Tuesday, June 25, 2013

খবরের শিরোনামে আবারও অ্যাসাঞ্জ

২০১১ সালের জুনে আইসল্যান্ডের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অগমুনদুর জোনাসন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এক জরুরি বার্তা পান। এতে লেখা ছিল, ‘আইসল্যান্ড সরকারের তথ্যভান্ডারে হ্যাকারদের হামলা অত্যাসন্ন। তাই বিষয়টি তদন্তে মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই দেশটিতে এজেন্ট পাঠাবে।’ হ্যাকারদের সম্ভাব্য হামলা নিয়ে এই জরুরি বার্তা পাওয়ার বিষয়টি জোনাসন বলেছিলেন নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে। সাক্ষাৎকারে জোনাসন বলেন, ওই বছরের আগস্টে যখন এফবিআইয়ের আট বা নয়জনের একটি দল আইসল্যান্ডে এলে তিনি দেখেন, তারা ওই হামলা নিয়ে কোনো তদন্ত না করে উইকিলিকসের ওপর তথ্য সংগ্রহ করা শুরু করেছে। তিন বছর ধরে লাখ লাখ গোপন মার্কিন কূটনৈতিক ও সামরিক নথি ফাঁস করা উইকিলিকসের অনেক কর্মী রয়েছেন আইসল্যান্ডে। আইসল্যান্ড সফরের সঠিক উদ্দেশ্য না প্রকাশ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে মন্ত্রী জোনাসন পরবর্তী সময়ে এফবিআই প্রতিনিধিদলকে সে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার অনুরোধ জানান। দলটির এ অভিযান ছিল আসলে উইকিলিকস ও এর প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ সম্পর্কে বিস্তৃত এক তদন্তেরই অংশ।
উইকিলিকস প্রথম ২০১০ সালে ওই সব গোপন নথি ফাঁস করা শুরু করে। উইকিলিকসের কাছে তথ্য সরবরাহ করার অভিযোগে সাবেক মার্কিন সেনা ব্র্যাডলি ম্যানিংকে গ্রেপ্তারের ছয় মাস পর ২০১০ সালের অন্তত অক্টোবর মাস থেকে এফবিআই চুপিসারে উইকিলিকস ও অ্যাসাঞ্জের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যেতে থাকে। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনএসএ) সাবেক কর্মী এডওয়ার্ড স্নোডেনের ‘সহযোগী’ হিসেবে চলতি সপ্তাহে খবরের শিরোনামে পুনরাবির্ভাব ঘটেছে অ্যাসাঞ্জের। এর আগ পর্যন্ত তিনি ছিলেন প্রায় ‘ভুলে যাওয়া’ মানুষ। বিশ্বব্যাপী মানুষের ফোনালাপ ও অনলাইন তৎপরতার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের গোপন নজরদারির খবর ফাঁস করে স্নোডেন তাঁর পূর্বসূরি অ্যাসাঞ্জের মতোই হইচই ফেলে দিয়েছেন। তহবিলসংকট এবং কথিত অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা চলে যাওয়ায় সম্প্রতি গোপন তথ্য প্রকাশে উইকিলিকসের বড় ধরনের তৎপরতা নজরে পড়ছে না। তা ছাড়া অ্যাসাঞ্জ নিজেও সুইডেনে প্রত্যর্পণ এড়াতে লন্ডনে ইকুয়েডরের দূতাবাসে ‘স্বেচ্ছাবন্দী’ জীবন যাপন করছেন। তবে উইকিলিকস বা এর প্রতিষ্ঠাতা যতই লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকুন না কেন, যুক্তরাষ্ট্র তাঁকে ভুলে যায়নি। উইকিলিকসের ব্যাপারে তদন্তে নিয়োজিত সরকারি এজেন্ট, কৌঁসুলি ও অন্যান্য সূত্রের সঙ্গে সাক্ষাৎকার এবং আদালতের নথিপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষায় আভাস মেলে, উইকিলিকস ও অ্যাসাঞ্জের ওপর কিছু মার্কিন সরকারি সংস্থার পাশাপাশি আদালতের জুরিও নজরদারি রেখে চলেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উইকিলিকসের কয়েকজন সাবেক সদস্য জানান, উইকিলিকস ও অ্যাসাঞ্জের ব্যাপারে হাজার হাজার পৃষ্ঠার তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র অ্যাসাঞ্জের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহে উইকিলিকসের অন্তত আরও চার সাবেক সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। নিউইয়র্ক টাইমস ও অন্যদের সাম্প্রতিক প্রশ্নের জবাবেও মার্কিন বিচার বিভাগের একজন মুখপাত্র নিশ্চিত করেন, উইকিলিকসের বিষয়াদি নিয়ে তদন্ত চালানো হয়েছে এবং এই তদন্ত এখনো চলছে। আইএইচটি।

নজরদারি প্রকল্প প্রিজম

প্রিজম কী?: যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসএ) সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওপর গোপনে কড়া নজর রাখতে ২০০৭ সালে একটি ইন্টারনেটভিত্তিক প্রকল্প চালু করে। ওই প্রকল্পের নামই প্রিজম। যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি কোম্পানি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ই-মেইল বার্তা, ভিডিওচিত্র, ভয়েস ও ভিডিও সংলাপ সরাসরি প্রিজম প্রকল্পে পাঠায়। গোপন প্রকল্পটির বিষয়ে গার্ডিয়ান ও ওয়াশিংটন পোস্ট ৬ জুন প্রথম তথ্য প্রকাশ করে। ওই দিনই যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক জেমস ক্ল্যাপার প্রকল্পটির সত্যতা নিশ্চিত করেন। তবে তিনি বলেন, সংগৃহীত তথ্য খতিয়ে দেখার ব্যাপারে আদালতের কড়া সুপারিশমালা অনুসরণ করা হয়। ১৯৭৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড সার্ভেইল্যান্স অ্যাক্টের (ফিসা) শর্ত অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে কিংবা বিদেশি কোনো শক্তির পক্ষে দেশটির ওপর হামলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বলে সন্দেহ হলে তিনজন বিচারকের একটি বিশেষ আদালত ইলেকট্রনিক তথ্য নজরদারির অনুমোদন দিতে পারবেন। ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার পর বুশ প্রশাসন এনএসএকে আদালত এড়িয়ে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদা ও অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের ওপর নজরদারি করার অনুমতি দেয়। প্রিজমের কথা যেভাবে প্রচার পেল: যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) সাবেক কর্মী এডওয়ার্ড স্নোডেন প্রিজম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ফাঁস করে দেন। এরপর তিনি ২৩ জুন যুক্তরাষ্ট্র থেকে হংকং চলে যান।
কাদের তথ্য পর্যালোচনা করে এনএসএ?: সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নাগরিক, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত কোনো ব্যক্তির তথ্য চাইলেই খতিয়ে দেখতে পারে না এনএসএ। কোনো সন্দেহজনক যোগাযোগ সম্পর্কে এনএসএর ৫১ শতাংশ আস্থা থাকলেই কেবল তা খতিয়ে দেখা হয়। এরপর দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই) তা খতিয়ে দেখে। পরে ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও তিনি যাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন, তা পর্যালোচনা করা হয়। ২০ জুন গার্ডিয়ান-এ প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও সে দেশে বসবাসকারীদের সন্দেহজনক কোনো তথ্য পেলে এনএসএ স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে পাঠায় কিংবা নষ্ট করে ফেলে। এই পদক্ষেপেরও সমালোচনা করে বিশেষজ্ঞদের অনেকে বলছেন, এর মধ্য দিয়ে নাগরিকদের গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হয়। যেভাবে তথ্য আসে: যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সার্ভারের মাধ্যমে সরাসরি তথ্য পায় প্রিজম। যদিও প্রতিষ্ঠানগুলো এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। বিবিসি।

সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ

ইইউ একমত
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনীতিকেরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার তাঁরা তুরস্কের সঙ্গে জোটের সদস্যপদের জন্য আলোচনা আবার শুরু করতে একমত হয়েছেন। তবে নতুন দফা আলোচনা শুরুর সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণার বিষয়টি অন্তত চার মাসের জন্য স্থগিত রেখেছেন তাঁরা। তুরস্কে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে জার্মানির আপত্তির কারণেই বিষয়টি স্থগিত রাখা হয়েছে। তুরস্ক আলোচনা আবার শুরু করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ দাভুতোগলু বলেছেন, নতুন করে আলোচনা শুরু করায় তাঁরা কোনো প্রতিবন্ধকতা দেখেন না এবং এ বিষয়ে একটি ইতিবাচক ফলই প্রত্যাশা করেন। রয়টার্স।
তিমি শিকার নিয়ে
জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা বলেছেন, এ সপ্তাহে তাঁরা জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালতে নিজেদের তিমি শিকার কর্মসূচির প্রতি জোরালোভাবে যুক্তি তুলে ধরবেন। জাপান ও অস্ট্রেলিয়া ওই কর্মসূচির বৈধতা নিয়ে আইনি লড়াইয়ে নেমেছে। দি হেগে মৌখিক শুনানি শুরুর আগের দিন গতকাল মঙ্গলবার জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চাপের মুখে নতি স্বীকারের কোনো ইচ্ছা তাঁর দেশের নেই। ফুমিও কিশিদা বলেন, জাপানের তিমি শিকার একটি বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম, যা এ-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশনের আওতায়ই পরিচালিত হয়ে থাকে। নরওয়ে ও আইসল্যান্ডে বাণিজ্যিক তিমি শিকার কর্মসূচি থাকলেও জাপান দাবি করে, তাদের কর্মসূচি একান্তই বিজ্ঞান-সম্পর্কিত। তবে শেষ পর্যন্ত সেই তিমির মাংস যে মানুষের খাদ্যে পরিণত হয়, তা গোপন করে না দেশটি। বিবিসি।

মিসরে শিয়াদের ওপর হামলায় ইরানের নিন্দা

মিসরে শিয়া মুসলিমদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছে ইরান। কায়রোর দক্ষিণে অবস্থিত একটি গ্রামে ওই হামলায় চারজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনাকে ‘বৈদেশিক ষড়যন্ত্রের’ অংশ বলে মনে করছে দেশটি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখপাত্র আব্বাস আরাকচি সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলী আকবর সালেহী গত সোমবার মিসরীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ কামেল আমরকে ফোন করে এ হত্যার বিষয়ে আলোচনা করেছেন বলেও জানান মুখপাত্র আরাকচি। আরাকচি বলেন, মুসলিমদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের হামলা হয়েছে। এটি বৈদেশিক ষড়যন্ত্রের একটি অংশ। এ বিষয়ে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। গত রোববার গিজা প্রদেশের আবু মোসাল্লেম গ্রামে উত্তেজিত জনতার হামলায় চারজন শিয়া মুসলিম নিহত হয়। এলাকার সংখ্যালঘু শিয়া মুসলিমরা একটি বাড়িতে বৈঠক করার সময় তাদের বাইরে আসতে বলা হয়। অস্বীকৃতি জানালে এলাকার কয়েক শ লোক বাড়িটিতে হামলা করে। সেখানে তারা চারজন শিয়াকে হত্যা করে। মিসরীয় গণমাধ্যমে শিয়া মুসলিমদের নিয়ে সুন্নি ইসলামি নেতারা বাগাড়ম্বরপূর্ণ উক্তি করার এক সপ্তাহ পরই এ হামলার ঘটনা ঘটল। ইরানি মন্ত্রীর মুখপাত্র আরাকচি বলেন, মিসরীয় বিপ্লবের শত্রুরা দেশটিতে বিভাজন তৈরি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা প্রথমে খ্রিষ্টান ও মুসলমানদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করেছে। এখন মুসলমানদের দুই সম্প্রদায়ের মধ্যেও তা করার চেষ্টা করছে। এএফপি।

বেরলুসকোনির সাত বছরের কারাদণ্ড

অপ্রাপ্তবয়স্ক একটি মেয়ের সঙ্গে শারীরিক সংসর্গে লিপ্ত হওয়া এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করায় ইতালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বেরলুসকোনিকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মিলানের একটি আদালত গত সোমবার এই আদেশ দেন। ৭৬ বছর বয়সী বেরলুসকোনি ও মরক্কোর বংশোদ্ভূত কারিমা এল মাহরু ওরফে রুবি নামের মেয়েটি—দুজনই যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। মামলায় বলা হয়েছে, বেরলুসকোনি ২০১০ সালে রুবির সঙ্গে যৌনকর্ম করেন। তখন রুবির বয়স ছিল ১৭। রায়ের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বেরলুসকোনি বলেন, ‘আমি এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চাই, কারণ আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ।’ ইতালির সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী আরও কয়েকটি মামলা নিয়ে বিপর্যস্ত অবস্থায় আছেন। কর ফাঁকির একটি মামলায় ২০১২ সালের অক্টোবরে তাঁর চার বছরের কারাদণ্ড হয়। বেরলুসকোনির বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে। রুবি ছিঁচকে চুরির অপরাধে পুলিশের নিরাপত্তা হেফাজতে থাকার সময় বেরলুসকোনি প্রভাব খাটিয়ে তাঁকে ছাড়িয়ে এনেছিলেন। বিবিসি।

এবার সংস্কারের জন্য গণভোটের অঙ্গীকার দিলমারুসেফের

অব্যাহত গণবিক্ষোভ মোকাবিলায় ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফ এবার রাজনৈতিক সংস্কারের জন্য গণভোটের প্রস্তাব দিলেন। এ ছাড়া তিনি আবারও গণপরিবহনে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারি নজরদারি বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছেন। এর পরও সীমিত আকারে হলেও দেশটিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফ জনগণকে পাঁচটি বিষয়ে সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন। এগুলো হলো অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার নিশ্চয়তা ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ; তেল থেকে পাওয়া রাজস্বের শতভাগ শিক্ষা খাতে ব্যয়; দেশের দূরবর্তী ও নগরের অনুন্নত অঞ্চলে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বিদেশ থেকে চিকিৎসক আনা; সংস্কার নিশ্চিত করতে সংবিধান সংশোধন এবং শহরের যোগাযোগব্যবস্থা ও গণপরিবহনের উন্নয়নে আড়াই হাজার কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ। পরে প্রেসিডেন্ট তাঁর এই পরিকল্পনা নিয়ে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলের মেয়র ও গভর্নরদের সঙ্গে বসেন। এ পরিকল্পনার সঙ্গে তাঁরাও একমত হন। তবে বিক্ষোভকারীদের একটি সংগঠন ফ্রি ফেয়ার মুভমেন্টের নেতা মায়ারা লংগো ভিভিয়ান প্রেসিডেন্টের পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত নয় দাবি করে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁর মতো অনেক বিক্ষোভকারীই প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছেন। গত সোমবারও কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। তবে তাঁদের সংখ্যা গত সপ্তাহের তুলনায় কম। প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফ মেয়র ও গভর্নরদের সঙ্গে সাক্ষাতের আগে বিক্ষোভকারীদের একটি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। টিভিতে প্রচারিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট বলেন, তাঁর সরকার গণতন্ত্রের কণ্ঠ শোনে। তিনি মনে করেন, পথে নামা মানুষের দাবি শুনতে হবে এবং নির্ভুলতার সঙ্গে এর সংকেত বুঝতে হবে। রুসেফ আরও বলেন, ব্রাজিল বর্তমান অবস্থানেই থাকতে চায় না; বরং এগিয়ে যেতে চায়। বিবিসি।