Wednesday, December 17, 2014

গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে সকল দলের সমান সুযোগ থাকা উচিত -ড্যান ডব্লিউ মজীনা

(বিদায়ী মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা আজ বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে গুলশানে তাঁর বাসায় বিদায়ী সাক্ষাৎ করেন। সেখানে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী তাঁদের বৈঠক চলে। ছবি: প্রথম আলোর সংগৃহীত) বাংলাদেশে গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে হলে সব রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা। বিএনপি চেয়ারপারসন ও ২০দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাত শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে গণতন্ত্রে বিরোধী দলের ভূমিকার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে সকল রাজনৈতিক দলের সমান সুযোগ থাকা উচিত। অবশ্যই সব রাজনৈতিক দলের গণতান্ত্রিক চর্চার যে সুযোগ রয়েছে, তা শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবহার করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশের অংশীদারিত্বের সম্পর্ক অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে বর্তমানে অধিকতর শক্তিশালী, গভীর ও বিস্তৃত। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এখন সবচেয়ে দৃঢ়। এটি কোন কূটনৈতিক ভাষ্য নয়। আমি মনে করি, আগামীতে বাংলাদেশ ইমার্জিং টাইগার তথা রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মতো দেশে পরিণত হবে। ড্যান মজীনা সাংবাদিকদের কাছে তার তিন বছরের কার্যকালে বাংলাদেশ সম্পর্কে তার নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, কৃষি, স্বাস্থ্য, তথ্য প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও শিক্ষাখাতে বাংলাদেশে এক অভূতপূর্ব বিপ্লব ঘটেছে। মাতৃ ও শিশু মৃত্যুহার হ্রাস, জন্ম হার কমানো ও জন্ম নিয়ন্ত্রন ও পরিবার পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে। আমি বাংলাদেশের এই উন্নয়ন  ও অগ্রগতিতে অভিভূত হয়েছি। তার তিনবছরে কার্যকালে বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় সফরের অভিজ্ঞতার কথার খালেদা জিয়ার কাছে তুলে ধরেন এ বিদায়ী রাষ্ট্রদূত। জবাবে বিএনপি চেয়ারপারসনও বাংলাদেশের মানুষের আকাঙ্খার কথা ব্যক্ত করেন। মজীনা বলেন, সম্প্রতি নারায়নগঞ্জে খালেদা জিয়ার যে জনসভাটি হয়েছে, তাতে ব্যাপক মানুষের সমাগম ও তাদের অনুভূতির কথা আমাকে জানিয়েছেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ আমার কাছে একটি বিশেষ জায়গা। এদেশের মানুষও খুব ভালো, ভেরি স্পেশাল। ‘আই সুড নট সে- গুড বাই’- আবার দেখা হবে। আমি আগামী বছর বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সঙ্গীত উৎসবে যোগ দিতে এদেশে আসব। বিদায়ী রাষ্ট্রদূত জানান, তার উত্তরসূরি হিসেবে নতুন রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাট জানুয়ারির শেষ দিকে দায়িত্ব নিতে বাংলাদেশে আসবেন। এর আগে সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের বাসায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে স্বস্ত্রীক বিদায়ী সাক্ষাৎ করেন ড্যান ডব্লিউ মজীনা। সাক্ষাতে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান ও সাবিহ উদ্দিন আহমেদ অংশ নেন। বিএনপি সূত্র জানায়, এই সাক্ষাতে বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক অবস্থা, নির্বাচন প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এদিকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত শেষে তার বাসার বাগানে নিজের উপহার দেয়া গাছটি দেখেন ড্যান মজীনা। উল্লেখ্য, দুই বছর আগে খালেদা জিয়াকে একটি গাছের চারা উপহার দিয়েছিলেন তিনি। টবে লাগানো ওই গাছের চারা থেকে সম্প্রতি আরও দুইটি গাছ জন্মেছে।

বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক যেকোনো সময়ের চেয়ে দৃঢ়: মজীনা
ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এখন অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে দৃঢ়। আজ বুধবার সন্ধ্যায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে গুলশানে তাঁর বাসায় বিদায়ী সাক্ষাৎ করেন মজীনা। পরে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এই মন্তব্য করেন। বর্তমান সময়ের সম্পর্কের দৃঢ়তা বুঝাতে গিয়ে মজীনা ‘এভার বিফোর’ শব্দটি পরপর তিনবার উচ্চারণ করেন। আজ সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন মজীনা। তাঁর স্ত্রীও এ সময় সঙ্গে ছিলেন।
মজীনা সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়ার সঙ্গে এটি ছিল তাঁর বিদায়ী সাক্ষাৎ​। খালেদা জিয়ার সঙ্গে গণতন্ত্রে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সব দলের যে রাজৈনতিক জায়গা, তা শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবহার করা দরকার। বাংলাদেশ ও এ দেশের সাধারণ মানুষের প্রশংসা করে মজীনা আরও বলেন, তিনি বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা ঘুরে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, তা বিএনপির চেয়ারপারসনের সঙ্গে বিনিময় করেছেন। বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতে, পরিবার পরিকল্পনায় বাংলাদেশ বিপ্লব ঘটিয়েছে। তিনি নিজের চোখে যা দেখেছেন, তা অবিশ্বাস্য গল্পের মতো। বাংলাদেশ হচ্ছে এশিয়ার এমাজিং টাইগার।
শেষে মজীনা বাংলায় বলেন, ‘আবার দেখা হবে।’ তিনি জানান, আগামী বছর বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসবে আসতে চান। এর আগে আজ বিকেলে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করে মজীনা। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সাক্ষাতের জন্য রওশন এরশাদের গুলশানের বাসভবনে যান মজীনা। সেখানে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী তাঁদের বৈঠক চলে।

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপের জন্য দায়ী মমতা : বিজেপি

বাংলাদেশের বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে কলকাতায় আয়োজিত বৃহৎবঙ্গ সাংস্কৃতিক সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র ও বিশিষ্ট সাংবাদিক এম জে আকবর অভিযোগ করেছেন, তিস্তা চুক্তিতে অনুমোদন না দিয়ে এবং বর্ধমান বিস্ফোরণ কান্ডকে ষড়যন্ত্র বলে অভিযোগ করে কার্যত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ককে নষ্ট করার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, মমতার জন্যই ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে সম্পর্ক নষ্ট হয়েছে। তবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ’ুবার ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর সম্পর্কের অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে দেরী হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে আকবর বলেন, এতদিন ধরে এই চুক্তিকে আটকে রাখা হয়েছে শুধুমাত্র মমতার কারণে। এর ফলে শুধু যে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক খারাপ হয়েছে তাই নয়, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কেও যথেষ্ট টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। বিজেপির মুখপাত্র এদিন মমতাকে পরামর্শ দিয়ে বলেন যে, বিজেপির বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযোগ না জানিয়ে তিনি বরং জঙ্গী দমনে নজর দিন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টই জানিয়েছেন যে, ভারতের মাটি কোনও অবস্থাতেই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জঙ্গীদের ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।  আর বাংলাদেশের ৫প্রধানমন্ত্রী রশেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গী মোকাবিলায় একজোট হয়ে কাজ করার ব্যাপাওে অ্গংীকারবদ্ধ। মমতার তোলা বিজেপির ষড়যন্ত্র অভিযোগ সম্পর্কে আকবর প্রশ্ন তোলেন যে, তার দলের লোকেরাই তো বলছেন যে, সারদার অর্থে তিনিই সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছেন। এরপরেই তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন কী করে ? আর বর্ধমান বিস্ফোরণে ও বোমা রেখেছিল বলে মুখ্যমন্ত্রী যে অভিযোগ করেছেন তা নিয়ে আকবর বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, সেটা কী করে সম্ভব ?

‘আমাদের লক্ষ্য ১৫১’ -এইচ এম এরশাদ

জাতীয় পার্টির ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা অনেক বেশি বলে মন্তব্য করেছেন দলের চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়া বিশ্বাস করি। ১৫১ আসন হলে ক্ষমতায় যাওয়া যায়। তাই, আগামীতে আমাদের লক্ষ্য ১৫১। চেষ্টা করব আর বেশি পেতে।’
আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির (জাপা) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে বিজয় দিবসের এক আলোচনা সভায় এরশাদ এসব কথা বলেন।
এরশাদ বলেন, জাতীয় পার্টি যদি ক্ষমতায় আসতে পারে, তাহলে প্রথমেই শিক্ষাঙ্গনগুলো ‘রণাঙ্গন’মুক্ত হবে। নিয়মিত ছাত্রসংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষাঙ্গনগুলো থেকে জাতীয় রাজনীতিবিদ তৈরি করা হবে। তিনি বলেন, ‘দেশে এখন রাজনীতিবিদ নেই, ধনাঢ্যরা রাজনীতিবিদ। ইয়াবা ব্যবসা করে, হাজার কোটি টাকা আছে, তারা রাজনীতি করে। জেলে যাওয়ার সময় ভি–চিহ্ন দেখায়, বের হওয়ার সময়ও ভি–চিহ্ন দেখায়। হাজারটা গেট করে তাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।’
সভায় এরশাদ বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘উনি (খালেদা জিয়া) প্রায়ই বলেন এরশাদ খুনি। আমি বলব, আয়নায় নিজের চেহারা দেখেন। সারের দাবি করায় আপনি ১৮ জন কৃষককে হত্যা করেছেন। বিদ্যুৎ​ চাওয়ায় কানসাটে ২০ জনকে হত্যা করেছেন। তাঁদের তালিকা আমাদের কাছে আছে। যদি সুযোগ পাই, তাঁদের জন্য স্মৃতিসৌধ করব।’
খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে এরশাদ বলেন, ‘ক্ষমতায় এসে জঙ্গিবাদের সূত্রপাত করেছেন। বাংলা ভাই তৈরি করেছেন। কিবরিয়াকে হত্যা করেছেন। হিসাব একদিন নেব। তখন মানুষ দেখবে খুনি এরশাদ, না আপনি।’
সাবেক এই প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, নয় বছরের শাসনে তিনি দেশে সুশাসন, সুবিচার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তখন দেশে হানাহানি-কাটাকাটি ছিল না। কিন্তু বিএনপি সরকার এসে দেশে প্রতিহিংসার রাজনীতি শুরু করে। এখন দুঃশাসন আবার ফিরে এসেছে। তাঁর দাবি, কোনো মুক্তিযোদ্ধা তাঁর কাছে এসে খালি হাতে ফিরে যায়নি।
সভায় আরও বক্তব্য দেন জাপার মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ, দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদসহ এম এ হান্নান, সাইদুর রহমান, শেখ সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ। এতে সভাপতিত্ব করেন জাপার সাংসদ ও দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন।

‘কুপুত্রকে জিহ্বা সামলাতে বলুন’ -শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তিনি যেন তাঁর ‘কুপুত্রকে জিহ্বা সামলে’ কথা বলতে বলেন। তারেক রহমানের নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তাঁর (তারেক রহমানের) কথায় ইয়াহিয়ার কথার প্রতিধ্বনি রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বঙ্গবন্ধুকে ‘রাজাকার’ বলে আখ্যায়িত করেন। এর এক দিন পর আজ বুধবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিজয় দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘লন্ডনে বসে সে যে ধরেনের জঘন্য কথা বলেছে, তার সম্পর্কে কথা বলতে ঘৃণা হয়। নাম নিতেও ঘৃণা হয়। মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য ইতিহাস বিকৃতি করছে।’ তিনি বলেন, ‘লেখাপড়া করলে বা ইতিহাস পড়লে তো সে জানত। মানুষ হয়নি বলেই জানোয়ারের মতো কথা বলে। জানোয়ারের শিক্ষা কীভাবে দিতে হয়, তা বাংলার মানুষ জানে, মানুষ দেবেও।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে অনুরোধ করব, আপনার কুপুত্রকে জিহ্বা সামলে কথা বলতে বলবেন। বাংলাদেশের মানুষ মেনে নেবে না, এটা বরদাস্ত করা হবে না। আইভি রহমানসহ বহু মানুষের রক্ত তার হাতে। বিচার অবশ্যই হবে।’
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার কথা উল্লেখ করে খালেদা জিয়ার উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনি এতই সাধু হবেন তো পালিয়ে বেড়াচ্ছেন কেন? এতিমের টাকা চুরি করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘উনি জানেন যে মামলায় হাজির হলে শাস্তি পাবেন। চোরের মন পুলিশ, পুলিশ। আদালতে হাজির হন না। এতিমের অর্থ চুরি করে পালিয়ে বেড়ান। অন্যকে দোষ দেন। নিজের চেহারাটা আয়নায় দেখেন।’
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংসদ উপনেতা ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাজেদা চৌধুরী।

শনিবার বগুড়ায় বিএনপির অর্ধদিবস হরতাল

শনিবার বগুড়ায় অর্ধদিবস হরতালসহ ৩ দিনের কর্মসূচী ঘোষণা করেছে বগুড়া জেলা বিএনপি। কারাবন্দী সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শাহ মোঃ মেহেদী হাসান হিমু, জেলা ছাত্রদলের সহ সভাপতি হাসানুজ্জামান পলাশ, সাধারণ সম্পাদক শাহাবুল আলম পিপলু ও শ্রমিক নেতা জাকির হোসেন মিঠুর মুক্তি ও সদর থানা যুবদল সভাপতি রাফিউল ইসলাম রুবেলের উপর হামলা করে হত্যাচেষ্টাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবীতে এই কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়। বুধবার রাতে নবাববাড়ী সড়কে সদর উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে সভাশেষে জেলা বিএনপির সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম এ কর্মসূচী ঘোষণা করেন। ঘোষণায় বলা হয়- ১৮ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বগুড়ায় বিক্ষোভ মিছিল, ১৯ ডিসেম্বর শুক্রবার বগুড়ার সকল উপজেলায় ও পৌরসভার ওয়ার্ডগুলোতে বিক্ষোভ মিছিল ২০ ডিসেম্বর শনিবার বগুড়ায় অর্ধদিবস হরতাল পালন করবে বিএনপি। সভায় জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চান, যুগ্ম সম্পাদক এম আর ইসলাম স্বাধীন, শেখ তাহাউদ্দিন নাহিন, শহর বিএনপির সভাপতি মাহবুবর রহমান বকুল, জেলা যুবদলের সভাপতি সিফার আল বখতিয়ার, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহমুদ শরিফ মিঠু, শহর শাখার সভাপতি মাহবুব হাসান লেমন প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

নারী অধিকার নিয়ে কাজ করতে চান মিস ওয়ার্ল্ড ২০১৪ রোলেন স্ট্রস

মিস ওয়ার্ল্ড ২০১৪-এর মুকুট উঠেছে দক্ষিণ আফ্রিকান সুন্দরী রোলেন স্ট্রসের মাথায়। এর মাধ্যমে দীর্ঘ সময় পর আফ্রিকার কোন প্রতিযোগী এ খেতাব পেলেন। সুন্দরী প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ এই সম্মান নিয়ে সামনের পথে এগিয়ে যেতে চান রোলেন। মূলত একজন সুপার মডেল হওয়ার ইচ্ছা তার। পাশাপাশি অভিনয় করতে চান হলিউড ছবিতে। তবে বেশি কাজে বিশ্বাসী নন তিনি। কম, কিন্তু ভাল কাজের মাধ্যমেই দর্শকদের সামনে আসতে চান রোলেনে। ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতার এ সুন্দরী বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্লোমফোনটেইন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলের ছাত্রী। ভবিষ্যতে নারী স্বাস্থ্য ও শিক্ষা অধিকার নিয়ে কাজ করতে চান তিনি। এ বিষয়ে রোলেন স্ট্রাউস বলেন, নারীদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা নিয়ে আমি কাজ করতে চাই। এটা আমার অনেক আগের পরিকল্পনা। এবার মিস ওয়ার্ল্ড হওয়ার ফলে এ কাজটি আমার জন্য আরও সহজ হবে বলেই মনে করি। বিশেষ করে পড়াশোনা শেষ করে স্বল্পোন্নত দেশের অবহেলিত নারীদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজ করাটাই আমার লক্ষ্য। এক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা চাই। দেখা যাক কি হয়। উল্লেখ্য, রোববার সন্ধ্যায় লন্ডনে জমকালো গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সেরা পাঁচের চারজনকে টপকে মিস ওয়ার্ল্ড ২০১৪ হন রোলেনে স্ট্রাউস। প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হাঙ্গেরির এডিনা কাল্কজার এবং দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সুন্দরী এলিজাবেথ সাফরিট। গতবারের মিস ওয়ার্ল্ড ফিলিপাইনের সুন্দরী মেগান ইয়ং স্ট্রাউসের মাথায় মুকুট পরিয়ে দেন। প্রতিযোগিতায় বিচারক প্যানেলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সাবেক রেডক্রস কর্মী জুলিয়া মর্লি, ফ্রান্সের রুডি সেলস, ভ্যারাইটি ইন্টারন্যাশনাল বোর্ড মেম্বার মার্সা রে আর্যাটক্লিফ, খ্যাতিমান ইংরেজ সুরকার টনি হ্যাটচ, মিস ওয়ার্ল্ড-২০০৭ ঝাং ঝিলিন, মিস ওয়ার্ল্ড ২০০১ আগবানি  দেরেগো, মিস ওয়ার্ল্ড ২০০৯ কায়ানি অ্যালডোরিনো এবং মিস ওয়ার্ল্ড ২০০২ আজরা আকিন।

প্রসঙ্গ তারেক রহমানের বক্তব্য- ‘বাংলাদেশের মানুষ মিথ্যাচার মেনে নেবে না’ -প্রধানমন্ত্রী

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্যকে মিথ্যাচার উল্লেখ করে তাকে জিহ্বা সামলে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বলেছেন, বাংলাদেশের ও বিশ্বের মানুষ এসব মিথ্যাচার মেনে নেবে না। আজ বিকালে রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত মহান বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া এতিমের টাকা চুরি করেছেন। তিনি অপরাধ করেছেন বলেই তার বিরুদ্ধে মামলায় আদালতে হাজিরা দেন না। তিনি পালিয়ে পালিয়ে বেড়ান। আদালতে মামলা চলাকালে তার আইনজীবীরা আদালতকে অসম্মান করেন, গালাগালি করেন। বিশ্বের কোন সভ্য দেশেই এ ধরনের অসভ্য কাজ কেউ করে না বলেও মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।
তিনি বলেন, জামায়াতকে রাজনীতির সুযোগ দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশে হত্যার রাজনীতি শুরু হয়। এরপর জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে বলে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। ২০২১ সালের মধ্যেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। ২০৪১ সালের মধ্যেই উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। তিনি বলেন, জিয়া ইতিহাস বিকৃত করেছে, খালেদা জিয়াও করেছে তার পুত্রও একই কাজ করছে। এসময় তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা দেশের স্বাধীনতাকে হত্যা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হত্যা। সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।

পাকিস্তানে স্কুলে জঙ্গি হামলায় নিহত ১৪১- স্কুলশিশুর ওপর এ কোন বর্বরতা

(ফুটফুটে সুন্দর শিশুটি গিয়েছিল স্কুলে। স্কুল থেকে তাকে নেওয়া হচ্ছে হাসপাতালে। কপাল বেয়ে ঝরছে রক্ত। পাকিস্তানের পেশোয়ারের একটি স্কুলে গতকাল তালেবানের হামলায় নিহত হয়েছে তার সহপাঠীসহ শতাধিক শিক্ষার্থী l ছবি: এএফপি) কী বর্বরতা! কী নৃশংসতা! এ কেমন প্রতিশোধ! সামরিক অভিযানের প্রতিশোধ নিতে এত স্কুলশিশুকে হত্যা! পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় পেশোয়ারের ওয়ারসাক রোডে সেনাবাহিনী পরিচালিত একটি স্কুলে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছে তালেবান অস্ত্রধারীরা। গতকাল মঙ্গলবার সকালে যখন হামলা চালানো হয়, তখন ওই স্কুলে পরীক্ষা চলছিল। তাই শ্রেণিকক্ষগুলো ছিল শিক্ষার্থীতে ঠাসা। হামলায় প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ১৪১ জন। তাদের মধ্যে শিশু ১৩২ জন। বাকি নয়জন শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী। আহতের সংখ্যা ১২৫। খবর বিবিসি, এএফপি, ডন ও এনডিটিভির। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানান, হামলাকারীরা সংখ্যায় ছিল ছয়জন। নিরাপত্তা বাহিনীর পোশাক পরে অতর্কিতে স্কুলে হামলা চালায় তারা। নিহত ১৪১ জনের অধিকাংশই মারা যায় আত্মঘাতী বোমার বিস্ফোরণে। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত হয় ছয় হামলাকারীর সবাই। কর্মকর্তারা দাবি করেন, গতকাল সন্ধ্যার কিছু পর নিরাপত্তা বাহিনী স্কুলটির পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়েছে। স্কুলভবনের ভেতর বোমা পেতে রাখায় সেখানে ঢুকতে বেশ বেগ পেতে হয় তাদের। প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ উদ্ধার অভিযান তদারক করেন।
যেভাবে হামলা: স্কুলের কর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শী মুদাসসির আওয়ান বলেন, ‘আমরা দেখলাম, ছয়জন লোক স্কুলের দেয়াল বেয়ে উঠছে। ভাবলাম শিশুরা খেলছে। কিছুক্ষণ পরই দেখা গেল, তাদের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ গোলা ও অস্ত্রশস্ত্র। দেয়াল টপকে স্কুলে ঢুকেই তারা গুলি ছোড়া শুরু করে। আমরা দৌড়ে শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়ি। এরপর তারা এক একটা শ্রেণিকক্ষে ঢুকে শিশুদের হত্যা শুরু করে।’
স্কুলের আরেক কর্মী বলেন, হামলাকারীরা আর্মি পাবলিক স্কুলের মিলনায়তনে ঢুকে উপস্থিত সবাইকে জিম্মি করে ফেলে। সেখানে সেনা-সদস্যদের একটি দল শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক চিকিৎসার ওপর প্রশিক্ষণ ক্লাস নিচ্ছিল। হামলায় বেঁচে যাওয়া এক শিক্ষার্থীর কথা, ‘আমরা যখন ক্লাসরুম থেকে দৌড়ে বের হচ্ছিলাম, তখন দেখি আমাদের অনেক বন্ধুই করিডরে মরে পড়ে আছে। তাদের শরীর থেকে তখনো রক্ত ঝরছে। কারও গায়ে তিন থেকে চারটি গুলি লেগেছে।’
কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, হামলাকারীদের গুলি করতে দেখে তারা ক্লাসরুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেয়। কিন্তু হামলাকারীরা দরজা ভেঙে রুমে ঢুকে গুলি চালাতে থাকে। প্রাণে বাঁচতে তারা বেঞ্চের নিচে লুকিয়ে পড়ে। কিন্তু যারাই নড়াচড়া করছিল, তাদেরই মাথা ও পায়ে গুলি করে হামলাকারীরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হামলার পর স্কুল থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চিৎকার শুনতে পাচ্ছিলেন তাঁরা। শুনছিলেন গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ। স্কুলের দিকে অ্যাম্বুলেন্সগুলো ছুটছিল আর আহত ব্যক্তিদের নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছিল। আকাশে চক্কর দিচ্ছিল হেলিকপ্টার। হামলার পর বন্ধ করে দেওয়া হয় নগরের প্রধান সড়কগুলো। স্কুলটি ঘিরে ফেলেন ভারী অস্ত্রে সজ্জিত পুলিশ ও সেনাসদস্যরা। বন্ধ করে দেওয়া হয় এলাকার অন্য সব স্কুলও।
সেনাবাহিনীর একটি সূত্রের বরাত দিয়ে যুক্তরাজ্যের দি ইনডিপেনডেন্ট পত্রিকা জানায়, এক শিক্ষকের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধিরয়ে দেয় এক হামলাকারী। ওই শিক্ষক পুড়ে মারা যান। সেই দৃশ্য দেখতে বাধ্য করা হয় তাঁর ছাত্রদের।
সেনাবাহিনী বলেছে, হামলার সময় স্কুলে ৫০০ শিক্ষার্থী ছিল। অভিযানে অধিকাংশকেই বের করে আনা সম্ভব হয়। তবে আহত হয় শতাধিক। তাদের নিকটবর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানান, আহতদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অধিকাংশেরই মাথা ও পেটে গুলি লেগেছে। রক্তের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় স্বেচ্ছা রক্তদানের আহ্বান জানানো হয়েছে।
পাকিস্তানের সেনা সদর দপ্তর বলেছে, জিম্মিদের উদ্ধারে অভিযান শুরুর পর থেকে কয়েক ঘণ্টা ধরে হামলাকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবিনিময় চলে। সন্ধ্যার পর হামলাকারীদের কাছ থেকে স্কুলের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয় তারা। হামলায় এত শিশুর প্রাণহানিতে দেশজুড়ে এক নজিরবিহীন শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্কুলটি পেশোয়ার সেনানিবাসের এক প্রান্তে অবস্থিত। পাকিস্তানের ইতিহাসে এ রকম হামলার নজির আর নেই। বিশ্বেও এ ধরনের হামলা বিরল। স্কুলটির অধিকাংশ ছাত্রছাত্রীই সেনাসদস্যদের সন্তান।
তিন দিনের শোক: হামলার পর দুপুরের দিকেই পেশোয়ারে যান প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। তিনি এ হামলাকে ‘জাতীয় ট্র্যাজেডি’ আখ্যায়িত করে দেশব্যাপী তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোকের ঘোষণা দিয়ে বলেন, হামলার জন্য দায়ী দুষ্কৃতকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যতম বিরোধী নেতা ইমরান খান ১৮ ডিসেম্বর তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি বাতিল করেন।
হামলার দায় স্বীকার: হামলার দুই ঘণ্টা পরই দায় স্বীকার করে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। সংগঠনটির মুখপাত্র মোহাম্মদ খোরাসানি বলেন, ‘উত্তর ওয়াজিরিস্তান ও খাইবার এলাকায় সেনাবাহিনীর অভিযান “জারব-ই-আজাব”-এ তালেবানদের হত্যা ও তাঁদের পরিবারকে হয়রানি করার জবাবে এই হামলা। আমাদের স্বজন হারানোর বেদনা তারাও (সেনারা) বুঝতে পারবে।’
মুখপাত্র আরও বলেন, হামলায় অংশ নিয়েছেন ছয়জন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন আছেন, যাঁরা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। অন্যরা আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী। তাঁদের স্কুলের বড় শিক্ষার্থীদের গুলি করতে বলা হয়েছিল, ছোট বাচ্চাদের ওপর নয়। তালেবান-অধ্যুষিত পাকিস্তানের উপজাতীয় এলাকা উত্তর ওয়াজিরিস্তান ও নিকটবর্তী খাইবারে অনেক দিন ধরেই অভিযান চালাচ্ছে সেনাবাহিনী। সাম্প্রতিক সেনা অভিযানে সেখানে কয়েক শ তালেবান নিহত হয়। হামলার শিকার হয় অনেক নিরীহ নারী-শিশুও।
বিশ্বনেতাদের নিন্দা: ভয়াবহ এ হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও শোক জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা। দিনটিকে মানবতার জন্য এক অন্ধকার দিন বলে উল্লেখ করেন কেউ কেউ। নেতাদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রমুখ। নরেন্দ্র মোদি গত রাতে এক টুইটার বার্তায় বলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। তিনি নওয়াজকে জানিয়েছেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাকিস্তানের পাশে থাকবে ভারত।
শেখ হাসিনা বলেন, এ বর্বর ও ন্যক্কারজনক হত্যাকাণ্ড সারা বিশ্বের মানুষকে শোকাহত ও স্তম্ভিত করেছে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এই অঞ্চলের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করার আহ্বান জানান তিনি। প্রেসিডেন্ট ওবামা স্কুলে জঙ্গি হামলার ঘটনাটিকে একটি ‘ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, পাকিস্তানের পাশে আছে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন, স্কুলে পড়াশোনারত শিশুশিক্ষার্থীদের ওপর হামলা একটি কাপুরুষোচিত কাজ। এ বছর শান্তিতে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাই বলেছে, ‘এ ঘটনায় আমার হৃদয় ভেঙে গেছে। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের মতো আমিও এই শিশু, ভাই ও বোনদের জন্য শোকাহত। তবে আমরা কখনোই হারব না।’

কেন পাকিস্তানের স্কুলে তালেবানের আক্রমণ

পাকিস্তানে স্কুল ও মসজিদগুলোতে হামলা চালিয়ে এর আগে বার বার হত্যাযজ্ঞ চালাতে দেখা গেছে দেশটিতে। বিশেষ করে নারীদের স্কুলে যেতে নিরুৎসাহিত করতে দেশটিতে অহরহই জঙ্গি হামলা ঘটে। যেমনটি হামলা হয়েছিল, স্কুলছাত্রী মালালা ইউসুফজাইয়ের উপর, যিনি পরবর্তীতে শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন। কেন পাকিস্তানের স্কুলে এভাবে শিক্ষার্থীরা তালেবান আক্রমণের শিকার হচ্ছে? এপ্রসঙ্গে বিবিসি বাংলাকে পাকিস্তানের পত্রিকা ডেইলি নিউজের বার্তা সম্পাদক মনির আহমেদ বলছিলেন, তালেবান অধ্যুষিত এলাকায় শিক্ষার আলো এবং ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে কোনও স্বচ্ছ ধারনা নেই। তার মতে, ইসলামের নাম ব্যবহার করে নানা ধরনের হামলা চালাচ্ছে তারা, কারণ, তারা চায়না এসব এলাকার ছেলেমেয়েরা আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হোক। কেননা, এতে করে তাদের প্রচলিত ধ্যান-ধারনার উপর আঘাত আসতে পারে বলেই তালেবানরা পাকিস্তানের স্কুলে হামলা চালাচ্ছে বলে মনে করেন মনির আহমেদ। স্কুলে হামলার ঘটনার সাথে মালালা ইউসুফজায়ির নোবেল পুরস্কার নেয়ার কোনও যোগসূত্র কি থাকতে পারে? এটি কি তালেবানদের একধরনের প্রতিশোধ? মনির আহমেদ বলছিলেন, তেমন কোনও যোগসূত্র না পাওয়া গেলেও ধারনা করা যায়, পাকিস্তান সেনাবাহিনী তালেবানদের বিরুদ্ধে যে ধরনের অভিযানগুলো চালিয়ে যাচ্ছে, তার পাল্টা জবাব হিসেবেও তালেবানরা এই হামলা চালিয়ে থাকতে পারে।

খালেদা জিয়ার আবেদন খারিজ

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পেছাতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার করা আবেদন খারিজ করে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ সকালে রাজধানীর বকশীবাজারে ঢাকা আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত তৃতীয় বিশেষ জজ বাসুদেব রায়ের অস্থায়ী আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আদালতের এ আদেশের ফলে খালেদা জিয়া ও তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ ৬ আসামির বিরুদ্ধে অসমাপ্ত সাক্ষ্য দেবেন মামলার প্রথম সাক্ষী হারুন-অর-রশিদ। এর আগে গত ২২শে সেপ্টেম্বর, ১লা ডিসেম্বর ও ৮ই ডিসেম্বর সাক্ষ্য দেন তিনি। খালেদার বিরুদ্ধে দায়ের করা অপর মামলা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলারও তিনি বাদী এবং প্রথম সাক্ষী। একই আদালতে বিচার চলছে এ মামলারও। আদালতে হাজির হননি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার পক্ষে চারটি সময়ের আবেদন জানান তার আইনজীবীরা। এর মধ্যে এ আদালতের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে আদালত পরিবর্তনের জন্য উচ্চ আদালতে আবেদন শুনানির জন্য অপেক্ষমান থাকার কথা বলে দুই মামলায় দু’টি আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত এ দুই আবেদন খারিজ করে বলেন, যেহেতু উচ্চ আদালত মামলার বিচারিক কার্যক্রমে কোনো স্থগিতাদেশ দেননি, সেহেতু সাক্ষ্য গ্রহণ চলবে।

তালেবান: জন্ম ও উত্থান

জঙ্গি গোষ্ঠী তালেবান পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে
শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে লড়াই করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় উৎখাত হয়েছিল কট্টরপন্থী তালেবান সরকার। কিন্তু কিছুদিন পরই তারা বিক্ষিপ্তভাবে প্রতিরোধ শুরু করে। সেই থেকে বিভিন্ন সময়ে তাদের শক্তি ও প্রতিরোধের মাত্রা কমেছে বা বেড়েছে। কিন্তু মার্কিন নেতৃত্বাধীন পাশ্চাত্যের লাখো সেনা আর পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সরকারি বাহিনীর বছরের পর বছরের চেষ্টায়ও তাদের নির্মূল করা যায়নি। আর বিদেশি সেনাদের বিদায়ের ক্ষণ ঘনিয়ে আসায় আবার তাদের হামলার মাত্রা বেড়ে গেছে। জঙ্গি গোষ্ঠী তালেবান পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে লড়াই করছে। তারা ধর্ষক ও খুনিদের প্রকাশ্য জনসমাবেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করাসহ শরিয়া আইনে শাস্তি দেওয়ার পক্ষে। আফগানিস্তানে তালেবান শাসনে মুসলিম পুরুষদের দাড়ি রাখা এবং নারীদের বোরকা পরা বাধ্যতামূলক ছিল। টেলিভিশন দেখা, গান শোনা ও সিনেমা দেখা নিষিদ্ধ করেছিল তারা। এ ছাড়া ১০ বছরের বেশি বয়েসের মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার অনুমতি দেয় না তালেবান। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রসহ কয়েকটি স্থানে ২০০১ সালের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর আফগান তালেবান বিশ্ববাসীর নজরে আসে।
কারণ, দেশটির ক্ষমতা দখলকারী তালেবান গোষ্ঠী তখন আল-কায়েদার তখনকার প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে আশ্রয় দিয়েছিল। আল-কায়েদার নিরাপদ আশ্রয়স্থল ছিল আফগানিস্তান। যুক্তরাষ্ট্রে ১১ সেপ্টেম্বরের হামলা আল-কায়েদাই চালিয়েছিল বলে অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের। এর জেরে মার্কিন নেতৃত্বাধীন অভিযানে তালেবানকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। ধারণা করা হয়, আফগান তালেবানের শীর্ষ নেতা মোল্লা ওমরসহ অনেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পাকিস্তানে আশ্রয় নেন। সেখানে পাকিস্তান তালেবানের সহযোগিতায় হারানো ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার জন্য লড়াই অব্যাহত রাখে তালেবান। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, মোল্লা ওমরই এখনো আফগান তালেবানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তালেবানের পাকিস্তান শাখার নাম তেহরিক-ই-তালেবান, পাকিস্তান (টিটিপি)। মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত টিটিপির নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন গোষ্ঠীটির নেতা হাকিমুল্লাহ মেহসুদ। টিটিপি পাকিস্তানে আত্মঘাতীসহ অসংখ্য হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন আফগান মুজাহিদ বাহিনী দখলদার সোভিয়েত বাহিনীকে পরাস্ত করার পর চরম গোলযোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে তালেবান বাহিনীর উত্থান ঘটেছিল। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত হয়েছিল এ বাহিনী। ‘তালেব’ কথাটির অর্থ শিক্ষার্থী। আর ‘তালেবান’ এর বহুবচন। যুদ্ধবিগ্রহ আর অস্থিতিশীলতায় ক্লান্ত জনগণ তখন শান্তির আশায় তালেবানকে স্বাগত জানিয়েছিল।
দক্ষিণ-পশ্চিম আফগানিস্তান থেকে তাদের প্রভাব ক্রমে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ১৯৯৬ সালে প্রেসিডেন্ট বুরহানুদ্দিন রব্বানির সরকারকে উৎখাত করে রাজধানী কাবুল দখল করে তালেবান। ‘টুইন টাওয়ার’ হামলার পর ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর মার্কিন বাহিনী আফগানিস্তানে হামলা শুরু করে। ওই বছরের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই তালেবান ক্ষমতাচ্যুত হয়। তালেবানের সঙ্গে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান সরকারের শান্তির প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য বিভিন্ন প্রচেষ্টা চলে আসছে। সর্বশেষ, গত বছরের জুনে কাতারে কার্যালয় খুলেছিল আফগান তালেবান। তখন সরকারের সঙ্গে সমঝোতা আলোচনায় ওই কার্যালয় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছিল। কিন্তু দুই পক্ষের মধ্যে চরম অবিশ্বাসের কারণে সে আশা আর পূরণ হয়নি। পাকিস্তানেও তালেবান বেশ শক্তিশালী ও ব্যাপক সক্রিয়। তারা উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের বিস্তীর্ণ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। দেশটিকে অস্থিতিশীল করে তোলার হুমকি দিয়ে আসছে তারা। পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় নানা সময় বহু আত্মঘাতী ও অন্যান্য হামলা চালিয়েছে বলেও তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। দুই দেশের তালেবানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে পর্যবেক্ষকের ধারণা। সূত্র: বিবিসি

পেশোয়ারের স্কুলে জঙ্গি তাণ্ডব

তালেবানের হামলায় আহত এক ছাত্র হাসপাতালের
বিছানায় শুয়ে ব্যথায় কাতরাচ্ছে। ছবি: এএফপি
এবার শিশুদের রক্তে হাত রাঙাল তালেবান। পাকিস্তানের পেশোয়ারে সেনাবাহিনী পরিচালিত একটি স্কুলে তাদের ভয়াবহ গুলি ও বোমা হামলায় প্রাণ গেল শতাধিক শিক্ষার্থীর। শহরের ওয়ারসাক রোডের স্কুলটিতে গতকাল দুপুরের আগে ৮ থেকে ১০ জন জঙ্গি সামরিক পোশাক পরে প্রবেশ করে। এরপর তারা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে এলোপাতাড়ি গুলি করে ও বোমা ফাটায়। সেনা অভিযানের প্রতিশোধ নিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে দায় স্বীকার করা সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান।

স্কুলে রক্তপাতের বড় ঘটনা

বেসলানের স্কুলে জিম্মি ঘটনা: ২০০৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর চেচেনপন্থী সশস্ত্র বিদ্রোহীদের একটি দল রাশিয়ার নর্থ ওসেটিয়ার বেসলান শহরের এক স্কুলের শিক্ষার্থীসহ এক হাজার ২০০ জনকে জিম্মি করে। তিন দিনের মাথায় জিম্মিকারীদের সঙ্গে রাশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ হয়। এতে ৩৮৬ জন মারা যায়।
বাথ স্কুল হত্যাকাণ্ড: ১৯২৭ সালের ১৮ মে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের মিশিগান কাউন্টির বাথ স্কুলে বোমা হামলায় ৪৫ জন নিহত হয়। আহত হয় ৫৮ জন। ওই স্কুলটির বোর্ডের সাবেক সদস্য অ্যান্ড্রু কোহে তিনটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটান।
ভার্জিনিয়া টেক হত্যাকাণ্ড: ২০০৭ সালের ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের ব্ল্যাকবার্গে অবস্থিত ভার্জিনিয়া টেক ক্যাম্পাসে দুই ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক হামলায় ৩২ জন নিহত হয়। আহত হয় আরও অনেকে। সিউং হুই চো নামের এক ব্যক্তি ওই হামলা চালান। পরে তিনি আত্মহত্যা করেন।
স্যান্ডি হুক হত্যাকাণ্ড: যুক্তরাষ্ট্রের কানেটিকাট অঙ্গরাজ্যে ২০১২ সালের ১৪ ডিসেম্বর স্যান্ডি হুক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গুলিতে ২০ শিক্ষার্থীসহ ২৬ নিহত হয়। অ্যাডাম ল্যানজা (২০) নামের এক তরুণ রাইফেল দিয়ে গুলি করে প্রথমে তাঁর মাকে এবং পরে ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে ২০ শিক্ষার্থীসহ ২৫ জনকে হত্যা করেন। পরে তিনিও আত্মহত্যা করেন।
মা’লট হত্যাকাণ্ড: ১৯৭৪ সালের ১৫ মে ইসরায়েলের ‘স্বাধীনতা দিবসে’ গালিলি অঞ্চলের ম্যা’লটে ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইনের (ডিএফএলপি) সদস্যরা হামলা চালিয়ে ২২ জন স্কুলছাত্রসহ ২৬ জনকে হত্যা করে।
ডানব্লেন হত্যাকাণ্ড: ১৯৯৬ সালের ১৩ মার্চ টমাস হ্যামিলটন নামের এক ব্যক্তি দুটি নাইন এমএম পিস্তল ও দুটি রিভলবার নিয়ে স্কটল্যান্ডের ছোট শহর ডানব্লেনে অবস্থিত ডানব্লেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঢুকে ১৬টি শিশুশিক্ষার্থী ও এক শিক্ষককে গুলি করে হত্যা করেন।
কলাম্বাইন স্কুল হত্যাকাণ্ড: ১৯৯৯ সালের ২০ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের লিটলটন শহরের কলাম্বাইন হাইস্কুলে একজন শিক্ষক ও ১২ জন শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যা করে দুই ছাত্র। পরে তারা আত্মহত্যা করে। ওই হামলায় ২৪ জন আহত হন।

এ বছর ৬৬ সাংবাদিককে হত্যা

বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকদের ওপর বর্বর হামলা ও তাদের অপহরণের ঘটনা আরও অনেক বেড়ে গেছে। মিডিয়া কর্মীদের ওপর এসব হামলার ঘটনায় এক বছরে ৬৬ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স একথা জানায়। খবর এএফপির।
ইসলামিক স্টেট গ্রুপের হাতে জেমস ফলি ও স্টিফেন সটলফের শিরশ্ছেদের ঘটনার মধ্য দিয়ে আধুনিক যুগের সংঘাত কভার করতে আসা সাংবাদিকদের কি ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়তে হচ্ছে তা তুলে ধরা হয়েছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, এভাবে সাংবাদিকদের হত্যার ঘটনা পৃথিবীতে বিরল। এ দুই ঘটনা সারা বিশ্বকে স্তম্ভিত করেছে।
তবে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আগের বছরের তুলনায় এ বছর বিশ্বে সাংবাদিক হত্যার ঘটনা সামান্য কমেছে। আগের বছর সারা বিশ্বে ৭১ জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, ২০০৫ সাল থেকে বিশ্বে মোট ৭২০ জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়।
এদিকে আগের বছরের তুলনায় এ বছর সাংবাদিকদের অপহরণের ঘটনা ৩৭ শতাংশ বেড়ে গেছে। এ বছর মোট ১১৯ জন সাংবাদিককে অপহরণ করা হয়। ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় জঙ্গিদের কারণে এ সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
এদের মধ্যে ইউক্রেন থেকে ৩৩ জন, লিবিয়া থেকে ২৯ জন ও সিরিয়া থেকে ২৭ জন সাংবাদিককে অপহরণ করা হয়। তারা এখনও জিম্মি রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, স্থানীয় সাংবাদিকরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। অপহৃত সাংবাদিকদের ৯০ শতাংশই স্থানীয়।
বর্তমানে সিরিয়ায় সশস্ত্র গ্রুপের হাতে ২২ জন সাংবাদিক বন্দি রয়েছেন। এদের মধ্যে ১৬ জনই সিরিয়ার নাগরিক।
এদিকে, প্রেস এমব্লেম ক্যাম্পেইন নামের একটি সংগঠন বলছে চলতি বছর সাংবাদিক নিহত হওয়ার দিক দিয়ে শীর্ষে রয়েছে গাজার নাম। সম্প্রতি হামাস ও ইসরাইলি সেনাবাহিনীর মধ্যে ৫০ দিনের যে যুদ্ধ সংঘটিত হয় তাতে ১৬ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মিশেলের পোশাক কিনতে হিমশিম ওবামা!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সবই পারেন। কিন্তু নিজের স্ত্রীর জন্য গিফট কেনা একটি কঠিন কাজই মনে করেন। সোমবার রেডিও শো ‘অন এয়ার উইথ রায়ন সিক্রেস্ট’-এ এমন কথা জানিয়েছেন ওবামা। বারাক ওবামা বলেছেন, ‘সে (মিশেল) খুবই ফ্যাশনসচেতন। আমি তার পোশাক কেনা নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমি তার জন্য যা কিনেছি তা কখনও ক্রিসমাসে পরতে দেখিনি। মিশেলের জন্য কেনাকাটা কঠিন কাজ।’ তবে ওবামার ১৬ বছর বয়সী মেয়ে মালিয়ার জন্য কেনাকাটা সহজ বলে জানিয়েছেন তিনি। ওবামার ভাষ্যে, ‘মালিয়া চলচ্চিত্রের বড় ভক্ত। তাই তার জন্য কেনাকাটা করা মজার ব্যাপার। এক বছরে তাকে ১০০টি সর্বকালের সেরা চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছি এবং এটা সে খুব পছন্দ করেছে। ক্রিসমাসে এটাই সম্ভবত তাকে দেয়া সেরা উপহার। নভেম্বরের শেষের দিকে ওবামা তার দুই মেয়েকে নিয়ে ওয়াশিংটন পলিটিকস ও প্রোজ ইন্ডিপেন্ডেন্ট বইয়ের দোকানে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি তার পরিবারের সদস্যদের জন্য বই কিনেছেন। এএফপি।

আমার হৃদয় ভেঙে গেছে : মালালা

পাকিস্তানের পেশোয়ারের স্কুলে তালেবান জঙ্গিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন দেশটির নারীশিক্ষা আন্দোলনের কর্মী ও শান্তিতে নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজাই। তিনি বলেছেন, ‘পেশোয়ারে জ্ঞানবুদ্ধিহীন ও ঠাণ্ডা মাথায় ঘটানো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের যে চিত্র আমাদের সামনে উন্মোচিত হল, তাতে আমার হৃদয় ভেঙে গেছে।’ বিবিসির অনলাইনের খবরে জানানো হয়, মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে মালালা এভাবেই তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। মালালা তার বিবৃতিতে আরও বলেছেন, ‘ওই স্কুলে যে ঘটনা ঘটেছে, সেখানকার নিষ্পাপ শিশুদের জন্য এর চেয়ে ভয়ংকর আর কিছু হতে পারে না। এই নৃশংস ও কাপুরুষোচিত হামলার আমি নিন্দা জানাই। আমি পৃথিবীর লাখো মানুষের সঙ্গে এসব শিশু, আমার ভাই ও বোনেদের প্রতি শোক প্রকাশ করছি, কিন্তু আমরা কখনোই পরাজিত হব না।’

তালেবানি নৃশংসতায় কাঁদছে পাকিস্তান

রক্তস্রোতে ভাসছে পাকিস্তান। একের পর এক বর্বর সন্ত্রাসী হামলায় ব্যর্থ রাষ্ট্রের উদাহরণ হয়ে উঠেছে এশিয়ার এ ইসলামি প্রজাতন্ত্র। পাকিস্তানে তালেবানের হামলা থেকে সামরিক এবং পুলিশ বাহিনীর কার্যালয় থেকে শুরু করে মুক্ত নেই বাজার, মসজিদ বা শিশুদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তালেবানের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে বারবার আলোচনায় উঠে আসছে পাকিস্তান। সর্বশেষ মঙ্গলবারের হামলায় নিহত হয়েছে প্রায় দেড়শ’ স্কুল শিক্ষার্থী। নৃশংস হামলার বর্ণনা দিয়েছেন একজন শিশু।
‘বন্দুক হাতে ওই আংকেলরা খুব রাগি আর বাজে’ জঙ্গি কবল থেকে মুক্ত হয়ে এভাবেই বলল ছোট্ট শিশু। ছুটতে ছুটতে সেনাবাহিনীর কাছে এসেই ৫ বছরের ছোট্ট মেয়েটার মুখে হাসি ফুটল। নিজে থেকেই ও বলে উঠল, ওই দুষ্টু আংকেলগুলোর দাড়ি আছে, তারা আরবিতে কি যেন বলছিলেন। তারপর ওই শিশু জানাল, বন্দুক হাতে ওই আংকেলরা খুব খারাপ, খুব বাজে। ওদের বড় করতে আমাদের ২০ বছর লেগে গেছে, আর ওরা ২০ মিনিটে সব শেষ করে দিল-বললেন এক ছাত্রের বাবা।
ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নামে চরমপন্থা রূপ নিয়ে একের পর এক সন্ত্রাসবাদী হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এই তালেবান গ্রুপ। পশতুন আন্দোলন থেকেই মূলত তালেবান আন্দোলনের সূত্রপাত। ১৯৯৪ সালে আফগানিস্তানে তারা প্রসিদ্ধি লাভ করে। এ আন্দোলনের প্রথম সূচনা হয় ধর্মীয় সভা-সেমিনার থেকে। বিশেষ করে সৌদি আরব থেকে ধর্মের বাণী প্রচারের নামে বিভিন্ন দেশে অর্থপ্রাপ্তির পথ ধরে। তালেবানরা ক্ষমতায় গেলে পাকিস্তানের পশতুন এবং আফগানিস্তানে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা এবং শরিয়া তথা ইসলামি আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকার করে। তারা ইসলামি বিচারব্যবস্থার কথা বলে জনসমর্থন আদায়ে সমর্থ হয়। শুধু তাই নয়, তারা সাধারণ মানুষকে ইসলামি শরিয়া প্রতিপালন এবং নারীদের জন্য বোরকা পরিধান বাধ্যতামূলক করে। একইভাবে তালেবানরা টেলিভিশন, গান, সিনেমা ইত্যাদি বন্ধ করে দেয় এবং আট বছর বয়স থেকে মেয়েদের স্কুলে যাওয়া নিষিদ্ধ করে।
তালেবানরা ১৯৯৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইরান-সীমান্তবর্তী হেরাত প্রদেশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়। এর এক বছরের মাথায় তারা আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল দখলে নিয়ে নেয়। তৎকালীন আফগান প্রেসিডেন্ট বোরহানউদ্দিন রব্বানী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহমদ শাহ মাসুদকেও পরাজিত করে তারা। এরপর ১৯৯৮ সালের দিকে তারা আফগানিস্তানের ৯০ ভাগ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে সক্ষম হয়। তালেবানদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লংঘন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও স্থাপনা ধ্বংসের অভিযোগ ওঠে। ২০০১ সালে তারা আন্তর্জাতিক রীতি-নীতি লংঘন করে বামিয়ানে গৌতম বুদ্ধের ঐতিহ্যবাহী মূর্তি ভেঙে ফেলে। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে আফগানিস্তানে তালেবানরা ক্ষমতাসীন থাকার সময়ে মাত্র তিনটি দেশ তাদের স্বীকৃত দিয়েছিল। দেশ তিনটি হল- পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে সে সময় মানবাধিকার লংঘনের জন্য আফগানিস্তান জাতিসংঘের স্বীকৃতি হারিয়েছিল এবং ইরান, ভারত, তুরস্ক, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্য এশিয়ার অধিকাংশ দেশ তালেবান শাসনের বিরোধিতা করেছিল এবং তালেবানবিরোধী আফগান নর্দার্ন অ্যালায়েন্সকে সাহায্য করেছিল। ক্ষমতায় থাকার সময় তালেবানরা এ যাবৎকালের সবচেয়ে কট্টোর মুসলিম শরিয়াভিত্তিক শাসন প্রতিষ্ঠা করে। নারীদের প্রতি বিরূপ আচরণের জন্য তারা আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দিতও হয়।
‘তালেবান’ শব্দের অর্থ ‘ছাত্র’। এ আন্দোলনের প্রধান ছিলেন মোল্লা মুহাম্মাদ উমার। উমারের পরেই ছিল সামরিক কমান্ডার ও মাদ্রাসা শিক্ষকদের একটি মিশ্র ইউনিটের অবস্থান। এর পরে স্থান ছিল পদমর্যাদা অনুযায়ী পাকিস্তানের বিভিন্ন ধর্মীয় বিদ্যালয়ে পাঠ গ্রহণকারী ব্যক্তিদের। দক্ষিণ আফগানিস্তানের পশতুন অঞ্চল এবং পশ্চিম পাকিস্তানের কিছু অঞ্চলে তালেবান আন্দোলন সবচেয়ে ব্যাপক রূপ ধারণ করেছিল। এ ছাড়া ইউরোপ ও চীন থেকে কিছু স্বেচ্ছাসেবক সে সময় এ আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। তালেবানরা বিভিন্ন উৎস থেকে ভারি অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ সহযোগিতা লাভ করেছিল। পাকিস্তান সরকার বিশেষত ইন্টারসার্ভিস ইন্টেলিজেন্স তালেবানদের সহায়তার জন্য অভিযুক্ত হয়েছে। এ ছাড়া পাকিস্তানে আফগান শরণার্থীদের জন্য নির্মাণ করা মাদ্রাসাগুলো থেকে অনেকেই সশস্ত্র আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। এগুলো প্রতিষ্ঠা করেছিল জামিয়াত উলামা-ই-ইসলাম। ২০০১ সালে ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে টুইন টাওয়ার ধ্বংসের পর ৭ অক্টোবর মার্কিন নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালায় এবং একই বছরের ডিসেম্বরে তালেবান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে।
সে সময় তাদের নেতা মোল্লা মোহাম্মদ উমার, সিনিয়র তালেবান নেতারা, ওসামা বিন লাদেন এবং তার আল কায়দার সহযোগীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আত্মগোপন করে। বর্তমানে তালেবান সমর্থকরা পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তের উপজাতীয় অঞ্চলে ক্ষমতাসীন আফগান সরকার, অপারেশন এন্ডিউরিং ফ্রিডমে অংশগ্রহণকারী ন্যাটো সেনাবাহিনী এবং ন্যাটো পরিচালিত ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাসিসটেন্স ফোর্সের বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। বিবিসি।
এক নজরে তালেবান
সক্রিয় : ১৯৯৪-এর সেপ্টেম্বর থেকে
আদর্শ : ইসলামী মৌলবাদ এবং পশতুন জাতীয়তাবাদ
নেতৃত্ব : মোল্লা মুহাম্মদ উমর, মোল্লা উবাইদুল্লাহ আখন্দ (ধৃত)
কার্যক্রমের অঞ্চল : আফগানিস্তান এবং পাকিস্তান
উৎপত্তি : আফগানিস্তানে সোভিয়েত যুদ্ধের সময় মুজাহিদিন গোষ্ঠী
মিত্র : আল-কায়দা, হিজব-ই-ইসলামী গুলবুদ্দিন, ওয়াজিরিস্তানের ইসলামী আমিরাত, উজবেকিস্তানের ইসলামী আন্দোলন
শত্র“ : ইরান, আফগানিস্তান, নর্দান অ্যালায়েন্স, আইএসএফ (ন্যাটো পরিচালিত), অপারেশন এন্ডিউরিং ফ্রিডম

কক্সবাজারে চার দেশের সচিব সম্মেলন শুরু

আঞ্চলিক বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়িয়ে যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি খাতে উন্নয়নসহ জোটকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে আজ থেকে পর্যটন শহর কক্সবাজারে শুরু হচ্ছে বিসিআইএম আঞ্চলিক জোটের দুই দিনব্যাপী সম্মেলন। বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমারের সচিব পর্যায়ের এ সম্মেলন সকাল ৯টায় কক্সবাজারের হোটেল ওশান প্যারাডাইসে শুরু হচ্ছে। শেষ হবে ১৮ ডিসেম্বর।
সম্মেলনে অংশ নিতে বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমারের প্রতিনিধিরা ১৬ ডিসেম্বর দুপুরে কক্সবাজার পৌঁছান। একটি সূত্রে জানা গেছে, সরকার বিসিআইএম আঞ্চলিক জোটকে কার্যকর করতে চায়। কূটনীতিকদের মতে, এ জোট কার্যকর হলে দেশে ২০ বিলিয়ন ডলারের বিদেশী বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানান, বিসিআইএম অর্থনৈতিক করিডোর বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ, মিয়ানমার, চীন এবং ভারতের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব। পরিকল্পনা কমিশন জানায়, চার দেশের আঞ্চলিক অর্থনৈতিক করিডোরে যুক্ত হলে লাভবান হবে বাংলাদেশ। বিসিআইএম কার্যকর হলে চারটি দেশের মধ্যে বছরে অন্তত ৪৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বাণিজ্য বাড়বে। যা থেকে বছরে কম হলেও ৩ হাজার কোটি টাকার শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা পাওয়া যাবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ২০০৭ সালে তার নিজস্ব অর্থায়নে টেকনাফের গুনধুম থেকে মিয়ানমারের বাউলিবাজার পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার সড়ক স্থাপনে প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে রোহিঙ্গা ইস্যুতে দুদেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দেয়। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি। অথচ মিয়ানমারের পশ্চিম উপকূল চাকতো এলাকায় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (এসইজেড) আওতায় চীনের সহায়তায় একটি গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপিত হচ্ছে। চাকতো থেকে কুনমিং পর্যন্ত সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপনের কাজ শিগগির শুরু হচ্ছে। আর চাকতো-কুনমিং গ্যাস পাইপলাইন ইতিমধ্যে স্থাপিত হয়েছে। তাই বাংলাদেশ চাকতোর সঙ্গে যুক্ত হতে পারলে সহজেই কুনমিংয়ে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবে।

সুন্দরবনের ৩০ হাজার জেলের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশংকার মধ্যে রয়েছেন সুন্দরবনের ৩০ হাজার জেলে। পেশা নিয়ে এখন চরম হতাশার মধ্যে দিন কাটছে তাদের। কবে নাগাদ ফের বনে যেতে পারবেন তা জানা নেই বননির্ভর এসব জেলের। ৮ দিন ধরে অলস সময় পার করছেন তারা। মাছ ও কাকড়া ধরতে না পারায় জেলে পরিবারে দেখা দিয়েছে অভাব। এ দিকে সুন্দরবনে ভাসমান তেলের পরিমাণ কমে গেছে অনেকাংশে। তবে বনের গাছপালা, লতাপাতা ও মাটিতে লেগে আছে তেলের দাগ। এতে বন্যপ্রাণী রোগাক্রান্ত হওয়ার আশংকা করছেন পরিবেশবিদরা। বনের প্রাণিকুল নদী ও খালের মিষ্টি খাবার পানি ও খাদ্যের সন্ধানে আসছে। আর এ সময় প্রাণীদের শরীরে লাগছে তেলের আবরণ। তৈলাক্ত পানি ও লতাপাতা খাচ্ছে তারা। এর ফলে এসব প্রাণী রোগাক্রান্ত হয়ে পড়তে পারে। শুধু বনের প্রাণী নয়, বনের পেশাজীবী জেলেও আক্রান্ত হতে পারেন চর্মসহ নানা রোগে। সুন্দরবনের চাঁদপাই স্টেশন কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, সুন্দরবনে পাস-পারমিট নেই বললেই চলে। জেলেরা এখন আগের মতো বনে মাছ ধরতে যেতে আগ্রহী নয়। এ অবস্থায় বনসংলগ্ন এলাকার যেসব মানুষ এতদিন নদীর পানি পান করতেন তারাও এখন খাবার পানির সংকটে রয়েছেন। মঙ্গলবার সুন্দরবনের শ্যালা ও চাঁদপাই এলাকা পরিদর্শন করেছে সেভ দ্য সুন্দরবন ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের দুটি প্রতিনিধি দল। দুপুরে জয়মনির গোল এলাকা বাপা এবং মংলা প্রেস ক্লাবে সেভ দ্য সুন্দরবনের উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় পরিবেশবিদরা অভিযোগ করেন, ট্যাংকার দুর্ঘটনার পর তেল অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়নি সরকার। জয়মনির সম্মেলনে বাপা কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফ জামিল বনবিভাগের তেল অপসারণ পদ্ধতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সনাতন এ পদ্ধতিতে তেল অপসারণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু বনবিভাগ অহেতুক কালক্ষেপণ ও অর্থ নষ্ট করে সুন্দরবন বিধ্বংসী আলামত আড়াল করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, তেল সংগ্রহের নামে বনের শ্বাসমূল, লতাপাতা ছোট ছোট গাছ উপড়ে ফেলা হচ্ছে। এতে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনেকটাই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এদিকে বিকাল ৩টায় মংলা প্রেস ক্লাবে সেভ দ্য সুন্দরবনের উদ্যোগে পৃথক সংবাদ সম্মেলন আনুষ্ঠিত হয়। এতে সেভ দ্য সুন্দরবনের চেয়ারম্যান ড. ফরিদুল আলম বলেন, বিশ্ব ঐতিহ্য ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে নিয়ে গভীর চক্রান্ত চলছে। ট্যাংকার ডুবির তিন দিন পর তেল অপসারণ পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিনি বলেন, বনের লতাপাতায় লেগে থাকা তেলে বন্যপ্রাণীরা নানা রোগে আক্রান্ত হতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার জাকির হোসেন, ড. জিয়াউর রহমান ও অ্যাডভোকেট আজমল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের সম্পদ বিক্রির চিন্তা

মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ৩২টি প্রতিষ্ঠানের ২৯টির উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। জোড়াতালি দিয়ে চলছে তিনটি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে দুটিতেই লোকসান গুনতে হচ্ছে। একটি রয়েছে লাভজনক অবস্থানে। প্রতিমাসে বিপুল পরিমাণ ঘাটতির বোঝা টানতে গিয়ে চরম অর্থ সংকটে পড়েছে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট। দীর্ঘদিনের অদক্ষ ব্যবস্থাপনা, ক্ষমতাসীনদের ছোবল ও অনিয়মের কারণে সংস্থাটি লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
এ অবস্থায় সংস্থাটির সব সম্পদ বিক্রি করে দেয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। বিক্রীত সম্পদের টাকা স্থায়ী আমনত (ফিক্সড ডিপোজিট) করে লভ্যাংশের অর্থ দিয়ে ট্রাস্টের কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তাবনা তৈরির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এসব তথ্য জানিয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজোম্মেল হক এ প্রসঙ্গে যুগান্তরকে বলেন, বিগত দিনের তথ্য-উপাত্ত ঘেটে দেখা গেছে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পদ লুট হয়েছে। হাজার কোটি টাকার সম্পদ পানির দরে বিক্রি করা হয়েছে। যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে তাদের ছত্রচ্ছায়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পদ দখল হয়ে গেছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান লাভজনক করা দুরূহ। তিনি বলেন, সম্পদ রক্ষায় আমার সামনে তিনটি পথ খোলা আছে। প্রথমত : সব সম্পদ বিক্রি করে পাওয়া টাকা স্থায়ী আমানত করা, দ্বিতীয়ত : আবাসন করে বিক্রি করা এবং তৃতীয়ত : জমি-জমা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা। আবাসন ও বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের অতীত রেকর্ড ভালো নয়। তাই বিক্রির বিষয়টি নিয়ে সরকারের ওপর মহলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা হবে।
মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তদারকির অভাবে ইতিমধ্যে বেশ কিছু সম্পদ বেহাত হয়ে গেছে। জমি-জমা ভোগ-দখল করছে অবৈধ দখলদাররা। প্রতিটি সরকারের আমলে সুবিধাভোগী কিছু ব্যক্তি মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের সম্পদের ওপর হামলে পড়ে। ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িতদের অনেকেই বড় বড় কোম্পানির কাছে নামমাত্র দামে জমি তুলে দিয়েছেন। এ কারণে সংস্থাটি ধীরে ধীরে রুগ্ন হয়ে পড়ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে চারটি প্রকল্প নেয়া হলেও কাক্সিক্ষত সাফল্য আসেনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের আওতায় ৭ হাজার ৮৩৮ জনকে সম্মানী ভাতা দেয়া হয়। একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা চার ক্যাটাগরিতে মাসে ৯ হাজার ৭০০ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার এবং মৃত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ১৫ হাজার টাকা, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ পরিবার ২৮ হাজার টাকা ও তারামন বিবি বীর প্রতীক ১৫ হাজার টাকা হারে সম্মানী ভাতাসহ নির্দিষ্ট সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। সংস্থাটির কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদ থাকলেও অব্যবস্থাপনা ও অর্থ সংকটের ফলে মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসন, আবাসন ও বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেয়াসহ নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারছে না সংস্থাটি।
মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের কর্মকর্তারা জানান, ২০০৯ সালে কল্যাণ ট্রাস্ট সবচেয়ে বেশি সংকটে ছিল। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বেশ কিছু উদ্যোগ নেয়ায় ওই অবস্থা কিছুটা কাটতে শুরু করেছে। বেদখল অনেক জমির দলিলাদি সংগ্রহ করা হয়েছে। খাজনা হালনাগাদ করা হয়েছে। তবে ব্যয়ের তুলনায় আয় না বাড়ায় অর্থ সংকট রয়েছে। এ অবস্থায় ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থের মুনাফা ভেঙে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে হচ্ছে। সংস্থার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, প্রতি মাসে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের খরচ প্রায় সোয়া এক কোটি টাকা। অথচ আয় ৫০ লাখেরও কম। ফলে প্রতি মাসে মোটা অংকের টাকা ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। যা বিভিন্ন উৎস্য থেকে মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সংস্থাটির নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে ১৮টি শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান দেন মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টকে। পরে ১৯৭৮ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ট্রাস্টকে আরও ১১টি প্রতিষ্ঠান দেন। আর কল্যাণ ট্রাস্ট নিজেই তিনটি প্রতিষ্ঠান (চট্টগ্রামের কালুরঘাটে ফলের রস কারখানা, ঢাকায় ট্রাস্ট হাসপাতাল ও দুর্বার অ্যাডভারটাইজিং) গড়ে তোলে। মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের এই ৩২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সচল রয়েছে তিনটি। ১৫টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। ৭টি প্রতিষ্ঠান গুটিয়ে ফেলা হয়েছে। বাকি ৭টি প্রতিষ্ঠান থেকে পুঁজি প্রত্যাহার করা হয়েছে। সচল তিনটি প্রতিষ্ঠানের একটি মিমি চকলেট লিমিটেড। রাজধানীর ২৫৫, তেজগাঁও শিল্প এলাকায় ১ একর জমিতে গড়ে তোলা এ প্রতিষ্ঠানের মাসিক গড় বিক্রি প্রায় ২০ লাখ টাকা। এর মধ্যে বেতন-ভাতায় চলে যায় প্রায় ৫ লাখ টাকা। চকলেটের কাঁচামাল ক্রয়সহ অন্যান্য খরচ তুলতে পারে না প্রতিষ্ঠানটি। জানা গেছে, প্রায় ৫০ বছরের পুরনো মেশিনারিজ দিয়ে চলছে প্রতিষ্ঠানটি। প্যাকেজিংসহ উৎপাদন প্রক্রিয়া অটোমেটিক না হওয়ায় দেশী-বিদেশী চকলেটের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। প্রায়শ মেশিনারিতে সমস্যা দেখা দেয়। স্থানীয়ভাবে যন্ত্রাংশ তৈরি বা মেরামত করে উৎপাদন চালিয়ে রাখা হচ্ছে। একই অবস্থায় আরেক লোকসানি প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের ইসিআই লিমিটেডের। প্রায় ২৬ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা এ প্রতিষ্ঠানে রাসায়নিকসামগ্রী ফরমালিন, ইউরিয়া, ফরমালডিহাইড অ্যাডহেসিভ, ইউরিয়া ফরমালডিহাইভ কম্পাউন্ড ও থার্মোসেটিং মোলডিং আর্টিক্যাল উৎপাদন করে। এ প্রতিষ্ঠানের মেশিনারিজ ৫০ বছরের পুরনো। বিক্রীত পণ্যের দামও বেশি। এ কারণে প্রতিযোগীতায় বাজারে টিকতে পারছে না। প্রতিষ্ঠানটির মাসে গড় বিক্রি ২২ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৮ লাখ টাকা চলে যায় মাসিক বেতন-ভাতায়।
সূত্র জানায়, একমাত্র লাভজনক প্রতিষ্ঠান হচ্ছে রাজধানীর টয়েনবি সার্কুলার রোডের পূর্ণিমা ফিলিং অ্যান্ড সার্ভিস স্টেশন। এটির মাসে গড় বিক্রি এক কোটি টাকা। বেতন-ভাতায় যায় তিন লাখ টাকা। মাসে এ প্রতিষ্ঠান থেকে ৫-৭ লাখ টাকা লাভ পেয়ে থাকে সংস্থাটি।
সূত্র আরও জানায়, বন্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশিরভাগ যন্ত্রপাতি বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। বিক্রি করা হয়েছে জমিও । এ তালিকায় রয়েছে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় ২ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত সিরকো সোপ অ্যান্ড ক্যামিকেল ইন্ডাস্ট্রিজ, গুলিস্তান সিনেমা কোম্পানি, বাংলাদেশ গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজ (হাইসন্স), যাত্রিক পাবলিকেশন্স, ওমর সন্স (স্ট্রাকচার) লিমিটেড, বেঙ্গল ন্যাশনাল ট্যানারি, ন্যাশনাল ট্যানারি ও মদিনা ট্যানারি, চট্টগ্রামের বাক্সলী পেইন্টস লিমিটেড, হামিদিয়া অয়েল মিলস, হামিদিয়া মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ ও যাত্রিক পাবলিকেশন্স।

শাহ সিমেন্টের ৭৯ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি

উৎপাদিত পণ্যের কম মূল্য ঘোষণা দিয়ে এবং অবৈধ উপকরণ রেয়াত নিয়ে ৭৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে আবুল খায়ের গ্র“পের অন্যতম প্রতিষ্ঠান মেসার্স শাহ সিমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ লি.। ঢাকার বৃহৎ করদাতা মূল্য সংযোজন কর (এলটিইউ) কর্তৃপক্ষের কড়া নজরদারিতে এ পর্যন্ত এই পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি চিহ্নিত করা হয়েছে। এখনও প্রতিষ্ঠানটির অনিয়ম সংক্রান্ত তদন্ত চলছে। আশংকা- এভাবে বেপরোয়া রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ শত কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
ভ্যাট এলটিইউর দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ভ্যাট আইনের কোনো বিধিবিধানই মানতে চায় না শাহ সিমেন্ট। প্রতিষ্ঠানটি দেশের শীর্ষ সিমেন্ট উৎপাদক হিসেবে পরিচিত। কিন্তু ভ্যাট কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত মূল্যে সিমেন্ট সরবরাহ না করে তাদের ঘোষিত মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে এই সিমেন্ট। আবার ঘোষিত মূল্যের চেয়ে উপকরণ মূল্য বেশি দেখিয়ে বিধিবহির্ভূতভাবে বিপুল অংকের অবৈধ ভ্যাট রেয়াত নিয়ে তা আত্মসাৎ করা হয়েছে। কিন্তু ধরা পড়ার পর সরকারের প্রাপ্য রাজস্বও পরিশোধ করছে না প্রতিষ্ঠানটি। এ টাকা আদায়ে এখন আইনি লড়াইয়ের জটিলতায় আটকে আছে ভ্যাট এলটিইউ কর্তৃপক্ষ।
দায়িত্বশীল সূত্র জানান, ভ্যাট কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত মূল্যের বাইরে পণ্য বাজারজাতকরণ সম্পূর্ণ বেআইনি। কিন্তু কোম্পানিটি তা মানছে না। বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও শাহ সিমেন্ট তাদের ঘোষিত মূল্যেই সিমেন্ট বাজারজাত করে অব্যাহতভাবে ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে যাচ্ছে। এ জন্য অসংখ্যবার অনিয়ম মামলা দায়েরসহ সরকারের প্রাপ্য পরিশোধে দাবিনামা জারি করা হলেও তার তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। উল্টো আদালতে পাল্টা মামলা করে পুরো বিষয়টি আইনি লড়াইয়ের দীর্ঘসূত্রতার জালে আটকে রাখা হয়েছে। এরপর আবার চলছে একই কৌশলে ভ্যাট ফাঁকি। এ জন্য রীতিমতো গলদঘর্ম এখন ভ্যাট এলটিইউ।
ভ্যাট এলটিইউ কমিশনার আবদুল কাফি বিষয়টি স্বীকার করে জানান, প্রতিষ্ঠানটি কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মানছে না। প্রতি বছরই তাদের ফাঁকি ধরা পড়ছে। দাবিনামা জারি করা হলেও পাওনা পরিশোধ করছে না। এ জন্য ভ্যাট আইন অনুযায়ী কড়া পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
দাবিনামা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, শাহ সিমেন্ট উৎপাদিত স্পেশাল সিমেন্ট প্রতি ৫০ কেজির বস্তার ভ্যাট আরোপযোগ্য মূল্য হচ্ছে ২৮০ টাকা। কিন্তু তা বিক্রি হচ্ছে ২১৮ টাকায়। আবার ৫০ কেজির পপুলার সিমেন্টের ভ্যাট আরোপযোগ্য মূল্যে ২৭৭ টাকার পরিবর্তে বিক্রি করা হচ্ছে ২০৮ টাকায়। একইভাবে শাহ সিমেন্ট বাল্ক প্রতি টনের মূল্য ৫ হাজার ৩৪০ টাকার পরিবর্তে বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ১২৫ টাকায়। এভাবে কম মূল্য ঘোষণা দিয়ে প্রতি মাসেই লাখ লাখ বস্তা সিমেন্ট বাজারজাত করে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে চলেছে অসাধু এই প্রতিষ্ঠানটি।
সূত্র মতে শাহ সিমেন্টের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ভ্যাট কর্তৃপক্ষ ২৬টি অনিয়ম মামলা দায়ের করেছে। এসব অনিয়ম মামলায় জড়িত মোট রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ ৭৮ কোটি ৮৫ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। সূত্র মতে, ভ্যাট নিরীক্ষা ও গোয়েন্দা তদন্ত অধিদফতরের নিরীক্ষাসহ এলটিইউর নিরীক্ষায় একাধিক অবৈধ রেয়াত নেয়ার অনিয়ম উদঘাটিত হয়েছে। উদঘাটিত অতিরিক্ত গৃহীত রেয়াতের অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা দিতে একাধিক চূড়ান্ত দাবিনামা জারি করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি আত্মপক্ষ সমর্থন করে জবাব না দিয়ে বা ভ্যাট কর্তৃপক্ষের শুনানিতে অংশ না নিয়ে বিভিন্ন আদালতে মামলা দায়ের করেছে। এছাড়া যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া বিলম্বে এন্ট্রি ও উপকরণের মূল্য বৃদ্ধিজনিত কারণে নতুন মূল্যভিত্তি ঘোষণাপত্র দাখিল না করে বিধিবহির্ভূতভাবে রেয়াত গ্রহণ, দাখিলপত্র পরীক্ষায় বিধিবহির্ভূতভাবে রেয়াত গ্রহণের ঘটনা উদঘাটন, কারণ ছাড়া বিলম্বে এন্ট্রি করে বিধিবহির্ভূতভাবে রেয়াত গ্রহণসহ বহুমুখী ভ্যাট অনিয়ম পাওয়া গেছে।
এছাড়া সবচেয়ে বেশি অনিয়ম করা হচ্ছে মূল্য ঘোষণায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রতিষ্ঠানটি অনুমোদিত মূল্যে সিমেন্ট সরবরাহ না করে নিজস্ব ঘোষিত মূল্যে বাজারজাত করে রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। এ কারণে ভ্যাট আইনে দাবিনামা জারি করার পর শাহ সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ এ পর্যন্ত উচ্চ আদালতে ১৬টি রিট মামলা দায়ের করেছে বলে জানা গেছে।

শিশুর রক্তে স্নাত পাকিস্তান

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে জিম্মি নাটকের অবসান হতে না হতেই শিশুদের রক্তে রঞ্জিত হয়ে উঠল পাকিস্তান। দেশটির খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ারে সেনাবাহিনী পরিচালিত এক স্কুলে জঙ্গি হামলায় ১৪১ জন নিহত ও ১২২ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৩২ স্কুলশিক্ষার্থী। হামলাকারী ৯ জঙ্গিও নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন। আহতের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশংকাজনক। হামলার দায়িত্ব তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) স্বীকার করেছে। নিরাপত্তা বাহিনী জিম্মি শিশুদের উদ্ধার করে অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করেছে। এ ধরনের কাপুরুষোচিত হামলার প্রতিবাদে সারা বিশ্বে নিন্দার ঝড় উঠেছে। এএফপি, ডন, বিবিসি। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেনাবাহিনীর পোশাক পরা ৭ থেকে ৯ জঙ্গি ওই স্কুলে স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় প্রবেশ করে। তারা ভেতরে প্রবেশের আধা ঘণ্টার মধ্যে গুলি করা শুরু করে। এতে ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে। তবে জঙ্গিদের গুলি বা আÍঘাতী বোমায় এত শিশুর মৃত্যু হয়েছে না নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের বন্দুকযুদ্ধের মাঝে পড়ে এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা হয়নি। হামলা শুরুর আগে অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মেডিকেল দলের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসার ওপর একটি প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল। হামলা শুরু হলে তারা বুঝে উঠতে পারেনি কি ঘটনা ঘটছে। ইরশাদা বিবি নামে এক নারীর ১২ বছরের এক সন্তান এ হামলায় নিহত হয়েছে। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, হে আল্লাহ! কেন আমার সন্তানের এ অবস্থা হল। কেন এত অল্প বয়সে আমার সন্তানের মৃত্যু দেখতে হল।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ এক বিবৃতিতে জিম্মি হওয়া শিশুদের নিজের সন্তান হিসেবে উল্লেখ করেন এবং তাদের উদ্ধারে চালানো অভিযান নিজেই তদারকি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান। নওয়াজ শরিফ পেশোয়ারে পৌঁছে বলেন, দেশ থেকে জঙ্গিবাদ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে। তিনি এ হামলার ঘটনায় দেশের মানুষকে মনোবল না হারাতে বলেন। নওয়াজ শরিফ এ ঘটনায় আজ পেশোয়ারে সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছেন।
প্রতিবেশী দেশ ভারত এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। দেশটি দোষীদের বের করে শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে।
টিটিপি হামলার দায়িত্ব স্বীকার করে জানিয়েছে, বদলা নিতে এ হামলা করা হয়েছে। টিটিপির মুখপাত্র মুহাম্মদ খোরাসানি বলেন, উত্তর ওয়াজিরিস্তানে সেনা অভিযানের প্রতিশোধ নিতেই এ হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, স্কুলের ভেতর সাত তালেবান যোদ্ধা প্রবেশ করেছে এবং তারা আত্মঘাতী হামলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তবে তিনি দাবি করেন, তাদের স্কুল শিক্ষার্থীদের নয়, সেনা সদস্যদের গুলি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
স্কুলে কতজন শিক্ষার্থী জিম্মি ছিল সে বিষয়টি নিশ্চিত নয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে, স্কুলের ভেতর শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ প্রায় ৫০০ জন জিম্মি ছিলেন। হামলার কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা স্কুলটির চারপাশে অবস্থান নেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশেষ অভিযান চালানো হয়।
খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে ক্ষমতায় আছে সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফ। ইমরান খান ওই প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পারভেজ খাত্তাকের সঙ্গে ফোনে কথা বলে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ১৮ ডিসেম্বর দেশব্যাপী তার দলের বিক্ষোভ কর্মসূচিও স্থগিত করেছেন।
খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী পারভেজ খাত্তাক বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ইউনিফর্ম পরে জঙ্গিরা স্কুলের ভেতরে প্রবেশ করে।
সেনাবাহিনীর প্রধান মুখপাত্র জেনারেল অসীম বাজওয়া বলেন, হামলা শুরুর সাড়ে ৫ ঘণ্টার মধ্যে স্কুল বিল্ডিং থেকে সব জঙ্গিকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এরপর সব জঙ্গিকে হত্যা করা হয়েছে।
স্কুলটি পাকিস্তানের আর্মি পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত হয়। দেশজুড়ে এমন ১৪৬টি স্কুল আছে। সেনাসদস্য ও বেসামরিক নাগরিকদের সন্তানরা এখানে পড়াশোনা করে। এখানে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের বয়স ১০-১৮ বছর। স্কুলটির শিক্ষকদের বেশির ভাগ সেনা সদস্যদের স্ত্রী।
পেশোয়ারের লেডি রিডিং হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, অন্তত ১৩২ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে সেনাসদস্য, স্কুলের নিরাপত্তা প্রহরী এবং শিক্ষকও রয়েছেন।
লেডি রিডিং হাসপাতালের চিকিৎসক শিরফ খান জানান, তাদের কাছে তিনজন শিক্ষার্থীর মরদেহ এসে পৌঁছেছে। আহত ৩৫ জনকে সেখানে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে দুজন ওই স্কুলের শিক্ষক। চিকিৎসাধীন দুই চিকিৎসকের বরাত দিয়ে হাসপাতালের কর্মকর্তা ইজাজ খান বলেন, অস্ত্রোপচার কক্ষে নেয়া অনেকের অবস্থা আশংকাজনক। পেশোয়ারের হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। হাসপাতালগুলো ‘ও নেগেটিভ’ রক্ত দেয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিক্ষক জানান, হামলাকারীরা হামলার জন্য পরীক্ষার সময়কে বেছে নিয়েছে। তিনি বলেন, হামলার আধা ঘণ্টার মধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নিন্দা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের পেশোয়ারে একটি স্কুলে তালেবান হামলায় শতাধিক স্কুলছাত্রসহ নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষ হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল জানান, বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বর্বর ও ন্যক্কারজনক হত্যাকাণ্ড সারা বিশ্বের মানুষকে শোকাহত ও স্তম্ভিত করেছে। তিনি এ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের পুনরাবৃত্তিরোধে উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তি এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এ অঞ্চলের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ হামলায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খালেদা জিয়ার নিন্দা ও প্রতিবাদ : পেশোয়ারে এ হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, তালেবানের এ ধরনের হিংস্রতা বিশ্বের শান্তিময় পরিবেশকে অশান্ত করার উদ্দেশ্যই করা হয়েছে। বর্বরোচিত হামলা ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। ধর্মের নামে অসহায় ও নিরীহ শিশু-কিশোরদের ওপর এ ধরনের হামলা ও পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড সমগ্র বিশ্বের বিবেকবান মানুষকে ব্যথিত করেছে। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া পাকিস্তানে নিহত শিক্ষার্থীদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। আলাদা বিবৃতিতে তালেবান হামলার নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও।

পানিতে তেল কমে আসছে : সংগ্রহ অব্যাহত

সুন্দরবনে গাছের লতাপাতা ও মাটিতে এখনও লেগে আছে ফার্নেস অয়েল। তবে পানিতে তেলের আবরণ তেমন চোখে পড়ছে না। ফলে নদ-নদীর পানি আগের মতোই স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। মঙ্গলবারও অসংখ্য লোকজন সুন্দরবনের নদী-খালের তেল সংগ্রহ করেছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বন বিভাগ, মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কয়েকটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পাম্প মেশিন দিয়ে পানি স্প্রে করে সকাল থেকে ব্যাপকভাবে তেল অপসারণ এবং সংগ্রহের কাজ চালিয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৫৬ হাজার ২০০ লিটার তেল সংগ্রহ করেছেন স্থানীয়রা। যা তাদের কাছ থেকে ৪০ টাকা লিটার দরে ক্রয় করেছে পদ্মা অয়েল কোম্পানি।
স্থানীয়রা জানান, সুন্দরবনে নদীর পানিতে ভাসমান তেলের পরিমাণ কমে গেছে অনেকাংশে। তারপরও চলছে অবশিষ্ট তেল তুলতে নারী-পুরুষের অবিরাম চেষ্টা। তেলের ক্রয়মূল্য কেজিপ্রতি ১০ টাকা বাড়ানোতে আরও বেশিসংখ্যক লোক এখন তেল সংগ্রহে নেমেছেন। তেল সংগ্রহকারীর সংখ্যা বাড়িয়ে ২০০ থেকে ৫০০ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ। বনের গাছপালা, লতাপাতা ও মাটিতে লেগে থাকা তেল অপসারণ ও সংগ্রহের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে পানির পাম্প মেশিন। শ্যালা, পশুর নদীসহ আশপাশের খালগুলোর পানিতে খুব কম পরিমাণ তেল ভাসতে দেখা গেছে। তবে তেলের স্তূপ জমে আছে বনের গাছপালা, লতাপাতা ও মাটিতে। আর সেই তেল উত্তোলনে সকাল থেকে পাম্প মেশিন ব্যবহার করা হয়েছে। পাম্প মেশিন দিয়ে পানি ছিটিয়ে তা পুনরায় সংগ্রহ করা হয়েছে। নদী-খালের ভেতর ব্যস্ত সময় কাটছে তেল সংগ্রহকারীদের।
তেলবাহী ট্যাংকার ওটি সাউদার্ন স্টার-৭ ডুবিতে সারা সুন্দরবনে ছড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ লিটার তেল। তবে যে গতিতে তেল সংগ্রহ করা হচ্ছে তাতে আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে বাকি তেল সংগ্রহ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বন কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ। বনের বিভিন্ন এলাকায় তেল আহরণে নিয়োজিতরা বলছেন, নদীতে তেমন একটা তেল এখন আর নেই, এভাবে কাজ করলে আর বেশি সময় লাগবে না সব তেল তুলতে। তারা এখন ব্যস্ত বনের গাছ, লতাপাতা ও মাটিতে লেগে থাকা তেল সংগ্রহের কাজে। বনের গভীরের খালগুলোতে প্রবেশ করে দেখা গেছে, সেসব স্থানে তেমন একটা তেল নেই। খালের পাড়ে পাখির চলাচল, মাছ শিকার ও মাছের নড়াচড়া চোখে পড়েছে। যা গত কয়েকদিন ধরে দেখা যায়নি। মৃগামারী খালের পাড়ে দেখা গেছে, একটি কুমিরকে রোদ পোহাতে। দূর থেকে ট্রলারের শব্দ শোনামাত্র কুমিরটি ঝাঁপ দেয় খালের পানিতে।

বঙ্গবন্ধুকে এবার রাজাকার বললেন তারেক রহমান

এবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘রাজাকার, খুনি ও পাকবন্ধু’ বললেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিজয় দিবস উপলক্ষে সোমবার লন্ডনে বিএনপির এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। ইস্ট লন্ডনের অ্যাট্রিয়াম ব্যাংকোয়েট হলে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত ওই আলোচনা সভায় তিনি তার বাবা জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক ও প্রথম রাষ্ট্রপতি বলে দাবি করেন। তারেক বলেন, একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা আসার ঠিক আগে ইয়াহিয়া খানকে প্রেসিডেন্ট মেনে তার সঙ্গে সমঝোতা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুসের সভাপতিত্বে ও কয়েস আহমেদের পরিচালনায় সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মীর মো. নাছিরউদ্দিনও উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী-সমর্থক সভায় যোগ দেন। তাদের ব্যানারে তারেককে ‘দেশনায়ক’ বলা হয়। আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি ছিল না দাবি করে এর পক্ষে একে খন্দকার এবং বদরুদ্দীন উমরের লেখা উদ্ধৃত করে শোনান তারেক। তিনি বলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমান যদি ৭ মার্চ সেনাবাহিনীর বাঙালি অফিসারদের নিয়ে যুদ্ধ শুরু করতেন, তাহলে যে ‘সামান্য সংখ্যক’ পাকিস্তানি সৈন্য তখন ছিল, তাদের সহজেই পরাজিত করা যেত; প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতি ‘অনেক কমানো’ যেত। এসব কিছু জানার পর, এজন্য আমরা এককভাবে কাকে দায়ী করতে পারি? শেখ মুজিবকে। আমরা তথ্য-প্রমাণ দিয়ে বিচার বিশ্লেষণ করে তাকে বলেছি- রাজাকার। আমরা সত্য ঘটনাবলীর ভিত্তিতে বলেছি শেখ মুজিব রাজাকার, খুনি ও পাকবন্ধু ছিলেন।’
তারেক আরও বলেন, ‘আজকে যদি আমরা বলি- এই যে লাখ লাখ মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধে মারা গেল, হাজার হাজার মা-বোন সম্ভ্রম হারাল, এর জন্য এককভাবে কি শেখ মুজিবকে দায়ী করা যায় না? তাহলে এত মানুষের যে হত্যাকারী তাকে এক বাক্যে কী বলা উচিত? ’ উপস্থিত বিএনপি কর্মীরা এ সময় চিৎকার করে বলেন, ‘রাজাকার’।
তারেক আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দাবি করে তারা মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের দল, মুক্তিযুদ্ধের দল। এই দলকে শেখ মুজিব কি করল- ব্যান করে দিল। আরে তুমি তো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় রাজাকারের ভাই।... মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের দলকে তুমি ব্যান করে দিলে, তা তো মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে বড় বিপক্ষের কাজ হল। তাহলে শেখ মুজিবকে কী বলা যায়?’ বিএনপি কর্মীরা তারেকের উত্তর দেন ‘রাজাকার, খুনি’।
জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবি করে তিনি এর পক্ষে স্বাধীনতার পর সংবাদপত্রে প্রকাশিত জিয়ার একটি নিবন্ধ তুলে ধরেন। ‘একটি জাতির জন্ম’ শিরোনামের ওই লেখায় জিয়া বলেছিলেন- বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ তার জন্য ছিল ‘গ্রিন সিগন্যাল’।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আওয়ামী লীগ বিকৃত করছে দাবি করে তারেক বলেন, ‘গত ৪০ বছর ধরে আমরা একটি দলের মিথ্যা বারবার শুনে এসেছি। এ দখলদার রং হেডেড শেখ হাসিনা একটার পর একটা অপকর্ম করেই চলেছে। যখনই বিপদে পড়ে, তখনই জনগণকে ধোঁকা দিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দোহাই দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে।’
২১ আগস্টসহ বিভিন্ন মামলা মাথায় নিয়ে ছয় বছর ধরে লন্ডনে থাকা তারেক প্রবাসে বিএনপির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। লন্ডন থেকে মালয়েশিয়া গিয়ে একটি সভায়ও যোগ দেন তিনি। এর মধ্যে ৭ নভেম্বর তিনি এক অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুকে ‘পাকবন্ধু’ আখ্যায়িত করেন এবং তার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা করার দাবি তোলেন। আগস্টে এক সভায় বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে ‘বাংলাদেশের অভিশাপ’ এবং আওয়ামী লীগকে ‘কুলাঙ্গারের দল’ বলেন তারেক।

তিন খাতে ১০৭ কোটি ডলার পাচ্ছে বাংলাদেশ

দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংকের বোর্ড সভায় অনুমোদন পাচ্ছে তিন প্রস্তাব। এর ফলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও দারিদ্র্য বিমোচনে ১০৭ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা পাবে বাংলাদেশ। এ তালিকায় রয়েছে- প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন কর্মসূচি-৩ প্রকল্পে ৪০ কোটি ডলার; মাল্টিপারপাস ডিজাস্টার সেল্টারসে ৩৭ কোটি ডলার ও ইনকাম সাপোর্ট ফর দ্য পুওরেস্ট প্রোগ্রামের জন্য ৩০ কোটি ডলার। বোর্ড সভায় অনুমোদন হয়ে গেলে শিগগিরই ঋণ চুক্তি সম্পন্ন করা হবে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের জনসংযোগ কর্মকর্তা মেহরীন এ মাহবুব যুগান্তরকে বলেন, ওয়াশিংটনে আজ (বাংলাদেশ সময়) বিশ্বব্যাংকের বোর্ড সভায় বাংলাদেশকে সহায়তাকল্পে তিনটি প্রস্তাব অনুমোদন হতে পারে। তিনি বলেন, অনুমোদনের পর শিগগিরই বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঋণ চুক্তি সম্পাদন হবে।
চলতি অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ প্রতিশ্র“তি পাওয়ার আশা করছে ইআরডি। ইতিমধ্যে ১১৭ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি নিশ্চিত করেছে বিশ্বব্যাংক। বাকি সময়ে আরও ১৬৯ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ হিসাবে বছর শেষে ২৮৬ কোটি ডলারের সমপরিমাণ সহায়তা পাওয়া যাবে বলে মনে করছে ইআরডি। চলতি অর্থবছরে আরও কয়েকটি প্রস্তাব অনুমোদন হতে পারে। এর মধ্যে বাংলাদেশ আরবান রেজিলেন্স প্রজেক্ট, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন ও নতুন জীবন লাইভলিহুড ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট অন্যতম।
এ প্রসঙ্গে ইআরডির অতিরিক্ত সচিব কাজী শফিকুল আযম যুগান্তরকে বলেন, চলতি অর্থবছরে প্রতিশ্র“তির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কাজ করছে ইআরডি। জানুয়ারির মধ্যেই বেশ কয়েকটি বড় চুক্তি সম্পন্ন হবে। এ জন্য প্রাথমিক প্রক্রিয়া সবই সম্পন্ন হয়েছে।
ইআরডি সূত্র জানায়, উন্নয়ন সহযোগী বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে সবচেয়ে সহজ শর্তে ঋণ পাওয়া যায়। অন্য কোনো দাতা সংস্থা বাংলাদেশকে এত সহজ শর্তে আর্থিক সহযোগিতা দেয় না। উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংকের ঋণের সার্ভিস চার্জ দশমিক ৭৫ শতাংশ। ৬ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩৮ বছরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটিতে ঋণ পরিশোধ করতে হয়।
জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের তালিকায় থাকা প্রকল্পের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ যাচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে। প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে ৪০ কোটি ডলার (বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা) দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি-৩ (পিইডিপি-৩) বাস্তবায়নে এ অর্থ ব্যয় করা হবে।
কন্ডিশনাল ক্যাশ ট্রান্সফার বা দরিদ্র শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে ৩০ কোটি ডলার সহায়তা দিচ্ছে সংস্থাটি। আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা ২৪টি উপজেলায় শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিতকরণে এ অর্থ ব্যয় করা হবে। এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, কিছুদিন আগে প্রণীত দারিদ্র্য মানচিত্র অনুসারে এসব অঞ্চলের পুষ্টিহীন শিশুদের জন্য দীর্ঘ মেয়াদে এ অর্থ ব্যয় করা হবে। প্রকল্প এলাকা হিসেবে ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর অঞ্চলের ২৪টি উপজেলা বেছে নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া দারিদ্র্য বিমোচন ও জলবায়ু সক্ষমতা অর্জনেও বিভিন্ন প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক সহায়তা দিচ্ছে।
এ ছাড়া মাল্টিপারপাস ডিজাস্টার সেল্টার ও অ্যাডাপটেশন প্রকল্পে ৩৭ কোটি ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক। এর মাধ্যমে দুর্যোগপ্রবণ উপকূলীয় অঞ্চলে জানমাল রক্ষায় সাইক্লোন সেন্টার তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনে সক্ষমতা অর্জনেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতেও এ অর্থ ব্যয় করা হবে।
গত অর্থবছরে (২০১৩-১৪) বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বিপরীতে ৯৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার ছাড় করেছে বিশ্বব্যাংক। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) সংস্থাটি ৮ কোটি ৪৫ লাখ ডলার ছাড় করেছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি।

স্কুলে হামলা: সর্বদলীয় বৈঠক আহ্বান নওয়াজের

পাকিস্তানের পেশোয়ারে দেশটির সেনাবাহিনী পরিচালিত একটি স্কুলে তালেবানের বর্বরোচিত হামলায় শতাধিক স্কুলছাত্রসহ ১৪৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দেশটি শোকস্তব্ধ। এ ঘটনার পরপরই ঘোষণা করা হয় ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক। এদিকে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ আজ পাকিস্তান পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্বকারী সব দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে একটি জরুরি বৈঠকে বসবেন। তিনি এ সঙ্কটকে ‘জাতীয় সঙ্কট’ বলে অভিহিত করেছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জি নিউজ। এদিকে এ ঘটনায় ১১৮ শিক্ষার্থীসহ কমপক্ষে ১৩০ জন আহত হয়েছে। তাদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ৯৬০ জনকে, যার অধিকাংশই স্কুল শিক্ষার্থী। তালেবানের ৭ সদস্য সেনা পোশাকে ঢুকে স্কুলটিতে বিভীষিকাময় এ হামলা পরিচালনা করে। হামলার সময় স্কুলটিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সহকারীসহ ১,০০০ জনের বেশি মানুষ ছিলেন। বিশ্ব নেতৃবৃন্দ নৃশংস এ হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে।

পাকিস্তানের স্কুলে জঙ্গি হামলায় নিহত ১৪১

পাকিস্তানের পেশোয়ারে সামরিক বাহিনী পরিচালিত একটি স্কুলে হামলা করেছে জঙ্গিরা। মঙ্গলবার সকালে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা ওয়ারসাক রোডের ওই স্কুলে হামলা চালায়। এতে অন্তত ১৪১জন নিহত হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম খবর দিয়েছে। এর মধ্যে ৮৪জন শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় আহত হয়েছে অর্ধশতাধিক। সামরিক বাহিনী পরিচালিত এ স্কুলে ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী-শিক্ষক আটকা পড়েছেন। হামলার পর স্কুলে চারপাশ বন্ধ করে দিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। এক বিবৃতিতে তালেবান হামলার দায় স্বীকার করেছে। সেনা বাহিনীর অভিযানের জবাবে তারা এই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে এই জঙ্গি সংগঠন। ডন এর খবরে বলা হয় ৫-৬জন বন্দুকধারী সেনা বাহিনীর পোশাক পরে স্কুলে প্রবেশ করে গুলি চালায়। এদিকে তালেবানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান তদারকি করার জন্য দেশটির প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ পেশোয়ারের উদ্দেশ্য রওয়ানা হয়েছেন।

এইচএসসিতেও এবার নেয়া হচ্ছে বাড়তি ফি by নুর মোহাম্মদ

হাইকোর্ট ও বোর্ডের সতর্কতা না মেনে আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে পাঁচ থেকে আট গুণ বেশি টাকা আদায় করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত ফি আদায় না করতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের হুঁশিয়ারির পরও এ টাকা আদায় করছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। বোর্ডের নির্ধারিত সর্বোচ্চ ১৪০০ টাকা ফি’র পরিবর্তে অভিভাবকদের গুনতে হচ্ছে কলেজভেদে পাঁচ থেকে ১১ হাজার টাকা পর্যন্ত। ফরম পূরণের সঙ্গে কোচিং ফি, মডেল টেস্ট ফি, বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী, বার্ষিক চার্জ, পরিবহন, পরীক্ষা পর্যন্ত বেতন, পিকনিক ইত্যাদি নানা খাত দেখিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ এ মোটা অংকের টাকা আদায় করছে। প্রায় সব কলেজেই আগামী তিন মাসের জন্য সব শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বাধ্যতামূলক কোচিং ও মডেল টেস্ট ফি নিচ্ছে। স্কুলভেদে এই ফি দেড় থেকে সাড়ে চার হাজার টাকার মতো। রাজধানীর বনানী বিদ্যা নিকেতন স্কুলের একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীর এক অভিভাবক অভিযোগ করেন, গতকাল টেস্ট পরীক্ষা ফল প্রকাশ করা হয়েছে। কলেজের অফিস থেকে জানানো হয়েছে এবার ফরম পূরণে জন্য ৮৫০০ টাকা দিতে হবে। কোন ধরনের খাত ছাড়াই এ টাকা দিতে হচ্ছে। তিনি জানান, এ টাকার কোন ভাউচার আমাদের দেয়া হয় না। কোন খাতে কিভাবে টাকা নেয়া হয়েছে তা-ও পরিষ্কার নয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ এম এ কালাম বলেন, গতকাল টেস্ট পরীক্ষা ফল প্রকাশ হয়েছে। গভর্নিং বডির সঙ্গে বসে টাকা নির্ধারণ করা হবে। অফিস থেকে যে টাকার কথা বলা হয়েছে তা-ই হবে। একটু কম-বেশি হতে পারে। এ টাকার খাতের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, পরীক্ষা না হওয়া পর্যন্ত এক শিক্ষার্থীর বেতন, কোচিং ফিসহ অন্যান্য ভাতা নিতে হয়। অনেক সময় বোর্ডের নির্ধারিত টাকার মধ্যে আমাদের থাকা সম্ভব হয় না। এছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরম পূরণের সঙ্গে ৬ মাসের বেতন, সেশন,  কোচিং ও মডেল টেস্ট ফি ইত্যাদি মিলিয়ে মণিপুর হাইস্কুলে ৯৫০০ টাকা, ভিকারুন নিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৫৫০০ টাকা, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৫০০০, রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে ৬৫০০, মতিঝিল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৬৫০০, নেয়ার নোটিস দিয়েছে। গত ১০ই নভেম্বর এসএসসি ফরম পুরণে অতিরিক্ত টাকা আদায় করায় হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত রুল জারি করেন। এরপর বোর্ড তিন সদস্যের কমিটি ২৬টি প্রতিষ্ঠানকে আদায়কৃত টাকা ফেরত দেয়া নির্দেশ দেয়। এরপরও ২১টি প্রতিষ্ঠান টাকা ফেরত না দেয়ায় তাদের শোকজ করা হয়েছে। যে প্রতিষ্ঠানগুলোকে শোকজ করা হয়েছে তারা এবার এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণেও বাড়তি ফি আদায় করছে।
রাজধানী যাত্রাবাড়ীর দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে বোর্ডের নির্ধারিত ফি’র চেয়ে সাত গুণ বেশি অর্থ আদায় হচ্ছে। কলেজে এক অভিভাবক জানান, ফরম পূরণের জন্য নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ৭০৭৫ টাকা অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য ৭১৭৫ টাকা প্রদানের বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রতিষ্ঠান। এছাড়াও টাকা আদায়ের রশিদ অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত আরও ২০০ টাকা। অভিভাবকদের অভিযোগ, কারও কারও কাছ থেকে ১৩ হাজার টাকাও আদায় করছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। জরিমানা আদায় করতে বিভিন্ন বিষয়ে অকৃতকার্য করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ মু. সাহাদত হুসাইন বলেন, বোর্ড তো আমাদের উন্নয়ন ফিসহ অন্যান্য খাত উল্লেখ করেনি। তিনি বলেন, কোচিংয়ে টাকা আর কলেজের উন্নয়নের টাকা তো সরকার দেয় না। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিয়েই কলেজের উন্নয়ন করতে হয়।
এ বিষয়ে বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. শ্রীকান্ত কুমার চন্দ জানান, এবার এইচএসসি পরীক্ষায় কোন প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত টাকার চেয়ে বেশি আদায় করলে তাদের ব্যাপারে কঠোর হবো। ইতিমধ্যে বোর্ডের ওয়েবসাইটে একটি সতর্কতা নোটিস দেয়া হয়েছে। এরপর যদি কেউ অমান্য করে তবে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বোর্ডের ওয়েবসাইটে একটি হুঁশিয়ারি সংবলিত সতর্ক বার্তা জারি করেছেন। সেখানে বলা হয়, বোর্ডের নির্ধারিত টাকার চেয়ে বেশি টাকার আদায় করলে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বোর্ডের তথ্য মতে, এইচএসসিতে এবার বিভিন্ন খাত মিলিয়ে পরীক্ষা ফি হিসেবে সর্বোচ্চ দেড় হাজার টাকা ফি আদায় করা যাবে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতি পত্রের জন্য ৭৫ টাকা হারে ১২ পেপারের জন্য ৯০০ টাকা, কেন্দ্র ফি ৩০০, ব্যবহারিক ফি প্রতি পত্রের জন্য ২৫ টাকা, ট্রান্সক্রিপ্ট ফি ৫০, সনদ ফি ১০০, রোভারস্কাউট বা গার্লস গাইড ১৫ এবং শিক্ষা সপ্তাহ ফি ৫ টাকা। এর বাইরে ডিপ্লোমা ইন বিজনেস স্টাডিজ ও অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা যথাক্রমে ৩০০ ও ১০০ টাকা করে শিক্ষার্থীপ্রতি নেয়া যাবে। এছাড়াও ফরম পূরণকালে কেবল দুটি খাতে ফি আদায়ের ব্যাপারে বোর্ড নির্দেশনা দিয়েছেন। এই দুটি খাত হচ্ছে- বোর্ড নির্দেশিত ফি এবং ২০১২ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত কোচিং ফি। এর অতিরিক্ত ফি ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে আদায় হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলছে বোর্ড।
আগামী ১লা এপ্রিল এ পরীক্ষা শুরুর কথা। সারা দেশে ফরম পূরণ ১৫ই ডিসেম্বর শুরু হয়ে শেষ হবে ২৪শে ডিসেম্বর। তবে বিলম্ব ফিসহ ৫ই জানুয়ারি পর্যন্ত ফরম পূরণ করা যাবে। এদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য কোচিং করানোর ব্যবস্থা রেখেছে সরকার। ২০১২ সালের ২০শে জুন এ ব্যাপারে জারিকৃত পরিপত্রে প্রতি বিষয়ের জন্য সর্বোচ্চ ১৮০ টাকা করে নেয়ার বিধান রয়েছে। এ ব্যাপারে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন বলেন, ফরম পূরণের টাকা আদায়েল ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে বোর্ডগুলোই ভূমিকা রাখতে পারে। মাউশি কেবল এমপিও বন্ধ করতে পারে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের। কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠান এমপিও নেয় না। সে ক্ষেত্রে বোর্ডগুলোই বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এ বিষয়ে অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু বলেন, শুধু এইচএসসি নয়, সব পাবলিক পরীক্ষায় নানা খাতের অজুহাতে স্কুল কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। এদের বিরুদ্ধে অভিভাবকরা অভিযোগ করলেও বোর্ড, মাউশি ও মন্ত্রণালয় থেকে কোন ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয় না।

মায়ের লাশের অপেক্ষায় রুনা by রোকনুজ্জামান পিয়াস

মায়ের লাশের অপেক্ষায় এখন দিন কাটে কলেজপড়ুয়া রুনার। জন্মের পর বাবাকে দেখেননি। মা-ই তাকে বাবা-মায়ের স্নেহ দিয়ে বড় করেছেন। ১৫ বছর আগে স্বামী নিরুদ্দেশ হওয়ার পর মা কুলসুম আক্তার একমাত্র মেয়েকে অবলম্বন করেই বেঁচে ছিলেন। সুপাত্র ভেবে বিয়ে দিয়েছিলেন প্রবাসী ছেলের সঙ্গে। মেয়ের ভাগোন্নয়নে বেয়াইয়ের মাধ্যমে নিজেও পাড়ি জমিয়েছিলেন সুদূর মালয়েশিয়ায়। কিন্তু মেয়ের ভাগ্যোন্নয়ন তিনি করতে পারেননি। বরং একমাত্র মেয়েকে এতিম করে পাড়ি জমিয়েছেন পরপারে। হতভাগী সেই মায়ের ঠিকানা এখন মালয়েশিয়ার একটি হাসপাতালের মর্গে। লাশ হয়ে গত দেড় মাস সেখানেই পড়ে আছেন তিনি। এদিকে, এতিম রুনা অপেক্ষায় আছেন অন্তত শেষবারের মতো মাকে দেখার। রুনা বলেন, আমি মাকে দেখতে চাই, কিন্তু কিভাবে আসবে মা? তার শ্বশুর এক লাখ টাকা চেয়েছেন লাশ ফেরত পাঠানোর জন্য। কিন্তু আমরা তো এখন নিঃস্ব, ওই টাকা কিভাবে যোগাড় করবো?
সূত্র জানায়, পারিবারিক পরিচয়ের সূত্র ধরে ২০১২ সালের ১৪ই সেপ্টেম্বর কুলসুমের মেয়ে নবম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত অবস্থায় শারমিন আক্তার রুনার বিয়ে হয় মালয়েশিয়া প্রবাসী মামুনের সঙ্গে। মামুনের পিতা মুন্সীগঞ্জের আবুল হোসেন ব্যাপারীও মালয়েশিয়া প্রবাসী। তার মাধ্যমেই গত ২৩শে মে কুলসুম আক্তার আড়াই লাখ টাকা চুক্তিতে টুরিস্ট ভিসায় মালয়েশিয়া যান। পরিবারের কাউকে না জানিয়ে বেয়াইয়ের হাতে তুলে দেন নগদ ২ লাখ টাকা। কুলসুমের ভাই রিপন জানান, পরে বেশ কিছুদিন নিখোঁজ থাকার পর মালয়েশিয়া থেকে বাড়িতে ফোন করেন তিনি। ওই সময় কুলসুম জানিয়েছিলেন, মালয়েশিয়া পৌঁছানোর পর এয়ারপোর্ট থেকে তাকে তার বেয়াই আবুল হোসেন গ্রহণ করে একটি হোটেলে রেখে আসেন। তারপর উধাও হয়ে যান। এরপর আবুল হোসেনের নাম্বারে যোগাযোগ করলে মোবাইলটি বন্ধ পান কুলসুম। ৩ দিন পর ওই নম্বরে যোগাযোগ হলে আবুল হোসেন বলে তার মোবাইলটি পানিতে পড়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। পরে বলে- তার এক বন্ধু তার জন্য কাজ ঠিক করেছে । পরদিন বেয়াইয়ের বন্ধু লোকটি তাকে একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে সব কিছুই ছিল তার অজানা-অচেনা। ওইখানে রেখে, লোকটিও উধাও হয়ে যায়। ওই সময়ই কুলসুম বাড়িতে ফোন করে তার দুর্দশার কথা জানান। তিনি কান্নাকাটি করে বলেন, তাকে ৫/৬ দিন সেখানে আটকে রাখা হয়েছে। গোসল করতে পারছেন না। দেয়া হচ্ছে না কোন খাবার। কুলসুম আরও জানান, তাকে ৩ মাসের ভিসা দেয়ার কথা বলে দিয়েছে ১ মাসের। এরপর আর তার সঙ্গে কথা হয়নি। এদিকে আবুল হোসেনও তার পরিবারের কাছে বাকি টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে। সে আত্মীয়তার দোহাই দিয়ে বলে টাকা না দিলে তার মান সম্মান থাকছে না। পরে রিপন নিজে গিয়ে ওই টাকা ম্যানেজ করে বায়তুল মোকাররম এলাকার একটি কার্পেটের দোকানে দিয়ে আসেন। রিপন জানান, টাকা দেয়ার পর ডকুমেন্ট চাইলে দোকানের মালিক পরিচয় দেয়া লোকটি টাকা ছুড়ে ফেলে। ওই সময় মালয়েশিয়া থেকে আবুল হোসেন ফোন করে ডকুমেন্ট লাগবে না বলে জানিয়ে দেয়। বেয়াইয়ের কথামতো সরল বিশ্বাসে তিনি ডকুমেন্ট না নিয়েই ফিরে আসেন। এভাবে এক মাস কেটে যায়। পালিয়ে বেড়াতো। আবুল হোসেন তার খবর জানে না বলে জানিয়ে দেয় পরিবারকে। গত কোরবানির ঈদের দিন আবারও ফোন করেন কুলসুম। তিনি তখন জেলখানায় আটক। বলেন, এখানে সেখানে পালিয়ে বেড়ানোর এক পর্যায়ে মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যাওয়ার পথে কুয়ালালামপুরের একটি মার্কেটের সামনে থেকে অবৈধ বসবাসের দায়ে কুলসুমসহ আরও ৭ নারীকে গ্রেপ্তার করে সে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর মধ্যে কুলসুম ছাড়াও মনোয়ারা নামে আরও এক বাংলাদেশী নারী ছিলেন। তাদের সঙ্গে ছিল ভারতীয় এক নারীও। কুলসুম জানায়, তাকে ৭ দিনের জেল দেয়া হলেও এক মাসেও তিনি মুক্তি পাননি। শঙ্কিত হয়ে তিনি বলেন, তার শারীরিক অবস্থা ভাল না। পা ফুলে গেছে। চিকিৎসা চাইলেও হাজতখানায় তার চিকিৎসা দেয়া হয়নি। এদিকে গত ৩রা ডিসেম্বর দেশে ফিরে এসেছেন একই সঙ্গে হাজত বাস করা ঢাকার কমলাপুর এলাকার মনোয়ারা। তিনি ৬ই ডিসেম্বর খুঁজে বের করেছেন কুলসুমের স্বজনদের। বলেছেন, কুলসুম এখন লাশ হয়ে পড়ে আছে সেখানকার একটি হাসপাতালের মর্গে। লাশের ব্যাপারে মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সিলর  (লেবার উইং) সাইয়েদুল ইসলাম ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পোর্টমর্টেম রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানা যাবে। পরে রিপোর্ট অনুযায়ী এব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

হ্যাপির অভিযোগ- ‘অন্যায় করলে শাস্তি পেতে হবে রুবেলকে’

জাতীয় দলের ক্রিকেটার রুবেলে হোসেনের বিরুদ্ধে অভিনেত্রী নাজনীন আক্তার হ্যাপীর অভিযোগের বিষয়ে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান বলেছেন, রুবেল অপরাধ করলে তাকে শাস্তি পেতেই হবে। এজন্য একটু অপেক্ষা করতে হবে। এ বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি কোন বিশৃঙ্খলা পছন্দ করি না। এটা হলো প্রথম কথা। যা হয়েছে তাতে আমাদের বক্তব্য হলো এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। সে যদি অন্যায় করে থাকে তার শাস্তি হবে। বোর্ড থেকে ছাড় পাওয়ার কোন সুযোগ নেই। বাংলাদেশের যে আইন আছে সেটা তার নিজস্ব গতিতে চলবে। যা শাস্তি হবে সেটাই তাকে পেতে হবে। তবে সে যদি নির্দোষ হয় সে পুরো সহযোগিতা পাবে আমাদের কাছ থেকে। কিন্তু কোন দোষী ব্যক্তি আমাদের কাছ থেকে কোন সাহায্য পাবে না।’
গতকাল শহীদ জুয়েল ও মুশতাক স্মরণে প্রীতি ম্যাচে উপস্থিত হয়ে নাজমুল হাসান বলেন, এই উচ্ছৃঙ্খলতা চরম। আমি ভেবেছিলাম দল থেকে এ সব চলে গেছে, কিন্তু আমার এখনও মনে হচ্ছে কিছু কিছু রয়ে গেছে। এদিকে রুবেল হোসেন বিশ্বকাপ দলে রয়েছেন। শেষ পর্যন্ত তার মূল দলে জায়গা হবে কিনা তা নিয়ে রয়েছে যথেষ্ট সংশয়। রুবেলের  মূল দলে সুযোগ পাওয়া নিয়ে তিনি বলেন, এটা এখন বলা কঠিন। এটা আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যে বলা যাবে ঘটনা কোথায় যাচ্ছে। তার ওপর নির্ভর করবে স্কোয়াডে থাকবে কি থাকবে না। অন্যদিকে গতকালের প্রীতি ম্যাচ নিয়ে তিনি বলেন, আজকে বিজয় দিবস আমি আগেই বলেছি এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের দিন। এবং এই দিনে শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর চেয়ে বড় কিছু আর  নেই। এই খেলার মাধ্যমে আমরা শহীদদের প্রতি কিছুটা  শ্রদ্ধা জানাতে চেষ্টা করেছি। এখানে আমাদের দু’জন শহীদও আছে। শহীদ জুয়েল ও শহীদ মুস্তাক। তাদের নামেই দু’টি দল করে খেলা হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা পুরনো খেলোয়াড় অনেকেরই আইডল যারা ছিল তাদের খেলা দেখতে পেরে ভাল লেগেছে।’ এছাড়াও মিরপুর ক্রিকেট মিউজিয়াম হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই একটা মিউজিয়াম থাকা উচিত এবং থাকলে ভাল হয়। শুধু মিউজিয়াম না আমাদের একটা বড় পরিকল্পনা আছে পুরো স্টেডিয়ামকে নিয়েই। এই এলাকায় ঢুকলেই যেন মানুষ মনে করে ক্রিকেটের কিছু একটা আছে। এই ধরনের একটা পরিকল্পনা আছে। এটা নিয়ে কাজ হচ্ছে।’

বিজয় দিবসে সমৃদ্ধ দেশ গড়ার শপথ

বিজয়ের ৪৩তম বার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধায় বীর শহীদদের স্মরণ করেছে জাতি। বিজয়ের দিনে দেশজুড়ে উচ্চারিত হয়েছে সমৃদ্ধ দেশ গড়ার শপথ। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিও উচ্চারিত হয়েছে মুখে মুখে। নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতি পালন করেছে মহান বিজয় দিবস। দিবসটি উপলক্ষে গতকাল ছিল সরকারি ছুটির দিন। ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া বিজয় দিবসের কর্মসূচি চলে দিনভর। সব বয়স ও শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশ নেন বিজয়ের আনন্দ উৎসবে। দিবসটি উপলক্ষে সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা জাতির বীর সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর সেখানে ঢল নামে লাখো মানুষের। মাথায় বাধা লাল সবুজের পতাকা। হাতে হাতে ফুল আর গায়ে জাতীয় পতাকার রঙে রঙিন পোশাকে সব বয়সী মানুষ দিনভর ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বীর শহীদদের। শ্রদ্ধা আর ভালবাসার শ্রদ্ধাঞ্জলিতে ছেয়ে যায় স্মৃতিসৌধের বেদি। এদিকে বিজয় দিবস উপলক্ষে সারা দেশে পালিত হয়েছে নানা কর্মসূচি। জাতীয় প্যারেডে হয়েছে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ। রাজধানীতে হয়েছে বিজয় র‌্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্টের সৌজন্যে আয়োজন করা হয় সংবর্ধনার।
স্টাফ রিপোর্টার, সাভার থেকে জানান, ভোর থেকেই সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামে। হাতে লাল-সবুজের পতাকা আর রঙ-বেরঙের ফুল, হৃদয়ে গভীর শ্রদ্ধা আর ভালবাসা নিয়ে লাখো মানুষ উপস্থিত হয়েছিল সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে। ভোরের সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ ও এর পরপরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্মৃতিসৌধে ফুল  দিয়ে মুক্তিসেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় তিন বাহিনীর একটি  চৌকস দল সালাম জানায়। তখন শহীদদের স্মরণে বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। পরে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে আবারও ফুল দেন প্রধানমন্ত্রী।
এরপর বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম রওশন এরশাদ, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া, তিন বাহিনীর প্রধান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে উপস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাগণ জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ,  বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশী কূটনীতিকবৃন্দ, মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ভারতীয় সেনাবাহিনীর আমন্ত্রিত সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর জাতীয় স্মৃতিসৌধ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। পরে লাল-সবুজের পতাকা আর ফুল হাতে জনতার ঢল নামে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে। সকাল সাড়ে ৯টায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে স্মৃতিসৌধের মূল বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এক মিনিট নীরবতা পালন করে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন খালেদা জিয়া। এ সময় তার সঙ্গে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সকালে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ একাত্তরে শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এরশাদ বলেন, তিনি ও তার দল যুদ্ধাপরাধের বিচারের পক্ষে। এদেশের মাটিতে যুদ্ধাপরাধের বিচার তারা চান। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ করার দায়িত্ব সরকার ও নির্বাচন কমিশনের। দেশের জনগণ যদি জামায়াতকে নিষিদ্ধ চায়, আমরাও সমর্থন দেবো।
পর্যায়ক্রমে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন, এলডিপি’র সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদসহ বিভিন্ন সেক্টর কমান্ডার ও দলীয় নেতাকর্মীরা বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় স্মৃতিসৌধে দর্শনার্থীদের ভিড়ও বাড়তে থাকে। এলডিপি’র সভাপতি অলি আহমেদ বলেন, ’৭১ এ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি। যুদ্ধের লক্ষ্য ছিল দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা, জনগণের সমস্যার সমাধান, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরও মানুষ এখন গৃহবন্দি।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আসম আবদুর রব বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখন জাতির দাবি, এটা নিয়ে বিতর্কের কোন অবকাশ নেই। ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা যে পতাকা পেলাম, স্বাধীনতা পেলাম তার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা থাকতে হবে। বিকল্প ধারার সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি. চৌধুরী বলেন, জনগণ একটি স্বাধীন দেশের মালিক। কিন্তু গত ৪৩ বছরেও তা অর্জন হয়নি। দেশে স্বৈরাচারী শাসন চলছে। আমরা স্বৈরাচার, গণতন্ত্র বিরোধী এবং রাজাকার মুক্ত বাংলাদেশ চাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভিসি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক শহীদদের বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বলেন, যে প্রত্যাশায় মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল তা এখনও পূরণ হয়নি।
এদিকে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে নাশকতার আশঙ্কায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। অতিরিক্ত র‌্যাব-পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। পুরো স্মৃতিসৌধে স্থাপন করা হয় সিসি ক্যামেরা। স্মৃতিসৌধের মূল ফটকসহ নবীনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তৈরি করা হয় সুউচ্চ পর্যবেক্ষণ টাওয়ার।
বিভিন্ন সংগঠনের শ্রদ্ধা নিবেদন: গতকাল বিজয় দিবস উপলক্ষে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরে বাংলানগর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য-শিক্ষার্থী, সরকারি কর্ম কমিশন, পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের কর্মকর্তাগণ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দল, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেডিসি) সোনালী ব্যাংক, সচেতন নাগরিক কমিটি, বিআইডব্লিউটিসি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন, আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তর, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র, বাংলাদেশ পশুসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিএলআরআই), বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি), বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা চিকিৎসক পরিষদ, বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট, শেখ হাসিনা জাতীয় যুব কেন্দ্র, আশুলিয়া প্রেস ক্লাব, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা একাডেমী, নজরুল ইনস্টিটিউট, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন, জাতীয় সমাজ তান্ত্রিক দল (জাসদ), আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ), কর্মজীবী নারী, বাংলাদেশ গার্মেন্ট অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন, প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিট, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর), ঢাবি কর্মচারী সমিতি, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, টেকনিক্যাল এমপ্লয়িজ এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল, গণফোরাম, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, বিমান শ্রমিক লীগ, খেলাঘর আসর, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
লাখো কণ্ঠে জাতীয় সংগীত: এদিকে বিজয় দিবসে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিকালে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গায় লাখো মানুষ। পুরো উদ্যানজুড়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ এই জাতীয় সংগীতে অংশ নেন। এছাড়া সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে বিজয় র‌্যালি বের করে আওয়ামী লীগ- যা ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু ভবনে গিয়ে শেষ হয়। বঙ্গবন্ধু ও জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা: সকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়াস্থ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে পুষপস্তবক অর্পণ করেন আওয়ামী লীগের নেতারা। বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারেও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দলের নেতারা। সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু  ভবনের সামনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, এ সময় দলের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, বেগম মতিয়া চৌধুরী, আমির  হোসেন আমুসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সকালে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র করছে।
কিন্তু বাংলার মানুষ বিজয় দিবসে শপথ নিয়েছে, ঐক্যবদ্ধভাবে ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করবে। এদিকে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে  গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পক্ষে বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধের বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে পবিত্র ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এ সময় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম  বাহাউদ্দিন নাছিম, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.)  ফারুক খান, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, সদস্য আবদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এদিকে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। গতকাল বেলা ১১টা ১০ মিনিটে তিনি নেতা কর্মী পরিবেষ্টিত হয়ে জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসূফ, সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক আবদুল মান্নান, ব্যারিস্টার শাহ্‌জাহান ওমর, আমানউল্লাহ আমান, আন্তর্জাতিক সম্পাদক নাজিমউদ্দিন আলম, যুবদল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মহানগর বিএনপি’র সদস্য সচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল প্রমুখ। খালেদা জিয়া শ্রদ্ধা জানানোর পর বিএনপি’র অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, যুবদল, কৃষকদল, শ্রমিকদল, মহিলাদল, ওলামাদলের নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
বিজয় দিবসে রঙিন ঢাবি
রাত ১২টা ১ মিনিট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য ও টিএসসিতে হাজারো মানুষের ভিড়। আতশবাজি আর ফানুসে রঙিন আকাশ। কনসার্টে গানের তালে তালে নৃত্য। গানে গানে দেশের প্রতি ভালবাসা প্রকাশ। মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা নিয়ে চলছে আলোকচিত্র প্রদর্শনী। গালে, হাতে জাতীয় পতাকা একে আনন্দ উল্লাস। সব মিলিয়ে বিজয় উৎসবে এমনই রঙিন ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা। শিক্ষার্থীদের বাধনহারা আনন্দের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন ক্যাম্পাসের বাইরের হাজারও মানুষ। সোমবার রাতে সরজমিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে এসব চিত্র দেখা যায়। গতকাল রাত অবধি চলে এ উৎসব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ সৃষ্টির সূতিকাগার। আঁতুড়ঘর। ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই প্রথম পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিল। এরপর ’৫৬ সালে সংবিধান প্রণয়ন, ’৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬’র ছয় দফা, ৬৯’র গণঅভুত্থান, ৭০’র নির্বাচন সর্বশেষ ৭১’র সালের স্বাধীনযুদ্ধ সব স্থানেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই ছিল সামনের সারিতে। তাই আনন্দ উদযাপনেও পিছিয়ে ছিল না তারা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক সকল সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নিজস্ব কর্মসূচি পালন করেছে। ১৪ই ডিসেম্বর থেকে ‘রক্তে রাঙা বিজয় আমার-২০১৪’ শিরোনামে তিনদিনব্যাপী এসব অনুষ্ঠান উদযাপন করে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) কেন্দ্রিক সংগঠনগুলো।
অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল মুক্তিযুদ্ধের উপর চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, কনসার্ট, আতশবাজি, ফানুস উড্ডয়ন, মাইম শো, মুক্তিযুদ্ধের বায়োস্কোপ, সংবাদপত্রে মুক্তিযুদ্ধ, আতশবাজি, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, সাইকেল র?্যালি, অনলাইনে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ডিবেট। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আয়োজন করে আলোচনা সভার। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিজয় উৎসবে যোগ দিতে ক্যাম্পাসে জড়ো হয়েছিলেন রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে আগত হাজারো মানুষ। শিশু থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধরাও ছিলেন এসব ভিড়ে।
মনোমুগ্ধকর কুচকাওয়াজ: মহান বিজয় দিবস উদযাপনে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের পুরাতন বিমানবন্দরের জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে বীর  মুক্তিযোদ্ধা, সশস্ত্রবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে  কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এ কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সকাল সাড়ে ১০ টায় এ অনুষ্ঠান হয়। এ সময় মনোমুগ্ধকর কুচকাওয়াজ, কুচকাওয়াজের যান্ত্রিক বহর  ও বিমানবাহিনীর মনোজ্ঞ ফ্লাই পাস্ট ও এরোবেটিক ডিসপ্লে মুগ্ধ করে উপস্থিত সবাইকে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের ব্যবস্থাপনায় বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বীর মুক্তিযোদ্ধারা, সশস্ত্র বাহিনী, আধা সামরিক বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অংশগ্রহণ করে। কুচকাওয়াজে প্রথমবারের মতো ভবিষ্যৎ পদাতিক বাহিনীর সজ্জায় একটি বিশেষ কন্টিনজেন্ট অংশগ্রহণ করে। বিজয় দিবসের এ কুচকাওয়াজে ২০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১২০ ফুট প্রস্থের একটি জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করা  হয়। এবারের কুচকাওয়াজে সেনাবাহিনীতে নতুন সংযোজিত মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেম, অত্যাধুনিক এমবিটি-২০০০ ট্যাংক, সেলফ প্রোপেল্ড  গান, আর্মার্ড লাইট ভেহিক্যেল ও উইপন লোকেটিং রাডার এসএলসি-২,  নৌ-বাহিনীতে নতুন সংযোজিত ডিফেন্ডার ক্লাস বোর্ড এবং  বিমানবাহিনীতে নতুনভাবে সংযোজিত সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল  সিস্টেম প্রদর্শিত হয়।
বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্টের সংবর্ধনা: মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বঙ্গভবনে গতকাল এক নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করেন প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ ও তার সহধর্মিণী রাশিদা খানম। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অংশ নেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ উপলক্ষে কেক কাটেন। এ সময় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্যরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী আহত মুক্তিযোদ্ধা এবং  শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে তাদের খোঁজখবর নেন। বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্টের সংবর্ধনায় জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ,  প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, কূটনীতিক,  সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, নির্বাচন কমিশনার, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, সংসদ সদস্য, প্রবীণ রাজনীতিক, আইনজীবী, সাংবাদিকসহ সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রখ্যাত শিল্পী সুবীর নন্দী, শাকিলা জাফর,  মলয় কুমার গাঙ্গুলি, চন্দনা মজুমদার এবং শ্যামা রহমান দেশাত্মবোধক  গান পরিবেশন করেন।

পাকিস্তানে তালেবান বর্বরতা- শতাধিক স্কুলছাত্রসহ নিহত ১৪৫, তিন দিনের শোক

তালেবানের নৃশংস হামলায় রক্তাক্ত হয়েছে পাকিস্তানের একটি স্কুল। হামলাকারীরা শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের একের পর এক গুলি করে হত্যা করেছে। এ সময় শ্রেণীকক্ষ ভেসে যায় রক্তে। আহতদের আর্তনাদে সৃষ্টি হয় এক মর্মন্তুদ দৃশ্য। হামলায় নিহত হয়েছে কমপক্ষে ১৪৫ জন। এর মধ্যে কমপক্ষে ১০০ জন শিক্ষার্থী। তাদের বয়স ১৬ বছর বা তার কম। নিহত অন্যরা হলেন শিক্ষক। হামলাকারীদের কয়েকজনও নিহত হয়েছে। আহতদের অনেকের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন। ফলে নিহতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ঘটনায় সারাদেশে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ। গতকাল এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সন্ত্রাসীরা ওই স্কুলের শিক্ষক ও ছাত্রদের জিম্মি হিসেবে আটক রেখেছিল। তাদের উদ্ধারে চলছিল অভিযান। স্কুলের ভেতর থেকে সন্ধ্যার দিকে পাওয়া যায় কমপক্ষে ১৫টি বিস্ফোরণের শব্দ। ফলে ভেতরে যাদেরকে জিম্মি করা হয়েছে তাদের পরিণতি কি তা জানা যায় নি। এ অবস্থায় পেশোয়ারে ঘটনাস্থলের দিকে রওনা করেন সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল শরীফ। প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ এ হামলাকে ভয়াবহ এক ট্র্যাজেডি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এ ঘটনাকে নারকীয় বর্বরোচিত বলে আখ্যায়িত করেছেন পাকিস্তানের বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খান।
গতকাল স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে পেশোয়ারে সেনাবাহিনী পরিচালিত আর্মি পাবলিক স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ওই স্কুলের অডিটরিয়ামে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল সেনাবাহিনীর একটি দল। অকস্মাৎ তখন ওই স্কুলের দেয়াল টপকে ভিতরে ঢুকে পড়ে তালিবান  সন্ত্রাসীরা। তারা সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন কক্ষে ও অবস্থানে গিয়ে হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। স্কুল থেকে ৫০০ শিক্ষার্থীর বেশির ভাগকেই উদ্ধার করে সেনাবাহিনী। অনলাইন ডন ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন ও পাকিস্তানের পরাজয়ের দিকে ইঙ্গিত করে শিরোনাম করে- এনাদার ডিসেম্বর ১৬, এনাদার ব্ল্যাক ডে। তালিবান মুখপাত্র বলেছে, সেনাবাহিনী তাদের বিরুদ্ধে যে অভিযান পরিচালনা করেছে তার জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনাবাহিনী উত্তর ওয়াজিরিস্তান ও পার্শ্ববর্তী খাইবার এলাকায় তালেবানদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে।
ধারণা করা হয়, তাতে কয়েক শ’ তালিবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে। তারই বদলা নিতে তারা গতকাল ওই হামলা চালিয়েছে। মুদাসসির আওয়ান নামে ওই স্কুলের এক কর্মী বলেছেন, তিনি স্কুলের দেয়াল টপকে ৬ জন ব্যক্তিকে ভিতরে প্রবেশ করতে দেখেন। প্রথমে তিনি মনে করেছিলেন শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করছে। তাদের কেউ কেউ হয়তো খেলার অংশ হিসেবে দেয়াল টপকাচ্ছে। মুদাসসির আওয়ান বলেন, এরপরই দেখতে পাই তাদের সঙ্গে প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র। তারা  ভেতরে প্রবেশ করেই গোলাগুলি শুরু করে। এ সময় স্কুল থেকে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে আর্তনাদ। ঘটনার পর পরই সেখানে অভিযান চালায় আধা সামরিক বাহিনী। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় অন্য নিরাপত্তা সংস্থার লোকজন।
এতে আধা সামরিক বাহিনীরও কয়েকজন নিহত হয়েছেন। এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উচ্চস্বরে সাইরেন বাজাতে বাজাতে ছুটে যায় এম্বুলেন্স। আহতদের নিয়ে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালের উদ্দেশে ছুটে যায় তা। আকাশে টহল দিতে থাকে হেলিকপ্টার। এ সময় বন্ধ করে দেয়া হয় পেশোয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সব সড়ক। উল্লেখ্য, ওই স্কুলটি পেশোয়ার ক্যান্টনমেন্টের এক পাশে। এতে পড়াশোনা করে মূলত সেনাবাহিনীর সদস্যদের ছেলেমেয়েরা। গতকাল এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই স্কুলে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত ছিল। সেনাবাহিনী স্কুল ভবনটি ঘিরে রেখেছে। তেহরিকে তালিবান পাকিস্তান বলেছে, এ হামলা চালিয়েছে তাদের আত্মঘাতী বোমারুরা। তাদের মুখপাত্র মুহাম্মাদ খোরাসানি বলেছেন, হামলাকারীদের তারা যে নির্দেশ দিয়েছেন তাতে বলা হয়েছে, শিশুদের হত্যা করা যাবে না। শিশু নয় এমন শিক্ষার্থীদের হত্যা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা সেনাবাহিনীর ওই স্কুলকে বেছে নিয়েছি। এর কারণ, সরকার আমাদের পরিবার ও নারীদের টার্গেট করেছে। আমরা এই হামলা চালিয়ে তাদেরকে বোঝাতে চেষ্টা করেছি বেদনা কেমন হয়। ওদিকে লেডি রিডিং হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলছেন, আহতদের বেশির ভাগের অবস্থা সঙ্কটজনক। বেশির ভাগ শিক্ষার্থীকে গুলি করা হয়েছে মাথায়। দেখা দিয়েছে রক্তের সঙ্কট।
আহতদের বাঁচিয়ে রাখতে জরুরি ভিত্তিতে রক্তের প্রয়োজন। এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি টুইটারে বলেছেন, এমন নৃশংসতার বিষয়ে নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। এ হামলায় যারা নিহত হয়েছে তাদের বেশির ভাগই নিরপরাধ। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং এ হামলার কড়া নিন্দা জানিয়েছেন। ওদিকে আগামীকাল সারা দেশে যে প্রতিবাদ বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ চেয়ারম্যান ইমরান খান তা স্থগিত করেছেন তিনি।
মালালা, সত্যার্থীর হৃদয় ভেঙে গেছে
পেশোয়ারে স্কুলে তালেবানদের নারকীয় হামলায় হৃদয় ভেঙে গেছে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী পাকিস্তানি কিশোরী মালালা ইউসুফজাই ও ভারতের কৈলাস সত্যার্থীর। এ হামলাকে হৃদয়বিদারক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এক বিবৃতিতে মালালা বলেছেন, এই রকম বিবেকহীনের মতো ঘটনায় আমার হৃদয় ভেঙে গেছে। পেশোয়ারে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে ঠাণ্ডা মাথায়। কৈলাস সত্যার্থী বলেছেন, ওইসব সন্তান আমার। আমার জীবন নিয়ে হলেও ওদের ফেরত দাও।
বিভিন্ন মিডিয়ায় গতকাল তাদের বিবৃতি প্রকাশিত হয়। এতে মালালা বলেন, ওই স্কুলের নিরপরাধ শিশুদের জন্য এমন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর কোন কারণ নেই। এই নৃশংসতায় আমি নিন্দা জানাই। এটা কাপুরুষোচিত কাজ। আমি এই ভয়াবহ ঘটনায় পাকিস্তানের সরকার ও পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে একমত পোষণ করছি। নিহত শিশু, যারা আমার ভাইবোন তাদের মৃত্যুতে সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের সঙ্গে আমি শোকস্তব্ধ। তাই বলে আমরা পরাজিত হবো না। ওদিকে কৈলাস সত্যার্থী তার বিবৃতিতে বলেন, আমি তালেবানদের কাছে ভিক্ষা চাই। আমাকে নিয়ে এসব শিশুকে মুক্তি দাও। আমার জীবদ্দশায় দেখা এটাই সবচেয়ে শোকাহত ঘটনা। এই শিশুরা আমার সন্তান।