Wednesday, October 23, 2024

বাংলাদেশ থেকে ইন্দোনেশিয়ার পথে নৌকাতেই তিন রোহিঙ্গার মৃত্যু

সমুদ্র পথে ইন্দোনেশিয়ায় পাড়ি জমাতে গিয়ে নৌকাতেই মৃত্যু হয়েছে তিন রোহিঙ্গা মুসলিম অভিবাসীর। মঙ্গলবার ইন্দোনেশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় আচেহ প্রদেশের উপকূলে কাঠের একটি নৌকা ভেসে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নৌকাটিতে ১৪০ জন দুর্বল ও ক্ষুধার্ত রোহিঙ্গা মুসলিম অভিবাসনপ্রত্যাশী ছিলেন। যাদের বেশির ভাগই নারী এবং শিশু। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি।

এতে বলা হয়েছে, বিপুলসংখ্যক এসব রোহিঙ্গাকে বহনকারী কাঠের নৌকাটি কয়েকদিন আগে ইন্দোনেশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ আচেহ থেকে প্রায় ১ মাইল দূরের উপকণ্ঠে পৌঁছায়। তবে সেখানের স্থানীয় বাসিন্দারা এসব রোহিঙ্গাদের ভূখণ্ডে নামতে দিচ্ছে না। বাংলাদেশের কক্সবাজার থেকে নৌকায় আরোহী হয়ে সেখানে পৌঁছেছেন তারা।
গত শুক্রবার থেকে উপকূলে ভেসে আছে নীল রঙের নৌকাটি। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, বাংলাদেশের কক্সবাজার থেকে দক্ষিণ আচেহ জেলার লাবুহান হাজির জলসীমায় প্রায় দুই সপ্তাহের ভ্রমণে সমুদ্র পথেই তিন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় রোববার থেকে এ পর্যন্ত ১১ জন রোহিঙ্গাকে স্থানীয় একটি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আচেহ পুলিশের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দলটি গত ৯ অক্টোবর কক্সবাজার থেকে রওনা দেয় এবং মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর পরিকল্পনা করেছিল। তবে নৌকার কিছু যাত্রী অন্য দেশে তাদের নিয়ে যাওয়ার জন্য অর্থ প্রদান করেছিল বলে জানা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের খাবার দিয়েছে জানিয়েছে জাবাল নামের এক বাসিন্দা। এছাড়া জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারও তাদের খাদ্য দিয়েছে।
পুলিশ জানায়, নৌকাটি যখন বাংলাদেশ ছেড়ে আসে তখন এটিতে ২১৬ জন আরোহী ছিলেন এবং তাদের মধ্যে ৫০ জন ইন্দোনেশিয়ার রিয়াউ প্রদেশে নেমে গেছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া আচেহ পুলিশ লোক পাচারের অভিযোগে তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

mzamin

মার্কিন নির্বাচনে যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির ‘হস্তক্ষেপের’ অভিযোগ তুললেন ট্রাম্প

মার্কিন নির্বাচনে যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির ‘হস্তক্ষেপের’ অভিযোগ তুললেন রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডনাল্ড ট্রাম্প। তার নির্বাচনী প্রচারণা টিমের তরফে বলা হয়েছে, লেবার পার্টি হ্যারিস-ওয়ালজের প্রচারণা অভিযানে সহায়তা করেছে। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার উদ্ধৃতি দিয়ে নিজের নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে এমন অভিযোগ তুলেছে ট্রাম্প শিবির। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

এতে বলা হয়, অভিযোগটি বৃটেনের লেবার পার্টি এবং কমালা হ্যারিসের প্রচারাভিযানের মধ্যে যোগাযোগকে কেন্দ্র করে করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টের কথা উল্লেখ করা হয়। ট্রাম্প যুক্তি দিয়েছেন এমন যোগাযোগ অবৈধ। কেননা এটি ভিন্ন দেশের রাজনীতিতে ‘হস্তক্ষেপের’ শামিল।

ওয়াশিংটনের ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের কাছে ট্রাম্পের আইনি দলের পাঠানো একটি চিঠিতে বলা হয়েছে, বৃটিশ সরকারের প্রতিনিধিরা পূর্ব আমেরিকায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছে নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে। চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, লেবার পার্টির  স্বেচ্ছাসেবকরা  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রচারণা চালাচ্ছেন। নির্বাচনে  বিদেশী হস্তক্ষেপ সম্পর্কে অবিলম্বে তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে ট্রাম্পের প্রচারণা টিমের তরফে ।

ওয়াশিংটন পোস্টে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এছাড়া লেবার পার্টি সংশ্লিষ্ট অ্যাক্টিভিস্টরা যে ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রচারণা চালাচ্ছেন তা বিবিসি’র নজরেও এসেছে। যদিও এ বিষয়ে লেবার পার্টি এখনও কোনো মন্তব্য করেনি। বিশেষ করে সংবাদপত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে যে, লেবার পার্টির অ্যাক্টিভিস্টরা যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন এবং তারা কমালার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

ওয়াশিংটন পোস্টের ওই রিপোর্টটিতে বলা হয়েছে যে, লেবার পার্টি সহায়তা করেছে এবং কমালা হ্যারিসের প্রচারণা টিম তা গ্রহণ করেছে। এক্ষেত্রে উভয় পক্ষের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছে বলে ওয়াশিংটন পোস্ট তার রিপোর্টে উল্লেখ করেছে।

উপরন্তু, অভিযোগটি লিঙ্কডইন-এ একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের উদ্ধৃতি দিয়ে করা হয়েছে, যেখানে লেবার পার্টির একজন কর্মকর্তা সদস্য বলেছেন যে, লেবার পার্টির সাবেক ১০০ কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী রাজ্যগুলোতে ভ্রমণ করবেন। এছাড়া লেবার পার্টির হেড অব অপারেশন সোফিয়া প্যাটেলের পোস্টে যোগ করা হয়েছে, যারা ভ্রমণ করবেন তাদের থাকার ব্যবস্থা পার্টির পক্ষ থেকেই করা হবে। অবশ্য এই পোস্ট পরে ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে।

এই অভিযোগটি ২০১৬ সালের আরেকটি ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। সেসময় অস্ট্রেলিয়ার লেবার পার্টি (এএলপি) মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের প্রচারণায় সহায়তা করার জন্য প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছিল। এজন্য ভ্রমণকারীদের বিমান খরচ এবং দিন হিসেবে অর্থও প্রদান করা হয়েছে। পার্টির পক্ষ থেকে ভ্রমণকারী প্রত্যেককে ১৪ হাজার ৫০০ ডলার করে সম্মানী দেয়া হয়েছিল।

ট্রাম্পের প্রচারণা টিমের সহ-ব্যবস্থাপক সুসি ওয়াইলস বলেছেন, দুই সপ্তাহের মধ্যে, আমেরিকানরা আবারও ১৭৭৬ সালের মতো বৃটিশ সরকারের হস্তক্ষেপকে প্রত্যাখ্যান করবে। হ্যারিস-ওয়ালজ ক্যাম্পেইনটি প্রমাণ করে তারা আমেরিকান জনগণের মন জিততে পারবে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরবেন এবং আমেরিকার জনগণ তার কাছে অগ্রাধিকার। হ্যারিসের প্রচারণায়  অবৈধ বিদেশী সহায়তার ব্যবহার আমেরিকা নির্বাচনে বিরোধী শক্তিকে দুর্বল করার প্রচেষ্টা মাত্র, যা সফল হবে না। যদিও বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার গত মাসে নিউইয়র্ক সফরের সময় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করেন। স্টারমার ট্রাম্প টাওয়ার পরিদর্শন করে বলেছিলেন যে, আমি ট্রাম্পের মুখোমুখি চাই। কেননা বিশ্ব মঞ্চে আমি ব্যক্তিগত সম্পর্কে বিশ্বাসী।

mzamin

অপারেশন ঈগল হান্ট: নুরীর কান্নার জবাব নেই by শরিফ রুবেল

২০১৭ সালের ২৬শে এপ্রিল। বুধবার গভীর রাত। শিবনগর গ্রামে হঠাৎ শত শত পুলিশ। প্রত্যন্ত গ্রামে অচেনা সাঁজোয়া যান, জলকামান, প্রজেক্টাইল, কাইনেটিভ আরও কতো কী। ভারী অস্ত্রে সজ্জিত পুলিশের একাধিক বিশেষ বাহিনী। রাত তখন ১২টা বেজে ২৫ মিনিট। মাত্র ১০ মিনিটে একটি বাড়ি ঘিরে ফেলে পুলিশ। আশপাশের রাস্তাঘাট সিলগালা করা হয়। মানুষের চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। তখনো দুই শিশু সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে ঘুমিয়ে থাকা আবুল কালাম আজাদ ওরফে আবুর পরিবার কিছু বুঝতে পারেনি। ঘুমিয়ে থাকা পরিবারটি কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাসার মূলফটকে তালা দেয় পুলিশ। চারিদিকে মুর্হুমুহু গুলি। সাউন্ড গ্রেনেডের বিকট শব্দ। আতকে ওঠেন গ্রামবাসী। অজানা আতঙ্কে অনেকে এদিক ওদিক ছুটোছুটি করেন। পুলিশ আবুর ঘরের দরজা, জানালা, দেয়ালে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। বাড়ির ভেতর থেকে শিশুদের কান্নার আওয়াজ। বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার। ঘরের ভেতর থেকে দারজায় কেউ একজন সজোরে আঘাত করছে। ঘর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছে। জানালার ধারে হাউমাউ করে কান্না, বাঁচার আকুতি। তবে পুলিশ তখনো ইটের ঘরের চারপাশে শত শত রাউন্ড গুলি ছুড়েছে, বলছেন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা। পুলিশ সেদিন হ্যান্ড ও সাউন্ড গ্রেনেডও  মেরেছে। পুলিশ মাঝেমধ্যে হ্যান্ডমাইকে ঘরের ভেতরে থাকা দম্পতিকে বার বার আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। তখনো গুলি বন্ধ হয়নি। বুলেটে বুলেটে ঝাঁঝরা হয় মুদি দোকানি আবুর বুক। গুলিবিদ্ধ হয় স্ত্রী সন্তানও। কী এমন ঘটেছিল সেদিন? কেনো পুলিশ প্রত্যন্ত গ্রামের একটি বাড়িতে এমন ভয়ঙ্কর অভিযান চালালো। কেনো একটি পরিবারকে টার্গেট করা হলো। কেনো শিশু-সন্তানসহ একটি পরিবারকে ঘরে অবরুদ্ধ করে শত শত রাউন্ড গুলি করা হলো। কী কারণে আবু নামের ওই মুদি দোকানিকে এত হাঁকডাক করে হত্যা করা হলো? কেনো পুলিশের গুলি থেকে রেহায় পায়নি শিশু সন্তান ও স্ত্রী সুমাইয়া খাতুনও। এসব প্রশ্নের জবাব ৭ বছরেও মেলেনি। এখনো দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন কথিত জঙ্গি অভিযানে নিহত আবুর স্ত্রী সন্তান। তবে আর জঙ্গি তকমা নিয়ে বাঁচতে চান না আবুর স্ত্রী সুমাইয়া খাতুন। সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা দেশবাসীর কাছে তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন তিনি। এমনকি ওই অভিযানকে সাজানো নাটক বলেও বিচার চেয়েছেন তিনি। পুলিশের এজহার বলছে,  সেদিন এক আবুকে মারতে ২ হাজার ১২৬ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। ওই অভিযানে অন্তত ১৭টি বিভিন্ন ধরনের গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়। অভিযানের নাম দেয়া হয় ‘অপারেশনের ঈগল হান্ট’। এদিকে ওই অভিযানে নিহত আবুর গ্রামের লোকজন এমন দিন আর দেখতে চান না। এই ঘটনার স্মৃতিও কেউ মনে রাখতে চান। তাদের কেউ কেউ বলছেন, আবুর পরিবারের সঙ্গে যে অবিচার হয়েছে। ৭ বছর পরে হলেও এর সঠিক তদন্ত হওয়া উচিত। দোষীদের বিচার হওয়া উচিত।

পুলিশ বলেছে, সেদিন গোপনে খবর পেয়ে বাড়িটিতে তল্লাশি চালাতে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। পরে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ওই বাড়িতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। জঙ্গিরা চার থেকে পাঁচটি বিস্ফোরণ ঘটায়। ধারণা করা হয়, এরা পুরাতন জেএমবি’র সদস্য। নিহত আবুল কালাম আজাদ আবু, তার সহযোগী বাশারুজ্জামান, মিজানুর রহমান ও অজ্ঞাত এক ব্যক্তি নিজেদের গ্রেনেডের বিস্ফোরণে মারা গেছেন। জঙ্গি আবুর স্ত্রী ও মেয়ে সন্তানকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর আবুর মৃতদেহ অক্ষত থাকলেও বাকি ৩ জনের বডি বোমার স্প্লিন্টারের আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। তবে সেদিনের অভিযান নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছে এলাকাবাসী। এ ছাড়া মামলার বাদী, এজহারভুক্ত ৯ জন সাক্ষী, লাশের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক, অ্যাম্বুলেন্স চালক ও অভিযান সংশ্লিষ্টদের দেয়া তথ্যে অনেক গড়মিল পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা কেউ কেউ এই অভিযানকে সরাসরি সাজানো নাটক বলে দাবি করেছেন।  কেউ কেউ বলেছেন, প্রথমদিনের অভিযান শেষে দ্বিতীয়দিন ভোর রাতে পুলিশ অন্যত্র থেকে ৩টি লাশ এনে অভিযানে নিহত হয়েছেন বলে দেখানো হয়। অনেকে অ্যাম্বুলেন্সে লাশ আনতেও দেখেছি। তবে কেউ কথা বলার সুযোগ পায়নি। কাউকে সুযোগ দেয়া হয়নি। সেদিন আবু ছাড়া কেউই ওই বাড়িতে নিহত হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সেদিন রাতে ওই ঘরে আবু তার দুই কন্যা ও স্ত্রী সুমাইয়া  ছাড়া আর কেউ ছিল না। কিন্তু পুলিশ শুরুতে বলেছে ঘরে কয়েকজন জঙ্গি অবস্থান করছে। পুলিশের প্রথম দিনের অভিযানেই আবু গুলিবিদ্ধ হোন। পরে পুলিশ ঘরের ভেতর প্রবেশ করে আবুর পরিবারের সবাইকে অজ্ঞান দেখতে পান। পুলিশ তখন ওই ঘরে আর কাউকে দেখতে পায়নি। উৎসুক জনতাদের কেউ কেউ পুলিশের সঙ্গে ঘরে প্রবেশ করেন। তারাও আবু ও তার পরিবারের সদস্য ছাড়া ঘরে তখন আর কাউকে দেখতে পায়নি। এতে অভিযান প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার শঙ্কা এবং জনরোষ এড়াতেই পরে নতুন কৌশল সাজানো হয়। অভিযানের সময় আরেকদিন বর্ধিত করা হয়। ওই ২৭শে এপ্রিল রাতেই গোঁজামিল দেয়া হয়।

জঙ্গি অভিযানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ঘটনাস্থলে ছিলেন শিবনগর গ্রামের রেফাউর রহমান। তিনি বলেন, সেদিন এক ভয়ঙ্কর দিন দেখেছি। গভীর রাতে শত শত পুলিশ এসে পুরো গ্রাম ঘিরে ফেলে। ভয়ে মানুষ গ্রাম ছেড়ে পালাতে থাকে। মনে হয়েছে যুদ্ধ লেগেছে। ভোর রাতে প্রচুর গুলির শব্দ। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি মুদি দোকানি আবুল কালাম আজাদের বাড়ি পুলিশ ঘিরে রেখেছে। জানতে পারলাম ভেতরে জঙ্গি ধরা পড়েছে। অবাক হলাম, সবাই বলাবলি করছে, এখানে জঙ্গি আসলো কোথা থেকে। কিছুক্ষণ পর পর ওই বাড়িটি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছে পুলিশ। ভেতর থেকে বাচ্চা শিশু ও মহিলার কান্নার শব্দ আসছে। তারা বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করছে। কিন্তু বাড়ির দরজায় তালা ঝোলানো ছিল। জালানা দিয়ে কেউ একজন উঁকি মারছে, সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ গুলি ছুড়ছে। এভাবে ১০টা  থেকে বিকাল পর্যন্ত গোলাগুলি চলে।

স্থানীয় একটি মসজিদের খাদেম আব্দুর রহমান বলেন,  সেদিন পুলিশ কাউকেই বাড়ির আশপাশে ভিড়তে দেয়নি। আমাদের কোনো কথা বলার সুযোগ দেয়নি। আবু একজন খুবই নিরিহ প্রকৃতির মানুষ ছিল। নিয়মিত মসজিদে আসতো। নামাজ পড়ে চলে যেতো। কিন্তু সে কেনো জঙ্গি হবে? সে কখনো ঠিকমতো শহরেই যায়নি। মসলার ব্যবসা করে সংসার চলে। সে একজন দরিদ্র লোক।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ওই এলাকার গৃহবধূ সাথী আক্তার বলেন, আমরা বাড়ির ভেতর থেকে কেউ গুলি করছে এবং ভেতর থেকে গুলি আসছে এমন কিছু দেখিনি। আমরা বাহিরেই ছিলাম। বাড়ির মধ্যে থেকে পুলিশকে কেউ গুলি আসলে অবশ্যই আমরা দেখতাম; বরং পুলিশ বাড়ি লক্ষ্য করে শত শত গুলি করেছে। বোমা ছুড়েছে। দরজা জালানা দিয়েও তারা গুলি করেছে। বাড়ি থেকে শুধু কিছুক্ষণ পর পর বাঁচাও বাঁচাও করে কান্নার শব্দ শুনেছি। বাচ্চাদের কান্নার আওয়াজ শুনেছি।

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী গৃহবধূ মালা খাতুন বলেন, আমি পুলিশকে খাবার রান্না করে দিয়েছি। তারা বাসার কাছে কাউকেই ভিড়তে দেয়নি। সাংবাদিকদেরও আশপাশে আসতে দেয়নি। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এখানে দুটি অ্যাম্বুলেন্স আসে। পরে অ্যাম্বুলেন্স থেকে ৩টি লাশ নামানো হয়। লাশের বক্সে ৩টি ওই ঘরে ঢোকানো হয়। তখন প্রচুর লাশ পোড়া দুর্গন্ধ আসছিল। আমি জানতে চাইছি, ‘স্যার এটা কাগো লাশ’। তখন আমাকে ধমক দিয়ে বলেছে বেশি কথা বলবি না। এখান থেকে সরে যা। পরে আমি চলে আসি।

অভিযানে নিহত মিজানুর রহমানের ছোট ভাই সেতাউর রহমান বলেন, আমার বড়ভাই মিজানুর রহমানকে জঙ্গি অভিযানের ৪ মাস আগে পুলিশ বাড়ি থেকে তুলে নেয়। শত শত মানুষের সামনে তাকে তুলে নেয়া হয়। এরপরে থানায় গেলে ওসি বলে, আমার থানার পুলিশ আপনার ভাইকে আনিনি। পরে জেলা কারাগারে খোঁজ নেই। সেখানেও আমার ভাইকে পাইনি। ৪ মাস আমার পরিবারের লোকজন সবাই মিলে ভাইকে অনেক খুঁজেছি। কিন্তু কোথাও পাইনি। পুলিশ তাকে কেনো, কোথায় গুম করে রেখেছে তা আমাদের বলেনি। কিন্তু ২৬শে এপ্রিল ত্রিমোনী জঙ্গি অভিযানে আমার ভাই গুলিতে মারা গেছে বলা হয়। আমার ভাই নাকি জঙ্গি ছিল! তাকে বাড়ি  থেকে তুলে নিয়ে ৪ মাস গুম করে রেখে জঙ্গি বানানো হলো। আবার গুলি করে মারাও হলো। কিন্তু তারপরেও পুলিশ আমার ভাইয়ের লাশ দেয়নি। তাকে কোথায় দাফন করেছে। আজ পর্যন্ত তাও বলেনি। আমরা আল্লাহর কাছে বিচার দিয়েছি।  
ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী আনোয়ার হোসেনের বাড়ি কয়েকটি বাড়ি পরেই। তিনি বলেছেন, বাড়িটির বাসিন্দা আবু এই গ্রামেরই বাসিন্দা ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই চেনেন। তিনি বাজারে মসলার ব্যবসা করতেন। এই বাড়িটিতে আবু তার পরিবার নিয়ে থাকতেন। তবে তার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই। তবে তিনি নিরিহ প্রকৃতির নামাজি লোক ছিলেন। সে জঙ্গি এটা কেউই বিশ্বাস করবে না। এই মধ্যে কোনো ভুল ছিল। সে পুলিশের ভুল সিদ্ধান্তের বলি হয়েছেন, বলছিলেন আনোয়ার।  

বাহিরে থেকে আনা ৩টি লাশ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স চালক আক্তার হোসেন বলেন, ভোর রাতে প্যাকেটভর্তি ৩টি লাশ শিবগঞ্জে আনা হয়। পুলিশ যখন আমাদের অ্যাম্বুলেন্সে লাশ তোলেন তখন ভয়ঙ্কর দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। মনে হয়েছে লাশগুলো পচে গেছে। ৪ থেকে ৫ দিন আগের লাশ হবে। না হলে এমন দুর্গন্ধ বের হওয়ার কথা নয়। আমরা ভোররাতে লাশ নামিয়ে দিয়ে চলে যাই। পরে কী হয়েছে জানা নেই।

আরেক অ্যাম্বুলেন্স চালক মোরসেদ আলম বলেন, আমাদের গাড়িতে যেসব লাশ আনা হয়, সেগুলো থেকে পচা গন্ধ বের হয়েছে। উৎকট গন্ধে গাড়ি চালানো দায় হয়ে পড়েছিল। তবে আমরা বৃহস্পতিবার ভোররাতে শিবগঞ্জের একটি গ্রামে নামিয়ে দিয়ে চলে যাই। পুলিশের লোকজন গাড়ির ডালা খুলে লাশ বের করে নেয়। পরে আমরা চলে আসি। পরে কী হয়েছে, তা আমাদের জানা নেই।

সন্দেহভাজন জঙ্গিদের লাশের মনয়াতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. ইসমাইল হোসেন বলেন, পুলিশ ২৭শে এপ্রিল হাসপাতালে ৪টি লাশ নিয়ে আসে। তখন ৩টি লাশের শরীর পচে গেছে। তাদের  পোস্টমোর্টেম করার মতো অবস্থা ছিল না। মনে হয়েছে কমপক্ষে ৭দিন আগে তাদের হত্যা করা হয়েছে। তাদের পুরো শরীর ছিন্নভিন্ন ছিল। বুকের নিচের অংশ স্প্লিন্টারের আঘাতে পিঁষে গিয়েছিল। তবে একটি লাশ স্বাভাবিক ছিল। গুলিবিদ্ধ ছিল।

এদিকে ওই মামলার আসামি করা হয় ঘটনার ৩ মাস আগে গুমের শিকার হাফিজুর রহমান হাসানকে। তিনি বলেন, আমাকে অপারেশন ঈগল হান্টের কমপক্ষে ৩ মাস আগে পুলিশ বায়তুল মোকাররম থেকে তুলে নেয়। পরে আমাকে চোখ বেঁধে কোথায় নিয়ে যায় তা জানা নেই। তারা আমাকে ৩ মাস গুম রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জঙ্গি হামলা মামলার আসামি করে আদালতে চালান দেন। আমি অবাক হয়েছে কীভাবে গুম থেকেও জঙ্গি মামলার আসামি হলাম।

জানা গেছে, শিবগঞ্জ উপজেলার শিবনগর গ্রামে ত্রিমোহনী এলাকায় আমবাগানের ভেতরে একটি অর্ধনির্মিত একতলা বাড়িতে স্থানীয় মুদি দোকানি আবুল কালাম আজাদ ওরফে আবু, তার স্ত্রী সুমাইয়া বেগম, ৭ বছরের কন্যা শিশু নূর সাদিয়া নুরী, ৫ বছরের আরেক কন্যা সুরাইয়া ইসলাম সাজেদা বসবাস করতেন। ২০১৭ সালের ২৫শে এপ্রিল ওই বাড়িতে জঙ্গি আস্তানা আছে বলে সন্দেহ করে পুলিশ। ওই সময় বাড়িতে সন্তানসহ এক দম্পতি অবস্থান করছিলেন। সন্দেহ থেকে বাড়িটি সারাদিন ঘিরে রেখে সন্ধ্যায় অভিযান শুরু করে পুলিশ। ঢাকা থেকে সোয়াট ও সিটিটিসির বিশেষ ইউনিট নিয়ে অভিযান চালানো হয়। পরে ৪ জন নিহত হোন।

শিবগঞ্জ থানার তৎকালীন ওসি ও বর্তমান পাবনা চাটমোহর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুল ইসলাম বলেন, ওরা (সিটিটিসি) যেটা সাজিয়েছে। মানে আপনি যদি বলেন সাজিয়েছে, তাহলে আমি বলবো এজহারে তারা যেটা লিখেছে আমি ওইটাই দেখেছি। আমার কাগজের বাহিরে কথা বলার সুযোগ নেই। অস্ত্র আবুর বাড়ি নাকি অন্য কোথাও থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, বা কার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে এগুলো আমি ডিটেইল বলতে পারবো না। কারণ ওই মুহূর্তে এসব বিস্তারিত জানার সুযোগ ছিল না। আর তারা যা বলবে আমি তার এন্ট্রি দিয়ে যেতে পারবো? ধরে নেন তারা যা লিখেছে, বলেছে আমি তাদের সঙ্গে একমত। আসলে আমি এটার নামকাওয়াস্তা তদন্তকারী। সব ঢাকা থেকে যারা এসেছে তারাই করেছে। একজন তদন্তকারী অফিসার লাগে তাই আমাকে করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যা আছে, সব ঢাকা থেকে লেখা হয়েছে। আমার করা না এসব।

মামলার সাক্ষীরা যা বলছেন: মামলার অন্যতম সাক্ষী সাদেকুর ইসলাম বলেন, আমি সেদিন ওখানে ছিলামই না। তারপরেও পুলিশ আমাকে সাক্ষী করেছে। আমি কিছু না দেখলে কীভাবে সাক্ষী দিবো বলেন? তারপরেও পুলিশ আমাকে ছাড়েনি। তারা আমাকে ধরে নিয়ে সাক্ষী নিয়েছে। আমাকে বলেছে, আমরা যা বলবো তুই শুধু হ্যাঁ বলে যাবি। পরে আমি একটি স্বাক্ষর দিয়ে চলে আসছি। তারা কী লিখেছে, তা আমি কিছু জানি না। পরে মামলার কাগজ তুলে দেখি আমার নামে একটি জবানবন্দি তৈরি করেছে। সেখানে মনের মতো সব লিখে নিয়েছে। অথচ আমি ঘটনার কিছুই জানি না। দেখিও নাই। আমি এর বিচার চাই।

আরেক সাক্ষী হিটলার বিশ্বাস বলেন, অপারেশন শেষে আমি পুলিশের সঙ্গে ঘরে ঢুকে পড়ে। তখন সেখানে একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখি। আবুর স্ত্রী পায়ে জখম হয়ে পড়ে আছে, তার পাশেই শিশু সন্তান অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। তাদের সন্তানের শরীরের রক্ত দেখেছি। কিন্তু পরদিন সকালে শুনি সেখান থেকে ৪টা লাশ উদ্ধার হয়েছে। শুনে আমি অবাক হয়েছে। বাকি ৩ লাশ আসলো কোথা থেকে?

পুলিশের করা মামলার আরেক সাক্ষী মনিরুল ইসলাম বলেন, আমার জবানবন্দি দুইবার লেখা হয়। আমি যেটা বলেছি। চার্জশিটে তা বদলে দেয়া হয়। সেখানে আমার বর্ণনার সঙ্গে কোনো মিল নেই। তাদের ইচ্ছামতো লিখে নিয়েছে। আমাকে কিছু বলার সুযোগ দেয়া হয়নি। আমি এই মামলার সাক্ষী হতে চাইনি। তারা জোর করে সাক্ষী বানিয়েছে।

মামলার বাদী তৎকালীন শিবগঞ্জ থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক আব্দুস সালাম বলেন, অভিযানে কী হয়েছে তা আমার জানা নেই। আর আমি ইচ্ছা করে এই মামলার বাদী হইনি। স্যাররা আমাকে বাদী বানিয়েছে তাই বাদী হয়েছি। আসলে আমরা হলাম হুকুমের গোলাম। তবে এজহারে কী আছে, আর আসলে কী ঘটেছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।  

এদিকে পুলিশের জবানবন্দি ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে নিহত আবুর স্ত্রী সুমাইয়া বেগমকে গুলির আঘাতে আহত বলা হয়। কিন্তু মামলার চার্জশিটে পুলিশ সুমাইয়াকে বোমার স্প্লিন্টারে আহত হয় বলে প্রতিবেদন দেন। সেদিন আবুর শিশু সন্তান নুরশাদও গুলিবিদ্ধ হোন। তবে পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদনে শিশু সন্তানের গুলির বিষয়টি এড়িয়ে যান।

পরিকল্পনা ঢাকায় অভিযান শিবগঞ্জে: ২০১৭ সালের ২০শে এপ্রিল দুপুর ১২টা। ঢাকার মিন্টোরোডে ডিবি কার্যালয়ে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) বিল্ডিংয়ের ৪ তলায় একটি জরুরি মিটিং কল করেন ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। এতে সিটিটিসি’র সদস্যদের সঙ্গে তৎকালীন ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশের বিশেষ বাহিনী সোয়াটের উপ-কমিশনার ডিসি প্রলয় কুমার জোয়ার্দার ও তার টিমের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা অংশ নেয়। ওই মিটিংয়ে দেশ জুড়ে জঙ্গিবিরোধী অভিযানের মাত্রা বাড়াতে সবাইকে চাপ দেন মনিরুল ইসলাম। ৪ থেকে ৫ মাসের মধ্যে অন্তত ২০টি জঙ্গি অভিযান পরিচালনা করতে নির্দেশ দেন তিনি। যেকোনো মূল্যে এই পরিকল্পনা সফল করতে কঠোরভাবে নির্দেশ দেয়া হয়। ওই মিটিংয়ে মনিরুল বলেন, জঙ্গি থাকুক বা না থাকুক আমার অভিযান চাই। এটাই সাফ কথা। যারা যত অভিযান করবে তাদের পুরস্কার ও পদন্নতির বিষয়টি দেখা হবে। সামনে নির্বাচন। উপরের নির্দেশ আছে, নির্বাচনের আগে শত শত অভিযান দিতে হবে। অভিযানের স্পট হিসেবে প্রত্যন্ত অঞ্চলকে টার্গেট করার নির্দেশ দেন মনিরুল। সেদিন চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটি অভিযানের বিষয়ে মত দেন মিটিংয়ে উপস্থিত ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি নুরুল ইসলাম। অভিযানের স্থান নির্ধারণ করেন তিনি নিজেই। পরিকল্পনা সাজানও তিনি। পরে ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়া হয় প্রয়ল কুমার জোয়ার্দারকে। পরে পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযান শেষ করেন প্রলয়।

যারা অভিযানে অংশ নেয়: আলোচিত ওই অভিযানে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট, পুলিশের বিশেষায়িত টিম সোয়াট, পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল, সিআইডি’র ক্রাইম সিন ইউনিট, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম। এদিকে অপারেশন ঈগল হান্ট অভিযানের পর ৭ বছর পেরিয়ে গেলেও গত মাসে ওই অভিযানকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে সে সময় অভিযানে অংশ নেয়া পুলিশ কর্তকর্তাদের বিরুদ্ধে শিবগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন নিহত আবুর স্ত্রী সুমাইয়া বেগম। মামলায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের তৎকালীন পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলাম- বর্তমানে অতিরিক্ত ডিআইজি, তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব আলম খান- বর্তমানে চট্টগ্রাম ট্রাফিকের ডিসি, শিবগঞ্জ থানার তৎকালীন ওসি হাবিবুল ইসলাম- বর্তমানে পাবনা চানমোহর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার, তৎকালীন এসআই আব্দুস সালাম- বর্তমানে নাটোর নলডাঙ্গা থানায় কর্মরত, তৎকালীন জেলা ডিবি’র ওসি মাহবুব আলম, তৎকালীন এসআই আব্দুল্লাহ জাহিদ, শিশির চক্রবর্তী, গাজী মোয়াজ্জেম হোসেন, এএসআই শাহ আলম, এএসআই গোলাম রসুল, সিটিটিসির তৎকালীন প্রধান নুরুল ইসলাম- সাবেক ডিআইজি ঢাকা রেঞ্জ, তৎকালীন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষ বাহিনী সোয়াটের উপ-কমিশনার ডিসি প্রলয় কুমার জোয়ার্দার, তৎকালীন কাউন্টার টেরোরিজমের প্রধান মনিরুল ইসলাম, পুলিশের সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হক, কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তৌহিদুল আলম, রাজশাহী রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি এম খুরশীদ হোসেনকে আসামি করা হয়।

উল্লেখ্য, ওই বছর মার্চ থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত দেড় মাসে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে অন্তত ১০টি বাড়িতে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযানে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৮ জন নিহত হয়। এ ছাড়া ২০১৬ সালে এক বছরে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে দেশ জুড়ে অর্ধশত ব্যক্তি নিহত হয়।

mzamin

সুন্দরবনে ১১ শাবকসহ বাঘের সংখ্যা বেড়ে এখন ১২৫

পাঁচ বছরে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ১১টি বেড়ে ১২৫টিতে দাঁড়িয়েছে। ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ে ৫৯ শতাংশ অর্থাৎ অন্তত ৭৩টি বাঘের অবস্থান শনাক্ত হয়েছে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন অংশে। ২১টি বাঘ শাবকের ছবিও মিলেছে ক্যামেরায়। চলতি মাসের ৮ই অক্টোবর প্রকাশিত বাঘ গণনার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আবার সুন্দরবনে বাঘ গণনা শুরু হয়। ৬০৫টি গ্রিডে এক হাজার ২১০টি ক্যামেরায় ৩১৮ দিন পর্যবেক্ষণ শেষে ২০২৪ সালের মার্চে বাঘ গণনা শেষ হয়। ক্যামেরায় ধরা পড়া ছবি পরীক্ষা করে ১২৫টি বাঘ পাওয়া যায়। এর আগে ২০১৫ সালের গণনায় ১০৬টি বাঘ এবং ২০১৮ সালের গণনায় ১১৪টি বাঘের খোঁজ পাওয়া যায়। সে হিসেবে ৩ বছরে ৮টি এবং পরের ৫ বছরে ১১টি বাঘ বেড়েছে। এবার মা বাঘের সঙ্গে ২১টি শাবকের ছবি ধরা পড়েছে। এর আগে ২০১৮ সালের গণনায় পাঁচটি বাঘ শাবকের ছবি পাওয়া যায়। তবে শাবকের মৃত্যুর হার বেশি বলে বরাবরের মতোই এগুলো গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

বন বিভাগের খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মিহির কুমার দে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বাঘ শাবকের মৃত্যুর হার বেশি এগুলো গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের মাধ্যমে সুন্দরবনে দুই বছর ধরে চলা বাঘ গণনার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ বিশ্ব বাঘ দিবসে (৩০শে জুন) ঘোষণার কথা থাকলেও দেশের বিরাজমান পরিস্থিতির কারণে এবারের ফলাফল দেরিতে ঘোষণা করা হয়েছে।’
তিনি জানান, সুন্দরবনকে তিনটি ব্লকে ভাগ করে বাঘ গণনার কার্যক্রম চালানো হয়। ব্লকগুলো হচ্ছে শরণখোলা-চাঁদপাই, খুলনা ও সাতক্ষীরা ব্লক। এরমধ্যে শরণখোলা রেঞ্জ ও চাঁদপাই এলাকার বনে ৫০টি বাঘ পাওয়া যায়। পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) শেখ মাহবুব হাসান বলেন, সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জে এক বাঘিনীর সঙ্গে চারটি শাবক দেখা গেছে। বর্তমান বিশ্বে বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী বাঘ। সবশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কয়েকটি দেশে তিন হাজার ৮৪০টি বাঘ রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে বাংলাদেশে বাঘের সংখ্যা বাড়ছে।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কাজী মুহাম্মদ নুরুল করীম বলেন, ‘সুন্দরবনে বাঘের মূল খাবার হরিণসহ অন্য খাবার ও বাঘের আবাসস্থল অনুকূলে থাকায় এখানে বাঘ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।’

mzamin

গণঅভ্যুত্থান-উত্তর বিএনপি’র রাজনীতি, একটি নিরীক্ষা by জি এম রাজিব হোসেন

সম্প্রতি প্রথম আলো এক প্রতিবেদনে বলেছে, গণঅভ্যুত্থানের পর দলীয় আদর্শবিরোধী ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এ পর্যন্ত ১০২৩ জন নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিএনপি। এর মধ্যে ৫২৩ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ, ৪৩৭ জনকে বহিষ্কার, ২৪ জনের পদ স্থগিত, ৩৫ জনকে সতর্ক ও ৪ জনকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের  নোটিশ দেয়া হয়েছে। এটাই আসলে দেশের মানুষ দেখতে চায় যে দল কী পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর মাধ্যমে বিএনপি যে, নতুন ধারার গুণগত রাজনীতির চর্চা ঘটাতে চায় তার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। এটা স্পষ্টতই প্রশংসনীয়।

গত বেশকিছু দিন ধরে দুর্গাপূজার শান্তিপূর্ণ আয়োজন নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের মধ্যে কিছুটা অস্বস্তি ছিল। তবে গত ১৩ই অক্টোবর  কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের হিন্দু সমপ্রদায়ের বৃহত্তম দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে  শেষ হওয়ায় সবার মনে স্বস্তি ফিরেছে। কিন্তু দুশ্চিন্তা একেবারেই নিঃশেষ হয়ে যায়নি। কারণ পতিত আওয়ামী লীগ সরকার ও তাদের দোসররা আবার কখন কিসের ওপর সওয়ার হয়ে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পাওয়া নতুন এ বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার  চেষ্টা করে সেটা সময়সাপেক্ষ। তবে তাদের ষড়যন্ত্র কিন্তু থেমে  নেই। তারা বিভিন্নভাবে দেশে পুনর্বাসিত হওয়ার চেষ্টা করছে। তাই তারা কখনো বিভিন্ন দাবি নিয়ে আন্দোলনরত  স্টেকহোল্ডারদের  ভেতরে ঢুকে উস্কানি দিয়ে আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। কখনো সংখ্যালঘু কার্ড ব্যবহার করছে। কখনো অন্যান্য ইস্যুকে বড়ো করে দেখানোর মরিয়া চেষ্টা চলছে। সে কারণে এবারের দুর্গোৎসব ঘিরে স্বয়ং সংখ্যালঘুদের মধ্যেই নিরাপত্তা নিয়ে কিছুটা সংশয় ছিল। তবে সরকারের সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় পূজা শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়ায় অশুভ শক্তির অপতৎপরতা আপাতত থেমেছে। এ কথা বলাই যায়, শান্তিপূর্ণভাবে পূজা আয়োজনে সরকার শতভাগ সফল হয়েছে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মতের মানুষও চরম সহযোগিতা করেছে।
এক্ষেত্রে বিএনপি একধাপ এগিয়ে ছিল সন্দেহ নেই। হিন্দু সমপ্রদায়ের মানুষ যাতে নিরাপদ, উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারে  সে লক্ষ্যে এ দলটি দেশের প্রতিটা পূজামণ্ডপের জন্য আলাদা আলাদা কমিটি করে দেয়। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় এসব কমিটি করা হয় বলে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার এক খবরে জানায়। পূজা শুরুর দিনই গত ৯ই অক্টোবর যখন এ খবরটা দেখলাম সেদিন খুব ভালো  লেগেছে। মনে হয়েছে দেশের মানুষ একটা রাজনৈতিক দলের কাছে এটাইতো প্রত্যাশা করে।

এ প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের সামপ্রতিক একটি বক্তব্য দেশের মানুষ বিশেষ করে হিন্দু সমপ্রদায়ের লোকজনকে আরও আশান্বিত করেছিল বলে আমার বিশ্বাস। পূজা চলাকালীন তিনি তার এক অফিসিয়াল ফেসবুক পোস্টে বলেছিলেন-“স্বাধীন বাংলাদেশে তথাকথিত সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু নিয়ে চিন্তার কোনো অবকাশ নেই। দেশের প্রতিটা নাগরিক সমান অধিকার ও স্বাধীনতা ভোগ করবে-এটাই বিএনপি’র নীতি, এটাই বিএনপি’র রাজনীতি। আমরা বিশ্বাস করি; দল-মত-ধর্ম যার যার, কিন্তু রাষ্ট্র সবার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার। বাঙালি-অবাঙালি, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী কিংবা সংস্কারবাদী প্রত্যেক নাগরিকের একমাত্র পরিচয় আমরা বাংলাদেশি। এই বাংলাদেশ আপনার, আমার, আমাদের সবার।” তারেক রহমান এ বক্তব্যের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছেন তা হলো- বাংলাদেশের সকল মানুষ এক ও অভিন্ন।

আমি ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে একবার মালয়েশিয়া ভ্রমণে গিয়েছিলাম। সে সময় দেশটির বিভিন্ন দেয়ালে আঁকা একটি গ্রাফিতি আমি দেখেছিলাম। গ্রাফিতিতে হাতের তর্জনী আঙুল উঁচু করে রাখা ছিল। আমার বুঝতে বেশ কিছুক্ষণ সময় লেগেছিল যে এটি মালয়েশিয়ার কিংবদন্তি প্রধানমন্ত্রী ও আধুনিক মালয়েশিয়ার স্থপতি ডা. মাহাথির বিন মোহাম্মদের ‘এক মালয়েশিয়ার’ সাইন। অর্থাৎ তিনি মালয়, ওরাং অসলি, সাবাহ ও সারাওয়াকের আদিবাসী, চীনা, ভারতীয় ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর সবার পরিচয় যে মালয়েশীয় তা বুঝিয়েছেন। পূজার সময় তারেক রহমানের বক্তব্যটা আমার কাছে অনেকটা এরকমই মনে হয়েছে। তিনি তার বক্তব্যে আমাদের এক বাংলাদেশি পরিচয়কে সামনে এনেছেন। তার এ বার্তা অভূতপূর্ব কাজে দিয়েছে। এরপর আমরা দেখেছি বিএনপি’র  নেতাকর্মীরা সুন্দরভাবে পূজা আয়োজনে দিনরাত পরিশ্রম করেছে।

এর আগে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে গত ৫ই আগস্ট  শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর জামায়াত-বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এমনকি  হেফাজত ইসলামের কর্মীদেরও মাদ্রাসার ছাত্রদেরকে হিন্দু সমপ্রদায়ের বাড়িঘর ও ধর্মীয় উপাসনালয় পাহারা দিতে দেখা যায়। দেশে অনেকদিন ধরে একটা কথা প্রচলিত আছে যে হিন্দুরা আওয়ামী লীগ আমলে তুলনামূলক ভালো থাকে। তাদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা অনেক সময় এ দাবি করেছেন। তাদের এ দাবি যে মিথ্যা তা ৫ই আগস্টের পর জামায়াত-বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠনের কর্মকাণ্ডে প্রমাণিত হয়েছে। এক্ষেত্রে তারেক রহমানের আরেকটি বক্তব্যকে সামনে না আনলে অযথার্থ হবে। ৫ই আগস্ট  শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তার  ফেসবুকে প্রচারিত এক ভাষণে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন- “বিজয়ের এই আনন্দঘন সময় শান্তভাবে উদ্‌যাপন করুন। অনুগ্রহপূর্বক  কেউ প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসাপরায়ণ হবেন না। কেউ নিজের হাতে দয়া করে আইন তুলে নেবেন না।” কী চমৎকার তার বাক্যবাণ, কী চমৎকার তার আকুতি। বিদেশে নির্বাসিত জীবনে থেকেও নিজের দেশ বাংলাদেশকে শান্ত, স্থিতিশীল  দেখার কী আকাঙ্ক্ষা তিনি ব্যক্ত করেছেন। তার এ আহ্বানের প্রতিফলনও কিন্তু আমরা দেখেছি। আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ২০১৮ সালের ২০শে আগস্ট ভোলায় এক অনুষ্ঠানে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রথম দিনেই লক্ষ মানুষ হত্যা করবে (প্রথম আলো)। এরপর ২০২৩ সালের ২০শে মার্চ আওয়ামী লীগের সাবেক মৎস্য ও প্রাণী সম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, বিএনপি আবার ক্ষমতায় এলে ১০ লাখ লোক মেরে ফেলবে (কালের কণ্ঠ)। কিন্তু আমরা বাস্তবে কী দেখলাম? আওয়ামী লীগের পতনের অব্যবহিত পর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কেউ মারা যায়নি। তাৎক্ষণিক গণরোষে পড়ে কিছু মানুষ মারা গেছে এটা সত্য। কোনো মৃত্যুই কাম্য নয়। এটা অনাকাঙ্ক্ষিত। তবে তাৎক্ষণিক গণরোষে যাদের মৃত্যু হয় তাদের অনেকের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানকারীদের ওপর হামলার অভিযোগ ছিল।

২০২২ সালের নভেম্বরে কাতার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনে কাতার-ইকুয়েডর ম্যাচ শেষে জাপানি ফুটবলপ্রেমীরা আল বায়ত স্টেডিয়াম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা করার একটি খবর সে সময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। ৫ই আগস্টের পর আমরা বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে একটি পরিবর্তন দেখেছিলাম। পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশের অনুপস্থিতির কারণে সে সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে দায়িত্ববোধের একটা তাগিদ আমরা দেখেছি। তখনো কিন্তু সাধারণ ছাত্র-জনতার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ছাত্রদল-যুবদলের কর্মীরা সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করেছে। স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীরা রাস্তা পরিষ্কার করেছে। ডাকাতির উৎপাতরোধে রাত জেগে শহর পাহারা দিয়েছে। সবার মধ্যে একধরনের একাত্মতা দেখা গেছে। যেন আলাদা কোনো দল নেই। সবাই এক। আওয়ামী লীগের দুঃশাসন যেন সবাইকে একটা বন্ধনে আবদ্ধ করেছে। এরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ বন্যার সময়ও দলমত নির্বিশেষে সবাই এগিয়ে এসেছেন। ত্রাণ নিয়ে বন্যাকবলিত এলাকায় হাজির হয়েছেন। বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরাও বন্যাদুর্গতদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছেন।

১১ই অক্টোবর যুগান্তর পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নতুন ধারার ছাত্র রাজনীতির রোডম্যাপ প্রকাশ করবে ছাত্রদল। তারা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে সাধারণ ছাত্রদের মতামত নিচ্ছেন। বৃক্ষরোপণ করছেন। অর্থাৎ সাধারণ শিক্ষার্থীদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন। এটাকে অবশ্যই সাধুবাদ দিতে হয়। কারণ ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে শিক্ষার্থীরা ছাত্র-রাজনীতির ওপর থেকে কিছুটা মুখ ফিরিয়ে রেখেছেন। এক্ষেত্রে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মন জয়ের ছাত্রদলের প্রচেষ্টা ইতিবাচক। কারণ ছাত্র-রাজনীতির প্রয়োজন আছে। আমাদের দেশে ছাত্র রাজনীতির একটি গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসও আছে। তাই দেশের আগামীর  নেতৃৃত্ব তৈরির সুতিকাগার ছাত্র-রাজনীতির হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে ছাত্রদলের প্রচেষ্টা একটা ভালো উদ্যোগ।

তবে এত কিছুর পরও কিছু নেতাকর্মীর অবিবেচনাপ্রসূত কর্মকাণ্ডে বিএনপিকে মাঝে মধ্যেই বিব্রত হতে হচ্ছে। সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে। পতিত স্বৈরাচারের অনুসারীরা এতে আবার রসদও জোগাচ্ছে। এটা সত্য বাড়ির কোনো সদস্য কোনো ভুল করলে  যেমন অভিভাবককে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়, ঠিক তেমনি কিছু নেতাকর্মীর কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপিকেও প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে। আসলে বিএনপি এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে বৃহৎ একটি রাজনৈতিক দল। এখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলন রয়েছে।  কোটি কোটি কর্মী সমর্থক রয়েছে। এর মধ্যে কিছু মানুষ দলীয়শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ড করলেও বেশির ভাগ  নেতাকর্মীর অবস্থান এর বাইরে। তারা এটাকে পছন্দ করছেন না। শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীর সংখ্যা কম হলেও এর দায়ভার বিএনপির ওপর বর্তায় বটে। তবে এক্ষেত্রে যে বিষয়টা বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন তা হলো- দলটির শীর্ষ  নেতৃত্ব কী করছেন। তারা কী কর্মীদের শৃঙ্খলা ভঙ্গকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন নাকি তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছেন। এটা  দেখতে হবে। এখন পর্যন্ত  যেটা দেখা যাচ্ছে বিএনপি শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগেই এসব ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি প্রথম আলো এক প্রতিবেদনে বলেছে, গণঅভ্যুত্থানের পর দলীয় আদর্শ বিরোধী ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এ পর্যন্ত ১০২৩ জন নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিএনপি। এর মধ্যে ৫২৩ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ, ৪৩৭ জনকে বহিষ্কার, ২৪ জনের পদ স্থগিত, ৩৫ জনকে সতর্ক ও ৪ জনকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের  নোটিশ দেয়া হয়েছে। এটাই আসলে দেশের মানুষ দেখতে চায় যে দল কী পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর মাধ্যমে বিএনপি যে নতুন ধারার গুণগত রাজনীতির চর্চা ঘটাতে চায় তার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। এটা স্পষ্টতই প্রশংসনীয়।

সিনিয়র সাংবাদিক

mzamin

আমিরাতে সাইফুজ্জামানের আরও সম্পদ

আছে দেশত্যাগে আদালতের নিষেধাজ্ঞা। তবু লন্ডনে আলিশান এপার্টমেন্টে বসবাস করছেন ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী। যে বাড়িতে তিনি বসবাস করছেন তার বাজারমূল্য এক কোটি ৪০ লাখ ডলার। আল জাজিরার ইনভেস্টিগেটিভ ইউনিটের (আই-ইউনিটে) এক অনুসন্ধানে ধরা পড়েছে এসব তথ্য। তারা দেখতে পেয়েছে ওই এপার্টমেন্টের বাইরে হাঁটাহাঁটি করছেন সাইফুজ্জামান চৌধুরী। ওদিকে অনলাইন গার্ডিয়ানে বলা হয়েছে, তার বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে লন্ডনের এস্টেট এজেন্ট, আইনজীবী ও ঋণদাতাদের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না  তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন একাধিক বৃটিশ এমপি। আর্থিক দুর্নীতি তদন্তকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে এই আহ্বান জানানো হয়েছে। এখানেই শেষ নয়। এর আগে আল জাজিরাই তার সম্পদের তথ্য ফাঁস করে রিপোর্ট করেছিল। কিন্তু তার বাইরে সাবেক এই মন্ত্রীর আরও সম্পদের তথ্য পেয়েছে আল জাজিরার ওই তদন্ত টিম। সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করার আদেশ দিয়েছে ঢাকার কর্তৃপক্ষ। তার এসব বিনিয়োগের বিষয়ে তদন্তও চলছে। এ ছাড়া বিগত সরকারের বহু সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে। আল জাজিরার আই-ইউনিটের পক্ষে তদন্ত শেষে রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান এবং উইল থর্ন। তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে আল জাজিরার আই-ইউনিটের সাইটে। এতে বলা হয়েছে, সাইফুজ্জামান চৌধুরী বহু কোটি ডলার বৃটেনে পাচার করেছেন। এর বিরুদ্ধে তদন্ত করছে বাংলাদেশের দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা। তার বিরুদ্ধে আদালত দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। কিন্তু সাইফুজ্জামানকে লন্ডনে তার বিলাসবহুল এপার্টমেন্ট ব্লকের কাছাকাছি হাঁটতে দেখা গেছে। এ দৃশ্য ধারণ করেছে আই-ইউনিট। ওই এপার্টমেন্ট ব্লকে তার আছে ৬টি ফ্ল্যাট। যার মূল্য ৯০ লাখ ডলারের উপরে। বৃটেনে প্রপার্টি সাম্রাজ্যে তিনি যে বিনিয়োগ করেছেন দুর্নীতির মাধ্যমে, এটা তার একটি ছোট্ট অংশ মাত্র। সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং যুক্তরাষ্ট্রে তার আরও শত শত সম্পদ আছে। এগুলোর সঙ্গে লন্ডনের ওই এপার্টমেন্টগুলো বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশনকে আদালত জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছে। শুধু সাইফুজ্জামান চৌধুরীই নন, তার স্ত্রীর সম্পদও জব্দ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে আগস্টে সরকারের পতন হওয়ার প্রেক্ষিতে দেশ থেকে পালিয়ে যান সাবেক ভূমিমন্ত্রী। আন্দোলনের ফলে তার ঘনিষ্ঠ বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে চলে যান।

দুবাইয়ে তার আরও সম্পদের সন্ধান
সেপ্টেম্বরে আল জাজিরা ‘দ্য মিনিস্টারস মিলিয়ন্স’ শীর্ষক একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে তুলে ধরা হয় সাবেক এই ভূমিমন্ত্রীর বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সম্পদের বিশাল ফিরিস্তি। এর মূল্য মনে করা হয় ৫০ কোটি ডলার।  তদন্তের সময় আল জাজিরার রিপোর্টার ছদ্মবেশে তার সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। তিনি ওই সাংবাদিককে লন্ডন, নিউ ইয়র্ক এবং দুবাইয়ে তার এপার্টমেন্টের বর্ণনা দেন। ২০১৬ সাল থেকে সাইফুজ্জামান চৌধুরী শুধু বৃটেনেই কমপক্ষে ৩৬০টি আলিশান বাড়ি কিনেছেন। কিন্তু আল জাজিরার হাতে যেসব তথ্য বা ডাটা চলে গেছে, তাতে দেখা যায়, আগে দুবাইয়ে তার যে পরিমাণ সম্পদের হিসাব পাওয়া গিয়েছিল প্রকৃতপক্ষে তার সংখ্যা অনেক বেশি। ২০২৩ সালের সম্পদের সর্বশেষ ফাঁস হওয়া ডাটা থেকে দেখা যায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতে কমপক্ষে ২৫০টি বিলাসবহুল এপার্টমেন্টের তালিকাভুক্ত মালিক তিনি। এর মূল্য ১৪ কোটি ডলারের উপরে। রেকর্ড বলছে, তার স্ত্রী রুখমিলা জামানও অর্থ পাচারের অভিযোগে তদন্তাধীন বাংলাদেশে। দুবাইয়ে তিনি আরও ৫০টি প্রপার্টির তালিকাভুক্ত মালিক। এর মূল্য কমপক্ষে দুই কোটি ৫০ লাখ ডলার। এর আগে ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দুবাইয়ের প্রপার্টি বিষয়ক ডাটা ফাঁস হয়। তা হাতে যায় সেন্টার ফর এডভান্সড ডিফেন্স স্টাডিজ (সি৪এডিএস)-এর হাতে। তারা বিষয়টি ই২৪ এবং অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড রিপোর্টিং প্রজেক্টের (ওসিসিআরপি) মিডিয়া আউটলেটের মাধ্যমে তা শেয়ার করে আল জাজিরার সঙ্গে। তাতে তাদের নামে ৫৪টি সম্পদের তালিকা পাওয়া যায়। ছদ্মবেশে অনুসন্ধান চালানোর সময় সাবেক এই ভূমিমন্ত্রী লন্ডনের অভিজাত অপেরা ডিস্ট্রিক্ট এলাকায় একটি পেন্টহাউসের মালিকানার কথা প্রকাশ করেন। সেখানকার ভূমি বিষয়ক রেকর্ড নিশ্চিত করছে যে, তিনি একটি বিলাসবহুল এপার্টমেন্টের তালিকাভুক্ত মালিক। এর দাম কমপক্ষে ৫০ লাখ ডলার। নতুন যে ডাটা ফাঁস হয়েছে তাতে দেখা যায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতে তিনি এবং তার স্ত্রী কমপক্ষে ৩০০টি অভিজাত এপার্টমেন্ট কিনেছেন প্রায় ১৭ কোটি ডলার ব্যয় করে। সব মিলে এই দম্পতি বিশ্ব জুড়ে কমপক্ষে ৬০০ প্রপার্টিজের মালিক।

অর্থ পাচারের তদন্ত: বাংলাদেশের মুদ্রা আইন বর্তমানে যেকোনো নাগরিককে এক বছরে দেশের বাইরে ১২ হাজার ডলারের বেশি নিতে দেয় না। কিন্তু আল জাজিরা অনুসন্ধানে দেখতে পেয়েছে, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে সাইফুজ্জামান চৌধুরী তার অফসো’র সম্পদের বিষয়ে ঘোষণা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। এর মধ্যদিয়ে তিনি বাংলাদেশের ট্যাক্স বিষয়ক আইন লঙ্ঘন করেছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার সাবেক মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ দুর্নীতির বড় রকমের তদন্ত শুরু করেছে। সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুখমিলা জামানের সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করেছে কর্তৃপক্ষ। তাদের বিরুদ্ধে দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। বৃটেনে তাদের বহু কোটি ডলার পাচারের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তবে সাইফুজ্জামন চৌধুরী বলেন, তিনি বাংলাদেশের বাইরে বৈধ ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থে বিদেশে প্রোপার্টি কিনেছেন। এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক তিনি বহু বছর ধরে। তিনি দাবি করেন, ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ‘ডাইনিবিদ্যা’ ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে রুখমিলা জামান কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

গার্ডিয়ানের রিপোর্টে বলা হয়, লন্ডনের মাটিতে সাইফুজ্জামানের এমন সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলতে সেখানকার রিয়েল এস্টেট বা ঋণদাতা কোনো সংস্থা জড়িত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন এক এমপি। তিনি লন্ডনের রেভিনিউ অ্যান্ড কাস্টমস (এইচএমআরসি), ফিন্যান্সিয়াল কন্ডাক্ট অথরিটি (এফডিসিএ) এবং সলিসিটর রেগুলেশন অথরিটি (এসআরএ)-এর মতো আর্থিক দুর্নীতি তদন্তকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্তরাজ্যের অ্যান্টি মানিলন্ডারিং নিয়ম অনুযায়ী এ বিষয়ে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। ওই এমপি’র পাঠানো এ বিষয়ক চিঠি দেখতে পেয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। তাতে লেবার দলের এমপি ফিল ব্রিকেল ওই তিনটি সংস্থাকে নিশ্চিত হতে বলেছেন যে, সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সম্পদ ও তহবিলের উৎসের বিষয়ে  জড়িত কোম্পানিগুলোর আর্থিক লেনদেনের পর্যাপ্ত যাচাই করা হয়েছিল কিনা। ওই তিনটি সংস্থার প্রতি তিনি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন এই আর্থিক লেনদেনে জড়িত বৃটিশ এস্টেট এজেন্ট, আইন বিষয়ক প্রতিষ্ঠান এবং ঋণদাতারা তাদের রেগুলেটরি বাধ্যবাধকতা মেনে চলেছেন কিনা তা পরীক্ষা করে দেখে। তিনি আরও বলেন, যখন এ ধরনের অভিযোগ আসে তখন বিশ্বে দুর্নীতিমুক্ত লন্ডনে সক্রিয়ভাবে, দ্রুততার সঙ্গে এবং ত্বরিত তদন্ত করতে হবে। কারণ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে খুবই গুরুত্ব দেয় বৃটেন। দুর্নীতিবিরোধী এবং ট্যাক্সের দায়িত্বে থাকা সর্বদলীয় পার্লামেন্টারি এপিপিজি’র সদস্যরা গত সপ্তাহে আলোচনা করেছেন যে, ঢাকায় যেসব কর্তকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে বৃটেনের সম্পদে তাদের যোগসূত্র থাকার বিষয়টি বাংলাদেশকে শনাক্ত করতে কীভাবে সহায়তা করা যায় তা নিয়ে। এই গ্রুপটির চেয়ার এমপি জো পাওয়েল এ বিষয়ে ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির কাছে চিঠি লিখেছেন। তাতে তিনি সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ বাংলাদেশের সাবেক শাসকগোষ্ঠীর সদস্যদের বৃটেনে থাকা সম্পদের বিষয়ে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা আছে এমন বিদেশি ব্যবসায় ব্যক্তিদের সঙ্গে যেসব পশ্চিমা কোম্পানি কাজ করে তাদের ভূমিকা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্রমবর্ধমান নজরদারিতে রয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে এই বিষয়টি চেক করার আহ্বান জানান ব্রিকেল যে, বৃটিশ প্রতিষ্ঠানগুলো সন্দেহজনক তৎপরতার বিষয়ে রিপোর্ট করেছিল কিনা। কারণ, যদি তারা অর্থ পাচারের মতো কোনো বিষয়ে সন্দেহ করে তাহলে আইন অনুযায়ী তা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যদি তারা সেটা না করে থাকে তাহলে তারা ফৌজদারি অপরাধ করে থাকতে পারে। এসব বিষয় যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিকেল। 

mzamin

প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ দাবি: বঙ্গভবন ঘিরে বিক্ষোভ ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন-এর পদত্যাগ দাবিতে গতকাল দিনভর বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন সংগঠন। বঙ্গভবনের পাশে বিক্ষোভ করে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। প্রেসিডেন্টের পদত্যাগসহ ৫ দফা দাবি জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। বিকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণজমায়েত থেকে এই দাবি জানানো হয়। বিকাল সাড়ে তিনটা থেকে শহীদ মিনারে শুরু হয় এই গণজমায়েত কর্মসূচি।

বিকাল পৌনে চারটার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহসহ কেন্দ্রীয় সমন্বয়করা গণ-জমায়েত কর্মসূচিতে যোগ দেন। এ সময় বক্তব্য রাখেন সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, সাহাবুদ্দিন চুপ্পু মসনদে বসে এখনও ফ্যাসিবাদের চর্চা করে যাচ্ছেন। তার পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। আমাদের বিপ্লব শেষ হয় নাই। আমরা হাসিনাকে হটিয়েছি, কিন্তু রাজনৈতিক বন্দোবস্ত করতে পারি নাই। যতদিন পর্যন্ত ক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দলগুলোকে সুস্থ ও গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে পারছি ততদিন এই আন্দোলন চলবে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ২৪ এর বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে প্রাসঙ্গিক হবে কি না, তার ফয়সালা ১৭ই জুলাই হয়ে গেছে। যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীরা নগ্নভাবে হামলা চালিয়েছিল, সেদিনই সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে এই জঙ্গি সংগঠন এবং তাদের নেতা শেখ হাসিনার ঠাঁই বাংলার মাটিতে হবে না। রাস্তায় রক্ত দিয়ে আমরা সেটিকে নিশ্চিত করেছি। আমরা এই সপ্তাহের মধ্যে নিশ্চিত করতে চাই আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ মুজিববাদী যত সংগঠন রয়েছে সবকিছু বাংলার মাটি থেকে উৎখাত হয়ে যাবে। তিনি উপদেষ্টাদের উদ্দেশ্যে বলেন, মুজিবের ছবি না লাগিয়ে নিহত ছাত্রদের ছবি লাগান। এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে ৫ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন হাসনাত।
দাবিগুলো হলো-

১. অবিলম্বে ৭২ এর সংবিধান যা চুপ্পুকে এখনো পদে আসীন থাকার সুযোগ করে দিয়েছে, সেটি বাতিল করতে হবে এবং সেই ’২৪ এর গণঅভ্যুত্থান প্রেক্ষাপটে নতুন করে সংবিধান রচনা করতে হবে।

২. এই সপ্তাহে ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে বাংলার মাটি থেকে আজীবনের জন্য  নিষিদ্ধ করতে হবে।

৩. ফ্যাসিবাদী সংবিধানের দোসর চুপ্পুকে এই সপ্তাহের মধ্যে অপসারণ করতে হবে।

৪. ’২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিটের আলোকে এই সপ্তাহের মধ্যে ‘প্রোক্লেমশান অব রিপাবলিক’- ঘোষণা করতে হবে এবং সেটি ও ক্রিয়াশীল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর মতের ভিত্তিতে ’২৪ পরবর্তী বাংলাদেশ পরিচালিত করতে হবে

৫. ১৪, ১৮, ২৪ সালের বিতর্কিত তিন নির্বাচন অবৈধ ঘোষণা করতে হবে, এই তিন নির্বাচনে যারা বিজয়ী সংসদ সদস্য ছিলেন তাদের সম্পদ বাতিল করতে হবে, তারা যাতে ’২৪ পরবর্তী বাংলাদেশে কোনোভাবে প্রাসঙ্গিক না হতে পারেন সে ব্যবস্থা করতে হবে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আয়োজনে গণজমায়েতে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক সারজিস আলম, আব্দুল হান্নান মাসুদসহ কেন্দ্রীয় সমন্বয়করা।
গতকাল সন্ধ্যায়  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। সন্ধ্যার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। সেখান থেকে প্রেসিডেন্টের দ্রুত পদত্যাগের দাবি জানানো হয়। সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে  প্রেসিডেন্টের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।

সমাবেশে ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, শেখ হাসিনার পলাতক হওয়ার পরই  প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনকে সরিয়ে দিতে বলেছিলাম আমরা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলাম, গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিট ধরে রাখতে একটি বিপ্লবী সরকার গঠন করা যেতে পারে। কিন্তু তারা প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ গ্রহণ করার মাধ্যমে যে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটির খেসারত এখন দিতে হচ্ছে।

আওয়ামী লীগসহ তার সব অঙ্গসংগঠনকে নিষিদ্ধের দাবি তুলে তিনি আরও বলেন, আমরা আল্টিমেটাম দিচ্ছি আগামীকালকের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে। একইসঙ্গে প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগ করতে হবে। সেটি না হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বঙ্গভবন অভিমুখী লং মার্চ করবো

২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণের আল্টিমেটাম দিয়ে বঙ্গভবন ঘেরাও কর্মসূচি পালন করছে ছাত্র-জনতা। মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টায় বঙ্গভবনের সামনে থেকে এই ঘোষণা দেয়া হয়। আন্দোলনকারীরা জানান, বর্তমান প্রেসিডেন্ট আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার দোসর। আমরা চাই না তিনি প্রেসিডেন্ট পদে থাকুন। তাই আমরা তাকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছি তিনি যেন প্রেসিডেন্টের পথ থেকে পদত্যাগ করেন। তিনি যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ না করেন তাহলে আমরা জানি তাকে কীভাবে পদ থেকে সরাতে হয়। ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটামে কাজ না হলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবো। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিজে আহত হয়েছেন জানিয়ে বাহার উদ্দিন নামে একজন বলেন, প্রেসিডেন্ট চুপ্পু যে পর্যন্ত তার পদ থেকে পদত্যাগ না করবেন সে পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছেড়ে যাবো না। তিনি স্বৈরাচার শেখ হাসিনার দোসর। আমরা চাই না কোনো স্বৈরাচারের দোসর এই পদে থাকুক।

মো. সোহাগ নামে একজন বলেন, আমরা দেখতে চাই চুপ্পু কতোদিন বঙ্গভবনে থাকতে পারেন। ছাত্র আন্দোলনে আহতরা পথে পথে আর দুর্নীতিবাজ ও স্বৈরাচারের দোসর প্রেসিডেন্ট চুপ্পু বঙ্গভবনে আরাম-আয়েশ করবে এটা মেনে নেয়া হবে না। ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকেও বঙ্গভবনের পাশে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। তাদের কর্মসূচি থেকেও প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ দাবি করা হয়।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ই আগস্ট দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি পালিয়ে যাওয়ার পর জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং আমি তা গ্রহণ করেছি।’ তবে সমপ্রতি মানজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে  প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি শুনেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন, কিন্তু তার কাছে এ সংক্রান্ত কোনো দালিলিক প্রমাণ বা নথিপত্র নেই। প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘বহু চেষ্টা করেও আমি ব্যর্থ হয়েছি। তিনি হয়তো সময় পাননি।’

বঙ্গভবনের নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা: ওদিকে রাতে প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ দাবিতে বঙ্গভবনের সামনের নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন একদল বিক্ষোভকারী। এ সময় সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের বাধা দিতে দেখা যায়। রাতে এ রিপোর্ট লেখার সময়ও বিক্ষোভকারীরা সেখানে অবস্থান করছিলেন।

দিনভর কর্মসূচি পালনের পর রাতে কিছু বিক্ষোভকারী হঠাৎ নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেন। এ সময় আন্দোলনকারীদের বাধা দেয় নিরাপত্তায় নিয়োজিত সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। একপর্যায়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দেন। পরে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করে এবং সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

mzamin

চার ব্যাটলগ্রাউন্ডে অল্প এগিয়ে কমালা, ট্রাম্প দু’টিতে

নির্বাচনের আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি। এ সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটলগ্রাউন্ড বলে পরিচিত ৭টি রাজ্যের মধ্যে চারটিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে জনমত জরিপে এগিয়ে আছেন ডেমোক্রেট দলের প্রার্থী কমালা হ্যারিস। অন্যদিকে ট্রাম্প সামান্য এগিয়ে আছেন দু’টি রাজ্যে। ওয়াশিংটন পোস্ট-শচার স্কুল পরিচালিত জরিপে সোমবার এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। কমালা হ্যারিস এগিয়ে আছেন জর্জিয়া, মিশিগান, পেনসিলভ্যানিয়া ও উইসকনসিনে। ট্রাম্প এগিয়ে আছেন অ্যারিজোনা এবং নর্থ ক্যারোলাইনাতে। নেভাদায় তারা দু’জনে সমান সমান সমর্থন পেয়েছেন। এর পরিমাণ শতকরা ৪৮ ভাগ। এ খবর দিয়েছে অনলাইন দ্য হিল। এতে বলা হয়েছে জর্জিয়াতে ডেমোক্রেট প্রার্থী কমালা হ্যারিসকে সমর্থন করেছেন শতকরা ৫১ ভাগ মানুষ। ট্রাম্পকে সমর্থন করেছেন শতকরা ৪৭ ভাগ। অন্যদিকে উইসকনসিন রাজ্যে কমালা হ্যারিসকে সমর্থন করেছেন শতকরা ৫০ ভাগ ভোটার। অন্যদিকে ট্রাম্পকে সমর্থন করেছেন শতকরা ৪৭ ভাগ ভোটার। মিশিগানে তাদের ব্যবধান দুই পয়েন্টে। মিশিগানে কমালা হ্যারিসকে জয়ী করার জন্য প্রচারণায় নেমেছেন উইসকনসিনের গভর্নর টনি এভারস এবং মিশিগানের গভর্নর গ্রেশ্চেন হোয়াইটমার। পেনসিলভ্যানিয়াকে নিজেদের দখলে নেয়ার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দুই প্রার্থীই। কারণ, এখানেই আছে ১৯টি ইলেক্টোরাল ভোট। এখানে দুই পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে আছেন কমালা হ্যারিস। তাকে সমর্থন করেছেন শতকরা ৪৯ ভাগ ভোটার। ট্রাম্পকে সমর্থন করেছেন শতকরা ৪৭ ভাগ। অন্যদিকে ২০২০ সালের নির্বাচনে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য অ্যারিজোনায় সামান্য ব্যবধানে জয়ী হন বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এবারকার নির্বাচনে বড় ইস্যু হয়েছে অভিবাসন। এই ইস্যুকে সামনে এনে এই রাজ্যে জয়ের লক্ষ্য স্থির করেছেন ট্রাম্প। বর্তমানে সেখানকার শতকরা ৪৯ ভাগ ভোটার তাকে সমর্থন করছেন। কমালা হ্যারিসকে সমর্থন করছেন ৪৬ ভাগ। নর্থ ক্যারোলাইনাতে শতকরা তিন পয়েন্টে এগিয়ে আছেন ট্রাম্প। এই রাজ্যে শতকরা ৫০ ভাগ ভোটার সমর্থন করেছেন তাকে। কমালা হ্যারিসকে সমর্থন করেছেন শতকরা ৪৭ ভাগ ভোটার। এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে ওয়াশিংটন পোস্টের ওই জরিপে। ২৯ শে সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ই অক্টোবর পর্যন্ত সাতটি সুইং স্টেটের ৫০১৬ জন ভোটারের ওপর চালানো হয়েছে এই জরিপ।
mzamin

হোয়াটসঅ্যাপ কীভাবে অর্থ উপার্জন করে?

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রিয়জনের খোঁজ নেওয়া অথবা দাপ্তরিক কাজে বার্তা আদান-প্রদানের জন্য আমরা বিভিন্ন ম্যাসেজিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে থাকি। তার মধ্যে অন্যতম ফেসবুক মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, স্ন্যাপচ্যাট, টেলিগ্রাম, সিগন্যাল ইত্যাদি। এসব পরিষেবা অধিকাংশই বিনামূল্যে পেয়ে থাকেন ব্যবহারকারীরা।

বর্তমানে প্রায় তিন বিলিয়ন মানুষ হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করছে। কিন্তু বিনামূল্যে গ্রাহকদের পরিষেবা দিয়ে ঠিক কীভাবে অর্থ উপার্জন করে হোয়াটসঅ্যাপ তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে অনেকের মনেই।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে আসে ম্যাসেজিং প্ল্যাটফর্মগুলোর অর্থ উপার্জনের একটি চিত্র। সেখানে বলা হয়, মূলত করপোরেট কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে অর্থ উপার্জন করে হোয়াটসঅ্যাপ। কোম্পানিগুলো তাদের পণ্য বা পরিষেবার প্রচার করতে ব্যবহারকারীদের সাথে যোগাযোগ করতে চায়।

হোয়াটসঅ্যাপের প্রিমিয়াম সংস্করণ কিনলে অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি গ্রাহকদের সাথে চ্যাট করা যায়। সেটি হতে পারে কোনো কিছু সম্বন্ধে সাধারণ কথোপকথন বা আর্থিক লেনদেন। বিশ্বের অনেক জায়গায় এই ফিচারটি এখনো প্রায় শুরুর দিকে আছে। কিন্তু, উদারণস্বরূপ, ভারতের বেঙ্গালুরুতে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বাসের টিকেট কেনা এবং আসন বেছে নেওয়া যায়।

মেটা’র বিজনেস মেসেজিং-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট নিকিলা শ্রীনিবাসন জানান, তাদের লক্ষ্য, ব্যবসায়িক কোম্পানি ও গ্রাহকরা যেন চ্যাট থ্রেডে সবকিছু ঠিকভাবে করতে পারে। এছাড়া ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো কোনও লিংকের জন্য হোয়াটসঅ্যাপকে অর্থ দিতে পারে। সেক্ষেত্রে কোনও ফেসবুক বা ইন্সটাগ্রাম ব্যবহারকারী যদি বিজ্ঞাপন হিসাবে থাকা লিংকে প্রবেশ করে, তাহলে তার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে একটি নতুন চ্যাট খুলে যায়। শুধু এই একটি ফিচারটি থেকেই কয়েক বিলিয়ন ডলার আয় হয়।

মেটার ব্যবসার মূল লক্ষ্য হল হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি করা। তবে অন্যান্য যেসব মেসেজিং অ্যাপ আছে, সেগুলো ভিন্ন উপায় অনুসরণ করে। মেসেজের নিরাপত্তার জন্য আরেকটি সুপরিচিত প্ল্যাটফর্ম হলো ‘সিগন্যাল’ অ্যাপ। এটি একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। তারা বিনিয়োগকারীদের থেকে অর্থ নেওয়ার পরিবর্তে, অনুদানের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। ২০১৮ সালে হোয়াটসঅ্যাপের সহপ্রতিষ্ঠাতা ব্রিয়ান অ্যাকটনের থেকে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার নগদ অনুদান গ্রহণ করে সিগন্যাল।

জনপ্রিয় ম্যাসেজিং প্ল্যাটফর্ম স্ন্যাপচ্যাটেও বিভিন্ন ধরনের মডেল আছে। এই অ্যাপে বিজ্ঞাপন দেখানো হয়। এর পাশাপাশি ‘স্ন্যাপচ্যাট স্পেকট্যাকল’ নামক অগমেন্টেড রিয়েলিটি চশমাও বিক্রি করে তারা। ফোর্বস ওয়েবসাইটের মতে, এর উপার্জনের আরও একটি পথ রয়েছে। ২০১৬ থেকে ২০২৩, এই সময়ের মাঝে শুধু সুদ থেকেই তারা ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার উপার্জন করেছে।

ছবি : সংগৃহীত

সিলেটের ৭ নম্বর কূপে দিনে মিলছে ৮ মিলিয়ন গ্যাস by ওয়েছ খছরু

সিলেট গ্যাস ফিল্ডের ৭ নম্বর কূপে ধীরে ধীরে গ্যাসের চাপ কমে এসেছিলো। লাইনে গ্যাসের চেয়ে পানির মাত্রা ছিল বেশি। এ কারণে এই কূপকে পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছিল সিলেট গ্যাস ফিল্ড কর্তৃপক্ষ। পুনঃখনন কাজ শুরুর তিন মাসের মাথায় এসে মিলেছে ফলাফল। এ কূপ থেকে প্রতিদিন ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে এ কূপ থেকে উত্তোলিত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে বলে জানিয়েছে কূপ কর্তৃপক্ষ। সিলেট গ্যাস ফিল্ডের ৭ নম্বর কূপটি অনেক পুরাতন। ১৯৮৬ সালে তেল উৎপাদনের মধ্যদিয়ে এ কূপের যাত্রা শুরু হয়। দেশের অন্যতম উৎপাদিত তেল ক্ষেত্র হিসেবে এ কূপটি পরিচিত। পরবর্তীতে ২০০৫ সাল থেকে এ কূপে আনুষ্ঠানিক গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়। সিলেট গ্যাস ফিল্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে- গত বছর থেকে এ কূপে উত্তোলিত গ্যাসের চাপ কমতে শুরু করে। চলতি বছরের শুরুতে দেখা যায় গ্যাসের চেয়ে পানির মাত্রা বেশি আসে। তবে; জরিপ বলছিলো ভিন্ন কথা। এ গ্যাস কূপে পর্যাপ্ত গ্যাস মজুত থাকার বিষয়টি জানা গিয়েছিল। এ কারণে সিলেট গ্যাস ফিল্ড কর্তৃপক্ষ একই গ্যাস কূপে আরেকটি জোনে কূপ পুনঃখননের উদ্যোগ নেয়। গত জুলাই মাস থেকে তারা কূপ খনন শুরু করে। সিলেট গ্যাস ফিল্ডের এমডি মো. মিজানুর রহমান গতকাল বিকালে মানবজমিনকে জানিয়েছেন- পরীক্ষামূলক খননের একপর্যায়ে ১০ই অক্টোবর এক হাজার মিটার গভীরে এ কূপ থেকে ৬ দশমিক ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। এরপর গতকাল সকালে ১২০০ মিটার গভীরে গেলে এই কূপ থেকে ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। তিনি জানিয়েছেন- এখন পরীক্ষামূলক উত্তোলন করা হচ্ছে। এবং উত্তোলিত গ্যাস ফ্লো-আউট করা হচ্ছে।

এভাবে এক সপ্তাহ পরীক্ষামূলক উত্তোলন করার পর কমপ্রেসারের কাজ করা হবে। আগামী ২১ দিনের মধ্যে এই কূপ থেকে উত্তোলিত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি। জানান- এই গ্যাস কূপে পরীক্ষা করলে জানা যাবে কী পরিমাণ গ্যাস মজুত রয়েছে তা গ্যাস পরীক্ষা করতে আরও তিন-চারদিন সময় লাগতে পারে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাকে সিলেটে আনার প্রস্তুতি চলছে। তিনি এলে আনুষ্ঠানিকভাবে সবকিছু বলা যাবে। এ বছরের ২৪শে মে খননকাজ শেষে সিলেটের কৈলাশটিলা গ্যাস ক্ষেত্রের ৮নং কূপে দৈনিক ২১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার যায়। এর আগে গত ২৭শে জানুয়ারি সিলেট গ্যাস ফিল্ডের আওতাধীন রশিদপুরের ২নং কূপে গ্যাসের নতুন স্তরের সন্ধান মেলে। যার পরিমাণ প্রায় ১৫৭ বিলিয়ন ঘনফুট। সিলেট গ্যাস ফিল্ডের ১০ নম্বর কূপটি উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত। ইতিমধ্যে গ্যাস উত্তোলনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এখন চলছে গ্যাস পাইপলাইন স্থাপনের কাজ। এ কূপ থেকে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেডের উৎপাদনে থাকা কূপগুলো থেকে এখন প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে প্রায় ১০০ মিলিয়নের বেশি ঘনফুট গ্যাস। চলতি বছরের মধ্যে আরও কয়েকটি প্রকল্পের কাজ শেষ করে তারা সেই উৎপাদনকে ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নিয়ে যেতে চায়। আর সরকারের বেঁধে দেয়া সময় অনুযায়ী ২০২৫ সালের মধ্যে সব কাজ শেষ করতে পারলে শুধু এই কোম্পানি থেকেই প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে ২৫০ মিলিয়ন গ্যাস যুক্ত করা সম্ভব হবে বলছেন সংশ্লিষ্টরা। সেজন্য গ্যাস উত্তোলন, ওয়ার্কওভারের পাশাপাশি গ্যাস অনুসন্ধানও চলছে।

mzamin

মালয়েশিয়ার ন্যানো স্যাটেলাইট আবিষ্কার ও গবেষণায় বাংলাদেশি ড. তারিকুল ইসলাম by আরিফুল ইসলাম

মালয়েশিয়ায় গবেষণা, উদ্ভাবন ও বাণিজ্যিকীকরণ প্রদর্শনী ২০২৪ এর অন্যতম সেরা আকর্ষণ ছিলো বাংলাদেশি প্রবাসী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের গবেষণা প্রকল্প 'ন্যানো স্যাটেলাইট কমপ্যাক্ট সি-ব্যান্ড প্যাচ অ্যান্টেনা'। যা মালয়েশিয়ার ন্যানো স্যাটেলাইট পরিচালনায় এই প্রথম কোনো বাংলাদেশির মাইলফলক অর্জন।

মালয়শিয়ার খ্যাতনামা উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি কেবাংসান মালয়েশিয়া (ইউকেএম) সম্প্রতি এ গবেষণা, উদ্ভাবন ও বাণিজ্যিকীকরণ প্রদর্শনীর আয়োজন করে। ইউকেএমের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (পরিকল্পনা ও কর্পোরেট উন্নয়ন), অধ্যাপক দাতো ড. রোসলি বিন রাজিকান এর সভাপতিত্বে টেকনোপলিস সাইবার একাডেমি (এএসটি) এর অডিটোরিয়াম হলে এ প্রদর্শনীর পর্দা উন্মোচিত হয়।

এ বছরের আলোচ্য বিষয় ছিলো 'টেকনোলজির কমার্শিয়ালাইজেশন এবং উদ্ভাবন টেকসই গবেষণা।' এ প্রোগ্রামে তিনি ইউকেএম এর ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির সেরা ১০টি বাণিজ্যিক পণ্য উদ্বোধন করেন। প্রদর্শনীতে অন্যান্য কার্যক্রমের পাশাপাশি, ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের সেরা গবেষণা প্রজেক্ট গুলোর বাণিজ্যিকীকরণ, ইন্ডাস্ট্রি কোলাবোরেশান এবং গবেষণা পত্র শীর্ষক সেমিনার আয়োজিত হয়। প্রদর্শনীর সেরা ১০ বাণিজ্যিক প্রজেক্টে স্থান পাওয়া অন্যতম আকর্ষণীয় গবেষণা প্রজেক্ট হলো ন্যানো স্যাটেলাইটের জন্য তৈরি করা কমপ্যাক্ট প্যাচ অ্যান্টেনা যা সি-ব্যান্ডে পরিচালিত হয়।

এই প্যাচ অ্যান্টেনাটি জাপানের কিউশু ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি কর্তৃক তৈরি করা একটি কিউবস্যাটেলাইটে (ন্যানো স্যাটেলাইট) ইনস্টল করা হয়েছে, যা গত ২৪ মার্চ ২০২২ তারিখে রাত ৯:১০ (জেএসটি) এ আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন (আইএসএস) থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়। স্যাটেলাইট মিশনে সি-ব্যান্ড কমিউনিকেশন বোর্ড ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ২০ এমবিপিএস উচ্চ গতির ক্ষমতা সম্পন্ন ডেটা ডাউনলিংক পাওয়া যায়। উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন এই সি-ব্যান্ড এন্টেনা, মোবাইল গ্রাউন্ড মিশনে ওয়ান (১) এমবিপিএস পর্যন্ত ডাউনলিংক স্পিড প্রদর্শন করে যা মূল গ্রাউন্ড স্টেশনে একই ফ্রিকোয়েন্সিতে ব্যবহার করা হয়।

প্রস্তাবিত উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন মাইক্রোস্ট্রিপ অ্যান্টেনা সিস্টেমে কোএক্সিয়াল ফিড টেকনিক ব্যবহার করা হয়। এর গঠনগত আকৃতিতে একটি অপ্রতিসম বর্গাকার প্যাচ এবং একটি প্যাসিভ আয়তকার স্ট্রিপ রয়েছে। এটি সহজেই কিউবস্যাটেলাইটের যে কোনো আকারের ধাতব বা অধাতব পৃষ্ঠে সংযুক্ত করা সম্ভব। এটিই বিশ্বের প্রথম সি-ব্যান্ড, উচ্চ গেইন, কমপ্যাক্ট, রাইটহ্যান্ড সার্কুলার পোলারাইজড ক্ষমতাসম্পন্ন অ্যান্টেনা যা সরাসরি ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি  থেকে কমার্শিয়াল স্যাটেলাইট পরিচালনায় ব্যবহার করা হয়েছে। মালয়েশিয়ার গবেষণা এবং আবিষ্কারের দিক থেকে অন্যতম সেরা মাইলফলক অর্জন করেছে এই কমপ্যাক্ট সি-ব্যান্ড প্যাচ অ্যান্টেনা ।

সেরা এই প্রজেক্টটির পরিচালনায় ছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মালয়শিয়ার অন্যতম শীর্ষ গবেষক এবং অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম যিনি বর্তমানে ইউকেএম-এর ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক এবং সিস্টেমস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। একই সাথে তিনি জাপানের কিউশু ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবেও কর্মরত আছেন। সম্প্রতি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত র‌্যাঙ্কিং অনুযায়ী, তিনি নেটওয়ার্কিং এবং টেলিকমিউনিকেশন’ শাখায় বিশ্বের শীর্ষ ২% বিজ্ঞানীদের একজন।

এই প্রতিষ্ঠানটি ২০২০ সাল থেকে এই ধরনের বিজ্ঞানীদের ক্যারিয়ার লং এবং সিংগেল ইয়ারের ক্যাটাগরিতে তালিকা প্রকাশ করে থাক। ২টি ক্যাটাগরিতেই ড. ইসলামের নাম একাধারে ২০২০ সাল থেকে বর্তমান অবধি নথিভুক্ত হয়ে আসছে। প্রতি বছর আগের বছরের অর্জনের ভিত্তিতে র‌্যাংক আপডেট করা হয়। এই র‌্যাংকিংটি সাইটেশন মেট্রিক্স যেমন: এইচ-ইনডেক্স, কো অথর সংশোধিত এইচএম-ইনডেক্স, সাইটেশন এবং সি -স্কোরের উপর ভিত্তি করে করা হয়ে থাকে যা স্কোপাস ডেটাবেস থেকে সংগৃহীত হয়ে থাকে।

অধ্যাপক তারিকুল ইসলামের অর্জনের ঝুলিতে আরো রয়েছে প্রায় ৬০০টি গবেষণা প্রবন্ধ, ২৫০ কনফারেন্স আর্টিকেল, গবেষণামূলক বই, যাতে অ্যান্টেনা, মেটাম্যাটেরিয়াল এবং মাইক্রোওয়েভ ইমেজিং-এর মতো বিষয় গুলো  নিয়ে বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে। ড. ইসলামের গবেষণা প্রোটোটাইপ দিয়ে ২৫টি পেটেন্টের আবেদন দাখিল করা আছে এবং ইতোমধ্যে ৫টি পেটেন্ট এর আবেদন গৃহীত হয়েছে।

বর্তমানে তিনি একটি গবেষণা দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা তার তত্ত্বাবধানে গবেষণা করছে যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি গবেষকও রয়েছেন। ইতিমধ্যে তার তত্ত্বাবধানে ৩৫ জন ছাত্র পিএইচডি ডিগ্রী এবং ২৫ জন ছাত্র এমএসসি ডিগ্রী অর্জন করেছেন। এছাড়াও, ১০ জনেরও বেশি পোস্টডক্টরাল এবং ভিজিটিং গবেষকগণ তার তত্ত্বাবধানে গবেষণা সম্পন্ন করেছেন।

শুধু তাই নয়, ড. ইসলাম একজন চার্টার্ড প্রফেশনাল ইঞ্জিনিয়ার (সিইঞ্জ), আইইইই এর সিনিয়র সদস্য, যুক্তরাজ্যের আইইটি-এর ফেলো, এবং জাপানের আইএইআইসিএই-এর সিনিয়র সদস্য। তার গুগল স্কলার সাইটেশন সংখ্যা  প্রায় ২৭,০০০ এবং তার এইচ-ইনডেক্স ৬৯।

এছাড়াও ড. ইসলামের তত্ত্বাবধানে একটি উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন আধুনিক মানের অ্যান্টেনা ল্যাবরেটরি (স্টেট অফ দ্যা আর্ট) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যা ৪০ গিগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সি পর্যন্ত অ্যান্টেনা ডিজাইন এবং টেস্টিং সুবিধা প্রদান করে থাকে। ইতিপূর্বে তিনি আইইটি ইলেকট্রনিক্স লেটারের সহযোগী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়াও, বর্তমানে তিনি সেন্সরস এবং ন্যানোম্যাটেরিয়ালস জার্নাল এর গেস্ট সম্পাদক, আইইইই এক্সেস-এর সহযোগী সম্পাদক, এবং স্প্রিঙ্গার নেচার এর 'সাইন্টিফিক রিপোর্টস' জার্নালের সম্পাদকীয় বোর্ডের সদস্য হিসেবে কর্মরত আছেন।
mzamin

নিবন্ধন ফিরে পেতে জামায়াতের আপিল পুনরুজ্জীবিত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে খারিজ হওয়া আপিলটি পুনরুজ্জীবিত করার আবেদন মঞ্জুর করেছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে আপিল দায়েরের ক্ষেত্রে ২৮৬ দিন বিলম্ব মার্জনা করা হয়েছে। গতকাল প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন। এতে নিবন্ধন ফিরে পেতে জামায়াতের আপিলের ওপর পুনরায় শুনানি হবে বলে আইনজীবীরা জানিয়েছে।

আদালতে জামায়াতের পক্ষে আবেদনের শুনানি করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিক। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও মতিউর রহমান আকন্দ। আদেশের বিষয়ে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, আজকে আমাদের আপিল পুনরুজ্জীবিত হলো, পরবর্তীতে আমরা আপিলটি প্রতিস্থাপন করবো। এই মামলার যিনি আপিলকারী ছিলেন, আপনারা জানেন তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। তার স্থলাভিষিক্ত হবেন বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। এরপর নতুন করে আপিল শুনানির জন্য আবেদন করা হবে।

শিশির মনির আরও বলেন, জামায়াতের আপিল শুনানির জন্য যেদিন ধার্য ছিল ওইদিন দেশব্যাপী হরতাল ছিল। যার কারণে সিনিয়র আইনজীবী উপস্থিত হতে পারেননি। তখন আমাদের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। বিষয়টি জানানো হয়েছিল। আপিল শুনানি মূলতবি রাখার জন্য আবেদন করা হয়েছিল। তারপরেও আপিল বিভাগ ‘ডিসমিসড ফর ডিফল্ট’ হিসেবে আপিলটি খারিজ করে দিয়েছিলেন। আমরা বলেছি, একজন সিনিয়র আইনজীবী নিরাপত্তার কারণে আদালতে না আসলে এই রকম একটি সার্টিফিকেট আপিল, যেখানে সাংবিধানিক ব্যাখার প্রয়োজন। হাইকোর্ট মনে করেছেন সাংবিধানিক ব্যাখ্যা প্রয়োজন সেটি এভাবে শুনানি ছাড়া, একতরফাভাবে ডিসমিসড ফর ডিফল্ট করা যায় না। আমরা আপিলটি পুনরুজ্জীবিত করার আবেদন করেছিলাম। আমাদের আর্গুমেন্ট আপিল বিভাগ মঞ্জুর করেছেন এবং আপিল পুনরুজ্জীবিত করেছেন।

তিনি বলেন, এটি একটি সার্টিফিকেট আপিল। হাইকোর্ট বিভাগই সার্টিফিকেট দিয়েছিল যে এখানে সাংবিধানিক ইস্যু জড়িত। লিভ টু আপিল না করে সরাসরি আপিল করা যাবে। হাইকোর্ট বিভাগ যেখানে সার্টিফিকেট দিয়েছে, এই ধরনের মামলা শুনানি ছাড়া খারিজ করা যায় না। এজন্য আমাদের বিলম্ব মার্জনা করেছেন ও আপিল পুনরুজ্জীবিত করার আবেদন মঞ্জুর করেছেন।

শিশির মনির বলেন, শুনানিতে অপরপক্ষ থেকেও আপত্তি নেই মর্মে জানানো হয়েছিল। আপিল শুনানির সময় প্রতীকের বিষয়টিও আসবে। আপিল মঞ্জুর হলে নিবন্ধনের সঙ্গে আশাকরি প্রতীকও অ্যালাউ হবে। এর আগে গত ১লা সেপ্টেম্বর জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরে পেতে খারিজ হওয়া আপিল পুনরুজ্জীবিত করার আবেদনের শুনানির জন্য এদিন ধার্য করা হয়। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম শুনানির এ দিন ধার্য করেন।

আদালতে জামায়াতের পক্ষে শুনানি করেন এডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি ওইদিন বলেছিলেন, হাইকোর্ট এই মামলায় বিভক্ত রায় দেন। দুই বিচারপতি নিবন্ধন বাতিল করে রায় দিয়েছেন। আরেকজন বিচারপতি নিবন্ধনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। নিবন্ধন বাতিলের পক্ষে যিনি আর্গুমেন্ট করেছেন তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি নিবন্ধন মামলা, এইভাবে বাতিল করার জন্য আবেদন করেছেন তিনি নিজেই পক্ষ দোষে দুষ্ট। কারণ কোনো রাজনৈতিক দলকে ধর্মের ভিত্তিতে কিংবা কোনো ধর্মীয় আচার-আচরণের ভিত্তিতে পরিচালিত কোনো রাজনৈতিক দল পৃথিবীর কোথাও নিষিদ্ধ করা হয় না। জামায়াতে ইসলামী একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। বাংলাদেশের সকল পার্লামেন্টে জামায়াতের প্রতিনিধিত্ব ছিল। এভাবে কোনো দলের নিবন্ধন বাতিল করার কোনো কারণ থাকতে পারে না। এটি গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ ১৯৭২ এর পরিপন্থি এবং বাংলাদেশের সংবিধানের পরিপন্থি।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গত ১লা আগস্ট জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরপর গত ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরে পেতে সুপ্রিম কোর্টেন আপিল বিভাগে খারিজ হওয়া আপিলটি পুনরুজ্জীবিত করার আবেদন করা হয়। এক রিট আবেদন নিষ্পত্তি করে ২০১৩ সালের ১লা আগস্ট জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল ও অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। এরপর ২০১৮ সালের ৭ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরবর্তীতে হাইকোর্টে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে জামায়াতে ইসলামী। তবে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল শুনানিতে জামায়াতের মূল আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় গত বছরের ১৯শে নভেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির আপিল বিভাগ ‘ডিসমিস ফর ডিফল্ট’ বলে আপিল খারিজের  আদেশ দেন। ফলে রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল থাকে।

২০০৮ সালের ৪ঠা নভেম্বর জামায়াতে ইসলামীকে সাময়িক নিবন্ধন দেয়া হয়। পরের বছর বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের তৎকালীন সেক্রেটারি জেনারেল সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরী, জাকের পার্টির তৎকালীন মহাসচিব মুন্সি আবদুল লতিফ, সম্মিলিত ইসলামী জোটের প্রেসিডেন্ট মাওলানা জিয়াউল হাসানসহ ২৫ জন জামায়াতের নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জে রিট করেন।

২০১৩ সালের ১২ই জুন জামায়াতের নিবন্ধন প্রশ্নে জারি করা রুলের শুনানি শেষে রায়ের জন্য রাখা হয়। এরপর ২০১৩ সালের ১লা আগস্ট সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ বলে রায় দেন হাইকোর্টের একটি বৃহত্তর বেঞ্চ। ওই সময় সংক্ষিপ্ত রায়ে আদালত বলেন, এই নিবন্ধন দেয়া আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত। একইসঙ্গে আদালত জামায়াতে ইসলামীকে আপিল করারও অনুমোদন দেন। তবে ওই রায় স্থগিত চেয়ে জামায়াতের করা আবেদন একই বছরের ৫ই আগস্ট খারিজ করে দেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী। পরে একই বছরের ২রা নভেম্বর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে জামায়াতে ইসলামী আপিল করে। ওই আপিল শুনানিতে উদ্যোগ নেন রিটকারী পক্ষ।

ছিনতাই আতঙ্ক নগর জুড়ে by শুভ্র দেব

ছিনতাইকারীর রাজ্যে পরিণত হয়েছে রাজধানী ঢাকা। দিনে-দুপুরে প্রকাশ্যে ছিনতাইয়ের পাশাপাশি সন্ধ্যায়, রাতে ও ভোরেও ছিনতাই হচ্ছে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা থেকে শুরু করে বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানির টাকা ছিনতাই, পথচারী, রিকশা আরোহী যাত্রীদের থামিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া গণপরিবহনে বসে থাকা যাত্রীদের কাছ থেকে মোবাইল, ব্যাগ, ল্যাপটপসহ অন্যান্য মূল্যবান জিনিসও ছিনতাই করে নিয়ে যাচ্ছে ছিনতাইকারীরা। ছিনতাইকারীরা দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করছে। প্রকাশ্যে অটোরিকশা ছিনতাই, বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের টাকা বহনকারী গাড়িতে অস্ত্র ঠেকিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। প্রাণঘাতী ছিনতাইয়ের ঘটনাও রয়েছে অহরহ। এছাড়া ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে আহত হচ্ছেন শত শত মানুষ। অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টসূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর পুলিশ বাহিনীতে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অবাধে গুলি করে মানুষ হত্যাসহ নানা কারণে পুলিশের উপর থেকে সাধারণ মানুষের আস্থা চলে যায়। এতে করে জনগণের সঙ্গে পুলিশের একটা দূরত্ব সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ জনগণ থানায় হামলা, অগ্নিসংযোগ, মালামাল লুট করাসহ পুলিশের ওপর আক্রমণ করে। অনেক পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর থেকে পুলিশের মনোবল ভেঙে যায়। স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড থেকে তারা দূরে চলে যায়। থানায় অগ্নিসংযোগ করার কারণে পুলিশের যানবাহন পুড়ে যায়। ওই সময় পুলিশের আইজিপি থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের পদবিতে পরিবর্তন আসে। ঢাকায় যারা দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত ছিলেন তাদের ঢাকার বাইরে বিভিন্ন ইউনিটে বদলি করে দেয়া হয়। আর ঢাকায় যারা নতুন করে বদলি হয়ে এসেছেন তারা ডিএমপি’র কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বুঝে উঠতে সময় নিচ্ছেন। বদলির মধ্যে থাকার কারণে বিভিন্ন থানা পর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিও কম। যানবাহন না থাকার কারণে পুলিশের টহল কার্যক্রম হচ্ছে না। এতে চোর- ছিনতাইকারীরা বেপরোয়া হয়েছে। টহল না থাকায় দেদারছে ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটছে। পুলিশের সূত্রগুলো বলছে, দেশে ১০ হাজারের বেশি ছিনতাইকারী ও ডাকাত রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামে এদের সংখ্যা বেশি। ঢাকার ছিনতাইকারীদের নিয়ে গত বছর একটি বিশেষ প্রতিবেদন তৈরি করে ঢাকা মহানগর পুলিশ। এতে বলা হয়, ডিএমপি’র সাসপেক্ট আইডেন্টিফিকেশন অ্যান্ড ভেরিফিকেশন সিস্টেমের (এসআইভিএস) তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে ছয় হাজার ১৯৮ জন ছিনতাই ও ডাকাতিতে জড়িত। এর মধ্যে ছিনতাইকারী এক হাজার ৭৩৭ জন। ঢাকায় ছিনতাই ও ডাকাতি নিয়ন্ত্রণে এসআইভিএস’র তথ্য কাজে লাগিয়ে এই অপরাধীদের গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে। সূত্রগুলো বলছে, ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য বেশি গুলিস্তান, চানখাঁরপুল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ এলাকা, মালিবাগ রেলগেট, বাড্ডা, মগবাজার, শাহবাগ, জিগাতলা বাসস্ট্যান্ড, ধানমণ্ডি, মোহাম্মদপুর, নিউ মার্কেট, মতিঝিল, যাত্রাবাড়ী ও উত্তরার বিভিন্ন এলাকায়। পুলিশ মাঠ পর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানতে পেরেছে, ঢাকায় সবচেয়ে বেশি ছিনতাইকারী ও ডাকাত রয়েছে তেজগাঁও এলাকায়। সবচেয়ে কম মিরপুর এলাকায়। সবচেয়ে বেশি ছিনতাইকারি ও ডাকাত রয়েছে শাহবাগ, ভাটারা ও শেরেবাংলানগর থানা এলাকায়। সবচেয়ে কম ছিনতাইকারী ও ডাকাতের নাম তালিকাভুক্ত রয়েছে দক্ষিণখান, উত্তরখান ও উত্তরা-পূর্ব থানা এলাকায়।

ডিএমপি’র বিভিন্ন অপরাধ নিয়ে কাজ করেন এমন কমকর্তারা বলছেন, ঢাকায় বেশির ভাগ ছিনতাই মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত। বিশেষ করে ভোরবেলা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, সায়েদাবাদ, মহাখালী ও গাবতলী বাস টার্মিনালে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা যাত্রীদের টার্গেট করে ছিনতাইকারীরা। যাত্রীরা যখন বাস ও ট্রেন থেকে নেমে রিকশা, সিএনজি ও পায়ে হেঁটে বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে চায় তখনই অন্ধকার বা আবছা অন্ধকারে যাত্রীদের টার্গেট করে ছিনতাইকারীরা। এছাড়া দিনের বেলা বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংকের গ্রাহকদেরও টার্গেট করে তারা।

পুলিশ সদরদপ্তর জানিয়েছে, শুধু ঢাকায় নয়, সারা দেশে ছিনতাই রোধে রেঞ্জ পুলিশ, পুলিশ কমিশনার, র‌্যাবসহ সব ইউনিটকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে ছিনতাই প্রবণতা ঢাকায় বেশি হওয়াতে ঢাকার ৫০ থানা, ডিবিকে এ নিয়ে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছে ডিএমপি র‌্যাব সদরদপ্তর। পাশাপাশি র‌্যাব সদরদপ্তরও এ নিয়ে গুরুত্বসহকারে কাজ করছে। র‌্যাব’র যেসব ব্যাটালিয়ন ঢাকায় কাজ করছে তারা ঢাকার কোন কোন স্থানে বেশি ছিনতাই এবং অন্যান্য অপরাধ বেশি হয় তার একটি ম্যাপ তৈরি করছেন। সে অনুযায়ী তারা ছিনতাইকারী ধরতে পরবর্তী ব্যবস্থা নিবেন। ডিএমপি জানিয়েছে, ঢাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন এলাকায় টহল বাড়ানো হয়েছে। ঢাকার প্রতিটি থানার ওসিদের এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। ছিনতাই-ডাকাতি প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুুযায়ী ডিএমপি’র আটটি অপরাধ বিভাগের (ক্রাইম) প্রতিটি এলাকায় প্রতিদিন রাত ৮টার পর থেকে পরদিন ভোর পর্যন্ত এই বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। ডিএমপি’র উপ-কমিশনাররা (ডিসি) অভিযান তদারকি করছেন। যে এলাকায় ছিনতাই-ডাকাতি হবে সেই এলাকার ওসিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শুধু যে ছিনতাই হচ্ছে তা নয়; পুলিশ বিভিন্ন ছিনতাইয়ের ঘটনায় ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তারও করছে। বৃহস্পতিবার ভোরে ধানমণ্ডির রাপা প্লাজার সামনে অভিযান চালিয়ে তিন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে দু’টি চাপাতি, একটি লোহার রড ও ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি হলুদ রঙের পিকআপ ভ্যান জব্দ করা হয়। ধানমণ্ডি থানা সূত্রে জানা গেছে, জেহাদুল ইসলাম মনি ও তার স্ত্রী মির্জা ফাতিমা জাহান দম্পতি ১৬ই অক্টোবর ভোরে বরগুনা থেকে এসে রাসেল স্কয়ার বাসস্ট্যান্ডে গাড়ি থেকে নামেন। বাসস্ট্যান্ড থেকে রিকশাযোগে রওনা হয়ে ভোর ৪টা ১৫ মিনিটে ধানমণ্ডির রোড নম্বর-১৩/এ, বাসা নম্বর-২৩ এর সামনে পৌঁছান। রিকশা থেকে নামার মুহূর্তে অজ্ঞাতনামা তিনজন ছিনতাইকারী একটি হলুদ রঙের পিকআপ দিয়ে তাদের গতিরোধ করে। তারা ধারালো চাপাতি ও লোহার রড দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও মারধর করে ভুক্তভোগীর স্ত্রীর ব্যবহার করা একটি মোবাইল ফোন, একটি ভ্যানিটি ব্যাগ, একটি ইবিএল ব্যাংকের এটিএম কার্ড ও এনআইডি কার্ড ছিনিয়ে নেয়। তাদের মারধরে জেহাদুল ইসলাম মনির স্ত্রী শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। ধানমণ্ডি সোসাইটি ঘটনাটি পুলিশকে জানালে ধানমণ্ডি থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এবং গোয়েন্দা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রেপ্তার সবাই একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। এ চক্রটি দীর্ঘদিন যাবৎ ধানমণ্ডি, শেরেবাংলা নগর ও মোহাম্মদপুর এলাকায় পিকআপযোগে ছিনতাই করে আসছিল। গত সোমবার রাত ১০টার দিকে বাড্ডা থেকে পেশাদার সশস্ত্র ছিনতাইকারী চক্রের অন্যতম সদস্য পারভেজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উত্তর বাড্ডার হাজীপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি সুইচ গিয়ার চাকু, একটি ছুরি ও ৬টি মোবাইল উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার পারভেজ পেশাদার সশস্ত্র ছিনতাইকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বাড্ডা এলাকাসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় চুরি ও ছিনতাই করে আসছিল।

ডিএমপি আইন ও গণমাধ্যম শাখার উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান গতকাল মানবজমিনকে বলেন, ছিনতাই প্রতিরোধে আমাদের টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। চিহ্নিত ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। পেশাদার ছিনতাইকারী অনেকে আটক হয়েছে। এলিটফোর্স র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল মুনীম ফেরদৌস মানবজমিনকে বলেন, আমাদের ব্যাটালিয়নগুলো তাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় একটা অপরাধ মানচিত্র তৈরি করছে। আমরা শনাক্ত করার চেষ্টা করছি কোন কোন এলাকায় ছিনতাই বেশি হচ্ছে। সে অনুযায়ী র‌্যাবের টহল টিম যে স্পটে বেশি ছিনতাই হয় সেটিকে নজরদারির মধ্যে রেখেছে। এ ছাড়াও আমরা স্থানীয়দের সহযোগিতা নিচ্ছি। তাদের কাছে যদি কোনো তথ্য উপাত্ত থাকে সেটিও সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছি। এর বাইরে থানা ও বিভিন্ন সংস্থার চিহ্নিত ছিনতাইকারীদের নজরদারিতে রেখেছি। কেউ জামিনে বের হয়ে আসছে কিনা সেটিও নোট করছি। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা অভিযান চালিয়ে ২০ জনের মতো ছিনতাইকারী ও ৩৩ জন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছি। তিনি বলেন, হেডকোয়ার্টার্স থেকে ব্যাটালিয়নগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। জনজীবনে স্বস্তি আনার জন্য ডাকাতি ও ছিনতাই নিয়ে কাজ করার কথা বলা হয়েছে।

সরকারি অনুদান পেতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জালিয়াতি

সরকারি আর্থিক অনুদান পেতে পঞ্চগড় জেলার কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। তারা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানাগারের যন্ত্রপাতি ক্রয়সহ বিভিন্ন অনুদানের জন্য ৪ জন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল, অফিসিয়াল প্যাড, লোগো, সিল ব্যবহার ও ভুয়া স্মারক দিয়ে প্রত্যয়নপত্র বানিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে জমা করে। যা এরই মধ্যে ধরা পড়েছে। পঞ্চগড় সদর, তেঁতুলিয়া, বোদা ও আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবগত করা সহ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

জানা যায়, জেলার ৫টি উপজেলায় স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা সহ মোট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৪৮১টি। এ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে মাধ্যমিকের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে আর্থিক অনুদানের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা্থর (ইউএনও) কাছে প্রত্যয়নের আবেদন করে। তার মধ্যে যাচাই বাছাইয়ে রেজিস্টারভুক্ত করে ইউএনও্থরা কয়েকটি বিদ্যালয়কে প্রত্যায়নপত্র প্রদান করেন। যারা প্রত্যয়ন পায়নি তারা সিল ও স্বাক্ষর জাল করে তাদের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে আবেদন জমা করে। মন্ত্রণালয় থেকে আরেক দফা যাচাই বাছাইয়ে ইউএনওদের অবগত করা হলে জালিয়াতির বিষয়টি সামনে আসে প্রশাসনের। জালিয়াতির ব্যাপারে পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে আবেদন করার জন্য সদর উপজেলা থেকে ২টি প্রতিষ্ঠানকে প্রত্যায়নপত্র দেয়া হয়েছিল। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে জানিয়েছে, সেখানে ৮টি আবেদন জমা হয়েছে। এর মধ্যে ৬টি আবেদন জাল পাওয়া গেছে। সেগুলোতে দেখা গেছে স্বাক্ষর, সিল, প্যাড, লোগো ও স্বারক নকল করা হয়েছে। বিষয়টি শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবগত করা হয়েছে। ভুয়া প্রত্যয়নপত্র  তৈরি করার দায়ে কেনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তার জন্য আগামী ১০ দিনের সময় দিয়ে বিদ্যালয়গুলোকে শোকজ করা হয়েছে। তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে রাব্বী বলেন, আমার দায়িত্বের উপজেলা থেকে মন্ত্রণালয়ে ১০টি আবেদন জমা হয়েছিল বলে মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে। প্রাথমিক যাচাইয়ে আমাদের অবগত করলে আমরা ১টি প্রত্যায়ন দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে সে প্রতিষ্ঠানের নাম জানিয়েছি। দেখা গেছে বাকি ৯টি আবেদন আমার স্বাক্ষর, সিল, প্যাড, লোগো ও স্বারক নকল করে মন্ত্রণালয়ে জমা করেছে। পরে শিক্ষা কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকদের ডেকে মৌখিকভাবে জালিয়াতির বিষয়টি অবগত করা হয়। এ ব্যাপারে কোনো শিক্ষকের সঠিক উত্তর পাওয়া যায়নি। ফাইল বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাড়া অন্য কারো মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে জমা করার কোনো সুযোগ নেই। এর সঠিক কারণ দর্শানোর জন্য রোববার লিখিত আকারে তাদের শোকজ নোটিশ করা হয়েছে।  এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার নজির বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আবেদনের প্রেক্ষিতে অফিসিয়ালিভাবে ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে প্রত্যায়নপত্র দেয়া হয়েছিল। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয় সেখানে আর্থিক অনুদানের জন্য ৯টি আবেদন জমা হয়েছে। এরপর সেগুলোর কপি পাঠালে জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হই। এখন আবেদনগুলো স্থগিত রেখে তদন্তের জন্য শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাফিউল মাজলুবিন রহমান বলেন, ৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আমি প্রত্যয়নপত্র দিয়েছি। কিন্তু মন্ত্রণালয় বলছে ৬টি আবেদন জমা হয়েছে। নিশ্চিত করতে আমার কাছে থাকা আগে পাঠানো ৩টি কপি আবার মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। এখন দেখা গেছে অন্য ৩টি আবেদন জাল। এ বিষয়ে শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবগত করে বিষয়টি তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দেবীগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তুরাব হোসেন বলেন, এ উপজেলায় এখন পর্যন্ত এমন জালিয়াতির কোনো খবর পাইনি। জালিয়াতির এমন বিষয় অবগত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে পঞ্চগড় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল মালেক বলেন, নির্বাহী কর্মকর্তারা আমাকে জালিয়াতির বিষয়টি মৌখিকভাবে অবগত করেছেন। আমি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের তদন্তের জন্য নির্দেশ দিয়েছি। তদন্ত শেষে আমরা আমাদের রিপোর্ট ইউএনও বরাবর জমা করবো। তারা পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।