Wednesday, October 7, 2015

খিজির খানসহ চারটি হত্যা একই ধরনের, সন্দেহ উগ্রপন্থীদের দিকে

খিজির খান, লুৎ​ফর রহমান,
নূরুল ইসলাম ফারুকী,চট্টগ্রামের
‘ল্যাংটা পীর’কে হত্যার দায়
স্বীকার জেএমবির এক জঙ্গির
দুই বিদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনার মতো বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ খিজির খানের হত্যা নিয়েও অন্ধকারে আছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
তবে খিজির খানের হত্যার ধরনের সঙ্গে গত বছরের আগস্টে ঢাকায় মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী, এর আগের বছর ইমাম মাহদীর প্রধান সেনাপতি দাবিদার লুৎফর রহমানসহ ছয়জন খুন এবং গত মাসে চট্টগ্রামে ল্যাংটা ফকির রহমতউল্লাসহ দুজনকে হত্যার অনেক মিল রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের কর্মকর্তারা।
এসব হত্যার কোনোটারই কোনো কূলকিনারা করতে না পারলেও সবগুলোতেই তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সন্দেহ ধর্মীয় উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর দিকে।
এর মধ্যে গত সোমবার চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার হওয়া জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) পাঁচ জঙ্গির একজন সুজন ওরফে বাবু প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চট্টগ্রামে ল্যাংটা পীর হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত উপকমিশনার বাবুল আক্তার প্রথম আলোকে জানিয়েছেন।
এ তথ্য জানার পর সোমবার রাতে ঢাকার মধ্য বাড্ডায় খিজির খানকে হত্যার ঘটনায়ও জঙ্গিগোষ্ঠীর প্রতি সন্দেহ জোরদার হয়েছে।
গত ৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের আকবর টিলা এলাকায় ‘ল্যাংটা ফকিরের মাজারে’ রহমতউল্লাহ ওরফে ল্যাংটা ফকির (৫৫) ও তাঁর খাদেম আবদুল কাদেরকে (৩০) দুর্বৃত্তরা জবাই করে হত্যা করে। এত দিন এই হত্যার কোনো সূত্র খুঁজে পায়নি পুলিশ।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, আটক জেএমবি সদস্য সুজন ওরফে বাবু জিজ্ঞাসাবাদে ল্যাংটা ফকিরকে হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর ভাষ্য, ‘শরিয়তবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকায়’ তাঁরা ল্যাংটা ফকির ও খাদেমকে খুন করেছেন।
সুজনের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ঘটনাস্থলের পাশে একটি নর্দমা থেকে ল্যাংটা ফকিরকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি দা এবং সুজনের ভাড়া বাসা থেকে রক্তমাখা টি-শার্ট উদ্ধার করেছে।
পুলিশি হেফাজতে থাকা সুজন গতকাল প্রথম আলোর প্রতিবেদককে বলেন, তিনি প্রথমে ঘুমে থাকা ল্যাংটা ফকিরকে খুন করেন। এ সময় তাঁর চিৎকারে খাদেম জেগে উঠলে তাঁকেও কুপিয়ে হত্যা করেন। তাঁর দাবি, ফারদিন নামে তাঁদের এক বড় ভাইয়ের নির্দেশে ল্যাংটা ফকিরকে খুন করেন তিনি। নিজেকে ট্রাকচালকের সহকারী বলে দাবি করে সুজন বলেন, তিনি ‘ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার’ লক্ষ্যে জেএমবিতে যোগ দিয়েছেন।
ল্যাংটা ফকিরের কায়দায় গত বছরের ২৭ আগস্ট রাতে ঢাকার পূর্ব রাজাবাজারের বাসায় ঢুকে বেসরকারি টিভি চ্যানেলের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের উপস্থাপক নুরুল ইসলাম ফারুকীকে জবাই করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় হওয়া মামলাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
ফারুকীর পরিবারের ধারণা, ধর্মীয় মতাদর্শের বিরোধী উগ্রপন্থীরা ফারুকীকে হত্যা করেছে। মামলার তদন্ত-তদারক কর্মকর্তা ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার আশিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা এখন পর্যন্ত ফারুকী হত্যা মামলার কোনো কূলকিনারা করতে পারেননি। তবে তাঁদেরও সন্দেহ, ধর্মীয় মতাদর্শগত বিরোধের জেরে এই খুন হয়ে থাকতে পারে।
এর আগে ২০১৩ সালের ২১ ডিসেম্বর রাতে ঢাকার গোপীবাগের বাসায় দুর্বৃত্তরা ইমাম মাহদির প্রধান সেনাপতি দাবিদার লুৎফর রহমান ফারুক, তাঁর বড় ছেলে ও চার অনুসারীকে জবাই করে হত্যা করে। এ সময় তাঁর পরিবারের নারী সদস্যদের জিম্মি করে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়েছিল। প্রায় একই কায়দায় সোমবার রাতে খিজির খানের পরিবারকে জিম্মি করেছিল খুনিরা।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, লুৎফর হত্যায়ও তাঁদের সন্দেহ উগ্রপন্থীদের দিকে। এ ঘটনায় ইতিপূর্বে জেএমবির চার সদস্যকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল, কিন্তু কোনো তথ্য মেলেনি। জেএমবির ওই চার ভিন্ন ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
খিজির খান হত্যায় তিন সন্দেহ: এদিকে গতকাল পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) এস এম মোস্তাক আহমেদ খান সাংবাদিকদের বলেন, তিনটি সন্দেহকে সামনে রেখে তাঁরা খিজির খানের হত্যার তদন্ত করছেন। তা হলো পারিবারিক, সম্পত্তি নিয়ে ও ধর্মীয় মতাদর্শগত বিরোধ ছিল কি না।
খিজির খানকে হত্যার ঘটনায় তাঁর ছেলে আশরাফ আহমেদ বাদী হয়ে গতকাল রাত ১২টার দিকে বাড্ডা থানায় মামলা করেন। এতে অজ্ঞাতনামা ছয়-সাতজনকে আসামি করা হয়। গত রাত পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে খিজির খানের লাশ গতকাল রাজধানীর আবদুল গণি রোডে বিদ্যুৎ ভবনের সামনে নেওয়া হয়। সেখানে বাদ জোহর তাঁর প্রথম জানাজা হয়। এরপর বাড্ডায় তাঁর বাসার কাছে বাদ আসর আরেক দফা জানাজা হয়। পরে লাশ দাফনের জন্য কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের ফিলিপনগরে তাঁর গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়।
প্রথম আলোর কুষ্টিয়া অফিস জানায়, আজ বুধবার সকাল সাড়ে নয়টায় স্থানীয় ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে খিজির খানের জানাজা হবে। এরপর বাড়ির পাশে নুরি খানকাহ শরিফে বাবা রহমতুল্লাহর কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হবে বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।
বাবার মৃত্যুর পর নিজে পীর হন: খিজির খানের মুরিদ মাহবুবুর রহমান ও স্থানীয় লোকজন বলেন, খিজির খানের বাবা রহমতুল্লাহ পেশায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। ১৯৪২ সালে চট্টগ্রামের সৈয়দ হাবিবুল্লাহ পীরের মুরিদ হন তিনি। এরপর একই বছর ফিলিপনগর গ্রামে পদ্মা নদীর পারে নুরি খানকাহ শরিফ গড়ে তোলেন। ১৯৯০ সালের দিকে রহমতুল্লাহ মারা গেলে ছেলে খিজির খান পীর হিসেবে বাবার স্থলাভিষিক্ত হন। পরে খিজির খান ঢাকার বাড্ডায় নিজ বাড়ির দোতলায় খানকাহ শরিফ গড়ে তোলেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে এ রকম আরও বেশ কয়েকটি খানকাহ শরিফ রয়েছে। তাঁর মুরিদের সংখ্যাও অনেক।
এদিকে খিজির খানের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদ ও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন।

রুশ যুদ্ধবিমানের তুর্কি আকাশসীমা লঙ্ঘন, রাশিয়ার ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন ন্যাটোর

রাশিয়ার এসইউ-২৪এম বিমান থেকে সিরিয়ায়
বোমা ফেলা হচ্ছে। গত সোমবার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা
মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে সিরিয়ায় বিমান
হামলার একটি ফুটেজ প্রকাশ করা হয়।
ওই ফুটেজ থেকে নেওয়া ছবি l এএফপি
সিরিয়ায় হামলার সময় রাশিয়ার যুদ্ধবিমানের তুরস্কের আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রসঙ্গে মস্কোর ব্যাখ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সামরিক জোট ন্যাটো। এ ঘটনায় মস্কোকে হুঁশিয়ারও করে দিয়েছে ওই জোট। আকাশসীমা লঙ্ঘনের সর্বশেষ ঘটনায় তুর্কি কর্তৃপক্ষ আঙ্কারায় নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। আর মস্কো জানিয়েছে, প্রথমবার প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। দ্বিতীয়বার লঙ্ঘনের অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খবর রয়টার্স ও এএফপির।
জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) অবস্থানে হামলা চালাতে এক সপ্তাহ আগে সিরিয়ায় অভিযান শুরু করে রাশিয়া। রুশ যুদ্ধবিমানগুলো আলেপ্পো এবং প্রাচীন নগর পালমিরার কাছাকাছি এলাকায় হামলা চালাচ্ছে।
ন্যাটোর প্রধান জেন্স স্টলটেনবার্গ বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তাঁদের কাছে মনে হয় না যে দুর্ঘটনাবশত তুর্কি আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে রাশিয়া। তবে তিনি আকাশসীমা লঙ্ঘনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছু বলতে চাননি।
এর আগে ন্যাটো মস্কোকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, আকাশসীমা লঙ্ঘনের ‘দায়িত্বহীন’ ঘটনায় উত্তেজনা বাড়বে। ন্যাটোর সদস্যদেশ তুরস্ক ইতিমধ্যে দেশটির আকাশসীমায় দুই দফায় মস্কোর যুদ্ধবিমানের অনুপ্রবেশের অভিযোগ তুলেছে। এ ঘটনায় আঙ্কারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ভবিষ্যতে এ রকম হলে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য রাশিয়াই দায়ী থাকবে।
এদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান গতকাল ব্রাসেলসে বলেন, আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনায় ন্যাটো রাশিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এই অবস্থান বজায় থাকবে বলেই তিনি মনে করেন। এরদোয়ান মস্কোকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, আকাশসীমা লঙ্ঘন অব্যাহত রাখলে আঙ্কারার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হারাবে রাশিয়া। তিনি বলেন, তুরস্কের ওপর হামলা মানে ন্যাটোর ওপর আক্রমণ। আর এ ধরনের ঘটনায় তুরস্ক নীরব থাকবে না।
রাশিয়ার যুদ্ধবিমানগুলো সিরিয়ায় আইএসের অবস্থান লক্ষ্য করেই বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে মস্কো। তবে পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরোধী মধ্যপন্থী সরকারবিরোধী এবং বেসামরিক লোকজন রুশ বিমান হামলার শিকার হচ্ছে।
ন্যাটোর ২৮টি দেশের প্রতিনিধিরা জরুরি এক বৈঠক করে রাশিয়াকে অবিলম্বে সিরীয় বেসামরিক মানুষ ও সরকারবিরোধীদের ওপর হামলা বন্ধ করতে বলেছেন। এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেছেন, রুশ যুদ্ধবিমানের তুর্কি আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনায় গুরুতর উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরির ঝুঁকি রয়েছে। তুরস্ক নিজস্ব আইন অনুযায়ী জবাব দিলে পরিণামে রুশ বিমানগুলো ভূপতিত হতে পারে।
প্রথম দফায় তুর্কি আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠার পর রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তাদের একটি বিমান সামান্য সময়ের জন্য তুরস্কে প্রবেশ করেছিল। এখানে কোনো ষড়যন্ত্রতত্ত্ব অনুসন্ধানের প্রয়োজন নেই। তুরস্কের রুশ দূতাবাস থেকে বলা হয়েছে, একটি যুদ্ধবিমানের তুর্কি আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে মস্কো।
সিরিয়া যুদ্ধ নিয়ে তুরস্ক ও রাশিয়া পরস্পরবিরোধী অবস্থানে রয়েছে। সিরীয় প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে রাশিয়ার পরিচিতি রয়েছে। আর আঙ্কারা চায় আসাদের পতন। আইএসবিরোধী মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটেও তুরস্কের সামরিক অংশগ্রহণ রয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাশটন কার্টার বলেছেন, সিরিয়ায় লড়াই করতে গিয়ে রাশিয়া কৌশল হারিয়ে ফেলেছে। তারাই সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধে মদদ দিয়েছে। এখন দেশটির সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাকেও ঝুঁকিতে ঠেলে দিচ্ছে।

মৃত্যুপথযাত্রীদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট বাংলাদেশে

মৃত্যুপথযাত্রী মানুষেরা হাসপাতাল ও সেবা-সদনে কতোটা সেব-যতœ পান তার ওপর পরিচালিত এক বিশ্ব সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের অবস্থান তালিকার সবচেয়ে নিচে। আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান-ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ৮০টি দেশের ওপর এই জরিপটি চালিয়েছে, যাতে দেখা যাচ্ছে, তাদেরকে সবচে ভালো সেবাযতœ করা হয় ব্রিটেনে, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডে। ৮০টি দেশের ওপর পরিচালিত ওই জরিপে বাংলাদেশের অবস্থান ৭৯তম। বাংলাদেশের পরে রয়েছে ইরাক। খবর বিবিসি’র।
জীবনের একেবারে শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশে এই সেবা পাওয়া যায় সাধারণত বাসায় পরিবারের লোকজনের কাছে থেকেই। এর বাইরে তাদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সেবার ব্যবস্থা রয়েছে খুবই সীমিত পর্যায়ে। মৃত্যুপথযাত্রী জীবনের শেষ মূহূর্তে কোন প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা পেতে পারেন, বাংলাদেশে মানুষের এই ধারণাই এখনও তৈরি হয়নি। চিকিৎসকদের অনেকে বলেছেন, শতকরা ৯৫ ভাগ মানুষই শেষ মুহূর্তে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে বিদায় নিতে চায়।

কে সঠিক?

কে সঠিক? পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল নাকি ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা ব্লুম বার্নিকাট। সোমবার মার্শা ব্লুম বার্নিকাট বলেছিলেন, বাংলাদেশে বিদেশিদের ওপর আক্রমণের বিশ্বাসযোগ্য তথ্য ছিল। বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারকেও অবহিত করা হয়েছিল। জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ডিকাব টক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানিয়েছিলেন।
মঙ্গলবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীও প্রায় একই তথ্য জানান। কূটনীতিকদের ব্রিফিং শেষে তিনি বলেন, তথ্য দিয়েছিল। কিন্তু যেখানে হামলার কথা বলা হয়েছিল সেখানে হামলা হয়নি। সন্ত্রাসীরা যারা অপকর্ম ও অপরাধ ঘটায়, তারা কখনও একজায়গায় থাকে না। একস্থানে হামলার খবর পাওয়া গেলে দেখা যায় অন্যস্থানে ঘটনা ঘটিয়েছে। এরা জায়গা বদল করে।
কিন্তু বিদেশীদের ওপর হামলার আশঙ্কার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল- বিদেশি কূটনীতিকদের এমন দাবি নাকচ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের  জবাবে আজ তিনি বলেন, কোন রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ সরকারকে আগাম কোন তথ্য দেয়নি। সকালে রাজধানীর খামারবাড়িতে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এ বিষয়ে তদন্ত করে দেখছে। আমি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিদেশি কূটনীতিক ও প্রতিনিধিদের বিষয়টি অবহিত করেছি।
বাংলাদেশে বিদেশী নাগরিকদের ওপর আক্রমণের আশঙ্কায় অস্ট্রেলিয়া ঢাকা সফর বাতিল করে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড। এ নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই ঢাকায় ইতালিয়ান নাগরিক সিজার তাবেলা ও রংপুরে জাপানি নাগরিক হোশি কোনিওকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ দুই হত্যকা-ের পর বাংলাদেশে নাগরিকদের ভ্রমনে সতর্কতা জারি করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, কোরিয়াসহ কয়েকটি দেশ। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের খুঁজে বের করার তাগিদ দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

বিচ্ছিন্নতার ৭৫ বছর by নাহিদ হাসান

১৯৪৭ সালে পূর্ব পাকিস্তানের শিল্প ও শিক্ষার ভিত্তি পশ্চিম পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও পরে দ্রুতই পশ্চিমের চেয়ে পিছিয়ে পড়ে। এবং তার ফল স্বাধীন বাংলাদেশ। কিন্তু বৈষম্যের এই ঐতিহাসিক ঘটনার পুনরাবৃত্তির যেন শেষ নেই! কুড়িগ্রাম জেলা তার একটি উদাহরণ। আজ কুড়িগ্রাম জেলা বাংলাদেশের দরিদ্রতম। ১৯৫৪, ৫৬, ৬২, ৭০ ও ৭১ সালজুড়ে আঞ্চলিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক সংবিধানের আকাঙ্ক্ষায় এতগুলো সংগ্রাম; সেই সংবিধানে আঞ্চলিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে রক্ষাকবচ থাকার কথা ছিল।
২.
১৯ অক্টোবর ২০১২ তারিখে প্রথম আলোয় প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, আমেরিকান ইনস্টিটিউট অব আর্কিওলজি জানায়, ব্রহ্মপুত্র-তিস্তা অববাহিকায় পৃথিবীর সবচেয়ে পুরোনো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নৌপথ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। আর বর্তমান চিলমারী নদীবন্দর হয়ে ভারতীয় জাহাজ প্রায় সারা বছর চলাচল করলেও ১৯৮৬ সালে ডাকাতি ও একটি খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চিলমারী-বাহাদুরাবাদ ফেরি চলাচল বন্ধ আছে। বিআইডব্লিউটিএ, চিলমারীর হেড পাইলট শফিকুল ইসলাম (৫৬) জানান, ‘নদ-নদীতে পানির গভীরতা ৫ ফুট থাকলেই জাহাজ চলাচল সম্ভব। সারা বছর এই রুটে ভারতীয় জাহাজ চলাচলের কারণ ভারতীয় জাহাজগুলো ৫ ফুট গভীরতার উপযোগী করে প্রস্তুতকৃত।’
১৯৪৭ সালের আগে তৎকালীন কুড়িগ্রাম মহকুমায় (যখন লালমনিরহাট যুক্ত ছিল) বিমানবন্দর ছিল একটি, রেলওয়ে সদর দপ্তর ছিল একটি, জাহাজ তৈরির কারখানাসহ নৌবন্দর ছিল দুটি; সেখানে ২০১৫ সালে এসবের কিছুই নেই। ১৯৬৫ সালের আগে লালমনিরহাট-ভূরুঙ্গামারী সোনাহাট স্থলবন্দর পর্যন্ত রেলপথ ছিল; ১৯৯০ সালের আগে রমনা রুটে ট্রেন চলাচল করত চারটি ও ধরলা নদীর তীর পর্যন্ত রেলপথ বিস্তৃত ছিল, সেখানে ২০১৫ সালে রমনা রুটে ট্রেন চলাচল করছে একটি ও নতুন কুড়িগ্রাম থেকে ধরলা নদীর তীর পর্যন্ত রেলপথ উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সর্বাধিক নদ-নদী ভাঙনকবলিত জেলা হওয়ায় ও কর্মসংস্থানের অভাবে কুড়িগ্রাম জেলা থেকে সর্বাধিক শ্রমিক বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে কাজের সন্ধানে ছুটে বেড়ান। বর্তমানে বাংলাদেশে জেলাপ্রতি গড় পোশাক কারখানার সংখ্যা ৮৬টি, সেখানে কুড়িগ্রাম জেলায় ১টি; ২০০০-০১ সাল অনুযায়ী জেলাপ্রতি বড় ও মাঝারি শিল্পের সংখ্যা যেখানে ৩৮৭টি, সেখানে কুড়িগ্রাম জেলায় মাত্র ১০টি; গত ১০ বছরে জেলাপ্রতি প্রবাসী শ্রমিকের সংখ্যা যেখানে ৭৮ হাজার ৭১১ জন, সেখানে কুড়িগ্রামে মাত্র ৯ হাজার ২৪৩ জন; যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়+মেডিকেল কলেজ+প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়+কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়+বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় জেলাপ্রতি গড়ে ১.৫টি, সেখানে কুড়িগ্রাম জেলায় একটিও নেই। ২০১৪-১৫ সালের জেলা বাজেটের যেখানে শুধু টাঙ্গাইল জেলাতে বরাদ্দ হয়েছে ২ হাজার ২৩৫ কোটি টাকা, সেখানে পুরো রংপুর বিভাগের আট জেলার জন্য বরাদ্দ হয়েছে মোট ২ হাজার ৮ কোটি টাকা মাত্র। ১১ মার্চ ২০১৫ তারিখে দৈনিক আমাদের সময়-এ প্রকাশিত: নতুন ২৫ অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে। এখানেও কুড়িগ্রাম জেলার নাম নেই।
যেখানে নোয়াখালী জেলার জনগণের বাংলাদেশ ব্যাংকে মোট সঞ্চয় ১৪ হাজার কোটি টাকা, সেখানে কুড়িগ্রাম জেলাবাসীর সঞ্চয় ৪ হাজার কোটি টাকা। এবং যেখানে বাংলাদেশের জেলাগুলোর গড় দারিদ্র্যের হার ৩০.৭ শতাংশ, সেখানে কুড়িগ্রামে সেই হার ৬৩.৭ শতাংশ এবং সবচেয়ে বেশিসংখ্যক (৩৮.৭ শতাংশ) কম ওজনের শিশু জন্মগ্রহণ করে এই জেলাতেই।
কুড়িগ্রাম জেলা যেন অভিশপ্ত জনপদ, যা দেশভাগের আদি পাপের প্রায়শ্চিত্ত করে চলেছে যেন! অথবা যেন বাড়ির পাশের তিস্তা নদী, যার পানি উজানে দুটি বাঁধ দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে
৩.
কুড়িগ্রাম জেলা যেন অভিশপ্ত জনপদ, যা দেশভাগের আদি পাপের প্রায়শ্চিত্ত করে চলেছে যেন! অথবা যেন বাড়ির পাশের তিস্তা নদী, যার পানি উজানে দুটি বাঁধ দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। সম্প্রতি সরকার কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী ও গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ পয়েন্টে ৬৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ৪৯০ মিটার দীর্ঘ দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর বাজেট একনেকে পাস করেছে। যা বাস্তবায়িত হবে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল বিভাগের অধীনে, যা গাইবান্ধা অংশে পলাশবাড়ীতে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে যুক্ত হবে। ফলে কুড়িগ্রাম সদর থেকে ঢাকার দূরত্ব ৩০-৪০ কিলোমিটার কমবে। অথচ সরকার ইতিমধ্যে গাইবান্ধার ফুলছড়ি থেকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ পয়েন্ট যমুনা নদীর তলদেশ দিয়ে বহুমুখী টানেলের ঘোষণা দিয়েছে। গণকমিটির প্রস্তাব, আপাতত দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর নকশায় রেলপথ যুক্ত করে সেতু নির্মাণপূর্বক বর্তমানে যেভাবে সংযোগ সড়ক নির্মাণ হওয়ার কথা সেভাবে হোক। আর ভবিষ্যতে যখন যমুনার তলদেশে টানেল সম্পন্ন হবে তখন নতুন করে রেলসেতু নির্মাণের দরকার হবে না। যদি চিলমারী-সুন্দরগঞ্জ পয়েন্টের তিস্তা সেতুতে রেলপথ যুক্ত করা হয়, ঢাকা থেকে চিলমারী রেলপথের দূরত্ব ৩৭৭ থেকে ২২৫ কিলোমিটারে নেমে আসবে। সর্বোপরি লালমনিরহাট-পার্বতীপুর-কুড়িগ্রাম-চিলমারী-গাইবান্ধা-জামালপুর–ঢাকা নামে একটি নতুন রুট তৈরি হবে। ফলে যমুনা সেতুর চাপ অর্ধেকে নেমে আসবে। অপর চিলমারী নদীবন্দর নেপাল ও ভুটানের ব্যবহারের মাধ্যমে হয়ে উঠবে আন্তমহাদেশীয় বন্দর, সোনাহাট স্থলবন্দর সাবালকত্ব অর্জন করবে। আর চিলমারীর খনিজ সম্পদ ও কুড়িগ্রামের সস্তা শ্রমে গড়ে উঠবে নতুন শিল্পাঞ্চল।
আর যত দিন তিস্তা সেতু হয়নি, তত দিন পর্যন্ত বর্তমান ঢাকা-তিস্তা-চিলমারী রুটে একটি আন্তনগর ট্রেন, ডেমুসহ কয়েকটি লোকাল ট্রেনের ব্যবস্থা করার যে দাবি গণকমিটির নেতৃত্বে জোরালো হয়ে উঠছে, তা পূরণে হাত লাগানো উচিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বার্থে। ঋত্বিক ঘটকের কোমল গান্ধার সিনেমার পাত্র-পাত্রীরা যেমন পদ্মার ওপারে রেললাইনের শেষ মাথায় জাহাজ ঘাটে এসে দাঁড়িয়ে থাকে, যেখানে পূর্ব বাংলার মানুষ ট্রেন ধরে পশ্চিম বাংলায় আসে, সেই স্থানটিতে এসে হাহাকার নিয়ে যেমন চেয়ে থাকে; কুড়িগ্রাম জেলাবাসী যেন একই হাহাকার নিয়ে রমনা (চিলমারী) স্টেশনের রেললাইনের শেষ মাথায় দাঁড়িয়ে আছেন, এই লাইন কবে তিস্তা পার হয়ে ফুলছড়ি হয়ে বাহাদুরাবাদের সঙ্গে মিলবে! আর কবে শেষ হবে বিচ্ছিন্নতার পঁচাত্তর বছর?
নাহিদ হাসান: প্রধান সমন্বয়ক, রেল-নৌ, যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটি, কুড়িগ্রাম।
nahiduttar@yahoo.com

হিমালয়ে হাঁচি দেয় বানর হাঁটে মাছ

হিমালয় অঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় লতাপাতার ভেতর দিব্যি হেঁটে বেড়াচ্ছে নীল রঙের এই মাছ। অদ্ভুত প্রজাতির এই মাছ চার দিন পর্যন্ত এক ফোঁটা পানি ছাড়াই ডাঙায় ড্যাং ড্যাং করে বেড়াতে পারে।
এমন মাছ ছাড়াও আরও ২০০ নতুন প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদের সন্ধান পেয়েছে আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা দ্য ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফাউন্ডেশন। এর মধ্যে রয়েছে উল্টো নাকবিশিষ্ট বানর। সামান্য বৃষ্টি নামলেই উল্টো চ্যাপ্টা নাক দিয়ে পানি ঢোকায় হাঁচি দিতে দিতে দিশেহারা হয়ে যায় তারা। ফাউন্ডেশনের তোলা ছবিটি মঙ্গলবার প্রকাশ করেছে এএফপি

মানুষভেদী বহুরূপী কণাকে মুঠোয় আনার গল্প

নিউট্রিনো। এক রহস্যময় কণা। বিজ্ঞানীরা এতকাল যাকে ‘ভুতুড়ে কণা’ বলে এসেছেন। এই কণা স্রোতের মতো বয়ে চলে। প্রায় আলোর গতিতে তারা ছুটে বেড়ায়। লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি কণার স্রোত। অবিরাম বয়ে চলেছে সেই স্রোত। বয়ে চলার পথে মানুষকেও ভেদ করে চলেছে। কিন্তু মানুষ কিছুই বুঝতে পারে না। অনুভব করতেও পারে না। সেই কণার কিছু তৈরি হয়েছে মহাবিশ্ব সৃষ্টির মুহূর্ত- বিগ ব্যাঙের সময়ে। কিছু সৃষ্টি হয়েছে সুপারনোভার বিস্ফোরণ থেকে। কিছু পরমাণুর তেজস্ক্রিয়তা ক্ষয়ের সময়ে। মানবদেহে পটাসিয়ামের আইসোটোপের ক্ষয়ের সময়েও প্রতি সেকেন্ডে পাঁচ হাজার এই কণা তৈরি হয়। সর্বব্যাপী এই কণার নাম নিউট্রিনো। কিন্তু তাদের ধরা বড় কঠিন।
আর তাদের ধরার কাজেই ব্যস্ত ছিল জাপান আর কানাডার দুই ডিটেকটর। সেখানেই মিলেছে বয়ে চলা নিউট্রিনোর রূপান্তরের প্রমাণ। যা পদার্থবিদ্যায় গভীর ছাপ ফেলেছে। যার জন্য এ বছরের নোবেল পুরস্কার ঘরে তুলেছেন জাপানের তাকাকি কাজিতা এবং কানাডার আর্থার বি ম্যাকডোনাল্ড। পদার্থের অণুতে নিউট্রিনোর রূপ বদলের স্বরূপ খুঁজতে গিয়ে এই কণার ভর থাকার ইঙ্গিত পেয়েছিলেন এই দুই বিজ্ঞানী। নিউট্রিনো অসিলেশন নিয়ে কাজ করে তারা প্রমাণ করেন যে নিউট্রিনোর ভর রয়েছে। নিউট্রিনো পরমাণুর চেয়েও ছোট কণা, যার ভর প্রায় শূন্য এবং বলতে গেলে অন্য কোনো কিছুর সঙ্গে এর মিথষ্ক্রিয়া ঘটে না। এ কারণে এদের নিয়ে গবেষণা করা ছিল প্রায় দুঃসাধ্য। কাজিতা ও ম্যাকডোনাল্ড জাপান ও কানাডায় যন্ত্র ব্যবহার করে এই কণার বৈশিষ্ট্য ও সুনির্দিষ্ট পরিমাপ নির্ধারণ করেন। নিউট্রিনোর রূপান্তর নিয়ে এ কাজের স্বীকৃতি পেলেন তারা। জাপান ও কানাডায় দুটি পৃথক নিউট্রিনো ডিটেকটরের অন্যতম বিজ্ঞানী এরা দু’জন। ডিটেকটরে ধরা পড়ার আগে নিউট্রিনো নিজেকে রূপান্তরিত করে ফেলে। জাপানের সুপার-কামিওকাদেতে মাটির গভীরে নিউট্রিনো ডিটেকটরে কর্মরত তাকাকি কাজিতা ১৯৯৮-এই প্রমাণ সামনে আনেন। প্রায় একই সময়ে কানাডার সদবুড়ি নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে আর্থার বি ম্যাকডোনাল্ডের নেতৃত্বে একটি দল একই রূপান্তরের কথা প্রমাণ করে।
পদার্থের দুই নায়কের সাক্ষাৎকার
পদার্থের অণুতে নিউট্রিনোর রূপ বদলের স্বরূপ উন্মোচনে এ বছর পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন জাপানের তাকাকি কাজিতা ও কানাডার আর্থর বি. ম্যাকডোনাল্ড। পুরস্কার ঘোষণার পর টেলিফোনে তাদের সাক্ষাৎকার নেন নোবেল কমিটির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অ্যাডাম স্মিথ। এতে উঠে আসে দুই বিজ্ঞানীর মনোভাবনা।
খুশিতে স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরেছি : ম্যাকডোনাল্ড
নোবেল পাওয়ায় অভিনন্দন।
ধন্যবাদ।
আমি প্রথমে জানতে চাই, খবরটা আপনি কীভাবে শুনেছেন?
আমি এখানকার স্থানীয় সময় পাঁচটার দিকে একটি টেলিফোনে জানতে পেরেছি। সত্যিই খুব বিস্ময়কর সংবাদ নিয়ে জেগে উঠেছি।
শুনে আপনি কী করলেন?
খুশিতে স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরেছি। সেও ওই ফোনকলে জেগে উঠেছিল।
আপনি কেন বছরের পর বছর নিউট্রিনো গবেষণায় লেগে থাকলেন?
পদার্থের একেবারে ক্ষুদাতিক্ষুদ্র সীমায় অবস্থান করে ইলেক্ট্রন। এটা পদার্থবিদ্যার মৌলিক বিষয়।  কিন্তু  নিউট্রিনো শনাক্ত করা খুব কঠিন কাজ। এই কাজে লেগে থাকতে থাকতে ২০০২ সালে প্রথম জানতে পারি নিউট্রিনো এক অবস্থা থেকে আরেক অবস্থায় বদলে যায়।
আপনার সঙ্গে কথা বলে ভালো লাগল। আশা করছি ডিসেম্বরে স্টকহোমে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পাব।
আমিও কথা বলতে পেরে খুশি। আপনি আমাকে একটা চমৎকার দিন উপহার দিলেন। ধন্যবাদ।
এই পুরস্কার অবিশ্বাস্য : তাকাকি কাজিতা
এ বছর পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পাওয়ায় আপনাকে অভিনন্দন।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ
কখন আপনি খবরটি শুনেছেন?
এইমাত্র। আমি আমার ই-মেইল চেক করছিলাম।
ও। আপনি তবে অফিসে। আপনার প্রতিক্রিয়া কী?
এটা সত্যিই বিস্ময়কর। আমার কাছে অবিশ্বাস্য লাগছে।
আপনার আশপাশে সাড়াশব্দ নেই। কোনো লোকজন নেই মনে হচ্ছে...
হ্যাঁ। আসলে আমার রুমটা ছোট। একা আছি।
আপনি আপনার ক্যারিয়ার নিউট্রিনো গবেষণায় কাটিয়ে দিলেন। নিউট্রিনো কেন আপনাকে  এত আগ্রহী করে তুলল?
আসলে আমি ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম কথিত কামিওকান্দে নিরীক্ষায়। সেটা ছিল প্রোটন নিয়ে। কিন্তু আমার থিসিস শেষ করার পর প্রোটনের উচ্চতর গবেষণার জন্য পার্শ্ববর্তী নিউট্রিনোর অধ্যয়ন জরুরি হয়ে পড়ে। কারণ এটা প্রোটনের ব্যাকগ্রাউন্ড। তখন আমি লক্ষ্য করলাম, এখানে অদ্ভুত কিছু ঘটে চলেছে। এভাবেই নিউট্রিনো গবেষণা শুরু।
আপনি কি কখনও এই মুহূর্তের স্বপ্ন দেখেছিলেন?
আমি অনেক বছর এমন বাস্তবের স্বপ্ন দেখতাম। তবে অতটা সিরিয়াস ছিলাম না।
আপনি কি কখনও এই মুহূর্তের স্বপ্ন দেখেছিলেন?
আমি অনেক বছর এমন বাস্তবের স্বপ্ন দেখতাম। তবে অতটা সিরিয়াস ছিলাম না।
ধন্যবাদ। ডিসেম্বরে স্টকহোমে দেখা হবে।
ধন্যবাদ।
পদার্থবিজ্ঞান নোবেলের যত তথ্য (১৯০১-২০১৫)
* ১০৯ বার পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়েছে
* ২০১ জন এ পর্যন্ত পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল জিতেছেন
* ৪৭ জন নোবেল জিতেছেন স্বতন্ত্রভাবে
* ৩৩ জন নোবেল পেয়েছেন দু’জনের যৌথভাবে
* ৩০ বার নোবেল দেওয়া হয়েছে একসঙ্গে তিনজনকে
* ২ জন নারী পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছেন
* ২৫ বছর বয়সী লরেন্স ব্রাগ সর্বকনিষ্ঠ নোবেলজয়ী। ১৯১৫ সালে তিনি তার বাবার সঙ্গে যৌথভাবে নোবেল পান
* ৮৮ বছর বয়সী রেমন্ড ডেভিস বয়োজ্যেষ্ঠ নোবেলজয়ী। ২০০২ সালে তিনি নোবেল পুরস্কার লাভ করেন
* পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ীদের গড় বয়স ৫৫ বছর (১৯০১-২০১৪)
পদার্থে যেসব বছর নোবেল দেয়া হয়নি
* এ পর্যন্ত ৬ বার চিকিৎসায় নোবেল দেয়া হয়নি। সেগুলো হচ্ছে- ১৯১৬, ১৯৩১, ১৯৩৪, ১৯৪০, ১৯৪১ ও ১৯৪২ সাল।
পদার্থবিজ্ঞানে নোবেলজয়ী নারীরা
১৯০৩ ম্যারি কুরি -ফ্রান্স
১৯৬৩ মারিয়া গোপার্ট মায়ার -যুক্তরাষ্ট্র

আশ্বস্ত নন বিদেশীরা

বাংলাদেশে দুই বিদেশী নাগরিক নিহত হওয়ার পর কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু বিদেশীরা এতে আশ্বস্ত নন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক কূটনীতিককে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা সিনহুয়া বলেছে, ‘কোন দুর্বৃত্ত এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। আর হত্যাকাণ্ডগুলোরও কোন ক্লু মেলেনি। তাহলে এখানে আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা কিভাবে আশ্বস্ত হতে পারি। বিদেশীদের হত্যায় দায়ীদের খুঁজে বের করতে আমরা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আরও বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ দেখার প্রত্যাশা করছি।’ বাংলাদেশে অবস্থানরত ওই কূটনীতিক পরিচয় গোপন রাখার শর্তে সিনহুয়াকে এ কথা বলেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সোমবার বারিধারা কূটনৈতিক এলাকার প্রধান সড়কের চিত্র ছিল প্রায় জনমানবশূন্য। সাধারণত এ রাস্তাটা ব্যস্ত থাকে। এদিক মানুষ বা যানবাহনের চলাচল ছিল কম। এছাড়া, ঢাকার গুলশান, বনানী ও বারিধারার অন্যান্য কূটনৈতিক এলাকাগুলোতেও চলাচল ছিল কম। ঢাকার কূটনৈতিক এলাকার প্রতিটি প্রবেশপথে তল্লাশি চৌকি স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া, রাজধানী ঢাকার অনেক রাস্তায় তল্লাশি চৌকি স্থাপন করা হয়েছে। একই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে দেশের প্রধান অন্যান্য শহরগুলোতে। এক সপ্তাহের মধ্যে দুই বিদেশী নাগরিক হত্যার ঘটনার পর এসব নিরাপত্তা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। হত্যাকাণ্ড দুটোর রহস্যের জট এখনও খোলেনি। ইতালির নাগরিক সিজার তাভেলা এবং জাপানি নাগরিক  হোশি কোনিও হত্যার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের বলেন, হত্যাকাণ্ডগুলো পরিকল্পিত এবং একই ধরনের। তিনি দাবি করেন, ‘বিরোধী দল এসব হত্যাকাণ্ডে বিএনপি-জামায়াতের মদত থাকতে পারে আর বাংলাদেশের অগ্রগতি ম্লান করার জন্যই তারা এটা করেছে।’ কিন্তু বিদেশীরা এতে আদৌ আশ্বস্ত নন বলে মনে হচ্ছে। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এক ইইউ কূটনীতিক বলেন, কোন দুর্বৃত্ত এখনও গ্রেপ্তার হয় নি, হত্যার কোন ক্লু পাওয়া যায় নি। তাহলে আমরা কিভাবে আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে এখানে আশ্বস্ত হতে পারি। তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি বাংলাদেশে ব্লগার এবং বিদেশীদের হত্যার পেছনে দায়ীদের খুঁজে বের করতে আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে আরও বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ দেখার প্রত্যাশা করছি।’ একটি তল্লাশি চৌকিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এক কর্মকর্তা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে বলেন, আমরা মোটরসাইকেল চালকদের দিকে বেশি নজর রাখছি। কেননা, উভয় বিদেশীকে মুখোশধারী হামলাকারীরা  মোটরবাইকে এসে হত্যা করেছে। অনেক  মোটরসাইকেল চালক ডিএমপির চেকপোস্ট এড়িয়ে যাওয়া শুরু করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারছি কড়া নিরাপত্তা পদক্ষেপের কারণে  মোটরসাইকেল চালকরা অখুশি। এসব হত্যাকাণ্ডগুলোর জন্য আমাদের  মোটরসাইকেল চালকদের তল্লাশি ও তাদের ওপর নজর রাখতে হচ্ছে।’ কূটনৈতিক এলাকাগুলোতে পথচারীদেরকে তল্লাশি করছে পুলিশ। এসব নিরাপত্তা পদক্ষেপে ঢাকায় অনেকটা থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। পুলিশ বলছে, গুলশান, বারিধারা ও বনানীতে নিরাপত্তা চেকপোস্টগুলো পার হওয়ার সময় মানুষকে তাদের পাসপোর্ট বা পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। বারিধারা কূটনৈতিক এলাকার প্রধান প্রবেশ পথে প্রহরা দিচ্ছেন ভারী অস্ত্রে সজ্জিত নিরাপত্তা কর্মীরা। রাস্তায় চলাচলকারী ব্যক্তিদের বিশেষ করে  মোটরসাইকেল চালকদের আপাদমস্তক তল্লাশি করা হচ্ছে। এতে কিছু  মোটরসাইকেল চালক তাদের বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। আব্দুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আগ পর্যন্ত  মোটরসাইকেলই চালাবো না। প্রতিটি চেকপয়েন্টে থামতে হচ্ছে আর কাগজপত্র দেখাতে হচ্ছে। তবে বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশী কূটনীতিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে এমন জোরদার নিরাপত্তা সমর্থন করেন তিনি। শিগগিরই আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো দোষীদের খুঁজে বের করতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মোল্লা মনসুরের নেতৃত্বে তালেবান by কায়কোবাদ মিলন

মোল্লা মনসুরকে তালেবানদের নেতা হতে কম প্রতিকূলতা মোকাবেলা করতে হয়নি। আফগান তালেবানরা বলেছেন, মোল্লা আখতার মোহাম্মদ মনসুরকে নেতা বানাতে যেসব মতানৈক্য ছিল তা তারা এখন সরিয়ে রেখেছেন এবং নতুন নেতাকে তারা অভিনন্দিত করেছেন। এই ঘোষণা আসতে অবশ্য কয়েক সপ্তাহ লেগেছে। সময়টা লেগেছে বিরোধীদের মোল্লা মনসুরের পক্ষে আনতে। আর এভাবেই তালেবানদের প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমরের স্থলাভিষিক্ত হলেন মোল্লা মনসুর। গত জুলাই মাসে মোল্লা ওমরের মৃত্যুর ঘোষণা এলে মোল্লা মনসুর স্বল্পসময়ের মধ্যেই নতুন আমরিুল মুমেনিন অর্থাৎ বিশ্বাসীদের কমান্ডার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সমর্থন হন।
নতুন আমিরের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন মোল্লা ওমরের ভাই ও মোল্লা ওমরের বড় ছেলে। অবশ্য এখনো জানা যাচ্ছে না, তাদের মধ্যে কে মোল্লা মনসুরের নিয়োগ যথাযথভাবে হয়নি বলে প্রশ্ন তুলেছিলেন। যা হোক, তারা দু’জনই এখন মোল্লা মনসুরের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছেন। মোল্লা ওমরের ভাই হলেন মোল্লা ইয়াকুব। বাবা মোল্লা আবদুল মান্নান। তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ অতি সম্প্রতি বিবিসিকে বলেছেন, একটি জমকালো অনুষ্ঠানে মোল্লা ইয়াকুব মোল্লা মনসুরের আনুগত্য স্বীকার করেছেন। অনুষ্ঠানটি কোথায় হয়েছে তা অবশ্য তিনি বলেননি। তালেবান মুখপাত্র বলেছেন, এখন আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগিয়ে চলার সময়।
নতুন আমীর নিয়োগকে কেন্দ্র করে দলের ভাঙন রোধে কয়েক সপ্তাহ ধরে কয়েকশ’ তালেবান কমান্ডার, যোদ্ধা ও ইসলামি চিন্তাবিদ পাকিস্তানে ও পাকিস্তানের বাইরে সফর করেছেন। এজন্য তালেবানদের একটি সম্মেলন আয়োজন জরুরি হয়ে পড়ে। এ জন্য এমন একটি সম্মেলন স্থান প্রয়োজন যে এলাকায় তালেবান সমর্থক বেশি। কেননা সে এলাকার মসজিদ, মাদরাসা ও অধিবাসীদের বাড়িতে তালেবান নেতাদের থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সাথে যোগাযোগব্যবস্থা ও খাদ্য সরবরাহ নির্বিঘ্ন হতে হবে।
মোল্লা মনসুরকে আমিরুল মুমেনিন ঘোষণায় প্রথম দিকে ব্যাপকভাবে দৌড়ঝাঁপ করতে হয়। যেকোনো মূল্যে তালেবানদের ঐক্য ধরে রাখা জরুরি হয়ে দেখা দেয়। ওয়াহেদ মোজদা কাবুলভিত্তিক একজন বিশেষজ্ঞ এবং ২০০১ সালে কাবুলের ক্ষমতার দৃশ্যপট থেকে সরে যাওয়ার আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল পদে ছিলেন। তার মতে, গ্রুপগুলো অনুধাবন করেছে যে, বাঁচতে হলে ঐক্য জরুরি। তার মতে, তালেবানদের দুশমনেরা অনেক বেশি শক্তিশালী। অনৈক্য থাকলে আর তাদের রক্ষা করা যাবে না। আফগানিস্তানবিষয়ক শীর্ষ মার্কিন বিশেষজ্ঞ বার্নেট রুবিন বলেছেন, অটলভাবে অনুগামী ও ঐক্যবদ্ধ থেকে আদর্শ প্রচার ও বাস্তবায়ন তালেবানদের জন্য একপ্রকার বাধ্যতামূলক। আর এই শিক্ষা ও মনোভাবই তাদের ঐক্যবদ্ধ রাখবে। রুবিন আরো বলেছেন, তালেবানদের মধ্যে দলবাজির সুযোগ নেই। প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই এটা তাদের অন্যতম মূলমন্ত্র। প্রত্যেকেই আমিরের আদেশ-নিষেধ মেনে চলেন। দলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কিংবা ব্যক্তিত্বের সঙ্ঘাত থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু যারা দল থেকে চলে গেছেন কিংবা বহিষ্কৃত হয়েছেন তারা সব ধরনের প্রভাব প্রতিপত্তি হারিয়েছেন।
মোল্লা মনসুর আমির হয়ে দু’জন ডেপুটি নিয়োগের মাধ্যমে কঠোরতর হাতে প্রশাসন চালাচ্ছেন। এর মধ্যে একজন হলেন হাক্কানি নেটওয়ার্কের নেতা সিরাজ উদ্দিন হাক্কানি। আফগানিস্তানের ভেতরে বড় ধরনের কয়েকটি আক্রমণ পরিচালনার জন্য তাকে দোষারোপ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র হাক্কানিকে গ্রেফতারে ৫০ লাখ মার্কিন ডলার ঘোষণা করেছে। এর পরে রয়েছে ১৮ সদস্যবিশিষ্ট রাহবারি শূরা। মোল্লা মনসুর অবশ্য সম্প্রতি এর সদস্য সংখ্যা ২১ করেছেন। পাকিস্তানি লেখক রহিমুল্লাহ ইউসুফ জাই বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই শূরার সদস্যদের বেশির ভাগই আফগানিস্তানের পশতুন জাতিগত সম্প্রদায়ের লোক। শুধু দু’জন সদস্য পশতুন নন। একজন তাজিক সম্প্রদায়ের অপরজন উত্তর আফগানিস্তানের উজবেক সম্প্রদায়ের। একই সাথে যে কথা উল্লেখের দাবি রাখে তা হলো, রাহবারি শূরার বেশির ভাগ সদস্যই কান্দাহার, উরজুগান ও হেলমান্দ এলাকার। ওই তিন অঞ্চলকেই তালেবানদের জন্মস্থান এবং তালেবান আন্দোলনের সূতিকাগার বলা হয়ে থাকে।
লিডারশিপ কাউন্সিল বা রাহবারি শূরা ডজনখানেক কমিশন ও তালিবান মন্ত্রিসভাকে কার্যকরভাবে তদারক করে থাকে। আফগানিস্তানের মর্যাদাপূর্ণ এনালিস্ট নেটওয়ার্কের বোরহান ওসমান জানিয়েছেন, সামরিক কমিশনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এরাই যুদ্ধ পরিচালনা, আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেয়। মিলিটারি কমিশনের প্রধান কোনো দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মর্যাদা পেয়ে থাকেন। বোরহান ওসমান আরো জানিয়েছেন, আঞ্চলিক কমান্ডার ও বিভিন্ন প্রদেশের ছায়া গভর্নরদের একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে হামলার পরিকল্পনা করা হয়। যুদ্ধ পরিচালনার পাশাপাশি তালেবান একটি রাজনৈতিক কমিশন পরিচালনা করে। কাতারেও এদের একটি অফিস রয়েছে। আন্তর্জাতিক যোগাযোগ কেন্দ্রবিন্দু এই কাতার অফিস। শান্তি চুক্তি বা শান্তি আলোচনাবিষয়ক কর্মকাণ্ডও কাতার থেকে পরিচালিত হয়।
তালেবান নেতৃত্বের যোগাযোগের ক্ষেত্র পাকিস্তানভিত্তিক এবং কমান্ডার ও যোদ্ধাদের ইউনিটগুলো আফগানিস্তানের বিভিন্ন স্থান থেকে পরিচালিত হয়। তবে আফগান তালেবানদের যোগাযোগের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে হয়। বিবিসির উর্দু বিভাগের ইসলামাবাদের ব্যুরো চিফ হারুন রশীদ বলেছেন, তালেবানরা স্পর্শকাতর বার্তাগুলো খুবই সতর্কতার সাথে বিনিময় করে থাকে। তারা মনে করে সামনাসামনি নির্দেশ ও তথ্য বিনিময়ই তাদের সবার জন্য নিরাপদ। তবে চিঠির মাধ্যমেও তালেবানরা পরস্পরের সাথে যোগাযোগ করে থাকে। উত্তর ওয়াজিরিস্তানের প্রধান শহর মিয়ানশাহে তিনি এমন কতকগুলো চিঠি দেখেছেন বলে জানিয়েছেন। সেখানকার তালেবানরা স্বীকারও করেছে যে, চিঠির মাধ্যমে তথ্য ও নির্দেশাবলি আদান প্রদান সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি প্রক্রিয়া।
বোরহান ওসমান জানিয়েছেন, তালেবান নেতারা সমর্থক অথবা তাদের সদস্যদের বাড়িতে গিয়ে সাক্ষাৎ করে তথ্য বিনিময় বা সভা করে থাকেন। পরের দিন হয়তো আরেক শহরে গিয়ে তারা আবার বৈঠক করেন। হারুন রশীদ বলেন, তালেবানদের অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা সীমিত। তাদের নিশ্চিতভাবে কোনো কার্যালয় বা অফিস রয়েছে এমনটি মনে করা ভুল হবে। তালেবানদের সব সময়ই এক স্থান থেকে আরেক স্থানে যাতায়াত করতে হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের বার্নেট রুবিনের ভাষ্য, আফগানিস্তানের অভ্যন্তরেই কয়েকটি উৎস থেকে তালেবানরা অর্থ সংগ্রহ করে থাকে। প্রধান আয়ের উৎস হলো চাঁদা ও মাদক ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা বাবদ অর্থ। রুবিনের তথ্যানুযায়ী, বেশ কয়েকজন তালেবান নেতার সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও সৌদি আরবে নিজস্ব ব্যবসা রয়েছে। পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও পারস্য উপসাগরে হাক্কানি গ্রুপের বিশাল ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক রয়েছে। এর মধ্যে আয়ের প্রধান উৎস হলো মধু বিক্রি। আফগানিস্তানের বিশাল ভূখণ্ড তালেবানদের নিয়ন্ত্রণে। এ সব জমিতে ব্যাপকভাবে পপি চাষ হয়। এই পপি রফতানিতে ব্যাপৃত অপরাপর ব্যবসায়ীদের সড়ক চলাচল নির্বিঘ্ন করতে তালেবানদের মোটা অঙ্কের চাঁদা দেয়। ওষুধ কোম্পানিগুলোও তালেবানদের চাঁদা দেয়। সাবেক তালেবান নেতা ওয়াহেদ মোজডা বলেছেন, তালেবানদের নতুন আয়ের উৎস খনিজসম্পদ থেকে। গত বছর থেকে এই খাত চালু হয়েছে।
আফগান সরকার তালেবানদের সহযোগিতার জন্য বরাবরই পাকিস্তান সরকারকে দোষারোপ করে আসছে। ইসলামাবাদ বরাবরই যা অস্বীকার করে থাকে। পাকিস্তানের ভাষ্য হলো, আফগান তালেবানদের ওপর তাদের কোনোই নিয়ন্ত্রণ নেই।
পাকিস্তানের অভ্যন্তরেই অনুরূপ সমস্যা বিদ্যমান। তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তানসহ (টিটিপি) আলকায়েদার সাথে সম্পৃক্ত কয়েকটি গ্রুপ পাকিস্তানের জন্য হুমকি। টিটিপি অবশ্য মোল্লা ওমরের অনুগত ছিল। এখন সেই আনুগত্য মোল্লা মনসুরের প্রতিও প্রদর্শিত হবে কি-না স্পষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে বোরহান ওসমান বলেছেন, প্রথম থেকেই এই সংহতি আসলে প্রতীকী। টিটিপি সম্পূর্ণভাবেই একটি আলাদা সংগঠন। তাদের মতাদর্শও তালেবানদের থেকে পৃথক। তাদের লক্ষ্য ও মেকানিজমও ভিন্নতর। টিটিপি’র সাথে আলকায়েদার সম্পূর্ণ সাযুজ্য রয়েছে। যদিও তারা তালেবানদের বশ্যতা মানে কিন্তু এটা প্রতীকী মাত্র। অনেকে পাকিস্তানি তালেবানের সাথে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার ঘনিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে বলে বিশ্বাস করেন।
আফগান তালেবানদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে আইএসপন্থী আরেকটি গ্রুপ। তারা বেশ কয়েকটি হামলা চালিয়েছে আফগানিস্তানে। তারা ইসলামিক স্টেট বা আইএসের প্রতি আনুগত্যও প্রকাশ করেছে। আফগানিস্তানের কয়েকটি এলাকায় তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি রয়েছে বলেও তারা দাবি করে থাকে। কিন্তু পর্যবেক্ষকেরা এই দাবিকে অসার বলে মনে করেন। তাদের মতে, তালেবান নেতৃত্বের প্রতি বিরাগভাজন কিছু পাতি নেতা কিংবা তালেবানদের ক্ষুদ্র দলগুলোকে আবার গড়ে তুলতে ব্যর্থরা এখন আইএসে যোগদানের ধুয়া তুলছেন।
বোরহান ওসমান বলেছেন, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা সত্ত্বেও তালেবানরা যে দুর্বল হয়ে পড়ছে, এমন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বোরহান স্বীকার করেছেন, সঙ্ঘাত চলছেই রণক্ষেত্রে এর কোনো ছায়া পড়ছে না- অন্তত এখন পর্যন্ত কিছু চোখে পড়েনি।
মোল্লা ওমর ও মোল্লা মনসুরের শাসনকালের মধ্যে কী তফাত বিদ্যমান? তালেবানদের মূল আয়ের উৎস মধু বিক্রি। সে উৎস এখনো বিদ্যমান। তবে মোল্লা মনসুরের আমলে তালেবানরা নকশায় প্রদর্শিত এলাকার বাইরে এসে তাদের প্রভাবের বিস্তার ঘটাচ্ছে। মোল্লা ওমর ছিলেন বরাবরই গুহাবাসী। মোল্লা মনসুর এখনো পর্যন্ত তা নন। তবে লক্ষ্যযোগ্য দিক হলো মোল্লা ওমর মৃত্যুর পরও তালেবানদের প্রধান হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিলেন। অবশ্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান ছিলেন মোল্লা মনসুরই। তিনি মোল্লা ওমরের খুবই ঘনিষ্ঠ ছিলেন।
মোল্লা মনসুরের জন্ম কান্দাহারে, ১৯৬০ সালে। তালেবানদের ক্ষমতাচ্যুতির পর তিনি এই প্রদেশের ছায়া সরকারের গভর্নর ছিলেন। আফগানিস্তানের তালেবান শাসনামলে মনসুর বেসামরিক বিমানমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। আফগানিস্তানের সিনিয়র মিলিটারি কমান্ডার আবদুল কাইউম জাকিরের সাথে মোল্লা মনসুরের যুদ্ধ ও বিরোধের কথা সর্বজনবিদিত। শান্তি আলোচনার পথ ও পন্থা নিয়ে তাদের বিরোধ ছিল। এক ব্যক্তি জানান, সাবেক আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের সাথে মোল্লা মনসুরের একবার সাক্ষাৎ হয়েছিল। ২০১০ সালের শান্তি আলোচনার সময় এই বৈঠক হয়। পরে জানা যায়, মোল্লা মনসুর ভুয়া পরিচয়ে ওই বৈঠকে শরিক হয়েছিলেন।
তথ্যসূত্র : বিবিসি
kaikobadmilon1955@gmail.com

‘মতাদর্শের জেরে একের পর এক খুন’ by নুরুজ্জামান লাবু ও রুদ্র মিজান

ধর্মীয় মতাদর্শের জের ধরে একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটছে। কিন্তু খুনিদের ধরতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রাজধানীর গোপীবাগের ছয় খুন, রাজাবাজারে মাওলানা ফারুকী হত্যা এবং সর্বশেষ বাড্ডায় খিজির খানের হত্যাকাণ্ডে ধর্মীয় উগ্রবাদীরাই জড়িত বলে ধারণা করছে পুলিশ। এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে উগ্রপন্থি ধর্মীয় জঙ্গিগোষ্ঠী জড়িত বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা। কিন্তু উগ্রপন্থিদের কোন দল এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তা চিহ্নিত করতে পারছেন না। তদন্ত চলছে সন্দেহকে কেন্দ্র করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৫ বছরে ধর্মীয় উগ্রবাদীদের হাতে মুক্তমনা ও ভিন্নমতাবলম্বী অন্তত ১৫ জন খুন হয়েছেন। এসব হত্যাকাণ্ডের ধরন ও উদ্দেশ্য একই বলে নিশ্চিত হয়েছে তদন্ত সংস্থাগুলো। তবে ঘটনার তদন্তে অসহায় পুলিশ। বেশির ভাগ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটিত হয়নি, গ্রেপ্তার হয়নি আসামি। তদন্তের অগ্রগতি বলতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে থানা পুলিশের মামলা ডিবি পুলিশে এবং ডিবি পুলিশ থেকে মামলা সিআইডিতে স্থানান্তর হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মনিরুল ইসলাম বলেন, এসব হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত। হত্যাকাণ্ডের পর বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কোন ধরনের ক্লু পাওয়া যাচ্ছে না। উগ্রপন্থিদের ছোট ছোট স্লিপার সেল এসব হত্যাকাণ্ডে জড়িত। কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা গেলেও অন্য হত্যাকাণ্ড বিষয়ে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন, এসব হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে অনুসন্ধান করছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের ধরন ও উদ্দেশ্য একই। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের ঘটনাতেও মূল হোতাদের গ্রেপ্তার সম্ভব হচ্ছে না। উগ্রাবাদীদের তৎপরতা ও কৌশলের কাছে ব্যর্থ হচ্ছে গোয়েন্দা কৌশল। খুনের ঘটনায় যারা জড়িত থাকছেন স্লিপার সেলের ৩ থেকে সর্বোচ্চ ৮ জন। কারও সঙ্গে কারও পরিচয় জানা থাকে না। শুধু পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় কোথায় কখন কাকে কিভাবে খুন করতে হবে। কীভাবে অস্ত্র লুকিয়ে রাখতে হবে, কীভাবে পালাতে হবে। এ কারণে কেউ ধরা পড়লেও বাকিদের ব্যাপারে গোয়েন্দারা পাচ্ছেন না কোন তথ্য।
খিজির খুনে গ্রেপ্তার নেই, ৩০ মিনিটের কিলিং মিশন: সময় তখন সন্ধ্যা প্রায় ৭টা। ছদ্মবেশে কিলাররা বাসায় ঢুকে। বাসায় ঢোকার আধা ঘণ্টার মধ্যেই কিলিং মিশন সম্পন্ন করে তারা। তারপর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বের হয়ে যায়। সোমবার রাত ৮টার পর হত্যাকাণ্ডের খবর পায় পুলিশ। পরে মধ্যবাড্ডার নিজ বাসা থেকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ও পীর মোহাম্মদ খিজির খানের লাশ উদ্ধার করা হয়। গতকাল ময়নাতদন্ত শেষে লাশ তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ক্লু উদঘাটন করতে তৎপরতা চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত তদন্তে তেমন কোন অগ্রগতি হয়নি। গ্রেপ্তার হয়নি কেউ।
কিলারদের এক পলক দেখেছেন খিজির খানের ছেলে ডা. আহমেদ উল্লাহ। তিনি তখন সিঁড়ি দিয়ে নামছিলেন। এ সময় প্রায় ছয়-সাতজনকে একসঙ্গে দেখে জানতে চান, আপনারা কারা? তখন তারা জানায় বাড়ির নিচতলার গোডাউন ভাড়ার জন্য হুজুরের সঙ্গে কথা বলতে এসেছি। খিজির খানকে তার ভক্তরা আব্বা হুজুর বলে সম্বোধন করেন। প্রতিবেশীদের কারও কাছে পীর কারও কাছে খিজির খান নামেই পরিচিত তিনি। আহমেদ জানান, বাড়ির দোতলায় রয়েছে রহমতিয়া খানকা শরীফ। খানকা শরিফ পরিচালনার কারণে তার পিতার কাছে দেশের বিভিন্ন এলাকার ভক্তরা আসা-যাওয়া করেন। কিন্তু যুব বয়সের ছয়-সাতজনকে একসঙ্গে দেখে তিনি জানতে চেয়েছিলেন তারা কেন এসেছে। পরে চালককে নিয়ে গুলশানের শাহবুদ্দিন মেডিক্যালে চলে যান। এই হত্যাকান্ডের সময় অন্যদের মধ্যে বাসায় ছিলেন গৃহকর্মী আমিনা বেগম। আমিনা জানান, দু’তলার খানকা শরীফ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছিলেন তিনি। এ সময় কয়েক যুবক ওই ঘরে প্রবেশ করে। এর মধ্যে খিজির খানের খোঁজে তৃতীয় তলায় তার বাসায় দরজায় নক করে দুই যুবক। তখন তাদের দ্বিতীয় তলার খানকা শরিফে বসার জন্য বলেন খিজির খান। তারা সবাই তখন খানকা শরিফের ভেতরে বসেছিলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই খানকা শরিফে ঢুকেন খিজির খান। ঢোকার পরপরই মুখ চেপে ধরা হয় তার। বাধা হয় হাত ও চোখ। এ সময় কাঁধে রাখা ব্যাগ থেকে একটি ধারালো অস্ত্র বের করে এক যুবক। এ দৃশ্য চোখে পড়তেই ‘আম্মাগো’ বলে চিৎকার করেন আমিনা। তখন আমিনাকে ধরে হাত, পা, মুখ ও চোখ বাঁধা হয় পর্দার কাপড় দিয়ে। ততক্ষণে আমিনার চিৎকার শুনে দ্বিতীয় তলায় ছুটে যান খিজির খানের স্ত্রী রাহেলা রুবি ও বাসার গৃহকর্মী সাফিয়া। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে হাত, পা, চোখ ও মুখ বেঁধে আটকে রাখা হয়। ওই সময়ে কিলারদের কয়েকজন দ্রুত তৃতীয় তলার একটি কক্ষে খিজির খানের পুত্রবধূ ও দুই নাতিকে বেঁধে রাখে। পাশের কক্ষে খিজির খানের মেয়ে রৌশনকে বেঁধে রাখে কিলাররা। ততক্ষণে গুলশানের শাহাবুদ্দিন মেডিক্যালে আহমেদকে নামিয়ে দিয়ে বাসায় ফিরেন গাড়িচালক মোস্তফা। মোস্তফা জানান, বাসার প্রহরী মোখলেছ  ঈদের ছুটিতে থাকায় বিদ্যুৎ বিলের কাগজ নিয়ে তৃতীয় তলায় যান মোস্তফা। দরজায় নক করার কিছু সময়ের মধ্যেই এক যুবক দরজা খুলে দেয়। ওই যুবক বলে, আমি মেহমান। হুজুর আপনাকে ভেতরে আসতে বলছেন। ভেতরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে ৩০-৩৫ বছর বয়সী এক যুবক পিস্তল ঠেকিয়ে ভেতরের কক্ষে নিয়ে যায় মোস্তফাকে। ওই যুবক তাকে হুমকি দিয়ে বলে, কথা বললেই তোকে গুলি করে মেরে ফেলবো। কোন চালাকি করবি না। পরে একই কায়দায় তার হাত, পা ও মুখ বেঁধে খিজির খানের পুত্রবধূ ও নাতিদের সঙ্গে রাখা হয় তাকে। এর মধ্যেই দ্বিতীয় তলায় ঘটে নৃশংস ঘটনাটি। টেনে হিঁচড়ে খানকা শরীফের ওযুখানায় নিয়ে যাওয়া হয় খিজির খানকে। আমিনা জানান, চোখ বাঁধা থাকায় কিছুই দেখা যায়নি। কিন্তু তাকে যে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তা টের পেয়েছেন তিনি। এর মধ্যেই একজন নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় কাজ শেষ করতে তাগিদ দেয়। একইভাবে নোয়াখালী ও কুমিল্লার আঞ্চলিক ভাষায় প্রয়োজনীয় কথা বলেছে কিলাররা। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার’ শব্দ করে দুর্বৃত্তরা। একটা শব্দও হয়। আমিনা তখনই বুঝতে পেরেছেন খিজির খানকে হত্যা করা হয়েছে। ‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার’ ধ্বনির পর হাঁটাহাঁটির শব্দ ক্রমান্বয়ে কমতে থাকে। আমিনার ধারণা কিলারা একজন, দুজন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বের হয়েছে।
গতকাল পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের কোন ক্লু্‌ উদঘাটন হয়নি। এ বিষয়ে ডিবির এসি মাহফুজুল আলম রাসেল জানান, ডিবির কয়েক টিম বিভিন্নভাবে এ ঘটনার তদন্ত করছে। মোবাইল ট্র্যাকিংসহ প্রযুক্তি ব্যবহার ও আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঠিক কি কারণে খিজির খানকে হত্যা করা হয়েছে এ বিষয়ে কোন ধারণা নেই তার পরিবারের সদস্যদের। তবে ধর্মীয় মতবিরোধকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে গুলশান জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) এসএম মোস্তাক আহমেদ জানান, সম্পত্তি, পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও ধর্মীয় মতাদর্শে খিজির খানকে হত্যা করা হতে পারে। এই তিন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। মধ্যবাড্ডা এলাকার খিজির খানের বাড়ির আশপাশের বাসিন্দারা জানান, খিজির খান নূরিকম নামে একটি তরিকা অনুসরণ করতেন। কুষ্টিয়ায় গ্রামের বাড়িতে রয়েছে তাদের খানকা শরীফ। ঢাকায় নিজ বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ছিল খানকা শরিফের ঢাকা শাখা। খিজির খানের শ্যালক আমানুর রহমান জানান, খানকাহ শরিফে প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে উরস হতো। এতে জিকির ও দোয়া করতেন নারী-পুরুষরা। এ সময় খিজির খান বয়ান করতেন। তিনি ভাল কাজের পরামর্শ দিতেন। অশ্লীল কথা বলা থেকে ও খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে উপদেশ দিতেন। এলাকাবাসী জানান, প্রায়ই তার ভক্তরা ওই বাসায় ভিড় করতো। রাতব্যাপী সেখানে খিজির খান তার তরিকা অনুসারে ইবাদত করতেন।
এদিকে খিজির খান খুনের ঘটনায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার ভক্ত ও পরিবারের সদস্যদের কান্নায় এলাকার বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। তার ফিলিপনগর গ্রামের বাড়িতে চলছে দাফনের প্রস্তুতি। খানকা শরিফ সংলগ্ন খিজির খানের পিতা রহমতুল্লাহ মৌলভীর কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হবে। ঢাকা থেকে খিজির খানের মরদেহ দৌলতপুরে পৌঁছালে আজ বুধবার সকালে দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
মাওলানা ফারুকীর খুনিরা গ্রেপ্তার হয়নি: গত বছরের ২৭শে আগস্ট রাতে রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় ঢুকে কয়েক যুবক মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকীকে জবাই করে হত্যা করে। এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের এই উপস্থাপক হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন হয়নি। তবে পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। নিহতের ছেলে ফয়সাল ফারুকী বলেন, ধর্মীয় মতাদর্শের বিরোধীরা তার বাবাকে খুন করেছে। এক বছরেও খুনিদের আটক করা তো দূরের কথা, তাদের শনাক্তই করতে পারল না ডিবি পুলিশ। তার অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকায় তদন্ত নিয়ে ডিবির আগ্রহ নেই। খুনি গ্রেপ্তারের আশাই তারা ছেড়ে দিয়েছেন। তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, ফারুকী হত্যা মামলার ক্লু পাওয়া যাচ্ছে না। আদালতে যে ছয়জনের বিরুদ্ধে নালিশি অভিযোগ করা হয়েছে তদন্তে হত্যাকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছ থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডিবিতে মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আশিক হোসেন জানান, মামলাটির রহস্য উদঘাটনে আন্তারিকতার সঙ্গে চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু কোনও ক্লু পাওয়া যায়নি। পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে মামলার ডকেট সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গোপীবাগের ছয় খুন নিয়ে অন্ধকারে পুলিশ: ২০১৩ সালের ২১শে ডিসেম্বর রাতে রাজধানীর গোপীবাগের ৬৪/৬ নম্বর বাড়ির দোতলায় খুন হন কথিত পীর লুৎফর রহমান ফারুক, তার বড় ছেলে সারোয়ার ইসলাম ফারুক, অনুসারী মঞ্জুরুল আলম, মো. রাসেল,  মো. শাহিন এবং মজিবুর সরকার। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ২২ মাস অতিবাহিত হলেও রহস্য উদঘাটনে অন্ধকারে পুলিশ। উগ্রপন্থি ধর্মীয় সংগঠন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এমন সন্দেহেই থমকে আছে মামলার তদন্ত। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছয় খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চার জেএমবি সদস্যকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু তাদের কাছ থেকে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ডিবির উপকমিশনার মাহবুব আলম বলেন, রহস্য উদঘাটনে চেষ্টা চলছে। ক্লু না পাওয়ায় সময় লাগছে। মামলার বাদী ও নিহত লুৎফর রহমানের ছোট ছেলে আবদুল্লাহ আল ফারুক বলেন, মামলার ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু নতুন তদন্ত কর্মকর্তা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন না। পুলিশের পেছনে দৌড়াতে দৌড়াতে হাঁপিয়ে উঠেছেন। তাই নিজে থেকে আর মামলার ব্যাপারে খোঁজ রাখেন না। তিনি বলেন, এতদিনে যেহেতু কোন ক্লু উদঘাটন হয়নি, ভবিষ্যতে আর কী হবে।

নেপালে ভারত : অতি চালাকিতে গলায় দড়ি by অরুন বড়াল

এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে নেপালের ওপর অঘোষিত অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করে রেখেছে ভারত। জ্বালানিসহ নিত্যপণ্যের জন্য ভারতের ওপর নেপাল ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। অথচ কোনো পণ্য নেপালে ঢুকতে পারছে না। নেপালে নতুন সংবিধান প্রণয়নকে ঘিরে নেপালের ভারতীয় বংশোদ্ভূত দু’টি গোষ্ঠী বিক্ষোভ করতে থাকার প্রেক্ষাপটে এই পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটেছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, বিক্ষোভের কারণে তারা নেপালে পণ্য পাঠাতে পারছে না। কিন্তু যেসব সীমান্তে কোনো ধরনের বিক্ষোভ নেই, সেখান দিয়েও কেন পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে না, সে প্রশ্নের জবাব দেয়া হয়নি। নেপাল এই উপমহাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ফলে নেপাল পরিস্থিতির প্রভাব উপমহাদেশজুড়ে অনুভূত হতে পারে। অবরোধ চলতে থাকলে পরিস্থিতি কী হতে পারে, তার একটি বিশ্লেষণ এখানে দেয়া হলো।
ভারত ১৯৮৯ সালের মতো নেপালের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করলে কী হবে? সাধারণ ধারণা হলো, নেপাল অনেক বেশি দুর্ভোগ পোহাবে। তবে আসলে সবশেষে তা ভারতের জন্যই বেশি ক্ষতিকর হবে। সীমান্ত বন্ধ করার পরিণাম ভারতের জন্যই যে হিতে বিপরীত হবে তার পাঁচটি কারণ এখানে তুলে ধরা হলো।
১. ভারতবিরোধী মনোভাব
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত বছর তার নেপাল সফরে গিয়ে নেপালে ভারতবিরোধী মনোভাব দূর করতে সফল হয়েছিলেন। আর এ কারণেই ‘বাইলেটারাল ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন অ্যান্ড প্রটেকশন (বিআইপিপিএ)’ এবং ‘আপার কারনালি পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট (পিডিএ)’ বলতে গেলে কোনো ধরনের বিরোধিতা ছাড়াই স্বাক্ষরিত হতে পেরেছিল।
এই অবরোধ নেপালিদের একটি প্রজন্মকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। এর ফলে অবরোধ শেষ হওয়ার কয়েক বছর পরও নেপালের সাথে ব্যবসা করতে ভারত নিজেকে কঠিন পরিস্থিতিতে দেখতে পারে।
২. ভারতীয় বাজার
ভারত থেকে প্রতি বছর নেপাল ৫০০ কোটি রুপি মূল্যের পণ্য আমদানি করে। আর রফতানি করে ১০০ কোটি রুপিরও কম। অবরোধ যত চলতে থাকবে, তত বেশি নেপাল বাণিজ্যের জন্য চীনের দিকে ঝুঁকবে। ভারতের মতো বিশাল অর্থনীতির জন্য ৫০০ কোটি রুপি বেশি কিছু নয়, তবে ভারত অন্তত মুনাফা থেকে বঞ্চিত হবে।
৩. চীনা কার্ড
কাঠমান্ডুতে বেইজিংয়ের প্রভাব নিয়ে নয়া দিল্লি সব সময়ই উদ্বেগে থাকে। নেপালের সংবিধানকে স্বাগত না জানিয়ে এবং অবরোধের হুমকি দিয়ে ভারত চীনা প্রভাব ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দেবে। নেপালে চীনের তেমন বড় ধরনের স্বার্থ নেই। তবে নয়া দিল্লির কাছ থেকে কাঠমান্ডুকে সরিয়ে নিতে পারাটা বেইজিংয়ের জন্য লাভজনক হবে।
৪. কম নির্ভরশীলতা
নেপাল ক্রমবর্ধমান হারে ভারতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছিল। কিন্তু অবরোধের ফলে নেপালিরা বিকল্প খুঁজবে, আরো বেশি আত্মনির্ভর হয়ে উঠবে। এমনকি রাজনীতিবিদেরা পর্যন্ত এই চিন্তা করা বন্ধ করে দেবেন যে, নয়া দিল্লির আশীর্বাদ ছাড়া শীর্ষ পদগুলোতে যাওয়া যাবে না।
৫. ভারতীয় নিরাপত্তা
যদি ভারত নিজেকে নেপালের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নেয়, তবে পাকিস্তানের প্রভাবও বাড়বে। আবার ভারতের সাথে নেপালের খোলা সীমান্ত রয়েছে। কাঠমান্ডুতে ভারতবিরোধী মনোভাব ভারতের জন্য সুখকর হবে না।
অনুবাদ : মোহাম্মদ হাসান শরীফ

ব্যাংকের আমানতে টান পুঁজি ভাঙছেন গ্রাহকরা by হামিদ বিশ্বাস

বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ মন্দায় ব্যাংকের আমানত কমছে। যদিও সরকারি খাত সক্রিয় রয়েছে। তবে অর্থনীতির ৮০ ভাগই নিয়ন্ত্রণ করে বেসরকারি খাত। সে কারণে সার্বিক মন্দার প্রভাব দৃশ্যমান হচ্ছে। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় গ্রাহক পুঁজিতে হাত দিচ্ছে। ভেঙে ফেলছে বিভিন্ন মেয়াদে রাখা সঞ্চিত টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন। একটি বেসরকারি ব্যাংকের শাখা অপারেশন ম্যানেজার বলেন, মানুষের হাতে টাকা নেই। মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। পণ্যবাজারে ঊর্ধ্বগতি। লাফিয়ে দাম বাড়ছে সব পণ্যের। কাঁচা বাজারে গেলে ১০০০ টাকার নিচে বাজার হয় না। মানুষ দৈনন্দিন খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। সে কারণে নিম্ন ও মধ্যম সারির গ্রাহকরা পুঁজিতে হাত দিচ্ছেন। ভেঙে ফেলছেন ৩, ৫ ও ১০ বছর মেয়াদি ডিপিএস।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, জাতীয় সঞ্চয় প্রবৃদ্ধির হার কমেছে। যা বিবিএসও উল্লেখ করেছে। অতীতের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধিও খুব ভাল নয়। দুই ঈদে কিছুটা প্রবৃদ্ধি হলেও সারা বছর নিম্নমুখী থাকে বৈদেশিক মুদ্রা আহরণ। এছাড়া, ব্যাংকের তুলনায় সঞ্চয়পত্রে সুদের হার বেশি থাকায় সাধারণ মানুষ সঞ্চয়পত্রের দিকে ঝুঁকে পড়ে। যদিও বর্তমানে সঞ্চয়পত্রের সুদের হারও কমানো হয়েছে। 
ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিনিয়োগ মন্দার কারণে কমছে চলতি আমানত। অবকাঠামো পরিস্থিতি খুবই নাজুক। রাস্তাঘাট ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ। গ্যাস-বিদ্যুৎ নেই। রাজনৈতিক আবহাওয়াও ভাল নেই। সে কারণে কেউ নতুন বিনিয়োগ করছেন না। বেসরকারি খাত বিনিয়োগ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। আর মেয়াদি আমানত কমছে অভাব-অনটন ও মূল্যস্ফীতির কারণে। তিনি বলেন, দেশে অভাবী লোকের সংখ্যা দিনের পর দিন বাড়ছে। সার্বিকভাবে দেশের অর্থনীতি একটি মিশ্র সময় অতিক্রম করছে বলে মনে করেন তিনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মাসিকভিত্তিতে তৈরি করা সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে আর্থিক খাতে মোট আমানত সংগ্রহ করা হয়েছিল ৮৭ হাজার ৭৬২ কোটি টাকা। সমাপ্ত অর্থবছরে (২০১৪-১৫) তা কমে হয়েছে ৭৫ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা। এক বছরে আমানত কমেছে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা বা সাড়ে ১৩ শতাংশ। ব্যাংকারদের মতে, আমানত কমে গেলে বিনিয়োগের জন্য টাকার উৎস কমে যায়। এতে ব্যাংক আগের মতো বেশি পরিমাণ বিনিয়োগ করতে পারে না। কমে যায় ব্যাংকের বিনিয়োগসক্ষমতা। বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ স্থবিরতা ও সর্বোপরি সুদহার কমে যাওয়ায় মানুষ ব্যাংকের আমানত ভেঙে ফেলছে। যার প্রভাব পড়ছে আমানতে। এটা অব্যাহত থাকলে ব্যাংকিং খাতসহ পুরো অর্থনীতির জন্য খারাপ সংকেত বয়ে আনবে। প্রচলিত নিয়মানুযায়ী, সাধারণত দুই ধরনের আমানত রাখা হয়। প্রথমত, স্বল্প সময়ে মুনাফা লাভের জন্য মানুষ চলতি আমানত রাখে। তিন মাস সময় থেকে এক বছর মেয়াদি এ আমানত রাখার সুযোগ রয়েছে। অপরদিকে দীর্ঘমেয়াদি মুনাফার জন্য মানুষ মেয়াদি আমানত রাখে ২ বছর, ৩ বছর, ৫ বছর, ১০ বছর ও তার ঊর্ধ্বে। তাদের মতে, মানুষ যখন তার প্রয়োজনীয় ব্যয় মিটিয়ে হাতে উদ্বৃত্ত থাকে তখন সে সঞ্চয় করে। আবার আয়ের তুলনায় যখন ব্যয় বেড়ে যায় তখন সঞ্চয় ভেঙে খায়। তখন চলতি আমানতসহ সামগ্রিক আমানত কমে যায়। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে যখন স্থবিরতা নেমে আসে তখন তলবি আমানত নেতিবাচক হয়ে পড়ে। কারণ এ সময় ব্যবসায়ীরা আগের মতো লেনদেন করতে পারেন না। তাদের হাতে টাকা থাকে না। সব সময় ব্যবসায়ীরা টানাটানির মধ্যে থাকেন। আর মেয়াদি আমানত কমে যাওয়ার অর্থ হলো সাধারণ মানুষ আর আমানত রাখতে পারছেন না। মূল্যস্ফীতিই তাদের সঞ্চয় খেয়ে ফেলছে। তাদের মতে, মূল্যস্ফীতি দীর্ঘ দিন ধরে দুই অঙ্কের ঘরে অবস্থান করছে। আয়ের সঙ্গে ব্যয় সংকুলান করতে পারছে না নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও নির্ধারিত আয়ের মানুষ। এ কারণে এখন ভবিষ্যতের জন্য জমানো অর্থে হাত দিয়েছেন। মেয়াদপূর্তির আগেই ব্যাংকে জমানো স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদি ডিপিএস ভেঙে ফেলছে। সঞ্চয় ভেঙে খাওয়ায় কমে যাচ্ছে ব্যাংকগুলোর আমানত। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সমাপ্ত অর্থবছরে মেয়াদি ও তলবি আমানত দু’টিই আগের বছরের চেয়ে কমে গেছে। পাশাপাশি মেয়াদি আমানতও কম রাখছেন গ্রাহকরা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগের বছরে মেয়াদি আমানত এসেছিল ৭৯ হাজার ৭৬ কোটি টাকা, যা মোট আমানতের ৯০ শতাংশ। গত বছর মেয়াদি আমানত কমে হয়েছে ৬৭ হাজার ৮২১ কোটি টাকা, যা মোট আমানতের ৮৯ শতাংশ। আর আগের বছরের চেয়ে গত বছর মেয়াদি আমানত কমেছে ১৪ দশমিক ২৩ ভাগ। এদিকে মেয়াদি আমানতের পাশাপাশি চলতি আমানতও আগের বছরের চেয়ে কমে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আগের অর্থবছরের চলতি আমানত এসেছিল ৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা, সমাপ্ত অর্থবছরে তা সাড়ে ৫০০ কোটি টাকা কমে নেমেছে ৮ হাজার ১৩৬ কোটি টাকায়। আগের বছরের চেয়ে চলতি আমানত কমেছে ৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ব্যাংক বিশ্লেষকদের মতে, মূলত দুই কারণে আমানতের প্রবৃদ্ধি কমে যায়। প্রথমত, অর্থনৈতিক কার্যক্রম কমে যাওয়ায় ব্যাংকে লেনদেন কমে গেছে। আর ব্যাংক লেনদেন কমে যাওয়ায় তলবি আমানত কমে যাচ্ছে। অপরদিকে মূল্যস্ফীতির কারণে আমানত কমে যায়। জিনিসপত্রের দাম যখন বেড়ে যায়, তখন মানুষ ব্যাংক থেকে বেশি পরিমাণ আমানত তুলে নিজের কাছে নগদ টাকা বেশি রাখে। এছাড়া, সামপ্রতিক সময়ের পরিস্থিতির কারণে ব্যাংকের পরিবর্তে নিজের কাছেই অর্থ ধরে রাখছে। একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানিয়েছেন, ব্যাংকিং খাতের চেয়ে ব্যাংকবহির্ভূত খাতে অধিক মুনাফা পেলে তখন ব্যাংকে আর কেউ টাকা রাখে না। অন্যত্র সরিয়ে ফেলে। এ কারণেও তলবি আমানত কমতে পারে বলে তিনি মনে করেন। মেয়াদি আমানত কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি জানান, মূল্যস্ফীতির কারণে যখন জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যায় তখন সাধারণ মানুষ সঞ্চয় করতে পারেন না। বরং সংসারের ঘাটতি মেটাতে ভবিষ্যতের জন্য জমানো সঞ্চয়ে হাত দেন। ওই ব্যাংকারের মতে, ব্যাংক থেকে বেশি মাত্রায় আমানত উত্তোলন হলে ব্যাংকিং খাতে নগদ অর্থের সংকট দেখা দেবে। এটা সমন্বয় করতে না পারলে ভবিষ্যতে ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগযোগ্য তহবিলের সংকট পড়বে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বাংলাদেশের জন্য অশুভ ইঙ্গিত -আরব নিউজের প্রতিবেদন

বাংলাদেশে দুই বিদেশী হত্যা ক্রমবর্ধমান জঙ্গি তৎপরতার বিপদের কথাই তুলে ধরে। এই ধারা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, এতে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনীতির ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে। এটা বাংলাদেশের জন্য অশুভ ইঙ্গিত। অনলাইন আরব নিউজে প্রকাশিত এক মন্তব্য প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। এর লেখক শফিকুল আলম।
তিনি লিখেছেন, দুই বিদেশীকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি সংগঠন আইএস। এ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা সন্দিহান হলেও তারা বলছেন, যেসব কট্টরপন্থিকে রাজনীতির মূল স্রোত থেকে বাইরে রাখা হয়েছে তারা ক্রমাগত বেপরোয়া হয়ে উঠার পথ বেছে নিচ্ছে। এটা ঘটছে এমন এক দেশে যে দেশটি ধর্মীয় সহনশীলতার জন্য পরিচিত। এ বছরের শুরু থেকে হত্যা করা হয়েছে চারজন ব্লগারকে। এ ঘটনায় সরকারের জঙ্গিবিরোধী যে প্রচেষ্টা তাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এমনকি শনিবার যখন রংপুরের কাউনিয়ায় জাপানি নাগরিক কুনিও হোশিকে হত্যা করা হয় তার আগে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দল নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বলে তাদের বাংলাদেশ সফর বাতিল করে। কুনিও হোশি ও ইতালির এনজিও কর্মী সিজার তাভেলা হত্যাকাণ্ড গার্মেন্টের বিদেশী ক্রেতাদের ওপরও প্রভাব ফেলেছে। তারা ঢাকায় স্থানীয় প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে বৈঠক করে ২৫০০ কোটি ডলারের এ শিল্প নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশে জঙ্গিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ইলিনয়েস স্টেট ইউনিভার্সিটির আলী রীয়াজ বলেন, এসব হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত অশুভ ইঙ্গিত বহন করে। এ সব হত্যাকাণ্ড যে জঙ্গিরা করেছে তার একটি ধরন আছে। এ নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন।
ওদিকে এ বছরই বাংলাদেশকে নিম্ন আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশের স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। এতে বাংলাদেশ অন্তত উন্নয়নশীল দেশগুলোর পাশে দাঁড়ানোর মর্যাদা পেয়েছে। গত এক দশকে এ দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শতকরা ৬ ভাগ। গত তিন বছর বাংলাদেশে অস্থিরতা চলছে। এতে অর্থনীতির যথেষ্ট ক্ষতি হচ্ছে। এই তিন বছরে নিষিদ্ধ করা হয়েছে সবচেয়ে বড় ইসলামপন্থি দল দল জামায়াতে ইসলামীকে। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন কারচুপির আশঙ্কায় বর্জন করে মূলধারার বিরোধী দল। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়কার ভূমিকা জন্য শীর্ষ স্থানীয় বেশ কয়েকজন রাজনীতিককে দেয়া হয়েছে মৃত্যুদণ্ড। বছরের শুরুতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ যখন শুরু হয় তখন থেকে ইসলামপন্থিসহ বিরোধী দলের নিখোঁজ নেতাকর্মীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। এসব নেতাকর্মীর পরিবারের আশঙ্কা তাদের হয়তো গোপনে আটক করা হয়েছে অথবা হত্যা করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক আতাউর রহমান বলেন, কট্টরপন্থি নেতাদের ওপর দমনপীড়ন জঙ্গি তৎপরতায় শুধু রসদ যুগিয়েছে। তিনি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, অনেক মানুষের ওপর অত্যাচার চালানো হয়েছে এতে কোন সন্দেহ নেই। ইসলামপন্থিসহ বেশ কিছু রাজনৈতিক দলকে একপেশে করে রাখা হয়েছে। এতে বেপরোয়া কর্মকাণ্ড উসকে দিয়ে থাকতে পারে। তিনজন ব্লগারকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে নিষিদ্ধ আনসারুল্লাহ বাংলা টিম। অন্যদিকে দায়েস বা আইএস গত সপ্তাহে দুই বিদেশী হত্যার দায় স্বীকার করেছে। বাংলাদেশে কোন হত্যায় জড়িত থাকার কথা এই প্রথম স্বীকার করলো আইএস।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এতে আইএস জড়িত থাকার কোন প্রমাণ পায়নি পুলিশ। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বার বার বলছেন, দেশে ডায়েস বা আইএসের কোন উপস্থিতি নেই। আইএসে যোগ দেয়ার জন্য লোক জড়ো করার অভিযোগে গত কয়েক মাসে পুলিশ বেশ কিছু সদস্যকে আটক করেছে। বলা হয়, আটক ওই ব্যক্তিরা হয়তো সদস্য সংগ্রহ করছিল না হয় তারা ইরাক অথবা সিরিয়ায় লড়াইয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল।
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রফেসর আবদুর রব বলেন, বিদেশী হত্যায় ডায়েসের জড়িত থাকার বিষয়ে তিনি সন্দিহান। তবে জঙ্গিদের সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু এখনও আইএস তাদের পা রাখায় জায়গা খুঁজছে। বিদেশী দুই নাগরিক হত্যায় আইএসের জড়িত থাকার কোন লক্ষণ পাওয়া যায় না। তবে আলী রীয়াজ বলেন, যারা দেশে আইএসের উপস্থিতি নিয়ে সন্দিহান আমি তাদের সঙ্গে একমত হতে চাই। কিন্তু সম্প্রতি যে দমনপীড়ন হয়েছে তাতে এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, যা জঙ্গিদের পক্ষে যায়। তিনি বলেন, আপনি দেখবেন গণতন্ত্রের জন্য যতই স্থান সংকুচিত হয়, ততই জঙ্গি গ্রুপগুলো তাদের বিস্তার ঘটাবে।

নিউজিল্যান্ডে গোমূত্র-সহ আটক ভারতীয় নারী

যখন কেউ বিদেশে যান, আচার, পাপড়, খাবার-দাবার অনেক কিছু নিয়ে যান বা যেতে পারেন। কিন্তু কখনও শুনেছেন বোতলে করে গোমূত্র নিয়ে গিয়েছে? হ্যাঁ, ঠিক পড়ছেন। নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটন বিমানবন্দরে গোমূত্র-সহ এক ভারতীয় নারীকে আটক করে কর্মীরা। এজন্য ওই নারীকে ৪০০ নিউজিল্যান্ড ডলার জরিমানাও গুনতে হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত সেপ্টেম্বর মাসে। সম্প্রতি মাসিক রিপোর্টে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই মহিলাকে প্রথম আটক করে কাস্টমস দপ্তর। কারণ তিনি লাগেজে ওই বোতল ২টির কথা উল্লেখ করেননি। প্রথমে ভাবা হয়েছিল নেশার কোনো দ্রব্য রয়েছে। তবে নারী সমানে দাবি করছিলেন, বোতলে ওষুধ রয়েছে। পরে খুলে দেখা যায় ওষুধ নয় আদপে সেটা গোমূত্র।
নিউজিল্যান্ডের মিনিস্ট্রি অফ প্রাইমারি ইন্ডাস্ট্রি-র মুখপাত্র অ্যান্টনি ওয়েন জানিয়েছে, ওই নারীর দাবি ছিল যে গোমূত্রই নাকি ওষুধ হিসাবে ব্যবহার করার জন্য তিনি নিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি আরো জানান, অনেকে এটা ভাবেন না, এ ধরনের কোনো বস্তু দেশে প্রবেশের জন্য উল্লেখ করা ভীষণ জরুরি। কোথাও এটা ওষুধ হিসাবে ব্যবহার হতে পারে কিন্তু তার জন্য আগে অবশ্য সেটা উল্লেখ করতে হবে। তবে অনুরোধে কোনো কাজ হয়নি। উল্টে গোমূত্রের কথা উল্লেখ না করায় এবং দেশে প্রবেশের চেষ্টার জন্য নারীকে ৪০০ নিউজিল্যান্ড ডলার জরিমানা দিতে হয়েছে।

আমার মেয়েকে ‘নষ্ট’ করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা

বরকল উপজেলার ভূষনছড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য দুলাল তালুকদারের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, সন্ত্রাসী কার্যকলাপসহ নানান অপকর্মের অভিযোগ এনেছেন এলাকাবাসী। এক পঙ্গু বাবা অভিযোগ করেছেন, তার মেয়েকে ‘নষ্ট’ করে ওই আওয়ামী লীগ নেতা মেয়ের নগ্ন ছবি তোলেন। রাঙামাটি শহরের রিপোর্টাস ইউনিটি কার্যালয়ে ‘ভূষনছড়া এলাকাবাসী ও ভূক্তভোগী পরিবার’-এর ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করা হয়। এতে বক্তব্য দেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সদস্য মনোয়ার গাজী, মাহফুজ মিয়া, ক্ষতিগ্রস্ত ফারজানা আক্তার ববি ও নাসরিন।   সংবাদ সম্মেলনে তারা অভিযোগ করেন, ভূষনছড়া ইউপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও ভিডিপির পিসি দুলাল তালুকদার দীর্ঘদিন ধরে ভূষন ছড়া-কলাবুনিয়ায় সন্ত্রাস করে আসছেন। প্রতিবাদ করলে তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে মারধরসহ নানান ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলার শিকার হতে হয় এলাকাবাসীকে।   সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, দুলাল তালুকদার এলাকার সুন্দরী মেয়েদের ভয়-ভীতি ও নানান প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে তাদের দিয়ে অন্যজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণের অভিযোগে মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করেন। এ ব্যাপারে পুলিশসহ স্থানীয় প্রশাসনে অভিযোগ জানানোর পরও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ভুক্তভোগীদের অনেকেই বরকল থানায় গিয়ে আইনের আশ্রয় চেয়েও পাননি বলে অভিযোগ করেন সংবাদ সম্মেলনে। সংবাদ সম্মেলনে এক পা-বিহীন পঙ্গু মনোয়ার গাজী অভিযোগ করেন, “আমার পঙ্গুত্বের সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা দুলাল তালুকদার আমার মেয়েকে নষ্ট করে। তাকে রাঙামাটি শহরের ‘হোটেল প্রবাসী’র রুমে নিয়ে জোর করে নগ্ন করে ছবি তোলে এবং এই ছবি দিয়ে এলাকার বিদেশফেরত যুবক মাহফুজ আলমকে ফাঁসিয়ে দেয়।” ধর্ষণের শিকার দাবিদার নাসরিন আক্তার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমি ও আমার বাবা মামলার হাজিরা দিতে একদিন রাঙামাটিতে আসলে দুলাল তালুকদার আমাকে তার রুমে নিয়ে যায় কথা আছে বলে। এরপর দরজা বন্ধ করে আমাকে জোর করে নগ্ন করে ছবি তোলে দুলাল তালুকদার। এরপর দুলাল আমাকে ধর্ষণ করে এবং যেভাবে বলে সেভাবে কাজ করতে হবে জানিয়ে হুমকি দেয়, অন্যথায় আমার ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেবে। এই ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন সময় দুলাল তালুকদার আমাকে রাঙামাটির হোটেল প্রবাসীতে নিয়ে ধর্ষণ করেছে। আমি অসহায় হওয়ায় দুলাল তালুকদার আমাকে দিয়ে মিথ্যা অভিযোগে মাহফুজকে জেল খাটায় এবং বিভিন্ন মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।”   সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মেয়েটি বলেন, “বাবা একজন পঙ্গু মানুষ হওয়ায় আমাকে দিয়ে ইচ্ছেমতো কাজ করিয়েছে দুলাল তালুকদার। কয়েক দিন আগে আমার নগ্ন ছবিগুলো ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা মামুনের সাথে জড়িয়ে এডিট করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয় দুলাল তালুকদারের ভাতিজা দাবিদার আরিফুল। দুলাল তালুকদারের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আমি গত ৪ অক্টোবর বরকল থানা গিয়েছিলাম মামলা  করতে। কিন্তু থানার দায়িত্বরত অফিসার আমাদের ঘটনা শুনে কোনো মামলা নিতে পারবেন না বলে জানান। নিরুপায় হয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।” সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত একাধিক এলাকাবাসী জানান,  দুলাল তালুকদার সরকারি দলের প্রভাব খাটিয়ে এবং আনসার ভিডিপির কমান্ডার (পিসি) পরিচয়ে এহেন কর্ম নেই যা তিনি করেন না। এলাকার সুন্দরী নারীকে তার শয্যাসঙ্গীনি হতে বাধ্য করেন অন্যথায় ওই নারী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের মামলা দিয়ে  হয়রানি করেন।   থানায় আইনি প্রতিকার চাইতে গেলেও মামলা গ্রহণ না করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বরকল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নীলু বড়ুয়া বলেন, “আমি বর্তমানে কক্সবাজার অবস্থান করছি। বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেব।” সংবাদ সম্মেলনের বিষয়টি রাঙামাটি জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. শহিদ উল্লাহর কাছে বিষয়টি তুলে ধরলে ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে বুধবার সকাল সাড়ে দশটায় তার নিজ কার্যালয়ে ভিকটিমকে ডেকে পাঠিয়েছেন তিনি। তিনি জানান, অপরাধী কে, সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়, অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইননানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।” রাঙামাটি জেলার আনসার বাহিনীর কমান্ডেন্ট অফিসার মো.লূৎফর রহমানের কাছে দুলাল পিসির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার বাহিনীর কেউ যদি অপরাধী হয় এবং পুলিশ যদি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে সে ক্ষেত্রে আমার বাহিনীর আইন অনুসারেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।”   বরকল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেনং রাখাইনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি বিষয়টি শুনেছি এবং এই ব্যাপারে দুলাল তালুকদারকে জিজ্ঞাসাও করেছি। কিন্তু সে বিষয়টি অস্বীকার করেছে।” তবে তিনি বলেন, “দলের যত বড় নেতা-ই হোক না কেন, নারী কেলেঙ্কারির মতো ঘটনাগুলোর দায়ভার কোনো অবস্থাতেই দল বহন করবে না।”

আইএস আছে, আইএস নেই

বাংলাদেশে আইএস-এর তৎপরতা আছে কি নেই, তা নিয়ে চলছে জোর বিতর্ক৷ সরকারের পক্ষ থেকে আইএস নেই দাবি করার পর, মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট বলেছেন, ‘‘বাংলাদেশে আইএসসহ সহিংস উগ্রপন্থিদের উত্থান ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র পাশে থাকবে৷'' মার্শিয়া স্টিফেনস ব্লুম বার্নিকাট আরো বলেন, ‘‘আইএস মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় সক্ষমতা আমাদের (যুক্তরাষ্ট্র) রয়েছে৷ আর বাংলাদেশও সক্ষম৷'' তবে এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল দুই বিদেশিকে হত্যার পর দাবি করেছিলেন যে, ‘‘বাংলাদেশে আইএস নেই''৷ ঢাকার গুলশানে ইটালির নাগরিক সিজার তাবেলা এবং রংপুরে জাপানি নাগরিক হোশি কুনিও হত্যাকাণ্ডের পর-পরই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম খবর দেয় যে, ওই দু'টি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট৷ বাংলাদেশের পুলিশ সদর দপ্তর সোমবার তাদের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইএস-এর এই দায় স্বীকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে৷ তাদের দাবি, ‘‘যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত রিটা কাৎস পরিচালিত বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থা সার্চ ফর ইন্টারনাশনাল টেরোরিস্ট এনসিটিজ (সাইট) বিদেশি কোনো গোয়েন্দা সংস্থার বেসরকারি মুখপাত্র হিসেবে এ সব ‘প্রোপাগ্যান্ডা চালাচ্ছে৷'' তবে বাংলাদেশের জঙ্গি বিষয়ক গবেষক এবং মানবাধিকার কর্মী নূর খান বলেন, ‘‘বাংলাদেশে যে আইএস-এর তৎপরতা আছে, তা প্রমাণিত৷ বাংলাদেশের পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা গত দেড় বছরে আইস সদস্য বলে অনেককে আটক করেছে৷ এছাড়া সংবাদমাধ্যমেও তারা এ সংক্রান্ত খবর, তথ্য এবং ফটোগ্রাফ প্রচার করেছে৷ এমনকি বাংলাদেশি নাগরিকদের সিরিয়ায় গিয়ে আইএস-এ যোগদানের তথ্যও আমরা জানি৷ সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে পুলিশের বক্তব্যসহ খবর প্রচার হয়েছে৷'' তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশে যে জঙ্গিরা সক্রিয় এবং তাদের যে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ আছে – তা আমরা অনেক আগে থেকেই লক্ষ্য করে আসছি৷ তারা ইসলামিক স্টেট, জেএমবি না হরকাতুল জিহাদ – তা মূখ্য নয়৷ প্রধান বিষয় হলো বাংলাদেশে জঙ্গিরা আছে এবং ভালোভাবেই আছে৷'' নূর খানের মতে, ‘‘শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেন, আইএসসহ জঙ্গি দমনে যেকোনো দেশেরই সহায়তা নিতে পারে বাংলাদেশ সরকার৷ তবে খেয়াল লাখতে হবে কেউ যেন এর সুযোগ নিতে না পারে৷'' এদিকে আজ মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল যৌথভাবে ঢাকায় অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিকদের সার্বিক পরিস্থিতি জানান৷ তারা দুই বিদেশি হত্যা এবং জঙ্গি বিষয়ে কথা বলেন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ঘণ্টাব্যাপী ব্রিফিং শেষে কূটনৈতিক কোরের ডিন ও যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত রর্বাট গিবসন উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, দুই ঘটনার পূর্ণ চিত্র বাংলাদেশের সরকারের পক্ষ থেকে তুলে ধরা হয়েছে। আশ্বস্থ করা হয়েছে পেশাগত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে তদন্ত হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা হবে। গিবসন বলেন, অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সচিব, পুলিশের আইজি, র্যাব ডিজি ঘটনার বিষয়ে কথা বলেছেন। আমরাও আইডিয়া শেয়ার করেছি। সরকারের তরফে নেয়া পদক্ষেপে কূটনীতিকরা সন্তুষ্ট কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তায় সরকারের পক্ষ থেকে যে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তাতে আমরা কৃতজ্ঞ। ভারতের একটি সংবাদমাধ্যম (টাইমস অফ ইন্ডিয়া) দাবি করেছে যে, বাংলাদেশে দুই বিদেশি হত্যার সঙ্গে আইএস জড়িত নয়৷ সংবাদমাধ্যমটি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার বরাত দিয়ে এই দাবি করে৷-ডিডব্লিউ

গঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জনে বাধা দেয়ায় দাঙ্গা, কারফিউ জারি

ভারতের ধর্মীয় তীর্থস্থান বরানসি নগরীতে প্রতিমা বিসর্জনে বাধাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা শুরু হয়েছে। উত্তেজিত জনতা ও সাধুদের সংযত করতে সেখানে কারফিউ জারি করা হয়েছে। দাঙ্গায় প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছে।
পুলিশের একটি থানা পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। কয়েক ডজন যানবাহন ভাঙচুরও হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার অতিরিক্ত পুলিশও আধা-সামরিক বাহিনী সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
গত মাসে গঙ্গা নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করার ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভকারী একদল সাধুর ওপর পুলিশ সোমবার কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়লে এই দাঙ্গার সূত্রপাত হয়।
সম্প্রতি ভারতের একটি আদালত দূষণ রোধের প্রচেষ্টা হিসেবে গঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জন নিষিদ্ধ করে। কিন্তু সাধুরা বলছেন, এটি তাদের ধর্মের পরিপন্থী।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনী এলাকা বারানসির একজন কর্মকর্তা বলেন, উত্তেজিত জনতা রাজপথে ভাঙচুর শুরু করলে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে।
পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সংঘর্ষে ৪০ কর্মকর্তা ও ৮ বেসামরিক লোক আহত হয়েছেন।
বারানসির জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশংকাজনক উল্লেখ করে বলেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
নগরীতে জারি করা সান্ধ্য আইন তুলে নেয়া হয়েছে, তবে রাজপথে নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত সংখ্যক সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাজমনি যাদব বলেন, ‘যে কোনো অনাকাংক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক প্রহরায় রয়েছে।’
সূত্র : বাসস

নিরাপত্তার তাগিদ কূটনীতিকদের

দেশের নানা প্রান্তে কর্মরত বিদেশী নাগরিক এবং ঢাকাস্থ কূটনীতিকদের নিরাপত্তা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা। সাম্প্রতিক সময়ে দুজন বিদেশী নাগরিককে গুলি করে হত্যার ঘটনায় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত খুনিদের দ্রুত বিচারের আওতায় নিয়ে আসার দাবিও জানিয়েছেন তারা। গতকাল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ ব্রিফিংয়ে ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশী দূতরা এ দাবি জানান। রাজধানীর কূটনৈতিক জোনে ইতালিয়ান নাগরিক খুনের ৫ দিনের মাথায় রংপুরে একজন জাপানি নাগরিককে হত্যার ঘটনায় উদ্বিগ্ন বিদেশী নাগরিকদের আশ্বস্ত করতে সরকারের তরফে ওই কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে আয়োজন করা হয়। পড়ন্ত বিকালের এ আয়োজনে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা দুই মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশ, র‌্যাবের প্রধানসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট এবং পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা ব্লুম বার্নিকাট, কূটনৈতিক কোরের ডিন বৃটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন, জাপানের রাষ্ট্রদূতসহ ৭ কূটনীতিক তাদের উদ্বেগের বিষয় তুলে ধরেন। ঘটনা দুটির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের নেয়া নিরাপত্তায় তারা আপাতত ‘স্বস্তিবোধ’ করছেন বলে জানান। একাধিক কূটনৈতিক সূত্র মানবজমিনকে জানিয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক জোনে নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য সরকারের কাছে কৃতজ্ঞতার পাশাপাশি গৃহীত বাড়তি নিরাপত্তা অব্যাহত রাখা এবং প্রকৃত অপরাধীদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসার বিষয়ে অভিন্ন অবস্থান ছিল বিদেশী দূতদের। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম মানবজমিনকে বলেন, ব্রিফিংয়ে প্রায় ৪৫ কূটনীতিক অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, বৃটিশ, জাপানসহ ৬-৭ জন কথা বলেছেন। ব্রিফিং শেষে প্রতিনিধি হিসেবে কূটনৈতিক কোরের ডিন রবার্ট গিবসন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। বলেন, বিদেশী হত্যার দুঃখজনক দুটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, আমরা তা নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা সর্বত্র বিদেশীদের বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিতের কথা বলেছি। কূটনৈতিক কোরের ডিন রবার্ট গিবসন বলেন, দুই ঘটনার পূর্ণচিত্র বাংলাদেশের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। সরকারের মন্ত্রীদ্বয়, প্রতিমন্ত্রী, দুই সচিব এবং পুলিশের প্রধান আমাদের জানিয়েছেন, অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে দুটি খুনের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে যত দ্রুত সম্ভব বিচারের আওতায় নিয়ে আসার বিষয়েও তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। সেখানে আমরাও আমাদের আইডিয়া শেয়ার করেছি। সরকারি প্রতিনিধিদের বক্তব্য এবং পদক্ষেপে তারা সন্তুষ্ট কিনা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তায় সরকারের পক্ষ থেকে যে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তাতে আমরা কৃতজ্ঞ।
হত্যাকারীদের ধরতে যা যা করা প্রয়োজন তা-ই করা হবে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী: ব্রিফিং শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় মন্ত্রী বলেন, ইতালি ও জাপানের দুজন নাগরিক (সিজার তাভেলা ও হোশি কুনিও) খুনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট পরিস্থিতি এবং সরকারের পদক্ষেপগুলোর বিষয়ে কূটনীতিকদের অবহিত করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডদ্বয়ের তদন্ত স্বচ্ছতা ও পেশাদারির সঙ্গে এগিয়ে চলেছে বলে তাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। ওই হত্যার সঙ্গে জড়িতদের ধরতে সরকারের কাজ করছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা তাদের বলেছি খুনিদের খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করতে আরও যা যা প্রয়োজন তার সবই করবে সরকার। বিদেশীদের ওপর সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে যে তথ্য সরকার পেয়েছিল, সে বিষয়ে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, সন্ত্রাসীরা যারা অপকর্ম ও অপরাধ ঘটায়, তখন কখনও এক জায়গায় থাকে না। এ স্থানে হামলার খবর পাওয়া গেলে দেখা যায় অন্যস্থানে ঘটনা ঘটিয়েছে। এরা জায়গা বদল করে। বিভিন্ন দেশ তাদের নাগরিকদের ভ্রমণে সিকিউরিটি অ্যালার্ট দিয়ে রেখেছে। ব্রিফিংয়ে সেই অ্যালার্ট প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকারের তরফে কোন তাগিদ দেয়া হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ঘটনা দুটির পর অল্প কয়দিন পার হয়েছে। পরিস্থিতি উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে দূতাবাসগুলোও তাদের অ্যালার্ট প্রত্যাহার করে নেবে বলে আশা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সারা দেশে বিদেশীদের নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়ে কূটনৈতিকদের তাগিদ প্রসঙ্গে মন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বলেন, বিদেশী কূটনীতিকদের জানানো হয়েছে, শুধু ঢাকার কূটনীতিক এলাকাতেই নয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেসব বিদেশী নাগরিক বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করছেন, তাদের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিদেশী নাগরিকরা যাতে বাংলাদেশে নিরাপদ বোধ করেন, তার জন্য সম্ভাব্য সবকিছুই করবে সরকার। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের উপস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে এখনও কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিষয়টির তদন্ত চলছে। ব্রিফিংয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত এ নিয়ে তাদের অবহিত করেছেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ব?াংলাদেশে আইএস আছে কিনা যুক্তরাষ্ট্র তা খতিয়ে দেখছে বলে আমাদের জানিয়েছেন দেশটির রাষ্ট্রদূত। দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানিয়েছেন।
খুনিদের খুঁজে বের করার আহ্বান জাতিসংঘের কাউসার মুমিন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে জানান, বাংলাদেশে দুই বিদেশী নাগরিক হত্যার নিন্দা জানিয়ে খুনিদের খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। নিউ ইয়র্ক সময় গত সোমবার জাতিসংঘের মুখপাত্র কর্তৃক প্রেরিত এক বিবৃতিতে এই নিন্দা জানানো হয়। ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাতিসংঘ আশা প্রকাশ করছে যে, বাংলাদেশ সরকার অনতিবিলম্বে হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে দুই বিদেশী হত্যার পরবর্তী ঘটনাবলী একসপ্তাহ কাল পর্যবেক্ষণের পর জাতিসংঘ এই প্রতিক্রিয়া জানালো। এর আগে রাজধানী ঢাকার ডিপ্লোম্যাটিক জোনে বিগত ২৮শে সেপ্টেম্বর ইতালিয়ান নাগরিক তাভেলা সিজার (৫০) দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত হন এবং পরবর্তীতে আইএস এই খুনের দায়িত্ব স্বীকার করে। ওই সময় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭০তম অধিবেশনে যোগদান উপলক্ষে বিশ্বের প্রায় ১৬০টি দেশের রাষ্ট্র বা সরকার প্রধানদের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছিলেন। এছাড়া, ওই সময় সাধারণ পরিষদের উচ্চ পর্যায়ের বিতর্ক নিয়ে জাতিসংঘ সচিবালয়ের ব্যস্ততা ছিল তুঙ্গে। এই ব্যস্ততার মধ্যেও বাংলাদেশে ইতালিয়ান নাগরিক হত্যার পর আইএস-এর দায় স্বীকার নিয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘের মুখপাত্র এই প্রতিনিধিকে বলেন, আমরা সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।
পরবর্তীতে ইতালীয় নাগরিক খুনের কয়েকদিনের মাথায় গত ৩রা অক্টোবর খুন হন জাপানি নাগরিক হোশি কুনিও (৬৫), এবং এই খুনেরও দায়িত্ব স্বীকার করে বিবৃতি দেয় আইএস। এরই প্রেক্ষিতে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে সুনাম অর্জনকারী বাংলাদেশে উগ্রপন্থি জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস-এর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ বিষয়ে জাতিসংঘের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সোমবার জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্রের অফিস এক লিখিত বিবৃতিতে উপরোক্ত প্রতিক্রিয়া জানায়। জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মুখপাত্র এরি কানেকো কর্তৃক প্রেরিত ওই বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকারকে এমন একটি ভয়মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয় যাতে দেশটিতে বসবাসকারী সকল মানুষ বাক-স্বাধীনতাসহ অন্যসব মানবাধিকার নির্বিঘ্নে উপভোগ করতে পারে এবং ভয়মুক্তভাবে চলাফেরা করতে পারে।
জাপানি নাগরিক হত্যা, গ্রেপ্তারকৃত দুজন রিমান্ডে
স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর থেকে জানান, জাপানি নাগরিক হোশি কুনিও হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ২ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। এরা হলেন, হোশি কুনিও’র ব্যবসায়ী পার্টনার হুমায়ুন কবির হিরা ও বিএনপি নেতা হাবীব-উন-নবী খান সোহেলের ছোট ভাই রাশেদুন্নবী খান বিপ্লব। এর আগে কাউনিয়া থানার ওসি রেজাউল করিম বাদী হয়ে ৩ অজ্ঞাতের নামে মামলা করেন। হুমায়ুন কবির হিরা ও রাশেদুন্নবী খান বিপ্লবকে এই মামলায় আসামি দেখিয়ে রংপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউনিয়া আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে বাদী রেজাউল করিম ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ ঘটনায় বাদী পক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আবদুল মালেক জানান, আসামিদের কথায় অসংলগ্নতা থাকায় তাদের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। যা মঞ্জুর করেছেন আদালত। এদিকে গতকাল রংপুর হাজীরহাট বাসস্ট্যান্ড থেকে শাহীপাড়া এলাকার হানিফ মিয়ার পুত্র ডিস ব্যবসায়ী মো. সুমন (২৭) কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে ২০-২২ জনের সিভিল পোশাকধারী তাকে আটক করে নিয়ে যায়। গ্রেপ্তারকৃত সুমনের স্ত্রী সামিয়া গতকাল রংপুর প্রেস ক্লাবে এসে অভিযোগ করেন তার স্বামীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে আটক করে নিয়ে গেলেও র‌্যাব ও থানায় খোঁজ করে তাকে পাওয়া যায়নি। ওদিকে জাপান দূতাবাস থেকে হোশি কুনিও’র মরদেহ গ্রহণের জন্য ৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি প্রতিনিধিদল রংপুরে অবস্থান করছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত লাশ হস্তান্তের প্রক্রিয়া চলছিল। এদিকে জাপানি নাগরিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রংপুরে বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। নগরজুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
জাপানি নাগরিক হত্যাকাণ্ডের মামলার বাদী কাউনিয়া থানার ওসি রেজাউল করিম জানান, শনিবার সকালে মাহিগঞ্জ সংলগ্ন রংপুর-হারাগাছ সড়কের কাউনিয়ার আলুটারি এলাকায় দুর্বৃত্তরা জাপানি নাগরিক হোশি কুনিওকে বুকে তিনটি গুলি করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় কাউনিয়া থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পরপরই পুলিশ জাপানি নাগরিকের ব্যবসায়ী পার্টনার হুমায়ুন কবির হিরাসহ ৪ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। এ হত্যাকাণ্ডের চারদিনের মাথায় নিহত জাপানি নাগরিক হোশি কুনিওর ব্যবসায়িক পার্টনার হুমায়ুন কবির হিরাকে মামলায় আসামি দেখানো হয়। অপর আসামিকেও ঘটনার দিন বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় সাদা পোশাকধারি লোকজন বলে জানায় বিপ্লবের স্ত্রী শিরিন বেগম। কিন্তু পুলিশ বা গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন বারবারই বিপ্লবকে আটকের খবর অস্বীকার করেছে। এরপর বিপ্লবকেও গতকাল গ্রেপ্তার দেখিয়ে দুজনকে রংপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউনিয়ার আদালতে হাজির করে বাদী রেজাউল করিম ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত তার আবেদন গ্রহণ করে আসামিদের ১০দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রাশেদুন্নবী খান বিপ্লব স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের ছোট ভাই। বিপ্লব রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্য।  এদিকে, রংপুরে জাপানি নাগরিক হোশি কুনিও’র লাশ মঙ্গলবার হস্তান্তর করা হবে। এরই মধ্যে লাশ হস্তান্তরের সকল কার্যক্রমও শেষ হয়েছে। জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার জানান, জাপানি দূতাবাসের কর্মকর্তারা এলেই তাদের হাতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত জাপানি নাগরিকের লাশ তুলে দেয়া হবে। লাশটি ময়না তদন্ত শেষে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হিমঘরে রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে দু’দেশের লাশ হস্তান্তর প্রক্রিয়াও অনেকটা সম্পন্ন হয়েছে।
রংপুর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. জাকির হোসেন জানান, রোববার জাপানি নাগরিক হোশি কুনিও’র ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ময়নাতদন্ত করেন রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অ্যধাপক ডা. রফিকুল ইসলাসহ ৫ চিকিৎসক। ময়না তদন্ত কার্যক্রমে জাপানি দূতাবাসের একজন চিকিৎসকসহ দুজন জাপানি কর্মকর্তা ছিলেন। এরপর লাশটি হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। জাপানি প্রতিনিধিদলের কর্মকর্তারা এলেই সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের হাতে হোশি কোনিও’র লাশটি তুলে দেয়া হবে।