Saturday, July 18, 2026

ফজরের নামাজ আদায়ে বাধা ইসরাইলি বাহিনীর

অধিকৃত পশ্চিম তীরের বেথলেহেমের পশ্চিমে অবস্থিত হুসান গ্রামে ফজরের আজান দিতে বাধা দিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। এ সময় সেনারা স্থানীয় একটি মসজিদে অতর্কিত অভিযান চালিয়ে আজান এবং নামাজ আদায়ে বাধা প্রদান করে। তারা মসজিদে উপস্থিত মুসল্লিদের জোরপূর্বক বের করে দেয় এবং তাদের লক্ষ্য করে সাউন্ড গ্রেনেড ও বিষাক্ত টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। এ খবর দিয়েছে ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা।

এর পাশাপাশি ইসরাইলি বাহিনী বেথলেহেমের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত আল-আরকুব গ্রামের প্রবেশপথ ও সবকটি গেট বন্ধ করে দিয়েছে। একই সময়ে নাহালিন শহর থেকে আসা এক বাসিন্দাকে মারধর করে সেনারা। ওই ব্যক্তি যখন শহরটিকে বাকি গভর্নর অফিস থেকে পৃথককারী প্রধান গেটটি পার হচ্ছিলেন, তখন তার ওপর এই হামলা চালানো হয়।

ফজরের নামাজ আদায়ে বাধা ইসরাইলি বাহিনীর

টানা সংঘাতের সপ্তম দিন : মার্কিন হামলার জবাবে ইরানের ব্যাপক পাল্টা আঘাত

ইরানে টানা সপ্তম রাতের মতো তীব্র বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি শেষ বলে ঘোষণা করার পর থেকে দেশটির সামরিক বাহিনী এই হামলা চালানো অব্যাহত রেখেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের বাহিনী ইরানের নজরদারি কেন্দ্র, সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রাগার এবং সামুদ্রিক সক্ষমতার ওপর গভীর আঘাত হেনেছে। মার্কিন বাহিনী এই অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং যুদ্ধজাহাজের পাশাপাশি অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, মধ্যাঞ্চলীয় শহর ইয়াজদ, কেশম দ্বীপ এবং প্রণালির পাশে অবস্থিত বন্দর আব্বাসে তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও মিত্র দেশগুলোর ওপর ইরান ব্যাপকভাবে পাল্টা হামলা জোরদার করেছে। কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি মন্ত্রণালয় জানায়, একটি শত্রুভাবাপন্ন হামলায় তাদের বিদ্যুৎ ও পানি শোধন প্ল্যান্টকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যার ফলে প্লান্টের একটি অংশে আগুন ধরে যায় এবং কিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। কুয়েত ফায়ার ফোর্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরানি হামলায় সৃষ্ট আগুন নেভাতে গিয়ে বেশ কয়েকজন দমকলকর্মী ও শ্রমিক আহত হয়েছেন। উপরন্তু, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে কুয়েত তাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করতে বাধ্য হয়।

পাল্টা হামলার অংশ হিসেবে ইরানের ইসলাম রেভ্যুলেশনারি গার্ড করপসী (আইআরজিসি) কুয়েতের আল-আহমাদি বন্দরে অবস্থিত একটি মার্কিন নৌ-জ্বালানি সহায়তা জেটি এবং কুয়েতের ভেতরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের একটি সিগন্যাল ও যোগাযোগ কেন্দ্রে আঘাত হেনেছে। কুয়েতের পাশাপাশি বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের সমাবেশস্থল শেখ ঈসা বিমান ঘাঁটি এবং মার্কিন গোয়েন্দা ডাটা সেন্টারেও ইরান সফলভাবে আঘাত হানার দাবি করেছে। কাতারও এই সংঘাতের কবলে পড়েছে। সেখানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় ওপর থেকে পড়া ধ্বংসাবশেষের আঘাতে এক শিশু আহত হয়েছে। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা রাতে তাদের আকাশসীমায় নিক্ষেপ করা ১০টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে, তবে সিবিএস নিউজকে সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে গত সপ্তাহে জর্ডানের দুটি ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন।

ওমান সাগরের পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে একটি থাই পতাকাবাহী জাহাজ আইআরজিসি-র সতর্কতা উপেক্ষা করে পার হওয়ার চেষ্টা করলে সেটির ওপরও ইরান হামলা চালায় বলে জানা গেছে। হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে মাইন পাতা পথ দিয়ে যাওয়ার সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ও আগুন লাগার বিষয়ে ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির একটি প্রতিবেদন যুক্তরাষ্ট্র অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এর আগে তেহরানের করা বেসামরিক অবকাঠামো যেমন সেতু, ট্রেন স্টেশন এবং বিমানবন্দরে হামলার দাবি অস্বীকার করলেও বিবিসি ভেরিফাই ও বিবিসি পার্সিয়ান রাতে একটি সেতুতে অগ্নিকাণ্ডের ভিডিও এবং পরবর্তীতে দিনের আলোয় ভেঙে পড়া ধ্বংসাবশেষের ছবি যাচাই করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হরমুজগান প্রদেশের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন।

হোয়াইট হাউজের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র একচেটিয়াভাবে সামরিক লক্ষ্যবস্তু এবং সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামোতেই এই হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, বেসামরিক অবকাঠামোতে মার্কিন হামলা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি পরিচালনাকারী অঞ্চলের দেশগুলোকে এর জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক মূল্য দিতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধাবসান ঘটানোর লক্ষ্যে গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল।

তবে আলোচনা কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় গত সপ্তাহে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির সমাপ্তি ঘোষণা করেন। তারপর থেকে ইরানি স্থাপনায় হামলার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে পুনরায় নৌঅবরোধ আরোপ করেছে। ইরানও এই প্রণালি নৌচলাচলের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে, যার ফলে বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে যাতায়াত প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রধান ফাতিহ বিরল বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

মার্কিন হামলার জবাবে ইরানের ব্যাপক পাল্টা আঘাত

নেতানিয়াহু ‘যুদ্ধাপরাধী’, তার স্থান আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে: মামদানি

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ বল মন্তব্য করেছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। একইসঙ্গে তাকে নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) মুখোমুখি হওয়া উচিত বলে মনে করেন মামদানি।

মামদানি বলেন, নেতানিয়াহু একজন ‘যুদ্ধাপরাধী’, যার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত অভিযোগ গঠন করেছে এবং তার স্থান সেখানেই। খবর আল জাজিরার।

এদকে, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী সেপ্টেম্বরে নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরের সম্ভাবনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিউইয়র্কের মেয়র বলেন, নেতানিয়াহুর মতো কোনো বিদেশি নেতাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়ার আইনি ক্ষমতা তার রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।

তিনি জানান, এ বিষয়ে শহরের আইন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

নিউইয়র্ক পুলিশের (এনওয়াইপিডি) ওপর মেয়রের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক বিধিনিষেধের কারণে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি জটিল বলে মনে করা হয়। 

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিম তীরে হাজারের বেশি নতুন বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা ইসরাইলের

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ১ হাজার ২৬৪ একর জমিতে ১ হাজার ২৪টি নতুন বসতি ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে ইসরাইল। শুক্রবার এ অভিযোগ করেছে ফিলিস্তিনের কলোনাইজেশন অ্যান্ড ওয়াল রেজিস্ট্যান্স কমিশন।

কমিশনের দাবি, অধিকৃত অঞ্চল ইসরাইলের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্তের প্রচেষ্টা আরো সুসংহত করা এবং ইহুদি বসতি সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই এসব প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কমিশন জানায়, ইসরাইলের সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অধীনস্থ হায়ার প্ল্যানিং কাউন্সিল চলতি জুলাই মাসের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৯টি বসতি নির্মাণ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছে। এসব পরিকল্পনা বর্তমানে অনুমোদন ও জমা পর্যায়ে রয়েছে।

এসব পরিকল্পনার আওতায় মোট ১ হাজার ২৪টি নতুন বসতি ইউনিট নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে ৪৫৫টি ইউনিট অনুমোদন পেয়েছে এবং বাকি ৫৬৯টি ইউনিট পরবর্তী পরিকল্পনা প্রক্রিয়ার জন্য জমা দেওয়া হয়েছে।

কমিশনের ভাষ্য, পশ্চিম তীর, বিশেষ করে পূর্ব জেরুজালেমকে ঘিরে বসতি ব্লকগুলো আরো শক্তিশালী করতে চাইছে ইসরাইল।

তারা আরো জানায়, নতুন বসতি স্থাপনের পরিবর্তে বিদ্যমান বসতিগুলোর সম্প্রসারণেই এখন বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ইসরাইল। এ লক্ষ্যে নির্মাণ পরিকল্পনা, ভূমি ব্যবহার নীতিমালা ও জোনিং বিধিমালায় পরিবর্তন এনে বসতির ঘনত্ব বাড়ানো হচ্ছে।

পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো দক্ষিণ জেনিনের আররাবা শহরের জমিতে গড়ে ওঠা মেভো দোতান বসতি সম্প্রসারণ। এ প্রকল্পের আওতায় আরো ৪৫৫টি বসতি ইউনিট নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া দক্ষিণ পশ্চিম তীরের হেবরন গভর্নরেটের বেইত হাগাই ও আসায়েল বসতি সম্প্রসারণের জন্য আরো দুটি পরিকল্পনা জমা দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের আওতায় ৫৬৯টি নতুন বসতি ইউনিট নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে।

কমিশনের মতে, বসতি নির্মাণ পরিকল্পনা এখন এমন একটি সমন্বিত ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে, যার মাধ্যমে বসতি সম্প্রসারণ, সেগুলোকে ইসরাইলি অবকাঠামোর সঙ্গে সংযুক্ত করা এবং একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের নগর উন্নয়ন সীমিত করে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের ‘ডি-ফ্যাক্টো সংযুক্তিকরণ’ আরো সুসংহত করা হচ্ছে।

জাতিসংঘ বারবার নিশ্চিত করেছে যে, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলি বসতি স্থাপন আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধ এবং সতর্ক করেছে যে, এগুলো দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনাকে ক্ষুণ্ণ করে।

সূত্র: আনাদোলু

পশ্চিম তীরে হাজারের বেশি নতুন বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা ইসরাইলের
ছবি: সংগৃহীত

ইরানকে কাবু করতে ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র, কষ্ট বাড়াচ্ছে অতীত স্মৃতি

ইরানের সঙ্গে চলমান প্রায় পাঁচ মাসের যুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি বিশ্বাসে অটল রয়েছেন। তার ধারণা, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানকে যথেষ্ট শক্ত আঘাত করলে দেশটির নেতারা শেষ পর্যন্ত তার শর্তে আলোচনায় বসতে বাধ্য হবেন। তবে ট্রাম্পের এই রণকৌশল মার্কিন সামরিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এবং অতীতের যুদ্ধগুলোর অমীমাংসিত ইতিহাস সামনে নিয়ে এসেছে।

সম্প্রতি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান আলোচনায় না বসলে আমরা তাদের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংস করে দেব।’

ইরানিরা চুক্তি করতে আগ্রহী কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় তাদের আর কোনো বিকল্প নেই।’

অতীতের যুদ্ধের শিক্ষা ও পেন্টাগনের বিতর্ক

নব্বইয়ের দশকের পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধের পর নিখুঁত অস্ত্রের বহুমুখী হামলা দিয়ে শত্রুকে দ্রুত পরাস্ত করার যে রণকৌশল তৈরি হয়েছিল, ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধে তা ব্যর্থ প্রমাণিত হয়। ২০০৭ সাল নাগাদ মার্কিন সেনাবাহিনীর নতুন নীতিতে বলা হয়—ভুলভাবে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করলে শুধু শত্রুর সংখ্যাই বাড়ে। কখনো কখনো কোনো পদক্ষেপ না নেওয়াই সেরা প্রতিক্রিয়া। বর্তমানে আমেরিকার এই বিশাল সামরিক শক্তির সঠিক ব্যবহার নিয়ে হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের মধ্যে একই বিতর্ক চলছে।

হামলার তীব্রতা ও ইরানের প্রতিরোধ

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ৩৮ দিনের প্রাথমিক সামরিক অভিযানে তেহরানের একটি কম্পাউন্ডে ইসরাইলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি এবং শীর্ষ সামরিক কমান্ডাররা নিহত হন।

পেন্টাগনের দাবি, তারা প্রায় ১৩ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনে ইরানের বিমান ও নৌবাহিনী ধ্বংস করেছে।

গত ৮ এপ্রিল একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও চুক্তি স্বাক্ষরে ব্যর্থ হয়ে চলতি মাসে তা ভেঙে যায় এবং পুনরায় যুদ্ধ শুরু হয়। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছিলেন, নতুন দফার হামলা আরো মারাত্মক হবে।

কিন্তু দুই শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তার মতে, ইরান ইতোমধ্যে তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং ভূগর্ভস্থ সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করে ফেলেছে। চলতি মাসে মার্কিন যুদ্ধবিমান যেসব লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে, তার বেশিরভাগই গত ফেব্রুয়ারিতেও আক্রান্ত হয়েছিল।

বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলার হুমকি ও আইনি শঙ্কা

চলতি মাসে হামলা মূলত হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ইরানি সামরিক ঘাঁটিতে সীমাবদ্ধ ছিল। তবে উত্তর-পূর্ব ইরানে একটি রেলসেতুতেও মার্কিন বাহিনী আঘাত করেছে, যা দিয়ে প্রণালিতে অস্ত্র পরিবহন করা হতো বলে দাবি পেন্টাগনের।

প্রণালির কাছাকাছি সামরিক লক্ষ্যবস্তু কমে আসায় ট্রাম্প এখন ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎ গ্রিডের মতো বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিচ্ছেন। তবে এই ধরনের হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল কি না, তা নিয়ে পেন্টাগনের ভেতরেই বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

নেতৃত্বশূন্যতার সংকট ও বিশেষজ্ঞদের মত

অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ফোর্স লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস. ক্লিনটন হিনোট বলেন, ‘নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করার অভিযান কাজ করলেও তা সব সময় কাঙ্ক্ষিত ফল আনে না। শত্রুর মস্তিষ্ক অচল হলেও তার শরীর আগের মতোই লড়াই চালিয়ে যায়।’

তিনি জানান, শীর্ষ নেতারা নিহত হওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন এখন এমন এক ক্ষুব্ধ ও অনমনীয় ইরানি নেতৃত্বের মুখোমুখি, যারা কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়। ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন যে ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের মধ্যে কিছু অত্যন্ত ‘খারাপ লোক’ রয়েছে, যারা চুক্তি হতে দিচ্ছে না।

অন্যদিকে, নব্বইয়ের দশকের যুদ্ধকৌশলের প্রণেতা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডেভিড ডেপ্টুলা মনে করেন, ইরানের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর সুনির্দিষ্ট ও তীব্র বিমান হামলা তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা ভেঙে দিতে পারে।

তার মতে, সামরিক পদক্ষেপকে সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক লক্ষ্যের সাথে জুড়তে হবে এবং তা বজায় রাখতে হবে। মাঝেমধ্যে হামলা থামানো বা দ্রুত বিজয়ের ঘোষণা দিলে ইরান সামলে ওঠার সুযোগ পায়।

তবে জেনারেল হিনোট এই তত্ত্বের সাথে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, অতিরিক্ত বোমা ফেলেও ইরানের কাছ থেকে নতুন কোনো ছাড় পাওয়া যাবে না। ২০০১ সালে তালেবান এবং ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনের বাহিনীকে ধ্বংস করেও মার্কিন প্রেসিডেন্টরা সেই সামরিক সাফল্যকে দীর্ঘমেয়াদি বিজয়ে রূপান্তর করতে পারেননি। ইরানের ক্ষেত্রেও সেই একই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

ইরানকে কাবু করতে ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র, কষ্ট বাড়াচ্ছে অতীত স্মৃতি
এআই দ্বারা নির্মিত ছবি।

অং সান সুচি কি মারা গেছেন?

ইকোনমিস্টের নিবন্ধঃ মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত নেতা ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অং সান সুচি জীবিত আছেন কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তার ছেলে কিম অ্যারিস বিভিন্ন দেশের সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে মিয়ানমারের সামরিক জান্তার কাছে সুচির ‘প্রুফ অব লাইফ’ বা তিনি জীবিত আছেন এমন প্রমাণ দাবি করা হয়। বিখ্যাত ম্যাগাজিন ইকোনমিস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন কথা বলা হয়। এতে আরও বলা হয়- সুচির সর্বশেষ সরকারি উপস্থিতি ছিল ২০২২ সালের শেষ দিকে। তখন তার বিরুদ্ধে চলা বিচার কার্যক্রম শেষ হয়।

এরপর থেকে তার আইনজীবীদেরও তার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেয়া হয়নি। মাঝে মধ্যে কারাগারে তাকে দেখার দাবি উঠলেও সেসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সুচিকে কারাগারে পাঠানো হয়। চলতি বছরের এপ্রিলে সামরিক জান্তা দাবি করে, তাকে গৃহবন্দি অবস্থায় রাখা হয়েছে। তবে বিদেশি কূটনীতিকদের তাকে দেখতে দেয়া হয়নি। সামরিক জান্তা শুধু বলেছে, তিনি সুস্থ আছেন। কিন্তু এর বাইরে আর কোনো তথ্য দেয়নি।

প্রকাশিত একটি ছবিতে সুচিকে একজন পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে দেখা গেলেও ছবিটি সাম্প্রতিক কি না, তা নিশ্চিত নয়। তার ছেলে ছবিটির সত্যতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, যদি তার মা সত্যিই গৃহবন্দি থাকেন, তবে তা ইয়াঙ্গুনের বাড়িতে নয়। ন্যাপিডোর বাড়িটিও ভেঙে ফেলা হয়েছে। মিয়ানমারের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও অভ্যুত্থানের নেতা মিন অং হ্লাইং-এর সুচির বিষয়ে সঙ্গে সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং জাতিসংঘের বিশেষ দূত জুলি বিশপ কথা বলেন। কূটনীতিকদের মতে, সুচির নাম উঠতেই মিন অং হ্লাইং ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান। কিছু কূটনীতিক আশঙ্কা করছেন, এই প্রতিক্রিয়া হয়তো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে জান্তা সুচি জীবিত থাকার প্রমাণ দেখাতে পারছে না। তবে অন্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তার মৃত্যুর খবর এতদিন গোপন রাখা প্রায় অসম্ভব।

আসিয়ানের সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও সম্প্রতি সুচির শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, তাকে মুক্তি দেয়া বা অন্তত কূটনীতিকদের তার সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হলে আসিয়ান ও জাতিসংঘের সঙ্গে মিয়ানমারের সম্পর্ক কিছুটা সহজ হতে পারে। অন্যদিকে, সুচিকে মুক্তি দিলে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও বড় প্রভাব পড়তে পারে। তিনি দীর্ঘদিন অহিংস আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বর্তমানে মিয়ানমারের বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে লড়াই করছে। কিছু কূটনীতিক মনে করেন, সুচির মুক্তি এই ঐক্যে ভাঙন ধরাতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সামরিক সরকার সশস্ত্র প্রতিরোধের চেয়ে সুচির নেতৃত্বে সম্ভাব্য অহিংস গণআন্দোলনকেই বেশি ভয় পায়। কারণ, দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ বামার জনগোষ্ঠীর মধ্যে এখনও তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে।

নিবন্ধটি আরও উল্লেখ করেছে, সুচির দুর্দশার দিকে আন্তর্জাতিক মনোযোগ থাকলেও মিয়ানমারের কোটি কোটি সাধারণ মানুষের সংকট যেন আড়ালে না পড়ে। মানবাধিকার সংগঠন অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (এএপিপি)-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটিতে ১৪ হাজার ৫১৭ জনেরও বেশি রাজনৈতিক বন্দি আটক রয়েছেন। চলতি বছরই কারাগারে অন্তত ৬০ জন রাজনৈতিক বন্দির মৃত্যু নিশ্চিত করেছে সংগঠনটি। সুচির ছেলে কিম অ্যারিসও বলেছেন, তার মা কখনোই চাইতেন না যে অন্য রাজনৈতিক বন্দিদের দুর্ভোগ ভুলে যাওয়া হোক।

অং সান সুচি কি মারা গেছেন?

বুয়েট আমার কাছে এক না পাওয়া প্রিয়তমার মতো

প্রকাশ ২৩ নভেম্বর ২০২৫ঃ ‘প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি-প্রথম আলো কৃতী শিক্ষার্থী উৎসব’। এইচএসসি পরীক্ষায় যাঁরা জিপিএ–৫ পেয়েছেন, মূলত তাঁদের নিয়েই এ আয়োজন। ঢাকা অঞ্চলের উৎসবটি হয়েছে ফ্যান্টাসি কিংডমে, গত ১৯ নভেম্বর ২০২৫। সেখানে অতিথি হয়ে এসেছিলেন ডা. অন্তর সাহা। ঢাকা মেডিকেল, বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়—তিনটিতেই ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। তাঁর কথা অনুপ্রাণিত করেছে শিক্ষার্থীদের। পড়ুন তাঁর কথামালা।

স্বপ্নেও কখনো ভাবিনি ডাক্তার হব। ছোটবেলায় প্রথমে পদার্থবিজ্ঞানী, পরে প্রকৌশলী হতে চেয়েছি। আমার স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান ছিল বুয়েট (বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়)। বুয়েট আমার কাছে এক না পাওয়া প্রিয়তমার মতো! প্রতিদিন যখন সামনে দিয়ে যাই, মাঝেমধ্যেই হার্টবিট মিস হয়। জীবনে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্ন শুনতে হয়েছে, তা হলো, ‘আমি কেন ডাক্তার হলাম?’ উত্তর একটাই—মা-বাবা চেয়েছেন তাই। আমি মূলত প্রকৌশলের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। পরে একই সঙ্গে ঢাকা মেডিকেল, বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়ে যাই।

মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার পর মনে হতো এত বিদঘুটে পড়াশোনা কীভাবে মনে রাখব। এত পড়া আমাকে দিয়ে হবে না। পাসটা করে নিই, এরপরই একটা ব্যবস্থা নিতে হবে। ভেবেছিলাম, বিসিএস দিয়ে ক্যাডার চেঞ্জ করে ফেলব। পরে বিসিএস জটের কারণে এফসিপিএস পরীক্ষা দিই। পার্ট ওয়ান পাসও করে ফেলি। পরে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার হিসেবে সুপারিশ পাই। শেষমেশ যেটা বুঝলাম, ডাক্তারি থেকে আমার মুক্তি নেই! সৃষ্টিকর্তা আমাকে ডাক্তার হিসেবেই দেখতে চান। শুধু তা–ই নয়, মেডিকেলের জন্য আমি হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে পড়িয়েছি, যাঁদের মধ্যে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী এখন বিভিন্ন মেডিকেলে পড়াশোনা করছে এবং অনেকে ডাক্তার হয়ে গেছে।

তোমরা যারা জিপিএ–৫ পেয়েছ, জেনে রেখো, এটাই তোমাদের সাফল্যের শেষ নয়, বরং একটি নতুন শুরু। আমি পাঁচটি পয়েন্ট বলব, যেগুলো শুধু ভর্তি পরীক্ষার ফলই নয়, তোমাদের পুরো জীবন বদলে দিতে পারে।

প্রথমত, লক্ষ্য পরিষ্কার করো। যদি তোমার লক্ষ্য পরিষ্কার না হয়, তাহলে পথ কখনো পরিষ্কার হবে না। ঠিক করো তুমি কোন জীবন চাও। দ্বিতীয়ত, নিয়মিত পড়ো। অল্প পড়লেও প্রতিদিন পড়ো। ধারাবাহিকতা সেই শক্তি, যা প্রতিভাকেও হার মানায়। তৃতীয়ত, সঠিক রিসোর্স বেছে নাও। বই-প্রশ্নব্যাংক-গাইড—সবকিছু বিচক্ষণতার সঙ্গে নির্বাচন করো। ভুল রিসোর্স সঠিক মেধাকেও থামিয়ে দিতে পারে। চতুর্থত, মানসিক শক্তি ধরে রাখো। চাপ আসবে, ভয় আসবে। কিন্তু মনে রাখবে, জেতার আগে হার মানা যাবে না। তোমার বিশ্বাসই তোমার শক্তি। পঞ্চমত, সময়ের মূল্য বুঝো। তোমরা এখন জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময়ে আছ। এক ঘণ্টা নষ্ট মানে এক ধাপ পিছিয়ে পড়া।

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে তোমার স্বাস্থ্য। পরীক্ষা শুরু হয়ে গেলেই দেখবে আজ ঢাকা, কাল খুলনা, পরের দিন চট্টগ্রামে পরীক্ষা হচ্ছে। শরীর ও মনের জোর না থাকলে এত পরীক্ষা দিয়ে ভালো করা সত্যিই কঠিন। বর্তমানে ভাইরাল জ্বর ও ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেক বেড়েছে। সব সময় মাস্ক ব্যবহার করবে, মশা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবে, পুষ্টিকর খাবার খাবে, পর্যাপ্ত পানি পান করবে।

যেকোনো যুদ্ধ জেতার সবচেয়ে ভালো কৌশল হচ্ছে প্রতিপক্ষকে জানা। এ ক্ষেত্রে তোমার প্রতিপক্ষ কিন্তু তোমার বন্ধুরা নয়, প্রতিপক্ষ হচ্ছে সেই ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নগুলো। একটা ভালো প্রশ্ন ব্যাংক নিয়ে বিশ্লেষণ করতে হবে। তাহলে সবচেয়ে কম সময়ে যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়েরই সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিতে পারবে। পড়াশোনা তো সবাই করবে, কিন্তু তোমাকে একটু কৌশলী হতে হবে। ভর্তি পরীক্ষার সময় যখনই আমার খারাপ লাগত, একটা ডায়েরি হাতে নিতাম। ভর্তি পরীক্ষা শেষ হওয়ামাত্রই কী করব, কোথায় ঘুরতে যাব—এগুলো লিখতাম। মনকে এভাবে সান্ত্বনা দিতাম—আর মাত্র কয়েকটা দিন। এরপরই ‘আগুনের দিন শেষ হবে একদিন, ঝরনার সাথে গান হবে একদিন।’

ধরো, তুমি মেডিকেলে পড়বে, এ জন্য কি শুধু মেডিকেলের ফরম তুললেই হবে? মোটেই না। তুমি বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরম তুলবে, যেগুলোর সঙ্গে মেডিকেলের প্রশ্ন পদ্ধতির মিল আছে। এতে অনেকগুলো অপশন তৈরি হবে এবং মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার দিন দেখবে নিজেকে অনেকটাই নির্ভার লাগছে। আমি নিজে ১৬টা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরম তুলেছিলাম।

প্রস্তুতির ক্ষেত্রে তিনটি বিকল্প মাথায় রাখতে পারো:

১. মেডিকেল ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়;

২. ইঞ্জিনিয়ারিং ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়;

৩. বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ইউনিট।

এতে তোমার চান্স পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যাবে। এত কিছুর পরও যদি চান্স না-ই পাই, তাহলে কি হেরে যাব? আমার পরিচিত অসংখ্য মানুষ আছেন, যাঁরা পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স না পাওয়ার পরও দেশে-বিদেশে বিভিন্ন জায়গায় পড়াশোনা করেছেন, প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তোমাকে শুধু খুঁজে নিতে হবে, তোমার মেধা কোথায় লুকিয়ে আছে।

আমরা যারা মঞ্চে দাঁড়িয়ে আছি, তাদের জীবনপথ অনেকটা নির্ধারণ হয়ে গেছে। আমাদের এই জীবনে হয়তো চাইলেও অনেক বেশি কিছু করে ফেলার সুযোগ এখন আর নেই। কিন্তু তোমরা জানো না, তোমাদের সামনে কত সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে। হয়তো একদিন তোমাদের সঙ্গে দেখা করার জন্যই আমার কয়েক দিন আগে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে রাখতে হবে। তোমাকে শুধু পরিশ্রম করে সেই জায়গাটায় একবার পৌঁছাতে হবে, সেই বিশ্বাসটা মনে ধরে রাখো মনে।

এ কঠিন সময়ে বাবা-মায়ের সমর্থন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যদি তোমার কাছে তোমার মা-বাবার সমর্থন থাকে, তাহলে তুমি এই পৃথিবীতে সবচেয়ে ভাগ্যবান মানুষগুলোর একজন। অভিভাবক, যাঁরা আমার কথা শুনছেন, তাঁরা অবশ্যই সফলতা ও ব্যর্থতায় আপনার ছেলেমেয়ের পাশে থাকবেন। আপনার একটি ইতিবাচক কথাও আপনার ছেলেমেয়েকে বিশ্বসেরা বানাতে পারে।

ধরো, পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পেয়ে গেলে। এরপর যে বন্ধুটি সুযোগ পায়নি, তার পাশে থাকার দায়িত্ব কিন্তু তোমার। সে হয়তো সংকোচে তোমার কাছে আসবে না, তোমাকেই এগিয়ে যেতে হবে সেই বন্ধুর কাছে। তোমার একটি কথাও তার মনে যেন আঘাত না দেয়, এটা তোমাকে খেয়াল রাখতে হবে। দেখবে কদিন পরই কে কত ভালো প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পেল, এ নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যাবে। তুমি সব সময় নিজের প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করবে, তবে অহংকার নিয়ে নয়। নিজের প্রতিষ্ঠানকে সবার সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করবে, সেটা তুমি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে, যে বিষয়েই পড়ো না কেন।

তোমার আত্মবিশ্বাস, পরিশ্রমের মাধ্যমেই তুমি জয় করে ফেলতে পারো যেকোনো বাধা। তোমাদের সবার জন্য অন্তরের অন্তস্তল থেকে দোয়া ও শুভকামনা।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-11-23%2Fjmv1xmz4%2FDH188820251119HK8A1033-1.jpg?w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
ডা. অন্তর সাহা। ছবি: প্রথম আলো

যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় প্রতিদিন একজন শিশু নিহত

গাজায় শিশুদের হত্যা করাকে নিয়মিত ঘটনা হিসেবে চালিয়ে যাচ্ছে দখলদার ইসরাইল।

ইসরাইলের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম হারেৎজ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় প্রতিদিন গড়ে একজন শিশু নিহত হচ্ছে। পত্রিকাটির তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে এ পর্যন্ত ২৭৪ জন শিশু ইসরাইলের হামলায় নিহত হয়েছে। খবর আনাদোলু।

শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলায় ২১ হাজারের বেশি শিশু নিহত হয়েছে। হারেৎজের তথ্যমতে, নিহত শিশুদের অধিকাংশই বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছে। এছাড়া স্নাইপারের গুলি, ভবন ধসে পড়া এবং গোলার স্প্লিন্টারের আঘাতেও অনেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গাজার ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থার কারণে চিকিৎসার অভাবে অনেক শিশু মারা গেছে। এছাড়া ক্ষুধা ও রোগে আরও শিশু প্রাণ হারালেও তাদের এই মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিবেদনে উল্লেখিত পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

হারেৎজ গাজার মানবিক সংকট আরও তীব্র হওয়ার কথাও তুলে ধরে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিপুলসংখ্যক বাড়িঘর এখনো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়ে আছে এবং প্রায় ১৭ লাখ মানুষ বিদ্যুৎ, বিশুদ্ধ পানি ও পয়োনিষ্কাশন সুবিধাবিহীন তাঁবুতে বসবাস করছে।

এতে আরও বলা হয়, তাঁবু শিবিরগুলোতে ইঁদুর ও মশার উপদ্রব বেড়েছে, সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ছে এবং তীব্র গরম ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে হাজারো মানুষ চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরাইলি হামলায় ১ হাজার ১২৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৩ হাজার ৬৪৩ জন আহত হয়েছেন।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি আগ্রাসী হামলায় এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজার ২৫০ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৫১ জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।

যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় প্রতিদিন একজন শিশু নিহত
ছবি: সংগৃহীত।

ইসরাইলিদের মালয়েশিয়ায় ঠাঁই নেই, পেলেই বহিষ্কার -আনোয়ার ইব্রাহিমের হুঁশিয়ারি

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, দেশে কোনো ইসরাইলি নাগরিকের সন্ধান পাওয়া গেলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কার করা হবে। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষ দক্ষিণাঞ্চলীয় জোহর রাজ্যের একটি বেসরকারি আবাসিক কমিউনিটির কার্যক্রমে একজন ইসরাইলি সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্ত করছে। আনাদোলু এজেন্সি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

ইংরেজি দৈনিক ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে জানিয়েছে, আনোয়ার বলেন, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো অভিযোগের তদন্ত করছে এবং অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সরকার কোনো ধরনের ছাড় দেবে না।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি কোনো ইসরাইলিকে খুঁজে পাই, তাহলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে বহিষ্কার করব, কারণ আমরা ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিই না।

মালয়েশিয়া ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয় না। তাই বিশেষ অনুমতি ছাড়া সাধারণত ইসরাইলি পাসপোর্টধারীদের দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয় না।

জোহরভিত্তিক স্টার্টআপ কমিউনিটি নেটওয়ার্ক স্কুল-সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে জোহর রাজ্য সরকার ফেডারেল তদন্তের আহ্বান জানানোর পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তদন্ত শুরু করে।

ইসরাইলিদের মালয়েশিয়ায় ঠাঁই নেই, পেলেই বহিষ্কার
আনোয়ার ইব্রাহিম

পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান?

ইরানে পুনরায় শুরু হওয়া সামরিক অভিযানে শুক্রবার (১৭ জুলাই) আরও একধাপ এগিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এদিন ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে সেতু ও বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিমাণ বাড়িয়েছে।

এদিকে পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগস্থল হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ এই প্রণালিতে একটি তেলবাহী জাহাজে মার্কিন মেরিন সদস্যরা অভিযান চালিয়ে জাহাজে উঠেছে। একই সময়ে ওমান উপকূলের কাছে আরেকটি ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

গত সপ্তাহে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই সীমিত মাত্রায় হামলা চালিয়ে সংঘাতের পরিধি পরীক্ষা করছে। এতে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। তবে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্রতা ক্রমেই বাড়ছে।

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক বিমান হামলার হুমকি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ইরানের উপকূল বা দ্বীপাঞ্চলে স্থল অভিযান চালানোর সম্ভাবনাও নাকচ করেননি।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দক্ষিণ ইরানে চলমান হামলার একটি উদ্দেশ্য হলো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামনে বিভিন্ন সামরিক বিকল্প খোলা রাখা।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এমন পদক্ষেপ ইরানকে আরও বড় ধরনের পাল্টা হামলায় উৎসাহিত করতে পারে। এর মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা কিংবা ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের মাধ্যমে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার আশঙ্কাও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সর্বশেষ অভিযানে ইরানের “সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামো” লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার কথা জানিয়েছে। গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে এই প্রথম তারা ইরানের অবকাঠামোকে হামলার লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করল।

প্রাথমিকভাবে হামলাগুলো ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিল, যেখানে গত কয়েক দিন ধরেই ব্যাপক বিমান হামলা চলছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলে অন্তত পাঁচটি সেতুতে হামলা হয়েছে। দক্ষিণের বন্দরনগরী বান্দার খামিরে সেতুতে হামলায় সাতজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একই হামলায় শহরের রেলস্টেশনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়া পাকিস্তান সীমান্তসংলগ্ন ইরানশাহর শহরের একটি বিমানবন্দরেও হামলার খবর প্রকাশ করেছে ইরানি গণমাধ্যম। পাশাপাশি ইরানের বান্দার আব্বাস বন্দরে পৃথক হামলায় এক নারী নিহত এবং তার শিশু আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

কুয়েত, বাহরাইন ও ওমানে হামলা
ইরান দাবি করেছে, তারা কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ওমানে একটি মার্কিন রাডার স্টেশনে হামলা চালিয়েছে।
কাতারের রাজধানী দোহাতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিস্ফোরণে ছিটকে আসা ধাতব টুকরায় (শ্র্যাপনেল) এক শিশু আহত হয়েছে।
ইরান আরও দাবি করেছে, যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম তারা সিরিয়ার আল-তানফ এলাকায় হামলা চালিয়েছে, যেখানে তাদের ভাষ্য অনুযায়ী একটি মার্কিন বিশেষ বাহিনীর ঘাঁটি ছিল।
তবে সিরিয়া জানিয়েছে, চলতি বছরের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্র ওই ঘাঁটি খালি করে দিয়েছে। সিরিয়ার এক সামরিক সূত্র জানায়, হামলাটি ঘাঁটির কাছাকাছি আঘাত হানলেও কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন সংঘাত
গত ৭ জুলাই ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা বিমান হামলা শুরু করে। এর ফলে যুদ্ধবিরতির অন্তর্বর্তী চুক্তি কার্যত ভেঙে পড়ে।
এরপর থেকে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮৫ ডলারে পৌঁছেছে।
ইতিমধ্যে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নিজেদের অবরোধ পুনর্বহাল করেছে।
সর্বশেষ মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, অবরোধ কার্যকর করতে তারা ‘ওয়েন ইয়াও’ নামের একটি তেলবাহী জাহাজে অভিযান চালিয়ে নিয়ন্ত্রণ নেয়।

এ সময় প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, মার্কিন মেরিন সদস্যরা হেলিকপ্টার থেকে দড়ি বেয়ে জাহাজে নামছেন এবং একজন সেনা ইরানের পতাকার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন।
অন্যদিকে বৃটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, ওমান উপকূলের কাছে বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) একটি ট্যাংকার হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বড় সংঘাতের শঙ্কা
যদিও উভয় পক্ষ প্রতিদিন পাল্টাপাল্টি হামলা চালাচ্ছে, তবুও এখন পর্যন্ত তারা এমন মাত্রায় সংঘাত বাড়ায়নি। কারণ, উভয় পক্ষই বড় ধরনের প্রতিশোধমূলক হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় রাখছে।
ইরান আগেই সতর্ক করে দিয়েছে, ট্রাম্প যদি ইরানের অবকাঠামোতে ব্যাপক হামলার হুমকি বাস্তবায়ন করেন, তাহলে তারা মধ্যপ্রাচজুড়ে বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাবে।
দেশটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, অবকাঠামোতে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের সব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়া হবে।
তবে এরই মধ্যে ইরানের অবকাঠামোতে হামলা শুরু করেছে মার্কিন বাহিনী। এখন দেখার বিষয়, ইরান কি পদক্ষেপ নিচ্ছে।
এছাড়া তেহরান ইঙ্গিত দিয়েছে, তারা ইয়েমেনের মিত্র হুতি গোষ্ঠীকে বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করার নির্দেশ দিতে পারে।
লোহিত সাগরের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথও বন্ধ হয়ে গেলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ আরও বড় সংকটে পড়তে পারে। এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন,
ইরানে আমরা বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করছি। খুব শিগগিরই আপনারা সেই প্রচেষ্টার ফল দেখতে পাবেন। 

ইরানের দক্ষিণাঞ্চল বিচ্ছিন্নে প্রস্তুতি, স্থল অভিযানের ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্রের

শিশুর সুস্থতায় শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবারের গুরুত্ব by অধ্যাপক ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী

আঁশযুক্ত খাবার মূলত অশোষিত শর্করা শ্রেণির। এর বেশির ভাগ আসে উদ্ভিদ থেকে যেমন—দানাদার শস্য, ফলমূল, শাকসবজি। এসব খাবার পরিপাকতন্ত্রে অপাচ্য হিসেবে থাকে। মল হিসেবে নির্গত হওয়ার আগে প্রায় ১০০ শতাংশ ক্ষেত্রে বৃহদন্ত্রে পৌঁছায়। যদিও আঁশজাত খাবার দেহে তেমন পরিমাণে ক্যালরি বিতরণ করে না, তবু যে কারও বিশেষ করে শিশুর সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে এর ভূমিকা বহুমুখী ও গুরুত্বপূর্ণ।

কেন আঁশযুক্ত খাবার দরকার

* বৃহদন্ত্রে থাকা ব্যাকটেরিয়া এসব আঁশযুক্ত খাবারের সঙ্গে বিক্রিয়া করে তৈরি করে প্রোবায়োটিকস, যা অন্ত্রে থাকা উপকারী জীবাণুগুলোকে পুষ্টি জোগায়।

* পরিপাকতন্ত্রে থাকা বিষাক্ত পদার্থ বা টক্সিন এবং ক্যানসার তৈরির উপাদান বিনষ্ট করে দেয়।

* মলের আয়তন ধরে রাখে। ফলে শিশুর কোষ্ঠবদ্ধতার নিরসন হয়।

* আঁশ পাকস্থলী থেকে খাবার অন্ত্রে যাওয়ার সময় বৃদ্ধি করে মানে পরিপাকতন্ত্রের চলনকে ধীর করে এবং এভাবে শিশুর খিদে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।

* ফলমূল-শাকসবজি খাওয়া হলে শর্করাজাতীয় পানীয় পানের ফলে দেহে হঠাৎ করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি কম থাকে।

* শিশুর দৈনন্দিন খাবারে আঁশযুক্ত ফলমূল, শাকসবজি বা দানাদার খাবার শিশু বয়সে ডায়াবেটিস, মুটিয়ে যাওয়া, রক্তে উচ্চ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ, কোলন ক্যানসার ও আইবিডির মতো অন্ত্রের রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে উপকারী।

শিশু কতটুকু আঁশ খাবে

শিশুর খাদ্যতালিকায় প্রতিদিন ন্যূনতম আঁশযুক্ত খাবারের পরিমাণ নির্ণয়ে নিম্নোক্ত ফর্মুলা ব্যবহার হয়। শিশুর বয়স (বছর) + ৫ = আঁশযুক্ত খাবারের পরিমাণ (গ্রাম হিসাবে)। যেমন—১ বছর বয়সের একটি শিশুর জন্য আঁশযুক্ত খাবারের পরিমাণ হবে: ১+৫ = ৬ গ্রাম/প্রতিদিন।

* অধ্যাপক ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী, সাবেক বিভাগীয় প্রধান, শিশুস্বাস্থ্য বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-11-23%2Fxd4mvvuk%2FIMGL64371.avif?rect=0%2C0%2C1012%2C675&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
শিশুর খাদ্যতালিকায় প্রতিদিন আঁশযুক্ত খাবার থাকা দরকার। ছবি: পেক্সেলস

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, বললেন, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ by সাইদুল ইসলাম

‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’—এই চার শব্দ দিয়েই যুক্তরাজ্যের নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করলেন ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নবনির্বাচিত নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। আজ শুক্রবার লেবার পার্টির নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম ভাষণে বার্নহ্যাম বলেন, তাঁর কাছে শুধু নেতৃত্বের দায়িত্ব নয়, বরং যুক্তরাজ্যকে নতুন পথে এগিয়ে নেওয়ার একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশেষ দলীয় সম্মেলনে শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে লেবার পার্টির নেতা নির্বাচিত হন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ উন্মুক্ত হয়েছে তাঁর।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী সোমবার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। এরপর রাজা বার্নহ্যামকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন। তিনি সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন এবং ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে যাত্রা শুরু করবেন।

আজ লেবার পার্টির নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেন, গত ২৫ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাঁকে শিখিয়েছে দেশের মানুষ কী চায় এবং যুক্তরাজ্যকে কোন পথে এগিয়ে নিতে হবে। তিনি বলেন, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’। এরপর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, তাঁর পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে, মানুষের রাজনীতির ওপর হারিয়ে যাওয়া আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং এমন একটি সরকার গঠন করা, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে।

অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেন, তাঁর নেতৃত্বে লেবার পার্টি আবার শ্রমজীবী মানুষের দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবে। জনসেবা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো হবে তাঁর সরকারের মূল অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হলেও তিনি নিজেকে বদলে ফেলবেন না। সাধারণ মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই নীতি নির্ধারণ করবেন এবং জনগণের কাছাকাছি থেকেই নেতৃত্ব দেবেন।

গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র হিসেবে বার্নহ্যাম দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের পক্ষে অবস্থান জানিয়ে আসছেন। নেতা নির্বাচিত হওয়ার পরও তিনি সেই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত অতিরিক্তভাবে লন্ডনকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সরকারগুলোর হাতে আরও ক্ষমতা, অর্থ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ দিতে হবে, যাতে যুক্তরাজ্যের প্রতিটি অঞ্চল সমানভাবে উন্নয়নের সুফল পায়।

ভাষণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস) আরও শক্তিশালী করা, সামাজিক সেবা সংস্কার এবং অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রতিশ্রুতি দেন বামপন্থার প্রতি অনুরক্ত অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তিনি বলেন, গত কয়েক দশকের কিছু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে অনেক মানুষ নিজেদের পিছিয়ে পড়া মনে করছেন। তাঁর সরকার সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে কাজ করবে।


যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর বক্তব্য দিচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। লন্ডন, যুক্তরাজ্য, ১৭ জুলাই ২০২৬
যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর বক্তব্য দিচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। লন্ডন, যুক্তরাজ্য, ১৭ জুলাই ২০২৬ ছবি: রয়টার্স

সিরিয়া, ওমান ও কুয়েতে মার্কিন স্থাপনায় হামলা; রাডার ও হেলিকপ্টার ধ্বংসের দাবি ইরানের

বেসামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে নতুন করে পাল্টাহামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। বাহিনীটির দাবি, তারা সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অভিযান পরিচালনাকারী একটি কমান্ড সেন্টার, ওমানে মার্কিন রাডার স্থাপনা এবং কুয়েতে অস্ত্রের গুদাম ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থাকে নিশানা করে এ হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে কাতার, জর্ডান ও ইরাকে হামলার খবর জানিয়েছে আল–জাজিরা।

আজ শুক্রবার আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের এরোস্পেস ফোর্সের (মহাকাশ বাহিনী) পরিচালিত এই অভিযানে একটি রাডার ব্যবস্থা ও বিশেষ অভিযানে ব্যবহৃত কয়েকটি মার্কিন হেলিকপ্টার ধ্বংস করা হয়েছে। অনেক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত বুধবার (১৫ জুলাই) ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ইরানশাহরের কাছে বামপুরে সেনাবাহিনীর ৩৮৮তম ব্রিগেডের ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় নিহত সাত ইরানি সেনার মৃত্যুর প্রতিশোধ হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়েছে।

আইআরজিসি আরও বলেছে, ‘আমাদের সাহসী যোদ্ধারা এখনো হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন। যুক্তরাষ্ট্র যতক্ষণ তার উসকানিমূলক তৎপরতা চালিয়ে যাবে, ততক্ষণ মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে এক ফোঁটা তেল বা গ্যাস রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না।’

বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়, গত কয়েক দিনে তারা ইরানে একাধিক প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে এবং যুদ্ধ শেষ করার চুক্তি লঙ্ঘন করে আবারও ইরানের বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করেছে।

জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এই অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নিশানায় ব্যাপক পাল্টাহামলা চালিয়েছে বলে দাবি করে আইআরজিসি। একই সঙ্গে ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ এবং অন্তত এই ‘অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত’ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে বলেও ঘোষণা দিয়েছে তারা।

গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশে কয়েকটি সেতুসহ বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। হামলার সময় সেতুগুলো দিয়ে যানবাহন চলাচল করছিল। এতে সেতু থেকে যানবাহন নিচে পড়ে যায়।

কুয়েতে মার্কিন অস্ত্রভান্ডার, হিমার্স ও রাডারে হামলার দাবি

আজ পৃথক এক বিবৃতিতে আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ জানায়, ইরানের বাহিনী পাল্টাহামলার নতুন ধাপ শুরু করেছে। অভিযানের প্রথম ধাপে কুয়েতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা নজরদারি রাডার, একাধিক অস্ত্রভান্ডার, দুটি হিমার্স (হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেম) উৎক্ষেপণব্যবস্থা এবং বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এতে কুয়েতে মার্কিন বাহিনীর একটি ঘাঁটিতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র আবারও ভুলভাবে ধরে নিয়েছিল, ইরান দুর্বল হয়ে পড়েছে। সেই ধারণা থেকে তারা আলোচনার মধ্যেই আবার যুদ্ধ শুরু করেছে। অতীতের মতো এবারও তারা নিজেদের অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে। এখন তারা হতাশ, নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতপ্ত এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে সফল হওয়ার আশা হারিয়ে আবারও যুদ্ধাপরাধের পথ বেছে নিয়েছে, যাতে সংঘাতের গতিপথ বদলে দেওয়া যায়।

আইআরজিসির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র টেলিযোগাযোগ, রেলপথের অবকাঠামোসহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা এবং চলন্ত যানবাহনে হামলা চালিয়েছে। এতে কয়েকজন বেসামরিক ব্যক্তি হতাহত হয়েছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের এসব পদক্ষেপের ফলে তেল ও গ্যাস উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাস রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের পাল্টা–অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও সতর্ক করা হয়।

ওমানে মার্কিন নৌ ও আকাশ নজরদারি রাডার ধ্বংসের দাবি

পরে প্রকাশিত আরেকটি বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তাদের বাহিনী ওমানের সালমাহ মালভূমিতে থাকা একটি মার্কিন নৌ নজরদারি রাডার এবং ঘানাম এলাকায় মোতায়েন একটি মার্কিন আকাশ নজরদারি রাডারে হামলা চালিয়ে সেগুলো ধ্বংস করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন শুরু করে। তবে ৪০ দিন পর গত ৮ এপ্রিল ইরানের প্রতিরোধ, সফল পাল্টাহামলা এবং হরমুজ প্রণালির ওপর শক্ত নিয়ন্ত্রণের মুখে তারা যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে বাধ্য হয়।

এতে আরও বলা হয়, ১৭ জুন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটন একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে। এতে সব ফ্রন্টে স্থায়ীভাবে সংঘাত বন্ধ করা এবং পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে আরও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ওই সমঝোতার একাধিক শর্ত লঙ্ঘন করেছে বলে দাবি করা হয়। এর ফলে ইরান কঠোর জবাব দিয়েছে বলে আইআরজিসি বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

কাতার, জর্ডান ও ইরাকে হামলার খবর

আল–জাজিরার হালনাগাদ খবরে বলা হয়েছে, কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী আকাশপথে একাধিক হামলা প্রতিহত করছে। এর আগে ইরানের হামলার পর পড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষের আঘাতে এক শিশু আহত হয়েছে।

জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা তিনটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। সেনাবাহিনীর ভাষ্যমতে, এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। পরে রয়্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সদস্যরা পড়ে থাকা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে নেন।

উত্তর ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের সুলাইমানিয়াহ শহরে চারটি বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে কুর্দি সংবাদমাধ্যম রুদাও।

একই সময় ইরাকের উত্তরাঞ্চলের এরবিল শহরের আকাশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোটের বাহিনী আটটি বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন ভূপাতিত করেছে বলে জানিয়েছে কুর্দি সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনী। ইরাকের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইএনএর খবরে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর একটি অজ্ঞাত স্থান থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) দাবি, গতকাল বৃহস্পতিবারের (১৬ জুলাই) এই হামলায় উপকূলীয় নজরদারি ও আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা, সামরিক রসদ অবকাঠামো এবং সামুদ্রিক সক্ষমতাসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়েছে
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর একটি অজ্ঞাত স্থান থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) দাবি, গতকাল বৃহস্পতিবারের (১৬ জুলাই) এই হামলায় উপকূলীয় নজরদারি ও আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা, সামরিক রসদ অবকাঠামো এবং সামুদ্রিক সক্ষমতাসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়েছে। ছবি: রয়টার্স