Wednesday, April 23, 2025

পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় প্রাণ গেল বাঙালি পর্যটকের, পাশে থাকার আশ্বাস মমতার by সেবন্তী ভট্টাচার্য্য

কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে এ পর্যন্ত যাদের দেহ শনাক্ত করা গেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন কলকাতার বাসিন্দা বিতান অধিকারী।  বাড়ি পাটুলির বৈষ্ণবনগরে। ফ্লোরিডায় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী হিসেবে কাজ করতেন বিতান। ১৬ এপ্রিল স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে কাশ্মীরে বেড়াতে গিয়েছিলেন তিনি। হামলার সময় বিতান পহেলগাঁওয়ের ওই রিসোর্টে ছিলেন। সন্ত্রাসী  হামলার বলি হতে হয় ৪০ বছরের ওই যুবককে। ২৪ এপ্রিল তাদের ফেরার কথা ছিল। কিন্তু  বাড়ি ফেরা হলো না বিতান অধিকারীর। যদিও তার স্ত্রী সোহিনী ও সন্তান রিদান সুস্থ রয়েছেন।

ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের  মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যপাধ্যায় নিজে বিতানের স্ত্রী সোহিনীকে ফোন করেছেন। সূত্রের খবর, মমতার সঙ্গে কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন সোহিনী। এই বিপদের দিনে সমস্তরকমভাবে তার পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘জম্মু-কাশ্মীরে পর্যটকের উপর ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার শিকার পরিবারগুলোর প্রতি আমার গভীর সহমর্মিতা রইল। নিহতদের মধ্যে একজন বিতান অধিকারী এই বাংলারই ( পশ্চিমবঙ্গ ) বাসিন্দা। আমি তার স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছি। যদিও এই শোকের মুহূর্তে তাকে সান্ত্বনা দেয়ার মতো কোনও শব্দই যথেষ্ট নয়। আমি তাকে আশ্বস্ত করেছি যে, আমার সরকার তার স্বামীর দেহ কলকাতার বাড়িতে ফিরিয়ে আনার জন্য সমস্ত পদক্ষেপ নিচ্ছে।’

মুখ্যমন্ত্রীর  নির্দেশ পেয়ে বিতানের  বাড়িতে পৌঁছে যান রাজ্যের আরেক মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তিনিও সবরকমভাবে পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, শ্রীনগরে ময়নাতদন্তের পর মৃতদেহ ফিরবে রাজ্যে। কত দ্রুত দেহ রাজ্যে ফেরানো যায় সেই চেষ্টা করছে প্রশাসন। এদিকে বিতানের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে অধিকারী পরিবারের। বিতানের পরিবার সূত্রে খবর, মঙ্গলবার দুপুরেও ছেলে-বৌমার সঙ্গে কথা হয়েছে তাদের। সকলে আনন্দে ছুটি কাটাচ্ছিল। সন্ধ্যায় খবর আসে জঙ্গির গুলিতে মারা গিয়েছেন বিতান!

mzamin

জম্মু-কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ২৬, সৌদি সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরলেন মোদি

ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পর্যটকদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে একদল সন্ত্রাসী। এতে ২০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়, কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে মঙ্গলবার বিকেলে কাশ্মীরের পাহালগামে এ হামলা হয়েছে। পর্যটকদের জন্য এই স্থানটি বেশ আকর্ষণীয়। হিমালয়ের পাদদেশের এই এলাকাটিকে ‘ভারতের সুইজারল্যান্ড’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। এদিকে এই ঘটনায় সৌদি আরব সফর সংক্ষিপ্ত করে ভারতে ফিরেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

সাম্প্রতিক বছরে ভারতের মাটিতে বেসামরিকদের ওপর এত বড় হামলা দেখা যায়নি। কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর অব্দুল্লাহ বলেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর আমরা যত হামলা দেখেছি তার মধ্যে সবচেয়ে বড় ছিল এটি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে আহতের সংখ্যাও অনেক বেশি। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।

এদিকে ভারতীয় মিডিয়া বলছে, এ হামলায় কমপক্ষে ২৬ জন নিহত হয়েছেন। দ্য হিন্দুর এক খবরে বলা হয়েছে, সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, হামলায় ২৬ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন বিদেশি পর্যটক রয়েছে। একজন সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং আরেকজন নেপালের। নিহতদের মধ্যে নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তা রয়েছেন।

হামলায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গতকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য আমাদের সংকল্প অটুট রয়েছে এবং এটা আরও শক্তিশালী হবে। এই হামলার পর নরেন্দ্র মোদি সৌদি আরব সফর সংক্ষিপ্ত করে মঙ্গলবার রাতেই দেশে ফিরছেন বলে পিটিআই জানিয়েছে। হামলার পর কাশ্মীরে গেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কাশ্মীরের শ্রীনগরে গিয়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক মহলেও এ হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রধান উরসুলা ভন ডের লেইন। ট্রুথ সোশ্যালের এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, কাশ্মিরের খবরে বেশ কষ্ট পেয়েছি। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে আমেরিকা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক খবরে বলা হয়, এই হামলার দায় স্বীকার করেছে কাশ্মীর রেজিস্ট্যান্স নামের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা এই ঘোষণা দিয়েছে। তবে বিষয়টি রয়টার্সের পক্ষ থেকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এমন এক সময়ে কাশ্মীরে এই হামলার ঘটনা ঘটলো যখন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সপরিবারে ভারত সফরে রয়েছেন। হামলার পর জেডি ভ্যান্স এক্সের এক পোস্টে লিখেছেন, ভারতের পাহালগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ভুক্তভোগীদের প্রতি উষা (ভান্সের স্ত্রী) ও আমি সমবেদনা জানাচ্ছি। গত কয়েক দিন আমরা এই দেশের সৌন্দর্য ও এর জনগণের সঙ্গে সময় কাটিয়েছি। এই হামলায় শোকার্ত মানুষের প্রতি আমাদের প্রার্থনা রইল।

১৯৯০ সাল থেকে অঞ্চলটিতে ভারতীয় শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে আসছে একটি বিচ্ছন্নতাবাদী সংগঠন। যাদের সঙ্গে ভারতীয় বাহিনীর সংঘর্ষে প্রাণ গেছে কয়েক হাজার মানুষের। যার মধ্যে বেসামরিক নাগরিক এবং নিরাপত্তা বাহিনীও রয়েছে।

এই সমস্যা আজ কালের নয়। ১৯৪৭ সালে যখন ভারত-পাকিস্তান আলাদা রাষ্ট্রে ভাগ হয়, তখন থেকেই জম্মু-কাশ্মীরের একটি গোষ্ঠী স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য সংগ্রাম শুরু করে। তবে পারমাণবিক অস্ত্রধারী দুই রাষ্ট্রই কাশ্মীরকে নিজেদের বলে দাবি করে। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষেও লিপ্ত হয়েছে ভারত ও পাকিস্তান। এই অঞ্চলের সীমান্ত রক্ষায় বিশেষ জোর দিয়েছে উভয় দেশ। ভারতনিয়ন্ত্রিত অংশে প্রায় ৫ লাখ সৈন্য স্থায়ীভাবে মোতায়েন করা আছে।

২০১৯ সালে মোদি সরকার কাশ্মীরের আংশিক স্বায়ত্তশাসন বাতিল করার পর লড়াই কমলেও মাঝে মাঝেই সহিংসতার খবর পাওয়া যায়। বেসামরিকদের ওপর সর্বশেষ বড় ধরনের হামলা ঘটে ২০২৪ সালের জুনে। হিন্দুদের তীর্থযাত্রীদের বহনকারী একটি বাসে গুলি চালায় সন্ত্রাসীরা। এতে ৯ জন নিহত এবং ৩৩ আহত হয়েছিলেন। এর আগে একই বছর ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে একটি আত্মঘাতী বোমা হামলায় কমপক্ষে ৪৬ জন সেনা নিহত হন। এই হামলার জেরে পাকিস্তানের লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে ভারতীয় সেনারা।

পাহালগাম ভারত এবং এর বাইরে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে বেশ জনপ্রিয় একটি স্থান। সাম্প্রতিক সময়ে  এই অঞ্চলকে আরও পর্যটক বান্ধব করার উদ্যেগ নিয়েছে ভারত সরকার। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২৪ সালে কাশ্মীর ভ্রমণ করেছেন প্রায় ৩৫ লাখ পর্যটক।

mzamin

অন্তর্বর্তী সরকার কতোদিন থাকবে? by সোহরাব হাসান

অন্তর্বর্তী সরকার কতোদিন থাকবে? নির্বাচন কবে হবে? নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনো সমঝোতা হবে কি? নির্বাচনের আগে তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারবেন কি? নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারবে কি-না? যেকোনো রাজনৈতিক আড্ডা-আলোচনায় নির্বাচনই মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবার বিদেশিরাও জানতে চান, নির্বাচনটি কবে হবে?

এসব প্রশ্নের সহজ কোনো উত্তর কারও জানা নেই। সবাই নিজ নিজ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে উত্তর দেয়ার চেষ্টা করেন। আবার কোনো কোনো প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান। অন্তর্বর্তী সরকার বলেছে, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে তারা নির্বাচনের তারিখ বা রূপরেখা ঘোষণা করতে চায়। কিন্তু সংস্কার ও নির্বাচনের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো এখন পর্যন্ত ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। পৌঁছার সম্ভাবনাও ক্ষীণ। কেউ সংবিধান পঞ্চদশ সংশোধনীর আগের অবস্থায় নিয়ে যেতে চাইলে অন্যেরা বলেন, পুনর্লিখন করতে হবে। এক দল জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিলে অন্য দল গণপরিষদ নির্বাচনের জন্য জোর খাটাচ্ছে। আবার একটি দল জাতীয় নির্বাচনকে নিশানা করলে অন্যরা সবার আগে স্থানীয় সরকার সংস্থার নির্বাচন দেয়ার দাবি তুলেছে। যদিও আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে তারা মোটামুটি অভিন্ন অবস্থানে ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংস্কারের লক্ষ্যে প্রথমে বিএনপি ভিশন ২০৩০ ঘোষণা করেছিল। এরপর তারা ৩১ দফা কর্মসূচি দেয়, যাতে মৌলিক পরিবর্তনের কথা না থাকলেও রাষ্ট্র কাঠামোয় জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়।

পরবর্তীকালে গণতন্ত্র মঞ্চের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে বিএনপি কিছু সংশোধনীসহ সেই কর্মসূচি চূড়ান্ত করে। সেক্ষেত্রে ৩১ দফা বিএনপি’র একক কর্মসূচি হওয়ার কথা নয়। অন্তত, বিএনপি’র সহযোগী ১২দলীয় জোট ও গণতন্ত্র মঞ্চের শরিকদের এটি ধারণ করার কথা। কিন্তু সমপ্রতি গণতন্ত্র মঞ্চের একটি শরিক দল জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিকক্ষীয় সংসদের ধারণার সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করেছে। তাদের শঙ্কা, এতে ক্ষমতাসীন দল আরও ক্ষমতাবান হবে। একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা হবে। এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রে দ্বিকক্ষ সংসদ কতোটা ক্ষমতার ভারসাম্য আনবে,  সে বিষয়েও সন্দেহমুক্ত হওয়া যাচ্ছে না। উচ্চকক্ষে আনুপাতিক হারে নির্বাচন ব্যবস্থা তুলে না দিলে এটিও এরশাদ আমলের ত্রিশ সেট অলঙ্কার হবে।

সামপ্রতিককালে গণতন্ত্র মঞ্চের মধ্যে চারটি ধারা দেখা যাচ্ছে। প্রথম ধারা সংস্কার ও নির্বাচন উভয় প্রশ্নে বিএনপি’র সঙ্গে সহমত পোষণ করে। দ্বিতীয় ধারা চায় গণপরিষদ নির্বাচন, তৃতীয় ধারা জাতীয় সংসদের আগে স্থানীয় সরকার সংস্থার নির্বাচন করতে আগ্রহী। আর চতুর্থ ধারার দাবি, গণভোট।
যেখানে সাত দলের মধ্যে চারটি ধারা দেখছি, সেখানে শতাধিক রাজনৈতিক দলের নির্বাচন ও সংস্কারের বিষয়ে একমত হওয়া কেবল কঠিন নয়, প্রায় অসম্ভব।  তাহলে কি নির্বাচন হবে না? নির্বাচন হতে হবে, তবে তার ধরন ও দিন-তারিখ অন্তর্বর্তী সরকারকেই ঠিক করতে হবে।

এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি’র নেতৃত্ব নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণার দাবিতে আন্দোলনে নামার কথা ভাবছে। সমপ্রতি দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সেরকম সিদ্ধান্তই হয়েছে। তবে তারা মাঠের আন্দোলনে নামার আগে একবার প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করে তার মনোভাবটা জানতে চান। আরও অনেকের মতো বিএনপি’র নেতৃত্বও প্রধান উপদেষ্টাকেই শেষ ভরসা মনে করেন।
ইতিমধ্যে প্রধান উপদেষ্টার অফিস থেকে সময়ও নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে, ১৬ই এপ্রিল। কিন্তু জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বিএনপি’র বৈঠক ১৭ তারিখ। বিএনপি চায় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকের পর প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তাদের আলোচনা হোক। এ কারণে তারা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকটি পেছানোর কথা বলেছেন। বিএনপি নেতারা এর আগেও বেশ কয়েকবার প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছেন নানা বিষয়ে। কিন্তু এবারের বৈঠকে তারা নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ চাইবেন এবং তা ডিসেম্বরের মধ্যে।

এ বিষয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন ‘দেশের ও জনগণের স্বার্থে রাজনীতিতে যখন যে সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রয়োজন, বিএনপি সে সিদ্ধান্ত নেবে। বিএনপি তো নির্বাচনের জন্যই এত যুদ্ধ করেছে, অনেক নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন, গুম হয়েছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর আমাদের আস্থা আছে। আমরা মনে করি, এ বছরের ডিসেম্বরেই নির্বাচন হবে। বিএনপি সেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যান্য দলও নিচ্ছে। কোনো কোনো দল তো মনোনয়ন দিয়ে দিয়েছে, মাঠেও নেমে গেছে।’
এনসিপি’র এক নেতা বলেছেন, ড. ইউনূসকে ৫ বছরের জন্য প্রধানমন্ত্রী দেখতে চাই। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাও বলেছেন, জনগণ বলছে আমাদের ৫ বছরের বেশি ক্ষমতায় থাকা উচিত। এসব কথা-বার্তা বিএনপি’র মধ্যে স্বাভাবিক ভাবেই বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।

সার্বিক পরিস্থিতিতে দ্রুত তারিখ ঘোষণা না হলে বিএনপি আন্দোলনে যাওয়ার কথাও চিন্তা করছে। কিন্তু সমস্যা হলো এটি তো প্রহসনমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ঘাড়ে চেপে থাকা আওয়ামী লীগ সরকার নয়। অন্তর্বর্তী সরকার। বিএনপি নিজেও আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে যেই সরকারকে ক্ষমতায় আনার কৃতিত্ব দাবি করে, তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন কতোটা গ্রহণযোগ্যতা পাবে, সেই প্রশ্নও আছে। বিএনপি’র নেতারা মনে করেন, নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার জন্য শেষ পর্যন্ত তাদের আন্দোলনে যেতে হবে না, সরকার ঘরে বাইরে যেভাবে চাপে আছে, তাতে আন্দোলন ছাড়াই তারা চলতি বছরের শেষ নাগাদ নির্বাচন দিতে বাধ্য হবে।

বিএনপি’র আরেকটি উদ্বেগ হলো দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে আসার বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে গ্রিন সিগন্যাল না পাওয়া। এক্ষেত্রে সরকারের বাইরেও নানা পক্ষের হিসাব-নিকাশ আছে বলে শোনা যাচ্ছে। এসব কারণে বিএনপি ধীরে এগোতে চায়। তারেক রহমানের দেশে আসার বিষয়টি এখনই ইস্যু করতে চাইছে না। তারা মনে করছেন, নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হলে বিএনপি’র প্রতি জনসমর্থন আরও বাড়বে। সেই অবস্থায় তারেক রহমানের ইস্যুটি সামনে আনা হবে বুদ্ধিমানের কাজ। বিএনপি নেতৃত্ব তড়িঘড়ি করে কিছু করতে চান না; যদিও দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা অধৈর্য হয়ে পড়েছেন।

ভোটের রাজনীতিতে এই মুহূর্তে বিএনপি’র প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কে? আওয়ামী লীগ মাঠ ছাড়া। দলটির  নেতাকর্মীরা হয় পলাতক অথবা জেলখানায়। এই অবস্থায় নির্বাচন হলে বিএনপি অধিক রাজনৈতিক সুবিধা পাবে বলে মনে করেন দলের সমর্থক-শুভানুধ্যায়ীরা। তাদের মতে, আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা কখনো জামায়াতে ইসলামী বা অন্য কোনো দলকে ভোট দেবেন না। ছাত্রদের দল এনসিপি আওয়ামী লীগ সম্পর্কে যেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে, তাতে আওয়ামী লীগ সমর্থকেরা তাদের ভোট দেবে বলে মনে হয় না। সেক্ষেত্রে নিজেদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে বিএনপি’র দিকে ঝুঁকে পড়ার সম্ভাবনা বেশি। তা ছাড়া এই দুটি দলের রাজনৈতিক মত ও পথের ভিন্নতা সত্ত্বেও সামাজিক অবস্থান অভিন্ন। একই মধ্যশ্রেণি থেকে উঠে আসা নেতাকর্মীদের কেউ আওয়ামী লীগে, কেউ বিএনপিতে। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিন তাদের সহাবস্থান ছিল। বিএনপি’র নেতারা যে আওয়ামী লীগের প্রতি নমনীয় মনোভাব দেখাচ্ছেন, তারও কারণ ভোটের হিসাব-নিকাশ।

জামায়াতের সঙ্গে বিএনপি’র পুরনো বিবাদ ফের সামনে এসেছে। বিভিন্ন স্থানে দুই দলের নেতাকর্মীরা সংঘাতে লিপ্ত হচ্ছেন। আবার জাতীয় নাগরিক পার্টির সঙ্গেও তাদের বিভিন্ন স্থানে সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা প্রায় সময় রাজনৈতিক কারণে হামলার বিরুদ্ধে কথা বলছেন। অবাধ্য ও অপরাধী নেতাকর্মীদের বিএনপি বহিষ্কার করলেও হিংস্র কার্যকলাপ চলছে। এই পরিস্থিতি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ঘোলাটে ও অস্থির করে ফেলেছে’।

গত ৩০শে মার্চ লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জে স্থানীয় ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সংঘর্ষে হামলার শিকার হন এনসিপি’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলমের বাবা আজিজুর রহমান (বাচ্চু মোল্লা)। হামলায় তার হাত ভেঙে যায় এবং তিনি গুরুতর আহত হন। উল্লেখ্য, তথ্য ও সমপ্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের বাবা আজিজুর রহমান। গত ৭ই আগস্ট থেকে ৩১শে মার্চ পর্যন্ত দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত বিভিন্ন খবর অনুসারে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের সদস্যদের দ্বারা সংঘটিত অপরাধের একটি তালিকা করা হয়েছে এবং অপরাধগুলো আর্থিক ও মৌখিক সহিংসতা (চাঁদাবাজি, হুমকি, দখল ইত্যাদি); শারীরিক সহিংসতা (ভাঙচুর, মারধর, সংঘর্ষ ইত্যাদি) এবং মৃত্যু-এই তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

এনসিপি নেতাদের অভিযোগ, বিএনপি সংস্কার চায় না বলে নির্বাচন নিয়ে তাড়াহুড়ো করছে। কিন্তু ভেতরে ভেতরে তারাও নির্বাচনী প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। ঈদে বেশির ভাগ দলের কেন্দ্রীয় নেতা সম্ভাব্য ৩৯টি নির্বাচনী এলাকায় জনসংযোগ করেছেন। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বিএনপি’র সামনে এনসিপি ও জামায়াতই নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী। এনসিপি ও জামায়াতের মধ্যে যদি কোনো ‘বোঝাপড়া’ হয় তাহলে ভোটের হিসাব-নিকাশ বদলেও যেতে পারে।

সূত্র: জনতার চোখ

mzamin

স্বাস্থ্য রক্ষায় মধু by ডা: রুমানা চৌধুরী

প্রাচীনকাল থেকেই মধু খাবার হিসেবে বেশ জনপ্রিয় এবং কখনো কখনো রোমান্টিকও বটে। প্রাকৃতজনেরা সকালের নাশতায় মধু খেয়ে তারপর কাজ করতে যেতেন। মৌমাছি ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে। এই মধুর রয়েছে হরেক রকমফের। বিভিন্ন গন্ধ ও রঙের মধু পাওয়া যায়। সাদা, কালো, হাল্কা বেগুনি অথবা সবুজ রঙের মধু রয়েছে।
কী কী কাজে লাগে
লোককাহিনীতে মধুকে জাদুকরী এক খাবার হিসেবে বলা হয়েছে। এটাকে সর্বরোগ নিবারক ওষুধও বলা হয়ে থাকে।
কণ্ঠ পরিষ্কার রাখতে, আলসার প্রতিরোধে, ঘুম আনতে, ডায়রিয়া সারাতে এমনি আরো অনেক কাজে মধু ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
গৃহিণীদের ভোজনশালায় প্রাকৃতিক মিষ্টি হিসেবে এটা ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি খাবার, পায়েস, কেক তৈরিতে এটি ব্যবহার করা যায়। আবার সরাসরি ওষুধ হিসেবে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে ব্যবহার করা হয়। ক্ষত সারাতে এটি ব্যবহৃত হয়।
পুষ্টিমান কেমন
এতে দু-ধরনের সুগার থাকে, গ্লুকোজ ও ফ্রকটোজ। অবশ্য সুক্রোজ ও মালটোজ খুব অল্প পরিমাণে থাকে। মধু হচ্ছে ফ্যাটবিহীন, কোলেস্টেরোল বিহীন একটি খাদ্য। সত্য কথা বলতে এতে কেমন প্রোটিন থাকে না। অন্যান্য নিউট্রিয়েন্টও খুব বেশি থাকে না। যেটা থাকে সেটা হলো শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট। শরীরের প্রতিদিনের চাহিদার শতকরা পাঁচ শতাংশ ভিটামিন ও মিনারেল এখান থেকে পাওয়া যায়।
প্রতি এক শ’ গ্রাম মধুতে কার্বোহাইড্রেট থাকে ৭৯.৫ গ্রাম (শতকরা), প্রোটিন থাকে ০.৩ গ্রাম, লৌহ থাকে ০.৭ মি: গ্রাম।
ওষুধে মধু ব্যবহার
সাউথ আফ্রিকার মেডিক্যাল গবেষকেরা দেখিয়েছেন, পোড়া ও ক্ষত পরিষ্কার করতে মধু ব্যবহার করা যায়। এতে সংক্রমণের আশঙ্কা কমে এমনকি অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না।
ব্রিটিশ গবেষকেরা টেস্ট টিউবের মধ্যে বেশ কিছু জীবাণু নিয়ে তাতে মধু রেখে দেখিয়েছেন, সব জীবাণুকে মধু নষ্ট করে দিতে পারে। সাউথ আফ্রিকার গবেষকেরা আরো দেখিয়েছেন, মধু ডায়রিয়ার জীবাণু নষ্ট করতে সাহায্য করে। ইউনিভার্সিটি অব নাটালের এক দল বিশেষজ্ঞ পেটের পীড়ায় আক্রান্ত দুই গ্রুপ শিশুর এক গ্রুপকে মধুমিশ্রিত তরল এবং অন্য গ্রুপকে চিনি ও তরল দিয়ে পরীক্ষা করে দেখেছেন যে, প্রথমোক্ত গ্রুপের সদস্যরা ব্যাকটেরিয়াজনিত (ভাইরাস নয়) ডায়রিয়ার হাত থেকে ৪০ শতাংশ দ্রুত হারে আরোগ্য হয়েছে।
যদিও কিভাবে মধু ব্যাকটেরিয়াকে পরস্ত করে সে সম্পর্কে পুরোপুরি জানা যায়নি। তবুও ধারণা করা হয়, মধুর সুগার অংশটুকু ব্যাকটেরিয়ার শরীর থেকে পানি শুষে নিয়ে তাকে মেরে ফেলে। কিন্তু সুগারহীন মধুও কম শক্তিশালী নয়, অনেকটা স্ট্রেপটোমাইসিন নামক ব্যাকটেরিয়াঘাতী অ্যান্টিবায়োটিকের মতো কাজ করে। তা ছাড়া এতে রেজিস্টেন্স গড়ে ওঠার ভয়ও থাকে না। গলা ব্যথা ও গলায় ক্ষত চিকিৎসায় মধু অত্যন্ত কার্যকর বলে প্রমাণিত। ক্ষয়ে যাওয়া গলার ভেতরের অংশে এটা একটি জেলির মতো আবরণ দিয়ে ঢেকে দেয়।
ওয়াল স্যালাইনে চিনি বা গুড়ের পরিবর্তে মধু ব্যবহার করা যায়। শিশুদের এভাবে মধুপান করানতে ডায়রিয়া প্রতিরোধ করা যায়। প্রতি লিটার পানিতে ৫৪০ মি: লিটার মধু ব্যবহার করা হয়।
খেয়াল রাখবেন
এক বছরের নিচের শিশুদের কাঁচা মধু খেতে দেবেন না। এতে বোটুলিজম নামক গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে থাকে। বয়স্ক শিশুদের বেলায় এ ভয় নেই। কেননা তাদের অন্ত্র তখন যথেষ্ট মজবুত থাকে।
সুগারের মতো মধুও দাঁতের ক্ষতি করতে পারে। তাই সুগার বা অন্য কোনো মিষ্ট খেলে যেমন দাঁত পরিষ্কার করতে হয়, মধুর বেলাও তাই। ডায়াবেটিস রোগীদের মধু খাওয়া উচিত নয়।

হামাস-ইসরাইল যুদ্ধ বন্ধে নতুন প্রস্তাব মিশর ও কাতারের

হামাস-ইসরাইল যুদ্ধবিরতি আলোচনার সঙ্গে যুক্ত এক ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, গাজা যুদ্ধ বন্ধ করতে নতুন প্রস্তাব পেশ করেছে কাতার এবং মিশরের মধ্যস্থতাকারীরা। নতুন এই প্রস্তাবে পাঁচ থেকে সাত বছরের স্থায়ী যুদ্ধবিরতির উল্লেখ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। এছাড়াও সেখানে ইসরাইলি কারাগারে বন্দী ফিলিস্তিনিদের বিনিময়ে সকল ইসরাইলি জিম্মির মুক্তি, যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি এবং গাজা থেকে সম্পূর্ণরূপে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি হামাসের পক্ষ থেকে যুদ্ধ বন্ধের একটি প্রস্তাব খারিজ করে দেয়ার পর নতুন করে প্রস্তাব পেশ করলো মিশর ও কাতার। এই প্রস্তাবের বিষয়ে আলোচনা করতে হামাসের একজন ঊর্ধ্বতন নেতা কায়রোতে গিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। তবে এখন পর্যন্ত নতুন প্রস্তাবের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি ইসরাইল। এমন এক সময় এই প্রস্তাবের কথা বলা হচ্ছে যখন গত মাস থেকে একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতির চুক্তি ভঙ্গ করে গাজায় পূর্ণ মাত্রার হামলা শুরু করেছে ইসরাইল। যদিও উভয় পক্ষই একে অন্যকে দায়ী করেছে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে গত ১৮ মার্চ পুনরায় ইসরাইলের হামলা শুরুর পর নতুন করে প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নতুন এই প্রস্তাবের বিষয়ে আলাপ করতে কায়রোতে গিয়েছেন হামাসের রাজনৈতিক শাখার নেতা মোহাম্মদ দারউইশ এবং মধ্যস্থতাকারীরর প্রধান খলিল আল হাইয়া।

এদিকে শনিবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, হামাসকে নিঃশেষ করার আগ পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধ করবেন না তিনি। এর মাধ্যমে তিনি সকল জিম্মিকে মুক্ত করার অঙ্গীকার করেছেন। জিম্মিদের মুক্তির আগে ইসরাইলকে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে বলে শর্ত দিয়েছে হামাস।

ফিলিস্তিনের ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফিলিস্তিন সরকারের কাছে গাজার ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য প্রস্তুত হামাস। তারা এক্ষেত্রে জাতীয় এবং আঞ্চলিক যে কারও সঙ্গে চুক্তি করতেও প্রস্তুত রয়েছে। ওই কর্মকর্তা বলেছেন, পশ্চিম তীরের প্যালেস্টাইনিয়ান অথরিটি (পিএ) অথবা অন্য কোনো নতুন কর্তৃপক্ষের কাছে তারা ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। ২০০৭ সাল থেকে গাজা শাসন করছে হামাস। তখন থেকেই হামাসের বিকল্প হিসেবে গাজায় পিএ- এর সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিয়েছে ইসরাইল।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে তুর্কি বার্তাসংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে আরও ৩৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যার ফলে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলের গণহত্যামূলক আগ্রাসনে ভূখণ্ডটিতে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১ হাজার ২৪০ জনে পৌঁছেছে। 

mzamin

দায় অন্য কাউকে দেয়া বোকামি by শামীমুল হক

প্রিয় হাসু আপা, আমার অন্তরের অন্তস্তল থেকে আপনাকে জানাই অভিনন্দন। দূর দেশে বসে আপনি যে ঘৃণার বিষবাষ্প ছড়াচ্ছেন এ জন্য আপনাকে অভিনন্দন না জানিয়ে পারলাম না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপনার ভাষণ, নেতাকর্মীদের প্রতি সহিংস কর্মকাণ্ডের নির্দেশনা বাংলাদেশের সকল মানুষ মন ভরে শুনছেন। তারা বলছেন, নেত্রী তো একেই বলে। যিনি নিজের দোষ অবলীলায় অন্যের ঘাড়ে নির্বিঘ্নে চাপিয়ে দিতে পারেন। সত্যিই আপা আপনি পারেনও বটে। ইতিমধ্যে আপনার নির্দেশনার কিছু বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। সেদিন দেখলাম কয়েকজন লোক নিয়ে ভোরে মিনিট দশেকের একটি মিছিল হয়েছে। গুলিস্তান এলাকায় হওয়া এ মিছিল হওয়ার পর মানুষ বলছে, আপনি ক্ষমতায় থাকতে আপনার অত্যাচার, নির্যাতন, হামলা, মামলা, গ্রেপ্তারের ভয়ে বিরোধী নেতাকর্মীরা এমনভাবে ঝটিকা মিছিল করতো। তারপরও তাদের আপনি ছাড়তেন না। ছবি দেখে আপনার পুলিশ বাহিনী তাদের গ্রেপ্তার করতো। আর আপনি তা দেখে মিটিমিটি হাসতেন। আচ্ছা আপা, সেদিনের ভোরের সেই ঝটিকা মিছিল দেখে আপনিও কি হেসেছেন? বড় জানতে ইচ্ছে করে। আবার প্রশ্ন জাগে আপনি পালিয়ে যাওয়ার পর আপনার প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় সারির সকল নেতা গাঢাকা দিয়েছে। ষোল বছরের ধারাবাহিক ক্ষমতায় থাকাতে তারাই লুটেপুটে খেয়েছে দেশটাকে। আপনি সবই জানতেন। কিন্তু কিছু বলতেন না। বরং আশকারা দিয়েছেন।

আপাগো, এখন কতো কথা মনে হয়।

এই যে ধরুন না ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে আপনি কতোই না কসরত করেছেন। নির্বাচন নির্বিঘ্নে করতে মিথ্যা মামলায় খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠিয়েছেন। আবার নির্বাহী ক্ষমতায় তাকে শর্তসাপেক্ষে বাসায় থাকতে দিয়েছেন। একাধিকবার শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলেও বিদেশে চিকিৎসা নিতে পারমিশন দেননি। আপনার মহত্ত্ব বোঝাতে বক্তৃতা- বিবৃতিতে সবসময় বলতেন, আমি খালেদার প্রতি দয়া দেখিয়েছি বলেই তাকে বাসায় থাকতে দিয়েছি। আবার তারেক রহমানকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, বেশি বাড়াবাড়ি করলে খালেদা জিয়াকে আবার জেলে পাঠিয়ে দেবেন। একাধিকবার খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে তার পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। আবার তার দল থেকে আন্দোলন তো সবসময়ই ছিল। আপনি আইনের দোহাই দিয়ে তাকে দিনের পর দিন আটকে রেখেছেন। কিন্তু আপনি পালিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। এটাও নির্বাহী আদেশে। এখন পারলে আপনি পারলেন না কেন? আসলে আপনার ভয় ছিল খালেদাকে নিয়ে। তাই না আপা? কিন্তু শেষ পর্যন্ত আপনার কোনো কৌশলই তো টিকলো না। ২০০০ মানুষকে গণহত্যা চালিয়েও আপনি পার পেলেন না। মানুষ হাসি মুখে বুক পেতে দিয়েছে বুলেটের সামনে। তবুও তারা আপনার মতো নিষ্ঠুরতম স্বৈরাচারকে ক্ষমতায় দেখতে চায়নি। আর চায়নি বলে তারা অকাতরে প্রাণ দিয়েছে। হেলিকপ্টার থেকেও আপনি আপনার জনগণের ওপর বুলেট ছুড়েছেন। আবার আপনিই ইদানীং সাজিয়ে গুছিয়ে মিথ্যা বলে যাচ্ছেন ওরা ২০০০ ছাত্র-জনতাকে হত্যা করেছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আপনার আক্রোশ নতুন নয়। এটা পুরনো। এখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া আপনার বক্তব্য, নেতাকর্মীদের দেয়া নির্দেশনার ফাঁকেও ড. ইউনূসকে সুদখোর বলতে ভুলেন না। আপনি জোর দিয়ে এখনো বলছেন এসবের বিচার অবশ্যই করবেন। আবার এটাও বলেন, আমি শেখ হাসিনা যা বলি তা করে দেখিয়ে দেই।

সত্যিই হাসু আপা, আপনার ভাগ্য খুব ভালো। আপনার প্রতিপক্ষ আপনার মতো এত প্রতিহিংসাপরায়ণ নন। তাই তো তাদের ওপর এত নির্মম অত্যাচার, অবিচার, গুম, হত্যা, হামলা, মামলা, গ্রেপ্তার চালানোর পরও কোনো কোনো নেতাকে আপনাদের জন্য মায়াকান্না করতে দেখা যায়। কেউ কেউ বলেন, আপনি ক্ষমতায় থাকতে এদের সুযোগ-সুবিধা দিয়েছেন। কোনটা সত্যি, কোনটা মিথ্যা আপনিই ভালো জানেন।

আপা, আপাগো আপনার এ দুর্দশার জন্য আপনি নিজেই দায়ী। অন্য কাউকে দায় দেয়া বোকামি। আপনি নিজেকে সর্বময় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু বানিয়ে সব করেছেন। যেসব নেতা আপনার কথার দ্বিমত করবে তাদের দূরে ঠেলে দিয়েছেন। কাছে টেনে নিয়েছিলেন টাকলা মুরাদের মতো চরিত্রহীনদের। দুর্নীতিবাজ আর চরিত্রহীনরা আপনাকে নিয়ে গীত গাইতেন। আপনি এ গীত শুনে মনের আনন্দে নাচ করতেন। বাহ কি চমৎকার। এমন চমৎকার সভা পরিষদ নিয়ে আপনি দেশ চালিয়েছেন। যে পরিষদ আপনার ভুল সিদ্ধান্তকেও স্বাগত জানিয়েছে। আপনি যত স্বৈরাচারী হয়েছেন ততই তারা খুশি হয়েছে। আর আজীবনের জন্য তো সিংহাসন আপনার করে নিয়েছেন। নির্বাচন দিয়েছেন নামে মাত্র। ষোল বছর সিংহাসনে বসে আপনি যেসব অপকর্ম করেছেন তার ফিরিস্তি দেশের মানুষের মুখে মুখে। এমনকি আপনার দলের ত্যাগী নেতারাও আপনাকে এখন ঘৃণা করে। তারা আপনার মুখটি পর্যন্ত দেখতে চায় না।

হাসু আপা, আপনি ক্ষমতায় থাকতে নানা চমক দেখিয়েছেন। আপনার এসব চমকে মানুষ ভড়কে গেছে। কেউ আপনাকে গুমরানী, কেউবা ছলনাময়ী, আবার কেউ রহস্যময়ী হিসেবে আখ্যায়িত করেন। আপনি জেনে খুশি হবেন আপনাকে এ কারণে মানুষ ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই দিয়েছে। যে ইতিহাস যুগের পর যুগ স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। যেমন নবাব সিরাজউদ্দৌলার ইতিহাস একইভাবে লেখা। আবার মীর জাফরের ইতিহাস আরেকভাবে লেখা। হিটলারের উদাহরণ আজও মানুষ দেয়। বহু জমিদারের অত্যাচারের কাহিনীও কিন্তু মানুষের মুখে মুখে। তবে আপনার যে ইতিহাস সেটা কালো অন্ধকারে ঢাকা। যেটা ইতিমধ্যে পাঠ্য বইয়ে কিছুটা হলেও স্থান করে নিয়েছে। জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস টানতে গিয়ে আপনিও ইতিহাস হয়ে গেলেন।

আপা, আপাগো এখনো আপনি বিচার হবে, বিচার হবে বলে যে দুইদিন পর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাষণ দিচ্ছেন- বিচার করার ক্ষমতায় কি আপনি আছেন? আপনি যদি সত্যিকারের মানবদরদি হতেন, তাহলে বলতেন এসবের বিচার সৃষ্টিকর্তা করবেন। আপনার এই বিচার হবে ভাষণ শুনে মানুষ মুখ টিপে হাসে। আর বলে অসুস্থ মানুষ ছাড়া এমন কথা কেউ বলতে পারে না। আপনার কাছে প্রশ্ন-বিচারটা কখন করবেন? আবার ক্ষমতায় এলে? আপনি নিশ্চিত যে, আবার ক্ষমতায় আসবেন? এমন স্বপ্ন থাকলে ভুলে যান। এ দেশের ক্ষমতায় আপনি ফের বসবেন এটা অমাবস্যার চাঁদের মতো ঘটনা। আপনি বরং ষোল বছর ক্ষমতায় থেকে যে অন্যায় অবিচার করেছেন তার জন্য অনুতপ্ত হওয়ার কথা ছিল। আপনি জনগণের কাছে হাত জোড় করে ক্ষমা চাওয়ার কথা ছিল। তা করলেও জনগণ আপনাকে ক্ষমা করবে কিনা এটা ভাবনার বিষয়। সত্যিই হাসু আপা, অবাক হই আপনার কথা শুনে। আপনার মনে ক্রোধ থাকা স্বাভাবিক। কারণ বাংলাদেশের জনতা আপনার সকল অপকর্মের বিচার করে দিয়েছে। আপনি দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। বিশ্বমঞ্চে আপনার ইজ্জত পাংচার করেছেন আপনি নিজেই। এখন গণহত্যার বিচার হবে আদালতে। বিচারে আপনার কী হয় একটু ভাবুন।

আপা, ক্ষমতায় থাকাকালে আপনি কতো না পলিসি করেছেন। ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ফেনসিডিল খোরদের বেছে নিয়েছেন। সন্ত্রাসীদের বেছে নিয়েছেন। এরা যেন বিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলোকে শায়েস্তা করতে পারে। এই যে ভিপি নুরকে আপনার এই ছাত্রলীগের গুণ্ডাবাহিনী কতোবার মেরে হাসপাতালে পাঠিয়েছে একটু চিন্তা করে দেখুন তো? ভিপি নুর মার খেয়েছে আর আপনি গণভবনে বসে মিটিমিটি হেসেছেন। সর্বশেষ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দামকে বানিয়েছেন তার একটি ভাষণ শুনে। ছাত্রলীগে দেয়া তার ভাষণ শুনে মুগ্ধ হয়েছেন আপনি। শুধু তাই নয়, গোটা দেশের মানুষই অবাক দৃষ্টিতে তার ভাষণ শুনেছে। কিন্তু এ ভাষণ যে কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকায় কয়েক বছর আগে প্রকাশিত একটি উপ-সম্পাদকীয় ছিল সেটা তখন কে জানতো? যখন মানুষ জেনেছে তখন সাদ্দামকে মানুষ লেখা চোর হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। সাদ্দামকে দিয়েও সর্বশেষ ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালিয়েছেন। এই হামলাই কাল হলো আপনার জন্য। ছাত্ররা ক্ষেপে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রলীগ বিতাড়িত করে। ক’দিন পরই আপনি নিজেই বিতাড়িত হন। পালিয়ে জীবন বাঁচান। কিন্তু আপনি প্রায় সব ভাষণেই বলতেন জীবনের মায়া করি না। প্রয়োজনে দেশের জন্য জীবন দিবো। আপনার এই পলায়ন প্রমাণ করে এসবই ছিল আপনার মনভোলানো কথা। কথার কথা। মানুষকে আকৃষ্ট করার কথা। আপনি বলতেন পরিবার পরিজন হারিয়েছেন। পরিবার হারানোর ব্যথা আপনি বুঝেন। বিগত ষোল বছরে কতো পরিবারকে আপনি স্বজনহারা করেছেন তার হিসাব আছে কি? একটু হিসাব করুন। সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। আর ওইসব স্বজন হারানো পরিবারগুলোর কাছে মাফ চান। জানি এসব করবেন না। কারণ আপনি নিজেকে বাংলাদেশের মালিক মনে করেন। এখনো মালিক মনে করে বিচার হবে, বিচার হবে হবে গলা ফাটাচ্ছেন। কিসের বিচার আপা? আপনি, আপনার সভা পরিষদসহ পালিয়ে যাওয়া কিসের ঈঙ্গিত বহন করে। এর অর্থ আপনি, আপনার এমপি, মন্ত্রী সবাই অপরাধী। জনতার মারধরের ভয়ে পালিয়েছেন। গর্তে লুকিয়েছে কেউ কেউ। ইরাকের সাদ্দাম হোসেন, লিবিয়ার গাদ্দাফীর নজির তো আপনার চোখের সামনেই ছিল। তারপরও আপনি এসব থেকে শিক্ষা নেননি। আপনি উন্নয়নের গণতন্ত্রের নামে এ দেশের জনতাকে পিষে মেরেছেন। এজন্যই বলা হয়ে থাকে- ইতিহাসের বড় নির্মমতা হলো ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না। আপনার ভালোর জন্যই বলছি। আওয়ামী লীগের ভালোর জন্যই বলছি- এভাবে ভিনদেশ থেকে নেতাকর্মীদের উস্কে না দিয়ে তাদের বলুন জনতার কাছে যেতে। মাফ টাফ চেয়ে জনতাকে কাছে টানতে। তাহলে হয়তো একদিন আওয়ামী লীগ ফের জেগে উঠতে পারবে। আর না হয়, মানুষ বলছে আওয়ামী লীগ আস্তে আস্তে মুসলিম লীগ হয়ে যাবে। হারিয়ে যাবে বাংলাদেশ থেকে। সেটাও হবে একটা ইতিহাস। আপনি যদি বলেন বঙ্গবন্ধু হত্যার একুশ বছর পর আপনি ক্ষমতায় এসেছেন আপনার ক্যারিশমা দিয়ে। তাহলে ভুল করবেন। সে সময় জনতার কাছে মাফ চেয়ে একটিবারের জন্য সুযোগ চেয়েছিলেন। জনগণ আপনাকে সেই সুযোগ দিয়েছিল। কিন্তু আপনি জনগণের দেয়া সেই সুযোগ মিসইউস করেছেন। জনগণ যদি আপনাকে মন থেকে ভালোবাসতো তাহলে ১৯৯১ সালের নির্বাচনেই আপনি ক্ষমতায় আসতেন। যে নির্বাচনের আগেই আপনারা মন্ত্রিসভা পর্যন্ত গঠন করে রেখেছিলেন। কিন্তু জনগণ আপনাকে প্রত্যাখ্যান করে। মনে পড়ে আপা সেই দুঃখে আপনি আওয়ামী লীগের প্রধান থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। আপনার দলের নেতাকর্মীদের মায়াকান্নায় আবার পদত্যাগ প্রত্যাহার করে নেন। এখন তো বুঝতে পারছেন জনতা কি জিনিস। আপনি দিনের পর দিন অন্যায় করে যাবেন আর জনতা আপনার বিরুদ্ধে আন্দোলন করলে বলবেন এরা সন্ত্রাসী। সরকার উৎখাতে এরা নেমেছে। সরকার যদি সরকারের মতো না হয় তাহলে তো সরকার উৎখাতে জনতা মাঠে নামবেই। এটাই তো গণতন্ত্র। আপনি তো আবার বঙ্গবন্ধুর কন্যা। তাই আপনি মনে করেছিলেন আপনার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে পারবে না। আপনার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার অধিকার রাখে না। এটাই ছিল আপনার ফ্যাসিস্ট হওয়ার প্রধান লক্ষণ।

আপা, আজ আর বেশি কিছু লিখছি না। যদি পারেন নিজেকে একটু শুধরে নেবেন। আক্রোশমূলক বক্তৃতা পরিহার করবেন। আপনার দলের নেতাকর্মীদের উস্কে দিয়ে ওদের আর বিপদে ফেলবেন না। আপনি পালিয়ে যাওয়ার পর আপনার দলের নেতাকর্মীদের ওপর যে এমন আঘাত আসবে তাতো আপনার দলের সাধারণ সম্পাদক নিজেই বলেছেন। প্রকাশ্যে বলেছেন, আওয়ামী লীগ যদি ক্ষমতায় না আসতে পারে তাহলে কমপক্ষে এক লাখ লোক মারা যাবে। সে হিসাবে আপনি পালিয়ে যাওয়ার পর এক লাখ ভাগের এক ভাগও তো আপনার দলের ওপর আপনার প্রতিপক্ষ হামলে পড়েনি। বরং তারা আপনার নেতাকর্মীদের গোপনে বাঁচিয়ে দিয়েছে। এখন দিন দিন তা প্রকাশ পাচ্ছে। তারপরও বলছি আপা- আপনি ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন।

সূত্র: জনতার চোখ

mzamin


ব্যাংককের রাস্তায় সন্তান প্রসব, ফেলে গেলেন মা

ব্যাংককের রাস্তায় সন্তান প্রসব করলেন এক মা। সেই সন্তানকে ফেলে রেখেই তিনি যোগ দিলেন স্ট্রিট পার্টিতে। ওদিকে রাস্তায় পড়ে তার সন্তান চিৎকার করতে থাকে। হতাশাজনক এই কাহিনী উঠে এসেছে অনলাইন ডেইলি মেইলের এক রিপোর্টে। সিসিটিভিতে ধারণ করা ফুটেজে দেখা যায়, ব্যাংককে সংক্রান ফেস্টিভ্যাল উদযাপন করছিলেন ২৭ বছর বয়সী পিয়াথিদা। এক পর্যায়ে তিনি গর্ভস্থ সন্তানের প্রসব যন্ত্রণায় অস্থির হয়ে পড়েন। তাকে দেখা যায় কোমরে চাপ দিয়ে একটি কার পার্কিংয়ে ছুটে যাচ্ছেন। এক পর্যায়ে তাকে ট্রাউজার খুলে ফেলতে দেখা যায়। সেখানে কার পার্কিংয়ের আড়ালে কিছু একটা করেন। এর কয়েক মিনিট পর সেখান থেকে কোঁকাতে কোঁকাতে চলে যান। ওই স্থানে দেখা যায় কিছু একটা পড়ে আছে। পিয়াথিদা ছুটে যান ব্যাংককের ডন মুয়াং এলাকার রোটসারিন গ্রামের বাইরের ওই উৎসবে।

ঘটনাটি ঘটে ১৪ই এপ্রিল। ৬ মিনিটের ওই ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় একদল পথচারী ওই এলাকায় একটি বাচ্চার সন্ধান পান। নবজাতকটি তখনও জীবিত। তারা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য। তাকে বাঁচানো যায়নি। অন্যদিকে পিয়াথিদাকে দেখা যায়, উৎসবে বন্ধুদের দিকে পানীয় ছিটাচ্ছেন। কিন্তু এ সময় তার দু’পা দিয়ে রক্তক্ষরণ দৃশ্যমান ছিল। তার মুখোমুখি হলে প্রথমে সন্তান জন্মদানের কথা অস্বীকার করেন। পরে স্বীকার করেন। ফলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়। যেখানে তিনি সন্তান প্রসব করেছে তাকে ফেলে এসেছিলেন তার দেয়ালে এবং বিভিন্ন জিনিসে তখনও রক্তের দাগ। এসব বিষয়ে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জানা যায়, ঘটনার সময় তিনি ছিলেন মদ্যপ।

তার আরও দুটি সন্তান আছে। দু’জন স্বামী ছিল। ওই সন্তানরা বর্তমানে তার সাবেক পার্টনারদের আত্মীয়দের যত্নে বড় হচ্ছে। তিনি হাসপাতালে থাকায় পুলিশ তাকে আর জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেনি। ডন মুয়াং পলিশ স্টেশনের এসপি ফুওয়াডন আউনফো বলেন, এই নারীর নাম পিয়াথিদা। বয়স ২৭ বছর। তার বেশ রক্তক্ষরণ হয়েছে। এ জন্য চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এ জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়নি। তার এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে জবাবদিহিতায় আনা হবে। ওদিকে তার ২০ বছর বয়সী বন্ধু অ্যাম বলেছেন, পিয়াথিদার এই নিষ্ঠুরতার জন্য তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি জানতেন পিয়াথিদা অন্তঃসত্ত্বা।

mzamin

দিল্লির এক নারী কবুতরবাজ by লিমা সুলতানা

দিল্লির পুরুষ শাসিত কবুতরবাজির জগতে পাখিদের প্রতি ভালোবাসার অনন্য নজির সৃষ্টি করেছেন এক নারী। এতে তিনি অনেকের মন জিতে নিয়েছেন। তিনি পুরাতন দিল্লির একমাত্র নারী কবুতরপালক বা কবুতরবাজ। তার নাম শাহীন পারভীন। এর জন্য তাকে বেশ বেগ পোহাতে হয়েছে। তবে সকল বাধা অতিক্রম করে তিনি আজকের এই অবস্থানে এসেছেন। শাহীন দিল্লির খাজা মির দরদ বস্তিপাড়ায় বসবাস করেন। তার ১০০টিরও বেশি কবুতর আছে। মহল্লাবাসীর কাছে তিনি তাদের প্রিয় কবুতরপালক হিসেবে পরিচিত। তবে তার এ পর্যায়ে উঠে আসা সহজ ছিল না। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। উল্লেখ্য, পুরাতন দিল্লিতে মানুষ শুধু বিনোদনের জন্যই কবুতর পোষেন না। কবুতর পোষার বিষয়টি মুঘল ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে দিল্লির সড়কগুলোতে ভিড় বাড়তে থাকে। অটোরিকশাগুলো লাগাতার হর্ন বাজাতে থাকে। ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর আর্ট অ্যান্ড কালচারাল হেরিটেজ (আইএনপিএসিএইচ)-এর রত্নেন্দু রায় এই ঐতিহ্যকে লালন করেন। তিনি বলেন, কবুতরবাজরা তাদের কবুতর নিয়ে বেশ গর্ববোধ করেন। ‘কবুতরবাজি’ নামে কবুতর পালনের ঐতিহ্য প্রাচীনকাল থেকে শুরু হয়েছে। এর শেকড় মহাভারতে রয়েছে। ওই সময় রাজপরিবারের বিনোদনের জন্য রাজপ্রাসাদে পাখি রাখা হতো। 

লেখক ও ইতিহাসবিদ রানা সাফভি বলেন, দরবারের নারীরা বারান্দায় বসে কবুতর উড়া দেখতেন। তিনি আরও বলেন, মুসলিম শাসকদের অধীনে ওই বিনোদন একটি জনপ্রিয় খেলায় পরিণত হয়। এটি হলো- আত্ম, সাংস্কৃতিক পরিচয় ও আত্মীয়তার অনুভূতি। সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময় এই খেলা অন্য মাত্রায় পৌঁছায়। কবুতরবাজিকে সম্রাট জাহাঙ্গীর ইশকবাজির (ভালোবাসার শিল্প) সঙ্গে তুলনা করেন। কবুতর পালনের প্রথাকে অনন্য মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি দিল্লিতে কবুতর প্রশিক্ষক আনেন। উল্লেখ্য, দিল্লি শহরের হাজার হাজার কবুতর পালক ওই ঐতিহ্য পালন করে আসছেন। কবুতরবাজি বা কবুতর পালন ঐতিহ্যগতভাবে পুরুষদের কাজ। শতাব্দী ধরে পিতার পর পুত্র এ কাজের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে এর ব্যতিক্রম ঘটিয়েছেন শাহীন পারভীন। দিল্লিতে একমাত্র নারী কবুতর পালনকারী হিসেবে তিনি  গৌরব অর্জন করেছেন। স্ত্রী থেকে মা তার থেকে দাদি। দিনে এমন একাধিক ভূমিকা পালন করেন তিনি। যখনই একা থাকেন তিনি মই বেয়ে বাড়ির ছাদে উঠে যান। তার ১০০টির বেশি কবুতর  দেখাশোনা করেই তিনি দিন শুরু করেন। সকালে উঠে কবুতরগুলো সুস্থ আছে কিনা তা নিশ্চিত করেন। এরপর সেগুলোকে খাবার খাওয়ান। হাততালি, শিস বাজিয়ে তিনি তার কবুতরগুলোর প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করেন। প্রতিযোগিতার জন্য তাদের দক্ষতাও নিশ্চিত করেন। সন্ধ্যার সময় কবুতরের কণ্ঠের প্রতিধ্বনি করে অনেকে কবুতরগুলোকে ডাকেন। এর মধ্যে পারভীনের কণ্ঠ আলাদাভাবে শোনা যায়। যখন তিনি তার কবুতরগুলোকে ডাকেন তখন আশপাশের ছাদ আর ঘরের জানালা থেকে মানুষ উঁকি দেয় প্রিয় কবুতর পালককে এক নজর দেখার জন্য। পারভীন বলেন, কবুতর পালন একই সঙ্গে ঐতিহ্য ও আবেগের বিষয়। আমি যদি তাদের সঙ্গে সময় না কাটাই তাহলে অসুস্থ হয়ে পড়ি। তারা আমার বাচ্চার মতো। তবে পুরুষ শাসিত সমাজে কবুতরবাজ হওয়া পারভীনের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসার জন্য তিনি তার পিতাকে কৃতিত্ব দেন। তিনি বলেন, প্রতিদিন স্কুল থেকে ফেরার পর আমার পিতা আমাকে ছাদে নিয়ে যেতেন এবং তার কবুতরগুলো দেখাতেন। সেখান থেকেই মূলত আমার কবুতরের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয়। তার ভাই পারভীনের শখের বিরোধিতা করেন। এর জন্য তাকে তার ভাইয়ের অসম্মতির সঙ্গে লড়াই করতে হয়। পরবর্তীতে তিনি অন্যদের সমালোচনার সম্মুখীন হন। তবে পাখিদের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি তার জিদ ধরে রাখেন। তিনি বলেন, যখন সমাজ আপনার দক্ষতার জন্য আপনার প্রশংসা করে তখন আপনি গর্বিত বোধ করবেন। আপনার বিরুদ্ধে কারা কথা বললো তা নিয়ে মাথা ঘামানোর কোনো প্রয়োজন নেই। নিন্দুকদেরকে নিন্দা করতে দিন। তিনি বলেন, যা থেকে আমি শান্তি পাই তা আমি করে যাবো। পারভীন তার প্রতিভার জন্য তার কমিউনিটি থেকে ব্যাপক সম্মান পেয়েছেন। মুখে হাসি নিয়ে তিনি বলেন, অনেক মানুষ আমার কাছে আবদার করেন আমি যাতে তাদের কবুতরগুলোকে দোয়া দেই। তবে আমি আমার নিজের কবুতরের জন্যই সময় পাই না। মহসিন উস্তাদের মতো অভিজ্ঞ কবুতর পালক মাঝে মাঝে পারভীনকে কবুতরের খাবার ও ওষুধ দিয়ে সমর্থন করে থাকেন। কারণ কিছু সময় পারভীন তার কবুতর পালনের খরচ জোগাড় করতে হিমশিম খান।

mzamin

যে প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়েছে লন্ডন বৈঠকে by শান্তনা রহমান

বিএনপি-জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে তা এখনো অজানা। লন্ডনে বা ঢাকায় কোনো দলের পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই বলা হয়নি। এ কারণেই হয়তো বিস্তর কৌতূহল। দু’দলের মধ্যে যে দূরত্ব বেড়েছিল তার কি কিছুটা অবসান হয়েছে? কেন দূরত্ব তৈরি হলো, কারা এর জন্য দায়ী তা নিয়ে দু’দলের নেতারা আলোচনা করেছেন। খুঁজেছেন উত্তর। চলমান রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘসময় আলোচনা হলেও সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্তের দিকে হাঁটেননি নেতারা। পর্যবেক্ষকরা পরস্পরবিরোধী অবস্থান থেকে এক কক্ষে বসাটাকেও ইতিবাচক বলে মনে করছেন।  কারণ দু’দলের মধ্যে উদ্বেগ ছিল, ছিল বেদনা। একে অপরকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবতে শুরু করেছিল। গেল সপ্তাহে বিএনপি-জামায়াতের শীর্ষ নেতারা এক বৈঠকে মিলিত হন। যদিও বৈঠকটি ছিল মূলত মানবিক। তবে এক ঘণ্টার এই বৈঠকে বেশির ভাগ সময় রাজনীতির চর্চাই হয়েছে। অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতেই জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান সেখানে যান। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসায় তারা মিলিত হন। ডা. শফিকুর রহমান ইউরোপীয় ইউনিয়নের আমন্ত্রণে ব্রাসেলস গিয়েছিলেন। ইউরোপীয় নেতাদের কাছে তারা তাদের অবস্থান তুলে ধরেছেন। জামায়াত কী চায় তাও স্পষ্ট করেছেন। প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে তারা অত্যন্ত সফল বলে বর্ণনা করছেন বিভিন্ন মাধ্যমে। বেগম জিয়ার সঙ্গে বৈঠক হবে এ নিয়ে কোনো জল্পনা ছিল না। অনেকটা নাটকীয়ভাবেই ডা. শফিকুর রহমান সেখানে হাজির হন। দু’দলের শুভাকাঙ্ক্ষীরা এই বৈঠকের ব্যাপারে নানাভাবে তাগিদ দিয়ে আসছিলেন। এর আগে অবশ্য ফোনালাপ হয় দু’পক্ষের মধ্যে। তারেক রহমান নিজেই জামায়াতের আমীরকে স্বাগত জানান। যা ছিল অত্যন্ত আন্তরিকতায় ভরা। নিজ হাতে তিনি তাদের আপ্যায়িত করেন তার বাসভবনে। আলোচনার শুরুটা ছিল আবেগময়। অসুস্থ খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা কেমন, কীভাবে তার দিন কাটছে তা জানার চেষ্টা করেন ডা. শফিকুর রহমান। কবে দেশে ফিরবেন তাও জানতে চান ডা. শফিকুর রহমান। এরপর ধীরে ধীরে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়।

২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বে চারদলীয় জোট গঠিত হয়। ক্ষমতায় আসে জোট। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সরকারে স্থান পায় জামায়াত। মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ মন্ত্রী হন। যা নিয়ে বিএনপি প্রচণ্ড সমালোচনার মুখে পড়ে। ওয়ান-ইলেভেনের আগ পর্যন্ত তাদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কই ছিল বহাল। এরপর থেকে দূরত্ব বাড়তে থাকে। বেগম জিয়া যান কারাগারে মিথ্যা মামলায়। জামায়াত নেতাদের ফাঁসি কার্যকর হয়। জাতীয়-আন্তর্জাতিক নানা খেলায় দু’দলের ঐক্যে ফাটল ধরে। অনেকটা প্রকাশ্যেই একে অপরকে দোষারোপ করতে থাকেন। সুযোগ নেয় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার।

লন্ডন বৈঠকে বেগম জিয়া খুব কম কথা বলেছেন। তবে তার কথাবার্তার মধ্যে ঐক্যের সুর ছিল। তারেক রহমান আলোচনা এগিয়ে নিয়েছেন। ডা. শফিকুর রহমান বার কয়েক বলেছেন, কোথা থেকে কী হলো জানি না। কিন্তু আমাদের তরফে ঐক্য ভাঙার কোনো চেষ্টা ছিল না। বিএনপি’র নেতাদের বক্তৃতা-বিবৃতি পর্যালোচনা করলেই এর জবাব খুঁজে পাওয়া যাবে। তারেক রহমান তার অবস্থান খোলাসা করেন। বলেন, এত বড় পার্টির কোথায়, কোন নেতা কী বলেছেন তা মনিটর করা সম্ভব নয়। কিন্তু দলের কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না আমি যতটুকু জানি। তখন বেগম জিয়া অত্যন্ত স্বল্প কথায় বিএনপি-জামায়াত ঐক্যের পটভূমি বর্ণনা করেন। যাতে বৈঠকের পরিবেশ অন্যদিকে মোড় নেয়। এরপর ডা. শফিক আলোচনার প্রসঙ্গ পাল্টে চলমান রাজনীতির দিকে আলোকপাত করেন। ঘোলা পানিতে মাছ শিকারে একটি বাইরের শক্তি নানা ষড়যন্ত্র করছে তা নিয়েও তারা আলোচনা করেন এবং তারা একমত হন।  কবে নির্বাচন হতে পারে তা নিয়ে বেশ কিছু সময় আলোচনা হয়। নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে দু’দলের অবস্থান কাছাকাছি নয়, বিপরীতমুখী। দু’দলের মধ্যে দূরত্ব কমাতে কিছু করণীয় নিয়েও কথাবার্তা হয় তাদের মধ্যে। আরও ধৈর্য, আরও সংযমের ওপর জোর দেন নেতারা। ঢাকায় একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, ভবিষ্যতে দু’দলের সম্পর্কে ফাটল ধরে এমন কোনো কাজকে প্রশ্রয় দেবেন না কেউই- সেই বিষয়েও তারা এক অলিখিত সিদ্ধান্তে পৌঁছান।

mzamin

বান্ধবীকে বিয়ে করলেন অভিনেত্রী ক্রিস্টেন

বিয়ে করলেন ‘টোয়ালাইট’ অভিনেত্রী ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট। ১৯ এপ্রিল তার দীর্ঘদিনের বান্ধবী এবং চিত্রনাট্যকার ডিলান মেয়ারের সঙ্গে গাঁটছাড়া বাঁধেন তিনি। জানা যায়, স্টুয়ার্টের লস অ্যাঞ্জেলসের বাড়িতে এক পারিবারিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা বিয়ে করেছেন। বাগদানের ঘোষণা দেওয়ার চার বছর পর বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হলেন। এক সপ্তাহ আগে আদালত থেকে বিয়ের লাইসেন্স পেয়েছেন তারা। স্টুয়ার্টের বাসভবনে তার পরিবার এবং বন্ধুদের উপস্থিতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানের ছবি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। ছবিতে মেয়ারকে সাদা পোশাকে দেখা যাচ্ছে। আর স্টুয়ার্টকে ধূসর পোশাকে দেখা যাচ্ছে। একটি ছবিতে আবার মেয়ারের আঙুলে আংটি পরিয়ে দিচ্ছেন ক্রিস্টেন।

২০২১ সালের নভেম্বরে স্টুয়ার্ট একটি সাক্ষাৎকারে মেয়ারের সাথে তার বাগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। ২০১৭ সালে স্টুয়ার্ট উভকামী হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতে শুরু করেন। আর ২০১৯ সালে ডিলান মেয়ারের সাথে সম্পর্ক শুরু করেন এবং ইনস্টাগ্রামে তাদের সম্পর্ক আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেন।

mzamin

পারভেজের মায়ের আর্তনাদ: খালি বাবা ডাকটা যদি শুনতাম

বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছিল ছেলে ইঞ্জিনিয়ার হবে। কিন্তু তাদের সে স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই ঘাতকদের হাতে প্রাণ দিতে হলো মেধাবী ছাত্র জাহিদুল ইসলাম পারভেজকে। রাজধানীর বনানীতে সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত পারভেজের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ভালুকার কাইচান গ্রাম এখন শোকে স্তব্ধ। ছেলে হারানোর শোকে পারভেজের বাবা-মা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। একমাত্র ছোট বোনসহ পরিবারের কেউই এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না। পুরো এলাকাতেই এখন শোকের ছায়া। নিজের তৈরি বাড়িতে থাকবেন পারভেজ কিন্তু সেই বাড়িতে আর থাকা হলো না। বাকরুদ্ধ মা-বাবা ছেলের স্মৃতি হাতড়ে বেরাচ্ছেন। বার বার সংজ্ঞা হারাচ্ছেন একমাত্র ছোট বোন। নিহত পারভেজের বাড়িতে গিয়ে এমন দৃশ্যই দেখা গেছে। তুচ্ছ ঘটনায় প্রকাশ্যে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডে হতবাক ও বাকরুদ্ধ স্বজনসহ এলাকার সবাই। খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায় পরিবার, স্বজন ও গ্রামবাসী। ছেলের আকস্মিক মৃত্যুর খবর শুনে রোববারই কুয়েত থেকে দেশে ফিরেন বাবা জসিম উদ্দিন। বাবা বিদেশে কর্মরত থাকা অবস্থায় নিজের গ্রামের বাড়িতে নতুন একতলা বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন পারভেজ। কিন্তু সেই বাড়িতে আর থাকা হলো না তার।

পারভেজের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড এলাকার মানুষ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। লাশ তার বাড়িতে পৌঁছার আগেই এলাকার শত শত মানুষ বাড়িতে জমা হয়, শেষবারের মতো একনজর দেখার জন্য। রোববার বিকালে পারভেজের কফিনবাহী এম্বুলেন্স গ্রামে আসার পর সৃষ্টি হয় এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের। বাবা, মা ও স্বজনদের গগণবিদারি আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। এ সময় উপস্থিত কেউই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি। পাভেজের বাবার একটিই প্রশ্ন ‘আমি জিগাইতাম, কেরে আমার ছেলের মারছে। আমার আর বাইচ্চা থাইক্যা কি অইবো। আমার ছেলেই তো নাই। হাত-পা ভাইঙ্গা রাখতো, সারাজীবন পালতাম, খালি বাবা ডাকটা শুনতাম।’ একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে অবিরাম কাঁদছেন মা পারভীন আক্তার। কাঁদতে কাঁদতে অচেতন হয়ে পড়ছেন। জ্ঞান ফিরলে বিলাপ করে বলছেন, ‘আমার পুতেরে আইনা দাও। আমি একটাবার পুতের মুহেত্তে মা ডাক হুনবার চাই।’ জাহিদুল ইসলাম পারভেজ ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বিরুনীয়া ইউনিয়নের কাইচান গ্রামের কুয়েতপ্রবাসী জসিম উদ্দিন ও মা পারভীন আক্তারের একমাত্র ছেলে। পারভেজের ফুফাতো ভাই হুমায়ূন কবির জানান, পারভেজ স্থানীয় কংশেরকুল উচ্চবিদ্যালয় থেকে ২০১৭ সালে এসএসসি ও ২০১৯ সালে ময়মনসিংহের রয়েল মিডিয়া মেমোরিয়াল কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হোন।

শনিবার রাজধানীর বনানীতে হাসাহাসির মতো তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে তিনি নিহত হন। ২০শে এপ্রিল রোববার রাত ৯টায় গ্রামের বাড়িতে নামাজে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। পারভেজের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অব্যাহত রয়েছে।

বিরোনীয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন সরকার জানান, এলাকায় সজ্জন সদাহাস্যেজ্জ্বল ভালো ছেলে হিসেবে পরিচিত পারভেজ ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার বাবাও ছাত্রদল করতেন। তার পুরো পরিবার বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি পারভেজ হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। রোববার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ নেয়া হয় নয়াপল্টনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে। সেখানে প্রথম জানাজা হয়। জানাজা শেষে নয়াপল্টন থেকে মরদেহ নেয়া হয় প্রাইমএশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে। পরে লাশ আনা হয় গ্রামের বাড়িতে। এই ঘটনায় নিহতের মামাতো ভাই হুমায়ূন কবীর বাদী হয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বনানী থানার যুগ্ম আহ্বায়ক সোবহান নিয়াজ তুষার ও যুগ্ম সদস্য সচিব হৃদয় মিয়াজি, মেহেরাজ ইসলাম, আবু জহর গিফফারি ওরফে পিয়াস, মাহাথির হাসান, রিফাত, আলী ও ফাহিমসহ অজ্ঞাত ৩০ জনকে আসামি করে শনিবার রাতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ২১শে এপ্রিল সোমবার ভোরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। আটককৃতরা হলেন- মো. আল কামাল শেখ ওরফে কামাল (১৯), আলভী হোসেন জুনায়েদ (১৯) ও আল আমিন সানি (১৯)।

mzamin