Saturday, January 6, 2018

স্মৃতিতে জাফর আহমেদ চৌধুরী


                    ৬ জানুয়ারী জাফর আহমেদ চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে লিখিত
জাফর আহমেদ চৌধুরী আমার বাবার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। তারা ছিলেন দুর সম্পর্কের আত্মীয়। সেই সম্পর্কে আমি তাকে আংকেল বলে ডাকতাম। তাকে দেখেছি আমার সেই প্রাইমারী স্কুল জীবনের সময় থেকে। 

আমরা থাকতাম তখন চট্টগ্রাম শহরের দেওয়ানহাট পোস্তার পাড় ধনিয়ালাপাড়ায়। বাবার গাড়ির ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মোটর পার্টস দোকানের দোতলায় ছিল আমাদের বাসাটি। দোকানের পাশ দিয়ে একটি গলি ছিল। সেই গলিতেই থাকতেন জাফর আহমেদ চৌধুরী। বাবার সাথে সন্ধ্যার পর অবসরে দাবা খেলা খেলতেন ও চা খেতেন। আমরা ভাই-বোনেরা সবাই বসে বসে তাদের দাবা খেলা দেখতাম ও শিখতাম। তাদের খেলা দেখে আমিও পরে স্কুল- কলেজের প্রতিযোগীতায় দাবা খেলায় পুরষ্কৃত হয়েছিলাম। একদিন শুনলাম জাফর আহমেদ সাহেব সেই গলি থেকে চলে গেছেন। 


তিনি তখন ছোট থেকে বড় ব্যবসায়ী হয়ে ওঠছেন। অবশ্য তার ব্যবসায়িক উত্থান খুব দ্রুত হয়েছিল। কয়েক বছরের মধ্যে তিনি অনেক বড় লোক হয়ে গেছেন খাতুনগঞ্জের ব্যবসা করে। তখন তিনি মাঝে-মধ্যে আমাদের দোকানে আসতেন বাবার সাথে দেখা করতে। 

আমাদের দেখে তিনি মাথায় হাত বুলাতেন ও হাসতেন। এক সময় জাফর সাহেবের আসা-যাওয়া একেবারেই কমে গেল। খুব কর্মব্যস্ত দিন কাটে তার। ব্যবসায়ী থেকে শিল্পপতি, এমনকি ব্যাংকের ডাইরেক্টর ও চেয়ারম্যান। বাবার কাছ থেকে শুনেছি জাফর আহমেদ সাহেব খুব শিক্ষিত লোক ছিলেন এবং তিনি ছিলেন মেধাবী ও পরিশ্রমী। তিনি অনেক বড় লোক হয়ে গেলেন। 

একসময় তিনি আমাদের ভুলেই গেলেন। ইতিমধ্যে  দীর্ঘদিন অসুস্থ থেকে বাবা অকালে মারা গেলেন। আমি তখন কলেজে পড়ছি। লেখাপড়ায় থাকায় বাবা আমাকে তার ব্যবসাতে আনেন নি। তাই তার হঠাৎ মৃত্যুতে কোন কূল- কিনারা পাচ্ছিলাম না। ব্যবসার হাল ধরাও মুশকিল হয়ে ওঠল। দোকানের পুরানো কর্মচারীরা এক প্রকার বেইমানি করল। বিভিন্ন প্রতিকূলতার  সম্মুখীন হয়ে আমাকে  পথ চলতে হলো।

বাবার আরেক বন্ধু পোস্তার পাড়ের মোহাম্মদ হোসেন সওদাগর আমাকে অনেক সাহায্য - সহযোগীতা করেছিলেন। তিনি আমাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন আমার আমেরিকা যাওয়ার ব্যাপারে জাফর আহমেদ চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করতে। কারণ ইতোমধ্যে আমি ইংরেজি ভাষায়  টোফেল করেছি এবং আমেরিকা জর্জিয়া ইউনির্ভাসিটি থেকে এডমিশনের  আই টুয়েন্টিও চলে এসেছে। তখন দরকার একজন ভালো গার্জিয়ান বা স্পনসর। জাফর আহমেদ চৌধুরী তখন ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান। চট্টগ্রামে তিনি বসতেন আগ্রাবাদ তাহের চেম্বারে।  খোঁজ নিয়ে গেলাম তার অফিসে। অনেক বছরের ব্যবধান থাকায় তিনি আমার চেহারা দেখে আমাকে চিনতে পারছিলেন না। কিন্তু যখন পরিচয় দিলাম তখন তিনি তার চেয়ার থেকে উঠে গেলেন এবং আমাকে জড়িয়ে ধরলেন। সেদিন তার সাথে আমি অনেক্ষণ ছিলাম। আমার বিভিন্ন  খবর নিলেন। তিনি অনেক দুঃখ প্রকাশ করলেন বাবার মৃত্যুর খবর পান নি বলে। 

তিনি নাকি ব্যবসার কাজে প্রায় দেশের বাইরে যাওয়া আসা করতেন। আমি আমেরিকা যাওয়ার আগ্রহের কথা শুনে তিনি খুশি হলেন এবং কিছু পরামর্শ দিলেন। তিনি বললেন আমেরিকা স্টুডেন্ট ভিসা পেতে অনেক সময়ের ব্যাপার আছে । ততোদিন যেন আমি তার অফিসে কাজ করি। ভাবলাম বাবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঠিকমতো চালাতে পারছিলাম না। বরং এখানে কাজ করলে হয়তো ব্যবসাটাও শেখা হবে। 

আমার আমেরিকা যাওয়ার ব্যাপারে তিনি স্পন্সর হলেন এবং এজন্য তার সমস্ত ব্যাংকিং ও ব্যবসার কাগজপত্র সাপোর্ট দিলেন। আমি আমেরিকান এম্বেসিতে ভিসার জন্য ফেইস করলাম। কিন্তু আমেরিকার সরকারের নতুন নিয়ম আসায় স্টুডেন্ট ভিসা প্রসেসিং এ জটিলতা বেড়ে গেল। তাই আমাকে আরো অনেকদিন অপেক্ষা করতে হলো। সে অনেক কাহিনী। এর পর যতদিন তার কাছে গেছি তিনি কোনদিন আমাকে নিরাশ করেননি। 

একসময় দেখলাম তিনি রাজনীতিতে নেমে পড়েছেন। কিন্তু রাজনীতির জটিল সমীকরণে তিনি বারবার ঘুরপাক খাচ্ছেন। তার রাজনীতির হিসাব-নিকাশে কোথায় যেন একটা গ্যাপ ছিল। আমি তার খুলশির বাসায় প্রায় যেতাম। সেখানে দেখতাম কতগুলো রাজনৈতিক টাউট নেতাকর্মী তাকে ঘিরে থাকত। 

তিনি যাদেরকে নিয়ে রাজনীতি করার চেষ্টা করতেন তারা আসলে অনেকে কিছু সুবিধা ও টুপাইস পাওয়ার আসায় সেখানে যেত। এসব কথা তাকে বলাতে ঐসব কিছু নেতাকর্মী আমার উপর ক্ষেপা ছিল। আমার সম্পর্কে তাকে ভুল বোঝাত তারা। পরে অবশ্য তিনি তার ভূল বুঝতে পেরেছিলেন। তবে অনেক পরে। যখন সুবিধাবাদীরা একে  একে কেটে পড়ে। সে অনেক আগের কথা।

দক্ষিণ চট্টগ্রাম ভিত্তিক একটি পত্রিকা প্রকাশের ইচ্ছে ছিলো তাকে নিয়ে। তবে কেন জানি হয়নি। ইতিমধ্যে আমার জীবনের মোড় অনেক বাক নিয়েছে। কঠিন বাস্তবতার সম্মুখীন হয়ে আমাকে অনেক পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। 

মিডিয়ায় বেড়ে গেল আমর কর্মব্যস্ততা। মিডিয়ার অফিসিয়াল ট্যুরে গেলাম জাপানে। সেখানে বাংলাদেশের এক অনলাইন পত্রিকায় জানলাম জাফর আহমেদ চৌধুরী গুরুতর অসুস্থ। দেশে ফিরে জানলাম  চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়েছে। 
এর কয়েকদিন পর শুনলাম তিনি মারা গেছেন। শুনে খুব কষ্ট পেলাম।জীবত অবস্থায় তাকে আর কোনদিন দেখিনি। পত্রিকায় ছাপানো তার ছবি দেখে শ্রদ্ধাবনত হয়ে গেলাম। সেদিন এক অদ্ভূত ঘটনা হলো। যেদিন তিনি মারা গেছেন তার আগের রাতে আমার বাবাকে ঘুমে স্বপ্ন দেখলাম ধনিয়ালাপাড়ার সেই দোকানে, সেই বাসায়। যেখানে তারা দুজনে দাবা খেলতেন । আর কিছুক্ষণ পর পর চা খেতেন। ধুসর স্মৃতিতে চোখে পানি এসে গেলো। আল্লাহ তাদের দুজনকে যেন বেহেস্তে নসিব করেন । আমীন। 

সরোয়ার আমিন বাবু ---------- লেখক ও সাংবাদিক  



মিস্টার বিনের জন্মদিন

রোয়ান সেবাস্টিয়ান এটকিনসন। ডাকনাম রো। আর পুরা বিশ্ব তাকে চিনে মি. বিন নামেই। ১৯৫৫ সালের ৬ জানুয়ারি ইংল্যান্ডের নিউক্যাসলে জন্মগ্রহণ করেন এই ইংলিশ অভিনেতা, কমেডিয়ান এবং নাট্যকার। আজ তার জন্মদিন।

১৯৯০ সালে রোয়ান এটকিনসন মি. বিন চরিত্রে হাজির হন। সিরিজটি দর্শকদের কাছে এতটাই জনপ্রিয় হয়ে যে সবার কাছে মি. বিন নামেই পরিচিত হয়ে উঠেন তিনি। পাশাপাশি, সেসময় তিনি দ্যা ব্ল্যাক অ্যাডার এবং ফানি বিজনেসসহ বেশ কয়েকটি তুমুল জনপ্রিয় টিভি সিরিজে নিয়মিত অভিনয় করেন।

এর আগে, ১৯৭৯ সালে রোয়ান প্রথম স্কেচ কমেডি শো ‘নট দ্যা নাইন ও ক্লোক নিউজ’ নামে একটি বই লিখেন। দারুণ পাঠকপ্রিয়তার পর বইটি থেকে পরবর্তীতে নির্মিত হয় টিভি কমিক অনুষ্ঠান। এতে অভিনয় করেই রোয়ান ব্রিটিশ একাডেমি অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন এবং তাকে ঘোষিত করা হয় বিবিসি বর্ষসেরা ব্যক্তিত্ব হিসেবে।

১৯৮৩ সালে জেমস বন্ড সিরিজের ‘নেভার সে নেভার এগিন’র একটি সাপোর্টিং চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে পা রাখেন তিনি। এরপর একে একে অভিনয় করেন ‘দি টল গাই’, ‘দি উইচেস’, ‘হট শটস! পার্ট ডেউক্স’, ‘স্কুবি ডু’, ‘লাভ অ্যাকচুইলি’, ‘কিপিং মাম’, ‘বিন’, ‘মি. বিনস হলিডে’, ‘জনি ইংলিশ’, ‘জনি ইংলিশ রিবর্নের’ মতো বিখ্যাত সব সিনেমায়।

২০০৫ সালের দর্শকদের ভোটে ব্রিটিশ কমেডি ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ৫০ কমেডিয়ানের তালিকায় নাম ওঠে আসে রোয়ানের। ২০১২ সালের নভেম্বরে মি. বিন খ্যাত এই অভিনেতা এক সাক্ষাৎকারে ‘বিন’ চরিত্রে আর হাজির না হওয়ার ঘোষণা দেন। মি. বিন চরিত্রে তাকে আর অভিনয় করতে না দেখা গেলেও তাঁর অভিনীত এই চরিত্রটি সারা জীবন বিনোদন দিয়ে যাবে দর্শকদের।

শুভ জন্মদিন মি. বিন!

হাটহাজারী মাদরাসার প্রবীণ শিক্ষক শামসুল আলমের ইন্তেকাল

হাটহাজারী মাদরাসার প্রবীণ শিক্ষক মাওলানা শামসুল আলম ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

শনিবার সকাল ১০টায় নিজ বাসভবনে তিনি ইন্তেকাল করেন।

তার ইন্তেকালে জামিয়া প্রধান, হেফাজত আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী ও হেফাজতে ইসলাম মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

মাওলানা শামসুল আলম সাহেব চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানার আলমপুর গ্রামে ১৯৪৩ সালের ১২ আগস্ট এক সম্ভ্রান্ত আলেম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি ১৯৬০ সালে হাটহাজারী থেকে দাওরায়ে হাদিস শেষ করে উচ্চশিক্ষা অর্জনের লক্ষ্যে পাকিস্তান জামিয়া আশরাফিয়া লাহুরে আল্লামা ইদরীস কান্দলভীর কাছে পুনরায় বুখারির দরস নেন। দেশে ফিরে নওগাঁ জেলার পোরশা দারুল হেদায়া মাদরাসায় সিনিয়র মুহাদ্দিস হিসেবে যোগদান করেন।

১৯৭৬ সালে জামিয়া ওবাইদিয়া নানুপুর মাদরাসায়, ১৯৭৭ সালে ঢাকা আলিয়া মাদরাসায় এবং ১৯৭৯ সালে জামিয়া কুরআনিয়া লালবাগ মাদরাসায় সিনিয়র মুহাদ্দিস হিসেবে হাদিসের খেদমত করেছেন।

লালবাগে দীর্ঘ ২৫ বছর থাকার পর ২০০৪ সালে দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসায় সিনিয়র মুহাদ্দিস পদে যোগদান করেন। দীর্ঘ ১৪ বছর হাদিসের খেদমত করে ৭৫ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্তেকালের সময় তিনি ৪ ছেলে, ৩ মেয়ে ও হাজার হাজার ছাত্র রেখে যান।

সালমানকে বিয়ে ছাড়াই বাবা হতে পরামর্শ রানীর


 দীর্ঘদিন পর হিচকি সিনেমার মাধ্যমে আবারো পর্দায় ফিরছেন রানী মুখার্জি। এর প্রচারণার জন্য সালমান খানের ‘বিগ বস’ অনুষ্ঠানটি বেছে নিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি অনুষ্ঠানের পর্বটির শুটিং করেন সালমান-রানী। ব্যক্তিগতভাবে তারা খুবই ভালো বন্ধু। আর সুযোগ পেলেই খুনসুটিতে মেতে ওঠেন। এদিনও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

বিগ বস’র এ পর্বটির সেটে উপস্থিত একজন সূত্র ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘সবাই আশা করেছিলেন পর্বটি দারুণ হবে। এর শুটিংয়ে অনেক মজা হয়েছে। সিনেমার প্রচারণা করতে গিয়ে রানী বিয়ের প্রসঙ্গ টেনে সালমানের হিচকি তুলে দিয়েছেন। দুজন এ নিয়ে অনেক হাসাহাসি করেছেন।’

সূত্রটি আরো বলেন, ‘রানী এখানেই থেমে থাকেননি বরং বলেছেন, সবাই সালমানকে বিয়ের কথা জিজ্ঞেস করে এখন তার উচিৎ বিয়ে ছাড়াই সরাসরি সন্তানের বাবা হওয়া। সালমান জানান, এটি বিয়ের চেয়ে ভালো বুদ্ধি। রানী আরো বলেন, তিনি চান সালমান বাবা হোক যেন আদিরা (রানীর মেয়ে) তার সঙ্গে খেলাধুলা করতে পারে এবং সন্তান এ অভিনেতার মতোই সুন্দর হবে। কিন্তু এর প্রেক্ষিতে সালমানের জবাব ছিল প্রস্তুত। এ অভিনেতা বলেন, যদি সন্তান মায়ের মতো হয় তাহলে কী হবে! এরপর দুজন হাসতে শুরু করেন। দর্শকরাও তাদের পুরো কথোপকথনে হাসিতে ফেটে পড়েন।’

কিছুদিন আগে মুক্তি পেয়েছে হিচকি সিনেমার ট্রেইলার। এতে ‘টোরেটে সিনড্রম’ আক্রান্ত ন্যাইনা মাথুর নামের এক শিক্ষিকার চরিত্রে অভিনয় করেছেন রানী। সিদ্ধার্থ পি মালহোত্রা পরিচালিত সিনেমাটি মুক্তি পাবে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি।

 

ভাতা কমানোয় ক্ষুব্ধ ১১ সৌদি প্রিন্স গ্রেপ্তার

সরকারি ভাতা কমিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে রিয়াদে রাজপ্রাসাদের সামনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানানোর সময় সৌদি আরবের ১১ জন প্রিন্সকে আটক করা হয়েছে। স্থানীয় একটি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে শনিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানায়।

যদিও সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব। সম্প্রতি বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে যাওয়ায় সম্পূর্ণরূপে তেল নির্ভর অর্থনীতির দেশ সৌদি আরব চাপে পড়েছে।

রয়টার্স জানায়, ২০১৮ সালে দেশটির বাজেট ঘাটতি প্রায় ১৯৫ বিলিয়ন রিয়াল।

বাজেটে ঘাটতি কমিয়ে আনতে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ রাজকীয় নোটিস জারি করে বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

ভর্তুকি কমিয়ে আনা, মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট আরোপ এবং রাজ পরিবারের সদস্যদের ভাতা কমানো যার অন্তর্ভূক্ত।

ওই নোটিস অনুযায়ী, এখন থেকে রাজপরিবারের সদস্যদের বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস বিল সরকার আর দেবে না।

এ আদেশে ক্ষুব্ধ কয়েকজন প্রিন্স কেসর আল-হুকুম রাজপ্রাসাদের সামনে তাদের ভাতা কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি করতে থাকেন বলে জানায় অনলাইন সংবাদ সংস্থা এসএবিকে ডট ওআরজি।

তাদের এক স্বজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় ক্ষতিপূরণও দাবি করেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সৌদি কর্মকর্তা বলেন, “অন্যায্য দাবি করছে জানিয়ে তাদের প্রাসাদ প্রাঙ্গণ ত্যাগ করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা কেসর আল-হুকম থেকে সরে যেতে রাজি হয়নি।

“পরে রাজকীয় আদেশ জারি করে রাজরক্ষীদের বিক্ষোভ বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়। রক্ষীরা তাদের আটক করে আল-হায়ের করাগারে রেখেছে। তাদের আদালতে উপস্থাপণের প্রস্তুতি চলছে।”

১১ প্রিন্সকে গ্রেপ্তারের খবর দিলও তাদের নাম জানাননি ওই কর্মকর্তা।

গত বছরের শেষ দিকে দুর্নীতির অভিযোগে সৌদি রাজপরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নতুন ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ক্ষমতা ও প্রভাব বৃদ্ধি করতে দুর্নীতির নামে ওই ধরপাকড় চলেছে বলে মত অনেকের।

শীতে কাঁপছে দেশ

সারাদেশে জেঁকে বসেছে শীত। ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহে কনকনে হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। শীতের তীব্রতা বাড়ার পাশাপাশি ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে দেশের বেশিরভাগ অঞ্চল। এতে যান চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি নৌ চলাচলও বিঘ্ন ঘটেছে।

অন্যদিকে ঘন কুয়াশার কারণে শুক্রবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সাড়ে সাত ঘণ্টা আন্তর্জাতিক রুটের বিমান ওঠানামা বন্ধ রাখা হয়।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয় পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত বি

শুক্রবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল চুয়াডাঙ্গায় ৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ছিল চলতি শীত মৌসুমে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

শুক্রবার ঢাকায় থার্মোমিটারের পারদ ১১ দশমিক ৫, রংপুরে ১০, দিনাজপুরে ৮ দশমিক ৪, শ্রীমঙ্গলে ৯ দশমিক ৪, টাঙ্গাইলে ৯ দশমিক ৮, গোপালগঞ্জে ৯ দশমিক ৭,  ময়মনসিংহে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছে।

দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে কক্সবাজারে, ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে শীতে সবচেয়ে বেশি ভুগতে হচ্ছে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষকে। তীব্র ঠাণ্ডায় কোথাও কোথাও কোল্ড ডায়রিয়া দেখা দিয়েছে।

আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, জানুয়ারিতে একটি মাঝারি (৬-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বা তীব্র (৪-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস) এবং ২-৩টি মৃদু (৮-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বা মাঝারি  শৈত্য প্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
স্তৃত হওয়ায় শীত বেড়েছে বাংলাদেশে। এই শৈত্য প্রবাহ চলতে পারে আরও দুই এক দিন। শ্রীমঙ্গল, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে বয়ে চলা শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে এবং আশপাশের এলাকায় তা বিস্তৃত হতে পারে।

২০১৮ সাল হবে অধিকার ফিরে পাবার বছর : রিজভী

আওয়ামী লীগ নেতারা মিথ্যাচারের ডাইনোসরে পরিণত হয়েছেন। তাই তারাই প্রাণিজগৎ থেকে শিগগিরই বিলুপ্ত হয়ে যাবেন।বললেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

শনিবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, যারা ইতিহাসের সত্যকে অস্বীকার করে তারা নিজেরাই নিজেদের ধ্বংসের বীজ রোপন করেন।অতি ক্ষমতা, অতি দম্ভ, অতি দুর্নীতি, অতি নিপীড়ণ-নির্যাতন, অতি অস্ত্রের আস্ফালন এবং অতি মিথ্যাচারের কারণে আওয়ামী লীগের বিদায় এখন সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, বিনা ভোটের এই সরকারের বিদায়ের দিন গণনা শুরু হয়ে গেছে। ২০১৮ সাল হবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশের মানুষের অধিকার ফিরে পাওয়ার বছর। কলঙ্ক মোচনের বছর।

রিজভী আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা হাতে মৃত্যুর দন্ডাজ্ঞা নিয়ে জনগণকে ভয় দেখিয়ে নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধি করতে চান। কিন্তু বারবার সেই সুযোগ আপনাদের আসবে না। আপনারা চারিদিক থেকে যে চ্যালেঞ্জে পড়েছেন তা মোকাবিলা করার ক্ষমতা আপনাদের নেই। ২০১৮ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্রের বিজয় পতাকা উড়বে। বল প্রয়োগ করে জনগণের অগ্রযাত্রায় আওয়ামী লীগ আর বাধা দিতে পারবে না।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, শুক্রবার ‘গণতন্ত্র হত্যা’ দিবস পালনের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে। কোনো কোনো স্থানে বাধা দিয়ে কালো পতাকা মিছিল পণ্ড করে দেওয়ার অপচেষ্টা করেছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হয়েছেন শতাধিক বিএনপি নেতা কর্মী। পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে অর্ধ শতাধিক নেতা কর্মীকে।

বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনের কথা বলা আপনাদের জন্য হবে অরণ্যে রোদন। গণতন্ত্র হত্যাকারীদের অধীনে নির্বাচন হলে সেখানে মানুষের ভোটাধিকার কবরস্থানে চলে যাবে। এটা দেশবাসী খুব ভালো জানে।

মার্চে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন : সেতুমন্ত্রী

মার্চে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জানালেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে ছাত্রলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শোভাযাত্রার উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

কাদের বলেন, নেত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন ছাত্রলীগকে সম্মেলনের প্রস্তুতি নিতে। নেত্রীর ইচ্ছা আগামী মার্চে স্বাধীনতার মাসে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনটি যেন হয়।

তিনি আরও বলেন, ছাত্রলীগের এ কমিটির আমলে কিছু নেগেটিভ বিষয় থাকলেও অর্জন ছিল সবচেয়ে বেশি। তাদের আমলে সংগঠন বিশাল রূপ নিয়েছে। এটা তাদের অর্জন। আমি ছাত্রলীগকে বলবো অনতিবিলম্বে নির্বাহী কমিটির সভা ডেকে জাতীয় সম্মেলনের প্রস্তুতি নিন। এসময় তিনি ছাত্রলীগকে সম্মেলনের তারিখ ঠিক করতে বলেন।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ছাত্রলীগে বিশৃঙ্খল লাখো কর্মীর দরকার নেই। শৃঙ্খল কর্মী কম হলেও সমস্যা নাই।

ছাত্রলীগকে আরো সুশৃঙ্খল ও সুসংগঠিত হতে হবে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, গুটি কয়েকের জন্য সরকারের অর্জন ম্লান হতে পারে না। যারা অপকর্ম করবে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে নেত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। যে ছাত্রলীগের অতীত গৌরবময়, সেই ছাত্রলীগের বর্তমানে কলঙ্কিত হতে পারে না। যারা অপকর্ম করবে তাদের ছাত্রলীগে থাকার অধিকার নাই।

ওমর সানী দ্য রিয়েল হিরো

ওমর সানী। দেশীয় ছবির এক সময়ের নাম্বার ওয়ান নায়ক তিনি। সেই নব্বইয়ের দশক থেকে এখন পর্যন্ত নিয়মিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করে যাচ্ছেন বাংলার এই দাপুটে অভিনেতা। চলচ্চিত্রের এক নিবেদিত প্রাণ ওমর সানী।

তরুণ-তরুণীদের এই ক্রেজ চাঁদের আলো, কুলি, দোলাসহ অসংখ্য ব্যবসা সফল ছবি উপহার দিয়েছেন। মাঝে ভিলেন হিসেবেও সফলতার সঙ্গে অভিনয় করেছেন তিনি। সেই সময়টায় বেশ মুটিয়ে গিয়েছিলেন ওমর সানী।

পরে অবশ্য ভক্তদের ভালোবাসায় শারীরিকভাবে নিজেকে একদম বদলে ফেলে নতুন লুকে হাজির হন তিনি। আবারো দর্শকদের মনজয় করা অভিনয় উপহার দিতে শুরু করেন।

দাম্পত্য জীবনেও বেশ সফলতার সঙ্গে সংসার করে চলেছেন প্রিয়দর্শিনী অভিনেত্রী মৌসুমীর সঙ্গে। সেই ১৯৯৬ সাল থেকে আজো সুখে শান্তিতে সংসার করছেন তারা। তাদের ঘরে রয়েছে দুই সন্তান ফারদিন এহসান স্বাধীন (পুত্র) ও ফাইজা (মেয়ে)। আদর্শ স্বামী ও বাবা হিসেবেও তার বেশ সুনাম রয়েছে।

এখনো চলচ্চিত্রের যেকোনো অনুষ্ঠানে ডাকলেই যাকে পাওয়া যায়। যিনি ছুটে যান সবার বিপদে পাশে দাঁড়ান। তিনি আর কেউ নন ওমর সানী। ইন্ডাস্ট্রির এই মানুষটির ব্যক্তিত্ব ও বিনয়ে মুগ্ধ হয়ে অনেকেই তাকে 'রিয়েল হিরো' বলে সম্বোধন করছেন।

সেরা মেধাবীদের ১০ বছর মেয়াদী ভিসা দিচ্ছে চীন

বিদেশ থেকে সেরা মেধাবীদের আকৃষ্ট করতে দীর্ঘ মেয়াদী ভিসা দেয়া শুরু করেছে চীন। বিশেষ করে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, উদ্যোক্তা ও বিজ্ঞানীদের আকৃষ্ট করতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটি। খবর বিবিসির।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানাচ্ছে, এই মাল্টি এন্ট্রি ভিসা পাঁচ থেকে দশ বছর মেয়াদী।

চীন তার অর্থনৈতিক এবং সামাজিক উন্নয়নের জন্য যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে তা বাস্তবায়নে এটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে চীন প্রথম দিকে বলেছিল, এই ভিসার আওতায় প্রায় ৫০ হাজার বিদেশি সুযোগ পাবে।

আবেদন প্রক্রিয়াটা কেমন?

দীর্ঘমেয়াদী এই ভিসার আবেদন অনলাইনেই করা যায়। এর জন্য কোনো ফি নেয়া হয় না। আর খুব দ্রুতই এসব আবেদন বিবেচনা করা হয়।

যাদের ভিসা দেয়া হবে তারা একদফায় একটানা ১৮০ দিন করে চীনে থাকতে পারবেন। তারা তাদের স্ত্রী এবং ছেলে-মেয়েদের চীনে আনতে পারবেন।

২০১৬ সালে চীন একটি সূচক প্রকাশ করেছিল যেখানে দেশটিতে কোন ধরনের বিদেশি কর্মী দরকার তা চিহ্নিত করা হয়েছিল।সেখানে অদক্ষ কর্মীর সংখ্যা কমিয়ে মেধাবী বিদেশি কর্মীদেরই বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়।

চীনা সরকারের একটি দলিলে এই সেরা মেধাবীদের তালিকায় যাদের কথা উল্লেখ করা আছে তাদের মধ্যে আছে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী, সফল অলিম্পিক অ্যাথলেট ও সঙ্গীত বা শিল্পকলার বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালকরা।

শীর্ষ বিজ্ঞানী, বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরাও এই তালিকায় আছেন।

কংগ্রেসের আপত্তিতে তালাক বিল আটকে গেলো

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার মুসলিম নারীদের সম্মান, সমতা ও ন্যায় বিচার দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অনন্ত কুমার। রাজ্যসভায় তাৎক্ষণিক তালাক বিল ঝুলে থাকাকে কেন্দ্র করে গতকাল শুক্রবার সংসদ অধিবেশন শেষে তিনি ওই মন্তব্য করেন।

বিরোধীদল কংগ্রেসের আপত্তিতে তালাক বিল পাস করতে সমস্যা হচ্ছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী কেন্দ্রীয় সরকারের অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, তাৎক্ষণিক তালাক বিল নিয়ে সরকার এত তৎপর, কিন্তু লোকপাল বিল নিয়ে সেই তৎপরতা নেই কেন? চার বছর আগে, ইউপিএ সরকার লোকপাল বিল পাস করিয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমলে লোকপাল গঠন হল না কেন?

গতকাল শুক্রবার সংসদের শীতকালীন অধিবেশন শেষ হয়েছে। সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় কেন্দ্রীয় সরকারের আনা তালাক বিল দ্রুত পাস হয়ে গেলেও উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় বিরোধীরা ওই বিলে নানা সংশোধনী আনাসহ বিলটি সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন।

কিন্তু সরকার পক্ষ তাতে রাজি না হওয়ায় বিলটি রাজ্যসভায় আটকে গেছে। ফলে, সরকারের সামনে আগামী বাজেট অধিবেশনে বিলটি রাজ্যসভায় পাস করানোর চেষ্টা করা ছাড়া উপায় নেই।

যেভাবে তড়িঘড়ি করে তালাক বিল নিয়ে জনমত যাচাই, বিতর্ক অথবা মুসলিম পার্সোনাল ল’বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই সরকার এটি সংসদের উভয়কক্ষে পাস করানোর জন্য চেষ্টা করেছিল তা ব্যর্থ হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

আগামী বাজেট অধিবেশন শুরু হবে আগামী ২৯ জানুয়ারি। এ সংক্রান্ত সরকারি ঘোষণা হয়ে যাওয়ায় এর মধ্যে অর্ডিন্যান্স জারি করার কোনো প্রথা না থাকায় সরকারকে বাজেট অধিবেশন পর্যন্ত ওই বিল নিয়ে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।

বিরোধীদের দাবি, তাৎক্ষণিক তালাকে যদি স্বামীর তিন বছরের জন্য কারাবাস হয় তাহলে স্ত্রী ও সন্তানদের ভরণপোষণে আর্থিক সাহায্য কে দেবে? কারাগারে থেকে ওই ব্যক্তি উপার্জন করবেন কীভাবে? ওই তিন বছর স্ত্রী ও সন্তানদের কী হবে? সেজন্য আগে তার স্ত্রী ও সন্তানদের জীবন জীবিকা ও ভবিষ্যতকে সুরক্ষিত করা প্রয়োজন। অন্যথায় ওই নারী ও তার পরিবারের সদস্যরা আরো বিপন্ন হবেন।

তালাক বিলকে সংসদীয় কমিটিতে পাঠিয়ে পর্যালোচনা করে কিছু সংশোধনীসহ মুসলিম নারীদের অধিকার ও জীবনকে আরো সুরক্ষিত করার চেষ্টা করতে হবে বলেও বিরোধীদের দাবি।

তালাক বিল প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের গার্লস ইসলামিক অর্গানাইজেশনের (জিআইও) নেত্রী মায়মুনা খাতুন তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন। জিআইও দক্ষিণবঙ্গের সভাপতি মায়মুনা খাতুন আজ শনিবার বলেন, সরকার যেটা চাচ্ছে তা হল, উন্নতির নামে আরো অবনতি করার চেষ্টা। সরকার যদি মুসলিমদের উন্নয়নের কথা ভাবত তাহলে মুসলিমদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা, চাকরির বিষয়ে নজর দিতো। এসব বিষয়ে তাদের আগে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। মুসলিম নারীদের শিক্ষা ও চাকরিতে সুবিধা দেয়ার কোনো চেষ্টা করছে না। তাছাড়া সম্প্রতি যেসব ঘটনা ঘটেছে যেমন- জেএনইউয়ের নিখোঁজ মেধাবী ছাত্র নাজিবের মা এখনো সুবিচার পাচ্ছেন না। মুহাম্মদ আফরাজুলকে হত্যা করা হল, তার স্ত্রী ও কন্যা সুবিচার পাচ্ছেন না, জুনায়েদ, মুহাম্মদ পহেলু খানকে হত্যা করা হল কিন্তু তার মা ও পরিবারের সদস্যরা সুবিচার পাচ্ছেন না।

পোশাক খাতে কর্মসংস্থান কমছে

দেশের তৈরি পোশাক খাত উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান দিন দিন কমে যাচ্ছে। জানিয়েছেন  তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নাছির।

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষায়িত মাস্টার্স প্রোগ্রাম ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশনস অ্যান্ড লেবার স্টাডিজ’ আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি একথা জানান।

এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, গত দুই বছরে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে গার্মেন্টস সেক্টরে উৎপাদন খরচ বেড়েছে ১৮ শতাংশ। আর গত চার বছরে প্রায় ১২০০ ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে কর্মসংস্থান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর জোর দিয়ে নাছির বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশকে মধ্য আয়ের দেশের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু এই মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান।

পোশাক শিল্প যাতে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, মালিক-শ্রমিকের যেন সুসম্পর্ক বজায় থাকে তা নিয়ে বিজিএমইএ কাজ করছে বলে জানান সংস্থাটির এই সহ-সভাপতি।

পোশাক খাতে দক্ষ ও যোগ্য জনবল তৈরিতে খাত উপযোগী কোর্স কারিকুলাম প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন সেমিনারের প্রধান অতিথি এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন।

তিনি বলেন, এই সেক্টরে যেভাবে প্রয়োজন, সে অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের তৈরি করতে হবে।

সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. তানিয়া রহমান বলেন, শ্রমিকদের সমস্যা, মালিকপক্ষের সমস্যা-সেগুলো জানা এবং সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় করার জন্যই এই সেমিনার জরুরি।

‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশনস অ্যান্ড লেবার স্টাডিজ’ প্রোগ্রামের কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক গোলাম রব্বানীর সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যদের মধ্যে বিএলএমইএর সভাপতি সিব্বির মাহমুদ এবং সোনালী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. আলী হোসেইন শিশির বক্তব্য রাখেন।

চট্টগ্রামে এসে মাস্টারদার স্মৃতি দেখবে ভারতের প্রণব মুখার্জি


চট্টগ্রামে অগ্নিযুগের বিপ্লবী মাস্টারদা সূর্যসেনসহ বৃটিশ বিপ্লবের স্মৃতিবিজড়িত স্থান পরিদর্শনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি।

জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে বাংলাদেশ সফরে আসবেন প্রণব মুখার্জী। ১৬ জানুয়ারি চট্টগ্রামে বৃটিশবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিধন্য স্থানে যাবেন, প্রাথমিকভাবে এমন সফরসূচি তৈরি হয়েছে।

তবে চট্টগ্রামে আসার সময় নির্ধারিত হলেও সফরসূচি এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন ভারতের সহকারী হাই কমিশনার অনিন্দ্য ব্যানার্জী।

চট্টগ্রামে ভারতের সহকারী হাই কমিশন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১৫ জানুয়ারি ঢাকায় আসবেন প্রণব মুখার্জি। এদিন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎসহ কয়েকটি রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ারও কথা আছে বাংলাদেশের বন্ধু হিসেবে পরিচিত ভারতের এই বর্ষীয়ান রাজনীতিকের।

একমাত্র বাঙালি হিসেবে ভারতে রাষ্ট্রপ্রধানের পদ অলঙ্কিত করা প্রণব মুখার্জি নিজেই এই সফরে সূর্য সেনের জন্মভূমিসহ বৃটিশ বিপ্লবের স্মৃতিবিজড়িত স্থান পরিদর্শনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

সূত্রমতে, ১৬ জানুয়ারি প্রণব মুখার্জিকে মাস্টারদার জন্মভূমি রাউজানে নিয়ে যাওয়া হবে। সম্ভাব্য সফরসূচিতে থাকছে, রাউজান কলেজের পাশে মাস্টারদার আবক্ষ মূর্তিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো,  সূর্য সেন পাঠাগার ও প্রাইমারি স্কুল পরিদর্শন, নগরীর পাহাড়তলীতে প্রীতিলতা ওয়াদ্দাদারের স্মৃতিবিজড়িত ইউরোপিয়ান ক্লাব এবং বৃটিশ অস্ত্রাগার পরিদর্শন।  চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কর্মসূচিও থাকছে সফরসূচিতে।



রাউজান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও রেলপথ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী  বলেন, একসময়ের অবিভক্ত ভারতবর্ষের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল ছিল এই চট্টগ্রাম।  বৃটিশবিরোধী আন্দোলনের সূতিকাগারও এই চট্টগ্রাম। এই প্রথম ভারতের কোন রাষ্ট্রপ্রধান চট্টগ্রামে আসছেন।  ‍বাংলাদেশের বন্ধু প্রণব মুখার্জি এই প্রথম চট্টগ্রামে আসছেন। আমরা রাউজানবাসীসহ পুরো চট্টগ্রামের মানুষ হৃদয় দিয়ে তাঁকে বরণ করে নেওয়ার অপেক্ষায় আছি।


এর আগে সর্বশেষ ২০১৩ সালের মার্চে বাংলাদেশ সফরে আসেন ভারতে সেসময় রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা প্রণব মুখার্জি।  সেসময় তিনি শ্বশুরবাড়ি নড়াইলের পুটিবিলা গ্রামে যান। 


ভারতের প্রাচীন রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা প্রণব মুখার্জি ২০১২ সালের ২৫ জুলাই দেশটির রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।  গত বছরের ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হয়।

লোহাগাড়ার মিহির চৌধুরী আর নেই

চট্টগ্রাম অখণ্ডমণ্ডলীর প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম অখণ্ড কল্যাণ তহবিলের প্রাক্তন সম্পাদক এবং অখণ্ড আদর্শের একনিষ্ঠ প্রবীণ গুরুভ্রাতা শ্রী মিহির চৌধুরী আর নেই।
 
শনিবার  ভোর ৫ টায় তিনি পরলোক গমন করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক পুত্র ও এক কন্যা রেখে গেছেন।

তাঁর পিতা শহীদ কবিরাজ মিরঞ্জন চৌধুরী। ৪ ভাই ও ৪ বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বাড়ি। তার বাড়ি চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার উপজেলার উত্তর আমিরাবাদ এলাকায়।

 

সাতকানিয়ায় দুর্ঘটনায় আহত আরিফ সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন

মোটর সাইকেল দূর্ঘটনা আহত হওয়ার চার দিন অচেতন থাকার পর অবশেষে সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশেই পাড়ি জমালেন সাতকানিয়া উপজেলার কেওচিয়া ইউনিয়নের মাইজ পাড়ার বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম।

গত শুক্রবার দিনগত রাত দেড়টার সময় আরিফ শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। শনিবার সকালে বাড়ির সন্নিকট মাঠে নামাজে জানাযা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এর আগে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কেরানীহাট বান্দরবান সড়কের বাজালিয়া বুড়ির দোকান এলাকায় মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় আরিফ গুরুতর আহত হলে তাকে প্রথমে কেরানীহাটস্থ একটি বেসরকারী হাসপাতাল পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামস্থ ট্রিটমেন্ট হসপিটালে নেওয়া হলে সেখানে ইনসেনটিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ)রাখা হয় আরিফলকে।

সেখান দীর্ঘ ৪৮ ঘন্টায়ও অবস্থার কোন উন্নতি হয়নি। জ্ঞান ফিরেনি তার। পরে হসপিটাল কর্তৃপক্ষ বোর্ড বসিয়ে সিদ্ধান্ত জানান যে, আরিফুলের প্রান এখনো আছে। কিন্তু তার অপারেশন করার মত অবস্থায় নেই। তাকে আইসিইউতে না রেখে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন তারা।

এর ফলে গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক একটার সময় এ্যাম্বুলন্সে করে আরিফুলকে মাইজ পাড়াস্থ নিজ বাড়িতে এনে রাখা হয়।

শুক্রবার রাত দেড়টার সময় আরিফুল শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। প্রতিবেশী ব্যবসায়ী জিয়াউল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শুক্রবার বিকালে আরিফুলের সর্বশেষ অবস্থা পর্যবেক্ষন করে ডায়াবেটিস ও হরমোন বিশেষজ্ঞ খোরশেদ আনোয়ার জানিয়েছিলেন আরিফের ব্রেইন কাজ করছেনা, কিন্তু তার হার্ট সচল আছে। আইসিইউ থেকে বের করে রাখা হলেও অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা অব্যাহত থাকায় হার্ট সচল রয়েছে। এখন আসলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন ছাড়া কোন করণীয় দেখা যাচ্ছেনা।

মাইজপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ খায়েরের ২য় পুত্র ও ১ কন্যা সন্তানের মধ্যে আরিফুল ২য়। সে বেশ কয়েক বছর কেরানীহাট নিউ মার্কেটে মোবাইলের ব্যবসা করত। তার এহেন পরিস্থিতিতে নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়ে বিপর্যস্ত পুরো পরিবার। আরিফলকে বাড়িতে আনার পর থেকেই তার বন্ধু বান্ধবরা আরিফুলকে দেখার জন্য ভীড় জমিয়েছিল।তার দাফনের পর হয়তো আরিফুলকে আর দেখতে আসবেনা বন্ধু কিঃবা স্বজনরা। পুত্র হারানোর শোক কেমনে সইবে আরিফুলের পরিবার।

ঢাবিতে সৌহার্দের বন্ধনে প্রাণের মেলা

‘সৌহার্দ ও স্মৃতির বন্ধনে আবদ্ধ আমরা, এসো মিলি প্রাণের আনন্দে’ এই স্লোগানকে ধারন করে দশম পুনর্মিলনী উদযাপন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) দর্শন বিভাগ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (ডুপডা)। আজ শুক্রবার সকালে অ্যালামনাইদের দিনব্যাপী এ প্রাণের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মোঃ আখতারুজ্জামান। এ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পেশাগত ও পারিবারিক জীবনের ব্যস্ততাকে পাশ কাটিয়ে নিজেদের সেই চেনাজানা পরিবেশে প্রিয়জনদের সাথে সময় উপভোগ করার সুযোগ পেয়েছেন তারা। একাত্ম হয়েছেন ভালবাসার মেলবন্ধনে। সৌহার্দের বন্ধন এবং প্রাণের টানেই তারা ছুটে এসেছেন দূর-দূরান্ত থেকে। স্মৃতির ফ্রেমে গাঁথা সেই দুরন্ত অতীতে ফিরে গেছেন তারা প্রিয়জনদের সান্যিধ্যে এসে। স্মৃতি, সৌহার্দের বন্ধনই তাদেরকে ভালবাসার এই মিলনমেলায় এনে দাঁড় করিয়েছে। এ যেন সৌহার্দের বন্ধনে আবদ্ধ এক প্রাণের মিলনমেলা। সকাল থেকে শুরু হওয়া দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠান ছিলো অ্যালামনাইদের পদচারণায় মুখরিত। দর্শন পরিবারের মিলনমেলায় পরিণত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গন। যেখানে নিজেদের শিক্ষা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিবাহিত করেছেন অ্যালামনাইগণ। অনুষ্ঠানে তারা নিজেদের প্রিয় মানুষ, শিক্ষক, বন্ধু-বান্ধবের সাথে আড্ডা-গল্পে সময় পার করছেন।
কেউ আবার মোবাইলে এই বিশেষ মুহূর্তটিকে ধারণ করছেন। পছন্দের শিক্ষক ও বন্ধ-বান্ধবদের সাথে ছবি তুলছেন অনেকেই। এ সময় তাদের মধ্যে প্রাণোচ্ছলতা বিরাজমান ছিলো। পুনর্মিলনীর অনুভূতি জানতে কথা হয়েছিল সুদূর চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা মোঃ আতিউর রহমানের সাথে। পেশায় তিনি একজন শিক্ষক। চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজে কলেজে অধ্যাপনা করেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বরেই কাটিয়েছেন তার উচ্চ শিক্ষার দিনগুলো। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই স্মৃতিময় অতীতের কথা স্মরণ করে, প্রিয় অগ্রজ, অনুজ এবং সহপাঠীদের সাথে একাত্ম হতে এসেছেন পুনর্মিলনীতে। নিজের অনুভূতি জানতে চাইলে আতিউর রহমান নয়া দিগন্তকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো অনুষ্ঠানে আসতেই ভালো লাগে। আর নিজের বিভাগের কোনো অনুষ্ঠান হলে সে আনন্দ আরো বেড়ে যায়। বন্ধু-বান্ধব, শ্রদ্ধেয় শিক্ষক এবং বিভাগের অন্যান্য প্রিয় লোকদের সাথে যখন বহুদিন পরে দেখা হয়, কথা হয়, তখন অন্যরকম এক ভাললাগা কাজ করে আমার মধ্যে। এটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। যা বলবো মনে হচ্ছে যেন অনকে কম হয়ে যাবে। কর্মব্যস্ত থাকার অনেকদিন হলো সবার সাথে খুব একটা মেশা হয়ে ওঠেনি। তাদের থেকে দীর্ঘদিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিলাম। এ অনুষ্ঠান তাদের সাথে মিলিত হওয়ার সুযোগ করে দিল। কথা হয়েছে ১৯৭১ সালে পাশ করা অ্যালামনাই ফেরদাইস জাহানের সাথে। শিক্ষকতা ও জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এর প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে ২২ বছর কাজ করে বর্তমানে অবসর জীবনযাপন করছেন। ষাটোর্ধ্ব এ অ্যলামনাই নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, সেদিন পাকিস্তানীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মচারী হত্যাসহ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক কিছুই নষ্ট করে দিয়েছে, কিন্তু এই টিএসসিকে ধ্বংস করতে পারেনি। এখানে অনেক অনেক স্মৃতি। এখানে এলে সেই তরুণ বয়সের শিক্ষাজীবনে ফিরে যাই। তাইতো বারবার এ অনুষ্ঠানে আসা। নবীন-প্রবীনদের এ মিলনমেলা সত্যিই এক অসাধারণ অনুভূতি সৃষ্টি করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গোল্ড মেডেল পেয়ে সদ্য গ্রাজুয়েশন শেষ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক হিসেবে যোগ দিয়েছেন সাজিয়া আফরিন। প্রথমবারের মতো অ্যালামনাই হিসেবে অনুষ্ঠানে আসতে পেরে নিজেকে সৌভাগবান মনে করছেন তিনি। নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে সাজিয়া আফরিন বলেন, আজকের এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন পেরে খুব আনন্দিত বোধ করছি। আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ও অন্যান্যদের একসাথে পাবার মুহূর্তটা সত্যিই অন্যরকম। এই আয়োজন স্বার্থক হবে যখন অ্যালামনাইয়ের সদস্যরা তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের জন্য কাজ করে যেতে পারেন। এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রাণের বন্ধন আরো সুদৃঢ় হয় মন্তব্য করে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এ কে এম হারুনার রশীদ বলেন, বর্তমানে অনুষ্ঠানের কলেবর আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মাধ্যমে আমাদের প্রাণের বন্ধন আরো সুগভীর, সুদৃঢ় হয়েছে।
আমরা প্রতি বছর এভাবে মিলিত হই আমাদের প্রাণের বন্ধনকে আরো সুদৃঢ় করি। এর আগে সকালে পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ থেকে পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। বিভাগের চেয়ারম্যান এবং ডুপডা’র সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. সাজাহান মিয়ার সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এমিরেটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনেরর সভাপিত এ কে আজাদ এবং ডুপডার সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুস সাত্তার মিয়াজি। এ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ছিলেন বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম হারুনার রশীদ। দিনব্যাপী এই আয়োজনের মধ্যে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান র‌্যাফল ড্রসহ নানা আয়োজন। পুনর্মিলনীকে ঘিরে টিএসসিকে সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। বিভিন্ন নজর কাড়া সাজে সজ্জিত হয়েছেন অ্যালামনাইরাও। পুরুষের সুট-বুটের সাথ নারীদের বাহারি রঙের শাড়ি ছিলো নজর কাড়া সৌন্দর্যের মূলে। বিভাগের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে টিএসসির মাঠে তৈরি করা হয়েছিল আকর্ষণীয় বিলবোর্ড। ছবি তোলার জন্য যেখানে এক সময়ের সহপাঠীদের সাথে ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দী হতে দেখা যায় আগতদের অনেককে। দিনে সহপাঠী, শিক্ষকদের সাথে অফুরন্ত আনন্দ উপভোগ শেষে সন্ধ্যায় গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন তারা। সাথে নিয়ে ক্যাম্পাসের প্রতি অফুরন্ত আকর্ষণ, বন্ধুদের প্রতি অগাধ ভালবাসা। আবারো কোনো এক মধুক্ষণে প্রাণের আনন্দে মিলিত হওয়ার আকাক্সক্ষা নিয়ে গন্তব্যে যাত্র করেন অ্যালামনাইরা।

জাতীয় ঐক্য প্রশ্নে জাতিসত্তার পুনর্জাগরণই একমাত্র সমাধান : মুসলিম লীগ

এক দিকে আন্তর্জাতিক আধিপত্যবাদীদের শকুন দৃষ্টি অপর দিকে অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলাজনিত কারণে রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিয়ে দেশের জনগণ আজ যেন শাঁখের করাত পরিস্থিতিতে আছে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় ঐক্য প্রশ্নে জাতিসত্তার পুনর্জাগরণই একমাত্র সমাধান। নিখিল ভারত মুসলিম লীগের ১১১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল জাতীয় প্রেস কাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ এ কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট বদরুদ্দোজা আহমেদ সুজা এবং প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা: এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধরী। অপর দিকে জেরুসালেমকে অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা, জঙ্গি হিসেবে মুসলমানদের ঢালাওভাবে উপস্থাপন আগ্রাসনবাদীদের বৃহত্তর ছকের অংশ। ৯০ শতাংশেরও বেশি মুসলমান অধ্যুষিত আমাদের প্রিয় বাংলাদেশও আধিপত্যবাদীদের শকুন দৃষ্টির আওতামুক্ত নয়।
সম্প্রতি মিয়ানমার কর্তৃক প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা মুসলমানকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠিয়ে শরণার্থী পরিস্থিতি সৃষ্টির রেশ না কাটতেই আসামের বাংলাভাষী মুসলমানদেরও একই পথে পাঠানোর ষড়যন্ত্র চলছে।  সভায় নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নায্য দাবি মেনে নেয়ার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়ে শিক্ষকদের কর্মসূচির প্রতি নৈতিক সমর্থন জানানো হয়। অধ্যাপক ডা: এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, জাতির প্রয়োজনে নবাব সলিমুল্লাহ কর্তৃক মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা ছিল একটি সময়োচিত সঠিক পদক্ষেপ। দেশে এখন যা চলছে তা আর যাই হোক, গণতন্ত্র নয়। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি প্রধানমন্ত্রীর দফতরের অধীনে থাকে তা হলে তাদের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করা যায় না। নির্বাচন কমিশনকে বিচার বিভাগের মতো স্বাধীন করতে হবে। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে বক্তৃতা করেন, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. আবদুল লতিফ মাসুম, জমিয়ত ওলামায়ে ইসলামের সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, সলিমুল্লাহ মেমোরিয়াল একাডেমীর সভাপতি সৈয়দ নাসরুল আহসান প্রমুখ। বিজ্ঞপ্তি।

সামরিক সহযোগিতা বাড়াচ্ছে তেহরান-ইসলামাবাদ

ইরান এবং পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা এ অঞ্চলে মার্কিন প্রভাব এবং ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেছেন। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব টুইটার বার্তার মাধ্যমে ইরান ও পাকিস্তানি জাতির বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বিবৃতি দেয়ার পর তারা পরস্পরের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেন। বৃহস্পতিবার ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খুররম দাস্তগির খানের সঙ্গে এক টেলিফোন সংলাপে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী হাতামি তেহরান এবং ইসলামাবাদের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা ক্রমশ বৃদ্ধির বিষয়ে ভূঁয়সী প্রশংসতা করেন। হাতামি বলেন, এ অঞ্চলে এবং মুসলিম বিশ্বের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির আলোকে ইরান এবং পাকিস্তানের মতো দুই প্রভাবশালী মুসলিম দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
তিনি আরো বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নিজেদের ব্যর্থতার জন্য অন্যের ওপর দোষ চাপানোর অভ্যাস রয়েছে মার্কিনীদের এবং তারা কোনো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করতে ইহুদিবাদী ইসরাইলের নীতি অনুসরণ করে থাকে। ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, আমেরিকার শয়তানী এবং বোকামিপূর্ণ নীতির কারণে আফগানিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দিনদিন খারাপের দিকে যাচ্ছে এবং প্রতিদিনই আফগানিস্তান, ইরাক এবং সিরিয়ায় বেসামরিক ব্যক্তিরা মারা যাচ্ছে। এছাড়া, ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা বাড়ানোর অপার সম্ভাবনা রয়েছে-এ কথা উল্লেখ করে হাতামি জোর দিয়ে বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদারে দুই দেশের উচিত তেহরান-ইসলামাবাদের সক্ষমতাকে কাজে লাগানো। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ সময় ইরানের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আঞ্চলিক পরিস্থিতির আলোকে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরো বাড়াতে হবে।

আলোচনায় বসছে দক্ষিণ কোরিয়া ও উত্তর কোরিয়া

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে উত্তর কোরিয়া। দুই বছরেরও বেশি সময় পর দুই দেশ আবারো আলোচনায় বসতে যাচ্ছে। আগামী ৯ জানুয়ারি দুই দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে শীতকালীন অলিম্পিক এবং অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়া একত্রীকরণ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দু্ই দেশের মধ্যে সই হওয়া বিভিন্ন চুক্তি নিয়েও কথা হবে। সীমান্তের পানমুনজুম গ্রামেই এ বৈঠকের আয়োজনা করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ংচ্যাং শহরে শীতকালীন অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হবে। এই অলিম্পিকের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আমেরিকার যৌথ মহড়া পিছিয়ে দেয়া হবে। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ফের হটলাইন চালু করেছে উত্তর কোরিয়া।
প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর দেশটির নেতা কিম-জং উনের আদেশে আন্তঃকোরিয়ান যোগাযোগ চ্যানেলটি চালু হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপ ও অলিম্পিক গেমসে তাদের খেলোয়াড়দের পাঠানোর আগ্রহ প্রকাশ করার পর হটলাইন চালু করার ঘোষণা দেয় পিয়ংইয়ং। ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে এখনো পর্যন্ত উচ্চপর্যায়ে সংলাপে বসেনি দুই কোরিয়া। দুই কোরিয়ার যৌথ শিল্পাঞ্চল কায়েসং নিয়ে বিরোধের জেরে ২০১৬ সালে হটলাইন বন্ধ করে দেয় উত্তর কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়া আভাস দিয়েছে, অলিম্পিকে উত্তর কোরিয়ার অংশগ্রহণকে স্বাগত জানানো হবে। এর আগে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন উত্তেজনা প্রশমনের সুরে কথা বলেন এবং দুই কোরিয়ার স্থবির সম্পর্ক গতিশীল করার ইঙ্গিত দেন। উন বলেন, খেলায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে ‘ঐক্য প্রদর্শনের ভালো সুযোগ পাবে উত্তর কোরিয়ার জনগণ।’ কিম জং-উনের মন্তব্যের পর দক্ষিণ কোরিয়া উচ্চপর্যায়ে সংলাপের প্রস্তাব দেয় এবং প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইন বলেন, সম্পর্কোন্নয়নের জন্য এটি ‘বিশাল সুযোগ’। তবে উচ্চপর্যায়ে সংলাপে বসার বিষয়ে উত্তর কোরিয়া এখনো পরিষ্কার মতামত দেয়নি। কিন্তু হটলাইনে যোগাযোগের মাধ্যমে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে তারা।

প্রথম ছুটির দিনেই জমে উঠেছে বাণিজ্য মেলা

প্রথম শুক্রবারেই জমে উঠেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায়। সকাল ১০টায় গেট খোলার সাথে সাথেই মেলায় প্রবেশ করতে থাকেন দর্শনার্থীরা। সকালে তেমন ভীড় না হলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে প্রায় ভরে যায় মেলা প্রাঙ্গন। বিকেলে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় পুরো মেলা প্রঙ্গন। যদিও দর্শনার্থীর তুলনায় বেচা-কেনা হয়েছে খুব সামান্যই। অধিকাংশ দর্শনার্থী এদিক-ওদিক ঘুরেছেন, দেখেছেন বিভিন্ন পণ্যের মান ও দাম। দর্শনার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ছুটির দিনে অফিস ও কাজের চাপ না থাকায় অনেকেই পরিবার নিয়ে মেলায় এসেছেন। আবার স্কুল এবং কোচিংয়ের বিড়ম্বনা না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী দল বেঁধে এসেছেন মেলায়। নানা বয়সের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে বাণিজ্য মেলার মাঠ। বিক্রি তেমন না হলেও গৃহস্থলী এবং শিশু ও নারী সামগ্রীর স্টলগুলোতে ভিড় বেশি লক্ষ্য করা যায়। ইলেক্ট্রনিক পণ্য, রান্নার সামগ্রী ও পোশাকের দোকানগুলোতেও চোখে পড়ার মতো ক্রেতা-দর্শনার্থী দেখা গেছে। তবে দেশী স্টল ও প্যাভিলিয়নের মতো জমজমাট অবস্থা দেখা যায়নি বিদেশী প্যভিলিয়নগুলোতে। বন্ধুদের সাথে দল বেঁধে মেলায় ঘুরতে আসা ধানমন্ডির একটি কলেজের শিক্ষার্থী রোমেল বলেন, আজ ছুটির দিন। কলেজ বন্ধ, নেই কোচিংয়ের প্যারাও। তাই বন্ধুরা মিলে মেলায় ঘুরতে এসেছি। কোনো কিছু কেনার উদ্দেশ্য নেই। মেলার মাঠ ও বিভিন্ন স্টল ঘুরে ঘুরে দেখবো। যতক্ষণ ভালো লাগে বন্ধুরা মিলে আড্ডা দিব, আনন্দ করব। মাঝে মধ্যে এটা ওটা কিনে খাব। মিরপুরের বাসিন্দা নাজমা আক্তার বলেন, বাণিজ্য মেলার শুরুর দিন থেকে বাচ্চারা ঘুরতে আসার আবদার করছে। তাদের আবদার পূরণ করতে মেলায় এসেছি। তবে আজ কেনাকাটার খুব একটা ইচ্ছা নেই। আজ ঘুরে ঘুরে দেখাই মূল উদ্দেশ্য। জিনিসপত্রের দাম দেখছি। এখনও দাম বেশিই মনে হচ্ছে।
মেলার শেষের দিকে দাম কিছুটা সহনীয় হয়ে এলে কেনাকাটা করার ইচ্ছা আছে বলেও জানান তিনি। ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ায় খুশি বিক্রেতারাও। একটি পোশাকের স্টলের বিক্রেতা আমিনুল বলেন, একে একে মেলার চারটা দিন চলে গেলেও ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড় তেমন ছিল না। আজ ছুটির দিন হওয়ায় ভিড় কিছুটা বেড়েছে। তবে বিক্রি পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। এরপরও দর্শনার্থীরা স্টলে এসে ঘুরে ঘুরে দেখছেন তাতেই আমরা খুশি। আমাদের প্রত্যাশা মেলার শেষ অর্ধেকে বিক্রি বাড়াবে। এবারের বাণিজ্য মেলার প্রধান প্রবেশদ্বার নির্মাণ করা হয়েছে পদ্মা সেতুর আদলে। মেলার দুই প্রান্তে সুন্দরবন ইকোপার্কের আকৃতি দেয়া হয়েছে। করা হয়েছে শিশুকর্নার ও অর্কিড বাগান। মেলায় বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন, ফ্লাওয়ার গার্ডেন, ই-শপ, শিশুপার্ক, প্রাইমারি হেলথ সেন্টার, মা ও শিশুকেন্দ্র, রক্ত সংগ্রহ কেন্দ্রসহ ৩২ ধরনের সেবা ও অবকাঠামো থাকছে। বিদেশী অংশগ্রহণকারী হিসেবে ১৭ দেশের ৪৩টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। মোট ৫৮৯টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন থাকছে। এর মধ্যে বড় প্যাভিলিয়নের সংখ্যা ১১২টি, মিনি প্যাভিলিয়ন ৭৭টি ও বিভিন্ন ক্যাটাগরির মোট স্টল ৪০০টি। প্রবেশ মূল্য প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৩০ টাকা, অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২০ টাকা। মেলায় ১০০টি সিসি ক্যামেরা থাকছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বক্ষণ মনিটরিং করছে। আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা বাণিজ্য মেলা চলবে।

প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে অনশন ভাঙলেন নন-এমপিও শিক্ষকরা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমপিওভুক্তির দাবি মেনে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ সাজ্জাদুল হাসান আজ শুক্রবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনশনরত শিক্ষকদের মধ্যে এসে দাবি মেনে নেয়ার কথা জানান শিক্ষকদের। এরপর নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা অনশন ভাঙার ঘোষণা দেন। প্রধানমমন্ত্রীর একান্ত সচিব সাজ্জাদুল হাসান ও শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসাইন শিক্ষক নেতাদের পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙান। সাজ্জাদুল হাসান আজ বিকেল পৌনে চারটায় অনশনস্থলে আসেন শিক্ষা সচিব মো: সোহরাব হোসাইন এবং ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াকে সাথে নিয়ে। সাজ্জাদুল হাসান প্রধানমন্ত্রীর বার্তা জানিয়ে শিক্ষকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে জানাতে বলেছেন তিনি আপনাদের দাবি মেনে নিয়েছেন। স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে। তিনি আপনাদের অনশন ভেঙে যার যার বাড়ি ফিরে যাবার অনুরোধ করেছেন। একটানা ছয়দিন অনশনের পর এ ঘোষণার সাথে সাথে অনশরত কয়েক হাজার শিক্ষকদের মাঝে আনন্দের উল্লাস বয়ে যায়।
তারা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়ে শ্লোগান দিতে থাকেন। নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারি ফেডারেশনের অধীনে শিক্ষক কর্মচারীরা আমরন অনশন করে আসছিলেন গত ৩১ ডিসেম্বর থেকে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঘোষণা আসার পর ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার অনশন ভাঙার ঘোষণা দেন। এরপর বক্তব্য রাখেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ ড. বিনয় ভূষণ রায়। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙান প্রধামন্ত্রীর একান্ত সচিব। এরপর শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসাইনও তাদের পানি পান করান। শিক্ষ সচিব সোহরাব হোসাইন অনশনস্থলে প্রথমে বলেন, আপনাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ সাজ্জাদুল হাসান হাজির হয়েছেন প্রধামন্ত্রীর পক্ষ থেকে বার্তা নিয়ে। আপনারা মনোযোগ দিয়ে তার কথা শোনেন। সাজ্জাদুল হাসান প্রধানমন্ত্রীর বার্তা ঘোষণার পর শিক্ষা সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা কাজ শুরু করেছি। অধ্যক্ষ ড. বিনয় ভূষণ রায় রাতে নয়া দিগন্তকে বলেন, প্রধানন্ত্রীর একান্ত সচিব আমাদের জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাবি মেনে নিয়েছেন।

মেথির এক দানায় এতো গুণ!

মেথি, সবজি জাতীয় খাবারে স্বাদ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। তবে কেউ কেউ এর ঘ্রাণ সহ্য করতে পারেন না। তাই রান্নায় তো দুরের কথা মেথি ঘরেই আনেন না। কিন্তু আপনি যদি মেথির ঔষুধি গুণ জানতেন, তাহলে হাতের কাছেই রাখতেন। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে দূষিত পরিবেশ এবং ভেজাল খাবারের রাজ্যে সুস্থভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব, যদি প্রতিদিন মেথি খাওয়া যায় তো! কারণ এই প্রকৃতিক উপাদানটির মধ্যে রয়েছে ৩৫.৫ ক্যালরি, ৬.৪ গ্রাম প্রোটিন, ০.৭ গ্রাম ফ্যাট, ২.৭ গ্রাম ফাইবার এবং ৩.৭ মিলিগ্রাম আয়রন। এছাড়ও মজুত রয়েছে ম্যাঙ্গানিজ, কপার, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস এবং ভিটামিন বি৬-এর মতো পুষ্টিকর উপাদান, যা নানা দিক দিয়ে শরীরে গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর এই কারণেই তো সেই ১৫০০ বিসি থেকে মেথি বীজের ব্যবহার হয়ে আসছে এই পৃথিবীতে। ইতিহাসের পাতা উল্টালে জানা যায়, এই প্রকৃতিক উপাদানটির ব্যবহার প্রথম শুরু হয় মিসরে, তারপর গ্রিস এবং রোম হয়ে তা ছড়িয়ে পরে বাকি জয়গায়। এমনকি আয়ুর্বেদ সম্পর্কিত একাধিক প্রাচীন বইয়েও মেথি বীজের ঔষধি গুণের উল্লেখ পাওয়া যায়। নিয়মিত এ প্রাকৃতিক উপাদানটি গ্রহণ করলে সাধারণত যে যে শারীরিক উপকারগুলো পাওয়া যায়, সেগুলো হলো-
১. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে : পেটের সমস্যায় মেথি খুব উপকারি। মেথি পানিতে ভিজিয়ে নিয়মিত খাওয়া শুরু করলে একদিকে যেমন পেট খারাপের মতো রোগ সেরে যায়, তেমনি কনস্টিপেশন এবং স্টমাক ইনফ্লেমেশনের মতো সমস্যাও কমতে শুরু করে। সেই সাথে বদ হজম এবং গ্যাস-অম্বলের মতো রোগও দূরে পালায়। আসলে মেথি বীজে উপস্থিত ফাইবার এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
২. খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় : একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত মেথি বীজ খাওয়া শুরু করলে রক্তে উপস্থিত খারাপ কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমতে শুরু করে। ফলে আর্টারি ব্লক হয়ে গিয়ে হার্টের কোনো ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। সেই সাথে হার্টের কর্মক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। ফলে যে কোনো ধরনের করোনারি আর্টারি ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও একেবারে কমে যায়।
৩. শরীরের অন্দরে প্রদাহ কমায় : ইন্টারন্যাশনাল ইমিউনোফার্মাকোলজি পত্রিকায় প্রকাশিত এক গবেষণা পত্র অনুসারে, মেথি বীজে উপস্থিত অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে প্রবেশ করার পর প্রদাহ এতো মাত্রায় কমিয়ে দেয় যে মুখের আলসার, ফোঁড়া, ব্রঙ্কাইটিস, টিউবারকুলোসিস, সর্দি-কাশি এবং ক্যান্সারের মতো রোগও ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। সেই সাথে কিডনির কর্মক্ষমতাও বাড়ে।
৪. মায়ের দুধের জোগান বাড়ায় : বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যেসব মায়েরা এখনও বাচ্চাদের মায়ের দুধ খাইয়ে থাকেন, তারা যদি নিয়িমত মেথি বীজ খেতে পারেন, তাহলে দুধের জোগান বেশ বেড়ে যায়। এই কারণেই তো প্রসবের পর অনেক মাকেই চিকিৎসকরো নিয়মিত এই প্রকৃতিক উপাদানটি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
৫. যন্ত্রণা কমায় : কোথাও কেটে গেলে বা পেশীতে চোট লাগালে সেখানে যদি অল্প করে মেথি বীজ লাগানো যায়, তাহলে যন্ত্রণা কমতে একেবারেই সময় লাগে না। কারণ মেথিতে উপস্থিত রয়েছে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি প্রপাটিজ, যা জ্বালা-যন্ত্রণা কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, একজিমা, গাউট এবং পায়ের আলসারের মতো রোগ সারাতেও মেথি বীজ বিশেষ ভূমিকা নিয়ে থাকে।
৬. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে : বেশ কিছু আয়ুর্বেদ গ্রন্থে এমন উল্লেখ পাওয়া যায় যে নিয়মিত মেথি বীজ খাওয়া শুরু করলে ইমিউনিটি এতটা বেড়ে যায় যে, ছোট-বড় কোনো রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। সেই সাথে সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়।
৭. ব্লাড সুগারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে : পরিবারে যদি ডায়াবেটিস রোগের ইতিহাস থাকে, তাহলে এখন থেকেই মেথি বীজ খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন উপকার মিলবে। কারণ একাধিক স্টাডিতে একথা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে, এই প্রকৃতিক উপাদানটি ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ার কোনো আশঙ্কাই থাকে না।
৮. ওজন হ্রাসে সাহায্য করে : শুনতে আজব লাগলেও একথা ঠিক যে শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরিয়ে ফেলতে বাস্তিবিকই সাহায্য করে এই প্রকৃতিক উপাদানটি। আসলে মেথি বীজে থাকা পুষ্টিকর উপাদানেরা এত মাত্রায় হজম ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় যে শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমার সুযোগই পায় না।
সূত্র : ইন্টারনেট

যাদের খোঁজ নেয় না কেউ by মেহেদী হাসান

আজিম উদ্দিন খন্দকারের বয়স ৫৭ বছর।  তবে দেখে মনে হয় ৬৫ বা ৭০ বছরের বৃদ্ধ তিনি। শীতের মধ্যে কম্বল গায়ে দিয়ে জবুথবু হয়ে বসে ছিলেন রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে। অভাব-অনটন, নানা ধরনের দুশ্চিন্তা আর অসুস্থতার কারণে তার শরীর আর চেহারার এই হাল হয়েছে বলে জানান তিনি। আজিম উদ্দিন শেরপুরের শ্রীবর্দী উপজেলার পূর্ব খড়িয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষক। ১৯৮৫ সাল থেকে তিনি এ মাদরাসায় শিক্ষকতা করছেন। আজিম উদ্দিন বলেন, জীবন-যৌবন সব ক্ষয় করেছি এ মাদরাসার পেছনে। এখন একটাই আশা- মাদরাসাকে জাতীয়করণ দেখে মরতে চাই। মাদরাসা বোর্ড কর্তৃক রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণের দাবিতে ১ জানুয়ারি থেকে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষকেরা। সেখানে কথা হয় আজিম উদ্দিন খন্দকারের সাথে। এ ছাড়া কথা হয় অনশন কর্মসূচিতে অংশ নেয়া আরেক শিক্ষক সিরাজুল ইসলামের সাথে। তার বয়স ৬৮। সিরাজুল ইসলাম বলেন, তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। তার কাছে জানতে চাওয়া হয় আপনার বয়স তো পার হয়ে গেছে। এখন জাতীয়করণ হলেও আপনি তো কোনো সুবিধা পাবেন না। জবাবে সিরাজুল ইসলামের চেহারায় হাসির রেশ ফুটে ওঠে। তিনি বলেন, সার্টিফিকেটের বয়স এবং মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি ২০২১ সাল পর্যন্ত সরকারি সুবিধা পাওয়ার যোগ্য। সিরাজুল ইসলাম সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী উপজেলার আহমেদপুর দারুল উলুম স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার প্রধান শিক্ষক। ১৯৮৫ সালে তিনিই মাদরাসারটি প্রতিষ্ঠা করেন এবং তখন থেকে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দুর্ভোগের বিষয়, ৩২ বছর ধরে কোনো ধরনের বেতন-ভাতা ছাড়াই তিনি শিক্ষকতা করে আসছেন। স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক সমিতির মহাসচিব কাজী মোখলেছুর রহমান বলেন, বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ১০ হাজার স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা চালু রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র এক হাজার ৫১৯টি মাদরাসার শিক্ষকদের ভাতা দেয় সরকার। অন্য সব মাদরাসার শিক্ষকেরা যুগের পর যুগ ধরে বিনা বেতন-ভাতায় শিক্ষকতা করে যাচ্ছেন। বেতনহীন দুঃসহ মানবতের জীবন যাপন করছেন তারা।
মোখলেছুর রহমান জানান, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ১৯৮৪ সালে ১৮ হাজার ১৯৪টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার রেজিস্ট্রেশন দেয়। এরপর ১৯৯৪ সালে একটি পরিপত্র জারি করে সরকার। সেই পরিপত্রে দেশের সব রেজিস্টার্ড প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকদের মাসে ৫ শ’ টাকা করে ভাতা দেয়ার কথা ঘোষণা করা হয়। একই পরিপত্রে সরকার দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকদেরও মাসে ৫ শ’ টাকা করে ভাতা নির্ধারণ করে। তবে পরে সেটিও আর বাস্তবায়িত হয়নি। কারণ পরে জানানো হয়, দুই কিলোমিটারের মধ্যে কেনো প্রাইমারি স্কুল থাকলে সেখানে যদি মাদরাসা থাকে তাহলে তার শিক্ষকেরা ভাতা পাবেন না। অথচ বাস্তবে দেখা গেছে, ওই প্রাইমারি স্কুলের ১০-১২ বছর আগে থেকেই সেখানে মাদরাসা ছিল। উচিত ছিল স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা থাকলে তার কাছে থাকা প্রাইমারি স্কুল ভাতা পাবে না। কিন্তু উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে বৈষম্য করা হলো। এ নিয়মের কারণে সারা দেশে মাত্র এক হাজার ৫১৯টি মাদরাসার শিক্ষকেরা ভাতার আওতায় আসেন। অন্য সব মাদারাসার শিক্ষকেরা আজ অবধি কোনো বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। এসব মাদরাসার মধ্যে অনেক মাদরাসা চালু হয়েছে স্বাধীনতার পরপরই। ৪৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে অনেক মাদরাসা পরিচালিত হচ্ছে শিক্ষকদের কোনো বেতন-ভাতা ছাড়া। সরকারের অবহেলার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে অনেক মাদরাসা। অনেক শিক্ষক অবসরে চলে গেছেন সারা জীবন বিনা বেতনে চাকরি করে। মোখলেছুৃর রহমান বলেন, ২০১৩ সালে সরকার ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাইমারি স্কুল জাতীয়করণ করে। ১৯৯৪ সালে যেসব রেজিস্টার্ড প্রাইমারি স্কুল ভাতার আওতায় আনা হয়েছিল তার প্রায় সব স্কুলই ২০১৩ সালে জাতীয়করণের আওতায় আসে। অথচ একই পরিপত্রের মাধ্যমে সরকার রেজিস্টার্ড প্রাইমারি স্কুল ও কিছু স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা ভাতার আওতায় আনলেও মাদরাসাগুলো আজ অবধি জাতীয়করণ হয়নি। ১৯৮৪ সালে ১৮ হাজার ১৯৪টি মাদরাসা রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনা হলেও ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে ১২ হাজার ১৫২টি মাদরাসা বন্ধ হয়ে যায় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বেতন-ভাতা না দেয়ার কারণে। ২০১৬ সাল পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন পাওয়া এসব মাদরাসার মধ্যে মাত্র ৬ হাজার ৯৪৯টি মাদরাসা টিকে ছিল। তবে জাতীয়করণের আশায় সম্প্রতি অনেক পুরনো মাদরাসা ফের চালু হয়েছে বলে জানান মোখলেছুর রহমান। লাগাতার অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেয়া শিক্ষকেরা জানান, সরকারি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকেরা যে দায়িত্ব পালন করেন আমরাও ঠিক সেই একই দায়িত্ব পালন করি। সরকারি প্রাইমারি স্কুলের মতো আমাদেরও সরকার বিনামূল্যে বই দেয়, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দেয়, বিস্কুট দেয়। সরকারি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের মতো আমাদের শিক্ষার্থীরাও সমান সুযোগ সুবিধা পায়।
শুধু বঞ্চিত আমরা শিক্ষকেরা। যুগের পর যুগ বিনা বেতন-ভাতায় শিক্ষকতার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রতি অন্যান্য দায়িত্ব পালন করে যেতে হচ্ছে। যে এক হাজার ৫১৯টি মাদরাসার শিক্ষকদের ৫ শ’ টাকা ভাতার আওতায় আনা হয়েছিল তাদের ভাতা পরে বাড়িয়ে প্রধান শিক্ষকদের আড়াই হাজার টাকা এবং সহকারী শিক্ষকদের দুই হাজার ৩ শ’ টাকা করা হয়েছে। শিক্ষকেরা বলেন, সরকার যেমন ২৬ হাজার প্রাইমারি স্কুল জাতীয়করণ করেছে, তেমনি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাও জাতীয়করণ করা হোক। মহাসচিব মোখলেছুর রহমান নয়া দিগন্তকে বলেন, জাতীয়করণের দাবি আদায়ের জন্য আমরা বর্তমানে মাদরাসায় বিনা মূল্যের বই বিতরণ এবং পাঠদান বন্ধ রেখেছি। গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জের পূর্ব হুরা ভায়াখা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষক তাওহীদুল ইসলাম ১৭ বছর ধরে, সুন্দরগাঞ্জের ধনিয়ারকুড়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষক মো: এন্তাজ আলী ২১ বছর ধরে, গোবিন্দগঞ্জের ভেউর স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষক ৩২ বছর ধরে, পটুয়াখালীর লোহালিয়া নেছারিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষক আল আমিন ৪ বছর ধরে, গলাচিপার সালেহাবাদ নুরানী তালিমুল কুরআন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষক মো: হাসান, বগুড়ার শেরপুরের গোয়াল বিশ্বাস স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষক ২৫ বছর ধরে, ঝালকাঠি রাজাপুরের পূর্ব ইন্দ্রপাশা নেছারিয়া কাদেরিয়া তৈয়্যবিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস ১০ বছর ধরে, রংপুর পীরগঞ্জের কুয়াতপুর হামিদপুর স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষক ৩০ বছর ধরে বিনা বেতনে চাকরি করে আসছেন। লাগাতার অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেয়া এসব শিক্ষক গতকাল এ তথ্য জানিয়ে বলেন, আমাদের আশা রেজিস্টার্ড প্রাইমারি স্কুলের মতো একদিন আমাদের মাদরাসাগুলোও জাতীয়করণ হবে। সিরাজগঞ্জের বেলকুচির দৌলতপুর ইত্তেহাদুল উম্মাহ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা আবদুল হামিদ ৩৭ বছর ধরে, শেরপুরের শ্রীবর্দী উপজেলার লাগের চাউলিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম ২৯ বছর ধরে, নাটরের বড়াইগ্রামের আটাই ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষক ইনকাজ হাকিম ১৮ বছর ধরে, ত্রিমোহনী পূর্ব ঝিনিয়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার প্রধান শিক্ষক হাফেজ মো: ইসমাইল ২৪ বছর ধরে চাকরি করছেন। তবে তারা ভাতা পান। বিনা বেতনে বা সামান্য ভাতার বিনিময়ে যুগের পর যুগ ধরে শিক্ষকতা করে আসা এসব শিক্ষক জানান, তাদের কেউ মসজিদে ইমামতি করেন, কেউ বা কৃষিকাজ করেন, কেউ বা আবার দোকান বা অন্য ব্যবসাপাতি করে কোনোমতে জীবন নির্বাহ করছেন। বেতন-ভাতা না পাওয়া একজন শিক্ষক আফসোস করে বললেন, তার মেয়ের অনেক ইচ্ছা ছিল ডাক্তার হবে। কিন্তু অর্থের অভাবে পড়াতে পারলাম না তাকে।

নায়াগ্রার আরেক রূপ

মারাত্মক ঠাণ্ডায় যেন জমাট বেঁধে গেছে সমগ্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। কোথাও হিমাঙ্কের ৮ ডিগ্রি নিচে তো কোথাও তারও কম। কানাডার কোথাও তো তাপমাত্রা নেমে গিয়েছে দণি মেরুর তাপমাত্রার কাছাকাছি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের উৎস নায়াগ্রা জলপ্রপাত মারাত্মক ঠাণ্ডায় জমে গেছে। অথচ শুষ্ক মওসুমে এই জলপ্রপাত দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে পড়ে ৬০ হাজার গ্যালনের বেশি পানি। জমে যাওয়া নায়াগ্রা জলপ্রপাতের ছবি ইতোমধ্যেই ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। তবে এই প্রথম বার নয়, এর আগেও বেশ কয়েক বার জমে গেছে নায়াগ্রা। নায়াগ্রা জলপ্রপাত দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে তিন হাজার টন পানি বয়ে চলে। মারাত্মক ঠাণ্ডায় সেই পানি পড়ার সাথে সাথে জমে যাচ্ছে। দেশ-বিদেশ থেকে মানুষ ভিড় জমিয়েছেন এই প্রাকৃতিক শোভা দর্শনে। শুধু নায়াগ্রা নয়, প্রবল ঠাণ্ডায় জমে গেছে ফোরিডা, টেক্সাসসহ যুক্তরাষ্ট্রের একটা বড় অংশও। নায়াগ্রা মূলত একটি নদী, যেটি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক স্টেটের লেক ইরি থেকে পানি নিয়ে কানাডার অন্টারিও প্রদেশের লেক অন্টারিওতে মিশেছে। জলপ্রপাত ছাড়া ৫৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এ নদীতে বিশেষ কিছু নেই। তিনটি পাশাপাশি অবস্থিত ভিন্ন জলপ্রপাত নিয়ে নায়াগ্রা জলপ্রপাত গঠিত। এই তিনটি জলপ্রপাতের নাম- হর্সশু ফলস বা কানাডা ফলস, আমেরিকান ফলস এবং ব্রাইডাল ভিল ফলস। নায়াগ্রা জলপ্রপাত যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত।

নায়াগ্রার আরেক রূপ

মারাত্মক ঠাণ্ডায় যেন জমাট বেঁধে গেছে সমগ্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। কোথাও হিমাঙ্কের ৮ ডিগ্রি নিচে তো কোথাও তারও কম। কানাডার কোথাও তো তাপমাত্রা নেমে গিয়েছে দণি মেরুর তাপমাত্রার কাছাকাছি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের উৎস নায়াগ্রা জলপ্রপাত মারাত্মক ঠাণ্ডায় জমে গেছে। অথচ শুষ্ক মওসুমে এই জলপ্রপাত দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে পড়ে ৬০ হাজার গ্যালনের বেশি পানি। জমে যাওয়া নায়াগ্রা জলপ্রপাতের ছবি ইতোমধ্যেই ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। তবে এই প্রথম বার নয়, এর আগেও বেশ কয়েক বার জমে গেছে নায়াগ্রা। নায়াগ্রা জলপ্রপাত দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে তিন হাজার টন পানি বয়ে চলে। মারাত্মক ঠাণ্ডায় সেই পানি পড়ার সাথে সাথে জমে যাচ্ছে। দেশ-বিদেশ থেকে মানুষ ভিড় জমিয়েছেন এই প্রাকৃতিক শোভা দর্শনে। শুধু নায়াগ্রা নয়, প্রবল ঠাণ্ডায় জমে গেছে ফোরিডা, টেক্সাসসহ যুক্তরাষ্ট্রের একটা বড় অংশও। নায়াগ্রা মূলত একটি নদী, যেটি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক স্টেটের লেক ইরি থেকে পানি নিয়ে কানাডার অন্টারিও প্রদেশের লেক অন্টারিওতে মিশেছে। জলপ্রপাত ছাড়া ৫৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এ নদীতে বিশেষ কিছু নেই। তিনটি পাশাপাশি অবস্থিত ভিন্ন জলপ্রপাত নিয়ে নায়াগ্রা জলপ্রপাত গঠিত। এই তিনটি জলপ্রপাতের নাম- হর্সশু ফলস বা কানাডা ফলস, আমেরিকান ফলস এবং ব্রাইডাল ভিল ফলস। নায়াগ্রা জলপ্রপাত যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত।

মধ্য শীতেও সবজির দাম বাড়তি

শীতের এখন ভরা যৌবন। তাপমাত্রা কমে এসেছে উল্লেখযোগ্য। শীতকালীন সবজির এটাই সর্বোচ্চ সময়; কিন্তু বাজারে এর প্রতিফলন খুবই সামান্য। মধ্য শীতেও বেশির ভাগ সবজির দাম বাড়তি। গত সপ্তাহের চেয়ে দাম বেড়েছে ফুলকপি, খিরা, গাজর, শিমসহ প্রায় সব সবজির। দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। অন্যান্য বছর এ সময়ে বাজারে নতুন পেঁয়াজের আধিপত্য লক্ষ করা গেলেও এবারের চিত্র ভিন্ন। বাজারে স্বল্প পরিমাণে নতুন পেঁয়াজ উঠলেও বাজারকে প্রভাবিত করতে পারছে না। ফলে ক্রেতাদের অস্বস্তিও কাটছে না। গতকাল রাজধানী ঢাকার কয়েকটি পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় বেশির ভাগ সবজির দাম বাড়তি। গত সপ্তাহে যে ফুলকপি ২০ থেকে ২২ টাকায় বিক্রি হয়েছিল গতকাল সেটি বিক্রি হয় ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। ৩০ টাকার করলা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। আগের সপ্তাহে নতুন আলু ২০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হলেও গতকাল ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। ৩০ টাকার শসা-খিরাই বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বেগুন। তবে শালগম ও মুলা বিক্রি হচ্ছে আগের দামেই ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি দরে। ভরা শীতেও সবজির দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তালতলা মার্কেটের বিক্রেতা আবুল কালাম বলেন, শীত বেড়ে যাওয়াই সবজির দাম বাড়তির কারণ।
তার মতে, শীতের সাথে পাল্লা দিয়ে কুয়াশাও বাড়ছে। ঘন কুয়াশার কারণে গ্রামাঞ্চল থেকে সবজিবাহী গাড়ি ঢাকায় আসতে বিলম্ব হচ্ছে। এ কারণে পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এখন আর গ্রামেও কম দামে সবজি পাওয়া যায় না। কারণ উৎপাদন খরচ বাড়তি। সার, বীজ, শ্রমিক, লাঙ্গল সব কিছুরই বাড়তি দাম। বিশেষ করে চালের দাম বাড়তি থাকায় কৃষক চাইলেও কম দামে সবজি বিক্রি করতে পারেন না বলে মন্তব্য করেন কালাম। রামপুরা বাজারে সবজি কিনতে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা সদরুল বলেন, শীতকালে সব সবজির দামই কম থাকে। তারই কিছুটা প্রভাব বাজারে দেখা যাচ্ছে। বেশির ভাগ সবজির দামই এক মাসের ব্যবধানে বেশ কমেছে। তবে গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা বাড়তি। তিনি বলেন, ভরা শীতের এই মওসুমে শিম, ফুলকপি ও টমেটোর দাম আরো কম হওয়া উচিত। তারপরও এখন বাজারে সবজির দাম যা, তা কিছুটা হলেও স্বস্তিদায়ক। ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানো গেলে সবজির দাম আরো কম থাকত বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ দিকে পৌষ মাসে পেঁয়াজের ভরা মওসুমেও অন্যান্য বছরের তুলনায় দাম আকাশছোঁয়া। দেশী পেঁয়াজ খুচরা বাজারে গতকালও ৮৫ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। আর আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে। দেশী পেঁয়াজের পাইকারি দর ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। আর আমদানি করা ভারতীয় লাল পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। মূলত দেশে তিন দফা বন্যা ও পেঁয়াজ আমদানির প্রধান বাজার ভারতে বন্যায় পেঁয়াজের চাষ ব্যাহত হওয়ায় আশ্বিন মাসের শেষের দিকে দেশের বাজারে বাড়তে শুরু করে পেঁয়াজের দাম। এরপর দফায় দফায় বেড়ে দেশী পেঁয়াজের দাম পৌঁছে কেজি-প্রতি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। আর আমদানি করা পেঁয়াজ ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হয় অগ্রহায়ণ থেকে মাঝ পৌষ পর্যন্ত। তবে দেশী জাতের পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করায় দামে একটু ভাটা পড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যটির।
গত দুই সপ্তাহ ধরেই একটু একটু করে কমছে দেশী ও আমদানি করা পেঁয়াজের দাম। গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহেও পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা। তবে কাওরান বাজার, হাতিরপুল, মোহাম্মাদপুর ও শান্তিনগর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পেঁয়াজের দাম কমার হার পাইকারিতেই বেশি। পাইকারিতে যে হারে দাম কমেছে খুচরা বাজারে তার খুব বেশি প্রভাব পড়েনি। বাজারে গতকাল প্রতি কেজি মোটা চাল ৪৫ থেকে ৪৮ টাকায় এবং সরু চাল ৫৬ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। এ ছাড়া প্রতি কেজি দেশী রসুন ৭০ থেকে ৮০ টাকা, আমদানি করা রসুন ৮৫ থেকে ৯০ টাকা, চিনি ৫৫ থেকে ৫৮ টাকা, দেশী মসুর ডাল ১০০ থেকে ১২০ টাকা, আমদানি করা মসুর ডাল ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হয়। গরুর গোশত ৫০০ থেকে ৫২০ এবং খাসির গোশত ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। বাজারে গতকাল আকারভেদে প্রতি কেজি রুই মাছ ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, সরপুঁটি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, কাতলা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ১২০ থেকে ১৬০ টাকা, সিলভার কার্প ১৬০ থেকে ২০০ টাকা, চাষের কৈ ২২০ থেকে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি পাঙ্গাস ১২০ থেকে ২০০ টাকা, ট্যাংরা ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা, মাগুর ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, প্রকার ভেদে চিংড়ি ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা, আকারভেদে প্রতিটি ইলিশ ৬০০ থেকে ১৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বড় আকারের প্রতি কেজি ইলিশের দাম রাখা হচ্ছে ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকায়।

যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকুন : সেনাবাহিনীকে চীনা প্রেসিডেন্ট

সর্বদা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে ও মৃত্যুকে ভয় না পেতে সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এশিয়ার সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে এই আহ্বান জানান তিনি। গত বুধবার বিশ্বের সবচেয়ে বড় সেনাবাহিনীর সামনে দেয়া শি জিনপিংয়ের একটি বক্তৃতার কিছু অংশ প্রকাশিত হয়েছে গত বৃহস্পতিবার।
চীনা সংবাদমাধ্যমে বক্তৃতাটিকে দেশটির সেনাবাহিনীর সামনে দেয়া বিরল বক্তৃতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। গত অক্টোবরে চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেসে কয়েক দশকের মধ্যে দলটির সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে নিজের অবস্থান জোরালো করেছেন শি। বার্তসংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলীয় হেবেই প্রদেশে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির একটি ঘাঁটি পরিদর্শনে গিয়ে কয়েক হাজার সেনাসদস্যের উদ্দেশ্যে দেয়া বক্তৃতায় শি জিনপিং বলেন, ‘কষ্ট কিংবা মৃত্যুকে ভয় পাবেন না।’