Monday, December 17, 2018

দেশ ভয়াবহ অবস্থার দিকে চলে যাবে- ড. কামাল হোসেন

নির্বাচনে নজীরবিহীন গ্রেপ্তার ও বিরোধী নেতাকর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, দেশের এই অবস্থা চলতে থাকলে একটি ভয়াবহ অবস্থার দিকে চলে যাবে। যখন আমাদের কারো কিছু করার থাকবে না। আজ বেলা ১১ টায় রাজধানীর হোটেল পুর্বানীতে ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।  ড. কামাল বলেন, গত কয়েক দিনে গ্রেপ্তার ১৯০০ ছাড়িয়েছে। স্বাধীনতার ৪৭ বছরের  মধ্যে অনেক নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু এতো খারাপ অবস্থা কখনো ছিল না। এবার নির্বাচনে প্রার্থীদের নজীরবিহীন আক্রমন হয়েছে। এটা একটা লজ্জার বিষয়। জাতীয় লজ্জার বিষয়।
পুলিশের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বেআইনি হকুম কোনদিন হুকুম হতে পারে না। আইজি সাহেব আপনার সুনাম আছে। এলোপাথাড়ি গ্রেপ্তার থেকে বিরত থাকুন। স্বাগত বক্তব্যের পর ইশতেহার পাঠ করেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। 
অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত আছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদির সিদ্দিকী, গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী,  গণফোরামের নেতা রেজা কিবরিয়া, জগলুল হায়দার আফ্রিক, জেএসডির শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন।
এছাড়াও উপস্থিত আছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপচার্য এমাজ উদ্দিন আহম্মেদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সুকল বড়ুয়া, সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।

নিজেদের বিবেককে জিজ্ঞাসা করুন, নির্বাচনে লেভেলে প্লেয়িং ফিল্ড আছে কি না, তাহলে উত্তর পেয়ে যাবেন -অর্ধডজন প্রশ্নে মাহবুব তালুকদার

নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলে কিছু নেই। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কথাটিই এখন অর্থহীন কথায় পর্যবসিত হয়েছে। আপনারা নিজেদের বিবেককে জিজ্ঞাসা করুন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে কিনা? উত্তর পেয়ে যাবেন। নির্বাচন নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বিষয় নিয়ে অর্ধডজন প্রশ্নে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার এসব কথা বলেন। আজ সকালে কর্তব্যরত চার সাংবাদিকের  অর্ধডজন প্রশ্নের লিখিত জবাবে মাহবুব তালুকদার নির্বাচনের সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন। তার বিস্তারিত মানবজমিন পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-
১. আপনার মতে নির্বাচনে লেভেলে প্লেয়িং ফিল্ড আছে কি?
আমি মোটেও মনে করি না নির্বাচনে লেভেলে প্লেয়িং ফিল্ড বলে কিছু আছে। লেভেলে প্লেয়িং ফিল্ড কথাটা এখন একটা অর্থহীন কথায় পর্যবসিত হয়েছে।
২. সিইসি বলেছেন নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে। আপনি কী তার বিরোধিতা করছেন?
আমি কখনো তার বক্তব্যের বিরোধিতা করি না।
তিনি তার কথা বলেন। আমি প্রয়োজনে আমার ভিন্নমত প্রকাশ করি। আপনারা তো সাংবাদিক। আপনারা দেশের সব খবর রাখেন। সবকিছু দেখেন। আপনারা নিজেদের বিবেককে জিজ্ঞাসা করুন, নির্বাচনে এখন লেভেলে প্লেয়িং ফিল্ড আছে কি না, তাহলে উত্তর পেয়ে যাবেন।
৩. সারাদেশ থেকে বিরোধী দলের প্রচারে বাধা দেয়ার নানা অভিযোগ আসছে। এ অবস্থায় অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন কী সম্ভব?
আমি আশাবাদী মানুষ। এখনও যে সময়টুকু আছে তাতে অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি পালন করতে হবে। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ইলেকট্রোরাল ইনকোয়ারি কমিটির বিচারকদের আরও বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করা উচিত। আমি মনে করি, সেনাবাহিনী মাঠে নামলে পরিস্থিতি আশাব্যঞ্জকভাবে পাল্টে যাবে।
৪. সিইসি বলেছেন, সবদলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু হবে। আপনিও কি তাই মনে করেন?
সবদল অংশগ্রহণ করলে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলা হয়। সুষ্ঠু নির্বাচনের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই। নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হওয়া একটি প্রাথমিক প্রাপ্তি। আসল কথা হচ্ছে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হচ্ছে কিনা এবং বিশ্বাসযোগ্য হচ্ছে কি না? নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য না হলে অংশগ্রহণমূলক হলেও কোনো লাভ নেই।
৫. নির্বাচনে জনপ্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কি নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে আছে?
নির্বাচন আমরা সরাসরি করি না। রিটার্নিং অফিসার, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে করা হয়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে আছে। তাদের বাহিনীর সদস্যরা কতটা তাদের নিয়ন্ত্রণে আছে, তা তারা বলতে পারবেন।
৬. বর্তমান অবস্থায় আপনার কী কোন মেসেজ আছে?
আমার বক্তব্য হচ্ছে: জাতীয় নির্বাচন এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। প্রার্থী, ভোটার এমনকি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ আইনের বাইরে যাবেন না। আইনকে নিজস্ব ধারায় চলতে দিন। নির্বাচনী আচরণ বিধি মেনে চলুন। নির্বাচনকে সাফল্যম-িত করতে সহায়তা করুন।

আলোকচিত্রী থেকে কয়েদি

অনেকটা দৈবক্রমেই ফটোগ্রাফি শুরু করেছিলেন শহিদুল আলম। রসায়নের ছাত্র আলম ১৯৮০ সালে তার প্রথম ক্যামেরা নিকন এফএম কিনেন তার এক বন্ধুর জন্য। সেসময় তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা ভ্রমণে যাচ্ছিলেন। কিন্তু পরে তার বন্ধু ক্যামেরার দাম না দেয়ায়, তিনি নিজেই সেটা রেখে দেন। টাইম ম্যাগাজিনকে শহিদুল আলম বলেন, এরপর আমি ক্যামেরাটা ব্যবহার শুরু করি। অধিকারকর্মী হিসেবে কাজ করার সময় আমি আবিষ্কার করি, ছবি কত শক্তিশালী হতে পারে। তখনই সিদ্ধান্ত নিই, আমি ফটোগ্রাফার হবো।
এখন তিনি বাংলাদেশের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের অগ্রদূত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। স্বৈরশাসক এরশাদের পতনের দাবিতে হওয়া বিক্ষোভের ছবি থেকে শুরু করে সামপ্রতিক কালের নিরাপদ সড়কের দাবিতে হওয়া ছাত্র আন্দোলনকে ফ্রেমে বেঁধেছেন তিনি।
এরফলে তিনি মারধর ও গ্রেপ্তারের স্বীকার হয়েছেন। শহিদুল আলমের ক্যারিয়ার শুধু ছবি তোলাতেই আবদ্ধ ছিল না। ১৯৮৯ সালে তিনি এবং নৃতত্ত্ববিদ ও লেখিকা রহনুমা আহমেদ দৃক পিকচার লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করেন। এসময় বাংলাদেশি ফটো সাংবাদিকদের তিনি এরশাদ পতনের অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠতে উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি বলেন, আমরা একটি যুদ্ধে নেমেছিলাম। সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য যুদ্ধ। এর জন্য আমাদের যোদ্ধার প্রয়োজন ছিল। তখন থেকেই এই প্রতিষ্ঠানটি বাকস্বাধীনতার পক্ষে একটি আঞ্চলিক প্রচারকেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে।
১৯৯৮ সালে তিনি পাঠশালা নামের একটি পূর্ণাঙ্গ ‘ফটো অ্যাকাডেমি’ প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০০ সালে তিনি এশিয়ার প্রথম আন্তর্জাতিক ফটোগ্রাফি মেলা ছবি মেলার আয়োজন করেন। ২০০৩ সালে তিনি ওয়ার্ল্ড প্রেস ফটো প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। জীবনের বিভিন্ন সময়ে তিনি শিল্পকলা পদকসহ অসংখ্য পুরস্কার জিতেছেন। আলমের ছবিগুলো দেশের রাজনীতিকে ঘনিষ্ঠভাবে তুলে ধরে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে এক নারীর ভোট প্রদানের ছবি থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জীবনের ছন্দকে তুলে এনেছেন তিনি। ‘মাইগ্রেন্ট সোল’ নামের সিরিজে তিনি ভারতের আখচাষিদের থেকে মালয়েশিয়ার পেট্রোনাস টাওয়ারকে ফ্রেমে বেঁধেছেন।
গত বছর এমব্রাসিং দ্য অক্টোবর নামের একটি সিরিজের মাধ্যমে তিনি ইসলামোফোবিয়া ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। এটি ঢাকার বাইত-উর রউফ মসজিদে প্রদর্শিত হয়েছিল। শহিদুল আলম বলেন, পশ্চিমা ফটো সাংবাদিকরা বাংলাদেশকে দুর্ভিক্ষ ও ক্লিষ্টতার মাধ্যমে উপস্থাপন করে। তৃতীয় বিশ্ব বা উন্নয়নশীল দেশগুলোকে তুলে আনতে ২০০৭ সালে তিনি একটি এজেন্সি প্রতিষ্ঠা করেন। এর মাধ্যমে তিনি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জীবন তুলে আনেন। ২০১০ সালে তিনি র‌্যাপিড একশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে একটি সিরিজ শুরু করেন। এ হত্যাকাণ্ডগুলোকে ‘ক্রসফায়ার’ নামে চালিয়ে দেয়া হয়।
সামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রতি এই দায়বদ্ধতাই গত আগস্টে তাকে বিপদে ফেলেছে। দ্রুতগামী একটি বাসের ধাক্কায় ২ ছাত্র নিহত হওয়ার পর ঢাকা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। হাজার হাজার ছাত্র নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে। অনেক শিক্ষার্থী অস্থায়ী ‘ট্রাফিক স্টপেজ’ তৈরি করে চালকদের লাইসেন্স যাচাই করে দেখেন। এর সঙ্গে যোগ হয় দুর্নীতি, অসমতা ও ক্ষমতাসীনদের দায়মুক্তি নিয়ে সরকাবিরোধী ক্ষোভ। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়। শহিদুল আলম ছাত্রদের এই বিক্ষোভ ফেসবুকে সরাসরি প্রচার করেন। পরে ৫ই আগস্ট আল-জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সশস্ত্র গুণ্ডারা ছাত্রদের ওপর হামলা চালানোর সময় পুলিশ পাশেই নীরবে দাঁড়িয়ে ছিল। সাক্ষাৎকার দেয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সাদা পোশাকধারী পুলিশ শহিদুল আলমকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে খালি পায়ে কোর্টে তোলার সময় শহিদুল অভিযোগ করেন, তাকে মারধর করা হয়েছে। এমনকি তিনি কারো সাহায্য ছাড়া হাঁটতেও পারছিলেন না। মোট ১০৮ দিন তাকে বন্দি করে রাখা হয়।
এই ঘটনায় বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। নোয়াম চমস্কি ও অরুন্ধতী রায়ের মতো প্রসিদ্ধ ব্যক্তিরাও শহিদুলের মুক্তি চেয়ে প্রচারণা করেন। জাতিসংঘ ও ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট শহিদুলকে মুক্তি দেয়ার দাবি জানায়।
জেলে থাকা অবস্থাতেই গত অক্টোবরে তিনি লুসি হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাওয়ার্ড-২০১৮ লাভ করেন।  পরে ২০শে নভেম্বর জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি তার জীবন রক্ষার জন্য মানুষের সমর্থনকে কৃতিত্ব দেন।
গত সপ্তাহে কিউবার শিল্পী তানিয়া ব্রুগুয়েরাকে নতুন একটি ‘আর্ট সেন্সরশিপ’ আইনের বিরোধিতা করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। এই তানিয়া ব্রুগুয়েরা ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে শহিদুল আলমের তোলা ছবিগুলো লন্ডনে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেছিলে। এ বিষয়ে শহিদুল বলেন, বিশ্বজুড়েই সাংবাদিকতা হুমকির মুখে রয়েছে। শিক্ষক, নৃত্যশিল্পী, চিত্রশিল্পী বা সাংবাদিক সবাইকেই প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হচ্ছে।
বাংলাদেশে ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তেজনা বেড়ে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লাগাতার তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় বসতে সচেষ্ট। সামপ্রতিক সময়ে বাংলাদেশে বিরোধীদল ঘেষা সাংবাদিকরা হামলা ও গ্রেপ্তারের স্বীকার হয়েছেন। শহিদুল আলম এখনো রাষ্ট্রবিরোধী গুজব রটানোর দায়ে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে অভিযুক্ত। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের হিসাব অনুযায়ী, বিরোধীমত দমনে অন্তত ১২০০ বার এই কঠোর আইনটি ব্যবহার করা হয়েছে। অভিজ্ঞ শহিদুল আলম একজন নির্ভীক ফটোজার্নালিস্ট। এ মাসের শেষে যখন বাংলাদেশিরা ভোট দেবেন, তখন তিনি রাস্তায় নামবেন, ছবি তুলবেন ও সরাসরি সম্প্রচার করবেন। তিনি বলেন, আমি একজন সাংবাদিক। আপনার যা করার, আপনি তাই করবেন। (টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত নিবন্ধের অনুবাদ)