদের পরিচর্যায় একটি দিবা-যত্ন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দ্বৈত কর থেকে অব্যাহতি চায়

দ্বৈত কর পরিহার করতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বা সংস্থাকে আয়করমুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ লিজিং অ্যান্ড ফিন্যানশিয়াল কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশন (বিএলএফসিএ)।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমিতির নেতারা বলেন, বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের আয় মূল কোম্পানিগুলোর আয়ের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। তারপরও অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ও মূল কোম্পানিগুলোকে আলাদাভাবে আয়কর পরিশোধ করতে হয়।
রাজধানীর স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন সমিতির চেয়ারম্যান মফিজউদ্দিন সরকার ও ভাইস চেয়ারম্যান আসাদ খান।
মফিজউদ্দিন সরকার বলেন, বর্তমান আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাড়ে ৪২ শতাংশ হারে আয়কর প্রদান করতে হয়। যদি কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হিসেবে একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি গঠন করে, তখন আবার ওই অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের ওপর সাড়ে ৩৭ শতাংশ হারে আয়কর প্রযোজ্য হয়।
কিন্তু মূল প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশের ওপর ২০ শতাংশ হারে আয়কর প্রদান করতে হচ্ছে। ফলে মূল কোম্পানির আয়কর সাড়ে ৪২ শতাংশ হলেও বাস্তবে ৫০ শতাংশ আয়কর দিতে হচ্ছে। এতে অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান অঙ্গপ্রতিষ্ঠান করতে আগ্রহী হচ্ছে না। তাই আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিকাশের স্বার্থে অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের আয়কে করমুক্ত রাখার দাবি জানানো হচ্ছে।
মফিজ সরকার আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশ ভারতেও এ নিয়ম চালু রয়েছে।
বিএলএফসিএর চেয়ারম্যান আরও বলেন, প্রচলিত আইন ঠিক রেখে অঙ্গপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ দেওয়ার নীতিমালা শিথিল করা প্রয়োজন। বর্তমান নীতিমালায় একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান তার মূলধনের ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ দিতে পারে। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে শতভাগ পর্যন্ত ঋণ দিতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক এ পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠানকে এ ধরনের ঋণ দেওয়ার অনুমতি দেয়নি।
মফিজউদ্দিন সরকার আরও জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিশোধিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা এবং বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের রিজার্ভসহ মোট মূলধন ১২৫ কোটি টাকার বেশি নয়। ফলে অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হিসেবে কোনো মার্চেন্ট ব্যাংক যে পরিমাণ ঋণ পাবে, তা দিয়ে ওই প্রতিষ্ঠান ভালোভাবে চালানো সম্ভব নয়। এ কারণে সমিতি অঙ্গপ্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ দেওয়ার নীতিমালা শিথিলের প্রস্তাব করেছে। তিনি আরও বলেন, এসইসির নীতিমালা অনুযায়ী কোনো মার্চেন্ট ব্যাংক তার পরিশোধিত মূলধনের সর্বোচ্চ পাঁচগুণ পর্যন্ত পুঁজিবাজারে সংশ্লিষ্ট থাকতে পারবে। তিনি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হিসেবে যেসব মার্চেন্ট ব্যাংক রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও এ নীতিমালা অনুযায়ী ছাড় দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, বর্তমানে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ন্যূনতম ছয় মাস মেয়াদি আমানত সংগ্রহ করতে পারে, যা আমানত সংগ্রহের ক্ষেত্রে এ নীতি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ন্যূনতম তিন মাস মেয়াদি আমানত সংগ্রহের সুপারিশ করা হয়।a

চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষতা বাড়াতে ৮ সুপারিশ

চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষতা ও সেবার মান বাড়াতে আট দফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য এখন সুপারিশ আকারে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বন্দর উপদেষ্টা কমিটির এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান এতে সভাপতিত্ব করেন। বক্তব্য দেন সাংসদ মঈন উদ্দীন খান বাদল, আখতারুজ্জামান চৌধুরী, শামসুল হক চৌধুরী, সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল মান্নান হাওলাদার, বন্দর চেয়ারম্যান কমোডর আর ইউ আহমেদসহ সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা।
বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, শ্রম অসন্তোষ পুরোপুরি দূর না করা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করা হবে না। আর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
নগরের সার্কিট হাউসে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বন্দরের ২৭টি আলোচ্যসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গত ৬ অক্টোবর ৪২ সদস্যের এই উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়। পরে বাড়িয়ে ৪৬ সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়। এর আগে উপদেষ্টা কমিটির দুটি বৈঠক হয়েছিল।
শ্রম অসন্তোষের মুখে গত বছরের ১৩ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দরে বাড়তি এক কোম্পানি সেনা মোতায়েন করা হয়। এর আগে থেকে বন্দর নিরাপত্তায় নিয়মিত এক কোম্পানি সেনা মোতায়েন আছে।
উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তের মধ্যে আছে: চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালন কর্মকাণ্ডের দক্ষতা বাড়াতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ; কর্ণফুলী নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা; ট্রাস্ট-কমিশন, না কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বন্দর পরিচালনা হবে, তা নির্ধারণ করতে একটি কমিটি গঠনের সুপারিশ ইত্যাদি। এ ছাড়া যানজট কমাতে একটি ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ, শ্রমিকদের নিয়োগের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়গুলোও এসেছে।
জানা যায়, বৈঠকে উপদেষ্টা কমিটির ৪৬ জন সদস্যের মধ্যে প্রায় অর্ধেকসংখ্যক সদস্য অনুপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় অংশ নেন বন্দর ব্যবহারকারী চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মোরশেদ মুরাদ ইব্রাহিম, বাংলাদেশ লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম, শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি কামাল হায়াত, বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলে একরাম চৌধুরী, চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনালের অপারেটর সাইফ পাওয়ার টেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক টি আর আমিন, মেট্রোপলিটন চেম্বারের পরিচালক এ এম মাহবুব চৌধুরী প্রমুখ।
বৈঠকে সাংসদ মঈন উদ্দীন খান বাদল বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে কর্ণফুলী নদীতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং দরপত্রের অনুমোদন পাওয়া যায়নি। শীত মৌসুম পেরিয়ে গেলে বর্ষা মৌসুমে এ প্রকল্পের কাজ শুরু করা যাবে না। বন্দরের একটি দরপত্রে বিশেষ প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার জন্য পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘কাউকে কাজ দিতে চাইলে দরপত্রের দরকার নেই। ডেকে কাজ দিয়ে দিন।’
শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি কামাল হায়াত বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের মতো বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে প্রেষণে লোক নিয়োগ দিয়ে কখনোই ভালো করা যাবে না।

তালিকাভুক্তির অপেক্ষায় থাকা ৪৮ কোম্পানির হিসাব তদন্তের দাবি

বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়ায় ও অপেক্ষায় থাকা ৪৮টি প্রতিষ্ঠানের হিসাব বিবরণী তদন্তের দাবি তুলেছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) নেতারা।
নেতারা বলেছেন, এসব কোম্পানির অনেকগুলোরই নিরীক্ষিত হিসাব বিবরণীতে বড় দুর্বলতা রয়েছে। তাঁদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে এরা নিজেদের হিসাবে ভোজবাজি বা প্রতারণা (অ্যাকাউন্ট জাগলারি) করেছে। যদি এমন কোনো ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে এসব কোম্পানির তালিকাভুক্তি ও হিসাব বিবরণী তৈরির সঙ্গে যুক্ত সবাইকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তা না হলে বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস কমে যাবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর শেরাটন হোটেলে শেয়ারবাজার-পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএসইর নেতারা এসব দাবি জানান। এতে সংস্থাটির সভাপতি শাকিল রিজভী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি নাসিরউদ্দিন চৌধুরী, পরিচালক ফিরোজ খান, লাইনুন নাহার একরাম ও মাসুদুল হক।
ডিএসইর নেতারা বলেন, বুক বিল্ডিং পদ্ধতির সুযোগ নিয়ে অনেক কোম্পানির শেয়ারই অতিমূল্যায়িত হয়ে বাজারে আসছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোম্পানিকে বাজারে ঢুকতে দেওয়া হবে না। তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে কোম্পানির গুণগত মানের ব্যাপারে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না।
ডিএসইর নেতারা বলেন, ১৯৯৬ সালে শেয়ারবাজারের মহাকেলেঙ্কারির ঘটনায় কিছু ব্রোকারেজ হাউসকে অভিযুক্ত করে হয়েছে। কিন্তু সে সময় যারা নামসর্বস্ব কোম্পানি বাজারে নিয়ে এসেছিল, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনটি আর হতে দেওয়া যায় না।
নেতারা আরও বলেন, যারা কোম্পানিকে বেশি দাম পাইয়ে দিতে হিসাব প্রতারণা করছে, তাদের এবার শাস্তির আওতায় আনা উচিত।
এ প্রসঙ্গে শাকিল রিজভী বলেন, ‘শেয়ারবাজারে দামের ওঠানামা হবে। এটি স্বাভাবিক নিয়ম। এতে সরকারের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই। কিন্তু সরকারের যে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে, তা হলো, কোথাও কোনো আইনের ব্যত্যয় যাতে না ঘটে। এটি যদি নিশ্চিত করা যায় আর কোম্পানির হিসাব বিবরণীতে কোনো ঘাপলা না থাকলে আমাদের শেয়ারবাজার হবে এশিয়ার সেরা।
বুক বিল্ডিং পদ্ধতি প্রসঙ্গে ডিএসইর সভাপতি বলেন, ‘এ পদ্ধতি সারা বিশ্বে সমাদৃত। কিন্তু আমাদের দেশে এটি নতুন। তাই দাম নির্ধারণে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে। এই পদ্ধতি স্থগিত বা বাতিল হোক, এটা আমরা চাই না। তবে পদ্ধতির যেখানে ত্রুটি রয়েছে, সেগুলো সংশোধন করতে হবে।’
ডিএসইর সভাপতি আরও বলেন, শেয়ারবাজারের টাকায় এখন মুদ্রাবাজারে ব্যবসা করছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। গত তিন-চার বছরে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো শেয়ারবাজার থেকে কোটি কোটি টাকা মুনাফা করেছে। সেই টাকা এখন আইনি প্রতিবন্ধকতার কারণে আর শেয়ারবাজারে আসতে পারছে না।
শাকিল রিজভী বলেন, ‘আমরা চাই না ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানতের টাকা ফের শেয়ারবাজারে আসুক। কিন্তু গত কয়েক বছরে তারা যে মুনাফা করেছে, সেটা শেয়ারবাজারে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। শেয়ারবাজারের মুনাফার টাকায় প্রতিষ্ঠানগুলো এখন চড়া সুদে মুদ্রাবাজারে ব্যবসা করছে।’
শাকিল রিজভী দাবি করেন, শেয়ারবাজারের কোনো টাকা লুটপাট হয়নি। এসব টাকার কিছু অংশ ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং কিছু টাকা কয়েকটি কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) আটকে আছে। সেগুলোকে আবার বাজারে ফিরিয়ে আনতে হবে।
এ জন্য আইপিও আবেদনের সময়সীমা কমানোরও দাবি জানান ডিএসইর সভাপতি। তিনি বলেন, বর্তমানে মবিল যমুনা লুব্রিকেন্টসের আইপিওতে বেশ কিছু টাকা আটকে আছে।
বিনিয়োগকারীদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডিএসইর সভাপতি বলেন, ভালো শেয়ারে থাকেন। ভালো বোনাস ও লভ্যাংশ পাবেন। ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না।
বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রচারিত টক শোও বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ প্রসঙ্গে ডিএসইর সভাপতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের তীব্র সমালোচনা করেন।
শাকিল রিজভী আরও বলেন, টেলিভিশন চ্যানেলটি অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন করছে। স্টক এক্সচেঞ্জ-বিরোধী ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু স্টক এক্সচেঞ্জ কোনো ব্যক্তিপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশ ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সিকিউরিটিজ আইনে এ ধরনের প্রচারণার গুরুতর শাস্তির বিধান আছে উল্লেখ করে শাকিল রিজভী আরও বলেন, বিষয়টি তাঁরা এসইসির নজরে দিয়েছেন।

দেশে বিনিয়োগ প্রস্তাব ১৮৮% বেড়েছে

২০০৯ সালের তুলনায় ২০১০ সালে বিনিয়োগ বোর্ডে শিল্প নিবন্ধনের প্রস্তাবিত বিনিয়োগের হার ১৮৮ শতাংশ বেড়েছে।
২০১০ সালের বিনিয়োগ বোর্ডে এক হাজার ৭৮৫টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত হয়েছে। এগুলোর প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৬৫ হাজার ৮৩৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।
আর ২০০৯ সালে বিনিয়োগ বোর্ডে মোট এক হাজার ৫২৪টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত হয়। এগুলোর প্রস্তাবিত মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৮২১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।
সরকারি তথ্য বিবরণীতে এসব পরিসংখ্যান জানানো হয়েছে।
এতে আরও দেখা যায়, ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে বিনিয়োগ বোর্ডে মোট ১৫৮টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত হয়েছে। নিবন্ধিত এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবিত মোট বিনিয়োগের পরিমাণ তিন হাজার ২৫৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।
এই নিবন্ধিত শিল্পের মধ্যে স্থানীয় বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে ১৪১টি শিল্প থেকে, যার পরিমাণ দুই হাজার ৯৬৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা। আর ১০টি যৌথ বিনিয়োগ শিল্পসহ মোট ১৭টি বিদেশি বিনিয়োগসংবলিত শিল্পের বিনিয়োগের পরিমাণ ২৯৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা।
এ ছাড়া বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) সময়ে বিনিয়োগ বোর্ডে মোট ১৯ হাজার ৩৪৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকার ৪৩১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত হয়।
আর শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) সময়ে ২৬ হাজার ৫১৭ কোটি লাখ টাকার মোট ৪৭৭টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত হয়।
অর্থাৎ তৃতীয় প্রান্তিকের তুলনায় চতুর্থ প্রান্তিকে নিবন্ধিত বিনিয়োগ প্রস্তাব বেড়েছে সাত হাজার ১৬৯ কোটি ৬৩ লাখ টাকা বা ৩৭ শতাংশ।
২০১০ সালে মোট বিনিয়োগের মধ্যে স্থানীয় বিনিয়োগের শিল্প রয়েছে মোট এক হাজার ৬০০টি, যেগুলোর বিনিয়োগের পরিমাণ ৪৩ হাজার ৭৭১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। আর যৌথ ও বিদেশি বিনিয়োগের শিল্প রয়েছে ১৮৫টি, যেগুলোর বিনিয়োগের পরিমাণ ২২ হাজার ৬২ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
এ সময়ে খাতওয়ারি সর্বাধিক বিনিয়োগ এসেছে সেবা খাত থেকে, যার হার ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ। এরপর দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে আছে যথাক্রমে বস্ত্র (৩০ শতাংশ) ও রসায়ন খাত (১৮ দশমিক ৮০ শতাংশ)।
এ ছাড়া প্রকৌশল শিল্প খাতে ৭ দশমিক ৮০ শতাংশ; কৃষি খাতে ৬ দশমিক ৬০ শতাংশ; খাদ্যদ্রব্য খাতে সাড়ে ৪ শতাংশ এবং অন্যান্য খাতে দেড় শতাংশ।
সেবা খাতে মূলত বৃহদাকার বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ প্রকল্প, আন্তর্জাতিক মানের হোটেল, সড়ক পরিবহনশিল্প ও অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। গত এক বছরের নিবন্ধিত শিল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে এতে চার লাখ ৪৮ হাজার ৭৩৬ জন লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তা ছাড়া বিনিয়োগ বোর্ডে ২০০৭ ও ২০০৮ দ্বিবার্ষিক শিল্প নিবন্ধনের তুলনায় ২০০৯ ও ২০১০ দ্বিবার্ষিক শিল্প নিবন্ধন বৃদ্ধির হার ৫৫ শতাংশ।
২০০৭ ও ২০০৮ সালে বিনিয়োগ বোর্ডে নিবন্ধিত মোট তিন হাজার ৩৯২টি শিল্পে মোট ৫৭ হাজার ৩৩৬ কোটি টাকা বিনিয়োগ প্রস্তাব করা হয়। অপরদিকে ২০০৯ ও ২০১০ সালে নিবন্ধিত তিন হাজার ৩০৯টি শিল্পে মোট ৮৮ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব করা হয়েছে।

গুগলের নতুন প্রধান নির্বাহী ল্যারি পেজ

জনপ্রিয় সার্চইঞ্জিন গুগলের প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির সহযোগী প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ। তিনি এরিক স্মিডের স্থলাভিষিক্ত হবেন।
প্রায় এক দশক ধরে গুগলের প্রধান নির্বাহী এরিক প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিতে পারেন। গুগল জানিয়েছে, এরিক প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন চুক্তি, অংশীদারিত্ব, ব্যবহারকারী এবং বড় ধরনের ব্যবসায়িক সম্পর্কের বিষয়ে কাজ করবেন।
গুগলের জন্য সবচেয়ে ভালো সংবাদ হলো মুনাফা বৃদ্ধি। গত তিন মাসে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা এসেছে ২৫৪ কোটি ডলার।
তবে বিনিয়োগকারীরা যখন গুগলের জন্য একজন অভিজ্ঞ ব্যবসায়িক নেতা আশা করছে, তখন ৫৫ বছরের এরিকের পরিবর্তে ৩৭ বছরের পেজকে নিয়োগ দেওয়া হলো।
এরিক এক ব্লগ পোস্টে লিখেছেন, ‘আমি স্পষ্টভাবে বলছি, নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ল্যারি প্রস্তুত। ল্যারি এবং গুগলের আরেক সহযোগী প্রতিষ্ঠাতা ব্রিনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আমি খুবই আনন্দিত।’

মরিনহোকে ডাকছেন মাতেরাজ্জি

হোসে মরিনহো চলে যাওয়ার পর অনেক দিন মন খারাপ করে ছিলেন মাইকন। ‘গুরু’র সঙ্গে রিয়াল মাদ্রিদে যেতে চেয়েছিলেন তিনিও। ইন্টার মিলানের খেলোয়াড়েরা মরিনহোকে ভালোও বাসতেন ভীষণ। এখনো তাঁকে ভোলেননি। ডিফেন্ডার মার্কো মাতেরাজ্জি তো সাবেক গুরুকে আবার ফিরে পেতে চান।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক গুঞ্জন—খেলোয়াড় কেনা নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মন-কষাকষি চলছে রিয়াল কোচ মরিনহোর। আর এর জের ধরেই রিয়াল ছাড়তে পারেন পর্তুগিজ কোচ। কথাটা মাতেরাজ্জির কানে যেতেই মরিনহোকে আহ্বান জানিয়েছেন—ফিরে আসুন।
কিন্তু মাতেরাজ্জি বললেই হলো! মরিনহো চাইলেই কি এখন ফিরে আসতে পারবেন ইন্টারে? লিওনার্দো দায়িত্ব নিয়েছেন কদিন মাত্র হলো এবং তিনি ভালোই করছেন। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে লিওনার্দো দায়িত্ব নেওয়ার পর পাঁচটি ম্যাচ খেলেছে ইন্টার। জয় পেয়েছে সব কটিতে। এর পরও কি তাঁকে ছেড়ে মরিনহোকে নেবে ক্লাব কর্তৃপক্ষ?
মাতেরাজ্জি যদি কর্মকর্তা হতেন, তাহলে ব্যাপারটা অন্য রকমই হতো। ‘লিওনার্দো ও মরিনহো একসঙ্গে ইন্টারের দায়িত্ব নিতে পারেন’—ইতালির একটি ক্রীড়া ওয়েবসাইটে বলেছেন ইতালির হয়ে বিশ্বকাপ জেতা ডিফেন্ডার। আর এখন যদি নাও হয়, কোনো না কোনো একদিন মরিনহো আবার ইন্টারে ফিরবেন বলে বিশ্বাস করেন বিশ্বকাপ ফাইনালে জিদানের কাছে ঢুস খেয়েও ‘বিখ্যাত’ হয়ে পড়া মাতেরাজ্জি।

কাল শ্রীলঙ্কা যাচ্ছেন মাশরাফি

আলোচনাটা আগে থেকেই ছিল। কাল বোর্ডসভায় নিয়ে নেওয়া হলো সিদ্ধান্তও। আগামীকাল শ্রীলঙ্কায় যাচ্ছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। উদ্দেশ্য, অস্ট্রেলিয়ান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডেভিড ইয়াংকে একবার আহত পায়ের অবস্থাটা দেখিয়ে আসা।
মাশরাফির হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করা চিকিৎসক ডেভিড ইয়াং কী একটা কাজে কাল শ্রীলঙ্কা সফরে আসবেন। ইনজুরির পরপর মাশরাফিকে খবরটা দিয়ে ইয়াংই বলেছিলেন, চাইলে তখন কলম্বো গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করে আসতে পারেন তিনি। সেই ধারাবাহিকতাতেই কাল মাশরাফিকে শ্রীলঙ্কা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি পরিচালনা পর্ষদ। সভা শেষে বিসিবির পরিচালক ও ক্রিকেট পরিচালনা কমিটির প্রধান এনায়েত হোসেন দিয়েছেন এই খবর।
কালকের সভায় বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের টিকিট বিক্রি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের টিকিট বিক্রি শুরু হবে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে। বিশ্বকাপের ম্যাচের টিকিট বিক্রি শেষ হয়ে গেছে আগেই।

ওয়াটসন-ভীতি ইংল্যান্ডের

মাইক হাসির মুখে এখনো হাসি ফেরেনি। কয়েক দিনের মধ্যে শুরু হবে তাঁর পুনর্বাসন-প্রক্রিয়া। যদিও অস্ট্রেলিয়া এখনো নিশ্চিত নয়, পুরো ফিট হয়ে কবে মাঠে নামতে পারবেন এই ব্যাটসম্যান। হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট থাকার পরও ১৫ জনের দলে তাঁকে রাখার ঝুঁকি নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দল ঘোষণার পর পরই অস্ত্রোপচার করিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে মাঠে নামলেও এর আগে প্রস্তুতি হিসেবে কোনো ম্যাচে হাসির খেলার সম্ভাবনা একেবারেই নেই।
হাসিকে ছাড়াই আজ বিশ্বকাপ ‘প্রস্তুতি’ শুরু করছে অস্ট্রেলিয়া। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সাত ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয়টি আজ। হোবার্টের এই ম্যাচ থেকেই আসলে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিতে শুরু করবে দুদলই। সিরিজের প্রথম ম্যাচটি আসলে ছিল ১৫ জনের দলে জায়গা করে নেওয়ার লড়াই। সেই পর্ব শেষ। এখন শুরু আসল লড়াই।
প্রথম ম্যাচে দারুণ এক জয় পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু স্বস্তি কি পেয়েছে? শেন ওয়াটসনের ১৬১ রানের ইনিংস ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার বাকিরা খুব একটা ভালো করেননি। ব্রেট লি ৯ ওভার বল করে ৪৩ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন। এ ছাড়া বাকিরা প্রায় সবাই রান দিয়েছেন ঝুড়ি ঝুড়ি। ইংল্যান্ড তাই ২৯৪ রানের পুঁজি পেয়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ওয়াটসনে উদ্ধার। রিকি পন্টিংয়ের অনুপস্থিতিতে নেতৃত্ব দেওয়া মাইকেল ক্লার্ক ৩৬ রান করেছেন ঠিকই, কিন্তু বল খরচ করেছেন ৫৭টি।
ইংল্যান্ডের জন্যও দুশ্চিন্তার উপকরণ আছে বৈকি! ৩০ ওভার শেষে তাদের স্কোর ছিল ১৭৪/৩। এত ভালো অবস্থানে থাকার পরও ৫৮ রানে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলায় প্রত্যাশিত স্কোর ৩০০ পেরোয়নি। এরপর বোলাররা তো দাঁড়াতেই পারলেন না ওয়াটসনের বিপক্ষে।
এই ম্যাচে দুদলের বোলারদের সামনে তাই নতুন করে গা-ঝাড়া দিয়ে ওঠার চ্যালেঞ্জ। যদিও গলায় সংক্রমণের কারণে অস্ট্রেলিয়া দলে থাকতে পারছেন না মিচেল জনসন। ইংল্যান্ড দলেও নেই গ্রায়েম সোয়ান, জেমস অ্যান্ডারসন বিশ্রামে। ইংলিশ বোলারদের নেতৃত্ব দেবেন মাত্র ৩৮ উইকেটের মালিক টিম ব্রেসনান। ইংল্যান্ড দলে পরিবর্তন আছে আরেকটি। স্টিভ ডেভিসের বদলে আজ আবার উইকেটের পেছনে ম্যাট প্রিয়র। অ্যাশেজ, এরপর প্রথম ওয়ানডেতে বাইরে বসে থাকা অস্ট্রেলীয় স্পিনার নাথান হরিজও ফিরছেন। অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ দলে একমাত্র স্পেশালিস্ট স্পিনার হিসেবে ঠাঁই করে নেওয়া হরিজেরও এটি প্রস্তুতির শুরু।

তিনে ডিওএইচএস চারে গাজী

সুপার লিগের ছয় দল এক রকম ঠিকই হয়ে ছিল। দু-একটা জায়গায় শুধু স্থান নির্ধারণী ব্যাপার ছিল। কাল লিগ পর্বের শেষ তিনটি ম্যাচও হয়ে যাওয়ার পর শীর্ষ ছয় দলের লাইনআপটা এখন পরিষ্কার—আবাহনী, মোহামেডান, ওল্ড ডিওএইচএস, গাজী ট্যাংক, সিসিএস ও বিমান।
ওপরের দুটি জায়গা আবাহনী-মোহামেডান নিয়ে নিয়েছিল আগেই। কাল লিগের তিন ম্যাচের দুটি হয়ে দাঁড়িয়েছিল পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয়-চতুর্থ স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। বিকেএসপিতে ওরিয়েন্টকে ১২৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে তৃতীয় স্থানে নাম লিখিয়েছে ওল্ড ডিওএইচএস। তিন নম্বর হওয়ার দৌড়ে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী গাজী ট্যাংক কাল সিসিএসকে ১ উইকেটে হারানোয় দুই দলের পয়েন্টই এখন ১৬ করে। তবে মুখোমুখি লড়াইয়ে গাজীকে হারানোর সুবাদে এগিয়ে আছে ওল্ড ডিওএইচএস। সিসিএস, বিমানের সমান ১২ পয়েন্ট নিয়েও ঠিক এ কারণেই সুপার লিগে ওঠা হয়নি কলাবাগানের। কাল দিনের অন্য ম্যাচে বিকেএসপিকে ৩ উইকেটে হারিয়েছে ভিক্টোরিয়া। পয়েন্ট টেবিলের শেষ দুই দল ওরিয়েন্ট আর প্রাইম দোলেশ্বরের সঙ্গে রেলিগেশন লিগ খেলবে বিকেএসপি। আগামী ২৪ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার কথা সুপার লিগ ও রেলিগেশন লিগ।
ফতুল্লা স্টেডিয়ামে দিনের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে সিসিএসকে মাত্র ১ উইকেটে হারিয়েছে গাজী ট্যাংক। সিসিএসের ১৭৪ রানের জবাবে ৪৬.৩ ওভারে ম্যাচ জিতলেও ৯ উইকেট পড়ে গিয়েছিল গাজীর। গাজীর পক্ষে আগের দিন বিশ্বকাপ দলে ডাক পাওয়া শাহরিয়ার নাফীস ৪৮ রান করলেও ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়া গাজী একটা সময়ে পরাজয়ের ঘণ্টাধ্বনিই শুনতে পাচ্ছিল। ১০১ রানে ৬ উইকেট পড়ার পর দলকে জয়ের পথ দেখিয়েছে মূলত আলী আজমত ও নাসির হোসেনের ৪৩ রানের সপ্তম উইকেট জুটি।
গাজীর মাত্র ১ উইকেটে জেতার দিনে ওল্ড ডিওএইচএস পেয়েছে ১২৪ রানের বিশাল জয়। মিডল অর্ডারে তানভিরের ৮১ ও ফরহাদ রেজার ৪৮ রানের সৌজন্যে ৭ উইকেটে ২৩৬ রান করেছিল ওল্ড ডিওএইচএস। ১১০ রানে ৫ উইকেট পড়ার পর ষষ্ঠ উইকেটে ১১৬ রানের জুটি গড়ে এই দুজনই দলকে দিয়েছেন লড়ার মতো স্কোর। জবাবে ওরিয়েন্ট অলআউট মাত্র ১১২ রানে।
বিকেএসপিতে ‘স্বাগতিক’ বিকেএসপি ১৮৪ রানে অলআউট হয়েও ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে লড়াই খারাপ করেনি। ভিক্টোরিয়া ৩ উইকেটের জয় পেয়েছে মাত্র ১ ওভার বাকি থাকতে।
কলাবাগান আর সূর্যতরুণের সঙ্গে ভিক্টোরিয়াও এবার থেকে গেল মাঝামাঝি। সুপার লিগ খেলা হবে না, রেলিগেশন লিগও খেলতে হবে না।

পথ ক্রিকেট শুরু আজ থেকে

ধানমন্ডি ৮ নম্বর ক্লাব মাঠে আজ শুরু হচ্ছে ‘পোলার আইসক্রিম স্ট্রিট ক্রিকেট’। ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) আয়োজিত দুই সপ্তাহের টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে ১০০টি দল। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনে খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিতে মাঠে থাকবেন জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক নাঈমুর রহমান, খালেদ মাহমুদ, খালেদ মাসুদ ও হাবিবুল বাশার। ২ ফেব্রুয়ারি ফাইনালের বিজয়ী দল প্রাইজমানি পাবে ৫০ হাজার টাকা।

সবাইকে শান্ত থাকতে বললেন মাশরাফি

নড়াইলে হরতাল পালিত হয়েছে কাল, আজ মানববন্ধন করার ঘোষণাও আছে। এদিকে মাশরাফি বিন মুর্তজার বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ পড়ার ঘটনায় কাল প্রতিবাদ মিছিল হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসেও। ভক্ত-সমর্থকদের এসব কর্মসূচিকে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখলেও মাশরাফির অনুরোধ, সবাই যেন শান্ত থাকে।
নড়াইল প্রতিনিধির পাঠানো খবর, পূর্ণ দিবস হরতাল ঘোষণা হলেও সুলতান মেলার কারণে পরে নড়াইলে হরতাল হয়েছে অর্ধদিবস। ভোর থেকেই শহরে খণ্ড খণ্ড মিছিল বের হয়। চলে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ। বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় দুটি ট্রাক ভাঙচুর করে। পরে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। স্থানীয় স্কুল-কলেজেও যেন অঘোষিত ছুটি ছিল এদিন। আইনজীবী সমিতি বর্জন করেছে আদালত।
ভক্তদের ভালোবাসার এই বহিঃপ্রকাশ দেখে মাশরাফি বলেছেন, ‘আমি তাদের কী বলব! সবাই আমাকে ভালোবাসে, পছন্দ করে—এটা জেনে ভালো লাগছে।’ তবে ভালোবাসাটা যেন ধ্বংসের দিকে না যায়, ভক্তদের সেই অনুরোধ করেছেন নড়াইল এক্সপ্রেস, ‘সবার কাছে আমার একটাই অনুরোধ, তারা যেন শান্ত থাকে। যেহেতু একটা সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে, এখন আর কিছু করার নেই। তাদের এ ধরনের কর্মসূচির কারণে যদি অপ্রীতিকর কিছু ঘটে যায়, সেটা খারাপই হবে।’

ভেঙে যাবে ২০০ ও ৪০০

কে সেরা—শচীন টেন্ডুলকার, নাকি ব্রায়ান লারা? যখন খেলতেন তখন যেমন এই তুলনাটা হতো, লারা ক্রিকেট ছাড়ার পরও তা হচ্ছে। লারা অবশ্য আগের মতোই সেই বিনয়ী ভঙ্গিতে টেন্ডুলকারকেই রাখছেন এগিয়ে, ‘আমার দেখা সেরা খেলোয়াড় হলো শচীন। শচীনের সঙ্গে আমার তুলনা হওয়াটাকে আমি সম্মান বলে মনে করি।’
ডন ব্র্যাডম্যানের সঙ্গে তুলনা করতে বললে টেন্ডুলকারকে কোথায় রাখবেন লারা? ‘ব্র্যাডম্যান ছিলেন গ্রেট ব্যাটসম্যান। একজনের ক্যারিয়ারে ৯৯.৯৬ গড় করতে পারা সহজ নয়। কিন্তু আমি ব্র্যাডম্যানের ব্যাটিং দেখিনি, দেখেছি শচীনেরটা। আর ২০ বছর ধরে এভাবে খেলা চালিয়ে এমনসব রেকর্ড ধরে রাখতে হলে অবশ্যই বিশেষ কিছু হতে হবে’—বলেছেন লারা।
তবে টেন্ডুলকারের ওয়ানডে ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ডটা ভেঙে যাবে বলেই মনে করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবদন্তি। তাঁর ধারণা, টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর অপরাজিত ৪০০ রানের ইনিংসটিও অক্ষত থাকবে না, ‘আমার মনে হয়, শচীনের ২০০ ছাড়িয়ে যাবে কোনো ব্যাটসম্যান। এখন অনেক টি-টোয়েন্টি খেলা হচ্ছে। ফলে শেবাগ বা গেইলের মতো কেউ শুরুতে নেমে ৫০ ওভার টিকে থাকলেই এটা করে ফেলবে। আমার ৪০০ রানও কেউ টপকে যাবে একদিন। তবে ৩৮ বছর বয়সী শচীনের পক্ষে এটা সম্ভব নয়। আমি আবার বলি, এটা হয়তো গেইল বা শেবাগই টপকে যাবে। এমনকি পোলার্ডও যদি পুরো এক দিন ব্যাট করে, কে জানে?

যেন রুপালি পর্দার নায়ক

পাকিস্তানের ক্রিকেট=মিসবাহ-উল হক!
পাকিস্তানের ক্রিকেট মানেই নাকি নাটক। যে নাটকের পরতে পরতে থাকে উত্থান-পতনের রোমাঞ্চ। তা-ই যদি হয়, মিসবাহই এখন এটির সমার্থক নাম। তাঁর ক্যারিয়ারের মতো উত্থান-পতন-উত্থান আর কজনের হয়েছে বলুন! ২০০১ সালে নিউজিল্যান্ড সফরে জাতীয় দলে অভিষেক। পরের ম্যাচেই বাদ। ১০ বছর পর সেই নিউজিল্যান্ডে মিসবাহ পাকিস্তানের টেস্ট সিরিজজয়ী অধিনায়ক! শুরু আর শেষের এই বিপরীতমুখী চরিত্র তাঁর ক্যারিয়ারজুড়েই।
এক বছর পর লাহোরের ওয়ানডে দিয়ে জাতীয় দলে ফিরলেন। মোটামুটি নির্বিঘ্নে খেলে গেলেন ২০০২-এর পুরোটা। কিন্তু ২০০৩ বিশ্বকাপ দলে ঠাঁই হলো না। আবারও বাদ পড়লেন। বিশ্বকাপে ভরাডুবি আবারও ফিরিয়ে আনল তাঁকে দলে। এবারও জায়গাটা পাকা করতে পারলেন না। বাদ পড়ে গেলেন চার বছরের জন্য। মিসবাহ যেন হারিয়েই গেলেন।
ফিরলেন আবার ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে, ৩৩ বছর বয়সে। যে বিশ্বকাপে নিজেকে নতুন করে চেনালেন। একটুর জন্য শিরোপা এনে দিতে না পারলেও জাতীয় দলে জায়গা ধরে রাখলেন লম্বা সময়ের জন্য। কিন্তু ২০১০ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর আবারও বাদ। শ্রীলঙ্কা আর ইংল্যান্ড সফরে নেওয়া হলো না তাঁকে।
ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তানের ক্রিকেটে আবারও ওলট-পালট। স্পট ফিক্সিং ঝড়। এবার মিসবাহ ফিরলেন। ফিরলেন টেস্ট দলের অধিনায়ক হয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুবাই-আবুধাবিতে সিরিজ ড্র করার পর নিউজিল্যান্ডে পাকিস্তান জিতল ১-০ ব্যবধানে। চার বছর আর ১০টি সিরিজ পর টেস্ট সিরিজে জয়ের স্বাদ পেল পাকিস্তান। উপমহাদেশের বাইরে যেটি পাকিস্তানের সাত বছর পর জেতা সিরিজ।
আকস্মিকভাবে নেতৃত্ব পাওয়া মিসবাহর ব্যাটিংও যেন বদলে গেছে। অধিনায়ক হওয়ার আগে ৩৩ টেস্ট ইনিংসে তাঁর গড় ছিল ৩৩.৬০, অধিনায়ক হওয়ার পরের সাত ইনিংসে গড় ১১২.৭৫! মারকুটে মিসবাহ নয়, সেখানে অধিনায়কের দায়িত্বশীলতারই ছাপ বেশি।
পাকিস্তান যে এখনো বিশ্বকাপের অধিনায়ক ঠিক করতে পারল না, সেটার ‘দায়’ তাঁর এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সেরই। অন্য সময় হলে শহীদ আফ্রিদি হতেন অবধারিত পছন্দ। কিন্তু বিশ্বকাপের নেতৃত্ব মিসবাহর কাঁধে তুলে দেওয়ার দাবিটা দিনকে দিন জোরালোই হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত যদি তা-ই হয়, আর বিশ্বকাপেও মিসবাহ যদি অবিস্মরণীয় কিছু করে ফেলতে পারেন...এর চেয়ে সার্থক সমাপ্তি আর কী হতে পারে নাটকের!

ইংল্যান্ডের জয়ের লক্ষ্য ২৩১ রান

পাকিস্তানের মতো অস্ট্রেলিয়ার গায়েও ধীরে ধীরে ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ তকমাটা লাগতে যাচ্ছে কি না, তা নিয়ে ভালোভাবেই চিন্তাভাবনার অবকাশ রয়েছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে যে দল ২৯৫ রান তাড়া করে ছয় উইকেটের জয় পেয়েছে, সেই একই দল দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অলআউট হয়েছে মাত্র ২৩০ রানে। ২৩০ রানটা দিয়ে আসলে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটিং বিপর্যয়ের চিত্রটা ঠিকমতো বোঝানো যাবে না। ১৪২ রানেই আট উইকেট হারানোর পর অসিরা যে শেষ পর্যন্ত ২৩০ রান পর্যন্ত আসতে পেরেছে তার পুরো কৃতিত্বটাই প্রাপ্য শন মার্শের। ৬ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ১১০ রানের অসাধারণ এক ইনিংস উপহার দিয়েছেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। নবম উইকেট জুটিতে ডগ বলিঙ্গারকে সঙ্গে নিয়ে গড়েছেন অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বোচ্চ ৮৮ রানের জুটি। অস্ট্রেলিয়ার ছয়জন ব্যাটসম্যান ফিরে গেছেন দুই অঙ্কের কোটা স্পর্ষ না করেই।
আজ টসে জিতে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ইংলিশ অধিনায়ক অ্যান্ডি স্ট্রাউস। ১৩ ওভারের মধ্যে মাত্র ৩৩ রানেই অস্ট্রেলিয়ার প্রধান চার ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে পাঠিয়ে এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতাও বেশ ভালোমতোই প্রমাণ করেছিলেন ইংলিশ বোলাররা। আগের ম্যাচে অপরাজিত ১৬১ রান করা ওয়াটসন আজ আউট হয়েছেন মাত্র পাঁচ রানে। আরেক ওপেনার ব্রাড হাডিনও ফিরেছেন পাঁচ রানে। দুটি উইকেটই নিয়েছেন আজমল শাহজাদ। পঞ্চম উইকেট জুটিতে ১০০ রানের জুটি গড়ে সে বিপর্যয় কিছুটা সামলে নিয়েছিলেন ক্যামেরন হোয়াইট ও শন মার্শ। কিন্তু এরপর স্কোরবোর্ডে মাত্র ১০ রান যোগ হতেই একে একে ফিরে যান হোয়াইট (৪৫), স্মিথ (০), হরিজ (২) ও ব্রেট লি (০)। মাত্র পাঁচ ওভারের ব্যবধানেই চার উইকেটে ১৩২ রান থেকে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর দাঁড়ায় আট উইকেটে ১৪২ রান।
ভয়াবহ এই ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর অসিরা ১৭০ রান পর্যন্তও পৌঁছাতে পারবে কি না, তা নিয়েই সংশয়ে পড়ে গিয়েছিলেন সবাই। কিন্তু এরপর যেন অন্য চেহারায় আবির্ভূত হলেন মার্শ। দ্রুতগতিতে ব্যাট চালিয়ে খুব সহজেই পূর্ণ করে ফেললেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় শতক। ডগ বলিঙ্গারও বেশ ভালোভাবেই সঙ্গ দিয়েছেন মার্শকে। তিনি খেলেছেন ৩০ বলে ৩০ রানের লড়াকু ইনিংস। এ দুজনের অসাধারণ ব্যাটিংয়ে ২৫০ রানের স্বপ্নও দেখা শুরু করেছিলেন অসি সমর্থকেরা। শেষ পর্যন্ত ব্যাট করতে পারলে সেটা হয়তো হয়েও যেতে পারত। কিন্তু ৪৯তম ওভারের প্রথম দুই বলেই মার্শ ও বলিঙ্গারকে আউট করে ২৩০ রানেই অস্ট্রেলিয়াকে গুটিয়ে দেন ক্রিস ট্রেমলেট। রয়টার্স/ক্রিকইনফো।

অতৃপ্তির নাম মাশরাফি-অলক

টেলিভিশন খুললে টক-শো। চায়ের দোকানে আড্ডা। বাসে বাদুরঝোলা হয়েও আলোচনার বিষয় বিশ্বকাপের দল। মাশরাফি বিন মুর্তজাকে না নেওয়াটা ঠিক হলো কিনা, অলক কাপালি কেন নেই ১৫ সদস্যের দলে—নাগরিক জীবন ছাড়িয়ে এসব আলোচনা দেশের আনাচকানাচে।
বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতির সমান্তরালে এ দেশের মানুষ ক্রিকেট-বোদ্ধা হয়ে উঠছে। মাশরাফির কান্নায় তারা যেমন আবেগতাড়িত, তেমনি দলে আরেকজন পেসার নিলে ভালো হতো কি না, মগ্ন সেই বিশ্লেষণেও। বিশ্বকাপের বাংলাদেশ দল নিয়ে সাধারণ ক্রিকেটভক্তদের এসব বিশ্লেষণের সঙ্গে সাবেক ক্রিকেটারদের চিন্তাভাবনার খুব অমিল নেই। সাধারণের আলোচনায় যেমন মাশরাফি ও অলক, ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের চিন্তায়ও তা-ই। প্রধান নির্বাচক রফিকুল আলমের দলটাকে এই মুহূর্তের সেরা দল মানলেও এই দুই ক্রিকেটারের জন্য দীর্ঘশ্বাস পড়ছে।
সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমানে ধারাভাষ্যকার আতহার আলী খান বিশ্বকাপে সাকিব আল হাসানের দলকে ‘মোটামুটি ভালো’ বললেও একটা অতৃপ্তি অনুভব করছেন, ‘বিশ্বকাপে একেবারে নতুন কাউকে নিলে সেটা জুয়া হয়ে যেত। সেদিক দিয়ে পরীক্ষিতদের ওপরই আস্থা রেখেছেন নির্বাচকেরা। তবে দু-একটা জায়গায় আরেকটু ভালো হতে পারত।’
দু-একটা জায়গা বলতে আতহার মাশরাফি ও অলকের কথাই বলেছেন। ইনজুরির পর কেন মাশরাফিকে একবার বিদেশে চেকআপ করিয়ে আনা হলো না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন আতহার। আর বিশ্বকাপ যেহেতু এখনো বেশ কয়েক দিন দূরে, মাশরাফিকে দলে রাখা যেত বলেও মনে করেন তিনি, ‘ভারত-অস্ট্রেলিয়া দলের সব ক্রিকেটারও এক শ ভাগ ফিট না। আমার মনে হয়, ১৫ জনের দলে মাশরাফিকে রাখা যেত। পরে সে ফিট না হলে আমরা রিপ্লেসমেন্ট নিতাম। প্রধান নির্বাচক বলেছেন, মাশরাফির নাকি এখনো দলে আসার সম্ভাবনা আছে, এটা তো আসলে সম্ভব না। তার জন্য তো কাউকে ইনজুরিতে পড়তে হবে।’ সাবেক ওপেনারের মতে, ১৫ জনের দলে পেসার থাকা উচিত ছিল চারজন এবং তা মাশরাফিকে নিয়েই। সে সঙ্গে বোলিং বৈচিত্র্যের জন্য অলকের পক্ষেও ভোট দিয়েছেন আতহার, ‘দলে তিনজন বাঁহাতি স্পিনার কেন? বাঁহাতি তো সাকিব-রাজ্জাক আছেই। সঙ্গে অলকের লেগ স্পিনটা থাকলে ভালো হতো। অলক সোহরাওয়ার্দীর চেয়ে অনেক ভালো ব্যাটসম্যানও। তাকে নিলে পাওয়ার প্লের ব্যাটিংয়ের জন্যও ভালো হতো।’
মাশরাফির বাদ পড়া প্রসঙ্গে প্রায় একই মত সাবেক দুই অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ ও খালেদ মাসুদের। কোচ-অধিনায়ক বরাবর ফিট মাশরাফিকে গুরুত্ব দেন, কিন্তু মাহমুদের কাছে ‘আনফিট’ মাশরাফিরও মূল্য আছে। ‘ফিট মাশরাফি তো দলে থাকবেই। আমি মনে করি, মাশরাফি এই মুহূর্তে আনফিট হলেও তাকে দলে রাখা উচিত ছিল। দলে থাকলে সে ফিটনেস ফিরে পেতে সিরিয়াস থাকত’—বলেছেন মাহমুদ। তিনিও মনে করেন, দল থেকে বাদ দিয়েও মাশরাফিকে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখানোটা অবাস্তব, ‘এটা তো কাঁদতে থাকা একটা বাচ্চাকে চকলেট দেওয়ার মতো হয়ে গেল! আর তাঁরা বলছেন, কেউ ইনজুরিতে পড়লে মাশরাফি দলে আসবে, সেটাও ঠিক না। আগে থেকেই কেন একজনের ইনজুরির অপেক্ষায় থাকব আমরা? তাতে তো আরেকজনের স্বপ্ন ভেঙে যাবে!’
আরেক সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ প্রথমে ‘ইনজুরির কাছে সবাইকেই হার মানতে হয়’ বলে সান্ত্বনা দিয়েছেন মাশরাফিকে। দেশের মাটিতে হতে যাওয়া বিশ্বকাপে মাশরাফির খেলা দেখতে না পারাটা তাঁকে পোড়াবে। তবে মাসুদও মনে করেন, মাশরাফির জন্য আরেকটু অপেক্ষা করাই উচিত ছিল। বিশ্বকাপের দল নিয়ে তাঁর আরেকটা অতৃপ্তি অলকের অনুপস্থিতি, ‘অলক থাকলে খুব ব্যালান্সড হতো দলটা। এটা ঠিক, সে গত দুই বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেনি। তবে আমার মনে হয়, বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে গত নিউজিল্যান্ড বা জিম্বাবুয়ে সিরিজেই অলককে একটা সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল।’ আর মাহমুদ তো দুই বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট না খেলার কথাটাকে অজুহাতই বলছেন, ‘এটা একটা অজুহাত মাত্র। আট নম্বরে নাঈম বা সোহরাওয়ার্দী যে কারও চেয়ে অলক ভালো ব্যাটসম্যান। ৭ ওভারে ৬০ রান লাগলে সেটা অলকের পক্ষেই তোলা সম্ভব। সঙ্গে ওর লেগ স্পিনটা তো ছিলই।’
মাশরাফি-অলকের বাদ পড়া নিয়ে হতাশা আছে। তবে সাবেক এই তিন ক্রিকেটারেরই শেষ কথা—বিশ্বকাপের দলটাই এই মুহূর্তের সেরা দল। কে থাকলেন কে বাদ পড়লেন, সেসব না ভেবে বিশ্বকাপে এই দলের পাশে থাকবেন সবাই। দলটার নাম যে বাংলাদেশ!

বনেধ অচল দার্জিলিং

গোর্খাল্যান্ড রাজ্যের দাবিতে পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জনমুক্তি মোর্চার ডাকে দ্বিতীয় দফার টানা বনেধ অচল হয়ে পড়েছে দার্জিলিং। মঙ্গলবার থেকে বন্ধ্ শুরু হয়।
পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্যের দাবিতে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা তিন পর্যায়ে ২৭ দিনের দার্জিলিং বনেধর ডাক দেয়। দার্জিলিং জেলার তিনটি মহকুমা দার্জিলিং, কালিম্পং এবং কার্শিয়াংজুড়ে চলছে দ্বিতীয় পর্যায়ের বন্ধ্। দ্বিতীয় পর্যায়ের বন্ধ্ শেষ হবে আগামী ২৫ জানুয়ারি। এরপর শেষ পর্যায়ের বন্ধ্ শুরু হবে ২৯ জানুয়ারি। শেষ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।

গোপন চিঠি প্রকাশে ব্লেয়ারের ওপর চাপ সৃষ্টির আহ্বান

ইরাক যুদ্ধ বিষয়ে গোপন চিঠি জনসমক্ষে প্রকাশের জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। গত বুধবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রশ্নোত্তর অধিবেশনে তিনি এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রিপরিষদ-বিষয়ক সচিব স্যার গাস ও’ডোনেল সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশকে ইরাক যুদ্ধে যাওয়ার ব্যাপারে ২০০২ সাল থেকে লেখা ব্লেয়ারের চিঠিগুলো প্রকাশের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর এ ব্যাপারে এই বক্তব্য দেন ক্যামেরন। ব্লেয়ারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে চিঠি প্রকাশ করতে অসম্মতি জানান গাস ও’ডোনেল।
প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন ব্রিটিশ এমপিদের উদ্দেশে বলেন, ইরাক যুদ্ধের ব্যাপারে ব্লেয়ারের যতখানি সম্ভব পরিষ্কার ও খোলামেলা কথা বলা উচিত। এ ব্যাপারে আরও স্বচ্ছতা দাবি করে তিনি বলেন, ‘ওই যুদ্ধ নিয়ে টানা উপসংহারের বিষয়ে যারা এখনো অসন্তুষ্ট, তাদের ব্লেয়ারের কাছে চিঠি লেখার সুযোগ থাকা উচিত এবং এ বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গিও জানানো উচিত। আমার দিক থেকে জানাতে চাই, আমি আশা করছি, এ ব্যাপারে গঠিত চিলকট তদন্ত কমিশন তাদের সাধ্যমতো খোলামেলা ও পরিষ্কারভাবে কাজ করবে।’
ইরাক যুদ্ধ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের জবাব খুঁজতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের নেতৃত্বাধীন সরকার চিলকট কমিশন গঠন করে।

কমন্স সভায় মিউজিক্যাল টাই বিড়ম্বনা

বক্তৃতা করার সময় টাইয়ের ভেতর থেকে গান বেজে ওঠায় সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চাইলেন যুক্তরাজ্যের এক পার্লামেন্ট সদস্য। গত বুধবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সে বক্তৃতা করছিলেন নাদিম জাওয়াবি। বক্তৃতার মাঝপথে হঠাৎ তাঁর গলায় ঝোলানো লাল টাইটি (মিউজিক্যাল টাই) থেকে গান বেজে ওঠে। এতে পার্লামেন্টের সদস্যরা হকচকিত হয়ে যান। সবাই শব্দের উৎস খুঁজতে থাকেন। অবস্থা বেগতিক দেখে নাদিম দ্রুত মিউজিক্যাল টাইটির সুইচ বন্ধ করে দেন। এর পর তিনি সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চান এবং বলেন, ক্যানসারের বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে তিনি এই টাইটি ব্যবহার করতেন। কিন্তু বক্তৃতার সময় এটি এভাবে বেজে উঠবে, তা বুঝতে পারেননি।
এ ব্যাপারে পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার ডন প্রিমারোলো বলেন, সম্মানিত সদস্য ভবিষ্যতে এ ধরনের টাই নিয়ে পার্লামেন্টে আসবেন না বলে তিনি আশা করছেন।

যুক্তরাজ্যে প্রবেশের অনুমতি পাননি সেই যাজক

পবিত্র কোরআন শরিফ পোড়ানোর ঘোষণা দিয়ে বিতর্কিত হওয়া মার্কিন যাজক টেরি জোনসকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। গত বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ব্রিটিশ সরকার যেকোনো উগ্র বা চরমপন্থী আচরণের বিপক্ষে। জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নিউইয়র্কের বিশ্ববাণিজ্যকেন্দ্রে সন্ত্রাসী হামলার বার্ষিকীতে গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর কোরআন শরিফ পোড়ানোর ঘোষণা দেন যাজক জোনস। তাঁর ওই ঘোষণা বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় তোলে। এর প্রতিবাদে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ হয়। তিনি সম্প্রতি ডানপন্থী সংগঠন ‘ইংল্যান্ড ইজ আওয়ারস’-এর আমন্ত্রণে যুক্তরাজ্য সফরের পরিকল্পনা করেছিলেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ‘যুক্তরাজ্যে আসা একটি সুবিধা। কিন্তু এটি কোনো অধিকার নয়। জনগণের জন্য মঙ্গলজনক নয়, এমন কোনো কাজে এখানে কেউ আসুন, তা আমরা চাই না।’

‘তাহলে তো আমার সুপারম্যানের মতো ক্ষমতা থাকত’

ইতালির প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বেরলুসকোনি অভিযোগ করেছেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক যৌনকর্মীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অভিযোগ তুলে যে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চলছে, তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি এসব বিচারিক হাকিমদের পাল্টা শাস্তি দাবি করেছেন। গত বুধবার টেলিভিশনে দেওয়া ১০ মিনিটের ভাষণে তিনি এই তদন্তের ব্যাপারে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
বেরলুসকোনি এমন কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েছেন, যা তাঁর ১৭ বছরের রাজনৈতিক জীবনে সবচেয়ে ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারিমা এল মাহরু ওরফে রুবি নামের এক অপ্রাপ্তবয়স্ক যৌনকর্মীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অভিযোগের ব্যাপারে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চলছে।
বেরলুসকোনি বলেন, ‘যদি ২৪ জন মেয়েকে সঙ্গ দিতাম, তাহলে তো আমার সুপারম্যানের মতো ক্ষমতা থাকত।’ তিনি বলেন, এই কেলেঙ্কারিতে তাঁর লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই। সরকার যেমন চলছে, চলবে। আর পার্লামেন্ট এই সংস্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করবে যে জনগণের মাধ্যমে নির্বাচিত কাউকে অবৈধভাবে ধ্বংস করার চেষ্টা চালানোর ক্ষমতা হাকিমদের থাকবে না। বেরলুসকোনি জানান, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তদন্তে নিয়োজিত মিলানের বিচারিক হাকিমদের সামনে হাজির হওয়ার প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

ইরাকে নিহত ৪৫

ইরাকের কারবালায় গতকাল বৃহস্পতিবার পরপর দুটি আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলায় কমপক্ষে ৪৫ জন নিহত ও ১৫০ জনের বেশি আহত হয়েছে।
কারবালার প্রাদেশিক কাউন্সিলের প্রধান মোহাম্মদ হামিদ আল-মুসাবি জানিয়েছেন, একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শিয়া পুণ্যার্থীরা যে পথ দিয়ে কারবালা যাচ্ছিলেন, ঠিক সেখানেই হামলা দুটি চালানো হয়। বিস্ফোরকভর্তি প্রথম গাড়িটির বিস্ফোরণ ঘটানো হয় স্থানীয় সময় বিকেল তিনটায় কারবালার ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণে। এর কিছু দূরে বিকেল তিনটা ২০ মিনিটে দ্বিতীয় বিস্ফোরণটি ঘটানো হয়।

তিউনিসিয়ায় বেন আলীর ৩৩ আত্মীয় গ্রেপ্তার

তিউনিসিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট জয়নুল আবেদিন বেন আলীর ৩৩ জন আত্মীয়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এ কথা জানায়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেসিডেন্ট লোকজনকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, সাবেক সরকারের সঙ্গে কোনো রকম সংশ্লিষ্টতা রাখা হবে না। তিনি জানান, সব রাজবন্দীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের সাত মন্ত্রী বেন আলীর দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। গতকালও রাজধানী তিউনিসসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে।
তিউনিসিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন গতকাল জানিয়েছে, বেন আলীর ৩৩ জন আত্মীয়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, বেন আলীর পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়দের স্বর্ণালংকার, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডসহ বিভিন্ন সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে। এর আগে গত বুধবার প্রেসিডেন্ট এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছেন কর্মকর্তারা। এ ছাড়া বেন আলীর এক আত্মীর মালিকানাধীন একটি ব্যাংক আত্মীভূত করে নিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
প্রায় মাসব্যাপী গণবিক্ষোভের মুখে গত সপ্তাহে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান প্রেসিডেন্ট বেন আলী। এরপর অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন পার্লামেন্টের স্পিকার ফুয়াদ মেবাজা। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ ঘানুচির নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন মতৈক্যের সরকার। কিন্তু ওই সরকারে বেন আলীর মন্ত্রিসভার সাত সদস্য স্থান পাওয়ায় সরকারকে বৈধতা দিতে অস্বীকৃতি জানায় বিক্ষোভকারীরা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দল থেকে পদত্যাগ করেছেন ওই সাত মন্ত্রী। গতকাল এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘বেন আলীর দল কনস্টিটিউশনাল ডেমোক্রেটিক র‌্যালি বা আরসিডি থেকে পতদ্যাগ করেছেন ওই মন্ত্রীরা।’
তিউনিসিয়ান প্রেস এজেন্সিও (টিএপি) জানায়, আরসিডির মন্ত্রীরা তাঁদের দলের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন। প্রেসিডেন্ট ফুয়াদ মেজাবা ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ ঘানুচিও এর আগে গত মঙ্গলবার আরসিডি থেকে পদত্যাগ করেন।
গতকাল জাতির উদ্দেশে এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট মেজাবা প্রতিশ্রুতি দেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে সাবেক শাসক দলের কোনো সম্পর্ক থাকবে না। গত শনিবার শপথ নেওয়ার পর এটাই তাঁর প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্য। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে দেশের ইতিহাসের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারি।’ এ সময় তিনি রাজবন্দীদের মুক্তি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন। গতকাল নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

ব্রিটেনে হিটলারের অপ্রকাশিত ৬০০ ছবি নিলামে বিক্রি

ব্রিটেনে জার্মান নেতা অ্যাডলফ হিটলারের অপ্রকাশিত কিছু ছবির একটি সংগ্রহ নিলামে, ৩০ হাজার পাউন্ড বা ৪৭ হাজার ৯০০ মার্কিন ডলারে বিক্রি হয়েছে। সংগ্রহের মধ্যে ইতালির ফ্যাসিবাদী নেতা বেনিতো মুসোলিনির সঙ্গে বৈঠকরত একটি ছবিও আছে। এক নিলামকারী গতকাল বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে নাৎসি পার্টি ক্ষমতা নেওয়ার সময় হিটলারের ব্যক্তিগত আলোকচিত্রী হেনরিক হোলফম্যানের তোলা ছবির সংগ্রহশালা থেকে ৬০০ ছবি ও ৮০০ নেগেটিভ নিলামে তোলা হয়। ছবিগুলো এত দিন ব্যক্তিগত সংগ্রহশালায় ছিল।
নর্থ হ্যাম্পশায়ারের সবচেয়ে পুরোনো শহর টস্টারের নিলামকারী জোনাথন হামবার্ট। তিনি বলেন, ছবিগুলোর মধ্যে নুরেমবার্গে এসএস কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ স্কুলের একটি শোভাযাত্রায় নিজ গাড়িতে চড়ে হিটলারের নাৎসি কায়দায় স্যালুট দেওয়ার একটি ছবি ছিল।
১৯৩৬ সালে মিউনিখে অলিম্পিক অনুষ্ঠানে ইতালির নেতা মুসোলিনির সঙ্গে হিটলারের বৈঠকের একটি ছবিও বিক্রি হয়েছে।
হামবার্ট বলেন, ‘আলোকচিত্রের প্রতি, এমনকি জার্মানির কোনো নেতার ছবির প্রতি আমাদের এত আগ্রহ, আমাকে বিস্মিত করেছে।’
হেনরিক হোলফম্যান ১৯২০ সালে নাৎসি পার্টিতে যোগ দেন। হিটলার নিজে হোলফম্যানকে তাঁর আলোকচিত্রী নিয়োগ দেন। মার্কিন বাহিনী ১৯৪৫ সালে তাঁকে গ্রেপ্তার করে চার বছরের কারাদণ্ড দেয়। ১৯৫৭ সালে হোলফম্যানের মৃত্যু হয়।

ওবামার স্বাস্থ্য আইন বাতিলে প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব গৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার স্বাস্থ্য সংস্কার আইন বাতিলের প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। টানা দুই দিনের বিতর্কের পর রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদে গত বুধবার ২৪৫-১৮৯ ভোটে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। ডেমোক্র্যাট পার্টির তিনজন আইনপ্রণেতা স্বপক্ষ ত্যাগ করে স্বাস্থ্য সংস্কার আইন বাতিলের পক্ষে ভোট দেন।
অনেকটা রাজনৈতিক কারণেই রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা প্রতিনিধি পরিষদে স্বাস্থ্য সংস্কার আইন বাতিলের প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন। প্রতিনিধি পরিষদের আইন প্রস্তাবটি কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে অনুমোদন পাওয়ার অবকাশ নেই। কারণ সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠ।
এ ছাড়া স্বাস্থ্য সংস্কার আইন বাতিলের যেকোনো আইন প্রস্তাব চূড়ান্তভাবে অনুমোদনের জন্য প্রেসিডেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন। ওবামা আগেই জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি এতে ভেটো দেবেন। সর্বজনীন স্বাস্থ্যবিমা বাতিলসংক্রান্ত কোনো আইন প্রস্তাবে তিনি স্বাক্ষর করবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বহুপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চক্রজাল ছড়িয়ে পড়েছে। বিমা কোম্পানি, স্বাস্থ্যসেবা-সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী ও বড় বড় ওষুধ কোম্পানির উল্লেখযোগ্য অংশ স্বাস্থ্যনীতি সংস্কারের বিপক্ষে। প্রচণ্ড প্রতিরোধ মোকাবিলা করে এক বছর আগে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সংস্কার আইন প্রণীত হয়েছে। ‘ওবামা কেয়ার’ নামে পরিচিত এ সংস্কার আইনের বাস্তবায়নও ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। এ সংস্কার আইনে মধ্য দিয়ে ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সব নাগরিকের জন্য স্বাস্থ্যবিমা নিশ্চিত করা হয়েছে।
রিপাবলিকান ও রক্ষণশীলেরা এ সংস্কার আইন বাস্তবায়নের ঘোর বিরোধী। সরকার-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে সমাজতান্ত্রিক ধারণা বলে তাঁরা অভিযোগ করে আসছেন।
আইন অনুযায়ী, ছোট ও মাঝারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের কর্মীদের বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্যবিমা-সুবিধা দিতে হবে।
রিপাবলিকানদের মতে, এ বাধ্যবাধকতার কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্মী নিয়োগে অনীহা দেখাবে। প্রতিনিধি পরিষদের বিতর্কে অংশ নিয়ে রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান জেফ ডানকান বলেন, প্রেসিডেন্ট ওবামা ও ডেমোক্র্যাটদের স্বাস্থ্য সংস্কার নীতি সমাজতান্ত্রিক ধারণাপ্রসূত। এ নীতি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মহীনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।

ক্ষমতায় ফিরে আসতে চান দুভালিয়ের

হাইতির সাবেক একনায়ক জাঁ-ক্লদ ‘বেবি ডক’ দুভালিয়ের ক্ষমতায় আবার ফিরে আসতে চান বলে জানিয়েছেন তাঁর সহযোগীরা। এতে হাইতির রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দুভালিয়ের অবশ্য গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে ক্ষমতায় ফিরে আসার মনোভাবের কথা নাকচ করে দিয়েছেন। তবে তিনি রাজনীতিতে ভূমিকার রাখার বিষয়টি উড়িয়ে দেননি।
দুভালিয়েরের আইনজীবী রেনল্ড জর্জেস বলেন, ‘তিনি (দুভালিয়ের) আজীবন হাইতিতে থাকবেন, এটা তো তাঁরই দেশ। তিনি রাজনীতি করবেন, এটা তাঁর অধিকার। একজন রাজনীতিবিদের মৃত্যু নেই।’ রেনল্ড বলেন, দুভালিয়ের তাঁর পুরোনো বাড়িতে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
অপর সহযোগী হেনরি রবার্ট স্টার্লিন বলেন, নভেম্বরের বিতর্কিত নির্বাচন বাতিল করতে আমাদের সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে। এতে নতুন করে নির্বাচন হবে, যেখানে দুভালিয়ের অংশ নিতে পারবেন।
ফ্রান্সে হাইতির সাবেক রাষ্ট্রদূত হেনরি স্টার্লিন নিজেকে দুভালিয়েরের মুখপাত্র বলে দাবি করে থাকেন। তিনি দাবি করেন, দুভালিয়ের পুনরায় নির্বাচিত হবেন। ২৫ বছর আগে ক্ষমতা হারান দুভালিয়ের। তাঁর বিরুদ্ধে কোটি কোটি ডলার আত্মসাৎ ও দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে।

মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতিতে চীনকে অনেক কিছু করতে হবে

যুক্তরাষ্ট্র সফররত চীনের প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও বলেছেন, চীনের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতির জন্য তাঁদের এখনো অনেক কিছু করতে হবে। গত বুধবার হোয়াইট হাউসে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে মতভেদ থাকতে পারে। কিন্তু এগুলো চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করবে না।
সংবাদ সম্মেলনে দুই নেতার মধ্যে মানবাধিকার ছাড়াও চীনের মুদ্রা ইউয়ানের মর্যাদা, চীনের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
চীনের প্রেসিডেন্ট সংবাদ সম্মেলনে বলেন, চীনে মানবাধিকার পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে চীন একটি বিশাল দেশ। এখানে অনেক সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা থাকতেই পারে। তবে তিনি স্বীকার করেন, দেশের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে তাঁদের এখনো অনেক কিছু করার বাকি আছে।
হু জিনতাও বলেন, পারস্পারিক আস্থা বাড়াতে এবং দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করতেই তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফরে এসেছেন। দুই দেশকে অবশ্যই একে অন্যের পছন্দ-অপছন্দ এবং স্বার্থের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট হু-এর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি অত্যন্ত খোলামেলা কথা বলেছেন। মানবাধিকার নিয়ে চীনের সঙ্গে বিভিন্ন সময় যুক্তরাষ্ট্রের মনোমালিন্য হতে পারে। কিন্তু গুরত্বপূর্ণ ব্যাপারে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এসব মনোমালিন্য কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। ওবামা জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা একে অন্যের সাফল্যের অংশীদার। আমরা একসঙ্গে কাজ করলে আমাদের সমৃদ্ধি আরও বাড়বে। নিরাপত্তাও বৃদ্ধি পাবে দুই দেশের। চীন শান্তিপূর্ণভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, এটাও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আনন্দের বিষয়। কারণ, কোটি কোটি লোকের দারিদ্র্যের কষাঘাত থেকে বের হয়ে আসার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ লুকিয়ে আছে।’
এদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চীন তাঁদের দেশে যুক্তরাষ্ট্রকে চার হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্যসহ বিভিন্ন সামগ্রী রপ্তানি করতে দেওয়ার ব্যাপারে এটি চুক্তি করার ঘোষণা দিয়েছে। এ চুক্তি অনুসারে চীন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এক হাজার ৯০০ কোটি মার্কিন ডলার দিয়ে ২০০টি বোয়িং যাত্রীবাহী বিমান কিনবে।
মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ চুক্তির ফলে মার্কিন অর্থনীতিতে কিছুটা গতি আসবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে দুই লাখ ৩৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। এ ছাড়া পরমাণু নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশ আরেকটি চুক্তি করবে বলে কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন।
পরে ওবামা হু-কে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক বৈঠক করেন। এতে মাইক্রোসফট, মটোরোলা, গোল্ডম্যান শাস, জেনারেল ইলেকট্রিক, কোকাকোলা, এইচএসবিসিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে চীনের প্রেসিডেন্ট হোয়াইট হাউস এসে পৌঁছলে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। তাঁর সম্মানে ২১ বার তোপধ্বনি করা হয়। হোয়াইট হাউসে তাঁকে স্বাগত জানান, প্রেসিডেন্ট ওবামা ও ফার্স্টলেডি মিশেল ওবামাবা।

দক্ষিণ সুদানে স্বাধীনতার পক্ষে গণরায়

দক্ষিণ সুদান এখন স্বাধীনতার দ্বারপ্রান্তে। গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত গণভোটের ৬০ শতাংশ ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। স্বাধীনতার পক্ষে রায়ের জন্য যত ভোটের প্রয়োজন, এরই মধ্যে তা পাওয়া গেছে। গণভোটের ফলাফলে দেখা গেছে, কোনো কোনো এলাকায় স্বাধীনতার পক্ষে ৯৯ শতাংশ ভোট পড়েছে।
দক্ষিণ সুদানে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ৫৮৮ জন। এর মধ্যে স্বাধীনতার পক্ষে রায়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৮ লাখ ৯০ হাজার ভোট। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত ৬০ শতাংশ ভোট গণনার পর যে প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে, তাতে দেখা গেছে, স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দিয়েছেন ২২ লাখ ২৪ হাজার ৮৫৭ জন ভোটার। অর্থাৎ স্বাধীনতার জন্য যে ভোটের প্রয়োজন, তা ইতিমধ্যেই দক্ষিণ সুদানের ঝুলিতে জমা হয়েছে।
গতকাল পর্যন্ত যেসব এলাকার ফলাফল জানা গেছে, সেগুলো মূলত খ্রিষ্টান অধ্যুষিত, যারা স্বাধীনতার জন্য দীর্ঘদিন ধরে মুসলমান অধ্যুষিত উত্তরের সঙ্গে লড়াই করে আসছে।
লেক প্রদেশের রামবিক শহর এক সময় ছিল বিদ্রোহীদের শক্ত ঘাঁটি। ১৯৮৩ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত যে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ হয়েছে, তার কেন্দ্রভূমি ছিল এই লেক প্রদেশ। এখানে তিন লাখ ৪৪৪টি ভোটের মধ্যে দুই লাখ ৯৮ হাজার ২১৬টি ভোট পড়েছে স্বাধীনতার পক্ষে। অর্থাৎ এখানকার ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ ভোটার উত্তর সুদানের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পক্ষে রায় দিয়েছেন।
দক্ষিণ সুদানের ঘন বসতিপূর্ণ আরেকটি প্রদেশ হচ্ছে সেন্ট্রাল ইকুয়েটোরিয়া। দক্ষিণ সুদানের রাজধানী জুবা এ প্রদেশেরই অন্তর্ভুক্ত। এখানে মোট ভোট পড়েছে চার লাখ ৫৭ হাজার ৪৫২টি। এর মধ্যে স্বাধীনতার পক্ষে পড়েছে চার লাখ ৪৯ হাজার ৩২১ ভোট। এখানকার ৯৮ দশমিক ২ শতাংশ ভোটার আলাদা রাষ্ট্রের পক্ষে ভোট দেন।
দক্ষিণ সুদানের গণভোট-সংক্রান্ত উপ-কমিটির প্রধান টিমন ওয়ানি জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত যে ফলাফল পাওয়া গেছে, তাতে স্বাধীনতার পক্ষে ৯৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। অবশিষ্ট ফলাফল এমনি হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে ফলাফলের পর রাজধানী জুবাসহ দক্ষিণ সুদানের বিভিন্ন এলাকায় উল্লাসের খবর পাওয়া গেছে।