Monday, March 14, 2011

শস্যবিমা চালুর বিষয়ে অগ্রগতি নেই

বাজেটে অর্থ বরাদ্দ রয়েছে। সরকারের মন্ত্রীরাও আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন। তারপরও চালু হচ্ছে না শস্যবিমা।
চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের বাজেটে শস্যবিমার ওপর কৃষকদের জন্য ভর্তুকি বাবদ রাজস্ব খাত থেকে ছয় কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ অর্থ খরচ না হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শস্যবিমা চালুর জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত অর্থ মন্ত্রণালয় শুধু পরীক্ষা-নিরীক্ষাই করছে বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে সময় পার হয়ে গেছে আট মাসেরও বেশি। অগ্রগতির মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সাধারণ বিমা করপোরেশন (এসবিসি) শুধু একটি ধারণাপত্র তৈরি করেছে।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বাজেট বক্তব্যে বলেছিলেন, ‘দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের উৎ পাদিত শস্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিনষ্ট হয়। তাঁদের শস্যমূল্য সহায়তার জন্য আমরা কৃষিবিমা চালু করার উদ্যোগ নিয়েছি।’
সূত্রমতে, চলতি অর্থবছর থেকেই শস্যবিমা চালু করতে চাইছে সরকার। এ জন্য ‘শস্যবিমা প্রকল্প, ২০১১’ নামক একটি প্রকল্প চালু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় বাজেটে বরাদ্দ দেওয়া অর্থ কৃষকদের প্রিমিয়ামে ভর্তুকি বাবদ ব্যয় হবে। এসবিসির ধারণাপত্রে এই বরাদ্দ থেকেই পাঁচ কোটি টাকার তহবিল ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছে।
জানা গেছে, সারা দেশে সম্ভব না হলেও সরকার চাইছে শস্যবিমা প্রকল্পটির আওতায় এ বছর অন্তত একটি উপজেলায় শস্যবিমা চালু করা হোক। প্রকল্প এলাকা হিসেবে এ জন্য প্রাথমিকভাবে বেছে নেওয়া হয়েছে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলাকে।
আগে পাঁচটি পণ্যকে বিমার আওতায় নিয়ে আসার কথা ভাবা হলেও শেষ পর্যন্ত শুধু ধানের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে সব ধরনের ধানের ওপর নয়। আউশ, আমন, বোরো বা ইরি ধান। এর সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সময়ে সারা দেশেই শস্যবিমা চালু করা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শস্যবিমা চালুর অগ্রগতি বিষয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় অর্থ মন্ত্রণালয়ে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব শাহাবুদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে স্বল্পসময়ের মধ্যে শস্যবিমা চালুর ওপর তাগিদ দিয়ে শস্যবিমার ওপর সাধারণ বিমা করপোরেশনের তৈরি করা ধারণাপত্রের ওপর আলোচনা হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় (এলজিআরডি) এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বলে জানা গেছে। অবশ্য বাস্তবায়নের জন্য উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী কমিটি, উপজেলাভিত্তিক বাস্তবায়ন কমিটি ও টেকনিক্যাল কমিটি নামে তিনটি কমিটি করা হবে।
ধারণাপত্র অনুযায়ী, প্রকল্পটি চালু করা হবে পরীক্ষামূলক ও এক বছর মেয়াদে। প্রকল্প এলাকা হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলা রোডে আওলিয়া ব্রিজের উভয় পাশে আবাদযোগ্য ৩০০ বিঘা ধানিজমি। আউশ ধানে ছয় শতাংশ, আমনে পাঁচ শতাংশ এবং ইরি বা বোরোতে চার শতাংশ প্রিমিয়ামের সুযোগ রাখা যেতে পারে।
জানা গেছে, প্রকল্পটির উদ্দেশ্য হলো প্রাকৃতিক দুর্যোগে জমির ফসল নষ্ট হলে কৃষককে ক্ষতিপূরণ দেওয়া। এ ছাড়া বন্যা, খরা, অতি বৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, শিলাবৃষ্টি ও পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে দেশের কৃষি সম্পদকে রক্ষা করা।
রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দুই বছর ধরে সরকার শস্যবিমা চালুর কথা বলে আসছে।
তবে শস্যবিমা চালুর জন্য ২০০৬ সালেই একটি কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়। সে সময় ৬৪টি জেলার একটি করে থানায় পরীক্ষামূলকভাবে শস্যবিমা চালুর কথা ভাবা হয়েছিল। শস্য ছিল ধান, গম, আলু, পাট ও আখ—এই পাঁচটি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দেশের মোট দেশজ উৎ পাদনের (জিডিপি) হার বাড়া-কমা নির্ভর করে মূলত কৃষির ওপর। অথচ দেশের মোট জাতীয় শস্য উৎ পাদনের ৬ দশমিক ৪ শতাংশ ধান এবং ২৩ শতাংশ গম প্রাকৃতিক দুর্যোগে নষ্ট হয়। এতে আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে কৃষক পরিবার। ফলে তারা পরবর্তী সময়ে স্বাভাবিক কৃষি উৎ পাদন বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়। আর তাই শস্যবিমার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে বলে সরকার মনে করে।
জানা গেছে, সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও তালিকাভুক্ত ব্যাংক থেকে কৃষিঋণ নিলেই বাধ্যতামূলকভাবে শস্যবিমার আওতায় আসতে হবে। বাধ্যতামূলক শর্তটি জুড়ে দেওয়ার চিন্তাটি এসেছে কৃষকদেরই স্বার্থে।
প্রসঙ্গত, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানায় ১৯৭৭ সালে প্রথম শস্যবিমা চালু করা হয়েছিল। ১৯৮১ সাল পর্যন্ত দেশের ৫৬ থানায় বিস্তৃত হয় এর আওতা। পরবর্তী সময়ে তা আরও বাড়ানো হয়। কিন্তু ১৯৯৫ সালে প্রকল্পটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা জানান, শস্যবিমার সফল বাস্তবায়নে ভারতের আদলে বাংলাদেশেও প্রতিষ্ঠা করা হবে বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল ইন্স্যুরেন্স একাডেমি। এ জন্য কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
এসবিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, সরকার চেয়েছিল শস্যবিমা বিষয়ে একটি স্থায়ী প্রকল্প চালু করতে। শেষ পর্যন্ত চলতি অর্থবছর থেকে শুধু একটি উপজেলা দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে চালুর সিদ্ধান্ত হয়। প্রশাসনের সহযোগিতা পেলে এ বছর থেকেই প্রকল্পটি চালু হওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।
যোগাযোগ করলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শফিকুর রহমান পাটোয়ারী প্রথম আলোকে বলেন, ‘চলতি বছরের মধ্যেই শস্যবিমা চালুর জন্য চেষ্টা চলছে। কার্যকরভাবে চালু করা গেলে কৃষকেরা সত্যিই উপকৃত হবেন এতে।’

যমুনা ব্যাংক ও এনসিসি ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণা

বিনিয়োগকারীদের জন্য যমুনা ব্যাংক ২২ শতাংশ এবং এনসিসি ব্যাংক ৩২ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ব্যাংক দুটির পরিচালনা পর্ষদ ২০১০ সালের জন্য এ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আজ রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
যমুনা ব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ১৯ মে সকাল ১০টায় ঢাকার শেরেবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। এজিএমের রেকর্ড ডেট আগামী ৬ এপ্রিল। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, ওই সময়ে কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ১০৬,৬০,১০,০০০ টাকা, শেয়ারপ্রতি আয় ৪.৭৮ টাকা, শেয়ার প্রতি মোট সম্পদমূল্য (এনএভি) ২৮.৭৪ টাকা এবং শেয়ারপ্রতি নেট ওপেনিং ক্যাশ ফ্লো ৪.৭৯ টাকা।
এনসিসি ব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ২৮ এপ্রিল বেলা ১১টায় ঢাকার বেইলি রোডের অফিসার্স ক্লাবে অনুষ্ঠিত হবে। এজিএমের রেকর্ড ডেট ২৪ মার্চ। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, ওই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় ৫.৩৩ টাকা, শেয়ারপ্রতি মোট সম্পদমূল্য (এনএভি) ২০.৭৯ টাকা এবং শেয়ারপ্রতি নেট ওপেনিং ক্যাশ ফ্লো ৩.২৭ টাকা।

৫ হাজার কোটি টাকার ফান্ড গঠনে অনিশ্চয়তা নেই

পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বাংলাদেশ ফান্ডটি গঠনে অনিশ্চয়তার কোনো অবকাশ নেই। সরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ফায়েকুজ্জামান আজ রোববার প্রথম আলোকে এ তথ্য জানান।
ফায়েকুজ্জামান বলেন, ৯ মার্চ আইসিবির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে ফান্ডটি অনুমোদন করা হয়েছে। এই অনুমোদনের বিষয়টি ফান্ডটির কো-স্পন্সরদের ইতিমধ্যে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কো-স্পন্সরদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের পর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) পাঠানো হবে। এসইসির অনুমোদনের পর পর্যায়ক্রমে ফান্ডটি গঠন করা হবে এবং বাজারে আসবে।
ফায়েকুজ্জামান আরও বলেন, কো-স্পন্সরদের অনেকেই আইসিবির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য। তাঁরা সবাই ফান্ডটি গঠনের ব্যাপারে একমত হয়েছেন। সুতরাং এ বিষয়ে সংশয়ের কোনো অবকাশ নেই।
প্রসঙ্গত, পুঁজিবাজারে অব্যাহত দরপতনের কারণে বাজারে তারল্য সংকট দেখা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ফান্ডটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। ফান্ডটির স্পন্সর হিসেবে কাজ করছে আইসিবি এবং কো-স্পন্সর হিসেবে রয়েছে সরকারি চার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক (সোনালী, রূপালী, অগ্রণী ও জনতা), বাংলাদেশ জীবন বীমা করপোরেশন, সাধারণ বীমা করপোরেশন ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিএল)।
এর আগে ২ মার্চ স্টক ব্রোকারদের সঙ্গে এবং ৬ মার্চ বিভিন্ন ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে আইসিবি পাঁচ হাজার কোটি টাকার ফান্ডটি গঠনের উদ্যোগ নেয়।

মবিল যমুনার সময় বাড়ানোর আবেদন বাতিল

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির সময় বাড়ানোর জন্য মবিল যমুনা লিমিটেডের (এমজেএল) আবেদন বাতিল করেছে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। আজ রোববার দুপুরে কমিশনের এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এসইসি সূত্রে জানা যায়, কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) আবেদন গ্রহণের তারিখ থেকে ৭৫ দিনের মধ্যে এসইসিতে তালিকাভুক্ত হতে হয়। এ নিয়ম অনুযায়ী ২২ মার্চ এ প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্তির সময়সীমা শেষ হবে।
ওই সময়ের মধ্যে তালিকাভুক্ত হতে না পারলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আইপিওর টাকা বিনিয়োগকারীদের ফেরত দিতে হবে। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেওয়া শর্ত অনুযায়ী তালিকাভুক্তির পর শেয়ারের দাম অভিহিত মূল্যের নিচে নেমে গেলে ছয় মাস পর্যন্ত ওই প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বাইব্যাক করতে হবে।
কিন্তু লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রাথমিক ও সেকেন্ডারি বিনিয়োগকারীদের আলাদা করা সম্ভব নয়, যার কারণে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে শর্তটি মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। আর এ কারণে ডিএসই ও এসইসি এ শর্ত মেনে প্রতিষ্ঠানটিকে তালিকাভুক্ত করতে রাজি হচ্ছে না।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত সপ্তাহে এমজেএল আইপিওর সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করে।

নাইজারে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দ্বিতীয় দফা ভোট গ্রহণ

নাইজারের অধিবাসীরা গতকাল শনিবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দ্বিতীয় দফা ভোট দিয়েছেন। এর আগে গত ৩১ জানুয়ারি দেশটিতে প্রথম দফা ভোট নেওয়া হয়। নির্বাচনটিকে দেশটির বিদায়ী সামরিক জান্তা প্রধান জেনারেল সালু জিবো সমগ্র আফ্রিকার গণতন্ত্রের জন্যই একটি উদাহরণ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
দেশটির সামরিক জান্তা মামাদু তানজা ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ১৩ মাস পর নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয়। মামাদু ১৯৯৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত নাইজারের ক্ষমতা দখল করেছিলেন। এরপর তিনি সংবিধান লঙ্ঘন করে পরবর্তী সময়েও ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা চালালে আরেকটি সামরিক অভ্যুত্থান হয়। এর মধ্যদিয়ে ২০১০-এর ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতা দখল করেন জেনারেল সালু। তিনি ক্ষমতায় এসে দেশটির সংবিধান পরিবর্তনের আশ্বাস দেন। সালু সামরিক জান্তার কোনো সদস্যই এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিরোধী নেতা মাহমাদু ইসুফু (৫৯) এবং মামাদুর শাসনামলের প্রধানমন্ত্রী সেইনি ওমারো (৬০)।
নির্বাচনে বিরোধী নেতা ইসুফু বিজয়ী হতে যাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, গত ৩১ জানুয়ারি প্রথম দফা নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হন। ওই সময় ৩৬ শতাংশ ভোটার নির্বাচনে অংশ নেন। তাতে ২৩ শতাংশই পান ইসুফু। এই প্রবীণ নেতা মামাদুর শাসনামলের একজন কঠোর সমালোচক ছিলেন।

আসন ভাগাভাগি নিয়ে সমঝোতা হয়নি কংগ্রেস ও তৃণমূলের

পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে আসন ভাগাভাগি নিয়ে এখনো সমঝোতা হয়নি কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে। বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট গ্রহণ করা হবে ১৮ এপ্রিল। প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া শুরু হবে ২৪ মার্চ। চলবে ৩১ মার্চ পর্যন্ত।
গতকাল শনিবার কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা প্রণব মুখোপাধ্যায় এবং পশ্চিমবঙ্গের ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় কংগ্রেস নেতা শাকিল আহমেদের কলকাতায় এসে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করে প্রার্থী তালিকা যৌথভাবে ঘোষণা করার কথা ছিল।

সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় শীর্ষে হার্ভার্ড

বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালগুলোর তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। দ্য টাইমস হাইয়ার এডুকেশন-এর এক জরিপে বিশ্ববিদ্যালয়টি সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম হয়েছে। বিশ্বের ১৩১টি দেশের ১৩ হাজার ৩৮৮ জন শিক্ষাবিদের মধ্যে এই জরিপ চালানো হয়।
জরিপে বিশ্বের ১০টি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি দ্বিতীয়, যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয়, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া বার্কলে চতুর্থ হয়েছে। স্বনামখ্যাত অপর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ষষ্ঠ এবং জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয় অষ্টম স্থানে রয়েছে।

‘পোলানস্কির চেয়েও বেশি ক্ষতি করেছে মার্কিন বিচার ব্যবস্থা’

চলচ্চিত্র পরিচালক রোমান পোলানস্কি ১৩ বছর বয়সী কিশোরী সামান্থা জেইমারকে ধর্ষণ করেছিলেন। এরপর কেটে গেছে প্রায় তিন দশক। ওই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন পোলানস্কি। অবশেষে অস্কারজয়ী এই চলচ্চিত্র পরিচালককে ক্ষমা করে দেওয়ার কথা বললেন জেইমার। তিনি বলেছেন, পোলানস্কি নন, মার্কিন বিচার ব্যবস্থাই তাঁর সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে।
তিন দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষ পোলানস্কিকে ধরার যে কাজ করছে সেটি তাঁর বেশি ক্ষতি করেছে উল্লেখ করে জেইমার বলেন, পোলানস্কির প্রতি তাঁর কোনো ক্ষোভ নেই। ১৯৭৭ সালে পোলানস্কি তাঁর বন্ধু জ্যাক নিকোলসনের হলিউডের বাসায় তাঁকে ধর্ষণ করেন।
ওই ঘটনার ৩৪ বছর উপলক্ষে মার্কিন টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎ কারে জেইমার বলেন, ২০০৯ সালের শুরুর দিকে পোলানস্কি তাঁর কাছে এ ব্যাপারে ছোট একটি চিঠি লেখেন, যা ছিল ক্ষমা চাওয়ার মতো। এ বিষয়টি তাঁর ভালো লেগেছে। তবে তাঁর ক্ষোভ বিচারক ও জেলা অ্যাটর্নিদের প্রতি, যাঁরা এ ঘটনাকে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ফায়দা লাভের জন্য ব্যবহার করছেন।

আইভরি কোস্টে সাড়ে চার লাখ মানুষ শরণার্থী শিবিরে

আইভরি কোস্টের অব্যাহত সহিংসতায় অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ শরণার্থী হয়ে পড়েছে। তারা বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। দেশটির প্রধান শহর আবিদজানে সাম্প্রতিক সময়ের সংঘর্ষের পর বিভিন্ন রাস্তায় ইতস্তত পড়ে আছে বহু মানুষের লাশ। এসব লাশের কোনো কোনোটি কুকুরে ছিঁড়ে খাচ্ছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা গতকাল শনিবার এ তথ্য জানায়।
গত বছরের নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আলাসেন ওয়াতারা জয়ী হন। আফ্রিকান ইউনিয়ন তাঁর এই বিজয়কে সমর্থন দিয়ে আসছে। কিন্তু ক্ষমতাসীন লরা বাগবো তাঁর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেননি।
ওয়াতারা বর্তমানে নাইজেরিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁর সমর্থকেরা আইভোরি কোস্টের উত্তরাঞ্চল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। অন্য অঞ্চলগুলো বাগবোর সমর্থকদের দখলে। প্রায়ই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটছে। দেশটিতে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চলমান এই সংকট নিরসনে বাগবোকে ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রস্তাব দিয়েছে আফ্রিকান ইউনিয়ন। কিন্তু বাগবো তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, আবিদজানের অন্তত তিন লাখ ৭০ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। তারা বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। ৭৭ লাখ শরণার্থীর আশ্রয় মিলেছে প্রতিবেশী লাইবেরিয়ায়।

ইয়েমেনে বিক্ষোভকারীদের শিবিরে পুলিশের অভিযানে নিহত ১, আহত শতাধিক

ইয়েমেনের রাজধানী সানায় গতকাল শনিবার ভোরে বিক্ষোভকারীদের অস্থায়ী শিবিরে অভিযান চালিয়েছে সে দেশের পুলিশ। এতে অন্তত একজন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীর উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, অভিযানে পুলিশ লাঠিসোঁটা ও টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করে। সরকারবিরোধীরা ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহর ৩২ বছরের শাসনের অবসানের দাবিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে ওই অস্থায়ী শিবিরগুলোতে অবস্থান করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
চিকিৎ সকেরা জানিয়েছেন, পুলিশ চিকিৎ সক দলকে শিবিরের মধ্যে ঢুকতে বাধা দিয়েছে। এক চিকিৎ সক বলেন, ‘মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। এ ছাড়া শতাধিক বিক্ষোভকারী আহত হয়েছে।’ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযানকালে তাঁরা গুলির শব্দ শুনেছেন।
এক বিক্ষোভকারী জানান, পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা অভিযানে অংশ নেন। তাঁরা বিক্ষোভকারীদের দিকে টিয়ারগ্যাস ও গুলি ছোড়েন। এ ছাড়া কিছু বিক্ষোভকারীকে রাস্তার দিকে ধাওয়া করেন।
তিউনিসিয়া ও মিসরের সফল গণআন্দোলনে অনুপ্রাণিত হয়ে ইয়েমেনের সরকারবিরোধীরা প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ ও রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ করছে। বিক্ষোভের মুখে গত বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট নতুন সংবিধান প্রণয়ন ও নির্বাচনী সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্টের ওই ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে অটল রয়েছে।

পৃথিবীর অক্ষরেখা ১০ সেন্টিমিটার সরে গেছে!

জাপানে গত শুক্রবারের ভূমিকম্পে পৃথিবীর অক্ষরেখা প্রায় ১০ সেন্টিমিটার সরে গেছে। জাপানের উপকূলীয় অঞ্চল সরেছে প্রায় ২ দশমিক ৪ মিটার।
শুক্রবার জাপানে স্থানীয় সময় বেলা পৌনে তিনটায় রিখটার স্কেলে ৮ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হয়।
এটি ১৪০ বছরের মধ্যে জাপানে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। এতে দেশটিতে এ পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ৩০০ মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
ইতালির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব জিওফিজিক্স অ্যান্ড ভলকানোলজি গতকাল শনিবার জানায়, ভূমিকম্পে পৃথিবীর অক্ষরেখা প্রায় ১০ সেন্টিমিটার সরেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ জানায়, ওই ভূমিকম্পের কারণে জাপানের উপকূলীয় অঞ্চল প্রায় ২ দশমিক ৪ মিটার সরে গেছে।
পৃথিবীর অক্ষরেখা সরে যাওয়ায় কয়েক শতক পর এক দিনের দৈর্ঘ্য এক সেকেন্ড কমতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোর ভূতত্ত্ববিদ্যার অধ্যাপক অ্যান্ড্রু মিয়াল।
তবে দিনের দৈর্ঘ্যে এটা খুব সামান্যই প্রভাব ফেলবে।

বড় চাঁদ ভূমিকম্প সুনামি

কয়েক দিন ধরেই ইন্টারনেটের বিভিন্ন সাইটে কথাবার্তা চলছিল, শিগগির বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন ভূমিকম্প বা ঘূর্ণিঝড় হতে পারে। এমন আশঙ্কা করার কারণ নাকি চাঁদ। ১৯ মার্চ পূর্ণিমা, ‘বড় পূর্ণিমা’। বড় পূর্ণিমা বলতে গত ১৮ বছরের মধ্যে চাঁদ পৃথিবীর এত কাছে আসেনি। তাই চাঁদের বিশাল আকর্ষণ পৃথিবীকে বেসামাল করে দিতে পারে।গত শুক্রবার জাপানে স্মরণকালের ভয়াবহ ভূমিকম্প এবং ভূমিকম্প-প্রসূত সুনামির পর তিথি-নক্ষত্র ঘেঁটে ওই সব লোক এখন হয়তো জোর গলায় বলতে শুরু করবে, ‘আগেই তো বলেছিলাম।’ যদিও বিজ্ঞানী এবং জ্যোতির্বিদদের মতে, আমাদের পৃথিবীর ওপর চাঁদের কিছু প্রভাব থাকলেও সে পৃথিবীকে ওলট-পালট করে দেওয়ার মতো শক্তি রাখে না।দিল্লির নেহরু প্লানেটোরিয়ামের পরিচালক এ রত্নশ্রী বলেন, ‘ভূমিকম্প বা সুনামির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে চাঁদ-সূর্যের অবস্থানের কোনো সরাসরি সম্পর্ক আছে এমন কোনো প্রতিষ্ঠিত ধারণা নেই। ১৯ মার্চ চাঁদ পৃথিবীর বেশ কাছে চলে আসবে এবং সে কারণে নাকি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটতে পারে। কিন্তু কথা হলো, ১৯ মার্চ তো এখনো সাত-আট দিন বাকি। এর আগেই কেন এই ভূমিকম্প বা সুনামি হলো? আমার মতে এ ধরনের সম্পর্ক খোঁজার মানে হয় না।’রত্নশ্রী জানান, শুক্রবার যখন সুনামি হয় তখন পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব ছিল তিন লাখ ৯৬ হাজার ৬৯৭ কিলোমিটার। ১৯ মার্চ পূর্ণিমার দিন চাঁদ আরও ৪০ হাজার কিলোমিটার কাছে চলে আসবে।

জাপানে প্রিয়জনকে খুঁজতে ইন্টারনেট

জাপানে প্রিয়জনকে খুঁজতে ব্যবহূত হচ্ছে ইন্টারনেট। জাপানের উত্তর-পূর্ব উপকূলে গত শুক্রবার স্মরণকালের ভূমিকম্প ও ভয়াবহ সুনামির পর প্রিয়জনেরা একে অপরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া প্রিয়জনকে খুঁজতে অসংখ্য লোকের প্রধান অবলম্বন এখন ইন্টারনেট। বিশেষ করে টুইটার, গুগলসহ স্থানীয় আরও কিছু ওয়েবের সাহায্যে খোঁজার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে অনেকেই।
জাপানের বিধ্বস্ত উপকূলে সুনামির পর যাদের খোঁজ পাওয়া যায়নি, তাদের খোঁজ পেতে উদ্বিগ্ন স্বজনেরা কম্পিউটারে চোখ রেখে অপেক্ষার প্রহর গুনছে। গ্লোবাল ওয়েব গুগলের পারসন ফাইন্ডার সার্ভিসে গ্রিনিচমান সময় গতকাল ছয়টা পর্যন্ত ৩৩ হাজার রেকর্ড নোটিশ করা হয়েছে। অনবরত অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।
এদিকে খোঁজার কাজ ত্বরান্বিত করতে আন্তর্জাতিক ও জাপানি রেড ক্রসও একই ধরনের একটি ওয়েবসাইট খুলেছে। শুক্রবার রেড ক্রসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ভূমিকম্প ও সুনামির কারণে জাপানে হাজার হাজার লোক তাদের পরিবার ও প্রিয়জনকে হারিয়েছে। এ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তারা তাদের পরিবারের সন্ধান করতে পারবে। ছোট্ট ব্লগ সাইট টুইটারে প্রতি সেকেন্ডে নানা ধরনের মেসেজ ভেসে উঠছে। এগুলো কোনোটা শুভেচ্ছার, কোনোটা শোক কিংবা সাহায্য প্রদানের প্রস্তাব।

রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ এবার দ. আফ্রিকার

এখনো কি হূৎ স্পন্দন বেড়ে যায় তাঁর? ঘামতে থাকে হাতের তালু? একটু অস্থির অস্থিরও যেন লাগে। অথচ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯৯ রানে তিনি দাঁড়িয়েছেন এ নিয়ে ১০২ বার। হেলমেটের ফাঁক দিয়ে উঁকি দেওয়া এক জোড়া চোখ যেন কালও একটু অস্থিরই দেখাল। ৯৯-এ দাঁড়িয়ে শচীন টেন্ডুলকার একটি বল খেললেন সতর্কতার চওড়া ব্যাটে। নাগপুরের বিদর্ভ স্টেডিয়ামে তখন বিদীর্ণ চিৎ কার। সেই মাহেন্দ্রক্ষণের সাক্ষী হয়ে উঠতে ব্যাকুল দর্শকদের বেশিক্ষণ অপেক্ষায় রাখলেন না। পরের বলটাই ডিপ কাভারে ঠেলে দিয়ে এক রান। সেই চিরচেনা ভঙ্গিতে, স্বর্গত পিতাকে উৎ সর্গ করা সেঞ্চুরি। সেঞ্চুরি নম্বর ৯৯!
বিশ্বকাপে সব মিলে এটি তাঁর ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। এই বিশ্বকাপে দ্বিতীয়। প্রথমটি করেছিলেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। স্ট্রোকের বর্ণচ্ছটায় কোনটি এগিয়ে কে জানে। টেন্ডুলকার হয়তো দুটোকেই দেবেন শূন্য নম্বর। একদিনও যে জেতা হলো না তাঁর!
২ বল আর ৩ উইকেট হাতে রেখে জিতল দক্ষিণ আফ্রিকা। জয় হলো আসলে ক্রিকেট-রোমাঞ্চের। টি-টোয়েন্টির উত্থানের যুগে ৫০ ওভারের ক্রিকেট তার আবেদন হারিয়ে ফেলছিল যখন, সেই সময় এই বিশ্বকাপ হয়ে গেল ওয়ানডে ক্রিকেটে নবযৌবন ফিরিয়ে দেওয়ার। নাগপুরেও কাল প্রতিটা সেকেন্ডে রোমহর্ষক উত্তেজনা। পুলিশের লাঠিগুঁতো খেয়ে টিকিট পাওয়া সার্থক! স্বাগতিক দর্শকদের জন্য শুধু শেষটা প্রত্যাশামতো হলো না। টেন্ডুলকার যে আবারও মুখ কালো করে ছাড়লেন মাঠ!
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেও টেন্ডুলকার সেদিন ম্লান হয়ে গিয়েছিলেন অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের ব্যাটের ছায়ায়। ষাটের দুটো ইনিংস খেলা হাশিম আমলা আর জ্যাক ক্যালিসও কাল তাঁকে আড়াল করার ‘পাঁয়তারা’ করছিলেন। অবশ্য টেন্ডুলকারকে সেঞ্চুরি আনন্দটা বিস্বাদ করে দেওয়ার কাজটি ‘সফলভাবে’ করে রেখেছিলেন তাঁর সতীর্থরাই। কাল চীনের মহাপ্রাচীরের গাঁথুনি নিয়ে শুরু করার ভারতের ইনিংসে শেষ পর্যন্ত সুনামির আঘাত। ৮.৯ মাত্রার ভূমিকম্প হয়ে গেল পাওয়ার প্লেতে রান তোলার তাগিদটা ‘ওশনিক প্লেট’ হয়ে ঠোক্কর খাওয়াতেই। যে ভারতের স্কোর ছিল ১ উইকেটে ২৬৭; তারাই অলআউট ২৯৬ রানে!
জাপানি সুনামির শোক তখন ভারতীয় গ্যালারিতে। ২৯ রানে শেষ ৯ উইকেটের পতন। শেষের দিক দিয়ে এমন ব্যাটিং-ধস ওয়ানডে ইতিহাসে দেখা গেছে মাত্র চারবার।
অথচ ভারত কাল চার-পাঁচ শ রান তুলে ফেলে কি না—এমন আলোচনাও হচ্ছিল একসময়। সেই আলোচনার উপলক্ষ এনে দিয়েছিল বীরেন্দর শেবাগের সঙ্গে টেন্ডুলকারের উদ্বোধনী জুটিতে আসা ১৪২ রান। ওভারপিছু যে জুটি রান তুলেছে আটেরও ওপরে। শেবাগ যথারীতি তাঁর মতোই ছিলেন। প্রথম বলেই চার মেরেছেন। এবার বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচের প্রতিটিতেই শেবাগ শুরু করলেন চার মেরে!
শেবাগ আর টেন্ডুলকারের জুটিটা একসময় হয়ে গিয়েছিল দ্বৈরথ। শেবাগ তাঁর মতো একচুলও পা না নাড়িয়ে সপাটে বল গ্যালারিতে পাঠিয়ে দেন তো খানিক পরে টেন্ডুলকারও বুঝিয়ে দেন শুদ্ধ ব্যাকরণই এখনো শেষ কথা। শেষ পর্যন্ত ফ্যাফ ডু প্লেসিস শেবাগ-ঝড় থামালেও টেন্ডুলকার-রথ ছুটছিলই। এবার গম্ভীরের সঙ্গে ১২৫ রানের জুটি। ১১১ রান করে টেন্ডুলকার ফিরে এলেন যখন, ভারতের হাতে শেষ ১০ ওভারে রানের বন্যা ছুটিয়ে দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ। সুনামির আঘাত তখনই। যে আঘাত এল ডেল স্টেইনের রূপ ধরে।
কদিন আগে মাইকেল হোল্ডিং তাঁর মন্তব্যে এখনকার বোলারদের মধ্যে কেবল স্টেইনকেই প্রকৃত ফাস্ট বোলারের মর্যাদা দেন। এর পরই এই ম্যাচে স্টেইনের শেবাগ-টেন্ডুলকারের হাতে লাঞ্ছিত হওয়া। ফিরতি স্পেলে এসে স্টেইনের যেন মনে পড়ে গেল, হোল্ডিংয়ের মতো কিংবদন্তির প্রশংসার মান তো রাখতেই হয়। একে একে তুলে নিলেন ৫ উইকেট। শেষ ১১ বলে ভারত উইকেট হারাল চারটি!
শেষের দিকে বোলারদের এই লড়াইয়ে উজ্জীবিত হয়েই রান তাড়া করতে নেমেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রান করবেন বলেই নাকি প্রথম চার ম্যাচে মাত্র ২১ রান করেছিলেন ক্যালিস। কাল এসে গিয়েছিল সেই সময়। দ্বিতীয় উইকেটে আমলার সঙ্গে তাঁর ৮৬ রানের জুটি অনেকটা পথ এগিয়ে নিয়েছিল দলকে। আমলার বিদায়ের পর ডি ভিলিয়ার্সের সঙ্গেও গড়েছিলেন ৪৬ রানের জুটি।
কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট নেবেন বলেই হয়তো প্রথম চার ম্যাচে ২ উইকেট নিয়েছিলেন হরভজন সিং। কাল তিনিই ম্যাচে ফিরিয়ে আনলেন ভারতকে। আমলা, ডি ভিলিয়ার্স, জেপি ডুমিনি—তিনজনই তাঁর শিকার। ক্যালিসকে রানআউটে ফেরাতে ভূমিকা রাখল ডিপ থেকে তাঁর দুর্দান্ত থ্রোও। দক্ষিণ আফ্রিকার দিক থেকে ম্যাচের কাঁটা সাঁ করে ঘুরে গেল ভারতের দিকে।
ষষ্ঠ উইকেটে আবারও পাল্লাটাকে নিজেদের দিকে টেনে আনলেন ইয়োহান বোথা আর ডু প্লেসিস। বদলি হিসেবে নামা রায়নার দুর্দান্ত ক্যাচ বোথাকে ফিরিয়ে ভাঙল ৩২ রানের জুটি। অথচ আগের দু বলে চার আর ছয় মেরে নাটক জমিয়ে তুলেছিলেন বোথা।
নাটক জমজমাট সমাপ্তির অপেক্ষা নিয়ে গেল শেষ ওভারে। ৬ বলে চাই ১৩ রান। হাতে ৩ উইকেট। দক্ষিণ আফ্রিকা পারবে? পারবে ভারতের চেয়েও বড় প্রতিপক্ষ হয়ে আসা মানসিক বাধাটাকে জয় করতে? গ্যালারির দিগন্তে যে উঁকি দিচ্ছে সেই অপশব্দ—চোকার্স! দক্ষিণ আফ্রিকা পারল! পারলেন আসলে রবিন পিটারসন। নেহরার করা শেষ ওভারের প্রথম দু বলে চার-ছয় থেকে ১০ রান! তৃতীয় বলে ২। চতুর্থ বলে? চার!
এই জয় দক্ষিণ আফ্রিকাকে ভালোমতোই টিকিয়ে রাখল ‘মৃত্যুকূপ’ হয়ে ওঠা ‘বি’ গ্রুপ থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে। ‘বি’ গ্রুপ আর কত রোমাঞ্চ উপহার দেবে কে জানে!

ধোনির আফসোস

বিশ্বকাপের শুরু থেকেই অনেকের চোখ ছিল হরভজন সিংয়ের দিকে। উপমহাদেশের স্পিনার-বান্ধব উইকেটে ভারতের শিরোপা জয়ের লক্ষ্য পূরণে এই অফ স্পিনার একটা ভালো ভূমিকা পালন করতে পারবেন—এমনটাই আশা করেছিলেন সবাই। কিন্তু প্রথম চার ম্যাচে সবাইকে হতাশই করেছিলেন ‘ভাজ্জি’। পেয়েছিলেন মাত্র ২ উইকেট। কিন্তু গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ফিরেছিলেন পুরোনো রূপে। একটু খরুচে প্রমাণিত হলেও দক্ষিণ আফ্রিকার তিন বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান হাশিম আমলা, ডি ভিলিয়ার্স ও জে পি ডুমিনির উইকেট তুলে নিয়ে জয়ের আশা জাগিয়েছিলেন ভারতীয় শিবিরে। কিন্তু শেষটা আশানুরূপ হলো না হরভজনের। টেন্ডুলকারের অনবদ্য শতকের মতো বৃথা গেল তাঁর এই প্রত্যাবর্তনও।
শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ২ উইকেটের জয় দিয়ে ভারতীয় শিবিরকে হতাশায় ডোবালেন প্লেসিস, পিটারসেনরা। হতাশাটা হয়তো হরভজনের আরেকটু বেশিই হতে পারে। শেষ ওভারে ধোনি যদি বলটা আশিস নেহরার হাতে না দিয়ে তাঁর হাতে দিতেন, তাহলে হয়তো শেষ হাসিটা তাঁরাই হাসতে পারতেন। কী হতে পারত, এ নিয়ে আলাপ করে অবশ্য এখন খুব বেশি লাভ নেই। কিন্তু শেষ ৬ বলে যখন ১৩ রান দরকার, সে সময় হরভজনকে বোলিংয়ে না এনে নেহরাকে দিয়ে বল করানোর সিদ্ধান্তটা অনেককেই অবাক করেছে। সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে ভারতীয় অধিনায়ককে। ম্যাচ শেষে তাই আফসোস করা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না ধোনির। ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ধোনির সাফাই, ‘শেষ ওভারের জন্য আশিসই উপযুক্ত ছিল। সে ভালো বোলিং করেছিল। আমি ভেবেছিলাম, তাকে দিয়েই কাজ হবে। আমাকে এই সিদ্ধান্তের জন্য দোষারোপ করতে পারেন। কিন্তু আমার মনে হয়েছিল, পেসার দিয়েই আমাদের জয়ের কাজটা ভালোভাবে হবে।’
ধোনির আফসোস শুধু এই একটা জায়গাতেই নয়, ব্যাটিংয়েও তাঁর আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি সতীর্থরা। শচীনের ৪৮তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি, শেবাগের ৭৩ ও গৌতম গম্ভীরের ৬৯ রানের লড়াকু ইনিংসের সুবাদে মাত্র ৪০ ওভারেই ভারতীয় স্কোর বোর্ডে যুক্ত হয়েছিল ২৬৮ রান। সবাই ভাবছিলেন, ভারতের রান বুঝি ৩৫০ ছাড়িয়ে যাবে। কিন্তু শেষ ১০ ওভারে শুধু আসা-যাওয়াই করেছেন বাকি ব্যাটসম্যানরা। উইকেটের অপর প্রান্তে দাঁড়িয়ে শুধু আফসোসই করতে হয়েছে ধোনিকে। ১০ বল বাকি থাকতে ২৯৬ রানেই গুটিয়ে যাওয়ার পর শুধু হতাশ হওয়া ছাড়া আক্ষরিক অর্থে আর কিছুই করার ছিল না তাঁর। মাঠ ছেড়েছেন ১২ রানে অপরাজিত থেকে। শেষ ৩ ওভারে মাত্র ৪ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কারটা ঝুলিতে ভরেছেন ডেল স্টেইন। ভারতকে দিয়েছেন এবারের বিশ্বকাপের প্রথম পরাজয়ের স্বাদ।
ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের দুটি বড় ম্যাচেই একেবারে শেষ মুহূর্তে জয়বঞ্চিত হতে হয়েছে ভারতকে। গতকাল ম্যাচটা জিততে পারলে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিতই করে ফেলতে পারত ধোনির বাহিনী। এই হারের ফলেও হয়তো শেষ আটে যাওয়া আটকাবে না স্বাগতিকদের। কিন্তু বড় দলগুলোর বিপক্ষে এই শেষ মুহূর্তের আফসোসগুলো নিয়ে সত্যিই ভাবতে হবে ধোনিকে।

ইংল্যান্ড মানেই রোমাঞ্চ!

বিশ্বকাপকে রোমাঞ্চে ভরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব যেন একাই কাঁধে তুলে নিয়েছে বিশ্বকাপের চির-অভাগা ইংল্যান্ড।
আসলেই তাই। অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের ইংল্যান্ড এ পর্যন্ত খেলেছে ৫টি ম্যাচ। হল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াই করে জয়, ভারতের বিপক্ষে ‘টাই’ নাটক, আয়ারল্যান্ড ম্যাচে রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে হার, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হারতে হারতে জয়, সর্বশেষ চট্টগ্রামে বাংলাদেশের কাছে হার—কোনটিতে রোমাঞ্চের কমতি ছিল বলুন?
এক নজরে ইংল্যান্ডের পাঁচ স্নায়ুক্ষয়ী ম্যাচ:
হল্যান্ড: ২২ ফেব্রুয়ারি, নাগপুরে হল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড। টেন ডেসকাটের সেঞ্চুরিতে হল্যান্ড তোলে ২৯২ রান, এতেই কেঁপে ওঠে ইংলিশ শিবির। শেষ পর্যন্ত ৮ বল বাকি থাকতে ৬ উইকেটের বড় জয়ই ইংল্যান্ড পেয়েছে বটে; তবে তার আগে স্ট্রাউসদের পেরোতে হয় কঠিন একটা পথ।
ভারত: ২৭ ফেব্রুয়ারি, বেঙ্গালুরুর ভারত-ইংল্যান্ডের ‘টাই’ ম্যাচটি তো জায়গা করে নিয়েছে ওয়ানডে ইতিহাসের অন্যতম সেরা ম্যাচের তালিকায়। টেন্ডুলকারের রেকর্ড সেঞ্চুরিতে ভারত উঠে যায় পাহাড়ে—৩৩৮ রান। স্ট্রাউসের ক্যারিয়ারে সেরা ইনিংসে সহজ জয়ের পথেই হাঁটছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু শেষ দিকে রং বদলে যায় ম্যাচের। টপাটপ ৩ উইকেট তুলে ভারতকে ম্যাচে ফেরান জহির খান। শেষ ২ ওভারে দরকার ২৯। স্নায়ুক্ষয়ী উত্তেজনার মধ্যে ব্রেসনান, সোয়ান, আহমেদ শেহজাদরা নিলেন ২৮, ম্যাচ টাই!
আয়ারল্যান্ড: ২ মার্চ বেঙ্গালুরুতেই ইংল্যান্ড তোলে ৩২৭/৮ রান। ১১১ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে আয়ারল্যান্ড। কে জানত, ম্যাচের নাটকীয়তার শুরু ওখান থেকেই! বিপর্যয়ের মুখে আইরিশ দেবদূত হয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন কেভিন ও’ব্রায়েন। রেকর্ডের পাতায় ঠাঁই করে নেওয়া অবিশ্বাস্য সেঞ্চুরিই শুধু করলেন না ও’ব্রায়েন, আয়ারল্যান্ডকে এনে দিলেন ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রান টপকানো রেকর্ড গড়া জয়।
দক্ষিণ আফ্রিকা: লো-স্কোরিং ম্যাচও যে রোমাঞ্চে পরিপূর্ণ হতে পারে, ৬ মার্চ চেন্নাইয়ে ইংল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ তার সর্বশেষ বিজ্ঞাপন। ইংল্যান্ড করে মাত্র ১৭১ রান। বারবার রং বদলানো ম্যাচে স্নায়ুচাপে পড়া দক্ষিণ আফ্রিকা ১৬৫ রানে অলআউট!
বাংলাদেশ: পরশু চট্টগ্রামে রোমাঞ্চদেবী কী রূপে ধরা দিয়েছিলেন সেই দৃশ্য তো হূদয়েই গাঁথা। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অনেকবার রং বদলাল ম্যাচটা! ইংল্যান্ডকে ২২৫ রানে বেঁধে ফেলে একসময় সহজ জয়ের পথেই হাঁটছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ক্রিকেট দেবতা যে ছিলেন রোমাঞ্চ দেখার অপেক্ষায়। ৩ উইকেটে ১৫৫ থেকে বাংলাদেশ ৮ উইকেটে ১৬৯! জিততে চাই আরও ৫৭ রান। সবাই বাংলাদেশের পরাজয় দেখলেও শফিউল আর মাহমুদউল্লাহ লিখলেন অন্য এক কাব্য, যার নাম অবিস্মরণীয় জয়।

দুর্দান্ত জয়ে উল্লসিত স্মিথ

এই দক্ষিণ আফ্রিকাই আগের ম্যাচে ইংল্যান্ডের ১৭২ রান তাড়া করে জিততে পারেনি। অথচ কাল নাগপুরে তারাই ভারতের বিপক্ষে এক দুর্দান্ত জয় ছিনিয়ে নিল ২৯৭ রানের লক্ষ্যমাত্রা পেরিয়ে। পাহাড়সম এই লক্ষ্যের পথে সম্মিলিত দলীয় প্রচেষ্টার এক অসাধারণ স্বাক্ষর রেখে প্রোটিয়াদের জয় ৩ উইকেটে। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বারবার হোঁচট খেয়ে ‘চোকার’ অভিধায় অভিহিত দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য নাগপুরের কালকের জয় বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোর জন্য বিপুল আত্মবিশ্বাসের উত্স হয়ে উঠবে, তাতে কারও বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ নেই।শ্বাসরুদ্ধকর এই ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথ বলেছেন, ‘প্রথম দিকে আমরা একেবারেই ভালো খেলতে পারিনি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আমরা অসাধারণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছি। এই উইকেটে পরে ব্যাট করে ৩০০ রান করা খুবই কঠিন। কিন্তু সবাই খুব চমত্কার খেলেছে। আমার ধারণা, এই মুহূর্তে কারোরই এই অসাধারণ অনুভূতি প্রকাশের ভাষা নেই।’টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে ৪০ ওভারেই ২৬৮ রান তুলে রানের পাহাড় গড়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল ভারত। কিন্তু ৩ ওভারের অসাধারণ এক স্পেল দিয়ে ম্যাচের লাগামটা ধরে রাখেন ফাস্ট বোলার ডেল স্টেইন। মাত্র ৪ রানের বিনিময়ে তুলে নেন ৫ উইকেট। স্টেইনের আগুন ঝরানো বোলিংয়ে শেষ ৯ ওভারে মাত্র ২৯ রান তুলতেই ৯ উইকেট হারায় ভারত। ম্যাচ শেষে তাই গ্রায়েম স্মিথ তাঁর বোলিং আক্রমণের অন্যতম প্রধান অস্ত্রের প্রশংসা করলেন আলাদাভাবেই। বললেন, ‘সামান্যতম কিছু সুযোগকেও আমরা খুব ভালোভাবে কাজে লাগাতে পেরেছি। ডেল শেষ মুহূর্তে অসাধারণ বোলিং করেছে। অন্যরাও তাকে সঙ্গ দিয়েছে দুর্দান্তভাবে।’নাগপুরে গতকালের এই জয়টা দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপ দুর্ভাগ্য ঘোচাতে অনেক অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে আশাবাদী স্মিথ। তিনি বলেছেন, ‘এ ধরনের একটা দুর্দান্ত জয় আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। কাজেই আশা করছি, আমরা এখান থেকে ভবিষ্যতে অনেক সাহস পাব।’

হারানো আত্মবিশ্বাসের খোঁজে পাকিস্তান

বিশ্বকাপে মুদ্রার দুই পিঠই দেখে ফেলেছে পাকিস্তান। কেনিয়া ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুটি দুর্দান্ত জয়ের মাধ্যমে মিশন শুরু করার পর কানাডার বিপক্ষে ব্যাটিং ব্যর্থতার পর অধিনায়ক আফ্রিদির কল্যাণে কোনোমতে পার পেলেও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে রস টেইলরের ঝড়ে বিশাল পরাজয়ে পুরো পাকিস্তান দলের আত্মবিশ্বাস এখন তলানিতে। মাত্র ৪ ওভারেই শোয়েব, রাজ্জাক, আবদুর রেহমানদের বলকে ছেলেখেলায় পরিণত করে পাকিস্তানকে ম্যাচ থেকে ছিটকে ফেলেন এই ব্যাটসম্যান। আর ভয়াবহ ব্যাটিং ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে সে ম্যাচটা পাকিস্তান হেরে গেছে ১১০ রানের বিশাল ব্যবধানে।‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে যোগ হয়েছে উইকেটরক্ষক কামরান আকমলের অবিশ্বাস্য অদক্ষতা। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে রস টেইলরকে ব্যক্তিগত শূন্য ও ৮ রানে উইকেটের পেছনে জীবন দিয়েছিলেন কামরান। সেই টেইলরই ১২৪ বলে ১৩১ রানের ইনিংস খেলে পাকিস্তানকে রীতিমতো ‘খুন’ করেন। ব্যাট হাতেও ক্রমাগত ব্যর্থতার পরিচয় দিতে থাকা পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরাও বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছেন। ওপেনিংয়ে দুর্বলতা, ব্যাটসম্যানদের অধারাবাহিকতা—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের মাঝপথে এসেই সবকিছু কেমন যেন সমস্যাসংকুল ঠেকছে পাকিস্তানের জন্য।পাকিস্তানের পরের ম্যাচ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে সে ম্যাচের দিকেই পাখির চোখ পাকিস্তান দলের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটি বড় জয়ই বদলে দিতে পারে সবকিছু—এমনটাই মনে করেন ব্যাটসম্যান মিসবাহ-উল-হক। তাঁর মতে, ‘এখনই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটির কথা চিন্তা করে লাভ নেই। আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটা জয় আসুক, পরে অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের কথা ভাবা যাবে।’এদিকে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাজে পারফরম্যান্সের কারণে কামরান আকমলকে একাদশ থেকে বাদ দেওয়ার যে চিন্তা-ভাবনা চলছিল, তাতে আপাতত ইতি টেনেছে পাকিস্তানি ম্যানেজমেন্ট। এর সবচেয়ে বড় কারণ, আপাতত তাঁর বিকল্প হিসেবে কাউকে দাঁড় করাতে না পারা। ভাই উমর আকমল কিপিং পারেন, কিন্তু তাঁর ওপর বাড়তি বোঝা চাপাতে চাচ্ছেন না কেউ। আপাতত, তাই কামরান আকমল নিজেকে নিরাপদই মনে করতে পারেন।

শেষ আটে নিউজিল্যান্ড

ব্রেন্ডন ম্যাককালামের সেঞ্চুরি। সঙ্গে রস টেলরের ৪৪ বলে ৭৪ রানের ঝোড়ো ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের রানের পাহাড়, ৬ উইকেটে ৩৫৮! জবাবে পুরো ৫০ ওভার খেলে কানাডার সংগ্রহ ৯ উইকেটে ২৬১ রান। মুম্বাইয়ে ৯৭ রানের জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেছে নিউজিল্যান্ড।৩৫৯ রানের অসম্ভবের পথে শুরুতেই ধাক্কা খায় কানাডা। দলীয় ২ রানে প্রথম আর ৫০ রানে তৃতীয় উইকেটের পতন। তবে নিউজিল্যান্ডকে হেসে-খেলে জিততে দেননি অধিনায়ক আশিষ বাগাই ও জিমি হানসারা। কিউই বোলারদের হতাশায় ডুবিয়ে এ দুজন গড়ে তোলেন ১২৫ রানের জুটি। ব্যক্তিগত ৮৪ রানে সাজঘরে ফেরেন বাগাই। হানসারাকে ফেরাতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। এক প্রান্ত আগলে রেখে ৭০ রানে অপরাজিত থাকেন এই ব্যাটসম্যান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
নিউজিল্যান্ড ৩৫৮/৬ (৫০ ওভার)
ম্যাককালাম ১০১, টেলর ৭৪
বাইদান ৮৪/৩, বালাজি ৬২/২
কানাডা ২৬১/৯ (৫০ ওভার)
বাগাই ৮৪, হানসারা ৭০*
ওরাম ৪৭/৩, মিলস ২/২
ম্যাচ সেরা: ব্রেন্ডন ম্যাককালাম

হতাশায় অবসরে যাচ্ছেন স্ট্রাউস-পিটারসেন!

হল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াই করে জয়, ভারতের সঙ্গে ‘টাই’, আয়ারল্যান্ডের কাছে হার, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হারতে হারতে জয়, সর্বশেষ চট্টগ্রামে বাংলাদেশের কাছে হার! আর সইতে পারছেন না অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস ও কেভিন পিটারসেন। বারবার কষ্ট পাওয়ার চেয়ে এমন স্নায়ুক্ষয়ী খেলা ছেড়ে দেওয়াই তো ভালো!
যুক্তরাজ্যের জনপ্রিয় দৈনিক মেইলের খবর—ওয়ানডে ক্রিকেট আর নয়, অবসরে যাচ্ছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস। বিশ্বকাপের পরই ওয়ানডেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বিদায়’ বলে দেবেন তিনি। সম্ভবত স্ট্রাউসের সঙ্গে ‘বিদায়’ বলে দেবেন কেভিন পিটারসেনও।
বিশ্বকাপের পর স্ট্রাউস ও পিটারসেনের ওয়ানডে থেকে সরে দাঁড়ানোর খবরকে নিছক ‘গুজব’ বলে দাবি করেছেন ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিউজ মরিস। বিবিসি রেডিও ফাইভকে মরিস বলেন, ‘আমি প্রতিবেদনটা দেখিনি। শুধু এটুকু বলতে পারি, কারও সঙ্গেই এ নিয়ে আমাদের কথা হয়নি। এটা পুরোপুরি গুজব।’