Saturday, September 6, 2025
মনে হচ্ছে ‘অন্ধকারতম’ চীনের কাছে ভারত-রাশিয়াকে হারিয়েছি: ট্রাম্প
এরপর আজ শুক্রবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘মনে হচ্ছে, অন্ধকারতম-গভীরতম চীনের ভেতরে আমরা ভারত ও রাশিয়াকে হারিয়ে ফেলেছি। একসঙ্গে তাদের ভবিষ্যৎ দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ হোক।’ পোস্টে এসসিও সম্মেলনে একসঙ্গে থাকা সি, পুতিন ও মোদির একটি ছবিও যুক্ত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্পের ওই পোস্টের বিষয়ে নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চেয়েছিলেন সাংবাদিকেরা। তবে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ নিয়ে তাঁদের কোনো মন্তব্য নেই। জানতে চাইলে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করেনি চীনও। আর মন্তব্যের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ক্রেমলিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
শুল্ক নিয়ে ওয়াশিংটন-নয়াদিল্লি উত্তেজনার মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ চীনের কাছাকাছি এসেছে ভারত। মোদির চীন সফরের বড় একটি লক্ষ্য ছিল দেশটির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়া। আর রাশিয়া ও চীনের মধ্যে আগে থেকেই উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে। কয়েক দিন আগেই ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি পুতিনের ওপর হতাশ। তবে রাশিয়া-চীন সম্পর্কে অগ্রগতি নিয়ে শঙ্কিত নন।
পুতিনকে নিয়ে ট্রাম্পের হতাশা মূলত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে। তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ থামাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে যুদ্ধবিরতির শর্তে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে ঐকমত্য হচ্ছে না। এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প বলেন, শিগগিরই পুতিনের সঙ্গে কথা বলার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
![]() |
| মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
একসময় ট্রাম্প ছিলেন ভারতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু, হঠাৎ সব ওলট–পালট হওয়ার রহস্য কী
এক সিকি (এক-চতুর্থাংশ) শতাব্দীর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্ক এখন সবচেয়ে নাজুক অবস্থায়। পরিস্থিতি এতই খারাপ যে শোনা যাচ্ছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত দুই মাসের বেশি সময় ধরে ট্রাম্পের ফোন ধরেননি।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্প ভারত-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্ককে বলেন ‘পুরোপুরি একপেশে বিপর্যয়’। এমনকি এ বছর আরও পরের দিকে কোয়াড সম্মেলনে (ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের জোট) যোগ দিতে ভারত সফরের পরিকল্পনাও তিনি বাতিল করেছেন বলে খবর এসেছে।
এত দ্রুত, এত খারাপ
এভাবে সম্পর্কের অবনতির কথা কেউ ভাবেননি। গত বছর ট্রাম্প নির্বাচনে জেতার পর নয়াদিল্লিতে অনেকে খুশি হয়েছিলেন। মোদি সামাজিক যোগযোগমাধ্যম এক্সে ট্রাম্পকে ‘বন্ধু’ বলে শুভেচ্ছা জানান, দুজনের আলিঙ্গনের ও হাত ধরার ছবিও প্রকাশ করেন।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর তখন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, অন্য দেশগুলো ট্রাম্পের ফেরত আসা নিয়ে হয়তো ‘শঙ্কিত’, কিন্তু ভারত নয়।
আত্মবিশ্বাসী হয়ে মোদি ট্রাম্পের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে ওয়াশিংটনে যান, কিন্তু সেই বৈঠক ভালোভাবে হয়নি।
সাক্ষাতের আগের দিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সেনাবাহিনীর বিমানে ভারতীয় নাগরিকদের হাতকড়া ও শিকলে বাঁধা অবস্থায় ফেরত পাঠানোর ছবি ছড়িয়ে পড়ে। এতে মোদি বিব্রত হন।
হোয়াইট হাউসে মোদি প্রতিশ্রুতি দেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও অস্ত্র, তেল ও গ্যাস কিনবেন। একই সঙ্গে অনুরোধ করেন, ভারতের ওপর যেন শাস্তিমূলক শুল্ক চাপানো না হয়। কিন্তু মোদি সে আশ্বাস অর্জন করতে ব্যর্থ হন।
কয়েক সপ্তাহ পর, ট্রাম্প ঘোষণা করেন, বোঝাপড়ায় আসতে না পারলে ভারতকে ২৭ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। এ হার ছিল চীনের ওপর আরোপিত শুল্কের চেয়েও অনেক বেশি (১০ শতাংশ)।
কাশ্মীর সংকট
বাধ্য হয়ে নয়াদিল্লি বাণিজ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এপ্রিলে ভারত সফর করেন এবং দুই পক্ষই ইতিবাচক মন্তব্য করে। তবে তখনই নতুন সংকটে পড়ে ভারত।
২২ এপ্রিল কাশ্মীরে বন্দুকধারীরা ২৬ জনকে হত্যা করেন। নিহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই ছিলেন হিন্দু পর্যটক। এতে ভারত-পাকিস্তানের পুরোনো সংঘাতপ্রবণ এ অঞ্চল আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মোদি সরকার ঘোষণা দেয়, আগের মতো এবারও শক্ত হাতে জবাব দেওয়া হবে।
৭ মে ভারত পাকিস্তান ও পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে ‘সশস্ত্র গোষ্ঠীর’ শিবিরে হামলা চালায়। এরপর দ্রুত অপ্রত্যাশিত সংঘাত শুরু হয়। দুই পক্ষই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে একে–অপরকে আক্রমণ করে।
পারমাণবিক অস্ত্রধারী দুই দেশের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। সবাই সংঘাত বন্ধ করার আহ্বান জানায়। অবশেষে ১০ মে ভোরে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
‘শান্তিদূতের’ ভূমিকায় ট্রাম্প
ভারত বা পাকিস্তান সরকার কিছু বলার আগেই ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দেন, তিনি উভয় দেশকে সমঝোতায় এনেছেন। পরদিন তিনি দাবি করেন, খুব শিগগির ভারত ও পাকিস্তান তাঁর মধ্যস্থতায় আলোচনায় বসবে এবং কাশ্মীর সমস্যার (পেহেলগামে হামলার ঘটনা নিয়ে দুই দেশের সংঘাত) সমাধান করবে।
পাকিস্তান এতে খুশি হলেও নয়াদিল্লি ক্ষুব্ধ হয়। ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থান, কাশ্মীর প্রশ্ন দ্বিপক্ষীয়ভাবে মেটাতে হবে, তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতায় নয়। যুক্তরাষ্ট্রও ২০ বছরের বেশি সময় ধরে এ অবস্থানকে সমর্থন করে এসেছে, কিন্তু এবার ট্রাম্প ভিন্নপথে হাঁটলেন।
ট্রাম্পের এ দাবি মোদিকে একধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়। পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারি বজায় রাখা ও শাস্তিমূলক শুল্ক এড়াতে ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করতে চাননি তিনি।
কিন্তু ট্রাম্পের দাবি মানতেও পারছিলেন না মোদি। কেননা, তাতে ভারতের নীতির এক মৌলিক অবস্থানকে অস্বীকার করতে হতো। তাই মোদি ওয়াশিংটনে ফোন করে জানান, কাশ্মীর নিয়ে কোনো মধ্যস্থতা ভারত মেনে নেবে না।
শেষ ধাক্কা
অন্যদিকে পাকিস্তান এটিকে একটা সুযোগ হিসেবে দেখে। তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রভাব বাড়াতে ও ভারত-মার্কিন সম্পর্কে ফাটল ধরাতে চায়।
ট্রাম্প যে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেতে আগ্রহী, সেটি বুঝে পাকিস্তান তাঁকে মনোনয়ন দেয়। উৎসাহিত হয়ে ট্রাম্প ১৭ জুন মোদিকে ফোন করেন। মোদিকে অনুরোধ করেন, কানাডায় জি-৭ সম্মেলন শেষে ফেরার পথে ওয়াশিংটনে থেমে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করতে।
খবরে বলা হয়েছে, এটাই ছিল মোদির জন্য ‘শেষ ধাক্কা’। তিনি স্পষ্টই ট্রাম্পের দুই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তার পর থেকে দুজনের মধ্যে আর কথা হয়নি।
রুষ্ট হয়ে ট্রাম্প ভারতের ওপর শাস্তি দেন, রুশ তেল কেনা অব্যাহত রাখায় ভারতের শুল্কহার ৫০ শতাংশে বাড়িয়ে দেন এবং বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করেন।
উভয় সংকটে নয়াদিল্লি
ট্রাম্পের এসব কাজে সাধারণ ভারতীয়রা ক্ষুব্ধ এবং সরকারের কাছে শক্ত পদক্ষেপ দাবি করছেন। কিন্তু মোদি সরকারের সামনে ভালো বিকল্প নেই।
চাপের কাছে নতি স্বীকার করলে নরেন্দ্র মোদিকে দুর্বল দেখাবে। বিরোধীরা তাঁকে আগে থেকেই ‘নারেন্ডার সারেন্ডার’ বলে কটাক্ষ করছেন। অথচ ভারতের বাজার, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, অস্ত্র ও কূটনৈতিক সমর্থন পাওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া বড় শক্তিশালী দেশ নেই।
এমন পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লি চীনের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করছে। ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘর্ষের পর থেকে এ সম্পর্ক ছিল টানাপোড়েনের।
গত ৩১ আগস্ট সাত বছর পর মোদি চীন সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে হাত মেলান। সি বলেন, ‘হাতি আর ড্রাগন একসঙ্গে নাচুক।’ তবে ভারত-চীন সম্পর্কের মধ্যে এখনো আস্থার বড় ঘাটতি রয়েছে।
মোদির বেশি ভরসা রাশিয়ার ওপর। চীন সফরে মোদি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা তাঁর লিমুজিনে আলাপ করেন। এ বছরের শেষ দিকে পুতিনকে আবার ভারত আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। কিন্তু ইউরোপে রাশিয়া এখনো একঘরে, সহায়তার ক্ষমতাও সীমিত।
জাপানের মতো অন্য দেশও ভারতের সহায় হতে পারে। চীন যাওয়ার পথে মোদি টোকিওতেও গেছেন। তারা নয়াদিল্লির বর্তমান সংকট কাটাতে সহায়তা করতে পারে, কিন্তু যথেষ্ট শক্তি রাখে না।
সব মিলিয়ে, মোদি আবার ট্রাম্পের মন জয় করার উপায় যদি বের করতে না পারেন, তবে ভারতের সামনের কয়েক বছর খুবই কঠিন হতে পারে।
![]() |
| যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মৃত্যুর পর ‘নিরাপদে শেষ ঘুমের’ গ্যারান্টি চাই by কাজল ঘোষ
‘মব’কে প্রেসার গ্রুপ বলে বলে ‘মবের’ যে ব্যাপক বিস্তার তা রোধ না করে সরকার একেকটি ঘটনার পর নিন্দা জানাচ্ছে। আর কার্যত তা সীমাবব্ধ থাকছে বিবৃতির মধ্যেই। দায়সারা এই বিবৃতি নিয়ে মানুষ এখন হাসছে। অন্তত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা লাখো ফিডে ভেসে বেড়াচ্ছে।
৫ই আগস্ট চব্বিশের পর মবোক্রেসিতে মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় দুইশো ছুঁই ছুঁই। আর মাজার-সমাধি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে অন্তত অর্ধ-শতাধিক। এসব ঘটনায় সরকারি হিসাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে ২০ জনের মতো। অথচ মব তাণ্ডবে যুক্ত হয় শত শত মানুষ, আর গ্রেপ্তার হয় গুটিকয়েক। তাও আবার লোক দেখানো।
ধরুন, শুক্রবার রাতের কথা। শাহবাগে একটি সমাবেশ হয়েছে। সন্ধ্যায় সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিক্ষোভকারীরা কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে আগুন দিয়েছে। এই খবরটি যখন নিউজরুমে আসে তখন ছুটোছুটি শুরু হয়ে যায়- আবার কী হলো? অল্প পরেই খবর আসে রাজবাড়ী থেকে, তৌহিদী জনতা কবর থেকে লাশ তুলে উল্লাস করছে, লাশ পুড়িয়ে তাদের বর্বরতাকে দুনিয়ায় জানান দিয়েছে, তারা কতোটা নৃশংস হতে পারে। এ ঘটনার পর বোধকরি কোনো সুস্থ-স্বভাবিক মানুষেরই সুস্থ থাকার কথা নয়। এ ঘটনার বিষয়ে প্রশাসন অবগত ছিল। চারদিন আগে সেখানে শুক্রবারের ‘মার্চ ফর গোয়ালন্দ’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এই পরিস্থিতি সামাল দিতে পদক্ষেপ যা ছিল তা তো দেশবাসী দেখেছে।
শুক্রবার রাতটি নির্ঘুম কেটেছে। শনিবারের দিনটি কেমন যাবে? দিন শেষ রাতেই বা কী অপেক্ষা করছে? এমন অসংখ্য প্রশ্ন সকলের কাছেই। শুক্রবার ছুটির দিন সকলে যখন পরিবার নিয়ে আনন্দ আর বিনোদনে কাটাবে তখন দেশের কোটি কোটি মানুষ ছাড়িয়ে বিদেশ বিভূঁইয়ে থাকা অসংখ্য মানুষের চোখ আটকে যায় রাজবাড়ীর খবরে। সেখানে নুরাল পাগলার মাজারে চলেছে লাশ নিয়ে উন্মত্ততা, জিঘাংসা। প্রকাশিত ঘটনার ভিডিও ফুটেজে যে দৃশ্য তামাম দুনিয়া দেখেছে তা আসলে কী বার্তা দেয়?
একইদিনে রাজশাহীর পবা উপজেলায় খনকার শরীফে হামলা ও ভঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। চলেছে তৌহিদী জনতার হল্লা। পাশেই দাঁড়িয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। যেমনটি ঘটেছে রাজবাড়ীতেও। সেখানকার অসংখ্য ফুটেজে দেখা যায় যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি, কিন্তু ঘটনা যা ঘটার তাই ঘটেছে।
ফিরে দেখুন, রংপুরের গঙ্গছড়ায় কী ঘটেছিল? রূপলাল দাস ও প্রদীপ লালকে এক দঙ্গল মানুষরূপি পশু উৎসব করে পিটিয়ে হত্যা করেছে। মবের ভয়ে পুলিশ দেখেও তাদের বাঁচাতে যায়নি। এরপর এসে তারা দায়িত্ব সেরেছে লাশ নিয়ে। কতোটা জঘন্যতম অপরাধ ভাবা যায়? পুলিশ দেখছে দুজন মানুষকে পিটিয়ে মারা হচ্ছে আর তা দেখেও তারা চলে গেছে। এতোটা অন্ধ, বধির সরকার, প্রশাসন হয় কী করে? এরপর যদিও ভিডিও দেখে মারধরে জড়িত অনেককে চিহ্নিত করা হয়েছে কিন্তু গ্রেপ্তার নেই।
লালমনিরহাটে বৃদ্ধ নাপিত পরেশ চন্দ্র শীল ও তার ছেলে বিষ্ণু চন্দ্র শীলকে কথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মব তৈরি করে যে মারধর করা হয়েছে, এটাও কি সভ্য সমাজে কাম্য? কারও বিরুদ্ধে ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ থাকলে আইন আদালত আছে, থানা পুলিশ আছে। কিন্তু যেভাবে সেই পিতা-পুত্রকে মারা হয়েছে, জেলে ভরা হয়েছে তা নিন্দা জানাবার ভাষা অভিধানে নেই। আর অদ্ভূত হচ্ছে ঘটনার মাসের পর মাস যায় তারা কবে মুক্তি পাবে তার ইয়ত্তা নেই। সরকারের তরফেও এ বিষয়ে কোন রা নেই। কারণ সেখানেও তৌহিদী জনতা ঢুকে গেছে।
সাধারণ মানুষ মাত্রই চরম নিরাপত্তাহীনতায়। রংপুর, দিনাজপুরের পর চট্টগ্রামেও এক ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তাকে পানি পর্যন্ত খেতে দেয়া হয়নি। সেই মায়ের কান্নার কি জবাব দেবে রাষ্ট্র?
প্রথমদিকে মবের একটি রাজনৈতিক কালার দেয়ার চেষ্টা হয়েছে এবং সবকিছু আদায়ে মবকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে। সকল দাবি, অদাবি আর কুদাবি আদায়ে মবই যেন হাতিয়ার। কারণ সরকার নিজেই বলেছে, মব হচ্ছে এক ধরনের প্রেসার গ্রুপ। আর যায় কোথায়? একের পর এক মব চলছে। কিন্তু কোন পথে যাচ্ছে স্বদেশ?
ঘটনার পর হালের জনপ্রিয় এক টেলিভিশন উপস্থাপক লিখেছেন, বিবৃতিগুলো ভালো, সরকারের হৃদয় আছে বোঝা যায় কিন্তু হাতও দেখি না, পা-ও দেখি না। শুধু বলে, নড়েও না, চড়েও না, অ্যাকশন নাই! মুখের কথায় চিড়া ভিজলে আজ এমন মধ্যযুগীয় ঘটনা দেখতে হতো না। কোথায় ছিলাম জানি, কোথায় আছি তা জানি না, কোথায় যাচ্ছি তাও জানি না।
একটি প্রধান জাতীয় দৈনিকে কর্মরত এক সহকর্মী লিখেছেন, একটা দেশ, একটা সমাজ, একটা রাষ্ট্র, একটা শাসনব্যবস্থা অধঃপতনের কোন পর্যায়ে গেলে একজন মৃত মানুষের, একজন মুসলিম মানুষের লাশ কবর থেকে তুলে তাকে পুড়িয়ে দেওয়া যায়?
অবশ্য, উত্তেজিত ছাত্র-জনতা তো তাদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাবেই। কিন্তু, সেই সব উল্লাসমুখর জীবকে কি মানুষ বলা যায়?
এই প্রশ্নটি বোধকরি সকলেরই। যারা রাজবাড়ীতে ধর্মের নামে এ ধরনের পাশবিকতা প্রদর্শন, লাশ পুড়িয়ে উল্লাস করেছেন তারা কি আসলেই মানুষ?

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা: আরও একটি যুদ্ধ আসন্ন!
তিনি শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভেনেজুয়েলাসহ লাতিন আমেরিকায় শাসন পরিবর্তনের সহিংস পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সার্বভৌমত্ব, শান্তি ও স্বাধীনতার অধিকারকে সম্মান করুক। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ভেনেজুয়েলা আক্রান্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে ‘সশস্ত্র সংগ্রামের’ সূচনা হবে। বর্তমানে দেশটির সেনাবাহিনীতে প্রায় ৩,৪০,০০০ সদস্য এবং রিজার্ভ ও মিলিশিয়া সদস্যসহ মাদুরোর দাবি অনুযায়ী ৮০ লাখেরও বেশি যোদ্ধা রয়েছে।
ক্যারিবীয় সাগরে ইতিমধ্যে কমপক্ষে ৭টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, ৪৫০০ মেরিন ও নাবিক, এবং একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন মোতায়েন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভেনেজুয়েলার দুটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মার্কিন ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস জ্যাসন ডানহ্যামের কাছাকাছি উড়ে যায়, যা ওয়াশিংটন ‘উসকানিমূলক পদক্ষেপ’ বলে অভিযোগ করেছে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি তারা আমাদের বিপজ্জনক অবস্থায় ফেলে, তবে গুলি করে নামানো হবে।
মঙ্গলবার মার্কিন বাহিনী ক্যারিবীয় সাগরে একটি স্পিডবোট উড়িয়ে দেয়, যা ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী ভেনেজুয়েলার অপরাধী সংগঠন ট্রেন দে আরাগুয়া-এর ছিল। এ ঘটনায় ১১ জন নিহত হয়। ভেনেজুয়েলা একে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ বলে নিন্দা জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরাও হামলার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মেক্সিকো সফরে সাংবাদিকদের বলেন, যখন কেউ কোকেইন বা ফেন্টানিল ভর্তি নৌকায় যুক্তরাষ্ট্রের দিকে আসবে, তখনই তারা আমাদের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি। আর এদের থামানোর উপায় হচ্ছে—ওদের উড়িয়ে দেওয়া।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজায় ভয়াবহ হামলা, পালাচ্ছে মানুষ, মাটি কামড়ে পড়ে আছেন কেউ কেউ
আতঙ্কে বহু পরিবার শহর ছাড়তে শুরু করে। তবে অনেকে বলেছেন, তারা মরতে রাজি কিন্তু শহর ছাড়বেন না। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এপি। গাজা শহরে বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ মানুষের অর্ধেকের বসবাস। এর মধ্যে কয়েক হাজার ইতিমধ্যে গাড়ি ও রিকশায় করে বাড়িঘর ছেড়ে চলে গেছেন। ৪০ বছর বয়সী মোহাম্মদ রয়টার্সকে বলেন, কতবার আমার স্ত্রী ও তিন মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে বের হতে বাধ্য হয়েছি, তার হিসাবই হারিয়ে ফেলেছি। কোথাও নিরাপদ নয়, কিন্তু ঝুঁকি নিতে পারি না। যদি হঠাৎ আক্রমণ শুরু হয়, তারা ভারী গোলাবর্ষণ করবে। অন্যদিকে, কেউ কেউ বলেছেন, তারা কোনোভাবেই গাজা শহর ছাড়বেন না। ৩১ বছর বয়সী আয়াহ বলেন, আমরা যাচ্ছি না। ওরা চাইলে আমাদের ঘরে মেরে ফেলুক। আমরা আটজন একসঙ্গে থাকি। একটি তাঁবু কেনার কিংবা যাতায়াত খরচ দেয়ার সামর্থ্য নেই। আমরা ক্ষুধার্ত, ভীত আর নিঃস্ব। এ মাসের শুরুর দিকে ইসরাইল গাজা শহর দখলের জন্য বৃহৎ আকারের সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা অনুমোদন করে। তবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শহরের ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া কেন্দ্রস্থলে সেনারা প্রবেশ করবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর মধ্যে মধ্যস্থতাকারী মিশর ও কাতার যুদ্ধবিরতির আলোচনা পুনরায় শুরু করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবুও ইসরাইলি বাহিনী শহর ও আশপাশের এলাকায় গোলাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। রবিবার সেনারা জানায়, সম্প্রতি তারা জাবালিয়ায় আবারও যুদ্ধ শুরু করেছে। রবিবার ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল ক্যাটজ অভিযানে অটল থাকার ঘোষণা দেন। শুক্রবার তিনি হুমকি দেন, হামাস যুদ্ধ শেষ করে ইসরাইলের শর্ত মেনে সব জিম্মিকে মুক্তি না দিলে গাজা শহরকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হবে। হামাস রবিবার জানায়, গাজা শহর দখলের পরিকল্পনা প্রমাণ করে ইসরাইল যুদ্ধবিরতি চায় না।
বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধবিরতিই জিম্মিদের ফেরানোর একমাত্র পথ এবং তাদের জীবনের দায়িত্ব ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর। জাতিসংঘ সমর্থিত বিশেষজ্ঞরা শুক্রবার ঘোষণা করেন গাজা শহর ও আশপাশে সম্পূর্ণ মানুষের তৈরি দুর্ভিক্ষ চলছে। ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি পুরোপুরি মানুষের তৈরি দুর্ভিক্ষ। এই দুর্ভিক্ষ বন্ধ করা এবং উল্টে দেয়া সম্ভব। বলা হয়েছে ‘তর্ক-বিতর্কের সময় শেষ, এখন অনাহার বিদ্যমান এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। যদি যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হয় এবং মানবিক সাহায্য গাজা উপত্যকায় পৌঁছাতে না পারে। খাদ্য, স্বাস্থ্য ও পানি-স্যানিটেশন সেবা যদি দ্রুত পুনঃস্থাপন না হয়। তবে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর সংখ্যা বহুগুণে বাড়বে।
রবিবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, অপুষ্টি ও অনাহারে আরও ৮ জন মারা গেছেন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ ধরনের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮৯, যার মধ্যে ১১৫ জন শিশু। গাজার সিভিল ডিফেন্স সংস্থা জানিয়েছে, রবিবার ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৪২ জন নিহত হয়েছেন। সংস্থার মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, গাজা শহরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক বিমান হামলা হয়েছে। এর মধ্যে সাবরায় একটি হামলায় ৮ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া গোটা উপত্যকায় হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইসরাইল এখন আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগের মুখে। এখন পর্যন্ত তারা গাজায় ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ হত্যা করেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ইতিমধ্যে নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। একইভাবে হামাস সামরিক প্রধান মোহাম্মদ দেইফের বিরুদ্ধেও পরোয়ানা জারি করা হয়। তবে তার মৃত্যুর পর তা প্রত্যাহার করা হয়। এপি জানায়, রোববার গাজা শহরের দক্ষিণে খাদ্য সহায়তা নিতে যাওয়া চারজন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরাইলি সেনারা। ওই জায়গাটি সামরিক নিয়ন্ত্রিত এলাকা হলেও ফিলিস্তিনিরা নিয়মিত খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রে যেতে সেখানে যাতায়াত করে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাজবাড়ীতে নুরাল পাগলার দরবার থমথমে, থানায় অভিযোগ দেয়নি পরিবার
গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর বেলা তিনটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত দফায় দফায় নুরাল পাগলার দরবারে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা শরিয়ত পরিপন্থীভাবে দাফনের অভিযোগ তুলে নুরাল পাগলার লাশ কবর থেকে তুলে পুড়িয়ে দেন।
উপজেলা ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটির পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে একদল লোকের এই হামলায় ১০–১২ জন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত অর্ধশত ব্যক্তি আহত হন। পুলিশের দুটি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। হামলায় আহত হয়ে মারা যান এক ব্যক্তি।
পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুর ঘটনায় গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মামলা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিম মোল্লা বাদী হয়ে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন। যদিও এ মামলায় আজ শনিবার বেলা ১১টা পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তার নেই। প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল ইসলাম।
নুরাল পাগলার দরবারে হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি বলে জানান ওসি।
আজ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা গেছে, গোয়ালন্দ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড জুড়ান মোল্লা পাড়ায় অবস্থিত নুরাল পাগলার দরবারের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ আছে। উৎসুক জনতা ভিড় করছে। দরবারের ভেতর একটি তিনতলা এবং একটি দুইতলা ভবন।
তিনতলা ভবনে পরিবারসহ নুরাল পাগলা থাকতেন। দুটি ভবনের সব কটি কক্ষ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। আসবাবপত্র সব খোয়া গেছে। অবশিষ্ট জিনিসপত্র ভাঙচুর করে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ভবন থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে নুরাল পাগলার আস্তানা। সেখানে একটি টিনশেড ঘরে বসে ভক্তদের সঙ্গে সময় কাটাতেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর আগে টিনশেড ঘরসহ সমতল ভূমি থেকে কয়েক ফুট উঁচু করে বেদি তৈরি করা হয়। বেদির ওপর একপাশে টিনশেড ঘরে তিনি বসে সময় কাটাতেন। অপর পাশে মৃত্যুর পর তাঁকে কবর দেওয়া হয়। দরবারের ভেতর এখন ধ্বংসস্তূপ। ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনো ধোঁয়া বের হচ্ছে। কেউ কেউ ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা ধ্বংসস্তূপ থেকে চাল–ডালসহ জিনিসপত্র কুড়িয়ে নিচ্ছেন। পুলিশ মাঝেমধ্যে উৎসুক জনতাকে সরিয়ে দিচ্ছে।
কুষ্টিয়ার পোড়াদাহ থেকে এসেছেন আবুল হোসেন (৬০) নামের এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, ‘শুক্রবার দেশের আলোচিত খবর ছিল নুরাল পাগলার দরবারে হামলা। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও ফেসবুকে খবরটি দেখে আর থাকতে পারলাম না। কী হয়েছে দেখতে রাতে গোয়ালন্দে এক আত্মীয়ের বাড়ি আসি। আজ সকালে দরবারে এসে দেখে গেলাম। তাঁর কাজ বিতর্কিত ছিল, তাই বলে লাশ কবর থেকে তুলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া ঠিক হয়নি।’
রাজবাড়ীর পাংশা থেকে আসা রত্না বিশ্বাস বলেন, ‘তিনি অনেক বড় মাপের মানুষ ছিলেন বলে তাঁকে আমরা প্রণাম করতাম। দরবারে হামলার কথা শুনে দেখতে এসেছি।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২৩ আগষ্ট বার্ধক্যের কারণে মারা যান নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলা। ওই দিন রাতে মাটি থেকে কয়েক ফুট উঁচুতে বিশেষ কায়দায় আস্তানায় তাঁর লাশ দাফন করেন ভক্তরা। এরপর বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কবর সমতল করারসহ কয়েকটি দাবি জানায় স্থানীয় আলেমসহ তৌহিদি জনতা।
এ বিষয়ে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে জেলা ও উপজেলা ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটি ও নুরাল পাগলার পরিবারের কয়েক দফা বৈঠক হয়। তবে কবর নিচু না করায় দুই দফা সংবাদ সম্মেলন করে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেয় ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটি। তারা সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবারের মধ্যে কবর সমতল করাসহ বিভিন্ন দাবি জানায়। অন্যথায় শুক্রবার জুমার নামাজের পর গোয়ালন্দ আনসার ক্লাব মাঠে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং পরে ‘মার্চ ফর গোয়ালন্দ’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বলেন, বেলা তিনটার দিকে মঞ্চ থেকে ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা জালাল উদ্দিন প্রামাণিক, সদস্যসচিব বিএনপি নেতা আইয়ুব আলী খান সবাইকে সমাবেশে থাকার আহ্বান জানান। কিন্তু উত্তেজিত লোকজন মিছিল নিয়ে নুরাল পাগলার দরবারে হামলা করেন। ভেতর থেকে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন নুরাল পাগলার ভক্তরা। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত অর্ধশত ব্যক্তি আহত হন।
এ সময় কিছু লোক দরবারের দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে আগুন ধরিয়ে দেন এবং মালামাল লুটপাট করেন। একপর্যায়ে বিকেল পাঁচটার দিকে নুরাল পাগলার লাশ কবর থেকে তুলে গোয়ালন্দ পদ্মার মোড়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ওপর নিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
সংঘর্ষে আহত রাসেল মোল্লা নামের নুরাল পাগলার এক ভক্ত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। তিনি গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম তেনাপচা গ্রামের আজাদ মোল্লার ছেলে।
![]() |
| নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলার বাড়ি ও দরবারের ভেতর শুক্রবার হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। আগুন ধরিয়ে সব পুড়িয়ে দেয়। আস্তানায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে ধংসস্তুপ। শনিবার সকালে। ছবি: প্রথম আলো |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ট্রাম্পকে কেন বিতর্কে আসার জন্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন জোহরান মামদানি
সিবিএস নিউজ নিউইয়র্ক আগেই জানিয়েছিল যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউস বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামস এবং রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়াকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন চাকরির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছে। এর ফলে মেয়র পদের লড়াইয়ে কেবল কুমো এবং মামদানিই থাকবেন।
কুমোর চ্যালেঞ্জ মামদানিকে, মামদানির চ্যালেঞ্জ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে
ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক বাছাইয়ের পরাজিত হয়েছে নিউইয়র্ক নগরের মেয়র নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ছেন অ্যান্ড্রু কুমো। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি একটি বক্তব্য দিয়ে মেয়র পদের লড়াইয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধির চেষ্টা করেছেন। তিনি শুধু মামদানিকে কয়েকটি বিতর্কের জন্য চ্যালেঞ্জ জানান। একই সঙ্গে তিনি অন্যান্য প্রার্থীকে প্রচার থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
জোহরান মামদানির দিকে ইঙ্গিত করে কুমো বলেন, ‘আমি তাঁকে পাঁচটি বিতর্কের জন্য চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি, প্রতিটি বরোতে একটি করে বিতর্ক হবে। সেখানে আমরা সেই বরোর সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলব। আসুন, নিউইয়র্কের মানুষকে একবারের জন্য জানান, আপনি কে এবং কী বিশ্বাস করেন।’
কুমোর এই বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে জোহরান মামদানি আরেক ধাপ এগিয়ে গেলেন।
কুইন্স থেকে নির্বাচিত রাজ্যের আইনসভার সদস্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘চলুন মাঝখানের লোকটিকে বাদ দিই। আমি কেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতের পুতুলের সঙ্গে বিতর্ক করব, যখন আমি সরাসরি তাঁর সঙ্গে বিতর্ক করতে পারি।’
জোহরান আরও বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি এ বিষয়ে সিরিয়াস হন, তবে তাঁকে নিউইয়র্ক সিটিতে আসতে হবে। আমরা যত খুশি তত বিতর্ক করতে পারি। কেন তিনি শুধু তাঁর কোটিপতি সমর্থকদের কর কমাতে নিউইয়র্কের ক্ষুধার্ত মানুষের এসএনএপি (খাদ্যসহায়তা) সুবিধা কমিয়ে দিচ্ছেন।’
কুমো বলেন, ‘মিস্টার জোহরান মামদানি আমার সঙ্গে মুখোমুখি লড়াই করতে ভয় পাচ্ছেন। কেন? কারণ, নিউইয়র্কের বেশির ভাগ মানুষ তাঁর বিরুদ্ধে এবং ভোট ভাগ হয়ে গেলেই কেবল তিনি জিততে পারেন। আমি আপনাকে বলছি, নিউইয়র্কের মানুষ আপনাকে যত বেশি চিনবে, আপনার প্রতি সমর্থন তত কমবে।’
নিউইয়র্কের মেয়র পদের এই লড়াই শুধু শহরের আলোচনার বিষয় নয়, এটি হোয়াইট হাউসেরও আলোচনার বিষয়।
ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেন, ‘আমি একজন কমিউনিস্টকে মেয়র হতে দেখতে চাই না, আমি এটা স্পষ্ট করে বলছি।’
নিউইয়র্ক নগরের মেয়র পদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার দৌড়ে বর্তমানে চারজন প্রার্থী আছেন। এই নির্বাচনে সর্বশেষ জরিপেও দেখা গেছে, জোহরান এগিয়ে আছেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি চাই, দুজন প্রার্থী সরে দাঁড়াক এবং লড়াইটা মুখোমুখি হোক। আমি মনে করি, তাহলে জেতা সম্ভব।’
সূত্রের বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজের রাজনৈতিক প্রতিবেদক মার্সিয়া ক্রেমার জানান, এই সপ্তাহে বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামস ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ও নিউইয়র্কের আবাসন ব্যবসায়ী স্টিভ উইটকফের সঙ্গে দেখা করেছেন।
অ্যাডামসের নির্বাচনী প্রচার দলের একজন মুখপাত্র বলেন, মেয়র অ্যাডামস ব্যক্তিগত সফরে ফ্লোরিডায় ছিলেন। তিনি সেখানে কোনো প্রচারমূলক বা সরকারি কাজ করেননি।
এরিক অ্যাডামস বলেন, ‘শুধু কিছু মানুষ আপনাকে সরে দাঁড়ানোর জন্য বললে বা আপনার যা করা উচিত বলে মনে করেন, তা না করতে বললে, আপনি কি তা মেনে নেবেন? আমি এমনটা করি না।
অ্যাডামস ও স্লিওয়াকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান কুমোর
অ্যান্ড্রু কুমো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অ্যাডামস এবং স্লিওয়াকে প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়াতে ট্রাম্পের ধারণার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তাঁর সঙ্গে ট্রাম্প বা তাঁর প্রশাসনের কোনো যোগাযোগ নেই। কুমো নিজেও এই দুজনের প্রতি প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
কুমো বলেন, ‘যদি আপনি সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী না হন, তাহলে সরে দাঁড়ান। যখন আপনি বুঝতে পারেন কে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী, তখন অন্যদের উচিত তাঁর প্রতি সম্মান দেখানো।’
কুমো বিশ্বাস করেন, তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক বাছাইয়ে ১৩ পয়েন্টে হেরে গিয়েছিলেন। তবু তিনি সাধারণ নির্বাচনে জোহরানের বিরুদ্ধে মুখোমুখি লড়াইয়ে জেতার সেরা সুযোগ পাবেন বলে আশা করেন।
কুমো বলেন, জোহরানকে নিউইয়র্কের বেশির ভাগ মানুষ সমর্থন করে না। এই নির্বাচনে রূপক অর্থে ৪ হাজার ৭৮২ মানুষের মধ্যে জরিপ করা হয়েছে। প্রতিটি জরিপেই দেখা গেছে তার সমর্থন প্রায় ৪০ শতাংশ।
কুমো আরও বলেন, তিনি ট্রাম্পের সমর্থন কখনো গ্রহণ করবেন না। এই নির্বাচনে ট্রাম্প প্রশাসনের আগ্রহের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই।
অবশ্য এরিক অ্যাডামস ও রিপাবলিকানপ্রার্থী স্লিওয়ারের প্রচার দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাঁরা সরে দাঁড়াবেন না। মনে হচ্ছে, অ্যাডামস ও স্লিওয়া কেউই লড়াই ছেড়ে দিতে প্রস্তুত নন।
অ্যাডামস বলেন, ‘আপনি যদি অ্যান্ড্রু কুমোকে আমাদের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিয়ম নির্ধারণ করতে দেন, তাহলে আমাদের গণতন্ত্র কোথায় থাকে? নিউইয়র্ক নগরের পরবর্তী মেয়র কে হবেন, তা ভোটাররা ঠিক করবেন।’
অ্যাডামসের প্রচার দলের মুখপাত্র টড শাপিরো এক বিবৃতিতে বলেন, ‘অ্যান্ড্রু কুমো দলীয় প্রাথমিক বাছাইয়ে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার খরচ করেও দুই অঙ্কের ব্যবধানে হেরেছেন। যদি জরিপ সঠিক হতো, তবে আজ তিনি ডেমোক্রেটিক ব্যালটে থাকতেন। তাঁর উচিত এখন সরে দাঁড়ানো।’
মেয়র অ্যাডামস নিউইয়র্কের মানুষের জন্য কাজ করার দিকে মনোযোগ দিয়েছেন এবং নভেম্বরে জোহরান মামদানিকে পরাজিত করতে তিনিই সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী।
মেয়র বৃহস্পতিবার তাঁকে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার জন্য সমর্থন দিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মহানবী (সা.)-এর জন্মদিনে শহরে ছুটি ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্লিওয়া বলেছেন, তিনি কোনো পরিস্থিতিতেই সরে দাঁড়াবেন না।
গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেলেসের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, ‘আপনি আমাকে ঘুষ দিতে পারবেন না। আপনি আমাকে ভাড়া করতে পারবেন না। এই লড়াই থেকে সরে যাওয়ার জন্য আপনি আমাকে অনুপ্রাণিত করতে পারবেন না।’
স্লিওয়া আরও বলেন, ‘আমি রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে লড়ছি। অন্যান্য পদেও আমার দলের প্রার্থীরা লড়ছেন। তাঁদের প্রতি এবং আমার সমর্থকদের প্রতি আমার দায়িত্ব আছে, যাঁরা আমার প্রচারের জন্য ৪ লাখ ডলার দিয়েছেন।’
স্লিওয়া বলেন, তিনি চান ‘সমস্যার ওপর ভিত্তি করে লড়াই চলতে থাকুক।’
তবে, অনেকে আশা করছেন, নির্বাচনের আগেই লড়াইয়ে পরিবর্তন আসবে। কয়েক দিন আগে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার পর ব্যবসায়ী জন ক্যাটসিম্যাটিডিস ভবিষ্যদ্বাণী করেন, সেপ্টেম্বরের শেষ হওয়ার আগেই ‘কিছু একটা’ ঘটবে।
মেয়র কয়েক সপ্তাহ আগে বলেছিলেন, এই লড়াইয়ে কনি আইল্যান্ডের রোলার কোস্টারের চেয়েও বেশি বাঁক নিতে পারে। বিভিন্ন দিকে মোড় নেবে। তথ্যসূত্র: সিবিএস নিউজ
![]() |
| যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প,জোহরান মামদানি ও অ্যান্ড্রু কুমো। ফাইল ছবি: রয়টার্স ও এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মার্কিন প্রেসিডেন্টরা কেন পাকিস্তানের শক্তিশালী সেনাপ্রধানদের এত পছন্দ করেন by মোহাম্মদ হানিফ
ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান ক্ষমতা ধরে রাখতে একটি যুক্তি দিতেন। সেটি হচ্ছে—তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাঁদের এই বন্ধুত্বের প্রমাণ অনেক ছবিতে পাওয়া যায়। যেমন ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট জনসনের গালে হাত দিয়ে আদর করছেন। আবার প্রেসিডেন্ট জনসন করাচির রাস্তায় এক উটের গাড়িচালককে জিজ্ঞাসা করছেন, তিনি তাঁর বন্ধু হতে চান কি না।
ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খানের হয়তো তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে কিছু সন্দেহ ছিল। কারণ, তিনি পরে এই সম্পর্ক নিয়ে একটি বই লেখেন। বইটির নাম ছিল ‘ফ্রেন্ডস, নট মাস্টার্স’ (প্রভু নয়, বন্ধু)। এর উর্দু অনুবাদটির নাম আরও কাব্যিক ও আত্মকেন্দ্রিক ছিল—‘যিস রিজ্ক সে আতি হো পারওয়াজ মেঁ কোতাহি’।
এই বইয়ের উর্দু নামটি আমাদের জাতীয় কবি ও দার্শনিক মুহাম্মদ ইকবালের একটি কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে। এর অর্থ, ‘যুক্তরাষ্ট্র আমাদের যা কিছু দিক না কেন, তা আমাদের এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা দিতে পারবে না।’
পাকিস্তান একটি কৃষিপ্রধান দেশ এবং এই দেশের জমি খুবই উর্বর। তাই যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে খাবার নেওয়ার কোনো দরকার ছিল না। কিন্তু ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খানের দরকার ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন। কারণ, তিনি দেশের রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন করতে এবং তাঁর প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ সেনাবাহিনীকে দেখাতে চেয়েছিলেন, তিনি পশ্চিমা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী মানুষটির খুব কাছের বন্ধু।
বিনিময়ে সামরিক একনায়ক এবং করাচির উটের গাড়িচালকের সঙ্গে বন্ধুত্ব ছাড়া লিন্ডন জনসন কী চেয়েছিলেন। স্নায়ুযুদ্ধের সময়কালে তিনি চেয়েছিলেন আসলে ভূ-কৌশলগত সম্পর্ক। যার ফলে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের উত্তর দিকে একটি বিমানঘাঁটি ব্যবহার করে সোভিয়েত ইউনিয়নের ওপর নজরদারি চালাতে পারে।
এখন আমার বয়স হচ্ছে প্রায় ৬০ বছর। এই সময়ে পাকিস্তানে দ্বিতীয় ফিল্ড মার্শাল এসেছেন। গত মে মাসে ভারতের সঙ্গে একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু বিপজ্জনক সংঘাতের পরপরই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আসিম মুনিরকে ফিল্ড মার্শাল পদে উন্নীত করা হয়। তিনি পাকিস্তানের প্রথম সেনাপ্রধান, যাঁকে কোনো রকম সামরিক অভ্যুত্থান না করলেও হোয়াইট হাউসে একটি সরকারি মধ্যাহ্নভোজের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধানের সঙ্গে দেখা হওয়ায় তিনি সম্মানিত। পাকিস্তান ট্রাম্পকে সেই সম্মানের জন্য মনোনীত করেছে, যা তিনি খুব করে চাচ্ছেন—নোবেল শান্তি পুরস্কার।
পাকিস্তানে নামে একটি গণতন্ত্র আছে—সংসদ, প্রধানমন্ত্রী, বিচারব্যবস্থা ও নামে স্বাধীন হলেও নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম আছে। কিন্তু দুই বছর আগে দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা ইমরান খানকে কারাগারে পাঠানোর পর এখন সেনাবাহিনীই সবকিছুর সিদ্ধান্ত নেয়। তাই ট্রাম্প সাধারণ রাজনীতিবিদদের সঙ্গে সময় নষ্ট না করে সেই মানুষটির সঙ্গে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়েছেন, যিনি আসলে সব ক্ষমতা রাখেন। ট্রাম্পের এই উদ্যোগে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
যুক্তরাষ্ট্র সব সময়ই পাকিস্তানের সামরিক একনায়কদের পছন্দ করে। কারণ, তাদের গোপন ও প্রকাশ্য কৌশলগত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের জন্য তারা সামরিক একনায়কদের এক জায়গায় সব সুবিধা পাওয়ার মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। ১৯৮০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্র জেনারেল জিয়াউল হকের নৃশংস সামরিক স্বৈরশাসনকে সাহায্য করেছিল। কারণ, তিনি আফগানিস্তানে সোভিয়েত বাহিনীকে পরাজিত করতে ওয়াশিংটনকে সাহায্য করছিলেন।
যখন জেনারেল পারভেজ মোশাররফ ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে একটি নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেন, তখন তিনি আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে হয়ে পড়েন।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে হামলার পর তৎকালীন জর্জ বুশ প্রশাসন জেনারেল মোশাররফের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে। কারণ, আফগানিস্তানে হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তাঁর সহযোগিতা দরকার ছিল। এই নতুন সম্পর্কটি যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তানের পুরোনো সম্পর্কের মতোই শুরু হয়েছিল।
জেনারেল মোশাররফ দাবি করেছিলেন, ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, যদি পাকিস্তান সহযোগিতা না করে তাহলে পাকিস্তানকে বোমা মেরে প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। একজন জেনারেলের আর কী করার থাকতে পারে? তিনি পূর্ণ সহযোগিতার প্রস্তাব দেন এবং আফগানিস্তানে তাদের তালেবান ভাইদের ওপর বোমা মারতে যুক্তরাষ্ট্রকে পাকিস্তানের বিমানঘাঁটিগুলো ব্যবহারের সুযোগ করে দেন।
এই সম্পর্ক সত্যিই ফুলেফেঁপে উঠেছিল। জেনারেল মোশাররফ ওয়াশিংটনের জন্য একজন পুরস্কার বিজয়ীর মতো কাজ করতে থাকেন। তিনি তালেবান নেতাদের এমনকি তাঁদের পাকিস্তানে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকেও যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেন।
মার্কিনরা তাঁদের মুখ, হাত–পা বেঁধে গোপন জায়গায় পাঠাত অথবা গুয়ানতানামো বেতে বিমানে তুলে দিত। অনেক সময় শুধু সংখ্যা বাড়ানোর জন্য নির্দোষ পাকিস্তানি নাগরিকদেরও মার্কিনদের হাতে তুলে দেওয়া হতো।
ইসলামাবাদে যখন বেসামরিক সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তখন বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের সম্পর্ক খারাপ হয়েছে। তখন পররাষ্ট্রবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা এই নোংরা সম্পর্ক বোঝাতে নানা উপমা ব্যবহার করেন। যেমন প্রতারিত, ব্যবহৃত ও ফেলে দেওয়া, অপমানিত প্রেমিক-প্রেমিকা—সবকিছুই এই বিষাক্ত সম্পর্কের বর্ণনায় ব্যবহৃত হয়েছে।
হিলারি ক্লিনটন ইসলামাবাদে এসে যখন একটি আলোচনা সভায় পাকিস্তানিদের বললেন, তারা নিজেদের উঠানে সাপ পুষছে। তখন যুক্তরাষ্ট্রকে এমন এক ‘শাশুড়ি’ আখ্যায়িত করা হয়েছিল, যিনি কখনো সন্তুষ্ট হন না।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে পাকিস্তানের ওপর অসন্তুষ্ট ছিলেন। তিনি পাকিস্তানের সামরিক প্রতিষ্ঠানকে প্রতারক বলে বর্ণনা করেছিলেন। কারণ, ইসলামাবাদ আফগানিস্তানে ওয়াশিংটনের চাহিদা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছিল।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে সেই পুরোনো প্রেম আবার ফিরে এসেছে। তাদের এই সম্পর্কের ভিত্তি সেই পুরোনো কারণ—‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে’ তাদের ‘সহযোগিতা’। গত বছর পাকিস্তান সেনাবাহিনী একজন আফগান নাগরিককে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেয়। ওই ব্যক্তি কাবুল বিমানবন্দরে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী বলে অভিযোগ রয়েছে।
কাবুলে সেই হামলায় ২০০ জনের বেশি আফগান এবং ডজনখানেক মার্কিন নিহত হয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর প্রথম ‘স্টেট অব দ্য নেশন’–এর ভাষণে পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানান।
ডোনাল্ড ট্রাম্পই প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট নন, যিনি পাকিস্তানের এই শক্তিশালী সেনাবাহিনীকে দেখে ভেবেছেন, তিনি তাদের কোনো কাজে লাগাতে পারবেন। ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও প্রথম পাকিস্তানি জেনারেল নন, যিনি বিশ্বাস করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা, যাতে কিছুটা প্রভুত্ব এবং কিছুটা বন্ধুত্ব আছে। পাকিস্তানে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রভাব বেশ কাজে লাগে।
আসিম মুনিরের সেনাবাহিনী এখন পাকিস্তানকে বেশ চেপে ধরে রেখেছে। তারা নিজেদের পছন্দমতো শাসক দল বেছে নিতে পারে, বিরোধী দল ঠিক করে দিতে পারে, আদালতকে প্রভাবিত করতে পারে, নির্বাচনে কারচুপি করতে পারে। তাদের ব্যবসার সাম্রাজ্য এখন আগের চেয়েও বেশি বিস্তৃত। আবাসন থেকে শুরু করে সার, সকালের নাশতা থেকে বিনোদন পার্ক—সবকিছুতেই তাদের ব্যবসা আছে।
কিন্তু পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি বিশেষ দক্ষতা আছে। আর তা হলো পেশাদার সৈন্য হিসেবে কাজ করা। সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে ছোটখাটো সংঘর্ষে তারা তাদের দক্ষতা ও প্রস্তুতি দিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের অবাক করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেলরা সম্ভবত লক্ষ করেছেন, তাঁদের পুরোনো মিত্রটি এখনো শিকার করতে পারে।
তবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী যখন ভারতের বিরুদ্ধে নিজেদের বিজয় দাবি ও তা উদ্যাপন করছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ফিল্ড মার্শাল মুনিরের মধ্যাহ্নভোজ নিয়ে গর্ব করছে, তখন দেশের ভেতরে তাদের জনপ্রিয়তা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জনসংযোগ শাখা, ইন্টার সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর), তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আসসালামু আলাইকুম’ লিখলেও রাজনৈতিক বিরোধীদের কাছ থেকে প্রচুর গালাগালি ও অপমানজনক মন্তব্য শুনতে হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক পাকিস্তানের ভেতরে জনপ্রিয়তার নিশ্চয়তা দেয় না। মানুষ তাদের কৌশলগত জোট এবং পাকিস্তানের ‘বিশাল তেলভান্ডার’ খোঁজার প্রতিশ্রুতির আড়ালে কী আছে, তা বুঝতে পারে। ট্রাম্প আমাদের দেশে তেল আবিষ্কারের কথা বলার পর পাকিস্তানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হাস্যরসে ভরে যায়। আমাদের পছন্দের কিছু খাবার বানাতে আমরা যেই রান্নার তেল ব্যবহার করি, তার পাত্রের ছবি দিয়ে লোকজন মিম তৈরি করেছে। এমনকি সবচেয়ে সরল পাকিস্তানিরাও বিশ্বাস করে না, পাকিস্তানে কোনো তেলভান্ডার আছে।
আগেও আমরা এই প্রেমের গল্প দেখেছি। এর শেষটা কখনোই ভালো হয়নি। এর শেষ হয়েছিল যখন আফগানিস্তানে শত শত নাগরিক মার্কিন বিমানে উঠতে গিয়ে ঝুলে থেকে পড়ে মারা গিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর অংশগ্রহণের কারণে দুই দশকে ৭০ হাজারের বেশি পাকিস্তানি নিহত হয়েছেন। দেশের অর্থনীতি বাঁচাতে কয়েক মাস পরপরই পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে যেতে হয়েছে।
পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের মধ্যে মার্কিন ক্ষমতার বিরুদ্ধে চাপা ক্ষোভ আছে। শাসকদের ওপর জনগণ অসন্তুষ্ট হলে সেটি ঘৃণা হয়ে বিস্ফোরিত হয়। কারণ, তারা তাদের শাসকদের যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতারই অংশ হিসেবে দেখে।
ওয়াশিংটনে তাঁদের পৃষ্ঠপোষকদের সঙ্গে শাসকদের সম্পর্ক পরীক্ষা করার জন্য একটি দেয়াশলাই যথেষ্ট। একজন রাজনৈতিক কর্মী আমাকে একবার বলেছিলেন, যখনই তাঁদের দল ক্ষমতায় থাকে এবং তাঁদের কোনো দাবিদাওয়া থাকে, তখন তাঁদের শুধু একটি মার্কিন পতাকা, একটি দেয়াশলাইয়ের বাক্স আর একটি ক্যামেরা লাগে।
ওই কর্মী বলেছিলেন, ‘যদি আপনারা আমাদের দাবি মেনে না নেন, তাহলে আমরা এই দিয়াশলাই দিয়ে মার্কিন পতাকায় আগুন লাগাব এবং একটা ছবি তুলব। তারপর দেখব, যুক্তরাষ্ট্র আসলে আপনাদের সম্পর্কে কী ভাবে। বন্ধু? প্রভু? নাকি সেই পুরোনো দ্বিমুখী মিত্র, যে এখনো শিকার করতে পারে।’
![]() |
| আইয়ুব খান ও পারভেজ মোশাররফ। ফাইল ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1427)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
September
(221)
-
▼
Sep 06
(8)
- মনে হচ্ছে ‘অন্ধকারতম’ চীনের কাছে ভারত-রাশিয়াকে হার...
- একসময় ট্রাম্প ছিলেন ভারতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু, হঠাৎ সব ও...
- মৃত্যুর পর ‘নিরাপদে শেষ ঘুমের’ গ্যারান্টি চাই by ক...
- যুক্তরাষ্ট্র-ভেনেজুয়েলা: আরও একটি যুদ্ধ আসন্ন!
- গাজায় ভয়াবহ হামলা, পালাচ্ছে মানুষ, মাটি কামড়ে পড়ে ...
- রাজবাড়ীতে নুরাল পাগলার দরবার থমথমে, থানায় অভিযোগ দ...
- ট্রাম্পকে কেন বিতর্কে আসার জন্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল...
- মার্কিন প্রেসিডেন্টরা কেন পাকিস্তানের শক্তিশালী সে...
-
▼
Sep 06
(8)
-
▼
September
(221)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...




