Sunday, October 14, 2018
যেমন করে জৌলুস হারান পতিতারা

তাহলোÑ ১. বাচ্চাটিকে রেখে দেয়া না হয় ২. কোনোদিন দেশে ফিরে পরিবারের সঙ্গে একদিন মিলিত হবেন এমন আশা নিয়ে ঝুলে থাকা। তবে বেশির ভাগ যুবতী তার বাচ্চাকে আঁকড়ে থাকাকেই বেছে নেন।
অন্তঃসত্ত্বা হওয়া সত্ত্বেও নাদেজে দেহ ব্যবসা চালিয়ে যেতে থাকেন। তবে তা বেশিদিন পারেন নি। শরীর তার সহায় ছিল না। এক পর্যায়ে তার ‘ম্যাডাম’কে অর্থ দেয়া বন্ধ করে দেন। নাদেজে বলেন, আমি কঠিন এক সময় পাড় করছিলাম। আমার সামনে ছিল মৃত্যু না হয় মনে হচ্ছিল পাগল হয়ে যাবো। কখনো ভাবছিলাম আমার কি আবার রাস্তায় ফিরে যাওয়া উচিত? আবারও পুরনো পেশার কাজ করে যাওয়া উচিত? বাচ্চাটাকে কি গর্ভপাত করিয়ে ফেলে দেয়া উচিত?
কিন্তু সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন নাদেজে। তিনি ওই চক্রের হাত থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন। ফ্রান্সে এখনও এ নেটওয়ার্কের দেহব্যবসা টিকে আছে। একজন আইনজীবির সহায়তায় নাদেজে আশ্রয় পেয়েছেন ফ্রান্সে। যদি তার মতো কোনো নারী প্রমাণ করতে পারেন যে, তাকে পাচার করে নেয়া হয়েছে, তাদেরকে নির্যাতন করা হচ্ছে বা হয়েছে, এখন তারা যৌন ব্যবসার ওই চক্র থেকে ফিরে এসেছেন, তাহলে এমন নারীকে ফ্রান্সে আশ্রয় দেয়া হয়।
ওদিকে নাইজেরিয়ায় নাদেজের পরিবারকে প্রতিদিনই হুমকি দেয়া হচ্ছে। তাই তিনি আর কখনো দেশে ফেরার কথা ভাবেন না। নাদেজে ফ্রান্সে অবস্থান সম্পর্কে বলেন, এটাই আমার কাছে এখন একমাত্র নিরাপদ স্থান। ওই চক্র থেকে বেরিয়ে আসা আমার জীবনের সর্বোৎকৃষ্ট সিদ্ধান্ত।
কিন্তু নাদেজের মনের ভিতর বড় একটি ক্ষত রয়ে গেছে। তিনি বলেন, এখন আমি আর সুন্দরী নই। আমার যেটুকু জৌলুস তা কেড়ে নেয়া হয়েছে। আমি তো বলেছি, মাত্র ১৫ বছর বয়সে ধর্ষণ করা হয়েছে আমাকে। আর ভাবুন ইউরোপে এসে প্রতি রাতে ১০ জন পুরুষের মনোরঞ্জনের কথা! এভাবে একজন নারীর কি বেঁচে থাকার কথা।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, ১৯৮০র দশকের শেষের দিকে নাইজেরিয়ার নারীদেরকে দেহব্যবসার জন্য পাচার শুরু হয়। তাদেরকে পাচার করে পাঠানো হতে থাকে ইতালিতে। একবার সেখানে পৌঁছার পর তাদেরকে জোর করে দেহব্যবসা করতে বাধ্য করা হয়। এরপর তারা যখন দেশে ফিরে যান, সেখানে গিয়েই তারা প্রথম প্রজন্মের ম্যাডাম হয়ে ওঠেন। পর্যায়ক্রমে তারা অন্য যুবতীদেরকে একই পথে প্রলুব্ধ করেন এবং একবার দেশের বাইরে পাঠাতে পারলে তাদেরকে দিয়ে দেহব্যবসা করতে বাধ্য করেন।
আউক্স ক্যাপটিফস, লা লিবারেশন নামের একটি এনজিওর সঙ্গে কাজ করেন আউরেলি জঁনার্ড। তারা কাজ করেন বোইস ডি ভিন্সনেস ও প্যারিসের অন্যান্য স্থানের পতিতাদের নিয়ে। তাদেরকে নানাভাবে সহায়তা দিয়ে থাকে এ এনজিও। এ বিষয়ে আউরেলি জঁনার্ড বলেছেন, এই দেহব্যবসার নেটওয়ার্কে জড়িত রয়েছে পুরুষরাও। প্যারিসভিত্তিক এমনই একটি নেটওয়ার্ক অথেনটিক সিস্টারস-এর প্রধান হ্যাপি আয়েনোমা ওরফে মামা অ্যালিসিয়াকে তার স্বামী হিলারির সঙ্গে মে মাসে জেল দেয়া হয়। তাদের দু’জনকেই ১০ বছর জেল দেয়া হয়েছে। অভিযোগ, তারা মানব পাচারের সঙ্গে যুক্ত। তাদের নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ছিল ১৫ জন। এই চক্রটি প্রায় ৫০ জন যুবতীকে পাচার করেছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কৌশল পাল্টিয়ে ফের সক্রিয় প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্র by শুভ্র দেব

পরীক্ষা শেষে দেখা যায় মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হাতে লেখা প্রশ্নপত্রের হুবহু মিল রয়েছে।
একই প্রশ্ন সকাল ৯টার দিকে বিভিন্ন মাধ্যমেও ছড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে গত বছরও ঢাবির ভর্তি পরীক্ষার ‘ঘ’ ইউনিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছিলো।
ধারাবাহিকভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর গত বছর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতায় গা-ঢাকা দিয়েছিলো বিভিন্ন চক্রের মূলহোতারা। সাধারণ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে বেশ স্বস্তি ফিরেছিলো। অতীতের অভিজ্ঞতা সুখকর না হওয়াতে এবছর আগাম সতর্ক ছিল প্রশাসন। সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে মনিটরিংসহ, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের নজরদারিতে রাখা হয়েছিলো। প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রকে ধরার জন্য গোয়েন্দা জাল তৈরি করা হয়েছিলো। এসব কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গত এক সপ্তাহে অন্তত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু এত কিছুর পরও রোধ করা যায়নি প্রশ্নপত্র ফাঁস।
গোয়েন্দাসূত্র বলছে, প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সদস্যরা নিত্য নতুন কৌশলে সক্রিয় হয়েছে। চেষ্টা চালাচ্ছে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের প্রশ্নপত্র ফাঁস করার। একদিকে যেমন প্রশ্ন সংগ্রহের কাজ করছে অন্যদিকে প্রশ্ন বিক্রি করার জন্য নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন কৌশলে জানান দিচ্ছে তাদের অবস্থান ও তৎপরতা। লোভনীয় টোপ ফেলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের টার্গেট করছে। ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশকিছু গ্রুপ তৈরি করে সদস্য সংগ্রহ করছে তারা। তাদের টার্গেট চলমান বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা। তবে মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় এবার প্রশ্ন ফাঁসের খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সদস্যদের পাশাপাশি তৎপরতা বেড়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পাশাপাশি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) কাজ করছে। সিআইডি’র অর্গানাইজড ক্রাইম বুধবার ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে।
তারা হলেন, পিরোজপুর ভাণ্ডারিয়ার কালাম গাজীর ছেলে কাউসার গাজী (১৯), চাঁদপুর মতলবের জাকির হোসেনের ছেলে সোহেল মিয়া (২১), মাদারীপুর কালকিনির হাসানুর রশীদের ছেলে তারিকুল ইসলাম শোভন (১৯), নওগাঁ পত্নীতলার আলমের ছেলে রুবাইয়াত তানভীর (আদিত্য), টাঙ্গাইল কালিহাতীর আনসার আলীর ছেলে মাসুদুর রহমান ইমন। চক্রের মাস্টারমাইন্ড কাউসার গাজীকে গ্রেপ্তারের পর সে সিআইডিকে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারির কারণে তারা আগের মতো প্রশ্নপত্র ফাঁস করতে পারছে না। তাই ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে প্রশ্নপত্র পাওয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে থাকে। এভাবে তাদের গ্রুপে সদস্য সংগ্রহের কাজও করতো। কাউসার গাজীকে এ কাজে সহযোগিতা করতো তার বন্ধু সোহেল মিয়া। সে অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ভুয়া বিকাশ একাউন্ট খোলে টাকা লেনদেন করতো। তারা সিআইডিকে জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের কাজ করে আসছে।
সিআইডি’র বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের নজরদারির কারণে প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্র এখন আর আগের মতো প্রশ্নপত্র পাচ্ছে না। তাই তারা কৌশলে এখন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সঙ্গে প্রতারণা শুরু করেছে। বিভিন্ন সাজেশন বই ও বিগত বছরের প্রশ্ন থেকে তারা একটি ভুয়া প্রশ্ন তৈরি করে প্রচার করছে। আমরা এ ধরনের একটি গ্রুপকে শনাক্ত করে আটক করেছি। তদন্ত করে আমরা দেখতে পেরেছি ওই গ্রুপে আরো অনেকেই সক্রিয় আছে। তাদেরকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এর আগে গত ৫ই অক্টোবর র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১০) মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সরবরাহ ও গ্রহণ করার অভিযোগে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছিলো। তারা হলেন, মহিদুল করিম লিমন (২৬), মো. সারওয়ার হোসেন ওরফে বিপ্লব (২৯), সাদ্দাম হোসেন (২৫), মো. মাসুদ (৩০), উজ্জ্বল রবি দাস (২৩), মো. রিফাত সরকার (১৯), মো. ফয়সাল আহমেদ (১৮), মো. মুস্তাকিন ফুয়াদ (১৯), আবু সাঈদ (১৮), ইশা আলম (২১) ও মো. তারেক হাসান (১৯)। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের ১ কোটি ২৪ লাখ টাকার চেক, মেডিকেল কলেজ ভর্তি পরীক্ষা ২০১৮-১৯ সেশনের পরীক্ষার্থীদের ৯১টি এডমিট কার্ড, ৫ সেট ভুয়া প্রশ্নপত্র, ১৬টি মোবাইল ফোন ও ১টি ল্যাপটপ উদ্ধার করে। র্যাব সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে চক্রের সদস্যরা স্বীকার করেছে তারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। তারা আগে থেকে বিভিন্ন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করতে পারবে বলে বিশ্বাস স্থাপন করে। যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে তারা ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটস অ্যাপস, ভাইভার, ইমো ব্যবহার করতো। লেনদেন করতো বিকাশ ও রকেটে। র্যাব এই চক্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারের পর র্যাব জানতে পেরেছে তারা রাজধানীর বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের সঙ্গে জড়িত।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা সংস্থা (ডিবি) উত্তরের উপ- কমিশনার মশিউর রহমান মানবজমিনকে বলেন, গত বছর ধারাবাহিকভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়াতে আমরা বেশ কয়েকটি চক্রকে গ্রেপ্তার করেছিলাম। কিন্তু আমাদের কাজের সফলতা নাই। কারণ এসব চক্রের সদস্যরা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে জামিনে বের হয়ে ফের এই কাজ শুরু করে। তিনি বলেন, এ বছরও আমরা এসব চক্রের সদস্যদের নজরদারিতে রেখেছি।
এদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি ও ক্রাইম ইউনিট প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মনিটরিং অব্যাহত রেখেছেন। যে সকল গ্রুপ সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে তৎপরতা চালাচ্ছে বিশেষ প্রযুক্তি দিয়ে তাদের গতিবিধি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। পরীক্ষা হলগুলোতে ম্যাগনেট, অপ্টিক ও ফ্রিকোয়েন্সি ডিটেক্টর বসানো হচ্ছে। যাতে হলে গিয়েও কেউ বিশেষ ডিভাইস দিয়ে জালিয়াতি করতে না পারে।
পাশাপাশি সাইবার সিকিউরিটি ও ক্রাইম ইউনিটের ফেসবুক পেজে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতনতার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। সাইবার ইউনিট সূত্র বলছে, সচেতনতার জন্য তারা জানানোর চেষ্টা করছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা জনপ্রিয় চ্যাট ইঞ্জিনগুলোর পাবলিক বা ক্লোজড গ্রুপে যারা প্রশ্ন সরবারহ করবে বলে চটকদার বিজ্ঞাপন দিচ্ছে সেগুলো ভুয়া। ইতিমধ্যে সেই ভুয়া এন্টিটি বা কন্টেন্টগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসব কাজে জড়িত অন্তত ২০টি গ্রুপকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হয়েছে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাজধানীতে ১১ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৯২৮: পরিস্থিতি ভয়াবহ by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

সেপ্টেম্বর মাসেই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৪ জন। শিশু হাসপাতালে গত মাস পর্যন্ত পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তে রেকর্ড অতিক্রম করেছে এবার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের তথ্যানুসারে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। তথ্যানুসারে চলতি মৌসুমে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৭ হাজার ছাড়িয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী আগস্ট মাসে আক্রান্ত ১৭শ’ ৯৬ জন এবং মারা গেছেন ৬ জন, জুলাই মাসে আক্রান্ত ৯৪৬ জন এবং মারা গেছেন ৪ জন, জুন মাসে ২৯৫ জন আক্রান্ত এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৩ জন। মে মাসে আক্রান্ত ৫২ জন, এপ্রিলে ১৫ জন, মার্চে ৫ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৭ জন এবং জানুয়ারিতে ২৬ জন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ২২৪ জন।
এর মধ্যে ধানমন্ডির সেন্ট্রাল হাসপাতালে ৩৩ জন, ইসলামি ব্যাংক হাসপাতালে ২০ জন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ৩৬ জন, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল (মিটফোর্ড) ৩১ জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ৩১ জন, পুরান ঢাকার সালাহউদ্দিন হাসপাতালে ১৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ ডা. আয়েশা আক্তার বলেন, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তে এবার রেকর্ড ছাড়িয়েছে। এবার সর্বোচ্চ আক্রান্ত হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী মাসের পর থেকে শীত চলে এলে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমে আসবে। ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধে মানুষকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কারণ খুঁজতে গিয়ে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে জরিপ চালিয়ে দেখতে পেয়েছে, উত্তরে ৬৬ শতাংশ এলাকার ৯৮ শতাংশ বাসাবাড়িতে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননবান্ধব পরিবেশ রয়েছে। দক্ষিণে ৬১ শতাংশ এলাকার ৯৩ শতাংশ বাসাবাড়ির একই অবস্থা। এসব বাসাবাড়িতে এডিস মশার ঘাঁটি অর্থাৎ প্রজননস্তরের লার্ভা-পিউপা পাওয়া গেছে। এ ক্ষেত্রে নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদ, পানির ট্যাংক, পরিত্যক্ত পরিবহন, টায়ার, প্লাস্টিক ড্রাম, বালতি, মগ, ফুলের টব, রঙের কৌটা ইত্যাদি কারণে এডিস মশার বংশবিস্তার বেশি দেখা যায়। দুই অংশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক এলাকা, বিভিন্ন ধরনের সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের এলাকাও ডেঙ্গু বিস্তারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। সূত্র জানায়, এই কন্ট্রোল রুমে ঢাকার হাসপাতাল বা সব প্রাইভেট চিকিৎসকদের চেম্বারে চিকিৎসা নিতে আসা ডেঙ্গু রোগীর তথ্য আসে না, সারা দেশ থেকে শুধু ২২ থেকে ২৩টি হাসপাতাল যে তথ্য পাঠায় তা-ই সংরক্ষণ করা হয়। ফলে বেসরকারি পর্যায় থেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা বাস্তবে আরো অনেক বেশি বলে দাবি করা হয়।
এদিকে, সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ঢাকার শিশু হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ৩শ’ শিশু রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর দিয়েছে হাসপাতালটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবদুল আজিজ। পরিচালক বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর ডেঙ্গু এবং এর ভয়াবহতা অনেক বেশি। ডেঙ্গু সাধারণত ৪ ধরনের হয়ে থাকে। ডেঙ্গু ১, ২, ৩, ৪। এর আগে ছিল ১, ২। এবারই প্রথম ডেঙ্গু ৩ দেখা গেছে। যেটা খুবই ভয়াবহ এবং খারাপ। তাই অনেক রোগী মারা যাচ্ছে। ডেঙ্গু থেকে বাঁচার উপায় সম্পর্কে তিনি বলেন, ডেঙ্গু মশার প্রজনন ক্ষেত্র ফুলের টব, পরিত্যক্ত বালতি, খালি বোতল, আঙিনার চারপাশে জমে থাকা পানি থেকে ডেঙ্গু মশা জন্ম নিতে পারে। এ থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে ডেঙ্গুর প্রজনন উৎসগুলোকে ধ্বংস করে দিতে হবে। প্রতিদিন মশার স্প্রে করতে হবে।
দিনের বেলায় বাচ্চাকে মশারি টাঙ্গিয়ে ঘুমানোর ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে ডেঙ্গু মশা যেমন কামড়াতে পারবে না ফলে শিশুরা ডেঙ্গুর হাত থেকে রক্ষা পাবে। পাশাপাশি নিজেদের ঘরবাড়ি ও আঙিনা পরিষ্কার রাখতে হবে। একইসঙ্গে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মশা নিধনের উদ্যোগ নিতে হবে। জ্বরে আক্রান্ত হলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। শিশুকে বেশি বেশি তরল জাতীয় খাবার খাওয়াতে হবে এবং বারবার খাওয়াতে হবে। যেন পানি শূন্যতা দেখা না দেয়। এ সময় অ্যান্টিবায়টিক খাওয়ানোর প্রয়োজন নেই। জ্বর যেন নিয়ন্ত্রণে থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।
ডেঙ্গুর চিকিৎসা সম্বন্ধে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিনের অধ্যাপক ডা. খান আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, ডেঙ্গুজ্বর হলে প্রচুর পানি পান করতে হবে ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে। ডেঙ্গুর চিকিৎসা বাড়িতে রেখেও হতে পারে। বেশি দুর্বল বা শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়লে, নাক ও দাঁত দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকলে হাসপাতালে নেয়াই ভালো। ডেঙ্গুজ্বর সাধারণত ১০ দিনের মধ্যে সেরে যায়। কিন্তু দুর্বলতা আরো কিছু দিন থেকে যেতে পারে। ভাইরাসজনিত জ্বর বলে এর কোনো চিকিৎসা নেই। কেবল লক্ষণ বুঝেই চিকিৎসা দিতে হবে।
এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ মানবজমিনকে বলেন, জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বর হয়ে থাকে। এবার রোগী একটু বেশি আসছে। শীতের সময়ে কমে আসবে। তিনি বলেন, এই সময়ে জ্বর বা গায়ে ব্যথা হলে ডেঙ্গুর কথা মাথায় রাখতে হবে। সাধারণ ডেঙ্গু জ্বর তেমন মারাত্মক রোগ নয়। অধ্যাপক আব্দুল্লাহ বলেন, সাধারণ ডেঙ্গু জ্বরের রোগীর যখন বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ রক্তপাতের প্রমাণ মেলে (যেমন মাড়ি বা নাক থেকে রক্তক্ষরণ, মলের সঙ্গে রক্তক্ষরণ ইত্যাদি) তখন একে ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার বলা হয়। অধিক রক্তক্ষরণের ফলে শরীরের জলীয় উপাদান কমে যায়। ডেঙ্গুজ্বর হলে প্রচুর পানি পান করতে হবে ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে। জ্বর বাড়লে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ অথবা আরো বেশি জ্বর হলে তা কমিয়ে রাখার জন্য সাপোজিটরি ব্যবহার করতে হবে।
স্থাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৭ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৭৬৯ জন। মারা গেছেন ৮ জন। ২০১৬ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৬০৬০ জন, মারা গেছে ১৪ জন। ২০১৫ সালে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ১৬২ জন, মারা গেছে ৬ জন। ২০১৪ সালে ডেঙ্গতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৭৩ জন। কেউ মারে যাননি। ২০১৩ সালে ১৪৭৮ জন, ২০১২ সালে ১২৮৬ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ২০১১ সালে ১৩৬২ জন, ২০১০ সালে ৪০৯ জন। এই সালে ছয়জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। ২০০৯ সালে ৪৭৪ জন, ২০০৮ সালে ১১৫৩ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত রোগী হাসপাতলে আসেন।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রধানমন্ত্রী বলছেন, শহিদুল গুজব ছড়িয়ে বিক্ষোভ উস্কে দেন, সমালোচকদের দাবি এটা ক্র্যাকডাউনের অংশ -রয়টার্সের রিপোর্ট

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, নিজের অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি প্রধানমন্ত্রী। তবে শহিদুলের পরিবার ও আইনজীবী এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
আগস্টে ব্যপকভাবে ছড়িয়ে পড়া ছাত্রবিক্ষোভ সামাল দিতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের সমালোচনা করার ঘণ্টা কয়েক পরই শহিদুল আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে আটক করার বিষয়টি বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া বিশ্বজুড়ে তার মুক্তির দাবি উঠেছে।
২০১৪ সালে বিরোধীদের বয়কট করা নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় ফিরেন শেখ হাসিনা।
ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে জিতে টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসতে চান তিনি। তবে সমালোচকরা বলছেন, ক্রমেই তার সরকার কর্তৃত্বপরায়ণ হয়ে উঠছে। আর এর বিরুদ্ধে বাড়ছে ক্ষোভ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞানের অধ্যাপক আতাউর রহমান এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আপনি এখন নির্দোষ প্রমাণ হওয়ার আগ পর্যন্ত দোষী। আমাদের সিস্টেম উল্টো। মানুষ এখন তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত হতে চায় না এই ভয়ে যে যদি তাদেরকেও শহিদুলের ভাগ্য বরণ করতে হয়।’
শেখ হাসিনার মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে শহিদুল আলমের পরিবার জানান, বিচার হওয়ার আগেই সরকার তাকে অপরাধী সাব্যস্ত করে রেখেছে। তার ভাইঝি দিলরুবা করিম বলেন, ‘এ থেকে প্রমাণ হয় যে তারা ইতিমধ্যে তাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, শেখ হাসিনার মন্তব্য ‘ভীষণ নিষ্ঠুর ও তথাকথিত গণতান্ত্রিক দেশের নেতার সঙ্গে মানানসই নয়।’
শেখ হাসিনা সরকারের আইন বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, তার দেশের বিচার ব্যবস্থার পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে।
শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের সমালোচক শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের একটি বিতর্কিত ধারার অধীনে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, সরকার বহু সমালোচককে বাছবিচারহীনভাবে আটক করার কাজে এই ধারা ব্যবহার করেছে। এছাড়া এটি বাকস্বাধীনতা রুদ্ধ করার কাজে ব্যবহৃত কয়েকটি আইনের মধ্যে অন্যতম।
নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্ট বলেছে, শহিদুলের মামলায় যথাযথ প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের প্রচুর নজির রয়েছে। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আইনমন্ত্রী।
শহিদুল আলমের আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, বিক্ষোভ চলাকালে শহিদুল আলম যেসব মন্তব্য করেছেন তা কোনো ফৌজদারি অপরাধের আওতায় পড়ে না। আর শহিদুল আলমের দাদার ভাইকে নিয়ে হাসিনার মন্তব্য ‘সামন্ততান্ত্রিক’ বিচার ব্যবস্থার ইঙ্গিত বহন করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসিনা সরকার এমন অনেক আইন প্রণয়ন করেছে যেখানে দেশের বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার’ চালালে কারাদণ্ডের কথা বলা আছে। অপরদিকে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির অভিযোগে কারাগারে। তিনি বলেছেন, আগামী নির্বাচনে তিনি যাতে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে না পারেন সেই পরিকল্পনারই অংশ এই সাজা।
সরকার অবশ্য জোর দিয়ে বলছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় তারা হস্তক্ষেপ করেনি। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘হাসিনা সরকারের মতো কোনো সরকারই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার মূলনীতি এত বেশি সুরক্ষিত ও সমুন্নত রাখেনি।’
শহিদুল আলমকে মূলত আটক করা হয়েছিল ওই ছাত্র বিক্ষোভ নিয়ে তার ‘বিভ্রান্তিকর’ বক্তব্যের কারণে। সড়ক দুর্ঘটনায় দুই স্কুলশিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর শুরু হওয়া ওই বিক্ষোভ পরে এই বছরের সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভে পরিণত হয়। শহিদুল আলম বলছেন, তিনি ওই বিক্ষোভ একজন ফটোসাংবাদিক হিসেবে কাভার করছিলেন।
ঘটনাস্থল থেকে তিনি প্রায় ডজনখানেক ফেসবুক ভিডিও আপলোড করেন। সেখানের একটিতে তিনি বলেন, তার ওপর হামলা করা হয়েছে। ধাতব রড ও লাঠি হাতে আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের ‘গুন্ডারা’ তার ক্যামেরা ভেঙ্গে ফেলেছে। তিনি পরে কিছু ছবি আপলোড করেন যেখানে মুখোশ পরিহিত ব্যক্তিরা পুলিশের সামনেই বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করছে বলে দেখা যায়।
আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা বিপ্লব বড়–য়া বলেন, ফেসবুক ভিডিওতে ছাত্রদের ওপর আক্রমন ও পুলিশের নির্বিকার অবস্থা স¤পর্কে ফেসবুক ভিডিওতে শহীদুল আলম যা বলেছেন, তা স¤পূর্ণ মিথ্যা। এর ফলে আরও বেশি সহিংসতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিক্ষোভকারীরা হামলার শিকার এ ধরণের ছবিতে অনলাইন সয়লাব। তবে হামলাকারীরা কোন গোষ্ঠীর লোক তা নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স।
আল জাজিরাকে এক সাক্ষাৎকার দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই শহিদুল আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, সরকার অতীতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-েও জড়িয়েছে। তবে বিতর্কিত মাদকবিরোধী অভিযানে বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের অনুমতি দেওয়ার যেই অভিযোগ রয়েছে, তা সরকার অস্বীকার করেছে।
গত মাসের শেষের দিকে নিউ ইয়র্কে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে হাসিনা বলেন, কর্তৃপক্ষ যখন শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করছিল শহীদুল আলম তখন মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছিলেন। তিনি বলেন, ‘তিনি (শহীদুল) পরিস্থিতি ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন, উস্কে দিতে চেয়েছিলেন। আমরা শিশুদের বাঁচাতে চেয়েছি কিন্তু তিনি এই শিশুদের ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন। যাবতীয় মিথ্যা তথ্য দিয়ে। আপনি এটা কিভাবে মানতে পারেন?’
সাক্ষাৎকারে তিনি শহীদুল আলমের দাদার মৃত ভাই আবদুস সবুর খানের কড়া সমালোচনা করেন। সাবেক মন্ত্রী সবুর খান বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছিলেন। পাকিস্তানের সঙ্গে একাত্ম হয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘তিনি আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধীতা করেছেন। পাকিস্তানে যোগ দিয়েছেন। বাংলাদেশ তিনি মেনে নেননি। ১৯৭১ সালে তিনি পাকিস্তানী দখলদার বাহিনীর সঙ্গে ছিলেন। রক্ত মাঝেমাঝে কথা বলে। আপনি বোঝেন সেটা।’
বাংলাদেশে স্বাধীনতা যুদ্ধ এখনও একটি সংবেদনশীল প্রসঙ্গ।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নামে নতুন একটি আইন সোমবার প্রেসিডেন্ট স্বাক্ষর করে কার্যকর করেছেন। এ আইনের বিরুদ্ধে স্থানীয় ও আমেরিকান সাংবাদিকদের বিরোধীতা ছিল। এতে সরকারী ভবনের ভেতর গোপনে রেকর্ড করা কিংবা স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার’ চালানোর জন্য ১৪ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
হাসিনা অবশ্য বলেছেন, সাংবাদিকদের এই আইন নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তার ভাষ্য, ‘তাদের যদি আত্মবিশ্বাস থাকে যে তারা কোনো ভুল কিছু করবেন না, তাহলে তাদের চিন্তিত হওয়ার কি আছে?’
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ পাস সম্পর্কে সম্পাদক পরিষদের বক্তব্য

তিনজন মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর গণমাধ্যমবিষয়ক উপদেষ্টা প্রকাশ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, আমাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করা হবে এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রহণযোগ্য পরিবর্তন-পরিমার্জনার লক্ষ্যে অংশীজনদের সংলাপ শুরু করা হবে। কিন্তু আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে দেখলাম, এ সবের কিছুই করা হলো না।
সম্পাদক পরিষদকে তিনজন মন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আমরা মনে করি এটি সেই প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ।
আমরা আবারও স্মরণ করছি
শুরু থেকেই সম্পাদক পরিষদ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কয়েকটি ধারার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিল, যেগুলো স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এই ধারাগুলো হলো যথাক্রমে ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৩।
আমরা কয়েকবার আইনমন্ত্রী এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। আমাদের বক্তব্য সুবিবেচনা পাবে বলে আশ্বাস দেয়া হয়েছিল। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিল যখন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সামনে পেশ করা হয়, তখন সম্পাদক পরিষদ, বিএফইউজে ও অ্যাটকোর প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, উভয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকেই আমরা উপস্থিত ছিলাম।
সেসব বৈঠকে আমরা আমাদের আপত্তির জায়গাগুলো সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরি এবং আমাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো বিষদভাবে বর্ণনা করি। আমাদেরকে তৃতীয় একটি বৈঠকের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল, যা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছাতে সহায়ক হতে পারত। কিন্তু সে বৈঠকটি কী কারণে অনুষ্ঠিত হয়নি তা আমাদের কাছে আজও অজানা।
এভাবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়া বিলটি চূড়ান্ত করা হয় এবং আমাদের চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণ ও সম্মতি ছাড়াই সংসদে পেশ করা হয়।
এর ফলাফল হিসেবে বিলটি চূড়ান্ত করা হলো এবং আমাদের সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ ও সম্মতি ছাড়া তা সংসদে উপস্থান করা হলো। সাংবাদিকদের প্রধান উদ্বেগের বিষয়গুলো, বিশেষত, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বাক্্স্বাধীনতা-বিষয়ক ধারাগুলোতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ছাড়াই আইনটি সংসদে পাস করা হয়।
বরং শেষ মুহূর্তে এমন পরিবর্তন আনা হয়েছে, যার ফলে সংবাদপত্রের কার্যালয় ও সংবাদপ্রতিষ্ঠানগুলোর দপ্তরে প্রবেশ করা, তল্লাশি চালানো, বন্ধ করে দেয়া, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক জব্দ করা, এমনকি পরোয়ানা ছাড়াই সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার করার ক্ষেত্রৈ পুলিশের ক্ষমতা আরও বেড়েছে।
আইনটি সংসদে পাস করার পর সম্পাদক পরিষদ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে একটি মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। তথ্যমন্ত্রীর অনুরোধে সেই কর্মসূচি বাতিল করা হয়। তিনি আইনটি নিয়ে আইনমন্ত্রী ও তথ্য ও যোগাযোগমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পাদকদের আলোচনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তথ্যমন্ত্রীর অনুরোধে সাড়া দিয়ে সম্পাদক পরিষদ মানববন্ধন কর্মসূচি বাতিল করে এবং ৩০শে সেপ্টেম্বর উল্লিখিত তিন মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসে।
ওই বৈঠকে তিন মন্ত্রী সম্পাদক পরিষদকে প্রকাশ্যে প্রতিশ্রুতি দেন, মন্ত্রিসভায় ৩রা অক্টোবরের বৈঠকে অথবা ১০ই অক্টোবরের বৈঠকে তারা আমাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো উত্থাপন করবেন এবং আমাদের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু করার জন্য মন্ত্রিসভার অনুমোদন চাইবেন। তিন মন্ত্রী আমাদের আশ্বাস দেন যে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের এমন একটি সংস্করণ রচনার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে, যেটি সংশ্লিষ্ট সকল মহলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়।
দুঃখের বিষয়, সেরকম কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। তিন মন্ত্রী কেন তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হলেন, তাদের কোনো একজনের মাধ্যমে তা আমাদের জানানোর মতো সৌজন্যটুকুও দেখানো হয়নি।
ওপরের বিবরণ থেকে এটা সুস্পষ্ট যে, সকল অংশীজনের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে সম্পাদক পরিষদ সরকার ও সংসদের সঙ্গে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করেছে। কিন্তু আমাদের সব প্রচেষ্টা ও সহযোগিতা ব্যর্থ হয়েছে।
আমরা আমাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করছি যে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন হলো
১. সংবিধানের ৩৯(ক) ও (খ) অনুচ্ছেদের প্রদত্ত মৌলিক অধিকারসমূহের পরিপন্থী;
২. আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অন্তর্নিহিত স্বাধীনতার চেতনার পরিপন্থী;
৩. আমাদের ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক অধিকারসমূহ, সুশাসন ও গণতান্ত্রিক আদর্শের পরিপন্থী;
৪. নৈতিক ও স্বাধীন সাংবাদিকতার মৌলিক মূল্যবোধগুলোর পরিপন্থী;
৫. তথ্য অধিকার আইনের চেতনা ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের পরিপন্থী;
আমরা আবারও বলতে চাই
১. ডিজিটাল যন্ত্রের মাধ্যমের অপরাধ সংঘটন প্রতিহত করা এবং ডিজিটাল অঙ্গনে নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে একটি আইন প্রণয়নের চেষ্টা করতে গিয়ে এমন একটি আইন করা হয়েছে, যা সংবাদমাধ্যমের কর্মকা-ের ওপর নজরদারি, বিষয়বস্তুর ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং আমাদের সংবিধানপ্রদত্ত সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং নাগরিকদের বাক্্ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
২. এই আইন পুলিশকে বাসাবাড়িতে প্রবেশ, অফিসে তল্লাশি, লোকজনের দেহ তল্লাশি এবং কম্পিউটার, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, সার্ভার ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম-সংক্রান্ত সবকিছু জব্দ করার ক্ষেত্রে সীমাহীন ক্ষমতা দিয়েছে। পুলিশ এ আইনে দেয়া ক্ষমতাবলে পরোয়ানা ছাড়াই সন্দেহবশত: যে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে পারবে। এক্ষেত্রে পুলিশের কোনো কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের অনুমোদন নেয়ার প্রয়োজন নেই।
৩. এই আইনে অস্পষ্টতা আছে এবং এতে এমন অনেক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যার ভুল ব্যাখ্যা হতে পারে এবং সহজেই সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যেতে পারে।
৪. ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এমন এক আতঙ্ক ও ভীতির পরিবেশ তৈরি করবে, যেখানে সাংবাদিকতা, বিশেষত অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে।
৫. এই আইন সংবাদমাধ্যমের কর্মী ছাড়াও কম্পিউটার ও কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ইত্যাদি ব্যবহারকারী সব ব্যক্তির মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করবে।
আমাদের দাবি
১. সংবাদমাধ্যমে স্বাধীনতা ও বাক্্স্বাধীনতা সুরক্ষার লক্ষ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৩ ধারা অবশ্যই যথাযথভাবে সংশোধন করতে হবে;
২. এসব সংশোধনী বর্তমান সংসদের শেষ অধিবেশনে আনতে হবে;
৩. পুলিশ বা অন্য কোনো সংস্থার মাধ্যমে কোনো সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানোর ক্ষেত্রে তাদেরকে শুধু নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু আটকে দেয়ার অনুমতি দেয়া যাবে; কিন্ত কোনো কম্পিউটার ব্যবস্থা বন্ধ করার অনুমতি দেয়া যাবে না। তারা শুধু তখনই প্রকাশের বিষয়বস্তু আটকাতে পারবে, যখন সংশ্লিষ্ট সংবাদপ্রতিষ্ঠানের সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনা করে কেন ওই বিষয়বস্তু আটকে দেয়া উচিত, সে বিষয়ে যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে পারবে;
৪. কোনো সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের কোনো কম্পিউটার ব্যবস্থা আটকে দেয়া বা জব্দ করার ক্ষেত্রে অবশ্যই আদালতের আগাম নির্দেশ নিতে হবে;
৫. সাংবাদমাধ্যমে পেশাজীবীদের সাংবাদিকতার দায়িত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে প্রথমেই আদালতে হাজির হওয়ার জন্য তাদের বিরুদ্ধে সমন জারি করতে হবে (যেমনটা বর্তমান আইনে আছে) এবং সংবাদমাধ্যমের পেশাজীবীদের কোনো অবস্থাতেই পরোয়ানা ছাড়া ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া আটক বা গ্রেপ্তার করা যাবে না;
৬. সংবাদমাধ্যমের পেশাজীবীর দ্বারা সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের গ্রহণযোগ্যতা আছে কি না, তার প্রাথমিক তদন্ত প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে করা উচিত। এই লক্ষ্যে প্রেস কাউন্সিলকে যথাযথভাবে শক্তিশালী করা যেতে পারে;
৭. এই সরকারের পাস করা তথ্য অধিকার আইনকে দ্ব্যর্থহীনভাবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ওপর প্রাধান্য দেয়া উচিত। ওই আইনে নাগরিক ও সংবাদমাধ্যমের জন্য যেসব স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, সেগুলোর সুরক্ষা অত্যাবশ্যক।
পরিশেষে আমরা আবারও স্মরণ করছি
১. সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বাক্্স্বাধীনতার প্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুবিজুর রহমানের ঐতিহাসিক ও দ্ব্যর্থহীন অঙ্গীকার;
২. সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার লক্ষ্যে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের লড়াইয়ের সমুজ্জ্বল ঐতিহ্য এবং বিগত বছরগুলোর অসংখ্য লড়াই-সংগ্রাম তাদের অর্জন;
৩. বাংলাদেশে সামরিক একনায়কতন্ত্র ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও শক্তিশালী করতে মুক্ত ও নিরপেক্ষ সংবাদমাধ্যমের অতীতের সমস্ত লড়াই ও অবদান।
অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশেষত, মুক্ত ও স্বাধীন সংবাদমাধ্যম, বাক্্স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র শক্তিশালী করা- সর্বক্ষেত্রেই বাংলাদেশের অগ্রগতিতে অবদান রেখে যেতে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অভিন্ন সাত দাবি ও ১১ লক্ষ্যের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ঘোষণা

ড. কামাল হোসেনের সভাপত্বিতে আয়োজিত সংবাদ সন্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। সংবাদ সন্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে বিএনপিও অংশ নেয়।
সংবাদ সন্মেলনের শুরুতে ড. কামাল হোসেন বলেন, গত তিনদিনের টানা বৈঠক শেষে আমরা একটি ঐক্যমতে পৌঁছেছি। জনগণের স্বার্থেই আজকের এই জাতীয় ঐক্য। একক কোনো স্বার্থে এ ঐক্য হচ্ছে না।
কোটি কোটি জনগণের পক্ষে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি।
এতে লিখিত বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দেশে আজ দু:সহ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জনগণের ওপর সিন্দাবাদের ভুত চেপে বসেছে। সমগ্র জাতি ঐক্যবদ্ধ না হলে এই লড়াইয়ে জেতা যাবে না। এ সময় তিনি ঐক্যফ্রন্টের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সমূহ তুলে ধরেন। এ সময় তিনি খালেদার মুক্তিসহ সাতদফা ঘোষণা করেন।
এদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এখন থেকে একটি মুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি। স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে আজকের এই লড়াই শুরু হলো নতুন আঙ্গিকে। শপথ নিচ্ছি- গণতন্ত্রের অধিকারগুলো আদায় করে ঘরে ফিরব। এসময় তিনি ঐক্যের বাইরে থাকা দলগুলোকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যোগ দেয়ার আহ্বান জানান।
এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।
সংবাদ সন্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাসদ সভাপতি আ. স. ম. রব, ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মুহাম্মদ মনসুর, গণফোরামের নির্বাহী সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু, জাতীয় ঔক্য প্রক্রিয়ার আ. ব. মোস্তফা আমীন, জাসদ সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন।
বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের ৭ দফা দাবিগুলো হলো—
১. অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সরকারের পদত্যাগ, জাতীয় সংসদ বাতিল, আলোচনা করে নিরপেক্ষ সরকার গঠন এবং খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দীর মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার।
২. নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন ও নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার নিশ্চয়তা দেওয়া।
৩. বাক্, ব্যক্তি, সংবাদপত্র, টেলিভিশন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সব রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
৪. কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন, সামাজিক গণমাধ্যমে মতপ্রকাশের অভিযোগে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দিতে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করা।
৫. নির্বাচনের ১০ দিন আগে থেকে নির্বাচনের পর সরকার গঠন পর্যন্ত বিচারিক ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োজিত ও নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া।
৬. নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা নিশ্চিত এবং সম্পূর্ণ নির্বাচনপ্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে তাঁদের ওপর কোনো ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ না করা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ না করা।
৭. তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত চলমান সব রাজনৈতিক মামলা স্থগিত রাখা এবং নতুন কোনো মামলা না দেওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া।
১১টি লক্ষ্য হলো—
১. মুক্তিসংগ্রামের চেতনাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক নির্বাহী ক্ষমতা অবসানের জন্য সংসদে, সরকারে, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা এবং প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণ, ন্যায়পাল নিয়োগ করা।
২. সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ ও সৎ-যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগের জন্য সাংবিধানিক কমিশন গঠন করা।
৩. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা নিশ্চিত করা।
৪. দুর্নীতি দমন কমিশনকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করা হবে। দুর্নীতিমুক্ত, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তুলে সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে দুর্নীতি কঠোর হাতে দমন ও দুর্নীতির দায়ে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা।
৫. বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিবেশ সৃষ্টি, বেকারত্বের অবসান ও শিক্ষিত যুবসমাজের সৃজনশীলতা ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাকে একমাত্র যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা।
৬. জনগণের মৌলিক মানবাধিকার, নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষক-শ্রমিক ও দরিদ্র মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সরকারি অর্থায়নে সুনিশ্চিত করা।
৭. জনপ্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় সরকারসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতি ও দলীয়করণ থেকে মুক্ত করা।
৮. বাংলাদেশ ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা আনা, সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার, সুষম বণ্টন ও জনকল্যাণমুখী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।
৯. জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে জাতীয় ঐকমত্য গঠন এবং প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা ও নেতিবাচক রাজনীতির বিপরীতে ইতিবাচক সৃজনশীল এবং কার্যকর ভারসাম্যের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা।
১০. ‘সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়’—এই নীতির আলোকে পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা।
১১. প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও সমরসম্ভারে সুসজ্জিত, সুসংগঠিত ও যুগোপযোগী করা।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1403)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ▼ 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...