Showing posts with label নিউজিল্যান্ড. Show all posts
Showing posts with label নিউজিল্যান্ড. Show all posts

Wednesday, January 7, 2026

২৩ লাখ টাকার হার গিলে ফেলল চোর

নিউজিল্যান্ডে একটি গহনার দোকান থেকে অভিনব কায়দায় চুরি করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, তিনি প্রায় ৩৩ হাজার নিউজিল্যান্ড ডলার বা প্রায় ১৯ হাজার মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৩ লাখ ২২ হাজার ১১৭ টাকা) মূল্যের একটি ফ্যাবার্জে পেনডেন্ট গিলে ফেলেন। এখন সেই প্রমাণ উদ্ধারের জন্য প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।

৩২ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা হয়নি। গত ২৮ নভেম্বর অকল্যান্ডের পার্ট্রিজ জুয়েলার্স নামের একটি দোকান থেকে একটি অলংকৃত ফ্যাবার্জে ‘অক্টোপাস পেনডেন্ট’ গিলে ফেলার অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

গত ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) পুলিশ জানায়, এখনো চুরির সেই পেনডেন্ট উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এক বিবৃতিতে ইন্সপেক্টর গ্রে অ্যান্ডারসন বলেন, গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো পেনডেন্টের কোনো খোঁজ মেলেনি।

অভিযোগ অনুযায়ী, চুরির ঘটনার কয়েক মিনিটের মধ্যেই দোকানের ভেতর থেকে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ২৯ নভেম্বর তিনি অকল্যান্ড ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে হাজির হন। তবে চুরির অভিযোগে তখনো তিনি দোষ স্বীকার বা অস্বীকারের কোনো বক্তব্য দেননি।

চুরি হওয়া বলে দাবি করা পেনডেন্টটি ১৯৮৩ সালের জনপ্রিয় জেমস বন্ড চলচ্চিত্র অক্টোপাসি থেকে অনুপ্রাণিত একটি সীমিত সংস্করণের ফ্যাবার্জে ডিম আকৃতির অলংকার। ছবিটির কাহিনির কেন্দ্রবিন্দুতেই ছিল চোরাচালানের ঘটনা।

দোকানটির ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্যমতে, এ ধরনের মাত্র ৫০টি পেনডেন্ট তৈরি করা হয়েছে। সোনার তৈরি এই অলংকারে সবুজ এনামেল ব্যবহার করা হয়েছে এবং এতে বসানো রয়েছে ১৮৩টি হীরা ও দুটি নীলা। পেনডেন্টটির উচ্চতা প্রায় ৮ দশমিক ৪ সেন্টিমিটার এবং এটি একটি স্ট্যান্ডের ওপর স্থাপন করা থাকে।

বর্ণনায় আরও বলা হয়, ডিমটি খুললে ভেতরে দেখা যায় ১৮ ক্যারেট হলুদ সোনায় তৈরি একটি অক্টোপাস, যার শুঁড়ের অংশে সাদা হীরা এবং চোখে কালো হীরা বসানো। এটি অক্টোপাসি চলচ্চিত্রের মূল প্রতিপক্ষের প্রতি ইঙ্গিত হিসেবেই নকশা করা।

পুলিশ বলছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি হেফাজতে থাকায় তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে তাদের দায়িত্ব রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় তাকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। সময় এবং হজমপ্রক্রিয়াই ঠিক করে দেবে, এই ঘটনায় আরেকটি ‘অক্টোপাস সারপ্রাইজ’ সামনে আসে কি না। 

পুরোনো ছবি
পুরোনো ছবি

Monday, September 29, 2025

ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দেয়ায় নিউজিল্যান্ডে হতাশা

নিউজিল্যান্ড সরকার ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি না দেয়ার সিদ্ধান্তে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন দেশটির বিরোধী দল, ফিলিস্তিনি সংগঠন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তাদের মতে, এ সিদ্ধান্ত নিউজিল্যান্ডকে ইতিহাসের ভুল পাশে দাঁড় করিয়েছে এবং দেশের ঐতিহ্যবাহী মিত্রদের সঙ্গেও বৈপরীত্য সৃষ্টি করেছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গার্ডিয়ান।

এতে আরও বলা হয়, গত সপ্তাহে বৃটেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং অন্যান্য দেশ নিউইয়র্কে জাতিসংঘের বিশেষ সম্মেলনের আগে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এ মাস পর্যন্ত জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে ১৫৭টি দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছিল, নিউজিল্যান্ডের জোট সরকারও একই পদক্ষেপ নেবে, বিশেষত প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন ও অন্যান্য মন্ত্রীর পূর্ববর্তী মন্তব্যের আলোকে।

কারণ তারা বলেছিলেন, ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়া হবে ‘কবে দেয়া হবে, সেটা প্রশ্ন, দেয়া হবে কি না- সেটা নয়।’ কিন্তু শনিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স জানান, যদিও নিউজিল্যান্ড দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে এখনই ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হবে না। তিনি বলেন, যুদ্ধ চলমান অবস্থায়, হামাস যখন গাজার কার্যত শাসক, আর ভবিষ্যতের কোনো ধাপ পরিষ্কার নয়- তখন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।

তাই এখনই নিউজিল্যান্ডের পক্ষে স্বীকৃতি ঘোষণা করা যুক্তিযুক্ত হবে না। পিটার্স আরও দাবি করেন, স্বীকৃতি দেয়ার ফলে যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টায় জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। সরকারের এ সিদ্ধান্ত অনেক নিউজিল্যান্ডারের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ সামাজিক মাধ্যমে তীব্র হতাশা প্রকাশ করেছেন। সোমবার অকল্যান্ডে অভিবাসন বিষয়ক মন্ত্রীর অফিসের সামনে অ্যাংলিকান ও ক্যাথলিক ধর্মযাজকরা নিজেদের শৃঙ্খলাবদ্ধ করে এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান। সাবেক প্রধানমন্ত্রী হেলেন ক্লার্ক বলেন, নিউজিল্যান্ড নিজেকে ‘ইতিহাসের ভুল পাশে’ দাঁড় করিয়েছে।

তিনি আরএনজেড’কে বলেন, যত বেশি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিচ্ছে একটি সমাধানের পথে এগোনোর অংশ হিসেবে, নিউজিল্যান্ড ততটাই পিছিয়ে পড়ছে এবং এর কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতির ঘোষণাগুলো এসেছে এমন সময়ে, যখন ইসরাইল গাজা শহরে হামলা তীব্র করেছে এবং আশঙ্কা তৈরি হয়েছে স্বীকৃতির প্রতিশোধ হিসেবে পশ্চিম তীর দখল করতে পারে তারা। এর আগে জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক অনুসন্ধান কমিশন জানিয়েছে, ইসরাইল গাজায় গণহত্যা চালিয়েছে।

mzamin

Sunday, November 17, 2024

প্রতিবাদের নয়া ধরন, নাচতে নাচতে পার্লামেন্টে বিল ছিঁড়লেন তরুণী এমপি

এবার প্রতিবাদের নয়া ধরন দেখলো নিউজিল্যান্ড। আদিবাসী চুক্তি বিলের প্রতিবাদে নিউজিল্যান্ডের সংসদভবনেই নাচলেন তরুণী এমপি। প্রাচীন মাওরি জনজাতির অধিকার কেড়ে নেওয়া সংক্রান্ত বিলের প্রতিবাদ করতে আদিবাসী নাচে মেতে উঠলেন  পার্লামেন্টের কনিষ্ঠতম এমপি হানা-রাউহিতি কারিরিকি মাইপি-ক্লার্ক ওরফে মাইপি ক্লার্ক ।  নাচতে নাচতেই ছিঁড়ে ফেললেন বিতর্কিত বিলের কপি। সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টে পেশ করা হয় ট্রিটি প্রিন্সিপালস বিলের খসড়া। ১৮৪০ সালে স্বাক্ষরিত হওয়া ওয়াইটাঙ্গি চুক্তির ভিত্তিতেই আনা হয়েছে এই বিল। তার পরেই বিরোধীদের দাবি, এই বিলে নিউজিল্যান্ডের প্রাচীন জনজাতি মাওরিদের অধিকার খর্ব হচ্ছে। সেই সঙ্গে ছড়াচ্ছে জাতিবিদ্বেষও। বিলের  খসড়া পাঠের পরেই প্রতিবাদ শুরু করেন নিউজিল্যান্ডের সর্বকনিষ্ঠ এমপি মাইপি ক্লার্ক। ২২ বছর বয়সি এই তরুণী তে পাতি মাওরি দলের সদস্য। ট্রিটি প্রিন্সিপালস বিলের খসড়া পাঠের পরেই তার কপি ছিঁড়ে ফেলেন তিনি। দাবি দেশের প্রাচীন উপজাতির অধিকার কেড়ে নিচ্ছে নতুন বিল! তার পরে মাওরিদের ঐতিহ্যশালী হাকা নাচে মেতে ওঠেন তিনি। সঙ্গী হন বেশ কয়েকজন বিরোধী এমপিও। পার্লামেন্টের অধিবেশন দেখতে গ্যালারিতে হাজির থাকা আমজনতাও নাচের তালে পা মেলান। গোটা ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে নেটদুনিয়ায়। যদিও সাসপেন্ড করা হয়েছে  ওই এমপিকে । পার্লামেন্ট থেকে বের করে দেওয়া হয় কয়েকজন সদস্যকেও। শেষ পর্যন্ত অবশ্য পাস হয়ে যায় বিলটি। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লুক্সন বলেন, ব্যক্তিগতভাবে বিলের বিরোধী হলেও রাজনৈতিক কারণে তিনি নিজের দলের এমপিদের নির্দেশ দেন এই বিতর্কিত বিলের পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে, নিউজিল্যান্ডে আদিবাসী ভাষা ও সংস্কৃতি কমে গিয়েছিল, অনেক উপজাতীয় জমি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল এবং মাওরিদের অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল । ১৯৭০-এর দশকে আদিবাসীদের প্রতিবাদ আন্দোলন শুরু হওয়ার সাথে সাথে, আইন প্রণেতারা এবং আদালতগুলি ধীরে ধীরে  মাওরিদের স্বার্থরক্ষার জন্য এগিয়ে আসে। মাইনর লিবার্টারিয়ান পার্টি এক্ট -এর নেতা ডেভিড সিমুর মাওরিদের আলাদা অধিকার প্রদান করার পক্ষে সওয়াল করেছেন।

সূত্র : হিন্দুস্থান টাইমস

mzamin

Wednesday, October 16, 2019

রাইস্টচার্চ হামলার শিকার: নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশী ২ বিধবার মানবিক আবেদন

সন্তান কোলে সানজিদা নেহা
নিউজিল্যান্ডে বিশেষ আবাসিক সুবিধার আবেদন করছেন দুই বাংলাদেশী নারী রিনা আকতার ও সানজিদা নেহা। ১৫ই মার্চ ক্রাইস্টচার্চে সন্ত্রাসী ব্রেন্টন টেরেন্ট মসজিদে গুলি করে যেসব মানুষকে হত্যা করেছিল তার মধ্যে ছিলেন এই দুই বাংলাদেশী নারীর স্বামী। রিনার স্বামী জাকারিয়া। আর সানজিদার স্বামী ওমর ফারুক। ওই হত্যাকাণ্ডের সময় রিনা ও সানজিদা ছিলেন বাংলাদেশে। তারা প্রথমবার নিউজিল্যান্ডে যান তাদের স্বামীর লাশ গ্রহণ করতে। তারা আবাসিক মর্যাদা দাবি করে আবেদন করেন। কিন্তু তা প্রত্যাখ্যান করে নিউজিল্যান্ডের অভিবাসন বিভাগ।
ফলে তাদেরকে এই ডিসেম্বরে ফিরে আসতে বাধ্য হতে হবে। এমন অবস্থায় তারা দেশটির অভিবাসন বিষয়ক মন্ত্রী ইয়ান লিস-গ্যালোওয়ের কাছে বিশেষ অভিবাসন বিষয়ক আবেদন বিবেচনার জন্য আপিল করার পরিকল্পনা করছেন। তারা চান ক্রাইস্টচার্চ হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তির পরিবারের জন্য স্পেশাল রেসিডেন্সি ভিসা। এ নিয়ে নিউজিল্যান্ডের টিভিএনজেড অনলাইন একটি বিস্তারিত খবর প্রকাশ করেছে।
রিনা আকতার প্রথমবার নিউজিল্যান্ডে যান তার স্বামীর লাশ গ্রহণ করতে। কিন্তু তিনি এখন সেখানে বসবাস করতে চান। রিনা বলেছেন, তার স্বামী জাকারিয়া ছিলেন তার জীবনের ভালবাসা। তারা ছিলেন খুবই সুখী দম্পতি। ২০১৬ সালে তাদের বিয়ে হয়। এর পর পরই ওয়ার্কিং ভিসায় জাকারিয়া চলে যান নিউজিল্যান্ডে। যখন ক্রাইস্টচার্চে হামলা হয় ওই সময়কালে রিনার নিজের ভিসা প্রক্রিয়াধীন ছিল। তবে তা শেষ হয় নি। স্বামীর মৃত্যুর খবর শুনে তাকে চলে যেতে হয় নিউজিল্যান্ডে। কিন্তু এখন আর সেখানে থাকতে পারবেন না তিনি। বছর শেষ হওয়ার আগেই তাকে দেশে ফিরে আসতে হবে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, জাকারিয়া টাকা জমা করার জন্য খুব কঠোর পরিশ্রম করছিলেন, যাতে স্ত্রীকে নিজের কাছে নিয়ে একটি চমৎকার দাম্পত্য জীবন কাটাতে পারেন। তারা বহু দূরে অবস্থান করলেও আশা ছিল খুব শিগগিরই রিনাকে তিনি নিউজিল্যান্ডে নিতে পারবেন। সেই দেশে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে পালন করবেন হানিমুন।
রিনা বলেছেন, দেশে থাকতে ঘন ঘন তিনি জাকারিয়ার সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন। কথা বলতে বলতে দু’জনেই ফোন খোলা রেখে ঘুমিয়ে পড়তেন। এরই এক পর্যায়ে ১৫ই মার্চ ছিল জাকারিয়ার ৩৫তম জন্মদিন। এদিন তিনি কাজ থেকে বিরতি নিয়েছিলেন। দিনটি ছিল শুক্রবার। তাই জুমার নামাজ আদায় করতে গিয়েছিলেন আল নূর মসজিদে। সেখানে নামাজ আদায় করার সময় সন্ত্রাসী ব্রেন্টন তাদের ওপর গুলি করে। আর মুহূর্তের মধ্যে জীবন পাল্টে যায় রিনার। তবে তার স্বপ্ন মরে নি। এখনও তিনি স্বপ্ন দেখেন নিউজিল্যান্ডে বসবাস করবেন।
নিউজিল্যান্ডে ওয়েল্ডারের কাজ করতেন জাকারিয়া। সহকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন খুবই প্রিয় একজন মানুষ। তার মৃত্যুর পর তার নিয়োগদাতা একটি অনলাইন পেজ খুলে তার বিধবা স্ত্রী রিনার জন্য তহবিল সংগ্রহ শুরু করেন। চার সপ্তাহে এই পেজের মাধ্যমে ১৮২ জন দাতার কাছ থেকে সংগৃহীত হয় ৩৬ হাজার ডলারের বেশি। রিনা প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডে যান। সেখানে ৫ দিন অবস্থান করেন। এ সময়ে তার প্রধান কাজ ছিল স্বামীর লাশ বুঝে পাওয়া ও তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা। এরপর তিনি ভিজিটর ভিসায় আবার যান নিউজিল্যান্ডে। তার আশা সেখানে জীবন গড়ে তুলবেন জাকারিয়ার পরিকল্পনামতো। এরপর তিনি রেসিডেন্সি ভিসার জন্য আবেদন করেন। কিন্তু তা প্রত্যাখ্যান করে কর্তৃপক্ষ।
রিনার মতোই আরেকজন বিধবা সানজিদা নেহা। তার স্বামী ওমর ফারুক (৩৬) একটি স্টিল প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তার আয়ে বাংলাদেশে স্ত্রী সানজিদা, তার মা ও এক বোনের খরচ চলতো। ওমরের অন্য দুই বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। মারা যাওয়ার কয়েকদিন আগে ছুটিতে দেশে এসেছিলেন তিনি। এ সময় তিনিও সানজিদাকে নিউজিল্যান্ডে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু বন্দুকধারী ব্রেন্টন মুহূর্তের মধ্যে সেই স্বপ্নকে শেষ করে দিয়েছে। ওদিকে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন সানজিদা। নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চেই তিনি সম্প্রতি একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তার নাম রেখেছেন নূরে ওমর। অর্থাৎ ওমরের আলো। সানজিদা মনে করেন এই শিশুটি তার কাছে একটি উপহার। তাকেও ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরে আসতে বলা হয়েছে। ফলে এই দুই বিধবা নারী এখন নিউজিল্যান্ডের কর্তৃপক্ষের কাছে স্পেশাল রেসিডেন্সি ভিসা চেয়ে নতুন করে আপিল জমা দেবেন।

Wednesday, August 28, 2019

৩৪ বছর আগের ফ্রি টিকিটে ডিজনিল্যান্ড ঘুরলেন কানাডিয়ান নারী

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের আনাহাইমে ১৯৮৫ সালে চালুর পর থেকে ডিজনিল্যান্ডে টিকিটের দাম থেকে শুরু করে অনেক কিছু বদলেছে। তবে একটা ব্যাপার একইরকম আছে। তা হলো ডিজনির প্রতি কানাডিয়ান নারী টামিয়া রিচার্ডসনের ভালোবাসা! তাই ১৯৮৫ সালে তার পাওয়া পুরনো ফ্রি এন্ট্রি পাসকে সম্মান জানালো পার্ক কর্তৃপক্ষ। ফলে এত বছর পর এসে সেটি দিয়ে ঘুরতে পেরেছেন তিনি।
কানাডার আলবার্টা প্রদেশের শেরউড পার্কের শহরতলী এডমন্টনের বাসিন্দা টামিয়া রিচার্ডসন। কূপনটি দিয়ে মা, খালা আর দুই মেয়ে মিয়া ও মারেনকে নিয়ে ডিজনিল্যান্ডে বেড়ানোর পরিকল্পনা করেন তিনি। টামিয়ার স্বামী কেন্ট রিচার্ডসন বলেন, ‘আমাদের পরিবারের নারীরা সবাই মিলে ডিজনিল্যান্ডে ঘুরেছে।’
১৯৮৫ সালে ডিজনিল্যান্ডে টামিয়া রিচার্ডসন
১৯৮৫ সালে ১৪ বছর বয়সে ডিজনিল্যান্ডে প্রথম ঘুরতে যান টামিয়া রিচার্ডসন। ক্যালিফোর্নিয়ার আনাহাইমে পার্কটির ৩০ বছর পূর্তি ছিল ওই সময়। তখন টিকিটের মূল্য নেওয়া হতো জনপ্রতি ১৬ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলার। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০ ডলার।
সিএনএন ট্রাভেলকে ডিজনির একজন মুখপাত্র জানান, ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ডিজনিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ ‘গিফট গিভার এক্সট্রাঅর্ডিনার’ কূপন ছাড়ে। প্রতিদিন ৩০তম দর্শনার্থী এটি পেয়েছেন। টামিয়া রিচার্ডসন তাদেরই একজন। ৩০ বছর এটি তার কাছেই ছিল। অবশেষে এটি ব্যবহার করে বিনামূল্যে ঘুরেছেন তিনি।
তবে পুরনো পাস কিংবা টিকিট দিয়ে ডিজনিল্যান্ডে এখন সচরাচর ঢোকা যায় না। যেসব পাস মেয়াদোত্তীর্ণ নয়, সেগুলোই কেবল পার্কটিতে গ্রহণযোগ্য। অতীতে ডিজনি কর্মীরা কোনও পাস পরখ করার প্রয়োজন হলে ‘বুক অব লাইফ’ ব্যবহার করতো।
এ মাসে ডিজনিল্যান্ডে বিনামূল্যে ঘুরেছেন টামিয়া রিচার্ডসন (মাঝে)

Tuesday, August 27, 2019

শহরজুড়ে শুধু ইঁদুর আর ইঁদুর

নিউজিল্যান্ডের উপকূলের এক উপশহর টিটিরাঙ্গি। অকল্যান্ডের এই উপশহর প্রচুর বন্য মুরগি আর যোগব্যায়ামের কারণে এত দিন প্রসিদ্ধ ছিল। এখন নতুন একটি কারণে শহরটি আলোচনায়। শহরজুড়ে শুধু ইঁদুর আর ইঁদুর। ইঁদুরের উৎপাতে দোকানে-বাড়িতে কোথাও রক্ষা নেই লোকজনের।
স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো সরেজমিন প্রতিবেদনে একেকটা ইঁদুর বিড়ালের মতো ধেড়ে বলে বর্ণনা করেছে। স্থানীয় এক প্রতিবেদক জানান, তিনি গত সপ্তাহে ওই এলাকা সরেজমিনে ২০ মিনিটের মধ্যে ৩০-৪০টি ইঁদুর দেখেছেন। এ যেন ইঁদুরের স্রোত। ওই প্রতিবেদক বলেন, ইঁদুরগুলো একেবারে নির্লজ্জ যাকে বলে। একদম লোকজনকে ভয় পায় না, এমনকি গাড়িঘোড়াকেও না।
চলতি মাসের শুরুতে টিটিরাঙ্গির বাসিন্দারা এবং স্থানীয় করদাতাদের সংগঠন মিলে ফেসবুকে ইঁদুর নিয়ন্ত্রণের আরজি জানায়। তারা জানায়, গ্রামে দিনের বেলায়ও শত শত ইঁদুর যত্রতত্র ঘুরে বেড়াচ্ছে।
নিউজিল্যান্ড সংরক্ষণ দপ্তর বলেছে, ইঁদুর ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে উৎপাত করছে। এটা দেখা সরকারের কাজ নয়। অর্থাৎ যা করতে হবে, তা নগর প্রশাসনকেই করতে হবে। টিটিরাঙ্গির প্রশাসক গ্রেগ প্রেসল্যান্ড বলেন, দিন কয়েকের মধ্যেই তিনি ইঁদুর ও বন্য মুরগির বিষয়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রকাশ করবেন। বাসিন্দাদের বিশ্বাস, মুরগির ডিম ও উচ্ছিষ্ট খাবার খেয়েই ইঁদুরগুলো আরও তরতাজা হচ্ছে।
এদিকে নিউজিল্যান্ডে গত ৪০ বছরের মধ্যে এবার সবচেয়ে বনজঙ্গলের গাছপালার বীজ নষ্ট হয়েছে বলে বলা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে একে ‘মেগামাস্ট’ বলা হয়ে থাকে। অর্থাৎ এ বছর বনজঙ্গলের গাছে বীজ হয়েছে সর্বোচ্চ, অথচ সেগুলো অঙ্কুরোদ্‌গমের সুযোগ না পেয়ে গিয়েছে ইঁদুরের পেটে। পাখি ও গাছপালার জন্য বছরটি যেখানে চমৎকার হতে পারত, সেখানে তা এখন নরকে রূপ নিয়েছে।

Sunday, August 18, 2019

নিউজিল্যান্ডে জেলখানা থেকে সেই সন্ত্রাসী ব্রেন্টনের অস্ত্র চেয়ে চিঠি

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে কমপক্ষে ৫১ জন মুসল্লিকে হত্যাকারী, সেই কুখ্যাত ব্রেন্টন টেরেন্ট জেলে বসেই অস্ত্র চেয়ে চিঠি লিখেছে। এ ছাড়া বড় রকমের লড়াইয়ের আহ্বান জানিয়েছে। তার ওই চিঠিটি প্রকাশিত হয়েছে ‘4 chan’ নামের একটি সাইটে। এ খবর প্রকাশিত হওয়ার পর ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এ সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেছে বৃটেনের একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ। এতে বলা হয়েছে, নিজের একজন সমর্থককে জেলে বসে ব্রেন্টন টেরেন্ট হাতে লিখেছে ওই চিঠি। তাকে এমন চিঠি পাঠাতে দেয়ার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন নিউজিল্যান্ডের কর্মকর্তারা। অস্ত্র চেয়ে ৬ পৃষ্ঠার ওই চিঠিটি এ সপ্তাহে প্রকাশ করা হয়েছে ‘4 chan’  নামের সাইটে।
এই সাইটটি শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদীদের পোস্টের জন্য পরিচিত।
৫১টি হত্যা, ৪০টি হত্যাচেষ্টা ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার দায়ে বিচারের অপেক্ষায় আছে ব্রেন্টন টেরেন্ট। এল পাসো এবং অসলোর মতো স্থানীয় সন্ত্রাসী হামলা চালানো খুনিরা তার থেকে উৎসাহিত হয়েছে বলে বলা হচ্ছে। একটি ছোট নোটপ্যাডে ব্রেন্টন পেন্সিল দিয়ে তার চিঠি লিখেছে এক রাশিয়ানের কাছে। তাকে অ্যালান নামে আখ্যায়িত করেছে সে। ২০১৫ সালে ব্রেন্টন টেরেন্ট রাশিয়া গিয়েছিল। যেতে পথে সময় লেগেছিল এক মাস। সে সম্পর্কে বর্ণনা আছে ওই চিঠিতে।  তবে এতে সতর্ক করা হয়েছে যে, বড় একটি লড়াই আসন্ন। এ ছাড়া এমন ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, যা দেখে মনে হয় সে অস্ত্র আহ্বান করেছে।
এ বিষয়ে সংশোধন বিষয়ক মন্ত্রী কেলভিন ডেভিস এক বিবৃতিতে বলেছেন, ব্রেন্টন টেরেন্টকে চিঠি পাঠাতে দেয়া জেলখানার নিয়মে আছে বলে তিনি মনে করেন না। আমি নিজেকে পরিষ্কার করতে চাই যে, এই ঘটনা আর ঘটবে না। তবে তিনি এটা স্পষ্ট করেন যে, ইচ্ছামতো মেইল পাঠানোর অথবা গ্রহণের অধিকার আছে নিউজিল্যান্ডের বন্দিদের । ব্রেন্টন টেরেন্ট আর কোনো চিঠি পাঠানোর চেষ্টা করলে তা আটকে দেয়া হবে বলেও জানান তিনি। কেলভিন ডেভিস বলেন, আমরা এর আগে কখনো এমন জেল ব্যবস্থাপনা রাখিনি। এ বিষয়টি অর্থাৎ জেলে বসে চিঠি লেখা এটা আমাদের আইন অনুমোদন করে কিনা সে বিষয়ে আমি প্রশ্ন তুলেছি। এক্ষেত্রে আমরা কি কি পরিবর্তন করতে পারি সে পরামর্শ চেয়েছি।
তবে এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দলের মুখপাত্র ডেভিড বেনেট। তিনি বলেছেন, কিভাবে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সম্বলিত একটি জেলখানা থেকে এমন জ্বালাময়ী চিঠি পাঠানো হলো তার জবাব অবিলম্বে দিতে হবে কেলভিন ডেভিসকে। তিনি আরো বলেন, ব্রেন্টন টেরেন্ট নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে জঘন্য অপরাধের অন্যতম একটি ঘটিয়েছে। নিউজিল্যান্ডের মানুষ আতঙ্কিত হবেন এই ভেবে যে, তার মতো একজন সন্ত্রাসীকে সংশোধন কেন্দ্র থেকে চিঠি পাঠাতে অনুমতি দেয়া হয়েছে। সেই চিঠিকে অস্ত্র চাওয়া হয়েছে এবং তা পোস্ট করা হয়েছে অনলাইনে।

Tuesday, June 4, 2019

মসজিদে হামলায় আহতদের ৭০ হাজার ডলার দিল ‘ডিম বালক’

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুই মসজিদে হামলার ঘটনায় অতি ডানপন্থী সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিং মুসলিমবিদ্বেষী মন্তব্য করেছিলেন। এই মন্তব্যের জেরে তাঁর মাথায় ডিম ভেঙে আলোচনায় এসেছিল এক তরুণ। উইলিয়াম কনোলি নামের সেই তরুণ আবার আলোচনায়। ক্রাইস্টচার্চের ওই হামলায় ভুক্তভোগীদের জন্য প্রায় ৭০ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছে সে। গত মঙ্গলবার রাতে উইলিয়াম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট দিয়ে এই অনুদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
১৭ বছর বয়সী এই কিশোর মূলত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর শিরোনাম হয়েছিল অ্যানিংকে ডিম নিক্ষেপের পর। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ‘ডিম বালক’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না এনেই ছেড়ে দেয়। তবে ওই সময় থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক ক্রাউড ফান্ডিং প্রতিষ্ঠান ‘গোফান্ডমি’ তাকে আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য অর্থ সংগ্রহ শুরু করে। কিন্তু উইলিয়াম সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এই অর্থ সে ক্রাইস্টচার্চে হতাহতদের জন্য দেবে।
গত ১৫ মার্চ ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় ৫১ জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়। অস্ট্রেলিয়ার শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী ব্রেনটন টারান্ট এই হামলা চালিয়েছেন। তিনি বর্তমানে নিউজিল্যান্ডের একটি কারাগারে রয়েছেন। আর এই হামলায় হতাহতদের জন্য অর্থ সংগ্রহ করল আরেক অস্ট্রেলিয়ান।
উইলিয়াম ওই ইনস্টাগ্রামের পোস্টে লিখেছে, ‘এই অর্থ আমি রাখতে পারব না।’ সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এই অর্থ ক্রাইস্টচার্চের ভুক্তভোগীদের সহায়তায় দেওয়া হবে। সে জানিয়েছে, সিনেটরকে ডিম নিক্ষেপের ঘটনায় আইনি প্রতিষ্ঠান তাকে বিনা মূল্যে আইনি সহায়তা দিচ্ছে।
উইলিয়াম লিখেছে, ‘অবশেষে! এই বিপুল পরিমাণ অর্থ “ক্রাইস্টচার্চ ফাউন্ডেশন অ্যান্ড ভিকটিমস সাপোর্ট” তহবিলে চলে গেছে। আমি আন্তরিকভাবে আশা করি, ওই বেদনাদায়ক ঘটনায় যারা ভুক্তভোগী, তারা খানিকটা হলেও সহায়তা পাবে।’ এই অর্থপ্রাপ্তি নিশ্চিত করেছে ক্রাইস্টচার্চ ফাউন্ডেশন। তারা বলেছে, গোফান্ডমি থেকে ওই অর্থ তাদের তহবিলে পৌঁছেছে।

Wednesday, May 15, 2019

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীকে ‘ঘুষ’ পাঠালো ১১ বছরের শিশু

নিউজিল্যান্ড প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডর্নকে পাঁচ নিউজিল্যান্ড ডলার ‘ঘুষ’ পাঠিয়েছে এক ১১ বছর বয়সী মেয়ে শিশু। এক চিঠির সঙ্গে ওই অর্থ পাঠায় ভিক্টোরিয়া নামের এক শিশু। চিঠিতে সে প্রস্তাব দেয়, নিউজিল্যান্ড সরকার যেন ড্রাগন নিয়ে গবেষণা করে। তবে এক পাল্টা মিষ্টি ভাষ্য চিঠিতে তার ঘুষের অর্থ তাকে ফেরত পাঠিয়েছেন আরডর্ন। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
খবরে বলা হয়, নিজের চিঠিতে ভিক্টোরিয়া আরডর্নের কাছে ড্রাগন প্রশিক্ষক হতে টেলিকেনেটিক শক্তি চেয়েছিল। এর জন্য চিঠির খামে ঘুষ হিসেবে পাঁচ নিউজিল্যান্ড ডলারও পাঠায় সে। উল্লেখ্য, টেলিকেনেটিক শক্তি হচ্ছে, একধরনের কথিত মানসিক ক্ষমতা, যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি স্পর্শ ছাড়াই তার আশপাশের পার্থিব কোনো বস্তুকে প্রভাবিত করতে পারে।
ভিক্টোরিয়াকে হতাশ করে তার চিঠির জবাব দিয়েছেন আরডর্ন। সরকারি খামে পাঠানো লেখা এক চিঠিতে তিনি ভিক্টোরিয়াকে লিখেছেন, তার প্রশাসন বর্তমানে মনোবিদ্যা বা ড্রাগন নিয়ে কোনো কাজ করছে না।
তবে চিঠিতে নিজ হাতে আরও লিখে দিয়েছে, পুনশ্চঃ ওই ড্রাগনগুলো সম্পর্কে আমি খোঁজ রাখবো! তারা কি স্যুট পড়ে?
আরডর্ন ও ভিক্টোরিয়ার মধ্যকার এই চিঠি বদলের ঘটনা প্রথম জানা যায় ওয়েব ফোরাম রেডিটের মাধ্যমে। সেখানে এক রেডিট ব্যবহারকারী দাবি করেন, তার ছোটবোন আরডর্নকে ঘুষ দেয়ার চেষ্টা করেছিল।
তিনি বলেন, আমার ছোটবোন জানতে চেয়েছিল, নিউজিল্যান্ড সরকার ড্রাগন সম্পর্কে কী কী জানে ও তারা কোনো ড্রাগনের খোঁজ পেয়েছে কি না! পেলে যেন তাকে সেগুলো প্রশিক্ষণের জন্য দেয়।
পরবর্তীকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছে। জানিয়েছে, ৩০শে এপ্রিল চিঠিটির জবাব দিয়েছেন আরডর্ন।
তিনি তার চিঠিতে লিখেন, আমরা ড্রাগন ও মনোবিদ্যা নিয়ে তোমার পরামর্শ পড়তে খুবই আগ্রহী ছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আপাতত আমরা এই খাতগুলোতে কোনো কাজ করছি না। তাই, আমি তোমাকে তোমার ঘুষের অর্থ ফেরত পাঠাচ্ছি। টেলেকিনেসিস, টেলিপ্যাথি ও ড্রাগন নিয়ে তোমার অনুসন্ধানে আমার শুভ কামনা রইলো।

Thursday, April 11, 2019

অস্ট্রেলিয়ার 'ডিম বালক' এর সাথে সাংসদের সংঘর্ষ: সিনেটর নির্দোষ, কিশোরকে পুলিশের সতর্কতা

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলার পর বৈষম্যবাদী মন্তব্য করার জন্য অস্ট্রেলিয়ার যেই সিনেটরের মাথায় ডিম ভাঙা হয়েছিল, তিনি আত্মরক্ষার তাড়না থেকে হামলাকারীর ওপর চড়াও হয়েছিলেন বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছে পুলিশ।
গতমাসে অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিংয়ের মাথায় ডিম ভাঙার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ায় একটি বিতর্ক ছড়িয়ে পরেছিল - এই ঘটনার জন্য দু'জনের কোনো একজনকে আইনের আওতায় আনা উচিত কিনা, এবং ইনের আওতায় আনা হলে কাকে আনা হবে।
মি. অ্যানিংয়েরে মাথায় ডিম ভেঙে 'ডিম বালক' উপাধি পেয়ে জনপ্রিয়তা লাভ করা ১৭ বছর বয়সী ঐ কিশোরকে পুলিশ সতর্ক করেছে, তবে জানিয়েছে যে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হবে না।
নিউজিল্যান্ডের মসজিদ হামলার ঘটনায় সেখানকার মুসলিম অভিবাসীদের দায়ী করে এক বিবৃতি দেয়ার পর মি. অ্যানিংয়ের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনরোষ তৈরি হয়।
গত সপ্তাহে ঐ মন্তব্যের জন্য মি. অ্যানিংকে তিরস্কার করে অস্ট্রেলিয়ার সিনেট।
এরপর টেলিভিশনে প্রচারিত হতে থাকা এক সংবাদ সম্মেলনে সিনেটরের পেছন থেকে তার মাথায় ডিম ভাঙেন কিশোর উইল কনোলি। ঐ ঘটনার তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়ায় মি. অ্যানিংয়ের সমর্থকরা আক্রমণকারী বালককে প্রতিহত করার আগে সিনেটর নিজেও ঐ বালককে আঘাত করেন।
মঙ্গলবার কর্তৃপক্ষ জানায় যে, ঐ বালককে আঘাত করার অপরাধে সিনেটরকে 'অভিযুক্ত না করার' সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।
"পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বোঝা যায় যে, ৬৯ বছর বয়সী সিনেটরের প্রতিক্রিয়া আত্মরক্ষামূলক ছিল এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।"
ডিম নিয়ে আক্রমণ করা কিশোরটির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়া না হলেও তাকে 'আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্ক' করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
'ডিম বালক'-এর জন্য সমর্থন
সেসময় ডিম দিয়ে আক্রমণ করার জন্য অনেকে ঐ কিশোরের সমালোচনা করলেও অনলাইনে তার ব্যাপক প্রশংসা করা হয়।
দ্রুতই তাকে 'ডিম বালক' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
ঐসময় তার আইনি সহায়তার জন্য প্রয়োজন হতে পারে বলে একটি অনলাইন প্রচারণায় ৮০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলারের (৪৩ হাজার পাউন্ড) বেশি অর্থ তোলা হয়। সেসময় বিনামূল্যে কনসার্টের টিকিট পাওয়ার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার সেলেব্রিটিদের দ্বারা প্রশংসিত হয় ঐ কিশোর।
বিভিন্ন দেশের রাস্তায় আঁকা কিছু দেয়ালচিত্র বা ম্যুরালেও গুরুত্বের সাথে জায়গা পায় কিশোরটি।
গতমাসে স্থানীয় গণমাধ্যম টেন নেটওয়ার্ককে কিশোরটি বলেন, "আমি বুঝতে পারি যে, আমি যা করেছি তা সঠিক কাজটি নয়।"
"তবে এই ডিমটি মানুষকে একত্রিত করেছে।"
সিনেটর মি. অ্যানিং অবশ্য তার মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাননি; যদিও তার ঐ মন্তব্যের পর তার বিরুদ্ধে ব্যাপক জনরোষ তৈরি হয় এবং তার পদত্যাগ চেয়ে তৈরি করা এক গণ আবেদনপত্রে ১৪ লাখ মানুষ স্বাক্ষর করে।
তবে সিনেটের পক্ষ থেকে মি. অ্যানিংয়ের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে নিন্দা জানানো হয়।
'ভয়াবহ অপরাধের দায় ভুক্তভোগীদের ওপর চাপানো এবং ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে দোষারোপ' করার দায়ে তার বিরুদ্ধে নিন্দা জ্ঞাপন করে সিনেট।
সূত্রঃ বিবিসি।

Monday, April 8, 2019

মানুষের হৃদয় জয় করতে হবে : জেসিন্ডা আরডার্ন by মো: আবদুস সালিম

জেসিন্ডা আরডার্ন। তার পুরো নাম জেসিন্ডা কাটে লওরেল আরডার্ন। নামটির সাথে বিশ্বের মানুষ খুব বেশি পরিচিত না থাকলেও গত ১৬ মার্চ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দু’টি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পর থেকেই বিশ্বের মানুষ তাকে (আরডার্ন) বেশি করে চিনতে থাকে। তিনি আর কেউ নন, তিনি নিউজিল্যান্ডের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। এই প্রধানমন্ত্রীর নাম মানুষ জানছে তার নির্ভেজাল নানা কার্যক্রমের কারণেই। সন্ত্রাসী হামলায় বেশ কয়েকজনের মৃত্যু ঘটলে প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন ওই সঙ্কটকালে দেশবাসীকে বলতে থাকেনÑ ‘উই আর ওয়ান’। অর্থাৎ আমরা সবাই এক। একতাবদ্ধ হয়ে থাকলে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ যেমন ঘটবে না, তেমনি এ-সংক্রান্ত কোনো ঝক্কিঝামেলাও আমাদের কাছে আসতে পারবে না নিশ্চিত। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেনÑ মানুষকে নয়, মানুষের হৃদয় জয় করতে হবে। পারমাণবিক অস্ত্র সঠিক পথ দেখাবে না, সঠিক পথ দেখাবে প্রেম, ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ইত্যাদি মানবিক গুণ।
বিশ্বে শান্তিকামীরা বলেছেন, জেসিন্ডা আরডার্ন একজন ভিন্নধর্মাবলম্বী ও ভিন্ন কৃষ্টি-সংস্কৃতির মানুষ। তথাপিও তিনি সঙ্কটকালে মুসলমানদের পাশে যেভাবে অবস্থান নিয়েছেন তা সত্যিই অতুলনীয়। তার পোশাক-আশাক, কথাবার্তা, আচরণ ইত্যাদিতেও এসব দারুণভাবে ফুটে উঠেছে। মুসলমানদের মতো হিজাব পরেছেন। এমনকি দোয়া-দরুদও পাঠ করেছেন, যাতে সবাই তার কথা ও কাজে আকৃষ্ট হয়। এসব ব্যাপারে কোনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দোষারোপও করেননি। অনভিপ্রেত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডে তিনি কতটুকু বেদনাকাতর হয়েছেন তা বিশ্বের মানুষ ঠিকই বুঝেছে। তিনি বলেছেন, ‘যে আঘাত হানা হয়েছে তোমাদের ওপর, তা লেগেছে আমার গায়েও। আর সন্ত্রাসীদের কোনো ধর্মও নেই।’ হামলাকারী ধর্মীয় বিশ্বাসে খ্রিষ্টান হলেও বর্ণবাদই তার হামলার প্রধান কারণ। এসব চরমপন্থীর শুধু নিউজিল্যান্ডেই নয়, তামাম জাহানে কোনো স্থান নেই। এই হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত।
২৬ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের রাজনীতির ক্ষেত্রে ৪০তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জেসিন্ডা আরডার্ন। ১ আগস্ট ২০১৭ থেকে লেবার পার্টির নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ৮ মার্চ ২০১৭ থেকে মাউন্ট আলবার্ট নির্বাচনী কেন্দ্র থেকে সংসদ সদস্যের প্রতিনিধিত্ব করেন। ২০০৮ সালে সংসদীয় নির্বাচনে জেসিন্ডা প্রতিনিধিত্ব সভায় প্রথম নির্বাচিত প্রতিনিধি।
২০০১-এ ওয়াইকাটা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভের পর প্রধানমন্ত্রী হেলেন ক্লার্কের দফতরে তিনি গবেষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের নীতি উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। ২০০৮-এ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব সোস্যালিস্ট ইয়ুথের সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০১৭-তে মাউন্ট আলবার্ট নির্বাচনী এলাকায় উপনির্বাচনের আগে ২০০৮ সালে তালিকাভুক্ত এমপি হিসেবে ১০ বছর ক্ষমতায় থাকেন। আন্নেটে কিংয়ের পদত্যাগের পর ১ মার্চ ২০১৭-তে তিনি লেবার পার্টির ডেপুটি লিডার হিসেবে সার্বিকভাবে নির্বাচিত হন।
জেসিন্ডা নিজেকে একজন সামাজিক, গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল মানুষ বলে বর্ণনা করেন। প্রায় ৩৭ বছর বয়সে তিনিই পৃথিবীর সবচেয়ে উচ্চপদস্থ অল্পবয়সী নারী। মরিনভিলে কলেজে লেখাপড়া করেন এই সফল নারী। ওই কলেজেই তিনি বোর্ড অব ট্রাস্টির প্রতিনিধিত্ব করেন। এরপর ওয়াইকাটা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি ও জনসংযোগ বিষয়ে ব্যাচেলর ডিগ্রি লাভ করেন। জেসিন্ডার চাচী মেরিয়া এনড্রেন, যিনি দীর্ঘ দিন লেবার পার্টির মেম্বার ছিলেন, তিনিই জেসিন্ডাকে রাজনীতিতে নিয়ে আসেন। চাচীর সাথে থেকে প্রায় ১৮ বছরের ভাতিজি বিভিন্ন অভিযানে অংশ নেন। তার সাথে থেকে জেসিন্ডা এ-সংক্রান্ত নানা বিষয় সম্পর্কে ব্যাপক ধারণা লাভ করতে থাকেন। এ কারণেই তিনি প্রায় ১৭ বছর বয়সে লেবার পার্টিতে যোগ দেন এবং দলটির ইয়ং লেবার সেক্টরে বেশ বড়মাপের নেতা হন। এরপর তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ১৮ সদস্যবিশিষ্ট একটি পলিসি ইউনিটের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে তিনি নীতিনির্ধারক হিসেবে সেকেন্ড টু দ্য হোম অফিসের সাথে যুক্ত হন।
ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব সোস্যালিস্ট ইয়ুথ নামক প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি থাকাকালে তিনি জর্দান, ইসরাইল, আলজেরিয়া, চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশ ঘুরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০০৮-এ নির্বাচনের আগে লেবার পার্টির তালিকায় উচ্চ অবস্থানে থেকে কর্মতৎপরতা চালিয়ে যান। পরে লন্ডন থেকে ফেরত গিয়ে ফুলটাইম অভিযানে নামেন। বিরোধীদলীয় নেতা ফিল গফ তাকে পদোন্নতি দিয়ে সংসদের সামনের বেঞ্চে বসান। এবং ইয়ুথ অ্যাফেয়ার্সের মুখপাত্র হিসেবে নামকরণ করেন।
এক দশকের মধ্যে নিউজিল্যান্ডে শিশুদারিদ্র্য অর্ধেকে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেন জেসিন্ডা আরডার্ন। এই মর্মে জুলাই ২০১৮-তে সরকার কর্তৃক প্রতিটি পরিবারের জন্য এ-সংক্রান্ত প্যাকেজ ঘোষণা করেন। সেখানে বরাদ্দ হিসেবে শিশুর অভিভাবকদের ২২ থেকে ২৬ সপ্তাহ ছুটি বৃদ্ধি থাকবে ২০২০ সাল থেকে। আর মাঝারি থেকে শুরু করে নিম্ন আয়ের প্রতিটি পরিবারকে প্রতি সপ্তাহে ৬০ ডলার করে বরাদ্দ দেয়া হবে। তিনি মানুষকে অপরাধী হওয়া ও মাদকাসক্ত হওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে একটি স্মারকলিপি তুলে ধরেন। তার প্রচেষ্টা হচ্ছে মাদককে নিষেধ করবে নাকি আইনসিদ্ধ করবে, সে ব্যাপারে স্মারকলিপি তৈরি করেন।
ডিসেম্বর ২০১৭-তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী বলে ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিলে আরডার্ন এর প্রতিবাদ করেন। বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো কিছু আন্তর্জাতিক কর্মী আমাদের সামনে যেতে না দিয়ে বরং পেছনে ঠেলে দিতে চাইছে। জাতিসঙ্ঘের সাধারণ সভায় উপস্থিত থেকে সেখানে বিবৃতি দেয়ার সময় জাতিসঙ্ঘের বহুত্ববাদ এবং সারা বিশ্বের যুবকদের সহায়তার ক্ষেত্রে সুপারিশ করেন। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণগুলোর ওপর দ্রুত নজর দেয়ার আহ্বান জানান।
একই সাথে নারীর ক্ষমতা ও তাদের প্রতি পেশাভিত্তিক সহানুভূতিশীল হওয়ার গুরুত্ব আরোপ করেন।
অক্টোবর ২০১৮-তে প্রধানমন্ত্রী চীনের জিনজিয়াং পুনঃশিক্ষাকেন্দ্র নিয়ে প্রসঙ্গ তোলেন এবং দেশটির উইঘুর মুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর জুলুমের বিষয়টি তুলে ধরেন। কারণ চীন এক মিলিয়ন উইঘুর মুসলমানকে চীনের উত্তর-পশ্চিম প্রদেশ জিনজিয়াংয়ে কোনো অভিযোগ ছাড়া এবং তাদেরকে কী শর্তে মুক্তি দেয়া যায় তার কোনো নির্দেশনা ছাড়াই বন্দী করে রাখে। মিয়ানমার কর্তৃক রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর বর্বরোচিত আচরণের বিষয়টিও তুলে ধরেন আরডার্ন। নভেম্বর ২০১৮ তিনি অং সান সু চির সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য নিউজিল্যান্ডের তরফ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এসব কাজের জন্য জেসিন্ডা আরডার্ন আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হন, যেখানে সু চি হন নিন্দিত।

Sunday, March 31, 2019

একজন বিজ্ঞানী সামাদের কথা by চার্লি মিশেল

বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামের আবদুস সামাদ অপর একজনকে তার জীবনের বন্ধু করেছিলেন। তার  নিকটতম প্রতিবেশী হলেন শাজু শাহজাহান। এই দুই বন্ধু প্রতিদিন একসঙ্গে ১৮ কিমি যাতায়াত করে স্কুলে যেতেন।
এর ফলে তারা কথা বলার অনেক সুযোগ পেয়েছেন। খেলার জন্য অনেক সময় দিয়েছেন তারা। স্কুলে পড়ার সময় তারা ক্লাসে একসঙ্গে বসেছেন। এবং বাড়ি ফিরে ঘরের কাছাকাছি মসজিদে তারা কোরআন পড়ছেন।
দীর্ঘ ১০ বছর ধরে তারা ছিলেন অবিচ্ছেদ্য। জীবন চলার পথ অবশ্য একসময় তাদের ভিন্ন দিকে নিয়ে যায়।
সামাদ ময়মনসিংহ বিশ্ববিদ্যালয়ে গৎ পশু বিজ্ঞান অধ্যয়ন করেছে; শাহজাহান কয়েক ঘণ্টা দূরে ঢাকায় প্রকৌশল বিভাগে ভর্তি হন।
তদুপরি তারা ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখেছিলেন। উভয়ই কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন।
সামাদ নিউজিল্যান্ডে পড়াশোনা করার জন্য একটি বৃত্তি পান।
তিনি লিঙ্কন ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি অর্জন করেন। তিনি নিউজিল্যান্ডকে ভালোবাসতেন। তাই তিনি অবসরে গিয়ে নিউজিল্যান্ডেই ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। বাস্তবে যা তিনি ২০১২ সালে করেছিলেন।
শাহজাহান ওহাইওর ক্লিভল্যান্ডে চলে যান, যেখানে তিনি থাকেন।
শাহজাহান তার সেরা বন্ধু সামাদের সঙ্গে কথা বলছিলেন গত কয়েক বছর হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের সময় পার্থক্য ছিল। আর সেটা তাদের জন্য অসুবিধাজনক মনে হতো। শাজাহান বলেন, ৬০ বছর আগের বন্ধুত্বের সুবাদে তারা একে অপরের জীবনের বিষয়ে আপ টু ডেট থাকছিলেন।
কয়েক সপ্তাহ আগে, তিনি খবরটি শুনেছেন। ক্রাইস্টচার্চে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের মধ্যে ৬৬ বছর বয়সী আবদুস সামাদ ছিলেন। আল নূর মসজিদে তিনি প্রার্থনারত ছিলেন।
‘এটা এক সপ্তাহের বেশি হয়েছে এবং আমি এখনও কাঁদছি,’ শাহজাহান ক্লিভল্যান্ড থেকে বলেছিলেন।
‘তিনি সবচেয়ে সৎ মানুষদের অন্যতম।’
এই হামলার শিকার হওয়া বেশিরভাগ লোকজনের স্বজনরা নিউজিল্যান্ড থেকে দীর্ঘ দূরত্বে বসবাস করেন, সারা বিশ্ব জুড়ে মানুষ তাদের প্রাণহানির জন্য শোক প্রকাশ করে চলছে।
আবদুস সামাদ বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড উভয় দেশের মানুষকে শোকাতুর করেছেন। কানাডার পূর্ব প্রান্তের নোভা স্কটিয়া থেকে ওহাইয়ো, সোলোন অঞ্চলের সহকর্মী ও বন্ধুরা শোক প্রকাশ করছেন।
বাংলাদেশের গ্রামে, যেখানে সামাদের পরিবার আছে, স্থানীয়রা তার সম্মানে একটি মানববন্ধন করেছে। পরের সপ্তাহে আরো বড় সমাবেশ হবে তার স্মরণে।
শাহজাহান বলেন, সবাই তাকে পছন্দ করতো।
‘আপনি সেখানে যেকোনো লোককে জিজ্ঞাসা করতে পারেন এবং সবাই তার নাম জানেন।’
তার জীবন কঠিন পরিস্থিতিতে শুরু হয়েছিল, কিন্তু সামাদ ছিলেন একজন বুদ্ধিজীবী, যিনি নিজের সম্ভাবনা আরো বাড়াতে কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন।
তার তিন ভাইবোন, যাদের মধ্যে একজন মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন। পূর্ব পাকিস্তান বাংলাদেশে পরিণত হয়।
তিনি যে গ্রামে বড় হয়েছিলেন, সেটি ভারতের উত্তর সীমান্তের কাছে কুড়িগ্রাম জেলার মধুরহিলা নামে পরিচিত। গ্রামে পানি সরবরাহ ছিল না। এবং অধিকাংশ বাসিন্দার সামান্য শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল, শাহজাহান মন্তব্য করেন।
কিন্তু সামাদ বুদ্ধিমান এবং অধ্যবসায়ী ছিল। তিনি একটি আত্মাহুতি হিসেবে শিক্ষাকে দেখেছিলেন। যখন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে যান, তখন তিনি তার গ্রামেই থাকতেন, যদিও যাতায়াতে অনেক সময় লেগে যেত।
পরিবারটির ক্রাইস্টচার্চের বাড়িতে বসে সামাদের ছেলে তারিক মুহাম্মদ বলেন, ‘বাবা অত্যন্ত বিনয়ী ছিলেন।’
‘তিনি একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন। তবে আপনি যদি তার সঙ্গে কথা বলেন, তাহলে আপনি কখনো জানতে পারবেন না যে, তিনি অত্যন্ত শিক্ষিত ছিলেন।’
ক্রাইস্টচার্চে তাকে পিএইচডি দেয়ার সময় সামাদ ছিলেন এক ডজন বা তারও বেশি মুসলিমের মধ্যে একজন, যারা আল নূর মসজিদ নির্মাণে সহায়তা করেছিলেন, আর যেখানে তিন দশক পরে তাকে হত্যা করা হলো।
যদিও তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন, কিন্তু তিনি সব সময় নিউজিল্যান্ডে ফিরে যেতে চেয়েছিলেন। তার পরিবার ২০০৪ সালে ফিরে আসে, কিন্তু তিনি তার নাতিদের পড়াশোনায় সাহায্য করার জন্য বাংলাদেশে থাকতেন।
তিনি সর্বদা নিউজিল্যান্ড সম্পর্কে কথা বলেন, বলেন, তার বড় ছেলে তোহা মুহাম্মদ, যিনি বাংলাদেশে থাকেন।
‘তিনি এই দেশকে ভালোবাসা দিতে ফিরে এসেছিলেন,’ তোহা অশ্রু চেপে মন্তব্য করেন।
‘এখানকার মানুষ বেশি বন্ধুত্বপূর্ণ, আপনার একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আছে, প্রতিষ্ঠানগুলি ভালো। তিনি তাই এই দেশকে পছন্দ করতেন।’
সামাদ ২০১২ সালে স্থায়ীভাবে ক্রাইস্টচার্চে চলে যান।
তিনি যখন তা করেন, তখন তিনি আল নূর মসজিদের মুয়াজ্জিন হন। যিনি প্রার্থনা করার আহ্বান পাঠ করেন। তিনি মসজিদটিতে পাঁচবার যেতেন। এবং চেষ্টা করতেন মুসল্লিরা সবার আগে তার কণ্ঠ শুনতে পান।
‘তার দুই জায়গা ছিল, বাড়ি ও মসজিদ,’ তোহা বলেন।
‘এটাই তার জীবন ছিল।’
নিউজিল্যান্ডে তার প্রাথমিক ফোকাস ছিল তিনি স্থানীয় মুসলিম সমপ্রদায়ের নেতা। যেখানে তিনি একটি কমিউনিটি সংগঠক হিসেবেও কাজ করেছিলেন। সমপ্রদায়ের অনেকেই আপদে-বিপদে একজন বড় ভাই সামাদের কাছে ছুটে আসতেন।
বিশেষ করে, তিনি নও মুসলমানদের সঙ্গে কাজ করেছিলেন। ইসলামের নীতিগুলো সঠিকভাবে যাতে তারা শিখেন, সেটা তিনি নিশ্চিত করতে ব্যাকুল থাকতেন।
তারিক বলেন, ‘যদি আপনি একজন নতুন মুসলমান হন এবং আপনি খারাপ শিক্ষা পান তবে আপনি চরমপন্থি হতে পারেন।’
‘ইসলামে বর্ণিত সহানুভূতি ও সমবেদনা সম্পর্কে তাদেরকে অবহিত করার বিষয় তার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’
প্রথমদিকে, বিদেশি প্রচার মাধ্যম ভুলভাবে জানায় যে, মসজিদের শুটিংয়ে সামাদের স্ত্রীও নিহত হয়েছেন। এবং তাদের ছেলে তারিক নিখোঁজ।
উভয়ই সামাদের সঙ্গে মসজিদে যেতেন। কিন্তু তারা সেইদিন অসুস্থতার কারণে যাননি।
শুটিংয়ের পর বিশৃঙ্খলা ঘটেছে, অনেক পরিবারের মতো সামাদের প্রিয়জনরা চিন্তিত ছিলেন। তাই সামাদ মারা গিয়েছিল কিনা তা খুঁজে বের করতে তারা সংগ্রাম করেছে। রোববার পর্যন্ত জানা যায়নি যে তিনি মৃতদের মধ্যে ছিলেন। মৃতদেহ শনাক্ত করতেও সময় লেগেছে।
তারেক বলেন, ‘তিনি শান্ত, প্রেমময় মানুষ ছিলেন।’
‘এ কারণে তার এমন মৃত্যু এত কঠিন হয়ে আমাদের বুকে বাজছে। যে এত শান্ত-প্রেমময়, বিনম্র, যিনি সব সময় শান্তি শিখিয়েছেন ... তার এমন অকাল তিরোধান, এটা গ্রহণ করা খুব কঠিন।’
তোহা মাত্র গত সপ্তাহেই তার পরিবারকে সাহায্য করার জন্য বাংলাদেশ থেকে এসেছিলেন, তিনি এখনো তার বাবার মৃত্যু মেনে নেননি।
তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য তিনি হিরো, অনুপ্রেরণা, পিতা, সবকিছুই ছিলেন। জ্যেষ্ঠপুত্র হওয়ার কারণে আমার সঙ্গে তার সম্পর্কের মধ্যে ভাইদের মতো কিছুটা অনুভব করতাম।’
‘এটা আমাদের সকলের জন্য এক দুঃসহ বোঝা। আমি এখনো এটি গ্রহণ করতে পারছি না- আমি বুঝতে পারছি না কেন তাকে এবং তাদেরকে হত্যা করা হলো?’
কয়েক বছর আগে, সামাদ তার স্ত্রী ও তার জ্যেষ্ঠপুত্রকে বলেছিলেন যে, ‘তিনি যেখানেই মারা যান, সেখানেই তাকে যেন দাফন করা হয়, সেটা হোক বাংলাদেশ বা নিউজিল্যান্ড।’
তার ইচ্ছানুসারে গত শুক্রবার অন্যান্য কয়েকজন ভিকটিমের মতো তাকেও লিনউড কবরস্থানে দাফন করা হয়।
বিশ্বের অন্য দিকে, ওহাইয়োতে সোলন নামক একটি শহরে, কয়েকশ’ মানুষ ক্রাইস্টচার্চ হত্যার শিকারদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য জড়ো হয়েছিল।
শাজু শাহজাহান মাইক্রোফোনটি গ্রহণ করেন এবং তার সেরা বন্ধু সম্পর্কে কথা বলেন। সামাদ গ্রামীণ বাংলাদেশে বড় হয়েছিলেন, কিন্তু নিউজিল্যান্ডের একটি মসজিদে তার জীবনের আলো নিভে গেল।
ক্লিভল্যান্ড জিউশ সংবাদমাধ্যমকে শাহজাহান সাজু বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামে ড. সামাদের সঙ্গে বড় হয়েছিলাম।’
‘তিনি মেধাবী, দয়ালু, ধার্মিক এবং চাপা স্বভাবের এক নিরহঙ্কারী ব্যক্তি ছিলেন।’
[নিউজিল্যান্ডের স্টাফডটকো-এর সৌজন্যে, প্রকাশিত]

Saturday, March 30, 2019

‘বন্দুকধারীকে আমি ক্ষমা করে দিয়েছি’

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে ঘটা ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ভাগ্যের জোরে বেঁচে যান ফরিদ আহমেদ। কিন্তু এ হামলায় নিহত হন তার স্ত্রীসহ অর্ধশত মানুষ। শুক্রবার ২০,০০০ মানুষের এক সমাবেশে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, আমি ওই বন্দুকধারীকে ক্ষমা করে দিয়েছি। আল-জাজিরা জানিয়েছে, দুই সপ্তাহ আগে ঘটা ভয়ংকর সেই সন্ত্রাসী হামলার জাতীয় স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয় ক্রাইস্টচার্চে। সেখানেই বক্তব্য রাখেন ওই হামলার প্রত্যক্ষদর্শী ও ভাগ্যক্রমে বেঁচে ফেরা ফরিদ আহমেদ।
ফরিদ আহমেদ বলেন, আমি আমার স্ত্রীর হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দিয়েছি কারণ আমি আগ্নেয়গিরির মত জ্বলতে থাকা একটি হৃদয় নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই না। আমি আমার হৃদয়কে ভালবাসা ও দয়ায় পূর্ন রাখতে চাই যাতে আমি সহজেই হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দিতে পারি। আমি চাই না আমার ক্ষতির জন্য পৃথিবীর আর একটি প্রাণও হারিয়ে যাক।
সমাবেশে তিনি সকলকে একসঙ্গে শান্তির জন্য কাজ করে যাওয়ার আহবান জানান। ফরিদ আহমেদ নিউজিল্যান্ডের সব নাগরিকদের একটি পরিবারের অংশ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, আমি হয়ত ভিন্ন এক সংস্কৃতি থেকে এসেছি, আপনিও অন্য এক সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী, হয়ত আমার বিশ্বাস এক, আপনার বিশ্বাস আমার থেকে আলাদা কিন্তু আমরা একসঙ্গে বৈচিত্রময় একটি বাগানের মত।
হামলার পর নিউজিল্যান্ডজুরে নিহতদের স্মরণে বেশ কয়েকটি স্বরণসভা আয়োজন করা হয়েছে। তবে এটি ছিল সবথেকে বড়। এতে অংশ নিয়েছেন দেশটির শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনও এ স্মরনসভায় যোগ দিয়েছেন। এতে সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিখ্যাত সঙ্গীত শিল্পীরা। এর মধ্যে রয়েছেন শিল্পী ইউসুফ ইসলাম যিনি পিস ট্রেন নামে তার বিখ্যাত গানটি গান। হাজার হাজার মানুষ নিশ্চুপভাবে দাঁড়িয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
স্মরণসভায় প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডেন একটি মাওরি আদিবাসীদের পোষাক পরে আসেন। তিনি বিশ্ববাসীর প্রতি সবধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এক হওয়ার আহবান জানান। আরডেন বলেন, সকল সহিংসতার একটি সহজ সমাধান রয়েছে। এটি কোনো সীমানা নয়, জাতিগোষ্ঠী বা শক্তি নয়, এমনকি কোনো সরকারও নয়। এর সমাধান নিহিত আছে মানবতার মধ্যে। সমাবেশস্থলটি কড়া নিরাপত্তায় ঘিরে রাখা হয়েছে। ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে হামলার পর থেকে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীগুলো সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।

Friday, March 29, 2019

কেউ ভাবেনি ওরা এভাবে ফিরবে

কেউ ভাবেনি ওরা এভাবে ফিরবে। পরিবার, পরিজন, স্বজন সবার স্বপ্নকে কবর দিয়ে ওরা ফিরেছে লাশ হয়ে। অথচ ওরা নিজে যেমন স্বপ্ন দেখেছিলেন, তেমন স্বপ্ন দেখতে পরিবারকেও ভাবিয়েছেন। কোথা থেকে কি হয়ে গেল। সন্ত্রাস তাদের জীবন কেড়ে নিল। গোটা বিশ্ব তা তাকিয়ে দেখলো। নারায়ণগঞ্জ বন্দরের ওমর ফারুক ও নরসিংদীর পলাশের জাকারিয়া ভুঁইয়া। নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ আল নূর মসজিদে শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসীর গুলিতে নিহত ৫০ জনের ২ জন।
মঙ্গলবার রাতে তাদের লাশ বহনকারী বিমান শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ল্যান্ড করে। শোকে কাতর স্বজনরা অপেক্ষা করছিলেন লাশ গ্রহণে। রাতেই লাশ গ্রহণ করে তাদের নিজ নিজ গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। গতকাল তাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
গত বুধবার সকাল ১০টায় বন্দর উপজেলার সিরাজদ্দৌলা মাঠে জানাজা শেষে পৌনে ১১টায় বন্দর কবরস্থানে ওমর ফারুকের দাফন সম্পন্ন হয়। ওমর ফারুকের পরিবারের স্বজনরা ছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও শত শত এলাকাবাসী এতে অংশ নেন।
মঙ্গলবার রাতে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হলে মধ্যরাতে বন্দর উপজেলার রাজবাড়ী এলাকায় নিজ বাড়িতে আনা হয়। তখন থেকেই নিকট আত্মীয়স্বজনরা বাড়িতে আসতে শুরু করেন। সকালে গোসল শেষে ওমর ফারুকের মরদেহ বাড়ির সামনে রাখা হলে এলাকাবাসী ও দূর-দূরান্ত থেকে তার বন্ধুবান্ধব এবং স্বজনরা বাড়িতে এসে ভিড় জমান শেষবারের মতো ওমর ফারুকের মুখটি দেখতে। জানাজার আগ মুহূর্তে কফিনের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন ওমর ফারুকের মা রহিমা বেগম, তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সানজিদা জামান নিহা ও তিন বোনসহ শোকার্ত স্বজনরা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তারা বলতে থাকেন, কেউই আশা করেন নি ওমর ফারুক এভাবে লাশ হয়ে বাড়িতে ফিরবে। একমাত্র উপার্জনকারী ওমর ফারুককে হারিয়ে পরিবারের অসহায় অবস্থার কথাও তারা তুলে ধরেন।
নিহত ওমর ফারুকের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সানজিদা জাহান নিহা বলেন, আমার স্বামীকে তো আর আমি ফিরে পাবো না। কোনোভাবেই তার শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়। সে ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। তাকে হারিয়ে এই পরিবারে আমি, আমার বৃদ্ধা শাশুড়ি এবং অবিবাহিত একটি ননদ এখন নিঃস্ব। তিনি বলেন, সরকারের কাছে আমার একটাই দাবি, সরকার যেন আমাদের এই পরিবারটির কথা ভুলে না যায়। এর বেশি আমার আর কিছু বলার নেই।
সকাল সাড়ে ৯টায় জানাজার লক্ষ্যে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় সিরাজদ্দৌলা মাঠের উদ্দেশে। ১০টায় জানাজা শেষে পৌনে এগারোটায় দাফন সম্পন্ন হয় বন্দর কবরস্থানে। সেখানে ছেলেবেলার বন্ধুরা ও এলাকাবাসী ওমর ফারুকের স্মৃতিচারণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। জানাজায় অংশ নেন বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল, সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুলতান আহম্মেদ, কাউন্সিলর হান্নান সরকার, বন্দর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম সহ স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা।
এদিকে জানাজার পর পরিবারের স্বজনদের সমবেদনা জানাতে নিহত ফারুকের বাড়িতে যান নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। এসময় তিনি নিউজিল্যান্ডের এ ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বলে উল্লেখ করেন। নিউজিল্যান্ড সরকারের তাৎক্ষণিক ভূমিকার ব্যাপারে সে দেশের সরকারকে ধন্যবাদও জানান আইভী। আইভী বলেন, ওমর ফারুক নিশ্চিত শহীদের মৃত্যুবরণ করেছে। আমি দোয়া করি আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করবেন। এই ধরনের মৃত্যু আমরা কখনোই আশা করিনি।
মেয়র আইভীকে কাছে পেয়ে এলাকাবাসী বন্দর এলাকায় ওমর ফারুকের নামে একটি সড়কের নামকরণ করার দাবি জানালে আইভী গণমাধ্যমকে বলেন, এ ব্যাপারে আমি স্থানীয় কাউন্সিলরের সঙ্গে কথা বলবো। কাউন্সিলর বিষয়টি নিয়ে অফিসিয়ালি প্রস্তাব করবে। তারপর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে যথাসাধ্য বিবেচনা করা হবে।
গত ১৫ই মার্চ শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ আল-নূর মসজিদে জুমার নামাজের সময় বন্দুকধারী সন্ত্রাসীর গুলিতে ৫০ জন নিহত ও ৪৭ জন আহত হন। এ ঘটনায় নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশি ছিলেন ৫ জন। এদের মধ্যে একজন নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার রাজবাড়ী এলাকার ওমর ফারুক। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার জন্য ২০১৫ সালে নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমান পিতাহারা তিন বোনের একমাত্র ভাই ওমর ফারুক। ২০১৭ সালে দেশে এসে বিয়ে করেন একই এলাকায়।  গেল বছরের ১৬ই নভেম্বর আবারো দেশে এসে বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে কিছুদিন কাটিয়ে গত ১৮ই জানুয়ারি ফিরে যান নিউজিল্যান্ডে। এটাই ছিল পরিবারের সঙ্গে ওমর ফারুকের শেষ দেখা।
জাকারিয়া ভূঁইয়ার লাশ নরসিংদীর পলাশের জয়পুরা গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে রাতেই। সকাল সাড়ে ১১টায় স্থানীয় ঈদগাহ ময়দানে মরহুমের নামাজের জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্তানে দাদা-দাদির কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। নিহত জাকারিয়াকে শেষবারের মতো দেখতে বাড়িতে শত শত লোক ভিড় জমায়। এ সময় শিবপুর আসনের সংসদ সদস্য জহিরুল হক ভূঁইয়া মোহন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা ইয়াসমিন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান ভূঁইয়া বদিসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংসারের সচ্ছলতা আনতে প্রায় আড়াই বছর আগে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার গজারিয়ার ইউনিয়নের জয়পুরা গ্রামের আবদুল বাতেন ভূঁইয়ার বড় ছেলে জাকারিয়া ভূঁইয়া নিউজিল্যান্ড পাড়ি জমায়। জুমার নামাজ আদায় করতে স্থানীয় মসজিদে যায়। এ সময় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয় জাকারিয়া। লাশ গ্রামের বাড়িতে ফেরার পর হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বাড়ি জুড়ে শুরু হয় শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারি আর কান্নায় ভারি হয়ে উঠেছে আশপাশের পরিবেশ।
নিহত জাকারিয়ার স্ত্রী রীনা বেগম বলেন, আমার তো সবই শেষ। স্বামীও শেষ। সংসারও শেষ। বেঁচে থাকার সম্বল শেষ। চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। স্বামী যেন বেহেস্ত নসিব হয় সেই জন্য সবার কাছে  দোয়া চেয়েছেন।
নিহতের বাবা আবদুল বাতেন ভূঁইয়া বলেন, পৌনে ১১টায় আমরা লাশ বুঝে পেয়েছি। তারপর গ্রামের বাড়ি নিয়ে আসি। লাশের সঙ্গে কিছু আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে বলে আমাদের নিউজিল্যান্ড থেকে জানিয়েছিল। কিন্তু কিছুই পাইনি।
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান লাল মিয়া বলেন, পরিবারের সচ্ছলতা আনতে ধারদেনা করে  নিউজিল্যান্ড পাড়ি জমায় জাকারিয়া। কিন্তু এভাবে তার মৃত্যু হবে তা জানতাম না। তার মৃত্যুতে পুরো পরিবারের ওপর একটা আর্থিক চাপ পড়ে গেছে। এখন বাংলাদেশ সরকার ও নিউজিল্যান্ডের সরকার পরিবারটিকে আর্থিক সহায়তা করে পুরো পরিবারটিকে মৃত্যুর হাত থেকে যেন বাঁচায়।
পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা ইয়ামিন বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে মরদেহ গ্রহণ করে বাড়ি পৌঁছে দেয়ার সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ছাড়াও বিধিবিধান অনুযায়ী নিহতের পরিবারকে সকল ধরনের সহায়তার করা হবে।

Wednesday, March 27, 2019

সন্ত্রাসী ব্রেনটনের আদ্যোপান্ত

সন্ত্রাসী ব্রেনটন হ্যারিসন টেরেন্ট (২৮)। অস্ট্রেলিয়ার সাউথ ওয়েলসে তার জন্ম। সংক্ষেপে তাকে ডাকা হয় ব্রেনটন টেরেন্ট নামে। তার জন্ম এক কর্মজীবী পরিবারে। তার ছিল সাধারণ জীবন। শ্বেতাঙ্গ যুবক সে। একাকী থাকতো। পড়াশোনা নেই। অশিক্ষিত।
নিউজিল্যান্ডে গিয়ে ডুনেদিনের পূর্বদিকে বসবাস করতো সমারভিলে স্ট্রিটের একটি বাড়িতে। কিন্তু এই বাড়ির আশপাশে যারা বসবাস করেন তারা কখনো ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলাকারী এই সন্ত্রাসীকে দেখেন নি। হয়তো প্রতিবেশীরা একে অন্যকে পথে অতিক্রম করে গেছেন কাজে যাওয়ার সময়। আবার সন্ধ্যায় ফিরেছেন বাসায়। কিন্তু ব্রেনটন টেরেন্টকে তারা দেখতে পান নি। কারণ, সে সব সময়ই থাকতো দৃষ্টির আড়ালে। নিজের মতো করে সময় কাটাতো। কোনো চাকরি বা কাজ ছিল না। তবে শহরের দক্ষিণে প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি ‘গান ক্লাবে’ যেতো, জিমে যেতো। মাঝে মাঝেই বিদেশ সফরে যেতো। সে কিভাবে উগ্রপন্থি বা সন্ত্রাসী হয়ে উঠল তা নিয়ে এক প্রতিবেদনে এসব কথা লিখেছে অনলাইন নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড।
এক বছরের বেশি সময় সমারভিলে স্ট্রিটের ডুপ্লেক্স বাড়িতে সে একাকী বসবাস করতো। ১৫ই মার্চ ক্রাইস্টচার্চে আল নূর ও উইনউড মসজিদে হামলা চালিয়ে সে কমপক্ষে ৫০ জন মুসল্লিকে হত্যা করে। নিউজিল্যান্ডে সবচেয়ে ন্যক্কারজনক এই সন্ত্রাসী হামলা। তারপর থেকে তার জীবনকে দেখা হচ্ছে আলাদা করে। তদন্ত চলছে কিভাবে সে এমন উগ্রবাদী, সন্ত্রাসী হয়ে উঠলো।
তার বস্তাব জীবন ছিল ইন্টারনেটভিত্তিক। একজন প্রতিবেশী বলেছেন, আমাদের পাশেই সে ছিল-  এটা ভেবে বুক কাঁপে। এখন প্রতিবারই যখন রান্নাঘরের জানালা দিয়ে বাইরে তাকাই তখন ভাবি, ওই বাড়িতে সে কতগুলো বন্দুক, কি পরিমাণ বোমা লুকিয়ে রেখেছিল? তার এমন কর্মকান্ডের জন্য আমরা নিজেদের অপরাধী মনে করি।
নিজের প্রকাশিত ‘ম্যানিফেস্টো’তে ব্রেনটন নিজেই বলেছে, নিউজিল্যান্ডে থাকার জন্য কেন সে ডুনেদিনকে বেছে নিয়েছে তার কোনো বিশেষ কারণ নেই। সে শুধু চেয়েছিল অস্থায়ীভাবে কোথাও থাকতে এবং নিজের প্রশিক্ষণ নিতে। তাই সে স্থানীয় একটি রাইফেল ক্লাবে যোগ দেয়। নিউজিল্যান্ডের অস্ত্র বিষয়ক আইন ব্যবহার করে অস্ত্র কিনেছে, এই অস্ত্র ব্যবহার করে সে হামলা চালায়। সে বলেছে, এমন হামলা পরিকল্পনা করেছে সে দু’বছর ধরে। বিশেষ করে শেষ তিন মাসে এসে তার পরিকল্পনা চূড়ান্ত আকার ধারণ করে।
২০১০ সালে তার পিতা রোডনি মারা যান। তার পর থেকেই সে বিদেশ ভ্রমণ শুরু করে। এ সময় থেকেই তার মধ্যে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদের প্রতি ঝোঁক সৃষ্টি হয় বলে মনে করা হয়। দম্ভ করতে থাকে অনলাইনে। বলতে থাকে তার কাছে উত্তরাধিকার সূত্রে ৫ লাখ ডলার আছে। বিনিয়োগ করেছে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ডিজিটাল মুদ্রায়। এসব অর্থের কারণে সে কোনো কাজ না করেই দিন কাটাতে পারতো। সে বলেছে, যখন সে ইউরোপে তখনই রাজনৈতিক বিশ্বাসটা তার ভিতর ব্যক্তিগত বিষয় হয়ে উঠতে শুরু করে।
সে ইঙ্গিত করেছে তার দৃষ্টিভঙ্গি প্রভাবিত হয়েছে তিনটি সুনির্দিষ্ট ইভেন্ট থেকে। তার মধ্যে একটি হলো সুইডেনে সন্ত্রাসী হামলায় ১১ বছরের একটি মেয়েকে হত্যা। ২০১৭ সালে ফরাসি নির্বাচনের ফল এবং বিশ্বে যেসব দেশে যুদ্ধ হয়েছে সেখানকার সমাধিক্ষেত্রগুলো দেখে। সে যেসব দেশ ভ্রমণ করেছে তার মধ্যে রয়েছে উত্তর কোরিয়া, পাকিস্তান, তুরস্ক ও গ্রিস। সম্প্রতি সে সফর করেছে বুলগেরিয়া, রোমুানিয়া ও হাঙ্গেরি। প্রথম দিকে তার সফরের ছবি বলতে বানর বা কচ্ছপের ছবি থাকতো। অথবা কোনো ডুবুরির ছবি থাকতো। কিন্তু পরে সেই ধারা পাল্টে যায়। তার সফরে যেসব ছবি প্রাধান্য পায় তার মধ্যে রয়েছে খ্রিস্টান-মুসলিম যুদ্ধের ঐতিহাসিক স্থানগুলোর ছবি।
রিপোর্ট অনুয়ায়ী সে যেসব স্থান সবশেষে সফর করেছে তার মধ্যে রয়েছে মন্টেনেগ্রো। সেখানে ১৮৬০ এর দশকে অটোম্যান সেনাবাহিনী যে আশ্রমে হামলা চালিয়েছিল সেখানে গিয়েছিল সে। ওই স্থানটি রক্ষার জন্য চেষ্টা করেছিলেন যে সার্বিয়ান নেতা, পরে তেমনই একটি অস্ত্র ব্যবহার করেছে সে ক্রাইস্টচার্চে হামলায়। অভিযুক্ত এই সন্ত্রাসী তার ম্যানিফেস্টো ও ফেসবুকে আগের ঘটে যাওয়া কিছু সন্ত্রাসী ঘটনার উল্লেখ করেছে। এতে সে উল্লেখ করেছে নরওয়ের উগ্র ডানপন্থি সন্ত্রাসী অ্যান্ডার্স ব্রেইভিকের নাম। তুলে ধরেছে অসওয়াল্ড মোসলের মতো ঐতিহাসিক ফ্যাসিস্টদের নাম।
কোনোমতে স্কুলের পড়াশোনা শেষ করেছে সে। একজন ব্যক্তিগত প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করতে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে পা রাখে নি। এরপরই সে অনলাইনে বিভিন্ন জিনিস খোঁজা শুরু করে। সে লিখেছে, এর বাইরে আপনি অন্য কোথাও সত্য খুঁজে পাবেন না।
তার ম্যানিফেস্টো বিশ্লেষণ করেছেন নিউজিল্যান্ড ইন্সটিটিউট অব সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম সায়েন্সের জয়েন্ট ডিরেক্টর ডেভেন পোলাশচেক। তিনি বলেছেন, সমস্যা হলো টেরেন্ট স্বশিক্ষিত। নিজে নিজে তথ্য বাছাই করেছে। আর সেই তথ্যগুলো যাচাই বাছাই না করে সে ধারণ করেছে। সে দৃশ্যত নরডিক, আর্য্য আদর্শ ধারণ করতো বলে মনে হয়। তার পোস্টগুলোতে ভরা স্বর্ণালী চুলের নারী ও শিশুতে। আর থাকতো দেখতে শক্তিমান পুরুষ। তাকে দেখা যেতো কখনো ঘোড়ার পিছে। প্রথম দিকে তার এসব ম্যাসেজকে দেখে অনেকে কল্পনা করতেন কৌতুক হিসেবে।
পিএইচডি করছেন বেন এলি। তিনি বলেন, অনেক মানুষ এসবই সত্যিকারভাবে বিশ্বাস করে। তাদের মধ্যে এমন আদর্শ কাজ করে যে নরডিক বিষয় হলো ইতিহাসের অংশ। যেমনটা প্রাচীনযুগে পূজা করা হতো। একই রকমভাবে কিছু মানুষ ১৯৫০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি আদর্শ হিসেবে দেখতো। তারা ভাইকিংসকে পছন্দ করতো।
ক্রাইস্টচার্চে হামলার পর বিশেষজ্ঞরা ও সাংবাদিকরা সন্ত্রাসী ব্রেনটন টেরেন্টের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ শুরু করেছেন। তারা সেুলোকে ইতিহাসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করছেন। টেরেন্ট বলেছে, সে একজন ‘ইকো-ফ্যাসিস্ট’। আল নূর মসজিদে হামলার কয়েক মিনিট আগে সে তার বন্ধুদের জন্য (8chan )-এ  পোস্ট দেয়া কিছু সময়ের জন্য স্থগিত করে। (8chan ) হলো একটি অনলাইন ম্যাসেজ বোর্ড। তার প্রোফাইল ছবিতে ছিল একটি কার্টুন। তাতে তার হ্যাটে ব্যবহার করা হয়েছে অস্ট্রেলিয়ান কিছু বিষয়। হাতে ধরা ভিক্টোরিয়া বিটার বিয়ারের বোতল। কৌতুক করে সে লিখেছে, ওকে ল্যাডস, এখন পোস্টিং দেয়া বন্ধের সময়। এখন সময় বাস্তব জীবনধর্মী প্রচেষ্টার পোস্ট। এ সংক্রান্ত আরো কিছু পোস্ট দেয় সে ওই বোর্ডে।
তাৎক্ষণিকভাবে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় ওই (8chan ) বোর্ডে। বেশির ভাগ ব্যবহারকারী তার সফলতা কামনা করে। এখানেই ফেসবুক লাইভের লিঙ্ক দিয়েছিল সে। কিন্তু অনেকেই ওই লিঙ্কে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। কারণ, এতে ব্যবহার করা হচ্ছিল ফেসবুক। অনেকে ত্রস্ত হয়ে পড়ে। তারা মডারেটরদের প্রতি ওই লিঙ্ক ডিলিট করতে অনুরোধ জানায়। তাদের মধ্যে ভয় কাজ করতে থাকে যে, এ কারণে তাদের ফোরামটি বাতিল হয়ে যেতে পারে।
এরপরই শুরু হয় হামলা। 8chan ও ফেসবুক ব্যবহারকারীরা সরাসরি সম্প্রচার করা ভিডিও সেভ করতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে। অন্য স্থানে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। ইউটিউব ও ফেসবুক অনুযায়ী, মুহূর্তের মধ্যে ওই ভিডিও হাজার হাজার বার পোস্ট হয়ে যায়। যত তাড়াতাড়ি তা ডিলিট করা যায়, তার চেয়ে বেশি গতিতে এটি ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ইন্টারনেট সেবাদানকারীরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সব ফুটেজ বাতিল করে দিতে বা ব্লক করে দেয়ার চেষ্টা করতে থাকে।
সন্ত্রাসী ব্রেনটন টেরেন্ট এখন বন্দি। তার বিচার চলছে। কিন্তু আদালতেও সে বুক চেতিয়ে দাঁড়িয়েছে প্রথম দফায়। সে চেয়েছে তার দৃষ্টিভঙ্গি ছড়িয়ে দিতে। আদালতে তাকে দেখা গেছে ফিটফাট। মনোবল যেন ভাঙে নি। এমন কি এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদের চিহ্ন ফুটিয়ে তোলে হাতে। তাকে গ্রেপ্তারের পর শুরু হয় ব্লেম গেম। কেউ কেউ দায়ী করার চেষ্টা করে তার ‘গান ক্লাব’কে ও এর সদস্যদের। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় উগ্রবাদের বিস্তার ঘটানোর। এর জবাবে ভাইস প্রেসিডেন্ট স্কট উইলয়ামস বলেছেন, সন্ত্রাসী ব্রেনটন যে ক্লাবে ওই অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিতো, তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

Tuesday, March 26, 2019

উঁচু পর্যায়ের তদন্ত হবে: নিউজিল্যান্ড প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দু’টি মসজিদে উগ্র শ্বেতাঙ্গ কর্তৃত্ববাদী সন্ত্রাসীর হামলায় ৫০ মুসল্লি নিহত হওয়ার ঘটনা তদন্ত করবে দেশটির সর্বোচ্চ তদন্তকারী সংস্থা ‘রয়্যাল কমিশন’। আজ (সোমবার) মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এ কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন।
তিনি বলেন, “হামলার ঘটনাটি আমাদের ইতিহাসের কালো অধ্যায়। তাই সর্বোচ্চ তদন্তকারী সংস্থা রয়্যাল কমিশন এর তদন্ত করবে।” মন্ত্রিসভার বৈঠকে সদস্যরা এ বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন বলে তিনি জানান। ওই হামলা প্রতিরোধে করণীয় কী ছিল তাও খাতিয়ে দেখবে রয়্যাল কমিশন।
এর আগে, হামলার বিষয়টি তদন্তে একমত হয়েছিল মন্ত্রিপরিষদ তবে কী ধরনের তদন্ত হবে তা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয় নি তখন।
গত ১৫ মার্চ জুমার নামাজের সময় ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদ ও লিনউড মসজিদে সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলায় ৫০ জন নিহত এবং প্রায় ৪৮ জন আহত হন। হামলাকারী শ্বেতাঙ্গ কর্তৃত্ববাদী ব্রেনটন টেরেন্টকে পরে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। তবে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্নের মানবিক ভূমিকায় মুগ্ধ হয়েছে পুরো বিশ্ব।

Sunday, March 24, 2019

লিডার অব দ্য ওয়ার্ল্ড by সাজেদুল হক ও অনিম আরাফাত

খবরটা ততক্ষণে চাউর হয়ে গেছে। টিভি পর্দায় কোটি কোটি মানুষের চোখ। সংবাদ সম্মেলনে এলেন এক ভদ্রমহিলা। সরাসরি সম্প্রচারিত হচ্ছে বিবিসি, আল জাজিরায়। যারা চিনেন না তারা হয়তো বুঝতে পারেননি, তিনি নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিনদা আরডেন। পাশে কোনো চেলা, চামুণ্ডা নেই। একা একাই দীর্ঘক্ষণ সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে  গেলেন। দীপ্ত কণ্ঠে উচ্চারণ করলেন, আজকের দিনটি নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে অন্ধকার দিন।
আক্রান্ত মুসলিম সম্প্রদায়কে অভয় দিলেন, তোমরাই আমরা। জাসিনদা আরডেনের সাদাসিধে চলাফেরা সেদিনই অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। পশ্চিমা দুনিয়ার শাসকদের জন্য এটা অবশ্য ব্যতিক্রম কোনো ঘটনা নয়। কিন্তু গত এক সপ্তায় যা যা হলো তাতে নিউ ইয়র্ক টাইমস পর্যন্ত আফসোস করেছে, আমেরিকার যদি একজন আরডেন থাকতো।
পৃথিবীটা এমনিতেই খুব খারাপ একটা সময় অতিক্রম করছে। দেশে দেশে ডনাল্ড ট্রাম্প, নরেন্দ্র মোদিদের উত্থান। ভোটের বাজিতে উত্‌রাতে উস্কে দেয়া হচ্ছে ঘৃণা। আকাশে বোমারু বিমান। এ যেন সেই সময় যে সময়ের বয়ান দিতে গিয়ে আল মাহমুদ লিখেছেন, ‘ভাবো, ইতিহাসের গতিরুদ্ধ। মানুষের আর কোনো ইতিহাস থাকবে না। পুঁজি থাকবে, সাম্রাজ্যবাদী বিশ্ববিচরণশীল লুণ্ঠন থাকবে, কিন্তু না বলার মতো কোনো দেশ থাকবে না। কেবল মহাকাশব্যাপী ঈগলখচিত বোমারু বিমানগুলো উড়বে- কিন্তু মাটি, পাহাড় বা সাগর থাকবে না।’
সেই সময়ে দাঁড়িয়ে দুনিয়াতে এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন আরডেন। ৩৮ বছর বয়সী এই প্রধানমন্ত্রী উত্‌রে গেলেন তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষায়। এমন পরীক্ষার টেবিলে নিউজিল্যান্ডের আগের কোনো প্রধানমন্ত্রীকে বসতে হয়নি। এমনিতে নিউজিল্যান্ড শান্তির দেশ হিসেবে পরিচিত। খুন-খারাবি নেই বললেই চলে। সেখানে এক শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসী চরম ঘৃণা নিয়ে হামলা চালালেন মসজিদে। হত্যা করলেন ৫০ মুসল্লিকে। এই নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডে তোলপাড় তৈরি হয় সারা দুনিয়াতেই। তবে ঘটনাটি যে হঠাৎ করেই ঘটেনি তা বহু পর্যবেক্ষকই স্বীকার করেন। পশ্চিমা রাজনীতিবিদ ও গণমাধ্যমের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে এ ঘৃণা ছড়িয়ে আসছে। ইসলামভীতি তৈরিতে নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে আসছেন তারা।
কিন্তু নিউজিল্যান্ডে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা এটা আবার সামনে নিয়ে আসে যে সন্ত্রাসের কোনো ধর্ম নেই, জাত নেই। নিউজিল্যান্ড, এ দেশটির জনগণ ও প্রধানমন্ত্রী তামাম দুনিয়ার সামনে নজির হাজির করেন- কেবলমাত্র ভালোবাসা দিয়েই পরাজিত করা সম্ভব ঘৃণাকে। তারা একযোগে মুসলমানদের পাশে এসে দাঁড়ান। তাদের অভয় দেন। সংহতি প্রকাশ করেন। হিজাব পরে আরডেন এবং তার দেশের নারীরা বার্তা দেন মুসলিম নারীদের। ‘সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই’- সেই চিরায়ত উচ্চারণ দীপ্তকণ্ঠে ফিরে আসে আরডেনের মুখে।
মুহূর্তেই সারা দুনিয়ার মানুষের মন জয় করে নেন তিনি। আক্রান্ত নূর মসজিদের ইমাম যখন বলেন, নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী যেভাবে এই ঘটনার নিন্দা করেছেন, শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন তা গোটা বিশ্বে একটি দৃষ্টান্ত। এটা শুধু নূর মসজিদের ইমামের কথাই নয়, এটা যেন এখন সারা পৃথিবীরই কথা। মুক্ত দুনিয়ার মানুষ, রাজনীতিবিদরা আকুণ্ঠ প্রশংসায় মেতেছেন আরডেনের। বিশ্ব সংবাদ মাধ্যমও যোগ দিয়েছে এ দৌড়ে। নিউ ইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট, গার্ডিয়ান থেকে সারা পৃথিবীর সংবাদ মাধ্যমে এক প্রশংসিত নাম আরডেন। সবারই প্রশ্ন এমনও হয় নাকি। আরডেনের প্রশংসা করে নিউ ইয়র্ক টাইমসের সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছে, আতঙ্ক কীভাবে সামাল দিতে হয় তা আরডেনের কাছ থেকে শেখা উচিত বিশ্বের। অন্যদিকে, গার্ডিয়ানে লেখা হয়েছে সত্যিকারের নেতা।
আরডেনকে নোবেল দেয়ার পিটিশন:
এই পরিস্থিতিতে জাসিনদা আরডেনকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেয়ার দাবি উঠেছে। এরই মধ্যে দুটি পিটিশন করা হয়েছে। একটি পিটিশন করা হয়েছে চেঞ্জ ডট অর্গ (ঈযধহমব.ড়ৎম)-এ। আরেকটি করা হয়েছে ফরাসি ওয়েবসাইট আভাজ ডট অর্গ (অঠঅঅত.ড়ৎম)-এ। অনলাইনে এ দুটি পিটিশনে এরই মধ্যে স্বাক্ষর করেছেন কয়েক হাজার মানুষ। এ খবর দিয়েছে অনলাইন নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড। ফরাসি সাইটে লেখা হয়েছে, ক্রাইস্টচার্চে বিয়োগান্তক ঘটনার পর উপযুক্ত, উন্মুক্ত ও শান্তিপূর্ণভাবে যে পদক্ষেপ নিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিনদা আরডেন, আমরা আশা করি আগামীতে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার তার হাতে তুলে দেয়া হবে। ধারণা করা হচ্ছে, ফরাসি সাইটে এই আবেদনটির উদ্যোক্তা ফরাসি কবি ড. খাল তোরাবুলি।
নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড লিখেছে, গত সপ্তাহের ওই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর দেশকে যেভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন তার জন্য সারা বিশ্ব তার প্রশংসা করেছে। তার এ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে দুবাইয়ের বুর্জ খলিফায় তাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তাতে একজন মুসলিম নারীকে তিনি আলিঙ্গন করছেন- এমন একটি ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। মুসলিমদের প্রতি তিনি যে আন্তরিক সহানুভূতি ও সমর্থন দেখিয়েছেন তার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ। বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের ১৫০ কোটি মুসলিমের শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন জাসিনদা।
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীকে আমিরাতের ‘সালাম’: বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন বুর্জ খলিফায় ফুটিয়ে তোলা হলো আরডেনকে। এতে দেখানো হয়েছে, তিনি ক্রাইস্টচার্চে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত মুসলিমদের পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিচ্ছেন। হামলার পর মুসলিমদের প্রতি তিনি যে সমর্থন, সম্মান দেখিয়েছেন তার প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করতে শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থিত বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন বুর্জ খলিফায় তাকে এভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়। সিডনি মর্নিং হেরাল্ডকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে অনলাইন দ্য স্ট্রেইটস টাইমস।
প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, ৮২৯ মিটার উঁচু বুর্জ খলিফার চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। তার মধ্যে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে এই টাওয়ার। এর উপরেই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে আরডেনকে। তিনি মাথায় স্কার্ফ পরা। মসজিদে হামলায় নিহতদের এক নারী স্বজনকে জড়িয়ে ধরে আছেন তিনি। তার মাথার একটু উপরে আরবিতে লেখা ‘সালাম’ যার অর্থ শান্তি। বুর্জ খলিফার এমন ছবি টুইট করেছেন সংযুুক্ত আরব আমিরাতের প্রধানমন্ত্রী, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ।
শেখ  মোহাম্মদ শুক্রবার টুইটে লিখেছেন, মসজিদে হামলায় শহীদদের সম্মানে নিউজিল্যান্ড নীরব আজ (শুক্রবার)। সন্ত্রাসী হামলার পর বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের মধ্যে এক হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। তারপর নিউজিল্যান্ড  ও এ দেশের প্রধানমন্ত্রী জাসিনদা আরডেন যে আন্তরিক সহানুভূতি ও সমর্থন দিয়েছেন তাতে ১৫০ কোটি মুসলিমের শ্রদ্ধা পেয়েছেন তিনি।
কে এই আরডেন
নিউজিল্যান্ডের একদম প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে এসেছেন জাসিনদা আরডেন। ১৯৮০ সালের ২৬শে জুলাই নিউজিল্যান্ডের হ্যামিল্টনে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা ছিলেন একজন পুলিশ কর্মকর্তা। মা একটি স্কুলের খাবার পরিবেশনের দায়িত্বে ছিলেন। জাসিনদা মরিন্সভিল্লে কলেজে পড়াশোনা করেছেন। ২০০১ সালে তিনি ওয়াইকাটো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি দেশটির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হেলেন ক্লার্কের অফিসে গবেষণা কাজে নিয়োজিত হন। এ ছাড়া তিনি বৃটেনে প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন। রাজনীতির সঙ্গে এভাবেই যুক্ত হন তিনি। তবে তার ফুপি ম্যারি আরডেন লেবার পার্টির সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় কিশোরী বয়সেই রাজনীতির সঙ্গে পরিচিত হয়ে উঠেন তিনি।
২০০৮ সালে সমাজতান্ত্রিক তরুণদের আন্তর্জাতিক সংগঠনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন জাসিনদা আরডেন। সে বছরই তিনি প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের বাম ঘরানার দল লেবার পার্টির একজন এমপি নির্বাচিত হন। এর ঠিক দশ বছরের মধ্যেই তিনি নিজেকে লেবার পার্টির সব থেকে যোগ্য নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন। ২০১৭ সালের ১লা মার্চ তিনি লেবার পার্টির ডেপুটি প্রধান নির্বাচিত হন। ওই বছরের ১লা আগস্ট তিনি লেবার পার্টির প্রধান নেতা নির্বাচিত হন। সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে তিনি জোট গঠনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে সক্ষম হন। জাসিন্দা আরডেন পার্টির প্রধান হওয়ার আগে আন্ড্রু লিটল ছিলেন এ পদে। তার সময়ে লেবার পার্টির জনপ্রিয়তায় ব্যাপক ধস নামে। ফলে তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। দলের কঠিন সময়ে এর হাল ধরে তাকে পুনরায় জনপ্রিয় করে তোলেন জাসিনদা আরডেন।
রাজনৈতিক নানা সমীকরণ মিলিয়ে ২০১৭ সালের ২৬শে অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন তিনি। ক্ষমতায় বসেই তিনি ঘোষণা দেন, তার সরকার হবে শক্তিশালী ও সংবেদনশীল। ক্ষমতায় বসার কিছুদিন পরেই গর্ভবতী হন জাসিনদা। তবে এ জন্য তিনি দায়িত্বে গাফিলতি করেন নি। গর্ভবতী অবস্থায়ই তিনি ইউরোপ সফর করেছেন, রাষ্ট্রনায়কের দায়িত্বও পালন করেছেন সফলভাবে। শেষদিকে মাত্র ৬ সপ্তাহের মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়েছেন আরডেন। ২০১৮ সালে ‘ফোর্বসের পাওয়ার উইমেনের’ তালিকায় জায়গা করে নেন তিনি। আছেন টাইম ম্যাগাজিনে সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকাতেও। জলবায়ু পরিবর্তন, শিশু দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে কাজ করছেন তিনি। নিজ দেশে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একট সহানুভূতিশীল সরকার।

নিউজিল্যান্ডে ভালোবাসার পদযাত্রা

অনন্য নজির স্থাপন করেছে নিউজিল্যান্ড। গত সপ্তাহের শুক্রবারে ক্রাইস্টচার্চে কমপক্ষে ৫০ মুসল্লিকে হত্যার ঘটনায় নিউজিল্যান্ডের জাতি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ নিন্দা জানিয়ে সংহতি প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার সারা দেশে ২ মিনিটের নীরবতা পালনের পর গতকাল শনিবার ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘মার্চ ফর লাভ’ র‌্যালি। এতে অংশ নিয়েছেন কমপক্ষে ৩০০০ মানুষ। ক্রাইস্টচার্চে হত্যাকাণ্ডের শিকার ৫০ মুসল্লির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মার্চ ফর র‌্যালি বা ভালোবাসার পদযাত্রা বের হয় শনিবার সকালে। সন্ত্রাসী ব্রেনটন টেরেন্টের উদ্দেশে এ র‌্যালিতে বহন করা হয় প্ল্যাকার্ড। তাতে লেখা- ‘হি ওয়ানটেড টু ডিভাইড আস, হি অনলি মেইড আজ স্ট্রংগার’।
অর্থাৎ টেরেন্ট আমাদের মাঝে বিভক্তি সৃষ্টি করতে চেয়েছিল।
কিন্তু সে আমাদেরকে শুধুই শক্তিশালী করেছে। আরেকটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ‘মুসলিমস ওয়েলকাম, রেসিস্ট নট’। যার অর্থ দাঁড়ায়- মুসলিমদের স্বাগতম, বর্ণবাদকে নয়। গতকালকের এই পদযাত্রায় যারা অংশ নিয়েছেন তাদের সবাই দৃশ্যত ছিলেন নীরব। তারা মৃদুস্বরে গেয়েছেন শান্তির বাণী। ওদিকে ইসলামের পবিত্র ভূমি মক্কা শরীফে শুক্রবার জুমার নামাজের পর নিউজিল্যান্ডে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া।
গতকালকের র‌্যালির আয়োজকদের অন্যতম ১৬ বছর বয়সী মানাইয়া বাটলা। তিনি পড়াশোনা করেন। বলেছেন, আমি মনে করি বিভিন্ন সময়ে ঘৃণা অনেক অন্ধকারকে সামনে এনেছে। কিন্তু সেই অন্ধকারের পাশাপাশি ভালোবাসা হয়েছে আরো শক্তিশালী। সেই ভালোবাসা অন্ধকারকে দূর করে দিয়েছে।
শনিবারও আল নূর মসজিদ খোলা আছে। এর আশেপাশে পাহারা দিচ্ছে সশস্ত্র পুলিশ। তারা হামলার শিকার লিনউড মসজিদও খুলে দিচ্ছে বলে জানিয়েছে। আল নূর মসজিদের বাইরে আশিক শেখ নামে একজন বলেছেন, এই সেই মসজিদ যেখানে আমরা নামাজ আদায় করি। আমরা একে অন্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি। আবার আমরা সেখানে ফিরে আসতে পেরেছি। হামলার দিনেও তিনি এই মসজিদে উপস্থিত ছিলেন। ওই হামলায় নিহত হয়েছেন তার দুই প্রতিবেশী।
ওই হামলায় নিহতদের বেশির ভাগই বিদেশি অভিবাসী। এর মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, সোমালিয়া ও আফগানিস্তানের অভিবাসী।
গতকালের র‌্যালিতে নিরাপত্তা ছিল জোরালো। নির্বিঘ্নে যেন র‌্যালি করতে পারেন তারা এ জন্য কয়েক ডজন সশস্ত্র পুলিশ অফিসার ও বাস মোতায়েন করা হয়েছিল রাস্তায়। র‌্যালিতে অংশ নিতে অকল্যান্ড থেকে ছুটে এসেছেন ভারতীয় পরামর্শক গ্রুপ ‘শক্তি’তে কর্মরত শীলা নায়ার। তিনি বলেছেন, এই সমর্থন আমাদেরকে আশার সঞ্চার করেছে। অভিবাসী ও শরণার্থী সম্প্রদায় নিউজিল্যান্ডে সমঅধিকারের দাবি রাখে। এই সংহতির প্রশংসা করি আমরা। এই সংহতিকে ধরে রাখতে হবে। একে নষ্ট হতে দেয়া যাবে না। এভাবেই একটি সমাজ পরিবর্তিত হয়।
ওদিকে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিনদা আরডেন। তার সময়োপযোগী ও বুদ্ধিদীপ্ত পদক্ষেপের জন্য। হামলার পর পরই দ্রুততার সঙ্গে তিনি এর নিন্দা জানিয়েছেন। ছুটে গেছেন মুসলিমদের কাছে। শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নিহতদের প্রতি। তাদের স্বজনদের জানিয়েছেন সমবেদনা।
প্রতিদিন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন তিনি। যোগ দিয়েছেন অনেক শোক অনুষ্ঠানে। এমনকি লাশ দাফনের সময়ও তিনি উপস্থিত ছিলেন। প্রতিটি সময় তিনি মুসলিমদের রীতি অনুযায়ী মাথায় ওড়না পরে হাজির হয়েছেন। সামরিক স্টাইলের আধা স্বয়ংক্রিয় এবং অ্যাসল্ট রাইফেল বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার সারা দেশে ২ মিনিট নীরবতা পালনের ঘোষণা দেন তিনি।  সেই ঘোষণা অনুযায়ী তিনি নিজে ছুটে যান মুসলিমদের কাছে। মাথায় ওড়না পরে তিনি ইমামের বয়ান শোনেন। নিজে পবিত্র হাদিস পাঠ করে শোনান। এদিন আল নূর মসজিদে উপস্থিত হন অন্য ধর্মের বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ। নারীদের মাথায় ওড়না বা স্কার্ফ পরে থাকতে দেখা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর এমন পদক্ষেপ এবং তার সরকারের গৃহীত কর্মকাণ্ড বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। এ জন্য শুক্রবার তাকে টুইটারে ধন্যবাদ জানিয়েছেন দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাখতুম। এতে তিনি লিখেছেন, জাসিনদা আরডেন ও নিউজিল্যান্ড এই সমর্থন, সহানুভূতি দেখানোয় আপনি ১৫০ কোটি মুসলিমের শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন।
২০১৩ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী নিউজিল্যান্ডের মোট জনসংখ্যা ৪৮ লাখ। এর মধ্যে শতকরা মাত্র এক ভাগের সামান্য বেশি মুসলিম জনগোষ্ঠী।

Saturday, March 23, 2019

জাসিনদা আরডেনকে নোবেল পুরস্কার দেয়ার পিটিশন

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিনদা আরডেনকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেয়ার দাবি উঠেছে। এরই মধ্যে দুটি পিটিশন করা হয়েছে। একটি পিটিশন করা হয়েছে চেঞ্জ ডট অর্গ (Change.org)-এ। আরেকটি করা হয়েছে ফরাসি ওয়েবসাইট আভাজ ডট অর্গ (AVAAZ.org)-এ। অনলাইনে এ দুটি পিটিশনে এরই মধ্যে স্বাক্ষর করেছেন কয়েক হাজার মানুষ। এ খবর দিয়েছে অনলাইন নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড।
গত সপ্তাহের শুক্রবারে দেশটির ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে জুমার নামাজের সময় নামাজরত মুসল্লিদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি করে ৫০ জনকে হত্যা করে সন্ত্রাসী ব্রেনটন টেরেন্ট। এরপর পরিস্থিতি যেভাবে সামলেছেন প্রধানমন্ত্রী জাসিনদা আরডেন সে জন্য তাকে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেয়ার এই দাবি তোলা হয়েছে।
চার দিন আগে পিটিশন করা হয়েছে চেঞ্জ ডট অর্গে। এতে কমপক্ষে ৩০০০ মানুষ স্বাক্ষর করেছেন অনলাইনে। অন্যদিকে ফরাসি সাইট আভাজ ডট অর্গে স্বাক্ষর করেছেন কমপক্ষে ১০০০ মানুষ।
ফরাসি সাইটে লেখা হয়েছে, ক্রাইস্টচার্চে বিয়োগান্তক ঘটনার পর, উপযুক্ত, উন্মুক্ত ও শান্তিপূর্ণভাবে যে পদক্ষেপ নিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিনদা আরডেন, আমরা আশা করি তার জন্য আগামী শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার তার হাতে তুলে দেয়া হবে।
ধারণা করা হচ্ছে, ফরাসি সাইটে এই আবেদনটির উদ্যোক্তা ফরাসি কবি ড. খাল তোরাবুলি। নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড লিখেছে, গত সপ্তাহের ওই অনাকাঙ্খিত ঘটনার পর দেশকে যেভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন জাসিনদা তার জন্য সারা বিশ্ব তার প্রশংসা করেছে। তার এ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে দুবাইয়ের বুর্জ খলিফায় তাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তাতে একজন মুসলিম নারীকে তিনি আলিঙ্গন করছেন এমন একটি ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। মুসলিমদের প্রতি তিনি যে আন্তরিক সহানুভূতি ও সমর্থন দেখিয়েছেন তার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ। বলেছেন, এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের ১৫০ কোটি মুসলিমের শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন জাসিনদা।
ওদিকে শুক্রবার রাতে জাসিনদার প্রশংসা করে নিউ ইয়র্ক টাইমসে একটি সম্পাদকীয় প্রকাশিত হয়েছে। এর শিরোনাম ‘আমেরিকা ডিজার্ভস এ লিডার অ্যাজ গুড অ্যাজ জাসিনদা আরডেন’। অর্থাৎ জাসিনদা আরডেনের মতো একজন উত্তম নেতা দাবি করে আমেরিকা। এতে বলা হয়, সন্ত্রাসের বিষয়ে যেভাবে পদক্ষেপ নিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিনদা আরডেন তার কাছ থেকে বিশ্বের শিক্ষা নেয়া উচিত। আরো বলা হয়েছে, আরডেন তার দেশের ওই এলাকার মানুষদের ক্ষোভের কথা শুনেছেন। মাত্র কয়েক দিনের মাথায় তিনি সামরিক ধরনের স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের বিষয়ে ঘোষণা দিয়েছেন। বলেছেন, এ অস্ত্র নিষিদ্ধ করা হবে।

বিশ্ব নেতৃত্বের আদর্শ জেসিন্দা আরডেন by অনিম আরাফাত

বিশ্বের সবথেকে কম বয়সী নারী প্রধানমন্ত্রী নিউজিল্যান্ডের জেসিন্দা আরডেন। মতাদর্শিকভাবে নিজেকে সোশ্যাল ডেমোক্রেট দাবি করা এই নেতা মাত্র ৩৮ বছর বয়সেই তিনি নিজ দল ও দেশের মধ্যে হয়ে উঠেছেন সবথেকে জনপ্রিয় ব্যক্তি। সামপ্রতিক সময়ে বিরোধী দলের কাছ থেকেও কুড়িয়েছেন ব্যাপক প্রশংসা। কিন্তু তিনি সমগ্র বিশ্বে আলোচিত ও প্রশংসিত হয়েছেন গত সপ্তাহে ক্রাইস্টচার্চে সন্ত্রাসী হামলার পর। নিউজিল্যান্ডের মতো শান্তিপূর্ণ ও পৃথিবীর অন্যতম নিরাপদ রাষ্ট্রে যখন বন্দুকধারীর গুলিতে ৫০ জন নিরীহ মানুষ নিহত হলো তারপর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যে ভূমিকা জেসিন্দা আরডেন রেখেছেন তা সকল রাষ্ট্রপ্রধানের জন্য অনুকরণীয়। হামলার শিকার শরণার্থী মুসলিমদের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন তিনি, জরিয়ে ধরে সান্ত্বনা দিয়েছেন। স্পষ্ট করে এই হামলাকে সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড আখ্যা দিয়েছেন। সঙ্গে নিশ্চিত করেছেন নিউজিল্যান্ড বৈচিত্র্যতায় বিশ্বাসী, অভিবাসীরা সেদেশে নিজেদেরই মানুষ।
হামলার এক সপ্তাহের মধ্যে কোনো ধরনের কড়া বাক্য উচ্চারণ ছাড়াই সে এই ঘৃণার বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে দিয়েছেন। দেশটির অস্ত্র আইন পরিবর্তন করার ঘোষণা দিয়েছেন যা এখন বাস্তবায়নের পথে। মুসলিমদেরকে আরো কাছে টেনে নিয়েছেন। তাদের জুমার নামাজ সরাসরি সমপ্রচার করা হয়েছে নিউজিল্যান্ডের টিভি চ্যানেলগুলোতে। নিউজিল্যান্ডের হাজার হাজার অধিবাসীকে উদ্বুদ্ধ করেছেন শরণার্থীদের পাশে দাঁড়াতে। স্থাপন করেছেন অনন্য এক নজির। নিউজিল্যান্ডের একদম প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে এসেছেন জেসিন্দা আরডেন। ১৯৮০ সালের ২৬শে শুলাই নিউজিল্যান্ডের হ্যামিল্টনে জন্মগ্রহণ করেছেন মহান এই নেতা। তার বাবা ছিলেন একজন পুলিশ কর্মকর্তা ও তার মা একটি স্কুলের খাবার পরিবেশনের দায়িত্বে ছিলেন। জেসিন্দা মরিন্সভিল্লে কলেজে পড়াশুনা করেছেন। ২০০১ সালে তিনি ওয়াইকাটো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি দেশটির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হেলেন ক্লার্কের অফিসে গবেষণা কাজে নিয়োজিত হন। এছাড়া তিনি বৃটেনে প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন। রাজনীতির সঙ্গে এভাবেই যুক্ত হন তিনি। তবে তার ফুপি ম্যারি আরডেন লেবার পার্টির সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় কিশোরী বয়সেই রাজনীতির সঙ্গে পরিচিত হয়ে উঠেন তিনি।
২০০৮ সালে সমাজতান্ত্রিক তরুণদের আন্তর্জাতিক সংগঠনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন জেসিন্দা আরডেন। সে বছরই তিনি প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের বাম ঘরানার দল লেবার পার্টির একজন এমপি নির্বাচিত হন। এর ঠিক দশ বছরের মধ্যেই তিনি নিজেকে লেবার পার্টির সবথেকে যোগ্য নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন। ২০১৭ সালের ১লা মার্চ তিনি লেবার পার্টির ডেপুটি প্রধান নির্বাচিত হন। ওই বছরের ১লা আগস্ট তিনি লেবার পার্টির প্রধান নেতা নির্বাচিত হন। সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে তিনি জোট গঠনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে সক্ষম হন। এখানে উল্লেখ্য যে, জেসিন্দা আরডেন পার্টির প্রধান হওয়ার আগে আন্ড্রু লিটল ছিলেন এ পদের অধিকারী। তার সময়ে লেবার পার্টির জনপ্রিয়তায় ব্যাপক ধস নামে ফলে তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। দলের কঠিন সময়ে এর হাল ধরে তাকে পুনরায় জনপ্রিয় করে তোলেন জেসিন্দা আরডেন। রাজনৈতিক নানা সমীকরণ মিলিয়ে ২০১৭ সালের ২৬শে অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন আরডেন। ক্ষমতায় বসেই তিনি ঘোষণা দেন, তার সরকার হবে শক্তিশালী ও সংবেদনশীল। ক্ষমতায় বসার কিছুদিন পরেই গর্ভবতী হন জেসিন্দা আরডেন। জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন উপস্থাপক ক্লার্ক গেফোর্ডকে। তবে এজন্য তিনি দায়িত্বে গাফিলতি দেননি। গর্ভবতী অবস্থায়ই তিনি ইউরোপ সফর করেছেন, রাষ্ট্র নায়কের দায়িত্বও পালন করেছেন সফলভাবে। শেষদিনে মাত্র ৬ সপ্তাহের মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়েছেন আরডেন। ২০১৮ সালে ‘ফোর্বসের পাওয়ার উইমেনের’ তালিকায় জায়গা করে নেন তিনি। আছেন টাইম ম্যাগাজিনে সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকাতেও। জেসিন্দা আরডেন সমকামী বিবাহের সমর্থক। সমকামীদের অধিকারের পক্ষে কথা বলেছেন তিনি। জলবায়ু পরিবর্তন, শিশু দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে কাজ করছেন। নিজ দেশে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একট সহানুভূতিশীল সরকার। ক্রাইস্টচার্চে হামলার পর তিনি যেভাবে ছুটে গিয়েছেন তাতে আমরা এর প্রমাণ পেয়েছি। একজন প্রকৃত রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে যা যা করা দরকার তেমন করেই তিনি সকল মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। আর এভাবেই নিজেকে বিশ্ব নেতৃত্বের আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন জেসিন্দা আরডেন।