Tuesday, October 28, 2025
তিন মাসে ২২৩ বার ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ ভারতে পাচার হওয়া বাংলাদেশি কিশোরীর by অমিতাভ ভট্টশালী
"কিশোরীটি যখন আমাকে বলছিল যে গত তিন মাসে ২২৩ জন পুরুষ তাকে ধর্ষণ করেছে, ওর চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম।"
কথাগুলো বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন মহারাষ্ট্রের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'হারমোনি ফাউন্ডেশন'-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্রাহাম মাথাই।
তিনি জানান, বাংলাদেশের খুলনার বাসিন্দা ১২ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে পাচার করে দেওয়া হয়েছিল ভারতে। পাচারকারীরা কিশোরী জানিয়েছে, তাকে জোর করে, অত্যাচার চালিয়ে যৌন সংসর্গ করতে বাধ্য করা হতো। গুজরাত ও মহারাষ্ট্রের মীরা-ভায়ান্দার এলাকায় তার ওপরে চলেছিল এই অমানুষিক অত্যাচার।
আরেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'এক্সোডাস রোড ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন' এবং পুলিশের মানবপাচার রোধ ইউনিট এক অভিযান চালিয়ে ২৩শে জুলাই ওই কিশোরীটিকে উদ্ধার করে মহারাষ্ট্রের পালঘর জেলার নাইগাঁও থেকে।
কৃত্রিমভাবে শারীরিক গঠন বৃদ্ধির জন্য ওই কিশোরীটিকে হরমোন ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল।
মীরা-ভায়ান্দার-ভাসাই-ভিরার পুলিশের কমিশনার নিকেত কৌশিক সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন যে, এখন পর্যন্ত নয়জনকে তারা গ্রেফতার করতে পেরেছে। এদের মধ্যে চারজন পুরুষ ও দুইজন নারী বাংলাদেশের নাগরিক। পুরো পাচার চক্রটিকে ধরার চেষ্টা করছে পুলিশ।
গত সপ্তাহে তেলেঙ্গানার হায়দ্রাবাদ শহরে আরেক বাংলাদেশি কিশোরী স্থানীয় থানায় এসে সাহায্য চায়। ঢাকার বাসিন্দা ১৫ বছরের ওই কিশোরীকে তারই এক প্রতিবেশী ভারতে নিয়ে এসে দেহ ব্যবসায় নামিয়েছিল বলে অভিযোগ করে।
ওই কিশোরীর কাছ থেকে খবর পেয়ে হায়দ্রাবাদ পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে একটি আন্তর্জাতিক যৌন ব্যবসার চক্র খুঁজে পেয়েছে।
বাড়ি থেকে পালিয়ে পাচারকারীর খপ্পরে
মহারাষ্ট্রের পালঘর থেকে যে বাংলাদেশি কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়েছে, তার বাড়ি খুলনার আমিরপুরে। তার পরিবারের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করে উঠতে পারেনি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মকর্তারা।
'হারমোনি ফাউন্ডেশন'-এর সভাপতি আব্রাহাম মাথাই বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, "ওই কিশোরীর সঙ্গে কথা বলে আমি জানতে পারি যে সে স্কুলের পরীক্ষায় একটি বিষয়ে ফেল করেছিল। বাড়িতে বাবা-মা বকবেন, সেই ভয়ে সে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।"
"এক পরিচিত নারী কিশোরীটিকে কাজের লোভ দেখিয়ে সীমান্ত পার করিয়ে কলকাতায় নিয়ে আসে। সেখানেই তার জাল ভারতীয় পরিচয়পত্র বানানো হয় এবং তারপরে বিমানে চাপিয়ে তাকে মুম্বাই নিয়ে আসা হয়।"
এক বাংলাদেশি কিশোরীকে পাচার করে আনা হয়েছে, এই খবর পেয়ে মীরা-ভায়ান্দার-ভাসাই-ভিরার পুলিশের মানব-পাচাররোধ ইউনিট যখন তল্লাশিতে যায়, তাদের সঙ্গেই ছিলেন 'এক্সোডাস রোড ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন'-এর শ্যাম কুম্বলে।
তিনি বলছিলেন, "মুম্বাই থেকে তাকে গুজরাতের নাদিয়াদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে এক ব্যক্তি ওই কিশোরীকে কৃত্রিমভাবে শারীরিক গঠন বৃদ্ধির ইনজেকশন দেয়, তাকে ধর্ষণ করে ভিডিও করে রাখা হয়। ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে যৌন সংসর্গ করতে বাধ্য করা হয়।"
"যে পাচারকারীরা ধরা পড়েছে, আর ওই কিশোরী – সবার সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি যে গত তিন মাসে ২২৩ জন পুরুষ তাকে ধর্ষণ করেছে। ওই কিশোরীটিকে গুজরাতের চারটি হোটেল এবং পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন খামারবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এরপরে তাকে মহারাষ্ট্রে নিয়ে আসা হয়," বলছিলেন মি. কুম্বলে।
উদ্ধার করার পরে ওই কিশোরী এখন একটি হোমে রয়েছে।
বাংলাদেশের কিশোরী সাহায্য চেয়ে হায়দ্রাবাদের থানায়
দক্ষিণ ভারতের হায়দ্রাবাদ শহরের পুলিশ গত শুক্রবার একটি ঘটনার কথা জানিয়েছে, যেখানে ১৫ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি কিশোরী নিজেই সাহায্য চেয়ে থানায় এসে হাজির হয়েছিল।
সেদিন সকাল সোয়া আটটা নাগাদ বান্ডলাগুড়া থানায় হাজির হয় ওই কিশোরী। সে পুলিশকে জানায় যে তার বাড়ি ঢাকায় এবং তার এক প্রতিবেশী কলকাতায় বেড়াতে নিয়ে যাবে বলে তাকে পাচার করে দেয় এবছর ফেব্রুয়ারি মাসে।
চন্দ্রায়নগুট্টার সহকারী পুলিশ কমিশনার এ সুধাকর সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে কলকাতায় বেড়াতে নিয়ে আসার নাম করে ওই কিশোরীকে হায়দ্রাবাদে নিয়ে এসে জোর করে যৌনকর্মে নামানো হয়।
তার দেওয়া তথ্যের ওপরে ভিত্তি করে বান্ডলাগুড়া ও মেহদিপটনমের দুটি পৃথক বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ।
ওই চক্রের সদস্য দুই নারীকে গ্রেফতার করার সঙ্গে সঙ্গেই পশ্চিমবঙ্গের তিনজন নারীকেও উদ্ধার করা হয়, যাদের জোর করে যৌনকর্মে নামানো হয়েছিল।
এছাড়া একজন অটোরিকশা চালককেও গ্রেফতার করা হয়েছে, যে ওই বাংলাদেশি কিশোরী এবং অন্য নারীদের 'খদ্দের'দের কাছে নিয়ে যেত।
প্রতিটা 'খদ্দের'কে গ্রেফতারের দাবি
হারমোনি ফাউন্ডেশনের আব্রাহাম মাথাই বলছিলেন, "ওইটুকু বাচ্চা মেয়ে, ষষ্ঠ কি সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত। পরীক্ষায় ফেল করে বকা খাওয়ার ভয়ে সে বাড়ি থেকে পালিয়েছিল। অথচ তারই এক পরিচিত নারী এইভাবে তার কৈশোরটা ছিনিয়ে নিল!"
"আমি পুলিশের কাছে দাবি জানিয়েছি প্রতিটা পুরুষ খদ্দের, যাদের এই কিশোরীর কাছে পাঠিয়েছিল চক্রের মাথারা, সেই সব খদ্দেরকেও গ্রেফতার করতে হবে।"
"প্রতিটা খদ্দের যদি ধরা পড়ে কঠোর শাস্তি পায়, তবেই একটা কড়া বার্তা যাবে যে কিশোরীদের ধর্ষণ করলে কী শাস্তি পেতে হয়। তবে যদি কিছুটা রাশ টানা যায়," বলছিলেন আব্রাহাম মাথাই।
শ্যাম কুম্বলের কথায়, বাংলাদেশ থেকে বহু কিশোরী এবং নারীকে পাচার করে মহারাষ্ট্রে নিয়ে আসা হচ্ছে। গত পাঁচ বছরে শুধু তার সংগঠনই ৫০ জনেরও বেশি বাংলাদেশি নারী ও কিশোরীকে উদ্ধার করেছে।
"শুধু আমাদের একটা সংগঠনই যদি মহারাষ্ট্রে এত জন পাচার হওয়া নারী ও কিশোরীকে উদ্ধার করে থাকতে পারি, তাহলে ভাবুন, অন্য অনেক সংস্থাও কাজ করে, তারাও উদ্ধার কাজ চালায়, সংখ্যাটা পুরো দেশে কত হতে পারে!"
"পুণের যৌনপল্লী বলে পরিচিত বুধওয়ারপেটে অন্তত হাজার দশেক বাঙালি নারী যৌনকর্মে জড়িত। এদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের নারীরা যেমন আছেন, তেমনই বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে আসা নারীরাও আছেন," বলছিলেন মি. কুম্বলে।
![]() |
| ছবির ক্যাপশান, বাড়ি থেকে পালিয়ে পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে খুলনার ১২ বছরের কিশোরী - প্রতীকী চিত্র |
Saturday, October 19, 2019
৮৮ পাউন্ডের লুলুলেমন, নির্মাতারা নির্যাতিত by সারা মার্শ ও রেদোয়ান আহমেদ

কিন্তু তাদের এই পোশাক কোত্থেকে আসছে, তার অনুসন্ধানে দেখা গেছে , এই পোশাক তৈরি করেছেন যারা, তারা বাংলাদেশী কারখানায় কর্মরত নারী । যারা প্রায় নিয়মিতভাবে কারখানাগুলাতে প্রহৃত এবং শারীরিকভাবে নির্যাতিত হন ।
জাতিসংঘ ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সম্প্রতি কানাডিয় কোম্পানি লুলুলেমনের একটি অংশীদারিত্ব চুক্তি সই হয়েছে।
যার লক্ষ্য হচ্ছে নারী সাহায্য কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন করা । তাদের উপর মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করা।
কিন্তু বাংলাদেশের কারখানায় কর্মরত মেয়ে কর্মীরা মজুরি বঞ্চনার এক দুঃখজনক উপাখ্যান তুলে ধরেছেন । তারা কম বেতন পান। শারীরিক সহিংসতার শিকার হন। আর তাদের যারা ম্যানেজার, তারা সবসময়ই তাদেরকে অবজ্ঞার চোখে দেখেন। এমনকি হরহামেশা তাদেরকে বেশ্যা বলতেও তাদের বাধে না।
শ্রমিকরা যেসব অভিযোগ করেন:
কারখানা শ্রমিকরা যদি কখনো কোনো নিয়ম ভাঙ্গেন, অথবা প্রত্যাশিত সময়ের কাজ করার চেয়ে যদি আগে কর্মস্থল ত্যাগ করেন, তাহলে ম্যানেজাররা তাদেরকে বকাঝকা করেন। এমনকি চড়-থাপ্পড় দিতেও ছাড়েন না । অনেক শ্রমিক বলেছেন, ভগ্নস্বাস্থ্য নিয়েও তাদেরকে অনেক সময় কাজ করতে বাধ্য করা হয়।
অনেক শ্রমিককে মাসে মাত্র ৮৫ পাউন্ড বা ৯১০০ টাকা পরিশোধ করা হয় । এটা হল একজোড়া লেগিন্সের চেয়ে কম। কারণ একজোড়া লেগিন্স কিনতে খরচ পড়ে ১৩৮ দশমিক ৫০ পাউন্ড। ইউনিয়নগুলো নূণ্যতম মজুরি হিসেবে দাবি করে ১৬ হাজার টাকা। সেই দাবি করা টাকা থেকেও এটা যথেষ্ট কম। আর তাদের ন্যায্য মজুরি হিসেবে যা অনুমান করা হয়, সেই হার থেকে ঢের কম।
তাদেরকে ওভারটাইম করতে বাধ্য করা হয়, যাতে তারা টার্গেট পূরণ করতে পারে । এমনকি অনেক সময় উৎপাদনের টার্গেট পূরণ করা না পর্যন্ত তারা কেউ অসুস্থ হলেও কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকতে পারে না।
লুলুলেমন অবশ্য বলেছে, কর্মস্থলে কি ধরনের আচরণ করা হবে, সেই বিষয়ে প্রণীত কোড অনুসরণে তারা অত্যন্ত সতর্ক থাকেন এবং এর কোনো লংঘন তারা সহ্য করেন না । কোম্পানিটি বলেছে, বাংলাদেশে যে এই অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে তারা অনতিবিলম্বে তদন্ত শুরু করবে। একজন মুখপাত্র বলেছেন, অভিযুক্ত ফ্যাক্টরির জন্য বর্তমানে কোন ক্রয় ফরমায়েশ দেওয়া নেই। এবং আমরা তদন্তের ভিত্তিতে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করব।
জাতিসংঘ ফাউন্ডেশনের একজন মুখপাত্র বলেছেন, আমরা বিশ্বাস করি সব শ্রমিকদেরকেই সমানভাবে এবং ন্যায্যতার সঙ্গে ব্যবহার করা হবে। এবং আমরা বাংলাদেশে লুলুলেমনের তদন্তের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।
ওই কারখানার একজন শ্রমিক দাবি করেছেন, একটু আগে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার জন্য তাকে থাপ্পড় মারা হয়েছিল । কারণ তার শরীর খারাপ লাগার কারণে সে আগে যেতে চেয়েছে। ওই নারী কর্মী বলেন, আমি আসলে অসুস্থ ছিলাম । একদিন আমি বিকেল পাঁচটায় কর্মস্থল ত্যাগ করি। কিন্তু আমি সেটা লাইন সুপারভাইজারকে জানিয়ে যাই । কিন্তু সে তার বসকে বলেছিল, আমি কাউকে কিছু না বলে কর্মস্থল ত্যাগ করেছি । পরের দিন আমি যখন কাজে যাই, আমার লাইন টেকনিশিয়ান আমাকে থাপ্পড় মেরেছিল । সেই থাপ্পর এতটাই জোরালো ছিল যে , আমার গাল লাল হয়ে যায় এবং প্রত্যেকে আমাকে দেখে জিজ্ঞেস করেছে , কি ঘটেছে। আমি তাদের কাউকে বলিনি প্রকৃত কি ঘটেছে। আমি তাদের বলেছিলাম, আমার এলার্জি উঠেছে । ওই নারী শ্রমিক আরও দাবি করেছেন, তিনি এই বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো অভিযোগ করেননি । কারণ তিনি জানেন, এ বিষয়ে অভিযোগ করে কোন লাভ নেই ।
ওই নারী কর্মীটি আরো বলেছেন , গত রমজানে কারখানাটি একটি নতুন লাইন তৈরি করে । আর সেজন্য তারা নতুন মেয়েদেরকে নিয়োগ দিয়েছিল । একদিন একজন টেকনিশিয়ান একজন লেবেল অপারেটরকে বুকে যথেষ্ট জোরালোভাবে আঘাত করেছিল । আমরা দেখেছি সারাদিন সে কিভাবে ব্যথায় কুঁকড়ে থেকেছে । লাইনের পেছনে সে কয়েক ঘন্টা শুয়ে থাকে। কিন্তু তার বিষয়ে আমাদের বসরা কোন কিছুই করেননি।
গত ৮ অক্টোবর জাতিসংঘ ফাউন্ডেশন (ইউএনএফ) এর সঙ্গে একটি অংশীদারিত্বের চুক্তি করেছে লুলুলেমন । তারা বলেছে গত তিন বছর ধরে লেগিন্স কোম্পানি এবং ইউএনএফ একটি এভিডেন্স ভিত্তিক মাইন্ডফুলনেস ইয়োগা এবং সেলফ–কেয়ার প্রশিক্ষণ কারিকুলাম ডেভলপ করার চেষ্টা করছে ।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ আটটি দেশের পাচশ জনেরও বেশি সাহায্যকর্মীদের উপরে তারা এই বিষয়ে পাইলট টেস্টিং করেছে।
লুলুলেমন সম্প্রতি তাদের ব্যবসা ভবিষ্যতে আরও কত বড় হবে, তার একটা ধারণা দিয়েছে । এই কোম্পানিটি তাদের ব্যবসা ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০১৯ সালের শেষে ৩ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে পারবে। ১৯৯৮ সালে ক্যানাডিয়ান বিজনেসম্যান চিপ উইলসন লুলুলেমন শুরু করেছিলেন । সেই থেকে তারা এই ব্যবসা ক্রমাগতভাবে সম্প্রসারিত করে চলছে। কিন্তু তারা এই পোশাক কিনছেন এমন সব দেশ থেকে, যেখানে শ্রম সস্তা । আর এসব দেশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা , কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনাম।
লুলুলেমন তার ওয়েবসাইটে বলেছে , আমাদের ভেন্ডর কোড অফ এথিক্স বাংলাদেশসহ যেখানেই পণ্য উৎপাদন হয়, সবার জন্য প্রযোজ্য এবং তা নিশ্চিত করছে যে আইনগত এবং সাংস্কৃতিক পার্থক্য নির্বিশেষে আমরা একটি অভিন্ন নীতি অনুসরণ করছি।
লুলুলেমন ২০১৩ সালে বাংলাদেশ সেফটি অ্যাকর্ড সই করতে মাসের-পর-মাস কাটানো নিয়ে সমালোচিত হয়েছিল । ১১৩৬ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল রানা প্লাজা দুর্ঘটনায়। আর তার পরপরই ওই সেফটি চুক্তিতে তাকে সই করতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল । তখন একটা পিটিশন প্রকাশ করা হয়েছিল যাতে তারা তাদের ইথিকস এবং দায়িত্বশীলতার বিষয়ে সজাগ থাকে।
দি গার্ডিয়ান একজন পুরুষ শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলেছে । ওই শ্রমিকটি দাবি করেছে, তিনি প্রত্যক্ষদর্শী যে, নারী শ্রমিকদেরকে সাধারনত ’’’প্রস্টিটিউট এবং হোর, স্লাট’’ হিসেবে ডাকা হয়ে থাকে । তার আরও অভিযোগ, পুরুষ কর্মীদেরকেও অবজ্ঞার চোখে দেখে থাকে তারা। অনেক সময় তারা পুরুষ কর্মীদেরকে উপহাস করে । তার কথায়, আমি নিজে কখনো মার খাইনি কিন্তু অন্যদেরকে প্রহৃত হতে দেখেছি।
শ্রমিকরা আরও অভিযোগ করেছেন যে, তারা যখন কর্মক্ষেত্রে কিছুটা অসুস্থ বোধ করেন, তখন তারা চাইলেই কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারেন না । মেডিকেল টিম একটি মেয়েকে তার জন্ডিস হওয়ার কারণে তাকে কর্মবিরতির সুবিধা দেয়। তাকে বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছিল। কিন্তু তার প্রোডাকশন ম্যানেজার তাকে জানিয়ে দিয়েছে , তাকে অবশ্যই কাজ অব্যাহত রাখতে হবে। শ্রমিকরা আরও দাবি করেছে, তারা অনেক সময় দেখতে পায় যে , তারা ইচ্ছে করে কম কর্মী নিয়োগ করে। তাদের উপরে তখন কাজের চাপ অনেক বাড়িয়ে দেয়া হয়। তাদের প্রতি নির্দেশনা থাকে , তাদেরকে অবশ্যই টার্গেট পূরণ করতে হবে । একজন শ্রমিকের কথায়- সুতরাং শ্রমিকদের কোন উপায় থাকে না । তাদেরকে বাড়তি কাজ করতে হয়। তারা খাবার সময় পায়না। বিশ্রাম পায় না । যা খুবই খারাপ।
টুমো পুটিয়ানিন বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক লেবার অর্গানাইজেশন (আইএলওর) কান্ট্রি ডিরেক্টর। তিনি বলেছেন, যেকোনো ধরনের বাংলাদেশ গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ এবং সেটা মোকাবেলায় সক্রিয় পদক্ষেপ নেয়া বাঞ্ছনীয়।
লেবার বাহাইন্ড দ্যা লেভেল’’ একটি ক্যাম্পেইন গ্রুপ। এই সংগঠনের এ্যাডভোকেসি পরিচালক আন্না ব্রেহার। তার কথায়, একটি সাপ্লাই চেইনের একেবারে তলানিতে থাকা নারীদেরকে যেভাবে ফ্যাশন তৈরীর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়, তাদের শ্রম শুষে নেওয়া হয়, সেটা আসলেই একেবারে একটা অবসিন( অশ্লীল) ঘটনা। তার কথায়, এইসব গল্প খুবই মর্মান্তিক এবং তা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় । বাংলাদেশের যেসব নারীরা আমাদের জন্য কাপড় তৈরি করে তারা রুটিনমাফিক পদ্ধতিগতভাবে হয়রানি ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন । তিনি আরো বলেছেন,
আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর যারা বাংলাদেশে শ্রমিকদের কে ব্যবহার করে সস্তায় কাপড় তৈরি করেন, তাদের কর্মক্ষেত্রে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ৮০ ভাগ বাংলাদেশি শ্রমিক বলেছেন তারা কর্ম ক্ষেত্রে কোন না কোন ভাবে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন।
লুলুলেমন কোম্পানির একজন মুখপাত্র বলেছেন, আমরা একটি দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান এবং এথিকসের প্রয়োজনে আমরা সজাগ। আমরা যেখান থেকেই আউটসোর্সিং করি না কেন, এথিক্স আমরা সমুন্নত রাখব। এটাই আমাদের বৈশ্বিক অবস্থান এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল খাতে সব থেকে শ্রেষ্ঠ মূল্যবোধ আমরা মেনে চলি। আমরা কখনোই এই কোডের ভায়োলেশন সহ্য করি না । বাংলাদেশে একটি কারখানা সম্পর্কে এ ধরনের রিপোর্ট জানতে পেরেই আমরা তদন্ত শুরু করেছি । বর্তমানে আমরা ওই কারখানাকে আর কোন ধরনের অর্ডার দেইনি । এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।
এদিকে ইয়ংগাল কর্পোরেশন বলেছে, তারা কর্মক্ষেত্রে সুষ্ঠু পরিবেশ এবং সব ধরনের ন্যায্য আচার-আচরণ বজায় রাখার ক্ষেত্রে অঙ্গীকারবদ্ধ । বিভিন্ন চ্যানেলের মাধ্যমে কর্মীদেরকে তারা তাদের মতামত এবং তাদের অভিযোগ খতিয়ে দেখার বিষয়টি উৎসাহিত করে থাকে । কোম্পানিটি আরো বলেছে ,যখন কারো কাছ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায় , তারা তা প্রতিকারের উদ্যোগ নেন এবং শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকেন । যে অভিযোগ উঠেছে সে বিষয়ে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্তের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
>>>দি গার্ডিয়ানে ১৪ অক্টোবরে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তর্জমা
Saturday, September 7, 2019
মান-ইজ্জত সব হারিয়েছেন, পরিবারেও ঠাঁই হচ্ছে না তাদের by রুদ্র মিজান

আর আস্তে আস্তে স্বপ্নগুলো তাদের কাছে দুঃস্বপ্ন হয়ে দেখা দেয়। মনে হয়েছে, এ যেন জাহান্নামের চেয়ে ভয়াবহ। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে কেউ আলিঙ্গন করেছেন মৃত্যুকে। কেউবা মরতে গিয়েও বেঁচে গেছেন। কেউ দেশে ফিরেছেন শরীরে নির্যাতনের চিহৃ নিয়ে। শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তারা। অন্তঃস্বত্ত্বা হয়ে ফিরেছেন কেউ কেউ। কেউ ফিরেছেন বাচ্চা কোলে নিয়ে। বিদেশের নির্যাতনের সেল থেকে ফিরলেও মুক্তি পাননি তারা। দেশের মাটিতে এসেও শান্তি, স্বস্তি মিলছে না কিছুতেই। ‘নষ্টা, দুশ্চরিত্রা, খারাপ মেয়ে’ অপবাদ জুটছে তাদের। অপবাদ দিয়ে দুরে সরে গেছে স্বজনরা। ঠাঁই হচ্ছে না স্বামীর ঘরে। এমনকি তাড়িয়ে দিচ্ছেন মা-বাবা, ভাইয়েরাও।
সরকারি- বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার হিসেব অনুসারে নির্যাতনের শিকার হয়ে গত বছর সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন ১৩৫৩ নারী। এরমধ্যে নির্যাতনের শিকার হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন ১৮ জন। অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেক নারী। গত বছর থেকে চলতি বছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফেরা নারীদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই সহস্রাধিকে।
তাদের একজন তাহমিনা খাতুন। উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্যই সৌদি আরবে গিয়েছিলেন তিনি। সৌদি আরব থেকে ফিরে ঠাঁই পাচ্ছেন না কোথাও। নষ্টা অপবাদ দিয়ে দুরে চলে গেছেন স্বামী। একই অপবাদ দিচ্ছেন মা-বাবাও। তাহমিনা জানান, বিদেশ যাওয়ার ব্যাপারে মা-বাবা, স্বামী কেউ রাজি ছিলেন না। কিন্তু সংসারে স্বচ্ছলতার জন্য পরিচিত একজনের উৎসাহে বিদেশে যান তিনি। সেখানে দিনের পর দিন যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বিষয়টি দেশের সবাই জেনেছে। তাই এখন সবাই তাকে বাঁকা দৃষ্টিতে দেখে। স্বামী তাকে ঘরে আশ্রয় দেননি। মা-বাবাও খবর নেন না। এক বান্ধবীর সঙ্গে থাকছেন করাইল বস্তিতে।
কাজ করেন একটি গার্মেন্টে। তাহমিনা জানান, গত বছর সৌদি আরব যান তিনি। রিয়াদে এক আরব ব্যবসায়ীর বাসায় ছিলেন। গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। বাসায় ওই ব্যবসায়ীর বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও তিন ছেলে সন্তান ছিলো। তাহমিনা যে কক্ষে ঘুমাতেন ওই কক্ষে কোনো দরজা ছিল না। কয়েক দিন যেতে না যেতেই শুরু হয় সমস্যা। রাতের বেলা তার কক্ষে ঢুকেন গৃহকর্তা। ঝাপটে ধরেন তাকে। শরীরের সব শক্তি দিয়ে বাধা দিয়েও ব্যর্থ হন। ধর্ষণের শিকার হন তাহমিনা। বিষয়টি পরদিন ওই ব্যক্তির স্ত্রীকে জানান। স্ত্রী উল্টো ধমক দেন। বিষয়টি কাউকে বলতে বারণ করে তা মেনে নিতে বলেন। তাহমিনা জানান, তারপর থেকে গৃহকর্তার কাছে প্রায় রাতেই ধর্ষণের শিকার হচ্ছিলেন তিনি। এরমধ্যেই এক রাতে গৃহকর্তার বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেজো ছেলেও পিতার মতোই তাহমিনার কক্ষে ঢুকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। তাহমিনা চিৎকার করলে গৃহকর্তার স্ত্রী এগিয়ে যান।
এসময় ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় উল্টো তাকে মারধর করা হয়। পরের রাতে আবার তাহমিনার কক্ষে যায় ওই ছেলে। বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয়। সে রাতে ধর্ষণের শিকার হন তিনি। তাহমিনা পালাতে চেয়েও পারেন না। দেশে স্বামীর কাছে ফোনে তাকে রক্ষা করতে অনুরোধ করেন। যেভাবেই হোক দেশে যেতে চান তিনি। স্বামী অনেক চেষ্টা করেও তাকে দেশে ফেরাতে পারছিলেন না। এভাবে কাটছিলো কয়েক মাস। যৌন নির্যাতন ছাড়াও বেতন চাইতে গেলেই তাকে মারধর করা হতো। একরাতে বাসা থেকে পালিয়ে যান। রাস্তায় এক বাঙালি শ্রমিকের সহযোগিতায় পৌঁছে যান সেইফ হোমে। কথা ছিলো তিনি বিচার পাবেন। কিন্তু বছরের পর বছর সেইফ হোমে থাকা নারীরা জানিয়েছেন বিচারের নামে দীর্ঘসূত্রিতার কথা। খেয়ে না খেয়ে সেইফ হোমে থাকার চেয়ে দেশে ফিরে আসাই ভালো মনে করেছিলেন তিনি। তাই পাওনা টাকা ছাড়াই দেশে ফিরেন তাহমিনা।
নির্যাতিতাদের মধ্যে একজন ইয়াসমিন। ১৯ বছরের এই অবিবাহিতা তরুণী বিদেশে শিকার হয়েছেন যৌন নির্যাতনের। শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরেছেন একটি সন্তান নিয়ে। তারপর থেকে নিজের মা, বাবা, প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন কেউ তাকে গ্রহন করেননি। অথচ এই তরুণীর কোনো অপরাধ ছিলো না। দরিদ্র পরিবারের ইয়াসমিন মা-বাবার কষ্টের ভাগ নিতে চেয়েছিলেন। স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে যখন আর্থিক টানাপোড়েনে দিন কাটাচ্ছিলেন তার বাবা ঠিক তখন ইয়াসমিন সংসারের হাল ধরতে এগিয়ে যান। স্থানীয় দালাল কাশেম মিয়ার সহযোগিতায় ২০১৬ সালে জর্ডানে যান তিনি। সেখানে একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন। এরই মধ্যে জর্ডানে পরিচয় হয় মানিকগঞ্জের মেয়ে সোনিয়ার সঙ্গে। মাত্র ১৫ হাজার টাকা বেতনে গৃহকর্মীর কাজ করে জেনে সোনিয়া তাকে আরও ভালো বেতনে চাকরির প্রস্তাব দেয়। ভালো কাজ, বেশি বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে সোনিয়া তাকে নিয়ে যায় একটি বাসায়। পাঁচতলা ওই বাসায় অন্তত ২০ জন মেয়ে থাকে। বিভিন্ন দেশের পুরুষদের আনাগোনা।
এটি একটি পতিতালয়। পতিতাবৃত্তিতে ইয়াসমিন রাজি না হওয়ায় মারধর করা হয়। একপর্যায়ে জোর করে তাকে সেখানে ধর্ষণ করে কয়েক পুরুষ। এভাবেই বিদেশের মাটিতে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়। নির্যাতনে এক সময় অসুস্থ হয়ে যান ইয়াসমিন। অসুস্থ অবস্থায় তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়া হয়। দুই মাস কারাভোগের পর গত বছরের ১৭ই এপ্রিল দেশে ফিরেন তিনি। ততদিনে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ইয়াসমিন জানান, প্রথমে নিজেও বুঝতে পারেননি তিনি অন্তঃসত্ত্বা। তবে ছয় মাস পরে জানার পর তা আর নষ্ট করতে চাননি তিনি। এই অবস্থায় কেউ তাকে আশ্রয় দিতে চায়নি। নষ্টা মেয়ে বলে তাড়িয়ে দিচ্ছিলো সবাই। চেনা-অচেনা অনেকের আশ্রয়ে থাকতে হয়েছে। তবে এখন মা-বাবার সঙ্গেই আছেন তিনি। তার মা জানান, বাবার পরিচয় নেই বাচ্চার। তাই সমাজের মানুষ নানা কথা বলে। বাচ্চার বয়স হয়ে গেছে প্রায় ১০ মাস। বাচ্চাকে নিয়ে কোথাও যেতে পারে না। দেখলেই এই বাচ্চার বাবা কে, বাবা ছাড়া বাচ্চা- এরকম নানা কটুকথা শুনতে হয় তাকে। কোনো কাজ করতে পারে না। মেয়ের বাবা মাটিকাটা শ্রমিকের কাজ করেন। তার উপরই নির্ভর পুরো পরিবার।
নির্যাতিতা আরেক তরুণী লায়লা খাতুন। বাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলায় বাড়ি। নেশাগ্রস্থ স্বামী দুই সন্তান রেখে তাকে ছেড়ে চলে যায়। সন্তানদের নিয়ে কর্মহিন লায়লার অভাব যেন পিছু ছাড়ছিলোনা কোনোভাবেই। দালালের মাধ্যমে তিনি যান বিদেশে। লায়লার বয়স জাতীয় পরিচয়পত্রে ২২ বছর। কিন্তু দালাল পাসপোর্টে দেয় ২৫ বছর। এরপর দালাল ও রিক্রুটিং এজেন্সি নামিরা ওবারাসীজ (আর.এল-১০১৩)-এর জোগসাজেশে কোনরকম গামকার মেডিকেল চেকাপ ছাড়াই গত বছরের ২৬শে মার্চ সৌদি আরব যান। সৌদি বিমান বন্দর থেকে তাকে একজন সৌদিয়ান সারা দিন ঘুরিয়ে রাত ১০টার দিকে নিয়ে যায় একটি বাসায়। সেখানে রাতভর লায়লাকে নির্যাতন করে ৮-১০ পুরুষ। এই অবস্থায় দেশে ফিরতে চাইলে বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সি অফিস কোনো সহযোগিতা করেনি। একপর্যায়ে পালিয়ে রাস্তায় বের হলে পুলিশ ধরে ফের মালিকের কাছে নিয়ে যায়। পুলিশকে ঘটনা খুলে বললে পুলিশ মালিকের কাছ থেকে বিমানটিকিট নিয়ে দেয়। গত ৩রা এপ্রিল দেশে ফিরেন তিনি।
দেশে আসার পর পরিবারও তাকে ভালোভাবে নিচ্ছে না। অবহেলার শিকার হচ্ছেন। একইভাবে দিনাজপুরের আয়শা ফিরতে পারছেন না মা-বাবার কাছে। বাবা কথা বলেন না তার সঙ্গে। কয়েকবার বাড়িতে গেলেও বের করে দিয়েছেন তাকে। এরকম অনেক নারীর ঠাঁই হচ্ছে না ঘরে। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের পক্ষ থেকে নির্যাতিতাতের সহযোগিতা করা হচ্ছে। কাউন্সিলিং করা হচ্ছে তাদের অভিভাবকদের। অনেকের ঠাঁই হচ্ছে, অনেকের হচ্ছে না। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম প্রধান শরিফুল হাসান জানান, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশ থেকে তিক্ত অভিজ্ঞতা, নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরেছেন নারীরা। মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম এসব নির্যাতিত নারীর পাশে দাঁড়াচ্ছে। অনেকক্ষেত্রে নির্যাতিাদের স্বজনরাই তাদের আশ্রয় দিচ্ছেন না। এসব বিষয়ে তাদের কাউন্সিলিং করা হচ্ছে। পুর্নবাসনের বিষয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে। তাদের চিকিৎসা ও বিমানবন্দর থেকে বাড়ি পৌঁছার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে ব্র্যাক।
প্রবাসে নির্যাতনের বিষয়ে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি (বায়রা)’র মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী বলেন, নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন সৌদিতে। সেখানকার মালিক কর্তৃক। অথচ মামলা হচ্ছে রিক্রুটিং এজেন্সীর বিরুদ্ধে। নির্যাতনকারীর বিরুদ্ধে সে দেশে অবস্থান করেই অভিযোগ করতে হবে। এজন্য সেইফ হোম, দূতাবাস রয়েছে। তাদের মাধ্যমে অভিযোগ করে ক্ষতিপূরণ আদায় করতে হবে।
নারী শ্রমিকদের নির্যাতন ও সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসসংস্থান মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে যারা কাজ করেন তারা এখন দেশের বাইরে আছেন। তারা এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন। তবে প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসসংস্থান মন্ত্রনালয় এসব বিষয়ে অত্যন্ত সচেষ্ট বলে জানান তিনি।
Sunday, June 16, 2019
বাসায় আটকে দেহব্যবসা, কান্না শুনে দুই নারীকে উদ্ধার

কৌশলে আদালতে হাজির করে খদ্দেরসহ তিনজনকেই মানবপাচার আইনে গ্রেপ্তার দেখিয়ে অভিযোগপত্র দেয়ার আদেশ দেন মহানগর হাকিম আল ইমরান খান। আর গ্রেপ্তার তিনজন হলো- দেহব্যবসা পরিচালনায় মূল অভিযুক্ত শেলী আক্তার (২৮) ও আবু কায়সার জাহাঙ্গীর বাবু (৩২) এবং খদ্দের মো. হৃদয় (১৮)।
আদালতে চকবাজার থানার জিআরও আনিসুর রহমান গতকাল বিকালে দৈনিক মানবজমিনকে এই তথ্য জানান। তিনি জানান, শুক্রবার জুমার নামাজের পর বাসায় ফেরার পথে চকবাজারের কাপাসগোলা এলাকার তাহেরা ফেরদৌস ভবনের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কিছু মেয়ের চিৎকার-কান্নাকাটির শব্দ শুনতে পান মুসল্লিরা।
এরপর তারা দ্বিতীয় তলার ওই বাসায় প্রবেশ করে দুই নারীকে উদ্ধার করার পাশাপাশি এক নারীসহ তিনজনকে ধরে চকবাজার থানা পুলিশকে খবর দেন।
চকবাজার থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পাঁচজনকেই নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরে দুই ভুক্তভোগী নারী ও খদ্দের হৃদয়কে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) অধ্যাদেশের ৭৬ ধারায় অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে অধর্তব্য অপরাধে প্রসিকিউশন দাখিল করে আদালতে পাঠানো হয়। থানা থেকে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ উঠে মূল অপরাধী শেলী আক্তার ও জাহাঙ্গীর বাবুকে।
এর ফলে ভুক্তভোগী দুই নারী আইনি সুরক্ষা না পাওয়ার পাশাপাশি মূল অপরাধীরা রক্ষা পেতে যাচ্ছিলেন। তবে বিচারক আল ইমরান খানের বিচক্ষণতায় সেটি সম্ভব হয়নি। মামলাটি শুনানিতে নিয়ে তিনি ভুক্তভোগী দুই নারী ও খদ্দের হৃদয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনেন।
ভুক্তভোগী দুই নারী আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে জানায়, শেলী ও জাহাঙ্গীর বাবুসহ তাদের চক্রের অধীনে নগরীর চকবাজার, দুই নাম্বার গেইট ও খুলশী এলাকায় তিনটি বাসা আছে। এসব বাসায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নারীদের ফুসলিয়ে বা ফাঁদে ফেলে নিয়ে আসা হয়। এরপর তাদেরকে বন্দি রেখে, মারধর করে দেহব্যবসায় বাধ্য করা হয়।
আদালতকে ভুক্তভোগী নারীরা জানান, এসব বাসায় আসা খদ্দেররা প্রথমে ইয়াবা খেয়ে নেশাগ্রস্ত হয়। এরপর তাদের ওপর পাশবিক যৌন নির্যাতন চালায়। তারা ইয়াবা সেবনের পর নারীর সঙ্গে যৌন সমপর্ক করতে পারে বিধায় এসব চক্রের কাছে খদ্দের বেশি আসে।
পরে খদ্দের হৃদয়কে বিচারক আল ইমরান খান জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারেন, ভুক্তভোগী দুই নারীর বক্তব্য সঠিক। শেলী ও জাহাঙ্গীর বাবু আদালত প্রাঙ্গণেই আছে। জরিমানার বিনিময়ে দুই ভুক্তভোগী নারী ছাড়া পেলে তাদেরকে আবার দেহব্যবসার জন্য জোর করে নিয়ে যাওয়া হবে।
তাদের বক্তব্য শোনা ও লেখার পর বিচারক আল ইমরান খান পুলিশকে নির্দেশ দেন শেলী ও জাহাঙ্গীর বাবুকে পাওয়া গেলে আদালতে হাজির করার জন্য। কিছুক্ষণ পর পুলিশ তাদের ধরে আদালতে হাজির করে। এরপর বিচারকের জিজ্ঞাসাবাদে তারা দেহব্যবসায় বাধ্য করার অভিযোগ স্বীকার করলেও কৌশলে অনেক বিষয় এড়িয়ে যায়।
সার্বিক বিষয় বিবেচনায় আদালত জানায়, জোর করে দেহব্যবসায় বাধ্য করিয়ে শেলী আক্তার, আবু কায়সার জাহাঙ্গীর বাবু ও মো. হৃদয় মানবপাচার আইনের ১২ ধারাসহ অন্যান্য অপরাধ করেছেন। এরপর উক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তারের আদেশ দেয়ার পাশাপাশি দুই ভুক্তভোগী নারীকে নিরাপত্তা হেফাজতে নিতে আদেশ দেন বিচারক আল ইমরান খান।
ঘটনার বিষয়ে মানবপাচার আইনে নতুন করে একটি মামলা রেকর্ড করার জন্য চকবাজার থানার ওসিকে নির্দেশ দেন বিচারক। সেই সঙ্গে মানবপাচার আইনে মামলা না করে ৭৬ ধারায় চালান দেয়ার বিষয়টি আদালত সন্তোষজনকভাবে বিবেচনা করেননি আদালত। ফলে, চকবাজার থানায় নতুন করে রেকর্ড করা মামলাটি তদন্তের জন্য উপযুক্ত কোনো সংস্থাকে দায়িত্ব দিতে সিএমপি কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
Saturday, June 15, 2019
প্রিয়তি ধর্ষণ চেষ্টা, তদন্তে ইন্টারপোল!

মাকসুদা আক্তার সাবেক মিস আর্থ আয়ারল্যান্ড ২০১৫ এবং মিস আর্থ ইন্টারন্যাশনাল উইনার। তাকে ট্রল করা হয়েছে??‘বেশ্যা’ হিসেবে। কারণ তিনি একজন মডেল, একজন সিঙ্গেল মাদার। দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি গত ১৮ বছর ধরে বসবাস করছেন ডাবলিনে। তিনি লন্ডনের মিরর পত্রিকাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, কী করে তিনি সামপ্রতিক দিনগুলোতে অনলাইন লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছেন। তিনি এতটাই বিরক্ত হয়ে গেছেন যে, তার কখনও কখনও মনে হয় তার মডেলিং ছেড়ে দেয়া উচিত। আমার ধারণা, আমার মতোই অন্যান্য যারা মুসলিম মডেল রয়েছেন, তাদের অনলাইনে নিপীড়নের শিকার হতে হয়। কিন্তু আমি মনে হয় অনেক বেশি এই বিষয়গুলো সহ্য করছি। কারণ তারা এটা মেনে নিতে পারে না যে দুইটি সন্তান নিয়ে আমি মডেলিং করি, আমি আমার দেহ প্রদর্শন করি। তারা আসলে এটা মেনে নিতে পারছে না। প্রিয়তি মিররকে বলেন, আপনি যদি কিছু না মনে করেন তাহলে তারা আমাকে যেটা বলছে সেটা হচ্ছে এই ধরনের-তারা আমাকে ?‘হোর’ ভাবছে। তারা ভাবছে, আমি পতিতাবৃত্তি করে জীবযাপন করি।
আমি তখন কিশোরী, যখন আমি ডাবলিনে চলে এসেছি। বিশ্বাস করেন, ফেসবুক পেইজে শত শত বার্তা পাই প্রতি সপ্তাহে। তার বেশির ভাগই হয়তো আয়ারল্যান্ড থেকে আসছে এবং তারা নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশি। তারা বসবাস করতে পারে বিশ্বের অন্যান্য স্থানেও। একটি বার্তা পাঠানো হয়েছে বাংলায়, লেখা হয়েছে আপনার মুখের গড়ন ২৫ বছর বয়সীর মতো। পেটটা ৪৫ বছরের মহিলার, কি করে তুমি এতটা তরুণ থাকতে পারছ?
মাকসুদা একজন বাণিজ্যের স্নাতক। তিনি দাবি করেছেন, তিনি গুরুতর ভাবে যৌন হামলার শিকার হয়েছিলেন এবং তাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছিল। যখন তিনি ২০১৫ সালে দেশে গিয়েছিলেন এবং ইন্টারপোল এখন সেটা অনুসন্ধান করে দেখছে সেই ঘটনা থেকে মাকসুদা ডিপ্রেশনে ভুগছিলেন। কারণ তার একটাই চিন্তা, তার দুই সন্তান অনলাইনের প্রতি খুবই অনুরাগী এবং তারা প্রযুক্তিকে ভালোবেসেছে। আর তার ভয় সেখানেই। সে মনে করছে, তার মাকে নিয়ে যেসব খারাপ কথা অনলাইনে রয়েছে, সেগুলো তারা পড়তে পারবে। মাকসুদা বলেন, আমি কঠোর পরিশ্রম করছি তাদের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে। কিন্তু কেউ আমাকে সাহায্য করছে না। আমি তো বুঝতেই পারি না, কি করে তারা এইসব আজেবাজে কথা আমার উদ্দেশ্যে লিখতে পারেন। মাকসুদা বাস করেন একা। তিনি নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে চাইছেন। কিন্তু সমপ্রতি তার মনে হয় অন্তত কয়েক মাসের জন্য হলেও মডেলিং বন্ধ করে দেয়া। কারণ যেসব তাকে ঘিরে হচ্ছে, সেটা তিনি আর নিতে পারছেন না। তিনি খোদাভীরু। আল্লাহ্কে বিশ্বাস করেন।
কিন্তু তার পক্ষে হয়তো পবিত্র কোরআনের সব নির্দেশাবলী সব সময় অনুসরণ করা সম্ভব হয় না। মাকসুদা বলেন, এসব কারণেই আমি বাংলাদেশি সমপ্রদায় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছি। কিন্তু আমি যেভাবে জীবন-যাপন করি, তা তারা নিতে পারে না বলেই আমি তাদের কাছ থেকে দূরে সরে এসেছি। তারা বলে, আমি নাকি স্বাধীনভাবে জীবন-যাপন করছি। তাই আমি আমার দেহ প্রদর্শন করি এবং এভাবেই আমি অর্থ উপার্জন করি। আমার দু’টি সন্তান এবং আমি আমার সন্তানদের বাবাকে বিয়ে করিনি। এটা তাদের কল্পনার বাইরে। তারা মনে করেন, এটা খুবই একটি বাজে বিষয় এবং ভাবটা যেন আমি সবার সঙ্গে শুয়ে বেড়াচ্ছি অথবা এ রকম কিছু একটা।
মাকসুদা জোর দিয়ে বললেন, তিনি পছন্দ করেন না কোনো একটা কক্ষে নিজেকে আবদ্ধ করে রাখতে। নিজেকে আবৃত করে রাখতে। এবং কারও সঙ্গে কথা না বলে থাকতে। এ জীবন তিনি চান না। তিনি বলছেন, মডেলিং আমাকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। আমি অবসাদগ্রস্ত হয়ে ছিলাম। সেটা থেকে কাটিয়ে উঠতে পেরেছি। মাকসুদা এমন অনেক অভিজাত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন যেখানে ব্রিটিশ মন্ত্রীরা অংশ নিয়েছেন।
তিনি বিশ্বাস করেন এ বিষয়ে ফেসবুকের আরো বেশি কিছু করা উচিত। কারণ এইসব বার্তা ফেসবুকে লেখা সম্ভব হচ্ছে। আর তা মানুষের আত্মবিশ্বাসকে নষ্ট করে দিচ্ছে। মানুষের ব্যক্তিগত জীবনকে ধ্বংস করছে এবং এটা ভালো পরিবেশ তৈরি করছে না। কিন্তু এই বিষয়গুলো প্রতিরোধে ফেসবুক যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়া থেকে বিরত রয়েছে। তারা অনেক অর্থ করছে। তাই তাদের আরো বেশি নজরদারি বাড়ানো উচিত। বিউটি কুইন আরো বলেছেন, তিনি এক ভয়ঙ্কর হামলায় যৌন আক্রমণের শিকার হন এবং তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়েছিল ।
তার বয়স যখন ২০-এর কোঠায়। তখন এক ব্যক্তি তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। মিস আর্থ ইন্টারন্যাশনাল উইনার নারীদের প্রতি আহ্বান জানান, নারীদের যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে তারা যেন আরও বেশি মাত্রায় সোচ্চার হতে পারেন।
১৮ বছর ধরে বসবাস করছেন আয়ারল্যান্ডে। ২০১৫ সালে তিনি বাংলাদেশ সফর করেন। ওই সময় তিনি যৌন আক্রমণের শিকার হন। সেখানে একটি অফিসে টিভি বিজ্ঞাপন নিয়ে আলোচনা করছিলেন। কোম্পানির মালিক বলেন, টাকা নিতে তোমাকে আমার অফিসে আসতে হবে ।
ডাবলিনের এই মেয়েটি বর্তমানে ইন্টারপোলকে সহায়তা দিচ্ছেন, যাতে তিনি ন্যায়বিচার পান। মাকসুদা বলেন, লোকটি ছিলেন একটি কোম্পানির মালিক। তিনি আমাকে বলেছিলেন, তোমাকে তোমার পাওনা বুঝে নিতে আমার অফিসে আসতে হবে, কারণ বাংলাদেশে কোনো ব্যাংক একাউন্ট ছিল না আমার।
পাইলটের যোগ্যতাসম্পন্ন মাকসুদা বলেছেন, একজন সেক্রেটারি আমাকে সেই অফিসে নিয়ে গিয়ে অফিস ত্যাগ করেন। এরপর লোকটি আসেন এবং তিনি তার হাত আমার পোশাকের উপরে রাখেন এবং আমাকে কোলে তুলে উপরে উঠান এবং টেবিলে নিক্ষেপ করেন। তিনি প্রকৃতপক্ষে আমাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন এবং তিনি তার হাত আমার প্যান্টের ভেতরে রেখেছিলেন এবং আমি তখন ভাবলাম, আচ্ছা তবে আমি ধর্ষিত হতে যাচ্ছি। আমি ভয়ে আড়ষ্ট হয়ে গিয়েছিলাম। এবং আমি জানি না, আমি কেন তখন চিৎকার করিনি। অবশ্য অফিসে সুরক্ষিত ছিল। আমার চিৎকার শোনার মতো কেউ সেখানে ছিল না। সে ছিল একজন ক্ষমতাবান মানুষ। অর্থের জোরে তার সব ক্ষমতা মুঠোয়। তিনি আরো স্মৃতিচারণ করেন, তিনি তখন তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়ে খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন।
তিনি ভাবছিলেন আমি কী করে এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পারি। আমি তখন বুদ্ধি করে বললাম। আমার একটা আইডিয়া আছে। আজকে এটা করার দরকার নেই। আমাকে আবার আসতে দিন। একটা সুন্দর পরিবেশে আমাকে কাজটা করতে দিন। তখন সে থামল মুহূর্তের জন্য এবং উঠে দাঁড়াল। আমি আমার কাপড় গুছিয়ে নিলাম। আমি তাকে বললাম, আমি আগামীকাল আসবো। আমার টাকার জন্য। এবং শেষ পর্যন্ত সে আমাকে চলে আসতে দিলো। ওই ঘটনার কয়েকদিন পরেই সন্তানদেরসহ ফিরে আসেন আয়ারল্যান্ডে।
তখন লোকটির টেলিফোন পাই এবং আমাকে বলল, আমি জানি তুমি কেন ফিরে আসনি। যদি তুমি তোমার মুখ খোলো, তাহলে তোমাকে ফেলে দিতে আমার দু’মিনিট লাগবে এবং আয়ারল্যান্ড আমার থেকে খুব বেশি দূরে নয়।
পরিষ্কার বাংলায় তিনি বলেছিলেন তিনি আমাকে হত্যা করতে যাচ্ছেন।
মিরর লিখেছে, একজন সিঙ্গেল মাদার হিসেবে তিনি তার দুই সন্তানকে বড় করেছেন। তিনি বললেন, আমি খুবই বিমর্ষ হয়ে পড়েছিলাম। উদ্বিগ্ন ছিলাম। আমি ঘুমাতে পারতাম না। আমি আত্মহত্যার চিন্তা করেছি। এবং আমি ট্যাবলেট খেয়ে পার করেছিলাম দু’বছর।
Thursday, June 13, 2019
গাছে বেঁধে নির্মম নির্যাতন, গৃহবধূর গর্ভপাত
গ্রেপ্তার নারীর নাম নাসিমা আক্তার। তিনি উপজেলার ভূরদী গ্রামের আবদুল মোতালেবের মেয়ে। বুধবার দুপুরে নকলা থানা-পুলিশ তাঁকে ভূরদী গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে। ‘নির্যাতনের শিকার’ ওই গৃহবধূর নাম ডলি খানম (২২)। তিনি উপজেলা সদরের কায়দা এলাকার মো. শফিউল্লাহর স্ত্রী ও স্থানীয় চন্দ্রকোনা কলেজের স্নাতক শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, গৃহবধূ নির্যাতনের ওই ঘটনাটি ঘটেছে ১০ মে। পরে এ ঘটনায় দুটি মামলা হয়। প্রথম মামলাটি হয় ৩ জুন শেরপুরের সি. আর আমলি আদালতে। এ মামলায় ডলির স্বামী শফিউল্লাহ তাঁর তিন ভাই ও ভাবিসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৭ জনকে আসামি করেন। বিচারক শরীফুল ইসলাম খান মামলাটি তদন্ত করে ১০ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের জন্য জামালপুরের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেন। দ্বিতীয় মামলাটি করেন ডলি নিজে। আজ বুধবার সকালে নয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩ থেকে ৪ জনকে আসামি করে নকলা থানায় মামলা করেন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কায়দা এলাকার মৃত হাতেম আলীর ছোট ছেলে মো. শফিউল্লাহর সঙ্গে জমি নিয়ে তাঁর বড় ভাই আবু সালেহ, সলিমউল্লাহ ও নেছার উদ্দিনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও মামলা চলে আসছিল। এর জেরে গত ১০ মে সকালে শফিউল্লাহর দখলে থাকা জমির বোরো ধান জোর করে কাটতে যান সালেহ ও তাঁর লোকজন। এ সময় শফিউল্লাহ প্রথমে বাধা দেন। তবে প্রতিপক্ষের ধাওয়ায় তিনি পিছু হটে নকলা থানায় যান। একপর্যায়ে সালেহর লোকেরা ধান কাটা শুরু করলে শফিউল্লাহর তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ডলি খানম তাঁদের বাধা দিতে যান। এ সময় সালেহর নির্দেশে সলিমউল্লাহ, নেছারউদ্দিন ও তাঁর স্ত্রী লাকি আক্তারসহ অন্যান্যরা ডলিকে ঘেরাও করেন। একপর্যায়ে তাঁরা ডলির চোখে-মুখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেন। এরপর তাঁরা ডলিকে টেনে-হিঁচড়ে পাশের খেত সংলগ্ন ইউক্যালিপটাস গাছের সঙ্গে দুই হাত এবং অন্য একটি গাছের সঙ্গে দুই পা বেঁধে ফেলেন।
মামলার এজাহারের আরও বলা হয়, গাছের সঙ্গে বাঁধার পর ডলির শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করা হয়। এতে ডলি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর গর্ভপাত হয়। সংবাদ পেয়ে নকলা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় পুলিশ গুরুতর অবস্থায় ডলিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায় এবং ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে সালেহ ও তাঁর ছোট ভাইয়ের স্ত্রী লাকিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তবে আটক করার কিছুক্ষণ পরে ওই দুজনকে পুলিশ ছেড়ে দেয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১০ মে থেকে ১৬ মে পর্যন্ত নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং ১৬ মে থেকে ২২ মে পর্যন্ত জেলা সদর হাসপাতালে ডলিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। জেলা সদর হাসপাতাল থেকে ২২ মে রোগীর দেওয়া ছাড়পত্রে উল্লেখ করা হয় শারীরিক নির্যাতনের ফলে ডলির গর্ভপাত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ জুন) বিকেলে ডলির স্বামী মো. শফিউল্লাহ প্রথম আলোর কাছে অভিযোগ করেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাঁর ভাই-ভাবীরাসহ তাদের ভাড়াটে লোকজন নির্যাতন করে তাঁর স্ত্রীর গর্ভের সন্তান নষ্ট করেছেন।
শফিউল্লাহর বড় ভাই নেছার উদ্দিন ডলিকে গাছের সঙ্গে বাঁধার কথা স্বীকার করেন। তবে ডলিকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, শফিউল্লাহ ও ডলি তাঁদের সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য এ ধরনের অভিযোগ করেছেন।
নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী শাহনেওয়াজ বলেন, জমি নিয়ে ভাইদের মধ্যে বিরোধ ও দাঙ্গা-হাঙ্গামার আশঙ্কার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে দুপক্ষকে শান্ত করা হয়েছিল। তবে ঘটনার দিন গৃহবধূকে নির্যাতনের বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। তবে আজ বুধবার ডলি খানম থানায় মামলা করেছেন। ইতিমধ্যে এজাহারভুক্ত আসামি লাকি আক্তারের বড়বোন নাসিমা আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।
এ ব্যাপারে পিবিআই, জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সীমা রাণী সরকার আজ বুধবার বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, আদালত থেকে আজ তারা মামলার কাগজপত্র পেয়েছেন। তদন্ত করে দ্রুত আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
![]() |
| ডলিকে নির্যাতনের ঘটনায় ধারণ করা ভিডিও চিত্রের আংশিক প্রকাশ পেয়েছে গতকাল মঙ্গলবার। ভিডিওতে দেখা যায় ডলিকে দুটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। নকলা, শেরপুর, মে ১২। ছবি: সংগৃহীত |
Tuesday, February 5, 2019
অনৈতিক কাজে রাজি না হওয়ায় নির্মম নির্যাতন

নির্যাতনের শিকার রাহেলা বেগমের গ্রামের বাড়ি হাতিয়ার চানন্দি ইউনিয়নের চরনঙ্গলিয়া এলাকায়। খবর পেয়ে পুলিশ এ ঘটনায় অভিযুক্ত মো. সাহাব উদ্দিন, মিজানুর রহমান সুমন, আলেয়া বেগম ও রীনা আক্তার নামে চারজনকে আটক করেছে। এ ঘটনায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
রাহেলা বেগমের পরিবার জানায়, তাদের প্রতিবেশি রিনা আক্তার প্রায় চার মাস আগে রাহেনাকে বাসায় কাজ দেয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদী নিয়ে যান। এরপর রিনা তার পরিচিত আলেয়া বেগম নামে এক নারীর বাসায় তাকে কাজে দেন।
প্রথম মাস আলেয়ার বাসা ছিল মাইজদী নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। সেখান থেকে তিন মাস আগে বাসা পরিবর্তন করে শহরের বালুরমাঠ-সংলগ্ন মাইজদী হাউজিং এস্টেটে একটি নতুন বাসা ভাড়া নেন। ভালোভাবেই ওই বাসায় কাজ করেছিলেন রাহেনা বেগম। কিন্তু মাস খানেক আগে গৃহকর্তী তাকে বাসায় অসামাজিক কাজ করার জন্য চাপ দেন। এতে রাজি না হলে তার ওপর অসমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়।
নির্যাতনের শিকার রাহেলা জানান, তাকে রড দিয়ে পিটিয়ে পুরো শরীরে আঘাত করা হয়। মুখের ভেতর ওপরের পাটির বেশ কয়েকটি দাঁত তুলে ফেলা হয়। তারপরও তিনি অনৈতিক কাজে রাজি না হওয়ায় গত প্রায় ৮-১০ দিন আগে রাতের বেলায় তার শরীরে এসিড ঢেলে দেয়া হয়। এতে তার বুক, পেট, পিটসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। পরে ঝলসে যাওয়া শরীরের অংশে পচন ধরলে তাকে বাসযোগে চট্টগ্রাম নিয়ে কালুরঘাট এলাকার একটি ব্রিজের নিচে ফেলে আসা হয়।
রাহেলার ভাই জাকের হোসেন জানান, কয়েকদিন আগে তার বোন একবার ফোন করে জানিয়েছিল তাকে নির্যাতন করা হচ্ছে। পরে আর তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তিনি ঘটনরা সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম জানান, যেহেতু মেয়েটির গায়ে ক্ষত রয়েছে এবং তার গায়ে এসিড দেয়ার অভিযোগ করা হচ্ছে, সেজন্য তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সুধারাম থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, খবর পেয়ে রাতেই তিনি হাসপাতালে রাহেলাকে দেখতে যান। এ পর্যন্ত এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে।
Friday, January 25, 2019
যৌন দাসত্ব থেকে দুই কোরিয়ান নারীকে উদ্ধারের কাহিনী by সু-মিন হোয়াং

একটু পর দেখা গেল, তারা সেই কাপড় ধরে জানালা থেকে ঝুলে নীচে নেমে আসছেন।
জানালার নীচেই দাঁড়িয়ে রয়েছে তাদের উদ্ধারকারীরা। তাদের একজন বলছেন, ''তাড়াতাড়ি, আমাদের বেশি সময় নেই''।
নিরাপদেই তারা দুজন নীচে নেমে এলেন। এরপর দৌড়ে একটু দূরে অপেক্ষায় থাকা উদ্ধারকারীদের গাড়িতে উঠে পড়লেন।
কিন্তু তাদের বিপদ এখনো কাটেনি।
মিরা এবং জিউন, দুজনেই উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসা নারী, যারা মানব পাচারকারীদের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন।
যারা তাদের উত্তর কোরিয়া থেকে চোরাচালানের পথ ধরে পালাতে সাহায্য করেছিল, চীনের সীমান্ত অতিক্রমের পরে তারাই একটি যৌন ব্যবসা দলের কাছে তাদের হস্তান্তর করে দেয়।গত পাঁচ বছর ধরে মিরাকে এবং আট বছরআটকে থাকা অবস্থায় যৌন ওয়েব সাইটে মিরাধরে জিউনকে একটি অ্যাপার্টমেন্টে বন্দী করে ওয়েবক্যামের সামনে যৌনকর্মী হিসাবে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। অনেক সময় ওয়েবক্যামের সামনে তাদের সরাসরি যৌনকর্ম অংশ নিতে বাধ্য করা হতো।
কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া উত্তর কোরিয়া ত্যাগ করা বেআইনি। এখনো দেশ ছাড়তে গিয়ে অনেকে জীবন সংশয়েও পড়েন।
দক্ষিণ কোরিয়ায় গেলে নিরাপদ আশ্রয় পাওয়া যায়। কিন্তু উত্তর আর দক্ষিণ কোরিয়ার মাঝের ভূখণ্ডটি সামরিক এলাকা এবং অসংখ্য মাইনে ভরা। ফলে কারো পক্ষে সেখান থেকে পালানো প্রায় অসম্ভব।
ফলে দেশ ছাড়তে ইচ্ছুক অনেক উত্তর কোরিয়ান বরং উত্তরের দিকে যায় এবং সেখান থেকে চীনের সীমান্ত অতিক্রম করে।
কিন্তু উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসা লোকজনকে অবৈধ অভিবাসী বলে চীনে মনে করা হয় এবং ধরতে পারলে আবার ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হয়। এভাবে দেশে ফিরে গেলে এই দেশত্যাগীদের 'পিতৃভূমির প্রতি বিদ্রোহের' অভিযোগে নির্যাতনের শিকার হয়ে কারাগারে ঠাই হয়।
১৯৯০ সালে উত্তর কোরিয়ার চরম দুর্ভিক্ষের সময় অনেক কোরিয়ান তাদের দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন, যাকে বলা হয় আরডুয়োস মার্চ, যখন অন্তত ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
কিন্তু ২০১১ সালে কিম জং-আন ক্ষমতায় আসার পর থেকে উত্তর কোরিয়া থেকে দেশত্যাগী মানুষের সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে।
সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ আর দালালদের চাহিদা বেড়ে যাওয়াকে এর কারণ হিসাবে মনে করা হয়। মিরা যখন দেশ ত্যাগ করেন, তখন তার বয়স ২২ বছর।
দুর্ভিক্ষের শেষের দিকে তার জন্ম, যারা উত্তর কোরিয়ার নতুন প্রজন্ম হিসাবে বেড়ে উঠেছে। যারা আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেটের বদৌলতে ডিভিডি, কসমেটিকস, কাপড়চোপড় আর পাইরেটেডে বিদেশী চলচ্চিত্র দেখতে পারে।
বহির্বিশ্বের এসব জিনিস তাদের দেশ ত্যাগ করতে আগ্রহী করে তোলে। পাইরেডেট যেসব চলচ্চিত্র তারা দেখতে পায়, সেখানে বহির্বিশ্বের একটি খণ্ডিত চিত্র তাদের চোখে ধরা পড়ে, যা তাদের দেশ ত্যাগ করতে উৎসাহ যোগায়।
ফলে যারা উত্তর কোরিয়া ত্যাগ করে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন, মিরা তাদেরই একজন।
''আমি চীনা চলচ্চিত্রগুলো বুদ হয়ে গিয়েছিলাম এবং ভাবতে শুরু করেছিলাম যে, চীনের সব মানুষই হয়তো এরকম। আমি একজন চীনা যুবককে বিয়ে করতে চেয়েছিলাম এবং উত্তর কোরিয়াতে এরকম একজনকে অনেকদিন ধরে খুঁজেছি।'' বলছেন মিরা।
তারা পিতা, সাবেক সৈনিক এবং পার্টির একজন সদস্য ছিলেন খুবই কড়া একজন ব্যক্তি, যিনি পরিবারকে শক্ত হাতে পরিচালনা করতেন। কখনো কখনো তিনি মিরাকে মারধরও করতেন। একজন চিকিৎসক হতে চেয়েছিলেন মিরা, কিন্তু তার পিতা তাতে বাধা দেন। ফলে সে আরো বেশি হতাশ হয়ে পড়ে এবং চীনে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে।
''আমার বাবা ছিলেন পার্টির একজন সদস্য এবং এটা ছিল দম বন্ধ করা একটি ব্যাপার। তিনি আমাদের বিদেশী চলচ্চিত্র দেখতে দিতেন না, আমাকে একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে উঠতে হতো এবং ঘুমাতে যেতে হতো। আমার নিজস্ব কোন জীবন ছিল না।''
অনেক বছর ধরে মিরা একজন দালালকে খোঁজেন যিনি তাদের টুমেন নদী পার হয়ে সীমান্ত অতিক্রম করতে সহায়তা করবেন। কিন্তু সরকারের সঙ্গে তার পরিবারের সম্পর্ক চোরাকারবারিদের নার্ভাস করে তোলে যে, মিরা হয়তো তাদের সম্পর্কে সরকারকে জানিয়ে দেবে।
চার বছর ধরে চেষ্টার পরে অবশেষে তিনি এমন একজনে খুঁজে পেলেন, যিনি তাকে সীমান্ত পার হতে সহায়তা করবেন। অন্য অনেক দেশত্যাগীর মতো পাচারকারীদের দেয়ার জন্য মিরারও পর্যাপ্ত অর্থ ছিল না। সুতরাং সে 'বিক্রি' হতে রাজি হয়, যার ফলে কাজ করে সে তার দেনা শোধ করবে। মিরা ভেবেছিল, তাকে কাজ করতে হবে কোন রেস্তোরায়।
কিন্তু সে আসলে প্রতারণার শিকার হয়। মিরা এমন একটি পাচারকারী গ্রুপের শিকারে পরিণত হয়, যারা উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসা নারীদের যৌন ব্যবসায় বাধ্য করে থাকে।
টুমেন নদী পার হয়ে চীনে প্রবেশের পর মিরাকে সরাসরি ইয়ানজি শহরে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাকে একজন কোরিয়ান-চীনা ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই ব্যক্তিকে এরপর থেকে সে 'পরিচালক' হিসাবেই চিনবে।
ইয়ানবিয়ান অঞ্চলের কেন্দ্র স্থলে ইয়ানজি শহরটি অবস্থিত। আদি কোরিয়ান অধ্যুষিত এলাকাটি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম কেন্দ্র, যেখানে উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসা অনেকেই লুকিয়ে থাকেন।
পলাতকদের বড় একটি অংশই নারী। কিন্তু চীনে তাদের বসবাসের কোন আইনি মর্যাদা না থাকায় এই নারীরা সহজ শিকারে পরিণত হয়। অনেকে গ্রামীণ এলাকাগুলোয় কনে হিসাবে বিক্রি হয়, অনেকে যৌনকর্মী হিসাবে কাজ করতে বাধ্য হয়, আর মিরার মতো অনেকে ক্যামেরার সামনে যৌনতা সংশ্লিষ্ট কাজ করতে বাধ্য হয়। অ্যাপার্টমেন্টে আসার পর ওই পরিচালক মিরার কাছে অবশেষে ব্যাখ্যা করে বলেন যে, তার চাকরিটা আসলে কী?
মিরার জন্য একজন প্রশিক্ষক ঠিক করে দেন তিনি, যে তার সঙ্গে একই রুমে থাকবে। মিরাকে চোখে চোখে রাখবে, শেখাবে এবং অভ্যাস করাবে।
''আমি এটা বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। অনেক মানুষের সামনে সব পোশাক খুলে ফেলা, একজন নারী হিসাবে এটা খুবই অপমানজনক ছিল। আমি কান্নায় ভেঙ্গে পড়লে তারা আমাকে জিজ্ঞেস করে, আমার দেশের কথা মনে পড়ছে কিনা!''
ওই যৌন ওয়েবসাইট এবং এর বেশিরভাগ গ্রাহকই দক্ষিণ কোরিয়ান। তারা প্রতি মিনিটের জন্য টাকা দিতো, সুতরাং নারীদের উৎসাহ দেয়া হতো তারা যেন যত বেশি সম্ভব গ্রাহকদের ওয়েবসাইটে ধরে রাখে।
যখনি মিরা আর এই কাজ করতে চাইতো না, ওই পরিচালক তাকে উত্তর কোরিয়া ফেরত পাঠিয়ে দেয়ার হুমকি দিতেন।
''আমার পরিবারের সব সদস্য সরকারে কাজ করে। আমি সেখানে ফিরে গেলে তাদের সবার লজ্জার কারণ হবো। তার চেয়ে আমার নিখোঁজ হয়ে যাওয়া বা মরে যাওয়া ভালো।'' বলছেন মিরা। একই সময়ে ওই অ্যাপার্টমেন্টে নয়জন পর্যন্ত নারী থাকতেন। যখন মিরার প্রথম রুমমেট আরেকটি মেয়ের সঙ্গে মিলে পালিয়ে যায়, তখন মিরাকে আরেকটি গ্রুপের সঙ্গে থাকতে দেয়া হয়। সেখানেই তার প্রথম জিউনের সঙ্গে পরিচয় হয়।
২০১০ সালে যখন উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসে, তখন জিউনের বয়স মাত্র ১৬ বছর।
তার দুই বছর বয়সের সময় তার বাবা-মায়ের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় এবং তাদের পরিবার চরম দারিদ্রের মধ্যে পড়ে। ১১ বছর বয়সে তার স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়, যাতে সে কাজ করতে পারে। বাড়তি কিছু অর্থ আয়ের উদ্দেশ্যে অবশেষে তার পরিবার চীনে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
কিন্তু মিরার মতো সেও দালালদের খপ্পরে পড়ে।
যখন সে ইয়ানজি শহরে আসে, 'পরিচালক' তাকে পুনরায় উত্তর কোরিয়া পাঠিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। কারণ সে বলে, ''জিউন খুব কালো আর অসুন্দর।''
কিন্তু পরিস্থিতি যাই হোক, জিউন আর সেখানে ফিরে যেতে রাজি ছিল না।
''এটা এমন একটি কাজ, যেটা আমি সবচেয়ে অপছন্দ করি। কিন্তু চীনে আসার জন্য আমি জীবনের ঝুঁকি নিয়েছি, সুতরাং আমি খালি হাতে ফেরত যেতে পারি না।'' বলছেন জিউন।
''আমার স্বপ্ন ছিল পৃথিবী ছাড়ার আগে আমার দাদা-দাদীকে খানিকটা ভাত খাওয়ানো, যার জন্য আমি সবকিছুই করতে পারি। আমি পরিবারের কাছে কিছু টাকা পাঠাতে চেয়েছিলাম।''জিউন খুব কঠোর পরিশ্রম করে। তার আশা ছিল, পরিচালক হয়তো তার কর্মনিষ্ঠার জন্য তাকে পুরস্কৃত করবে। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারবে আর তাদের কাছে টাকা পাঠাতে পারবে, এই প্রতিশ্রুতিকে সে এমনভাবে কাজ করতে থাকে যার ফলে সেখানকার অন্য মেয়েদের চেয়েও সে বেশি অর্থ আনতে শুরু করে।
''আমি চেয়েছিলাম যে পরিচালক আমার গুরুত্ব বুঝতে পারুক এবং আমি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে চেয়েছিলাম। আমি ভেবেছিলাম, ভালো করতে পারলে এই বাড়ি থেকে মুক্তি পাওয়া প্রথম মেয়েটি হবো আমি।''
অনেক সময় রাতে সে মাত্র চার ঘণ্টা ঘুমিয়েছে, যাতে সে প্রতিদিনকার লক্ষ্য ১৭৭ ডলার আয় করতে পারে। পরিবারের জন্য অর্থ আয় করতে সে অনেকটা মরিয়া হয়ে ছিল।
এ সময় জিউন মিরাকেও পরামর্শ দিয়েছিল যেন সে বিদ্রোহী হয়ে না ওঠে এবং পরিচালকের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রক্ষা করে।
মিরাকে সে পরামর্শ দিয়েছিল,'' প্রথমত, কঠিন পরিশ্রম করতে হবে। পরিচালক যদি তোমাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে না থাকে, তাহলে তার সাথে সুসম্পর্ক রক্ষা করতে পারো।''
জিউন বলছে, ওই বছরগুলোতে অন্য মেয়েদের চেয়ে সে অনেক বেশি অর্থ আয় করেছে।
''আমি ভেবেছিলাম পরিচালক সত্যিকারে আমাকে পছন্দ করে। কিন্তু যেদিন আমার আয় কমে গেল, তার চেহারার অভিব্যক্তিও বদলে গেলো। সে হয়তো আমাদের বলতে পারতো যে, এত কষ্ট করো না।''ওই অ্যাপার্টমেন্টটি পরিচালকের পরিবারের সদস্যরা কড়াভাবে পাহারা দিতো। তারা পিতা-মাতা সামনের কক্ষে ঘুমাতো এবং সামনের দরজাটি সবসময়েই বন্ধ থাকতো।
পরিচালক নিজেই মেয়েদের খাবার পৌঁছে দিতো এবং তার ভাই প্রতিদিন সকালে এসে আবর্জনা নিয়ে যেতো।
''এটা ছিল পুরোপুরি একটি কারাগার, বরং তার চেয়েও খারাপ।'' বলছেন জিউন।
প্রতি ছয়মাসে একবার বাইরে যাওয়ার সুযোগ পেতো উত্তর কোরিয়ার মেয়েরা। তবে আয় অনেক বেশি হলে মাসে একবার এই সুযোগ মিলতো। এ সময় তারা কেনাকাটা করতো অথবা চুলের পার্লারে যেতো। কিন্তু তখনো তাদের অন্য কারো সঙ্গে কথা বলতে দেয়া হতো না।
''একজন প্রেমিকের মতো আমাদের পাশাপাশি হাঁটতেন পরিচালক, কারণ তিনি ভয় পেতেন যে, আমরা হয়তো পালিয়ে যাবো।'' বলছেন মিরা। '' আমি আশেপাশে হেটে দেখতে চাইতাম, কিন্তু সেটা কখনো করতে দেয়া হতো না। কারো সঙ্গে আমাদের কথা বলতে দেয়া হতো না, এমনকি পানির একটি বোতল কেনার সময়েও না। নিজেকে আমার বোকা বোকা মনে হতো। ''
একজন উত্তর কোরীয় নারীকে অ্যাপার্টমেন্টে 'ব্যবস্থাপক' হিসাবে নিয়োগ দিয়েছিলেন পরিচালক। যখন পরিচালক থাকতেন না, তার পক্ষে অন্য মেয়েদের ওপর তিনি নজরদারি করতেন।
মিরাকে ওই পরিচালক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, ভালোভাবে কাজ করলে একজন ভালো মানুষের সঙ্গে তার বিয়ে দিয়ে দেবেন। জিউনকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তাকে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেবেন। যখন জিউন তাকে ছেড়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ করে, তখন তাকে বলা হয়, তার যাতায়াতের জন্য ৫৩২০০ ডলার দিতে হবে। পরে তিনি বলেন, তিনি জিউনকে মুক্তি দিতে পারছেন না, কারণ কোন দালালকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
ওয়েবক্যামের সামনে যৌনতার কাজ করার পর যে অর্থ উপার্জন হয়, তার কোন কিছুই কখনো পাননি মিরা বা জিউন।
প্রথমে পরিচালক রাজি হয়েছিল যে, মোট আয়ের ৩০ শতাংশ তাদের দেয়া হবে। যখন তারা চলে যাবে, তখন এই অর্থ তারা পাবে।
কিন্তু মিরা এবং জিউন ক্রমেই বুঝতে শুরু করেছিল যে, তারা হয়তো কোনদিনই মুক্তি পাবে না।
জিউন বলছেন, ''এরকম পরিস্থিতিতে সাধারণত আমরা যা ভাবি, আত্মহত্যা কোন সমাধান নয়। কিন্তু আমি একবার অতিরিক্ত ওষুধ খেয়েছিলাম আর আরেকবার জানালা থেকে ঝাপ দেয়ার চেষ্টা করেছিলাম।''
এর মধ্যেই মিরার পাঁচটি বছর আর জিউনের সাতটি বছর চলে গেছে। এরপর তিন বছর ধরে চেনা মিরার ওয়েবক্যামের একজন গ্রাহকের তার প্রতি মায়া হয়। তিনি মিরাকে প্যাস্টর চুয়ান কিওয়ানের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন, যিনি গত ২০ বছর ধরে উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসা মানুষজনকে সহায়তা করছেন।
ওই গ্রাহক দূর থেকে মিরার কম্পিউটারে একটি বার্তা পাঠানোর অ্যাপলিকেশন স্থাপন করে দেন, যা দিয়ে মিরা প্যাস্টরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে।
উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসা মানুষজনের মধ্যে প্যাস্টর চুয়ান কিওয়ান ভালো পরিচিত। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন প্রায়ই তাকে আক্রমণ করে 'অপহরণকারী' বলে বর্ণনা করে।
১৯৯৯ সালে ক্রিশ্চিয়ান দাতব্য প্রতিষ্ঠান ডুরিহানা প্রতিষ্ঠান পর থেকে তিনি প্রায় ১২০০ দেশত্যাগীকে নিরাপত্তায় সহায়তা করেছেন।
তিনি প্রতিমাসেই দুই অথবা তিনটি উদ্ধার অভিযানের অনুরোধ পান। তবে মিরা আর জিউনের ঘটনাটি তাকে খুবই আহত করে।
প্যাস্টর চুয়ান কিওয়ান বলছেন, ''আমি অনেক মেয়েকে দেখতে পেয়েছি যারা তিনবছর ধরে কারাগারে আছে। কিন্তু এতবছর ধরে এভাবে আটকে রাখার ঘটনা আর আমি দেখিনি। এটা আমার হৃদয় ভেঙ্গে দিয়েছিল।''
তিনি বলছেন, নারীদের পাচারকারী চক্রটি অনেক বেশি সংঘবদ্ধ এবং সীমান্তে পাহারা দেয়া কিছু উত্তর কোরীয় সেনাও এর সাথে জড়িত। চীনের সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী স্থানীয়দের ভাষায়, নারীদের পাচারকে ''কোরিয়ান শুকরের ব্যবসা' বলে বর্ণনা করা হয়। পাচার করা নারীদের দাম ১০০ ডলার থেকে শুরু করে হাজার ডলার হতে পারে।
যদিও সরকারি পরিসংখ্যান পাওয়া কঠিন, তবে ব্যাপক হারে উত্তর কোরিয়ার নারীদের পাচারের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মানব পাচারের ওপর বাৎসরিক প্রতিবেদনে উত্তর কোরিয়াকে সবচেয়ে নিকৃষ্ট দেশগুলোর একটি বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
পরবর্তী কয়েক মাস ধরে মিরা এবং জিউনের সঙ্গে একজন গ্রাহক সেজে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন চোয়ান।
তিনি বলছেন, '' সাধারণত আটকে রাখা নারীরা বুঝতে পারে না তারা কোথায় আছে, কারণ এসব অ্যাপার্টমেন্টে হয়তো রাতের বেলা বা চোখ বন্ধ করে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়। ভাগ্যক্রমে মিরা এবং জিউন জানতো যে তারা ইয়ানজিতে রয়েছে এবং তারা বাইরে একটি হোটেলের চিহ্ন দেখতে পাচ্ছিল।''
গুগল ম্যাপ থেকে তাদের ঠিকানা বের করে ওই অ্যাপার্টমেন্টটি আগে থেকে ভালো মতো দেখার জন্য একজন স্বেচ্ছাসেবীকে পাঠান চোয়ান।
দেশত্যাগী যেকারো জন্যই চীন থেকে বেরিয়ে যাওয়া বিপদজনক হতে পারে। বেশিরভাগই তৃতীয় একটি দেশে যেতে চান অথবা দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাসে। যেখান থেকে তারা বিমানে করে দক্ষিণ কোরিয়ায় যেতে পারবেন এবং আশ্রয় চাইতে পারবেন।
তবে কোন পরিচয়পত্র ছাড়া চীনের ভেতর দিয়ে ভ্রমণ করাটি তাদের জন্য বিপদজনক।
''অতীতে দেশত্যাগী মানুষজন ভুয়া পরিচয়পত্র দিয়ে চলে যেতে পারতো। কিন্তু এখন কর্মকর্তারা এমন যন্ত্র ব্যবহার করেন, যা দিয়ে বোঝা যায় যে, পরিচয়পত্রটি আসল নাকি নকল।'' বলছেন চোয়ান।
ওই অ্যাপার্টমেন্ট থেকে পালানোর পর জিউন এবং মিরা চীনের ভেতর দিয়ে ডুরিহানার স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে দীর্ঘ যাত্রা শুরু করেন।
পরিচয়পত্র না থাকার কারণে তারা কোন হোটেলে উঠতে পারেননি। ফলে তাদের ট্রেনে ঘুমানো অথবা রেস্তোরায় জেগে বসে থেকে রাত পার করতে হয়েছে। চীনের শেষের দিনে পাঁচ ঘণ্টা ধরে একটি পাহাড় বেয়ে ওঠার পর তারা সীমান্ত অতিক্রম করে প্রতিবেশী একটি দেশে প্রবেশ করে। যে পথ ধরে তারা সেখানে গিয়েছে, তা প্রকাশে বাধা রয়েছে।
অ্যাপার্টমেন্ট থেকে পালানোর ১২ দিন পরে মিরা এবং জিউনের সঙ্গে প্রথমবারের মতো চোয়ানের দেখা হয়।
''আমি ভেবেছিলাম, আমি তখনি নিরাপদ বোধ করবো যখন আমি দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকত্ব পাবো। কিন্তু প্যাস্টর চোয়ানের সঙ্গে দেখা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি নিরাপদ বোধ করতে শুরু করলাম। আমি মুক্তি পাওয়ার আনন্দে কাঁদতে শুরু করলাম।'' বলছেন জিউন।
পরের ২৭ ঘণ্টা ধরে তারা একটি গাড়িতে করে একসঙ্গে কাছের দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন।
চোয়ান বলছেন, অনেক উত্তর কোরিয়ানের জন্য যাত্রার শেষের অংশটি কঠিন হয়ে যায়, যেহেতু সেটি গাড়িতে করে যেতে হয়, যা অনেকেরই সামর্থ্যের বাইরে।
''দেশত্যাগীরা অনেক সময় গাড়ির ব্যাপারে অসুস্থ হয়ে পড়ে, বমি করেন। এটা নরকের মতো একটি রাস্তা, যা স্বর্গের দিকে নিয়ে যায়।'' বলছেন চোয়ান। দূতাবাসে পৌঁছানোর খানিকক্ষণ আগ মিরা দুর্বলভাবে হাসেন এবং বলেন, তার কান্না আসছে।
''আমার মনে হচ্ছিল, আমি সব দুঃখ দুর্দশা কাটিয়ে উঠলাম। অনেক অনুভূতি আসাযাওয়া করলো। দক্ষিণ কোরিয়া গেলে আমি হয়তো কখনোই আমার পরিবারের সদস্যদের দেখতে পাবো না, সেজন্য আমার অপরাধ বোধও লাগছিল। আমার দেশত্যাগের উদ্দেশ্য এটা ছিল না।'' বলছেন জিউন।
প্যাস্টর চোয়ান এবং দুই তরুণী একসঙ্গে দূতাবাসে প্রবেশ করেন। কয়েক সেকেন্ড পর চোয়ান ফিরে যান, তার কাজ শেষ হয়ে গেছে।
মিরা এবং জিউনকে সরাসরি দক্ষিণ কোরিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর অনেক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয় দুইজনকে, যাতে তারা নিশ্চিত হতে পারে যে তারা গুপ্তচর নয়।
এরপরে তাদের পরবর্তী তিনমাস কাটাতে হবে উত্তর কোরিয়ানদের জন্য নির্ধারিত হানাউইন পুনর্বাসন কেন্দ্রে, যেখানে তারা দক্ষিণ কোরিয়ার জীবনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতার প্রশিক্ষণ পাবেন।
দেশত্যাগীরা শিখবেন কিভাবে বাজারহাট করতে হয়, কিভাবে স্মার্ট ফোন চালাতে হয়, মুক্তবাজার অর্থনীতি আর চাকরির প্রশিক্ষণ পাবেন। তাদের নিয়মিত কাউন্সেলিং দেয়া হবে। এরপরে তারা দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক হয়ে উঠবেন।
''আমি ইংরেজি অথবা চাইনিজ শিখতে চাই, যাতে আমি একজন ভ্রমণ গাইড হতে পারি'' বলছেন মিরা।
''কফি শপে কফি খেয়ে আর বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করে আমি একটি স্বাভাবিক জীবন কাটাতে চাই।'' বলছেন জিউন। ''কেউ একজন আমাকে বলেছিল, একটি বৃষ্টি ঠিকই থামবে, কিন্তু আমার জন্য বর্ষাকাল একদিন ধরে চলেছে যে, আমি সূর্যের কথা ভুলেই গেছি।''
Friday, January 18, 2019
প্রতি তিনজনে একজন নারী পারিবারিক সহিংসতার শিকার -অ্যাকশন এইডের প্রতিবেদন

কিন্তু, প্রকৃত সত্য হচ্ছে নারীদের প্রতি বেশির ভাগ সহিংসতা বাড়িতে সংগঠিত হয়। ঘরের প্রতি তিন জনের মধ্যে দুই জন নারীই নানাভাবে পরিবারের লোকজনের দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছেন।
বাংলাদেশের ২০টি জেলায় সংঘটিত সহিংসতার তথ্য, পুলিশের কাছে রিপোর্ট হওয়া অভিযোগ, বিচার বিভাগীয় কার্যক্রম, জে এন এন পি এফ এর নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা বিরোধী সরকারি সংস্থা এবং নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা মিডিয়া প্রতিবেদন থেকে নেয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে এ গবেষণা করা হয়েছে। গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসলিমা ইয়াসমিন।
এ গবেষণায় বলা হয়েছে, নারীরা ঘরেই বেশি নিরাপদ এই প্রচলিত বিশ্বাস এমন একটি অনুমানের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে যে, জনপরিসরে নারী নিরাপত্তাকে তা আরো বেশি ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। এখন পর্যন্ত কোনো আইনই এটা মানতে রাজি নয় যে, বিয়ের পর নারীরা ধর্ষণের শিকার হতে পারে।
গবেষণায় আরো বলা হয়েছে, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা সম্পর্কিত মামলাগুলোর প্রতি পাঁচটির মধ্যে চারটি মামলাই আদালতে উত্থাপিত হতে দুই বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়। তারপর বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সহিংসতায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে ৩ দশমিক ১ শতাংশ নিজেদের পক্ষে বিচার পায়, ৯৬ দশমিক ৯ শতাংশ ভুক্তভোগীর অভিযোগ আদালতে শুনানির পর্যায়ে যায় না বা গেলেও বাতিল হয়ে যায়।
আদালত মামলা খারিজ করে দেয়ার বা আসামিকে খালাস দেয়ার সম্ভাবনা ৩২ শতাংশ। শুধু মাত্র ১০ দশমিক ৭ শতাংশ মামলা থাকে পারিবারিক বিরোধ সংক্রান্ত। যদিও বেশির ভাগ অভিযোগ পারিবারিক সহিংসতা সম্পর্কিত। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ৭৫ শতাংশ প্রতিবেদনে ধর্ষণ বা সংঘবদ্ধ ধর্ষণ সম্পর্কিত। গবেষণার তথ্য মতে, সহিংসতা প্রতিবেদন কম হওয়ার কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে- অভিযোগ দাখিল সংক্রান্ত কোনো তথ্য থাকে না, এলাকার ক্ষমতাসীনদের বাধা এবং হস্তক্ষেপ, সুশাসনের অভাব, ঘরে নারী নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোনো সচেতনতামূলক কার্যক্রম না থাকা, মামলার ধীর গতির কারণে ভুক্তভোগীরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে অভিযোগ নিয়ে যেতে চায় না, বেশির ভাগ সময়ই ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে রায় যায়, যা তাদের আরো সমস্যায় ফেলে দেয়।
অনুষ্ঠানে ‘কর্ম এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা ২০০৯ বাস্তবায়ন’ বিষয়ক পৃথক একটি গবেষণাপত্রও উপস্থাপন করা হয়। গবেষণাটি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসলিমা ইয়াসমিন। এতে বলা হয়েছে, কর্ম এবং শিক্ষাক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ২০০৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন একটি তাৎপর্যপূর্ণ রায় বা নির্দেশনা ঘোষণা করে। তবে এ নির্দেশনা প্রণয়নের দীর্ঘ নয় বছর পরেও কর্ম এবং শিক্ষাক্ষেত্রে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা বা কৌশল হাতে নিতে দেখা যায়নি।
এর পরিপ্রেক্ষিতে অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের গবেষণায় দেখানো হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৮৪ শতাংশ শিক্ষার্থী যৌন হয়রানি প্রতিরোধসংক্রান্ত কমিটির কথা জানেন না। ৮৭ শতাংশ শিক্ষার্থী সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা সম্পর্কে জানেন না। কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধের নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হওয়ার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ বিশেষ করে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের অসচেতনতার উল্লেখযোগ্য অভাবের কথা ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ১৪ জন উত্তরদাতার মধ্যে ৬৪ দশমিক ৫ শতাংশ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না। অন্যদিকে ১৪ শতাংশ উত্তরদাতা নির্দেশনা সম্পর্কে জানলেও এ বিষয়ে কোনো পরিষ্কার ধারণা তাদের নেই। এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে বেশ কিছু সুপারিশও তুলে ধরা হয়েছে গবেষণা প্রতিবেদনে।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা এবং নিজ ঘরে এর ব্যাপকতা নির্মূল করার জন্য একটি আইন করা এবং তার বাস্তবায়ন করা, নারীরা যেন ঘরে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনাগুলো চিহ্নিত করতে পারে সেজন্য তাদের সচেতন করতে হবে ও ক্ষমতা বাড়াতে হবে, নারীরা যাতে সহিংসতার ঘটনার প্রতিবাদ, প্রতিরোধ কিংবা অভিযোগ করতে পারেন সেজন্য সব তথ্য দেবেন এবং সহযোগিতা নিশ্চিত করবে সরকার। সুপারিশে গণমাধ্যমকে পারিবারিক সহিংসতা বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচারে নজর দেয়ার জন্য এবং সরকারকে দেশের আইনে বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে এর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়। অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ এর ডেপুটি ডিরেক্টর ফারিয়া চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুল করিম, দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, বাংলা ট্রিবিউনের হেড অব নিউজ হারুন উর রশীদ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. সামিয়া হক, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের উপকমিশনার ফরিদা ইয়াসমিন প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাজী রিয়াজুল হক বলেন, নারীদের প্রতি সহিংসতা ও যৌন হয়রানি এটা আমাদের সমাজে নতুন কিছু নয়। এটা শুধু আমাদের দেশের নয় এটা বৈশ্বিক সমস্যা। এই সমস্যা সামাধানে আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। এজন্য নারীদের পাশাপাশি পুরুষদেরও সচেতন হতে হবে। আমাদের সংবিধানে পরিষ্কার করে বলা আছে নারী-পুরুষের সমান অধিকার সম্পর্কে। সবাইকে সচেতনার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনকে আরো সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। প্রশাসন যদি সচেতন হয় তাহলে আরো গভীরভাবে এই সমস্যার সমাধান পাওয়া যাবে।
Tuesday, January 8, 2019
সেদিনের বীভৎসতায় এখনো আঁতকে ওঠেন নির্যাতিতা

আদালত সূত্র জানায়, ধর্ষিতার পোস্ট ট্রমাটি স্টেচ ডিজ অর্ডার (পি.টি.এস.ডি) হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নবনীতা গুহ হাসপাতালের কেবিনে গিয়ে ২২ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করেন। ধর্ষিতা জানান, কোর্টের হাকিমকে মহিলা পেয়ে আমি ধানের শীষে ভোট দেয়ায় আমার ওপর কী অত্যাচার করেছে সব কথা বলেছি, যারা আমাকে ধর্ষণ করেছে তাদের সবার নাম বলেছি।
সেই দিনের বীভৎসতার কথা, যা এখনো মনে হলে আঁতকে উঠি। সুবর্ণচর উপজেলা চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ.ন.ম খায়রুল আলম সেলিম বলেন, রুহুল আমিন বিএনপি থেকে ভোটের আগে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে। গণধর্ষিতার চিকিৎসার ব্যয়ভারসহ সকল দায়-দায়িত্ব নিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ সেক্রেটারি ও এমপি একরামুল করিম চৌধুরী। তিনি মাইজদী শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহীন ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আবদুল মমিন বিএসসিকে হাসপাতালে পাঠিয়ে ভিকটিমের সঙ্গে দেখা করে দায়িত্ব নেয়ার কথা জানান।
চরাঞ্চল ঘুরে জানা গেছে, ভোটের রাতে গণধর্ষণের ঘটনায় এই আলোচিত ওসি মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও সাবেক মেম্বার রুহুল আমিন এবং ধানের শীষে ভোট দেয়ার তথ্য-উপাত্ত বাদ দিয়ে গণধর্ষণ মামলা রেকর্ড করে। এ নিয়ে স্থানীয় জনমনে ক্ষোভ ও অসন্তোষ চলছে। সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের মধ্য ব্যাগ্যা গ্রামে গৃহবধূ গণধর্ষণের ওই রাত থেকে পলাতক ছিল মামলায় এজাহারভুক্ত ৭ নং আসামি আবুল (৪০)। এর মধ্যে মাঝে মাঝে স্ত্রী ছেমনা খাতুনের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করতো আবুল। ঘটনাটি নিয়ে যখন চারদিকে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় তখন পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়।
এরপর ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে অনেককেই গ্রেপ্তার করা হয়। তখন ছেমনা তার স্বামী আবুলকে সেই সব বিষয়ে অবগত করেন এবং নিজ থেকে এসে পুলিশে ধরা দিতে অনুরোধ করেন। কিন্তু আবুল তাতে কর্ণপাত করেনি। গত ২/৩ দিন ধরে ছেমনা স্বামীকে বলেন- স্বেচ্ছায় পুলিশে ধরা না দিলে তার ফাঁসি হয়ে যাবে। এর সূত্র ধরে, রোববার বিকালে ছেমনা তার স্বামী আবুলকে দেখা করার জন্য আটকপালিয়া বাজারে আসতে বলে। স্ত্রীর কথামতো বিকাল ৫টার দিকে ওই বাজারে আসে আবুল। এসময় ছেমনা স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় কৌশলে আবুলকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
চরজব্বার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইব্রাহিম খলিল জানান, আবুলের স্ত্রীর সহযোগিতায় আটকপালিয়া বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে এই মামলার এজাহারভুক্ত ৭নং আসামি। সুবর্ণচরে গণধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার আরো ২ ধর্ষক। অভিযুক্ত আরো দুই আসামি নোয়াখালীর সেনবাগে গ্রেপ্তার মামলা গোয়েন্দা পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে। নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের মধ্য ব্যাগ্যা গ্রামে ৩০শে ডিসেম্বর ধানের শীষ মার্কায় ভোট দেয়ার ঘটনায় স্বামী-সন্তানদের বেঁধে রেখে ৪ সন্তানের জননী গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত আরো দুই আসামি মুরাদ (৩০), ইব্রাহিম খলিল প্রকাশ বেচু (৪০)কে সেনবাগ থেকে গ্রেপ্তার করেছে নোয়াখালী গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রোববার ৬ই জানুয়ারি সন্ধ্যার সময় নোয়াখালী গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি’র) ওসি (তদন্ত) জাকির হোসেনের নেতৃত্বে সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের নুরুল আমিনের (এম.পি.ডি) ব্রিকফিল্ডে অভিযান চালিয়ে সুবর্ণচরের মধ্যব্যাগ্যা গ্রামের মো. রফিকের ছেলে মুরাদ তাকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে গত ৩রা জানুয়ারি অপর এক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত অপর আসামি ইব্রাহিম খলিল প্রকাশ বেচু, একই উপজেলার আরিফের ব্রিকফিল্ড থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এই নিয়ে শনিবার রাত থেকে রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত পুলিশ আলাদা অভিযান চালিয়ে ধর্ষণ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করলো। এ পর্যন্ত সর্বমোট ১০ জন গ্রেপ্তার হলো। গ্রেপ্তার হওয়া অপর দুইজন হচ্ছে মধ্যব্যাগ্যা গ্রামের টোকাইয়ের ছেলে সালাউদ্দিন ও একই গ্রামের সেরু মিয়ার ছেলে আবুল। এরই মধ্যে মামলার এজাহারভুক্ত ৭ জনের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান বলেছেন- নোয়াখালীতে গণধর্ষণের ঘটনাকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে এবং সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সর্বোচ্চ গুরুত্বের কারণেই কিন্তু ৪৮ ঘণ্টার অ্যাকশন নিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে ১০ আসামিকে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা আশাবাদী সকল আসামি ধরা পড়বে এবং আইনানুগভাবেই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সোমবার সকালে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুবর্ণচর উপজেলার মধ্যব্যাগ্যা গ্রামে গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূর খোঁজখবর নেন বিভাগীয় কমিশনার।
এসময় তিনি ভিকটিমকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা এবং আইনি সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস দেন। পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। এসময় বিভাগীয় কমিশনার আরো বলেন, গণধর্ষণের সঙ্গে জড়িত কেউ ছাড় পাবে না। এই বিষয়টি কতটা রাজনৈতিক অথবা কতটা নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তা খতিয়ে দেখতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। বিভাগীয় কমিশনার বলেন, আজকেও সময় টেলিভিশন চ্যানেলে দেখেছি, পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই এ ঘটনাটি ঘটেছে। ৩০ তারিখের নির্বাচনের সঙ্গে এটাকে যুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ধর্ষিতার চিকিৎসা এবং তার নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ভিকটিম নিজেই বলেছেন আগের চেয়ে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। এসময় জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস, পুলিশ সুপার মো. ইলিয়াছ শরীফ, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী ড. মাহে আলম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ কামাল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আব্দুর রউফ মণ্ডল, নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. খলিল উল্যাহ, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুল ইসলাম সরদার, স্বাচিপ নোয়াখালীর সভাপতি ডা. ফজলে এলাহী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার পাঙ্খার বাজার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নারীদের নিরাপত্তা দাবি ও গণধর্ষণের বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে উপজেলা ভূমিহীন কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন উন্নয়ন সংস্থা নিজেরা করি’র সমন্বয়ক খুশি কবির।
উপজেলা ভূমিহীন সংগঠনের সভাপতি ছেরাজুল হক খোকনের সভাপতিত্বে ও পাঙ্খারবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী ফাতেমা আক্তারের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মানবাধিকার আইনজীবী সমিতির নির্বাহী সদস্য এড. সালমা আলী, ভূমিহীন নেতা শাহানা আক্তার, ইব্রাহিম খলিল ও নুর উদ্দিন, পাঙ্খারবাজার জুনিয়র হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক আক্তার হোসেন বাবুল, ভূমিহীন অঞ্চল কমিটির সমন্বয়ক খোদেজা বেগম, গণধর্ষণের শিকার পারুল বেগমের ওয়ার্ডের পুরুষ মেম্বার খলিল উল্যাহ, মহিলা মেম্বার আমেনা বেগম, ভুক্তভোগী অর্থসম্পদ ও সতীত্বহরণকারী ২৫ জন নারী মিনা, রহিমা, আয়েশা, মনোয়ারা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। প্রধান অতিথি সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সন্ত্রাসী-ধর্ষকদের প্রতিহত করার আহ্বান জানান। সমাবেশে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে হাজারো নারী-পুরুষ সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন।
সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে অনেকে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। তারা গণধর্ষণকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি করেন। একই সঙ্গে স্বাধীন দেশে নারীদের নিরাপত্তার দাবি করেন। নিজেরা করি এনজিও’র নির্বাহী পরিচালক খুশি কবির ডিসি, এসপি’র সঙ্গে সন্ধ্যায় দেখা করে গণধর্ষিতাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর অনুরোধ করেন। এদিকে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি ও জামিয়া রহমানিয়া আরাবিয়া’র শাইখুল হাদিস মাওলানা মামুনুল হক গতকাল সোমবার সকাল ১১টার দিকে যুব মসলিসের নেতাকর্মীদের নিয়ে হাসপাতালে যান। এসময় তিনি ভিকটিমের সুচিকিৎসা, নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করে প্রকৃত আসামিদের দ্রুত বিচার আইনের আওতায় এনে নরপিশাচদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
Tuesday, January 1, 2019
গৃহকর্মীকে যৌন নির্যাতন করেছিলেন প্রেসিডেন্ট দুতের্তে

এক বক্তব্যে তিনি এসব স্বীকার করেছেন।
বলেছেন, একবার একজন যাজকের কাছে তিনি স্বীকার করেছিলেন একজন গৃহপরিচারিকা একবার ঘুমিয়ে ছিলেন। সেই সময় তিনি কিভাবে তার আন্ডারওয়্যারের ভিতরে ঢুকে পড়েছিলেন। দুর্তেতে ওই গৃহপরিচারিকার বিষয়ে বলেন, আমি তার কম্বল তুললাম। তাকে স্পর্শ করলাম। তার প্যান্টির ভিতরে আমার হাত। আমি তাকে স্পর্শ করছি। এমন সময় সে জেগে গেলো। ফলে আমি তার রুম থেকে বেরিয়ে এলাম। এরপর আমি আবার তার ঘরে প্রবেশ করি এবং তাকে আবার যৌন নির্যাতন করার চেষ্টা করি।
একজন প্রেসিডেন্ট হয়ে এমন স্বীকারোক্তি দেয়ায় ক্ষেপেছে নারী অধিকার বিষয়ক গ্রুপ গাব্রিয়েলা। তারা বলেছেন, যে পদে আছেন দুতের্তে সেখানে তিনি অযোগ্য। তার পদত্যাগ করা উচিত। এ ছাড়া তার এমন মন্তব্যের কড়া নিন্দা জানিয়েছে ফিলিপাইনের অন্যান্য অধিকার বিষয়ক গ্রুপ। গাব্রিয়েলা বলেছে, শুধু ধর্ষণ করলেই ধর্ষণ হয় এমন না। এ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জোমস সালভাদোর বলেছেন, দুতের্তে যা করেছেন তাকে ধর্ষণ হিসেবে গণ্য করা যায়। ওদিকে কোয়ালিশন এগেইনস্ট ট্রাফিকিং ইন ওমেন এশিয়া প্যাসিফিক সতর্ক করেছে। তারা বলেছে, প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যে দেশের গৃহকর্মে নিয়োজিতরা ঝুঁকিতে পড়বেন। এর নির্বাহী পরিচালক জ্যাঁ এনরিক বলেছেন, তার এ ধরণের মন্তব্যে ধর্ষণ সংস্কৃতি ও গৃহকর্মদৈর ওপর যৌন নির্যাতন বেড়ে যাবে। এখন বিশ্বে বিভিন্ন দেশে ফিলিপাইনের ১০ লাখেরও বেশি গৃহকর্মী নিয়োজিত।
দুতের্তে এমন সব বিস্ফোরক মন্তব্য ও স্বীকার করলেও এখনও তিনি ফিলিপাইনে জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট।
Monday, November 26, 2018
স্বামীর হাতে ধর্ষণ: বাংলাদেশে এক নারীর অভিজ্ঞতা

বিষয়টি নিয়ে কাজ করেন এমন নারী অধিকার কর্মীরা বলছেন, স্বামী দ্বারাও যে ধর্ষণ সম্ভব সেটি সামাজিকভাবেও একটি অদ্ভুত ধারনা বলে বিবেচিত হয়। তাছাড়া, বাংলাদেশের কোন আইনেই বৈবাহিক সম্পর্কের মধ্যে ধর্ষণ বিষয়টি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত নয়।
নিজেদের অধিকার নিয়ে দিন দিন সরব হচ্ছেন বাংলাদেশের নারীরা। কিন্তু স্বামীর হাতে ধর্ষণের ইস্যুটি এখনও কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে সমাজে?
স্বামীর কাছে দিনের পর দিন যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, এমন এক নারী বিবিসির কাছে তার অভিজ্ঞতার কথা বলতে রাজী হন। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে। ফলে, এই নারীর প্রকৃত নাম-পরিচয় তার অনুরোধে আমরা গোপন রাখছি।
বেশ লম্বা সময় প্রেম করে পরিবারের অমতে বিয়ে করেছিলেন নাসরিন (ছদ্মনাম)। তবে মাত্র মাসখানেকের মতো টিকেছিল ভালবাসার মানুষকে পাওয়ার সেই আনন্দ।
খুব শীঘ্রই নাসরিনের মোহ কেটে গেলো যখন বুঝতে পারলেন স্বামী তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে যৌন সম্পর্ক চান। আর তাতে সায় না দিলেই জুটত ভয়াবহ নির্যাতন।
"যখন তার ইচ্ছে হতো তখনই আমি বিছানায় যেতে বাধ্য হতাম।
ঘরে আমার মা থাকতো, ছোট একটা ভাই থাকতো। না বললে সে প্রচণ্ড মারধোর করতো। সে আমার অসুস্থতাও মানত না। আমার যখন পিরিয়ড হতো তখন আমি একটু হাফ ছেড়ে বাঁচতাম। ভাবতাম হয়ত কয়েকটা দিন আমি টর্চারের হাত থেকে বেঁচে যাবো।"
দৈহিক ও মানসিকভাবে ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন নাসরিন। তিনি বলেন, স্বামীর সঙ্গে দেড় বছরের মাথায় বিচ্ছেদের এটিই ছিল মূল কারণ।
উচ্চশিক্ষিত এবং প্রগতিশীল হিসেবে পরিচিত এই নারী বৈবাহিক সম্পর্কের মধ্যে ইচ্ছের বিরুদ্ধে যৌন সম্পর্ককে ধর্ষণ বলে মনে করেন।
নারীরাএ নিয়ে কথা বলতে আগ্রহী নয়
কিন্তু বিবিসির সাথে আলাপকালে আরও কজন এই ধারণাটিই বুঝতেই পারলেন না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন, "যদি আমি না করি, তবুও ও (স্বামী) আমাকে সব কিছু করতে পারবে।"
কিন্তু সেই আচরণ কি সঠিক? এই প্রশ্নে ঐ নারী প্রথমে বললেন - "না, ঠিক নয়।"। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই বললেন, "মানুষে বলে স্বামীতো এরকম করতেই পারে।"
বৈবাহিক সম্পর্ক থাকাকালীন স্বামীর হাতে ধর্ষণ- বিষয়টি বেশিরভাগের মানুষের কাছে পরিষ্কার নয়। এ নিয়ে কথা বলতে আগ্রহী মানুষও খুঁজে পাওয়াও দুষ্কর।
অধিকার বিষয়ক সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নীনা গোস্বামী বলেন, তাদের কাছে এ বিষয় নিয়ে কোনো নারী অভিযোগ করেন না।
"আমাদের কাছে যারা আসেন তারা সুনির্দিষ্টভাবে এমন অভিযোগ করেন না। কিন্তু পারিবারিক সহিংসতা বা মারধোরের অভিযোগ নিয়ে কথা বলার সময় তারা ম্যারিটাল রেপের কথাও বলেন। তাদের সাথে কথা বলার পর কিন্তু ভয়াবহতাটা ধীরে ধীরে বের হয়।"
বাংলাদেশের আইন কী বলে
নীনা গোস্বামী বলছেন, বাংলাদেশের কোন আইনেই বৈবাহিক সম্পর্কের মধ্যে ধর্ষণ বিষয়টি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত নয়।
"বৈবাহিক সম্পর্ক থাকা অবস্থায় ইচ্ছের বিরুদ্ধে সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্সও যে রেপ, ম্যারিটাল রেপ বলতে যা বোঝায় - সেটার কোন সংজ্ঞাও নির্ধারণ করা নেই এবং সেখানে কোন শাস্তির ব্যবস্থা নেই। ফলে আমরা তার প্রতিকারও দিতে পারিনা।"
বাংলাদেশে নারী অধিকার নিয়ে কাজ করে এমন সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন যাবত বিষয়টিকে পারিবারিক সহিংসতা হিসেবে স্বীকৃতির জন্যে আন্দোলন করেছে।
বাংলাদেশে সরকারি হিসেবেই ৪৭ শতাংশ মেয়ের ১৮ বছরের নিচে বিয়ে হয়। অপরিপক্ব শরীরে তাদেরও একই অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়।
নীনা গোস্বামী বলছেন, "এটা নিয়ে সরকার যেমন আগ্রহ দেখায়নি তেমনি শুধু সরকারকে দোষ দিলে হবে না, এটা নিয়ে যখন পাবলিক ডিসকাশন হয়েছে সেখান থেকেও খুব বেশি সাড়া পাওয়া যায়নি।"
সুত্রঃবিবিসি
Monday, September 24, 2018
বাবা ডেকেও রেহাই মেলেনি লুৎফার by মরিয়ম চম্পা

লুৎফা বেগম। বয়স ৩৩। বাড়ি নেত্রকোনার চারুলিয়ায়। স্বামী আল-আমিন খেতখামারে কাজ করেন। তাদের তিন ছেলে-মেয়ে। একটু ভালো থাকার আশায় গত বছরের শেষের দিকে সৌদিতে পাড়ি জমান লুৎফা। সেখানে মুখোমুখি হন ভয়ঙ্কর জীবনের। বাসার প্রত্যেক লোক মিলে পালাক্রমে মারধর করতো। মালিকের স্ত্রী, ছেলে, মালিক কেউই বাদ যেত না।
সে সময়কার কথা স্মরণ করে এখনো আঁতকে উঠেন লুৎফা। বলেন, ওরা আমাকে টানা ৭ মাস ধরে নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন করেছে। দিনের পর দিন না খেতে পেয়ে দমটা বেরিয়ে যাওয়ার অবস্থা হয়েছিল। একদিন তো সকালে মার শুরু করে সন্ধ্যায় ক্ষান্ত দিয়েছে। এরপর আমি এশার নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করছিলাম। তখন এসে মালিকের ছেলে আমাকে লাথি মেরে ফেলে দেয়।
কেন তাকে মারা হতো জানতে চাইলে তিনি বলেন, মালিকের ছেলে আমার সঙ্গে খারাপ কাজ করতে চাইতো। খারাপ কাজের প্রস্তাব দিতো। তখন বলতাম ‘আমি তোমার মা’র মতো। মায়ের সঙ্গে কেউ খারাপ কাজ করে বাবা। এটা বলার পর সে আমাকে কিল, ঘুষি, লাথি দিতে থাকে। এক পর্যায়ে চিকন তার দিয়ে আমার গলা পেঁচিয়ে ধরে। এভাবে প্রায় সময় সামান্য কোনো বিষয়ে আমাকে মারতো। একদিন মাঝরাতে মালিকের ছেলে আমাকে বলে ওর মা অসুস্থ তার কাছে যেতে হবে। লুৎফা গিয়ে দেখেন তার মা দিব্বি সুস্থ। এ সময় তাকে একটা রুমে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করে। অনেক কষ্টে নিজেকে মুক্ত করেন লুৎফা। এদিকে বাসার মালিক একদিন সন্ধ্যারাতে তাকে গোসলখানা ধুতে যেতে বলেন। মালিক গোসলখানার ভেতরেই ছিলেন। লুৎফা জানতেন না। লুৎফা গোসলখানা ধুতে গেলে মালিক মন মতো তাকে কাছে না পেয়ে চুলের মুঠি ধরে বেদম পিটাতে থাকেন।
লুৎফা মালিককে বলেন, বাবা আমাকে ছেড়ে দেন। কি অন্যায় করেছি। এ সময় মালিক বলেন, তুই শব্দ করে বাথরুম খুললি কেন। এভাবে দিনের পর দিন অত্যাচারের শিকার হন লুৎফা। তিনি বলেন, মার খেতে খেতে আমার নিয়মিত বমি হতো। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে একদিন বাসা থেকে পালানোর চেষ্টা করি। তখন ওরা আমাকে ধরে ফেলে। এরপর বেদম মারতে থাকে। আমার খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দেয়। তাই যখনই সুযোগ পেতাম চুরি করে খাবার খেতাম। হঠাৎ আবার অসুস্থ হয়ে পড়ি। মরার মতো অবস্থা। বাসার মালিক মনে করেছে আমি অসুস্থের ভান করে বাসার দামি জিনিসপত্র নিয়ে পালাবো। তাদের বাসা থেকে কিছু চুরি করেছি কিনা তা পরীক্ষা করতে মালিকের বউ আমার গায়ের কাপড় চোপড় খুলে উলঙ্গ করে শরীর চেক করে। পরে আমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে রাস্তায় ফেলে যায়। তখন আমার কোনো হুঁশ-জ্ঞান ছিল না। এরপর পুলিশ আমাকে বাংলাদেশ দূতাবাসে রেখে আসে। সেখান থেকে সফর জেলে দেয়া হয়। সফর জেল খেটে অবশেষে বাংলাদেশে ফেরত আসি।
দেশে ফেরত এসে নতুন করে বেঁচে থাকার লড়াই করছেন লুৎফা বেগম। স্বামী শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় খেতখামারের কোনো কাজই করতে পারছেন না। তিন ছেলে-মেয়েকে নিয়ে দিনের তিন বেলার দুই বেলাই না খেয়ে থাকতে হয়। পাড়া-প্রতিবেশীরা যে দুই ১শ টাকা দিয়ে সাহায্য করেন তাই দিয়ে চলে লুৎফার সংসার। তিনি বলেন, একটু আগে একজন প্রতিবেশী ১শ টাকা দিয়েছেন। সেটা দিয়ে ছেলেকে ১ কেজি চাল কিনতে পাঠিয়েছি। চালটা পানিতে ফুটিয়ে ছেলেদের খেতে দিবো। এতো কিছুর পরও নিজ দেশে ফিরতে পেরে সন্তুষ্ট লুৎফা। দেশের মাটিতে না খেয়ে মারা গেলেও যেন সৌদি আরবের মতো দেশে আর যেতে না হয়- এমনটাই জানান তিনি।
Friday, June 8, 2018
স্ত্রীর মাথা ন্যাড়া করে দিলো পাষণ্ড স্বামী

মামলার সূত্রে জানা যায়, দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে রায়গঞ্জ উপজেলার সড়াই হাজিপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে বগুড়ার ধুনট উপজেলার খাদুলি গ্রামের আবু তাহের খানের মেয়ে ইসরাত জাহান বিথির (২২) বিয়ে হয়। মেয়ের সুখের জন্য বিয়ের সময় একটি মোটরসাইকেল, নগদ ৫০ হাজার টাকা, তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও কিছু ফার্নিচার দেয় বিথির পরিবার। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই শুরু হয় নতুন নতুন চাহিদা। আর সেই দাবি পরিশোধ করতে না পারায় বিথির ওপর শুরু হয় নির্যাতন। সবশেষ গত কয়েক দিন ধরে সিএনজি অটোরিকশা কেনার জন্য বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য বিথির ওপর চাপ দেয় জাহাঙ্গীরসহ পুরো পরিবার। কিন্তু টাকা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে পরিবারের সকলে মিলে বৃহস্পতিবার সকালে বিথির মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেয়। আর বিষয়টি যেন কেউ যেন জানতে না পারে সেজন্য বিথিকে ঘরের ভেতর তালাবন্ধ করে আটকে রাখা হয়। চার দিন পর সোমবার দুপুরে কৌশলে মা ও ভাইকে মোবাইলে বিষয়টি জানায় বিথি। পরে বিথির পরিবার পুলিশের সহযোগিতায় তাকে বন্দিদশা থেকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় বিথির ভাই জুয়েল খান অভিযুক্ত বোন জামাই জাহাঙ্গীর আলমসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। রায়গঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম বুধবার দুপুরে জানান, নির্যাতিতা গৃহবধূ বিথি নিজে বাদী হয়ে মঙ্গলবার দুপুরে স্বামীসহ চারজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন। এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ভিকটিম তার বাবার বাড়িতে চলে গেছে।
Wednesday, June 6, 2018
মরুতে বাঙালি নারীর কান্না by সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা

কিন্তু আমরা কী দেখলাম? বিপন্ন এসব নারীর প্রতি কোনও সহানুভূতি তো নেই, নিজের দেশের মর্যাদা নিয়েও এরা ভাবে না বলেই প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব নিজে নারী হয়েও বলতে পেরেছেন এসব নারী গল্প ফাঁদছে। কতটা অসংবেদনশীল হলে আমলা হওয়া যায়, সেটা হয়তো ভাবনার আরেকটি বিষয়।
এই নারীদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তাদের অনেকেই তিন মাস পর্যন্ত সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের সেফ হোমে ছিলেন। ফেরার অপেক্ষায় আছে আরও অসংখ্য নারী।
২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে গৃহ খাতে কর্মী নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করে সৌদি আরব। অবশ্য যৌন নির্যাতনসহ বিভিন্ন অভিযোগে ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইনসহ কয়েকটি দেশ মধ্যপ্রাচ্যে নারী শ্রমিক পাঠানো বন্ধ রেখেছে। অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা একাধিক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটি বলেছে, সৌদি আরবে নারী শ্রমিকরা যে ধরনের পরিস্থিতিতে থাকে, তা আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগকেও হার মানায়।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) দেওয়া তথ্য বলছে, গত বছর ১৮টি দেশে যাওয়া শ্রমিকের সংখ্যা ছিল এক লাখের বেশি। এরমধ্যে শুধু সৌদি আরবে যান ৮৩ হাজার ৩৫৪ জন।
নারী শ্রমিকদের প্রায় সবাই যৌন নির্যাতনের শিকার হয় সৌদি আরবে। এরা ঠিকমতো খাবার পায় না। শারীরিক নির্যাতনও খুব স্বাভাবিক সৌদিদের কাছে। ফেরত আসা একাধিক নারী বলেছে, বাসার মালিক সুযোগ পেলেই যৌন সহিংসতা করে। মালিকের স্ত্রীদের জানালে তারাও পেটাতে শুরু করে। এটাই সৌদিদের সংস্কৃতি।
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে নারী শ্রমিক পাঠানো বন্ধ করে দেওয়াই উত্তম। জীবিকার তাগিদে বিদেশ-বিভুঁইয়ে গিয়ে শোষণের পাশাপাশি যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া, এমনকি জীবন হারানোর ঘটনাও যদি ক্রমেই বাড়তে থাকে, তাহলে বিষয়টি অবশ্যই পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে।
সৌদি আরবে আমাদের নারী গৃহকর্মীদের ন্যায্য বেতন থেকে বঞ্চিত করা ও শারীরিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ অতি পুরনো। দালালদের প্রতারণায় সর্বস্বান্ত নারীদের বন্দিদশা, প্রাণ হাতে করে পালিয়ে স্বদেশে ফেরা ইত্যাদি অভিযোগেরও প্রতিকার হয়নি। শারীরিক নির্যাতন, ধর্ষণসহ নানা ধরনের যৌন নিপীড়নের ঘটনাও প্রতিকারহীনভাবে বেড়ে চলেছে। সৌদি আরবে কর্মরত আমাদের নারী গৃহকর্মীদের মধ্যে ধর্ষণের ঝুঁকি প্রকট, তাদের মধ্যে ধর্ষণ-আতঙ্ক একটা সাধারণ বিষয়। এভাবে অন্তত ২২ জন নারী গৃহকর্মী মারা গেছে। অনেকে অপমান-নির্যাতন সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে। সরকারি উদ্যোগে দেশে ফিরে আসতে পেরেছে অনেকে, অনেকে পারছেন না। পারিবারিক ও সামাজিক দিক থেকে তারা এক দুর্বিষহ জীবনের মুখোমুখি হয়েছেন।
নারী গৃহকর্মীদের ওপর নির্যাতনসহ নানা ধরনের অভিযোগে ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইন সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মী পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে। বাংলাদেশ ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সৌদি আরবের সঙ্গে নারী গৃহকর্মী পাঠানোর বিষয়ে চুক্তি করেছে এবং তারপর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় দেড় লাখ নারী গৃহকর্মী সৌদি আরবে গেছেন।
সৌদি আরবের নারী শ্রমিক পাঠাতে যে চুক্তি করা হয়েছে, তাতে নারী গৃহকর্মীদের অধিকারের বিষয়গুলোর আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়নি। কেউ কেউ বলেন, চুক্তিটি তাড়াহুড়ো করে করা হয়েছে।
নির্যাতন বন্ধে সরকারের বড় ভূমিকা আছে। তবে জানা গেলো যে আমাদের নারী গৃহকর্মীদের ওপর নির্যাতন বৃদ্ধির বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিকার চাওয়া হয়নি। দুই দেশের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ কারিগরি কমিটিতে সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করার কথা।
কিন্তু এখনও তা করা হয়নি। দেড় লাখ নারীর জন্য অত্যন্ত বিরূপ ও সব বিবেচনায় ঝুঁকিপূর্ণ একটা কর্মপরিবেশে তাঁদের স্বাভাবিক মানবিক ও শ্রমিক অধিকারগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ২০১০ সালের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করছে, পৃথিবীতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছে সৌদি আরবে থাকা বিদেশি নারী শ্রমিকরা। “As If I Am Not Human” শীর্ষক সেই প্রতিবেদনে বলা হয়– বেশিরভাগ গৃহকর্মীকে ১৫ থেকে ২০ ঘণ্টা বিরামহীন কাজ করতে হয়। অসুস্থ হলেও কাজ করতে হয়, এবং এদের জন্য কোনও চিকিৎসার দায়িত্ব আর নেয় না সৌদি পরিবারগুলো।
রিপোর্টের একটি অংশ এমন – ‘Examples of abuse included beatings, deliberate burnings with hot irons, threats, insults, and forms of humiliation such as shaving a domestic worker’s head. We interviewed women who reported rape, attempted rape, and sexual harassment, typically by male employers and their sons…’
আমরা এসব জানি, তবুও কেন নারী শ্রমিক পাঠাই সেখানে? বেশ কিছু এনজিও, আদম ব্যবসায়ীও সরকারের লোকজন বলছেন, নারী গৃহকর্মীদের ওপর যৌন ও শারীরিক নির্যাতন রোধে সৌদি আরবে নতুন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, যার মাধ্যমে অভিবাসী নারী শ্রমিকদের বাসায় না রেখে বিভিন্ন হোস্টেলে রাখা হবে। সেখান থেকে তারা কাজে যাতায়াত করবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সভ্যতার বাইরে থাকা সৌদিরা এর কোনও তোয়াক্কা করবে না। ভালো সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে নারী শ্রমিক না পাঠানো। শ্রীলংকা, ফিলিপাইনসহ অনেকেই এর মধ্যে তা বন্ধ করেছে।

Saturday, June 2, 2018
সৌদি ফেরত নারীদের কান্না

সংবাদ সম্মেলনে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে আসা বেশ কয়েকজন নারীকর্মী তাদের ওপর চালানো অমানুষিক নির্যাতনের ঘটনা বর্ণনা করেন। নির্যাতিত নারীরা অভিযোগ করেন, যেসব এজেন্সি তাদেরকে সৌদি আরবে পাঠায়, তারা পরবর্তীতে সমস্যার কথা জানালে পাত্তা দেয় না। বলে, বিমানবন্দর পার করে দেয়ার পরই তাদের দায় শেষ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালক রিনা রায়। তিনি জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় হাজার খানেক নারী গৃহকর্মী দেশে ফিরেছেন। দেশে ফেরার অপেক্ষায় সেখানে সেউফ হাউজ ও জেলে আছেন আরো অনেকে। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দেশে ফিরে আসা নারীরা তাদের ওপর নির্যাতনের ভয়াবহ বর্ণনা দিচ্ছেন। তাতে অধিক সময় ধরে কাজ করানো, সময় মতো ঘুমাতে না দেয়া, ঠিকমতো খাবার না দেয়, মাস শেষে নির্ধারিত বেতন না দেয়া, গৃহকর্তা এবং বাড়ির অন্যদের দ্বারা ভয়াবহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনসহ যৌন নির্যাতনের ফলে গর্ভবতী হয়ে দেশে ফিরে আসার মতো ঘটনাও আছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ফেরত আসা নারীরা জানিয়েছে, এসব প্রতিবাদ করলে মধ্যযোগীয়পন্থায় নির্যাতন চলে। গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া, মাথায় গরম পানি ঢেলে দেয়া, চুল টেনে তুলে ফেলা, গরম আয়রন দিয়ে সেঁকা দেয়া, খুন্তি গরম করে শরীর পুড়িয়ে দেয়াসহ খাবার ও পানি ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে গৃহবন্দি করে রাখার মতো ভয়াবহ নির্যাতনও তাদের ওপর চালানো হয়েছে। ফলে অনেকেই ফিরেছেন মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে। আবার নির্যাতিতদের অনেকের পরিবার তাদেরকে গ্রহণ করতে চাচ্ছে না। সবমিলিয়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ। নারী কর্মীদের নির্যাতনের ঘটনা খুব কম, সরকারের এমন বক্তব্য উল্লেখ করে বলা হয়, একটি মেয়েও যদি নির্যাতিত হয় তার জন্য ব্যবস্থা নেয়াও জরুরি। কিন্তু সেই ধরনের ব্যবস্থা চোখে পড়ে না। সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয়, প্রবাসী বা নারী কর্মীরা শুধু টাকা পাঠানোর মেশিন নয়। সবার আগে তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি জরুরি। সংবাদ সম্মেলনে কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো- সৌদি আরবসহ বিদেশে কাজ করতে যাওয়া প্রত্যেক নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত, ফেরত আসা গৃহকর্মীর ক্ষতিপূরণ, স্বাস্থ্য সেবা ও প্রাপ্য মজুরি নিশ্চিত, গৃহকর্মী বা গন্তব্য দেশের এজেন্সি কর্তৃক গর্ভবতী নারী শ্রমিক ও তার শিশুর সম্পূর্ণ দায়িত্ব বহন, দোষী গৃহকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে দূতাবাসের কার্যকরী ভূমিকাসহ যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, ওয়ারবি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুল হক, ব্রাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান, রামরু’র মেরিনা সুলতানা, ওকুপ-এর নির্বাহী পরিচালক ওমর ফারুক চৌধুরীসহ মানবাধিকার সংস্থার নেতৃবৃন্দ। শরিফুল হাসান বলেন, ২০১৫ সালে যখন নারী কর্মী পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয় তখনই আমরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলেছিলাম, তারা আশ্বাসও দিয়েছিলো, কিন্তু তার বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। সৈয়দ সাইফুল হক বলেন, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে সেখানে আল্লাহ ছাড়া তাদের দেখার কেউ নেই। ওমর ফারুক চৌধুরী সম্প্রতি করা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পদস্থ এক কর্মকর্তার মন্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী বলেছেন, ২-৩ শতাংশ এমন ঘটনার শিকার হতে পারেন। ওমর ফারুক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিনি এমন স্টেটমেন্ট কিভাবে দিতে পারেন? তার এই কথার মাধ্যমে বোঝা যায় কারা দালালদের পৃষ্টপোষকতা করছে। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত সৌদি আরবে নারী কর্মী পাঠানো বন্ধের দাবি জানান। সুমাইয়া ইসলাম বলেন, নারী কর্মী পাঠানোর ব্যাপারে যে সমঝোতা স্মারক হয়েছে তার কোনোটিই সৌদি মানেনি।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনের আগে বেলা ১১টার দিকে একই ইস্যুতে প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ করা হয়। এতে সৌদি আরবে নারী কর্মীদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ব্রাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের ফরহাদ আল করিম, আওয়াজ ফাউন্ডেশনের আনিচুর রহমান, ওয়ারবি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুল হক, মহাসচিব ফারুক আহমেদ, রামরুর মেরিনা সুলতানা প্রমুখ। বক্তারা অবিলম্বে নির্যাতন বন্ধে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি দাবি জানান।
Wednesday, May 23, 2018
সৌদি ফেরত বাংলাদেশি নারীদের মুখে লোমহর্ষক নির্যাতনের বর্ণনা by রোকনুজ্জামান পিয়াস

নির্যাতনে কারো কারো শরীরে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। তবে, শারীরিক এই নির্যাতনের বাইরে সবচেয়ে ভয়াবহ অভিযোগ, অধিকাংশ নারীই মারত্মক যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন দেশটিতে। একই পরিবারের একাধিক পুরুষ সদস্যের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ। এমনকি বাবা-ছেলে মিলেও ধর্ষণ করে গৃহকর্মীকে। নির্যাতন এতটাই ভয়াবহ যে, এতে করে জড়ায়ুতে ক্ষত তৈরি হয়েছে। গৃহকর্তার এমন নির্যাতনের শিকার হয়ে অনেকে সুযোগ বুঝে পালিয়ে আসছেন। আর যারা এ সুযোগ পাচ্ছেন না তারা প্রতিমুহূর্তে মৃত্যুর মুখোমুখি হচ্ছেন। আড়ালেই থেকে যাচ্ছে হতভাগ্য ওই নারীদের ঘটনা। এদিকে এসব ঘটনার শিকার হয়ে দেশে ফিরে আসা অনেক নারী কর্মীই পরিবারের কাছে বোঝা হয়ে পড়েছেন। সামাজিকভাবেও নানা নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন তারা। এমনকি স্বামী ও পিতা-মাতার সংসারেও ফিরতে পারছেন না কেউ কেউ। সূত্র বলছে, গত চার মাসে প্রায় আড়াই হাজার নারী কর্মী নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরে এসেছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এরমধ্যে শতকরা ৮০ জনই ভয়াবহ রকমের যৌন নির্যাতনের শিকার। ফিরে আসা নারীরা দেশটিতে আর কোনো নারী কর্মী না পাঠাতেও অনুরোধ করছেন। এদিকে যেসব রিক্রুটিং এজেন্সি নারী কর্মীদের পাঠাচ্ছে তারাও এসব ঘটনার দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছে। নির্যাতিতদের ফিরে আনা হচ্ছে সরকারি তহবিলের টাকা খরচ করে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এনজিওর সহযোগিতায় তারা দেশে ফিরছেন। অপরদিকে মানসিক, শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের মধ্যেই দেশটিতে নারী কর্মী পাঠানো অব্যাহত রয়েছে। বিএমইটি সূত্রে জানা গেছে, গত এপ্রিলে সৌদি আরবে গৃহকর্মীর কাজে ৮ হাজার ৪৯২ জন নারী কর্মী পাঠানো হয়েছে। আর চলতি বছরের গত চার মাসে গেছে ৩০ হাজারের ওপরে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সৌদিতে গৃহকর্মী পাঠানো উচিত কি না- সে ব্যাপারে এখন সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় হয়েছে।
জানা গেছে, নির্যাতনের কারণে অনেক আগেই সৌদি আরবে নারী কর্মী পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে বেশ কয়েকটি দেশ। এরমধ্যে ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও শ্রীলঙ্কা অন্যতম। এইসব দেশ তাদের নারী কর্মী পাঠানো বন্ধ করে দেয়ার পর সৌদি আরবে চাহিদা বাড়ে বাংলাদেশের নারী কর্মীদের। এজেন্সিগুলো নারী কর্মী পাঠানোর দিকেই ঝুঁকে পড়ে। কারণ একজন নারী কর্মীর বিনিময়ে তার সৌদির সংশ্লিষ্ট গৃহকর্তার কাছ থেকে বিপুল পরিমান অর্থ পেয়ে থাকে। যার ফলে বিনা পুঁজির ব্যবসার মতো তারা দেদারছে পাঠাচ্ছেন নারী কর্মী।
সূত্রমতে, দেশটিতে নারী কর্মী পাঠানোর পর থেকেই একের পর এক নানা অভিযোগ আসতে থাকে। নারী কর্মীরা অভিযোগ করেন, তাদেরকে ঠিকমতো খেতে দেয়া হয় না। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে দেয়া হয় না। টানা ২০ ঘণ্টাও কাজ করতে হয় কখনো কখনো। এ ছাড়া এক বাড়িতে কাজের কথা বলে নিয়ে গেলেও একাধিক বাড়িতে তাদের কাজ করানো হয়। অপরাগতা দেখালে নেমে আসে নির্মম নির্যাতন। এতে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। দিনের পর দিন অসুস্থ থাকলেও অনেকের ভাগ্যে জোটে না চিকিৎসা। এমনকি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও করতে দেয়া হয় না। একই পরিবারের একাধিক সদস্য মিলে যৌন নির্যাতন চালায়। নির্যাতিত নারী কর্মীরা অনেকেই পালিয়ে গিয়ে দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সেইফ হোমে আশ্রয় নেন। অনেকে পালাতে গিয়ে ধরা পড়েন পুলিশের হাতে। এরপর জেল জীবন শুরু হয় তাদের। পরে নানা আইনি প্রক্রিয়া শেষে কেউ দেশে ফেরার সুযোগ পান। আবার আইনি জটিলতায় অনেকেই মাসের পর মাস জেলে অথবা দূতাবাসের সেইফ হোমে কাটাচ্ছে। তবে, সম্প্রতি এই অভিযোগের মাত্রা বেড়েছে। ফিরে আসা নারীদের সংখ্যাও বেড়েছে। প্রায় প্রতিদিনই ফিরে আসছেন নারী কর্মীরা।
সর্বশেষ গত রোববার রাতে সৌদি থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফেরেন ২১ নির্যাতিত নারী। এর আগের দিন ফেরেন আরো ৮১ নারী। রোববার ফিরে আসা হবিগঞ্জের একজন জানান, তিনি ১৫ দিন আগে গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে সৌদি আবর গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, যে বাসার কাজে তাকে দেয়া হয়েছিল সেই বাসার মালিক লুইচ্চা। বলেন, ম্যাডাম বাসায় না থাকলে মালিক তার ওপর যৌন নির্যাতন চালানোর চেষ্টা করতো। তিনি রাজি না হওয়ায় মারধর করতো। ক্ষতের দাগ দেখিয়ে এই নারী বলেন, এটা ইস্ত্রির দাগ। তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গরম ইস্ত্রি দিয়ে ছ্যাঁকা দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, মধ্যবয়সী গৃহকর্তা একদিন কফি বানাতে বলে। তার কথা মতো রান্না ঘরে গেলে সে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে। চিৎ করে ফেলে দেয়। পরে হাতে কামড় দিয়ে ছাড়া পান। কিন্তু পরক্ষণে আবারো একই কাজ করে। তখন হাতে থাকা গ্যাস লাইট দিয়ে তার পাঞ্জাবিতে আগুন ধরিয়ে দিই। পরে নিজেই তা নিভিয়ে ঘরের দরজার বাইরে থেকে সিটকিনি দিয়ে পালিয়ে আসি। পরে এক বাংলাদেশির সহযোগিতায় সেইফ হোমে যাই। সেখান থেকেই দেশে ফিরেছি। তিনি বলেন, আমার আর যাওয়ার জায়গা নেই। তার বাড়ি থেকেও কেউ ফিরিয়ে নিচ্ছে না। রোবাবর হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে থাকা ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের মিডিয়া কর্মকর্তা আল আমিন নয়ন একাধিকবার ফোন করেও তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাননি। তার স্বামীও তাকে নিতে চাননি। এই অবস্থায় রাতভর তিনি বিমানবন্দরেই কাটান। পরে ব্র্যাকের সহযোগিতায় তাকে অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রামের শেল্টার হোমে পাঠানো হয়। হবিগঞ্জের এই নারীসহ বিমানবন্দরে প্রত্যেকে তাদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। এদিকে বিভিন্ন সময় ফিরে আসা নারীদের সঙ্গে কথা বলে ভয়াবহ তথ্য জানা গেছে। রেশমা (ছদ্মনাম) নামের এক নারী বলেন, তিনি যে বাড়িতে কাজ করতেন সেই বাড়িন গৃহকর্তা ও তার ছেলে দু’জনেই যৌন নির্যাতন চালাতো। পরে পালাতে গিয়ে তার পা ভেঙে যায়। আকলিমা (ছদ্মনাম) জানান, তাকে সৌদি নিয়ে যাওয়ার পর জেদ্দার যে বাড়িতে রাখা হয়, সেখানে শুধু ১০-১২ জন পুরুষ ছিল। তারা তার ওপর অমানাবিক নির্যাতন চালাতো। আনোয়ারা নামের একজন জানান, শারীরিক নির্যাতন শেষে তাকে দ্বিতীয় তলার সিঁড়ি থেকে ফেলে দেয়া হয়। ফলে পা ভেঙে যায়। সে জানায়, প্রথমে পালানোর সময় ধরা পড়ে। এরপর থেকেই তার ওপর চলতে থাকে নির্যাতন। বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার এক নারী জানান, গত বছর জুন মাসে সৌদি আরব যান তিনি। সেখানে ছয় মাস নিয়োগকর্তা ও তার ছেলের যৌন নির্যাতনের শিকার হন তিনি। কোনো উপায় না পেয়ে পালিয়ে আশ্রয় নেন দূতাবাসে। মুন্সীগঞ্জের এক নারী জড়ায়ুতে ইনফেকশন নিয়ে দেশে ফিরে এসেছেন। ফরিদপুরের অপর এক নারীর হাতের হাড় ভেঙ্গে অন্য স্থান দিয়ে বেরিয়ে পড়েছে। ১০ মাস অবস্থান কালে আট মাসের বেতন ছাড়াই ২৬ জন নারীর সঙ্গে তিনিও ফিরেছেন।
সৌদির গৃহকর্মীর বর্তমান অবস্থা ও এ ব্যাপারে করণীয় সম্পর্কে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, গত ২-৩ মাসে তারা ১১৮ পরিবারের কাছ নির্যাতেনের অভিযোগ পেয়েছেন। ইতিমধ্যে ব্র্যাকের আবেদনের প্রেক্ষিতে ৭১ জনকে ফেরত আনা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতির ব্যাপারে তিনি বলেন, ২০১৫ সালে যখন বিভিন্ন দেশ সৌদি আরবে তাদের নারী কর্মী পাঠানো বন্ধ করে দেয়, তখন বাংলাদেশের নারী কর্মীর চাহিদা তৈরি হয়। ওই সময় নির্যাতনের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছিল। তারা (সৌদি) সে সময় নির্যাতিত হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, যারা ফেরত আসছে তারা নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে এবং দিনকে দিন এ সমস্যা বাড়ছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, আমরা তাদেরকে (সৌদির নিয়োগকর্তা) কিছুই বলছি না। এতে করে তারা ভেবে নিয়েছে- বাংলাদেশের নারীদের যা ইচ্ছা তাই করা যায়। এমনকি সেইফ হোমে নির্যাতিত যেসব নারীরা আশ্রয় নিয়েছে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ওই নিয়োগ কর্তার বিরুদ্ধেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না। শরিফুল হাসান আরো বলেন, আমরা শুধু সংখ্যার বিচার করছি। কিন্তু কতজন নির্যাতিত হচ্ছে, কতজন ফেরত আসছে, সে হিসাব আমাদের কাছে নেই। শুধুমাত্র যারা ফেরত আসছে তাদের কাছ থেকেই ঘটনাগুলো জানতে পারছি। তিনি বলেন, সংখ্যা না দেখে, তাদের সেফটির বিষয়টি ভাবা উচিত। তিনি আরো বলেন, যেসব নারীরা ফেরত আসছে তারাও ভালো নেই। অনেকে ট্রমাটাইজড্ হয়ে যাচ্ছে। এই অভিবাসী অধিকার কর্মী বলেন, এখন সময় এসেছে সিদ্ধান্ত নেয়ার- সেখানে আমরা নারী কর্মী পাঠাবো, না কি পাঠাবো না। অন্য দেশে পাঠালেও সৌদি আরবে নারী কর্মী পাঠানোর ব্যাপারে নতুন করে ভাবা দরকার বলে তিনি মন্তব্য করেন।
BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
- ▼ 2026 (2002)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

