Showing posts with label ঝালকাঠি. Show all posts
Showing posts with label ঝালকাঠি. Show all posts

Saturday, September 21, 2019

ভাসে পেয়ারা, আমরাও ভাসি বই কী! by কাউসার রুশো

ঝালকাঠি জেলার ভীমরুলি আর পিরোজপুর জেলার আটঘর-কুড়িয়ানা জুড়ে রয়েছে দেশের বৃহত্তম পেয়ারা বাগান। ঝালকাঠি, বরিশাল ও পিরোজপুরের সীমান্তবর্তী এলাকার ২৫টিরও বেশি গ্রামের ৩০ হাজার একরের বেশি জমির ওপর গড়ে ওঠেছে এটি। পেয়ারা চাষের সঙ্গে প্রায় ২০ হাজার পরিবার সম্পৃক্ত। বর্ষায় এই এলাকা যেন উৎসবের আনন্দে জেগে ওঠে। বাগান থেকে ফল পেড়ে নৌকায় ভাসতে ভাসতে প্রতিদিন পেয়ারা-আমড়া-লেবু ইত্যাদি দেশীয় ফলের বেচাকেনা চলতে থাকে। বৃষ্টিবিলাস আর দিনব্যাপী নৌকা ভ্রমণের জন্য ভাসমান এই পেয়ারা বাজার তাই বেশ জনপ্রিয়। এখানে পাইকারি দামে কেনাবেচা হয় পেয়ারা। সেসব দেখা বেশ আনন্দের।
আমরা ২০ জনের একটি দল কয়েকদিন আগে অনিন্দ্যসুন্দর ভাসমান পেয়ারা বাজার ঘুরে এলাম। রাতে যখন লঞ্চে উঠি, বৃষ্টি না হলেও আকাশটাকে ছেয়ে রেখেছিল মেঘ। অথচ অনেক হিসাব-নিকাশ করে লঞ্চযাত্রায় পূর্ণিমা উপভোগের জন্য ওইদিন ভ্রমণের পরিকল্পনা করেছিলাম। আমাদের দুঃখী চেহারা দেখেই কিনা মধ্যরাতের পর মেঘমঞ্জরির দয়া হলো! চাঁদের আলোয় সবাই মিলে লঞ্চের ডেকে বসে কাটিয়ে দিলাম বাকিটা রাত। বিনিদ্র রজনী কাটিয়ে ভোরে যখন বানারীপাড়া ঘাটে নামলাম, ততক্ষণে আমরা চন্দ্রগ্রস্ত।
ভীমরুলি পেয়ার বাজার
সবাই সকালের নাশতা সেরে একটা ট্রলার নিয়ে রওনা দিলাম ভীমরুলির উদ্দেশে। যেতে যেতে ভীমরুলিহাট খালের একটি মোহনা মুগ্ধ করলো আমাদের। তিন দিক থেকে নাম না জানা তিনটি খাল এসে মিশেছে। ভীমরুলি গ্রামের আঁকাবাঁকা ছোট্ট খালজুড়ে সপ্তাহের প্রতিদিনই সকাল-সন্ধ্যা চলে বিকিকিনি। এখানকার গ্রামগুলোতে অজস্র পেয়ারা বাগান। বন বললেও ভুল হবে না! সেইসব বাগান থেকে পেয়ারা পেড়ে চাষীরা নৌকায় তুলে এই বাজারে নিয়ে আসেন।
নৌকায় খাল পাড়ি দেওয়ার সময় দু’পাশের সবুজের সমারোহ চোখ জুড়িয়ে দেয়। আমরা খুব সকালে ভীমরুলি পৌঁছে গেলাম। হাট তখনও জমে ওঠেনি। তবে ঘণ্টাখানেকের মধ্যে সারিবেঁধে পেয়ারা-আমড়া-লেবু বোঝাই নৌকা হাটে জড়ো হতে লাগলো। ভীমরুলি বাজারের সবচেয়ে ব্যস্ত সময় হলো সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৩টা। এ সময় নৌকার সংখ্যা কয়েকশ’ ছাড়িয়ে যায়!
খুব অল্প দামেই প্রায় একটি নৌকা বোঝাই পেয়ারা-আমড়া-লেবু কিনে ফেললাম আমরা। তারপর চললো উপর্যুপরি ভক্ষণ। অবশিষ্ট যা রইলো, ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। এরপর আমরা নৌকায় ভেসে ভেসে আটঘর-কুড়িয়ানা নৌকার বাজারে পৌঁছালাম। এত সুন্দর! পান্থ কানাইয়ের সেই গানটার কথা মনে পড়ে গেলো- ‘শুনেছি তোমার মনের গহীন গাঙ্গে উপচে পড়ে জল, সেই জলে সাঁতার কাটো তুমি অনর্গল/আবার ডুবসাঁতারে অনেকে নাকি আনন্দে টলমল, তাই সামনের মাসে তোমায় একটা নৌকা কিনে দেবো।’ দু’একটা নৌকা কিনে ফিরতে পারলে ভালো লাগতো! বিকাল পর্যন্ত ঘুরেফিরে এরপর স্বরূপকাঠি গিয়ে দুপুরের খাবারে মেতে গেলাম।
ভীমরুলি পেয়ারা বাজার যাওয়ার নদী পথ
ভীমরুলি পেয়ারা বাজার যাওয়ার নদী পথ

কখন যাবেন

জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পেয়ারার মৌসুম। পেয়ারার মৌসুম শেষ হলে শুরু হয় আমড়ার মৌসুম। এ অঞ্চলে আমড়ার ফলন অনেক বেশি। আর সবশেষে আসে সুপারি। তবে ভাসমান পেয়ারার বাজার জমজমাট রূপ লাভ করে আগস্টের মাঝামাঝি থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যভাগ পর্যন্ত।

যেভাবে যাবেন

সদরঘাট থেকে প্রায় প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা-৭টার দিকে ঢাকা থেকে বানারীপাড়া-হুলার হাটের লঞ্চ ছেড়ে যায়। এগুলোর সিঙ্গেল কেবিন ৯০০ টাকা, ডাবল কেবিন ১৮০০ টাকা ও ডেক জনপ্রতি ২৫০ টাকা। এছাড়া ফ্যামিলি কেবিনও পাওয়া যায়।
লঞ্চগুলো সকাল ৭টার দিকে বানারীপাড়া নামিয়ে দেয়। সেখান থেকে সারাদিনের জন্য ট্রলার ভাড়া করে নিলে আটঘর, কুড়িয়ানা, ভীমরুলি বাজার ও স্বরূপকাঠি ঘুরে আসা যায়। ভাড়া পড়বে ১৫০০-২০০০ টাকা। এই রুটের সবচেয়ে ভালো লঞ্চ ফারহান-৯ ও ফারহান-১০। এছাড়া ঢাকা থেকে বরিশাল হয়েও যাওয়া যেতে পারে।
আটঘর-কুড়িয়ানা নৌকার বাজার
আটঘর-কুড়িয়ানা নৌকার বাজার
সদরঘাট থেকে প্রতিদিন রাত সাড়ে ৮টা-৯টার মধ্যে মানামি, সুন্দরবন-১১, সুরভী-৯, পারাবত-১২সহ বেশকিছু উন্নতমানের লঞ্চ বরিশালের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এসব লঞ্চের ভাড়া সিঙ্গেল কেবিন ১০০০ টাকা, ডাবল কেবিন ২০০০ টাকা ও ডেক জনপ্রতি ১৫০ টাকা। এছাড়া ভিআইপি কেবিন ভাড়া ৫০০০ থেকে ৭০০০ টাকা, সেমি ভিআইপি কেবিন ৪০০০ থেকে ৪৫০০ টাকা, ফ্যামিলি কেবিন ২৫০০ থেকে ৩৫০০ টাকা। ভোর ৫টা-৬টার মধ্যে এসব লঞ্চ বরিশাল পৌঁছে যায়। এরপর ঘাট থেকে অটোরিকশায় চড়ে বাসস্ট্যান্ড সেখান থেকে ২৫০-৩৫০ টাকায় টেম্পো ভাড়া করে বানারীপাড়া যাওয়া যায়। একেকটি টেম্পোতে ৫-৬ জন বসতে পারে। আর বাস ভাড়া জনপ্রতি ৩০-৪০ টাকা।
বানারীপাড়া পৌঁছে সেখান থেকে সারাদিনের জন্য ট্রলার ভাড়া নেওয়া যাবে। ভাড়া ১৫০০-২০০০ টাকার মতো। আকারভেদে প্রতিটি ট্রলারে ১৫-২৫ জন বসতে পারে।
ভীমরুলি পেয়ারা বাজার যাওয়ার পথে...
ভীমরুলি পেয়ারা বাজার যাওয়ার পথে...
তবে ভাসমান পায়রা বাগান দেখার জন্য বরিশালের লঞ্চগুলোতে যাওয়াই সবচেয়ে সুবিধাজনক। কারণ হুলার হাটের লঞ্চগুলো নিরাপদ হলেও অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা অত ভালো নয়। সেদিক থেকে বরিশালের লঞ্চগুলোতে ভ্রমণ নিরাপদ ও আরামদায়ক।
এছাড়া ঢাকার গাবতলী থেকে সাকুরা পরিবহনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাস বরিশাল যায়। ভাড়া ৮০০ টাকা। হানিফ, ঈগল, সুরভী ও সাকুরা পরিবহনের নন-এসি বাসের ভাড়া ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা। ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে বরিশাল যাওয়ার জন্য রয়েছে সুগন্ধা পরিবহন।
ভীমরুলি পেয়ার বাজার
ভীমরুলি পেয়ার বাজার

কোথায় থাকবেন

ভাসমান পেয়ারা বাজার দেখার ভ্রমণে হোটেলে থাকার প্রয়োজন নেই। ঢাকা থেকে সন্ধ্যার লঞ্চে গিয়ে আবার বরিশাল থেকে সন্ধ্যার লঞ্চেই ঢাকায় ফিরে আসা যাবে। কেউ থাকতে চাইলে বরিশাল শহরের হোটেলে থাকাই শ্রেয়। এখানে রয়েছে বিভিন্ন মানের হোটেল।

কোথায় খাবেন

স্বরূপকাঠি-বানারীপাড়া-কুড়িয়ানায় খাওয়া-দাওয়া সেরে নেওয়া যায়। মোটামুটি মানের রেস্তোরাঁ পাওয়া যাবে এসব জায়গায়। ভীমরুলি বাজারের পথে আছে কিছু ভাসমান দোকান।
ভীমরুলি পেয়ারা বাজার
ভীমরুলি পেয়ারা বাজার

সতর্কতা

যেহেতু পুরোটাই জলপথে ঘুরতে হবে তাই বর্ষায় বেড়াতে গেলে অবশ্যই কিছু সতর্কতা অবলম্বন জরুরি। রেইনকোট, লাইফ জ্যাকেট, মোবাইল ফোন ও টাকা-পয়সা রাখার জন্য ওয়াটার প্রুফ ব্যাগ বা পলিথিন, প্রয়োজনীয় ওষুধ ইত্যাদি নেওয়া দরকারি। নদী-খালসহ যত্রতত্র আবর্জনা ফেলে ভ্রমণের পরিবেশ নষ্ট করবেন না।

Monday, September 16, 2019

ভাসমান পেয়ারা বাজার মাসে কোটি টাকা লেনদেন by মোহাম্মদ ওমর ফারুক

খালের একটি মোহনা। ভিমরুলি ভাসমান হাট। তিন দিক থেকে তিনটি খাল এসে মিশেছে এখানে। অপেক্ষাকৃত প্রশস্ত এ মোহনায় ফলচাষিরা  নৌকা  বোঝাই ফল নিয়ে ক্রেতা খুঁজে বেড়ান। এই হাটের আশেপাশের সব গ্রামেই ভরপুর পেয়ারা বাগান। এসব বাগান থেকে চাষিরা  নৌকায় করে সরাসরি এই বাজারে পেয়ারা নিয়ে আসেন। পেয়ারা  বোঝাই শত শত নৌকা। বিক্রেতারা এই খালে খুঁজে বেড়ান ক্রেতা।
আর ক্রেতাদের বেশিরভাগই হল পাইকার। বড় ইঞ্জিন  নৌকা নিয়ে তারা বাজারে আসেন। এখান  থেকে পেয়ারা কিনে ঢাকা কিংবা অন্য কোনো বড় শহরে চালান করে  দেন তারা। এটি প্রতিদিনের দৃশ্য ভিমরুলি ভাসমান হাটের। ভাসমান পানির উপরে বসে এই হাট। প্রতিদিনই সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত  চলে বিকিকিনি।

দক্ষিণাঞ্চলের ঝালকাঠী ও স্বরূপকাঠীর বিভিন্ন জায়গায় ভাসমান এই হাট বসে। এ রকম কাছাকাছি রয়েছে তিনটি হাট  ভিমরুলি, আটঘর এবং কুড়িয়ানা। জেলা শহর  থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ভিমরুলি গ্রামের ছোট্ট খালজুড়ে সারা বছরই বসে ভাসমান হাট। হাটটি বেশী জমে পেয়ারা মৌসূমে। পেয়ারা মৌসুম  শেষ হলে আসে আমড়ার  মৌসুম। এ অঞ্চলে আমড়ার ফলনও সর্বত্র। আর সবশেষে আসে সুপারি। সবজি তো আছেই। ভাসমান বাজারের উত্তর প্রান্তে খালের উপরে ছোট একটি সেতু। সেখান থেকে বাজারটি খুব ভালো করে  দেখা যায়। ভিমরুলি বাজারের সবচেয়ে ব্যস্ত সময় দুপর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা। ঝালকাঠী  জেলা সদর  থেকে মোটরবাইকে এই হাটে আসতে সময় লাগে প্রায় আধাঘণ্টা। আর ইঞ্জিন নৌকায় আসলে সময় লাগে ঘণ্টাখানেক। এই ভাসমান হাটে শ্রাবণ ও ভাদ্র মাসে কেনাবেচা হয় কোটি কোটি টাকার পেয়ারা। কথা হয় ব্যবসায়ীদের সাথে। তারা জানান, বরিশাল বিভাগের এই অঞ্চলে দেশের অন্য জায়গার চেয়ে বেশি পেয়ারা পাওয়া যায়। যা পরে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি করা হয়। এখানে নদী ও খালকেন্দ্রীক ব্যবসার প্রসার ঘটায় মালামাল পরিবহনে খরচ কম। একইসঙ্গে পরিবহন সহজও। তবে ইচ্ছে করলে সড়ক পথেও পণ্য পরিবহন করা সম্ভব। তবে সময়, ইতিহাস আর ঐতিহ্যের সঙ্গে নৌকায় যাতায়াত আর যোগাযোগ ব্যবস্থাটা এখানকার মানুষের সঙ্গে মিশে গেছে।  বরিশালের বানারীপাড়া, পিরোজপুরের স্বরুপকাঠি উপজেলার আটঘর-কুরিয়ানা এবং ঝালকাঠি সদর উপজেলার কৃর্ত্তিপাশা ও নবগ্রাম ইউনিয়নজুড়ে রয়েছে দেশ তথা উপমহাদেশের বৃহত্তম  পেয়ারার বাগান। প্রায় ৩শ বছর ধরে এ অঞ্চলে  পেয়ারার আবাদ হয়ে আসছে।

বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,  বাগান  থেকে ছোট ছোট নৌকায় পেয়ারা তুলে ভাসমান বাজারে আনেন কৃষকরা। এখান  থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও  নৌপথে পেয়ারা প্যাকেটজাত করে পাইকাররা নিয়ে যায়। তবে, পেয়ারা পাকার দুই একদিনের মধ্যে বিক্রি করতে না পারলে পচে যায়। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হন কৃষকরা। এ অঞ্চলে হিমাগার অথবা জ্যাম জেলির কারখানা না থাকায় বাগানেই প্রচুর পরিমাণ পেয়ারা নষ্ট হয়ে যায় বলে আক্ষেপ  পেয়ারা চাষিদের।
বাজারে আসা পেয়ারা চাষী তরুণ চন্দ্র বলেন,  পেয়ারা যখন  একসাথে পাকা শুরু করে ,তখন অনেক পেয়ারা একসাথে পাকে। যার কারনে বাধ্য হয়ে কম দামে পেয়ারা বিক্রি করতে হয়। এখানে পেয়ারা প্রক্রিয়াজাত করার মতো কোনো জায়গা নেই। ফলে অনেক সময় বড় ক্ষতির সম্মুখিন হতে হয় আমাদের।

এই এলাকার ফার্মেসী দোকানদার সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান উজ্জল দাস বলেন, শত বছর ধরে ভিমরুলি ভাসমান হাট বসে। হাজার হাজার মানুষ এখানে পেয়ারা কিনে বিক্রি করে। এখানে পেয়ারা আনা নেয়ার সুবিধা থাকলেও নেই কোনো সংক্ষরন ব্যবস্থা । এতে করে প্রচুর পেয়ারা নষ্ট হয়। চাষীরা ন্যায্য মূল্য পায় না।

এদিকে, প্রকৃতির মনোরম পরিবেশে গড়ে ওঠা এ জলের হাটের দৃশ্য উপভোগ করতে দূর-দূরান্তের হাজারও পর্যটক প্রতিদিন ভিড় করছেন এ পেয়ারা হাটে। কিন্তু এত বছরেও সরকারি বা  বেসরকারিভাবে গড়ে উঠেনি বিশ্রামাগারসহ কোনও সুযোগ সুবিধা । থাকা খাওয়ায়ও  নেই কোনো সুব্যবস্থা। ফলে নারী পর্যটকরা একটু বেশিই বিপাকে পড়েন।
রাজধানীতে থেকে আসা পর্যটক তৌহিদ হাসান বলেন, এই বাজার খুবই চমৎকার পরিবেশ। নৌকায় ঘুরে পুরো বাজার ঘুরে দেখা যায়। কিন্তু এখানে পর্যটকদের জন্য নেই কোনো থাকার ব্যবস্থা। তবে নিরাপত্তার জন্য কয়েকজন পুলিশ দেখেছি। এটা অবশ্য ভালো একটি লক্ষন। তবে নিরাপত্তার জন্য আরো ভালো পরিবেশ তৈরী করা উচিৎ।
আরেক পর্যটক তানভীর আহাম্মেদ সিদ্দিকী বলেন, এই হাটে প্রতিদিন যে পরিমান কেনাবেচা দেখলাম, এখানে সেই পরিমান উন্নতি নেই। থাকা-খাওয়া বা ভালো কোনো শৌচাগার নেই। ফলে, নারী পর্যটকদের বিপদে পড়তে হয়।
পর্যটক অরভিন হাসান অনিক জানান, এখানে ঘন্টার নৌকা ভাড়া করে ঘুরা যায়। তবে অনেক সময় নৌকার মালিকরা দর্শনার্থীদের সাথে নানা ভাবে প্রতারনা করেন। সেখান থেকে সাবধান থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

Monday, July 22, 2019

'হার না মানা' নারী নাপিত শেফালী রানী শীল পেলেন থাকার জায়গা

ঝালকাঠির নারী নাপিত শেফালী রানী শীল।
ঝালকাঠির সেই নারী নাপিত শেফালী রানী শীলকে তার ঘর তোলার জন্য জমির কাগজপত্র হস্তান্তর করা হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মোহাম্মদ এনামুর রহমান ঝালকাঠিতে শেফালী রানীর বাড়িতে গিয়ে তাকে চার শতাংশ জায়গা বুঝিয়ে দেন।
সামনের সপ্তাহ থেকে বাড়ি তোলার কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান।
শুরুতে দুই কক্ষবিশিষ্ট ঘর তোলার কথা থাকলেও তিন কক্ষের ঘর তোলা হবে, বলেন তিনি।
মিস্টার রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেন, "দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে আমরা গৃহহীনদের দুর্যোগ সহনীয় ঘর দিয়ে থাকি। সেগুলো দুই কক্ষের হয়ে থাকে।"
"কিন্তু গত ২ জুলাই প্রধানমন্ত্রী বিদেশ যাওয়ার আগে আমাকে ফোন দিয়ে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন যেন তিনটি কক্ষ করে দেয়া হয়। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আরও ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ বাড়িয়ে মোট তিন লাখ টাকা করা হয়েছে।"
কাঠালিয়া উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা দোগনা বাজারের ছোট একটি ঘরে চুল ও দাড়ি কাটার কাজ করছেন শেফালী রানী।
সারাদিন হাড়ভাঙ্গা খাটুনির পরও এতদিন অন্যের জায়গায় ঘর তুলে বসবাস করতে হচ্ছিল তাকে। স্বপ্ন ছিল নিজের জায়গায় একটি ঘরে থাকার।
নাপিতের কাজ করে শেফালী রানীর সারাদিনে আয় হয় ১৫০-২০০ টাকা।
তার এই স্বপ্ন আর সংগ্রাম নিয়ে বিবিসি একটি প্রতিবেদন প্রচার করে।
সেটি চোখে পড়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মোহাম্মদ এনামুর রহমানের। তারপর তিনি তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে শেফালী রানীকে বাড়ি তুলে দেয়ার আশ্বাস দেন।

খুব স্ফূর্তি লাগছে - শেফালী রানী

এদিকে সরকারের এমন উদ্যোগে বিবিসি বাংলার কাছে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন শেফালী রানী।
বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, "স্যারেরা (সরকারি কর্মকর্তারা) আমারে বলছেন, পাকা ঘর তুলি দিবে। নিচে ইট সিমেন্ট, উপরে টিন দিয়ে বাসা করে দিবে।"
"আজকে জমির দলিল করে দিসে। কাজ শুরু হয়ে যাবে সামনের সপ্তায়। আমার তো মনে করেন খুব স্ফূর্তি লাগছে।"
ভীষণ দরিদ্রতার মধ্যেও শেফালী রানী শীল তার পাঁচ সন্তানকে লেখাপড়া শিখিয়েছেন।
এখন তার আশা আর ছেলেমেয়েদের যেন উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে সরকারি চাকরির জন্য উপযুক্ত করতে পারেন।
বাংলাদেশে সাধারণত পুরুষরা নাপিতের কাজ করে থাকেন। নারীদের এই পেশায় দেখা যায় না।
আগে তার স্বামী নাপিত ছিলেন। স্বামীর থেকেই এই কাজ শিখেছেন শেফালী রানী।
এক সময় তার স্বামী পঙ্গু হয়ে নিরুদ্দেশ হলে জীবিকার তাগিদে নিজেই নাপিতের কাজ শুরু করেন। প্রায় দুই যুগ ধরে তিনি এই কাজ করছেন।
বর্তমানে সারাদিনে তার আয় হয় ১৫০-২০০ টাকা। গ্রাহক না থাকলে সেটাও হয় না।
সংসার খরচ মেটাতে সারাদিন কাজ শেষে বিভিন্ন দোকানের পানি টানার কাজও করেন তিনি।
এরপর সামলাতে হয় সংসারের কাজও। এক হাতে দেখাশোনা করেন গরু-ছাগলের।
তবে নতুন এই ঘর তার অবস্থা পরিবর্তন করে দেবে বলে আশা করেন শেফালী রানী।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে শেফালী রানীকে বাড়ি তুলে দেয়ার আশ্বাস দেন ডা. মো. এনামুর রহমান।

Friday, June 14, 2019

কবুতর চুরির অভিযোগে...

ঝালকাঠির নলছিটিতে কবুতর চুরির অভিযোগে দুই স্কুলছাত্র নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদের গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য রফিকুল ইসলাম। তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নির্যাতনের শিকার সজিব হোসেন খান বাকেরগঞ্জের তবিরকাঠি গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে এবং রিফাত হোসেন জয় একই গ্রামের আবদুল ক্দ্দুুস হাওলাদারের ছেলে। তাঁরা দুজনেই স্থানীয় জেড এ ভূট্টো মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র।
এ ঘটনায় জয়ের বাবা বাদী হয়ে গত সোমবার রাতে নলছিটি থানায় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম ও পুলিশ কনস্টেবল শাহ আলমসহ ৮ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।
নির্যাতনের শিকার দুই ছাত্রের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নলছিটি উপজেলার সিদ্ধকাঠি ইউনিয়নের চৌদ্দবুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল অভিযোগ কেন্দ্র কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল মো. শাহ আলমের বাড়িতে শনিবার রাতে কবুতর চুরি হয়। রবিবার সকালে পার্শ্ববর্তী বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার তবিরকাঠি গ্রামের মো. সজিব হোসেন খান (১৪) ও রিফাত হোসেন জয় (১৪) নামে দুই শিশুকে আটক করে শাহ আলম। পরে সিদ্ধকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের নয় নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও রফিকুল ইসলাম বিচার বসিয়ে নির্যাতনের নির্দেশ দেন।
কনস্টেবল শাহ আলম ব্লেড দিয়ে জয় নামে এক স্কুলছাত্রের মাথার মাঝখান থেকে চুল কেটে দেয়। এসময় তাদের ২০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়। পুরো ঘটনা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেন স্থানীয় লোকজন। চুল কাটা ও গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের চিত্র ভিডিও করে এবং ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে দেয়া হয়।
নির্যাতনের শিকার স্কুলছাত্র জয় জানায়, গত রবিবার রাত থেকে পরের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের আটকে রেখে দফায় দফায় নির্যাতন করা হয়েছে।  পরে পুলিশ সদস্য শাহআলম ব্লেড দিয়ে তাদের মাথা ন্যাড়া করে দেয়।
জয়ের বাবা আবদুল কুদ্দুস জানান, আমার ছেলের নামে কবুতর চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মারধর করে চুল কেটে দিয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই। আমি জরিমানার টাকা দিয়ে ছেলেকে ছাড়িয়ে এনেছি।
সিদ্ধাকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, ছেলে দুটি আমাদের গ্রামে এসে কবুতর চুরি করেছে। এর আগেও তারা কয়েকজনের বাসা থেকে কবুতর নিয়ে গেছে। আমি তাদের আটক করিনি কিংবা মারধরও করিনি। আমি ঘটনাটি শুনেছি মাত্র। এলাকার প্রতিপক্ষরা আমাকে ফাঁসানোর জন্য এ অপপ্রচার চালাচ্ছে।
নলছিটি থানার ওসি মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, নির্যাতনকারীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। নির্যাতনের শিকার জয়ের বাবা মামলা দায়ের করলে ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সকলকে আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থা করা হবে।

Sunday, February 3, 2019

ধর্ষকের পরিণতি ইহাই, ধর্ষকরা সাবধান: হারকিউলিস

ঝালকাঠিতে ছয়দিনের মাথায় আরো একজনের লাশ পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ, যার গলায় ঝোলানো চিরকুটে লেখা রয়েছে ‘ধর্ষকের পরিণতি ইহাই’। চিরকুটে লেখা পরিচয় অনুযায়ী, নিহতের নাম রাকিব। সে দুই সপ্তাহ আগে ভাণ্ডারিয়ায় এক মাদ্‌রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলার প্রধান আসামি রাকিব হাসান বলে পুলিশের ধারণা। শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে রাজাপুর উপজেলার আঙ্গারিয়া গ্রামে একটি ইটভাটার পাশের মাঠ থেকে রাকিবের লাশ উদ্ধার করা হয় বলে রাজাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাহিদ হোসেন জানান। ঐ মামলার অপর আসামি হাসান সজল জোমাদ্দারকেও হত্যা করে গলায় চিরকুট বেঁধে লাশ ফেলে রাখা হয়েছিল ধানক্ষেতে। কে বা কারা তাদের হত্যা করে লাশ ফেলে গেছে, সে বিষয়ে কিছুই বলতে পারছে না পুলিশ। রাকিবের লাশের সঙ্গে চিরকুটে হত্যাকারী নিজের পরিচয় হিসেবে লিখে রেখে গেছে গ্রিক পুরানের বীর হারকিউলিসের নাম।
পরিদর্শক জাহিদ বলেন, রাকিবের মাথায়, মুখে ও পিঠে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আর গলায় ঝোলানো চিরকুটে লেখা ছিল- “আমি পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ার ধর্ষক রাকিব।
ধর্ষকের পরিণতি ইহাই। ধর্ষকরা সাবধান! হারকিউলিস।” গত ১২ই জানুয়ারি সকালে ভাণ্ডারিয়া উপজেলার হেতালিয়া গ্রামে এক মাদ্‌রাসা ছাত্রীকে পানের বরজে নিয়ে দেলবেঁধে ধর্ষণ করা হয়। ওই ঘটনার পর মেয়েটির পরিবার গত ১৭ই জানুয়ারি ভাণ্ডারিয়া থানায় মামলা করে।
শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের ভিটাবাড়ী গ্রামের আবুল কালামের ছেলে রাকিব হাসান (২৮) এবং নদমুলা গ্রামের আলম জোমাদ্দারের ছেলে সজল জোমাদ্দারকে (২৮) সেখানে আসামি করা হয়। গত ২৬শে জানুয়ারি কাঁঠালিয়া উপজেলার একটি ধানক্ষেত থেকে সজলের লাশ উদ্ধারের কথা জানায় পুলিশ। মাথায় গুলিবিদ্ধ ওই লাশের গলায় ঝুলানো চিরকুটে লেখা ছিলো- “আমার নাম সজল মাদ্‌রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ করার কারণে আমার এই পরিণতি।” পরিদর্শক জাহিদ জানান, রাকিবের লাশের বিষয়ে তারা ভাণ্ডারিয়া থানায় যোগাযোগ করেছেন। ভাণ্ডারিয়ার পুলিশই রাকিবের পরিচয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করবে।

Tuesday, December 26, 2017

কাঠালিয়ায় শ্রমিক সঙ্কটে পাকা ধান ঝরে যাচ্ছে মাঠে

ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় চলতি মৌসুমে ধান কাটা শুরু হয়েছে। কিন্তু বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় সম্প্রতি অসময়ের ঝড়ো বৃষ্টিতে নিচু এলাকার পাকা ও আধা পাকা ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়ে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হলেও শ্রমিক সংকটে তা কেটে ঘরে তুলতে পারছে না কাঠালিয়ার চাষিরা। উপকূলীয় এ উপজেলায় চলতি মৌসুমে আমনের বাম্পার ফলন হলেও হঠাৎ করে ঝড়ো বৃষ্টির প্রভাবে অধিকাংশ জমির পাকা ও আধা পাকা ধান নিয়ে বিপাকে রয়েছে কৃষকরা। উপজেলার প্রধানত ৫৪টি গ্রামের চাষিরা এখন পাকা আমন ধান কাটার সময় শ্রমিক সংকটে পড়েছে। পাকা ধান ক্ষেতেই পেকে ঝরে যাচ্ছে। এ উপজেলায় ১০ হাজার ৯ শত ৫০ হেক্টর জমিতে চলতি মৌসুমে আমনের আবাদ করা হয়েছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পরও ধানের বাজার ভাল থাকায় আমন চাষিরা লাভের স্বপ্ন দেখছিল। কিন্তু চাষিরা দৈনিক ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকা মজুরি দিয়েও কৃষি শ্রমিক পাচ্ছে না। আর এ কারণে মাঠের ধান মাঠে ঝরে গিয়ে উৎপাদন হারাচ্ছে চাষিরা। কৃষি বিভাগ দাবি করেছে আগামীতে পদ্মা সেতু নির্মান হলে দক্ষিণ অঞ্চলের মধ্যে ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মিল কারখানা গড়ে উঠবে। তখন কৃষি শ্রমিক সংকট আরও বড় আকার ধারন করবে। তাই কৃষি বিভাগ সেই দিক বিবেচনা করে কৃষকদের দলবদ্ধ করে চাষাবাদকে যান্ত্রিকতার আওতায় আনার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই কৃষকদের উপস্থিতিতে কম্বাইন্ড হারবেস্টার, ডিপার মেশিন- এই যন্ত্রগুলো দিয়ে কৃষকের মাঠের ধান কর্তন করে মাঠ দিবস করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যন্ত্রের উপকারিতা ও অর্থনৈতিক সাশ্রয়ের বিষয় তুলে ধরা হচ্ছে। কৃষক জালাল ফকির বলেন, এবছর আমন আবাদ ভালো হয়েছে কিন্তু দৈনিক ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকা মজুরি দিয়েও কৃষি শ্রমিক পাচ্ছি না। আর এ কারণে মাঠের ধান মাঠে ঝরে গিয়ে উৎপাদন হারাচ্ছি আমরা চাষিরা।
কৃষক নূরনবী তালুকদার বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও আমানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের সেই স্বপ্ন কষ্টার্জিত ধান এখন কাঁদা পানিতে লেপ্টে আছে। আশানুরূপ ফলন থেকে এবার কৃষকরা বঞ্চিত হওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে। কৃষি শ্রমিক সংকট থাকলে এবার ক্ষেতের ধান সঠিকভাবে কেটে ঘরে তোলা অসম্ভব বলে মনে মনে হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, এ উপজেলায় ১০ হাজার ৯ শত ৫০ হেক্টর জমিতে চলতি মৌসুমে আমনের আবাদ করা হয়েছে। কয়েক দিনের বর্ষণে প্রায় ২৩শ’ ৭০ হেক্টর জমির আমন ধান হেলে পানিতে নিমজ্জিত হয়ে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ধানের খড়কুটা পচে যাওয়ায় ও কর্দমাক্ত হওয়ায় গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিবে বলেও মনে করছে উপজেলা কৃষি অফিস। কাঠালিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও রোপা আমন ধান চাষাবাদে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। ধানের ফলনও হয়েছে ভালো। তিনি বলেন, আমাদের দেশের স্বনির্ভরতার সবচেয়ে বড় অর্জন এই ধান। এ বছর কৃষি শ্রমিক সংকটের কিছুটা সমস্যা হচ্ছে, চাষিরা দৈনিক ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকা মজুরি দিয়েও কৃষি শ্রমিক পাচ্ছে না। আর এ কারণে মাঠের ধান মাঠে ঝরে গিয়ে উৎপাদন হারাচ্ছে চাষিরা। ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ পরিচালক শেখ আবু বকর সিদ্দিক জানান, কৃষিশ্রমিক সংকটের বিষয়টি মাথায় রেখেই চাষাবাদে কৃষকদের যান্ত্রিকতায় উদ্বুদ্ধ করার জন্য রিপার মেশিন ও কম্বাইন্ড হারবেস্টারসহ কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয় শুরু করা হয়েছে।

Monday, December 4, 2017

ঝালকাঠিতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু : স্বামীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি

ঝালকাঠি শহরের কাঠপট্টি সড়কে সুমাইয়া ফরাজী গর্না (২১) নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুমাইয়া ফরাজী গর্না ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজের ডিগ্রী দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর স্বামী হিমু আকন (২৫) বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। তাকে গুরুতর অবস্থায় বরিশালের শেবাচিমে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পারিবারিক কলহের জের ধরে গতকাল রোববার বিকেলে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে গৃহবধূর মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায়নি। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছে, প্রায় তিন বছর আগে দুই পরিবারের সম্মতি ছাড়াই শহরের কাঠপট্টি সড়কের মিল্টন আকনের ছেলে হিমু আকন একই এলাকার আসলাম ফরাজীর মেয়ে সুমাইয়া ফরাজী গর্নাকে বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকে ছেলের পরিবার এই সম্পর্ক মানছিল না। এ নিয়ে পারিবারিক কলহ লেগে থাকত।
গতকাল রোববার দুপুরে হিমু আকনের বাবা মিল্টন আকনের মুড়ির মিলের উপরের একটি কক্ষে দরজা বন্ধ করে ঝগড়া করে ওই দম্পতি। এক পর্যায়ে সুমাইয়া ফরাজী গর্নার মামা তরিকুল ইসলাম রাজুর সাথে হিমু আকন মুঠোফোনে তার স্ত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি বলে। পরে দুইজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক গর্নাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত গর্নার বাবা আসলাম ফরাজীর দাবি তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনায় দোষীদের বিচার চেয়েছেন। ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শিউলি পারভীন জানান, শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে জানা যাবে। তবে ঝালকাঠি সদর থানার ওসি তাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিষপানে ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে- এটা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি। ময়নাতদন্তের পরে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Thursday, June 1, 2017

ঝালকাঠির ১৭ রুটে দ্বিতীয় দিনেও বাস ধর্মঘট

শ্রমিকদের মারধরের প্রতিবাদে ও ম্যাজিক গাড়ি বন্ধের দাবিতে ঝালকাঠির অভ্যন্তরীণ ১৭টি রুটে বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট চলছে। এর আগে বুধবার বিকাল ৩টা থেকে আন্তঃজেলা বাস ও মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের ডাকে এ ধর্মঘট শুরু হয়। রমজানের মধ্যে আকস্মিক এ ধর্মঘটে যাত্রীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। বাস ও মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ জানান, ঝালকাঠির আঞ্চলিক মহাসড়ক ও অভ্যন্তরীণ সড়কে সম্প্রতি ম্যাজিকগাড়ি চলাচল করছে। এ বাহনের চালকরা বিভিন্ন সময় বাস শ্রমিকদের মারধর করেছে। তারা জানান, ম্যাজিক গাড়ির চালকদের বেপরোয়া সড়কে দাপটের কারণে প্রায়ই বিভিন্ন যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। জানা গেছে, বুধবার দুপুরে যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে কলেজমোড়-বানাড়ীপাড়া রুটে চলাচলকারি ম্যাজিক গাড়ির চালক ও হেলপারদের সঙ্গে শ্রমিকদের বাকবিতন্ডা হয়।
এক পর্যায়ে বাস শ্রমিক আবুল কালামকে মারধর করে ম্যাজিকচালকরা। আহত অবস্থায় তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপরই আন্তঃজেলা বাস ও মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা বুধবার দুপুরে বাসটাস্ট্যান্ডে তাদের কার্যালয়ে জরুরি বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঝালকাঠি থেকে বরিশাল, খুলনা, পিরোজপুর ও বরগুনাসহ অভ্যন্তরীণ ১৭টি রুটে বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপরই বিকাল ৩টা থেকে ঝালকাঠির অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে বাস ধর্মঘটের কারণে ওই সব রুটে যাতায়াতকারী যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেকে গন্তব্যে যেতে না পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। অনেককে আবার অনেকটা পথ পায়ে হেটে-বিভিন্ন ছোট বাহনে করে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। ঝালকাঠি আন্তঃজেলা বাস ও মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বাহাদুর চৌধুরী বলেন, বাস শ্রমিকদের মারধরের ঘটনায় আমরা থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছি। এ ঘটনার বিচার করতে হবে এবং ম্যাজিক গাড়ি বন্ধ করা না হলে বাস ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে। ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব বলেন, ধর্মঘটের খবর শুনে আমরা বাসস্ট্যান্ড এলাকা পরিদর্শন করেছি। বাস শ্রমিক এবং ম্যাজিক গাড়ির শ্রমিকদের দুটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগগুলো তদন্ত করা হচ্ছে। সমস্যা সমাধানে বাস মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করার পরে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Thursday, May 25, 2017

ঝালকাঠিতে ডায়রিয়ার প্রকোপ, স্যালাইন সঙ্কট

তীব্র তাপদাহে ঝালকাঠিতে ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে ২০-২২ জন করে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছে। এছাড়া জেলার চার উপজেলায় ইনডোর এবং আউটডোরে ৫ শতাধিক রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। আক্রান্তদের বেশির ভাগই শিশু ও বয়স্ক নারী। সেই সঙ্গে আইভি (শিরায় দেয়ার) স্যালাইন ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে সঙ্কট এবং অন্যান্য সরকারি হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত না থাকায় বাড়তি ঝামেলায় পড়েছেন রোগীরা। স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ১ এপ্রিল থেকে ২৪ মে পর্যন্ত ২৭০ জন, ১০ মে থেকে তাপদাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। বুধবার (২৪ মে) বিকেল পর্যন্ত ৩৫ জন ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন। নলছিটি, রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে সাতদিনে ৩ শতাধিক ব্যক্তি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া আউটডোর এবং আরও দুইশ লোকের বেশি চিকিৎসা নিয়েছেন। রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, সদর হাসপাতালে আইভি স্যালাইন সঙ্কট থাকায় আমাদের সবকিছুই বাহির থেকে কিনতে হচ্ছে। আমরা এখান থেকে কোনো ওষুধ বিনামূল্যে পাচ্ছি না। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সগুলোতে পর্যাপ্ত আইভি স্যালাইন নেই। সঙ্কট আছে ডায়রিয়ার জন্য দরকারি অন্যান্য ওষুধপত্রেরও। এমনকি শিশুদের স্যালাইন দেয়ার ‘ক্যানোলা’ও বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ। বলা হচ্ছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কেবল খাবার স্যালাইনই বিতরণ করছে।
ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি পূর্বচাঁদকাঠি গাজীবাড়ি এলাকার ৫ সন্তানের জননী খাদিজা বেগম বলেন, রোববার রাতে অসুস্থ হওয়ার পরে স্বামী আব্দুল মান্নান হাওলাদার হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতালের ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধ, ডাক্তার আসেই না, ওষুধ পাই না ঠিকমতো। কৃষ্ণকাঠি এলাকার কবিরাজ বাড়ি রোড এলাকার অটোচালক সবুর হোসেন বলেন, মেয়ে নিয়ে রাতে আসছি। এখান থেকে কোন ওষুধ দেয় নাই। বাহির থেকে ৪০০ টাকার ওষুধ কিনে এনেছি। ডায়রিয়ার স্যালাইন যদি বাইরে থেকে কিনতে হয়, তাহলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দরকার কী? নলছিটি উপজেলার প্রতাপ এলাকার আলমগীর হোসেন বলেন, আমার মায়ের বুধবার রাত থেকে পাতলা পায়খানা শুরু হয়। বৃহস্পতিবার সকালে তাকে এখানে নিয়ে আসলে এখন পর্যন্ত কোনো চিকিৎসক দেখতে আসেনি। কিন্তু এখানে দায়িত্ব পালনকারী নার্সরা পর্যাপ্ত ওষুধ না থাকায় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। তারপরেও তারা দায়িত্বে অবহেলা করছে না। শহরতলীর কৃষ্ণকাঠি এলাকার আয়শা তার ৮ মাস বয়সী কন্যা জিন্নাতকে নিয়ে আসেন হাসপাতালে। তারও অভিযোগ স্যালাইন সঙ্কট ও চিকিৎসক না আসা নিয়ে। এছাড়া ৩ দিন পূর্বে ৬ মাস বয়সী শিশু সাব্বির আহমেদকে নিয়ে আসে তার মা খাদিজা বেগম। তিনি জানালেন নোংরা পরিবেশ, চিকিৎসক না আসা, ওষুধ না পাওয়া, বিদুৎ না থাকাসহ নানা সঙ্কটের কথা।
কর্তব্যরত সেবিকা প্রণতি মৃধা বলেন, মে মাসের শুরু থেকেই ডায়রিয়ার রোগী আসছে। তবে কয়েকদিন ধরে এতোবেশি রোগী আসছে যা প্রতিদিন গড়ে ২০-২২ জন ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। আইভি স্যালাইন সঙ্কট থাকায় প্রত্যেক রোগী ভর্তি হওয়ার পরে একটি করে দেয়া হয়। এরপর বাড়তি লাগলে কিনতে হয়। খাবার স্যালাইন পর্যাপ্ত পরিমাণ আছে। চিকিৎসক সঙ্কট থাকায় গুরুতর রোগী হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক এসে দেখে যান। ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. বদরুদ্দোজা মো. জোবায়ের বলেন, প্রচণ্ড গরমে ডায়রিয়ায় আক্রান্তদের চাপ বেড়েছে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকলে, বিশুদ্ধ পানি পান এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খেলে ডায়রিয়া থেকে বাঁচা যায়। প্রাথমিকভাবে পাতলা পায়খানা শুরু হলে বিশুদ্ধ পানি, ডাবের পানি, তরল খাবার, ভাতের মাড়, স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। বেশি অসুস্থ হলে হাসপাতালে এসে ভর্তি হতে হবে। ঝালকাঠির সিভিল সার্জন ডা. শ্যামল কৃষ্ণ হালদার বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে তাপদাহের এই সময়ে ডায়রিয়ার রোগী বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি মাসে ২৪০ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। গত ১ সপ্তাহের মধ্যে রোগীর চাপ অনেক বেড়েছে। আইভি স্যালাইন সঙ্কটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাছাড়া চিকিৎসক সঙ্কট বরাবরই রয়েছে।

Sunday, April 23, 2017

ঝালকাঠিতে কলেজ ছাত্রী হত্যার বিচার দাবীতে মানববন্ধন

ঝালকাঠির নলছিটি ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ কারী কলেজছাত্রী ও গৃহবধু ও মারুফার মৃত্যু নিয়ে এলাকায় তোলপার চলছে। পুলিশ অপমৃতুর মামলা নিলেও মারুফার স্বাজনরা একে পরিকল্পিত হত্যা দাবী করছেন। হত্যাকারীদের বিচারের দাবীতে আজ রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের সড়কে মানববন্ধন পালন করে নিহত মারুফার সহপাঠি, শিক্ষক ও এলাকাবাসী। এতে নিহত মারুফার পরিবার ও স্বজনরাও অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকে কাছে স্মরকলিপি দেয়া হয়। মানববন্ধনে চলাকালে বক্তব্য রাখেন, নিহত মারুফার মা সেফালী বেগম, ঝালকাঠি সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান ইসরাত জাহান সোনালী, আওয়ামী লীগ নেতা আবু সাইদ খানসহ আরো অনেকে।
বক্তারা অভিযুক্তদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানান। প্রসংগত, গত ১৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় মারুফাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে তার শ্বশুবাড়ির লোকজন। পরে কর্তব্যরত ডাক্তার মারুফাকে মৃত ঘোষণা করলে তাকে হাসপাতালে রেখে তার দ্রুত পালিয়ে যায়। নিহত গৃহবধূ মারুফা আক্তার (১৯) নলছিটি উপজেলার প্রেমহর গ্রামের মৃত মানিক হাওলাদারের মেয়ে। সে এ বছর নলছিটি ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। চার বছর আগে বহরমপুর গ্রমের সুলতান হাওলাদারের ছেলে সুমনের হাওলাদারের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর সৌদি আরব চলে যায় সুমন। এরপর বিভিন্ন সময় শ্বশুর বাড়ির লোকজন ওই গৃহবধূকে সন্দেহ ও নির্যাতন করে আসছিল।

Tuesday, April 18, 2017

নলছিটিতে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ

ঝালকাঠির নলছিটিতে এক গৃহবধূকে হত্যার পর লাশ হাসপাতালে রেখে শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নলছিটি উপজেলার বহরমপুর গ্রামে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতের স্বজনরা জানান, গৃহবধূ মারুফা আক্তার (১৯) প্রেমহার গ্রামের মৃত মানিক হাওলাদারের মেয়ে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। চার বছর আগে বহরমপুর গ্রমের সুলতান হাওলাদারের ছেলে সুমনের হাওলাদারের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর সৌদি আরব চলে যায় সুমন।
এরপর বিভিন্ন সময় শ্বশুর বাড়ির লোকজন ওই গৃহবধূকে নির্যাতন করে আসছিল। সোমবার সন্ধ্যায় মারুফাকে শ্বাসরোধে হত্যার পরে হাসপাতালে নিয়ে আসে তার শাশুড়ি, ননদ ও জা। কর্তব্যরত চিকিৎসক মারুফাকে মৃত ঘোষণা করলে লাশ হাসপাতালে রেখেই তারা পালিয়ে যায়। ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক বদরুদ্দোজা জোবায়ের জানান, গৃহবধূর মৃত্যুর বিষয়টি ময়না তদন্তের পর জানা যাবে। তার গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হাসপাতালে লাশ রেখে নিহতের স্বজনরা পালিয়ে গেছেন বলেও তিনি জানান। মারুফাকে শ্বাসরোধে হত্যা পরে লাশ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয় বলেও অভিযোগ করেন নিহতের স্বজনরা। নলছিটি থানার ওসি এ কে এম সুলতান মাহামুদ জানান, লাশের ময়না তদন্ত করা হবে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

Sunday, April 16, 2017

কাঁঠালিয়ায় ২ ইউনিয়ন পরিষদ উপ-নির্বাচন আজ

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান (পদত্যাগ জনিত) এবং চেঁচরী রামপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য (মৃত্যুজনিত) পদে উপ-নির্বাচন আজ রোববার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কাঁঠালিয়া সদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো: রবিউল ইসলাম কবির সিকদার (নৌকা),
স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো: মাঈনুল ইসলাম রিয়াজ সিকদার (মোটরসাইকেল) এবং জেপি (মঞ্জু) উপজেলা সভাপতি মো: এনায়েত হোসেন খসরু (আনারস)। এখানে মোট ভোটার ১১ হাজার ৭৮৭ জন। এরমধ্যে পুরুষ-৫৯৭৪ এবং মহিলা ভোটার ৫৮১৩। এছাড়া চেঁচরী রামপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে নজরুল ইসলাম ফোরকান ও মেহেদী হাসান সবুজ সাধারণ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

Thursday, April 13, 2017

ঝালকাঠিতে শিক্ষকের উপর হামলাকারীদের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

ঝালকাঠির রাজাপুরে সোহাগ পালট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গিয়াস উদ্দিনের উপর হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে স্থানীয় শিক্ষক সমাজ। আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজাপুর প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজ। গত ২ এপ্রিল কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে স্কুল চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সাবেক সভাপতি আব্দুল বারেক হাওলাদার ও তার সহযোগীরা হামলা চালিয়ে গিয়াস উদ্দিনকে আহত করে। মানববন্ধন চলাকালে রাজাপুর উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের সাধারণ সম্পাদক এ কে আজাদ দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্যাতনকারী আব্দুল বারেক হাওলাদারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রাথমিক সহকারি শিক্ষক সমাজের সভাপতি মোহসীন উদ্দিন, শিক্ষক নেতা আফরোজা আক্তার, রিয়াজ হোসেন, লুৎফর রহমান প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে শিক্ষকরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে গিয়ে সমবেত হয়। এ সময় শিক্ষকরা অভিযুক্ত আব্দুল বারেক হাওলাদার ও তার সহযোগীদের বিচারের দাবি জানিয়ে শ্লোগান দেন। পরে শিক্ষক প্রতিনিধিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরারবর ওই শিক্ষকের নিরাপত্তা ও অন্যত্র বদলীরা ব্যবস্থার দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি পেশ করেন।

Wednesday, April 5, 2017

ঝালকাঠিতে সাংবাদিককে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ মানববন্ধন

সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী খলিলুর রহমান মৃধাকে মিথ্যা একটি ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ ও মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে ঝালকাঠির সাংবাদিক সমাজ । আজ বুধবার সকাল ১০টায় ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের সড়কে ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। খলিল জেলার নলছিটি উপজেলার দৈনিক জনতার উপজেলা প্রতিনিধি ও সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিকের উপজেলা শাখার সভাপতি। মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে একটি প্রভাবশালী মহল তাকে এ মামলায় জড়িয়েছে বলে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে । মানববনন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের সভাপতি কাজী খলিলুর রহমান, সহসভাপতি শ্যামল সরকার, সাধারণ সম্পাদক আক্কাস সিকদার, সহসাধারণ সম্পাদক কে এম সবুজ, সুজন-সাশাসনের জন্য নাগরিকের জেলা সভাপতি হেমায়েত উদ্দিন হিমু, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াছ সিকদার ফরহাদ,
নলছিটি উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মো. আমির হোসেন, ঝালকাঠির রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর তরুন কর্মকার, নলছিটি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মু. মনিরুজ্জামান মুনির, সাংবাদিক ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হাসান আলম সুমন, সময়ের বার্তার বার্তা সম্পাদক মেহেদী হাসান। মানববন্ধনে সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবীদ, শিক্ষক, এনজিও প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শেণি পেশার মানুষ অংশ নেয়। এসময় বক্তারা সাংবাদিক খলিলের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও তার মুক্তি দাবি করেন। ২০০৭ সালে নলছিটিতে একটি ডাকাতি মামলায় সাংবাদিক খলিলুর রহমানকে ঝালকাঠির সিআইডি পুলিশ গত ২৮ মার্চ গ্রেপ্তার করে। মামলার এজাহারে নাম লেখা খলিল। বাবার নাম অজ্ঞাত। গ্রামের নামেও ভুল। তবু সিআইডি পুলিশ খলিলুর রহমান মৃধাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার করেছে বলে অভিযোগ করেন তাঁর বাবা।

Tuesday, April 4, 2017

স্ত্রীকে হত্যার পর লাশ ‘নদীতে নিক্ষেপ’ : স্বামী ৫ দিনের রিমান্ডে

ঝালকাঠির রাজাপুরে স্ত্রীকে হত্যার পর নদীতে লাশ ফেলে দেয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় স্বামীকে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। গতকাল সোমবার দুপুরে তাকে ঝালকাঠি জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করা হলে সন্ধ্যায় শুনানী শেষে রিমান্ড মঞ্জুর হয়। মিজান খন্দকার (৩৪) নামের ওই ব্যক্তি পালিয়ে সৌদি আরব যাওয়ার পথে ঢাকায় গ্রেফতার হন। এ ঘটনায় মিজান খন্দকারের ভগ্নীপতি মিজান হাওলাদারকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়া মিজানের মা দোলোয়ারা বেগম ও মিজানের বন্ধু এনায়েত গোমস্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশী হেফাজতে নেয়া হয়েছে। নিহত সিমা আক্তার (২৪) উপজেলার খামকাটা গ্রামের মৃত আমজেদ হোসেনে মেয়ে ও পিরোজপুরের সোহরাওয়ার্দী কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। মিজান খন্দকার রাজাপুর বাঁশতলা গ্রামের কাশেম খন্দকারের ছেলে। এ ঘটনায় নিহত সিমার বড়ভাই মাজেদুর ইসলাম বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে গত রোববার রাজাপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার অপর আসামিরা হল- মিজানের ভাই সবুজ খন্দকার ও বোন শাহনাজ বেগম। গত ৩০ মার্চ গভীর রাতে রাজাপুর উপজেলার সাউথপুর গ্রামে এনায়েত গোমস্তার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার তিনদিন অতিবাহিত হলেও এখনো লাশ উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। মামলা সূত্রে জানা যায়, তিন বছর আগে সিমা আক্তারের সাথে সৌদি প্রবাসি মিজান খন্দকারের বিয়ে হয়। মিজানের প্রথম পক্ষের স্ত্রী থাকায় সিমা সেই বাড়িতে কখনো যায়নি। গত ২৮ মার্চ রাজাপুরে আলাদা বাসাভাড়া করা হয়েছে বলে সিমাকে তার বাবার বাড়ী পিরোজপুর থেকে রাজাপুরে নিয়ে আসেন স্বামী মিজান। এরপর ৩০ মার্চ সিমা মুঠোফোনে তার ভাই বাদশাকে জানান,
তিনি বিপদের মধ্যে রয়েছেন। পরে সিমার আর কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এর দুইদিন পর ১ এপ্রিল পিরোজপুর থানা পুলিশ ঢাকা মতিঝিল থানা পুলিশের বরাত দিয়ে সিমার পরিবারকে জানায়, সিমাকে হত্যা করা হয়েছে এবং নিহতের স্বামী মিজানকে এনায়েতের সহযোগীতায় ঢাকা মতিঝিল থানায় আটক করা হয়েছে। রাজাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হারুন অর-রশিদ জানান, সিমাকে হত্যা করার পর স্বামী মিজান বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু এনায়েতের সহযোগিতায় মতিঝিল থানা পুলিশের কাছে গ্রেফতার হয় মিজান। এনায়েত গোমস্তা ও মিজান দুজনেই সৌদি প্রবাসি ও সেই সুবাদে তারা বন্ধু। হত্যার পরে লাশ ওই রাতেই এনায়েত গোমস্তার বাড়ি থেকে নিহতের স্বামী মিজানের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এতে সহায়তার অভিযোগে মিজান হাওলাদার নামে এক অটোরিকশা চালককেও গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার তাদেরকে ঝালকাঠি আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলেও জানান ওসি। অটোরিকশাা চালক মিজান খন্দকার রাজাপুর থানা হাজতে বলেন, সিমা অসুস্থ এই কথা বলে রাত ৪টার দিকে আমাকে অটোরিকশা নিয়ে আসতে বলা হয়। সেই রাতেই অটোরিকশাযোগে সিমাকে উপজেলার সাউথপুর থেকে মিজানের বাড়ী বাঁশতলায় নিয়ে যাই। এরপর আমার আর কিছু জানা নেই। উপপরিদর্শক আবুল কালাম বলেন, ওই মামলায় ঢাকা থেকে গ্রেফতার মিজান খন্দকারকে ঝালকাঠি এনে আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডে আনা হয়েছে। অন্য আসামীদের গ্রেফতারসহ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সিমা বা তার লাশের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ, বলেন তিনি। রাজাপুর থানার পরিদর্শক শেখ মুনীর উল গীয়াস জানান, এঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। লাশ এখনো উদ্ধার করা যায়নি। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

Tuesday, March 21, 2017

ঝালকাঠিতে ৩ ইউপির নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিল

ঝালকাঠি জেলা সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ, কাঁঠালিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে এবং কাঁঠালিয়ার চেচরীরামপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের সাধারণ ইউপি সদস্যের একটি পদের নির্বাচনে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। গতকাল সোমবার মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিনে উৎসবমুখর পরিবেশে মনোনয়নপত্র জমা দেন প্রার্থীরা। পোনাবালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আবুল বাশার খান, বিএনপির ওয়ারেচ আলী খান এবং ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো: নাসির উদ্দিন আহম্মেদ সহ সংরক্ষিত ও সাধারণ সদস্য পদে মোট ৪১ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। পোনাবালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পোনাবালিয়া ইউনিয়নে ১১ হাজার ১১০ জন ভোটারের মধ্যে ৫ হাজার ৭২৮ জন পুরুষ ভোটার এবং ৩ হাজার ৫৮২ জন নারী ভোটার রয়েছেন।
এদিকে কাঁঠালিয়া সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থী রবিউল ইসলাম কবির সিকদার ও দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী এনায়েত হোসেন খসরু এবং মাঈনুল হোসেন রিয়াজ মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। কাঁঠালিয়া সদর ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান কিবরিয়া সিকদার পদত্যাগ করে সদ্য সমাপ্ত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় এ ইউনিয়নে কেবলমাত্র চেয়ারম্যানের শূন্য পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কাঁঠালিয়া সদর ইউনিয়নে ১১ হাজার ৭৮৭ জন ভোটারের মধ্যে ৫৯৭৪ জন পুরুষ এবং ৫৮১৩ জন নারী ভোটার রয়েছে। একই দিন কাঁঠালিয়া উপজেলার চেচরীরামপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের সাধারণ ইউপি সদস্য নির্বাচনে ৩ জন মনোনয়ন দাখিল করেছেন। এ ওয়ার্ডের সদস্য ইন্তেকাল করায় পদটি শূন্য হয়। চেচরীরামপুর ৯ নং ওয়ার্ডের ভোটার সংখ্যা ১ হাজার ৭৩৬ জন। এদের মধ্যে ৮৪৬ জন পুরুষ ও ৮৯০ জন নারী ভোটার রয়েছেন। আগমী ১৬ এপ্রিল এসব ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

Monday, March 20, 2017

নলছিটিতে বজ্রপাতে মা নিহত, মেয়ে আহত

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার মগড় ইউনিয়নের ডুবিল গ্রামে বজ্রপাতে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূ মমতাজ বেগম (৩৫) ওই ইউনিয়নের আমিরাবাদ বাজারের মুদি ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক খানের স্ত্রী। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে আমিরাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী হাফিজা আক্তার (১৪) আহত হয়েছে। তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ডুবিল গ্রামের বাসিন্দা মো. রায়হান খান জানান, সন্ধ্যার পরে বৃষ্টি শুরু হলে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে ক্ষেতে থাকা খেসারি ডাল তুলে আনতে যায় মমতাজ বেগম।
এসময় ব্রজপাতে ঘটনাস্থলে নিহত হন তিনি। মেয়ে হাফিজা আক্তারের দুই পা পুড়ে যায়। হাফিজা আক্তার জানায়, বজ্রপাতের শব্দে সে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। কিছুক্ষণ পরে তার জ্ঞান ফিরলে দেখতে পান মায়ের শরীর ঝলসে যাচ্ছে। সে চিৎকার করলে পরিবারের লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করে। মগড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক শাহীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে আমরা ওই বাড়িতে যাই। সোমবার বেলা ১২টার দিকে জানাজা শেষে নিহত মমতাজ বেগমকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।