Tuesday, December 3, 2013
তবুও দেশে শান্তি আসুক by ফকির ইলিয়াস

মানুষ কতটা অসহায় হলে এমন কথা বলতে পারে! এই যে অবরোধ চলছে, এর শেষ কোথায়? ট্রেন চলছে না। বিমানের ফ্লাইট ছেড়ে আসতে পারছে না। কারণ মানুষ ঢাকা আসতে পারছেন না। সবকিছু এখন নষ্টদের দখলে। এই যে ফ্রাংকেনস্টাইন রাজনীতিকরা তৈরি করেছেন, এদের রুখবে কে?
প্রধানমন্ত্রী মিডিয়ার সাহায্য চেয়েছেন। আমরা বিভিন্ন চ্যানেলের টিভি ফুটেজে দেখেছি কারা আগুন লাগিয়ে দৌড়ে পালাচ্ছে। এদের শনাক্ত করা গোয়েন্দাদের দায়িত্ব। মিডিয়া কিংবা সাধারণ মানুষ তা পারবে না। এর মাঝে আমরা পড়েছি আরও কিছু অদ্ভুত সংবাদ। কোথায় ককটেল মারা হবে, কোথায় শিবির মিছিল করবে তা নাকি আগেভাগেই জানেন কিছু সাংবাদিক! জানানো হয়, ওই স্থানে যান এখনই ককটেল ফুটবে কিংবা এখনই মিছিল হবে। ক্যামেরা রেডি- মোবাইলে জানাতেই ককটেল বিস্ফোরণ। কিংবা মিছিল।
সাংবাদিকতায় এটি নাকি এখন একটি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। হেফাজতের আন্দোলনের সময় এপিসি দিয়ে গুলির ফুটেজ না পেয়ে পুলিশকে অনুরোধ করলে অযথাই গুলি ফুটানো হতো। ঠিক এমনই একটি ঘটনায় আটক হয়েছেন একটি বেসরকারি টিভির এক সাংবাদিক ও এক ক্যামেরাম্যান। বিরোধী দলের অবরোধ চলাকালে ককটেল হামলার প্ররোচনার অভিযোগে আটক দু’জনকে চারদিনের রিমান্ড দিয়েছেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তারেক মঈনুল ইসলাম ভূঁইয়ার আদালত। এর আগে সকালে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে ককটেল হামলার ছবি সংগ্রহের সময় তাদের আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয় স্থানীয় জনতা। কোথায় যাচ্ছে দেশ? এসব সংবাদের শিরোনাম হবেন সাংবাদিকরা? কী জঘন্য ক্রান্তিকাল!
অন্যদিকে যারা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন, তাদের কেউ কেউ নাকি নিজ এলাকায়ই যেতে পারছেন না। এটা কেমন রাজনীতি? নেতা এলাকায়ই যেতে পারবেন না! কী করেছেন অতীতে তারা? কেন তারা গণরোষের শিকার? খবর বেরিয়েছে, দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পরও প্রতিরোধের মুখে যেসব প্রার্থী নির্বাচনী এলাকায় যেতে পারছেন না, তাদের মনোনয়ন বাতিলের চিন্তাভাবনা করছে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড।
দলীয় মনোনয়ন ঘোষণা ও মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হলেও এখনও অনেক প্রার্থী ঢাকায় বসে আছেন। তাদের অনুপস্থিতিতে এলাকায় বিক্ষোভ, ভাংচুর, সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ সমাবেশ হচ্ছে। কোনো কোনো প্রার্থীকে এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এমন অর্ধশত প্রার্থীর একটি তালিকা তৈরি করেছে। মনোনয়ন যারা পেয়েছেন তাদের পক্ষে-বিপক্ষে মারামারি, আনন্দ উল্লাস শুরু হয়েছে রীতিমতো। এটা কেমন গণতান্ত্রিক আচরণ?
আমরা বিশ্বের উন্নত গণতান্ত্রিক দেশে দেখি, নির্বাচনী বোর্ড মনোনয়ন ফাইনাল করার পর ওই প্রার্থীর পক্ষেই সবাইকে খাটতে হয়। অথচ আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিতরা নিজ নিজ দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করে ‘স্বতন্ত্র’ প্রার্থী হওয়ার লাইন দীর্ঘ করছেন। কী বিচিত্র মানসিকতা! কী অভিনব ক্ষমতার খায়েশ!
বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে বিদেশী পর্যবেক্ষক দল যাবে কি-না তা নিয়ে সংশয় বাড়ছে। জাতিসংঘ এই নির্বাচনে কোনো ভূমিকা রাখবে কি-না, কিংবা রাখতে পারবে কি-না- প্রশ্ন আসছে তা নিয়েও। আপাতদৃষ্টিতে বিদেশে বসে আমরা পর্যবেক্ষক হিসেবে যা ধারণা করছি, তার কিছু চুম্বক অংশ পাঠককে শেয়ার করতে চাই। দৃশ্যগুলো (আমার ব্যক্তিগত মতে) এ রকম।
রাজনৈতিক সমঝোতা শেষ পর্যন্ত হবে না। একটা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দশম জাতীয় সংসদ শপথ নেয়ার পর ওই সংসদের নেপথ্য প্রহরী হিসেবে দেশে জরুরি অবস্থাকালীন একটা পরিস্থিতি তৈরি হবে। সামরিক বাহিনী নির্বাচনের আগেই যদি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাস দমন ও জানমালের নিরাপত্তার জন্য দায়িত্বে আসে, তাদের মেয়াদকাল কিছুটা দীর্ঘই হতে পারে। এই ক্রান্তিকালে জাতিসংঘ বাংলাদেশের প্রতি মুখ ফিরিয়ে নিয়ে কোনো সুযোগ-সুবিধা কাটডাউন করে কি-না তা দেখার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
এ অবস্থার মধ্য দিয়ে দশম জাতীয় সংসদ যদি দুই থেকে তিন বছর ক্ষমতায় থাকতে পারে, তাহলে ওই সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থা কেমন হবে, তা এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। তারপরও বলি, আমার এ ধারণা মিথ্যা প্রমাণিত হোক। রাজনৈতিক সমঝোতা হোক। অবরোধ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাক বাংলাদেশ। এটা বিজয়ের মাস। এ মাসে বাঙালি জাতি বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল। আমরা কি প্রজন্মের জন্য এ বিজয়কে চিরস্থায়ী শান্তিতে পরিণত করে যেতে পারব না? আমরা কি পারব না মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শাণিত হতে?
না, ঐক্যের নামে আলবদর-রাজাকার শক্তির আস্ফালনকে মেনে নেয়া যায় না। যারা এদেশের শিল্প-সংস্কৃতি-জাতীয় সঙ্গীত-জাতীয় স্মৃতিসৌধকে সম্মান করে না, তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক ঐক্য হতে পারে না। বিজয়ের মাসে আমাদের অগ্রসরমান প্রজন্মের মননে এই চেতনা জাগ্রত হোক।
ফকির ইলিয়াস : যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী লেখক
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রিমান্ডে শারীরিক নির্যাতন কতটা আইনসিদ্ধ by ইকতেদার আহমেদ

ইংরেজি ‘রিমান্ড’ শব্দটির অর্থ আসামিকে পুলিশি হেফাজতে পুনঃপ্রেরণ। বাংলায় এ শব্দটির অর্থ ও প্রায়োগিক দিক বিবেচনায় সঠিক কোনো শব্দ ব্যবহৃত না হওয়ায় ‘রিমান্ড’ শব্দটি বিদেশী শব্দ হিসেবে বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা নং ১৬৭ ও ৩৪৪-এর সংমিশ্রণে ‘রিমান্ড’ শব্দটির ব্যাখ্যা করলে যে অর্থ দাঁড়ায় তা হল- ‘রিমান্ড’ বলতে একজন আসামিকে ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালতের বিচারিক আদেশের মাধ্যমে পুলিশি হেফাজত হতে পুনঃপুলিশি হেফাজতে অথবা বিচারিক হেফাজত থেকে পুলিশি হেফাজতে প্রেরণ বোঝায়। মামলা প্রমাণের জন্য প্রাপ্ত সাক্ষ্য অপর্যাপ্ত বিবেচিত হলে রিমান্ড চাওয়া যেতে পারে। তবে রিমান্ডে থাকাকালীন শারীরিক ও মানসিক নিপীড়ন আইন দ্বারা সমর্থিত নয়। রিমান্ডের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অধিকতর সাক্ষ্য প্রাপ্তির জন্য নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ। নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের সময় এক আসামির সঙ্গে অপর আসামির মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদসহ বিভিন্নভাবে প্রশ্ন পাল্টা-প্রশ্ন করে সঠিক তথ্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করা হয়।
সংবিধানের অনুচ্ছেদ নং ৩৩(২) এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা নং ৬১-এর বিধান অনুযায়ী একজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার পরবর্তী যাতায়াতের সময় ব্যতিরেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটবর্তী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করতে হয়। ২৪ ঘণ্টার অতিরিক্ত সময় পুলিশি হেফাজতে রাখতে হলে ম্যাজিস্ট্রেটের বিচারিক আদেশের প্রয়োজন রয়েছে।
সম্প্রতি রিমান্ডে নেয়ার ঘটনা একদিকে যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, অপরদিকে রিমান্ডে নেয়ার পর পুলিশ কর্তৃক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। স্বভাবতই জনমনে প্রশ্নের উদ্ভব হয়েছে- অধিকতর সাক্ষ্যপ্রাপ্তির অভিপ্রায়ে রিমান্ডে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন আইনসিদ্ধ কিনা?
এ বিষয়ে সংবিধানের অনুচ্ছেদ নং ৩৫-এর দফা (৫) ও (৬)-এর বিধানাবলী প্রণিধানযোগ্য। উক্ত দফাদ্বয়ে বলা হয়েছে- প্রচলিত আইনের নির্দিষ্ট দণ্ডের বাইরে কোনো ব্যক্তিকে যন্ত্রণা দেয়া যাবে না কিংবা নিষ্ঠুর, অমানুষিক বা লাঞ্ছনাকর দণ্ড দেয়া যাবে না কিংবা কারও সঙ্গে অনুরূপ ব্যবহার করা যাবে না।
দণ্ডবিধিতে আদালতকে ৫ ধরনের দণ্ডারোপের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এ ৫ ধরনের দণ্ড হল (১) মৃত্যুদণ্ড, (২) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, (৩) সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড (৪) সম্পতির বাজেয়াপ্তি এবং (৫) অর্থদণ্ড।
বর্তমানে বলবৎ দণ্ডবিধিটি ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসনামলে প্রণীত হয়। দণ্ডবিধি প্রণয়নকালে বেত্রাঘাত সাজা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা ১৯৪৯ সালে অবলুপ্ত হয়। উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালে প্রণীত জাতিসংঘ সর্বজনীন মানবাধিকার সনদের অনুচ্ছেদ নং ৫ আমাদের সংবিধানের অনুচ্ছেদ নং ৩৫(৫)-এর অনুরূপ। জাতিসংঘ মানবাধিকার সনদে যেসব দেশ স্বাক্ষর প্রদান করেছে সেসব দেশ সনদের বিধানাবলীর সঙ্গে দেশে কার্যকর আইনের সামঞ্জস্য করার অভিপ্রায়ে শারীরিক নির্যাতনকে দণ্ডের প্রকারভেদ থেকে অবলুপ্ত করেছে।
আইনের বিধান অনুযায়ী আদালত ব্যতীত অপর কোনো কর্তৃপক্ষ দণ্ড প্রদানের জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত নন। স্পষ্টত শারীরিক নির্যাতন দণ্ড নয়। শারীরিক নির্যাতন সংবিধানের ধারা নং ৩৫-এর দফা (৫) ও (৬)-এর পরিপন্থী। আর পরিপন্থী হলে সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নব সন্নিবেশিত অনুচ্ছেদ নং ৭ক (১)(খ)-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
অনুচ্ছেদ নং ৭ক (১)(খ) তে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি শক্তি প্রদর্শন বা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বা অন্য কোনো অসাংবিধানিক পন্থায় এ সংবিধান বা এর কোনো বিধানের প্রতি নাগরিকের আস্থা, বিশ্বাস বা প্রত্যয় পরাহত করলে কিংবা উহা করবার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ বা ষড়যন্ত্র করলে তার এ কার্য রাষ্ট্রদ্রোহিতা হবে এবং ওই ব্যক্তি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে দোষী হবে। এ অনুচ্ছেদটির (২) নং দফায় এ কার্যের সহযোগিতা প্রদানকে একই অপরাধ গণ্য করা হয়েছে। অনুচ্ছেদটির দফা নং (৩)-এ সাজার ব্যাপারে বলা হয়েছে, এ অনুচ্ছেদে বর্ণিত অপরাধে দোষী ব্যক্তি প্রচলিত আইনে অন্যান্য অপরাধের মধ্যে নির্ধারিত দণ্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ দণ্ডে দণ্ডিত হবে।
সংবিধানের ৭ক অনুচ্ছেদ অবলোকনে প্রতীয়মান হয় শক্তি প্রদর্শন বা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে সংবিধানের কোনো অনুচ্ছেদ রদ, রহিত বা বাতিল বা স্থগিত করাসহ অসাংবিধানিক পন্থায় এ সংবিধান বা এর কোনো বিধানের প্রতি নাগরিকের আস্থা, বিশ্বাস বা প্রত্যয় পরাহত করলে তা রাষ্ট্রদ্রোহ হবে এবং সহায়তাকারী ব্যক্তিও রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধে অপরাধী হবে।
সংবিধানে নব সন্নিবেশিত ৭ক অনুচ্ছেদে কোন ধরনের কার্য রাষ্ট্রদ্রোহিতা হিসেবে গণ্য হবে তা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকায় রাষ্ট্রদ্রোহিতা বিষয়ে দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারায় যে সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে তা সংবিধানের অধীনে কৃত রাষ্ট্রদ্রোহিতার ক্ষেত্রে আকৃষ্ট হবে না। তাছাড়া রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধের সাজা নির্ণয়ার্থে দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারায় যে সাজার কথা বলা হয়েছে সংবিধানের অধীনে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধ সংঘটিত হলে প্রচলিত আইনে অন্যান্য অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ দণ্ডের বিষয় উল্লেখ থাকায় সে সাজার পরিবর্তে দণ্ডবিধির অধীনে সর্বোচ্চ সাজা অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে।
সম্প্রতি ‘অধিকার’ নামক মানবাধিকার সংগঠনের মহাসচিব সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী আদিলুর রহমান শুভ্র-এর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করলে হাইকোর্ট বিভাগের একটি অবকাশকালীন দ্বৈত বেঞ্চ রুল ইস্যুপূর্বক রিমান্ড আদেশটি স্থগিত করত জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশনা দিয়ে কেন আদেশটি বাতিল করা হবে না সে বিষয়ে কারণ দর্শাতে বলে। অতঃপর বিএনপির স্থায়ী কমিটির তিন সদস্য ও শীর্ষ তিন নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এমকে আনোয়ার ও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এফবিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু ও চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাসের ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক রিমান্ড মঞ্জুর করা হলে হাইকোর্টের অপর একটি দ্বৈত বেঞ্চ রিমান্ড আদেশ বাতিল করে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশনা দেন। এর পর দেখা গেল বিএনপির স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য ব্রিগেডিয়ার অবসরপ্রাপ্ত হান্নাহ শাহের গ্রেফতারের অব্যবহিত পর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপস্থাপনপূর্বক রিমান্ড চাওয়া হলে দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। হাইকোর্ট বিভাগের উপরোক্ত দুটি আদেশ দ্বারা দেশবাসী আশ্বস্ত হয়েছে যে, দুটি মামলার ক্ষেত্রে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী অধিকার সম্পাদক আদিলুর রহমান শুভ্রকে এবং বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এমকে আনোয়ার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, আবদুল আউয়াল মিন্টু ও শিমুল বিশ্বাসকে পুলিশি রিমান্ডে নিয়ে নিপীড়নের আশংকা থেকে মুক্ত হওয়া গেছে। কিন্তু দেশবাসীর প্রশ্ন এ দুটি আদেশ প্রায়শই বিভিন্ন মামলা সংশ্লেষ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষকে রিমান্ডে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক উভয় ধরনের যে নিপীড়নের শিকার হতে হয় তা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার নজির সৃষ্টি করবে কি?
রিমান্ডে নেয়ার পর আসামি নিপীড়নের শিকার হলে রিমান্ড আবেদনকারী পুলিশ কর্মকর্তা অথবা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এর দায় এড়াতে পারেন না। তাছাড়া রিমান্ডের আদেশ প্রদানকারী ম্যাজিস্ট্রেট ও আদালতেরও দায়িত্ব রয়েছে। হাইকোর্টে যাওয়া আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় সবার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই রিমান্ড প্রদানের ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট ও আদালত উভয়কে দায়িত্বশীলতা ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে হবে।
ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক রাজনৈতিক নেতাদের এভাবে ঢালাওভাবে রিমান্ড মঞ্জুর অপ্রত্যাশিত এবং রিমান্ড সংক্রান্ত আইন ও বিধিবিধানের পরিপন্থী। এ বিষয়ে একাধিক বিশিষ্ট আইনজ্ঞের অভিমত, প্রশাসনের কর্মকর্তারা ম্যাজিস্ট্রের বিচারিক দায়িত্বরত থাকাবস্থায় ঢালাওভাবে এ ধরনের রিমান্ড মঞ্জুরের ঘটনা বিরল ছিল। তাই তাদের প্রশ্ন- বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব বিচারকদের দেয়ার অর্জন কি আইন ও বিধিবিধানের উপেক্ষায় নির্বাহী কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় রিমান্ড মঞ্জুর?
পুলিশি রিমান্ডে নেয়ার পর সঠিক তথ্য উদ্ঘাটনের নামে মামলা সংশ্লিষ্ট আসামিরা যে শারীরিক নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন এ বিষয়টি আজ আর কারও অজানা নয়। শারীরিক নিপীড়ন বিষয়ে পুলিশের জনৈক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন- রিমান্ডে নিয়ে নিপীড়ন না করে তাদের আদর সোহাগ করলে তথ্য উদ্ঘাটিত হবে না। পুলিশ কর্মকর্তার এ বক্তব্য আইন দ্বারা সমর্থিত নয়। পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার এ ধরনের বক্তব্য প্রদান ও মানসিকতা পোষণ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে তথ্য উদ্ঘাটনে নিপীড়নকে অবলম্বন হিসেবে ব্যবহারে উৎসাহিত করবে। রিমান্ডে নেয়ার পর তথ্য উদ্ঘাটনের নামে শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে যেহেতু সংবিধানসহ দেশের প্রচলিত আইনের অপপ্রয়োগ হচ্ছে সেহেতু জেল গেটে জিজ্ঞাসার অনুমতি দেয়া হলে আইনের অপপ্রয়োগ রোধ ও হয়রানির অবসান হবে।
একজন আসামিকে একাদিক্রমে ১৫ দিন অতিক্রান্তের পূর্বক্ষণে পুনঃম্যাজিস্ট্রেটের কাছে বা আদালতে উপস্থাপনপূর্বক একাধিকবার রিমান্ডে নেয়ার নজির রয়েছে।
মামলার আসামি শিশু বা কিশোর হলে বিচার পদ্ধতি ভিন্নতর হয়। কিশোর অপরাধীকে পুলিশি হেফাজতে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের কোনো সুযোগ নেই। কিশোর অপরাধীকে সেফ হোম বা কারেকশনাল সেন্টার বা রিফরমেটরি স্কুলে সমাজকল্যাণ বা প্রবেশন অফিসারের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। আইনের বিধানকে উপেক্ষা বা অবজ্ঞা করে কিশোর অপরাধীকে রিমান্ডে নেয়া হলে তার অপরাধ প্রশমনের চেয়ে অপরাধপ্রবণ হওয়ার আশংকাই বেড়ে যায়। শিশু ও কিশোররা জাতির ভবিষ্যৎ বিধায় এ বিষয়ে পুলিশের কাছ থেকে আইনানুগ ও যথাবিহিত আচরণ প্রত্যাশিত।
রিমান্ডে নেয়ার পর নিপীড়ন সংবিধান ও আইন উভয়ের লংঘন। কোনো সভ্য ও গণতান্ত্রিক দেশে এ ধরনের লংঘন কাম্য নয়। ফৌজদারি অপরাধ অপরাধীর মৃত্যু ব্যতীত সময় দ্বারা বারিত নয়। রিমান্ডে নিয়ে নিপীড়ন ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার অবকাশ আছে। রিমান্ডে নিপীড়নের শিকার অনেকে হয়তো সময় ও সুযোগ প্রতিকূল বিবেচনায় প্রতিকার প্রার্থনায় উদ্যোগী হচ্ছেন না। তবে সময় ও সুযোগ অনুকূল হলে প্রতিকার প্রার্থনায় উদ্যোগী যে হবেন না সে নিশ্চয়তা কেউ কি দিতে পারবে? আর উদ্যোগী হওয়ার ক্ষেত্রে সংবিধান ও আইন উভয়ই যে নিপীড়িতের পক্ষে সে বিষয়ে আইন প্রয়োগকারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সচেতনতাই হতে পারে অপপ্রয়োগের হাত থেকে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষার রক্ষাকবচ।
ইকতেদার আহমেদ : সাবেক জজ, সংবিধান, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
টিকফা এবং ওয়ার্ল্ড এক্সপো ২০২০ by ড. মোকাম্মেল এইচ ভূঁইয়া

চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উদারনীতি গ্রহণ করবে। বাংলাদেশের উদারতার অর্থ হচ্ছে অবাধে মার্কিন বাণিজ্যিক আধিপত্য কোনো রকম সুরক্ষা ছাড়া মেনে নেয়া। এর আগে বাংলাদেশ এলডিসি বা স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে যেসব ছাড় বা সুবিধা পাচ্ছিল, তা থেকে বঞ্চিত হওয়া। এছাড়া বাংলাদেশ এলডিসি দেশগুলোর নেতা হিসেবে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা ও অন্যান্য ফোরামে যেভাবে ভূমিকা পালন করছিল, তা এই চুক্তির মাধ্যমে অনেকটাই টেনে ধরল বিশ্ব-মোড়ল যুক্তরাষ্ট্র। তারা বাংলাদেশের ভয়েসকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে এ দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে। বাংলাদেশের বাজারকে পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দিতে হবে, সেই সঙ্গে মার্কিন বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ সুরক্ষা দিতে হবে। মার্কিন বিনিয়োগকারীদের অর্জিত মুনাফা বা পুঁজির ওপর করারোপ করতে পারবে না সরকার, সেই সঙ্গে কোনো মার্কিন কোম্পানি বিনিয়োগ প্রত্যাহার করলে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এমনিতে বাংলাদেশে দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিককৃত হয়ে গেছে পা থেকে মাথা পর্যন্ত। ফলে সরকার অনেক ক্ষেত্রেই প্রাপ্য কর দেশীয় কোনো কোনো কোম্পানি বা ব্যক্তির কাছ থেকে আদায় করতে পারে না কিংবা অন্যভাবে ম্যানেজড হয়ে যায়। সেখানে বিদেশী কর্পোরেট জায়ান্টদের করমুক্ত করার চুক্তি কোনো যুক্তিতেই গ্রহণযোগ্য নয়। স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে আমাদের সক্ষমদের ওপর আরও করারোপ করা উচিত। সেখানে কর অবকাশ দেশের কোন উন্নতিতে সাহায্য করবে, তা বোধগম্য নয়। দেশীয় কোম্পানিগুলো এ চুক্তির ফলে কোনো সুরক্ষা পাবে না। ফলে এক অসম প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হবে এবং দেশীয় শিল্প বিকাশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে কর্মসংস্থানের ওপর তৈরি হবে চাপ, বাড়বে বেকারত্ব।
এমনিতেই বাংলাদেশ দোহা ঘোষণা অনুযায়ী কৃষি খাতে ৫ শতাংশের বেশি ভর্তুকি দিতে পারে না, তার ওপর টিকফা ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে হাজির হয়েছে। ফলে এক্ষেত্রে সবরকম ভর্তুকি তুলে নিতে হবে। এগ্রোবেজড প্রোডাক্টে কয়েক বছর ধরে বেশকিছু দেশীয় উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছিল এবং কিছু কোম্পানি ব্যাপক বিনিয়োগের মাধ্যমে এ সেক্টরে ভালো করছিল। ফলে কর্মসংস্থানের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। এগ্রোনির্ভর মশলা তৈরির শিল্পও এসব ক্ষেত্রে যথেষ্ট এগিয়েছিল। টিকফা চুক্তির ফলে উদীয়মান এই এগ্রো শিল্প হুমকির সম্মুখীন হবে এবং কৃষি পণ্যের দামও বাড়বে। তবে মজার ব্যাপার হল, টিকফার মাধ্যমে আমাদের কৃষি খাতে ভর্র্তুকি প্রত্যাহারে বাধ্য করার সুযোগ পেলেও খোদ যুক্তরাষ্ট্রই কৃষি খাতে ১৯ শতাংশেরও বেশি ভর্তুকি প্রদানের মাধ্যমে কৃষি খাত ও এগ্রোবেজড শিল্পকে সুরক্ষা করে যাচ্ছে। অথচ আমাদের ওপর উল্টো ব্যবস্থা চাপিয়ে দিচ্ছে। তাহলে আমরা কেন এই অসম চুক্তিতে সই করলাম, তাও আবার এই অসময়ে, যখন নীতিনির্ধারণী কোনো সিদ্ধান্তই নেয়ার কথা নয়?
এ চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে পেটেন্ট আইনের আওতায় আমাদের দেশীয় ওষুধ, কম্পিউটার সফটওয়্যার, কৃষিপণ্যসহ আরও অনেক কিছুকে নকল প্রোডাক্ট হিসেবে বিক্রয়-নিষিদ্ধ করতে সরকারকে বাধ্য করতে পারবে। দোহা ডিক্লারেশন ২০০০ অনুযায়ী এলডিসি দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ২০১৬ সাল পর্যন্ত মেধাস্বত্ব আইন থেকে প্রাপ্ত ছাড় অনুযায়ী বিভিন্ন পেটেন্ট ওষুধ উৎপাদন ও রফতানি করছে বিভিন্ন দেশে। কিন্তু টিকফাতে কোনো রক্ষাকবচ না থাকায় তা বাধাগ্রস্ত হবে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ গার্মেন্টের পর ওষুধ রফতানি থেকে সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে থাকে। বাংলাদেশের ওষুধনীতি ভারতের চেয়েও ভালো, কিন্তু এ চুক্তির ফলে হয় অনেক ওষুধ বাংলাদেশী কোম্পানি তৈরি করতে পারবে না, অথবা বিপুল রয়্যালটি প্রদানের ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে। ফলে বেশি দামে বিদেশী ওষুধ কিনে খেতে হবে দেশবাসীকে। এতে জনস্বাস্থ্য হবে হুমকির সম্মুখীন। এছাড়া মেধাস্বত্ব আইনের ফলে কেবল উদীয়মান তথ্যপ্রযুক্তি খাতেই লাইসেন্স বাবদ ৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হবে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দেশসহ পৃথিবীর নানা দেশের ফ্লোরা-ফনার বিভিন্ন প্রজাতি নিজ নামে পেটেন্ট করে রেখেছে। একটি উদাহরণে বিষয়টি স্পষ্ট হবে- আমাদের অতি পরিচিত ও ঐতিহ্যবাহী ঔষধি গাছ ‘নিমে’র পেটেন্ট আছে যুক্তরাষ্ট্রের। ফলে নিম গাছ থেকে উৎপাদিত সব পণ্যের ওপর টিকফা অনুযায়ী রয়্যালটি দাবি করতে পারবে তারা। এছাড়াও হয়তো এমন আরও অনেক কিছুর পেটেন্ট থাকতে পারে মার্কিনিদের, যা আমাদের মতো দেশের সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের চিন্তার বাইরেই রয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পেটেন্ট আইন তার কোম্পানিগুলোকে দায়মুক্তি দিয়েছে। যদি কোনো কোম্পানি টাকার জোরে বৈধ বা অবৈধ উপায়ে অন্য দেশের উৎপাদন পদ্ধতি, জীববৈচিত্র্য কিংবা শস্যবীজ পেটেন্ট করিয়ে নেয়, তবে তার নৈতিক ভিত্তি খুঁজে দেখবে না যুক্তরাষ্ট্রের আইন। ফলে আমাদের মতো স্বল্পোন্নত গরিব দেশ, যেখানে দুর্নীতি সর্বগ্রাসী, সেখানে যে কোনো কৃষিবীজ যেমন ধরা যাক কোনো ধান কিংবা ডাল বীজ যদি পেটেন্ট করিয়ে নেয় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কোম্পানি, তাহলে কৃষক তার বীজ উৎপাদন কিংবা সংরক্ষণের যে পদ্ধতি ঐতিহ্যগতভাবে ও বংশপরম্পরায় ব্যবহার করছে তার অধিকার হারাবে এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানি কিংবা তার নির্ধারিত আমদানিকারক কিংবা ডিলারই হবে বৈধ অধিকারী। প্রয়োজনে জেনেটিক কোড পরিবর্তন করে বীজ উৎপাদন একচেটিয়াভাবে সংরক্ষণ করতে পারবে পেটেন্টকারী প্রতিষ্ঠান। বিষয়টি আপাতদৃষ্টিতে কেবল বীজ উৎপাদনের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ মনে হলেও ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে যে কোনো প্রকার অসন্তোষ ও কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ তৈরির মাধ্যমে অবাধ্য সরকারকে নিয়ন্ত্রণ কিংবা পরিবর্তনের ক্ষমতা নিজের হাতে নিতে পারে কর্পোরেট হাউসগুলো। গার্মেন্ট সেক্টর থেকে শুরু করে প্রতিটি সেক্টর এই পেটেন্ট-কপিরাইট-ট্রেডমার্কের চোরাবালিতে আটকে যাবে। এভাবে বিদেশী কর্পোরেট রাজনীতির ক্রীড়নকে পরিণত হতে পারে দুর্বল গণতন্ত্র ও ব্যাপক দুর্নীতির বাংলাদেশ।
এদিকে টিকফা চুক্তির পর বাংলাদেশ আরেক আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। প্রথম আলোর সংবাদ অনুযায়ী ওয়ার্ল্ড এক্সপো ২০২০-এর স্থান নির্ধারণে আরব আমিরাতের পরিবর্তে রাশিয়াকে সমর্থন করার কথা ভাবছে বাংলাদেশ। যেখানে আরব আমিরাতের জেতার সম্ভাবনা প্রবল এবং দেশটিতে আমাদের প্রচুর শ্রমিক কাজ করে এবং নিয়মিত রেমিটেন্সের জোগান দিচ্ছে, সেখানে এহেন সিদ্ধান্ত কোনো যুক্তিতে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ইতিমধ্যে নেপাল আমিরাতকে আগাম সমর্থন দানের মাধ্যমে তিন বছরে তিন লাখ জনশক্তি রফতানির বিষয় চূড়ান্ত করেছে। সেখানে বাংলাদেশ অদ্ভুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে এগিয়ে যাচ্ছে। পুঁজিবাদী রাশিয়া বাংলাদেশকে কোন খাতে সাহায্য করবে, আর রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন বাংলাদেশ সফর করলেইবা কী লাভ হবে? সরকার টিকফার মতো চুক্তিটি এ সময়ে না করে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে পারত। সংসদে স্বাভাবিক অধিবেশনের সময় আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে পারত। যখন দেশে একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি ও অসন্তোষ বিরাজ করছে, তখন যুক্তরাষ্ট্র মোক্ষম সময়টি বেছে নিয়েছে। কিন্তু চাপের কাছে আত্মসমর্পণ করা উচিত হয়নি সরকারের। আর যে আশায় এটি করা হল, সেটি কাজে নাও লাগতে পারে। একটি-দুটি চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি পরিবর্তন হয়ে যাবে সেটা ভাবা ঠিক নয়। কারণ আমেরিকা চলে তার পলিসির ওপর আর আমাদের দেশ চলে ব্যক্তির ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর। ফলে ব্যক্তির পরিবর্তনে আমাদের নীতি পরিবর্তিত হয় আর আমেরিকার নীতি ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, যার প্রমাণ এত বছর পরও টিকফা চুক্তি সম্পাদন।
ড. মোকাম্মেল এইচ ভূঁইয়া : অধ্যাপক, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রতিবন্ধীদের অধিকার সংরক্ষণ করুন by ডা. মোঃ শহীদুর রহমান

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে শতাব্দী উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য প্রতিবন্ধীদের অধিকার সংরক্ষণ এবং সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রতিবন্ধীদের বিশ্ব জনস্বাস্থ্য এবং উন্নয়ন অগ্রাধিকার ইস্যু বলে মনে করে। কারণ স্বাভাবিক শিক্ষা, চাকরি, আয়ের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং চিকিৎসা খরচের কারণে প্রতিবন্ধীদের দরিদ্রতা বাড়িয়ে দেয়।
শত কোটি প্রতিবন্ধীর মধ্যে প্রায় দু’শ কোটি বয়স্ক প্রতিবন্ধী কর্মক্ষম নয়, যাদের অধিকাংশের জীবনমান অমানবিক। তারা উন্নয়নের প্রতিবন্ধক এবং সমাজের বোঝা। প্রতিবন্ধিত্ব আনুপাতিক হারে প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী যেমন মহিলা, বৃদ্ধ ও দরিদ্রদের বেশি মাত্রায় ভোগায়। দরিদ্র ঘরের শিশু, আদিবাসী ও সংখ্যালঘুরা বৈষম্যমূলক আচরণের জন্য বেশি ঝুঁকিতে থাকে। বেশি আয়ের দেশ থেকে স্বল্প আয়ের দেশের লোকেরা বেশি প্রতিবন্ধিত্বের শিকার হয়ে থাকে। জাতিসংঘের ৬৬তম অধিবেশনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট প্রস্তাবাকারে গ্রহণ করা হয় এবং সেই অনুসারে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কথা বলা হয়। ওই কর্মপরিকল্পনার স্লোগান হল ‘প্রতিবন্ধীদের জন্য উন্নততর স্বাস্থ্য’।
বাংলাদেশেও প্রতিবন্ধীদের স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনমান উন্নয়নের চিত্র খুব একটা সুখকর নয়। সরকারি পরিকল্পনা চমৎকার হলেও বাস্তবতার সঙ্গে তার খুব একটা মিল নেই। সমাজভিত্তিক পুনর্বাসনের ধারণাটা ব্যাপ্তি লাভ করেনি। দরিদ্র প্রতিবন্ধীদের একটা বিরাট অংশ ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবন কাটায়। এদেশে এখনও শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চাকরি এবং অন্যান্য সামাজিক কর্মকাণ্ডে প্রতিবন্ধীরা প্রাধিকারপ্রাপ্ত নয়। সমাজ এখনও তাদের অবজ্ঞা ও করুণার চোখে দেখে। সমাজকে সচেতন করার জন্য, সমাজে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এবারের প্রতিবন্ধী দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘ভাঙ্গো বাধা খোল দ্বার, সমাজে সবার জন্য সবকিছু’। সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিবন্ধীদের আলাদা ও অগ্রাধিকারমূলক সেবা নেয়ার ব্যবস্থা নেই। বিপণি বিতানে হুইল চেয়ারের জন্য র্যাম্প নেই, গণপরিবহনে আলাদা সিট নেই। পাবলিক টয়লেটে আলাদা ব্যবস্থা নেই। টিকিট কেনায় আলাদা লাইন নেই। সরকারি ও বেসরকারি সব পর্যায়ে বাধ্যতামূলকভাবে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিবন্ধীদের প্রাধিকার প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা উচিত। প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে হলে আমাদের আরও এগোতে হবে। গণমাধ্যমগুলোও এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ডা. মোঃ শহীদুর রহমান : সহযোগী অধ্যাপক, ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সহিংস রাজনীতি অর্থনীতিকে গ্রাস করছে by ড. আর এম দেবনাথ

এই চিত্র অর্থনীতির। এর তাৎক্ষণিক শিকার হচ্ছে ব্যাংকিং খাত, নন-ব্যাংক ফিনান্সিয়াল ইন্সটিটিউশন। এরা শিল্পে, ব্যবসায়, বাণিজ্যে, পর্যটনে অর্থের জোগান দেয়। ইদানীং দেখা যাচ্ছে, বড় বড় ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা সমানে আসছেন ব্যাংকে। তাদের ‘ঋণখেলাপি’ হয় হয় অবস্থা। ব্যাংকের টাকা দিতে পারছেন না। কিস্তি দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন। ‘ক্যাশ জেনারেশন’ নেই। ‘ফান্ড ফ্লো’ তাদের বিঘ্নিত। আমদানি বিঘ্নিত। রফতানি বিঘ্নিত। অভ্যন্তরীণ বেচাকেনা স্থবির। অনেক শিল্প বন্ধ হয় হয় অবস্থায়। শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দিতেও অনেকে ব্যর্থ হচ্ছেন। আমি ‘ইচ্ছাকৃত খেলাপি’দের কথা বলছি না। সাধারণ ব্যবসায়ীদেরও অবস্থা একই। উপায়ান্তর না দেখে তারা আসছেন ব্যাংকে। আসছেন ঋণ পুনঃতফসিল (রিসিডিউলিং) করাতে। সুদ মওকুফ করাতে। এটি করতে ‘ডাউন পেমেন্ট’ লাগে। সেই টাকাও অনেকের নেই। তাই পুনঃতফসিল করা যায় না। যেতে হবে কেন্দ্রীয় বাংকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকেরও হাত-পা বাঁধা। নতুনভাবে সংশোধিত ব্যাংক কোম্পানি আইনে অনেক কড়াকড়ি করা হয়েছে। পুনঃতফসিল আবার তিনবারের বেশি করা যাবে না। ইতিমধ্যেই অনেকে তা দুবার করে ফেলেছেন। হাতে আছে আর একবার মাত্র। ভবিষ্যৎ সেই অর্থে অন্ধকার। অনেকে আসছেন ব্যাংকে ‘ব্লক্ড অ্যাকাউন্ট’ করাতে, যাতে সুদারোপ আর না হয়। এসবই বড় ব্যবসায়ীদের সমস্যা।
চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা এখন সব ব্যাংকের জন্য বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছেন। তাদের টাকা আটকে যাচ্ছে। ব্যাংকগুলো তাদের সমস্যা সমাধানে হিমশিম খাচ্ছে। মামলা হচ্ছে অনেক ক্ষেত্রে। কিন্তু মামলা করে ব্যাংকের টাকা আদায় করার উদাহরণ খুব কম। একটু সমস্যা হলেই গ্রাহক চলে যাচ্ছেন উচ্চ আদালতে। হচ্ছে ‘রিট’, যার থেকে মুক্তি পাওয়া সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। আবার অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকরা ঠুকে দিচ্ছেন ক্ষতিপূরণ মামলা (কমপেনসেশন সুট)। এটা হচ্ছে ব্যাংকের ওপর বেশতি ঝামেলা বা চাপ। এ চাপ সৃষ্টি করে গ্রাহক ফায়দা লুটতে চাইছে। প্রায় সব ব্যাংকেই এসব ঘটনা ঘটছে। এদিকে সব ব্যাংকের মুনাফাতেই নেমেছে ধস। খুব কম ব্যাংকই ২০১৩ ক্যালেন্ডার বছরে ভালো মুনাফা দেখাতে পারবে। আমানত ২০১৩ সালে ছিল ব্যয়বহুল। সে তুলনায় ‘লেন্ডিং রেট’ ব্যাংকগুলো ‘অ্যাডজাস্ট’ করতে পারেনি। অনেক ব্যাংকে এসব কারণে মূলধন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অনেক ব্যাংক প্রভিশনিং ঘাটতিতে পড়েছে। আগামীতে আরও বেশি পড়ার আশংকা। কারণ বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা যদি চলতে থাকে, অব্যাহত থাকে অশান্তি তাহলে ব্যাংকের ব্যবসা বাড়ার কোনো কারণ নেই। ব্যাংকের সবচেয়ে বড় আয় আসে সুদ থেকে। এটা ঋণের ওপর সুদ। আর বেশকিছু আয় আসে আমদানি-রফতানি থেকে। এসব ব্যবসায় ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়। এতে ব্যাংকের বেশ ‘কমিশন’ আয় হয়। এ ছাড়া রয়েছে নানাবিধ আয়। এ অবস্থায় আমদানি-রফতানিতে টান পড়লে স্বাভাবিকভাবেই ওইসব আয়েও টান পড়বে। এর ফল একটি। পরিকল্পনা মোতাবেক ‘প্রফিট’ না হওয়া।
এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার ব্যবস্থা কী? এ মুহূর্তে ব্যাংকগুলোর অবস্থা কী, বিশেষ করে সরকারি বড় ব্যাংকগুলোর। ব্যাংকগুলোতে এখন অনেক উদ্বৃত্ত টাকা আছে। একশ’ টাকার আমানতের বিপরীতে ১৯ টাকা ‘লিক্যুইডিটি’ হিসেবে রেখে ব্যাংকগুলো ৮১ টাকা ঋণ দিতে পারে। ব্যাংকে আমানত বাড়ছে। দেশে টাকা আছে। কিন্তু ঋণ সংকোচন নীতির ফলে ব্যাংকগুলো নতুন ঋণ দিতে পারছে না, বিশেষ করে সরকারি ব্যাংকগুলো। সরকারি ব্যাংকগুলোর সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘সমঝোতা’ চুক্তি আছে, যা অবশ্য পালনীয়। এর অধীনে ব্যাংকগুলো কত ঋণ দিতে পারবে তা নির্দিষ্ট করে দেয়া আছে। এর বাইরে যাওয়া সম্ভব নয়- তা হবে নিয়মভঙ্গ করা। এটা কেন্দ্রীয় ব্যাংক করেছে মূল্যস্ফীতি হ্রাসের উদ্দেশ্যে। এই উদ্দেশ্য বেশ কিছুটা বাস্তবায়িত হয়েছে- এটা স্বীকার করতে কোনো দ্বিধা কারও নেই। অতীতে ঋণ সম্প্রসারণ অনেক বেশি হয়েছে। অনেকেই ঋণের টাকা অন্য খাতে ডাইভার্টও করেছে। এর অনেক সাক্ষ্যপ্রমাণ আছে। তাছাড়া আরও অনেক কারণ আছে, যার কারণে ঋণ সম্প্রসারণ বেশি হয়েছে। যা রোধ করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যথাযথভাবেই ঋণপ্রবাহ কিছুটা সংকুচিত করার ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু এখন সমস্যা অন্যত্র। ব্যাংকে ব্যাংকে টাকার পাহাড় জমছে। যদি এসব ‘ফান্ড’ ব্যবহার না করা যায়, তাহলে ব্যাংকের হাতে কাজ থাকে একটি- আর কোনো আমানত গ্রহণ না করা। এর ফল ব্যাংকিং খাতের জন্য হবে মারাত্মক, এমনকি অর্থনীতির জন্যও হবে মারাত্মক। ব্যাংকিং খাতে বরাবর এটা ঘটছে। কখনও কখনও প্রচুর আমানত পাওয়া যায় বাজারে। আবার কখনও কখনও আমানতের সংকট দেখা দেয়। দুটো সমস্যা দুই ধরনের। ব্যাংক কোনোদিন এ পরিস্থিতিতে চরম অবস্থা গ্রহণ করতে পারবে না। অর্থাৎ ব্যাংক যখন আমানত বেশি করে পায়, তখন বলতে পারে না যে, আমরা আমানত নেব না। কারণ গ্রাহকদের একবার বিদায় করে দিলে আবার আনতে সময় লাগে। কাজেই ব্যাংককে গ্রহণ করতে হয় মধ্যপন্থা। এ অবস্থায় বর্তমানে যে পরিস্থিতি, তাতে ব্যাংক ‘আমানত’ বিদায় করে দিয়ে ভবিষ্যতে ঝুঁকিতে পড়ার মতো অবস্থায় যেতে পারে না।
দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, ব্যাংক যদি ‘আমানত’ না নেয়, তাহলে টাকা যাবে কোথায়? টাকা যাওয়ার রাস্তা হচ্ছে শেয়ারবাজার অথবা সঞ্চয়পত্র। শেয়ারবাজারে যদি হঠাৎ বেশি বেশি টাকা যেতে শুরু করে, তাহলে দুই বছর আগের অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। শেয়ার কম অথচ ‘লিক্যুইডিটি’ বেশি। এতে শেয়ারের দামে ‘বাবল’ সৃষ্টি হবে। এ অবস্থা কাম্য নয়। এদিকে সঞ্চয়পত্র বিক্রিতেও যে হাওয়া লাগবে, তাও মনে হয় সম্ভব নয়। আর সঞ্চয়পত্রে সব লোক যাবে না। অতএব কী থাকে বিকল্প? বিকল্প থাকে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর ব্যবস্থা করা। ব্যবসার অবস্থা ভালো নয়, শিল্পের অবস্থা ভালো নয়, আমদানি-রফতানির অবস্থা ভালো নয়। এসবই সত্য কথা। কিন্তু এর মধ্যেই অনেকে ব্যবসা করতে চান, শিল্প করতে চান। তারা ব্যাংকে আসছেন। কিন্তু ঋণসীমা নির্ধারিত থাকায় সরকারি ব্যাংকগুলো কোনো ঋণ দিতে পারছে না। অথচ ঋণ বাড়াতে পারলে ব্যাংকের আয় বাড়বে। শ্রেণী বিন্যাসিত ঋণের শতাংশ হিসাব কমে।
ইদানীং দেখা দিচ্ছে আরেক সমস্যা। দেখা যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক চায় প্রত্যেকটি বড় ও নতুন ঋণের ক্ষেত্রে ‘চিফ ইন্টারনাল অডিটরের’ সার্টিফিকেট। এটা তো মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। এমনিতেই একটা ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন পর্যায়ে নিতে বেশ সময় লাগে। ঋণ প্রস্তাব বড় বড় ব্যাংকে প্রথমে ব্রাঞ্চে তৈরি হয়। তা যায় আঞ্চলিক অফিসে, তারপর যায় বিভাগীয় অফিসে। এরপর যায় প্রধান কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগে। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর যায় ক্রেডিট কমিটিতে, যেখানে ব্যাংকের সিনিয়ররা বসেন। তারপর যায় এমডি মহোদয়ের কাছে। এতসব করার পর যদি চিফ ইন্টারনাল অডিটরের সার্টিফিকেট দরকার হয়, তাহলে তো পুরো কার্যক্রমই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়। তাছাড়া চিফ ইন্টারনাল অডিটরের কাজ হচ্ছে ঋণ-পরবর্তী ঘটনা। তিনি দেখবেন ঋণ অনুমোদনে যেসব শর্ত দেয়া হয়েছে তা প্রতিপালিত হয়েছে কি-না, সব নিয়মনীতি মেনে ঋণটির কাজ চলছে কি-না, ঋণে কোনো অনিয়ম হচ্ছে কি-না, শর্তের বাইরে কিছু হচ্ছে কি-না ইত্যাদি। এখন যদি তাকে ‘ঋণ-পূর্ববর্তী’ পর্যায়ে জড়ানো হয়, তাহলে তো তার পরবর্তী কাজ বন্ধ করে দিতে হয়। একই ব্যক্তি দুই পর্যায়ের কাজে জড়িত হলে তা নিয়ন্ত্রণ ও মনিটরিংয়ে বাধা সৃষ্টি করবে। বস্তুত তিনি হয়ে উঠবেন সর্বোচ্চ ‘পাওয়ার সেন্টার’। তাই নয় কি? বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করা দরকার বলে মনে করি।
ড. আর এম দেবনাথ : অর্থনীতি বিশ্লেষক; সাবেক প্রফেসর, বিআইবিএম
About: S.M Azizul Hakim Hero
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ডিসেম্বর ’৯০—ডিসেম্বর ২০১৩
সৈয়দ আবুল মকসুুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পোড়া রোগীদের যন্ত্রণা
![]() |
| ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পোড়া রোগী |
ডা. সামন্ত লাল সেন: প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, বার্ন ইউনিট, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রতিবন্ধীদের ভোটাধিকার
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন: সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও কলাম লেখক ও মো. মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া: প্রশিক্ষক, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
থাইল্যান্ডে গণঅভ্যুত্থান
ধর্মঘটের আহ্বান : থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে চলমান সংঘর্ষের মধ্যেই সোমবার (আজ) থেকে দেশজুড়ে ধর্মঘট পালনের আহ্বান জানিয়েছেন সরকারবিরোধী আন্দোলনের নেতা সুথেপ থাংসুবান। থাইল্যান্ডের সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী থাংসুবানের বক্তব্যটি দেশের প্রায় সবক’টি সম্প্রচার মাধ্যমেই দেখানো হয়েছে। সরকারকে অচল করে দিতে থাংসুবান সরকারি ও ব্যক্তিগত সব প্রতিষ্ঠানেই কাজ বন্ধ করে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছন। তিনি বলেন, আন্দোলনকারীরা রোববারকে ‘ভি-ডে’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তারা এটাকে মনে করছে গণঅভ্যুত্থান। বিবিসি, রয়টার্স, আলজাজিরা।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস তারকা পল ওয়াকার আর নেই
খবরে বলা হয়, ওয়াকারের বন্ধু তাদের পোর্শে গাড়িটি চালাচ্ছিলেন। এ সময় রাস্তার পাশের একটি থামের সঙ্গে ধাক্কা লেগে দ্রুত গতিতে চলমান গাড়িটি চূর্ণ হয়ে যায়। ৪০ বছর বয়সী ওয়াকার ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’ সিনেমায় আন্ডার কভার এজেন্ট ব্রায়ান ও কনরের চরিত্রে অভিনয় করে সুখ্যাতি অর্জন করেন। তিনি এই সিনেমার সিরিজের একটি ছাড়া অন্য সবকটিতে অভিনয় করেন। মাত্র ৪০ বছর বয়সী ওয়াকার ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’ ছবির সর্বশেস সংস্করণেও কাজ করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা সান্তা ক্লারিটা ভ্যালি সিগন্যাল সংবাদপত্রকে জানিয়েছেন, লাল রঙের একটি পোর্শে গাড়ির চাকার পেছনে অভিনেতা ওয়াকারের দেহটি পড়েছিল। ঘটনাস্থলের ছবিতে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া ধাতব বস্তুর ও ভাঙা জানালার অংশ দেখা গেছে।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1426)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
-
▼
2013
(14877)
-
▼
December
(526)
-
▼
Dec 03
(10)
- তবুও দেশে শান্তি আসুক by ফকির ইলিয়াস
- রিমান্ডে শারীরিক নির্যাতন কতটা আইনসিদ্ধ by ইকতেদার...
- টিকফা এবং ওয়ার্ল্ড এক্সপো ২০২০ by ড. মোকাম্মেল এইচ...
- প্রতিবন্ধীদের অধিকার সংরক্ষণ করুন by ডা. মোঃ শহীদু...
- সহিংস রাজনীতি অর্থনীতিকে গ্রাস করছে by ড. আর এম দে...
- ডিসেম্বর ’৯০—ডিসেম্বর ২০১৩
- পোড়া রোগীদের যন্ত্রণা
- প্রতিবন্ধীদের ভোটাধিকার
- থাইল্যান্ডে গণঅভ্যুত্থান
- ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস তারকা পল ওয়াকার আর নেই
-
▼
Dec 03
(10)
-
▼
December
(526)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...



