Monday, January 13, 2014

চবিতে ছাত্রলীগ-শিবির সংঘর্ষে নিহত ১

(৩০ জন আহত আটক ১৮) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। তার নাম মামুন হোসেন। তিনি শাহ আমানত হলের শিবিরের সাধারণ সম্পাদক বলে দাবি করেছে ছাত্রশিবির। গতকাল রোববার চবির আমানত হলে এ সংঘর্ষের ঘটনায় আরও ৩০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রাহাত ও রকি নামের দু'জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ দু'জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে ভাংচুর করা হয়েছে আমানত হলের অন্তত ৫০টি কক্ষ। পরে আমানত হলে অভিযান চালিয়ে শিবিরের ১৮ কর্মীকে আটক করে পুলিশ। মামুন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চমেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই জহিরুল ইসলাম। চমেক হাসপাতালের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের চিকিৎসক ডা. রাখালচন্দ্র বড়ূয়া বলেন, 'রাহাত ও রকি নামের দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের বাঁচাতে প্রচুর রক্ত দরকার।'
ছাত্রশিবির চবি শাখার সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান দাবি করেন, হল দখল করতে ছাত্রলীগ পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে। হামলায় আমানত হলের সাধারণ সম্পাদক মামুন হোসেন নিহত হন। এদিকে ছাত্রলীগ চবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম বলেন, শিবিরের হামলায় ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন চৌধুরী সংঘর্ষের জন্য উভয় পক্ষকেই দায়ী করেন। তিনি বলেন, সিলেটে ছাত্রলীগের এক নেতাকে কোপানোর জের ধরে গতকাল ক্যাম্পাসে মিছিল করে ছাত্রলীগ। এর পর মিছিলটি শাহ আমানত হলে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হাটহাজারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আ ফ ম নিজাম উদ্দিন সমকালকে বলেন, শনিবার রাত থেকেই ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। রোববার দুপুরে উভয় পক্ষ মুখোমুখি হলে সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় সন্ধ্যার পর মামুন হোসেন নামের একজন নিহত হয়েছেন বলে চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানান তিনি।
শনিবার রাতে সিলেটে চবি ছাত্রলীগের দফতর সম্পাদক জালাল আহমেদের ওপর হামলা হয়। এর জন্য শিবিরকে দায়ী করছে ছাত্রলীগ। এ ঘটনার প্রতিবাদে রোববার ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। মিছিল নিয়ে দুপুর দেড়টার দিকে ছাত্রলীগ শিবির নিয়ন্ত্রিত শাহ আমানত হলে যায়। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হলে আসার তথ্য আগাম পেয়ে প্রস্তুতি নেয় ছাত্রশিবির। ছাত্রলীগ হলে গেলে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে এক পক্ষ আরেক পক্ষকে লক্ষ্য করে গুলি করে; ছুড়তে থাকে ইটপাটকেলও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফাঁকা গুলি করে পুলিশ। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। তাদের মধ্যে কেউ গুলিবিদ্ধ, আবার কারও শরীরে জখমের দাগ দেখা গেছে। গুরুতর আহত ছাত্রলীগ কর্মী এনামুল হক সাধারণ ইতিহাস তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। রাহাত নামের পদার্থবিদ্যার আরেক শিক্ষার্থীর অবস্থাও সংকটজনক। সে শিবিরকর্মী বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ ছাড়া পরিসংখ্যান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের মুজাহিদ, আইন বিভাগের শরীফ, মামুন হোসেন ও রকি নামের আরও চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। নিহত মামুন সয়েল সায়েন্স বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে। এদিকে, ১৮ জনকে আটকের খবর পাওয়া গেলেও পুলিশের পক্ষ থেকে আটকের সংখ্যা স্বীকার করা হয়নি। আটককৃতদের নাম-ঠিকানাও জানাতে পারেননি হাটহাজারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আ ফ ম নিজাম উদ্দিন।

কাজের অগ্রগতি না হওয়ায় পদ্মা সেতুর অর্থ ফেরত by আবু কাওসার

কাজের অগ্রগতি না হওয়ায় পদ্মা সেতু প্রকল্পের অর্থ ফেরত গেছে। চলতি অর্থবছরে বাজেটে এ প্রকল্পের অনুকূলে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, যথাসময়ে তার খুব কমই খরচ হয়েছে। তাই অব্যয়িত টাকা সরকারি কোষাগারে প্রত্যর্পণ করেছে পদ্মা সেতু প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী সংস্থা সেতু বিভাগ। তবে নতুন সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, আগামী ৬ মাসের মধ্যে পদ্মা সেতুর কাজ শুরু হবে। গতকাল বঙ্গভবনে শপথ নেওয়ার পর সচিবালয়ে তার দফতরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গত সপ্তাহে সেতু ভবনে সাংবাদিকদের কাছে একই বক্তব্য রেখেছেন। এদিকে, পদ্মা সেতুর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ 'মূল সেতু'র জন্য আন্তর্জাতিক তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দরপত্র কিনেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো চীনভিত্তিক কোম্পানি মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং, কোরিয়ান স্যামসুং সি অ্যান্ড টি করপোরেশন ও ফ্রান্সের ডেলিম-ব্যাম। মূল সেতুর কাজ পেতে অবশ্য চারটি কোম্পানি প্রাক-যোগ্য বিবেচিত হয়েছিল। জানা গেছে, ভিনচি-এইচ সিসি নামে একটি কোম্পানি এ কাজ পেতে আগ্রহ দেখায়নি। পর পর পাঁচ দফা সময় বাড়ানোর পর গত বৃহস্পতিবার ছিল পদ্মা প্রকল্পের মূল সেতুর দরপত্র জমার শেষ দিন। সেতু বিভাগ সূত্র বলেছে, আগামী এক মাসের মধ্যে এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আর্থিক প্রস্তাব চাওয়া হবে। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যোগ্য যে কোনো একটিকে ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে। কার্যাদেশ দেওয়ার পরই পদ্মা সেতুর মূল কাজ শুরু করা যাবে। জানা গেছে, এদিকে নদী শাসনের জন্য দরপত্র জমার সময় আরও এক মাস বাড়িয়ে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংককে 'না' করে দেওয়ার পর নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় বিগত মহাজোট সরকার। এর পর চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেটে এ প্রকল্পের অনুুকূলে ৬ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে বিদেশি সাহায্য ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। সেতু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত আলোচ্য বরাদ্দের মধ্যে মাত্র ২০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এই সময়ে বরাদ্দের মাত্র ৩ শতাংশ খরচ হয়েছে। জানা গেছে, স্থানীয় উৎস থেকে বরাদ্দের কিছু টাকা খরচ হলেও বিদেশি সহায়তার একটি টাকাও ব্যয় হয়নি। বিদেশি সহায়তা বাবদ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। ফলে বিদেশি সহায়তার পুরোটাই ফেরত দেওয়া হয়েছে। সেতু বিভাগ বলেছে, মূল সেতুর অবকাঠামো খাতে কোনো কাজ না হওয়ায় পদ্মা প্রকল্পের বরাদ্দের বেশির ভাগ টাকাই খরচ করা যায়নি।
সেতু বিভাগের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, গত জুনে বাজেট ঘোষণার সময় সরকারের লক্ষ্য ছিল ২০১৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই পদ্মা সেতুর মূল কাজ শুরু করা। সেই বিবেচনা মাথায় রেখে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল এ প্রকল্পে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা দেখা দেওয়ায় পদ্মা প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ পিছিয়ে পড়ে। চলতি বছরের ২৬ জুন পদ্মা সেতুর আনুষ্ঠানিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতের সবচেয়ে বড় এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ খরচ হবে মূল সেতু এবং নদী শাসন কাজের পেছনে। ১৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা প্রকল্পের অন্যতম অংশ মাওয়া অ্যাপ্রোচ সড়ক উদ্বোধন করা হয়েছে গত ডিসেম্বরে। এর আগে ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের জাজিরা অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের উদ্বোধন করা হয় গত বছরের জুনে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া সার্ভিস এরিয়া (অবকাঠামো) নির্মাণে ব্যয় হবে ২০৮ কোটি টাকা। এসব কাজের দেখভাল করতে পরামর্শক হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

তরুণ প্রজন্মের কাছে প্রার্থনা by মুহম্মদ জাফর ইকবাল

খুব সহজে আমার মন খারাপ হয় না; কিন্তু গত কয়েক দিন থেকে আমার খুব মন খারাপ। যারা একনজর পত্রিকার দিকে তাকাবে কিংবা টেলিভিশনে খবর শুনবে তাদেরও মন খারাপ হয়ে যাবে। শুধু হিন্দু ধর্মাবলম্বী বলে এই দেশে মানুষের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ভয়ে-আতঙ্কে জীবন বাঁচাবার জন্যে এই মানুষগুলো নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছে। বাড়ির মেয়েদের বাড়ি থেকে সরিয়ে দিচ্ছে। ১৯৭১ সালে হিন্দু-মুসলমান সবাই আক্রান্ত হয়েছিল। মুসলমান হলে কখনও কখনও হয়তো মানুষ বেঁচে গিয়েছে কিন্তু হিন্দু হলে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাত থেকে কেউ কখনও প্রাণে বেঁচে ফিরে আসেনি। ১৯৭১ সালে আমরা গ্রামে লুকিয়ে আছি, তখন দেখেছি একজন হিন্দু মা তার শিশুসন্তানকে বুকে চেপে ধরে স্বামীর পিছু পিছু ছুটে যাচ্ছে, তাদের চোখ-মুখের সেই উদভ্রান্ত অসহায় দৃষ্টি আমি কখনও ভুলতে পারব না। তেতালি্লশ বছর পর এই বাংলাদেশে এখনও একজন অসহায় হিন্দু মা তার সন্তানকে বুকে চেপে প্রাণ বাঁচানোর জন্যে ছুটে যাচ্ছে। তার মানে যে দেশকে নিয়ে আমরা এত গর্ব করি সেই দেশটি আসলে তেতালি্লশ বছরে এক ইঞ্চিও সামনে অগ্রসর হয়নি। এর চাইতে বড় দুঃখ, লজ্জা আর অপমান কী হতে পারে?
মাঝে মাঝে কল্পনা করি, আমি যদি এই দেশে একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী হতাম তা হলে আমার কেমন লাগত। আমি জানি, তা হলে গভীর হতাশায় আমার বুক ভেঙে যেত, আমি কোনো দোষ করিনি কিন্তু শুধু একটি হিন্দু পরিবারে জন্ম নিয়েছি বলে আমার ওপর যে নৃশংস অত্যাচার করা হচ্ছে তার জন্যে আমার বুকে যেটুকু ক্ষোভ জন্ম নিত তার চাইতে শতগুণ বেশি অভিমান হতো আমার চারপাশের নির্লিপ্ত মানুষজনকে দেখে। কেউ কোনো কথা বলছে না, নীরবে এক ধরনের করুণা নিয়ে আমাকে দেখছে। সম্ভবত সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ হতো রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর, প্রতিবার নির্বাচনের পর, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় হওয়ার পর, রায় কার্যকর হওয়ার পর আমাদের ওপর হামলা করা হবে। বিএনপি-জামায়াত হামলা করবে, আওয়ামী লীগ বা বাম দলগুলো সেটা ঘটতে দেবে। খুব বেশি হলে নিরাপদ দূরত্ব থেকে প্রতিবাদ করবে; কিন্তু বুক আগলে কেউ রক্ষা করতে এগিয়ে আসবে না। এই দেশে আমি যদি হিন্দু ধর্মাবলম্বী হতাম, তা হলে নিশ্চয়ই আমার বারবার মনে হতো আমি এই দেশের মানুষ; কিন্তু এই দেশটি আমাকে রক্ষা করছে না। আমি নিশ্চয়ই সৃষ্টিকর্তার কাছে অভিযোগ করে বলতাম_ তুমি কেন আমাকে এমন একটি দেশে জন্ম দিয়েছ, যে দেশ আমাকে রক্ষা করার দায়িত্ব নেয় না? যে দেশে আমাকে প্রতি মূহূর্ত আতঙ্কে থাকতে হয়। কিন্তু আমি হিন্দু ধর্মাবলম্বী নই, তাই প্রকৃতপক্ষে তাদের বুকের ভেতর যে গভীর দুঃখ, ক্ষোভ, হতাশা আর অভিমান পুঞ্জীভূত হয়ে আছে আমি সেটা কোনোদিন অনুভব করতে পারব না।
আমাদের প্রিয় দেশটি নিয়ে আমাদের কত কল্পনা, কত স্বপ্ন। আমরা আশা করে যাচ্ছি আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করবে, জ্ঞান-বিজ্ঞানে এগিয়ে যাবে, একদিন দেশটা মাথা তুলে দাঁড়াবে। আমরা এর মাঝে সেগুলো এই দেশে শুরু হতে দেখেছি। কিন্তু এই মুহূর্তে আমার কাছে সবকিছু অর্থহীন বলে মনে হচ্ছে। যদি আমরা একজন মানুষকে শুধু ভিন্ন ধর্মাবলম্বী হওয়ার জন্যে এই দেশে তাকে নিরাপত্তা দিতে না পারি তা হলে এই দেশটি কাদের জন্যে? আমার মনে হয়, এই দেশ নিয়ে আমাদের যত কল্পনা, যত স্বপ্ন, যত পরিকল্পনা সব কিছুকে পেছনে সরিয়ে সবার আগে আমাদের এখন একটি মাত্র লক্ষ্যকে টেনে নিয়ে আসতে হবে। সেই লক্ষ্যটি হচ্ছে এই দেশে একটি হিন্দু শিশু যেন নিশ্চিন্ত নিরাপত্তায় তার মায়ের বুকে মাথা রেখে ঘুমাতে পারে। গভীর রাতে ধর্মান্ধ মানুষের উন্মত্ত চিৎকারে তাদের যেন জেগে উঠতে না হয়, আগুনের লেলিহান শিখায় আপনজনের আতঙ্কিত মুখ দেখতে না হয়। একজন হিন্দু কিশোরীকে তার বাবার রক্তশূন্য মুখের দিকে তাকিয়ে থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে যেন বলতে না হয়, 'এখন কী হবে বাবা?'
আমরা পদ্মা সেতু চাই না, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ চাই না, যানজটমুক্ত বাংলাদেশ চাই না, শতভাগ নিরক্ষর চাই না, ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ চাই না_ শুধু হিন্দু এবং অন্য সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা চাই; যেন তারাও ঠিক আমাদের মতো এই দেশটিকে তাদের নিজেদের ভালোবাসার দেশ বলে ভাবতে পারে। তীব্র অভিমানে তাদের বুক ভেঙে যেন আর কোনোদিন খান খান হয়ে না যায়।
আমি কার কাছে এটি চাইব জানি না, তাই তরুণ প্রজন্মের কাছে চাইছি। তোমরা আমাদেরকে একটি নতুন বাংলাদেশ উপহার দাও। যে বাংলাদেশ থেকে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প চিরদিনের জন্যে মুছে দেওয়া হবে। আমি জানি, তোমরা পারবে।

অভিভাবকের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা আজ

জাতি আজ শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করবে পেশায়, কর্মে, মননে অসামান্য ব্যক্তিত্ব, বিবেকের কণ্ঠস্বর, অভিভাবকতুল্য, সদ্যপ্রয়াত বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানকে। আজ সোমবার সকাল ১০টায় সর্বজনশ্রদ্ধেয় এই ব্যক্তিত্বকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আনা হবে। এর পর দুপুর ১২টায় নেওয়া হবে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে। সেখান থেকে বাদ জোহর গুলশানের আজাদ মসজিদে নেওয়া হবে। সেখানে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হবে। মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে দৃঢ়চিত্তে সামনের সারিতে থেকে বাঙালি জাতিসত্তার প্রতি গভীর দায়বদ্ধতার পরিচয় দেন। পেশাগত জীবনে বিচারাঙ্গনে, সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্বে পালনে প্রতিটি ক্ষেত্রে তার অবদান অবিস্মরণীয়। সততা, নিষ্ঠা আর দল-মত-শ্রেণী-পেশা নির্বিশেষে প্রজ্ঞায় মানুষের পরম শ্রদ্ধার আসনে স্থান করে নিয়েছিলেন দৃঢ়চিত্ত এই ব্যক্তিত্ব। একই সঙ্গে মননশীল লেখক হিসেবে জাতিকে দিয়েছেন অযুত বছরের আলোর ঠিকানা। শিখিয়ে গেছেন বেঁচে থাকার দর্শন_ 'বেঁচে থাকার অধিকার হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধিকার।' বিশ্বে যত ভাষায় মাতৃভাষা নিয়ে কবিতা রচিত হয়েছে, তার প্রায় সবই বাংলা ভাষায় অনুবাদ করার দুরূহ কাজটিও সম্পাদন করেছেন অমিত পরিশ্রমী এ মানুষটি। শনিবার রাতে সবাইকে শোকাচ্ছন্ন করে হঠাৎ চলে যান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে হাসপাতালে গেছেন ঠিকই, কিন্তু শেষ চিকিৎসার কোনো সুযোগই তিনি দেননি। কর্তব্যরত চিকিৎসক সবাইকে কাঁদিয়ে জানিয়ে দেন, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। মুহূর্তেই শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে জাতি। প্রধান বিচারপতি মোজাম্মেল হোসেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান, সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ফারুক চৌধুরীসহ বিশিষ্ট নাগরিকদের অনেকে রাতেই ছুটে যান ইউনাইটেড হাসপাতালে। রাতে তার শ্যালক আলী ইফতিয়ার চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, সোমবার ভোরে তার মেয়ে নুসরাত হাবিব যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে আসবেন। সে পর্যন্ত তার মরদেহ ইউনাইটেড হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে।
সর্বস্তরের মানুষের শোক :মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের মৃত্যুতে দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ শোকগ্রস্ত। রোববার এই মহান ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, দেশি-বিদেশি সংস্থা, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন। বিবৃতিতে বলা হয়, বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানকে হারিয়ে জাতি সত্যিকারের অভিভাবককে হারিয়েছে। এ ক্ষতি পূরণ হওয়ার নয়। বিবৃতিতে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এক বিবৃতিতে দলের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করে বলেন, রাজনৈতিক সংকটে তার সুচারু মন্তব্য তাকে জাতির অভিভাবকের আসনে বসিয়েছিল। তার মৃত্যুতে জাতি প্রকৃত একজন বাঙালি ও সংস্কৃতিমনা অভিভাবককে হারাল। জাতীয় পার্টির সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য ও দশম জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ এক বিবৃতিতে গভীর শোক জানিয়ে বলেন, দর্শন ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তার অবদান দেশের বিচারিক অঙ্গনে তাকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। তার মৃত্যুতে জাতির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান এক বিবৃতিতে বলেন, মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান ছিলেন একাধারে বিচারপতি, গবেষক, ভাষাবিদ ও শিক্ষক। 'বেঁচে থাকার অধিকার হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধিকার'_ তার এই দর্শন জাতির কাছে অনন্য হয়ে থাকবে। শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক শোকবার্তায় বলেন, যারা তাকে কাছে থেকে দেখেননি, তারা বুঝতে পারবেন না কত চমৎকার মানুষ ছিলেন তিনি। জাতির এই দুর্দিনে তাকে হারিয়ে সবাই খুবই অসহায় বোধ করছেন।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক এক শোকবার্তায় বলেন, দেশের বিচার ব্যবস্থায় অবদান এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে জাতির সংকটময় মুহূর্তে দৃঢ়চিত্তে সাহসী দায়িত্ব পালনের জন্য বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। জাতি যেমন একজন অভিভাবক হারিয়েছে, তেমনি টিআইবি একজন অকৃত্রিম বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীকে হারিয়েছে। বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর শোকবার্তায় বলা হয়, বিচার বিভাগের অন্যতম নক্ষত্র সাবেক প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে অনুকরণীয় বিচক্ষণতা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। তার মৃত্যুতে আদর্শবান শিক্ষক, খ্যাতনামা লেখক এবং প্রগতিশীল কৃতী সন্তানকে হারিয়েছে জাতি।
তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে রোববারও শোকবার্তা পাঠায় বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে গণফোরাম, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), ওয়ার্কার্স পার্টি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা, গণসংহতি আন্দোলন, ন্যাপ, ঐক্য ন্যাপ, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট, হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ, সুশাসনের জন্য নাগরিক, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, নাগরিক উদ্যোগ, মহিলা পরিষদ, জাকের পার্টি, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, যুবমৈত্রী, ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্ট, ছাত্রমৈত্রী, ছাত্র ফেডারেশন। রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহীর কৃতী সন্তান, দেশবরেণ্য ব্যক্তিত্ব বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের মৃত্যুতে রাজশাহীর সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পৃথক বিবৃতিতে শোক প্রকাশ করেছেন রাজশাহীর সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, নর্থ বেঙ্গল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল খালেক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য চৌধুরী সারওয়ার জাহান, রাজশাহী লেখক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক রুহুল আমিন প্রামাণিক, কবিকুঞ্জের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হক কুমার ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আবুল হোসেন।

কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার নয়

শপথ শেষে প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় বা আন্তর্জাতিক কোনো ধরনের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল রোববার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয়বারের মতো শপথ নেওয়ার পর বঙ্গভবনের খোলা মাঠে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা কোনো চাপের কাছে কোনোদিন মাথা নত করেনি। আগামীতেও করবে না। গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখন সরকার গঠন হলো। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করাই হবে নতুন সরকারের লক্ষ্য। নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপির সঙ্গে সংলাপের মধ্য দিয়ে সমঝোতা হলে প্রয়োজনে মধ্যবর্তী নির্বাচন দেবেন তিনি। শপথ নেওয়ার পর এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় যে প্রতিবন্ধকতা তারা সৃষ্টি করছে, সেটা বন্ধ করতে হবে। এর পর সমঝোতা। গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে যে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেত্রী নির্বাচনে না এসে সংঘাতের পথ বেছে নিয়েছেন। আগুন দিয়ে অন্তঃসত্ত্বা মহিলাসহ বহু নিরীহ মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করতে তাদের যে দায়িত্ব, তারা তা পালন করেনি। তারা নির্বাচনে এলে গণতন্ত্রের ভিত্তি আরও দৃঢ় হতো। তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রী নির্বাচনে না এসে 'যে ভুল' করেছেন, তা তিনি এখন বুঝতে পারছেন। আমি জানি না_ তাদের কে পরামর্শ দেন! তবে তিনি ভুল বুঝতে পেরেছেন। এখন তাদের উচিত হবে দলকে সুসংগঠিত করে গণতন্ত্রের পথে আসা। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অব্যাহত থাকবে এবং রায় কার্যকর হতে থাকবে। প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে তিস্তার পানি বণ্টন ও স্থল সীমানা চুক্তি সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সহযোগিতার ভিত্তিতে এগিয়ে যাব। বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেব। নবগঠিত সরকারের প্রতি বিএনপির সমর্থন চাওয়া হবে কি-না_ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা সবার সহযোগিতা চাইব।
জামায়াতকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ করা হবে কি-না_ এমন প্রশ্নের উত্তরে শেখ হাসিনা বলেন, এ নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। আদালতই রায় দেবেন। সরকারের এখন দুই বিরোধী দল। একটি সংসদের ভেতর এবং আরেকটি রাজপথে। দুই বিরোধী দলকে কীভাবে মোকাবেলা করবে সরকার_ এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বিরোধী দলকে মোকাবেলা করতে নয়; তাদের সহযোগিতা চাই। বিরোধী দল ছাড়া নির্বাচন হওয়া নিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায় প্রশ্ন তুলেছে_ এমন প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা পাবেন কি-না_ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে সবাই সহযোগিতা করবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার সংখ্যালঘুদের সহযোগিতা ও নিরাপত্তা প্রদানের ব্যবস্থা নেব। এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রিসভা যে কোনো সময়ে পরিবর্তন হতে পারে। এটি নির্ভর করবে মন্ত্রীদের সাফল্যের ওপর।

কালো দিন:বিএনপি

নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের দিনটিকে 'কালো দিন' বলে আখ্যায়িত করেছে বিএনপি। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল রোববার এক বিবৃতিতে বলেন, 'অনৈতিক ও অবৈধ সরকারের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের অশুভযাত্রার সূচনা হলো। এ সরকারের ওপর দেশের ৯৫ শতাংশ মানুষের কোনো সমর্থন নেই। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী স্বাধীনচেতা মানুষ কোনোদিনই এ সরকারকে বৈধ সরকার হিসেবে স্বীকৃতি দেবে না এবং মেনে নেবে না।'
নতুন সরকার গঠনের এ পদক্ষেপকে অগণতান্ত্রিক আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানান মির্জা ফখরুল। তিনি অবিলম্বে এ সরকারের পদত্যাগ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানান। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দেওয়ার বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের দাবি উপেক্ষা করে ৫ জানুয়ারি নির্বাচন সম্পন্ন করে সরকার। এর পর গতকাল রোববার মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হয়। এ প্রেক্ষাপটে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব শপথ গ্রহণের দিনটিকে 'কালো দিন' আখ্যা দিয়ে এ বিবৃতি দেন। বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, 'গণতান্ত্রিক চেতনাকে কবর দিয়ে স্বৈরতান্ত্রিক একনায়কতন্ত্রের কালিমাময় যাত্রা শুরু হলো। জনগণের সমর্থনহীন একটি স্বৈরতান্ত্রিক সরকার এ দেশের মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হলো।'
সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনকে 'উদ্ভট, হাস্যকর' আখ্যা দেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, 'এটা ছিল তথাকথিত মহাজোটের একতরফা ভোটারবিহীন নির্বাচন। বিরোধী দল যখন শান্তি ও গণতন্ত্রের পথে চলছে, আওয়ামী লীগ তখন সকল গণতান্ত্রিক রীতিনীতি বিসর্জন দিয়ে স্বৈরতন্ত্রের পথে চলতে শুরু করেছে।' বাংলাদেশকে আবার সুপরিকল্পিতভাবে অন্ধকারে নিক্ষেপ করা হলো বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী স্বাধীনচেতা মানুষ কোনোদিনই এই সরকারকে বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি দেবে না এবং মেনে নেবে না। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনরত বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করে। এ নির্বাচন প্রতিহত করতে লাগাতার রাজপথ, রেলপথ ও নৌপথ অবরোধ ও টানা হরতালও পালন করে বিরোধী জোট।

এমন দেশটি কোথাও খুঁজে...

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের যে গানটি আমাদের শিহরিত করে, শিরায় অনুরণন তোলে, আবেগে জড়িয়ে পড়ে অধিরতা_ সে গানটির প্রথম কলি নতুন মাত্রা, নতুন অভিধা পেয়েছে। দ্বিতীয় কলিটি এখন যেন উপহাসেরই নামান্তর। 'এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি/সকল দেশের রানী সে যে_ আমার জন্মভূমি।' এই গান আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণার পরম উৎস ছিল। এখন এ গানটির প্রথমাংশ বিপরীতার্থে মানুষ গুনগুন করে। বেদনায় দীর্ণ হয় তাদের হৃদয়। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক মর্মান্তিক সব ঘটনায় চোখ অশ্রুরুদ্ধ হয়। এত মৃত্যু, এত হাহাকার, এত দীর্ঘশ্বাস! ক্ষমতায় থাকা কিংবা সহিংস পথে ক্ষমতায় যাওয়ার রক্তঝরা পথের সঙ্গে মিশে আছে কত না অশ্রু আর দীর্ঘশ্বাস। পেট্রোল বোমায় প্রাণ হারাচ্ছে নারী-পুরুষ-শিশু। ভয়ঙ্কর ভীতি গ্রাস করেছে 'সকল দেশের রানী' বলে পরিচিত আমাদের প্রিয় জন্মভূমি। অর্থনীতি ধ্বংসপ্রায়। জীবন-জীবিকার পথও প্রায় রুদ্ধ। ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, ঘোরতর অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে চতুর্দিক। এরই মধ্যে প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন হলো_ এ নির্বাচনের ফসল নতুন সরকার গতকাল শপথ নিল। খালেদা জিয়া তাত্তি্বক অর্থে তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। শেখ হাসিনাও তিনবার প্রধানমন্ত্রী হলেন। যুদ্ধে এক পক্ষ জয়ী হয়েছে, আপাতত পরাজিত হয়েছে অন্য পক্ষ। মাঝখানে নিরীহ মানুষ_ যারা উলুখাগড়া, তাদেরই সর্বনাশ হচ্ছে। এসব মন্তব্য তাদের, যারা রাজনীতিকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করেন। এসব মন্তব্য তাদের, যাদের বেশিরভাগই টেলিভিশনের টক শোতে কথা বলেন, সংবাদপত্রে কলাম লেখেন। তাদের সব কথা, সব পরামর্শ অরণ্যে রোদন মাত্র।
একাধিক বিশিষ্টজন সমকালকে সত্যজিৎ রায়ের 'হীরক রাজার দেশে'র কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশ সত্যি এক অদ্ভুতুড়ে দেশের অভিনব উদাহরণ। কোথায় আমরা এমন দেশ খুঁজে পাব, যেখানে দর-কষাকষি করে একটি দল সরকারে থাকছে, বিরোধী দলেও থাকছে। গাছেরটাও খাচ্ছেন, তলারটাও কুড়োচ্ছেন। অনেকে দক্ষিণ আফ্রিকার কথা বলেন। সে তো ভিন্ন প্রেক্ষাপট। রক্তাক্ত যুদ্ধের পর নেলসন ম্যান্ডেলাও প্রতিপক্ষ সাদাদের নিয়ে যথাযথ অর্থে ঐকমত্যের সরকার গঠন করেছিলেন, সেখানে ছিল না কোনো বিরোধী দল। দেশের মঙ্গলের জন্য সব মন, সব প্রাণ এক হয়েছিল। বিশ্লেষকরা বলেছেন, চোখ বুজে দৃশ্যটি কল্পনা করুন, জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত বিল সংসদে আলোচনা হলো। 'গৃহপালিত' বলব না। বলব, 'নতজানু' বিরোধী দল। সরকার ও বিরোধী দল সমস্বরে উচ্চারণ করল 'হ্যাঁ'। স্পিকার সংসদীয় ভাষায় বললেন, 'হ্যাঁ' জয়যুক্ত হলো, 'হ্যাঁ' জয়যুক্ত হলো, 'হ্যাঁ' জয়যুক্ত হলো। এভাবে 'হ্যাঁ' জয়যুক্তের পরিস্থিতি প্রলম্বিত হলে গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি যে বিপন্ন হবে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তা-ও স্মরণ করিয়ে দিতে চান। তারা বলছেন, কথার চাতুরী নয়, অহংবোধ নয়। মানুষের কথা শুনুন, তাদের কথা বুঝুন, একই সঙ্গে অন্তরাত্মার কথাও শুনুন। তারা বলছেন, হরতাল-অবরোধ-হত্যা বন্ধ করুন। মানুষ মারার রাজনীতি আর নয়। প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে সংবিধানস্বীকৃত গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার সুযোগ দিন। তাদের আবার সংলাপে ডাকুন। সে ডাকে কোনো শর্ত ছাড়াই বিরোধী দল সাড়া দিক। যুক্তির মারপ্যাঁচে অন্ধকারের পথে না হেঁটে দু'পক্ষই 'আলোর পথযাত্রী' হোন। যত দ্রুত সম্ভব সব দলের অংশগ্রহণে আর একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের আয়োজন করুন। বিদেশিদের চাপের কাছে নতিস্বীকার নয়, জনমতকেই শিরোধার্য করুন। এতে দু'পক্ষই জয়ী হবে।

দুস্তর পথে যাত্রা শুরু by শাহেদ চৌধুরী/শরীফুল ইসলাম

রোববার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছে প্রধানমন্ত্রীর শপথ নেন শেখ হাসিনা বাসস
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ৪৯ সদস্যের নতুন সরকার দুস্তর পথে যাত্রা শুরু করল। প্রধানমন্ত্রীসহ ৩০ জন পূর্ণ মন্ত্রী, ১৭ জন প্রতিমন্ত্রী ও দু'জন উপমন্ত্রী শপথ নিলেন গতকাল রোববার। বিকেল সাড়ে ৩টায় বঙ্গভবনের জনাকীর্ণ দরবার হলে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করান। শেখ হাসিনা এবার তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেন। নতুন মন্ত্রিসভা মোটামুটি ঝকঝকে-তকতকে চেহারার। অনেক বিতর্কিত ডাকসাইটে সাবেক মন্ত্রী নতুন সরকারে ঠাঁই পাননি। তাদের সংখ্যা ৩৫। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি। একাধিক স্বচ্ছ ইমেজের মন্ত্রী অজ্ঞাত কারণে বাদ পড়েছেন। 'ঐকমত্যে'র সরকারে ঠাঁই পেয়েছেন জাতীয় পার্টির তিনজন। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করলেন শেখ হাসিনা। তাকে তিনি মন্ত্রীর পদমর্যাদায় বিশেষ দূত বানিয়েছেন। সঙ্গত কারণেই বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট শপথ অনুষ্ঠানে যায়নি। বিএনপি নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের দিনটিকে 'কালো দিন' বলে চিহ্নিত করেছে। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৩ জন সাংসদ নির্বাচন, প্রশ্নবিদ্ধ ভোট, উন্নয়ন অংশীদার বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর সুস্পষ্ট নেতিবাচক মনোভাব, সবার অংশগ্রহণে দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠানের জোরালো তাগিদ ও বিরোধী দলের নির্মম সহিংসতার আন্দোলনে যে শঙ্কা জাতিকে গ্রাস করেছে, তা নতুন সরকারের সামনের পথ 'দুস্তর' করে তুলবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহল মনে করেন।
বিএনপি অবরোধ স্থগিত করলেও বড় ধরনের সহিংস কর্মসূচি আবার ফিরে আসবে না, এমন নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না কেউ। অনেকেই মনে করেন, অপশক্তি জামায়াত-শিবিরের ভূত এখনও বিএনপির ঘাড় থেকে নামেনি। তাই সামনের পথ হবে বন্ধুর, দুস্তর। একই সঙ্গে রয়েছে গত কয়েক মাসের ধ্বংসযজ্ঞে হুমকির মুখে পড়া অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের চ্যালেঞ্জ। সংখ্যালঘুসহ সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টিও সবিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
'ঐকমত্যে'র সরকারের পথচলার শুরুতেই নানা প্রশ্ন উঠেছে। জাতীয় পার্টির একই সঙ্গে সরকার ও বিরোধী দলে থাকা জগাখিচুড়ির মতো ঘটনা বলে অনেকেই মনে করছেন। নির্বাচিত এমপিদের গেজেট প্রকাশ ও মন্ত্রিসভা গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে দুটি রিট করা হয়েছে গতকাল। এ অবস্থায় শক্ত হাতে যে কোনো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি রোববার শপথ গ্রহণের পর বেশ দৃঢ়তার সঙ্গেই সাংবাদিকদের বলেছেন, সমঝোতা হলে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে যে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর আগে তিনি জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে, তা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো চাপের কাছে তিনি নতি স্বীকার করবেন না। নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান ডবি্লউ মজীনা। তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, 'আমরা আশা করি, খুব শিগগির নির্বাচন নিয়ে সংলাপ হবে। এর মাধ্যমে অবাধ, সুষ্ঠু ও অর্থবহ একটি নির্বাচন হবে।' দশম সংসদ নির্বাচন জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয়নি বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীসহ ২৫ জন ছাড়া বাকি ২৪ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রী হিসেবে এবারই প্রথম শপথ নিলেন। এর মধ্যে ৯ জন মন্ত্রী, ১৩ জন প্রতিমন্ত্রী ও দু'জন উপমন্ত্রী রয়েছেন। দু'জন রয়েছেন টেকনোক্র্যাট কোটায়। আওয়ামী লীগের সমমনা শরিক দলগুলো থেকে আপাতত ছয়জনকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। বঙ্গভবনে শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা। নতুন মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণের পর ২৯ সদস্যের নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারের দায়িত্ব শেষ হয়েছে। যারা মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ছিলেন, নতুন মন্ত্রিসভার শপথের আগেই তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়। মন্ত্রিসভা গঠনের পর নতুন চার উপদেষ্টা নিয়োগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
২৯ পূর্ণ মন্ত্রী :পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে ২৯ নেতা শপথ নিয়েছেন। এর মধ্যে আবুল মাল আবদুল মুহিত অর্থ, আমির হোসেন আমু শিল্প, তোফায়েল আহমেদ বাণিজ্য, মতিয়া চৌধুরী কৃষি, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ডাক ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, মোহাম্মদ নাসিম স্বাস্থ্য, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এলজিআরডি, ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রবাসীকল্যাণ, রাশেদ খান মেনন বিমান, অধ্যক্ষ মতিউর রহমান ধর্ম, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন গণপূর্ত, আ ক ম মোজাম্মেল হক মুক্তিযুদ্ধ, ছায়েদুল হক মৎস্য, ইমাজউদ্দিন প্রামাণিক পাট, ওবায়দুল কাদের যোগাযোগ, হাসানুল হক ইনু তথ্য, ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ পানিসম্পদ, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু পরিবেশ, নুরুল ইসলাম নাহিদ শিক্ষা, শাজাহান খান নৌপরিবহন, অ্যাডভোকেট আনিসুল হক আইন, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম ত্রাণ, মুজিবুল হক রেলপথ, আ হ ম মোস্তফা কামাল লোটাস পরিকল্পনা, অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার গণশিক্ষা, আসাদুজ্জামান নূর সংস্কৃতি, সৈয়দ মহসীন আলী সমাজকল্যাণ, শামসুর রহমান শরীফ ডিলু ভূমি ও অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। তাদের অনেককেই আগের মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
১৭ প্রতিমন্ত্রী, ২ উপমন্ত্রী ও ১ টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী :১৭ জন প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে রয়েছেন_ অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক চুন্নু, স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, এমএ মান্নান, মির্জা আজম, অ্যাডভোকেট প্রমোদ মানকিন, বীর বাহাদুর উ শৈ সিং, নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, বীরেন শিকদার, আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, ইসমাত আরা সাদেক, মেহের আফরোজ চুমকি, মসিউর রহমান রাঙ্গা, শাহরিয়ার আলম, জাহিদ মালেক স্বপন, নসরুল হামিদ বিপু ও অ্যাডভোকেট জুনাইদ আহমেদ পলক। দু'জন উপমন্ত্রী হলেন_ আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব ও আরিফ খান জয়। এর আগে ১৯৯৫ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে দু'জন উপমন্ত্রী ছিলেন। টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হয়েছেন আওয়ামী লীগের তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ময়মনসিংহ-৪ আসনের সাবেক এমপি অধ্যক্ষ মতিউর রহমান।
২৪ নতুন মুখ :নতুনদের মধ্যে ২৪ জন মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন। এর মধ্যে ৯ জন মন্ত্রী, ১৩ জন প্রতিমন্ত্রী ও দু'জন উপমন্ত্রী রয়েছেন। তারা হলেন_ অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, আ ক ম মোজাম্মেল হক, ছায়েদুল হক, ইমাজউদ্দিন প্রামাণিক, অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, আ হ ম মোস্তফা কামাল লোটাস, আসাদুজ্জামান নূর, সৈয়দ মহসীন আলী, শামসুর রহমান শরীফ ডিলু, এমএ মান্নান, মির্জা আজম, বীর বাহাদুর উ শৈ সিং, নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, বীরেন শিকদার, আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, ইসমাত আরা সাদেক, মসিউর রহমান রাঙ্গা, শাহরিয়ার আলম, জাহিদ মালেক স্বপন, নসরুল হামিদ বিপু, অ্যাডভোকেট জুনাইদ আহমেদ পলক, আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব ও আরিফ খান জয়।
ভাগ্য বিপর্যয় :মহাজোট ও সর্বদলীয় সরকারের মন্ত্রীদের ২৩ জন বাদ পড়েছেন। তারা হলেন_ সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকার বীরউত্তম, সাবেক শ্রমমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু, সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, সাবেক ভূমিমন্ত্রী রেজাউল করিম হীরা, সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী এনামুল হক মোস্তফা শহীদ, সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ূয়া, সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন, সাবেক বিমানমন্ত্রী জিএম কাদের, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ডা. আফছারুল আমীন, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আবদুল লতিফ বিশ্বাস, সাবেক দফতরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, সাবেক পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদ, সাবেক ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।
প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে বাদ পড়েছেন ১৫ জন। তারা হচ্ছেন_ সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) এ বি তাজুল ইসলাম, সাবেক শ্রম প্রতিমন্ত্রী মল্পুম্নজান সুফিয়ান, সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদার, সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন, সাবেক এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়া, সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান, সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) মজিবুর রহমান ফকির, সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমান তালুকদার, সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এনামুল হক, সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আবদুল হাই, সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক মহিলা ও শিশু প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম।
উপদেষ্টা :শপথের পর চার উপদেষ্টা নিয়োগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারা হলেন এইচ টি ইমাম, ড. মসিউর রহমান, ড. গওহর রিজভী ও মেজর জেনারেল (অব.) তারেক সিদ্দিকী। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ, আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিগণ, ডেপুটি স্পিকার কর্নেল (অব.) শওকত আলী, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত রবার্ট গিবসন, ভারতের হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম হেনা, প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, নির্বাচন কমিশনারবৃন্দ, দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সংসদ সদস্য, সম্পাদকসহ সিনিয়র সাংবাদিক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, কূটনীতিক, ঊর্ধ্বতন সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা, প্রধানমন্ত্রীর পরিবারবর্গ, নারী সমাজের নেতৃবৃন্দ প্রমুখ।
বুধবার মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক :মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা জানান, আগামী বুধবার সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক হবে। এ আগে মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ ৩২ নম্বর ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে সকাল ৯টায় ও ১০টায় সাভার স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

শ্যারনকে শেষ শ্রদ্ধা জানাল ইসরায়েল

অ্যারিয়েল শ্যারন
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সেনানায়ক অ্যারিয়েল শ্যারনের প্রতি গতকাল রোববার শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছে দেশটির সর্বস্তরের মানুষ। ৮৫ বছর বয়সে তিনি শনিবার মারা যান। আট বছর ধরে তিনি কোমায় ছিলেন। ইসরায়েলের তেল আবিবের কাছে শেবা মেডিকেল সেন্টার শনিবার সন্ধ্যায় শ্যারনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। আজ সোমবার তাঁর শেষকৃত্য হবে। এর আগে গতকাল সর্বসাধারণের জন্য দেশটির পার্লামেন্ট ভবনের সামনে তাঁর মরদেহ রাখা হয়। শ্যারনের প্রতি ইসরায়েলি নেতাদের পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাসহ বিশ্বনেতারা শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
তবে তাঁর মৃত্যুতে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে শোকের কোনো চিহ্ন দেখা যায়নি। ফিলিস্তিনিরা তাদের ভূখণ্ডে ইহুদি বসতি স্থাপনে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা রাখা শ্যারনকে শত্রু হিসেবেই দেখে থাকে। শ্যারন ১৯৪৮ সালে ইসরায়েলের স্বাধীনতাযুদ্ধের পাশাপাশি ১৯৫৬ সালে সিনাই উপদ্বীপে অভিযানে অংশ নেন। এ ছাড়া ১৯৬৭ সালে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনীর সাঁজোয়াযান বিভাগের নেতৃত্ব দেন শ্যারন। আর ১৯৭৩ সালে তিনি আরব বাহিনীর বিরুদ্ধে সুয়েজ খালে পাল্টা আক্রমণে নেতৃত্ব দেন। ১৯৮২ সালে ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননে হামলা চালায়। পরে একটি ইসরায়েলি তদন্তে বৈরুতে ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তু শিবিরে গণহত্যায় শ্যারনকে দায়ী করা হয়। শ্যারন ১৯৮১ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন। ২০০১ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। এএফপি ও বিবিসি।

আইতজাজের পরিবারকে ৫ লাখ রুপি দেবে মালালা

মালালা ইউসুফজাই
পাকিস্তানের নারীশিক্ষা আন্দোলনের কর্মী মালালা ইউসুফজাই খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বিদ্যালয়ছাত্র আইতজাজ হাসানের পরিবারকে পাঁচ লাখ রুপি দেওয়ার কথা ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে আইতজাজকে সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক দেওয়ার জন্য পাকিস্তান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সে। খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের হাঙ্গু জেলার বিদ্যালয়ছাত্র আইতজাজ জীবন দিয়ে আত্মঘাতী হামলা ঠেকিয়ে তার প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থীর জীবন বাঁচিয়েছে। ওই দেশের গণমাধ্যম এ নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করে এবং তাকে জাতীয় বীরের মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানায়। ইতিমধ্যে সেনাবাহিনী তার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে।
মালালা বলে, ‘আমি মর্মাহত যে, সহিংসতা আমার দেশের আরেকটি শিশুর জীবন কেড়ে নিল। তবে আমি গর্বিত, আইতজাজের মতো সাহসী ছেলেরা আমাদের দেশে রয়েছে। নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে সে শত শত শিক্ষার্থীর জীবন বাঁচাল।’ আইতজাজের বাবা মুজাহিদ আলী বাঙ্গাস গত বৃহস্পতিবার জানান, তাঁর কোনো দুঃখ নেই, বরং ছেলের জন্য তিনি গর্বিত। মুজাহিদ বলেন, ‘অনেকেই সমবেদনা জানাতে আমার সঙ্গে দেখা করতে আসছেন। সহানুভূতি দেখানোর চেষ্টা করলে আমি তাঁদের বলি, সহানুভূতি নয়, আমাকে অভিনন্দন জানান। কারণ, আমি একজন শহীদ সন্তানের বাবা। আমার দ্বিতীয় ছেলেও দেশের জন্য জীবন দিলে আমি আরও খুশি হব।’ ওই ঘটনার পর থেকে পাকিস্তানের গণমাধ্যম আইতজাজকে নায়ক হিসেবে চিত্রিত করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে তাকে সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা দেওয়ার দাবি উঠেছে। আইতজাজকে সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক দেওয়ার সুপারিশ করে সরকারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের পুলিশপ্রধান নাসির খান দুররানি। ৬ জানুয়ারি একজন আত্মঘাতী হামলাকারী বিদ্যালয়ে ঢোকার চেষ্টা করলে ঠেকিয়ে দেয় আইতজাজ। ওই সময় বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ওই হামলাকারী মারা যায়। এতে আহত আইতজাজ ৯ জানুয়ারি হাসপাতালে মারা যায়। এএফপি।

নিউইয়র্কে পরিবার রেখে আসা অনেক কষ্টের

দেবযানী খোবরাগাড়ে
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত ভারতের কূটনীতিক দেবযানী খোবরাগাড়ে বলেছেন, নিউইয়র্কে স্বামী-সন্তান রেখে আসা তাঁর জন্য ‘অনেক কষ্টের’ ছিল। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, বিষয়টি তিনি প্রমাণও করবেন। গতকাল রোববার দ্য সানডে এক্সপ্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেবযানী এ দাবি করেন। কূটনৈতিক দায়মুক্তির আওতায় গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফেরেন দেবযানী। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি জানি, আমি সৎ ও নির্দোষ।
আমার বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ ভুল বলে প্রমাণ করতে পারব। কিন্তু এ জন্য কত দিন সময় লাগবে এবং এ জন্য আমার পরিবারকে কতটা দুর্ভোগ পোহাতে হবে, তা জানি না।’ দেবযানীর স্বামী একজন মার্কিন নাগরিক। তাঁদের সাত ও চার বছর বয়সী দুই মেয়ে রয়েছে। পরিবারের সবাইকে যুক্তরাষ্ট্রের রেখেই ভারতে ফিরতে হয়েছে দেবযানীকে। তিনি বলেন, ‘স্বামী ও সন্তানদের জন্য আমার কষ্ট হচ্ছে। সন্তানেরা যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে চাইলে সে দেশের সরকার কী ব্যবস্থা নেবে? আমাকে যদি আর কখনো যুক্তরাষ্ট্রে যেতে না দেওয়া হয়, তাহলে আমার পরিবারের কী হবে?’ গৃহকর্মীর ভিসার আবেদনে ‘মিথ্যা’ তথ্য দেওয়ায় পুলিশ দেবযানীকে গ্রেপ্তার ও হেনস্তা করে। এএফপি।

শঙ্কায় ভারতের কূটনীতিকেরা

ভারতের কূটনীতিক দেবযানী খোবরাগাড়েকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন-নয়াদিল্লির মধ্যে যে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ভারতের কূটনীতিকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ওই কূটনীতিকদের আশঙ্কা, গৃহকর্মী ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে পারে। এই পরিস্থিতি এড়াতে গৃহকর্মীদের মর্যাদা পরিবর্তনের বিষয়টিও বিবেচনা করছে ভারত সরকার। ভারত অভিযোগ করেছে, গৃহকর্মী সঙ্গীতা রিচার্ডসের ভিসার আবেদনে পারিশ্রমিক সম্পর্কে ‘মিথ্যা’ তথ্য দেওয়ার অভিযোগে দেবযানীকে গ্রেপ্তার করে চরম হেনস্তা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কূটনৈতিক দায়মুক্তির আওতায় গত শুক্রবার ভারতে ফেরেন দেবযানী। যুক্তরাষ্ট্রে দায়িত্ব পালনরত ভারতের কূটনীতিকদের আশঙ্কার কারণ, তাঁদের অনেকের গৃহকর্মী দেবযানীর গৃহকর্মীর গ্রেডের ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন। এ জাতীয় ভিসার আওতায় কেউ যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকলে তিনি মার্কিন আইনের আওতায় পড়েন। তাই যুক্তরাষ্ট্র সরকার ভারতীয় অন্য কূটনীতিকদের গৃহকর্মীদের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নিতে পারে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, কূটনীতিকদের আশঙ্কার বিষয়টি মাথায় রেখে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কূটনীতিকদের গৃহকর্মীদের মর্যাদা পরিবর্তনের জন্য তৎপরতা শুরু করেছে। এ জন্য পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন। জানা যায়, কূটনীতিকদের গৃহকর্মীকে ‘ভারতীয় দূতাবাসের কর্মী’ মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে ওই কর্মীরা মার্কিন আইনের আওতা নয়, ভারতের আইনের আওতায় থাকবেন।
এতে করে গৃহকর্মী ইস্যুতে কূটনীতিকদের আশঙ্কারও অবসান হবে। গৃহকর্মীদের মর্যাদা পরিবর্তনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি প্রয়োজন বলেই ওই মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্র সচিব। সূত্রগুলো জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ভারতের কূটনীতিকেরা যত দ্রুত সম্ভব গৃহকর্মীদের মর্যাদা পরিবর্তনের বিষয়টির সুরাহা চাচ্ছেন। কয়েক দিনের মধ্যে বিষয়টির সুরাহা না হলে তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে থাকা গৃহকর্মীদের ভারতে ফেরত পাঠিয়ে দিতে পারেন। গত ১২ ডিসেম্বর নিউইয়র্কে গ্রেপ্তার করা হয় দেবযানীকে। প্রায় এক মাস পর গত শুক্রবার দেশে ফিরে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। দেবযানীকে গ্রেপ্তার করায় ভারতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। ভারত সরকারও দেবযানীর পক্ষে বেশ শক্ত অবস্থান নেয়। দেবযানী জামিনে মুক্তি পেলে সরকার তাঁকে জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনে জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক হিসেবে নিয়োগ দেয়। পরে কূটনৈতিক দায়মুক্তি পান তিনি। তবে মার্কিন বিচার বিভাগ অভিযুক্ত করে দেবযানীকে। দেবযানী ভারতে ফেরার দিনই নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত দেবযানীর সমমর্যাদার মার্কিন একজন কূটনীতিককে প্রত্যাহার করতে ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানায় ভারত সরকার। এ ইস্যুতে দুই পক্ষের কঠোর অবস্থানের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ভারতের কূটনীতিকদের শঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। এনডিটিভি।

ভোটার উপস্থিতি দেখে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত সিসির

নতুন সংবিধানের ওপর চলতি সপ্তাহে গণভোটের আয়োজন করছে মিসর। এই নির্বাচনকে সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, গণভোটে ভোটার উপস্থিতি দেখে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে তিনি জানিয়েছেন। মিসরের সেনা-সমর্থিত বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার কাল মঙ্গলবার ও আগামী বুধবার গণভোটের ঘোষণা দিয়েছে। এরপর প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এসব নির্বাচনের মধ্য দিয়ে চলতি বছরের শেষ নাগাদ দেশে নির্বাচিত শাসনব্যবস্থা ফিরে আসবে বলে সরকার আশা করছে। মিসরের সামরিক সূত্রগুলো বলছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের হারের প্রতি নজর রাখবেন সিসি। এর পরই তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন, আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কি করবেন না। গত বছরের জুলাইয়ে প্রেসিডেন্ট মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে জেনারেল সিসিই মিসরের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা। তবে মুরসির ইসলামপন্থী সমর্থকেরা সিসির ওই পদক্ষেপকে মিসরের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত ও বেসামরিক প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ‘সামরিক অভ্যুত্থান’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
মুরসির পতনের কয়েক মাস পর এ পর্যন্ত সহিংসতায় এক হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, যাদের বেশির ভাগই ইসলামপন্থী। মুরসির সমর্থক হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে। মুরসিকে ক্ষমতায় পুনর্বহালের দাবিতে প্রায়ই বিক্ষোভ করছে তারা। ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে সরকারের দমন-নিপীড়নের প্রেক্ষাপটে জঙ্গিরা মিসরের বিশৃঙ্খলাপূর্ণ সিনাই উপদ্বীপসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলা শুরু করে। সহিংসতার ভয়ে ভোটারদের বড় একটা অংশ গণভোটে অংশ নেবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার ও সিসি নিজেই গণভোটে ভোটারদের অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। সিসি গত শনিবার ভোটারদের দলে দলে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সেনাবাহিনী তাঁদের সুরক্ষা দেবে। দেশজুড়ে ৩০ হাজার ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় এক লাখ ৬০ হাজার সেনাসদস্য মোতায়েন থাকবে। প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত দিয়ে সিসি বলেন, এ পদে তাঁকে মনোনয়নের জন্য ‘জনপ্রিয় দাবি’ ওঠা দরকার। তিনি রাষ্ট্রীয় পত্রিকা আল-আহরামকে বলেন, ‘আমি যদি নিজেকে মনোনীত করি, তবে সেখানে অবশ্যই জনপ্রিয় দাবি থাকতে হবে। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও ম্যান্ডেট থাকতে হবে।’ এএফপি।

মার্কিন কংগ্রেসের অর্ধেক সদস্যই ধনকুবের

সবচেয়ে সম্পদশালী কংগ্রেস সদস্য দারেলা ইসা
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান কংগ্রেসের প্রায় অর্ধেক সদস্যের প্রত্যেকেই কমপক্ষে ১০ লাখ ডলারের মালিক। সম্পদ বিশ্লেষকেরা বলছেন, এ ঘটনা অভিনব। এর আগে কখনোই কংগ্রেসে এত ধনকুবের ছিলেন না। মার্কিন কংগ্রেসের সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে মোট সদস্য ৫৩৪ জন। তাঁদের মধ্যে ২৬৮ জনের প্রত্যেকের ২০১২ সালে কমপক্ষে ১০ লাখ ডলার বা তার বেশি মূল্যের সম্পত্তি ছিল। ডেমোক্র্যাটরা ওই বছর রিপাবলিকানদের তুলনায় বেশি সম্পদের মালিক ছিলেন।
ওপেনসিক্রেটস ডট অর্গের সেন্টার ফর রেসপনসিভ পলিটিক্স (সিআরপি) এই তথ্য প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে ন্যূনতম মজুরি ও বেকারদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে চলা তুমুল বিতর্কের মধ্যে ধনকুবের রাজনীতিবিদদের সম্পর্কে এই তথ্য বেরিয়ে এল। তথ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের রাজনীতিবিদদের গড়ে ১০ লাখ ডলার মূল্যের সম্পদ আছে। এর মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের গড়ে ১০ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং রিপাবলিকানদের ১০ লাখ ডলারের সম্পদ ছিল। সিনেটররা আবার প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যের তুলনায় বেশি সম্পদের মালিক। যার পরিমাণ যথাক্রমে ২৭ লাখ ডলার ও আট লাখ ৯৬ হাজার ডলার। সবচেয়ে বেশি সম্পদের মালিক রিপাবলিক কংগ্রেস সদস্য দারেলা ইসা। তাঁর অন্তত ৫৯ কোটি ৮০ লাখ ডলার মূল্যের সম্পদ রয়েছে। সম্পদের দিক থেকে সবচেয়ে গরিব হলেন ক্যালিফোর্নিয়ার রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য ডেভিড ভালাদাও। তাঁর কাঁধে রয়েছে এক কোটি ২০ লাখ ডলারের ঋণ। বিবিসি।

বিষাক্ত মদে মৃত্যু আলেক্সান্ডারের!

মাত্র ৩২ বছর বয়সে মারা গিয়েছিলেন গ্রিক মহাবীর আলেক্সান্ডার দ্য গ্রেট। মেসিডোনিয়ার এ মহানায়কের মৃত্যু ছিল আকস্মিক ও রহস্যাবৃত। দুই হাজার বছরের পুরনো এ রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা। বিষাক্ত ওয়াইন পানই আলেক্সান্ডারের মৃত্যুর কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। নিউজিল্যান্ডের ওটাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাশনাল পয়জনস সেন্টারের গবেষক ড. লিও চেপ মনে করেন, নিরীহ দর্শন একটি গাছ থেকে নির্যাস নিয়ে তৈরি মদপান করেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলা এ বীর। ৩২৩ খ্রিস্টপূর্বে মারা যান আলেক্সান্ডার। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে ১২ দিন পরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এ বীর। ক্লিনিক্যাল টক্সিকোলজি নামে একটি সাময়িকীতে এ গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। কোনো কোনো ইতিহাসবিদ মনে করেন, স্বাভাবিক নিয়মেই আলেক্সান্ডারের মৃত্যু হয়েছিল। তবে অনেকেই মনে করেন, তাকে গোপনে হত্যাই করা হয়েছিল। ড. চেপ ও তার সহ-গবেষক ড. প্যাট হুইটলি মনে করেন, আলেক্সান্ডারের মৃত্যুর পেছনে দায়ী বস্তুটি হচ্ছে ভেরাট্রাম অ্যালবাম বা হোয়াইট হেলেবোর নামে একটি বিষাক্ত ওষুধি গাছ। খবর :জিনিউজ অনলাইন।

শান্তি ফেরাতে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

একসময় ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের পরিচিতি ছিল 'বিশ্ব শয়তান' নামে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের পরিচয় 'শয়তানের বলয়' নামে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে একযোগে কাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে শত্রু রাষ্ট্র দুটির। ওবামা প্রশাসনের ইচ্ছার ভিত্তিতে ও ইরানের সংস্কারবাদী প্রেসিডেন্ট রুহানির উদ্যোগে দেশ দুটি পরস্পরের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার নীতি নিয়েছে। ইতিমধ্যেই এর ফল আসতে শুরু করেছে। যার ভিত্তিতে বিশ্বশক্তিসমূহের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি করেছে ইরান। অন্যদিকে মার্কিন সিনেট ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আনলেও তাতে ভেটো দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি নেটওয়ার্কের নির্বাহী পরিচালক জন ব্রাডশ বলেন, 'ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু; কিন্তু ওবামা প্রশাসন সমস্যা সমাধানে ইসরায়েলকে এড়িয়ে বিকল্প পথেও হাঁটছেন।' আফগানিস্তান ইস্যুতে মতের মিল রয়েছে উভয় দেশের। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কেউই চায় না, আফগানিস্তানে আর তালেবানি শাসন ফিরুক। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক র‌্যান্ডে করপোরেশনের রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলিরেজা নাদের বলেন, 'পরমাণু সমস্যা সমাধান করতে পারলে ভবিষ্যতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের একযোগে কাজ করার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।' যুক্তরাষ্ট্র যেমন আল কায়দার পতন চায় তেমনি তেহরানও আল কায়দার পতন চায়। এ ছাড়া ইরানও ইসলামি জঙ্গিবাদের বিরোধী। ফলে উভয় দেশের একযোগে কাজ করার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। এ অঞ্চলে বিশেষ করে ইরাকে আল কায়দার উত্থান রুখতে ইরান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে বিভিন্ন সময় ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারাও।

মধ্যপ্রাচ্যে বিপর্যস্ত ওবামার মহাপরিকল্পনা

পাঁচ বছর আগে বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক উন্নয়ন এবং মুসলিম বিশ্বে মার্কিন ভাবমূর্তি বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছিলেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। কিন্তু এখন ওবামা প্রশাসনের আঞ্চলিক কৌশল বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। আফগানিস্তান থেকে তিউনিসিয়া_ সবখানেই ওবামা দ্রুত পরিবর্তনশীল ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রকাশ্য ক্ষমতার তিক্ত দ্বন্দ্বও তাকে বিব্রত করছে। মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের অবস্থান ও প্রভাব ধরে রাখতে প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট ওবামা যে মহাপরিকল্পনা নিয়েছিলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাকে তা নতুন করে সাজাতে হয়েছে। সিরিয়া, ইরাক, লেবানন, লিবিয়া, মিসর, আফগানিস্তান_ সবখানেই নানামুখী জটিলতা আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছে ওবামাকে। ওবামা প্রশাসন সিরিয়ার সঙ্গে চুক্তি করতে বাধ্য হয়েছে। পশ্চিমা সমর্থিত বিদ্রোহীরা সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে উৎখাত এবং ইসলামপন্থি উগ্রবাদীদের দমনে লড়াই করে যাচ্ছে। অস্থিতিশীলতা রয়েছে লেবানন ও ইরাকেও। তিন বছর আগে মার্কিন বাহিনী ইরাক ত্যাগের পর সেখানে আল কায়দা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। মিসরে নিজেদের কী ভূমিকা হবে, তা নিয়েও জটিলতায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রথমবারের মতো গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে সেনাবাহিনী উৎখাতের পর এ জটিলতায় পড়ে ওবামা প্রশাসন। একদিকে গণতন্ত্র, অন্যদিকে মিসরীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সখ্যই এর মূল কারণ। আফগানিস্তানেও সুবিধাজনক অবস্থানে নেই যুক্তরাষ্ট্র। আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্রের। চলতি বছর ন্যাটো সেনারা আফগানিস্তান ত্যাগ করার পরও কিছু মার্কিন সেনা দেশটিতে রাখতে একটি চুক্তি হওয়ার কথা। কিন্তু হামিদ কারজাই কিছু শর্ত জুড়ে দেওয়ায় এ নিয়ে বিপাকে রয়েছে ওবামা প্রশাসন। এ অবস্থায় ন্যাটো সেনারা বিদায় নিলে দেশটিতে ফের তালেবানের উত্থানের জোরালো আশঙ্কা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে চূড়ান্ত বিচারে এটি আফগানিস্তানে মার্কিন পরাজয় হিসেবেই বিবেচিত হবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ইসরায়েল-ফিলিস্তিন শান্তি চুক্তি করতে প্রাণপণ চেষ্টা করছেন। খুব একটা সাফল্যের মুখ দেখেননি তিনি। এপি।

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের অনুমতি

ইরানের আরাক পারমাণবিক রিএ্যাক্টর
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচী আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের নিয়মিত পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে ঐকমত্যে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইরান। কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সোমবার সকালে এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, চলতি মাসের ২০ তারিখ থেকে এই চুক্তি কার্যকর হবে। আর পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে এ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ চুক্তি সম্পাদিত হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এই অন্তর্বর্তী চুক্তিকে স্বাগত জানালেও চুক্তির শর্ত মানতে ব্যর্থ হলে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে বলে তেহরানকে সতর্ক করে দিয়েছেন। চুক্তির শর্ত মোতাবেক, এই সময়সীমার মধ্যে ইরান তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত এবং ইতিমধ্যে সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়ামের ২০ শতাংশ অকার্যকর করবে। এ প্রসঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগসি বলেন, "এই চুক্তি বাস্তবায়নের সময় থেকে তেহরানের ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা উচিত।" তিনি জানান, জানুয়ারির ২০ তারিখ থেকে চুক্তি বাস্তবায়নের ব্যপারে দু’পক্ষই সম্মত হয়েছে। ওইদিন থেকে উভয় পক্ষই জেনেভা চুক্তির শর্তাবলী বাস্তবায়ন শুরু করবে। আর সেদিন থেকেই যেন ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার শুরু হয়—সে প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি। ইরান গোপনে পারমানবিক অস্ত্র তৈরি করছে পশ্চিমা দেশগুলো অভিযোগ করে আসছে। তবে পশ্চিমাদের এমন অভিযোগ বরাবরই নাকচ করেছে দেশটি।

অপরাধবোধে ভুগতেন কালাশনিকভ

একে-৪৭ রাইফেলের উদ্ভাবক মিখাইল কালাশনিকভ।
প্রায়ই এক ধরনের অপরাধবোধে ভুগতেন একে-৪৭ রাইফেলের উদ্ভাবক মিখাইল কালাশনিকভ। একে-৪৭ রাইফেল দিয়ে বিশ্বব্যাপী যেসব মানুষ হত্যার শিকার হয়েছেন সেসব অপরাধের ভার তার ওপর বর্তাবে কি-না এ নিয়ে তিনি মানসিকভাবে খুব চাপে ছিলেন। রাশিয়ার অর্থডক্স চার্চে লেখা কালাশনিকভের এক চিঠি থেকে এসব কথা জানা যায়। ক্রেমলিনপন্থি ইজভেসতিয়া পত্রিকা জানিয়েছে, অর্থডক্স চার্চে একটি দীর্ঘ ও আবেগভরা চিঠি লিখেন কালাশনিকভ। ওই চিঠিতে তিনি জানান, "আমার আধ্যাত্বিক বেদনা অসহ্য। বারবার নিজেকে একটি প্রশ্ন করেও উত্তর পাইনি আমি। আমার উদ্ভাবিত রাইফেলের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী যেসব হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে সেসবের দায়ভার কি আমার ওপরও বর্তায়? এমনকি যদিও তারা শত্রু ও হয়? এসব মানুষের মৃত্যুর জন্য আমার নিজেকে অপরাধী মনে হয়।" চিঠিতে তিনি নিজের পরিচয় দেন 'ঈশ্বরের দাস : মিখাইল কালাশনিকভ' নামে। ওই চিঠির জবাবে তাকে জানানো হয়, তিনি নিজের দেশকে রক্ষায় এটি আবিষ্কার করেছেন। এটির অপব্যবহার করে কে কোথায় কাকে খুন করল এর দায়ভার তার নয়।

পাকিস্তানি পণ্য বর্জনের আহ্বান

বাণিজ্যমেলায় গণজাগরণ মঞ্চের র‌্যালি
পাকিস্তানি পণ্য বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ। গতকাল বিকেলে শেরেবাংলা নগরে শুরু হওয়া ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার সামনের সড়কে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড-ফেস্টুন হাতে র‌্যালি থেকে এ আহ্বান জানান মঞ্চের কর্মীরা। এ সময় মেলার ভিআইপি গেটের সামনে র‌্যালি আটকে দেয় পুলিশ। পরে তারা মেলার প্রধান গেটের সামনে পাকিস্তানি পণ্য বর্জনের লিফলেট বিতরণ করেন। এ সময় গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার বলেন, পাকিস্তানি পণ্য বর্জন করে দেশি পণ্য কেনার ক্যাম্পেইন অব্যাহত থাকবে। যতদিন পর্যন্ত পাকিস্তান ক্ষমা না চাইবে ততদিন পর্যন্ত দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্য সম্পর্ক স্থগিত করার আহ্বান জানান তিনি। বাংলাদেশি স্টলে পাকিস্তানি পণ্য বিক্রি বন্ধের দাবি জানান ইমরান। মেলায় পাকিস্তানি স্টলে পণ্য বিক্রির সুযোগ বন্ধের দাবি করা হলেও কেন অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তা জানতে চান গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা। এ সময় মেলার গেট ইজারাদার শীর শহীদুল্লাহ বলেন, পাকিস্তানি পণ্য মেলায় বিক্রি হচ্ছে না। গেট দিয়ে কোনো পাকিস্তানি পণ্য ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে তিনি গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীদের আশ্বস্ত করেন। পরে মঞ্চের কর্মীরা সাময়িকভাবে ক্যাম্পেইন স্থগিত করে র‌্যালি নিয়ে ফিরে যান। তখন ইমরান এইচ সরকার বলেন, আবার যদি পাকিস্তানি পণ্য বিক্রির সুযোগ দেওয়া হয় তখন মেলায় পণ্য বর্জনের ক্যাম্পেইন শুরু করা হবে। গতকাল দ্বিতীয় দিনে মেলা ঘুরে দেখা গেছে, বাইরের গেটের সামনে বিভিন্ন দেশের পতাকা থাকলেও পাকিস্তানের পতাকা নেই। তবে মেলার মধ্যে নাম ছাড়া প্যাভিলিয়নে পাকিস্তানি পণ্য বিক্রি হচ্ছে। পোস্ট অফিসের পাশে দুটি প্যাভিলিয়ন রয়েছে। এসব প্যাভিলিয়নের মধ্যে কয়েকটি স্টলে শাল, জুতা ও থ্রিপিসসহ বিভিন্ন পাকিস্তানি পণ্য বিক্রি হচ্ছে। মেলার প্রধান গেটের ডান দিকে কিয়ামের বিপরীতে নাম ছাড়া পাকিস্তানি স্টলে ১ হাজার টাকায় ন্যাশনাল প্রিমিয়ার কিচেন সেট বিক্রি হচ্ছে। তা ছাড়া ২ নম্বর গেটের পাশে দুটি পাকিস্তানি প্যাভিলিয়নে এখনও বিক্রি শুরু হয়নি।
গতকাল মেলার দ্বিতীয় দিনে বিকেলে দর্শনার্থীদের কিছুটা ভিড় বেড়েছে। বেশিরভাগ ক্রেতা গৃহস্থালি সামগ্রী, প্লাস্টিক ও খাদ্যপণ্য কেনাকাটা করেছেন। অন্যান্য পণ্য বিক্রি কিছুটা কম হচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় বিদেশি ক্রেতারাও পণ্য কেনাকাটা শুরু করেছেন। গতকাল মেলায় এসেছেন স্পেনের বাসিন্দা মারিয়ানা। একটি বায়িং হাউসের এ কর্মকর্তা বিভিন্ন ধরনের পোশাক কেনাকাটা করেন। নানা ডিজাইনের নমুনা পণ্য সংগ্রহ করেছেন। বাংলাদেশি পণ্যের মান ও ধরন দেখে তিনি খুশি। এ ধরনের আরও পণ্য কেনাকাটা করবেন বলে জানান তিনি। ব্যবসায়ীরা জানান, মেলার শুরুতে প্রতি বছর দর্শনার্থী কম হয়। তবে চলতি সপ্তাহে তিন দিন ছুটি রয়েছে। তা ছাড়া রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই। এ কারণে শুরুতে শঙ্কিত থাকলেও এখন অনেক স্বস্তিতে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। দিলি্ল অ্যালুমিনিয়ামের প্যাভিলিয়ন ব্যবস্থাপক সিরাজ উদ্দিন সমকালকে বলেন, অবরোধের কারণে এখন ঢাকার দর্শনার্থীরা আসছেন। আগামী দু'দিন কর্মসূচি নেই, তখন ঢাকার আশপাশের ক্রেতারা আসবেন বলে আশা করছেন তিনি। তা ছাড়া মঙ্গলবার ছুটির দিনে বেচাকেনা বাড়বে এবং শুক্রবার থেকে পুরোপুরি মেলা জমে উঠবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এসএমইর নামে অন্য ঋণ by ওবায়দুল্লাহ রনি

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শন
কম নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংরক্ষণের কৌশল হিসেবে অন্য খাতের ঋণ এসএমইতে প্রদর্শন করেছে বেশ কিছু ব্যাংক। এ ছাড়া এসএমই ঋণের ক্ষেত্রে অনেক ব্যাংক বিভিন্ন নামে অযৌক্তিক চার্জ আরোপ করছে। মুনাফা বাড়াতে তারা এই অনিয়ম করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক পরিদর্শনে এই অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। ব্যাংকের প্রকৃত আর্থিক পরিস্থিতি প্রতিফলিত না হওয়ায় ব্যাংকের ঋণ ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছে পরিদর্শক দল। এমন পরিস্থিতিতে এসএমই ঋণের সংজ্ঞা পুনর্নির্ধারণ, বর্তমানে প্রযোজ্য দশমিক ২৫ শতাংশের পরিবর্তে আগের নিয়মে ১ শতাংশ হারে প্রভিশন সংরক্ষণসহ বেশ কিছু সুপারিশ করেছে তারা। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ সমকালকে বলেন, অধিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য এসএমই খাতে ঋণ বিতরণ কেন্দ্রীয় ব্যাংক উৎসাহিত করে। তবে এসএমই ঋণের খরচ বেশি হয় বলে ব্যাংকগুলো অন্য খাতের ঋণ এ খাতে দেখিয়ে দিচ্ছে। এটি বড় ধরনের অন্যায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকিতে দুর্বলতা এবং সুশাসনের অভাবে এমন হচ্ছে। এক খাতের ঋণ অন্য খাতে দেখানো বন্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে কঠোর হতে হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংককে শুধু নীতিমালা প্রণয়ন করলেই চলবে না, তার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
এসএমই ঋণের সার্বিক বিষয়ে একটি ধারণা পেতে সম্প্রতি ৩০টি ব্যাংক ও ৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ৫৪টি শাখা এবং ১১৫টি এসএমই সার্ভিস সেন্টারের ওপর বিশদ পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকের আরও ৬৬টি শাখা পরিদর্শন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এসএমই বিভাগ এখন পরিদর্শন-পরবর্তী বিষয়ে কাজ করছে।
পরিদর্শনে দেখা গেছে, নীতিমালা অনুযায়ী অশ্রেণীকৃত সাধারণ ঋণের বিপরীতে ১ শতাংশ হারে প্রভিশন সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আর এসএমই ঋণের বিপরীতে প্রভিশন রাখতে হচ্ছে দশমিক ২৫ শতাংশ হারে। ব্যাংকগুলো সাধারণ প্রভিশন কম দেখানোর মাধ্যমে মুনাফা স্ফীত করতে এসএমই বহির্ভূর্ত ঋণকে এসএমই হিসেবে দেখাচ্ছে। ব্যাংক থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠানো এসএমই ঋণ বিবরণী এবং ঋণ শ্রেণীকরণ ও প্রভিশন সংরক্ষণ বিবরণীতে বর্ণিত তথ্যেও গরমিল রয়েছে। সে অনুযায়ী, এসএমই ঋণের বিবরণীর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাষ্ট্রীয় মালিকানার একটি বিশেষায়িত ব্যাংকের ৫টি শাখায় ২ কোটি ৩২ লাখ টাকা এবং বেসরকারি খাতের ৪টি ব্যাংকের ৫১টি শাখায় ৫ কোটি ১৩ লাখ টাকার বাড়তি প্রভিশন সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক ম. মাহফুজুর রহমান সমকালকে বলেন, পরিদর্শনে উঠে আসা অনিয়মের আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া নীতিমালায় কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে।
পরিদর্শক দল বলেছে, নতুন উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবা ও পণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করা এসএমই ঋণের মূল লক্ষ্য হলেও তা ব্যাহত হচ্ছে। এসএমই ঋণের অধিকাংশই বিতরণ হচ্ছে ব্যবসা খাতে। কিছু দেওয়া হয়েছে সেবা খাতে এবং নামমাত্র শিল্প খাতে। নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়া হয়েছে খুব সামান্য। এ ছাড়া অনেক ব্যাংক এসএমই ঋণের বিপরীতে নির্ধারিত হারে সুদ আদায় ছাড়াও প্রসেসিং ফি, ঋণ আবেদন ফি, কর, ডকুমেন্টেশন চার্জ, জীবন বীমা ফি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অগি্ন বীমা বাবদ ঋণ গ্রহীতা থেকে বিপুল অংকের টাকা আদায় করছে। এ ধরনের ফিস আদায় অযৌক্তিক। অধিকাংশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান নামমাত্র এসএমই ঋণ বিতরণ করে ব্যাপক সাফল্য প্রচার ও মুনাফা বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ নিচ্ছে। এসএমই ঋণের ব্যাপ্তির তুলনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নিয়োজিত জনবল কম থাকায় অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত চিত্র আসে না বলেও এতে
উল্লেখ রয়েছে।
সরকার প্রণীত শিল্পনীতি-২০১০-এর আলোকে এসএমই ঋণের সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নীতিমালা অনুযায়ী, জমি ও ভবন ব্যতিরেকে যেসব প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী সম্পদের পরিমাণ ৫ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা অথবা কর্মরত জনবল ১০ থেকে সর্বোচ্চ ২৫০ জন, সেসব প্রতিষ্ঠান এসএমই খাতের আওতায় ঋণ নিতে পারে। এই সংজ্ঞার অপব্যবহার করে ব্যাংকগুলো ওই সীমার আওতায় থাকা যে কোনো ধরনের ঋণকে এসএমইএ ঋণ হিসেবে দেখাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শক দল তাদের সুপারিশে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে।

সাম্প্রদায়িক সহিংসতা দমন করতেই হবে

৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুরা সহিংসতার শিকার হয়েছেন। তাদের বাড়িঘর-দোকানপাটে হামলা হয়েছে। এমনকি ধর্ষণের শিকারও হয়েছেন তারা। সহিংসতা মোকাবেলার কথা বলেছেন পাঠকরা।
গ্রন্থনা : একরামুল হক শামীম ও মাহফুজুর রহমান মানিক
মুজিবুর রহমান
চাকরিজীবী, তেরশ্রী, ঘিওর, মানিকগঞ্জ সাম্প্রদায়িক সহিংসতা মোকাবেলায় সরকারের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রতিটি মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। এই চেতনার পক্ষের সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের মাধ্যমে প্রতিটি শহর, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন এবং গ্রামে শক্তিশালী প্রতিরোধ কমিটি গঠন করতে হবে। যারা সহিংসতার সঙ্গে জড়িত তাদের চিহ্নিত করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা জরুরি।
তাপস হাওলাদার
শিক্ষার্থী, কালুখালী, রাজবাড়ী
সাম্প্রদায়িক সহিংসতা মোকাবেলার জন্য সরকারকে কঠোর হতে হবে। যারা অপরাধী তাদের গ্রেফতার করে শাস্তি দিতে হবে। সংখ্যালঘুরা কি শুধু নৌকাতেই ভোট দেয়?
শিব সরকার
ব্যবসায়ী, খুলনা
সংখ্যালঘুদের ওপর যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হচ্ছে, সেটা আসলে ১৯৭১ সালের পর থেকেই শুরু। সহিংসতা বন্ধে সরকার এবং বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনা হলে আমার মনে হয় এভাবে আর সহিংসতা হতো না।
হেলাল উদ্দিন
শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
ভোট দেওয়ার অপরাধে আমাদের দেশের হিন্দু ভাইদের ওপর যে আক্রমণ হচ্ছে তা দুঃখজনক। আমরা একে ধিক্কার জানাই। জামায়াত-শিবির তাদের ওপর আক্রমণ করে। এই সহিংসতা মোকাবেলায় সরকারের উচিত দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন করে তাদের শাস্তি দেওয়া হোক। অপরাধী যেই হোক তাদের উপযুক্ত শাস্তি হোক।
আলী রিয়াল সউদ
শিক্ষার্থী, রংপুর
সাম্প্রদায়িক এই সহিংসতায় সরকার তেমন কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। যে ঘটনাগুলো ঘটছে এগুলো পূর্বপরিকল্পিত। ঘটনা যা ঘটছে সবই স্থানীয় প্রশাসন জানে অথচ তারা কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
মো. মাসুম বিল্লাহ
শিক্ষার্থী, কুমিল্লা
সংখ্যালঘু এই হামলা কেবল সরকারই পারে মোকাবেলা করতে। এর সঙ্গে যারা দায়ী, প্রশাসনের উচিত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
মোহাম্মদ আলী
চাকরিজীবী, হাজারীবাগ, ঢাকা
সাম্প্রদায়িক সহিংসতার কারণে হত্যা, লুটপাট, অগি্নসংযোগ, জ্বালাও-পোড়াওয়ের মতো ঘটনা ঘটছে। এটা এখন যেন নিত্যদিনের সহিংস রুটিন হয়ে গেছে। তাই আমরা বলব, সরকার যেন এসব সহিংসতার বিরুদ্ধে এখন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।
নাজিম উদ্দিন শোভা
মুক্তিযোদ্ধা, টাঙ্গাইল
ইসলাম সাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাস করে না। ইসলাম শান্তির ধর্ম, প্রতিটি ধর্মকে সম্মান দেয়। এখানে সহিংসতার কোনে স্থান নেই। যারা এসব কাজ করছে তারা অন্তত ইসলাম ধর্মানুসারী হতে পারে না। যারা এসব করছে তাদের প্রশাসনের তরফ হতে কঠোর বিচারের অনুরোধ করছি। যাতে সম্প্রদায়ের বিষ সমূলে ধ্বংস হয়।
কুমারেশ চন্দ্র
বাস শ্রমিক, ঝিনাইদহ টার্মিনাল
বাংলাদেশে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হচ্ছে তা এই স্বাধীন দেশে কাম্য নয়। যেসব বীর সেনা জীবনবাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধ করেছে, এ ঘটনায় তাদের আত্মা কষ্ট পেয়েছে। অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি, মানবতার জয়যাত্রা ও শোষণহীন সমাজ বিনির্মাণই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। এ চেতনার উন্মেষ সাধনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বাত্মক ভূমিকা পালন করবেন বলে আমাদের বিশ্বাস।
প্রদীপ কুমার কর
শিক্ষক, বোয়ালমারী, ফরিদপুর
সাম্প্রদায়িক সহিংসতা মোকাবেলার জন্য হিন্দুদের জন্য আলাদা আইন দরকার।
ওয়াহিদ মুরাদ
কবি, স্বরূপকাঠি, পিরোজপুর
'কাণ্ডারি বলো ডুবিয়াছে মানুষ সন্তান মোর মার'_ কবি নজরুলের এই বাণীকে সামনে রেখে দেশবাসীর কাছে আকুল আবেদন, সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প থেকে বাঁচার জন্য সবাইকে মানুষ হিসেবে বিবেচনার অনুরোধ রাখি। প্রশাসন ব্যবস্থা নিলে স্বামী ও শাশুড়িকে বের করে ধর্ষণকারীর কোনো অপরাধীই বাঁচতে পারে না। স্থানীয় প্রশাসন থেকে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে এই জঘন্য অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো প্রয়োজন। আমরা মনে করি, সব মানুষ সমান, এখানে সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরুর কোনো পার্থক্য নেই।
আবু সাঈদ বাবু
শিক্ষার্থী, কয়রা, চট্টগ্রাম
সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক হামলার জন্য জামায়াত-শিবির ও বিএনপি দায়ী। এ জন্য সরকারকে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের শাস্তি প্রদান করতে হবে।
মোহাম্মদ আলী মানিক
ব্যবসায়ী, নোয়াখালী
সাম্প্রদায়িক সহিংসতা মোকাবেলা সশস্ত্র শক্তি দিয়ে হবে না, এটা মোকাবেলা করতে হবে বুদ্ধি দিয়ে। বুঝতে হবে কোন কোন সময় এ সহিংসতা হয়, কেন হয়, কখন কখন হয় না, কেন হয় না তা গভীরভাবে চিন্তা করতে হবে। সংখ্যালঘু বলে এক পক্ষের লোককে ছোট করে দেখা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা সবাই মানুষ, এটাই সত্য কথা। বিশিষ্ট লোকেরা একপক্ষকে এভাবে ছোট করে দেখবে, দেখলে তাদের মনের অবস্থা কেমন হবে তাও ভেবে দেখা দরকার।
মনোজিৎ কুমার চৌধুরী
সরকারি চাকরিজীবী, মাগুরা
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এক অনন্য দৃষ্টান্ত হলেও এ দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা মোকাবেলা কখনও সম্ভব নয়। বাংলাদেশটা যাদের হাতে জিম্মি সেই রাজনীতিবিদরাই সাম্প্রদায়িক হামলার জন্য দায়ী। উপরে ভালো ভালো কথা বললেও এই সাম্প্রদায়িকতাকেই পুঁজি করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নেতারা ফায়দা লুটে চলছে। একে অন্যের ওপর দোষ চাপালেও সাম্প্রদায়িক নাশকতা রাজনৈতিক নেতারাই পর্দার আড়াল থেকে সমর্থন জোগাচ্ছে। রাজনীতিবিদরাই কৌশলে শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষকে এ হীন কাজে উদ্বুদ্ধ করছে। এ দেশে প্রতিটা সাধারণ নির্বাচনের পর সংখ্যালঘুরা যে বারবার নির্যাতনের শিকার হচ্ছে তার একটি ঘটনারও উপযুক্ত বিচার হয়নি, আর হবেও না। কেননা বিচার করতে গেলেই দেখা যায় কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসে। সংখ্যালঘুদের নির্যাতনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যে বিক্ষোভ, মানববন্ধন পালন করছে তা সংখ্যালঘুদের সঙ্গে তামাশা ছাড়া আর কিছু নয়।
শেখ আবদুল কাদের
সংস্কৃতিকর্মী, ডেমরা
যে কোনো অবস্থায় এই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা প্রতিরোধ করতে হবে। এ জন্য আমরা সংস্কৃতিকর্মীরা কাজ করছি। আমার মনে হয়, আক্রান্ত স্থানগুলোর অনেকেই দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে। দেশের জনগণ কোনো অবস্থাতেই ছাড় দিতে রাজি নয়। তারাও আমাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছে, তারা আমাদের আত্মার আত্মীয়। তারা এ মাটিরই মানুষ। আজকে একটি রাজনৈতিক আরেকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সখ্য রেখে দেশে যে অরাজকতা তৈরি করছে, তাতে বিএনপির একুল ওকুল দুকুলই গেল।
দীপক
শিক্ষার্থী, রাজবাড়ী
সারাদেশ যখন সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার, তখন আজও আমরা নাটোরে এই হামলা দেখলাম। এসবের বিচার চাই।
সুমন
চাকরিজীবী, চট্টগ্রাম
দেশে দুই দলের যারাই ক্ষমতায় আসে তাদের সময়ই হামলা হয়। আমরা এই দেশে বাস করছি অথচ সরকার নিরাপত্তা দিচ্ছে না। এভাবে আমরা কীভাবে বাস করব। এখন উভয় দলের ঐকমত্যের মাধ্যমেই এর যথাযথ মোকাবেলা সম্ভব।
শামশাদ আহম্মেদ
সরকারি কর্মকর্তা (অব.), উত্তরা, ঢাকা
সাম্প্রদায়িকতার কোনো স্থান এখানে নেই। যারা সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করছে তারা দেশদ্রোহী এবং এ দেশের নাগরিক হওয়ার যোগ্য নয়। এ অপশক্তিকে কঠোর হস্তে দমন করা সরকারের একান্ত কর্তব্য।
আলী আফজাল শরীফ
চাকরিজীবী, গোপালগঞ্জ
এ সহিংসতা মোকাবেলার জন্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও প্রশাসনকে একযোগে কাজ করতে হবে। এখানে বিরোধী দলেরও দায়িত্ব রয়েছে। তাদের উচিত প্রশাসনকে সহযোগিতা করা।
খোকন আহমেদ
ব্যবসায়ী, বেলাব, নরসিংদী
সরকার যেন সরকার গঠন করেই এ সহিংসতা মোকাবেলায় কঠোর হয়। বিশেষ করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে এ ব্যাপারে বিশেষ সতর্কতার আহ্বান জানাচ্ছি।
ফারুক হোসেন
সাংবাদিক, রাজশাহী
সংখ্যালঘু পরিবারের ঘরবাড়ি-দোকানপাটে হামলা হচ্ছে। তারা নির্যাতিত হচ্ছেন। এর মূলে রয়েছে বিএনপি-জামায়াত। তারা নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য হামলা করছে। এ হামলা মোকাবেলায় সরকারকে কঠোর হতে হবে। এ ছাড়া স্থানীয় মানুষের মধ্যে সচেতনতা প্রয়োজন।
দিলীপ কুমার সরকার
চাকরিজীবী, গফরগাঁও, ময়মনসিংহ
আওয়ামী লীগ-বিএনপি যে দলই ক্ষমতায় যায় আমাদের ওপর নির্যাতন হয়। আমরা কি চোখের কাঁটা যে সবাই মিলে আমাদের বিতাড়িত করতে চাচ্ছে!
অমিত চৌধুরী
শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম
দুই রাজনৈতিক দলের জন্য কেন সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত হবে! এর জন্য দুই দলকেই জবাব দিতে হবে। সবকিছু হয়ে গেলে পুলিশ আসে। এখন এর জন্য জনগণের মধ্যে কমিটি গঠন করে দিতে হবে।
উত্তম কুমার
ব্যাংকার, নোয়াখালী
সাম্প্রদায়িক সহিংসতা যেখানেই হয়েছে প্রশাসন বলছে, তারা এলাকায় নেই। তারা এলাকায় না থাকলেও বাংলাদেশে আছে নিশ্চয়ই। তাদের খুঁজে বের বিচারের আওতায় আনতে হবে। তাহলে অন্য সন্ত্রাসীরাও এসব করতে সাহস করবে না।
আবদুল্লাহ আল মামুন
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
এটা একটা রাজনৈতিক খেলা। যখন রাজনৈতিক খেলা বন্ধ হবে, যখন রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্য হবে, তখনই হামলা বন্ধ হবে।
শেখ মো. আলী
ব্যবসায়ী, তালতলা বাজার, মুন্সীগঞ্জ
সাম্প্রদায়িক সহিংসতার জন্য সব দলই দায়ী। এ জন্য সবাইকে ঐকমত্য হতে হবে। দোষীদের বিচারের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
শাকের খান
ব্যবসায়ী, মদন, নেত্রকোনা
সরকার যদি এ বিষয়ে কঠোরভাবে নজর দেয়, তাহলেই সহিংসতা মোকাবেলা সম্ভব। সরকার চাইলেই এসব বন্ধ করতে পারে।
মো. ফখরুল ইসলাম টিপু
শিক্ষার্থী, সেনবাগ, নোয়াখালী
সাম্প্রদায়িক সহিংসতা মোকাবেলায় দলমতের ঊধর্ে্ব আইনের যথাযথ ও কঠোর ভূমিকা নিশ্চিত করা উচিত। এ ছাড়াও জাতীয় পর্যায়ে সংলাপের উদ্যোগ নিয়ে বিবদমান সব সমস্যার সমাধানে ঐকমত্য হওয়া দরকার।

বিএনপি-জামায়াতের ১৩২ নেতাকর্মী গ্রেফতার

(অবরোধে যানবাহন ভাংচুর বিভিন্ন অভিযোগে) রোববার দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা সড়কে গাছ ফেলে ও যানবাহনে ভাংচুর চালিয়ে অবরোধ করে। অন্যদিকে বিভিন্ন স্থানে নাশকতা সৃষ্টি এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ায় শনিবার রাতে ও রোববার বিএনপি-জামায়াতের ১৩২ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও যৌথ বাহিনী। ব্যুরো, অফিস, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর :
কেশবপুর (যশোর) :পুলিশ অভিযান চালিয়ে শনিবার রাতে উপজেলার গড়ভাঙ্গা বাজারে তাণ্ডবের মামলায় ছাত্রশিবির নেতা বিল্লাল হোসেন, ভাণ্ডারখোলা বাজারে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নির্বাচনী অফিস ভাংচুর মামলায় বিএনপি নেতা আবু দাউদ এবং বেগমপুর ভোটকেন্দ্র ভাংচুর মামলায় নূর হোসেন, মেহেদী হাসান ও আবুল হোসেনকে গ্রেফতার করেছে।
সেনবাগ (নোয়াখালী) :রোববার সেবারহাট বাজারে দুটি ট্রাক ও একটি অটোরিকশা ভাংচুর করে পিকেটাররা।
মাগুরা :সদর ও শালিখা থানা পুলিশ রোববার ৫ মামলার আসামিসহ ৪ যুবদল কর্মীকে আটক করেছে। পুলিশ জানায়, মাগুরা সদরের কাটাখালী এলাকায় অবরোধের সমর্থনে মিছিল করার সময় মহসিন, কোহিনুর, জুয়েল রানা নামে ৩ যুবদল কর্মীকে আটক করা হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে সহিংসতা সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে শালিখায় যুবদল ক্যাডার ইমরান ঢালিকে উপজেলা সদর থেকে আটক করে পুলিশ।
কুড়িগ্রাম :পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৩৭ জনকে আটক করা হয়েছে। শনিবার মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত জেলার ৯টি থানা এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। তাদের মধ্যে সদর থানায় ১১, উলিপুর থানায় ৪, রাজারহাট থানায় ৬, ফুলবাড়ী থানায় ৩, নাগেশ্বরী থানায় ৪, ভূরুঙ্গামারী থানায় ৩, কচাকাটা থানায় ১, চিলমারী থানায় ৩ ও রৌমারী থানায় দু'জনকে আটক করা হয়েছে।
মেহেরপুর :সদর উপজেলার রাজনগর গ্রাম থেকে এক জামায়াত কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে অবরোধের সময় নাশকতা, রাস্তায় গাছ কাটাসহ কয়েকটি অভিযোগে জামায়াত কর্মী আবদুর রশিদের ছেলে শাহ আলমকে আটক করা হয়।
লক্ষ্মীপুর :শনিবার রাত থেকে রোববার দুপুর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের ১৪ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো_ মকবুল আহমদ, জবি উল্লা, মো. হানিফ, কোরবান আলী, আকতার হোসেন ছুট্ট, জিয়া, নাঈম প্রকাশ জাহিদ হোসেন, আরিফ, সাইফুল্লাহ প্রকাশ হেলাল, রহমান আলী, শরীফুল ইসলাম আজম, জাবেদ ওমর, জমির আলী ও আবদুল করিম।
নড়াইল :জামায়াতের আমিরসহ ৫ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তারা হলো_ মিজানুর রহমান, আশরাফুজ্জামান, হাফিজুর রহমান, কর্মী হাবিব ও সজল।
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) :উপজেলার বিভিন্ন স্থানে রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে জামায়াত-শিবিরের ৪ নেতাকর্মীকে আটক করেছে যৌথবাহিনীর সদস্যরা। তারা হলো_ মিল্টন, ইমতিয়াজ, তোফাজ্জাল হোসেন ও মোজাম্মেল।
সিলেট :বিশেষ অভিযানে শিবির কর্মীসহ ১৭ জনকে আটক করেছে এসএমপি। রোববার নগরী ও সিলেটের বিভিন্ন স্থানে পৃথক অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাদের আটক করে। এর মধ্যে কোতোয়ালি ও শাহপরাণ থানা পুলিশ ৬ জন, জালালাবাদ ও এয়ারপোর্ট থানায় ৮ জন, দক্ষিণ সুরমা ও মোগলাবাজার থানায় ৩ জনকে আটক করা হয়। আটকৃতদের অধিকাংশই জামায়াত ও বিএনপির কর্মী।
আদমদীঘি (বগুড়া) :মদপানে মাতলামিসহ বিভিন্ন অভিযোগে শনিবার রাতে পুলিশ ৪ জনকে গ্রেফতার করে। তারা হলো_ সেলিম হোসেন, মোজেদ হোসেন, মিলন হোসেন ও ছাবি্বর আহম্মেদ।
নাটোর :রোববার শহরের তেবাড়িয়া এলাকায় গাড়ি ভাংচুরের সময় পুলিশ বিএনপির ৫ নেতাকর্মীকে আটক করে। তারা হলো_ সুজন, ইমন, বাদশা, ইসমাইল ও আমজাদ।
ঠাকুরগাঁও :নির্বাচনে সহিংসতার অভিযোগে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মো. মাহাবুর রহমান তুহিনসহ ১২ জনকে আটক করা হয়। শনিবার দিনভর অভিযান চালিয়ে শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের আটক করে পুলিশ।
গাইবান্ধা :রোববার সকাল পর্যন্ত যৌথবাহিনীর অভিযানে ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ১৮ দলভুক্ত ওইসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে নাশকতা ও বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে পলাশবাড়ীর জামায়াত নেতা নাজমুল হাসান সাকিবের মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে রোববার গাইবান্ধা জেলা শহরের স্টেশন রোড এলাকায় জামায়াত-শিবির একটি ঝটিকা মিছিল বের করে। মিছিলটি পৌর শহীদ মিনারের কাছে এলে পুলিশ বাধা দেয় এবং একপর্যায়ে লাঠিচার্জ ও ধাওয়া করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় মনিরুজ্জামান নামে এক শিবির কর্মীকে আটক করা হয়।
রংপুর :ট্রেনে নাশকতার অভিযোগে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক, যুগ্ম আহ্বায়কসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে যৌথবাহিনী। শনিবার রাত ও রোববার পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালিত হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো_ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবদুস সালাম, যুগ্ম আহ্বায়ক আকতারুজ্জামান তিতু, শিবির কর্মী মোক্তারুল আলম, শাহা আলম, জামায়াত কর্মী মকসুদার রহমান, আবদুল আলিম, মুসফিকুর রহমান, নুরনবী, রশিদুল, আফজাল, আবদুর রশিদ, বিএনপি কর্মী ইয়াহিয়া, মোখলেছার রহমান, মাসুদার রহমান ও ওমর ফারুক।
পাবনা :রোববার ভোরে সাঁথিয়া পৌর জামায়াত সেক্রেটারি আ. ছালামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি সাঁথিয়া উপজেলার কোনাবাড়িয়া গ্রামের আহম্মদ আলীর ছেলে।
সাতক্ষীরা : কলারোয়া উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, জামায়াত নেতা শওকত হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার বিকেলে উপজেলার কয়লা বাজার থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
জয়পুরহাট : নাশকতার অভিযোগে যৌথ বাহিনী শনিবার রাতে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে জামায়াতের পাঁচজন ও শিবিরের একজনকে গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার তিনজন, পাঁচবিবি উপজেলার দু'জন ও কালাই উপজেলার একজন রয়েছে।

মন্ত্রিসভায় খুলনার প্রতিনিধিত্ব কমেছে

(নেই রুহুল হক মন্নুজান, খালেক) নতুন মন্ত্রিসভায় খুলনা বিভাগের প্রতিনিধিত্ব কমেছে। আগের মন্ত্রিসভায় খুলনার মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপ ছিলেন ছয়জন। এবারের মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন চারজন। এতে খুলনা বিভাগ অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হয়েছে বলে মনে করছেন এ অঞ্চলের মানুষ। নতুন মন্ত্রিসভায় নেই মহাজোট সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান, খুলনার সাবেক মেয়র তালুকদার আবদুল খালেকসহ কয়েকজন নেতা। খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় সংসদীয় আসন ৩৬টি। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩১টি, বিএনপি দুটি, জাতীয় পার্টি দুটি ও জাসদ একটি আসন পেয়েছিল। এর পর গঠিত সরকারে খুলনা বিভাগ থেকে মন্ত্রী ছিলেন তিনজন, প্রতিমন্ত্রী দু'জন ও হুইপ একজন। এর মধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন সাতক্ষীরার সাংসদ ডা. আ ফ ম রুহুল হক, তথ্যমন্ত্রী ছিলেন কুষ্টিয়ার সাংসদ ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ছিলেন যশোরের আওয়ামী লীগদলীয় সাংসদ মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদ। আর শ্রম প্রতিমন্ত্রী ছিলেন খুলনা আওয়ামী লীগের সাংসদ মন্নুজান সুফিয়ান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন ঝিনাইদহ আওয়ামী লীগের সাংসদ আবদুল হাই, হুইপ ছিলেন যশোর আওয়ামী লীগের সাংসদ শেখ আবদুল ওহাব।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা বিভাগের ৩৬টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ২৭টি আর দুটিতে ওয়ার্কার্স পার্টি, একটিতে জাসদ ও তিনটিতে বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। যশোরের দুটি আসনে নির্বাচিত আওয়ামী লীগদলীয় সংসদ সদস্যের এখনও শপথ গ্রহণ হয়নি। এ ছাড়া নির্বাচন স্থগিত রয়েছে যশোর-৫ আসনে। রোববার মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন কুষ্টিয়া-২ আসনের সাংসদ জাসদের হাসানুল হক ইনু। আর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন খুলনা-৫ আসনের সাংসদ নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, যশোর-৬ আসনের ইসমত আরা সাদেক ও মাগুরা-২ আসনের বীরেন শিকদার। নতুন মন্ত্রিসভায় খুলনা বিভাগের প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়ায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি হতাশ হয়েছেন সাধারণ মানুষও। তাদের ভাষায়, খুলনা বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন বঞ্চনা ও অবহেলার শিকার। যে অঞ্চলে মন্ত্রী যত বেশি, সেখানে উন্নয়নও তত বেশি হয়েছে। প্রত্যাশা ছিল, গতবারের চেয়ে এবার মন্ত্রিসভায় খুলনা বিভাগের আরও বেশি প্রতিনিধিত্ব থাকবে; কিন্তু হয়েছে তার উল্টো।
নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক, সাবেক শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান এবং সাবেক ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী তালুকদার আবদুল খালেক। এ ছাড়া নতুন মন্ত্রিসভার তালিকায় নাম নেই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ আসনের সাংসদ মাহবুবউল আলম হানিফ, ঝিনাইদহ-১ আসনের সাংসদ এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আবদুল হাই প্রমুখ।

মালোপাড়ার নারীরা বাড়ি ফিরছেন

(নওয়াপাড়ায় মানববন্ধন) যশোরের অভয়নগর উপজেলার চাঁপাতলা গ্রামের মালোপাড়ার নারীরা বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। ৫ জানুয়ারি ভোট দিতে যাওয়ায় নির্বাচনের পরপরই বিএনপি, জামায়াত-শিবিরের দুর্বৃত্তরা ৩ দফা মালোপাড়ায় তাণ্ডব চালানোর পর বাড়িঘর ছেড়েছিলেন তারা। পরদিন স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের আশ্বাসে তারা বাড়ি ফিরলেও ফের হামলার আশঙ্কায় অধিকাংশ নারী রাতে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে চলে যেতেন। হামলার পরদিন মালোপাড়ায় নিরাপত্তার জন্য স্থাপন করা হয় দুটি ক্যাম্প। মিলেছে সরকারি, নিরাপত্তা বাহিনীসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এনজিও এবং সাধারণ মানুষের আর্থিক সাহায্য।
১০ জানুয়ারি তাদের দেখতে ও সমবেদনা জানাতে এসেছিলেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান। গত শনিবার বর্বরতার চিত্র দেখতে আসেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষে নতুন আইন পাস করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং মালোপাড়ার সংখ্যালঘু পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান। গত দুই দিনে অধিকাংশ নারী বাড়ি ফিরে এসেছেন। এলাকার প্রহ্লাদ বর্মণ জানান, চরম ভয় আর অজানা আতঙ্ক জুড়ে বসেছিল আমাদের। হামলার পর অধিকাংশ মেয়ে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে চলে যায়। বর্তমানে আমরা কিছুটা সাহস অনুভব করছি। বাড়ি ফিরে এসেছেন দুর্গা রানী বিশ্বাসের তিন পুত্রবধূ ও প্রতিবন্ধী মেয়ে অনিমা (২৫)।
আতঙ্কে ঘরে ফিরতে পারছিলেন না দুলাল বিশ্বাসের স্কুল-কলেজ পড়ূয়া চার মেয়ে অনিতা, নিপা, মঙ্গলী ও নিতু। তারাও বাড়ি ফিরে এসেছে বলে দুলাল বিশ্বাস জানান। অভয়নগর থানার ওসি এমদাদ হোসেন বলেন, 'মালোপাড়ার নিরাপত্তার জন্য দুটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৪৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মালোপাড়ার বাসিন্দাদের ভীতি দূর না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পটি প্রত্যাহার করা হবে না। এদিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্বাচন-উত্তর সহিংসতা, ভাংচুর, অগি্নকাণ্ড, লুটপাট এবং নির্যাতনের প্রতিবাদে নওয়াপাড়ায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেলে অভয়নগর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে নওয়াপাড়া কেন্দ্রীয় কালীবাড়ির সামনে এ বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধনে সহস্রাধিক লোক অংশগ্রহণ করেন। অভয়নগর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি হরিপদ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক, ভাইস চেয়ারম্যান লায়লা খাতুন, আওয়ামী লীগ নেতা গাজী নজরুল ইসলাম, ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা বৈকুণ্ঠ বিহারী, পৌর কাউন্সিলর মোল্যা ওলিয়ার রহমান, নওয়াপাড়া ইনস্টিটিউটের সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুক হোসেন, অভয়নগর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতা শিবু প্রসাদ সাহা, প্রভাষক দেবাশীষ রাহা, নিরাপদ শিকদার, বুলবুল বৈরাগী প্রমুখ।

বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে জড়িতদের শাস্তি দাবি

ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা
দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মন্দিরে ভাংচুর, অগি্নসংযোগ ও লুটপাটের প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তারা বলেছেন, দেশে-বিদেশে গর্ব করে বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ বলা হলেও সাম্প্রতিক সময়ের সাম্প্রদায়িক সহিংসতার কিছু ঘটনা তাদের মর্মাহত করেছে। স্বাধীন বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির, সাম্প্রদায়িক সহিংসতার নয়; এ কথা প্রমাণ করতে হলে তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে বলে মনে করেন তারা। দ্রুত ও গ্রহণযোগ্য বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে হামলার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা। গতকাল রোববার রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিবৃতি পাঠিয়ে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের নেতারা এ আহ্বান জানান। আইনজীবী ঐক্য পরিষদ :সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মন্দিরে ভাংচুর, অগি্নসংযোগ এবং লুটপাটের প্রতিবাদে গতকাল রোববার আইনজীবী ঐক্য পরিষদ ঢাকা বার শাখা পুরান ঢাকার জজকোর্ট এলাকায় মানববন্ধন ও সমাবেশে করেছে। .সমাবেশে বক্তারা বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে হামলার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অ্যাডভোকেট সুনীল রঞ্জন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তৃতা করেন পরিমল বিশ্বাস, চিত্তরঞ্জন বল, সুধীর হাজরা প্রমুখ।
মহিলা পরিষদ :যশোরের মনিরামপুরের ঋষিপল্লীতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দুই গৃহবধূ ধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ এবং তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সংগঠনের সভাপতি আয়শা খানম ও সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, নির্বাচন-পরবর্তী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যখন সহিংস নির্যাতন, হামলা, ভাংচুর ও অগি্নসংযোগের ঘটনা ঘটছে, তখন দু'জন নারীর ধর্ষণের ঘটনায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারীর নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। বিএফইউজে ও ডিইউজে একাংশ :জাতীয় প্রেস ক্লাবে 'সাম্প্রদায়িক সহিংসতার স্বরূপ সন্ধান' শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা আবর্জনাতুল্য নোংরা রাজনীতিকেই সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার জন্য দায়ী করেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশ এ সভার আয়োজন করে।
বিএফইউজে একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে গোলটেবিল আলোচনায় অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও বিচারপতি আবদুর রউফ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তী, নিতাই রায় চৌধুরী, বিএফইউজে একাংশের মহাসচিব শওকত মাহমুদ, ডিইউজে একাংশের সভাপতি আবদুল হাই শিকদার, অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ূয়া প্রমুখ।
আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা লীগ :সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে এক সমাবেশে বক্তারা হামলাকারীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। সংগঠনের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা এমএ মজিদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তৃতা করেন সামসুল হক ঢালী, আবদুল হাই কানু, শেখ আবদুল আজিজ, কাজী মমিনুল ইসলাম প্রমুখ।
বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব পরিষদ : বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে গতকাল এক সমাবেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব পরিষদ। সংগঠনের সভাপতি মাসুদ খান বাবুর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তৃতা করেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, প্রচার সম্পাদক আবদুল হক সবুজ,আবদুল হক প্রমুখ। ছাত্র আন্দোলন :দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র আন্দোলন। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন-পরবর্তী এক সমাবেশে বক্তারা এ দাবি জানান।

রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব স্বাস্থ্যসেবায়ও by রাজবংশী রায়

দেশের স্বাস্থ্যসেবায়ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে। গত দেড় মাস সরকার ও বিরোধী জোটের পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। হরতাল-অবরোধের মতো সহিংস পরিস্থিতির কারণে রাস্তায় বের হওয়াই কষ্টসাধ্য। তাই অসুস্থ হলেও পার্শ্ববর্তী হাসপাতালের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। দূরপাল্লার যানবাহন বন্ধ থাকায় মফস্বলের রোগীরা ঢাকায় আসতে পারছেন না। পাশাপাশি রাজধানী ও আশপাশের এলাকার মানুষও ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। এ কারণে রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা কমে গেছে। রাজধানীর কয়েকটি হাসপাতালে স্বাভাবিক অবস্থায় এবং হরতাল-অবরোধের সময় রোগী ভর্তির সংখ্যা পর্যবেক্ষণ করে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে। রোগী ভর্তির সংখ্যা কমে যাওয়ার কথা স্বীকার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, হরতাল-অবরোধসহ সহিংস রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল করেনি। ফলে ঢাকার বাইরের রোগীরা আসতে না পারায় ভর্তির সংখ্যা কমে গেছে।
গত ১৭ অক্টোবর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী ভর্তি হয়েছিলেন ২৯৪ জন আর জরুরি বিভাগে টিকিট বিক্রি হয়েছিল ৯৪০টি। এর এক মাস পর ১৭ নভেম্বর ২৭৯ জন রোগী ভর্তি এবং জরুরি বিভাগে টিকিট বিক্রি হয় ৮৮০টি। ডিসেম্বরজুড়ে চলে হরতাল-অবরোধসহ রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সহিংসতা। শুক্রবার ও বিজয় দিবস ছাড়া পুরো মাসই বন্ধ থাকে দূরপাল্লার বাস। এতে ঢাকা মেডিকেলে রোগীর সংখ্যা কমতে থাকে। ৩০ ডিসেম্বর ভর্তি হন ১৯২ রোগী আর টিকিট বিক্রি হয় ৪৯০টি। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ৩ জানুয়ারি রোগী ভর্তি হন ২১২ জন আর টিকিট বিক্রি হয় ৫৯০টি। হরতাল-অবরোধ চলাকালীন একদিনে সর্বোচ্চ রোগী ভর্তি হন ২৯৪ জন। অথচ স্বাভাবিক সময়ে এ হাসপাতালে গড়ে সাড়ে তিনশ' থেকে চারশ' রোগী ভর্তি হন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঘুরে অন্তত ৫০ জন রোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের সবার বাড়ি রাজধানী ও এর আশপাশে। মেডিসিন বিভাগে ভর্তি মর্জিনা আক্তার বলেন, তার বাড়ি মানিকগঞ্জে। অসুস্থ থাকার পরও হরতাল-অবরোধের কারণে চিকিৎসা নিতে ঢাকায় আসতে পারেননি। পরে ডিসেম্বরের শেষ শুক্রবার এসেছেন।
মিটফোর্ড হাসপাতালেও একই চিত্র। গত ৮ অক্টোবর এই হাসপাতালে রোগী ভর্তি হয়েছিলেন ২৯৫ জন আর জরুরি বিভাগে টিকিট কেটেছিলেন ৭৫০ জন। কিন্তু এক মাস পর ৮ ডিসেম্বর রোগী ভর্তি নেমে দাঁড়ায় ১২০ জনে, জরুরি বিভাগে টিকিট কাটেন ২৫০ জন। পুরো ডিসেম্বরে রোগীর সংখ্যা কমেছে। ডিসেম্বরের কোনো দিনই রোগী ভর্তি ২০০ অতিক্রম করেনি। কিন্তু স্বাভাবিক সময়ে এ হাসপাতালে আড়াইশ' থেকে তিনশ' রোগী ভর্তি হন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ আবদুুল বাতেন সমকালকে জানান, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ঢাকা মেডিকেলে সাড়ে তিনশ' থেকে চারশ' রোগী ভর্তি হন। হরতাল-অবরোধে দূরপাল্লার যানবাহন বন্ধ থাকায় ঢাকার বাইরের রোগীরা আসতে পারেননি। এ কারণে রোগীর সংখ্যা কমে গেছে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে দুইশ' থেকে আড়াইশ' রোগী ভর্তি হচ্ছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, কিডনি হাসপাতাল, মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল, পঙ্গু হাসপাতাল, বক্ষব্যাধি হাসপাতাল, জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ক্যান্সার হাসপাতালসহ সরকারি কয়েকটি হাসপাতালের চিত্রও একই। প্রতিটি হাসপাতালেই হরতাল-অবরোধে রোগী ভর্তি কমে গেছে। কর্তাব্যক্তিরা সমকালকে বলেছেন, ঢাকার বাইরের রোগীর সংখ্যা একেবারেই কম। মিটফোর্ড হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাকির হাসান সমকালকে বলেন, স্বাভাবিক সময়ে ২৫০-৩০০ রোগী মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি হন। কিন্তু সহিংস রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে এখন রোগীর সংখ্যা কমে গেছে।

বারডেমের কর্মবীর by মোহাম্মদ আবদুুল মজিদ

বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা এবং এ দেশে ডায়াবেটিক চিকিৎসাসেবার প্রাণপুরুষ জাতীয় অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিমের (১৯১১-১৯৮৯) অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোগী একেএম শাহজাহান গত ৭ জানুয়ারি ৮৪ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ... রাজিউন)। বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার চেংগুটিয়া গ্রামের একেএম শাহজাহান তালুকদার বাংলাদেশে এমন একজন বিরল ব্যক্তিত্ব, যিনি আমৃত্যু কর্মরত ছিলেন তার প্রিয় প্রতিষ্ঠান বারডেম তথা বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতিতে। এ সমিতি প্রতিষ্ঠার আগে থেকেই একেএম শাহজাহান প্রফেসর ইব্রাহিমের সহকারী হিসেবে স্নেহধন্য ছিলেন। ১৯৫৬ সালে সমিতি প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর অধিকর্তা হিসেবে সমিতির চাকরিতে যোগ দিয়ে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণর্ পদে আমৃত্যু দায়িত্ব পালন করেন একটানা ৫৮ বছর। বিশ্বস্ত সহকর্মী ও অত্যন্ত পরিশ্রমী, সদালাপী, কর্মঠ এবং সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে প্রফেসর ইব্রাহিমের আপনজন হতে পেরেছিলেন। সে সুবাদে ডায়াবেটিক রোগীরা বিশেষ করে বারডেমে চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারীদের কাছে একেএম শাহজাহান ছিলেন অতি পরিচিত সুহৃদ এবং সমাজসেবক। মৃত্যুর প্রদোষকালে ৮৪ বছর বয়সেও তাকে একই মমতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে অফিস করতে দেখেছি। তিনি ছিলেন ডায়াবেটিক সমিতির জীবন্ত ইতিহাস এবং এদেশের ডায়াবেটিক চিকিৎসা আন্দোলনের অন্যতম কর্মী পুরুষ।
১৯৬৪ সালে অধ্যাপক ইব্রাহিম পাকিস্তানের করাচির জিন্নাহ পোস্ট গ্র্যাজুয়েট হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে বদলি হলে শাহজাহানও তার অনুগামী হন এবং করাচিতেও গড়ে তোলেন ডায়াবেটিক সমিতি। তিনি ১৯৭২ সাল অবধি পাকিস্তান ডায়াবেটিক সমিতি পরিচালনার সঙ্গে সংযুক্ত ছিলেন। কাবুল হয়ে অনেক প্রতিকূল পথ পাড়ি দিয়ে স্বাধীন দেশে সপরিবারে ফিরে বাংলাদেশে ডায়াবেটিক সমিতি পুনর্গঠন ও বিকাশকালে (১৯৭২-৭৭) এর সাংগঠনিক ব্যবস্থাদি ও ভৌত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে একেএম শাহজাহান আত্মনিয়োগ করেন। ১৯৭৫-৭৭ সময়ে প্রফেসর ইব্রাহিম তৎকালীন রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা পরিষদে দায়িত্ব পালনকালে একেএম শাহজাহান বারডেম তথা সমিতির সার্বক্ষণিক দাফতরিক প্রযত্ন প্রদান করেন। আশির দশকে শাহবাগে বারডেমের বহুতল ভবন নির্মাণসহ সম্প্রসারিত চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারসহ বিভিন্ন দানশীল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃৃক্তকরণে তার দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও আন্তরিক প্রয়াস এবং সরকারি দফতরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক রক্ষার প্রধান দ্যোতক ছিলেন তিনি। আশির দশক থেকে ডায়াবেটিক সমিতির প্রতি আমার আগ্রহ উদ্বোধনে একেএম শাহজাহান ছিলেন প্রেরণা। তার মতো নিবেদিতপ্রাণ সু-সমন্বয় সাধকের স্বতঃপ্রণোদিত দায়িত্ব পালনের দ্বারা আজ বারডেম ও ডায়াবেটিক সমিতি এমন পর্যায়ে উন্নীত হতে পেরেছে। এমন একজন কিংবদন্তিতুল্য ব্যক্তিত্বের আকর্ষণে আমার ডায়াবেটিক সমিতিতে যোগদান। বড় আশা নিয়ে 'বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির ইতিহাস' রচনার কাজে হাত দিয়েছিলাম শাহজাহানের অধীর আগ্রহে। তিনি নিজে ছিলেন সমিতির আর্কাইভ। বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবায় মহীরুহরূপী এই চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও বিকাশের সব দুষ্প্রাপ্য তথ্য-উপাত্ত, দলিল-দস্তাবেজ সবই তার কাছে ছিল। স্মৃতি থেকে হাতড়ানো মৌখিক ইতিহাস ছাড়াও তার সংরক্ষিত দলিল-দস্তাবেজ সবই দেখার সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু বড় দুঃখ ও পরিতাপের বিষয়, কাজ প্রায়ই শেষ করে আনার মুহূর্তে তিনি প্রকাশনাটি না দেখে চলে গেলেন। প্রফেসর ইব্রাহিমের স্বপ্নে গড়া বারডেম ও বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে গৃহীত রূপকল্প বাস্তবায়নে নিষ্ঠাবান এই মহৎপ্রাণ কর্মবীরের অবদান দেশ ও জাতি সকৃতজ্ঞতায় স্মরণে রাখবে।
ড. মোহাম্মদ আবদুুল মজিদ : সাবেক সচিব এবং এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান। বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির চিফ কো-অর্ডিনেটর