Wednesday, August 10, 2016

ফেলপসের শরীরে ‘লাল দাগ’

মাইকেল ফেলপসের শরীরে গোল লাল দাগ কেন? শুধু বিশ্বখ্যাত সাঁতারু ফেলপস নন, এবারের রিও অলিম্পিকে একাধিক অ্যাথলেটের শরীরেই লাল রঙের গোল দাগ দেখা যাছে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাথলেট ও জিমন্যাস্টদের শরীরেই এ দাগ বেশি দেখা যাচ্ছে। রহস্যময় এ দাগগুলো কী? এ নিয়ে চলছে জোর জল্পনা। খবরের পেছনের খবর বলছে অন্য কথা। চিকিৎসাশাস্ত্রের পরিভাষায় একে ‘কাপিং’ বলা হচ্ছে। অ্যাথলেটরা তাদের শরীরে গরম কাপ বসাছেন স্বস্তি পাওয়ার জন্য, আরামের জন্য। আসলে ঘটনা হল, কাপিং হল আকুপাংচারেরই আর একটা ধরন। অলিম্পিয়ানরা কেন এই পদ্ধতি অবলম্বন করছেন? অ্যাথলেটরাই জবাবটা দিয়েছেন।
ক্রমাগত অনুশীলন করলে শরীরের পেশি ফুলে যায়, ব্যথা অনুভব করতে শুর করেন অ্যাথলেটরা। ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যই এখন কাপিং করাছেন তারা। কাপিং ছাড়াও শরীরকে চাঙ্গা করে তোলার একাধিক উপায় রয়েছে। ম্যাসাজ, আইস বাথ করতেই পারেন অ্যাথলেটরা। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জিমন্যাস্ট অ্যালেক্স বলছেন, ‘অন্যান্য পদ্ধতিও আমি অবলম্বন করে দেখেছি। তবে কাপিং সবচেয়ে ভালো।’ কাপিংয়ের দ্বারা নাদদোর-এর মতো জিমন্যাস্টের শরীরের ব্যথা দূর হয়েছে। রোববারের ইভেন্টে নামার সময়ে মাইকেল ফেলপসের উন্মুক্ত শরীরে লাল গোল দাগ দেখা গেছে। এই দাগ দেখে অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন। উঠেছে প্রশ্নের ঝড়। কৌতূহল বেড়েছে ভক্তদের মধ্যে। আসলে এটা আকুপাংচারেরই আর একটা ধরন। ওয়েবসাইট।

সর্বোচ্চ ছাড় দেয়ার মানসিকতা থাকতে হয়

*সাম্প্রতিক ব্যস্ততা কী নিয়ে?
**কিছু দিন আগে একটি মিউজিক ভিডিওর কাজ করার কথা হয়েছে। এটা নিয়েই এখন কিছুটা ব্যস্ত আছি। তাছাড়া একটি এতিমখানার কাজের সঙ্গে জড়িয়েছি। প্রায় প্রতিদিনই এতিম মানুষগুলোকে সময় দিতে হয়। ওদের নিয়েই আমার পুরোটা সময় কেটে যায়।
*হঠাৎ করে মিডিয়ার কাজ ছেড়ে সামাজিক কাজে সময় দিচ্ছেন?
*হঠাৎ করে না। এই বিষয়গুলো আমি ছোটবেলা থেকেই আমার বাবাকে করতে দেখতাম। তখন থেকেই ইচ্ছা ছিল। আগেও করতাম। কিন্তু সেভাবে সামনে আসত না। কারণ দায়িত্বটা সেভাবে নিতাম না। এখন অনেক বেশি দায়িত্ব। তাই হয়তো চোখে পড়ছে। সব চেয়ে বড় কথা হল, ঐ মানুষগুলোর সঙ্গে সময় কাটাতে আমার খুব ভালো লাগে।
*কিছুদিন আগেও বলেছিলেন পেশাদারিত্বের সঙ্গেই কাজ করবেন। কিন্তু এখন অনেকটা অনিয়মিত। কেন?
**কাজ করার ইচ্ছা আগেও ছিল, এখনও আছে। আমি মনে করি কাজ করার মতো যোগ্যতাও আছে আমার। কিন্তু কাজের পরিবেশ ভালো নেই। যোগ্যতা থাকলেই কাজ করা যায় না। সর্বোচ্চ ছাড় দেয়ার মানসিকতা থাকতে হয়। যা হয়তো আমি পারি না। তাই নিজের ইচ্ছা থাকলেও অনেক নেতিবাচক কারণেই মিডিয়া থেকে অনেকটা সরে এসেছি।
*গেল ঈদে শাফিন আহমেদের সঙ্গে প্রথমবারের মতো কাজ করলেন, কেমন লাগল?
**অভিনয় করার আগেই শাফিন ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয় ছিল। সে ক্ষেত্রে নতুন করে পরিচিত হয়ে কাজ করতে হয়নি। তাছাড়া এমনিতেও তিনি খুব বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করেন। সবকিছুতেই খুব সহযোগিতা করেছেন। কাজ করে বেশ ভালো লেগেছে।
*তাহলে কি মিডিয়ায় নিয়মিত হচ্ছেন না?
**হচ্ছি না বা কাজ করছি না বিষয়টি কিন্তু তা নয়। আগেই বলেছি কাজ করতে চাই। মন মতো কাজ পেলে আর কাজের পরিবেশ ভালো হলে কাজ করব। তাছাড়া যেমন আছি তেমনই থাকব।
সাদিয়া ন্যান্সী

ট্রাম্পের জয় নিয়ে গভীর সংশয় দুই রিপাবলিকান নেতার

মার্কিন নির্বাচনে রণাঙ্গন হিসেবে খ্যাত ওহাইও এবং আরিজোনায় ডোনাল্ড ট্রাম্প জিততে পারবেন কিনা- তা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন রিপাবলিকান দলের দু’জন নির্বাচিত কর্মকর্তা। খবর ওয়াশিংটন পোস্টের। টিভিতে রোববার প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে ওহাইও গভর্নর জন কাসিচ এবং আরিজোনার সিনেটর জেফ ফ্লেক বলেন, তাদের রাজ্যে হিলারি ক্লিনটনকে হারিয়ে জিততে হলে ট্রাম্পকে প্রার্থী হিসেবে বদলে যেতে হবে। গত এক সপ্তাহে চরম বৈরী পরিবেশে থাকা ট্রাম্পের জন্য তাদের এ মন্তব্য আরেকটি আঘাত। গত এক সপ্তাহের কয়েকটি জরিপের ফলে দেখা যাচ্ছে সাবেক ফার্স্ট লেডির বিপরীতে ট্রাম্প ক্রমেই পায়ের তলার মাটি হারাচ্ছেন। সিএনএনের ‘স্টেট অব দৗ ইউনিয়ন’ অনুষ্ঠানকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে কাসিচ বলেন, ইলেক্টোরাল ভোটে সমৃদ্ধ তার রাজ্যে ট্রাম্পের জয়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ। তিনি বলেন, ট্রাম্প এখানকার কিছু অংশে জয় পেলেও অন্য অংশে জয় কঠিন হয়ে পড়বে।
অন্যদিকে সিবিএস টিভির ‘ফেস দ্য নেশন’ অনুষ্ঠানে ফ্লেক বলেন, তার রাজ্যেও জয় পাওয়া কঠিন হতে পারে ট্রাম্পের। তিনি বলেন, আরিজোনা রাজ্যটি রিপাবলিকান ঘেঁষা হলেও ট্রাম্পকে আরও দায়িত্বশীল অবস্থান নিতে হবে। এখানকার ক্রমবর্ধমান হিসপ্যানিক জনসংখ্যা ট্রাম্পের পরাজয়ের কারণ হতে পারে। গত দশটি নির্বাচনের মধ্যে এ রাজ্যে একবার মাত্র জয় পেয়েছিল ডেমোক্রেটরা- ১৯৯৬ সালে বিল ক্লিনটন। ফ্লেক বলেন, এবার এখানে হিলারির জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, এখানকার হিসপ্যানিক ভোটাররাই জয়-পরাজয়ের নিয়ামক শক্তি হতে পারে। ফ্লেক ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা আগেও করেছেন, এবার সাক্ষাৎকারেও তার পুনরাবৃত্তি করেন। আর কাসিচ তো ট্রাম্পকে সমর্থনই দেননি। এমনকি রিপাবলিকান জাতীয় সম্মেলনেও যাননি তিনি। ট্রাম্পকে মার্কিন নাৎসি পার্টির সমর্থন : মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নির্বাচিত করা দেশটির শেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদীদের জন্য বড় ধরনের একটি সুযোগ বলে উল্লেখ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাৎসি পার্টির (এএনপি) নেতা। এরমধ্য দিয়ে দেশটিতে একটি মূলধারার রাজনীতি উপস্থাপনে বুদ্ধির সঙ্গে কাজ করে যাওয়া উচিত বলেও মনে করেন মার্কিন এ নেতা। যুক্তরাষ্ট্রের নাৎসি দলের চেয়ারম্যান রকি সুহাইদি আরও বলেন, এটা বেশ কঠিন কাজ এবং এ কারণে মানুষ আমাদের ‘ধর্মান্ধও’ বলতে পারে। তিনি আরও বলেন,
শেতাঙ্গদের জন্য উপযুক্ত প্রার্থী হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত মাসে রেডিওতে ধারণ করা মার্কিন নাৎসি পার্টির নেতার এসব কথা অনলাইনভিত্তিক মিডিয়া বাজফিড প্রথমে প্রকাশ করে বলে সোমবার গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়। রেডিও বার্তায় সুহাইদি বলেন, এখন যদি ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে জয় লাভ করেন, তবে তা হবে দেশটির শেতাঙ্গদের জন্য সুখকর। এজন্য এখন থেকেই তার পক্ষ নিয়ে কাজ করে যাওয়াই শ্রেয় বলে মনে করেন তিনি। এজন্য অন্দোলনের ভাবধারা নিয়েও চিন্তা করা উচিত। হিলারি ক্লিনটনকে ট্রাম্প হারিয়ে দিতে পারে বলে ভবিতব্য করে সুহাইদি আরও বলেন, এতে প্রতিপক্ষে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। তিনি আরও বলেন, এর মানে এই নয় যে, হিলারির বিরোধিতা করতে হবে। তবে শেতাঙ্গ সমর্থিত প্রেসিডেন্টকেই বেছে নেয়া উচিত বলেও জানান তিনি। এএনপি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম রাজনৈতিক দল, যেটি ১৯৫৯ সালে জর্জ লিংকন রকওয়েল প্রতিষ্ঠিত করেন। ওয়াল্ড ইউনিয়ন অব ফ্রি এন্টারপ্রাইজ ন্যাশনাল সোসালিস্ট (ওইউএফইএনএস) নামে শুরু হওয়া এ রাজনৈতিক দলের নাম ১৯৬০ সালে ‘আমেরিকান নাৎসি পার্টি’ রাখা হয়।

কমিটি যুগোপযোগী হয়েছে

বিএনপির এবারের কমিটিটি যে আকারে সামান্য বড় হয়েছে, এর কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। প্রথমত, বিগত বছরগুলোয় বর্তমান স্বৈরতান্ত্রিক সরকারের দমননীতির কারণে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন। বর্তমান সরকার দেশে এক ধরনের রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপির পক্ষে নিয়মমাফিক সময়ে কাউন্সিল করা সম্ভব হয়নি। সময়ের বিস্তারের কারণে নেতা হওয়ার মতো কর্মীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। এ বর্ধিত সংখ্যা আমাদের ধারণ করতে হয়েছে। দ্বিতীয়ত, বর্তমান সরকারের দমননীতি সৃষ্ট পরিবেশে অনেকেই ত্যাগ-তিতিক্ষার স্বাক্ষর রেখেছেন। দল ও দলের আদর্শের জন্য জীবনবাজি রেখেছেন। জেলে গিয়েছেন, শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এই বিপুলসংখ্যক ত্যাগী নেতাকর্মীর কথা চিন্তায় আনতে হয়েছে। তৃতীয়ত, এবারের কমিটি প্রস্তুতের আগে মেধাবী, তরুণ এবং নারী সমাজের কথা বিশেষভাবে ভাবতে হয়েছে। রাজনৈতিক দল তো শুধু রাজনীতি করে না, সমাজ ও রাষ্ট্রের সবকিছুরই দেখভাল করে থাকে। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে বর্তমান কমিটিতে অধ্যাপক, ডাক্তার, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। অর্থাৎ আমরা বিএনপিকে মেধাভিত্তিক, দক্ষ করে গড়ে তুলতে চেয়েছি। স্বাভাবিকভাবেই কমিটিটি একটু বড় হয়েছে। তাও সেটা খুব বড় নয়।
গতবারের চেয়ে মাত্র ১২০ জন অতিরিক্ত অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। আমি মনে করি বর্তমান প্রেক্ষাপটে এবং দেশের ভবিষ্যৎ চিন্তা করলে এই বর্ধিত কমিটি গঠন অযৌক্তিক হয়নি। অনেকে বলেন, কমিটিতে পরিবারতন্ত্রকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এসব কথা অন্তঃসারশূন্য। কোনো রাজনৈতিক পরিবারের কেউ যদি রাজনীতি করতে চায় এবং তার যোগ্যতা থাকে, তাহলে তাকে বাধা দেয়া যাবে কোন যুক্তিতে? ব্রিটেনসহ পৃথিবীর অনেক দেশেই রাজনীতিকের ছেলে রাজনীতি করছেন, এমপি হচ্ছেন। মূল কথা হচ্ছে, রাজনৈতিক পরিবারের অযোগ্য কাউকে মাত্রাতিরিক্ত পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া হচ্ছে কিনা। তারেক রহমানের কথাই ধরা যাক। তিনি রাজনীতি করছেন ১৯৯১ সাল থেকে। ২০০১ সালের বিএনপির নির্বাচন মূলত তিনিই পরিচালনা করেন। তিনি তার বাবা জিয়াউর রহমানের মতো গ্রামে-গঞ্জে ঘুরে বেড়িয়েছেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশেছেন। দল পুনর্গঠনের কাজেও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। এখন কেউ যদি বলেন, তাকে কেন বিএনপির এত বড় পদ দেয়া হল, সেটা যুক্তিতে টিকবে না। রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা আছে এবং রাজনীতির কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এমন যে কেউই যথাযথ যোগ্যতা সাপেক্ষে নেতা হতে পারেন বৈকি। আমি মনে করি আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রাম শুধু নয়, এদেশের রাজনীতির মঙ্গলার্থেই এমন একটি কমিটি গঠিত হয়েছে। তাছাড়া আমরা তরুণ নেতৃত্বের ওপর জোর দিয়েছি। নারীদের অন্তর্ভুক্ত করেছি। এই কমিটির সদস্যরা তাদের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে আগামী দিনে বর্তমানের অগণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে সফল আন্দোলন রচনা করতে পারবেন বলেই আমার বিশ্বাস। নিঃসন্দেহে এই কমিটি যুগোপযোগী হয়েছে।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য

জিপিএ ব্যবস্থায় নম্বর প্রকাশ

বিভিন্ন পত্রিকা মারফত জানতে পারলাম, এ বছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল থেকেই জিপিএ’র পাশাপাশি নম্বরপত্রও দেয়া হবে, যেখানে বিষয়ভিত্তিক প্রাপ্ত নম্বর উল্লেখ করা থাকবে। সেই সঙ্গে বিস্তারিত নম্বরগুলোও, অর্থাৎ নৈর্ব্যক্তিক, বড় প্রশ্ন, ব্যবহারিক ইত্যাদি সব বিভাগেই একজন ছাত্র কত পেয়েছে তাও সে নিজেই ইন্টারনেট থেকেই জানতে পারবে। এ বিষয়টি নিয়ে কিছু বিশ্লেষণের জন্যই এ লেখা। কিছুদিন আগে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর একটা লেখা লিখেছিলাম। সেখানে কয়েকটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছিলাম, যার মধ্যে একটি ছিল আজকালকার ছেলেমেয়েদের প্রতিযোগিতাবিমুখতার কথা। সবাই হয়তো আমার সঙ্গে এ বিষয়ে একমত হবেন না; কিন্তু আমার সব সময় মনে হয়েছে, আমাদের জিপিএনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার একটা বড় অনাকাক্সিক্ষত বাই-প্রোডাক্ট হল ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মানসিকতায় ভাটা পড়া- আশি পেলেই যদি প্রথম সারিতে চলে যাওয়া যায়, তাহলে ক’জন আর চেষ্টা করবে নব্বই বা একশ’ পাওয়ার? এখন যদি ছাত্রছাত্রীদের প্রাপ্ত নম্বর প্রকাশিত হয়, তাহলে হয়তো উৎকর্ষ অর্জনের চেষ্টা আবার তাদের মধ্যে জাগ্রত হবে। এটি অবশ্যই একটা ভালো দিক।
এ পদক্ষেপের সবচেয়ে ভালো দিক কিন্তু অন্য আরেক জায়গায়। যখন লক্ষাধিক ছাত্রছাত্রী গোল্ডেন জিপিএ পেয়ে যায়, তখন তাদের মধ্যে আপনি কীভাবে পার্থক্য করবেন? এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া লক্ষাধিক ছাত্রছাত্রীর সবাই ভেবেছে, সে সবচেয়ে সেরা একজন ছাত্র বা ছাত্রী। কিন্তু যখন কলেজে ভর্তির জন্য সে অপশন দিয়েছে, তখন হয়তো সে অবাক হয়ে লক্ষ্য করেছে, তার দেয়া অপশনের কোনোটাই সে পায়নি। এমনটি কেন হবে? কারণ, যদি ১ লাখ আবেদনকারী ছাত্রছাত্রীর প্রত্যেকেই জিপিএ-৫ পায়, তবে তো তাদের মধ্যে একজনকে ১ লক্ষতম হতেই হবে; সুতরাং সে তার পছন্দের কলেজটি পাবে তার নিশ্চয়তা কোথায়? তো আমাদের শিক্ষা বোর্ডগুলো কীভাবে এই ১ লাখ ছেলেমেয়েকে আলাদা করবে? আমরা যতদূর জানি, কলেজে ভর্তির জন্য বোর্ড থেকে একটি আলাদা মেধা তালিকা তৈরি করা হয়, যার ভিত্তিতেই ভর্তি চূড়ান্ত করা হয় এবং এ মেধা তালিকা কোথাও প্রকাশ করা হয় না। আমি আগে অন্য অনেক জায়গায় বলেছি এবং পাঠক নিজেও চিন্তা করে দেখুন এ বিষয়টা কতখানি অন্যায় ও দুর্নীতিপ্রবণ। এখন যদি সবার নম্বর প্রকাশিত হয়, তাহলে (আমার বিনম্র বিবেচনায়) এ প্রতারণামূলক ব্যবস্থাটি আর গ্রহণ করা লাগবে না। সুতরাং এদিক থেকেও এ পদক্ষেপ খুবই ইতিবাচক।
এবার তাহলে ভিন্ন একটি আলোচনা করা যাক। এক অর্থে, এ জিপিএ’র পাশাপাশি আবার নম্বর প্রকাশ করা কিন্তু একটু খটকার বিষয়ও বটে। একদিকে আপনি বলছেন, রহিম আর করিম দু’জনই গণিতে সর্বোচ্চ জিপিএ পেয়েছে এবং এ বিচারে তারা একই স্তরের ছাত্র; কিন্তু তাদের নম্বরপত্র হয়তো বলবে, রহিম পেয়েছে ১০০ আর করিম পেয়েছে ৮০। বুদ্ধিমান পাঠক কি কিছু আঁচ করতে পারছেন? একটা উদাহরণ নেয়া যাক। আমাদের হিসাব সহজ করার জন্য ধরা যাক তিনটি বিষয়ে পরীক্ষা হয়েছে, গণিত, পদার্থবিদ্যা ও রসায়ন। উপরের মতোই রহিম গণিতে পেয়েছে ১০০, পদার্থবিদ্যায় ৯৫; কিন্তু রসায়নে সে পেয়েছে ৭৯ অর্থাৎ, সে কিন্তু গোল্ডেন জিপিএ পেল না। তবে তার মোট নম্বর তিনশ’তে ২৭৪। আর করিম তিনটি বিষয়েই পেয়েছে ৮০ করে। অর্থাৎ, তার মোট নম্বর ২৪০। সে কিন্তু গোল্ডেন জিপিএ পেয়েছে! তাহলে এখন কী হবে? কে ভালো ছাত্র হিসেবে বিবেচিত হবে? রহিম, যে কিনা করিমের থেকে ৩৪ নম্বর বেশি পেয়েছে; কিন্তু গোল্ডেন জিপিএধারী নয়? নাকি করিম, যে কিনা গোল্ডেন জিপিএধারী?
যে সমস্যার কথা বললাম, তার খুব ভালো সমাধান আমার কাছে নেই। অনেকে হয়তো সেই পুরনো আমলের লেটার পাওয়ার সঙ্গে উপরের উদাহরণের সাদৃশ্য খুঁজে পাবেন। সেই পদ্ধতি অনুযায়ী রহিম দুটি লেটার পেয়েছে আর করিম পেয়েছে তিনটি। তবে সেই পদ্ধতিতে তিন বিষয়ের লেটার মিলে সম্মিলিতভাবে কোনো লেটারের প্রশ্ন আসত না (স্টার নম্বরে একটা বিষয় ছিল, যা শুধু মোট নম্বরের ওপর নির্ভর করত)। কিন্তু বর্তমান পদ্ধতিতে সম্মিলিত জিপিএ ব্যাপারটা থাকবে। আর সেই সময়ে মোট নম্বরের বিষয়টিই সব সময় সর্বোচ্চ প্রাধান্য পেত। এখন আমাদের আগেই ঠিক করতে হবে এ ধরনের পরিস্থিতিতে কোনটিকে আমরা প্রাধান্য দেব- মোট নম্বর নাকি সম্মিলিত জিপিএ? পরিষ্কারভাবেই এ এক নতুন সমস্যার সূচনা করবে। আসলে আমরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সব সিদ্ধান্ত এডহক ভিত্তিতে নিয়ে সমস্যাগুলোর আপাত সমাধান করার চেষ্টা করি। এতে একটি সমস্যার আপাত সমাধান হয়; কিন্তু অন্য একটি বড় সমস্যা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।
আমাদের আসলে অনেক চিন্তাভাবনা করে এ বিষয়গুলোতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ব্যক্তিগতভাবে যে বেশি নম্বর পেয়েছে আমি তাকেই সামনে রাখতে চাইব; কিন্তু জিপিএ ব্যবস্থাটা যেখানে মূল ব্যবস্থা, সেখানে নীতিগতভাবে তা কতখানি ঠিক হবে? আইনগতভাবেই বা তা কতখানি সিদ্ধ হবে? এ প্রশ্ন রেখেই শেষ করছি।
ড. মো. সোহেল রহমান : অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, সিএসই বিভাগ, বুয়েট
sohel.kcl@gmail.com

চিনির দামে অস্থিরতা

আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বাড়ার অজুহাতে দেশের চিনির বাজার অস্থির হয়ে উঠছে। গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চিনির দাম বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে গত মে মাসে ৩৩০ ডলারে বিক্রি হওয়া চিনি এখন ৫১৩ ডলারে উঠে গেছে। এর প্রভাব পড়ছে দেশীয় বাজারে। আবার অনেক ব্যবসায়ী মাত্রাতিরিক্ত মুনাফার লক্ষ্যে বিভিন্ন কৌশলে বাজারে চিনি সরবরাহ নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি করছে। এতে পাইকারি বাজারে চাহিদা অনুযায়ী চিনি না পৌঁছলে খুচরা বাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তবে দেশের গুটিকয়েক উৎপাদক ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের কারসাজিতে বাড়ছে চিনির দাম এমন অভিযোগও রয়েছে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির মূল্য বেশ বেড়েছে। এ ব্যাপারে ব্যবসায়ী পক্ষ এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণকারী বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য প্রায় অভিন্ন। গত মে মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে ৩৩০ ডলারে বিক্রি হওয়া চিনি এখন ৫১৩ ডলারে উঠে গেছে। এছাড়া অন্য যে কোনো মৌসুমের তুলনায় চলতি বছর চিনির আন্তর্জাতিক উৎপাদন কম হয়েছে।
বিশেষ করে বড় সরবরাহকারী দেশ ব্রাজিলে এ বছর উৎপাদন ২০ শতাংশ কম হয়েছে। উৎপাদন কম হওয়ার খবর জেনে চিনির মজুদের বড় একটা অংশ আন্তর্জাতিক মাফিয়ারা কিনে নিয়েছে। এ সুযোগে পণ্যটির দরও আশংকাজনক হারে বাড়তে শুরু করেছে। এছাড়া চিনি আমদানিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে কম ব্যয়বহুল দেশ ভারতে এ বছর চাহিদার তুলনায় ঘাটতি পড়েছে ৪০ লাখ টন। সেই সঙ্গে ভারতের প্রধান চিনি উৎপাদনকারী এলাকাগুলোতে খরার কারণে এবার ফলন কম হওয়ার আশংকা রয়েছে। এতে করে পণ্যটির আন্তর্জাতিক দর বেড়ে গত আড়াই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে ভারত সরকার চিনি রফতানি নিরুৎসাহিত করতে সম্প্রতি ২০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক বসিয়ে দিয়েছে। এসবের প্রভাব পড়ছে দেশীয় বাজারে। ব্যবসায়ীরা জানান, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতিই দেশে চিনির দাম বেড়ে যাওয়ার নেপথ্যে বড় কারণ। তারপরও দেশে চিনির পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও দাম বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে এখনই চিনির দাম এত বেশি বেড়ে যাওয়ার সন্তোষজনক কারণ নেই। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আগে কেনা চিনির যে মজুদ রয়েছে, সেটি দিয়ে অনায়াসেই আগামী অক্টোবর পর্যন্ত চলে যাওয়ার কথা। এসব কোনোভাবেই প্রতি কেজি ৫৫ টাকার বেশি বিক্রি হওয়ার যুক্তিসঙ্গত কোনো কারণ নেই। তবু গত দুই মাসে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে চিনির দাম। ফলে ৪৪-৪৮ টাকার চিনি এখন ৭০-৭৫ টাকায় উঠে গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৪-১৫ এবং ২০১৫-১৬ এ দুই অর্থবছরে দেশে চিনি আমদানি হয়েছে মোট ৩৫ লাখ ৩৮ হাজার টন।
প্রতিবছর দেশে চিনির সর্বোচ্চ চাহিদা হচ্ছে ১৫ লাখ টন। সদ্যবিদায়ী অর্থবছরের ৩০ জুন পর্যন্ত এর ভোগব্যয় হয়েছে ৩০ লাখ টন। ফলে চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের শুরুতে দেশে চিনির মজুদ ছিল ৫ লাখ ৩৮ হাজার টন। মাসিক ভোগব্যয়ের হিসাব অনুযায়ী সর্বশেষ জুলাইয়ে এ মজুদ থেকে ভোগ হয় আরও ১ লাখ ২৫ হাজার টন। এছাড়া দৈনিক ভোগব্যয় ৪ হাজার টন হিসেবে গত রোববার পর্যন্ত চিনির মজুদ ছিল ৩ লাখ ৮৫ হাজার টন। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বিভিন্ন সময়ে ২৫০ থেকে ৩০০ ডলারে কেনা এসব চিনির দেশীয় মজুদ পরিস্থিতিই বলে দিচ্ছে গত দুই মাসে চিনি থেকে কী পরিমাণ অনৈতিক ব্যবসা করেছে উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো। সূত্রমতে, চিনির দৈনিক চাহিদা রয়েছে ৪ হাজার ১০৫ টন। উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিশোধন সক্ষমতা রয়েছে ৭ থেকে ৮ হাজার টন। এখানে সিটি গ্রুপ এককভাবেই ৩ হাজার টন চিনি সরবরাহ দেয়ার ক্ষমতা রাখে। এরপরই আছে মেঘনা গ্রুপ। এছাড়া আরও কয়েকটি উৎপাদক প্রতিষ্ঠান চিনির উৎপাদন, পরিশোধন ও আমদানি করে। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠান এখন তাদের সরবরাহের পরিমাণ সর্বনিু অবস্থায় নামিয়ে এনেছে। এমনকি আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে গত দুই মাসে এলসি খোলার হারও কমিয়ে দিয়েছে। উদ্দেশ্য কম দামে কেনা মজুদ চিনি কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি করা। যে কারণে ডিও অনুযায়ী চিনির সরবরাহ মিলছে না কারোরই। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন,
কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কারসাজির কারণে অসহায় হয়ে পড়েছেন ক্রেতারা। এদের অনৈতিক তৎপরতা বন্ধ করতে হবে। ভেঙে দিতে হবে একচেটিয়া ব্যবসার সিন্ডিকেট। সবার জন্য পরিশোধিত চিনি আমদানি উন্মুক্ত করার পদক্ষেপই হতে পারে এ সমস্যার একমাত্র সমাধান। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চিনি সরবরাহে কৃত্রিম সংকট, মিলগেটে বেশি দাম রাখাসহ ব্যবসায়ীদের নানা কূটকৌশলের সব ছকই সরকারের জানা। এক্ষেত্রে চুনোপুঁটিদের ভয়-জরিমানা দেখালেও চিহ্নিত রাঘববোয়ালরা অধরাই থেকে গেছে। এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কোনো উদ্যোগ নেই। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন যুগান্তরকে বলেন, চিনির দাম বেড়েছে এটা বৈশ্বিক বাস্তবতা। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে আন্তর্জাতিক বাজারের উত্তাপ এ দেশেও কমবেশি লেগেছে। তবে দেখতে হবে সেটি কতটা পড়েছে। তিনি বলেন, সরকার খুব সতর্কভাবে দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে বলেই রোজার মাসে নিত্যপণ্যের মূল্য স্বাভাবিক ছিল। চিনি পরিস্থিতি নিয়েও সরকার সতর্ক রয়েছে। এরই মধ্যে অনৈতিক তৎপরতার অভিযোগে একটি প্রতিষ্ঠানকে ২০ লাখ টাকা জরিমানাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বাকিরাও পর্যবেক্ষণে রয়েছে। অনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে ভোক্তা স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করা হলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলে জানান তিনি।

অন্ধকারে ব্রাজিল আলোয় আর্জেন্টিনা

আবারও গোলহীন নেইমার, আবারও হোঁচট! আবারও দুয়ো। টানা দ্বিতীয় ম্যাচেও জয় পেল না অলিম্পিক ফুটবলে অধরা সোনা জয়ের মিশনে নামা ব্রাজিল। দক্ষিণ আফ্রিকার পর এবার ইরাকের সঙ্গে গোলশূন্য করেছে স্বাগতিকরা। বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকার হতাশা কাটার আগেই নতুন দুঃস্বপ্নের হানা সেলেকাও শিবিরে। টানা দুই ড্রয়ে ঘরের মাঠের অলিম্পিকে গ্র“পপর্ব থেকেই বিদায়ের শংকায় ব্রাজিল। এখন কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করতে শেষ ম্যাচে গ্র“পের শীর্ষে থাকা ডেনমার্কের বিপক্ষে জিততেই হবে নেইমারদের। রোববার ব্রাজিলের আরেকটি হতাশার রাতে আলোয় ফিরেছে আর্জেন্টিনা। পর্তুগালের কাছে হেরে অলিম্পিক অভিযান শুরু করা আর্জেন্টিনা নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আলজেরিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছে শেষ আটের আশা। একই দিন টানা দ্বিতীয় জয়ে সবার আগে কোয়ার্টার ফাইনালে চলে গেছে পর্তুগাল ও নাইজেরিয়া। ১৯৭২ সালের পর এই প্রথম অলিম্পিকের প্রথম দুুই ম্যাচে গোল করতে ব্যর্থ হল ব্রাজিল। আবারও দুয়ো শুনে মাঠ ছাড়তে হল নেইমারদের। আক্রমণভাগের নিষ্প্রভতাই মূলত ভোগাচ্ছে ব্রাজিলকে। ইরাকের গোলে ১৮টি শট নিয়েও লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি সেলেকাওরা। ভাগ্য সহায় হলে এই ম্যাচে জিতে যেতে পারত ইরাক! প্রথমার্ধে আবদুল রাহিমের হেড ব্রাজিলের পোস্ট কাঁপিয়ে ফিরে আসে। বিরতির ঠিক আগে ব্রাজিলের রেনাতো অগুস্তাও পোস্ট দুর্ভাগ্যে গোলবঞ্চিত হন। দ্বিতীয়ার্ধেও ব্রাজিলের দুর্ভাগ্যের ছবিটা বদলায়নি।
ম্যাচ শেষে ক্ষুব্ধ সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হলেন ব্রাজিল কোচ রোজেরিও মিশেল, ‘দলকে সমর্থন জানাতে মাঠে আসা সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় ক্ষমা চাচ্ছি আমরা। নিজেদের খেলাটা খেলতে পারিনি আমরা।’ একইদিন দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে এ-গ্রুপের শীর্ষে উঠে এসেছে ডেনমার্ক। শেষ ম্যাচে এই ডেনমার্ককেই হারাতে হবে ব্রাজিলকে। ডি-গ্রুপ থেকে শেষ আটের টিকিট কাটতে হন্ডুরাসের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনার সামনেও জয়ের কোনো বিকল্প নেই। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে আলজেরিয়াকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের রসদ পেয়ে গেছে দু’বারের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়নরা। জয়টা অবশ্য সহজে ধরা দেয়নি মেসির উত্তরসূরিদের হাতে। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে অধিনায়ক ভিক্টর কুয়েস্তা দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। তবে সেই ধাক্কা সামলে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন অ্যাঞ্জেল কোরেয়া। ৬৪ মিনিটে আলজেরিয়াকে সমতায় ফেরান সোফিয়ানে বেনডেবকা। কিন্তু মিনিটতিনেক পরেই আলজেরিয়াও পরিণত হয় ১০ জনের দলে। এই সুযোগে ৭০ মিনিটে কোরেয়ার পাস থেকে আর্জেন্টিনার পক্ষে জয়সূচক দ্বিতীয় গোলটি করেন জোনাথন কায়েরি। ডি-গ্র“পের অন্য ম্যাচে হন্ডুরাসের বিপক্ষে পর্তুগাল জিতেছে ২-১ গোলে। সি-গ্র“পে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও ফিজিকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মেক্সিকো। দ্বিতীয়ার্ধে একাই চার গোল করেন পুতিয়েরেজ। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ৩-৩ গোলে ড্র করেছে জার্মানি। এএফপি।
একনজরে ফল
গ্রুপ-এ
ব্রাজিল ০ : ০ ইরাক
ডেনমার্ক ১ : ০ দক্ষিণ আফ্রিকা
গ্রুপ-বি
নাইজেরিয়া ১ : ০ সুইডেন
জাপান ২ : ২ কলম্বিয়া
গ্রুপ-সি
মেক্সিকো ৫ : ১ ফিজি
জার্মানি ৩ : ৩ দক্ষিণ কোরিয়া
গ্রুপ-ডি
আর্জেন্টিনা ২ : ১ আলজেরিয়া
পর্তুগাল ২ : ১ হন্ডুরাস

নিখোঁজ স্পর্শিয়া

গেল ঈদে বেশ ক’টি নাটক ও টেলিফিল্মে অভিনয় করেছেন টিভি অভিনেত্রী স্পর্শিয়া। প্রচারের পর নাটকগুলো দর্শকমহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার ঈদুল আজহার জন্য একটি রহস্যঘেরা গল্পের টেলিফিল্মের শুটিং শেষ করলেন তিনি। টেলিফিল্মটির নাম ‘নিখোঁজ’। সম্প্রতি পূবাইলে টেলিফিল্মটির দৃশ্যধারণ শেষ হয়েছে। এতে স্পর্শিয়ার বিপরীতে অভিনয় করছেন নবাগত ইমন। টেলিফিল্মটির গল্পে দেখা যাবে, মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে ইমন। প্রেম করেন স্পর্শিয়ার সঙ্গে। তবে মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে হলেও তিনি তার বড়লোক বন্ধুদের মতোই চলাফেরা করেন। একদিন বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে যাওয়ার জন্য মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাসা থেকে বের হয় সে। এরপর থেকেই নিখোঁজ হয় ইমন! মা ছেলের খোঁজে পুলিশের দ্বারস্থ হলেও পুলিশ নিরবকে খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়। তবে তার মা মনে করেন ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পেছনে নিরবের প্রেমিকা স্পর্শিয়ারও হাত রয়েছে।
পরে নিজেই ছেলেকে খোঁজার মিশনে নামেন। এরপর থেকেই ঘটতে থাকে নানা রহস্যজনক ঘটনা। টেলিফিল্মটি প্রসঙ্গে স্পর্শিয়া বলেন, ‘আমি বরাবরই মিনহাজ ভাইয়ের নাটকে অভিনয় করে থাকি। একজন নির্মাতা হিসেবে তিনি অত্যন্ত বন্ধুসুলভ। কাজের মধ্যে ব্যতিক্রম কিছু দেখানোর চেষ্টা তার মধ্যে সব সময় থাকে। এ টেলিফিল্মটির ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হবে না। আশা করি দর্শকদের এটি ভালো লাগবে।’ নির্মাতা বলেন, টেলিফিল্মটিতে প্রেম-ভালোবাসার বিষয়টি চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। শুধু প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যেই যে প্রেম-ভালোবাসা থাকে এমনটি নয়। এর বাইরেও একজন মানুষের প্রচণ্ড ভালোবাসার লোভ থাকে। সেটিই টেলিফিল্মটিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আসছে ঈদুল আজহায় টেলিফিল্মটি কোনো এক বেসরকারি চ্যানেলে প্রচার হবে বলে জানিয়েছেন নির্মাতা।