Sunday, June 25, 2017

মাইকেল জ্যাকসনের গান মানুষকে স্বপ্ন দেখতে শেখায় by মোশাররফ রুমী

দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেছে আটটি বছর। তিনি নেই। চলে গেছেন না ফেরার দেশে। সংগীত দুনিয়ার শীর্ষে থাকা অবস্থাতেই অপার জনপ্রিয়তাকে দূরে ঠেলে মাত্র ৫০ বছর বয়সে পরপারে পাড়ি জমান এই কীার্তিমান। কিন্তু বিশ্বের কোটি কোটি ভক্তের হৃদয়ে বেঁচে আছেন উজ্জ্বল তারা হয়ে। তিনি মাইকেল জ্যাকসন। পপস¤্রাট। সংগীতের এক কিংবদন্তি। পপগানে যার অনবদ্য সৃষ্টি বিশ্বের অন্য কোন সংগীত তারকারই ছিল না, এখনও নেই। তার রেখে যাওয়া গান-নাচ-স্মৃতি নিয়েই গত আট বছর ধরে ভালবাসা ও চোখের জলে একাকার করে তার ভক্তরা পালন করছেন প্রিয় পপ স¤্রাটের মৃত্যুবার্ষিকী। আজ দিনব্যাপী ভক্তদের আয়োজনেই বিশ্বব্যাপী উদযাপিত হচ্ছে তার স্মরণ আয়োজন। ১৯৫৮ সালের ২৯শে আগস্ট আমেরিকার ইন্ডিয়ানায় জন্ম মাইকেল জ্যাকসনের। মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নিলেও সংগীত বিষয়টি ছিল তার পরিবারের মধ্যেই। খুব ছোট থাকতে বাবার আগ্রহ এবং ইচ্ছাতেই গানে হাতেখড়ি হয় মাইকেলের। এরপর সেই বয়সেই তার পারফরমেন্স দেখে অবাক হয়েছেন সবাই। তখন ধারণা করা হয়েছিল মাইকেল একদিন অনেক দূর যাবেন। হয়েছেও তাই। নিজের অসাধারণ সব গানের মাধ্যমে সারা বিশ্বে সফলতা ও জনপ্রিয়তার সর্বোচ্চ চূড়ায়  পৌঁছেন তিনি। নিজের নজরকাড়া সংগীত-পারফরমেন্সের মাধ্যমে বিশ্বের কোটি কোটি শ্রোতা-দর্শককে মাতিয়ে গেছেন নিয়মিত। অ্যালবাম, স্টেজসহ সব দিক দিয়েই মাইকেল ছিলেন সবার শীর্ষে। তার সফলতাও ছিল আকাশছোঁয়া। তার প্রকাশিত সবক’টি অ্যালবাম ছিল ব্লকবাস্টার। বর্ণবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদস্বরূপ নিজের শরীরের রঙটাকে তুলে ধরেছিলেন তিনি। নিজের রূপ, গান এবং পারফরমেন্সের মাধ্যমে বর্ণবাদীদের মুখভাঙা জবাব দিয়েছেন । জীবিত অবস্থায় সংগীতের বাইরেও মাইকেলের প্রতিটি কাজের প্রতিই ছিল ভক্তদের ব্যাপক  আগ্রহ। তার কনসার্টে এসে প্রিয় মাইকেলকে দেখতে পেয়ে জ্ঞান হারিয়েছেন অনেকে, আবার আনন্দে হাউমাউ করে কেঁদেছেন কেউ কেউ। এমনটা মাইকেলের ক্ষেত্রে ঘটেছে হরহামেশাই। তার কনসার্টগুলোর ভিডিও দেখলেই ভক্তদের এসব দৃশ্য চোখে পড়ে। এ ধরনের ঘটনা খুব একটা ঘটতে দেখা যায়না বিশ্বের অন্য কোনো তারকার ক্ষেত্রে। এখানেই মাইকেলের বিজয়। সংগীতের বাইরেও নিজের মানবিক গুণ, মেধা, ব্যবহারে অন্য সবার থেকে নিজেকে একেবারেই ভিন্নসত্তা হিসেবে দাঁড় করিয়েছিলেন। আটটি বছর পেরিয়ে গেলেও মাইকেলের জনপ্রিয়তায় বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। বিভিন্ন জরিপে সংগীত ইতিহাসের এক নম্বর তারকা এখনও তিনি। মাইকেল জ্যাকসনের গান মানুষকে স্বপ্ন দেখতে শেখায়, শেখায় ভালবাসতে এবং প্রতিটি মানুষকে সমান অধিকার দিতে। সাধরণ ভক্তদের মতো বিশ্বের জনপ্রিয় বিভিন্ন তারকারও আইডল তিনি। এদের মধ্যে রয়েছেন জেনিফার লোপেজ, ব্রিটনি স্পিয়ার্স প্রমুখ। নারী হয়েও পারফরমেন্সের ক্ষেত্রে তারা মাইকেলের অনেক স্টাইলই অনুসরণ করেন বলেও জানিয়েছেন। হালের সংগীত ক্রেজ জাস্টিন বিবারের পারফরমেন্সেও মাইকেলের অনেক অঙ্গভঙ্গির ছাপ লক্ষ্যণীয়। এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্ম, সবার কাছেই মাইকেল হয়ে উঠেছিলেন অনবদ্য স্টাইল আইকন। গত সাত বছরের মতো আজও মাইকেলের মৃত্যুবার্ষিকীর দিনটি পালিত হচ্ছে বড় আয়োজনেন আমেরিকায় পপ স¤্রাটের জ্যাকসন স্ট্রিটের বাড়িটিতে। নিজের শৈশবকাল এই বাড়িতেই কাটিয়েছিলেন মাইকেল। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মাইকেল ভক্ত আজ জড়ো হয়েছেন এখানে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একসঙ্গে মোমবাতি জালিয়ে কান্না ভেজা চোখে নীরবতা পালনের মধ্যে চলবে মাইকেলকে স্মরণ। মাইকেলের প্রতিকৃতিতেও ফুলেল শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন ভক্তরা। পাশাপাশি বিভিন্ন সংগীত শিল্পীর কণ্ঠে পরিবেশিত হচ্ছে মাইকেলের গান।

ইয়েমেনে কলেরা পরিস্থিতি ভয়াবহ: জাতিসংঘ

গৃহযুদ্ধে জর্জরিত ইয়েমেনে কলেরার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব ঘটেছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। দেশটিতে কলেরায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দুই লাখ ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এক বিবৃতিতে ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, কলেরায় এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০ জন প্রাণ হারিয়েছে। এর এক-চতুর্থাংশই শিশু। মৃত ব্যক্তির সংখ্যা আরও বাড়বে বলে হুঁশিয়ার করেছে জাতিসংঘের সংস্থা দুটি। তারা বলছে, কলেরার প্রাদুর্ভাব থামাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সংস্থা দুটি বলছে, গত দুই মাসে এই দেশের প্রায় প্রতিটি শহরে কলেরা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজারজন নতুন করে কলেরায় আক্রান্ত হচ্ছে। পরিস্থিতি এখন চরমে।
পানিবাহিত এ রোগ সহজে নিরাময়যোগ্য হলেও যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে সবার জন্য চিকিৎসা নিশ্চিত করা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। চলতি বছর এপ্রিলে ইয়েমেনে কলেরাকে মহামারি ঘোষণা করা হয়। জাতিসংঘ বলছে, কলেরা রোগের প্রতিরোধে ও প্রকোপ কমাতে সংস্থাটির উন্নয়নবিষয়ক দলগুলো ইয়েমেনের ঘরে ঘরে ঘুরে সচেতন করছে। কিন্তু নিরাপদ পানি সরবরাহ কম থাকায় প্রাদুর্ভাব কমানো সম্ভব হচ্ছে না।
দুই বছর ধরে চলা এই গৃহযুদ্ধে ইয়েমেনের স্বাস্থ্য, পানি ও পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। ভয়াবহ খাদ্যসংকট দেখা দেওয়ায় দেশটির বহু শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে। কলেরার পাশাপাশি দুর্ভিক্ষের মতো মানবসৃষ্ট বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে ইয়েমেন।
ইয়েমেনে ২০১৫ সালের মার্চে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে এ পর্যন্ত আট হাজারের বেশি লোক নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। শিয়া হুতি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করে প্রেসিডেন্ট আবেদ রাব্বো মানসুর হাদিকে ক্ষমতাচ্যুত করে। সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন আরব দেশগুলোর জোট সুন্নি শাসক হাদির পক্ষ নিয়ে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়ছে। ইরান হুতিদের সমর্থন দিচ্ছে। সূত্র: বিবিসি অনলাইন।

তিন বছর পর অভিনয়ে ফিরলেন রুহি

মডেল ও অভিনেত্রী দিলরুবা ইয়াসমিন রুহি গেল তিন বছর যাবত স্বামী-সন্তান নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। তাই ২০১৪ সালের পর থেকে তাকে আর নতুন করে কোনো কাজে দেখা যায়নি। বিরতি ভেঙে আবারও নাটকে অভিনয় করলেন এই তারকা। আমিন খানের বিপরীতে অভিনয়ের মধ্যদিয়েই অভিনয়ে ফিরেছেন গ্ল্যামারাস অভিনেত্রী রুহি।
ইশমত আরা চৌধুরী শান্তির নির্দেশনায় ‘অনুভূতির ছোঁয়া’ নাটকে তারা দুজন প্রথম একসঙ্গে অভিনয় করেছেন। নাটকের গল্পে দেখা যাবে আমিন খান খান ভালো কবিতা লেখেন। অন্যদিকে রুহি কবিতা ভীষণ পছন্দ করেন। ফেসবুকে কবিতার মধ্য দিয়ে দুজনের পরিচয় হয়। সেখান থেকে এগিয়ে যায় নাটকের গল্প। এমন গল্পে নির্মিত হয়েছে নাটক ‘অনুভূতির ছোঁয়া’।
নাটকটি প্রসঙ্গে রুহি বলেন, আমরা আসলে সুস্থ অনুভূতি নিয়ে জন্মাই। কিন্তু পরবর্তীতে নানান কারণে সেই সুস্থ অনুভূতিগুলো নষ্ট হয়ে যায়। প্রযুক্তির উন্নয়নের কারণে যোগাযোগের নানান মাধ্যম সৃষ্টি হয়েছে, কিন্তু আমরা তা যথাযথভাবে ব্যবহার করতে পারছিনা। তিনি বলেন, গল্পটা সময়োপযোগী, তাই কাজটি করে খুব ভালো লেগেছে। আর আমিন খান ভাইয়ের সঙ্গে এটা আমার প্রথম কাজ। চমৎকার একজন মানুষ তিনি। আমি কাজটি দারুণ উপভোগ করেছি।
মঙ্গলবার রাজধানীর উত্তরায় নাটকটির শুটিং শেষ হয়েছে। নির্মাতা সূত্রে জানা গেছে, ‘অনুভূতির ছোঁয়া’ নাটকটি ঈদে দেশ টিভিতে প্রচার হবে।

পাকিস্তানের ভূমিকা সৌদি আরব কেন বার বার অস্বীকার করে?

কাতারের সঙ্গে সৌদি আরবের চলমান টানাপড়েনের বিষয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ মধ্যস্থতার যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন তা অস্বীকার করেছেন ইসলামাবাদে নিযুক্ত সৌদি চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্স মারোয়ান বিন রাদোয়ান মিরদাদ। পাকিস্তানের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক 'ডন' এ খবর দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে সৌদি দূতাবাসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, “পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন নি যে, তিনি মধ্যস্থতা করছেন।” একজন দোভাষীর মাধ্যমে মারোয়ান সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতার বিষয়ে দেশটির গণমাধ্যমে যে খবর বের হয়েছে তা অসত্য; বিষয়টি সঠিক নয়।
গত সপ্তাহে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ একদিনের জন্য জেদ্দা সফর করেন। সে সময় তার সঙ্গে ছিলেন পাক সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া, অর্থমন্ত্রী ইসহাক দার ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা সারতাজ আজিজ।
সৌদি চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্সের বক্তব্যে পাক প্রধানমন্ত্রী বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। মধ্যস্থতা মিশনে বের হওয়ার আগে পাক প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, “উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত সদস্য দেশগুলোর মধ্যে জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মাদ নওয়াজ শরীফ আজ সৌদি আরব সফর করবেন।”
সংবাদ সম্মেলনে সৌদি কূটনীতিক বলেন, ২০১৪ সালে কাতার ও পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের মধ্যে সই হওয়া একটি চুক্তি দোহা বার বার লঙ্ঘন করায় চলমান সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। ওই চুক্তিতে কী ছিল তা প্রকাশ্যে বলা না হলেও ধারণা করা হয়- আরব অঞ্চলের ইসলামি সংগঠনগুলোর প্রতি সমর্থন দেয়া ও একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কাতার।
গত ৫ জুন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর ও বাহরাইন কাতারের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। দেশগুলো বলছে, কাতার সন্ত্রাসবাদকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে, ফিলিস্তিনের স্বাধনীতাকামী ইসলামি সংগঠন হামাস ও মিশরের ইখওয়ানুল মুসলিমিনের মতো সংগঠনগুলোকে সমর্থন দিচ্ছে এবং এসব দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে।
মারোয়ান বলেন, প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ যখন সৌদি আরব সফর করেন তখন তিনি কী উদ্দেশ্যে সফর করছেন সে সম্পর্কে কোনো ইঙ্গিত দেন নি। বিষয়টি নিয়ে কুয়েত ও সুদান মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছে বলেও জানান সৌদি কূটনীতিক। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ইস্যুটি নিয়ে ভবিষ্যতে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কারণ সৌদি রাজা ও পাক প্রধানমন্ত্রী দু জনই এখন পবিত্র মক্কায় অবস্থান করছেন।
গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যস্থতার উদ্যোগকে ভালো চোখে দেখেন নি সৌদি রাজা সালমান। বৈঠকের সময় তিনি কূটনৈতিক শিষ্টাচার বাদ দিয়ে পাক প্রধানমন্ত্রীর কাছে সরাসরি জানতে চেয়েছিলেন, চলমান সংকটে ইসলামাবাদ সৌদি আরবের পক্ষে নাকি কাতারের পক্ষে। সে সময় তিনি আরো বলেছেন, “চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এ সংগ্রাম এবং তা সমস্ত মুসলমান ও মুসলিম উম্মাহর স্বার্থে পরিচালিত হচ্ছে।” 
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সৃষ্ট সংকটে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা করার উদ্যোগের কথা সাধারণত স্বীকার করতে চায় না সৌদি আরব। গত বছর শিয়া আলেম আয়াতুল্লাহ শেখ নিম্‌র আন-নিমরের অন্যায় ফাঁসির পর ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনায় পাকিস্তান মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েছিল। এজন্য পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ ইরান ও সৌদি আরব সফর করেন। এর পরপরই সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল-জুবায়ের দ্রুত পাকিস্তানের মধ্যস্থতার কথা অস্বীকার করেন।
পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতার উদ্যোগকে কেন সৌদি আরব বার বার অস্বীকার করে- এখন সে প্রশ্ন উঠেছে। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন- আঞ্চলিক যেকোনো সংকটে সৌদি আরব পাকিস্তানকে নিজের পাশে দেখতে চায় যা নওয়াজ শরীফের গত সপ্তাহের সফরের সময় রাজা সালমান অনেকটা খোলামেলা বলেই ফেলেছেন। এ কারণে পাকিস্তানকে তারা মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় না দেখে সরাসরি নিজের পক্ষে পেতে চায় এবং এজন্য সৌদি আরব বার বার পাকিস্তানের মধ্যস্থতার কথা অস্বীকার করছে। পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ও সামরিক উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরব বিপুল অর্থ দিয়ে আসছে। এর বিনিময়ে পাকিস্তান খানিকটা অঘোষিতভাবে সৌদি আরবের নিরাপত্তার দিকটি দেখে থাকে। কিন্তু নওয়াজ শরীফ এবার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সে অবস্থান হতে ধীরে ধীরে সরে আসার চেষ্টা করছেন। এরই অংশ হিসেবে সৌদি আরবের ডাকে সাড়া দিয়ে ইয়েমেন যুদ্ধে সেনা পাঠায় নি পাকিস্তান। এছাড়া, সৌদি নেতৃত্বাধীন কথিত সামরিক জোটেও পাকিস্তান যোগ দেবে কিনা তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায় নি। দেশের ভেতরে রাজনৈতিক অঙ্গনে, জাতীয় সংসদে ও গণমাধ্যমে প্রবল বিরোধিতা রয়েছে।

পাকিস্তানকে মিত্র হিসেবে রাখছে না আমেরিকা: কী হতে যাচ্ছে?

পাকিস্তানকে ‘মিত্র’ দেশের মর্যাদা থেকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে আমেরিকা। এ লক্ষ্যে এরইমধ্যে মার্কিন কংগ্রেসে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান ও বিরোধী ডেমোক্র্যাট দলের পক্ষ থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি বিল আনা হয়েছে।
বিলটি পাস হলে ন্যাটো জোটের বাইরের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশের তালিকা থেকে পাকিস্তানকে বাদ দেয়া হবে। যে দুই কংগ্রেসম্যান বিলটি এনেছেন তারা বলছেন, যেহেতু পাকিস্তান সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে নি সে কারণে দেশটি আর মার্কিন অর্থনৈতিক ও সামরিক সাহায্য পাওয়ার অধিকার রাখে না।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন আমেরিকা সফরে যাচ্ছেন তার আগ মুহূর্তে এ বিল তোলা হলো। এছাড়া, ভারতে মার্কিন অত্যাধুনিক এফ-৩৫ জঙ্গিবিমান তৈরি করা হবে বলে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
২০০৪ সালে সে সময়কার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশ পাকিস্তানকে ‘ন্যাটো জোটের বাইরের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র’ দেশের মর্যাদা দিয়েছিলেন। সে সময় আল-কায়েদা ও তালেবানের বিরুদ্ধে কথিত লড়াইয়ে পাকিস্তানকে উৎসাহিত করার জন্য বুশ প্রশাসন এ ব্যবস্থা নিয়েছিল। এখন নতুন এই বিল যদি পাস হয় তাহলে আমেরিকা ও পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মধ্যকার সম্পর্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। 
ন্যাটো জোটের বাইরের মিত্র দেশের মর্যাদা থাকার কারণে পাকিস্তান বিদেশী আর্থিক সহায়তা ও সামরিক সহযোগিতা পেত। এছাড়া, দেশটি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও অস্ত্র কেনার প্রক্রিয়ায় বিশেষ সুবিধা পেত। পাশাপাশি মার্কিন সামরিক সরঞ্জামের সংগ্রহ গড়ে তুলতে, প্রতিরক্ষা গবেষণা কর্মসূচিতে অংশ নিতে এবং অত্যাধুনিক অস্ত্র-শস্ত্র কিনতে পারত।
বিল উত্থাপনকারী রিপাবলিকান দলের কংগ্রেসম্যান টেড পো বলেছেন, “আমেরিকার রক্তে পাকিস্তানের হাত রঞ্জিত এবং এজন্য তাকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।” এ বিল আনতে তার সঙ্গে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট দলের কংগ্রেসম্যান রিক নোল্যান।
টেড পো হচ্ছেন মার্কিন কংগ্রেসের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির সদস্য এবং সন্ত্রাসবাদ, পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ও বাণিজ্য বিষয়ক সাব কমিটির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, বহু বছর ধরে আমেরিকার জেনারেল বেনেডিক্ট আরনল্ডের মতো ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। বেনেডিক্ট আরনল্ড ছিলেন ১৮ শতকের মার্কিন জেনারেল যিনি পক্ষ ছেড়ে ব্রিটিশ বাহিনীতে চলে যান।
টেড পো আরো বলেন, “ওসামা বিন লাদেনকে গ্রেফতার করা থেকে তালেবানকে সমর্থন করা-সবকিছুতেই পাকিস্তানের হাত রয়েছে এবং তারা এ শক্তির বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পন্থায় লড়াই করতে চায় নি; কঠিনভাবে অস্বীকার করে এসেছে।”
পাকিস্তান-বিরোধী বিল আনার বিষয়ে টেড পো সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তবে তার বিল সাধারণত অন্য কংগ্রেসম্যানরা নাকচ করে থাকেন। এবারের বিলও পাস হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক ডন। পত্রিকাটি বলছে, আফগানিস্তানে কয়েক হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকার কারণে কংগ্রেসম্যানরা এ বিল আটকে দিতে পারেন কারণ এসব সেনার জন্য রসদ পাঠাতে আমেরিকা এখনো পাকিস্তানের স্থলপথ ব্যবহার করছে।
তবে এ বিল উত্থাপনের পর যে বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় আসছে তা হলো- ২০০১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান-বিরোধী সামরিক অভিযানের সময় থেকে আফগান সীমান্তে পাকিস্তান হাজার সেনা মোতায়েন করে রেখেছে এবং সীমান্তে চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে পাকিস্তানের ৬০০০’র বেশি সেনা নিহত হয়েছে। পাকিস্তানের এই ত্যাগের তাহলে কী মূল্য হলো? পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর এই আত্মত্যাগকে একেবারেই বিল উত্থাপনকারীরা বিবেচনায় নেন নি।
টেড পো সুস্পষ্ট করে বলেছেন, “পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের পরিষ্কারভাবে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে যাতে তারা ঘনিষ্ঠ মিত্রের মর্যাদা ব্যবহার করে আমাদের অত্যাধুনিক অস্ত্র কেনার সুবিধা না পায়।”
টেড পো’র সঙ্গে সুর মিলিয়ে ডেমোক্র্যাট দলের কংগ্রেসম্যান নোল্যান বলেছেন, “বার বার পাকিস্তান আমেরিকার সুখ্যাতির সুযোগ নিয়েছে কিন্তু আমেরিকার মিত্র নয়- এমনভাবে কাজ করেছে। পাকিস্তানের প্রতি সমর্থন দেয়া বন্ধ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গত ১৫ বছর ধরে আমেরিকার কাছ থেকে শত শত কোটি ডলার নিয়েছে কিন্তু মার্কিন নিরাপত্তার জন্য সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী লড়াইয়ে কিছুই করে নি।
নোল্যান বলেন, “এখন সময় এসেছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর যে কিনা লড়াইয়ের নাম করে একই গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলেছে। এই বিল মার্কিন ট্যাক্স প্রদানকারীদের ডলার এবং আমেরিকা ও বিশ্বকে নিরাপদ করবে।”
এদিকে, মার্কিন এই বিল পাস হলে তার কী প্রভাব পড়বে আঞ্চলিক ও আঞ্চলিক অঙ্গনে -স্বাভাবিকভাবেই এমন প্রশ্ন উঠেছে। এই বিল উত্থাপনের পর কোনো কোনো বিশ্লেষক বলছেন, মিত্রদের ব্যবহারের পর মার্কিন প্রশাসন ছুঁড়ে ফেলার যে নীতি যুগ যুগ ধরে অনুসরণ করে আসছে পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও তাই হতে চলেছে। তারা মনে করছেন, রাশিয়ার সঙ্গে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পাকিস্তানের দিন দিন যে ঘনিষ্ঠতা বেড়ে চলেছে তা মার্কিন রাজনীতিকরা ভালো চোখে দেখছেন না। এছাড়া, সৌদি নেতৃত্বাধীন কথিত ইসলামি সামরিক জোটে যোগ দেয়ার বিষয়ে দোটানায় রয়েছে পাকিস্তান। এ ক্ষেত্রে মার্কিন এই বিল ইসলামাবাদের ওপর বিশেষ চাপ সৃষ্টি করতে সহায়তা করবে এবং পাক সরকার সৌদি জোটে যোগ দিতে বাধ্য হবে বলে আশা করছেন মার্কিন কংগ্রেসম্যানরা।
অন্যদিকে, চীন সাগর ও উত্তর কোরিয়া ইস্যুতে বেইজিংয়ের সঙ্গে চরম টানাপড়েন চলছে আমেরিকার। সেখানে পাকিস্তান হচ্ছে চীনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র। এছাড়া, আফগানিস্তান ইস্যুতেও চীন ইদানিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে যা আমেরিকা সুনজরে দেখছে না। আবার কৌশলগত দিক দিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গোয়াদার বন্দরে চীনের উপস্থিতির সুযোগ করে দিয়েছে পাকিস্তান। সর্বোপরি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান কথিত দায়েশ-বিরোধী লড়াইয়ে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক জোটে সেনা পাঠায় নি। এসব ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, মার্কিন সরকারের ইচ্ছামতো পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে ভূমিকা পালন করছে না। ফলে, পাকিস্তানকে এখন হয়ত তারই মূল্য দিতে হবে। এর মধ্যে ভারতের সঙ্গে আমেরিকার দিন দিন সম্পর্ক বেড়ে চলেছে যা ইতিহাসের অনেকটা বাঁক ঘুরে যাওয়ার মতো ঘটনা। অনেক সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, এই মূল্য চুকিয়ে নেয়ার সুদুরপ্রসারি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মার্কিন সরকার পাকিস্তানের অভ্যন্তর থেকে ওসামা বিন লাদেনকে আটকের ঘটনাও ঘটিয়েছে। মার্কিন এ চাপ ইসলামাবাদ কীভাবে মোকাবেলা করে তা নিয়ে নানা জল্পনা রয়েছে তবে মনে করা হচ্ছে- চীন ও রাশিয়ার সমর্থনের কারণে পাকিস্তান অনেকটাই নিরাপদ অবস্থানে থাকতে সক্ষম হবে।