Showing posts with label এনটিভি. Show all posts
Showing posts with label এনটিভি. Show all posts

Wednesday, August 14, 2019

একসময় পকেটে ২০০ রুপিও ছিল না, এখন বিশ্বতালিকায়! -অক্ষয় কুমার

এই কিছুদিন আগে মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস পৃথিবীর সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া তারকাদের তালিকা প্রকাশ করেছিল, তাতে একমাত্র ভারতীয় হিসেবে নাম ছিল বলিউড অভিনেতা অক্ষয় কুমারের। বছরে কাড়ি কাড়ি অর্থ কামান। অথচ একসময় নাকি এই তারকার পকেটে ২০০ রুপিও ছিল না!

আর মাত্র দুদিন পরেই মুক্তি পেতে চলেছে অক্ষয় কুমার অভিনীত ‘মিশন মঙ্গল’। চলছে জোর প্রচারণা। জীবনে অনেক সংগ্রাম করেছেন এ অভিনেতা। ছবি ফ্লপ হতে দেখেছেন। আবার একের পর এক হিট হতেও দেখেছেন। অক্ষয় সম্প্রতি বললেন, কখনোই আশা হারাননি। মেনে নিয়েছেন সংগ্রাম।

অক্ষয় বলেন, ‘কয়েকটি ঘটনার কথা বলি। বহুবারই এসব ঘটেছে। জীবনের করুণ অধ্যায় দেখেছি। ক্যারিয়ারে তিন থেকে চারবার উত্থান-পতনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছি, একজন অভিনেতার জন্য যেটা অনেক বেশিই।’

অক্ষয় আরো বলেন, ‘কিন্তু প্রত্যেক বারই আমি এগিয়ে গিয়েছি। একটা জিনিস করতাম, আমার বাড়ির নিচে নামতাম এবং দেখতাম আমার কয়টা গাড়ি আছে। তারপর ঘরের দিকে তাকাতাম। মাঝেমধ্যে আমার অফিসে যেতাম, সবকিছু ভালো করে দেখতাম। কেন আছি আমি? কী লাভ তাতে? ভাবতাম, ঈশ্বর অনেক দয়ালু, অনেক কিছু আছে আমার। পৃথিবীতে অনেকের তো কিছুই নেই। যদি উল্টোটা ভাবি তো সবচেয়ে স্বার্থপর মানুষ হব।’

মুম্বাইয়ে যখন অক্ষয় কুমার আসেন, তখন তাঁর পকেটে ২০০ রুপিরও কম ছিল। ‘যখন এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ শুরু করি, তখন পকেটে ২০০ রুপিও থাকত না। আর আজ, আমার অনেক অর্থ,’ যোগ করেন অক্ষয়।

‘প্যাডম্যান’, ‘টয়লেট : এক প্রেম কথা’, ‘গোল্ড’—একের পর এক হিট ছবি দিয়ে চলেছেন অক্ষয় কুমার। সবগুলো ছবিই গত বছর বক্স অফিসে ১৫০ কোটির রুপির বেশি আয় করেছে।

এখন ফোর্বসের ধনী তারকাদের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন অক্ষয় কুমার। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর প্রায় ৪৪৪ কোটি রুপি (৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) আয় করেছেন অক্ষয়।

প্রতি বছরই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি আয় করা ১০০ জন তারকার তালিকা প্রকাশ করে ফোর্বস। সেখানে ৩৩তম স্থানে রয়েছে অক্ষয়ের নাম। ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি সিনেমায় প্রায় ৩৪ কোটি থেকে ৬৮ কোটি রুপি আয় করেছেন তিনি। এর পাশাপাশি প্রায় ২০টি বিজ্ঞাপন সংস্থার সঙ্গে চুক্তি রয়েছে অক্ষয়ের। সেখান থেকেও কোটি কোটি রুপি আয় করেন তিনি। সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে

Thursday, August 8, 2019

রিফাতের পাশাপাশি নয়ন বন্ডের সঙ্গেও শারীরিক সম্পর্ক ছিল মিন্নির -আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী থেকে আসামি হওয়া রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির জামিন শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেছেন, মিন্নি ছিলেন রিফাত শরীফ হত্যার মাস্টারমাইন্ড। স্বামী রিফাত শরীফের পাশাপশি নয়ন বন্ডের সঙ্গেও শারীরিক সম্পর্ক করতেন মিন্নি।

আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে জামিন শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষ এসব কথা বলেন।

আদালতে মিন্নির পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মমতাজ উদ্দিন ফকির শুনানি করেন।

এ সময় মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর ও রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফও উপস্থিত ছিলেন। মিন্নির আবেদনের পক্ষে অর্ধশতাধিক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। এ সময় মামলার শুনানি দেখতে অনেক আইনজীবী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। আদালতের কক্ষে জায়গা সংকটের কারণে নিরাপত্তাকর্মীরা পরিচয় জেনে আদালতে প্রবেশ করান।

শুনানিকালে আদালত কক্ষের বাঁ পাশে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর দোয়া-দুরুদ পড়তে থাকেন। অপরদিকে রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ আদালত কক্ষের ডান পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। 

বিকেল ৩টায় জামিনের শুনানি শুরু হয়। শুনানির শুরুতে মিন্নির আইনজীবী জেড আই খান পান্না আদালতে বলেন, মাই লর্ড, আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি এ মামলার প্রধান সাক্ষী। স্বামী হত্যায় তাঁকে বানানো হলো আসামি। ১৯ বছরের একজন মেয়ে মিন্নি। পুলিশ তাঁকে নির্যাতন করায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। নারী ও অসুস্থ বিবেচনায় জামিন চাই। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৭ ধারা অনুযায়ী নারী, শিশু ও বৃদ্ধা হলে জামিন পাওয়ার বিধান রয়েছে।

জেড আই খান পান্না আদালতে আরো বলেন, আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি নিজের জীবনবাজি রেখেই ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁর স্বামীকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি যদি জড়িত হতেন তাহলে এত জীবনবাজি রেখে স্বামীকে বাঁচানোর চেষ্টা করতেন না। তিনি তো ঘটনাস্থলেই  যেতেন না। 

পুলিশ মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নিজের কাস্টডিতে নিয়ে গ্রেপ্তার দেখাল। এরপর তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করে দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়। পুলিশ রিমান্ডে নেওয়ার ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দেশনা মানা হয়নি। জেলগেট থাকতে তাঁকে পুলিশ লাইনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। একজন ১৯ বছরের তরুণীকে পুলিশ লাইনে নিয়ে পুরুষ পুলিশ দিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং নির্যাতন করা হয়। পুলিশের এ ধরনের জিজ্ঞাসাবাদ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

জেড আই খান পান্না আরো বলেন, বিচারিক আদালতে মিন্নির পক্ষে প্রথম দিন কোনো আইনজীবী ছিলেন না। একজন আইনজীবী নিয়োগ দিলেও তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করেন। এ বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদ প্রচারিত হয়।

এ সময় জেড আই খান পান্না কয়েকটি দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ আদালতে উপস্থাপন করেন।           

জেড আই খান পান্না বলেন, একটি বিশেষ মহলকে বাঁচানোর জন্যই পুলিশ প্রশাসন উঠে পড়ে লেগেছে। মিন্নি যদি জামিন পান তাহলে তিনি পালিয়ে যাবেন না। কিন্তু এ মামলার প্রধান সাক্ষীকে সরিয়ে দিলে মামলার মূল আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাবে। মিন্নিকে আসামি রাখায় মামলার এখন ১২টা বাজানো হয়েছে।

মাই লর্ড, এ মামলার মূল আসামি ছিল চারজন। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের কোনো তৎপরতা ছিল না। অথচ প্রধান সাক্ষীকে নিয়ে পুলিশ নির্যাতন করে মামলার নতুন গল্প সাজিয়েছে। আমরা নারী ও অসুস্থ বিবেচনায় আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির জামিন চাই। এ বিষয়ে সারা দেশের মানুষের সহানুভূতি রয়েছে।

এ সময় মিন্নির পক্ষে অপর আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন শুনানিতে বলেন, দিনে-দুপুরে প্রকাশ্যে ঘটনা ঘটল। দেশবাসী সবার কাছে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে গেছে। অথচ কিছু লোককে রক্ষা করার জন্য মিন্নিকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার ১৮ দিন পর সাক্ষীকে আসামিকে করা হলো। আমরা নারী ও অসুস্থ বিবেচনায় তাঁর জামিন চাই।         

এরপর আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মমতাজ উদ্দিন ফকির জামিনের বিরোধিতা করে বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন।

এ সময় আদালত জানতে চান, আপনি কী বক্তব্য রাখবেন? কী আছে?

জবাবে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মমতাজ উদ্দিন ফকির শুনানিতে বলেন, ভিডিও আছে, আনেক কিছুই আছে। আমি আপনাকে জানাচ্ছি। মিন্নির সঙ্গে নয়ন বন্ডের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। শুধু তাই নয়, রিফাতের আগে মিন্নির সঙ্গে নয়ন বন্ডের বিয়ে হয়। সেই বিয়ে গোপন করেই মিন্নি রিফাতের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। নয়ন বন্ড যখন জেলে থাকে তখন মিন্নি তথ্য গোপন করে রিফাত শরীফকে বিয়ে করেন। সেই কাবিননামা আমাদের কাছে রয়েছে। শুধুই তাই নয়, নয়ন বন্ড জেল থেকে বের হয়ে আসার পর এক সঙ্গে দুটি সম্পর্ক বজায় রাখেন মিন্নি। স্বামীর পাশাপাশি নয়ন বন্ডের সঙ্গেও শারীরিক সম্পর্ক করতেন মিন্নি। কলেজে যাওয়ার নাম করে মিন্নি নয়ন বন্ডের বাসায় গিয়ে মেলামেশা করতেন। এ বিষয়গুলো মিন্নি নিজেই স্বীকার করেছেন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে। রিমান্ড আবেদনে এসব বিষয়ের তথ্য পাওয়া গেছে।

দুজনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখায় এক সময় নয়ন বন্ড ও রিফাতের মধ্যে ঝামেলা তৈরি হয়। পরে মিন্নি ও নয়ন বন্ড মিলে রিফাত শরীফকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। হত্যার উদ্দেশ্যে রিফাতকে কলেজে নিয়ে যান মিন্নি। এরপর তাঁর সামনে রিফাতকে ধরে নিয়ে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে নয়ন বন্ড কোপাতে থাকলে মিন্নি বাঁচানোর অভিনয় করেন। রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার আগে এবং পরে নয়ন বন্ডের সঙ্গে মিন্নির কথোপকথনের রেকর্ড আমাদের কাছে রয়েছে। সেই রেকর্ডে বলা আছে, তাঁরা রিফাত শরীফকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন। মিন্নি ও নয়ন বন্ডের ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জারে কথোপকথনের রেকর্ড আমাদের কাছে রয়েছে।  

মিন্নির পক্ষের আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন আদালতে বলেন, এগুলো তৈরি করা যায়। ভেরিফায়েড কি না, তা দেখতে হবে। এসব তো মামলার মেরিটের অংশ নয়। আপনি মূল জায়গায় আসেন।

তখন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মমতাজ উদ্দিন ফকির বলেন, আপনারা পত্রিকার সংবাদ উপস্থাপন করেছেন। তা কি মামলার নথি? প্লিজ, সাইড টক করবেন না। কোনো কিছু কি জোরপূর্বক আদায় করবেন?

এ সময় আদালত বলেন, কেউ কোনো কিছুই জোরপূর্বক আদায় করতে পারবে না। ফেসবুকের আইডি সঠিক কি না, তার তো সার্টিফায়েড লাগবে।

অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মমতাজ উদ্দিন ফকির বলেন, মাই লর্ড, ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, রিফাত শরীফকে যখন ধরে নিয়ে যায়, তখন মিন্নির আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়েছে। কেননা কলেজের গেটে তিনি একবার এসে আবার ভেতরে যান। আবার ফিরে আসেন। রিফাত শরীফকে যখন মারার জন্য ধরে নিয়ে যাচ্ছে তিনি তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি। যখন কোপানো শুরু করল তখন বাঁচানোর নামে অভিনয় করেছেন। রিফাতকে কোপানোর সময় বাঁচাতে এলো অথচ মিন্নির গাঁয়ে একটু নখের আচড়ও লাগল না। তদন্ত কর্মকর্তার মামলার জব্দ তালিকায় দেখা যায়, মিন্নির জামাকাপড়ে কোনো প্রকার আচড় লাগেনি। ঘটনার আগে পরে বহুবার নয়ন বন্ড এবং মিন্নির সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথোপকথনের রেকর্ড আমাদের কাছে রয়েছে।    

মমতাজ উদ্দিন ফকির বলেন, মিন্নির আইনজীবীরা দাবি করেছেন, মিন্নি অসুস্থ। তিনি যদি অসুস্থ হন তাহলে জেল কোড অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে পারেন। মিন্নি অসুস্থ, কী ধরনের অসুস্থ এ বিষয়ে কোনো ডাক্তারি সার্টিফিকেট দিতে পারেননি। প্রকৃতপক্ষে মিন্নি ছিল রিফাত হত্যার মাস্টারমাইন্ড। মিন্নি নয়ন বন্ডকে বিয়ের তথ্য গোপন করে দুই মাস পর রিফাতকে বিয়ে করেন। বিচারিক আদালত মিন্নির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির স্বীকারোক্তি, নয়ন বন্ডের সঙ্গে বিয়ের কাবিননামা, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ এবং ভিডিও ফুটেজ দেখে জামিন নামঞ্জুর করেন।

এ সময় আসামপিক্ষে আইনজীবী জেড আই খান পান্না বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৭ ধারা অনুযায়ী নারীদের জন্য জামিনের ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনার বিধান রয়েছে। এ যুক্তিতে তাঁকে জামিন দেওয়া যায়।

অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মমতাজ উদ্দিন ফকির বলেন, আইনে থাকলে বাধা নেই। সেক্ষেত্রে রিজনেবল যুক্তি থাকতে  হবে।

এ সময় মিন্নির আইনজীবী জেড আই খান পান্না বলেন, পুলিশ কী বলল, সেটা দিয়ে তো এখানে বিচার হবে না। পাবলিক কী বলে সেটা এখানে বিবেচনায় নিতে হবে।

তখন আদালত বলেন, আপনাদের কাছে ১৬৪ ধারায় নেওয়া জবানবন্দি আছে?

জেড আই খান পান্না বলেন, অভিযোগ গঠনের আগে পুলিশ এটা আমাদের দিচ্ছে না। সেটা আমাদের কাছে নেই।

এ সময় আদালত বলেন, ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি আইনের ৪৯৭ ধারা এখন আমাদের দেশের সামাজিক অবস্থার আলোকে প্রযোজ্য হবে না। ১৬৪ ধারায় নেওয়া জবানবন্দি দিতে পারলে আমরা সেক্ষেত্রে জামিনের রুলের বিষয়ে বিবেচনা করব। আপনারা কি আদেশ  নেবেন নাকি ফেরত নিবেন?

মিন্নির আইনজীবী জেড আই খান পান্না বলেন, আমরা ফেরত নেব।

এরপর আদালত মিন্নির জামিন আবেদন ফেরত দেন।

পরে জেড আই খান পান্না সাংবাদিকদের বলেন, আমরা মর্মাহত। এখন অন্য কোনো বেঞ্চে আবেদনটি নিয়ে যাব।

শুনানির পর মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, আমার মেয়ে পুলিশ প্রশাসনের হয়রানির শিকার। স্থানীয় একজন নেতার কারণে প্রশাসন মিন্নিকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। দেশবাসীর উদ্দেশে বলব, আমরা ষড়যন্ত্রের শিকার। ন্যায়বিচার চাই।           

এর আগে গত ৫ আগস্ট মিন্নির জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়।

গত ৩০ জুলাই মিন্নির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালত।

এর আগে ২২ জুলাই বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে প্রথমবার মিন্নির জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী মো. মাহবুবুল বারী আসলাম। ওই দিনই শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী মিন্নির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

এরপর গত ২৩ জুলাই ‘মিস কেস’ দাখিল করে বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আসাদুজ্জামানের আদালতে ফের জামিনের আবেদন করেন মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম। পরে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের নথি তলব করে  ৩০ জুলাই জামিন শুনানির দিন ধার্য করেন ।

সেদিন তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে উভয়পক্ষের শুনানি চলতে থাকে। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেন আদালত। তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির আদালতে উপস্থিত হলে এ হত্যাকাণ্ডে মিন্নির সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য জানতে চাওয়া হয়। সবার উপস্থিতিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ল্যাপটপে হত্যাকাণ্ডের আগের ও পরের ভিডিও ফুটেজ দেখান। এ ছাড়া মিন্নির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিসহ হত্যার আগে ও পরে প্রধান আসামি নয়ন বন্ডসহ অন্যান্য আসামির সঙ্গে মিন্নির কললিস্টের তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেন। শুনানি শেষে মিন্নির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন জেলা ও দায়রা জজ আদালত।

গত ২৬ জুন বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে নিয়ে বরগুনা সরকারি কলেজ থেকে ফেরার পথে নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজীসহ একদল যুবক রিফাত শরীফের ওপর হামলা চালায়। তারা ধারালো দা দিয়ে রিফাত শরীফকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এ সময় মিন্নি হামলাকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন; কিন্তু তাদের থামানো যায়নি। খুনিরা রিফাত শরীফকে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে চলে যায়। পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রিফাতের মৃত্যু হয়। এ হত্যার ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ পরের দিন সকালে ১২ জনকে আসামি করে বরগুনা সদর থানায় মামলা করেন। মিন্নি ছিলেন সেই মামলার এক নম্বর সাক্ষী। পরে ১৬ জুলাই রাতে এ মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।

Thursday, June 20, 2019

কৃষকের ঘরে জন্ম, আদালতে শেষ

মাত্র এক বছর ক্ষমতায় ছিলেন মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি। তিনি মিসরের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম ও একমাত্র প্রেসিডেন্ট। সামরিক বাহিনী তাঁকে উৎখাত করে।
সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ‘আরব বসন্তে’র মুখে ২০১২ সালে যে নির্বাচন হয়েছিল তাঁর মাধ্যমে মিসরের প্রেসিডেন্ট হন মুরসি। ২০১৩ সালের ৩ জুলাই মিসরের সেনাবাহিনী তাঁকে উৎখাত করে।
আরব বসন্তের মুখেই পদত্যাগ করেছিলেন হোসনি মোবারক। ২০১৩ সালে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে সামরিক বাহিনী প্রেসিডেন্ট মুরসিকে সংকট সমাধানে আলটিমেটাম দিলে, মুরসি তা মানতে অস্বীকার করেন। এরপর সামরিক বাহিনী এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাঁকে উৎখাত করে।
ক্ষমতাচ্যুতির চার মাস পর, মুসলিম ব্রাদারহুড আন্দোলনের আরো ১৪ জন ঊর্ধ্বতন নেতার সঙ্গে মোহাম্মদ মুরসির বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। অভিযোগ আনা হয় এক সাংবাদিক ও দুজন সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারী হত্যার।
বিচারের প্রথম দিনে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে মুরসি বলেন, ‘আমি সেনা অভ্যুত্থানের শিকার এবং আমার বিচার করার বৈধতা এ আদালতের নেই।’
পরে হত্যার অভিযোগ থেকে মুরসিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়, কিন্তু বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তার ও দমনের অভিযোগে তাঁকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে মুরসির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনা হয় এবং তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। যদিও পরে সে রায় বাতিল করা হয়।
গত মঙ্গলবার আদালতে বিচারাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ওই সময় গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তাঁর বিচার চলছিল।
নেতা মুরসির উত্থানপর্ব
১৯৫১ সালে আল-আদওয়াহ গ্রামে কৃষক বাবার ঘরে জন্ম নেন মুরসি। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে জ্যেষ্ঠ মুরসি গত শতকের ৭০-এর দশকে কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকৌশল বিষয়ে স্নাতক করেন। পরে পিএইচডি করতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান।
মিসরে ফিরে এসে তিনি জাগাজিগ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান হন।
এক সময় মুসলিম ব্রাদারহুড আন্দোলনে যোগ দেন তিনি এবং ক্রমে নেতৃত্বে আসেন।
২০০০ সাল থেকে ২০০৫ পর্যন্ত এ সংগঠনের পক্ষ থেকে দেশটির পার্লামেন্টে স্বতন্ত্র সদস্য ছিলেন।
নির্বাচনী প্রচারণায় মুরসি নিজেকে হোসনি মোবারকের সমর্থকদের পুনরুত্থানের বিরুদ্ধে একমাত্র কার্যকর বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হন। নির্বাচনে অল্প ব্যবধানে জিতে ২০১২ সালের জুনে মিসরের রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন তিনি। দেশটির অর্থনীতি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় ঘাটতি, বেকারত্ব, অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের দাবিতে শুরু হয় গণবিক্ষোভ।
এর পরই তার সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়, যাতে ৫০ জনের বেশি মানুষ মারা যায়। ২০১৩ সালের ৩ জুলাই মুরসির ক্ষমতা গ্রহণের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশটিতে যেদিন আনন্দ মিছিলের কর্মসূচি দেয়, সেই দিন লাখ লাখ মানুষ গণবিক্ষোভে যোগ দেয়।
ফের ক্ষমতার মসনদে সেনাবাহিনী
মুরসিকে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে ৩ জুলাই সন্ধ্যায় সেনাবাহিনী সংবিধান স্থগিত করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ঘোষণা দেয়। পরবর্তী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত ওই সরকার দায়িত্ব পালন করবে বলে বলা হয়। সেনাবাহিনীর এ পদক্ষেপকে 'অভ্যুত্থান' বলে নিন্দা জানান মুরসি।
সামরিক বাহিনীর প্রধান এবং নতুন প্রেসিডেন্ট আব্দুল ফাত্তাহ আল সিসি মুরসিকে গ্রেপ্তারের আদেশ দেন। তাঁকে গ্রেপ্তার করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
এরপর মুরসির মুক্তি এবং তাঁকে অবিলম্বে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে কায়রোর রাস্তায় নেমে আসেন তার দলের সমর্থকরা। জবাবে দুটি বিক্ষোভ পণ্ড করে দিয়ে মুসলিম ব্রাদারহুডের কয়েকজন শীর্ষ নেতৃত্বকে গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনী।
মুরসির উৎখাতের পর দেশটিতে ইসলামপন্থীদের হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পায় এবং মুসলিম ব্রাদারহুডকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে তাদের ওপর চালানো হয় ব্যাপক নিপীড়ন, এবং ফল হিসেবে হাজার হাজার ব্রাদারহুড কর্মী গ্রেপ্তার বা নিহত হন। অনেকে কাতার এবং তুরস্কে পালিয়ে যান।
এরপর মুরসি লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যান, মাঝেমধ্যে মামলার হাজিরা দিতে তাঁকে আদালতে আনা হলেও কেবল তাঁর দেখা মিলত। এমনই এক শুনানি চলাকালে গতকাল সোমবার কায়রোর আদালতে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে অজ্ঞান হয়ে মারা যান মুসলিম ব্রাদারহুড নেতা মোহাম্মদ মুরসি।

Wednesday, June 19, 2019

পুনরায় নির্বাচনে লড়াইয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ট্রাম্পের

পুনরায় নির্বাচন করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আরো চার বছরের জন্য তাঁকে নির্বাচিত করতে সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে লাখো সমর্থকের জনসভায় নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে নিজের যুক্তি তুলে ধরেন ট্রাম্প। এ সময় তিনি ফ্লোরিডাকে নিজের ‘সেকেন্ড হোম’ বলেও উল্লেখ করেন।
নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে প্রতিপক্ষ ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ডেমোক্র্যাটদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা তো নিজের দেশকেই ছিন্নভিন্ন করছেন।’
গত নির্বাচনে ট্রাম্পের নির্বাচনী স্লোগান ছিল ‘আমেরিকাকে আবারও মহান করে তুলুন’। সেই স্লোগানের রেশ ধরে ট্রাম্প গতকাল মঙ্গলবার রাতে অরল্যান্ডোর জনসভায় বলেন, ‘আমরা আমেরিকাকে আবারও মহান করব।’
গত নির্বাচনের সময় নিজের প্রথম নির্বাচনী জনসভার কথা স্মরণ করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে একটি ভেঙে পড়া রাজনৈতিক অবস্থানকে পুনরুজ্জীবিত করে জনগণের নির্বাচিত এবং জনগণের জন্য সরকারকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছি।’
ট্রাম্প আরো বলেন, ‘যত দিন আপনারা এই সরকারকে ক্ষমতায় রাখবেন, আমরা তরতর করে সামনে এগিয়ে যাব। এর আগে কখনোই আমরা সামনে এমন উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখিনি।’  
পুনরায় নির্বাচন করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ঠিক আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দেশে অবৈধভাবে বসবাসরত লাখো মানুষকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন। ডেমোক্র্যাটরা অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ করার পাঁয়তারা করছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
নির্বাচনী ঘোষণার ঠিক একদিন আগে ট্রাম্প টুইট করে জানান, যুক্তরাষ্ট্রে অনুপ্রবেশ করা ‘লাখো অবৈধ এলিয়েনকে (ভিন গ্রহের প্রাণী)’ বিতাড়িত করার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে ট্রাম্পের টুইটের ব্যাখ্যায় জানান, এ কার্যক্রমে ১০ লাখের অধিক মানুষের ওপর নজর দেওয়া হবে। তাঁদের বিষয়ে ফেডারেল আদালত চূড়ান্ত বিতাড়ন আদেশ দিয়েছেন, কিন্তু তাঁরা দেশে অবাধে রয়ে গেছেন।
অভিযান চালানোর আগে যুক্তরাষ্ট্রে তা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঘোষণা দেওয়া অস্বাভাবিক ঘটনা। ট্রাম্প প্রশাসনের কেউ কেউ মনে করেন, গণগ্রেপ্তারের মতো শক্তি প্রদর্শন করা হলে তা যুক্তরাষ্ট্রে আসতে চাওয়া অবৈধ অভিবাসীদের বার্তা দেবে।
সোমবার মেক্সিকোর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, তিন সপ্তাহ আগে প্রতিদিন প্রায় চার হাজার ২০০ অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে জড়ো হতেন। এখন তা কমে প্রায় দুই হাজার ৬০০ হয়েছে।
বর্তমানে কতটা গ্রহণযোগ্য ট্রাম্প?
মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্যালাপের জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে ট্রাম্পের গ্রহণযোগ্যতার মাত্রা কখনোই ৪৬ শতাংশের ওপরে উঠেনি। আর গত মাসে সেটি নেমে গেছে ৪০ শতাংশে।
অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নির্বাচনী জরিপ সংস্থা রাসমুসেনের জরিপ অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে ট্রাম্পের গ্রহণযোগ্যতার মাত্রা ৪৮ শতাংশ।
তবে পুনরায় প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে ডেমোক্রেটিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে বেশ পিছিয়ে আছেন ট্রাম্প। ডোনাল্ড ট্রাম্পের পছন্দের গণমাধ্যম হিসেবে পরিচিত ফক্স নিউজের একটি জরিপ অনুযায়ী, জো বাইডেন ও বার্নি স্যান্ডার্সের চেয়ে যথাক্রমে ১০ ও ৯ শতাংশ পিছিয়ে আছেন ট্রাম্প।
অবশ্য ট্রাম্প দাবি করছেন, ১৭টি ‘সুইং স্টেটে’ এগিয়ে আছেন তিনি।
এদিকে শোনা গেছে, আগামী বছরের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে হারছেন—এমন তথ্য ফাঁস হওয়ায় নির্বাচনী প্রচারের সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজন ভাড়াটে প্রচারকারীকে বরখাস্ত করেছেন ট্রাম্প।

Monday, June 10, 2019

বাবা-চাচাদের ফাঁসির দাবিতে রাজপথে দুই শিশু by এ বি এম ফজলুর রহমান

বাবা ও চাচাদের ফাঁসির দাবিতে রোববার পাবনা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে মাহমুদা আক্তার মীমের দুই সন্তান আল মাহিম ও মুন্তাহাসহ এলাকাবাসী। ছবি : এনটিভি
মা মাহমুদা আক্তার মীমকে হত্যার অভিযোগে বাবা পিন্টু মিয়ার ফাঁসির দাবিতে রাজপথে নেমেছে দুই সন্তান। রোববার দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাবের সামনে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে মীমের দুই সন্তান আল মাহিম (৮) ও মুন্তাহা (৩) অন্যদের সঙ্গে তার মায়ের হত্যাকারী পিন্টু মিয়ার বিচারের দাবিতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অংশ নেয়।
মাহিম ও মুন্তাহার অংশগ্রহণের বিষয়টি শহরের সবার দৃষ্টি কাড়ে। একপর্যায়ে তারা স্মারকলিপি পেশ করার জন্য পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের কাছেও যায়। ওই মানববন্ধনে এলাকাবাসী, মানবাধিকার কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধন চলাকালে বক্তারা ঘটনার ১৮ দিন পরেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন আতাইকুলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান খন্দকার মোহাম্মদ আতিয়ার হোসেন, পাবনা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি কামাল আহমেদ সিদ্দিকী, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ পাবনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুন্নাহার জলি, সেলিম নাজির স্কুলের প্রধান শিক্ষক হাসিনা আক্তার রোজি, লতিফ গ্রুপের পরিচালক মাহবুব আলী খান বাবলু, আলহাজ আবদুল বাতেন খান, নিহত মীমের ছেলে মাহিম প্রমুখ।
মানববন্ধন শেষে পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম ও জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিনের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পাবনা সদর উপজেলার আতাইকুলা ইউনিয়নের দড়িসারদিয়ার গ্রামের আব্দুল মমিনের মেয়ে মাহমুদা আক্তার মীমের প্রায় ১০ বছর আগে বিয়ে হয় একই উপজেলার রাজাইমন্ডল গ্রামের সগির প্রামানিকের ছেলে গ্রাম্য চিকিৎসক পিন্টু মিয়ার সঙ্গে। বিয়ের পর আব্দুল্লাহ আল মাহিম (৮) ও মুন্তাহা (৩) নামে তাদের দুটি সন্তান জন্ম নেয়। বিয়ের সময় দেড় লাখ টাকা যৌতুক দেওয়া হলেও স্বামী পিন্টু মিয়া প্রায়ই যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন। এরই একপর্যায়ে গত ২১ মে রাত ২টার দিকে পিন্টু মিয়া ও তাঁর চার ভাই এবং এক ভাগ্নে মিলে মীমকে বেদম মারপিট করে রক্তাক্ত করে। একপর্যায়ে তারা গামছা দিয়ে গলায় ফাঁসি দিয়ে মীমকে হত্যার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে মীমের বাড়ির লোকজন অচেতন অবস্থায় প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে রাজশাহীর পপুলার হাসপাতালের আইসিইউতে এবং সর্বশেষ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করে।
দীর্ঘ ১৭ দিন অসহ্য যন্ত্রণার ভোগের পর শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে মারা যান গৃহবধূ মাহমুদা আক্তার মীম।
এ ঘটনায় মীমের ভাই মেহেদী হাসান বাদী হয়ে পিন্টু মিয়াকে প্রধান এবং তাঁর চার ভাই রেজাউল করিম, দোলোয়ার হোসেন, মিজানুর রহমান ও মিলন হোসেন এবং ভাগ্নে শাকিল হোসেনকে আসামি করে আতাইকুলা থানায় মামলা করে। কিন্তু পুলিশ কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
এ ব্যাপারে পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করেছে। আসামিরা কোনোমতেই পালিয়ে বাঁচতে পারবে না।
পাবনা সদর উপজেলার রাজাইমন্ডল গ্রামের পিন্টু মিয়া ও তাঁর স্ত্রী আতাইকুলা ইউনিয়নের দড়িসারদিয়ার গ্রামের মাহমুদা আক্তার মীম। ছবি : সংগৃহীত

তৃণমূল-বিজেপির নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় চারজন খুন

ভারতে লোকসভা ভোট শেষ হলেও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে এখনো থামেনি ভোট-পরবর্তী সহিংসতা। সবশেষ গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাটের সন্দেশখালি ব্লকের হাটগাছা পঞ্চায়েতের ভাঙ্গিপাড়ায় তৃণমূল ও বিজেপি সংঘর্ষের সময় চারজন নিহত হয়েছেন।
ঘটনার জন্য দুই দলের পক্ষ থেকেই একে অপরকে দায়ী করা হয়েছে। দলের একাধিক কর্মী নিখোঁজ আছে বলেও দল দুটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ওই এলাকায়। রাতভর পুলিশ ও র‍্যাফের টহলদারি চলেছে গোটা এলাকাজুড়ে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শনিবার  সন্ধ্যা ৬টার দিকে বসিরহাটের ন্যাজাট থানার হাটগাছা পঞ্চায়েতের ভাঙ্গিপাড়ায় সভা ও পরবর্তীতে মিছিলের আয়োজন করে তৃণমূল কংগ্রেস। সেখানে সভা শেষে মিছিল শুরু হতেই বেপরোয়া গুলি চালানো শুরু হয়।
এ সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই কাইয়ুম মোল্লা (২৪) নামের এক যুবক নিহত হন। তৃণমূল এই ঘটনার জন্য বিজেপিকে দায়ী করেছে। দলটি দাবি করেছে, কাইয়ুম তাদের দলের কর্মী। তাঁকে গুলি করে ও ভূজালি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এর পরই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।
অন্যদিকে বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের দুষ্কৃতকারীরাই এলাকায় তাণ্ডব চালায়। এলাকায় তাদের কর্মীদের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। পাশাপাশি বিজেপির কর্মীদের ওপর গুলি ও বোমা হামলা হয়েছে বলেও দাবি করেছে দলটি। বিজেপির দাবি, এই ঘটনায় তাদের তিনজন কর্মী মারা গেছেন।
বসিরহাট কেন্দ্রে এবারের লোকসভা ভোটে বিজেপির প্রার্থী সায়ন্তন বসু বলেন, ‘আমাদের বিজেপির কর্মী তপন মণ্ডল, সুকান্ত মণ্ডল ও প্রদীপ মণ্ডল নিহত হয়েছেন। ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ।’
বিজেপির দাবি, তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এদিন বিকেলে বিজেপির পতাকা খুলে নিচ্ছিল। তাতে বাধা দিতে গেলেই দুষ্কৃতকারীরা গুলি চালায়।
অন্যদিকে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূলের সভাপতি ও রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক দাবি করেন, ‘আমাদের মিছিলে হামলা চালায় বিজেপির সাত-আটজন দুষ্কৃতকারী। দলীয় কর্মী কাইয়ুম মোল্লার মাথায় গুলি করে ও কোপায়। তৃণমূলের মোট ১৮ জন নেতাকর্মী এই ঘটনায় আহত হয়েছেন। দুষ্কৃতকারীদের সবার মাথায় গেরুয়া ফেট্টি বাঁধা ছিল।’
তবে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে বিজেপির বসিরহাটের সভাপতি গণেশ ঘোষ বলেন, ‘দলের তিনজনের মৃতদেহ স্থানীয় একটি পুকুরের কাঁদা থেকে তোলা হয়েছে। এখনো দুজনের খোঁজ পাওয়া যায়নি। আহত হয়েছেন বিজেপির প্রায় ১৫ জন।’
গোটা ঘটনায় ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন রাজ্য বিজেপির নেতা মুকুল রায়। বিজেপির দাবি, পশ্চিমবঙ্গে হিংসা ছড়াচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।