Saturday, October 5, 2013
বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রত্যাশা by কাজী ফারুক আহমেদ
কতিপয় পর্যবেক্ষণ : আমার নিজের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, বিশ্বে শিক্ষকতা পেশার বর্তমান হাল সম্বন্ধে সরকারের নীতিনির্ধারক, শিক্ষা প্রশাসন এমনকি শিক্ষক নেতৃত্বের একটি বড় অংশের যথাযথ ধারণা নেই। যাদের আছে তারাও বস্তনিষ্ঠ মূল্যায়নে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেননি। স্বীকার করতে হবে, গত অর্ধশতকে বিশেষ করে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত বাংলাদেশে শিক্ষায় অর্জন অনেক। প্রাথমিকে মেয়ে শিশুদের উপস্থিতি সারাবিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। প্রাথমিক শিক্ষকদের বেশিরভাগই এখন নারী। মাধ্যমিকেও এ সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। তবে উচ্চশিক্ষা স্তরে তা এখনও অনুল্লেখযোগ্য। বর্তমান সরকারের আমলে বিনামূল্যে কোটি কোটি পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, বিপুলসংখ্যক প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারিকরণ, বিএনপি আমলে বেসরকারি শিক্ষকদের বন্ধকৃত টাইম স্কেল ও এমপিও আবার চালু, দুই হাজারের কাছাকাছি নতুন প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি, শিক্ষার্থীদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর মেধা সহায়তা তহবিল গঠন ইত্যাদি প্রশংসার দাবি রাখে। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাসা ভাড়া ১০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকায় উন্নীত করা এবং চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টিও প্রাসঙ্গিক। তবে যাদের তা দেয়া হয়েছে তারা তাতে সন্তুষ্ট নন। যোগ্যতার শর্ত পূরণ করেও এমপিওবঞ্চিত বিপুলসংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারীর ক্ষোভের বিষয়টিও মানবিক বিবেচনার দাবি রাখে। বিনা বেতনে কাউকে খাটানোর মধ্যে কৃতিত্ব নেই। বেতন-ভাতা না দিতে পারলে তা বলে দেয়া ভালো। পারলে কবে দেয়া হবে তা বলে দেয়াই সুবিবেচনার কাজ। অন্যদিকে শিক্ষা ক্ষেত্রে গ্রাম-শহর, সাধারণ ও কারিগরি শিক্ষার মধ্যে বরাদ্দের ক্ষেত্রে বৈষম্য কমেনি। সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষকদের মধ্যে বেতন-ভাতা ও মর্যাদার বৈষম্যও প্রকট। একই যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে একই ধরনের দায়িত্ব পালন সত্ত্বেও বৈষম্য অবসানের লক্ষণ নেই। বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো, নিয়োগ কমিশন, স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠনের উদ্যোগও দৃষ্টিগোচর নয়। প্রাথমিক শিক্ষা পরবর্তী শিক্ষাব্যবস্থা সরকারিকরণ না করে সরকারি-বেসরকারি, প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের সমন্বয়ে জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ যে জরুরি, তাও সরকারের উপলব্ধিতে অনুপস্থিত। আজ যখন বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হচ্ছে, তখন একটি প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের সদস্যরা মর্যাদা বৃদ্ধির দাবিতে কর্মসূচি পালন করছেন। অন্যদিকে একাধিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে অবরোধ করে রাখার ঘটনা ঘটেছে। একটিতে তা হয়েছে বেতন-ভাতার দাবিতে। আরেকটিতে ভিসিকে পছন্দ নয়- এ অবস্থান থেকে। শিক্ষা অথবা পেশাগত মর্যাদা উন্নয়নের সঙ্গে এর সম্পর্ক জানা যায় না। অন্যদিকে মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পরবর্তী শিক্ষা স্তরে ৯৮ শতাংশের বেশি দায়িত্ব পালনকারী বেসরকারি শিক্ষকরা বিভিন্ন বঞ্চনাবোধে আক্রান্ত। এমপিওভুক্তি, পদোন্নতি, চিকিৎসা ও উৎসব ভাতা, বিগত সময় থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ও ব্যবস্থাপনার রাজনীতিকরণের ধারাবাহিক অব্যাহত গ্রাস থেকে মুক্তিলাভের আকাক্সক্ষার সঙ্গে সর্বশেষ যুক্ত হয়েছে খসড়া শিক্ষা আইনে শুধু শিক্ষকদের শাস্তিদানের প্রসঙ্গ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষা প্রশাসনের জবাবদিহিতার উল্লেখ না থাকা, আÍপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে একতরফা শিক্ষকদের এমপিও বাবদ প্রাপ্য অর্থ কেটে নেয়ার বিধান এবং কারও বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অসত্য প্রমাণিত হওয়ার পরও কর্তিত বা স্থগিতকৃত বেতন ফিরিয়ে না দেয়ার মানবাধিকার পরিপন্থী প্রস্তাব এ মুহূর্তে বেসরকারি শিক্ষকদের উৎকণ্ঠার একটা বড় কারণ। অবশ্য সর্বশেষ ২ অক্টোবর খসড়া শিক্ষক আইন নিয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় কর্মশালায় শাস্তি প্রদান সম্পর্কিত বিতর্কিত ধারাগুলো তুলে নেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে দেশব্যাপী শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের জন্য তা স্বস্তির কারণ হয়েছে। কিন্তু এককভাবে অর্থ কেটে নেয়ার বিধান বহাল থাকবে কি-না তা এখনও স্পষ্ট নয়। সেজন্য শিক্ষকদের যৌক্তিক উদ্বেগের অবসান এখনও হয়নি। অন্যদিক ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশের অশিক্ষক সুলভ আচরণ যেমন দেশে সর্বত্র আলোচনার বিষয়, একই সঙ্গে শিক্ষকদের দ্বারা শিক্ষার্থী নিপীড়ন, শারীরিক শাস্তি ও গতানুগতিক, প্রাণহীন পাঠদান পদ্ধতির জন্যও শিক্ষকদের ভাবমূর্তি ক্ষ্ণুœ হচ্ছে। বিশ্ব শিক্ষক দিবসে অন্তত শিক্ষক নেতৃত্বের এখনই বিষয়টি ভাবনার মধ্যে নেয়া দরকার।
বিশ্ব শিক্ষক দিবসের চেতনার পক্ষে : শিক্ষকদের অধিকার, মর্যাদা ও করণীয়-সংক্রান্ত ১৯৬৬ ও ১৯৯৭ সালের আইএলও-ইউনেস্কো সুপারিশমালায় বাংলাদেশ স্বাক্ষরকারী। ওই সুপারিশমালা স্মরণ ও কার্যকরের দাবিতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬ কোটি শিক্ষক আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালন করছেন। স্বভাবতই শিক্ষকদের জন্য আহ্বান প্রতিপাদ্যের সপক্ষে বাংলাদেশের সরকার, শিক্ষা প্রশাসন বিশেষ করে যাদের উদ্দেশে দিনটি নিবেদিত- তারা এ দিনে কে কী ভূমিকা পালন করছেন তা বিশেষভাবে বিবেচ্য। শিক্ষকদের কাছে সমাজের প্রত্যাশা এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছে শিক্ষকদের প্রত্যাশা, মান মর্যাদা নিয়ে শিক্ষকদের বেঁচে থাকার আকুতি এবং তা নিশ্চিতকরণে সমাজের কাছে তাদের দায়বদ্ধতা, শিক্ষকতার মতো মর্যাদাপূর্ণ পেশার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ঘনিষ্ঠ আচরণ কতটুকু সম্ভব হচ্ছে, তার যথাযথ মূল্যায়ন প্রয়োজন। দিবসটির এ বছরের আহ্বান সবাইকে অনুপ্রাণিত, কাক্সিক্ষত ভূমিকা পালনে সহায়তা করুক। বিশ্ব শিক্ষক দিবসের চেতনা অমর হোক।
অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদ : শিক্ষা আন্দোলনের নেতা, ইনিশিয়েটিভ ফর হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নকল ওষুধ কেন বিপজ্জনক by ড. মুনীর উদ্দিন আহমদ

ওষুধে সক্রিয় উপাদান না থাকলে তাকে ওষুধ বলা যাবে না। প্যারাসিটামল ব্যবহার না করেই শুধু স্টার্চ ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে এমন ট্যাবলেট তৈরি করা যায়, যা দেখলে মনে হবে হুবহু একটি প্যারাসিটামল ট্যাবলেট। সক্রিয় উপাদান না থাকার কারণে এমন ওষুধ খেলে ব্যথা-বেদনা বা জ্বর সারবে না। তাই এসব ওষুধকে বলা হয় নকল ওষুধ। এমন সব রোগ আছে যে ক্ষেত্রে ওষুধ সঠিক মাত্রায় সেবন না করলে রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে এবং এক সময় রোগী মারাও যেতে পারে। সংক্রামক রোগের প্রতিকারে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার অপরিহার্য। জীবাণু দ্বারা শরীর বা শরীরের কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ শরীর ও জীবাণুর মধ্যে টিকে থাকার জন্য যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। এক্ষেত্রে শরীর তার প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্বারা বা অ্যান্টিবায়োটিক দ্বারা সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য জীবাণু ধ্বংস করার কাজ চালিয়ে যায়। শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল বা নষ্ট হয়ে গেলে এবং কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক সেবন না করা হলে জীবাণু শরীর ধ্বংস করার প্রক্রিয়া শুরু করে। এর অর্থ হল স্বাস্থ্যের ক্ষতি এবং পরবর্তীকালে অবধারিত মৃত্যু। নকল, ভেজাল ও নিুমানের অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করে কার্যকারিতা না পেয়ে চিকিৎসক বা রোগী একের পর এক অ্যান্টিবায়োটিক পরিবর্তন করতে থাকে। এভাবে নির্বিচারে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগে জীবাণু ওষুধের কার্যকারিতাকে নিষ্ফল করে দিয়ে প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে শরীরে বহাল তবিয়তে টিকে থাকতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্স বর্তমান বিশ্বের ভয়ানক বিপদগুলোর মধ্যে অন্যতম বিপদ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। অন্যদিকে বেশি পরিমাণে সক্রিয় উপাদান থাকলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, বিষক্রিয়ায় রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটতে পারে। ক্ষেত্রবিশেষে রোগী মারাও যেতে পারে।
সম্প্রতি ল্যানসেট প্রকাশিত এক গবেষণা প্রবন্ধের মাধ্যমে জানা যায়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এক-তৃতীয়াংশ ম্যালেরিয়ার ওষুধ নকল। গবেষকরা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাতটি দেশে পাঁচ ধরনের ১৪৩৭টি ম্যালেরিয়ার ওষুধের নমুনা পরীক্ষা করে দেখতে পান, এসব ওষুধের ৩৬ শতাংশ নকল। এসব নমুনার মধ্যে ৩০ শতাংশ ওষুধে কোনো উপকরণই (অ্যাকটিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট) নেই। সাব সাহারা অঞ্চলের ২১টি দেশে ছয় ধরনের ২ হাজার ৫০০টি ওষুধের মধ্যে শতকরা ২০ ভাগ ওষুধ জাল এবং শতকরা ৩০ ভাগ ওষুধ নিুমানের বলে পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ২০১০ সালে সারা বিশ্বে ম্যালেরিয়ায় ৬ লাখ ৫৫ হাজার মানুষ মারা যায়। নকল, ভেজাল ও নিুমানের ওষুধ এসব মৃত্যুর জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে দায়ী বলে মনে করা হয়। গত দশকে ম্যালেরিয়া নির্মূলে যে অভাবনীয় অগ্রগতি সাধিত হয়েছিল নকল, ভেজাল ও নিুমানের ম্যালেরিয়ার ওষুধের কারণে তা ভেস্তে যেতে বসেছে।
হাইপারটেনশন বা উচ্চরক্তচাপকে নীরব ঘাতক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর লাখ লাখ লোক উচ্চরক্তচাপে মৃত্যুবরণ করে। উচ্চরক্তচাপের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত দুটি মরণঘাতী রোগ হল হৃদরোগ ও স্ট্রোক।হৃদরোগ ও স্ট্রোকে আক্রান্ত মানুষ অকর্মণ্য হয়ে যায় বা মৃত্যুবরণ করে। প্রাকৃতিক উপায়ে অথবা লাইফস্টাইল পরিবর্তনের মাধ্যমে উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব না হলে রোগীকে ওষুধ গ্রহণ করতে হয়। ওষুধ যদি আসল ও গুণগতমান সম্পন্ন হয় তবে রোগী ওষুধ সেবন করে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করবে। আর ওষুধ যদি নকল, ভেজাল ও নিুমানের হয় তবে রোগীর কী অবস্থা হবে একবার ভেবে দেখুন। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, সারাবিশ্বে বিশেষ করে অনুন্নত দেশগুলোতে অসংখ্য রক্তচাপের ওষুধ নকল হচ্ছে এবং ওষুধ সেবন করে অগণিত মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ছাড়াও জীবন দিচ্ছে। ক্যান্সার মরণঘাতী রোগ। এ রোগ প্রতিকারে এখনও খুব বেশি কার্যকর ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি। আর যেসব ওষুধ বাজারে প্রচলিত আছে সেগুলোর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। অ্যাভাস্টিন একটি বহুল প্রচলিত ক্যান্সারের ওষুধ। অ্যাভাস্টিনের একটিমাত্র ভায়ালের দাম আড়াই হাজার ডলার (২ লাখ ৫ হাজার টাকা)। গত বছর এ ওষুধের মোট বিক্রির পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। ওষুধ নকলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে শাস্তি হল জেল। নকল ওষুধ প্রস্তুতকারকরা খুব অল্প সময়ে কয়েক মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করে ফেলতে পারে এবং তারা ধরা পড়লে খুব বেশি হলে ৬ মাসের মতো জেলে থাকতে হয়। নকল ওষুধের জন্য ব্যবসায়ীদের যন্ত্রপাতিসহ অন্যান্য জিনিসের পেছনে মাত্র ৫০ হাজার টাকার মতো খরচ করতে হয়। অল্প খরচে এটা লাভজনক ব্যবসা। এ বছরের ফেব্র“য়ারিতে প্রকাশিত এক সংবাদে জানা যায়, অসাধু নকলবাজ ব্যবসায়ীরা অ্যাভাস্টিনের নকল ভার্সন উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে মাল্টিমিলিয়ন ডলারের লাভজনক ব্যবসাটি হাতিয়ে নিয়েছে। নকল অ্যাভাস্টিন এখন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে, যার কারণে ক্যান্সারের রোগীরা আতংকগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীরা সেসব ওষুধ বেশি নকল করে যেগুলো বিক্রির দিক থেকে শীর্ষস্থানীয়। ফাইজারের কলেস্টেরল কমানোর ওষুধ লিপিটর (জেনেরিক অ্যাটরভ্যাস্টেটিন) বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ। বিভিন্ন দেশে এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও লিপিটরের নকল পাওয়া যায়। ২০০৭-২০০৮ সালে নকল হেপারিনের (যে ওষুধ রক্তজমাট প্রতিহত করে) ব্যবহারের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ১৪৯ জন মৃত্যুবরণ করে। এ নকল হেপারিন চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিল।
পরিসংখ্যান মোতাবেক বিশ্বের ১৫ শতাংশ ওষুধ নকল। এশিয়া ও আফ্রিকার কোনো কোনো দেশে নকল ওষুধের পরিমাণ ৫০ শতাংশ। অ্যাঙ্গোলায় নকল ওষুধের পরিমাণ মোট ওষুধের ৭০ শতাংশ। ২০০৫ সালে ওইসিডি (অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট)-এর হিসাব মতে, সারা বিশ্বে নকল ওষুধ বিক্রির পরিমাণ প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার। নকল ওষুধ উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয় দেশগুলো হল- পাকিস্তান, ভারত, বাংলাদেশ, লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা ও পূর্ব-মধ্য ইউরোপের অনেকগুলো দেশ এবং সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন। সেসব দেশে বেশি নকল, ভেজাল ও নিুমানের ওষুধ উৎপাদিত হয়, যেসব দেশে ওষুধশিল্পে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত শিথিল এবং আইনগত বাধ্যবাধকতার অভাব রয়েছে। অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর সরকার ও নীতিনির্ধারকদের দুর্নীতির কারণে নকল, ভেজাল ও নিুমানের ওষুধ এবং পণ্যের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয় না। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, নিউজিল্যান্ড, পশ্চিম ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলোতে নকল, ভেজাল ও নিুমানের ওষুধের পরিমাণ ১ শতাংশেরও কম। কারণ ওসব দেশে ওষুধ ও ওষুধশিল্পের ওপর সরকারের কঠোর আইন ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত আছে। চীনে ওষুধ ও খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল ও নকলের অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান আছে। ওষুধের অনলাইন বেচাকেনা বিশ্বজুড়ে নকল ওষুধের ব্যবসাকে সম্প্রসারিত করেছে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব বোর্ড অব ফার্মেসির মতে, ৯ হাজার ৬০০ অনলাইন ফার্মেসির মধ্যে মাত্র ৩ শতাংশ কোম্পানির গুণগতমানের শর্ত পূর্ণ করে। এসব ফার্মেসির অনেকগুলো বিদেশী বলে এদের ওষুধ যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করা অবৈধ। অনেক ওষুধের জন্য আবার প্রেসক্রিপশন লাগে না। এ সুযোগে অসংখ্য নকল ও ভেজাল ওষুধ যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকে যায়।
জ্ঞান-বিজ্ঞান ও কারিগরি উন্নয়নের ফলে আজকাল আসল আর নকল ওষুধের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করা মুশকিল হয়ে পড়েছে। রাসায়নিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে শুধু জানা যায়, কোনটা আসল আর কোনটা নকল ওষুধ। তারপরও কিছু চিহ্ন আর বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে নকল ওষুধ চেনা যায়। নকল ওষুধের অদ্ভুত ধরনের গন্ধ, স্বাদ ও রঙ থাকে। নকল ওষুধ অতি সহজে ভেঙে গুঁড়া গুঁড়া হয়ে যায় বা টুকরো টুকরো হয়ে যায়। ওষুধের প্যাকেটের গুণগতমান তেমন ভালো হয় না। নকল ওষুধের দাম অত্যন্ত কম হয়। নকল, ভেজাল ও ক্ষতিকর ওষুধ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার কিছু উপায় আছে। উপায়গুলো অবলম্বন করলে নকল ও ভেজাল ওষুধের দৌরাত্ম্য থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পাওয়া যাবে- এক. পরিচিত দোকান থেকে ওষুধ কিনুন, যে দোকান বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত। দুই. অনলাইনে ওষুধ কেনা থেকে সাবধান হোন। অনলাইনে ওষুধ কিনতে চাইলে ভেরিফাইড ইন্টারনেট ফার্মেসি প্র্যাকটিস সাইট (VIPPS) সিলযুক্ত ওয়েবসাইট দেখে কিনুন। অনলাইন ফার্মেসিগুলো বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত না হলে ওগুলো থেকে ওষুধ কিনবেন না। তিন. ওষুধ কেনার পর ওষুধের প্যাকেট ভালো করে পরীক্ষা করুন। নকল ওষুধ হলে প্যাকেটে কোনো না কোনো ভুল বা ত্র“টি ধরা পড়বে। প্যাকেটের ভেতর যে লিফলেট রয়েছে তাও ভালো করে পড়ে দেখুন। সেখানেও অসংখ্য ভুল থাকতে পারে। ওষুধটি ভালো করে পরীক্ষা করুন। আসল ও নকল ওষুধের মধ্যে অনেক পার্থক্য থাকে। সন্দেহ হলে ওই দোকান থেকে ওষুধ কিনবেন না। চার. বিদেশ ভ্রমণকালে সব ওষুধ সঙ্গে নিন। পথে-ঘাটে ওষুধ কিনবেন না। অচেনা-অজানা জায়গায় ও দোকানে ওষুধ কিনলে তা নকল হতে পারে।
ড. মুনীরউদ্দিন আহমদ : অধ্যাপক, ফার্মেসি অনুষদ, ঢাবি
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জনগণ ভোট দিতে ভুল করে না by পলাশ কুমার রায়
আওয়ামী লীগের সভানেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিকট অতীতে দেশের একাধিক জেলায় সরকারের গৃহীত প্রকল্পগুলোর ফিতা কাটা কর্মসূচির পর দলীয় জনসভায় ভোটারদের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়েছেন। তিনি রাষ্ট্রীয় গাড়িবহর এবং খরচে আয়োজিত জনসভাগুলোতে ভোটারদের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চাইতে পারেন কিনা কিংবা এই প্রক্রিয়া কতটা যৌক্তিক সেই বিতর্কে না গিয়ে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সোজাসাপটা প্রশ্ন করতে চাই- এদেশের ভোটাররা আওয়ামী লীগকে ভোট দিবে কেন?
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি হাজারও ব্যস্ততার কারণে জানেন কিনা জানি না, কিন্তু এদেশের হাজার হাজার নিরীহ নিরপরাধ ভুক্তভোগী মানুষ আপনার দলের নেতাকর্মীদের দ্বারা নিপীড়ন-নির্যাতনের কথা কিছুতেই ভুলতে পারছেন না। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার গঠন করার দিন থেকে অদ্যাবধি আপনার দলের ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে কত শত মানুষের উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ অংকুরেই ধ্বংস করেছে, তা নিয়ে রীতিমতো গবেষণা করা উচিত বলেই আমার মনে হয়। অসহায়, গরিব, অসচ্ছল, ক্ষমতাহীন, দুর্বলের ওপর ক্ষমতাশালীদের নির্যাতন করতে পারার ইতিহাস দীর্ঘদিনের। কিন্তু আওয়ামী লীগের মতো একটি ঐতিহাসিক আদর্শিক রাজনৈতিক দলের জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি যখন একটি সুখী পরিবারের অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ান, তখন তা ভাবতেই গা শিউরে ওঠে। আওয়ামী লীগের ওই জেলা শাখার সভাপতি একজন নিরীহ যুবকের স্ত্রীকে দিয়ে স্বামী ও তার শ্বশুরবাড়ির ছয়জনের বিরুদ্ধে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুকের মিথ্যা মামলা দায়ের করে ওই পরিবারের সুখ-শান্তি কেড়ে নেন। যুবকটি স্বেচ্ছায় থানায় আত্মসমর্পণ করে জেলে একপক্ষকাল থাকে। ওই সভাপতি থানা পুলিশকে দিয়ে কোনো ধরনের তদন্ত না করেই থানায় বসে অভিযুক্তদের নামে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। পুলিশ ওই ক্ষমতাশালী নেতার কথামতো আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য ও জবানবন্দি দেন। ওই জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জনও (তিনিও ওই নেতার করুণায় ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন হয়েছেন) নেতার কথামতো আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দেন। অন্য সাক্ষীরাও একই প্রক্রিয়ায় আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দেন। কাল্পনিকভাবে উদ্ভূত এই মিথ্যা মামলা শুরু থেকে শেষ অবধি আপনার দলের ওই নেতা যথাযথভাবে মনিটরিং করেছেন। যেন বাদিনীর চেয়ে তার মাথাব্যথা বেশি! ওই নেতা কেন এমনটি করলেন? শুধুই ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য?
আপনার দলের জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এলাকার সাধারণ মানুষকে এভাবেই হয়রানি করেছে। আপনি হয়তো এসবের কিছুই জানেন না। আপনার আশপাশে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা আপনাকে এ ব্যাপারে হয়তো কিছুই জানাননি। কেবল ভুক্তভোগীরাই জানে, তারা মনের মধ্যে কতটা ক্ষত নিয়ে বেঁচে আছে?
একাত্তরে এদেশের মানুষজন আপনার পিতার নির্দেশে জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধ করে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ নামক একটি দেশের জন্য লড়াই করেছে। আজ বিয়াল্লিশ বছর পরে আমাদের দেশের নানা সমস্যার সঙ্গে এটাও একটা বড় সমস্যা যে, আমাদের ভোটাররা কাকে ভোট দেবে? আপনার দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা যখন সাধারণ নিরপরাধ মানুষজনকে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপপ্রয়োগ করে হয়রানি করে, মিথ্যা মামলায় জেলের ভাত খাইয়ে ছাড়ে, তখন এসব ভুক্তভোগী পরিবারের ভোটাররা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে আপনার দলের প্রার্থীকে কিভাবে ভোট দিবে, আপনিই বলুন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী? ওই জেলা শাখা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সম্ভবত আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে মনোনয়ন চাইবেন, আর যদি তিনি আপনার দলের মনোনয়ন এবং আপনার সমর্থন পেয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তাহলে আপনিই বলুন- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, তাকে কি ভোট দেয়া যায়? আওয়ামী লীগের এমন শত শত নেতাকর্মী দেশের হাজার হাজার নিরীহ মানুষের পরিবারে ইচ্ছাকৃতভাবে অশান্তির বীজ বপন করেছে। আপনার দলের নেতাকর্মীরা সাধারণ নিরপরাধ মানুষজনকে সুরক্ষা করার পরিবর্তে কৌশলে এবং ফন্দিফিকির করে অপরাধী বানাতে পেরে আনন্দের মহোৎসবে মেতে উঠেছে। একজন আইনজীবী হিসেবে আপনার দলের ওইসব অসাধু নেতাকর্মীর মধ্য থেকে কয়েকজনের বেহায়াপনার চিত্র স্বচক্ষে দেখেছি বলে নিজের চোখকে অস্বীকার করতে পারি না। তাদের দোর্দণ্ড প্রতাপ ও প্রতিপত্তির কাছে আপনিও অসহায় হয়ে পড়তেন! আপনার দলের ওইসব লাজ-লজ্জাহীন নেতাকর্মীরা মানুষজনকে কথায় কথায় তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে, অপমান করে, পুলিশ দিয়ে পেটানোর হুমকি দেয়। নিজেরা কিংবা তাদের পাইক পেয়াদাদের দ্বারা চড়থাপ্পড় এবং বেত্রাঘাত করতে পেরে বীর পৌরুষোচিত মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ ঘটান। কী দোর্দণ্ড ক্ষমতার প্রতাপ তাদের! তারা ক্ষমতাশালী দলের নেতা বলে তাদের অযৌক্তিক দাবি ও নির্দেশ মানতে বাধ্য করে আমজনতাকে। অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত, ক্ষমতাহীন আমজনতার কী-ই বা করার আছে। টাকা-পয়সা, থানা-পুলিশ, নেতা-মন্ত্রী কিছুই তাদের নেই। কিন্তু আপনার দলের নেতাদের সব আছে। আপনার সুরক্ষিত কার্যালয়ের সদর দরজা পর্যন্ত তাদের জন্য খোলা, আপনার দোয়া তাদের পকেটে, আপনার মৌন সমর্থন তাদের সঙ্গে। কাজেই সাধারণ মানুষজনকে তারা ভয় পায় না। আর ভয় পাওয়ারই বা কী আছে? আপনার দলের নেতাকর্মীদের দ্বারা নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা তাদের অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্ট আর অসহায়ত্বের কথা আপনাকে বলতে চায়; কিন্তু আপনাকে সরাসরি কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে জানানোর কোনো মাধ্যম নেই বলে ভুক্তভোগীদের ডুকরে ডুকরে কাঁদা ছাড়া কি-ই বা করার আছে?
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি এমন কেউই নই যে, আমার অনুরোধ আপনাকে রাখতে হবে। তবুও একজন সাধারণ ভোটার হিসেবে আপনার কাছে বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করতে চাই, দয়া করে তদ্বিরবাজ, দুর্নীতিবাজ, মামলাবাজ, মিথ্যা মামলায় উৎসাহদানকারী, চরিত্রহীন, লম্পট, ইচ্ছাকৃতভাবে নিরীহ মানুষজনকে উত্ত্যক্তকারীদের আসন্ন নির্বাচনে মনোনয়ন দিবেন না। একজন মানবীয় মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে দয়া করে কিছুটা সময় নীরবে থেকে চিন্তা করুন আপনার দলের যেসব নেতাকর্মী সাধারণ মানুষকে অযথা হয়রানি করেছে, তারা আর্থিক, পারিবারিক, সামাজিকভাবে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে? তারা মানসিকভাবে যে ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, তা কি পৃথিবীর কোনো কিছু দিয়ে পূর্ণ করা যাবে? দেশের মানুষজন আপনার দলের এসব কুলাঙ্গার ও কলংকিত ব্যক্তিদের ভোট কেন দেবে, আপনিই বলুন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আপনিই বলুন, আপনার দলের এসব কলংকিত নেতাকর্মীদের চিহ্নিত না করে, তাদের তিরস্কারপূর্বক দল থেকে বহিষ্কার না করে, ভুক্তভোগীদের উপযুক্ত সান্ত্বনা না দিয়ে শুধু দেশের আর্থসামাজিক উন্নতি ঘটিয়ে এবং আরও উন্নতির প্রতিশ্র“তি দিয়ে আবারও পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতার মসনদে থাকার জন্য ভোটারদের ভোট পাওয়ার অধিকার কিংবা ক্ষমতায় থাকার অধিকার কি আওয়ামী লীগের আছে?
পলাশ কুমার রায় : আইনজীবী ও আহ্বায়ক, সুশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলন (সুপ্রা)
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতেই কি কাঁদবে? by ফরহাদ মজহার

এই ঐতিহাসিক মানদণ্ডকে ‘আন্তর্জাতিক’ বললে কিছু জটিলতা তৈরি হয়, ‘আন্তর্জাতিক মানদণ্ড’ কথাটা সঙ্গত কারণেই পর্যালোচনার দাবি রাখে। ঔপনিবেশিক কালপর্বে আন্তর্জাতিকতার মানদণ্ড মানে ঔপনিবেশিক মানদণ্ড। সেদিক থেকে সাম্রাজ্যবাদী যুগে তার সাম্রাজ্যবাদী চরিত্র থাকার কথা। সেটা আছেও। মানবাধিকার লংঘনের অজুহাতে সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো দুর্বল দেশের বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পিছপা হয় না, সেটা আমরা দেখেছি। প্রতিটি রাষ্ট্রই সার্বভৌম এবং কোনো রাষ্ট্রেরই অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে অন্য রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের অধিকার নেই- এই নীতি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কার্যকারিতা অনেক আগেই হারিয়েছে। ফলে দুর্বল দেশের ওপর সবল দেশের আধিপত্য বিস্তার এখন কোনো অন্যায় বলে গৃহীত হয় না। শুধু এই অভিযোগ তোলাই যথেষ্ট, সেই দেশ কোনো না কোনো আন্তর্জাতিক মানদণ্ড লংঘন করেছে। সেটা মানবাধিকার হতে পারে, হতে পারে পারমাণবিক অস্ত্র কিংবা রাসায়নিক অস্ত্র রাখা, বানানো বা ব্যবহারের ক্ষেত্রে গৃহীত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড। এ ধরনের কোনো না কোনো মানদণ্ড লংঘন করলে কোনো স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের সরকারকে সরাসরি বাইরে থেকে পরিচালিত সামরিক হস্তক্ষেপের মধ্য দিয়ে বদলানোর কথা (ৎবমরসব পযধহমব) আজকাল অনায়াসেই বলা হয়। ফলে ‘আন্তর্জাতিক মানদণ্ড’ কথাটার প্রতি সন্দেহ থাকা খারাপ কিছু না।
সে কারণে আন্তর্জাতিক ও ঐতিহাসিক এ দুটো কথার পার্থক্য সম্পর্কে সজাগ থাকা জরুরি। একটি দেশের জনগোষ্ঠীকে অনেক সময় তথাকথিত আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের বিরুদ্ধে অবশ্যই দাঁড়াতে হতে পারে, কিন্তু মানুষের ইতিহাস যেসব নীতি, আদর্শ ও মানদণ্ড লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জন ও প্রতিষ্ঠিত করেছে, তাকে অস্বীকার করার সুযোগ খুবই কম। যেমন, ব্যক্তির অধিকার। এ যুগে দাস ব্যবস্থা কায়েম করা বা কোনো মানুষের সঙ্গে দাসের মতো আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঠিক তেমনি কারও নাগরিক ও মানবিক অধিকার হরণ করাও মেনে নেয়া যায় না। একজন ব্যক্তি ভয়াবহ খুনি হতে পারে, মানবতার বিরুদ্ধে জঘন্য অপরাধ করেছে বলে কেউ অভিযোগ আনতে পারে। হয়তো আসলেই সে করেছে। কিন্তু সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে তার অপরাধ প্রমাণ না করা পর্যন্ত তাকে কোনো বিচার ব্যবস্থাই শাস্তি দিতে পারে না, এটা ব্যক্তির অধিকার। কোনো বিচার ব্যবস্থা যদি ব্যক্তির এ অধিকার অস্বীকার করে, কিংবা এমন একটা আদালত গঠন করে যেখানে তার বিধিবিধান ও কাঠামোর মধ্যেই এ অধিকার লংঘনের সমূহ বিপদ নিহিত রয়েছে, তখন তাকে আদৌ বিচার বলা যাবে কিনা, বিচারশাস্ত্র এ অভিযোগ তুলবেই। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আন্তর্জাতিক মহলে যে তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে তার গোড়া এখানে। কোনো ষড়যন্ত্র তত্ত্ব দিয়ে এ গোড়ার মুশকিলের সমাধান হবে না।
বর্তমান সমাজে চরম ব্যক্তিতান্ত্রিকতা বা মানুষের স্বার্থপরতার বিপদ আমরা হরদমই দেখছি। তার হাজারও সমালোচনা করতে পারি, কিন্তু তার সমাধান হিসেবে ব্যক্তির স্বাধীনতা ও অধিকার হরণ করার চিন্তা অবাস্তব। ব্যক্তির অধিকার হরণের কথা আমরা ভাবতে পারি না। অন্যদিকে ব্যক্তির অধিকারই ইতিহাসের চরম সত্য নয়। ব্যক্তিই যদি একমাত্র হয়, তবে সমাজ বলে তো কিছুই থাকে না। সমাজের সত্য কী তাহলে- আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রতি এ প্রশ্ন একটি মৌলিক প্রশ্ন। সমাজ ও রাষ্ট্রের দিক থেকে যে কারণে ব্যক্তির অধিকারের সীমা নির্ধারণ করে দেয়া রেওয়াজ, যাতে কোনো ব্যক্তি নিজের অধিকার চর্চা করতে গিয়ে অন্যের বা সমাজের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে না পারে। ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, আইনের কিংবা রাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব^ এতে মিটেছে বলা যাবে না। কিন্তু আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কাছে এর চেয়ে ভালো সমাধান নেই।
এখান থেকেই যারা আরও বিকশিত সমাজের কথা ভাবেন, তাদের সমালোচনা শুরু হয়। ব্যক্তিবাদী, ব্যক্তিতান্ত্রিক ও স্বার্থপর সমাজই মানুষের বিকাশের শেষ অবস্থা, আর তার অধিকারের হেফাজত করাই রাষ্ট্রের কাজ- এটাও ঠিক হতে পারে না। যারা মানুষের ইতিহাসের এই কাল পর্ব অতিক্রম করে যাওয়ার ঐতিহাসিক কর্তব্যবোধ করেন, তাদের ভাবতে হয় কিভাবে ভিন্ন ধরনের সমাজ ও তার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ রাষ্ট্র গড়া যায়, যেখানে ব্যক্তি ও সমষ্টির কিংবা নিজের ও সমাজের স্বার্থের মধ্যে সমন্বয় ঘটানো সম্ভব। যাতে সমাজের স্বার্থ নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে ব্যক্তির স্বার্থ আর ব্যক্তির স্বার্থ নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে সমাজের স্বার্থ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। তার জন্য অবশ্যই চিন্তা করতে হবে। একটা দার্শনিক দাবি তো আছেই যে, একমাত্র রাষ্ট্র শুকিয়ে মরলে বা রাষ্ট্রের বিলয় হলেই কেবল এ সমন্বয় সম্ভব। ব্যক্তিতান্ত্রিকতা ও স্বার্থপরতার বিরুদ্ধে ব্যক্তি নয়, সমষ্টি বা সমাজের সবার স্বার্থই একমাত্র সত্য- এ চিন্তার ওপর ভিত্তি করে বিপ্লব হয়েছে। কিন্তু ইতিহাসের ব্যক্তির আবির্ভাবের শক্তি এত প্রচণ্ড যে, ‘সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব’ ঘটে যাওয়ার পরও সেই চেষ্টা রোধ করা যায়নি। মানবেতিহাসের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা ব্যক্তি আর সমাজের সম্পর্ক সম্বন্ধে মানুষকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। ব্যক্তির অধিকার, রাষ্ট্র, বিচার, গণতন্ত্র ইত্যাদি নিয়ে চিন্তা ও চর্চারও বিকাশ ঘটেছে অনেক। মূল কথা হচ্ছে, ব্যক্তি ও ব্যক্তির অধিকার এমনই ঐতিহাসিক সত্য যে তাকে যান্ত্রিকভাবে বা রাষ্ট্রের বল প্রয়োগের অধীনে রেখে আটকে রাখা অসম্ভব।
ব্যক্তিতান্ত্রিক সমাজের প্রতি প্রতিক্রিয়াবশত অনেকে কমিউনিজম বলতে বুঝতেন ‘আদিম সাম্যবাদী’ সমাজে ফিরে যাওয়া, যখন ব্যক্তিগত সম্পত্তি ছিল না। মানুষের ইতিহাস যে সামাজিকতার ধারণা নিয়ে বিকশিত হয়ে চলেছে সেটা অতীতের রোমান্টিক কল্পনার ‘আদিম সাম্যবাদী’ সমাজে ফিরে যাওয়া নয়, বরং বর্তমানের মধ্যে ভবিষ্যৎ সমাজের সম্ভাব্য অভিমুখ বা গন্তব্যের নিশানা কিভাবে ফুটে উঠছে তা শনাক্ত ও বিকশিত করার কাজ। ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বার্থপর সমাজকে মার্কস ও লেনিনের অনুসারীরা সাধারণত ‘বুর্জোয়া’ সমাজ বলে থাকেন। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক ও দার্শনিক পরিভাষা। মার্কস বা লেনিন মোটেও মনে করতেন না ব্যক্তিতান্ত্রিক চরিত্র বা স্বার্থপরতা মানুষের চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য, যা স্রেফ নীতি-নৈতিকতা বা ধর্ম শিক্ষা দিয়ে দূর করা সম্ভব। মানুষের এ স্বভাবের উৎপত্তি ব্যক্তিগত সম্পত্তির মধ্যে ব্যক্তি জীবন চরিতার্থ হওয়ার চেতনাবোধ ও উপলব্ধির সঙ্গে জড়িত। যতদিন জগতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ব্যক্তিগত সম্পর্কের বৈষয়িক স্বার্থের ওপর দাঁড়িয়ে থাকবে, ততদিন ব্যক্তিতন্ত্র ও স্বার্থপরতার বিনাশ ঘটবে না। এ সমস্যার সমাধান অতএব ব্যক্তিগত সম্পত্তির বিচারের সঙ্গে জড়িত। পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থায় স্বার্থপরতার খাসিলতটা একটা সার্বজনীন রূপ পরিগ্রহণ করে। কারণ ব্যক্তিগত সম্পত্তির সম্পর্কটাই পুঁজিতান্ত্রিক সম্পর্ক হয়ে হাজির হয়। একে ‘বদলে দাও, বদলে যাও’ মার্কা স্লোগান দিয়ে বদলানো যায় না। এ চেষ্টা একটা হাস্যকর কর্পোরেট তামাশায় পরিণত হয়। আসলে কথা হচ্ছে, পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থা যদি ব্যক্তিতান্ত্রিকতা ও স্বার্থপরতাকে মানুষের সার্বজনীন স্বভাব করে তোলে, তাহলে পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থার উৎখাত ও বিলয় ছাড়া তার মোচন অসম্ভব। এ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সংগ্রামের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে নাগরিক ও মানবিক অধিকার গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। কারণ এ অধিকার রাষ্ট্রের এখতিয়ার বা সীমাকে প্রশ্ন করে, রাষ্ট্র যখন ব্যক্তির অধিকার ক্ষুণ্ন করে তখন রাষ্ট্র নিজের ন্যায্যতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। বিচার ব্যবস্থা যখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ব্যক্তির নাগরিক ও মানবিক অধিকার অস্বীকার করে, তখন সে ব্যবস্থা নিজেকে বিচার ব্যবস্থা বলে দাবি করতে পারে না। এ অধিকার ক্ষুণ্ন করা একান্তই বাংলাদেশের আদালতের এখতিয়ার- এ যুক্তি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কখনই গ্রহণযোগ্য হয় না। দেশীয় আইনে ব্যক্তির অধিকার ক্ষুণ্ন করে যে আদালত গঠন করা হয়, সেই আদালত আন্তর্জাতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হবেই, এতে কোনো সন্দেহ নেই।
দুই
একাত্তর সালে যারা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করেছে তাদের বিচার চেয়েছে বাংলাদেশের জনগণ। সে বিচার নিশ্চিত করার প্রথম শর্ত হচ্ছে সঠিক আইন, সঠিক বিচার পদ্ধতি ও ন্যায়নিষ্ঠ আদালত প্রতিষ্ঠা। সেটা আদৌ হয়েছে কিনা সেই গোড়ার প্রশ্ন উহ্য রেখে আমরা এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের স্কাইপ কেলেংকারি, কিংবা সম্প্রতি রায় আগাম ফাঁস হওয়া নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। আন্তর্জাতিক আদালতের ভাবমূর্তি এতে ভয়ানক ক্ষুণ্ন হয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু একই সঙ্গে এ দেশের মানুষের ইনসাফের আকাক্সক্ষাও মারাত্মকভাবে অস্বীকৃত হয়েছে।
আরেকটি বিরাট সমস্যা তৈরি হয়েছে। সেটা হচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সঙ্গে নাগরিকদের সম্পর্ক। নাগরিকদের মধ্যে যারা একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চাইছেন, তারা তাদের উদ্বিগ্নতা নানাভাবে প্রকাশ করতে বাধ্য হচ্ছেন। আদালতের বিচার প্রক্রিয়া সম্বন্ধে অনেকে উদ্বিগ্ন। তারা সেটা প্রকাশ করতে বাধ্য হচ্ছেন, করছেনও অনেকেই। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিজের ন্যায়নিষ্ঠতা প্রমাণে ব্যর্থ হলে তার দায়ভার আদালতকেই নিতে হবে। সম্প্রতি আদালত ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহকে আদালত অবমাননার দায়ে আদালতে তলব করেছে। একটি টেলিভিশন টকশোতে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী কিছু বক্তব্য দিয়েছেন যা আদালত আমলে নিয়ে তাকে তলব করেছে। আমলে নেয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ১১(৪) ধারার অধীনে। একইভাবে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে আইনজীবী খোন্দকার মাহবুব হোসেন যে বক্তব্য দিয়েছেন তার কারণে তার বিরুদ্ধেও আদালত অবমাননার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী চেয়েছেন বিচার সম্বন্ধে কোনো সন্দেহ যেন মানুষের না থাকে। তিনি চাননি ‘বিচারের বাণী নীরবে নির্ভৃতে কাঁদুক’। তিনি টকশোতে বলেছেন, ‘আজকে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, আমরা চিরকাল জেনে এনেছি, এটা আমি বিশ্বাসও করেছি, আজকে সে বলছে, সে নাকি ছিলই না, সেটা সত্য, যাই হোক, সে ৪টা সাক্ষীই করেছে, একটা তো বললাম আমাদের সালমান, আরেকজন হলেন একজন সিটিং জজসাহেব, এই হাইকোর্টের বর্তমান জজসাহেবকে সে সাক্ষী মেনেছে এবং উনি বলেছেন উনি সাক্ষী দিতে চান, উনি নাকি দরখাস্ত দিয়েছিলেন, আমাদের মোজাম্মেল হোসেন সাহেবের কাছে সাক্ষী দেয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন, তাকে অনুমতি দেয়া হয়নি এবং একজন সাবেক রাষ্ট্রদূত দিয়েছেন, উনি শুনেছেন। এই যে জিনিসটা এর ফলে কী হবে? সন্দেহটা কিন্তু মানুষের মনে থেকেই যাবে। আইনে বলে এ দশজন আসামি খালাস পেয়ে যাক কিন্তু একজন নিরপরাধ যেন শাস্তি না পায়।
‘সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে মনেপ্রাণে ঘৃণা করি আমি, এ লোক দাবি করেছে সে ছিল না, সে হাসনাইন নামের এক জজসাহেবকে সাক্ষী মেনেছে, সেই জজসাহেবকে কেন সাক্ষী দেননি, এটাকে যদি না দেয়া হয়, তাহলে কি বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদবে না?... এ বিচারক কেন সাক্ষী দেবে না?’
বাংলাদেশে একটা প্রবাদ আছে মায়ের চেয়ে মাসীর দরদ বেশি হলে সেটা সন্দেহের চোখে দেখতে হবে। ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী মুক্তিযোদ্ধা। একাত্তর সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিশ্রামগঞ্জে যুদ্ধক্ষেত্রে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার জন্য ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন করে মুক্তিযুদ্ধে অসম সাহসী ভূমিকা রেখেছেন। স্বাধীনতার পর দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে তার অবদান অসামান্য। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি দেশের গণমানুষের অসীম শ্রদ্ধার পাত্র, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি তৃণমূল মানুষের স্বাস্থ্য অধিকারের অগ্রদূত হিসেবে পরিগণিত। তাছাড়া ১৯৭২ সালে তিনি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক এবং ১৯৭৭ সালে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।
এ কথা বলছি তিনি মুক্তিযুদ্ধ করেছেন বলে আইনের ঊর্ধ্বে বলার জন্য নয়। এটাই বলার জন্য যে, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ যারা করেছে, তাদের শাস্তি দেয়ার ক্ষেত্রে তার চেয়ে আন্তরিক কেউ হতে পারে না। সেক্ষেত্রে তাকে আদালত অবমাননার জন্য তলব করা আদালতকে বিতর্কিত করা ছাড়া আর কী হতে পারে?
এ লেখায় আজ আমি খুবই ছোট একটি প্রশ্ন তুলে শেষ করব। সেটা হল একই দেশে দুটি আইনি ব্যবস্থা থাকতে পারে কিনা? আইসিটি বাংলাদেশের প্রচলিত আইন বিচার ব্যবস্থা থেকে পৃথক। আইসিটি অ্যাক্ট (International Crimes Tribunal Act, 1973) ১৯৭৩ সালে জারির পর ২০০৩ সাল অবধি চারবার সংশোধিত হয়েছে। আদালতের বিচার প্রক্রিয়ার ত্র“টি নিয়ে অনেকে অনেক কথা দেশে-বিদেশে বলেছেন। এখানে তার পুনরাবৃত্তি করব না। নাগরিক ও মানবিক অধিকারের যে প্রশ্ন তুলেছি, সেই আলোকে আপাতত একটিমাত্র প্রশ্ন তুলব।
প্রচলিত সাক্ষ্য আইন ১৮৭২ এবং প্রচলিত ক্রিমিনাল পেনাল কোড (ঈৎচঈ) আইসিটির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে গণ্য নয়। সাক্ষ্য আইন ও ফৌজদারি বিধিবিধানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে যে বিচার প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে আইসিটি অ্যাক্ট অতএব তার থেকে আলাদা। প্রথমেই তাহলে প্রশ্ন ওঠে, একটি দেশে বিচারের দুটো ব্যবস্থা ও প্রক্রিয়া থাকতে পারে কিনা।
কোনটা সাক্ষ্য প্রমাণ বলে গণ্য হবে কোনটা নয়, তা কি আইসিটির ক্ষেত্রে একরকম আর বাংলাদেশের অন্য আদালতে অন্যরকম হবে? শোনা কথা বা উড়ো কথা সাক্ষ্য নয়। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের সম্পর্কে সত্য-মিথ্যা নানা কাহিনী থাকতে পারে। আদালতের কাজ হচ্ছে বিচারের মধ্য দিয়ে সত্য প্রতিষ্ঠা করা। সে কাজ করতে গিয়ে কোনো অপরাধী যদি প্রমাণের অভাবে ছাড়া পেয়ে যায় তাও ভালো, কিন্তু বিনা প্রমাণে কেউ যেন শাস্তি না পায়, এটাই হচ্ছে বিচারের দিক থেকে নাগরিক ও মানবিক অধিকারের মূল কথা। এ যুক্তিতেই তাহলে নিউজ পেপার কাটিং ইত্যাদির প্রমাণ মূল্য নেই। এভাবে সাক্ষ্য আইন সাজানোর পেছনে মূল অনুমান হল, কোনো ঘটনা বর্ণনা করতে, জানাতে বা জানতে এসবের মূল্য থাকতে পারে, কিন্তু এগুলো অপরাধের প্রমাণ নয়। তাই এ বিদ্যমান বিচার ব্যবস্থায় ‘সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত’ কথাটার অর্থ সাক্ষ্য আইনের পরিপ্রেক্ষিতেই বুঝতে হবে, আক্ষরিক অর্থে নয়।
প্রচলিত ফৌজদারি বিধানে বিচার হচ্ছে সুনির্দিষ্ট ধারা অবলম্বন করে বিচার, যেখানে ‘অপরাধ’ বলতে কী বোঝানো হচ্ছে তা আইনের দ্বারা সংজ্ঞায়িত। যে কারণে আমরা বলি, অমুক ধারায় সাজা হয়েছে। সেই ধারায় অপরাধ ‘সন্দেহাতীতভাবে’ প্রমাণিত হলে সাজা কী হবে, সেটাও প্রচলিত ফৌজদারি বিধানে আগেই উল্লেখিত থাকে। অর্থাৎ অমুক ধারায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যে সাজা হয়েছে তা আইনি প্রক্রিয়া মেনেই হয়েছে।
এই ধারা ও সাজা আগাম নির্ধারণ রাখার অর্থ হচ্ছে, বিচার দুই পক্ষের উকিল ও বিচারপতিদের কেবল সুনির্দিষ্ট অভিযোগের মধ্যে মনোযোগী থাকতে বাধ্য করা। বিচারক যেন তার নিজের মর্জি মাফিক কিছু না করেন, সেটা আগাম নির্দিষ্ট করে দেয়া সুবিচারের ধারণার সঙ্গে যুক্ত।
এখন তর্কের খাতিরে ধরা যাক, একাত্তরে মানবতার বিরুদ্ধে যারা অপরাধ করেছে এ আইন তাদের জন্য। তাহলে আদালত একজন মুক্তিযোদ্ধাকে আদালত অবমাননার জন্য তলব যখন করল, তখন সেই ক্ষেত্রে তিনি আদৌ আদালত অবমাননা করেছেন কি-না তার সাক্ষ্য প্রমাণ কোন আইনের অধীনে হবে? একজন মুক্তিযোদ্ধা মানবতার বিরুদ্ধে যারা অপরাধ করেছে তাদের বিচার সুষ্ঠুভাবে না হওয়ায় উদ্বিগ্ন। আদালত এ উদ্বিগ্নতার গুরুত্ব উপলব্ধি করেছেন বলে মনে হচ্ছে না।
মনে রাখা দরকার, রাজপথ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছিল সরকারের সঙ্গে আঁতাতের পরিপ্রেক্ষিতে আবদুল কাদের মোল্লাকে আদালত লঘু দণ্ড দিয়েছেন। এ ধরনের অবমাননাকর ও রাজনৈতিক অভিযোগ আদালতের বিরুদ্ধে তোলা হলেও এ ব্যাপারে আদালতে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। রাজনৈতিক বিতর্ককে আদালতের আঙ্গিনায় নিয়ে গিয়ে আদালত নিজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। এটা অনভিপ্রেত ছিল। তেমনি নাগরিকদের প্রতি অসম আচরণ কিংবা মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে আতংক তৈরি ও হয়রানি কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা মনে করি, ব্যক্তি বা আদালত কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নাগরিক অধিকার ও মানবিক অধিকার ক্ষুণ্ন করার এখতিয়ার কারোই থাকতে পারে না। তাছাড়া দেশে আদালত অবমাননার যে আইন বিদ্যমান ছিল, সম্প্রতি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ তা বাতিল করেছে। এখন আর বাংলাদেশে আদালত অবমাননার কোনো আইন বা বিচারিক ভিত্তি না থাকাটা নাগরিকদের জন্য খুবই ভীতিকর।
যেহেতু আইসিটি নিজেই একটি সমান্তরাল বিচার ব্যবস্থা, তাহলে আইন ও ন্যায়বিচারের দিক থেকে এতে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। তার মীমাংসা নেই। প্রচলিত আইনে আদালত অবমাননা আইন বাতিল হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আইসিটি কোন আইনে আদালত অবমাননার বিচার করবে? যদি আইন বহালও থাকত, তাহলেও বা আইসিটি কোন আইনে বিচার করত?
বিচার যদি আমাদের পাপের বোঝা না কমিয়ে আরও বাড়িয়ে দেয়, তার চেয়ে দুর্ভাগ্য একটি দেশের জনগণের জন্য আর কী হতে পারে?
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আজ ত্বকীর জন্মদিন
আরও একবার আমি মানুষ হয়ে মরব,
উত্থিত হতে নিষ্কলঙ্ক ফেরেশতাদের পাশে—
তবে তা থেকেও উন্নীত হতে হবে আমাকে, কারণ
ঈশ্বর ছাড়া সকলেই যে ধ্বংস হবে—
যেদিন আমার স্বর্গ পবিত্র আত্মার বলি দিব,
আমি হব তাই,
যা ছিল না কখনো কারও কল্পনা চিন্তায়—
আমার যেন বিলুপ্তি ঘটে, কারণ
অনস্তিত্ব ইন্দ্রিয়ে সুর তুলে আমি তাঁর কাছে ফিরব—
এই ঝড়ের মধ্যেও চোখের সামনে ভেসে উঠল কাহিলল জিবরানের মুখ। সেদিনই ওর এ-লেভেল পরীক্ষার প্রথম বর্ষের ফল প্রকাশিত হলো। পদার্থবিদ্যা ও রসায়নে বিশ্বের সর্্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে। ও-লেভেল পরীক্ষায়ও পদার্থবিদ্যায় দেশের সর্বোচ্চ নম্বর ছিল। কিন্তু ভালো ফলাফলে কোনো আগ্রহ ছিল না ওর। ওর চোখ ছিল অন্যখানে। জগৎ, মহাকাশ এবং এর সৃষ্টি নিয়ে ছিল অপার জিজ্ঞাসা। সবকিছুর গভীরে যেতে চাইত। সাধারণ ভালো ওর কাছে ভালো ঠেকত না। চোখ ছিল হিমালয়ের চূড়ায়। আকাশছোঁয়া স্বপ্ন ছিল চোখে।
ও যখন ক্লাস সিক্স থেকে সেভেনে উঠেছে, বাংলায় নম্বর ছিল ৬৭ কি ৬৮। আমি বললাম, ‘দ্যাখো, বাংলা আমাদের মাতৃভাষা, তুমি আর যাই শেখো না কেন, নিজের ভাষাটা ভালো করে শিখতে হবে। জানতে হবে। একে অবহেলা করলে চলবে না।’ সেদিন ও কিছুই বলল না। দুই দিন পর বলল, দেখো বাবা, আগামী বছরই বাংলায় আমি ভালো করব। পরের বছর বাংলায় ওর নম্বর ছিল সম্ভবত ৮৩ কি ৮৪। ও নিজেকে বুঝতে পারত। নিজেকে নিজেই নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা ওর ছিল।

কৌতূহলী এক কিশোর
আক্ষরিক অর্থেই নিভৃতচারী বলতে যা বোঝায়, ত্বকী ছিল তা-ই। ওর ভালো নাম তানভীর মুহাম্মদ। মগ্ন চৈতন্যে অন্তর্মুখী অথচ জগৎ ও চারপাশ সম্পর্কে উদাসীন নয়, কৌতূহলী এক কিশোর। আবৃত্তি ভালো করত। একবার শুনলেই কবিতার মূল সুরটি ধরতে পারত। দীর্ঘ কবিতা মুখস্থ করে ফেলত। ওর কণ্ঠের আবৃত্তি বাতাসে কান পাতলে এখনো শুনতে পাই—
মেঘের মধ্যে মাগো যারা থাকে
তারা আমায় ডাকে, আমায় ডাকে—
ত্বকী এই আহ্বান প্রকৃতই শুনতে পেয়েছিল কি না, জানি না। বন্ধুবান্ধব হইহুল্লোড় খুব একটা পছন্দ করত না। বন্ধু তেমন একটা ছিলও না। বন্ধু বলতে হয়তো আমিই ছিলাম। কারণ ওর যা বলার, যতটুকু বলার প্রয়োজন বোধ করত, আমার সাথেই করত। কারও বিরুদ্ধে কখনো অভিযোগ ছিল না। বন্ধু, পরিজন, শিক্ষক কারও সম্পর্কে কখনো কোনো অভিযোগ করেনি। কেউ দুঃখ পাবে, এমন আচরণ ছিল ওর নীতি ও রীতিবিরুদ্ধ। দূরের বা অপছন্দের কেউ হলেও না। ছিল স্বল্প ও মৃদুভাষী। প্রকৌশলী হওয়ার ইচ্ছে ছিল। বলেছিলাম, এ-লেভেল শেষে দেশের বাইরে চলে যাও। পড়াশোনা শেষ করে ফিরে এসো। ও দেশের বাইরে যেতে চাইত না। মাকে বলত, দেশে থেকে কি লেখাপড়া হবে না? দেশের পড়াশোনা কি এতই খারাপ যে বাইরে যেতেই হবে? আমি শুনে বললাম, বাইরে যাওয়াটা দোষের কিছু না। আমাদের সামনের যে মানুষগুলো রয়েছেন, তাঁরা সবাই তো বাইরে গিয়েছেন, বিশ্ব ঘুরেছেন। বাইরে না গেলে ভেতরটাকে ঠিক জানা যায় না। ভেতরটা ভালো করে জানার জন্য, বোঝার জন্য হলেও বাহিরটাকে জানার প্রয়োজন পড়ে। আমার সঙ্গে কিছুই বলল না। পরে মাকে বলল, তোমাদের ছেড়ে আমি কোথাও যাব না, থাকতে পারব না। আজ বড় জানতে ইচ্ছে করে, আমাদের চিরতরে ছেড়ে ওখানে কী করে আছ?
একজন শহীদের ময়নাতদন্ত
ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকদের বোর্ডপ্রধান এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘ত্বকীকে মাথার তিন দিক থেকে আঘাত করা হয়েছে। এ আঘাতই তার মৃত্যুর জন্য যথেষ্ট ছিল। কিন্তু হত্যাকারীরা মৃত্যুটা ত্বরান্বিত করার জন্য গলা চেপে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করেছে। একটি চোখ উপড়ে এনে দেহের মধ্যভাগের একটি অঙ্গ থেঁতলে দিয়েছে।’ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যাকারী এক ঘাতক বলেছে, গজারির লাঠি দিয়ে পিটিয়ে অজ্ঞান করার পর ত্বকীর বুকের ওপর উঠে গলা টিপে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ঘাতকেরা যখন ওকে মাথায় আঘাত করেছে, আমি জানি না জোরে কথা বলতে না চাওয়া ত্বকী তখন চিৎকার করেছে কি না! কী বলেছে ওদের? কাউকেই কখনো কষ্ট দিতে না চাওয়া ছেলেটির কী আচরণ ছিল তখন? ঘাতকের শক্ত বাহু যখন ওর কণ্ঠ সজোরে সাঁড়াশির মতো আঁকড়ে ধরেছিল, তখন মানুষ সম্পর্কে, সমাজ সম্পর্কে, জগৎ সম্পর্কে মানবতা-মনুষ্যত্ব—এসব সম্পর্কে ওর নতুন কোনো ধারণা তৈরি হয়েছিল কি না। এত দিন যে ধারণা ওর মধ্যে তিলে তিলে গড়ে উঠেছিল, তার কোনো বদল হয়েছিল কি না, আজ তা জানতে ইচ্ছে করে। ‘একজন শহীদের ময়নাতদন্ত’ শিরোনামে ইংরেজি একটি কবিতায় ত্বকী লিখেছে—
ওরা ছুরি ও
ধারালো অস্ত্র দিয়ে
দ্বিখণ্ডিত করে কণ্ঠনালি
ওরা উল্লাসে দেখে
কীভাবে শরীর থেকে
বৃষ্টির মতো রক্ত গড়ায়।
ধারালো অস্ত্র দিয়ে
শরীরের চামড়া ছিলে নেয়
এবং দেখে ভেতরের মাংসপেশি ও হাড়গোড়
ওরা টুকরো টুকরো করে হাড়গোড়
খণ্ডবিখণ্ড করে ফেলে
বীভৎস উল্লাসে
এই সব হাড়গোড় শরীরে জড়িয়ে
জানান দেয় নিজেদের সাহসিকতা
স্মারক চিহ্ন করে
ঝুলিয়ে নেয় গলায়—
ওরা সেই সব মৃত মানুষের মাংস খায়
বর্বর অন্ধকার যুগে যেমনি মানুষখেকোরা
ভক্ষণ করেছে তাদের স্বজাতিকে
ত্বকীর শেষ দিনগুলো
ত্বকীর পছন্দের রং ছিল কালো। কালো জামা প্রিয় ছিল। ৬ মার্চ বিকেলে বাসা থেকে যখন বের হবে, পরনে কালো জিনস আর গায়ে সাদা টি-শার্ট। আমি বললাল, জামাটা বদলে নাও। ও কালো একটা জামা পরে নিল। জীবনের সব ধকল ওই জামাটির ওপর দিয়ে গেল। ৮ মার্চ সকালে শীতলক্ষ্যার পাড়ে যখন কাদা-বালুতে পড়ে ছিল, চেনার জো ছিল না। এ জামাটিই ত্বকীকে চিনতে সাহায্য করেছে।
ছোট থেকেই পাঠ্য তালিকার বাইরের বইয়ের প্রতি ঝোঁক ছিল। ত্বকী যখন ক্লাস এইটে, তখন আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের খোয়াবনামা, চিলেকোঠার সেপাই, লিয়েভ তলস্তোয়ের ওয়্যার অ্যান্ড পিস পুরোটা পড়েছিল। ও-লেভেল পরীক্ষার শেষে এডওয়ার্ড সাঈদের ওরিয়েন্টালিজম, রিপ্রেজেন্টেশনস অব দি ইন্টেলেকচুয়াল পড়েছে। পরে দেখেছি জ্যাক দেরিদা মনোযোগ দিয়ে পড়তে। জিজ্ঞেস করলাম, এটা কি তুমি বুঝতে পারছ? উত্তর না দিয়ে শুধু হাসল। নিখোঁজ হওয়ার মাস খানেক আগে থেকে দেখেছি ফ্রেডরিক নিটশের জড়থুস্ত্র বললেন গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়ছে, সঙ্গে তলস্তোয়ের ছোটগল্প। আইনস্টাইন ওর প্রিয় ছিল। প্লেটোর রিপাবলিক ও পড়েছে। লালনের প্রতি আকর্ষণ ছিল। আগ্রহ ছিল সুফিবাদে। সুধীজন পাঠাগার থেকে আনা ওর বইয়ের তালিকায় মূলত ছিল গণিত ও পদার্থবিদ্যার বই।

১০ বছর বয়সে ত্বকী কোরআন শরিফ পাঠ শেষ করেছিল। রমজান মাসে পুরো ৩০টি রোজা রাখত। আমি মাঝেমধ্যে নিষেধ করতাম, কিন্তু জোর করতাম না। আমরা কখনোই ওর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ওকে কিছু বলিনি। বলার প্রয়োজন পড়েনি। ওর পড়াশোনার নিজস্ব একটা নিয়ম ও নিজেই তৈরি করে নিয়েছিল। স্কুল থেকে বিকেলে এসে ঘুম। রাতে উঠে খাবার সেরে পড়া শুরু করে টানা ভোর তিনটা-চারটা। কিন্তু সারাক্ষণ বইয়ে মুখ গুঁজে থাকাটা ওর স্বভাব ছিল না। যতক্ষণই পড়ত মনোযোগ দিয়ে পড়ত। পড়াটাকে ও উপভোগ করত। স্কুলে বা বাইরে কখনো কোচিং করেনি। বিভিন্ন সময়ে কোচিং করার প্রয়োজন আছে কি না, জিজ্ঞেস করলে মাথা নেড়ে উত্তর দিয়েছে, প্রয়োজন নেই। ত্বকীর এ-লেভেল পরীক্ষার আগে ওর স্কুলের এক শিক্ষক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছিলেন, তাঁর কোচিং না নিলে ত্বকী পরীক্ষায় ভালো করতে পারবে না। বিষয়টা ত্বকী বাসায় বলেনি। ফল প্রকাশের পর সেই শিক্ষক কেঁদে বলেছিলেন, ‘চ্যালেঞ্জে ত্বকী আমাকে হারিয়ে দিয়ে গেল।’
এ-লেভেল পরীক্ষার পর ও একদিন বলল, আচ্ছা, পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের দরকারটা কী? আমাদের সামনের বড় বড় মানুষের কারোরই তো পরীক্ষায় ফল ভালো দেখছি না। বড় হতে তো ভালো ফলাফলের প্রয়োজন পড়ে না। বললাম, বড় হতে বা মানুষ হতে হলে ভালো ফলাফলের প্রয়োজন পড়ে না ঠিকই, তবে যে সময়টা তুমি এই পড়াশোনার জন্য ব্যয় করছ, তার সঠিক ব্যবহারটা নিশ্চিত হলো।
কখনো বাসায় ফিরতে দেরি হলে ফোনে জানিয়ে দিতাম খেয়ে নিতে। কিন্তু গিয়ে দেখতাম, সবাই খেয়ে নিলেও ত্বকী না খেয়েই বসে আছে। খাবারদাবারে খুব একটা আগ্রহ ছিল না। খুব কম খেত। ওকে জোর করে খাবার দিতে হতো। আমি ছাড়া অন্য কেউ দিলে আবার নিতে চাইত না। মুখ ফুটে কখনোই কিছু চাওয়া ওর স্বভাবে ছিল না। দাবা খেলতে ভালোবাসত। ক্রিকেট খেলাটা পছন্দ করত।
ত্বকীর খেরো খাতা
মৃত্যুর পর খেরো খাতায় দেখলাম, এক জায়গায় লিখেছে—‘হূদয়ে আজ নব বসন্তের গান/ পাখির ডাকের সাথে ধ্বনিত হচ্ছে শাহবাগের স্লোগান।’ শাহবাগের জাগরণ মঞ্চের প্রতি ওর প্রবল আগ্রহ ছিল। নিজের ইচ্ছার কথা কখনোই সরাসরি বলত না। ঘুরিয়ে বলত। একদিন বলল, ওর সহপাঠীরা আগামী দিন সবাই শাহবাগে যাবে বলে ঠিক করেছে; ত্বকী তাদের সাথে যাবে কি না, তারা জানতে চেয়েছে। সেই দিনটিতে ছিল শাহবাগে জাগরণ মঞ্চের এক মহাসমাবেশ। পাশাপাশি বিএনপি ও জামায়াতেরও একটি প্রতিবাদ কর্মসূচি। চলমান সহিংস ও সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে অনিবার্য আশঙ্কা থেকে বলেছিলাম, আগামীকাল যেয়ো না; দু-চার দিন পর আমিই তোমাকে শাহবাগে নিয়ে যাব। আমাদের নারায়ণগঞ্জে গড়ে ওঠা জাগরণ মঞ্চের ব্যস্ততায় ত্বকীকে নিয়ে আর শাহবাগে যাওয়া হয়ে ওঠেনি। পরে দেখলাম ত্বকী তার খাতায় লিখেছে, ‘লুকোচুরি খেলব বলে চলে এলাম তোমার আগে/ সংগ্রাম চলছে শাহবাগে।’ শাহবাগ নিয়ে ইংরেজিতে ‘শাহবাগ সংগ্রাম’ নামে একটি নিবন্ধ লিখেছে। রাজীব হায়দারকে নিয়ে লিখেছে—
ফুলের মতো দৃশ্যমান
রক্তমাখা রাজীবের চোখ
সবুজ পাতার সাথে
দৃশ্য জুড়ায়
লাল-সবুজের পতাকা-
যেন বলে ওঠে
এই তো স্বদেশ
লাল-সবুজের বাস যেখানে
প্রকৃতি ও সংগ্রামে-
এই পৃষ্ঠায়ই দুটি লাইন লিখেছে ‘কোকিলের পাশাপাশি উড়ে চলে/ শোকের কালো পতাকা’। লাইন দুটি আবার কেটে দিয়েছে। শোকের পতাকা হয়তো ত্বকী ওড়াতে চায়নি। অন্তহীন শোকের পূর্বাভাস হয়তো তার আগেই জানা ছিল। একটি কবিতায় লিখেছে—
সমগ্র মানব জাতি আজ
এক কাতারে দাঁড়াবে
...
জলাঞ্জলি দিয়ে হিসেব কষা
ছড়িয়ে দেবে ভালোবাসার গান
বলবে মানুষ চাই সমানে সমান।

এটা বিশ্বাসের কথা; স্বপ্নের কথা। সভ্যতার উষালগ্ন থেকেই সমগ্র মানব জাতিকে এক কাতারে দাঁড় করানোর সেই যে কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে, তাতে আমাদের সমাজনীতি, অর্থনীতি, রাজনীতি—সব এরই দোহাই দিয়ে আজ অন্ধ গলিতে ঢুকে পড়ছে। আজকের কর্তব্যটি তারই বিরুদ্ধে। সে কাজ সম্পর্কে কতটা ধারণা ছিল ত্বকীর জানি না। তবে সে তার জন্য নিজেকে যে ধীরে ধীরে তৈরি করে চলেছিল, সেটি বোঝা যায়। কিন্তু ত্বকী অবশেষে অঙ্কুরেই নিঃশেষ হয়ে যাওয়া স্বপ্নগুলোর সঙ্গে গিয়ে মিশে গেল, মিশে গেল ঝরা পাতাদের দলে।
‘ফিরে এসো বাংলাদেশ’ শিরোনামে ইংরেজিতে একটি কবিতায় লিখেছে—
যারা যুদ্ধের ডাক দিয়েছিল,
যারা অপেক্ষায় আছে আজও একটি বিচারের—
একটি বিচার
যা শেষ করার জন্য
তারা
যুদ্ধের সেই সব নায়কেরা
ডাক দিয়ে যায়—
জাতির জন্য, জেগে ওঠার জন্য
ওই জাতির জন্য; যারা ধ্বংসের মধ্যেও
নতুন জীবনের ডাক দিয়ে যায়;
তুমি কি শুনতে পাওসেই সব শহীদের কণ্ঠস্বর? কবিতা লেখার কথা ত্বকী বলেনি কখনো। এগুলো হয়তো নিখোঁজ হওয়ার আগের দু-তিন মাসের মধ্যে হবে। ইংরেজিতে লেখা কয়েকটা গল্প, নিবন্ধ ইতিপূর্বে সে দেখিয়েছে। খাতার এক জায়গায় লিখেছে, ‘ধ্যান, পড়াশোনা, গান, লেখালেখি, সমাজ’। কোথাও লিখেছে, ‘প্রবন্ধ লিখব, গল্প লিখব, ভালো লিখব’। লেখালেখির ইচ্ছে ওর মধ্যে ছিল। একদিন জিজ্ঞেস করল, ভালো লিখতে হলে কী করতে হবে? বললাম, পড়তে হবে, চারপাশটা দেখতে হবে, তারপর লিখতে হবে। তারপর আবার পড়তে হবে, একে চারপাশের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হবে, পরে আবার লিখতে হবে; এভাবে করে করেই একসময় লেখা হয়ে যাবে। শৈশব থেকেই ত্বকী ছবি আঁকতে ভালোবাসত। প্রথম আলোর ‘গোল্লাছুট’ পাতায় প্রায়ই ওর আঁকা ছবি ছাপা হতো। ‘যুদ্ধ নয় শান্তি চাই’ শিরোনামে ও একটি ছবি এঁকেছিল। ব্যানার-ফেস্টুন হাতে শিশুদের মিছিল। শান্তির মিছিল। যুদ্ধের বিপক্ষে ত্বকী ছিল শান্তিপ্রিয়।
গান শিখত। শাস্ত্রীয় সংগীত। মাঝেমধ্যে রবীন্দ্রসংগীত গাইত। লালন ও হাসন রাজার গান ওর প্রিয় ছিল। সময় পেলেই লালনের গান শুনত। ওর খেরো খাতায় দেখলাম, লালনকে নিয়ে ‘ফকির লালন সাঁই’ শিরোনামে ইংরেজিতে লেখা ছোট্ট একটি নিবন্ধ লিখেছে। সেখানে লিখেছে, ‘লালনের দর্শন গড়ে উঠেছে বৌদ্ধ ও বৈষ্ণবদের সহজিয়া, ইসলামের সুফি ও লোকায়ত দর্শনের সমন্বয়ে।... তাঁর গানের ভিত্তি বৈষ্ণববাদ হলেও তাঁকে শুদ্ধ বৈষ্ণববাদ বা শুদ্ধ সুফিবাদ কোনোটাতেই ফেলা যাবে না।’ সুফিবাদের প্রতি আকর্ষণের কারণেই হয়ত এ বিষয়ে কিছু পড়াশোনা করেছে। মাঝেমধ্যে ও মেডিটেশন করত। শেষ সময়টায় দেখতাম প্রায়ই মেডিটেশন করত। সৃষ্টি, স্থিতি, সত্য-অসত্য, জগৎ ও মহাকাশ নিয়ে কৌতূহলের সীমা ছিল না। কখনো প্রশ্ন করত, কখনো বা নিজেই উত্তরের খোঁজে পথ হাতড়ে বেড়াত। সামগ্রিকতায় আস্থা ছিল।

About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জেলে যেতে হবে জানতেন লালু
যতদিন সিঙ্গাড়াতে আলু থাকবে, ততদিন বিহারেও লালু থাকবে
২৭ জানুয়ারি, ১৯৯৬ : পশুখাদ্য ক্রয়ে অর্থ জালিয়াতিটি গণমাধ্যমে প্রথম প্রকাশ পায়।
১১ মার্চ, ১৯৯৬ : ‘ফোডার ক্রয় দুর্নীতি মামলা তদন্তে পাটনা হাইকোর্ট সিবিআইকে নিযুক্ত করে।
১৯ মার্চ, ১৯৯৬ : সুপ্রিমকোর্ট পাটনা হাইকোর্টের সিদ্ধান্তকে অনুমোদন দেয়।
২৭ জুলাই, ১৯৯৭ : সিবিআই লালু প্রসাদকে জেরা অব্যাহত রাখলে, লালু প্রসাদ যাদব তার স্ত্রী রাববি দেবীকে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত করে।
৩০ জুলাই, ১৯৯৭ : সিবিআই কোর্ট-এ লালু প্রসাদ আÍসমর্পণ করে।
৪ এপ্রিল, ২০০০ : পুলিশ লালু প্রসাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে।
৫ এপ্রিল, ২০০০ : লালু প্রসাদ এবং রাববি দেবী আÍসমর্পণ করে, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী রাবরি দেবী জামিন পায়।
৯ জুন, ২০০০ : আদালতে লালু প্রসাদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়।
অক্টোবর ২০০১ : সুপ্রিমকোর্ট মামলাটি ঝাড়খণ্ডের আদালতে স্থানান্তর করে লালু প্রসাদকে রানচি-তে আÍসমর্পণ করতে হয়।
২০০০-২০১২ : ঝাড়খণ্ডের আদালতে মামলাটি বিচারাধীন থাকাকালে অনেক সাক্ষী মারা যায়।
১৭ মে, ২০০২ : স্পেশাল সিবিআই কোর্ট লালু প্রসাদের বিরুদ্ধে আরেকটি ‘ফোডার ক্রয় দুর্নীতি মামলা করে।
৩০ অক্টোবর, ২০১৩ : বিচারক পিকে সিংয়ের এক রায়ে লালু প্রসাদকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেয়। তথ্যসূত্র : ইন্ডিয়া টুডে
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1372)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ▼ 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...
