Tuesday, May 28, 2019

বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক: থানাতেই চুলোচুলি

বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ জানাতে এসেছিলেন তারা। থানাতে থাকা অবস্থাতেই দুই মহিলার রীতিমতো চুলোচুলি হয়। সোমবার ঘটনাটি ঘটে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানায়। চুলোচুলিকে কেন্দ্র করে সাময়িক সময়ের জন্য উত্তেজনার সৃষ্টি হয় থানা চত্বর। অবশেষে পুলিশের হস্তক্ষেপে দু’পক্ষের ঝামেলা মেটে। যদিও পুলিশ দু’পক্ষের মোট দু’মহিলা ও তিন যুবককে আটক করে। খবরটি প্রকাশ করে ভারতীয় পত্রিকা আনন্দবাজার।

খবরে বলা হয়, শিলিগুড়ি লাগোয়া নিউ জলপাইগুড়ি এলাকায় বিবাহিত এক যুবকের সঙ্গে শহর লাগোয়া সুকান্ত নগরের এক কিশোরীর সম্পর্কের অভিযোগ ওঠে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুকান্তনগর এলাকায় মহিলা সমিতি বৈঠক করে।
অভিযোগ, সাত দিন ধরে ওই কিশোরীর বাড়িতে রয়েছেন ওই যুবক।

খবর পেয়ে রোববার রাতে এনজেপি থেকে ওই যুবকের স্ত্রী সুকান্তনগরে চলে আসেন। তার পরেই ওই কিশোরীর পরিবার ও যুবকের স্ত্রীয়ের মধ্যে গোলমাল শুরু হয়। রাতেই এলাকায় মহিলা সমিতির পক্ষ থেকে বৈঠক ডাকা হয়। তাতে অবশ্য সমস্যার সমাধান হয়নি।

পুলিশ সূত্রে দাবি, পুলিশ ওই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য রোববার রাতেই ডেকে পাঠায়। সোমবার সকালে দু’পক্ষই থানায় হাজির হয়। এবং একে অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই থানায় নতুন করে ঝগড়া শুরু হয় দু’পক্ষের মধ্যে। বচসা থেকে ওই কিশোরীর দিদির সঙ্গে ওই যুবককের স্ত্রীয়ের চুলোচুলি শুরু হয়।

কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই চুলোচুলিতে জড়িয়ে পড়েন বাড়ির অন্য লোকেরা। ততক্ষণে হাতাহাতিও শুরু হয়ে গিয়েছে। অভিযোগ, মারের চোটে রক্তাক্ত হন কিশোরীর দিদি।

থানায় কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তা ও কর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। এ দিকে থানায় ভিতরে গণ্ডগোল ও মারপিট করার অভিযোগে তিন যুবক ও দুই মহিলাকে আটক করে পুলিশ। যুবকের স্ত্রী জানান, বাড়ি থেকে সাত দিন হল বের হয়েছে ও। আমাকে বলেছে সিকিমে রয়েছে। কিন্তু জানতে পারি জলপাইগুড়িতেই বসে আছে। এক কিশোরীর সঙ্গে সম্পর্ক করেছে। সেখানে জমি নিয়েছে। প্রতিবাদ করায় আমাকে মারধর করে ওই পরিবারের লোকেরা।

ওই কিশোরীর পরিবারের দাবি, তাঁদের নামে মিথ্যে অভিযোগ করা হচ্ছে। বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক এখানে নেই। জমির কাজে ওই যুবক ক’দিন ধরে তাঁদের বাড়িতে আছেন। এলাকার এক মহিলা বলেন, বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করেছি। এর পরেও সমাধান হয়নি। পুলিশের কাছে দাবি, সঠিক পদক্ষেপ নিন।

বর্ষবরণে পাহাড়ে বৈসাবি উৎসব

ফুল বিজুর দিন ভোর থেকে বাড়ির পাশের নদী ও খালে গিয়ে প্রার্থনারত হয়ে পুরাতন বছরকে বিদায় জানান চাকমা সম্প্রদায়ের বিভিন্ন বয়সী নরনারী।

ফুল ভাসানো শেষে তরুণ তরুণীরা মেতে উঠেন আনন্দ উৎসবে। নদীতে স্লান শেষে বাড়ি গিয়ে বড়দের প্রণাম করেন ছোটরা।

ভোরে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলে নদীসহ আশপাশের বিভিন্ন খাল ও ছড়ায় গঙ্গা দেবীর উদ্দেশে বাহারী রঙের ফুল দিয়ে প্রার্থনা করে বৈসাবি উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করা হয়। এটি ফুল বিজু নামে পরিচিত।

এক সপ্তাহ আগে মোটরসাইকেলটি কিনেছিলেন মেহেদী by মরিয়ম চম্পা

ছয় ভাই এক বোনের মধ্যে সবার ছোট মেহেদী হাসান (২৬)। ছিলেন পরিবারের সবার আদরের। না চাইতে সব চাহিদা পূরণ করতেন বড় ভাইয়েরা। এক মাস আগে বড় ভাইয়ের কাছে ১ লাখ টাকা চেয়েছিলেন। ছোট ভাইয়ের সে আবদারও পূরণ করেছেন বড় ভাই। মাত্র ১ সপ্তাহ আগে সখ করে একটি মোটরবাইক ক্রয় করেন মেহেদী। কিন্তু সেই মোটরবাইকেই যে তার মৃত্যু হবে এটা ভাবতে পারেননি পরিবারের সদস্যরা। গত বুধবার সন্ধ্যায় বনশ্রীর আল রাজি হাসপাতালের সামনে কাভার্ড ভ্যানের চাপায় নিহত হন তিনি। নিহত মেহেদী মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। মেহেদীর বন্ধু ইকবাল হোসাইন মানবজমিনকে বলেন, সে আমার ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থী এবং ভালো বন্ধু ছিল। মেহেদী ঢাকা কলেজে অনার্সে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থী ছিলেন। সবেমাত্র পরীক্ষা শেষ হয়েছে। শিগগিরই ফল প্রকাশের কথা রয়েছে। ফাস্ট ইয়ার থেকে থার্ড ইয়ার পর্যন্ত সে অনেক ভালো রেজাল্ট করেছে। বিসিএস পরীক্ষা দিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক লাইব্রেরীতে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়মিত পড়তে যেতেন মেহেদী। ভর্তি হয়েছিলেন ব্রিটিশ কাউন্সিলের ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাবে। গুলশান থেকে যাতায়াতে সুবিধার বিষয়টি মাথা রেখে মাত্র এক সপ্তাহ আগে নতুন মোটরবাইকটি ক্রয় করেন মেহেদী। রেজিস্ট্রেশন হয়েছে গত ২০শে মে। বন্ধুরা কেউ কেউ জানলেও পরিবারের সদস্যরা তার মোটরসাইকেল ক্রয়ের বিষয়টি জানতেন না। অথচ তাকে নিয়ে কিছু গণমাধ্যমে নিউজ করা হয়েছে সে নাকি পাঠাও চালক। যে ছেলে গুলশানে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করতো সে পাঠাও চালাবে কোন দুঃখে।
ঢাকা কলেজের আরেক বন্ধু বলেন, ব্যক্তি হিসেবে সে সবার সাথে খুব আন্তরিক ছিল। বছরখানেক আগে তার সঙ্গে আমি প্রায় একবছরের মতো রুমমেট হিসেবে ছিলাম। গ্লোরি এজেন্সিতে চাকরি হওয়ার পর সে গুলশানে চলে যায়। পরে বাড্ডার গুদারাঘাটে থাকতো। সর্বশেষ আমরা একটি ট্যুরে গিয়েছিলাম। সেখানে ওর সঙ্গে অনেক মজা করেছি। ব্যক্তি হিসেবে সে সত্যিই খুবই মিশুক ছিল।  
রুমমেট ও ভাতিজা ওবায়দুল্লাহ বলেন, কাকা আর আমি একই রুমে থাকতাম। ঘটনার দিন সকালে আমরা একত্রে বেরিয়েছি। দুপুরের দিকে মোবাইল ফোনে তার সঙ্গে আমার সর্বশেষ কথা হয়। এসময় কাকা আমাকে বলেন, গুলশানে আছি। একটু কাজ আছে। কাজ শেষ করে ফিরবো। আগে গুলশানের একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে সে চাকরি করতো। ফাইনাল পরীক্ষার আগে চাকরি ছেড়ে দেয়। সুস্থ মানুষটা বাসা থেকে বেরিয়ে এভাবে লাশ হয়ে ফিরবে এটা ভাবতেই পারছিনা।
মেহেদীর বড় ভাই গাড়িচালক মিরাজ কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমাদের গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের জিয়ানগর থানায়। বাবার নাম আব্দুস সোবাহান হাওলাদার। তিনি কৃষি কাজ করেন। মা রহিমা বেগম গৃহিনী। ৭ ভাইবোনের মধ্যে সে ছিল সবার ছোট। ভাইয়ের কোনো চাওয়া আমরা অপূর্ণ রাখিনি। গত মঙ্গলবার ওর সাথে আমার শেষবারের মতো কথা হয়। আমি বলেছি, তুই কি বাড়িতে আসবি। তখন মেহেদী বলে, হ্যা ভাইয়া। এসময় আমি বলি, ঠিক আছে। আমি গাড়ির ট্রিপ নিয়ে ঢাকায় আসবো। ওই গাড়িতেই তুই আমার সাথে যাবি। মারা যাওয়ার আগে গ্রামে থাকা ব্যবসায়ী আরেক ভাইয়ের কাছে মেহেদী ১ লাখ টাকা চায়। টাকা দিয়ে কি করবে এটাও আমরা জানতে চাইনি। ভাইয়ের সব আবদার পুরন করে ভাইকে মানুষের মতো মানুষ করতে চেয়েছি। আর সেই ভাইয়ের লাশ আজ আমার কাধে বইতে হবে। এতো কষ্ট কোথায় রাখবো আল্লাহ। 
এলাকার বন্ধু আবীর হোসেন বলেন, বন্ধু হিসেবে সে ছিল বেস্ট। একজন মানুষের মধ্যে মানবীয় যতগুলো গুনাবালী থাকা দরকার তার সবগুলোর সমন্বয়ে সে ছিল শ্রেষ্ঠ। ১ সপ্তাহ হয়েছে নতুন বাইক কিনেছে।
খিলগাঁও থানার ডিউটি অফিসার এসআই নাজমুল বলেন, বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টায় খিলগাঁও থানার বনশ্রী এলাকার আলরাজী হাসপাতালের একটি কাভার্ড ভ্যান মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ছিটকে পড়েন মেহেদী। পরে কাভার্ড ভ্যানটি তার মাথার ওপর দিয়ে চলে যায়। এতে চালক মেহেদী হাসান ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ কাভার্ড ভ্যানটিকে আটক করে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার বাদি হয়ে মামলা করেছে। গাড়ি চালককে ইতোমধ্যে কোর্টে চালান করা হয়েছে। 
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়না তদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার শেষবারের মতো প্রিয় প্রাঙ্গন ঢাকা কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে মেহেদীর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে লাশবাহী এম্বুলেন্সে করে তার লাশ গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক গোরোস্থানে দাফন করা হয়।

মালিবাগের বিস্ফোরণটি শক্তিশালী, আইএস-এর দায় স্বীকার

রাত প্রায় পৌনে ৯টা। রাজধানীর মালিবাগের রাস্তাগুলো তখন ব্যস্ত। যানজটে আটকে ছিল অনেক গাড়ি। এরমধ্যে হঠাৎ বিকট শব্দ। চিৎকার। কান্নার আওয়াজ। কিছু বুঝে ওঠার আগেই এসবি অফিসের ফটকের উল্টোদিকে ফ্লাইওভারের নিচে পুলিশের একটি সিঙ্গেল কেবিন পিকআপ ভ্যানে আগুন জ্বলতে থাকে। ততক্ষণে আগুন ও ধোঁয়ায় কিছুই দেখা যাচ্ছিলো না। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ও পলওয়েল জি গ্যাস স্টেশনের কর্মচারীদের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বিকট বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন রিকশা চালক লাল মিয়া ও ট্রাফিক পুলিশের এএসআই রাশেদা খাতুন। এটি ককটেল বিস্ফোরণ। তবে পুলিশ বলছে, গত রোববার রাতের এই ককটেল সাধারণ কোনো ককটেল না। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী। তদন্ত সংশ্লিষ্ট অনেকের ধারণা, এটি ইমপ্রভাইসড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি)। ইতিমধ্যে মালিবাগের এই ঘটনার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। এ ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে পল্টন থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।
মামলায় বলা হয়েছে, এই ঘটনায় কনস্টেবল শফিক চৌধুরী বাদী হয়ে গতকাল মামলা দায়ের করেছেন। যে গাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে এটি তখন গণভবনে যাওয়ার কথা ছিলো। গণভবনে ডিউটিরত পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের সদস্যদের আনতে গাড়িটি স্টার্ট করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন চালক কনস্টেবল শফিক চৌধুরী। এর মধ্যেই গাড়ির পেছনে বিকট শব্দ হয়। তাৎক্ষণিকভাবে গাড়ি থেকে নামেন শফিক চৌধুরী। ততক্ষণে গাড়ির পেছনের হুটে ও বাম পাশের সীটে আগুন জ্বলছিলো। শফিক চৌধুরী চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ও পলওয়েল জি গ্যাস স্টেশনের কর্মচারীদের সহযোগিতায় অগ্নিনির্বাপন যন্ত্র দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রন করা হয়। এসময় ট্রাফিক পূর্ব বিভাগের এএসআই রাশেদা খাতুন বাম পায়ে রক্তাক্ত জখম হন। রিকশাচালক লাল মিয়া মাথায় রক্তাক্ত জখম হন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার জন্য ট্রাফিক পুলিশকে হত্যার উদ্দেশ্যে ও সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি সাধনের জন্য এই বোমা নিক্ষেপ করে।
গতকাল সকালে সরজমিন ঘটনাস্থল ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, মালিবাগ মোড়ের গ্যাস স্টেশন সংলগ্ন পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের ফটকের উল্টোদিকে ফ্লাইওভারের নিচে ছিলো গাড়িটি। গতকালও সেখানে অনেক গাড়ি পাকির্ং করা ছিলো। কথা হয় প্রত্যক্ষদর্শী ট্রাফিক পুলিশের কনস্টেবল মজনু মিয়ার সঙ্গে। ঘটনার সময় তিনি মোড়ের মগবাজার-রাজারবাগ সিগন্যালের দায়িত্ব পালন করছিলেন। অন্যদিকে মোড় থেকে কাকরাইল সিগন্যালে এসবি অফিসের সামনে দায়িত্ব পালন করছিলেন এএসআই রাশেদা। ওই মোড়ে রাশেদা, মজনুসহ ট্রাফিকের তিন সদস্য দায়িত্ব পালন করছিলেন। মজনু জানান, সিগন্যাল তখন বন্ধ ছিল। এরমধ্যেই হঠাৎ বিকট শব্দ এবং সঙ্গে সঙ্গে আগুন দেখতে পান। সবাই তখন দৌড়াচ্ছিলো। চিৎকার শুনে তিনি এগিয়ে যান। ধোঁয়া কিছুই দেখা যাচ্ছিলো না। কাছে গিয়ে দেখতে পান এএসআই রাশেদা পায়ে আঘাত পেয়েছেন। আরেকজন রিকশা চালক রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। একই কথা বলেন প্রত্যক্ষদর্শী আরও কয়েকজন।
এ ঘটনায় গুরুতর আহত রিকশাচালক লাল মিয়াকে দেখতে গতকাল সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। হাসপাতাল থেকে বের হয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন,  মালিবাগের বোমা হামলা কারা কী উদ্দেশ্যে করেছে তা তদন্তাধীন, একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। বিস্ফোরণটি একটি ককটেলের। নরমাল ককটেলের চেয়ে এটি শক্তিশালী ছিলো। এটা পুলিশকে টার্গেট করা হয়েছে নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য করা হয়েছে এটি তদন্তসাপেক্ষ বলে জানান তিনি। ডিএমপি কমিশনার বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা দেখছি এটি পুলিশকে লক্ষ করে করা হয়েছে। নাকি রেনডমলি মেরেছে। এটি ছুঁড়ে মারা হয়েছে, নাকি পুতে রাখা হয়েছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে এটি গাড়িতে রেখে দেয়া হয়েছিলো। জনমনে ভীতিকর পরিস্থিতি, নৈরাজ সৃষ্টির জন্যই এটি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এর আগে গুলিস্তানে ট্রাফিকবক্সের সামনে যে বিস্ফোরণ হলো এতে ৩ জন পুলিশ কনস্টেবল আহত হলো। মালিবাগে পিকআপে হামলা কোনো স্বার্থনেস্বী মহল, গোষ্ঠী করেছে। এই গোষ্ঠী কারা, এটা তদন্ত করে বের করতে হবে। তারা এ ধরনের নৈরাজ্য করে, ভীতি সৃষ্টি করে জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশের মনোবল ভেঙ্গে দিতে চাচ্ছে বলে জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি জঙ্গি তৎপরতা ছাড়াও অতীতের অগ্নিসন্ত্রাস, বিদেশি নাগরিক হত্যার কথা উল্লেখ করেন।
এদিকে, গতকাল বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেলে কথা হয় রিকশা চালক লাল মিয়ার স্বজনদের সঙ্গে। লাল মিয়ার মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। তখন তাকে রক্ত দেয়া হচ্ছিলো। কথা বলতে পারছিলেন না। তার বড় ভাই মো. বিল্লাল জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি শেরপুর জেলা সদরের হেরুরাবালুঘাটে। গত ২০ বছর যাবত ঢাকায় রিকশা চালান লাল মিয়া। তেজকুনিপাড়ায় একটি গ্যারেজে থাকেন। ঘটনার সময় মালিবাগে রিকশা থামিয়ে তাতে বসে একটি পান খাচ্ছিলেন। ওই সময়ে বিস্ফোরণে মাথায় আঘাত পান তিনি। এ বিষয়ে ঢামেকে’র অধ্যাপক ডা. রেজাউল হক বলেন, লাল মিয়ার মাথায় গুরুতর আঘাত। হাড় ভেঙ্গে ব্রেনে আঘাত পেয়েছেন তিনি। তবে লাল মিয়া আশঙ্কামুক্ত বলে জানান তিনি। ডা. রেজাউল হক জানান, লাল মিয়ার মাথায় কোনো স্প্রিন্টার পাওয়া যায়নি। এমন হতে পারে বোমার স্প্রিন্টার মাথায় ঢুকেনি বা প্রাথমিক চিকিৎসা করার সময় স্প্রিন্টার বের করা হয়েছে।
এদিকে এ ঘটনায় জঙ্গিগোষ্ঠি আইএস দায় স্বীকার করেছে বলে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সাইট ইন্টিলিজেন্স জানিয়েছে।

মৌলভীবাজারে আইনজীবী খুন, ইমাম গ্রেপ্তার

মৌলভীবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য এডভোকেট আবিদা সুলতানা খুন হয়েছেন। রোববার বড়লেখা উপজেলার মাধবগুল গ্রামে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। কি কারণে এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে তা এখনও নিশ্চিত করে জানা যায়নি। তবে ওই হত্যাকাণ্ডের পর বাড়ির ভাড়াটিয়া স্থানীয় মসজিদের ইমাম তানভীর আহমদ (৩৬) পালিয়ে গেলে তাকে সোমবার দুপুরে শ্রীমঙ্গল বরুনা এলাকা থেকে আটক করে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ। আবিদা সুলতানা খুন হওয়ার খবরটি রোববার রাতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন তার সহকর্মী মৌলভীবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা। গতকাল সোমবার সকালে তারা ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও খুনির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আদালত বর্জন করে বিক্ষোভ মিছিল, মানবন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নিজেদের ক্ষোভ ও ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন স্থানীয়রা। নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, মৃত আব্দুল হাজী আবদুল কাইয়ুমের তিন মেয়ে। তারা বিয়ের পর থেকে স্বামীর বাড়িতে থাকেন। তাদের মধ্যে আবিদা সুলতানা সবার ছোট। আবিদার তার স্বামী শরীফুল ইসলামের সঙ্গে মৌলভীবাজার শহরে বসবাস করতেন। মাঝে মধ্যে বাবার বাড়িতে আসতেন। বাড়ি দেখা শোনার পাশাপাশি ক্ষেতের ফসল ও চাল বাসায় নিতেন। আবিদা সিলেটের বিয়ানীবাজারে তার বোনের বাড়ি থেকে রোববার সকাল ৯টার দিকে জরুরি প্রয়োজনে পৈত্রিক বাড়ি বড়লেখার দক্ষিণ ভাগ (কাঠালতলী) ইউনিয়নের মাধবগুল গ্রামে যান। পরিবারের সদস্যরা বিকেল ৪টার পর থেকে তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করে তাকে না পেয়ে মাধবগুল গ্রামে পৈত্রিক বাড়িতে চলে আসেন। এ সময় পৈত্রিক বাড়ির ভাড়াটিয়া ঘরের একটি কক্ষে তালা দেখতে পেয়ে তাদের সন্দেহ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ওই কক্ষের তালা ভেঙে আবিদার লাশ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইয়াসিনুল হক জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইনজীবীর বাড়ির একটি কক্ষ থেকে গভীর রাতে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নিয়ে আসা হয়। মরদেহের বিভিন্নস্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আবিদার পৈতৃক বাড়িতে থাকা ভাড়াটিয়া তানভীর আহমদ ঘটনার পর থেকে পালিয়ে যায়। তানভীর পলাতক থাকায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার মা ও স্ত্রীকে আটক করে পুলিশ। তবে ওই খুনের ঘটনার পর জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারও ঘটনাস্থলে ছুটছেন। এই খুনের নেপথ্যের ঘটনা ও খুনিকে শনাক্ত করতে তৎপর রয়েছেন। এদিকে খুনের পর মৌলভীবাজার আইনজীবী সমিতি তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে দোষীকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়ে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন। গতকাল সোমবার সকালে আদালত প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি পালিত হয়। জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাডভোকেট আজাদুর রহমান আজাদের সভাপতিত্বে ও  সাধারণ সম্পাদক কামরেল আহমেদ চৌধুরীর পরিচালনায় প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, এ্যাডভোকেট শান্তি পদ ঘোষ, এ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান মুজিব, কামাল উদ্দিন আহমদ, রমা পদ দাস গুপ্ত, রাধাপদ দেব সজল, এখলাছুর রহমান, আব্দুল খালিক, আব্দুল মতিন চৌধুরী, মাহবুর আলম রুয়েল প্রমুখ। অপরদিকে এ্যাডভোকেট আবিদা সুলতানার সন্দেহভাজন খুনি তানভির আহমদকে সোমবার দুপুর সোয়া একটার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার বরুনা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুছ ছালেক তার গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘাতক তানভীর আবিদার পৈতৃক বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকত ও পাশের একটি মসজিদে ইমামতি করত। তার গ্রামের বাড়ি সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার আমানদি গ্রামের ময়নুল ইসলামের পুত্র।

ইরানের সঙ্গে আলোচনা চাই: ট্রাম্পের দাবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার প্রশাসন ইরানে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করছে না এবং তিনি তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চান। সোমবার টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সিনজো অ্যাবে'র সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
ট্রাম্প বলেন, 'আমরা ইরানে সরকার পরিবতর্ন চাই না, পরমাণু অস্ত্রও চাই না।' ইরানের সঙ্গে তিনি একটি চুক্তি করবেন বলে জানান ট্রাম্প। তবে দীর্ঘ দিনের প্রচেষ্টার ফলে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি কোনো কথা বলেন নি। ইরান বলে আসছে, পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গিয়ে আমেরিকা প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে। বিশ্বাসঘাতক মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার প্রশ্নই আসে না। ইরান ট্রাম্পের আলোচনার প্রস্তাবকে প্রতারণার নতুন কৌশল হিসেবে গণ্য করে আসছে।
তবে ইসলামবিদ্বেষী হিসেবে পরিচিত ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন, ইরান আলোচনা চায়। তারা চাইলে তিনি আলোচনায় বসবেন। ট্রাম্প ইরান-আমেরিকার মধ্যে মধ্যস্থতা করতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান। ট্রাম্প বলেন, 'আমি জানি জাপান ও জাপানি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইরানের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। দেখা যাক কী ঘটে।"
ট্রাম্প এর আগেও ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে হুমকি ও নিষেধাজ্ঞার একই সময়ে আলোচনার প্রস্তাবকে গুরুত্ব দিচ্ছে না ইরানিরা।
সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী আমেরিকার আচরণে পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেছেন।

গরু জবাইয়ের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা চান রামদেব

বার বার বিতর্কিত মন্তব্য করে ব্যাপক সমালোচিত, আলোচিত ভারতের যোগগুরু বাবা রামদেব। রোববার তিনি ভারতে গরু জবাইয়ের ওপর পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা দাবি করেছেন। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে তার মতো করে তত্ত্ব দিয়েছেন। বলেছেন, আগামী ৫০ বছরের মধ্যে ভারতের জনসংখ্যা ১৫০ কোটির ওপরে যেতে দেয়া উচিত নয়। এ জন্য কোনো পরিবারে যদি তৃতীয় সন্তান জন্ম নেয় তাহলে তার ভোটাধিকার এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার থাকা উচিত নয়। আরও বলেছেন, এ জন্য সরকারকে একটি আইন করতে হবে। সেই আইনে কোনো পরিবারে তৃতীয় সন্তান জন্ম নিলে ভারত সরকার যেসব সুযোগ সুবিধা দেয়, তা তার জন্য প্রযোজ্য হওয়া উচিত নয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জি নিউজ।
এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছিলেন রামদেব। এ সময় তিনি বলেন, জনসংখ্যাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই রকম আইন হওয়া দরকার। যদি এমন আইন হয় তাহলে মানুষ দুটির বেশি সন্তান জন্ম দেবে না। তিনি বলেন, এমন হলে কোনো দম্পতি, তারা যে ধর্মেরই হোন না কেন, তারা দুটির বেশি সন্তান নেবেন না।
একই সংবাদ সম্মেলনে তিনি গরু জবাই করার বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা দেয়ার জন্য ভারত সরকারের প্রতি অনুরোধ করেন। তার মতে, এমন নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলে গরু পাচারকারী ও গো-রক্ষকদের মধ্যে সংঘাত কমে আসবে। রামদেব বলেন, যদি তারা (মুসলিম) মাংস খেতে চান তাহলে অনেক রকম মাংস আছে। তারা তা খেতে পারেন।

৮০ বছরের বৃদ্ধাকে খোলা আকাশের নিচে রেখে গেলেন সন্তানরা

কৌশলে ৮০ বছরের বৃদ্ধা মায়ের কাছ থেকে ১২ কাঠা জমি লিখে নিয়েছে ছোট  ছেলে। এ কারণে বড় দুই ছেলে মায়ের প্রতি অসন্তুষ্ট। খোঁজখবর নেয়াও বন্ধ করে দিয়েছে। এ নিয়ে সালিশ  বৈঠকও হয়েছে। যেহেতু মায়ের অনিচ্ছা সত্ত্বেও কৌশলে জমি লিখে নিয়েছে, তাই ভরণপোষণের ভারও ছোট ছেলের ওপর বর্তায়। তবে ছোট ছেলেও তাকে আর জায়গা দেননি। ছেলে ও নাতি মিলে বৃদ্ধাকে ফেলে আসেন রাস্তায়। গত ৩ দিন খোলা আকাশের নিচে থেকে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর অবশেষে এলাকার এক জনপ্রতিনিধির সহযোগিতায় হাসপাতালের বিছানায় স্থান হয়েছে। মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার উথুরী গ্রামে। পুলিশ রোববার সন্ধ্যায় বৃদ্ধা হাজেরা খাতুনের বড় ছেলে আব্দুস সাত্তার ও নাতি তাফাজ্জল হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
জানা যায়, বছর দুয়েক আগে ওই বৃদ্ধার ৩ ছেলের মধ্যে  ছোট ছেলে সাইফুল কৌশলে মায়ের ১২ কাঠা জমি লিখে  নেয়। এরপর থেকে অপর দুই ছেলে ৮০ বছরের বৃদ্ধা মায়ের প্রতি চরম অসন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি অসদাচরণ শুরু করেন। গত বৃহস্পতিবার ছোট ছেলে সাইফুল তার মাকে মারধর করে বাড়ির সামনের সড়কের পাশে খোলা আকাশের নিচে ফেলে রেখে আসে। ৩ দিন সেখানে পড়ে থাকার পর বৃদ্ধা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে শনিবার রাতে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুস সোবহান ও কালা মিয়া প্রতিবেশীদের সহায়তায় বৃদ্ধা হাজেরা বেগমকে উদ্ধার করে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ব্যাপারে ওই ইউপি সদস্য বৃদ্ধার ছেলে ও নাতিদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।
থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ ও পুলিশ এবং এলাকাবাসীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উথুরী গ্রামের মৃত  রেসমত আলীর স্ত্রী হাজেরা বেগমের তিন ছেলে-সাইফুল ইসলাম (৪০), সোহরাব উদ্দিন (৪৫) ও আব্দুস সাত্তার (৫০)। প্রায় ১৬ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার সময় হাজেরা বেগমের নামে ১২ কাঠা জমি লিখে দেন। স্বামীর মৃত্যুর পর ছেলেরা হাজেরা বেগমকে কিছুদিন ভরণপোষণ করেন। এক পর্যায়ে ছোট ছেলে সাইফুল ইসলাম গোপনে বৃদ্ধ মায়ের কাছ থেকে ১২ কাঠা জমি নিজের নামে লিখে  নেন। এ খবর পাওয়ার পর অন্য ছেলেরা মায়ের ভরণপোষণ ও  খোঁজখবর নেয়া বন্ধ করে দেন।
এই পরিস্থিতিতে হাজেরা বেগম ছোট ছেলে সাইফুলের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করতেন। তবে কিছুদিন পর সাইফুলও তার মাকে ভাত কাপড়ের কষ্ট দিতে থাকেন। তিনবেলার মধ্যে কখনো একবেলা, আবার কোনো কোনোদিন খাবারই দেয়া হতো না হাজেরা বেগমকে। খাবার চাইলে উল্টো মাকে মারধর করতো সাইফুল।
এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিচার সালিশও হয়েছে। কিন্তু মায়ের জমি লিখে নেয়ায় বিচার সালিশে সাইফুলকেই তার মা হাজেরা বেগমের ভরণপোষণের দায়িত্ব দেন সালিশকারীরা। তবে সাইফুল বিচার সালিশ না মেনে বৃহস্পতিবার সকালে মাকে মারধর করে বাড়ির সামনে সড়কের পাশে ফেলে আসে।
গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল আহাদ খান বলেন, ছেলেদের হাতে ৮০ বছরের বৃদ্ধ মা এমন নির্যাতিত হবেন বিষয়টি ভাবতেও কষ্ট হয়। হাসপাতালে গিয়ে দুঃখী ওই বৃদ্ধার খোঁজ নিয়েছি। পাশাপাশি বৃদ্ধার এক  ছেলেসহ দু’জনকে আটক করা হয়েছে। আইনি ব্যাপারে পুলিশ যা যা করার দরকার তাই করবে।

ইইউ পার্লামেন্ট নির্বাচনে যুক্তরাজ্যে বিচ্ছেদপন্থীদের জয়জয়কার

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ কার্যকর না হওয়ায় ক্ষুব্ধ বিচ্ছেদপন্থীরা মাত্র ৬ সপ্তাহ আগে গঠন করেছিলেন ‘ব্রেক্সিট পার্টি’। যুক্তরাজ্যে ইইউ পার্লামেন্ট নির্বাচনে সেই ব্রেক্সিট পার্টিরই জয়জয়কার হলো। সোমবার (২৭ মে) ইইউ পার্লামেন্ট নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হয়।
প্রকাশিত ফলাফলে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্রেক্সিট-বিরোধী লিবারেল ডেমোক্র্যাট দল (লিবডেম)। আর ভরাডুবি হয়েছে ব্রেক্সিট প্রশ্নে নমনীয় অবস্থান বজায় রাখা ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ ও বিরোধী দল লেবারের। এই নির্বাচনের ফল আবারও জানান দিল ব্রেক্সিটের পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তরাজ্যের মানুষ কতটা কট্টরভাবে বিভক্ত।
এর আগে ২৩ থেকে ২৬ জুন ইইউ সদস্যভুক্ত ২৯টি দেশে ক্রমান্বয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাজ্যে ভোট হয় ২৩ মে।
যুক্তরাজ্যে ১২টি অঞ্চল থেকে মোট ৭৩ জন এমইপি (মেম্বার অব ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট) নির্বাচিত হয়। সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর পর্যন্ত প্রকাশিত ১০টি অঞ্চলের ফলাফলে দেখা যায়, ৩২ শতাংশ ভোট পেয়ে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ব্রেক্সিট পার্টি, যারা কোনো চুক্তি ছাড়াই ইইউর সঙ্গে বিচ্ছেদের পক্ষে। দলটির ২৮ জন এমইপি নির্বাচিত হয়েছেন। ঘোষিত ১০টি অঞ্চলের ফলাফলে ৯টিতেই সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছে কট্টর ইইউ-বিরোধী নেতা নাইজেল ফারাজের ব্রেক্সিট পার্টি। লন্ডন ছাড়া ইংল্যান্ডের সবখানেই শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে তারা। দলটি ওয়েলসেও সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছে।
২০ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে লিবডেম। দলটির বিজয়ী এমইপির সংখ্যা গতবারের চেয়ে ১৪ জন বেড়ে হয়েছে ১৫ জন।
অন্যদিকে ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন কিংবা পুনরায় গণভোট দিতে ব্যর্থ ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের মাত্র ৩ জন প্রার্থী জয়ী হয়েছেন, যা গতবারের তুলনায় ১৫ জন কম। ভোটের হিসাবে ক্ষমতাসীনরা এবার পিছিয়ে পঞ্চম অবস্থানে।
ব্রেক্সিট প্রশ্নে ধোঁয়াশা অবস্থান বজায় রাখা লেবার দলের এমইপি সংখ্যা এবার ৮ জন কমে হয়েছে মাত্র ১০ জন। তাদের ভোটের হার কমেছে ১১ শতাংশ।
স্কটল্যান্ডের ৬ জন এমইপির মধ্যে স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির ৩ জন এবং ব্রেক্সিট পার্টি, লিবডেম ও কনজারভেটিভ পার্টির একজন করে এমইপি জয়ী হবেন বলে আভাস আছে। আর নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ফলাফল জানা যাবে মঙ্গলবার। সেখানে মাত্র একজন এমইপি নির্বাচিত হবেন।
ব্রেক্সিট পার্টির নেতা নাইজাল ফারাজ বলেন, কথিত প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলগুলো ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত ব্রেক্সিট গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। সে কারণেই মাত্র ৬ সপ্তাহ আগে গড়ে ওঠা ব্রেক্সিট পার্টির এমন বিজয়। তবে লিবডেম বলছে, তাদের দেওয়া প্রতিটি ভোট ব্রেক্সিট বাতিলের জন্য।
ব্রেক্সিট প্রশ্নে নমনীয় অবস্থানে থাকা দলগুলোর সম্মিলিত ভোটের হার ৪০ শতাংশ। এই হিসাব দেখিয়ে ব্রেক্সিট-বিরোধীরা ইইউ থেকে বিচ্ছেদ প্রশ্নে পুনরায় গণভোট আয়োজনের যৌক্তিকতা তুলে ধরছে।

ভারতে টুপি পরায় মুসলিম তরুণকে পিটুনি

ভারতে নয়াদিল্লির গুরুগ্রাম শহরে এক মুসলিম তরুণের মাথার টুপি খুলে নিয়ে তাকে জয় শ্রীরাম গাইতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। ওই তরুণ তখন মসজিদ থেকে ফিরছিলেন। শনিবার রাতে গুরুগ্রামের সদর বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ খবর দিয়েছে দ্য হিন্দুস্থান টাইমস।
হয়রানির শিকার হওয়া ওই মুসলিম তরুণের নাম মোহাম্মদ বরকত আলম (২৫)। তিনি জানান, শনিবার তারাবির নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে বাড়ি যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে একদল অচেনা ব্যক্তি তাকে আটকিয়ে তার মাথার টুপি খুলে নেয় ও তাকে ‘জয় শ্রীরাম’ ও ‘জয় ভারত মাতা কি জয়’ গাইতে বাধ্য করে। এ ঘটনায় পুলিশের কাছে একটি অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে অভিযোগে স্লোগান গাওয়ার অংশটুকু উল্লেখ করা হয়নি।
আলম দিন কয়েক আগেই বিহারের বেগুসারাই থেকে গুরুগ্রামে থাকতে যান। তিনি জানান, রাত ১০:১৫মিনিটের দিকে এই ঘটনা ঘটে।
বরকত বলেন, মসজিদ থেকে ফেরার সময় চার জন মানুষ মোটরসাইকেলে করে ও দুইজন পথচারী আমার পথ আটকায়। একজন আমায় লাঠি দিয়ে আঘাত করে। আমায় বলা হয়, এই এলাকায় টুপি পরে ঘোরা যাবে না। টুপিটি খুলে ফেলতে নির্দেশ দেয়া হয়। আমি তাকে জানাই, আমি মসজিদ থেকে ফিরছি। আমি টুপিটি খুলতে চাইনি। তখন তিনি আমায় ফের মারলেন ও টুপিটি খুলে নিলেন।
আলম অভিযোগ করেন, পথচারীদের একজন তাকে চড় মেরেছে। তিনি প্রতিবাদ করতে গেলে সেখানে কেউ তাকে সাহায্য করতে আসেনি। তিনি বলেন, একজন আমায় লাঠি দিয়ে বারবার মেরেছে। আমায় ‘জয় শ্রীরাম’ ও ‘ভারত মাতা কি জয়’ গাইতে বলেছে। আমি না করলে, আমার শূকরের মাংস খাইয়ে দেবে বলে হুমকি দিয়েছে।
আলম জানান, কেবল পায়ে হেঁটে আসা ব্যক্তিরাই তার ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। মোটরসাইকেলে করে আসা ব্যক্তিরা কিছু করেনি। কিন্তু একসময় তিনি কাঁদতে শুরু করলে, তারা পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, সেদিন রাতেই আলমের ভাই তাকে একটি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।
গুরুগ্রামের সহকারী পুলিশ কমিশনার রাজিব যাদব জানান, শনিবার রাতে ওই মুসলিমের ওপর হামলার অভিযোগ আমরা পেয়েছি। তদন্ত অনুসারে, দুই পক্ষের মধ্যে বিতর্কের পর তাকে মারধর করা হয়।

শক্তিশালী ইউরোপের পক্ষেই রায় দিল ২৮ দেশের জনগণ

ভারতের পর সর্ববৃহত নির্বাচন দেখল বিশ্ববাসী। ২৩ মে থেকে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে ২৬ মে ইউরোপ সময় রাত ১০টায়। নির্বাচনে প্রধান দলগুলোর আসন কিছুটা কমলেও শক্তিশালী ইউরোপের পক্ষেই রায় দিয়েছে ইউরোপের ২৮ দেশের জনগণ।
ফলাফল পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, ইউরোপের প্রধান রাজনৈতিক দল ইউরোপিয়ান পিপলস পার্টি (ইপিপি) এবারও সংখ্যাগরিষ্টতা পেয়েছে। তারা পেয়েছে ১৭৮ টি আসন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে ইপিপি পেয়েছিল ২২১ আসন। অন্যদিকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইউরোপের সোশ্যালিস্ট ও ডেমোক্রেটদের জোট এস এন্ড ডি। জোটটি পেয়েছে ১৪৭ আসন। তাদের আসনও কমেছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে এস এন্ড ডি জোট পেয়েছিল ১৯১ আসন।
তবে এবার ইউরোপের চমক হচ্ছে লিবারেল ডেমোক্রেট, গ্রিন পার্টি ও জাতীয়তাবাদী দলগুলোর উত্থান। সারা ইউরোপের লিবারেল ডেমোক্রেটদের এই জোট এবার ঈর্ষনীয়ভাবে ১০১টি আসন পেয়েছে যা গত নির্বাচনের চেয়ে ৩৪টি আসন বেশি। ২০১৪ সালে তারা পেয়েছিল ৬৭টি আসন। আর গত নির্বাচনের ষষ্ঠ অবস্থান থেকে চতুর্থ অবস্থানে এসেছে জার্মানীসহ ইউরোপের আলোচিত পরিবশেবাদীদের রাজনৈতিক দল গ্রিন পার্টি। তারা এবার ৭০টি আসন পেয়েছে। গত নির্বাচনে তারা পেয়েছিল ৫০টি আসন।
এবারের নির্বাচনে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছিল ইউরোপের সমালোচক পপুলিস্ট ও মুসলিম অভিবাসী বিরোধী দলগুলোর উত্থান নিয়ে। ইউরোপে শান্তির বার্তা বয়ে এনেছে তাদের উত্থান না হওয়ায়। যদিও ইউরোপের সমালোচক বৃটেনের নাইজেল ফারাজের ইএফডি ৫৬টি আসন পেয়েছে যা গত নির্বাচনের তুলনায় ৮ টি আসন বেশি। এছাড়া ইউরোপের সমালোচক হিসেবে পরিচিত ইসিআর পার্টিও ৬০ টি আসন পেয়েছে।
অন্যদিকে ইতালির আলোচিত জাতীয়তাবাদী নেতা সালভিনি ও ফ্রান্সের জাতীয়তাবাদী নেত্রী মারিন ল্য পেন এর নেতৃত্বাধীন ইএনফ ৫৭টি আসন পেয়েছে। ফ্রান্সের জাতীয়তাবাদী নেত্রীর উত্থান ফ্রান্সে নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ সৃষ্টি করবে। যার প্রভাব ব্রাসেলসেও পড়তে পারে। তবে অভিবাসীদের মধ্যে তাদের উত্থান নিয়ে এখনও আতঙ্ক রয়ে গেছে। আর নর্ডিক অঞ্চলের বাম ও গ্রিনদের সংগঠন এনজিএল ৪১ আসন পেয়েছে।
ইউরোপের নির্বাচন নিয়ে জার্মানীর ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে ইউরোপিয়ান স্টাডিজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী সাগর আনোয়ার জানান, এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক হচ্ছে গ্রিন পার্টি। ২০০৪ সালে ইতালিতে জন্ম নেয়া এই পার্টি এখন জার্মানিসহ পুরো ইউরোপের তরুণ প্রজন্মের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এছাড়া ইউরোপে আরব দেশগুলো থেকে আসা উদ্বাস্তু ও অভিবাসী বিরোধী এবং জাতীয়তাবাদী দলগুলোর চরম উত্থানের যে আশঙ্কা ছিল তা তেমনভাবে ঘটেনি। এটা কিছুটা হলেও আশ্বস্ত করেছে অভিবাসীদের। তবে, মেইনস্ট্রিম পার্টিগুলোর আসন কমাতে ইউরোপের নতুন শক্তির উত্থানকে জানান দিচ্ছে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টে মোট আসন ৭৫১টি। আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের তিনটি প্রধান ইনস্টিটিউটের মধ্যে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট অন্যতম। এ ছাড়া বাকি দু’টি হলো ইউরোপীয় কমিশন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিল। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট বা পার্লামেন্টের সদস্যরা মূলত জোটভুক্ত দেশগুলোর জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট জোটের বিভিন্ন বিষয়ে আইনপ্রণেতা হিসেবে কাজ করে। জোটের বাজেটের ক্ষেত্রেও ইইউ পার্লামেন্টে সম্মতির প্রয়োজন হয়। ইউরোপীয় কমিশন জোটের প্রশাসনিক বিষয়াদি এবং ইউরোপীয় কাউন্সিল সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সরকারগুলোর প্রতিনিধি–সংবলিত কমিটি। ইইউ পার্লামেন্টের সদস্যরাই তাদের পছন্দমতো ভোট দিয়ে পাঁচ বছরের জন্য ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেন।

‘প্রস্তুতি ম্যাচেও ভারতকে ছাড় নয়’ by ইশতিয়াক পারভেজ

ওয়েলসে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় বাংলাদেশ দল অনুশীলন শুরু করে কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেন স্টেডিয়ামে।  দুপুর ১টায় শেষ হয় অনুশীলন। এরই পরই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল টাইগারদের পেস অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের। বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫টায় তার আসার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হন সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে। কারণ তখন দীর্ঘ টিম মিটিং চলছিল। এমন লম্বা মিটিংই বলে দিচ্ছে ভারতের বিপক্ষে প্রস্ততি ম্যাচ হলেও তা কতটা গুরুত্বপূর্র্ণ। বিকাল ৩টার দিকে অনুশীলনে উপস্থিত হয় ভারত দলও। আজ দুই দল এই স্টেডিয়ামেই মুখোমুখি হবে। তবে তাদের অনুশীলনে স্পষ্ট জয়-পরাজয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এখন বাংলাদেশ-ভারত মুখোমুখি হওয়া মানেই অন্যরকম উত্তাপ। এই ম্যাচকে নিয়ে টাইগারদের অবস্থানও পরিষ্কার। জয় ছাড়া ভাবনা নেই তাদের। সাইফউদ্দিন বলেন, ‘আপনরা জানেন যে, আমাদের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়েছে। যে কারণে এই ম্যাচটা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের জন্য সুযোগ নিজেদের ঝালিয়ে নেয়ার। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো ভারতের বিপক্ষে মূল পর্বেও আমাদের একটি ম্যাচ আছে। যে কারণে এই ম্যাচে ভালো করতে হবে। হোক প্রস্ততি ম্যাচ, জয়ের কোনো বিকল্প নেই। তাই জয় দিয়ে ম্যাচ শেষ করতে চাই। আমাদের জন্য এখন থেকে প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ।’
ইংল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশ দল ভারতের জন্য কঠিন প্রতিপক্ষই। যদিও সেখানে ইংলিশদেরও কঠিন চ্যালেঞ্জে ফেলে দেয় বিরাট কোহলির দল। ভারতের এপিবি নিউজের সংবাদকর্মী কুন্তল চক্রবর্তী দৈনিক মানবজমিনকে বলেন, প্রস্তুতি ম্যাচ হলেও ভারত তা অবশ্যই হালকা ভাবে নেবে না। তাদের প্রতিটি ক্রিকেটারই বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে চাইবে। তিনি বলেন, ‘দেখেন বাংলাদেশ এখন যে ফর্মে আছে তাতে প্রস্তুতি ম্যাচেও তাদের হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই। আমার মনে হয় ভারতের সব ক্রিকেটারই চাইবে নিজেদের এই ম্যাচে ঝালিয়ে নিতে। এবার বিশ্বকাপে  যে কটা দল আছে তাদের মধ্যে আমি বাংলাদেশকে তিন চারেই রাখবো। একটা সময় পাকিস্তান-ভারত যে উত্তেজনা ছিল এখন তার অনেকটাই ভাগ বসিয়েছে বাংলাদেশ দল। টাইগাররা নিয়মিতভাবেই দারুণ করে আসছে। বিশেষ করে আয়ারল্যান্ডে যেভাবে তারা ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলেছে তাতে এখন তারা ভীষণ আত্মবিশ্বাসী।’
ইংলিশ কন্ডিশনে পেসারদের দায়িত্বটা থাকবে সবচেয়ে বেশি। তরুণ  পেসার সাউফউদ্দিনের উপর আস্থা রাখছে দল। কারণ ডেথ ওভারে এখন পর্যন্ত তিনি দারুণ বোলিং করেছেন। নিজের কাজ নিয়ে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই দল থেকে আমাকে যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তা আমি শতভাগ পালন করার চেষ্টা করছি। আমি চেষ্টা করছি আমার ব্যাটিংটারও উন্নতি করতে। বিশেষ করে এই উইকেটে আমার মনে হয় বোলিং যতটা কঠিন তার চেয়ে সহজ হবে ব্যাটিংটা। তাই কোচ নিল ম্যাকেঞ্জির সঙ্গে পরামর্শ করে ব্যাটিং নিয়ে কাজ করছি।’
২০১৫ বিশ্বকাপের পর ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতে নেয় টাইগাররা। কিন্তু  ওয়ানডে ক্রিকেটের বড় কোনো আসরে দলটির বিপক্ষে জয় যেন  সোনার হরিণ। সেটি বিশ্বকাপ হোক আর এশিয়া কাপ। ২০১৫ বিশ্বকাপ, ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও সবশেষ দুবাইয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের কাছে হেরে যায় টাইগাররা। ভারতের বিপক্ষে এই হার হয়তো বাংলাদেশ দলকে মানসিক চাপে রেখেছে। তবে সাইফুদ্দিন মনে করেন এবার সুযোগ সেই শিকল ভাঙার। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা শেষ ম্যাচগুলো খেলেছি তা ছিল খুব কাছে গিয়ে হার। যদিও আমি সেই ম্যাচগুলোতে খেলিনি। এবারই ভারতের বিপক্ষে আমার প্রথম ম্যাচ। আমি খুব মুখিয়ে আছি ভালো কিছু করার জন্য। হ্যা, আমরা আগের হার ভুলে নতুনভাবে শুরু করতে চাই। আশা করি এ ম্যাচেই তা পারবো।’ 
প্রস্ততি ম্যাচ বলে আজ টাইগারদের সব ক্রিকেটারেরই সুযোগ আছে মাঠে নেমে নিজেদের ঝালিয়ে নেয়ার। বিশেষ করে এই ম্যাচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাব্বির রহমানের জন্য। অন্যদিকে এই ম্যাচেও বিশ্রামে থাকতে পারেন সাকিব আল হাসান। ত্রিদেশীয় সিরিজে পিঠের টান লেগে ফাইনালে মাঠে নামতে পারেননি তিনি। এরপর থেকেই তিনি বিশ্রামে আছেন।

ছোট নৌকায় দ্বিগুণ যাত্রী তুলে ভাসিয়ে দেয় সাগরে -বিলালের মুখে বর্ণনা by ওয়েছ খছরু

‘আমরা নৌকায় উঠতে চাইনি। ছোট ছোট নৌকা। ধারণ ক্ষমতা ৪০ থেকে ৪২ জন যাত্রী। দালালরা আমাদের ধরে-ধরে ছোট নৌকায় ঢিল ছুড়ে ফেলে দেয়। এরপর ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ যাত্রী তুলে নৌকা সাগরে ভাসিয়ে দেয়। ১০ মিনিটের মধ্যেই ডুবে যায় নৌকা। এরপরও আমরা হাতে হাত ধরে প্রায় ৮ ঘণ্টা সাগরে ভেসেছিলাম। এর মধ্যে একেকজন করে মারা যায়। এবং যারা মারা যায় তারা হাতে থাকা বহর থেকে ছুটে যায়। তলিয়ে যায় সাগরের জলে।’- ভূমধ্যসাগর ট্র্যাজেডি থেকে বেঁচে ফেরা সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের বিলাল আহমদ ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন। পুরো ঘটনার বর্ণনা জানাতে গিয়ে কখনো-কখনো কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বলেন- ‘প্রাণ নিয়ে দেশে ফিরবো, স্বপ্নেও ভাবিনি। শেষ মুহূর্ত লড়াই করে বেঁচে গেছি।’ সাগর ট্র্যাজেডিতে প্রাণ হারিয়েছে বিলাল আহমদের তিন স্বজন। এর মধ্যে রয়েছেন, ভাজিতা লিটন শিকদার ও আজিজ আহমদ এবং ভাগিনা আহমদ হোসেন। এই তিনজন ছিলেন বিলালের সঙ্গে। সাগরে সাঁতার কাটতে কাটতে এক সময় তারা ক্লান্ত হয়ে পড়েন। হাত ধরা থাকা অবস্থায়ই ক্লান্ত ও সাগরের ঠাণ্ডা জলে তাদের দেহ নিথর হয়ে পড়ে।
এরপর তারা তলিয়ে যায় সাগরের গভীর জলে। একই পরিবারের চারজন এক সঙ্গে ইতালি যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হলেও গতকাল দুপুরের দিকে কেবল মাত্র চাচা বিলাল আহমদ বাড়িতে এসে পৌঁছেন। আর অন্যরা সাগর জলে নিখোঁজ হয়ে যায়। ফেঞ্চুগঞ্জের মুহিদপুর গ্রামে বিলালের বাড়ি। গতকাল সকালে তিনি বাড়ি পৌঁছার পর কান্নার রোল পড়ে। স্বজনরা তাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদেন। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন বিলাল আহমদও। জানালেন- ওদের বাঁচাতে পারলাম না। চোখের সামনেই সাগরের জলে হারিয়ে গেল তিনজন। বাড়ি ফিরে একটু স্বস্তি পাওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিলাল আহমদ। জানালেন লোমহর্ষক সেই সাগরের কাহিনী। প্রথমেই জানান- সাগর পথে তাদের ইতালি যাওয়ার কথা ছিল না। আদম ব্যবসায়ীরা তাদের আকাশ পথে ফ্লাইটে ইতালি যাওয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু ভারত যাওয়ার পর পরই তারা পরাধীন হয়ে যান। দালালরা যা বলেছে তাই তাদের পালন করতে হয়েছে। সিলেটের রাজা ম্যানশনের ইয়াহিয়া ওভারসিজ থেকে তারা ইতালি যাওয়ার কন্ট্রাক্ট করেন। ডিসেম্বরে তাদের সিলেট থেকে ভারতের কলকাতা নিয়ে যায় দালালরা। সেখানে তাদের একটি হোটেলে রাখে। সেখান থেকে দিল্লি, মুম্বই নিয়ে যায়।
এরপর নিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। ওখানে নিয়ে যাওয়ার পর তারা দালালদের হেফাজতে বন্দি রাখে। বাড়ির সঙ্গেও ভালো ভাবে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। শ্রীলঙ্কা থেকে তাদের ফ্লাইট দেয় তিউনিশিয়া। সেখান থেকে নিয়ে আসেন লিবিয়া। তিউনিশিয়া থেকে লিবিয়া যাওয়ার সময় তারা দালালদের বলেছিলেন- ‘তারা লিবিয়া যাবেন না। ইতালি নিয়ে যাও।’ কিন্তু দালালরা কথা শুনেনি। দালালরা বলেছিল- লিবিয়া থেকে তাদের ফ্লাইটে করে ইতালি পাঠাবে। বহরে অনেক বাংলাদেশি ছিল। লিবিয়া নেয়ার পর তাদের ওপর চলে নির্যাতনের স্টিম রোলার। দালালরা তাদের একটি ঘরে বন্দি করে রাখে। সেখানে তারা ৮২ জনকে মাত্র ১২ কেজি চাল দিতো খাওয়ার জন্য। তাও সপ্তাহে চার দিন তারা এক মুঠো করে ভাত খেতে পারতেন। আর বাকি দুইদিন তারা উপোষ থেকেছেন। এভাবে তাদের প্রায় ৪ মাস লিবিয়ার একটি ঘরে বন্দি করে রাখা হয়। ওখানে থাকার সময় তাদের মারধর করা হতো। দালালদের কোনো কিছুর প্রতিবাদ করলেই ধরে নিয়ে মারধর করতো। ফ্লাইটে ইতালি পাঠানোর জন্য দালালরা তাদের বাড়ি থেকে আরো টাকা নেয়ায়। কিন্তু তারা ফ্লাইট দেয়নি। চলতি মাসের ৭ তারিখ ৮ জন লিবিয়ান দালাল আসে। তাদের হাতে ছিল লাঠি।
ওই ঘর থেকে সবাইকে নিয়ে একটি মরু এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানেও দুইদিন তাদের না খাইয়ে রাখে। রমজানের মধ্যে তারা না খেয়েই রোজা রাখেন। চাইলে মাঝে মধ্যে পানি দিতো। দুই দিন মরুভূমিতে রাখার পর দালালরা রাতে এসে সবাইকে এক সঙ্গে রাখে। এবং বলে তাদের সঙ্গে দৌড়াতে হবে। না দৌড়ালে তারা হাতের লাঠি ও চাবুক দিয়ে মারধর করে। যে ৮ জন দালাল ছিল তারা সবাই লিবিয়ান। কারো কথা শুনতো না তারা। দৌড়াতে গিয়ে কেউ ক্লান্ত হয়ে পড়লে তারা তাকে মারধর করতো। ওই সময় দালালরা জানান- তাদের শিপে করে ইতালি পাঠাবে। সেই অনুপাতে রাতে লিবিয়া উপকূলে একটি নৌকায় তাদের তুলে। এভাবে তিনটি নৌকায় মোট ১৫০ জন যাত্রী তুলে। এবং নৌকা সাগর পথে রওয়ানা শুরু করে। বিলাল জানান- সম্ভব আবারো তিউনিশিয়া উপকূলে নিয়ে তাদের একটি বড় ট্রলারে তুলে। ওই ট্রলারে আরো কয়েক ঘণ্টা চলার পর দুটি নৌকা আনে তারা। একেকটি নৌকার ধারণ ক্ষমতা ৪০-৪২ জন যাত্রীর। কিন্তু একেকটি নৌকায় তোলা হয় ৮২ জন করে। নৌকা দেখেই আমরা ভড়কে যাই। অথৈ সাগরে ওই নৌকায় কেউ উঠতে চাচ্ছিল না।
কিন্তু দালালরা নাছোড়বান্দা। নৌকায় উঠতে হবে। এ সময় তারা কয়েকজনকে ধাক্কা দিয়ে বড় ট্রলার থেকে নৌকায় ফেলে দেয়। আর কয়েকজনকে হাত দিয়ে ধরে ঢিল ছুড়ে ওই নৌকায় ফেলে দেয়। এরপর দালালরা অপর একটি ছোট নৌকা নিয়ে চলে আসে। আর বড় ট্রলারটিও দালালদের পথ অনুসরণ করে চলে যায়। নৌকায় ধারণ ক্ষমতার বেশি সংখ্যক যাত্রী উঠে যাওয়ায় কানায় কানায় পানি এসে যায়। ঢেউয়ের তালে তালে নৌকায়ও পানি ঢুকে। এই অবস্থায় সবাই ভয় পেয়ে যায়। দালালরা চলে যাওয়ার ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মাথায় সাগরের বুকে ডুবে যায় নৌকা। এ সময় ‘বাঁচাও-বাঁচাও’ বলে চিৎকার করলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। সাগরের পানি ছিলো বরফের মতো। প্রচণ্ড ঠাণ্ডা। এরপরও বাঁচার তাগিদে সবাই সাঁতার কাটে। বিলাল জানান- আমরা বাঙালি সবাই একে অপরের হাত ধরে সাঁতার কাটি। সাগরের বুকে সাঁতার কাটছি। কোথাও কোনো কূল কিনারা নেই। এই অবস্থায় সবাই প্রায় বাঁচার আশা ছেড়ে দিয়েছি। প্রায় ৮ ঘণ্টা সাঁতার কাটার সময় ৮২ জনের মধ্যে প্রায় ২৫ থেকে ২৬ জন বেঁচে আছি। আর সবাই মারা যায়। সাঁতার কাটতে কাটতে ক্লান্ত হয়ে তারা সাগরের জলেই হারিয়ে যায়। চোখের সামনে স্বজনরা মারা যাওয়ার দৃশ্য দেখেছি। তারা মারা যায়। হারিয়ে যায়। কিছুই করার ছিল না। নিজেও বেঁচে থাকবো সেটি কল্পনা করতে পারেনি।
এদিকে- প্রায় ৯ ঘণ্টা সাঁতার কাটার পর তিউনিশিয়ার একটি জেলের নৌকা দেখতে পায় তারা। ‘হেল্প-হেল্প’ বলে চিৎকার করার পর ওই নৌকা তাদের কাছে আসে। এসে তাদের দেখে আবার বিপরীত দিকে চলা শুরু করে। তাদের দেখেও না দেখার ভান করে জেলেরা। কিছু দূর যাওয়ার পর তারা আবার ফিরে আসে। এসে তিউনেশিয়ার জেলেরা তাদের মোট ১৭ জনকে নৌকায় তুলে। এর মধ্যে ১৪ জনই হচ্ছে বাংলাদেশের। বাকিরা ছিল মরক্কো ও অপর আরেকটি দেশের। নৌকার ওঠার পর তাদের আরো একজনের মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে রেড ক্রিসেন্ট তাদের ১৬ জনকে উদ্ধার করে। বিলাল জানান- ইতালি যাওয়ার জন্য তাদের এভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া হবে সেটি দালালরা আগে বলেনি। বলেছিল- ফ্লাইটে ইতালি পাঠাবে। আর নেয়ার পর ‘গেইম’ বলে তাদের সাগরে ভাসিয়ে দেয়। এটা মর্মান্তিক, অমানবিক ও হৃদয়বিদারক বলে দাবি করেন বিলাল আহমদ। এজন্য তিনি দায়ী ট্রাভেলস মালিক ও দালালদের শাস্তি দাবি করেন।

খালেদার রিটের শুনানি আজ

বিএনপির চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা মামলার বিচারের জন্য কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতর আদালত স্থানান্তর সংক্রান্ত সরকারের জারি করা  প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জের রিট শুনানি আজ (মঙ্গলবার) দিন ধার্য করেছেন। একই সঙ্গে ওই রিটে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) পক্ষভুক্ত করার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। গতকাল বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে খালেদার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন, সিনিয়র আইনজীবী মওদুদ আহমদ, এ জে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও দুদকের পক্ষে ছিলেন মো. খুরশিদ আলম খান।
আদালতে দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বলেন, কেরানীগঞ্জ কারাগারের আদালতে বিচারাধীন মামলাটি দুর্নীতির হলেও দুদককে পক্ষভুক্ত করা হয়নি। এই মামলাটি তো দুদকের দায়ের করা মামলা। এ সময় খালেদার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, আমরা তো মামলা চ্যালেঞ্জ করিনি, কারাগারের ভেতরে আদালত স্থানান্তরের জন্য রিট আবেদন করেছি। তখন আদালত বলেন, আপনারা (খালেদার আইনজীবী) দুদককে পক্ষভুক্ত করে আসুন। আজ (সোমবার) যেহেতু অনেক মামলার শুনানি আছে, তাই বিষয়টি শুনানির জন্য আগামীকালকের(মঙ্গলবার) কজলিস্টে শীর্ষে থাকবে। পরে আইনজীবী কায়সার কামাল সাংবাদিকদেরকে বলেন, আজ আমরা রিটের শুনানির জন্য আদালতে যাই। যাওয়ার পরে জানতে পারি, দুদকের আইনজীবী এই রিটে পক্ষভুক্ত হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। আদালত তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুদককে পক্ষভুক্ত করার জন্য বলেন হাইকোর্ট। এই আইনজীবী আরো বলেন, খালেদা জিয়া একজন পাবলিক ফিগার। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর যে কোনো ট্রায়াল পাবলিকলি হওয়া উচিৎ। কেরানীগঞ্জের কারাগারের একটি রুমে কখনও পাবলিক ট্রায়াল হতে পারে না। তাছাড়া আইনে আছে, মামলাটার বিচার মেট্রোপলিটন এলাকার মধ্যে হতে হবে। কিন্তু কেরানীগঞ্জের কারাগার ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে। এছাড়া, সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যে কোনো বিচার হতে হবে উন্মুক্তভাবে। কারাগারের একটি কক্ষে উন্মুক্তভাবে বিচার হতে পারে না। ফলে এই প্রজ্ঞাপন সংবিধানবিরোধী। তিনি বলেন, কোথায় কোথায় কারাগার স্থানান্তরিত হতে পারে তা ফৌজদারী কার্যবিধি আইনে দেয়া আছে। ফৌজদারী কার্যবিধি আইনে কোথাও উল্লেখ নেই যে, কারাগারের মধ্যে আদালত স্থাপন হতে পারে। সংবিধান ও ফৌজদারী আইনের বিরুদ্ধে সরকার অবস্থান নিয়েছে।  কায়সার কামাল জানান,  সংবিধানের ২৭ ও ৩১ অনুচ্ছেদবহির্ভূত পদক্ষেপ হওয়ায় এবং প্রচলিত ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ৯ এর (১) ও (২) উপধারাবিরোধী।
এর আগে ২১শে মে বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়ার বিচারে কেরানীগঞ্জের  কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে আদালত স্থানান্তর করা ১২ই মে’র প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছিলেন খালেদা জিয়ার এই আইনজীবী। নোটিশটি তিনি ডাক, রেজিস্ট্রি, ই-মেইল ও ফ্যাক্সযোগে খালেদা জিয়ার পক্ষে আইন সচিবকে পাঠান। একইসঙ্গে ওই প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার করতে আইন মন্ত্রণালয় সচিবকে ২৪ ঘণ্টা সময় দেন তিনি। অন্যথায়, নোটিশের জবাব না পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা জানান। রিট আবেদনে, নাইকো দুর্নীতি মামলায় বিচারে পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বিশেষ জজ আদালত-৯ কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগারের দুই নং ভবনে স্থানান্তরের জন্য গত ১২ই মে জারি করা গেজেটকে কেন অবৈধ এবং বেআইনি ঘোষণা করা হবে না- এই মর্মে রুল চাওয়া হয়েছে । রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই গেজেটের কার্যকারিতা স্থগিত চাওয়া হয়েছে আবেদনে। স্বরাষ্ট্র সচিব ও আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে বিবাদি করা হয়েছে।
রিটে যা বলা হয়েছে
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিচার সম্পন্ন করতে কেরানীগঞ্জ কারাগারে আদালত স্থাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট দায়ের করেছেন তার আইনজীবীরা। সেখানে কেরানীগঞ্জে অবস্থিত কারাগার থেকে আদালত সরিয়ে পাবলিক ট্রায়ালের আবেদন জানিয়েছেন। রীটে পাবলিক ট্রায়ালের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে এর উদ্ভব, বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক আইনে পাবলিক ট্রায়ালের গুরুত্ব সম্পর্কে নানা তথ্য উপস্থাপন করা হয়। বলা হয়, জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী সবাই সমতার ভিত্তিতে একটি স্বাধীন ট্রাইব্যুনালে পাবলিক ট্রায়াল পাওয়ার অধিকার রাখেন। এতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক ধারা অনুযায়ী সকলেরই নিরপেক্ষ ট্রায়াল চাওয়ার অধিকার আছে এবং নিরপেক্ষ ট্রায়ালের জন্য পাবলিক ট্রায়াল গুরুত্বপূর্ণ। আর নিরপেক্ষ ট্রায়ালের জন্য একটি মুক্ত আদালত গঠন করা জরুরি। বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায়ও উল্লেখ আছে এই পাবলিক ট্রায়ালের কথা। রিটে বলা হয়, ফৌজদারী কার্যবিধির ৯(১) এ বলা আছে- মেট্রোপলিটন এলাকায় স্থাপিত আদালতকে বলা হয় মেট্রোপলিটন কোর্ট। কিন্তু কেরানীগঞ্জ ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার অন্তর্ভুক্ত নয়। তাই সেখানে এই বিশেষ আদালত স্থাপনের যে সিদ্ধান্তটি নেয়া হয়েছে সেটা আইনগতভাবে অবৈধ। এটাকে বেআইনী ঘোষণা করতে হবে। ফৌজদারী কার্যবিধির ৯ (১)এ আরও বলা হয়েছে, যে মামলা ইতিমধ্যে একটি আদালতে বিচারাধিন আছে অন্য কোন আদালতে তার শুনানী হতে পারে না।

অভাব নিয়ে পারিবারিক কলহ: দুই সন্তানকে হত্যা করে মায়ের আত্মহত্যা

যশোরের শার্শায় ঈদের নতুন পোশাক না কিনে দিতে পেরে দুই শিশুসন্তানকে বিষ খাইয়ে হত্যার পর মা আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের দীঘা চালিতাবাড়িয়া গ্রাম থেকে লাশ ৩টি উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। নিহতরা হলো- উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের দীঘা চালিতাবাড়িয়া গ্রামের ইব্রাহিমের স্ত্রী হামিদা খাতুন (৩৫), মেয়ে শারিফা খাতুন (১২) ও ছেলে সোহান সেন (৫)। এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্র জানায়, দরিদ্রতার নির্মম কশাঘাতে জর্জরিত ইব্রাহিমের পরিবারে নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা থাকে প্রায় সারাবছর। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝামেলা লেগেই থাকতো। আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরে সন্তানদের নতুন পোশাক কিনে দেয়া নিয়ে গতকাল রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাদের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়। এর একপর্যায়ে স্ত্রী হামিদা খাতুন নিজে তার শিশুকন্যা শরিফা ও শিশুপুত্র সোহানকে বিষের ট্যাবলেট খাইয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে নিজেও একই ধরনের ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেন। পুলিশ ধারণা করছে, পারিবারিক কলহের জের ধরে নির্যাতনের পর রোববার রাতে ওই মা তার দুই সন্তানকে বিষ খাইয়ে নিজেও আত্মহত্যা করেন। এর আগে দিনভর কলহ হয় ওই পরিবারে। এদিকে গৃহবধূ ও তার দুই শিশু সন্তানের লাশ উদ্ধারের পর গৃহবধূর শ্বশুর ও শাশুড়িসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। বাগআঁচড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক (তদন্ত) সুখদেব রায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নুর মোহাম্মদ বলেন, ইব্রাহিম ইউনিয়ন পরিষদ অফিসের কাছে চায়ের দোকান দিয়ে সংসার চালাতেন। দোকানের পাশেই ঘর তুলে সপরিবারে বসবাস করতেন।
পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক সুখদেব বলেন, রাতে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পারিবারিক কলহকে আত্মহত্যার কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইব্রাহিমের বাবা আরাফাত হোসেন (৬০), মা মরিয়ম বেগম (৪৫) ও প্রতিবেশী ছিদ্দিক হোসেনকে আটক করা হয়েছে।

প্রতারকচক্রের মূলহোতা তানিয়া গ্রেফতার

প্রতারকচক্রের মূলহোতা তানিয়া
ফাঁদে ফেলে অভিনব কায়দায় প্রতারণা করে সম্পদ হাতিয়ে নেওয়া একটি চক্রের মূলহোতা তানিয়াসহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রবিবার (২৬ মে)  ডিবি উত্তরের গুলশান জোনাল টিম উত্তরা ৭নং সেক্টরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। এ সময় তানিয়ার ব্যাগ থেকে প্রায় ৬ ভরি ওজনের বিভিন্ন স্বর্ণালংকার এবং দেড় লাখ টাকা ও প্রতারণায় ব্যবহৃত প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়।
বাকিরা হলো− গাড়িচালক কালাম, সহযোগী আসিফ, দুলারী ওরফে আফসানা। একই সময়ে উত্তরার একটি শপিংমলের স্বর্ণের দোকানের কর্মচারী রায়হানকে চোরাই স্বর্ণ ক্রয়ের অপরাধে গ্রেফতার করা হয়।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অভিজাত এলাকায় বিভিন্ন পার্টি সেন্টারে অভিনব কায়দায় বিত্তশালীদের সঙ্গে পরিচিত হয়ে তাদের বাসা পর্যন্ত যাওয়ার ব্যবস্থা করতো তানিয়া। এরপর সুযোগ বুঝে চুরি করে সরে পড়তো।
সম্প্রতি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার দুটি বাসায় স্বর্ণালংকার এবং নগদ অর্থ চুরির ঘটনায় করা মামলা নিয়ে কাজ শুরু করেন গোয়েন্দারা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুটি বাসায় ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে এই চুরি করেছে তানিয়া ও তার সহযোগীরা। প্রথম বাসার বাড়িওয়ালার ছেলের বন্ধুর মাধ্যমে আগে একবার ওই বাসায় গিয়েছিল তানিয়া। এরপর সময় সুযোগ বুঝে কৌশলে বাসায় প্রবেশ করে। দ্বিতীয় বাসায়ও ঢোকার সময় তানিয়া আশ্রয় নেয় ভিন্ন আরেক কৌশলের। সাধারণত চুরি করতে যাওয়ার সময় তানিয়া উবার ড্রাইভার কালাম, আরেক সহযোগী গাড়িচালক (আসিফ) ও আফসানাকে সঙ্গে রাখতো।
উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালংকার

৪৩ বছর ধরে প্রতারণা করে ‘ধনকুবের’, এই প্রথম আটক

কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকার বাসিন্দা বারেক সরকার ওরফে বারেক হাজী (৬৩)। লেখাপড়ায় প্রাথমিকের গণ্ডি পেরুতে না পারায় ১৮ বছর বয়সে তাকে সৌদি আরব পাঠিয়ে দেন বাবা-মা। তবে সেখানে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পারলেও মানুষ ঠকানোর নানা কৌশল রপ্ত করে। দুই বছর পর দেশে ফিরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেয় প্রতারণার জাল। দীর্ঘ ৪৩ বছর ধরে প্রতারণার মাধ্যমে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় এই প্রতারক। প্রচণ্ড কৌশলী হওয়ায় এত দীর্ঘ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেফতার এড়িয়ে গেছে বারেক।
রবিবার (২৬ মে) দুপুরে রাজধানীর কাওরানবাজারের র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র‌্যাব-৪-এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির।
শনিবার (২৫ মে) দিনগত রাতে রাজধানীর দারুসসালাম এলাকা থেকে প্রতারক চক্রের হোতা বারেকসহ ৫ জনকে আটক করেন র‌্যাব-৪-এর সদস্যরা। এ সময় বারেকের কাছ থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল, ১টি ম্যাগাজিন ও ২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। আটক অন্য ব্যক্তিরা হলো হাবিবুর রহমান (২৪), জাকির হোসেন (৫৮), আক্তারুজ্জামান (২৮) ও শাহরিয়ার তাসিম (১৯)।
র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির বলেন, গত ২ মার্চ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে এই চক্রের ২২ সদস্যকে আটক করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের হোতা বারেকসহ ৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘৪৩ বছরে নিরবিচ্ছিন্নভাবে প্রতারণার মাধ্যম অন্তত শত কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেছে বারেক। ঢাকা শহরে নিজের নামে ফ্ল্যাট, গাড়ি এবং গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায় জমি-জমাসহ অঢেল সম্পত্তির মালিক হয়েছে সে। সব কিছুই করেছে সে প্রতারণার মাধ্যমে।’
র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘রয়্যাল চিটার ডেভেলপমেন্ট (আরসিডি) নামে একটি প্রতারণা কোম্পানি খোলে বারেক। এই নামে অফিস নেওয়াসহ সব কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও কোম্পানির প্রকৃত নাম সবার অজানা ছিল। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরসিডির ছোট ছোট গ্রুপ রয়েছে। যারা সুসজ্জিত অফিস ভাড়া করে বিত্তবানদের ফাঁদে ফেলে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়।’
র‌্যাব-৪-এর অধিনায়ক বলেন, ‘এই চক্রটি অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অবসরের আগে থেকেই টার্গেট করে। এরপর তাদের কোম্পানিতে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে অফিসে নিয়ে আসে এবং প্রতিষ্ঠানের শেয়ার হোল্ডার হওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করে। অফিস কর্মকর্তাদের চালচলনে অভিভূত হয়ে টার্গেট করা ব্যক্তিরা অবসরকালীন প্রাপ্ত পেনশনের টাকা বিনিয়োগ করতেন। এর কয়েকদিন পরেই অফিসসহ উধাও হয়ে যেতো অফিসের কর্মকর্তারা।’
তিনি বলেন, ‘এছাড়া, দেশের বিভিন্ন এলাকার তাঁত ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীদের কয়েক কোটি টাকার অর্ডারের ফাঁদে ফেলে ৪০-৫০ হাজার টাকার স্যাম্পল নিতো। কয়েক কোটি টাকার মালামাল তৈরিতে যে পরিমাণ কাঁচামাল প্রয়োজন (সুতা, রং ইত্যাদি) তা সরবরাহের কথা বলে অগ্রিম হিসেবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে প্রতারণা করে আসছিল চক্রটি।’
অতিরিক্ত ডিআইজি চৌধুরী মঞ্জুরুল বলেন, ‘অপরদিকে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ব্যক্তিদের জমি বা নির্মাণাধীন ভবনের ওপর ইন্টারনেট টাওয়ার স্থাপনের প্রলোভন দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতেন। কখনও বিভিন্ন এলাকায় আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ব্যক্তিদের বাসায় এবং তার এলাকার মাদ্রাসা, মসজিদে এনজিও’র পক্ষ থেকে বিনা খরচে সৌর প্যানেল বসানোর কথা বলে মোটা টাকা হাতিয়ে নিতো। এছাড়া ইটপাথর, রড-সিমেন্ট, গার্মেন্টস, চাল, থাই অ্যালুমিনিয়াম, সোলার প্যানেল ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার লোকদের টার্গেট করে তাদের বিপুল পরিমাণ অর্থের অর্ডারের ফাঁদে ফেলতো। অর্ডারের ভুয়া চুক্তিপত্র করে অগ্রিম টাকা নিয়ে প্রতারণা করে আসছিল চক্রটি।’
আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।

দেশে প্রতি ২ ঘণ্টায় একজন মায়ের মৃত্যু হচ্ছে

বাংলাদেশে প্রতিবছর ৫ হাজার ৪৭৫ জন মা গর্ভজনিত মৃত্যুবরণ করছেন। প্রতিদিন মারা যাচ্ছেন ১৪ থেকে ১৫ জন মা। আর প্রতি দু’ঘণ্টায় মারা যান একজন। বেশির ভাগ গর্ভজনিত মৃত্যুই বাড়িতে হয়। ডেলিভারির ক্ষেত্রে ৫৪ শতাংশ মা বাড়িতে মারা যান। আর রক্তক্ষরণের কারণে মারা যান ৩১ শতাংশ। ২৬ মে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) ভবনে আয়োজিত ‘নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস-২০১৯’ উপলক্ষে মিডিয়া ওরিন্টেশন সভায় স্ত্রীরোগ ও ধাত্রীবিদ্যা বিশেষজ্ঞরা এসব তথ্য জানান। অবসটেট্রিক্যাল এন্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ওজিএসবি) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ২৮শে মে নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস। এবারের দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে-‘মর্যাদা ও অধিকার, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রসূতি সেবার অঙ্গীকার।’  অনুষ্ঠানে ওজিএসবি’র সভাপতি অধ্যাপক ডা. সামিনা চৌধুরী তার মূল প্রবন্ধে বলেন, মাতৃমৃত্যুর প্রধান কারণ দু’টি। একটি হলো রক্তক্ষরণ। এ কারণে মারা যান ৩১ শতাংশ মা। আরেকটি হলো একলামশিয়া (খিচুনি)। এই হার ২৪ শতাংশ। মাতৃমৃত্যুর এই দু’টি কারণ সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধযোগ্য। উল্লেখযোগ্যভাবে গর্ভপাতের কারণে মাতৃমৃত্যুর হার আগের তুলনায় অনেক হারে বেড়েছে। মাতৃমৃত্যুর পরোক্ষ কারণ যেমন উচ্চরক্তচাপ ডায়াবেটিস নারী সহিংসতা এসবের কারণে আগের তুলনায় মাতৃমৃত্যুর হার বৃদ্ধি পেয়েছে। গর্ভপাতে ৭ শতাংশ, প্রত্যক্ষ ৭ শতাংশ এবং পরোক্ষ ২০ শতাংশ মায়ের মৃত্যুবরণ করছেন। মাতৃমৃত্যুর স্থান চিহ্নিত করে ওজিএসবি’র সভাপতি বলেন, ৫৪ শতাংশ মায়ের মৃত্যু হচ্ছে বাড়িতে। মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও প্রাইভেট ক্লিনিকে ১৪ শতাংশ মায়ের মৃত্যু হচ্ছে। স্ত্রীরোগ ও ধাত্রীবিদ্যা এই বিশেষজ্ঞ আরও জানান, প্রসব পরবর্তী সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সকল মাতৃমৃত্যুর ৫৫ ভাগ মৃত্যুই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংঘটিত হয়। দেশে বর্তমানে প্রতি লাখ জীবিত জন্মে ১৭২ জন মৃত্যুবরণ করে (এসভিআরএস ২০১৭)। জাতিসংঘের অনুমান অনুযায়ী ২০১৫ সালে এমএমআর প্রতি লাখে জীবিত জন্মে ১৭৬ জন। স্ত্রীরোগ ও ধাত্রীবিদ্যা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এটা সম্ভব হয়েছে মূলত নিম্নমুখী প্রজনন সক্ষমতা, উন্নততর যত্ন গ্রহণের চর্চা এবং উচ্চতর সেবা গ্রহণের উন্নত সুবিধার ফলে। ডা. সামিনা চৌধুরী বলেন, ৩৭ ভাগ মা বর্তমানে কমপক্ষে চারটি প্রসবপূর্ব সেবা গ্রহণ করে। দেশে এখন প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি করানোর হার ৪৭ শতাংশ। প্রসবের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রসব পরবর্তী সেবা গ্রহণে হার ৩২ শতাংশ। গর্ভধারণ এবং প্রসবজনিত জটিলতায় প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার নারীর মৃত্যু হয় এবং ২৬ লাখ মৃতজন্মসহ ৩০ লাখ নবজাতক অকাল মৃত্যুবরণ করে। বিশ্বে প্রতিদিন ৮৩০ জন মা মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বলেন, কোনো দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান এবং আত্ম-সামাজিক অবস্থার প্রতিফলন ঘটে ওই দেশে মাতৃমৃত্যু এবং শিশুমৃত্যুর হারের উপর। ১৯৯৭ সাল থেকে দেশে ২৮শে মে ‘নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস’ পালন করে আসছে ওজিএসবি। সংগঠনটির মহাসচিব অধ্যাপক ডা. সালেহা বেগম চৌধুরী বলেন, স্ত্রীরোগ ও ধাত্রীবিদ্য বিশেষজ্ঞগণের এই সমিতির সদস্য দুই হাজার এবং ১৩টি শাখা রয়েছে। এগুলো গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরে অবস্থিত। ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আমাদের সদস্যরা দেশের মায়েদের সেবা প্রদানে তাদের দক্ষতার প্রমাণ রাখতে সক্ষম হয়েছে। সদস্যদের পরিচালনায় ঢাকার মিরপুর-১ এবং মিরপুর-১৩ নম্বরে দুটি হাসপাতাল অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে সেবা প্রদান করছে। ওজিএসবি প্রতিবছর নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস পালন করে থাকে। সেখানে মায়েদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা, ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অপারেশন করা হয়ে থাকে বলে তিনি উল্লেখ করেন। স্ত্রীরোগ ও ধাত্রীবিদ্যা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সায়বা আক্রার বলেন,  আমাদের সচেতন হতে হবে। তাহলে মাতৃমৃত্যুর হার কমে আসবে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা রয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা. লায়লা আঞ্জুমান বানু, অধ্যাপক ডা. ফেরদৌসী বেগম, অধ্যাপক ডা.ফারহানা দেওয়ান, অধ্যাপক ডা. রওশন আক্তার প্রমুখ।

‘নজরুল স্মৃতিকক্ষ’ খুলছে আবার by মাসুম আলী

দ্রোহ ও প্রেমের কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতির ধারক বাংলা একাডেমির ‘নজরুল স্মৃতিকক্ষ’ অব্যবস্থাপনা আর অযত্নের শিকার। কক্ষের ভেতরে ময়লার স্তূপ। নষ্ট হওয়ার পথে বইপত্র, শিল্পীর আঁকা নজরুলের মুখচ্ছবি। স্মৃতিকক্ষ প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দর্শকের জন্য খোলা থাকার কথা। অথচ সেটিও তালাবদ্ধ থাকে সব সময়। এই অবস্থায় একাডেমি কর্তৃপক্ষ জানাল, শিগগিরই কক্ষটি সংস্কার করে নতুন করে খুলে দেওয়া হবে।
১৯২৬ থেকে ১৯৪০ সালের মধ্যে নজরুল অনেকবার ঢাকায় এসেছেন। নজরুলবিষয়ক বিভিন্ন গবেষণা গ্রন্থে পাওয়া গেছে, বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউসে আছে নজরুলের অনেক দিনের স্মৃতি। মুসলিম সাহিত্য সমাজের দ্বিতীয় বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে ১৯২৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় এসে তিনি প্রায় আড়াই সপ্তাহ ছিলেন। তখন প্রথম দিকে আবুল হোসেনের বাসায় উঠলেও পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বন্ধু কাজী মোতাহার হোসেনের বাসা বর্ধমান হাউসে (১৯৫৫ সাল থেকে বাংলা একাডেমি) ওঠেন। কয়েক মাস পর হঠাৎ করে বন্ধুদের সঙ্গে আবার আসেন। তখন তিনি হাউস বাউন্ডারির মধ্যে অবস্থিত বড় একটি পুকুরে নিয়মিত সাঁতার কাটতেন। অবসর সময় পুকুরঘাটে বসে আড্ডা দিতেন।
বর্ধমান হাউসে কবি কয়েকটি কালজয়ী রচনা লেখেন। বর্ধমান হাউসে কবি নজরুলের সঙ্গে প্রথম পরিচয় হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক এবং কবি বুদ্ধদেব বসুর সঙ্গে। কাজী মোতাহার হোসেন দুজনকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। এখানেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলিম ছাত্রী ফজিলতুন্নেসা নামে এক নারীর সঙ্গে নজরুলের পরিচয় হয়। ফজিলতুন্নেসা ছিলেন প্রথম মুসলিম ছাত্রী, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিতশাস্ত্রে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন কাজী মোতাহার হোসেনের দূর সম্পর্কের বোন। সেই সুবাদে তাঁর বাসায় ফজিলতুন্নেসার আসা-যাওয়া ছিল।
বর্ধমান হাউসে কবির স্মৃতি ধরে রাখার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘নজরুল স্মৃতিকক্ষ’। ১৯৭৮ সালের ২৯ আগস্ট বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকীকে উপলক্ষ করে বাংলা একাডেমি ব্যতিক্রমী এবং ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ওই দিন ছিল বর্ধমান হাউসের দোতলায় পশ্চিম দিকে ‘নজরুল স্মৃতিকক্ষ’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। প্রধান অতিথি করা হয় জাতীয় অধ্যাপক কাজী মোতাহার হোসেনকে। সেদিন অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে কাজী মোতাহার হোসেন দর্শকদের মন্তব্যের খাতায় লিখেছিলেন, ‘আজ ২৯/৮/৭৮ তারিখে নজরুল স্মৃতিকক্ষ উদ্বোধন করা হলো। এটা আমার পক্ষে অতিশয় সুখের দিন; অবশ্য সে আমার নিজের গুণে নয়, নজরুল যে আমার সমসাময়িক কালের বন্ধু ছিলেন।’ আলোকচিত্রী নাসির আলী মামুনের নজরুলবিষয়ক একক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন ছিল উদ্বোধনী দিনে।
ঘটা করে উদ্বোধন হলেও পরবর্তী সময় ‘নজরুল স্মৃতিকক্ষ’টি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে পারেনি বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ। রোববার দুপুরে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, কক্ষটি তালাবদ্ধ। সামনে পড়ে আছে নজরুলের একটি আবক্ষ ভাস্কর্য। একসময় খোলা হয়। ভেতরে গিয়ে দেখা গেল ধুলাবালির স্তর জমেছে আসবাবপত্রে। পলেস্তারা খসে পড়েছে দেয়াল থেকে। এ কোনায় ঝুলিয়ে রাখা বীণা হাতে নজরুলের ওপর আঁকা একটি চিত্রকর্ম প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। একাডেমির বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এর আগে কক্ষটি দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত হতো। বসতেন একাডেমির কর্মকর্তারা। একসময় এটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
‘নজরুল স্মৃতিকক্ষ’টি নতুন করে খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ। একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার কিছুদিন পরই একুশে বইমেলার ব্যস্ততা শুরু হয়ে যায়। এরপরই আমি কক্ষটি সংস্কার করে দর্শনার্থী এবং গবেষকদের জন্য খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছি। যেহেতু মূল ভবনটি খুব পুরোনো, বয়সের ভারে কিছুটা দুর্বল হয়ে গেছে। তাই খুব সাবধানে ধীরে-সুস্থে কাজ করতে হচ্ছে।’ তিনি আরও জানান, একাডেমি কর্তৃক বিশিষ্ট গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ প্রণীত নজরুলের কয়েক খণ্ডের প্রামাণ্য জীবনী প্রকাশিত হবে।

ভারতের ২৩৩ এমপির বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা, সন্ত্রাসসহ গুরুতর অভিযোগ

লোকসভায় নবনির্বাচিত এমপিদের মধ্যে কমপক্ষে ২৩৩ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা, সন্ত্রাসসহ গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ আছে। ৫৪৩ আসনে নির্বাচিত এমপিদের মধ্যে এমন অভিযুক্ত এমপি শতকরা ৪০ ভাগ। এক গবেষণায় এ কথা বলেছে ভারতের অলাভজনক প্রতিষ্ঠান এসোসিয়েশন অব ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (এডিআর)। এর নির্বাচন বিষয়ক প্রধান অনীল বর্মা বলেছেন, পার্লামেন্টে একটি ‘ডিস্টার্বিং ট্রেন্ড’ দেখা যাচ্ছে, যা গণতন্ত্রের জন্য অশুভ। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
শনিবার ওই গ্রুপটি বলেছে, অভিযুক্ত এমপিদের মধ্যে বিরোধী দল কংগ্রেসের একজন সদস্য আছেন, যার বিরুদ্ধে ২০৪টি মামলা আছে। এর মধ্যে রয়েছে মানুষ হত্যা ও ডাকাতির মামলা। এডিআর ২০০৪ সাল থেকে এ বিষয়ে গবেষণা শুরু করে। তারা এবার নির্বাচিত ৫৩৯ জন বিজয়ীর রেকর্ড যাচাই করে দেখেছে, ফৌজদারি অভিযোগে মামলা আছে এমন বিজয়ীর সংখ্যা এ বছর সর্বোচ্চ। ক্ষমতাসীন বিজেপি ৩০৩ আসনে এককভাবে বিজয়ী হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপিতে এমন অভিযুক্ত বিজয়ী আছেন ১১৬ জন। তার মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে আছে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ।
বিরোধী দল কংগ্রেসের ২৯ জন এমপির বিরুদ্ধে মামলা আছে। তার মধ্যে কেরালার ইদুক্কি থেকে নির্বাচিত ডিন কুরিয়াকোসের বিরুদ্ধে আছে ২০৪টি ফৌজদারি মামলা। এডিআর বলছে, ভয়াবহ ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি এমন এমপির সংখ্যা এক দশকে দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১১টি হত্যা মামলা। ৩০টি গণহত্যার মামলা। ৩টি আছে ধর্ষণের মামলা।
যদি কোনো ব্যক্তি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় অভিযুক্ত হন এবং তিনি দুই বছর বা তারও বেশি মেয়াদে শাস্তি হিসেবে জেল পেয়ে থাকেন তাহলে ভারতের নির্বাচনী আইন অনুযায়ী তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন না। তবে অপরাধের ধরনের ওপর ভিত্তি করে এক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রম আছে। এর আগের পার্লামেন্টে ১৮৫ জন এমপির বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ ছিল। কিন্তু তাদের কেউই আদালতে অভিযুক্ত হন নি। ফলে তাদের অনেকেই নতুন করে নির্বাচিত হয়েছেন।
উগ্র হিন্দুত্ববাদী নেত্রী সাধ্বী প্রজ্ঞা ঠাকুর বিজেপি থেকে নতুন এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ২০০৮ সালে একটি মসজিদে বোমা হামলা করে ৬ জন মানুষকে হত্যায় সন্ত্রাসের অভিযোগ আছে। তবে সাধ্বী এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার অভিযোগ সাবেক কংগ্রেস সরকার তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ বানিয়েছে। এখানে উল্লেখ্য, বেশির ভাগ সময়ই অভিযুক্ত ব্যক্তির পাশে এসে দাঁড়ায় দল। তারা বলে, তাদের অভিযুক্ত এমপি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।
এসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (এডিআর) হলো ভারতীয় একটি নিরপেক্ষ, বেসরকারি সংগঠন। তারা নির্বাচন এবং রাজনৈতিক সংস্কারের বিষয়ে কাজ করে। ন্যাশনাল ইলেকশন ওয়াচের সঙ্গে তারা ভারতীয় রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে নির্বাচনে অর্থ ও পেশীশক্তির প্রভাব কমিয়ে আনাও তাদের লক্ষ্য।

প্রথম ব্রিটিশ মুসলিম প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন সাজিদ জাভিদ!

প্রথম ব্রিটিশ মুসলিম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে দেশটির বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদের। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে পদত্যাগের পর তিনি নতুন করে আলোচনায় এসেছেন।
সাজিদ জাভিদ যদি থেরেসা মে’র স্থলাভিষিক্ত হন, তবে তিনিই হবেন দেশটির প্রথম কোনো মুসলমান প্রধানমন্ত্রী।
ব্রিটেনের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীর তালিকায় তার নাম এসেছে। ২০১৮ সালের এপ্রিলে ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পান সাবেক এ বিনিয়োগ ব্যাংকার। ক্যারিবীয় অভিবাসী শিশুদের ওপর একটি কেলেঙ্কারি ভালোভাবে সামাল দিয়ে ৪৯ বছর বয়সী এ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সবার প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
পাকিস্তানি অভিবাসী বাস-চালকের সন্তান সাজিদ জাভিদ একটি আধুনিক, বহু-সংস্কৃতি ও মেধাভিত্তিক ব্রিটেনের প্রতিচ্ছবি। অর্থনৈতিকভাবে উদারপন্থী সাজিদ জাভিদ ২০১৬ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার পক্ষেই ভোট দিয়েছিলেন।
তবে সম্প্রতি আইএসে যোগ দিতে যাওয়া এক কিশোরীর নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়ে তিনি উদারপন্থীদের সমালোচনার শিকার হয়েছেন। এক পাকিস্তানি মুসলমান অভিবাসীর ঘরে ল্যানক্যাশায়ারের রোচড্যালে জন্মপ্রহণ করেন তিনি।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র পদত্যাগের পর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাজিদ জাভিদ ছাড়াও বিশেষভাবে এগিয়ে রয়েছেন বরিস জনসন, জেরেমি হান্ট, ডোমেনিকান রব, মাইকেল গভ ও আন্দ্রে লিডসাম।
সূত্র : এএফপি ও গার্ডিয়ান