Monday, July 18, 2016

কাশ্মীরে সংবাদমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ

ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর কর্তৃপক্ষ সেখানে চলমান সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় গণমাধ্যমের ওপর চড়াও হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে কয়েকটি সংবাদপত্র এবং টেলিভিশন চ্যানেল। গত ৮ জুলাই পাকিস্তানের তরুণ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা বুরহান ওয়ানি ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হন। এরপর কাশ্মীর উপত্যকাজুড়ে শুরু হয় প্রতিবাদ। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে নিহত হয় ৪০ জনেরও বেশি মানুষ। আহত হয় হাজারের বেশি। এরপর থেকেই এ অঞ্চলে কারফিউ জারি আছে। নিরাপত্তা বাহিনী গত শনিবার কাশ্মীর টাইমস, গ্রেটার কাশ্মীর, কাশ্মীর ইমেজেস এবং রাইজিং কাশ্মীর নামের কয়েকটি সংবাদপত্র কার্যালয়ে অভিযান চালায়। এ ছাড়া কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়। কয়েকটি পত্রিকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুলিশ তাদের কর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে। এ ছাড়া সংবাদপত্রের দোকান থেকে পত্রিকার কপি নিয়ে গেছে।
রাইজিং কাশ্মীর-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে সম্পাদকদের বলা হয়েছে, কাশ্মীরের বিদ্যমান পরিস্থিতির কারণে আগামী তিন দিন কঠোরভাবে কারফিউ বলবৎ থাকবে। তাই এ পরিস্থিতিতে সংবাদপত্রকর্মীদের চলাচল এবং পত্রিকার বিতরণ সম্ভব হবে না। রাইজিং কাশ্মীর-এর সম্পাদক সুজাত বুখারি এ পরিস্থিতিকে ‘অনভিপ্রেত’ আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ‘সরকার আমাদের পত্রিকা ছাপাতে নিষেধ করেনি। কিন্তু এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে যাতে তা বের করা সম্ভব না হয়।’ বুখারি বলেন, ‘যদি সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া হয়, তবে গুজব ছড়াবে। পত্রিকার পাশাপাশি টেলিভিশন চ্যানেলও নেই। কীভাবে পরিস্থিতির উন্নতি হবে?’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাশ্মীরের এক মন্ত্রী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘এ সিদ্ধান্ত সঠিক। কেননা এখানে কেবল টেলিভিশন সম্প্রচারকারীরা পাকিস্তানি চ্যানেল দেখায়। সেসব চ্যানেলে এ অঞ্চলে সহিংসতা ছড়িয়ে দেওয়ার উসকানি দেওয়া হয়।’

অরুণাচলের ক্ষমতা কংগ্রেসেরই রইল

রোববার ছুটির দিনেই ভারতের কনিষ্ঠতম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন পেমা খান্ডু। অরুণাচল প্রদেশের রাজধানী ইটানগরে রাজ্যপাল তথাগত রায় তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। গতকালই পেমা সর্বসম্মতিক্রমে অরুণাচল প্রদেশ কংগ্রেস পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত হন। উত্তর-পূর্ব ভারতের আটটি রাজ্যের মধ্যে চার রাজ্যেরই শাসনক্ষমতা রইল কেন্দ্রে বিরোধী দল কংগ্রেসের হাতে। বিজেপি রয়েছে শুধু আসামে। তবে নাগাল্যান্ড ও সিকিম সরকারের ওপর তাঁদের সমর্থন রয়েছে। বামরা রয়েছে শুধু ত্রিপুরায়।
সুপ্রিম কোর্ট কংগ্রেসের পদচ্যুত মুখ্যমন্ত্রী নাবুম টুকিকে গদি ফেরত দিলেও প্রয়োজনীয় সমর্থক জোগাড় করতে ব্যর্থ হওয়ায় গতকাল স্পষ্ট হয়ে যায় প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী দোরজি খান্ডুর ছেলে তথা টুকি মন্ত্রিসভার পানিসম্পদ বিকাশ ও পর্যটনমন্ত্রী পেমা খান্ডুই হচ্ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। গতকাল সাপ্তাহিক ছুটির দিনেই দুপুর ১২টায় শপথ নেন চীন সীমান্তের মুক্তাকেন্দ্র থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ৩৭ বছরের পেমা খান্ডু। এর মধ্য দিয়ে অরুণাচলে ক্ষমতায় ফিরল কংগ্রেস। বিধানসভা নির্বাচন দুই বছর পর। দলবদলে অভ্যস্ত অরুণাচল। তবু ৪৫ জন বিধায়ক সঙ্গে থাকায় আপাতত নিরাপদ কংগ্রেস দুর্গ।

সর্বজনীন নাগরিক পেনশন

দেশে মৌসুমি বাজেট আলোচনা শেষ হলো। সাধারণ মানুষের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার বিষয়টি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বাজেটে করহার বৃদ্ধির যে প্রস্তাব পাস হলো তা নিয়ে মূলত বেশি মাত্রায় ঘুরপাক খাচ্ছে। বর্তমান আলোচনার বিষয় একটু ভিন্ন। অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় বিষয়টি ভিন্নভাবে উল্লিখিত হলেও এটি নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা নেই। কিন্তু জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলের আলোকে বিষয়টি আলোচনার দাবি রাখে। প্রথমে একটি প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে—এ দেশে যে ১০-১২ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষভাবে আয়কর দিয়ে থাকেন, সেই আয়কর দেওয়ার পেছনে তাঁদের ব্যক্তিগত বা সামাজিক প্রণোদনা কী? যদি শুধু নিবর্তনমূলক একটি ব্যবস্থার মাধ্যমে বাধ্যবাধকতাই কর আদায়ের মূল ভিত্তি হয়, তাহলে করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি ও করের পরিমাণ বৃদ্ধি একটা জায়গায় চিরদিনই আটকে থাকবে। করদাতাদের করের বিনিময়ে রাষ্ট্র কী সেবা-সহায়তা নিশ্চিত করছে বা করদাতার কর দেওয়ার পেছনে অন্য কোনো প্রণোদনা সৃষ্টি করা যায় কি না, রাষ্ট্রকে তা ভাবতে হবে। সে বিষয়ে সামান্য আলোকপাত এই নিবন্ধের অবতারণা।
করদাতাদের কাছে তাঁর কর দেওয়ার সুফল অনুভব করার কিছু বিষয় মূর্তমান বা দৃশ্যমান করতে হবে। সাধারণ করদাতাকে রাষ্ট্র স্বাভাবিক নিয়মে চিকিৎসা, সন্তানের শিক্ষা এবং কর্ম শেষে পেনশনের ব্যবস্থা করতে পারে। একজন করদাতা ও তাঁর পরিবারের জন্য সরকারি হাসপাতালগুলোতে নিয়মমাফিক চিকিৎসার নিশ্চয়তা দেওয়া যেতে পারে। প্রত্যেক করদাতাকে বিশেষ একটি স্বাস্থ্যকার্ড দিয়ে, বিশেষ কোনো সরকারি হাসপাতালের সঙ্গে সংযুক্ত করে দেওয়া যেতে পারে এবং অনুরূপভাবে করদাতাদের সন্তানদের জন্য সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির অগ্রাধিকার থাকতে পারে। অবশ্যই ন্যূনতম যোগ্যতা ব্যতিরেকে নয়। ন্যূনতম যোগ্যতার নিরিখে তা নির্ধারিত হবে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষার বাইরে তৃতীয় যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে সামাজিক নিরাপত্তা ও মধ্যম আয়ের দেশের পর্যায়ে উন্নীত হওয়ার বর্তমান মাহেন্দ্রক্ষণে যা বিচার্য, তা হচ্ছে করব্যবস্থার সঙ্গে পেনশন–ব্যবস্থার একটি উত্তম সংযোগ সাধন। কারণ সরকারি চাকরির বাইরে যাঁরা অন্য কোনো জীবিকায় নিয়োজিত এবং নিয়মিত আয়কর দিয়ে থাকেন, তাঁরা তাঁদের ষাটোর্ধ্ব বয়সে জীবনের বাকি দিনগুলোর জন্য কার ওপর নির্ভর করবেন, জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল-২০১৬তে বিষয়টি নিয়ে কিছু চিন্তা–ভাবনা রয়েছে। কিন্তু কখন, কীভাবে জীবন চক্রভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তায় সর্বজনীন নাগরিক পেনশন অন্তর্ভুক্ত হবে, সে বিষয়টি স্বচ্ছ করা হয়নি। বাজেট বক্তৃতায় বিষয়টি উল্লিখিত হয়েছে, তবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ বা সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নেই।
সর্বজনীন নাগরিক পেনশন চালু করতে হলে অনেক রকমের প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে। একদিকে ব্যবস্থাপনা, অপর দিকে অর্থসংস্থান। এখন শুধু সরকারি কর্মচারীদের পেনশন দেওয়া হয় এবং সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের আওতায় প্রায় ৩০ লাখ দরিদ্র বয়স্ক পুরুষ-নারীকে ৫০০ টাকা হারে আমৃত্যু বয়স্ক ভাতা দেওয়া হচ্ছে। বেসরকারি চাকরিজীবীদের পেনশন, গ্র্যাচুইটি ইত্যাদির দায়দায়িত্ব তাঁদের নিয়োগদাতাদের ওপরই চাপিয়ে দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা চলছে। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বিশেষ রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টিযুক্ত বিমার কথাও ভাবা হচ্ছে। এসব পদক্ষেপের ফলে বিষয়টি একীভূত ও সর্বজনীন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে না। বাংলাদেশে জাতীয় পরিচয়পত্র হওয়ার পর প্রত্যেক নাগরিক এখন একটি বিশেষ নম্বর পাচ্ছেন। একইভাবে ১৮ বছরের ঊর্ধ্ব বয়সের প্রত্যেক নাগরিক একটি সামাজিক নিরাপত্তা ও কর্মনিবন্ধন নম্বর লাভ করবেন। তিনি আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক বা স্বনিয়োজিত যা-ই হোন না কেন, তাঁর আয় অনুযায়ী কর আওতার অন্তর্ভুক্ত হবেন। তাঁর প্রদত্ত করের একটি অংশ ১, ২ বা ৩ শতাংশ তাঁর পেনশনের প্রিমিয়াম হিসেবে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমা হবে এবং নির্দিষ্ট বয়সের পর ওই নিবন্ধিত ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় পেনশন পাবেন। এভাবে রাষ্ট্রের নিজস্ব পেনশন তহবিল গড়ে উঠবে। রাষ্ট্র সেটি বিনিয়োগ করতে পারবে। প্রতিবছর বাজেট ঘাটতি মেটানোর জন্য যে ঋণ করা হয় তার প্রয়োজন হবে না।
আমাদের দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, পেনশন সবই সাধারণ করদাতার অর্থে সংস্থান করা হয়। এ বিষয়ে তাই ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন এবং দেশের সরকারি-বেসরকারি সব কর্মজীবীরই পেনশনের অধিকার রয়েছে। এই অধিকার বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখনই শুরু করা প্রয়োজন এবং প্রয়োজন সার্বিক পেনশনব্যবস্থা সুষমকরণ। এমন অনেক বেসরকারি চাকরিজীবী বা স্বনিয়োজিত কিংবা উদ্যোক্তা রয়েছেন, যিনি ৩০-৩৫ বছর কর দিয়েছেন কিন্তু বৃদ্ধ বয়সে তাঁর নিজের চিকিৎসাসহ দৈনন্দিন জীবনযাপন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ ক্ষেত্রে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করলে বর্তমানে প্রদত্ত করব্যবস্থার সঙ্গে তাঁদের পেনশনব্যবস্থার সংযোগ স্থাপন করে এ অনিশ্চয়তার অবসান ঘটানো সম্ভব। করব্যবস্থার সঙ্গে পেনশন ও স্বাস্থ্য বা চিকিৎসার একটি কার্যকর সংযোগ স্থাপন সম্ভব হলে দেশে করদাতার সংখ্যা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। অন্তত এ রকম একটি পদক্ষেপের কথা ভাবা যেতে পারে। যাঁরা ২০১৮ সালের আগের ১০ বছর নিয়মিতভাবে আয়কর দিয়েছেন এবং ২০১৮ সালে ৬০ বছর বয়স অতিক্রম করেছেন, তাঁদের প্রদত্ত করের আনুপাতিক হারে বাকি জীবনের জন্য অবসরভাতা দেওয়া যেতে পারে। চালু করা যেতে পারে করদাতা সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্য কার্ড, যা তাঁদের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে অগ্রাধিকারভিত্তিক চিকিৎসার সুযোগ প্রদান করবে এবং বেসরকারি হাসপাতালে বিশেষ কিছু মূল্যছাড় দেবে। এটি একটি নাগরিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সরকারি-বেসরকারি কর্মে নিয়োজিত যেকোনো একজন নাগরিক যিনি সমাজ ও রাষ্ট্র তাঁর কর্মক্ষম থাকাকালে যথাযথ অবদান রাখবেন, বৃদ্ধ বয়সে কর্মক্ষমতা হারিয়ে জরা ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার পর রাষ্ট্র তাঁকে অরক্ষিত অবস্থায় ছেড়ে দিতে পারে না। তাই কর্মক্ষম থাকার সময় থেকেই তাঁরই করের অর্থে তাঁর দেখভালের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে গ্রহণ করার জন্য অবসর ভাতা ও চিকিৎসার নিশ্চয়তা দেওয়ার একটি বাস্তব চিন্তা–ভাবনা রাষ্ট্রকে করতে আহ্বান জানাই। এটি রাষ্ট্রকে মানবিক করবে এবং কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের দিকে দীর্ঘ পথযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে গণ্য হবে।
ড. তোফায়েল আহমেদ: সহ-আহ্বায়ক, জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা ফোরাম ও স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ।

সমস্যা জিইয়ে রাখাই কি নগর কর্তৃপক্ষের কাজ?

বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি আর জোয়ারের পানির কারণে চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদসহ অনেক এলাকায় এখন প্রায়ই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে মানুষকে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কিন্তু এই জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ নেই। ৪ জুলাই প্রায় দিনভর থেমে থেমে বৃষ্টি আর জোয়ারের পানির কারণে অনেক এলাকা ডুবে যায়। বৃষ্টির পানির সঙ্গে জোয়ারের পানি যোগ হয়ে এসব এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে যান চলাচল ব্যাহত হয়। অনেক এলাকার বাসাবাড়িতে পানি ওঠায় দুর্ভোগে পড়ে মানুষ। কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমরপানি ওঠে। প্রায় পাঁচ-ছয় ঘণ্টা এই পানি ছিল। আগ্রাবাদ ও সিডিএ আবাসিক এলাকায় পানি ওঠার জন্য মহেশখালে বন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া বাঁধকে দায়ী করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জরুরি ভিত্তিতে এই বাঁধ সরিয়ে ফেলা প্রয়োজন। জোয়ারের পানি ঠেকানো ও বৃষ্টির পানি সরে যাওয়ার জন্য মহেশখালে স্লুইসগেট বসানোর প্রয়োজন আছে কি না,
বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া প্রয়োজন। ভবিষ্যতে যাতে এসব এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা না দেয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে। এ ছাড়া বর্ষা মৌসুমে চট্টগ্রাম নগরে পাহাড়ধসের আশঙ্কা থাকে। লালখান বাজার, ফয়’স লেক, আকবর শাহ, গরিবুল্লাহ শাহ মাজার এলাকা, সেনানিবাস-সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকাসহ বেশ কয়েকটি এলাকা পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর ইতিমধ্যে এসব এলাকায় পাহাড়ধসের সতর্কবার্তা দিয়েছে। সতর্কবার্তার ভিত্তিতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই সব এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে দিলেও দু-এক দিন পরই তারা আবার ফিরে আসে। সস্তায় বাড়ি ভাড়া পাওয়া যায় বলে স্বল্প আয়ের লোকজন এসব এলাকায় বসবাস করে। সরকারের উচিত এসব লোকজনের জন্য অন্য কোথাও স্থায়ী আবাসের ব্যবস্থা করা। এ ছাড়া লোকজনকেও সতর্ক হতে হবে। তাহলে পাহাড়ধসে প্রাণহানির ঘটনা অনেকটাই কমবে।

মুরসির পরিণতি এড়ালেন এরদোগান

তিন বছর আগে মিসরের প্রথম নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে যখন সেনা অভ্যুত্থান ঘটল, সামরিক বাহিনীর পক্ষে তখন রাস্তায় নেমেছিল রাজনৈতিক বিরোধীরা। রক্ষণশীল সরকারের বিরোধিতা করতে গিয়ে সেনা শাসনকে সমর্থন দিয়ে বসেন উদারপন্থী আর বাম রাজনীতিবিদরা। পরিণতিতে দেশের নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্টের পতন ঘটল আর জনগণের ঘাড়ে চেপে বসল কর্তৃত্ববাদী সামরিক শাসন। ক্ষমতায় আসার এক বছরের মাথায় উৎখাত হয়েছিলেন ইসলামপন্থী প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি। মুরসির ঘনিষ্ঠ ছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান। তুর্কি সরকার মিসরের সেনাশাসক আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে কখনও স্বীকৃতি দেয়নি।
ব্যাপক জনসমর্থনে ১৩ বছর ধরে তুরস্ক শাসন করছেন রিসেপ তায়েপ এরদোগান। তিনি সচেতন ছিলেন তার দেশেও মিসর স্টাইলের সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টা হতে পারে। শুক্রবার যখন সেই পরিস্থিতি তৈরি হল তার মোকাবেলা হল সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে। জরুরি অবস্থা, করফিউ, মার্শাল ল সবকিছু উপেক্ষা করে নিরস্ত্র জনতা রাজপথের দখল নিয়ে নিলেন। আরও বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে, সরকারবিরোধী সব দল সেনা অভ্যুত্থানের বিপক্ষে অবস্থান নিল। এমনকি কুর্দি দল এইচডিপি নির্বাচিত সরকারকে সমর্থন দিল। এই দলের অনেক এমপিকেই এরদোগান সরকার জেলে ভরার চেষ্টা করছে। তবুও তারা সেনা অভ্যুত্থান চেষ্টার নিন্দা জানিয়েছে। জনগণের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোও উপলব্ধি করেছে, নির্বাচিত জবাবদিহিমূলক সরকারের চেয়ে অনির্বাচিত সরকার কখনোই উত্তম হবে না। মিসরের সাবেক সেনাপ্রধান নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে উৎখাত করে স্বৈরশাসন কায়েম করেছেন। মুরসির সমর্থকদের বিরুদ্ধে নির্মম প্রাণঘাতী ধরপাকড় চালিয়েছেন। এখন সেখানে সেই উদারপন্থীখ্যাত রাজনীতিবিদদেরও ন্যূনতম স্বাধীনতা নেই। গণমাধ্যম বন্দি। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান জনগণকে প্রায়ই স্মরণ করাতেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী মিসর আরব বসন্তের পূর্বের অবস্থা থেকেও বেশি নিপীড়নমূলক হয়েছে। মিশরে সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকেই কারাগারে আছেন মুরসি।
তাকে বিতর্কিত মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। আরও একাধিক মামলায় তার দীর্ঘমেয়াদি সাজা হয়েছে। মিশরে শুক্রবার রাতে সেনাবাহিনীর ব্যাপকভিত্তিক সেনা অভ্যুত্থান সফল হলে এরদোগানকেও মুরসির পরিণতিই বরণ করতে হতো। এখন দেখার বিষয়, ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর এরদোগান তার রাজনৈতিক বিরোধীদের সঙ্গে কেমন আচরণ করেন, যারা তার দুর্দিনে সমর্থন দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সেনা অভ্যুত্থান ঠেকানোর গণপ্রচেষ্টা তুরস্কের জাতীয় ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠার সুযোগ এনে দিয়েছে। এরদোগানকে এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। অভ্যুত্থানকারীদের পক্ষে মিসর সরকার : তুরস্কে অভ্যুত্থান চেষ্টায় জড়িত সেনা সদস্যদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে মিসরের সেনাশাসিত সরকার। শনিবার তুর্কি অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘের একটি প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে কায়রো। ন্যাটো সদস্য তুরস্কে অভ্যুত্থান চেষ্টার নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব পেশ করে যুক্তরাষ্ট্র। ওই প্রস্তাবে তুরস্কের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাতে দেশটির সব দলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। তবে এই প্রস্তাবে ভেটো দেয় নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য মিসর।

রাজধানীর পানি সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়নে এডিবি’র সঙ্গে ঋণ চুক্তি

রাজধানীর পানি সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়নে সহযোগিতা দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এজন্য ২৭ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিন এবং এডিবি’র আবাসিক প্রধান কাজুহিকো হিগুচি। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রকল্পটি ঢাকা মহানগরীতে ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষিতে শহর অঞ্চলে বসবাসরত জনগোষ্ঠীকে নিরাপদ পানি সুবিধার আওতায় এনে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অবদান রাখবে। বর্তমানে ঢাকা ওয়াসার সার্ভিস ডেলিভারি এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এডিবির অর্থায়নে দুটি প্রকল্প, ঢাকা ওয়াটার সাপ্লাই সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম এবং ঢাকা ইনভায়রনমেন্টালি সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই প্রজেক্ট চলমান রয়েছে।
এ দুটি প্রকল্পের অধীনে যথাক্রমে ৪৭টি ও ১৫টি ডিজাস্টার মিটারিং এরিয়া প্রতিষ্ঠা করা হবে। প্রকল্প দুটির কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ভবিষ্যতের জন্য টেকসই ও নির্ভরযোগ্য পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।  চুক্তি স্বাক্ষর শেষে মেজবাহউদ্দিন জানান, সদ্য সমাপ্ত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দেশে মোট ৩৪০ কোটি মার্কিন ডলার বৈদেশিক সহায়তা এসেছে। ঋণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সার্বক্ষণিক (২৪/৭) প্রেসারাইজড সিস্টেমে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য ওয়াটার কোয়ালিটি মনিটরিং সিস্টেমের মাধ্যমে ঢাকা ওয়াসার সেবা প্রদানে সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। পানির অপচয় লক্ষণীয় পর্যায়ে হ্রাসকরণ, সব গ্রাহক সংযোগ মিটার ভিত্তিকরণ এবং জাতীয় পর্যায়ে পানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ঢাকা ওয়াসার ৭টি জোনে পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ ও ৮২টি নতুন ডিস্ট্রিক্ট মিটারিং এরিয়া প্রতিষ্ঠা করা হবে। এছাড়া নন রিভিনিউ ওয়াটার রিডাকশন প্লান প্রস্তুতকরণ এবং প্রতিষ্ঠিত ডিএমএসমূহে লাগসই প্রযুক্তি সুপারভিসরি কন্ট্রোল অ্যান্ড ডাটা ইকুইজিশন সিস্টেম অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা ও কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ করা হবে।
এডিবির কাজু হিকো হিগুচি বলেন, এডিবি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালে এর সদস্যপদ লাভ করার পর থেকে এ সংস্থা তাদের আর্থিক সহায়তার একটি বড় অংশ বাংলাদেশকে প্রদান করে আসছে। এডিবি এ পর্যন্ত বাংলাদেশকে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অধিক ঋণ সহায়তা প্রদান করেছে। এডিবির নতুন ঋণে নেয়া প্রকল্প চলতি বছর থেকে ২০২১ সালের অক্টোবরের মধ্যে বাস্তবায়ন সমাপ্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এডিবির ঋণের সঙ্গে কাউন্টারপার্ট হিসেবে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১৩ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয় করা হবে। এ ঋণের সুদের হার হবে লন্ডন ইন্টার ব্যাংক অফার রেট (লাইবর) ভিত্তিক। ৫ বছরের রেয়াতি মেয়াদসহ ২০ বছরে পরিশোধ করতে হবে। এর আগে, এডিবির বোর্ড নতুন এই ঋণ অনুমোদন করেছে। এ সময় বলা হয় এই অর্থে দ্রুত বর্ধনশীল জনসংখ্যার এই শহরে পানি সরবরাহ সংক্রান্ত প্রকল্পগুলোর সম্প্রসারণে ব্যয় করা হবে।

চট্টগ্রামে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ফুটবল লীগ শুরু রোববার

চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে ২৪ জুলাই শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ফুটবল লীগ। এ উপলক্ষে বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে জমকালো কনসার্ট। এতে অংশ নেবেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মমতাজ, ব্যান্ড তারকা আইয়ুব বাচ্চুসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি ব্যান্ডদল। ২৪ জুলাই ফ্লাডলাইটের আলোয় মাঠে গড়াবে খেলা। প্রতিদিন দুটি করে মোট ২০টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে। রোববার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন। তিনি জানান,
এবার আরও আকর্ষণীয় ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ করতে ভিন্ন আঙ্গিকে প্রিমিয়ার লীগ আয়োজন করা হচ্ছে। আগামীকাল (আজ) বিকেলে হোটেল সোনারগাঁওয়ে লোগো উন্মোচন করা হবে। তিনি বলেন, ‘অনেক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইভেন্ট চট্টগ্রামে আমরা সফলভাবে আয়োজন করেছি। স্বাভাবিকভাবে বিদ্যুৎ, পানি, ইন্টারনেট, অ্যাম্বুলেন্সসহ প্রয়োজনীয় ইউটিলিটি সার্ভিসদাতারা এ ব্যাপারে অভিজ্ঞ। তবে এবার ভিন্ন পরিস্থিতি। এজন্য আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সঙ্গে আলাদা সভা করা হবে। আমরা আশা করছি এবারও আমরা সফল হব।’ এবার ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহে বাংলাদেশ ফুটবল লীগের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। টিকিটের (একদিনে দুটি ম্যাচ) দাম ৫০ টাকা। সভায় জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে সিটি মেয়র ছাড়াও জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মম-নাঈমের প্রিয় প্রতিপক্ষ

ঈদের ব্যস্ততা ও অবসর যাপন শেষে আবারও কাজে ফিরেছেন নাট্যাঙ্গনের শিল্পীরা। শুটিং শুরু করেছেন পূর্ব নির্ধারিত সিডিউল অনুযায়ী। এর মধ্যে নাঈম ও জাকিয়া বারী মম নতুন একটি নাটকের শুটিং করেছেন। নাটকের নাম ‘প্রিয় প্রতিপক্ষ’। এটি রচনা করেছেন প্রসূন আজাদ ও পরিচালনা করেছেন মনন আসাদ। রাজধানীর উত্তরায় নাটকটির শুটিং করা হয়েছে। এতে অভিনয় প্রসঙ্গে জাকিয়া বারী মম বলেন, ‘গল্পটি দারুণ। আমি ও নাঈম চেষ্টা করেছি একটি ভালো কাজ দাঁড় করাতে। বাকিটা নির্ভর করছে দর্শকের ওপর।’ নাঈম বলেন, ‘নাটকের গল্পই আমাকে কাজ করতে উৎসাহী করেছে। আমি খুবই আশাবাদী নাটকটি নিয়ে। এতে আমাকে এবং মমকে দর্শক নতুনরূপে দেখতে পাবেন।’ নাটকটি শিগগিরই একটি স্যাটেলাইট চ্যানেলে প্রচার হবে বলে নির্মাতা সূত্রে জানা যায়।

রিয়াল-বার্সার একই রঙের অ্যাওয়ে জার্সি

এ মৌসুমে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার অ্যাওয়ে জার্সির রং একই। দুটি ক্লাবই প্রতিপক্ষের মাঠে ‘পার্পল’ রঙের জার্সি পরে খেলবে। দুই দলই সম্প্রতি অ্যাওয়ে জার্সি উন্মোচন করে। বার্সেলোনার হোম জার্সির লাল ও নীল রঙের মিশেল ঘটিয়ে পার্পল অ্যাওয়ে জার্সি তৈরি করা হয়েছে। গাঢ় পার্পল রঙের সঙ্গে এতে গোলাপি রঙেরও উপস্থিতি আছে। হাতা আর পিঠের উপরের দিকটাতে কালো রং দেয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ২০১০-১১ মৌসুমের পর এবারই প্রথম ‘পার্পল’ রঙের জার্সি পরে প্রতিপক্ষের মাঠে খেলতে নামবে রিয়াল। তবে জার্সির কাঁধ আর হাতায় ক্লাবের বিখ্যাত সাদা রঙের উপস্থিতি ঠিকই রয়েছে। অ্যাওয়ে জার্সি এক রঙের হলেও দুই দলের মতোই জার্সি তৈরি করা প্রতিষ্ঠান দুটিও একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। বার্সেলোনার জার্সি তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়াসামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নাইকি। রিয়ালের জার্সি জার্মানির কোম্পানি অ্যাডিডাসের। ওয়েবসাইট।

ঈশিতা ফিরছেন তবে...

এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুমানা দৌলা ঈশিতা। তার সমসাময়িক অনেকে এখনও নাটকের শুটিং নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করলেও অভিনয় থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন এ তারকা। তবে অভিনয় ছাড়লেও সম্প্রতি নিয়মিত গানের অনুশীলন শুরু করেছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে ঈশিতা বলেন, “অভিনয় দিয়ে মিডিয়ায় ক্যারিয়ারের শুরুর আগে থেকেই গান ও নৃত্যের প্রতি অন্যরকম টান ছিল। তার ধারাবাহিকতায় ১৯৯১ সালে ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতায় গানে শীর্ষ স্থান অর্জন করেছি। তবে অভিনয়ের ব্যস্ততার কারণে মাঝে গান থেকে দূরে সরে গিয়েছিলাম। তাই বর্তমানে হাতে সময় থাকায় আবারও গানের ওস্তাদের কাছে তালিম নিচ্ছি।” তাহলে আগামীতে গানের অ্যালবাম বের করার পরিকল্পনা আছে?
এমন প্রশ্নের জবাবে ঈশিতা বলেন, ‘অ্যালবাম বের করার পরিকল্পনা অবশ্যই আছে। অ্যালবামের কাজ অনেক দূর এগিয়েও নিয়েছি। আশা করি চলতি বছরেই নতুন অ্যালবাম প্রকাশ করতে পারব।’ গায়িকা হিসেবে ঈশিতা এবারই প্রথম আÍপ্রকাশ করছেন- বিষয়টি এমন নয়। এর আগেও পাঁচটি অ্যালবামে গান গেয়েছেন তিনি। সর্বশেষ ১৩ বছর আগে প্রণব ঘোষের সুর ও সঙ্গীতে একটি অ্যালবাম প্রকাশ হয়েছে তার। তারও আগে শওকতের সুর ও সঙ্গীতে কানিজ সুবর্ণা, মিমি এবং ঈশিতার মিক্স অ্যালবাম ‘কুলসুম’ প্রকাশ হয়েছিল। অ্যালবামটি শ্রোতামহলে বেশ জনপ্রিয়তা পায়। প্রসঙ্গত, গানের চর্চার বাইরেও এ তারকা বর্তমানে সংসার নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। স্বামী ও দুই সন্তান নিয়ে দারুণ সময় কাটছে তার। পাশাপাশি পড়াশোনাও চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে অভিনয়ে মন টানলেও এর জন্য যে পরিমাণ সময় দরকার সে সময় তার হাতে নেই বলেই অভিনয়ে ফেরা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তিনি।