Monday, March 17, 2025

কাউয়াদীঘি হাওরে ‘শিশিরের শব্দের মতো সন্ধ্যা আসে’

তখন অনেক দূরে দিগন্ত পেরিয়ে কোনো এক গ্রামের ওপারে ঢলে পড়ছে সূর্য। দিনটা শেষ হতে চলেছে। পলাশ ফুলের রঙে তখন থালার মতো ঝুলে আছে সূর্যটা। খুব বেশি সময় নেই। চলে যেতে হবে অন্য কোথাও, অন্য কোনো দেশে। ওখানে অন্ধকার ঘোচানোর দায় ওই একই সূর্যের। বিদায়মুহূর্তের সেই রঙিন আলো ছড়িয়ে পড়েছে প্রান্তরের বুকে।

দেখতে দেখতে মৌলভীবাজারের কাউয়াদীঘি হাওরের পশ্চিম আকাশে সূর্য আরও লাল হয়ে উঠেছে। ‘ডানায় রৌদ্রের গন্ধ মুছে ফেলে চিল’ বাড়ি ফিরছে। রাখালের দল মেঠো পথে ধুলা উড়িয়ে হাওর থেকে গরু নিয়ে ছুটছে নিজেদের গ্রামের দিকে। কেউ ফিরছেন গবাদিপশুর জন্য ঘাস নিয়ে। সাদা বকের ঝাঁক রাত কাটাতে হাওরপারের কোনো বাড়ির আশ্রয়ের দিকে উড়ে চলছে। আর নির্জনতায় ডুবে আছে সবুজ ধানের দেশ, হাওরের দিলখোলা সবুজ হৃদয়।

মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলা নিয়ে ছড়ানো কাউয়াদীঘি হাওরের বুক। সম্প্রতি বসন্তের এক বিকেলে কাউয়াদীঘি হাওরের দিকে যাওয়ার পথে অন্য রকম ভালো লাগা তৈরি হতে থাকে। সদর উপজেলার একাটুনা এলাকা পার হতেই দেখা মেলে ধানখেতের পাশে ঘাস, কচুরিপানা ভরা এক টুকরো পতিত জমিনে একঝাঁক শামুকখোল পাখির সঙ্গে। গ্রামের ভেতরেই পাখিগুলো ওখানে রাজকীয় পা ফেলছে, শরীর দুলিয়ে হাঁটছে, উড়ছে, খাদ্য খুঁটে খাচ্ছে। এতটাই নিশ্চিত তাদের উপস্থিতি, কোনো ভয়ভীতি নেই। পাশেই মানুষের ঘরবাড়ি। তবু কেউই তাদের বিরক্ত করছে না। শামুকখোলের দল আপনমনে ওখানে সময় পার করছে।

ওখান থেকে কিছুটা দূরে বিরাইমাবাদ এলাকায় অপেক্ষায় তখন শহর-নগরজীবনের বাইরে অন্য এক জগৎ। হয়তো ওই এলাকার মানুষের কাছে এ রকম প্রকৃতি নতুন কিছু নয়, দিনের শেষে ও রকম সময় প্রতিদিনই একবার ফিরে আসে তাদের কাছে। তারা দেখে, তারা একসময় ভুলেও যায়। ওই গ্রাম এলাকা হাওরপারের। গ্রামের শেষ প্রান্ত থেকে কাউয়াদীঘি হাওরের শুরু। হাওরের সবুজ হৃদয়ে তখন মৃদু নীরবতায় গোধূলি ধোঁয়া, ধীরে সন্ধ্যা নামছে। যত দূর চোখ যায়, তত দূর বিস্তৃত শুধু ধানের সবুজ, ঘাসের সবুজ। ওখানে তখন ‘সন্ধ্যা হয়ে আসে—সন্ধ্যা হয়ে আসে/ একা একা মাঠের বাতাসে/...।’

সন্ধ্যা যে হয়ে এসেছে, তা সূর্যই মনে করিয়ে দেয়। সূর্যের দিনের কড়া, চোখ রাঙানো মেজাজ তখন আর নেই। সূর্য তখন গোল থালার মতো পলাশ ফুলের রং মেখেছে সারা দেহে। পশ্চিমের আকাশে সূর্যটা তখন একটু একটু করে ঢলে পড়েছে, হালকা কুয়াশার মতো পর্দার আড়ালে ডুবতে বসেছে। আরও কিছু সময় শেষে তাকে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। সেই রঙের ছোপ পড়েছে হাওরের প্রতিটি ঘাসে।

হাওর উচ্চারণমাত্রই মনে হতে পারে, ওখানে আর কিছু নেই। এ এক অথই জলের দেশ। শুধু জলের সাদা বুক, আঁচড়ে পড়া ঢেউ। ছোট-বড় নৌকা ভাসছে জলের বুকে। হাওরপারের গ্রামগুলোকে মনে হতে পারে গা ডুবিয়ে সাঁতার কাটছে জলে। এখন তার ঠিক উল্টো প্রকৃতি। এখন দু-একটি বিল ছাড়া আর কোথাও জলের দেখা মেলে না। চোখের সামনে শুধু সবুজের খোলা বুক, দিগন্তজোড়া সবুজের উন্মুক্ত হৃদয়, সৌন্দর্যের অন্য হাওর প্রকৃতি।

এদিকে সূর্য ডুবছে আর অন্যদিকে হাওরের কাজ শেষে ঘরে ফিরছেন মানুষ। পথে পথে দেখা হতে থাকে রাখালদের সঙ্গে। একটু পরপরই ১০-২০টি কিংবা তারও বেশি গরু নিয়ে ফিরছিলেন রাখালেরা। তাঁরা সেই সকালবেলা হাওরপারের গ্রাম থেকে পাঁচ-সাত কিলোমিটার দূরে গরু নিয়ে হাওরে গিয়েছিলেন। ওখানে সারা দিন গরু চরিয়েছেন। কয়েকজন গৃহপালিত গবাদিপশুর জন্য হাওর থেকে ঘাস সংগ্রহ করে বাড়ি ফিরছিলেন। তাঁরাও দিনের কোনো একটা সময় ঘাস সংগ্রহ করতে হাওরে এসেছিলেন।

শুধু কি মানুষই এমন সন্ধ্যায় নিজের গ্রামে, নিজের বাড়িতে ফিরে যায়? পাখিদেরও বাড়ি আছে, বাড়ি ফেরার তাড়া আছে। পাখিরাও রাত কাটাতে একা, নয়তো ঝাঁকে ঝাঁকে হাওর থেকে হাওরপারের কোনো গ্রামে তাদের নিরাপদ ঠিকানা, কোনো আশ্রয়ের দিকে ফিরছে। এই দলে আছে সাদা বকপাখি, পানকৌড়ি, শালিক-ঘুঘুর দল। তারা উড়তে উড়তে কোনো না কোনো গ্রামের দিকে হারিয়ে যেতে থাকে। কোনো ঝাঁক হাওরপারের বাড়ির গাছে দলে দলে বসে থাকে। ওই গাছেই রাত কাটবে তাদের। সকাল হলেই এসব আশ্রয় ছেড়ে তারা ছড়িয়ে পড়ে হাওরের বিভিন্ন দিকে। সারা দিন এখানে-ওখানে ওড়ে, ঘুরে তারা খাবার খুঁজে খায়।

ততক্ষণে সূর্য ডুবে গেছে। সূর্যের আর দেখা পাওয়া যায় না। শুধু আলোর কিছু রেশ আকাশের দিগন্তে ফুটে আছে, কিছু আলো মেঘের দেহে লেগে আছে। কিছু সময়ের মধ্যে তা–ও মুছে যায়। একটা সময় সন্ধ্যার অন্ধকারে ডুবে যায় হাওর, হাওরপারের গ্রাম। যে যেভাবেই দেখছে, এখানে এই হাওরের বুকে প্রকৃতই ‘সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতো সন্ধ্যা আসে’...। গোধূলি ম্লান হতে হতে সন্ধ্যাটা এখানে এমনই, নিজেকে রাঙিয়ে তবে ছুটি নেয়।

গোধূলিবেলায় হাওর থেকে গরু নিয়ে বাড়ি ফিরছেন রাখাল
গোধূলিবেলায় হাওর থেকে গরু নিয়ে বাড়ি ফিরছেন রাখাল। ছবি: প্রথম আলো

গাজায় আরও ৬১ ফিলিস্তিনির লাশ উদ্ধার

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার বৃহত্তম শিফা হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে আরও ৬১ ফিলিস্তিনির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ইসরায়েলি আগ্রাসনের সময় তাদের এই হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সমাহিত করা হয়েছিল। গত কয়েক দিনে ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স দলগুলোর প্রচেষ্টায় এসব লাশ উদ্ধার করা হয়।

রোববার (১৬ মার্চ) বার্তাসংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনটিতে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, উদ্ধার করা দেহাবশেষগুলোকে যথাযথভাবে সমাহিত করার প্রক্রিয়া চলছে। ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স দলগুলো গত ১৩ মার্চ থেকে লাশ উত্তোলনের কাজ শুরু করে।

প্রথম দিনে, ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা ১০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিসহ ৪৮টি লাশ উদ্ধার করেন। পরবর্তী দিনে তারা আরও ১৩টি লাশ উদ্ধার করে, যার মধ্যে ৩টি অজ্ঞাত রয়েছে। পরিচয় শনাক্ত হওয়া লাশগুলো পরিবারদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, অন্যগুলো ফরেনসিক কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের ধারণা, যুদ্ধের সময় হাসপাতালের উঠোনে প্রায় ১৬০টি লাশ সমাহিত করা হয়েছিল। ফলে, লাশ উদ্ধার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে।

সংবাদমাধ্যমটি জানায়, একসময় গাজার বৃহত্তম চিকিৎসাকেন্দ্র শিফা হাসপাতাল বছরে ৪ লাখ ৬০ হাজার মানুষের সেবা প্রদান করত। এখানে জরুরি সেবার পাশাপাশি অস্ত্রোপচার, ডায়ালাইসিস চিকিৎসা এবং মাতৃস্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদান করা হতো।

কিন্তু গাজার ওপর বর্বর আগ্রাসনের সময় ইসরায়েলি বাহিনী বারবার শিফা হাসপাতালে হামলা চালিয়েছে এবং হাসপাতালটি ধ্বংস করে দেয়। ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর এখানে প্রথম বড় অভিযান চালানো হয়, যা ১০ দিন স্থায়ী ছিল। এরপর ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ দ্বিতীয় দফায় আক্রমণ চালানো হয়, যা ১ এপ্রিল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এই সময় ইসরায়েলি সেনারা হাসপাতালের কিছু অংশ ভেঙে ফেলে এবং হত্যাকাণ্ড চালায়, যার ফলে হাসপাতালটি সম্পূর্ণরূপে অকার্যকর হয়ে পড়ে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বারশ চলতি বছরের জানুয়ারিতে বলেছিলেন, ইসরায়েলের গণহত্যামূলক এই যুদ্ধের সময় হাসপাতালের ৯৫ শতাংশেরও বেশি ভবন এবং সরঞ্জাম ধ্বংস হয়ে গেছে।

এদিকে, চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং বন্দি বিনিময় চুক্তি কার্যকর হয়েছে, যার ফলে ইসরায়েলের নৃশংস আক্রমণ বন্ধ হয়েছে। তবে দীর্ঘ ১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা আগ্রাসনে ৪৮ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। গাজার অবস্থা এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

একসময়ের গাজার বৃহত্তম চিকিৎসাকেন্দ্র ‘শিফা হাসপাতালের’ প্রাঙ্গণ থেকে লাশ উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছে স্বেচ্ছাসেবীরা। ছবি : সংগৃহীত
একসময়ের গাজার বৃহত্তম চিকিৎসাকেন্দ্র ‘শিফা হাসপাতালের’ প্রাঙ্গণ থেকে লাশ উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছে স্বেচ্ছাসেবীরা। ছবি : সংগৃহীত



শিস দিয়ে কথা বলেন ভারতের এই গ্রামের মানুষেরা

কখনও শিস, কখনও কিচিরমিচির, আবার কখনও অন্য রকম কিছু সুর। তবে পাখির নয়, এ সুর মানুষেরই। এমনও এক গ্রাম আছে যেখানে পরস্পর পরস্পরকে ডাকেন সুরে সুরে। মায়েরা প্রতিটি সন্তানের জন্য তৈরি করেন আলাদা আলাদা সুর। সেই সুরেই বাকিরা তাদের ডাকে সারাটা জীবন। তাই প্রত্যেকের রয়েছে নিজের একটি সুর, এটাই তাদের পরিচয়।

পাহাড়ি এই গ্রামে মানববসতি খুবই সীমিত। মূল ভূখণ্ড থেকে অনেকটাই আলাদা এই গ্রামের নাম কংথং। গ্রামটির অবস্থান ভারতের মেঘালয় রাজ্যে। এখানকার মানুষজন নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে বিচিত্র সব সুরের মাধ্যমে।

যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গ্রামের বাসিন্দাদের অক্ষরভিত্তিক নামও রয়েছে। তবে নিজেদের মধ্যে সেই নামের ব্যবহার খুবই কম। সন্তানদের আলাদা আলাদা সুরে ডাকেন মা। খাবার খেতে সন্তানদের ডাকতে হলে, সুরের আশ্রয় নেন মায়েরা। আবার সুরে সুরেই জবাবও দেয় সন্তানেরা। এভাবেই সুরে সুরে চলে কথাবার্তা। এটাই এই গ্রামের রীতি।

ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ দেখাতেই মূলত সুরে সুরে ডাকেন মায়েরা। তবে রেগে গেলে কিন্তু পোশাকি নামেই ডাকেন। আবার জঙ্গলে কাজ করার সময় গ্রামের বাসিন্দারা একে-অপরের সঙ্গে সুরে সুরে কথা বলেন। আধুনিক পৃথিবী থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন কংথং। ২০০০ সালে গ্রামটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ লাগে। রাস্তা তৈরি হয় আরও তিন বছর পর অর্থাৎ ২০১৩ সালে।

কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় আস্তে আস্তে এই গ্রামের সুর ও গানে আসছে পরিবর্তন। কিন্তু নিজের ঐতিহ্য ধরে রাখছেন গ্রামের বাসিন্দারা। তাদেরই একজনের ভাষায়, আমরা ছোটকাল থেকেই এভাবে গাইতাম, শব্দ তৈরি করতাম। আমাদের বাবা-মা এই সুর শিখিয়েছেন। আমরা আমাদের সন্তানদের মাঝেও এখন সেই সুর ছড়িয়ে দিচ্ছি।

অনন্য এমন জীবনযাত্রার জন্য পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে কংথং গ্রাম। মেঘালয়ের রাজধানী শিলং থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে এই গ্রামের অবস্থান। মাতৃতান্ত্রিক এই গ্রামে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী মায়েরা। কারণ মায়েরা সন্তানের প্রতিপালন করেন, আবার সংসারও সামলান। তাই মায়ের সুরেই পরিচিতি পায় সন্তানরা।

ভারতের মেঘালয়ার কংথং গ্রাম। ছবি : সংগৃহীত
ভারতের মেঘালয়ার কংথং গ্রাম। ছবি : সংগৃহীত



বেশি মাংস, বেশি ডিম দেয় নতুন প্রজাতির এই হাঁস—বলছেন গবেষকেরা by ইসরাত জাহান

দুপুরের নরম রোদে হাঁসের খামার ঘুরে দেখছিলেন সিরাজগঞ্জের খামারি আবদুস সালাম। তাঁর এক ডাকে পুকুরপাড় থেকে দৌড়ে এল একঝাঁক হাঁস। খামারে ঢুকেই বললেন, ‘১২ বছর ধরে হাঁস পালছি। এত লাভজনক জাত আগে দেখিনি।’

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার চয়ড়া গ্রামে আবদুস সালামের খামার। একসময় দেশি হাঁস পালতেন, কিন্তু মৃত্যুহার বেশি বলে লাভের মুখ দেখাটা কঠিন হয়ে উঠেছিল। সম্প্রতি পালা শুরু করেছেন নতুন জাতের হাঁস ‘বাউ-ডাক’। অভিজ্ঞতা কী, জানতে চাইলে আবদুস সালাম বলেন, ‘আগে হাঁস পালনে যা আয় করতাম, তা দিয়ে চলা কঠিন ছিল। আর এখন মাত্র ১০-১২ সপ্তাহেই দুই-আড়াই কেজি হয়ে যায় বাউ-ডাক, আর বছরে ২২০ থেকে ২৩০টি ডিম দেয়। দেশি হাঁসের তুলনায় এটাতে লাভ বেশি।’

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) পশু প্রজনন ও কৌলিবিজ্ঞান বিভাগের একদল গবেষক ২০১৪ সালে হাঁসের জাত উন্নয়নে গবেষণা শুরু করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে পশু প্রজনন ও কৌলিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামছুল আলম ভূঁঞার নেতৃত্বে এ গবেষণা পরিচালিত হয়।

অধ্যাপক সামছুল আলম ভূঁঞা বলেন, ‘হাঁসের ডিম ও মাংস উৎপাদনে খামারিরা যেন লাভবান হন, সে জন্যই দেশি-বিদেশি জাতের হাঁসের সংকরায়ণ নিয়ে গবেষণা হয়। গবেষণাগার ও মাঠপর্যায়ের পরীক্ষা শেষে ২০২০ সালে জাতটি সরকারিভাবে অনুমোদন পায়। এরপর পল্লি কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও সিরাজগঞ্জের আঞ্চলিক এনজিও মানব মুক্তি সংস্থার (এমএমএস) মাধ্যমে গবেষণাটি মাঠপর্যায়ে সম্প্রসারণ করা হয়।’

নতুন জাতটির বিষয়ে গবেষক জানান, উন্নত জাত উদ্ভাবনের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি জাতের হাঁস নিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। চীনের পেকিন জাতের হাঁস ও দেশি নাগেশ্বরী জাতের হাঁসের ক্রস ব্রিডিং করে আশানুরূপ ফলাফল পাওয়া যায়। পেকিন হাঁস বেশি মাংস উৎপাদনকারী হলেও কেবল বদ্ধ পদ্ধতিতে টিকে থাকে। এটি দেশের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও পরিবেশগত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারে না বলে আধা-বদ্ধ বা উন্মুক্ত রাখলে দৈহিক বৃদ্ধি কম হয়। আবার ডিমও কম দেয়। অন্যদিকে দেশি নাগেশ্বরী হাঁস পরিবেশ সহনশীল হলেও মাংস উৎপাদন কম। এ সমস্যা সমাধানে দুটি জাতের সংকরায়ণ করে উদ্ভাবিত হয় ‘বাউ-ডাক’। বাউ-ডাক বদ্ধ ও উন্মুক্ত দুই জায়গাতেই সুবিধাজনক।

উল্লাপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শেখ এম এ মতিন বলেন, ‘বাউ-ডাক দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম। ওজন দ্রুত বাড়ে, রোগবালাই কম, আর ডিমও দেয় বেশি। তাই এটি খামারিদের জন্য লাভজনক।’ পল্লি কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে খামারিরা এই হাঁস পালনে অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন। অন্যদিকে খামারিরা যেন দক্ষ হয়ে উঠতে পারেন, সে জন্য মানব মুক্তি সংস্থা নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে বলে জানান মানব মুক্তি সংস্থার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. মারুফ হাসান।

মাঠপর্যায়ে গবেষণার সাফল্য নিয়ে গবেষক অধ্যাপক সামছুল আলম ভূঁঞা বলেন, ‘আমাদের গবেষণার মূল লক্ষ্য ছিল এমন একটি উন্নত জাতের হাঁস উদ্ভাবন, যা দেশি হাঁসের মতো পরিবেশ সহনশীল হবে, আবার বিদেশি জাতের মতো বেশি মাংস ও ডিম উৎপাদন করবে। দীর্ঘ ছয় বছরের গবেষণায় আমরা সেটি করতে পেরেছি। বাউ-ডাক এখন খামারিদের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে, যা আমাদের কাজেও অনুপ্রেরণা জোগায়।’

নতুন জাতের হাঁস ‘বাউ-ডাক’
নতুন জাতের হাঁস ‘বাউ-ডাক’

কারাগারে রাখার জন্য ভেনেজুয়েলার ২৩৮ নাগরিককে এল সালভাদরে পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র

ভেনেজুয়েলার ২৩৮ নাগরিকসহ মোট ২৬১ ব্যক্তিকে এল সালভাদরে প্রত্যর্পণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু দেশটির এক বিচারক তাদের প্রত্যর্পণ না করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও তাদের প্রত্যর্পণ করা হয়েছে। ভেনেজুয়েলা ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন  ট্রাম্প প্রশাসনের এই কাজের সমালোচনা করেছে।

এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নায়েব বুকেলে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উল্লিখিত ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণের কথা পৃথকভাবে নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয় সময় রোববার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নায়েব বুকেলে লিখেছেন, প্রত্যর্পণ করা ব্যক্তিদের মধ্যে ভেনেজুয়েলার ট্রেন ডি আরাগুয়ার গ্যাংয়ের  ২৩৮ সদস্য রয়েছে। আন্তর্জাতিক গ্যাং গোষ্ঠী এমএস-১৩ এর সদস্য রয়েছে ২৩ জন।

এসব ব্যক্তিকে এল সালভাদরের একটি উচ্চ নিরাপত্তাসম্পন্ন কারাগারে রাখা হবে। এ জন্য মধ্য আমেরিকার দেশটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে অর্থ পাবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রেন ডি আরাগুয়ার সদস্যদের দ্রুত প্রত্যর্পণের জন্য গত শুক্রবার কয়েক শতকের পুরোনো ভিনদেশি শত্রু আইন বা এলিয়েন এনেমিস অ্যাক্ট ব্যবহারের নির্দেশ দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এটি যুদ্ধকালীন আইন হিসেবে পরিচিত।

পরের দিন শনিবার ওয়াশিংটনের কেন্দ্রীয় সরকারের বিচারক জেমস বোসবার্গ ১৭৯৮ সালের ওই ভিনদেশি শত্রু আইনের ব্যবহার ১৪ দিন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। তাঁর যুক্ত ছিল, এই আইনে অন্য দেশের দ্বারা সংঘটিত এমন ‘শত্রুতাপূর্ণ কর্মকাণ্ডকে’ বোঝানো হয়েছে, যা ‘যুদ্ধের সমতুল্য’।

এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নায়েব বুকেলে যুক্তরাষ্ট্রের বিচারকের নির্দেশ নিয়ে কিছুটা ঠাট্টার সুরে বলেছেন, ‘উফ... অনেক দেরি হয়ে গেছে’।

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী অন্য দেশের অপরাধীদের এল সালভাদরের কারাগারে রাখার জন্য গত মাসে দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি চুক্তি হয়েছে। এটাকে ‘অভূতপূর্ব ও অসাধারণ অভিবাসন চুক্তি’ বলে মন্তব্য করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

নায়েব বুকেলে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রত্যর্পণ করা ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিকভাবে এক বছরের জন্য সন্ত্রাসবাদ বন্দিশিবিরে (সেকট) পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনে তাদের আটকাদেশ বাড়ানো হতে পারে।

এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট আরও লিখেছেন, ‘তাদের (প্রত্যর্পিত) পেছনে ব্যয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্র খুব কম অর্থ দেবে, কিন্তু আমাদের জন্য বিপুল অর্থ দেবে।’

শনিবার বার্তা সংস্থা এপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রেন ডি আরাগুয়ার ৩০০ অভিযুক্ত সদস্যকে এক বছর জেলে রাখতে এল সালভাদরকে ৬০ লাখ ডলার দিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

নিজ দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধকালীন আইন প্রয়োগ করায় যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছে ভেনেজুয়েলা। এক বিবৃতিতে দেশটি বলেছে, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ‘ভেনেজুয়েলার অভিবাসীদের অন্যায়ভাবে অপরাধী সাব্যস্ত করছে। [এর মাধ্যমে] দাসপ্রথা থেকে শুরু করে নাৎসি বন্দিশিবিরের ভয়াবহ স্মৃতিকে উসকে দিয়েছে, যা মানবতার ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকার পর্ব হিসেবে পরিচিত।’

এসব ব্যক্তিকে বিমানবন্দর থেকে এভাবে নিয়ে যাওয়া হয়
যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যর্পণ করা ব্যক্তিদের পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এল সালভাদরের পুলিশ। এল সালভাদরের সেন্ট লুইস তালপা শহরের একটি বিমানবন্দরে, ১৬ মার্চ ২০২৫ ছবি: রয়টার্স

আমাকে হত্যা করতে কর্নেল জিয়াকে নির্দেশ দেয়া হয়: সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া

জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া। সাবেক এই সেনাপ্রধান গত ৫ই আগস্টের আগে ও পরে আলোচনার সামনের সারিতে চলে আসেন। এর আগে সমসাময়িক ঘটনাবলি নিয়ে স্ট্যাটাস দেন। যা নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় হয়। সম্প্রতি তিনি ‘বিজিবি, র‍্যাব, এসএসএফ ও আনসার নিয়ে আমার যত অভিজ্ঞতা’  শিরোনামে ছয় পর্বে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেছেন। এসব পর্বের একটি অংশে তিনি বলেন, ‘একদিন সেনাপ্রধানের কার্যালয়ে বোমা আতঙ্ক দেখা দেয়। অফিসে কার্যরত সবাইকে তাদের অফিস থেকে বের করে দেয়া হয়। ডাইরেক্টর মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জগলুল বোমা-নির্ণয় যন্ত্রপাতিসহ তার টিম নিয়ে দৌড়ে আসেন। পরবর্তী আধা ঘণ্টা অফিসটিতে তন্ন তন্ন করে বোমা খোঁজা হয়। আমাদের ভাগ্য প্রসন্ন যে কোনো বোমার অস্তিত্ব মেলেনি এবং একটা লম্বা অপেক্ষার পর বিল্ডিংটিকে বোমা মুক্ত ঘোষণা করা হয়। আমি জগলুলকে জিজ্ঞেস করলাম কী হয়েছে? জগলুল জানালেন তিনি তার এক অফিসার মেজর সুমনের কাছে জানতে পেরেছেন যে, কর্নেল জিয়াকে আমাকে হত্যা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শুনে আমার মেরুদণ্ড দিয়ে একটি শীতল স্রোত বয়ে যায়’...

মানবজমিন পাঠকদের জন্য সাবেক এই সেনাপ্রধানের পোস্টগুলো হুবুহু তুলে ধরা হলো-

প্রথম অংশ
বিজিবিতে ডেপুটেশনে যাওয়া অনেক অফিসার শেষ পর্যন্ত অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়েন। তবে সৌভাগ্যক্রমে বেশিরভাগ অফিসার এখনো তাঁদের নীতিবোধ অটুট রেখে চলেন। আগে সাধারণত পদোন্নতি-বঞ্চিত বা কম গুরুত্বপূর্ণ অফিসারদেরই সেখানে পাঠানো হতো। কিন্তু একসময় সবাই বুঝে যায়, বাহিনীটিকে ভালোভাবে চালাতে যোগ্য অফিসারও দরকার। কিছুদিন সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। তবে মেজর জেনারেল (পরে জেনারেল ও সেনাপ্রধান) আজিজ দায়িত্ব নেওয়ার পর এবং পরবর্তীতে মেজর জেনারেল শাফিন আসায় এসব অফিসার সত্যিকারের চাপের মুখে পড়েন।
তাছাড়া আনসারে কিছু সিনিয়র অফিসার পাঠানো হয় নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য, কিন্তু মূল আনসার ক্যাডাররা এ নিয়ে প্রবল অসন্তোষ দেখায়। আগে সেখানে একটি বিদ্রোহ হয়েছিল, যেটি ৯ ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশন কঠোর হস্তে দমন করে। অফিসারদের বিরুদ্ধে সাধারণত কোনো অভিযোগ শোনা যায়নি—শুধু একটি ব্যতিক্রম ছাড়া। আমি যখন সেনাপ্রধান ছিলাম, তখন জানতে পারি যে ওই সময়ের ডিজির বিরুদ্ধে আনসারের নারী সদস্যদের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক এবং অত্যধিক দামে শটগান কেনার অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু আমি কিছু করতে পারিনি, কারণ নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠতার কারণে তিনি কার্যত “আমার এখতিয়ারের বাইরে” ছিলেন।

দ্বিতীয় অংশ
যে বিষয়টি আমাকে সবচেয়ে বেশি পীড়া দিত, তা ছিল র‍্যাব-এ প্রেষণে থাকা আমাদের অফিসারদের দ্বারা সাধারণ নাগরিক, রাজনৈতিক কর্মী বা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের অপহরণ ও হত্যা। তরুণ, ক্যারিয়ারমুখী অফিসারদের র‍্যাবে পাঠানো হতো, সেখানে কিছুদিন কাজ করে তারা এমন এক চরিত্র নিয়ে ফিরত যেন তারা পেশাদার খুনি। একই প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছিল জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার (জেসিও), নন-কমিশন্ড অফিসার (এনসিও) এবং সৈনিকদের মধ্যেও। আমি সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর পরই প্রধানমন্ত্রীকে জানাই যে, পুলিশের সাথে মিশে কাজ করতে গিয়ে আমাদের অফিসাররা কীভাবে নৈতিক বিচ্যুতির শিকার হচ্ছেন। আমি চাইছিলাম তাদের সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে আনা হোক। প্রধানমন্ত্রী আমার কথায় সম্মতিসূচক ইঙ্গিত দিলেন, এমনকি বললেন র‍্যাব জাতীয় রক্ষীবাহিনী থেকেও খারাপ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছুই বাস্তবে রূপ নেয়নি।

কয়েক দিন পর আমি কর্নেল (পরে লেফটেন্যান্ট জেনারেল ও ডিজি এসএসএফ) মুজিবকে—যিনি তখন র‍্যাব এডিজি (ADG) ছিলেন—ডেকে বলি যেন তিনি লেফটেন্যান্ট কর্নেল (এখন মেজর জেনারেল) জিয়াকে নিয়ন্ত্রণে রাখেন এবং আর যেন কোনো “ক্রসফায়ার” না ঘটে। কর্নেল মুজিব এ ব্যাপারে আমাকে কথা দেন এবং বিদায় নেওয়ার সময় তাঁকে বেশ উদ্বিগ্ন মনে হয়। পরের কয়েক দিন পত্রপত্রিকা লক্ষ করলাম, নতুন কোনো ক্রসফায়ারের খবর নেই—এতে মানসিকভাবে কিছুটা স্বস্তি পেলাম। এরপর কর্নেল মুজিব একাধিকবার আমাকে এসে জানিয়েছিলেন, সত্যিই ক্রসফায়ারের ঘটনা বন্ধ হয়েছে। কিন্তু কিছুদিন পর আমি বুঝতে পারি ঘটনা ঠিকই ঘটছে, কিন্তু সেগুলোর খবর চাপা দেয়া হচ্ছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে যখন কর্নেল মুজিব র‍্যাব ছেড়ে অন্যত্র বদলি হয়ে যান, আর কর্নেল জিয়া—যিনি আগে র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার দায়িত্বে ছিলেন—নতুন ডিজি বেনজীর আসার সঙ্গে সঙ্গেই এডিজি র‍্যাব হিসেবে দায়িত্ব নেন।

এরপর আর্মি নিরাপত্তা ইউনিট (ASU) সূত্রে খবর পাই যে, কর্নেল জিয়া নিজের আবাসিক টাওয়ারে একজন গার্ড রেখেছেন, বাসায় অস্ত্র রাখছেন এবং পুরো ফ্ল্যাটে সিসিটিভি বসিয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে বলা হয় গার্ড সরিয়ে নিতে, ক্যামেরাগুলো খুলে ফেলতে, বাসায় অস্ত্র রাখা থেকে বিরত থাকতে এবং অফিসিয়াল কোয়ার্টারে যে সামরিক নিয়ম-কানুন আছে, সেগুলো মেনে চলতে। পরবর্তীতে তাঁর আচরণ আরও উচ্ছৃঙ্খল হয়ে উঠে। ডাইরেক্টার মিলিটারি ইন্টালিজেন্স (DMI) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জগলুল তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু তাতে কর্নেল জিয়া কোনো কর্ণপাত করেননি। পরে আর্মি নিরাপত্তা ইউনিটের (ASU) কমান্ড্যান্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফজল তাঁকে আলাপের জন্য ডাকেন। পরে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফজল আমাকে জানান, জিয়ার সাথে কথা বলতে গিয়ে মনে হয়েছে যেন সে এমন একজনের সাথে কথা বলছে যার মস্তিষ্ক পাথর বা ইটের টুকরো দিয়ে ঠাসা —বোঝানোর কোনো উপায় নেই।

তৃতীয় অংশ
এক পর্যায়ে নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেনারেল তারেক সিদ্দিকী, এমএসপিএম (MSPM), আর তাঁর কোর্সমেট এএমএসপিএম(AMSPM) কর্নেল (এখন মেজর জেনারেল) মাহবুবের ঘনিষ্ঠতার সুবাদে কর্নেল জিয়া আমার নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করা শুরু করেন। আমার আর কোনো উপায় ছিল না—আমি তাঁকে রেললাইনের পশ্চিম পাশের ক্যান্টনমেন্টে “পারসোনা নন গ্রাটা” (PNG)/অবাঞ্চিত ঘোষণা করি। তবে পূর্ব পাশের আবাসনটিতে উনাকে থাকতে তাঁকে ছাড় দিয়েছিলাম। লজিস্টিকস এরিয়া কমান্ডার (LOG AREA COMD)মেজর জেনারেল মিজানকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে বলি (যার ফলস্বরূপ, আগে জানানো হয়নি বলে তাঁকেও নিরাপত্তা উপদেষ্টার বিরাগভাজন হতে হয়েছিল)।

কর্নেল জিয়া পরিস্থিতির গুরুত্ব তখনই পুরোপুরি বুঝলেন, যখন মিলিটারি পুলিশ তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে সেনানিবাসের ভেতরে সিএমএইচে যাওয়ার পথে চেকপোস্টে আটকে দেয়। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই এমএসপিএম আমাকে ফোন করে জানতে চাইলেন, একজন চাকুরিরত অফিসারকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা স্বাভাবিক নিয়মের মধ্যে পড়ে কিনা, না এটা বিশেষ কোনো পদক্ষেপ। আমি বললাম, “এটা ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা। যদি তুমিও চিফের আদেশ অমান্য কর, তাহলে তোমাকেও একই পরিণতি ভোগ করতে হবে।” পরদিন তিনি আবার ফোন করে জিয়ার ওপর থেকে এই বিধি তুলে নেওয়ার অনুরোধ করলেন। এ ঘটনার পর কর্নেল জিয়া কিছুটা নিয়মের মধ্যে আসেন, বুঝতে পারেন তিনি এখনো সেনাবাহিনীর অধীনে আছেন। তবু আমি তাঁকে আমার অফিসে ঢুকতে দিইনি, কারণ জানতাম, তিনি শুধু এসে নিজের কাজের স্বপক্ষে ব্যাখ্যা দিয়ে আমার সময় নষ্ট করবেন।

চতুর্থ অংশ
সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর, আমি নির্দেশ দিলাম—ডিজিএফআই, বিজিবি, কিংবা র‍্যাবে বদলি পেয়ে যারা যাচ্ছেন অথবা সেখান থেকে ফিরে আসছেন, সবাই যেন নতুন জায়গায় যোগ দেওয়ার আগে কিংবা সেখান থেকে ফেরার পর আমার সঙ্গে দেখা করে। মেজর জেনারেল আনোয়ার (এম এস - মিলিটারি সেক্রেটারি), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জগলুল (ডি এম আই - ডাইরেক্টর অব মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স) আর আমার পিএস লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাজ্জাদও তাঁদের ব্রিফ বা ডিব্রিফ করতেন। আমি বিস্ময়ের সাথে আবিষ্কার করলাম, মাত্র বিশ-একুশ বছরের অফিসারদের এমন সব দায়িত্বে টেনে নেওয়া হয়েছে, যার সঙ্গে তাঁদের আসল সামরিক সেবার কোনোই মিল নেই। তাঁরা কী করছেন বা কেন করছেন—তা নিজেরাও স্পষ্ট জানতেন না। এটি ছিল বিএমএ(বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি) কর্তৃক ক্যাডেটদের ‘থিংকিং লিডার’ হিসাবে গড়ে তোলার সম্পূর্ণ ব্যর্থতা। এসব অফিসারের কাছে যখন নানান হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা শোনা শুরু করলাম, তখন সেনাবাহিনীর সামগ্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আমার মনে সংশয় জন্ম নিলো।

নতুনভাবে বদলি পাওয়া অফিসারদের আমি যথাসাধ্য বোঝানোর চেষ্টা করতাম, যেন তারা অমানবিক অপরাধে না জড়ায়। বলতাম—যারা শেখ মুজিব বা জিয়াকে হত্যা করেছে, কিংবা অস্ত্র পাচারে জড়িত ছিল, শেষ পর্যন্ত তারা ভয়াবহ পরিণাম ভোগ করেছে। কারও হাত-পা বেঁধে তাকে হত্যা করাটা চরম কাপুরুষতা। সত্যিকারের সাহসিকতা হল শত্রুর হাতে অস্ত্র ধরিয়ে দিয়ে সামনাসামনি মোকাবিলা করা। কিন্তু কয়েক দিন পর ডিএমআই জানালেন, আমাদের এই চেষ্টা কোনো কাজে আসছে না। অফিসাররা র‍্যাবে নুতন কর্মস্থলে আসামাত্র জিয়া নাকি কোরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে তাদের ‘হত্যা করতে’ উৎসাহ দিচ্ছেন।

তবে এর মধ্যে ব্যতিক্রম যে ছিল না তাও নয়। দুজন অফিসার, র‍্যাবে যোগ দেওয়ার প্রথম রাতেই হত্যার নির্দেশ পেয়ে তা অস্বীকার করেন এবং আদেশ না মেনে এমপি (মিলিটারি পুলিশ) চেকপোস্টে চলে আসেন। ডিএমআই বিষয়টি জানালে আমি তাঁদের সেনাবাহিনীতে সম্মানের সাথে পুনর্বাসিত করি।
একজন মেজর , যিনি আমি এসআই অ্যান্ড টিতে (SI&T) কমান্ডান্ট থাকাকালে স্পেশাল ওয়ারফেয়ার উইংয়ে প্রশিক্ষক ছিলেন, র‍্যাবে যোগ দেওয়ার পর সেনাভবনে আমার সঙ্গে দেখা করতে আসেন। জানতে পারি, তিনি রেডিসন হোটেলের এক কর্মীকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে সন্দেহভাজনদের ‘বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে’ জড়িয়ে পড়েছেন। আমি তাঁকে সাবধান করে দিই, যেন তিনি নিজ হাতে “বিচার” তুলে না নেন। তিনি বললেন, আর করবেন না। কিন্তু কিছুদিন পরেই দেখি, তিনি নিজেই ফেসবুকে একটা ছবি পোস্ট করেছেন—সেখানে তিনি শাপলা চত্বরের ধোঁয়াটে পটভূমিতে জিয়ার কাঁধে হাত রেখে দাঁড়িয়ে আছেন।

পঞ্চম অংশ

একদিন সেনাপ্রধানের কার্যালয়ে বোমা আতঙ্ক দেখা দেয়। অফিসে কার্যরত সবাইকে তাদের অফিস থেকে বের করে দেয়া হয়। ডাইরেক্টর মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জগলুল বোমা-নির্ণয় যন্ত্রপাতিসহ তার টিম নিয়ে দৌড়ে আসেন। পরবর্তী আধা ঘণ্টা অফিসটিতে তন্ন তন্ন করে বোমা খোঁজা হয়। আমাদের ভাগ্য প্রসন্ন যে কোনো বোমার অস্তিত্ব মেলেনি এবং একটা লম্বা অপেক্ষার পর বিল্ডিংটিকে বোমা মুক্ত ঘোষণা করা হয়। আমি জগলুলকে জিজ্ঞেস করলাম কী হয়েছে? জগলুল জানালেন তিনি তার এক অফিসার মেজর সুমনের কাছে জানতে পেরেছেন যে, কর্নেল জিয়াকে আমাকে হত্যা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শুনে আমার মেরুদণ্ড দিয়ে একটি শীতল স্রোত বয়ে যায় এবং সিদ্ধান্ত নেই যে, এখন থেকে আমাকে আরো বেশি সতর্ক থাকতে হবে- বিশেষ করে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়ার সময়। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জগলুলও আমার নিরাপত্তার জন্য অন্যান্য আনুসাঙ্গিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। বিশেষ করে প্রতি সকালে আমার অফিস ও বাসা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সার্চ করার ব্যবস্থা করা হয় ।

আমি এরপর ফরমেশন অফিসারদের এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে এসব “অপারেশন বা ক্রসফায়ার”-এর বর্বরতা ও এতে জড়িতদের সম্ভাব্য পরিণাম সম্পর্কে সরাসরি বলতে শুরু করি। বিশেষ করে প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে কোর্সে আসা অনেক অফিসারকে একসঙ্গে সতর্ক করার সুযোগ পাই। তবু দেশজুড়ে পত্রিকায় ক্রসফায়ারের খবর আসতে থাকায় আমি বিরক্ত হয়ে উঠি। এক পর্যায়ে সিদ্বান্ত নেই র‍্যাব , ডিজিএফআই আর বিজিবিতে আর কোনো অফিসারকে Posting দেব না।

ডিজি বিজিবি মেজর জেনারেল আজিজ ও কর্নেল জিয়া প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ে অভিযোগ করেন এবং নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করতে বলেন। ডিজি ডিজিএফআই মেজর জেনারেল আকবর বারবার অনুরোধ করলে শেষ পর্যন্ত আমি নিজে একটি ১০-১২ জনের অফিসার দলের তালিকা তৈরি করে তাঁকে দিই। এদিকে কর্নেল জিয়া আরও ‘লবিং’ চালিয়ে নিরাপত্তা উপদেষ্টা, এমএসপিএম (MSPM), আর নিজের কোর্সমেট এএমএসপিএমের (AMSPM) সহায়তায় আমার ডিএমআইকে (DMI) অপসারণ করেন। কারণ তিনি ভাবতেন, ডিএমআই-ই আমাকে তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলছে। স্বাভাবিক নিয়মে সেনাপ্রধানই (CAS) ডিএমআই আর সিও এএসইউ (CO ASU) নিয়োগ দেন। কিন্তু আমার আপত্তি সত্ত্বেও ডিএমআইকে সরিয়ে দেওয়া হয়—যা আমাকে যথেষ্ট অপমানিত করে। তবে সিও এএসইউ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফজলকে (বর্তমানে নির্বাচন কমিশনার) আমার তীব্র বিরোধিতার মুখে সরাতে ব্যর্থ হয়।

পরবর্তিতে মিস্টার বেনজীর স্বয়ং আমার কাছে আসেন এবং র‍্যাব চালাতে আমার সহায়তা চান। কিন্তু আমি তাকে অফিসার দেয়ার কোনো নিশ্চয়তা দিইনি। এমএসপিএম আমাকে কয়েকবার ফোন করে জানান যে প্রধানমন্ত্রী র‍্যাব, বিজিবি আর ডিজিএফআইতে আরও অফিসার চাচ্ছেন। আমি আমার সিদ্বান্তে অনড় থাকি। চট্টগ্রামের হোটেল রেডিসন উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে আমাকে ডেকে বলেন, র‍্যাবে আরও জুনিয়র অফিসার বদলি দিতে। আমি বুঝিয়ে বলি, পিজিআর (PGR), এসএসএফ (SSF), ডিজিএফআই, বিজিবি—সবখানেই ইতিমধ্যে এত অফিসার দেয়া হয়েছে যে, এ মুহূর্তে অতিরিক্ত অফিসার দেওয়ার মতো অবস্থা সেনাবাহিনীর নেই। তিনি জোরাজুরি করলেও আমি আমার অবস্থানে শেষ পর্যন্ত অটল থাকি।

আজকে আমরা এমন একটা অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছি যে র‍্যাব সম্পর্কে জরুরি সিদ্ধান্ত নেয়া বাঞ্ছনীয়। আমি সেনাপ্রধানকে অনুরোধ করবো যেন তিনি এই প্রতিষ্ঠানটিকে ভেঙে দেয়ার জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করেন। সেটি সম্ভব না হলে সামরিক অফিসারদের র‍্যাব থেকে যেন স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার করে নিয়ে আসেন। এটি করার জন্য বর্তমান সেনাপ্রধানের যে স্বাধীনতা তৈরি হয়েছে আগের কোনো সেনাপ্রধানের তা ছিল না। তার এই নতুন লব্ধ অবস্থানের জন্যই তাকে অনুরোধ করছি তিনি যেন আমরা যে কাজটি করতে পারিনি সেটি সম্পন্ন করেন।

ষষ্ট অংশ (শেষ)
গাড়িতে ভ্রমণ করার সময়, আমার এডিসি (ADC) পাশের সিটে বসতেন। একবার আমার প্রথম এডিসি, ক্যাপ্টেন (এখন কর্নেল) তৌহিদ জানালেন—এখনকার অনেক তরুণ অফিসার ইচ্ছে করে কোর্সে বেশি নম্বর পেতে চান না। কারণ শীর্ষস্থান (A বা A+) পেলে তাঁদের পোস্টিং হয় এডিসি হিসেবে, অথবা ব্রিগেড/ডিভিশন সদর দপ্তরে স্টাফ অফিসার হিসেবে বা বিএমএ/এসআইঅ্যান্ডটি-তে প্রশিক্ষক হিসেবে—যেগুলোতে ভবিষ্যতের উন্নতির তেমন সুযোগ থাকে না। কিন্তু একটা “ভালো মানের বি” পেলে এসএসএফ, র‍্যাব, ডিজিএফআই বা এ-জাতীয় সংস্থায় পদ পাওয়া যায়, যেখানে পদোন্নতির সম্ভাবনা বেশ উজ্জ্বল। আমি এই দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু সেই উচ্চ-প্রোফাইল পোস্টিংগুলোর চাকচিক্য, তুলনামূলক স্বাধীনতা এবং ক্যারিয়ারের সুযোগ অনেককে আকর্ষণ করতো। এসএসএফ-ই এত বেশি জুনিয়র অফিসার নিয়ে নিত যে এমএস শাখা (MS Branch) অন্যান্যদের চাহিদা মেটাতে গলদঘর্ম হত। SSF-এ কাজ করার সময় তাঁরা নানা বিতর্কিত লোকজনের সংস্পর্শে আসত এবং এতে তাঁদের রেজিমেন্টাল মানসিকতার কিছুটা হলেও ক্ষয় হতো।

আমার দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে গেল, যখন শুনলাম এসএসএফের একজন অফিসার—মেজর রবি—এসএসএফ আর পিজিআরের অফিসারদের উৎসাহ দিচ্ছেন একজন “মিস্টার নবি”-র কাছে টাকা বিনিয়োগ করতে, যিনি শেয়ারবাজারে লাভজনক মুনাফার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিলেন। এতে ডিজি এসএসএফ মেজর জেনারেল মিয়া জয়নুল আবেদিন যুক্ত ছিলেন বলে কানে আসে এবং মনে হয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাও বিষয়টি জানতেন। পরে আমার পুরনো ইউনিটের একজন অফিসার, আমাকে জানান, যাঁরা এই বিনিয়োগ করেছিলেন, তাঁরা মুনাফা বা লভ্যাংশ দূরের কথা, আসল টাকাও ফেরত পাচ্ছেন না—কারণ শেয়ারবাজারে ধ্বস নেমেছে। তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা উপদেষ্টা তাঁকে ডিজিএফআই আর র‍্যাব ব্যবহার করে এই টাকা উদ্ধারের নির্দেশ দিয়েছেন। আমি তাঁকে সাবধানে ও নিজের বিবেচনা অনুযায়ী এগোতে বললাম। অল্প কিছুদিন পর মিস্টার নবি-র সন্দেহজনক মৃত্যু সারা দেশের সংবাদপত্রে শিরোনাম হয়।

ডিজি-রা তাঁদের ক্ষমতা ব্যবহার করে বেনিফিট পেতেন। একজনের স্ত্রী একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ছিলেন, যিনি ব্যবসায়ীদের উদ্বুদ্ধ করতেন ওখানে বিনিয়োগ করতে। আরেকজন প্রধানমন্ত্রীর সচিবালেয় থেকেই অবৈধ ভিওআইপি (VOIP) চালাতেন। প্রধানমন্ত্রীকে আমি দেখালাম, কী পরিমাণ ফোনকল—মাসে প্রায় এক মিলিয়ন—এসএসএফ লাইনের মাধ্যমে বেরিয়ে যাচ্ছে। তিনি খুব অবাক হয়ে প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদকে তদন্ত করতে বলেন। পরেরবার ওনার সাথে দেখা হলে তিনি আমাকে জানান, তদন্তে অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হয়েছে।

mzamin

জুলাই অভ্যুত্থানের ইতিহাস যেন বিকৃত না হয়

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সম্পৃক্তদের বই লেখার আহ্বান জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের যুব, ক্রীড়া ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিভিন্ন পর্যায়ে, বিভিন্ন সময়ে নানাভাবে বিকৃত করা হয়েছে। সেটা যাতে না হয় সেজন্য আপনারা স্মৃতিগুলো থাকা অবস্থাতেই সেগুলো সংরক্ষণ করবেন, লিখবেন এবং আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য প্রস্তুত করবেন।

শনিবার জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের লেখা ‘জুলাই: মাতৃভূমি অথবা মৃত্যু’- বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন তিনি। বইটি প্রকাশ করেছে প্রথমা প্রকাশন।

অনুষ্ঠানে আফিস মাহমুদ বলেন, গণ-অভ্যুত্থান সফল হওয়ার পিছনে একমাত্র কারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। এই স্বতঃস্ফূর্ততা কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে একটা গণ-অভ্যুত্থানের দিকে নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, আমরা যদি গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশকে একটা দীর্ঘমেয়াদি সুন্দর কাঠামোগত সংস্কারের মধ্য দিয়ে এই সফলতা মানুষের জন্য সংরক্ষিত করতে না পারি তাহলে আবারো কোনো না কোনো ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সুযোগটা থেকে যাবে। সুতরাং এই লড়াইটা শেষ না। লড়াইটা শুরু হয়েছে।

বই প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, এই বইটা আমার চোখে জুলাই। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার জায়গা থেকে লেখা। তারপরও আমি মনে করি এটা সম্পূর্ণ না। আমি প্রত্যাশা রাখবো এবং আহ্বান করবো যারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যেভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন সবাই আপনাদের অংশ লিখবেন। যাতে আমরা আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে জুলাই অভ্যুত্থানের একটা পূর্ণ চিত্র পাই। আমাদের কাছে যেন একটা পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস থাকে।

প্রকাশনা অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, জুলাই শুধু ট্র্যাজেডির গল্প না। জুলাই বিজয় আর সাহসেরও গল্প। আমাদের প্রত্যেকের একটা গল্প আছে। বিস্তারিত গল্প আছে। আমাদের এ রকম নাহিদ, আসিফ, রিফাত আরও অনেক আছে। তাদের কেউ মরে গেছে, কেউ আহত হয়েছে। তাদের কেউ বুকে কষ্ট নিয়ে বেঁচে আছে। আমরা সবার এই অভূতপূর্ব আত্মদানের মধ্য দিয়ে মানুষের প্রত্যাশা পূরণের জন্য এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যারা অগ্রসারির নেতা ছিল তাদের নিয়ে যখন অবাধ, জঘন্য মিথ্যাচার চলে। তখন মনে রাখতে হবে এটা জুলাই শত্রুদের কাজ। এই মিথ্যাচারকে উন্মোচিত করতে হবে।

প্রকাশনা অনুষ্ঠানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া তরুণ ছাত্রনেতা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, আমি বললে সেটা আমার গল্প হবে। আসিফ বললে সেটা আসিফের গল্প হবে। আমাদের প্রত্যেকের এই অভ্যুত্থানে আলাদা আলাদা গল্প আছে। এই আলাদা আলাদা গল্পগুলো একটা সামষ্টিক গল্প তৈরি করবে। আমরা যখন এখানে বলছি, এটা নিশ্চয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক গল্পটা। এর বাইরে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ভূমিকা পালন করছে, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা নেমে আসছে। আমি এখনো জানি না ঢাকার বাইরে কীভাবে আন্দোলন সংঘটিত হয়েছে। আমাদের বেশি করে তাদের এই গল্পগুলো আসা দরকার। তিনি বলেন, শুধু আমাদের গল্পগুলোই কেউ যেন না ভেবে নেয়- এটা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের গল্প। প্রতিটি মানুষের গল্পই জুলাই অভ্যুত্থানের গল্প। সেই গল্পগুলো আমাদের আরও বেশি শোনা উচিত।

আন্দোলনের শুরু থেকেই মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যুক্ত করাই মূল পরিকল্পনা ছিল উল্লেখ করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, এই আন্দোলন কি পরিকল্পিত ছিল নাকি স্বতঃস্ফূর্ত ছিল? এই বির্তকগুলো পরবর্তীতে আসছে। এই আন্দোলন একটা পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। আবার পরিকল্পনার বাইরে গিয়েই ঘটনা প্রবাহ এগিয়েছে। এবং মানুষের স্বতঃস্ফূর্ততা ছিল। মানুষকে যে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যুক্ত করতে হবে এটাই এই আন্দোলনের মূল পরিকল্পনা ছিল শুরু থেকেই। শুরুতেই আন্দোলনের নেতৃত্ব, আন্দোলনের কৌশল নিয়ে আমাদের চিন্তাভাবনা ছিল।

প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফের পরিচালনায় প্রকাশনা অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- এনসিপি’র যুগ্ম সদস্য সচিব মো. রশিদুল ইসলাম রিফাত (রিফাত রশিদ)। আরও উপস্থিত ছিলেন- সড়ক উপদেষ্টা ফাওজুল কবির, নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, বিশেষ সহকারী মনির হায়দার ও এনসিপি’র সদস্য সচিব আখতার হোসেন প্রমুখ।

mzamin

ছাত্রদের কাছে আবেদন, তারা যেন খারাপ রাজনীতিতে জড়িত না হয় -আবরারের বাবা

খারাপ রাজনীতিতে জড়িত না হতে ছাত্রদের কাছে আবেদন জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের বাবা মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ। রোববার আবরার হত্যা মামলার রায় ঘোষণার পর হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের কাছে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন তিনি।

হত্যা মামলায় রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ বলেন, ‘আজকের রায়ে আমরা আপাতত সন্তুষ্ট। রায়টি যাতে দ্রুত কার্যকর করা হয় সরকারের কাছে সেই আবেদন জানাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাবা-মায়েরা খুব কষ্ট করে ছেলে-মেয়েদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠায়। এখানে তো বাবা-মায়ের কোনো দোষ নেই। তাদের তো লেখাপড়া করার জন্য পাঠানো হয়েছে। এখন ছেলে-মেয়েরা এসে যদি বিভিন্ন প্রলোভনে পরে নষ্ট হয়ে যায়, তখন তো বাবা-মায়েরাও কষ্ট পেয়ে থাকে।’

বরকত উল্লাহ বলেন, ছাত্রদের কাছে আমার আবেদন থাকবে, তারা যেন এ সমস্ত খারাপ রাজনীতিতে জড়িত না হয়।’ এ সময় আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ উপস্থিত ছিলেন।

আবরার হত্যা মামলা: ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ৫ জনের যাবজ্জীবন বহাল রাখা হয়েছে।

রোববার বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ  রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডের ২০ আসামি
বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল (সিই বিভাগ, ১৩তম ব্যাচ), সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন (কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৫তম ব্যাচ), তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার অপু (মেকানিক্যাল ইঞ্জনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), সাহিত্য সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির (ওয়াটার রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), উপসমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল (বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), সদস্য মুনতাসির আল জেমি (এমআই বিভাগ), সদস্য মোজাহিদুর রহমান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), সদস্য হোসেন মোহাম্মদ তোহা (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), সদস্য এহতেশামুল রাব্বি তানিম (সিই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), শামীম বিল্লাহ (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মাজেদুর রহমান মাজেদ (এমএমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), খন্দকার তাবাক্কারুল ইসলাম তানভীর (মেকানিক্যাল, ১৭তম ব্যাচ), মুহাম্মদ মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল জিসান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), এস এম নাজমুস সাদাত (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মিজানুর রহমান (ওয়াটার রিসোসের্স, ১৬ ব্যাচ), শামছুল আরেফিন রাফাত (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং), উপ-দপ্তর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ (কেমিকৌশল) এবং এসএম মাহামুদ সেতু (কেমিকৌশল)।

যাবজ্জীবনের ৫ আসামি
বুয়েট ছাত্রলীগের সহসভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ (১৪তম ব্যাচ, সিই বিভাগ), গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না (মেকানিক্যাল, তৃতীয় বর্ষ), আইনবিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং), সদস্য আকাশ হোসেন (সিই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ) ও মোয়াজ আবু হোরায়রা (সিএসই, ১৭ ব্যাচ)।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরেবাংলা হলের আবাসিক ছাত্র আবরারকে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে ছাত্রলীগের এক নেতার কক্ষে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় তার বাবা চকবাজার থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে বুয়েটের ২৫ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।

২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্র গঠন করা হয়। দুই পক্ষে যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়।

তাদের মধ্যে তিনজন মামলার শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন। বাকি ২২ জনের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মুনতাসির আল জেমির কারাগার থেকে পালিয়েছেন।

গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গত ৬ অগাস্ট তিনি গাজীপুরের হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের দেয়াল ভেঙে পালিয়ে যান ওই আসামি।

বুয়েটের শেরেবাংলা হলের আবাসিক ছাত্র আবরারকে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে ছাত্রলীগের এক নেতার কক্ষে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়।

mzamin

পাকিস্তানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত কমপক্ষে ৮

পাকিস্তানে যাত্রীবাহী একটি বাসের কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়েছে। এতে কমপক্ষে আটজন নিহত ও ৩৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে নাশকি হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। মীর গুল খান নাসির টিচিং হাসপাতালে ঘোষণা করা হয়েছে জরুরি অবস্থা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জিও নিউজ।

এতে বলা হয়, সন্ত্রাসকবলিত বেলুচিস্তানে নাশকি-ডালবান্দিন মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটেছে রোববার। তবে বিস্ফোরণের ধরণ বা কারণ কোনো কিছুই এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ বলেছে, আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা সঙ্কটজনক। ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা। তদন্ত চলছে। পুলিশ বলেছে, কিছু আহতকে হেলিকপ্টারযোগে পাঠানো হয়েছে কোয়েটায়।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি নিরীহ মানুষকে টার্গেট করায় নিন্দা ও শোক প্রকাশ করেছেন। বলেছেন, এটা চরম মাত্রায় নৃশংসতা। তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।

শোক প্রকাশ করেছেন বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি। তিনি বলেছেন, যেকোনো মূল্যে বেলুচিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তার সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শান্তির বিরুদ্ধে যেসব শত্রু তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নেয়া হবে। এর কয়েকদিন আগে খাইবার পখতুনখাওয়ার কাছে বেলুচিস্তানের বোলান জেলায় মুশকাফ এলাকায় বড় রকমের এক সন্ত্রাসী হামলা হয়। 

mzamin

ইইউ’র শীর্ষ সম্মেলনের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করলেন শি জিনপিং

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) এবং চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এবারের সম্মেলন বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত হবে। এ খবর দিয়েছে বৃটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। এতে বলা হয়, শির পরিবর্তে ইউরোপীয় কাউন্সিল এবং কমিশনের সভাপতিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। এ বিষয়ে জ্ঞাত দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে খবরটির সত্যতা নিশ্চিত করেছে ওই সংবাদমাধ্যম।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, সাধারণত ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনে চীনের প্রধানমন্ত্রীই যোগ দেন। তবে ইউরোপীয়ন ইউনিয়ন চেয়েছিলেন সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে এবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিক। কিন্তু তা প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রেসিডেন্ট। রীতি অনুযায়ী বেইজিংয়ের প্রধানমন্ত্রীই সেখানে উপস্থিত হবেন। ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বেইজিং এবং ব্রাসেলসের সম্পর্কে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এছাড়া ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের অভিযোগ হচ্ছে যুদ্ধে ক্রেমলিনকে সমর্থন দিয়েছে চীন। যার ফলে গত বছর চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানিতে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছিল ইইউ। এসব কারণেই সম্ভবত ইইউ’র আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন শি।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চেয়ে অনুরোধ করলে তাতে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি ইইউ ও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীন। আর তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ইউরোপ। ২০২৪ সালটি তারা একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেই কাটিয়েছে। বিশেষ করে অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা, অবৈধ ভর্তুকি এবং বিনিয়োগ নিয়ে চীনের সমালোচনায় সরব ছিল ইইউ।

অক্টোবরে, ভর্তুকি-বিরোধী তদন্তের পর চীনের তৈরি বৈদ্যুতিক যানবাহনের উপর দই অঙ্কের শুল্ক আরোপ করে ইইউ। এছাড়া স্ট্যান্ডার্ড গাড়ি আমদানিতেও ১০ শতাংশ শুল্কও আরোপ করা হয়। এই পদক্ষেপের ফলে বেইজিং তীব্র প্রতিবাদ জানায়, যার ফলে ব্র্যান্ডির মতো কিছু ইইউ পণ্য চীনের বাজারে প্রবেশের বাধাগ্রস্ত হয়।

mzamin

ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে লন্ডভন্ড যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক রাজ্য, নিহত ৩৪

ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে লন্ডভন্ড হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় বেশ কয়েকটি রাজ্য। এতে এখন পর্যন্ত ৩৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে মিসৌরি অঙ্গরাজ্যেই ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ধ্বংস হয়েছে বিপুল পরিমাণ ঘরবাড়ি। মিশিগান, মিসৌরি এবং ইলিয়নসহ পাঁচটি রাজ্যের দেড় লক্ষাধিক মানুষ পুরোপুরি বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে ট্র্যাকার পাওয়ারআউটেজ। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

এতে বলা হয়, কানসাস অঙ্গরাজ্যে প্রাণ হারিয়েছেন আটজন মানুষ। এছাড়া শক্তিশালী ওই ঘড়ে রাজ্যটির অন্তত ৫৫টি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পূর্ব লুইসিয়ানা, পশ্চিম জর্জিয়া, মধ্য টেনেসি এবং পশ্চিম ফ্লোরিডাসহ আরও বেশ কয়েকটি রাজ্যে শক্তিশালী টর্নেডোর আশঙ্কা করা হচ্ছে। এসব রাজ্যে সতর্কতা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

এদিকে প্রবল এই ঝড়ে মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন গভর্নর টেট রিভস। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে ঝড়ের গতি অব্যাহত থাকায় মিসিসিপি, পূর্ব লুইসিয়ানা এবং পশ্চিম টেনেসিতে আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আলাবামা এবং আরকানসাসের কিছু অংশেও এই সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন।

আরকানসাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঝড়ের কারণে ইন্ডিপেন্ডেন্স কাউন্টিতে ৩ জন নিহত ও আটটি কাউন্টিতে ২৯ জন আহত হয়েছেন। আরকানসাসের গভর্নর সারাহ হাকাবি স্যান্ডার্স এক্সে বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে আমাদের দল কাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য উদ্ধারকর্মীরা মাঠে রয়েছে। তিনি এবং জর্জিয়ার গভর্নর ব্রায়ান কেম্প নিজ নিজ রাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।

কেম্প বলেন, শনিবারের শেষের দিকে খারাপ আবহাওয়ার পূর্বাভাসের কারণে তিনি এই ঘোষণা দিচ্ছেন। এদিকে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টেক্সাস প্যানহ্যান্ডেলের আমারিলোতে ধুলোঝড়ের সময় গাড়ি দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত হয়েছেন।

mzamin