Friday, June 1, 2018

‘রাজপ্রাসাদ’ ছেড়ে পালিয়েছে ইয়াবা ‘বাবা’রা

টেকনাফে তালিকাভুক্ত এক মাদক ব্যবসায়ীর বাড়ির গেট
মরণ নেশা ইয়াবা বেচাকেনা করে কক্সবাজারের টেকনাফে রাজপ্রাসাদের মতো বাড়ি বানিয়েছে অনেকে। সারাদেশে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হলে এসব বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে তালিকাভুক্ত ‘বাবা’রা (ইয়াবা ব্যবসায়ীরা)।
সরেজমিন দেখা গেছে, ইয়াবার টাকায় টেকনাফের লেদা, নেঙ্গরবিল, পৌরসভার চৌধুরীপাড়া, দক্ষিণ জালিয়াপাড়া, মৌলভীপাড়া, নাজিরপাড়া, ডেইলপাড়া, শিলবনিয়াপাড়ায় রাজপ্রাসাদের মতো গড়ে উঠেছে সারি সারি বাড়ি। তবে এসব বাড়ি এখন খালি পড়ে আছে, পালিয়ে বেড়াচ্ছে বাড়ির মালিক মাদক ব্যবসায়ীরা। অভিযান এড়াতে বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে অন্যত্র বসবাস করছে তারা। মাদকের টাকায় বানানো এই রাজপ্রাসাদ পাহারা দিতে তারা বসিয়েছে সিসি ক্যামরা। আবার কেউবা বাড়িতে রেখে গেছে গরিব কোনও নিকটাত্মীয়কে।
টেকনাফের মৌলভীপাড়ায় রাস্তার পূর্বে পাশে বাড়ি বানিয়েছে ইয়াবা ব্যবসায়ী আবদুর রহমান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে মৌলভীপাড়ায় সবার শীর্ষে তার অবস্থান। এলাকায় সবাই তাকে ‘বাবা’ নামে চেনেন। সারাদেশে মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর পর থেকে আবদুর রহমান নিজের বাড়িতে থাকছে না। তার আরেক ভাই একরামুল হোসেনও তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। তারা দুজনই টেকনাফের মৌলভীপাড়ার হাজী ফজল আহমদের ছেলে।
পুলিশ ও সীমান্ত এলাকার লোকজন জানিয়েছেন, ইয়াবা ব্যবসা করে সাত বছরে কোটিপতি হয়েছে আবদুর রহমান। সে টেকনাফের মৌলভীপাড়ার অন্যতম শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী। গ্রামের ঠিক পেছনে নাফ নদী দিয়ে মিয়ানমার থেকে নৌকায় করে ইয়াবার চালান এনে খালাস করতো সে। তারপর সেই ইয়াবার চালান পৌঁছে দেওয়া হতো কক্সবাজার শহর, ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। ইয়াবা সরবরাহের জন্য তার রয়েছে বিশাল সিন্ডিকেট।
তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী আবদুর রহমানের বাড়ি
আর সাত বছর আগেও একরাম হোসেন ছিল বেকার যুবক।  সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা হওয়ার সুবাদে মিয়ানমারের মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তার গড়ে ওঠে সম্পর্ক। সেই সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে। ইয়াবা চোরাচালানের টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে একরাম হোসেনের একটি চক্র রয়েছে।
২০১১ সালের দিকে টেকনাফের একজন প্রভাবশালী ইয়াবা গডফাদারের নজরে পড়ে একরাম হোসেন। তারপর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। সাত বছরে ইয়াবার ব্যবসা করে বিপুল টাকার মালিক হয়েছে সে।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানায়, গত সাত বছরে একরাম হোসেন নামে-বেনামে শহরে দুটি ভবন, জমি, ইঞ্জিনচালিত নৌকা, ট্রাক, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কারসহ বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির মালিক হয়েছে। সূত্রের দাবি, মাদকবিরোধী অভিযান যে শুরু হবে, এ খবর আগে সে থেকেই পেয়ে যায় এবং তারপরই আত্মগোপনে চলে যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ৮ জুলাই (শুক্রবার) ভোরে টেকনাফ থানার পুলিশের হাতে আটক হয় আবদুর রহমান। এর আগে সে কক্সবাজার জেলা ডিবি পুলিশের হাতে আটক হয়ে পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়। পরে আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় ইয়াবা ব্যবসা শুরু করে। তার বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসা, হত্যা, হামলা, সরকারি কাজে বাধা, মারপিটসহ অসংখ্য মামলা রয়েছে।
তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী নুরুল হুদার বাড়ি
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির ভাই মুজিবুর রহমান, ফয়সাল ও শফিকের রাজপ্রাসাদের  মতো বাড়ি রয়েছে টেকনাফের জালিয়াপাড়ায়। বদির আরেক ভাই আবদুস শুক্কুর বাড়ি বানিয়েছেন টেকনাফের অলিয়াবাদে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৈরি মাদক ব্যবসায়ীদের নতুন ও পুরনো তালিকায় তাদের নাম রয়েছে।  এছাড়াও তালিকায় নাম রয়েছে—টেকনাফের নুরুল হুদা, মো. জোবাইয়ের, নুরুল বশর নুরশাদ, মো. সালমান, মো. হাসান আলী, বদির ফুফাট ভাই কামরান হাসান রাসেল, নূর মোহাম্মদসহ অনেকের। বদির বেয়াই আকতার কামাল ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহতের পর তারা সবাই অন্যত্র রাত কাটাচ্ছেন। ইয়াবা ব্যবসার কোটি কোটি টাকা দিয়ে বানানো তাদের বাড়িগুলো এখন শূন্য পড়ে আছে। ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ভয়ে তালিকাভুক্ত এই  ইয়াবার ‘বাবা’রা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে।
জানতে চাইলে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রনজিত কুমার বড়ুয়া বলেন, ‘মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান শুরু হওয়ায় তালিকাভুক্ত ইয়াবা গডফাদাররা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। ইয়াবার টাকায় যারা রাজপ্রাসাদের মতো বাড়ি বানিয়েছে, তাদের বাড়ি, গাড়ি ও ব্যাংক ব্যালেন্সের তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে। ’
তিনি আরও বলেন, ‘মাদক ব্যবসা করে অনেকে বাড়ি-গাড়ির মালিক হয়েছে। কৌশল পাল্টে এখন অন্যত্র অবস্থান করলেও তারা ছাড় পাবে  না। মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
টেকনাফ-২ বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্নেল আছাদুদ-জামান চৌধুরী বলেন, ‘মাদক ঠেকাতে বিজিবি কাজ করে যাচ্ছে। সীমান্ত পেরিয়ে যাতে  ইয়াবার গডফাদাররা পালাতে না পারে, সে বিষয়েও সতর্ক রয়েছে বিজিবি।’

রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিচার: বাংলাদেশের জবাবের অপেক্ষায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারে রাখাইনে সংঘটিত জাতিগত নিধনযজ্ঞের তদন্ত শুরুর অনুরোধ জানিয়ে এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) আবেদন জমা হয়েছে। গত বুধবার ৪০০ রোহিঙ্গা নারীর প্রক্ষে তাদের স্বাক্ষরিত আবেদনপত্রটি নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক আদালতে জমা দেন আইনজীবীরা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দিন দিন মিয়ানমার বেপরোয়া হয়ে উঠছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ন্যায়বিচার প্র্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আইসিসি-ই একমাত্র ভরসা। তবে আইসিসির অবস্থান নিয়েও সংশয়ী আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। একে আরও কার্যকর প্র্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চান তারা। এমন বাস্তবতায়, নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশেষ প্র্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের বিচার প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থান কী হয়, তা জানার অপেক্ষায় রয়েছে আইসিসি। সেখানে থাকা বাংলাদেশি আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ মিয়ানমারের বিচারের দাবি জোরালো করার চেষ্টা করছে বলেও জানানো হয়েছে ওই রিপোর্টে। গত বছরের আগস্টে রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলার পর রোহিঙ্গাদের ওপর গণহারে পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা চালায় বর্মীবাহিনী। খুন, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মুখে প্র্রাণে বাঁচতে প্র্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গ সীমান্ত পাড়ি দিতে বাধ্য হয়। তারা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। নিপীড়নের শিকার এসব নারীর বেশির ভাগই নিরক্ষর। আদালেতে তাদের আবেদনটির পাশাপাশি আঙুলের ছাপযুক্ত ২০ পৃষ্ঠার একটি বেগুনি রংয়ের নথিও সংযুক্তি হিসেবে দেয়া হয়েছে। একে আবেদনকারী ৪০০ রোহিঙ্গা নারীর স্বাক্ষরপত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আইনজীবীদের দাবি, মিয়ানমারকে বিচারের মুখোমুখি করা না গেলে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন চলতেই থাকবে। আইসিসিতে জমা দেয়া আবেদনপত্রে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কাছে অনুরোধ করা হয় যেন আদালত নৃশংসতার বিষয়ে দ্রুত তদন্ত শুরু করে। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিপীড়নকে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র জাতিগত নিধনযজ্ঞ আখ্যা দিলেও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালেতর এক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করার এখতিয়ার আছে কি-না? তা নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই আবেদনটি করা হলো। আবেদনে বলা হয়, ‘আমরা খুব অসহায় বোধ করছি। আমরা কষ্ট অনুভব করছি। পরিবারের সদস্যদের হারিয়ে ফেলার শূন্যতা আমরা নিতে পারছি না। আমরা জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কাছ থেকে ন্যায়বিচার আশা করছি।’ নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, এতদিন প্রর্যন্ত রোহিঙ্গা নিপীড়নের ঘটনায় অপরাধীদের দায়মুক্তি দিতে দেখা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকে অভিযোগ করেছেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সদস্যরা ইউনিফর্ম পরেই ধর্ষণ ও বেসামরিকদের হত্যা করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, জবাবদিহিতার ঘাটতি থাকার বিষয়টি ধাক্কা খাওয়ার মতো। তাদের দাবি, রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারে যে ধরনের নিপীড়ন সংঘটিত হয়েছে, একেবারেই সে ধরনের নৃশংসতার বিচার করতেই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সৃষ্টি। এর ম্যান্ডেট হলো মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ এবং গণহত্যার বিচার করা। প্রসিকিউটর এবং মানবাধিকারবিষয়ক আইনজীবীদরে মতে নিপীড়নের কারণে যেহেতু কয়েক লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের মাধ্যমে এ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হতে পারে। কারণ বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ। বাংলাদেশ অপরাধ সংঘটনের দায়ে সন্দেহভুক্ত নয়, কিন্তু এ দেশ রোহিঙ্গা নিধনের বিচারের পথ খুলে দিতে পারে। বুধবার শান্তি মহিলা বা পিস উইমেন নামের সংগঠনটির পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে আবেদন জানানো হয়। সংগঠনটির আইনজীবীরা বলেন, যতক্ষণ প্রর্যন্ত মিয়ানমার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে না বলবে এবং তাদেরকে ভয়াবহ পরিস্থিতিতে থাকতে বাধ্য করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত জাতিবিদ্বেষ, নিপীড়ন ও গণহত্যা চলতে থাকবে। আদালত যদি আবেদনে সাড়া দেয়, তবে আন্তর্জাতিক আইনের ক্ষেত্রে মৌলিক যাত্রার সূচনা হবে। রোহিঙ্গা নিপীড়ন প্রশ্নে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত মিয়ানমারের বিচার করতে পারে কিনা গত ৭ মে (সোমবার) সে ব্যাপারে বাংলাদেশের মতামত জানতে চেয়েছে রোমভিত্তিক আদালতটি। আইসিসির প্রি-ট্রায়াল চেম্বার এক চিঠিতে মিয়ানমারের বিচারের প্রশ্নে বাংলাদেশের মতামত জানতে চেয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা বিতাড়নে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে চেম্বার মনে করে বাংলাদেশের কাছ থেকে এ বিষয়ে মতামত চাওয়াটা সঠিক।’ চিঠিতে মূলত তিনটি বিষয়ে বাংলাদেশের মতামত চাওয়া হয়েছে। ১. মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার পর রোহিঙ্গাদের অবস্থা কী ২. রোহিঙ্গা বিতাড়ন বিষয়ে শুনানির জন্য আইসিসির কোনো অধিকার আছে কিনা এবং ৩. এ সংক্রান্ত অন্য যেকোনো প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করার ব্যাপারে বাংলাদেশের অবস্থান কী। আগামী ৮ই জুনের মধ্যে প্রকাশ্যে বা গোপনীয়ভাবে মতামত জানানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল সে সময় বলেছিলেন- আমরা আইসিসির চিঠি পেয়েছি এবং বিষয়টি বিবেচনা করছি। পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী গত সপ্তাহে বলেন- আমরা বিষয়টি দেখছি। নিউ ইয়র্ক টাইমস তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আইসিসি অপেক্ষায় আছে, এ বিচারের ইস্যুটি নিয়ে বাংলাদেশ সরকার কী বলে। ওই সংবাদমাধ্যম বলছে, আইসিসি যেন মিয়ানমারের বিচারের আবেদনের ব্যাপারে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়, তার সমর্থনে বাংলাদেশি স্কলারদের একটি দল তৎপরতা শুরু করেছে। কিন্তু বাংলাদেশ আইসিসিকে তার অবস্থান জানাবে কি-না? সে বিষয়ে এখনও দ্বিধা রয়েছে। তাছাড়া রোহিঙ্গা সংকটের দ্বিপক্ষীয় সমাধান না-কী মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়িয়ে পুঞ্জীভূত ওই সংকটের টেকসই সমাধান খোঁজা উচিত তা নিয়ে সরকারের দায়িত্বশীল প্র্রতিনিধিদের মধ্যে শুরু থেকেই ভিন্নমত রয়েছে।

ভারত থেকে আরো ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসছে by দীন ইসলাম

ভারত থেকে আরো ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ১০ই জুন পরীক্ষামূলকভাবে আমদানিকৃত এ বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। ওইভাবেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)। এর ফলে সব মিলিয়ে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির পরিমাণ দাঁড়াবে এক হাজার ১৬০ মেগাওয়াট। পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, সাবস্টেশনের ক্ষমতা বাড়ানোর পর নতুন করে এই বিদ্যুৎ আমদানি করছে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে ভেড়ামারা-বহরামপুর এইচভিডিসি সাবস্টেশনের ২য় ইউনিটের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এর মাধ্যমেই পাঁচশ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হবে। এর আগে ভারত থেকে আরো পাঁচশ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করতে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় স্থাপিত বিদ্যমান অবকাঠামো এইচভিডিসি’র সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ (ভেড়ামারা)- ভারত (বহরামপুর)-এর বিদ্যমান গ্রিডের আন্তঃসংযোগ বাড়ানোর প্রকল্প নেয়া হয়। জিওবি, এডিবি ও পিজিসিবি’র নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এই বিদ্যুৎ আমদানির জন্য এরই মধ্যে ভারতের কোম্পানি এনটিপিসি বিদ্যুৎ ভ্যাপার নিগাম লিমিটেড (এনভিভিএন) এবং পাওয়ার ট্রেডিং করপোরেশন (পিটিসি) ইন্ডিয়া লিমিটেডকে নির্বাচিত করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। গত ১১ই এপ্রিল সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি তাদের দর প্রস্তাব অনুমোদনও করেছে। পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে স্বল্প মেয়াদে ৩০০ ও ২০০ মেগাওয়াট করে ভারতের এই দুই কোম্পানির কাছ থেকে বিদ্যুৎ কেনা হচ্ছে। সরকার স্বল্প এবং দীর্ঘ দুই মেয়াদে ভারত থেকে বিদ্যুৎ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০১৮ সালের ১লা জুন থেকে ২০১৯ সালের ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত স্বল্প মেয়াদে এবং ২০২০ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে ২০৩৩ সালের ৩১শে মে পর্যন্ত মেয়াদকে দীর্ঘমেয়াদ হিসেবে নির্ধারণ করেছে। এনভিভিএন (ইন্ডিয়া) থেকে স্বল্প মেয়াদে প্রতি ইউনিট ৪ টাকা ৭১ পয়সা দামে প্রতিদিন ৩০০ মেগাওয়াট এবং পিটিসি ইন্ডিয়া থেকে প্রতি ইউনিট ৪ টাকা ৮৬ পয়সা দামে প্রতিদিন ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হবে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে এনভিভিএন প্রতি ইউনিট ৬ টাকা ৪৮ পয়সা মূল্যে ৩০০ মেগাওয়াট এবং পিটিসি থেকে প্রতি ইউনিট ৬ টাকা ৫৪ পয়সা মূল্যে ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হবে। বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ খাতে সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে সবার জন্য নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। বিদ্যুতের মহাপরিকল্পনা ২০১৬ অনুযায়ী, ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হবে। এজন্য সরকারি ও বেসরকারি খাত এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ১৭ হাজার ৭৫৩ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা বর্তমানে প্রায় তিন কোটি এবং প্রায় শতকরা ৯০ ভাগ জনগোষ্ঠী বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। এছাড়া প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে ২০৪০ সালের মধ্যে ভারত, নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমার থেকে কমপক্ষে ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা করা হয়েছে। বর্তমানে ভারত থেকে বাংলাদেশের ভেড়ামারা দিয়ে ৫০০ মেগাওয়াট এবং কুমিল্লা দিয়ে ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করে বাংলাদেশ। তাই নতুন করে আরো ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। পিডিবি’র পরিকল্পনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিয়ে নতুন এ বিদ্যুৎ আমদানি উদ্বোধন করার। পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, সহসাই প্রধানমন্ত্রীর সময় চেয়ে বিদ্যুৎ বিভাগে একটি প্রস্তাব পাঠাবেন তারা।

‘জিনের বাদশা’ সেজে নারীদের সর্বনাশ by রিপন আনসারী

ভণ্ডপীর তাহের আলী। মানুষজনের কাছে দীর্ঘদিন ধরে যিনি নিজেকে জিনের বাদশা হিসেবে জাহির করে আসছেন। আর তার ধোঁকাবাজির কবলে পড়ে নারীদের ইজ্জত, সম্মান, টাকা পয়সা, গরু-বাছুরসহ সব কিছুই  খোয়াচ্ছেন গ্রামের সহজ সরল নিরীহ মানুষজন। এমন এক ভণ্ডপীরের আবির্ভাব হয়েছে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ভাটবাউর এলাকায়।  তবে তার ভণ্ডামীর গুমর ফাঁস হয়ে যাওয়ায় গণধোলাই খেয়ে এখন শ্রীঘরই তার ঠিকানা। তার বাড়ি সদর উপজেলার ভাটবাউর গ্রামে।
সরজমিন সদর উপজেলার দিঘি ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা গেল ভণ্ডপীর তাহের আলী (৫৭)কে নিয়ে বসেছে গ্রাম আদালত। এই সালিশে ভুক্তভোগী বেশ কয়েকজন অভিযোগকারী নারীকে দেখা গেল। সকাল ১০টার দিকে চরতিল্লি গ্রামের লুৎফর রহমান ও তার স্ত্রী মিতু আক্তারসহ পরিবারের লোকজন হাজির হয়েছেন ভণ্ডপীরের কু-কীর্তি ফাঁস করে দিতে। পরিবারের অভিযোগ এই আদালতেও ভণ্ডপীরের কেরামতি। বিচার প্রার্থী হিসেবে সাক্ষী দিতে আসা ১৯ বছরের গৃহবধূ মিতু আক্তারের ওপর নাকি জিনের বাদশা তাহের পীর ভর করেছে। সুস্থ সবল ওই গৃহবধূ ইউনিয়ন পরিষদের বিচারিক আদালতের একটি চেয়ারে বসে ছিলেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ ভণ্ডপীর সেখানে উপস্থিত হন। তখন পীরের চোখ পড়ে ওই নারীর দিকে। তাকে দেখেই ওই নারী সেখানেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। নাক-মুখ দিয়ে রক্ত এবং ছটফট করতে থাকেন। সুস্থ মানুষ অস্বাভাবিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় গ্রামীণ আদালতে উপস্থিত সকলের ভেতর কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। এ খবর পেয়ে সেখানে হাজির হন প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ার সংবাদ কর্মীরা।
এরপর বেরিয়ে আসতে থাকে ভণ্ডপীর তাহের আলীর কু-কীর্তির নানা কথা।  তাহের আলীর প্রধান টার্গেট থাকে গ্রামে যাদের বিয়ের পর সন্তান হয় না এমন নারীদের প্রতি।
অভিযোগকারীর একজন হলেন লুৎফর রহমান। গ্রামের খেটে খাওয়া সহজ-সরল  যুবক। এই লুৎফরের এক সময় ওই ভণ্ডপীরের প্রতি ছিল গভীর বিশ্বাস। সে সুবাদে তার শিষ্য হয়েছেন। বছর আড়াই হলো লুৎফর রহমান বিয়ে করেন সুন্দরী মিতু আক্তারকে। বিয়ের পর সরল মনে স্ত্রীকে পরিচয় করিয়ে দেন ভণ্ড তাহের আলীর সঙ্গে। এতেই ওই গৃহবধূর দিকে শকুনের দৃষ্টি পড়ে ভণ্ড তাহেরের।  লুৎফর রহমান বলেন, আমি খুব বিশ্বাস করতাম তাহের আলী পীর সাহেবকে। আমার স্ত্রীর সন্তান হচ্ছিল না। তখন পীরের কাছে নিয়ে যাই। তখন পীর আমাকে জানিয়ে দিলো তোর স্ত্রী বন্ধ্যা। সে সন্তান লাভ করতে পারবে না। তোর স্ত্রীকে একা  আমার কাছে (পীরের) পাঠিয়ে দিবি। তারপর বিষয়টা দেখবো। পীরের কথায় সরল মনে স্ত্রীকে তার কাছে পাঠাই। সেখান থেকে এসে আমার স্ত্রী আমাকে বলে তোমার ওই পীর লোক ভালো না। স্ত্রীর কাছে বিষয়টি জানার চেষ্টা করেন স্বামী লুৎফর রহমান। তার স্ত্রীকে তাহের আলী পীর বলে দেয় তুই কখনোই মা হতে পারবি না। তুই বন্ধ্যা। তবে উপায় একটা আছে। তুই যদি আমার (পীর) সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলিশ তবেই তোর গর্ভে সন্তান আসবে। আর এ কথা যেনো কেউ না জানে। এ কাজটা জিন দ্বারা করতে হবে।
লুৎফর রহমান বলেন, আমার স্ত্রী যখন এসব কথা আমাকে বলে সেদিন থেকে ওই পীরের সঙ্গে আমি কথা বলা এবং তার বাড়িতে আসা-যাওয়া বন্ধ করে দেই। এতে সে আমার এবং আমার স্ত্রীর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। বিভিন্ন সময় কুফরী কালাম দিয়ে আমার স্ত্রীকে অসুস্থ করে তোলে। ওই পীরের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে আমি চেয়ারম্যানের আশ্রয় নেই। বিচার চাই তার কাছে। বিচারে সাক্ষী দিতে এসেও আমার স্ত্রীকে কুফরী করে জবান বন্ধ করে দেন এবং মুখ-নাক দিয়ে রক্ত বের হয়। পরে পুলিশের সহায়তায় স্ত্রীকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করি। মিতু আক্তারের মতো গ্রামে আরো বেশ কয়েকজন নারী ওই ভণ্ডপীরের লালসার শিকার হয়েছেন বলে জানা যায়।
আরেক  ভুক্তভোগী সাটুরিয়া উপজেলার তিল্লীর চর গ্রামের আবদুর রহিমের স্ত্রী হানিফা বেগম। তিনিও চেয়ারম্যানের আদালতে ভণ্ডপীর তাহের আলীর বিচারপ্রার্থী। তার বিষয়টা থানা পুলিশ সংক্রান্ত। হানিফা বলেন, তার স্বামী রহিমের বিরুদ্ধে একটি মামলা হওয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে রহিমের জামিন করানোর কথা বলে ৩৮ হাজার টাকা নেন পীর তাহের আলী। কিন্তু তার স্বামীর জামিন না করিয়ে দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করেন।
ভুক্তভোগী আনোয়ারা বেগম বলেন, ভণ্ডপীর আবু তাহের কুফরি কালাম জানেন, ভয়ভীতি দেখিয়ে সহজ সরল মানুষকে ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নেন। কলেজে  ভর্তি ও চাকরির কথা  বলে মানুষজনের কাছ থেকে টাকা পয়সা নেন। এছাড়া নারীলোভী ওই পীর অনেক নারীর সর্বনাশ করেছে।  আমার একটি গরু ও বাছুরকে কুফরি কালাম দিয়ে হত্যা করেছে। দিঘি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিন মোল্লা বলেন, ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে দিঘি ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম্য আদালতে  ভণ্ডপীরের বিরুদ্ধে বিচারের আয়োজন করা হয়। এতে প্রমাণিত হয় তাহের আলী একজন ভণ্ডপীর। গ্রামের সুন্দরী নারীদের প্রতি তার ছিল লোভ লালসা। এলাকার অনেক নারী তার লালসার শিকার হয়েছে। শুধু তাই নয়, চাকরি, জেল থেকে জামিন, কলেজে ভর্তি, রোগ সারিয়ে দেয়া সহ নানা ভাবে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা পয়সা ও নারীদের ইজ্জত লুটে নিতো। এসব অভিযোগ ফৌজদারি হওয়ায় গ্রাম্য আদালতে বিচারবহির্ভূত। উত্তেজিত এলাকার লোকজন একপর্যায়ে তাই ওই ভণ্ডপীর তাহেরকে গণপিটুনি দেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাকে আটক করেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুজ্জামান বলেন, ঘটনা জানার পর ভণ্ডপীর তাহের আলীকে আটক করে থানায় আনা হয়। এরপর  লুৎফর রহমান নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে  ওই ভণ্ডপীরের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। সে এখন জেল হাজতে রয়েছে।

চালু হচ্ছে সোলার চার্জিং স্টেশন by আক্তার আহমদ শাহেদ

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সিলেট বিভাগের মধ্যে বিশ্বনাথ উপজেলায় প্রথমবারের মতো চালু হচ্ছে সোলার অটো চার্জিং স্টেশন। এতে গ্রীষ্ম মৌসুমে চাপ কমবে গ্রিডের বিদ্যুতের উপর। কমবে লোডশেডিংও। এই সোলার চার্জিং স্টেশন থেকে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও অটোরিকশা চার্জ দেয়া যাবে সহজেই।  পল্লীবিদ্যুৎ সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের দিক চিন্তা করে সিলেট পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১ সোলার অটো চার্জিং স্টেশন চালুর পদক্ষেপ নেয়। পুরো সিলেট বিভাগের মধ্যে বিশ্বনাথ উপজেলায় প্রথমবারের মতো ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে তারা স্থাপন করেছেন সোলার অটো চার্জিং স্টেশন। এটি স্থাপন করা হয় উপজেলা সদরের বাইপাস সড়কের মুখে নুরুল ইসলাম ফিলিং স্টেশনের পার্শ্বে। ২১ কিলোওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন এ স্টেশন থেকে নামমাত্র ফি দিয়ে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও অটোরিকশা চার্জ দেয়া যাবে। এতে চাপ কমবে গ্রিডের বিদ্যুতের উপর। অনেকটা কমে আসবে লোডশেডিংও। জানা গেছে, বিশ্বনাথে গ্রিড বিদ্যুতের একটি বড় অংশ ইজিবাইক ও অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশ্বনাথ উপজেলায় ৫ থেকে ৬শ’ ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও অটোরিকশা রয়েছে। যেগুলো গ্রিড বিদ্যুতের উপর নিরর্ভশীল। এ কারণেই এ উপজেলায় বৃদ্ধি পাচ্ছে লোডশেডিং।
পল্লীবিদ্যুৎ বিশ্বনাথ জোনাল অফিসের ডিজিএম কমলেশ বর্মণ বলেন, সম্পূর্ণ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করে এ স্টেশন তৈরির ফলে চাপ কমবে গ্রিড বিদ্যুতের উপর। এ সপ্তাহেই সোলার অটো চার্জিং স্টেশনটি চালু করা হবে।  এ ব্যাপারে কথা হলে সিলেট পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মাহবুব আলম বলেন, সিলেট বিভাগে এটিই আমাদের প্রথম সোলার অটো চার্জিং স্টেশন। বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও লোডশেডিং হ্রাসেই এটি স্থাপন করা হয়েছে। এ স্টেশনে সূর্যের আলো ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। কোনো কারণে বিদ্যুৎ না থাকলেও এটি চালু থাকবে সার্বক্ষণিক।

বিশ্বনবীর (সা) প্রথম নাতির দু'টি অলৌকক ঘটনা

১৫ রমজান প্রথমবারের মত নানা হয়েছিলেন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা)। অর্থাৎ ১৪৩৬ চন্দ্র-বছর আগে তৃতীয় হিজরির ১৫ রমজান বিশ্বনবী (সা.)'র সবচেয়ে বড় নাতি এবং তাঁর দ্বিতীয় নিষ্পাপ উত্তরসূরি হযরত ইমাম হাসান মুজতবা (আ) পবিত্র মদিনায় জন্ম গ্রহণ করেন।
আজ ইরানসহ বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে এই মহা-খুশির দিবস।হযরত ইমাম হাসান মুজতাবা (আ.)'র জন্ম-বার্ষিকী উপলক্ষে  সবাইকে জানাচ্ছি মুবারকবাদ।
হযরত হারুন (আ.)'র প্রথম পুত্র 'শাবার' নামের অনুকরণে মহান আল্লাহর নির্দেশে তাঁর নাম রাখা হয় হাসান যার অর্থ অসাধারণ সুন্দর বা উৎকৃষ্ট। তিনি ছিলেন বিশ্বনবীর (সা) রহমতের অব্যাহত ফল্গু ধারার অংশ।
বিশ্বনবী (সা)'র পবিত্র আহলে বাইতের সদস্যদের বলা হয় জীবন্ত কুরআন বা সরব কুরআন (যে কুরআন কথা বলে)। কারণ, তাঁদের কথাবার্তা ও আচার-আচরণে প্রতিফলিত হত কুরআনের মহান শিক্ষা।
বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) ইমাম হাসান ও হুসাইনকে বেহেশতি যুবকদের সর্দার বলে উল্লেখ করেছেন এবং এও বলেছেন যে, তাঁরা দু'জনই মুসলমানদের ইমাম তা ক্ষমতায় থাকুক বা না থাকুক কিংবা বিপ্লব করুক বা না করুক।
মহানবী (সা.) প্রিয় এই নাতিকে কোলে নিয়ে আদর করা ছাড়াও তাঁর সঙ্গে খেলতেন। একবার তিনি এই নাতির জন্য আল্লাহর দরবারে হাত উঠিয়ে মুনাজাত করে বলছিলেন: হে আল্লাহ! আমি হাসানকে ভালবাসি, তাই আপনিও তাদের ভালবাসুন যারা হাসানকে ভালবাসে।
মহানবী (সা) আরো বলেছেন, যারাই হাসান ও হুসাইনকে ভালবাসে আমিও তাদের ভালবাসি, আর আমি যাদের ভালবাসি আল্লাহও তাদের ভালবাসেন, আর আল্লাহ যাদের ভালবাসেন তাদের বেহেশত দান করবেন এবং যারা হাসান ও হুসাইনের সঙ্গে শত্রুতা রাখে তাদেরকে আমিও আমার শত্রু মনে করি, ফলে আল্লাহও তাদের শত্রু হন, আর আল্লাহ তাঁর শত্রুকে জাহান্নামে পাঠাবেন।
মুসলিম বিশ্বের যোগ্য ইমাম হিসেবে তাঁকে গড়ে তুলেছিলেন স্বয়ং বিশ্বনবী (সা.), আমিরুল মু'মিনিন আলী (আ.) ও হযরত ফাতিমা জাহরা (সা.)। এই মহান ইমাম মুয়াবিয়ার ষড়যন্ত্রে শহীদ হন হিজরি ৫০ সনে। তিনি সমাহিত হন মদীনার জান্নাতুল বাকিতে। (বলা হয় বিশ্বনবী-সা.'র কবরের পাশেই সমাহিত হতে চেয়েছিলেন এই মহান ইমাম, কিন্তু বিশেষ মহলের বাধার কারণে তা সম্ভব হয়নি)
মহান আল্লাহ বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ(সা.)'র পবিত্র আহলে বাইতকে পবিত্র তথা নিষ্পাপ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন (কুরআন, আহজাব ৩৩:৩৩) যে ঘটনার পর সেই ঘটনায় উপস্থিত ছিলেন হাসান (আ.)। ঘটনাটি হল, মহানবী (সা.) একদিন আলী (আ.), ফাতিমা (সা.আ.), হাসান (আ.)ও হুসাইন (আ.)-কে নিজের ঢিলেঢালা আলখাল্লা বা চাদরের নিচে স্থান দিয়ে তাঁদের জন্য বিশেষ মুনাজাত করেছিলেন। এ সময় রাসূল (সা.)'র স্ত্রীদের কেউ কেউ আসতে চাইলে রাসূল তাঁদেরকে নিজ আলখাল্লা বা চাদরের নিচে আসার অনুমতি দেননি।
এ ছাড়াও নাজরানের খ্রিস্টানদের সঙ্গে বিতর্ক ও মুবাহিলার ঘটনার (যারা মিথ্যাবাদী হবে তাদের এবং তাদের পরিবারের ওপর আল্লাহর অভিশাপ দেয়ার চ্যালেঞ্জ) সময়ও আল্লাহর নির্দেশে নবী-পরিবার বা আহলে বাইতের সদস্য হিসেবে সেই পবিত্র পাঁচজনের একজন হিসেবে আবারও উপস্থিত ছিলেন হাসান (আ.)। এ বিষয়ে নাজিল হয়েছিল সুরা নিসার ৬১ নম্বর আয়াত।
ইমাম হাসান (আ.) পিতা আলী (আ.)'র শাহাদতের পর মুসলিম বিশ্বের খলিফা হন। কিন্তু মাত্র ছয় মাস পর মুয়াবিয়ার নেতৃত্বে ব্যাপক বিদ্রোহ ও নিজের সমর্থকদের মধ্যে মুনাফিকদের দৌরাত্ম্য প্রবল হয়ে ওঠার কারণে রাজনৈতিক ক্ষমতা মুয়াবিয়ার হাতে হস্তান্তর করতে বাধ্য হন। এ সময় স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী খলিফা পদবী ব্যবহারের অধিকার মুয়াবিয়ার ছিল না।
অন্য কথায় সমর্থকদের নিষ্ক্রিয়তা ও আদর্শিক বিচ্যুতিসহ নানা দিক থেকে পরিস্থিতি অত্যন্ত প্রতিকূল থাকায় ইমাম হাসান মুজতবা (আ.) মুয়াবিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ-বিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়েছিলেন। কারণ, ইমামের প্রধান সেনাপতিসহ অনেকেই ভেতরে ভেতরে মুয়াবিয়ার কাছে বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। এ সময় তিনি মুয়াবিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ অব্যাহত রাখলে ইসলাম পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত এবং ইসলামের প্রকাশ্য শত্রু সুযোগ-সন্ধানী রোমানরা সিরিয়া ও বায়তুল মোকাদ্দাস দখল করে নিত। এ ছাড়াও এ চুক্তির ফলে মুয়াবিয়ার প্রকৃত চেহারা জনগণের কাছে তুলে ধরা সহজ হয়েছিল।
ইমাম হাসান (আ) কয়েক বার তাঁর সম্পদ পুরোপুরি এবং কয়েকবার সম্পদের অর্ধাংশ দান করেছেন দরিদ্রদের জন্য। তিনি অন্তত ২৫ বার পায়ে হেঁটে হজ করেছেন।
ইমাম হাসান (আ.)'র অনেক মু'জিজা বা অলৌকিক ঘটনা রয়েছে। এইসব মু'জিজার মধ্যে আমরা কেবল দু'টি মু'জিজার ঘটনা এখানে তুলে ধরব।
---এক---
আবু জাফর (আ.) থেকে বর্ণিত হয়েছে: একদল লোক ইমাম হাসান (আ.)'র কাছে এসে বলে: আমরা আপনার বাবার মু'জিজাগুলো দেখেছি, এইসব মু'জিজা আপনার কাছেও দেখতে চাই। ইমাম হাসান (আ.) বললেন, যদি দেখাই তাহলে তাঁর প্রতি তথা আলী (আ.)'র প্রতি কি ঈমান আনবেন? তারা বলল: জি, আল্লাহর কসম তাঁর প্রতি ঈমান আনব। ইমাম বললেন: আপনারা কি আমার বাবাকে চেনেন? সবাই বলল: হ্যাঁ, চিনি। ইমাম তাদের চোখের বা দৃষ্টি থেকে পর্দা তুলে নিলেন এবং সবাই দেখল যে স্বয়ং হযরত আলী (আ.) দাঁড়িয়ে আছেন। এরপর ইমাম হাসান (আ.) বললেন: আপনারা কি তাঁকে চেনেন? সবাই বলল: ইনি আমিরুল মু'মিনিন আলী (আ.) এবং আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি আল্লাহর ওলি বা বন্ধু এবং আলীর পর আপনিই প্রকৃত ইমাম ও নেতা। আপনি আমাদেরকে আপনার পিতা আলী (আ.)'র মৃত্যুর পরও তাঁকে দেখিয়েছেন যেমনটি আপনার বাবা রাসূল (সা.)'র মৃত্যুর পরও মসজিদে কুবায় আবুবকরের কাছে রাসূল (সা.)-কে দেখিয়েছিলেন।
এরপর ইমাম বললেন: তোমাদের ওপর আক্ষেপ! তোমরা কি শোনোনি মহান আল্লাহ বলেছেন: و لا تقولوا لمن یقتل فی سبیل الله امواتا بل أحیاء و لکن لا تشعرون
যারা আল্লাহর পথে নিহত হয় তাদেরকে মৃত বলো না, বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা অনুধাবন কর না।
যারা আল্লাহর পথে নিহত হয় তাদের সম্পর্কে যদি এই আয়াত নাজিল হয়ে থাকে তাহলে আমাদের সম্পর্কে তোমরা কি মনে কর? লোকেরা বলল: হে আল্লাহর রাসূলের সন্তান! আমরা আপনার কথা ও আচরণের প্রতি ঈমান আনছি এবং আপনার কথা ও আচরণকে সত্য বলে স্বীকৃতি দিচ্ছি। (সূত্র: বিহারুল আনোয়ার)
---দুই---
কোনো এক ওমরাহ হজের সফরের সময় ইমাম হাসান (আ.)'র সঙ্গে ছিলো যুবাইর বিন আলআওয়ামের কোনো এক পুত্র। সফরের এক পর্যায়ে তারা একটি স্থানে থামেন। সেখানে কয়েকটি শুকিয়ে যাওয়া খেজুর গাছ ছিল। ওই ব্যক্তি বলল: এই খেজুর গাছে যদি খেজুর থাকতো তাহলে তা পেড়ে খেতাম।
ইমাম হাসান (আ.) বললেন: তোমার কি খুরমা খেজুর খেতে ইচ্ছে হচ্ছে?
লোকটি বলল: হ্যাঁ। ইমাম আকাশের দিকে হাত তুলে দোয়া করলেন। সঙ্গে সঙ্গে ওই খেজুর গাছটি সবুজ হয়ে যায় এবং তাতে খেজুরও দেখা যায়। লোকটি গাছে উঠে খেজুর পেড়ে খায়। এ সময় তাদের সফরসঙ্গী এক উট-চালক বলে ওঠে: এ তো দেখছি জাদু।
ইমাম হাসান (আ.) বললেন: তোমার প্রতি আক্ষেপ! এটা জাদু নয় বরং নবীর (সা.) সন্তানের দোয়া যা কবুল হয়।
সমস্ত মহৎ গুণের অধিকারী ইমাম হাসান (আ.) জীবনে অন্তত: দুবার তাঁর ব্যক্তিগত সব সম্পদ দান করে দিয়েছেন এবং বেশ কয়েকবার অর্ধেক বা তারও বেশি সম্পদ দান করে দিয়েছিলেন। তিনি পায়ে হেটে এবং কখনও নগ্ন পায়ে ২৫ বার মদিনা থেকে মক্কায় গিয়ে হজ্ব বা ওমরাহ করেছেন। ইমাম হাসান (আ.) বলেছেন, সব জিনিসের প্রতি লোভই হচ্ছে দারিদ্র আর অল্পে তুষ্টি হচ্ছে প্রাচুর্য বা সম্পদের অধিকারী হওয়া।
হযরত ইমাম হাসান মুজতাবা (আ.)'র পবিত্র জন্ম-বার্ষিকী উপলক্ষে সবাইকে জানাচ্ছি প্রাণঢালা অভিনন্দন ও মুবারকবাদ এবং এই মহান ইমামের শানে পেশ করছি অসংখ্য সালাম ও দরুদ।

দুই ঘণ্টার বৃষ্টিতে ঢাকার রাস্তায় নৌকা

রাজধানীর কাজীপাড়া এলাকার চিত্র
মাত্র দু’ঘণ্টার বৃষ্টিতেই রাজধানীর বেশকিছু সড়ক নদীর রূপ ধারণ করেছিল গতকাল। বৃষ্টির পানিতে বেগম রোকেয়া সরণিতে নৌকায় লোক পারাপার করতেও দেখা যায়। বৃহস্পতিবার সকালের মাঝারি বৃষ্টিপাতেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে বিভিন্ন এলাকায় দুপুর পর্যন্ত দুর্ভোগ পোহাতে হয় নগরবাসীকে। তবে ওই স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতে তাপমাত্রা কিছুটা কমে এসেছে। এতে কয়েকদিনের গরমের ভোগান্তি কমে নগর জীবনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। আজ শুক্রবার তাপমাত্রা আরো কিছুটা কমতে পারে বলে গতকালের পূর্বাভাসে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
জানা যায়, কয়েক দিন আগে সৃষ্ট নিম্ন বা লঘুচাপের প্রভাব এখন আর নেই। বৃহস্পতিবার সকালে মাঝারি ধরনের স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হয়েছে। দু’ঘণ্টা মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয়। ওই দিন সকাল ৬টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত ৮২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। এই বৃষ্টিতে তাপমাত্রা কমে এসেছে। গতকাল তাপমাত্রা ছিল ২৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিকে গতকাল সকালে রাজধানীর মিরপুর রোডের শেওড়াপাড়ায় রাস্তায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় নৌকা চলতে দেখা গেছে। তাতে চড়ে কিছু পথচারী ও যাত্রী স্বল্প দূরত্বে চলাচল করে। ওই সময় প্রায় এক দেড়-ফুট পানি ভেঙে যানবাহন চলাচল করে। হাঁটু পানি মাড়িয়ে চলাচল করেন পথচারীরা। প্রাইভেট কারসহ বেশকিছু যানবাহন সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে আটকা পড়ে। কয়েক ঘণ্টা পর রাস্তার পানি নেমে যায়। স্বাভাবিক হয়ে আসে যানবাহন চলাচল। বৃষ্টির কারণে সকাল থেকে মানিক মিয়া এভিনিউ’র আড়ং মোড়, ধানমন্ডি ২৭, মতিঝিল, আরামবাগসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় জলজট দেখা দেয়। এতে যানবাহন চলচলে বিঘ্ন ঘটে। দেখা দেয় তীব্র যানজট। কর্মস্থলের উদ্দেশে বাসা থেকে অনেকে বের হয়ে পড়েন বিপাকে। মিরপুর ১২ নম্বর থেকে মতিঝিলের উদ্দেশে বের হওয়া যাত্রী আনোয়ার বলেন, মিরপুর ১০ পর্যন্ত এসে আর সামনে যেতে পারিনি। সড়কে পানি তাই গাড়ি চলাচল বন্ধ। পরে মিরপুর-১ নম্বর হয়ে অনেক কষ্টে মতিঝিল পৌঁছাতে সময় লাগে তিন ঘণ্টারও বেশি সময়। পানির কারণে মানিক মিয়া এভিনিউ ও ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পানিতে ছোট যানবাহন আটকে পড়ায় তীব্র যানজট ছিল সকাল থেকেই। আগারগাঁও আবহাওয়া অফিসের ডিউটি অ্যাসিস্টেন্ট মো. আব্দুল বারেক মানবজমিনকে বলেন, আগেই ওই বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস জানিয়েছিল আবহাওয়া অফিস।

বাংলাদেশি ঠেকাতে আসামে ‘খিলঞ্জিয়া বাহিনী’ চান রাজখোয়া-চেটিয়া by রঞ্জন বসু

অনুপ চেটিয়া ও অরবিন্দ রাজখোয়া
বছরের পর বছর ধরে বাংলাদেশে কাটিয়ে যাওয়া অনুপ চেটিয়া বা অরবিন্দ রাজখোয়ার মতো শীর্ষ আলফা নেতারা এখন সীমান্তে ‘বাংলাদেশি ঠেকানোর জন্য’ সাবেক আলফা ক্যাডারদের নিয়ে নতুন বাহিনী গড়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। বাংলা ট্রিবিউন জানতে পেরেছে, দিল্লিতে আলফার চেটিয়া-রাজখোয়া গোষ্ঠীর নেতৃত্বাধীন যে অংশটির সঙ্গে ভারত সরকারের শান্তি আলোচনা চলছে, তারাই সেই বৈঠকে এই ‘খিলঞ্জিয়া বাহিনী’ গড়ার কথা বলেছেন।
অসমিয়া ভাষায় খিলঞ্জিয়া কথাটির অর্থ ‘ভূমিপুত্র’ বা ‘মূলবাসী’। তবে খিলঞ্জিয়া বলতে ঠিক কাদের বোঝানো হবে, তা নিয়ে ওই রাজ্যে প্রচুর বিতর্কও আছে – আর খিলঞ্জিয়া শব্দের সংজ্ঞা নির্ধারণ নিয়েও রয়েছে বহু মতভেদ। তবে আলফার আলোচনাপন্থী নেতারা ভারত সরকারের কাছে যে খিলঞ্জিয়া বাহিনী গড়ার প্রস্তাব দিয়েছেন, তাতে এককালের দুর্ধর্ষ বিচ্ছিন্নতাবাদী ও জঙ্গি সংগঠন আলফার সাবেক ক্যাডারদের ঠাঁই দেওয়ার কথাই বলা হয়েছে।
গত সপ্তাহে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে দিল্লিতে এসেছিলেন আলফার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা। সেই বৈঠকের পর আলফার সভাপতি অরবিন্দ রাজখোয়া এই প্রতিবেদককে তাদের প্রস্তাবটি বিশদে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই মুহুর্তে আসাম-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ একটি জ্বলন্ত সমস্যা – এবং বহুদিন ধরেই আসামকে এর ফল ভুগতে হচ্ছে। আমাদের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দুদেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা একটা নতুন মাত্রা পাবে।’
‘ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফের দায়িত্ব হল বর্ডারকে নিশ্ছিদ্র রাখার – অথচ তাদের বিরুদ্ধে প্রায়শই অসংখ্য অভিযোগ ওঠে যে তারা ঘুষ নিয়ে বাংলাদেশিদের অবৈধভাবে সীমান্ত পার করিয়ে দেন।’
‘এই কারণেই আমরা খিলঞ্জিয়া বাহিনী গড়ে তুলতে চাই – যারা বিএসএফের পর একটি ‘সেকেন্ড লাইন অব ডিফেন্স’ হিসেবে কাজ করবে, আসামের সীমান্তকে বাড়তি সুরক্ষা যোগাবে’, বলেন অরবিন্দ রাজখোয়া।
আলফার যে সশস্ত্র ক্যাডার বা জঙ্গি সদস্যরা বিগত বছরগুলোতে আত্মসমর্পণ করে সমাজের মূল স্রোতে ফিরে এসেছেন, তাদের নিয়েই এই বাহিনী গড়ার প্রস্তাব দিয়েছেন সংগঠনের নেতারা। তবে তারা এটাও জানিয়েছেন, এই খিলঞ্জিয়া বাহিনীতে কোনও আগ্নেয়াস্ত্র বহনকারী সদস্য থাকবেন না – তারা হবেন নিরস্ত্র, বড়জোর লাঠিসোঁটার মতো হাতিয়ার বহন করবেন।
এর আগে নেপালের মাওবাদী বিদ্রোহীরা যখন আত্মসমর্পণ করে সমাজের মূল স্রোতে ফিরে এসেছিলেন, তাদের কাউকে কাউকে সে দেশের সেনাবাহিনীতে চাকরির সুযোগ করে পুনর্বাসন দেওয়া হয়েছিল। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই সাবেক জঙ্গি বা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের এভাবে পুনর্বাসন দেওয়ার রেওয়াজ আছে, তাই আলফা নেতারা এই দাবির মধ্যে অন্যায় কিছু দেখছেন না – কিংবা মনে করছেন না এটা বাড়াবাড়ি।
আলফার সাধারণ সম্পাদক অনুপ চেটিয়াও দিল্লিতে জানিয়েছেন, ‘খিলঞ্জিয়ার আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় এসেছি বলে তাদের আমরা ভুলে যেতে পারি না।’
অরবিন্দ রাজখোয়া বা অনুপ চেটিয়া, আলফার এই দুই শীর্ষ নেতাই বছরের পর বছর বাংলাদেশে ছিলেন। অনুপ চেটিয়া ১৯৯৭ সালে ঢাকায় আটক হওয়ার পর ফরেনার্স অ্যাক্টে সাত বছরের সাজা পান।
কিন্তু সাজার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার পরও তিনি বহু বছর প্রথমে কাশিমবাজার ও পরে রাজশাহীর জেলে কাটিয়েছেন। তাকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য দিল্লির অনুরোধ বহু বছর ঝুলে থাকার পর অবশেষে ২০১৫ সালে তাকে হস্তান্তর করা হয়। ঠিক সেই সময় ভারতও নারায়ণগঞ্জে সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকেও বাংলাদেশের হাতে তুলে দেয়। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, এই দুই হস্তান্তর ছিল একটি ‘বিনিময় সমঝোতা’র অংশ।
এর আগে ২০০৯ সালের নভেম্বরে শেখ হাসিনা সরকার অরবিন্দ রাজখোয়াকেও গোপনে সীমান্ত পার করিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেয়। অনুপ চেটিয়া ও অরবিন্দ রাজখোয়াই এখন মূলত ভারত সরকারের সঙ্গে আলফার শান্তি আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আলফার আর এক গোষ্ঠীর নেতা পরেশ বড়ুয়া এখনও ভারতের সঙ্গে লড়াই চালানোর নীতিতে বিশ্বাসী, তবে রাজখোয়া-চেটিয়া জানিয়ে রেখেছেন পরেশ বড়ুয়া (‘পি বি’) আলোচনায় অংশ নিতে চাইলে তিনিও স্বাগত।
দীর্ঘদিন বাংলাদেশে কাটিয়ে আসা অরবিন্দ রাজখোয়া ও অনুপ চেটিয়া (যার একটা পর্বে আবার বিএনপি-জামাত জোট সরকারের প্রচ্ছন্ন সমর্থনও পেয়েছেন তারা) যেভাবে এখন বাংলাদেশি ঠেকানোর নামে আসামে নতুন বাহিনী গড়ার কথা বলেছেন, সেটাকে পর্যবেক্ষকরা অনেকেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। তবে এখানে উল্লেখ করা দরকার, আলফা নেতাদের খিলঞ্জিয়া বাহিনী গঠনের প্রস্তাব নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এখনও হ্যাঁ বা না, কিছুই স্পষ্ট করে বলেনি।
শান্তি আলোচনায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের দূত হিসেবে যিনি অংশ নিচ্ছেন, সেই সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা তথা আইপিএস অফিসার এ বি মাথুরও এই প্রস্তাব নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ভৈরবে মোকামে নতুন ধান ন্যায্য দাম নিয়ে হতাশায় কৃষক by মো. রফিকুল ইসলাম

দেশের বন্দরনগরী ভৈরবের ধানের মোকামে নতুন ধান আমদানি শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে হাওরে প্রায় ৮০ শতাংশ জমির বোরো ধান কাটা শেষ হয়েছে। ফলে আড়তগুলোতে প্রতিদিন হাওর থেকে নৌ-পথে হাজার হাজার মণ ধান আসছে। কিন্তু বাজারে ধানের ন্যায্য দাম না পেয়ে হতাশ প্রান্তিক কৃষকরা। কৃষকদের দাবি, অকাল বন্যায় গেল বছর ফসল ভেসে যাওয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। আর এ বছর জমিতে অধিক ফলন উৎপাদন হলেও বাজারে ন্যায্য দাম না থাকায় লোকসান যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। তাছাড়া গেল সপ্তাহে বৈরী আবহাওয়ার কারণেও প্রায় ২০ শতাংশ জমির ফসল বিনষ্ট হয়েছে। ফলে দিন দিন কৃষকের ঘাড়ে বাড়ছে দেনার বোঝা। জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চল অষ্টগ্রাম, মিঠামইন, ইটনাসহ হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা  ও সিলেট জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নদীপথে ভৈরবের আড়তগুলোতে প্রতিদিন হাজার হাজার মণ ধান আসছে। এসব ধান প্রতিমণ (মোটা) ৪৫০ টাকা থেকে ৫৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর (চিকিন) প্রতিমণ ধান ৫৫০ টাকা থেকে ৬শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
কৃষকরা জানায়, প্রতিবিঘা জমিতে উৎপাদন বাবদ বীজ রোপণ, পরিচর্যা, সার, কীটনাশক ও সেচের জ্বালানি তেলসহ সব মিলিয়ে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। আর বিঘাপ্রতি গড়ে  ১৫ থেকে ১৮ মণ ধান উৎপাদন হয়। ফলে প্রতিমণ ধান ৬শ’ টাকা থেকে ৭শ’ টাকা দর জমিতেই পড়েছে। কিন্তু বাজারে সেই ধান তার চেয়েও কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এ বছর বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্য দাম না পেয়ে ফের লোকসানের মুখে পড়েছে প্রান্তিক কৃষক। এ ছাড়া এক মণ ধানের দাম দিয়ে একজন শ্রমিকের মাত্র এক দিনের মজুরি পরিশোধ করতে পারেন তারা। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। এদিকে বাজারে প্রচুর পরিমাণে নতুন চাল আমদানি হওয়ায়, চালের দামও কমে গেছে। ফলে ধানের বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, ভৈরব বাজারে প্রায় শতাধিক ধানের আড়ত রয়েছে। সব সময়ের মতো আড়ত মালিকরা কমিশনের মাধ্যমে কৃষক ও পাইকারদের কাছ থেকে আমদানি করা ধান রাইস মিল মালিকদের কাছে বিক্রি করে আসছেন। গত দু’মাস আগেও পুরান ধান ১ হাজার টাকা থেকে ১১শ’ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। বাজারে নতুন ধান আমদানির সঙ্গে সঙ্গে প্রতিমণে ৪শ’ টাকা থেকে ৫শ’ টাকা দাম কমে গেছে। বাজারে দাম কমার পেছনের কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা জানান, আমদানিকৃত বেশিরভাগ নতুন ধান ভেজা থাকায় পরে ধানের ওজন কমে যায়। ফলে চাল ব্যবসায়ীরা কম দামে ধান কিনতে চান। এদিকে সরকার এবারো ধান-চাল কিনতে প্রতিকেজি ধান ২৬ টাকা অর্থাৎ  প্রতি মণ ১ হাজার ৪০ টাকা আর চাল ৩৮ টাকা দরে অর্থাৎ প্রতিমণ ১ হাজার ৫২০ টাকা মূল্য নির্ধারণ করেছে। তবে, সরকারি খাদ্যগুদামে শুকনা ধান সরবরাহ করতে হবে। স্থানীয় গুদামগুলোতে এখনো ধান-চাল কেনা শুরু হয়নি। আগামী মাস থেকে সরকার ধান-চাল ক্রয় করবে বলে জানায় গুদাম সংশ্লিষ্টরা। তাছাড়া কৃষকের উৎপাদিত সব ধান সরকার কিনতে পারবে না। একই সঙ্গে সরকারি গুদামে সিন্ডিকেটের কারণে ধান দিতে পারবে না তারা। এক কথায়, কৃষকের প্রয়োজনের সময় সরকার ধান কিনবে না। ফলে বেশিরভাগ কৃষকই বাজারে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হয়। আর প্রতিবছরই কখনো চোখের সামনে স্বপ্নের ফসল পানিতে তলিয়ে আবার কখনো শুকনায় প্রখর রোদে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে গোলায় ধান তুলেও বাজারে ধানের ন্যায্য দাম না পেয়ে লোকসানের মুখে পড়েন প্রান্তিক কৃষক। এ ব্যাপারে ভৈরব সরকারি খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, সিদ্ধ ও আতব চাল সংগ্রহের লক্ষে আমরা সরকারি নির্দেশনা পেলেও এখনো কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের জন্য কোনো নিদের্শনা পাওয়া যায়নি। চাহিদা ও নির্দেশনা পেলেই ধান সংগ্রহ শুরু হবে। এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. শরীফ মোল্লা জানান, সরকার এবারো প্রতিকেজি ধান ২৬ টাকা অর্থাৎ প্রতিমণ ১ হাজার ৪০ টাকা নির্ধারণ করছেন। আর সিদ্ধ চাল ৩৮ টাকা এবং আতব চাল ৩৭ টাকা মূল্য নির্ধারণ করেছে। স্থানীয় গুদামগুলোতে কয়েকদিনের মধ্যেই চাল কেনা শুরু হবে। কিন্তু কখন থেকে সরকার ধান কিনবে বা সংগ্রহ করবে এ বিষয়ে কিছুই বলতে পারছি না। তবে, নিদের্শনা পেলেই আমরা কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা শুরু করব। জানতে চাইলে ভৈরব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন বলেন, এদেশের হাওরাঞ্চলের অধিকাংশ কৃষকই গরিব মানুষ। তারা ধার-দেনা বোরো ধান আবাদ করে থাকেন। ফলে তাদের বৈশাখ মাসের শুরুতেই ধান বিক্রি করতে হয়। কয়েকদিন পর বিক্রি করলে কৃষকরা ভালো দামে ধান বিক্রি করতে পারতেন। এছাড়া সরকারি গুদামে বেশি বেশি ধান কিনলেও কৃষকরা ন্যায্যদাম থেকে বঞ্চিত হতো না।
এদিকে অকাল বন্যায় ফসল তলিয়ে কিংবা বাজারে ন্যায্য দাম না পেয়ে প্রতিবছরই যেন লোকসানের মুখে পড়তে না হয় প্রান্তিক কৃষকদের সেদিকে সু-নজর দেবে সরকার। আর্থিক অনুদানসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াবে এমনটাই প্রত্যাশা এ হাওরাঞ্চলের হাজার হাজার কৃষকদের।

টাকার অভাবে থেমে আছে বিরল রোগে আক্রান্ত জাকিরের চিকিৎসা

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে টিউমার থেকে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মাহাখালী জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে জাকির হোসেন (১৩) নামে এক কিশোর। টাকার অভাবে থেমে আছে তার চিকিৎসা। টাকার অভাবে অনিয়মিত ঔষধ খেয়ে বেঁচে আছে হতদরিদ্র পরিবারের জাকির। বর্তমানে সে ক্যানসার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি আছেন। অসুস্থ জাকির হোসেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের উত্তর সাতগীরি (মওয়ামারি) গ্রামের দিনমজুর আ. মজিদ মিয়ার ছেলে। এবং সে পার্শ্ববর্তী সাতগীরি কাটগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র।
জাকিরের পরিবার জানায়, বিগত পাঁচ বছর আগে জাকিরের কাঁধে ছোট আকারের একটি টিউমার পান। পরে সেই টিউমারটি প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকে তার শরীরে। কিন্তু টাকার অভাবে ভালো কোনো হাসপাতালে তার চিকিৎসা করাতে পারেনি অসহায় শিশুটির পরিবার। বাধ্য হয়ে হোমিও প্যাথিক ঔষধ খেয়ে দিন কাটিয়েছে জাকির।  অন্যদিকে, জাকিরের শরীরে বেড়ে ওঠা টিউমারটি বিশাল আকার ধারণ করে প্রায় দশ কেজিতে রূপ নিয়েছে। পরে গত ২৪ মে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোসার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়। তাকে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে শরীরে ক্যানসারের সন্ধান পান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। পরে জাকিরকে দ্রুত ঢাকার ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করতে বলে রমেক কর্তৃপক্ষ। বুধবার সকালে অসুস্থ জাকিরকে ঢাকার মাহাখালী ক্যানসার গবেষণ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে ক্যানসার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এদিকে, টাকার অভাবে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ঔষধ কিনতে পারছেনা তার পরিবার। জাকিরের চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমসিম খাচ্ছেন তার বাবা। ছেলের চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসতে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। জাকিরের বাবা আ. মজিদ বলেন, আমি গরিব মানুষ ছেলের চিকিৎসার এতো খরচ কিভাবে চালাবো। মানুষের কাছে ধারদেনা করে ছেলেকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠিয়েছি। এখন দুশ্চিন্তায় আছি তার ঔষধ পত্র কিনবো কি দিয়ে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার ছেলেটার চিকিৎসার জন্য কেউ এগিয়ে আসেনি। চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছে সে। আপনারা আমার ছেলের জন্য কিছু একটা করেন। জাকিরের চিকিৎসার জন্য সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার অনুরোধ করেন তিনি। জাকিরকে সাহায্য পাঠাতে যোগাযোগ করুন- ০১৭৭০ ৯৯১৬৩৬ (বাবা) ও ০১৭৭৮ ৪৬৫৮২০ (ভাই) এই নাম্বারে।

স্থগিতই থাকছে খালেদার জামিন

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে হত্যা ও নাশকতার দুটি মামলায় হাইকোর্টের দেয়া ৬ মাসের অন্তর্বর্তীকালিন জামিন ২৪শে জুন পর্যন্ত স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে এই সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষকে নিয়মিত লিভ টু আপিল দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল এ আদেশ দেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত তিন বিচারপতির আপিল বেঞ্চ। এদিকে ঢাকার মানহানির দুই মামলায় হাইকোর্টে জামিন পাননি খালেদা জিয়া। বিএনপির চেয়ারপারসনের করা জামিনের আবেদন গতকাল নিষ্পত্তি করে এ দুই মামলায় বিচারিক আদালতে খালেদা জিয়ার আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, হাইকোর্ট আমাদের আবেদন নিষ্পত্তি করে বিচারিক আদালতে খালেদা জিয়ার আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন।
কুমিল্লার দুই মামলায় সর্বোচ্চ আদালতে গতকাল খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, জয়নুল আবেদীন ও মাহবুব উদ্দিন খোকন। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানি করেন। এর আগে গত ২৯শে মে এক আদেশে চেম্বার আদালত খালেদা জিয়াকে এ দুই মামলায় হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত করে বিষয়টি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। সোমবার (২৮শে মে) এক আদেশে খালেদা জিয়াকে কুমিল্লার হত্যা ও নাশকতার মামলায় ৬ মাসের অন্তর্বর্তীকালিন জামিন দেন বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। পরে খালেদার জামিন স্থগিত চেয়ে ওই দিনই সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতে আবেদন করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। আর মানহানির দুই মামলায় খালেদার পক্ষে গত ২৯শে মে শুনানি করেন খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী ও মওদুদ আহমদ। এ দু’মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে গতকাল অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানি করেন।
এদিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা অন্য একটি মামলায় তার জামিন শুনানি সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সময় পর্যন্ত মুলতবি করেছেন বলে জানান খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন। বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি হয়। আদালতে গতকাল রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানি করেন। এর আগে বুধবার খালেদা জিয়ার পক্ষে মাহবুব উদ্দিন খোকন শুনানি করেন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী একেএম এহসানুর রহমান।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাসে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা ও নাশকতার অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা দুটি মামলা এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার অভিযোগে নড়াইলে করা মানহানির একটি মামলায় জামিন পেতে গত ২০শে মে আইনজীবীদের মাধ্যমে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে আবেদন করেন খালেদা জিয়া। ২২শে মে শুনানি শুরু হয়। রোববার এ সংক্রান্তে শুনানি শেষ হয়। এর মধ্যে নড়াইলের মানহানির মামলাটিতে সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতে কি আদেশ হয়েছে, গত ২৮শে মে তা জানতে চেয়ে যথাযথ উত্তর না পেয়ে আবেদনটি উপস্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। আর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানানো ও তাদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে জাতির মানহানি ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে জন্মদিন পালনের অভিযোগে দায়ের করা দুই মামলায় জামিনের জন্য গত ২২শে মে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে আবেদন করা হয়। এ দুই মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে থাকা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে গত ১৭ই মে রাষ্ট্রপক্ষকে আদেশ দিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালত। আদেশে আগামী ৫ই জুলাইয়ের মধ্যে এ আদেশ কার্যকর করে আদালতকে অবহিত করতে বলা হয়।
কুমিল্লার দুই মামলায় গতকাল আপিল বিভাগে খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিতের আদেশের পর তার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, আদালতে আমরা বলেছি, অতীতে এ ধরনের মামলায় কখনো দেখিনি যে হাইকোর্ট জামিন দিলে আপিল বিভাগ তাতে হস্তক্ষেপ করেছে। কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেল কেন এই মামলা এখানে (আপিল বিভাগ) নিয়ে এসেছেন আমরা জানি না। তারপরও আমরা বলি বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে এই মামলা চলতে পারে না। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্যমূলক ও রাজনৈতিক কারণে জেলে রাখতে চায়। যেহেতু ইতিমধ্যে নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা হবে এবং এটা সরকারও জানে ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা চাচ্ছি ন্যায় নীতির মাধ্যমে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে বের করে আনবো। কিন্তু সরকার চাইছে যে কোনো উপায়ে হোক তাকে জেলে রাখতে হবে, কারাবন্দি রাখতে হবে। জয়নুল আবেদীন বলেন, যে মামলায় (জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা) খালেদা জিয়ার সাজা হয়েছে সেই মামলায় জামিন পেয়েছি। অথচ এই মামলায় তিনি জামিন পাননি। খালেদার অন্য আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, এই মামলার (কুমিল্লার হত্যা ও নাশকতা) ঘটনার সময় বেগম জিয়াকে গুলশান কার্যালয়ে র‌্যাব, পুলিশ, ইটের ট্রাক বালির ট্রাক দিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল। খালেদা জিয়া কিভাবে এই মামলায় সম্পৃক্ত হলেন সে ধরনের কোনো বক্তব্য নেই। এই মামলায় তার সম্পৃক্ততা নেই। এফআইআর-এ তার নাম ছিল না। এই মামলার সকল মূল আসামিরা জামিন পেয়েছেন। খালেদা জিয়া এই মামলায় সহযোগী আসামি হিসেবে আইন অনুযায়ী জামিন পাওয়ার যোগ্য।
আপিল বিভাগের আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, কুমিল্লার দুই মামলায় দুই দিন আগে চেম্বার আদালত থেকে স্থগিতাদেশ পেয়েছিলাম। আপিল বিভাগ উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে আগামী ২৪শে জুনের মধ্যে নিয়মিত পিটিশন দাখিল করতে বলেছেন এবং এ বিষয়ে যে পর্যন্ত শুনানি না হয় হাইকোর্টের আদেশের ওপর চেম্বার আদালত যে স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন তা বহাল থাকবে। তিনি বলেন, আমাদের যুক্তি হলো এই মামলায় উনি (খালেদা জিয়া) হলেন মূল ব্যক্তি যার নির্দেশে, আদেশে ও প্ররোচনায় এই আগুন, জ্বালাও পোড়াও শুরু হয়েছিল এবং যার ফলশ্রুতিতে বহু মানুষ মারা গেছে, বহু সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে। একটি ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে সাতজন গাড়িতে পুড়ে মারা গেছেন। এখন যার নির্দেশে এই ঘটনা ঘটেছে তাকে যদি জামিন দেয়া হয় তাহলে আইনের প্রতি মানুষের যে শ্রদ্ধাবোধ সেটার কি হবে? আর উনার (খালেদা জিয়া) এই সিদ্ধান্ত ও প্ররোচনার জন্য যে লোকগুলো মারা গেছে তারাও তো বিচারপ্রার্থী। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, পৃথিবীতে এরকম কোথাও হয়নি যে, রাজনৈতিক নেত্রীর নির্দেশে বেশ কয়েকদিন যাবৎ জ্বালাও পোড়াও হয়েছে এবং তাতে শত শত লোক মারা গেছে।
গত ৮ই ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ে খালেদা জিয়াকে ৫ বছর এবং অন্য আসামিদের ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। রায়ের পর খালেদা জিয়াকে রাখা হয়েছে পুরান ঢাকার পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে। গত ১২ই মার্চ হাইকোর্ট খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন। গত ১৭ই মে আপিল বিভাগ এক রায়ে খালেদা জিয়ার জামিন বহাল রাখেন। পাশাপাশি সাজার রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার করা আপিল শুনানি আগামী ৩১শে জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন সর্বোচ্চ আদালত।

৩১শে জানুয়ারির পর অ্যাকোর্ড-অ্যালায়েন্স বাংলাদেশে প্রয়োজন নেই

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ৩১শে জানুয়ারির পর বাংলাদেশের গার্মেন্ট সেক্টরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আমেরিকার ক্রেতা জোট অ্যাকোর্ড ও অ্যালায়েন্সের প্রয়োজন নেই। একইসঙ্গে তিনি এ খাতের ব্যবসায়ীদের সময় মতো বেতন ও বোনাস দেয়ার আহ্বান জানান। গতকাল গার্মেন্ট শ্রমিকদের বিষয়ে গার্মেন্ট মালিকদের (বিজিএমইএ) সঙ্গে আয়োজিত বৈঠক শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী ৩১শে জানুয়ারির পর এদেশে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের কোনো প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশ এখন আত্মমর্যাদাসম্পন্ন জাতি। আমরা এখন উন্নয়নশীল দেশ। আগামী ২০২৭ পর্যন্ত আমরা এলডিসি সুবিধা পাবো। তিনি বলেন, পোশাক খাতের শ্রমিকদের সময়মতো বেতন-ভাতা দিতে হবে। ১০ তারিখের মধ্যে মে মাসের পূর্ণ বেতন এবং ১৪ তারিখের আগে বোনাস পরিশোধ করতে হবে। ঈদের আগে কোনো শ্রমিককে ছাঁটাই করা চলবে না। শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয় এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা যাবে না। ব্যবসায়ীরা নগদ টাকা বহনের ক্ষেত্রে পুলিশি সহয়তা চাইলে পাবেন। মন্ত্রী বলেন, এবার দেশের প্রতিটি শ্রমিক শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারবে। বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের ৮২ শতাংশই তৈরি পোশাক। এ বছর এই খাতে ৯.৩৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তাই এ বছরের এ খাতের ৩০ বিলিয়ন রপ্তানির লক্ষমাত্রা অর্জন সম্ভব। বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানসহ অন্যান্য ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে বৈঠকে উপস্থিত বিজিএমই সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, জুন মাসের ১০ তারিখের মধ্যেই পোশাক শ্রমিকদের বেতন ও ১৪ তারিখের মধ্যেই সব কারখানায় বোনাস দেয়া হবে। ব্যাংক থেকে বেতন-বোনাসের টাকা তোলার সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পোশাক মালিকদের পুলিশের সহায়তা নেয়ার পরামর্শ দেন।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে রেলমন্ত্রী: ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়া যাবে ২ ঘণ্টায়

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ট্রেনে মাত্র ২ ঘণ্টায় যাতায়াত করা যাবে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক। গতকাল রাজধানীর রেলভবনে বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা-চট্টগ্রাম ভায়া কুমিল্লা/লাকসাম হাইস্পিড ট্রেন নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও   ডিজাইন নির্মাণের চুক্তি সই অনুষ্ঠানে তিনি একথা জানান। মন্ত্রী বলেন, হাইস্পিড ট্রেন লাইন যৌথভাবে নির্মাণ করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে, চায়না রেলওয়ে ডিজাইন করপোরেশন (চায়না) এবং মজুমদার এন্টারপ্রাইজ (বাংলাদেশ)। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে এর দৈর্ঘ্য ৩২০ কিলোমিটার। প্রস্তাবিত রুট অনুযায়ী এর দৈর্ঘ্য ৯১ কি.মি. কমে হবে ২৩০ কি.মি.। ২০০ কি.মি. গতির ট্রেন চালানোর মাধ্যমে দেড় থেকে দুই ঘণ্টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম আসা-যাওয়া করা যাবে। এতে করে দ্রুত যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করা সম্ভব হবে। দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে এই ট্রেন সার্ভিস গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। চলমান কয়েকটি প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে রেলমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার রেলখাতের উন্নয়নে অধিক গুরুত্ব দিয়েছে। ফলে নতুন নতুন প্রকল্প নেয়া হচ্ছে।
এ রেললাইন তৈরির চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক মো. কামরুল আহসান এবং কনসালটেন্সির পক্ষে কোম্পানির বিজনেস ম্যানেজার লিও উইচাও। চুক্তি অনুযায়ী ১৮ মাসের মধ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং ডিটেইলড ডিজাইন কাজ শেষ করবে। বাংলাদেশি টাকায় ১০২ কোটি ১০ লাখ ৪৭ হাজার ৭৩০ টাকা চুক্তি মূল্য। সরকারের  নিজস্ব অর্থায়নে কনসালটেন্সি সার্ভিসের কাজ করা হচ্ছে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন, মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন, কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।