Friday, February 1, 2019

নদী নিয়ে কানামাছি খেলা বন্ধ হওয়া উচিত: হাইকোর্ট

আদালতের নির্দেশে উচ্ছেদের পর আবারো নদী দখলের ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। বলেছেন, নদী দখল উচ্ছেদ নিয়ে কানামাছি খেলা হচ্ছে। আমরা নির্দেশ দিচ্ছি, উচ্ছেদ হচ্ছে আবার দখল হয়ে যাচ্ছে। আমরা যে তিমিরে ছিলাম সে তিমিরেই থেকে যাচ্ছি। এই কানামাছি খেলা বন্ধ হওয়া উচিত। তুরাগ নদীর দখল ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশনা চেয়ে করা রিট আবেদনের দ্বিতীয় দিনের রায় ঘোষণাকালে বৃহস্পতিবার এ মন্তব্য করেন বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ।
রায় ঘোষণার আগে হাইকোর্ট রিট আবেদনের আইনজীবী মনজিল মোরসেদের কাছে জানতে চান, নদীরক্ষায় যে সরকার একটি জাতীয় নদীরক্ষা কমিশন করেছে, একটি আইন করেছে সে তথ্য জানাননি কেন? চার নদীরক্ষায় ২০০৯ সালে হাইকোর্টের রায় মোতাবেক জাতীয় নদীরক্ষা কমিশন হয়েছে। আইনও হয়েছে। কমিশন কাজও করছে।
বিচারপতি খায়রুল হক সাহেব যে পরামর্শ দিয়েছেন, সরকার কাজও শুরু করেছে। যেখানে পারছেন না সেখান  থেকে শুরু করতে চাই।
তখন মনজিল মোরসেদ বলেন, আইনের অধীনে নদীরক্ষা কমিশন গঠন হয়েছে এবং কাজ করছে। কমিশন তো নদী সংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তি করবে এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কিন্তু নদী কমিশন তো কার্যকর না। তারা কেবল সুপারিশ ছাড়া আর কিছুই করতে পারে না।
তখন হাইকোর্ট বলেন, ‘নদী দখল করা হচ্ছে, আমরা নির্দেশ দিচ্ছি, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছদ হচ্ছে। কয়েকদিন নিরিবিলি থাকার পর আবার দখল শুরু হচ্ছে। এই কানামাছি খেলা বন্ধ হওয়া উচিত। আপনার রিটে একটি মাইলফলক রায় হতে যাচ্ছে। এই সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত। নদী থাকবে। আবার নদী দখল করার মনোবৃত্তিসম্পন্ন কিছু লোকেরও অভাব হবে না। এর একটা সুষ্ঠু সমাধান হওয়া উচিত। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া উচিত।
মনজিল মোরসেদকে উদ্দেশ্য করে হাইকোর্ট বলেন, কমিশনের কার্যক্রম, এখতিয়ার ও ক্ষমতা নিয়ে আপনি খোঁজ-খবর নিন, আমরাও নেই। রোববার একটা দিক-নির্দেশনা দেবো। হাইকোর্টে এসব মামলা আসাই উচিত না মন্তব্য করে আদালত বলেন, ‘বর্তমানে হাইকোর্টে ৫ লাখ মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। আজকের পর আর যদি কোনো মামলা না নেয়া হয় এবং আমরা বিচারকরা যদি দিনরাত কাজ করি, তাহলেও এই ৫ লাখ মামলা নিষ্পত্তি করতে ৩০ বছর লাগবে।’
আদালত বলেন, ‘জাস্টিস ডিলেইড জাস্টিস ডিনাইড’। এজন্য কমিশন (নদী) যদি সঠিকভাবে কাজ করতো তাহলে অনেক বিষয় আদালতে আসতে হতো না। ফলে মামলা জটেরও সৃষ্টি হতো না।’
সাংবাদিক ও সংবাদ মাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল। তিনি বলেন ‘সাংবাদিকরা অনিয়ম, দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিধায় আমরা অনেক অনিয়মের বিষয়ে জানতে পারছি। তবে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা তো ওই অর্থে আমাদের দেশে নাই। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি প্রকাশ করেছিলেন দুইজন সাংবাদিক।
এ সময় বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আমাদের এখানেও কিছু কিছু অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা হয়। তারাই তো সমাজের হুইসেল ব্লোয়ার।
গত বুধবার এ রিট আবেদনের প্রথমদিনের রায় দেয়া শুরু হয়েছিল। ওইদিন আদালত নদীকে জীবন্ত সত্তা হিসেবে আইনগত (লিগ্যাল পারসন) সত্তা হিসেবে উল্লেখ করেন। এ অর্থ একজন মানুষ যেমন আইনি অধিকার ভোগ করে নদীরও তেমন অধিকার স্বীকৃতি পেলো। আদালত বলেন, জাতীয় নদীরক্ষা কমিশন বা বিদ্যমান আইনের সঙ্গে রায়ের নির্দেশনা যেন সাংঘর্ষিক, পরস্পরবিরোধী বা বাড়াবাড়ি কিছু না হয়, সেজন্য আগামী রোববার বাকি রায় ঘোষণা করা হবে।
মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) তুরাগ নদীর অবৈধ দখলদারদের নাম ও স্থাপনার তালিকা হাইকোর্টে দাখিল করে বিচারিক তদন্ত কমিটির আরজি জানায়। পরে তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিরা রিট আবেদনে পক্ষভুক্ত হন। উভয়পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে গত বুধবার রায় দেয়া শুরু করেন হাইকোর্ট।
আইনজীবী মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, রাজধানীর পাশের চার নদী রক্ষার রিটে জাতীয় নদীরক্ষা কমিশন গঠনের নির্দেশনা ছিল। এর প্রেক্ষিতেই নদীরক্ষা কমিশন গঠন করে সরকার। নদীরক্ষায় সকল বিষয় এ কমিশনের কাছে থাকার কথা ছিল। কিন্তু আইন প্রণেতারা যখন আইন করলেন সেখানে কমিশনকে একটি ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত করেন। অর্থাৎ কমিশন শুধু প্রতিবেদন দিতে পারবে, কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবে না।’
আদালতকে বলেছেন, ‘আমরা এমন একটি রায় দিতে চাই। যাতে অবৈধ দখলমুক্ত করতে এইচআরপিবিকে বার বার আদালতে আসতে না হয়। আদালতের উপর বোঝা না হয়। ২০১৬ সালে একটি ইংরেজি দৈনিকে ‘তুরাগকে মৃত ঘোষণার সময় এসেছে’- শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশের পর হাইকোর্টে রিট আবেদনটি দায়ের করে এইচআরপিবি।

সরজমিন মুগদা হাসপাতাল: রোগীদের অভিযোগ দালালদের দৌরাত্ম্য by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

রাজধানীর ৫০০ শয্যার মুগদা জেনারেল হাসপাতালের সেবা নিয়ে রোগীদের অভিযোগের শেষ নেই। বেশির ভাগ সময়ই পাওয়া যায় না ডাক্তার, নার্স এমনকি হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। আধুনিক যন্ত্রপাতি ও সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও রোগীরা প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন না এখানে। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী থেকে শুরু করে চিকিৎসকদের কাছ থেকে দুর্ব্যবহার পাওয়ার কষ্টের কথা বলছেন রোগীরা। আছে দালালের দৌরাত্ম্যও।
সকালে থেকে হাসপাতালের এক কাউন্টার থেকে অন্য কাউন্টারে ঘুরে সেবা না পাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল সরজমিন দেখা যায়, বহির্বিভাগ ও পরীক্ষা নিরীক্ষার টিকিট কাউন্টার বেলা ১টা না বাজতেই বন্ধ হয়ে গেছে। যদিও বেলা আড়াইটা পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালের কাউন্টারগুলো খোলা রাখার কথা। হাসপাতালের পরিবেশও অপরিচ্ছন্ন।
প্রতিদিন নিয়মিত পরিষ্কার না করার অভিযোগ রোগীদের। অভিযোগ রয়েছে- রোগী দেখার চেয়ে ব্যক্তিগত কাজে বেশি ব্যস্ত থাকেন তারা। হাসপাতালের কাউন্টারগুলো সুবিশাল ও পরিপাটি থাকলেও সংশ্লিষ্ট স্টাফদের সময়মতো দেখা মিলে না। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা বলেন, আসার পর থেকে শুনি ডাক্তার নাস্তা খেতে নিচে নামছে। ওটি রুমে গেছে।
বেলা ১টা বাজতে ২ মিনিট বাকি। কাউন্টারের সামনে জটলা। রোগীরা হৈ চৈ করছেন। প্যাথলজি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আসেন নীলুফার ইয়াসমিন। বয়স ৫০। তিনি বলেন, ১১টার পরই এই কাউন্টার বন্ধ হয়ে যায়। তিনি হাসপাতালের স্লিপ দেখিয়ে বলেন, ঠিকমতো পরীক্ষা করতে পারি না। এখানে শুধু হয়রানি আর হয়রানি। রোগীরা সেবা পান না। এখানকার স্টাফরা শুধু সরকারি বেতন খায় আর রোগী এলে দুর্ব্যবহার করে। কাজের কাজ কিছুই করে না। তার পাশেই একই বয়সের আরেক রোগী শামসুন্নাহার। তিনি অভিযোগ করে বলেন, চারদিন ধরে তিনি রিপোর্টের জন্য ঘুরছেন। কিন্তু রিপোর্ট পাচ্ছেন না। ফলে ওষুধও নিতে পারছেন না। পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট নিতে এলেই কাউন্টারের লোককে খুঁজে পাওয়া যায় না। মাণ্ডা থেকে আসা এই রোগী হার্ট ও ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে ভুগছেন। ঘুরতে ঘুরতে তিনি আরো রোগী হয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেন। শামসুন্নাহার অভিযোগ করে বলেন, এখানকার স্টাফদের ব্যবহার খুব খারাপ। হাসপাতালের তৃতীয় তলায় করানো হয় আল্ট্রাসনোগ্রাম।
এখানে ১২টা ১৫ মিনিটে গিয়ে দেখা যায়, কাউন্টারে সাদা কাগজে হাতে লিখা রিসিট কাটা বন্ধ। অর্থাৎ ওইদিন আর কেউ পরীক্ষা করাতে পারবে না। এ সময় রোগীরা কাউন্টারের সামনে হৈ চৈ করলে কাউন্টার থেকে বলা হয় জরুরি ছাড়া আর হবে না। কাউন্টারের সামনে দাঁড়ানো ইকরাম হোসেন বলেন, এখানে হয়রানি ছাড়া কিছুই হয় না। তিনি জানান, আগের দিন এসেও আল্ট্রাসনোগ্রাম করাতে পারেননি তিনি। হাসপাতালটির ৩৪২ নম্বর কক্ষে আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হয়। ১২টা ২০ মিনিট। রুমের ভেতর থেকে একজন নারী কর্মকর্তা এসে দরজার কাছে অপেক্ষারত রোগীদের বললেন, ১২টার পর আর পরীক্ষা নিরীক্ষা হবে না। তখন উপস্থিত প্রায় পাঁচ-সাতজন রোগী নানা প্রতিক্রিয়া দেখান। মিডিয়ার উপস্থিতি টের পেয়ে ওই নারী উপস্থিত রোগীদের একজনকে দূরে ডেকে নেন এবং পরে আসতে বলেন।
হাসপাতালটির ৫ম তলায় ১২টা ৩৪ মিনিটে গিয়ে দেখা যায়, ডিউটি ডাক্তার (কার্ডিওলজির) রুম ফাঁকা। আশেপাশের নার্সদের জিজ্ঞাসা করলে তারা জানান, চিকিৎসকদের বিষয় তারা কিছু বলতে পারবেন না। ৮ম তলায় ৮১২ নম্বর কক্ষে বসেন চিকিৎসক মাহমুদ হাসান খান। সাড়ে ১২টার দিকে তার রুমে গিয়ে দেখা যায়, রুমের দরজা খোলা কিন্তু ডাক্তার নেই। রোগীরা ডাক্তারকে খুঁজছেন। বহির্বিভাগে ৩১২ নম্বর কক্ষে ১২টা ১৩ মিনিটে গিয়ে রোগীরা চিকিৎসকের দেখা পাননি। আশেপাশের আনসারদের ডাক্তারের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তারা এড়িয়ে যান। ৩১৯ নম্বর কক্ষে ১২টা ১০ মিনিটে গিয়ে ইউরোলজির ডাক্তার দেখাতে পারেননি রোগীরা। দুপুর ১টার দিকে গিয়েও ওই রুম খোলা থাকলেও চিকিৎসকের দেখা মিলেনি। অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে চালু হওয়া এই হাসপাতালের অধিকাংশ টয়লেটই নোংরা। ৫ম তলায় টয়লেটের দরজায় লেখা, এটা নষ্ট। মহিলার ব্যবহার করছে পুরুষদের টয়লেট। রোগীরা অভিযোগ করেন, নতুন হাসপাতাল। অথচ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভাব। এর থেকে দুর্গন্ধ ছাড়ায়। মনে হচ্ছে দেখার কেউ নেই।
হাসপাতালটিতে আছে দালালের দৌরাত্ম্য। ৫ম তলায় কার্ডিওলজি ওয়ার্ডে কথা হয় দালাল জাহিদের সঙ্গে। তিনি নিজেই বর্ণনা দেন তার কর্মকাণ্ডের। তিনি বলেন, তাকে টাকা দেন কয়েকজন নার্স। হাসপাতাল থেকে নয়। এখানে ভর্তি রোগী অন্য জায়গায় নিয়ে গেলে টাকা পাওয়া যায়। এতে নার্সরাও টাকা পান। গত ২৯শে জানুয়ারি বিভিন্ন অনিয়মের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে আরটিভির দুই সংবাদকর্মী হাসপাতালটির কর্মচারীদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন।

চীন-ভুটান সম্পর্কোন্নয়ন ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ by মিসবাহুল হক

ডাক্তার থেকে পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া লোটে শেরিং গত নভেম্বরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন। দায়িত্ব নিয়েই তিনি ভুটানে ভারতের একক কর্তৃত্ব কমাতে উদ্যমী হয়েছেন। ভুটানের অর্থনীতিকে বহুমুখী করে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে তার নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। আর এই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে চীনের প্রতি অগ্রসর হয়েছে দেশটি। চীনও ভুটানের প্রতি ইতিবাচকভাবে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এতে প্রতিবেশী দেশটিতে ভারতের তাৎপর্যপূর্ণ বিদেশ নীতি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। চীন ও ভুটানের মধ্যে ৪৭০ কিলোমিটার স্থল সীমান্ত থাকার পরেও দু’দেশের আনুষ্ঠানিক কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। ভারতে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূতই বিভিন্ন সময়ে ভুটান সফর করেন।
এর মধ্য দিয়েই প্রতিবেশী দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে চলেছে। সম্প্রতি দিল্লির চীনা রাষ্ট্রদূত লুও ঝাওহুই দফায় দফায় থিম্পু সফর করেন। এ সপ্তাহেও একদল চীনা সাংস্কৃতিক কর্মী নিয়ে ভুটান সফরে গেছেন। তারা থিম্পুতে চাইনিজ স্প্রিং ফেস্টিভ্যালের অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এই স্প্রিং ফেস্টিভ্যাল আধুনিক চীনে নববর্ষ উৎসব হিসেবে অভিহিত হয়। থিম্পুতে চীনা নববর্ষের অনুষ্ঠান আয়োজন ও তাতে চীনা সাংস্কৃতিক কর্মীদের অংশগ্রহণ দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারের ইঙ্গিত দেয়।
পর্বতবেষ্টিত ভুটানের অর্থনীতি বর্তমানে ব্যাপকভাবে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ওপর নির্ভরশীল। এতে অর্থায়ন করেছে প্রতিবেশী ভারত। ভুটানের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ভারত চড়া সুদে অর্থায়ন করলেও উৎপাদিত বিদ্যুৎ তুলনামূলক কম দামে কিনে নিচ্ছে। লোটে শেরিং প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি এই জলবিদ্যুতের ওপর ভুটানের ব্যাপক নির্ভরশীলতা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। নির্বাচনী ইশতেহারেও শেরিং ভুটানের অর্থনীতিতে ভারতের ব্যাপক কর্তৃত্বের বিষয়টি তুলে ধরেন। ভুটানের বৈদেশিক বাণিজ্যের ৮০ শতাংশই হয় ভারতের সঙ্গে। আর এই বাণিজ্যের সবচেয়ে বড় উপাদান হলো জলবিদ্যুৎ। লোটে শেরিংয়ের দল দ্রুক নিয়ামরুপ তাশোগপা সংক্ষেপে ডিএনটি’র নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়, ভুটানের অর্থনীতিতে জলবিদ্যুতের মুখ্য ভূমিকার বিষয়টি আমরা স্বীকার করি। কিন্তু এটা জলবায়ু সংক্রান্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয়। ভবিষ্যতে ভূ-জলবায়ু নিয়ে সংকট সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিবেচনায় অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে শুধুমাত্র জলবিদ্যুতের ওপর নির্ভর করে থাকা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। এ ছাড়া, এই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ভুটানী তরুণরা খুবই সীমিত কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে।
ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের ইনস্টিটিউট অব সাউথ এশিয়ান স্টাডিজের সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূ-গর্ভস্থ পানির দিক দিয়ে বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ দেশ হওয়ার পরেও ২০৩০ সাল নাগাদ ভুটানে পানি সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এর মূল কারণ হলো দেশটিতে মাত্রাতিরিক্ত জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উপস্থিতি। ১৯৬১ সালে ভুটানে প্রথমবারের মতো ভারতের আর্থিক সহায়তায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প চালু হয়। এর পর থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভারতীয় কোম্পানি ভুটানে সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে চড়া সুদে ভারতীয় অর্থ গ্রহণ করায় দেশটির কাছে ভুটানের ঋণ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ছাড়া, ভারতীয় কোম্পানিগুলো জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাইরেও বিভিন্ন কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুটানের ভূখণ্ডে এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র অবস্থিত হওয়ার পরেও দেশটির তরুণরা এতে পর্যাপ্ত চাকরির সুযোগ পাচ্ছে না। বরং ভুটানের এই প্রকল্পে ভারতীয়রা অবাধ কর্মসংস্থানের সুবিধা ভোগ করছে। সুস্পষ্ট এই বৈষম্য ডিএনটি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে তুলে ধরেছে।
বিষয়টি বুঝতে পেরে চীন ক্রমেই ভুটানের প্রতি অগ্রসর হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গত বছরের জুলাইতে দিল্লির চীনা রাষ্ট্রদূতকে নিয়ে থিম্পু সফর করেন চীনের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী কং জুয়ানইউ। তারা ভুটানের তৎকালীন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দু’দেশের সীমান্ত সম্পর্কিত বিষয়ে আলোচনা করেন। তারা চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে (বিআরআই) সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য ভুটানকে আমন্ত্রণ জানান। একই সঙ্গে চীনের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অংশীদার হওয়ার প্রস্তাব দেন। ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র ভুটানই বিআরআই প্রকল্পে যোগ দেয়ার লোভনীয় প্রস্তাব উপেক্ষা করতে পেরেছে।
যাই হোক, গত মাসে প্রধানমন্ত্রী শেরিং দিল্লি সফর করেছেন। এটি ছিল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম বিদেশ সফর। এসময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভুটানের দ্বাদশ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি রুপি সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে ৪০০ কোটি রুপি সহায়তা দেয়ার অঙ্গীকার করেন। সফরে নরেন্দ্র মোদিকে ভুটান সফরের আমন্ত্রণ জানান লোটে শেরিং। তবে এই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে মোদি এখনো থিম্পু সফর করেন নি।
এমন পরিস্থিতিতে ভুটানে চীনের গতিবিধির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রেখেছে ভারত। যদিও দোকলাম নিয়ে ২০১৭ সালের বিবাদের পর চীনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। নয়াদিল্লির চীনা রাষ্ট্রদূত নিজেই বলেছেন, ভারত-চীন সম্পর্ক ইতিহাসের অন্যতম ভালো সময় পার করছে।

ইউরোপের পক্ষ থেকে চালু করা ‘ইনসটেক্স’কে স্বাগত জানাল ইরান

ইনসটেক্স চালু করার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করছেন তিন ইউরোপীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইরানের পরমাণু সমঝোতায় স্বাক্ষরকারী ইউরোপীয় দেশগুলো তেহরানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের যে বিশেষ চ্যানেল চূড়ান্ত করেছে তাকে স্বাগত জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ। তিনি বলেছেন, পরস্পরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও সমতার ভিত্তিতে সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রস্তুত হলে ইউরোপের সঙ্গে সহযোগিতা শুরু করতে তেহরানের আপত্তি নেই।
জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেইকো মাস, ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট ও ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-ইভস লা দ্রিয়াঁ গতকাল (বৃহস্পতিবার) রুমানিয়ার রাজধানী বুখারেস্টে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক থেকে ঘোষণা করেন, ইরানের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক লেনদেনের জন্য বিশেষ চ্যানেল চালু করা হয়েছে।
তিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক বিবৃতিতে জানান, বিশেষ এই ব্যবস্থার নাম দ্যা ইনস্ট্রুমেন্ট ইন সাপোর্ট অব ট্রেড এক্সচেঞ্জেস বা ইনসটেক্স। এই আর্থিক চ্যানেল ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস থেকে পরিচালিত হবে এবং জার্মান ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞরা তা পরিচালনা করবে। এ ছাড়া, ব্রিটেন এই বিশেষ ব্যবস্থা তদারকির দায়িত্ব পালন করবে।
প্রাথমিকভাবে এই ব্যবস্থাটি ইরানে খাদ্য, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বিক্রির কাজে ব্যবহার করা হবে এবং ভবিষ্যতে এর পরিধি বাড়বে।
ইউরোপীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক টুইটার বার্তায় লিখেছেন, “আমেরিকা অবৈধ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর ইরানের স্বার্থ রক্ষার মাধ্যমে পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে তিন ইউরোপীয় দেশ ইনসটেক্স নামক যে বিশেষ আর্থিক চ্যানেল চালু করেছে তাকে ইরান স্বাগত জানায়।”

অবৈধ বাংলাদেশীদের ‘ডাম্পিং গ্রাউন্ড’ হতে পারে না আসাম -আসু প্রেসিডেন্ট

আসাম ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে কথিত অবৈধ বাংলাদেশীদের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবারও এসব রাজ্যে এ ইস্যুতে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। রাতে মশাল মিছিল করেছে অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (আসু)। তা থেকে বলা হয়েছে, অবৈধ বাংলাদেশীদের ‘ডাম্পিং গ্রাউন্ড’ হতে পারে না আসাম। আমরা বাঙালিদের বিরুদ্ধে নই। আমরা অবৈধ বাংলাদেশীদের বিরুদ্ধে। এ ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থন প্রত্যাশা করে আসু। এ খবর দিয়েছে অনলাইন স্ক্রোল ডট ইন।
এতে বলা হয়েছে, নাগরিকত্ব (সংশোধিত) বিলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থন প্রত্যাশা করছে আসু। এ জন্য তারা তৃণমূল কংগ্রেসের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছে, যাতে আসামে কোণঠাসা করে ফেলা যায় ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি বিজেপিকে। অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়নের প্রধান উপদেষ্টা সমুজ¦ল ভট্টাচার্য বলেছেন, তার সংগঠন সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ডেরেন ও’ব্রায়েন ও সৌগত রায়ের সঙ্গে সাক্ষাত করেছে। তাতে নিশ্চিত করা হয়েছে এই ইউনিয়ন বাঙালিদের বিরোধী নয়। সমুজ¦ল আরো বলেন, আসামের বাইরে একটি প্রচারণা আছে যে, আমরা বাঙালিদের বিরোধী। কিন্তু আমরা শুধুই অবৈধ বাংলাদেশীদের বিরোধী। আমরা আশা করি আসাম অবৈধ বাংলাদেশীদের ডাম্পিং গ্রাউন্ড হতে পারে না। তাই ভারতে বসবাসকারী, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের বাংলাভাষী সম্প্রদায়কে আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে, আমরা শুধু বাংলাদেশীদের বিরোধী।
উল্লেখ্য, ভারতের ১৯৫৫ সালে প্রণীত নাগরিকত্ব বিষয়ক আইন সংশোধন করে তার নাম দিয়েছে সিটিজেনশিপ (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল। তা পাস করানোর চেষ্টা চলছে। এ আইনের অধীনে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে নির্যাতনের শিকার হওয়া হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টান, যারা ভারতে বসবাস করছেন ৬ বছর ধরে তাদেরকে নাগরিকত্ব দেয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আইনের এই সংশোধন নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওদিকে সম্প্রতি বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ বলেছেন, সব বাঙালি অভিবাসীকে নাগরিকত্ব দেয়া হবে এই বিলটি রাজ্যসভায় পাস হওয়ার পর।
সমুজ¦ল ভট্টাচার্য বলেছেন, এ ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করতে প্রস্তুত অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন। তিনি বলেন, আমরা এ জন্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থন প্রত্যাশা করি। তার সঙ্গে আলোচনা করতে প্রস্তুত আমরা। ভারত যেহেতু একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ, তাই ধর্মের ওরর ভিত্তি করে এখানে নাগরিকত্ব নির্ধারণ করা যাবে না। এ ইস্যুটি হিন্দু বনাম মুসলিম অথবা বাঙালি বনাম আসামের মানুষ কেন্দ্রীক নয়। এ ইস্যুটি হলো নাগরিক বনাম নাগরিক নন এমন মানুষদের ইস্যু।
প্রস্তাবিত এ আইনের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার আসামের গুয়াহাটিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে আসু। অন্য রাজ্যগুলোতেও এ বিক্ষোভ হওয়ার কথা। মণিপুরে একটি গ্রুপ ২৪ ঘন্টার ধর্মঘট ডেকেছে। রাজ্যে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে ত্রিপুরা কংগ্রেস ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট প্রদ্যোত মানিক্য দেব বর্মনের নেতৃত্বের প্রতি ঐক্যবদ্ধ হয়েছে বেশ কিছু উপজাতি রাজনৈতিক দল।
সমুজ¦ল ভট্টাচার্য বলেছেন, অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়নের একজন সদস্য আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল। কিন্তু তিনি রাজ্যের জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। দুঃখজনক হলো আসামের জনগণের প্রতি মনোভাবের কোন পরিবর্তন নেই। একই রাজনৈতিক অবিচার বিরাজ করছে উত্তর পূর্ব ভারতজুড়ে। আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে।

আত্মহত্যার প্ররোচণায় ডা. মিতুর বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে

ডা. তানজিলা হক চৌধুরী মিতুকে গ্রেপ্তারের পর সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানোর কথা জানিয়েছিল পুলিশ। যথাসময়ে সংবাদ সম্মেলন হয়েছেও বটে। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদ শেষ না হওয়ায় পুলিশ তেমন কিছুই জানাতে পারেনি।
তবে আত্মহত্যার প্ররোচনায় ডা. মিতুর বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে এ কথা জানিয়েছেন সংবাদ সম্মেলনের নেতৃত্বে থাকা চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (উত্তর) মো. মিজানুর রহমান। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম মহানগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে এই সংবাদ সম্মেলন হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে নগরীর নন্দনকানন এলাকায় খালাতে ভাইয়ের বাসা থেকে ডা. মোস্তফা মোরশেদ আকাশের স্ত্রী ডা. তানজিলা হক চৌধুরী মিতুকে গ্রেপ্তার করে নগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের একটি দল। এরপর মিতুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানান চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুবর রহমান।
এ সময় শুক্রবার সকাল ১১টায় সিএমপির সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানোর কথাও বলেন তিনি।
কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে এসে নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মো. মিজানুর রহমান বলেন, মিতুকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এখনো। গ্রেপ্তারের পর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আমানত শাহ (র.) মাজার এলাকা থেকে মিতুর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে পুলিশ। নগরীর চান্দগাঁও থানায় পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনায় মামলা হচ্ছে।
মিজানুর রহমান বলেন, ডা. মোস্তফা মোরশেদ আকাশ ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে তানজিলা হক চৌধুরী মিতু, তার পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের ব্যাপারে যেসব অভিযোগ করেছেন সেসব বিষয় যাচাই চলছে। আকাশের মৃত্যুর পেছনে যদি তাদের কারও ইন্ধন থাকে তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে মোস্তফা মোরশেদ আকাশের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি পুলিশ জব্দ করেছে। তবে মোবাইল ফোন থেকে আকাশ তার ফেসবুকে স্ত্রী তানজিলা হক চৌধুরী মিতুর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ ও বিভিন্ন ছবি সম্বলিত যে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন সেগুলো ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মিজানুর রহমান বলেন, এটি আমাদের তদন্তের বিষয়। ডিলিট হলেও সেই স্ট্যাটাস রিকোভার করা সম্ভব।
প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আকাশের পরিবার চান্দগাঁও থানায় মামলা দায়ের করবেন বলে জানা গেছে। তবে পরিবার মামলা না করলেও আকাশের দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসের ডায়িং ডিক্লারেশন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (জনসংযোগ) মির্জা সায়েম মাহমুদ, সিনিয়র সহকারী কমিশনার (পাঁচলাইশ জোন) দেবদূত মজুমদার, চান্দগাঁও থানার ওসি আবুল বাশার, পরিদর্শক (তদন্ত) জোবায়ের সৈয়দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বৃহ¯পতিবার ভোর ছয়টা ২০ মিনিটে নগরীর চান্দগাঁও আবাসিকের বি-ব্লকের ২ নম্বর সড়কের ২০ নম্বর বাসা থেকে ডা. মোস্তফা মোরশেদ আকাশের মরদেহ উদ্ধার করে চান্দগাঁও থানা পুলিশ। ময়নাতদন্ত শেষে রাতে তার লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে বলে জানান চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জহিরুল হক ভুইয়া।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সাড়ে ৬টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মোস্তফা মোরশেদ আকাশকে জরুরি বিভাগে আনা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই সময় চিকিৎসকরা ইনজেকশনে বিষ প্রয়োগ করে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে ধারণা করেন। পরে ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও একই কথা উল্লেখ করা হয়।
চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার বলেন, ডা. আকাশ ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে বিষ প্রয়োগ করে আত্মহত্যা করেছেন। তার শরীরের কোথাও বড় ধরণের আঘাতের চিহ্ন নেই। তবে বাম হাতে ইনজেকশনের সুইয়ের কয়েকটি দাগ রয়েছে।
ওসি বলেন, স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করার পর ডা. আকাশ আত্মহত্যা করেন। এর আগে তিনি ফেসবুকে স্ত্রীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ এনে স্ট্যাটাস দেন। পরপুরুষের সাথে স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ কিছু ছবিও রয়েছে তার ফেসবুক টাইমলাইনে। আমরা সকল তথ্য সংগ্রহ করেছি। মিতুর ঘনিষ্ট কয়েকজনকে আটকের চেষ্টা চলছে।  
ডা. আকাশের মা জোবাইদা আক্তার জানান, বুধবার রাতে স্ত্রীর সাথে ঝগড়া হয় আকাশের। রাত চারটার কিছু আগে মিতু তার বাবাকে ফোন দিলে তিনি গাড়ি নিয়ে এসে মিতুকে নিয়ে যান। এরপর আকাশ মনমরা হয়ে বাসার সোফায় বসে থাকেন। এর কিছুক্ষণ পর মোবাইল চালাতে চালাতে ওয়াশরুমে যান আকাশ। পরে ডাকাডাকির পরও সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে বাথরুমে তাকে পড়ে থাকতে দেখেন। এসময় পাশেই কয়েকটি ইনজেকশনের সিরিঞ্জও পড়ে ছিল।
ডা. আকাশের ফেসবুক টাইমলাইনে দেখা যায়, আত্মহননের কয়েকমুহুর্ত আগে স্ট্যাটাস, ছবি ও ভিডিও দিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে স¤পর্কের অবনতির ঘটনাবলি তুলে ধরেন। তার সর্বশেষ স্ট্যাটাস ছিল ভাল থেক আমার ভালবাসা তোমার প্রেমিকদের নিয়ে।

নাইকির জুতায় ‘আল্লাহ’ লেখা নিয়ে ক্ষোভ মুসলিমদের

বিশ্বখ্যাত স্পোর্টস বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘নাইকি’র ওপর ভীষণ ক্ষেপেছেন মুসলিমরা। কারণ, এ কোম্পানির এয়ার ম্যাক্স ব্রান্ডের জুতায় একটি লেখা। ওই লেখাটি আরবিতে হুবহু ‘আল্লাহ’-এর মতো। এই ব্রান্ডের জুতার সোলে অর্থাৎ নিচে ওই লেখার কারণে মুসলিমদের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভ থেকে তা বিক্রি বন্ধ করতে আহ্বান জানানো হয়েছে নাইকির প্রতি। এ খবর দিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার অনলাইন জাকার্তা পোস্ট।
মুসলিমরা এ জন্য ওই ব্রান্ডের সব জুতা বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, এই লেখার মাধ্যমে ইসলামকে অবমাননা করা হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার একজন মুসলিম ক্রেতা সাইগা নরিন প্রথমে বিষয়টি টের পান। তিনি ওই জুতা কিনতে গিয়ে দেখতে পান তার তলায় আরবী ‘আল্লাহ’ শব্দটি পরিষ্কার লেখা রয়েছে।
সঙ্গে সঙ্গে তিনি অনলাইনে পিটিশন করেন। তাতে ওই কোম্পানিকে বিশ্ব বাজার থেকে এই জুতা প্রত্যাহার করে নেয়ার আহ্বান জানান। এমন লেখার মাধ্যমে নাইকি ইসলামের বিরুদ্ধে অসম্মান দেখাচ্ছে বলে তিনি পিটিশনে দাবি করেন। তিনি লিখেছেন, জুতায় আল্লাহর নাম লেখা রয়েছে। এটা প্রচন্ড ক্ষোভের বিষয়। নাইকি যে এভাবে আল্লাহর নাম ব্যবহার করতে দিয়েছে, বিষয়টি আতঙ্কজনক। এটা মুসলিমদের প্রতি চরম অসম্মান ও আক্রমণাত্মক। এ ছাড়া এর মাধ্যমে ইসলামের অবমাননা করা হয়েছে।
নরিন আরো লিখেছেন, নাইকি বাজারে ছেড়েছে নাইকি এয়ার ম্যাক্স ২৭০ জুতা। এতে যে সোল ব্যবহার করা হয়েছে সেখানে তারা লোগো ব্যবহার করেছে, যা একেবারে আরবি আল্লাহ শব্দটির সঙ্গে মিলে যায়। যা অবশ্যই পদদলিত হবে, লাথি দেয়া হবে, কর্দমাক্ত হবে এমন কি বিশ্বাসে আঘাত করা হবে। তার সঙ্গে একমত হতে সব মুসলিমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি ওই পিটিশনে স্বাক্ষর করার আহ্বান জানিয়েছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১২৫০০ মানুষ তাতে স্বাক্ষর করেছেন। নরিনের টার্গেট ১৫০০০ মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা।
তাকে সমর্থন করেন এমন অনেকে টুইটারে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, নাইকি ইচ্ছা করে ধর্ম অবমাননা করার জন্য এরকম পণ্য তৈরি করেছে। একজন ক্ষুব্ধ মুসলিম লিখেছেন, যাতে পরিষ্কারভাবে আল্লাহ শব্দটি লেখা রয়েছে তা কি করে নাইকি বিক্রির জন্য এভাবে পাঠাতে পারে। সব জুতা প্রত্যাহার করে নিন। বিষয়টি বিরক্তিকর ও আতঙ্কজনক।
তবে মুসলিম সম্প্রদায়কে আহত করার উদ্দেশে এমন লোগো ব্যবহার করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে নাইকি। তারা বলেছে, এটা নাইকি এয়ার ম্যাক্সের ট্রেডমার্ক। স্টাইল করে ওইভাবে লেখা হয়েছে। এতে কোনো ধর্মীয় বিষয় নেই।

গাইডোকে স্বীকৃতি দিলো ইউরোপীয় পার্লামেন্ট

ভেনিজুয়েলার স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট হুয়ান গাইডোকে স্বীকৃতি দিয়েছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। এতে গত নির্বাচনে জয়ী দেশটির সমাজতন্ত্রী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরো জোরদার হল। ওপেক সদস্য ভেনিজুয়েলার গত নির্বাচনে জয় লাভ করেছেন তীব্র বামপন্থী মাদুরো। কিন্তু এ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা। এদিকে, দেশটির বিরোধী নেতা হুয়ান গাইডো নিজেই নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন। এর কয়েক মিনিটের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র তাকে স্বীকৃতি দেয়। এরপর মিত্র দেশগুলোও গাইডোকে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বিবৃতি প্রকাশ করে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গাইডোকে স্বীকৃতি দেয়া হবে কিনা এ নিয়ে ভোটাভুটি হয় ইউরোপীয় পার্লামেন্টে।
এতে পক্ষে ভোট দেন ৪২৯ সদস্য এবং বিপক্ষে ভোট পরে ১০৪টি। ভোটদানে বিরত ছিলেন ৮৮ জন সদস্য। এই ভোটাভুটির বিষয়ে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বিশেষ অধিবেশন বসে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর জন্য ভোটের এই ফলাফল মানা অপরিহার্য নয়। ভোটাভুটির পর ইউরোপীয় পার্লামেন্ট একটি বিবৃতি দিয়েছে। এতে ২৮ জাতির ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত সরকারগুলোকে ভেনিজুয়েলায় অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট গুয়াইডোকে একমাত্র বৈধ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার আহ্বান জানানো হয়।
এর আগে গত শনিবার ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও স্পেন আট দিনের সময় বেধে দিয়ে বলেছিল, এর মধ্যে নতুন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা না করলে গুয়াইডোকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হবে। প্রেসিডেন্ট মাদুরো এসব দেশের ওই শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন।
সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের দাবি গাইডোর
এদিকে, সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের দাবি করেছেন ভেনিজুয়েলার স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট হুয়ান গাইডো। কিন্তু প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে প্রতিদিন টিভিতে সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে। হুয়ান গাইডো জানিয়েছেন, তিনি সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। নিউইয়র্ক টাইমসে লেখা এক প্রবন্ধে গুয়াইদো বলেন, তিনি গোপনে ‘সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন’। তিনি আরো বলেন, সরকার পরিবর্তনের জন্য মাদুরোর উপর থেকে সামরিক বাহিনীর সমর্থন প্রত্যাহার জরুরি। তার দাবি, দেশটির বর্তমান অবস্থা যে সমর্থনযোগ্য নয়, সে ব্যাপারে সামরিক বাহিনীর অধিকাংশ সদস্যই একমত।
কিন্তু প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে প্রতিদিন সরকারি টেলিভিশনে সামরিক শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে। বুধবারও টিভিতে দেখানো এক ফুটেজে মাদুরোকে একটি সেনা ক্যাম্পে দেখা গেছে। সেখানে তিনি সৈন্য ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা কি দেশকে ভালোবাসেন? আপনারা কি সংবিধান রক্ষা করবেন? আপনারা কি আপনাদের কমান্ডার-ইন-চিফকে রক্ষা করবেন? উত্তরে সামরিক সদস্যরা বলেন, হ্যাঁ, কমান্ডার-ইন-চিফ। এর আগে দেশটির সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা মাদুরোর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বিবৃতি দিয়েছে।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইরানের সঙ্গে ইউরোপের লেনদেন!

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞাকে পাশ কাটিয়ে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক লেনদেন করতে যাচ্ছে ইউরোপের কয়েকটি দেশ। জার্মান গণমাধ্যম এনডিআর এমন সংবাদ প্রকাশ করেছে। ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য ইনসটেক্স পদ্ধতি চালু করেছে, যার মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে লেনদেন করা হবে। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া কী হবে সেটি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাণিজ্য বিশ্লেষকরা। তাঁরা মনে করছেন, ইউরোপের দেশগুলো লেনদেন করতে পারবে ঠিকই, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। ইতোমোধ্যে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ লেনদেনের জন্য নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ করেছে। লেনদেন পদ্ধতিটিকে ইনস্ট্রুমেন্ট ইন সাপোর্ট অব ট্রেড এক্সচেঞ্জ তথা ইনসটেক্স নাম দেওয়া হয়েছে। জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স এই লেনদেন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছে।
এই ইনসটেক্স পদ্ধতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই লেনদেন কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে।
এনডিআর জানায়, প্যারিসভিত্তিক এই ইনসটেক্স পদ্ধতি পরিচানলা করছেন জার্মানির ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞরা এবং সার্বিক পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে ব্রিটিশ উপদেষ্টা বোর্ড। ইউরোপের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে এই বাণিজ্যিক পদ্ধতিতে প্রাথমিকভাবে খাবার, ওষুধ ও মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি বিক্রি করা হবে। ভবিষ্যতে এই লেনদেন আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে ইরানের সঙ্গে লেনদেন প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় ইউনিয়নকে সতর্ক করে দিয়েছেন। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রসহ ছয়টি পরাশক্তি দেশের সাথে ইরানের যে চুক্তি হয়, তার ফলে দেশটি তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম শিথিল করার ঘোষণা দেয়। পরে ২০১৮ সালে ট্রাম্প এই চুক্তি ভঙ্গ করে এবং পুনরায় ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ আরোপ করেন। এতে ফের চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে ইরান। এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন দাবি করছে, পারমাণবিক চুক্তি ইরান ভঙ্গ করেনি, তাই ইরানের সঙ্গে লেনদেন চলতেই পারে।

সরজমিন প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি: দালালদের ওয়ানস্টপ সার্ভিস by নূর মোহাম্মদ

রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) ও ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়। সোমবার সকাল পৌনে ১১টা। সেখানে আসেন শেরপুরের নালিতাবাড়ী কসলপাড়া ইউনিয়নের প্রাইমারি স্কুলের সহকারী শিক্ষক তোয়েব আলী। ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ে অফিসে আসতেই দালালদের ডাক। কি কাজ আমাদের দেখান। তোয়েব আলীও তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে তার বদলির বিস্তারিত বললেন। তিনি দালালদের বলেন, গত বছর শেরপুর থেকে ময়মনসিংহ বদলির জন্য আবেদন করেছিলাম। আমার স্ত্রী ময়মনসিংহ সদরে একটি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক।
এ ছাড়াও সন্তানরা পড়াশুনা করে ময়মনসিংহে। গত বছর উপজেলা ও জেলা শিক্ষা অফিসের ফরওয়ার্ডিং থাকার পরও বিভাগীয় কার্যালয় থেকে ছাড়পত্র মিলেনি। টানা তিন মাস চেষ্টা করেও সেই বদলির অর্ডার করাতে পারে নি। তিনি বলেন, এবার আগে বিভাগীয় কার্যালয়ের সিগন্যাল পাওয়ার পর উপজেলা ও জেলায় যাবো। তিনি জানান, গত বছর এই অফিসের একজনের সঙ্গে ১ লাখ টাকা চুক্তি করি।
অগ্রিম ৫০ হাজার টাকাও দেই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি ব্যর্থ হন এবং টাকা ফেরত দেন। দালালরা তার সব কথা শোনার পর বলে, আমরা এক জায়গা থেকে সব করে দেবো। আপনাকে উপজেলা ও জেলায় যেতে হবে না। বিনিময়ে টাকা লাগবে দেড় লাখ। অর্ধেক অগ্রিম দিতে হবে। বাকিটা কাজের পর। সব শোনার পর তোয়াব আলী যান বিভাগীয় অফিসে। কিন্তু উপ-পরিচালকের দেখা পাননি। তার অভিযোগ, এর আগেও তার সাক্ষাৎ পায়নি। দালালদের হাতে কাজ দিতে এই অফিস থেকে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করা হয়েছে। জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলির সময়। এ তিন মাস কোনো শিক্ষকের সঙ্গে সাক্ষাৎ দেন না উপ-পরিচালক। অন্য কর্মকর্তাদের কাছে গেলে বলে, স্যারের সঙ্গে দেখা করেন। কিন্তু স্যারের সাক্ষাৎ আর পাই না।
সুমনা। নরসিংদীর রায়পুরা থেকে নারায়ণগঞ্জ বদলি হওয়ার আবেদন নিয়ে এসেছেন ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ে। স্বামী নারায়ণগঞ্জ ভূমি অফিসে চাকরি করেন।
রায়পুরা ও নরসিংদী জেলা শিক্ষা অফিসের ফরওয়ার্ডিং থাকার পরও প্রায় একমাস ধরে ঘুরাচ্ছে আঞ্চলিক অফিস। সুমনার অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জ সদরের যে স্কুলে তিনি যেতে চান সেখানে কোনো পদ ফাঁকা নেই বলে আমাকে বলা হচ্ছে। অথচ পদ ফাঁকা আছে এবং আমার স্বামীর সঙ্গে ওই অফিসের একজন টাকা দিলে বদলি করে দেয়ার কথা বলেছে। তার অভিযোগ, গোপনে আঞ্চলিক অফিসের সঙ্গে এক ধরনের লেনদেন হয় উপজেলা শিক্ষা অফিসের। কেউ বদলির আবেদন করলেই দুই অফিসে একই কথা বলে পদ ফাঁকা নেই। অন্যদিকে আগে থেকে ২ থেকে ৪ লাখ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে একেকটি পদে বদলি করা হয়।
শুধু তোয়েব আলী কিংবা সুমনা নয়, বদলির কাজ করাতে এসে এমন হয়রানি বা দালালের খপ্পরে পড়েননি এমন শিক্ষক পাওয়া মুশকিল। যারা প্রভাবশালীদের তদবির নিয়ে আসেন তাদের বিষয় ভিন্ন।
প্রাথমিক শিক্ষার নিয়ন্ত্রক এই দুই অফিসে চারপাশে মৌসুমী দালালদের দৌরাত্ম্য দেখা যায় অহরহ। শিক্ষকদের বদলি করিয়ে দেয়ার নামে দালালরা চালু করছে ‘বদলির ওয়ান স্টপ সার্ভিস’। অন্যান্য বদলি থেকে প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকদের বদলির প্রক্রিয়া জটিল। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে গত কয়েক বছর ধরে দালালরা প্রকাশ্যে শিক্ষকদের বদলি করানোর নামে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তবে দালালদের এই অপতৎপরতার বিষয়ে কোনো তথ্য নেই কর্তৃপক্ষের কাছে। তাদের দাবি ডিপিইতে সব কাজ নিয়মমতো হয়। এখানে দালাল প্রবেশের সুযোগ নেই। সরজমিন তথ্য পাওয়ার বিষয়ে জানালে তা খোঁজ নিয়ে দেখার কথা বলা হয় অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রাথমিক শিক্ষা ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের দুই তলায় উপ-পরিচালকের কক্ষ।
কিন্তু জানুয়ারি থেকে মার্চ- এ তিন মাস বদলির সময় তিনি দুই তলার পরিবর্তে অফিস করেন তিন তলায়। সেখানেই ফাইলসহ সব কাজ সারেন। তবে সেই খবর শুধু এখানকার কয়েকজন জানেন। শিক্ষকরা খোঁজ করলেও সোজা জবাব, স্যার অফিসে নেই। কখনও মন্ত্রণালয়, কখনও ডিপিই আর কখনও মিটিং-এ আছেন বলে শিক্ষকদের বিদায় দেন। ভুক্তভোগী শিক্ষকদের অভিযোগ, প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি খুবই জটিল প্রক্রিয়া। বদলি হওয়ার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে একজন শিক্ষককে তার কর্মস্থলের প্রধান শিক্ষক, উপজেলা এবং জেলা শিক্ষা অফিসের ছাড়পত্র নিয়ে বিভাগীয় কার্যালয়ে জমা দিতে হয়। বিভাগীয় কার্যালয় থেকে তার চাহিদামতো জেলা, উপজেলায় তার বদলির জন্য ছাড়পত্র চাওয়া হয়। দুই দিকের ছাড়পত্র পাওয়ার পরই ফাইলের কাজ শুরু হয়। সব ছাড়পত্রের পর বদলি হলেও স্থানীয়ভাবেও বিড়ম্বনায় পড়েন শিক্ষকরা। এসব বিড়ম্বনা ও জটিলতার কারণে অনেক শিক্ষক বদলির প্রথম ধাপেই দালাল বা তদবিরের খোঁজ করেন।
পুরো অভিযোগের ব্যাপারে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ইন্দু ভূষণ দেব মানবজমিনকে বলেন, দালালদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়ার প্রশ্নই আসে না। অফিসে না থাকার ব্যাপারে তিনি বলেন, এসব অভিযোগ আমার আমলে কেউ প্রমাণ করতে পারবে না। আগের উপ-পরিচালক কি করেছেন সেটি তো আমি বলতে পারবো না। তবে এখন কোনো শিক্ষক এসে আমাকে পায় না এমন নজির নেই। আইনের মধ্যে থাকলে বদলির আবেদন বিবেচনা করা হয় বলেও জানান তিনি। 
প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন পর চলতি বছর প্রাথমিক শিক্ষকদের ঢাকায় বদলির নীতিমালা শিথিল করা হয়েছে। উঠিয়ে দেয়া হয়েছে সিটি করপোরেশনে বদলি হওয়া যাবে না এমন কঠিন শর্ত। এরপরই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকাধীন প্রাথমিক স্কুলে দুই শতাধিক শূন্য আসনের বিপরীতে বদলির আবেদন পড়েছে প্রায় ৩৫ হাজার। আবেদনের সঙ্গে রয়েছে এমপি, মন্ত্রীদের ডিও লেটারসহ উপর মহলের তদবির। ফলে কাকে বাদ দিয়ে কাকে ঢাকায় বদলি করবেন তা নিয়ে বিপাকে রয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক স্কুলে প্রায় তিন লাখ সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। নানা কারণে অনেকে ঢাকায় পদায়ন চান। এ কারণে তারা উপর মহলের নীতি-নির্ধারকদের ধরে নানাভাবে বদলি তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।
জানা গেছে, প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষক বদলি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করে বদলি বিধিমালা সংশোধন করা হয়েছে। সেখানে যোগ্যতা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ও স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল ঢাকা হলেই সুবিধামতো স্থানে বদলি হতে পারবেন। বেশির ভাগ বদলির প্রার্থীর আবেদনে বিয়ের কারণে স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থলে বদলি হতে চান। শুধু তাই নয়, বিধবা বা তালাকপ্রাপ্ত বা বড় কোনো দুর্ঘটনার শিকার প্রার্থীরা সুবিধামতো স্থানে বদলি হতে চান।
এ ব্যাপারে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সোহেল আহমেদ মানবজমিনকে বলেন, প্রাথমিকে বদলির ব্যাপারে কোনো দালালের কাজ নেই। একজন শিক্ষক নিজ হাতেই সব করার সুযোগ রয়েছে। তারপরও কেউ যদি দালাল ধরেন সেটি তার ব্যাপার। তিনি বলেন, এ অফিসে কোনো দালাল ঢোকার কোনো সুযোগ নেই। তারপরও অভিযোগের বিষয় গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: হঠাৎ বদলে গেছে দৃশ্যপট by জিয়া চৌধুরী

প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশের ইতিহাস, নানা আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়া এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ছাত্র সংসদ নির্বাচন। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয়টির কেন্দ্রীয় ও হল সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এখন সরগরম পুরো ক্যাম্পাস। হলের কক্ষে কক্ষে, গণরুম, কমনরুম-ক্যান্টিনে, চায়ের দোকানে কিংবা টিএসসি চত্বরে সবখানেই আলোচনার বিষয় এখন ‘ডাকসু নির্বাচন’। সাধারণ শিক্ষার্থী থেকে ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মী সবার মুখে ডাকসু ভোটের আলাপ। নির্বাচনকে ঘিরে হলে ও ক্যাম্পাসের রাজনীতিতে অনিয়মিত থাকা অনেকেই ক্যাম্পাসে আসছেন।
জানান দিচ্ছেন নিজেদের উপস্থিতি। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা সরজমিন ঘুরে পাওয়া গেছে এমন চিত্র। তবে নির্বাচন ঘিরে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের আড়ালে সংশয়ও আছে সাধারণ শিক্ষার্থী ও নেতাকর্মীদের মনে।
সবার চাওয়া একটি সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচন। শহীদুল্লাহ হলের এক শিক্ষার্থী জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হলে খাবারের মান উন্নত করা হয়েছে। ছাত্রলীগের বড় ভাইয়ারা এসব তদারকি করছেন। কোনো শিক্ষার্থীর সমস্যা হচ্ছে কিনা এসব বিষয়ে খোঁজখবর রাখছেন তারা। জিয়া হলের আরেক শিক্ষার্থী জানান, তাদের হলে গণরুমে বড় ভাইদের শাসন-খবরদারি অনেকটা বন্ধ হয়ে গেছে।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো রূঢ় আচরণ না করতে মৌখিকভাবে নির্দেশ দিয়েছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। হলের পরিবেশে কেউ যাতে অসন্তুষ্ট হয়ে হল ছেড়ে চলে না যায় সে বিষয়েও তদারকি করা হচ্ছে। পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীন হলের সামনে লাগোয়া খাবার দোকানগুলোতে ভরদুপুরেও ভোটের আলাপে ব্যস্ত শিক্ষার্থীরা। দোকানগুলোতে এখন ভোটের চায়ের ক্রেতাই বেশি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ টিএসসি চত্বরেও দেখা গেছে একই পরিবেশ। কেন্দ্রীয় বা হল সংসদে প্রার্থী হবেন এমন শিক্ষার্থীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের আপ্যায়ন করছেন। শুধু চায়েই সীমাবদ্ধ থাকছে না আপ্যায়ন। মিষ্টি ও অন্য খাবারও যুক্ত হচ্ছে তালিকায়। ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী আল নীরব জানান, ভোট উপলক্ষে ক্যাম্পাসে এখন উৎসব উৎসব ভাব। হলে কিংবা হলের বাইরে অনেক প্রার্থী নিয়মিত আমাদের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। ভোটারদের মন জোগাতে সব চেষ্টাই করছেন তারা। যদিও নিজেই হল সংসদে প্রার্থী হতে চান নীরব।
নির্বাচিত প্রতিনিধিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সোনালী অতীত ফেরাবেন বলে প্রত্যাশা তার। ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন শরীয়ত উল্লাহ। নির্বাচনের নামে কোনো প্রহসন চান না শরীয়ত। বলেন, হলগুলোর পরিবেশ উন্নত করা, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর বিপরীতে নতুন হল বানানো এসব উদ্যোগ যারা নিবে তাদেরকেই ভোট দেবেন তিনি। মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী তমা রশিদ অবশ্য স্রোতের উল্টো দিকে। তিনি খুব একটা রাজনীতি সচেতন নন, ডাকসু ভোট নিয়েও খুব একটা মাথাব্যথা নেই তার। তবে ডাকসু নির্বাচন ঘিরে ক্যাম্পাসে কোনো অস্থিতিশীল পরিবেশ বা দাঙ্গা-হাঙ্গামা চান না তিনি। সেশনজট চিরতরে বন্ধ আর ক্যাম্পাসে শান্তি চান এই শিক্ষার্থী। তার সঙ্গে একমত পোষণ করেন নাট্যকলা বিভাগের তামান্না ইসলাম মুমু ও স্বর্ণা আক্তার। তবে নির্ধারিত তারিখে ভোট হওয়া ও ভোটের পরিবেশ নিয়ে সংশয় আছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনে। ভোটের তারিখ পেছাতে পারে বলেও জানিয়েছেন বেশ কয়েকটি সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেয়া সিদ্ধান্ত সঠিক হয়েছে বলে মনে করেন জসীম উদ্‌দীন হলের শিক্ষার্থী তানভীর হাসান সৈকত। টিএসসি এলাকায় তিনি বলেন, ২৮ বছর ধরে শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ডাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে এর অবসান চাই আমরা। পাশাপাশি, ক্যাম্পাসে শিক্ষকদের একনায়কতান্ত্রিক ক্ষমতায়নের সংসৃ্কতিরও অবসান চান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম ও সহশিক্ষা কার্যক্রমকে সক্রিয় করতে ডাকসু কাজ করে যাবে বলে মনে করেন এই শিক্ষার্থী। বলেন, ছাত্রসংসদ কার্যকর হলে স্বাভাবিক পরিবেশ ও সবার ক্ষমতায়নে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হবে। ছাত্র ইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক রাজীব দাস অবশ্য কিছুটা দ্বিমত এই বিষয়ে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১১টি ছাত্র সংগঠনের সুপারিশ আমলে নেয়নি। উল্টো প্রার্থীদের বয়স বাড়িয়ে ৩০ বছর ও হলে ভোটকেন্দ্র দিয়েছে প্রশাসন। সরকার সমর্র্থিত ছাত্র সংগঠনকে সুবিধা দিতেই প্রশাসন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
এত বছর পর নির্বাচন যে হচ্ছে বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখেন ছাত্র ফেডারেশনের বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজীর। তবে হলের বাইরে ভোটকেন্দ্র দেয়া ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ চান তিনি। সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্রলীগের সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেল মানবজমিনকে বলেন, যেহেতু বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে আছি, সংগঠন আমাকে যোগ্য মনে করলে প্রার্থী হতে চাই। নির্বাচিত হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার ও বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে কাজ করবো। সুযোগ পেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে তাদের ন্যায্য দাবি প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে চান এই ছাত্রলীগ নেতা। শুধু নেতাকর্মীরাই নয়, সাধারণ শিক্ষার্থীরাও হল সংসদে প্রার্থী হবেন বলে সহপাঠীদের জানান দিচ্ছেন। এমন একজন শিক্ষার্থী গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মোসাদ্দিক বিল্লাহ। থাকেন জিয়া হলে। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির শুরু থেকেই ডাকসুতে প্রার্থী হবার ইচ্ছে ছিল তার। নির্বাচনের ডামাডোলে নিজের ইচ্ছা পূরণ করতে চান এই শিক্ষার্থী। হল সংসদে নির্বাচন করবেন বলে এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘোষণা দিয়েছেন। তবে ভোট যেন সুন্দর পরিবেশে হয় সে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন মোসাদ্দিকের মতো সব শিক্ষার্থী।

তুষারের স্বীকারোক্তি: শিশু ধর্ষণের পর হত্যা by শাহনেওয়াজ বাবলু

সকাল ১০টা। বাড়ির পাশে খেলছিল চারবছর বয়সী নাবিলা আক্তার। সামনে আরেক নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদে মোবাইলফোনে ব্যস্ত মেডিকেলের ছাত্র মেহেরাজ হোসেন তুষার। মোবাইলফোনে অশ্লীল ভিডিও দেখছিলো তুষার। ঠিক ওই সময় তার নজর পড়ে খেলতে থাকা শিশু নাবিলার ওপর। তাকে ছাদে ডাকে তুষার। শিশু নাবিলা সেখানে গেলে তাকে আবার নিচে নিয়ে যায়।  সেখানেই পশুত্বের প্রকাশ ঘটায় তুষার। নির্মাণাধীন নির্জন বাড়ির এককোণে শিশুটিকে ধর্ষণ করে সে।
এ সময় নাবিলা চিৎকার করলে তার গলা চেপে ধরে তুষার। ছটপট করতে থাকে শিশু নাবিলা। একপর্যায়ে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যায় এই ফুটফুটে শিশুটি। এ ঘটনায় তুষারকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে এভাবেই ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়েছে সে। প্রায় দেড় মাস পর গতকাল আসামি তুষারকে গ্রেপ্তার করে কুমিল্লা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
বুধবার দিবাগত রাত পৌনে ১টায় কুমিল্লা সদর উপজেলার বাখরাবাদ এলাকা থেকে তুষারকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সহিদার রহমান মানবজমিনকে বলেন, গ্রেপ্তারের পর শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার বিষয়টি বিজ্ঞ আদালতে স্বীকার করেছে তুষার। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ছাত্র  মেহেরাজ হোসেন তুষার।
গত ১৭ই ডিসেম্বর সকালে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় নাবিলা আক্তার। পরের দিন ভোরে নাবিলার লাশ পাওয়া যায় পাশের এক পরিত্যক্ত বাড়িতে। সিমেন্টের ব্যাগে পেঁচিয়ে রাখা হয়েছিল ফুটফুটে এই শিশুটিকে। ১৮ই ডিসেম্বর সকালে নাবিলার লাশ দেখতে পান স্থানীয় নূরানী মাদ্‌রাসার শিক্ষক তাজামুল ইসলাম। তিনি জানান, ফজরের নামাজ পড়ে হাঁটতে গিয়ে নাবিলার লাশ দেখতে পান। পরে সবাইকে খবর দেন তিনি।
বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান নাবিলা। তার বাবা আবুল কালাম প্রবাসী। মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে পরের দিনই ছুটে আসেন দেশে। গত ১৯শে ডিসেম্বর আবুল কালাম বাদী হয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
নাবিলার পিতা আবুল কালাম মানবজমিনকে বলেন, আমার এই শিশু বাচ্চাটির কী দোষ ছিল। সেতো কারো ক্ষতি করে নাই। পৃথিবীর কোনো কিছুই সে বুঝতে শিখেনি। এই শিশুটিকে কিভাবে ধর্ষণ করা হলো, কিভাবে হত্যা করা হলো? তিনি রাষ্ট্র ও দেশবাসীর কাছে তার শিশুসন্তানটির হত্যার বিচার দাবি করে বলেন, আর যেন কোনো মা-বাবা এভাবে তার সন্তানকে হারাতে না হয়। এ ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক মন্তব্য করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক মানবজমিনকে বলেন, একটা অবোধ শিশুকে যৌন নির্যাতন ও হত্যা- এটা কারো কাম্য নয়। আমি এর উপযুক্ত বিচারের দাবি জানাচ্ছি।

যে কারণে পাক হাইকমিশনারকে গ্রহণে বাংলাদেশের অস্বীকৃতি by মিজানুর রহমান

ঢাকায় পাকিস্তানের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে কূটনীতিক সাকলাইন সৈয়দাকে গ্রহণে পুরোপুরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে বাংলাদেশ। তার বদলে নতুন কাউকে নিয়োগের প্রস্তাব পাঠানোর বার্তা দিয়েছে ঢাকা। গত ফেব্রুয়ারিতে সৈয়দাকে পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগের প্রস্তাব (এগ্রিমো) পাঠায় ইসলামাবাদ। এগ্রিমো আসার দুই মাসের মাথায় তিনি সরকারি ডেলিগেশনে বাংলাদেশ সফর করেন। ওআইসি সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব তাহমিনা জাঞ্জুয়ার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন মন্ত্রণালয় মহাপরিচালক (কারস অ্যান্ড ইকো) সাকলাইন  সৈয়দা।
ঢাকায় তার সফর এবং কিছু বিষয়ে তার ব্যক্তিগত রিজার্ভেশনের বিষয়টি কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত বলে মনে করে ঢাকা। যদিও এ নিয়ে ঢাকার তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ কিছু বলছেন না। ওই দূতকে গ্রহণে অসম্মতির বিষয়ে সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানি মিডিয়ায় নানা রকম খবর বেরিয়েছে।
সংবাদমাধ্যমগুলো দূত নিয়োগকে কেন্দ্র করে দুই দেশের শীতল সম্পর্কের আরো অবনতির ইঙ্গিত করেছে। এ নিয়ে ঢাকার স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা না থাকার বিষয়টিও সামনে আসছে পাকিস্তানি মিডিয়ায়। কিন্তু ঢাকার মতোই ইসলামাবাদ আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে কিছু বলেনি। ওয়াকিবহাল কূটনীতিকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক আইন বা কনভেনশন মতে হোস্ট কান্ট্রি বা স্বাগতিক দেশের তরফে দূতকে গ্রহণ বা অসম্মতিতে কোনো ব্যাখ্যা জরুরি নয়।
ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী স্বাগতিক  দেশ আপত্তি জানালে নাম পরিবর্তনের বিধান রয়েছে। পাকিস্তান সরকার কূটনীতিক সৈয়দার বদলে নতুন কারও নাম প্রস্তাব করতে পারে। তাকে গ্রহণে ঢাকার সম্মতি পাওয়ার জন্য ১১ মাস অপেক্ষার কোনো প্রয়োজন ছিল না। ‘বিভিন্ন কারণে’ ওই কূটনীতিককে বাংলাদেশ গ্রহণ করবে না সেই বার্তা ইসলামাবাদ অনেক আগেই পেয়েছে। কিন্তু তারা এতদিনেও নতুন কোনো নাম পাঠায়নি। বিদেশ নীতি সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ সরকারের একাধিক প্রতিনিধি গতকাল মানবজমিনকে বলেন, কূটনৈতিক শিষ্টাচার মেনে পাকিস্তান নতুন কারও নাম পাঠালে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে। তবে অবশ্যই হাইকমিশনার হিসেবে প্রস্তাবিত ব্যক্তিকে বাংলাদেশ প্রশ্নে ইতিবাচক মনোভাব সম্পন্ন হতে হবে।
পাকিস্তানের সঙ্গে ঐতিহাসিক কারণেই বাংলাদেশের সম্পর্ক শীতল উল্লেখ করে ঢাকার এক কর্মকর্তা বলেন, সম্পর্ক ‘উষ্ণ’ করার একমাত্র পথ হচ্ছে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দেশটির আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়া। কিন্তু এমন সিদ্ধান্তের প্রশ্নে দেশটির নীতিনির্ধারণী মহল বিভক্ত। তবে ইতিবাচক দিক হচ্ছে বাংলাদেশের নতুন সরকারকে অনেক আগেই স্বাগত জানিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অভিনন্দনও জ্ঞাপন করেছেন।
পাকিস্তানি সংবাদ মাধ্যমের ভাষ্য- এদিকে দূত নিয়োগে ঢাকার অস্বীকৃতির বিষয়ে পাকিস্তানের অনলাইন ডেইলি টাইমস ও পাকিস্তান টুডে পৃথক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যার ভাষ্য প্রায় অভিন্ন। সেখানে বলা হয়েছে- এ নিয়ে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের আরো অবনতি হয়েছে। ঢাকায় পাকিস্তানের নতুন হাইকমিশনার সাকলাইন সৈয়দাকে মঙ্গলবার মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানানো এবং এ পদের জন্য অন্য কারও নাম চাওয়ার ফলে নতুন মাত্রায় নেমে গেছে এ সম্পর্ক।
ওই রিপোর্টে কূটনৈতিক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, কি কারণে সাকলাইন সৈয়দাকে ক্রেডেনশিয়াল বা স্বীকৃতি দেয়া হয়নি সে বিষয়ে কোনো কারণ উল্লেখ করেনি বাংলাদেশ সরকার। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে হাইকমিশনার হিসেবে রফিউজ্জামান সিদ্দিকী অবসরে যাওয়ার পর থেকে পাকিস্তান হাইকমিশনারের পদটি ফাঁকা। এ অবস্থায় বাংলাদেশে পাকিস্তানের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয় সাকলাইন সৈয়দার। তিনি পাকিস্তান ফরেন সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা। পাকিস্তানি প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরুর পর থেকেই ইসলামাবাদ ও ঢাকার মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে। ১৯৭৪ সালে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির পরে ওই বিচার স্থগিত ছিল।

স্ত্রীর ‘বেপরোয়া’ জীবন, চিকিৎসকের আত্মহত্যা by ইব্রাহিম খলিল

স্ত্রীর বিরুদ্ধে বেপরোয়া জীবন আর একাধিক সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ। ছবি শেয়ার। তীব্র অভিমান আর ক্ষোভ জানিয়ে আত্মহত্যা করলেন চট্টগ্রামের তরুণ চিকিৎসক মোস্তফা মোরশেদ আকাশ। ফেসবুকে তার শেষ স্ট্যাটাস ছিল- ভালো থেকো আমার ভালোবাসা তোমার প্রেমিকদের নিয়ে।
বৃহসপতিবার ভোরে চট্টগ্রাম মহানগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার দুই নম্বর সড়কের ২০ নম্বর বাসা থেকে ৩৩ বছর বয়সী এই চিকিৎসকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
মোস্তফা মোরশেদ আকাশ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বাংলাবাজার বরকল এলাকার মৃত আব্দুস সবুরের ছেলে। এমবিবিএস শেষ করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে কর্মরত ছিলেন তিনি। সঙ্গে এফসিপিএস পড়ছিলেন। এখন সেই মেডিকেলের মর্গে পড়ে আছে তার মরদেহ!
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জহিরুল হক জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ডা. আকাশকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়।
এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসকরা বলছেন-ডা. আকাশ শরীরে ইনসুলিন ইনজেকশন পুশ করে আত্মহত্যা করেছেন। তার শরীরের কোথাও আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তার মৃত্যুর কারণ আরো সপষ্ট হওয়া যাবে। নিহতের স্বজনদের দাবি, কুমিল্লা মেডিকেলে পড়ুয়া স্ত্রী তানজিলা হক মিতুর সঙ্গে ঝগড়া করে বুধবার রাতে আকাশ অভিমানে শরীরে ইনজেকশন পুশ করে আত্মহত্যা করে।
নিহতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সঞ্জয় শুভ্র জানান, আত্মহত্যার এক ঘণ্টা আগে আকাশ নিজের ফেসবুকে স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে একটি স্ট্যাটাস দেন। যাতে স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার পাশাপাশি অভিমান এবং ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে।
ডা. আকাশের ফেসবুক প্রোফাইলে গিয়ে বেশকিছু স্ট্যাটাস দেখা যায়। যেখান থেকে সহজেই অনুমেয় দামপত্য জীবনে অসুখী ছিলেন তিনি। স্ট্যাটাসে তিনি তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে বহুগামিতার অভিযোগ তুলেছেন। তা প্রমাণে একাধিক ছেলের সঙ্গে স্ত্রীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবিও যুক্ত করেছেন।
আত্মহত্যার আগে স্ট্যাটাসে নিজের মায়ের কাছেও ক্ষমা চান-মা তুমি মাফ করে দিও। তোমার স্বপ্নপূরণ করতে পারলাম না। মায়ের ভালোবাসার কখনো তুলনা চলে না।
ডা. আকাশ লেখেন, আমাদের দেশে তো ভালোবাসায় চিটিংয়ের শাস্তি নেই। তাই আমিই বিচার করলাম। আমি চির শান্তির পথ বেছে নিলাম।
ফেসবুকে এই দমপতির বিভিন্ন দেশ ঘুরে বেড়ানোর অসংখ্য ছবি দেয়া আছে। কাভার ফটোও বানানো যুগলের সুখময় স্মৃতিগুলো জোড়া দিয়ে, যার একটিতে লাভ আকৃতির মধ্যে আঙুলে মিতু ভি এঁকেছেন স্বামীকে পাশে নিয়ে।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে স্ত্রীকে নিয়ে ডাক্তার আকাশ লেখেন-আমার সঙ্গে তানজিলা হক চৌধুরী মিতুর ২০০৯ সাল থেকে পরিচয়। প্রচণ্ড ভালোবাসি ওকে। ও নিজেও আমাকে অনেক ভালোবাসে। আমরা ঘুরে বেড়াই, প্রেম করে বেড়াই, আমাদের ভালোবাসা কমবেশি সবাই জানে। আমাকে অনেকে বউ পাগলাও ডাকতো।
২০১৬তে আমাদের বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক দিন আগে জানতে পারি, ... নামে চুয়েটের ৮ম ব্যাচের এক ছেলের সঙ্গে হোটেলে রাত কাটায় মিতু। আরো কত কি, লজ্জা লাগছে সব লিখতে। ততদিনে সবাইকে বিয়ের দাওয়াত দেয়া শেষ। আমাকে যেহেতু চট্টগ্রামের সবাই চিনে, তাই বিয়ে কেনসেল (বাতিল) করতে পারিনি লজ্জাতে।’
বিয়ের পর ওর মোবাইলে ভাইবারে দেখতে পাই ... নামে কুমিল্লা মেডিকেলের এক ব্যাচম্যাটের সঙ্গে হোটেলে...শত শত ছবি। আমি তো বেঁচে থেকেও মৃত হয়ে গেলাম। তারপর শবেকদরের রাতে কান্না করে পা ধরে ক্ষমা চেয়ে বললো, আর কখনো এমন হবে না। আমিও ক্ষমা করে দিয়ে এক বছর ভালোভাবেই সংসার করলাম।
তারপর ও দেশের বাইরে আমেরিকা গেল, মাঝখানে একবার ঈদ পালন করতে আসলো গত বছর সেপ্টেম্বরে। আবার চলে গেল ইউএসএমএলই-এর প্রিপারেশন নিচ্ছিল। সঙ্গে ফেব্রুয়ারিতে ২০১৯-এ আমার ইউএসএ যাওয়ার কথা।
জানুয়ারি, ২০১৯তে জানতে পারি ও রেগুলার ক্লাবে যাচ্ছে, মদ খাচ্ছে, নামে এক ছেলের সঙ্গে...। আমি বারবার বলছি-আমাকে ভালো না লাগলে ছেড়ে দাও। কিন্তু চিট করো না, মিথ্যা বলো না। আমার ভালোবাসা সব সময় ওর জন্য ১০০% ছিল। আমি আর সহ্য করতে পারিনি। আমাদের দেশে তো ভালোবাসায় চিটিংয়ের শাস্তি নেই। তাই আমিই বিচার করলাম। আমিই চির শান্তির পথ বেছে নিলাম।
তোমাদেরও বলছি- কাউকে ভালো না লাগলে সুন্দরভাবে আলাদা হয়ে যাও, চিট করো না। মিথ্যা বলো না। আমি জানি, অনেকে বিশ্বাস করবে না। এত অমায়িক মেয়ে আমিও এসব দেখে ভালোবেসে ছিলাম। ভেতর-বাহির যদি এক হতো। সবাই আমায় দোষ দেবে, সবকিছুর জন্য, তাই ব্যাখ্যা করলাম।
বারবার বলছি, ভালো না লাগলে আলাদা হয়ে যাও, চিট করো না, মিথ্যা বলো না, বিশ্বাস ভাঙিও না। হাজার হাজার ছবি আছে, আরো খারাপ খারাপ দিলাম না, যারা বিলিভ করবে, এতেই করবে। না করলে নাই। এই ৯ বছরে বয়ফ্রেন্ড স্বামী-স্ত্রীর মতো আবার সবই করে গেল।
ও আমাকে আর কি ভালোবাসলো? কিসের বিয়ে করলো? আমি শেষ পর্যন্ত চাইছি সব চুপ রেখে সমাধান করে ওকে নিয়ে থাকতে। আমার শ্বশুর আর শাশুড়িকে বারবার বলছি, উনারা সমাধান করতে পারতো! আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী আমার বউ। ৯টা বছর যাকে ১০০% ভালোবাসছি। আমিই এই বেঈমানি মেনে নিতে পারি নাই। তারপরও ভুলে আমি সুন্দর সংসার করতে চাইছি।
জানা যায়, ডা. মোস্তফা মোরশেদ আকাশ চট্টগ্রামের তরুণ ডাক্তারদের জনপ্রিয় কোচিং সেন্টার থ্রি ডক্টরস-এর সঙ্গে সমপৃক্ত ছিলেন। একজন জনপ্রিয় শিক্ষক হিসেবে তার খ্যাতিও রয়েছে। তরুণ এই চিকিৎসকের মৃত্যুতে বন্ধুমহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তবে তার স্ত্রী তানজিলা হক মিতু বর্তমানে কোথায় আছেন তা জানা যায়নি। তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টটিও ডিঅ্যাকটিভেট পাওয়া গেছে।

প্রতিবন্ধী নারীকে গণধর্ষণ লোমহর্ষক জবানবন্দি

বাইশ বছরের এক তরুণী। অনেকটা বাকপ্রতিবন্ধী। অজ্ঞাত হিসেবে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে গত ৯ই জানুয়ারি। সম্পূর্ণ ক্লু লেস ছিল ঘটনাটি। তবে পুলিশ হাল ছাড়েনি। লাশ উদ্ধারের ঘটনাস্থলে ব্যাপক তৎপরতা চালায়। জুয়েল নামে এক যুবককে আটকের পরই বেরিয়ে আসে লোমহর্ষক ঘটনা। জুয়েলকে ফতুল্লা মডেল থানা হাজতে আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ।
সে জানায়, অসুস্থ তরুণীকে পালাক্রমে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করে লাশ পরিত্যক্ত একটি স্থানে ফেলে দেয়া হয়। গণধর্ষণ ও হত্যার আগে তরুণীর গা পুড়ে যাওয়ার মতো জ্বর ছিল। বাঁচার জন্য তরুণীটি এদিক ওদিক হাত-পা ছুড়েছিল।
কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। জুয়েল দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয়। তার জবানবন্দিতে বেরিয়ে আসে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরো ৭ জনের নাম। তারা হলো- শুক্কুর, টিক্কা খান, অনিক, আবু তালেব, তৌফিক, সাগর ও রাসেল। পুলিশ জুয়েলের তথ্যমতে শুক্কুর, টিক্কা খান, অনিক ও রাসেলকে গ্রেপ্তার করে। বাকি তিনজন সাগর, আবু তালেব ও তৌফিককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। এদিকে জুয়েলের পর বুধবার শুক্কুর আলী ও টিক্কা রাকিব ঘটনার  লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আর অনিক ও রাসেলকে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে পুলিশ আদালতে পাঠিয়েছে। বৃহস্পতিবার আদালত শুনানি শেষে তাদের ২দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে।
বুধবার বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. কাউছার আলমের আদালতে শুক্কুর আলী ও সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ হুমায়ূন কবীরের আদালতে টিক্কা রাকিবের লোমহর্ষক এ জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। শুক্কুর আলী (২২) খাগড়াছড়ি জেলার দিঘিনালা থানার ছোট মেরুল ২নং কলোনি ট্রাস্ট টিলার মোহাম্মদ আলীর ছেলে ও টিক্কা রাকিব (২০) চাঁদপুর জেলার হাইমচর থানার গাজীবাড়ী গ্রামের মোক্তার হোসেনের ছেলে। তারা দীর্ঘদিন ধরে ফতুল্লার মুসলিমনগর এলাকায় বসবাস করে।
এদিকে পুলিশ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই তরুণীর পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি।
ঘাতকের জবানবন্দিতে লোমহর্ষক বর্ণনা:
মামলার তদন্তকারী অফিসার ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (আইসিপি) গোলাম মোস্তফা বলেন, তিনজনের জবানবন্দিতে তথ্যের হেরফের থাকলেও ৮জনই পরস্পর যোগসাজশে ঘটনাটি ঘটিয়েছে। বাঁচার জন্য সবাই-ই একে অপরের উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে। জবানবন্দিতে একজন শুক্কুর আলী জানিয়েছে, মেয়েটি মানসিক প্রতিবন্ধী ছিল। শুক্কুর পেশায় ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চালক। বাকিদের গ্রেপ্তার করা হলে ধর্ষণ ও হত্যার পুরো ঘটনা পরিষ্কার হওয়া যাবে। তিনি আরো জানান, বৃহস্পতিবার রাসেল ও অনিকের দুইদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আরো তথ্য বেরিয়ে আসবে।
এদিকে পুলিশ ও দুই ঘাতকের স্বীকারোক্তি মতে, ৮ই জানুয়ারি রাত সাড়ে ৯টায় শহরের কলেজ রোড থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় উঠিয়ে শুক্কুর আলী তার বাসায় নিয়ে যায় মেয়েটিকে। বাসায় নেয়ার পর শুক্কর আলীর মা বকাঝকা করে তাদের বের করে দেয়। পরে শুক্কুর আলী তার সহযোগী টিক্কা রাকিবের কাছে তরুণীকে নিয়ে যায়। এরপর দুইজনে কাশিপুরের ভোলাইল এলাকায় পরিত্যক্ত একটি জায়গায় নেয়ার পর মেয়েটির গায়ে হাত দিয়ে দেখে শরীরে প্রচণ্ড জ্বর, গা পুড়ে যাওয়ার মতো। এবং মুখ দিয়ে লালা পড়ছে। এ অবস্থায় তারা ৮ জন পালাক্রমে মেয়েটিকে ধর্ষণ করতে থাকে। এক পর্যায়ে মেয়েটি যন্ত্রণায় বাঁচার জন্য হাত-পা ছুড়তে থাকে। কিন্তু নরপিশাচদের লালসা থেকে নিজেকে রক্ষায় ব্যর্থ হয়। ধর্ষণের পর মেয়েটি অচেতন হয়ে পড়ে। পরে ঘটনা আড়াল করতে তারা মেয়েটিকে নৃশংসভাবে হত্যা করে লাশ ঘটনাস্থলে ফেলে যায়।
শুক্কুরের বন্ধু টিক্কা রাকিব জানিয়েছে, সে সড়কে দাঁড়িয়ে ছিল। এসময় শুক্কুর এসে তাকে বলে এখানে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে ছিল সে কোথায়? তখন টিক্কা রাকিব বলে জুয়েল, অনিক, আবু তালেব, তৌফিক, সাগর এবং রাসেল মাঠের দিকে নিয়ে গেছে। এরপর শুক্কুরের সঙ্গে টিক্কা রাকিবও মাঠে যায়। গিয়ে দেখে তারা পর্যায়ক্রমে মেয়েটিকে ধর্ষণ করছে। পরে শুক্কুরও মেয়েটিকে ধর্ষণ শেষে টিক্কা রাকিবকে ধর্ষণ করতে বলে। ওই সময় মেয়েটি হাত-পা এদিক ওদিক ছুড়ছিল। এতে টিক্কা রাকিব ধর্ষণ করেনি। মেয়েটির এই অবস্থা দেখে জুয়েল বলে একে বাঁচিয়ে রাখলে সমস্যা হবে। এরপর জুয়েলের কথামতো শুক্কুর মেয়েটার গলা টিপে ধরে। সাগর, রাসেল এবং আবু তালেব মেয়েটির হাত ধরে আর টিক্কা রাকিব, অনিক এবং তৌহিদ পা চেপে ধরে। তখন শুক্কুর মেয়েটিকে হত্যা করতে ব্যর্থ হলে জুয়েল মেয়েটির বুকে দুইটি ঘুষি মেরে গলা টিপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করে।
পরিদর্শক (আইসিপি) গোলাম মোস্তফা আরো জানান, শুক্কুর আলী ও টিক্কা রাকিবের আগে মঙ্গলবার বিকালে কাশিপুর ভোলাইল এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে জুয়েল হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি শাহ মঞ্জুর কাদের পিপিএম জানান, গত ৯ই জানুয়ারি ফতুল্লার ভোলাইল এলাকায় পরিত্যক্ত একটি জায়গা থেকে ২২ বছর বয়সী ওই তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের সময় তার পরনে ছিল সোয়েটার, চাদর ও পায়জামা। কিন্তু তার পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। তবে চেষ্টা চলছে।
তিনি আরো জানান, আমরা লাশ উদ্ধারের পর থেকে ঘটনার পেছনে লেগে ছিলাম। বেশ কয়েকদিন তৎপরতার পর নাটকীয়ভাবে জুয়েল নামে একজনকে আটক করি। তাকে থানা হাজতে রেখে নানাভাবে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ওই তরুণীকে ধর্ষণ ও হত্যার বিষয়টি বেরিয়ে আসে। ঘটনাটি অত্যন্ত নৃশংস ও লোমহর্ষক। জুয়েলের তথ্যমতে আরো ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সুশাসন, গণতন্ত্র উন্নয়ন ও সামরিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনের সঙ্গে প্রায় সোয়া ঘণ্টা বৈঠক করলেন ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার। নতুন মন্ত্রীর সঙ্গে নয়া দূতের এটি ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ হলেও সেখানে সুশাসন, গণতন্ত্র, উন্নয়ন, সামরিক খাতে সহযোগিতা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। নব গঠিত সরকারের সঙ্গে উল্লিখিত বিষয়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার মধ্য দিয়ে দুই দেশের মহুমাত্রিক অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার আগ্রহ দেখিয়েছেন মার্কিন দূত। একই সঙ্গে সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অনিয়ম প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।
নির্বাচনের অনিয়মগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত চায় যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূত আলাদাভাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তারা উভয়েই আলোচনার বিষয়গুলো খোলাখুলিভাবে গণমাধ্যমে প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রদূত তার বিবৃতিতে বলেন, সুশাসন, গণতন্ত্র, উন্নয়ন, সামরিক সহায়তা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আমার আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মন্ত্রীর সম্পর্ক অনেকদিনের জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে তিনি পাড়াশোনা করেছেন।
সেখান থেকে  এমফিল এবং ডিগ্রি নিয়েছেন। দেশটিতে বিভিন্ন দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার সম্পর্ক অনেক বিস্তৃত। তাকে ওয়াশিংটন সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, পররাষ্ট্র সচিব সদ্য যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন। সেখানে তিনি মার্কিন কর্মকর্তাদের বিভিন্ন পর্যায়ে সিরিজ বৈঠক করেছেন। আমি মন্ত্রীকে ওয়াশিংটন সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আশা করি তিনিও সফর করবেন। আর্ল রবার্ট মিলার বাংলাদেশে ৩ বছরের জন্য দূত নিযুক্ত হয়েছেন জানিয়ে বলেন,  আমার সময়ে আমি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও বাড়াতে চাই। রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হ্যাঁ। আমরা নানা বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেছি। তবে নির্বাচন নিয়ে আমাদের কথা হয়েছে কম। ওটা উঠেছিল। আমি বলেছি, যে কোয়ার্টার নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলছে, সেখানে কিছু ঘটনা থাকতে পারে। তারা তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সহযোগিতা কিভাবে আরও জোরদার করা যায় তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে ড. মোমেন বলেন, তারা বাংলাদেশের কাছে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি করতে চান। রাষ্ট্রদূত এ আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন।
এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিক সম্মতি দিয়েছেন জানিয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি বলেছেন, আপনারা তো অনেক দেশ থেকে কেনেন। আমাদের থেকেও নেন। আমরা বলেছি আপনাদের জিনিসপত্রের দাম একটু বেশি। আমরা তুলনামূলক প্রাইসে কিনি। দেখি কি করা যায়। এ সময় অপর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে আমরা ফেরত চেয়েছি। আমরা বলেছি এটা কোর্টের আদেশ। তার বিচার হয়েছে ওপেন আদালতে। সেখানে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আমরা সেটি কার্যকর করতে চাই। নিশ্চয়ই যুক্তরাষ্ট্রের আদালত এমন দণ্ড দিলে এবং আসামি অন্য দেশে থাকলে ওয়াশিংটন তাকে ফেরতে চেষ্টা বা চাপ দিতো। আমরা তাই তাকে ফেরত চাই। তাছাড়া ওই ব্যক্তি নিজেই তার অপরাধ স্বীকার করেছে। যুক্তরাষ্ট্র আগেও একজনকে ফেরত দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
মন্ত্রীর কথার জবাবে মার্কিন দূত কি বলেছেন? জানতে চাইলে ড. মোমেন বলেন, তিনি বলেছেন আমার অনুরোধ ওয়াশিংটনে পাঠাবেন। এ নিয়ে পরবর্তীতে আলোচনার করবেন বলেও আশ্বস্ত করেছেন। ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান কী জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমি এ নিয়ে আমার সহকর্মীদের সঙ্গে এখনও আলোচনা করিনি। আমি নতুন। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ নিয়ে কথা বলতে চেয়েছে, আমি বলেছি আলোচনা হতেই পারে। এদিকে পৃথক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রথম বিদেশ সফরে জার্মানি যাচ্ছেন। ফেরার পথে আবুধাবি সফর করবেন। জার্মানি সফরে চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও’র সঙ্গে সরকার প্রধানের বৈঠকের চেষ্টা চলছে মর্মে গণমাধ্যমে যে খবর বেরিয়েছে তা নাকচ করেন মন্ত্রী।

অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার -প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী নির্বিশেষে সকলের সমউন্নয়ন নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন যখন আমরা উন্নয়নের কথা বলি তখন আমরা জাতি, ধর্ম বর্ণ, গোষ্ঠী নির্বিশেষে সকলের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের কথাই বলি। গতকাল প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে সমতলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরত মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা (পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতিত) শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ৫শ’ শিক্ষার্থীকে অনুষ্ঠানে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। এখানে কাউকে এটা মনে করলে চলবে না যে, আমরা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বা আমরা অবহেলিত সেটা ভাবলে চলবে না। সকলকে ভাবতে হবে, এই দেশের নাগরিক সবাই এবং প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। সকলেই সমান অধিকার ভোগ করবে বাংলাদেশে। শেখ হাসিনা বলেন, ধর্ম, বর্ণ, জাতি, গোষ্ঠী নির্বিশেষে সকলের সমান অধিকার থাকবে এবং আমরা সেটাই নিশ্চিত করতে চাই।
সেটাই আমাদের লক্ষ্য এবং দেশটা আমাদের সকলের এই কথাটা মনে রেখে যার যার ক্ষেত্রে সবাইকে দেশের উন্নয়নে কাজ করে যেতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন-প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. সাজ্জাদুল হাসান এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) খলিলুর রহমান। বুয়েটের ও বরগুনার সাঁওতাল আদিবাসী মিয়াট বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পক্ষে নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তৃতা করেন। এছাড়া, সমতলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জনগণের জীবন-মান উন্নয়ন, বৃত্তি উপকারভোগীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং প্রকল্পের নানা দিক সংবলিত কয়েকটি ছোট ছোট ভিডিও চিত্র অনুষ্ঠানে প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে ৫শ’ শিক্ষার্থীকে ২৫ হাজার টাকা করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকার বৃত্তি প্রদান করা হয়।
বিশেষ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যমণ্ডিত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর স্ন্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ বৃত্তি দেয়া হয়। এর মধ্যে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে বৃত্তির চেক তুলে দেন। আগামী বছর থেকে এই বৃত্তিপ্রাপ্তের সংখ্যা ২ হাজারে উন্নীত করা হবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলের এই অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এবং সচিববৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক কোরের ডিনসহ বিদেশি কূটনীতিকবৃন্দ, বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিগণ উপস্থিত ছিলেন।