Saturday, July 18, 2026

ইসরাইলিদের মালয়েশিয়ায় ঠাঁই নেই, পেলেই বহিষ্কার -আনোয়ার ইব্রাহিমের হুঁশিয়ারি

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, দেশে কোনো ইসরাইলি নাগরিকের সন্ধান পাওয়া গেলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কার করা হবে। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষ দক্ষিণাঞ্চলীয় জোহর রাজ্যের একটি বেসরকারি আবাসিক কমিউনিটির কার্যক্রমে একজন ইসরাইলি সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্ত করছে। আনাদোলু এজেন্সি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

ইংরেজি দৈনিক ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে জানিয়েছে, আনোয়ার বলেন, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো অভিযোগের তদন্ত করছে এবং অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সরকার কোনো ধরনের ছাড় দেবে না।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি কোনো ইসরাইলিকে খুঁজে পাই, তাহলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে বহিষ্কার করব, কারণ আমরা ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিই না।

মালয়েশিয়া ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয় না। তাই বিশেষ অনুমতি ছাড়া সাধারণত ইসরাইলি পাসপোর্টধারীদের দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয় না।

জোহরভিত্তিক স্টার্টআপ কমিউনিটি নেটওয়ার্ক স্কুল-সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে জোহর রাজ্য সরকার ফেডারেল তদন্তের আহ্বান জানানোর পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তদন্ত শুরু করে।

ইসরাইলিদের মালয়েশিয়ায় ঠাঁই নেই, পেলেই বহিষ্কার
আনোয়ার ইব্রাহিম

পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান?

ইরানে পুনরায় শুরু হওয়া সামরিক অভিযানে শুক্রবার (১৭ জুলাই) আরও একধাপ এগিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এদিন ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে সেতু ও বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিমাণ বাড়িয়েছে।

এদিকে পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগস্থল হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ এই প্রণালিতে একটি তেলবাহী জাহাজে মার্কিন মেরিন সদস্যরা অভিযান চালিয়ে জাহাজে উঠেছে। একই সময়ে ওমান উপকূলের কাছে আরেকটি ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

গত সপ্তাহে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই সীমিত মাত্রায় হামলা চালিয়ে সংঘাতের পরিধি পরীক্ষা করছে। এতে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। তবে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্রতা ক্রমেই বাড়ছে।

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক বিমান হামলার হুমকি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ইরানের উপকূল বা দ্বীপাঞ্চলে স্থল অভিযান চালানোর সম্ভাবনাও নাকচ করেননি।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দক্ষিণ ইরানে চলমান হামলার একটি উদ্দেশ্য হলো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামনে বিভিন্ন সামরিক বিকল্প খোলা রাখা।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এমন পদক্ষেপ ইরানকে আরও বড় ধরনের পাল্টা হামলায় উৎসাহিত করতে পারে। এর মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা কিংবা ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের মাধ্যমে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার আশঙ্কাও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সর্বশেষ অভিযানে ইরানের “সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামো” লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার কথা জানিয়েছে। গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে এই প্রথম তারা ইরানের অবকাঠামোকে হামলার লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করল।

প্রাথমিকভাবে হামলাগুলো ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিল, যেখানে গত কয়েক দিন ধরেই ব্যাপক বিমান হামলা চলছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলে অন্তত পাঁচটি সেতুতে হামলা হয়েছে। দক্ষিণের বন্দরনগরী বান্দার খামিরে সেতুতে হামলায় সাতজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একই হামলায় শহরের রেলস্টেশনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়া পাকিস্তান সীমান্তসংলগ্ন ইরানশাহর শহরের একটি বিমানবন্দরেও হামলার খবর প্রকাশ করেছে ইরানি গণমাধ্যম। পাশাপাশি ইরানের বান্দার আব্বাস বন্দরে পৃথক হামলায় এক নারী নিহত এবং তার শিশু আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

কুয়েত, বাহরাইন ও ওমানে হামলা
ইরান দাবি করেছে, তারা কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ওমানে একটি মার্কিন রাডার স্টেশনে হামলা চালিয়েছে।
কাতারের রাজধানী দোহাতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিস্ফোরণে ছিটকে আসা ধাতব টুকরায় (শ্র্যাপনেল) এক শিশু আহত হয়েছে।
ইরান আরও দাবি করেছে, যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম তারা সিরিয়ার আল-তানফ এলাকায় হামলা চালিয়েছে, যেখানে তাদের ভাষ্য অনুযায়ী একটি মার্কিন বিশেষ বাহিনীর ঘাঁটি ছিল।
তবে সিরিয়া জানিয়েছে, চলতি বছরের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্র ওই ঘাঁটি খালি করে দিয়েছে। সিরিয়ার এক সামরিক সূত্র জানায়, হামলাটি ঘাঁটির কাছাকাছি আঘাত হানলেও কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন সংঘাত
গত ৭ জুলাই ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা বিমান হামলা শুরু করে। এর ফলে যুদ্ধবিরতির অন্তর্বর্তী চুক্তি কার্যত ভেঙে পড়ে।
এরপর থেকে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮৫ ডলারে পৌঁছেছে।
ইতিমধ্যে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নিজেদের অবরোধ পুনর্বহাল করেছে।
সর্বশেষ মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, অবরোধ কার্যকর করতে তারা ‘ওয়েন ইয়াও’ নামের একটি তেলবাহী জাহাজে অভিযান চালিয়ে নিয়ন্ত্রণ নেয়।

এ সময় প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, মার্কিন মেরিন সদস্যরা হেলিকপ্টার থেকে দড়ি বেয়ে জাহাজে নামছেন এবং একজন সেনা ইরানের পতাকার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন।
অন্যদিকে বৃটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, ওমান উপকূলের কাছে বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) একটি ট্যাংকার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বড় সংঘাতের শঙ্কা
যদিও উভয় পক্ষ প্রতিদিন পাল্টাপাল্টি হামলা চালাচ্ছে, তবুও এখন পর্যন্ত তারা এমন মাত্রায় সংঘাত বাড়ায়নি। কারণ, উভয় পক্ষই বড় ধরনের প্রতিশোধমূলক হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় রাখছে।
ইরান আগেই সতর্ক করে দিয়েছে, ট্রাম্প যদি ইরানের অবকাঠামোতে ব্যাপক হামলার হুমকি বাস্তবায়ন করেন, তাহলে তারা মধ্যপ্রাচজুড়ে বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাবে।
দেশটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, অবকাঠামোতে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের সব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়া হবে।
তবে এরই মধ্যে ইরানের অবকাঠামোতে হামলা শুরু করেছে মার্কিন বাহিনী। এখন দেখার বিষয়, ইরান কি পদক্ষেপ নিচ্ছে।
এছাড়া তেহরান ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা ইয়েমেনের মিত্র হুতি গোষ্ঠীকে বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করার নির্দেশ দিতে পারে।
লোহিত সাগরের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথও বন্ধ হয়ে গেলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ আরও বড় সংকটে পড়তে পারে। এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন,
ইরানে আমরা বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করছি। খুব শিগগিরই আপনারা সেই প্রচেষ্টার ফল দেখতে পাবেন। 

ইরানের দক্ষিণাঞ্চল বিচ্ছিন্নে প্রস্তুতি, স্থল অভিযানের ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্রের

শিশুর সুস্থতায় শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবারের গুরুত্ব by অধ্যাপক ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী

আঁশযুক্ত খাবার মূলত অশোষিত শর্করা শ্রেণির। এর বেশির ভাগ আসে উদ্ভিদ থেকে যেমন—দানাদার শস্য, ফলমূল, শাকসবজি। এসব খাবার পরিপাকতন্ত্রে অপাচ্য হিসেবে থাকে। মল হিসেবে নির্গত হওয়ার আগে প্রায় ১০০ শতাংশ ক্ষেত্রে বৃহদন্ত্রে পৌঁছায়। যদিও আঁশজাত খাবার দেহে তেমন পরিমাণে ক্যালরি বিতরণ করে না, তবু যে কারও বিশেষ করে শিশুর সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে এর ভূমিকা বহুমুখী ও গুরুত্বপূর্ণ।

কেন আঁশযুক্ত খাবার দরকার

* বৃহদন্ত্রে থাকা ব্যাকটেরিয়া এসব আঁশযুক্ত খাবারের সঙ্গে বিক্রিয়া করে তৈরি করে প্রোবায়োটিকস, যা অন্ত্রে থাকা উপকারী জীবাণুগুলোকে পুষ্টি জোগায়।

* পরিপাকতন্ত্রে থাকা বিষাক্ত পদার্থ বা টক্সিন এবং ক্যানসার তৈরির উপাদান বিনষ্ট করে দেয়।

* মলের আয়তন ধরে রাখে। ফলে শিশুর কোষ্ঠবদ্ধতার নিরসন হয়।

* আঁশ পাকস্থলী থেকে খাবার অন্ত্রে যাওয়ার সময় বৃদ্ধি করে মানে পরিপাকতন্ত্রের চলনকে ধীর করে এবং এভাবে শিশুর খিদে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।

* ফলমূল-শাকসবজি খাওয়া হলে শর্করাজাতীয় পানীয় পানের ফলে দেহে হঠাৎ করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি কম থাকে।

* শিশুর দৈনন্দিন খাবারে আঁশযুক্ত ফলমূল, শাকসবজি বা দানাদার খাবার শিশু বয়সে ডায়াবেটিস, মুটিয়ে যাওয়া, রক্তে উচ্চ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ, কোলন ক্যানসার ও আইবিডির মতো অন্ত্রের রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে উপকারী।

শিশু কতটুকু আঁশ খাবে

শিশুর খাদ্যতালিকায় প্রতিদিন ন্যূনতম আঁশযুক্ত খাবারের পরিমাণ নির্ণয়ে নিম্নোক্ত ফর্মুলা ব্যবহার হয়। শিশুর বয়স (বছর) + ৫ = আঁশযুক্ত খাবারের পরিমাণ (গ্রাম হিসাবে)। যেমন—১ বছর বয়সের একটি শিশুর জন্য আঁশযুক্ত খাবারের পরিমাণ হবে: ১+৫ = ৬ গ্রাম/প্রতিদিন।

* অধ্যাপক ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী, সাবেক বিভাগীয় প্রধান, শিশুস্বাস্থ্য বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-11-23%2Fxd4mvvuk%2FIMGL64371.avif?rect=0%2C0%2C1012%2C675&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
শিশুর খাদ্যতালিকায় প্রতিদিন আঁশযুক্ত খাবার থাকা দরকার। ছবি: পেক্সেলস

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, বললেন, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ by সাইদুল ইসলাম

‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’—এই চার শব্দ দিয়েই যুক্তরাজ্যের নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করলেন ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নবনির্বাচিত নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। আজ শুক্রবার লেবার পার্টির নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম ভাষণে বার্নহ্যাম বলেন, তাঁর কাছে শুধু নেতৃত্বের দায়িত্ব নয়, বরং যুক্তরাজ্যকে নতুন পথে এগিয়ে নেওয়ার একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশেষ দলীয় সম্মেলনে শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে লেবার পার্টির নেতা নির্বাচিত হন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ উন্মুক্ত হয়েছে তাঁর।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী সোমবার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। এরপর রাজা বার্নহ্যামকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন। তিনি সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন এবং ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে যাত্রা শুরু করবেন।

আজ লেবার পার্টির নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেন, গত ২৫ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাঁকে শিখিয়েছে দেশের মানুষ কী চায় এবং যুক্তরাজ্যকে কোন পথে এগিয়ে নিতে হবে। তিনি বলেন, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’। এরপর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, তাঁর পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে, মানুষের রাজনীতির ওপর হারিয়ে যাওয়া আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং এমন একটি সরকার গঠন করা, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে।

অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেন, তাঁর নেতৃত্বে লেবার পার্টি আবার শ্রমজীবী মানুষের দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবে। জনসেবা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো হবে তাঁর সরকারের মূল অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হলেও তিনি নিজেকে বদলে ফেলবেন না। সাধারণ মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই নীতি নির্ধারণ করবেন এবং জনগণের কাছাকাছি থেকেই নেতৃত্ব দেবেন।

গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র হিসেবে বার্নহ্যাম দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের পক্ষে অবস্থান জানিয়ে আসছেন। নেতা নির্বাচিত হওয়ার পরও তিনি সেই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত অতিরিক্তভাবে লন্ডনকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সরকারগুলোর হাতে আরও ক্ষমতা, অর্থ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ দিতে হবে, যাতে যুক্তরাজ্যের প্রতিটি অঞ্চল সমানভাবে উন্নয়নের সুফল পায়।

ভাষণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস) আরও শক্তিশালী করা, সামাজিক সেবা সংস্কার এবং অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রতিশ্রুতি দেন বামপন্থার প্রতি অনুরক্ত অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তিনি বলেন, গত কয়েক দশকের কিছু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে অনেক মানুষ নিজেদের পিছিয়ে পড়া মনে করছেন। তাঁর সরকার সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে কাজ করবে।


যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর বক্তব্য দিচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। লন্ডন, যুক্তরাজ্য, ১৭ জুলাই ২০২৬
যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর বক্তব্য দিচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। লন্ডন, যুক্তরাজ্য, ১৭ জুলাই ২০২৬ ছবি: রয়টার্স

সিরিয়া, ওমান ও কুয়েতে মার্কিন স্থাপনায় হামলা; রাডার ও হেলিকপ্টার ধ্বংসের দাবি ইরানের

বেসামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে নতুন করে পাল্টাহামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। বাহিনীটির দাবি, তারা সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অভিযান পরিচালনাকারী একটি কমান্ড সেন্টার, ওমানে মার্কিন রাডার স্থাপনা এবং কুয়েতে অস্ত্রের গুদাম ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থাকে নিশানা করে এ হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে কাতার, জর্ডান ও ইরাকে হামলার খবর জানিয়েছে আল–জাজিরা।

আজ শুক্রবার আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের এরোস্পেস ফোর্সের (মহাকাশ বাহিনী) পরিচালিত এই অভিযানে একটি রাডার ব্যবস্থা ও বিশেষ অভিযানে ব্যবহৃত কয়েকটি মার্কিন হেলিকপ্টার ধ্বংস করা হয়েছে। অনেক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত বুধবার (১৫ জুলাই) ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ইরানশাহরের কাছে বামপুরে সেনাবাহিনীর ৩৮৮তম ব্রিগেডের ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় নিহত সাত ইরানি সেনার মৃত্যুর প্রতিশোধ হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়েছে।

আইআরজিসি আরও বলেছে, ‘আমাদের সাহসী যোদ্ধারা এখনো হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন। যুক্তরাষ্ট্র যতক্ষণ তার উসকানিমূলক তৎপরতা চালিয়ে যাবে, ততক্ষণ মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে এক ফোঁটা তেল বা গ্যাস রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না।’

বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়, গত কয়েক দিনে তারা ইরানে একাধিক প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে এবং যুদ্ধ শেষ করার চুক্তি লঙ্ঘন করে আবারও ইরানের বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করেছে।

জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এই অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নিশানায় ব্যাপক পাল্টাহামলা চালিয়েছে বলে দাবি করে আইআরজিসি। একই সঙ্গে ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ এবং অন্তত এই ‘অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত’ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে বলেও ঘোষণা দিয়েছে তারা।

গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশে কয়েকটি সেতুসহ বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। হামলার সময় সেতুগুলো দিয়ে যানবাহন চলাচল করছিল। এতে সেতু থেকে যানবাহন নিচে পড়ে যায়।

কুয়েতে মার্কিন অস্ত্রভান্ডার, হিমার্স ও রাডারে হামলার দাবি

আজ পৃথক এক বিবৃতিতে আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ জানায়, ইরানের বাহিনী পাল্টাহামলার নতুন ধাপ শুরু করেছে। অভিযানের প্রথম ধাপে কুয়েতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা নজরদারি রাডার, একাধিক অস্ত্রভান্ডার, দুটি হিমার্স (হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেম) উৎক্ষেপণব্যবস্থা এবং বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এতে কুয়েতে মার্কিন বাহিনীর একটি ঘাঁটিতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র আবারও ভুলভাবে ধরে নিয়েছিল, ইরান দুর্বল হয়ে পড়েছে। সেই ধারণা থেকে তারা আলোচনার মধ্যেই আবার যুদ্ধ শুরু করেছে। অতীতের মতো এবারও তারা নিজেদের অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে। এখন তারা হতাশ, নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতপ্ত এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে সফল হওয়ার আশা হারিয়ে আবারও যুদ্ধাপরাধের পথ বেছে নিয়েছে, যাতে সংঘাতের গতিপথ বদলে দেওয়া যায়।

আইআরজিসির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র টেলিযোগাযোগ, রেলপথের অবকাঠামোসহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা এবং চলন্ত যানবাহনে হামলা চালিয়েছে। এতে কয়েকজন বেসামরিক ব্যক্তি হতাহত হয়েছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের এসব পদক্ষেপের ফলে তেল ও গ্যাস উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাস রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের পাল্টা–অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও সতর্ক করা হয়।

ওমানে মার্কিন নৌ ও আকাশ নজরদারি রাডার ধ্বংসের দাবি

পরে প্রকাশিত আরেকটি বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তাদের বাহিনী ওমানের সালমাহ মালভূমিতে থাকা একটি মার্কিন নৌ নজরদারি রাডার এবং ঘানাম এলাকায় মোতায়েন একটি মার্কিন আকাশ নজরদারি রাডারে হামলা চালিয়ে সেগুলো ধ্বংস করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন শুরু করে। তবে ৪০ দিন পর গত ৮ এপ্রিল ইরানের প্রতিরোধ, সফল পাল্টাহামলা এবং হরমুজ প্রণালির ওপর শক্ত নিয়ন্ত্রণের মুখে তারা যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে বাধ্য হয়।

এতে আরও বলা হয়, ১৭ জুন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটন একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে। এতে সব ফ্রন্টে স্থায়ীভাবে সংঘাত বন্ধ করা এবং পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে আরও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ওই সমঝোতার একাধিক শর্ত লঙ্ঘন করেছে বলে দাবি করা হয়। এর ফলে ইরান কঠোর জবাব দিয়েছে বলে আইআরজিসি বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

কাতার, জর্ডান ও ইরাকে হামলার খবর

আল–জাজিরার হালনাগাদ খবরে বলা হয়েছে, কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী আকাশপথে একাধিক হামলা প্রতিহত করছে। এর আগে ইরানের হামলার পর পড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষের আঘাতে এক শিশু আহত হয়েছে।

জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা তিনটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। সেনাবাহিনীর ভাষ্যমতে, এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। পরে রয়্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সদস্যরা পড়ে থাকা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে নেন।

উত্তর ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের সুলাইমানিয়াহ শহরে চারটি বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে কুর্দি সংবাদমাধ্যম রুদাও।

একই সময় ইরাকের উত্তরাঞ্চলের এরবিল শহরের আকাশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোটের বাহিনী আটটি বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন ভূপাতিত করেছে বলে জানিয়েছে কুর্দি সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনী। ইরাকের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইএনএর খবরে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর একটি অজ্ঞাত স্থান থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) দাবি, গতকাল বৃহস্পতিবারের (১৬ জুলাই) এই হামলায় উপকূলীয় নজরদারি ও আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা, সামরিক রসদ অবকাঠামো এবং সামুদ্রিক সক্ষমতাসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়েছে
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর একটি অজ্ঞাত স্থান থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) দাবি, গতকাল বৃহস্পতিবারের (১৬ জুলাই) এই হামলায় উপকূলীয় নজরদারি ও আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা, সামরিক রসদ অবকাঠামো এবং সামুদ্রিক সক্ষমতাসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়েছে। ছবি: রয়টার্স