Friday, December 6, 2013

ম্যান্ডেলার জন্য শোকাহত তারকাজগৎ

বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার মৃত্যুতে যখন শোকাহত সারাবিশ্ব, তখন সেই শোকের মিছিলে যোগ দিয়েছেন বিনোদনজগতের শিল্পীরাও।
সংগীতশিল্পী বনো, অভিনেতা মরগ্যান ফ্রিম্যান থেকে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সব বয়সী শিল্পীরা জানিয়েছেন ম্যান্ডেলার প্রতি তাদের শেষ শ্রদ্ধা।

জরুরি অবস্থা জারি হবে আত্মঘাতী: আনু মুহাম্মদ

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, জরুরি অবস্থা জারি করলে তা হবে আত্মঘাতী। সরকার যদি পরিস্থিতি সামলাতে না পেরে জরুরি অবস্থা জারি করে, তাহলে তা কারও জন্যই ভালো ফলাফল বয়ে আনবে না।
আজ শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগে বিকেল চারটার দিকে লেখক-শিল্পী-সংস্কৃতি কর্মী-পেশাজীবী-শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক কর্মীদের বিভিন্ন ব্যানারে আয়োজিত এক সমাবেশে আনু মুহাম্মদ এসব কথা বলেন।

বিরোধী দলের উদ্দেশে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘আপনারা আন্দোলনের নামে জনগণকে অবরুদ্ধ করে রাখতে পারেন না। পারলে সরকারকে অবরুদ্ধ করেন, মন্ত্রণালয় অবরোধ করেন। জনবিচ্ছিন্ন আন্দোলন না করে জনগণের কাছে যান, নিজেদের জনপ্রিয়তা পরীক্ষা করেন।’ সমাবেশে সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘দেশ আজ দুই রাজনৈতিক দলে বিভক্ত হয়ে গেছে, এটা আমি মনে করি না। আমি মনে করি, দেশ আজ দুটি ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একদিকে বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামায়াত ও জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দ; আরেক দিকে ১৬ কোটি মানুষ।  জনগণ জনগণের পক্ষেই আছে। অথচ দুই বড় দল দাবি করছে জনগণ তাদের পক্ষে আছে। ওই চার দলের মৌলিক নীতিতে কোনো পার্থক্য নেই। দেশের রাজনীতির ভবিষ্যত্  আজ দূতাবাসে বসে বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা এসে ঠিক করছেন। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘যখন আওয়ামী লীগ আমেরিকাকে খুশি করতে টিকফা চুক্তি করে, তখন প্রধান বিরোধী দল আমেরিকাকে আরও খুশি করতে টিকফা চুক্তির সমর্থন জানায়। প্রভুদের খুশি করতে এই দুই দলের নীতিতে কোনো পার্থক্য নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজ স্বৈরাচার মুক্ত দিবস। এই দিনে জেনারেল এরশাদের পতন হয়েছিল। এরশাদের পতন আন্দোলনে নূর হোসেনের বুকে লেখা ছিল “স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক।” কিন্তু স্বৈরাচার নিপাত যায়নি, গণতন্ত্রও মুক্তি পায়নি। স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতীক এরশাদ এখনো বাংলাদেশের রাজনীতির ক্ষমতায় কে যাবে তা নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা পালন করছে। একদল স্বৈরাচারকে কাছে টানছে, আরেক দল রাজাকারকে কাছে টানছে। এই দুই নীতিহীন রাজনৈতিক ধারার বিরুদ্ধে জনগণের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। লড়াইয়ের মাঠে নামতে হবে।’

সাংস্কৃতিক কর্মী অরূপ রাহীর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন অধ্যাপক স্বপন আদনান, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকী প্রমুখ।

ম্যান্ডেলার যত বিচ্ছেদ-বেদনা

বর্ণবৈষম্যের অন্ধকারে ডুবে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকায় সাম্যের আলোকবর্তিকা হয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন মহামানব নেলসন ম্যান্ডেলা।

দেশে-বিদেশে সমান সমাদৃত এ মানুষটির ব্যক্তিজীবন ছিল আগাগোড়া বেদনায় মোড়া। আজ শুক্রবার এনডিটিভির অনলাইনের এক প্রতিবেদনে তাঁর পারিবারিক জীবনের সেই দুঃখগাথার চিত্র উঠে এসেছে। ১৯৪৭ সালে ম্যান্ডেলা ও তাঁর প্রথম স্ত্রী ইভলিন নিতোকোর কন্যাসন্তান মাকাজিউয়ে মাত্র নয় মাস বয়সে মারা যায়।

১৯৬৯ সালে ম্যান্ডেলার বড় ছেলেসন্তান মাদিবা থেমবেকাইলি একটি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। ওই সময় আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের সামরিক শাখা তৈরির দায়ে রোবেন আইল্যান্ডে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন তিনি। ওই সময় তাঁকে ছেলের শেষকৃত্যানুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার অনুমতি দেয়নি তত্কালীন সরকার। এর ঠিক এক বছর আগে ম্যান্ডেলার মা মারা যান। মায়ের শেষকৃত্যানুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার অনুমতিও পাননি ম্যান্ডেলা।

আত্মজীবনী ‘লং ওয়াক ফর ফ্রিডম’ গ্রন্থে প্রিয়জনদের শেষকৃত্যানুষ্ঠানে যোগ দিতে না পারার বেদনার কথা উল্লেখ করেছেন ম্যান্ডেলা। তিনি নিজের প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, ‘পরিবারের চেয়ে মানবকল্যাণকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে আমি কি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি?’

প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ম্যান্ডেলার বিচ্ছেদ হয় ১৯৫৮ সালে। একই বছর জুন মাসে উইনি মাদিকিজেলাকে বিয়ে করেন তিনি। সে বিয়েও টেকেনি। ১৯৯০ সালে ম্যান্ডেলা দীর্ঘ কারাবরণ থেকে ফিরে আসার ঠিক দুই বছরের মাথায় তাঁরা আলাদা থাকতে শুরু করেন। ১৯৯৬ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়।

২০০৫ সালে ম্যান্ডেলার আরেক ছেলে এইডসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর এইডসবিরোধী প্রচারে নামেন বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের এ নেতা।

২০০৯ সালে ম্যান্ডেলার প্রাণপ্রিয় নাতনি জেনানি ম্যান্ডেলা মাত্র ১৩ বছর বয়সে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।

রোববার ঢাকায় ২৪ ঘণ্টা হরতাল

সাদেক হোসেন খোকাসহ দলের নেতাদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আগামী রোববার ভোর ছয়টা থেকে সোমবার ভোর ছয়টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার হরতাল ডেকেছে ঢাকা মহানগর বিএনপি।

আজ শুক্রবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঢাকা মহানগর বিএনপি এই ঘোষণা দিয়েছে।

এদিকে কাল শনিবার ভোর ছয়টা থেকে মঙ্গলবার ভোর ছয়টা পর্যন্ত ৭২ ঘণ্টার অবরোধের ডাক দিয়েছে ১৮-দলীয় জোট। এ অবরোধের মধ্যে হরতাল ডাকা হলো।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকার গ্রেপ্তার প্রতিবাদে ও দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ঢাকা মহানগরের সদস্যসচিব আবদুস সালামসহ শীর্ষ নেতাদের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাকা মহানগরে রোববার (৮ ডিসেম্বর) ভোর ছয়টা থেকে সোমবার ভোর ছয়টা পর্যন্ত হরতাল ডাকা হয়েছে। আজ ঢাকা মহানগর বিএনপির এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

হাজারীর মনোনয়ন বাতিল

গ্যাস বিল বকেয়া থাকায় ফেনী-১ ও ৩ আসনে ফেনীর সাবেক এমপি ও  আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা জয়নাল আবেদিন হাজারীর মনোনয়ন বাতিল করেছে জেলা রিটার্নিং অফিসার।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে ১ আসন ও দুপুরে ৩ আসনের শুনানি শেষে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির খোন্দকার শুনানি শেষে এ মনোনয়ন বাতিলের ঘোষণা দেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, ১১ বছর ৮ মাসের গ্যাস বিল বকেয়া থাকায় ফেনী-১ (পরশুরাম ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া) আসন ও ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) আসনে জয়নাল আবেদিন হাজারীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। একই কারণে ফেনী-৩ আসনের মনোনয়ন বাতিল  করা হয়। এসময় জয়নাল আবেদিন হাজারী উপস্থিত ছিলেন। ফেনী-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া খায়রুল বাসার তপন ও জাসদের কেন্দ্রীয় নেত্রী শিরিন আক্তারের মনোনয়ন ছাড়া জয়নাল আবেদিন হাজারী ছাড়াও জাতীয় পার্টির প্রার্থী গোলাম মাওলা চৌধুরী, বিএনএফের শাহরিয়ার কবিরের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।  ফেনী-৩ আসনে ৪ জন প্রার্থীর মধ্যে শুধু জয়নাল আবেদিন হাজারীর গ্যাস বিল বকেয়া থাকায় বাতিল করা হয়। এ আসনে বাকি ৩ জন প্রার্থী হলেন- আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল বাসার, জাতীয় পার্টির রিন্টু আনোয়ার ও স্বতন্ত্র হাজী রহিম উল্লাহ।

জাপার মন্ত্রীরা তফসিল পরিবর্তনের অনুরোধ করেছেন: এরশাদ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নির্বাচনকালীন সরকারে থাকা জাতীয় পার্টির মন্ত্রীরা তফসিল পরিবর্তন করার অনুরোধ করেছেন।
আজ শুক্রবার রাত আটটার কিছু আগে এরশাদ তাঁর বাসভবনে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। তবে তিনি আজও বলেছেন সব দলের অংশগ্রহণ ছাড়া জাতীয় পার্টি নির্বাচনে যাবে না।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচনকালীন সরকারে যোগ দেওয়া তিন মন্ত্রী রওশন এরশাদ, রুহুল আমিন হাওলাদার ও মুজিবুল হক চুন্নু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে চান। সে সময়ে তাঁরা তফসিল পরিবর্তনের অনুরোধ জানান।

এ দিকে আজ দুপুর ১২টার দিকে পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন তাকে ভিত্তিহীন বলেছেন এরশাদ। তিনি বলেছেন তাঁর সঙ্গে সরকারের কোনো রকম যোগাযোগ হয়নি। এগুলো গুজব। বিরোধী দলের সঙ্গেও তাঁর কোনো যোগাযোগ হয়নি বলে জানান তিনি।

এখন পর্যন্ত দলটির দুই প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু ও আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এরশাদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেননি। তবে এরশাদ বলেছেন তাঁরা পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। 

আইনশৃঙ্খলার ‘সাফল্যজনক অগ্রগতি’? আট দিনে ৫০টি প্রাণ

রাজনৈতিক আন্দোলনের নামে দেশে যা হচ্ছে, তা দুর্বৃত্তপনা ছাড়া আর কিছুই নয়। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলার সঙ্গে সম্পর্কিত। আর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের।
বর্তমান রাজনৈতিক সহিংসতা ও বর্বরতায় দেশবাসী যখন বিক্ষুব্ধ, হতবাক, তখন সরকারের একজন মন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ‘সাফল্যজনক অগ্রগতি হয়েছে’ বলে মন্তব্য করে কার্যত দেশবাসীর সঙ্গে তামাশাই করলেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে গত বুধবার ভূমি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর এই মন্তব্যের দিনই সহিংসতায় সারা দেশে প্রাণ হারিয়েছে নয়জন। এটা ঠিক যে আন্দোলন ও অবরোধ কর্মসূচির সময় ঘটে যাওয়া এসব দুর্বৃত্তপনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ বিরোধী দল যতই অস্বীকার করুক, যেসব নৃশংসতা ও বর্বরতা ঘটেছে, এর দায় তারা কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। কিন্তু এসব ঠেকানোর দায় সরকার কোনোভাবেই উপেক্ষা করতে পারে না। সরকার হয়তো চেষ্টা করেও তা বন্ধ করতে পারছে না, কিন্তু তাই বলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে দাবি করার সুযোগ কই!
দেশে সম্প্রতি বিরোধী দলের দুই দফা অবরোধ কর্মসূচি পালিত হলো। এ সময় প্রাণ হারিয়েছে ৫০ জনেরও বেশি মানুষ। নাটবল্টু খুলে দেশের বিভিন্ন স্থানে ট্রেন লাইনচ্যুত করা হচ্ছে, এতে মানুষ মরছে। যানবাহনে হামলা হচ্ছে, আগুন দেওয়া হচ্ছে, বোমা মারা হচ্ছে, এসব ঘটনায় মানুষ মরছে। বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজনের সঙ্গে সংঘর্ষেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। সম্পদ ধ্বংস হচ্ছে, গাছ কেটে রাস্তায় ব্যারিকেড দেওয়া হচ্ছে এবং রাস্তা কেটে যোগাযোগ বন্ধ করার ঘটনাও ঘটেছে। আট দিনে ১৯ জেলায় সহিংসতায় ৫০ জনের মৃত্যু কি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির ইঙ্গিত দিচ্ছে? মন্ত্রী শুধু এই মন্তব্য করেই ক্ষান্ত থাকেননি, তিনি গণমাধ্যমের সমালোচনা করে বলেছেন, মিডিয়া প্রকৃত চিত্র তুলে না ধরে মাত্র কিছুসংখ্যক গাড়ি পোড়ানোর চিত্র তুলে ধরছে। বিষয়টি কি আসলেই তাই?
রাজনৈতিক সহিংসতায় দেশের মানুষ চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছে। কারণ, দেশের সাধারণ মানুষই এর শিকার হচ্ছে। পুড়ে মানুষ মরছে, মরছে মাথায় ককটেল ফুটে। এই অবস্থায় উদ্বিগ্ন জনগণকে আশ্বস্ত এবং তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়টিই সরকারের কাছ থেকে প্রত্যাশিত। সেদিকে মনোযোগী না হয়ে সরকার একদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির অসত্য দাবি করছে, অন্যদিকে গণমাধ্যমের ওপর দায় চাপিয়ে দিচ্ছে।
বাস্তবতাকে অস্বীকার করা কাজের কথা নয়। সরকারকে দেশের ভয়াবহ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই আন্দোলনের নামে
এই দুর্বৃত্তপনা ও নৃশংসতার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অন্যদিকে, দেশে রাজনৈতিক যে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে,
সেটাকে অন্য কোনো পথে না গিয়ে রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করতে হবে।

ঐকমত্যের সন্ধানে

জনগণের কণ্ঠস্বর শ্রবণ করুন
জনগণ একটি কার্যকর গণতন্ত্রের জন্য প্রতীক্ষায় ব্যাকুল। স্বাধীনতার প্রত্যয় ছিল, ক্ষমতা জনগণের কাছে থাকবে এবং তা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত একটি কার্যকর সংসদের মধ্য দিয়ে তার প্রয়োগ ঘটবে। আমাদের এমন রাজনৈতিক দল দরকার, যারা তৃণমূল থেকে শক্তি সঞ্চয় করবে। যথাযথভাবে ক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দল আজ নেই। এর অভাবে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও তার চর্চা রাজনীতি থেকে মুছে গেছে। এখন আপনারা গণতন্ত্রের মুখোশটাই দেখছেন। এর আড়ালে ঢাকা পড়ে আছে দল এবং রাষ্ট্র পরিচালনাগত স্বৈরতান্ত্রিক চেহারা। সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনর্জীবন এবং চারটি সাধারণ নির্বাচন (১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮) অনুষ্ঠান সত্ত্বেও কার্যকর গণতন্ত্রের জন্য জনগণের প্রত্যাশা অপূরণীয় থেকে গেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর অপব্যবহার ঘটেই চলেছে। তাদের মধ্যে গণতান্ত্রিক শাসন অনুপস্থিত। ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাহিদার প্রতি তাদের ঝোঁক প্রচণ্ড ও সুস্পষ্ট। এসবই রুগ্ণ থেকে রুগ্ণতর করে তুলছে রাজনীতিকে। এর সর্বনাশা প্রতিক্রিয়ায় সরকারগুলো হয়ে পড়েছে ‘ক্ষমতাসীন দলের কোটারির’ দ্বারা, ‘ক্ষমতাসীন দলের কোটারির’ জন্য এবং ‘ক্ষমতাসীন দলের কোটারি’ শাসন। রাজনৈতিক দলগুলো তৃণমূল থেকে শক্তি আহরণের কোনো চেষ্টাই করছে না। বরং তারা শীর্ষ অবস্থান থেকে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার ভয়ানক প্রবণতা দেখিয়ে চলেছে।
দলের একজন নেতার হাতে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা কুক্ষিগত হয়েছে। মনোনয়ন-প্রক্রিয়ায় স্থানীয় জনসাধারণের মতামতের প্রতিফলন ঘটছে না। এটা এখন ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কথিতমতে এটা এখন প্রায়শ মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে খরিদ করা হচ্ছে। কতিপয় রাজনৈতিক পরিভাষা রুগ্ণ রাজনীতির আলামত বহন করছে। যেমন ‘মনোনয়ন বাণিজ্য’ মনোনয়নপত্র কেনাবেচার ইঙ্গিত বহন করছে। ‘ভোটারবিহীন নির্বাচন’ প্রমাণ বহন করছে উপচে পড়া ব্যালট বাক্সের। এমনকি ভোটাররা যেখানে অনুপস্থিত কিংবা তাদের জবরদস্তি বা ভয় দেখিয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে দেওয়া হয় না, সেখানেও ভোটের বাক্স ভরে যায়। আর ‘মিডিয়া ক্যু’ কথাটি গণমাধ্যমে ভুয়া ফলাফল ঘোষণার লক্ষণবাহী। নির্বাচন-প্রক্রিয়া তিনটি বিষয়ের সংক্রমণে নাজুক হয়ে আছে। অর্থ, পেশিশক্তি ও ক্ষমতার অপব্যবহার। গত কয়েক বছরের ব্যবধানে নির্বাচন করার খরচ হু হু করে বেড়ে গেছে। আইনগত ব্যয়সীমা হচ্ছে পাঁচ লাখ টাকা। এরও লঙ্ঘন চলছে। দায়মুক্তিও চলছে। সম্প্রতি ব্যয়সীমা ২৫ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। তবে তাতে দায়মুক্তিসংক্রান্ত ধারণার কোনো হেরফের ঘটবে না; বরং নিরঙ্কুশ দায়মুক্তির সুবিধা ভোগের মওকা আরও তীব্র হতে পারে।
কারণ, সত্যিই কত খরচ করা হবে, তা তদারকির কোনো বিশ্বাসযোগ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি। নির্বাচন-প্রক্রিয়ায় কালো টাকার অবাধ অনুপ্রবেশ মানুষের ভোটের অধিকার প্রকারান্তরে খর্ব করছে। কারণ, তাঁরা সৎ এবং যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকছেন। ২০ বছর ধরে বারবার একটি ‘বৃহৎ’ দল থেকে আরেকটি ‘বৃহৎ’ দলের কাছে ক্ষমতার হস্তান্তর ঘটেছে। আর তাদের মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার পরে জনগণ অনুশোচনা করেছে। কারণ, তারা দেখেছে তাদের স্মৃতির খাতায় কেবলই বড় বড় বুলি অবশিষ্ট রয়েছে। আর বাস্তবে পরিবর্তন এসেছে যৎসামান্যই। পরিবর্তনের জন্য যেসব প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার অপরিহার্য, তা আগের মতোই চলনশক্তিরহিত। এর পরিবর্তে ‘সংস্কার’ শব্দটিকেই সমাহিত করা হয়েছে। বরং ‘সংস্কারপন্থীদের’ পদাবনতি ঘটেছে। এবং তাঁদের ঠাট্টার পাত্রে পরিণত করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলীয়করণের বিদ্বেষবিষ বিপজ্জনকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। রাষ্ট্রের মুখ্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর যথাযথ পরিচালনা ও পরিচর্যার জন্য নিরপেক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ওই সর্বগ্রাসী দলীয়করণ আমাদের নির্বাচন কমিশন, স্বাধীন বিচার বিভাগ, কার্যকর দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ এবং জনপ্রশাসনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে ন্যুব্জ ও দুর্বল করে রেখেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অধিকতর মেধাবী প্রার্থীদের চেয়ে দলীয় অনুগতদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মকমিশন—সুযোগ্য জনসেবকের নিয়োগ যাদের নিশ্চিত করার কথা,
সেই সংস্থাও দলীয় অনুগতদের কবলে পড়েছে। এতে আইনের শাসন ও নিরপেক্ষ বিচারকার্য পরিচালনায় ক্ষয় এসেছে। বড় বড় দুর্নীতির সঙ্গে যাঁরা যুক্ত, তাঁদের বিচার হয়নি। শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। অথচ তাঁদের কারণে হাজার হাজার মানুষ পথে বসেছে। বড় ধরনের ব্যাংক জালিয়াতি দেশের আর্থিক ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ব্যক্তির জানমালের নিরাপত্তাহীনতার বোধ প্রকট হয়েছে। কারণ, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছ থেকে কার্যকর তদন্ত ও অনুসন্ধান আর আশা করা যায় না। অন্যদিকে দলীয় অনুগতদের জন্য সর্বাত্মক দায়মুক্তি নিশ্চিত করা হয়েছে। এমনকি যাঁরা খুনের মতো মারাত্মক অপরাধের দায়ে দণ্ডিত তাঁদেরও মার্জনা করা হয়। আজ নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, তার মূলে রয়েছে বহুদলীয় ব্যবস্থার মধ্য থেকে নিরপেক্ষতার শিকড় উপড়ে ফেলা। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা অনেকগুলো নির্বাচন বয়কটের কারণ ছিল। ’৮৬-এর সংসদ নির্বাচনের পরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বয়কট হলো। বয়কট হলো ১৯৮৮ সালের সংসদ নির্বাচন। আর এটাই তৎকালীন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে ১৯৯১-এর নির্বাচন এনে দিল। সাংবিধানিক বিধানাবলি থেকে এ ক্ষেত্রে যে বিচ্যুতি ঘটেছিল,
তা শোধরাতে পাস হয়েছিল সংবিধানের একাদশ সংশোধনী। ১৯৯৫ সালে মাগুরার কুখ্যাত উপনির্বাচন ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনকে বয়কটের মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। এরপর সৃষ্টি হলো ৯০ দিন মেয়াদে একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ প্রশাসনের বিধান রেখে ত্রয়োদশ সংশোধনী। ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচন সব বিরোধী দল প্রত্যাখ্যান করেছিল। এর প্রধান যুক্তি ছিল নির্বাচনকালীন সরকারপ্রধানকে নিরপেক্ষ বিবেচনা করা সম্ভব হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে নিরপেক্ষ নির্দলীয় প্রশাসন এবং পুনর্গঠিত নির্বাচন কমিশন ২০০৮ সালের নির্বাচন সম্পন্ন করল। এটা প্রহসনমূলক এবং দুর্ভাগ্যজনক যে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল যারা ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনের সুবিধা পেয়ে সরকার গঠন করল, তারাই কিনা পঞ্চদশ সংশোধনী এনে নির্দলীয় সরকারসংক্রান্ত ত্রয়োদশ সংশোধনীকে বাতিল করে দিল। তারা যুক্তি দিল, সুপ্রিম কোর্ট ত্রয়োদশ সংশোধনীকে অসাংবিধানিক বলে রায় দিয়েছেন। এটা পরিহাসের যে সংবিধান সংশোধনীর জন্য গঠিত একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটির সুপারিশ অগ্রাহ্য করে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করা হলো। অথচ এই বিশেষ কমিটি ২৯ মার্চ ২০১৩ তাদের সুপারিশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বহাল রেখেছিল।
সুপ্রিম কোর্ট তার রায়ে ত্রয়োদশ সংশোধনীকে ভবিষ্যৎ সাপেক্ষে অসাংবিধানিক বলে রায় দিয়েছিলেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট বলে দিয়েছিলেন, দশম সংসদ (২০১৪ সালে অনুষ্ঠেয়) এবং একাদশ সংসদ নির্বাচন বাতিল করে দেওয়া ত্রয়োদশ সংশোধনীর আওতায় হতে পারে। নির্বাচনকালীন প্রশাসন নিয়ে উদ্ভূত চলতি সংকটের অবসান জরুরি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে একটি আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু হতে হবে। সরকার এবং সংসদের সব বিরোধী দলের মধ্যে একটি অর্থবহ সমঝোতা প্রতিষ্ঠা দরকার। ইতিমধ্যে অনেক প্রাণহানি ঘটেছে। যথেষ্ট ধ্বংসযজ্ঞ ও ক্ষয়ক্ষতি আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। যেকোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে প্রধানমন্ত্রীর পূর্ণ নির্বাহী কর্তৃত্ব রয়েছে। কী ধরনের সমঝোতায় পৌঁছা দরকার, সে বিষয়ে জনমত জরিপগুলোতে তার সাধারণ প্রতিফলনও রয়েছে, যা থেকে স্পষ্ট যে সবার অংশগ্রহণ ব্যতিরেকে যদি কোনো একতরফা নির্বাচন হয়, তাহলে তা জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করবে না। দেশটিকে খাদের কিনারায় না ঠেলে দিতে আমাদের এখনো সুযোগ রয়েছে। আমাদের জনগণের কণ্ঠস্বর শ্রবণ করুন এবং অন্য সব ধরনের দলীয় উদ্বেগ ও দৃষ্টিভঙ্গির ওপরে জাতীয় স্বার্থ প্রাধান্য দিন।
ড. কামাল হোসেন: সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বিকল্প কর্মসূচি বের করুন- আবার অবরোধ কাম্য নয়

আমরা চাই সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন। প্রধান বিরোধী দলকে বাদ দিয়ে নির্বাচন শেষ পর্যন্ত প্রহসনে পরিণত হয়। এর গ্রহণযোগ্যতা থাকে না।
অতীতে বারবার তা দেখা গেছে। তাই বিরোধী দলের আন্দোলনের যৌক্তিক ভিত্তি রয়েছে। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন যেন নাশকতা, পেট্রলবোমা, রেললাইন উপড়ে ফেলে মানুষ মারার আন্দোলনে পরিণত না হয়, সেটাও তাদের দেখতে হবে। দায়িত্বশীল কোনো রাজনৈতিক দল এ দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে না।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোট আগামীকাল শনিবার থেকে আবারও ৭২ ঘণ্টার অবরোধ ডাকায় প্রশ্ন ওঠে, বারবার একই ধরনের কর্মসূচি দিয়ে, সাধারণ মানুষের ব্যাপক প্রাণহানি ঘটিয়ে কি কোনো সমাধানে পৌঁছা যাবে? এর পরিণাম যে আরও নাশকতা, তাতে সন্দেহ নেই। জনসমর্থনপুষ্ট একটি রাজনৈতিক দল এ ধরনের সহিংসতা ও নাশকতার পথে নামতে পারে না। কারণ, কিছু সমাজবিরোধী লোক এ ধরনের বিচার-বিবেচনাহীন কর্মসূচির সুবিধা নিয়ে নানা অঘটন ঘটায়। এর পরিণামে দল জনসমর্থন হারায়।
গত আট দিনের অবরোধে অন্তত ৫০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। অনেকেই আহত হয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছে। এরপর আবার শনিবার থেকে টানা ৭২ ঘণ্টার অবরোধ দেওয়া সমীচীন কি না, তা বিরোধী দলকে ভেবে দেখতে হবে।
বিরোধী দলের বিকল্প কর্মসূচি বের করা দরকার। সমঝোতার জন্য আলোচনার দরজাও খোলা রাখতে হবে। গণতান্ত্রিক দেশে আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো সমস্যার মীমাংসা করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্বই বেশি। পাশাপাশি বিরোধী দলকেও নমনীয় মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। অন্যদিকে সরকারকেও সহনশীল হতে হবে। শুধু পুলিশি ব্যবস্থায় এ ধরনের সমস্যার সমাধান হয় না।
বিরোধী দলের একই ধরনের সহিংস কর্মসূচির পুনরাবৃত্তি কাম্য নয়। আর একটি মৃত্যুও নয়। রেললাইন উপড়ে ফেলার মতো অমানবিক নাশকতার পথ পরিত্যাগ করতে হবে। বাসে পেট্রলবোমা ছুড়ে নিরীহ যাত্রী হত্যা এখনই বন্ধ করতে হবে।
এই বিবেচনায় বিরোধী দল শনিবার থেকে ৭২ ঘণ্টার অবরোধ প্রত্যাহার করে বিকল্প কর্মসূচি গ্রহণ করুক। নিরীহ মানুষ প্রাণে বাঁচুক।

আহ্ এরশাদ! উহ্ গণতন্ত্র!

আহা এরশাদ! আত্মহত্যা ঘোষণার পরদিন সকালে তিনি ‘ভালো’ আছেন! তাঁর গুলিভরা চারটি পিস্তল বা চারটি গুলিভরা একটি পিস্তলও ঘুমিয়ে আছে। জাগিবার গাঢ় বেদনার স্বাদ তাদের নিতেও হয়নি, দিতেও হয়নি। সবই বেশ শান্তি শান্তি, কল্যাণ কল্যাণ হয়ে আছে। সকালবেলা ঘুম ভেঙে এরশাদেরও মনে হয়েছে, তিনি ভালো আছেন! এই লারেলাপ্পা দেখে কারও মনে হতেই পারে, ২৩ বছর আগে এই দিনে তাঁর পতন হলেও যিনি আত্মহত্যার কথা চিন্তাও করেননি, সেই তিনি এখন আত্মহত্যার হুমকি দিচ্ছেন! বলতে পারেন, সেই তো নথ খসালি, তবে কেন লোক হাসালি! জবাবে এরশাদ হিন্দি নায়ক শাহরুখের গানের ভাষায় বলবেন, ‘সুরুয হুয়া মধ্যম।
ম্যায় ঠেহরা রাহা, জমি চলনে লাগি’। আমি তো দাঁড়িয়ে আছি, মাটিই তো চলা শুরু করেছে। রাজনীতির জমিতে কত ঘন ঘন ভূমিকম্প হচ্ছে, এরশাদের ডিগবাজির অভিনবত্ব তার প্রমাণ। কারণ, ক্ষমতার সূর্য তাঁর ওপর তাপ ঢালছে। এরশাদ হলেন ক্ষমতার গলায় ঝোলানো ঘন্টি। ক্ষমতা যত কাঁপে, তিনিও ততই বাজেন। সব ফুলে নৈবেদ্য হয় না। ধুতরা ফুলের মালা কেউ গলায় পরে না। এরশাদের আত্মদানে গণতন্ত্রের কোনো কাজ নেই। দান করার মতো তাঁর কিছুই নেই, নেওয়ার আছে অনেক কিছু। তাঁকেও আমাদের দরকার অন্য কারণে। তিনি না থাকলে কীভাবে বুঝতাম, পর্দার অন্তরালে কত খেলা, কত কেনাবেচাই না চলছে! এ মুহূর্তে তিনিই বাংলাদেশের কেনাবেচার রাজনীতির ব্যারোমিটার। তাঁকে দিয়েই রাজনীতির আদর্শ, ঐক্য, নির্বাচন ইত্যাদির পরিহাস ধরা পড়ে। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বরের আগে এরশাদ ছিলেন রাজনৈতিক ইঞ্জিনিয়ারিং তথা দল-নেতা-এমপি কেনাবেচার সওদাগর। এভাবেই তিনি দল গড়েছিলেন, এভাবেই তাঁর আমলে ‘সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ’ সর্বদলীয় নির্বাচন করিয়ে নিয়েছিলেন। এখন তিনি রাজনীতির বাজারের পণ্য।
পার্থক্যটা এখানেই, আগে তাঁর কাছে নেতা-নেত্রীরা বিক্রি হতেন, এখন তিনি বিক্রি হন। আগে যাঁদের কিনতে চাইতেন, এখন তাঁরাই তাঁকে কিনে রাখতে চান। তাই কেউ যদি শুধান, এরশাদ তুমি কার? উত্তর: যে দেবে বেশি, আমি হব তার। গত এক মাসে এরশাদের ভোল বদলানো দেখে অনেকের মাথা ঘুরে যাওয়ার কথা। একবার এক শিয়াল বনমোরগকে ধরবার ফন্দি হিসেবে তার সামনে লেজটাকে চরকির মতো ঘুরানো শুরু করল। মোরগ ভাবে, এ কী রে? লেজ দিয়ে শিয়াল কী-না-কী করে, সেই উত্তেজনায় মোরগ তার ঘুরন্ত লেজে নজর সেঁটে রাখল। এই করতে করতেই তার নিজের মাথা এমনই ঘুরতে শুরু করল যে, সে ডাল থেকে অজ্ঞান হয়েপড়ল মাটিতে। রাতের ভোজটা জম্পেশ হলো শিয়ালের। আমরাও এরশাদের ডিগবাজি নিয়ে মেতে আছি, বিনোদিত হচ্ছি। ওদিকে অন্তরালেচলছে শেষ দৃশ্যের আয়োজন। কিন্তু লেজটা ঘুরছে কিসের জোরে? গত ২৩ বছর এরশাদ যে রাজনীতি করছেন, তাকে বলা যায় লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি। লেজের দেহ প্রয়োজন, দেহের লেজ প্রয়োজন। এভাবে তিনি একবার এই পক্ষে, একবার ওই পক্ষে নাইওর খেয়ে বেড়িয়েছেন। তাঁর এই ‘ধর্মেও আছি জিরাফেও আছি’ স্বভাব দেখে কেউ ক্ষিপ্ত হন, কেউ আমোদ পান। যেন, হাস্যকর সুবিধাবাদী আচরণ যা করার, এরশাদ একাই করছেন। কিন্তু যাঁরা তাঁকে ঘোরাচ্ছেন, ওঠাচ্ছেন-বসাচ্ছেন,
এই লজ্জা কি তাঁদেরও নয়? এরশাদ জাতীয় লজ্জা হলে, তাঁকে যাঁরা সাজিয়ে-গুছিয়ে রাজনীতির ময়দানে পরিবেশন করেন, তাঁদের নাকও কাটা পড়া উচিত। নব্বইয়ের পর প্রথম বিএনপির আমলে তাঁর বিচারে গড়িমসি করা হয়। বিচারের নামে টালবাহানা করে তাঁর রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা হয়। তিনি নির্বাচনের সুযোগ পান এবং জেল থেকে নির্বাচিত হন। পরের আওয়ামী লীগ আমলে তাঁর পূর্ণ প্রতিষ্ঠা হয়। এই আমলে এরশাদ হয়ে ওঠেন মহাজোটের মহাসখা। এরশাদের এই রাজনৈতিক নবযৌবন গণতন্ত্রের শিরোপাধারী দুই নেত্রীর উপহার! এরশাদের কীর্তির দায় তাঁদেরও নিতে হবে। এরশাদের রাজনৈতিক গম্ভীরা দেখে দুঃখ পাওয়ার কিছু নেই। এটাই বাংলাদেশের স্ট্যান্ডার্ড। যাঁর ক্ষমতা সেই ১৯৯০ সালেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। তারপর তাঁকে যাঁরা রাজনৈতিক পুনর্জন্ম দিয়ে চলেছেন, এই এরশাদের দায় প্রথমত তাঁদের। হাসি-ঠাট্টা-বিদ্রূপ কেন কেবল এরশাদের প্রাপ্য হবে? এই লজ্জা ও দায় সেসব বিদেশি কূটনীতিকেরও, যাঁরা তাঁর বাড়ি গিয়ে তাঁর কী করা উচিত, সে বিষয়ে পরামর্শ বা চাপ দিয়ে আসেন। হায় গণতন্ত্র! এরশাদ বাংলাদেশের ক্ষমতা-ব্যবসাকেন্দ্রিক রাজনীতির সুপারবয়। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তাঁর অভিভাবকদের কাছেই করতে হবে। ২৩ বছর আগে যাঁর পতনে গণতন্ত্রের জয়ঘোষিত হয়েছিল, আজ তাঁকে জয়করাই নাকি গণতন্ত্র অর্জনের শর্ত! দুই দল সেই শর্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করে যাচ্ছে।
ফারুক ওয়াসিফ: সাংবাদিক ও লেখক।
bagharu@gmail.com

ক্ষণজন্মা, সংগ্রামী ম্যান্ডেলার সংক্ষিপ্ত জীবনী

মানবজাতির মর্যাদাকে সমুন্নত রাখতে স্বাধীনতা ও সাম্যের যে বাণী প্রতিষ্ঠিত করতে ম্যান্ডেলা আজীবন সংগ্রাম করেছিলেন, তার মৃত্যুতে বিশ্ববাসী শোকাচ্ছন্ন। জনদরদী মহান এ নেতার সংক্ষিপ্ত জীবনী এখানে উপস্থাপন করা হলো:


সাল  -  উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলী

১৯১৮: ১৮ই জুলাই দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৪৩: আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসে যোগদান।
১৯৫৬: ম্যান্ডেলার বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ গঠন। ৪ বছর বিচার চলার পর অভিযোগ প্রত্যাহার।
১৯৬২: প্ররোচিত করা বা উস্কে দেয়া এবং বিনা পাসপোর্টে দেশত্যাগের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে গ্রেপ্তার। ৫ বছর কারাদণ্ড।
১৯৬৪: অন্তর্ঘাতের অভিযোগে অভিযুক্ত ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
১৯৯০: কারামুক্তি।
১৯৯৩: শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জয়।
১৯৯৪: প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত।
১৯৯৯: নেতার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান ম্যান্ডেলা।
২০০১: প্রোস্টেট ক্যান্সার ধরা পড়ে।
২০০৪: জনসমক্ষে যাওয়া থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত।
২০০৫: এইচআইভি (এইডস) ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পুত্রের মৃত্যুর ঘোষণা।
২০১১ থেকে ২০১৩: ফুসফুসের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে বারবার হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা। এ বছরের ১লা সেপ্টেম্বর বাড়ি ফেরা ও সেখানে নিবিঢ় পরিচর্যায় থাকা। গতকাল ৫ই ডিসেম্বর নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন জনদরদী এ নেতা।

জননিরাপত্তাই মানবাধিকার

মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ও বেঁচে থাকার অধিকার মানবাধিকারের মূল বিষয়। জনসাধারণকে নিরাপদ রাখা এবং স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যে অন্যতম। পৃথিবীতে ন্যায়নীতির প্রতিফলনের মাধ্যমে সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বজায় রাখা ইসলামের দৃষ্টিতে অপরিহার্য কর্তব্য এবং নাগরিকদের ইমানি দায়িত্ব। সুতরাং মানবসমাজে কোনো রকম অশান্তি সৃষ্টি, নৈরাজ্য-বিশৃঙ্খলা, দ্বন্দ্ব-সংঘাত, হানাহানি, উগ্রতা, বর্বরতা, প্রতিহিংসাপরায়ণতা, অগ্নিসংযোগ, রক্তপাত, গণহত্যা ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ইসলামে নিষিদ্ধ।
আল্লাহ তাআলা সাবধানবাণী ঘোষণা করেছেন, ‘তোমরা পৃথিবীতে শান্তি স্থাপনের পর এতে বিপর্যয় সৃষ্টি কোরো না।’ (সূরা আল-আ’রাফ, আয়াত: ৫৬) প্রকৃত মুসলমানের পরিচয় তুলে ধরে নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘মুসলমান সেই ব্যক্তি, যার হাত ও মুখ থেকে অপর মুসলমান নিরাপদ।’ (বুখারি ও মুসলিম) সমাজে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত, কলহ-বিবাদ ও সন্ত্রাস-সহিংসতাকে ইসলাম কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে; সকল প্রকার হত্যাযজ্ঞ, রক্তপাত ও অরাজকতা প্রত্যাখ্যান করেছে; সৎ কাজে সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছে, চরম পন্থা অবলম্বন ও জুলুম-নির্যাতনমূলক কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেছে। পারস্পরিক সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের চেতনা, মানবতাবাদী অর্থনৈতিক দর্শন ও অপরাধ দমন কৌশল ইসলামকে দিয়েছে সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা। কিন্তু শান্তির ধারক-বাহক নিরীহ জনগণের বিরুদ্ধে সর্বদাই অশান্তিকামী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী স্বার্থপর লোকেরা খড়্গহস্ত থাকে। নিরীহ মানুষকে হত্যা করা ইসলাম কঠোর ভাষায় নিষিদ্ধ করেছে। নিরপরাধ ব্যক্তিদের গুলি করে, বোমা মেরে বা অগ্নিসংযোগে হত্যা করা ইসলামের সঙ্গে কখনো সংগতিপূর্ণ নয়। নাশকতামূলকভাবে মানুষ হত্যা, জানমালের ক্ষতিসাধন ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্ট করাকে কবিরা গুনাহ আখ্যায়িত করে এর ভয়াবহ পরিণাম সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন, ‘নরহত্যা বা পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি ছাড়া কেউ কাউকে হত্যা করলে সে যেন দুনিয়ার সমগ্র মানবগোষ্ঠীকে হত্যা করল; আর কেউ কারও প্রাণ রক্ষা করলে সে যেন পৃথিবীর সমগ্র মানবগোষ্ঠীকে প্রাণে রক্ষা করল।’ (সূরা আল-মায়িদা, আয়াত: ৩২) 
আশরাফুল মাখলুকাত’ হিসেবে মানুষের জীবনের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ যার হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন যথার্থ কারণ ব্যতিরেকে তোমরা তাকে হত্যা কোরো না।’ (সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ৩৩) হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে যে ‘দুনিয়া ধ্বংস করে দেওয়ার চেয়েও আল্লাহর কাছে ঘৃণিত কাজ হলো মানুষ হত্যা করা।’ (তিরমিজি) মানবসমাজে অহেতুক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, হানাহানি ও সন্ত্রাস দমনে শান্তির ধর্ম ইসলাম কঠোর দিকনির্দেশনা দিয়েছে এবং সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধে কঠিন শাস্তি আরোপ করেছে। ইসলামের আলোকে যদি রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রচলিত আইনে সন্ত্রাস সৃষ্টিকারীদের উপযুক্ত ন্যায়বিচার করা হয়, তাহলে আর কেউ নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে সাহস পাবে না। পবিত্র কোরআনে গণহত্যাকে জঘন্য অপরাধ সাব্যস্ত করে ইচ্ছাকৃতভাবে একজন মুসলমান আরেকজন মুসলমানকে হত্যা করার শাস্তির কঠোর বিধান সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছে, ‘কোনো মুমিনের জন্য সমীচীন নয় যে সে অন্য মুমিনকে হত্যা করবে, অবশ্য ভুলবশত করে ফেললে অন্য কথা। ...আর কেউ স্বেচ্ছায় কোনো মুমিনকে হত্যা করলে তার শাস্তি জাহান্নাম, সেখানে সে চিরকাল অবস্থান করবে। আর আল্লাহ তার প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছেন ও তাকে অভিশপ্ত করেছেন এবং তার জন্য ভীষণ শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন।’ (সূরা আন-নিসা, আয়াত ৯২-৯৩)
শান্তির ধর্ম ইসলামের মর্মবাণীর মাধ্যমে সারা বিশ্বে শান্তি-শৃঙ্খলা ও মানুষের জানমালের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা হয়। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও সংঘাতমুক্ত পৃথিবীর প্রয়োজনে ইসলামের জনকল্যাণধর্মী নীতি অনুসরণীয়। মানুষের সামগ্রিক জীবনের সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ ও পরিপূর্ণ নিরাপত্তা বিধানে ইসলাম এক অনন্য কালজয়ী আদর্শ। ইসলামে চরম পন্থা, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের স্থান নেই। রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনো একজন নিরপরাধ মানুষকে প্রকাশ্যে বা গুপ্তহত্যা করেননি। শত অত্যাচার ও নির্মম-নির্যাতন সহ্য করেও তিনি কখনো বাড়াবাড়ি, কঠোরতা বা গোঁড়ামির পরিচয় দেননি, বরং দ্বীন প্রচারের ক্ষেত্রে চরম পন্থার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ইসলামের প্রতিরক্ষামূলক সমরনীতি ঘোষণা করেছেন, ‘তোমরা কখনো আগে অস্ত্র উত্তোলন কোরো না বা অস্ত্রের ভয়ভীতিও প্রদর্শন কোরো না।’ অথচ দেশে যেভাবে ফিতনা-ফ্যাসাদ, গণবিক্ষোভ ও আন্দোলন চলছে, সর্বস্তরে অশান্তি, বিশৃঙ্খলা, জ্বালাও-পোড়াও, অগ্নিসংযোগে জনদুর্ভোগ হচ্ছে, এতে যেমন মানবাধিকার লঙ্ঘন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম ব্যাঘাত হচ্ছে, তেমনি সামাজিক কর্মকাণ্ডে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দারুণভাবে ব্যাঘাত ঘটছে। মানবাধিকার মানুষের জন্মগত মৌলিক অধিকার। যে সমাজে মানবাধিকারের গ্যারান্টি নেই, সেই সমাজে আইনের শাসন নেই। জানমালের নিরাপত্তাই যদি বিঘ্নিত হয়, তাহলে মানুষ সমাজে কীভাবে একত্রে শান্তিতে বসবাস করবে? ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতের অনিবার্য পরিণতিতে নির্মমভাবে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ও অগ্নিসংযোগে হত্যাকাণ্ড, অমানবিকতা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় ঘৃণা ব্যক্ত করে জোরালো প্রতিবাদ জানানো এবং জনগণের জানমাল রক্ষায় শান্তিপূর্ণ উপায়ে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ও দেশের কল্যাণার্থে মানবতার ঐক্য ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টিতে জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে বিবদমান দল-মত-গোষ্ঠীর জরুরি ভিত্তিতে পারস্পরিক সংলাপ ও সমঝোতায় উপনীত হওয়া দরকার।
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক, গবেষক ও কলাম লেখক।
dr.munimkhan@yahoo.com

স্বৈরাচার পতন দিবস- আহ্ এরশাদ! উহ্ গণতন্ত্র! by ফারুক ওয়াসিফ

আহা এরশাদ! আত্মহত্যা ঘোষণার পরদিন সকালে তিনি ‘ভালো’ আছেন! তাঁর গুলিভরা চারটি পিস্তল বা চারটি গুলিভরা একটি পিস্তলও ঘুমিয়ে আছে।

নির্বাচনকালীন সরকার- ঐকমত্যের সন্ধানে by ড. কামাল হোসেন

জনগণ একটি কার্যকর গণতন্ত্রের জন্য প্রতীক্ষায় ব্যাকুল। স্বাধীনতার প্রত্যয় ছিল, ক্ষমতা জনগণের কাছে থাকবে এবং তা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত একটি কার্যকর সংসদের মধ্য দিয়ে তার প্রয়োগ ঘটবে।

গল্প- বোতাম by গোলাম শফিক

কিছু একটা নিশ্চয় পড়েছে। নইলে শব্দটা হলো কেন? অফিসের করিডরে হাঁটার সময় পায়ের কাছে একটা মৃদু ধ্বনি পায় শাহেদ। হয়তো পকেট থেকেই পড়েছে কিছু।

গল্প- তালগোল by শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া

‘এই, কে রে, দুরন্ত নাকি?’
থমকে দাঁড়ায় দুরন্ত। রাস্তার ওপাশে খুপরি চায়ের দোকানগুলোর দিকে চোখ যায়। সেখানে ঝাপসা আঁধার। টিমটিম করে অবশ্য কুপি জ্বলছে। এতে বরং ভুতুড়ে পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়- এ কোন নিরপেক্ষতায় সুশীল সমাজ? by লুৎফা তাহের

এই লেখা এমন একটি সময়ে লিখতে বসেছি, যখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেন ও তাঁর স্ত্রী আয়েশা আক্তার তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসভবনে অবরুদ্ধ।

‘আত্মহত্যার’ ব্যাখ্যা দিলেন এরশাদ, বললেন আমি অনড়

সকালের নাস্তা সেরে পত্রিকায় চোখ বুলানোর পরপরই নেমে এলেন বাসার নিচে। সেখানে অপেক্ষমান গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা। চেহারায় অনেকটা আত্মবিশ্বাসী ভাব।
জানালেন নিজের অনড় অবস্থানের কথা। ব্যাখ্যা দিলেন ‘আত্মহত্যার হুমকির’। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ বলেন, ‘আত্মহত্যার’ বিষয়ে আমি যে বক্তব্য দিয়েছি তা গণমাধ্যমে সঠিকভাবে আসেনি। আমি বলেছিলাম, র‌্যাব-পুলিশ দিয়ে আমাকে তুলে নিয়ে সিদ্ধান্ত বদলের চেষ্টা করানো হতে পারে। এমনটি করলে আমি আত্মহত্যা করবো। এমন আশঙ্কা থেকেই আমার দৃড়তা বোঝাতে আমি এটি বলেছি। গণমাধ্যমে এটি সঠিকভাবে আসেনি। এরশাদ নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তন দাবি করে বলেন, নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তন আনতে হবে। মানুষ মার্কাকে নয়, দলকে ভোট দেবে। তা না হলে কালো টাকার মালিক, সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারীরা সংসদে আসবে। সকাল সোয়া ১১টায় ব্রিফ করার পরপরই দলের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এরশাদের প্রেসিডেন্ট পার্কের বাসায় যান। এরশাদের ঘনিষ্ট সূত্র বলছে, নিজের অনড় সিদ্ধান্তের বিষয়টি দেশজুড়ে প্রশংসা পেয়েছে। দলের নেতাকর্মী এবং ভক্তরা উজ্জিবিত। তারা রাতভর তার বাসা পাহারা দিয়েছে। সুধীজনরা ফোন করে এরশাদকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। এতে আত্মবিশ্বাস ও সাহস ফিরেছে সাবেক এই প্রেসিডেন্টের। তিনি যে কোন মূল্যে তার অবস্থান ধরে রাখতে চান। তার এ অবস্থানে নিজের দল সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিরোধী দলের নেতাকর্মীরাও প্রশংসা করছেন।

খোলা চোখে- মুক্তিযুদ্ধ না গণতন্ত্র? by হাসান ফেরদৌস

এক অর্থহীন, অযৌক্তিক বাদানুবাদে, সোজা বাংলায় এড়ে তর্কে আমাদের ‘বাচাল শ্রেণী’ মেতে উঠেছেন। এঁদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, বাংলাদেশের জন্য কোনটা বেশি জরুরি: গণতন্ত্র, না মুক্তিযুদ্ধ?

কাদের মোল্লার লাশ আলাদা স্থানে কবরস্থ করার দাবি

ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সহসভাপতি অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করার পর তাঁর লাশ ‘আলাদা স্থানে’ কবরস্থ করার দাবি জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ সমঝোতার পথ সহজ করবে: বিবিসি

প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট থেকে উত্তরণ ও সমঝোতার পথকে সহজ করবে। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন ঘিরে দেশে অতিমাত্রায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে।

মন্ত্রী-উপদেষ্টারা পদত্যাগ করেননি- সরকারের সঙ্গে দর কষাকষিতে এরশাদ

ঘটমান রাজনীতির রুদ্ধশ্বাস নাটক হঠাৎ যেন থিতিয়ে গেছে। সরকারের সঙ্গে চিরাচরিত দর-কষাকষিতে নেমেছে সাবেক স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদের জাতীয় পার্টি (জাপা)।

সরকারের সঙ্গে জাতীয় পার্টির আলোচনা চলছে

সরকারের সঙ্গে জাতীয় পার্টির আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার। তিনি বলেন, সরকার তো সরকারই। সরকারের সঙ্গে আলোচনা হতেই পারে, এতে দোষের কিছু নেই।

শনিবার থেকে আবার ৭২ ঘণ্টার অবরোধ- মৃত্যুর মিছিলে আরও দুজন

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোটের দ্বিতীয় দফা অবরোধের শেষ দিনে গতকাল বৃহস্পতিবার মৃত্যুর মিছিলে যোগ হলো আরও দুজন।
এদের মধ্যে একজন বাসচালকের সহকারী ও অন্যজন রিকশাচালক। বাসচালকের সহকারী মো. হাসান (১৫) রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর জনপথ এলাকায় বাসে দেওয়া আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেছে। অপরজন ফেনীতে গত সোমবার সংঘর্ষে আহত রিকশাচালক মফিজ চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল মারা গেছেন।

এ নিয়ে গত শনিবার সকাল ছয়টা থেকে গতকাল বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত দ্বিতীয় দফার রাজপথ-নৌপথ-রেলপথ অবরোধে প্রাণ হারালেন ৩০ জন। এর আগে ২৬ নভেম্বর থেকে ৭১ ঘণ্টার অবরোধে প্রাণ হারান ২২ জন। সব মিলিয়ে দুই দফায় নয় দিনের অবরোধে নিহতের সংখ্যা দাঁড়াল ৫২ জনে।

এদিকে আগামীকাল শনিবার সকাল ছয়টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত ৭২ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল বিএনপির মুখপাত্র ও যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমদ অজ্ঞাতস্থান থেকে পাঠানো ভিডিওবার্তায় এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। আজ শুক্রবার অবরোধ নেই। দ্বিতীয় দফার অবরোধে নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে আজ জুমার নামাজের পর সারা দেশে গায়েবানা জানাজার কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।

গতকালও অবরোধ চলাকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে যানবাহনে আগুন, রেললাইনে নাশকতা, ককটেল বিস্ফোরণ ও অবরোধকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। বুধবার রাতে প্রথমবারের মতো লঞ্চে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার সায়েদাবাদের জনপথ মোড়ে গতকাল সকাল সাড়ে নয়টার দিকে রাস্তার পাশে রাখা ইসরাত পরিবহনের একটি বাসে দুর্বৃত্তরা আগুন দেয়। আগুনে ওই বাসে ঘুমিয়ে থাকা বাসচালকের সহকারী হাসান গুরুতর দগ্ধ হয়। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সে মারা যায়।

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার সিলোনিয়া বাজারে সোমবার পুলিশ, ছাত্রলীগের সঙ্গে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মীদের সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন রিকশাচালক মফিজুর রহমান (৪০)। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সকাল সাড়ে নয়টার দিকে তিনি মারা যান। তিনি দাগনভূঞার দক্ষিণ জয়লস্কর গ্রামের আবদুল আজিজের ছেলে।

চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁওয়ে সকাল সাড়ে সাতটার দিকে অবরোধকারীরা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আগুন দেন। এতে অগ্নিদগ্ধ হন অটোরিকশার চালক খোরশেদ আলম, পুড়ে যায় ঋণের টাকায় কেনা তাঁর অটোরিকশাটি। খোরশেদকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার রাতে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ওয়াপদা ঘাটে বেঁধে রাখা এমভি নড়িয়া-১, এমভি সুরেশ্বর-১সহ তিনটি লঞ্চে টায়ারে অগ্নিসংযোগ করেন অবরোধকারীরা। পরে স্থানীয় লোকজন এসে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন নেভাতে গিয়ে এমভি নড়িয়া-১ লঞ্চের কর্মী আনোয়ার হোসেন দগ্ধ হন। নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের ফকির জানান, অবরোধকারীদের আগুনে লঞ্চের ডেকে থাকা রশি, কাপড় ও টায়ার পুড়ে যায়।

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) জুনিয়র ফিল্ড অফিসার আহসান কবীরের ওপর হামলা ও তাঁর মোটরসাইকেলে আগুন দেন অবরোধকারীরা। আগুন নেভাতে গিয়ে তিনি ও স্থানীয় আবদুল হান্নান আহত হন। তাঁদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিলেট নগরের টিলাগড়ে সিলেট-২ আসনের আওয়ামী লীগের সাংসদ শফিকুর রহমান চৌধুরীর বাড়ির ভেতর একটি ককটেল নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। ককটেলটি একটি গাড়ির ওপর পড়ে বিস্ফোরিত হয়।

গতকাল চট্টগ্রামের ৯ নম্বর (পাহাড়তলী) ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভাঙচুর ও আসবাবে আগুন দেন অবরোধকারীরা। কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলা সদরে বিএনপির মিছিল থেকে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া অবরোধকারীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি অ্যাম্বুলেন্সও জ্বালিয়ে দেন।

গতকাল ভোরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার রূপসী এলাকায় একটি ট্রাকে অগ্নিসংযোগ ও কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। এ সময় অবরোধকারীরা সাত-আটটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটান। আড়াইহাজার উপজেলার ছনপাড়া ও ঝাউগড় এলাকায় যুবদল কর্মীরা বিক্ষোভ ও সড়কে টায়ারে অগ্নিসংযোগ করেন। এ সময় তাঁরা ছয়-সাতটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটান।

বরিশালে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হন। সিরাজগঞ্জে অবরোধ চলাকালে বিচ্ছিন্ন পিকেটিং, ককটেল বিস্ফোরণ, মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। চাঁদপুরে গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ করা হয়।

টানা অবরোধের কারণে ঢাকার বাইরে অনেক ব্যাংকে টাকা না থাকায় ব্যবসায়ী ও গ্রাহকেরা ভোগান্তির শিকার হন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে অবরোধ চলাকালে আওয়ামী লীগের এক কর্মীর পায়ের রগ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। রাজবাড়ী ও জয়পুরহাটে রেললাইন তুলে ফেলায় ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

রাজধানীতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রায়সাহেব বাজার মোড় ও জনসন রোডের মাঝামাঝি এলাকায় ২০ থেকে ২৫টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটান অবরোধকারীরা। এ সময় সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভির একটি গাড়ির সামনের কাচ ও হেডলাইট ভেঙে যায় এবং গাড়ির চালক বিপ্লব আহত হন।

সকালে দুই শ্রমজীবী নারী কাগজ কুড়াতে গিয়ে মালিবাগ সুপার মার্কেটের সামনে ২০টি পেট্রলবোমা পান। তাঁরা বিষয়টি রামপুরা থানায় জানালে পুলিশ সেগুলো উদ্ধার করে। রামপুরা থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা জানান, ওই নারীকে পুরস্কৃত করা হবে।

মিরপুরের জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান (বোটানিক্যাল গার্ডেন) থেকে ভোররাতে ১২টি ককটেল ও ৪০০ গ্রাম গান পাউডার উদ্ধার করেন র‌্যাব সদস্যরা।

আজ স্বৈরাচার পতন দিবস- সেই এরশাদই এখন রাজনীতির কেন্দ্রে

আজ ৬ ডিসেম্বর, স্বৈরাচার পতন দিবস। ১৯৯০ সালের এই দিনে গণ-আন্দোলনের মুখে সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন।দেশ মুক্ত হয়েছিল ‘বিশ্ব বেহায়ার খপ্পর’ থেকে।

বোতাম by গোলাম শফিক

কিছু একটা নিশ্চয় পড়েছে। নইলে শব্দটা হলো কেন? অফিসের করিডরে হাঁটার সময় পায়ের কাছে একটা মৃদু ধ্বনি পায় শাহেদ। হয়তো পকেট থেকেই পড়েছে কিছু। শাহেদ এদিক-ওদিক তাকাতেই একজন মেম্বার অব লোয়ার সাব-অর্ডিনেট সার্ভিসেস দৌড়ে এসে বলে, ‘স্যার বোতাম।’ তারপর তুলে দেয় হাতে। দেখে, ব্লেজারের ডানপাশের মাঝখান থেকে এটি ছিঁড়ে পড়েছিল। এর আগে শাহেদ লক্ষ করে বোতামটি নড়বড় করছে। কিন্তু আলসেমিবশত টাইট দেওয়া হয়নি। কাজটা কিছুটা জটিলও, তাই স্ত্রীর ভরসায় ফেলে রাখে। সম্পূর্ণ ছিঁড়ে আসায় ভরসাটা আরও বাড়ল। বিচ্ছিন্ন বোতামটাকে বুকের মাঝখানে লাইন বরাবর লাগাতে হবে, একই রঙের সুতোয়। এ কাজে বউ-ভগ্নিরাই পারদর্শী। এই যে এত এত বস্ত্রবালিকা প্রতি প্রত্যুষে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী মেখে ছুটে যায় কাজে, তা বঞ্চনা সত্ত্বেও এঁদের পারদর্শিতার জয়জয়কার ঘোষণা করে। শাহেদের মনে পড়ে রমণীদের বিশেষত্ব মূল্যায়নের কিছু স্মৃতি। ও তখন নবিশ, সবে মাত্র সার্ভিসে যোগ দিয়েছে। একজন সিনিয়র আপার সঙ্গে রুম শেয়ার করে বসে। এক দুপুরে শৌচাগার থেকে ফিরে এসে তড়িঘড়ি করে বাসায় ঘুরে আসার কথা বলতেই আপা হাসলেন। বললেন, ‘কেন—এ অল্প সময়ের মধ্যে বউয়ের মুখ দেখতেই হবে?’ 
নিলু আপা, জরুরি প্রয়োজন।’ ‘প্রয়োজনটা কী বলো না ছোকরা।’ শাহেদ লজ্জা-শরমের মাথা খেয়ে জানায়, ‘আমার প্যান্টের জিপারটা হঠাৎ করে লাগছে না, তাই একটু পাল্টে আসি আপা।’ নিলু আপা তাৎক্ষণিক কোত্থেকে একটি সেফটিপিন বের করে দিয়ে বললেন, ‘তার প্রয়োজন নেই, এটা লাগিয়ে নাও, তবে সাবধানে।’ শাহেদ লক্ষ করে, এ জন্য নিলু আপাকে ড্রয়ার খুলতে হয়নি। টেবিলের কলমদানির একপাশের পিন-ক্লিপের চেম্বারটিতে হাতও দিতে হয়নি। গায়ের কোথাও থেকে বিদ্যুৎগতিতে বের করে নিয়ে আসেন অথবা জাদুমন্ত্রের মতো আঙুলের ডগায় এসে বসে এটি। সেই থেকে শাহেদের ধারণা বদ্ধমূল, কিছু কাজে মেয়েদের ব্যুৎপত্তি ও দক্ষতা অনস্বীকার্য। ঘরে ফিরেই শাহেদ জানায়, ‘সোনিয়া, তোমাকে বলেছিলাম না, যেটি নড়বড় করছিল সেটি আজ সম্পূর্ণ খুলে পড়েছে।’ তারপর ব্লেজারের পকেট থেকে বের করে বোতামটি ওয়ারড্রবের ওপর রাখে। বলে, ‘টাইট করে লাগিয়ে দিয়ো।’ মেরুন কালারের ব্লেজারের সঙ্গে ম্যাচিং বোতামটি এক দিন, দুই দিন, তিন দিন ঘুমায় ওয়ারড্রবের ওপর। পরে আর তাকে খুঁজে পাওয়া যায় না। শাহেদ রাগত স্বরে বলে, ‘তোমাকে তখনই বললাম লাগিয়ে দাও, তা তুমি করলে না। এখন গেল তো!’ সোনিয়ার জবাব দার্শনিকতাপূর্ণ, ‘তুমি শুধু বলেছিলে যে ওটা রাখলাম এখানে, কিন্তু কোথায় রাখলে তা আমাকে দেখিয়ে দাওনি।’ ‘বলেছিলাম না, ওয়ারড্রবের ওপর।’ ‘ওয়ারড্রবের ওপর তো কত কিছুই রাখো। আর তখন তুমি “বোতাম” কথাটা একটুও উচ্চারণ করোনি।’ 
শাহেদ আর কথা বাড়ায়নি। ওয়ারড্রবের ওপর প্রতিটি বস্তু তুলে পরখ করে দেখেছে, দেখেছে প্রতিটি বক্সের ভেতর। ঘরের মেঝের আনাচ-কানাচে ঝাড়ু দিয়ে বহু বছরের পুরোনো ময়লা ও ঝুল পরিষ্কার করেছে। সে সময়ও ও বলে, ‘দ্যাখো তো সোনিয়া, সকালে আইডি কার্ড আর সঙ্গের কাগজগুলো পকেটে ভরার মুহূর্তে হালকা একটা শব্দ শুনেছিলাম, হয়তো মেঝেতেই পড়েছে আবার।’ দুজন তন্ন তন্ন করে খোঁজে। সোনিয়া খাটের নিচে পায় এক টাকার ধাতব মুদ্রা আর কনট্রাসেভটিভের একটি খালি ছেঁড়া পলি। শাহেদ কষ্টের মধ্যেও রসিকতা করে, ‘হ্যাঁ, তখন একটির দাম এক টাকাই ছিল।’ এ যেন এক ইতিহাস। কত বছর পার হয়ে গেছে! খাটের নিচে দিনের বেলায় টর্চ মেরে মেরে নেয়ে উঠেছে শাহেদ। ‘আচ্ছা, আজ কি এশামণি এসেছিল?’ ‘কেন, এ প্রশ্ন কেন?’ ‘এমনি বলছি।’—শাহেদ মৃদুস্বরে জবাব দেয়। ‘আসলেই কী? ওর হাত কি ওখানে যায়?’ ‘না, তুমি তো ওকে প্রবোধ দেওয়ার জন্য ওয়ারড্রবের ওপরে কত কিছু দেখাও। কখনো এটা-সেটা দাও।’ ‘বিশ্বাস করো, আমি তোমার ব্লেজারের বোতামটা কখনো দেখিনি।’ ‘তা হলে কি মিথ্যা বলছি?’ ‘সে তুমিই জানো। তবে আমি তা বলছি না।’ শাহেদ কথা না বাড়িয়ে আজকের মতো ক্ষান্ত দেয় উদ্ধার অভিযানে।
২. ইন্দোনেশিয়ার বন্ধু উতোমো তৃতীয় দেশের রাজধানী সোউলে এটি ওকে উপহার দিয়েছিল। শাহেদের একটি গিফট পেয়ে উচ্ছ্বাসে গদগদ উতোমো আর কিছু চিন্তা না করেই গা থেকে খুলে দেয় ব্লেজারটি। এহেন মেরুনরঙা আর কোনো ব্লেজার, কোট বা কোর্তা কোথাও দেখেনি সে। এই স্মৃতিকে সে টেনেছে সাত বছর। আফটার অল, অ্যা গিফট ফ্রম এ ফরেন ফ্রেন্ড। কিন্তু এত বছর পর পোশাকটির অঙ্গহানি হওয়ায় শাহেদের মন খারাপ হয়ে যায়। একটা বিষণ্নতা পেয়ে বসে ওকে। অতিশয় কারুকার্যময়, কী চমৎকার দেখা যেত। এখনো দেখায় বাকি পাঁচটিতে—দুটি বাঘ কিংবা সিংহ একটা কিছুকে অবলম্বন করে মুখোমুখি পাশ ফিরে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু কোন দেশের ন্যাশনাল অ্যান্থেম? ইন্দোনেশিয়ার, সে তো এক গারুদা। অন্য একটি দেশের জাতীয় প্রতীকের সঙ্গে কিছুটা সামঞ্জস্যময়। ওরা বলে ‘জাতা নেগারা’। শাহেদ ম্যাগনিফাইয়িং গ্লাসে এটিকে বারবার পরখ করে। গ্লাসটি কাছে-দূরে করলে প্রতীকটি বড়-ছোট হয়। রাতে ঘুমিয়ে পড়লে শাহেদ দেখে, বোতামের জন্তুগুলো ওকে আক্রমণ করতে এসেছে। আতশি কাচে দেখার মতো এগুলো বড় হয়, ছোট হয়। সে ভয়ে নড়েচড়ে ওঠায় খাট থেকে পড়ে গেলে ওর বউ বলে, ‘কী হয়েছে?’ ‘কিছু না, বোতাম।’ ‘সোনিয়ার হাতের তালু একপাশ খালি বিছানায় ঘষে ঘষে খাটের কিনারায় যায়। তারপর উপুড় হয়ে হাত মেঝে স্পর্শ করার আগেই শাহেদের স্পর্শ পায়। ‘বোতামটা পেয়েছ নাকি?’ ‘না।’ ‘তাহলে?’ ‘জানি না।’
৩. কোনো পরিকল্পনা নেওয়ার জন্য শাহেদের একমাত্র ইনপুট তার মনোবেদনা। বোতামটির কথা সে ভুলতেই পারে না। আপাতত সে ভাবে, ডানপাশের বোতাম গেছে তাতে কী, একই হরিজন্টাল লাইন থেকে বাঁ পাশেরও একটা তুলে ফেলবে, তাতে আর বেখাপ্পা দেখাবে না। কাট ইয়োর বাটন অ্যাকোর্ডিং টু ইয়োর...। কিন্তু পড়ে যাওয়া বোতামটি মাঝখানের। একপাশের হলে সেটি করা যেত। না হয় একপাশ খালি করে বাকি চারটা বোতাম পুনঃস্থাপন করা যাবে। পরবে তো বছরে মাত্র দুই মাস। কিন্তু শাহেদের কাছে পরিকল্পনাটা আদৌ মানানসই ঠেকল না। কেমন খালি খালি লাগবে। বিকল্প পরিকল্পনাটিও জুতসই মনে হয়নি তার। সেটি ছিল দুই হাতার ছয়টি বোতামের যেকোনো একটিকে বুকে পুনঃস্থাপন; যেমন প্লাস্টিক সার্জারি করে উরুর মাংস লাগানো হয় কপালে। কিন্তু হাতেরগুলো পৃথক সেট, সাইজে অনেকটাই ছোট। তার চেয়ে পুরো সেট পরিবর্তন করা ঢের ভালো। আচ্ছা, উতোমোকে মেইল করলে কেমন হয়? ভাবনামতো উতোমোকে মেইল করেও কোনো জবাব পায় না। তবে বোতামের সেট পরিবর্তনের আগে বিভিন্ন মার্কেট খুঁজে দেখা যেতে পারে। শাহেদ বঙ্গবাজারের পুরোনো কাপড়ের মার্কেট,
ঢাকা কলেজের সামনের ফুটপাত, গুলিস্তান—সর্বত্রই বোতামটি খোঁজে।ফুটপাতের এক বোতামওয়ালা বলে, ‘স্যার, কুটের একটা বোতাম খুইল্লা নিয়া আহেন, মিলাইয়া দেহি।’ ‘খুললে তো লাগানো বড় কষ্ট ভাই।’ ‘তাইলে বেলেজার নিয়া আহেন।’ পরদিন সে ব্লেজার হাতে নিয়ে বোতামগুলো দোকানিকে দেখায়। তাৎক্ষণিক কোনো ম্যাচিং হয় না। তবে দোকানদার দেখবে বলে একটা বোতাম খুলে রেখে দেয়। শাহেদ ফুটপাত ধরে হাঁটছে। মাথার ওপর তীব্র রোদ। একজন তার হাতে ব্লেজার দেখে বলে, ‘কী শাহেদ ভাই, খবর কী, ফরেন মিনিস্ট্রিতে পোস্টিং হইছে নাকি?’ ‘না রে ভাই, একটা সেমিনারে আসছিলাম।’ শাহেদের মনে খেলা করে সেই বোতাম ও বন্ধুর মুখ। তবে এ দুয়ের মধ্যে তীব্র বৈপরীত্য। একদিকে আজব প্রাণী ও অন্যদিকে বন্ধুর হাস্যোজ্জ্বল মুখ। এ দুই বিপরীতধর্মিতা একসূত্রে মিলিত হয়ে শাহেদকে যুগপৎ যন্ত্রণা ও আনন্দে অবগাহন করায়। তবে বোতামটি হারিয়ে যাওয়ার পর শাহেদ উতোমোকে ফিরে পেতেই বেশি ব্যতিব্যস্ত হয়। এ কারণে নয় যে, বন্ধুকে ফিরে পেলে সে বোতামটিও পাবে। পরদেশে এমন অনেকের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়। কিন্তু ওরা একে একে সব হারিয়েও যায়। শাহেদ উতোমোকে অন্তত হারাতে দেবে না। এ বন্ধুর উপঢৌকনটি ছিল খুবই আন্তরিকতাপূর্ণ। কিন্তু এত দিন অন্যান্য বিদেশি বন্ধুর মতো উতোমোকেও সে ভুলতে বসেছিল।
৪. মেইল করে সাড়া না পেয়ে শাহেদ নানা কিছু ভেবেছে। হয়তো ই-মেইল আইডির পরিবর্তন বা পারমানেন্টলি ক্লোজড। বদনবইয়েও ঘাঁটাঘাঁটি কম করেনি। তবে আকাশজোড়া মেঘের অন্ধকার ভেদ করে আকস্মিক এক ঝলক রোদ উঁকি দেয়। ইন্টারনেটে চাউর হয়, সে ইন্দোনেশিয়া গমনের একটি সুযোগ পেয়েছে অল্প কদিনের জন্য। ইতিমধ্যে সে উতোমোর দপ্তরের ঠিকানাটি বগলদাবা করে ফেলে। আর বোতামের একটি স্যাম্পলও আগেভাগে ব্যাগে পুরে রাখে। হলে কী হবে, গারুদার দেশে গিয়ে সে আগের চেয়ে বেশি হতাশ। উতোমোর দপ্তরের ঠিকানা ধরে গিয়ে শোনে ও চাকরি বদল করেছে। তার বর্তমান দপ্তরের ঠিকানাটি কেউ নিশ্চিত জানে না। কেউ কেউ একটা দিকনির্দেশনা দিতে চাইলেও ভাষাগত কারণে সেটা অতটা ফলপ্রসূ হয়নি। ওদিকে নিজের মনের দুঃখটা শাহেদ কাউকে বুঝিয়েও বলতে পারে না। হঠাৎই চার দিনের সিম্পোজিয়াম শেষ। একটি শূন্যতা ও হাহাকারের সুর বেজে ওঠে। রাতে একটি পার্টি বসে বিদেশিদের জন্য। মনমরা ভাব কাটাতেই কেবল পার্টিতে যায় শাহেদ। ওখানে নৈশাহারের পর স্থানীয় ট্র্যাডিশনাল মিউজিককে ছাপিয়ে একটি পশ্চিমা মিউজিক হঠাৎ করেই বেজে ওঠে। মিউজিকের সঙ্গে মৃদু তালে কেউ কেউ নাচছে। শাহেদ ফ্লোরে যায় একটি কোমল পানীয়র গ্লাস হাতে নিয়ে, অতিথিদের সে ভাবার সুযোগ দিয়েছে। ফ্লোর অতিক্রম করে সে ওই পাশে যাচ্ছে আরও ড্রিংক আনতে। তবে মাঝখানে কয়েক মুহূর্ত থেমেছিল। 
আবার চলে যাচ্ছে দেখে নৃত্যরতা রমণীটি বলে, ‘ডু ইউ ওয়ান্ট টু ডান্স?’ শাহেদ কিছু না বলে ড্রিংকসের এক সারি বোতলের পাশে গ্লাসটি রেখে মাঝখানে এসে নাচতে শুরু করে। রমণীটি কিছুটা স্থূলাঙ্গী। একটি স্কার্ট ও ব্লেজার পরে সে হালকা তালে নাচছে। হাঁটুর নিচ থেকে পা জোড়া দৃশ্যমান। পায়ের নিচে হাইহিল তাকে অনিন্দ্য সৌন্দর্যে ভরিয়ে তুলেছে। কিন্তু শাহেদ ওই দিকে না তাকিয়ে বারবার মহিলার বুকের দিকে তাকায়। তার চোখ রমণীটির বুক বরাবর ব্লেজারের বোতামের ওপর চলে যায় উপর্যুপরি। কখনো বুকের কাছে মাথা নিয়ে বোঝার চেষ্টা করে ঈষৎ আলোয়। ‘ম্যান, আই এম এ মুসলিম লেডি। ডোন্ট সি মি লাইক দ্যাট।’ ‘ইউ হ্যাভ নাইস বাটন।’ ‘ও, রিয়েলি?’ পরদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি সারা দিনই কর্মহীন শাহেদ। তার ফ্লাইট সন্ধ্যা পেরিয়ে। স্থানীয় লোকজনের কাছে শুনেছে, ওখানে বোতামের একটি আলাদা মার্কেটই আছে। আয়োজক সংস্থার একজনকে নিয়ে সেখানে যায় সে। রং-বেরঙের বোতাম দেখে এক প্রকার বিভ্রম জাগে তার। তৃতীয়বার বোতাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়ে সে এক সেট মেরুন বোতাম কিনে নেয় তাৎক্ষণিক। তা সত্ত্বেও মূল বোতামটি বারবার দোকানিদের দেখায়। ভাবে, আঁতুড়ঘরে হয়তো পেয়েও যেতে পারে। বোতামটি দেখে এক দোকানি আমতা আমতা করে বলে, ‘ইউ ক্যান ফাইন্ড ইট ইন মালয়েশিয়া।’

বিদায় ম্যান্ডেল

দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা আর নেই। স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার রাতে দেশটির প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ম্যান্ডেলার পরলোকগমনের খবর ঘোষণা করেন।

আত্মহত্যার বিষয়টি যেভাবে এসেছে, সেভাবে বলিনি: এরশাদ

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দাবি করেছেন, তাঁর আত্মহত্যার হুমকির বিষয়য়টি যেভাবে গণমাধ্যমে এসেছে, তিনি সেভাবে বলেননি।

আমি ডাক্তারের চেম্বারেই ঘুমিয়ে পড়ি

তুচ্ছ কারণে আমি বিষণ্ন হতে পারি। হয়তো দেখলাম ছেলের হাতের মোয়া ঠোকর মেরে নিয়ে গেছে এক সন্ত্রাসী কাক, রে রে করে আমিও লাগালাম দৌড়, কে কারে আর খুঁজে পায়, বিষণ্ন হলাম। হয়তো দেখলাম হাতে মেহেদি, কানে রিং, লাল শাড়ি পরা মেয়েটি শ্বশুরবাড়ি গেল, ফিরে আসল লাশ হয়ে, বিষণ্ন হলাম। দেখলাম টেলিফোন বাজতেছে, সংলাপ বুঝি হয়েই গেল শেষ পর্যন্ত, কিন্তু এরই মধ্যে লাইন গেল কেটে, বিষণ্ন হলাম।
তুমি আমার কপালে মাঙ্গলিক-লিপস্টিক না মেখেই চলে গেলে অফিসে, বিষণ্ন হলাম। আমার হাতে ধর্ম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, ড্রোন হামলার হুমকি, বিষণ্ন হলাম। হ্যাঁ, আমি খুব সহজেই বিষণ্ন হতে পারি। সবুজ অরণ্য, উড়ালরত পাখির ঝাঁক, গর্জনশীলা সমুদ্র, অমনোযোগী নদী, আর হে সন্তরণশীল প্রেম—তোমরা তো আমার ডাক্তার। বিনা পয়সায় কী সুন্দর করে আমাকে শিথিল করে দাও। আর আমি এমন এক রোগী যে ডাক্তারের চেম্বারেই ঘুমিয়ে পড়ি।

প্রিয়াঙ্কার বিশেষ গাড়ি

তারকা মানেই যেন বিশেষ কিছু। চলনে-বলনে সবকিছুতেই আলাদা একটা ব্যাপার। গোটা বিশ্বের শোবিজ তারকাদের বেলাতেই দেখা যায় এমনটা।

রাজার জন্মদিনে থাইল্যান্ড শান্ত

থাইল্যান্ডের সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা দেশটির রাজা ভুমিবল আদুলিয়াদজের ৮৬তম জন্মদিনের প্রাক্কালে সাময়িক বিক্ষোভ বিরতি দিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজা ভুমিবলের ৮৬তম জন্মদিন দেশব্যাপী পালনের প্রস্তুতি নিয়েছে তারা। দু’দিনের বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে তৃতীয় দিন (বুধবার) বিক্ষোভকারীরা সাময়িক বিক্ষোভ বিরতি ঘোষণা করায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হল বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। এদিকে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী পালিতা নুতচেই (৩৭) বলেন- আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব কারণ আমাদের কাক্সিক্ষত বিজয় এখনও আসেনি। এর আগে বুধবার ক্ষমতাসীন পুয়ে থাই পার্টির কার্যালয়ে প্রবেশ করে সেখানে থাই পতাকা উড়ায় বিক্ষোভকারীর। এমনকি, পুলিশ সদর দফতরে ঢোকার মুখে ব্যারিকেড তুলে নেয়ার পর হাজার হাজার বিক্ষোভকারী উৎসবের আমেজে পুলিশ সদর দফতরে প্রবেশ করে। অন্যদিকে, রাজার জন্মদিনে থাই বিক্ষোভ শিথিলের এমন ঘোষণায় দেশটির রাজনৈতিক জীবনে সাময়িক স্বস্তি ফিরে এসেছে। এদিকে, থাইল্যান্ডের বিগত ৮০ বছরের ইতিহাসে ১৮টি সেনা অভ্যুত্থান ঘটানো বা ঘটানোর চেষ্টাকারী সেনাবাহিনী দেশটির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতা থেকে নিজেদের এখনও দূরে সরিয়ে রেখেছে। কিন্তু গুজব আছে, পরিস্থিতি আরও অশান্ত হয়ে উঠলে আইন-শৃংখলা স্বাভাবিক করার অজুহাতে নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করতে পারে সেনাবাহিনী। বুধবার এমন গুজব উড়িয়ে দিয়েছেন দেশটির নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নারঙ পিপাথানাসাই। পিপাথানাসাই বলেছেন, যেহেতু পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে তাই তিনি এবং তার শীর্ষ সহকর্মীরা হস্তক্ষেপ করার কথা ভাবছেন না। তিনি জানিয়েছেন, গুজবের প্রেক্ষাপটে তিনি, সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনী প্রধান পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন এবং বিদ্যমান পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই।
‘প্রত্যেকেই একমত হয়েছেন যে, এই পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী নেতৃত্বের ভূমিকা গ্রহণ করবে না এবং যেহেতু উত্তেজনা কমে আসছে বলে আমরা বিশ্বাস করছি তাই অভ্যুত্থান ঘটারও কোনো সম্ভাবনা নেই, শিগগিরই সবকিছু স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে’ থাই সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন তিনি। এদিকে, ক্ষমতা থেকে সরকারকে হটানোর চেষ্টাকারী দেশটির সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা বুধবার পুলিশ সদর দফতরের দিকে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যায়। সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের নেতা সুথেপ থাগসুবান বলেছেন, আন্দোলন স্তিমিত করে দেয়া সত্ত্বেও লড়াই চলবে। কয়েকদিন সহিংসতা চলার পর মঙ্গলবার পুলিশকে রাস্তা থেকে সব ধরনের অবরোধ সরিয়ে নিয়ে বিক্ষোভকারীদের জন্য রাস্তা ছেড়ে দিতে বলেছিল থাই সরকার। সরকার পতনের লক্ষ্যে বিক্ষোভকারীরা যেসব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দখল করতে চায় তা তাদের দখল করার সুযোগ দিতেও বলে দেয় সরকার। পুলিশের কোনো বাধা না পেয়ে রাজধানী ব্যাংককে নিজেদের ঘাঁটিতে ফিরে আসে বিক্ষোভকারীরা। তারপরও লড়াই শেষ হয়ে যায়নি বলে দাবি করে তারা। বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের রাজা ভুমিবল আদুলিয়াদজের ৮৬তম জন্মদিন। এ উপলক্ষে রাজার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতিবাদ একদিন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন থাগসুবান। এরপর শুক্রবার থেকে প্রতিবাদ আবার শুরু হবে বলে মঙ্গলবার বিকেলে নিজ সমর্থকদের উদ্দেশে দেয়া ভাষণে বলেছেন তিনি। থাইল্যান্ডের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতা দেশটির রাজধানী ব্যাংককভিত্তিক অভিজাত শ্রেণী ও প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রা ও তার ভাই সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার সমর্থক দরিদ্রদের মধ্যে দেশটিকে প্রায় বিভক্ত করে ফেলেছে। তথ্যসূত্র : ব্যাংকক পোস্ট, রয়টার্স, আলজাজিরা।

মৃত্যুর মুখেও বাঁচতে শেখাচ্ছেন ম্যান্ডেলা

দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং এর মাধ্যমে তিনি এখনও মানুষকে বাঁচতে শেখাচ্ছেন বলে মনে করেন তার কন্যা মাকাজিউই ম্যান্ডেলা। মঙ্গলবার মাকাজিউই এসএবিসি রেডিওকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘বাবা এখনও আমাদের সঙ্গে আছেন, এই খারাপ পৃথিবীতে এমনকি মৃত্যুশয্যাও তিনি ভীষণ শক্ত ও খুব সাহসী। আমার মনে হয় তিনি এখনও আমাদের শিক্ষা দিচ্ছেন।’
‘তিনি আমাদের ধৈর্য, ভালোবাসা ও সহ্যের শিক্ষা দিচ্ছেন।’ ফুসফুসে সংক্রমণের কারণে চলতি বছরের শুরুর দিকে তিন মাস হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ম্যান্ডেলা। বর্তমানে জোহানেসবার্গে নিজ বাড়িতে তার চিকিৎসা চলছে বলে বুধবার এএফপির এক খবরে বলা হয়েছে। ‘বাবার সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি মিনিট আমাকে মোহাবিষ্ট করে রাখে। ভাবতে অবিশ্বাস্য লাগে যে, আমার জন্ম এমন একজন শক্তিশালী ও যোদ্ধা মানুষের থেকে এবং এ জন্য প্রায়ই আমি নিজেকে চিমটি কাটি।’ ‘এমনকি সেখানে এমন মুহূর্তও এসেছে যখন আমরা দেখেছি তিনি লড়াই করছেন, তখনও তার মধ্যে যুদ্ধ করে যাওয়ার মনোবল বজায় ছিল।’ গত মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা ম্যান্ডেলাকে দেখে আসার পর বলেছিলেন, ‘ম্যান্ডেলার অবস্থা স্থিতিশীল কিন্তু জটিল।’

ফরাসি প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করলেন সুহা আরাফাত

২০০৪ সালে দুরোগ্য ব্যধিতে মারা যাওয়া ফিলিস্তিন নেতা ইয়াসির আরাফাতের মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল- মঙ্গলবার ফরাসি বিশেষজ্ঞদের এমন ফরেনসিক রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করেছেন ইয়াসিরপত্নী সুহা আরাফাত। মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে আরাফাতের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন। ফ্রান্সে চালানো ওই ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্টে বলা হয় ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসির আরাফাতকে বিষ প্রয়োগ করা হয়নি। বরং স্বাভাবিক কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করছে তারা। এর আগে সুইস ফরেনসিক বিজ্ঞানীদের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, আরাফাতের দেহে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল, তা প্রায় নিশ্চিত। মঙ্গলবার প্যারিসে এক সংবাদ সম্মেলনে সুহা বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে নিশ্চিত যে, তাদের কোথাও ভুল হয়েছে। আরাফাতের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি।’ তিনি ফরাসি কর্তৃপক্ষের প্রতি সুইস গবেষণার রিপোর্টের ওপর তদন্তের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘আমি তাদের (ফরাসি গবেষক) সন্দেহ করছি না।
কিন্তু তারা অন্য বিষয়ে দক্ষ। তারা অন্য ধরনের মেডিসিনের ওপর দক্ষতা অর্জন করেছেন।’ ফরাসি ও সুইজারল্যান্ডের গবেষকরা মেডিসিনের ভিন্ন ক্ষেত্র থেকে এসেছে বলে তিনি তার বিবৃতিতে জানান। আরাফাতের স্ত্রী সুহা আরাফাতকে নতুন এ তদন্ত প্রতিবেদনের ফলাফল হস্তান্তর করার পর মঙ্গলবার তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান। আরাফাতের মৃত্যুসংক্রান্ত ফরাসি গবেষকদের এ প্রতিবেদন সুইস বিজ্ঞানীদের তদন্ত প্রতিবেদন থেকে একেবারেই ভিন্ন। গত মাসে সুইস ফরেনসিক বিজ্ঞানীদের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, আরাফাতের দেহ পরীক্ষায় উচ্চমাত্রার তেজস্ক্রিয় পোলোনিয়াম-২১০ পাওয়া গেছে। প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালের নভেম্বরে প্যারিসের এক হাসপাতালে মারা যান অসুস্থ আরাফাত। তার মৃত্যুর কারণ নিয়ে তখন থেকেই নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। তখন আরাফাতের চিকিৎসা প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, রক্তের গোলমাল থেকে স্ট্রোকে তিনি মারা যান। রক্তের গোলমালের কারণ কি ওই সময় তা নির্ধারণ করতে পারেননি ফ্রান্সের ডাক্তাররা। বহু ফিলিস্তিনিরই ধারণা ইসরাইল আরাফাতকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করেছে। আরাফাতের বিধবা স্ত্রীও এ অভিযোগে আদালতে মামলা করার পর ফ্রান্স ২০১২ সালের আগস্টে আরাফাতের মৃত্যুর তদন্ত শুরু করে।

হিজবুল্লাহর শীর্ষ কমান্ডার হাসান লাক্কিস নিহত

লেবাননের ইসলামপন্থী সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর শীর্ষ কমান্ডার হাসান লাক্কিস মঙ্গলবার বৈরুতে নিহত হয়েছেন। হাসান লাক্কিস মধ্যরাতে কাজ থেকে বাড়িতে ফেরার পথে নিহত হন বলে জানায় হিজবুল্লাহ। এই ঘটনাকে ‘গুপ্তহত্যা’ বলে অভিহিত করেছে হিজবুল্লাহ। বিবিসি জানিয়েছে, লাক্কিস জনসাধারণের কাছে খুব একটা পরিচিত চেহারা না হলেও হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরুল্লাহর খুবই ঘনিষ্ঠ ছিলেন।
এদিকে, লেবাননের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা এপি জানায়, হাসান লাক্কিস তার বাড়ির কাছে নিজ গাড়িতে থাকা অবস্থায় আক্রমণকারীর গুলিতে গুলিবিদ্ধ হন। আহতাবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেয়ার পর তিনি মারা যান। হিজবুল্লাহ এ হত্যাকাণ্ডের জন্য ইসরাইলকে দায়ী করছে। যদিও এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ইসরাইল এখনও কোনো মন্তব্য করেনি। এর আগে হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ লেবাননের বৈরুতে ১৯ নভেম্বরের ইরান দূতাবাসের সামনে বোমা হামলায় সৌদি আরবের জড়িত থাকার অভিযোগ করেন।