Monday, December 14, 2015

খালেদা জিয়ার সাথে মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারির বৈঠক

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে বৈঠক করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিকবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি টমাস শেনন।
গুলাশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের বাসভবনে সোমবার সকাল ১১টা ৫ মিনিটে বৈঠকটি শুরু হয়ে শেষ হয় বেলা ১১:৫০-এ।
প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী বৈঠকে শ্যাননের সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা ব্লম বার্নিকাট। বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে বৈঠকে ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের বাসভবনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিকবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি টমাস শেনন : এ ওয়ান ফটো

তখন কেবল ইসলামী ব্যাংকই এগিয়ে এসেছিল : লোটাস কামাল

ইসলামী ব্যাংক ও বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অর্থায়ন নিয়ে অধ্যাপক ড. আবুল বারকাতের দেয়া বক্তব্যকে সত্য নয় বলে দাবি করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। মন্ত্রী বলেন, বিশ্বকাপ ক্রিকেট শেষ হওয়ার চার বছর পর ড. বারকাতের এমন মন্তব্য রহস্যজনক। আগে কেন তিনি এসব বলেননি? তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক সৃষ্টির পর থেকে আজ পর্যন্ত অবৈধ লেনদেনে বা অর্থায়নের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকা বা সরকার থেকে হিসাব সাসপেন্ড করা, লাইসেন্স বাতিল করা বা কোনো ধরণের শোকজও করা হয়নি। ব্যাংকটি জঙ্গি অর্থায়ন করে আমার কাছে এমন কোনো তথ্য নেই। কেউ কেউ ধারণার বশবতী হয়ে এসব বলে থাকেন। মৌলবাদ অর্থনীতির সাথে ইসলামী ব্যাংক জড়িত থাকলে আমি টাকা নিতে যেতাম না। সরকার ও আমার সন্দেহ থাকলে তারা ব্যাংক চালাতে পারতো না।
ইসলামী ব্যাংক ও বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অর্থায়ন নিয়ে অধ্যাপক ড. আবুল বারকাতের দেয়া বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে সোমবার সকালে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়স্থ এনইসি সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, আমরা চৌদ্দ গোষ্ঠীর কারো কোনো হিসাব ইসলামী ব্যাংকে নেই্, নেই কোনো শেয়ার। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ড. বারকাত একজন প্রাজ্ঞজন। আমি তার ভক্ত। তার কাছে থেকে এমনটি বক্তব্য আমি আশা করিনি। এটা আমার ইমেজকে ক্ষুন্ন করেছে। আমি ব্যথিত হয়েছি। মন্ত্রী ছাড়াও আমার নিজস্ব ইমেজ আছে। ক্রিকেট বোর্ডের আমি চেয়ারম্যান ছিলাম। অষ্ট্রেলিয়ার ঘটনার পর দেশের মানুষের কাছে আমার ইমেজ আরো বেড়েছে। সফলতার তার বিশ্বব্যাংক ক্রিকেট আয়োজন করে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে সম্মানিত করেছি।
উল্লেখ্য, গত শনিবার অর্থনীতি সমিতি আয়োজিত এক সেমিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অর্থনীতি সামতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত বলেছিলেন, বিশ্বকাপ ক্রিকেট আয়োজনে ইসলামী ব্যাংকের টাকা নেয়ার জন্য লোটাস কামাল (আ হ ম মুস্তফা কামাল) দায়ী।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সরকার থেকে অনুমতিপ্রাপ্ত একটি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলা বাংলাদেশে হয়েছিল। আমার পরিকল্পনা ছিল এই ইভেন্টের মাধ্যমে আমি বাংলাদেশকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাব। উদ্দেশ্য ছিল এই ইভেণ্টে দেশের মানুষকে সম্পৃক্ত করব। ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হিসেবে আমার দায়িত্ব ছিল এটাকে সফল করা। তার সেজন্য অনেক পরিশ্রম করেছি। আমি স্পন্সরের জন্য সবার কাছে গিয়েছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এমন কোনো ব্যাংক নেই যাদের সাথে আমি কথা বলিনি। কিন্তু দুঃখজনক যে আমি কাউকে সেভাবে রাজি করাতে পারি নাই। ইসলামী ব্যাংক আমাকে ১০ কোটি টাকা দেয়। তিনি বলেন, তখন বাংলাদেশের তিনটি মাস ছিল বিশেষ সময়। আমি ঢাকাকে এমন করে সাজিয়েছিলাম রাত ২/৩টার সময়ও মিরপুর ষ্টেডিয়াম এলাকায় ১০ হাজার লোক পাওয়া যেত। সেসময় কোনো ব্যাংক এগিয়ে আসেনি। ইসলামী ব্যাংক শুধু এগিয়ে এসেছিল। আমার জানা মতে ইসলামী ব্যাংকের কোনো অবৈধ কার্যক্রমের জন্য তাদের হিসাব স্থগিত রাখা বা লাইসেন্স বাতিল করাও হয়নি এক ঘন্টার জন্য।
দুঃখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রিমিয়ার ব্যাংক থেকে মাত্র ৪০ লাখ টাকা পেয়েছি। ৩০ কোটি টাকা বাজেটের ১০ কোটি টাকা দিয়েছে ইসলামী ব্যাংক। যার মধ্যে দেড় কোটি টাকা দিয়েছি সরকারকে ভ্যাট ও ট্যাক্স হিসেবে। বাকি সাড়ে ৮ কোটি টাকা আয়োজনে গেছে। আমি তো সে সময় অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ছিলাম। বারকাত জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন। বৈঠকে ড. বারকাত এসেছেন অনেকবার। কই তিনি তখন তো এমন অভিযোগ আমাকে করেননি। আমার প্রশ্ন এখন কেনো করছেন? আমি তাদের নিকট থেকে টাকা নিয়ে এসে ভালো কাজ করেছি।
মুস্তফা কামাল বলেন, শুধু বিশ্বকাপ ক্রিকেট নয় দেশীয় ক্রিকেটেও ইসলামী ব্যাংকের অবদান রয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের যে চারটি দল রয়েছে তার মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের একটি দল আছে। আর প্রিমিয়ার ব্যাংকের আছে একটি। কই অন্য কোনো ব্যাংক তো আসেনি। তিনি বরেন, ড. বারকাতের কাছে কোনো তথ্য থাকলে তিনি সরকারকে বা আমাকে দেননি কেন? বিশ্বকাপ করে আমি দেশ ও দেশের মানুষকে ছোট করিনি। তিনি বলেন, তিনটি মাস বাংলাদেশের জন্য স্মরণীয়।
তিনি বলেন, সরকারকে ড. বারকাত নাকি চিঠি দিয়েছিলেন। আমার জন্য নাকি বন্ধ করতে পারেননি। সরকার বন্ধ করতে চাইলে আমি কে? আমি তো তখন মন্ত্রী ছিলাম না। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক মৌলবাদ অর্থনীতির সাথে জড়িত থাকলে আমি যেতাম না। প্রত্যেক ব্যাংকের বোর্ডে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিনিধি বা পর্যবেক্ষক থাকে। ইসলামী ব্যাংকেও আছে। কই কেন্দ্রীয় ব্যাংক তো আজ পর্যন্ত তাদের শোকজ করেনি। তারা তো দেখছে ব্যাংকের কার্যক্রম। সরকারের তহবিলে ট্যাক্স, ভ্যাট ছাড়াও অনুদান দিচ্ছে তারা। ধারনার বশবতি হয়ে আমরা কোনো কাজ করতে পারি না। ড. বারকাত যে বক্তব্য দিয়েছেন তার কোনো একটা উদ্দেশ্য আছে।

‘আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধকে বিক্রি করছে’ -বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে খালেদার শ্রদ্ধা

জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মহান শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আজ সকালে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তিনি। পরে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আমরা যা অর্জন করেছিলাম তা এখন হারাতে বসেছি। মানুষ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই। মানুষ তার অধিকারের কথা বলতে পারছে না। স্বাধীনতার স্বপ্ন আজও বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি বলেন, কোন যৌক্তিক আন্দোলন বিফল হয় না। আজকের এই দিনে শহীদদের স্মরণ করে বলতে চাইÑ তাদের পথ অনুসরণ করে সুসংগঠিত হয়ে আন্দোলন করে গণতন্ত্রকে রক্ষা করবে এ দেশের মানুষ। মির্জা আলমগীর বলেন, যে সব বীর সন্তানরা জীবনের বিনিময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে আমরা তাদের ঘৃণা করি। তাদের শাস্তি দাবি করছি। তবে এ বিচার যেন সঠিক যুদ্ধাপরাধীদের হয়। বিচার যেন রাজনৈতিকভাবে করা না হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা হয়নিÑ পাকিস্তানের এমন বক্তবের প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
এসময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ সাংবাদিকদের বলেছেন, বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধকে বিক্রি করছে। আর আমরা স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক আকাক্সক্ষার জন্য লড়াই করছি। দেশে অবরুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে মন্তব্য করে রিজভী আহমেদ বলেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সেটা থেকে বের হতে পারবো- এটাই আজকের দিনে আমাদের অঙ্গীকার। এখন আমরা ভয়ঙ্কর অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরশাসনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। ব্যক্তি স্বাধীনতা  নেই, কথা বললে মামলার পর মামলা দেয়া হচ্ছে। মামলার হুমকি  দেয়া হচ্ছে। এর জন্য কি ৩০ লাখ শহীদ প্রাণ দিয়েছেন? ২ লাখ মা-বোন ইজ্জত দিয়েছেন? বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বলেন, বাঙালি যাতে জাতি মেধা-মননে-গণতন্ত্রে সামনের দিকে এগোতে না পারে  সেজন্যেই স্বাধীনতার ঊষালগ্নে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্য করা হয়। এর আগে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে শ্রদ্ধা জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সেলিমা রহমান, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, রিজভী আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, বিএনপি  চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাস, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারী বাবু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

‘ষড়যন্ত্রকারীদের বিষদাত ভেঙ্গে দেয়া হবে’

দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের বিষদাত ভেঙ্গে দেয়া হবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আরও বলেন, আমরা বীরের জাতি। তাই, আত্মসমর্পন নয় আত্মমর্যাদা নিয়ে চলবো। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনষ্টিটিউট মিলনায়তনে আজ বিকেলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ আয়োজিত এ সভায় দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। আলোচনা সভায় গতকাল বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে  বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শ্রদ্ধা জানানোর তীব্র সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, তার এ শ্রদ্ধা জানানো জাতির সঙ্গে তামাশা ছাড়া আর কিছু নয়। সভায় অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, সভাপতিম-লীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুর করিম সেলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমএ আজিজ, সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আলীম চৌধুরীর মেয়ে ডা. নুজহাত চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য দেন।

ভাগ্যিস, বাংলাদেশটা ফেনী নয়! by সোহরাব হাসান

ফেনীর তিন পৌরসভার নির্বাচনে মনোনয়নপত্র পেশের খবরটি বের হওয়ার পর বুঝতে পারলাম সেখানে বহুল আলোচিত জয়নাল হাজারী না থাকলেও তাঁর যোগ্য উত্তরসূরিরা আছেন। জয়নাল হাজারী সাংসদ থাকতে সেখানে নাকি তাঁর হুকুম ছাড়া গাছের পাতাও নড়ত না। আজ সেই জয়নাল হাজারী আওয়ামী লীগে নেই, এমনকি ফেনীতেও নেই। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিএনপির শাসনামলে যিনি সাংসদ হয়ে এসেছিলেন, তিনিও তাঁর মতো ফেনী শাসন করার চেষ্টা করেছেন। এখন যিনি আছেন, তিনিও। ফেনী বরাবরই সন্ত্রাসকবলিত।
দেশের অনেক পৌরসভায় যখন বড় দুই দল থেকে একাধিক প্রার্থী দাঁড়িয়েছেন, যখন দলীয় মনোনয়ন লাভের জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে জোর তদবির চালিয়েছেন, তখন ফেনীর তিন পৌরসভার দুটিতেই মেয়র পদে একজন করে প্রার্থী হওয়া এবং ৪৮ টি কাউন্সিলর পদের মধ্যে ৪৪টিতেই একক প্রার্থী থাকার বিষয়টি কেবল অস্বাভাবিক নয়, রহস্যজনকও বটে। আর এই রহস্যের পেছনে আছে ফেনীর সন্ত্রাসকবলিত রাজনীতি। সেখানে নব্য জমিদারের ভয়ে কেউ প্রার্থী হতেই সাহস পাচ্ছেন না। ভোটের চেয়ে নিশ্চয়ই প্রাণের মায়া অনেক বেশি। বছর দুই আগে ফেনীতে যে উপজেলা চেয়ারম্যানকে গাড়ির ভেতর আগুনে পুড়িয়ে মারা হলো, সেই মামলার ৫৬ জন আসামির মধ্যে একজন ছাড়া সবাই স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী।
ফেনীর নির্বাচনের খবর পড়ে একজন সহকর্মী সখেদে বললেন, ভাগ্যিস বাংলাদেশটা ফেনী হয়ে যায়নি। বাংলাদেশটা ফেনী হলে কোথাও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো প্রার্থী পাওয়া যেত না। এক পদ এক প্রার্থী। সে ক্ষেত্রে সব পৌরসভায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র ও কাউন্সিলররা নির্বাচিত হতেন।
ফেনীতে যাই হোক না কেন, নির্বাচন সামনে রেখে সারা দেশে এখন ভোটের উৎসব। প্রার্থীরা ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে যাচ্ছেন, নিজেদের কর্মসূচি তুলে ধরছেন। এতে ভোটাররাও প্রার্থীর গুণাগুণ যাচাই করার সুযোগ পাচ্ছেন।
তবে এবারের পৌর নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সাত বছর পর নৌকা ও ধানের শীষের মুখোমুখি হওয়া। এই দুই প্রতীকের মধ্যে সর্বশেষ নির্বাচনী যুদ্ধ হয় ২০০৮ সালে। এরপর আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দফায় দফায় সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও দলীয় প্রতীক নিয়ে হাজির হয়নি। সেই সুযোগও ছিল না। এই প্রথমবারের মতো সরকার নির্দল স্থানীয় সরকার সংস্থার নির্বাচনকে দলীয় মোড়কে এনে প্রতিদ্বন্দ্বীকে চালে হারিয়ে দিলেও তার নিজের জন্যও চ্যালেঞ্জটি কম নয়। তবে পুরোপুরি দলীয় হয়নি, কাউন্সিলররা থেকে যাচ্ছেন নির্দলই। আগে স্থানীয় সরকার সংস্থাগুলোর নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো বেনামে অংশ নিত। তাই দুই দলই হার-জিতকে নিজেদের সুবিধামতো ব্যাখ্যা করত। বিরোধী দল জিতলে ক্ষমতাসীনেরা বলতেন, এটা তো জাতীয় নির্বাচন নয়। দুই ভোটের হিসাব এক নয়। আর বিরোধী দল হারলে বলত, জনগণ বিরোধী দলকে প্রত্যাখ্যান এবং সরকারের ভালো কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
পৌর নির্বাচন নিয়ে মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে এবার দুই প্রধান দলের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক লড়াইটা এখনতক বেশি বলে মনে হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞার কারণে মন্ত্রী ও সাংসদেরা নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে না পারলেও ঢাকায় বসে হুংকার ছুড়ছেন। আর বিরোধী দলের নেতারাও দেয়ালঘেরা ঘরে বসে সেই হুংকারের জবাবে ব্যাঘ্র গর্জন করে চলেছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এ ধরনের বাদানুবাদ সব সময়ই ছিল, থাকবে। আমরা আশা করব, নেতানেত্রীদের এই হুংকার হুমকি বাগ্‌যুদ্ধের মধ্যেই সীমিত থাকবে। মাঠে বন্দুক-বোমা-লাঠালাঠি-কিরিচ-চাপাতির মহড়ায় রূপ নেবে না।
পৌর নির্বাচন নিয়ে প্রত্যাশার পাশাপাশি সংশয়ও কম নয়। যদি নির্বাচনটি মোটামুটি সুষ্ঠু হয়, ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, দেশের রাজনীতিতে সুস্থ ধারা ফিরে আসার ক্ষীণ সম্ভাবনা আছে। অন্তত আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বসার মতো একটি পরিবেশ তৈরি হবে। কিন্তু নির্বাচনটি যদি সুষ্ঠু না হয়, তাহলে কী হবে কেউ বলতে পারে না। ইতিমধ্যে যেসব আলামত দেখা যাচ্ছে, তা ভালো মনে করছেন না অনেকেই। কোথাও কোথাও বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ধরপাকড় শুরু হয়েছে। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী উভয় দলের অনেক প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা আছে। কিন্তু গ্রেপ্তার হচ্ছেন বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরাই।
নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক হাবভাব দেখে মনে হচ্ছে, তারা গায়ে আর কালি লাগাতে চায় না। বরং পৌর নির্বাচনে কিছু একটা করে দেখাতে চায়। কিন্তু ক্ষমতাসীন দল, সরকারি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা ছাড়া সেটি একেবারেই অসম্ভব। সরকারের একাধিক জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী বলেছেন, তাঁরা পৌর নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবেন না। কোনো কারণে এর ব্যতিক্রম হলে, তাতে আগামী জাতীয় নির্বাচনের একটি খারাপ সংকেত যাবে। আমরা কেন সেটি করতে যাব? মন্ত্রীরা যদি কথা রাখতে পারেন তাহলে সব দলের অংশগ্রহণে আগামী জাতীয় নির্বাচনের একটি ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। আমরা এও জানি যে শুধু সুষ্ঠু নির্বাচন দেশে সুশাসন ও গণতন্ত্র দিতে পারে না। কিন্তু সুষ্ঠু নির্বাচন সুশাসন ও গণতন্ত্রের অপরিহার্য পূর্বশর্ত।
অনেকের অভিযোগ, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিএনপি ভুল করেছে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থেকে প্রায় ছিটকে পড়েছে। তাদের এ অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েও যে প্রশ্নটি করতে হয়, ৫ জানুয়ারি নির্বাচন করে কি আওয়ামী লীগ স্বস্তিতে আছে? সম্ভবত নয়। উত্তরণের পথ সবাইকে মিলেই খুঁজতে হবে।
৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনটি মোটামুটি সুষ্ঠু ও সুস্থ হলে নির্বাচন তথা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রতি যেমন মানুষের আস্থা বাড়বে, তেমনি দুই দলের মধ্যকার বৈরিতা ও অবিশ্বাস কিছুটা হলেও কমবে।
দমনপীড়ন কিংবা জ্বালাও-পোড়াও নয়, ভোটারদের প্রতি আস্থা রাখুন।

ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে সৌদি নারী সমাজ

সৌদি আরবের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করল সৌদি নারীরা। ইসলামী প্রজাতন্ত্রের নামে পরিচালিত সৌদি রাজতন্ত্রের নারীরা ইসলাম স্বীকৃত অধিকার থেকে বঞ্চিত দীর্ঘ দিন। শাসকগোষ্ঠী পুরুষদের নানা অনাচার সহ্য করা হলেও নারীদের ওপর নেমে আসে কঠোর শাস্তি। প্রয়াত বাদশাহ আবদুল্লাহর নেয়া সংস্কার উদ্যোগের পর ধীরে ধীরে বদলে গেছে নারীদের অবস্থান। বাদশাহ আবদুল্লাহ তার সংস্কার উদ্যোগে বলেছিলেন, সৌদি আরবের নারীদের সঠিক মতামত ও উপদেশ দেয়ার মতো যে যোগ্যতা আছে, তা তারা দেখিয়েছেন। ৩০ জানুয়ারি বাদশাহ মারা যাওয়ার আগে দেশটির সর্বোচ্চ উপদেষ্টা পরিষদ শূরা কাউন্সিলে ৩০ জন নারীকে নিয়োগ দিয়ে যান। এছাড়া বর্তমানে কর্পোরেট অফিসের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদ, সরকারি আমলা ও আইনজীবী হতে পারবেন। এবারের নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের হারজিত যাই হোক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাকেই বড় জয় মনে করছেন তারা। একজন প্রার্থী আমাল বাদরেলদিন আর সাওয়ারি (৬০) বলেন, ‘সত্যি বলতে কী- আমি জেতার জন্য লড়ছি না। আমি মনে করি ভোটে দাঁড়ানোর মাধ্যমেই আমি জয়ী হয়েছি।’ বার্তা সংস্থা এএফপির কাছে তিনি কুরআনের আয়াত তেলায়াত করে বলেন, ‘নির্বাচনী প্রার্থী হওয়াসহ ইসলাম নারীদের অনেক অধিকার দিয়েছে।’ নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি অনেক সমর্থন ও সহযোগিতা পেয়েছেন বলে জানান। এখনও যা করতে মানা
গাড়ি চালানো : সৌদি আরব পৃথিবীর একমাত্র দেশ যেখানে নারীদের গাড়ি চালানোর অধিকার নেই। নারীরা গাড়ি চালালে তারা বাইরে পুরুষের সঙ্গে মেলামেশার সুযোগ পেয়ে যাবেন এ যুক্তিতে তা নিষিদ্ধ। গত শতকের নব্বইয়ের দশক থেকে নারীদের গাড়ি চালানোর অধিকারের দাবিতে একটি সংগঠন সচেতনতামূলক প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।
একাকী ভ্রমণ : পরিবারের বাইরে অন্য কোনো পুরুষের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি নেই সৌদি নারীদের। অবশ্যই পরিবারের কোনো পুরুষ অভিভাবকের সঙ্গে বের হতে হয় তাদের। সৌদি আরবের বেশির ভাগ বাড়িতেই নারী ও পুরুষদের জন্য রয়েছে আলাদা প্রবেশপথ। শুধু বাড়িতেই নয়, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এমনকি কর্মস্থলেও রয়েছে আলাদা ব্যবস্থা।
পোশাক রীতি : সৌদি নারীকে কঠোর পর্দার মধ্যে চলতে হয়। কেবল চোখ ও হাতছাড়া আপাদমস্তক ঢেকে রাখতে হয়। ধর্মীয় পুলিশ বিষয়টি নজরদারি করে।
নিজের পছন্দে বিয়ে : সৌদি নারীরা নিজে নিজে বিয়ে করতে পারেন না। এজন্য পরিবারের অভিভাবকের অনুমতি ও সম্মতি থাকতে হয়।
ভিন পুরুষের সঙ্গে দেখা : পরিবারের বাইরের কোনো পুরুষের সঙ্গে সৌদি নারীদের সাক্ষাতের অধিকার নেই। রেস্টুরেন্ট বা কোনো উন্মুক্ত স্থানে গেলে সৌদি নারীদের সঙ্গে পরিবারের একজন পুরুষ সদস্য থাকা বাধ্যতামূলক।
চাকরি : পরিবারের অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া নারীদের চাকরি নিষিদ্ধ। এছাড়া সব ধরনের চাকরি তাদের জন্য উন্মুক্ত নয়।
উত্তরাধিকার : উত্তরাধিকার হিসেবে নারীরা পুরুষের সমান সম্পদ পাবেন না।
বিবাহ বিচ্ছেদ : একজন পুরুষকে সহজেই তালাক দিতে পারবেন না নারীরা। যদিও পুরুষরা একজন নারীকে সহজেই তালাক দিতে পারেন।
যা করতে পারবেন
নির্বাহী পদ : কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী হিসেবে নারীরা কাজ করতে পারবেন।
বিয়ে : যুবতী নারীরা বিয়ের জন্য অভিভাবককে চাপ দিতে পারবেন। টাইমস অব ইন্ডিয়া।
এক পা দু পা করে ভোটের মাঠে নারী
জাতি, ধর্ম, বর্ণ লিঙ্গ- মানবাধিকার প্রত্যেকের এক সমান। এমন নীতিমালার আলোকে মানুষের অধিকার রক্ষার্থে তৈরি হয়েছে ‘মানবাধিকার সংগঠন’। কিন্তু বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে এখনও সেই পুরুষপ্রীতি, লিঙ্গ ভেদের পক্ষদুষ্ট দৃষ্টি। নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার বেলায় নানা নামধারী এসব সংগঠয়নও কেন গড়িমসি করে। ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম থেকে আজ অবধি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নারীদের ভোটাধিকার পেতে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। সর্বশেষ সেই সংগ্রামে সফল হয়েছে সৌদি আরব। ২০১৫ সালের (১২ ডিসেম্বর) প্রথমবারের মতো ভোট প্রদান ও নির্বাচনে অংশগগ্রহণ করেছে সৌদি নারীরা। যুগান্তর পাঠকদের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নারীর ভোটাধিকার আইনের ইতিহাস তুলে ধরা হল
১৮৯৩ : লর্ড গ্লাসগো কর্তৃক ভোটাধিকার আইন স্বাক্ষরিত হয় ১৮৯৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর, ফলে পুরুষের পাশাপাশি ভোটের অধিকার পায় নিউজিল্যান্ডের নারীরা। কিন্তু আইনি জটিলতায় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়া অবধি (১৯১৯ সাল) নারীদের অপেক্ষা করতে হয়।
১৯০২ : নিউজিল্যান্ডের আইনের অনুকরণে ভোটাধিকার পায় অস্ট্রীয় নারীরা।
১৯০৬ : বিশ্বের প্রথম ভোটাধিকার পায় ফিনল্যান্ডের নারীরা। ১৯১৩ সালে নরওয়ে ও ১৯১৯ সালে সুইডেনের নারীরা ভোটাধিকার পায়।
১৯১৮ : অন্যান্য দেশের নারীদের এগিয়ে যাওয়ার পদযাত্রায় জার্মানি ও রাশিয়া অংশগ্রহণ করে।
১৯১৯ : লুক্সেমবার্গ ও নেদারল্যান্ডস নারীদের ভোটাধিকার প্রদান করে।
১৯২৮ : ১৯১৮ সালে ৩০ বছরের অধিক নারীদের ভোটাধিকার প্রদান করে ব্রিটেন। কিন্তু ১০ বছর পরে তার বাস্তবায়ন হয়।
১৯৩৪ : মোস্তফা কামাল আতাতুর্কের প্রচেষ্টায় প্রথম মুসলিম দেশ হিসেবে তুরস্কের নারীরা ভোটাধিকার পায়।
১৯৪৪ : মানবাধিকারের দেশ হিসেবে পরিচিত ফ্রান্সের নারীরা ভোটের অধিকার পায়।
১৯৭৬ : ১৯৩৩ সালে শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রিধারী নারীদের ভোটাধিকার প্রদান করে পোল্যান্ড এবং ১৯৭৬ সালে সে শর্ত প্রত্যাহার করে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
১৯৯৩ : ইউরোপের শেষ দেশ হিসেবে মলদোভার নারীরা সব নাগরিক অধিকার পায়।
১৯৯৪ : ১৯৩০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেত নারীরা ভোটাধিকার পায় এবং ১৯৯৪ সালে জাতি বর্ণ নির্বিশেষে নারীদের সব অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৯৪-২০০৬ : ১৯৯৪ সালে ওমান, ১৯৯৯ সালে কাতার, ২০০১ সালে বাহরাইন, ২০০৫ সালে কুয়েত এবং ২০০৬ সালে ইউএই’র নারীরা ভোটাধিকার পান।

এবার লিবিয়ার রোমান শহর ধ্বংস করবে আইএস

লিবিয়ার প্রাচীন রোমান শহর দখলে নিয়েছে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গিরা। রাজধানী ত্রিপোলির দিকে এখন তারা অগ্রসর হওয়ায় ওই শহরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর আশংকা করছেন বিশেষজ্ঞরা। গত বুধবার লিবীয় বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের পর সাবরাথা নামের ওই শহরটি দখলে নেয় আইএস। খবর ডেইলি মেইলের। আইএসের তিন জঙ্গি বিদ্রোহী এক গ্রুপের কাছে জিম্মি হওয়ার পর ভারি অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ৩০টি পিকআপ ট্রাকে হামলা চালায় ইরাক-সিরিয়াভিত্তিক এই জঙ্গিগোষ্ঠী। লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি থেকে মাত্র ৫০ মাইল দূরের ওই শহরটি তাদের ঝটিকা হামলায় বেদখল হয়ে যায়। এ সসয় ওই তিন জঙ্গিকে সফলভাবে মুক্ত করে আইএস। বিশেষজ্ঞদের আশংকা সাবরাথা শহরের পুরাকীর্তি ও সাংস্কৃতিক স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক হামলা চালানো হতে পারে। সেখান ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের অনেক নিদর্শন,
অমূল্য স্থাপনা ও তৃতীয় শতাব্দীর অ্যাম্পিথিয়েটার রয়েছে। এর আগে সিরিয়ায় ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের পামিরা শহর ও বিভিন্ন প্রাচীন মন্দির-স্থাপনা ধ্বংস করেছিল আইএস জঙ্গিরা। ইউরোপ দখলের ভিডিও ছেড়েছে আইএস : ইরাক সিরিয়ার পর এবার ইউরোপ দখলের হুমকি দিয়ে নতুন এক ভিডিও ছেড়েছে ইসলামিক স্টেট (আইএস)। এই ভিডিওতে ইতালির রাজধানী রোমে ত্রুদ্ধসেডরদের সঙ্গে চূড়ান্ত যুদ্ধ হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে তারা। যুক্তরাজ্যের সংবাদ মাধ্যমগুলো ভিডিওটিকে বলছে, ‘পৃথিবী ধ্বংসে’র ভিডিও। ‘মিটিং অ্যাট দাবিক’ শীর্ষক আইএসের ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, ওই জঙ্গি সংগঠনের হাতে থাকা ভারি যান ইতালির ‘কলোসিয়ামে’র দিকে এগোচ্ছে। এখানে ওই স্থাপনাকে বলা হচ্ছে ‘আর্মি অব রোম’।

হংকংয়ের ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’ কিনছে চীনের আলীবাবা

হংকংভিত্তিক দৈনিক সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট কিনে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে চীনা ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠান আলীবাবা। তবে বিশ্লেষকদের আশংকা, আলীবাবা নিয়ন্ত্রণ নিলে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট তার স্বকীয়তা হারাবে। তাদের পক্ষে স্বাধীন মতপ্রকাশের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়বে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে এটা হবে উদ্বেগজনক। আলীবাবার পক্ষ থেকে অবশ্য ইংরেজি ভাষার এ পত্রিকার বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখার অঙ্গীকার করা হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও আশংকা থেকেই যাচ্ছে। সমালোচকদের মতে, আলীবাবা যতই আশ্বস্ত করুক না কেন এর মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে পত্রিকাটি চীন সরকারের মুখপাত্রে পরিণত হবে।
হংকংয়ে বর্তমানে গণমাধ্যমের ওপর সরকারি হস্তক্ষেপ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। চাপের মুখে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্বআরোপিত সেন্সরশিপ আরোপ করা হয়েছে। এমন অস্থির সময়ে ‘সাউথ চায়না মনিং পোস্ট’ চীনের কাছে বিক্রিতে শংকায় রয়েছেন সাংবাদিকরা। আলীবাবার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট এবং এসসিএমপি গ্রুপের মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর কিনে নেয়ার ব্যাপারে আলীবাবা একটি চুক্তিতে উপনীত হয়েছে। সংবাদমাধ্যমগুলো কেনার কথা জানালেও এগুলোর দামের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি আলীবাবা। বিষয়টি নিয়ে আল জাজিরার সঙ্গে কথা বলেন চাইনিজ ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক উইলি লাম। তিনি বলেন, সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট অধিগ্রহণ মূলত দুনিয়াজুড়ে চীনা প্রভাব বিস্তারের যে পরিকল্পনা তারই একটা অংশ। এক সময় বিশ্বখ্যাত এ পত্রিকাটির যাত্রা শুরু ১৯০৩ সালে। হংকং ও মূল চীনসহ এ অঞ্চলের খবরাখবরের জন্য অনেকেই এ পত্রিকাটির ওপর ভরসা করতেন। তবে সম্প্রতি এর বিক্রি ও মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। মূলত একপেশে চীনপন্থী ভূমিকার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আল জাজিরা।

রক্তাক্ত হৃদয়ে তা–ও বলি, তা–ও লিখি

তোমাদের কারও কথা ভোলেনি বাংলাদেশ
বাবা আর আমার শেষ ছবিটা আমার ভীষণ প্রিয় ছবি। ছবিটার দিকে অনেক সময়ই তাকাতে কষ্ট হয়—বিশেষ করে এই সময়টায়। ছবির বাবাকে বয়সে আমি পেরিয়ে গেছি আগেই। কিন্তু তাঁর মুখের দিকে তাকালে আমার সমস্ত অস্তিত্ব ফিরে যায় তিন বছরের নীপার কাছে। দুই চোখ বেয়ে ঝরে অপ্রাপ্তির অশ্রু, হৃদয়ে চলে অবিরাম রক্তক্ষরণ! ৪৪ বছর পরেও! ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭১; আমার বাবা শহীদ ডা. আলীম চৌধুরীকে অস্ত্রের মুখে ধরে নিয়ে গেল ঘাতকেরা। তাঁর ক্ষতবিক্ষত, প্রাণহীন দেহ বাংলাদেশের বুকে পেল আশ্রয়, তার রক্ত পতাকার লাল-সূর্যে পেল ঠিকানা। বাবাকে নিয়ে কিছু লিখতে গেলে কলম থেমে যায়, চেতনা আড়ষ্ট হয়ে যায়, রক্তাক্ত হয় হৃদয়। তা–ও বলি, তা–ও লিখি। সেই লেখারও সবচেয়ে বড় প্রেরণা আমার বাবা আর তাঁর রক্তের বিনিময়ে পাওয়া স্বাধীন দেশের স্বাধীন প্রজন্ম—যারা ’৭১ দেখেনি আর কিছুদিন পর যুদ্ধের চিহ্নও আর দেখবে না। তারা আমার লেখা পড়বে, আমার বাবার রক্তমাখা কাপড় দেখবে আর চিনবে ’৭১-কে এবং নিখাদভাবে ভালোবাসবে বাংলাদেশকে আর মুক্তিযুদ্ধকে। তাই ধরতেই হয় কলম—আরও কিছু কারণে! বাংলাদেশের মানুষের মতো এত আগে থেকে ইসলাম ধর্মের অপব্যবহারকারী, সন্ত্রাসী/ধর্ম ব্যবসায়ীদের মনে হয় কেউ চেনে না। সারা বিশ্ব চমকে উঠছে যেসব নৃশংসতা দেখে, তা আমাদের ৪৪ বছর আগের ইতিহাস। আমরা ১৯৭১—এই রক্তমাখা ছুরি আর মানুষের শিরশ্ছেদ করা মাথা দেখেছি। অনেক মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশেরই তা জানতে, বুঝতে সময় লেগেছে। পাশ্চাত্যের সরকারগুলো এসব ব্যাপারে ইচ্ছা করে বোকা সেজেছে। মানবাধিকারের নামে খুনিদের পক্ষেই এরা সাফাই গেয়েছে। এমনকি তারা বিভিন্ন দেশের যুদ্ধাপরাধীদের, সন্ত্রাসীদের মহা-আদরে আশ্রয় দিয়েছে। চৌধুরী মঈনুদ্দীন, আশরাফুজ্জামান আশ্রয় পেয়েছে ঝটপট! আশ্রয় পাওয়া জল্লাদেরা উদার গণতন্ত্রের সুযোগ নিয়েছে, ‘উদার’ লেবাস ধরেছে। পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা এখন সবাই দেখছে, বিশ্বজুড়ে!
পাশ্চাত্যের সরকারগুলো বুঝেও তা বোঝে না। যুদ্ধাপরাধীদের ব্যাপারে পাশ্চাত্যের দ্বৈতনীতি আরও অদ্ভুত! দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সুবিচার নিয়ে তাদের অনেক অহংকার! ৭০ বছর পরেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অপরাধীদের শাস্তি হয়—কখনো জার্মানিতে, কখনো ইসরায়েলে—বিচার হয় সবার—ভয়ংকর জল্লাদ থেকে সামান্য প্রহরী পর্যন্ত কেউ রেহাই পায় না। সেটারও প্রশংসা পাশ্চাত্যব্যাপী! অথচ বাংলাদেশের ব্যাপারে তারা প্রচণ্ড সমালোচনামুখর! বিজিত জার্মানির মতো নিজেকে শোধরানোর অসাধারণ প্রয়াস পাকিস্তানের মতো ব্যর্থ রাষ্ট্রের কাছ থেকে আশা করা যায় না। জার্মানির উদাহরণ থেকে পাকিস্তান শেখেনি, শিখবে না। তার প্রমাণ তারা দিল আবার। বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে তিরস্কার করে ‘যুদ্ধাপরাধ হয়নি’ এমন দম্ভোক্তি করার নীচতা দেখাল তারা। তবে পাকিস্তান আর পাশ্চাত্য কী ভাবল, কী বলল তাতে আমার কিছুই যায়-আসে না। আমার সমস্যা বিভীষণদের নিয়ে। বাংলাদেশ বিজিত নয়, বাংলাদেশ বিজয়ী। সেই বিজয়ী দেশের কিছু মানুষ ধৃষ্টতা দেখায় ’৭১-এর শহীদদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে। কার স্বার্থে ৪৪ বছরের শুকিয়ে যাওয়া মাটিতে নিক্তি দিয়ে তাজা রক্ত মাপার অপচেষ্টা করে তারা? বিজয়ী দেশে কোন সাহসে ‘দানবাধিকারের’ পক্ষে সাফাই গায়? কোন অধিকারে যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে তারা অযথা পরিস্থিতি ঘোলাটে করে, বিচার নিয়ে এত প্রশ্ন তোলে? চোখের জল মুছে তাই আমাদেরই আবার কলম ধরতে হয়। আবার বলতে হয় ‘ঘাতক’ কোন অচেনা, অদেখা ধারণা নয়। গোলাম আযম, সাঈদী, নিজামী, মুজাহিদ, সাকা—এরাই ঘাতক, এরাই সন্ত্রাসী, এরাই ধর্ষক, এরাই দানব। পাকিস্তান আজ যাদের নিয়ে উদ্বিগ্ন, তারা ও তাদের তৈরি নব্য রাজাকাররাই সহিষ্ণু-উদার বাংলাদেশের শত্রু! বিশ্বজুড়ে মানবতার শত্রু! কলম আরও ধরতে হয় যুদ্ধাপরাধীদের হয়ে সাফাই গাওয়া ভণ্ড-প্রতারকদের বিরুদ্ধে। সময় এসেছে সেই অপশক্তির মুখোমুখি দাঁড়ানোর। সময় এসেছে তাদের শক্তভাবে বলার, ‘রক্ত দিয়ে কেনা এই বাংলাদেশে আমরা হারিয়ে যাব না, হেরেও যাব না!’
ফারজানা চৌধুরী: শহীদ ডা. আলীম চৌধুরীর কন্যা।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস

আজ ১৪ ডিসেম্বর, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। অত্যন্ত কাপুরুষতাপূর্ণ এক নৃশংস হত্যাযজ্ঞের স্মৃতি নিয়ে ফিরে ফিরে আসে এই দিন। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাদের স্থানীয় সহযোগীদের প্রত্যক্ষ মদদে বুদ্ধিজীবী হত্যাযজ্ঞের যে নারকীয় দৃষ্টান্ত রেখে গেছে, তেমন কাপুরুষতা বিশ্বের ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল। আজ আমরা শোকার্ত ও সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করছি অধ্যাপক জি সি দেব, মুনীর চৌধুরী, জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, ড. মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, রাশেদুল হাসান, ড. আনোয়ার পাশা, সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেন, শহীদুল্লা কায়সার, নিজামউদ্দীন আহমেদ, গিয়াসউদ্দিন আহমদ, ডা. ফজলে রাব্বী, ডা. আলীম চৌধুরী, সাংবাদিক-সাহিত্যিক সেলিনা পারভীনসহ সব শহীদ বুদ্ধিজীবীকে। সহমর্মিতা জানাচ্ছি শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের স্বজনদের প্রতি। স্বাধীন বাংলাদেশকে মেধা ও মননে পঙ্গু করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে পাকিস্তানি বাহিনীর পরিকল্পিত বুদ্ধিজীবী নিধনযজ্ঞে সহযোগী হয়েছিল এ দেশেরই কিছু মানুষ—রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীর সদস্যরা। তাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছাড়া বুদ্ধিজীবীদের বেছে বেছে হত্যা করা পাকিস্তানি বাহিনীর পক্ষে অসম্ভব ছিল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার-প্রক্রিয়ায় বুদ্ধিজীবীদের হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরাও আছেন। কবি মেহেরুননিসা ও সাংবাদিক আবু তালেব হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অন্যান্য অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৩ সালে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। সুনির্দিষ্টভাবে বুদ্ধিজীবী হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় ও আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে গত মাসে। মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় আপিল বিভাগে বিচারাধীন, শিগগিরই এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আশা করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত চৌধুরী মুঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন ২০১৩ সালে। তাঁদের দেশে ফিরিয়ে এনে দণ্ড কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত। বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের বিচার ও সব ঘাতকের দণ্ড কার্যকর করা হোক।

কোন পথে এবারের পৌর নির্বাচন? by জি. মুনীর

আমাদের কাছে অবাক লাগে আওয়ামী লীগের মতো একটি পুরনো জনভিত্তিক দল কখনোই যেন জনগণের ওপর নির্ভর করতে পারে না, বিশেষ করে ক্ষমতায় যাওয়া বা থাকার ব্যাপারে। ফলে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যতটি নির্বাচন এসেছে, প্রতিটিতে নানা অপকৌশলের অবলম্বন করতে দেখা গেছে এই দলটির নেতানেত্রীদের। ক্ষমতায় থাকার সূত্রে যেমনি প্রয়োজন আইন ও বিধিবিধান পাল্টে দিয়েছে, তেমনি নির্বাচনের সময় করেছে ক্ষমতার চরম অপব্যবহার। এমনকি ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে যেখানে দলটির বিপুল ভোটে জয়ের সম্ভাবনা ছিল সমুজ্জ্বল, তখনো প্রতিপক্ষের ওপর জোরজবরদস্তি প্রয়োগ করে নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করতে পিছপা হয়নি এ দলটি। পরবর্তী সময়ে এ সরকারের আমলে যে ক’টি স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচন হয়েছে, সেগুলোতেও চলেছে ব্যাপক ভোট ডাকাতি নানা পদ্ধতি-প্রক্রিয়ায়। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের ইতিহাসে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন, প্রতিদ্বন্দ্বীবিহীন নির্বাচন সবচেয়ে বড় কলঙ্কতিলক হয়েই থাকবে। এ নির্বাচনে অর্ধেকেরও বেশি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থীরা। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি রাজনৈতিক দল এ নির্বাচন বর্জন করে। বিশ্বের কোনো দেশই এই নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন বলে মেনে নেয়নি; বরং গোটা বিশ্ব ও জাতিসঙ্ঘসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক ফোরাম এর বদলে যথাশিগগির এমন একটি নির্বাচন আয়োজনের কথা বলে, যেখানে দেশের সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে এবং দেশ-বিদেশে এ নির্বাচন সব মহলের কাছে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। গণতান্ত্রিক মান বিবেচনায়ও এ নির্বাচন সবার কাছে গ্রাহ্য হবে। কিন্তু সরকার সে পথে পা বাড়াতে নারাজ। যদিও নির্বাচনের আগে আমাদের প্রধানমন্ত্রী একাধিক বার বলেছিলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন হচ্ছে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার নির্বাচন। এ নির্বাচনের পর সব দলের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন আয়োজন করা হবে। কিন্তু সরকার ৫ জানুয়ারির পর সেই অবস্থান থেকে সরে গিয়ে পুরো পাঁচ বছর মেয়াদ ক্ষমতায় থাকার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে সরকারবিরোধীদের চরম দমনপীড়ন অবলম্বন করে দেশ পরিচালনা করছে। সব মহল থেকে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রবল তাগিদ থাকলেও সরকার নিজের অবস্থান আরো শক্তিশালী করার অপকৌশল হিসেবে এবার মাঠে নেমেছে পৌরসভার নির্বাচন নিয়ে। একইভাবে অপকৌশলের অংশ হিসেবে পৌরসভায় শুধু চেয়ারম্যান পদ দলীয়ভাবে ও অন্যান্য সদস্য নির্দলীয় স্থানীয়ভাবে নির্বাচনের নতুন নিয়ম চালু করেছে।
সরকার পক্ষের কেউ কেউ বলছেন, এ নির্বাচন নিরপেক্ষভাবে আয়োজন করে সরকার প্রমাণ করবে, শেখ হাসিনার দলীয় সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব। কিন্তু চার দিকে যে আলামত ইতোমধ্যেই দেখা যাচ্ছে, তা হওয়ার নয়। বরং এ সরকার পৌর নির্বাচনেও এর অতীত ধারা অনুসরণ করে জোরজবরদস্তি ও ভোট ডাকাতি যথারীতি চালাবে বলেই মনে হয়। কেমন চলবে বা চলছে এবারের এই পৌরসভা নির্বাচন, তা ইতোমধ্যেই কিছুটা হলেও আঁচ করা যাচ্ছে গণমাধ্যমে আসা ছিটোফোঁটা কিছু নিয়ম-অনিয়মের খবর থেকে। গত ১০ ডিসেম্বর দেশের প্রথম সারির ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারে প্রকাশিত একটি খবর থেকে নির্বাচন পরিস্থিতি কোন দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তা আন্দাজ-অনুমান করতে কারো অসুবিধার কথা নয়।
এই দৈনিকটি এর প্রথম পৃষ্ঠায় ‘অলমোস্ট অল ইলেকটেড আনঅপোজড ইন ফেনী ডিস্ট্রিক্ট ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামে এবং ‘ক্রেডিট গোজ টু নিজাম হাজারী’ উপশিরোনামে যে খবর ছাপা হয়, তা পড়ে রীতিমতো বিস্মৃত হই, একই সাথে প্রশ্ন জাগেÑ এ কেমন নির্বাচন? এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এমনকি যদিও আবুল কায়েস রিপন ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদটি ধারণ করেন, তিনি ফেনীর মেয়র নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। কেননা, স্থানীয় আওয়ামী লীগ এমপির লোকেরা তাকে তা করতে দেয়নি। রিপন ফেনী আওয়ামী লীগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘মনে হয় ফেনী বাংলাদেশের সব জায়গা থেকে আলাদা। কারণ, স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসন তার মাধ্যমে (আওয়ামী লীগ এমপি নিজাম হাজারী)। সবাই জানেন, তিনি কে। আমি তার নাম উল্লেখ করতে চাই না... কারণ, আমাকে এখানে বসবাস করতে হবে।’
রিপন বলেন, তিনি তার চার সহযোগীকে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিসের দিকে যাচ্ছিলেন গত ৩ ডিসেম্বর দুপুরের দিকে। সেদিন ছিল মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন। কিন্তু বলেন, ‘এরা আমাকে এই বলে হুমকি দেয়, মনোনয়ন দাখিল করলে আমাকে চরম পরিণতি মোকাবেলা করতে হবে। ফলে আমাকে ফিরে আসতে হয়।’
নিজাম হাজারী ও তার লোকেরা কী করে ফেনী পৌরসভার নির্বাচন ম্যানিপুলেট করছেন, এটি এরই একটি উদাহরণÑ পত্রিকাটিকে এ কথা জানিয়েছেন ফেনী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কামাল উদ্দিন মাহমুদ। ৭ ডিসেম্বর তাকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হয়। ফেনী পৌরসভার ১৮ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ১৬ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। ওয়ার্ড নম্বর ১৮ ও ১৪-তে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে হুমকির মুখে অনেকটা সাহস নিয়ে এখনো প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন। এরা দু’জন অওয়ামী লীগের নন। তবে প্রার্থিতা বহাল রাখলেও এরা এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে তাদের বন্ধুরা ডেইলি স্টার প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, পরশুরাম পৌরসভায় আওয়ামী লীগের সব কাউন্সিলর প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। কারণ, সেখানে তাদের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নেই। স্থানীয় লোকেরা জানিয়েছেন, চারটি ওয়ার্ডে বেশ কয়েকজন নন-আওয়ামী লীগার প্রার্থী ছিলেন, কিন্তু তাদেরকে বাধ্য করা হয় নমিনেশন প্রত্যাহার করতে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত আওয়ামী লীগ এমপি নিজাম হাজারীকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও বানানো কাহিনী।
ডেইলি স্টার প্রতিনিধিকে কামাল বলেন, ‘আপনি অবাক হবেন, আমাকে ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে এবং আমাকে অফিসের সময়ের পর ৫টা ৪৮ মিনিটের সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে নিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হয়। আমি পরপর গত তিন মেয়াদের নির্বাচনে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছি। কিন্তু এবার আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করতে পারিনি।’ কামাল আরো বলেন, আমার বাবা ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের ১০ বছর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছিলেন। শুধু আমি ছাড়া আমার পরিবারের বাকি সবাই আওয়ামী লীগ রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেয়া হয়নি, কারণ স্থানীয় এমপির আশীর্বাদপুষ্ট প্রার্থীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সুযোগ করে দেয়া।
উল্লিখিত প্রতিবেদনের প্রতিবেদক তাকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি এ ব্যাপারে পুলিশ ও প্রশাসনের কোনো সহায়তা চেয়েছিলেন কি না? তিনি দাবি করেন, এরা আমাকে পরামর্শ দেন, আমি যেন প্রতিকূল পরিবেশে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করি। তিনি বলেন, ‘আমার ভাইকে নিয়ে আমি ডিসি হুমায়ুন কবীর এবং অতিরিক্ত ডিসি এনামুল হকের কাছে গিয়েছিলাম, যিনি নিজে একজন রিটার্নিং অফিসার। গিয়েছিলাম এ অনুরোধ জানাতে আমাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেয়ার বিষয়টি যেন পুনর্বিবেচনা করে দেখেন, কেননা আমাকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হয়েছে। কিন্তু এরা বলেন, এ ব্যাপারে এদের কিছুই করার নেই।
কী ধরনের হুমকি দেয়া হয়েছে জানতে চাইলে কামাল বলেন, ‘এরা বারবার আমাকে কেবল ফোনকল দিয়ে আমার সন্তানদের স্কুলে যাওয়ার পথে অপহরণের হুমকি দেয়। এরা আমাকে প্রশ্ন করেÑ আমি আমার সন্তানের বিনিময়ে কেন নির্বাচনে বিজয় প্রত্যাশা করছি? এরা বলে, এরা আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে হেরোইন রাখার মিথ্যা মামলা দেবে।
কামাল আরো জানান, গত ২ ডিসেম্বর রাতে মুখোশ পরা পাঁচ-ছয়জনের একটি দল আমার বাড়াহিপুর বাড়িতে গুলি চালিয়ে জানালা ভাঙচুর করে। এরপর স্থানীয়রা আমাকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর পরামর্শ দেন।
ফেনী সদর পৌরসভার নির্বাচনে যে দুই নন-আওয়ামী লীগার কাউন্সিলে পদপ্রার্থী রয়েছেন, তাদের একজন নুরুল ইসলাম। তিনি ডেইলি স্টার প্রতিনিধিকে জানান, যদিও হাজারীর লোকজনকে এড়িয়ে তিনি মনোনয়ন দাখিল করতে সক্ষম হয়েছেন, তাকে পালিয়ে থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে। মুখসেদুল ইসলাম টিপু বলেছেন, ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদের জন্য তিনি মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন। কিন্তু তাকে মনোনয়ন প্রত্যাহারে বাধ্য করা হয়। কেননা, তা না করলে তার ছোট ভাইকে অপহরণের হুমকি দেয়া হয়। টিপু বলেন, ‘ফেনীর সবাই জানে, এরা কারা। কিন্তু পরিণতির কথা ভেবে আমি তাদের নাম উচ্চারণ করতে চাই না।’ টিপু আরো বলেন, ফেনী দেশের অন্যান্য স্থান থেকে আলাদা। এখানকার পুলিশ আর প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করে প্রভাবশালীরা। সে কারণে আমি পুলিশ কিংবা নির্বাচনী কর্মকর্তার কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ দিইনি। প্রভাবশালী লোকদের পাশাপাশি পুলিশও নির্দোষ-নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করে।
দাগনভূঞার বিএনপির একমাত্র মেয়র প্রার্থী সাইদুর রহমান স্বপনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফেনীর তিনটি পৌরসভার মধ্যে এই একটিতেই বিএনপি মেয়র প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশ এসকট নিয়ে মনোনয়ন দাখিল করার পর তিনি এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। কারণ, হাজারীর লোকেরা তাকে অব্যাহতভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমি আমার বাড়িতে তালা লাগিয়ে দিয়েছি। বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানদের অন্য গ্রামে সরিয়ে নিয়েছি। কারণ, আমি মনোনয়ন প্রত্যাহার না করলে এরা আমার পরিবারের সদস্যদের ওপর আঘাত হানার হুমকি দিচ্ছে।
সুপ্রিয় পাঠক, ডেইলি স্টারের সরেজমিন রিপোর্টটির বিষয়বস্তুর বিস্তারিত তুলে ধরতে গিয়ে আপনার বিরক্তির কারণ হতে পারে, সে জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। তবে আসন্ন পৌরসভার নির্বাচন কী আকারে, কী প্রকারে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তা সম্যক উপলব্ধির জন্য এই বিস্তারিতে যাওয়াটা প্রয়োজন ছিল বলে মনে হয়েছে আমার কাছে। এর বাইরে এমন অনেক প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে, যা আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, এমনটি আশা করা সময়ের সাথে শুধু ফিকে হয়ে আসছে।
শুরুতেই সন্দেহ দেখা দেয় পৌরসভা নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়ে। যখন দেখা গেল যথেষ্ট সংখ্যক নির্বাচনী কর্মকর্তা থাকতে সরকার প্রশাসন থেকে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। বিষয়টি প্রবল সমালোচিত হলেও সরকার এ সিদ্ধান্ত থেকে সরেনি। অস্বীকার করার উপায় নেই, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই বিরোধী দলের সম্ভাবনাময় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের মামলা দায়ের করে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরিয়ে রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করে। এবার এ প্রবণতা শতভাগ তীব্রতার সাথে সরকার চালাচ্ছে। ফলে বিএনপির অনেক সম্ভাবনাময় প্রার্থী নির্বাচনী মাঠ থেকে ইতোমধ্যে সরে গেছেন কিংবা নির্বাচনে অংশ নেয়ার মতো কোনো সুযোগ তাদের নেই। অতি সম্প্রতি এক দিকে যখন পৌরসভা নির্বাচনের ডামাডোল, অন্য দিকে সরকার দেশজুড়ে চালাচ্ছে সরকারবিরোধীদের গণগ্রেফতার। উদ্দেশ্য, নির্বাচনে বিএনপি বা অন্য কোনো সরকারবিরোধী দল-মতের প্রার্থী মাঠে থাকলেও তার পক্ষে নির্বাচনী প্রচার চালানোর মতো কোনো নেতাকর্মীকে যেন খুঁজে পাওয়া না যায়। খবরে প্রকাশ, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই নির্বিচার গণগ্রেফতারের শিকার হয়েছেন ১৩ হাজারেরও বেশি সরকারবিরোধী দলের নেতাকর্মী। এ অভিযান অব্যাহত থাকায় নির্বাচনী প্রচারাভিযানে এক ধরনের ভাটা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে শতাধিক পৌরসভা নির্বাচনে সরকারদলীয় প্রার্থীরাই কার্যত একতরফা নির্বাচনী প্রচারাভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত বিএনপি প্রার্থীরা এ ধরনের অসম প্লেয়িং ফিল্ডে নির্বাচনে থাকতে পারবেন কি, সে আশঙ্কা ইতোমধ্যেই বিএনপির নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমনটি অব্যাহত থাকলে কার্যত এ নির্বাচন হয়তো প্রহসনেরই রূপ নেবে।
সর্ব সাম্প্রতিক খবরে যতটুকু জানা যাচ্ছে, তাতে মনে হয় উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের পথেই যাচ্ছে আসন্ন পৌর নির্বাচন। গত বছর ও চলতি বছরে অনুষ্ঠিত উপজেলা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ব্যালটবাক্স ছিনতাই, জাল ভোট, সঙ্ঘাত, সহিংসতা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে, রাতভর ব্যালট পেপারে সিল মেরে সরকারি দলের প্রার্থীদের বিজয়ী করা হয়। এ ব্যাপারে প্রচুর অভিযোগ ও প্রমাণ থাকলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি নির্বাচন কমিশন। দায়সারা বক্তব্য দিয়ে নিজেদের নিরপেক্ষ প্রমাণ করাই ছিল ইসির কৌশল। একইভাবে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে সরকার সমর্থিতরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে ইসি কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। পোলিং অফিসারদের নিয়ে বৈঠক করেন সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক। এ ছাড়াও বেশির ভাগ নির্বাচনী এলাকায় মন্ত্রী ও এমপিরা নানা কৌশলে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। গণমাধ্যমগুলোতে এর আংশিক খবর প্রকাশিত হচ্ছে। তবুও এতেই সুস্পষ্ট আভাস পাওয়া যাচ্ছে, সরকারি দলের মন্ত্রী-এমপিরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করে চলেছেন প্রায় প্রকাশ্যেই। এর পরও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে বরং বিভিন্নভাবে তাদের সহযোগিতা করা হচ্ছে। সারা দেশে রিটার্নিং অফিসারদের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা থাকলেও দু-একটি জায়গায় তাদের প্রত্যাহার করে ইসি নিজেদের নিরপেক্ষ প্রমাণের চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যেই জনমনে স্থির বিশ্বাস জন্মেছে, সরকারের তল্পিবাহক এই ইসি দিয়ে আর যাই হোক নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু পৌর নির্বাচন কোনো মতেই সম্ভব হবে না। এর প্রতিকারের কোনো আভাসও পাচ্ছে না দেশের মানুষ।

প্যারিস চুক্তিতে বাংলাদেশের লাভ নেই!

প্যারিসে সই হওয়া জলবায়ু চুক্তিকে অনেক পর্যবেক্ষকই ‘ঐতিহাসিক অর্জন’ বলে বর্ণনা করছেন। এই চুক্তি সম্পাদনের পর এখন প্রায় দুশো দেশের সরকার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন কিভাবে এ চুক্তি বাস্তবায়ন করা যায়।
কিন্তু এই চুক্তিতে বাংলাদেশের মতো ভয়াবহ ক্ষতিগ্রস্ত দেশের কি কোন লাভ হবে?
জলবায়ু নিয়ে কাজ করেন এমন অনেকেই বলছেন, চুক্তিতে অনেক কিছুই পরিষ্কার নয়।
টেলিফোনে দেশটির পরিবেশ ও বন সচিব তাৎক্ষনিক মন্তব্য জানিয়েছেন, বাংলাদেশ এই চুক্তিতে খুশি। তবে চুক্তির বিস্তারিত নথিপত্র বাংলাদেশ আরো বিস্তারিত খুঁটিয়ে দেখবে এবং শিগগিরই এক সংবাদ সম্মেলন করে তাদের প্রতিক্রিয়াও জানাবে।
কিন্তু বাংলাদেশে জলবায়ু নিয়ে কাজ করছে এমন অনেকেই বলছেন এই চুক্তিতে বাংলাদেশের মতো ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তেমন লাভ হবে না।
উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ুর প্রভাব নিয়ে কাজ করে এমন সংগঠন কোস্টের সহকারী পরিচালক মুজিবল হক বলছেন, বরং বাংলাদেশের ভয়াবহ লোকসান হয়ে গেলো।
তিনি বলছেন, “চুক্তিতে স্পষ্টভাবে লেখা আছে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ দাবি করা যাবে না। এটা বাংলাদেশ সহ ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর দীর্ঘদিনের দাবি। কিন্তু যারা ঐতিহাসিকভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী তাদের অবশ্যই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এটা ক্ষতিগ্রস্ত গুলোর অধিকার। কিন্তু এই চুক্তির ফলে তা ভেস্তে গেলো।”
ক্ষতিপূরণ অগ্রাহ্য হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমাতে আগামী ২০২০ সাল নাগাদ বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।
তবে জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশ সেন্টার ফর এডভান্সড স্টাডিজ এর নির্বাহী পরিচালক আতিক রহমান বলছেন, এই অর্থ কিভাবে আসবে তা মোটেও পরিষ্কার নয়। বরং শব্দের মারপ্যাঁচে অনেক কিছুই চাপা পড়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেছেন, “এই অর্থ কোথা থেকে আসবে, কে দেবে, কিভাবে দেবে, কবে দেবে, কিভাবে দেয়া হবে আর কাদের দেয়া হবে সেসব বিস্তারিত এই চুক্তিতে নেই। তাই সন্দেহ তৈরি হচ্ছে।”
চুক্তিতে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম রাখার কথা বলা হচ্ছে। কোস্টের মুজিবল হক বলছেন, শিল্পোন্নত দেশগুলো ছাড় দিতে কতটা সচেষ্ট হবে সেটি নিয়ে তিনি সন্দিহান।
“এবার চুক্তিতে দুই ডিগ্রির মধ্যে রাখার কথা বলা হয়েছে। তারপর তারা চেষ্টা করবে ১.৫ ডিগ্রিতে রাখার।” বলেন তিনি।
এই চেষ্টা কতটা হবে তা নিয়ে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করছেন।
চুক্তির পরপরই বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে চুক্তিতে কার্বন নির্গমন কমিয়ে আনার যে প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে তা বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার জন্য যথেষ্ট নয়।
আতিক রহমান বলেছেন, শুধু শিল্পোন্নত নয় এর সাথে উন্নয়নশীল দেশগুলোও যদি কার্বন নির্গমন না কমায় তাহলে আদৌ কোন লাভ হবে না।
তবে শেষ পর্যন্ত যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো গেছে সেজন্যে হাফ ছেড়েছেন অনেকে।
সূত্র : বিবিসি

মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও উন্মুক্ত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া জরুরি

টম শেনন
রাজনীতিবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী আন্ডার সেক্রেটারি টম শেনন বলেছেন, শান্তিপূর্ণ ও উন্মুক্ত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জাতীয় বিতর্কের পথ সুগম হলেই বাংলাদেশসহ যে কোনো দেশের সম্ভাবনার পরিপূর্ণ বিকাশ হবে।
টম শেনন রোববার দুই দিনের সফরে ঢাকায় এসে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কবিষয়ক এক সেমিনারে বক্তৃতা দিতে গিয়ে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক পরিবেশের ওপর গুরুত্ব দেন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) সংস্থার মিলনায়তনে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। বিআইআইএসএসের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মুন্সি ফয়েজ আহমদের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন সংস্থার মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ কে এম আবদুর রহমান ।
টম শেনন তাঁর বক্তৃতার শুরুতে একাত্তরের ডিসেম্বরে স্বাধীনতার পরপরই সিনেটর কেনেডির ঢাকা সফরের প্রসঙ্গ টানেন । তিনি বলেন, ‘সিনেটর কেনেডি ওই সময় একটি জরুরী, সরল এবং আন্তরিক বার্তা পৌঁছে দেন, “আমি এখানে বলতে এসেছি যে, আমেরিকা বাংলাদেশকে গুরুত্ব দেয় ।” তাঁর এই কালোত্তীর্ণ বার্তার সঙ্গে আমি শুধু যোগ করতে চাই বাংলাদেশ গুরুত্ব বহন করে ।’ তিনি বলেন, এ মাসের শেষে পৌর নির্বাচন হতে যাচ্ছে । আশা করছি, গণতন্ত্রের প্রতি বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতিকে আবারও নিশ্চিত করতে প্রত্যেকেই এই সুযোগের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করতে চাইবেন । প্রত্যেকটি দেশ, সেটি যুক্তরাষ্ট্র হোক বা বাংলাদেশ তাদের সম্পূর্ণ সম্ভাবনা তখনই অর্জিত হয়, যখন জাতীয় বিতর্ক একটি শান্তিপূর্ণ এবং উন্মুক্ত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে আসে ।
মার্কিন এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, আমাদের মতো গণতান্ত্রিক সমাজগুলোতে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়ার অর্থ হচ্ছে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ ও মত প্রকাশের মতো রাজনৈতিক এবং মৌলিক অধিকারগুলো চর্চা করার সুযোগ করে দেওয়া । সহনশীলতা, সবার অংশগ্রহণ ও গণতন্ত্র, মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা এবং মৌলিক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নিশ্চিতভাবে বিশ্বের জন্য একটি দৃষ্টান্ত । আর এসব হলো একটি স্থিতিশীল সমাজের ভিত্তি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূলে আছে এসব মূল্যবোধ ।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের প্রশংসা করে মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি বলেন, এ দেশের পোশাক শিল্প অধিকাংশ উন্নয়নশীল দেশের কাছে ঈর্ষার । তাই একটি শক্তিশালী এবং সম্মানজনক ‘ব্র্যান্ড বাংলাদেশ’ গড়ে তোলা খুব গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে শ্রমিকদের অধিকার এবং নিরাপত্তা সুরক্ষিত হয়। তিনি বলেন, আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও অনেক দিন ধরে নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে রয়েছে এবং দেশটি দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে । এ দেশ হতে পারে এই অঞ্চলের বাণিজ্যিক শক্তি কেন্দ্র এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পণ্য ও জনগণের চলাচলের কেন্দ্রবিন্দু । যুক্তরাষ্ট্র ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক করিডোর উদ্যোগের মাধ্যমে এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে ।
টম শেনন বলেন, ‘আমরা এমন একটি অভিন্ন লক্ষ্যে কাজ করছি, যেটা হলো অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ বাংলাদেশের জন্য সমর্থন দেওয়া। সহিংস উগ্রপন্থীরা এই স্বপ্ন লালন করে না । তারা একটি বিভক্ত, দুর্বল এবং বিশৃঙ্খল বাংলাদেশ চায়। ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শতবর্ষের ঐতিহ্যকে তারা বর্বরতা ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে ধ্বংস করতে চায় । আমাদের দুই দেশের জন্য এই হুমকি রয়েছে এবং এটিকে হটাতে পরাজিত করতে আমরা এক সঙ্গে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ।’
দুই দেশের ভবিষ্যতের অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করে পরবর্তী মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি জানান, দুই দেশ এমন একটি ভবিষ্যতের জন্য কাজ করবে যেখানে শিশুরা সুস্থভাবে ও শিক্ষিত হয়ে গড়ে উঠবে; নারীরা পুরুষের পাশাপাশি শেখার সমান সুযোগ পেয়ে শিখতে পারে, কাজ করতে পারে এবং সফল হতে পারে; নাগরিকেরা কোনো রকম ক্ষতির শিকার হবেন এমন ভয় থেকে মুক্ত হয়ে তাদের অধিকার ও স্বাধীনতার চর্চা করতে পারে; যেখানে বিভিন্ন ধর্মীয় ও জাতিগত গোষ্ঠীগুলো তাদের পরিচয় ছাড়াই এক সঙ্গে ও সম্প্রীতির সঙ্গে বাস করতে পারে।

আতঙ্কে হিজাব ছেড়ে টুপি!

প্যারিস হামলার পর থেকে বেড়ে চলেছে মুসলিমবিদ্বেষ। আর সেই আতঙ্কের শিকার হয়ে নিজের পরিচয় গোপন করতে শুরু করেছেন ১৮ বছরের কিশোরী। হিজাব ছেড়ে টুপি পরা শুরু করেছে কিশোরী সেলসাবিল বেলোউদ।
ওই কিশোরীর কথায়, সে আতঙ্কিত ও দুর্বল হয়ে পড়ছে ক্রমশ। সে জানে যে নিজেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য এসব করার হয়ত দরকার নেই। কারণ কোনো মানুষকে তার নিজের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে আতঙ্কিত হওয়া উচিৎ নয়। কিন্তু আতঙ্কে থেকে টুপি পরা শুরু করেছেন। ফ্রান্সজুড়ে ঘটনার দায়ভার মুসলিমদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছেন মানুষজন। আর তাই এই পন্থা নিয়েছে বলে দাবি ওই কিশোরীর।
অনেক রাতে গাড়িতে যাতায়াত করে ওই কিশোরী। মনে ভয় থাকে যদি কিছু হয়ে যায়! কোথাও ইন্টারভিউ দিতে গেলে খুলে রাখে হিজাব। ওই কিশোরীর কথায়, আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমরা ওই জঙ্গিদের ধর্মেরই মানুষ। আমার আর আলাদা করে বলার দরকার নেই যে আমরা সন্ত্রাসবাদী নয়। কারণ এই কথাটা বিশ্বজুড়ে বারবার বলা হচ্ছে। তবু মানুষ বুঝতে পারছে না।
সেলসাবিলের বাবা-মা আলজেরিয়া থেকে এসেছেন। তার পরিবার প্যারিসের প্রত্যন্ত এলাকায় বাস করেন। মিডিয়াতে কাজ করতে চায় সেলসাবিল। তার ধারণা মাথায় হিজাব দেখলে ফ্রান্সে কোথাও চাকরি হবে না তার। তাই সে ফ্রান্স ছেড়ে ব্রিটেন চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী বছরেই সেখানে চলে যাবে সে। এই কিশোরীর মত আরও অনেকেও ফ্রান্স ছেড়ে চলে যাচ্ছেন ধর্মীয় বিদ্বেষের শিকার হয়ে। এই কিশোরীর স্বপ্নের শহর প্যারিস। প্যারিসের রাস্তায় হেঁটে বেড়ানোর তার কাছে ভীষণ আনন্দের। কিন্তু আপাতত ফ্রান্স ছাড়ার জন্য ওয়েট্রেস-এর কাজ করতে হচ্ছে তাকে। তার স্বপ্ন একদিন তার দেশ ফ্রান্স ধর্মীয় বিদ্বেষের ঊর্ধ্বে উঠবে।

পর্দার আড়ালের সংলাপ কি কেবলই গুজব!

পর্দার আড়ালে আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে এক ধরনের সংলাপ চলছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপির দুই-তিন জন নেতার কথা হয়েছে বলেও আলোচনা রয়েছে। তবে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক জানিয়েছেন, এ ধরনের কোন আলোচনা হয়নি। তিনি বলেন, ড. গওহর রিজভীর সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে আমার দেখা হয়েছিল। তবে আমাদের মধ্যে কোন আলোচনা হয়নি।
বিএনপি কোন ধরনের আন্দোলনে না থাকলেও দলটি এখনও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগাম নির্বাচনের দাবি থেকে সরে আসেনি। পশ্চিমা কয়েকটি প্রভাবশালী দেশও বাংলাদেশে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায়। এসব প্রেক্ষাপটে আগাম নির্বাচন নিয়ে আলোচনা রয়েছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অঘটনে সরকারের মধ্যেও এক ধরনের অস্বস্তি রয়েছে। সরকারের কেউ কেউ রাজনৈতিক সমঝোতার পক্ষে রয়েছেন। তবে সরকারি দলের সিংহভাগ নেতাই মনে করেন, বিএনপি জোট এখন খুবই দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। বিএনপির সঙ্গে কোন সমঝোতার প্রয়োজন নেই।
তবে বাংলাদেশের নির্বাচন প্রশ্নে আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী গোষ্ঠী যে একমত নয় গতকালের দুটি সংবাদে তা আবারও পরিষ্কার হয়েছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের বিদায়ী হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ দুটি বিষয় আবারও পরিষ্কার করেছেন। ১. ভারত মনে করে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন জরুরি ছিল। ২. নরেন্দ্র মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারতের বাংলাদেশ নীতিতে কোন পরিবর্তন আসেনি। একইদিনে আল জাজিরা একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। যেখানে বলা হয়েছে, ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ ছিল বলে যুক্তরাজ্য সরকারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
অনেক পর্যবেক্ষক মনে করেন, ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন প্রশ্নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে এখনও এক ধরনের আলোচনা রয়েছে। যদিও কোন দেশই তীব্রভাবে সরকারের বিরুদ্ধে শক্ত কোন অবস্থানে নেই। এ পরিস্থিতিতেও কোন কোন পর্যবেক্ষক মনে করেন, ২০১৬ সালেই বাংলাদেশে আরেকটি নির্বাচন হতে পারে। এ যখন অবস্থা তখন সাম্প্রতিক সময়ে পর্দার অন্তরালে এক ধরনের সংলাপের জোরালো গুঞ্জন রয়েছে। যদিও ঠিক কি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে তা কোন সূত্রই নিশ্চিত করে বলতে পারেনি।

ছিনতাইয়ে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুন্দরীরা

দেশে ছিনতাই নতুন কোন ঘটনা না। এটা বিপথগামীদের অনেক পুরনো দিনের রেওয়াজ, তবে এই ছিনতাইয়ে সামপ্রতিক সময়ে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। আর সেটি হচ্ছে সুন্দরী নারীদের উপস্থিতি, শুধু সুন্দরী বললে ভুল হবে রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চলের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া সুন্দরী তরুণীরা।
সুন্দরী নারীদের প্রতি পুরুষের কম বেশী আগ্রহ থাকে, আর পুরুষের এই দুর্বলতা কে কাজে লাগিয়ে সুন্দরী নারীরা অহরহ ছিনতাই করে যাচ্ছে.। এদের মধ্য আছেন গ্রাম থেকে আসা ছাত্রীরা যারা কারও খপ্পরে পড়ে এই কাজ করেই চলেছেন! আছে বড় লোকের বখাটে মেয়েরাও, এরা ছিনতাইয়ের নেমেছে নেশার টাকা সংগ্রহ করার জন্য।
এই সব কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া সুন্দরী তরুণী ছিনতাইকারীরা মুলত দুটি উপায়ে ছিনতাই করে থাকে। প্রথমতঃ সরাসরি বিভিন্ন অলিগলিতে, দ্বিতীয়তঃ ফেসবুক অথবা মোবাইল ফোনে প্রেমের ফাদে ফেলে বাসায় ডেকে এনে।
সরাসরি ছিনতাইয়ের জন্য যেসব ছাত্রীদের বাছাই করা হয় তারা দেখতে অত্যন্ত ভদ্র টাইপের এবং বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত। সাথে আছেন ছেলে সদস্যরাও। যাহোক এখন নিচের ভিডিও দেখলে আপনারা অতি সহজে বুজতে পারবেন।