Friday, December 4, 2015
নিশা দেশাই ঢাকা আসছেন ১২ ডিসেম্বর
আগামী বছরের প্রথমদিকে রাজনৈতিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে ওয়েন্ডি শেরম্যানের স্থলাভিষিক্ত হবেন শ্যানন। এরপর মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হবেন তিনি। বাংলাদেশে এটি তার প্রথম সফর।
সম্প্রতি বাংলাদেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশের ধারাবাহিক সতর্কবার্তা, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদেশী নাগরিক ও শিয়া সম্প্রদায়ের ওপর হামলা এবং সিরিয়া-ইরাকভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের দায় স্বীকার, সন্ত্রাসী ঘটনাগুলোর সাথে আইএসের যোগসূত্রের সত্যতা নিরুপনে সরকারকে সহায়তা দেবার জন্য পশ্চিমা দেশগুলোর প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের জিএসপি সুবিধার ওপর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার না করা এই দূরত্বকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে এসব ব্যাপারে প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের এই টানাপোড়েনের মাঝে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ঢাকা সফরকে তাই তাৎপর্যপূর্ণ বিবেচনা করা হচ্ছে।
সফরকালে শ্যানন ও বিসওয়াল পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকের সাথে বৈঠক এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সাথে সাক্ষাত করবেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে তারা সৌজন্য সাক্ষাত করতে পারেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চুয়াডাঙ্গায় পুলিশ-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ; সাংবাদিক সম্মেলনে হুইপের ব্যাখ্যা
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মুক্তিযুদ্ধ প্রশ্নে নিরপেক্ষতার সুযোগ নেই -আলোচনা সভায় বক্তারা
![]() |
| ‘যুদ্ধাপরাধের বিচার ও গণমাধ্যমের দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক এই আলোচনা অনুষ্ঠান। ছবি: হাসান রাজা |
আজ শুক্রবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিভিন্ন পেশার মানুষের এ কথা বলেন। ‘যুদ্ধাপরাধের বিচার ও গণমাধ্যমের দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক এই আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গণমাধ্যম গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র নামক একটি প্রতিষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা যুদ্ধাপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্বীকার করেন। তাঁরা এই বিষয় নিয়ে আরও কাজ করতে বিশেষ করে বিচার নিয়ে অপপ্রচারকারীদের মুখোশ খুলে দিতে ও যাদের কাছে অপপ্রচার করা হচ্ছে তাদের কাছে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে আরও ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর গণমাধ্যম বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, সরকার এই বিচার অব্যাহত রাখবে এবং সাজা কার্যকর করবে। বিচার না করতে নানা বাধা আসছে। জাতিসংঘের মহাসচিব, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করেছিলেন সাজা কার্যকর না করতে। কিন্তু কোনো বাধাই এই বিচার বন্ধ করতে পারবে না। তিনি বলেন, একাত্তরে যুদ্ধাপরাধীরা পশুর মতো আচরণ করেছে। এই পশুদের বিচার হচ্ছে। তিনি বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশকে নিয়ে, বিচার নিয়ে যে অপপ্রচার চলছে তার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকে পর্যবেক্ষকের ভূমিকা পালন করতে হবে।
ইকবাল সোবহান বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা না রাখা পুনর্বিবেচনা করা উচিত। ১৯৫ পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীর বিচার বাংলাদেশে শুরু হওয়া উচিত।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশিদ বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থানের পর বিশ্ববাসীর কাছে ওই সময় পাকিস্তানের গণহত্যার চিত্র তুলে ধরা দরকার। ১৯৫ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হলে, এদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্ট জারি করা হলে বিশ্ববাসী অনেক কিছু জানতে পারবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী তুরিন আফরোজ বলেন, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নিরপেক্ষতা দেখানোর কোনো সুযোগ নেই। এটা যারা করছে তারা সুকৌশলে যুদ্ধাপরাধী ও মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। এদের প্রতিহত করা দরকার। তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে বিশেষ করে সম্প্রচার মাধ্যমকে কেবল প্রতিষ্ঠানের টিআরপি বাড়ানোর জন্য নিরপেক্ষতা দেখাতে ওদের মতের কাউকে নিয়ে আসাটা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের সাজা কার্যকরের পর তাদের দাফন, জানাজা নিয়ে বড় পরিসরে সংবাদ করা হচ্ছে। এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ভুল বার্তা যেতে পারে।
আলোচনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মিজানুর রহমান। এতে বক্তব্য দেন সাংবাদিক আবেদ খান, আইনজীবী শ ম রেজাউল করিম, ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাউন্ডিংয়ের এম এ হাসান, সাংবাদিক কুদ্দুস আফ্রাদ, ইশতিয়াক রেজা, অভিনেতা পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ বক্তব্য দেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কেন পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন অনেকে?
১। অল্প বয়সে বিয়ে-
জীবনে স্থায়িত্ব আসতে আসতে তিরিশ পেরিয়ে যায়। এ দিকে বিয়ে যদি অনেক আগে, কুড়ি বছরের আশে পাশে হয় তবে সে ভাবে জীবন উপভোগ করা হয়ে ওঠে না। স্থায়িত্ব আসার পর তাই অনেকে পরকীয় প্রেমের অ্যাডভেঞ্চারের স্বাদ নিতে চান।
২। ভুল বিয়ে-
যাঁর সঙ্গে বিয়ে হচ্ছে তাঁকে পছন্দ না হলেও বাড়ি, সমাজের চাপে অনেকেই বিয়ে করতে বাধ্য হন। বিয়ের পর নিজের ভুল বুঝতে পারেন। তখন কোনও বন্ধুত্ব থেকেও হঠাত্ প্রেম হয়ে যেতে পারে।
৩। মানিয়ে নিতে না পারা-
জীবনে কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পেরেও অনেকে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যের অসুস্থতা, মৃত্যু, চাকরি চলে যাওয়া, আর্থিক অনটনে অনেকে পরিবারের বাইরে মুক্তি খোঁজেন। এই সময় কোনও কাছের বন্ধুর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা একেবারেই বিরল নয়।
৪। অভিভাবকত্ব-
সন্তানের জন্মের পর জীবনে পরিবর্তন আসে। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে পরিবর্তন, স্পেসের অভাব, দায়িত্ব, কর্তব্যের জেরে অনেকে অবসাদে ভোগেন। মহিলাদের মধ্যে এই প্রবণতা কম দেখা যায়। মায়ের দায়িত্ব তাঁরা পালন করলেও পুরুষরা সব সময় বাবার দায়িত্ব পালন করেন না।
৫। যৌন অতৃপ্তি-
পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ বৈবাহিক জীবনে যৌন অতৃপ্তি।
৬। মনের অমিল-
পারিবারিক স্টেটাসে মিল থাকলেও অনেক সময়ই বিশেষ মানুষটার সঙ্গে মনের মিল হয়ে ওঠে না। দু’জনের বেড়ে ওঠা, পছন্দ-অপছন্দের ফারাক অনেক সময়ই দূরত্ব গড়ে দেয়। শুধু সম্বন্ধ করে বিয়ের ক্ষেত্রে নয়, নিজের পছন্দে বিয়ের ক্ষেত্রেও পরবর্তীকালে এটা হতে পারে। বহু দিন ধরে মনের মিল না হলে স্বাভাবিক ভাবেই বিয়ের বাইরে নিজের মনের মতো মানুষটিকে খুঁজে নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।
৭। মূল্যবোধ-
কঠিন পরিস্থিতি জীবনে মানুষ চেনায়। বিয়ে যখন পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যায় তখন বোঝা যায় আমাদের মূল্যবোধ। যদি দু’জনের মূল্যবোধে আকাশ-পাতাল ফারাক থাকে তবে ধীরে ধীরে দূরত্ব তৈরি হয়। তখন বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক তৈরি হতে পারে।
৮। গুরুত্বের পার্থক্য-
বিয়ের আগে বা বিয়ের সময় অনেকেই নিজেদের জীবনের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন না। এক সঙ্গে গোটা জীবন কাটাতে হলে একে অপরের গুরুত্ব সম্পর্কে স্পষ্ট ভাবে জানা ও সম্মান করা জরুরি। অধিকাংশ সময়ই দেখা দু’জনের জীবনের গুরুত্বের জায়গাগুলো আলাদা। সেখান থেকে শুরু হয় সমস্যা।
৯। কোনও কিছুতেই মিল নেই-
‘‘আমাদের কিছুই মেলে না’’। এমন অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায় দম্পতিদের মুখে। এ দিকে হয়তো সব দিক দেখে শুনে, অথবা এক সময়ে একে অপরের প্রতি তীব্র ভাললাগাই আপনাদের এক করেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভাল লাগা-খারাপ লাগা সামনে আসতে শুরু করে। তখন বোঝা যায় দু’জন মানুষ আসলে কতটা আলাদা। এখান থেকে দূরত্ব বাড়তে থাকে। যা অনেক সময়ই বিবাহ বহির্ভূত সন্পর্কের জন্ম দেয়।
১০। উত্তেজনার অভাব-
সম্পর্ক অনেক সময়ই একঘেয়ে হয়ে ওঠে। প্রতি দিনের জীবনের বাইরে অনেকে উত্তেজনা খুঁজে নিতে চান। স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে সে ভাবে বড় কোনও সমস্যা না থাকলেও শুধু মাত্র উত্তেজনা খুঁজতে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন অনেকে।
১১। অর্থ-
কথায় আছে অর্থ থেকেই অনর্থ হয়। পরিবারের জোয়াল টানতে টানতে অনেক সময় নিজের দিতে নজর দেওয়া হয়ে ওঠে না। নিজের পছন্দ, স্বাদ-আহ্লাদ মেটানো হয়ে ওঠে না। কোনও বন্ধুর আর্থিক সাহায্য, ভালবেসে স্বাদ-আহ্লাদ মিটিয়ে দেওয়া জন্ম দিতে পারে অবাঞ্ছিত সম্পর্কের।
১২। কেরিয়ারে উন্নতি-
পৃথিবীতে কিছু মানুষ রয়েছেন যাঁরা শুধু মাত্র কেরিয়ারে উন্নতির জন্য সম্পর্কে জড়াতে পারেন। এই মানুষদের থেকে সাবধান। এঁরা সম্পর্ককে উন্নতির সিঁড়ি হিসেবে দেখেন।
তবে পরিস্থিতির শিকার হলেও নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা কখনই উচিত্ নয়।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অনশনরত বাংলাদেশীর মুক্তি চেয়ে বিক্ষোভ :মানবাধিকার সমুন্নতের আহ্বান হিলারি ও বার্নি সেন্ডারসের by ইমরান আনসারী
যুক্তরাষ্ট্রে অনুপ্রবেশের দায়ে দেশটির চারটি কারাগারে আটক প্রায় ১০০ কারাবন্দী গত সপ্তাহের বুধবার দুপুর থেকে আমরণ অনশন শুরু করে। এ সপ্তাহের সোমবার থেকে আরো চারটি কারাগারে আটক বাংলাদেশীরা অনশন শুরু করে। এদের সাথে যোগ দেয় আফ্রিকার কয়েকটি দেশের বন্দীরা। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আটকদের দেশে ফিরিয়ে পাঠানোর প্রতিবাদ ও আইনী সুরক্ষা পাবার জন্য তারা এ অনশন শুরু করে। এরা সকলেই প্রায় ১৫ থেকে ২০ টি দেশ ঘুরে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। দীর্ঘ প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চলা কারাবন্দীদের এ আন্দোলনে তেমন কোনো সাড়া না পাওয়ায় ডেমোক্রেট দলীয় প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষন করতেই এ ব্যাতিক্রমী প্রতিবাদ কর্মসূচী ডাক দেয় মানবাধিকার সংগঠন ড্রাম সাউথ এশিয়ান সেন্টার। এ বিক্ষোভে সংহতি প্রকাশ করে বাংলাদেশ সোসাইটি, বেসরকারি সংস্থা নট ওয়ান মোরসহ আটক হওয়া বাংলাদেশীদের আত্মীয় স্বজনরা।
বিক্ষোভের শুরুতে ড্রামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফাহাদ আহম্মেদ অনশনের সার্বিক অবস্থা তুলে ধরে বলেন, ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের আটক ইমগ্রান্টদের বিষয়ে অবস্থান জানতেই এ বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে।কারণ জনগন একটু নিরাপদ আশ্রয়ের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে এসেছে। বিপরীতে প্রায় দুই বছরের মতো তাদেরকে কারাগারে থাকতে হচ্ছে। এটা মানবতাবিরোধী।
এসময় নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন টেক্সাসের এলপাসো কারাগার থেকে সদ্য মুক্ত হওয়া বাংলাদেশী আমিনুল ইসলাম। এসময় আমিনুল ইসলাম বলেন, জীবন বাঁচাতে ১৫ -১৬ টি রাষ্ট্র পেরিয়ে একটু নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সীমান্ত পেরিয়ে এই দেশে এসেছি। আমরা রাজনৈতিক আশ্রয় চাইবার পরও আমাদের আবেদন নাকচ করে দেয়া হয়েছে। এখানে এসে আমাদের একেকজনকে দেড় থেকে দুই বছর পর্যন্ত কারাজীবন বরণ করতে হয়েছে। আমরা কারাজীবন থেকে মুক্তি চাই। আমাদের আইনগত অধিকার লাভ করতে চাই। এসময় বাংলাদেশ সোসাইটির সেক্রেটারি আবদুর রহিম হাওলাদার বলেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতায় জীবনহানির আশংকায় এসব যুবকরা এদেশে এসেছেন। তাদের ফেরত পাঠানো হলে তাদের জীবন সংকটের মূখে পড়বে।মানবাধিকার সংগঠন নট ওয়ান মোর -এর পরিচালক মারিসা ফ্রাঙ্কো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে অনশনের ঘটনাই বলে দেয় এদেশের অভিবাসন ব্যবস্থা কতটা নিষ্ঠুর।
হিলারি ক্লিনটনের ক্যাম্পেইন অফিসের সামনে ইংরেজী প্ল্যাকার্ডের পাশাপাশি বাংলায় লিখা ছিল- ‘খাবার নয় , মুক্তি চাই’। ‘আমরা এখানে মরে যাবো, কিন্তু দেশে যাবো না’। বিক্ষোভ চলাকালে হিলারি ক্লিনটনের অনুপুস্থিতিতে তাঁর ক্যাম্পেইন পরিচালক লরেলা পার্লি স্বশরীরে বিক্ষোভকারীদের কথা শুনতে আসেন। বিক্ষোভ শেষে ইমিগ্রান্ট ইস্যুতে হিলারি ক্লিনটনের নৈতিক অবস্থানের কথা তুলে ধরেন পার্লি। পাশাপাশি তিনি আশ্বাস দেন যে অনশরতদের বিষয়ে হিলারি ক্লিনটন শিগগিরই সুনির্দিস্ট বক্তব্য তুলে ধরবেন।
বিক্ষোভের পরপরই অনশনরতদের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেন ডেমোক্র্যাট দলীয় শক্তিশালী প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী সিনেটর বার্নি সেন্ডারস। তিনি তাঁর ওই বিবৃতিতে জানান, যেসব পরিবার রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছে তাদের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র তাঁর আন্তর্জাতিক দায়িত্ববোধের পরিচয় দেবে। ডিটেনশন সেন্টার বন্দ করার আহ্বান জানিয়ে সেন্ডারস আরো বলেন, সকল বেসরকারি ডিটেনশন সেন্টার বন্ধ করতে হবে। কারাগারে নিক্ষেপের পরিবর্তে অন্য কোনো ব্যবস্থা অভিবাসন ব্যবস্থায় সংযুক্ত করা যেতে পারে। সেই সাথে শান্ত ও মার্জিত অভিবাসী বন্দীদেরকে তাদের আত্মীয় স্বজনের কাছে একত্রিত হবার সুযোগ করে দিতে হবে। যেসব স্বজনরা এখন কোর্টের বারান্দায় তাদের জন্য অপেক্ষা করছেন। সেন্ডারসের লিখিত বিবৃতির পরপরই গণমাধ্যম কর্মীরা হিলারি ক্লিনটনের এবিষয়ে তাঁর দৃষ্টি আকর্ষন করলে তিনি জানান, আমি বিক্ষোভের বিষয়টি শুনেছি। অভিবাসী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে এধরণের উদ্যোগ (সরকারের) সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখবে। আমি হিলারি ক্লিনটন নিজে বিশ্বাস করি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও ডিটেনশন ব্যবস্থাপনা আরো মানবিক হওয়া প্রয়োজন এবং প্রত্যেকটি মানুষের মানবিক অধিকার , নিরাপত্তা ও আত্মমর্যাদা যেন সমুন্নত থাকে।
ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষন করা এ বিক্ষোভটি গুরুত্বের সাথে প্রচার করে যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার সব কয়টি মিডিয়া।
উল্লেখ্য , অবৈধ পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা কারাভোগ করছেন। গত সেপ্টেম্বরে টেক্সাসের ডিটেনশন সেন্টারে প্রথম আমরণ অনশন শুরু করে প্রায় অর্ধশত বাংলাদেশী। তখন থেকেই বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের চাপের মুখে নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৩৫ জন ছাড়া পান। যাদের অনেকেই নিউইয়র্কে চলে আসেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিমরা বিব্রত, ক্ষুব্ধ
![]() |
| ক্যালিফোর্নিয়ায় হামলায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণ করেছে সান বার্নার্ডিনোর মুসলিম সম্প্রদায়। ছবিটি ৩ ডিসেম্বর, ২০১৫ সান ম্যানুয়েল স্টেডিয়াম থেকে তোলা। ছবি: এএফপি |
গত বুধবার ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান বার্নার্ডিনো কাউন্টির একটি স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রে হামলা হয়। বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হন ১৪ জন। আহত হয়েছেন ২১ জন।
পরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন দুই সন্দেহভাজন হামলাকারী সৈয়দ রিজওয়ান ফারুক (২৮) ও তাশফিন মালিক (২৭)। পুলিশ বলছে, তাঁরা স্বামী-স্ত্রী। তাঁদের ছয় মাসের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
রিজওয়ান যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তাঁর স্ত্রী তাশফিনের জন্ম পাকিস্তানে। বিয়ের আগ পর্যন্ত সৌদি আরবে ছিলেন তিনি।
ইনল্যান্ড রিজিওনাল সেন্টারে হত্যাযজ্ঞের পর নানা প্রশ্নের উত্তর মেলানোর চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ। হত্যাযজ্ঞ নিয়ে মার্কিন গণমাধ্যমে চলছে নানা বিশ্লেষণ।
ওই দম্পতির সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গিদের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, এ ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি তদন্ত সংস্থাগুলো।
পুলিশ জানায়, ছয় মাসের কন্যাসন্তানকে নিকট আত্মীয়ের বাসায় রেখে হামলায় অংশ নেন ওই দম্পতি। তাঁদের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
সন্দেহভাজন দম্পতির বাড়ি থেকে এত অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার হওয়ায় নানা সন্দেহ দানা বেঁধেছে। আরও বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা ওই দম্পতির ছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যমান সহজ অস্ত্র-নিয়ন্ত্রণ আইনের সুযোগে তাঁরা এত আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন বলেও আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে।
হত্যাকাণ্ডটি পূর্ব-পরিকল্পিত ছিল বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
হামলায় অংশ নেওয়ার আগে ওই দম্পতি কোনো বক্তব্য বা চিঠিপত্র রেখে যাননি। তদন্ত কর্মকর্তারা তাঁদের বাসা থেকে মোবাইল ফোন ও কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক উদ্ধার করেছেন। সেগুলো পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।
রিজওয়ান কাউন্টির কর্মচারী ছিলেন। কর্মস্থলে অসন্তোষের জেরে এ হামলা হয়েছে বলে যে ধারণাটি রয়েছে, তা ক্রমশ দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।
সহকর্মীদের ভাষ্য, তাঁরা রিজওয়ানকে কখনো সন্দেহজনক আচরণ করতে দেখেননি।
কোনো কোনো রক্ষণশীল গণমাধ্যম ওই দম্পতির ধর্ম-পরিচয়কে সামনে নিয়ে এসেছে।
সন্দেহভাজন হামলাকারীরা মুসলমান হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম সম্প্রদায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে। তাদের মধ্যে বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা।
যে মসজিদে রিজওয়ানের নিয়মিত যাতায়াত ছিল, সেখানকার লোকজনও তাঁর মধ্যে কোনো অস্বাভাবিক আচরণ দেখার কথা জানাতে পারেনি।
হত্যাযজ্ঞের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কাউন্সিল অব ইসলামিক রিলেশন্স অব আমেরিকা। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উন্মোচনের দাবিও জানানো হয়েছে। হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে ইসলাম ধর্মকে না জড়ানোরও আহ্বান জানিয়েছে কাউন্সিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। হত্যাযজ্ঞের পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। এই ধরনের হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধ করতে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ক্যালিফোর্নিয়ার হামলায় জঙ্গি-সংশ্লিষ্টতা!
![]() |
| ক্যালিফোর্নিয়ায় দুই হামলাকারীর মধ্যে একজনের নাম সৈয়দ রিজওয়ান ফারুক বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। ছবি: রয়টার্স |
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত বুধবার ক্যালিফোর্নিয়ার সান বার্নার্ডিনো কাউন্টির একটি স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রে ওই হামলার ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছে এফবিআই। হামলাকে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে মেলাতে এখনই নারাজ তারা।
ওই ঘটনায় বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হন ১৪ জন। আহত হয়েছেন ২১ জন। পরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন দুই সন্দেহভাজন হামলাকারী সৈয়দ রিজওয়ান ফারুক (২৮) ও তাসফিন মালিক (২৭)। পুলিশ বলছে, তাঁরা স্বামী-স্ত্রী। তাঁদের ছয় মাসের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রিজওয়ান যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তাঁর স্ত্রী তাশফিনের জন্ম পাকিস্তানে। বিয়ের আগ পর্যন্ত সৌদি আরবে ছিলেন তিনি।
ওই দম্পতি কেন হামলা চালালেন, নানা তথ্য-প্রমাণ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে তা বের করার চেষ্টা করছেন কর্মকর্তারা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, গুলির ঘটনাকে সম্ভাব্য সন্ত্রাসবাদী কাজ হিসেবে বিবেচনা করছে এফবিআই। কিন্তু এ ব্যাপারে এখনই কোনো উপসংহার টানার পর্যায়ে তারা নেই।
কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিএনএন বলছে, বিদেশে পরিচিত সন্দেহভাজন জঙ্গিদের সঙ্গে রিজওয়ানের যোগাযোগ ছিল। গত বছর সৌদি আরবে তাশফিনকে বিয়ের পর উগ্রবাদী হন রিজওয়ান।
তবে স্থানীয় একটি মসজিদের ইমামের ভাষ্য, রিজওয়ানের মধ্যে এমন কোনো আচরণ দেখেননি তিনি।
ওই দম্পতির মোবাইল ফোন ও কম্পিউটারের হার্ড ড্রাইভ উদ্ধার করেছে এফবিআই। তারা সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে।
দ্য টাইমস জানিয়েছে, রিজওয়ান কয়েক বছর আগে উগ্রবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে এফবিআইয়ের কাছে প্রমাণ আছে।
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, সন্ত্রাসী হামলার বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আবার এখনই কোনো উপসংহারে আসার ব্যাপারেও সতর্ক করেছেন তিনি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
খাদ্যজনিত রোগে প্রতি ঘন্টায় মারা যাচ্ছে অর্ধশত মানুষ -বিশ্ব খাদ্য সংস্থার প্রতিবেদন
প্রথমবারের মতো প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন ধরণের খাবারে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, প্যারাসাইটস, টক্সিন ও কেমিক্যালসহ মোট ৩১ ধরনের সংক্রমণের কারণে বিশ্বে প্রতি বছর ৬০ কোটি মানুষ অসুস্থ হচ্ছে। একই কারণে বিশ্বে প্রতি বছর ৪ লাখ ২০ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ও পাঁচ বছরের কম বয়সী ১ লাখ ২৫ হাজার শিশুর মৃত্যু হচ্ছে।
আফ্রিকা ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে খাদ্যজনিত রোগে অসুস্থ মানুষের সংখ্যা সর্বাধিক। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শতাধিক বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে গত এক দশক যাবত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, সারাবিশ্বে খাদ্যজনিত মোট রোগব্যাধির মধ্যে অর্ধেকই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। প্রতি বছর ৫৫ কোটি মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয় এবং ২ লাখ ৩০ হাজার মানুষ মারা যায়। আক্রান্তদের মধ্যে ২২ কোটিই শিশু ও প্রতি বছর ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৯৬ হাজার শিশু মারা যায়।
ডায়রিয়া ছাড়াও খাদ্য দূষণের কারণে টাইফয়েড, হেপাটাইটিস-এ, আলফাটক্সিনজনিত কারণে মানুষ অসুস্থ হয়। দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য দূষণের শিকার ব্যক্তির ক্যান্সার, কিডনি ও লিভার ফেইলিউরও হতে পারে। অনিরাপদ পানি, খাদ্য দূষণ এর অন্যতম কারণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ড. মার্গারেট চ্যাং বলেছেন, যে সকল কারণে খাবার দূষিত হয়ে মানুষ অসুস্থ কিংবা মৃত্যুবরণ করছে তা প্রতিরোধে সরকার, জনগণ ও খাদ্য শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কংগ্রেসের ‘জটিল হিসেব-নিকেশ’ ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে মার্কিন ব্যর্থতা
দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা স্বয়ং সে দেশে আগ্নেয়াস্ত্র আইন নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বহুবার কথা বলেছেন। কিন্তু আমেরিকায় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনা যাচ্ছে না।
২০১৫ সালে আমেরিকায় বন্দুক হামলায় ১২ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে এবং আহত হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার। বড় ধরনের যেসব ঘটনা ঘটে – অর্থাৎ কোন স্কুল বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, অথবা কোন বড় জমায়েতে হামলার মতো ঘটনাগুলো গণমাধ্যমে খবর হয়। কিন্তু প্রতিদিন আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে এমন অনেকে মারা যায়, যেটি কোন খবর হয় না।
পলিটিফ্যাক্ট-এর পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে ১৯৬৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বন্দুক বা পিস্তলের গুলিতে আমেরিকায় ১৪ লাখ মানুষ মারা গেছে।
বন্দুকের যথেচ্ছ ব্যবহার নিয়ে প্রেসিডেন্ট ওবামার ক্ষোভ এবং হতাশা বেড়েই চলেছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবার পর থেকে মি: ওবামা এনিয়ে ১৫বার বন্দুকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করার পক্ষে কথা বলেছেন।কিন্তু তাতে কোন লাভ হয়নি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমেরিকায় বন্দুকধারীদের হামলার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় তিনি বরাবরই উদ্বেগ জানিয়ে আসছেন। কিন্তু তাতে কোন কাজ হচ্ছে না।
আমেরিকায় এখন কতগুলো পিস্তল বা বন্দুক ব্যবহার করা হচ্ছে তার সঠিক কোন পরিসংখ্যান নেই। তবে ধারণা করা হয়, এই সংখ্যা প্রায় ৩০ কোটি। এই সংখ্যা আমেরিকার মোট জনসংখ্যার সমান।
প্রেসিডেন্ট ওবামা বন্দুকের যথেচ্ছ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলেও সেটি সম্ভব হচ্ছে না। কারণ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে আইনপ্রণয়ন করেতে মার্কিন কংগ্রেসে যথেষ্ট সমর্থন নেই।
এমন প্রেক্ষাপটে হতাশ প্রেসিডেন্ট ওবামা সংবাদমাধ্যমকে একটি বিষয় তুলনা করার আহবান জানিয়েছেন। সেটি হচ্ছে- সন্ত্রাসী হামলায় আমেরিকার কতজন নাগরিক মারা গেছে আর অন্যদিকে নিজ দেশে আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে কতজন মারা গেছে?
তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর সন্ত্রাসী হামলা থেকে নিজেদের নাগরিকদের রক্ষা করতে এক ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করে।
অথচ সন্ত্রাসী হামলায় যে পরিমাণ লোক মারা যায়, তার চেয়ে বেশি মানুষ মারা যায় আমেরিকার অভ্যন্তরে আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে।
বিভিন্ন জরিপের কথা উল্লেখ করে মি: ওবামা বলেন, আমেরিকার অধিকাংশ মানুষ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের পক্ষে।
যেখানে স্বয়ং প্রেসিডেন্ট এবং দেশের অধিকাংশ জনগণ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণের পক্ষে, তারপরে সেটি নিয়ন্ত্রণের জন্য আইন করা যাচ্ছেনা। সমস্যাটা কোথায়?
পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে বলা হচ্ছে ,আমেরিকার ৮০ শতাংশ জনগণ মনে করে যে মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি করা উচিত নয়।
কিন্তু সাধারণ মানুষের মতামত এখানে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যদের মতামত এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন কংগ্রেস আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের বিপক্ষে।
অধিকাংশ মার্কিন নাগরিকের চিন্তাভাবনাকে কংগ্রেস গুরুত্ব না দিলেও চলে। সেজন্য জরিপের ফলাফলের তেমন গুরুত্ব নেই। নির্বাচনের দিন যেসব আমেরিকান ভোট দিতে যায় তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিলেই চলে।
মার্কিন সিনেটে বর্তমানে পিাবলিকান সদস্য ৫৪জন এবং ডেমোক্রেটস সদস্য ৪৬জন। এখানে প্রতিটি রাজ্যের জনসংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ।
আগ্নেয়াস্ত্রের যথেচ্ছ ব্যবহার বন্ধে কঠোর আইন করতে কংগ্রেসে পর্যাপ্ত সমর্থন পাওয়া যাচ্ছে না।
আমেরিকার পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য ওআয়ামিং জনসংখ্যা ছয় লাখের মতো । সেখানকার মানুষ বন্দুক ব্যবহারের পক্ষে। অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের জনসংখ্যা তিন কোটি ৮০ লাখ। সেখানকার মানুষ চায় বন্দুকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা হোক। কিন্তু জনসংখ্যা কম হলেও ওআয়ামিং –এর দুজন সেনেটরের কংগ্রেসে যে অধিকার আছে, অন্যদিকে জনসংখ্যা অনেক বেশি থাকা সত্ত্বেও ক্যালিফোর্নিয়ার দুজন সিনেটরের একই অধিকার আছে।
মার্কিন কংগ্রেসের ‘জটিল হিসেব- নিকেশের’ কারণে অনেক সময় কংগ্রেসম্যানদের চিন্তাধারায় সার্বিকভাবে আমেরিকার অধিকাংশ জনগণের মনোভাবের প্রতিফলন হয় না। সেজন্যই বন্দুকের যথেচ্ছ ব্যবহার বন্ধের জন্য প্রেসিডেন্টর আগ্রহ থাকলেও সেটি বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশী জাহাজে নজরদারি করতে চায় ভারতীয় নৌবাহিনী
আহলুওয়ালিয়া বৃহস্পতিবার বলেন, মুম্বাই হামলার মতো ঘটনা ঠেকাতে কড়া নজরদারি কাঠামো প্রয়োজন। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনে তিনি আরও বলেন, একটি সাম্প্রতিক চুক্তি অনুযায়ী, রিভার সি ভেসেল (আরএসভি) ক্যাটাগরির জাহাজ বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে চলাচল করে। ওই জাহাজে ট্রান্সপোন্ডার থাকে না। বাংলাদেশী এসব জাহাজে এ ধরণের নজরদারিমূলক ব্যবস্থা রাখা হবে বলে তিনি আশাবাদী কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নৌ স্বার্থ সুরক্ষার জন্য এ ব্যবস্থা থাকতে হবে।
তিনি বলেন, ট্রান্সপোন্ডার স্থাপন করাটা প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। এ দাবি মেনেও নেয়া হয়েছে, এটি অবশ্যই ঘটবে। নৌ স্বার্থ সুরক্ষার জন্য জাহাজে ট্রান্সপোন্ডার থাকতেই হবে। অন্যথায় আপনি মুম্বাই হামলার মত আরেকটি হামলা প্রত্যক্ষ করবেন আবারও।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কবি ও লেখিকার গল্প by ফারুক আহমেদ
শ্রাবণ মাস। ঘোর বর্ষা। পাহাড় থেকে মেঘ এসে শহরের আকাশ দখল করে নিচ্ছে। এ ঋতু ক্ষমতায় আসার পর ঘোষণা দেয়, মেঘ যত্রতত্র ঘোরাফেরা করতে পারবে না। তাদের অবস্থান করতে হবে শহরের নির্দিষ্ট জায়গায়। তাই গভীর রাত থেকেই জায়গা দখল নিয়ে মেঘেদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি, হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। এতে কিছু মেঘ নিহত হয়। নিহত মেঘেরা বৃষ্টি হয়ে যখন শহরের কোনো এক গলির কয়েকটি বাড়ি ভিজিয়ে দিচ্ছিল, সে সময় বৃষ্টির এমন আমেজে সংঘঠিত হচ্ছিল নানা কিছিমের ঘটনা। উদাহরণ হিসেবে দু-একটি উল্লেখ করা হলো। যেমন: সদ্য বিবাহিত এক দম্পতি পরস্পর জড়াজড়ি করে অনির্ণেয় সুখ খোঁজার চেষ্টায় তৎপর হয়ে ওঠে, তবে পরমুহূর্তে বৃষ্টি থেমে যাওয়ায় নবীন দম্পতি যারপরনাই হতাশ। ফুটপাতে শুয়ে থাকা উদ্বাস্তুরা বৃষ্টি দেখে প্রথমে কোথাও আশ্রয় নিতে ছুটে যায়, কিন্তু পলকে বৃষ্টি থেমে যাওয়ায় ফিরে আসে আগের জায়গায়। একটা ল্যাংড়া কুকুর বৃষ্টির ভয়ে ফুটপাত থেকে লাফিয়ে ওঠে, কিন্তু নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে তাকে বেশিক্ষণ ছোটাছুটি করতে হয় না—তার আগেই বৃষ্টি থেমে যায়।
বৃষ্টি আবার শুরু হয়—আর তা হয় পরদিন বিকেল থেকে।
বৃষ্টি যখন শুরু হলো, তার আগেই অফিসগুলো তার কর্মীদের ছেড়ে দিয়েছে। সারা দিনের ক্লান্তি, ঘাম ও রেষারেষির সমাপ্তি টেনে সবাই তখন ঠিকানামুখী। এমন সময় আকাশ ভেঙে (আকাশ নয়, হবে মেঘ ভেঙে) বৃষ্টি ঝরতে শুরু করে। এরই মধ্যে অবশ্য অনেকে বাসে চেপে বসেছে, অনেকে পৌঁছেও গেছে বাসায়, তবু পৃথিবীর প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডের ভেতর দুর্ভাগ্যবানেরা সংখ্যায় সব সময় বেশিই থাকে। তা না হলে বৃষ্টি শুরুর পর রাস্তার পাশের দোকান, অফিসের বারান্দা, গ্যারেজের ফাঁকা অংশ—যেখানেই সামান্য আশ্রয় আছে, সেখানে কেন লোকের এমন গিজগিজে উপস্থিতি নজরে আসবে?
বৃষ্টি শুরু হয়ে আর থামছে না। চারদিক ফাঁকা হয়ে গেছে। এর ভেতর রাস্তায় হঠাৎ দু-একটা সিএনজির হন্তদন্ত ছুটে যাওয়া দেখে মনে হয়, বৃষ্টি ওদের তাড়িয়ে নিচ্ছে। অন্য সময় রাস্তায় অজস্র বাস গিজগিজ করলেও বৃষ্টিতে সব উধাও।
একটা অফিসের বারান্দায় বৃষ্টি সামনে নিয়ে শ-পঞ্চাশেক লোক দাঁড়িয়ে। শ-পঞ্চাশেক লোক মানে শ-পঞ্চাশেক মুখ। শ-পঞ্চাশেক মুখ মানে শ খানেক চোখ। এই পঞ্চাশটা মুখ থেকে প্রাথমিকভাবে আমরা দুটি মুখ বেছে নেব। এই দুজনের একজন যুবক, বয়স আটাশ থেকে ত্রিশ, আরেকজন যুবতী—পঁচিশ থেকে সাতাশ। অবশ্য মেয়েটির বয়স ত্রিশ থেকে বত্রিশ হলেও সমস্যা নেই।
বৃষ্টির ঝাপটা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বারান্দায় আটকে পড়া লোকগুলো আরও একটু অন্তরঙ্গ হয়ে যায়। এ অন্তরঙ্গতায় কেউ কারও সঙ্গে গল্প বা আড্ডায় মাতোয়ারা হয়ে যাচ্ছে—তা নয়, বরং অনেক দূর থেকে ভেসে আসা সংসারের নানা কাসুন্দি কমবেশি নাড়াচাড়া শুরু হয়ে গেল আরকি। এটা সম্ভব হলো মুঠোফোনের বদৌলতে। আর পরস্পর অন্তরঙ্গ ভাবছে বলেই এমন সব কথা রাখঢাক না করেই চালিয়ে যাচ্ছিল তারা। যা হোক, এর মধ্যে যে দুটি মুখের কথা বলা হলো, তাদের ভেতর তৈরি হয়েছে একটা যোগসূত্র। দুজন বারান্দার দুদিকে অবস্থান করেও এ যোগসূত্র তৈরিতে সক্ষম হয়েছে। মানুষের ভিড়ের ফাঁকফোকর ঘুরে দুজনের দৃষ্টি মিলিত হচ্ছে একসঙ্গে। বৃষ্টি একটু থেমে পরমুহূর্তে ঝাপটা দেয়, দৃষ্টি একটু ঘুরে পরমুহূর্তে আবার মিলিত হয়—এভাবে চলতেই থাকে। বৃষ্টি কিন্তু থামে না। বৃষ্টির ভেতর দু-একজন অস্থির হয়ে ওঠে, তারা বেরিয়ে পড়ে প্যান্ট গুটিয়ে। দৌড়ে এগোনোর চেষ্টা করে। দৃশ্যটি দেখে অন্যরা চাহনি ফেলে পরস্পর। তারপর কেউ একজন প্যান্ট গুটিয়ে লাফিয়ে পড়ে বৃষ্টিতে। এভাবে বেরোতে বেরোতে লোকজন প্রায় শূন্যের কোঠায় ঠেকে। শেষ পর্যন্ত যুবক-যুবতীসহ টিকে থাকে সাকল্যে জনা পাঁচেক। ঘণ্টা পেরোনো এই বৃষ্টিসন্ধ্যায় তারা পরস্পর বার পঞ্চাশেক দৃষ্টি ফেলেছে। এই দৃষ্টিপাত প্রথমে গম্ভীর, পরে হালকা এবং শেষে ঘটে মৃদু হাসি সহযোগে।
এ অবস্থায় কবি এই যুবক-যুবতীর ভেতর কথা ফেলতে চান। বরিষনময় সন্ধ্যায় এবার ওদের ভেতর হালকা কথার বৃষ্টি শুরু হোক—এমন বাসনা নিয়ে নিমগ্ন হয়ে পড়েন তিনি। কীভাবে বিশ্বাসযোগ্য উপায়ে তাদের ভেতর একটা সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব—এ ভাবনায় মশগুল হওয়ার আগেই কেঁদে ওঠে কবির ছয় মাস বয়সী বাচ্চাটা। কান্নার সঙ্গে সঙ্গে বাচ্চার মা জেগে উঠলে প্রথমেই তার চোখ পড়ে স্বামীর ওপর। ফলে, ছোট খোকা রেখে সে নজর দেয় বড় খোকার দিকে।
: এখনো তুমি লাইট জ্বালাইয়া রাখছ?
তার কণ্ঠ ঘুমজড়ানো হলেও কথাগুলো নির্দেশের মতো শোনায়। এরপর মুহূর্তমাত্র দেরি না করে লাইট নিভিয়ে দেন কবি। এবং ভাবনা ফেলে বাচ্চার কান্না কীভাবে, কোন উপায় থামানো যায়, সে কাজে তৎপর হয়ে ওঠেন।
২. এক গল্পকার একটা গল্প লিখতে বসেছেন। গল্প স্থির করা আছে। তিনি আপাদমস্তক বিরহে মোড়ানো একটা গল্প লিখবেন। তবে তাঁর ভাবনার সামনে অনেক বিশৃঙ্খলা খেলা করে যায়। এর মধ্যে আছে মাস খানেক আগে বিচ্ছেদ হওয়া স্বামীর স্মৃতি। এটাকে তিনি অবশ্য পাত্তা দিতে রাজি নন। যে অনবরত প্রতারণা করেছে, তার চলে যাওয়াকে কোনোমতেই ক্ষত বলা যাবে না। তবু বারবার মনে হয়, লোকটা এমন করতে পারল? এত দিনের প্রেম, তারপর বিয়ে। তারপর একসঙ্গে যাপন, তারপর...। তিনি লিখতে শুরু করেন—
গল্পকার যে গল্পটা লিখতে শুরু করলেন, সেটি কবির লেখা গল্পের প্রায় হুবহু। তফাত যেটুকু, তা যৎসামান্য। তফাতটা গল্পের শুরুর অংশে। গল্পের শুরুর দিকে তিনি যে বিবরণ দেন, তা এখানে তুলে দিচ্ছি—
দাম্পত্য জীবনের দুই বছরের মাথায় জুঁই টের পায় ঘটনাটা। তার স্বামী রেদওয়ান ঝুঁকে পড়েছে অন্য এক নারীর দিকে। এই নিয়ে তাদের ভেতর কিছু দিন ধরে অস্থিরতা চলছে। তারই চূড়ান্ত ঝগড়াটা যখন সংঘঠিত হচ্ছে, বাইরে তখন তুমুল বৃষ্টি। ঝগড়ার একপর্যায়ে জুঁই বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ে। পেছন পেছন রেদওয়ান। জুঁই বাসা থেকে বেরিয়ে কাছাকাছি একটা অফিসের বারান্দায় আশ্রয় নেয়। সঙ্গে সঙ্গে এসে দাঁড়ায় রেদওয়ান। অফিসের বারান্দায় বৃষ্টি সামনে নিয়ে শ-পঞ্চাশেক লোক দাঁড়িয়ে আছে।... তারপর গল্পকার দুজনের ভেতর চাহনি বিনিময় এবং প্রতীক্ষার বিবরণ কবির মতোই দিয়ে যান। শেষে যখন অফিসের বারান্দা প্রায় খালি হয়ে যায়, তখন দুজনের ভেতর কথা ফেলতে চান তিনি। ভাবেন, হাতজোড় করা রেদওয়ানকে জুঁইয়ের সামনে দাঁড় করিয়ে দেবেন, বা চোখে চোখেই একটা সমঝোতা করিয়ে দেবেন। আর কী কী বিকল্প হতে পারে, সেসব নিয়ে ভাবছিলেন গল্পকার। তখন তাঁর মুঠোফোন বেজে ওঠে। স্ক্রিনে ‘মাম’ দেখে ফোনটা কানে নিয়ে বলেন, ‘হালো মা, বলো।’ কিন্তু অপর প্রান্ত থেকে বাবার কণ্ঠ শোনা যায়। বাবা বলেন, ‘মা, তোর মা হাসপাতালে।’ ফলে লেখিকা গল্পটিকে আর টানতে পারেন না।
৩. মায়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে লেখিকা হন্তদন্ত হয়ে বেরিয়ে পড়েন। সঙ্গে নিয়ে যান গল্পটা। এদিকে কবিও বের হওয়ার সময় নিজের ঝোলা টাইপের ব্যাগটায় গল্পটা গুঁজে রাখেন। দুজনের ভেতর খেলা করছে প্রায় একই রকম উত্তেজনা। কবি ভাবছেন, কোথাও থেকে যেন প্রেমের গল্পের তাড়নাটা আসছে। সেই কোথাওটা অচিরেই অবয়ব নিয়ে হাজির হবে। হাজির যে হবে, এ নিয়ে কবির মনে কোনো সংশয় নেই। অন্যদিকে লেখিকা ভাবছিলেন, গল্পটা লেখার পর তিনি শান্তি বা সান্ত্বনা পাবেন—তাঁকে ঘিরে আছে যে বেদনার গোলক, তা অনেকাংশেই কমে আসবে। এমনই নিজস্ব স্বপ্নে ঘোরগ্রস্ত হয়ে কবি ও লেখিকা—দুজনই শাহবাগের ফুটপাত পার হচ্ছিলেন। কবি যাচ্ছেন আজিজ মার্কেট, লেখিকা বারডেম হাসপাতালে। এই যাতায়াতের পথে সাক্ষাৎ ঘটে তাঁদের দুজনের। সাক্ষাৎ বলতে পরস্পর পরস্পরকে অতিক্রম করেন। কেউ কারও দিকে ভ্রুক্ষেপ না করেই সম্পন্ন হয় অতিক্রমপালা। কিন্তু এর ভেতরেই নাটক যা ঘটার ঘটে। কবির গল্পটা ঝোলা থেকে এক লাফে লেখিকার ব্যাগে এবং লেখিকার গল্পটা ব্যাগ থেকে এক লাফে কবির ঝোলায় চলে আসে। পাঠক যতই অবাক হোন না কেন, ঘটনা এই—এ-ই সত্যি। কেউ যদি বলে, উহ্, কী চাপা? এটা কোনোমতেই সম্ভব না, তারপরেও এটা আসলে সম্ভব। প্রতিদিন আমাদের চারপাশে যা যা ঘটছে, সেসবের তুলনায় দুটি গল্পের দুদিকে লাফ দেওয়া অতি সাধারণ ঘটনা। সুতরাং, এটা বিশ্বাসযোগ্য। এটাই ঘটেছে—কবির গল্প লেখিকার দখলে এবং লেখিকার গল্প কবির দখলে চলে আসে।
৪. দ্বিতীয়বার কবি যখন লিখতে শুরু করেন, তখনো গভীর রাত। ঝোলা থেকে কাগজ বের করে প্রথমেই তাঁর খটকা লাগে। তাঁর হাতের লেখা কি একটু বেঁকে গেল?—ভেবেও বিষয়টা নিয়ে আর এগোন না। কারণ, গল্পের পরবর্তী দৃশ্য তাঁর মাথায় খেলছে। ফলে, এক্ষুনি সেটি নামিয়ে দিতে হবে। কিন্তু লিখতে শুরু করেই আটকাতে হয় তাঁকে। কী এক ব্যাপার ঘটে গেছে খাতাজুড়ে। গল্পটা তাঁরই, তারপরও বলতে হবে, তাঁর না—এমন একটা সংশয় থেকে গল্পটা বেশ কয়েকবার পড়ে ফেলেন কবি। প্রতিবার পড়া শেষে এলিয়ে পড়েন তিনি। মুহূর্তেই তাঁর চোখ যায় ঘুমিয়ে থাকা নারীর দিকে। নারীটির পাশে তাঁর ছয় মাসের আত্মজা, সেও ঘুমিয়ে। এসবের মধ্যে ওই নারীমুখ তাঁকে একটা বিপুল বিরক্তির ভেতর ডুবিয়ে দেয়। তাঁর মনে হয়, এই নারী তাঁর জীবনটা বিষিয়ে তুলছে; শীতের সকালের মতো একটা হাসি তাঁকে সে বরাদ্দ দেয় না বহুদিন, বা ভাপাপিঠার মতো উষ্ণ স্পর্শ—কিচ্ছু না। নারীটি এসবে না গিয়ে বারবার যায় বিরক্তি-সহায়ক ঘটনায়, যায় চোখ রাঙানোয়। এ কারণেই তাঁর একটা নিটোল প্রেমের গল্প নিজের অজান্তেই পরিণত হয়েছে বিরহের গল্পে। কবি নিজের ভেতরই—না না এ হতে পারে না আওয়াজ দিয়ে উঠে পড়েন চেয়ার থেকে। তারপর খোলা বারান্দায় এসে পায়চারি করতে থাকেন। এদিকে লেখিকা গল্প লিখতে গিয়ে একই ঘটনার মুখোমুখি। তিনি ভেবেছিলেন, নিজের কষ্টগুলো নানা কায়দায় গল্পে ঢেলে দেবেন। এতে গল্প শেষে একটা বৃষ্টিভেজা বাতাসের আমেজ টের পাবেন। কিন্তু তা তিনি পেলেন না। তবে তাঁর মনে হতে লাগল, কোথায় যেন প্রেম লুকিয়ে আছে, ধরা দিতে গিয়েও দিচ্ছে না। লেখিকার ভাবনায় তখন তাঁর স্বামী লোকটার চেহারা এসে হাজির হয়। তাঁর সামনে বেদনার স্মৃতিগুলো ফিকে হয়ে ভিড় করে আনন্দের স্মৃতিই। সুতরাং, লেখিকা নিশ্চিত, ওই লোকটা তাঁর কাছে আবার ফিরে আসবে। আসবে! অথবা তাঁর মন কোনো বেদনায় নয়, যেতে চায় আনন্দগঞ্জে।
৫. এরপরের ঘটনাগুলো খুব দ্রুত ঘটে। কবির ভেতর একটা অবিশ্বাস ছক্কাপাঞ্জা খেলতে শুরু করে। কেন যেন তাঁর মনে হতে থাকে, তাঁর স্ত্রীর হৃদয় অন্যদিকে ঝুঁকে আছে। এই মানুষটিকে, এই চিত্রকল্প জন্মদাতা কবিকে সে কোনোমতেই ভালোবাসে না—এ ধারণা কবিকে সকাল-সন্ধ্যা গুঁত্তা দিয়ে বেড়ায়। ফলে, যখনই তাঁর মনে হয়, ওই নারী তাঁকে ভালোবাসে না, তখনই তিনি লাফিয়ে ওঠেন—অফিসে থাকলে এক লাফে নিচের চায়ের দোকানে পৌঁছে যান, আর বাসায় থাকলে বারান্দায়। নারীটি অবশ্য কবির এমন কর্মকাণ্ডে ভেংচিই কাটে। বলে, ‘ইদানীং দেখছি তুমি আর কবি নাই, কবি থেকে দার্শনিক হয়ে গ্যাছ।’
এমন দিনযাপনের ভেতর একদিন ‘ওই নারী আমারে ভালোবাসে না, বাসে অন্য কাউকে’—এই আপ্তবাক্য স্মরণে আসামাত্র অফিস থেকে বেরিয়ে পড়েন কবি। ভরদুপুরে হাজির হন বাসায়। কড়া নেড়ে অপেক্ষা করেন। দরজা খুলে চোখ কপালে তোলে বউ, ‘তুমি?’
কবি কোনো কথা বলেন না, বউকে অনেকটা পাশ কাটিয়ে বাসায় ঢুকে পড়েন। ড্রয়িংরুমে এসে প্রথমে তাঁর মাথা চক্কর দিয়ে উঠলেও তা পুরোমাত্রায় নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হন। কবির পেছন পেছন তাঁর স্ত্রীও চলে আসে। একটা স্বাভাবিক পরিবেশের মধ্য দিয়ে সে পরিচয় করিয়ে দেয়, ‘এ আমার বন্ধু কাওসার, যে কাওসারের কথা তোমাকে বলি।’ পরিচয় করানোমাত্র একটা মোলায়েম হাসি ছড়িয়ে হাত বাড়ান কবি, যুবকও হাত বাড়ায়। কবি বলেন, ‘কী করছিলেন?’
যুবক অন্য হাতের ছুরিটা দেখিয়ে বলে, ‘পুডিং কাটছিলাম।’ ‘পুডিং অনেক নরম এবং সুস্বাদু, কাটতেও ভালো লাগে। আমিও কাটি, হে হে হে।’—কবি আওড়ালেন। এ পর্যন্ত বলে ভেতরে ঢুকে গেলেন। ওদিকে লেখিকার মনে প্রেম তুমুলভাবে জেগে ওঠে। প্রেমের ধাক্কায় তিনি বেরিয়ে পড়েন বাসা থেকে। গন্তব্য সদ্য সাবেক হওয়া স্বামীর অফিস। লেখিকা ঠিক করেন, অফিসে পৌঁছে সবার সামনে স্বামীর হাত ধরে বলবেন, ‘অনেক হয়েছে, এবার চলো।’ কিন্তু তখনই তাঁর মাথায় আসে ওই মেয়ের কথা, যাকে নিয়ে পার্কে ঘুরে বেড়াচ্ছিল তাঁর স্বামী। তবে পরমুহূর্তেই মাথা থেকে এটি ঝেড়ে ফেলেন তিনি। সাবেক স্বামীর অফিসে যাওয়া ছাড়া আর কোনো গন্তব্যের কথা লেখিকা ভাবতে পারেন না। অবশ্য স্বামীর অফিসের কাছাকাছি পৌঁছালে তাঁর ফোন বেজে ওঠে। স্কিনে নাম দেখে প্রথমে কাঁপতে থাকে তাঁর হাত। কোনোমতে নিজেকে থামান। স্বর স্বাভাবিক রেখে রিসিভ করেন ফোন—
: হ্যালো কায়েস, কী খবর?
: ভালো, তুমি কই?
: কেন?
: তুমি কোথায় তা-ই বলো। আমি আসছি। লেখিকা তাঁর অবস্থান জানিয়ে দেন। কায়েস আসে এবং লেখিকাকে নিয়ে রওনা হয় আনন্দগঞ্জের দিকে।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ডুববে বাংলাদেশের ৪০ ভাগ এলাকা, উদ্বাস্তু হবে মানুষ
বাংলাদেশের কুতুবদিয়া দ্বীপের অবস্থান সেখানে, যেখানে মেঘনা নদী গিয়ে বঙ্গোপসাগরে মিশেছে৷ সেই দ্বীপটিতে ভাঙ্গন আজ নিত্যদিনের ঘটনা৷ এরইমধ্যে সমুদ্রের পানি যেটুকু বেড়েছে, তার প্রভাবে এবং ভাঙ্গনের কারণে অনেকেই তাঁদের ঘরবাড়ি হারিয়েছেন৷ এই যেমন, হাজেরা বেগম অন্তত সাতবার তাঁর আবাসস্থল পরিবর্তনে বাধ্য হয়েছেন৷ ফরিদউদ্দিন তো তাঁর ঘরবাড়ি হারিয়ে এখন শুধু আঙুল দিয়ে দেখাতে পারেন দূরে নদীর ভিতরে কোথায় একসময় তাঁর ঘর ছিল৷
পানি বেড়ে লবণাক্ততার কারণে পানীয় জলেরও তীব্র সংকট ঐ দ্বীপে৷ সেখানকার বাসিন্দা বেবুলা বেগমকে প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা হেঁটে গিয়ে দূরে গভীর নলকূপ থেকে পানীয় জল সংগ্রহ করতে হয়৷ যেদিন তিনি পারেন না, সেদিন লবণ পানি খেয়েই বাঁচতে হয়৷ তাঁর আবাসস্থলের চারপাশেই যে লবণ পানির আগ্রাসন৷
বাংলাদেশের উপকূলীয় মানুষ এরইমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে উদ্বাস্তুতে পরিণত হতে শুরু করেছেন৷ বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অন্তত চার লাখ মানুষ ঢাকায় চলে আসেন৷ আর দিনের হিসাব করলে প্রতিদিন কম করে হলেও দুই হাজার মানুষ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকায় আসেন আশ্রয়ের সন্ধানে৷ যাঁদের ঠাঁই হয় বস্তিতে, তাঁদের মধ্যে শতকরা ৭০ ভাগই জলবায়ু উদ্বাস্তু৷
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অনুষদের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রব ডয়চে ভেলেকে জানান, জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশ বিপর্যয়ে আমাদের ভূমিকা সামান্য হলেও এর বড় শিকারে পরিণত হতে যাচ্ছি আমরা৷ আর এটা নিয়ে বিশ্বে রাজনীতি আছে৷ ফলে কার্বণ নিঃসরণ কমিয়ে আনার ব্যাপারেও কার্যকর উদ্যোগ নেয়া যাচ্ছে না৷
তিনি বলেন, সারা বিশ্বকে মিলেই এই বিপর্যয় রোধে উদ্যোগ নিতে হবে৷ বাংলাদেশকে মনে রাখতে হবে যে এর ফলে হয়ত উপকূলের চার কোটি মানুষকে সরিয়ে আনতে হবে৷ শুধু তাই নয়, তাঁদের জন্য বিকল্প পেশা, আবাসস্থলের জন্য এখন থেকেই মহাপরিকল্পনা নিতে হবে৷
প্রসঙ্গত, বিশ্বব্যাংকের গবেষণা বলছে যে, প্রতিবছর বিশ্বের প্রায় দুই কোটি মানুষ ঘরবাড়ি হারাচ্ছেন৷ এরমধ্যে শতকরা ৭০ ভাগ প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং জলাবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের শিকার৷
সুত্রঃ ডয়েচে ভেলে
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গুম হওয়া পারভেজের মেয়ের আকুতি- ‘যে আব্বুকে এনে দেবে তাকে আমি চকলেট দেবো’
গত ২০১৩ সালের ৪ঠা ডিসেম্বর গুম হওয়া সাজেদুল ইসলাম সুমনের মা হাজের খাতুন বলেন, ‘দুই বছর পার করেছি, আর পারছি না। সাংবাদিক ভাইয়েরা আপনারা ভাল করে লিখবেন যেন আমাদের সন্তানদের ফেরত পাই। এ কথা বলেই ডুকরে কেঁদে উঠেন। পরে আর তিনি কথা বলতে পারেনি।
২০১৩ সালের ২৮শে নভেম্বর গুম হওয়া খালিদ হাসান সোহেলের স্ত্রী শাম্মী সুলতানা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘জেল গেট থেকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহনীর পরিচয়ে আমরা স্বামীকে তুলে নিয়ে গেছে। এখন ফেরত পাইনি। আমার দুই বছরের সন্তান পিতা ছাড়া সময় পার করেছে। আমরা সন্তানের সেই শৈশব ফিরিয়ে দিন।’একই বছরের ২ ডিসেম্বর গুম হওয়া সোহেলের ছেলে জেএসসি পরীক্ষার্থী রাজু বলে, ‘বাবা আমার জন্ম দিনের ফুল কিনতে গিয়ে আর ফিরে আসতে পারেননি। বাবা ছাড়া আমাদের ভবিষ্যৎ অচল। বাবা ফিরিয়ে দিন।’
সোহেলের সঙ্গে গুম হওয়া পারভেজ হোসেনের শিশু কন্যা হৃদি বাবার হাত ধরে স্কুলে যেতে চায়। বাবা তাকে আইসক্রিম কিনে দিবে সেই অপেক্ষায় বসে থাকে। সে বলে, ‘আমি বাবার হাত ধরে স্কুলে যেতে চাই, বাবা আইসক্রিম কিনে আনবে। মা আইসক্রিম কিনে দেয় না। মার কাছে টাকা নেই। আমার বাবাকে যে এনে দিবে আমার কাছে অনেক চকলেট আছে, আমি তাকে চকলেট দেব। আমি বাবার সাথে শিশু পার্কে যেতে চাই। রাতে আমি বাবার জন্য কান্না করি, মাও কান্না করে বাবা আসে না।’ ওই বছরের ৫ই ডিসেম্বর গুম হওয়া আদনান চৌধূরীর বাবা রুহুল আমীন বলেন, ‘রাত ২টার দিকে পোশাকদারী র্যাব-১ পরিচয়ে আমার ছেলেকে তুলে নিয়ে যায়। তারা আমার ছেলেকে ফেরত দিয়ে যাবে বলেছিল। আজও ছেলেকে ফিরিয়ে দেয়নি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন-প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিলে প্রশাসন আমরা ছেলেকে ফিরিয়ে দেবে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন – সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন মারুফা ইসলাম। ২০১৩ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে রাজধানীতে গুম হওয়া ১৯ সদস্য হলেন- সাজেদুল ইসলাম সুমন, জাহিদুল করিম তানভীর, আবদুল কাদের ভুঁইয়া মাসুম, মাজহারুল ইসলাম রাসেল, আসাদুজ্জামান রানা, আল আমিন, এম এ আদনান, কাউসার, সেলিম রেজা পিন্টু, খালিদ হাসান সোহেল, সম্রাট মোল্লা, জহিরুল ইসলাম, পারভেজ হোসেন, মো. সোহেল, মো. সোহেল চঞ্চল, নিজাম উদ্দিন মুন্না, তরিকুল ইসলাম ঝন্টু, মাহবুব হাসান সুজন ও কাজী ফরহাদ।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘স্যাটেলাইট চিত্রে’ আইএস তুরস্ক তেল ব্যবসার প্রমাণ দিল রাশিয়া
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার ভূলুণ্ঠিত : ওয়াশিংটনে ব্রিফিং by ইমরান আনসারী
বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের টম লেন্টুস হিউম্যান রাইটস অর্গানইজেশন আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন বক্তারা।
গত সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় ওয়াশিংটনের রেভন হাউস অফিস বিল্ডিংয়ে ব্রিফিংটি অনুষ্ঠিত হয়। দেশে ধর্মীয় জঙ্গীবাদের বিস্তারে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় ওই আলোচনায়। এছাড়াও বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের আরো জোড়ালো ভূমিকা রাখার আহ্বান আসে ব্রিফিংয়ে অংশ নেয়া বক্তাদের বক্তব্যে।
সেন্টার ফর ইনকোয়ারির পরিচালক মিখাইল ডোরার সঞ্চালনায় ব্রিফিংয়ে উদ্ধোধনী বক্তব্য দেন টম লেন্টুস হিউম্যান রাইটস অর্গানইজেশনের কো-চেয়ার কংগ্রেসম্যান জেমস পি মেকগভার্ন। প্যানালিস্ট হিসেবে বক্তব্য রাখেন নিহত ব্লগার অভিজিত রায়ের স্ত্রী রাফিদা আহম্মেদ বন্যা, ইউএস কমিশন ফর ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম এর সিনিয়র পলিসি এনালিস্ট সাহার চৌধুরী, পেন আমেরিকান সেন্টারের পরিচালক কারিন ডাট্চ কার্লিকার, আটলান্টিক কাউন্সিল সাউথ এশিয়ান সেন্টারের পরিচালক ভারত গোপাল স্বামী।
উদ্বোধনী বক্তব্যে কংগ্রেসম্যান জেমস পি মেকগভার্ন বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এই দুই দলের ক্ষমতার দ্বন্দ্বে নাগরিক সমাজ প্রায়ই রোষানলে পড়ছে। বিরোধী দলের বিক্ষোভ সমাবেশ হয় আইনশৃংখলা বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করছে অন্যথায় ভণ্ডুল করে দিচ্ছে। শুধু তাই নয় গণগ্রেফতার করার পাশাপাশি গ্রেফতার হওয়াদের লাশ হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে। আর এসব বিষয় যখনই মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট সংগঠন বা ব্যাক্তিবর্গ ডক্যুমেন্ট আকারে তুলে ধরার চেষ্টা করে তখনই হয় তারা হুমকির সম্মুখীন হন আর না হয় কারাবরণ করেন। কোনো কোনো সময় নির্যাতনের স্বীকার হন।
গণতান্ত্রিকব্যবস্থায় সভা সমাবেশ ও মতপ্রকাশের গুরুত্বের কথা তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংগঠন, সমাবেশ একটি স্বার্থক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান উপাদান। কারণ বৈচিত্রপূর্ণ জনগোষ্ঠী ব্যবস্থাপনায় গণতন্ত্রই হচ্ছে সর্বোৎকৃষ্ট সুযোগ।
সম্প্রতি উগ্র ধর্মীয় জঙ্গীবাদের উত্থানে উদ্বেগ প্রকাশ করে মেক গভার্ন বলেন, আল কায়দা ও আইএসআইএস’র মতো বহুজাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বাংলাদেশে অবস্থানের সংবাদ দেশটির স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রকে আরো বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সম্প্রতি কার্যকর হওয়া দুই বিরোধী দলীয় নেতার মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মেক গভার্ন বলেন, জাতিসংঘ, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বিচারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও ফাঁসি কার্যকর না করার জন্য আহবান জানানো হয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের আহ্বানকে আমলে নেয়া হয়নি।
মিখাইল ডি ডোরা সূচনা বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি গত দুই বছরে খুবই খারাপ হয়েছে। পরিস্থিতি এতোই নাজুক হয়ে পড়েছে যে, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সেখানে ভুলুণ্ঠিত। সরকারের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরণের প্রতিবাদ বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। সরকারের বিরুদ্ধে করা সমালোচনা সেন্সর করা হচ্ছে। কোনো কোনো লেখককে গ্রেফতার করা হচ্ছে অনেকসময় গুম হয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশে আইএএসের অস্তিত্ব নিয়ে সরকারের বক্তব্যের সমালোচনা করেন তিনি। দেশে সংখ্যালঘুদের উপর অব্যাহত হামলার বিষয়েই উদ্বেগ প্রকাশ করেন মি. মিখাইল।
প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে নিহত ব্লগার অভিজিৎ রায়ের স্ত্রী রাফিদা আহম্মেদ বন্যা বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে ব্লগার, সাংবাদিক ও প্রকাশকদের হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি তুলে ধরেণ।
তার মতে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা শুধুমাত্র ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের দ্বারা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে তা নয়। এক্ষেত্রে সরকারও বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সংশোধিত আইসিটি অ্যাক্টকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বড় বাধা বলে মনে করেন তিনি। যুদ্ধাপরাধীদের ‘বিরোধীদলীয় নেতা’ হিসেবে বিবেচনা করার বিরোধীতা করেন রাফিদা আহম্মেদ। একটি কার্যকর ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ বিনির্মানে সর্বোপরি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় আন্তর্জাতিক বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধভাবে সহযোগিতা করার আহবান জানান তিনি।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন মাহবুব হাসান সালেহ এ আলোচনায় বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।
এক ঘণ্টা স্থায়ী এ আলোচনায় অংশগ্রহণকারী বক্তারা কংগ্রেস সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
প্রাক্তন কংগ্রেসম্যান ও কংগ্রেসনাল হিউম্যান রাইটস ককাসের প্রাক্তন সভাপতি টম ল্যান্টসের নামানুসারে গঠিত টম ল্যান্টস হিউম্যান রাইটস কমিশন মার্কিন কংগ্রেসের একটি অঙ্গ সংস্থা। বহুপক্ষীয় এই কমিশন নির্দলীয় ভিত্তিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার বিষয়ে আলোচনা ও মতবিনিময়ের আয়োজন করে থাকে।
কমিশন ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ শুনানি ও আলোচনার আয়োজন করতে পারে বলে জানা গেছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মাশুল নির্ধারণে ট্রানজিটের খরচ বিবেচনায় নিতে হবে -বিশেষ সাক্ষাৎকারে : মো. মজিবুর রহমান by এ কে এম জাকারিয়া
![]() |
| মো. মজিবুর রহমান |
প্রথম আলো : আপনি একসময় ট্রানজিট নিয়ে গঠিত সরকারের কোর কমিটির প্রধান ছিলেন। সেই কমিটির পক্ষ থেকে ট্রানজিটের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে শুল্ক প্রস্তাব করা হয়েছিল, তার সঙ্গে গত সোমবার ভারতের জন্য চূড়ান্ত হওয়া নৌ–ট্রানজিট মাশুলের মিল নেই। সরকার কোন বিবেচনায় আপনাদের প্রস্তাবের চেয়ে কম ট্রানজিট মাশুল নির্ধারণ করেছে বলে মনে করেন?
মজিবুর রহমান : সরকার কী বিবেচনা থেকে করেছে, তা বলা কঠিন। তবে আমরা যে শুল্ক প্রস্তাব করেছিলাম, তা বেশি ছিল। ট্রানজিটের শুল্কের বিষয়টি পরিবর্তন হতে পারে। এখানে বিবেচনায় নেওয়ার অনেক বিষয় থাকে। ট্রানজিট শুল্ক নির্ধারণের জন্য নিজেদের খরচের খাতগুলো নির্ধারণ করে সে অনুযায়ী খরচ ওঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই শুল্ক নির্ধারণের জন্য সরকার কোন কোন খরচকে বিবেচনায় নিয়েছে, সেটাই হচ্ছে আসল বিষয়।
প্রথম আলো : কোর কমিটির পক্ষ থেকে আপনারা কী কী বিষয় বিবেচনায় নিয়েছিলেন?
মজিবুর রহমান : আমরা শুল্ক হার নির্ধারণ ও সুপারিশ করার ক্ষেত্রে সামগ্রিক বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছি। যেমন নৌ–ট্রানজিটের ক্ষেত্রে নৌপথের নাব্যতা থেকে শুরু করে বন্দর সুবিধা, প্রশাসনিক খরচ ও নৌযানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার খরচসহ এ ধরনের বিষয়গুলো। আমাদের খরচের হিসাবের মধ্যে ট্রানজিট-সংক্রান্ত সব অবকাঠামো নির্মাণ ও এর ব্যবস্থাপনা খরচও রয়েছে। নৌ চলাচলে পরিবেশের যে ক্ষতি হবে, তার একটি আর্থিক দিক রয়েছে। ট্রানজিটের নৌযানের কারণে বালু সরে গিয়ে নদীর পাড়ের মানুষের যে ক্ষতির আশঙ্কা, মাছের ক্ষতি বা শব্দদূষণ—এগুলোও বিবেচনায় নিয়েছি। এগুলো সবই কস্ট অব ট্রানজিট। মাশুল নির্ধারণে এই বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথম আলো : তাহলে বলা যায় ট্রানজিটের খরচ বা কস্ট অব ট্রানজিটের অনেক দিক বিবেচনায় না নিয়েই বর্তমান শুল্ক হার নির্ধারণ করা হয়েছে?
মজিবুর রহমান : দেখুন, নৌ–ট্রানজিটের শুল্ক হার নির্ধারণ করা হয়েছে অথচ নদীতে ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের কাজ হয়নি। আমার মনে হয়, বর্তমানে যে শুল্ক হার নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অস্থায়ী ভিত্তিতে হয়েছে। আমি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। একসময় তো এমন কথাও আমরা শুনেছি যে ট্রানজিটের জন্য আবার পয়সা নিতে হবে কেন! এখন অন্তত নীতিগতভাবে এটা মেনে নেওয়া হয়েছে যে ট্রানজিটের খরচ রয়েছে এবং এ জন্য শুল্ক নিতে হবে এবং কী কী ক্ষেত্রে তা নিতে হবে ও কীভাবে নিতে হবে, সেটা মেনেই তা নির্ধারণ করা হয়েছে। নিশ্চয়ই টেকনিক্যাল কমিটি হবে। তারা যখন দেখবে যে নদীতে নাব্যতা নেই, ড্রেজিং করতে হবে, তখন এসব খরচ বিবেচনার মধ্যে আসবে এবং সে কারণে শুল্ক বাড়বে কি না, তা ঠিক করা হবে।
প্রথম আলো : ট্রানজিট শুল্ক কি নির্ধারিত হয় শুধু খরচ বিবেচনা করে। এখানে মার্জিন রাখার সুযোগ নেই?
মজিবুর রহমান : আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ মার্জিন রাখা যায়। তবে সেই অর্থ ব্যয় করতে হবে ট্রানজিট ব্যবস্থা ও এর অবকাঠামো উন্নয়নের কাজে। এর বাইরে এই অর্থ ব্যবহার করার সুযোগ নেই। স্বচ্ছতার ভিত্তিতে এটা হতে হবে।
প্রথম আলো : বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে পণ্য পরিবহন করায় ভারতের অনেক সময় বাঁচবে ও পরিবহন খরচ কমবে। যদি ধরে নিই যে এক ট্রাক পণ্য পরিবহনে ভারতের আগের তুলনায় ১০০ টাকা সাশ্রয় হলো। এই টাকার একটা অংশ বাংলাদেশ দাবি করতে পারে না?
মজিবুর রহমান : ট্রানজিট-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বিধিবিধানে এ ধরনের তেমন কিছু পরিষ্কারভাবে নেই। দুই দেশ নিজেদের মধ্যে এ ধরনের কিছু করতে পারে। তবে এটা নির্ভর করে দুটি দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ও বোঝাপড়ার ওপর।
প্রথম আলো : বর্তমান নৌ–ট্রানজিটের শুল্ক নির্ধারণ, এই প্রক্রিয়াকে আপনি অস্থায়ী উদ্যোগ বলেছেন। স্থায়ী বা পূর্ণাঙ্গ উদ্যোগের বিষয়টি তবে কীভাবে শুরু হবে?
মজিবুর রহমান : দেখুন, নৌ–ট্রানজিট আগে থেকেই কার্যকর। এখন সেটাকে একটা কার্যকর ট্রানজিট প্রক্রিয়ার মধ্যে আনা হচ্ছে। ট্রানজিটের ক্ষেত্রে অনেক বিষয় এখন বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। এটা একটা বড় অগ্রগতি। সরকার ট্রানজিটের বিষয়াদি নিয়ে কোর কমিটি গঠন করেছিল। এখন এ নিয়ে যত আলোচনা হচ্ছে সেখানে কিন্তু এই রিপোর্টের নানা দিক বিবেচনায় নিয়েই আলোচনা হচ্ছে। আগেই বলেছি যে আমরা যে প্রতিবেদন তৈরি করেছি, তা হচ্ছে একটি পূর্ণাঙ্গ ট্রানজিট ব্যবস্থার সুপারিশ। এখন যেভাবে শুরু হচ্ছে সেটা আস্তে আস্তে সেদিকে যেতে পারে।
প্রথম আলো : একটি সামগ্রিক ট্রানজিট ব্যবস্থা শুরুর ক্ষেত্রে কী কী বিষয় এখন বিবেচনায় নেওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?
মজিবুর রহমান : ট্রানজিটের সঙ্গে অনেক বিষয় ও অনেক প্রতিষ্ঠান জড়িত। আমরা চেয়েছি যে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে একটি ন্যাশনাল কাউন্সিল বা কমিটি ধরনের কিছু একটা করা। বাণিজ্য, অর্থ, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, রেল, সড়ক—এসব মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে এনবিআর বা এফবিসিসিআই সবাই থাকবে। ট্রানজিটের কাজ শুরু করার জন্য এ ধরনের একটি কাঠামো জরুরি। কারণ, পূর্ণাঙ্গ ট্রানজিট প্রক্রিয়া শুরু করতে গেলে অসংখ্য বিষয় বিবেচনায় নেওয়া ও বিধিবিধান তৈরি করতে হবে। যদি নৌ–ট্রানজিটের বিষয়টিই বলি, এর নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। চোরাচালান কীভাবে ঠেকানো হবে, এটাও তো ঠিক করতে হবে। ট্রানজিটের একটি ট্রাকের নিচে যদি বাংলাদেশের কেউ চাপা পড়ে মারা যায়, তবে কীভাবে তার সুরাহা হবে, ক্ষতিপূরণের ব্যাপার বা বিমার দিকটি কীভাবে হবে—এসব অসংখ্য খুঁটিনাটি দিক রয়েছে। একটি জাতীয় কমিটি গঠনের পাশাপাশি এর অধীনে সচিব কমিটি, বিশেষজ্ঞ কমিটি ও টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা দরকার। আর ট্রানজিটের যে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে, তা শুধু ভারতের ব্যাপার নয়, এর সঙ্গে নেপাল ও ভুটানও রয়েছে। সবগুলো দেশ মিলিয়ে ট্রানজিট কার্যকর করার জন্য দরকার পড়বে রিজিওনাল ট্রানজিট সচিবালয়। ট্রানজিটে অন্তর্ভুক্ত সদস্যদেশগুলো নিয়ে এই সচিবালয় হবে। সদস্যদেশগুলো এই সচিবালয়ের খরচ বহন করবে।
প্রথম আলো : আপনাদের কোর কমিটির পক্ষ থেকে যে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে যে ট্রানজিট দিতে হলে বাংলাদেশকে অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ করতে হবে অন্তত ৪৭ হাজার কোটি টাকা। এত অর্থ কোথা থেকে মিলবে?
মজিবুর রহমান : নানাভাবেই এই অর্থ জোগাড় করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণ নেওয়া যেতে পারে। যেসব দেশ ট্রানজিটের সুবিধা ভোগ করবে, তারা বিনিয়োগ করতে পারে। তা ছাড়া, ট্রানজিটের জন্য তৈরি হওয়া সড়ক ও রেলপথ দেশের অভ্যন্তরীণ কাজেও লাগবে। ফলে কিছু এ ধরনের কাজ নিজেদের অর্থায়নেও হতে পারে। তবে এগুলো এমনভাবে করতে হবে যাতে ট্রানজিটের যানবাহন থেকে অর্থ নিয়ে পুরো খরচ তুলে ফেলা যায়।
প্রথম আলো : নৌ–ট্রানজিটের পাশাপাশি বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান ও নেপালের মধ্যে যান চলাচল চুক্তি বা কার্যত সড়কপথে ট্রানজিটের মাশুলের বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। এ ধরনের ট্রানজিট দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ কি প্রস্তুত?
মজিবুর রহমান : পাঁচ বছর আগে আমরা যখন এ নিয়ে কাজ করেছিলাম, তখনকার চেয়ে পরিস্থিতি এখন অনেক ভালো। তবে ট্রানজিটের রুটগুলো এখনো পুরো প্রস্তুত নয়। এখন অস্থায়ীভাবে ও বিশেষ বিশেষ অবস্থায় ট্রানজিট দেওয়া যাবে। কারণ, আমাদের রাস্তা দিয়ে ৪০ ফুটের কনটেইনার তো এখন চলছে। কিন্তু যদি প্রতিদিন এক-দুই শ যানবাহন প্রবেশ করে, তবে আমরা তা এখন সামাল দিতে পারব না। পদ্মা সেতু তৈরি হলে ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেন করার কাজ শেষ হলে তা সম্ভব। রেলের ক্ষেত্রে অনেক ব্রিজ ঠিক না করে পূর্ণাঙ্গ ট্রানজিট দেওয়া সম্ভব নয়। নদীর ক্ষেত্রে আশুগঞ্জ পর্যন্ত দেওয়া যাবে, এর পরে নয়। ক্যাপিটাল ড্রেজিং করা না হলে এটা সম্ভব নয়।
প্রথম আলো : এ তো অবকাঠামোর বিষয়। প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি?
মজিবুর রহমান : ব্যবস্থাপনার জন্য যথাযথ প্রশাসনিক কাঠামোর বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কাস্টমসের একটি কাঠামো রয়েছে। জনবল কম থাকলে বাড়িয়ে কাজ শুরু করা যাবে। কিন্তু নিরাপত্তার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের হাইওয়ে পুলিশ ততটা কার্যকর নয়। ট্রানজিট যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সব ধরনের চোরাচালান ও অনিয়ম ঠেকানোর কাজটিও বেশ জটিল ও কঠিন। একটি যান হয়তো নির্দিষ্ট সীমান্তে গেলই না, গাড়ির নম্বর পরিবর্তন করে বিক্রি করে দিল বা মালামাল বিক্রি করে দিল। এসব দেখা ও মনিটর করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও লোকবলের দরকার হবে।
প্রথম আলো : বাংলাদেশ কীভাবে বা কোথা থেকে এই কাজটি শুরু করতে পারে?
মজিবুর রহমান : প্রথমে নৌ–ট্রানজিটকে কার্যকর ও পূর্ণাঙ্গভাবে শুরুর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এ জন্য ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের কাজটি এখনই শুরু করতে হবে। ফলে সহজেই আমরা ভুটানে পণ্য পরিবহন করতে পারব। ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যেই এই ড্রেজিংয়ের কাজ করা সম্ভব। আর স্থলপথে ট্রানজিটের জন্য বহুপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরের পর রেল ও সড়ক অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া উচিত। আগেই বলেছি, ট্রানজিটের নানা দিক দেখাশোনার জন্য একটি কর্তৃপক্ষ গঠন করতে হবে। এই বিষয়ে আমাদের বিশেষজ্ঞ বা জানাশোনা লোকজন তেমন নেই। ফলে যাঁরা আছেন, তাঁদের যদি জড়ো করা যায়, তবে তা কাজে দেবে। এই যে ট্রানজিট মাশুলের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, সে ক্ষেত্রে আমার বক্তব্য হচ্ছে, আমাদের আসল সমস্যা হচ্ছে অজ্ঞতা। আমরা যদি জেনেশুনে ছাড় দিয়ে থাকি, তাতেআপত্তি নেই।কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে আমরা কী জেনেশুনে ছাড় দিচ্ছি?
প্রথম আলো : ট্রানজিট বাংলাদেশের জন্য কী সুফল নিয়ে আসবে বলে আপনি মনে করেন?
মজিবুর রহমান : ট্রানজিট শুরু হলে বাংলাদেশের যোগাযোগ অবকাঠামোর ক্ষেত্রে যুগান্তকারী উন্নয়ন ঘটবে। রাস্তাঘাট, রেল—এসব আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চলে যাবে। বাংলাদেশে গভীর সমুদ্রবন্দর হবে। এই সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করবে পশ্চিমবঙ্গ, ওডিশার কিছু অংশ, ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার এমনকি চীনের কুনমিং। বাংলাদেশের বন্দরের আয় বাড়বে। পরিবহন ব্যবসা, হোটেল, মোটেল বা রিসোর্ট ব্যবসা বাড়বে। আমদানি ও রপ্তানি ক্ষেত্রে জটিলতা কমবে। ব্যাংকিং ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বাড়বে, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে। ভারত ও চীনের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করবেন। দেশে কর্মসংস্থান হবে। ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর বা ইউরোপ সমপর্যায়ের যেকোনো দেশে পরিণত হতে পারবে।
প্রথম আলো : আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
মজিবুর রহমান : আপনাকেও ধন্যবাদ।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নিজ অবস্থানে অনড় এরদোগান
এরদোগান বলেন, ‘তুরস্ক আইএস থেকে তেল ক্রয় করেছে বলে তুরস্কের বিরুদ্ধে অপবাদ রটানোর অধিকার কারো নেই।’ এরদোগান এবং তার পরিবার ইসলামিক স্টেটের সাথে অবৈধ তেল কেনাবেচায় জড়িত বলে রাশিয়ার উপপ্রতিরক্ষা মন্ত্রী দাবি করার একদিন পর তিনি এ কথা বললেন।
তুরস্কের আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে রুশ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করায় সপ্তাহব্যাপী উভয় দেশের মাঝে অচলাবস্থা বিরাজ করছে।
রাশিয়া অভিযোগ প্রমাণে সক্ষম হলে আবারো পদত্যাগ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে এরদোগান বলেন, ‘রাশিয়ার দাবি সত্য প্রমাণিত হলে এক মিনিটের জন্যও আমি ক্ষমতায় থাকতে চাই না, কিন্তু যারা এমন অপবাদ ছড়ায় তাদের ক্ষমতার মসনদ আকড়ে থাকা উচিত নয়।’
তিনি বলেন, ‘তুরস্কের মূল্যেবোধ এতো নিচে নিমে যায়নি যে তারা একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের নিকট হতে তেল ক্রয় করবে।’
এরদোগান তার প্রেসিডেন্সিয়াল বিমান থেকে দেয়া এই সাক্ষাৎকারে আরো বলেন, ‘রাশিয়া আমাদের কৌশলগত সহযোগী। আমরা তাদের খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখবো।’
এরদোগান আরো বলেন, রাশিয়ার পদক্ষেপ ‘রাষ্ট্র মর্যাদা’র সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এক্ষেত্রে তুরস্ক তার মহত্ব বজায় রেখেছে। তারা যে রকম ভাষা ব্যবহার করছে, আমরা তা করছি না। আমরা আশা করছি, তারা তাদের ভাষা পাল্টাবে।’
এরদোগান অভিযোগ করেন, ‘রাশিয়া বিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় আবেগ-তাড়িত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। কিন্তু তুরস্কে বসবাসরত রাশিয়ার নাগরিকদের বিরুদ্ধে তুরস্কের পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণের কোনো প্রশ্নই ওঠে না।’
রাশিয়া তুরস্কের প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারী দেশ, কিন্তু বিদ্যমান অর্থনৈতিক অবরোধের প্রেক্ষিতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বর্তমানে অন্যতম প্রধান মিত্রদেশ কাতার সফর করছেন এবং জ্বালানি সরবরাহে কাতারের সাথে চুক্তি সাক্ষর করেছেন।
গত ২৪ নভেম্বর রুশ যুদ্ধ বিমান ভূপাতিত হওয়ার পর থেকে মস্কো এবং আঙ্কারার মধ্যে সম্পর্কের চরম অবনতি হয় এবং উভয় দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে স্নায়ুযুদ্ধ চলে আসছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন: গণমাধ্যম যে ভূমিকা রাখতে পারে by অরূপ রতন চৌধুরী
পাবলিক প্লেস বলতে কী বোঝায়? আইনে পাবলিক প্লেস হচ্ছে সেই স্থান, যেখানে জনসাধারণ সমবেত হয়, চলাচল করে বা একত্র হয়। যেমন: ১. স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ২. গ্রন্থাগার, ৩. হাসপাতাল, ক্লিনিক, ৪. প্রেক্ষাগৃহ, ৫. প্রদর্শনীকেন্দ্র, ৬. থিয়েটার হল, ৭. রেস্টুরেন্ট, ৮. শিশুপার্ক, ৯. খেলাধুলার স্থান, ১০. পাবলিক পরিবহন—বাস, ট্রেন, স্টিমার, লঞ্চ, ফেরি ইত্যাদি।
আইনের ৭ক ধারা অনুযায়ী, এই পাবলিক প্লেসের মালিক বা নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তি তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা ধূমপানমুক্ত করতে অবশ্যই কিছু পদক্ষেপ নেবেন। যেমন: (ক) ধূমপান থেকে বিরত থাকার জন্য নোটিশ প্রদর্শন, (খ) ধূমপানমুক্ত এলাকায় ছাইদানি না রাখা, (গ) ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থানে (যদি ধূমপানমুক্ত স্থান থাকার বিধান থাকে) ‘ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান’ এবং ‘ধূমপানে মৃত্যু ঘটে’ লেখা নোটিশ প্রদর্শন, (ঘ) কোনো ব্যক্তি ধূমপানমুক্ত এলাকায় ধূমপান করলে ওই এলাকার মালিক বা নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তি ধূমপায়ীকে ধূমপান না করার জন্য অনুরোধ করবেন, (ঙ) ঘ-এর বিধান অনুসারে ওই ব্যক্তি ধূমপান থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করা সত্ত্বেও কেউ ধূমপান করলে তাঁকে এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য করতে পারবেন এবং কোনো প্রকার সেবা প্রদান থেকে বিরত থাকতে পারেন, এমনকি তিনি আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের সহায়তা নিতে পারেন।
এই আইন ভঙ্গকারীদের শাস্তির বিধানও আছে। কোনো ব্যক্তি উপধারা (১) লঙ্ঘন করলে তাঁকে অনধিক ৩০০ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে, তিনি দ্বিতীয়বার এই আইন ভঙ্গ করলে তাঁকে এর দ্বিগুণ টাকা দণ্ড দেওয়া হবে।
এই আইনের ৫-এর উপধারা ১-এর দফা (ঙ) অনুযায়ী, কোনো সিনেমা বা নাটকে কাহিনির প্রয়োজনে ধূমপানের চিত্র প্রদর্শন অত্যাবশ্যক হলে প্রদর্শনকালে ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে নিয়মিতভাবে সতর্কবাণী নিম্নবর্ণিত পদ্ধতিতে পর্দায় প্রদর্শন করতে হবে: ১. তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের দৃশ্য প্রদর্শনকালে পর্দার মাঝখানে পর্দার আকারের অন্তত এক-পঞ্চমাংশ স্থানজুড়ে কালো জমিনের ওপর সাদা অক্ষরে বাংলা ভাষায় ‘ধূমপান/ তামাক সেবন মৃত্যু ঘটায়’ শীর্ষক সতর্কবাণী প্রদর্শন করতে হবে। সেই দৃশ্য যতক্ষণ প্রদর্শিত হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সতর্কবাণী প্রদর্শন অব্যাহত রাখতে হবে।
এদিকে চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা (এফডিসি) কিংবা বেতার, টেলিভিশন ভবন ও বিভিন্ন সংবাদপত্র অফিস, প্রাইভেট টিভি চ্যানেলের অফিসগুলো যেহেতু পাবলিক প্লেস, সেহেতু এসব স্থানকেও ধূমপানমুক্ত এলাকা ঘোষণা করা প্রয়োজন।
বর্তমান আইনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে, কোনো ব্যক্তি অনধিক ১৮ বছর বয়সের কোনো ব্যক্তির কাছে তামাক বা তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করতে পারবেন না, অথবা ওই ব্যক্তিকে তামাক বা তামাকজাত দ্রব্য বিপণন বা বিতরণকাজে নিয়োজিত করতে পারবেন না। এই বিধান লঙ্ঘন করলে তাঁকে অনধিক পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে, পুনরায় লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে তাঁকে দ্বিগুণ হারে দণ্ডিত করা হবে।
তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা সম্পর্কে এ আইনে বলা হয়েছে, ক. প্রিন্ট বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ও বাংলাদেশে প্রকাশিত বই, লিফলেট, হ্যান্ডবিল, পোস্টার ছাপানো কাগজ, বিলবোর্ড, সাইনবোর্ডে বা অন্য কোনোভাবে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করা যাবে না। খ. তামাকজাত দ্রব্যের কোনো দান, পুরস্কার, বৃত্তি প্রদান বা স্পনসর নেওয়া যাবে না। কোনো ব্যক্তি এই ধারার বিধান লঙ্ঘন করলে তিনি অনূর্ধ্ব তিন মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং পুনরায় করলে দ্বিগুণ হারে দণ্ডিত হবেন।
বাংলাদেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন থাকা জরুরি। কারণ, বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়েছে, এখানে প্রতিবছর প্রায় ৬০ হাজার মানুষ তামাকের কারণে প্রাণ হারায় এবং চার লাখ মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করে, কিন্তু বাস্তবতা আরও ভয়াবহ। এই পরিসংখ্যান ২০০৪ সালের গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য। বর্তমানে প্রতিবছর তামাকজনিত মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। এ কারণে প্রতিদিন প্রায় ৬৮০ জন মানুষ মৃত্যুবরণ করছেন। অর্থাৎ তামাকের কারণে প্রতি ঘণ্টায় ২৮ জন ও প্রতি দুই মিনিটে একজনের মৃত্যু ঘটেছে।
আমরা যদি তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন মেনে না চলি, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শুধু যে তামাকজনিত রোগে অর্ধেক মারা যাবে তা-ই নয়, তাদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি তরুণ ধূমপানে মাদকাসক্ত হবে এবং ৪৪ শতাংশ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা অপরাধে জড়িয়ে পড়বে। সুতরাং জনসাধারণের উপকার হয় এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা শুধু স্বাস্থ্যসম্মত নয়, এটা আইন ও বিধিসম্মত। অতএব আমরা আশা করব,
যাঁরা টিভি, নাটক, সিনেমা নির্মাণ করেন, তাঁরা এ ব্যাপারে যথেষ্ট আন্তরিক ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেন, যাতে মানুষ তামাকের এই ব্যবহারের কারণে ক্যানসার, হৃদ্রোগ, স্ট্রোক, গর্ভপাত, মৃত শিশু প্রসবের মতো জটিল পরিস্থিতির শিকার না হয়।
একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বর্তমানে বাংলাদেশে যারা খুন, রাহাজানি প্রভৃতি অপরাধ করছে, তাদের বেশির ভাগই মাদকাসক্ত। তাই আসুন, প্রচারমাধ্যমে, বিশেষ করে টিভি নাটক ও চলচ্চিত্রে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের বিধিবিধান আমরা মেনে চলি, যাতে দর্শকেরা বিভ্রান্ত না হয় এবং তামাকের ক্ষয়ক্ষতি ও ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন হয়।
অধ্যাপক ড. অরূপ রতন চৌধুরী: ডেন্টাল সার্জন, বারডেম।
prof.arupratanchoudhury@yahoo.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
টিআইবিকে তুলাধোনা নয়, মূল সংকটে হাত দিন by মইনুল ইসলাম
সাংসদদের মধ্যে এই বিষয়ে যাঁরাই বক্তব্য দিয়েছেন তাঁরা সবাই টিআইবির ওপর খড়্গহস্ত হয়েছেন। পুতুল নাচের ইঙ্গিতটা খুবই স্পর্শকাতর। এটা যে ব্যক্তিগতভাবে সব সাংসদকেই আঘাত করবে, সেটা টিআইবি কর্তৃপক্ষের বোঝা উচিত ছিল! এরই প্রতিক্রিয়ায় টিআইবিকে বিএনপির দালাল বলে গালাগাল করা হয়েছে। একজন তো সরাসরি এটাকে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের তকমা দিয়ে দিয়েছেন। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী ২০০৭-০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ছদ্মবেশে গেঁড়ে বসা সামরিক শাসকদের ব্যাপারে টিআইবির নীরবতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে অভিযোগ তুলেছেন, ‘তখন টিআইবির গণতন্ত্রপ্রীতি কোথায় লুকিয়েছিল? তারা তো বরং ওই সরকারের প্রশংসাই করেছিলেন!’ আরও অভিযোগ উঠেছে যে টিআইবি সংসদকে জনগণের কাছে, সর্বোপরি দেশ-বিদেশের মিডিয়ায় হেয়প্রতিপন্ন করেছে। অতএব, টিআইবিকে তাদের এসব ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য প্রত্যাহার করে সংসদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। নচেৎ, টিআইবি কর্তৃপক্ষকে সংসদে ডেকে পাঠিয়ে কৈফিয়ত তলব করা হোক। প্রয়োজনে টিআইবির দেশীয় কার্যক্রম বন্ধ করারও হুমকি দিয়েছেন কেউ কেউ। আইন ও সংসদবিষয়ক কমিটি টিআইবির সনদ বাতিলের সুপারিশ করেছে। তবে ধারণা করি, ক্ষমতাসীন জোট বা সংসদ সেই ধরনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে না। কারণ তাতে ক্ষমতাসীনদেরই বেশি ক্ষতি হবে।
সংসদের অকার্যকারিতা ও অপচয় নিয়ে টিআইবি আগেও বেশ কয়েকটা গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এবারের প্রতিবেদনেও আপত্তিকর কিছু আছে বলে মনে হয় না। তবে সংবাদ সম্মেলনের কোনো কোনো মন্তব্য একটু বেশি কড়া বলেই প্রতীয়মান হয়েছে। বিশেষত, সংসদের ‘লেজিটিমেসি’ বিতর্কটা যেহেতু এখন জাতীয় রাজনীতির মূল ফোকাসে রয়েছে, তাই এই স্পর্শকাতর বিষয়ে মন্তব্য করার সময় টিআইবি আরেকটু সাবধানতা অবলম্বন করলে ভালো হতো। টিআইবি যেহেতু সরকারি দুর্নীতি, অনিয়ম ও অবৈধ কার্যক্রম তাদের গবেষণা, সভা-সেমিনার, জনসচেতনতা সৃষ্টিধর্মী কর্মকাণ্ড এবং প্রকাশনাসমূহের মাধ্যমে ফোকাস করার উদ্দেশ্যে নিবেদিত প্রতিষ্ঠান, তাই এই প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিয়ত ক্ষমতাসীন সরকারের কোপদৃষ্টিতে পড়াই স্বাভাবিক।
কারণ, এ দেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন দল বা জোটগুলো ৪৪ বছর ধরে জনগণকে সুশাসন কিংবা দুর্নীতিবিরোধী শাসন উপহার দেওয়া দূরে থাক, বরং প্রতিটি সরকারই যেন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে দুর্নীতি, লুটপাট ও কায়েমের প্রতিযোগিতায় মজে রয়েছে। এর ফলে, এ দেশের রাষ্ট্রচরিত্রই এখন দেশের উন্নয়নের পথে ‘এক নম্বর বাধা’ হিসেবে ভূমিকা পালন করছে। বার্লিনে অবস্থিত ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের বিবেচনায় যখন ২০০১ সালে বাংলাদেশ দুর্নীতির ধারণা সূচক বা ‘করাপশন পারসেপশন ইনডেক্স’-এর কান্ট্রি র্যা ঙ্কিং মোতাবেক ‘বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন’ ঘোষিত হয়েছিল, তখন ওই চ্যাম্পিয়নশিপ ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ভরাডুবি ঘটানোর পেছনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে ভূমিকা রেখেছিল বলে অনেকে মত দিয়েছিলেন।
অস্বীকার করার জো নেই যে ওই নির্বাচনের প্রচারণায় দুর্নীতির বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপকে বিএনপি-জামায়াত অত্যন্ত সফলভাবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছিল, যা মোকাবিলা করতে পারেনি আওয়ামী লীগ। যেমন ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী তাঁর এক টেলিভিশন প্রোগ্রামের সিরিজে যে নাটকীয় ভঙ্গিতে রসিয়ে রসিয়ে দুর্নীতির কাহিনিগুলো সবিস্তারে বর্ণনা করতেন, সেগুলো ওই প্রোগ্রামগুলোকে জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছিল, যার সুফল ঘরে উঠেছিল বিএনপি-জামায়াতের। অতএব, বোধগম্য কারণেই আওয়ামী লীগ খাপ্পা হয়ে আক্রমণ শানিয়েছিল টিআইবির ওই সময়ের চেয়ারম্যান দেশের বরেণ্য অর্থনীতিবিদ প্রয়াত প্রফেসর মোজাফ্ফর আহমদের বিরুদ্ধে, যদিও ওয়াকিবহাল মহলের জানার কথা যে ওই র্যা ঙ্কিং প্রণয়নের কাজটি করে বার্লিনের মূল প্রতিষ্ঠানটি, বাংলাদেশের চ্যাপ্টার নয়।
এরপর যখন ২০০২, ২০০৩, ২০০৪ ও ২০০৫—এই চার বছর পরপর আরও চারবার বাংলাদেশ দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ঘোষিত হলো তখন তার দায়ভার এসে পড়ল তদানীন্তন ক্ষমতাসীন জোট বিএনপি-জামায়াতের ওপর। অতএব, ওই চার বছর টিআইবির বিরুদ্ধে আক্রমণের ও গালাগালির জোয়ার বইয়ে দিত বিএনপি। ওই সময়ে আওয়ামী লীগ বিএনপি-জামায়াত সরকারকে ওই চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য তুলাধোনা করতে ছাড়েনি, বলা বাহুল্য। ঘটনাক্রমে, রোটেশন অনুযায়ী ওই সময়ে টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন দেশের সর্বজনশ্রদ্ধেয় শিক্ষাবিদ প্রফেসর খান সারওয়ার মুরশিদ। অতএব, তাঁর নেতৃত্বাধীন টিআইবিকে সরাসরি আওয়ামী লীগের দালাল বানিয়ে দিয়েছিলেন বিএনপির নেতারা। একবার বিএনপির তদানীন্তন সেক্রেটারি জেনারেল মান্নান ভূঁইয়াকে এক সভায় টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে নিজ চেয়ার ছেড়ে এসে টিআইবির তখনকার গবেষণা পরিচালক (বিআইডিএস থেকে ডেপুটেশনে কর্মরত) প্রয়াত বন্ধু এস আই লস্করকে শাসাতেও দেখা গিয়েছিল। মান্নান ভূঁইয়ার মতো একজন জননেতাকে টেলিভিশনের খবরে ওই ভূমিকায় দেখে আমি নিজেই হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম। ওই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে আমাকেও ওই পর্যায়ে কলম ধরতে হয়েছিল দৈনিক সংবাদ-এ।
পরপর পাঁচবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ অর্জনের সে দুর্ভাগ্য গত এক দশকে বাংলাদেশের আর হয়নি। কিন্তু, এখনো কান্ট্রি র্যা ঙ্কিং অনুযায়ী দুর্নীতিগ্রস্তের বিচারে নিচের দিক, মানে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানের দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের দশ-বারোটি দেশের কাতারেই রয়ে যাচ্ছে প্রতিবছর। এই লজ্জা থেকে আমরা সহজে নিষ্কৃতি পাব বলে মনে হচ্ছে না। গত এক দশকে কিন্তু যতবারই টিআইবির কোনো গবেষণা ফলাফল প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে, প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দল বা জোট তাদের প্রতি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। এর মানে দাঁড়াচ্ছে, দুর্নীতি ও দুঃশাসন যেহেতু প্রধানত সরকারি দল বা জোটেরই কাজ, তাই ওগুলো উদ্ঘাটিত হলে ক্ষমতাসীন দল বা জোটই জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে। আর, বিরোধী দলগুলো এই প্রচারের সুবিধেটুকু ঘরে তুলছে, জনগণের কাছে তারা সাধু-সজ্জন বনে যাচ্ছে। এবারও আওয়ামী লীগ নেতারা টিআইবিকে ‘দেশদ্রোহিতার অপরাধে’ অভিযুক্ত করেছেন এবং বিএনপির দালাল বানিয়ে দিচ্ছেন। কারণ, টিআইবি প্রতিবেদনের ‘গায়ে জ্বালা ধরানো’ সমালোচনার সুফল বিএনপি-জামায়াতের বাক্সে জমা হয়ে তাদের সংকটাপন্ন রাজনীতিকে সঞ্জীবনী টনিকে চাঙা করে তুলতে পারে। টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের সম্মানিত চেয়ারপারসন দেশের মানবাধিকার সংগ্রামের অগ্রণী ব্যক্তিত্ব অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, যিনি আমার সহপাঠী। তাঁকে বা তাঁর নেতৃত্বাধীন টিআইবিকে বিএনপির দালাল বললে সেটা খুবই হাস্যকর ঠেকছে, কিন্তু রাজনৈতিক স্পর্শকাতর একটি বিষয়ে তাঁদের আরেকটু যত্নবান হওয়া উচিত ছিল বলে মনে করি।
এটুকু মেনে নিতে হবে যে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন সাংবিধানিকভাবে অবৈধ না হলেও ওই নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদেরও ‘পপুলার লেজিটিমেসি’ নেই। কিন্তু, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট যেভাবে ২০১৪ সালের নির্বাচন-পূর্ববর্তী সংলাপে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে গোঁ ধরে পুরো সংলাপকে ভন্ডুল করে দিয়েছিল, তাও কোনো গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক অবস্থান হতে পারে না। বিএনপিকে মেনে নিতে হবে যে অদূর ভবিষ্যতে সাংবিধানিক সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে ফিরিয়ে আনা যাবে না। তারপরও বিলেতে বসে হুকুমদারির মাধ্যমে ২০-দলীয় জোটের রাজনৈতিক অধিপতি ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদানকারী তারেক রহমানের অবিমৃশ্যকারী সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্বকে বিনা প্রতিবাদে মেনে নিচ্ছেন জোটের ঝানু নেতারা। তাঁরা না পারছেন তারেক জিয়াকে থামাতে, না পারছেন সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে। কারণ, বেগম জিয়া তাঁর পুত্রকে তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারীর আসনে অধিষ্ঠিত করার মিশনে আজও মরিয়া। আর তারেক রহমানের একের পর এক বালখিল্য পদক্ষেপে, উচ্চারণে ও আচরণে দেশের রাজনীতিতে উত্তাপ সঞ্চারিত হচ্ছে এবং সংঘাত ও সন্ত্রাসের তাণ্ডব সৃষ্টির মওকা পেয়ে যাচ্ছে জামায়াত-শিবির। এমতাবস্থায়, দেশের দুই প্রধান দল বা নেত্রীর মধ্যে সংলাপ সৃষ্টির কোনো সুযোগ কি এখন রয়েছে? মহাজোট তারেক রহমানের এহেন অবিমৃশ্যকারী কর্মকাণ্ডের ফায়দা নিচ্ছে এবং তাদের এ জন্য দোষ দেওয়া যাবে না।
আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, জামায়াত-শিবিরের নানা পকেট সংগঠনের মাধ্যমে ‘কিলিং অপারেশন’ চালিয়ে দেশটাতে সিরিয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করে ‘গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের’ দাবি আদায়ের খায়েশ কারও থাকলে সেটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক হবে। ধারাবাহিকভাবে গুপ্তহত্যার জন্য যে ঘাতক গোষ্ঠী তাদের একাত্তরের চেহারাটা আরও একবার জাতিকে মনে করিয়ে দিচ্ছে, বেগম জিয়া একটিবারও
কি তাদের বিরুদ্ধে কোনো বক্তব্য দিয়েছেন? গণতন্ত্র না থাকায় সন্ত্রাস ও হত্যাকাণ্ড ঘটছে বলে বিএনপি নেতাদের বারবার উচ্চারিত বুলি কি সন্ত্রাসী বাহিনীকে আশকারা দেওয়ার শামিল নয়?
গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম তো নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ হতে পারে না! আবার, ২০১৯ সালের আগে কোনো সংলাপ হবে
না বলে ক্ষমতাসীন মহাজোটের পক্ষ থেকে যে একগুঁয়েমি প্রদর্শন করা হচ্ছে, তা-ও সমর্থনযোগ্য নয়। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই এক নদী রক্ত দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিলাম আমরা, এ কথা আমরা কখনোই ভুলব না।
মইনুল ইসলাম: প্রফেসর, অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1373)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
December
(688)
-
▼
Dec 04
(29)
- নিশা দেশাই ঢাকা আসছেন ১২ ডিসেম্বর
- চুয়াডাঙ্গায় পুলিশ-ছাত্রলীগ সংঘর্ষ; সাংবাদিক সম্মেল...
- মুক্তিযুদ্ধ প্রশ্নে নিরপেক্ষতার সুযোগ নেই -আলোচনা...
- কেন পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন অনেকে?
- অনশনরত বাংলাদেশীর মুক্তি চেয়ে বিক্ষোভ :মানবাধিকার ...
- যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিমরা বিব্রত, ক্ষুব্ধ
- ক্যালিফোর্নিয়ার হামলায় জঙ্গি-সংশ্লিষ্টতা!
- খাদ্যজনিত রোগে প্রতি ঘন্টায় মারা যাচ্ছে অর্ধশত মান...
- কংগ্রেসের ‘জটিল হিসেব-নিকেশ’ ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে ম...
- বাংলাদেশী জাহাজে নজরদারি করতে চায় ভারতীয় নৌবাহিনী
- কবি ও লেখিকার গল্প by ফারুক আহমেদ
- ডুববে বাংলাদেশের ৪০ ভাগ এলাকা, উদ্বাস্তু হবে মানুষ
- গুম হওয়া পারভেজের মেয়ের আকুতি- ‘যে আব্বুকে এনে দেব...
- ‘স্যাটেলাইট চিত্রে’ আইএস তুরস্ক তেল ব্যবসার প্রমাণ...
- বাংলাদেশে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার ভূলুণ্ঠিত : ওয়া...
- মাশুল নির্ধারণে ট্রানজিটের খরচ বিবেচনায় নিতে হবে -...
- নিজ অবস্থানে অনড় এরদোগান
- তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন: গণমাধ্যম যে ভূমিকা রাখতে পারে...
- টিআইবিকে তুলাধোনা নয়, মূল সংকটে হাত দিন by মইনুল ...
- মালির যুদ্ধ শেষ হয়নি by চার্লি ইংলিশ
- বঙ্গোপসাগরের ওপর মিয়ানমারের দাবি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা
- যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত ১৪ আহত ১৭-...
- কঠোর গোপনীয়তা জামায়াতের
- 'ভারতে মুসলমানের চেয়ে গরু বেশি নিরাপদ'
- কোহিনূর পাকিস্তানে ফেরানোর দাবি
- এয়ারলাইনসে তুঘলকি কাণ্ড: ভাড়া ১৪,০০০ ট্যাক্স ১৬,০০...
- যুক্তরাষ্ট্রে দম্পতির গুলিতে নিহত ১৪
- সিরিয়ায় কোটি টাকার স্মার্ট বোমা
- ‘বাংলাদেশ গণতন্ত্রের নতুন সংজ্ঞা তৈরি করেছে’ by তা...
-
▼
Dec 04
(29)
-
▼
December
(688)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

















