Wednesday, September 8, 2010

পাকিস্তানে আত্মঘাতী বোমায় শিশুসহ ১৭ জন নিহত

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে লাকি মারওয়াত শহরে গতকাল সোমবার একটি পুলিশ ফাঁড়িতে আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত ৩৪ জন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন শিশু ও নয়জন পুলিশ রয়েছে। ঘটনাস্থলে শিশুদের বই ও স্কুল ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। স্থানীয় পুলিশ কর্তকর্তারা এ কথা জানান। এ সপ্তাহে তৃতীয়বারের মতো এ ধরনের বোমা হামলার ঘটনা ঘটল।
গত সপ্তাহে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর লাহোর এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কোয়েটায় সংখ্যালঘু শিয়া সম্প্রদায়ের মিছিলে বোমা হামলায় প্রায় ১০০ জন নিহত হয়।
এ হামলার সঙ্গে আল-কায়েদা ও তালেবান জঙ্গিদের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাকিস্তানে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যার পরপরই এ ঘটনাগুলো ঘটল।
যুক্তরাষ্ট্র তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) বা তালেবান মুভমেন্ট অব পাকিস্তানকে ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংস্থা’ হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার দুই দিন পরই গত শুক্রবার তালেবান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে শিগগিরই হামলা চালানো হবে বলে হুমকি দেয়।

‘রণতরী বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে হবে চীনকে’

প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন নৌশক্তি মোকাবিলা করতে হলে চীনকে জঙ্গিবিমানবাহী রণতরী বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে হবে। দেশটির সরকারনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম গতকাল সোমবার এ কথা জানিয়েছে।
গ্লোবাল টাইমস-এর সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছে, ‘চীনকে অবশ্যই রণতরী ধ্বংস করার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।’
ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র পিপলস ডেইলি লিখেছে, ‘চীনকে শুধু যুদ্ধজাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র বানালে হবে না, রণতরী ধ্বংস করার ক্ষমতাও হাত করতে হবে।’
পিপলস ডেইলি আরও লিখেছে, ‘যেহেতু প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন রণতরীর উপস্থিতি চীনা স্বার্থের জন্য হুমকি, সেহেতু চীনকে রণতরী ধ্বংস করার মতো অস্ত্র অর্জন করতে হবে।’
মার্কিন সামরিক বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, চীন তাদের ডংফেং ক্ষেপণাস্ত্রের নতুন সংস্করণ তৈরি করছে, যা মার্কিন নৌবহরের কঠিন প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম হবে। এই ক্ষেপণাস্ত্র চীনের জলসীমা থেকে ২০ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারবে।
চীনের সামরিক ব্যয় বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি এবং সামরিক বাহিনীর দ্রুত আধুনিকায়নে দেশটির সামরিক উদ্দেশ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ বাড়ছে। নিজেদের জলসীমার কাছাকাছি মার্কিন নৌবহরের টহলের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চীন। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে তাদের যৌথ সামরিক মহড়ার জন্য নৌযান সরবরাহ করাই নৌবহরের ওই এলাকায় অবস্থানের উদ্দেশ্য।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর গত মাসে জানিয়েছে, তাইওয়ানের বেইজিংপন্থী সরকারের সঙ্গে চীনের সুসম্পর্ক সত্ত্বেও তাইওয়ানকে লক্ষ্য করে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে চীন।

অধিকাংশ জাপানি চান ডিপিজের নেতৃত্বে থাকুন নাওতো কান

জাপানের ক্ষমতাসীন দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অব জাপানের (ডিপিজে) নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রী নাওতো কানকে চান দেশটির বেশির ভাগ মানুষ। গতকাল সোমবার প্রকাশিত এক জরিপ থেকে এ কথা জানা গেছে।
জাপানের পত্রিকা ইয়োমিউরো শিম্বুন পরিচালিত জরিপের ফলাফল অনুযায়ী দলের অপর নেতা ইশিরো ওজাওয়ার চেয়ে কানই এই পদের জন্য উপযুক্ত হবেন। এ ক্ষেত্রে কানকে সমর্থন করেছে ৬৫ শতাংশ মানুষ। আর ওজাওয়া পেয়েছেন মাত্র ১৫ শতাংশ মানুষের সমর্থন।
আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর ডিপিজের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করবে দলটি। তবে এ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভোটারদের মতামতকে বিবেচনায় নেবেন আইনপ্রণেতা, স্থানীয় আইন পরিষদের সদস্য এবং নির্বাচনে ভোটদানের অধিকারী ব্যক্তিরা।
ক্ষমতা নেওয়ার মাত্র এক বছরের মাথায় দলের প্রধান নির্বাচন নিয়ে ভাঙনের হুমকির মুখে পড়েছে ডিপিজে। দলটি এখন সরাসরি দুটি উপদলে বিভক্ত।
৬৮ বছর বয়সী ইশিরো ওজাওয়া এখন ডিপিজের অন্যতম প্রধান নেতা। তবে তিনি মাত্র কয়েক বছর আগে রক্ষণশীল লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ছেড়ে এ দলে এসেছেন। দলবদল এবং দলে ভাঙা-গড়ায় বেশ পটু এই নেতা।
অন্যদিকে কান রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছেন ডিপিজের তৃণমূল পর্যায়ের সদস্য থেকে। এর আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দক্ষতার পরিচয় দিয়ে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

বুশকে ওয়াশিংটনের বাইরে থাকতে ‘আদেশ’ দিয়েছিলেন রাইস!

সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কন্ডোলিৎসা রাইস বলেছেন, ৯/১১ হামলার কিছুক্ষণ পরই তিনি ফ্লোরিডায় অবস্থানরত প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশকে ওয়াশিংটনে না আসার জন্য রীতিমতো আদেশ দিয়েছিলেন। হামলার ভয়ে তিনি ও ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনিসহ শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন কর্মকর্তা হোয়াইট হাউসের পরিখায় (বাংকারে) লুকিয়েছিলেন। মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল ফোরকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে রাইস এসব কথা বলেন।
চ্যানেল ফোর বলেছে, ৯/১১ হামলার নবম বার্ষিকী উপলক্ষে তারা একটি প্রামাণ্য অনুষ্ঠান তৈরি করেছে। ওই অনুষ্ঠানে রাইস ছাড়াও আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা সেই দিনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। ১১ সেপ্টেম্বর তারা অনুষ্ঠানটি প্রচার করবে।
প্রামাণ্য অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাত্কারে রাইস বলেন, ‘খবর শুনেই ফ্লোরিডা থেকে প্রেসিডেন্ট বুশ আমাকে ফোন করে বললেন, আমি ওয়াশিংটনে ফিরে আসছি।’ ‘আমি তাঁকে বললাম, আপনার এখানে আসা হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ভয়ংকর হামলা নেমে এসেছে। এ মুহূর্তে আপনাকে নিরাপদ অবস্থানে থাকতে হবে। এখন কী কী ঘটছে তার কিছুই আমরা বুঝতে পারছি না।’ প্রেসিডেন্ট আবার বললেন, ‘আমি আসছি।’ ‘এবার আমি প্রায় ধমকের সুরে তাঁকে বললাম, আপনি আসতে পারবেন না।’ ‘আমি এত চড়া গলায় প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কোনো দিন কথা বলিনি। কিন্তু সে দিন আদেশের সুরে আপনি আসতে পারবেন না বলেই আমি ফোনটা কেটে দিলাম।’ ‘প্রেসিডেন্ট আমার কথায় বিরক্ত হয়েছিলেন। তবে দীর্ঘদিন থেকে আমি যেহেতু তাঁকে চিনতাম সে জন্য বুঝতে পারছিলাম প্রেসিডেন্ট সশরীরে ওয়াশিংটনে এসে পরিস্থিতির হাল ধরতে চাইছেন।’
কন্ডোলিত্সা রাইস বলেন, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সে দিন তিনি নিজে, ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনি ও অন্যান্য কর্মকর্তারা হোয়াইট হাউসের পরিখায় লুকিয়েছিলেন। একসময় পরিখার মধ্যে অক্সিজেনের স্বল্পতা দেখা দেয়। তাঁদের শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। পরে সেখান থেকে কয়েকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
রাইস বলেন, হোয়াইট হাউসে যোগাযোগের স্বয়ংক্রিয় নানা মাধ্যম থাকলেও ওই সময় রহস্যজনকভাবে তাঁর অনেকগুলোই ঠিকমতো কাজ করছিল না। ফলে অনেকেই ব্যক্তিগত সাধারণ মোবাইল ফোন দিয়ে বাইরের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন। তিনি বলেন, তিনি তখন ভাবছিলেন সন্ত্রাসীরা যদি সে মুহূর্তে তাদের সাধারণ ফোনে আঁড়ি পাতে তাহলে বহু স্পর্শকাতর খবর তাদের কাছে চলে যাবে।

রোনির জন্য দুয়ার খোলা মেনেজেসের

বয়স ৩০ হয়ে গেছে। পায়ের জাদুকরি ছন্দটা আর আগের মতো নেই। দুই বছরের বেশি হলো, আন্তর্জাতিক ফুটবলেও নেই। দুইয়ে দুইয়ে পাঁচ মিলিয়ে কি ধরেই নিয়েছেন, রোনালদিনহোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ! তেমনটা মনে করা হবে ভুল! ব্রাজিলের নতুন কোচ মানো মেনেজেসই জানিয়ে দিলেন, রোনালদিনহোর জন্য ব্রাজিল জাতীয় দলের দরজা খোলা।
দরজা অবশ্যই খোলা। তবে শর্ত হচ্ছে, সেই খোলা দরজা দিয়ে প্রবেশের আগে কঠোর পরিশ্রম করে স্বরূপে ফিরতে হবে। এসি মিলানের তারকাকে অনেক দিন ধরেই সংগ্রাম করতে হচ্ছে ফিটনেসের জন্য। এই ফিটনেস আর ফর্মহীনতার দোহাই দিয়েই রোনালদিনহোকে বিশ্বকাপ দলে জায়গা দেননি কার্লোস দুঙ্গা। অতীতের এসব কিছুই মেনেজেসের জানা। তা সত্ত্বেও রোনালদিনহোর জন্য দলের দরজা বন্ধ তিনি করছেন না।
দুবারের বর্ষসেরা ফুটবলারকে একরকম ফেরার আহ্বানই জানিয়ে রাখলেন মেনেজেস। ব্রাজিলের জার্সি গায়ে রোনালদিনহো সর্বশেষ খেলেছেন ১ এপ্রিল, ২০০৯। এত দিন পর আবার কি ওই জার্সি ব্রাজিলিয়ান প্লে-মেকারের গায়ে উঠতে যাচ্ছে? ‘রোনালদিনহো জাতীয় দলে? আমি ২০১৪ বিশ্বকাপ সামনে রেখে কাজ করছি। ‘দিনহো বুড়ো হয়ে যায়নি এবং ব্রাজিলের জন্যও সে তা নয়’—ইতালিয়ান ক্রীড়া দৈনিক গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্তকে বলেছেন মেনেজেস। রোনালদিনহোর মান নিয়েও সংশয় নেই তাঁর, ‘ওর মান নিয়ে কারও প্রশ্ন নেই। মিলানে ওর গত মৌসুমটি ছিল দারুণ। কিন্তু তার আগের দুই-তিনটি বছরের পারফরম্যান্স ছিল খারাপ। তাকে যেমনটা মানায় সেই রূপে সে যদি ফিরতে পারে, তা হলে আমি তাকে ডাকব।’

ক্যাপেলো-হিজফেল্ডের মিল

দুজনেরই বুকভরা সাফল্যের গর্ব। একজনের আছে সাতটি বুন্দেসলিগা ও দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের কৃতিত্ব। আরেকজনের নথিতে চারটি সিরি ‘আ’, দুটি লা লিগা ও একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা।
সব সাফল্যই ক্লাবের হয়ে। জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর সাবেক বায়ার্ন মিউনিখ কোচ ওটমার হিজফেল্ড বা সাবেক জুভেন্টাস-মিলান-রিয়াল কোচ ফ্যাবিও ক্যাপেলোর প্রাপ্তি শুধুই হতাশা। কিন্তু আজ বাসেলে হিজফেল্ড ও ক্যাপেলো যখন প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ফুটবলে পরস্পরের মুখোমুখি হবেন, তখন তাঁদের মুখে হতাশা ছাপিয়েও বেশি বিরক্তি।
ইউরো বাছাইপর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে হিজফেল্ডের সুইজারল্যান্ড ও ক্যাপেলোর ইংল্যান্ড। আজ আরও একগুচ্ছ ম্যাচ হবে ইউরোর বাছাইপর্বে। এর মধ্যে কোলনে জার্মানি-আজারবাইজান, ফ্লোরেন্সে ইতালি-ফারো দ্বীপপুঞ্জ, সারায়েভোতে বসনিয়া-ফ্রান্স ও অসলোতে পর্তুগাল-নরওয়ে ম্যাচ দৃষ্টি কাড়ার কথা।
ফুটবলীয় শক্তি বিবেচনায় ইংল্যান্ড-সুইজারল্যান্ড ম্যাচের এমন কিছু দৃষ্টি আকর্ষণ করার কথা নয়। ইউরো বাছাইপর্বের প্রথম ম্যাচে ওয়েম্বলিতে বুলগেরিয়াকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বলেই ইংল্যান্ডের কাছে সুইজারল্যান্ডকে সহজ প্রতিপক্ষ মনে হওয়াই স্বাভাবিক। ম্যাচের আগে তাই দুদলকে সমান্তরালে রাখা কঠিন।
সমান্তরালে চলে এসেছেন দুই কোচ; সেই বিরক্তির কারণে। ক্যাপেলোর বিরক্তির কারণটা অনুমেয়। বিশ্বকাপের আগে ইংল্যান্ডে রাতারাতি ‘ত্রাতা’, ‘নায়ক’ নানা রকম খেতাব পেয়ে গিয়েছিলেন এই ইতালিয়ান। কিন্তু বিশ্বকাপে শোচনীয় পারফরম্যান্স সেই ক্যাপেলোকেই ‘বিরক্তিকর’ চরিত্রে পরিণত করেছে।
বুলগেরিয়ার বিপক্ষে ভালো খেলার পরও ইংলিশ সংবাদমাধ্যম তাঁর সম্পর্কে যাচ্ছেতাই লিখছে। এতেই খুব বিরক্ত ক্যাপেলো। বিরক্তি এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে, ইংলিশদের সম্মানবোধ সম্পর্কেই সন্দেহ জেগেছে তাঁর মনে।
জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তিনি আরেকটু সম্মান আশা করেন কি না? হতাশ ক্যাপেলো উত্তর দিয়েছেন, ‘সম্মান শব্দটা ঠিক না। কারণ ইতালিতে সম্মান করা বলতে অনেক বড় কিছু বোঝা যায়। ইংরেজিতে সম্মান শব্দটাকে বড় হালকাভাবে ব্যবহার করা হয়।’ নাকি সঠিক ব্যবহারই হয় না?
সে যা-ই হোক, একই রকম চটে আছেন হিজফেল্ডও। সুইজারল্যান্ডের দায়িত্বে থাকা হিজফেল্ডকেও বিরক্তির কারণ সুইস সমর্থকদের আচরণ। বিশ্বকাপে স্পেনকে ১-০ গোলে হারানোর কৃতিত্ব আছে সুইজারল্যান্ডের, কিন্তু এরপর থেকে গোল করায় ব্যর্থতা মোটেও পছন্দ হচ্ছে না সমর্থকদের। বিশেষ করে গত শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্রতে শেষ হওয়া প্রীতি ম্যাচে আলেক্সান্ডার ফ্রেই পেনাল্টি মিস করার পর দর্শকরা খুবই দৃষ্টিকটুভাবে প্রকাশ করেছে সেই অপছন্দের।
দর্শকের একাংশ মাঠে খুব দুয়ো দিয়েছে ফ্রেইকে। এতে চটেছেন হেজফিল্ড, ‘কিছু সমর্থক তার সঙ্গে যে আচরণ করেছে, সেটা বিব্রতকর। এই দলটায় আলেক্সান্ডার ফ্রেইয়ের অসামান্য অবদান আছে।’
হেজফিল্ড-ক্যাপেলো যখন সমর্থক-সংবাদমাধ্যমের আচরণে বিব্রত, বিরক্ত—আরেক ইউরোপীয় কোচ লরাঁ ব্লাঁ তখন আরেকবার পরীক্ষায় বসতে যাচ্ছেন। আসলে যা অগ্নিপরীক্ষারই নামান্তর।
বিশ্বকাপের ভরাডুবি ও কেলেঙ্কারি থেকে দলকে টেনে তোলার দায়িত্ব বর্তেছে বিশ্বকাপজয়ী ব্লাঁর কাঁধে। কিন্তু নরওয়ের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচের পর ইউরো বাছাইপর্বে বেলারুশের কাছেও হেরে গেছে ‘ডুবন্ত’ ফ্রান্স। যদিও এখনো ব্লাঁর ওপর থেকে সমর্থন তুলে নেয়নি ফরাসিরা। কিন্তু ব্লাঁ নিজেই ভরসা দিতে পারছেন না।
এমনকি কত দিনে পরিস্থিতি ভালো হবে, তা নিয়েও আশার কথা শোনাতে পারছেন না ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী দলের ডিফেন্ডার, ‘বর্তমান অবস্থায় আমরা এটা বলতে পারি না যে, বসনিয়ায় জিততে যাচ্ছি। আমি জানি না, (পরিস্থিতি ভালো হতে) কত দিন সময় লাগবে বা আদৌ ভালো হবে কি না। শুধু আশা করতে পারি, যত দ্রুত সম্ভব যেন সবকিছু ঠিক হয়ে যায়।’
এত খারাপ না হলেও পর্তুগালকেও আজ একটু দুশ্চিন্তা নিয়ে মাঠে নামতে হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা থাকায় ডাগ-আউটে থাকতে পারবেন না কোচ কার্লোস কুইরোজ। কিন্তু তিনি যেখানেই থাকুন, রক্ষণভাগ নিয়ে চিন্তা তাঁর সঙ্গী হচ্ছেই।
যে পর্তুগাল বিশ্বকাপের চার ম্যাচে একটি মাত্র গোল হজম করেছে, তারাই গত ম্যাচে সাইপ্রাসের কাছে (৪-৪) চার গোল খেয়েছে। দুর্বলতাটা রক্ষণভাগের। দ্বিতীয় ম্যাচেই এটি কাটিয়ে ওঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ডিফেন্ডার রিকার্ডো কারভালহো। দেখা যাক, আজ নরওয়ের বিপক্ষে এই প্রতিশ্রুতি রাখতে পারেন কি না কারভালহোরা।