Saturday, May 19, 2018

পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েতে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিপত্য

পশ্চিমবঙ্গে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস একাধিপত্য করেছে। শাসক দল জেলা পরিষদ স্তরে ৯৫ শতাংশ আসনে, পঞ্চায়েত সমিতি স্তরে ৯০ শতাংশ আসনে এবং গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে ৭৩ শতাংশ আসনে বিজয়ী হয়েছে। বিরোধীরা তৃণমূল কংগ্রেসের থেকে অনেক পিছিয়ে থাকলেও বাম ও কংগ্রেসকে  পিছনে ফেলে বিজেপি স্থানে উঠে এসেছে। বিজেপি গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে ১৩ শতাংশ আসন পেয়েছে। এমনকি জঙ্গল মহল বলে পরিচিত এলাকা এবং চা বলয় বলে পরিচিত আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে বিজেপি তাদের আধিপত্যের প্রমাণ দিয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আদিবাসী ও তফসিলি জাতি অধ্যূষিত এলাকাতে বিজেপি তাদের প্রভাব বিপুলভাবে প্রতিফলিত করতে পেরেছে। অন্যদিকে নির্দল প্রার্থীরা এবারের পঞ্চায়েত নির্বাচনে চমক সৃষ্টি করেছে। নির্দলরা গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে ১৭৭৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। পঞ্চায়েত সমিতিতেও তারা ৮৪টি আসন পেয়েছে। অবশ্য এই নির্দলদের অধিকাংশই বিক্ষুব্ধ তৃণমূল কংগ্রেসের লোক বলে পরিচিত। ফল গণনার কাজ শেষ হতে হতে আজ শুক্রবার বিকেল গড়িয়ে যাবে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে।  রাজ্যে এই নবম পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রথম  বিরোধীদের হাতে একটিও জেলা পরিষদ নেই। গতবারের ভোটে বিরোধীদের জেতা তিনটি জেলা পরিষদও চলে গিয়েছে শাসকের হাতে। গত ১৪ই মে ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের ৩৮,৫৪৬ টি আসনে নির্বাচন হয়েছে। তবে বিরোধীরা ব্যাপক সন্ত্রাসের অভিযোগ করার পরিপ্রেক্ষিতে পরে ৫৭৩টি বুথে পুনঃনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার  সকালে ভোট গণনা শুরু হওয়ার পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের জয়ের ছবিটি স্পষ্ট হযেছে। দুপুরের পর পরিষ্কার হয়ে গিযেছে যে, শাসক দল গ্রামবাংলা জুড়ে তাদের একাধিপত্য বজায় রেখেছে। তবে গত সোমবার ৬৬ শতাংশ আসনে নির্বাচন হযেছে। বাকী ৩৪ শতাংশ আসনে শাসক দলের প্রার্থীরা আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দিবতায় জয়ী হয়েছেন। তবে সেই সব প্রার্থীদের ভাগ্য আদালতের হাতে ঝুলে রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য থেকে জানা গেছে, গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩১,৮১৪টি আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস  ২০,৭৩৯ টি আসনে জয়ী হয়েছে । বিজেপি জয়ী হযেছে ৫,৫৭৯টি আসনে । বামরা জয়ী হয়েছে ১,৬৭০টি আসনে। কংগ্রেস পেয়েছে মাত্র ১,০১৯টি আসনে। আশ্চর্যজনকভাবে ১,৭৭৯ জন  নির্দল প্রার্থী এবারের নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নির্দলদের অধিকাংশ শাসক দলের সিদ্ধান্তে খুশি না হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। গোষ্ঠী বিরোধের কারণেই এরা প্রার্থী হয়েছিলেন। পঞ্চায়েত সমিতির ৬,১২৫ আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হয়েছে ৩,৮০০ আসনে। অন্যদিকে বিজেপি পেয়েছে ৫১১, বামফ্রন্ট ৮৩, কংগ্রেস ৮৪টি এবং নির্দলরা পেয়েছে ৮৪টি আসন। জেলা পরিষদের ২০টিতেই  তৃণমূল কংগ্রেস জয় পেয়েছে। গতকাল বৃহষ্পতিবার অবশ্য গণনাতেও ব্যাপক গোলমাল হয়েছে। অনেক জায়গাতেই বিরোধী এজেন্টদের গণনাকেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কোথাও কোথাও তাদের মেরে বের করে দেয়া হয়েছে।  নদীয়ার মাজদিয়ায় একটি গণনা কেন্দ্রে ব্যালট পেপারে ছাপ্পা ভোট দিতে দেখা গেছে। নির্বাচন কমিশন অবশ্য সংশ্লিষ্ট ২টি বুথের গণনা স্থগিত করে দিয়েছে। অন্য দিকে কোচবিহারে দুটি ব্যালট বাক্স থেকে ভোটারের চেয়ে বেশি ব্যালট পেপার পাওয়া গিযেছে বলে নির্বাচন কমিশন সুত্রে জানা গেছে। রাজ্য জুড়ে সহিংসতা ঠেকাতে বিরোধী কংগ্রেস এবং বামরা রাষ্ট্রপতি শাসন কায়েম করার দাবি জানিয়েছেন।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা রুখে দেয়ার চেষ্টা ইইউ’র

ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা রুখে দেয়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। আঞ্চলিক সংগঠনটি এমন একটি আইন কার্যকর করার পরিকল্পনা করছে যা ইউরোপের কোম্পানি ও আদালতগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তি দেবে। ইরানের সঙ্গে বহুল আলোচিত পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে যাওয়ার পর চুক্তি টিকিয়ে রাখতে ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে এ পরিকল্পনা করেছে ইইউ। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।  
খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার ইউরোপিয়ান কমিশনের সভাপতি জ্য ক্লদ জাঙ্কার বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে ইউরোপের কোম্পানিগুলোকে রক্ষা করা ইউরোপিয়ান কমিশনের কর্তব্য। এজন্য আমাদের পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। আমরা একটি প্রতিরোধ আইন কার্যকর করবো। বৃহস্পতিবার বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়াতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জাঙ্কার।
যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি বহাল রাখতে চায় ইউরোপের দেশগুলো। এজন্য তাদের সবচেয়ে বড় অবলম্বন প্রতিরোধ আইন। কেননা এ আইনে ইউরোপের কোম্পানিগুলোকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি এই আইনে এমন কোনো আদেশকে স্বীকৃতি দেয়া হয় না যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো শাস্তি বাস্তবায়ন করা হয়।
২০১৫ সালে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার জন্য যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতা চুক্তি করে। এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যহারে কমিয়ে আনে। বিনিময়ে দেশটিকে অর্থনৈতিক অবরোধ থেকে মুক্তি দেয়া হয়। ফলে ইরান আন্তর্জাতিক বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য করার সুযোগ লাভ করে। অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যেতে থাকে ইরানিরা। কিন্তু সম্প্রতি ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এতে তীব্র আপত্তি জানায় অন্য অংশীদার দেশগুলো। কিন্তু ট্রাম্প এসব আপত্তির কোনোই তোয়াক্কা না করে একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে চুক্তি থেকে সরিয়ে নেন। ইরানের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। পাশাপাশি যেসব প্রতিষ্ঠান ইানের সঙ্গে বাণিজ্য করবে তাদের শাস্তির হুমকি দেন। এতে বিপাকে পড়েছে ইউরোপের দেশগুলো। ফ্রান্সের তেল ও গ্যাস কোম্পানি টোটাল ইরানের সঙ্গে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। দেশটির উড়োজাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসও ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি করেছে। ইরানের সঙ্গে চুক্তি করেছে জার্মানির কয়েকটি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া অন্যদেশগুলোও বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়িক লেনদেন শুরু করেছে। কিন্তু পারমাণবিক চুক্তি থেকে একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার ফলে এসব চুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সব দিক বিবেচনা করে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়াই চুক্তি এগিয়ে নেয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে চীন ও রাশিয়াসহ ইউরোপের দেশগুলো।
ইরান বলেছে, চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী বাকি দেশগুলো যদি ইরানকে নিষেধাজ্ঞা থেকে সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেয়, তাহলে তারা পারমাণবিক চুক্তি বহাল রাখবে।
প্রতিরোধ আইন কি?
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মোকাবিলায় প্রতিরোধ আইন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপ। ১৯৯৬ সালে এই আইন প্রণয়ন করা হয়। তখন এই আইনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা থেকে কিউবাকে মুক্তি দেয়া হয়। পাশাপাশি কিউবার সঙ্গে বাণিজ্য করে এমন ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি দেয়া হয়। কিন্তু এর বিপরীতে মার্কিন কংগ্রেসে একটি আইন পাস করা হয়েছে। যাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই প্রতিরোধ আইন অনেকটাই অকার্যকর হয়ে পড়ে। এতে মার্কিন ব্যাংকে লেনদেনের ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিরোধ আইনের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সুফল পাবেন। যারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য করে না। কিন্তু বড় বহুজাতিক কোম্পানিগুলো ডলারে লেনদেন করে। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখলে বড় কোম্পানিগুলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞার শিকার হবে।
এক্ষেত্রে প্রতিরোধ আইনের সুফল সীমিত। ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টে সংগঠনটির ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস কমিশনার ভালদিত ডমভ্রস্কিস বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মোকাবিলায় সীমিতভাবে প্রতিরোধ আইন কার্যকর করা যেতে পারে।
উদ্বিগ্ন ইউরোপের কোম্পানিগুলো
পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করে দিয়েছে ইউরোপের কয়েকটি কোম্পানি। বৃহস্পতিবার ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করে দেয়ার ঘোষষা দিয়েছে ডেনমার্কের শিপিং জায়ান্ট মায়ের্সক ট্যাংকার্স। জার্মান কোম্পানিগুলো ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যের পরিমাণ কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে। ইতালির স্টিল কোম্পানি দানিয়েলি ইরানের সঙ্গে তাদের বাণিজ্য স্থগিত করেছে। ফরাসি তেল ও গ্যাস কোম্পানি টোটাল বলেছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি না পেলে তারা ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ৫০০ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি থেকে সরে আসবে। ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ওই চুক্তি কার্যকর রয়েছে। সংকটময় পরিস্থিতিতে ইরানের প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়েছে চীন। ইরানের তেলমন্ত্রী বিজান জানগেনেহ বলেন, ফরাসি টোটাল কোম্পানি চুক্তি বাতিল করলে সেখানে চীনের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সিএনপিসি স্থলাভিষিক্ত হবে। চীনের সঙ্গে ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
অন্যদিকে, বৃটিশ কোম্পানি পারগ্যাস ইন্টারন্যাশনাল ইরানের সঙ্গে নতুন করে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ইরানের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত টিভি চ্যানেলে এমনটিই দাবি করা হয়েছে। পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে যাওয়ার পর এই প্রথম কোনো ইউরোপীয় কোম্পানি ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর করলো। এরই মধ্যে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি করেছে রাশিয়া। সম্প্রতি কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানায় ইরানের সঙ্গে নতুন বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন ইউরেশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়ন। এতে কয়েক শ’ পণ্যের ওপর শুল্ক কমিয়েছে ইরান। এ ছাড়া একটি মুক্ত বাণিজ্যিক অঞ্চল গঠনের জন্য দ্রুতই আলোচনায় বসবে দুই পক্ষ।

সিআইএ’র প্রথম নারী প্রধান গিনা হ্যাসপেল

প্রথম নারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সীর (সিআইএ) প্রধান হচ্ছেন নৃশংসতার জন্য বিখ্যাত গিনা হ্যাসপেল। বৃহস্পতিবার তাকে সবুজ সংকেত দিয়েছে মার্কিন সিনেট। এদিন ১০০ সদস্য বিশিষ্ট সিনেটে ৫৪-৪৫ ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন লাভ করেন তিনি। সিনেটের সমর্থন লাভ করায় সিআইএ প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে তার সামনে আর কোন বাঁধা থাকলো না। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
খবরে বলা হয়, গিনা হ্যাসপেলের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রমের সময় নিষ্ঠুর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ রয়েছে। বন্দীদের ওপর নির্যাতনের নতুন নতুন কৌশল আবিষ্কার করেন তিনি। নিষ্ঠুরতার জন্য বিখ্যাত এই গিনা হ্যাসপেলই এবার সিআইএ’র পরবর্তী প্রধানের দায়িত্ব পাচ্ছেন। মাইক পম্পেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই তিনিই সিআইএ’র ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন। এবার তার দায়িত্ব স্থায়ী করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন সিনেটে সিআইএ প্রধান হিসেবে হ্যাসপেলের নিয়োগের বিষয়ে চুড়ান্ত ভোটাভোটি হয়। এতে ৫৪ জন সদস্য হ্যাসপেলকে সিআইএ প্রধানের দায়িত্ব দেয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন ছয় জন ডেমোক্রেট সিনেটর। আর প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তকে ভূল আখ্যা দিয়ে না ভোট দিয়েছেন দু’জন রিপাবলিকান সিনেটর। চিকিৎসাধীন থাকায় ভোট দিতে পারেননি ক্যান্সারে আক্রান্ত রিপাবলিকান সিনেটর জন ম্যাককেইন। তবে হ্যাসপেলকে সমর্থন না দেয়ার জন্য তিনি সিনেটের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময়ই হ্যাসপেল ‘আন্ডারকভার অফিসার’ হিসেবে কাজ করেছেন। ২০০২ সালে তার ওপর থাইল্যান্ডে অবস্থিত সিআইএ’র একটি গোপন কারাগার দেখভালের দায়িত্ব দেয়া হয়। সেখানকার বন্দীরা হ্যাসপেলের হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হন। তাদের ওপর নৃশংস ‘ওয়াটারবোর্ডিং’ পদ্ধতিতে নির্যাতন চালান হ্যাসপেল।

খোয়াই ও মেঘনার ভাঙনের মুখে তিন গ্রাম

অষ্টগ্রাম উপজেলার মেঘনা নদীর খরস্রোতের ফলে তিনটি গ্রামে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। শত শত মানুষ গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। বাজুকা হচ্ছে খোয়াই নদী অধ্যুষিত একটি গ্রাম। গ্রামটি কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম উপজেলা আব্দুল্লাপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। অষ্টগ্রাম উপজেলার শেষ প্রান্তে হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচঙ্গ উপজেলার সীমান্তবর্তী। শত শত বছরের পুরাতন বাজুকা গ্রামটি ভাঙনের কবলের স্বীকার প্রতিনিয়ত। খোয়াই নদীর প্রবল স্রোতের ফলে এ ভাঙনের সৃষ্টি। গ্রামটি ভাঙনের ফলে নদীর গতিপথ প্রায় ৫ শত মিটারের অধিক পরিবর্তন হয়ে গেছে। এবারো খোয়াই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং খরস্রোতের কারণে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। নিরুপায় হয়ে জনগণ সব ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। কেউ কেউ আবার বাজুকা ছেড়ে হবিগঞ্জ জেলার অন্তর্বর্তী গ্রামে বসবাস করছেন। এভাবে গ্রামটি ভাঙনের ফলে তার পরিচিতি একদিন বিলীন হয়ে যাবে। তাই যত দ্রুত সম্ভব নতুন করে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে  গ্রামবাসী  কিশোরগঞ্জ ৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহম্মেদ তৌফিক মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি এলাকা সরজমিনে পরিদর্শন করে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের জন্য  ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান। জানা যায়, বাজুকা গ্রামে ৩ হাজারের অধিক ভোটার রয়েছে। গ্রাম ভাঙনের ফলে এক তৃতীয়াংশ ভোটার হবিগঞ্জ জেলার পার্শ্ববর্তী ইকরাম ও সুজাতপুর ইউনিয়নে বসবাস করছে। সরজমিনে গিয়ে এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি আবদুর রাজ্জাক মিয়ার সঙ্গে কথা বলি। তিনি জানান, তার শত শত বছরের ২০ শতকের ভিটে মাটি সম্পূর্ণ নদীর গর্ভে চলে যায়। এখন তারা ছেলে মেয়ে নিয়ে অন্যের বাড়িতে থাকতে হচ্ছে। এলাকার এ রকম ৪০-৫০ পরিবার গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করছেন। বিগত ত্রিশ বছর পূর্বে এ ভাঙনের সৃষ্টি। কিন্তু সরকার বা স্থানীয় প্রতিনিধিকে অবগত করলেও কোনো লাভ হয়নি। তাই লোকজন ভিটে মাটি সবকিছু হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে বিভিন্ন এলাকায় চলে যাচ্ছে।
এমনিভাবে খোয়াই ভাঙন অব্যাহত থাকলে একদিন ইতিহাস থেকে বাজুকা গ্রামটি মুছে যাবে। অন্যদিকে একেই ইউনিয়নের কদমচাল বাজারটি ও মেঘনার করাল গ্রাস থেকে বাদ পড়েনি। এদিকে নতুন করে একেই উপজেলার বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়নের লাউরা নাজিরপুর এলাকাটি মেঘনার প্রবল স্রোতের কারণে প্রায় দুইশত মিটারের বেশি পার ভেঙে ভেতরে চলে আসছে। এতে এলাকার লোকজনের মাঝে আতঙ্কিত বিরাজ করছে। এভাবে প্রতিদিন ভাঙনের ফলে শত শত একর জমি মেঘনায় বিলীন হয়ে যায়। এ বিষয়ে স্থানীয় লোকজন এমপি মহোদয়কে অবগত করেন। তিনি মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। নদীর ভাঙন পরিদর্শন শেষে এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে তিনি নগদ ৩০ লাখ টাকা দিয়ে যত দ্রুত সম্ভব নদী ভাঙন রোধ এর ব্যবস্থা নিতে বলেন।

মঙ্গলবাড়িয়ার রসালো লিচু by সাখাওয়াত হোসেন হৃদয়

রসে টুইটম্বুর। স্বাদে গন্ধে অতুলনীয়। খেতে সুস্বাদু। আকারে বড়। বাতাসের তালে, গাছের পাতার ফাঁকে লাল হয়ে দোলছে আর দোলছে। দেখে যেন জিভে জল এসে যায়। মন চায় হাত দিয়ে ধরে মুখে নিয়ে খেতে। হ্যাঁ, এমনই লিচুর আবাদ হয়ে থাকে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামে। যে লিচুর স্বাদ নেওয়ার জন্য রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার লোকজন ভিড় জমাচ্ছেন ওই গ্রামটিতে। এমনকি দেশের ভিভিআইপি’র ঘরেও পৌঁছে এই লিচু। যায় দেশের বাইরেও।  কিন্তু এ বছর ঝড়ো বাতাস, অতি বৃষ্টি, অসময়ে বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে লিচুর ফলন অনেকটাই কম হয়েছে। এছাড়াও ঘন ঘন শিলাবৃষ্টিতে লিচুর অনেকাংশে ফেটে গেছে। এতে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর লিচু চাষিরা তেমন লাভবান হতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন তারা। তবে বাজারে উঠতে শুরু করেছে মঙ্গলবাড়িয়ার লিচু। পুরোপুরি পাকতে লাগবে আরও সপ্তাহ খানেক। থাকবে সপ্তাহ দুয়েক। এরই মধ্যে শেষ হয়ে যাবে এখানকার লিচু। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন মঙ্গলবাড়িয়ায় আসছেন লিচু কেনার জন্য। বিক্রিও হচ্ছে চড়া দামে। প্রতি একশ লিচু বিক্রি হচ্ছে ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকায়। তবে এখানকার অধিকাংশ গাছই আগাম বিক্রি হয়ে যায়। কিছু গাছ পাইকাররা কিনে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করে থাকেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রিটিশ আমলে এ গ্রামের জনৈক দারোগা সদূর চীন থেকে এই জাতের লিচু সর্বপ্রথম রোপণ করেন। এরপর থেকে এ লিচুর স্বাদ, গন্ধ, সুস্বাদু দেখে পুরো মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে লিচু চাষ। এ গ্রামের অনেকেই লিচু চাষে এখন স্বাবলম্বী। গ্রামের প্রায় শতাধিক লিচু চাষির সহস্রাধিক লিচু গাছ রয়েছে। এক কথায় বলতে গেলে, মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামের প্রত্যেক বাড়িতেই কমবেশি লিচু গাছ রয়েছে। দিনদিন এর ব্যাপকতা বেড়েই চলছে।  মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামের লিচুর সঠিক জাত জানা সম্ভব হয়নি। তবে গ্রামের নামানুসারে একে ‘মঙ্গলবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহি’ লিচু বলে দেশে খ্যাতি অর্জন করেছে। সরেজমিনে গিয়ে লিচু চাষি ও স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় গত বছরের তুলনায় এবছর লিচুর ফলন তেমন ভালো হয়নি। এ গ্রামে প্রতিবছর প্রায় অর্ধকোটি টাকার মতো লিচু বিক্রি হয়ে থাকে বলেও জানা গেছে।দীর্ঘদিন ধরে লিচু চাষ করে আসছেন মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামের তৌহিদ মিয়া। যাকে সবাই লিচু তৌাহিদ ভাই নামেই চিনে। মানবজমিনকে তিনি বলেন, বাপ-দাদার সময় থেকে তিনি লিচু চাষের সাথে জড়িত। লিচু চাষ করে তিনি পরিবারের ভরণ-পোষণসহ আর্থিকভাবেও লাভবান। নিজের গাছ ছাড়াও তিনি প্রতিবছর আরও কয়েক চাষির গাছ কিনে থাকেন। এ বছর তাঁর নিজের ৮টি গাছসহ ৬০টি গাছে লিচু চাষ করেছেন। এতে তার প্রায় লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু শিলাবৃষ্টিতে ফলন কম হওয়ায় এবার লিচু চাষে লাভের অংশ কম হবে বলে এ প্রতিবেদককে জানান। এছাড়াও এবার রমজান মাসে লিচু পাকা শুরু হয়েছে। বাজারে রমজান মাসও অনেকটা প্রভাব পড়বে বলে তিনি জানান। মঙ্গলবাড়িয়ার লিচু প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি অফিসার ড. গৌর গোবিন্দ দাশ মানবজমিনকে জানান, এবার অতি বর্ষণ, ও অসময়ে বর্ষণ এবং শিলা বৃষ্টি কারণে লিচুর ফলন কিছুটা কম হয়েছে। লিচু গাছের প্রতি চাষিরা পর্যাপ্ত যত্ন নেয়া কিংবা কৃষি বিভাগ থেকে পর্যাপ্ত পরামর্শ দেয়ার কোন কমতি ছিলো না বলে তিনি জানান।

শুরুতেই জমে উঠেছে বেইলি রোডের ইফতার বাজার

রাজধানীর বেইলি রোড। রোজার মাসে নতুন ঢাকার ইফতার পাড়া নামে খ্যাত। রমজানের প্রথম দিনেই এলাকাটিতে ব্যতিক্রম আয়োজন। জমতে শুরু করছে রকমারি ইফতারির বাজার। সরকারি ছুটির দিনে রোজা শুরু হওয়ায় ইফতারি কিনতে দুপুর থেকেই বাড়ছে রোজাদারদের ভিড়। বেইলি রোডের দু’পাশে ইফতারি  বিক্রেতারা সাজিয়ে রেখেছেন নানা ধরনের ইফতারসামগ্রীর পসরা। বাজার ঘুরে ঘুরে পছন্দসই ইফতারসামগ্রী কিনতে গতকাল বেইলি রোডে দেখা গেছে ক্রেতাদের দারুণ ব্যস্ততা। ক্রেতাদের সার্বিক চাহিদা মেটাতে সুস্বাদু ইফতারি আইটেমে কমতি করেননি আয়োজকরা।
সুইজ ইফতার আইটেমের স্বত্বাধিকারী বাবুল হোসেন বলেন, রোজাদারদের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতি বছর নানা আইটেমের ইফতারসামগ্রী নিয়ে আসি। ক্রেতাদের কাছে ব্যাপক পছন্দের ইফতার হওয়ায় এ বছরও প্রায় ৩০ আইটেমের ইফতারসামগ্রী নিয়ে এসেছি। বেইলি রোডের অভিজাত ইফতারির এ দোকানের সবচেয়ে নামকরা আইটেমগুলো হলো-রেশমী জিলাপি, সুইস তেহারী, সুইস গরুর হালিম, সুইস খাসির হালিম, টানা পরোটা, এ্যারাবিয়ান চিকেন, চিকেন টোস্ট, চিকেন কাবাব, চিকেন কিমা, পরোটা, চিকেন নাগেস্ট, চিকেন বার-বি-কিউ, ভেজিটেবল রোল, চিকেন কাটলেট ও পনির সমুসা ছাড়াও আরো অনেক আইটেম। এসব ইফতার আইটেমগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মূল্যের সুইস খাসির হালিমের দাম ২০০ থেকে ৮০০ টাকা। আর সর্বনিম্ন মূল্যের মধ্যে প্রতি পিস পিয়াজু, বেগুনি ও আলুর দম ১০ টাকা। এক দোকানে এতো রকমের সুস্বাদু ইফতার আইটেম পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বেসরকারি চাকরিজীবী ক্রেতা আবুল মিয়া বলেন, প্রতি বছর এখান থেকেই ইফতারি কিনি। বাসার সবাই এসব ইফতারে অভ্যস্ত। প্রতিটি রোজায় ভিন্ন ভিন্ন একাধিক আইটেম কিনে ইফতার করি। তবে এসবের মধ্যে কয়েকটি আইটেম ছাড়া অধিকাংশের মূল্য খুব বেশি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বেইলি রোডে সবচেয়ে বেশি ইফতার আইটেমের বড় দোকান হলো ক্যাপিটাল ইফতার বাজার। এই দোকানে প্রায় ৯৬ ধরনের সুস্বাদু ইফতার আইটেমের আয়োজন রয়েছে। জিলাপি, পিয়াজু ও আলুর চপ ছাড়া বেশির ভাগ আইটেমের মূল্য হাজার টাকার ওপরে। এমন কিছু ইফতার আইটেম হলো- ব্রেন মশল্লা ও সুতি কাবাব ১২০০ টাকা করে, খাসির চপ ও গরুর কলিজি ১০০০ টাকা, বিফ কড়াই ৮০০ টাকা। এ ছাড়ও ক্যাপিটাল ইফতার বাজারের কিছু বিখ্যাত ইফতার সামগ্রী হলো সাসলিক, চিকন জাফরানি জিলাপি, তালের বড়া, মিহিদানা লাড্ডু, দই বুন্দিয়া, দই বড়া, ফিরনি, আফগানী বিরানি, রিফ কড়াই, বিফ আচারি, চিকেন কড়াই, গরুর চপ, গরুর কালো ভুনা, ফার্মের টিক্কা, জাম্বো রোস্ট, মাটন শিক, পিচ রোস্ট, খাসির লেগ ও ঝাল ফ্রাই। এই দোকানের স্বত্বাধিকারী জানান, আমাদের ইফতার সামগ্রী রোজাদারদের কাছে সুস্বাদু হিসেবে বেশ পরিচিত। প্রথম রোজাতেই ৯৬ পদের ইফতার নিয়ে এসেছি। ক্রেতাদের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে সামনে আরো আইটেম বাড়ানো হবে। ইফতার কিনতে এই দোকানে দুপুরের পর থেকেই ক্রেতাদের সমাগম বেশ চোখে পড়ার মতো ছিল। ক্রেতা শহিদুল্লাহ বলেন, অপরিচিত অনেক ইফতারি এই দোকান ছাড়া কোথাও তেমন পাওয়া যায় না। যদিও একটু দাম বেশি তবুও সব ধরনের ইফতারি এই দোকানটিতেই পাওয়া যায়।
বেইলি রোডের দু’পাশে ঘুরে ঘুরে দেখা যায়, সুইজ ও ক্যাপিটাল ইফতার বাজার ছাড়াও আরো অনেক দোকান তাদের ইফতারের পসরা সাজাতে বেশ ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। তন্মধ্যে প্রতি বছরের মতো এবারো রয়েছে বার বি-কিউ, স্কাই লার্‌ক, পিঠা ঘর, হক রেস্টুরেন্ট ও ফিশ কেইক। এসব দোকানগুলো নানা ধরনের মাংসে তৈরি কাবাব, বৈচিত্র্যধর্মী জিলাপি, রুটি, হালিম ও পিয়াজু দ্বারা সাজিয়ে তুলছে দোকানগুলো। চোখ ধাঁধানো এসব ইফতারসামগ্রীর টানে ভিড় জমাচ্ছেন ক্রেতারা। রোজার প্রথম দিনেই ক্রেতাদের এমন আনাগোনায় বেশ খুশি বার বি-কিউ এর স্বত্বাধিকার আবদুস সালাম। তিনি বলেন, বেইলি রোডের ইফতার বাজার সারা মাসই জমজমাট থাকে। সময় যত যাবে ক্রেতারাও বেশ উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠবে। বেচাকেনাও বেড়ে যাবে অনেক গুণে। কেবল তো শুরু। আমরাও প্রস্তুতি নিচ্ছি।

পাসপোর্ট পেতে গলদঘর্ম, ভোগান্তি by দীন ইসলাম ও মারুফ কিবরিয়া

মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) যেন সোনার হরিণ। অতিরিক্ত জরুরি ফি দিয়ে দুই মাসেও মিলছে না পাসপোর্ট। দেশের বিভিন্ন জেলা শহরের পাসপোর্ট অফিসগুলোয় পাসপোর্ট পেতে রীতিমতো হাহাকার চলছে। রাজধানীর কেরানীগঞ্জ ও উত্তরা পাসপোর্ট অফিসের পাসপোর্ট জট ধীরে ধীরে  কমছে বলে জানালেন ওই দুই অফিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। কেরানীগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসের উপ- পরিচালক সাইদুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, পাসপোর্ট পেতে মাঝখানে কিছুটা সমস্যা ছিল। এটা ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাচ্ছে। আশা করছি কয়েক দিনের মধ্যে পুরোপুরি ঠিক হয়ে যাবে। কোনো সমস্যা হবে না। গতকাল সরজমিনে আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিস ঘুরে দেখা যায়, অতি জরুরি ফি দিয়েও ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। তাদের প্রতিদিনই অপেক্ষায় থাকতে হয় কখন হাতে পাবেন পাসপোর্ট। কিন্তু বেঁধে দেয়া নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও তা পাচ্ছেন না আবেদনকারীরা। কয়েক জন আবেদনকারী জানান, ৩০ দিনের মধ্যে যে পাসপোর্ট পাওয়ার কথা সেটা হাতে পাচ্ছেন দুই মাসের মাথায়। কারো কারো ক্ষেত্রে সময় এর চেয়েও বেশি লেগে যাচ্ছে।
নির্দিষ্ট দিনক্ষণের অধিক সময় কেটে যাওয়ার পর পাসপোর্ট হাতে পেলেও গ্রাহকদের ভাষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকেও দায়ী করছেন। বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, এমআরপি বুকলেট সংকটের কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাই তড়িঘড়ি করে পাসপোর্ট চাইলেও প্রিন্ট করে দেয়া যাচ্ছে না। চাহিদা অনুযায়ী যোগান কম থাকার কারণে পাসপোর্টের চরম সংকট তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার বাইরের বিভিন্ন বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসগুলোর এমআরপি প্রিন্ট করতে প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়। খুলনা ও যশোরসহ কয়েকটি বিভাগীয় অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাসপোর্টের আবেদন জমা নেয়ার সময় তারা সফটওয়্যার উল্লিখিত তারিখ বলে দিচ্ছেন। পাশাপাশি মৌখিকভাবে পাসপোর্ট পেতে দেরি হতে পারে এ বিষয়টিও জানিয়ে দিচ্ছেন। তবে যাদের খুব জরুরি দরকার তাদের আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করতে বলে দেয়া হয়। তবে আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করেও নির্ধারিত সময়ে পাসপোর্ট না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
গতকাল আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে কথা হয় পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের বাসিন্দা সম্রাটের সঙ্গে। তিনি মানবজমিনকে বলেন, আবেদন অনুযায়ী সব প্রক্রিয়া শেষও হয়েছে। নির্ধারিত সময় ৩০ দিনের মধ্যে পাওয়ার কথা থাকলেও আমার পাসপোর্ট পেতে সময় লেগেছে ৫৯ দিন। সম্রাট বলেন, পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার পর থেকে নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী পাইনি। আজ পর্যন্ত ৫৯ দিন গুনতে হয়েছে। এর মধ্যে দুবার এসে ফিরেও গিয়েছি। আজ আবার এলাম। এখানে এসে পাসপোর্টের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। সুনির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই। আমার সিরিয়ালের আগে অনেকে পাসপোর্ট নিয়ে বের হয়ে গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পাসপোর্ট পাচ্ছি না। তবে অভিযোগকারী সম্রাট দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করে পাসপোর্ট হাতে পেলেও কর্তৃপক্ষের এমন ঢিলেঢালাভাবে বিরক্তিই প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, পাসপোর্ট নয় যেন সোনার হরিণ। এত লম্বা সময় লেগে যাওয়াটা সত্যিই বিরক্তকর। আর্মিদের কাজ জানতাম খুব সুন্দর ও গোছানো। কিন্তু এভাবে সময় লাগাবে তা ভাবতেই পারিনি।
পাসপোর্ট গ্রহণ করতে আসা সানজিদা নামের এক আবেদনকারী বলেন, নিয়ম অনুযায়ী আমি ৩০ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট হাতে পাই। কিন্তু আমার লেগে গেলো ৭৩ দিন। এত সময় কেন লাগলো কিছুই বুঝলাম না। পুলিশ ভেরিফিকেশনের পর যেটা খুব সহজে পাওয়ার কথা সেটা এতটা কঠিন হয়ে গেল। নিউজিল্যান্ডে স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করবো। কিন্তু পাসপোর্ট দেরিতে হয়ে যাওয়ায় সামনের সেমিস্টার ধরতে সময় লেগে যাবে। তবে এতটা বিড়ম্বনা হবে ভাবতেই পারিনি। স্বামী নিয়ে ঈদে ছুটি কাটাতে বাইরে যেতে চান নাজমা সুলতানা তানিয়া। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পাসপোর্ট। নবায়ন করতে দেয়ার নির্দিষ্ট ডেলিভারির তারিখের একমাস পরও তিনি ও তার কন্যার পাসপোর্ট পাননি। তীব্র ভোগান্তিতে তানিয়ার পরিবার।
গত দুই মাস ধরে পাসপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছিলেন সায়েম হোসেন নামের এক যুবক। বাবাকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভারত যাবেন। কিন্তু গত ৬০ দিনে পাসপোর্টই হাতে পাননি সায়েম। তিনি বলেন, বাবাকে চিকিৎসার জন্য ভারত নিয়ে যেতে হবে। এক মাসের মধ্যে পাসপোর্ট হাতে পাবো বলে সব গুছিয়ে নিয়েছি। কিন্তু এখন সেটা দুই মাসে গিয়ে ঠেকেছে। পাসপোর্ট দিতে এত দেরি হলে তো চিকিৎসার আগেই মারা যাবে মানুষ। আমি সত্যিই হতাশ। আজ কী বলে জানি না। হয়তো আজও হাতে পাবো না পাসপোর্টটা।
৭৫ দিন কেটে যাওয়ার পরও পাসপোর্ট হাতে পাননি শারমিন নামের এক গ্রহীতা। পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার পর ঠিকঠাকভাবে পাসপোর্ট হাতে পাবেন বলে প্রত্যাশায় ছিলেন তিনি। কিন্তু এক মাস কেটে যাওয়ার পর  শারমিনকে অপেক্ষা করতে হয়েছে আরো ৪৫ দিন। পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ঢিলেঢালা মনোভাবে দেশের বাইরে যাওয়ায় বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। শারমিন বলেন, সাধারণ নিয়মে পাসপোর্ট পাবো এক মাসে। কিন্তু আজ ৭৫ দিন হয়ে গেছে হাতে পাইনি। এত দেরি কেন হয়? এরা কি করে? পাসপোর্ট তো আমরা শখের বশে করি না। নিশ্চয়ই জরুরি কোনো কাজে এটা করতে হয়। বিষয়টা এমন যে কেউ কোনো গুরুত্বই দিচ্ছে না।

টিটিসি কলেজ উন্নয়নে ১০৪০ কোটি টাকার প্রকল্প by নূর মোহাম্মদ

সরকার টিচার্স ট্রেনিং কলেজ (টিটিসি) ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটগুলো প্রশিক্ষণের মানোন্নয়নে ১০৪০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ধরা হয়েছে দেশের ১৪টি টিটিসি ও পাঁচটি এইচএসটিটিআই’র অবকাঠামো সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করা। একই সঙ্গে আইসিটি ও বিজ্ঞান গবেষণাগারের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করা, দক্ষ শিক্ষক প্রশিক্ষক তৈরি করা। প্রকল্পের মূল কার্যক্রম হবে টিটিসি ও এইচএসটিটিআই’র একাডেমিক ভবন, হোস্টেল ও শিক্ষক ডরমেটরি নির্মাণ। আইসিটি ও বিজ্ঞান গবেষণাগার তৈরি করা, মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম এবং শিক্ষা সহায়ক উপকরণ ও প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল তৈরি করা। টিটিসি ও এইচএসএসটিটিতে প্রয়োজনীয় জনবল (শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী) এর পদ সৃষ্টি করা। এ প্রকল্পে শতভাগ বাংলাদেশ সরকারের (জিওবি) খাত থেকে প্রকল্পের ব্যয় করা হয়েছে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৪০ কোটি ৫২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয়েছে চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত। তবে প্রকল্পের বিশাল অংশের সঙ্গে আপত্তি তুলেছেন খোদ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখা। গত ৭ই এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে এ আপত্তি জানানো হয়। চলতি বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চলন্ত সিঁড়িসহ বেশ কিছু বিতর্কিত প্রকল্পের কারণে পরিকল্পনা কমিশনের তোপের মুখে পড়ে শিক্ষামন্ত্রণালয়। এরপর থেকেই ডিপিপি তৈরিতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। 
ডিপিপি সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের অধীন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ভাতা বাবদ খরচ ধরা হয়েছে ৮২ কোটি ২৩ লাখ ২৮ হাজার টাকা। সেমিনার, দেশে ও বিদেশে প্রশিক্ষণ, ম্যানুয়াল ডেভেলপমেন্ট ও প্রিন্টিং খরচ ধরা হয়েছে ৫৪৬ কোটি ৩৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। যানবাহন ক্রয়, কম্পিউটার, আসবাবপত্র, ল্যাবরেটরি ইকুয়েপমেন্ট অ্যান্ড মেটারিয়ালস ক্রয় করতে ৬৩ কোটি ১৯ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। গাড়ি, আসবাবপত্র, কম্পিউটার, অফিস সরঞ্জাম মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে ৬২৮ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। অবকাঠামো নির্মাণে ৩২৮ কোটি ২১ লাখ টাকা সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে। মাউশির তৈরি করা ডিপিপির কয়েকটি প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। আপত্তিতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত পাঁচ কোটি দুই লাখ ৯১ হাজার টাকা ব্যয়ে পেশাগত উন্নয়ন, আইসিটি, জীবন সক্ষমতা, প্রশ্নপত্র তৈরি ও মূল্যায়ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ পরিচালনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বর্তমান চলমান টিকিউআই-২ এর মাধ্যমে গত মার্চ পর্যন্ত দুই লাখ ৬৪ হাজার ৪০১ জন এবং সেসিপ প্রকল্পের মাধ্যমে পাঁচ লাখ ৭১ হাজার ২২৩ জন শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। ব্যানবেইসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী মাধ্যমিক পর্যায়ে সারা দেশে দুই লাখ ৪৩ হাজার ৫৩৫ জন শিক্ষক রয়েছেন। দুই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রত্যেক শিক্ষক ৬টি একক বিষয়ে প্রশিক্ষণ পাওয়ার কথা। নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষক প্রশিক্ষণের যৌক্তিকতা নেই। বরং সকল প্রশিক্ষণ শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে কতটুকু বেড়েছে তার গবেষণা দরকার। সেসিপ প্রকল্পের স্টাডিজ অ্যান্ড সব কন্ট্রাক নামে ৭৩ লাখ ৬৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এ খাতের টাকা দিয়ে গবেষণা করার মতামত দিয়েছে মন্ত্রণালয়।   ডিপিপির তথ্যানুযায়ী, ১৪টি টিটিসিতে বর্তমানে ৩৩১৭ জন বিএড ও এম এড পর্যায়ের শিক্ষার্থী রয়েছে। কলেজ প্রতি গড়ে ২৩৭ জন। মোট শিক্ষকের পদ ৪২৭টি। অর্থাৎ কলেজ প্রতি গড়ে ৩০ জন শিক্ষক রয়েছেন। শিক্ষক-ছাত্র অনুপাত ১ঃ৭। টিটিসির নিয়মিত কোর্স বিএড ও এমএড পরিচালনার অবস্থা সন্তোষজনক নয়। সেসিপ ও টিকিউআই প্রকল্পের প্রশিক্ষণে ভেন্যু হিসাবে ব্যবহারের কারণে সচল রয়েছে। না হলে অনেক আগে পরিত্যক্ত হতো। বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হতে বিএড ও এমএড ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ থাকায় টিটিসিতে প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা কমেছে। অপরদিকে ৫টি এইচএসটিটিআইতে ৪৫জন কর্মকর্তার পদ রয়েছে। এ সকল প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। কোনো নিয়মিত শিক্ষার্থী নেই। প্রকল্পের অধীনে ২২৯৭টি শিক্ষক-কর্মকর্তার পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করা হয়েছে। তারা কাদের পাঠদান করবেন তা স্পষ্ট না। ১৪টি টিটিসিসির একাডেমিক ভবনে ৩০৫টি রুম রয়েছে। শিক্ষার্থী রয়েছে ৩৩১৭ জন। রুম প্রতি শিক্ষার্থী ১০ দশমিক ৮৭। তবে এসব প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এ ছাড়া টিকিউআই-২ প্রকল্পের মাধ্যমে সারা দেশে ৫১টি ক্লাস্টার স্কুল স্থাপন করা হয়েছে। যা প্রশিক্ষণ ভেন্যু হিসেবে ব্যবহৃত হবে। তাই প্রস্তাবিত অবকাঠামো কি কি কাজে ব্যবহৃত হবে তার যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়নি। তাই এসব প্রতিষ্ঠানের সমস্যা চিহ্নিত করে এবং তা উত্তরণের মাধ্যমে কার্যকর শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছে মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা বিভাগ। এ ক্ষেত্রে একটি সমীক্ষা প্রকল্প করার মত দিয়েছেন তারা।  সমীক্ষা প্রকল্পে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কোর্স, অবকাঠামোগত সুবিধাদি বিবেচনা করে সরকারি ক্রয়নীতি, উন্নয়ন পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে চাহিদাভিত্তিক ভবিষ্যতে বাস্তবায়ন উপযোগী একটি ডিপিপি তৈরির মত দিয়েছে।
এ ব্যাপারে মাউশির উপপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. জাহাঙ্গীর আলম মানবজমিনকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে টিটিসি ও এইচএসটিটির সংস্কার করা হয়নি। শিক্ষক প্রশিক্ষণে প্রয়োজনীয় সামগ্রী নেই। প্রতিষ্ঠান প্রধানদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ডিপিপি তৈরি করেছি। মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলে প্রকল্পটি অনুমোদন করাতে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ের আপত্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কিছু জানেন না বলে মন্তব্য করেন। 
বিষয়টি স্বীকার করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের পরিকল্পনা শাখার সিনিয়র সহকারী প্রধান মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে একটি প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে জমা হয়েছে। ওনাদের (মাউশি) প্রস্তাব যৌক্তিকতা যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা কিছু অসঙ্গতি চিহ্নিত করেছি। প্রকল্পটি অনুমোদন করতে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হবে কিনা সভা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

রোহিঙ্গাদের পাশে ওয়ার্ল্ড ফুটবলারস্‌ ফোরাম (WFFB)

মিয়ানমার সরকারের নির্যাতনের শিকার হয়ে বর্তমানে কক্সবাজার জেলার রামু, টেকনাফ ও কুতুপালং এর শিবিরসমূহে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা মুসলমানদের দূর্দশা অবলোকনপূর্বক তাদের সাহায্যার্থে এমেকা ইউজিকো গত বৃহস্পতিবার কক্সবাজরের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে উপস্থিত হন। দশ দিন পূর্বে  ঢাকার হাতিরপুলে অবস্থিত ফিকামলি সেন্টারের প্লাটিনাম জিম থেকে দৌড়ে প্রেস ক্লাব হয়ে কক্সবাজারের অভিমুখে রওনা হন। বিশ্বের নন্দিত বর্তমান ও সাবেক ফুটবলারদের দৃষ্টি আকর্ষণ ও রোহিঙ্গাদের সাহায্য সহযোহিতা করার জন্য এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তিনি। রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরন করা হয়। রোহিঙ্গা শিশুদের সাথে এমেকা সহ বাংলাদেশ জাতীয় দলের ফুটবল তারকারা ফুটবল ম্যাচে অংশ গ্রহণ করেন । খেলা শেষে শিশুদের মাঝে  জার্সি, ট্রফি ও ফুটবল বিতরন করা হয় ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। ব্যাপক  কৌতুহল ও উৎসাহ উদ্দীপনার মাঝে খেলার পরিসমাপ্তি ঘটে। বিশ্বনন্দিত  ফুটবলার এমেকা বলেন “রোহিঙ্গাদের দুর্দশার কথা শুনে আমি আমিরিকা থেকে ছুটে এসেছি।  রোহিঙ্গদের নির্যাতনের প্রতিবাদে আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবল খেলার সব ভেন্যুগুলোতে ব্যানার প্রদর্শন করা হবে।  রোহিঙ্গা মুসলমানদের জন্য বিশ্ব জনমত গড়তে ও আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে আমার এই উদ্যোগ। আমি বিশ্বের সব তারকার ফুটবলারদের  রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানো ও তাদের সাহায্য ও সহযোগিতা করার জন্য আহবান জানাই।” ওয়ার্ল্ড ফুটবলারস্‌ ফোরামের আহবায়ক ড. আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রী জনবহুল এ দেশে এত বিপুল সংখক রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বিশ্বে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। পদ্মা সেতু করে তিনি জল বিজয় করেছেন, মেট্রো রেল করে স্থল জয় করেছেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট পাঠিয়ে আকাশ বিজয় করেছেন এবং রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়ে বিশ্বমানবতাকে জয় করেছেন। আসুন তার হাত কে শক্তিশালী করে আমরা উন্নত দেশের তালিকায় জায়গা করে নেই। তিনি শুধু বাংলাদেশের নেত্রী নয়, তিনি বিশ্ব মানবতার নেত্রী। ইন্নাশাল্লাহ তার দুরদর্শিতা ও কুটনৈতিক প্রচেষ্টায় এই মানবিক সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান হবেই হবে। জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক কায়সার হামিদ বলেন, “আমাদের ফুটবলের মান আগের চেয়ে অনেক নিম্নগামী। বিশ্বের কিংবদন্তি ও তারকা ফুটবলারগণ বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের পাশে দাড়ালে বিশ্বজনমত তৈরীতে যেমন অবদান রাখবে অপরদিকে বাংলাদেশ ফুটবলের এক নবজাগরন সৃষ্টি হবে।” আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আশরাফ উদ্দীন চুন্নু, সাবেক খ্যাতিমান ফুটবলার হাসান, আলমগীরসহ, অনেক তারকা ফুটবলার ও ওয়ার্ল্ড ফুটবলারস্‌ ফোরাম এর ইমতিয়াজ জামান পারভেজ, ইমরান সহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

দরিদ্র ৮ মেধাবীর গল্প by মো. সাওরাত হোসেন সোহেল

ইচ্ছা থাকলে উপায় হয় আর সংগ্রাম করে তা জয় করা যায় তাই প্রমাণ করলো ৮ অদম্য মেধাবী। কোনো বাঁধাই আটকাতে পারেনি তাদের। দরিদ্রতার সঙ্গে সংগ্রাম করে বিজয়ী হয়েছে ওরা। দরিদ্রতা কখনও তাদের মেধা বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। অদম্য ইচ্ছা শক্তি তাদের দুর্লভ সাফল্য এনে দিয়েছে। চলতি এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়েছে এ অদম্য মেধাবীরা। পারভিন আক্তার, ইসতিয়া আক্তার, আরিফা আক্তার, আইরিন আক্তার, আরিফা খাতুন, জয়নব আক্তার, বিথি খাতুন এবং আইরিন আক্তার এরা সবাই উচ্চ শিক্ষা অর্জন করতে চায়। হতে চায় কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার, প্রকৌশলী, আইনজীবী, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক।
পারভিন আক্তার
সম্পদ বলতে ৩ শতক জমির ওপর দুটি টিনের চালা। রিকশা বা শ্রম বিক্রি করে একমাত্র আয় পিতা শহিদুল ইসলামের। ২ কন্যা ১ ছেলে নিয়ে তার ৫ জনের সংস্যার। তিন বেলা পেটপুরে খাবার জোগাড় করাই কঠিন। তার ওপর পড়াশুনা যেন পাহাড় ঠেলার সমান। পিতা শহিদুল আর মা মর্জিনা বেগমের রাতে ঘুম হয় না ছোট মেয়ে পারভিনের পড়ালেখা কিভাবে চালাবেন? সে পড়তে চায়। স্বপ্ন দেখে প্রকৌশলী হওয়ার। মেয়ের স্বপ্ন পূরণে প্রধান বাধা অর্থনৈতিক দীনতা। চলতি এসএসসি পরীক্ষায় থানাহাট বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। তার বাড়ি দক্ষিণ উমানন্দ বংশিপাড়া।
ইসতিয়া আক্তার
স্বপ্ন দেখতেও ভয় পায় ইসতিয়া। দরিদ্রতা এবং পারিবারিক নানা সংকট বিকশিত হওয়ার পথকে সঙ্কুচিত করেছে। তাই তারা স্বপ্ন দেখতেও ভয় পায়। বাবার নির্দিষ্ট কোনো আয় নেই। কাজ করলে জোটে না করলে নাই, সবাই তা বোঝে, ধারদেনা, অন্যের সহায়তা নিয়ে ৪ জনের টানাটানির সংসার। নেই বই-খাতা-কলম-পোশাক। ভালো খাবারও নাই; শুধু নাই আর নাই। শত প্রতিকূলতাকে ডিঙ্গিয়ে চলতি এসএসসি পরীক্ষায় থানাহাট পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ভোকেশনাল থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। উমানন্দ জঙ্গলতোলা তাদের বসবাস। ইসতিয়ার যদিও ইঞ্জিনিয়ার হওয়ায় ইচ্ছা কিন্তু বড় বাধা এখন তার দারিদ্র্য। ভালো ফল নিয়েও এখন চিন্তার সাগরে তার বাবা মা এবং সে নিজে।
আরিফা আক্তার
উপজেলার মুদাফৎথানা সরকার পাড়া এলাকার কাঠমিস্ত্রির প্রথম কন্যা আরিফা আক্তার। সে এবারে থানাহাট পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। বাবার রোজগারের উপরেই ভরসা। বাবা যা আয় করেন তা দিয়েই খেয়ে না খেয়ে দিন কাটে ৫ জনের সংসার। পায়নি ভালো পোশাক জোটেনি ভালো খাবার তার। তবুও থেমে থাকেনি আরিফা, আটকে যায়নি মেধা। তাই তো এবারে শত কষ্টের মধ্যেও জিপিএ-৫ পেয়ে সবাইকে দিয়েছে তাক লাগিয়ে। তার ইচ্ছা একজন আদর্শবান শিক্ষক হওয়ার। কিন্তু বাবা, মা বড় চিন্তায় কিভাবে তার ইচ্ছা করবে তারা পূরণ ?
আইরিন আক্তার
আইরিন আক্তার চলতি এসএসসি পরীক্ষায় থানাহাট পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় হতে ভোকেশনাল থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। তার বাবা একজন মাংস বিক্রেতা, নেই সহায় সম্বল। এরপরও সংসার খরচ, যোগ হয়েছে পড়ালেখার বাড়তি খরচ। মেয়ের ভালো ফলাফলেও হয়ে পড়েছে হতাশ। মেয়ের ইচ্ছা লেখাপড়া করার, কিন্তু বাবার ইচ্ছা আছে; সাহস নাই। শত অনিশ্চয়তার মাঝেও আইরিন আক্তার স্বপ্ন দেখে পড়াশুনা করে একজন ভালো মানুষ হওয়ার। স্বপ্ন দেখে একজন আইনজীবী হওয়ার। তার বাড়ি বহরের ভিটা। বাবার নাম আমিনুল ইসলাম।
আরিফা খাতুন
আরিফা খাতুনের বাবা একজন ফুটপাথের চালের দোকানদার। পুঁজি নেই, তাই ব্যবসাও ভালো নেই। অভাব কিন্তু পিছু হঠে নাই। শত অভাবের মাঝেও আরিফাকে দমে রাখতে পারেনি দারিদ্র্য। পিছু টান থাকলেও সব বাধা পেরিয়ে সে এবারে থানাহাট পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। সে একজন প্রকৌশলী হতে চায়। তার বাড়ি মাছাবান্দা ফকিরপাড়া। বাবা আবুল আলী বলেন অভাবের সংসার। তার উপর লেখা পড়ার খরচ বড় মুশকিলে তার পিতা। কিভাবে মেয়েকে সামনের দিকে এগিয়ে নেবেন এই তার টিন্তা।
জয়নব আক্তার
উপজেলা মণ্ডলপাড়া এলাকার দিনমজুর জয়নুল আবেদীনের মেয়ে জয়নব আক্তার। জয়নুল আবেদীন শারীরিক কারণে আর তেমন কাজও করতে পারে না ফলে দেখা দিয়েছে অভাব অনটন। জয়নবের পড়াশুনার বড় বাধা অভাব আর দারিদ্র্য। নাই কোনো জমাজমি, শুধু আছে ৪ শতকের উপর বাড়িভিটাটুকু। ভালো ফল করলেও নেই কোনো আমেজ। কি হবে তার ভবিষ্যৎ এটাই এখন তার প্রশ্ন ?
আইরিন আক্তার
সংসারে অভাব অনটন লেগে থাকে দারুণ কষ্ট, তাই তো আইরিনকে থাকতে হয় নানার বাড়িতে। বাবা মোহাম্মদ আলী কাজ করলে ভাত জোটে, না করলে নাই। অভাব আর অনটন যেন নিত্য দিনের সঙ্গী, তাই উপজেলার শান্তিনগরে নানা দলু মিস্ত্রীর বাড়িতে থেকেই পড়াশুনা করতে হয় তাকে। সে এবারে এসএসসি (ভোকেশনাল) থানাহাট পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। আইরিন ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। চায় জনগণের সেবা করতে। দাঁড়াতে চায় গরিব দুঃখীদের পাশে।
বিথি খাতুন
উপজেলার দক্ষিণ খড়খড়িয়া জুম্মাপাড়া এলাকার বাবলু মিয়ার মেয়ে বিথি। কখনো দেখেনি সুখের বাতি। পেয়েছে শুধু নেই শব্দটি। বাবা সামান্য একজন চটি দোকানদার। চটি (রাস্তার ধারে মাদুর বিছিয়ে দোকান) জুতা বিক্রি করে যা আয় হয় তা দিয়েই ৪ জনের সংসার চালাতে হয়। বাবার সামান্য আয় নিয়ে সংসার চালানোই বড় কষ্টকর। পড়াশুনা চালাবে কিভাবে? তাই এখন ভালো ফল অর্জন করেও চোখে জল বিথির। মা হাসিনা চায় মেয়ে উচ্চ শিক্ষা অর্জন করুক, কিন্তু সাধ আছে সাধ্য যে নাই, তাই তো চোখে জল ফেলে মেয়েকে সান্ত্বনা দেয়। বিথি থানাহাট বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে সবাইকে অবাক করে দিয়ে প্রমাণ করেছে অভাব বা দারিদ্র্য তাকে আটকাতে পারেনি। সে ভবিষ্যতে একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হয়ে জীবন গড়তে চায়, দেশের মানুষের সেবা করতে চায়।

আলাউদ্দিনকেও বাঁচানো গেল না

নির্মম। নিষ্ঠুর। অমানবিক। হৃদয়বিদারক। একের পর এক ঘটনা। আর প্রাণহানি। অকালে ঝরছে বহু প্রাণ। বাসের রেষারেষিতে রাজধানীতে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। প্রতিদিনই যোগ হচ্ছে অনাকাঙ্ক্ষিত নতুন ঘটনা। বৃহস্পতিবার সকালে হানিফ ফ্লাইওভারের উপরে একটি বাসের চাকা চলে যায় এক যুবকের বুকের উপর দিয়ে। তিনি ছিলেন ঢাকা ট্রিবিউনের সিনিয়র বিজ্ঞাপন নির্বাহী নাজিম উদ্দিন। শ্রাবণ পরিবহনের ওই বাসটি আরেক বাসের সঙ্গে রেষারেষি করার সময় নাজিমের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ছিটকে পড়ে যান। ঠিক তখনই ওই বাসটি চলে যায় নাজিমের বুকের উপর দিয়ে। পথচারীরা নাজিমকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নাজিমের মৃত্যুর শোকে যখন পুরো রাজধানী শোকার্ত সেদিন রাতেই আসে আরেক মৃত্যুর খবর। একই ফ্লাইওভারে ১২ই মে সকালে ওয়ারির জয় কালী মন্দির এলাকায় তারাবো বাসের চাপায় পা থেঁতলে যায় কমিউনিটি পুলিশের সদস্য আলাউদ্দিন সুমনের। ৪০ বছর বয়সী সুমনের বাঁ পা হাঁটুর নিচ থেকে থেঁতলে যায়। পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখান থেকে পরে তাকে ভর্তি করা হয় জাতীয় অর্থোপেডিকস হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে আবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
কমিউনিটি পুলিশের সদস্য সুমনের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার নিতাইপুরে। তিনি নিতাইপুরের আবু তাহেরের ছেলে। স্ত্রী ঝুমুর আক্তার ও দুই ছেলে মেয়েকে নিয়ে তিনি থাকতেন নারায়ণগঞ্জের সানারপাড়ে। ঘটনার পরপরই ওয়ারী থানা পুলিশ তারাবো বাসের চালক ইকবাল হোসেনকে আটক করে আদালতে পাঠায়। নিহতের ভাই সালাউদ্দিন পলাশ বাদী হয়ে ওয়ারী থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, সুমন দীর্ঘদিন ধরে হানিফ ফ্লাইওভারে কমিউনিটি পুলিশ সদস্য হিসাবে কাজ করছিলেন। ঘটনার দিন সকালে দায়িত্ব পালনকালে ফ্লাইওভারে ওয়ারী এলাকার ওসমানী ইন্টারন্যাশনাল হোটেল বরাবর ঘটনাটি ঘটে। ওই সময় যাত্রাবাড়ী থেকে ছেড়ে আসা তারাবো পরিবহনের একটি বাস তাকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এ সময় বাসের চাকা তার বাঁ পায়ের উপর দিয়ে চলে যায়। এতে তার পায়ের তালু ও আঙ্গুল থেঁতলে যায়।
বাসের রেষারেষিতে রাজধানীতে একের পর দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত রেষারেষি বন্ধে কার্যত কোনো পদক্ষেপই নেয়া হচ্ছে না। কিছু দিন আগে এই ফ্লাইওভারেই গ্রিন লাইন পরিবহনের একটি বাসের চালক চাকায় পিষ্ট করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী রাসেল সরকারকে। বাস চাপায় তার একটি পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর আগে কাওরান বাজারে দুই বাসের চাপায় হাত হারানোর পর মারা যান তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী রাজীব হোসেন। তার মৃত্যু নাড়া দেয় দেশজুড়ে। দিনের পর দিন এভাবে বহু প্রাণ চলে যাওয়ার পরেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক যেন নড়ছে না। নেয়া হচ্ছে না দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ। বাস চালকদের এমন বেপরোয়া মনোভাবে অনেকেই রাস্তায় নামতে ভয় পাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে চলছে তুমুল সমালোচনা। পর পর অনেক ঘটনায় নাড়া দিয়েছে সড়কে চলাচলকারী সাধারণ মানুষের। তারপরে শুভ বুদ্ধির উদয় হচ্ছে না প্রাণঘাতী ওইসব বাস চালকদের। যাদের রেষারেষিতে শুধু প্রাণই নয় নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে অনেক পরিবার।

খালেদার সেহরি ইফতারে যা ছিল by মহিউদ্দিন অদুল

কারান্তরীণ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থতার কারণে রোজা বাদ দিতে চান না। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে সেহরি খেয়ে তিনি এই রমজানের প্রথম রোজা রাখেন। তাকে সেহরিতে ভাত মাছ, মুরগির মাংস, সবজি ও ডাল দেয়া হয়। গতকাল বিকালে পুরোনো কারাগারের প্রধান ফটকে মানবজমিনকে এসব কথা জানান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, কেরাণীগঞ্জের সহকারী সার্জন ডা. মো. মাহমুদুল হাসান শুভ। তিনি এখন কারাগারে প্রায় প্রতিদিন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যগত দিক দেখাশুনা করছেন। তার খাবারও তিনি দেখে দেন বলে জানা গেছে।
ডা. শুভ মানবজমিনকে বলেন, তার অবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি প্রায় সব রোজা রাখতে চান। রোজা ছাড়ার ইচ্ছা তার নেই। গতকাল তাকে সেহেরিতে যে ভাত, মাছ, মুরগির মাংস, সবজি ও ডাল দেয়া হয়েছে; সেখান থেকে অল্প খাবার খেয়ে তিনি রোজা রেখেছেন। তাকে দেয়া সব খাবার তিনি খাননি। রোজা রাখতে তার কোনো অসুবিধা নেই বলেও মন্তব্য করেন ডা. শুভ।
ইফতারির বিষয়ে তিনি বলেন, ইফতারের তালিকায় রয়েছে ছোলা, মুড়ি, খেজুর ও ফল থাকবে। তা খেয়েই তিনি রোজা ভাঙ্গাবেন।
কারাসূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাত ৩টায় খালেদা জিয়াকে সেহেরি খাওয়ার জন্য ঘুম থেকে জাগানো হয়। এরপর তিনি হাত-মুখ ধোয়ে খাওয়ার জন্য তৈরি হন। পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে তার কক্ষে দেখাশুনার দায়িত্বে রয়েছেন জ্যেষ্ঠ কারারক্ষী মাহফুজা। গত ১২ই মে থেকে ডেপুটি জেলার শিরিন সরকারি প্রশিক্ষণে দক্ষিণ কুরিয়ার থাকায় তার পরিবর্তে মাহফুজা ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে রয়েছেন। সঙ্গে রয়েছেন আরো কয়েজন নারী ও পুরুষ কারারক্ষী। তারা সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে খাবারের আয়োজন এনে দেন। এরপর তিনি সেহেরি খেয়ে রোজা রাখেন।
কারা অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন্স-সদর দপ্তর) মো. বজলুর রশিদ বলেন, জেল কোড অনুযায়ী একজন ডিভিশনপ্রাপ্ত ভিআইপির প্রাপ্য খাবার তাকে দেয়া হচ্ছে। সেহেরি ও ইফতারে তা খেয়ে তিনি রোজা রাখছেন।
ইফতারি নিয়ে কারাফটক থেকে ফেরত বিএনপি নেতাকর্মীরা: এদিকে গতকাল বিকালে চেয়ারপারসনের জন্য ইফতারির ডালা নিয়ে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরোনো কারাগারে যান বিএনপির নেতাকর্মীরা। অনুমতি না থাকায় কারা ফটক থেকে তাদের ফেরত দেন কারাকর্তৃপক্ষ। সাক্ষাৎ করতে দেয়া হয়নি। ইফতারের ডালাও গ্রহণ করা হয়নি।
গতকাল বিকাল আড়াইটার দিকে বেশ কয়েকটি ইফতারের ডালা নিয়ে নাজিম উদ্দিন রোডে কারা ফটকের কাছে যান জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের অন্তত ১৫ নেত্রী। তাদের অধিকাংশের হাতেই বিভিন্ন রকমের ফলের ডালা। এ দলের নেতৃত্বে ছিলেন বিএনপির মহিলা দলের সধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ। প্রধান ফটকের আগেই তারা পুলিশি বাধার মুখে পড়েন। এরপর তারা প্রথমে নেত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ চান। তা পাওয়া না গেলে তাদের নেয়া ফলমুলগুলো পৌঁছে দেয়ার অনুরোধ জানায়।
দায়িত্বরত প্রধান কারারক্ষী আল হাসান মোবাইল ফোনে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানায়। তাতে সম্মতি পাওয়া না গেলে তিনি তাদের মুখোমুখি হন। বলেন, আপনারা দলের নেতাকর্মী। আসতেই পারেন। কিন্তু তার পরিবারের কোনো সদস্য ছাড়া তার জন্য খাবার নেয়া যাবে না। তার নিরাপত্তার স্বার্থেই তা সম্ভব নয়। আর আপনারা যদি সাক্ষাৎ করতে চান তাহলে আগামী রোববার অনুমতির জন্য আবেদন করেন। অনুমতি পাওয়া গেলে দেখা করতে পারবেন।
মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের মা তিন মাসের বেশি সময় ধরে জেলে। আজ প্রথম রমজান। তিনি কী খাচ্ছেন জানি না। আমরা আমাদের মা বেগম খালেদা জিয়ার জন্য ইফতার সামগ্রী নিয়ে এসেছিলাম। সাক্ষাৎ করতে দেয়া না হলেও তা আমাদের মায়ের কাছে পৌঁছে দেয়া হোক। এ সময় একাধিক নেত্রী বলেন, একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী সাড়ে ৩৯টাকায় কী ইফতার করবেন। আমাদের ইফতার সামগ্রী পৌঁছে দিলে কী হয়। উল্লেখ্য, জেল কোড অনুযায়ী একজন ডিভিশনপ্রাপ্ত ভিআইপির ইফতারের জন্য বরাদ্দ সাড়ে ৩৯ টাকা।
এ সময় জেল কর্তৃপক্ষের অনুমতি না পেয়ে ইফতার সামগ্রী নিয়ে ফিরে যান বিএনপি নেতাকর্মীরা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নূরে আলাপ সাফা, সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আখতার, ঢাকা উত্তর মহানগর বিএনপির সভানেত্রী পিয়ারা মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক আমেনা বেগম।
এরপর বিকাল সোয়া তিনটার দিকে একটি ভ্যানগাড়ি বোঝাই ইফতারের ডালা নিয়ে কারাগারে যান ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. ডন মো. সালাহ উদ্দিন ও বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী। তারাও পুলিশি বাধার মুখে পড়েন। কিছুক্ষণ চেষ্টা তদবির করে অবশেষে ভ্যানগাড়িসহ ফিরে যান তারাও। এ সময় সঙ্গে ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল কবির পল, যুগ্ম সম্পাদক মো. মাসুদ পারভেজসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী।
উল্লেখ্য, গত ৮ই ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় রায়ে ৫ বছরের কারাদণ্ডের আদেশের পর থেকে ওই কারাগারে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এরপর থেকে বিগত ৩ মাস ১০ দিন ধরে তিনি কারান্তরীণ। গত বুধবার হাইকোর্টের আপিল বিভাগে এই মামলায় তার জামিন হলেও আরো বেশ কয়েকটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ফলে ঠিক কবে নাগাদ তার মুক্তি মিলবে তা নিশ্চিত নয়।

কৃষকের নামে ভুয়া ঋণ: লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলো কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তারা by শামীম হোসেন বাবু

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক শাখা থেকে শত শত কৃষকের নামে ঋণ হালনাগাদ (রিকভারি) ও নতুন ঋণ করার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। ফলে ব্যাংকের ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছে ঋণ গ্রহীতা কৃষক। এসব ঋণ গ্রহীতারা জানেন না তাদের নামে ব্যাংকে ঋণের পরিমাণ কত? এমনকি তাদের কাছে নেই কোনো  কাগজপত্রাদি। ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ এক অডিট আপত্তিতে বিষয়টি ধরা পড়েছে। এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক ও দুর্নীতি দমন কমিশন বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।
রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক নীলফামারী কিশোরগঞ্জ উপজেলা শাখা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এ শাখা থেকে ৭৬৯ জন ঋণ গ্রহীতাকে ৫ কোটি ১৭ লাখ ৭২ হাজার টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ১৫ জন ব্যবসায়ীকে সিসি লোন দেয়া হয় ৭৪ লাখ ৩০ হাজার। বাকি ৪ কোটি ৪৩ লাখ ৪২ হাজার টাকা ৭৫৪ জন কৃষকের মধ্যে বিতরণ করা হয়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৬৯১ জন ঋণ গ্রহীতাকে ৫ কোটি ৪০ লাখ ৬১ হাজার টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ১৭ জন ব্যবসায়ীকে সিসি লোন দেয়া হয় ৭২ লাখ ৪০ হাজার, বাকি ৪ কোটি ৬৮ লাখ ২১ হাজার ৬৭৪ জন কৃষকের মধ্যে বিতরণ করা হয়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ২৮১ জনের নামে ২ কোটি ৯৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ২০ জন ব্যবসায়ীর নামে সিসি লোন ৮৭ লাখ ৫০ হাজার এবং  ২৬১ জন কৃষকের মধ্যে ২ কোটি ৫ লাখ ৬৩ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়।
সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক কিশোরগঞ্জ শাখায় ৪ জন ফিল্ড অফিসার থাকার কথা থাকলেও পদগুলো শূন্য থাকায় সিনিয়র কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক একাই সব দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে যোগদানের পর  ওই কর্মকর্তা প্রতিটি ইউনিয়নে দালাল নিযুক্ত করে দালালদের মাধ্যমে বিভিন্ন কৃষক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ব্যাংকের তৎকালীন ম্যানেজার ফিরোজ মোহাম্মদ ফারুক সহ এসব ঋণ বিতরণ করেছেন। বর্তমানে তৎকালীন ব্যাংক ম্যানেজার ফিরোজ মোহাম্মদ ফারুক রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলায় কর্মরত।
কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কেশবা গ্রামের ইউছুফ আলীর ছেলে আজাহার আলী (৫২) বলেন, গত ২০১৬ সালে মার্চ মাসে ব্যাংকে ঋণ করতে গেলে ব্যাংকের সুপারভাইজার আব্দুর রাজ্জাক তাকে জানান তার কাগজপত্রে সমস্যা থাকায় তাকে ঋণ দেয়া যাবে না। তাই নিরুপায় হয়ে ব্যাংকের দালাল ফারুক আহম্মেদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ফারুক আমাকে জানায়, আপনি চলে যান আপনার ঋণের ব্যবস্থা আমি করবো। কয়েকদিন পরে ফারুক আমাকে বলে আপনার নামে ৪০ হাজার টাকা ঋণ হয়েছে। কিন্তু ওই দালাল ফারুক আমাকে প্রথম দফায় ১২ হাজার ও দ্বিতীয় দফায় ৮ হাজার টাকা দিয়ে বলে বাকি টাকা ব্যাংকে খরচ হয়ে গেছে। আমি অনেক কান্নাকাটি করলে সে বাকি টাকা তো দেয়নি এমনকি আমার ঋণের কাগজপত্র চাইলে দুই বছর ধরে কোনো কাগজপত্র দিচ্ছে না।
চাঁদখানা ইউনিয়নের দক্ষিণ চাঁদখানা  দহবন্দ গ্রামের দেবেন্দ্র নাথ রায়ের ছেলে সেল্লাই চন্দ্র রায় (৪৫) বলেন, ২০০৯ সালে  ব্যাংকে আমি ১০ হাজার টাকা ঋণ করেছিলাম। ১০ হাজার টাকার মধ্যে আমি পেয়েছিলাম ৫ হাজার টাকা। পরে আবারো ব্যাংকের দালাল মোস্তফা আমাকে জানান, ব্যাংকের লোন পরিশোধ না করলে মামলা হবে। তাই আবারো ২০১৭ সালে আমার নামে পূর্বের ঋণ হালনাগাদ করে ৩০ হাজার টাকা ঋণ করে আমাকে শুধু তিন হাজার টাকা দিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমাকে কোনো কাগজপত্র দেয়নি।
ব্যাংকের দালাল ফারুক হোসেন, দুলাল হোসেন, মোস্তফা তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে কথা বললে তারা বলেন, ব্যাংকের অফিসাররা সরাসরি টাকা না নিয়ে ঋণ গ্রহীতাদের আবেদনের বিভিন্ন ভুল ধরেন। পরে ঋণ নিতে আসা কৃষক আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমরা কাজ করে দিলে তারা কিছু টাকা দেয়। এটা দোষের কি? আর সুপারভাইজার আব্দুর রাজ্জাক স্যার যে রেজওয়ান নামে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে প্রতি হাজারে ২০ টাকা সুদ নিয়ে কৃষকদের লোন রিকভারি করে দেন।
ব্যবসায়ী রেজওয়ানের সঙ্গে কথা বললে তিনি টাকা দিয়ে মুনাফা নেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ব্যাংকে আমার সিসি  লোন আছে সেই সুবাধে সুপারভাইজার আব্দুর রাজ্জাক টাকা নেয়। পরে মুনাফাসহ দিয়ে দেন।
এ বিষয়ে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক শাখার ফিল্ড সুপারভাইজার আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে কথা বললে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। বলেন- আমি ঋণ বিতরণের নামে কোনো কৃষকের কাছে টাকা নেইনি। কেউ যদি আমার কথা বলে টাকা নেয় সে দায় আমার নয়। তাছাড়া কোনো কৃষককে আমি ঋণ দিতে পারি না। ঋণ দেন ব্যাংকের ম্যানেজার।
তৎকালীন ব্যাংক ম্যানেজার ও বর্তমানে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক শাখার ম্যানেজার ফিরোজ মোহাম্মদ ফারুক বলেন, ব্যাংকে কার বিষয়ে কোনো আপত্তি এসেছে সেটা আপনি কেমন করে জানেন? এটাতো ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আপনি কে, আপনাকে কেন বলবো।
চাঁদখানা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাফিজার রহমান হাফু বলেন, আমার ইউনিয়নের অনেক অসহায় দরিদ্র মানুষের নামে কৃষি ব্যাংক থেকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করার জন্য।
রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, কিশোরগঞ্জ শাখার ম্যানেজার আফজালুল হক চৌধুরীর সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, আমি এ শাখায় ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের  ১৫ তারিখে যোগদান করেছি। পূর্বে কে কি অনিয়ম করেছে সে বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারবো না।  কতজন কৃষকের ঋণের বিষয়ে অডিট আপত্তি এসেছে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে যে সমস্ত কৃষকের মধ্যে হালনাগাদ (রিকভারি)  ঋণ বিতরণ করা হয়েছিল তাদের মধ্য থেকে কিছু কৃষকের নামে ব্যাংকের  অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা দল কর্তৃক আপত্তি এসেছে বলে ।
রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের নীলফামারী জোনাল ম্যানেজার আমিনুল হকের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ আসলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য শওকত আলী চৌধুরী বলেন, যে সমস্ত ব্যাংক কর্মকর্তা কৃষকের নামে ঋণ দিয়ে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যাংকের এজিএম ও ডিজিএম বরাবর অভিযোগ দিলে যদি তারা ব্যবস্থা না নেয় তাহলে বিষয়টি আমি সংসদে উপস্থাপন করবো।

বৈঠক সফল হলে ক্ষমতায় থাকবেন কিম: ট্রাম্প

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের জন্য ‘লিবিয়া মডেল’ অনুসরণ করছেন যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার এক বিবৃতিতে এমন কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বল্টন এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের ক্ষেত্রে ‘লিবিয়া মডেল’ অনুসরণ করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। বল্টনের দেয়া ‘লিবিয়া মডেলের’ উদাহরণ উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনকে আতঙ্কিত করতে পারে বলে ধারণা করেছিলেন পর্যবেক্ষকরা। হয়েছেও অনেকটা তাই। একতরফাভাবে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের জন্য চাপ দেয়ায় ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক বাতিল করা হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি। আর তাই বুধবারের বিবৃতিতে এই ইস্যুতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার ভাবনার বিরোধিতা করে উত্তর কোরিয়াকে আশ্বস্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে লিবিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের ঘোষণা দিয়ে বিশ্বকে বিস্মিত করে দিয়েছিলেন দেশটির নেতা কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফি। পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করার অল্প কয়েক মাসের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র লিবিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কও পুনঃস্থাপিত হয়। তবে আট বছর পর নেটো সমর্থিত বিদ্রোহী ও আধাসামরিক গোষ্ঠীর হাতে ক্ষমতাচ্যুত হন গাদ্দাফি। বিদ্রোহীদের হাতে আটক হওয়ার পর তাকে হত্যাও করা হয়। টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে লিবিয়া মডেল মানে, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের পরিণতিও এমন হতে পারে বলেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বল্টন। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
ট্রাম্পকে উদ্ধৃত করে খবরে বলা হয়, কিম জং উনের পতন ঘটানোর চেষ্টা করছে না যুক্তরাষ্ট্র। আগামী মাসের ১২ তারিখ সিঙ্গাপুরে ট্রাম্প-কিম এর মধ্যে ঐতিহাসিক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বল্টনের মন্তব্যের পর সে বৈঠক না-ও হতে পারে বলে জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। এর আগে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়ার জের ধরে দক্ষিণের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বাতিল করেছে উত্তর কোরিয়া।
বুধবার দেয়া বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেত্রে লিবিয়া মডেলের মতন কোন মডেলের কথা চিন্তা করছি না আমরা। ট্রাম্পের মতে তিনি যে কিম জং উনকে নিয়ে যা চিন্তা করছেন তা হচ্ছে, কিম তার দেশেই থাকবেন, দেশ পরিচালনা করবেন ও তার দেশ হবে অনেক ধনী।
তিনি বলেন, আপনারা যদি দক্ষিণ কোরিয়ার দিকে দেখেন, তাহলে তাদের শিল্প বিবেচনায় এটা সত্যিই একটি দক্ষিণ কোরীয় মডেল হতে পারে। তারা খুবই পরিশ্রমী, অসাধারণ মানুষ। বৈঠক নিয়ে ট্রাম্প বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের জানামতে, বৈঠক নিয়ে কোনো পরিবর্তন আসেনি। আমাদেরকে এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। আর যদি হয়েও থাকে তাহলে তাই ঠিক আছে। তবে না হলে, আমি মনে করি, এটা খুবই সফল একটা বৈঠক হতে চলেছে।

বিএনপির হেরে যাওয়ার ট্রেন্ড শুরু হয়ে গেছে

বিএনপির হেরে যাওয়ার ট্রেন্ড শুরু হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি  বলেন, বিএনপি আগামী জাতীয় নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার পথ খুঁজছে। আগামী নির্বাচনে জিতবে, বিএনপি এ আশা হারিয়ে ফেলেছে। নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয়ে নানান ছল ছুতায় নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার পথ খুঁজছে। গতকাল রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপিকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তারা নির্বাচনে আসবে কি আসবে না। এর জন্য আওয়ামী লীগকে দোষ দিয়ে কোনও লাভ নেই। পর্যবেক্ষকরাও বলছে খুলনায় দু’তিনটা অনিয়ম ছাড়া প্রত্যেকটাতেই নির্বাচন ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার হয়েছে। শুধু বিএনপি এই নির্বাচন মেনে নিতে পারেনি। বিএনপি এক লাখ দশ হাজার ভোট পেয়েছে। নির্বাচন ফেয়ার না হলে বিএনপি এত ভোট পেতো? নেতিবাচক রাজনীতির কারণে তাদের ভোট কমে যাচ্ছে। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি বা জামিনের সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়ার জামিন হয়েছে আইনি প্রক্রিয়ায়। জামিন এবং মুক্তি দিতে পারে আদালত। এটা সরকারের কোনো বিষয় না। এর সঙ্গে নির্বাচনের কোনও সম্পর্ক নেই। এ সময় তিনি বিএনপিকে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, আইনি লড়াইয়ে যান, আইনি লড়াইয়ে আপনারা এক মামলায় জামিন হয়েছে, আরও মামলা আছে। আরও লড়াই করুন আদালতই জামিন দিতে পারে। খালেদা জিয়াকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে জামিনের পরও সরকার তাকে মুক্তি দিচ্ছে না বিএনপি’র এমন অভিযোগের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, মামলা কয়টা, জামিন কয়টার হবে? আর এটা আমাদের বিষয় নয়। আওয়ামী লীগ তো মামলাও দেয়নি, জামিনও দেয়নি। এই মামলা করেছে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার। অবিরাম মিথ্যাচার করছে, মনে হচ্ছে এই মামলা যেন আওয়ামী লীগ দিয়েছে। মামলার দণ্ড দিয়েছে আদালত, তাকে মুক্তিও দিতে পারে আদালত জামিনও দিতে পারে আদালত। আওয়ামী লীগ সরকার জামিন দিতে পারে না। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ভারতীয় হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলার দৃষ্টি আকর্ষণ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, বিদেশিরা কি আমাকে ক্ষমতায় বসিয়ে দিবে। মি. হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, তার দেশ কি আমাদের ক্ষমতায় বসাবে? আমাদের ক্ষমতায় বসাবে বাংলাদেশের জনগণ, তারা আমাদের বন্ধু। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আমরা সুদৃড় করতে চাই। আমরা আমাদের নিজেদের স্বার্থে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই। দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যালঘু না ভেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর পরামর্শ দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আপনারা নিজেদেরকে মাইনরিটি ভাবেন কেন। আপনাদের ভোটের মূল্য কম আর মুসলমানদের ভোটের মূল্য বেশি এটা কি সংবিধানে আছে। ভোটের অধিকার সবার সমান। নিজেদেরকে দুর্বল ভাববেন না। মাথা উঁচু করে, শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁড়ান। হিন্দু সমপ্রদায়কে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, ‘মনে নেই ২০০১ এর নির্বাচনের পরের কথা।  আপনারা কি ২০০১, ২০০৩ এর নির্যাতনের কথা ভুলে গেছেন। আপনাদের জন্য আমাদের চেয়ে বেটার কেউ না। পাকিস্তানের বন্ধুরা আপনাদের বন্ধু হতে পারে না। ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, বিএনপি’র আমলে আপনাদের ওপর যে নির্যাতন হয়েছে, সেটা ওই সরকারের কেন্দ্রীয় পলিসির অংশ ছিল। আমাদের আমলে যে ছোট-খাটো ঘটনা ঘটেছে সেটা শেখ হাসিনা সরকারের পলিসির অংশ না। আওয়ামী লীগেও দুর্বৃত্ত আছে। কেউ কোনো অন্যায় করলে আমি তাদের দুর্বৃত্ত বলি। জমি, বাড়ি, সম্পত্তি দখল এ ব্যাপারে আমাদের সরকার জিরো টলারেন্স। আপনাদের জন্য বিকল্প আমরাই। আমাদের বিকল্প পাকিস্তানের দোসররা। ভুল করে পাকিস্তানের দোসরদের আমাদের বিকল্প ভাববেন না। কেউ হুমকি দিয়ে শক্ত হয়ে দাঁড়াবেন। বাড়ির সামনে এসে দুই তিন জন হুমকি দিলে পালিয়ে চলে গেলে হবে না।
সুখে-দুঃখে ভারত সব সময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে
এদিকে অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন,বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমলে দুই দেশের মধ্যে যে বন্ধুত্ব পূর্ণ সম্পর্ক এই সম্পর্ক আরও উচ্চ মাত্রায় যাবে। সুখে-দুঃখে ভারত সব সময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে। বাংলাদেশে সকল সমপ্রদায়ের মানুষ বিশষ করে সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের মানুষ সবাই সমান অধিকার ভোগ করছে। এটা অব্যাহত থাকবে বলে আমি আশা করি। পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জয়ন্ত দাস দীপুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন সিকদার, হিন্দু, বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত প্রমুখ।

নির্ঘুম রাত কাটে রোহিঙ্গাদের by রাসেল চৌধুরী

বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় রোহিঙ্গা শিবিরে জবুথবু অবস্থা বিরাজ করছে। বর্ষায় আরো বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গাদের চোখেমুখে নতুন করে উদ্বেগ ও আতঙ্কের ছাপ ভেসে উঠেছে।
অপরদিকে বর্ষায় সব ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলা প্রস্তুতি নিয়ে এগুচ্ছেন প্রশাসন ও রোহিঙ্গা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন এনজিও। এ ক’দিন তাদের বেশ তৎপরতা দেখা গেছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিকারুজ্জামান জানান, বর্ষায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় কয়েকটি ধাপে কাজ করছে প্রশাসন। এক্ষেত্রে কর্মরত এনজিওগুলোকেও কাজে লাগানো হয়েছে। বৃষ্টির পানি চলাচলের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে কাজ চলছে। তিনি বলেন, সব প্রস্তুতির পরও ভয় থেকে যায়। কারণ, প্রতি বর্ষায় দালান কোটায় বসবাসকারী স্থানীয় লোকজনকেও প্রচুর সমস্যার কবলে পড়তে হয়। সেক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের কোনো দালান কোটা নেই। সবাই ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করে। তাই তাদের ঝুকিটা বেশি।
জানা যায়, গত সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া শুরু হয়। গতকাল পর্যন্ত থেমে থেমে দমকা হাওয়া ও বৃষ্টিতে এক নাজুক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয় রোহিঙ্গারা। আতঙ্কিত রোহিঙ্গাদের দিকদ্বিক ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। এমনকি কয়েকটি ক্যামেপ রোহিঙ্গাদের বসতিও উপড়ে গেছে।
ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, যেকোনো দুর্যাগে মোকাবিলায় সকল সংস্থাকে নিয়ে কাজ করছে ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন। বালুখালী ক্যাম্পের এ ব্লকের বাসিন্দা আয়ুব আলী জানান, আশ্রয় নেয়া ঘরগুলো দুর্বল। বাতাস হলে নড়াচড়া করতে থাকে। এসময় ছেলেমেয়েদের মধ্যে ভীতি ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
থাইংখালী ক্যামেপর সি-ব্লকের রোহিঙ্গা নবাব মিয়া জানান, বৃষ্টি হলে পানি আটকানো যায় না। ওপর থেকে নিচের দিকে পানি নামলে ঘর স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে যায়। তাই রাতে না ঘুমিয়ে বসে থাকতে হয়।
পালংখালীর প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল আবসার চৌধুরী জানান, সম্প্রতি বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় তার ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে আশ্রিত রোহিঙ্গারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাঁথা বালিশসহ ঘরের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ভিজে গেছে। এমনকি অনেকের চাল, ডালও নষ্ট হয়েছে বলে তিনি জেনেছেন।
শুরু থেকে রোহিঙ্গাদের পাশে থাকা রাজাপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, সরকার রোহিঙ্গাদের সব ধরনের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। চলতি বর্ষা মোকাবেলায় প্রশাসন ও এনজিওগুলো তৎপর। তারপরও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর কারো হাত নেই। কয়েকদিনের বৃষ্টি ও হালকা বাতাসে রোহিঙ্গারা বিভিন্ন সমস্যার মুখে পড়েছেন বলেও জানান তিনি। বলেন, সম্বলিতভাবে কার্যক্রর পদক্ষেপ না নিলে সামনে রোহিঙ্গারা নতুন করে বিপর্যয়ে পড়বে।

টিআইবি’র পার্লামেন্ট ওয়াচ: আওয়ামী লীগের প্রতিক্রিয়া; বিশিষ্টজনের অভিমত

কোরাম সংকটে ভুগছে দশম জাতীয় সংসদ অধিবেশনের কার্যক্রম। যদিও চতুর্দশ থেকে অষ্টাদশ অধিবেশনের গড় বৈঠককাল এবং প্রতি কার্যদিবসে সদস্যদের গড় উপস্থিতির হার অষ্টম ও নবম জাতীয় সংসদের একই অধিবেশনের তুলনায় বেড়েছে। গেলো ৫ বছরে কোরাম সংকটে অপচয় হয়েছে ১২৫ কোটি টাকারও বেশি। শুধু গেলো বছরেই অপচয় হয়েছে প্রায় ৩৮ কোটি টাকা।
গত বৃহস্পতিবার 'পার্লামেন্ট ওয়াচ'- শীর্ষক প্রতিবেদন এসব তথ্য জানায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদের ৫টি অধিবেশন পর্যালোচনা করে এ প্রতিবেদন তৈরি করে সংস্থাটি।
প্রতিবেদনে, আইন প্রণয়নে জনমত গ্রহণের বিদ্যমান পদ্ধতিগুলোর সীমিত প্রয়োগ, সংসদীয় উন্মুক্ততা চর্চার ঘাটতি, সরকারের জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় প্রধান বিরোধীদলের ব্যর্থতা এবং আইন প্রণয়নে সময় ব্যয় পূর্বের তুলনায় কমে যাওয়াসহ নানা কারণে সংসদ প্রত্যাশিত কার্যকারিতা দেখাতে পারেনি বলেও জানায় টিআইবি। ডক্টর হাছান মাহমুদ
'এ প্রতিবেদন নির্বাচন কেন্দ্রিক নয়'
এদিকে, জাতীয় সংসদ ও আগামী নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই টিআইবি এমন রিপোর্ট প্রকাশ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ডক্টর হাছান মাহমুদ। শুক্রবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ অভিযোগ করেন তিনি।
তার এ অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ডক্টর ইফতেখারুজ্জামান। প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিকের ব্যাখ্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ও জাতীয় নির্বাচনকে আরও কার্যকর ও অর্থবহ করার টিআইবি’র প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য। তবে এ প্রতিবেদন নির্বাচন কেন্দ্রিক কোনো বিষয় নয়। আর সংসদকে কার্যকর করতে এর ইতিবাচক দিকগুলোর পাশাপাশি যেসব বিষয়ে অগ্রগতি সম্ভব সে বিষয়গুলো চিহ্নিত করে তুলে ধরা হয়েছে। এ নিয়ে যে কেউ সমালোচনা করতে পারেন, সেটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার। ডক্টর বদিউল আলম মজুমদার
'টিআইবি’র প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই'
আর টিআইবি’র প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই বলে মনে করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ডক্টর বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, টিআইবি যথাযথভাবে তথ্য সংগ্রহ করেই এমন প্রতিবেদন করে থাকে। তাই এ নিয়ে কারো দ্বিমত থাকার কথা নয়। বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের সংসদের কোন কার্যকরিতা নেই। আর বিরোধী দল হিসেবে যারা আছে, তাদের ভূমিকা ও অবস্থান স্পষ্ট নয়। যে বিরোধীদল সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে, তারা সরকারে অংশ নিয়ে নিজেদের পরিচয় হারিয়েছে। তাই টিআইবি’র প্রতিবেদন নিয়ে কারো দ্বিমত প্রকাশের অবকাশ নেই। জাতীয় সংসদ
পার্লামেন্টওয়াচ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দশম সংসদের এ ৫টি অধিবেশনের মোট কার্যকালের ১৩ শতাংশ কোরাম সংকটের কারণে ব্যয় হয়। কোরাম সংকট হয়েছে ৩৮ ঘন্টা তিন মিনিট। তবে পাঁচটি অধিবেশনের কোনটিতেই বিরোধী সদস্যরা ওয়াকআউট ও সংসদ বর্জন করেননি। আইন প্রণয়নে অধিবেশনের মোট সময়ের মাত্র ৯শতাংশ ব্যয় হয়েছে। প্রতিটি বিল পাস হতে গড়ে সময় ব্যয় হয়েছে মাত্র ৩৫ মিনিট। এর বিপরীতে ভারতের লোকসভায় প্রতিটি বিল পাসের গড় সময় লাগে ২ ঘন্টা ২৩ মিনিট।

ইরাকে কিংমেকার মুক্তাদা আল সদর

আমেরিকা-বিরোধী শিয়া ধর্মীয় নেতা মুক্তাদা আল সদরের জোট ইরাকের পার্লামেন্ট নির্বাচনে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন পেয়েছে।  ২০০৩ সাল থেকে ইরাকের নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে স্বতন্ত্র জাতীয়তাবাদী হিসেবে পরিচয় দেওয়া মুক্তাদা আল সদর উভয় দেশেরই শত্রু। সিএনএন’র এক খবরে বলা হয়েছে, দুর্নীতি বিরোধীতা ছিল তার প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। নির্বাচনে জিততে সদর মিত্রতা করেছেন ইরাকের কম্যুনিস্ট পার্টি ও ধর্মনিরপেক্ষ অনেক দলের সঙ্গেও। ওয়াশিংটনের প্রিয় প্রার্থী প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদিকে ধুয়ে দিয়েছেন তিনি। নির্বাচনে আবাদি হয়েছেন তৃতীয়। তবে এরপরও জটিল মারপ্যাঁচে ফের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন আবাদিই।
২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের সময় মুক্তাদা আল সদরের বাহিনীর হাতে বহু আমেরিকান সেনা মারা গেছে। আর সেই মুক্তাদা আল সদরই হতে পারেন ইরাকের ভবিষ্যৎ রাজনীতির প্রধান কারিগর, কিংমেকার। তবে অনেক মার্কিন বিশ্লেষক বলছেন, গেল বছরগুলোতে ইরাকে আমেরিকান সেনা উপস্থিতি সয়ে নিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে, ইসলামিক স্টেট বিরোধী লড়াইয়ে আমেরিকান সেনাদের ভূমিকা স্মরণ রেখেছেন তিনি।
কিন্তু মুক্তাদা আল সদরের নির্বাচনী বিজয় কার জন্য খারাপ সংবাদ? আমেরিকা নাকি ইরান? ওয়াশিংটন-ভিত্তিক মিডল ইস্ট ইন্সটিটিউটের সংঘাত নিরসন বিষয়ক পরিচালক র‌্যান্ডা স্লিম এই প্রশ্নই করেছেন। উত্তরও দিয়েছেন তিনি। তার মতে, ‘এটি উভয় দেশের জন্যই খারাপ সংবাদ। আমি মনে করি অনেকেই উদ্বেগে আছেন তাকে নিয়ে। তবে কেউ যদি তার রাজনৈতিক ও আদর্শিক পরিবর্তনের দিকে খেয়াল রাখেন, তাহলে বলতে বাধ্য হবেন যে, তিনি অনেকটাই বাস্তববাদী একজন খেলোয়াড় হয়ে উঠেছেন।’
স্লিম আরও উল্লেখ করেছেন, মুকতাদা আল সদর প্রকাশ্যেই বলেছেন আইএস-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মার্কিন উপস্থিতি নিয়ে তার কোনো সমস্যা নেই। আপত্তি নেই ইরাকি সৈন্যদেরকে প্রশিক্ষণ ও অস্ত্রসস্ত্র দেওয়ার ক্ষেত্রেও, যতক্ষণ পর্যন্ত তা ইরাকের স্বার্বভৌমত্ব লঙ্ঘণ না করে। বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার মার্কিন সেনা ইরাকে অবস্থান করছে। আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র এই নির্বাচনের পর নিরপেক্ষ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে।
তবে মুক্তাদা আল সদরের এই বিজয় প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জন্য জটিলতা বয়ে আনতে পারে। জ্যেষ্ঠ অনেক মার্কিন সেনা কমান্ডার মনে করেন, বহু মার্কিন সেনার মৃত্যুর জন্য আল সদর দায়ী। এই সেনা কমান্ডাররা খুব ঘনিষ্ঠভাবেই পরিস্থিতির দিকে নজর রাখবেন।
আল সদরের ওপর দীর্ঘদিন ধরেই তীক্ষ্ম নজর রেখেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ২০০৪ সালে ইরাকে মার্কিন দখলদার বাহিনীর প্রধান কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল রিকার্ডো সানচেজ বলেছিলেন, ‘ইরাকে মার্কিন বাহিনীর মিশন হলো মুক্তাদা আল সদরকে আটক বা হত্যা করা। এটাই আমাদের মিশন।’
মঙ্গলবার মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিসকে এই নির্বাচনী ফল নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। ম্যাটিস নিজেও দীর্ঘদিন ইরাকে শীর্ষ মার্কিন কমান্ডার ও পরে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের নেতৃত্বে ছিলেন। প্রতিক্রিয়ায় ম্যাটিস বলেন, ‘আমরা অপেক্ষা করবো। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে নজর রাখবো। তবে আমরা ইরাকি জনগণের নেওয়া সিদ্ধান্তের পক্ষে।’
তবে আল সদর জিতলেও নির্বাচনে তৃতীয় হওয়া প্রধানমন্ত্রী আবাদি জনগণ ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতি ফলাফলের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। অবশ্য ইরাকের গোত্রগত বিভেদের কারণেও অনেকে উদ্বেগে আছেন। সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর এই প্রথম কোনো সুন্নি বা কুর্দি দলের সমর্থন ছাড়াই শিয়া দলগুলো সরকার গঠনের সামর্থ্য অর্জন করেছে।
ইরাকে দুই শীর্ষ মার্কিন কমান্ডারের প্রাক্তন গোয়েন্দা উপদেষ্টা ও বর্তমানে হাডসন ইন্সটিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো মিশেল প্রিজেন্ট বলেন, অতীতে ইরাকে ইরানের প্রভাবের বিরুদ্ধে দেওয়াল হিসেবে কাজ করেছে সুন্নি আরব ও কুর্দিরা। পাশাপাশি তার আইএস ও আল কায়দার মতো জঙ্গি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও লড়েছে। কিন্তু এখন শিয়া দলগুলো যদি অন্যদের সহায়তা ছাড়াই সরকার গঠন করে, তাহলে ইরাকে অস্থিতিশীলতা বাড়বে। ইরাকের অনেক শিয়া দলের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে।
তবে স্লিম বলেছেন, শিয়া হলেও মুক্তাদা আল সদর কিন্তু ইরানের বিরোধী। তিনি ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করেছেন যে, ইরান-পন্থী দলগুলোর সঙ্গে তিনি জোট গঠন করবেন না। তিনি সুন্নিদের সঙ্গে হৃদ্যতা বাড়িয়েছেন। এমনকি নির্বাচনের কয়েক মাস আগে ইরানের প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরবে গিয়ে সেখানকার ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
স্লিম মনে করেন, মূলত কুর্দি দল ও আবাদির সঙ্গে জোট গঠন করতে পারেন আল সদর। আবার ইরাকের অনিশ্চয়তাময় জটিল রাজনীতিতে, এমনটা হওয়াও অসম্ভব নয় যে, মুক্তাদা আল সদর হয়তো ক্ষমতার ধারেকাছেও থাকবেন না। অন্য দলগুলো জোট করে ক্ষমতা দখল করবে।
ইতিমধ্যে, ইরান-পন্থী দলগুলো আল সদরকে হটিয়ে আবাদি বা অন্য কারও সঙ্গে জোট গঠন করার চেষ্টা শুরু করেছে। বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইরানের ক্ষমতাধর কমান্ডার কাসেম সোলেমানি এই সপ্তাহেই আবাদি ও ইরানপন্থী রাজনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেক্ষেত্রেও তৃতীয় স্থানে থাকা আবাদি হতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।

ইয়েদুরাপ্পাকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের নির্দেশ দিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন বি এস ইয়েদুরাপ্পা
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট কর্ণাটকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়া বিজেপি’র বি এস ইয়েদুরাপ্পাকে শনিবার বিকেলের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণের নির্দেশ দিয়েছে। এরফলে সরকার গঠনকে কেন্দ্র করে কর্ণাটকে বিজেপি ধাক্কা খেল। 
সুপ্রিম কোর্ট শুক্রবার বলেছে, ইয়েদুরাপ্পা এই সময়ের মধ্যে কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। অন্যদিকে, কর্ণাটক বিধানসভায় এক অ্যাংলো ইন্ডিয়ান সদস্যকেও মনোনীত করাতেও আদালত স্থগিতাদেশ দিয়েছে। 
বি এস ইয়েদুরাপ্পা গত বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। গভর্নর বজুভাই বালা তাকে ১৫ দিনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে বলেছিলেন। এভাবে দীর্ঘ সময় পেলে এরমধ্যে অন্যদলের বিধায়কদের অর্থবলে ও অন্য চাপ সৃষ্টি বা হুমকি দিয়ে বিজেপি নিজেদের পক্ষে আনার চেষ্টা করবে বলে বিরোধীরা অভিযোগ করেছিল।
এ নিয়ে কংগ্রেসের আবেদনের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট আজ (শুক্রবার) এক রায়ে আগামীকাল (শনিবার) বিকেল ৪ টার মধ্যে বিধানসভায় ইয়েদুরাপ্পাকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের নির্দেশ দিয়েছে। 
কর্নাটকে সরকার গড়তে বিজেপি প্রয়োজনীয় ১১২টি আসন না পেলেও গভর্নর বজুভাই বালা বিজেপিকে সরকার গড়ার আমন্ত্রণ জানানোয় ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানায় কংগ্রেস-জেডি (এস) জোট। বিজেপি বিধায়কের সংখ্যা ১০৪। কংগ্রেস-জেডিএসের দাবি তাদের কাছে ১১৭ বিধায়ক থাকা সত্ত্বেও গভর্নর সরকার গড়তে না ডেকে অসাংবিধানিক কাজ করেছেন।
আদালতের রায়ের পরে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী বলেছেন, গভর্নর বালা অসাংবিধানিক কাজ করেছেন, আমাদের ওই অভিযোগই সত্যি প্রমাণিত হল। প্রয়োজনীয় সংখ্যা না থাকলেও বিজেপি সরকার গড়বে বলে ‘ধোঁকা’ দিচ্ছিল, সেটাই স্পষ্ট দেখিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট।
কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা রণদীপ সূর্যেওয়ালা আদালতের রায়কে সংবিধানের জয় বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘ইয়েদুরাপ্পা এক দিনের মুখ্যমন্ত্রীই থাকবেন। সংবিধান অবৈধ মুখ্যমন্ত্রীকে প্রত্যাখ্যান করেছে। এছাড়া কর্ণাটকের গভর্নরের অসাংবিধানিক সিদ্ধান্তকেও প্রত্যাখ্যান করেছে।’
কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা গুলাম নবী আজাদ বলেছেন, সুপ্রিম কোর্ট গণতন্ত্রকে রক্ষা করেছে।
কংগ্রেস ও জেডিএসের আশা, তাদের কাছে সরকার গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় বিধায়ক থাকায় তারা সহজেই সরকার গড়তে পারবে এবং বি এস ইয়েদুরাপ্পা এক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হবেন। ইয়েদুরাপ্পা অবশ্য আজই বলেছেন, তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে প্রস্তুত।
কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী

ভারতে এক বাংলাদেশী যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন

ভারতের আহমেদাবাদে এক বাংলাদেশী যুবকের মৃত্যু হয়ে উঠেছে স্থানীয় পুলিশ কর্তাদের আলোচনার রশদ। অভিযোগ রয়েছে, মৃত ওই যুবক পতিতাবৃত্তিতে জড়িত। এক সপ্তাহ আগে স্থানীয় পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ধরে নিয়ে যায় বলে বিভিন্ন সংবাদে বলা হয়েছে।
পুলিশের একাধিক সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেছেন, অবৈধ বাংলাদেশী অভিবাসী হিসেবে সন্দেহভাজন ঐ যুবককে পিপলাজ থেকে তুলে নেওয়া হয়। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়া দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে ওই ব্যক্তি মারা যান।
পুলিশ সার্কেলেই এখন প্রশ্ন উঠেছে ওই যুবক জিজ্ঞাসাবাদের সময়ই মারা গেছেন নাকি ছেড়ে দেওয়ার পর। পুলিশ বলছে, ছেড়ে দেওয়ার পর হৃৎপিণ্ডের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান। আহমেদাবাদ সিটি পুলিশ কমিশনার একে সিং বলেন, ‘অবৈধভাবে শহরে অনুপ্রবেশ করা এক সন্দেহভাজন বাংলাদেশী পরিবার নিয়ে তদন্ত করছিল নগর পুলিশ। তারা যেসব নথিপত্র দেখিয়েছিল, তা জাল মনে হয়েছিল। তাদেরকে আরও নথিপত্র জোগাড় করতে বলা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জানা গেছে যে ওই ব্যক্তি পরে হৃৎযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। পুলিশি হেফাজতে তার মৃত্যুর প্রশ্নই উঠে না, কারণ তার স্বাধীনতা হরণ করা হয়নি।’
বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, ওই যুবকের মৃতদেহ শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত নারোলের কাছে নির্জন একটি এলাকায় সম্ভবত পুঁতে ফেলা হয়। ওই সূত্র আরও জানিয়েছে, মোট পাঁচ পুলিশ সদস্য ওই যুবককে গ্রেপ্তার করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।

ইফতার পণ্যের দাম বেড়েছে দুই থেকে আড়াই গুণ

রমজান মাসে সাধারণত ইফতারের তালিকায় থাকে খেজুর, পিয়াজু, বেগুনি, ছোলা, মুড়ি, হালিম, জিলাপি ও বুন্দিয়া। এছাড়াও থাকে বিভিন্ন ধরনের ফল, চিঁড়া ও মুড়ি।
কিন্তু রমজানকে কেন্দ্র করে এসব পণ্যের বাজার বেশ উত্তপ্ত। দাম বেড়েছে হু হু করে। গত একবছরে দাম বেড়েছে দুই থেকে আড়াই গুণ। গতবার যে মূল্য ছিল এবার সেগুলো দ্বিগুণ দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে। এর মধ্যে কোনো কোনো পণ্যের দাম বেড়েছে শতভাগ। তবে রাস্তা ও ফুটপাথ দখল করে ইফতারির খণ্ডকালীন দোকানগুলোতে ইফতারির দাম হোটেল রেস্তরাঁর চেয়ে কম। অবশ্য এখানেও দাম আগের চেয়ে একটু বেশি। আবার দাম ঠিক থাকলেও আকারে ছোট হয়েছে গতবারের চেয়ে। দাম বেড়ে যাওয়ায় দোকানিদের সামনেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ক্রেতারা। এ নিয়ে বিক্রেতারাও অস্বস্তিতে।
রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রমজান সংশ্লিষ্ট বেশির ভাগ পণ্যেরই দাম বেড়ে গেছে। বাজার মনিটরিং ও পণ্যমূল্য তদারকির অভাবে নিত্যপণ্যের বাজার টালমাটাল হচ্ছে বলে মনে করেন দোকানদাররা। তাদের মতে, স্বাভাবিক সময়ের বাজারের চেয়ে রমজান ঘিরে ক্ষেত্র বিশেষে ইফতার সামগ্রীর দাম ৫ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এছাড়া খেজুর, ফলসহ সব কিছুর দাম বেড়ে গেছে।
রমজান মাসে সাধারণত বেশির ভাগ এলাকাতেই ইফতারের সময় খেজুর মুখে দিয়ে রোজা ভাঙেন রোজাদাররা। সেই খেজুরের দাম বেড়েছে কয়েক গুণ। বাজারে ১০ কেজির খেজুরের কার্টনে ২০০ টাকা করে বেড়েছে। প্রতি কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা। খেজুর বিভিন্ন ক্যাটাগরির আছে। সর্বনিম্ন ২০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত কেজি রয়েছে। তবে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা দরের খেজুরই বেশি কিনছেন ক্রেতারা।
কাওরান বাজারের খেজুর বিক্রেতা রহিম বলেন, ফরিদা খেজুরের কেজি ২৬০ টাকা। সৌদি আরবের মরিয়ম খেজুর ৪০০ টাকা। বরই খেজুর ১৪০ টাকা। এছাড়া বিভিন্ন খেজুরের দাম বিভিন্ন রকম। একেক দোকানদার একেক রকম বিক্রি করেন। যার কাছ থেকে যেমন নেয়া যায়। খেজুর কিনতে আসেন আবেদ খান বলেন, খেজুর ছাড়া ইফতার করি না। কিন্তু বাজার যে গরম। এসবে সরকারের নজর দেয়া উচিত।
ফলের দামও বেড়েছে। ১৮ কেজির আপেলের কার্টনে বেড়েছে ৩০০ টাকা করে। ১৪ কেজি মাল্টার কার্টন আগে ছিল ১ হাজার ৫৫০ টাকা। তা বেড়ে এখন হয়েছে ১ হাজার ৭০০ টাকা। আপেল ও মাল্টার দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ২৫ টাকা বেড়েছে। তবে বেদানা ও আঙ্গুর আগের দামেই আছে।
কাওরান বাজার ফল বিক্রেতা আতিক বলেন, আফ্রিকান আপেল প্রতি কেজি ১৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১৮০ টাকা হয়েছে। নাশপাতি ফল ২২০ টাকা থেকে বেড়ে ২৫০ টাকা হয়েছে। এছাড়া প্রায় সব ফলের দাম টুকটাক বেড়েছে।
কাওরান বাজারের কয়েকটি মুড়ি ও চিড়ার দোকান ঘুরে দেখা যায়, কেজি প্রতি মুড়ি ৬০ থেকে ৭০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। চিড়া বিক্রি হতে দেখা যায়, ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে। তারা জানান, মুড়ি গত কয়েক দিনে ১০ টাকা কেজি দরে বেড়েছে। আর যে চিড়া ৬৮ টাকা করে ছিল সেই চিড়া এখন ৭৫ টাকা দরে কিনতে হয়েছে তাদের।
সরজমিন দেখা গেছে, ইফতারির দোকানগুলোয় এলাকা ভেদে বেগুনি, পিয়াজু, সমুচা বিক্রি হচ্ছে ৫ টাকা থেকে ১৫ টাকা পিস হিসেবে। অবশ্য এবার আইটেমগুলো আকারে কিছুটা ছোট হিসেবে দেখা গেছে। এছাড়া ডিমের চপ ১৫ থেকে ২০ টাকা, জালি কাবাব ২০ থেকে ২৫ টাকা, ভেজিটেবল রোল ৩০ টাকা, জিলাপি প্রতিকেজি ২০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দইবড়া প্রতি কেজি ২৭৫ থেকে ৩০০ টাকা, হালিম ৫০ থেকে ৬০০, টানা পরোটা ৪০, কিমা পরোটা ৫০, চিকেন ললি ৬০-৭০, বিফ মিনি কাবাব ৫০-৬০, চিকেন সিংগার স্টিক ৪০, ছোলা প্রতিকেজি ২৫০-২৭০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া চিকেন স্টিক পিস ৭০ থেকে ৯০ টাকা, জালি কাবাব ২০ থেকে ৪৫ টাকা, বিফ স্টিক ৪০ থেকে ৬০ টাকা, হালিম (বাটির আকারভেদে) ৬০ থেকে ৩০০ টাকা। এছাড়া অন্যান্য উল্লেখযোগ্য খাবারের মধ্যে খাসির কাবাব প্রতি কেজি ৮০০, গরুর কাবাবের কেজি ৬০০ টাকা। খাসির রানের রোস্ট প্রতি পিস ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি ছোট মুরগি রোস্ট ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, কবুতরের রোস্ট ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব আইটেম গত বছরের চেয়ে দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে এবার।
বিক্রেতারা জানান, রমজানে ছোলা, চিনি, ডাল, খেজুর, পেয়াজ, বেগুন ও ভোজ্যতেলসহ অন্য পণ্যেও মূল্য বেড়ে যাওয়ায় মূলত ইফতারির আইটেমগুলোর দাম বেড়েছে। এসব পণ্য আমরা যদি কম দামে কিনতে পারতাম তাহলে আমরাও কমে দিতে পারতাম। পণ্যভেদে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে বলে জানান তারা।
রাজধানীর অভিজাত শ্রেণির মানুষের ইফতারির বাজার হিসেবে খ্যাত বেইলি রোড। মন্ত্রিপাড়ার বাসিন্দা, ব্যাংকার, বিভিন্ন সরকারি আমলা ও কর্মকর্তা, বড় ব্যবসায়ী এবং শিল্পপতিরাই মূলত এখানকার ক্রেতা। তবে সাধারণ মানুষ আসে। এখানে রয়েছে বিখ্যাত ফখরুদ্দিনের ইফতার। এছাড়া রয়েছে স্কাইলার্ক, গোল্ডেন ফুড, আমেরিকান বার্গার, ক্যাপিটাল কনফেকশনারি, রেডকোর্ট, বুমার্স, মিস্টার বেকারস, কেএফসি, পিৎজা হাটসহ সব লোভনীয় সব ফাস্টফুডের দোকান। এসব বিভিন্ন খাবারের দোকানগুলোয় ইফতার সামগ্রী গতবারের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান ক্রেতারা। তারা জানান, মূলত সুন্দর পরিবেশ ও বাড়তি স্বাদের কারণে বেইলি রোডের ইফতারি কেনেন তারা।
বেইলি রোডে দোকান ভেদে রয়েছে দামের তারতম্য। এখানে দইবড়া প্রতিকেজি ২৭৫ থেকে ৩০০ টাকা, জিলাপি ২৫০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি, হালিম ২০০ থেকে ১০০০ টাকা, আলু চপ প্রতিপিস ৫-২০, বেগুনি ও পিয়াজু ১০-২০, ছোলা প্রতিকেজি ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বাছাই করে কেনার সময় নেই যাদের, তাদের জন্য রয়েছে ইফতার প্যাকেজ। ১২ পদের ইফতার প্যাকেজের দাম পড়বে ৩৫০ টাকা। রেস্তরাঁয় বসে দুই ধরনের সেট মেন্যু দিয়ে ইফতার করা যাবে। আম্রপালির জুস, শামি কাবাব, হালিম ও ফিরনিসহ ১৭ পদের সেট মেন্যুর দাম পড়বে ভ্যাট ছাড়া জনপ্রতি ৫৫০ টাকা। এসবের দাম বেড়েছে গতবারের চেয়ে দ্বিগুণ।

মুরাদের স্বপ্ন পূরণ হবে কী?

মুরাদ আলম এবারে এসএসসি পরীক্ষায় লালবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে  বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে। তার বাবা মমিনুল ইসলাম একজন দিন মজুর। যেদিন মুরাদের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হয়, তার তিন দিন আগেই বাবা মমিনুল শ্রমিক হিসেবে ধান কাটতে অন্য জেলায় গেছেন। মুরাদ ভালো ফলাফলের খবর মুঠোফোনে প্রথমে তার বাবাকেই জানিয়েছে। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও মুরাদ এর আগে পঞ্চম শ্রেণি এবং অষ্টম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। তার বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ঘৃনই মাস্টারপাড়া গ্রামে।
জানা গেছে, মুরাদরা দুই ভাই। মুরাদ ছোট। তার বাবার দেড়শতক বসতভিটা ছাড়া আর কিছুই নেই। সেখানে দুইটি আধাপাকা ঘর রয়েছে। মুরাদ প্রথম শ্রেণি থেকেই মেধাবি ছাত্র। প্রতিটি ক্লাসেই ছিল তার রোল-১। সে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে অসংখ্য পুরস্কার অর্জন করেছে। তার বড় ভাই মোরশেদ আলম এবার রংপুর সরকারি কলেজে মাস্টার্সে ভর্তি হয়েছে। সে অভাবের তাড়নায় ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করে মুরাদের লেখাপড়ায় সহযোগিতা করছে।’ মুরাদ বলে, ‘আমার লেখাপড়ায় বড় ভাইয়ের পাশাপাশি স্যারেরা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন। যা কখনো ভুলতে পারবো না।’ মুরাদ লেখাপড়া শিখে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। মুরাদের মা মহসিনা বেগম বলেন, ‘সবায় কওছে তোর ছইল (ছেলে) ভালো এজাল্ট করচে। বেশি টাকা খরচ করি এখন ভালো জাগাত পড়াও। এখন চিন্তে করোচো ছইলোক ভালো জাগাত পড়বার টাকা কোনটে পাইম।’ লালবাড়ি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেলাল হোসেন শাহ্‌ বলেন, ‘এবার এসএসসিতে আমার বিদ্যালয় থেকে ৫৩ জন অংশ নিয়ে পাস করেছে ৪৫ জন। এর মধ্যে মুরাদসহ জিপিএ-৫ পেয়েছে  তিন জন। মুরাদ গরিব ঘরের সন্তান। সে অত্যন্ত মেধাবি। আমরা তাকে লেখাপড়ায় বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছি। সে ভালো ফল করে বিদ্যালয়ের মুখ উজ্জ্বল করেছে।’ আগামীতে মুরাদ মানুষের সহযোগিতা পেলে দেশের জন্য কিছু একটা করতে পারবে বলে প্রধান শিক্ষক আশা করেন।

বাহারি ইফতারে সেজেছে চকবাজার by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

প্রাচীন নগরী ঢাকার ইফতার ঐতিহ্যের প্রাণকেন্দ্র চকবাজার। এর ইতিহাস ও ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। ঐতিহ্যবাহী পুরান ঢাকার ইফতার মানেই যেন চকবাজারের লোভনীয় খাবারের আয়োজন। কালক্রমে এর কদর যেন বেড়েই চলছে। এখানকার ঐতিহ্যের আদি স্থাপনাগুলো এখন আর নেই। কিন্তু রয়ে গেছে ইফতারির ঐতিহ্য। সেই চির-পরিচিত হাক-ডাক। রাস্তার মাঝখানে সারি সারি দোকান। ভোজন রসিক মানুষের ভিড়। সেই ভিড়ের ভেতর থেকে বিক্রেতার কণ্ঠে ‘বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙ্গায় ভইরা
লইয়া যায়।’ রমজান মানেই চকবাজারের ইফতার। শুধু দেশ নয়, পুরাতন ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খানদানি ইফতার সামগ্রির সুনাম দেশের বাইরেও রয়েছে। চকবাজারকে অনেকে ইফতারির বাজার নামেই চেনেন। এখানকার ব্যবসায়ীদের এ মাসটি তাই কাঙ্ক্ষিত সুদিন। খ্যাতি ধরে রাখার জন্য এই ইফতারির প্রধান বৈশিষ্ট্য মাননিয়ন্ত্রণ। রমজান মাসব্যাপী দুপুর ১টা থেকে ইফতারের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত হাক-ডাক দিয়ে ইফতারি বিক্রি করেন এখানকার বিক্রেতারা। দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতারাও আসেন আগে-ভাগে। গতকাল রাজধানীতে থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় সামিয়ানা এবং প্যান্ডেল সাজিয়ে ইফতারি বিক্রি করেছেন ব্যবসায়ীরা।
বাহারি ইফতারের পসরা সাজানো হয় ঢাকার এ প্রাচীন স্থানটিতে। বৈচিত্র্য আর ভিন্ন স্বাদের জন্য পুরান ঢাকার খাবার বিশেষভাবে সমাদৃত। প্রতিবছরের মতো এবারো রমজানে চকবাজারে যে রকমারি মুখরোচক ইফতারির পসরা বসেছে, তার স্বাদ ও গন্ধ সেই মোগল আমলের রসনাবিলাসের কথাই মনে করিয়ে দেয়। রমজানের প্রথম দিন শুক্রবার দুপুর থেকেই চকবাজার ছাপিয়ে পুরান ঢাকার অলিগলির বাতাসে ভেসে আসছে নানা স্বাদের মুখরোচক খাবারের মনকাড়া সুবাস। ঐতিহ্য বজায় রেখে দোকানি আর ব্যবসায়ীরা প্রতিবছর রমজানে আনছেন নতুন নতুন ইফতার আয়োজন। মূল আয়োজনটা চকবাজারকে ঘিরেই। সব মিলেয়ে প্রতিবছরের মতো এবারও বাহারি ইফতারির ঐতিহ্যের সাজে সেজেছে চকবাজার। ইফতারি বিক্রেতারা জানায়, বংশগতভাবে দীর্ঘদিন ধরে এই জায়গায় ইফতারির ব্যবসা করছেন তারা। তাদের বাবা, দাদা, তার বাবারাও এখানে ইফতার সামগ্রী বিক্রি করতেন। ঐতিহ্য ধরে রাখতেই তাদের এই ব্যবসা। তবে, এখন অনেকেই নতুন নতুন এখানে এসেছেন বলেও জানান তারা। এখানকার খাবারের মধ্যে একটি নবাবী স্বাদ ও আমেজ থাকে। এদিকে মিরপুর থেকে চকবাজারে ইফতারি কিনতে এসেছেন মাকসুদুর রহমান। তিনি জানান, প্রতিবছর তিনি চকবাজার থেকে প্রথম দিন ইফতার কিনেন। এখানকার ইফতারি অন্যান্য স্থান থেকে আলাদা। তাই তিনি এখানে আসেন। ধানমণ্ডি থেকে চকবাজারের ইফতারি কিনতে এসেছেন কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রতিবছর ইফতার কিনতে চকবাজারে আসা হয়। পরিবারের সদস্যরাও চকবাজারের ইফতার পছন্দ করেন। তাই প্রথম দিনই ইফতারি কিনতে এসেছি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, গতবারের তুলনায় ইফতারির দাম কিছুটা বেড়েছে।
ইফতারির পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। সেখানে পাওয়া যাচ্ছে সুতি কাবাব, জালি কাবাব, টিকা কাবাব, ডিম চপ, কবুতর-কোয়েলের রোস্ট, ঐতিহ্যবাহী বড় বাপের পোলায় খায়, খাসির রান, গোটা মুরগি ফ্রাই, মুরগি ভাজা, ডিম ভাজা, পরোটা, শাহী কাবাব, সুতি কাবাব, সাসলিক, ভেজিটেবল রোল, চিকেন রোল, খাসির রানের রোস্ট, দইবড়া, হালিম, লাচ্ছি, পনির, পেস্তা বাদামের শরবত, লাবাং, মাঠা। আর পরিচিত খাবারের মধ্যে বেশি পাওয়া যাচ্ছে কিমা পরোটা, ছোলা, মুড়ি, ঘুগনি, সমুচা, বেগুনি, আলুর চপ, পিয়াজু, জিলাপিসহ নানা পদের খাবার নিয়ে সাজিয়েছেন বিক্রেতারা। পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বড় বাপের পোলায় খায় বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি। এই ইফতার আইটেমটি তেরি করা হয়েছে ২৭টি পদ দিয়ে। খাসির রোস্ট পিস আকার ভেদে ৪৪০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে (পিস হিসেবে)। আর মুরগির রোস্ট পিস ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, গরুর সুতি কাবাব ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি, দইবড়া কেজি ১৮০ থেকে ২৩০ টাকা, কবুতরের রোস্ট ১৫০ টাকা পিস। কোয়েল প্রতি পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা। এ ছাড়া চিকন জিলাপি কেজি ১৫০ টাকা, বড় শাহী জিলাপি ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নাজিব রাজাকের বাড়িতে আবারো তল্লাশি

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের বাড়িতে আবারো তল্লাশি চালিয়েছে পুুলিশ। শুক্রবার কুয়ালালামপুরে অবস্থিত ওই বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থসহ কয়েকটি হাতব্যাগ জব্দ করা হয়। বহুল আলোচিত ১-এমডিবি দুর্নীতি মামলার তদন্ত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই অভিযান চালায় পুলিশ। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
খবরে বলা হয়, মালয়েশিয়া পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের পরিচালক অমর সিং বলেন, নাজিব রাজাকের বাড়ি থেকে ঠিক কি পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার জব্দ করা হয়েছে তা আমি সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারবো না। কেননা আমরা ব্যাগভর্তি জুয়েলারি জব্দ করেছি। তবে এর পরিমাণ অনেক বেশি। এর আগে বৃহস্পতিবার ভোররাতে নাজিব রাজাকের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। তখন বাড়িটি থেকে ট্রাকে করে কয়েকটি নীল রংয়েল বাক্স নিয়ে যায় পুলিশ। ৯ই মে’র ঐতিহাসিক নির্বাচনে মাহাথিরের নেতৃত্বাধীন জোট পাকাতান হারাপন জয় লাভ করে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন ড. মাহাথির মোহাম্মদ। এর পরই সদ্য সাবেক হওয়া প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের ওপর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। তার বাড়িতে মোতায়েন করা হয় পুলিশ। এক রকম অবরুদ্ধ করে রাখা হয় তাকে। এদিকে, কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া ক্ষমতাসীন জোটের নেতা আনোয়ার ইব্রাহীম বলেছেন, দ্রুতই নাজিবকে জেলে পাঠানো হতে পারে। সব মিলিয়ে নাজিবের জেলে যাওয়ার বিষয়টি এখন শুধুই সময়ের ব্যাপার।